Thursday, February 12, 2015

সহিংসতা দমনে প্রয়োজনে এনকাউন্টার: শেখ সেলিম

(বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার গুলশান গোলচত্বরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিম। ছবি: ফোকাস বাংলা) আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, সহিংসতা দমনে প্রয়োজনে নাশকতাকারীদের এনকাউন্টারে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশান ২ নম্বর গোল চত্বরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, যারা বলেন এনকাউন্টার মানবতাবিরোধী অপরাধ; তাদের কাছে জিজ্ঞাসা, পেট্রলবোমা দিয়ে মানুষ পোড়ানো কী মানবতাবিরোধী অপরাধ না? বিএনপিকে ‘জঙ্গি সংগঠন’ উল্লেখ করে শেখ সেলিম বলেন, ‘বিএনপি একটি জঙ্গি সংগঠন। অন্যান্য দেশের জঙ্গি সংগঠনের মতো তাদেরও বিচার করতে হবে। সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের রক্তের ওপর পা রেখে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে  কোন আলোচনা হবে না বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, যেসব বুদ্ধিজীবী সংলাপের কথা বলে সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছেন, তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, সুশীল! সু অর্থ ভালো আর শীল অর্থ নাপিত। আপনাদের দিয়ে রাজনীতি হবে না। আপনারা ভালো কামাইতে পারেন। বিএনপির নেতারা আন্দোলনে যোগ না দিয়ে বিদেশে পালিয়ে আছেন উল্লেখ করে শেখ সেলিম বলেন, বিএনপি নেতারা আন্দোলনে না থেকে বিদেশে পালায় রইছে। কিন্তু খালেদা জিয়াকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হবে না। যেসব সাংবাদিক সহিংসতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ  রেখে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মোবাশ্বের  চৌধুরী।

দমবন্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি চায় মানুষ by মীর আব্দুল আলীম

দেশের দমবন্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি চায় মানুষ। কিন্তু কিভাবে? গ্রাম-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায় সবারই উত্তর প্রয়োজন সংলাপ। তবে সংলাপ নিয়ে গোটা দেশ চিৎকার করলেও সরকারপক্ষ থেকে উদ্যোগ না নিলে তা হবে না। এ কারণেই উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। কিন্তু এমন লক্ষণ তো দেখা যাচ্ছে না। টিভির টকশোতে সরকার দলের লোকজন গলা ফাটিয়ে বলছেন সংলাপ হবে না। খুনি, জঙ্গিদের সঙ্গে কিসের সংলাপ? এ অবস্থায় কেটে গেছে এক মাস। অবরোধের মধ্যে আবার হরতাল। পিছিয়ে গেছে এসএসসি পরীক্ষা। সরকারি ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার দেশের বৃহত্তম এ পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। দীর্ঘ এক মাসে অবরোধ হরতালে দেশ কতটুকু এগিয়েছে? এর উত্তর সবার জানা। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের পর দীর্ঘ এক বছর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট আন্দোলন করেনি। দেশে কোন সহিংসতাও ছিল না। এক বছর ধরে বিএনপি বলে আসছিল সংলাপের কথা। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা। সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। বরং সরকারের কোন কোন মন্ত্রী ও এমপি জোর গলায় বলতে থাকেন বিএনপির আন্দোলনের মুরদ নেই। গত ৩রা জানুয়ারি সরকার বিএনপি চেয়ারপারসনকে তার গুলশান অফিসে অবরুদ্ধ করে ফেলে। ৪ঠা জানুয়ারি গোটা দেশ থেকে রাজধানী ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় সরকার নিজেই। আর ৫ই জানুয়ারি খালেদা জিয়া সেই অবরোধের ধারাবাহিকতা ঘোষণা করে, যা এখনও চলছে। এ সময়ে সবচেয়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে পেট্রলবোমা। বার্ন ইউনিটের আহাজারি গোটা দেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। জ্বালাও-পোড়াও, গুম, খুন আর দেশে লাশের সারি যখন দীর্ঘ হচ্ছে, তখন নাগরিক সমাজ এগিয়ে আসে। অবশ্য সংলাপের জন্য জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গুরুত্বারোপ করে আসছে। সহিংসতা বন্ধেও তারা তাগিদ দিয়ে আসছে। পাশাপাশি দেশের ব্যবসায়ী সমাজ, সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, সেমিনার ও বিবৃতির মাধ্যমে সংলাপের আহ্বান জানাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সংলাপের উদ্যোগ নিতে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে এ ব্যাপারে সহায়তা করতে চিঠি দেয়া হয় বিএনপি চেয়ারপারসনকেও। কিন্তু এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন ক্ষমতাসীনরা। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, নাগরিক সমাজের সংলাপের প্রস্তাব অবাস্তব ও অগ্রহণযোগ্য। পেট্রলবোমা দিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যাকারীদের সঙ্গে সংলাপ হতে পারে না। নাগরিক সমাজ সন্ত্রাস, নাশকতা ও সন্ত্রাসী তৎপরতাকে আড়াল করার জন্য এবং একটি গণতান্ত্রিক দলকে তাদের সঙ্গে একই কাতারে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে। সংলাপের ব্যাপারে অনীহা দেখিয়ে সরকার উল্টো চলমান আন্দোলনকে কঠোরভাবে দমন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নির্দেশ দেয় সংশ্লিষ্টদের। এতে আশাহত দেশবাসী। দেশবাসী সংলাপ চায় শান্তির জন্য। সংলাপ হলে অন্তত দেশবাসী অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাবে। যে কোন মূল্যেই সংলাপ চায় দেশবাসী।
গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী দল থাকবে এবং তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে- এটাই স্বাভাবিক। আর এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে তাদের মধ্যে সহনশীলতা অবশ্যই কাম্য। দেশের কথা, জনগণের কথাও ভাবতে হবে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে। ধৈর্য মহৎ গুণ। কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও শুধু নিজেদের অবস্থানে অনড় না থেকে জনগণের কথা ভেবে পরস্পর আলোচনায় বসতে হবে। এ সংলাপ কোথায় হবে, কারা কিভাবে এগিয়ে আসবে- এসব কারণ দেখিয়ে অযথা কালক্ষেপণ মোটেও সমুচীন নয়। উচিত নয় সংলাপের আগেই শর্ত জুড়ে দেয়া। একসঙ্গে সবাই সংলাপে বসুক- এটাই এখন সবাই দেখতে চায়।

খালেদা অভুক্ত -বিএনপির অভিযোগ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার কার্যালয়ে অবস্থানরত সকলেই কাল রাত থেকে অভুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে দলটি। দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বুধবার রাত থেকে খাবার ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে সরকারী পেটোয়া পুলিশ বাহিনীর লোকেরা। খালেদা জিয়া এবং কার্যালয়ে অবস্থানরত সকলেই এখনও অভুক্ত অবস্থায় আছেন। তিনি বলেন, ভাতে মারার আর পানিতে মারার নীতি অবলম্বন করে, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে, টেলিফোন, ফ্যাক্স, ইন্টারনেট ক্যাবলসহ সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে শেখ হাসিনা নিষ্ঠুর কায়দায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। জলকামান, বালির ট্রাক, মরিচের স্প্রেসহ সকল ঘৃন্য কায়দায় নির্যাতন প্রচেষ্টা স্বত্বেও জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে দেশনেত্রীকে একচুলও সরাতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। অবশেষে ইতিহাসের জঘন্যতম বর্বর ও হীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আওয়ামী সরকার সারাবিশ্বের কাছে বাংলাদেশের সম্মানকে ভুলুন্ঠিত করছে। এদিকে বুধবার রাতে পুলিশ খাবার নিতে বাধা দেয়ার পর থেকে গুলশানের কার্যালয়ে বাইরে থেকে খাবার যায়নি। এতে ওই কার্যালয়ে অবস্থান করা কর্মকর্তা-কর্মচারিরা শুকনো খাবার খেয়ে সময় পার করছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবীর খান। তিনি জানান, আজ সকালের নাশতাও যায়নি ওই কার্যালয়ে। দুপুরের খাবারও যায়নি। এদিকে বুধবার রাতে একটি ভ্যানে করে খাবার আনা হলেও পুলিশ খাবারসহ ভ্যানটি ফেরৎ পাঠায়। যদিও এ বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়। এদিকে আজ দুপুরের পর কার্যালয়ে কয়েকজন সাংবাদিক প্রবেশ করতে চাইলে তাদেরও প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ।

মায়া-হরিণ by নির্মলেন্দু গুণ

নির্মলেন্দু গুণ
কাল তো প্রায় তোমার প্রেমে
পড়েই গিয়েছিলাম।
অজানা এক নেশায় পাগল
রাত ছিল কাল রাতে।
পড়েই গিয়েছিলাম বলি কেন?
পড়ে গিয়েছিলাম বলাই শ্রেয়।
তোমার প্রেমে পড়েছিলাম যে,
বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই তাতে।
সদ্যকাটা চাকের মধুর মতো
কাল সেই মদিরঘন রাত,
শ্যালা নদীর তীরবর্তী বনে
কেঁপেছিল বাঘিনী-গর্জনে।
বৃদ্ধ হলেও বাঘ তো আমি বটে,
বাস্তবে না হলেও তোমার ডাকে
মনে-মনে দিয়েছিলাম সাড়া।
মায়া-হরিণ জড়াতে যাবো যেই,
দেখি তোমার আমার মাঝখানে
বন বাওয়ালী যমের মত খাড়া।
------------------------
নির্মলেন্দু গুণ
০৫.০১.২০১৫
=====================================

