Saturday, August 14, 2010

ঋণ নয়, প্রয়োজন বাণিজ্যসুবিধা

ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির বাংলাদেশ সফরের সময় মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স (এমসিসিআই) বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বিষয়ে একটি সেমিনার করেছে। সেমিনারে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বাণিজ্যসুবিধা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নানাভাবে বাধার মুখে পড়ছে।
সেমিনারে অনেক উদাহরণ দেওয়া হয়। যেমন, ভারতীয় একাধিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় রপ্তানি বাধা পায়। কেননা, পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক মহাঅধিদপ্তর (ডিজিএফটি) এককভাবে ক্ষমতাবান নয়। আইনিভাবেই ভারতের একাধিক সরকারি সংস্থা ও কর্তৃপক্ষ সে দেশে বিদেশি বাণিজ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষমতা রাখে। তাই বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানিতে বিভিন্ন সময়ে তারা যে বাধার মুখে পড়ে, তা নিরসনে জটিলতা দেখা দেয়। সেমিনারে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে নানা ধরনের সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে শুল্ক বাধার তুলনায় অশুল্ক বাধার কথাই বেশি বলা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেমিনারের প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বলেছিলেন, প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফরে এলে বাণিজ্যবিষয়ক অসুবিধার কথা জানানো হবে।
যদিও প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশে এসেছিলেন ১০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করতে। গত জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় এই ঋণ প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
যদিও ব্যবসায়ী এবং অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, ঋণ নয়, ভারতের কাছ থেকে বাণিজ্যসুবিধা পাওয়াই বেশি জরুরি। বিশেষ করে ভারত ও চীনে কত বেশি পণ্য রপ্তানি করা যায়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বাণিজ্যঘাটতি দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে। নিকটতম প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে, চীনের সঙ্গে ২৫০ কোটি ডলারের বেশি। বাণিজ্যঘাটতি কমাতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের সংখ্যা যেমন বাড়াতে হবে, তেমনই পণ্য রপ্তানির বিদ্যমান অশুল্ক বাধা দূর করাও জরুরি।
সুতরাং, ভারত থেকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ নয়, বরং বাণিজ্যসুবিধা পাওয়াই হবে বেশি লাভজনক এবং কার্যকর। বাজারসুবিধা পাওয়াই উচিত যেকোনো আলোচনার মূলনীতি। বাংলাদেশ বহুদিন ধরে ভারতের কাছ থেকে শূন্য শুল্কসুবিধা চেয়ে আসছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে অর্থাৎ ১৯৯৬ সাল থেকেই এই আলোচনা চলে আসছে। ভারত ৪৬০টি স্পর্শকাতর পণ্যের একটি তালিকা তৈরি করেছে। এ থেকে ৪৭টি পণ্যে শুল্কসুবিধা দেবে বলে অনেক আগেই ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এই ৪৭টি কী ধরনের পণ্য, বাংলাদেশ এসব পণ্য তৈরি করে কি না, বাংলাদেশ কতটুকু লাভবান হলো, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঋণ নিয়ে স্বাক্ষর হলেও বাণিজ্যসুবিধা ভবিষ্যতে কতখানি পাওয়া যাবে, সেই আলোচনা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অটোমোবাইল শিল্পনগরী স্থাপন করবে সরকার

শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেছেন, দেশের সম্ভাবনাময় অটোমোবাইল শিল্পের জন্য সরকার বিসিকের মাধ্যমে একটি পৃথক অটোমোবাইল শিল্পনগরী গড়ে তুলবে। সরকার যে নতুন জাতীয় শিল্পনীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে, তাতে অটোমোবাইল শিল্পকে অগ্রাধিকার শিল্প খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। জ্ঞানভিত্তিক শিল্পায়নের জন্য বুয়েটের উদ্ভাবনী ক্ষমতা কাজে লাগাতে বুয়েট ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি গভীর যোগসূত্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের এনেক্স ভবন সম্মেলনকক্ষে ‘বাংলাদেশ অটোমোবাইল খাতের উন্নয়নের পথনকশা প্রণয়ন’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গত বুধবার তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু হাফিজের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পসচিব দেওয়ান জাকির হোসাইন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহ্বুবুল আলম। কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ বি এম. খোরশেদ আলম, বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজির পরিচালক অধ্যাপক এম কামালউদ্দিন, এডিবির ইন্টারন্যাশনাল স্টাফ কনসালট্যান্ট নাঈম চৌধুরী, বিটাকের মহাপরিচালক আশীষ কুমার পাল আলোচনায় অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় দিলীপ বড়ুয়া বলেন, প্রযুক্তি খাতের বিপ্লব ঘটিয়ে শিল্পোন্নত দেশগুলো শিল্প ও অর্থনীতিতে সমৃদ্ধি এনেছে। তাদের এ সমৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে অনেক বাংলাদেশি মেধাবী প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ ভূমিকা রাখলেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ এবং কর্মপরিবেশের অভাবে বাংলাদেশের উন্নয়নে তাঁরা অবদান রাখতে পারেননি। এসব মেধাবী ও সৃষ্টিশীল বাংলাদেশি জনবলকে দেশীয় শিল্পোন্নয়নের কাজে লাগানো সম্ভব হলে দেশের হালকা প্রকৌশল শিল্প অনেক দূর এগিয়ে যাবে। বিশ্ব অর্থনীতির চলমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অটোমোবাইল শিল্প খাতে অচিরেই ব্যাপক হারে বিনিয়োগ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে গাড়ি তৈরির জন্য মধ্যম মানের কারিগরি দক্ষতা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জনবল রয়েছে। বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষতা ও সৃজনশীল ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এ জনবল দিয়েই দেশীয় প্রযুক্তিতে গাড়ি তৈরি করা সম্ভব। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে তৈরি মোটর অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে মোটরযানের খুচরা যন্ত্রাংশ বিদেশেও রপ্তানির সুযোগ নিতে পারে। শ্রমঘন অটোমোবাইল শিল্প বিকাশের মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলে দেওয়া সম্ভব বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।
দিনব্যাপী কর্মশালায় অটোমোবাইল খাতের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংগঠন, অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ মালিক, প্রকৌশলী, বুয়েটসহ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক, প্রযুক্তিবিদ এবং অটোমোবাইল শিল্পোদ্যোক্তাসহ শতাধিক ব্যক্তি অংশ নেন।

ইরানে অপহরণের দায়ে তিনজনের প্রকাশ্যে ফাঁসি

অপহরণের দায়ে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় আজনা শহরে গত বুধবার তিনজনকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা ফার্স গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা জানায়।
যে তিনজনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নামের প্রথমাংশ ছাড়া বিস্তারিত কিছু জানায়নি ফার্স। এ ছাড়া যে ব্যক্তিকে অপহরণের দায়ে তাঁদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, তাঁর পরিচয়ও জানায়নি।
বার্তা সংস্থা এএফপির হিসাব অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ইরানে কমপক্ষে ১০৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো। গত বছর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল কমপক্ষে ২৭০ জনের।
ইরান বলছে, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মৃত্যুদণ্ড অপরিহার্য।

