Thursday, February 13, 2014

রাস্তায় ১০০ ডলার পেলে কুড়িয়ে নেবেন গেটস!

বিল গেটস
বিশ্বের সবচেয়ে বিত্তশালী বিল গেটসও এখনো রাস্তা থেকে ১০০ মার্কিন ডলারের একটি নোট কুড়িয়ে নেবেন। কিন্তু এক লাখ ডলারের কম খরচে কীভাবে বছর কাটিয়ে দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে তাঁর কোনো পরামর্শ নেই। শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বলেন, তিনি এই ৫৮ বছর বয়সেও লাফিয়ে চেয়ার ডিঙিয়ে যেতে পারেন, যদি সেটি আকারে ছোট হয়। আর তিনি রাতের খাবারের পর থালা-বাসন পরিষ্কার করতে পছন্দ করেন। সামাজিক সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট রেডিট ডটকমে গত সোমবার এক অনলাইন আলাপচারিতায় (চ্যাট) বিল গেটস বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এতে তাঁর ব্যক্তিগত স্বভাব-বৈশিষ্ট্য ও জীবনাচরণের বিভিন্ন দিক প্রকাশিত হয়। খেলাচ্ছলে ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটিয়ে তিনি দানশীলতা,
সরকারি হস্তক্ষেপ এবং মাইক্রোসফটের নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলার প্রতি সহযোগিতার সম্ভাব্য ধরন প্রভৃতি বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, সত্য মাইক্রোসফটকে একটি নতুন রূপ দিতে পারেন। একজন নতুন ব্যক্তি পেছনে ফিরে পরিবর্তনে নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ভালোভাবে শুরু করতে পারেন। গেটস বলেন, তারুণ্যের ‘প্রাণপ্রাচুর্যময় সরল’ দিনগুলোর মতো তিনি কিছুদিন কর্মক্ষেত্রের বাইরে কাটাতে চান। আর কাজের এক-তৃতীয়াংশ তিনি দিতে চান মাইক্রোসফটের জন্য। বাকি দুই-তৃতীয়াংশ দাতব্য ফাউন্ডেশনের জন্য বরাদ্দ থাকবে। স্ত্রী মেলিন্ডাকে নিয়ে তিনি ওই দাতব্য প্রতিষ্ঠান চালান। সবচেয়ে বড় মানবহিতৈষী ব্যক্তি হওয়ার অভিপ্রায় নেই বলে জানান গেটস। কম্পিউটার ব্যবহারে গোয়েন্দা নজরদারি প্রসঙ্গে গেটস বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। তথ্য সুরক্ষা ও সংগ্রহের ব্যাপারে আস্থা থাকা প্রয়োজন। সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনের দায়িত্ব সরকারের। তবে এ ব্যাপারে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন। এএফপি।

মোদির ব্যাপারে অবস্থান পাল্টাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

নরেন্দ্র মোদি
ভারতের গুজরাটে দাঙ্গায় নরেন্দ্র মোদির বিতর্কিত ভূমিকার কারণে এত দিন তাঁকে এড়িয়ে চলত যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় তারা অবস্থান পাল্টাচ্ছে। নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ন্যান্সি পাওয়েল সেই মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা করছেন। ওয়াশিংটনে একজন মার্কিন কর্মকর্তা গত সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি। এই নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। ক্ষমতায় যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে দলটির। এ কারণে ওবামা প্রশাসন ভারতে তাদের অবস্থান পাল্টাতে চাইছে। ন্যান্সি পাওয়েলের পরিকল্পনায় সে ইঙ্গিতই মিলছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যেই মোদিকে বর্জনের পথ থেকে সরে এসেছে। আগামী মে মাসের শেষ নাগাদ ভারতের লোকসভা নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের মতবিনিময় শুরু হয়েছে গত নভেম্বর থেকে। মোদি-পাওয়েলের সম্ভাব্য সাক্ষাতের বিষয়টিও সেই উদ্যোগের অংশ।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেখানে ২০০২ সালে সংঘটিত দাঙ্গায় নীরব ভূমিকা নিয়েছিলেন। এতে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয় এবং নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে মুসলিমের সংখ্যাই ছিল বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ২০০৫ সালে ওই দেশের একটি আইনে মোদির ভিসা বাতিল করে দিয়েছিল। ওই আইনে বলা আছে, ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনে’ দায়ী কোনো বিদেশি কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবে না। মোদি অবশ্য দাবি করেন, গুজরাটের দাঙ্গা চলাকালে তিনি কোনো ভুল করেননি। দাঙ্গার তদন্তেও তিনি পার পেয়ে গেছেন। তবে ৯৭ জন মুসলিমকে হত্যায় উসকানি দেওয়ার দায়ে তৎকালীন তাঁর রাজ্য সরকারের একজন মন্ত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। স্নায়ুযুদ্ধের যুগের বিরোধের সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের অধিকাংশই নয়াদিল্লির সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপনের প্রতি সমর্থন জানান। তবে বামঘেঁষা মার্কিন আইনপ্রণেতারা মোদির ব্যাপারে এত দিন বিরোধিতা করেছেন। তবে তাঁর সঙ্গে পাওয়েলের সম্ভাব্য বৈঠকের পর দৃশ্যপট পাল্টে যাবে বলে মনে হচ্ছে। এএফপি।