প্রেমে পড়ার খবর -নয়া দিগন্ত
কিশোরীকে বিয়ের দাবীতে বৃদ্ধের অনশন
বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা
প্রবাদ আছে প্রেম মানে না, জাতি,বর্ণ, ধর্ম ও বয়স। বিয়ের দাবীতে প্রেমিকারা প্রেমিকের বাড়ীতে অনশনের ঘটনা ঘটলেও এবার তার উল্টো ঘটনা ঘটেছে। এবার ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ ১৩ বছর বয়সী প্রেমিকার বাড়ীতে বিয়ের দাবীতে দুইদিন ধরে অনশন করছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের বনগ্রামে। ওই বৃদ্ধের নাম আলাউদ্দিন শেখ (৬০)। তার ৪ মেয়ে ১ ছেলে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বনগ্রামের ওই বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, আলাউদ্দিন শেখ তার ১৩বছর বয়সী প্রেমিকার বাড়ীতে বিয়ের দাবীতে অবস্থান করছে। খবর শুনে আশপাশের এলাকার লোকজন ভীড় জমিয়েছে। এলাকায় নানা ধরনের গুঞ্জন ও রম্য কথা বার্তা শোনা যাচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, অনশনের খবর শুনে আমরা দেখতে এসেছি। তবে এনিয়ে কেউ গ্রাম্য শালিসের উদ্যোগ নিচ্ছে না। এতে এলাকার পরিবেশ ও সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।
ওই বাড়ীর মালিক জানান, তার কন্যার বয়স ১৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে পাশের বাড়ীর আলাউদ্দিন শেখ নানা ভাবে উত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে রাজবাড়ী আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বুধবার থেকে বিয়ের দাবী নিয়ে আলাউদ্দিন শেখ বাড়ীতে উঠেছে।
১৩ বছর বয়সী ওই তরুনী জানায়, তার সাথে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক চলে আসছে। সে তাকেই বিয়ে করতে কোন আপত্তি নেই।
আলাউদ্দিন শেখ জানান, আমি তাকে ভালোবাসি, তাকেই বিয়ে করব। কেউ বাধা দিয়ে ঠেকাতে পারবে না। কারন আমরা দু’জনই বিয়েতে রাজি আছি।
আলাউদ্দিনের স্ত্রী জানান, বাধা দিয়েও ঠেকাতে পারছি না, দুইদিন ধরে ওই বাড়ীতে উঠেছে। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আলাউদ্দিন শেখ (৬০)

খবরে 'খবর' হোক by মাহফুজুর রহমান মানিক

কোনো কিছুর অবস্থা যাচাইয়ের নানা পদ্ধতি রয়েছে। শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করে ব্যক্তির জ্বর আছে কি-না বোঝা যায়। চোখের পানি ব্যক্তির অনুভূতির পরিচায়ক। এ রকম প্রত্যেকটির অবস্থা পরিমাপ করতে একেকটি যন্ত্র, স্কেল বা পরিমাপক আছে। ভূমিকম্প হলে রিখটার স্কেল বলে দেয় তার মাত্রা কেমন। পাল্লা বলে দেয় বস্তুর ওজন। ল্যাক্টোমিটারে দুধের বিশুদ্ধতা পরিমাপ হয় কিংবা পরীক্ষা প্রমাণ করে শিক্ষার্থীর মেধা। তারপরও কিছু থেকে যায়। যেগুলো মাপার সাধারণ যন্ত্র নেই। অবস্থা বোঝার বৈজ্ঞানিক সূত্র নেই। তবুও বিভিন্নভাবে আমরা অনুভব করি।
সংবাদমাধ্যমে নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কাজ সংবাদ নিয়ে। সংবাদকে তারাও বিভিন্নভাবে মাপেন। কোন খবর বড় করে দেবেন, কোনটা ছোট করবেন_ এটা তাদের বিবেচ্য। এ বিবেচনারও হয়তো নানা মাত্রা আছে। নির্দিষ্ট জেলার খবর হলে ওই জেলার পত্রিকায় ঘটনাটি যতটা গুরুত্ব পাবে, জাতীয় পত্রিকায় আসলে খবরটি হয়তো সে গুরুত্ব পাবে না। সংবাদমাধ্যমের নির্দিষ্ট নীতি অনুযায়ী কোনো খবর ছোট-বড় হতে পারে। এর বাইরেও সর্বজনীন বলে কথা আছে। কোনো জেলায় কিংবা দেশের কোনো জায়গায় একটি বড় দুর্ঘটনা ঘটলে, সেখানে অন্তত একশ' মানুষ মারা গেলে দেশের সব সংবাদমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম কোনটা হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এটা খবরের মাত্রাগত দিক থেকে যতটা সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য মানুষের প্রত্যাশার কারণে।
এ রকম বড় ঘটনা অবশ্য প্রধান খবর হয়ে প্রকাশ হওয়ার মানে এটাও প্রমাণ করে, প্রশাসনের মনোযোগের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত দুর্ঘটনাটি। এটা অবশ্য প্রত্যেক খবরের ক্ষেত্রেই সত্য। খবরটি প্রকাশ হওয়ার মাধ্যমে সেটি মানুষ যেমন জানছে, তেমনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও যেন তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
দেশে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যে সংকট চলছে, তার খবর বলা চলে প্রতিনিয়তই দেশের সবক'টি সংবাদমাধ্যমে প্রধান খবর হিসেবে প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়ে আসছে। খবরটি কেবল দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, দেশের সীমানা পেরিয়ে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক প্রায় সব সংবাদমাধ্যমেই গুরুত্বের সঙ্গে এসেছে। এ সংকট কতটা গুরুতর, তা হয়তো এটা দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক অনেক সংবাদমাধ্যমই আছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে হয়তো ২-৩ মাসের মধ্যেও বাংলাদেশের খবর পাওয়া যায় না। সে একই সংবাদমাধ্যমে এই সময়ে খবর হয়েছে ৪-৫টি কিংবা তারও বেশি। এমনকি হয়তো একই দিনে দুটি খবরও প্রকাশ হয়েছে। এখানে খবরের সংখ্যা যত না গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি সংকটের মাত্রা। তবে এটাও বলে রাখা দরকার, নেতিবাচক সংবাদই বলা চলে সংবাদমাধ্যমে বেশি আসে। খুব ভালো খবর না হলে স্বাভাবিক অবস্থার খবর আন্তর্জাতিক মাধ্যমে তেমন দেখা যায় না। কিন্তু বলার বিষয় হলো, যে সংকটটি প্রতিনিয়ত আমাদের সংবাদমাধ্যমে প্রধান খবর হয়ে আসছে। সে সংকটটি পেট্রোল বোমায় মানুষ মেরে আরও ঘনীভূত হচ্ছে। যে সংকটটি দেশের ১৫ লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা অনিশ্চিত করছে। যে সংকটের অনিশ্চয়তায় রয়েছে ৩০ লাখ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা। যার কারণে অর্থনীতির হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। সাধারণ মানুষ কাজ হারাচ্ছে, খেতে পারছে না_ সে সংকটটি আসলে কতটা 'সংকট' হিসেবে আমাদের কর্ণধাররা বিবেচনা করছেন তা জানা নেই। তবে রাজনৈতিক এ সংকট ও অচলাবস্থায় যে রাজনীতিবিদদেরই এগিয়ে আসতে হবে। খবরে সময় থাকতে খবর না হলে, হয়তো তাদের রাজনীতি থাকবে, কিন্তু যাদের জন্য রাজনীতি করবেন, তারা থাকবে কি?

‘বিএনপি-জামায়াত বিনা কারণে মানুষ মারছে’ -প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিনা কারণে মানুষ পুড়িয়ে মারছে বিএনপি-জামায়াত  জোট। তাদের কাছে এসব নিরীহ মানুষের জীবনের  কোন মূল্য নেই। তারা অকারণে সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারছে। যারা পুড়ছেন, যারা মারা যাচ্ছেন, তারা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের জীবনের মূল্য বিএনপির কাছে নেই। হরতাল-অবরোধে এ পর্যন্ত ১০০-এর কাছাকাছি মানুষ মারা গেছেন। বহু মানুষ পেট্রল বোমায় পুড়ে দগ্ধ হয়েছেন। বাংলাদেশে কোন জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের স্থান হবে না। দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে- নিরাপদে থাকতে পারে তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। আজ সকালে কালিয়াকৈরের সফিপুর আনসার ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩৫তম জাতীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি ঠিক সেই সময় বিএনপি মানুষকে পুড়িয়ে মারছে। সহিংসমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। আমরা দেশের ছেলেমেয়েকে শিক্ষিত করতে চাই। বিনা মূল্যে তাদের বই দিচ্ছি। কিন্তু হরতাল-অবরোধের কারণে ছেলেমেয়েরা এসএসসি পরীক্ষা ঠিকমতো দিতে পারছে না। এ সময় সহিংস কর্মকাণ্ড দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, কোন বাধা ও ষড়যন্ত্র দেশকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা সরকারের দায়িত্ব। আনসার বাহিনীর সদস্যরা অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করছে। তারা মহাসড়কে মানুষের জানমাল রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছ। নারীর ক্ষমতায়নেও তারা কাজ করেছে। তিনি আরো বলেন, সাত বছর পর সৌদি আরবে সামান্য খরচে দেশের মানুষ যাচ্ছে। বিদেশে ৮৫ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে  পেরেছে। অর্থনৈতিকভাবে দেশ এগিয়ে গেছে। দেশের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। আগামী ৪ বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ দারিদ্র্য কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুর আনসার ভিডিপি একাডেমিতে  পৌঁছান। সেখানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সমাবেশে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজে অভিবাদন ও সালাম গ্রহণ করেন।

