Tuesday, January 19, 2010

সাঁতারে কয়েক লাখ টাকার সরঞ্জাম বাতিলের খাতায়

ফেডারেশন বলছে, ব্যাপারটা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জানে।’ ক্রীড়া পরিষদের ভাষ্য, ‘ওটা ফেডারেশনের বিষয়।’ চলছে একে অন্যের ঘাড়ে দায় চাপানোর প্রতিযোগিতা!
মিরপুর সাঁতার কমপ্লেক্সে ১০-১২ দিন আগে বিদেশ থেকে এনে ফেলে রাখা হয়েছে ২০টি স্টার্টিং ব্লক। ৭২ লাখ টাকা মূল্যের এই ব্লকগুলো এখনো পর্যন্ত পুলে লাগানো হয়নি। এসএ গেমসের আগে নাকি আদৌ লাগানো হচ্ছে না!
ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আবদুর রহমানকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে বলেন, ‘স্টার্টিং ব্লকগুলোর বিষয়টা সুইমিং ফেডারেশন জানে।’ সাঁতার ফেডারেশন বলেছে, ব্লকগুলো ক্রীড়া পরিষদ এনেছে, তাদেরই তা লাগিয়ে দেওয়ার কথা। ফেডারেশনের এই কথা শুনে আবদুর রহমান যেন ধন্দে পড়ে গেলেন, ‘তাহলে তো আমরা দুজন (ফেডারেশন এবং ক্রীড়া পরিষদ) দুই রকম কথা বলছি...। না, না, ব্লকগুলো ফেডারেশনেরই লাগানোর কথা।’
তবে সাধারণ্যে যে ধারণা তা হলো সব ফেডারেশনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড যেহেতু ক্রীড়া পরিষদ পরিচালনা করে, তাই কাজটা তাদেরই। এসএ গেমসের আয়োজক সাঁতার ফেডারেশন নয়, এই দেশ, এই দেশের সরকার।
শেষ পর্যন্ত ক্রীড়া পরিষদের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালককে একটু অবস্থান বদলাতে দেখা গেল, ‘দেখি কাল (আজ) ফেডারেশনের সঙ্গে কথা বলি।’ গেমসের আর ১০ দিন বাকি। এখন কি না, দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিটি কথা বলবেন ফেডারেশনের সঙ্গে।
তবে সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন অন্য কথা, ‘আমরা ক্রীড়া পরিষদকে চিঠি দিয়ে ওগুলো লাগিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম কয়েক দিন আগেই। কিন্তু সেখান থেকে কোনো জবাবই পাইনি!’
মাহবুব আরও যা বললেন, তাতে মনে হচ্ছে না গেমসের আগে ওগুলো সাঁতারের কোনো কাজে আসবে, ‘এখন আর লাগানো যাবে না। মাসখানেক আগে হলে সম্ভব ছিল। পুরোনোগুলো হয়তো ভেঙে ফেলা যাবে কিন্তু নতুনগুলো যদি সেট না হয়! নতুন ব্লকগুলো আধুনিক।’
এক সংগঠক বললেন, ‘এত গাফিলতি থাকলে গেমস করা যায় না। লাখ লাখ টাকা পানিতে যাচ্ছে। ব্লকগুলো এখন অকেজো হয়ে গেল।

পাঁচের অপেক্ষায়

ভারতের ৮ উইকেট দুজনে সমানভাবে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। সাকিব আল হাসান ও শাহাদাত হোসেন দুজনের সামনেই থাকল তাই ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার সুযোগ। ভারতের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত টেস্টে ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব আছে এক বাংলাদেশিরই—নাঈমুর রহমানের। ২০০০ সালের সেই অভিষেক টেস্টে সাবেক এই অফ স্পিনার ১৩২ রানে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। ভারতের বিপক্ষে মাত্র একবার হলেও বাংলাদেশি বোলাররা চট্টগ্রাম টেস্টের আগ পর্যন্ত ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন ২০ বার। বোলার অবশ্য সাতজন। সর্বোচ্চ সাতবার এই কৃতিত্ব মোহাম্মদ রফিকের। ৫ বার ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। এনামুল জুনিয়র ৩ বার। শাহাদাত ২ বার। একবার করে ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাঈমুর, মঞ্জুরুল ইসলাম ও মাহমুদউল্লাহ। চট্টগ্রামের এই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামেই ২০০৮-এর অক্টোবরে ইনিংসে ৩৬ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব। বাংলাদেশের পক্ষে যেটি সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড।

