Monday, December 22, 2014

র‌্যাব-পুলিশ ছাড়া মাঠে আসুন -আ’লীগকে ফখরুলের চ্যালেঞ্জ

আওয়ামী লীগ নেতাদের র‌্যাব-পুলিশ ছাড়া মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরা বলছেন- বিএনপির গায়ের চামড়া তুলে নেবে। পুলিশ-র‌্যাব ছেড়ে আওয়ামী লীগ মাঠে নামুক, দেখি কে কার চামড়া তুলে নেয়, ঠ্যাং ভেঙে দেয়-  জনগণই এর উত্তর দেবে। সোমবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় পৌর মুক্তমঞ্চে আয়োজিত জেলা বিএনপি’র সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। সরকারের উদ্দেশে মির্জা আলমগীর বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়িয়েছে- সেটা ভাল কথা। তার ঘুষ না খাক, ভাল থাকুক। কিন্তু সাধারণ মানুষের অবস্থা কি? তাদের জীবন আজ দুর্বিষহ। বিদুৎ-গ্যাসসহ সব কিছুর দাম বাড়ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের লোকজন শেখ হাসিনাকে গণতন্ত্রের মানসকন্যা বলে। তাই যদি হয় তাহলে ভোটের অধিকার কেন কেড়ে নেয়া হবে, সত্য কথা বলার জন্য কেন জেলে নেয়া হয়। বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কেন অসংখ্য মামলা দেয়া হয়। গুলি করে কেন মানুষকে হত্যা করা হয়। পঙ্গু করা হয়। দেশের মানুষ কি এই গণতন্ত্র চায়? তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও  প্রশাসন সবই ধ্বংস করেছে। সমগ্র দেশের মানুষ আজ কারাগারে আবদ্ধ। মির্জা আলমগীর বলেন, তারেক রহমান লন্ডনে ইতিহাস ও  বইপত্রের আলোকে কিছু কথা বলেছেন। আর তাতেই আওয়ামী লীগের গায়ে আগুন ধরে গেছে। তারেক ভুল বলে থাকলে বইপত্র নিয়ে এসে তারা এর প্রমাণ করুক। এটিকে কেন্দ্র করে খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে যাচ্ছেতাই কথা বলছে আওয়ামী লীগ। গালাগাল করছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান মোল্লা কচির সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হারুন আল রশিদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মুশফিকুর রহমান ও উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া, যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সদস্য কাজী মো. আনোয়ার হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল প্রমুখ।

খালেদা দোষী হলে সাজা ভোগ করতে হবে: দুদক চেয়ারম্যান

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দোষী প্রমাণিত হলে তাঁকে সাজা ভোগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান। আজ সোমবার রংপুরে বেসরকারি সংস্থা আরডিআরএস মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। দুদকের চেয়ারম্যান খালেদা জিয়ার মামলা প্রসঙ্গে বলেন, ‘দোষী প্রমাণিত হলে তাঁকে সাজা ভোগ করতে হবে। খালেদা জিয়া দোষী কি দোষী নন, আমি তার রায় দেওয়ার কেউ নই। আমি শুধু তাঁর মামলার তদন্ত করে অভিযোগের প্রতিবেদন দিয়েছি।’ ২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে অনিয়মের অভিযোগে দুদক ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে। ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া, তাঁর ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। এই দুটি মামলাই বিচারাধীন।
খালেদা জিয়ার মামলা প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘বার বার বলা হচ্ছে, মামলাগুলো মিথ্যা। আমি বিএনপির নেতাদের উদ্দেশে বলব, মামলাগুলো আপনারা মিথ্যা প্রমাণ করে মুক্ত হয়ে যান। আমি তো চাই, সেটা আপনারা করেন, মামলা শেষ হয়ে যাক। কিন্তু আপনারাই তো তা হতে দিচ্ছেন না। বারবার কোনো না কোনো অজুহাত তুলে আপনারা মামলা উচ্চ আদালতে তুলছেন।’
খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বদিউজ্জামান বলেন, ‘আপনি যদি বিচারে দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে আপনাকে সাজা ভোগ করতে হবে। আর আপনি যদি নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবে আপনি মুক্ত হবেন।’
দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘সবখানেই দুর্নীতি আছে, কম আর বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে আছে, বিশ্বব্যাংকেও আছে। দুর্নীতি কীভাবে কমানো যায়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। কারণ দুর্নীতি দেশের জন্য, জনসাধারণের জন্য এবং অর্থনীতির জন্য খারাপ।’ তিনি বলেন, ‘যখন যারা ক্ষমতায় থাকে তারা দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের কথা বলে, আর বিরোধী দলে থাকলে অন্য ধরনের কথা বলে। আমার মনে হয় এটা পরিহার করা উচিত।’

আশঙ্কাটাই সত্যি হলো তামিমের

(সাকিব-রুবেলদের সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ দেখছেন৷ কিন্তু বিশ্বকাপে এমন দর্শক হয়ে থাকতে চান না তামিম৷ ছবি: প্রথম আলো) অপেক্ষা ছিল এমআরআই রিপোর্টের৷ সেই প্রতিবেদন আজই হাতে পেয়েছেন তামিম ইকবাল৷ কিন্তু তাতে সুখবর মেলেনি৷ বরং আশঙ্কাটাই সত্যি হয়েছে৷ বাংলাদেশের ওপেনারের বাঁ হাঁটুর মিনিসকাস ছিঁড়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছে এমআরআই রিপোর্ট৷ এতে তামিমের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে যদিও কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা তো দিল, তবে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে, এমন স্থির সিদ্ধান্তও দেওয়া যাবে না৷ সবকিছু নির্ভর করছে পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর৷ সেই সিদ্ধান্ত নিতে অস্ট্রেলীয় চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড৷ বিসিবির চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘তামিমের বাঁ হাটুতে ছোট্ট একটা চোট আছে৷ এ ব্যাপারে করণীয় ঠিক করতে আমরা সব রিপোর্ট অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়ে দিয়েছি৷ দেখি তারা কী সুপারিশ করে৷ তাদের পরামর্শ পাওয়ার পর আমরা ঠিক করব কী করা যায়৷’
তামিমের ব্যাপারে আপাতত দুটো রাস্তাই খোলা রাখতে চাইছে বিসিবি৷ অস্ত্রোপচার না করিয়েই যদি আপাতত তাঁকে খেলার জন্য ফিট করে তোলা যায়, সেটাই প্রথম চাওয়া৷ আর অস্ত্রোপচার করানো অবশ্যম্ভাবী হলে সেটি যত দ্রুত করে ফেলা যায়৷ কারণ এ ধরনের অস্ত্রোপচার জটিল কিছু না হলেও পুনর্বাসন শেষে পুরো ফিট হয়ে মাঠে ফিরতে এক মাসের মতো লেগে যেতে পারে৷ বিশ্বকাপ শুরু হতে সাত সপ্তাহ বাকি৷ কিন্তু চূড়ান্ত দল ঘোষণার শেষ সময় আগামী ৭ জানুয়ারি৷ ১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া জিম্বাবুয়ে সিরিজেই প্রথম বাঁ ঊরুতে ব্যথা অনুভব করেন তামিম। শুরুতে এটিকে হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যাই ভাবা হয়েছিল। সে অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ে সামান্য চোটও পাওয়া গিয়েছিল তখন। সিরিজের পর ১০ দিনের বিশ্রাম দেওয়া হয় তামিমকে। বিশ্রাম শেষে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম পর্বের শেষ দুটি ম্যাচ খেলেন তিনি। কিন্তু এরপর করানো কিছু পরীক্ষায়ও তামিম হাঁটুতে ব্যথা অনুভব করায় চোট নিয়ে দেখা দেয় নতুন শঙ্কা। সেই শঙ্কা থেকে কাল হাঁটুর এমআরআই করানো হয়৷ এতেই তামিমের মিনিসকাস ছিঁড়ে গেছে বলে আজ নিশ্চিত হওয়া গেছে৷ তাতে বিশ্বকাপ অনিশ্চত না হলেও এত বড় টুর্নামেন্টের আগমুহূর্তে এ ধরনের একটা চোট যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই দুঃসংবাদ৷ বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্যও তা একটা বড় বাধা৷

বাঙ্গালী জাতিকে আত্মপরিচয় ও হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে শিক্ষিত জনগোষ্টীর বিকল্প নেই -অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাাহ্

আজ থেকে হাজার বছর আগে  এই উপমহাদেশ শিক্ষা ও সম্পদে ভরপুর ছিল সেই সম্পদ বিদেশী লুটেরা লুন্ঠন করেছে এবং এই জাতির আত্মপরিচয় মুছে দিয়ে পরনির্ভতা অভ্যাসে পরিনতির করার চেষ্টা করেছে। ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর লক্ষ প্রানের বিনিময়ে স্বাধীনতা লাভ করেছি।এখন সময়  এসেছে বাঙ্গালী জাতিকে আত্মপরিচয় ও হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে শিক্ষিত জনগোষ্টীর বিকল্প নেই। শিক্ষার মাধ্যমে জাতিকে ঘুরে দাড়াতে হবে চট্টগ্রামের ক্লাসনির্ভর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ চকবাজার ক্যাম্পাসে বিজয় দিবসের আলোচনা সভা ও প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ গত ২২ ডিসেম্বর স্কুল মাঠে অনুষ্টিত অনুষ্টানে অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাাহ্ সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইংল্যান্ডের কুইন্স ইউনিভার্সিটির এসোসিয়েট প্রফেসর মো. মহিউদ্দিন, উদ্ভোধনী বক্তব্য রাখেন,দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক, মিজানুর রহমান চৌধুরী,চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট লায়ন সৈয়দ মোরশেদ হোসন, মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজে একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর শিহাব উদ্দিন, চকবাজার ক্যাম্পাসের উপাধ্যক্ষ রাজেশ কান্তি পাল, চকবাজার ক্যাম্পাসের উপাধ্যক্ষ নূর কাশেম তালুকদার,মেরিট বাংলাদেশ স্কুল কলেজের উপাধ্যক্ষ শরিফুল কাদের বালিকা ক্যাম্পাসের প্রিন্সিপাল মনোয়ারা বেগম। পরে প্রতিষ্টানের বার্ষিক পরীক্ষা ফলাফল প্রকাশ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার  বিতরণ করা হয়।

দেশে ফিরে আন্দোলনে শরিক হওয়ার ঘোষণা খোকার

যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বলেছেন, ক্যান্সারের চিকিৎসা গ্রহণ শেষে শীঘ্রই তিনি দেশে ফিরবেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনে শরিক হবেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, সরকারের মামলা-হামলার ভয়ে নয়, বরং ক্যান্সারের চিকিৎসা গ্রহণের জন্যই তিনি দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। চিকিৎসকের পরামর্শের ভিত্তিতে অচিরেই দেশে ফিরে পুরোমাত্রায় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আগমনের পর এই প্রথম প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন বিএনপির এই নেতা। গত ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি চিকিৎসার কারণে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। কেমোথেরাপি গ্রহণসহ চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকার কারণে তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না। রবিবার নিউ ইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করেন স্থানীয় বিএনপির নেতারা। মূলত শিকাগো সিটিতে বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে সড়কের নামকরণকে ঘিরে উদ্ভুত পরিস্থিতির বিষয়ে কথা বলেন তারা। সাদেক হোসেন খোকা সেখানে উপস্থিত ছিলেন অতিথি হিসাবে। এ সময় তিনি সম্প্রতি লন্ডন সফরকালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। তবে তাঁর চিকিৎসার অগ্রগতির বিষয়ে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা ডা: মজিবুর রহমান মজুমদার। তিনি জানান, কিডনি ক্যন্সারে আক্রান্ত সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসা নিচ্ছেন ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল সেøান ক্যাটারিং হসপিটালে। সেখানে তাঁকে ওর‌্যাল কেমোথেরাপি দেয়া হচ্ছে এবং নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। প্রথম ধাপের কেমোথেরাপি শেষ হলে চিকিৎিসকের পরামর্শ সাপেক্ষে তিনি দেশে ফিরে যাবেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাদেক হোসেন খোকা জানান, সম্প্রতি লন্ডন সফরকালে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে তাঁর। দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সর্বাত্মক আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকারকে বিদায় করা সম্ভব হবে বলে তাঁরা একমত হয়েছেন। সে কারণে চিকিৎসকের পরামর্শের ভিত্তিতেই শীঘ্রই দেশে ফিরে সর্বাত্মক আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।  সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিষ্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে জিল্লুর রহমান ও সোলায়মান ভূঁইয়া প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জিয়াউর রহমানের নামে সড়কের নামকরণের অন্যতম উদ্যোক্তা ও শিকাগো সিটির কাউন্সিলম্যান শাহ মোজাম্মেল নান্টুও এতে বক্তব্য দেন।

পর্নোগ্রাফি ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান, গ্রেপ্তার ৩০,০০০

 চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশে পর্নোগ্রাফি ও জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে ২ মাসব্যাপী একটি অভিযান চালানো হয়। ওই গণগ্রেপ্তার অভিযানে ৩০ হাজার সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই। সম্প্রতি প্রদেশটিতে ৩ হাজার ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে এবং অপর ৫ হাজার জনকে পর্নোগ্রাফি বা জুয়ার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে আটক রাখা হয়েছে। ২ মাসে মোট গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩০ হাজার জনকে। গুয়াংডংয়ের প্রাদেশিক জননিরাপত্তা অধিদপ্তর এ তথ্য দিয়েছে। গত ২৪শে নভেম্বর হুইঝোউ শহরে পুলিশ অনলাইন জুয়াড়িদের একটি দলের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। ওই জুয়াচক্র ৫০ লাখ ডলারের জুয়ার আসর বসিয়েছিল অনলাইনে। পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, পর্নোগ্রাফি, জুয়া ও অবৈধ সেক্স বাণিজ্যের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কর্মকা-ে না জড়ায়। এ বছরের শুরুর দিকে গুয়াংডং প্রদেশের পুলিশ পতিতাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৩,০৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। অবৈধ সেক্স বাণিজ্যের জন্য কুখ্যাত ডংগুয়ান শহরের হোটেলগুলোতে অবাধে সেক্স সেবা চলছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে গণমাধ্যমে এ ধরনের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর পুলিশ অভিযানে নামে।