প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান ১৯৮২ সালে লিখেছিলেন, ‘বাংলাদেশ আজ চরম অনিশ্চয়তার সম্মুখীন। তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা দুর্যোগের মুখোমুখি। মনে হয়, সমাজ যেন আজ ঋণের টাকায় এবং ধার করা সময়ের ওপর বেঁচে আছে। আর এই দুটোই হয়তো যেকোনো মুহূর্তে নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে।’
বাংলাদেশে এমন এক সময় ছিল, যখন ঋণ পাওয়াই ছিল প্রধান লক্ষ্য। পরিচয় ছিল পরনির্ভর একটি দেশ হিসেবে। স্বাধীনতার পর থেকে এরশাদের শাসনামলের প্রায় পুরোটা সময়েই উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশই ছিল বৈদেশিক ঋণ। এমনকি রাজস্ব বাজেটেও ঢুকে পড়েছিল বৈদেশিক ঋণ।
অধ্যাপক রেহমান সোবহান ওই একই লেখায় বলেছিলেন, ‘আমাদের দেশের বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা, আমদানি নীতিমালা, খাদ্যনীতি ইত্যাদি সবকিছুই ওয়াশিংটন, লন্ডন, বন, টোকিও এবং রিয়াদের রাজনৈতিক আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল এবং আমাদের সরকারকে বসে থাকতে হয় ঐ রাজধানীগুলোর দয়া-দাক্ষিণ্যের উপর।’
১৯৮১-৮২ অর্থবছরে বাংলাদেশের নেওয়া বৈদেশিক ঋণ ছিল মোট জাতীয় উত্পাদনের (জিডিপি) প্রায় ছয় শতাংশ। এর বিপরীতে সে সময় রপ্তানি আয় ছিল জিডিপির সাড়ে তিন শতাংশের সামান্য বেশি, আর প্রবাসী-আয় বা রেমিট্যান্স ছিল আরও কম, প্রায় দুই শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশ সে সময় ছিল অনেকটাই পরনির্ভর, বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়ার ক্ষেত্রে। তখন প্রতিবছর প্যারিসে সাহায্যদাতাদের বৈঠক হতো। কোন সরকার কতখানি সফল, তা মাপা হতো সেখানে বৈদেশিক সাহায্য পাওয়ার পরিমাণের ওপর।
মূলত স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির সংকট বাংলাদেশকে দীর্ঘসময় ধরে সাহায্যনির্ভর করে রেখেছে। ১৯৭২ ও ’৭৩ সালের খরার পর ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে বড় ধরনের বন্যা হয়। এ কারণে খাদ্যপণ্যে যেমন বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছিল, তেমনি ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক বাজারের জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়েছিল বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে। তেলের মূল্যে বড় ধরনের সংকট হয় আবার ১৯৭৯ সালে। এ সময় আবার পাটের বিকল্প হিসেবে সিনথেটিক পণ্যের প্রসার বাড়লে বাণিজ্য খাতে আরেক দফা বড় ধরনের ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। সেসব সময়ে আন্তর্জাতিক বিশ্ব-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ছিল অনেক বেশি রক্ষণশীল। ফলে ’৭০-এর দশকে বাংলাদেশ ছিল পুরোপুরিই সাহায্যনির্ভর একটি দেশ।
’৮০-এর দশকের শেষ দিক থেকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে পাল্টে যেতে শুরু করে। এ সময় বাণিজ্য খাতে নানা ধরনের সংস্কার করা হয়। আবার আমদানি প্রতিস্থাপন শিল্প থেকে রপ্তানিনির্ভর শিল্পের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে বাংলাদেশ। তবে এই প্রক্রিয়া গতি পায় ’৯০-এর দশকে এসে। এ সময় সরকার পরিবর্তন হলেও রপ্তানিনির্ভর অর্থনৈতিক কৌশল থেকে কেউই সরে যায়নি। অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির সংস্কারের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি উন্নত দেশ বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) জন্য নানা ধরনের বাজারসুবিধা দেয়। এর ফলে বাণিজ্যনির্ভরতা বাড়তে থাকে। বলা যায়, ’৯০-এর দশকে সাহায্যনির্ভর বাংলাদেশ বাণিজ্যনির্ভর বাংলাদেশের দিকে যে যাত্রা শুরু করেছিল, পরবর্তী দশকে এসে তা পুরোপুরি সংহত হয়েছে।
সেই বাংলাদেশ আর এখনকার বাংলাদেশের মধ্যে দেখা দেয় অনেক পার্থক্য। এখন দেশটির বৈদেশিক সাহায্য জিডিপির মাত্র দুই শতাংশ, অন্যদিকে রপ্তানি আয় অনেক বেড়ে হয়েছে ১৮ শতাংশ এবং রেমিট্যান্স প্রায় নয় শতাংশ। অর্থাৎ ঋণ গৌণ হয়ে পড়েছে, উঠে এসেছে বাণিজ্য।
সবমিলিয়ে বলা যায়, ঋণনির্ভর বাংলাদেশ বাণিজ্যনির্ভর দেশে পরিণত হয়েছে। ঋণ পাওয়া এখন বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য নয়, বরং বাজারসুবিধা পাওয়াই প্রধান লক্ষ্য। এই বাজারসুবিধা পেতে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। সুতরাং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এখন আর সাহায্য পাওয়ার ওপর নির্ভর নেই, এখন বিবেচ্য বিষয় অন্য কিছু। চ্যালেঞ্জ এখন বাণিজ্যসুবিধা পাওয়া।
আর এ কারণেই অধ্যাপক রেহমান সোবহান ২০০২ সালে ‘বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনীতি’ নামে আরেকটি নিবন্ধে লিখেছেন, ‘বর্তমানে আমরা সাহায্যনির্ভর অর্থনীতি নয়, বরং এক ধরনের বাণিজ্যনির্ভরতার মধ্যে অবস্থান করছি। এর অর্থ হচ্ছে অর্থনীতি ও বিপুল গরিব জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা নিয়েই আমাদের অর্থনৈতিক ভাগ্য ক্রমবর্ধমান হারে নির্ভরশীল হয়ে উঠছে কীভাবে বিশ্ব অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক পরিবেশ আমাদের রপ্তানি খাতে অভিঘাত সৃষ্টি করছে তার ওপর। নতুন বিশ্ব পরিস্থিতিতে এ দেশে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক খাতে সাহায্য কর্মসূচি ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।’

