Thursday, September 25, 2014

বাংলাদেশে সেনা অভ্যুত্থানের আশঙ্কা ভারতের by ফাতিমা ফেরদৌসী আশা

সেনা অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ভারত সরকার। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ‘চরমপন্থী অংশ’ শেখ হাসিনাকে  উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে বলে খবর রয়েছে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থার হাতে।

ভারতীয় দৈনিক দা ইকোনমিক টাইমস বৃহস্পতিবার এ খবর দিয়েছে।
ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, একাজে মদত যোগাচ্ছে ‘চরমপন্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে যে জামায়াতে ইসলামী শেখ হাসিনা সরকারকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে, যা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার থেকে, ওবামা প্রশাসনের কাছে বাংলাদেশের ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর’ হুমকি মোকাবিলার কৌশলের বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। এ সময় আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থনও চাওয়া হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালের অপরাধের অভিযোগ এবং পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন লস্কই-ই-তৈয়বাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্টতার জন্য জামায়াতের বিরুদ্ধে দমনাভিযান চালাচ্ছেন। গত বছর জামায়াতকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ করেছে বিচার বিভাগ।
আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে মোদি যখন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং অন্যান্য মার্কিন নেতাদের সাথে বৈঠক করবেন তখন তিনি হাসিনার ওপর ‘হুমকি’ এবং বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ওবামার সাথে বৈঠকে মোদি বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার জন্য সাম্প্রতিক আল-কায়েদার হুমকির বিষয়টিও উত্থাপন করতে পারেন বলে দাবি করছে সূত্র।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওবামার সাথে বৈঠকের আগেই মোদি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ২৭ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিার সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন।
ওই বৈঠকে মোদি শেখ হাসিনার ওপর হুমকির বিষয়টি জানাবেন বলে জানিয়েছে ইকোনমিক টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সাথে বৈঠকে মোদি বলেন, ‘বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছেন শেখ মুজিব এবং বাংলাদেশকে রক্ষা করছে শেখ হাসিনা।’

মহাসড়কে মহা ভোগান্তি by মনির হোসেন

#দুই মাসেই ধুয়ে সাফ ইট-সুরকি-পিচ ; কোনো সমস্যা নেই : সড়কমন্ত্রী ; রাস্তা নিয়ে আমাদের ঘুম নেই : প্রধান প্রকৌশলী   >দুই মাসেই ধুয়েমুছে সাফ ইট, সুরকি আর পিচের ঢালাই। গত ঈদের আগে সড়কগুলো যে মেরামত করা হয়েছিল, এখন তা বোঝারই উপায় নেই। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় সরকারি তহবিলের ৩০০ কোটি টাকা মহাসড়কের তথাকথিত মেরামতের নামে ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু তা কোনো কাজে আসছে না জনকল্যাণে। ঢাকাসহ যেসব সড়ক-মহাসড়কের ভাঙা রাস্তা, বড় বড় গর্ত জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হয়েছিল। আরেকটি ঈদ না আসতেই সেই সব সড়ক আবার পুরনো চেহারায় ফিরেছে। কাজেই এবারো উৎসবের ছুটিতে সড়কপথে ঘরেফেরা মানুষকে পোহাতে হবে সীমাহীন ভোগান্তি।

ইতোমধ্যে সড়ক-মহাসড়কগুলোর বেহাল দশা নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-আমলা ও সড়ক বিভাগের লোকজনের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। প্রতি ঈদের আগেই তারা এটি করে থাকেন। কারো কারো মতে এটি লোক দেখানো। তবে অপর পক্ষের বক্তব্য শত কোটি টাকা লুটের প্যাকেজ এটি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এমনও সড়ক রয়েছে যেগুলোতে গত আট বছরেও মেরামতের ছোঁয়া লাগেনি। ফলে ভাঙাচোরা, খানাখন্দে ভরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রতি নিয়ত ঘটছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সম্প্রতি দুর্ঘটনায় পড়ে স্বামী-স্ত্রী নিহত হওয়া ছাড়াও বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। দেশের অনেক বিভাগ ও জেলা সড়কের রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়নের দাবিতে মানববন্ধন, জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি, হরতাল পর্যন্ত করেছে ুব্ধ জনগণ। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় ঈদুল আজহা যতই ঘনিয়ে আসছে, ঘরমুখো লাখো মানুষের দুশ্চিন্তা ততই বাড়ছে। যানজটের কারণে এবারো মহা ভোগান্তি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, রাস্তা নিয়ে মন্ত্রীর হাঁকডাক এবারো শুরু হয়েছে। তিনি (ওবায়দুল কাদের) ঈদের আগেই দেশের ভাঙাচোরা সব রাস্তা মেরামত করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের। কিন্তু প্রকৌশলীরা বলছেন, ‘ওই পর্যন্তই’। মন্ত্রী টাকা না দিয়েই ঠিকাদারদের কাজ করতে বলছেন। প্রকৌশলীরা চাকরি বাঁচাতে ঠিকাদারদের হাত-পা ধরে টুকটাক কাজ করাচ্ছেন। কিন্তু এখন ঠিকাদাররাও বকেয়া বিল পরিশোধ না করা পর্যন্ত আর কাজ করতে চাচ্ছেন না। প্রকৌশলীরা নাম প্রকাশ না করে বলেন, মূলত মন্ত্রীকে দেখানোর জন্যই এই মুহূর্তে দেশের অধিকাংশ এলাকায় দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলীরা রাস্তায় তৎপরতা দেখাচ্ছেন। বাস্তবে আগামী নভেম্বরের আগে সড়কের বেহাল দশা কাটিয়ে ওঠার কোনো সম্ভাবনা নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের সাতটি বিভাগ ও জেলা সড়কগুলোর বেশির ভাগ রাস্তাঘাট ভেঙে, বড় বড় গর্ত হয়ে মারণফাঁদে পরিণত হয়েছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে জোড়াতালি দিয়ে সড়কগুলো সংস্কার করা হয়। নি¤œমানের কাজ ও সম্প্রতি অতিবৃষ্টিতে বেশির ভাগ রাস্তার পিচ-সুরকি উঠে গেছে। ফলে অনেক রাস্তায় যানচলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গতকাল সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী ফিরোজ ইকবালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সারা দেশের সড়কের বেহাল দশার পুরো চিত্র না জানিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে সিলেট ও ময়মনসিংহের রাস্তাঘাটগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। আর যেভাবে প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে তাতে আসন্ন ঈদের আগে সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকবে। সাধারণ মানুষকে এই দুর্ভোগ থেকে কিভাবে উত্তরণ করা যায় সে নিয়েই মন্ত্রীর সাথে আমরা দিনরাত বৈঠক করছি আর রাস্তায় সময় পার করছি। বলতে পারেন মন্ত্রী ও আমাদের এখন ঘুম নেই। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ঠিকাদারদের সাথে আমার বসে তো কোনো লাভ হবে না। কারণ সড়ক সংস্কারে এই মুহূর্তে ফান্ড নেই। মন্ত্রণালয় যদি আমাদের অর্থ বরাদ্দ দেয় তাহলেই আমরা ভাঙাচোরা রাস্তা দ্রুত মেরামত করতে পারব।
সরেজমিন জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অধিকাংশ স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কুমিল্লা বিশ্বরোড থেকে চৌদ্দগ্রাম-ফেনী পর্যন্ত রাস্তা দেবে মাঝেমধ্যে আইল্যান্ডের মতো হয়ে গেছে। এতে এই সড়ক দিয়ে চলাচল দুরূহ হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে রাজশাহী, যশোর, খুলনা, রংপুর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহসহ দেশের অধিকাংশ সড়কে।
আমাদের যশোর অফিস থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক শাহাদত হোসেন কাবিল জানান, প্রধানত যশোর-খুলনা রোডের ৩৩ কিলোমিটার রাস্তার কাজ শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে। এই কাজ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ১১বার পরিদর্শন করেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছ্ইু হয়নি। মন্ত্রী গত ২২ ফেব্রুয়ারি পরিদর্শনে এসে ঠিকাদারদের বলে গেছেন ৭০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। সর্বশেষ আবার ২৩ জুলাই মন্ত্রী এসে সড়কের অবস্থা দেখেন। রাস্তাগুলোতে ভাঙাচোরা ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় এই মহাসড়ক দিয়ে যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এবারো কোনো কাজ হয়নি। পরে মন্ত্রী ুব্ধ হয়ে খুলনা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। দায়িত্ব দেয়া হয় সাতক্ষীরা ও কুষ্টিয়া জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীকে। মন্ত্রী এবার তাদের বলেন, তিন দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। অদ্যাবধি এসব সড়কের অগ্রগতি হয়নি। আমাদের প্রতিবেদক জানান, যশোর-নোয়াপাড়া শহর থেকে রাজঘাট শেষ সীমানা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার রাস্তা দিয়ে যানবাহন কোনোরকমে চলাচল করছে। এ ছাড়া যশোর থেকে নোয়াপাড়া পর্যন্ত ২২ কিমি রাস্তার কাজ এখনো শেষ হয়নি। যেসব জায়গায় গর্ত ছিল সেগুলো ইট বসিয়ে জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হয়েছে। তা-ও উঠে যাচ্ছে।
আমাদের খুলনা অফিস থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক এরশাদ আলী জানান, ১৮ মাইল পর্যন্ত ভালো। কিন্তু সেখান থেকে পাইকগাছা পর্যন্ত রাস্তা খুব খারাপ। এখানে কপোতাক্ষ নদের পানি উঠে পুরো রাস্তা বিলীন হয়ে গেছে। ১০ কিমি রাস্তা ভাঙাচোরা। গত ঈদের মতো এবারো এই সড়ক ব্যবহারকারী যাত্রীদের ভোগান্তি হবে। এ ছাড়া খুলনা মহাসড়কের রূপদিয়ায় বড় বড় গর্ত হয়ে রাস্তা কাঁচা হয়ে গেছে। এখানকার দায়িত্বশীলরা জানান, প্রয়োজনীয় তহবিল পাওয়া যাচ্ছে না, যে কারণে সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হচ্ছে না।
মিরেরসরাই প্রতিনিধি এম মাঈন উদ্দিন জানান, গত ঈদে যে সড়ক মেরামত করা হয়েছিল সেগুলো বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে। হালকা কংক্রিট আর ব্রিকফিল্ডের ভাঙা ইট-সুরকি দিয়ে মেরামত করায় সড়কগুলো স্থায়ী হয়নি। বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ বাড়ে। সীতাকুণ্ড ধুমঘাট থেকে চট্টগ্রামের সিটি গেট পর্যন্ত ৬৫ কিমি বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দক হয়ে গেছে। এ সড়কের কাজগুলো যারা করছেন তারা ঠিকমতো সংস্কার না করায় এবারো ঈদে মানুষের মহা ভোগান্তিতে পড়তে হবে।
রাজধাহী ব্যুরো প্রধান নাজিব ওয়াদুদ জানান, এই মুহূর্তে এখানকার রাস্তাঘাটের ফিজিক্যাল কন্ডিশন ভালো। ভাঙাচোরা নেই। তবে পথে পথে চাঁদাবাজি হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সড়ক মোটামুটি ভালো। তবে দু-একটা জায়গায় সমস্যা রয়েছে। কাটাখালী বাজারের ৫০-৬০ গজ ও বানেশ্বর বাজারের ১০০ গজ রাস্তা খুবই ভাঙা।
সিলেট ব্যুরো চিফ এনামুল হক জুবের জানান, সিলেট, জাফলংসহ অন্যান্য সড়কের অবস্থা খুবই বেহাল। গোয়াইনঘাট এবং জৈন্তাপুর উপজেলার দুু’টি সড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে পিচ উঠে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। এসব সড়ক ব্যবহারকারী যানবাহন ও পর্যটকরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক মেরামত ও উন্নয়নের কাজ না হওয়ায় এখানকার মানুষ মানববন্ধন করেছে। জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দিয়েছে। তাতেও সাড়া মেলেনি। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়কটি দীর্ঘ দিনেও সংস্কার হয়নি। বিশেষ করে সালটিকর থেকে ভোলাগঞ্জ অংশে যানবাহন চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এই সড়কটি সংস্কারের দাবিতে পরিবহন মালিকরা ধর্মঘট ও হরতাল করেছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। সিলেট-গোয়াইনঘাট সড়কটি বন্ধ হওয়ায় বিকল্প রাস্তা শারিঘাট হয়ে লোকজন সিলেট আসছে। এ ছাড়া সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়কেরও বেহাল দশা। ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সরকারের আমলে সংস্কার নেই বললেই চলে। নতুন রাস্তা নির্মাণ হয়নি। পুরনো যেগুলো ছিল সেগুলো ভেঙে গর্ত হয়ে একাকার হয়ে গেছে। সিলেট বিভাগের লোকজন ুব্ধ বর্তমান সরকারের ওপর। যোগাযোগ উন্নয়নে তারা ব্যর্থ।
রংপুর ব্যুরো প্রধান সরকার মাজহারুল মান্নান জানান, রংপুর থেকে গাইবান্ধা ধাতেরহাট পর্যন্ত রাস্তা ভালো ছিল। সেটি আরো ভালো করতে গিয়ে উঁচু-নিচু হয়ে গেছে। পিচ উঠে গেছে। মিঠাপুকুর এলাকায় উঁচু-নিচু গর্তে পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী স্বামী-স্ত্রী নিহত হন ক’দিন আগে। তিনি বলেন, শেরপুরের পর বগুড়া মাঝিরা ক্যান্টনমেন্ট থেকে বনবনা মোড় পর্যন্ত পিচ উঠে গেছে। এই রাস্তা ঠিক করা হয়নি। ঈদে ঘরমুখোদের চরম ভোগান্তি হবে। রংপুর থেকে দিনাজপুর পর্যন্ত সড়কের সৈয়দপুরের পর দিনাজপুরের দশ মাইল এলাকার রাস্তা খারাপ। এ ছাড়া আঞ্চলিক মহাসড়ক রংপুর হয়ে কুড়িগ্রাম লালমনিরহাট পর্যন্ত সড়কে গাড়ি চলছে লাফিয়ে লাফিয়ে।
ফেনী জেলা নিজস্ব প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেন জানান, ঢাকা থেকে ভোর ৫টায় যে গাড়ি ফেনীর উদ্দেশে ছেড়েছে সেটি স্বাভাবিকভাবে ৯টায় পৌঁছার কথা। কিন্তু ওই গাড়ি পৌঁছেছে বেলা ১টায়। ব্যাপক যানজটের কারণে এমনটি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ফেনীর রাস্তাঘাটের অবস্থা তুলনামূলক অন্যান্য জেলা থেকে ভালো। মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঈদের সময় সার্কিট হাউজে থাকেন। তাই এখানকার প্রকৌশলীরা টুকটাক কাজ থাকলেই সেটি মেরামত করে ফেলছেন। তবে যেসব রাস্তার কাজ হচ্ছে সেগুলো নি¤œমানের। তিনি বলেন, এরপরও ফেনীর বাইপাস অংশ জগন্নাথদীঘিরপাড় থেকে মহুরীগঞ্জ এই এলাকার সড়কে গর্ত রয়েছে।
বরিশাল ব্যুরো থেকে খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, বরিশাল মহানগরীর ব্যস্ততম সড়ক পোর্ট রোড। সেখানে রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা থাকায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটার পাশাপাশি পথচারীদের দুর্ভোগ হচ্ছে। বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি জমে যাচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে এই সড়কের সংস্কার হয় না। কিছু অংশ সংস্কার করা হলেও এখনো ৫০০ গজ রাস্তার কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।
গতকাল ফেনী থেকে ঢাকায় আসা ভুক্তভোগী যাত্রীরা এ প্রতিবেদককে বলেন, কুমিল্লা থেকে ফেনী পর্যন্ত সড়কের অবস্থা এমন হয়েছে যে, ভেঙেচুরে সড়কগুলো চিকন হয়ে গেছে। গর্তের কারণে যেকোনো সময় পড়ে যেতে পারে এমন আতঙ্ক নিয়ে চালকেরা গাড়ি চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে স্টার লাইন সার্ভিসে উঠে বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছেন। সাড়ে ৩ ঘণ্টা রাস্তা পার হতে এখন লাগছে ৭ ঘণ্টা।
সড়কের বেহাল দশার কারণ জানতে চাইলে গতকাল সড়ক ও জনপথ ঠিকাদার সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদুল হক নয়া দিগন্তকে বলেন, এবারের আসন্ন ঈদে ঢাকাসহ সারা দেশের মানুষের যানবাহনে ভোগান্তি বাড়বে। ঢাকা সার্কেলের প্রত্যেকটি রাস্তায় বড় বড় গর্ত রয়েছে। এসব রাস্তা টুকটাক মেরামত হয়। রাস্তা মেরামত করতে যে পরিমাণ টাকা দরকার সেই পরিমাণ টাকা দেয়া হচ্ছে না। যার কারণে গাড়ি চলাচলে অচল হয়ে পড়ছে। যেমন ঢাকা ডিভিশনে ছয়টি বিভাগ রয়েছে। এরমধ্যে মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ অন্যান্য জায়গায় পানি জমে রাস্তা ধসে যাচ্ছে। মানিকগঞ্জের বেশ কিছু রাস্তা ধসে গেছে। এসব জেলার প্রকৌশলীদের যে পরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল তা গত ঈদেই শেষ হয়ে গেছে। আগের বকেয়া ১০০ কোটি টাকাই নির্বাহী প্রকৌশলীরা পরিশোধ করছেন না। নতুন কাজ করে কবে টাকা পাবো তার তো কোনো নিশ্চয়তা পাচ্ছি না। তা ছাড়া ইমার্জেন্সি সময়ে কোন পদ্ধতিতে কাজ করব। এসব ব্যাপারে মন্ত্রীর সাথে আমরা দেখা করতে ধরনা দিচ্ছি। কিন্তু তিনি আমাদের সময় দিচ্ছেন না। মন্ত্রী লোকজনের মাধ্যমে বলছেন টাকার ব্যাপারে প্রধান প্রকৌশলীর সাথে বসার জন্য। কিন্তু প্রধান প্রকৌশলীর সাথে বসলে এর সমাধান হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমাদের বকেয়া টাকা উঠাতে হলে আন্দোলন করতে হবে, এ ছাড়া সম্ভব নয়।
এ দিকে গতকাল মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গাবতলী ব্রিজসংলগ্ন ইউ-লুপ সড়ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, আসন্ন দুর্গাপূজা ও ঈদ উপলক্ষে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ও ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও মহাসড়কের সংস্কার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এবারো ঘরমুখো যাত্রীরা স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

