Friday, July 24, 2026

সিআইয়ের স্থাপনায় ইরানের নির্ভুল হামলা, রাশিয়ার সহায়তা নিয়ে গুঞ্জন

আল জাজিরার প্রতিবেদনঃ ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর এক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের বৈঠকে আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ।

তবে বৈঠকটি এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হয়, যখন নতুন কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানের হামলায় রাশিয়া প্রকাশ্যে যা স্বীকার করেছে তার চেয়েও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে ইরানের যুদ্ধের শুরুর দিকে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তৃতীয় দিনে সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ স্টেশন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

এরপর ৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনা সদস্য ও সামরিক বিমানের অবস্থান শনাক্ত করতে তেহরানকে সহায়তা করছিল মস্কো।

সবশেষ বুধবার রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে অবস্থিত সিআইএর স্থাপনাসহ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের ড্রোন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য রুশ সম্পৃক্ততার তদন্ত শুরু করেছে। তাদের মতে, হামলাগুলোর কার্যকারিতা ও নির্ভুলতা রাশিয়ার সহায়তার ইঙ্গিত দিতে পারে।

প্যারিসের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চের সহকারী অধ্যাপক নিকোল গ্রায়েভস্কির মতে, ইরানের হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে রাশিয়ার ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা বাস্তবসম্মত।

আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের আশঙ্কা আগেও ছিল। কারণ ইরানের সাম্প্রতিক অনেক হামলাই অতীতের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত ও নিখুঁত।’

তিনি বলেন, ‘ইরানের নিজস্ব মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতা খুব শক্তিশালী নয়, যেখানে রাশিয়ার সক্ষমতা অনেক বেশি। সামরিক মানের পর্যাপ্ত উপগ্রহও ইরানের নেই। তাই ধারণা করা যায়, এ বিষয়ে তারা রাশিয়ার সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছেছে।’

তবে তিনি উল্লেখ করেন, লক্ষ্য নির্বাচন ও তথ্য সংগ্রহে ইরানের নিজস্ব মানব গোয়েন্দা (হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স) নেটওয়ার্কও রয়েছে, যা অনেক সময় গুরুত্ব পায় না।

ইরানকে রাশিয়ার সমর্থন

যুদ্ধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো ও তেহরানের সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে।

অনেক বিশ্লেষক দুই দেশের সম্পর্ককে পশ্চিমাবিরোধী স্বার্থভিত্তিক ‘সুবিধাবাদী জোট’ হিসেবে দেখলেও গ্রায়েভস্কি এ মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন।

তিনি বলেন, ‘দুই দেশই মনে করে তারা বৈশ্বিক পর্যায়ে একই ধরনের হুমকির মুখে রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর তাদের সহযোগিতা আরো গভীর হয়েছে, আর সাম্প্রতিক সময়ে তা আরো বেড়েছে। এখন তারা একে অপরের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল।’

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর ইরান মস্কোকে শাহেদ ড্রোন ও ফাতেহ-১১০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে। এর ফলে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয়।

গত বছর উভয় দেশ ২০ বছরের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি সই করে, যেখানে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হয়।

তবে সে সময় রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই রুদেঙ্কো দেশটির পার্লামেন্টে বলেন, এই চুক্তির অর্থ ‘ইরানের সঙ্গে সামরিক জোট গঠন বা পারস্পরিক সামরিক সহায়তার বাধ্যবাধকতা নয়’।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, রাশিয়া কোমেটা-এম নামে একটি অ্যান্টি-জ্যামিং নেভিগেশন ব্যবস্থা সরবরাহ করে ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের নির্ভুলতা বাড়াতে সহায়তা করেছে।

মস্কোর কৌশলগত স্বার্থ

গ্রায়েভস্কির মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত কিছুটা হলেও রাশিয়ার কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করছে। কারণ এতে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরে যাচ্ছে এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘রাশিয়া একে নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থার লড়াই হিসেবে দেখে। তারা একে এমন এক ধারাবাহিক পরিণতি হিসেবে দেখছে যা যুক্তরাষ্ট্রের পতনের কারণ হতে পারে।’

তার ভাষায়, ‘রাশিয়া অবশ্যই চায় না ইরান পরাজিত হোক। তাই তারা একদিকে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একা লড়তে দিচ্ছে। অন্যদিকে কঠিন এই সময়ে টিকে থাকার মতো প্রয়োজনীয় সহায়তাও নিশ্চিত করতে চাইছে।’