আ’লীগকে ফখরুলের চ্যালেঞ্জ র‌্যাব-পুলিশ ছাড়া মাঠে আসুন

আওয়ামী লীগ নেতাদের র‌্যাব-পুলিশ ছাড়া মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরা বলছেন- বিএনপির গায়ের চামড়া তুলে নেবে। পুলিশ-র‌্যাব ছেড়ে আওয়ামী লীগ মাঠে নামুক, দেখি কে কার চামড়া তুলে নেয়, ঠ্যাং ভেঙে দেয়- জনগণই এর উত্তর দেবে। সোমবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় পৌর মুক্তমঞ্চে আয়োজিত জেলা বিএনপি’র সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। সরকারের উদ্দেশে মির্জা আলমগীর বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়িয়েছে- সেটা ভাল কথা। তার ঘুষ না খাক, ভাল থাকুক। কিন্তু সাধারণ মানুষের অবস্থা কি? তাদের জীবন আজ দুর্বিষহ। বিদুৎ-গ্যাসসহ সব কিছুর দাম বাড়ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের লোকজন শেখ হাসিনাকে গণতন্ত্রের মানসকন্যা বলে। তাই যদি হয় তাহলে ভোটের অধিকার কেন কেড়ে নেয়া হবে, সত্য কথা বলার জন্য কেন জেলে নেয়া হয়। বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কেন অসংখ্য মামলা দেয়া হয়। গুলি করে কেন মানুষকে হত্যা করা হয়। পঙ্গু করা হয়। দেশের মানুষ কি এই গণতন্ত্র চায়? তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও  প্রশাসন সবই ধ্বংস করেছে। সমগ্র দেশের মানুষ আজ কারাগারে আবদ্ধ। মির্জা আলমগীর বলেন, তারেক রহমান লন্ডনে ইতিহাস ও  বইপত্রের আলোকে কিছু কথা বলেছেন। আর তাতেই আওয়ামী লীগের গায়ে আগুন ধরে গেছে। তারেক ভুল বলে থাকলে বইপত্র নিয়ে এসে তারা এর প্রমাণ করুক। এটিকে কেন্দ্র করে খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে যাচ্ছেতাই কথা বলছে আওয়ামী লীগ। গালাগাল করছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান মোল্লা কচির সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হারুন আল রশিদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মুশফিকুর রহমান ও উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া, যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সদস্য কাজী মো. আনোয়ার হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল প্রমুখ।

ট্রেনের নিচে ৪ প্রাণ

রাজধানীতে ট্রেনে কাটা পড়ে ও ট্রেনের ধাক্কায় আহত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন নারী ও দুজন পুরুষ রয়েছেন। নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। গতকাল থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত দয়াগঞ্জ, মগবাজার, বিমানবন্দর ও জোয়ারসাহারা এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় দয়াগঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন রেললাইনে ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যু হয়। অন্য দুজন আজ সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মগবাজার পেয়ারাবাগ রেললাইন, বিমানবন্দর-ক্যান্টনমেন্টের মধ্যবর্তী এলাকায় রেললাইনে কাটা পড়েন। আরেক জন জোয়ার সাহারায় ট্রেনের ধাক্কায় আহত হয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

যেভাবেই হোক, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে তৃণমূলের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অপরাধী যে দলেরই হোক- তাদের কঠোর হাতে দমন করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে রংপুর ও বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার এবং বরগুনা ও লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এই নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেভাবেই হোক উন্নয়ন করতে হবে। যারাই সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ ও মাদক চোরাচালানে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষ স্বস্তিতে জীবন যাপন করবে এটাই আমরা চাই।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধী কে, কোন দলের তা জানতে চাই না। অপরাধ করলে ধরতে হবে। যে অপরাধী তাকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। কারও দিকে মুখ না চেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যে অপরাধী সে কোন দলের তা না দেখে তাকে ধরতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, অন্যায় যে করবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। এরপর তার পরিচয় খোঁজেন। প্রধানমন্ত্রী শীতবস্ত্র বিতরণের ক্ষেত্রে বয়স্ক ব্যক্তি (৬০ বছর) ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে পরামর্শ দেন।

‘ক্ষমা না চাইলে ছাত্রলীগকে গণধোলাই’

আগামী ২৭শে ডিসেম্বর গাজীপুরে খালেদা জিয়ার পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ  যে কোন মূল্যে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ছাত্রদল। আজ বিকাল সাড়ে ৩টায় নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কাযালয়ে এ ঘোষণা দেন ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দেশব্যাপী খালেদা জিয়ার যে সমাবেশগুলো রয়েছে সেগুলোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে ছাত্রদল। এই সমাবেশ সফল করার জন্য যে ভাষায় কথা বলা দরকার এবং যে পদ্ধতিতে কাজ করা দরকার তা করতে ছাত্রদল বদ্ধপরিকর। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। যদি সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয় ছাত্রদল নিয়ন্ত্রণ করতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, নিকৃষ্ট ছাত্রলীগ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছে তা প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। না হলে গণধোলাই থেকে রক্ষা হবে না। আগামীতে সব আন্দোলনে মাঠে থাকবে ছাত্রদল। সংবাদ; সম্মেলনে ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কিউবা সমাজতন্ত্র ছাড়বে না: রাউল কাস্ত্রো

রাউল কাস্ত্রো
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলা শুরু হলেও কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো বলেছেন, কিউবা সমাজতন্ত্র থেকে সরে আসবে না। হাভানা তার রাজনৈতিক ব্যবস্থা পাল্টাবে না। গত শনিবার পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, কিউবাও কখনো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা পাল্টানোর কথা বলবে না। খবর আল-জাজিরা ও বিবিসির। পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, কিউবার প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্য কার্যত মার্কিন প্রেসিডেন্টের বার্ষিক সমাপনী সংবাদ সম্মেলনেরই জবাব। গত শুক্রবার বারাক ওবামা ওই সংবাদ সম্মেলনে কিউবার জনগণের সঙ্গে মার্কিন জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা চাওয়ার প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করেন। ওবামা আরও বলেন, মার্কিন জনগণ কিউবার একদলীয় ব্যবস্থা ও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পিত অর্থনীতির সংস্কারকে উৎসাহিত করে। রাউল কাস্ত্রো জাতীয় পরিষদে দেওয়া ভাষণে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিস্তৃতভাবে নানা বিষয়ে খোলাখুলি আলোচনা করতে তিনি প্রস্তুত আছেন। কিন্তু সমাজতন্ত্রের মূলনীতি থেকে সরে আসবেন না।
তিনি বলেন, ‘আমরাও মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থা পাল্টাতে বলব না। আসলে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা থাকবে—এটাই আমাদের দাবি।’ কিউবার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউল বলেন, মার্কিন বাণিজ্য অবরোধের কারণে তাঁর দেশ ‘দীর্ঘ সময় ধরে কঠিন সংগ্রাম করছে’। রাউল জানান, আগামী এপ্রিলে পানামায় অনুষ্ঠেয় আমেরিকা মহাদেশের দেশগুলোর সম্মেলন ‘সামিট অব দি আমেরিকাস’-এ যোগ দেবেন। সেখানে প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে তাঁর বৈঠকও হতে পারে। কিউবা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনঃস্থাপন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামী মাসেই মার্কিন কর্মকর্তাদের হাভানা সফর করার কথা রয়েছে। বার্ষিক সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে ওবামা বলেন, আগামী মাসগুলোতে কিউবার সঙ্গে আলোচনায় তাঁর সরকার মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকারের মতো ইস্যুগুলোকে প্রাধান্য দেবে। ওবামা কিউবার ওপর থেকে দীর্ঘদিনের কঠিন মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অঙ্গীকার করেছেন। তবে এ জন্য তাঁকে বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে থাকা মার্কিন কংগ্রেস থেকে অনুমোদন নিতে হবে। গত বুধবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক ভাষণে ওবামা কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পদক্ষেপ নেওয়ার আকস্মিক ঘোষণা দেন। কিউবায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব হওয়ার পর ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের স্বাভাবিক সম্পর্ক নেই।

হ্যামারশোল্ডের মৃত্যু নিয়ে আবার তদন্ত হবে?

দাগ হ্যামারশোল্ড
সুইডেনের দাগ হ্যামারশোল্ড ১৯৫৩ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জাম্বিয়ার নদোলায় এক বিমান দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন। ৫৬ বছর বয়সী হ্যামারশোল্ড কঙ্গোর বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মইশে শোম্বের সঙ্গে আলোচনার জন্য যাচ্ছিলেন। ঠিক কীভাবে তাঁর বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়ে, তা বরাবরই ধোঁয়াটে ছিল। অনেকের ধারণা, বিমানটিকে গুলি করে ভূপাতিত করার পর হ্যামারশোল্ড ও তাঁর ১৫ জন সহকর্মীকে হত্যা করা হয়। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা কী বা কে এ দুর্ঘটনা অথবা হত্যার জন্য দায়ী, তা কখনো পরিষ্কার হয়নি। গত সপ্তাহে সুইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের কাছে হ্যামারশোল্ডের মৃত্যুর ঘটনাটি নতুন করে তদন্ত করার অনুরোধ করে। জাতিসংঘে সুইডেনের স্থায়ী প্রতিনিধি পের থরেনসন আবেদনটি করে বলেন, ‘৫০ বছরের বেশি সময় ধরে এ মৃত্যু আমাদের মনে এক তাজা ক্ষত হয়ে আছে। তার অবসান হওয়া উচিত।’ দাগ হ্যামারশোল্ডের মৃত্যু নিয়ে এ পর্যন্ত তিনটি ভিন্ন ভিন্ন তদন্ত হয়েছে। সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ দক্ষিণ রোডেশিয়া প্রথম তদন্তটি করে। ১৯৬২ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আরেকটি তদন্ত হয়, তাতে বিমান দুর্ঘটনার পেছনে কাতাঙ্গার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাত থাকতে পারে এমন ইঙ্গিত করা হয়। প্রায় ৫০ বছর পর, ২০১৩ সালে ব্যক্তিগত অর্থানুকূল্যে একটি অনুসন্ধানী প্যানেল দাগ হ্যামারশোল্ডের মৃত্যুর বিষয়টি আবার তদন্ত করে।
তদন্ত শেষে যে প্রতিবেদন পেশ করা হয়, তাতেও ইঙ্গিত মেলে যে দুর্ঘটনাটি পরিকল্পিত। অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ বিচারক স্টিফেন সেডলির নেতৃত্বে পরিচালিত সে তদন্তে বলা হয়, হ্যামারশোল্ডদের বিমানটির খুব কাছ দিয়েই আরেকটি বিমান উড়ে যাচ্ছিল। একজন বেলজিয়ান বিমানচালকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, হ্যামারশোল্ডের বিমানের গতিপথ পরিবর্তন করে কাতাঙ্গার একটি খনি শহরের দিকে নেওয়ার জন্য তাঁকে গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সে নির্দেশ কে দেয় তা এ প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট নয়। এতে বলা হয়, মার্কিন সরকারের পরিবহন নিরাপত্তা সংস্থা অথবা সিআইএর কাছে এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ১৯৬০ সালে কঙ্গো বেলজিয়ামের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর বামপন্থী হিসেবে পরিচিত জাতীয়তাবাদী নেতা প্যাট্রিস লুমুম্বা সে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। বেলজিয়াম ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁর নির্বাচনে খুশি হয়নি। এ দুই দেশের সমর্থনে মইশে শোম্বের নেতৃত্বে খনিজসমৃদ্ধ কাতাঙ্গা প্রদেশ কঙ্গো থেকে বিচ্ছিন্ন হতে গৃহযুদ্ধ শুরু করে। হ্যামারশোল্ড সে গৃহযুদ্ধে মধ্যস্থতা করতেই কাতাঙ্গা যাচ্ছিলেন। প্রদেশটির মূল্যবান খনিজ সম্পদ নিয়ন্ত্রণকারী বেলজিয়ামের একটি কোম্পানিই মইশে শোম্বেকে অর্থ ও অস্ত্র জোগায়। লুমুম্বা বিদ্রোহ ঠেকাতে সোভিয়েত সাহায্য চাইলে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষুব্ধ হয়। অনেকের ধারণা, সোভিয়েত প্রভাব ঠেকাতেই সিআইয়ের মদদে লুমুম্বাকে পরের বছর হত্যা করা হয়। ব্রিটিশ সরকারও লুমুম্বার হত্যায় জড়িত ছিল ভাবা হয়। হ্যামারশোল্ডের মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে তদন্তের জন্য সুইডেন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যে প্রস্তাব উথাপন করেছে, তাতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে।

পেশোয়ারের সেই স্কুলে সমবেত হাজারো মানুষ

পাকিস্তানের পেশোয়ারের স্কুলে তালেবানের হামলায় হতাহতদের
জন্য প্রার্থনা করছেন স্থানীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ। গতকাল
রোববার পেশোয়ারের সেন্ট জনস গির্জায় তাঁরা ওই প্রার্থনা করেন।
পাকিস্তানের পেশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত শিক্ষায়তনটিতে গত সপ্তাহের জঙ্গি হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে গতকাল রোববার জড়ো হয়েছিলেন হাজারো মানুষ। ওই হামলায় নিহত ১৪৯ জনের মধ্যে বেশির ভাগই ছিল শিশু-কিশোর। খবর এএফপির। ফুল, পুষ্পস্তবক, প্রজ্বলিত মোমবাতি হাতে নানা বয়সী নারী-পুরুষ পাকিস্তানের ইতিহাসের বর্বরতম জঙ্গি হামলার প্রতিবাদ জানান। আর্মি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন জায়গায় রাখা নিহত শিক্ষার্থীদের ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান উপস্থিত লোকজন।
‘সন্ত্রাসীদের ফাঁসি চাই’, ‘তালেবানরা অসভ্য’ এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। স্থানীয় বাসিন্দা ইমদাদ হুসেন বলেন, ‘কোন ধরনের মানুষ শিশুদের হত্যা করতে পারে?’ মুখে শাল জড়ানো এক নারী বলেন, ‘মা-বাবারা সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত থাকে। এখন মনে হয় শিশুরা কোথাও নিরাপদ নয়।’ গতকালের শোক সমাবেশে অংশ নেওয়া সেগুফতা বিবি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা আগে মসজিদে হামলা করত, পরে বাজারে। এখন ওরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা করছে।’

ঠাকুরগাঁওয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সমন জারি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাজাকার’ বলায় মানহানির অভিযোগে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও চিফ জুডিসিয়াল আদালতে মামলা হয়েছে। আদালত মামলা আমলে নিয়ে সমন জারি করেছে। মামলার আইনজীবী এ্যাড. মাজিবর রহমান জানান, আগামী বছরের ২০ ফেব্র“য়ারিপরবর্তী তারিখ নির্ধারন করেন। আজ দুপুরে ঠাকুরগাঁও নাগরিক কমিটির সভাপতি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ডাঃ শেখ ফরিদ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জুলফিকার আলী খানের আদালতে ৫০০/৫০১/৫০২ ধারায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগ লিপিতে বলা হয়েছে, লন্ডনের বিএনপির এক সভায় দলের সিনিয়র ভাইসচেয়ারম্যান তারেক রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাজাকার’ বলায় দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠক অপমানিত হয়েছে। দেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস বিকৃতি করায় তারেক রহমানকে দন্ডবিধির ৫০০/৫০১/৫০২ ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ও সুবিচার দাবি করা হয়।

শৈত্যপ্রবাহ আর হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্থ

শৈত্যপ্রবাহ আর হিমেল হাওয়ায় চিলমারী উপজেলার জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। দিনভর মেঘাছন্ন আকাশ আর হিমেল হাওয়ায় মানুষের হাঁড়ে কাপন ধরে যায়। সন্ধ্যার পর পরই বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট। তীব্র শীতে ইরি-বোরো বীজতলা কোল্ড ইঞ্জুরীতে আক্রান্ত হওয়ায় বোরো ধানের চারা হলদে বর্ণ ধারণ করছে। শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সবজির দাম। প্রায় সব সবজির দাম মাত্রারিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় দিনমজুর শ্রেণীর লোকজনের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। ঘণ কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে দিনমজুর শ্রেণীর লোকজন কাজে যেতে পারছে না। হাট-বাজারেও লোকজনের উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