লজ্জিত নন ওলগা লিউলচ্যাক

এবার ইউক্রেনের এক নারী রাজনীতিকের গোপনীয় ছবি ফাঁস হলো ইন্টারনেটে। তিনি দেশটিতে আগামী মাসের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হলিউড তারকাদের গোপন ও বিবস্ত্র ছবি অনলাইনে ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর, এবার একই কায়দায় অর্থাৎ আইফোনের অনলাইন স্টোরেজ সুবিধা ‘আইক্লাউড’ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেই এ ঘটনা ঘটানো হলো। এ ঘটনার শিকার ইউক্রেনের নারী রাজনীতিকের নাম ওলগা লিউলচ্যাক। তিনি বলেছেন, এই ছবি ফাঁসের ঘটনাকে তিনি পরোয়া করেন না এবং এতে তিনি লজ্জিতও নন। বরং বিবস্ত্র এসব ছবিকে তিনি আখ্যায়িত করেছেন ‘শিল্প’ হিসেবে। গত মাসে ফাঁস হওয়া ৩০ বছর বয়সী নারী ওলগা লিউলচ্যাকের বিবস্ত্র ছবিগুলো নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে ইউক্রেনে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। সেখানে আরও বলা হয়, এ বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত স্থানীয় কিয়েভ সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে নিজের পদ হারান তিনি। তবে এবারের ছবি ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের দিকে পাল্টা আঘাত হেনেছেন তিনি। তার মতে, বিবস্ত্র ফটোশ্যুটে অংশ নেয়া নারীদের ছোট করা উচিত নয়। তার ভাষায়, ভ্যান গগ কিংবা তিতিয়ানদের মতো মহান শিল্পীদের শ্রদ্ধা করে গোটা বিশ্ব। তারা নগ্ন সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছিলেন নিজেদের শিল্পকর্ম, যা প্রশংসিত হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, সাবেক বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যামিপয়ন ভিটালি ক্লিসচকোর দলের প্রার্থী লিউলচ্যাক। কাকতালীয়ভাবে, ভিটালির ভাইয়ের বাগদত্তা মার্কিন অভিনেত্রী হেইডেন পয়ানেত্তিয়ারের বিবস্ত্র ছবিও ফাঁস হয়েছিল কয়েকদিন আগে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক- দুর্ভোগ চরমে by ইকবাল আহমদ সরকার

