Sunday, December 8, 2024

আসাদের পতনের লড়াইয়ে নেপথ্যে থাকা কে এই জোলানি

দীর্ঘ লড়াইয়ের মাধ্যমে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতন ঘটিয়েছে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামস (এইচটিএস)। সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটির নেতৃত্বে ছিলেন এইচটিএসের প্রধান আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি। রোববার বিনা বাধায় সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক দখলের পর আসাদ সরকারের পতনের ঘোষণা দিয়ে বিবৃতি দেয় এইচটিএস নামের গোষ্ঠীটি। এতে বলা হয়, দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন জালিম শাসক বাশার আল-অসাদ। সিরিয়া এখন মুক্ত। এর মধ্য দিয়ে একটি অন্ধকার যুগের সমাপ্তি হলো। আর সূচনা হলো একটি নতুন যুগের। দুই যুগের বেশি সময় ধরে সিরিয়াকে লৌহমুষ্টিতে শাসন করা আসাদের এমন করুণ পতনে গোটা বিশ্বই যেন হতবাক হয়ে পড়েছে। কেননা কোনো ধরনের পূর্বাভাস ছাড়াই দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে একটি দেশের শক্তিশালী প্রেসিডেন্টের পতন নিশ্চিত করা নজিরবিহীন ঘটনাই বটে। তবে টানা ২৪ বছর পর আসাদের এমন পতনের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন এইচটিএসের নেতৃত্বে থাকা আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি। সকলেই জানতে চাচ্ছে আসাদের পতনের নেতৃত্ব দেয়া নেপথ্যের নায়ক কে এই জোলানি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে জোলানির অতীত-বর্তমান। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে ওই নেতার নানা দিক।

আবু মোহাম্মদ আল-জোলানির আসল নাম আহমেদ হুসাইন আল-শারা। ১৯৮২ সালে তিনি সৌদি আরবের রিয়াদে জন্মগ্রহণ করেন। তখন তার বাবা সেখানে পেট্রোলিয়াম প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৮৯ সালে তার পরিবার সিরিয়ায় ফিরে আসে। দামেস্কের অদূরে বসতি স্থাপন করে। দামেস্কে থাকাকালে জোলানি কী করতেন, তা জানা যায় না। ২০০৩ সালে সিরিয়া থেকে ইরাকে এসে তিনি আল-কায়েদায় যোগ দেন। এই বছরই ইরাকে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তিনি সেখানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দেন। তখন থেকে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে।

২০০৬ সালে জোলানি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হাতে গ্রেপ্তার হন। পাঁচ বছর আটক থাকেন। গণতন্ত্রের দাবিতে ২০১১ সালে সিরিয়ায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ দমনে বাশার আল-আসাদ সহিংসতার পথ বেছে নেন। এর জেরে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় জোলানি ছাড়া পান। এরপর তার নেতৃত্বে সিরিয়ায় আল-কায়েদার শাখা প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা আল-নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত। সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে, বিশেষত ইদলিবে শক্তিশালী হতে থাকে।

প্রথম দিকের কয়েক বছর জোলানি আবু বকর আল-বাগদাদির সঙ্গে কাজ করেন। বাগদাদি ছিলেন ইরাকের ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রধান। এই সশস্ত্র গোষ্ঠী পরে আইএসআইএল (আইএসআইএস) নাম ধারণ করে। ২০১৩ সালের এপ্রিলে বাগদাদি আকস্মিকভাবে আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেন। সিরিয়ায় নিজেদের তৎপরতা বৃদ্ধিতে কাজ শুরু করেন। একটা পর্যায়ে আইএসআইএল আল-নুসরা ফ্রন্টকে বেশ ভালোভাবে নিজেদের সঙ্গে একীভূত করে ফেলে। তখনই আইএসআইএলের জন্ম হয়।

জোলানি এ পরিবর্তন প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন। এ অবস্থায় ২০১৪ সালে আল-জাজিরাকে প্রথমবারের মতো টেলিভিশন সাক্ষাৎকার দেন জোলানি। এতে তিনি বলেছিলেন, তার গোষ্ঠী ‘ইসলামিক আইনের’ যে ব্যাখ্যা দেবে, সিরিয়া সেই অনুযায়ী শাসিত হবে। তবে কয়েক বছর পর জোলানির মধ্যে পরিবর্তন আসে। তিনি আল-কায়েদার মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোয় ‘বিশ্বব্যাপী খেলাফত’ প্রতিষ্ঠার প্রকল্প থেকে সরে আসেন। এমন কিছুর পরিবর্তে সিরিয়া সীমান্তের ভেতরে নিজের গোষ্ঠীর তৎপরতা সীমাবদ্ধ করেন জোলানি। তার এ পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। তারা মনে করেন, এর মধ্য দিয়ে জোলানির গোষ্ঠীটি বহুজাতিক বা আন্তদেশীয় গোষ্ঠীর বদলে একটি জাতীয় গোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হয়।

২০১৬ সালের জুলাইয়ে বাশার সরকার আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ নেয়। তখন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ইদলিবের দিকে চলে যায়। সিরিয়ার এ অঞ্চল তখনো বিদ্রোহীদের দখলে। ২০১৬ সালে জোলানি প্রকাশ্যে আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি আল-নুসরা বিলুপ্ত করেন। গঠন করেন নতুন সংগঠন জাভাত ফাতেহ আল-শাম। ২০১৭ সালের শুরুর দিকে আলেপ্পো থেকে হাজার হাজার যোদ্ধা ইদলিবে পালিয়ে আসেন। এ সময়ে বিদ্রোহীদের ছোট ছোট অনেক গোষ্ঠী ও নিজের জাভাত ফাতেহ আল-শাম নিয়ে এইচটিএস গঠন করেন জোলানি। এইচটিএসের ঘোষিত লক্ষ্যই ছিল বাশার আল-আসাদের স্বৈরাচারী শাসন থেকে সিরিয়াকে মুক্ত করা। এইচটিএস আজ এই লক্ষ্য অর্জনের ঘোষণা দিল।

এইচটিএসের অন্য লক্ষ্যের মধ্যে আছে সিরিয়া থেকে ‘ইরানের সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে বিতাড়িত করা’। নিজেদের দেওয়া ‘ইসলামি আইনের’ ব্যাখ্যা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করা। পর্যবেক্ষকদের মতে, বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ‘সবচেয়ে কার্যকর’ ভূমিকা পালন করেছে এইচটিএস ও এর প্রধান জোলানি।

mzamin

আলু, পেঁয়াজ, চালে বাংলাদেশ ভারতের ওপর কতটা নির্ভরশীল? by সৌমিত্র শুভ্র -বিবিসি বাংলা

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে ভারতীয় পণ্য বর্জনে ব্যাপক প্রচারণা দেখা গিয়েছিলো। এবার ভারত থেকে বাংলাদেশে নিত্যপণ্য বিশেষ করে চাল, পেঁয়াজ ও আলু রপ্তানি 'বন্ধ' করে দেয়ার হুমকি দিয়ে সেদেশের এক রাজনীতিবিদ বক্তব্য দেয়ার পর দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে সংবাদমাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছে।

রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা বা স্থলবন্দর বন্ধ থাকার মতো কারণে ভারত থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ বা হ্রাস পাওয়ার ঘটনা নতুন নয়।

তবে, এবারের প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য নয় বরং রাজনৈতিক আলোচনাই মুখ্য হয়ে উঠেছে।

গত সোমবার পেট্রাপোল স্থলবন্দরের কাছে 'বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন' বন্ধ এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মুক্তির দাবিতে এক সমাবেশে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ভারত থেকে আলু ও পেঁয়াজ আসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন।

এতে আগে থেকেই আলোচনায় থাকা এ ইস্যুটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও তর্ক-বিতর্ক বাড়ে।

এদিকে বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন "তাদের (ভারতের) রাজনৈতিক বক্তব্য যাই হোক, তাদের ব‍্যবসায়ীদের স্বার্থও দেখতে হবে।"

যে কারণে বাণিজ্যিক সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন মি. আহমেদ।

ভারত থেকে সর্বশেষ অর্থবছরে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১১ বিলিয়ন ডলার, তথ্য ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। বাংলাদেশে রপ্তানিকারকদের তালিকায় চীনের পরেই দেশটির অবস্থান।

কিন্তু, উল্লেখিত তিন পণ্য - আলু, পেঁয়াজ ও চালের ক্ষেত্রে ভারতের ওপর আদতে কতটুকু নির্ভরশীল বাংলাদেশ?