৮০ দিন পর শেষকৃত্য শাকিলের

বিস্ফোরণ-কাণ্ডের ৮০ দিন পরে, রবিবার শেষকৃত্য হল খাগড়াগড়ে নিহত জেএমবি (জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ) চাঁই শাকিল গাজির। তার স্ত্রী, খাগড়াগড়-কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত রাজিয়া বিবিকে এনআইএ এ দিন বর্ধমানে নিয়ে যায়। রাজিয়ার উপস্থিতিতেই শেষকৃত্য হয় তার স্বামীর। তার আগে এ দিন রাজিয়াকে দিয়ে শাকিলের দেহ সরকারি ভাবে শনাক্তও করান তদন্তকারীরা। গত ২ অক্টোবর খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণে নিহত হয় দু’জন। তাদের মধ্যে বীরভূমের কীর্ণাহারের আব্দুল করিমের দেহ মাসখানেক আগে শনাক্ত করে নিয়ে যান তার বাবা। কিন্তু শাকিলের দেহ এত দিন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পড়েছিল। অথচ বিস্ফোরণস্থল থেকেই শাকিলের স্ত্রী রাজিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে শাকিলের পরিচয় জানা যায়, সে যে আদতে বাংলাদেশের নাগরিক, তা-ও জানতে পারেন গোয়েন্দারা। তার পরেও শেষকৃত্যে দেরি হল কেন?
এনআইএ-র এক শীর্ষকর্তার ব্যাখ্যা, “যতক্ষণ না আমরা নিহতের পরিচয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হচ্ছি, ততক্ষণ শেষকৃত্য হয় না। কোনও নিকটাত্মীয় দেহ চেয়ে আবেদন করেন কি না, সে জন্যও অপেক্ষা করা হয়। এ ক্ষেত্রেও আমরা সেই নিয়ম মেনেছি।” তিনি জানান, স্বামীর শেষকৃত্য করতে চেয়ে সম্প্রতি আবেদন জানায় শাকিলের তিন সন্তানের জননী রাজিয়া। সেই আবেদন বিবেচনা করার পর এ দিন শাকিলের শেষকৃত্য হয়।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের বাসিন্দা শাকিল বছর সাতেক আগে এ দেশে এসে নদিয়ার করিমপুরের বারবাকপুরের রাজিয়াকে বিয়ে করে। শ্বশুরকে নিজের বাবা পরিচয় দিয়ে করিমপুরের ঠিকানায় ভোটার আইডি কার্ড-ও জোগাড় করে সে। তার পর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বিস্ফোরকের গবেষণাগার চালাচ্ছিল শাকিল। ঘটনার মাস তিনেক আগে থেকে তারা খাগড়াগড়ে থাকতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, রাজিয়াকে বিয়ে করার পর শাকিল কলকাতার মেটিয়াবুরুজেও কিছুকাল ছিল।
শনিবার কলকাতা নগর দায়রা আদালতের নির্দেশে রাজিয়াকে ফের তিন দিনের জন্য হেফাজতে নেয় এনআইএ। তার পর রবিবার দুপুর ১টা নাগাদ এনআইএ অফিসারদের সঙ্গে সন্তান কোলে রাজিয়া বর্ধমান থানায় পৌঁছয়। সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। দেহ হস্তান্তরের নথিপত্রে সই করানোর পরে তাকে দিয়ে শাকিলের দেহ শনাক্ত করানো হয়। স্বামীর ক্ষতবিক্ষত দেহ দেখেও যার চোখে জল ছিল না, সেই রাজিয়াই কাঁদতে কাঁদতে মর্গ থেকে বেরিয়ে আসে।
স্থানীয় কারবালা উন্নয়ন কমিটির ভ্যানে করে শাকিলের দেহ নিয়ে গিয়ে কবর দেওয়া হয় বর্ধমানের আলমগঞ্জে। ওই কমিটির সম্পাদক ফারুক আনসারি জানান, কবরস্থলে মহিলাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও এ দিন পুলিশের অনুরোধে রাজিয়াকে ভিতরে ঢুকে কবরে মাটি দিতে দেওয়া হয়েছে। বিকেলেই রাজিয়াকে নিয়ে কলকাতা যাওয়া হয়। এনআইএ-র এক কর্তা জানান, শাকিলের দেহের ডিএনএ-নমুনা সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।
রবিবার রাতে বরপেটার ভবানীপুর থেকে কারিগরি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নাহিমুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল ব্রাঞ্চ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গুয়াহাটি নিয়ে আসা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর। এ দিনই অসমের বরপেটায় কলাবাগান থেকে ১০টি বোমা উদ্ধার করে অসম পুলিশের বিশেষ শাখা। খাগড়াগড়ে তৈরি হওয়া বেশ কিছু বোমা এ রাজ্যে মজুত হয়েছে বলে আগেই দাবি করেছিল পুলিশ। তবে ওই বোমাগুলি বর্ধমানে তৈরি কি না, এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ। আইজি (আইন শৃঙ্খলা) সত্যেন্দ্র নারায়ণ সিংহ জানান, জামাত নেতা শাহনুর জেরায় জানিয়েছিল, নলবাড়ি ও বাক্সায় কিছু বোমা রাখা আছে। তার হদিস জানে বাক্সার নুরজামাল হক। দু’দিন আগে বাক্সা থেকে নুরজামালকে ধরার পরে তাকে জেরা করে এ দিন বাক্সা-বরপেটার সীমানায় পাতাচরকুচি এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। পানপুর গ্রামে মাটিতে পোঁতা বোমাগুলি মেলে। নমুনা রেখে সেগুলি ফাটিয়ে ফেলে পুলিশ। বোমা উদ্ধারকারী দলটি জানায়, গ্রেনেডের ধাঁচে তৈরি হলেও এই বোমার ভিতরে কোনও সার্কিট বা আরডিএক্স ধরনের বিস্ফোরক ছিল না।

তিউনিশিয়ায় ঐতিহাসিক নির্বাচনে বিজয় দাবি ইসেবসির

 তিউনিশিয়ায় গণতান্ত্রিক পন্থায় অনুষ্ঠিত প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট গণনার প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছেন ধর্মনিরপেক্ষ নিদ্দা তিউনিস দলের নেতা ৮৮ বছর বয়সী বেজি কেইদ ইসেবসি। গতকাল দ্বিতীয় দফায় অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক এ নির্বাচনের প্রাথমিক ভোট গণনা অনুযায়ী, সাড়ে ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বেজি। এরই মধ্যে তিনি নিজেকে বিজয়ী হিসেবে দাবি করে একটি বিবৃতিও প্রদান করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। তিউনিশিয়ার ‘শহীদদের’ প্রতি তিনি তার এ বিজয় উৎসর্গ করেছেন। এক্সিট পোলের কয়েকটি গণনায় একই ফলাফল দেখানো হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল এখনও ঘোষণা করা হয়নি। রাজধানী তিউনিসে ইসেবসির সমর্থকরা বিজয় উদযাপন করেন। এদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রেসিডেন্ট মোনসেফ মারজুকির পক্ষে নির্বাচন প্রচারণায় অংশ নেয়া কর্মীরা বলেছেন, বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও কাছাকাছি হওয়ায় ফলাফল আগেভাগেই বলা সম্ভব নয়। তিউনিশিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইসেবসি। আরব বসন্তের ঢেউ প্রথম লাগে এ দেশটিতে এবং ক্ষমতাচ্যুত হন তিউনিশিয়ার একনায়ক। আরব বসন্তের সে ঢেউ একে একে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে দুই প্রার্থীর কেউ ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফা ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

খালেদার সভা ঘিরে গাজীপুরে উত্তাপ

গাজীপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমাবেশকে ঘিরে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে জেলার রাজনীতিতে। সমাবেশ করতে অনড় বিএনপি প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ একই স্থানে সমাবেশ আহবান করেছে। তারা খালেদা জিয়াকে প্রতিহতেরও ঘোষণা দিয়েছে। পাল্টাপাল্টি এ সমাবেশ ঘিরে জেলার রাজনীতিতে বইছে উত্তাপ। রোববার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগও খালেদা জিয়ার সমাবেশ প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে সারা দেশে কোথাও তাদের সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। এদিকে আগামী ২৭শে ডিসেম্বর গাজীপুরে অনুষ্ঠিতব্য বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জনসভা সফল করতে গাজীপুরে বিএনপির ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ গণসংযোগ, প্রচারপত্র বিলি করছেন। সোমবার সকালে গাজীপুরের বাড়িয়া ইউনিয়নের কুমুন বাজার ও আশপাশ এলাকায় জিয়া পরিষদের জেলা সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ডা. মাজহারুল আলমের নেতৃত্বে গণসংযোগ, প্রচারপত্র বিলি করা হয়। এসময় জিয়া পরিষদের নেতা আসাদুজ্জামান সোহেল, মাফিকুর রহমান সেলিম, মেহেদী হাসান জনি, বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন, যুবদল নেতা জামান প্রমুখ উপস্থি ছিলেন। ২৭শে ডিসেম্বর গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে ২০ দলীয় জোটের জনসভার নির্ধারিত তারিখ রয়েছে। এতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বলে জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত এ সমাবেশ সফল করতে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

দেশে ফিরে আন্দোলনে শরিক হওয়ার ঘোষণা খোকার

যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বলেছেন, ক্যান্সারের চিকিৎসা গ্রহণ শেষে শীঘ্রই তিনি দেশে ফিরবেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনে শরিক হবেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, সরকারের মামলা-হামলার ভয়ে নয়, বরং ক্যান্সারের চিকিৎসা গ্রহণের জন্যই তিনি দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। চিকিৎসকের পরামর্শের ভিত্তিতে অচিরেই দেশে ফিরে পুরোমাত্রায় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আগমনের পর এই প্রথম প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন বিএনপির এই নেতা। গত ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি চিকিৎসার কারণে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। কেমোথেরাপি গ্রহণসহ চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকার কারণে তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না।
রবিবার নিউ ইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করেন স্থানীয় বিএনপির নেতারা। মূলত শিকাগো সিটিতে বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে সড়কের নামকরণকে ঘিরে উদ্ভুত পরিস্থিতির বিষয়ে কথা বলেন তারা। সাদেক হোসেন খোকা সেখানে উপস্থিত ছিলেন অতিথি হিসাবে। এ সময় তিনি সম্প্রতি লন্ডন সফরকালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। তবে তাঁর চিকিৎসার অগ্রগতির বিষয়ে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা ডা: মজিবুর রহমান মজুমদার। তিনি জানান, কিডনি ক্যন্সারে আক্রান্ত সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসা নিচ্ছেন ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল সেøান ক্যাটারিং হসপিটালে। সেখানে তাঁকে ওর‌্যাল কেমোথেরাপি দেয়া হচ্ছে এবং নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। প্রথম ধাপের কেমোথেরাপি শেষ হলে চিকিৎিসকের পরামর্শ সাপেক্ষে তিনি দেশে ফিরে যাবেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাদেক হোসেন খোকা জানান, সম্প্রতি লন্ডন সফরকালে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে তাঁর। দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সর্বাত্মক আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকারকে বিদায় করা সম্ভব হবে বলে তাঁরা একমত হয়েছেন। সে কারণে চিকিৎসকের পরামর্শের ভিত্তিতেই শীঘ্রই দেশে ফিরে সর্বাত্মক আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিষ্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে জিল্লুর রহমান ও সোলায়মান ভূঁইয়া প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জিয়াউর রহমানের নামে সড়কের নামকরণের অন্যতম উদ্যোক্তা ও শিকাগো সিটির কাউন্সিলম্যান শাহ মোজাম্মেল নান্টুও এতে বক্তব্য দেন।

মার্সিয়াকে ভালবাসবে বাংলাদেশ -বিদায়ের আগে ড্যান মজিনা

বিদায়ের আগে উত্তরসূরি মার্সিয়া বার্নিকাটের ভূয়সী প্রশংসা করে গেছেন ড্যান মজিনা। বলেছেন, মার্সিয়া খুব চমৎকার মানুষ। তাকে আমি ২০ বছর থেকে জানি। সে আমার ভাল বন্ধুও। আশা করি বাংলাদেশের মানুষ তাকে ভালবাসবে। নয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি ঢাকায় দায়িত্ব বুঝে নেবেন বলেও জানিয়েছেন বিদায়ী দূত। ঢাকায় ১১২২ দিনের দূতিয়ালী মিশনের ইতি টেনে গতকাল রাতে বিদায় নিয়েছেন ড্যান মজিনা। রাত পৌনে ১১টার দিকে সিঙ্গাপুর এয়ার লাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ও হজরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একাধিক সূত্রে এ তথ্য মিলেছে। এদিকে বিদায়ের আগে দেয়া এক ফেসবুক স্টাটাসে ড্যান মজিনা বলেছেন, ‘আর কিছুক্ষণ পরেই আমি ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছি। আমার বুকটা ভারি লাগছে। আশা করি আপনারাও আমার অনুভূতি বুঝতে পারছেন।’ মজিনা জানান, ঢাকা থেকে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া যাবেন। সেখানে ছেলের পরিবারের সঙ্গে বড়দিন উদযাপন করবেন। এরপরে যাবেন তার ৯৩ বছর বয়সী মায়ের কাছে আইওয়াতে। নতুন বছরে (জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে পৌছে স্টেট ডির্পাটমেন্টে রিপোর্ট করবেন। ওই সময় থেকেই তার অবসর প্রস্তুতি ছুটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের গত রাতের ফ্লাইটটি সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা ছাড়ার সিডিউল থাকলেও একি আধঘণ্টা বিলম্বে আকাশে উড়ে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিলম্বের কারণ জানা যায়নি। এদিকে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসাবে বাংলাদেশই ছিল ড্যান মজিনার শেষ মিশন। তিনি তার ৩৩ বছরের বর্ণাঢ্য কূটনৈতিক জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করতে চলেছেন বরাবরের মত বিদায়ের দিনেও ঢাকায় ব্যস্ত সময় কাটিয়ে গেছেন আমেরিকান ওই দূত। বিদায়ী দিনটি ছিল একান্তই তার মিশনের সহকর্র্মীদের জন্য। সারা দিন তাদের সঙ্গেই ছিলেন তিনি। বাইরে কোন কর্মসূচী রাখেননি। অবশ্য সহকর্মীদের তরফে বিদায়ী সংবর্ধনাও পেয়েছেন তিনি। দূতাবাসে অতীতের যে কোন আয়োজনের চেয়ে গতকালের দিনটি ছিল ব্যতিক্রম। সেখানে মিশনের কর্মকর্তারা যেমন আবেগাপ্লুত বিদায় জানিয়েছেন তাদের মিশন প্রধানকে, তেমনি ড্যান মজিনাও আবেগাপ্লুত ছিলেন। বাইরের কর্মসূচীতে, বিশেষ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছ থেকে বিদায়ের পর থেকে সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত বিদায়ী সব ক’টি আয়োজনে তিনি আবেগাপ্লুত হলেও আবেগ প্রকাশে সংযত ছিলেন ওই পেশাদার। কিন্তু গতকাল দূতাবাসের আয়োজনে সহকর্মীরা তার জন্য যেমন চোখের পানি ফেলেছেন, তেমনি তিনিও চোখ মুছেছেন। কেবল দূতাবাসের আনুষ্ঠানিকতায় শেষ হয়নি তার বিদায় পর্ব। মজিনার সহকর্মীরা তাকে বিদায় জানাতে বিমান বন্দর পর্যন্ত যান।

