Wednesday, July 27, 2011

অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে চার নতুন

শেন ওয়ার্নের বিদায়ের পর এ পর্যন্ত ১০ জন স্পিনার খেলিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাতেও সমাধান না আসায় স্পিনার নিয়ে দলটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছেই। শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য এবার যেমন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) নির্বাচকেরা দলভুক্ত করেছেন নতুন স্পিনার নাথান লিওনকে। কাল ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলটিতে শুধু তিনিই নন, নতুন মুখ আছেন আরও দুজন; দুজনই ফাস্ট বোলার—ট্রেন্ট কোপল্যান্ড ও জেমস প্যাটিনসন। ৩৩টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি খেললেও টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নেই দলে ডাক পাওয়া আরেক ক্রিকেটার শন মার্শের।
মাত্র চারটি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলা স্পিনার লিওনকে দলে রাখার কারণ—তাঁর মধ্যে ভালো সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছেন নির্বাচকেরা। লিওন ছাড়াও দলে স্পিনার হিসেবে আছেন মাইকেল বিয়ার। বাদ পড়েছেন স্পিনার জেসন ক্রেজা, ফাস্ট বোলার ডগ বলিঞ্জার ও বেন হিলফেনহস এবং ওপেনার সাইমন ক্যাটিচ। তবে চোট কাটিয়ে ফিরেছেন রায়ান হ্যারিস। ওয়াটসনের সঙ্গে ইনিংস ওপেন করবেন ফিলিপ হিউজ। দলে চারজন অনভিজ্ঞ খেলোয়াড় থাকার পরও দলটিকে তারুণ্যনির্ভর না বলে ‘অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের সুষম মিশেলে গড়া’ বলছেন অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকেরা।
শ্রীলঙ্কা সফরে গল, পাল্লেকেলে ও কলম্বোয় ৩টি টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম টেস্ট শুরু ৩১ আগস্ট। রয়টার্স।
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দল: শেন ওয়াটসন, ফিলিপ হিউজ, রিকি পন্টিং, মাইকেল ক্লার্ক (অধিনায়ক), মাইক হাসি, উসমান খাজা, শন মার্শ, ব্র্যাড হাডিন, মিচেল জনসন, রায়ান হ্যারিস, পিটার সিডল, ট্রেন্ট কোপল্যান্ড, জেমস প্যাটিনসন, নাথান লিওন ও মাইকেল বিয়ার।

রিভার প্লেটের জন্য...

দেশের অন্যতম সফল ক্লাব। ভান্ডারে রেকর্ড ৩৩ বারের লিগ শিরোপা। আর্জেন্টাইন ঘরোয়া ফুটবলে রিভার প্লেট সাক্ষাৎ এক ‘দৈত্য’। এই ‘দৈত্য’কে ছাড়া আর্জেন্টিনার প্রথম বিভাগ লিগ জমবে কীভাবে? আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) তাই নিয়েছে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ। রিভার প্লেট যাতে আগামী মৌসুমেই দ্বিতীয় বিভাগ থেকে প্রথম বিভাগে ফিরে আসতে পারে, সে জন্য ঘরোয়া ফুটবলের ফরম্যাটটাই বদলে নতুন করে গঠন করতে যাচ্ছে এএফএ!
ক্লাবের ১১০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো দেশের শীর্ষ লিগ থেকে অবনমন হয়েছে রিভার প্লেটের। এএফএর মুখপাত্র চারকুইস বিয়ালো বলেছেন, আগামী মৌসুমে শীর্ষ লিগ থেকে কোনো দলের অবনমনের সম্ভাবনা নেই। কারণ, আশির দশক থেকেই এই নিয়ম চালু—শীর্ষ লিগ থেকে কোনো ক্লাবের অবনমন হয় তিন মৌসুমের গড় পয়েন্টের ভিত্তিতে। রিভার প্লেটের অবনমন হয়েছে মূলত ২০০৮-০৯ মৌসুমের দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে।
তাই আগামী মৌসুমেই রিভার প্লেটের ফেরাটা নিশ্চিত করতে এএফএ হাঁটতে যাচ্ছে ফরম্যাট পরিবর্তনের পথে। ইতিমধ্যেই নতুন ফরম্যাটের প্রাথমিক একটা রূপরেখা তৈরিও করে ফেলেছে। গত সোমবার এএফএ ঘোষণা করেছে, আগামী মৌসুমটিতে হয়তো দেশের শীর্ষ দুই বিভাগের দলগুলোকে সংযুক্ত করা হবে। সম্মিলিত তালিকায় থাকবে শীর্ষ লিগের ২০ ক্লাবই। দ্বিতীয় বিভাগ থেকে আসবে ১৬টি কিংবা ১৮টি ক্লাব। এরপর হয়তো দলগুলোকে অঞ্চলভিত্তিক গ্রুপে ভাগ করা হবে।

আশার আলো দিতে পারল জাতীয় শ্যুটিং?

২৫তম জাতীয় শ্যুটিং শেষ হয়েছে কাল। পাঁচ দিনের প্রতিযোগিতায় আটটি ইভেন্টের মধ্যে রেকর্ড হয়েছে মাত্র দুটিতে। মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে শারমিন আক্তার রত্না ও ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে আরমিন আশা। শুটারদের স্কোরও তেমন আশাপ্রদ হয়নি। মেয়েদের এয়ার রাইফেলে তবু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাতে তোলার মতো স্কোর করেছেন রত্না, কিন্তু ছেলেদের এয়ার রাইফেলের অবস্থা খুবই খারাপ। বাংলাদেশের আশা-ভরসার এয়ার রাইফেলে উন্নতির কোনো ছাপ ছেলেদের বিভাগে পাওয়া যায়নি।
যা-ই হোক, শ্যুটিং ফেডারেশন বলছে, আগামীতে এ থেকে শিক্ষা নিয়ে পথ চলবে। সেই পথের দিশা দিতে বিকেএসপির মতো প্রতিষ্ঠানের দিকেই মূলত তাকিয়ে শ্যুটিং ফেডারেশন। ৪টি সোনা, ২টি রুপা ও ২টি ব্রোঞ্জ জিতে এবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজেদের সামর্থ্যের আরেকবার প্রমাণ দিয়েছে বিকেএসপি। আর্মি শ্যুটিং অ্যাসোসিয়েশন ২টি সোনা, ২টি রুপা ও ৩টি ব্রোঞ্জ জিতে রানার্সআপ হয়েছে এই প্রতিযোগিতায়।
কাল ১০ মিটার এয়ার পিস্তল ইভেন্টে সোনা জিতেছেন সাভার সেনা শ্যুটিং ক্লাবের ইকবাল হোসেন (৬৫৬.৮)। ছেলেদের ৫০ মিটার রাইফেলের থ্রি পজিশনের সোনা আর্মি শ্যুটিং অ্যাসোসিয়েশনের রমজান আলীর (১২২৩.৬)। ১৩২ পয়েন্ট স্কোর করে স্কিটে সোনা গুলশান শ্যুটিং ক্লাবের ইকবাল ইসলামের। ১২৭ পয়েন্ট পাওয়া চট্টগ্রাম রাইফেল ক্লাবের নুরুদ্দিন সেলিম জিতেছেন রুপা। ব্রোঞ্জ জেতা ঢাকা রাইফেল ক্লাবের আলতামাস কবিরের পয়েন্ট ১২১।
খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ফেডারেশন সভাপতি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আস্হাব উদ্দীন।

দ. আফ্রিকা সফরের একাডেমি দল ঘোষণা

আগামী ২ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছে জিপি-বিসিবি একাডেমি দল। ২০ দিনের সফরে দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দলের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে, দুটি চার দিনের ও দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে তারা। মাহমুদুল হাসানকে অধিনায়ক ও আলাউদ্দিন বাবুকে সহ-অধিনায়ক করে কাল সফরের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করা হয়েছে।
আগামী ৬ আগস্ট সোয়েটোতে প্রথম ওয়ানডে। জোহানেসবার্গ ও প্রিটোরিয়ায় পরের দুটি ওয়ানডে হবে ৭ ও ৯ আগস্ট। প্রিটোরিয়ায় প্রথম চার দিনের ম্যাচ শুরু হবে ১২ আগস্ট ও দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচটি শুরু হবে ১৮ আগস্ট। ২৩ আগস্ট এই শহরেই হবে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।
একাডেমি দল: মাহমুদুল হাসান (অধিনায়ক), আলাউদ্দিন বাবু (সহ-অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, আনামুল হক, মমিনুল হক, সাব্বির রহমান, সানজামুল ইসলাম, মুক্তার আলী, কাজী কামরুল ইসলাম, মাইশুকুর রহমান, তাসামুল হক, আসিফ আহমেদ, শাকের আহমেদ, সোহাগ গাজী, আল-আমীন হোসেন। স্ট্যান্ড বাই: তানভীর হায়দার খান, ফজলে মাহমুদ, আবদুল মজিদ, কাজী নুরুল সোহান ও কামরুল ইসলাম রাব্বী।