আলু

বাংলাদেশে ২০২৩ সালের আগে কখনো আলু আমদানিই করা হয়নি। দেশটি বরং আলু রপ্তানি করতো।

দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য ওই বছরের অক্টোবরে প্রথমবারের মত আলু আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশটি থেকে ১৭ লাখ মার্কিন ডলারের আলু আমদানি হয় বাংলাদেশে।

ওই অর্থবছরে বাংলাদেশে আলু উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল এক কোটি ১৬ লাখ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয়েছে এক কোটি ছয় লাখ মেট্রিক টন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)এর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকাশিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

তবে, দেশে আলুর চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ, উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম নয়।

"আলু যেহেতু কোল্ডস্টোরেজে রাখা যায়, এই সুযোগটা ব্যবসায়ীরা কাজে লাগায়, মজুদ করে রাখে।" বলছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক হাসনীন জাহান।

এর ফলে দাম বৃদ্ধির ঘটনা ঘটে। যে কারণে আমদানির দিকে যায় সরকার।

"আলু যদি সরাসরি বাজারে দিয়ে দিতে পারতো কৃষক, অর্থাৎ, সরবরাহ যদি স্বাভাবিক থাকতো আমদানি নির্ভরশীলতা কমানো যেতো," বলেন অধ্যাপক জাহান।

পেঁয়াজ

২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৩৭ লাখ মেট্রিক টন লাখ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সেই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ৩৮ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে এ বছর।

কিন্তু, এ বছরও ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পেঁয়াজ-রসুন জাতীয় পণ্যের রপ্তানির হিসাবে দেখা যাচ্ছে, প্রতিবেশী বাংলাদেশে প্রায় ২০ কোটি ডলারের পণ্য পাঠিয়েছে তারা।

বাংলাদেশে বার্ষিক পেঁয়াজের চাহিদা ২৭-২৮ লাখ টন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছিলেন মসলা গবেষণা কেন্দ্রের তৎকালীন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার।

মি. মজুমদারের মতে, এর পুরোটাই দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়েই পূরণ করা সম্ভব।

তবু কেন আমদানি করতে হয়?

কৃষি অর্থনীতিবিদ হাসনীন জাহান বলেন, পেঁয়াজের বেলায় প্রজেকশন (পূর্বাভাস) ঠিকমতো করা হয় না।

"কৃষক হয়তো এক বছর দাম পাচ্ছে না, ফলে পরের বছর কম চাষ করে। কিংবা একবছর দাম বেশি পেলে পরেরবার চাষের পরিমাণ বাড়ে," ব্যাখ্যা করেন তিনি।

তথ্যের ঘাটতি না থাকলে এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থায় তদারকি ঠিকমতো করা গেলে আমদানি এড়ানো যেতো বলে মনে করেন তিনি।

চাল

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশকে ধান-চালের নিরিখে 'খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ' বলে দাবি করা হতো। কিন্তু, তারপরও চাল আমদানি থেমে থাকেনি।

ভারত থেকে বাংলাদেশে চাল আমদানির তথ্যে বছর ভেদে ব্যাপক পার্থক্য দেখা গেছে।

একেক বছরে আমদানির পরিমাণ একেক রকম।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে দেড় কোটি ডলারের চাল রপ্তানি করা হয়েছিল বাংলাদেশে।

তবে এর আগের অর্থ বছরে ৩১ কোটি ডলারের চাল বাংলাদেশে রপ্তানি করা হয়।

সর্বশেষ অর্থবছরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার কোটি ৩৪ লাখ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয় চার কোটি ২০ লাখ মেট্রিক টন।

জাতিসংঘের বাণিজ্য বিষয়ক ডেটাবেইজ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে আট কোটি ডলারের বেশি চাল রপ্তানি করেছে ভারত। পরিমাণের দিক থেকে ২ লাখ ১৫ হাজার টন প্রায়।

ভারত ছাড়াও ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ড থেকে চাল আনে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) থেকে গত এপ্রিলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস করা হয়েছে, আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের চাল আমদানি শুন্যের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে।

চলতি বছর বোরোর ভালো ফলন এবং আউশ-আমনের পরবর্তী মৌসুমের কথা বিবেচনায় নিয়ে সংস্থাটি বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করতে পারে দেশটি।

বোরোর ভালো উৎপাদনের কথা উল্লেখ করে কৃষি অর্থনীতিবিদ হাসনীন জাহান বলেন, সমস্যাটা হয় ডিস্ট্রিবিউশন (বন্টন) পর্যায়ে।

মজুদদারি ঠেকিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা মজবুত করা গেলে চালের মূল্যবৃদ্ধি বা যোগান সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব বলে মন্তব্য তার।

পেঁয়াজের আড়ত

দামেস্কের উপকণ্ঠে বিদ্রোহীরা, আসাদ পালানোর খবর অস্বীকার -বিবিসি

সিরিয়ার বিদ্রোহীরা দ্রুতগতিতে দামেস্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং এরই মধ্যে বেশ কিছু উপশহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন যে রাজধানী "ক্রমশ বিদ্রোহীদের হাতে পড়ছে"। বিদ্রোহীরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হোমস শহরে প্রবেশ করেছে বলেও জানা গেছে। এ শহরটি দামেস্ককে উত্তর ও উপকূলের সাথে সংযুক্ত করেছে এবং প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের আলাওয়ী সম্প্রদায়ের মূল কেন্দ্র।

এদিকে প্রেসিডেন্ট আসাদ রাজধানী থেকে পালিয়ে গেছেন বলে প্রচারিত খবর অস্বীকার করেছে দেশটির সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামেদ আল-রহমুন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন যে দামেস্কের চারপাশে একটি "অত্যন্ত শক্তিশালী সামরিক বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে এবং এই প্রতিরক্ষা রেখা কেউ ভেদ করতে পারবে না"।

অন্যদিকে, বিরোধীপক্ষকে সমর্থনকারী সিরিয়ান ইমার্জেন্সি টাস্ক ফোর্স (এসইটিএফ) দাবি করেছে যে দামেস্কের "শীঘ্রই পতন হবে" এবং শহরটি কার্যত বেষ্টিত। তারা আরও দাবি করেছে যে ইরানি বাহিনী এবং রাশিয়ান নৌযান সিরিয়া থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। এই সম্ভাব্য প্রত্যাহার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়ে আসতে পারে।

তবে এসটিএফের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রাশিয়া এবং ইরান বাশার আল আসাদ সরকারকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছিল।

মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির কারণে জাতিসংঘ সিরিয়া থেকে 'অপরিহার্য নয়' এমন কর্মীদের প্রত্যাহার করছে।

এরই মধ্যে দেশটিতে ৩ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, অনেকে সীমান্ত এলাকায় আটকা পড়েছে অথবা উত্তর-পূর্বে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে।