টাকা হলেই নারীর ক্ষমতায়ন হয় না

পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, নারীকে নারী হিসেবে নয় মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। টাকা হলেই নারীর ক্ষমতায়ন হয় না। ক্ষমতায়নের জন্য শিক্ষা এবং সচেতনতা আবশ্যক। দরিদ্রতা ও ক্ষমতায়ন এক মাত্রিক নয়। সুতরাং, সব প্রেক্ষিত থেকেই দরিদ্রতা এবং ক্ষমতায়নকে দেখতে হবে। এখন সময় এসেছে ক্ষুদ্র থেকে উঠে আসার। গ্রহীতার প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে সহায়তা দিতে হবে। গতকাল ‘নারীর ক্ষমতায়নে ক্ষুদ্র অর্থায়ন: সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। ন্যাশনাল ককাস ফর উইমেন ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট আয়োজিত সভাটি রাজধানীর পিকেএসএফ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভানেতৃত্ব করেন ন্যাশনাল ককাসের চেয়ারপার্সন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক তথ্য কমিশনার ড. সাদেকা হালিম। এ ছাড়া পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল করিম, এমআরএ-র এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাজহারুল হক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। খলীকুজ্জমান বলেন, নারী ক্ষমতায়ন পুরুষের দান নয়। এটা তাদের প্রাপ্য। ক্ষমতায়ন হওয়া নারীর অধিকার। এ অর্থনীতিবিদ বলেন, ২০০৬ সালের জরিপ অনুযায়ী ৭ শতাংশ ঋণ গ্রহীতা দারিদ্র্যসীমার ঊর্ধ্বে উঠতে পেরেছেন। সমপ্রতি আরেকটি জরিপে ১০ শতাংশের কথা উঠে এসেছে। কাজেই ঋণ পরিশোধ করলেই উন্নয়ন বা সমৃদ্ধি হয়েছে, তা বলা যাবে না। আবদুল করিম ন্যাশনাল ককাস প্রণীত সুপারিশের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন এবং সুপারিশসমূহ পিকেএসএফ-এর কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছেন। অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিগণ জেন্ডার সংবেদশীল ক্ষুদ্র অর্থায়নের পক্ষে নীতিগতভাবে ঐকমত্য পোষণ করেন এবং এ ব্যাপারে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলেও অঙ্গীকার করেন।

এ্যাপোলো ইস্পাতের ১৫% লভ্যাংশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি এ্যাপোলো ইস্পাতের এজিএম অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোম্পানির চেয়ারম্যান দীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে সভায় ৩০শে জুন’১৪ সমাপ্ত বছরের জন্য ঘোষিত ১৫% স্টক অনুমোদন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এম.এ মজিদ মো. রফিক, এ্যাপোলো ইস্পাতের ব্যবস্থপানা পরিচালক মো. আনসার আলী, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ও কোম্পানির সেক্রেটারি এস.এ. হাসান প্রমুখ।  ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এ্যাপোলো ইস্পাতের নিট আয় হয়েছে ১৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৫,০০০ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৬.৮৩% বেশি।
২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে নিট আয় হয়েছিল ৯ কোটি ৮৮ লাখা ৫৭,৭৬৯ টাকা ইপিএস দাঁড়িয়েছে ০.৫৪ যখন কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা ২৫ কোটি। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের ই.পি.এস ছিল ০.৬৬ শেয়ার সংখ্যা ছিল ১৫ কোটি।

এসএমএসে পোর্টফলিও সেবা সিডিবিএল’র

অনলাইন ও মোবাইল ফোনের ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে বিনিয়োগ সেবা দেবে সেন্টাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লি.। সিডিবিএলে আগে থেকে অনলাইন সেবা ব্যবস্থা চালু থাকলেও এসএমএস সেবা এই প্রথম চালু করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সিডিবিএলের সিস্টেম এডমিনিস্ট্রেটর এনালিস্ট মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, সিডিবিলের ওয়েবসাইটে বিনিয়োগকারীরা নিবন্ধন করলে তাদের পোর্টফলিওর হালনাগাদ তথ্য জানতে পারবেন সহজে। কোন কোম্পানির শেয়ারের দাম কত টাকায় অবস্থান করছে এবং গ্রাহক কত টাকা মুনাফা বা লোকসানে আছেন তা সহজে জানতে পারবেন। এসএমএস সার্ভিসের ব্যাপারে তিনি বলেন, বিও হিসাব থেকে টাকা ডেবিট-ক্রেডিট হলে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীর মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠাবে সিডিবিএল। এ ক্ষেত্রে কি প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হবে জানতে চাইলে রাকিবুল ইসলাম বলেন, সিডিবিলের ওয়েবসাইটে একটি ফরম পাওয়া যাবে। ফরমটি পূরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্রোকার হাউজ বা ডিপিতে জমা দিতে হবে। 
আমরা ডিপি থেকে ওই ফরম সংগ্রহ করব। এরপর ফরমে দেয়া ই-মেইল ঠিকানা অনুযায়ী বিনিয়োগকারীর কাছে ‘ইন্টারনেট ব্যালান্স ইকয়োরি পোর্টফলিও’-এর জন্য ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড পাঠিয়ে দেব। পরে বিনিয়োগকারীরা নিজের একাউন্টে প্রবেশ করে হালনাগাদ তথ্য দেখতে পারবেন। তিনি বলেন, ইন্টারনেট ব্যালান্স ইকয়োরি পোর্টফলিও এবং এসএমএস সেবা দেয়ার বিনিয়ময়ে পৃথকভাবে ২০০ টাকা করে চার্জ নেয়া হবে।

কৃষিঋণে ২% সুদ কমালো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

কৃষি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণে বর্তমানে নির্ধারিত হারের তুলনায় ২ শতাংশ সুদ কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী বছরের প্রথম দিন থেকে কৃষকরা সর্বোচ্চ ১১ শতাংশ সুদে কৃষিঋণ নিতে পারবেন। বর্তমানে সুদ গুনতে হয় ১৩ শতাংশ। গতকাল এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আমানত ও ঋণের সুদ হারের নিম্নমুখী প্রবণতা বিবেচনায় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে কৃষি ও পল্লী ঋণের সুদ হারের ঊর্ধ্বসীমা ১৩ শতাংশের পরিবর্তে ১১ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো। আগামী ১লা জানুয়ারি থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাজার চাহিদা বিবেচনায় বেশ কিছু দিন ধরে ঋণ ও আমানতের সুদহার কমে আসছে। এমন প্রেক্ষাপটে কৃষি খাতে সুদ হারের ঊর্ধ্বসীমা কমানো হয়েছে। এতে করে কৃষকরা বর্তমানের তুলনায় বেশি উপকৃত হবেন। আর্থিক খাত সংস্কার কর্মসূচির আওতায় ১৯৮৯ সালের পর থেকে ব্যাংকগুলো নিজেরাই সুদহার নির্ধারণ করতে পারে। তবে বৈশ্বিক মন্দা পরবর্তীতে উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃষি, মেয়াদি শিল্প, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি, রপ্তানিমুখী শিল্পসহ বেশ কয়েকটি খাতে সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তীতে ২০১১ সালে এক নির্দেশনার মাধ্যমে কয়েকটি খাত ছাড়া সুদহারের ঊর্ধ্বসীমা প্রত্যাহার করা হয়। তখন কৃষি ও মেয়াদি শিল্পে সুদহার নির্ধারণ করা হয় ১৩ শতাংশ, সব ধরনের রপ্তানি ঋণে ৭ শতাংশ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তথা- চাল, গম, চিনি, ভোজ্য তেল, ডাল, ছোলা, পিয়াজ ও খেজুর আমদানিতে সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা ১২ শতাংশ। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে আরেক নির্দেশনার মাধ্যমে প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ঋণ ও কৃষি ছাড়া অন্যান্য খাতে সুদহারের ঊর্ধ্বসীমা প্রত্যাহার করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কায়সারের বিরুদ্ধে মামলার রায় কাল

সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির নেতা সৈয়দ মো. কায়সারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় কাল মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে।আজ সোমবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণার এ দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম। গত ২০ আগস্ট এই মামলার কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর ট্রাইব্যুনাল রায় অপেক্ষমাণ রাখেন। এদিন কায়সারের জামিন বাতিল করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। গত ২ ফেব্রুয়ারি ১৬টি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ৭৩ বছর বয়সী কায়সারের বিরুদ্ধে মামলার বিচার শুরু হয়েছিল। অভিযোগ গঠনের আদেশ অনুসারে, মুক্তিযুদ্ধকালে কায়সারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ একটি। এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের অভিযোগ ১৩টি এবং ধর্ষণের অভিযোগ দুটি। ৯ মার্চ থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়ে ২৩ জুলাই পর্যন্ত চলে। রাষ্ট্রপক্ষে ৩২ জন সাক্ষ্য দেন, তাঁদের মধ্যে এক যুদ্ধশিশু প্রথমবারের মতো ক্যামেরা ট্রায়ালে (সাক্ষীর পরিচয় গোপন করে রুদ্ধদ্বার বিচার) সাক্ষ্য দেন।
অভিযোগ গঠনের আদেশ অনুসারে, কায়সার ১৯৬২ সালে কনভেনশন মুসলিম লীগে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেন। মুক্তিযুদ্ধকালে হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের নিয়ে তিনি ‘কায়সার বাহিনী’ গঠন করেন এবং পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে নৃশংসতায় অংশ নেন। তবে ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের প্রাক্কালে তিনি যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যান। ১৯৭৮ সালে দেশে ফেরার পর তিনি প্রথমে বিএনপি এবং পরে এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সাংসদ হন এবং এরশাদ সরকারের কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। গত বছরের ২১ মে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কায়সারকে গ্রেপ্তার করার পর ট্রাইব্যুনাল তাঁকে কারাগারে পাঠান। তবে শারীরিক কারণে জামিনের আবেদন জানালে ৫ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল কায়সারকে জামিন দেন। এরপর থেকে মামলার কার্যক্রম শেষ হওয়ার দিন পর্যন্ত জামিনে ছিলেন তিনি।
কায়সারের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
২২ গ্রামের ১০৮ হিন্দুকে গণহত্যা: কায়সারের বিরুদ্ধে ১৬তম অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ১৫ নভেম্বর কায়সারের নেতৃত্বে কায়সার বাহিনী, শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা এবং পাকিস্তানি সেনারা যৌথভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানার দেউড়া, নিশ্চিন্তিপুরসহ ২২ গ্রামে হামলা চালায়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশে চালানো ওই হামলার সময় নির্বিচারে গুলি, বাড়িঘরে আগুন, লুটতরাজে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকাল সাতটা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত চালানো ওই হামলায় কায়সার ও তাঁর সহযোগীরা ১০৮ জন নিরস্ত্র হিন্দুকে হত্যা করেন। ওই ঘটনায় কায়সারের বিরুদ্ধে গণহত্যা অথবা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে নিপীড়নে অংশগ্রহণ ও সহায়তার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
হত্যার ১৩টি অভিযোগ:
কায়সারের বিরুদ্ধে গঠন করা ১৩টি অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগ অনুসারে, একাত্তরের ২৭ এপ্রিল দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইসলামপুর থানার শাহজাহান চেয়ারম্যানকে কায়সারের নির্দেশে তাঁর বাহিনী ও পাকিস্তানি সেনারা গুলি করে হত্যা করে। পরে কাজীবাড়ি গ্রামের ১৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠন চালানো হয়। দ্বিতীয় অভিযোগ অনুসারে, ২৭ এপ্রিল বিকেলে হবিগঞ্জের মাধবপুর বাজারের পশ্চিম পাশে ও কাটিয়ারা গ্রামের ১৫০ দোকান ও ঘরবাড়িতে লুটপাট চালানো হয়। তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা সাতটার দিকে মাধবপুরের কৃষ্ণনগর গ্রামে চারজনকে হত্যা করে কায়সারের নেতৃত্বাধীন বাহিনী।
কায়সারের বিরুদ্ধে চতুর্থ ও পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৮ এপ্রিল সকালে কায়সারসহ তাঁর বাহিনীর ১০-১৫ জন সদস্য এবং ৩০-৩৫ জন পাকিস্তানি সেনা মাধবপুর বাজারের উত্তর-পূর্ব অংশে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১৫ জনকে হত্যা করে, ১৫০-২০০ ঘরে আগুন দেয়। ২৯ এপ্রিল হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ খাদ্যগুদামে কায়সার ও তাঁর লোকজন হামলা চালান। গুদামের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এক মাস আটকে রাখা হয়। পরে ২৯ মে আটকে রাখা সাতজনকে খোয়াই রেলব্রিজের কাছে নিয়ে পাকিস্তানি সেনারা গুলি করে হত্যা করে।
ষষ্ঠ অভিযোগ অনুসারে, ১৯৭১ সালের ২৯ এপ্রিল বিকেল সাড়ে তিনটা-চারটার দিকে শায়েস্তাগঞ্জের পুরান বাজার এলাকায় কায়সার পাকিস্তানি সেনাদের জিপ থামাতে বলেন। ওই সময় ডা. সালেহউদ্দিন ও হীরেন্দ্রচন্দ্র রায় সীমান্ত পার হয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে যাচ্ছিলেন। পাকিস্তানি সেনারা তাঁদের ধরে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে গুলি করে হত্যা করে। সপ্তম অভিযোগে বলা হয়েছে, ৩০ এপ্রিল কায়সার বাহিনী ও পাকিস্তানি সেনারা হবিগঞ্জ শহরের ৪০-৪৫টি ঘর লুণ্ঠনের পর আগুন দেয়।
কায়সারের বিরুদ্ধে গঠন করা নবম থেকে ১১তম অভিযোগ এবং ১৩ থেকে ১৫তম অভিযোগেও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ধর্ষণের দুই অভিযোগ: অষ্টম অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের ১১ মে কায়সার একদল পাকিস্তানি সেনাকে নিয়ে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা এলাকার চানপুর চা-বাগানে যান। একপর্যায়ে চা-বাগানের এক সাঁওতাল নারী শ্রমিকের ঘর দেখিয়ে দিলে দুই-তিনজন পাকিস্তানি সেনা ওই নারীকে ধর্ষণ করে।
১২তম অভিযোগ অনুসারে, একাত্তরের আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে কায়সারের নেতৃত্বে তাঁর বাহিনীর সদস্য ও কয়েকজন রাজাকার মাধবপুর থানার জগদীশপুর পাকিস্তানি সেনাক্যাম্পে এক নারী, তাঁর বাবা আতাব মিয়া ও চাচা আইয়ুব মিয়াকে ধরে নিয়ে যায়। পরে ওই নারীকে পাকিস্তানি সেনাদের কাছে হস্তান্তর করা হলে তাঁকে ৮-১০ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়।