অসাধারণ ম্যাচ, অসাধারণ ইংল্যান্ড

হাসিটা তো থামছিলই না। চোখেমুখেও তৃপ্তির আভা। লর্ডস জয়ের অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের প্রথম প্রতিক্রিয়া, ‘অসাধারণ এক টেস্ট ম্যাচ, আমাদের পারফরম্যান্সও ছিল অসাধারণ।’
টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলকে ১৯৬ রানে উড়িয়ে দেওয়ার পর এমন উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। পঞ্চম দিনেও উইকেটে বোলারদের জন্য তেমন কিছু ছিল না। ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে ইংলিশ বোলারদের জন্য এটা ছিল তাই কঠিন এক পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় তাঁরা দারুণভাবে উতরে গেছেন। প্রথম ইনিংসে ম্রিয়মাণ জেমস অ্যান্ডারসন জেগে উঠেছেন আসল সময়েই। দুর্দান্ত বোলিং করেছেন ব্রড-ট্রেমলেটরাও। ভারত গুটিয়ে গেছে নির্ধারিত ওভারের ২৮.৩ ওভার আগেই।
স্ট্রাউসের প্রশংসার বেশির ভাগ বরাদ্দ ছিল তাই বোলারদের জন্যই, ‘দিনের শুরুতে আমরা জানতাম কাজটা সহজ হবে না, কারণ উইকেট ছিল অনেকটাই নিষ্প্রাণ। আমাদের বোলাররা নিজেদের কাজটা দারুণভাবে করেছে। শেষ দিনে তো বটেই, পাঁচ দিনই ওদের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। এই উইকেটে একমাত্র শৃঙ্খলা দিয়েই ওদের দুবার অল-আউট করা সম্ভব ছিল এবং আমরা সেটা দারুণভাবে করেছি।’
রোমাঞ্চকর এক শেষ দিনের আশায় লর্ডসে হয়েছিল রেকর্ড ২৮ হাজার ৫০০ দর্শক। গ্যালারি ভর্তি দর্শকের সামনে এই জয়ে রোমাঞ্চিত ডাবল সেঞ্চুরি করে ম্যাচ-সেরা কেভিন পিটারসেন, ‘মাঠে আসার সময় দেখেছি বিশাল লম্বা লাইন, এতেই প্রমাণ হয় সিরিজ নিয়ে আগ্রহের পারদ কোথায়। আমরা সব সময়ই জানতাম এটা মহাগুরুত্বপূর্ণ এক সিরিজ। এগিয়ে থাকতে পেরে ভালো লাগছে।’
ম্যাচের প্রথম দিন বিকেলেই হামস্ট্রিংয়ের চোটে জহির খানকে হারানো, টেন্ডুলকারের জ্বর, এক্সরে করাতে মাঠ থেকে গম্ভীরের হাসপাতালে যাওয়া—ম্যাচ শেষেও মহেন্দ্র সিং ধোনির কণ্ঠে অসহায়ত্ব, ‘যতগুলো ব্যাপার আমাদের বিপক্ষে যেতে পারত, সবগুলোই বিপক্ষে গেছে। আমাদের ব্যাটসম্যান-বোলার সবার জন্যই ম্যাচটা ছিল কঠিন।’ পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে বললেন মূল স্ট্রাইক বোলারের অনুপস্থিতিকেই, ‘প্রথম দিনেই জহিরকে হারানোর পর কাজটা কঠিন হয়ে গিয়েছিল। তিন বোলার নিয়ে কাজ চালানো কঠিন। প্রথম দুদিন উইকেটে টার্নও ছিল না, তাই হরভজনও খুব বেশি কিছু করতে পারেনি।’
তার পরও ভারতকে বাঁচাতে পারত শেষ দিনে ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তা। কিন্তু পারেননি দ্রাবিড়-টেন্ডুলকার-লক্ষ্মণরা। সবচেয়ে বড় জুটিই ছিল মাত্র ৭৫ রানের! এর পেছনে ভারত-অধিনায়কের যুক্তি, ‘টপ অর্ডারে আর একটা বড় জুটি হলেই হয়তো ম্যাচটা বাঁচাতে পারতাম। কিন্তু কাজটা কঠিন ছিল। কারণ, বেশির ভাগ ব্যাটসম্যানকে জায়গা বদল করতে হয়েছে। রাহুল ওপেন করেছে, শচীন-গম্ভীরকে অন্য পজিশনে নামতে হয়েছে। এতে চাপ আরও বেড়েছে।’
দ্বিতীয় টেস্টেও সম্ভবত জহিরকে পাচ্ছেন না ধোনি। ইংল্যান্ডের কোনো চোট-ঝামেলা নেই। দ্বিতীয় টেস্টের দলও অপরিবর্তিত রেখেছে তারা। তবে প্রথম টেস্টের উচ্ছ্বাস, তৃপ্তি সব মাঠেই রেখে আসতে চান স্ট্রাউস। চার টেস্টের সিরিজটা দুই টেস্টের ব্যবধানে জিতলে ভারতকে সরিয়ে এক নম্বর হয়ে যাবে ইংল্যান্ড। প্রথমটি জিতে সেদিকে এক ধাপ এগিয়েও গেল স্ট্রাউসের দল। তবে ইংল্যান্ড অধিনায়ক জানেন, পথের এখনো অনেক বাকি, ‘আমরা জানি যে খেলা কেবল শুরু হলো। অনেক ক্রিকেট এখনো বাকি আছে। বেশি আত্মতৃপ্ত হলে চলবে না। শুক্রবারের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।’ দ্বিতীয় টেস্ট শুরু শুক্রবারেই, ট্রেন্টব্রিজে।

নতুন শুরুর যাত্রা

‘কিসের হ্যাটট্রিক?’—হ্যাটট্রিকের কথা শুনেই যেন আকাশ থেকে পড়লেন তামিম ইকবাল। অস্বাভাবিক অবশ্য নয়। বাংলাদেশ সর্বশেষ টেস্ট খেলেছে ওল্ড ট্রাফোর্ডে, ১৪ মাস আগে। চট করে বাংলাদেশ ওপেনারের কীভাবে মনে পড়বে, টানা তিন টেস্টে সেঞ্চুরির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি!
অতি ভোজনে নাকি দারুণ সুস্বাদু খাবারেও অরুচি চলে আসে। অতিরিক্ত ক্রিকেটের কারণে শীর্ষ ক্রিকেটারদের বিরক্তি অনেক সময়ই খবরের শিরোনাম হয়েছে। বাংলাদেশের উল্টো। ওয়ানডে নিয়ে সমস্যা নেই, কিন্তু টেস্ট খেলার জন্য মাঝেমধ্যেই দেখা যায় হাহাকার। এর আগেও একবার ১৩ মাসের বিরতির ফাঁদে পড়েছিল বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট। ২০০৬ সালে দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় সেই সিরিজের পর আবার টেস্ট খেলতে পেরেছিল ২০০৭ সালের মে মাসে। এবারের বিরতি তো ছাড়িয়ে গেল সেটিকেও। আজ সকালেই জিম্বাবুয়ের উদ্দেশে কাতার এয়ারওয়েজে চাপবে বাংলাদেশ দল। এটিকে তাই বলা, একরকম নতুন শুরুর যাত্রা!
তামিমের সমস্যা তো আরও বেশি। কাউন্টি খেলে ইংল্যান্ড থেকে দেশে আসার পর কুঁচকির চোটের কারণে ব্যাটই হাতে নিতে পারেননি। বাড়তি সতর্কতার জন্য জিম্বাবুয়ে সফরের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচটা না-ও খেলতে পারেন। হ্যাটট্রিক সেঞ্চুরির অভিযানে নামতে হবে তাই অনেকটাই অপ্রস্তুত হয়ে। উইজডেনের বর্ষসেরা তাকিয়ে ভাগ্যের দিকে, ‘আল্লাহ ভরসা...প্রস্তুতি আমার একদম ভালো হয়নি। তার পরও আশাবাদী। উইকেটে খানিকটা সময় কাটালেই হয়তো জড়তা কেটে যাবে। আশা করি প্রস্তুতির স্বল্পতা খুব বেশি ভোগাবে না।’
ইংল্যান্ড সিরিজটা আবার খুব ভালো মনে আছে জুনায়েদ সিদ্দিকের। কিন্তু এই দীর্ঘ বিরতি খানিকটা অনিশ্চয়তায় ফেলেছে তাঁকেও। বাংলাদেশের খেলা সর্বশেষ ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স ছিল না তাঁর (৬ ও ১), কিন্তু ঠিক আগের ম্যাচেই লর্ডসে করেছিলেন জোড়া ফিফটি (৫৮ ও ৭৪)। তার আগের সিরিজে ওই দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই পেয়েছিলেন প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। হারারে টেস্টে তাই ‘অটোমেটিক চয়েস’-ই হওয়ার কথা ছিল এই বাঁ হাতি ব্যাটসম্যানের। কিন্তু ১৬ মাসের বিরতি যে মুছে দিয়েছে অনেক কিছুই! জুনায়েদের কণ্ঠেও তাই অনিশ্চয়তা, ‘জানি না একাদশে থাকব কি না। আমি বেশি কিছু ভাবছি না, ভাবলে আমার জন্য আরও খারাপ হয়। তবে সুযোগ পেলে লর্ডসের চেয়েও ভালো কিছু করতে পারব বলে আশা রাখি।’
নিজের মতো দলকে নিয়েও আশাবাদী জুনায়েদ, ‘জিম্বাবুয়েতে একটাই টেস্ট, দেখার বা বোঝার সুযোগ নেই। ডু অর ডাই ম্যাচ। আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত। অনুশীলন খুব ভালো হয়েছে। জিম্বাবুয়ের কন্ডিশনের সঙ্গে যদি দ্রুত মানিয়ে নিতে পারি, ভালো না করার কোনো কারণ দেখছি না।’
অনুশীলনে বাংলাদেশের পেসারদের দেখে দারুণ খুশি কোচ স্টুয়ার্ট ল। অথচ কাগজে-কলমে পেস বোলিংটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে অনভিজ্ঞ! টেস্টে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের মূল পেসার শাহাদাত হোসেন নেই চোটের কারণে। এখনো টেস্ট দলে থিতু না হওয়া শফিউল ইসলামকেই হয়তো নেতৃত্ব দিতে হবে পেস আক্রমণের। বগুড়ার তরুণ আশাবাদী, ওয়ানডের পারফরম্যান্স বয়ে আনতে পারবেন টেস্টেও, ‘আমি কিন্তু ধারাবাহিকভাবে টেস্ট খেলার সুযোগ পাইনি। টানা দুটো টেস্ট তো বোধ হয় কখনোই খেলা হয়নি। এ জন্যই টেস্টের পারফরম্যান্স এতটা ভালো নয়। এবার অবশ্য একটাই টেস্ট, চেষ্টা করব ভালো কিছু করতে। শুনছি জিম্বাবুয়ের উইকেটে পেসারদের জন্য সাহায্য থাকবে। সেটা হলে তো ভালোই। আশা আছে ওয়ানডের মতো টেস্ট দলেও জায়গাটা পাকা করার।’
ছোট ছোট ব্যক্তিগত লক্ষ্যগুলো যদি এক সুতোয় গাঁথা হয়ে যায়, দিন শেষে লাভ দলেরই। আজ সেই আশায় ভর করেই জিম্বাবুয়ে যাচ্ছে সাকিব আল হাসানের দল।