জাতিসংঘের সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত গায়ের পেডারসেন আরও রক্তপাত এড়াতে এবং বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করার জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদদাতা হুগো ব্যাচেগা মন্তব্য করেছেন যে বিদ্রোহীরা এখন দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর হোমস দখলের জন্য লড়াই করছে। তিনি বলেন, "হোমস পতিত হলে, আসাদ গভীর সঙ্কটে পড়বেন কারণ তার ক্ষমতার মূল কেন্দ্র, দামেস্ক বেষ্টিত হয়ে পড়বে।"

হুগো ব্যাচেগা বিদ্রোহীদের "প্রতীকী বিজয়" হিসেবে দেরা দখলের কথা উল্লেখ করেন, এখান থেকেই ২০১১ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে গৃহযুদ্ধের সূচনা করে।

তিনি বলেন, সিরিয়ার কুর্দি বাহিনী পূর্ব অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে নিয়েছে, যার মধ্যে দের আল-জোর শহরও রয়েছে, যার ফলে সরকারের অবস্থান আরও দুর্বল হয়েছে।

বছরের পর বছর যুদ্ধের কারণে একসময়কার শক্তিশালী সিরিয়ার সেনাবাহিনীকে এখন অনেকটা "অসমর্থ এবং অনাগ্রহী" মনে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন যে সেনাদের পক্ষত্যাগ এবং নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসা বিদ্রোহীদের দ্রুত অগ্রগতির একটি কারণ।

বিদ্রোহীরা দামেস্কের উপকণ্ঠে জেরমানা শহরে বাশার আল আসাদের বাবা, হাফেজ আল আসাদের একটি মূর্তি নামিয়ে ফেলেছে বলে জানাচ্ছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। স্থানটি দামেস্কের কেন্দ্রস্থল থেকে ১০ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত।

বাশার আল-আসাদ ২০০০ সাল থেকে সিরিয়ার ক্ষমতায় রয়েছেন। এর আগে তার বাবা হাফেজ আল-আসাদ ২৯ বছর দেশটি শাসন করেছিলেন।

হামার সামরিক বিমানঘাঁটিতে বিদ্রোহী যোদ্ধারা।
ছবির ক্যাপশান, হামা'র সামরিক বিমানঘাঁটিতে বিদ্রোহী যোদ্ধারা।

যারা ভাবেন বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলবেন, তারা আহাম্মকের স্বর্গে : কাদের সিদ্দিকী

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, যারা ভাবেন বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলবেন, কাদের সিদ্দিকীকে মুছে ফেলবেন তারা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করেন। স্বাধীনতা থাকলে, আমরা থাকবো।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিজ বাসভবনের সামনে কৃষক শ্রমিক জনতালীগ উপজেলা শাখার বর্ধিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় কাদের সিদ্দিকী বলেন, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ হলে চলবে না, আওয়ামী লীগ হতে হবে মাওলানা ভাসানীর। আওয়ামী লীগ হতে হবে বঙ্গবন্ধুর, শেখ হাসিনার না। এত অত্যাচার করলে, মানুষকে এত অবহেলা করলে আল্লাহর তরফ থেকে গজব পড়ে। সেটাই হাসিনার ওপরে হয়েছে। কিন্তু হাসিনার জন্য অন্য মানুষ যে কষ্ট করছে, সেটাও আল্লাহকে দেখতে হবে। আমি নিশ্চিত আল্লাহ সেটাও দেখবেন। তিনি আরও বলেন, যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, এটাও ভালো না। ভারত যেটা করছে আমাদের ওপরে, সেটাও ভালো না। আমরা আমেরিকা না, বাংলাদেশ। আমরা বিজয় অর্জন করেছি।

এছাড়া কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ যে দোষে সর্বহারা হয়েছে, সরকার পতনের পর বিএনপি কিন্তু ওই দোষই করছে। জামায়াত বেবি-টেম্পু স্ট্যান্ড, বাজার দখল করে চাঁদা উঠায় নাই। এটা কিন্তু বিএনপি করছে।

তিনি বলেন, আগে আওয়ামী লীগ যেখান থেকে চাঁদা নিত, এখন বিএনপি সেখান থেকে চাঁদা নেয়। বন থেকে যেটুকু নেওয়ার নেয়, থানা থেকে যে ভাগ নেওয়ার নেয়। যেখানে যে ভাগ পাওয়া যায় সব নেয়। কিন্তু জামায়াত নেয়নি।

সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুস ছবুর খানের সভাপতিত্বে এ সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ বীর প্রতীক, টাঙ্গাইল জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ হিটলু, সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন সজীব প্রমুখ।
টাঙ্গাইলের সখীপুরে কৃষক শ্রমিক জনতালীগের বর্ধিত সভায় বক্তব্য দেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। ছবি : কালবেলা
টাঙ্গাইলের সখীপুরে কৃষক শ্রমিক জনতালীগের বর্ধিত সভায় বক্তব্য দেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। ছবি : কালবেলা

মোড়ক উন্মোচন: পাকিস্তান থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে, দুঃসাহসিক কাহিনির নতুন বই

তৎকালীন মেজর মঞ্জুর, তাহের, জিয়াউদ্দিন ও ক্যাপ্টেন বজলুল গনি পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে যোগ দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে।

তাঁরা চারজন—তৎকালীন মেজর মঞ্জুর, মেজর তাহের, মেজর জিয়াউদ্দিন ও ক্যাপ্টেন বজলুল গনি পাটোয়ারী। তাঁরা পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে। পাকিস্তানের কাশ্মীর সীমান্ত হয়ে ভারতে প্রবেশ ও পরে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের সেই দুঃসাহসিক কাহিনি নিয়ে প্রকাশিত হলো বজলুল গনি পাটোয়ারীর লেখা বই শত্রুভূমি থেকে সম্মুখসমরে।

রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে আজ শনিবার বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান হয়। বইটিতে বর্ণনা করা হয়েছে কীভাবে তৎকালীন মেজর মঞ্জুর, মেজর তাহের, মেজর জিয়াউদ্দিন ও ক্যাপ্টেন বজলুল গনি পাটোয়ারী এবং মঞ্জুরের স্ত্রী, শিশুপুত্র, কন্যা ও এক বাঙালি সৈনিক ঝড়বৃষ্টির রাতে কখনো হেঁটে, কখনো হামাগুড়ি দিয়ে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে কাশ্মীর সীমান্ত পাড়ি দেন।

মুক্তিযুদ্ধে কর্নেল (অব.) বজলুল গনি পাটোয়ারী প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ডেলটা (ডি) কোম্পানির রণক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। এটি ‘সিনিয়র টাইগার্স’ নামে বেশি পরিচিত। তিনি যুদ্ধ করেছেন সিলেট সীমান্তে। মুক্তিযুদ্ধের পর তাঁকে বীর প্রতীক খেতাব দেওয়া হয়।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বইয়ের লেখক বজলুল গনি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতাহীনতায় কেউ বাঁচতে চায় না। বাংলাদেশের মানুষ জেগেছে, জাতি জেগেছে। জাতিকে জাগিয়ে রাখতে হবে। নতুন প্রজন্মকে অভিবাদন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্ম জাতীয়তাবোধকে জাগিয়ে তুলেছে।

বজলুল গনি পাটোয়ারী যে তিনজনের সঙ্গে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের দুজন পরে বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হন। একজন মেজর জেনারেল এম এ মঞ্জুর, অন্যজন কর্নেল আবু তাহের। তাঁরা দুজন প্রয়াত। অন্যদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল পদ থেকে অবসরে যাওয়া জিয়াউদ্দিন অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

শত্রুভূমি থেকে সম্মুখসমরে বইটি প্রকাশ করেছে প্রথমা প্রকাশন। এটি সম্পাদনা করেছেন মেজর (অব.) নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ। তিনি অনুষ্ঠানে বলেন, সম্মুখসমরে যাঁরা যুদ্ধ করেছেন, গুলি করেছেন, মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে এসেছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা নিয়ে বই লেখা হয়েছে খুব কম। সেদিক দিয়ে এই বই একটি নতুন সংযোজন।