অস্কার থেকে বাদ পড়লো ভারতীয় ছবি

অবশেষে অস্কার দৌড়ে বাদ পড়লো ভারতীয় ছবি ‘লায়ারস ডাইস’। সম্প্রতি অস্কারের বিদেশী ছবি বিভাগের তালিকা থেকে বাদ পড়ে ছবিটি। এ ছবি নিয়ে এবার ভারত অনেক আশা করলেও সেটি আর পূরণ হলো না। আগামী বছরের ১৫ই ফেব্রুয়ারি হতে যাওয়া অস্কার অনুষ্ঠানে ৮৩টি ছবি বাছাই করা হয় এ বিভাগের জন্য। যাতে স্থান করে নেয় ভারতের ‘লায়ারস ডাইস’। তবে শেষ পর্যন্ত ছবিটি স্বল্প তালিকায় জায়গা হয়নি। বিদেশী বিভাগের ছবিতে জায়গা করে নিয়েছে ৯টি ছবি। এগুলো হলো একিউসড (নেদারল্যান্ডস), কর্ন আইল্যান্ড (জর্জিয়া), ফোর্স মেজিউর (সুইডেন), ইডা (পোল্যান্ড), লেভিয়াথান (রাশিয়া), টেনজারিনস (এসতোনিয়া), দ্য লিবারেটর (ভেনিজুয়েলা), টিম্বুকু (মাউরিটানিয়া) এবং ওয়াইল্ড টেলস (আর্জেন্টিনা)। এদিকে এ বিভাগে ভারতীয় ছবি বাদ পড়লেও অস্কারের আশা কিন্তু এবারও জিইয়ে রেখেছেন ভারত তথা বিশ্ববরেণ্য সংগীত পরিচালক এ আর রহমান। এ আর রহমানের সংগীতায়োজনে ‘দ্য হান্ড্রেড ফুট জার্নি’, ‘মিলিয়ন ডলার আর্ম’ এবং রজনীকান্ত অভিনীত ‘কোচাদাইয়ান’ ছবির সংগীত অস্কার দৌড়ে রয়েছে। এর মাধ্যমে তৃতীয়বারের মতো অস্কারের জন্য মনোনীত হলেন ক্যারিশমাটিক এ সংগীত পরিচালক। এর আগে ‘স্লামডগ মিলেনিয়ার’-এর ‘জয় হো’ গানের জন্য অস্কার পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। এখন সময়ই বলে দেবে এ আর রহমান এবারও তার জাদু কতটা ছড়াতে পারেন অস্কার আয়োজনে।

অপেক্ষায় মিলি

টিভি পর্দায় উপস্থিতিটা তার আলাদা রকমের। অন্য শিল্পীদের মতো টানা ক্যামেরায় আসেন না। আবার এলেও কাজ শেষে বিরতিতে চলে যান। বলা হচ্ছিল টিভি পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ফারহানা মিলির কথা। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘মনপুরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। তবে এটাই তার প্রথম চলচ্চিত্র। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত আর কোন ছবিতে অভিনয় করতে দেখা যায়নি মিলিকে। এরপর থেকে নিয়মিত হয়েছেন টিভি নাটকে। বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করে দর্শক আলোচনায় আসেন। তবে মাঝে লম্বা একটি সময় বিরতিতে চলে যান। মা হওয়ার পর গেল বছর আবারও নিয়মিত কাজ করা শুরু করেন এ অভিনেত্রী। টিভি মাধ্যমে এ আসা যাওয়া প্রসঙ্গে মিলি বলেন, শুরু থেকে কাজের ব্যাপারে একটু সাবধানতা অবলম্বন করে আসছি। নাটক কিংবা টেলিছবিতে অভিনয় করি ঠিকই, কিন্তু সেটা গল্প বোঝে। আমার কাছে গল্পটাই আসল। গল্প ভাল লাগলে অভিনয় করি। যে কারণে কিছুদিন বিরতি দিয়ে আবার শুরু করি। বর্তমানে ধারাবাহিক আর খ-নাটকে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় যাচ্ছে তার। অবশ্য এ মুহূর্তে একটি ধারাবাহিকের শুটিং নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। বিবিসির উজান গাঙের নাইয়া’র দ্বিতীয় কিস্তির শুটিংয়ে কক্সবাজারে রয়েছেন মিলি। এখন পুরো মনোযোগ এখানেই দিচ্ছেন। এ নাটকে অভিনয় প্রসঙ্গে মিলি বলেন, এ ধারাবাহিকে উপকূলবর্তী জনপদের একজন নারীর চরিত্রে অভিনয় করছি আমি। অনেক পরিকল্পিত ও গোছানো কাজ হচ্ছে। এবারই প্রথম বিবিসির নাটকে অভিনয় করছি। বেশ ভালই লাগছে। আশা করছি দর্শকের কাছেও ভাল লাগবে। আমিও অপেক্ষায় আছি এটা প্রচারের পর দর্শক প্রতিক্রিয়ার। এর আগে বিবিসির একটি ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়েছিলাম। এদিকে এ নাটকটি ছাড়াও বর্তমানে মিলি অভিনীত আরও চারটি ধারাবাহিক প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে। এগুলো হলো ‘একজন মায়াবতী’, ‘শূন্য থেকে শুরু’, ‘দহন’ ও ‘তিনি আসবেন’। দীর্ঘদিন ধরেই টিভি নাটকের সঙ্গে রয়েছেন তিনি। নিজের চরিত্র নিয়ে অনেক বেশি সচেতন এ অভিনেত্রী। অভিনয়ের জন্য কেমন চরিত্র পছন্দ? এমন প্রশ্নের জবাবে মিলি বলেন, আমি তো খুব বেশি সময় কাজ করিনি। আবার মাঝখানে বিরতিও ছিল। তবে নিয়মিত কাজ করার সংকল্প নিয়েই যেহেতু আসা, তাই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের খাপে তো নিজেকে বসাতে হবেই। অবশ্য এমন কোন চরিত্র নেই যে, সেটি ছাড়া আমি অন্য কিছু করবো না। ততটা পরিপক্ব এখনও হয়ে উঠিনি। পর্দায় আমাকে যে রকম শান্তশিষ্টভাবে মানুষ দেখা যায়, বাস্তবেও আমি তেমন। ভিন্ন ভিন্ন কাজ করার চেষ্টা করি। নিজেকে ভেঙে বা নিজের চরিত্রের উল্টো দিকে হাঁটার পরীক্ষণটি উপভোগ করি। হয়তো এমন চরিত্রে আমার কম কাজ করা হয়, তাই চোখে পড়ে না। মিলি
অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে শুভ্র উজ্জ্বলের ‘মন্দ বিশ্বাস’, তারিকুল ইসলামের ‘বউ শাশুড়ি থেরাপি’, সুমন আনোয়ারের ‘বিনিসুতো’, সাজ্জাদ সুমনের ‘চিলেকোঠার স্বপ্ন’, অলির ‘একজন মেকআপম্যান অথবা নীরবতার গল্প’, রাজীব আহমেদের ‘নকশিকাঁথার মাঠ’, রাসুর ‘এ জার্নি বাই মাইক্রোবাস’, ‘থিয়েটারওয়ালা’, ‘ভালবাসার দ্বিতীয় গল্প’ ইত্যাদি।

শেষ দেখতে চান ম্যাডোনা

সম্প্রতি বিশ্বনন্দিত পপ তারকা ম্যাডোনার বেশ কিছু অপ্রকাশিত নগ্ন ছবি প্রকাশ পেয়েছে ইন্টারনেটে। তবে কে বা কারা বিষয়টি করেছে সে সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি। গত দুই দিনে ইন্টারনেটের সবচেয়ে বেশি সার্চের বিষয় ছিল ম্যাডোনার সেই ছবি। এরই মধ্যে ম্যাডোনা নিজের ভক্তদের সেই ছবিগুলো পোস্ট না করার জন্য অনুরোধ করেছেন। এদিকে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চটেছেন এই পপ তারকা। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। কারণ, ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে এসে নগ্ন ছবি প্রকাশটা ছিল তার কাছে অপ্রত্যাশিত। তাও আবার তার এরকম কিছু ছবি প্রকাশ পেয়েছে যেগুলো কখনও কোথায় ব্যবহার করেননি ম্যাডোনা। ধারণা করা হচ্ছে, ম্যাডোনার ব্যক্তিগত ল্যাপটপ থেকে ছবিগুলো হ্যাক করা হয়েছে। প্রকাশিত বেশির ভাগ ছবিতেই নগ্ন হয়ে পোজ দিয়েছেন ম্যাডোনা। তবে এ ছবিগুলো একেবারেই নিজের জন্য তুলেছিলেন বলে জানিয়েছেন এই তারকা। তবে এখানেই বিষয়টি শেষ হয়ে যাচ্ছে না। ম্যাডোনা এর শেষ দেখতে চান। তারই ধারাবাহিকতায় হ্যাকারকে ধরার জন্য গোয়েন্দা নিয়োগ করেছেন এই তারকা। পাশাপাশি পুলিশেরও সহায়তা নিচ্ছেন। হ্যাকারকে খুব শিগগিরই আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে ম্যাডোনা বলেন, যে আমার ইমেজের ক্ষতি করেছে তাকে এমনিতে ছেড়ে দিচ্ছি না। এ কারণেই আইনি প্রক্রিয়ায় গিয়েছি আমি। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোয়েন্দাও নিয়োগ করেছি। কারণ, এর শেষ দেখতে চাই আমি। এর পর থেকে যেন কোন তারকার মোবাইল-ল্যাপটপ কেউ হ্যাক করার সাহস না পায়, সেটাই শুধু চাই।

পাকিস্তানে আরেকটি নৃশংস হামলার পরিকল্পনা

(পেশোয়ারের স্কুলে হামলার পর পাকিস্তানে জঙ্গিবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে দেশটির সরকার। ইতিমধ্যে কয়েকজন জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ছবি: রয়টার্স) পাকিস্তানে আরেকটি নৃশংস হামলার পরিকল্পনা করছে জঙ্গিরা। গোয়েন্দারা এমন তথ্য পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খানের দাবি, ‘আমরা সারা দেশ থেকে গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছি। এতে দেখা গেছে, জঙ্গিরা আরেকটি নৃশংস ও অমানবিক পাল্টা-হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুলে ১৬ ডিসেম্বর হামলা চালায় তালেবান। এতে ১৩২ জন স্কুলশিশুসহ ১৪১ জন নিহত হয়। ওই হামলায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
গতকাল রোববার বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ও সংখ্যা প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খান দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা পেশোয়ারের হামলায় সহায়তা করেছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পেশোয়ারের স্কুলে হামলার পর দেশটিতে জঙ্গিবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে সরকার। ইতিমধ্যে কয়েকজন জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

চলচ্চিত্রে আসছেন প্রভা

বেশ কিছুদিন ধরেই মডেল-অভিনেত্রী প্রভা চলচ্চিত্রে আসছেন- এমন সংবাদ প্রকাশ হয়ে আসছে। তবে বিষয়টি সত্যি নয় বলে দাবি করেছেন তিনি। অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার চলচ্চিত্রে নাম লেখাতে চলেছেন ছোট পর্দার আলোচিত এই অভিনেত্রী। সবকিছু ঠিক থাকলে সাইমন তারিকের পরিচালনায় ‘ক্রাইম রোড’ ছবিতে অভিনয় করবেন তিনি। অবশ্য এখনও চিত্রনাট্য না পড়তে পারায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি প্রভা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি এখনও ছবিটির গল্প সম্পর্কে অবগত নই। গল্পটি যদি ভাল লাগে তবে শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবো। এদিকে নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩১শে ডিসেম্বর ছবিটির মহরত হতে যাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত না হওয়ার আগে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি নন প্রভা।
উল্লেখ্য, মডেলিংয়ের মধ্য দিয়ে মিডিয়ায় ক্যারিয়ার শুরু হয় তার। এরপর একাধারে নাটক ও টেলিছবিতে অভিনয় করে ব্যাপক দর্শক প্রশংসা কুড়িয়েছেন প্রভা। এর মাঝে নানা কারণে মিডিয়া থেকে দূরে থাকলেও এক বছরের বেশি সময় ধরে আবারও নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে একাধিক ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি খ- নাটকে কাজও করার কথা রয়েছে তার।

পল-জিন দম্পতির ৩৪ ছেলে-মেয়ে

দুই সন্তানের নিউক্লিয়াস পরিবার নিয়েই হিমসিম খান অনেক বাবা-মা। সেখানে কল্পনা করুন তো এক পরিবারেই ৩৪ জন ছেলে-মেয়ে? অনেকেই হয়তো আঁতকে উঠবেন। কিন্তু পল আর জিন ব্রিগস কিন্তু খুবই সুখী তাদের বিরাট পরিবার নিয়ে। আর ব্যাপারটা এখানেই থেমে থাকছে না। আরও সন্তান নেয়ার পরিকল্পনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েষ্ট ভার্জিনিয়ার এই দম্পতি। ৩৪ জন ছেলে-মেয়ে নিয়ে পল এবং জিন ব্রিগসের যে বিশাল সংসার, তার মধ্যে ২৯ জনকে তারা দত্তক নিয়েছেন বিভিন্ন সময়ে, বাকী পাঁচজনের বায়োলজিক্যাল বাবা-মা তারা নিজেরাই। ১৯৮৫ সালে য় দু বছর বয়সী এক শিশুর ছবি দেখে থমকে দাঁড়ান জিন। অন্ধ শিশুটি তখন মেক্সিকোর এক অনাথ আশ্রমে। ভয়ংকরভাবে মারধোর করা হয়েছিল শিশুটিকে। তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিলেন স্বামী-স্ত্রী, এই শিশুকে তারা দত্তক নেবেন। সেই শিশু আব্রাহাম এখন ৩১ বছরের যুবক। আর গত ২৯ বছর ধরে জিন আর পলের সংসারে যুক্ত হয়েছে আরও অনেক নতুন মুখ। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে শিশুদের দত্তক নিয়েছেন তারা। রাশিয়া, ইউক্রেন, ঘানা, বুলগেরিয়া। সাদা-কালো, নানা বর্ণের শিশুরা এক সঙ্গে এক ছাদের নীচে বেড়ে উঠছে।
কিভাবে সামলান তারা এত বড় সংসার। অনেকের মনে হতে পারে সেখানে বুঝি সারাক্ষণ একটা বিশৃঙ্খলা এবং দক্ষযজ্ঞ চলছে। কিন্তু ব্যাপারটা তা নয়। ৩৪ জন ছেলে-মেয়েকে একটা নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যেই রেখেছেন তারা।তবে এত ছেলে-মেয়েকে জায়গা দিতে গিয়ে বাড়ীটাকে অনেক বড় করতে হয়েছে। মোট নয়টি বেডরুম তাদের বাড়ীতে। কোন কোন বেডরুম আদতে একেকটি ডরমিটরির মতো, সারি সারি শয্যা পাতা। পুরো বাড়ীর আয়তন পাঁচ হাজার বর্গফুট।
এত বড় সংসার টানার খরচও কম নয়। প্রতি সপ্তাহের বাজার খরচই হাজার ডলারের উপরে।
কিন্তু এত ছেলে-মেয়েকে স্কুলে আনা-নেয়ার ব্যবস্থা কি? সেই ঝামেলায় জাননি পল-জিন দম্পতি। বাড়ীর মধ্যেই বসিয়েছেন স্কুল। সেখানে নিজেরাই তাদের পড়ান।
বাড়ীতে নিয়মের কড়াকড়ি। ঠিক সকাল সাতটা থেকে সাড়ে সাতটার মধ্যে সবাইকে উঠতে হবে। তারপর ব্রেকফাষ্ট। এরপর সকাল নয়টায় স্কুলের পাঠ শুরু।
ঘরের স্কুলে পড়েই তাদের অনেক ছেলে-মেয়ে ইউনিভার্সিটির দরোজা টপকেছে।
অনেকে ভাবতে পারেন, এত কিছুর পর হয়তো এই দম্পতির হাঁপিয়ে উঠার কথা। মোটেই তা নয়। তারা এখন উজবেকিস্তান থেকে দত্তক নেয়া আরও দুই শিশুকে অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
- বিবিসি বাংলা

