Saturday, April 21, 2018

মোবাইল খরচে লাগাম টানা হচ্ছে by কাজী সোহাগ

মোবাইল খরচে লাগাম টানছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে ইন্টারনেট ও ভয়েস কলের রেট নির্ধারণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিগগিরই তা বাস্তবায়ন করা হবে। এতদিন মোবাইল অপারেটররা ইচ্ছামতো দাম আদায় করেছেন গ্রাহকদের কাছ থেকে। এতে গ্রাহকদের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক অপারেটরও। এখন থেকে ছোট-বড় সব অপারেটরদের একই দামে সেবা দিতে হবে। এক্ষেত্রে বাড়তি দাম নেয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না। পাশাপাশি অপারেটরদের শত শত অফারেরও প্রয়োজন হবে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে অফ-নেট (এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটর) ও অন-নেট (একই অপারেটর) নিয়েও চলছে নানা ধরনের অফার। দাম নির্ধারণের পর এসব আর থাকবে না। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে টেলিযোগাযোগ খাত-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। উল্লেখ্য, বর্তমানে ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কোনো দাম বেঁধে দেয়া নেই। ফলে মোবাইল ফোন অপারেটররা নিজেরা নিজেদের মতো করেই ইন্টারনেটের দাম নির্ধারণ করছে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে মোবাইল ফোন অপারেটরদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে একটি কস্ট মডেলিংয়ের মাধ্যমে। সংশ্লিষ্টরা জানান, কস্ট মডেলিং পদ্ধতি হলো একটি সেবা দিতে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কত খরচ হয়, সেটি বের করার পদ্ধতি। সেবার মূল্য নির্ধারণে বিভিন্ন গাণিতিক সমীকরণ কস্ট মডেলিংয়ে ব্যবহার করা হয়। ভয়েস কলের দাম নির্ধারণে আইটিইউর একজন পরামর্শক দিয়ে ২০০৮ সালে একটি কস্ট মডেলিং করেছিল বিটিআরসি। সেই মডেল অনুসারে প্রতি মিনিট ভয়েস কলের সর্বোচ্চ মূল্য ২ টাকা আর সর্বনিম্ন মূল্য ২৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে মোবাইল ফোন অপারেটরের নিজেদের গ্রাহকদের (অন-নেট) মধ্যে কথা বলার সর্বনিম্ন খরচ ২৫ পয়সা, অন্য অপারেটরে (অফ-নেট) ফোন করার সর্বনিম্ন খরচ ৬০ পয়সা। আর যেকোনো মোবাইলে ফোন করার সর্বোচ্চ খরচ ২ টাকা। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গত বছর অন-নেট ও অফ-নেট কলের মধ্যে পার্থক্য কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছিল। সে সময় কল রেটের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমা যথাক্রমে ৩৫ পয়সা ও ১ টাকা ৫০ পয়সা করতে চেয়েছিল। তবে তখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমানে সক্রিয় মোবাইল সংযোগের সংখ্যা সাড়ে ১৪ কোটি। আর ইন্টারনেট সংযোগের সংখ্যা ৮ কোটির বেশি। দাম নির্ধারিত না থাকায় মোবাইল ডেটা বিপণনের শুরু থেকেই অপরেটররা গ্রাহকদের কাছ থেকে নিজেদের ইচ্ছামতো দাম নিচ্ছে। একই পরিমাণ ডেটার দাম একেক অপারেটরে একেক রকম। শুধু তাই নয়, সেই ইন্টারনেট ব্যবহারের মেয়াদও ভিন্ন ভিন্ন। সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার নানাভাবে দেশের বিভিন্ন খাতকে ডিজিটালাইজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। জনগণ তার সুফলও ভোগ করছে। তবে ইন্টারনেট ডেটার দাম সাধারণ মানুষের আরো হাতের নাগালে না নেয়া হলে অনেকেই সেই সুফল থেকে বঞ্চিত হবেন। এই অবস্থায় ইন্টারনেট ডেটার দাম বেঁধে দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত যুগোপযোগী। যত দ্রুত সম্ভব এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা প্রয়োজন। এর আগে গত বছরের আগস্টে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়। মোবাইল ফোনের কলরেট বাড়ানো-কমানো নিয়ে তৈরি হয় টানাপড়েন। চলে চিঠি চালাচালি। ওই সময় কলরেট নিয়ে বিটিআরসির দেয়া প্রস্তাবে সায় দেয়নি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। গ্রাহক স্বার্থের কথা চিন্তা করে বিটিআরসির পাঠানো ফাইল ফেরত পাঠানো হয়। এ নিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির মধ্যে শুরু হয় ঠান্ডা লড়াই। বিটিআরসির প্রস্তাবে একই অপারেটরে (অন-নেট) নেটওয়ার্কে ফোন করার সর্বনিম্ন মূল্য ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়। অন্য অপারেটরে (অফ-নেট) ফোন করার সর্বনিম্ন মূল্য ৬০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৪৫ পয়সা আর সর্বোচ্চ কলরেট ২ টাকা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব দেয় বিটিআরসি।

নির্বাচনী বছরে ফের পদোন্নতি আসছে প্রশাসনে by দীন ইসলাম

নির্বাচনের বছরে প্রশাসনে আবার পদোন্নতি দিতে যাচ্ছে সরকার। এবারও উপ-সচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হবে। প্রশাসনে এসব পদের চেয়ে বেশি সংখ্যক কর্মকর্তা কর্মরত থাকলেও ডামাডোল শুরু হয়েছে। উপ-সচিব পদে পদোন্নতি বিবেচনার জন্য প্রশাসন ক্যাডার ছাড়া অন্যান্য ক্যাডারের কাছ থেকে নামের তালিকা চাওয়ার পর থেকে ‘পদোন্নতি’ তদবির শুরু হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের পদোন্নতিতে উপ-সচিব পদে ২৫তম ব্যাচ, যুগ্ম সচিব পদে ১৫, ১৭ ও ১৮তম ব্যাচ এবং অতিরিক্ত সচিব পদে ১০ম ব্যাচকে বিবেচনায় নেয়া হবে। এর ভিত্তিতে গত এপ্রিল বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব, সচিব ও ভারপ্রাপ্ত সচিব বরাবরে চিঠি দিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. তমিজুল ইসলাম খান। চিঠিতে উপ-সচিব পদে পদোন্নতির জন্য আগ্রহী বা যোগ্য বিভিন্ন ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের তালিকা চেয়ে বলা হয়েছে, যেসব কর্মকর্তার সিনিয়র স্কেল পদে ন্যূনতম পাঁচ বছর চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসেবে অন্যূন ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে তাদের মধ্য থেকে ১০ জনের (জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে) নামের তালিকা আগামী ১০ই মে’র মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের বরাবরে পাঠানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বর্তমান ঠিকানা (টেলিফোন/মোবাইল নম্বরসহ), স্থায়ী ঠিকানা এবং চাকরির পূর্ণ বৃত্তান্ত আলাদা কাগজে পাঠাতে হবে। চার কারণে অযোগ্য কর্মকর্তাদের তালিকা না পাঠানোর নির্দেশনা দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, উপ-সচিব হতে অনাগ্রহী কর্মকর্তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। এছাড়া সিনিয়র স্কেলে চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ না হলে ও ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের যোগদানের জন্য নির্ধারিত তারিখের পরে যারা ক্যাডার সার্ভিসে যোগ দিয়েছেন তাদের নামও তালিকায় রাখা যাবে না। একই সঙ্গে জ্যেষ্ঠতা সম্পর্কে কোনো আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকলে এবং ওই সব কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হলে আদালত অবমাননা হতে পারে এমন কর্মকর্তাদের নামও রাখা যাবে না। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা পছন্দ করে উপ-সচিব পদে পদোন্নতি পেলে তাকে অবশ্যই পদোন্নতি পাওয়া পদে যোগদান করতে হবে। তালিকা পাঠানোর পর কোনো কারণে তালিকা সংশোধনের প্রয়োজন হলে প্রথমটি বাতিল করে জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাঠাতে হবে। কর্মকর্তাদের তালিকার জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী সঠিক এবং নির্ভুলভাবে পাঠাতে হবে। কোন ব্যত্যয়ের কারণে কোনো কর্মকর্তা যদি ভুলক্রমে পদোন্নতি পান বা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হন তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে এর দায়িত্ব বহন করতে হবে। নির্ধারিত তারিখের পরে পাওয়া তালিকা পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপ-সচিব পদে এবার সর্বোচ্চ সংখ্যক পদোন্নতি বঞ্চিতকে বিবেচনায় নেয়া হবে। পাশাপাশি নতুন করে প্রশাসন ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচকে বিবেচনায় নেয়া হবে।
সর্বশেষ উপ-সচিব পদে পদোন্নতিতে ২৪তম ব্যাচকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছিল। যুগ্ম সচিব পদে সর্বশেষ পদোন্নতিতে ১৩তম ব্যাচকে বিবেচনায় নেয়া হয়। এবার ১৫, ১৭ ও ১৮তম ব্যাচকে এক সঙ্গে বিবেচনায় নেয়া হতে পারে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, তিনটি ব্যাচই ছোট থাকায় তারা এক সঙ্গে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেতে পারেন। এদিকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিতে ১০তম ব্যাচকে এবার বিবেচনায় নেয়া হবে। সর্বশেষ পদোন্নতিতে নবম ব্যাচ পর্যন্ত বিবেচনায় নেয়া হয়। তবে ১১তম ব্যাচ চাইছে অতিরিক্ত সচিব পদের পদোন্নতিতে নিজেরা ঢুকে যেতে। এজন্য ১১ ব্যাচের নেতৃত্বদানকারীরা চেষ্টা তদবির করছেন। এর আগে গত বছরের ১১ই ডিসেম্বর ১২৮ জন যুগ্ম সচিবকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এরপর ২১শে ডিসেম্বর ১৯৩ জন উপ-সচিবকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। সর্বশেষ এ বছরের ২০শে ফেব্রুয়ারি প্রশাসনে সিনিয়র সহকারী সচিব ও সমমর্যাদার ৩৯১ জন কর্মকর্তাকে উপ-সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এটাই এখন পর্যন্ত প্রশাসনের সর্বশেষ পদোন্নতি। তাই তিন মাস যেতে না যেতেই প্রশাসনে নতুন করে পদোন্নতির ডামাডোল শুরু হয়েছে।

ইকোনমিস্টের চোখে কোটা সংস্কার আন্দোলন

বিশেষ কিছু বর্ণের মানুষের জন্য ভারতের সরকারি চাকরিতে কোটা রয়েছে। বাংলাদেশের বিভেদ রেখা হলো ইতিহাস। শাসক দল আওয়ামী লীগ দেশটির স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে পৃথক হওয়ার ওই যুদ্ধে যারা লড়েছিলেন তাদের বংশধদের জন্য সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটা রেখেছে দলটি। অন্যান্য আরও কিছু গোষ্ঠীর জন্য রয়েছে ২৬ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি থেকে এই পদ্ধতির সংস্কার দাবিতে আন্দোলন করছে ছাত্ররা। তাদের দাবি, সরকারি চাকরির ৯০ শতাংশ নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে হতে হবে। ১১ই এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ টানা আন্দোলন ও অবস্থান ধর্মঘটের সম্মুখীন হয়ে দৃশ্যত ওই দাবি মেনে নিতে রাজি হন। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সব কোটাই বাতিল করার। তবে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হচ্ছে না। এছাড়া কোটার পক্ষের লোকজন পালটা বিক্ষোভ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। বৃটিশ সাময়িকী দ্যা ইকোনমিস্ট বাংলাদেশের কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে এক প্রতিবেদনে এসব লিখেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আপাতত স্থগিত থাকা কোটা সংস্কার আন্দোলন প্রথম গর্জে উঠে ৮ই এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। এই প্রতিবাদ দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকায় প্রতিবাদকারী ছাত্র ও হতাশ চাকরিপ্রার্থীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, লাঠি ও জলকামান ব্যবহার করে। ফলে আহত হয় শ’ শ’ প্রতিবাদকারী।
কর্তৃপক্ষের কঠোর প্রতিক্রিয়া ও আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের উপস্থিতি বিক্ষোভকে আরও জোরদার করেছে। একই কাজ করেছেন ষাটের দশকের তুখোড় ছাত্রনেত্রী ও বর্তমানের মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল তাদের ছেলেমেয়েরাই হলো এই প্রতিবাদকারীরা। তার বক্তব্যেও আন্দোলন তেঁতে উঠে।
শিক্ষার্থীরা এমনকি সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করে তাতে কোটা সংস্কারের বার্তা আপলোড করে দেয়। প্রতিবাদকারীদের নেতা রাশেদ খান বলেন, সরকার যদি ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার না করে, তাহলে আন্দোলন ফের শুরু হবে। তিনি দাবি করেন, কিছুদিন আগে সাদা পোশাকে পুলিশ তাকে সহ আন্দোলনের তিনি নেতাকে জোর করে গাড়িতে ওঠায়। এরপর তাদের হ্যান্ডকাফ পরিয়ে চোখ বেঁধে দেয়। পরে অবশ্য কোনো অভিযোগ দায়ের না করেই তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। রাশেদ অভিযোগ করেন, ‘দেশে সব ধরনের রাজনৈতিক আন্দোলন নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। আমরা যেকোনো মুহূর্তে অপহৃত হতে পারি।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ অনেকবার ‘কোটা আন্দোলন’ দেখেছে। সরকারি চাকরির মাত্র ৪৪ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে পূরণ করা হয়। অনেক শিক্ষার্থী কিছু কিছু কোটা রাখার পক্ষে।
এ পর্যন্ত আড়াই লাখ লোককে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দিয়েছেন আমলারা। অনেকে ঘুষের মাধ্যমে এই সার্টিফিকেট আদায় করেছেন। কেউ কেউ পেয়েছেন জালিয়াতির মাধ্যমে।
বাংলাদেশের ক্যাম্পাসগুলো আপাতত শান্ত। তবে এই বিরুদ্ধবাদিতা আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি বৃহত্তর সমালোচনা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি ১৯৭১ সালের ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে সমাজে বিভেদের বীজ বোনা অব্যাহত রেখেছে।
শাসক পরিবারের প্রতি অনুগত বয়স্কদের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের চেয়ে প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীরা নিজেদের বেশি তৎপর বলে প্রমাণ করছে। তাদের একটি প্ল্যাকার্ডে শেখ হাসিনার সাধারণভাবে শ্রদ্ধেয় পিতা ও দেশের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্টকে টেনে এনে লেখা হয়েছে, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে, বৈষম্য সহ্য করা হবে না।’
ঢাকা-ভিত্তিক অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বলছেন, এই আন্দোলন জোরদার হওয়ার পেছনে কাজ করছে কর্মসংস্থান সংকট। জন্মহার কমে এলেও, দেশটির জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। সরকার প্রতি বছর ২০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু যত কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, তার চেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে শ্রমশক্তি। তরুণ বেকারদের সংখ্যা এখন ১০ শতাংশেরও বেশি।
এই উত্তপ্ত বিক্ষোভ এমন সময় এলো, যখন গত নয় বছর ধরে দেশ শাসন করা আওয়ামী লীগ ডিসেম্বরে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাকি দলগুলো এখন বিশৃঙ্খল অবস্থায়।
শেখ হাসিনার প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিরোধী দল বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া এখন কারাগারে। বিএনপি এমনকি নিশ্চিতই নয় আদৌ তারা নির্বাচনে অংশ নেবে কি না। দলটির নির্বাচনী মিত্র জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের প্রশ্ন, আমরা কি আদৌ এমন কোনো নির্বাচন পাব, যেটার ফলাফল আমরা আগাম অনুমান করতে পারব না? সর্বশেষ ২০০৮ সালের যথাযথ নির্বাচনের পর নতুন যেই ২ কোটি ৩০ লাখ তরুণ ভোটার হয়েছেন, তারা নিশ্চিতভাবেই শাসক দলের মাথাব্যথার কারণ।

