Monday, February 1, 2016

সদ্যজাত সন্তানকে পাঁচতলা থেকে কেন ফেলে দিলো কিশোরী মা

জন্ম নেয়ার পর নিজ সন্তানকে পাঁচতলা ভবন থেকে নিচে ফেলে দিয়েছে বিউটি আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরী গৃহপরিচারিকা। লোক লজ্জার ভয়ে এই কিশোরী মা তার সন্তান ফেলে দিয়েছে বলে সে নিজেই স্বীকার করেছে। নবজাতকটি দ্বিতীয় তলার কার্নিশে আটকে পড়ে প্রাণে বেঁচে যায়। রাজধানীর বেইলি রোডে আজ সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুরে স্থানীয়দের খবরের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ছেলে শিশু সন্তানটিকে উদ্ধার করে মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিউটি আক্তার জানান, তার পিতার নাম আবু বকর প্রামাণিক। তাদের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার নওকর গ্রামে। ঢাকায় বেইলি রোডের ২৬ নম্বর প্রোপার্টিজ ম্যানশনের পাঁচতলায় আজমল হক ও ফিরোজা হকের বাসায় নয় বছর ধরে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন তিনি। শিশু বয়সে ওই বাসায় আসে বিউটি। ৯-১০ মাস আগে কুমিল্লায় বড় বোন লিপি আক্তারের বাসায় বেড়াতে যান তিনি। সেখানে তার বোনের স্বামী নীরব ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। কিন্তু এ কথা তিনি কাউকে জানতে দেননি। লোক লজ্জার ভয়ে গৃহকর্ত্রীকেও একথা জানাননি তিনি। এই সময় শারীরিক অনেক কষ্ট হয় তার। সারাক্ষণ তার দুশ্চিন্তায় কাটতো। কি করবেন মাঝেমধ্যে ভেবে পেতেন না। আত্মহননের কথাও মনে আসতো। কি করা উচিত কিছুই বুঝতে পারতেন না। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বেইলি রোডের ওই বাসাতেই তিনি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। প্রসবের সময় কেউ তার কাছে ছিলো না। প্রসবের পর জানাজানির ভয়ে তিনি সন্তানটিকে পাঁচতলার উপর থেকে নিচে ফেলে দেন। তিনি ভেবেছিলেন এভাবেই হয়তো লজ্জার হাত থেকে বাঁচা যাবে।
এদিকে, ছেলে সন্তানটি দ্বিতীয় তলার কার্নিশে আটকে যায়। সেখানে বসে শিশুটি ক্ষীণ কণ্ঠে কান্নাকাটি করছিলো। কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর দেয় পুলিশকে। বিষয়টি নিয়ে এ্যাপার্টমেন্টের লোকজন আলোচনায় বসে। পরে শনাক্ত হয় ওই বাসা থেকে এই ঘটনা ঘটেছে। সেখান থেকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বিউটিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের খবরের পরিপ্রেক্ষিতে সন্তানটিকে উদ্ধার আদ-দ্বীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিউটিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে পুলিশ পাহারায় বিউটি ভর্তি আছে।
গৃহকর্তা আজমল হকের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, তারা এ কয়েক মাসে বুঝতেই পারেননি যে বিউটি গর্ভবতী। এমন কোনো ধারণাও তাদের ছিল না। বিউটি স্বাভাবিকভাবেই ঘরের সব কাজকর্ম করে আসছিলো বলে গৃহকর্তা উল্লেখ করেন।

