Friday, April 8, 2016

কর ফাঁকির দায় ঘুরপথে হিলারির ঘাড়ে

পানামা পেপারস কেলেংকারিতে এবার ঘুরপথে জড়িয়ে পড়ছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী ডেমোক্রেট দলের হিলারি ক্লিনটন। মোসাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া নথিতে হিলারির একজন সহযোগী, তার পক্ষে একজন মধ্যস্থতাকারী, একজন ডোনার ও সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংকের নাম পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ঝুঁকিতে পড়তে পারে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। এদিকে পানামা পেপারস কেলেংকারির জেরে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও চিলির টিআই প্রধানের পদত্যাগের পর এবার সরে দাঁড়িয়েছেন ইউরোপের দুটি ব্যাংকের প্রধান। খবর এএফপি, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস ও ইনডিপেনডেন্টের। পানামার আইনি পরামর্শক সংস্থা মোসাক ফনসেকার নথিতে হোয়াইট হাউসের সাবেক চিফ অব স্টাফ জন পোডেসতার নাম রয়েছে। জন পোডেসতা বর্তমানে হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনী কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। জন পোডেসতা ও তার ভাই টনি পোডেসতা প্রতিষ্ঠিত পোডেসতা গ্রুপ কর ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা করতে মোসাক ফনসেকায় যুক্ত হয়েছিল। রাশিয়ার বৃহত্তম ব্যাংক এসবার সঙ্গেও ওই গ্রুপ কাজ করেছে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে দালালি ও মার্কিন ক্লায়েন্টদের বন্ড বাণিজ্যের কাজ করতে গত মাসে এসবার ব্যাংক ও পোডেসতা গ্রুপ যৌথভাবে নিবন্ধিত হয়েছে। অন্যদিকে হিলারি ক্লিনটনের ডোনার ইরানি বংশোদ্ভূত ফরহাদ আজিমার নামও পাওয়া গেছে মেসাক ফনসেকার নথিতে। প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সময় ইরান-মার্কিন অস্ত্র কেলেংকারির মধ্যস্থতাকারী ছিলেন ফরহাদ আজিমা। ১৯৮০-এর দশকে ইরানের কাছে গোপনে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি করে তার লভ্যাংশে নিকারাগুয়ার বিদ্রোহীদের সহায়তা করা হয়েছিল। হিলারি পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ফরহাদ আজিমা বিভিন্ন সময়ে বিল ক্লিনটন ও হিলারি ক্লিনটনকে চাঁদা দিতেন। হিলারির স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমলে ১৯৯৫ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ বার হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলেন। ১৯৯৯ সালে হিলারি ক্লিনটনের সিনেট ক্যাম্পেইনের সময় আজিমা হিলারি ও তার ৪০ জন অতিথিকে ব্যক্তিগত নৈশভোজের দাওয়াত দিয়েছিলেন। সেখানে ২৫০০ ডলার চাঁদা তোলা হয়েছিল। ২০০৮ সালে বিল ক্লিনটন প্রকাশিত ডোনার তালিকায় আজিমার নাম ছিল। সেখানে আজিমার কাছ থেকে একবার ৫০ হাজার ডলার ও আরেকবার এক লাখ ডলার গ্রহণের তথ্য ছিল। এ ছাড়া হিলারি ক্লিনটনের আরেক ঘনিষ্ঠজন সিডনি ব্লুমেনথালের নামও এই কেলেংকারিতে পাওয়া গেছে। সিডনি ব্লুমেনথাল জর্জিয়ার সরকার পতনে হিলারির পক্ষে মধ্যস্থতা করেছিলেন। এদিকে পানামা পেপারস কেলেংকারিতে ইতিমধ্যে হিলারির বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্স। মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন দৌড়ে থাকা বার্নি স্যান্ডার্স ২০১১ সালে পানামাকে কর ফাঁকির দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি পানামা বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন। তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের প্রস্তাবিত এ চুক্তি মার্কিন নাগরিকদের কর ফাঁকির পথ সুগম করবে বলে সিনেট বিতর্কে সতর্ক বার্তা উচ্চারণ করেছিলেন বার্নি স্যান্ডার্স।
কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এ চুক্তির জন্য জোর দিয়ে আসছিলেন। ফলে এই কেলেংকারির ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের সম্মুখীন হন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। এছাড়া অন্য প্রার্থীরা আর্থিকভাবে শক্তিশালী হলেও স্যান্ডার্স নিজেকে সমাজতান্ত্রিক বলে উল্লেখ করেন এবং তার সম্পদও আর সবার মতো নেই। বিতর্কিত কোম্পানির সঙ্গে হিলারি-সহযোগীদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি চলমান প্রাইমারি নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের বিরোধীদের প্রচারাভিযানকে আরও শাণিত করবে। এমনিতে ই-মেইল বিতর্কসহ নানা ইস্যুতে সমালোচকদের তোপের মুখে রয়েছেন তিনি। এ অবস্থায় পানামা পেপারসে জন পোডেসতার নাম হিলারি ক্লিনটনকে বাড়তি বিপত্তিতে ফেলতে পারে। এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, পানামা পেপারস কেলেংকারির জেরে ইউরোপের দুটি ব্যাংকপ্রধান পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসের এবিএন আমরো ব্যাংকের উপদেষ্টা বোর্ডের নির্বাহী বার্ট মিরস্তাদ পদত্যাগ করেন। মিরস্তাদ ভার্জিন আইসল্যান্ডভিত্তিক মর্কল্যান কর্পোরেশনের শেয়ারহোল্ডার ছিলেন। ওই কোম্পানির নাম মোসাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া নথিতে রয়েছে। এ ছাড়া অস্ট্রিয়ার আঞ্চলিক ব্যাংক হাইপো ল্যান্ডস ব্যাংক ভোরালবার্গের প্রধান নির্বাহী মাইকেল গ্রহামার এই কেলেংকারিতে পদত্যাগ করেছেন।