বইটি প্রকাশের পেছনের কথাও তুলে ধরেন নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, বজলুল গনি পাটোয়ারীর কাছে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি পুরোনো লেখা ছিল। সেটি থেকে বইয়ের পাণ্ডুলিপি তৈরি করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ২০০৯ সালে প্রথমা প্রকাশন যাত্রা শুরুর পর এখন পর্যন্ত ৮৯০টি বই প্রকাশ করেছে। প্রথমা প্রকাশনের বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের একটি মুক্তিযুদ্ধ। প্রথমা থেকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৫৪। তিনি বলেন, চারজন মুক্তিযোদ্ধার পাকিস্তান থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসার দুঃসাহসিক যাত্রার কথা ভাবা যায় না। যেকোনো সময় তাঁদের মৃত্যু হতে পারত। সম্মুখসমরে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বইয়ের সংখ্যা আসলেই কম।

মতিউর রহমান আরও বলেন, মেজর মঞ্জুরের ওপর একটি বই প্রথমা প্রকাশ করেছে। আরেকটি প্রকাশিত হবে। কর্নেল তাহেরের পাকিস্তান থেকে ফেরার অভিজ্ঞতা বিচিত্রার ১৯৭২ সালের বিজয় দিবস সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। সেটি এই বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বজলুল গনি পাটোয়ারীর স্ত্রী নায়লা পারভীন, মেয়ে সাজিয়া গনি, ছেলে শায়ান গনি, জামাতা এ এন এম মাহফুজ, বড় ভাই আবদুর রাজ্জাক পাটোয়ারী এবং অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা ও প্রথমা প্রকাশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শত্রুভূমি থেকে সম্মুখসমরে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে লেখক কর্নেল (অব.) বজলুল গনি পাটোয়ারীর (বই হাতে) সঙ্গে (বাঁ থেকে) তাঁর জামাতা এ এন এম মাহফুজ, মেয়ে সাজিয়া গনি, স্ত্রী নায়লা পারভীন, ছেলে শায়ান গনি ও বড় ভাই আবদুর রাজ্জাক পাটোয়ারী। আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে
শত্রুভূমি থেকে সম্মুখসমরে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে লেখক কর্নেল (অব.) বজলুল গনি পাটোয়ারীর (বই হাতে) সঙ্গে (বাঁ থেকে) তাঁর জামাতা এ এন এম মাহফুজ, মেয়ে সাজিয়া গনি, স্ত্রী নায়লা পারভীন, ছেলে শায়ান গনি ও বড় ভাই আবদুর রাজ্জাক পাটোয়ারী। আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে। ছবি: প্রথম আলো।

লেবাননে সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে ইসরাইল ভয়াবহ ক্ষতি, ধ্বংসলীলা চারদিকে

লেবাননে সাদা ফসফরাসে তৈরি বোমা হামলা চালিয়ে বাফার জোন বা নিজেদের মতো নিরাপদ অঞ্চল তৈরি করেছে ইসরাইল। ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সাদা ফসফরাস ব্যবহার করে লেবাননে ১৯১ বার হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এই হামলার ফলে ৯১৮ হেক্টর (২২৬৮ একর)-এর বেশি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তারা একটি বাফার জোন তৈরি করেছে। সেখানে ইসরাইলি সেনাবাহিনী নোটিশে জানিয়ে দিয়েছে ওই এলাকায় কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। এর মধ্য দিয়ে  লেবাননের জনগণকে বলা হচ্ছে তারা যেন বাফার জোন ব্যবহার করে তাদের বাড়িঘরে ফেরত না যায়। অনলাইন আল-জাজিরার এক রিপোর্টে বলা হয়, মার্চ মাসে  লেবাননে সাদা ফসফরাস ব্যবহার করে আবাসিক এলাকায় হামলা করে তা বসবাসের অযোগ্য করে তোলে ইসরাইল। ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরের তাপমাত্রায় সাদা ফসফরাস অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে জ্বলে ওঠে। অক্সিজেনের সঙ্গে মিশে ফসফরাস অক্সাইডের সাদা ধোঁয়া সৃষ্টি করে। যতক্ষণ অক্সিজেনের সরবরাহ থাকে ততক্ষণ সাদা ফসফরাস জ্বলতে থাকে। ঠিকমতো অক্সিডাইজ না হলে তা সবজি ক্ষেত, আবাসিক ভবন এবং মানুষের শরীর পর্যন্ত পুড়িয়ে দিতে সক্ষম। ইসরাইল দাবি করে- যুদ্ধক্ষেত্রে সাদাধোঁয়া তৈরি করার জন্য তারা সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে। কিন্তু অধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো দাবি করেছে- লেবানন ও ফিলিস্তিন উভয় দেশের ঘনবসতি এলাকাগুলোতে সাদা ফসফরাস ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল। লুক্সেমবার্গভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক হামজে আত্তার আল-জাজিরাকে বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে সাদা ফসফরাসের ব্যবহার তিনটি ভিত্তির উপর নির্ভর করে। তা  হলো- সৈন্যদের অগ্রগতি অস্পষ্ট করার জন্য সাদা ধোঁয়া হিসেবে ব্যবহার করা, প্রশস্ত খোলা জায়গা থেকে সেনা এবং সামরিক সরঞ্জাম সরানো এবং রকেট উৎক্ষেপণের আগে বা পরে একটি দ্রুত প্রতিক্রিয়া পাওয়ার জন্য। ২০২৪ সালের জুনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কমপক্ষে ৫টি এমন ঘটনার প্রমাণ পেয়েছে, যেখানে ইসরাইলি সেনারা ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় যুদ্ধে বেআইনি উপকরণ ব্যবহার করেছে। বৈরুতে আমেরিকান ইউনিভার্সিটিতে ডিপার্টমেন্ট অব ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইন অ্যানই ইকোসিস্টেম ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যান রামি জুরাইক বলেন, সীমান্ত অঞ্চল জুড়ে ভয়াবহ বোমা হামলা করেছে ইসরাইল। এর মধ্য দিয়ে ওইসব ভূমি থেকে জনগণকে একেবারে নির্মূল করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। যুদ্ধের প্রথম মাসগুলোতে তীব্রতার সঙ্গে দক্ষিণ লেবানন জুড়ে সাদা ফসফরাস ব্যবহারে মনোযোগ দিয়েছে ইসরাইল। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লেবাননের গবেষক ও গ্রিন সাউদার্নার্স নামের পরিবেশবাদী গ্রুপের আহমেদ বেদুইন। ২০২৩ সালে লেবাননে ১৯৯ বার সাদা ফসফরাস ব্যবহার করে আক্রমণ করা হয়। এর মধ্যে অক্টোবরে ৪৫ বার এবং নভেম্বরে ৪৪ বার ছিল যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রথম দুই মাসে করা সবচেয়ে তীব্র আক্রমণ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরাইল পুনরায় হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং দুই মাসের ব্যবধানে প্রায় ৩১৫০ জনকে হত্যা করে। যুদ্ধে নজরদারি বিষয়ক নিরপেক্ষ সংগঠন এসিএলইডি’র মতে, ২০২৩ সালের ৮ই অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ২৭শে নভেম্বর পর্যন্ত ইসরাইল ৪,৮৪১টি সামরিক অভিযান চালিয়েছে।