একুশ শতকের বাংলা সাংবাদিকতা

ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশ বা বঙ্গপ্রদেশ অবিভক্ত ছিল। কলকাতা ছিল রাজধানী এবং ছিল বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং সাংবাদিকতারও প্রধান পাদপীঠ। দেশ অবিভক্ত থাকলেও তার সাহিত্য, সংস্কৃতি বা সাংবাদিকতা অবিভক্ত ছিল না। রাজনীতিতে ধর্মীয় বিভাজনের প্রভাব সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং সাংবাদিকতাতেও দেখা দেয়। বিশেষ করে ব্রিটিশ আমলে শিক্ষিত এবং মধ্যবিত্ত বাঙালি মুসলমানদের বিকাশ লাভের সঙ্গে সঙ্গে এই ধর্মভিত্তিক বিভাজনটা বাড়ে। আমার আলোচনার প্রসঙ্গ আজ সাংবাদিকতা। তাই সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রসঙ্গে যাব না। অবিভক্ত বঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায় সংখ্যালঘু হলেও শিক্ষাদীক্ষা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে ছিলেন অগ্রসর ও উন্নত শ্রেণী। উদ্যোগটা সে যুগের খ্রিস্টান পাদ্রিদের হাতে হলেও সাংবাদিকতায় বিকাশ হিন্দু মধ্যবিত্ত শ্রেণীর হাতেই। ঈশ্বর গুপ্তের মতো সাংবাদিক (ও কবি) তাদের মধ্যে থেকেই প্রথম আবির্ভূত হয়েছেন। ‘সংবাদ প্রভাকর’ ও পরবর্তীকালের হিতবাদী কাগজের প্রতিষ্ঠাও হিন্দু মধ্যবিত্তের হাতে। বাঙালি মুসলমানরাও এসব কাগজ পড়তেন। যদিও এসব কাগজে তাদের খবর থাকত ছিটেফোঁটা।
গত শতকের গোড়া থেকে বাঙালি মুসলমান মধ্যবিত্তের বিকাশ এবং তারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোগী হন। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় উত্তর ভারতের অবাঙালি মুসলিম পুঁজিপতিদের প্রভাবে তারা ধর্মকে তাদের এই স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে বেছে নেন। ফলে বাংলা ভাষার পরিবর্তে তারা আরবি, ফার্সি, উর্দু ভাষার দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং সন্তানের নামকরণ থেকে সংবাদপত্রের নামকরণ পর্যন্ত সব কাজে বাংলা ভাষার মাথায় আরবি, ফার্সি, উর্দু শব্দ চাপিয়ে দেন।
বিকাশের প্রথম যুগে বাঙালি মধ্যবিত্ত মুসলমান ‘মিহির সুধাকরের’ মতো নাম তাদের সংবাদপত্র বা সাময়িকীর জন্য রাখলেও পরবর্তীকালে তাদের দ্বারা প্রকাশিত অধিকাংশ পত্রপত্রিকার নামকরণ হয় আরবি, ফার্সি বা উর্দুতে। যেমন বিভাগপূর্ব বঙ্গে মুসলমানদের দ্বারা প্রকাশিত পত্রপত্রিকার নাম ছিল- তকবির, সোলতান, মোহাম্মদী, আজাদ, ইত্তেহাদ, সওগাত, ইনসান, মদীনা ইত্যাদি। সেকালের কলকাতার বিখ্যাত সাহিত্য-মাসিক ‘ভারতবর্ষের’ অনুকরণে কলকাতা থেকেই বাঙালি মুসলমানের সাহিত্য-মাসিক বেরিয়েছিল, নাম ‘মোসলেম ভারত’। কবি নজরুল ইসলামের কাব্যচর্চা এই পত্রিকা থেকে শুরু। ‘ভারতবর্ষ’ এবং ‘মোসলেম ভারত’ দুটিই বাংলা ভাষার মাসিক। কিন্তু একটির নামকরণে ধর্মীয় জাতীয়তার স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাটি প্রকট।
মওলানা আকরম খাঁর কাছে গল্প শুনেছি, তিনি যখন সাপ্তাহিক মোহাম্মদী বের করেন, তখন কোনো কোনো মুসলমান পাঠক তাকে এই বলে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন যে, ‘আপনি মোহাম্মদী নামে একটি হিতবাদী (তখনকার জনপ্রিয় সংবাদপত্র) পত্রিকা বাহির করিয়াছেন জানিয়া যারপরনাই আনন্দিত হইয়াছি।’ মওলানা আকরম খাঁও যখন অসাম্প্রদায়িক কংগ্রেসী রাজনীতি করতেন, তখন একটি দৈনিক পত্রিকা বের করে বাংলায় নাম রেখেছিলেন, ‘দৈনিক সেবক’। কিন্তু ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগের দিকে ঝুঁকে পড়ার পর তিনি দৈনিক কাগজ বের করেন ‘আজাদ’ নামে।
ব্রিটিশ আমলে অবিভক্ত বঙ্গে মুসলমান বাঙালি দ্বারা বাংলা নামে বাংলা সংবাদপত্র বের করার চেষ্টা হয়নি তা নয়। বড় ধরনের চেষ্টার মধ্যে কবি নজরুল ইসলাম যেসব সংবাদপত্র বের করেছিলেন, তার সব কটির নাম রেখেছিলেন বাংলায়। যেমন- ধূমকেতু, লাঙল, গণবাণী। একে ফজলুল হক তার দুই দফা প্রধানমন্ত্রিত্বের আমলে বাংলায় নবযুগ নাম দিয়ে দৈনিক সংবাদপত্রটি বের করেন। কৃষক প্রজা পার্টির নেতা কুষ্টিয়ার শামসুদ্দীন সাহেব তার দৈনিকের নাম রেখেছিলেন ‘কৃষক’। কুমিল্লার কংগ্রেস নেতা (পরে নেজামে ইসলাম দলে যোগ দেন) আশরাফ আলী চৌধুরী কলকাতা থেকে সাপ্তাহিক কাগজ বের করেছিলেন, নাম ‘নয়াবাংলা’। এসব কাগজ বেশি দিন টেকেনি।
বাঙালি মুসলমানের চৈতন্যোদয় ঘটার শুরু ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের অব্যবহিত পরেই। তারা বুঝতে পারেন ধর্মের বা ধর্মীয় ভাষার ভিত্তিতে তাদের রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য ও অধিকার চিহ্নিত করা যাবে না, রক্ষা করা দূরে থাক। এই স্বাতন্ত্র্য ও অধিকার রক্ষা এবং অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্যই তারা যুদ্ধে বাংলা ভাষার বর্মধারণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। দেশভাগের এক বছর পুরো হওয়ার আগেই তৎকালীন পূর্ববঙ্গ বা পূর্ব পাকিস্তানে বাংলা ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত।
তথাপি ঢাকাকেন্দ্রিক যে বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতার বিকাশ শুরু হয় গোড়াতে তার ওপর ধর্মীয় জাতীয়তার প্রভাব তখনও ছিল। সাতচল্লিশের দেশভাগের পর ঢাকা থেকে যে প্রথম বাংলা দৈনিক বের হয়, তার নাম ছিল ‘জিন্দেগী’। কিছু পরে কলকাতা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে দৈনিক আজাদ ঢাকায় আসে। পত্রিকাটি ছিল ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের সমর্থক। পাকিস্তানের প্রথম খসড়া সংবিধান ১৯৫০ সালে তৎকালীন গণপরিষদে উত্থাপিত হয়। তাতে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের স্বার্থ ও অধিকার উপেক্ষিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলন গড়ে ওঠে। এই আন্দোলনেরই মুখপত্র হিসেবে বের হয় বংশাল স্ট্রিটের বলিয়াদি প্রেস থেকে দৈনিক ইনসাফ। তরুণ ও প্রগতিশীল সাংবাদিকরা সবাই এই পত্রিকায় এসে জুটেছিলেন।
বাঙালির স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রথম মুখপত্র, কিন্তু তার নামটি ছিল উর্দুতে, ‘ইনসাফ’। বাঙালি মুসলমানের মধ্যে এই কনট্রাডিকশনটি দূর হতে শুরু করে পঞ্চাশের দশকের গোড়া থেকেই। বাংলা ভাষা আন্দোলনের অন্যতম নেতা তমদ্দুন মজলিসের অধ্যাপক আবুল কাশেম তাদের সাপ্তাহিক পত্রিকার নাম রাখেন বাংলায়- সাপ্তাহিক সৈনিক। মাসিক কাগজের নাম রাখেন দ্যুতি।
ভাষা আন্দোলন শুরুতে শক্তিশালী না থাকলেও তার প্রভাব সমাজের সর্বস্তরে প্রসারিত হয়েছে দেখা যায়। ১৯৫১ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের সমর্থক দৈনিক পত্রিকা বের হয়, নাম দৈনিক সংবাদ। একই সময় মুসলিম লীগের বিরোধী এবং ভাষা আন্দোলনের সমর্থক একটি ছোট দৈনিক পত্রিকা বের হয়েছিল, নাম আমার দেশ। দীর্ঘ আয়ু পায়নি পত্রিকাটি।
১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগের মুখপত্র হিসেবে কারকুনবাড়ী লেন থেকে সাপ্তাহিক ইত্তেফাকের আত্মপ্রকাশ। অবিভক্ত বঙ্গে মুসলিম লীগের সোহরাওয়ার্দী গ্রুপের দৈনিক পত্রিকা ছিল ইত্তেহাদ। মুসলিম লীগ ত্যাগ করে দেশভাগের পর এই গ্রুপটিই আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করে। তাদের ইচ্ছা ছিল ‘ইত্তেহাদ’ নাম দিয়েই তারা দলীয় মুখপত্র প্রকাশ করবে। কিন্তু মুসলিম লীগ সরকার এই নামে পত্রিকা প্রকাশের অনুমতি না দেয়ায় তারা নামটি ঈষৎ বদলে ‘ইত্তেফাক’ রাখে। ১৯৫৩ সালে পত্রিকাটি দৈনিকে রূপান্তরিত হয়।
এরপর তাহজীব, নাজাত ইত্যাদি উর্দু নামে ঢাকা থেকে পত্রপত্রিকা বের হয়েছিল। বেশিদিন আয়ু পায়নি। ভাষা আন্দোলন বিদ্যুৎ গতিতে সমাজের সর্বস্তরে কী প্রচণ্ড প্রভাব বিস্তার করেছিল তার প্রমাণ পাওয়া উর্দু, ফার্সি, আরবি নাম ত্যাগ করে বাঙালি মুসলমানের মধ্যে সন্তান থেকে সংবাদপত্রের বাংলা নামকরণের হিড়িক দেখে। এমনকি জামায়াত এবং মুসলিম লীগও পাকিস্তান আমলের শেষদিকে তাদের প্রচার মাধ্যমের আরবি, উর্দু নাম ত্যাগ করে বাংলা নাম রাখতে শুরু করে। জামায়াতের মুখপত্রের নাম ছিল জাহানে নও। সেটি বন্ধ করে দিয়ে তারা দৈনিক পত্রিকা বের করে, তার নাম রাখে সংগ্রাম। পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগের মুখপত্র বের হয়, নাম বিপ্লব।
বাংলা ভাষার আন্দোলন, বাঙালি জাতীয়তার জোয়ার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে এত প্রখর হয়ে উঠেছিল যে তা শুধু রাজনীতির অঙ্গনে নয়, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতার অঙ্গনকেও প্লাবিত করেছিল। এরপর আরবি, ফার্সি বা উর্দুতে বাংলা পত্রপত্রিকার নাম রাখার রেওয়াজ প্রায় উঠেই যায়। যে হামিদুল হক চৌধুরী যুক্ত বাংলা ও স্বাধীন বাংলা কোনো আন্দোলনেরই সমর্থক ছিলেন না, তিনিও পাকিস্তান আমলের শেষদিকে তার অবজারভার মিডিয়া গোষ্ঠীর বাংলা দৈনিকটির নাম রাখেন ‘পূর্বদেশ’। আমার ধারণা, তার অবচেতন মনে বাঙালিদের জন্য পূর্ব দিগন্তে একটি স্বাধীন স্বদেশের আবির্ভাব যে ঘটছে, তার আভাস জেগেছিল।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে অবিভক্ত বঙ্গে বাঙালির রাজনীতি, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতায় যে ধর্মভিত্তিক বিভাজন ঘটেছিল, স্বাধীনতার পর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তার অনেকটাই বিলুপ্তি ঘটে। গঙ্গার এপার ওপার দুই বাংলার বাঙালির সংস্কৃতির মধ্যেই একটি মেলবন্ধনের সূত্রপাত ঘটে। তাদের পলিটিক্যাল ডিভিশনটি থেকে যায়; কিন্তু একটি অভিন্ন কালচারাল নেশনহুড গড়ে উঠতে পারে তার সম্ভাবনা দেখা দেয়।
স্বাধীনতার পর একুশ শতকের একেবারে ঊষালগ্নে ঢাকা থেকে যে দুটি উন্নতমানের দৈনিক সংবাদপত্র বের হয়, যুগান্তর ও প্রথম আলো- এ দুটি নামই অবিভক্ত বাংলা সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতার সূচক হয়ে দাঁড়ায় বলে আমার ধারণা। প্রথম আলো সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি জনপ্রিয় উপন্যাসের নাম। ‘যুগান্তর’ ছিল দীর্ঘকাল ধরে কলকাতা থেকে প্রকাশিত এবং বহুল প্রচারিত একটি দৈনিক। এই পত্রিকার মালিকরাও ছিলেন পূর্ববঙ্গের যশোরের মানুষ। পূর্ববাংলার মানুষের সুখ-দুঃখের কথাই কলকাতার যুগান্তরে বেশি প্রতিফলিত হতো। বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধেও যুগান্তর জুগিয়েছে অতুলনীয় সাহায্য ও সমর্থন।
কলকাতার যুগান্তর বন্ধ হয়ে গেছে দীর্ঘকাল আগে। ষোলো বছর আগে ঢাকা থেকে যখন দৈনিক পত্রিকা হিসেবে যুগান্তর প্রকাশের ঘোষণা প্রচারিত হয়, তখন একটু চমকে উঠেছিলাম। আনন্দিতও হয়েছিলাম। কলকাতার ‘যুগান্তর’ আমার প্রিয় পত্রিকা ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই পত্রিকায় অনেক লেখালেখি করেছি। ঢাকার যুগান্তরও আমার প্রিয় পত্রিকা হবে এমন একটা আন্দাজ করেছিলাম। পত্রিকাটি প্রকাশিত হতেই দেখলাম, আমার অনুমান মিথ্যা হয়নি। যুগান্তর নামটি গত শতকের হলেও ঢাকার যুগান্তর চেহারায়, সাংবাদিকতায়, নবপ্রযুক্তির ঝলমলে স্পর্শে সম্পূর্ণভাবে একুশ শতকের পত্রিকা। তার সাংবাদিকতার অপক্ষপাত আছে। পত্রিকাটির প্রকাশক সালমা ইসলাম নিজে একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত; সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং পার্লামেন্ট সদস্যও। কিন্তু তার দলীয় রাজনীতির ছোঁয়া থেকে পত্রিকাটিকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। যুগান্তরে সম্পাদক বদলেছেন কয়েক দফা। কিন্তু কাগজটির নীতি বদলায়নি।
কুড়ি ও একুশ- এই দুই শতকের ক্রান্তিলগ্নে যুগান্তরের জন্ম। বলা চলে, যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকেই পত্রিকাটির আত্মপ্রকাশ। কিন্তু যুগযন্ত্রণার সঙ্গে নবযুগের আশা-আকাঙ্ক্ষারও প্রকাশ রয়েছে পত্রিকাটিতে, যা তরুণ প্রজন্মের পাঠকদের আকৃষ্ট করে রেখেছে যুগান্তরের দিকে। এখানেই যুগান্তরের সাংবাদিকতার সাফল্য।
‘যুগান্তর’ ষোলো বছর পার করে সতেরো বছরে পা দিল। বলা চলে, বালকত্বের কাল পেরিয়ে সাবালকত্বে পা দিল পত্রিকাটি। কিন্তু সেই বালকত্বের কালেও ‘যুগান্তর’ সাংবাদিকতার সাবালকত্বের প্রমাণ দেখিয়েছে বহুবার। তার যাত্রাপথ কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। বিএনপি-জামায়াতের আমলে পত্রিকাটির মালিককে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার চেষ্টা হয়েছে। ব্যবসায়ী মানুষ। তবু মাথা উন্নত রেখেছেন। শুধু যুগান্তর পত্রিকা নয়, তার যমুনা টিভিও এখন দেশের একটি জনপ্রিয় ও সফল মিডিয়া।
সারা বিশ্ব এখন একটি গ্লোবালভিলেজ। এই ভিলেজের প্রতিটি অংশে এখন অসংখ্য পত্রিকা। তাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও প্রচণ্ড। বাংলাদেশেও এখন এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার দ্রুত প্রসার ঘটছে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতার মুখে একটি পাঠকপ্রিয় ও ব্যবসাসফল কাগজ হিসেবে টিকে থাকা কম কথা নয়। যুগান্তর সেই বিস্ময়কর সাফল্য দেখিয়েছে। এই পত্রিকায় আমি নিয়মিত কলাম লিখি। ফলে এই পত্রিকার সঙ্গে আমার একটা হার্দিক সম্পর্কও গড়ে উঠেছে দীর্ঘকাল ধরে।
স্বাভাবিকভাবেই যুগান্তরের সাফল্য আমি কামনা করি। বাংলাদেশে একুশ শতকের উন্নত ও আধুনিক সাংবাদিকতায় যুগান্তরের একটি বৈশিষ্ট্য আছে। ক্রান্তিলগ্নের যে সমস্যাগুলোতে বাংলাদেশ আজ জর্জরিত, তার বিরুদ্ধে সংগ্রামে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিরও যুগান্তর বলিষ্ঠ সহযোগী। তার এই সহযোগিতা বর্তমানের মতো ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকুক, এই কামনার সঙ্গে বিনা দ্বিধায় যুগান্তরের সব পাঠকের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলি, যুগান্তর যুগ যুগ জিও।