রাশিয়ায়পরমাণুকেন্দ্র রক্ষার চেষ্টা আরও দমকলকর্মী মোতায়েন

রাশিয়া তার প্রধান পরমাণু গবেষণাকেন্দ্রের নিকটবর্তী দাবানল নেভাতে গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযান জোরদার করেছে। প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেনও চেরনোবিলের নিকটবর্তী দাবানল নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। শিগগির এই আগুন নেভানো সম্ভব হবে বলে ইউক্রেন জানিয়েছে।
রাশিয়ার জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মিখাইল তারকোভ গতকাল জানান, নিঝনি নোভগোরোদ প্রদেশের সারোভ শহরে অবস্থিত দেশের প্রধান পরমাণু গবেষণাকেন্দ্রের কাছাকাছি থাকা দাবানল নিয়ন্ত্রণ করতে সেখানে আরও লোকবল ও সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। সেখানে নিয়োজিত প্রায় তিন হাজার ৫০০ দমকলকর্মীর সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পানি বহনে সক্ষম একটি অগ্নিনির্বাপণ ট্রেন দেওয়া হয়েছে। আরও একটি ট্রেন রওনা হয়ে গেছে।
তারকোভ আরও জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সারোভের আকাশে দুটো বিমান ও দুটো হেলিকপ্টার অনবরত চক্কর দিচ্ছে। আগুন যাতে পরমাণুকেন্দ্রের কাছে পৌঁছাতে না পারে, এ জন্য কর্মীরা একটানা কাজ করে যাচ্ছেন। কর্মকর্তারা জানান, আগুনের ধ্বংসাত্মক গতি তাঁরা অনেকটাই বাগে আনতে পেরেছেন।
ইউক্রেন বলেছে, চেরনোবিলের দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে দুই হেক্টর (পাঁচ একর) এলাকায় ছড়িয়ে পড়া আগুন নেভাতে তারা কাজ করে যাচ্ছে। পরিস্থিতি প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

আবখাজিয়ায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন

রাশিয়া বলেছে, তারা জর্জিয়ার সীমান্ত অঞ্চল আবখাজিয়ায় বিমানবিধ্বংসী এস-৩০০ মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। রাশিয়ার এ ঘোষণায় জর্জিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জর্জিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো যাতে সামরিক সহায়তা না দেয়, সে জন্য আগাম সতর্কতা হিসেবে রাশিয়া ওই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ আবখাজিয়া সফর করে আসার কয়েকদিন পর মস্কোর পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হলো।
আবখাজিয়া ও দক্ষিণ ওশেটিয়াকে জর্জিয়া নিজ ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করলেও কার্যত সেখানে জর্জিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেই। দুটি এলাকাই নিজেদের স্বাধীন বলে ঘোষণা করেছে এবং বর্তমানে এলাকা দুটোতে স্বশাসন জারি আছে। দক্ষিণ ওশেটিয়ার দখল নিয়ে ২০০৮ সালে জর্জিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ হয়। এ সময় রাশিয়ার সেনাবাহিনী ওই দুটি এলাকা থেকে জর্জিয়ার সেনাবাহিনীকে বিতাড়িত করে। ওই সময় আবখাজিয়া ও দক্ষিণ ওশেটিয়াকে রাশিয়া স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
গত বুধবার রাশিয়া সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সে দেশের বিমান বাহিনীর প্রধান জেনারেল আলেকজান্ডার জেলিন জানিয়েছেন, আবখাজিয়া ও দক্ষিণ ওশেটিয়ার সীমান্ত এলাকায় বিমানবিধ্বংসী-ব্যবস্থা সক্রিয় করতেই ওই ক্ষেপণাস্ত্র বসানো হয়েছে।
আবখাজিয়ার স্বশাসিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী সেরগেই শাম্বা বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মোতায়েন করা হয়েছে। এক বছর আগেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সেখানে আনা হয়েছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পি জে ক্রাউলি বলেছেন, তাঁরা জানতে পেরেছেন, দুই বছর ধরেই আবখাজিয়ায় ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রয়েছে। জর্জিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী তেমুর ইয়োকোবাশভিলি বলেছেন, কেবল জর্জিয়ার জন্য নয়, এটা ন্যাটো এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জন্যও উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেছেন, এটা তাঁদের কাছে পরিষ্কার যে, রাশিয়া তার ‘অধিকৃত’ এলাকা দুটিকে সামরিক প্লাটফর্ম হিসেবে জর্জিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। মস্কো থেকে বিবিসির সাংবাদিক রিচার্ড গ্যালপিন বলেছেন, রুশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জর্জিয়ার সামরিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো যাতে কোনো সহায়তা না দেয়, সে জন্য আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে রাশিয়া ওই ক্ষেপণাস্ত্র বসিয়েছে।

স্বামী হত্যায় সহযোগিতা করার কথা স্বীকার করলেন ইরানি নারী

পাথর ছুড়ে হত্যার দণ্ডপ্রাপ্ত ইরানের নারী সাকিনেহ মোহাম্মাদি আশতিয়ানি তাঁর স্বামীর হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করার কথা স্বীকার করেছেন। গত বুধবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এই স্বীকারোক্তি দেন। পশ্চিমা গণমাধ্যমের সমালোচনা করে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান সম্প্রচারকালে আশতিয়ানির এ সাক্ষাত্কার সম্প্রচার করা হয়।
আশতিয়ানি বলেন, যে ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল, তিনিই তাঁর স্বামীকে হত্যার প্রস্তাব করেছিলেন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি নিজে ওই ব্যক্তিকে সহযোগিতা করেন।
ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের প্রধান বিচারক বলেন, হত্যার আগে আশতিয়ানি তাঁর স্বামীর শরীরে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করেন। এরপর তৃতীয় ব্যক্তি বিদ্যুত্স্পৃষ্ট করে তাঁকে হত্যা করেন।

জাপানে টাইফুনের আঘাত

দক্ষিণ কোরিয়ার পর টাইফুন দিয়ানমু গতকাল বৃহস্পতিবার জাপানের উত্তরাঞ্চলে আঘাত হেনেছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানায়, ভোরের দিকে হোনসু দ্বীপের উত্তরে আকিতায় আঘাত হানে টাইফুন। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫০ মাইল। আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করে দিয়ে জানায়, ভারী বর্ষণের ফলে বন্যা দেখা দিতে পারে। আশঙ্কা রয়েছে ভূমিধসেরও। এই ঝড়ের আঘাতে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঁচজন নিহত হয়েছে