মহাসড়কের গাজীপুর অংশের এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে চলে যাচ্ছে কয়েক ঘণ্টা। হরতালেও গাজীপুরের শালনা থেকে মাওনা চৌরাস্তা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে যানজট লেগে থাকে। টানা বৃষ্টিতে পুরনো সড়কে গর্ত আর খানাখন্দ বেড়ে যাওয়ায় ও চার লেনের সমপ্রসারণের কাজ চলতে থাকায় এ যানজট সৃষ্টি হয়। অবশ্য হরতালের কারণে সকালে দূরপাল্লার যানবাহন কম থাকলেও বিকালে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আবারও লম্বা হয়ে যায় যানজট। সড়কের বর্তমান অবস্থার দ্রুত উন্নতি না হলে এবার ঈদে ময়মনসিংহ, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর, নেত্রকোনাসহ উত্তরাঞ্চরের বিভিন্ন রুটের ঘরমুখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বেন বলে মনে করছেন যাত্রী ও চালক সবাই।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশ ঘুরে দেখা গেছে, গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা থেকে মাওনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার জুড়ে পুরানো সড়কে বিভিন্ন জায়গায় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। ওই মহাসড়কের তেলিপাড়া, সালনা, পোড়াবাড়ি, ন্যাশনাল পার্ক, মাস্টারবাড়ি, বাঘের বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ছোট বড় অসংখ্য খানাখন্দ। এছাড়া মহাসড়কের অনেক স্থানেই দুইপাশেই জমে আছে পানি। এসব কারণে লেগেই থাকছে দীর্ঘ যানজট। গত রোজার ঈদের আগে জোড়াতালি দিয়ে যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কের যেসব স্থানের গর্ত, খানাখন্দ বালি আর খোয়া দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছিল, সেসব স্থানের আবরণ গত ক’দিনের বৃষ্টিতে উঠে গিয়ে পুরনো চেহারা ভেসে ওঠেছে। চার লেনের নির্মাণ কাজ চলতে থাকায়ও টানা বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাদা-পানি জমে বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লেগে যাচ্ছে কয়েক ঘণ্টা। বৃষ্টিতে মহাসড়কের অনেক অংশেই যানবাহন চলাচলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ে। যানজটে আটকে থাকে কয়েক হাজার যাত্রীসহ বাস। অবশ্য যান চলাচলের উপযোগী করার জন্য সেনাবাহিনীর সদস্যরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বৃষ্টি আর যানবাহনের চাপের কারণে স্বাভাবিক গতিতে মেরামত কাজ অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে মাওনা চৌরাস্তা পর্যন্ত চার লেনের কাজ করছে সেনাবাহিনী। তারা সড়কের পুরাতন কার্পেটিং তুলে সেখানে নতুন করে কাজ করছে। সড়কের এক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা রেখে অন্য লেনে নির্মাণ কাজ চলছে। পোড়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, হরতাল উপেক্ষা করে অনেকেই ফাঁকা সড়কে তাড়াতাড়ি গন্তব্যে যাবার আশায় গাড়ি নিয়ে বের হয়েছে। কিন্তু সড়কের নাজুক অবস্থায় কারনে গন্তব্যে যেতে সময় লেগে যাচ্ছে। লেগুনা সার্ভিসের চালক হামিদ জানান, গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে গাজীপুর চৌরাস্তার পথ এক ঘন্টার। গাজীপুরের ভাওরাইদ এলাকা থেকে ওই মহাসড়কে নিয়মিত আসা যাওয়া করে অফিস করেন শ্রীপুর উপজেলার গড়গড়িয়া মাষ্টারবাড়ি এলাকার এসএম নিটওয়্যার কারখানার ডিজিএম আলী হোসেন। তিনি জানান, সড়কে বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন অফিসে আসা যাওয়ার পথে ভোগান্তি থাকলেও গত ক’দিন ধরে দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সময় লাগছে ৩ ঘণ্টা। ওই মহাসড়কে গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘেরবাজার থেকে শ্রীপুর উপজেলার জৈনাবাজার পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত গত ক’দিন ধরে লেগে থাকছে যানজট। পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছে, মহাসড়কে মাওনা চৌরাস্তায় নির্মাণ হচ্ছে উড়াল সড়ক। আর উড়াল সড়কের দুই পাশের সরু ভাঙাচুরা সড়ক দিয়ে চলতে হচ্ছে দূরপাল্লার যানবাহন। এ কারণে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লেগে যাচ্ছে।
গাজীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহিবুল হক জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কটির জয়দেবপুরের অংশ ২০১২ সালে ফোর লেন প্রকল্পের জন্য সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। তাই এ মহাসড়কের খানাখন্দ হলে বা অন্য কোন সমস্যার দায় গাজীপুর সড়ক বিভাগের নয়। গাজীপুরের নাওজোড় হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামাল পাশা জানান, বৃষ্টির কারণে গর্তে পানি জমে যাওয়ায় এবং সৃষ্ট খানাখন্দে গাড়ি আটকে গিয়ে গাড়ি চলছে ধীরগতিতে। তবে যানবাহন একেবারে থেমে থাকেনি। চাকা ঘুরেছে। এদিকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার সড়ক তিনটি প্যাকেজের মাধ্যমে ১৮শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। জয়দেবপুর চান্দনা চৌরাস্তা থেকে মাওনার নয়নপুর পর্যন্ত অংশের ৩৫ কিলোমিটার সড়কের প্রথম অংশের কাজ করছে সেনাবাহিনী। চার লেনের প্রথম প্যাকেজের কাজের ৫০ ভাগেরও বেশি কাজ শেষ হয়ে এসেছে।

ওমানের হাসপাতালে ‘বন্দি’ নুরুল

ওমানের মাস্কাটের একটি হাসপাতালে অর্ধ চেতনায় থাকা বাংলাদেশী শ্রমিক নুরুল আমিন দেশে ফেরার আশায় প্রহর গুনছেন। কিন্তু অর্থাভাবের কারণে তার এই স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না। ১০ মাস আগে আকস্মিক তার জীবনে নেমে এসেছিল বিপর্যয়। একটি মোটর গাড়ি তাকে আঘাত করেছিল। সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। গত ২২শে সেপ্টেম্বর টাইমস অব ওমানে নুরুলের ওপর একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়।

ওমানের বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা টাইমস অব ওমানকে বলেছেন, ‘‘ওই সড়ক দুর্ঘটনায় তার দেহের অনেক হাড় ভেঙে যায়। তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। তবে কয়েক দিন পরে তার অবস্থার উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু তিনি সেরে উঠেছেন তা আমরা এখনও বলতে পারছি না।”
ওই কর্মকর্তা অবশ্য বলেন, ‘২৭ বছর বয়সী নুরুল ইতিমধ্যে এতটা স্থিতিশীল হয়েছেন যে, এখন তার পক্ষে বিমানে চড়ে দেশে ফেরা সম্ভব। সেখানে তার ফলোআপ চিকিৎসা চলবে। ফিজিওথেরাপিস্টের সহায়তায় তার পক্ষে পুরোপুরি সেরে ওঠা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু আর্থিক  সঙ্কট এবং তার প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত কিছু আইনগত বিষয় তার দেশে ফেরাকে অনিশ্চিত করে রেখেছে।’
ওই কর্মকর্তা বলেন, দুই বছর আগে নুরুল তার কর্মস্থল থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে থানায় পলায়নের একটি মামলা রয়েছে। বর্তমানে তার কাছে কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। ওমানের বাংলাদেশ মিশন এবং ঢাকায় জনশক্তি ব্যুরো দপ্তরে তার ওমানে কর্মসংস্থান বিষয়ে তথ্য রয়েছে। তবে তার পালিয়ে যাওয়ার পরের তথ্য  তাদের কাছে নেই। এখন তিনি বৈধ কাগজপত্রবিহীন একজন বাংলাদেশী শ্রমিক। তবে এই সমস্যা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারবো। তবে হাসপাতালের বিল পরিশোধ না করতে পারাই এখন বড় বাধা।
পত্রিকাটি জানায়, বাংলাদেশ দূতাবাস দুর্ঘটনার জন্য দায়ী গাড়িটিকে শনাক্ত করতে পেরেছে। ‘নুরুল হয়তো ক্ষতিপূরণ পাবেন কিন্তু সেটা পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। তাকে হাসপাতালে ফেলে রাখাটা ভাল দেখাচ্ছে না,’ দূতাবাস কর্মকর্তা মন্তব্য করেন।
এদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নুরুলকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করার পর থেকে দূতাবাস বিব্রত।
ওই কর্মকর্তাটি বলেন, ‘নতুন রোগী ভর্তি করানোর চাপ মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সর্বদা হিমশিম খেতে হয়। নুরুলের জীবন বাঁচাতে তারা সবচেয়ে ভাল সেবা দিয়েছেন। এখন আমাদের কাজ হলো তাকে সেখান থেকে সরিয়ে আনা।’

গরু আমদানি কম by আসলাম-উদ-দৌলা

ঈদুল আজহার দিন দ্রুত এগিয়ে আসছে। কিন্তু হাট-বাজারে গরু দেখা যাচ্ছে না। এমন কি ভারত থেকে কোরবানির পশু আসছে না। যার প্রভাব পড়েতে শুরু করেছে নগরী ও জেলার বিভিন্ন পশুর হাটগুলোতে। ক্রেতাসমাগম হলেও দাম চড়া হওয়ায় অনেকেই ফিরেও যাচ্ছেন। হাটের ইজারদাররা বলছেন, ইতিমধ্যেই কোরবানির পশুর হাটগুলোতে গরু-মহিষ আসতে শুরু করলেও সীমান্তে কড়াকড়ি থাকায় ভারতীয় গরুর আমদানি কম হচ্ছে। ফলে এবার গরু-মহিষের দামটা একটু চড়া। রাজশাহীর বড় পশুর হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে সিটিহাট, কাটাখালি, মহিশালবাড়ি, নওহাটা, কাকন, মচমইল, কেশরহাট, বানেশ্বরহাট। এসব হাট সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে হাটগুলোতে কোরবানির পশু ইতিমধ্যেই আসতে শুরু করেছে। তবে ভারতীয় গরু-মহিষের আমদানি কম। এখন পর্যন্ত হাটগুলোতে খামারের গরুর আধিক্যই বেশি বলে মনে হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় পশুর হাট নগরীর সিটিহাটে গিয়ে দেখা গেছে, হাটে প্রচুর খামারের গরুর আমদানি হয়েছে। কিন্তু হরতালের কারণে বাইরে থেকে তেমন গরু আমদানি হয়নি। এছাড়া বাইরের ক্রেতারা তেমন আসতে পারেনি। যার ফলে বেচাকেনাও হয়েছে কম। অনেককেই বাড়িতে গরু ফিরিয়ে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার হাটগুলোতে গতবারের চেয়ে গরু-ছাগল দাম একটু বেশি। গত বছর যে গরুর দাম ৫০ হাজার টাকা ছিল। এবার ওই মাপের গরু ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নগরীর সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বলেন, হরতালসহ ভারতীয় সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে এখনও জমজমাট পশুর হাট শুরু হয়নি। তাছাড়া আবহাওয়াও খারাপ। সব মিলিয়ে পশুহাট কিছুটা জমতে শুরু করলেও দাম অন্যান্য বছরের চেয়ে একটু চড়া। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দু’ একদিনের মধ্যেই রাজশাহীতে পশুর হাট জমজমাট শুরু হবে। পাইকারি গরু বিক্রেতা সোলায়মান বলেন, ভারতীয় সীমান্তে দিয়ে গরু আসতে অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক বেশি কড়াকড়ি চলছে। তাই আমাদের বেশি দামে গরু কিনে আনতে হয়। যার কারণে বিক্রিও করতে হয় চড়া দামে। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা এখনও গরু-মহিষ কেনায় তেমন একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। নগরীর সিটি হাটে গরু কিনতে আসা নগরীর মহিষবাথান এলাকার নজরুল ইসলাম বলেন, কোরবানির গরু কেনার জন্য হাটে গিয়েছিলাম। কিন্তু দাম অনেক চড়া। যেহেতু ঈদের আরও বেশ কয়েক দিন বাকি আছে, তাই বাজার দেখে একটু ভেবেচিন্তে দেরি করেই গরু কিনি। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারা বছরই সীমান্ত পথে কিছু গরু-মহিষ ভারত থেকে আসে। কোরবানি উপলক্ষে এই আমদানি বাড়ে। বিশেষ করে বড় গরুগুলো আসে বেশি। কিন্তু এবার গরু-মহিষ সীমান্তের কাছাকাছিই পৌঁছাতে পারছে না। পুলিশের পাশাপাশি বিএসএফ সীমান্তে টহল বাড়িয়েছে গরু মহিষের চালান ঠেকাতে। সীমান্তের ওপার থেকে গরু নিয়ে আসা এক ব্যবসায়ী জানান, সে দেশে সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে গবাদিপশুর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার হিসাব-নিকাশ চলছে। আগে যারা এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন তাদের সঙ্গে নতুন সরকারের লোকজনের ফায়সালা হয়নি। এ বিষয়টি ফায়সালা না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে গবাদিপশুর চালান পাঠাতে পারছেন না তারা। সূত্রমতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওয়াহিদপুর, খাঁকচাপাড়া ও জোহরপুর টেক সীমান্ত পথে এখন গড়ে ৩০ থেকে ৪০টি করে গরু ভারত থেকে আসছে। এবার গরু আমদানি নেই বললেই চলে। সীমান্তের ওপারের গরু ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার গরু কিনে পাঠানোর অপেক্ষায় থাকলেও সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে তা আসতে পারছে না। রাজশাহী কাস্টমস অফিস সূত্র জানায়, এবার সীমান্ত পথে ভারত থেকে গবাদিপশু আসছে কম। কোরবানির মওসুমে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলার সীমান্ত পথে দৈনিক গড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার করে গরু আসতো। সেখানে পুরো আগস্ট মাসে সীমান্ত পথে এসেছে মাত্র ১৫-১৬ হাজার গবাদিপশু। রাজশাহী কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার ফখরুল আলম জানান, এখনও সেপ্টেম্বরের হিসাব হাতে আসেনি। গত আগস্টে ১০ হাজার ১৪৫টি ভারতীয় গরু ও ৫ হাজার ৩০টি মহিষ এবং জুলাইয়ে ১০ হাজার ৯৪০টি গরু ও ৩ হাজার ৭৬৪টি মহিষ সীমান্ত পথে বাংলাদেশে এসেছে। এছাড়া কিছু ছাগলও আমদানি হয়েছে। তবে তা গত কোরবানির মওসুমের তুলনায় অনেক কম।