সাম্প্রতিক হামলা

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আরো তীব্র হয়েছে।

গ্রায়েভস্কির মতে, রাশিয়ার গোয়েন্দা সহায়তার চেয়ে ইরানের নিজস্ব কৌশলই যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারিণে বেশি প্রভাব ফেলছে বলে প্রমাণিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার সহায়তা ইরানের জন্য কোনো মৌলিক পরিবর্তন এনে দেয়নি। ইরানের নিজস্ব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আগেই ছিল এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে তা গড়ে তুলেছে। তবে রাশিয়ার সহযোগিতা তাদের সক্ষমতাকে আরো কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং প্রতিযোগিতায় বাড়তি সুবিধা এনে দিয়েছে।’

সিআইয়ের স্থাপনায় ইরানের নির্ভুল হামলা, রাশিয়ার সহায়তা নিয়ে গুঞ্জন

টানা ১৩ রাত ধরে মার্কিন হামলা, কঠোর জবাব দেওয়ার হুশিয়ারি ইরানের

ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে টানা ১৩তম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এতে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির একাধিক নগরী ও উপকূলীয় কৌশলগত এলাকা কেঁপে উঠেছে। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে মার্কিন বাহিনীর ওপর আরো বিধ্বংসী ও কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

হরমুজ প্রণালিতে অসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অজুহাতে ইরানে টানা ১৩ রাতের মতো অভিযান চালিয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ইরানজুড়ে নতুন দফায় এই হামলা চালানো হয়।

সেন্টকমের দাবি, সর্বশেষ হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ড্রোন সংরক্ষণাগার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং সামরিক নৌ সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক এই সমুদ্রপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে সেন্টকম জানায়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় জাহাজগুলো এখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল করছে। মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা সদস্য মোতায়েন রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

মার্কিন হামলার জেরে ইরানের মূল ভূখণ্ডের একাধিক শহরে পর পর বিকট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

দেশটির মূলধারার গণমাধ্যমগুলো এসব হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, খোন্দাব শহরের বাইরের একটি এলাকায় শত্রুপক্ষের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া খোররামাবাদ ও কোনারাক শহরেও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ ও আইআরআইবি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত অত্যন্ত কৌশলগত বন্দরনগরী জাস্কেও বিকট বিস্ফোরণ ঘটেছে।

অন্যদিকে বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ জানায়, রাজধানী তেহরানের পূর্বাঞ্চলের আকাশে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করতে উচ্চ সতর্কতাবস্থায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত

উপকূলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের আবাসিক এলাকা ‘তাপ্পে আল্লাহ-ও-আকবর’-এ চালানো হামলায় অন্তত দু’জন আহত হয়েছেন।

হরমুজগান প্রদেশের উপ-গভর্নর ওয়ালিউল্লাহ হায়াতিকে উদ্ধৃত করে ফারস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের আন্দিমেশক ও ওমিদিয়ে শহরের আশপাশের এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এসব হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে মেহর বার্তা সংস্থা নিশ্চিত করেছে।

সংঘাতের দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ এবং খুজেস্তানের প্রধান শহর আহভাজেও নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কেশম দ্বীপের আকাশে একটি উড়ন্ত বস্তু বা ড্রোন ভূপাতিত করার প্রাথমিক অসংবাদিত তথ্যও পাওয়া গেছে।

আরো বিধ্বংসী জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

মার্কিন আক্রমণ অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ না হলে ইরানও পাল্টা আঘাত চালিয়ে যাবে।

ইরানের সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন না থামলে প্রতিবার আরো বিধ্বংসী ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে সামনে আরো শক্তিশালী প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।

টানা ১৩ রাত ধরে মার্কিন হামলা, কঠোর জবাব দেওয়ার হুশিয়ারি ইরানের
ফাইল ছবি

ইরানের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চিন্তা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও ইরানের সামরিক বাহিনী এখনও মারাত্মক আঘাত হানার সক্ষমতা বজায় রেখেছে। সম্প্রতি জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাটিতে ইরানি হামলায় ৩ মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর এই বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

গত শুক্রবারের এ হামলাটি ছিল গত ১ মার্চের পর কোনো সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি আঘাতে মার্কিন সেনা নিহতের প্রথম ঘটনা। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ না করলেও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়াশিংটনের জন্য এটি এক নির্মম বাস্তবতার স্মারক। প্রতিনিয়ত মার্কিন বিমান হামলা চালানো হলেও ইরান নিজেদের অসম যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান 'ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ'-এর সামরিক বিশ্লেষণ বিভাগের পরিচালক জেনোফার কাভানাঘ কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, ‘ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখনো বেশ শক্তিশালী। ধারণার চেয়েও দ্রুত তারা নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের হামলাগুলো আরো নিখুঁত হচ্ছে, যেখানে রাশিয়া ও চীনের গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তা থাকার সম্ভাবনা প্রবল।’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, পেন্টাগন দাবি করেছিল ইরানের সামরিক বাহিনী ‘যুদ্ধক্ষেত্রে অকার্যকর’ হয়ে পড়েছে, কিন্তু বাস্তবতা তা বলছে না। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও তারা দ্রুত পরিস্থিতি থেকে শিখছে এবং নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে।