মুসলিম বালিকা আসিফার ধর্ষণের ঘটনায় কাশ্মীরে বিক্ষোভ অব্যাহত

মুসলিম বালিকা আসিফার ধর্ষণের ঘটনায় ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো কাশ্মীরের রাস্তায় বিক্ষোভ করেছে হাজারো জনতা। এতে যোগ দিয়েছে শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ। গত দু’দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে সেখানে আহত হয়েছে কমপক্ষে ৩০ জন। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা আসিফার প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এ বছরের জানুয়ারিতে জম্মুর কাথুয়া জেলার রাসানা গ্রামে পশু চরানোর সময় আসিফা নিখোঁজ হয়। সম্প্রতি জম্মুর একটি জঙ্গল থেকে নিখোঁজ আসিফার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, আসিফার মৃতদেহ যেখানে পাওয়া গেছে, তার পার্শ্ববর্তী একটি মন্দিরে তাকে ধর্ষণ করা হয়। টানা চারদিন ধরে কমপক্ষে তিন ব্যক্তি তার ওপর পাশবিকতা চালায়। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে ফেলে দেয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশ আট ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেছে। এদের সবাই হিন্দু। পুলিশ বলেছে, হিন্দু অধ্যুষিত কাথুয়া জেলা থেকে মুসলিমদের বিতাড়িত করার উদ্দেশ্যে এই ধর্ষণ করা হয়েছে। তবে এই ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অঞ্চলটিতে ভারত-বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কয়েকজন নেতাসহ উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো অপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মুক্তি দেয়ার জন্য র‌্যালিও করেছেন এসব নেতারা। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার তিন মাস পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত সপ্তাহে এই বিষয়ে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। কোনো অপরাধীই ছাড়া পাবে না। তবে প্রধানমন্ত্রীর এমন আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছেন না কাশ্মীরের অধিবাসীরা। সেখানকার ছাত্র সানা বেঘ আল জাজিরাকে বলেন, ধর্ষণের বিচার করতে সরকার অনাগ্রহী। এটা লজ্জাজনক। কেউ কিভাবে অপরাধীদের সমর্থন করে বা নীরব থাকে? তিনি বলেন, ‘ভারতে কোনো মুসলিম নিরাপদ না। এই অপরাধের পেছনে উদ্দেশ্যটা দেখুন’।
নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দশক ধরেই কাশ্মীরে সংঘাত চলছে। তবে এবার ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী ইসার বাতুল বলেন, কাশ্মীরের সংঘটিত এসব হয়রানির সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে। সরকার সরাসরি অপরাধ করছে না। কিন্তু তারা অপরাধীদের সুরক্ষা দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। স্থানীয় অধিবাসী হিনা খান বলেন, আসিফা ধর্ষণের ঘটনায় কাশ্মীরে সংখ্যালঘুদের প্রতি দীর্ঘদিনের নির্যাতনের চিত্র ফুটে উঠেছে।
এদিকে, আসিফা ধর্ষণ মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী দিপীকা রাজাওয়াত দাবি করেছেন, অভিযুক্তদের সমর্থকরা তাদের নানা হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তবে জম্মুর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো পুলিশি তদন্তে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। তারা বলছেন, তদন্তে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কেউ কেউ মুসলিম ধর্মাবলম্বী। তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে হিন্দুদের অভিযুক্ত করতে চাইছেন।
উল্লেখ্য, কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। এই অঞ্চলের দুুই অংশ দুই দেশ শাসন করে। দু’দেশই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলকে সামরিক জোনে পরিণত করেছে।

রাজীবরা মারা যায় কিছুই বদলায় না by মরিয়ম চম্পা

বেপরোয়া। অসতর্ক। নিয়মের বালাই নেই। জীবনের দাম নগণ্য। যথারীতি সেই আগের মতোই। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী নামানো-ওঠানো। একবাস আরেক বাসকে ইচ্ছাকৃত ধাক্কা। সুযোগ পেলেই গতির লড়াই। কে কার আগে যাবে। একই কোম্পানির বাস হলেও চিত্র বদলায় না। চালকদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে বড় প্রশ্ন। যাত্রীদের অনেকেও নিয়ম মানতে নারাজ। যেখানে ইচ্ছা নামতে চান তারা। যেন পুরো রাজধানী একটি বৃহৎ বাস স্ট্যান্ড। পথচারী পারাপারে নেই কোনো সতর্কতা। ফ্লাইওভারে উঠতে অনীহা। এরই মধ্যে ফার্মগেটে শোনা গেল এক যাত্রীর চড়া গলা- ‘টান’। নেতা বলছে, গরু-ছাগল চিনলেই ড্রাইভার হওয়া যায়।
গত ৩রা এপ্রিল দুপুরে দুই বাসের রেশারেশিতে হাত হারান তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন। মঙ্গলবার রাতে  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনায় তোলপাড় তৈরি হয়েছে সারা দেশে। নানা আলোচনা-সমালোচনা। রাজীবের মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া তোলপাড় কী পরিস্থিতির কোনো বদল ঘটাতে পেরেছে?
বৃহস্পতিবার দুপুর। ফার্মগেট থেকে কাওরান বাজার। দেখা গেলো সেই একই দৃশ্য। ফার্মগেটে বাস দাঁড়াতেই একটির সঙ্গে অন্যটির ধাক্কাধাক্কি। কে কার আগে যাত্রী তুলবেন। তীব্র প্রতিযোগিতা। শিখর নামের একটি বাসের কন্ডাক্টর জানালেন, মূলত টার্গেটের টাকা পূরণ করতেই অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানোর এই চেষ্টা। সড়কে চাঁদাবাজিকেও তিনি অন্যতম বড় সমস্যা মনে করেন। পাশেই যাত্রী পারাপারে ওভারব্রিজ থাকলেও অনেকেই নিচ দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। পরে সোনারগাঁও সিগন্যালে দেখা গেল আরো ভীতিকর দৃশ্য। শাহবাগের দিক থেকে আসা কোনো বাসই ঠিকমতো থামছিল না। বলে রাখা ভালো, এখানে আবার বাস দাঁড়ানো নিষেধ। সবাই লাফিয়ে লাফিয়ে বাসে উঠছিলেন। নারীদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল এভাবে বাসে উঠতে। কাওরান বাজার বা ফার্মগেট নয় কেবল, এটি পুরো রাজধানীরই সড়ক ব্যবস্থা। যানজটে গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকবে। কিন্তু যাত্রী ওঠানো-নামানোর সময় দাঁড়াতে পারবে না। যাত্রীরা একহাতও হাঁটতে রাজি নন। যেখানে ইচ্ছা তারা বাসে উঠতে চান, যেখানে ইচ্ছা নামতে চান।
দুর্ঘটনাও থেমে নেই। রাজীবের হাত হারানোর ঘটনার আলোচনার মধ্যেই মেয়ে আহনাবকে নিয়ে রিকশায় করে ধানমন্ডির স্কুলে যাওয়ার পথে দুই বাসচালকের প্রতিযোগিতায় গুরুতর আহত হন আয়েশা খাতুন। তার কোমর থেকে নিচের অংশ অবশ হয়ে আছে। রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আয়েশাকে চিকিৎসকরা আরও কয়েক দিন পর্যবেক্ষণে রাখবেন বলে জানিয়েছেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের কনসালট্যান্ট মাসুদ আনোয়ার বলেন, আয়েশা খাতুনের মেরুদণ্ড ভেঙে গিয়েছিল। সেটা অস্ত্রোপচার করে ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু তার স্পাইনাল কর্ড ‘কমপ্লিটলি ড্যামেজ’ হয়ে গেছে। ওদিকে, গত ১১ই এপ্রিল রাজধানীর ফার্মগেটে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রুনি আক্তারের (২৮) ডান পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তার ডান পায়ের হাঁটুসংলগ্ন স্থান ক্ষতবিক্ষত এবং ওই স্থান থেকে মাংস ছিঁড়ে গেছে। তার পা রক্ষা পেয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। রুনির এ ব্যয়বহুল চিকিৎসায় প্রাথমিক পর্যায়েই লাগবে তিন লাখ টাকা। দুর্ঘটনার পরদিন রাত নয়টার দিকে রাজধানীর বেসরকারি ইবনে সিনা হসপিটালে রুনির অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে রুনির সহকর্মী আহমদ আলী বলেন, রুনির পায়ের আঘাত গুরুতর। তার পায়ের মাংসসহ চামড়া ছিঁড়ে গেছে। তিন ঘণ্টা ধরে তার অস্ত্রোপচার হয়। তার পা রক্ষা পেয়েছে। তিনি এখন আইসিইউতে আছেন। তার জ্ঞান ফিরেছে। তবে সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগবে। রুনির চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। প্রাথমিক পর্যায়ে তিন লাখ টাকা প্রয়োজন। অফিসের সহকর্মীরা মিলে কিছু টাকা জোগাড় করে খরচ চালানো হচ্ছে। রাজীব হোসেনের ডান হাত হারানোর ঠিক দুই সপ্তাহের মাথায় ডান হাত হারান চালকের সহকারী খালিদ হাসান হৃদয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০২ ওয়ার্ডের ২৪ নম্বর বেডে শূন্য দৃষ্টি তাকিয়ে আছেন হৃদয়। গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোপালগঞ্জ সদরের বেতগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ট্রাকের ধাক্কায় ডান হাত হারিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী যুবক হৃদয়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনিস্টিটিউটের (এআরআই) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, প্রধান সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা কমাতে সর্বপ্রথম যে বিষয়টা দরকার সেটা হচ্ছে চালকদের রিফ্রেশমেন্টের ব্যবস্থা করা। দুর্ঘটনার ৩৭ ভাগের কারণ হচ্ছে চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও মাত্রাতিরিক্ত গতি। তাই চালকদের মানসিক হতাশা দূর করতে সরকারিভাবে যদি মেন্টাল ওরিয়েন্টেশন ও রিফ্রেশমেন্ট করা যায় তাহলে দুর্ঘটনা কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব। তাই প্রধান সড়কগুলোতে গাড়ির গতির পরিমাণ কমাতে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনার ৭৪ ভাগই হয় শুধু রাজধানী ঢাকায়। তাই দেশে যে ভুঁইফোড় গাড়ি কোম্পানি রয়েছে তাদের নির্দিষ্ট কোম্পানির আওতায় আনতে হবে। বেশির ভাগ গাড়িই কম দামি। আবার তাদের মালিকদের ওপর রয়েছে মন্ত্রী আমলাদের আশীর্বাদের হাত। তাই দুর্ঘটনার বিচারের বিষয়টি খুব বেশিদূর গড়াতে পারে না। তাছাড়া দুর্ঘটনা রোধে নেই সুনির্দিষ্ট শাস্তির ব্যবস্থা। দুর্ঘটনার পর চালককে গ্রেপ্তার করা হলেও খুব অল্প সময়েই তারা আইনের ফাঁক গলিয়ে জামিনে বেরিয়ে আসেন। আবার তারাই চালকের আসনে বসেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে সাধারণ জনগণ, বাস মালিক, পুলিশ ও বাস কেউ নিয়মের মধ্যে আসে না। এক কথায় সড়কে অরাকজতা চলছে।
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমরা একতরফা ভাবে ড্রাইভারদের দোষ দিতে পারি না। এখানে ড্রাইভার পথচারী প্রত্যেকেরই সচেতনতার অভাব রয়েছে। প্রথমত ৩৩ লাখ ড্রাইভারের অর্ধেকই হচ্ছে অশিক্ষিত। অধিকাংশ ড্রাইভারই কিছুদিন হেল্পারের কাজ করার পর সেখান থেকে বাস চালাতে চালাতে চালক হচ্ছে। সম্প্রতি রাজীব নামে এক শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার পরপরই একজন হেল্পারের ডান হাত কাটার ঘটনা ঘটেছে। যেটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। একজন হেল্পারের শুধু হাত কেন তার পুরো শরীরই কাটা পড়ার কথা। কারণ পাবালিক বাসের একজন হেল্পার বাস চলাকালে তার শরীরের অধিকাংশই বাইরে বের করে রেখে ড্রাইভারকে ‘ওস্তাদ বায়ে প্লাস্টিক’ বলে ডিরেকশন দিয়ে থাকে। অন্যদিকে অধিকাংশ গাড়ির মালিক কম দামে গাড়ি কিনে অধিক মুনাফার জন্য যেকোনো ড্রাইভারের হাতে রাস্তায় গাড়ি ছেড়ে দিচ্ছেন। তাই গাড়ির কোনো দুর্ঘটনা হলেও তাদের তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা দায়বদ্ধতা থাকে না। এছাড়া গাড়ি প্রতি একজন ড্রাইভারকে প্রতিদিন অন্তত ২ হাজার টাকা মালিককে জমা দিতে হয়। ফলে মালিকের জমার টাকা, হেল্পারের টাকা, ড্রাইভারের আয় সব মিলিয়ে কে কার আগে কত বেশি ট্রিপ দিতে পারে এটা নিয়ে যেন রাজপথে রীতিমতো পাগলামি প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। তাই একজন পাগল ড্রাইভার যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটাতেই পারে। লোকাল গাড়িগুলো কম দামি হওয়ায় মালিক পক্ষ ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি মাথায় নেন না। অথচ দেশের উন্নতমানের লাক্সারিয়াস কোচগুলো ব্যয়বহুল হওয়ায় ড্রাইভারদের দেশের বাইরে থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আনা হয়। তাই সড়ক দুর্ঘটনা বিশেষ করে এই হাত-পা কাটা কমাতে ড্রাইভারদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। একইসঙ্গে সড়কে চলাচল করা সাধারণ জনগণকেও সচেতন হতে হবে। পথচারীর অধিকাংশই যখন রাস্তা পার হয় তখন তাদের ভাবখানা এমন যেন নিজের বাড়ির আঙিনা দিয়ে হাঁটছেন। প্রধান সড়কে যখন একজন পথচারী নিজের বাড়ি ভেবে পার হবেন বা গাড়ি থেকে নামবেন, তখন তো দুর্ঘটনা নিশ্চিত। এক্ষেত্রে দেশের সরকার,  ট্রাফিক বিভাগ, ফিটনেসবিহীন গাড়িকে অবৈধ ঘোষণা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রাস্তায় দুর্ঘটনার পরিমাণ কমানো সম্ভব।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ২০১৮ সালের গত তিন মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসে ৪৯৯টি দুর্ঘটনায় ৫১৪ জন নিহত এবং ১৩৫৩ জন আহত হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ৪৩৯টি দুর্ঘটনায় ৪৫৯ জন নিহত ও ১৫২১ জন আহত হয়েছে। মার্চে ৪৯১ দুর্ঘটনায় ৪৮৩ জন নিহত ও ১৫০৬ জন আহত হয়েছে।