স্বপ্নপুরুষের অপেক্ষায় নিশি -ডেইলি মেইল-এর প্রতিবেদন

বাংলাদেশের হিজড়া সমপ্রদায়ের কথা এখন বিশ্ব মিডিয়ায়। গতকাল তাদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল-এ। এতে বলা হয়েছে, হিজড়াদের করুণ কিন্তু মূর্ত কিছু ছবি ধারণ করেছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত  ফটোগ্রাফার শাহরিয়া শারমিন। সেই সব ছবি নিয়ে তিনি করছেন চিত্র প্রদর্শনী। তাতে ফুটে উঠেছে এ দেশের হিজড়াদের জীবনের প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে এ জনগোষ্ঠী সমাজের মূল অংশ থেকে বলতে গেলে বিচ্ছিন্ন। হিজড়াদের নিয়ে সমাজের অন্যান্য মানুষের মতো শারমিনেরও একটি নেতিবাচক ধারণা ছিল। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্ত নেন এই জনগোষ্ঠী সমপর্কে জানার। খুব অল্প সময়েই তার ভুল ভাঙে। সেখান থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন এই হিজড়াদের জীবনধারা নিয়ে ফটোশ্যুট করার। অবশেষে করেছেনও। এর নাম দিয়েছেন ‘কল মি হেনা’। ছেলে হয়ে মেয়ের মতো জীবন বেছে নেয়া হিজড়াদের জীবনসংগ্রাম উঠে এসেছে এই প্রদর্শনীতে। বর্তমানে লন্ডনে লেখাপড়া করছেন শারমিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিজড়ারা সাধারণ জীবনযাপনের সুযোগ পান বলাই চলে। তাদের শিক্ষার জন্য কোন বিদ্যালয় নেই। ধর্ম পালনের সুযোগ নেই। সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের চাকরি দিতে চায় না। কয়েকজন কাজ করেন গার্মেন্টে। আর বহু হিজড়াই জড়িত পতিতাবৃত্তিতে। আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সুযোগ নেই তাদের। এমনকি স্বাস্থ্যসেবা পেতেও খুব কষ্ট হয়। তিনি আরও বলেন, আমি অন্যদের মতো বেড়ে উঠেছি হিজড়াদের মানুষের চেয়েও কম কিছু ভেবে। তাদের অভ্যাস, জীবনযাপন, এমনকি তাদের চেহারা তাদেরকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে রেখেছে। এরপর আমি দেখা করি হেনা নামের এক হিজড়ার সঙ্গে। সে-ই আমাকে দেখিয়ে দেয়, আমি কত ভুলের মধ্যে ছিলাম। তার নিজের জীবন আমার সামনে তুলে ধরে হেনা। আমাকে তার জগতের অংশ বানিয়ে ফেলে। আমার সঙ্গে নিজে ও নিজের সমপ্রদায়ের অন্যদের চিনিয়েছিল সে। আমি তাদের একেকজনের মাঝে দেখেছি একজন মা, কন্যা, বন্ধু কিংবা প্রেমিককে। এটাই আসলে তারা। ৫১ বছর বয়সী হেনার সঙ্গে কথা বলতে বলতে শারমিন পরিচিত হন হিজড়া সমপ্রদায়ের অন্যদের সঙ্গে। এরপরই সিদ্ধান্ত হয় তাদের নিয়ে চিত্রপ্রদর্শনী করার। একেকজন শুনিয়েছিল নিজ নিজ জীবনের গল্প। এদের মধ্যে একজন নিশি জানিয়েছিল, সে তার স্বপ্ন পুরুষের জন্য অপেক্ষা করছে। সোনালির প্রশ্ন, কেন তাদের সমাজ মেনে নেয় না?  সালমার স্বপ্ন ছিল মা হওয়ার। তাই বৈশাখী নামের এক শিশুকে দত্তক নিয়েছে সে। কিন্তু সালমা দ্বিধান্বিত, বড় হলে বৈশাখী কি তাকে মা’র বদলে বাবা বলে ডাকবে? জেসমিনের ইচ্ছা, পুরুষরা তার প্রতি সে রকম আকর্ষণ অনুভব করবে, যেমনটা তারা অন্য নারীদের প্রতি করে। প্রায় হাজার বছর ধরে দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতিতে একটি অংশ হিজড়া। কিন্তু ১৮৯৭ সালে বৃটিশরা এদের অপরাধী আখ্যা দিয়ে আইন পাস করে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় হিজড়াদের। এদেরকে গণ্য করা হয় তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে। এরপর এ বছরের জানুয়ারিতে ভারতও এদের স্বীকৃতি দেয়।

৫ সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল নিয়ে নানা নাটক by দীন ইসলাম

পাঁচ সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল নিয়ে নাটকের পর নাটক হয়েছে। অভিযুক্তদের বাঁচাতে সরকারের ভেতরের নানা শক্তিশালী গ্রুপ লবিস্ট হিসেবে কাজ করছে। স্বাস্থ্য  সচিব নিয়াজ উদ্দিন মিঞার পক্ষে লবিস্ট হিসেবে সবচেয়ে বেশি সাফাইকারী তৎপর রয়েছেন। স্বাস্থ্য সচিবের লবিস্টকারীর তালিকায় রয়েছেন সরকারের উপদেষ্টা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। তাদের সবার মুখে এক কথা, স্বাস্থ্য সচিব লোকটি খুব ভাল। তিনি অনেক স্কুল-কলেজ নির্মাণ করেছেন। এলাকায় দান করার ক্ষেত্রে তার সুনাম রয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এমএ হান্নান মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার আশ্রয় নেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার আগেও পাঁচ সচিবের সনদ বাতিল নিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। যদিও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে এক চুলও ছাড় দিতে রাজি ছিলেন না। অবশ্য বিভিন্ন পক্ষের তদবিরের কারণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মোল্লা ওয়াহেদুজ্জামানের মুক্তিযোদ্ধা সনদটি বাতিল না করে স্থগিত করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, দুদকের তদন্তে  মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় গত ১৪ই সেপ্টেম্বর চার সচিব ও একজন যুগ্ম সচিব অর্থাৎ পাঁচ সিনিয়র আমলার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। এরপর থেকেই এ নিয়ে টালবাহানা শুরু করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এমএ হান্নান। জামুকায় নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিয়ে চলে যান বিদেশ সফরে। দেশে ফিরে সার্টিফিকেট বাতিলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে যেন জামুকা’র সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হয়। এ জন্য যারপরনাই চেষ্টা করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার অফিসে এসেই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক পাঁচ সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করতে বলেন। মন্ত্রীর আদেশ শোনার পর থেকেই এ নিয়ে শুরু হয় নানা টালবাহানা। এরপর কয়েক দফা তাগাদা দিলেও মন্ত্রীর নির্দেশ কাজে আসেনি। বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এদিন বিকাল সাড়ে চারটার দিকে সচিবকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, আমি আসছি। আপনি থাকেন। এসেই সনদ বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করবো। একথা বলে মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর পরই সচিব তার কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলতে থাকেন, মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলের আদেশ জারি করতে তোমাদের এত আগ্রহ কেন? তোমরা বাসায় চলে যাও। মন্ত্রী অফিসে ফেরার আগ পর্যন্ত আমি থাকছি। বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে মন্ত্রী ফিরে আসার পর সচিবকে তার রুমে সালাম জানান। সচিব মন্ত্রীর রুমে আসা মাত্রই সনদ বাতিলের ফাইলের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান। তখন সচিব ডেস্ক অফিসার সলিমুল্লাহকে খুঁজতে থাকেন (যদিও সচিবের নির্দেশে আগেই অফিস ত্যাগ করেন ডেস্ক অফিসার)। কয়েকবার খোঁজার পর না পেয়ে মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সচিব বলেন, স্যার আজকে অফিসের সবাই চলে গেছেন। কাল সকালে এসেই প্রজ্ঞাপন জারি করবো। সোমবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অফিসে আসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী। তবে সচিব বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে দুপুরে অফিসে আসেন। এরই মধ্যে মন্ত্রী তাকে কয়েকবার খোঁজাখুঁজি করেও পাননি। মন্ত্রীর পীড়াপীড়িতে বিকালে চার সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল এবং একজনের সনদ স্থগিত করার আদেশ জারি করেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যার কিছু পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। সনদ বাতিলের আদেশটি প্রধানমন্ত্রীকে দেখিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যাতে গরম কোন সিদ্ধান্ত না নেয় এজন্যই সোমবার বিকালে আদেশ জারি করা হয়। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে স্বাস্থ্য সচিব নিয়াজ উদ্দিন মিয়ার যাওয়ার বিষয়টি মসৃণ করার জন্যও এমনটা করা হয়। ওদিকে মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল হওয়া চার সচিব হলেন স্বাস্থ্য সচিব এম নিয়াজ উদ্দিন মিয়া, সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সচিব একেএম আমির হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী (বর্তমানে ওএসডি) এবং একই মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (ওএসডি) আবুল কাসেম তালুকদার। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় বেসরকারিকরণ কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন। তার সনদটি স্থগিত করা হয়েছে।

কামার সমপ্রদায়ের ব্যস্ত সময় এখন by নজরুল ইসলাম

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কোটচাঁদপুরের কামার সমপ্রদায়ের কারিগরেরা চাপাতি, ছুরি, দাঁ-বটি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পশু কোরবানি ও মাংস তৈরিতে অতি প্রয়োজনীয় এসব ধারালো অস্ত্রের চাহিদা মতো সরবরাহের জন্য কামার সমপ্রদায় দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে কোরবানি ঈদের সময় কামার সমপ্রদায়ের কাজের চাপ অনেকটা বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে বাড়ে তাদের আয় রোজগারও। কামার সমপ্রদায়ের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, কামার শিল্পের অতি প্রয়োজনীয় জ্বালানি তথা কয়লার অপ্রতুলতায় বেড়েছে এর দাম।

তারা বলেন, বেড়েছে লোহার দাম। লোহা ও কয়লার দাম বেড়ে চললেও সেই তুলনায় চাপাতি, ছুরি, দাঁ-বটি সহ কামার শিল্পের পণ্যের দাম বাড়েনি। ফলে কামার সমপ্রদায় আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে পৈতৃক পেশা পরিবর্তন করছে। কোটচাঁদপুর পৌর এলাকাসহ উপজেলার সাবদারপুর, এলাঙ্গী, বলুহর, কুশনা ও দোড়া ইউনিয়নে প্রায় দুই শতাধিক কামার পরিবারের বসবাস। আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে তাদের পেশায় এসেছে ব্যস্ততা। তাদের হাঁপর হাঁতুড়ি পেটার টুং-টাং শব্দে মুখর কামারশালাগুলো।  কামার সমপ্রদায়ের কারিগরদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। অথচ তাদের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি। পৌর এলাকার সরকারি কলেজ রোডের স্বপন কর্মকার জানান, তার স্বর্গীয় পিতা জিতেন কর্মকারের হাত ধরেই তার এ পেশায় আসা। তবে তার দুই সন্তান এ পেশায় আসুক তা তিনি চান না। এ পেশার প্রতি তার এ অবজ্ঞা থেকে ছেলে দুটিকে তিনি লেখাপড়া করাচ্ছেন। ফুলবাড়ি গ্রামের সন্তোষ কর্মকার জানান, কামার শিল্পের অতি প্রয়োজনীয় কয়লা, লোহা ও ফাইলের দাম দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। অথচ তাদের উৎপাদিত পণ্যের দাম আগের মতোই রয়ে গেছে। এতে তারা আর্থিক দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে এ শিল্পকে টেকসই করে গড়ে তোলা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