ম্যান্ডেলার সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি চান দুই নারী

নেলসন ম্যান্ডেলা ওনিকা মোথোয়া
বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার সন্তান বলে নিজেদের দাবি করেছেন দুই নারী। সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে ম্যান্ডেলার উইলের তত্ত্বাবধানকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এই উইল তত্ত্বাবধানকারীদের আইনজীবী মাইকেল কাৎজ বলেন, একজন অ্যাটর্নির কাছ থেকে ওই দুজনের দাবিসংবলিত একটি চিঠি তিনি পেয়েছেন। চিঠিতে ওই দুই নারী নিজেদের মাদিবার (ম্যান্ডেলার গোত্রীয় নাম) সন্তান বলে দাবি করলেও তাঁরা কোনো অর্থ চান না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। এঁদের একজন ওনিকা মোথোয়া (৬০)। দাবি প্রমাণে তিনি ডিএনএ পরীক্ষাও করেছেন। অন্য নারী হলেন এমফো পুলে। ২০০৯ সালে তিনি মারা যান। পুলে ১৯৯৮ সালে ম্যান্ডেলার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। দ্য টেলিগ্রাফ।

অধিকাংশ মানুষের স্থায়ী দুর্দশা

২০০৮ সালে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেওয়ার পরপরই আমি সতর্ক করে বলেছিলাম, সঠিক নীতি গ্রহণ করা না হলে জাপানের মতো বছরের পর বছর ধরে ধীর প্রবৃদ্ধি ও আয়-উপার্জনের ক্ষেত্রে প্রায়-স্থবিরতা সৃষ্টি হতে পারে। তখন আটলান্টিকের উভয় তীরের নেতারা দাবি করেছিলেন যে তাঁরা জাপানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন, কিন্তু কার্যত দ্রুতই তাঁরা একই ধরনের ভুলভ্রান্তির পুনরাবৃত্তির দিকে অগ্রসর হন। এখন যুক্তরাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাবেক কর্মকর্তা অর্থনীতিবিদ ল্যারি সামার্স পর্যন্ত এমন সতর্কতা উচ্চারণ করছেন যে একটা দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতা দেখা দিতে পারে। আধা দশক আগে আমি যে বিষয়টি উত্থাপন করেছিলাম, তার মূল কথাটি ছিল মৌলিক অর্থে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি রুগ্ণ হয়ে পড়েছিল, এমনকি সংকট শুরু হওয়ার আগেই। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি হয়ে উঠেছিল একটা সম্পদ-মূল্যের বুদ্বুদ, যা সৃষ্টি হয়েছিল শিথিল ব্যবস্থাপনা/নিয়ন্ত্রণ ও সুদের নিম্ন হারের কারণে। এ দুয়ের ফলে অর্থনীতিটাকে বেশ হূষ্টপুষ্ট দেখাচ্ছিল।
কিন্তু উপরিতলের নিচে, ভেতরে ভেতরে অসংখ্যা সমস্যা ঘনিয়ে উঠছিল। যেমন, ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য আরও বেড়ে চলেছিল, কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার দিকে দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছিল না (কলকারখানায় উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতি থেকে সেবামুখী অর্থনীতির দিকে যাওয়া, বৈশ্বিক পরিসরে তুলনামূলক সুযোগ-সুবিধাগুলোর পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা); দীর্ঘস্থায়ী বৈশ্বিক ভারসাম্যহীনতা; এমন এক আর্থিক ব্যবস্থা, যেখানে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং সামাজিক কল্যাণ বাড়ানোর লক্ষ্যে উদ্বৃত্ত সম্পদের পুনর্ব্যবহার করার পরিবর্তে ফাটকা বাজারি অধিকতর সুবিধাজনক। সেসব সংকটের ব্যাপারে নীতিনির্ধারকেরা যা করেছেন, তাতে সংকট মেটেনি। আরও খারাপ কথা হলো, তাঁদের কৃতকর্মের ফলে কিছু সংকট তীব্রতর হয়েছে, নতুন আরও কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে এবং তা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ফলে, অনেক দেশের জিডিপিতে ধস নেমে সরকারের রাজস্ব আয় কমে গিয়েছে এবং তাদের ঋণ গ্রহণ বেড়েছে। উপরন্তু, সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার ফলে এমন এক তরুণ প্রজন্ম সৃষ্টি হয়েছে, যারা বছরের পর বছর কর্মহীন অলস দিন পার করেছে এবং জীবনের একটা পর্যায়ে উৎপাদনক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে; অথচ তাদের তখন দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা কাজে লাগানোর সময়। আটলান্টিকের উভয় পারে ২০১৩ সালের তুলনায় সামনের দিনগুলোতে জিডিপি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব নেতা কৃচ্ছ্রসাধনের নীতিকে আলিঙ্গন করেছিলেন, তাঁরা এবার উল্লাসে শ্যাম্পেনের বোতল খুলতে পারেন। কিন্তু সেটা করতে যাওয়ার আগে তাঁদের ভালো করে খতিয়ে দেখা উচিত এখন আমাদের অবস্থা কী;