প্রত্যেক স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে -ড. কামাল হোসেন

সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দেশকে আমরা দেউলিয়া হতে দিতে পারি না। দেশ দেউলিয়া হলে আমাদের বেঁচে থাকা অর্থহীন। আপনারা দেশের ১৬ কোটি মানুষ যখন বেঁচে আছেন, তখন এ দেশ কোনোভাবে দেউলিয়া হতে পারে না। আমাদের ভুল খাওয়ানো হবে আর মানুষ ভুল খাবে, এত অবুঝ আমাদের দেশের মানুষ না। গতকাল   রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আয়োজনে এক নাগরিক সংলাপে তিনি আরো বলেন, ব্যাংক ঋণ আমানত ছয় শতাংশ থাকলে নেয়ার ক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশ কেন করেছেন। অর্থ বিদেশে পাচার করার জন্যই তো করেছেন এমন। এটা কেন করছেন? আপনারা বিদেশে সম্পদ করেছেন সেখানে ভালোভাবে থাকেন, সম্পদ ভোগ করেন। দেশে থেকে মানুষকে আর কষ্ট দিতে হবে না।
ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, আজ বেঁচে থাকা বড় কষ্টের। কত যন্ত্রণা যে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। দেশের এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে। যারা এখন ক্ষমতা দখল করে আছেন তারা মনে হয় দেখেন না, দেখলে জনগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। দেশের অর্থ  লুটপাট হয়েছে। এ ছাড়াও আরো একাধিক ব্যাংকে লুটপাটের টাকা উদ্ধার করা হয়নি। যারা এগুলো করছেন তাদেরও একদিন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। আপনারা চুরির পর চুরি করতে থাকবেন। আমরা চুপ থাকবো। ৩০ লক্ষের শহীদদের দেশে এটা আমরা হতে দিতে পারি না। সাড়ে চার হাজার কোটি টাকায় কতটি শূন্য বসে গণনা করা কঠিন অথচ তারা কিভাবে ব্যাংক থেকে পাচার করলেন। ২০১৪ সালে নির্বাচন করেছে এটা না কি নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। আরেকটা নির্বাচন দিলেই তো হতো। তখন আমি তাদের কথায় বিশ্বাস করে কথা বলে বোকা হয়ে গেলাম। যেখানে সংবিধান রয়েছে সেখানে এটা মেনে নেয়া যায় না। দেশের বিরুদ্ধে, জনগণের বিরুদ্ধে ভাঁওতাবাজি করে তাদের বিরুদ্ধে বসে থাকতে পারি না। সরকার ও বিরোধীদল একই সঙ্গে সরকারে থাকতে পারে সেটা আমার জানা নেই। তিনি বলেন, যাদের কথায় মানুষ মূল্য দেয় তাদের এক সঙ্গে হওয়া দরকার ছিল, আজকে আমার জন্মদিনে এমন একটা সুযোগ আমাকে দেয়া হয়েছে। আমি কোর্টে ১৯৫৯ থেকে দেখেছি প্রত্যেক স্বৈরচারের পতন ঘটেছে। কেউ রেহাই পায়নি। এ সরকারও রেহাই পাবে না।
ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, দেশে এখন গণতন্ত্রের পক্ষের লোক নেই। দেশপ্রেমিক নেই। কি অন্যায়ভাবে দেশ চলছে। যারা অনির্বাচিত তারা আইন বানাচ্ছে, আবার জনগণকেই তাদের কথা শুনতে হচ্ছে। ব্যাংক থেকে জনগণের টাকা নিয়ে যায় অথচ জনগণই তা জানে না। এক ব্যাংক থেকেই যদি হাজার হাজার কোটি টাকা চলে যায়। তাহলে কত টাকা যে দেশ থেকে তারা বিদেশে পাচার করছে। দেশে লুটপাট চলছে। তারা সারা দেশে সন্ত্রাস চালাচ্ছে, চোখ বেঁধে কোটা আন্দোলনের ছেলেদের তুলে নেয়া হলো। তিনি আরো বলেন, কোটা সংস্কারের আন্দোলন করতে যেয়ে ছাত্ররা হয়ে যান রাজাকারের বাচ্চা। কি সাংঘাতিক কথা। দেশে চরম দুর্নীতি চলছে। একটা মন্ত্রণালয়ও নেই যেটা দুর্নীতিমুক্ত। গণতন্ত্র, এটা না বলাই ভালো। সরকার ঢাকা শহরের গলিতে গলিতে সভা সমাবেশ করতে পারে। অথচ বিরোধী কোনো দল তা করতে পারে না। সংসদ সদস্যদের কিভাবে নির্বাচনে সুযোগ দেয়া হয়েছে। তারা স্থানীয় নির্বাচনে সরকারি গাড়ি নিয়ে প্রচারণা চালাবে। এটা কিভাবে সম্ভব! সাবেক এ প্রেসিডেন্ট বলেন, সুন্দরবনের ভারতের অংশে মিল ফ্যাক্টরি করতে পারেনি অথচ আমাদের দেশে তা করছে। দেশ মানবাধিকার থেকে আরো আট ধাপ নিচে নেমে গেছে। এ দেশকে রক্ষা করতে হলে সৎ নেতৃত্ব দরকার। তাছাড়া কোনোভাবে দেশকে রক্ষা করতে পারবে না। আজ সরকারি দলের লোকজন সন্ত্রাস করছে। আমাদের দেশপ্রেমিক হতে হবে। নেতৃত্বে মেধা শূন্য। তারা রাজনীতিতে আসতে চায় না। কেননা রাজনীতিতে পরস্পরের সহানুভূতি নেই।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে এটা অন্যায়। খালেদা জিয়াকে যে বিচারক সাজা দিয়েছেন তারও একদিন সাজা হবে। কারণ তিনি ওই টাকা তসরুফ করেননি। সে টাকা এখনো ব্যাংকে পড়ে আছে। এই সরকার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ আসনে নির্বাচিত হয়েছে। এই সংসদ অবৈধ, সরকার অবৈধ। ড. কামাল হোসেনকে উদ্দেশ্য করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আপনি যেকোনো জেলায় যাবেন সমাবেশ করতে, যাওয়ার আগের বিকালে আমাকে বলবেন শুধু আমি আপনাকে ১০/২০ হাজার লোকের সমাগম দিবো। আমি আজ ২০ বছর পরে একটা ফুল নিয়ে এসেছি আপনার জন্মদিনে। কারণ দেশের পরিস্থিতিতে মন ভালো নেই।
তিনি আরো বলেন, ক’দিন আগে দেশে একটা বিপ্লব ঘটে গেছে। এ থেকে বোঝা যায় আমাদের দেশ এখনো ধ্বংস হয়নি। এরপর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মতিয়া চৌধুরী সংসদে তাদের রাজাকারের বাচ্চা বললেন। এটা দেশের সবাইকে বলা হয়েছে, আমাকে এবং কামাল হোসেনকেও বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বললেন কোটা থাকলে আবার আন্দোলন হবে তার চেয়ে কোটাই বাতিল! তিনি কি সংবিধান বাতিল করতে পারেন? তার কি সে ক্ষমতা আছে। সংবিধান তো আমাদের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে কোটার সুযোগ দিয়েছে।
সংলাপে অংশ নিয়ে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, সামনে একটা নির্বাচন হতে হবে। এটা কোনো দলীয় সরকারের অধীনে হতে পারবে না। সংসদীয় নিয়মে হতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে আমরা ব্যক্তি স্বাধীনতার কথা বলি। আজ জনগণ অসহায়, এতিম, তারা রক্ত দিয়ে যুদ্ধ করেছে অথচ তাদের কোনো অধিকার নেই। আজকে সরকারি কর্মচারীরা মনে করছে তারা দলীয় সরকারের কর্মচারী। জনগণের জন্য তারা নয়। আজকে ছাত্রীদের ওপর রাতের অন্ধকারে অত্যাচার করা হচ্ছে। একটা ভার্সিটির ভিসি যা বলছেন তা তিনি বলতে পারেন না। তিনি যেকোনো দলের অনুগত হয়ে কথা বলছেন। তার কথাবার্তায় মনে হয় না যে তিনি ভিসি নাকি দলীয় কর্মী।
বাসদের সভাপতি খালেকুজ্জামান বলেন, যদি এখন কাউকে জিজ্ঞেস করা হয় আগামী নির্বাচন ঠিকভাবে হবে কি না? এর উত্তর কি হবে নেতিবাচক। প্রতিদিন পুলিশ, র?্যাব বন্দুক যুদ্ধের কথা বলে মানুষকে মারছেন। দেশে এখন যে অবস্থা চলছে তাতে মনে হয় আমরা উত্তপ্ত আগুনে বসবাস করছি। আমাদের দেশে এখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে তারা হয় নির্বাচিত স্বৈরশাসক আর না হয় সামরিক স্বৈরশাসক কিংবা সিভিল ওয়ার্ক। মানুষ এখন সঠিক একটা বক্তব্য জানতে চায়, আপনারা তাদের থেকে উত্তরণ করতে ঐক্য করবেন কি না ।
ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, ভোটারবিহীন একটি সরকার, দখলদার সরকার বিনা নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে বসে আছে। এ সরকার এখন মুক্তিযুদ্ধের যাতনার সরকারের পরিণত হয়েছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) মধ্যরাতে কিভাবে ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দেয়া হলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে কিভাবে পুলিশ ঢুকে। কিভাবে পাকিস্তান আমলের মতো ছাত্রদের চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপরেও ছাত্ররা সরকার প্রধানকে নিজেদের অধিকারের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করেছেন। নাগরিক সংলাপের শুরুতেই ড. কামাল হোসেনের ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে নাগরিক সংলাপে আরো বক্তব্য রাখেন বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক, নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এসএম আকরাম, আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আবম মোস্তাফা আমীন প্রমুখ।