পরাজয়ের প্রহর গুনছে পাকিস্তান

এখানে হোবার্ট, ওখানে জোহানেসবার্গ। মাঝখানে ১০ হাজার কিলোমিটারের বিশাল দূরত্ব। কিন্তু দুই টেস্টের গতিপ্রকৃতির ওপর প্রকৃতির প্রভাব অন্তত দুই দলের দুই অধিনায়কের মধ্যে ঘুচিয়ে দিয়েছিল ব্যবধান। জোহানেসবার্গে অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস প্রার্থনায় রত ছিলেন অঝোর বৃষ্টির কামনায়। হোবার্টে একই প্রার্থনা করছেন ইউসুফ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্ট্রাউসদের বাঁচাতে পারেনি বৃষ্টি। ইউসুফদের পারবে?
জিততে হলে আজ সিরিজের শেষ টেস্টের শেষ দিনে পাকিস্তানকে তুলতে হবে ৩৩৫ রান। হাতে মাত্র ৬ উইকেট। চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের স্কোর ৪ উইকেটে ১০৩। ২৩ রানে খুররম মনজুর আর ১৮ রানে অপরাজিত আছেন শোয়েব মালিক। এই সিরিজে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের যা ফর্ম (সিরিজে তাঁদের মাত্র একজন ব্যাটসম্যান সালমান বাটের গড়ই কেবল ৪০-এর ওপরে, একটি মাত্র সেঞ্চুরিও তাঁর), আজ পাকিস্তানের পরাজয়কেই মনে হচ্ছে সবচেয়ে সম্ভাব্য ফল। হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পথে পাকিস্তান।
অস্ট্রেলিয়ার ৩-০ ব্যবধানে জয়ের পথে বাধা কেবল প্রকৃতিই। বিরূপ প্রকৃতির কারণেই কাল দিনের ২৫ ওভার খেলা হয়নি। আজ আধঘণ্টা আগে শুরু হওয়ার কথা ম্যাচ। কিন্তু আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, ডারওয়েন্ট নদীর পাশেই বেলেরিভ ওভালের এই মাঠ আজও বৃষ্টিতে ভিজতে পারে।
রিকি পন্টিংয়ের কথা শুনে অবশ্য মনে হলো না, নিজের হোমগ্রাউন্ডে আরও একটি জয় ছাড়া অন্য কিছুর কথা তিনি ভাবছেন। জিতলে ম্যাচসেরার পুরস্কারও তাঁরই হাতে ওঠার কথা। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া বলতে যা বোঝায় পন্টিং সেটাই দিয়েছেন। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৯। মাত্র ১১ রানের জন্য চতুর্থবারের মতো হাতছাড়া হয়েছে ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি।
পন্টিংয়ের মতো ভুল তাঁর আগের রাতের সঙ্গী সাইমন ক্যাটিচ করেননি। নবম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুজনের ১৯১ রানের জুটি। কিন্তু দ্রুত রান তোলার তাগাদায় দ্রুত চারটি উইকেটও হারায় অস্ট্রেলিয়া। ৫ উইকেটে ২১৯ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে দেন পন্টিং। জয়ের জন্য পাকিস্তান পায় ৪৩৮ রানের লক্ষ্য। চতুর্থ ইনিংসে এত রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই কোনো দলেরই।
জিততে হলে তাই অবিস্মরণীয় কিছু করে দেখাতে হবে পাকিস্তানকে। কিন্তু তাদের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা দেখে মনে হলো না সেই প্রেরণায় তারা উদ্দীপ্ত। বরং মনে হলো, চাপে নতজানু।
প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সালমান বাট ৮ রান করে বিদায় নিয়েছেন। আরেক ওপেনার ইমরান ফারহাত আউট ১৪ রানে। ২ উইকেটে ২৯—এমন বাজে শুরুর পর দরকার ছিল অধিনায়ক ইউসুফের ব্যাটের ঝলক।
সেটা হয়নি। বরং ইউসুফের পর উমর আকমলকে তুলে নিয়ে ব্যাট হাতে দুই ইনিংসে ব্যর্থতা বল হাতে পুষিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন শেন ওয়াটসন।
পাকিস্তানের সামনে ঘোর বিপদ!

বরিশালকে ১২২ রানে হারাল চট্টগ্রাম

৪৬ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে একটা দলের জন্য ২৩১ রানের জয়ের লক্ষ্যটা খুব বড় হয়ে যায়। বাকি ৫ উইকেট হাতে নিয়ে কাল শেষ দিনে আর ৬২ রান তুলতে পারল বরিশাল। তাই চট্টগ্রাম তাদের এবারের জাতীয় লিগ মিশনের প্রথম ম্যাচটা জিতল ১২২ রানে।
খুলনায় প্রথম ইনিংসে ২০০ রান ও দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬৯ রান তোলে চট্টগ্রাম। জবাবে আসিফের সেঞ্চুরিতে বরিশাল প্রথম ইনিংসে করতে পেরেছিল ২৩৯ রান। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়াতে পারলেন না বরিশালের ব্যাটসম্যানরা। ১০৮ রানে শেষ হয়ে গেল তাদের দ্বিতীয় ইনিংস। এই ইনিংসেও সর্বোচ্চ রান ওপেনার আসিফের ২৭। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫ রান করেছেন আট নম্বরে খেলতে নামা সোহাগ গাজী। বরিশালকে মূলত
ধসিয়ে দিয়েছে চট্টগ্রামের পেসার তারেক আজিজ ও কামরুল ইসলাম। তারেক ৫৫ রানে ৪টি ও কামরুল ২৪ রানে নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট। ফয়সাল হোসেন ২টি ও ইলিয়াস সানি ১টি করে উইকেট পেয়েছেন। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন ফয়সাল হোসেন। ২০ জানুয়ারি শুরু হবে লিগের দ্বিতীয় রাউন্ড। এ রাউন্ডের ম্যাচগুলো হলো বিকেএসপিতে রাজশাহী-চট্টগ্রাম, বগুড়ায় খুলনা-সিলেট ও খুলনায় বরিশাল-ঢাকা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
চট্টগ্রাম: ২০০ ও ২৬৯
বরিশাল: ২৩৯ ও ১০৮ (আসিফ ২৭, সোহাগ ২৫; তারেক ৪/৫৫, কামরুল ৩/২৪, ইলিয়াস ১/১৭, ফয়সাল ২/৮)।