তাঁদের গৃহীত সেসব নীতির ফলে যে প্রায়-অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। প্রত্যেক নিম্নমুখী প্রবণতাই একটা পর্যায়ে গিয়ে থেমে যায়। এ রকম ক্ষেত্রে একটা ভালো নীতি হয় সেটাই, যা গ্রহণের ফলে সেই নিম্নমুখী প্রবণতা বেশি গভীরে যেতে পারে না এবং বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে না। যেসব দেশের সরকার কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি গ্রহণ করেছিল, সেসব দেশে অর্থনীতির নিম্নমুখী প্রবণতা অনেক গভীর পর্যন্ত গেছে এবং বেশি দীর্ঘ হয়েছে, যার পরিণতিগুলো হবে দীর্ঘমেয়াদি। কিন্তু এ রকম হওয়া অনিবার্য ছিল না। উত্তর আটলান্টিকের অধিকাংশ দেশে ২০০৭ সালে মাথাপিছু প্রকৃত (মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয়কৃত) জিডিপি ছিল বেশ কম; গ্রিসে অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে সফল অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে ছয় বছর ধরে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে সংকটের আগে যে সামান্য হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছিল, তা অব্যাহত থাকলে আজ এ অর্থনীতির যে আকার দাঁড়াতে পারত, এখন তার থেকে প্রায় ১৫ শতাংশ ছোট এ অর্থনীতি। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে এসব পরিসংখ্যানে প্রকৃত চিত্রটা ফুটে ওঠে না; কারণ সাফল্য পরিমাপের ভালো সূচক জিডিপি নয়। গৃহস্থালির আয়-উপার্জনের ক্ষেত্রে কী ঘটছে, সেটা বরং অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। সিকি শতক আগে, ১৯৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৃত গৃহস্থালি আয় (মিডিয়ান রিয়্যাল ইনকাম)
যা ছিল, এখন তার থেকে কম; আর আজ থেকে ৪০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে একজন সার্বক্ষণিক পুরুষ শ্রমিকের আয় (মিডিয়ান ইনকাম) যা ছিল, এখন তার থেকে কম। অর্থনীতিবিদ রবার্ট গর্ডনের মতো কেউ কেউ বলেছেন, বিগত শতাব্দীজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন প্রবৃদ্ধির যে হার ছিল, তার থেকে যথেষ্ট কম প্রবৃদ্ধি হবে—এমন এক নতুন বাস্তবতার সঙ্গে আমাদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে। অর্থনীতিবিদদের কর্মকাণ্ডের শোচনীয় রেকর্ড—যা কিনা ২০০৮ সালের সংকটের প্রাক্কালে ফুটে উঠেছিল—তিন বছরের পূর্বাভাস সত্ত্বেও এমন আস্থা বোধ করা উচিত হবে না যে, কেউ বলতে পারেন ভবিষ্যতের দশকগুলোতে কী ঘটবে। কিন্তু এটা পরিষ্কার বলেই মনে হয়: সরকারের নীতিগুলো পরিবর্তন করা না হলে আমরা সুদীর্ঘ সময় ধরে নৈরাশ্যব্যঞ্জক পরিস্থিতির মধ্যেই থেকে যাব। বাজারের এমন শক্তি আছে যে তা নিজেই নিজেকে শুধরে নিতে পারে। কিন্তু আমি ওপরে যে অন্তর্নিহিত মৌলিক সমস্যাগুলোর কথা বললাম, সেগুলো খারাপ থেকে আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। অনেক সমস্যার ইতিমধ্যে আরও অবনতি ঘটে গেছে। অসমতার ফলে চাহিদা দুর্বল হয়ে যায়; অসমতার বিস্তার ঘটলে চাহিদা আরও বেশি দুর্বল হয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ অধিকাংশ দেশে অর্থনৈতিক সংকটের ফলে অসমতা শুধুই বেড়েছে। উত্তর ইউরোপে বাণিজ্যিক উদ্বৃত্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, এমনকি চীনেরও কিছুটা বেড়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাজারগুলোর অবস্থা কখনোই এত ভালো হয়নি যে সেগুলো আপনা থেকেই কাঠামোগত রূপান্তর দ্রুত অর্জন করতে পারে। দৃষ্টান্তস্বরূপ, কৃষি থেকে ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের দিকে যাত্রা
কখনোই মসৃণ হয়নি। উল্টো বরং এই রূপান্তরের সঙ্গে সঙ্গে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় সামাজিক স্থানচ্যুতি ও মহা মন্দা ঘটেছে। এবারও ভিন্ন কিছু ঘটছে না; বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটা আরও খারাপ হতে পারে। যেসব খাতে প্রবৃদ্ধি ঘটা উচিত, যেগুলোতে নাগরিকদের চাহিদা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে, সেগুলো হচ্ছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো সেবা খাত। এই সেবা খাতগুলো ঐতিহ্যগতভাবে অর্থ বরাদ্দ পেয়ে এসেছে রাষ্ট্রের কাছ থেকে এবং তা যুক্তিসংগত কারণেই। কিন্তু সরকার এসব খাতে রূপান্তরকে সহযোগিতা করার পরিবর্তে কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করছে। অর্থনীতিতে পশ্চাদপসরণ বা মন্দনের থেকে রুগ্ণতা বা ব্যাধি বরং ভালো। কিন্তু আমরা এখন যেসব সমস্যার মুখোমুখি, সেগুলো অর্থনীতির অনিবার্য, অমোঘ নিয়মকানুনের ফল নয়। ভূমিকম্প বা সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর সঙ্গে আমরা যেভাবে খাপ খাইয়ে চলি, এই সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রেও আমাদের তা-ই করা উচিত। এগুলো মোকাবিলা করা অতীতের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার মতোও নয়; যদিও নিশ্চিত করে বলতে গেলে, গত তিন দশকজুড়ে যে নয়া-উদারপন্থী নীতিগুলো প্রাধান্য চলে এসেছে, আজকের অবস্থার জন্য সেগুলোর দায় বিরাট। আমাদের চলমান সমস্যাগুলো ভুল নীতিমালার ফল। বিকল্প আছে। কিন্তু যেসব অভিজাত লোকের আয় বেড়ে চলেছে, যারা আবার শেয়ারমার্কেটে ফুলেফেঁপে উঠছে, তাদের আত্মতুষ্টির মধ্যে আমরা সেই বিকল্পগুলো খুঁজে পাব না। শুধু যা ঘটবে তা হলো, জীবনযাত্রার আরও নিম্নমানের সঙ্গে স্থায়ীভাবে খাপ খাইয়ে নিতে হবে কিছু মানুষকে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, এই কিছু মানুষই হলো অধিকাংশ মানুষ।
ইংরেজি থেকে অনূদিত। স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট জোসেফ স্টিগলিৎস: নোবেল পুরস্কারে ভূষিত মার্কিন অর্থনীতিবিদ; যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক।