ঢাবিতে মধ্যরাতের তুঘলকি কাণ্ডে তোলপাড়, বিক্ষোভ by ফররুখ মাহমুদ

মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুঘলকি কাণ্ডে দেশজুড়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। সর্বত্র চলছে তোলপাড়। শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে করেছে বিক্ষোভ। ঢাবির কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে রাতের আঁধারে ছাত্রীদের বের করে দেয়ার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরাও। ছাত্রীদের অভিযোগ, কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নিয়েছে হল প্রশাসন। শুধু তাই নয়, বের করে দেয়ার সময় ছাত্রীদের ‘গোয়েন্দা নজরদারি’র ভয় দেখান হল প্রাধ্যক্ষ ও যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ড. সাবিতা রেজোয়ানা। তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করে তল্লাশি চালান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, তদন্ত কমিটি করে ছাত্রীদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটি কাদের নিয়ে গঠিত হয়েছে? তারা জানাতে পারেন নি। এমনকি তদন্তের রিপোর্টও দেখাতে পারেন নি তারা। হল সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে পর্যায়ক্রমে বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে বের করে দেয়া হয়। ছাত্রীদের অভিভাবকরা হলে এসে তাদের নিয়ে যান। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হলের গেটে ছুটে যান কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ মঞ্চের নেতারা। ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বিকাল ৪টায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে সংগঠনটি। মিছিল শেষে এক প্রতিবাদ সমাবেশে সংগঠনটি ঘটনার তীব্র নিন্দা ও হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করেন। এদিকে বিক্ষোভ মিছিলে যাতে শিক্ষার্থীরা আসতে না পারে সেজন্য ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে কড়া নজরদারি করে। হলে হলে শিক্ষার্থীদের ডেকে হুমকি দেয়।
গত ১০ই এপ্রিল কবি সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশার নির্যাতনের প্রতিবাদ জানায় ছাত্রীরা। ছাত্রীদের দাবির মুখে এশাকে বিশ্ববিদ্যালয়, হল ও ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ছাত্রলীগ এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে। একই সঙ্গে এশাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ২৪ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করে। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ‘গোপন তদন্তের’ মাধ্যমে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়া এবং এশাকে মারধর করার অভিযোগে ২৬ ছাত্রীকে চিহ্নিত করে। তবে ওই ২৬ জনের কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে তাদেরই হল থেকে বের করে দিয়েছে বলে ছাত্রীরা জানান। তারা বলেন, রাত ৯টা থেকে ছাত্রীদের বের করে দেয়া শুরু হয়। যাতে ঘটনা জানাজানি না হয় সেজন্য ১/২ জন করে বের করে দেয়া হচ্ছিল। রাত সাড়ে ১১টায় হলের গেটে গেলে দেখা যায়, হলের কর্মচারীরা গেটের ভেতরে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। ভেতরে গুমোট পরিস্থিতি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক ছাত্রীকে তার অভিভাবকের সঙ্গে বের হতে দেখেন তারা। ১১টার দিকে বের হন আরেক ছাত্রী। তার সঙ্গেও অভিভাবক হিসেবে বাবা ছিলেন। সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরে বের করে দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে বলতে নিষেধ করা হয়েছে। রাত ১২টা ১৫ মিনিটে আরেক ছাত্রী তার বাবাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে দ্রুত হল থেকে বের হয়ে যান। সাংবাদিকরা তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তিনি কথা বলেননি। সাড়ে ১২টায় হলের গেটে আসেন অপর এক ছাত্রীর বাবা ফারুক হোসেন। তার মেয়ে ফিজিক্সের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। হল প্রশাসন ফারুক হোসেনকে কল দিয়ে তার মেয়েকে হল থেকে নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু বাইরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে হল প্রশাসন ওই ছাত্রীকে বের করে দেয়নি। পরে ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, মাঝরাতে এভাবে একটি মেয়েকে কোনো কারণ ছাড়াই হল থেকে বের করে দেয়া নিষ্ঠুর বর্বরতা ছাড়া কিছুই নয়। আমার মেয়েকে কি কারণে গভীর রাতে হল থেকে বের করে দেয়া হলো আমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এর কারণ জানতে চাই। এদিকে হল থেকে বের করে দেয়ার সময় ছাত্রীরা এর প্রতিবাদ জানায়। পরে হল প্রাধ্যক্ষ ড. সাবিতা রেজোয়ানা তাদের গোয়েন্দা নজরদারির ভয় দেখান। প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে ছাত্রীদের সেসময়ের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে শোনা যায়, ছাত্রীদের হুমকি দিচ্ছেন প্রাধ্যক্ষ। ছাত্রীদের উদ্দেশে সাবিতা রেজোয়ানা বলেন, অনেকে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেয়। ইনটেলিজেন্স সেল দেখবে যে কারা কারা বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিচ্ছে। আই ডোন্ট ওয়ান্ট অ্যানি ইনভলভমেন্ট। এরপর এই হলে ছাত্রলীগ যদি গণ্ডগোল করে আমাকে বিচার দেবে। জেনারেল মেয়ে গণ্ডগোল করলে আমাকে বিচার দেবে। এখন থেকে সিট হল প্রশাসন দেবে। আর কোনো পয়েন্টে এর বাইরে আর কোনো সিট হবে না। হলে যদি আর কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে বা তোমরা কোনো পোস্ট দেয়ার চেষ্টা করো হলকে বিভ্রান্ত করার জন্য, তাহলে কিন্তু আমরা সরকারকে বলব। আমার নলেজের বাইরে আমার ভিডিও যে আপলোড করে সেটা কিন্তু ক্রাইম। আজকে আমি বলে দিলাম সেটা কিন্তু সাইবার ক্রাইম। আই ওয়ান্ট টু বি লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার। কারও কিছু প্রশ্ন আছে? জবাবে ছাত্রীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ নেত্রী ইফফাত জাহানকে কেন্দ্র করে যা ঘটেছে, তাতে হলের দুই হাজার ছাত্রী সম্পৃক্ত ছিল বলে উল্লেখ করেন। তখন সাবিতা রেজোয়ানা বলেন, দুই হাজার মেয়ে কিছু করেনি। আমার সিসিটিভি ফুটেজে আছে কারা কারা করেছে। দুই হাজার মেয়ে স্বাক্ষর দাও, আমি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেব। আমি দুই হাজার মেয়ের ছাত্রত্ব বাতিল করে দেব। আমার শিক্ষকেরা দেখেছে, আমার সিসিটিভি প্রমাণ আছে ওরা মেরেছে। তোমরা যদি মেরে থাক, নাম লেখ। ওই দিন যেটা হয়েছে, সেটা অপপ্রচার। ওই মেয়ে যার পা কেটেছে, সে নিজে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। ওর শুধু পা-ই কাটা হয়েছে। এই মেয়েটাকে যে পরিমাণ মারা হয়েছে, সেটা কি বিচারে মারা হয়েছে? যে মেয়ে ভয় পেয়েছে, সে নিজে বলেছে। অডিওর শেষ দিকে প্রাধ্যক্ষকে বলতে শোনা যায়, মোবাইল ফোন দিয়ে কী করছ? ছাত্রীদের বের করে দেয়ার ঘটনা জানাজানি হলে তাৎক্ষণিক সেখানে ছুটে যান কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা। তারা ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়ক নুরুল হক বলেন, আমরা খবর পেয়েছি, রাত ১১টার পরেও অনেক ছাত্রী হল থেকে বের হয়ে গেছেন। ছাত্রীদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়েছিল। প্রাধ্যক্ষের কক্ষে অনেককে আটকে রাখা হয়েছিল। অভিভাবক ডেকে রাতের অন্ধকারে হল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, কোনো অপরাধ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেবে, কিন্তু ছাত্রীদের এভাবে বের করে কর্তৃপক্ষ ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। তিনি পরদিন বিকাল ৪টায় সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ওই সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঠেকাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আবিদ আল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান নেন।
ভিসির ব্যাখ্যা: এদিকে কবি সুফিয়া কামাল হলের ঘটনায় গতকাল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, টোটাল চারজন। এটাও অনেক সংখ্যায় তাও কিন্তু নয়। এটাও একটা বিভ্রান্তি, বড় আকারের বিভ্রান্তি, অপতথ্য ছড়ানো হলো। মাত্র চারজন মেয়ে, যাদের সন্দেহ করা হলো। তাদের গতিবিধি এবং তারা ভুয়া, ফেক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ফেসবুকে অপতথ্য দিচ্ছে, হল-সংক্রান্ত, সরকারবিরোধী। আরো যেন কী কী। এগুলো সব আছে, তথ্য সংরক্ষিত। তখন হল প্রভোস্ট যেটা অভিভাবকসুলভ আচরণ করলেন, তিনি এই সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের রুমে ডেকে আনলেন। তিনি বললেন, বাবা তোমাদের মোবাইলগুলো দাও। কারণ, এটা সাইবার ক্রাইমে পড়তে পারে, আমরা দেখি। এগুলো চেক করে দেখা গেল, যে এ ধরনের তথ্য আছে। তখন তাদের বলা হলো, বাবা এগুলা যদি তোমরা করো, তাহলে তো হল ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এটা সুফিয়া কামাল হল, হাজার হাজার মেয়ে এখানে আছে। টোটাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন অপশক্তির উত্থান ঘটছে। অপতথ্য, অপব্যাখ্যা যাচ্ছে। সুতরাং, তোমরা এগুলো করতে পারবে না, তোমাদের অভিভাবকদের আমরা ডাকছি। অভিভাবকদের ডাকা হলো।
ভিসি আরো বলেন, আপনারা শুনে খুশি হবেন, একজন অভিভাবক কেঁদে এসে বললো যে, আপনারা যে এই অসাধারণ কাজটি করলেন। সে অভিভাবক রাতে বসে উনাদের সঙ্গে খেলেন। একজন অভিভাবক আবার পুলিশে চাকরি করেন। তিনি বললেন যে, আমার চাকরিটি চলে যাবে। একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক পুলিশে চাকরি করে, আমাদের গুলশানে। মেয়েটির ভাই। সে বলছে, আমার চাকরিটি চলে যেত, যদি এই ধরনের অপতথ্য আমার বোন, গুজব ছড়ানোর কাজে জড়িত থাকে। তাহলে তো সাইবার ক্রাইমে পড়ে যাবে, আরেকটা বিভ্রান্তিতে পড়ে যাবে। খুব ভালো হলো। এই বলে তিন জন শিক্ষার্থীকে তিন জন অভিভাবকের হাতে সোপর্দ করা হলো। ড. আখতারুজ্জামান বলেন, তাদের সবাই কর্মজীবনে। আসতে আসতে দেরি হয়ে গেছে। কিন্তু হল প্রশাসন বসে রয়েছে রাতে। এটা বুঝতেই পারছেন, মেয়েদের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ, মেয়েদের নিরাপত্তা দেয়া, হাজার হাজার মেয়ে। কত একটা কঠিন সময়ের মধ্যদিয়ে পার হতে হয়েছিল তাদের। এর ভেতরে রিউমার ছড়াচ্ছে। সুতরাং সেগুলো সামাল দিয়ে, তাদের অভিভাবকদের ডেকে এনে বলা হলো, লিখিত নেয়া হলো, দেখানো হলো। তারা অত্যন্ত খুশি হলো যে, আপনারা এই কাজটি যে করেছেন। আমরা এই জন্য তো মেয়েদের পাঠাইনি। এবং তারা অনেকেই না কি খেলোয়াড়ও। তারা আজকে খেলতেও আসবে। শুধু বলা হলো, হলের ভেতর থেকে যখন এগুলো করবে, তাহলে তো হল ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। অভিভাবকদের বলা হলো, তাদের আপনাদের কাছে নিয়ে যান। মধ্যরাতে ছাত্রীদের বের করা হয়নি বলে দাবি করেন ভিসি। তিনি বলেন, আরেকজনের বাবা, তিনি এলেন ধামরাই থেকে। ধামরাই থেকে তিনি একেবারেই খুবই সাধারণ পরিবারের মানুষ। তিনি আসতে একটু দেরি হয়েছে, বোধহয় কর্মজীবী মানুষ। তিনিও বারবার ফোন করেছেন প্রভোস্টকে যে আমি কিন্তু আসব, আপনারা কিন্তু থাকবেন। সবাই রয়েছি। আসতে দেরি হয়ে গেছে। সাড়ে ১১টা, ১২টা হয়ে গেছে ওনার। এইটাও হয়েছে অপব্যাখ্যা যে, মধ্যরাতে বের করে দিয়েছে। আসলে তারা কিন্তু বিকাল থেকেই এদেরকে নিয়ে অপেক্ষা করছে। শুধু গার্ডিয়ানদের আসতে আসতেই এই দেরিটা হয়ে গেল। এই জন্য হয়ে গেল মধ্যরাত।
প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি: কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে সাড়ে ৩টা থেকে ছাত্রলীগ অবস্থান নেয়ায় আন্দোলনকারীরা স্থান পরিবর্তন করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে কর্মসূচি পালন করে। পরে সেখানেও ছাত্রলীগের একটি পক্ষ অবস্থান নেয়। সাড়ে ৪টার পর আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়ক নুরুল হক নূর, রাশেদ খানসহ ১০/১২ জন রাজু ভাস্কর্যের বেদিতে অবস্থান নেন। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর আন্দোলনকারীরা স্লোগান শুরু করে। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আসতে শুরু করে। একপর্যায় বেদিতে থাকা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সরে যায়। তারা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সের নেতৃত্বে মিলন চত্বরের পাশে রাস্তায় অবস্থান নেয়। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মিছিল শুরু করে। মিছিলে প্রায় সাড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ থানার সামনে দিয়ে ঘুরে আবারো রাজু ভাস্কর্য হয়ে নীলক্ষেত হয়ে রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়। এ সময় যুগ্ম সমন্বয়ক রাশেদ খান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আন্দোলনকারীদের ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমরা দুই মাস আন্দোলন করেছি। কিন্তু যখনই আন্দোলন সফলতার দ্বার প্রান্তে পৌঁছেছে, তখনই হুমকি দেয়া হচ্ছে। হলে হলে বাধা দেয়া হচ্ছে। আন্দোলনে যেতে বাধা দেয়া হচ্ছে। এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু এখন আন্দোলন করতে গেলে বাধা আসে। প্রশাসনকে বলতে চাই, হেনস্থা করবেন না। হলে সুন্দরভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করুন। হল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিন। আজকে আমাদের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে মেয়েদের উপস্থিতি কম। কারণ তাদের ভয় দেখানো হচ্ছে। আরেক যুগ্ম সমন্বয়ক নুরুল হক নূর বলেন, ছাত্রীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। দ্রুত সম্মানের সঙ্গে ওই ছাত্রীদের হলে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই। নয়তো ছাত্রসমাজ আবার রাজপথে নামবে। তিনি আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাধ্যক্ষের একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তিনি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত দুই হাজার ছাত্রীকে বহিষ্কারের কথা বলেন। এ ঘটনার মাধ্যমে হল প্রশাসনের নৈতিক অবক্ষয় ঘটেছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কলঙ্কিত ইতিহাস রচিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষার্থে হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করে বলেন, ছাত্রসমাজের স্থান ক্লাসে, তাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না।
মরিয়া ছাত্রলীগ: কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগ। গতকাল শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করতে চাইলে সেখানে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয কমিটি। শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, লাইব্রেরির সামনে বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সেখানে সভাপতি আবিদ আল হাসানসহ পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন। যদিও তিনি বিসিএসের প্রিলি পরীক্ষা দিয়েছিলেন কি না জানা যায়নি। এ ছাড়া বিকাল সাড়ে ৩টার পর লাইব্রেরির সামনে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রলীগের নেতারা বিশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আসতে নিষেধ করেছে বলেও জানা গেছে। সুফিয়া কামাল হলের সামনে যাওয়ায় এএফ রহমান হলের এক ছাত্রকে হল থেকে বের করে দিয়েছে ছাত্রলীগ। এদিকে কবি সুফিয়া কামাল হলের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।