পর্তুগালেও ভয়াবহ দাবানল

রাশিয়ার পর এবার ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে পর্তুগাল। দেশের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের বনভূমিতে প্রায় ৫০ স্থানে আগুন জ্বলছে। আগুন নেভাতে কাজ করছেন দমকল বাহিনীর প্রায় দেড় হাজার কর্মী। তাঁদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন।
দাবানলে এ পর্যন্ত প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর বন পুড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দাবানলের কারণে কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দাবানলে হুমকির মুখে পড়েছে পেনেডা-গিনিস ন্যাশনাল পার্ক। এটি সে দেশের একমাত্র জাতীয় উদ্যান।
ঝোড়ো বাতাসের কারণে আগুন নেভাতে সমস্যা হচ্ছে দমকল বাহিনীর কর্মীদের। আগুনে আটকা পড়ে গনডোমার এলাকায় দমকল বাহিনীর এক নারী কর্মী মারা গেছেন। এ ছাড়া সাও পেদ্রো দ সুল পাহাড়ি এলাকায় জ্বলন্ত খাদের মধ্যে একটি গাড়ি পড়ে দমকল বাহিনীর এক কর্মী মারা যান।

‘২০২০ সাল পর্যন্ত ইরাকে মার্কিন সেনা থাকা উচিত’

আগামী বছরের মধ্যে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন ইরাকের একজন শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তা। ২০২০ সাল পর্যন্ত ইরাকে মার্কিন সেনা থাকা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
লে. জেনারেল বাবাকের জেবারি বলেন, নিরাপত্তার দায়িত্ব পুরোপুরি নিতে প্রস্তুত হতে ইরাকি সেনাবাহিনীর আরও এক দশক সময় লেগে যেতে পারে।
চলতি মাসের মধ্যে ইরাকে যুদ্ধাভিযানের সমাপ্তি ও ২০১১ সালের মধ্যে ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাকে বর্তমানে ৬৪ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করার জন্য ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা ইরাকে অবস্থান করবে।
গত সপ্তাহে সাদ্দাম হোসেন সরকারের সময়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারেক আজিজ বলেন, মার্কিনরা ইরাককে নেকড়ের মুখে ফেলে যাচ্ছে। জেনারেল জেবারির সতর্কতা তাঁর ওই বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইরাকে যে অগ্রগতি হচ্ছে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এতে সন্তুষ্ট।
জেনারেল জেবারি বাগদাদে এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে বলেন, ইরাকি সেনাবাহিনী হয়তো ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে না। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ওই সময় পর্যন্ত ইরাকে সেনা রাখা।
জেবারি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার ভালোভাবেই চলছে। কারণ মার্কিন বাহিনী এখনও ইরাকে আছে। কিন্তু সমস্যা শুরু হবে ২০১১ সালের পর।
জেবারির মতে, ২০১১ সালের পর এই শূন্যতা পূরণে রাজনীতিকদের অবশ্যই অন্য পথ খুঁজে বের করতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন, যদি তাঁকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয় তাহলে তিনি রাজনীতিকদের বলবেন, ২০২০ সালের মধ্যে ইরাকি সেনাবাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীকে অবশ্যই ইরাকে থাকতে হবে।
সম্প্রতি ইরাকে সহিংসতা কিছুটা বেড়ে গেছে। গত জুলাই মাসে বোমা হামলা, গুলি ও অন্যান্য হামলায় বেসামরিক লোকের মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যায়। ২০০৮ সালের পর জুলাই মাসে ইরাকে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে। চলতি মাসে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে ১০০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে।

নয়াদিল্লি থেকে ভিক্ষুক সরিয়ে দেবে সরকার

নয়াদিল্লি থেকে ভিক্ষুক সরিয়ে দেবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। কমনওয়েলথ গেমস চলাকালে বিদেশিদের কাছে রাজধানীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভাষা অনুযায়ী ভিক্ষুকদের সংশ্লিষ্ট রাজ্যে পাঠানো হবে। ৩ অক্টোবর থেকে এই গেমস শুরু হবে। এতে ৭২টি দেশ যোগ দেবে।
বিভিন্ন রাজ্যের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচারমন্ত্রী মুকুল বালকৃষ্ণ ওয়াসনিক সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এ ব্যাপারে মুকুল বালকৃষ্ণ ওয়াসনিক বলেন, দিল্লির ভিক্ষুকদের নিজ নিজ রাজ্যে ফেরত পাঠানো হবে। হিন্দিভাষী ভিক্ষুকদের বিহার বা উত্তর প্রদেশ, তেলেগুভাষীদের অন্ধ্র প্রদেশ, তামিলভাষীদের তামিলনাড়ু, মালায়লমভাষীদের কেরালা, মারাঠিভাষীদের মহারাষ্ট্র ও বাংলাভাষীদের পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হবে।
বাঙালি ভিক্ষুকদের পশ্চিমবঙ্গে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছে সেখানকার রাজ্য সরকার। তাদের দাবি, দিল্লির সব বাঙালি ভিক্ষুকের স্থায়ী ঠিকানা পশ্চিমবঙ্গ নয়। অন্যান্য রাজ্যেও অনেক বাঙালি স্থায়ীভাবে বাস করছে। কাজেই বাঙালি ভিক্ষুকদের প্রকৃত ঠিকানা বের করে তাদের সে অনুযায়ী ফেরত পাঠাতে হবে।
নয়াদিল্লির ভিক্ষুকদের তালিকা প্রস্তুত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কয়েকটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে। তারা এখন দিল্লির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভিক্ষুকদের তালিকা তৈরি করছে।

কাশ্মীরে কারফিউ বহাল বিক্ষোভ চলছেই

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এখনো বহাল রয়েছে কারফিউ। রমজান মাস শুরু হলেও সেখানে চলছে বিক্ষোভ।
গত দুই মাসে বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে প্রায় অর্ধশত মানুষ নিহত হয়েছে। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর বিক্ষোভ আবার নতুন করে শুরু হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও এটাকে ‘সহিংসতার চক্র’ বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
প্রতিদিন বিক্ষোভ আর কারফিউয়ের কারণে বিপদে পড়েছে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ। তাদের প্রাত্যহিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কারফিউয়ে দোকানপাট বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী জোগাড় করতে লোকজনকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
রোজা শুরু হওয়ায় অন্তত এক মাসের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জোগাড় করে রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে লোকজনকে। এর আগে প্রতিবার রমজান মাসে মুসলিম ধর্মীয় নেতারা লোকজনকে শান্তি ও সংহতি বজায় রাখতে বলতেন। কিন্তু এবার বিক্ষোভে এতগুলো মানুষের মৃত্যুর পর উত্তেজনা এমন চরমে যে, এবার আর নেতারা এ ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন না। বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সৈয়দ আলী জিলানি বলেন, ‘আমরা পরিকল্পনা করছি রমজান সত্ত্বেও ভারতীয় শাসন এবং নিরীহ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখব।’
১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য লোকজনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জিলানি। একইসঙ্গে ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