শেষ আটে উঠে গেল মিসর

আফ্রিকান নেশনস কাপে অপরাজিত থাকার রেকর্ডটা আরও উন্নত হলো মিসরের। পরশু মোজাম্বিককে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকল তারা। এমন অর্জনের পাশাপাশি টুর্নামেন্টের শেষ আটেও উঠে গেল টুর্নামেন্টের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় মিসর। ৮১ মিনিটে গেডো করেন দ্বিতীয় গোল। অপরাজিত থাকার রেকর্ড নতুন উচ্চতায় ওঠায় অধিনায়ক আহমেদ হাসান উচ্ছ্বসিত, ‘আমরা খুবই গর্বিত এই রেকর্ডের জন্য। তবে সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, আমরা মোজাম্বিকের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জিতেছি।’

ম্যারাডোনার পাশে পেলে

কোচ ডিয়েগো ম্যারাডোনার দুর্দশা দেখে পেলের কি আনন্দ হয়? এভাবে লেখাটা বোধহয় ঠিক হলো না। বরং ব্রাজিল কিংবদন্তি পাশেই এসে দাঁড়াচ্ছেন ম্যারাডোনার। বলেছেন, আর্জেন্টিনা দলটা যে তাঁর খেলোয়াড় প্রতিভাগুলোকে দলগত সাফল্যে অনূদিত করতে পারছে না এর পেছনে ম্যারাডোনার কোনো দোষ নেই। দোষ আসলে সেসব নীতিনির্ধারকের, ম্যারাডোনাকে যাঁরা কোচ বানিয়েছে!
পরোক্ষে কিন্তু ঠিকই ম্যারাডোনাকে একটা খোঁটা দিয়ে রাখলেন পেলে। বুঝিয়ে দিলেন, আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের কোচ হিসেবে ম্যারাডোনা যোগ্য নন। ‘আর্জেন্টিনার যে দশা তাতে ম্যারাডোনার কোনো দোষ আমি দেখি না। কোচ হিসেবে ও তো আর অভিজ্ঞ নয়। ভুল তাদের, যারা ওকে কোচ বানিয়েছে। আর্জেন্টিনার আরও অনেক অভিজ্ঞ কোচ তো ছিলই’—কলম্বিয়া সফররত পেলে বলেছেন সাংবাদিকদের।
পেলের কাছ থেকে ‘তীর’ ছোড়া হলে ম্যারাডোনা পাল্টা জবাব হিসেবে ‘কামান’ দাগতেই ভালোবাসেন। অবশ্য এখন পর্যন্ত পেলের এমন মন্তব্যের কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়া ম্যারাডোনা। পরিসংখ্যান অবশ্য পেলেকেই সমর্থন করবে। আর্জেন্টিনার দুই অখ্যাত ক্লাবে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কোচিং করিয়েছিলেন। হুট করে জাতীয় দলের কোচ হয়ে যান আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান হুলিও গ্রন্ডোনার পছন্দের কারণে।
অবশ্য আর্জেন্টিনার জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন পেলে। বিশ্বকাপে তাদের অন্যতম প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখতে চান তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী, ‘এখন একটা শক্তিশালী আর্জেন্টিনা দলের আশা আমরা করছি। বিশ্বকাপের জন্য ওরা অবশ্যই তৈরি থাকবে। ওদের সমীহ করতেই হবে। বরাবরের মতো এবারও ওরা শিরোপার অন্যতম দাবিদার।’
এমনিতে পেলের ফেবারিট কিন্তু ব্রাজিলই। পাশাপাশি স্পেনকেও রাখছেন তিনি, ‘দুঙ্গার কাছে দুর্দান্ত কিছু তরুণ আর অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে। স্পেনের পাশাপাশি ব্রাজিলও বিশ্বকাপের শক্ত প্রতিপক্ষ হবে। আর এ মুহূর্তে বিশ্বের সেরা দল স্পেন।’