২০০ রানে ১

লর্ডস টেস্টটা ভালো যায়নি হরভজন সিংয়ের। ২১৮ রান দিয়ে ১ উইকেট। গড়েছেন টেস্ট ম্যাচে দুই ইনিংসেই বল করে ২০০ রান দিয়ে মাত্র ১ উইকেট পাওয়ার দশম উদাহরণ। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে ডারবানে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার ফাস্ট বোলার নরমান গর্ডন প্রথম এই রেকর্ড করেন। প্রথম ইনিংসে ৮২ রানে কোনো উইকেটে না পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭৪ রান দিয়ে এডি পেন্টারের উইকেটটি পেয়েছিলেন ম্যাচে মোট ২৫৬ রান দেওয়া গর্ডন। রান দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনিই এক নম্বরে। এরপর আছেন অনিল কুম্বলে, ২০০৪-০৫ মৌসুমে বেঙ্গালুরুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৪৭ রানে ১ উইকেট পেয়েছিলেন এ লেগ স্পিনার। তিনে আরেক ভারতীয় এরাপল্লী প্রসন্ন (২৪১/১), চারে হরভজন ও পাঁচে ইংল্যান্ডের টনি লক (২১৬/১)।

চাকরি হারালেন বাতিস্তা

ডিয়েগো ম্যারাডোনার পরামর্শ শুনলেই ভালো করতেন সার্জিও বাতিস্তা। কোপা আমেরিকায় ব্যর্থ হওয়ার পর স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ালে সেই হতো তাঁর জন্য সম্মানজনক। দাঁড়াননি বলেই অপমানিত হতে হলো। পরশু ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচের পদ থেকে।
প্রথমে শোনা গিয়েছিল, কোপায় ব্যর্থ হওয়ার পরও বাতিস্তার ওপরই আস্থা রাখছে আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্থা (এএফএ)। সংস্থার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, এএফএর প্রধান হুলিও গ্রন্ডোনার ছেলে হামবার্তো নিজেই আশ্বস্ত করেছিলেন, কোচের পদে বহাল রাখা হবে বাতিস্তাকে। কিন্তু এর কদিন পরই শোনা যায়, এএফএর সিংহভাগ কর্মকর্তার আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন ২০০৮ অলিম্পিকে সোনাজয়ী কোচ। পরশু এএফএর বৈঠক শেষে তাঁকে বরখাস্ত করার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। নতুন কোচ হিসেবে এখনো কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে আলেজান্দ্রো সাবেলা আর প্যারাগুয়ে কোচ জেরার্ডো মার্টিনোর নাম শোনা যাচ্ছে।
এএফএ অবশ্য ‘ছাঁটাই’ না বলে বলছে, ‘দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ভিত্তি’তে বাতিস্তা সরে দাঁড়িয়েছেন। সংস্থাটির মুখপাত্র চারকুইস বিয়ালো বলেছেন, ‘আমি আপনাদের জানাতে চাই, সার্জিও বাতিস্তার সঙ্গে হুলিও গ্রন্ডোনার অত্যন্ত হার্দিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ ফোনালাপের পর মি. বাতিস্তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার নির্বাচক কমিটির ওপর ছেড়ে দেন। এরপর কমিটি বাতিস্তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল ও রোমানিয়ার বিপক্ষে আসন্ন প্রীতি ম্যাচটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ঠিক করা হবে জাতীয় দলের দায়িত্ব কে নেবে। নতুন কোচ ঠিক করার তাড়া নেই, সে কারণে ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
বাতিস্তাকেও কোচ হিসেবে ভেবেচিন্তেই নিয়োগ দিয়েছিল এএফএ। ম্যারাডোনার সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পর ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে বেশ কিছুদিন কাজ করেছেন। এর মধ্যে বিশ্বকাপজয়ী স্পেনকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। বলা হচ্ছিল, ওই ম্যাচটাই চাকরি পাকা করে দেয় ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সদস্যের।
কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা যেমন জিতেছে, একইভাবে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হেরেছে জাপানের মতো দলের কাছেও। যে ১৭ ম্যাচের দায়িত্বে তিনি ছিলেন, এর মধ্যে আর্জেন্টিনা ৮ ম্যাচ জিতেছে, ছয়টি ড্র করেছে, হেরেছে তিনটি। সাদা চোখে ভালো পারফরম্যান্স মনে হলেও বাতিস্তা দারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন কোপা আমেরিকায়। স্বাগতিক হয়েও আর্জেন্টিনা তার দীর্ঘ শিরোপা-খরা ঘোচাতে পারেনি।
এএফএ জোরালোভাবেই দাবি করছে, ৪৮ বছর বয়সী এই কোচকে তারা ঠিক ‘ছাঁটাই’ করেনি। কথাটা এত জোর দিয়ে বলার কারণও বোঝা যাচ্ছে। বাতিস্তার সঙ্গে ২০১৪ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি ছিল তাদের। নিয়ম অনুযায়ী ছাঁটাই করা হলে বাতিস্তা বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পাবেন। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে চুক্তি বাতিল হলে অবশ্য অন্য কথা।