সাতক্ষীরা-কালীগঞ্জ সড়ক- বড় বড় গর্তের কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা

(সাতক্ষীরা-কালীগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পারুলিয়া এলাকা থেকে সম্প্রতি তোলা ছবি l প্রথম আলো) সংস্কার না করার কারণে সাতক্ষীরা-কালীগঞ্জ সড়কের অসংখ্য স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সড়কের পাশের মাটি সরে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। ঘটছে দুর্ঘটনা। সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলা শহর থেকে কালীগঞ্জ উপজেলা সদরের দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। সর্বশেষ ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে সড়কটিতে নতুন করে কাজ করা হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা-কালীগঞ্জ সড়কের শহরের বাঙ্গালের মোড়, ইটেগাছা, বাঁকাল, কুলিয়া, পারুলিয়া, চাঁদপুর, গাজীরহাট, হাদীপুরের অনেক স্থানের পিচ ও খোয়া উঠে গেছে। আবার অনেক স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের পাশের অনেক স্থানের মাটি সরে গেছে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। গত সোমবার দুপুরে চাঁদপুর এলাকার সড়কের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া গর্তে পড়ে একটি মাছের খাদ্যবোঝাই ট্রলি উল্টে যায়। উল্টে যাওয়া ট্রলির চালক জাহিদ হাসান জানান, সড়ক খারাপ হওয়ায় ৫০০ টাকার ভাড়া খাটতে কখনো কখনো গাড়ি নষ্ট হয়ে আরও বেশি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
ট্রাকচালক রকিব হোসেন বলেন, ৩৫ কিলোমিটার সড়কের কমপক্ষে ২০ কিলোমিটার সড়কে পিচ ও খোয়া উঠে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সাতক্ষীরা থেকে মালামাল নিয়ে কালীগঞ্জ ও শ্যামনগরের দিকে গেলে গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়।
এ ছাড়া সড়কের পাশে মাটি না থাকায় অন্য গাড়িকে জায়গা (সাইড) দেওয়া যায় না। ফলে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এ সড়কে পণ্য বহন করতে গেলে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হয়। যাত্রীবাহী বাসচালক আবদুর রহমান বলেন, এ সড়ক পার হতে ৪০ মিনিটের জায়গায় সময় লাগে সোয়া এক ঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টা।
দেবহাটা উপজেলার দেবীশহরের ব্যবসায়ী আনন্দ রায় বলেন, প্রায় প্রতিদিন তিনি দেবী শহর থেকে সাতক্ষীরা যান। সড়কের এ অবস্থার কারণে রাস্তার মধ্যে অনেক সময় বাস নষ্ট হয়ে যায়। আর ঝাঁকিতে শরীরও ব্যথা হয়।
ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলচালক মনোরঞ্জন কর বলেন, গত শুক্রবার তাঁর মোটরসাইকেল থেকে পড়ে কালীগঞ্জ উপজেলার ঘুষড়ি গ্রামের হরিপদ মণ্ডল আহত হন।
সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আলী নূরায়েন বলেন, সড়কটি পুরোপুরি নতুন করে করতে হলে ৬০ কোটি টাকা প্রয়োজন। বরাদ্দ না থাকায় অনেক দিন মেরামত করা যায়নি। প্রায় এক কোটি টাকা চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে যেসব জায়গা খুব খারাপ এমন সাত কিলোমিটার সড়ক মেরামতের জন্য দ্রুত দরপত্র আহ্বান করা হবে।

সুন্দরবন পরিদর্শনে বিএনপির তদন্ত কমিটি

সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে গেছেন বিএনপির তদন্ত টিম। আজ সকাল ৬টায় সুন্দরবনের উদ্দেশে রাজধানী ছেড়ে যান তারা। ওই টিম ট্যাঙ্কারের তেল ছড়িয়ে পড়ায় সুন্দরবনের বিপর্যয় ও জীব-বৈচিত্র্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করবেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান মানবজমিন অনলাইনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, গত ২০শে ডিসেম্বরর  বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত টিম করে বিএনপি।  ওই কমিটিকে আগামী ২৫শে ডিসেম্বরের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির বাকি সদস্যরা হলেনÑ খুলনার মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা জেলা বিএনপির সেক্রেটারি শফিকুল আলম মনা, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুস সালাম, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. ফরিদুল আলম ও পরিবেশ সাংবাদিকদের নেতা কামরুল হাসান। উল্লেখ্য, ৯ই ডিসেম্বর মঙ্গলবার ভোরে সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী একটি ট্যাঙ্কার ডুবে যায়। এতে সাড়ে তিন লাখ লিটারের বেশি ফার্নেস অয়েল ছড়িয়ে পড়ে।

রাজউক ভবনে আগুন

রাজধানী উন্নয়ন কর্তপক্ষ (রাজউক) ভবনে আজ ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে। সকাল ১১টায় রাজউকের কেন্টিন থেকে এ আগুনের সূত্রপাত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকট শব্দে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরনের পরপরই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট।

ইসরাইলি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সিরিয়ার

ইসরাইলের দখলকৃত গোলান হাইটস অঞ্চলের কাছে সিরিয়ার কুনেইত্রা প্রদেশে ইসরাইলের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সিরিয়া। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হাদর গ্রামের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় ড্রোনটিকে ভূপাতিত করা হয়। তবে ড্রোনটি গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে নাকি এটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সিরিয়ায় প্রায় ৪ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের প্রথম থেকেই ইসরাইল বেশ কয়েকবার সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে। 
অধিকাংশ হামলাগুলোতেই মিসাইলের মতো গোলাবারুদ ও অস্ত্রশস্ত্র ধ্বংস করার দাবি করেছেন ইসরাইলি কর্মকর্তারা। ইসরাইলের দাবি, এ অস্ত্রগুলো প্রতিবেশী রাষ্ট্র লেবাননে ফিলিস্তিনি যোদ্ধা সংগঠন ও ইসরাইলের দীর্ঘদিনের শত্রু হিজবুল্লাহর হাতে চলে যেতো। গত সপ্তাহে সিরিয়ার পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশটির রাজধানী দামেস্কের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও লেবাননের সীমান্ত-সংলগ্ন দিমাস শহরতলিতে ইসরাইলি জেট বোমা হামলা চালিয়েছে। কুনেইত্রা অঞ্চলে এর আগে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের তুমুল লড়াই হয়েছে। বিদ্রোহীদের সঙ্গে শীর্ষ জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত জঙ্গি সদস্যরাও রয়েছে।

পুলিশের গুলিতে ডাকাত নিহত

ডাকাতি করতে গিয়ে মাগুরায় পুলিশের গুলিতে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। এর আগে ডাকাত দলের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে তিনজন পুলিশ আহত হয়েছে। নিহতের নাম উজ্জ্বণল হোসেন (৩২)। আজ ভোরে মাগুরা সদর উপজেলার মাগুরা-নড়াইল সড়কের মান্দারতলা এলাকায় ওই বন্দুকযুদ্ধ হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাত ৩টার দিকে টহলরত একদল পুলিশ মাগুরা-নড়াইল সড়কের মান্দারতলা এলাকায় টহলে যায়। এসময় একদল ডাকাত গাছ কেটে রাস্তায় বেরিকেড দিয়ে পুলিশের গাড়িকে আটকায়। এতে পুলিশ সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে উজ্জ্বল হোসেন নামে এক ডাকাত আহত হয়। টের পেয়ে গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে এসে ধাওয়া করলে অন্য ডাকাতরা পালিয়ে যায়। পরে আহত উজ্জ্বলকে উদ্ধার করে মাগুরা সরকারি হাসপাতালে আনা হলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও ৫৫ জঙ্গিকে ফাঁসি দেবে পাকিস্তান

পাকিস্তানে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ৫৫ জঙ্গির ফাঁসির রায় কার্যকর করবে পাকিস্তান। প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসেইন সম্প্রতি তাদের ক্ষমাভিক্ষার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ওই জঙ্গিদের ফাঁসি কার্যকর করা হবে। এর আগেও দোষী সাব্যস্ত ৫৫ জঙ্গি ক্ষমাভিক্ষার আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু, আন্তর্জাতিক চাপের আশঙ্কায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি তাদের বিরুদ্ধে কোন সিদ্ধান্ত নেননি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। গতকাল রাতে ফয়সালাবাদের জেলা কারাগারে ৪ জঙ্গির মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়। সাবেক স্বৈরশাসক জেনারেল (অব.) পারভেজ মোশাররফকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তারা। কয়েক বছর আগে সামরিক আদালতে মৃত্যুদ-ের রায় দেয়ার পর জুবাইর আহমেদ, রশিদ কুরেশী, গোলাম সারোয়ার ভাট্টি ও আখলাক আহমেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয় গতকাল। গত ১৬ই ডিসেম্বর পেশোয়ারে সেনা পরিচালিত স্কুলে তালেবান জঙ্গিদের হামলায় ১৩২ স্কুলশিশুসহ ১৪৫ জনের নিহত হওয়ার পর মৃত্যুদ- কার্যকরের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়। বর্বরোচিত ওই হত্যাযজ্ঞের ৩ দিন পর দুই জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। পাকিস্তানে গত ৬ বছরে জঙ্গি কর্মকা-সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কমপক্ষে ৮,০০০ মৃত্যুদ-ের রায় দেয়া হয়। কিন্তু, নিষেধাজ্ঞার কারণে রায়গুলো কার্যকর করা হয়নি। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় প্রাণভিক্ষা আবেদনের প্রেক্ষিতে সেগুলো বিবেচনা করার ক্ষেত্রে সরকারের কোন বাধা থাকবে না।

মিসরের বিলুপ্ত পার্লামেন্টের অধিবেশন তুরস্কে

মিসরের ২০১২ সালের বিলুপ্ত পার্লামেন্টকে বৈধ হিসেবে দাবি করে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অধিবেশন করেছে মুসলিম ব্রাদারহুড শনিবার ওই অধিবেশনে অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনে পূর্বের বহু সদস্য অংশ নিয়েছেন। তারা বলেছেন, এ অধিবেশনের মাধ্যমে পার্লামেন্টের কার্যক্রম নতুন করে শুরু হল এবং মিসরের সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত ইস্তাম্বুলেই পার্লামেন্টের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তারা জোর দিয়ে বলেন, মিসরের বর্তমান সরকার অবৈধ এবং তারা যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সেগুলোরও কোনো মূল্য নেই। মিসরের সর্বোচ্চ সামরিক পরিষদ ২০১২ সালে দেশটির সংসদের নিুকক্ষ এবং ২০১৩ সালে উচ্চকক্ষ ভেঙে দেয়। কিন্তু ওই পার্লামেন্টের সদস্যরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ কারণে তারা এখন তাদের বৈধ এমপি হিসেবে মনে করেন।
মিসরকে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ হেলিকপ্টার : মিসরকে সামরিক সহায়তা দেয়ার ওপর স্থগিতাবস্থা আংশিকভাবে তুলে নেয়ার পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিসরকে ১০টি অ্যাপাশে হেলিকপ্টার দিয়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা এ কথা জানান। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি মিসরের নতুন নেতৃত্বকে সিনাই উপদ্বীপে সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানে সহায়তার জন্য শিগগির এসব বিমান পাঠানোর প্রতিশ্র“তি দিয়ে আসছিলেন। এক মার্কিন কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে বিমানগুলো ওখানে পৌঁছেছে।

গুয়ান্তানামো থেকে চার আফগানকে দেশে ফেরত

বিশ্বের কুখ্যাত গুয়ান্তানামো বে কারাগারে আটক আফগানিস্তানের চার বন্দিকে দেশে পাঠানো হয়েছে। পেন্টাগনের বরাত দিয়ে রোববার এ খবর জানিয়েছে বিবিসি। কিউবার ওই মার্কিন কারাগারে সবমিলিয়ে আট আফগান নাগরিক বন্দি ছিলেন। তাদের মধ্য থেকে শনিবার ওই চারজন ছাড়া পেয়েছেন। এরা হলেন শাওয়ালি খান, খি আলি গুল, আবদুল গনি এবং মোহাম্মদ জহির। কোনো রকম অভিযোগ গঠন করা ছাড়াই মার্কিন কর্তৃপক্ষ গত দশ বছরের বেশি সময় ধরে তাদের গুয়ান্তানামোতে আটকে রেখেছিলেন। তাদের সম্পর্কে শনিবার পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ছয়টি দফতর এবং টাস্কফোর্স নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখার পর তাদের মুক্তি দেয়া হয়েছে। শনিবার এক মার্কিন সামরিক বিমানে করে ওই চারজন কাবুল পৌঁছেছেন। তাদের আফগান কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। আফগানিস্তানের এক সরকারি সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই এই চার ব্যক্তি তাদের পরিবারের সঙ্গে মিলিত হবেন। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ২০০২ সালে গুয়ান্তানামো বে কারাগারটি তৈরি করে। এখানে বর্তমানে বিভিন্ন দেশের ১৩২ জন আটক রয়েছেন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই কারাগারটি বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর ৬৪ জনকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। চলতি মাসে দশজনকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এদের ছয়জনকে উরুগুয়ে এবং বাকি চারজনকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৭ : আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে শিশুসহ কমপক্ষে সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে। বোমাটি একটি গাড়িতে আঘাত হানলে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। চলতি বছরে এ ধরনের হামলার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি লোক হতাহত হয়। রোববার কর্মকর্তারা এ কথা জানান। আসাদাবাদ থেকে একটি পিক-আপ ট্রাক পাকিস্তান সীমান্তবর্তী নরি জেলায় যাওয়ার সময় বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে।