এবার যুদ্ধাপরাধী পাক সেনাদের বিচার

জড়িতদের পরিচয় ও তালিকা চেয়ে আইজি প্রিজন ও ডিসিদের চিঠি দিয়েছে আইসিটি * চাওয়া হয়েছে রাজাকারদের তালিকাও
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) এবার মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধে জড়িত চিহ্নিত পাকিস্তানি সেনাদের বিচার করবে। এজন্য প্রাথমিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জড়িতদের নাম, পরিচয়সহ বিস্তারিত তথ্য চেয়ে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) এবং জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত পাক সেনাদের নামের তালিকা তৈরি করা হবে। সেখানে আগে চিহ্নিত ১৯৫ জন ছাড়াও আরও নাম অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে তৈরি করা হবে পাক হানাদারদের সহযোগী রাজাকারদের হালনাগাদ তালিকাও। কিছুটা বিলম্বে হলেও এদের বিরুদ্ধে কার্যকর অনুসন্ধানে নেমেছে আইসিটি। আর তাই ট্রাইব্যুনালের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইসিটির তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক মুহা. আবদুল হান্নান খান পিপিএম যুগান্তরকে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান দখলদার সেনাবাহিনী এবং তাদের সহযোগীদের দ্বারা যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা, ধর্ষণ, ধর্মান্তরিতকরণ, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন ও অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। আত্মসমর্পণ করা ১৯৫ জন পাক সেনাসদস্যসহ এসব অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনতেই মূলত এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাদের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে কারা অধিদফতরকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া পাক সেনা ও তাদের সহযোগী রাজাকারদের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে ডিসিদেরও চিঠি দেয়া হয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করতে ইতিমধ্যে আইসিটির তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত ৫ সদস্যের কমিটিও কাজ শুরু করেছে।
এ প্রসঙ্গে ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির যুগান্তরকে বলেন, ২৪ বছর ধরে আমরা এই দাবি করে আসছি। দেরিতে হলেও রাষ্ট্রীয় একটি সংস্থা যুদ্ধাপরাধী ১৯৫ পাক হানাদার ও রাজাকারদের তালিকা তৈরির জন্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। এটিকে আমরা স্বাগত জানাই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা অধিদফতরসহ সরকারি দফতরগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকার কথা। নিজের সম্পাদনায় ‘একাত্তরের দুঃসহ স্মৃতি’ নামক মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিতদের জবানবন্দির সংকলন বাজারে রয়েছে উল্লেখ করে সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, ১৯৫ পাক সেনার বাইরেও কিন্তু অনেকের নাম রয়েছে। তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। প্রয়োজনে গণহত্যার ভিকটিমদের ক্ষতিপূরণ চাইতে হবে পাকিস্তানিদের কাছে।
সূত্র জানায়, আইসিটি থেকে ২৫ জানুয়ারি কারা মহাপরিদর্শককে লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশের সব এলাকায় যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, ধর্মান্তরিতকরণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগসহ অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধ শেষে দখলদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করে। এ সময় পাক সেনাবাহিনীর কমান্ডার বা অফিসার ও সদস্যদের অনেককেই গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। সে মোতাবেক তাদের ওই সময় যেসব কারাগারে আটক রাখা হয়েছিল সেখানে তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। এমন বিবেচনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এসব পাক সেনার নাম-পরিচয় ও জেলখানার নাম, মামলা নম্বর ও অন্য তথ্যাদি চেয়েছে আইসিটি। জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় জরুরিভিত্তিতে উল্লেখিত তথ্য সরবরাহ করার জন্য কারা মহাপরিদর্শককে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
একই দিনে এ সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে জেলা প্রশাসকদের কাছেও চিঠি দিয়েছে আইসিটি। চিঠিতে ১৯৭১ সালে স্ব স্ব জেলার আওতাভুক্ত এলাকায় তৎকালীন সময়ে অবস্থিত পাকিস্তান দখলদার সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের নাম, স্থায়িত্বকাল, কমান্ডারের নাম, পদবি, সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মরত আনুমানিক সদস্য সংখ্যাসহ প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক বিভিন্ন তথ্য দিতে বলা হয়। কমান্ডার ছাড়াও অন্যান্য সিনিয়র অফিসার, জেলাওয়ারি আনসার ও রাজাকার ক্যাম্পের নাম, আনসার ও রাজাকার ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত এডজুটেন্ড/কমান্ডারদের নাম, ঠিকানা ও বর্তমান অবস্থান, জীবিত না মৃত, সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পের রাজাকারদের নামের তালিকা, পাক হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের নির্যাতন কেন্দ্রের নাম, স্থায়িত্বকাল, নির্যাতিত লোকের সংখ্যাও চাওয়া হয় এই চিঠিতে। এছাড়া জেলা কারাগারে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আটক পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যদের নাম, ঠিকানা, কর্মস্থল ও অবস্থানের সময়ও উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
এর আগে ১৮ জানুয়ারি ১৯৫ পাকিস্তানি সেনাসদস্যের যুদ্ধাপরাধ তদন্তে আইসিটির তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। মতিউর রহমান যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ‘ইতিমধ্যে কমিটি বৈঠক করেছে। বৈঠকে নৌ ও বিমান বাহিনীর আরও পাঁচজনসহ মোট ২০০ যুদ্ধাপরাধীর বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসব পাকিস্তানি কর্মকর্তা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কে কোথায় অবস্থান করছিলেন, কী কী দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কিভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন, সেসব বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, স্বাধীনতার পর ত্রিদেশীয় সিমলা চুক্তির আওতায় বিচার করা হবে বলে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ১৯৫ সেনা কর্মকর্তাকে পাকিস্তান ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