নরওয়ে ট্র্যাজেডির শিক্ষা by ইনাম আহমদ চৌধুরী

শান্তির দেশ মধ্যরাতের সূর্যের দেশ নরওয়ে। শান্তির নগর তিলোত্তমা অসলো। তারই বুক ঘেঁষে স্বপ্নদ্বীপ ইউটোয়া হচ্ছে স্বর্গপুরী। গত শুক্রবার সেখানেই নেমে এল দোজখের বিভীষিকা। উত্তর সাগর নরওয়েজিয়ান সির কোলে বঙ্কিম ভঙ্গিমায় শায়িত অসংখ্য ফিয়র্ড অলংকৃত বিরল বৃক্ষরাজিশোভিত ও বরফাচ্ছাদিত বিরাট প্রান্তরের মতো, ৪৯ লাখ শান্তিপ্রিয় জন-অধ্যুষিত প্রাচুর্যের দেশ নরওয়ে। এখান থেকেই যথাযথভাবে দরিদ্রবান্ধব অধ্যাপক ইউনূস নিয়ে এসেছিলেন বিশ্বশান্তির নোবেল বরমাল্যের বিরল সম্মাননা—বাঙালির গর্বের ধন। এ শান্তির নীড়ে যে এ ধরনের কোনো বীভৎ স তাণ্ডব হতে পারে, তা কোনো অবস্থাতেই কেউ ভাবেনি।
তাই তো যখন নগরের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকেন্দ্রে—যেখানে অবিস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, তেল মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সরকারি অফিস, জনপ্রিয় দৈনিক বিজ-এর কার্যালয়—বোমা বিস্ফোরিত হলো, সবাই বিস্ময়াহত। পুলিশও কিংকর্তব্যবিমূঢ়। সৌভাগ্যবশত সরকারি ছুটি থাকায় প্রধানমন্ত্রী জেনস স্টলটেনবার্গ নিজের অফিসে ছিলেন না, তবে তাঁর ১৭ তলা ভবন ভেঙে চুরমার। প্রাণহানি হলো অবশ্য সাতজনের, আহত বহু। বিধ্বংসী এ বিস্ফোরণ ঘটাল অ্যানডার্স বেরিং ব্রেইভিক নামের ৩২ বছর বয়সী একজন জাতিগত নরওয়েজিয়ান-ককেশীয় উগ্রপন্থী খ্রিষ্টান—একটি চরমপন্থী রক্ষণশীল দলের সমর্থক ও সাবেক সদস্য। অসলোর নিকটবর্তী নৈসর্গিক অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত উতোইয়া দ্বীপে পুলিশের ছদ্মবেশে ব্রেইভিক গেলেন—সেখানে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত যুব সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের আহ্বান করে তিনি চালালেন নির্বাচারে গুলি। আত্মরক্ষার জন্য কারও কাছে কোনো অস্ত্র নেই। স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের গুলি খেয়ে নিকটস্থ লেকের পানিতে ঝাঁপ দেন অনেক তরুণ-তরুণী। ব্রেইভিক তাড়া করে সেখানেও তাঁদের গুলি করেন। সঙ্গে তাঁর ছিল একটি শটগান ও পিস্তল। আড্রিয়ান প্র্যাক্টন নামের আহত একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, হত্যাকারী অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা মোতাবেক নির্বিচারে সর্বাধিক জনহত্যার জন্য হত্যা করে যাচ্ছিলেন। তাঁকে দেখাচ্ছিল সিনেমার একজন নাৎ সি যুদ্ধকর্মীর মতো।
পুলিশপ্রধান ওয়েস্টিন মায়েল্যান্ডের মতে, বিস্ফোরণ ও গুলিতে প্রায় ৯৬ জন নিহত হয়েছেন, আহত আরও অনেকে। নিহত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ঘাতক একটি কৃষি ফার্ম গঠন করেছিলেন ধোঁকা দেওয়ার জন্য। একজন কৃষি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে গত মে মাসে তিনি ছয় টন সার কিনেছিলেন বিস্ফোরক তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করার জন্য। অর্থাৎ এই হত্যাযজ্ঞের প্রস্তুতি ব্রেইভিক নিচ্ছিলেন বহুদিন ধরেই, আকস্মিক উন্মাদনা ছিল না এটি।
তদন্তে প্রকাশ, ব্রেইভিক নিজেকে ফেসবুকে পরিচয় দিয়েছিলেন রক্ষণশীল খ্রিষ্টান হিসেবে। তিনি যুদ্ধসংক্রান্ত কম্পিউটার খেলা পছন্দ করতেন। তিনি কল্পনা করতেন, তিনি মধ্যযুগীয় ক্রুসেডের একজন নাইটস টেম্পলার। ব্রিটিশ দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিলের একটি বাণী তিনি টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছিলেন, ‘একজন বিশ্বাসী লাখো স্বার্থান্বেষী মানুষের মতো শক্তিশালী।’ তাঁর ধারণা ও আশা, একাই তিনি বিরাট পরিবর্তনের সূচনা করতে পারেন একটি বিরাট ধাক্কা দিয়ে। কেননা, তাঁর একটি বিশ্বাস আছে। তিনি ছিলেন বামপন্থী উদারতা, মার্ক্সিস্ট সংস্কৃতি ও ইসলামবিদ্বেষী।
বিশ্বের সর্বত্রই এই জঘন্যতম নৃশংস ঘটনার জোরালো নিন্দাবাদ হয়েছে এবং হচ্ছে। রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিবিদ, সমাজনেতারা কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন, এটা স্মরণ করিয়ে দেয় যে সমগ্র আন্তর্জাতিক সমাজের এ ধরনের সন্ত্রাস দমনে স্বার্থ রয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল বলেছেন, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও শান্তিতে বিশ্বাসী সবাইকে একযোগে এজাতীয় ঘৃণার বিরুদ্ধে কাজ করে যেতে হবে।
এ ভাষণগুলোর মর্মার্থ সত্যি। কিন্তু আমরা বিশ্লেষণ করলে দেখতে পারি, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্বনেতা ও রাষ্ট্রনায়কেরা তাঁদের ঘোষিত বাণী অনুসরণ করছেন না। রাষ্ট্রযন্ত্র ও সমাজচালকেরা যেন কখনো কখনো ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রকৃত সত্য বা ঘটনার মূল উদ্ঘাটন না করেই পূর্বনির্ধারিত একটি ধারণা প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী এবং তা মূলত ইসলামবিদ্বেষী।
নরওয়ের এই বীভৎ স ঘটনাই দেখা যাক। প্রথমেই মিডিয়া জোর সন্দেহ করল, এটা হতে পারে লিবিয়া ও আফগানিস্তানে নরওয়ের সেনাদল কর্তৃক পশ্চিমা আগ্রাসনের এবং বেসামরিক জনহত্যায় অংশগ্রহণের প্রতিশোধ। কেউ বললেন, নরওয়ে-নিবাসী কোনো উগ্রবাদী মুসলিম বা দল আছে এর পেছনে। এই অমূলক সন্দেহ নিয়ে অতি স্বল্প সময়েই বিশ্বে বহু গুজবের রটনা হলো—হলো ঘৃণার বিস্তার। ব্রেইভিক পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে দাম্ভিক স্বীকারোক্তি না করলে হয়তো এজাতীয় ধারণা আরও বিস্তার লাভ করত। দুর্ভাগ্যবশত পৃথিবীর রাষ্ট্র ও মিডিয়াযন্ত্রের নিয়ন্ত্রক ও চালক বিরাট শক্তিমান এবং বর্তমানে একটি বিশেষ স্বার্থসমন্বিত চিন্তাধারার বাহক। যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হয়েছিল, কিন্তু সেখানে ১৯৯৫ সালে ওকলাহোমা শহরে আমেরিকান টিমোথি ম্যাকভির মতো উগ্রবাদী খ্রিষ্টানরা ট্রাকবোমা দিয়ে ১৬৮ জন নিরপরাধ লোককে নির্বিচারে হত্যা করেছিল। টিমোথিও ছিলেন ব্রেইভিকের মতো গণতন্ত্র ও ইসলামবিরোধী। এ ধরনের সদেশ-উদ্ভূত বহু অঘটন ঘটেছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিতে। হয়েছে ব্রিটেন, স্পেন, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, রাশিয়া এমনকি বাংলাদেশেও। প্রতিটি ঘটনাই বর্বরোচিত, বীভৎ স। প্রতিটি ঘটনাই চরমপন্থী উগ্রমতবাদীদের কুকাণ্ড। দুর্ভাগ্যবশত এর মধ্যে কখনো-বা রাষ্ট্রযন্ত্র এবং দেশি-বিদেশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বা শক্তিশালী রাজনৈতিক সংস্থাও সংশ্লিষ্ট থাকছে। যেমন—ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, ইরাক ও আফগানিস্তানে।
আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, বিভিন্ন স্থানে সুনিয়ন্ত্রিত দাঙ্গা, দেখেছি গুজরাট, আহমদাবাদে নির্বিচারে মুসলিম নিধন, দিল্লিতে শিখ হত্যা। আমরা দেখেছি বিভিন্ন দেশে সাম্প্রদায়িকতা, গোত্রগত-বর্ণগত-অঞ্চলগত ভেদাভেদের জন্য সবল দুর্বলের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হচ্ছে পরাশক্তি কর্তৃক নিজস্বার্থে কাপুরুষোচিত আক্রমণ। কাশ্মীরে তো ভারতীয় সেনাবাহিনী ধর্ষণকে তাদের একটি রণকৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। রাষ্ট্রযন্ত্র মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো তোয়াক্কাই করছে না। ২২ জুলাই বিলেতের গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত একটি তথ্যবহুল নিবন্ধে সীমা দাশগুপ্তা বর্ণনা দিয়েছেন, ভারতে রাষ্ট্রযন্ত্র কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘন গণতন্ত্রকে একটি উপহাসে পরিণত করেছে। একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশপ্রধান প্রকাশ সিংকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেছেন, ‘এটা ঠিক যে উগ্রপন্থী কার্যকলাপ আইনের কাঠামোয় এনে কঠোরভাবে দমন করতে হবে। তবে ভারতে সে রাষ্ট্রযন্ত্র এখন “লুণ্ঠনকারী লোলুপ” হয়ে উঠেছে।’ পাকিস্তানে এখন চলছে অব্যাহত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। আফগানিস্তানে দেশি-বিদেশি সেনাবাহিনী কর্তৃক শিশু-মহিলাসহ সংখ্যাতীত নিরপরাধের প্রাণহানি ঘটছে।
এ সম্পর্কে দ্বিমতের কোনো অবকাশ নেই, সব ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম ও অভিযান চালিয়ে যেতে হবে। সন্ত্রাস হতে পারে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, দলগত বা ব্যক্তিগত। তবে এর সাফল্যের জন্য প্রয়োজন আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষভাবে সন্ত্রাসের কারণ নির্ণয় করে তার প্রতিষেধক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আগে স্বার্থপ্রণোদিত ধারণার বশবর্তী হয়ে পদক্ষেপ নিলে তা কুফলপ্রসবা হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তা হরহামেশাই হচ্ছে। সুইডেনের ‘এগজিস্ট ফাউন্ডেশন’-এর রবার্ট ওরেল বলেছেন, ইসলামিক র‌্যাডিকেলদের ওপর অতিরিক্ত নজর চরম ডানপন্থী উগ্রবাদ প্রসারে অনুকূল হয়েছে। ইউরোপ ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় যে উগ্রপন্থী খ্রিষ্টান ও চরম ডানপন্থীদের প্রসার বাড়ছে, সন্দেহ নেই। এবং নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাথু গুডউইনও মনে করেন, ইসলামিক চরমপন্থীদের ওপর অহেতুক অতিরিক্ত ‘ফোকাস’ অন্যান্য উগ্রপন্থী মতাদর্শের এবং কর্মকাণ্ড প্রসারের সহায়তা করছে। নিও-নাজি কার্যকলাপও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা হয়েছে।
যেকোনো উগ্র মতবাদ ও চরমপন্থী মতাদর্শ বা অসহনশীলতাই সন্ত্রাসের জন্ম দিতে পারে। অন্যায় আচরণ, অধিকার হরণ, অত্যাচার-অবিচার যে ক্ষোভ ও বঞ্চনার সৃষ্টি করে, তা দেয় প্রতিশোধের স্পৃহার জন্ম এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা হয়ে ওঠে সন্ত্রাসের সূতিকাগার। ইতিহাস ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি তা-ই প্রমাণ করে। বিভিন্ন ঘটনা ঘৃণা বা আশঙ্কার জন্ম দেয় এবং তার প্রতিফলন কখনো ঘটে যায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে। যেমন—ব্রেইভিকের জবানিতেই তিনি মার্ক্সিস্ট সংস্কৃতির ও ইসলামবিদ্বেষী। মধ্য বামপন্থী নরওয়েজিয়ান লেবার সরকারকেও তাঁর অপছন্দ। তিনি স্বীকার করেছেন, তাঁর কৃতকর্ম বর্বরোচিত, কিন্তু এর প্রয়োজন ছিল। কেননা, তিনি ইউরোপীয় বা খ্রিষ্টানদের বিরাট এক আঘাত করে মার্ক্সীয় সংস্কৃতি, ইসলাম এবং অহেতুক সহনশীলতার প্রসার সম্পর্কে সাবধান করতে চেয়েছিলেন। এরই জন্য বহু হত্যা বা ধ্বংসের প্রয়োজন ছিল, যাতে তাদের টনক নড়ে। এবং এ জঘন্য ক্রাইমের জন্য তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি দেশের বর্তমান আইনে হবে মাত্র ২১ বছরের জেল, ফাঁসি বা ইলেকট্রিক চেয়ার নয়।
নরওয়ে বা স্ক্যান্ডিনেভিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাস কিন্তু এ ধরনের চরমপন্থী বা নিও-নাজিদের উত্থানের শুধু আভাস-ইঙ্গিত নয়, জীবন্ত প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তাদের উদার রাষ্ট্রীয় নীতির জন্য অনেক অভিবাসী ওখানে বসতি গেড়েছেন এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের অনেকেই যথেষ্ট বর্ধিষ্ণু হয়েছেন। তাই স্থানীয় অধিবাসীদের কেউ কেউ অসহনশীল হয়ে ঈর্ষা করে ভাবেন, তাঁরা উড়ে এসে জুড়ে বসতে চাইছেন। ২০০৭ সালে ৬১ হাজার ২০০ বিদেশি স্থায়ী নিবাসের জন্য এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে ভারতীয়, শ্রীলঙ্কান, তামিল ও এশীয় এবং উত্তর আফ্রিকার সোমালি-সুদানিসহ প্রচুর অভিবাসী মুসলমান। বাংলাদেশি অবশ্য হাজার খানেক। নরওয়ের ৪৯ লাখ লোকের মধ্যে এক-দশমাংশই এখন অভিবাসী। ষাটের দশকে তেল আবিষ্কার এবং শিল্পোন্নয়নের জন্য নরওয়ে বর্তমানে বিশ্বের একটি অন্যতম ধনী দেশ, যেখানে সামাজিক নিরাপত্তা রয়েছে সর্বাধিক। শুধু তেল থেকেই নরওয়ের বার্ষিক আয় ৪০ বিলিয়ন ডলার। উগ্র চরমপন্থীদের বিশেষ আবেদন তাই নতুন প্রজন্মের কাছে—যারা প্রাচুর্যের কোলে লালিত। তাদের তো দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালীন বা তেল-পূর্ব নরওয়েবাসের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। দেখা যাচ্ছে, প্রাচীনেরা সম্ভবত তাঁদের অভিজ্ঞতাজনিত কারণে যথেষ্ট সহনশীল, যদিও খ্রিষ্টান লুথেরান চার্ট এখনো রাষ্ট্রীয় সহায়তা পায়। ব্রেইভিক তো বলেছেন, তিনি পোপকেও সমর্থন করেন। সাধারণভাবে তাদের ধারণা, অভিবাসীরা অন্যায়ভাবে নরওয়ের সম্পদের ভাগীদার হচ্ছে, চালু করছে ভিন্ন সংস্কৃতি-মূল্যবোধ। এটা ওদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
এই বিরাট ট্র্যাজেডি থেকে নিশ্চয়ই শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। প্রথমত বুঝতে হবে, যেকোনো উগ্র মতবাদ, রাষ্ট্রীয় বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ বা ধর্মীয় গোঁড়ামি এ ধরনের সহিংস সন্ত্রাসের জন্ম দিতে পারে। এবং তা নিরপেক্ষভাবে নির্ণয় করে সম্মিলিতভাবেই সবাইকে প্রচেষ্টা নিতে হবে সব রাষ্ট্রের, সব জাতির, সব মানুষের। নইলে কোনো দেশ বা সমাজই সন্ত্রাসের মরণছোবল থেকে রেহাই পাবে না। তবে আশ্বাস ও স্বস্তির কথা, নরওয়েজিয়ান সরকার অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে এ ট্র্যাজেডির মোকাবিলা করেছে। আন্তর্জাতিক মানবতাবাদী ফ্রিড নেন সেনের ঐতিহ্যের দেশ নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জিনেস স্টলটেনবার্গ পরম বিশ্বাসে বলেছেন, ‘আমরা পৃথিবীকে দেখিয়ে দেব, নরওয়েজিয়ান গণতন্ত্রের উত্তরোত্তর বিকাশ হচ্ছে। কেউ বোমাবাজি করে আমাদের থামাতে পারবে না। আমরা আমাদের মূল্যবোধ আঁকড়ে থাকব। আমরা দেখিয়ে দেব, পরীক্ষার এই ক্রান্তিকালে নরওয়েজিয়ান সমাজ রুখে দাঁড়াতে পারে—We must show that Norwegian society can stand up to these testing time. We must show humanity, but not naivety?’
নরওয়েজিয়ান জনগণকে সমবেদনা জানানোর সঙ্গে নরওয়ের নেতৃত্বকে প্রশস্তি জানাই। জানাই সাধুবাদ। জয় হোক তাদের আশাবাদী মতাদর্শের।
ইনাম আহমদ চৌধুরী: বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা।