যৌথ বাহিনীর পক্ষ নিয়েছে জাতিসংঘ

আফগানিস্তানে বছরের প্রথম ছয় মাসে সহস্রাধিক সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার জন্য তালেবানরাই দায়ী—জাতিসংঘের এমন একটি প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে তালেবান। জাতিসংঘের প্রতিবেদনকে তারা ‘প্রচারণা’ বলেও আখ্যায়িত করেছে। তারা পাল্টা অভিযোগ করেছে জাতিসংঘই মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর পক্ষ নিয়েছে।
আফগানিস্তানে নিযুক্ত জাতিসংঘ মিশন (ইউএনএএমএ) এ সপ্তাহে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, গত জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত এক হাজার ২৭১ জন সাধারণ মানুষ সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছে। এসব প্রাণহানির ৭৬ শতাংশের জন্যই তালেবানরা দায়ী।
ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালেবানের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেদনটি যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অতিরঞ্জিত ও স্রেফ প্রচারণা, তা পানির মতো পরিষ্কার। ওই প্রতিবেদনে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করা হয়েছে। প্রত্যেক প্রত্যক্ষদর্শীই প্রতিবেদনটির সত্যাসত্য যাচাই করতে পারবেন এবং এ ধরনের প্রতিবেদন কতটা ভিত্তিহীন ও মিথ্যা হতে পারে তাও তাঁরা নিরূপণ করতে পারবেন।
আফগানিস্তান থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীকে উত্খাত করে ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্য তালেবানরা দেশটিতে সহিংসতা অব্যাহত রেখেছে। ২০০১ সালে নিউইয়র্কের বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রে হামলার প্রতিশোধ নিতে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে।

মিয়ানমারে দুই দশক পর প্রথম নির্বাচনের প্রস্তুতি

দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। এরই অংশ হিসেবে পার্লামেন্টের জাতীয় ও আঞ্চলিক আসনগুলোর এলাকা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
মিয়ানমারে দুই দশক পর এ বছর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে জান্তা সরকার এখন পর্যন্ত নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেনি। ২০০৮ সালের সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের এক-চতুর্থাংশ আসন সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত।
গৃহবন্দী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী অং সান সু চি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। সু চি এবং তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) অন্য নেতাদের কারাগারে আটকে রাখায় নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনএলডি।
এনএলডির মুখপাত্র নুয়ান উইন গত বুধবার সু চির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর জানিয়েছেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আবার মামলা করার পরিকল্পনা করছে এনএলডি। সু চিকে উদ্ধৃত করে নুয়ান উইন বলেন, ‘সমাজে আইনের শাসন নেই বললেই চলে। আইনের শাসন ছাড়া কোনো ব্যবস্থা সফল হয় না।’ সুচি তাঁকে আরও বলেছেন, ‘এখনো নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না করায় বোঝাই যাচ্ছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়।’
১৯৯০ সালের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল এনএলডি। কিন্তু নির্বাচিতদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি সামরিক জান্তা।
নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন একটি গণতান্ত্রিক দল জানিয়েছে, তাদের প্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। এ বিষয়ে তারা গত মঙ্গলবার নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছে।
ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান থু ওয়াই জানান, বিশেষ শাখার পুলিশ তাঁর দলের সদস্যদের বাসায় গিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় জানতে এবং তাদের ছবি চাইছে।

বিন লাদেনের গাড়িচালকের ১৪ বছরের কারাদণ্ড

আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের সাবেক বাবুর্চি ও গাড়িচালক ইব্রাহিম আল-কোসিকে গত বুধবার ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন গুয়ানতানামো বের একটি ট্রাইব্যুনাল।
সুদানে জন্মগ্রহণকারী আল-কোসি (৫০) ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তবে এরই মধ্যে তিনি সরকারি কৌঁসুলিদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন। চুক্তির কারণে তাঁর কারাদণ্ডের মেয়াদ কমে যেতে পারে, কিংবা তাঁকে সুদানে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে।
২০০১ সালে আল-কোসিকে আফগানিস্তানে গ্রেপ্তার করা হয়। বিন লাদেনের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। মার্কিন বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার এড়াতে ওসামা বিন লাদেনকে সহায়তা করার কথাও স্বীকার করেছেন আল-কোসি।
এখন এই কারাদণ্ডের বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখবে পেন্টাগন।
আল-কায়েদা একটি সন্ত্রাসী সংগঠন—এ বিষয়টি জানা সত্ত্বেও ওসামা বিন লাদেনের কম্পাউন্ডে একটি রান্নাঘর পরিচালনার কথা স্বীকার করেছেন আল-কোসি।
আল-কোসিসহ গুয়ানতানামো বের মাত্র চারজন বন্দীকে এ পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম গুয়ানতানামো বের কোনো বন্দীকে কারাদণ্ড দেওয়া হলো।
প্রেসিডেন্ট ওবামা চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যে বিতর্কিত এই বন্দীশিবিরটি বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানকার বন্দীদের কোথায় রাখা হবে, এ নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষাপটে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে।

চীনের অর্থে শ্রীলঙ্কায় চালু হচ্ছে বন্দর, দিল্লির উদ্বেগ

চীনের অর্থায়নে তৈরি করা গভীর সমুদ্রবন্দরের প্রথম অংশ শিগগিরই উদ্বোধন করতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। আগামী নভেম্বর মাসেই বন্দরের প্রথম অংশ উদ্বোধনের ব্যাপারে আশাবাদী শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তারা। শ্রীলঙ্কায় এই বিনিয়োগকে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে দেখছে ভারত। শ্রীলঙ্কা ছাড়াও বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও পাকিস্তানে সমুদ্রবন্দর এবং নেপালে রেলওয়ে নির্মাণে চীন সহায়তা দিচ্ছে—এতে ভারতের উদ্বেগ বেড়ে গেছে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।
কর্মকর্তারা বলেছেন, বিশ্বের ব্যস্ততম শিপিং লেনগুলোর অন্যতম শ্রীলঙ্কার ‘সিল্ক রোড’ বাণিজ্য রুটে হামবানতোতা নামের ওই বন্দরের প্রথম ধাপের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী নভেম্বরেই প্রথম অংশের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। সরকার আশা করছে ২০১৪ সালে দ্বিতীয় ধাপের কাজ শেষ হবে। এ বন্দর নির্মাণে চীন ৩০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বন্দরটি পুরোদমে চালু হলে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াবে শ্রীলঙ্কা। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পরিবহন খাতে এখানে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে।
শ্রীলঙ্কার বন্দর কর্তৃপক্ষের সভাপতি প্রিয়থ বিক্রম বলেছেন, হামবানতোতা বন্দরের প্রথম অংশ চালু হলে এখানে বছরে আড়াই হাজার কার্গো জাহাজ ভিড়তে ও ছাড়তে পারবে। দ্বিতীয় ধাপ শেষ হওয়ার পরবর্তী ১০ বছরের মধ্যে তাঁরা এ সংখ্যাকে আট হাজারে উন্নীত করতে চান।
এদিকে, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের এই বিনিয়োগ-তত্পরতায় ক্রমশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে ভারত। ইউরেশিয়া গ্রুপের এশিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মারিয়া কুসিসতো বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের তত্পরতা বাড়ার ফলে ভারত নিজেদের হুমকির সম্মুখীন হিসেবে বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, এই বিনিয়োগ পদক্ষেপগুলোকে নয়াদিল্লি এ অঞ্চলে চীনের প্রভাব বিস্তারে আকস্মিক আক্রমণ হিসেবে দেখছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে চীনকে হারিয়ে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

মোহামেডানে ১৭ বছর পর...