বিটিভি ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন

চট্টগ্রাম টেস্ট দেখাচ্ছে না বাংলাদেশ টেলিভিশন। রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম তো বটেই, দেশের একমাত্র ‘টেরিস্ট্রিয়াল’ চ্যানেল হিসেবে বিটিভির কাছে খেলা দেখানোর দাবি সাধারণ মানুষের। স্যাটেলাইট সংযোগ নেই যাদের, তারা খেলা দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে; যাদের সংখ্যাটাই এ দেশে বেশি। বঞ্চিত এসব দর্শকের অনেকেই সারা দেশ থেকে ফোন করে কাল প্রথম আলোকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিটিভিকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ও বলেছে কেউ কেউ।
কেন খেলা দেখাচ্ছে না বিটিভি? বিটিভির মহাপরিচালক কাজী আবু জাফর সিদ্দিক জানিয়েছেন, ‘সংসদ অধিবেশন চলছে এখন। এসএ গেমসের প্রস্তুতি চলছে। তাই চট্টগ্রাম টেস্ট দেখানো যাচ্ছে না। তা ছাড়া সব খেলা তো দেখাতে পারবে না বিটিভি। তবে ঢাকা টেস্ট দেখানোর চেষ্টা করছি আমরা।’

ইস্, আর একটা রান!

হাতে ১ উইকেট, জয়ের জন্য শেষ ৩ বল থেকে তুলতে হবে ২ রান। কিন্তু রানআউট হয়ে গেলেন শাকের আহমেদ। আর উল্লাসে ফেটে পড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই উল্লাস অভাবিত এবং নাটকীয় এক জয়ের জন্য। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে কাল মাত্র ১ রানে হারিয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টসজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বেঁধে দেওয়া ২৫০ রানের লক্ষ্যের দিকে ছুটে বাংলাদেশ ৪৯.৪ ওভারে অলআউট হয়ে গেছে ২৪৮ রানে।
এই পরাজয়ে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আশাটা বড়সড় ধাক্কা খেল। ওটা অসম্ভব হয়তো নয়, তবে বেশ কঠিন। কারণ শেষ আটের টিকিট পেতে পরশু টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট পাকিস্তানকে হারাতেই হবে। এমন পরাজয়ে বিষণ্ন বাংলাদেশ। কাল দলের ম্যানেজার তানজীব আহসান সাদকে ফোন করেই সেটা বোঝা গেল, ‘আর বলবেন না, এভাবে কোনো দল হারে! বড় ব্যবধানে হারলে মেন নেওয়া যেত। শেষ ওভারে মাত্র ৭ রান তুলতে পারলাম না, হারিয়ে বসলাম ২ উইকেট।’ তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে পরাজয়ের এই ধাক্কা কাটিয়ে ‘ছেলেরা’ পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্যেই নামবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেন সাদ, ‘ছেলেদের মধ্যে ভালো করার তাড়না আছে। না, জিতলে তো হবে না।’
স্পিনিং উইকেটে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতো। দিনের প্রথম বলেই সৈকত আলীর সরাসরি থ্রোতে রানআউট হয়ে যান ‘ডেঞ্জারম্যান’ গ্রিফিথ। ২০ রানের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারায় ৩ উইকেট। এর পরই ক্রিয়েরি (৫৫) ও ম্যান অব দ্য ম্যাচ ক্যারাইয়ার (৪৪) ১২০ রানের জুটি চতুর্থ উইকেটে। এর পর ছয়, সাত ও আট নম্বর ব্যাটসম্যানের সবাই কমপক্ষে ৩৫ রান করে যোগ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তুলে নেন ৮ উইকেটে ২৪৯ রানে।
জবাব দিতে নেমে ২৭ রানে প্রথম উইকেট হারানো বাংলাদেশ ৮৭ রান তুলতেই হারিয়ে বসে ৪ উইকেট। প্রথম ৪ ব্যাটসম্যান করেছে ১৫, ১৪, ১৪ ও ১৩। শেষে সাব্বির (৫৩) ও তাসামুলের (৫৪) দুটি ফিফটিই জয়ের স্বপ্ন এঁকে দেয় মাহমুদুলের দলের চোখে। কিন্তু জয়টা আর পাওয়া হয়নি। দিনের অন্য তিন ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া কাল আয়ারল্যান্ডকে ২০৯ রানে, শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে জিম্বাবুয়েকে এবং ভারত হংকংকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৫০ ওভারে ২৪৯/৮ (ক্রিয়েরি ৫৫, কারাইয়া ৪৪, ডাওরিচ ৩৫, ডেওয়ার ৩৯, ব্ল্যাকউড ৪৮, অতিরিক্ত ১৪; আবুল হাসান ২/৫৫, শাকের ২/৩৯, মাহমুদুল ১/৪৮, সাব্বির ০/৩৫, নূরুল ০/২৮, মোমিনুল ১/২৭, আলাউদ্দিন ০/১০)। বাংলাদেশ: ৪৯.৪ ওভারে ২৪৮/১০ (আনামুল ১০, অমিত ১৪, সৈকত ১৪, মোমিনুল ১৩, মাহমুদুল ৩২, সাব্বির ৫৩, তাসামুল ৫৪, নূরুল ৪, আলাউদ্দিন ১৬, আবুল ৮*, শাকের ০; হোল্ডার ১/৩৮, ওয়ারিকান ২/৩৬, ডেওয়ার ৩/৬৩, কারাইয়া ২/৩৮)। ফল: বাংলাদেশ ১ রানে পরাজিত।