জাপার সরকার ছাড়ার বিষয়ে ঐকমত্য

রওশনপন্থীদের ছাড়াই জাপার প্রেসিডিয়ামের বৈঠক।
দলের কো-চেয়ারম্যান ও মহাসচিব নিয়োগের বৈধতা; ২৬ এপ্রিল দলের জাতীয় কাউন্সিল।

জাতীয় পার্টিতে কোনো দ্বন্দ্ব নেই- দলের চেয়ারম্যান এরশাদের মুখে এ কথাটি বার বার উচ্চারিত হলেও বাস্তবতা তার উল্টো। এরশাদ সরকার ছাড়ার কথা বললেও তার স্ত্রী ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন বলছেন ভিন্ন কথা। জাপা সরকারে থাকবে বলে এরশাদকে তিনি সাফ জানিয়েও দিয়েছেন। সরকারে থাকা না থাকা এবং পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও নতুন মহাসচিব নিয়োগের বৈধতা দিতে গতকাল দলের প্রেসিডিয়ামের বৈঠক ডাকা হলেও তাতে যোগ দেননি রওশনপন্থীরা। ফলে দুই ধারায় বিভক্ত দলের বিভাজন আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ সরকার থেকে বেরিয়ে এসে সত্যিকারের বিরোধী দল হিসেবে জাপাকে প্রতিষ্ঠা করতে চান। অন্যদিকে সংসদে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ সরকারে থেকেই বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চান। এ নিয়ে এখন দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে দলটি। এটি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে গতকালের প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে। দলের একাংশের (রওশনপন্থীদের) মতামত উপো করেই বৈঠকে দলের কো-চেয়ারম্যান হিসেবে জি এম কাদের ও মহাসচিব হিসেবে এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের নিয়োগকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যদিও বৈঠক শেষে দলের কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টিতে এরশাদ আমাদের পিতার মতো। রওশন আমাদের মাতার মতো। উনি (রওশন এরশাদ) অফিসিয়াল কাজে ব্যস্ত থাকায় আজকের বৈঠকে আসতে পারেননি।
গতকাল এরশাদের বনানীর রাজনৈতিক কার্যালয় রজনীগন্ধায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদের অনুপস্থিতিতেই পার্টির প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে দলের কো-চেয়ারম্যান ও মহাসচিব পদে নতুন নিয়োগ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। একই সাথে বৈঠকে আগামী ১৬ এপ্রিল জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একটি কমিটি এবং জেলা পর্যায় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সভাপতিত্ব করেন।
এ দিকে জাতীয় পার্টির এরশাদপন্থী অংশের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা বৈঠক করে মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে একমত হয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেছেন, বৈঠকে উপস্থিত সবাই রাজনীতির স্বার্থে সরকার থেকে বেরিয়ে আসাটা অত্যন্ত জরুরি বলে মত দিয়েছেন। চেয়ারম্যানের (এরশাদ) নির্দেশনা অনুযায়ী পরে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। পার্টির ৪০ জনের বেশি প্রেসিডিয়াম সদস্যের মধ্যে পার্টি চেয়ারম্যান এরশাদসহ তার সমর্থক ২১ জন প্রেসিডিয়াম সদস্য এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ অন্যরা বৈঠকে যোগ দেননি।
এরশাদ ছাড়াও বৈঠকে পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, এম এ সাত্তার, আবুল কাশেম, গোলাম হাবিব দুলাল, আলহাজ সাহিদুর রহমান ট্যাপা, অ্যাডভোকেট শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপিকা মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী, সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা, হাবিবুর রহমান, সুনীল শুভ রায়, এস এম ফয়সল চিশতী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, আজম খান, এ টি ইউ তাজ রহমান ও সোলায়মান আলম শেঠ উপস্থিত ছিলেন।
অপর দিকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না রওশন ছাড়াও পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সম্প্রতি মহাসচিবের পদ থেকে ছিটকে পড়া জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, কাজী ফিরোজ রশিদ, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী ও ফখরুল ইমামসহ কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য।
গতকাল দুপুর পৌনে ১২টায় শুরু হয়ে বৈঠক চলে আড়াইটা পর্যন্ত। প্রায় ৩ ঘণ্টা চলা এই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে আসেননি পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ। তার পরিবর্তে সাংবাদিকদের সামনে আসেন তার ভাই ও দলের কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিতে এরশাদ আমাদের পিতার মতো। রওশন আমাদের মাতার মতো। উনি (রওশন এরশাদ) অফিসিয়াল কাজে ব্যস্ত থাকায় আজকের বৈঠকে আসতে পারেননি। দলের মন্ত্রীদের মন্ত্রিত্ব ছাড়ার বিষয়ে জি এম কাদের বলেন, প্রেসিডিয়ামের সদস্যদের সবাই প্রকৃত বিরোধীদলের ভূমিকা নিতে মন্ত্রিত্ব ছাড়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন পার্টির চেয়ারম্যান।
পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আজকের সভায় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিয়োগকৃত জাপার কো-চেয়ারম্যান পদে জি এম কাদের ও মহাসচিব পদে আমার নিয়োগকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য আমরা পার্লামেন্টে ও পার্লামেন্টের বাইরে ভূমিকা রাখতে চাই। এ জন্য জাতীয় পার্টিকে তৃণমূল থেকে সংগঠিত করার উদ্যোগ নেয়া হবে। ১৬ এপ্রিল দলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে এক মাসের মধ্যে ৪০ জেলার কাউন্সিল সম্পন্ন করা হবে।
উল্লেখ্য, রওশনপন্থীদের বিরোধিতার মধ্যেই সম্প্রতি এরশাদ নিজের ভাই জি এম কাদেরকে পার্টির কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেন, মহাসচিব পদে ফিরিয়ে আনেন দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন রুহুল আমিন হাওলাদারকে। যদিও এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে দলে নতুন করে বিদ্রোহের মুখে পড়েন এরশাদ। এর আগে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় পার্টির সদস্যদের মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টি আলোচনায় এলেও জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের আপত্তির কারণে তা ধোপে টেকেনি। এ নিয়ে দলে বিদ্রোহের মধ্যেও এরশাদ বলেন, তিনি তার সিদ্ধান্তে মৃত্যু পর্যন্ত অটল থাকবেন। আর গত ২৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক মন্ত্রী জি এম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টির অবস্থান জনগণের কাছে অস্পষ্ট। কারণ জাতীয় পার্টি একদিকে বিরোধী দল, আবার অন্য দিকে সরকারের মন্ত্রিসভায় আছে। তাই দলের অবস্থান জনগণের কাছে স্পষ্ট করতেই আমাদের সরকার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তবে সেটি প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেই। অন্য দিকে দশম সংসদের দুই বছর পূর্তির আগের দিন প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে রওশন সাফ জানিয়ে দেন, তারা সরকারেই থাকছেন।
বিয়ের দাওয়াতেও আলাদা এরশাদ-রওশন : এ দিকে দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম ও দলের সংসদ সদস্য মেহজাবীন মোরশেদ দম্পতির ছেলের বিয়েতে যোগ দিতে আলাদাভাবে চট্টগ্রাম যান পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ ও তার স্ত্রী বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ। শুক্রবার সকাল ও বিকেলে পৃথক বিমানে তারা চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন। আলাদা ফাইটে এলেও দু’জনকেই বিমানবন্দরে স্বাগত জানান চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি আসনের সংসদ সদস্য ও দলের মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে দেয়া জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।
এরশাদ ও রওশনকে বিমানবন্দর থেকে নগরীর পাঁচতারকা র‌্যাডিসন ব্লুু হোটেলে নিয়ে আসেন দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম এবং নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াকুব। রাতে এই হোটেলেই মুরাদ ও মেহজাবীন দম্পতির ছেলে সামির সিকান্দরের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। এতে পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ তাজুল ইসলাম ও জিয়াউদ্দিন বাবলুও যোগ দেন। একই হোটেলে এরশাদ-রওশন পাশাপাশি কে অবস্থান করলেও তাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি বলে জানান স্থানীয় নেতারা।
সরকারি ‘সুবিধায়’ জাতীয় পার্টি সুসংগঠিত হবে : চুন্নু
অপর দিকে মন্ত্রিসভায় থাকার পে যুক্তি দেখিয়ে জাতীয় পার্টির অপর প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, সরকারি সুবিধায় দলকে সুসংগঠিত করার সুযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, আমরা সরকারি যে সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি, তাতে দলকে সুসংগঠিত করা সম্ভব হচ্ছে। মন্ত্রিসভা ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি নাÑ জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় পার্টি এখনও মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে দলের প্রেসিডিয়াম ও সংসদীয় বোর্ড যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, আমরা তা মেনে নেবো। তবে আপাতত এ ধরনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও জানান। তিনি বলেন, প্রকৃত বিরোধী দল বলতে যদি বোঝায় সংসদে গিয়ে মারামারি করা, সরকারকে গালাগালি করা, লাগাতার সংসদ বর্জন করাÑ তবে এ ধরনের বিরোধী দল আমরা হতে চাই না। আমরা চাই, সংসদে ভালো পরিবেশ বজায় থাকবে, সরকার ভালো করলে আমরা সহযোগিতা করব, আর সরকার যদি জনস্বার্থবিরোধী কাজ করে সে েেত্র আমরা প্রতিবাদ করব। নবম জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যে বিরোধীদলীয় নেতা পাঁচ বছরের মধ্যে ১০ দিন সংসদে উপস্থিত থাকেন, এরকম বিরোধী দল আমরা হতে চাই না।