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের শীর্ষ পদে পরিবর্তন আসছে। টানা ১৭ বছর ওই পদে থাকার পর সরে দাঁড়ালেন মোসাদ্দেক আলী (ফালু)।
নানা জটিলতায় অনেক দিন ধরেই মোহামেডানে অচলাবস্থা চলছে। সাংগঠনিক শক্তি বলতে কিছুই নেই। মোহামেডান হারিয়ে ফেলছে স্বকীয়তা, জৌলুশ। এমন অবস্থায় শীর্ষ পদে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছিল একটা পক্ষ। অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির কাছে কাল মোসাদ্দেক আলীর পদত্যাগপত্র পাঠানো সেটিরই ফল বলছেন অনেকে।
মোহামেডানকে লিমিটেড কোম্পানি করা নিয়েই যত সংকট। গত বছরের ৬ জুন ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভায় লিমিটেড করার প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং মোসাদ্দেক আলীকে আহ্বায়ক করে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। লিমিটেড কোম্পানি করার অন্যতম বড় শর্ত ঢাকা রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধিত হতে হয়। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে আজও নিবন্ধিত হতে পারেনি মোহামেডান। আহ্বায়ক কমিটি আদালতে গেলে হাইকোর্ট জয়েন্ট স্টক কোম্পানিকে শোকজ করে জানতে চান, কেন মোহামেডানকে নিবন্ধন দেওয়া হবে না। ব্যাপারটা এ পর্যন্তই ঝুলে আছে।
গত বছর নির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত করে অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর দ্বন্দ্বের শুরু। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচিত হওয়ার কথা সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে। কিন্তু ১৬ জন পরিচালক নিয়োগ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক মোসাদ্দেক আলী—সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এটা জানানোর পর অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন।
ক্লাবের অন্যতম কর্মকর্তা বাদল রায় বলছেন, ‘লিমিটেড কোম্পানি করা নিয়ে স্বচ্ছতার দাবি ছিল। তিনি (মোসাদ্দেক আলী) এমন একসময় পদত্যাগ করলেন, যখন ক্লাবের অবস্থা নাজুক। প্রশাসন বলতে কিছু নেই। ভালো ফুটবল দল গঠন করা যাচ্ছে না।’ আনোয়ারুল হক হেলালের কথা, ‘পদত্যাগের ব্যাপারটা আহ্বায়ক সাহেবের ব্যক্তিগত বিষয়।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘ক্লাবে তাঁর অনেক অবদানও আছে।’ লোকমান হোসেন ভুঁইয়ার কথা, ‘যে কেউ পদত্যাগ করতে পারেন।’
পদত্যাগপত্রে মোসাদ্দেক আলী তাঁর দায়িত্বকালে সফলতা এবং লিমিটেড কোম্পানি এখনো না হওয়ার পেছনে ক্লাবের ‘মহল বিশেষ’কে দায়ী করেছেন। ‘ক্লাব প্রাঙ্গণে নিজস্ব ইমারত নির্মাণে নিজেদের পছন্দের ঠিকাদার নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য ওই সদস্যরা জটিলতা তৈরি করেছেন’—অভিযোগ মোসাদ্দেক আলীর। মতিঝিল ক্লাবপাড়ায় ক্লাবের নামে ইজারাপ্রাপ্ত জমি স্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত পাওয়া এবং একটি পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম করার জন্য সাভারে ২৫ একর জমি গত জোট সরকারের কাছ থেকে নেওয়ার বিষয়টাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
এখন ক্লাব বেছে নেবে একজন ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ আসতে পারেন ওই দায়িত্বে।

ম্যারাডোনার সমর্থক বাড়ছেই

দিন দিন ম্যারাডোনার সমর্থকের সংখ্যা বাড়ছেই। এবার ১৯৭৮ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য রিকার্ডো ভিলাও সোচ্চার আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে। সাবেক এই মিডফিল্ডার বলেছেন, ম্যারাডোনাকে কোচ না রাখার পেছনে কোনো যুক্তি নেই।
‘রিকি ভিলা’ নামে ইংলিশ মিডিয়ায় পরিচিত এই সাবেক টটেনহাম তারকার এমন মন্তব্যের পেছনের যুক্তিটাও পরিষ্কার, ‘বিশ্বকাপের আগে কোচ হিসেবে ম্যারাডোনার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তাই তখন সেটি ছিল সমস্যা। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো আসরে গিয়ে ও যখন দারুণ অভিজ্ঞতা অর্জন করল, ভালো কোচ হয়ে উঠল, তখনই কিনা তাকে রাখা হলো না।’
আর্জেন্টিনা দলের পাশাপাশি ভিলাও গিয়েছিলেন আয়ারল্যান্ডে। আইরিশ ফুটবল সংস্থা (এফএআই) তাঁকে বর্ষসেরা ব্যক্তিত্বের পুরস্কার দিয়েছে। আয়ারল্যান্ডে গিয়ে ২০০১ সালে ওয়েম্বলি গোল অব দ্য সেঞ্চুরি পুরস্কার জেতা ভিলা বলেছেন, ‘আমি আশা করেছিলাম, ম্যারাডোনাকে রেখে দেওয়া হবে। কিন্তু আর্জেন্টিনা আসলে একটা জটিল দেশ। ম্যারাডোনাকে ছেঁটে ফেলে এখন নতুন একজনকে বসানো হবে। সম্ভবত সার্জিও বাতিস্তাই সেই দায়িত্ব পাবে।’
ম্যারাডোনার দাবি মেনে তাঁর সহকারীসহ আরেক মেয়াদে দায়িত্ব দেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন ভিলা। তাঁর মতে, আর্জেন্টিনার ফুটবলে তাতে সাফল্য আসত কি না, সেটি পরে দেখা যেত, কিন্তু ম্যারাডোনা তো থেকে যেত। ভিলা জানালেন, প্রশ্নটা যে শিরোপা জেতা নয়, আবেগের, ‘ম্যারাডোনা খুবই ক্ষিপ্ত। আমরা সব আর্জেন্টাইনও তা-ই। কারণ আমরা প্রায়ই মাথা দিয়ে নয়, সিদ্ধান্ত নিই হূদয় দিয়ে। ওর জন্য সবারই তাই খারাপ লাগছে।’
ম্যারাডোনা শুনে খুশি হতে পারেন, শুধু আর্জেন্টাইনরা নয়, ফুটবলে তাঁর অনুপস্থিতি পোড়াচ্ছে আরও অনেককেই। এই তালিকায় আছেন শে গিভেনও। পরশু প্রীতি ম্যাচের আগে এই আইরিশ গোলরক্ষক বলেছেন, প্রতিপক্ষের ডাগ-আউটে তিনি দেখতে চেয়েছিলেন ম্যারাডোনাকেই, ‘ডিয়েগো তো একটা কিংবদন্তি, যাঁকে সবাই কুর্নিশ করে। তিনি সেই সম্মানের যোগ্য। খেলোয়াড় হিসেবে ছিলেন দুর্দান্ত। এখন কোচিংয়েও এসেছেন বৈচিত্র্যময় একটা চরিত্র হয়ে। তাঁর এখানে না থাকাটা দুঃখজনক।’