হামলার আগে ফুর্তির কথা ভাবেন ব্রেইভিক

অ্যান্ডারস বেহরিং ব্রেইভিক হামলার আগে দুজন শীর্ষস্থানীয় পতিতাকে ভাড়া করাসহ দামি ফ্রেঞ্চ রেড ওয়াইন খাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। ইন্টারনেটে পোস্ট করা ব্রেইভিকের একটি লেখা থেকে গতকাল সোমবার এ তথ্য পাওয়া গেছে।
হামলার আগে ইসলাম ধর্ম ও ইউরোপের উদারপন্থী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড ঘোষণা করে এক হাজার ৫০০ পৃষ্ঠার ওই লেখা লেখেন ব্রেইভিক। এতে হামলার প্রস্তুতি হিসেবে কয়েক ঘণ্টার রৌদ্রস্নানের পর একটি ফটোসেশন করার কথাও বলা হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল ব্রেইভিকের

নরওয়ের রাজধানী অসলোতে বোমা হামলা ও উটোয়া দ্বীপে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে কমপক্ষে ৯৩ জনকে হত্যার দায় স্বীকার করা অ্যান্ডারস বেহরিং ব্রেইভিক পুলিশকে জানিয়েছেন, দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্রো হারলেম ব্রান্ডল্যান্ডকে হত্যার উদ্দেশে তিনি ওই হামলা চালিয়েছেন। গতকাল সোমবার অসলোর আফেনপোস্টেন পত্রিকা এ কথা জানিয়েছে।
গত শুক্রবার উটোয়া দ্বীপে লেবার পার্টির যুব সম্মেলনে ভাষণ দেন ব্রান্ডল্যান্ড। এরপর ব্রেইভিক পৌঁছার আগেই তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। আশি ও নব্বইয়ের দশকে ব্রান্ডল্যান্ড ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সরকারকে তিনবার নেতৃত্ব দিয়েছেন।
অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে ওই পত্রিকাটি জানায়, গত শুক্রবার উটোয়া দ্বীপে ব্রান্ডল্যান্ডের সফরের সময় সেখানে ব্রেইভিকের পৌঁছার কথা। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে তাঁর দেরি হয়ে গেছে।

সমলিঙ্গের বিয়ের বৈধতা আইন বাতিলের দাবিতে নিউইয়র্কে সমাবেশ

যুক্তরাষ্ট্রে সমলিঙ্গের বিয়ের বৈধতা দিয়ে করা আইন বাতিলের দাবিতে নিউইয়র্কে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব ম্যারেজ নামের একটি সংগঠনের ডাকে গত রোববার এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে আয়োজিত ওই সমাবেশে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেয়। সমাবেশে বক্তারা ধর্ম ও মূল্যবোধহীন এই আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেন। এতে অভিযোগ করা হয়, সঠিক জনমত যাচাই ছাড়াই সমলিঙ্গের বিয়ের বৈধতা দিয়ে আইন পাস করা হয়েছে। এ জন্য বক্তারা রাজ্য গভর্নর এবং রাজ্য আইনসভার সদস্যদের তীব্র সমালোচনা করেন।
একই সংগঠনের ডাকে ম্যানহাটান, আলবেনি ও বাফেলা এলাকায়ও সমাবেশ হয়।

করাচিতে সহিংসতায় ৪৪ জনের প্রাণহানি

পাকিস্তানের বন্দরনগর করাচিতে রাজনৈতিক ও জাতিগত সহিংসতায় গত তিন দিনে ৪৪ জন নিহত হয়েছে। এ নিয়ে জুলাই মাসে সেখানে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৩৯ জনে। গতকাল সোমবার পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র এ কথা জানায়।
সর্বশেষ প্রাণহানির বেশির ভাগই ঘটেছে শহরের পূর্বাঞ্চলীয় মালির, লান্ধি ও এর আশপাশের এলাকায়, যেখানে বহু-জাতিগোষ্ঠীর নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের বসবাস।
করাচির পূর্বাঞ্চলের জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা নায়িম বোরোকা বলেন, তাঁরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করেছেন। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের কমপক্ষে ২০০ জন কমান্ডো পাঠানো হবে।
এক কোটি ৮০ লাখেরও বেশি মানুষের নগর করাচিতে জাতিগত, ধর্মীয় ও উপদলীয় সহিংসতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। কখনো কখনো স্থানীয় ঝগড়া ও রাজনৈতিক বিরোধ সংঘাতে রূপ নেয়, যা অনেক বড় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) থেকে বের হয়ে যাওয়া একটি অংশের কর্মীরা গত শনিবার করাচির একটি এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে সর্বশেষ এ সহিংসতার সূত্রপাত হয়।
এম কিউ এম মূলত উর্দুভাষি মুসলমানদের দল। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় যাদের পরিবার সিন্ধু প্রদেশে আশ্রয় নেয়।
১৯৯১ সালে এম কিউ এম থেকে বের হয়ে কিছু নেতা-কর্মী এম কিউ এম (এইচ) গঠন করেন। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত চলে আসছে।
গত শনিবার এম কিউ এমের (এইচ) কিছু কর্মী দীর্ঘদিন লুকিয়ে থাকার পর নগরের মালি জেলায় প্রবেশের চেষ্টা চালান। এ সময় এম কিউ এমের কর্মীরা তাঁদের বাধা দেন। এভাবে সর্বশেষ সহিংসতা শুরু হয়।
এম কিউ এমের (এইচ) এসব কর্মীর অনেকে ১০ বছর ধরে পালিয়ে ছিলেন। বিভিন্ন অভিযোগে ২০০২-০৩ সালে তাঁদের অনেক নেতাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর এম কিউ এম কর্মীদের হামলার ভয়ে এম কিউ এমের (এইচ) অনেক কর্মী আত্মগোপন করেন।
এম কিউ এমের (এইচ) মুখপাত্র রিদা ফাতিমা গত রোববার গণমাধ্যমকে বলেন, শনিবার বাড়িতে ফেরার পর তাঁদের অন্তত চারজন কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁদের তিন কর্মীর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের হিউম্যান রাইটস কমিশনের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালের প্রথম ছয় মাসে করাচিতে সহিংসতায় এক হাজার ১৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৪৯০ জন রাজনৈতিক, জাতিগত ও উপদলীয় সংঘাতের বলি হয়েছে।

সিরিয়ায় বহুদলীয় রাজনীতির দ্বার উন্মুক্ত হচ্ছে

অবশেষে সিরিয়ায় বহুদলীয় রাজনীতির দ্বার উন্মুক্ত হতে চলেছে। সরকার ইতিমধ্যে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের অনুমতিসংক্রান্ত একটি খসড়া আইন তৈরি করেছে। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবিই ছিল এটি। গতকাল সোমবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা এ খবর জানায়।
প্রকাশিত খবরে বলা হয়, দেশের রাজনীতিতে প্রাণ ফেরাতে সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকার নতুন রাজনৈতিক দল গঠনসংক্রান্ত ওই খসড়া আইন তৈরি করেছে। দল গঠন, আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, দলগুলোর অধিকার ও দায়বদ্ধতার মতো অপরিহার্য বিষয়গুলো ওই বিলটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে বহুদলীয় রাজনীতির পথ উন্মুক্ত করা হলেও ধর্ম, উপজাতি, অঞ্চল বা পেশাভিত্তিক কোনো দল গঠন করা যাবে না। গোত্র, লিঙ্গ বা বর্ণভিত্তিক কোনো জনগোষ্ঠী যাতে বৈষম্যের শিকার না হয়, সেই বিধান রাখা হয়েছে ওই খসড়া বিলে। এ ছাড়া যেসব দল সিরিয়াভিত্তিক নয়, সেগুলোকেও নিষিদ্ধ করা হচ্ছে বলে প্রকাশিত খবরে বলা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সাল থেকেই সিরিয়ার ক্ষমতায় আঁকড়ে রয়েছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাথ পার্টি। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী এই দলটিই সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করে। রাজনৈতিক সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ১৫ মে থেকে সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলে আসছে।

আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন এ রাজা

ভারতের সাবেক টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এ রাজা ২জি (দ্বিতীয় প্রজন্মের) মোবাইল ফোনের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গতকাল সোমবার নয়াদিল্লির একটি বিশেষ আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
লাইসেন্স দেওয়ার সময় দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে এ রাজাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। ভারতের জাতীয় নিরীক্ষকের মতে, এই দুর্নীতির ফলে সরকারের চার হাজার কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে। তবে আদালতে কৌঁসুলিরা দাবি করেন, পুলিশি তদন্তে দেখা গেছে, এই দুর্নীতির ঘটনায় সরকারের ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়।
এ ঘটনায় ভারতের ক্ষমতাসীন জোট সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (ইউপিএ) শরিক দল ডিএমকের নেতা এ রাজার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, জালিয়াতি ও অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতে গতকাল রাজার আত্মপক্ষ সমর্থনের একটি বিবৃতি পড়ে শোনানো হয়। বিবৃতিতে রাজা বলেন, লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের নীতি অনুযায়ীই তিনি সব পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ কারণে যদি তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ হয়, তাহলে ১৯৯৩ সালের পর ভারতের সব টেলিযোগাযোগমন্ত্রীকে তাঁর সঙ্গে কারাগারে থাকতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সবার যৌথ সিদ্ধান্তে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কীভাবে শুধু একজনের বিচার হয়?
সাবেক মন্ত্রী রাজা গত ফেব্রুয়ারি থেকে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তিনিসহ এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৬ জনের বিচার চলছে।