মাদকের ফাঁদে রোহিঙ্গারা

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ভাগ্যবিড়ম্বিত ও গৃহহীন রোহিঙ্গারা মাদকচক্রের ফাঁদে পড়ছে ক্রমবর্ধমান হারে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে রশিদ আলম (৩০) তার মতো আরো কতগুলো পরিবার আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের ফাঁদে রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডিএনএ। তাদেরকে বলা হচ্ছে মাদক বহন করলে বা এ ব্যবসায় জড়িত হলে পরিবার নিরাপদ থাকবে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন রশিদ আলম। তারপর থেকে বসবাস করতে থাকেন কক্সবাজারের টেকনাফে একটি শরণার্থী শিবিরে। ডিসেম্বরে ৩৫ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ধরা পড়ে সে। এ সময় সে বিজিবিকে বলে যে, সে কিছু অসাধুর খপ্পড়ে পড়েছে। তারা তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার পরিবার ও আত্মীয়দেরকে মিয়ানমার থেকে নিরাপদে বের করে আনার। পাশাপাশি তাদেরকে বাংলাদেশে কাজ দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। মিয়ানমারের ডংখালির বাসিন্দা আলম। এখনও সে আশা করে তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত হবে। এভাবে অনেক নারী, পুরুষ ও টিনেজার আন্তর্জাতিক মাদকের মাফিয়াদের খপ্পরে পড়ছে। এসব রোহিঙ্গাকে প্রলুব্ধ করা খুব সহজ। এর প্রথম কারণ, তারা গরিব। তারা ভীতিগ্রস্ত। কক্সবাজারে ছড়িয়ে থাকা বিশাল শরণার্থী শিবিরে অবর্ণনীয় অবস্থার মধ্যে বসবাস করছে তারা। এখন মিয়ানমার সীমান্তের কাছে বাংলাদেশে বসবাস করছে কমপক্ষে সাড়ে এগারো লাখ রোহিঙ্গা। তাদের জন্য প্রতিদিনই নির্মাণ করা হচ্ছে একটি করে নতুন ঘর। প্রতিদিনই মিয়ানমার থেকে নদীপথে আসছে নতুন শরণার্থী। কুতুপালং ও বালুখালিতে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এমন দুটি বড় আশ্রয়শিবির। এসব আশ্রয় শিবিরে যেসব ঘর তাতে মাত্র একজনের আশ্রয়ের ব্যবস্থা হতে পারে। কিন্তু তাতে বসবাস করছে চার থেকে পাঁচ জন মানুষ। তারা ঘুমায় পর্যায়ক্রমে। শরণার্থীদের খাদ্য সরবরাহ করছে বিভিন্ন এনজিও ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার। অসাধু চক্রটি তাদেরকে তাদের ফেলে আসা বাড়িঘর ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। তাদেরকে ভারতে বা দক্ষিণ আফ্রিকায় বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজ পাইয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এক্ষেত্রে শর্ত হলো সীমান্ত অতিক্রম করে মাদক এপাড় ওপাড় করা।   বিজিচির দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক কমান্ডার কর্নেল গাজী মো. আহসানুজ্জামান ডিএনএ’কে বলেছেন, গত বছরের তুলনায় ইয়াবা ট্যাবলেট পাচার বেড়েছে কয়েকগুন। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত। এর মধ্যে ৪৫ কিলোমিটার নদীপথ। আহসানুজ্জামান বলেছেন, প্রতিদিন এক কোটি ২৫ লাখ রুপির ইয়াবা পাচার হয়ে আসে বাংলাদেশে। আগে এটা কয়েক লাখে সীমাবদ্ধ ছিল। বাংলাদেশের ঘুমধুম গ্রামের কাছের নোম্যান্স ল্যান্ড দিয়ে এসব ট্যাবলেট পাচার হয়ে প্রবেশ করে। এসব সীমান্ত ফাঁকফোকড়যুক্ত। টেকনাফেও একই অবস্থা। গত মাসে এক রোহিঙ্গা নারীর কাছ থেকে বিজিবি ৫২ কোটি রুপির ইয়াবা উদ্ধার করে। এ বিষয়ে ডিএনএ’কে বিজিবি (কক্সবাজার) আঞ্চলিক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম রকিবুল্লাহ বলেছেন, রোহিঙ্গারা এসব ট্যাবলেট তাদের জুতার ভিতর করে আনে। এখন এ জন্য প্রতিজন রোহিঙ্গাকে দেখা হচ্ছে সন্দেহের চোখে। এসব সমস্যার সমাধানে টেকসই সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খারাপ: স্বজনরাও সাক্ষাৎ করতে পারেননি -ফখরুল

কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি তার স্বজনেরা। বিএনপি চেয়ারপারসনের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ করতে দেয়নি বলে জানিয়েছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা আমাদের চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কারাগারে গেলেও চেয়ারপারসনের পরিবারের সদস্যদের তারা বলেছেন, ম্যাডাম উপর থেকে নিচে নামতে পারছেন না। ফলে তার শারীরিক অবস্থা প্রচণ্ড খারাপ হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। আমাদেরও দেখা করতে দেয়া হয়নি। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে ম্যাডামের এই অবস্থার কথা শুনে পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা খুবই উদ্বিগ্ন বলে আমাকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। এর আগে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তার বোন সেলিনা ইসলাম, ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের ছেলে অভি, বড় ছেলে তারেক রহমানের শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানু ও তার মেয়ে শাহিনা খান জামান বিন্দু গতকাল বিকাল ৪টার দিকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পরিত্যক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। প্রতি শুক্রবার পরিবার ও স্বজনদের সাক্ষাতের নির্ধারিত সময়সূচি থাকলেও এবার তার ব্যত্যয় ঘটে। কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে গেলেও তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়। তবে, এ ব্যাপারে কারা কর্তৃপক্ষের তরফে কোনো বক্তব্য আসেনি। এর আগে ১৫ই এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতে বাধা দেয়ার অভিযোগ করেছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ।
এদিকে সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেন, আমরা গত কয়েক দিন ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবনতিশীল স্বাস্থ্যের বিষয়ে অবহিত করেছি। আজ (শুক্রবার) বিকালে তাঁর পরিবারের সদস্যরা কারাগারে দেখা করতে গেলে গুরুতর অসুস্থ থাকায় বেগম জিয়া তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তার পা, হাঁটুসহ সারা শরীরে ব্যথা এতটাই তীব্র হয়েছে যে, তিনি তাঁর জেল কক্ষ থেকে ওয়েটিং রুম পর্যন্তও আসতে পারেননি। আজ বিকেল সোয়া চারটা থেকে প্রায় দেড় ঘন্টা অপেক্ষা করার পর কারা কর্তৃপক্ষের লোকেরা পরিবারের লোকজনদেরকে জানায় বেগম জিয়া অসুস্থতার কারণে দেখা করতে পারবেন না। সুতরাং কারা কর্তৃপক্ষও স্বীকার করলো যে, বেগম জিয়া অসুস্থ। আমরা দেশনেত্রীর অসুস্থতার বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও গড়িমসি নিয়েও বারবার অবহিত করেছি। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোন সাড়া দেয়নি। বরং দেশনেত্রীকে নিয়ে সরকারের অশুভ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার সহযোগী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকার নির্দেশিত মেডিকেল বোর্ডও বেগম জিয়াকে অর্থোপেডিক বেড দেয়ার জন্য যে সুপারিশ করেছিল সেটিও কারা কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করেনি। এই ঘটনায় সরকার প্রধানের এক সর্বব্যাপী প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষের প্রতিফলন ফুটে উঠছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থতার খবর দেশের আপামর জনসাধারণকে ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন ও ব্যথিত করে তুলেছে। কেন ব্যক্তিগত চিকিৎসকদেরকে দেশনেত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য দেখা করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না? কেন দেশনেত্রীর পছন্দ মতো ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পত্র নিয়ে যাবার পরও কোন অজ্ঞাত কারণে গতকাল বিএনপি উচ্চ পর্যায়ের তিনজন নেতাকে দেখা করতে দেয়া হয়নি? সব মিলিয়ে এক গভীর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের আভাস পাচ্ছি আমরা। উল্লেখ্য, গত ৮ই ফেব্রুয়ারি কারাগারে নেয়ার পর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আদালতে নেয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তাকে আদালতে নেয়া হয়নি। পরে ২৯শে মার্চ খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা আলমগীরের নির্ধারিত সাক্ষাৎটিও বাতিল করা হয় অসুস্থতার কারণে দেখিয়ে। এ ঘটনার পর কারাবন্দি খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি জানার চেষ্টা ও সুচিকিৎসার দাবিতে সোচ্চার হয় বিএনপি। পরে সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ৭ই এপ্রিল বিএসএমএমইউতে এনে এক্স-রে করা হয় তার। চার সদস্যের এই বোর্ডের সদস্যরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ‘গুরুতর নয়’ মন্তব্য করলেও জানান, তার ঘাড়ে ও কোমরে সমস্যা রয়েছে। তারা কারাগারে খালেদা জিয়ার জন্য অর্থপেডিক বেডের পরামর্শও দেন। বিএনপির তরফে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সাক্ষাতের সুযোগ ও তাকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির দাবি আসে। বিএনপির আবেদন-নিবেদনের পরও ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সাক্ষাৎ এবং তাদের পরামর্শ নেয়ার সুযোগ মেলেনি খালেদা জিয়ার। কিন্তু কয়েকদিন আগে তার দুই জন ব্যক্তিগত চিকিৎসককে অনানুষ্ঠানিকভাবে ডেকে পাঠান কারা কর্তৃপক্ষ। তবে, একইদিন দলের মহাসচিবসহ তিন সিনিয়র নেতার নির্ধারিত সাক্ষাৎটি বাতিল করে দেয়। গতকালও কারা কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার পরিবারের স্বজনদের সাক্ষাতের সুযোগ দেয়নি।

টাইমের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী

টাইম ম্যাগাজিনের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার নিজেদের ওয়েবসাইটে  এ বছরের তালিকা প্রকাশ করে বিখ্যাত এই মার্কিন ম্যাগাজিন। এতে  প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা রয়েছেন লিডার্স ক্যাটাগরিতে। প্রতিবারের মতো এবার ক্রমানুসারে তালিকা দেয়া হয়নি। পাঁচটি ক্যাটাগরিতে প্রভাবশালীদের নাম বিন্যাস করা হয়েছে। এগুলো হলো- পাইওনিয়ার্স, আর্টিস্টস, লিডার্স, আইকনস ও টাইটানস।
তার মধ্যে লিডার্স ক্যাটাগরিতে স্থান পাওয়া ২৭ জনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ২১তম স্থানে রয়েছে। এই ক্যাটাগরিতে অন্যদের মধ্যে রয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, বৃটেনের প্রিন্স হ্যারি ও তার হবু স্ত্রী অভিনেত্রী মেগান মার্কেল, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, লন্ডনের মেয়র সাদিক খান, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন টরুডো, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, মার্কিন স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলার, উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন।
টাইম ম্যাগাজিনের এ তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে লিখেছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি। তিনি লিখেছেন, ‘৯০ এর দশকে সর্বপ্রথম শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। তখন তিনি বাংলাদেশে সামরিক শাসন বন্ধের দাবিতে জোরদার প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। সর্বশেষ আমাদের দেখা হয় ২০০৮ সালে, যখন তিনি প্রচারণা চালাচ্ছিলেন আরেক সামরিক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। এর পরের বছর নির্বাচনে ভূমিধ্বস বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়া তার পিতার লেগ্যাসি বহনকারী হাসিনা কখনই লড়াইকে ভয় পাননি। কাজেই, গত আগস্টে যখন হাজার হাজার জাতিগত রোহিঙ্গা শরণার্থী মিয়ানমার আর্মির নৃশংসতা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে প্রবেশ করা শুরু করলো, তখন তিনি এই মানবিক চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করলেন। দরিদ্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অতীতে শরণার্থীদের বিরাট ঢলকে স্বাগত জানায়নি। কিন্তু তিনি জাতিগত নিধনযজ্ঞের শিকার হওয়া বিপর্যস্ত ভুক্তভোগীদের ফিরিয়ে দিতে পারেননি। এজন্য তিনি প্রশংসার দাবিদার, কিন্তু তিনি মানবাধিকার নিয়ে বাজেভাবে হোঁচট খাচ্ছেন। তার সরকারের শাসনের অধীনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও বলপূর্বক গুমের ঘটনা ঘটেছে। এ সরকার সমালোচনা বা ভিন্নমত বরদাশত করে না। ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, সেই শেখ হাসিনাকে এই কর্তৃত্বপরায়ণতার দিকে যাওয়ার প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। মিয়ানমার ও অন্যদের জন্য তাকে উদাহরণ হওয়া প্রয়োজন; এটা দেখানো প্রয়োজন যে, গণতন্ত্র ভিন্নমত ও বৈচিত্র্যকে আপন করে নেয়।’
টাইম ম্যাগাজিনের এবারের তালিকায় প্রভাবশালী প্রত্যেকের প্রোফাইলেই তাদের সম্পর্কে লিখেছেন বিখ্যাত ও প্রভাবশালী অন্যরা। ইতিহাসের অন্যতম সেরা টেনিস তারকা রজার ফেদেরারকে নিয়ে লিখেছেন মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে লিখেছেন টেড ক্রুজ। মেগান মার্কেলকে নিয়ে লিখেছেন প্রিয়াংকা চোপড়া। ভারতীয় তারকা ক্রিকেটার বিরাট কোহলিকে নিয়ে লিখেছেন ক্রিকেটের কিংবদন্তী শচীন টেন্ডুলকার। হিউ জ্যাকম্যানকে নিয়ে লিখেছেন অ্যানা হ্যাথওয়ে।
প্রভাবশালীদের মধ্যে ‘পাইওনিয়ার্স’ ক্যাটাগরিতে রয়েছেন, অলিম্পিকে সর্বকনিষ্ঠ স্বর্ণজয়ী নারী ক্লোয়ি কিম, জনপ্রিয় কমেডি উপস্থাপক ট্রেভর নোয়াহ, চীনের কোয়ান্টাম পদার্থবিদ প্যান জিয়ানওয়েই প্রমুখ। ‘আর্টিস্টস’ ক্যাটাগরিতে রয়েছেন খ্যাতনামা অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান, জনপ্রিয় এক্স-ম্যান চরিত্র ওলভারিনখ্যাত হিউ জ্যাকম্যান, ওয়ান্ডার ওম্যান চরিত্রে বিশ্ব মাতানো গ্যাল গ্যাডট, বলিউড তারকা দিপীকা পাড়ুকোন প্রমুখ। ‘আইকনস’ ক্যাটাগরিতে অন্যদের মধ্যে আছেন খ্যাতনামা অভিনেত্রী, সংগীতশিল্পী জেনিফার লোপেজ, রিহানা ও ব্ল্যাক প্যান্থার চরিত্রে বক্স অফিস মাতানো চ্যাডউইক বোসম্যান। আর সর্বশেষ ক্যাটাগরি ‘টাইটানস’-এ অন্যদের মধ্যে আছেন রজার ফেদেরার, অপরাহ উইনফ্রে, জেফ বেজস ও বিরাট কোহলি।

কোন অপরাধের শাস্তি হয়নি বলুন?