গোললাইন-প্রযুক্তির পক্ষে হাম্মাম

বিশ্বকাপে ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের না হওয়া ‘গোল’টাই যা একটু ধাক্কা দিয়েছে তাঁকে। নইলে সেপ ব্ল্যাটার চিরকালই প্রযুক্তিবিরোধী মানুষ। বিতর্ক নিরসনে গোললাইন-প্রযুক্তি বা অতিরিক্ত রেফারি ব্যবহারের বিরোধিতা সব সময় করতেন তিনি।
এদিক থেকে মুহাম্মদ বিন হাম্মাম ফিফার পরবর্তী সভাপতি হলে আক্ষরিক অর্থেই নতুন এক যুগের শুরু হতে যাচ্ছে। গোললাইন-প্রযুক্তি ও অতিরিক্ত রেফারির পক্ষে নিজের পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে দিলেন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি হাম্মাম।
ফিফার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে এএফসি কাতারের সংগঠক হাম্মামের নাম আসছে বেশ কিছুদিন ধরেই। সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও হাম্মাম বলছেন, নতুন প্রযুক্তি ফুটবলে আনতেই হবে, ‘বল গোললাইন পেরিয়েছে কি না, এটা বোঝার জন্য অবশ্যই কিছু প্রযুক্তি সংযোজন করতে হবে। এটা হতেই হবে।’
নিজের কথার পক্ষে যুক্তিও দিচ্ছেন হাম্মাম, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, আজকের দিনে শত শত ক্যামেরা মাঠ থেকে খেলা সম্প্রচার করছে। এসব ক্যামেরা প্রতিটি ঘটনা তুলে ধরছে। ফলে লোকজন রেফারিদের ভুল নিয়ে খুব নেতিবাচক ধারণা পোষণ করছে। এটা রেফারিদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
কিন্তু দুজন অতিরিক্ত রেফারি এসব সিদ্ধান্তে সহায়তা করতে পারবে। গোললাইন-প্রযুক্তি ও দুই অতিরিক্ত রেফারি অনেক সমস্যারই সমাধান করতে পারবে।’

ক্রিকেট উন্নয়নে অনেক পরিকল্পনা

পরিকল্পনা গ্রহণ আর তা বাস্তবায়নের মধ্যে একটা ফারাক সব সময়ই থাকে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটি অন্তত প্রথম কাজটা করতে পেরেছে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটারদের কোচিং ক্যাম্প হিসেবে এত দিন যা হয়ে এসেছে, আগামী এক বছরের জন্য নেওয়া হয়েছে প্রায় তার দ্বিগুণ কর্মসূচি।
গত বছর অনূর্ধ্ব-১৫ বা ১৭ দল কোনো হোম বা অ্যাওয়ে সিরিজ খেলেনি। দুই দলই বছরজুড়ে কেবল চারটি করে প্রস্তুতি ক্যাম্প করেছে। নতুন পরিকল্পনায় এই দুই দলই বছরে একটা করে হোম ও একটা করে অ্যাওয়ে সিরিজ খেলবে। জাতীয় একাডেমি বা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জন্যও আছে একই ধরনের পরিকল্পনা। তবে বিশ্বকাপ সামনে রেখে গতবার অনূর্ধ্ব-১৯ দল তুলনামূলকভাবে বেশি সিরিজ খেলেছে।
গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটি এবার একদমই নতুন যে পরিকল্পনাটা হাতে নিয়েছে, সেটা একটা সম্মিলিত স্কুল ক্রিকেট দল গঠন। জাতীয় পর্যায়ে খেলা স্কুল দলগুলো থেকে বাছাই করা সেরা ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া হবে এই দল। বয়সভিত্তিক দলগুলোর মতো সম্মিলিত স্কুল ক্রিকেট দলও এ বছর একটা করে হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজ খেলবে। এসবের বাইরে আছে একাডেমি, অনূর্ধ্ব-১৪, ১৬ ও ১৮ দলের বছরব্যাপী অনুশীলন ক্যাম্প। সিনিয়র-জুনিয়র পর্যায়ে স্কিল ক্যাম্প। একাডেমি, ‘এ’ দল বা জাতীয় দলে থাকা ক্রিকেটারদের বাদ দিয়ে ছয় বিভাগ থেকে ৪২ ক্রিকেটারকে নিয়ে এক মাসের বিশেষ ক্যাম্প। আছে ছয় দিনের বিভাগীয় স্কিল ক্যাম্পটাকেও ১২ দিনের করার পরিকল্পনা। এ ছাড়া গতবার না হওয়া ঢাকা মহানগরের একাডেমিগুলোর বয়সভিত্তিক দল নিয়ে অনূর্ধ্ব-১৪, ১৬ ও ১৮ পর্যায়ে টুর্নামেন্টগুলোও এবার হবে বলে জানা গেছে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগ সূত্রে।
নতুন কিছু করার চিন্তাভাবনা আছে গেম এডুকেশনেও। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এ সংক্রান্ত ৩ কোটি টাকার চুক্তিটি গত বছর ডিসেম্বরে শেষ হয়ে যাওয়ায় এবার পাইলট প্রকল্প হিসেবে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সহায়তায় লেভেল-২ কোচিং কোর্সটা নিজেদের প্রশিক্ষক দিয়েই পরিচালনার চেষ্টা করবে বিসিবি। তবে গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান আমিনুল হক জানিয়েছেন, কোচেস ট্রেনিং বা কর্মশালা নয়, নতুন পরিকল্পনায় তাঁরা ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন বেশি। গতবার ৪টি লেভেল ‘এ’, দুটি করে লেভেল-১ ও ফিটনেস কোর্স এবং বিভিন্ন বিষয়ে কোচদের ৮টি কর্মশালা হলেও এবার মাঠের ক্রিকেটেই থাকবে বেশি মনোযোগ।
এত পরিকল্পনা সত্ত্বেও গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রস্তাবিত বাজেট আগের তুলনায় অল্পই বেড়েছে। ২০০৮-০৯ মৌসুমে এই কমিটির বাজেট ছিল সাড়ে ১৭ কোটি টাকা। সে সময়ের বোর্ড সভাপতি সিনা ইবনে জামালী বাজেট কমিয়ে আনেন সাড়ে ১৫ কোটি টাকায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, ওই সাড়ে ১৫ কোটি টাকার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়ে গেছে মাত্র ১১ কোটি ১১ লাখ টাকায়ই!
২০০৯-১০ মৌসুমে তাই একাডেমি আর গেম ডেভেলপমেন্ট মিলিয়ে বাজেট ধরা হয়েছিল প্রায় ১১ কোটি টাকার। এবারের বাজেট তুলনামূলক আরও কম। ২০১০-১১ সালের জন্য একাডেমির প্রস্তাবিত বাজেট প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির বাজেট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকার মতো। এর বাইরে একাডেমি ও গেম ডেভেলপমেন্টের টেন্ডার ও ক্রয় বাবদ আরও প্রায় ৩ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, যা খরচ হবে লজিস্টিক কমিটির মাধ্যমে।
এ বিষয়টা বিসিবি চাইলে নতুন করেও ভাবতে পারে। লজিস্টিক কমিটির মাধ্যমে ডেভেলপমেন্ট কমিটির খরচের ক্ষেত্রে কিছু ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতা’র সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ এবং তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেশের ক্রিকেটের জন্য নেতিবাচক হচ্ছে। ‘কৃচ্ছ্র’ সাধনের নামে লজিস্টিক কমিটি নাকি মাঝেমধ্যে এতটাই ‘কার্পণ্য’ দেখায় যে অনুশীলনে বিদেশি দলগুলো নাশতা হিসেবে সামান্য স্যান্ডউইচ চেয়েও পায় না। বড় বড় দেশের একাডেমি বা বয়সভিত্তিক দলগুলোর বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে অনীহার একটা বড় কারণ, এ দেশে এসে পছন্দমতো সুযোগ-সুবিধা না পাওয়া। শ্রীলঙ্কা একাডেমি দল তো গতবার সফরই বাতিল করে দিল!
ক্রিকেট উন্নয়নের কাজে আরেকটা বড় বাধা মাঠের সমস্যা। একাডেমির মাঠ এখনো প্রস্তুত নয়, শেরেবাংলা স্টেডিয়াম আর তার ইনডোরও বছরজুড়ে ব্যস্ত থাকে জাতীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে। এ অবস্থায় বিকেএসপিই ভরসা। বর্তমানে যেমন দিনাজপুর বিকেএসপিতে চলছে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প।
পরিকল্পনা যত বিশালই হোক সেটির সার্থকতা বাস্তবায়নে। গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান আমিনুলও হকও মানছেন, বড় চ্যালেঞ্জ এখন এটাই, ‘এসব পরিকল্পনা খুব বড় কিছু নয়। বরং এ রকমই হওয়া উচিত। এত দিন হয়তো নানা সীমাবদ্ধতায় পারিনি। এবার চেষ্টা করব। বিশ্বকাপের পর হাইপারফরম্যান্স ইউনিটটাকেও নতুনভাবে শুরু করার পরিকল্পনা আছে। তবে শুধু পরিকল্পনা করলেই তো হবে না, সেসব বাস্তবায়ন করতে হবে।