কমনসের বাংলাদেশ বিতর্ক

বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে নির্বাচন ইতিবাচক বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দাবি সংসদে করেছেন, তা যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ। বাংলাদেশে যখনই বৈধতার সংকট নিয়ে কেউ সরকারে বসেন, তখন তাঁরাই বিদেশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে স্বীকৃতি আদায়ে সচেষ্ট হন। বিভিন্ন সরকারের আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন বার্তাবিষয়ক তথ্য এবং সেসব দেশের পার্লামেন্টের নির্বাচিত রাজনীতিবিদেরা নির্বাচন ও সরকার সম্পর্কে যে অভিমত দিচ্ছেন, তার মধ্যে পার্থক্য আসমান ও জমিনের। বিদেশি সাংসদেরা সংসদের ফ্লোরে কীভাবে দেখছেন তা আজ খতিয়ে দেখার চেষ্টা করা হবে এই নিবন্ধে। আজ হাউস অব কমনস। কাল ইইউ পার্লামেন্টের ভাষ্য। হাউস অব কমনসে তিন সপ্তাহের কম সময়ের ব্যবধানে তিন দফা আলোচনা হয়েছে। মার্কিন সিনেটেও অল্পসময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশের ওপর তৃতীয় শুনানি হচ্ছে। বাংলাদেশবিষয়ক প্রস্তাব আনার কারণটা চিহ্নিত করে সাইমন ড্যানজুক বলেন, অবশ্যই এমন উদ্বেগ রয়েছে যে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে এবং কালক্রমে উগ্রপন্থার উত্থান ঘটতে পারে। মিসেস মেইন বলেন, আমাদের ভাবতে হবে যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে ব্রিটিশ সাহায্য দেশটিতে কী কাজে লাগবে। প্রকৃত সুফল দেবে কি দেবে না। আমার মনে হয় মার্কিন সিনেটে ১১ ফেব্রুয়ারির শুনানিতে একই প্রশ্ন আলোচিত হবে। ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নতুন ইউএসএইড প্রধান ইয়ানিনা ইয়ারুজেলস্কি বলেছেন, ‘মার্কিন সহায়তা চলতে থাকবে।’ আমরাও তা চাই। কিন্তু একই সঙ্গে মনে রাখব, বহু দেশের ঘোর অমানিশাতেও তারা এমনটাই বলে থাকে। তবে একই সঙ্গে তিনি প্রকারান্তরে গণতন্ত্র ও সুশাসন কর্মসূচির অর্থ প্রত্যাহারের ঘোষণাও দিয়েছেন।
ইয়ানিনা সৌজন্য করে বলেছেন, ওই কর্মসূচির টাকা না কমিয়ে অন্য কর্মসূচিতে সমন্বয় করবেন। এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের চেয়ারম্যান চিঠি লিখে সরকারের প্রতি পরোক্ষ অথচ স্পষ্ট অনাস্থা ব্যক্ত করেছিলেন। বাংলাদেশ নিয়ে ব্রিটেনের দুই প্রধান দলের প্রতিনিধি মিসেস মেইন ও সাইমন কমনসে যৌথভাবে প্রস্তাব আনেন। রানা প্লাজা ধসের পরে তাঁরা সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের প্রতিনিধি হিসেবে এসেছিলেন। ১৪ জানুয়ারিতে ঠিক হয়, ১৬ জানুয়ারির ব্যাকবেঞ্চ প্রহরে বাংলাদেশ আলোচিত হবে। এই আলোচনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে বেশ ভালোই তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পক্ষে একা মিসেস মেইনই যুক্তি দিয়েছিলেন। তবু তাঁর মন্তব্য, ‘দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশ একধরনের তলাবিহীন ঝুড়িতে রূপান্তরিত হতে চলেছে।’ বহু বছর বাদে কিসিঞ্জারের এই বিষাদগ্রস্ত উক্তিটির প্রতিধ্বনি কানে এল। এই যখন অবস্থা তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ ফেব্রুয়ারি সংসদে বলেন, ‘অনেক দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান দশম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমাকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।’ আমরা সংসদ ও সরকারের পার্থক্য রাখি না, বুঝতেও চাই না। কিন্তু গণতান্ত্রিক বিশ্ব তো পার্থক্য বজায় রাখে। এটাই ওদের গৌরব। দীর্ঘকাল ধরে দেশে দেশে চোখে পড়ে অগণতান্ত্রিক বা জবরদখলকারী সরকারের তোয়াজকারী আমলারা ‘অভিনন্দন’ জোগাড় করতে উতলা হন। দেখলাম ওআইসির মতো অগণতান্ত্রিক ক্লাবের মহাসচিবের অভিনন্দনও ঘটা করে রটানো হচ্ছে। বিশ্বের তিনটি বিশিষ্ট পার্লামেন্টের (মার্কিন কংগ্রেস, ব্রিটেনের হাউস অব কমনস ও ইইউ) পক্ষ থেকে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে না বলা হয়েছে।