গঠনমূলক সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান বান কি-মুনের

বিশ্বনেতাদের গঠনমূলক সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন। যখন শীতল যুদ্ধের ভূত ফিরে আসছে, আরব বসন্ত মারাত্মকভাবে ভুল পথে গেছে তখন তার এ আহ্বানকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। গতকাল সম্মেলনের উদ্বোধন করে তিনি বলেন, এ বছর আশা ধূসর হয়ে গেছে। অবর্ণনীয় কর্মকা- ও বিপুল নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানিতে আমাদের হৃদয় ভারি হয়ে আছে। ১৯৩টি দেশের নেতাদের সম্মেলনে এ সময় সব সদস্য গভীর মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনছিলেন। জাতিসংঘের এই সাধারণ অধিবেশনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে বান কি-মুন বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এত মানুষ শরণার্থী হয় নি। এত মানুষ বাস্তুচ্যুত হয় নি। এত মানুষ আশ্রয়প্রার্থী হয় নি। এর আগে এত বেশি মানুষের জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা ও জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম সরবরাহ চেয়ে জাতিসংঘ আহ্বান জানায় নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মাধ্যমে তিনি ফিলিস্তিনের নিরপরাধ মানুষ হত্যা, ইরাক ও সিরিয়ায় ব্যাপক আকারে মানুষ হত্যাকে বোঝাতে চেয়েছেন। বান কি-মুন বলেন, যখন সঙ্কট ক্রমেই বাড়ছে, বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ছে তখন দৃশ্যত বিশ্ব ব্যর্থ হচ্ছে। কিন্তু নেতাদেরকেই আশার বীজ খুঁজতে হবে। তাকে লালন করে বড় করতে হবে। এটাই আমাদের কাজ। আজ আপনাদের কাছে এটাই আমার আহ্বান।

সন্তানের বেডরুমে মহাকাশযান!

একটা সময় ছিল যখন শিশুরা খেলনা গাড়ি, বাস, ট্রেন, ভিডিও গেইম ইত্যাদি নিয়ে খেলতো। এখন সময়টা পাল্টেছে। শিশুরা এখন কম্পিউটার গেইম খেলছে, আইপড, আইপ্যাড, ট্যাবলেট ইত্যাদি অত্যাধুনিক ডিভাইস নিয়ে সময় কাটাচ্ছে। তার চেয়েও এক ধাপ ওপরে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের এক পিতা জেফ হাইস্মিথ। ৪ বছরের পুত্রকে তিনি নাসার মডেলের একটি স্পেসশিপ সিমিউলেইটর উপহার দিয়েছেন। তিনি নিজেই তৈরি করেছেন খেলনা নভোযানটি। সন্তানের শোবার ঘরে এটি রেখেছেন তিনি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা আইএএনএস। আসল মহাকাশযানের হুবহু নকল এ কৃত্রিম ও ছোট মহাকাশযানে রয়েছে কন্ট্রোল, সুইচ, এলইডি রিডআউট, সাউন্ড ইফেক্ট, একটি রোবোটিক হাত ও আসল মহাকাশযানের মতো অন্যান্য বস্তু। জয়স্টিকের সাহায্যে ইঞ্জিন ও থ্রাস্টারের আলো ও শব্দ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এতে রয়েছে হেডসেট, যার মাধ্যমে নভোযান ও অপর কক্ষে অবস্থিত মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যাবে। শুধু তাই নয়। এতে যে সাব-উফার সংযোজন করা হয়েছে, তার মাধ্যমে নভোযানটি আকাশে ওড়ার অনুভূতি পাওয়া যাবে। কম্পনের ধরনটা হবে একই রকম। কয়েক মাস আগে জেফ প্রথমে একটি মিশন কন্ট্রোল ডেস্ক বানিয়েছিলেন। এরপর তিনি তৈরি করেন খেলনা নভোযান। আসল শব্দ সংযোজনে বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করেছেন তিনি। মহাকাশযানে চড়ার জন্য বিশেষ নভোচারীর বিশেষ স্যুটতো থাকছেই। সন্তানের জন্য পিতার এ ধরনের ভাবনা ও উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

হাসিনা-ওবামা শুভেচ্ছা বিনিময়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তর সংলগ্ন ওয়াল্ডর্ফ এস্টোরিয়া হোটেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৯তম অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সম্মানে প্রেসিডেন্ট ওবামা ও ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামার দেয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছার পর ওবামা ও মিশেল অন্য নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনাকেও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে তার দেয়া বক্তব্যের প্রশংসা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াল থাবা থেকে ধরিত্রীকে রক্ষায় অঙ্গীকারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ জানান। গত ৫ই জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনের পর এটাই শেখ হাসিনার প্রথম যুক্তরাষ্ট্র যাত্রা। দেশটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও এটাই তার প্রথম সাক্ষাৎ। অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গেও শেখ হাসিনা শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বলেও জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইসিটি খাতে নরওয়ের বিনিয়োগ কামনা: এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উদীয়মান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করার জন্য নরওয়ের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক সফররত শেখ হাসিনা মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দ্বিপক্ষীয় কক্ষে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইরনা সোলবার্গের সঙ্গে এক বৈঠকে এ আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আইসিটি খাতে বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। শেখ হাসিনা আইসিটি খাতে উন্নয়ন দেখতে বাংলাদেশ সফরে আসার জন্য নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, গত সাড়ে পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আইসিটি খাতে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখে আপনি অভিভূত হবেন। বৈঠকে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের প্রশংসা করেন। এদিকে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সম্মানে দেয়া জাতিসংঘ মহাসচিবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

কার্বন হ্রাসের অঙ্গীকার জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর: ওদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথিবীকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষায় স্বেচ্ছায় কার্বন হ্রাসের অঙ্গীকার জোরদার করার জন্য বৃহৎ কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কার্বন হ্রাস এবং জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় সামর্থ্য অর্জনের মহাসড়ক ধরে বাংলাদেশ অগ্রসর হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন তিনি। কার্বন নির্গমনকারী বৃহৎ দেশগুলোর অনুরূপ প্রচেষ্টা চালানো উচিত বলেও মনে করেন তিনি। আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ কখনও উন্নয়নশীল বিশ্বের গড় মাথাপিছু নির্গমনের সীমা অতিক্রম করবে না বলে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জলবায়ু পরিবর্তন শীর্ষ সম্মেলন-২০১৪ এর অধিবেশনে ‘ন্যাশনাল অ্যাকশন অ্যান্ড এম্বিশন অ্যানাউন্সমেন্ট’ শীর্ষক অধিবেশনে দেয়া বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট অবনতিশীল পরিস্থিতির দিকে আমাদের ঠেলে দেয়া উচিত নয়।  আমাদের মতো দেশগুলোর জন্য উন্নত দেশগুলোকে অবশ্যই জোরালো অঙ্গীকার ও প্রচেষ্টা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্যও ‘অভিযোজন’ এবং ‘ক্ষয়ক্ষতি’ ইস্যু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোজন ও প্রশমনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সক্ষমতা উন্নয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ‘ইন্টেন্ডেড ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশনের (আইএনডিসি) ব্যাপারে প্রতিটি দেশকে পরিষ্কার ঘোষণা দিতে হবে এবং এই ঘোষণা প্রমাণযোগ্যভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে- এমন তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আইএনডিসি’র ব্যাপারে বাংলাদেশ সম্ভাব্য সব কাজ করে যাচ্ছে। তবে তা বাস্তবায়নে নতুন ও অতিরিক্ত সম্পদের প্রয়োজন হবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজি) সভাপতি সাম কুটিয়ার সভাপতিত্বে সম্মেলনে বলিভিয়া, ব্রাজিল, তুরস্ক, কোস্টারিকা, ভেনেজুয়েলা, ক্রোয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া ও উগান্ডার প্রেসিডেন্ট বক্তব্য রাখেন। শেখ হাসিনা বলেন, অভিযোজন পরিকল্পনা ও এর বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা জরুরি। প্রশমনের ক্ষেত্রে বেসরকারি আর্থিক সহায়তা শুধু সম্পূরক হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী সামপ্রতিক বছরগুলোতে সবুজ অর্থনীতির জন্য বাংলাদেশের অবিরাম প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ৩.২ মিলিয়ন সোলার হোম সিস্টেম (এসএইচএস) এবং ১.৫ মিলিয়ন ইমপ্রুভড কুক স্টোভ (আইসিএস) রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ১০ বছর মেয়াদি একটি ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশন প্ল্যান’ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে দুর্যোগ সহনীয় বিভিন্ন ধরনের শস্য উদ্ভাবন করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অসহায় ও স্বল্পোন্নত দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ এ পর্যন্ত অভিযোজন ও  প্রশমনের জন্য নিজস্ব সম্পদ থেকে ৩৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে। তিনি বলেন, অব্যাহত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের দেশে লাখ লাখ মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ত পানির প্রবেশ আমাদের উপকূলীয় এলাকাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের গম ও ধান (বোরো) উৎপাদন হুমকির সম্মুখীন। বহু মানুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবনধারণ পদ্ধতি পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে জিডিপি ২ থেকে ৩ শতাংশ কম হচ্ছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন-২০১৪-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আইপিসিসি চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র কে. পাচাউরি এবং সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর।

খালেদার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সফর- সার্কিট হাউস ব্যবহারের অনুমতি মেলে ৪ দিন পর by জাবেদ রহিম বিজন

বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোট নেতা  খালেদা জিয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সফরকালে জেলা প্রশাসনের অসহযোগিতা ছিল। এই অভিযোগ মিলেছে জেলা বিএনপির নেতাদের কাছ থেকে। তারা বলেন, নেত্রী আসার আগে এ নিয়ে তারা মুখ খুলতে চাননি। নীরবে সহ্য করেছেন। জেলা বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, সার্কিট হাউজ ব্যবহারের অনুমতি পেতে তাদের বেগ পেতে হয়েছে। ২-৩ দিন চেষ্টার পর সার্কিট হাউজ ব্যবহারের অনুমতি মিললেও চাহিদা মতো কক্ষ দেয়া হয়নি। তবে অতিথি আপ্যায়নে সার্কিট হাউজে রান্না-বান্নায় ছিল নিষেধাজ্ঞা। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সফরকালে কিছু সময়ের জন্য খালেদা জিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সার্কিট হাউজে ওঠেন। তিনি এখানে মধ্যাহ্নভোজ সারেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ২০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা তার সফরসঙ্গী ছিলেন। পর্যাপ্ত কক্ষ না পাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জেলা বিএনপি নেতারা এই অভিযোগ করে জানান, প্রথমে জেলা প্রশাসন সার্কিট হাউজ ব্যবহার করতে দেবে না বলে দৃঢ় অবস্থানে ছিল। পরে শুধু খালেদা জিয়ার জন্য  একটি কক্ষ বরাদ্দ দিতে সম্মত হয়। তার সফরসঙ্গী কেন্দ্রীয় নেতাদের জন্য কোন কক্ষ বরাদ্দ দিতে চাইছিলেন না তারা। জেলা বিএনপি নেতারা এ নিয়ে চাপ সৃষ্টি করলে কয়েকটি কক্ষ বরাদ্দ দেয় প্রশাসন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল ইসলাম জানান, দলের চেয়ারপারসন আসবেন বলে তারা সার্কিট হাউজ বরাদ্দ পেতে ১৮ই সেপ্টেম্বর প্রথম জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের  সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সার্কিট হাউজ ব্যবহারের অনুমতি পান তারা ২১শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়। ১৮ই সেপ্টেম্বরের পর থেকে প্রতিদিন জেলা বিএনপির ১০-১২ জন করে নেতা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তখন তাদেরকে বলা হয় বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। সেখান থেকে উত্তর না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। পরে কক্ষ বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু আমাদের চাহিদামতো কক্ষ পাইনি। তবে নেত্রীর ব্যবহারের জন্য ডাইনিং স্পেসসহ যে কক্ষটি চেয়েছিলাম সেটি আমাদেরকে দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, কক্ষ বরাদ্দ দেয়া হলেও সার্কিট হাউজে খাবার রান্না-বান্না না করার জন্য নিষেধ করা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনসসহ আরও কয়েকজনের খাবার রান্না করে আনা হয় জেলা বিএনপির অন্যতম নেতা ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের বাসা থেকে। বাকি আরও প্রায় ১০০ অতিথির খাবার রান্না করা হয় অন্যত্র। শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা চেয়েছিলাম সার্কিট হাউজের বাবুর্চি দিয়ে রান্না-বান্না করাতে। কিন্তু অনুমতি না থাকায় সম্ভব হয়নি। তবে বাইরে থেকে রান্না-বান্না করে আনা খাবার পরিবেশনে তাদের আপত্তি নেই বলে আমাদেরকে জানানো হয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেকটর (এনডিসি) সাব্বির আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সার্কিট হাউজ ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হচ্ছিল না এরকম কথা আমি শুনিনি। আর খাবার-দাবারের ব্যবস্থা উনারা চাননি। নিজেরা রান্না-বান্না করে নিয়ে এসেছেন। তিনি দু’টি রুম বরাদ্দ দেয়ার কথা জানান। বলেন, সার্কিট হাউজে তারা স্বল্প সময়ের জন্য ছিলেন। ওই সময় ফ্রেশ হয়েছেন শুধু।

একজন লোধা এবং ক্রসফায়ার by সাজেদুল হক

কৌশল হয়তো বদলাচ্ছে। সংখ্যা নিয়েও বিতর্ক আছে। নামে আছে ভিন্নতা। তবে গল্প একই। মৌলিক অধিকারের মধ্যে সবচেয়ে মৌলিক বেঁচে থাকার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আদম সন্তান। কেউ মারা যাচ্ছেন ‘বন্দুকযুদ্ধে’, কেউ ‘ক্রসফায়ারে’। কেউ আবার হঠাৎ হঠাৎ উধাও হয়ে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক আইন যাকে অভিহিত করছে গুম বলে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবশ্য এ নামে আপত্তি। নাম যাই হোক বাংলাদেশে গত ১৪ বছর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিদ্যমান বাস্তবতা অস্বীকারের জো নেই। এটাও হয়তো সত্য শুরুর দিকে এই ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। যদিও জাতির কোন কোন বিবেক সে সময়ও এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। কারণ বিচার পাওয়ার অধিকার সবচেয়ে জঘন্য অপরাধীরও রয়েছে। সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেয়া হয়েছে, ‘ফৌজদারি অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচার লাভের অধিকারী হইবেন।’ তবে বাংলাদেশে সে অধিকার এখন ভূলুণ্ঠিত। নানা তকমা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেড়ে নিচ্ছে জীবন। বাংলাদেশের হাইকোর্টে গত আট বছরে এ নিয়ে বেশকিছু রিট দায়ের করা হয়েছে। অন্তত ছয়টি রিটে হাইকোর্ট রুলও জারি করে। কিন্তু একটি রুলেরও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। কোন আইনি দিকনির্দেশনাও আসেনি আদালতের তরফে। অথচ একই ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ঐতিহাসিক নির্দেশনা দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ভারতের প্রধান বিচারপতি আর এম লোধা ও বিচারপতি রোহিন্তন নরিমানের বেঞ্চ সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছে, কোন ব্যক্তি অপরাধমূলক কাজ করলেও তার সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সংঘর্ষের নাম করে তাদের মেরে ফেলা যায় না। এনকাউন্টারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড রোধে একগুচ্ছ নির্দেশনাও জারি করে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট। এপ্রিল মাসের শেষদিকে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন বিচারপতি রাজেন্দ্র মাল লোধা। তিনি আর এম লোধা নামেই পরিচিত। চলতি মাসেই অবসরে যাবেন তিনি। তবে এ স্বল্প মেয়াদেই মানবাধিকার আর গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এই প্রধান বিচারপতি। ২০ বছরেরও বেশি সময় বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এর আগে ১৯৭৩ সালে রাজস্থান হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে শুরু করেছিলেন কর্মজীবনের। গত আগস্টেই বিচারপতি আর এম লোধার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ রাজনীতিতে দাগি অপরাধীদের অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে আদালতের অবস্থান স্পষ্ট করে। একটি জনস্বার্থ মামলার পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে কিংবা মামলা চলছে- এমন ব্যক্তিদের মন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন না বলেই আশা করা যায়। প্রধানমন্ত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে দাগিদের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দেয়া বাঞ্ছনীয় নয়।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে রুলের নিষ্পত্তি নেই: পুলিশি হেফাজতে কথিত সন্ত্রাসী টুন্ডা ইসমাইলের নিহত হওয়ার ঘটনায় ২০০৬ সালের ২৫শে মে রিট করা হয় হাইকোর্টে। সে সময় হাইকোর্ট রুলও জারি করেছিল। আট বছরের বেশি সময় পার হয়েছে। এখনও এ রুলের শুনানি শুরু হয়নি। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে এমন আরও তিনটি রুল শুনানি ছাড়াই পড়ে আছে। এর মধ্যে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছিল স্বপ্রণোদিত হয়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ২০০৬ সালের আগস্টে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিল মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন এবং বিচারপতি মামনুন রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রুল জারি করেছিল। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের জীবনের নিরাপত্তা কেন নিশ্চিত করা হবে না। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আরেকটি রিট আবেদন করা হয় ২০০৯ সালের ২৯শে জুন। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ও কর্মজীবী নারী যৌথভাবে রিট আবেদনটি করে। ক্রসফায়ার কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছিল। এ রুলেরও এখন পর্যন্ত শুনানি শুরু হয়নি। ২০০৯ সালের ১৭ই নভেম্বর বিচারপতি এএফএম আবদুর রহমান ও বিচারপতি মো. ইমদাদুল হক আজাদের বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে আরেকটি রুল জারি করে। রুলের জবাব দিতে র‌্যাবের মহাপরিচালক, স্বরাষ্ট্র সচিব ও র‌্যাব ৮-এর তখনকার অধিনায়ককে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিল আদালত। ২০১০ সালের ১৪ই নভেম্বর এই রুলের শুনানি শুরুর কথা ছিল। নির্ধারিত দিনে আদালতের কাছে সময় চান এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ক্রসফায়ার বন্ধ রাখার মৌখিক নির্দেশ দিয়ে ২০১০ সালের ৩রা জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করে আদালত। এরই মধ্যে বিচারপতি এএফএম আবদুর রহমান ও বিচারপতি মো. ইমদাদুল হক আজাদের বেঞ্চের এখতিয়ার পরিবর্তন হয়ে যায়। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ছাড়াও গুম নিয়ে দু’টি রুল হাইকোর্টে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ২০১২ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পথে রাত সোয়া ১২টায় আশুলিয়ার নবীনগরে হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে নিখোঁজ হন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবির নেতা আল মুকাদ্দাস ও মুহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ। তাদেরকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে দাবি করে তাদের পরিবারের সদস্যরা হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস রিট দায়ের করেন। গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি আদালত এ নিয়ে রুল জারি করেছিল। বিচারপতি  মো. আবদুল আউয়াল এবং বিচারপতি আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চে রুলটির শুনানি শুরু হয়। র‌্যাবের মহাপরিচালক হাইকোর্টে হলফনামা দিয়ে জানান, সংস্থাটি মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহকে আটক করেনি। তবে র‌্যাব মহাপরিচালকের এ জবাবে হাইকোর্ট সন্তুষ্ট হয়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে হাইকোর্ট তলব করেছিল। তদন্ত কর্মকর্তার জবাবও হাইকোর্টকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। পরে আইজিপিকে তলব করে আদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। ওই আদেশে বলা হয়, ‘আদালতের আদেশ অনুযায়ী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেস ডায়েরিসহ আদালতে হাজির হয়েছিলেন। কেস ডায়েরি দেখে তদন্ত সম্পর্কে তাৎপর্যপূর্ণ কিছু পাওয়া যায়নি। রিটের শুনানিতে উঠে এসেছে যে, অভিযোগে বর্ণিত র‌্যাব সদস্যদের দ্বারা দুই ব্যক্তিকে অপহরণের কিছু সময় আগে তারা মোবাইল ফোনে অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। মোবাইল ফোন কোম্পানিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তারা কাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তাদের নাম-ঠিকানা দেয়ার জন্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তদন্ত কর্মকর্তা ওই ব্যক্তিদের যাচাই করেননি এবং কি বিষয়ে তারা কথা বলেছেন, তা-ও জানার চেষ্টা করেননি। রিট আবেদনকারীদের অভিযোগ, র‌্যাব সদস্যরা তাদের দুই স্বজনকে আটক করে রেখেছে। আমরা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তিনি তাদের উদ্ধারে র‌্যাব ক্যাম্পে গিয়েছেন কিনা। তদন্ত কর্মকর্তা এ প্রশ্নে চুপ ছিলেন। তদন্তের অগ্রগতি শোচনীয়। এ অবস্থায় তদন্তের পুরো প্রক্রিয়া জানার জন্য আইজিপির হাজির হওয়া প্রয়োজন।’ কিন্তু পরে হাইকোর্টের এ আদেশ আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি স্থগিত করে দেন। এ কারণে আইজিপিকে আর হাজির হতে হয়নি। এখনও এ রুলটিরও নিষ্পত্তি হয়নি। সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৯শে এপ্রিল বিএনপির নিখোঁজ সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীকে হাজির করা নিয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। ইলিয়াসের স্ত্রীর দায়ের করা এক হেবিয়াস কর্পাস রিটে হাইকোর্ট ওই রুল জারি করেছিল। এ রুলটিও এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