কিউবা সমাজতন্ত্র ছাড়বে না: রাউল কাস্ত্রো

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলা শুরু হলেও কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো বলেছেন, কিউবা সমাজতন্ত্র থেকে সরে আসবে না। হাভানা তার রাজনৈতিক ব্যবস্থা পাল্টাবে না। গত শনিবার পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, কিউবাও কখনো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা পাল্টানোর কথা বলবে না। খবর আল-জাজিরা ও বিবিসির।
পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, কিউবার প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্য কার্যত মার্কিন প্রেসিডেন্টের বার্ষিক সমাপনী সংবাদ সম্মেলনেরই জবাব। গত শুক্রবার বারাক ওবামা ওই সংবাদ সম্মেলনে কিউবার জনগণের সঙ্গে মার্কিন জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা চাওয়ার প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করেন। ওবামা আরও বলেন, মার্কিন জনগণ কিউবার একদলীয় ব্যবস্থা ও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পিত অর্থনীতির সংস্কারকে উৎসাহিত করে।
রাউল কাস্ত্রো জাতীয় পরিষদে দেওয়া ভাষণে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিস্তৃতভাবে নানা বিষয়ে খোলাখুলি আলোচনা করতে তিনি প্রস্তুত আছেন। কিন্তু সমাজতন্ত্রের মূলনীতি থেকে সরে আসবেন না। তিনি বলেন, ‘আমরাও মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থা পাল্টাতে বলব না। আসলে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা থাকবে—এটাই আমাদের দাবি।’
কিউবার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউল বলেন, মার্কিন বাণিজ্য অবরোধের কারণে তাঁর দেশ ‘দীর্ঘ সময় ধরে কঠিন সংগ্রাম করছে’। রাউল জানান, আগামী এপ্রিলে পানামায় অনুষ্ঠেয় আমেরিকা মহাদেশের দেশগুলোর সম্মেলন ‘সামিট অব দি আমেরিকাস’-এ যোগ দেবেন। সেখানে প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে তাঁর বৈঠকও হতে পারে।
কিউবা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনঃস্থাপন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামী মাসেই মার্কিন কর্মকর্তাদের হাভানা সফর করার কথা রয়েছে। বার্ষিক সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে ওবামা বলেন, আগামী মাসগুলোতে কিউবার সঙ্গে আলোচনায় তাঁর সরকার মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকারের মতো ইস্যুগুলোকে প্রাধান্য দেবে। ওবামা কিউবার ওপর থেকে দীর্ঘদিনের কঠিন মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অঙ্গীকার করেছেন। তবে এ জন্য তাঁকে বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে থাকা মার্কিন কংগ্রেস থেকে অনুমোদন নিতে হবে।
গত বুধবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক ভাষণে ওবামা কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পদক্ষেপ নেওয়ার আকস্মিক ঘোষণা দেন। কিউবায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব হওয়ার পর ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের স্বাভাবিক সম্পর্ক নেই।

যুদ্ধাপরাধ মামলায় সাবেক মন্ত্রী কায়সারের রায় কাল

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামীকাল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। বেলা ১১টা ১৪ মিনিটে এজলাসে উঠে এ ঘোষণা দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। গত ২০ আগস্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ায় রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন ট্রাইব্যুনাল। সেদিন মামলার সর্বশেষ ধাপ যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষ হওয়ায় যেকোনো দিন রায় দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। জামিনে থাকা কায়সারের জামিন বাতিল করে সেদিন তাকে কারাগারেও পাঠিয়ে দেন ট্রাইব্যুনাল। গত ২ ফেব্রুয়ারি সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। কায়সারকে গণহত্যার একটি, হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ১৩টি এবং ধর্ষণের দুটিসহ মোট ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মায়ের মৃত্যুর তিনমাস পর শিশুর জন্ম!

ইতালির মিলানে মায়ের মৃত্যুর তিনমাস পর এক সন্তানের জন্ম হয়েছে। ডেইলি মেইল জানায়, মায়ের মৃত্যু হয়েছিল তিনমাস আগে। তবে বাচ্চা বেঁচে ছিল মায়ের গর্ভে। অবশেষে ১৯ ডিসেম্বর সেই বাচ্চার জন্ম হয়। বাচ্চাটি সুস্থ আছে বলেই জানিয়েছে চিকিৎসকরা। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ নিয়ে মিলানের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ওই শিশুটির মা। তবে দিন কয়েকের মধ্যে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে ওই নারী তখন ৬ মাসের গর্ভবতী। মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তার বাকি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্বাভাবিক ছিল। ফলে চিকিৎসকরা ওই নারীকে লাইফ সাপোর্টে প্রায় তিনমাস বাঁচিয়ে রাখে। ১৯ ডিসেম্বর অস্ত্রোপচারের পর বাচ্চাটির জন্ম হয়।
এক চিকিৎসক জানান, ‘এটা আমাদের জন্য আনন্দের দিন। কিন্তু শিশুটির মায়ের পরিবারের জন্য আমরা খুবই দুঃখিত।’ এর আগে ১৯৯৩ সালে এমন একটি ঘটনা ঘটে ক্যালিফোর্নিয়ায়। ডাকাতদের গুলিতে মারা যান এক নারী। তখন তিনি ১৭ সপ্তাহের গর্ভবতী ছিলেন। ওই সময়ও চিকিৎসকরা ওই নারীকে লাইফ সাপোর্টে রেখে বাচ্চাটিকে বাঁচিয়ে দেন।