এছাড়া লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরে আরও ৮,২০৯টি আক্রমণ করেছে তারা। সম্প্রতি ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির কয়েক ঘণ্টা পর থেকে দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা নিজ নিজ আবাসস্থলে ফিরে যেতে শুরু করেন। কিন্তু যুদ্ধবিরতির একদিন পরই ইসরাইল তার মানচিত্রকে  রেড জোন এরিয়া বা লাল সীমাবদ্ধ অঞ্চল দিয়ে প্রকাশ করে। এমন সতর্কতা দিয়ে ইসরাইলি সেনাদের মুখপাত্র আভিচার আদ্রাই এক্সে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে- পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই পথ ব্যবহার করে নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলো। যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে সরে আসার নির্দেশ দেয়া হয়, যাতে লেবাননের সেনাবাহিনী দক্ষিণাঞ্চলে প্রত্যাবর্তন করতে পারে। কিন্তু যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও ইসরাইলি সেনাবাহিনী এখনও দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান করছে। পাবলিক স্টুডিও নামে পরিচিত লেবাননের একটি নগর পরিকল্পনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইসরাইলি সেনাদের আগ্রাসনের ফলে ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র প্রকাশ করেছে। এর বেশির ভাগেই ব্যবহার করা হয়েছে সাদা ফসফরাস। আহমেদ বেদুইন বলেন, ইসরাইল যে এলাকাকে বাফারজোন ঘোষণা করেছে এর ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক। বেদুইন আরও বলেন, ইসরাইলের এই কর্মকাণ্ডের পরিণাম ভয়াবহ। অতি দ্রুত আমাদের এই এলাকা দূষণমুক্ত করা দরকার।  লেবাননের দক্ষিণ অঞ্চল এখনও ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দখলে। থিঙ্কট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের লেবানন বিশেষজ্ঞ নিকোলাস বার্নাডফোল্ড বলেন, আমার মনে হয় বাফারজোনে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো অনুসন্ধান করে ক্ষতির পরিমাণ বাড়াচ্ছে ইসরাইল এবং অযথা সময় নষ্ট করছে। তিনি আল-জাজিরাকে আরও বলেন, এটি কাকতালীয় ঘটনা নয় যে, ১৯৮০ এবং ১৯৯০-এর দশকে তাদের দখলদকৃত অঞ্চলের সঙ্গে এই অঞ্চলের যথেষ্ট মিল আছে। তিনি বিশ্বাস করেন না, ইসরাইলি সেনারা ৬০ দিনের বেশি ওই অঞ্চলে থাকবে। কারণ কোনো দীর্ঘমেয়াদি দখল হিজবুল্লাহ থেকে নতুন প্রতিরোধ তৈরি করবে। এখনো সাদা ফসফরাস ব্যবহার করে ইসরাইলের বাফারজোন তৈরির লক্ষ্য অর্জন হতে পারে। এটি ইতিমধ্যে শত শত হেক্টর জমি নষ্ট করেছে। তাছাড়া ১০ হাজার জলপাই গাছ মারা গেছে। এই শহরে অবস্থিত ভবনগুলোও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে।

mzamin

ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে উদ্বেগ

ইরানের অতি উঁচু মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি। তিনি বলেছেন, শতকরা ৬০ ভাগ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বৃদ্ধি করছে ইরান। এই মাত্রা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে যে পরিমাণ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন তার চেয়ে সামান্য কম। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, সম্প্রতি সিরিয়া, লেবানন ও গাজায় সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে  তেহরান যে ভূমিকা নিয়েছে, তাতে বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। রাফায়েল গ্রোসি বলেন, এটা কোনো গোপন খবর নয় যে- ইরানের অনেক রাজনীতিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। এ নিয়ে কয়েক সপ্তাহে তেহরানে আলোচনা করেছেন গ্রোসি। এরপর তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে ইরান সেই পথে যায়নি বলেই মনে হয়। লন্ডনভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ পরিচালিত ‘মানামা ডায়ালগ’ কনফারেন্সের এক ফাঁকে তিনি এসব কথা বলেন। এই বৈঠক হয় বাহরাইনে। সেখানে রাফায়েল গ্রোসি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন। বলেন, এমন হামলা করা হলে তেহরানের পক্ষ থেকে তার প্রতিশোধ হবে খুবই ভয়াবহ। এমনকি বড় মাত্রায় তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়তে পারে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, অধিক পরিমাণ দেশ পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হওয়ার কথা চিন্তা করছে। এসব অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে জনগণের আলোচনা এখন স্বাভাবিক বিষয়। আইএইএ’র শুক্রবারের এক রিপোর্টে রাফায়েল গ্রোসি বলেন, তেহরানের দক্ষিণে ফরডো পারমাণবিক স্থাপনায় দু’টি সেন্ট্রিফিউজে সরবরাহ দেয়া হচ্ছে আংশিক সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। এই স্থাপনার যে ডিজাইন তাতে দেখা যায়, তারা শতকরা ৬০ ভাগ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারে। এর ফলে আগের তুলনায় প্রতি মাসে তারা ৩৪ কেজি পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে। আগে এর হার ছিল শতকরা ৪.৭ কেজি। ফরদো’তে আরও বেশি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে আইএইএ। এর মধ্য দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে যে, তাদেরকে উচ্চমাত্রায় নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। পারমাণবিক সরঞ্জাম যেন তারা অন্যত্র স্থানান্তর করতে না পারে। ওদিকে সামরিকভাবে পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর কথা প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। রাফায়েল গ্রোসি বলেছেন, গত এক বছর ধরে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, ইরানে পারমাণবিক কর্মসূচি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তা সম্ভবত সঠিক দিকেই অগ্রসর হচ্ছে। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছিল তা ২০২৫ সালে এসে কার্যকর নেই। গত মাসে রাজধানী তেহরান সফরে যান রাফায়েল গ্রোসি। এ সময় তাকে ইরানি নেতারা নিশ্চয়তা দিয়েছেন। তারা বলেছেন, তারা সর্বোচ্চ শতকরা ৬০ ভাগ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন করবেন। গত সপ্তাহে ইউরোপিয়ান ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় সামান্যই অগ্রগতির পর ইরানের  ক্রমবর্ধমান ইউরেনিয়াম উৎপাদনের সিদ্ধান্ত আসে। তিনি বলেন, ইরানের ভিতরেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে নয়, দেশের প্রয়োজনে পারমাণবিক কর্মসূচির পক্ষে বিভিন্ন গ্রুপ।

mzamin

সিলেটে সীমান্ত নদী দেখতে ভোলাগঞ্জ জাফলংয়ে তদন্ত দল by ওয়েছ খছরু

সিলেটের সীমান্ত নদী নিয়ে অনেক প্রশ্ন। বর্ষার প্রলয়ংকরী রূপ নেয়। আর শুষ্ক মৌসুমে ধু-ধু বালুচর। পানির ছিটেফোঁটাও থাকে না। বর্ষা এলেই আতঙ্কে থাকেন সবাই। হঠাৎ বন্যায় ডুবে যায় সিলেট নগর। লোকালয় ভেঙে তীব্র বেগে পানি ঢুকে বাংলাদেশে। ফলে সীমান্ত নদী নিয়ে গঠন করা হয়েছে একটি তদন্ত কমিটি। কয়েকদিন আগে সীমান্ত এলাকার নদীর বর্তমান পরিস্থিতি ঘুরে দেখে এসেছিলেন বিভাগীয় কমিশনার। আর গতকাল পরিদর্শন করেছেন এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সদস্যরা। সিলেট হচ্ছে মেঘালয়ের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকার পাদদেশে অবস্থিত। সীমান্তের ওপারে রয়েছে বিশ্বের বৃষ্টিবহুল এলাকা চেরাপুঞ্জি। বারো মাসই বৃষ্টি হয় ওই এলাকায়। এ কারণে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে বৃষ্টি হলে ডুবে যায় সিলেট। মেঘালয় থেকে সিলেট জেলা দিয়ে কোম্পানীগঞ্জে ধলাই, গোয়াইনঘাটে পিয়াইন, বিছনাকান্দি, জৈন্তাপুরে সারি, কানাইঘাটে লোভা এবং আসামের বরাক থেকে জকিগঞ্জের অমলসীদে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর সৃষ্টি হয়েছে। এসব সীমান্ত নিয়ে সিলেটে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। প্রতিটি নদীর উৎসমুখে পলি ও পাথর জমে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে দিচ্ছে।  জাফলং, বিছনাকান্দি ও ধলাই নদীর উৎসমুখ খননের দাবি দীর্ঘদিনের।