ছাত্রলীগ হোক আওয়ামী লীগ হোক, আমাদের যে কোনো সংগঠনে অপরাধ করে অপকর্ম করে কেউ পার পেয়ে যেতে পারে না। কোন অপরাধের শাস্তি হয়নি বলুন? আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির ‘দেশরত্ম-জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ’ শীর্ষক সেমিনারে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ছাত্রলীগ নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। ওবায়দুল কাদের জানান, ছাত্রলীগকে নিয়ে নতুন করে ভাবছে আওয়ামী লীগ। দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন মডেলে ছাত্রলীগকে বিকশিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। ছাত্রলীগের কনফারেন্স (সম্মেলন) আছে নেক্সট মাসে। সেই কনফারেন্সে আমরা স্টাকচারালি লিডারশিপে এবং ছাত্রলীগকে নতুন মডেলে বিকাশ করার একটা নির্দেশনা আমাদের নেত্রীর আছে। আমরা সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। একটু ধৈর্য ধরুন, একটু অপেক্ষা করুন। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কিছু এমবারাসিং (বিব্রবতকর) ব্যাপার ঘটে। এ ব্যাপারে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। ছাত্রলীগ হোক আওয়ামী লীগ হোক, আমাদের যে কোনও সংগঠনে, অপরাধ করে অপকর্ম করে কেউ পার পেয়ে যেতে পারে না। অনুষ্ঠানে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, একজন দণ্ডিত আসামি বিদেশে পলাতক আছে, তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তো অবশ্যই আদালতের একটা নির্দেশনা আছে, সরকারেরও একটা দায়িত্ব থাকতে পারে। এখানে কোনও সমীকরণের বিষয় নেই। তিনি আরও বলেন, বিষয়টা হচ্ছে, তারেক রহমানের সাহস আছে কি না?
রাজনীতি যখন করেন তখন বিদেশে বসে দেশের রাজনীতিক অঙ্গনে শব্দ বোমা ফাটাচ্ছেন কেন? আসুন রাজপথে মোকাবিলা করুন। কত সাহস আছে, রাজনীতি যখন করেন তখন জেলে যাওয়ার সাহস নেই। সে রাজনীতি কোনোদিনও সফলকাম হবে না। এটা তো কাপুরুষের রাজনীতি। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য প্রয়োজন বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই দায়িত্বটা তো ফখরুল সাহেব নিজেও নিতে পারেন? সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন। তারা নিজেরাই তো ঠিক নেই। কখনো বলে সহায়ক সরকার, কখনো বলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কেও তাদের একেক জনের একেক ডেফিনেশন, কোনটা গ্রহণ করবেন? তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, নির্বাচনের আর পাঁচ-ছয় মাস পরেই শিডিউল হবে। এখন আমাদের সামনে, সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গণতন্ত্র-নির্বাচনকে পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশ যেভাবে দেখছে আপনারা কেন সেখান থকে সরে যাচ্ছেন। আপনারা ক্ষমতায় থাকলে কি বলতেন? তার বাইরে যেতে চাইলে-চিৎকার করতে পারেন। আন্দোলন করে আদায় করবেন, এই কথাতো শুনছি নয় বছর ধরে। নয় মিনিটের জন্য রাস্তায় নামতে পারেননি, দাঁড়াতে পারেননি। সক্ষমতা দেখাতে পারেননি। ফখরুল সাহেব এক সময় বাম রাজনীতি করতেন উল্লেখ করে বলেন, আপনি যে গণঅভ্যুত্থানের কথা প্রতিদিন বলছেন, বারবার বলছেন। মওদুদ সাহেবও বলছেন। অভ্যুত্থান যখন হয় তখন মওদুদ সাহেব দেশে থাকেন না, কখনো ছিলেন না। আর বাম রাজনীতি যারা করেন তারা ভালো করেই জানেন, আন্দোলনের সাবজেক্টটিভ প্রিপারেশন লাগে, অবজেক্টটিভ কনডিশন লাগে। বামপন্থিরা এটা ভালো করে চর্চা করেন।
সাবজেক্টটিভ প্রিপারেশন কি আপনাদের আছে। সবচেয়ে বড় কথা, দেশে কি আন্দোলনের কোনও অবজেক্টটিভ কনডিশন আছে? দেশের মানুষ খুশি। তা না হলে খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারের পর লাখ লাখ মানুষের ঢল নামার যে স্বপ্ন আপনারা দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন তো অচিরেই কর্পূরের মতো উড়ে গেল। সেই স্বপ্ন কি বাস্তব ও সত্যি হয়েছে। ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আপনি জোর করে আন্দোলন করবেন। মানুষ ছাড়া আন্দোলন হবে। জনগণ ছাড়া আন্দোলন হবে। নিজের দলের ৫শ’ সদস্যদের জাম্বু জেট কমিটিকেও তো রাস্তায় নামাতে পারেননি-এ পর্যন্ত। গণ-অভ্যুত্থানের বস্তুগত পরিস্থিতিও নেই। সুসংগঠনগত প্রস্তুতিও নেই। জনগণ আসবে না। খালেদা জিয়াকে কারাগারে আমরা দেইনি। দণ্ড দিয়েছে আদালত। মুক্তি দিতে পারে আদালত। আইনি লড়াই করুন। রাজপথে এসে লাভ নেই। নয় বছরেও পারেননি। আর ছয় মাসে কি করবেন? এখন আপনাদের সামনে বিকল্প একটা, খালেদা জিয়াকে যদি ভালোবাসেন, আইনি লড়াই করুন। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তার দণ্ড মওকুফ করাতে পারেন বা উচ্চ আদালতে খালাস করাতে পারেন। এটা আপনাদের আইনি লড়াইয়ে প্রমাণ হবে। প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান এইচটি ইমামের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিক উজ জামান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সদস্য সচিব হাছান মাহমুদ প্রমুখ। সেমিনার পরিচালনা করেন উপ-কমিটির সদস্য এবং আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

পদত্যাগ না বহিষ্কার-এ নিয়েও বিতর্কে রনি by ইব্রাহিম খলিল

একের পর এক বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির। তবে, এসব বিতর্ক সৃষ্টি করেন তিনি নিজেই। কোচিং  সেন্টারের মালিককে মারধরের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে পদ থেকে অব্যাহতি নেয়ার ঘোষণা দেন নিজের ফেসবুক ওয়ালে। এ নিয়েও বিতর্কে উঠেন রনি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে তার পদ থেকে অব্যাহতি নেয়ার ঘোষণাটি। অব্যাহতি চেয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বরাবরে আবেদন করা কপিটিও (স্ক্রিনশট) এসব গণমাধ্যমগুলো প্রকাশ করেছে।
আবার কোনো কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে কেন্দ্র থেকে তাকে বহিষ্কারের খবর। সেখানে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যের বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে, বহিষ্কারাদেশের কোনো কপি প্রকাশ পায়নি।
আবার কয়েকটি গণমাধ্যমে সাইফুর রহমান সোহাগ মুঠোফোন রিসিভ না করায় বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আবার সাইফুর রহমান সোহাগ রনির বিষয়ে গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্য না দেয়ার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে প্রচার করেছেন অনেক নেতাকর্মী। এ ব্যাপারে কোনো বিভ্রান্তি না ছাড়ানোর অনুরোধ, এমনকি স্থুল হুমকিও দেয়া হয়েছে।
ফলে, নুরুল আজিম রনির পদত্যাগ বা বহিষ্কার নিয়ে গতকাল দিনভর চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। রনির অব্যাহতির আবেদনপত্র প্রচার পেলেও কেন্দ্র থেকে বহিষ্কারাদেশের পত্র প্রকাশ না পাওয়ায় এবং একেক গণমাধ্যমে একেক খবর প্রচার হওয়ায় এ নিয়ে এখনো রয়ে গেছে ধোঁয়াশা ও বিতর্ক।
চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি কোচিং সেন্টারের মালিককে পেটানোর ঘটনায় নুরুল আজিম রনির বিরুদ্ধে মামলার পর পেটানোর ভিডিওটি বৃহস্পতিবার ভাইরাল হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠলেও গতকাল ফেসবুকে ভাসছে রনির পদত্যাগ না বহিষ্কার এ প্রশ্ন নিয়ে কৌতূহলী নেতাকর্মীদের স্ট্যাটাস।
আর এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একাধিকবার ফোন করা হলেও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ মুঠোফোন রিসিভ করেননি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সমপাদক জাকির হোসেনও বিষয়টি সমপর্কে অবগত নন বলে জানান।
তবে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন নেতা বলেন, বিষয়টি মীমাংসিত। রনি নিজেই যেখানে পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে অব্যাহতির জন্য আবেদন করেছেন তখন তিনি পদ ছাড়ার মানসিকতা নিয়েই করেছেন। তিনি আর পদে নেই, ব্যস। এখানে বহিষ্কারের প্রশ্ন অমূলক। 
নুরুল আজিম রনি বৃহস্পতিবার নিজেই তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন- পিতা মুজিবুরের হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সমপাদক পদ থেকে আমি সজ্ঞানে অব্যাহতি নিলাম। একান্ত ব্যক্তিগত কারণে আমি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
এমতাবস্থায় সংগঠনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সমপাদক জাকারিয়া দস্তগীর সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সমপাদকের দায়িত্ব পালন করবেন। এ সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রতি আবেদন করছি। প্রাণের ছাত্রলীগ ভালো থেকো, স্বকীয়তা নিয়ে লড়াই করার সৎ সাহস রেখো। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
নুরুল আজিম রনি ফেসবুক ওয়ালের স্ট্যাটাসে একান্ত ব্যক্তিগত কারণে পদ থেকে অব্যাহতি নেয়ার কথা বললেও বিষয়টি মোটেও তা নয়। এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নগরীর ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের মালিক রাশেদ মিয়াকে মারধরের ভিডিও ভাইরাল হয়ে উঠে। বয়ে যায় বিতর্কের ঝড়। আর তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মুখে পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বরাবরে অব্যাহতির জন্য আবেদন করেন তিনি। যা নিজের ফেসবুক ওয়ালে সেঁটে দেন তিনি নিজেই। আর এই স্ট্যাটাস নতুন করে আবারো বিতর্কের সৃষ্টি করে।
এর আগে অতিরিক্ত ফি ফেরতের জন্য চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ ড. জাহিদ খানকে মারধর করে বিতর্কের মুখে পড়েন রনি। এই ঘটনায়ও নগরীর চকবাজার থানায় একটি মামলা করেছেন অধ্যক্ষ ড. জাহিদ খান। এর আগেও নানা কর্মকাণ্ডে একের পর এক বিতর্কে জড়ান রনি। যার পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে চরম অস্থিরতা চলছে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগে।
প্রসঙ্গত, দ্বিধাবিভক্ত ছাত্রলীগে নুরুল আজিম রনি নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তার প্রতিপক্ষ বর্তমান সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির সমর্থিত।
গত কয়েক দশক ধরে এই দুই নেতার বলয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ হয়ে আসছে চট্টগ্রামে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নগর ও ওয়ার্ড কমিটির প্রতিপর্যায়ে এই দুই নেতায় বিভক্ত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনসমূহের নেতাকর্মীরা।

রাতটুকু কেন অপেক্ষা করা গেল না?

শুক্রবার মধ্যরাতে বেনজির এক দৃশ্যের সাক্ষী হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অন্য কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে কি-না নিশ্চিত হয়ে বলা যায় না। যথারীতি দৃশ্যপটে কবি সুফিয়া কামাল হল। ১০ই এপ্রিল মধ্যরাত থেকেই আলোচনায় রয়েছে যে হলটি। ওই রাতে ছাত্রলীগের হলনেত্রী এশার হাতে নির্যাতনের শিকার হন কয়েক শিক্ষার্থী। পরে তাদের প্রতিবাদও যায় সীমা ছাড়িয়ে। লাঞ্ছনার শিকার হন এশা। তার ভাগ্যবিপর্যয় ঘটে। ছাত্রলীগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার। সবারই জানা, এ সবই ছিল সাময়িক। তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়েছে। যারা তার বিরোধী ছিলেন তাদের জীবন এখন রীতিমতো নরক। ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও খড়গহস্ত।
এসবের মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে সুুফিয়া কামাল হলে ঘটে নানা নাটকীয়তা। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। ফেসবুকে কে কী স্ট্যাটাস দিয়েছে তা পরীক্ষা করে দেখেন তারা। সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী হল ত্যাগে বাধ্য হন। স্থানীয় অভিভাবকদের হাতে তুলে দেয়া হয় তাদের। সংখ্যাটি ঠিক কত এ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। হলের প্রভোস্ট সাবিতা রেজওয়ানা ছাত্রীদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারিও দেন। এই নিয়ে যখন চারদিকে তোলপাড় তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান গতকাল বলেছেন, ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে ‘সরকারবিরোধী বক্তব্য ও অপতথ্য ছড়ানোর কারণে’ তিন ছাত্রীকে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। তার ভাষায়, দোষী তিন ছাত্রীকে অভিভাবকদের হাতে তুলে দিয়ে প্রশাসন সঠিক কাজই করেছে। এটা না হলেই বরং তিনি হল কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করতেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতা হয়তো সবসময়ই যুক্তিকে তাচ্ছিল্য করে। কোনো শিক্ষার্থী বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে অপরাধ করতেই পারেন। তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া যায়। হল থেকে বহিষ্কারের এখতিয়ারও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের রয়েছে। কিন্তু মধ্যরাতেই কেন ছাত্রীদের তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দিতে হবে। দিনের আলোতে এ কাজ করলে কী সমস্যা ছিল তা অনেকেই বুঝতে পারছেন না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অন্ধকারকেই কেন ভালোবাসলো তা বুঝা দায়। মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের হল থেকে বহিষ্কারের কারণে তাদের কী ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে তাতো এরই মধ্যে খবরে বেরিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে হানাহানির ঘটনা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। অতীতে এ ধরনের ঘটনায় বহুবারই বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকাল বন্ধ হয়েছে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে হল। এসব ক্ষেত্রে সবসময়ই দেখা যেত রাত যতই হোক কিছু সময় দিয়ে ছেলেদের হল খালি করার নির্দেশ দেয়া হতো। কিন্তু মেয়েদের হল রাতে খালি করার নির্দেশ দেয়া হতো না। সকাল হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা হতো। মাননীয় ভিসি এবং প্রভোস্ট মহোদয় হয়তো সে দিকটিও খেয়াল করেননি। একজন ছাত্রীর পিতাকে নিয়ে ভিসি যে মন্তব্য করেছেন তা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও বিস্ময়কর। কোন সংবেদনশীল মানুষ এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন না।
এশাকে লাঞ্ছনার ঘটনায় অনেকেই ব্যথিত হয়েছেন। এবং সেটা বেশ যৌক্তিকও। যেকোনো নাগরিকের বেলায়ই এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটলে তার মাত্রা আরো বেড়ে যায়। ইতিহাস সৃষ্টিকারী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে অবশ্য বছরের পর বছর নানা অনাচার চলে আসছে। ছাত্র নেতারাই হলের রাজা। বাকি সবাই প্রজা। শারীরিক-মানসিক নানামুখী নির্যাতনের শিকার হতে হয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের। শিক্ষকরা দর্শক মাত্র। এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক শিক্ষকের ভাষায়, হলগুলো যেন মিনি কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প।
বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয়, জ্ঞানদায়িনী মা। আর সে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হচ্ছেন ভিসি এবং শিক্ষকরা। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীরা যদি অবিচারের শিকার হোন, তবে তাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না। ন্যায়ের বাণী যেন আজ নিভৃতে কাঁদে।