ভারতের বোলিং-অবজ্ঞার মাশুল

টেস্টের প্রথম দিনে ভারতকে চাপে ফেলে দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের উন্নতির প্রমাণটা রাখল বাংলাদেশ। টস জয়ের পর সাকিব আল হাসানের ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রথমে রক্ষণাত্মক মনে হয়েছিল। ম্যাচ দেরিতে শুরু হওয়া এবং আলোকস্বল্পতা ভারতীয় সিমারদের জন্য খুবই সহায়ক হবে—এটা ভেবেই হয়তো ব্যাটসম্যানদের আগলাতে চেয়েছিলেন তিনি। কারণ যাই হোক, তাঁর নেতৃত্ব, ফিল্ড সাজানো এবং বোলার পরিবর্তন ছিল নজরকাড়া। তিনি কখনোই ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের স্বচ্ছন্দ হতে দেননি। বোলাররা দেখালেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতির আগে ভারতের যখন বিনা উইকেটে ৬৩ রান, তখন কে ভাবতে পেরেছিল এমনটা ঘটতে চলেছে?
লাঞ্চের আগের ঘণ্টার খেলায় ভারতীয় ওপেনারদের কাছে সমস্যা ছিল পিচের মন্থরতা। বাউন্স ছিল টেনিস বলের মতো এবং বল সিমের ওপর পড়ে ব্যাটসম্যানের সামনে এসে থেমে যাচ্ছিল। লাঞ্চের পর বোলারদের অবজ্ঞা করার ভুলটা করল। তারা ভুলে গেল বোলিং আক্রমণ যেমনই হোক, একটা ভুলই ব্যাটসম্যানকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠানোর জন্য যথেষ্ট। লাঞ্চ-পরবর্তী সেশনে শেবাগ তিনটি বাউন্ডারি মেরে আরেকটি ফিফটিতে পৌঁছালেন, যেটি বাংলাদেশের বিপক্ষে তাঁর সর্বোচ্চ ইনিংস। কিন্তু পরের ওভারেই তিনি আউট হয়ে ফিরলেন ব্যাকফুট ড্রাইভটি মাটিতে রাখতে না পারায়। গম্ভীরও ফিরলেন উচ্চাভিলাষী শট খেলতে গিয়ে, প্রত্যাশাতীত বাউন্সের বলে কাট করতে গেলেন তিনি। এর পরও আশাটা ছিল, নিজেদের মধ্যে ২৫ হাজার টেস্ট রান করা দুই ব্যাটসম্যান দ্রাবিড় ও টেন্ডুলকার বড় ইনিংস খেলে ভারতকে বিপর্যয় থেকে বের করে আনবেন। আর শাহাদাত যে সম্ভবত ত্রিদেশীয় সিরিজের দল থেকে বাদ পড়ার পর কিছু করে দেখানোর জন্য ফুঁসছিলেন, তিনিই দ্রাবিড়কে বোল্ড করলেন দুর্দান্ত এক বলে। ‘দ্য ওয়াল’-এর এরকম ভেঙে পড়ার উদাহরণ কিন্তু খুব বেশি নেই। বোলারের দুকূল বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস তো হবেই।
সাকিবকে দুঃসময় আঘাত হানতে পারছে না। তিনি দারুণ টার্ন আদায় করে ব্যাটসম্যানদের ভেবেচিন্তে খেলতে বাধ্য করেছেন। মাপা লেন্থে বোলিং করে ব্যাটসম্যানদের জ্বালাতন করে ছেড়েছে তিনি, সঙ্গে দারুণভাবে মিশিয়েছে আর্ম বল। ভারত নিয়মিতই উইকেট হারিয়েছে, টেন্ডুলকার না থাকলে ভারত অলআউটই হয়ে যেত। ‘মাস্টার’ অসাধারণ ব্যাট করেছেন, উইকেটের মুভমেন্ট সামলাতে শুরু থেকেই বল দেখেশুনে খেলেছেন দেরিতে। পাশাপাশি রান বাড়ানোর চিন্তাটাও তাঁর মধ্যে ছিল। ভারতীয় বোলারদের জন্য বোর্ডে কিছু তো অন্তত জমাতে হবে!
সন্দেহাতীতভাবে প্রথম দিনটা ছিল বাংলাদেশের। বোলারদের এই অবদানের প্রতি সম্মান জানাতে তাঁদের ব্যাটসম্যানদেরই কিছু করে দেখানোর পালা এখন।