ন্যায়যুদ্ধের নীতি by ফরহাদ মজহার

পেশোয়ারে একটি মিলিটারি স্কুলে পাকিস্তানি তালেবানদের হামলা আমাকে স্তম্ভিত ও শোকার্ত করেছে। এই বিষয়েই আজ কয়েকটি কথা বলব।  ২০১০ সালের ১৮ অক্টোবর মার্কিন ড্রোন হামলায় ১০ বছরের বালক নাসিমুল্লার বুকে প্রাণঘাতী লোহার টুকরা শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। শান্তিতে ঘুমিয়ে থাকা মৃত নাসিমুল্লার ছবিটি ইন্টারনেটে দেখেছিলাম। সেটা এখনও গেঁথে আছে। উত্তর ওয়াজারিস্তানের ফাতিমা। তার বয়সও ৮ থেকে ১০-এর বেশি হবে না। একুশে মে ২০১০ সালে ড্রোন হামলায় নিহত তার ছবিও মনে আছে। মনে আছে অনেকের ছবি। যাদের ইন্টারনেটের বদৌলতে দেখেছি। দেখছি।
যারা মার্কিন ড্রোন হামলায় হতাহতের পরিসংখ্যান জানেন না, তারা ইন্টারনেটে The Bureau of Investigative Journalism-এ ঢুঁ মেরে আসতে পারেন। তাদের একটি পরিসংখ্যান দিচ্ছি।  ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে পাকিস্তানে সিআইএ পরিচালিত ড্রোন হামলা হয়েছে ৪০৫টি, তার মধ্যে ওবামার সময়ে হয়েছে ৩৫৪টি। হত্যা করা হয়েছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৮৮৮ জন মানুষ। এদের মধ্যে বেসামরিক লোক হচ্ছে ৪১৬ থেকে ৯৫৯ জন। শিশুদের সংখ্যা ১৬৮ থেকে ২০৪ জন। আর শিশুসহ আহতের সংখ্যা ১ হাজার ১৩৩ থেকে ১ হাজার ৭০৬ জন।
সন্ত্রাস দমনের নামে একটি জনগোষ্ঠীর ওপর যখন সামরিক হামলা চলে, কিংবা ড্রোন বিমানে মৃত্যুর পরোয়ানা পাঠানো হয় তখন বেসামরিক মানুষগুলো নিহত হলেও সেটা অফিসিয়াল গণনায় আসে না। সেটা কোলেটারাল ডেমেজ। গণমাধ্যমও তা আড়াল করে। এই ধরনের হামলায় কতজন শিশু মরল তাদের নাম, ঠিকানা, চেহারা, ছবি তো দূরে থাকুক সংখ্যা হিসেবেও তারা গণ্য হয় না। এর নামই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধ। একটি জনগোষ্ঠীকে নির্বিচারে হত্যা করতে চাইলে তাদের একটা খারাপ নাম দিতে হবে। সেই নামটা হচ্ছে জঙ্গি। তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নাম হচ্ছে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। সেই জঙ্গিদের হত্যা করতে গিয়ে তাদের বেসামরিক নারী বা পুরুষ যদি মারা যায় সেটা বিবেচনায় নেয়া যাবে না। এমনকি শিশুরাও না। সেই যুদ্ধ কোনো নিয়ম-কানুন মেনে চলে না। প্রতিপক্ষ সেখানে নিছকই এনিমি কম্ব্যাটেন্ট, তার কোনো আইনি সত্তা নেই। তার অধিকার রক্ষার কোনো আন্তর্জাতিক আইন নেই। তারা যেহেতু আইনের বাইরে অতএব তাদের হত্যা আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলেও বিবেচিত হয় না। তারা সন্ত্রাসী। যে কোনো ছুতায় তাদের হত্যা করা যায়। কিন্তু তারা যখন পাল্টা আঘাত করে তখন আমাদের নীতি-নৈতিকতা, আবেগ, আইন, সামরিক বাহাদুরি, পাল্টা হত্যার তৃষ্ণা নিমিষে উথলে ওঠে। এই বিশ্বব্যবস্থার মধ্যে আমরা বাস করছি।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী পাকিস্তানি তালেবানদের দমন করার জন্য যার্ব-এ আযাব অপারেশন শুরু করেছে অনেক আগে। উর্দু ভাষা। তীক্ষè ও নিখুঁতভাবে হত্যার জন্য তরবারির আঘাত। এই অপারেশন শুরু করার পর থেকে ভাবছিলাম কত নাসিমুল্লাহ আর ফাতিমার লাশ কোথায় কিভাবে নিষ্পন্দ হয়ে পড়ে আছে কে জানে। কিভাবে সাধারণ মানুষ বোমার হামলা থেকে রক্ষা পাবে? মৃত্যু ছাড়া অনেকেরই অন্য কোনো গতি আছে কিনা সন্দেহ। আল জাজিরার একটি ভিডিওতে দেখলাম ওয়াজারিস্তানের সাধারণ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে আফগানিস্তানে ছুটছে। অর্থাৎ বোমা কে জঙ্গি আর কে জঙ্গি নয়, সেটা আইডেন্টিটি কার্ড দেখে দেখে মারে না। একটি এলাকায় বোমা বর্ষিত হয়, সেনাবাহিনী দাবি করে সেখানে জঙ্গিরা আছে। এতে বসতবাড়ি ও জনপদ বিধ্বস্ত হয়, মারা পড়ে নিরীহ বেসামরিক মানুষ। ফাতিমা ও নাসিমুল্লারা শহীদ হয়। উত্তর ওয়াজিরিস্তান একটি জঙ্গি উপদ্রুত এলাকা, অতএব এখানে বোমা নির্বিচারে মারার বিপক্ষে বিশেষ কোনো যুক্তি নেই। যদি একাত্তর সাল আমরা মনে রাখি তো এটাও মনে রাখতে হবে, আমরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অপারেশনের কথা বলছি।
ওয়াজিরিস্তানে শিশুরা কে কোথায় কিভাবে মরছে কে তার খবর করবে? ইন্টারনেটে সেসব ছবি আসবে না। কারণ যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার সঠিক খবর পাওয়া প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে যুদ্ধনীতির অংশ হিসেবে উত্তর ওয়াজিরিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অপারেশনের সুসংবাদগুলো ছাপা হচ্ছিল গণমাধ্যমে ক্রমাগত। অর্থাৎ কয়জন জঙ্গি কোথায় কিভাবে মরেছে, কিভাবে তাদের বিরুদ্ধে বিমান হামলার বাহাদুরি দিয়ে হত্যা করা হল তার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। অপারেশন শুরু করার পর থেকে আজ অবধি কত বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে তার কোনো খবর গণমাধ্যমে আসেনি। শুধু কতজন তালেবানকে হত্যা করা হয়েছে সেই খবরই জানানো হচ্ছিল।
যার্ব-এ আযাব অপারেশন শুরু হয়েছিল জুন মাসের ১৫ তারিখে। সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, পেশোয়ারের সামরিক স্কুলে পাকিস্তানি তালেবানদের আক্রমণের আগে পর্যন্ত ১ হাজার ২৭০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। ১৫ জুন ২০১৪ থেকে শুরু হওয়া অপারেশান যার্ব-এ-আযাব-এ পাকিস্তানি মিলিটারি ওয়াজিরিস্তানে ১ হাজার ২৭০ জনকে হত্যা করেছে। এই খবর আল জাজিরা থেকে জেনেছি। কিন্তু কত বেসামরিক মানুষ মারা গেছে জানা যায়নি। কতজন শিশু তারও কোনো পরিসংখ্যান নেই। পেশোয়ারে সামরিক স্কুলের হামলার পরই কেবল ওয়াজিরিস্তানের হত্যার সংখ্যাটা জানা গেল। ফেসবুকে মোতাসিম বিল্লাহ তিশাদ এই প্রসঙ্গে খুবই মর্মঘাতী মন্তব্য করেছেন, যা এখানে উদ্ধৃত করার তাগিদ সামলাতে পারছি না। তিনি লিখেছেন- মুদ্রার একদিক থেকে যদি দেখি তাহলে পেশোয়ারের মিলিটারি স্কুলে পাকিস্তানি তালেবানদের হামলায় কমপক্ষে ১৩২ জন বাচ্চাসহ ১৪১ জন নিহত হয়েছে। এই খবর আমরা সঙ্গে সঙ্গেই জেনেছি। কিন্তু ১৫ জুন ২০১৪ থেকে অপারেশন যার্ব-এ আযাব ওয়াজিরিস্তানে ১ হাজার ২৭০ জন হত্যা করেছে, আর সেটা ঘটে আসছে ছয় মাস ধরে। অথচ এই পরের হত্যার খবরটা আমাদের কাছে পৌঁছাল একই সময়ে। আগে নয়। যখন অপারেশন চলছিল তখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কিভাবে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সাধারণ মানুষ হত্যা করছিল তার কোনো খবর আমরা জানি না। তার কোনো পরিসংখ্যানই ছিল না। মোতাসিম বিল্লাহ তিশাদ প্রশ্ন করছেন, একটু কি কষ্ট হচ্ছে যে, কেন এই ১ হাজার ২৭০ জনের খবর আমাদের কাছে পৌঁছাতে, সেটা বন্ধের দাবি জানাতে এই ১৩২টি বাচ্চাকে মরতে হল? অর্থাৎ পেশোয়ারের সামরিক স্কুলে পাকিস্তানি তালেবানদের এই হামলা না হলে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে কত মানুষ হত্যা করা হয়েছে তা আমরা জানতাম কিনা সন্দেহ।
আমি নিশ্চিত খুব মানুষই আমরা পাব পেশোয়ারের স্কুলে পাকিস্তানি তালেবানদের হামলাকে নৈতিক জায়গা থেকে মেনে নিতে সক্ষম হবেন। আমি নিজে স্তম্ভিত হয়েছি, মারাত্মক কষ্ট পেয়েছি ও শোকার্ত হয়েছি। মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহতদের জন্য যে কষ্ট পাই, কোনো অংশে এই ক্ষেত্রেও বেদনার মাত্রা কম নয়। কেউই এই ধরনের সফট টারগেটকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করাকে নৈতিক জায়গা থেকে সমর্থন করবেন না।
কিন্তু এটা ভুলে যাই যে, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী একটি যুদ্ধ চালাচ্ছে, এর শিকার শুধু তথাকথিত জঙ্গিরা নয়। বেসামরিক জনগণও। তাদের মধ্যে শিশু ও বাচ্চারাও আছে। পেশোয়ারে স্কুলের বাচ্চাদের চেয়ে তারা ভিন্ন কিছু নয়। কিন্তু তাদের খবর আমরা জানি না। অন্যদিকে জঙ্গিদের হত্যা করার জন্য জঙ্গি এলাকায় ড্রোন হামলা কিংবা বিমান হামলাকে আমরা নৈতিক জায়গা থেকেই তো আবার জায়েজ মনে করি। ওয়াজিরিস্তানে সাধারণ মানুষসহ শিশুরাও মরছে, তার জন্য আমাদের কোনো নৈতিক সংবেদনা নেই। আফটার অল তারা জঙ্গি এবং তাদের বাচ্চারাও জঙ্গিদেরই বাচ্চা। জঙ্গির বাচ্চা জঙ্গি হয়, তাদের তো মরতেই হবে। তাই না?
যদি আসলেই আমরা সত্যিকারের উদার কিংবা নৈতিকতার জায়গা থেকে পেশোয়ারের মিলিটারি স্কুলের হামলাকে নিন্দা করতে চাই, তাহলে অবশ্যই উভয়কেই আমাদের নিন্দা করা কর্তব্য হয়ে ওঠে। ওয়াজিরিস্তানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযান ও বিমানহামলার প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে শুধু পেশোয়ারের মিলিটারি স্কুলে পাকিস্তানি তালেবানদের হামলাকে আমরা নৈতিক অবস্থান বলতে পারি না। সেটা হবে নৈতিকতার আড়ালে ওয়াজিরিস্তানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযানের পক্ষে জনমত তৈরির ভলান্টিয়ার হওয়া।
কিন্তু তারপরও তর্ক থেকে যায়। কারণ, নৈতিকতার কথা যদি বলি তাহলে সেটা কার নৈতিকতা? কোন পক্ষের? দ্বিতীয়ত আমরা একটি যুদ্ধ পরিস্থিতির বিচার করছি। এই পরিস্থিতিতে নৈতিকতার মানদণ্ড তো একপক্ষীয় হলে হবে না। যুদ্ধাবস্থায় একপক্ষকে নৈতিকতার বয়ান মেনে চলার কথা বলা, আর অন্যপক্ষ তা লঙ্ঘন করলে সেই ক্ষেত্রে নীরব থাকা কোনো নীতি হতে পারে না। নৈতিকতা জরুরি, যুদ্ধাবস্থাতেও। কিন্তু কোনো পক্ষকে দায়মুক্তি দিয়ে নয়। জঙ্গি দমনের নামে ওয়াজিরিস্তানে হত্যাযজ্ঞ চালানোর লাইসেন্স দেয়া কোনো কাজের কথা হতে পারে না। যারা পেশোয়ারের মিলিটারি স্কুলে পাকিস্তানি তালেবানদের হামলার নিন্দা করছেন, আমি তাদের অবশ্যই নৈতিক দিক থেকে সমর্থন করি। কিন্তু তারা যখন ওয়াজিরিস্তানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যুদ্ধাভিযান সম্পর্কে নীরব থাকেন তখন বিস্মিত ও মর্মাহত হই। কারণ এই নীরবতা পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর জঙ্গি দমন নীতির নামে নির্বিচারে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার সমর্থন। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সমর্থন। সব নীতি-নৈতিকতা ভঙ্গ করে হত্যাযজ্ঞ চালানোর শামিল। একে মেনে নেয়া যায় না।
বলাবাহুল্য, তেহরিখে তালেবান পাকিস্তানের অফিসিয়াল মুখপাত্র মুহাম্মদ খুরাসানী পেশোয়ারে স্কুলে হামলার পক্ষে তাদের যুক্তি দিয়েছেন। এটা ছিল একটি মিলিটারি স্কুল। খোরাসানীর দাবি তালেবানরা সেখানে উপস্থিত আর্মি অফিসার এবং তাদের যুবক ছেলেদের হত্যা করে। এই যুবক ছেলেরাই ভবিষ্যতে তাদের পিতার পদে আসীন হয়ে, পাকিস্তানে সীমান্তবর্তী অসহায় গোত্র (ঋঅঞঅ এলাকার) এবং দেশজুড়ে পারিচালিত সেনা অভিযানে অংশ নিত। এ জন্যই তাদের গড়ে তোলা হচ্ছিল। আর্মি অফিসারদের ১৮ ও ২৫ বছরের যুবকদের ছবি দিয়ে তারা ক্যাপশন দিয়ে বলেছেন, আর্মি অফিসারদের ১৮ এবং ২৫ বছরের সন্তানরা মাসুম শিশু...!! কিন্তু সোয়াত ওয়াজিরিস্তানের মাসুম বাচ্চারা তবে সন্ত্রাসী কেন...?? তিনি এটাও জানিয়েছেন, এই অপারেশনে একজন কর্নেল, গোয়েন্দা সংস্থার কয়েক ডজন অফিসার, ২শরও বেশি সামরিক অফিসার এবং তাদের যুবক ছেলেরা নিহত হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন করেছেন, পাকিস্তানের নাপাক সৈন্যরা বিগত ৬ বছর ধরে, পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী গোত্রগুলোর ওপর যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে কত নিরপরাধ, অসহায় গরিব মুসলমান শহীদ করেছে, তার হিসাব কি কেউ রেখেছে? পাকিস্তানি সেনারা মুজাহিদদের বাপ-ভাইদের ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে শহীদ করে দেয়। এটা অহরহই ঘটছে। তারা মেরে ফেলার পর লাশগুলোও ফেরত দেয় না। অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ফেলে দেয়। চলতি বছরেই শুধু ৬শরও বেশি নিরপরাধ মানুষকে গুপ্তভাবে শহীদ করেছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এই নারকীয়তার প্রতিবাদ কেউ করে না। শুধু ২০১৪ সালেই ৬শরও বেশি নিরপরাধ মানুষ শহীদ হয়েছে। এই মজলুম শহীদদের অপরাধ কী ছিল তা কি কেউ কোনো দিন জানার চেষ্টা করেছিল? রাহে রাস্ত, রাহে নাজাত, শের দিল, যরবে আযব ও খায়বরসহ আরও বিভিন্ন নামে অসংখ্য অভিযান চালানো হয়েছে। প্রশ্ন : কত হাজার মুসলিমকে শহীদ এবং কত লাখ মুসলমানকে ঘরছাড়া করা হয়েছে তার হিসাব কি কেউ রেখেছে?
এরপর খুরাসানী বলেছেন, বেলুচিস্তান থেকে কাবায়েল পর্যন্ত ৫০ হাজারের চেয়েও বেশি নিখোঁজ মানুষের স্বজনরা আর কতদিন আর্তনাদ করে বেড়াবে? এই স্বজনহারা মানুষদের ব্যথা পাক জেনারেলরা তখনই বুঝবে, যখন তারাও তাদের স্বজনকে হারাবে।
তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান সরকার এবং গোয়েন্দা সংস্থাকে, এই ধরনের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ না চালাতে বারবারই নিষেধ করছিল। সরকারকে নিখোঁজদের লাশ হস্তান্তর করতে বলেছে, কিন্তু কোনো পক্ষই এসব আবেদনে কান দেয়নি। অতএব, তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান, সরকার এবং সেনাদের দ্বারা পরিচালিত পাশবিক হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে, বাধ্য হয়েই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। অর্থাৎ পেশোয়ারের কড়া সামরিক নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় সামরিক স্কুলে পাকিস্তানি তালেবানরা বাধ্য হয়ে এই হামলা চালিয়েছে। তালেবানের দাবি, আমরা সামরিক বাহিনী পরিচালিত স্কুল অ্যান্ড কলেজকে টার্গেট করেছি। আমরা শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের ওপরই হামলা করেছি।
তেহরিকে তালিবানের দাবি হচ্ছে :
১. তালেবানের বিরুদ্ধে অপারেশনের নাম দিয়ে ঋঅঞঅ এলাকার মুসলিমদের সন্তান হত্যা করা এই মুহূর্তে বন্ধ করতে হবে।
২. গোপন এজেন্সিগুলোর হাতে বন্দি মুজাহিদদের নিরপরাধ নিকট আত্মীয়-স্বজনদের নামে মিথ্যা অভিযোগ করে, তাদের হত্যা করার প্রক্রিয়া এই মুহূর্তে বন্ধ করতে হবে।
৩. মুজাহিদদের পরিবারভুক্ত নারীরা, যাদের নিরাপত্তা বাহিনী বন্দি করে রেখেছে তাদের এই মুহূর্তে ছেড়ে দিতে হবে।
মিলিটারি স্কুলে হামলার পক্ষে তেহরিকে তালেবান পাকিস্তানের মুহাম্মদ খুরাসানির বক্তব্য গ্রহণযোগ্য কিনা সেই বিচার আমি পাঠকদের ওপর ছেড়ে দিতে চাই। মন্দ দিয়ে মন্দ কাজকে জায়েজ করা যায় কিনা অনেকে সঙ্গত কারণে এই তর্ক তুলছেন। সেটা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ তর্কের বিষয়। কিন্তু একটি যুদ্ধ পরিস্থিতির বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে তাকে বিমূর্ত নৈতিক তর্কে পর্যবসিত করার কোনো সুযোগ নেই।
আমার নিজের কথা আমি বলেছি। পেশোয়ারের ঘটনায় আমি স্তম্ভিত ও শোকার্ত হয়েছি। অন্যদের শুধু এতটুকুই মনে করিয়ে দিতে চাই, উত্তর ওয়াজিরিস্তানের বাচ্চারাও বাচ্চা। পেশোয়ার হামলার পর যদিও প্রাপ্তবয়স্ক ছাড়া কোনো আহত বা নিহত শিশুর ছবি ইন্টারনেটে আমার চোখে পড়েনি তবুও উভয় ক্ষেত্রেই আমি মনে করি- শিশু, কিশোর কিংবা নিরপরাধ যুবক বা নিরস্ত্র বেসামরিক ব্যক্তির ওপর হামলা কোন যুদ্ধনীতির মধ্যে পড়ে না। প্রতিপক্ষ কোনো নৈতিক কিংবা আন্তর্জাতিক বিধি-বিধানই মানে না, এই বাস্তবতাও নিরস্ত্র মানুষ হামলাকে ন্যায়সঙ্গত প্রমাণ করে না। সেটা ন্যায়যুদ্ধের পক্ষে কোনো বৈধ যুক্তি হতে পারে না। তারপরও বলি, বাস্তবতার জটিলতা সম্পর্কে আমাদের আরও
অনেক বেশি সতর্ক থাকা জরুরি। কিন্তু সেটা নিজেদের নিরাপদ দূরত্বে রেখে নয়। পেশোয়ারের হামলার নিন্দা করার মধ্য দিয়েই ন্যায়যুদ্ধের পক্ষে আমরা দাঁড়াতে পারি। অন্যভাবে নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ২৮০০ কোটি ডলার ব্যর্থ

সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে পাকিস্তানতে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের ২৮০০ কোটি ডলার ব্যর্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে। ২০০১ সাল থেকে গত ১২ বছরে এ সহায়তা দেয়া হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যম বলছে, জঙ্গিবিরোধী যুদ্ধে পাকিস্তানে নেয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল অর্থ ও নানা কৌশল খুব একটা কাজে আসেনি। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেও গত এক যুগের সাফল্য হিসাব করলে অর্থ ও সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ে না। নতুন করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটে পাকিস্তানকে সহায়তায় ১০০ কোটি ডলার অনুমোদন করা হয়েছে। দ্য আটলান্টিক তাদের অনুসন্ধানে জানায়, প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সময় প্রথম সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলগত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয় পাকিস্তান। পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে তালেবানবিরোধী অপারেশনে প্রথম কাজে লাগান। সেই সময় থেকে পাক অপারেশন ও মার্কিন ড্রোন হামলায় তালেবান ও আল কায়দার শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা নিহত হলেও তাদের অবস্থান দুর্বল করা যায়নি। ওবামা প্রশাসন পাকিস্তানকে না জানিয়ে এক অভিযানে আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করতে সমর্থ হয়। কিন্তু এত কিছুর পরও তালেবান ও আল কায়দা সংশ্লিষ্ট একাধিক জঙ্গি গ্রুপ একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার পেশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত স্কুলে ভয়বাহ জঙ্গি হামলায় প্রায় দেড়শ’ নিহত হওয়ার ঘটনা চোখ আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধকৌশলে গলদ রয়েছে। হামলার পর পরই পাক সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ আফগানিস্তানে ছুটে গিয়ে ন্যাটোসহ আফগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর সহায়তা চেয়েছেন।
২০১০ থেকে ২০১২ পর্যন্ত পাকিস্তানের মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্যামেরন মান্টার বলেন, ‘পাকিস্তান সম্পর্কে ওয়াশিংটনের এখনও বড় বিভ্রান্তি রয়েছে।’ সম্প্রতি ১০০ কোটি ডলার মার্কিন সহায়তা বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেন সাকি ওয়াশিংটনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তান সরকারের সর্বস্তরে আমরা নিবিড়ভাবে কাজ করছি। প্রয়োজনে সহযোগিতা আরও বাড়াতে আমরা প্রস্তুত আছি।’ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই পাকিস্তান সরকারের প্রতি সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে।
চার আসামির ফাঁসির জন্য মঞ্চ প্রস্তুত : পাকিস্তানের ফয়সালাবাদ কারাগারে আরও চার বন্দির ফাঁসি কার্যকরের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। রোববার ফয়সালাবাদ কেন্দ্রীয় কারাগার এ প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। খবর ডনের।
দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের ওপর হামলার সঙ্গে ওই চারজন জড়িত ছিল। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই চার আসামি হল, জুবায়ের আহমেদ, রশিদ কোরেশি, গুলাম সারোয়ার ভাট্টি ও রাশিয়ার নাগরিক আখলাক আহমেদ।
ওই চারজনকেই শনিবার ফয়সালাবাদ কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে কখন তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে তা জানা যায়নি। এরই মধ্যে ওই চারজনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের দেখা করানো হয়েছে।
পেশোয়ারে শান্তি সম্মেলন করবে ওআইসি
পাকিস্তানের পেশোয়ারে ওলামা ও রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে শান্তি সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে ওআইসি (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন)।
মুসলিম দেশগুলোকে একত্রিত করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নীতিমালা প্রণয়নে এ সম্মেলন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব ইয়াদ আমিন মাদানী।
পেশোয়ারে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী পারভেজ খাত্তাকের সঙ্গে শনিবার এক বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেন মাদানী। তবে সম্মেলনের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় আর্মি পাবলিক স্কুলে চালানো তালেবান হামলার নিন্দা ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন ওআইসি মহাসচিব। তিনি নিহত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
মাদানী বলেন, সন্ত্রাসীদের পাকিস্তানি, মুসলিম বা মানুষ নামে চিহ্নিত করা উচিত নয়। অমানবিক আচরণের কারণে তারা কোনো ধরনের সহানুভূতি পেতে পারে না।
আমি ওআইসির সদস্যদের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।
বৈঠকের পর তিনি পেশোয়ারে হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে যান। ডন।