জাতীয় শ্যুটিংয়ে আরমিনের রেকর্ড

গুলশান জাতীয় শ্যুটিং রেঞ্জে কাল আরেকটি জাতীয় রেকর্ড হয়েছে। ২৫তম জাতীয় শ্যুটিংয়ের তৃতীয় দিনে মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে নিজের রেকর্ড ভেঙেছেন আরমিন আশা। নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের এই শ্যুটারের স্কোর ৪৭৩.৯। এই ইভেন্টটিতে বেশ কয়েক বছর ধরেই সেরা আরমিন। তবে মেয়েদের পিস্তলে বাংলাদেশ এখনো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেতে পারেনি। আরমিন আশা একটু একটু করে এগোলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেতে তাঁর আরও অনেক বাকি।
এ ছাড়া মেয়েদের থ্রি পজিশনে প্রথম বিকেএসপির তৃপ্তি দত্ত, পুরুষ ২৫ মিটার পিস্তলে প্রথম হয়েছেন আর্মি শ্যুটিং অ্যাসোসিয়েশনের শেখ শাহাদাত আহমেদ। আজ প্রতিযোগিতার শেষ দিন।

মেসির সানচেজ-শংসা

লিওনেল মেসি তো আছেনই, একজন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও পেয়ে গেছে বার্সেলোনা। ন্যু ক্যাম্পে নতুন আসা অ্যালেক্সিস সানচেজ নাকি তাদের রোনালদো। সানচেজ নিজে বলেছেন, রোনালদো হতে চান না, হতে চান বার্সার সানচেজ। চিলিয়ান উইঙ্গারের আরেক চাওয়া নিজের আসল চেহারাটা মেলে ধরা।
লিওনেল মেসির বিশ্বাস, নিজেকে মেলে ধরতে পারবেন সানচেজ। ‘অ্যালেক্সিস সানচেজ বার্সেলোনার জন্য দারুণ এক চুক্তি। খুব ভালো মানের খেলোয়াড় সে এবং আমার মনে হয়, এই ক্লাবে মানিয়ে যাবে। ওর খেলা আমি দেখেছি এবং তাকে চিনিও। অসাধারণ এক খেলোয়াড় সে’—গতকালই সংবাদমাধ্যমের সামনে উন্মুক্ত করা ২২ বছর বয়সী সানচেজকে নিয়ে বলেছেন মেসি।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির কোপা-মিশন ব্যর্থ হয়েছে। বার্সেলোনার নতুন মৌসুম নিয়েই এখন তাঁর ভাবনা, ‘গত কয়েক মৌসুমে আমরা ইতিহাস গড়েছি। আমরা যা করেছি, এককথায় তা অসাধারণ। এভাবেই ভালো করে যেতে চাই। আমাদের সমর্থকদের আনন্দে ভাসাতে চাই আমরা।

শিক্ষক তাবারেজ

উরুগুয়ের কোচ অস্কার তাবারেজ ‘এল মায়েস্ত্রো’ বা শিক্ষক নামে পরিচিত। তিনি আসলেই শিক্ষক ছিলেন। খেলোয়াড়ি ও কোচিং জীবনের মাঝের সময়টায় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন কোপাজয়ী এই কোচ।

তিন প্রজন্মের সাফল্যগাথা

হুয়ান কার্লোস কোরাজো, পাবলো ফোরলান, ডিয়েগো ফোরলান। তিনটি নাম, তিনটি প্রজন্ম। আর আছে তিনটি অর্জন। চক্রটি পরশু পূর্ণ করেছেন শেষের জন ডিয়েগো ফোরলান। উরুগুয়েকে কোপা আমেরিকা জিতিয়ে গড়লেন পারিবারিক ইতিহাস। উরুগুয়ের হয়ে কোপা আমেরিকা জিতেছেন ফোরলানের নানা, তাঁর বাবাও গলায় পরেছেন একই অর্জনের মালা। উরুগুয়ের রেকর্ড ১৫তম কোপা জয়ের নায়ক হলেন ফোরলান।
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ছিল না, বুয়েনস এইরেসে রিভার প্লেটের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে শিরোপা লড়াইয়ে নেমেছিল উরুগুয়ে-প্যারাগুয়ে। স্বাগতিক আর্জেন্টিনা অনুপস্থিত, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলও ছিটকে পড়েছে। তবু মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। ফোরলানের পারিবারিক ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার দর্শক।
ম্যাচ শেষে সমাগত সবাইকে উদ্দেশ করে ফোরলান বলেছেন তাঁর আনন্দের কথা, ‘আমার নানা, আমার বাবা এবং আমি ফুটবল ইতিহাসে ঢুকে গেলাম। আমার নানা এবং বাবাও চ্যাম্পিয়ন ছিলেন, এটা বিরাট গর্বের।’ গর্ব ফোরলানকে নিয়েও উরুগুয়ের মানুষ করবে। উরুগুয়ের হয়ে ৩২ বছর বয়সী ফোরলান খেলেছেন ৮২টি ম্যাচ। গত বিশ্বকাপে দলকে বলতে গেলে একাই নিয়ে গিয়েছিলেন সেমিফাইনালে। জিতেছেন সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও।
এর পরই কেমন যেন গোল-খরায় পড়েন ফোরলান। পরশু ফাইনালের আগে প্রায় এক বছর গোল পাননি উরুগুয়ের জার্সি গায়ে। কিন্তু বড় তারকারা তো বড় উপলক্ষেই জ্বলে উঠবেন। ফোরলানও জ্বলে উঠলেন আসল সময়ে। জোড়া গোল করে জয় এনে দিলেন উরুগুয়েকে। মাত্র ৩৮ লাখ মানুষের ছোট্ট দেশটিকে ভাসালেন আনন্দে।
কোচ অস্কার তাবারেজের আনন্দটা অন্য সবার চেয়ে একটু বেশিই। প্রায় ৬ বছর ধরে তরুণ একটি দলকে তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন। অপরিমেয় শ্রমে গড়া সেই দলটি তাঁকে একটা শিরোপা উপহার দিল, তাবারেজ তো খুশি হবেনই, ‘দারুণ ব্যাপার, বিশেষ করে আর্জেন্টিনায় এসে কোপা জিতে যাওয়া তো অসাধারণ।’
তবে আনন্দে আত্মহারা হয়ে আগামী বিশ্বকাপ মিশনের কথা ভুলে যাচ্ছেন না তাবারেজ। সবাইকে পা মাটিতে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কোপার চেয়ে বিশ্বকাপ বাছাইটাকেই এখন কঠিন মনে হচ্ছে তাঁর কাছে, ‘বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো এক ভেন্যুতে খেলা হয় না। সেখানে হোম টিমই সুবিধা পায়। বাছাইপর্বে কোনো নিশ্চয়তা নেই।’