‘রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা’ হলেন সুচি

মিয়ানমারে নতুন দায়িত্ব পেলেন অং সান সুচি। তাকে দেয়া হয়েছে স্পেশাল অ্যাডভাইজার বা বিশেষ উপদেষ্টার পদ। তাকে এমন দায়িত্ব দিয়ে বুধবার একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট টিন কিয়াও। এর মধ্য দিয়ে সরকারের সব শাখায় সুচির প্রভাব বিস্তারের পথ সুগম হল। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা হিসেবে তার প্রথম ঘোষণায় সুচি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সুচি বুধবার সাক্ষাৎ করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে। তার দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর তিনি প্রথম আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন চীনকে। বুধবার মিয়ানমারের পার্লামেন্টের দু’কক্ষেই সুচিকে বিশেষ উপদেষ্টার দায়িত্ব দেয়ার বিলের ওপর শুনানি হয়। সেনাবাহিনী মনোনীত সদস্যরা এ বিলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
তার নতুন সরকার আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে মিয়ানমারের সব রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করেছে। নির্বাচনে তার ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি নিরংকুশ জয় লাভ করলেও সাংবিধানিক কারণে সুচি প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। তাকে প্রধানমন্ত্রীর সমপর্যায়ের একটি পদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়েছে। রাজবন্দিদের মুক্তির উদ্দেশ্যে তার সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপে প্রায় ৫০০ বন্দির কারাভোগের সমাপ্তি ঘটবে। সুচি নিজেও এক সময় রাজনৈতিক বন্দি ছিলেন। তিনি বলেছেন, এ বন্দিদের মুক্তি দেয়া তার সরকারের প্রধান কাজগুলোর মধ্যে একটা। মিয়ানমারের দীর্ঘ সামরিক শাসনের ইতি ঘটে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় প্রায় একশ’ বন্দি ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছেন। কিন্তু অনেকেই এখনও বন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

হায়দরাবাদে কেমন আছেন মুস্তাফিজ

বিলিয়ার্ড খেলছেন মুস্তাফিজুর রহমান। হায়দরাবাদে এখন
বাংলাদেশ দলের তরুণ বাঁ-হাতি পেসার -ওয়েবসাইট
ছবিতে দেখা যাচ্ছে বিলিয়ার্ড খেলছেন মুস্তাফিজুর রহমান! শখের বশে যে খেলা, সে তো বোঝাই যায়। আজ বাদে কাল শুরু হবে আইপিএল। মুস্তাফিজের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের প্রথম ম্যাচ মঙ্গলবার রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোরের বিপক্ষে। মানে, প্রথম ম্যাচেই ক্রিস গেইলের মুখোমুখি মুস্তাফিজ। যদি হায়দরাবাদের প্রথম একাদশে সুযোগ মেলে। এদিকে সানিয়া মির্জার শহর হায়দরাবাদে কেমন দিন কাটছে বাংলাদেশের এই তরুণ পেসারের? সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ফেসবুকের ভেরিফাইড পেজে খেলোয়াড়দের আড্ডার ছবি পোস্ট করে লেখা হয়েছে- ‘চেনা যাচ্ছে ছবির মানুষগুলোকে? কাল রাতে মজার বিলিয়ার্ড খেলা হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) অনুশীলনে যাওয়ার আগে ভালোই হল বিলিয়ার্ড খেলাটা।’
আরেক খবরে বলা হয়, আইপিএলে এই প্রথম খেলতে যাওয়া বাংলাদেশের বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজ ভাষাগত সমস্যায় পড়েছেন। তিনি বাংলা ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় কথা বলতে পারেন না। মুশকিল হল, হায়দরাবাদ দলে বাংলা ভাষায় কথা বলেন এমন কেউ নেই। হায়দরাবাদ দলের মেন্টর ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গে দেখা হয়েছে মুস্তাফিজের। এ প্রসঙ্গে এই পেসার বলেন, ‘আমার সঙ্গে লক্ষ্মণ স্যারের দেখা হয়েছে। তবে খুব বেশি কথা বলতে পারিনি আমরা। এখানে আমার জন্য ভাষাগত সমস্যাটা বড় হয়ে উঠেছে।’ এ জন্যই সাকিবের সঙ্গে একই দলে খেলার ইচ্ছে ছিল মুস্তাফিজের। কিন্তু সাকিব তার পুরনো দল কলকাতা নাইটরাইডার্সে রয়ে গেছেন। হায়দরাবাদ দলে মুস্তাফিজ সতীর্থ হিসেবে পাচ্ছেন যুবরাজ সিং, আশিষ নেহরা, শিখর ধাওয়ান, অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার এবং নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে। সদ্যসমাপ্ত টি ২০ বিশ্বকাপে যাদের বিপক্ষে খেলেছেন মুস্তাফিজ। ভাষাগত সমস্যা সব উবে যাবে বল হাতে মুস্তাফিজ মাঠে আগুন ঝরাতে শুরু করলে। ওয়েবসাইট।