উৎসমুখে জমে আছে শত শত কোটি টাকার পাথর। এসব পাথর ভারত থেকে পানি আসতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এ কারণে এ তিনটি নদীর উৎসমুখ খনন করে নদীগুলোর গতি প্রবাহ স্বাভাবিক করার দাবি উঠেছে। একইসঙ্গে তিনটি নদীর উৎসমুখের পাথর কোয়ারি খুলে দেয়ার দাবি জানাচ্ছে শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা। এ নিয়ে গত তিন মাস ধরে আন্দোলনে রয়েছে তারা। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- স্থানীয়দের কিছু কিছু দাবি যৌক্তিক। এ কারণে প্রশাসন থেকে এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে উৎসমুখ খনন ও কোয়ারি খুলে দেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। এদিকে গতকাল অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) দেবজিৎ সিংহের নেতৃত্বে ১১ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদল ভোলাগঞ্জ ও জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় জাফলং পর্যটক জিরো পয়েন্ট থেকে নদীর পথে নৌকাযোগে সংগ্রামপুঞ্জি বল্লা ঘাট পর্যন্ত এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং জিরো পয়েন্ট ও বিছনাকান্দি জিরো পয়েন্টে পুঞ্জীভূত পাথর অপসারণ, একইসঙ্গে পাথর পুঞ্জীভূত হওয়ার ফলশ্রুতিতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন, নদীর ভাঙন রোধে নদীর নাব্য বৃদ্ধির বিষয়ে করণীয় সংক্রান্ত সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান, সিলেট রেঞ্জের পুলিশ সুপার ও এনটি আমিনুল ইসলাম, সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব হোসাইন মোহাম্মদ আল জুনায়েদ, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক) মো. তৌহিদুল ইসলাম, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে ছালিক রুমাইয়া, গোয়াইনঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সহিদুর রহমান, গোয়াইনঘাটের সহকারী কমিশনার ভূমি সাইদুল ইসলাম, গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ সরকার তোফায়েল প্রমুখ। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) দেবজিৎ সিংহ জানিয়েছেন-জাফলং জিরো পয়েন্ট ও ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্টে পুঞ্জীভূত পাথর অপসারণ, একইসঙ্গে পাথর পুঞ্জীভূত হওয়ার ফলশ্রুতিতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন, নদীর ভাঙন রোধ, সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) এর অধীনস্থ বিওপিটি ধলাই নদীর ভাঙন  থেকে রক্ষার্থে রক্ষামূলক কাজ নির্মাণ এবং জাফলং ও সাদা পাথর পর্যটন স্পট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত নদীর নাব্য বৃদ্ধির বিষয়ে করণীয় সংক্রান্ত সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে গঠিত কমিটির সদস্যদের নিয়ে ভোলাগঞ্জ, ও জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিদর্শনে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হবে। পাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতারা গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন- বর্তমানে সীমান্ত পথে বৈধ ভাবে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। এ কারণে পাথরের সংকট দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় নির্মাণাধীন প্রকল্পের কাজ চালু রাখতে কোয়ারি খুলে দেয়ার দাবি সব মহল থেকে উচ্চারিত হচ্ছে। এদিকে জাফলং, ভোলাগঞ্জ ও বিছনাকান্দি কোয়ারি থেকে প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর থেকে প্রায় ৩শ’ কোটি টাকার পাথর লুটপাট করা হয়েছে। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। পাথরখেকোদের থাবায় ধ্বংস হয়েছে জাফলংয়ের জুমপাড় এলাকার একটি বাঁধ। এই বাঁধ থেকে শতকোটি টাকার পাথর লুটপাট করছে চিহ্নিত পাথরখেকোরা। এ নিয়ে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর নয়াবস্তি ও কান্দুবস্তির লোকজন বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষোভ জানিয়েছেন। পাথর লুট করে বাঁধ নিশ্চিহ্ন করে দেয়ায় ঢলে নয়াবস্তি, কান্দুবস্তি ও লাখের পাড়সহ কয়েকটি এলাকা পানিতে তলিয়ে যাবে বলে জানান তারা।

mzamin

দেশ এখনো এক অজানা অবস্থার মধ্যে আছে

বিশিষ্ট লেখক, চিন্তক ও গবেষক অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেছেন, গত আগস্ট মাসে বাংলাদেশে যে পরিবর্তন হলো তার পেছনে অনেক মানুষের রক্ত,  অনেক মানুষের অশ্রু, অনেক মানুষের আত্মত্যাগ ছিল। যেটার হয়তো কোনো প্রয়োজনই হতো না, যদি আমরা ১৯৭১ সালের আদর্শকে সত্যিকার অর্থেই বুঝতে পারতাম বা পালন করতে পারতাম। এই যে বিপুল মানবসম্পদ ধ্বংস হলো, মানুষের প্রাণ গেল, সবচেয়ে বড় কথা মানুষের বিশ্বাসের অপচয় হলো- এটা ভাবতেই মন দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। শুক্রবার রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে রাজবাড়ী সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে ১১তম আসরের সাহিত্য বৈঠকে প্রধান আলোচক হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

সলিমুল্লাহ খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ হিসেবে আমরা বলেছিলাম সাম্য মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের কথা। তা থেকে আমরা গত ৫০ বছরে ক্রমশ দূরে সরে গিয়েছি। এই ২০২৪ সালের মাঝামাঝি আমাদের তরুণ সমাজ বিশেষ করে মুষ্টিমেয় মানুষ খুশি হয়েছে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে। কিন্তু আমাদের দেশ এখন একটা অজানা অবস্থার মধ্যে আছে। আমরা শুধু আশা করতে পারি এ অবস্থায় আমাদের দেশের মত প্রকাশের, বাকস্বাধীনতার ও সাহিত্য সাধনার সুযোগ কমবে না বরং বাড়বে। কিন্তু গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের সাহিত্যের যে অবস্থা ছিল, তা হলো অন্ধকার যুগ।

রাজবাড়ী সাহিত্য পরিষদের সভাপতি শিক্ষানুরাগী নাসিম শফির সভাপতিত্বে সাহিত্য বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে ফরিদপুর জেলা সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মফিজ ইমাম মিলন, রাজবাড়ী সাহিত্য পরিষদের সহ-সভাপতি ও সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজা খানম, সহ-সভাপতি চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এ সময় এনডিসি নাহিদ আহমেদ, কবি খোকন মাহমুদ, জেলা কালচারাল অফিসার পার্থ প্রতিম দাস, রাজবাড়ীর নারী নেত্রী দেবাহুতী চক্রবর্তী, রাজবাড়ী সাহিত্য পরিষদের সহ-সভাপতি আতাউর রহমান, সাংবাদিক আবু মুসা বিশ্বাস, রাজবাড়ী সাহিত্য পরিষদের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম স্বজন, যুগ্ম সম্পাদক ইউসুফ বাসার আকাশ ও কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হালিম বিশ্বাসসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

mzamin

বিদ্যুৎ ও গ্যাসে বছরে মাথাপিছু ভর্তুকি তিন হাজার টাকা: উপদেষ্টা

বিদ্যুৎ খাতে বছরে ৩২ হাজার কোটি ও গ্যাসে ২০ হাজার কোটি টাকা সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ-গ্যাসে বছরে মাথাপিছু ভর্তুকি দিতে হচ্ছে তিন হাজার টাকা। এ অবস্থার কারণ খুঁজতে হবে। কারা চুক্তি করেছে, কেন করেছে, কেন তারা এটা চাপিয়ে দিয়েছেন- ব্যবসায়ীদেরও অনুশোচনা করা উচিত।