প্রশ্ন হলো, ক্ষমতাসীন দল ও তার মিত্ররা ‘হাই হ্যালো’ ধরনের কূটনৈতিক শিষ্টাচারমণ্ডিত অভিনন্দনে পুলকিত হবেন নাকি জনগণের নির্বাচিত রাজনীতিবিদদের দ্বারা সংসদের ফ্লোরে সরাসরি তিরস্কারের বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন। ১৬ জানুয়ারি মিসেস মেইন অকপটে বলেন, আমি দুঃখের সঙ্গে বলছি যে ২০০৬ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ের বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কোনো উন্নতি ঘটেনি। কিন্তু তিনি বা তাদের কেউ সেদিনের বিতর্কে ভেঙে বলেননি, ’৯০-এ সামরিক স্বৈরাচারের পতনের পরে কোনো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ার চেষ্টা করা হয়নি। প্রায় সব কটি প্রতিষ্ঠান সুনামি কি সিডরের শিকার। গত ১১ জানুয়ারি গণতন্ত্র খাতে ৬৭ মিলিয়ন পাউন্ডের সাহায্য বন্ধের খবর দিয়েছিল টেলিগ্রাফ। একে অযথাযথ খবর চিহ্নিত করে মেইন বলেন, প্রায় ৭০ ভাগ ব্রিটিশ সাহায্য এনজিওর মাধ্যমে খরচ হয়। তবে বাকি যে ৩০ ভাগ সরকারের হাতে দেওয়া হয়, সেটা ‘যে সরকার জনগণের সব অংশকে আস্থায় নেয় না, তাকে ওই সাহায্য দেওয়া উচিত নয়’ বলে তিনি সাফ সুপারিশ করেন। এ ধরনের মন্তব্যে বিএনপি খুশি হবে। কারণ, তারা বিদেশিদের কাছে কেবল তেমন চাপই আশা করে। বিরোধী দল এতে অপমান দেখে না, সার্বভৌমত্বের হানি দেখে না, কমনস যদি বাংলাদেশ শাসকদের ব্যক্তিকেন্দ্রিক অপশাসনের জাঁতাকলটি ভাগাড়ে ফেলার শর্ত দিত, তাতে তাদের মন ভরত না। ১৬ জানুয়ারি রক্ষণশীল এমপি মার্ক ফিল্ড সোজা কথা সোজা করে বললেন, সাত বছর ধরে দেশটিতে এই লক্ষণই ফুটে উঠেছিল যে এটি সামরিক শাসনের কবলে পড়ে কি না। একাত্তরে পাকিস্তান ভাগ থেকে এ পর্যন্ত অস্থিতিশীলতার জন্য ‘বর্তমানের বাংলাদেশি রাজনীতিকদের দায়দায়িত্ব’ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত প্রকাশ পেলেও মিশ্র মতামতও এসেছে।
রক্ষণশীল এমপি রেহমান চিশতী তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার প্রতি গভীর আস্থা ব্যক্ত করে বলেন যে, পাকিস্তানসহ আরও অনেক দেশে এটা ভালোভাবে কাজ করছে। এটা বাতিল করা ‘সম্পূর্ণ ও গুরুতর ভুল’। মিসেস মেইন অবশ্য মনে করেন, এটা সঠিক পদ্ধতি ছিল না। তাঁর যুক্তি, এটা বদলে ফেলতে সংবিধানের আওতায় আওয়ামী সরকারের অধিকার ছিল এবং তারা সেটা করেছে। আমরা মেইনের কোনটা নেব? ম্যান্ডেট তত্ত্ব নাকি তলাবিহীন ঝুড়ি বলাটা? কমনস কার্যবিবরণীতে লেখা আছে, বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী সর্বদলীয় গ্রুপকে বলেছেন, ‘আমি এটাকে মর্মভেদী মনে করেছি। একটাই বড় সত্য যে রক্তপাত ও বিরোধ ছাড়া বাংলাদেশ কখনো নির্বাচন দেখেনি।’ তার মানে কি ওটা ফেলে দেওয়ার দর্শন ছিল এই যে, রক্তই যখন ঝরবে তখন ঝরুক! ওই প্রশ্নে বাংলাদেশি রুশনারা আলী সতর্কতার সঙ্গে বলেছেন, কমনসের উভয় পক্ষের সদস্যরা সুষ্ঠু নির্বাচনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বলেছেন। অনেকেই বলেছেন, এই ব্যবস্থা অতীতে সুফল দিয়েছে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটদলীয় মার্টিন হরউড উল্লেখ করেছেন, শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপই নয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো বহু বিষয়ে আওয়ামী লীগের কাছে কৈফিয়ত চাওয়ার রয়েছে। তবে তিনি নিরেট সত্যটা বলেননি যে, যুদ্ধাপরাধ ইস্যু দিয়ে ক্ষমতাসীনেরা নিজেদের কৈফিয়তের ঊর্ধ্বে তুলেছে। মার্টিনের কথায়, ওই ব্যবস্থা বাতিল টেকনিক্যালি গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কারণ, সেখানে ব্রিটিশ সরকারের সমর্থিত একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওটা বাতিল করায় স্পষ্টতই নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অবাধ নির্বাচনে আস্থা নষ্ট হয়েছে। মার্টিনের এই মন্তব্য খুবই যুক্তিসংগত। কারণ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট নিরঙ্কুশভাবে টেকনিক্যালটির ওপর দাঁড়িয়ে ওটা বাতিল করেন। কিন্তু রাজনীতি টেকনিক্যাল নয়।