৪৫ বছর পরও সেইসব বাংলাদেশী দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক

৪৫ বছর বেশ দীর্ঘ সময়। বিশ্ব পাল্টে যাওয়ার জন্য অনেক বড় সময়: ব্যাঙ্গালোরের গার্ডেন সিটি হয়েছে ব্যস্ততম আইটি সিটিতে। স্টার্টআপ সিটির নাম হয়েছে ব্যাঙ্গালুরু। পশ্চাৎপদ এলাকাগুলো পরিণত হয়েছে অভিজাত আবাসিক এলাকা। ছোট ছোট গ্রামগুলো পরিণত হয়েছে বড় শহরে। কিন্তু ৪৫ বছর আগে যে হাজার হাজার বাংলাদেশী শরণার্থী কর্নাটকের রাইচুরে তাদের ঘর বেঁধেছিলেন তারা শুধু পেয়েছেন নাগরিকত্ব। তবে সে নাগরিকত্ব দ্বিতীয় সারির নাগরিকের। তাদের দুঃখগাঁথা নিয়ে এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। তারা এখনও শরণার্থীর মতো বসবাস করেন। এখনও তাদের বসতির সরকারি নাম রিহ্যাবিলিটেশন ক্যাম্প বা পুনর্বাসন শিবির। ১৯৭১ সালে ভারতে চলে আসা ৯৩২টি বাংলাভাষী হিন্দু পরিবারকে পুনর্বাসনের পরিবর্তে রাইচুরের এই শিবির শুধু পরিণত হয়েছে বস্তিতে। এখানে সরকারি একটি হাই স্কুলের দিকে নজর দিলেই এর ব্যাখ্যা মেলে। এখানকার প্রধান শিক্ষক স্বপন বৈদ্য ও তার ছাত্রছাত্রীরা সব শরণার্থীদের সন্তান। তারা তাদের দেশের জন্য ও সংস্কৃতির জন্য নষ্টালজিয়ায় ভোগে। সুশান্ত গুলজার যখন বাংলাদেশ ছেড়ে যান তখন তার বয়স মাত্র ১০ বছর। তিনি বলেন, মোটর সাইকেলে চড়া লোকজন আমাদের ওপর আক্রমণ করছিল। আমাদের চারপাশের লোকজন শুধু দৌড়াচ্ছিল। কিন্তু আমার সঙ্গে আমার পিতা দৌড়ে পারেন নি। তার সঙ্গে ছিল আমার ছোটভাই। ওইদিন মনে হয়েছিল আমরা মারা যাবো। দুঃখজনক বিষয় হলো আমরা এখনও শুধুই বেঁচে আছি। আমাদের জীবন যেমন হওয়ার তেমন হয় নি। ওই সময়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের ওপর চালিত অপরাধের বর্ণনা দিয়ে সুধন্য মন্ডল (৭৭) বলেন, আমাদের সামনে কোন বিকল্প ছিল না।

ভিক্ষুকের আছে নিজস্ব ওয়েবসাইট, ব্যবহার করেন ক্রেডিট কার্ড

তিনি ভিক্ষুক। তার কোন বাড়িঘর নেই। থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রোয়েটের রাস্তায়। এভাবেই কেটে যাচ্ছে তার এক দশক। ভিক্ষা করলে কি হবে তার রয়েছে নিজস্ব ওয়েবসাইট। আছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম লিঙ্কডইন-এ একাউন্ট। আর ভিক্ষা নেন ক্রেডিট কার্ডে। অদ্ভুত এই ভিক্ষুকের নাম আবে হ্যাগেনস্টোন (৪২)। এক দশক আগে ডেট্রোয়েটে ব্যস্ত মার্কেটের পাশে সড়কে একটি ফাঁকা জায়গা দেখে সেখানে বসে পড়েন তিনি। সেই থেকে সেখানেই তার ঘরবাড়ি। সেখানে বসেই ভিক্ষা করে যাচ্ছেন। যেহেতু তিনি ভিসা, মাস্টার কার্ড, আমেরিকান এক্সপ্রেসের মাধ্যমে ভিক্ষার অর্থ গ্রহণ করেন, আছে নিজের ওয়েবসাইট তাই তাকে কেউ কেউ ডিজিটাল ভিক্ষুক হিসেবে অভিহিত করেন। ভিক্ষায় তিনি ব্যবহার করেন মোবাইল ফোনও। এর মাধ্যমে কার্ডের অর্থ প্রক্রিয়াজাত করেন। ক্রেডিট কার্ডকে পড়তে পারে এমন একটি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে তিনি দান করা অর্থ নিজের ব্যাংক একাউন্টে জমা করেন। তার ফোনের নাম দিয়েছেন ‘ওবামাফোন’। এ ফোনটি তাকে সরবরাহ করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের লাইফলাইন অ্যাসিসট্যান্স প্রোগ্রাম। এখানেই শেষ নয়। তিনি দান করা অর্থ সংগ্রহ করেন লিঙ্কডইন পেজ ও তার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। ওয়েবসাইতে তিনি বিজ্ঞাপন দিয়েছেন ছোটখাট কাজ হলেও তিনি করতে চান। এ সাইটের মাধ্যমে তিনি নতুন পরিকল্পনা করছেন। গৃহহীন মানুষের জন্য তিনি একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চান, যারা ছোটখাট কাজ খুঁজে ফিরছেন। এসব মানুষকে যেন তাদের পছন্দমতো কাজ জুটিয়ে দেয়া যায় সে জন্য তার এ লক্ষ্য। তিনি বলেন, আমার কাজকর্ম হলো গৃহহীন মানুষদের নিয়ে। যদি বছরের প্রতিদিন প্রতিজন পূর্ণ বয়স্ক মার্কিনির অর্ধেক এক পেনি করে দান করেন তা দিয়েই এটা করা সম্ভব। নিজের ব্লগে তিনি লিখেছেন, আমি নিজে যদি নিজেকে রাজপথ থেকে স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করতে পারি তাহলে আমি আরও একজনকে সহায়তা করতে পারবো। তারপর আরও একজনকে। তিনি এখানেই থেমে থাকেন নি। এমন একটি অ্যাপ বানাচ্ছেন যা ভুয়া গৃহহীন মানুষকে সনাক্ত করতে পারবে। সনাক্ত করতে পারবে যে তারা আসলেই বেকার, তাদের মাথার ওপর ছাদ আছে কিনা। এ অ্যাপ ব্যবহার করে তিনি প্রকৃত ও ভুয়া গৃহহীন মানুষের একটি ডাটাবেজ তৈরি করতে চান।