‘অনুমেয় জ্বালানি মূল্য ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। আজ শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে ডিসিসিআই এ সেমিনারের আয়োজন করে।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, গ্যাস সরবরাহে ১০০ কোটি ঘনফুটের বেশি ঘাটতি আছে। ভোলায় ছয় থেকে সাত কোটি ঘনফুট গ্যাস উদ্বৃত্ত আছে। আগে একটি কোম্পানিকে এ গ্যাস সরবরাহের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। এখন উন্মুক্ত হচ্ছে, যে কেউ চাইলে গ্যাস কিনতে পারবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, আগের সরকার দরজা-জানালা বন্ধ করে রেখেছিল। একটা দম বন্ধের পরিস্থিতি ছিল। এখন সব দরজা জানালা খুলে দেয়া হয়েছে।
প্রতিযোগিতার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখন যে কেউ ব্যবসা করতে পারবেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ধাপে ধাপে দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে।
বেসরকারি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎকেন্দ্র আইপিপি থেকে সরকার সরে আসছে উল্লেখ করে ফাওজুল কবির খান বলেন, মার্চেন্ট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করে ব্যবসায়ীরা নিজেদের নির্ধারিত দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করবে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) দামটা জানিয়ে দেবে তারা। এসব কেন্দ্র থেকে ১০-২০ শতাংশ সরকার কিনে নিতে পারে।
ভূতত্ত্ববিদ বদরুল ইমাম বলেন, দেশে গ্যাসের অভাব নেই; বরং সম্ভাবনা অনেক। তাই জ্বালানির জন্য হাহাকারের কোনো অর্থ হয় না। দেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অনুসন্ধান করা হয়নি। আমদানির দিকে ঝোঁক বেশি। এ দেশে গ্যাস না থাকাটাই অস্বাভাবিক। তাই বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমদানি না করে বরং গ্যাস রপ্তানির দিকে যেতে পারে বাংলাদেশ।
সেমিনারে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জ্বালানিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ম তামিম। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট উত্তরণের পথ হলো- দেশে গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো। আমদানি করে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন। বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের যে অবস্থা, তাতে আগামী পাঁচ বছর বর্তমান হারে উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন।
নিবন্ধে বলা হয়, আসলে জ্বালানির মূল্য আগে থেকে পূর্বাভাস করা সম্ভব নয়। কিছু অনুমান করা যেতে পারে। পাঁচ বা ১০ বছরের যেসব অনুমান করা হয়, সেটি কখনোই ঠিক হয় না। ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ হয়তো ১২ টাকার মধ্যেই থাকবে। জ্বালানি তেলের দাম সামনে আরও কমে যাবে। এতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম কমবে। কম দামে এলএনজি কিনে মজুত করে রাখতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা পাঁচ বছরের বেশি হওয়া উচিত নয় বলেও মত দেয়া হয় এতে।
নিবন্ধে বলা হয়, শীতে চাহিদা কমায় চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখতে হয়। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রেখে কেন্দ্র ভাড়া দিতে হয়। এসব কেন্দ্র বাতিলের চিন্তা করা যেতে পারে। শীতের সময় তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকে। গরমের সময় এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎ থেকে চাহিদা মেটানো যায়। এ ছাড়া শীত ও গ্রীষ্মে অফিসের আলাদা সূচি করা যেতে পারে। এতে জ্বালানি সাশ্রয় হবে।
নিবন্ধে আদানির সঙ্গে চুক্তি পর্যালোচনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ভারত থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যে বিদ্যুৎ আসছে, তা সাশ্রয়ী; কিন্তু আদানির সঙ্গে চুক্তিটি অস্বাভাবিক। রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি হওয়ার কথা নয়। এটি পর্যালোচনা করে অন্তত কয়লার দাম কমানো উচিত।
বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের খরচ নির্ভর করে ডলারের ওপর। ডলারের দাম বাড়লে খরচ বাড়বেই। ডলারের দাম কমার তেমন সম্ভাবনা নেই। তাই বাংলাদেশ জ্বালানির উচ্চ দামের মধ্যে বসবাস করবে। আবার গ্যাস সরবরাহের অভাবে উৎপাদন ধরে রাখতে না পারলে শিল্প খাতে ডলার আয় কমে যাবে।
সেমিনারে ব্যবসায়ীরা বলেন, গত সরকারের সময় অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা না করেই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে পেছনের সময় থেকে কার্যকর করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির শেষে দাম বাড়িয়ে তা ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। গ্যাসের দাম বাড়িয়েও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়নি। নতুন সরকারের কাছেও জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি তাদের। একই সঙ্গে দাম বাড়িয়ে আর ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ যেন না হয়; সেটিই তাদের আহ্বান।
সেমিনারে সূচনা বক্তব্য দেন ডিসিসিআই সভাপতি আশরাফ আহমেদ। তাঁর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন কনফিডেন্স গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ইমরান করিম, বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নূরুল আকতার, বিএসআরএমের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স সৌমিত্র কুমার মুৎসুদ্দি প্রমুখ।
নিবন্ধে সংকট উত্তরণে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, বাপেক্সের পাশাপাশি অন্য কোম্পানিকে স্থলভাগের গ্যাস অনুসন্ধানে যুক্ত করা যেতে পারে। এছাড়া সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য এলএনজি রূপান্তরের নতুন টার্মিনালের ব্যবস্থা করা, গ্যাসের আবাসিক গ্রাহকদের মিটার সরবরাহ, আদানির চুক্তি পর্যালোচনা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের সুপারিশ করা হয়।

mzamin

জাতীয় ঐক্যের ডাক সশস্ত্রবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের

দেশের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারা। বলেছেন, ভারতের আধিপত্যবাদী চিন্তা বাদ দিতে হবে। বন্ধুসুলভ আচরণ করতে হবে। কোনো ধরনের আগ্রাসন মেনে নেয়া হবে না। এমন চেষ্টা হলে দেশবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দেবে।

গতকাল রাজধানীর মহাখালীস্থ রাওয়া কমপ্লেক্সের সামনে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যবৃন্দের আয়োজনে ‘ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের’ আহ্বান শীর্ষক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আহ্বায়কের বক্তব্যে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মোহাম্মদ আহসানুল্লাহ বলেন, আমরা সরকারকে আহ্বান করতে চাই- আর কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতি নয়, সাম্যতার ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি। ভারতের জনগণকে আমরা বলতে চাই, আপনাদের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। আপনারা আমাদের বাংলাদেশের জনগণের বন্ধু। কিন্তু ভারতের গেরুয়া পোশাকধারী হিন্দু আধিপত্যবাদকে আমরা কোনোভাবেই এদেশে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতে রাজি নই।