রেহমান চিশতী মার্টিনকে প্রশ্ন করেছিলেন, ওই ব্যবস্থা যদি পাকিস্তানে চলে, বাংলাদেশেও চলতে পারে? তখন মার্টিন যথার্থ মন্তব্য করেন, এটা ‘টেকনিক্যাল মেরিটের’ প্রশ্ন নয়। অথচ আমাদের সরকার ও তার মিত্ররা ওই ব্যবস্থা বাতিল প্রশ্নে যে আদর্শগত ভুয়োদর্শন তুলেছেন, তা শতকরা ১০০ ভাগই টেকনিক্যাল মেরিটের। মার্টিন চমৎকার যুক্তি দেন, এটা হলো রাজনৈতিক দলব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি ও মতৈক্য সৃষ্টি করার বিষয়। একজন বাংলাদেশি আজ সকালেই আমাকে একটি মিষ্টি উপমা দিলেন। বললেন, ওই ব্যবস্থা থাকল বা গেল, তা কোনো বিষয় নয়। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দুই নারীর হাতেই বাঁধা। সাইমন ড্যানজুক এ সময় বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকা উচিত। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এটা বলেছিলাম। কিন্তু স্পষ্টতই তিনি এটাতে বিশ্বাসী ছিলেন না। গত ২৩ বছরের মধ্যে এই প্রথম দেশটির সংসদে কোনো রাজনৈতিক বিরোধী দল নেই।’ রক্ষণশীল রিচার্ড ফুলারের কাণ্ডজ্ঞান প্রখর। কমনসের উচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া, এই মন্তব্যের পর তিনি বলেন, এটা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য যথার্থই বৈধ যে, তারাই ঠিক করবে কীভাবে তারা তাদের নির্বাচন করবে। তাই কমনসের এটা অন্য কোনো দেশকে বলা উচিত হবে না। কিন্তু পরক্ষণেই তিনি যা বলেন, সেটা বাংলাদেশের রাজনীতিকদের বুঝতে হবে। ফুলারের কথায়, ‘এ কথা বলা হাউস অব কমনসের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে যে গণতন্ত্র উন্নয়নে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কতটা কার্যকর।
কারণ, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র উন্নয়নে বিশ্বব্যাপী আমাদের স্বার্থ রয়েছে।’ বাংলাদেশ সংসদে তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহাল হোক—এ রকম প্রস্তাব কমনসে পাস হয়নি, পাস হওয়ার কথা নয়। তবে ফুলার তথ্য প্রকাশ করেন যে ব্রিটেনের সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ অব্যাহতভাবে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকারকে বলেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল করতে। কিন্তু একগুঁয়েভাবে সরকারি দল তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ফুলারের সঙ্গে দ্বিমত করা যায় না, যখন তিনি বলেন, দুই বছর আগেই বোঝা গেছে, বাংলাদেশ কোথায় যাচ্ছে। সুতরাং দায়টা বর্তমান সরকারের কাঁধেই বর্তায়। লিবারেল ডেমোক্র্যাট জন হ্যামিং ফুলারের কাছে প্রশ্ন রাখেন, তাহলে আপনি একমত যে অবাধ নির্বাচন চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার লাগবেই? এর উত্তরে জিম ফিটজপ্যাটরিক বলেন, নতুন নির্বাচনের কথা বলা এখন অপরিপক্ব। তাড়াতাড়ি নির্বাচন হওয়া মানেই গত নির্বাচনে যারা নাশকতা করেছে, তাদের হাত লম্বা করা। তবে জিমের মতো অনেকেই বলবেন, ‘আমি মনে করি আওয়ামী লীগ পুরো পাঁচ বছর মেয়াদে সরকারে থাকতে পারবে না। কারণ, সেটা হবে কমনসের উচ্চারিত গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধাচরণ।’ কমনস যা কিছু আলোচনা করেছে তা আমার বিচারে বাংলাদেশিদের প্রয়োজনের তুলনায় অন্তঃসারশূন্য না হলেও গতানুগতিক ও আনুষ্ঠানিক। রাজনৈতিক প্রক্রিয়া যে ভেঙে পড়েছে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দ্রুত নির্বাচনই তা নিরাময়ের একমাত্র ধনন্তরি চিকিৎসা নয়, কমনসের, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত সেটা স্বীকার করা।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com