ব্রিটেনে মুসলিম জনসংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে

ব্রিটেনে প্রথমবারের মতো মুসলিম জনসংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। রাজধানী লন্ডনের কোনো কোনো অংশে প্রায় অর্ধেক মানুষ মুসলমান। নতুন এক জরিপে এ তথ্য জানা গেছে।
পরিসংখ্যানে বলা হয়, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মুসলমানদের অর্ধেক অন্য কোনো দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন। মুসলিমদের এককভাবে বড় অংশটির অনুর্ধ্ব ১০ বয়সী। এতে বোঝা যায়, তাদের সংখ্যা বাড়ছে।
ব্রিটেনে ৩০ লাখ মুসলমান থাকার অর্থ হলো দেশটির নাগরিকদের প্রতি ২০ জনে একজন মুসলমান। তবে এতে করে যারা বলছিল, মুসলমানদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় মুসলিমরা অদূর ভবিষ্যতে অন্যদের ছাপিয়ে যাবে, তারা আরো সোচ্চার হবে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০১৬- বদলে যেতে পারে মার্কিন রাজনীতি by হাসান ফেরদৌস

হিলারি ক্লিনটন
আজ ১ ফেব্রুয়ারি, আইওয়া অঙ্গরাজ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সমর্থকেরা যাঁর যাঁর দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর প্রাথমিক নির্বাচন সম্পন্ন করবেন। অধিকাংশ দেশে দলের কর্তাব্যক্তিরাই ঠিক করেন, কে সে দলের পক্ষে নির্বাচনে পদপ্রার্থী হবেন। আমেরিকায় সে অধিকার দলের তালিকাভুক্ত সদস্যদের। ‘ককাস’ ও ‘প্রাইমারি’ নামে পরিচিত প্রাক্-নির্বাচনী ভোটের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ‘ডেলিগেট’ বাছাই সম্পন্ন করবেন। এ বছর জুলাই মাসে দুই দলের ভিন্ন ভিন্ন জাতীয় সম্মেলনে এই ডেলিগেটদের ভোটেই দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। দেশের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই এই প্রাক্-নির্বাচনী ভোট হবে, আইওয়া দিয়ে সে প্রক্রিয়া শুরু, সে কারণে আইওয়া ‘ককাসের’ এত গুরুত্ব।
বার্নি স্যান্ডার্স
মোট ডেলিগেটের মাত্র ১ শতাংশ আইওয়া ককাসে নির্ধারিত হবে—রিপাবলিকানদের ৩০ ও ডেমোক্র্যাটদের ২৯ জন। তা সত্ত্বেও সবার চোখ এখন আইওয়ার দিকে। এবারের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত যাঁরা জনমত গণনায় এগিয়ে আছেন, তাঁরা কেউই দলের কর্তাব্যক্তিদের পছন্দের নয়। রিপাবলিকানদের মধ্যে বিলিয়নিয়ার ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প সব হিসাব উল্টে দিয়ে এক নম্বরে রয়েছেন। দলের নেতাদের বিশ্বাস, এই লোক যদি শেষ পর্যন্ত দলের মনোনয়ন পান, তাহলে নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবি ঠেকানো অসম্ভব হবে। ট্রাম্প শুধু যে হিস্পানিক ও মুসলিম অভিবাসীদের খেপিয়ে তুলেছেন তা-ই নয়, দলের সব প্রচলিত নীতি-আদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। ব্যাপারটা রিপাবলিকানদের জন্য এতটাই উদ্বেগজনক যে এ দেশের অন্যতম প্রধান রক্ষণশীল পত্রিকা, ন্যাশনাল রিভিউতে দেশের ২১ জন নামজাদা বুদ্ধিজীবী একযোগে ‘ট্রাম্পের বিরুদ্ধে’ এই শিরোনামে প্রবন্ধ লিখে যেভাবে হোক এই ভুঁইফোড় রাজনীতিককে ঠেকানোর আবেদন করেছেন।
জনপ্রিয়তায় ট্রাম্পকে যিনি ছুঁইছুঁই করছেন, টেক্সাস থেকে নির্বাচিত সিনেটর টেড ক্রুজ, নিজের দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তাঁর নাটকীয় ভূমিকার জন্য খ্যাতি অথবা কুখ্যাতি অর্জন করেছেন। মূলধারার সম্পূর্ণ বাইরের এই রাজনীতিক আশা করছেন, অতি রক্ষণশীল ও কট্টর খ্রিষ্টান ‘ইভানজেলিক্যাল’দের ভোটে তরি তীরে ভেড়াতে সক্ষম হবেন। সবাই একমত, ট্রাম্পের মতো ক্রুজও দেশের সংখ্যালঘু ও মধ্যপন্থীদের আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হবেন।
রিপাবলিকান নেতারা আশা করেছিলেন, হয় ফ্লোরিডার সাবেক গভর্নর জেব বুশ অথবা একই অঙ্গরাজ্যের তরুণ সিনেটর কিউবান বংশোদ্ভূত মার্কো রুবিও মনোনয়ন ছিনিয়ে নেবেন। তাঁরা দুজনেই যাঁর যাঁর নির্বাচনী তহবিলে মোটা অঙ্কের চাঁদা পেয়েছিলেন, তাঁদের পক্ষে নামজাদা রাজনীতিকেরা সমর্থন জানিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্পের অতিনাটকীয়তা ও ক্রুজের অতিতপ্ত প্রচারণার মুখে তাঁরা দুজনেই কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে আছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডেমোক্রেটিক দলের পক্ষে অবস্থা একই রকম জটিল ও অবাস্তব। তিন মাস আগেও সবাই নিশ্চিত ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বিপুল জনসমর্থনে ধন্য হয়ে নিজ দলের মনোনয়ন হেলায় ছিনিয়ে নেবেন। কিন্তু বাস্তবে সে কথা সত্য প্রমাণিত হয়নি। সারা দেশে হিলারির সমর্থন ৫০ শতাংশের ঊর্ধ্বে ওঠেনি।
হিলারিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ভারমন্ট থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। প্রায় ৭৫ বছর বয়স্ক এই রাজনীতিক নিজেকে কোনো রাখঢাক ছাড়াই ‘গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক’ হিসেবে পরিচয় করাতে ভালোবাসেন। তাঁর সমর্থনের একটি পরিমাপক হলো, এ পর্যন্ত তাঁর পক্ষে স্বেচ্ছায় চাঁদা দিয়েছেন, তাঁদের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এই সংখ্যা চার বছর আগে ওবামা যে সংখ্যায় চাঁদা পেয়েছিলেন, তার চেয়ে ১০ লাখেরও বেশি। গড়ে মাত্র ২৭ ডলার চাঁদা পেয়ে গত বছরের শেষে তাঁর প্রাপ্ত মোট চাঁদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৩ মিলিয়ন ডলার।
মজার ব্যাপার হলো, ট্রাম্প ও স্যান্ডার্সকে যাঁরা সমর্থন করছেন, তাঁদের মধ্যে আশ্চর্য মিল রয়েছে। ট্রাম্পের বেলায় তাঁর সমর্থকদের অধিকাংশই শ্বেতকায়, মাঝবয়সী ও স্বল্পশিক্ষিত। অব্যাহত অভিবাসনের কারণে ও মন্দাবস্থার দরুন এঁরা নিজের সরকার ও দলের রাজনীতিকদের ওপর খেপে আছেন। ‘আমেরিকান ড্রিম’ তাঁদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে, এ জন্য তাঁরা ওয়াশিংটনের রাজনীতিকদের দায়ী করছেন। আরও লক্ষণীয়, কৃষ্ণকায় ওবামাকে তাঁরা সাত বছর পরও প্রেসিডেন্ট হিসেবে গ্রহণ করতে পারেননি।
টেড ক্রুজ
অন্যদিকে, চার বছর আগে যে ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ আন্দোলন শুরু হয়েছিল, যার প্রভাবে ওবামা দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হতে পেরেছিলেন, বার্নি স্যান্ডার্স সেই সমর্থন-ভিতকে নিজের পক্ষে টানতে পেরেছেন। তাঁর কারণেই হিলারি ক্লিনটনকে অবস্থান বদলে বামমুখী হতে হয়েছে। যেমন, তিনি বরাবর আন্তপ্রশান্ত মহাসাগরীয় বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে ওকালতি করেছেন, কিন্তু অতি সম্প্রতি সুর বদলে স্যান্ডার্সের দেখাদেখি সে চুক্তির বিরোধিতার কথা ঘোষণা করেছেন। এ কথার অর্থ অবশ্য এই নয়, বার্নি স্যান্ডার্স বা ডোনাল্ড ট্রাম্পই যাঁর যাঁর দলের মনোনয়ন লাভ করবেন। জনসমর্থনে জাতীয়ভাবে স্যান্ডার্সের তুলনায় হিলারি প্রায় ২০ শতাংশ এগিয়ে আছেন। কিন্তু আইওয়া এবং ঠিক তারপরেই নিউ হ্যাম্পশায়ারে তিনি যদি পর্যুদস্ত হন, তাঁর নির্বাচনযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। ২০০৮ সালে অনিবার্য বিজয়ের মুখ থেকে তিনি ওবামার কাছে পর্যুদস্ত হয়েছিলেন। তবে স্যান্ডার্সের সমর্থন-চক্র অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র হওয়ায় ও সংখ্যালঘুদের নিজেদের পক্ষে টানতে অসমর্থ হওয়ায় চূড়ান্ত পর্যায়ে তাঁর বিজয়ের সম্ভাবনা কম। তবে এ অবস্থা যে বদলাবে না, এ কথা বলা বোকামি।