হারল সাকিবের দল

গ্লামরগনের কাছে উস্টারশায়ার ২৪১ রানের বড় ব্যবধানে হারলেও ব্যাটে-বলে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। বল হাতে দুই ইনিংসে ছয়টি উইকেট নিয়েছেন। ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে ৪৭ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও দলের বিপর্যয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। ১২৮ রানে ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর নেমেছিলেন, শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে করেছেন ৭২ বলে ২৫ রান। চতুর্থ ইনিংসে ৪১৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে সাকিবের দল উস্টারশায়ার গুটিয়ে গেছে ১৭৫ রানেই।

‘গভীর সংকটে’ ইতালি

টানা সাত ম্যাচ জয়হীন। জয়হীন আসলে তারা ২০১০ সালের এই আট মাসের পুরোটাই। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হয়েও বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে বিদায়ের কলঙ্ক। ব্যর্থতার তালিকাটা আরেক ধাপ বাড়ল আইভরিকোস্টের কাছে পরাজয়ে। মঙ্গলবারের প্রীতি ম্যাচটি সেই অমঙ্গলবার্তা বয়ে আনার পর নতুন অধিনায়ক ড্যানিয়েল ডি রসি অকপটে স্বীকার করে নিলেন, গভীর সংকটে পড়ে গেছে ইতালির ফুটবল।
‘আমরা সবাই এই একই কথা বলছি—ইতালির ফুটবল আজ গভীর সংকটে। ভাবতে অবাক লাগে ইতালির ভালো ভালো ফুটবলার সব কোথায় হারিয়ে গেল!’ পরাজয়ে অভিষেকের পর অধিনায়ক রসির এই উপলব্ধি।
পরিসংখ্যানও বলছে, আসলেই ইতালির ফুটবল বিপর্যয়ের মধ্যে। ইতালির ফুটবলে এমন খরা সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল, ১৯৫৮-১৯৫৯ সালে। সেবার টানা আট ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি ইতালি। ২০১২ ইউরো বাছাইপর্ব শুরু করার আগে সেই লজ্জার রেকর্ড ভেঙে পড়ার মুখে। ডি রসিও মানছেন, ‘হ্যাঁ, ভয়ংকর একটা বছর যাচ্ছে।’
কিন্তু সংকটের আঁচ পেয়ে তিনি মুষড়ে পড়ছেন না। বরং ভবিষ্যতের পথনকশা দিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার, ‘আমাদের ভালো ফুটবলারদের খুঁজে বের করতে হবে। তাদের সময় দিতে হবে। এবং অবশ্যই প্রথম প্রথম ভুল করলে সেটির তীব্র সমালোচনা করা চলবে না।’
রোমার মিডফিল্ডারের শেষ মন্তব্যটি সম্ভবত গত ম্যাচের কথা ভেবেই। ইতালির নতুন কোচ সিজারে প্রান্দেল্লি একেবারে ঢেলে সাজিয়েছেন দলটি। ৫ খেলোয়াড়ের অভিষেকই হয়েছে ওই ম্যাচে। পালাবদলের এই সময়টায় সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ করলেন ডি রসি। কারণ তিনি জানেন, মেঘের আড়ালেই হাসে সূর্য, ‘এখনই এ নিয়ে মহা শোরগোল ফেলে দেওয়ার কিছু নেই। আমাদের সবাইকে বুঝতে হবে, নতুন যুগের এটা মাত্রই সকাল। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসার আগে কমপক্ষে দুই বছর সময় এই দলটাকে দিতেই হবে। আমি তাই হতাশ নই। কারণ জানি, পরিস্থিতি এ রকম থাকবে না।’