এবার ভারত জয়ের স্বপ্ন অরবিন্দ কেজরিওয়ালের

ভারতজুড়ে মোদি ঢেউকে সুনামিতে চাপা দিয়ে দিলি্লতে ভূমিধস জয় পেল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (এএপি)। আগেরবার মাত্র ৪৯ দিনের মাথায় ক্ষমতা ছাড়লেও মানুষ আবার বিপুল সমর্থন দিয়ে তাদেরই ফিরিয়ে এনেছে। অর্থাৎ জনগণ এখন এএপির মতো দলকেই ক্ষমতায় দেখতে চাইছে। দিলি্লর মানুষের মতো ভারতবাসীর চাওয়াও কি তাই? প্রশ্ন উঠছে, এবার কি তাহলে পুরো ভারত জয়ের স্বপ্ন দেখতে পারে দলটি? এর মধ্যে বিহার ও পাঞ্জাবসহ অন্যান্য রাজ্যে প্রচার শুরুর পরিকল্পনা করেছে তারা। সেখানে আম আদমির কেমন সাড়া পাবে এএপি?
দুর্নীতিবিরোধী এজেন্ডা নিয়ে রাজনীতিতে আসা এএপির সাফল্যের ইঙ্গিত মিলেছিল আগেই। গতবারের বিধানসভা নির্বাচনে পেয়েছিল ৭০টির মধ্যে ২৮টি আসন। প্রথম ভোটের লড়াইয়ে নেমেই এএপির এ বিজয় বলে দিয়েছিল, সামনে আরও চমক দেখাবে তারা। এবার তারই প্রমাণ মিলল। গত বছরের লোকসভা নির্বাচনে দিলি্লতে জয় না পেলেও ভোটের হিসাবে সাতটি আসনেই তারা ছিল দ্বিতীয়। আর পাঞ্জাবে জয়ী হয় চারটি আসনে। লোকসভায় এএপির প্রাপ্তি বলতে ওইটুকুই। কেজরিওয়াল তখন স্বীকার করেছিলেন, সাংগঠনিক সমর্থন ছাড়া ভোটের মাঠে নামাটা ছিল তাদের কৌশলগত ভুল। দলের নেতা যোগেন্দ্র যাদব বলেন, দেশে এক ধরনের রাজনৈতিক শূন্যতা আছে, যা নতুনদের মাধ্যমে পূরণের অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা সে শূন্যতাই পূরণ করব। তিনি জানান, শিগগিরই তারা বিহারে প্রচারে নামবেন। এ বছরই সেখানে নির্বাচন হওয়ার কথা। দিলি্ল জয়ের অভিজ্ঞতা ও উচ্ছ্বাস সেখানে তাদের বাড়তি সুবিধা দেবে। এ ছাড়া এএপি নেতৃবৃন্দ লোকসভা নির্বাচন-পরবর্তী সময় দল গোছাতে কাজে লাগিয়েছেন।
এএপির আরেক লক্ষ্য পাঞ্জাব, যেখানে ক্ষমতাসীন শিরোমণি আকালি দল ও বিজেপির জোট দুর্নীতি-মাদকের বিস্তারসহ নানা অভিযোগে চাপের মুখে রয়েছে। ওই রাজ্যে ২০১৭ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। গত লোকসভা নির্বাচনে ২৪ শতাংশ ভোট পেয়ে পাঞ্জাবে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আম আদমি পার্টি। ফলে সেখানেও এএপির সাফল্যের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া আগামী বছর আসাম, কেরালা, পদুচেরি, তামিলনাড়ূ ও পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা। এর মধ্যে আসাম, কেরালা ও পদুচেরিতে ক্ষমতায় আছে কংগ্রেস। আর পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ও তামিলনাড়ুতে জয়ললিতার এআইএডিএমকে ক্ষমতাসীন। পশ্চিমবঙ্গের মমতা সরকার সারদা কেলেঙ্কারিসহ নানা সমস্যায় বিপর্যস্ত। আর ভারতজুড়ে ভোটের রাজনীতি থেকে কংগ্রেসের নাম যেভাবে মুছে যাচ্ছে তাতে জনগণ আম আদমি পার্টিতেই ভরসা খুঁজবে, নাকি মোদি ঝড় অব্যাহত থাকবে তা সময়ই বলে দেবে। টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে।

দিল্লি জয়ী ৬ নারী

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে ৬ আসনে নারী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। তারা সবাই এএপির। তবে ৭০ আসনের একটি বিধানসভাতে মাত্র ৬ জন নারী মুখ_ সংখ্যাটা খুব ছোটই। ৩৯ বছর বয়সী অলকা চাঁদনি চক থেকে জয়ী হন। বিশ বছর ধরে অলকা কংগ্রেসের বিশ্বস্ত নেত্রী ছিলেন। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে দল ত্যাগ করে এএপিতে যোগ দেন। অলকা কংগ্রেসের প্রার্থী বর্তমান এমএলএ পরলাদ সিং সাহনি এবং বিজেপি প্রার্থী সুমন কুমার গুপ্তকে বিশাল ব্যবধানে হারান। ২৭ বছর বয়সী এএপি নেত্রী রাখি বিড়লা পশ্চিম দিলি্লর মঙ্গলপুরি আসন থেকে ২০১৩ সালের নির্বাচনে সবচেয়ে কনিষ্ঠ নারী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন কংগ্রেসের রাজ কুমার চৌহানকে হারিয়ে। এবারও চোহানকে বিশাল ব্যবধানে হারান তিনি। ভাবনা গৌর হারিয়েছেন পালাম আসন থেকে ১০ বছর ধরে বিজেপির সদস্য ধর্ম দেব সোলাঙ্কিকে। ৪২ বছর বয়সী এই নারী ৩০ হাজার ভোটের বিপুল ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থীকে হারিয়েছেন। ২৮ বছর বয়সী সারিতা সিং বিজেপি প্রার্থী জিতন্দর মহাজনকে ৭ হাজার ৮৭৪ ভোটে হারিয়েছেন। পারমিলা টোকাস আরকে পুরম আসন থেকে বিজেপি প্রার্থী অনীল কুমার শর্মাকে ১৯ হাজার ভোটে হারিয়ে নতুন এমএলএ নির্বাচিত হন। বন্দনা কুমারী শালিমার বাগের আসন থেকে বিজেপির প্রার্থী রেখাগুপ্তকে ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে বন্দনা কুমারী আবারও নির্বাচিত হলেন। এনডিটিভি, হাফিংটনপোস্ট।

শিক্ষা কার্যক্রম ধ্বংস করবেন না by ওয়ালিদ বিন বকুল

২০ দলের ডাকা হরতাল-অবরোধের কারণে বারবার যেমন পিছিয়ে যাচ্ছে মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা, একই সঙ্গে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। সবাই প্রত্যাশা করেছিল, শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে অন্তত পরীক্ষার সময় হয়তো অবরোধ তুলে নেবে বিএনপি ও তাদের জোট। কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি দিয়ে অবরোধের পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে টানা হরতালের মতো কর্মসূচি। যে কারণে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক নিয়ে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে ১৫ লাখ শিক্ষার্থীকে, দুশ্চিন্তায় ভুগতে হচ্ছে তাদের অভিভাবকদের। এসএসসি পাবলিক পরীক্ষা বলে এর দিকে সবার নজর থাকে। কিন্তু একই সঙ্গে বর্তমান সংকট উচ্চশিক্ষায় কতটা প্রভাব ফেলছে তা বলার অবকাশ রাখে না। এসএসসি যেমন ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য পর্যায়ে যে লাখ লাখ শিক্ষার্থীসহ গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতি হচ্ছে তা রাজনৈতিক দলগুলোর বিবেচনায় নেওয়া দরকার। সমকালের ৫ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর দুশ্চিন্তার কথা এসেছে, যেখানে ২০ দলের লাগাতার অবরোধ-হরতালে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম। হাতেগোনা দু'একটি বাদে বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা হচ্ছে না। পিছিয়ে যাচ্ছে একের পর এক পরীক্ষা; তৈরি হচ্ছে সেশনজট। ফলে প্রায় ৩০ লাখ ছাত্রছাত্রীর শিক্ষাজীবন আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
এভাবে শিক্ষার্থীদের এবং সর্বোপরি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার যে ক্ষতি হচ্ছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কিন্তু এসব নিয়ে যেন মাথাব্যথা নেই রাজনীতিবিদদের। তারা ব্যস্ত তাদের হিসাব-নিকাশ মেলানো নিয়ে। এক পক্ষ হরতাল দিয়ে ভাবছে, সরকারকে বিপাকে ফেলতে পারছে। অপরপক্ষ ভাবছে বিরোধী পক্ষ পরীক্ষার সময় হরতাল দিয়ে বড় ভুল করেছে। এই ইস্যু নিয়ে জনগণকে ক্ষেপিয়ে দিতে পারলে ক্ষমতার আসন পাকাপোক্ত হবে নিশ্চিত। কিন্তু তাদের এই ইঁদুর-বিড়াল, দাবার ঘুঁটি চালাচালির খেলায় শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের মতো শিক্ষার্থীরাই।
সরকার হরতাল-অবরোধের মধ্যে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না চালিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ কিছুটা দূর করতে পারলেও কাটাতে পারেনি তাদের অনিশ্চয়তা। এই অনিশ্চয়তা কাটানোর দায়িত্ব এখন মূলত বিএনপি ও তাদের জোটের ওপরই বর্তায়। বিএনপি জোটকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে, ভাবতে হবে বিকল্প কর্মসূচির। অন্ততপক্ষে পরীক্ষাসহ সব শিক্ষা কার্যক্রমকে হরতাল-অবরোধের বাইরে রাখতে হবে নতুবা এসব কর্মসূচি তাদের জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করে বরং জনগণ থেকে আরও দূরে ঠেলে দেবে।
সরকারি জোট এবং বিএনপি জোট উভয়কেই মনে রাখতে হবে, তারা জনগণের জন্য রাজনীতি করে। জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বও তাদের। তাই প্রত্যাশা করছি, জনগণের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে প্রধান দুই রাজনৈতিক জোট শিগগিরই দেশে নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করে দেবে, যাতে শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতি না হয়। শিক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মুখে ফেলে আপনারা কী অর্জন করবেন!
শিক্ষার্থী, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস, বাংলাদেশ