কিং'স কলেজ লন্ডনের সিকিউরিটি স্টাডিজ বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অ্যান্ড্রিয়াস ক্রিগ জানান, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থান এবং সেগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতাই মূলত মার্কিন সেনাদের ঝুঁকিতে ফেলছে।

বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে। তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাধ্যের মধ্যে থাকা স্থায়ী ও উন্মুক্ত ঘাঁটিগুলোতে অবস্থান করছে। এসব ঘাঁটির আবাসন মূলত হালকা রকেট, মর্টার বা হাতে তৈরি বিস্ফোরক হামলা ঠেকানোর জন্য তৈরি; বড় ধরনের ওয়্যারহেড বহনকারী নিখুঁত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা সহ্য করার মতো নয়।

সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ১ মার্চ কুয়েতের একটি ট্যাকটিক্যাল অপারেশন সেন্টার এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ৭ সেনা নিহত হন। এ ছাড়া জর্ডানে নিহত ৩ জন ছাড়া বাকিদের মৃত্যু দুর্ঘটনাজনিত বা বিস্ফোরক ধ্বংসের মতো ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।

গত ৮ জুলাই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দেশটির প্রায় ২২০টি সামরিক অবকাঠামো, ভবন ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

এয়ার ডিফেন্স অকার্যকর করার রণকৌশল


বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন—‘প্যাট্রিয়ট’ এবং উচ্চ ওপরে আঘাত হানতে সক্ষম ‘থাড’ অকার্যকর করতে ইরান তাদের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বহুমুখী ব্যবহার করছে।

ভিন্ন গতি ও ভিন্ন দিক থেকে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি সশস্ত্র ড্রোন ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে। মূল অস্ত্রের সঙ্গে ভুয়া সংকেত বা 'ডিকয়' ব্যবহার করায় মার্কিন এয়ার ডিফেন্স অনেক সময় বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে।

ক্রিগ বলেন, ‘অধিকাংশ অস্ত্র ধ্বংস করা গেলেও অল্প কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যূহ ভেদ করতে পারলেই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ঘটে যায়।’

ওয়াশিংটনভিত্তিক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)-এর মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক মোনা ইয়াকুবিয়ান বলেন, সংঘাতের শুরুর সপ্তাহের তুলনায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে ইরানের মধ্যে বেশি দৃঢ়তা দেখা গেছে। এটি হামলার তীব্রতা বৃদ্ধির এক নতুন ধারা।

ইতোমধ্যে টানা ১৩ দিন ধরে উভয় পক্ষ একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের সেনাবাহিনী সম্প্রতি জর্ডানের প্রিন্স হাসান ও কিং ফয়সাল ঘাঁটিতে মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, ড্রোন প্রস্তুতকারী সাইট ও হেলিকপ্টার হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রও হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন ইরানি সামরিক অবকাঠামো ও ড্রোন স্টোরেজে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে।

পেন্টাগনের দাবি ও বাস্তবতার ব্যবধান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে, ইরানের সামরিক বাহিনী ‘ধ্বংস’ হয়ে গেছে এবং তারা ‘যুদ্ধক্ষেত্রে অকার্যকর’। তবে মার্কিন সিনেটর জেন ওসফ এর সত্যতা নিয়ে গত মঙ্গলবার সিনেটে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে তীব্র জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

সিনেটরের প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ দাবি করেন, এটি এক ঐতিহাসিক সামরিক বিজয় এবং ইরানের নৌ, বিমান ও প্রতিরক্ষা শিল্প অকার্যকর করা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ‘আমরা কখনোই ভাবিনি যে তাদের গুলি ছোড়ার সক্ষমতা একদম বন্ধ হয়ে যাবে।’

পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা ও মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো জেসন ক্যাম্পবেল মনে করেন, মার্কিন শীর্ষ নেতৃত্ব ইরানের সামরিক ক্ষয়প্রাপ্তির তথ্যকে অতিরিক্ত বাড়িয়ে বলছে।