মাঠের মুখ

তিনি যেন একটা চলমান দোকান। দোকানে যেমন নানা রকম পণ্য থরে থরে সাজানো থাকে, তেমনই তাঁর দুই হাত এবং কাঁধের ওপর পণ্য—‘শাবাশ বাংলাদেশ’ লেখা দুই রকমের হেডব্যান্ড, বাংলাদেশ এবং ভারতের পতাকার স্টিকার। ব্যবসায়ীরা তাঁদের দোকান যেমন সাজান, তিনিও তেমনই নিজেকে সাজিয়েছেন। দুই গালে দুটি বাংলাদেশের পতাকার স্টিকার, মাথায় ব্যান্ড, কপালে আবার ভারতীয় পতাকার স্টিকার। নাম তাঁর আবদুল আহাদ।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ঘুরে ঘুরে স্টিকার-ব্যান্ড বিক্রি করছেন বলেই শুধু ‘চলমান দোকান’ বলা নয়, দোকান নিয়ে চলে এসেছেন সেই ঢাকা থেকে। আহাদের মূল ব্যবসা অন্য। আরামবাগ ক্লাবের সামনে একটা চায়ের দোকান চালান। তবে বিদেশি দলগুলো ঢাকায় এলেই ওটা ফেলে ‘অন্য দোকান’ নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মা-বাবার সঙ্গে ঢাকায় আসা ১০ বছর বয়সে। বাবার মৃত্যুর পর তাঁর চায়ের দোকানের হাল ধরেছেন।
আগে গ্যালারিতে ফ্লাস্কে করে চা-টা বিক্রি করতেন। কিন্তু স্টিকার-ব্যান্ড বিক্রিতে লাভ অনেক বেশি দেখে ঝুঁকেছেন এই ব্যবসায়। চকবাজার থেকে পাইকারি দরে কিনে আনেন। বেচা-বিক্রি জমজমাট, কাল যেমন ১০০টি ব্যান্ড নিয়ে বের হয়েছিলেন, দুপুর ১২টার আগেই ফুরিয়ে গেছে ৫০টি। গত পাঁচ বছরে ঢাকার সবগুলো ম্যাচের সাক্ষী আহাদ। ঢাকার দুই স্টেডিয়ামের তুলনাও করলেন, ‘ঢাকার মাঠে (বঙ্গবন্ধু) অনেক পাবলিক হইত, মাঝে মাঝে মারামারি হইত, ওইটারও একটা আলাদা মজা ছিল। আর মিরপুরে তো মানুষই হয় না।’
হাজার-বারো শ টাকা বিক্রি হলে দিনে প্রায় ছয়-সাত শ টাকা লাভ, জীবন তাই খারাপ চলছে না। লাজুক হেসে জানালেন বছর দুই আগে ‘ফরজ’ কাজটাও (বিয়ে) সেরে ফেলেছেন। এই করেই কি বাকি জীবনটা চলে যাবে? ‘আহাদ এবার অদৃষ্টবাদী, ‘আল্লায় যা রাখছে তাই হইব, এত ভাইবা কী লাভ!’

দিল্লি শীর্ষ বৈঠক -চুক্তি-সমঝোতার সুফল জনগণ পেতে চায়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে ৫০ দফার যে যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করা হলো, তা থেকে এটা পরিষ্কার যে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের অধিকতর সহযোগিতামূলক ধারা সূচিত হতে যাচ্ছে, যা দেশ দুটির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্র ছাড়িয়ে আঞ্চলিক ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। উভয় দেশের জনগণের জন্যই আশাব্যঞ্জক বার্তা বয়ে এনেছে হাসিনা-মনমোহন শীর্ষ বৈঠক।
প্রথমত, সন্ত্রাসবাদ দমনের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত তিনটি চুক্তি এই অঞ্চলে জঙ্গিবাদ ও সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী তত্পরতা দমনের উদ্যোগে দুই দেশকে আরও কাছে টানবে। দুই দেশের আন্তরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে পারে। উভয় দেশের জনগণ শান্তিকামী; সন্ত্রাসবাদ তাই কোনো এক পক্ষের বিষয় নয়।
দ্বিতীয়ত, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের সমুদ্র, রেল ও সড়কপথ একে অন্যকে ব্যবহারের সুযোগ দেবে বলে যে সমঝোতা হয়েছে, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিসঞ্চারের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ভারতের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানকে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেবে বাংলাদেশ; এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অনেক রাজস্ব আয় হবে। বিশেষত, প্রায় অচল মংলা বন্দরটি এই সুবাদে প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে, সেখানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানও ঘটবে। আর নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাবে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ। ওই দুটি দেশে আমাদের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি হবে অত্যন্ত সহায়ক। এই উদ্যোগ শুধু দ্বিপক্ষীয়ভাবে ভারত-বাংলাদেশ নয়, বরং আঞ্চলিক যোগাযোগ বা কানেকটিভিটির পথ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা ঘটাতে পারে।
বাংলাদেশের প্রতি ভারতের আরও কিছু ইতিবাচক, বন্ধুসুলভ মনোভঙ্গির প্রকাশ ঘটেছে কয়েকটি বিষয়ের মধ্য দিয়ে। এসবের মধ্যে আরও ৪৭টি পণ্যের শুল্কমুক্তভাবে ভারতে প্রবেশাধিকার, রেল ও যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, নদী পুনঃখনন ইত্যাদির জন্য ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ-সহায়তার ঘোষণা ও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ বিক্রির বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। যেমন, তিস্তা নদীর পানিবণ্টন, যা বাংলাদেশের একটি বড় অগ্রাধিকার; তা নিয়ে কোনো চুক্তি হয়নি। কথা হয়েছে, চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে মার্চে দুই দেশের পানিসম্পদমন্ত্রীদের বৈঠক বসবে। সমুদ্রসীমা নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট রূপ পরিগ্রহ করেনি, শুধু আভাস দেওয়া হয়েছে যে জাতিসংঘের প্রচলিত সালিসব্যবস্থার পরিবর্তে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রয়াস নেওয়া হবে। সীমান্ত নির্ধারণ, ছিটমহল ও অপদখলীয় জমি—এ ধরনের কিছু বিষয়ও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এ বিষয়গুলো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কূটনৈতিক সূত্রে বলা হয়েছে, এসব বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক বাস্তবতাকে যুক্তিপূর্ণভাবে পারস্পরিক মঙ্গলের স্বার্থে কাজে লাগানোর পরিবর্তে অবিশ্বাস, অনাস্থা, দোষারোপের যে ধারা এত দিন কমবেশি চলে এসেছে, তার অবসান ঘটানো জরুরি হয়ে পড়েছিল। দিল্লি শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের সরকারের মধ্যে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং আরও যা হতে যাচ্ছে, সেগুলোর বাস্তবিক সুফল জনজীবনে প্রতিফলিত হলেই দুই দেশের সম্পর্কের প্রকৃত উন্নতি ঘটবে। জনগণ চুক্তি ও সমঝোতার সুফল পেতে আগ্রহী।
আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর দেশ দুটির মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাকে গঠনমূলকভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলে আঞ্চলিকভাবে বড় ধরনের উন্নয়নে সূচনা ঘটানো সম্ভব হবে।