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ভোটাধিকার রহিত

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানরা দেশটির গণভোটে অংশ নিতে পারবেন না। রোহিঙ্গাদের ভোট দেয়ার অধিকার খর্ব করার দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে ভোটাধিকার সাময়িকভাবে রহিত করা হয়েছে। শ’ শ’ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে, এ সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত ব্যাপার হলো, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে থেইন সেইন রোহিঙ্গা মুসলমানদের ভোটাধিকার বাতিলে পার্লামেন্টে প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। তিনিই প্রধান ভূমিকায় ছিলেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। মিয়ানমারের সাবেক সামরিক জান্তা ২০১০ সালে দেশটির সাধারণ নির্বাচনে রোহিঙ্গা মুসলমান ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার নিশ্চিতের জন্য ‘সাদা কাগজ’ প্রথা প্রচলন করেছিল। বিক্ষোভে অংশ নেয়া এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী শিন থুমানা বলছিলেন, যারা সাদা কার্ডধারী তারা মিয়ানমারের নাগরিক নন এবং যারা নাগরিক নন তাদের অন্য দেশে ভোট দেয়ার অধিকার নেই। মিয়ানমারে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার বসবাস। কিন্তু, দেশটির সরকার তাদের নাগরিকের স্বীকৃতি দেয়নি। গত বছরের ডিসেম্বরে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিকত্ব দিতে মিয়ানমারকে আহ্বান জানানোর ব্যাপারে একটি প্রস্তাব পাস করেছিল জাতিসংঘ। ২০১২ সালে রোহিঙ্গা মুসলমান ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে যে রক্তক্ষয়ী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল, তাতে ২ শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। মূলত, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন প্রদেশে জাতিগত এ দাঙ্গা-সহিংসতার সূত্রপাত হয় এবং পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

সৌদি আরবে যেতে নাম নিবন্ধনের জন্য ভিড়

(নিবন্ধন ফরম পূরণ করে জমা দেওয়ার জন্য সৌদি আরব যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের দীর্ঘ লাইন। গতকাল রাজধানীর নিউ ইস্কাটন সড়কে প্রবাসীকল্যাণ ভবনে l ছবি: প্রথম আলো) সৌদি আরব আবার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেবে—এমন ঘোষণায় ঢাকাসহ সারা দেশের জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ে নাম নিবন্ধনের জন্য আগ্রহী মানুষের প্রচণ্ড ভিড় শুরু হয়েছে। নিবন্ধনের জন্য তাঁরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সারিতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) কর্মকর্তারা বলছেন, সৌদি আরবে শুরুতে নারী গৃহকর্মীরা যাবেন। কাজেই পুরুষদের নিবন্ধন নিয়ে এত তাড়াহুড়োর কিছু নেই। আর নিবন্ধন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যেকোনো সময়েই এটি করা যাবে।
রাজধানীর ইস্কাটনে ঢাকা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সামনে গতকাল বুধবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, সৌদি আরবে যেতে আগ্রহী মানুষদের দীর্ঘ সারি। নাম নিবন্ধন করতে আসা এই ব্যক্তিদের মধ্যে হোটেল কর্মচারী, চালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আছেন।
নীলক্ষেত থেকে আসা হোটেল কর্মচারী সিরাজুল ইসলাম বলেন, কোনো খরচ ছাড়াই সৌদি আরবে যাওয়া যাবে শুনে নিবন্ধন করতে এসেছেন। তাঁর বাড়ি নরসিংদী। এখানে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় থাকি। তাই ঢাকার কার্যালয়েই এসেছি।’ ঢাকায় বসবাসরত চাঁদপুরের মনজুর কাদের ও নোয়াখালীর মোস্তাফিজুর রহমানও একই কথা জানালেন।
দেখা যায়, বিনা পয়সার নিবন্ধন ফরম ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ওই কার্যালয়ের আশপাশের ফুটপাতেও লোকজন ফরম পূরণ করছেন। ভিড়ের কারণে প্রবাসীকল্যাণ ভবনে ঢোকা দায়।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব। একসময় সেখানে বছরে দেড় থেকে দুই লাখ কর্মী গেলেও ২০০৮ সালের শেষে এসে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় দেশটি। দীর্ঘ কূটনৈতিক তৎপরতায় চলতি মাসে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় সৌদি আরব। এতে সেখানে যেতে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
সৌদি আরবে কর্মী যাওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ে উপমন্ত্রী আহমেদ আল ফাহাইদের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল গত রোববার তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসে। তারা গত সোমবার প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। কোন প্রক্রিয়ায় কর্মী যাবেন, সে বিষয়ে মঙ্গলবার দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে গৃহ খাতের কর্মী (ডোমেস্টিক সার্ভিস ওয়ার্কার্স) নেবে সৌদি আরব। এর মধ্যে সবার আগে যাবেন নারী গৃহকর্মী। মাসে বেতন হবে ৮০০ রিয়াল (১৬ হাজার ৮০০ টাকা)। এ ছাড়া থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তাঁরা পাবেন।
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, প্রতি মাসে ১০ হাজার করে কর্মী নেবে সৌদি আরব। বছরে যাবেন ১ লাখ ২০ হাজার। সেখানে যেতে কর্মীপ্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার বেশি খরচ হবে না। এটি গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে মানুষের আগ্রহ আরও বাড়ে।
বিএমইটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, ৯ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়া ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্টলে সৌদি আরবে যেতে আগ্রহী মানুষদের নাম নিবন্ধন হবে। এতে মেলার প্রথম দিনেই অসংখ্য লোক ভিড় জমান বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। ফলে পুরো ডিজিটাল মেলায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এ কারণে সেখানে নাম নিবন্ধন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর লোকজন আবার ভিড় করেন ঢাকা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ে।
ঢাকা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের এখন ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত কয়েক দিনে ছয় থেকে সাত হাজার লোককে নিবন্ধন করা হয়েছে। যাঁরা নিবন্ধন করতে আসছেন, তাঁদের উদ্দেশে আমরা বলতে চাই, শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশের সব জেলা কার্যালয়েই নিবন্ধন হচ্ছে। আর যেহেতু সবার আগে নারী গৃহকর্মীরা সৌদি আরবে যাবেন, কাজেই ছেলেদের এখনই এত ভিড় করার কিছু নেই। তাঁরা সারা বছরজুড়েই নিবন্ধন করতে পারবেন।’
ঢাকার বাইরে থেকে প্রথম আলোর কয়েকজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায়ও সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য মানুষের মধ্যে নাম নিবন্ধন করা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এখন নাম নিবন্ধন করলে তাঁরা কবে নাগাদ সৌদি আরবে যেতে পারবেন, সে বিষয়ে সুনিশ্চিত করে কেউ কোনো তথ্য দিতে পারেননি। প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী, সচিব এবং জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) নেতারা বলছেন, প্রাথমিকভাবে সৌদি আরব গৃহকর্মী নেবে। এরপর অন্যান্য খাতে কর্মী যাবে দেশটিতে।
এর আগে সরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য নিবন্ধন শুরু হলে সারা দেশে সাড়ে ১৪ লাখ মানুষ নিবন্ধন করেছিলেন। কিন্তু গত তিন বছরে মাত্র সাড়ে ছয় হাজার কর্মী দেশটিতে যেতে পেরেছেন।

শিল্পের ত্রিমুখী বর্তমান by শুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায়