বিপ্লব-রহস্য থাকলই

লেবাননের বিপক্ষে ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে অধিনায়ক বিপ্লব ভট্টাচার্য কেন বাদ? দলের এক নম্বর গোলরক্ষকের পরিবর্তে নবাগত মামুন খান কেন ভরসা হলেন কোচ নিকোলা ইলিয়েভস্কির?
কাল বিকেলে লেবানন থেকে বাংলাদেশ দল হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নামামাত্রই প্রশ্নগুলো ধেয়ে গেল জাতীয় দলের কোচের দিকে। ইলিয়েভস্কির ধীরস্থির জবাব, ‘ম্যাচটা খেলেছে বাংলাদেশ। কাজেই আমি বাংলাদেশ দল নিয়ে কথা বলব। বিপ্লব এখানে কোনো ফ্যাক্টর নয়। ম্যাচটায় আমি যে পরিকল্পনা নিয়ে খেলেছি, তাতে গোলরক্ষক হিসেবে মামুনই ছিল সেরা পছন্দ।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাইয়ে প্রথম রাউন্ডে দুটি ম্যাচেই খেলেছেন বিপ্লব। জানা গেছে, অ্যাওয়ে ম্যাচটায় বিপ্লবের পারফরম্যান্সে খুশি ছিলেন না কোচ। ঢাকায় সুপার কাপে বিপ্লব তাঁর চোখে নড়বড়েই ছিল। এ জন্যই অবসরে যাওয়া আমিনুলকে ফেরাতে উদ্গ্রীব হয়ে ওঠেন। কিন্তু আমিনুলকে পাওয়া যায়নি।
তারপর নাটক হলো লেবানন ম্যাচের আগে। ওই দিন সকালে টিম মিটিংয়ে কোচ বিপ্লবকে বাদ দিয়ে গোটা দুয়েক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা মামুনকে একাদশে রাখার কথা জানান। সবাই তো অবাক। ডিফেন্ডার আরিফ অধিনায়কত্ব নিতে রাজি হননি। বিকল্প হিসেবে তিন বছর পর দলে ফেরা অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার সুজন পরেন অধিনায়কত্বের বাহুবন্ধনী।
দল-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, নিজের সিদ্ধান্তে অনড় কোচ বেশি কথা বলতেই রাজি ছিলেন না। কালও এ নিয়ে প্রশ্নও শুনতে চাননি, ‘প্লিজ, এ ধরনের প্রশ্ন করবেন না। সমস্যা গোলরক্ষক নিয়ে ছিল না, ছিল দল নিয়ে। ডিফেন্স, মিডফিল্ড, স্ট্রাইকিং—কোনো বিভাগেই আমরা ভালো খেলিনি।’
কোচ উচ্ছ্বসিত লেবাননের খেলায়, ‘লেবাননের সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্য বিশাল। ওদের একজন খেলোয়াড় জার্মানি, একজন ইতালি এবং তিনজন কাতারে খেলে। ওরা খুব ভালো দল।’
২৮ জুলাইয়ের ঢাকায় ফিরতি ম্যাচেও মামুনকে খেলাবেন বলে ঘোষণাও দিলেন কোচ, ‘পরের ম্যাচেও আমি মামুনকে খেলাতে চাই। লেবাননে ৪ গোলের জন্য সে দায়ী নয়। সে দারুণ খেলেছে। ওই দিন আমাদের দলের সেরা খেলোয়াড় অবশ্যই মামুন।’
চুইংগাম চিবোতে চিবোতে ইলিয়েভস্কি বলে যান, ‘আমি এখানে যে কটা ম্যাচ দেখেছি, তাতে আমিনুলকে আমার দেশের সেরা গোলরক্ষক মনে হয়েছে। কিন্তু তাকে পাইনি। বিপ্লব ভালো। তবে এটা নিয়ে আপনারা ভাবতে পারেন, আমি গোটা দল নিয়ে ভাবি।’
বিপ্লব অবশ্য আশ্চর্য রকম শান্ত। ‘আমার বাদ পড়ার ঘটনায় কোনো রহস্য নেই। দলের ভালোর জন্য কোচ যা করেছেন, আমি মেনে নিয়েছি। আমার বিন্দুমাত্র রাগ বা ক্ষোভ নেই’—বলেছেন বিপ্লব।
ম্যানেজার ছাইদ হাসান কাননেরও একই সুর, ‘বিপ্লবকে বাদ দেওয়াটা একান্তই কোচের সিদ্ধান্ত। ম্যাচের আগে বিপ্লবকে নিয়ে কিছুই ঘটেনি।’ সকালে লেবানন-ফেরত কর্মকর্তা বাদল রায়ের কথা, ‘আমাদের খেলোয়াড়েরা এই পর্যায়ে খেলার জন্য তৈরি না। মানসিক-শারীরিক কোনো ফিটনেসই নেই। আমাদের এখন গভীরভাবে ভাবতে হবে জাতীয় দল নিয়ে।’
লেবানন-বিপর্যয় নিয়ে খেলোয়াড়েরা কী বলেন? নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বললেন, ‘কোচের ফর্মেশন ভালো লাগেনি। কোচ নিজেই ছিলেন আস্থাহীন।’ এমিলির কথা, ‘ওরা শারীরিকভাবে অনেক ভালো। সুন্দর ফুটবল খেলেছে। তাড়াতাড়ি গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে নিজেদের হাতে।’ জাহিদ বললেন, ‘কী হয়েছে আল্লাহই জানে। মন খুলে খেলতে পারিনি। চাপ নিয়ে খেলেছি।’
ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সুজন সামনে আনলেন চিরন্তন সমস্যাটা, ‘আমরা খাওয়া-দাওয়াই করতে পারিনি। দু-এক ঘণ্টাও ঘুমাতে পারিনি। সবাই টায়ার্ড ছিল। পুরো দলই ভেঙে পড়েছিল। খুবই বাজে খেলেছি আমরা।’

সময়ের সেরা প্রায়র

জিওফ বয়কট-নাসের হুসেইনরা বলছেন ‘সম্ভবত’। তবে ইয়ান বোথামের কোনো সন্দেহই নেই, বর্তমানে বিশ্বের সেরা উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ম্যাট প্রায়র। কুমার সাঙ্গাকারা টেস্টে কিপিং করছেন না অনেক দিন। মহেন্দ্র সিং ধোনির সর্বশেষ টেস্ট সেঞ্চুরি দেড় বছর আগে। বোথামের সঙ্গে দ্বিমত করার লোক এ মুহূর্তে সম্ভবত খুব বেশি পাওয়া যাবে না!
লর্ডসের সেঞ্চুরিটি সর্বশেষ ৫ টেস্টে তাঁর তৃতীয় আর ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ। ইংলিশ উইকেটরক্ষকদের মধ্যে তাঁর চেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরি আছে আর কেবল লেস অ্যামিসের। ৪৫.৪০ টেস্ট ব্যাটিং-গড় সন্তুষ্ট করবে অনেক নিখাদ ব্যাটসম্যানকেও। কমপক্ষে ১০ টেস্টে উইকেটকিপিং করাদের মধ্যে তাঁর চেয়ে ভালো ব্যাটিং-গড় আছে শুধু অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার (৫৩.৭০) ও অ্যাডাম গিলক্রিস্টের (৪৭.৬০)। এসব পরিসংখ্যানই বয়কট-বোথামদের দাবিকে জোরালো করে।
সাবেকদের এমন প্রত্যয়নে প্রায়র উচ্ছ্বসিত হলেও পা রাখছেন মাটিতেই, ‘ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে অনেক অবদান আছে এবং দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেট দেখে আসছেন এমন মানুষদের কাছ থেকে এত প্রশংসা পাওয়াটা দারুণ। কিন্তু আমাকে পরিশ্রম করে যেতে হবে। ক্রিকেটের দুনিয়া বদলায়। যতক্ষণ আমি রান করছি ও উইকেটের পেছনে ক্যাচগুলো ঠিকঠাক নিতে পারছি, ততক্ষণ পর্যন্ত সবই ঠিক। বলা তো যায় না কখন খারাপ সময় আসে!’
এ মুহূর্তে হয়তো ফর্মটা ভালো নয়। তবে বর্তমান সময়ের সেরা হওয়ায় তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অবশ্যই ধোনি। প্রায়র জানালেন, এই সিরিজের তাঁর বড় অনুপ্রেরণাও এটা, ‘বিশ্বসেরাদের বিপক্ষে খেলাটা অবশ্যই বাড়তি অনুপ্রেরণার। ধোনি সেরাদের একজন। সিরিজ শুরুর আগে প্রতিপক্ষ দলে এমন একজন প্রতিদ্বন্দ্বী দেখলে অবশ্যই মনে হয়, দেখা যাক ওর চেয়ে ভালো করা যায় কি না!’
এই নিয়ে তিনবার নাম তুললেন লর্ডসের অনার্স বোর্ডে প্রায়র। প্রথমবার টেস্ট অভিষেকেই সেঞ্চুরি করে, এরপর গত মাসেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানদের মধ্যে লর্ডসে একাধিক টেস্ট সেঞ্চুরি আছে আর কেবল লেস অ্যামিসের।

ভারতীয় ক্রিকেটারদের অবনমন

‘ঐতিহাসিক’ লর্ডস টেস্টে ১৯৬ রানে হার। এ হারের ফলেই নিচে নেমে গেছেন আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ভারতীয় দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটার।
দুই থেকে চারে শচীন। নিচে নেমে ভিভিএস লক্ষ্মণের অবস্থান সপ্তমে। ইনজুরির কারণে লর্ডস টেস্টে খেলতে না পারা বীরেন্দর শেবাগ নেমেছেন ১০ নম্বরে। অবনমন ঘটেছে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়েও। চার ধাপ নিচে নেমে হরভজন সিং আছেন ১১ নম্বরে। এই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ইনজুরিতে পড়া জহির খানের অবস্থান পঞ্চম স্থানে।
স্বাভাবিকভাবেই উন্নতি হয়েছে লর্ডস টেস্টজয়ী ইংলিশ ক্রিকেটারদের। বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থানটি দখল করেছেন ফাস্ট বোলার জেমস অ্যান্ডারসন। তাঁর পরই আছেন স্পিনার গ্রায়েম সোয়ান। ব্যাটসম্যানদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানটি গেছে ইংল্যান্ডের জোনাথন ট্রটের দখলে। প্রথম ইনিংসে ২০২ রানে অপরাজিত থাকা কেভিন পিটারসেন ১৪ ধাপ উপরে উঠেছেন। রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে যৌথভাবে পিটারসেনের অবস্থান ১৫ নম্বরে।
ব্যাটসম্যানদের তালিকায় শীর্ষস্থানটা যথারীতি আগলে রেখেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস। বোলারদের তালিকার শীর্ষস্থানটা ফিরে পেয়েছেন তাঁরই সতীর্থ ডেল স্টেইন।