একসময়ের স্রোতস্বিনী বংশাই এখন ময়লার ভাগাড় by মো.নজরুল ইসলাম

মধুপুরের একসময়ের স্রোতস্বিনী বংশাই নদ দখলের কবলে পড়ে সঙ্কুচিত হয়ে ছোট নালায় পরিণত হয়েছে। অবৈধভাবে দখল করে বাসা-বাড়ি নির্মাণ করার ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে নদটি। শুধু দখল নয় পার্শ্ববর্তীদের নিক্ষিপ্ত বর্জ্যে পানি দূষিত ও আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নদীর দুই তীর দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। গোলাবাড়ী ব্রিজ থেকে শুরু করে দামপাড়া গ্রামের বাঁকে বংশাইয়ের দুই পাড় দখলের দৃশ্য কারো চোখ এড়ায় না। বিশেষ করে কাইতকাই, হাসপাতাল গেটের সামনে, মধুপুর বাসস্ট্যান্ড ব্রিজ থেকে হাটখোলা, বোয়ালী গ্রামের সীমানা এলাকা, দামাপাড়া পর্যন্ত বংশাইয়ের প্রস্থ উদ্বেগজনক। জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র জামালপুরের সীমানা পেরিয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ে মিশেছে এই বংশাই নদ। ঢাকার সাভার-ধামরাইয়ে বংশাই নামেই এ নদের পরিচিতি। এক সময় বংশাইয়ের জলে বনের পশু-পাখি তৃষ্ণা মেটাতো। দুই/তিন দশক আগে এ নদ দিয়ে চলতো পাল তোলা নৌকা। এসব এখন শুধুই ইতিহাস। এ বিষয়ে একটি সেমিনারে জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফি উদ্দিন মনি জানান, বংশাইয়ের সীমারেখা সবাই জানে। তবু চোখের সামনে নদটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। কারো কিছু বলার নেই। বংশাই নদটি উদ্ধারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প না থাকায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের টাঙ্গাইল জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ জানান, নদ-নদী দখল রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের করণীয় কিছু নেই। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের এখতিয়ারভুক্ত। টিআইবি’র সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) মধুপুর শাখার সভাপতি ডা. মীর ফরহাদুল আলম মনি জানান, বংশাই নদ হলো মধুপুরের ফুসফুস। নিজেদের স্বার্থে এ নদটি টিকিয়ে রাখতে হবে। মধুপুর পৌরসভার মেয়র মাসুদ পারভেজ জানান, শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পথচারীদের হাঁটার জন্য বংশাইয়ের দুই তীর দিয়ে সড়ক নির্মাণ করতে পারলে মেয়র হিসেবে একটি স্বপ্নের সফল পরিণতি হবে।
পরিবেশ উন্নয়ন সংগঠন ‘বেলা’র টাঙ্গাইলের সিনিয়র গবেষক সোমনাথ লাহেড়ী সাংবাদিকদের জানান, মধুপুরের বংশাই একটি ঐতিহ্যবাহী নদ। ভরাটের কারণে জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। আইন ও উচ্চ আদালতের ২০১১ সালের এক আদেশ মতে নদী জলমহাল দখল বেআইনি। ফৌজদারি ধারায় শাস্তিযোগ্য। তিনি বংশাই দখল রোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।  সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুল হক জানান, বংশাই নদ অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করার প্রক্রিয়া চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, ইতিমধ্যে উপজেলা ভূমি অফিসকে নদটির দুই পাড়ের দখল চিহ্নিত করে দখলদারদের তালিকা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দখল এলাকা ও দখলদারদের বিষয়ে পরে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

‘মন্ত্রী-এমপিদের প্রচারণার সুযোগ দিলে পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হবে’ by সিরাজুস সালেকিন

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণার সুযোগ দিলে ভোটের মাঠের পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তে সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো বৈষম্যের শিকার হবে। এতে করে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হবে। সিটি করপোরেশনের ভোটে প্রচার-প্রচারণার সুযোগ দিতে আচরণবিধি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ স্থানীয় নির্বাচনে এমপিরা প্রচারণার সুযোগ চেয়ে প্রস্তাব দেয়ার পরে এক সপ্তাহের মাথায় গত বৃহস্পতিবার কমিশন সভায় আচরণবিধি সংশোধনের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের নেতৃত্বে আইন ও বিধিমালা সংস্কার কমিটিকে এ বিষয়টি পর্যালোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব প্রতিবেদন দিতে বলেছে কমিশন। এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এমপিরা প্রচারের সুযোগ পেলে তার প্রভাব হবে ভয়াবহ। যেসব দলের এমপি নেই তারা বৈষম্যের শিকার হবেন। এটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অন্তরায় হবে। তিনি বলেন, এমপিরা নিজ এলাকায় প্রচণ্ড প্রভাব-প্রতিপত্তিশালী। তারা প্রচারের সুযোগ পেলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের লেশমাত্র থাকবে না। ২০০৯ সালে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন কমিশন এমপিদের নির্বাচনী প্রচারের বাইরে রাখার বিষয়টি বিধিমালায় যুক্ত করে। পরে ২০১৫ সালে দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তের পর মন্ত্রী-এমপিদের প্রচারের সুযোগ দেয়া না দেয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে তৎকালীন কাজী রকিবউদ্দীন কমিশন। প্রাথমিকভাবে মন্ত্রী-এমপিদের নাম উল্লেখ না করে সরকারি সুবিধাভোগীদের প্রচারের (সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বাদ দিয়ে) সুযোগ করে দিয়ে খসড়া  তৈরি করে। এ নিয়ে তুমুল সমালোচনার মধ্যে সরকারি সুবিধাভোগীদের সফর ও প্রচারণায় অংশ নেয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মন্ত্রী-এমপিদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আচরণবিধি করা হয়। এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ দেখায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর কুমিল্লা সিটি ভোট সামনে রেখেও আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন বলেছিলেন, নির্বাচন কমিশন বেশি নিরপেক্ষতা দেখাতে গিয়ে সরকারি দলের প্রতি বেশি নিষ্ঠুর আচরণ করছে। এবারে গাজীপুর ও খুলনার সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে মন্ত্রী-এমপির ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণারোপ না করার দাবি জানায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। চার সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছিলেন, সামনে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন রয়েছে। মন্ত্রী-এমপিদের চলাফেরার ওপরে যাতে নিয়ন্ত্রণ না করা হয়। যাতে স্বাভাবিক কাজে বাধা না দেয় তা দেখতে বলেছি। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আচরণবিধি নিয়ে বাস্তবে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা দেখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আচরণবিধি যাতে আবার এমন হয়ে না দাঁড়ায় যে, নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করে। নির্বিঘ্নে নির্বাচন করার জন্য যেটুকু দরকার সেটুকুই যেন তারা রাখেন। তিনি বলেন, মন্ত্রীদের গতিবিধি এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় যারা এমপি আছেন, তারা এখন (নির্বাচনের সময়) এলাকায় যেতে পারবেন না। এক্ষেত্রে অসুবিধা হয়, তারা তো ওইসব নগরে বাস করেন। যেমন গাজীপুর-খুলনার অধিবাসী অনেক এমপি আছেন। কমিশন বৈঠকে আইন সংশোধন নিয়ে আলোচনার পর ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, এই সিদ্ধান্ত ক্ষমতাসীনদের চাপে নয়। যে কোনো রাজনৈতিক দল ইসির অংশীজন। পরামর্শ ও আলাপ-আলোচনা করে তাদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো ইসি বিবেচনা করে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, এটা ঠিক হবে না। এটা আগে নিষিদ্ধ ছিল। বিশেষ করে নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। বিএনপির তো মন্ত্রী-এমপি নেই। সুতরাং ব্যাপারটা একতরফা হয়ে যাবে। এতে করে প্রার্থীদের মধ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না।

অস্তিত্ব সংকটে রংপুর অঞ্চলের অর্ধশতাধিক নদ-নদী by জাভেদ ইকবাল

অস্তিত্ব সংকটে রংপুর অঞ্চলের অর্ধশতাধিক নদ-নদী। যদিও নদীমাতৃক এ দেশের নদীগুলো কালের বিবর্তনে মরা খালে পরিণত হয়েছে। পানির অভাবে নাব্য হারিয়ে রংপুর অঞ্চলের নদীগুলো এখন মৃতপ্রায়। সীমান্তবর্তী দেশ ভারত উজানে বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করায় এ অবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু অর্ধশতাব্দী আগেও এসব নদীতে ছিল উত্তাল যৌবনে পানির প্রবাহ ও ঘ্রাণের স্পন্দন। এখন সেই যৌবনে ভাটা পড়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে নদীর অস্তিত্ব। আর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কৃষি, পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তরের প্রাচীনতম জনপদ রংপুর অঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও জেলায় রয়েছে ধরলা, দুধ কুমার, করতোয়া, জলঢাকা, নীলকুমার, সতী ঘাঘট, বাঙ্গালী, মানাস, কুমলাই, ধুম, বুড়িঘোড়া, সোনাভারী, জিঞ্জিরাম, সাপমরা, রায় ঢাকা, ফুল কুমার, নলেয়া, হলহলিয়া, কাটাখালী, যমুনেশ্বরী, চিতনী, মরা করতোয়া, ইছামতি, ঘাঘট, আলাই, তিস্তা, কুমারীসহ প্রায় ৫০ নদী এখন মৃতপ্রায়। এসব নদীর অধিকাংশেরই এখন নাব্য নেই। বর্তমান সময়ে কোনো কোনো নদীতে হাঁটুজলও শুকিয়ে গেছে। এক সময় এসব নদীর বুকে পাল তোলা নৌকায় পারাপার হলেও এখন পায়ে হেঁটে চলছে মানুষ। সর্বকালের সর্বনিম্ন পানি প্রবাহ এখন তিস্তায়। এক তরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে নেয়ার ফলে বাংলাদেশের ১১২ মাইল দীর্ঘ এই নদী শুকিয়ে এখন মৃতপ্রায়। সামান্য বর্ষার ছোঁবলে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করা করতোয়া নদীও এখন পানি শূন্যতায় ধুঁকে ধুঁকে মরছে। কোথাও নেই আগের সেই প্রবাহ। নেই ডিঙ্গি নৌকা। রংপুরের পীরগাছা উপজেলার উপর দিয়ে এক সময় প্রবাহিত আলাইকুড়ি নদী এখন পরিণত হয়েছে মরা খালে। কালের আবর্তনে মরে যাচ্ছে রংপুরের গঙ্গাচড়ার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘাঘট নদী। পানিশূন্য হয়ে পড়ায় নদীটির বুকে আবাদ হচ্ছে বিভিন্ন ফসল। আর কয়েটি বছর পর স্মৃতির পাতা থেকে হারিয়ে যাবে এই নদী। যার বুকজুড়ে লোকজন জবরদখল করে আবাদ করছে।
নদীটি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে বেকার হয়ে পড়েছেন শত শত মৎসজীবী। অভিজ্ঞ লোকজনের ধারণা নদীটি খনন করা হলেও মৎস্য চাষসহ আবাদি জমিতে সেচের ব্যবস্থা করা যাবে। এতে কৃষকরা উপকৃত হবে। জানা যায়, নীফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার কুড়িপাড়া গ্রামে তিস্তার শাখা নদী হিসেবে ঘাঘট নদীর উৎপত্তি। ঘাঘট নদী গঙ্গাচড়া উপজেলার পশ্চিম সীমানা দিয়ে নোহালী, আলমবিদিতর ও বেতগাড়ি ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে রংপুর সদর হয়ে পীরগাছা উপজেলায় প্রবেশ করেছে। এরপর আলাইকুড়ি নদীর সঙ্গে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্ল্যাপুর হয়ে যমুনায় মিলিত হয়েছে। নদীটির আঁকাবাঁকা পথে ১২০ কিলোমিটার শুকিয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন বলছেন, এক সময় এ নদীটির ওপর দিয়ে পাল তোলা নৌকা চলতো। দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা আসতো ব্যবসা করার জন্য। নদী পথে বিভিন্ন প্রকার পণ্য সরবরাহ করতো লোকজন।