ভর্তি পরীক্ষায় ‘মেধাবীদের’ ফেলের রেকর্ড by নুর মোহাম্মদ ও ফররুখ মাহমুদ

উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার আর জিপিএ-৫ এ রেকর্ড গড়ার প্রতিযোগিতা চলছে কয়েক বছর ধরে। প্রতি বছরই বাড়ছে পাসের হার। রেকর্ড সংখ্যক শিক্ষার্থী পাচ্ছে জিপিএ পাঁচ। পাস আর জিপিএ-তে রেকর্ড গড়া এসব শিক্ষার্থীরা শুরুতেই হোঁচট খাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রতিযোগিতায় নেমে। আগের বছরগুলোর মানের পরীক্ষা হলেও ভর্তি পরীক্ষায় পাসের হার নেমে এসেছে লজ্জাজনক অবস্থায়। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইউনিটে মাত্র পাঁচ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে যাওয়া পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায় পাসের হার পাঁচ থেকে ২০ ভাগের বেশি হচ্ছে না। ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের এমন দৈন্যদশাকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। যদিও শিক্ষামন্ত্রী ও মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা নানাভাবে এ অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষার অগ্রগগির ব্যাপারে সরকার মুখে যা বলছে বাস্তবতার চিত্র কিন্তু উল্টো। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ তিনটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় মোট এক লাখ ৬৬ হাজার ৯১৫ জন পরীক্ষার্থী। যাদের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩০ হাজার ৬২০ জন। শতকরা হিসেবে যা ১৭.১৮ শতাংশ। এবার উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০ হাজার ৬০২ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ পেয়েও অনেক শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক ও ঢাবির ভর্তি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ‘ক’ ইউনিটে পাস করেছে ২১.৫০, ‘খ’ ইউনিটে ৯.৫৫ শতাংশ এবং ‘গ’ ইউনিটে ২০.৬১ শতাংশ। আর এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায়ই জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০ হাজার ৬০২ জন। সবেচেয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে মঙ্গলবার প্রকাশিত ঢাবির ‘বি’ ইউনিটে ফল। সেখানে পাসের হার ৯.৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ পাস করতে পারেনি ৯১ ভাগ শিক্ষার্থী। শিক্ষার মান উদ্বেগজনক জানিয়ে শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, সরকার মান নয়, পাসের দিকে ঝোঁকার কারণেই এ অবস্থা।
একই চিত্র ছিল ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষাতেও। সে বছর জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫৬ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী পাস নম্বর তুলতে ব্যর্থ হয়। এর আগে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে ৫৫ ভাগ এবং ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ৫৩ ভাগ জিপিএ-৫ পাওয়া পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায়।
২০১৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ৭৮.৩৩ ভাগ শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০ হাজার ৬০২ জন। আর এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে ৯৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ২২ হাজার ৩১৩? অথচ ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ইউনিটের প্রকাশ ফলাফলে পাসের হার গড়ে ১৭.১৮ শতাংশ। এর মধ্যে ‘ক’ ইউনিটে পাস করেছে ২১.৫০, ‘খ’ ইউনিটে ৯.৫৫ শতাংশ এবং ‘গ’ ইউনিটে ২০.৬১ শতাংশ। পরীক্ষা অংশগ্রহণ করার সবাই জিপিএ-৩.৫ থেকে সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ ধারী। ২০১৩ সালে এইচএসসি ও সমমানের পাসের হার ছিল ৭৪.৩০ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫৮ হাজার ১৯৭ জন। আর এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৮৯.৭২ শতাংশ। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ঢাবির পাঁচটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন ২ লাখ ১৭ হাজার ছাত্রছাত্রী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৪১ হাজার ৮৯১ জন। পাস নম্বর তুলতে ব্যর্থ হন এক লাখ ৭৫ হাজার। পাসের হার ছিল ১৯ শতাংশ। এর মধ্যে ‘চ’ ইউনিটে ৯৫ ভাগ, ‘গ’ ইউনিটের ৯১ ভাগ, ‘খ’ ইউনিটের ৮৬ ভাগ, ‘ঘ’ ইউনিটের ৯১ ভাগ এবং ‘এ’ ইউনিটে ৫৮ ভাগ শিক্ষার্থী পাস নম্বর তুলতে ব্যর্থ হয়। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে ৮৩ ভাগ এবং ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ৮১ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করতে ব্যর্থ হন। ঢাবি কেন্দ্রীয় ভর্তি কেন্দ্রর তথ্যের অনুযায়ী, পাঁচটি ইউনিটে ভর্তির ক্ষেত্রে লিখিত ১২০ নম্বরের পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪৮ (৪০% হিসাবে)। এর মধ্যে ‘খ’, ‘গ’ ও ‘ঘ’ ইউনিটে বাংলায় ৮ (পূর্ণ নম্বর ৩০), ইংরেজি ৮ (পূর্ণ নম্বর ৩০) ও সাধারণ জ্ঞান এবং সাধারণ জ্ঞানে ১৭ (পূর্ণ নম্বর ৬০) নম্বর করে পেলে তিন বিষয়ে পাস হিসেবে ধরা হয়। আর ‘গ’ ইউনিটে ইংরেজিতে পাস নম্বর ১২।
ভর্তির ফলে একই চিত্র দেখা গেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ভতি পরীক্ষায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের ৪৬ হাজার ৯শ’ ৮৯ জন ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৯ হাজার ৭শ’ ৬৭ জন। পসের হার ১৬.২৪ শতাংশ। ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় পাস করেছে মাত্র ৪.৮১ শতাংশ শিক্ষার্থী। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, যে সংখ্যক শিক্ষার্থী পাস করেছে তাতে ওই ইউনিটের আসন পূরণ করতে কোন সমস্যা হবে না। বেশি পাস দেখিয়ে পরীক্ষা ভর্তি হতে না পারলে শিক্ষার্থীদের মনে কষ্ট থাকে বলেও তিনি জানান।
শুধু ভর্তি পরীক্ষায় পাসের হারেই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নির্ধারিত নম্বর না পাওয়ায় অনেক বিভাগে আসনই পূর্ণ করতে পারছে না কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে ইংরেজিতে নির্ধারিত নম্বর রয়েছে যেসব বিষয়ের ক্ষেত্রে ওইসব বিষয়ে আসন খালি থাকছে। সার্বিক ভর্তি ফলের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার মানে গুণগত কোন পরিবর্তন আসেনি এটি তারই প্রমাণ। পাস নয় শিক্ষার মানের দিকে তাকাতে সরকারকে পরামর্শ দেন এ শিক্ষাবিদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে সর্বোচ্চ ভাল ফল করেও এত বেশি সংখ্যক ভর্তি পরীক্ষায় পাস করতে না পারা উদ্বেগ ও আশঙ্কাজনক। এর সমাধানে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এস এম ফায়েজ বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে নম্বর দিয়ে সাহস দেয়া যায়। তবে নম্বর পাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা দেয়ার পক্ষে নই আমি। এতে শিক্ষার্থীরা সহজে ভাল নম্বর পাওয়ায় পরবর্তীতে পড়ালেখায় একটু ঢিলেমি দিয়ে দেয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এসে এমন বিপর্যয় হচ্ছে। কলা অনুষদের ডিন ও ‘খ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক সদরুল আমিন বলেন, পাঠ্যবই থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিতে প্রশ্ন করা হয়। তারপরও শিক্ষার্থীরা ভাল করতে পারে না। তিনি বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় খাতা যথাযথ মূল্যায়ন না করা, স্কুল-কলেজগুলোতে শিক্ষকের অভাবের কারণে এ সমস্যাগুলো হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমিত সংখ্যক আসন রয়েছে। তাই এই পরীক্ষা নেয়া হয় বাদ দেয়ার জন্য। এখানে পাস ফেলে কোন সমস্যা না। এবার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে ঢাবিতে ‘খ’ ইউনিটে পাস করতে পারেনি এক শিক্ষার্থী। ফেল করার কারণ মূল্যায়ন করতে গিয়ে ওই শিক্ষার্থী জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে যা পড়ানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন তার ধারে-কাছেও নেই। তিনি বলেন, এইচএসসির পড়াশোনার সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষার কোন মিল নেই।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের পক্ষে সাফাই, হ-য-ব-র-ল শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা না ফিরিয়ে পাসের দিকে বেশি নজর দেয়া, শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ না করিয়ে অপরিকল্পিত সৃজনশীল পদ্ধতি চালু, সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থায় কোচিং-এর প্রভাব, শ্রেণীকক্ষে সঠিক পাঠদানের ঘাটতি, অনুপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে পাস করার প্রবণতা তৈরি করে দেয়া, ক্লাসরুমে পাঠ্যবইয়ে মনোযোগ না দেয়ার কারণে উচ্চশিক্ষার ভর্তিযুদ্ধে শিক্ষার্থীরা হোঁচট খাচ্ছে। মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনরা বলেন, জোর করে পাসের হার বাড়ানো হচ্ছে। ফলে এর প্রভাব পড়ছে উচ্চশিক্ষায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাস করতে পারছে না সর্বোচ্চ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষা মান বেড়েছে এমন দাবিতে অনড় শিক্ষামন্ত্রী অবশ্য এসব অভিযোগ মানতে নারাজ। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এসএসসি-এইচএসসির ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করানো হয় না কেন? এক ঘণ্টার এমসিকিউ পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষার সার্বিক মান যাচাই করা যায় না বলেও দাবি তার।
ঢাবির ইংরেজি বিভাগে ভর্তিযোগ্য ২ জন
২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগে ভর্তির হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে মাত্র ২ জন শিক্ষার্থী। অথচ এই বিভাগে আসন সংখ্যা ১২৫টি। ইংরেজি বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে ইংরেজিতে ২০ নম্বর পাওয়ার পাশাপাশি ইলেক্টিভ ইংলিশে ১৫ নম্বর পেতে হয়। মঙ্গলবার প্রকাশ হওয়া ‘বি’ ইউনিটের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই বিভাগে ভর্তি হওয়ার জন্য মাত্র ২ জন শিক্ষার্থী ইংরেজিতে সমসংখ্যক নম্বর পেয়েছেন। ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ৫টি অংশ ছিল। এগুলো হলো- সাধারণ ইংরেজি, বাংলা, ইলেক্টিভ ইংলিশ, সাধারণ জ্ঞান ‘এ’ ও সাধারণ জ্ঞান ‘বি’। শিক্ষার্থীদের ৫টির মধ্যে ৪টি অংশ নিজেদের যোগ্যতাসাপেক্ষে নির্বাচন করার নির্দেশ দেয়া হয়। প্রত্যেক বিষয়ে মোট ২৫টি প্রশ্নে ৩০ নম্বর ছিল। ১ ঘণ্টায় মোট ১২০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। ভর্তি নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়, ইংরেজি বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষায় পাসসহ সাধারণ ইংরেজিতে ২০ নম্বর পেতে হবে। তবে ভর্তি পরীক্ষার তিন দিন আগে গত ১৬ই সেপ্টেম্বর পরীক্ষায় উত্তরপত্রের বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ প্রসঙ্গে ঢাবির কলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক সদরুল আমিন বলেন, ইংরেজি বিভাগে আসন সংখ্যা ১২৫টি। এ বছর এ বিভাগে অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভর্তির যোগ্যতা অর্জনের বিষয়টি আমিও শুনেছি। শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা না করায় এমনটা ঘটেছে। শিক্ষার মান দিন দিন কমে যাচ্ছে। ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বিষয়টা আমিও শুনেছি। সবার সঙ্গে আলোচনা করে করণীয় ঠিক করা হবে।