ইউরোপ থেকে ১০ হাজার শরণার্থী শিশু গায়েব!

অভিভাবকহীন ১০ হাজারের বেশি শরণার্থী শিশু ইউরোপ থেকে গায়েব হয়ে গেছে। এ সব নিষ্পাপ শিশু সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়েছে বলে আশংকা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অপরাধ বিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থা ইউরোপোল।
ব্রিটিশে দৈনিক অবজারভারকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ আশংকা ব্যক্ত করেন ইউরোপোল প্রধান বিরান ডোনাল্ড। এ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অত্যন্ত আধুনিক একটি অপরাধ চক্র গোটা ইউরোপ জুড়ে সক্রিয় রয়েছে। তিনি জানান, শরণার্থীদেরকে শিকারে পরিণত করেছে এ চক্র। একমাত্র ইতালি থেকেই পাঁচ হাজার শরণার্থী শিশু গায়েব হয়ে গেছে এবং সুইডেন থেকে গায়েব হয়েছে এক হাজারেরও বেশি। তিনি আরো বলেন, ১০ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হয়ে বললে মোটে বাড়িয়ে বলা হবে না।
পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, নিখোঁজ শিশুর সবাই যে অপরাধ চক্রে জড়িয়ে পড়বে তা নাও হতে পারে। এদের মধ্যে অনেককেই হয়ত তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। অবশ্য তিনি বলেন, এ সব শিশু কোথায় আছে কিভাবে আছে তা ইউরোপোলের জানা নেই।
নিবন্ধিত এবং অনিবন্ধিত মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ ৭০ হাজার শরণার্থী শিশুকে নিয়ে ইউরোপোল ভাবছে বলেও জানান তিনি। এদের সবাই অভিভাবকহীন নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, এদের মধ্যে বড় সংখ্যকই অভিভাবকহীন হয়ত। তিনি আরো বলেন, শরণার্থী শিশুর সংখ্যা কমিয়ে ধরা হয়েছে এবং এ সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে।
সূত্র : রেডিও তেহরান

গুগলের এক মিনিটের মালিক!

সন্ময় বেদ
গুগলের ঠিক নাকের ডগা থেকেই গুগল ডটকম কিনে এক মিনিটের জন্য গুগলের মালিক বনেছিলেন সন্ময় বেদ। মাত্র ১২ ডলার দামে সন্ময় বেদ কিনেছিলেন বিশ্বের সেরা ও দামি ওয়েবসাইট গুগল ডটকম ডোমেইন।
গত বছরের বছরের ২৯ সেপ্টেম্বরের ঘটনা এটি। অনলাইনে আচমকা সন্ময় খোঁজ পান গুগল ডটকম ডোমেইন বিক্রির জন্য সহজলভ্য। সঙ্গে সঙ্গে সন্ময় গুগল ডটকম কিনে গুগলের মালিক হয়ে যান৷ তবে বেশিক্ষণ তা স্থায়ী হয়নি৷ এক মিনিটের মধ্যে গুগল ব্যাপারটি ধরতে পারে৷ তারপর পুরো বিষয়টা পাল্টে যায়৷ কিন্তু এক মিনিটের জন্য গুগলের মালিক বনে যান সন্ময় বেদ৷
ওই সময় সন্ময় তাঁর লিঙ্কডইনে একটি পোস্টে লেখেন, ‘গুগল ডোমেইনটি কেনার ফরমাশ দিয়ে ভাবছিলাম ক্রেডিট কার্ড থেকে অর্থ হয়তো কাটা হবে না। কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে অর্থ ফেরত আসবে, কিন্তু আমার ক্রেডিট কার্ড থেকে অর্থ কেটে নিয়ে গুগল ডটকম কিনে নিতে পারলাম।
সিএনএনকে সন্ময় এক সাক্ষাৎকারে বলেন, নিছক কৌতূহলের বশেই তিনি ওই ডোমেইনটি কিনে ফেলেন। গুগল যখন বুঝতে পারে তাঁর ডোমেইনটি বেহাত হয়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়। ডোমেইনটি গুগলকে ফেরত দেন সন্ময়। ১২ ডলার দিয়ে যে ডোমেইনের এক মিনিটের জন্য মালিক হয়েছিলেন গুগল তার জন্য ছয় হাজার ৬ দশমিক ১৩ ডলার দেয়। পুরো অর্থ সন্ময় যখন দাতব্য কাজে ব্যয় করার ঘোষণা দেন, গুগল তখন এই অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ করে দেয়।
গুগল কেনার এ প্রক্রিয়াটি পুরো এক মিনিটে সম্পন্ন হয়েছিল। এই অল্প সময়ের মধ্যে গুগল ব্যবহারকারীদের অনেক মেইল পাওয়ার দাবি করেন সন্ময়। কিছুক্ষণ পরেই গুগলের কাছ থেকে ফরমাশ বাতিলের মেইল পান।
সন্ময়ের লিঙ্কডইন পেজ অনুযায়ী, গুগলে সাড়ে পাঁচ বছর ধরে কাজ করছেন তিনি। বর্তমানে বোস্টনে ব্যবসা কলেজ থেকে এমবিএ করছেন তিনি।
সন্ময়ের ক্ষণিক সময়ের জন্য গুগল আধিপত্য লাভের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে গুগল। গুগল সন্ময়কে গুগল নামের সংখ্যাসূচক পরিমাণ অর্থ সন্ময়কে দিয়েছে।
সন্ময়ের মহৎ উদ্দেশ্য অর্থাৎ, গুগল থেকে পাওয়া অর্থ দাতব্য কাজে লাগানোর কথা গুগল কর্তৃপক্ষ জানতে পেরে তাঁর পুরস্কারের অর্থ দ্বিগুণ করে দেয়। গুগল থেকে পাওয়া অর্থ আর্ট অব লিভিং ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনে দেবেন তিনি। দেশটির যে অঞ্চলে দরিদ্র ও শিশু শ্রমিক বেশি সেখানে স্কুল কার্যক্রম চালাতে কাজ করে এই সংস্থাটি।
গুগলে যাঁরা নিরাপত্তা সমস্যা ধরে গুগলকে অবহিত করে তাঁদের নিয়মিত অর্থ দেয় গুগল। গুগল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছরে অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক এক নিরাপত্তা গবেষককে ৩৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার পুরস্কার দিয়েছে গুগল।
উল্লেখ্য, ডোমেইন নির্দিষ্ট সময় পর পর নবায়ন করতে হয়। গুগল নির্দিষ্ট সময় পরও তার ডোমেইন নবায়ন না করায় কিছুক্ষণের জন্য তা​ বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। ঠিক ওই মুহূর্তেই সন্ময় গু​গলের ডোমেইন কিনে ফেলেন।