কটিয়াদীর নদীতে চাষাবাদ হচ্ছে ধান by মো. রফিকুল হায়দার টিটু

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা প্রায় ২২০ বর্গ কি.মি. এলাকায় ১টি পৌর ৯টি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রায় ২৫টি নদ-নদী, খাল-বিল প্রবাহিত ছিল। যার বেশির ভাগই শুকিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নদ-নদী, খাল-বিলগুলোর নাম পর্যন্ত ভুলতে বসেছে নতুন প্রজন্ম। অথচ এক সময় এই নদ-নদী, খাল-বিল ছিল কৃষি, ব্যবসা আর প্রাকৃতিক সম্পদের আধার। যার উপর নির্ভর করতো এলাকার মানুষের জীবন জীবিকা। একদিকে অপরিকল্পিত বাঁধ, কালভার্ট আর নানা প্রকল্প অন্যদিকে খননের অভাবে এসব নদ-নদী, খাল-বল ভরাট হয়ে শুকিয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে পড়েছে নৌ চলাচল ও নদী কেন্দ্রিক হাট বাজার। এক সময়ের জলাধারগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদ করছে কৃষক। তাতেও সেচ সংকটে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের। আবার বর্ষা মৌসুমে অল্প বৃষ্টি বা উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহে জলমগ্ন হয়ে পড়ে হাওর বেষ্টিত ইউনিয়নগুলো। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট ও ঘনঘন প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। দুর্ভোগ বাড়ছে খেটে খাওয়া কৃষক, শ্রমিক ও হতদরদ্রি সাধারণ মানুষের। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের খরস্রোতা পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, আড়িয়াল খাঁ, সূতী, ঘোড়াউত্রা, কুড়িখাই, দিনমনি ও মাগুড়া নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে বোরো আবাদ করছে কৃষক। তাছাড়া আচমিতা, জালালপুর, লোহাজুরী, বনগ্রাম, মুমুরদিয়া ও করগাঁও এর মধ্যদিয়ে প্রবাহিত পুরুষ বধিয়া বিল, কুরয়ানি বিল, বাগাদাইর বিল, চাতলিয়া বিল, রোয়া বিল, ঝাওয়া বিল, কইরানী বিল, রুপসা বিল,  দেওভাঙ্গা বিল,  ডেকিয়া বিল, শিমুল কান্দি বিল, গাজীগিলা বিল, হাসা বিল, ভরা বিল, রাহি বিল, গোদাইর বিল, সিদ্ধি বিল, দুরবা বিল, কুটির বিল, চামিলি বিল, তপাই খাল, হিদলছড়ি খাল, নন্দার খাল,  দৌলাবাইদ খাল, কাঠালিয়া খাল ও বাউনখালি খাল শুকিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ হাজার একর জামিতে সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। পানির অভাবে যেমন জলজ সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে তেমনি বিনষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। এ ছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন নিচে চলে যাচ্ছে। নলকূপ বা পাম্পে পানি উত্তোলন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। নদী ও খাল-বিলগুলো দিনদিন প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে।
কটিয়াদী উপজেলার পৌর এলাকা, জালালপুর, লোহাজুরী ও মসূয়া ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী মনোহরদী, বেলাব উপজেলার সীমানাকে বিভক্ত করে বয়ে গেছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র। যা ভৈরবে মেঘনা নদীর সঙ্গে মিলিত ছিল। প্রমত্ত ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী আড়িয়াল খাঁর একটি অংশ পৌর এলাকার থানার সামনে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পুনারায় বেলাব হয়ে ভৈরবের মেঘনা নদীতে মিলিত ছিল। কিন্তু স্থানে স্থানে অপরিকল্পিত বাঁধ, কালভার্ট আর ব্রিজ নির্মাণের কারণে এই নদ-নদীর বেশিরভাগ অংশ এখন বদ্ধ জলাশয়। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই নদ-নদী এখন প্রভাবশালীদের দখলে। এই নদীর পাড় ঘেঁষে গড়া উঠা বাজারগুলো এখন ধংসের দ্বারপ্রান্তে।
এই খাল-বিল, নদ-নদীগুলো খননের দাবি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের। কিন্তু এই দাবির প্রেক্ষিতে সরকারের বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চোখে পড়ার মতো কোনো পদক্ষেপ আজ পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়নি। অবশ্য বিআইডব্লিউটিসি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র টোক বাজার থেকে খনন কাজ শুরু করেছে। এতে কিছুটা আশার আলো দেখা  দিয়েছে। অত্র এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি নদী খনন চলমান প্রকল্পটি কোনোভাবেই যেন বন্ধ হয়ে না যায়। অপরাপর নদী ও খাল বিলগুলো খননের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশা করে এলাকার মানুষ।

নতুন করে উত্তাপ বাড়ছে মাংস ও সবজির দামে

নতুন করে উত্তাপ বাড়ছে মাংস ও সবজির দরে। সপ্তাহের ব্যবধানে মাংসের পাশাপাশি বেশির ভাগ সবজির দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে মুরগির মাংসের দাম। অন্যদিকে কাঁচাবাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় বেশির ভাগ সবজির দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। তবে বাজারে নতুন আসা কাকরোলের দাম সবচেয়ে বেশি। প্রতি কেজি কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে পিয়াজের। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সরবরাহের ঘাটতি থাকায় সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে।
ক্রেতাদের আশঙ্কা হাতেগোনা কয়েকটি পণ্যই নাগালে রয়েছে। আর বাকি সব নাগালের বাইরে। এ ছাড়া সামনে রমজান মাস শুরু হবে। তখন কি হবে পণ্যের দামে? গতকাল রাজধানীর নিউমার্কেট, কারওয়ান বাজার, হাতিরপুলসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া যায়।
বাজারে ১৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পাকিস্তানি লাল মুরগি। যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। এছাড়া গত সপ্তাহের সাথে মিল রেখে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, ১লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ছিল। সেই বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সামনে রমজান মাস আসছে। এ কারণেও মুরগির দাম বাড়তে পারে বলে জানান বিক্রেতারা। সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের চেয়ে ৫ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে বিভিন্ন সবজির দাম। গত সপ্তাহে ১৫ টাকায় বিক্রি হওয়ার টমেটো বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা দরে। এছাড়া গত সপ্তাহে পটল বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকায়। কিন্তু সপ্তাহের ব্যবধানে সেই পটল বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে যে বেগুন বিক্রি হয়েছে প্রকারভেদে ৫০-৫৫ টাকা, তা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, শিম ৩০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, ক্ষিরা ৮০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা, আলু ২০ টাকা, প্রতি পিস বাঁধাকপি ৩০ টাকা, প্রতি পিস ফুলকপি ৩৫ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এক আঁটি লাল শাক ১৫ থেকে ২০ টাকা ও ধনিয়াপাতা ১০০ টাকা কেজি, কাচ কলা হালি ৩০ টাকা, লাউ প্রতিপিস ৫০ টাকা, কচুর ছড়া ৩০ টাকা, লেবু হালি ৪০ টাকা। এভাবে প্রতিটি সবজিতেই বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। এছাড়া ঢেড়শ’ ৪০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা এবং চিচিংগা ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে বাজারে নুতন আসা সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কাকরোল। প্রতিকেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকা।
বাজারের ব্যবসায়ী রবিউল বলেন, কাকরোল বিক্রি করছি ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে। নতুন আসার কারণেই দাম এমন বাড়তি। কিছুদিন পরেই এ সবজিটি আবার ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করব। এদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে ডিম। ডিমের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ডজনে ২ টাকা বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দোকানে হালি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা। ডিম ব্যবসায়ী অকিল বলেন, ডিমের দাম দুই-তিন সপ্তাহ ধরে বাড়ছে।
মসলার বাজারে কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা, আদা ১০০ থেকে ১১০ টাকা, রসুন মানভেদে ৮০ থেকে ৯০ টাকা এবং দেশি পিয়াজ ৪০ টাকায় বেচাকেনা হতে দেখা যায়। অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানিকৃত বড় পিয়াজ ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চিনি ৬০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১০০ টাকা ও আমদানি করা মসুর ডাল ৭০ টাকা কেজি করে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা আরিফ হোসেন বলেন, দাম বাড়াতে দোকানদারদের কোনো কারণের প্রয়োজন হয় না। মন চাইলেই তারা বাড়িয়ে দেন। এটা কারসাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। ক্রেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, হাতেগোনা কয়েকটি পণ্যই ক্রেতাদের নাগালে। আর বাকি সব নাগালের বাইরে। অনেক ক্রেতা রমজান মাসের কথা উল্লেখ করে বলেন, আর মাস দেড়েক পর রমজান শুরু হবে। এখনই যদি চিনি ৬০ টাকা, রসুন ১০০ টাকা ও আদা ১০০ টাকা হয়, তাহলে রমজান মাসে এসব পণ্যের দাম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।
চালের বাজারে মোটা স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৩ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকায়। এছাড়া পাইজাম ৪৫ টাকা, মিনিকেট মানভেদে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, বিরি ২৮ বিক্রি হচ্ছে টাকা এবং পোলাও চাল ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বাজারে।
অন্যদিকে মাছ দাম বৈশাখ উপলক্ষ্যে বেশ খানিকটা বেড়ে চলতি সপ্তাহে সামন্য কমেছে। প্রতি কেজি কাতল মাছ ২২০ টাকা, পাঙাস ১২০ টাকা, রুই ২৩০-২৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১৩০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা ও চিংড়ি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্ত্রীকে যৌন ব্যবসার ফাঁদে ফেলায় কবিরাজকে কুপিয়ে হত্যা

উত্তেজক ওষুধ খাইয়ে স্ত্রীকে যৌনকর্মে নিয়োজিত করায় চান মিয়া (৪২) নামে এক কবিরাজকে কুপিয়ে হত্যা করেছে জাকির হোসেন। পরে জাকির দা হাতে থানায় আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরতলীর সতাল পাক্কার মাথায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত চাঁন মিয়া কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের আমাটি শিবপুর এলাকার মৃত আব্দুল মোতালিবের ছেলে। পেশায় কাঠমিস্ত্রী চান মিয়া এলাকায় কবিরাজ হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে জাকির হোসেন একই এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।
এলাকাবাসী জানায়, কাঠমিস্ত্রি ও কবিরাজ চান মিয়া তার কাছে যাওয়া রোগীনীদের যৌন উত্তেজক ওষুধ খাইয়ে এলাকার কিছু লম্পট যুবকদের যৌন লালসা চরিতার্থ করার সুযোগ করে দিতো। একই এলাকার জাকির হোসেনের স্ত্রীকেও একই কাজে ব্যবহার করার জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পার্শ্ববর্তী সতাল পাক্কার মাথা এলাকায় জাকির হোসেন দা দিয়ে কুপিয়ে চান মিয়াকে মারাত্মক আহত করে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর জাকির নিজেই দা নিয়ে থানায় গেলে তাকে আটক করা হয় বলে যশোদল ইউপি চেয়াম্যান ইমতিয়াজ সুলতান রাজন জানিয়েছেন। নিহত চান মিয়ার লাশের ময়না তদন্ত শুক্রবার কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আছমা বাদী হয়ে জাকির হোসেনকে আসামি করে মামলা করেছে। তবে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, আছমা ছাড়াও নিহতের জহুরা নামে আগের এক স্ত্রী রয়েছে। ওসি আছমাকে থানায় নিয়ে তার স্বাক্ষর রেখে মামলা রেকর্ড করেছেন। পরে নিহতের বড় স্ত্রী জহুরা ও ছোট স্ত্রী আছমা মিলিতভাবে থানায় গিয়ে ঘাতক জাকির হোসেন এবং তার ভাই ও বাবাকে আসামি করে মামলা দিতে চাইলেও ওসি তাদের এজাহার রাখেননি। তবে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আবু শামা মো. ইকবাল হায়াত জানান, চার বছর আগে জাকির বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে তার স্ত্রী অন্য পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক রাখতো। কবিরাজ চাঁন মিয়া ঔষধ দিয়ে জাকিরের স্ত্রীকে অন্যদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ করে দিতো। এই কারণে কবিরাজ চাঁন মিয়ার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল জাকির। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিপ্লব নামে এক সহযোগীকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কবিরাজ চাঁন মিয়ার ওপর দা নিয়ে হামলে পড়ে জাকির। ঘটনার পর পরই ঘাতক জাকিরকে ধরতে তারা একটি পুলিশের বিশেষ টিম গঠন করেন। বিশেষ এই টিমের অভিযানে ঘটনার কিছু পরেই রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা ঘাতক জাকিরকে আটক করতে সক্ষম হন। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা-টিও উদ্ধার করা হয় বলে ওসি আবু শামা মো. ইকবাল হায়াত জানান। এছাড়া মামলার ব্যাপারে ওসিকে প্রশ্ন করলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ছোট স্ত্রী নিজে থেকেই এক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন।

সত্তরোর্ধ্ব ছালেহার ভাগ্যে জোটেনি বয়স্কভাতার কার্ড

সকাল থেকে সন্ধ্যা জীবিকার তাগিদে ছুটে চলা এক জীবন সংগ্রাম। দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের জন্য সবার দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করেন ছালেহা বেওয়া (৭০)। পায়ে হেঁটে পথ চলেন মাইলের পর মাইল। তবুও ক্লান্তিহীন তিনি। পাশে দাঁড়ানোর যারা ছিল তারা মারা গেছে। আশ্রয় হয়েছে দিনমজুর মেয়েজামাইর বাড়িতে। শরীরে বহন করছেন বিশাল আকৃতির ঘ্যাগ (গলগণ্ড)। আর যেন চলতে পারছেন না। ক্লান্ত এ জীবন সায়াহ্নে শুধুই আক্ষেপ রাতে ঘুমাবার ঘর নেই, নেই কবরের জায়গা। তবুও ভাগ্যে জোটেনি বিধবা কিংবা বয়স্কভাতার কার্ড। জানিনা বয়স আর কত হলে বয়স্কভাতার কার্ড।
জেলার উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউপির পাতিলাপুরী (নারীর খামার) গ্রামের হত দরিদ্র মোক্তার আলীর স্ত্রী ছালেহা বেওয়া (৭০)। স্বামীও ভিক্ষা করে সংসার চালাতেন। ১০ বছর আগে স্বামী মারা গেলে একমাত্র  পুত্রসন্তান আমিনুর রহমান দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন। ২ বছর পর একমাত্র ছেলেও মারা যান। বৃদ্ধ বয়সে ছালেহার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। কোথায় যাবেন, কি খাবেন? এ অবস্থায় ঠাঁই হয় হয় দরিদ্র মেয়ে মের্শেদা বেগমের দিনমজুর জামাইয়ের সংসারে। তাদেরও সংসারে চলে টানাপড়েন। বাধ্য হয়ে ছালেহাকে নামতে হয় ভিক্ষাবৃত্তিতে। ছালেহা জানান, এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও পাননি বিধবা ও বয়স্কভাতার কার্ড। বলেন, ‘৩-৪ হাজার ট্যাকাও দিবের পাং না কাডো হয় না। ভাতে জোটে না চিকিৎসা করোং কি দিয়া’। এভাবেই চলছে ছালেহার জীবন সংগ্রাম। কিন্তু কেউ কী এগিয়ে আসবেন তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে। মিলবে কী বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতার কার্ড। এ বিষয়ে থেতরাই ইউপি চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী সরকার বলেন, আমি ওই ওয়ার্ডের মেম্বারকে বলেছি, ভাতা দেয়ার জন্য।
উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, কার্ডপ্রাপ্তির বিষয়টি দ্রুত নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হবে। কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. এস এম আমিনুল ইসলাম অপারেশনের উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।