২০৩০ সাল নাগাদ ৮০টি পরমাণু চুল্লি রপ্তানি করতে চায় দ. কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ তারা ৮০টি পরমাণু চুল্লি বিদেশে রপ্তানি করতে চায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে চার হাজার কোটি ডলারের পরমাণু জ্বালানি চুক্তির পরপর দেশটি তাদের এই লক্ষ্যের কথা জানাল।
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, নিজেদের পরমাণু জ্বালানি চুল্লি প্রযুক্তির উন্নয়ন ও গবেষণায় ২০১১ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ৩৫৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোক্তারা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চারটি পরমাণু চুল্লি স্থাপন এবং পরিচালনার কাজ পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন সংস্থা।

সন্ত্রাসীরা কানাডা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করছে

সন্ত্রাসীরা কানাডা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করছে-গোয়েন্দা দপ্তরের এমন সতর্কবার্তা পাওয়ার পর কানাডার বিমানবন্দরগুলোতে সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার কানাডিয় টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এ খবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা কানাডার সরকারকে সতর্ক করে জানিয়েছে, ইয়েমেনে প্রশিক্ষণ নেওয়া ২০ জন সন্ত্রাসী উত্তর আমেরিকায় প্রবেশের চেষ্টা করছে। এ ছাড়া কানাডার গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, আরেকটি সন্ত্রাসী দলও কানাডায় ঢোকার চেষ্টা করছে। এই সতর্কবার্তা পাওয়ার পর কানাডার বিমানবন্দরগুলোতে এবং যেসব বিমান কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে সেগুলোর জন্য কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রতি নতুন সন্ত্রাসী হুমকি নিয়ে মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপার। পরিবহনমন্ত্রী জন বেইর্ড বলেন, উত্তর আমেরিকায় দুই থেকে তিনটি নতুন হুমকির ব্যাপারে সতর্কবার্তা পেয়েছে সরকার।

ইয়েমেনে বন্দুকযুদ্ধে আল-কায়েদা নেতা আবদুল্লাহ মেহদার নিহত

ইয়েমেনের শাবাওয়া প্রদেশে গত মঙ্গলবার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আল-কায়েদার প্রভাবশালী নেতা আবদুল্লাহ মেহদার নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ওই এলাকায় জঙ্গিদের গুপ্ত হামলায় দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, রাজধানী সানা থেকে ৬০০ কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়ি এলাকা শাবাওয়া প্রদেশের একটি বাড়িতে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় মেহদার ওই বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন। এ ছাড়া সংগঠনের আরও চার সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছে।
শাবাওয়া প্রদেশের গভর্নর আলী হাসান আল-আহমাদি সাংবাদিকদের বলেন, মেহদার গত রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন। সংগঠনের অন্য সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
আহমাদি আরও জানান, নিরাপত্তা বাহিনী আল-কায়েদার সন্দেহভাজন চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মধ্যে দুজন বন্দুকযুদ্ধে আহত হয়েছে।
ওই এলাকার আদিবাসীরা জানিয়েছে, পুলিশের অভিযানের পর আরও ১৮ সন্দেহভাজন পালিয়ে পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, শাবাওয়া প্রদেশে গুপ্ত হামলায় সেনাবাহিনীর দুই সদস্য নিহত হয়েছেন।
গত ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনে যুক্তরাষ্ট্রগামী একটি বিমানে এক নাইজেরীয় চরমপন্থীর বোমা হামলার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। আল-কায়েদার ইয়েমেন শাখা ওই হামলার পরিকল্পনার দায় স্বীকার করার পর থেকে ইয়েমেনে আল-কায়েদার কর্মকাণ্ড জোরেশোরে আলোচনায় উঠে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে সেনা পাঠাতে পারে বলে শোনা যাচ্ছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে জানিয়ে দিয়েছেন, ইয়েমেনে সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে তাঁর নেই।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে চাপের মুখে পড়ে এবং সৌদি আরবে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের কারণে আল-কায়েদার জঙ্গিরা ইয়েমেনে চলে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে একটি বন্দর বন্ধ ঘোষণা