ক্যাম্পবেল বলেন, ‘আমরা জানি যে সংঘাতের শুরুতে ইরান কিছু অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত ছিল, যা তারা পরে ব্যবহারের সুযোগ রেখেছিল। তারা এখন তাদের তুলনামূলক বড় ও শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, যা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম। জর্ডানের ঘটনায় তারা সেই সুনির্দিষ্ট নির্ভুলতারই প্রমাণ দিয়েছে।’

ইউনিভার্সিটি অব বাথ-এর সহযোগী অধ্যাপক এবং ন্যাটোর সাবেক গবেষণা বিশ্লেষক প্যাট্রিক বুরি জানান, মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি অত্যন্ত উন্নত হলেও খরচের দিক থেকে ইরান বড় সুবিধা পাচ্ছে। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির খরচ অনেক কম, অথচ সেগুলো মাঝপথে ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রের যে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন হয়, সেগুলোর খরচ বহুগুণ বেশি।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি পরাজিত করতে হবে না। মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে ব্যাহত করতে এবং তাদের রাজনৈতিক ও মানবিক ক্ষতি বাড়াতে মাঝেমধ্যেই এই প্রতিরক্ষাব্যূহ ভেদ করাই ইরানের মূল লক্ষ্য।

ইরানের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চিন্তা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ফাইল ছবি

মুক্তি পেল জাহিদের নতুন গান ‘তুই রাখিস যত্ন করে’

নতুন প্রজন্মের প্রতিশ্রুতিশীল ও মেধাবী সংগীতশিল্পী জাহিদ মোহাম্মাদ নিয়মিতভাবে মৌলিক গান নিয়ে শ্রোতা-দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছেন। সম্প্রতি তার ইউটিউব চ্যানেল থেকে মুক্তি পেয়েছে নতুন মৌলিক গান ‘তুই রাখিস যত্ন করে’। যেখানে তার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন আতিয়া আনিসা।

শ্রুতিমধুর সফট, মেলোডিয়াস এবং রোমান্টিক ঘরানার এই গানটির সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী বেলাল খান। গানটির কথার সৌন্দর্য নির্মাণ করেছেন শাহ কানিজ খাদিজা, আর সংগীতায়োজন করেছেন শোভন রায়।

জানা গেছে, জাহিদ মোহাম্মাদের ২৫তম মৌলিক গান এটি। এর আগে তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু মৌলিক গানের মধ্যে রয়েছে—‘শৈশব’, ‘পূর্ণিমার চাঁদ’, ‘একাত্তরের মুক্তিসেনা’, ‘প্রেমরোগ’, ‘ব্রেকআপ’ ও ‘মা’—যেগুলো ইতোমধ্যে শ্রোতাদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

বর্তমানে জাহিদ মোহাম্মাদ নিয়মিত মৌলিক গান প্রকাশ, স্টেজ প্রোগ্রাম এবং টেলিভিশনের বিভিন্ন লাইভ সংগীতানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সংগীতচর্চার পাশাপাশি তিনি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে প্রিন্সিপাল অফিসার পদে কর্মরত আছেন।

গানের প্রতি ভালোবাসা ও পেশাদারিত্বের অসাধারণ সমন্বয়ে জাহিদ মোহাম্মাদ এগিয়ে চলেছেন সুনিপুণ সংগীত সাধনার পথে। 

নতুন গানের পোস্টার। ছবি : সংগৃহীত
নতুন গানের পোস্টার। ছবি : সংগৃহীত

আল আকসা প্রাঙ্গণে ৩ সহস্রাধিক ইসরায়েলির প্রবেশের অভিযোগ

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার ৩,২০০-এর বেশি ইসরায়েলি প্রবেশ করেছেন বলে অভিযোগ করেছে জেরুজালেম গভর্নরেট। ইহুদি ধর্মীয় দিবস উপলক্ষে এসব প্রবেশের ঘটনা ঘটে।

জেরুজালেম গভর্নরেট জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে প্রায় ১,৩০০ জন ইসরায়েলি প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। পরে দিনের মধ্যে মোট সংখ্যা ৩,২০০ ছাড়িয়ে যায় বলে তারা দাবি করে। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েলি পুলিশ প্রতিটি দলে প্রবেশকারীর সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ১৫০ জন পর্যন্ত অনুমতি দেয়। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

গভর্নরেটের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী আল-আকসা মসজিদের প্রবেশপথ ও পুরোনো জেরুজালেম শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে এবং বহু ফিলিস্তিনি মুসল্লিকে মসজিদে প্রবেশে বাধা দেয়। এছাড়া ভোরের নামাজে অংশ নিতে আসা কয়েকজন মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দার ওপর হামলার অভিযোগও করা হয়েছে।