সাগর-রুনি হত্যা

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যার তদন্তে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ব্যর্থতা হত্যাকারীদের দক্ষতা ও ক্ষমতারই প্রমাণ দেয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন অনেক জটিল ও স্পর্শকাতর মামলার সুরাহা করছে, তখন জাতীয় দাবি হয়ে ওঠা প্রত্যাশিত বিচারের ব্যর্থতা কোনোভাবেই মার্জনা করা যায় না। সেই ভয়ংকর হূদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পরও সকলই গরল ভেল হয়েই আছে। এর মধ্যে নতুন সরকার এসেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তিনবার হাতবদল হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই আসামিদের গ্রেপ্তার করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু মন্ত্রীবচন যতটা গর্জায় ততটা বর্ষায় না। এরপর মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে সিনেমার কায়দায় হত্যারহস্য উন্মোচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেন। সম্প্রতি নতুন প্রতিমন্ত্রীও শোনাচ্ছেন আশার বাণী। যথারীতি এসব অসার আশার বাণী জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার শামিল। মঙ্গলবারের প্রথম আলোয় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু পুনরায় আশার বাণী দিয়ে বলেছেন, ‘প্রশাসনিক ব্যর্থতায় তিনি নারাজ এবং লজ্জিত।’ বিষয়টি লজ্জার নয়, নিষ্ঠা ও সৎসাহসের অভাবের সঙ্গে জড়িত। দেশকে আলোড়িত করেছে যে হত্যাকাণ্ড, সাংবাদিক সমাজসহ সব পরিবারকে যে ঘটনা আতঙ্কিত করেছে, সাংবাদিক দম্পতির শিশুসন্তানের করুণ কষ্টে যেখানে সবাই মর্মাহত, সেখানে মন্ত্রীদের কথার বরখেলাপ ও লোকদেখানো লজ্জায় না আছে যুক্তি না আছে সান্ত্বনা। সাগর-রুনির হত্যাকারী যারাই হোক, তারা পুলিশ-ডিবি ও র‌্যাবকে হয় নিরস্ত নয়তো বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হয়েছে। তদন্তকে একেকবার একেক খাতে প্রবাহিত করতে পারা,
আলামত নষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করা এবং সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন রকম গুজব-অনুমান ছড়িয়ে দিয়ে নিজেদের তারা সুকৌশলেই আড়াল করতে পেরেছে। পাশাপাশি এটাও বলতে হয় যে, বিষয়টি নিয়ে ক্ষমতাসীন সরকারের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন জাগে। অনেকেরই বিশ্বাস, সরকার আন্তরিকভাবে চাইলে অপরাধীদের খুঁজে বের করার তৎপরতা সফল হতোই। তদন্তের ৬২ দিনের মাথায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আদালতে তাদের ব্যর্থতা স্বীকার করে। কিন্তু এ ধরনের ব্যর্থতার জন্য তাদের কি কারও কাছে জবাবদিহি করতে হয়েছে? মামলাটি বর্তমানে র‌্যাবের দায়িত্বে এবং এই বিশেষ বাহিনীও হত্যারহস্য উন্মোচনে ব্যর্থ। এত সব ব্যর্থতার দায়ভার কোনো না কোনোভাবে সরকারের ওপরই বর্তায়। সাগর-রুনিকে যারাই হত্যা করুক, তারা সাংবাদিক সমাজকে হুমকির মধ্যে রেখেছে। এ ঘটনা জনগণের নিরাপত্তাদানে সরকারের ব্যর্থতাকে তুলে ধরেছে। বেডরুম পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়— প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য অনেক সমালোচনারও জন্ম দিয়েছে। সাংবাদিক সমাজও জোরালো ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা চাই, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষিত সেই ৪৮ ঘণ্টা শেষ হোক। শিশু মাহীর সরওয়ার মেঘ তার পিতা-মাতা হত্যার বিচার পাক। ক্ষমতাবান খুনিদের দীর্ঘ অদৃশ্য হাত উন্মোচনের মাধ্যমে আইনের শাসন কায়েমের নজির স্থাপিত হোক। যত দিন তা না হবে, তত দিন সরকারকে এই লজ্জাজনক ব্যর্থতা ভুলতে দেওয়া যাবে না।