গুঞ্জন শুনি

প্রতিদিনই নতুন নতুন গুঞ্জন উঠে বলিউড পাড়ায়। এই গুঞ্জনের কিছুটা সত্যি হয়, কিছুটা আবার শুধু গুঞ্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। সম্প্রতি ঠিক এমনই গুজব রটেছে বলিউড পাড়ায়। কারিনা কাপুর অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন- সংবাদটি গত দুদিন ধরেই মুখরিত করে রেখেছে বলিউড অঙ্গন। অবশ্য এমন গুজব ছড়ানোর পেছনে যথেষ্ট কারণও রয়েছে। সম্প্রতি কারিনা মুম্বাইয়ের এক প্রসূতি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। আর তাতেই রটেছে এমন গুজব। সামান্য মেডিকেল চেকআপের ফলে এমন গুজব রটায় বেজায় চটেছেন নবাব পত্নী।
তাই রাগান্বিত মেজাজেই মিডিয়াকর্মীদের ডেকে জানিয়ে দিলেন এর আসল কাহিনী। নিজের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুজব উড়িয়ে দিয়ে কারিনা বলেন, ‘অন্তত আগামী দুই বছর এমন কিছু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আর সাইফের একটি সন্তান আছে। তাই শিগগিরই সন্তান জন্মদানে আগ্রহী নই আমরা।’ এছাড়াও ডাক্তারের কাছে যাওয়া বিষয়ে কারিনা জানান, একটি স্বাভাবিক মেডিকেল চেকআপের জন্য গাইনোকোলজিস্টের কাছে গিয়েছিলাম। বিষয়টি নিয়ে এতটা মাতামাতি সত্যিই হতাশাজনক। উল্লেখ্য, সম্প্র্রতি ‘কি অ্যান্ড কা’ শিরোনামের একটি ছবি মুক্তি পেয়েছে কারিনার। ছবিটি আশানুরূপ সাফল্য আসছে দেখে বেশ ফুরফুরে মেজাজে থাকলেও স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে গুজব ওঠায় বেশ চটেছেন এ তারকা।