বেঙ্গল গ্যালারিতে চলছে এ সময়ের তিন প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীর চিত্রকর্ম প্রদর্শনী_ 'দ্য প্যারাডক্সিক্যাল নাউ'। আনিসুজ্জামান সোহেল, ফিরোজ মাহমুদ ও ইয়াসমিন জাহান নুপুর_ এ শিল্পীত্রয়ী তাদের কাজের ধরন ও সৌকর্যে আলাদা। অঙ্কনরীতির সরলীকরণ, বিচিত্র প্রতীকের ব্যবহার, ইতিহাস চেতনা, সত্যের সুদৃঢ় প্রকাশ, বর্তমানকে অঙ্গীকার করবার প্রচেষ্টা_ এমন নানাভাবেই এই তিন শিল্পীর চিন্তার জগৎ থেকে শুরু করে শিল্পচর্চা ও প্রয়োগভঙ্গিগত দিক থেকে তিন রকম। কিন্তু সেই তিন রকমের শিল্প বাস্তবতাকে একটি বর্তমানে এনে দাঁড় করিয়ে, আমাদের এই বিচিত্র, বিপরীতধর্মী আর ওলটপালট বাস্তবতার এক শিল্পব্যঞ্জনাই যেন তৈরি করেছে বেঙ্গলের এই নতুন আয়োজন। সমসাময়িক ত্রিমুখী বৈশিষ্ট্যে আলোকিত তিন শিল্পীকে একটি পরিসরে উপস্থাপনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে, তাকে অনেকটাই নতুন তাৎপর্যে মণ্ডিত করতে পেরেছে এই প্রদর্শনী। একই সময়বিন্দুতে দাঁড়িয়ে তিনজন শিল্পীর শিল্পরচনার পার্থক্যকে যেমন এখানে উপজীব্য করা যায়_ তেমনি এখানে স্পষ্ট হয় এই সময়ের অন্তর্গত বিপরীতধর্মিতাও। যে বৈপরীত্য নিয়ে আমরা ক্রমশ ধাবিত হচ্ছি আসন্ন কোনো এক ধ্বংসের পথে।
আনিসুজ্জামান সোহেল রেখাপ্রধান কাজ করেন অনেক আগে থেকেই। তার রেখায় ধরা পড়ে সমাজবাস্তবতার প্রতি বিকট এক ধরনের কটাক্ষ, প্রতিবাদ। ক্রমশ নষ্ট হতে থাকা সময়ের একটা প্রামাণ্য উপলব্ধি বিস্তৃত হয় তার কাজে। এই ক্রমশ প্যাকেজনির্ভর হয়ে আসা পৃথিবীতে বেঁচে থাকার প্রতিনিয়ত যে যন্ত্রণা_ শিল্পী আনিসুজ্জামান সোহেল তার ক্যানভাসে সেই যন্ত্রণাকে রেখাবদ্ধ করেন । বিভিন্ন ফর্মে জীবনের বিচিত্র যন্ত্রণা এবং তাকে বয়ে চলার দৃশ্যাবলিকে তুলে ধরেন তার চিত্রকর্মে। সেখানে দেখা যায় সময়ের অন্তর্বর্তী নানান উপাদান। এসব উপাদান আমাদের খুবই পরিচিত এবং এই পরিচিত জিনিসপত্রের জঞ্জালের মধ্যে আষ্টেপৃষ্ঠে বাধা পড়ে, আমাদের সময়টা যেন কাতরাচ্ছে। সেই কাতরতা আর আর্তচিৎকারের অবয়ব থাকে আনিসুজ্জামানের ছবিতে। আর এ সবকিছুই তিনি প্রকাশ করেন রৈখিক এক গতিময়তার মাধ্যমে। সময়টাও যেমন বড্ড গতিশীল, আর শিল্পীর করণকৌশলের গতিও চিত্রকর্মে সেই আক্রান্ত গতিময়তারই অনুগামী। অস্তিত্ব সংকটের আধুনিক চিত্রায়ণ বেশ যত্ন ও কৌশলের সঙ্গে ঠাঁই করে নেয় তার কাজে। যুদ্ধ, অস্ত্র, বাজার, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ সবই উঠে আসে রাজনীতি সচেতনতায়। বক্তব্যে উচ্চকিত এবং সরাসরি হলেও রঙের ব্যবহারে তিনি উচ্চকিত নন, বরং সচেতনভাবে মিতব্যয়ী। ড্রইং ও পেইন্টিংয়ের যৌথতায় ঘরানা তৈরি হয় তার ছবির নিজস্ব।
কালোবাজার মানুষকে এবং শিল্পকে পণ্য করে, আনিসুজ্জামান সোহেল দাঁড়াতে চান এর বিরুদ্ধে। তার ক্যানভাসও সম্পূর্ণ কালো। প্রতিনিয়ত যে বাণিজ্যিক মনোভাব মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করছে, দুর্বিষহ করে তুলছে_ শিল্পের মাধ্যমে সরাসরি তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে চান শিল্পী। পুরো কালো ক্যানভাসে কাজ করা সহজ কথা নয়, তার এই কাজগুলোকে খুব সহজেই মনে হতে পারে সমাজের এক্স-রে রিপোর্ট। শিল্পী বলেন, 'বিব্রত অবজারভেশনের সঙ্গে কুঁচকে যাওয়া ইনট্যুইশন মিলিয়ে আমি শুধু ম্যানিপুলেটেড মেটাফোরের আশ্রয় নিই, যারা নিজেরাই লড়ে চলে পরস্পর দ্বন্দে-দ্বন্দ্বে অশেষ সংঘাতে। একে একটা খেলার কান্নাও বলা চলে, আবার কান্নার খেলাও বটে! সৌন্দর্য আর পাশবিক কদর্যতাও এখানে পদে পদে যুদ্ধে লড়ে, অমোঘ অমীমাংসিত! রিয়্যাল আর সাররিয়্যালের অনামা অচেনা কোনো মাঝখানে ওভাবেই ঝুলে থাকি আমি আর আমার চেষ্টা!' প্রদর্শনীতে 'কিপ স্ক্রিমিং' শিরোনামের বিশাল ক্যানভাসে তার এই সময় চেতনাকে দেখতে পাবেন দর্শক।
শিল্পী ফিরোজ মাহমুদের যাত্রাটা আবার বর্ণিল। তবে সেই বর্ণময়তার ভেতরে ভ্রমণ আছে ইতিহাসের, আমাদের বিগত পরাজয়ের, শোষিত হয়ে পড়ে থাকা হাজার বছরের।
উপনিবেশকালীন সময়ের যুদ্ধ-বিদ্রোহ, সংঘাত এবং প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের প্রতীকায়িত উপস্থাপনা দেখা যায় তার চিত্রকর্মে। বাংলার নবাবদের দুর্ভাগ্য আর স্বাধীনতা হারানো শিল্পীর চিন্তার বিষয়বস্তু। এবং ইতিহাসের সেই কালপর্বের নানা চরিত্র, মোটিফ, প্রতীক শিল্পীর ক্যানভাসে স্থান পায়। দক্ষ ড্রইংয়ের মাধ্যমে উজ্জ্বল রঙ এবং নানামাত্রিক মোটিফের ব্যবহার ফিরোজ মাহমুদের কাজকে ইতিহাস আর শিল্পীর চেতনাকে ছাড়িয়ে নান্দনিক এক মাত্রাও দান করে। তার ছবিতে রহস্যময় কিংবা ঐতিহাসিক কোনো অশনিসংকেতের প্রতীক হিসেবে প্যাঁচার উপস্থিতি রয়েছে। সঙ্গে এসেছে তরবারি, ঘোড়া, তীর, ধনুক। স্টেনসিলের এই কাজগুলো শিল্পী ফিরোজ মাহমুদের মিশ্র করণকৌশলের দক্ষতারই পরিচায়ক। শিল্পী তার 'সিনারিও' সিরিজের ছয়টি কাজের মাধ্যমে সেই প্রমাণ রেখেছেন।
শিল্পী ইয়াসমিন জাহান নুপুরের কাজের বিষয়বস্তু প্রাচীন স্থাপনার নির্মাণশৈলী। বিশেষ করে মোগল আমলের স্থাপত্যকর্মের বিভিন্ন নমুনা_ যেমন, সে সময়ের দরজা, জানালা, স্তম্ভ, গম্বুজ। এসব জিনিসের নির্মাণশৈলী শিল্পী নুপুর লক্ষ্য করেন তার রূপান্তর চেতনার অনুষঙ্গ হিসেবে। তার শিল্পচর্চায় সময় খননের যে প্রচেষ্টা_ তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অসীম মহাকাশের নানা রহস্যময়তা। জলরঙে 'মেমোরি অব দ্য আর্থ' শিরোনামে তার যে কাজটি প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে, তা চিরাচরিত জলরঙের ছবির ধারণাকে ভেঙে দেয় একেবারেই। শুধু তাই নয়, জলরঙের স্বাভাবিক প্রয়োগকে শিল্পী তার সূক্ষ্ম প্রয়োগদক্ষতায় নতুন এক মাত্রা প্রদান করেছেন।
'গোল্ডেন ডোরস', 'লুসিড ড্রিম', 'মেমোরি অব দ্য আর্থ'_ এ চিত্রকর্মগুলো শিল্পপিপাসুদের নতুনত্বের সঙ্গে বিচিত্র শিল্পচিন্তার সন্ধান দিতে পারে। আর এ তিন শিল্পীর তিন ধরনের কাজকে একই প্রদর্শনীতে নতুন এক দৃষ্টি নিয়ে উপভোগ করবার সুযোগ তো থাকছেই। প্রদর্শনীতে তিন শিল্পীর ২৬টি ড্রইং এবং ১০টি স্থাপনাকর্মসহ মোট শিল্পকর্মের সংখ্যা ৩৬টি। প্রদর্শনী আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