৫০০ নারী আত্মঘাতী প্রস্তুত : তালেবান

পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে চলমান সংলাপ ব্যর্থ হলে সারা দেশে হামলা চালানোর জন্য ৫০০ নারী আÍঘাতী হামলাকারী প্রস্তুত রয়েছে বলে হুমকি দিয়েছে তালেবানরা। সোমবার সরকারের সঙ্গে আলোচনায় তালেবান প্রতিনিধি ও ইসলামাবাদের লাল মসজিদের ইমাম মওলানা আবদুল আজিজ এ হুমকি দেন। তিনি সোমবার সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আপনাদের জানা উচিত, এই মুহূর্তে ওয়াজিরিস্তান ও অন্যান্য উপজাতীয় এলাকায় ৪০০ থেকে ৫০০ নারী বোমা হামলাকারী তৈরি আছে।
কাজেই পরিস্থিতি উপলব্ধির পাশাপাশি সরকারের উচিত তাদের দাবি মেনে নেয়া।’ মওলানা আবদুল আজিজ দাবি করেন, নওয়াজ শরিফ সরকারের সঙ্গে আলোচনায় একটি সমঝোতায় পৌঁছার জন্য তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপির কোনো তাড়াহুড়া নেই। তালেবানের প্রধান আলোচক এমন সময় এ হুমকি দিলেন যখন নওয়াজ শরিফ সরকারের সঙ্গে আলোচনায় তালেবানের পক্ষ থেকে কঠিন শর্ত আরোপ করার কারণে এ সংলাপ ব্যর্থ হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। তালেবানরা বলছে, কারাবন্দি তাদের সব জঙ্গিকে মুক্তি দেয়ার পাশাপাশি উপজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলো থেকে সরকারি সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে। সেইসঙ্গে সারা দেশে ইসলামি শরিয়া আইন (কট্টর ওহাবী আইন) চালুরও প্রস্তাব দিয়েছে তারা। এদিকে পাকিস্তান সরকার বলছে, তালেবানের সঙ্গে যে কোনো আলোচনা হতে হবে সংবিধান অনুযায়ী। কিন্তু তালেবান পাকিস্তানের বর্তমান সংবিধানের কোনো কোনো ধারা মেনে নিতে রাজি নয়। ডন।

আমেরিকার প্রেমিক প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের পথে ওবামা!

‘যা রটে, তা কিছু ঘটে। আর যা ঘটে, তার কিছু না কিছু রটে।’ কথাটা এর আগে সত্যি প্রমাণিত হয়েছে ওবামার সংসার নিয়ে। খবর বেরিয়েছিল স্ত্রী মিশেলের (৫০) সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্ষমতাবান পুরুষ বারাক ওবামার। অনেকে খবরটা শুনে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়ে বাঁকা হাসি হেসে ছিলেন। কিন্তু কয়েক দিন যেতেই হোয়াইট হাউস থেকে পাওয়া গেল বিষাদ আর ভাঙনের সুর। আর তাতেই বোঝা গেল কিছু না কিছু ঘটেছে। আর এবার খবর বেরিয়েছে পপ তারকা বিয়ন্সের (৩২) সঙ্গে মধুর সম্পর্ক গড়ে উঠছে মি. ওবামা (৫২)। ভুলে গেলে চলবে না এ কিন্তু সেই বিয়ন্স, যিনি গত বছরের ২১ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দ্বিতীয় অভিষেকের দিনে সুরের ভেলায় ভাসিয়েছিলেন আমন্ত্রিত অতিথিদের। মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর এ খবর প্রকাশ করেছে ডেইলি মেইল।
ওবামা-বিয়ন্সের সম্ভাব্য এই সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার শিকড় গজাতে শুরু করেছে শনিবার থেকে। নামকরা এক ফরাসি চিত্রসাংবাদিকের তোলা একটি ছবি দিয়েই ঘটনার সূত্রপাত। প্যাসকেল রোস্তেইন নামের ওই সাংবাদিক ইউরোকা-ওয়ান রেডিও চ্যানেলের একটি অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বিষয়টি এখন সবাই উড়িয়ে দিলেও, এক দিন এটা নিয়ে সবাই আলোচনায় মাতবে এ কথা আমি হলফ করে বলতে পারি।’ ২০০৯ সালে ওয়াশিংটন পোস্টের অভিজ্ঞ রিপোর্টার রিচার্ড উলপি দাবি করেন, এর আগে ২০০০ সালেও রাজনীতির প্রতি একনিষ্ঠতা ও পারিবারিক-আর্থিক সংকটের কারণে ওবামার সংসার ভাঙতে বসেছিল। সে সময় ওবামা-মিশেলের মধ্যে খুব কম কথা হতো। এমনকি মিশেল ওবামার স্বার্থপরতা ও ক্যারিয়ারপ্রীতির কারণে ক্ষিপ্ত ছিলেন বলেও দাবি করেন উলপি। তখন ছোট মেয়ে সাসার জন্ম হয়। টিকে যায় ওবামার সংসার। পরে ওবামা প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সুখী দম্পতির রোল মডেল হিসেবেই দেখা গেছে তাদের। প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন মনিকা লিউনস্কির সঙ্গে বিল ক্লিনটনের কেলেঙ্কারির পর আর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে কোনো ‘স্ক্যান্ডাল’ হয়নি। এবার পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে ক্লিনটনের পথেই পা বাড়াচ্ছেন মি. ওবামা!