আঞ্চলিক যুদ্ধে জয়ী হতে হবে

শি জিনপিং
সম্ভাব্য ‘আঞ্চলিক যুদ্ধে’ জয়ী হতে নিজেদের সক্ষমতাকে শাণিত করতে চীনের সেনাবাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মিকে (পিএলএ) নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। পিএলএর কাছে ‘চরম আনুগত্যও’ আশা করেছেন তিনি। চীনা প্রেসিডেন্টের এ ধরনের মন্তব্য এটাই প্রথম না হলেও এবার তা এমন এক সময়ে এল, যখন সীমান্তের একটি অংশে চীনা ও ভারতীয় সেনাদের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। চীন সীমান্তে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেই ভারতের সেনাপ্রধান তাঁর নির্ধারিত ভুটান সফর স্থগিত করেছেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভির।
সদ্য ভারত সফর শেষে দেশে ফেরা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত রোববার বেইজিংয়ে পিএলএর শীর্ষ ১৫ জেনারেলকে নিয়ে এক বৈঠক করেন। এতে সেনাপ্রধান ফাং ফেঙ্গুইও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে জিনপিং নিজের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তিনজন জেনারেলের পদোন্নতি দেন। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী বৈঠকে তিনি সেনা কমান্ডারদের ‘আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে অধিকতর ভালো ধারণা’ থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন। প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্যকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি বিবৃতির বরাত দিয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, ‘পিএলএর সব সদস্যকে প্রেসিডেন্ট ও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের (সিএমসি) চেয়ারম্যান শি জিনপিংয়ের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি সিএমসির নির্ধারিত নতুন লক্ষ্য ও মিশন পূরণে নিজেদের কর্মপন্থাকে সময়োপযোগী করতে হবে।’ বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর ওপর প্রেসিডেন্টের ‘অসন্তোষের’ বিষয়টিতে আলোকপাত করার পাশাপাশি ‘নতুন পরিস্থিতি’র আওতায় সেনা কমান্ডের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। শি জিনপিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, পিএলএর সব দপ্তরকে নিজেদের যুদ্ধ প্রস্তুতির উন্নয়ন ঘটাতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য নিজেদের সক্ষমতাকে শাণিত করতে হবে। পিএলএর সব অংশের মধ্যে অবশ্যই চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি পরম আনুগত্য ও দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে। উল্লেখ্য, ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি চীনের একমাত্র রাজনৈতিক দল। এর সাধারণ সম্পাদক প্রেসিডেন্ট নিজে। চীনা প্রেসিডেন্ট এর আগেও ‘আঞ্চলিক যুদ্ধের’ জন্য পিএলএকে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সঙ্গে চীনের সীমান্তে বেশ উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে।
বিশেষ করে ভারতের পক্ষ থেকে সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (এলএসি) ওপার থেকে চীনা সেনাদের বারবার অনুপ্রবেশের অভিযোগ আসছে। এমনকি চীনা প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক নয়াদিল্লি সফরের সময়ও এমন অভিযোগ ওঠে। এমন প্রেক্ষাপটে জিনপিং দেশে ফেরার পরই এমন বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতির মাধ্যমে দৃশ্যত বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইন গত সোমবার বলেন, সীমান্ত ইস্যুতে কারোর মধ্যেই ‘অযথা সন্দেহ’ থাকার কোনো দরকার নেই। কারণ, দুই দেশের নেতারা সীমান্ত সমস্যাগুলো বন্ধুভাবাপন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন। লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা: চীন-ভারত সীমান্তের বিরোধপূর্ণ লাদাখের চুমুর এলাকায় চীনা সেনাবাহিনীর একটি রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি গত ১৩ সেপ্টেম্বর শনাক্ত করে ভারতীয় বাহিনী। ভারতের বক্তব্য, এটি ২০০৫ সালের সীমান্ত প্রটোকল লঙ্ঘন করে নির্মাণ করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে ভারতীয় বাহিনী সেখানে গিয়ে নির্মাণসামগ্রী জব্দ করে ও নির্মাণাধীন রাস্তাটি ধ্বংস করে। সেখানে এখন চীনা বাহিনীর এক হাজারের মতো এবং ভারতীয় বাহিনীর প্রায় দুই হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক পর্যায়েই বিষয়টির মীমাংসা করতে হবে। এ নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতের সেনাপ্রধান দলবীর সিং তাঁর ভুটান সফর স্থগিত করেছেন।

রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রত্যাশা

বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্যরা গতকাল ফিলিপাইনের ম্যানিলায়
মার্কিন দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাঁদের হাতে ছিল
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ছবিসংবলিত পোস্টার।
নিউইয়র্কে আয়োজিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন সামনে
রেখে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের বিষয়টি
তুলে ধরতেই এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।
জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে হাজির হয়েছেন বিশ্বনেতারা। আগামী বছর প্যারিসে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় একটি নতুন ও ব্যাপকভিত্তিক চুক্তি স্বাক্ষরে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে সম্মত করতেই এবারের জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ ১২৫টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা অংশ নিচ্ছেন এতে। খবর বিবিসি ও সিএনএনের। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে বাংলাদেশ সময় গতকাল মঙ্গলবার রাত নয়টার কিছু আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। উদ্বোধনী ভাষণ দেন সম্মেলন আহ্বানকারী জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। এতে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা মোকাবিলায় নতুন পথের সূচনা করার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
সম্মেলনের প্রাক্কালে বান কি মুন এর গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এ সময়ের সবচেয়ে বড় ইস্যু। এর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে ব্যবস্থা নেওয়ার এখনই সময়। এর আগে বান কি মুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে কার্যকর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসার জন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তারও নিশ্চয়তা চান তিনি। উদ্বোধনী অধিবেশনে নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর, ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র পাচৌরি প্রমুখের বক্তব্য দেওয়ার কথা।

৫৩–তে প্রথম নিজকে স্বাধীন মনে হয় হিলারির!

হিলারি ক্লিনটন
৫৩ বছর বয়সের আগ পর্যন্ত নিজেকে স্বাধীন ভাবতে পারেননি হিলারি ক্লিনটন! যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দুই মেয়াদের ফার্স্ট লেডি হলেও এ ধরনের অনুভূতির অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। এ কথা জানিয়েছেন নামী মার্কিন সাংবাদিক ও লেখিকা গেইল শিহি। খবর এবিসি নিউজের। বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনের কাহিনি নিয়ে বই লিখে খ্যাতি অর্জন করেছেন গেইল শিহি।
তিনি সাবেক ফার্স্ট লেডিকে ‘মোহনীয় মানুষ’ আখ্যা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের শিক্ষানবিশ কর্মী মনিকা লিউনস্কির সঙ্গে প্রেমের ব্যাপারে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ায় ১৯৯৯ সালে ক্লিনটনকে অভিশংসনের উদ্যোগ নিয়েছিল মার্কিন সিনেট। আর তখন হোয়াইট হাউসেরই এক প্রান্তে বসে হিলারি সিনেট নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে পরিকল্পনা করছিলেন। পরে এ ব্যাপারে হিলারি সাংবাদিক শিহিকে বলেছিলেন, তখনই ৫৩ বছর বয়সে এসে প্রথমবারের মতো নিজেকে স্বাধীন বলে মনে হয়েছিল তাঁর। কারণ, নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন। ব্যাপারটা তাঁর কাছে ছিল খুব বড়।

বিপন্ন ও আক্রান্ত উচ্চশিক্ষা by ড. মাহফুজ পারভেজ

উচ্চশিক্ষায় সুস্থ পরিবেশ আর রইলো না। শিক্ষক বাসে হামলা করলো সন্ত্রাসীরা। এই সন্ত্রাসীরা কারা? রাজশাহী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামে কারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে? কারা উচ্চশিক্ষাকে দলীয় সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে? এসব প্রশ্নের উত্তর বাংলাদেশের একজন দুধের শিশুও জানে। চট্টগ্রামের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সেখানে দুষ্কৃতকারীরা বাসে হামলা করে শিক্ষকদের রক্ত ঝরিয়েই ক্ষান্ত হয় নি, শিক্ষকের অফিস কক্ষে প্রবেশ করেও হামলা করেছে। এসব ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ করার ভাষাও শুভ বোধসম্পন্ন মানুষের জানা নেই। পুরো দেশ শক্তির দম্ভ ও দলীয় সন্ত্রাসের নিন্দায় মুখর। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক বাসে হামলার ঘটনায় কোন বিবৃতি না দেয়ায় শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন শিক্ষক সমিতির নেতারা। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক বেণু কুমার  দে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এটা সত্যিই দুঃখজনক যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বাসে  বোমা হামলার পরও শিক্ষামন্ত্রী একটা বিবৃতি পর্যন্ত দেননি। শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বেণু কুমার দে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা কি আপনার কাছে কিছুই না? এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনায় আপনার কি একটুও সমবেদনা জানানোর সময় হলো না? অথচ, একজন স্কুল শিক্ষার্থী আহত হলেও শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় দেখতে গিয়েছেন এমন নজিরও আছে। তিনি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক এখন যন্ত্রণায় কাতর। আমরা আশা করছি, তিনি শিগগিরই শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিবৃতি দেয়ার পাশাপাশি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেবেন।
কিন্তু দুষ্কর্মের মূল হোতাদের আড়াল করতে দলীয়করণের রাজনীতি বসে নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও একতরফা আচরণ করছে। যদিও ঘটনার সত্যতা আর মূল হোতাদের এভাবে আড়াল করা যাচ্ছে না। প্রতিপক্ষের ওপর দোষ চাপিয়েও খালাস হচ্ছে না অপকর্মের হোতারা। কারণ, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে নস্যাৎকারী দৈত্য সম্পর্কে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতাই জনগণ চোখের সামনে দেখছে। দেখছে অস্ত্র হাতে তাদের সচিত্র প্রতিবেদন। অতএব, শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাচ্ছে না। উগ্র আবেগ ও তীব্র উন্মাদনা দিয়েও সত্য গোপন করা সম্ভব হচ্ছে না। আসল সত্য স্বরূপে বের হয়েই এসেছে। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? এক সময় টেন্ডারবাজি, অন্তর্কলহে যে উগ্র ছাত্র সংগঠন খোদ প্রধান দলকেই বিপদে ফেলেছিল, তাদেরকে সামলানো যাচ্ছে না কেন? কেন এখন তারা সমগ্র দেশেই আতঙ্কের জাল বিস্তার করছে? নাকি এদেরকে দিয়ে প্রতিপক্ষের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম ও তৎপরতাকে শক্তির পথে দমনেরই পথ বেছে নেয়া হয়েছে? সংশ্লিষ্টরাই এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন। ব্যক্তি ও সমাজের মতোই যদি প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়ে তাহলে কার লাভ? বিশেষ করে, যদি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়, বন্ধ থাকে, সন্ত্রাসকবলিত হয়, তাহলে লাভ কার? জাতির তো কোন লাভ হবে না। ছাত্র বা শিক্ষকেরও ক্ষতি ছাড়া লাভ নেই এতে। তবে কারা করছে উচ্চশিক্ষা ধ্বংসকারী শক্তি প্রয়োগ এবং সন্ত্রাস? ছাত্র-শিক্ষকদের ওপর হামলা করছে? সত্যনিষ্ঠ হয়ে এর কারণ বের করতে হবে। ক্ষমতা ও রাজনীতির কালো চশমা দিয়ে নয়, বাস্তব সত্যের মুখোমুখি হয়েই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। জানি, এতটা রাজনৈতিক সততা দেখিয়ে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে ওঠার মতো উদারতা ও বড়ত্ব অনেক রাজনৈতিক দলের মধ্যেই নেই। তবু মানুষ ও সমাজ, ছাত্র ও শিক্ষক, সর্বোপরি দেশের উচ্চশিক্ষাকে বাঁচানোর স্বার্থে তাদের শুভবোধের উদয় হবে বলেই সকলে আশা করছে। এ কথাও মনে রাখা দরকার, যদি দলীয়-দানবদের এখনই প্রতিহত না করা হয়, তবে সেই সব দানবিক অপশক্তিই নিজ নিজ প্রভুদেরকেও একদা আক্রান্ত করবে। এটাই সন্ত্রাসাশ্রিত রাজনীতির সবচেয়ে বড় কুফল। অতএব, এদের দাপটে খুশি হওয়ার কিছু নেই। যাদের পক্ষে এরা দাপট দেখাচ্ছে, তাদের জন্যও এরা বিপদের কারণ হবে। তাই, সন্ত্রাসের ঘৃণ্য ও বিপজ্জনক পথে নয়, বরং শান্তি ও সৌহার্দ্যের পথ ও পন্থা অনুসরণ করাই সকলের জন্য মঙ্গলজনক। সন্ত্রাসের পথে মানুষকে বিপদে ফেলে, মানুষের নিন্দা ও ঘৃণা কুড়িয়ে রাজনৈতিক সাফল্য পাওয়া যায় না, এ সত্যটিও এক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন। সরকার ও বিরোধী, সকলেই কথাটি মনে রাখলেই শুভবোধের বিজয় হবে।