‘উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য’ বহনকারী নয়টি কনটেইনারে দুর্ঘটনাবশত ছিদ্র সৃষ্টি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় বন্দর গত মঙ্গলবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
পুলিশ জানায়, উত্তর ক্যারোলাইনার মোরহেড সিটি বন্দরে গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল নয়টার দিকে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
শহরের বন্দর বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘মোরহেড সিটি বন্দরে নয়টি কনটেইনারের ভেতরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য পেয়েছি আমরা।’ কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই ঘটনায় কেউ আহত হননি।

মমতার সমালোচনায় মাওবাদী নেতা কিষানজি

এত দিন মাওবাদীদের বিরুদ্ধে তেমন একটা মুখ খোলেননি তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং প্রকারান্তরে তিনি পরোক্ষভাবে সমর্থনই দিয়ে আসছিলেন মাওবাদীদের। আর এতে সন্তুষ্ট মাওবাদী নেতা কিষানজিও কিছুদিন আগে বলেছিলেন, তাঁরা মমতাকে ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই দেখতে চান। কিন্তু রাজনীতিতে শেষকথা বলে কিছু নেই।
এবার রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার জন্যই মমতা সোচ্চার মাওবাদীদের বিরুদ্ধে। শনিবার কলকাতায় রীতিমতো সংবাদ সম্মেলন করে মাওবাদীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মাওবাদী দমনে যৌথবাহিনী ব্যর্থ। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারও ব্যর্থ। এবার তাদের দলই মাওবাদী দমনে অগ্রণী ভূমিকা নেবে। জঙ্গলমহলকে মাওবাদী দখলমুক্ত করে ফিরিয়ে দেবেন আদিবাসীদের হাতে। শুধু তা-ই নয়, মাওবাদীদের খুনি বলতেও দ্বিধা করেননি তিনি। এমনকি লালগড়ে পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনগণের কমিটির নেতা ছত্রধর মাহাতোকে তিনি এই বার্তা পৌঁছে দেন যে খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয় তৃণমূল।
এ ঘোষণার পর খেপে যান মাওবাদী নেতা কিষানজি। তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় মমতা তাঁদের সহযোগিতা নিলেও এখন ক্ষমতার লোভে এবং ভবিষ্যতের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার চিন্তায় মমতা সুর বদলে ফেলেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সুরেই তিনি এখন মাওবাদীদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। মমতার দলের সাংসদ কবীর সুমন ছত্রধরের পক্ষে কথা বলে ঠিকই কাজ করেছেন।

মমতার সমালোচনায় মাওবাদী নেতা কিষানজি

এত দিন মাওবাদীদের বিরুদ্ধে তেমন একটা মুখ খোলেননি তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং প্রকারান্তরে তিনি পরোক্ষভাবে সমর্থনই দিয়ে আসছিলেন মাওবাদীদের। আর এতে সন্তুষ্ট মাওবাদী নেতা কিষানজিও কিছুদিন আগে বলেছিলেন, তাঁরা মমতাকে ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই দেখতে চান। কিন্তু রাজনীতিতে শেষকথা বলে কিছু নেই।
এবার রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার জন্যই মমতা সোচ্চার মাওবাদীদের বিরুদ্ধে। শনিবার কলকাতায় রীতিমতো সংবাদ সম্মেলন করে মাওবাদীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মাওবাদী দমনে যৌথবাহিনী ব্যর্থ। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারও ব্যর্থ। এবার তাদের দলই মাওবাদী দমনে অগ্রণী ভূমিকা নেবে। জঙ্গলমহলকে মাওবাদী দখলমুক্ত করে ফিরিয়ে দেবেন আদিবাসীদের হাতে। শুধু তা-ই নয়, মাওবাদীদের খুনি বলতেও দ্বিধা করেননি তিনি। এমনকি লালগড়ে পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনগণের কমিটির নেতা ছত্রধর মাহাতোকে তিনি এই বার্তা পৌঁছে দেন যে খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয় তৃণমূল।
এ ঘোষণার পর খেপে যান মাওবাদী নেতা কিষানজি। তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় মমতা তাঁদের সহযোগিতা নিলেও এখন ক্ষমতার লোভে এবং ভবিষ্যতের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার চিন্তায় মমতা সুর বদলে ফেলেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সুরেই তিনি এখন মাওবাদীদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। মমতার দলের সাংসদ কবীর সুমন ছত্রধরের পক্ষে কথা বলে ঠিকই কাজ করেছেন।