জেরুজালেম গভর্নরেট আরও দাবি করেছে, প্রাঙ্গণে প্রবেশকারী কিছু ইসরায়েলি তালমুদ-সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় আচার পালন করেছেন, যার মধ্যে টেফিলিন পরা, পূর্বাংশে সিজদা করা এবং উচ্চস্বরে ধর্মীয় স্লোগান দেওয়ার ঘটনাও ছিল।

এছাড়া, আল-আকসা প্রাঙ্গণে একটি ইহুদি মন্দির নির্মাণের পক্ষে থাকা কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠী এদিন সেখানে ৫,০০০ জন ইসরায়েলিকে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায় বলেও দাবি করা হয়েছে। 

আল আকসা মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত
আল আকসা মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল রাশিয়া

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর এটাই দুই নেতার প্রথম বৈঠক। ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যস্থতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ সরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। খবর এএফপির।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে লাভরভ রুবিওকে জানান, কিয়েভ সরকারকে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রায় আধাঘণ্টার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ভালো ও খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি।

ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের মাধ্যমে অস্ত্র বিক্রি করে এবং এ নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

গত বছর চালু হওয়া একটি কর্মসূচির আওতায় ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কেনা সামরিক সরঞ্জাম ইউক্রেনকে সরবরাহ করতে পারে।

রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন এখনো যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। তার ভাষায়, আমরা শান্তিচুক্তি চাই। আমরা চাই যুদ্ধের অবসান হোক। তবে এমন একটি সমাধান প্রয়োজন, যাতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই সম্মত হতে পারে। এজন্য আরও অনেক কাজ করতে হবে।

অন্যদিকে, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে লাভরভ বলেন, ইউক্রেন সংকটের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানে মস্কো এখনো প্রস্তুত রয়েছে।

বৈঠকের কিছুক্ষণ আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, স্থবির হয়ে পড়া শান্তি প্রচেষ্টা পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা যুদ্ধের অবসান ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হতে পারে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার অগ্রযাত্রা কিছুটা ধীর করতে সক্ষম হয়েছে এবং একই সঙ্গে রুশ ভূখণ্ডে ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কমে যাওয়ার সুযোগে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও জোরদার করেছে রাশিয়া।

বৃহস্পতিবার রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে তিনজন নিহত হন। একই দিনে রাশিয়া ও রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের হামলায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও আলোচনায় আসে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী হামলার নিন্দা জানিয়েছে মস্কো। 

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচকবৃন্দ। ছবি : সংগৃহীত
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচকবৃন্দ। ছবি : সংগৃহীত

কনার কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের গান

দেশীয় সংগীতের জনপ্রিয় শিল্পী দিলশাদ নাহার কনা। ভালোবাসা দিবসে ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে এই শিল্পীর গান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিরায়ত প্রেমের গান ‘ভালোবেসে সখী’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।

গানের ভিডিওটি ভিন্ন আঙ্গিকে ধারণ করা হয়েছে। উন্মুক্ত মঞ্চে কিংবা সাজানো কোনো সেটে নয়, বসার ঘরে বসে গান শোনার অনুভূতি নিয়ে দর্শকের সামনে এলো ‘টাইম জোন লিভিং রুম সেশন’। রবীন্দ্রনাথের গান দিয়েই যাত্রা শুরু হলো এ সংগীত উদ্যোগের।

সংগীত পরিচালক হিসেবে পাভেল আরিনের হাত ধরে অসংখ্য জনপ্রিয় গান ও জিঙ্গেল তৈরি হয়েছে। তবে নতুন এই মিউজিক্যাল প্রজেক্টের মধ্য দিয়েই নিজের ভেতরকার স্বাধীন শিল্পী সত্তাকে খুঁজে পেতে চাইছেন বলে জানান পাভেল।

গানটি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে কনা বলেন, এ ধরনের অনেক চেনা গান গাইতে নার্ভাসনেস কাজ করে। এ গানগুলো এত বেশি শোনা মানুষের যে একটুআধটু ভুলও মার্জনীয় নয়। যারা সংগীতপ্রেমী আছেন, তাদের লিস্টে একেবারেই ঊর্ধ্ব সারিতেই এ গানটি থাকে বলে আমার মনে হয়। পাভেল আরিনের সংগীত পরিচালনায় আগেও কাজ করেছি, কিন্তু এবারের অভিজ্ঞতা সত্যিই অন্যরকম। 

দিলশাদ নাহার কনা। ছবি : সংগৃহীত
দিলশাদ নাহার কনা। ছবি : সংগৃহীত