ঝালকাঠিতে পিপি হত্যা মামলা- জেএমবির পাঁচজনের ফাঁসির আদেশ

নিহত পিপি হায়দার হোসাইন
ঝালকাঠি আদালতের সাবেক সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ও জেলা জামায়াতের সাবেক আমির হায়দার হোসাইন হত্যা মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) পাঁচজন ক্যাডারের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুল হালিম তিন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন।
হায়দার হোসাইন ঝালকাঠিতে জেএমবির আত্মঘাতী হামলায় দুই বিচারক নিহত হওয়ার মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন। ওই মামলায় জেএমবির প্রধান শায়খ আবদুর রহমান ও সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাইসহ শীর্ষ সাত জঙ্গির ফাঁসির রায় হয়েছিল।
হায়দার হোসাইনকে হত্যা মামলায় গতকাল ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন বরগুনার বেল্লাল হোসেন (পলাতক) ও আবু শাহাদাৎ মো. তানভীর ওরফে মেহেদী হাসান (কারাগারে), খুলনার মুরাদ হোসেন (কারাগারে), ঢাকার ছগির হোসেন (পলাতক) ও আমীর হোসেন (কারাগারে)। রায়ের নকল পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে হায়দার হোসাইনের পরিবার। তাঁর ছেলে তারিক বিন হায়দার বলেন, ‘রায়ে আমার পরিবারের সবাই খুশি হয়েছি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, আমার বাবাকে যেখানে খুন করা হয়েছিল, সেখানে যেন একটি স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়।’
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মুরাদের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী মোশাররফ হোসেন জানান, তাঁর ছেলে খুলনা মজিদ মেমোরিয়াল কলেজের ছাত্র ছিল। সিআইডি তাকে গ্রেপ্তার করে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করে। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের চেষ্টা করবেন তিনি।
২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল জেএমবি ক্যাডারদের গুলিতে নিহত হন হায়দার হোসাইন। তিনি ২০০৫ সালে জেএমবির আত্মঘাতী হামলায় নিহত ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সোহেল আহম্মেদ এবং জগন্নাথ পাঁড়ে হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন। দুই বিচারক হত্যা মামলায় ২০০৬ সালের ২৯ মে শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম, জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান আতাউর রহমানসহ সাতজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। মামলা পরিচালনার সময়ই হায়দার হোসাইনকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল জেএমবি। শায়খ আবদুর রহমানসহ সাত জঙ্গির ফাঁসির আদেশ কার্যকর হয় ২০০৭ সালের ২১ মার্চ। এর ২০ দিন পর হায়দার হোসাইনকে গুলি করে হত্যা করে জেএমবির ক্যাডাররা।
এ ঘটনায় হায়দার হোসাইনের ছেলে তারিক বিন হায়দার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ঝালকাঠি থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত মুরাদ হোসেনকে খুলনার টুটপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া মুরাদের স্বীকারোক্তি পর্যালোচনা করে গ্রেপ্তার করা হয় তানভীর ওরফে মেহেদী হাসান ও আমীর হোসেনকে। তিন বছর তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ১৭ জানুয়ারি জেএমবির পাঁচ ক্যাডার বরগুনার বেল্লাল হোসেন ও তানভীর ওরফে মেহেদী হাসান, খুলনার মুরাদ হোসেন, ঢাকার ছগির হোসেন ও আমীর হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি।
অভিযোগপত্র দাখিলের পর ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারক হাকিম আদালত ২০১০ সালের ৩০ নভেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য বরিশাল দ্রুত বিচার আদালতে পাঠান। ওই আদালত ১৩৫ কার্যদিবসে ৫৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর বিচার সম্পন্নের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ২০১১ সালের ২৬ জুন দ্রুত বিচার আদালত মামলাটি ঝালকাঠির আদালতে ফেরত পাঠান। ২০১১ সালের ১২ জুলাই ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির পুনর্বিচার শুরু হয়। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি এম আলম খান। আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম লুৎফর রহমান ও পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের নিয়োজিত আইনজীবী মনজুর হোসেন।

বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জাতিসংঘ -প্রেস ব্রিফিংয়ে স্টিফেন ডুজাররিক

বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ও দেশটির ইতিবাচক উন্নয়নে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত বছরের শুরু থেকে বাংলাদেশে যে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, তাতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ। গতকাল জাতিসংঘ সদর-দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক প্রেস-ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক।  সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের কাছে জানতে চান- যেমনটি আপনি জানেন যে, বাংলাদেশ এক সঙ্কটময় পরিস্থিতি পার করছে। মানুষ ভীষণ দুর্ভোগে রয়েছে। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রাস্তায় যানবাহন পুড়ছে এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড মাত্রা ছাড়িয়েছে। জনগণ গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য সংগ্রাম করছে। আমি জানতে চাই, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল দেশ গড়তে জাতিসংঘ কি করছে? কারণ, গত বছরের ৫ই জানুয়ারি বাংলাদেশে একটি একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের পূর্বে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো বাংলাদেশ সফর করে কোন ধরনের সমঝোতা ছাড়াই ফিরে আসেন। ফলে, ১৫৪টি আসনে কোন ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই ক্ষমতাসীনরা নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করেন। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। আপনি কি মনে করেন, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে কেবল উদ্বেগ প্রকাশই যথেষ্ট, নাকি একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে যথাযথ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি? 
জবাবে জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় জাতিসংঘের  সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজকে দায়িত্ব দিয়েছেন মহাসচিব বান কি মুন এবং তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্বই পালন করছেন। বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ও দেশটির ইতিবাচক উন্নয়নে জাতিসংঘ মহাসচিব ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, বহু ক্ষেত্রে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বাংলাদেশ। আমার মনে হয়, অবশ্যই আমরা বেশ কয়েকবার বলেছি যে, গত বছরের শুরু থেকে বাংলাদেশে যে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, তাতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
জাতিসংঘের ওই প্রেস ব্রিফিংয়ের বাংলাদেশ অংশটি এখানে তুলে দেয়া হলো:
Question:  This is Mushfiqul Fazal.  I would like to draw your attention to Bangladesh.  As you know, Bangladesh is facing very crucial time.  People are suffering a lot.  And vehicles are burning in the street and the extra-judicial killing crossed the limit.  And people are fighting for democracy and their voting rights.  And I want to know what exactly [what the] United Nations [is] doing to restore democracy in Bangladesh to build a peaceful Bangladesh and to stability, because the last election was held in 2014, 5 January, and there was a one sided poll, and before the election the Assistant Secretary General Mr. [Oscar] Fernández-Taranco visited Bangladesh; but after any conclusion, he went back and there was a one-sided poll and 154 seats the Government won without any election.  So, I want to know, the United Nations expressed concern… do you think is it sufficient to just express the concern or United Nations should do more to restoring democracy in Bangladesh and to hold free and fair and credible elections?  Thank you very much.
Spokesman:  Sure.  As you rightly put it, the [former] Assistant Secretary General in charge of [Political Affairs] Oscar Fernández-Taranco has been tasked by the Secretary General to liaise with the Government and hes doing just that.  The Secretary General is personally committed to the stability and positive development of Bangladesh.  Bangladesh, as you know, is a critical partner of the United Nations in many areas.  And obviously, I think, as we have said here a number of times, we are very much concerned about the violence and the loss of life thats occurred in Bangladesh since the beginning of last year.

পৃথিবীর পথে বাংলা by রউফুল আলম

সংস্কৃতির মূলে থাকে ভাষা। ভাষার মাধ্যমেই মানুষ নিজেদের সহজে গোত্রভূত করেছে। একই ভাষার সংঘবদ্ধ মানুষের জীবনযাত্রা ও বিশ্বাস থেকে তৈরি হয়েছে সংস্কৃতি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সভ্যতার আন্তঃযোগাযোগ যখন বেড়েছে, তখন অবশ্য সংস্কৃতির সংমিশ্রণ ঘটেছে। সংস্কৃতির এই পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছিল ধর্ম ও পুঁজি; সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে রাজনীতি। গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, সংস্কৃতির পরিবর্তনের সময় প্রথম আঘাত আসে ভাষায়। বাহান্নর আন্দোলনের ফসল হিসেবে ১৯৫৬ সালে বাংলা ভাষা, রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। আর 'একুশ' পূর্ববাংলায় হয়ে ওঠে এক চেতনার নাম। আমাদের জাতীয় জীবনে সত্যিকার অর্থেই এক সর্বজনীন উৎসব এই 'একুশ'। বাংলার একুশ এখন আর বাঙালির মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়ে ২০০০ সাল থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পালিত হতে থাকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে। এ কথা সত্য যে, মাতৃভাষা বাংলার সর্বস্তরের চর্চায় দ্বিধাদ্বন্দ্বের দোলাচল কখনোই কমেনি। বাংলা আঁকড়ে রাখায় আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের পশ্চাৎপদতার একটি ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয় সবসময়ই। আমরা প্রায়ই ভুলে যাই, অনেক দেশই সর্বস্তরে মাতৃভাষা চর্চা করে উন্নত হয়েছে। আমাদের অপারগতা, আমরা সহজে মেনে নিয়ে সেটা দূর করার প্রবল প্রয়াসে কখনোই ব্রত হইনি। বাংলা ভাষা সম্পর্কে উইলিয়াম কেরির একটি মন্তব্য এখানে অনুপ্রেরণীয়। তিনি বলেছিলেন, 'আমি বিশেষরূপে উপলব্ধি করিয়াছি যে, ভারতীয় অপরাপর সমস্ত প্রাদেশিক ভাষা অপেক্ষা বাঙ্গলা ভাষা সর্ব্বতোভাবে শ্রেষ্ঠ।' বাঙালির ওপর এখন দুই ভাষার প্রবল প্রভাব। পশ্চিমবঙ্গে হিন্দি ও বাংলাদেশে ইংরেজি। বাংলা কতদূর টিকে থাকবে, সে প্রশ্নে তর্ক-বিতর্ক সমাজে এখনও কম নয়। এতদসত্ত্বেও বাংলার চর্চা কমে যায়নি। শুধু বাংলাদেশের তরুণরাই গত এক দশকে যে পরিমাণ বাংলা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছে, সেটা সত্যিই অভাবনীয়। অনলাইনে ইংরেজি প্রতাপের মাঝেও বাংলা ধীরে ধীরে যেন আরও দৃঢ়ভাবে স্থান নিচ্ছে। এটাই আশাব্যঞ্জক। এই চর্চাকে অব্যাহত রাখলে বাংলা বিলীন হবে না কখনও। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের কথা বারবার বলা হলেও সেখানেই উদাসীনতা বেশি দেখা যায়। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সংবলিত তথ্যাদি আমরা পৃথিবীতে এখনও ছড়িয়ে দিতে পারিনি। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি ভাষায় সে ইতিহাস লিখে আমাদেরই পেঁৗছে দিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলায় অনুবাদ করে দিতে হবে পৃথিবীর সেরা বইগুলো। তাহলে শিক্ষার্থীরা মনোবল পাবে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইত্যাকার উদ্যোগ নেওয়া কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। আমাদের জাতীয় জীবনে রাজনীতির যতই উত্থান-পতন হোক না কেন, এখনও যে জাতীয়তাবোধ জেগে আছে, তার আধার এই ভাষা। সুতরাং বাংলাকে বাঁচিয়ে রাখতেই হবে। খুব ভালোভাবেই। বাংলা বেঁচে থাকলে আমাদের জাতীয়তাবোধও বেঁচে থাকবে। পৃথিবীর পথে আমরা দিতে পারব দীর্ঘ পথ পাড়ি।
ডক্টরাল গবেষক, স্টকহোম
বিশ্ববিদ্যালয়, সুইডেন