পরমাণু বোমা নিয়ে পাক-ভারত ও ব্রিটেনের বিরুদ্ধে মামলা

পাকিস্তান, ভারত এবং ব্রিটেনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সর্বোচ্চ আদালত আন্তর্জাতিক বিচারালয় বা ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস বা আইসিজে’তে মামলা দায়ের করেছে প্রশান্ত মহাসাগরের ক্ষুদ্র দেশ মার্শাল আইল্যান্ডস । পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধে ব্যর্থ হওয়ায় এ তিন দেশের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ৫৫ লাখ মানুষের দেশ মার্শাল আইল্যান্ডসের রাজধানীর নাম মাজুরো।
বিভিন্ন দেশের মধ্যে আইনগত বিবাদ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আইসিজে। এ তিন মামলা গ্রহণ করতে পারবে কিনা সে বিষয়ে মার্চের ৭ থেকে ১৬ তারিখ পর্যন্ত হেগে অবস্থিত আইসিজে’তে শুনানি হবে।
পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতা এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ মানতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০১৪ সালে নয় দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে মার্শাল আইল্যান্ডস। এ নয়টি দেশ হলো, চীন, ব্রিটেন, ফ্রান্স, ভারত, উত্তর কোরিয়া, পাকিস্তান রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া একই অভিযোগ আনা হয় ইহুদিবাদী ইসরাইল’এর বিরুদ্ধেও।
কিন্তু আইসিজে কেবলমাত্র তিনটি দেশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গ্রহণ করেছে। এ তিনটি দেশ হলো পাকিস্তান, ভারত এবং ব্রিটেন। আর এর কারণ হলো, এই তিন দেশই কেবল আইসিজের কর্তৃত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ ছাড়া আটটি দেশের পরমাণু বোমা আছে বলে আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকার করেছে। কিন্তু ইহুদিবাদী ইসরাইল কখনোই পরমাণু বোমার মজুদ থাকার কথা স্বীকার করে নি। অবশ্য পর্যবেক্ষকরা মনে করে মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র ইহুদিবাদী ইসরাইলের কাছেই পরমাণু বোমা রয়েছে।

জিয়া ও বিএনপি by ডক্টর এস এম সরোয়ার রহমান

১৯ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধের মহান ঘোষক শহীদ জিয়ার ৮০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের এমনই একটি দিনে বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ীতে যে শিশুটির জন্ম হয়েছিল, তখন কে জানত এ শিশু বড় হয়ে তার প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতার ঘোষণা দেবেন, বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রপতি হবেন? বিশ্ব ইতিহাসে শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঘটনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। শহীদ জিয়া বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধ যুদ্ধকে রূপদান করেছিলেন একটি সমন্বিত মুক্তিযুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা থেকে শুরু করে বাংলাদেশী জাতি এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উত্থান ও বিনির্মাণে তিনি কালজয়ী অবদান রেখে গেছেন। আত্মপরিচয়ের সংজ্ঞা নিয়ে আমরা যখন ছিলাম কিংকর্তব্যবিমূঢ়, তখন ইতিহাসের যুক্তিসিদ্ধ ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ নিয়ে তিনি জাতিকে দিয়েছেন সত্তার এক সুস্পষ্ট পরিচিতি। রাজনৈতিক নেতৃত্বের দেউলিয়াপনায় সমাজে চলছিল অস্থিরতা, সৃষ্টি হয়েছিল বৈষম্য। সামন্ত সমাজের নকল নবাবীর পরিণতিতে আমরা দেখেছি একদলীয় শাসন, দুর্নীতি ও দুঃশাসন। জিয়াউর রহমান বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে সম্প্রসারণবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে বটবৃক্ষের মতো বৃহৎ রাষ্ট্রের পাশে তালতরুর মতো শির উঁচু করে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি গঠন করেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। যখন বিরোধী দলের ওপর সরকারি দলের দমন-নির্যাতন শুরু হয় তখন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে আদর্শবিহীন সুযোগসন্ধানীরা।
বাংলাদেশে গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার ও মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত, আইনশৃঙ্খলা বিপর্যস্ত, জাতীয় জীবনে সততা ও ন্যায়নিষ্ঠা নির্বাসিত। এই পরিপ্রেক্ষিতে জিয়ার সৈনিকদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। প্রতিরোধ করতে হবে সুযোগসন্ধানীদের। জনগণকে সাথে নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে জিয়াউর রহমান রাজনীতিকে গ্রহণ করেছিলেন জীবনধারারূপে। তার কাছে- politics is not a profession or job, it is a way of life. এই দর্শন ও বিশ্বাসই তাকে নিয়ে গিয়েছিল গণমানুষের কাছাকাছি।
শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মপরিকল্পনাকে সামনে রেখে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোকে এগিয়ে যেতে হবে। রাষ্ট্রপতি জিয়া বলতেন, ‘আদর্শের ভিত্তিতে সংগঠন গড়ে তুলতে হবে, তা না হলে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা যাবে না। তাই সংগঠনে যারা থাকবেন, তাদেরকে পার্টির আদর্শ অবশ্যই জানতে হবে, বুঝতে হবে এবং সেটা বিশ্বাস করতে হবে এবং সেই বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদেরকে আদর্শের চালনি দিয়ে এখন বেছে নিতে হবে আপনাদেরকে।’ জিয়া রাজনৈতিক ক্লাসে প্রায়ই বলতেন, ‘আমি না থাকতে পারি, প্রেসিডেন্ট কে হলো না হলো তাতে কিছু যায় আসে না এবং আপনি এমপি না থাকলে তাতেই বা কী হলো? কিন্তু এ দেশ এ জাতি থাকবে, চিরদিন থাকবে। এ জন্য চাই সিস্টেম। তাই আমরা পার্টিকে একটা সিস্টেমের মধ্যে দীর্ঘকাল চালাতে চাই।’
শহীদ জিয়ার বক্তব্যকে ধারণ করে সংগঠন গোছানোর সময় এসেছে। সুশিক্ষিত রাজনৈতিক কর্মীবাহিনী ছাড়া সংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকা যায় না। বিএনপি একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। সুতরাং তার একটা প্রডাক্ট আছে, আর তা হচ্ছে তার মতবাদ বা আদর্শ। এর গ্রাহক হচ্ছে তার সমর্থক বা ভোটাররা। দল বা প্রতিষ্ঠানের প্রডাক্ট বা মতবাদের গ্রাহক বাড়ানোর চাপ ও প্রত্যাশা আছে। বিএনপির রাজনীতিকে তার সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে দৃঢ়ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করতে হলে সৎ, আদর্শবান নেতৃত্ব দিয়ে দলকে সংগঠিত করতে হবে। গতানুগতিক রাজনীতি পরিহার করে একবিংশ শতাব্দীর ছাত্র ও যুবসমাজ, কৃষক-শ্রমিকের চাহিদামাফিক রাজনীতি ও সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে ব্যাপক জনসচেতনতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
আজ গণতন্ত্র রক্তাক্ত। সেই গণতন্ত্র বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব নিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। জিয়ার প্রদর্শিত পথেই জনগণ বেগম জিয়ার পাশে রয়েছেন। চলমান সঙ্কটে তার সাথে বিদেশ থেকে পাশে দাঁড়িয়েছেন তারেক রহমান। জাতীয় সঙ্কটে গণতান্ত্রিক উত্তরণে তাদের প্রতি অবিচল আস্থা রাখার মধ্য দিয়েই জিয়ার আদর্শের প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।
বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির একটি উজ্জ্বলতম অধ্যায়ের নাম জিয়া। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে জাতীয় ইতিহাসের এক ক্রান্তিলগ্নে তাকে এ পথে আসতে হয়েছিল। কিন্তু অদৃষ্টের নির্মম পরিহাস, এ জাতি তাকে হারিয়েছে এমন একসময়ে যখন তারই প্রয়োজন ছিল সবচেয়ে বেশি। জিয়া আজো বেঁচে আছেন তার কর্মের মাধ্যমে, গণতন্ত্রের দিশারীরূপে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় শহীদ জিয়ার সততা, অনন্যসাধারণ বক্তিত্ব ও ন্যায়বোধ জাতির মানসলোকে ধ্রুবতারার মতো ভাস্বর হয়ে আছে, থাকবে চিরদিন।
শহীদ জিয়ার আদর্শকে সামনে রেখে দেশনেত্রী বেগম জিয়া বিএনপিকে সংগঠিত করে বিরাজমান সঙ্কটাবস্থা কাটিয়ে উঠবেন, এ দেশের মানুষ তা বিশ্বাস করে।
শহীদ জিয়ার রৌদ্রকরোজ্জ্বল ইতিহাসের প্রতি অবশ্যই আমার দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক যে দর্শন রেখে গেছেন, তা আনাগত দিনগুলোতে নতুন প্রজন্মের পাথেয়।
লেখক : আইনজীবী
sarwarrahman.hr@gmail.com