ফিলিপাইন থেকে রিজার্ভ চুরির কোনো অর্থই ফেরত আসেনি by আশরাফুল ইসলাম

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বলা হচ্ছে রিজার্ভ চুরির অর্থের একটি অংশ ফেরত দিয়েছে ফিলিপাইনের ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম অং। কিন্তু বাস্তবে এ পর্যন্ত কোনো অর্থই দেশে ফেরত আসেনি। যে অর্থ কিম ফেরত দিয়েছে, তা বর্তমানে ফিলিপাইনের আর্থিক দুর্নীতি তদন্তকারী সংস্থা অ্যান্টিমানিলন্ডারিং কাউন্সিলের (এএমএলসি) কাছে জমা রয়েছে। ফিলিপাইন থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের কাছে টাকা তুলে দিতে হলে কিম অংয়ের লিখিত সম্মতি লাগবে। তা না পেলে, সরকারকে একটি মামলা করতে হবে। এ অর্থ অন্য কেউ দাবি না করলে, তবেই তা বাংলাদেশ সরকারকে ফেরত পাঠানো যাবে। এমনি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া অর্থ কবে ফেরত আসবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইনিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে টাকা ফেরত আনতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে পাচার হওয়া প্রায় ৮০০ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৪৫ কোটি টাকা জমা দিয়েছে কিম অং। তিনি দুই দফায় এ অর্থ জমা দেন। তিনি ফিলিপাইনের এমএলসির কাছে এ অর্থ ফেরত দেন; কিন্তু ওই অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রেও এখন আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে।
পাচার হওয়া অর্থের একাংশ ফেরত আনতে এ মাসের শুরুতে বাংলাদেশের তদন্তকারী দল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা গিয়েছিলেন; কিন্তু এ অর্থ ফেরত না পেয়ে এখন অনেকটা হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রসিদে স্বার করিয়ে দুই ধাপে তাদের হাতে চীনা বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী কিম অংয়ের ফেরত দেয়া অর্থ তুলে দেয়া হলেও পরে তা ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে রেখে দেয়া হয়েছে।
ইনকোয়ারার প্রতিবেদন অনুযায়ী এএমএলসির পরিচালক জুলিয়া আবাদ বলেছেন, বাংলাদেশের কাছে টাকা তুলে দিতে হলে কিম অংয়ের লিখিত সম্মতি লাগবে। তা না পেলে, সরকারকে একটি মামলা করতে হবে। এ অর্থ অন্য কেউ দাবি না করলে, তবেই তা বাংলাদেশ সরকারকে ফেরত পাঠানো যাবে। আবাদ আরো বলেন, আমরা বুঝেছিলাম, বাংলাদেশের কাছে তুলে দেয়াই ছিল উদ্দেশ্য; কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, কিম অং শুধু এএমএলসির কাছেই ওই অর্থ হস্তান্তর করতে চেয়েছে। এখন আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে চাই। কিম অংয়ের আইনজীবীরাও কিছুটা দ্বিধান্বিত। তারা বলেন, এটা যেহেতু দুই সরকারের বিষয়, আর আমরা স্রেফ ব্যক্তিবিশেষ, সেহেতু যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই উচিত। কেননা, কেউ এখনো জানে না, এটা কার টাকা। এ সময় বেশ ক’বার তাৎণিকভাবে ওই অর্থ স্থানান্তর করতে সিনেটর গুইঙ্গোনা ও জুলিয়া আবাদের সাথে কথা বলেন রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ; কিন্তু তিনি সফল হননি। তবে গোমেজ বলেছেন তার প্রত্যাশা আজকের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে জটিল প্রক্রিয়া : সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা খুবই জটিল একটি ব্যাপার। মূলত দুই প্রক্রিয়ায় পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। প্রথমত, অর্থ পাচারের ব্যাপারে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেতে হবে। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ মামলা করতে হবে। স্থানীয় আদালত পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার পক্ষে রায় দিতে হবে। আদালতের এ রায়ের কপি অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে যে দেশে অর্থ পাচার করা হয়েছে ওই দেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসকে অবহিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস অর্থ ফেরত দেয়া যায় কি না, তা নিয়ে ওই দেশের আদালতে মামলা করবে। সংশ্লিষ্ট দেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত দেয়ার ব্যাপারে আইনি জটিলতা রয়েছে কি না তা যাচাই বাছাই করবে। পাচারকৃত অর্থ ফেরত দেয়ার ব্যাপারে আইনি জটিলতা না থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশের আদালত পাচারকৃত অর্থ ফেরত দেয়ার পক্ষে রায় প্রদান করবেন। এর পরেই কেবল পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু অনুকূলে থাকলে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অর্থ ফেরত আনতে ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। সুতরাং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে কথাবার্তা বলা সান্ত্বনা ছাড়া অন্য কিছু নয় বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।
দ্বিতীয়ত, মামলা ছাড়াও পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা যায়, যদি সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি কোনো জটিলতা না থাকে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশকে আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন সংস্থা এগমন্ড গ্রুপের সদস্য হতে হবে। যেমন বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র এগমন্ড গ্রুপের সদস্য। এ ক্ষেত্রে এক দেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস অন্য দেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসকে সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির পাসপোর্ট নম্বরসহ সুনির্দিষ্ট তথ্য সরবরাহ করতে হবে। ওই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তথ্য যাচাই-বাছাই করবে। তথ্যে কোনো গরমিল পাওয়া না গেলেই কেবল পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব। তবে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও কয়েক বছর লেগে যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ফিলিপাইনের আইনে মামলা করা ছাড়া অর্থ ফেরত আনা যাবে না। তবে, যে অংশটুকু চিহ্নিত হয়েছে ওই অংশটুকু কিছু দিনের মধ্যে ফেরত আনা যাবে। কিন্তু চুরির বড় অংশ কারা নিয়েছে, কাদের হাতে রয়েছে, তা এখনো চিহ্নিত করা যায়নি। ফলে রিজার্ভের অর্থ ফেরত আনা জটিল হবে বলে মনে করছেন তারা।