তিনি বলেন, আজকে এখানে আমরা এক হয়েছি ভারতীয় আগ্রাসন ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানাতে। বাংলাদেশ ১২ আউলিয়ার ভূমি। হযরত শাহ্‌ জালাল, হযরত শাহ্‌ মকদুম, অতিশ দীপঙ্কর, শ্রী চৈতন্য, অনুকূল ঠাকুর, লোকনাথ ব্রহ্মচারী প্রমুখের আবাস ভূমি এই বাংলাদেশ। আমরা যুগ যুগ ধরে আমাদের এই শ্যামল ভূমি বাংলাদেশে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছি। কিন্তু আমরা অতি উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি সম্প্রতি বাংলাদেশের লেডি ফেরাউন পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে ভারতের হিন্দু বিদ্বেষী নেতৃত্বের শ্যেন দৃষ্টি পড়েছে আমাদের দিকে। তাদের সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে। তাদের সর্বশেষ উদ্যোগ ছিল আগরতলা ও কলকাতার দূতাবাসে আক্রমণ চালানো এবং  আমাদের দেশের পতাকাকে অবমাননা করা। আমরা এসব ঘটনাগুলোকে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি হিসেবে মনে করছি। এ ছাড়া ভারতের কিছু মিডিয়া, রাজনৈতিক নেতারা বাংলাদেশকে নিয়ে সার্বক্ষণিক বিষোদ্গার করে চলেছে। ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী যেকোনো দূতাবাসে হামলা সে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা। দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে যখন আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা হয়, আমাদের পতাকা পদদলিত হয়, আমাদের দূতাবাসে আক্রমণ হয় তখন আমরা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা চুপ করে থাকতে পারি না। আমরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নিয়েছিলাম। এখনো আমরা সেই শপথ থেকে বিচ্যুত হয়নি। দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে জাতিকে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই। আসুন সব ধরনের রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে ধর্ম-মত ও দলের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করি। এক্ষেত্রে আমাদের দেশের তরুণ ছাত্র এবং শ্রমিক-জনতাকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, যেখানেই আমরা দেখবো আমাদের দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কিছু হচ্ছে আমরা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আপনাদের সঙ্গে নিয়ে সেটা প্রতিরোধ করবো। তিনি বলেন, আমাদের এবং আপনাদের মধ্যে অনেক বিভাজন হয়ে গেছে। আমাদের সামরিক বাহিনী ও বেসরকারি বাহিনীর মধ্যে যেই সম্পর্ক থাকার কথা গত সরকারের আমলে এটা আরও অবনতি হয়েছে। আমরা এই দেশেরই সন্তান। আপনাদের সবাইকে এক থাকতে হবে।

সেনাবাহিনীর এই সাবেক কর্মকর্তা বলেন, আমরা যেই আজকে ঐক্যবদ্ধতার ডাক দিয়েছি আমাদের এই প্রচেষ্টা এখানেই শেষ নয়। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ-আন্তর্জাতিক যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র হলে আমরা এদেশের সকলকে নিয়ে সেই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে চাই। আমরা সশস্ত্র বাহিনীর লাখ লাখ প্রশিক্ষিত সৈনিক, হাজার হাজার প্রশিক্ষিত অফিসার সব সময় এদেশের জনগণের পাশে ছিলাম, থাকবো। আমরা যেকোনো প্রয়োজনে দেশের জন্য জীবন বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত।

প্রতিবাদ সমাবেশে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনীষ দেওয়ান বলেন, ৫ই আগস্টে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতনের পর আমরা আবারো এখানে জমায়েত হয়েছি, এক হয়েছি শুধু জনগণের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করার জন্য। ভারতের বিরুদ্ধে, ভারতের আধিপত্যের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম জারি রাখার জন্য। আজকে আমি একটা বার্তা দিতে চাই। মোদি জি, অমিত জি এবং রাজনাথ সিং জি আপনারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যেটা দেখেছেন ’৭২ সালের সেই সেনাবাহিনী আর এখন নাই। আমরা যেকোনো শত্রু মোকাবিলায় প্রস্তুত। আপনারা আর আস্ফালন তুলবেন না। শুধু আমরা সশস্ত্র বাহিনী নই এই দেশের ১৭ কোটি জনগণ আপনাদের সীমান্তেই রুখে দিতে পারে।    

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল লুৎফুল হক বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের সকল জাতীয় চুক্তিগুলো তুলে ধরুন। যেসব ভারতীয় বাংলাদেশে আছে, সেগুলো পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজন না থাকলে তাদের ফেরত পাঠানো হোক। যেসব ভারতীয় মিডিয়া সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছে দেশে সেগুলো বাতিল করা হোক। প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে বিভিন্ন বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের অংশগ্রহণে রাওয়া ক্লাবের সামনে থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচ থেকে শুরু হয়ে তেজগাঁও বিমান বন্দরের সামনে হয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সংলগ্ন সড়কের ইউটার্ন দিয়ে ঘুরে আবারো রাওয়া ক্লাবের নিচে গিয়ে শেষ হয়। 

mzamin

সংসদ সদস্যরা নিজ এলাকায় রীতিমতো জমিদার

সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ে ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন ঘটেছে। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় রীতিমতো জমিদার হয়ে যান। ফলে স্থানীয় সরকার অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। সেইসঙ্গে গত তিনটি নির্বাচন ছিল ত্রুটিপূর্ণ। সেই নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আবার কেবল রাবার স্ট্যাম্পের মতো কাজ করতেন। ফলে অবসরে তারা ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কাজে সময় ব্যয় করেছেন বলে মন্তব্য করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান।

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) উদ্যোগে আয়োজিত এবিসিডি সম্মেলনে অংশ নিয়ে রেহমান সোবহান এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক বিনায়ক সেন।
রেহমান সোবহান বলেন, বিগত সরকারের প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান ও গুণগত মান নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকলেও সেই সময় দেশে দারিদ্র্য বিমোচনের গতি ভালো ছিল। দারিদ্র্যের বহুমুখী সূচকেও বাংলাদেশ ভালো করেছে। মানব উন্নয়নেও ভালো করেছে। শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রতিবেদনেও দারিদ্র্য বিমোচনের বিষয়টি নিয়ে কেউ চ্যালেঞ্জ করেনি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন উল্লেখযোগ্য। দারিদ্র্যের হার ৫৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশে নিয়ে আসা যেসব বিচারে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করি। পুষ্টিমান, শিশু মৃত্যু, পড়াশোনার সময়, পানের পানির প্রাপ্যতা, আবাসন- এসব ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন।

তিনি আরও বলেন, গবেষকদের কাজ হবে বাংলাদেশ প্যারাডক্সের নতুন রূপের সন্ধান করা। এতদিন সুশাসনের অভাবের মধ্যে কীভাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তা নিয়ে ছিল বিস্ময়। এখন দেখতে হবে, এ ধরনের অসম সমাজ ও অপশাসনের মধ্যে কীভাবে দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবসম্পদ উন্নয়নে এতটা ভালো করল বাংলাদেশ। আমার বিশ্বাস, এ গবেষণা করতে গিয়ে অর্থনীতিবিদরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন। দেশে বৈষম্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে কাঠামোগত সমস্যা আছে। যেভাবে ঋণখেলাপিরা সুবিধা পেয়েছেন, সরকারের এু জাতীয় নীতি দেশে অসমতা বৃদ্ধি করেছে।

অর্থনীতিবিদদের সমালোচনা করে রেহমান সোবহান বলেন, অসমতা পরিমাপের ক্ষেত্রে শুধু খানা আয়-ব্যয় জরিপের পরিসংখ্যান ব্যবহার করা হচ্ছে; এর বাইরে কেউ যাচ্ছে না। তার মত, এক্ষেত্রে আয়করের বিবরণী গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘খানা আয়-ব্যয় জরিপে শীর্ষ আয়ের মানুষের যে মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে, তা হলো- ১০ লাখ টাকার সম্পদ ও মাসিক ৩০ হাজার টাকা আয়। এ সম্পদ এবং আয় গুলশান ও বারিধারার বেশির ভাগ গাড়িচালকেরই আছে। তার মত, এ মানদণ্ড বিচার করা হলে আমাদের মতো অনেক মানুষই পরিসংখ্যান থেকে হারিয়ে যাবে।’ ফলে গবেষকরা যা করছেন, তা মূলত আলংকারিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ের বলে মনে করেন তিনি।

রেহমান সোবহান আরও বলেন, সমাজে বৈষম্য বাড়ছে। কিন্তু সেই বৈষম্যের চরিত্র যথাযথভাবে চিত্রিত করা হচ্ছে না। কোথায় কোথায় কোন খাতে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে, তা নিরূপণ করা গেলে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব।

mzamin