সবাই অঙ্কে ভুল করছেন by মাসুদ মজুমদার

জনগণ ভুল করলে সামান্য ক্ষতি। রাজনীতিবিদেরা ভুল করলে মহাক্ষতি। সরকার ভুল করলে জাতির অস্তিত্ব বিপন্ন হয়। বুদ্ধিজীবী ও সুশীলসমাজ ভুল করলে জাতির ও জনগণের ভোগান্তি বাড়ে। ব্যবসায়ীরা ভুল করলে সরকার আশকারা পায়। আইনের লোকেদের ভুল জনগণের আস্থায় চিড় ধরায়। বিচারকদের ভুল নৈরাজ্যের জন্ম দেয়। প্রতিশোধস্পৃহা বাড়ে। প্রতিহিংসার আগুন জ্বালায়। প্রশাসনের ভুল রাষ্ট্রের কাঠামোকে ধসিয়ে দেয়। সরকারকে ভুল পথে নিয়ে যায়। মানুষ নিজস্ব সীমাবদ্ধতার কারণে ভুল করবেই। কিছু ভুল ইচ্ছাকৃত। অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য মানুষ দায়মুক্তি পায়। সেই ভুলের স্বীকৃতি ও ভুল সংশোধনের উদ্যোগ একটি মানবিক গুণ। এটি মৌলিক মানবিক ও নৈতিক গুণকে আরো শানিত করে। কথায় আছে, শিক্ষিত মানুষের ভুলের খেসারত বেশুমার। মনে হয় আমরা সবাই ভুলের রাজ্যে ও ভুলের আবহে বাস করছি। এখন প্রতিনিয়ত সরকার ভুল করছে, আর পাপের বোঝা বাড়াচ্ছে। প্রবাদ হচ্ছে, শাসকেরা বিপথগামী হলে বিধাতা তাদের বারবার ভুল করান, যা তাদের পতনের কার্যকারণ হয়ে দাঁড়ায়। সরকার ও আওয়ামী জোট ধরেই নিয়েছে খালেদা জিয়া এখন আন্দোলন-সংগ্রামের একমাত্র প্রেরণার উৎস, জামায়াত-শিবির আন্দোলনের শক্তি। এ দু’টি ধ্বংস করে দিলেই আন্দোলনের স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটবে। হ্যাঁ, ‘ধ্বংস’ শব্দটি সজ্ঞানেই ব্যবহার করেছি। অথচ আমরা কেউ খালেদা জিয়া ও জামায়াত-শিবিরকে আন্দোলনের লিজ দিইনি। এত শক্তি গণতন্ত্র ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য লড়াই করছে, অথচ তাদের কোনো ভূমিকাই সরকার বিবেচনায় নিচ্ছে না। কেন! এর জবাব সহজ। বি. চৌধুরী, ড. কামাল, আ স ম রব, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ সবাই একবার ভাবেন গণতন্ত্রের কথা; সাতবার ভাবেন ফসল খালেদা জিয়া ও জামায়াত-শিবিরের গোলায় উঠল কি না। এ দ্বিধাই তাদেরকে সামনে আসতে দিচ্ছে না। ইতোমধ্যে বিচারবহির্ভূত হত্যা সব সীমা অতিক্রম করেছে। গ্রেফতার করে নাই করে দেয়া হচ্ছে। পঙ্গু করে দেয়া, নয়তো জেলে পুরে দেশের জেল ভর্তি করাকে সরকার মোক্ষম দাওয়াই কিংবা সমাধান ভাবছে। শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে বন্দী করারও গুজব শুনছি। ইতিহাস পড়ে জেনেছি এবং নিকট-অতীতের সাক্ষী হয়ে আছি, কাউকে হত্যা করে ও বন্দী করে আন্দোলনের গতি রোধ করা যায় না। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি কারাগারে ছিলেনÑ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ঠেকে থাকেনি। ইমাম খোমেনি প্যারিসে নির্বাসিত ছিলেনÑ তার জনগণ বিপ্লবকে ষোলোকলায় পূর্ণ করতে কম রক্ত ঠেলে এগোয়নি। কৃষ্ণসুন্দর নেলসন ম্যান্ডেলা তিন দশক কারাগারে থেকেই প্রেরণা জুগিয়েছেন। নবী-রাসূলদের ইতিহাস নাই বা টানলাম। চেয়ারম্যান মাও, কার্ল মার্কস, লেনিনসহ মাত্র বিগত দুই শতকের ইতিহাসে জনগণের আন্দোলন প্রমাণ করেÑ জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়ন, গুম, হত্যা, জেল-জরিমানা, অপহরণ কোনো আন্দোলনকে থামিয়ে দেয় না; বরং বাঁক ঘুরিয়ে দিয়ে আরো বেগবান করে। জনগণের সিমপ্যাথি ও পরিবর্তনকামী মানসিকতা তাদের সাথে যোগ হয়।
আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা ভেবেছেন, বিরোধী দলের অর্ধেককে জেলে রেখে, অর্ধেককে হত্যা করে গল্প সাজিয়ে কিস্তি মাত করে দেবেনÑ এ অঙ্ক শুধু ভুলই নয়, আত্মঘাতীও। মজলুম ও নির্দোষ মানুষের লাশ তার তিন পুরুষকে সরাসরি অনুপ্রাণিত করে যায়। তা ছাড়া যারা ভাবেনÑ জান বা প্রাণটা ছাড়া তাদের আর কিছুই হারানোর নেই। এরা মৃত্যুকে জয় করে ফেলে। খালেদা জিয়া বলেই দিয়েছেন, তিনি ভয় করেন না, জয়কে ছিনিয়ে আনতে যা করার তাই করবেন। ইতিহাস বলে, অবাঞ্ছিত ও গণবিচ্ছিন্ন বিদ্রোহ দমন করা যায়; কিন্তু আন্দোলন ঠেকানো যায় না। দেশে কোনো রাজনৈতিক শক্তি বিদ্রোহ করেনি। জনগণের পরিবর্তনের মানসিকতাই তার প্রমাণ। কারণ জনগণ ভোট দিতে পারেনি, বঞ্চিত হয়েছে। তারপর গণতান্ত্রিক অধিকার হারিয়ে বসেছে। এখন মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারটুকু থেকেও বঞ্চিত। এই বঞ্চনাই বিরোধী দলের শক্তিকে অপ্রতিরোধ্য করে দিয়েছে। সরকার চেয়েছিল রাজনৈতিক সঙ্কট আড়াল করতে। এখন রাজনৈতিক সঙ্কট আরো বীভৎস রূপ নিয়ে সরকারের সামনে ভীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একই কারণে সরকার নৈতিকভাবে টিকে থাকার শক্তি হারিয়েছে। তাই অস্ত্রের ভাষায় অঙ্ক মিলানোর চেষ্টা করছে। এরা ধরেই নিয়েছেন একসময় অস্ত্রের মুখে জনশক্তি হারিয়ে বিরোধী দল খেই হারিয়ে ফেলবে। তারপর ঘরে ঢুকে যাবে। ঘরে বসে শোকের মাতম করে সময় পার করবে। আর সরকারি দল দাপুটে শাসনের ঘোড়ায় চড়ে জনগণকে খুশি করে নেবে। জনগণ বিচারবহির্ভূত হত্যার মিছিল, রক্তের দাগ, খুনের আহাজারি, বার্ন ইউনিটের রোনাজারি, অপহরণের সব শোক ভুলে যাবে। আসলে ভুলটা এ ধরনের স্থূল মূল্যায়নের কারণেই এক অতলস্পর্শী সঙ্কটের জন্ম দিয়ে চলেছে।
বাম জোটের ছোট দলের বড় নেতারা মনে করেন, নৌকায় থেকে যতটা কুড়ানো যায় সবটুকু লাভ। একই ধারার বুদ্ধিজীবীরা মনে করেন, এই সুযোগে জাতীয়তাবাদী ইসলামি শক্তি নিমূর্ল হয়ে গেলে তারা মাঠে এসে জনমতকে নিজেদের গোলায় তুলবেন। এই অঙ্কের ভুল তাদেরকে শুধু অস্তিত্বের সঙ্কটে ফেলছে না, বাংলার জমিনে তাদের রাজনীতিকে মৃত্যুর দুয়ারে তারা নিজেরাইপৌঁছে দিচ্ছেন।
তারা ভাবছেন সত্যনিষ্ঠ ও বস্তুনিষ্ঠ হয়ে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, নিরপেক্ষ নির্বাচন ও মৌলিক অধিকার নিয়ে কথা বললে খালেদা জিয়া ও তার জোট লাভবান হয়ে যাচ্ছে। এই ভাবনা খালেদা জিয়ার একক অবস্থান আরো দৃঢ় করছে। একসময় টের পাবেন আসলে খালেদা জিয়া ও তার জোটের লাভালাভ এরা ঠেকাতে পারছেন না; বরং নিজেরা বর্ণচোরা ও অগণতান্ত্রিক শক্তি হয়ে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এ কারণেই রাজনীতির তৃতীয় শক্তি আজো অস্তিত্বহীন।
জাসদের কোনো কোনো নেতা যারা সরকারে আছেন, তারা ধরেই নিয়েছেনÑ এ নগদ পাওয়ার খেসারত আছে। কিন্তু এরা এ যাত্রা জিতে থাকতে চান। আগামী দিনের লড়াইয়ে হেরে যাবেন, এই মূল্যায়ন তাদেরও আছে।
এরশাদ-রওশন দু’নৌকায় পা দিতে গিয়ে আবার আনপ্রেডিক্টেবল ও স্খলিত রাজনীতির গন্ধ মাখলেন। অথচ ঋজু ভাষায় সত্যনিষ্ঠ হয়ে এককথায় থাকলে তারা ছাগলের তৃতীয় ছানা ও কোলবালিশ না হয়ে এবার অন্তত গণতান্ত্রিক শক্তির কাতারে উঠে যেতে পারতেন। তাতে ঝুঁকি ছিল। ক্ষতি ছিল না। অঙ্কটা এবারো জাতীয় পার্টি ভুল করে মেলাতে পারল না। জাতীয় পার্টি আবারো অবস্থান পরিবর্তন করবে। এই পরিবর্তন যেকোনো পরিবর্তনের রাজনীতির জন্য অনিবার্য। তাই জাতীয় পার্টির ভূমিকা আশু পরিবর্তনের ইঙ্গিতও হতে পারে। কারো পরামর্শে রাজনৈতিক শত্রু ও বন্ধু নির্বাচন করা হয় না। একসময়ের শত্রু অন্য সময়ে মিত্র হয়ে যায়। জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টি আওয়ামী লীগের সাথে এই রাজনীতি করার কথা ছিল না। কারণ তারা ঐতিহ্য ও ইতিহাসগতভাবে পরস্পরবিরোধী ছিল। এখন রাজনীতির স্বার্থে একসাথে খেলছে। তাই যারা খালেদা জিয়াকে জামায়াত ছাড়তে, আওয়ামী লীগকে এরশাদ ছাড়তে বলছেন তারাও অঙ্কে ভুল করছেন। কারণ এই সময়ে কেউ বন্ধু বদলাবে না; বরং ন্যূনতম ইস্যুতে বন্ধুর সংখ্যা বাড়ানোটাই স্বাভাবিক। তা ছাড়া যারা মধ্যস্থতা চান, সমাধান খোঁজেন; তারা পক্ষগুলোর শত্রু-মিত্রের ব্যাপারে শতভাগ নিরপেক্ষ না থাকলে তারা আম্পায়ার না হয়ে খেলোয়াড় হয়ে যাবেন।
অঙ্কের ভুল বিএনপিরও আছে। তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও কৌশল, বাম ঘরানার লোকেদের সতীত্বহীন অবস্থান, আদর্শিক বিচ্যুতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন বিলম্বে। তারা ক্ষমতার বেনিফিসিয়ারিদের মরণকামড়ের বিষয়টি আমলে নেননি। কায়েমী স্বার্থবাদীদের শ্রেণীচরিত্র তাদের মগজেই ছিল না। তা ছাড়া মিত্র বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের হাতে থাকা শেষ স্পেসটুকুও দিতে পারতেন।
সরকার তাদের বিরুদ্ধে যে অস্ত্রগুলো ব্যবহার করছে, সেগুলোকে তারা অস্ত্র বিবেচনা করেননি। ভেবেছেন জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মানবাধিকার নিয়েই ভাববে, সরকারের ভোঁতা অস্ত্র আমলে নেবে না। জনগণকে যে সাময়িক বিভ্রান্ত করা সম্ভব হয়েছে, সেটা মেনে নেয়া ভালো। ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ বিপ্লবের স্লোগান দিয়ে জাতীয়তাবাদী ইসলামি শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবিপ্লবের আওয়াজ তুলে থামেনি। তারা রীতিমতো প্রতিবিপ্লবী ধ্বংসের নামে যুদ্ধ করেছে। তখন বিএনপি বুঝতে চায়নিÑ মিত্রহীন করে একসময় খালেদা জিয়ার বিএনপির ওপর মরণকামড় হানবে। সরকার যখন আইন, বিচার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ব্যবহারের জন্য সাজাচ্ছিলÑ তখনো বিএনপি কাক্সিত প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তাই শাহবাগ নাটক, তর্কিত বিচার। হেফাজতের ওপর হামলার মতো ইস্যুতেও বিএনপি জোট দৃঢ় অবস্থান নেয়নি।
সামনে সংলাপ নাটক মঞ্চায়নের উদ্যোগ চলছে। রাজনৈতিক সমঝোতা অবশ্যই হতে হবে। তবে অর্থহীন রাজনৈতিক আলাপচারিতার চেয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে দৃঢ় থাকাটা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সরকার আলোচনার অদৃশ্য ও দূরতম টোপ ফেললেও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এবং একুশের ঢাল এখনো হাতে রেখেছে। বার্ন ইউনিট ও পেট্রলবোমার বীভৎস কাহিনী, ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধের মতো নিষ্ঠুর বিষয়গুলোকে প্রচারণা ও প্রতারণার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার সময় শেষ। জনগণ এখন সব কিছু ফকফকা দেখতে পাচ্ছে। কার দায় কতটুকু তা-ও দেখছে। মিডিয়ার অঙ্কের ভুলটা বড় মাপের। তারা জনগণের চাহিদা ভুলে সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। তাদের সামনে মুখে মধু ও অন্তরে বিষ নিয়ে যে ভীতির গান শোনানো হয়েছে, সেটা তাদের আদর্শ বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্যাসত্য ইমেজের টুঁটি চেপে ধরেছে। অথচ তারা টেরও পেলেন নাÑ যা গিলে যাচ্ছেন তা গণতন্ত্রের জন্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে গলা টিপে হত্যার শামিল। এই অবিশ্বস্ত মিডিয়া যখন ক্ষমতার প্রশ্রয় থেকে বের হয়ে চোখ খুলে তাকাবে, তখন শুধু অন্ধকারই দেখবে না, তাদের সামগ্রিক পেশাদারিত্বের দৈন্য ও অস্তিত্বসঙ্কট দেখে আঁতকে উঠবে।

বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা- মানুষ পোড়ানোর রাজনীতি নয়

বুধবার ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিট পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবরোধের আগুনে হতাহত ৬৩ জনের পরিবারকে যে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন, তা অসহায় ও যন্ত্রণাক্লিষ্ট মানুষের অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবনে খানিকটা আশার আলো ও স্বস্তির সুবাতাস নিয়ে আসবে। নগদ অর্থের বদলে প্রত্যেক পরিবারকে ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র প্রদানের সিদ্ধান্তকেও আমরা সাধুবাদ জানাই। এর ফলে এই সহায়তা অপেক্ষাকৃত টেকসই হবে_ আশা করা যায়। কিন্তু সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত হতে পারত দেশের সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষকে যদি বার্ন ইউনিটেই চিকিৎসার জন্য আসতে না হতো। বস্তুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯৯৩ সালে যখন দেশের প্রথম এবং পর্যায়ক্রমে আরও ১৪টি হাসপাতালে পৃথক বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠিত হয়, তার উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ দুর্ঘটনাক্রমে দগ্ধ মানুষের চিকিৎসা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ২০১৩ সালের শেষদিকে এবং এ বছরের গোড়ায় ছড়িয়ে পড়া রাজনৈতিক সহিংসতায় পেট্রোল বোমার ব্যবহার শুরু হলে 'রাজনৈতিক আগুনে' পোড়া রোগীর সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে থাকে। আমাদের গ্রামাঞ্চলের কাঁচা ঘরবাড়ি এবং শহরাঞ্চলের বস্তি এলাকায় অগি্নকাণ্ডের অঘটন নতুন নয়। তবে এতে সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও হতাহতের সংখ্যা সাধারণত নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু পেট্রোল বোমা বা গান পাউডার দিয়ে যানবাহনে যে আগুন দেওয়া হয়, তার পরিণতি হয় এক কথায় ভয়াবহ। সেই ভয়াবহতা জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে সমকালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঢামেক বার্ন ইউনিটের অবৈতনিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সামন্তলাল সেনের বক্তব্যেই স্পষ্ট ছিল। তিনি বলেছিলেন_ 'রাজনৈতিক সহিংসতার সময় যানবাহনে দেওয়া আগুনে যারা পুড়ে যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পেট্রোল বা গান পাউডারে পোড়ে। ফলে অনেক বেশি পুড়ে যায়। বিশেষ করে হাত বা পা অনেক সময় পুড়ে বিকৃত হয়ে যায়। সেগুলো আর সারিয়ে তোলা যায় না। সাধারণ মানুষ তো বটেই, চিকিৎসার সঙ্গে যুক্তরাও অনেক সময় এই দৃশ্য সহ্য করতে পারেন না। তাদের পোড়া মুখমণ্ডলের দিকে আপনজনও তাকাতে পারেন না।' গোটা পেশাজীবনে দগ্ধ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে আমরাও বলতে চাই_ এভাবে রাজনীতির নামে যেন জীবন্ত মানুষকে পোড়ানো না হয়। আগুনদাতারা যেন দগ্ধ মানুষের নারকীয় যন্ত্রণা উপলব্ধি করতে পারে। কিন্তু নাশকতাকারীদের সুমতির অপেক্ষায় বসে থাকার অবকাশ নেই। তাতে পোড়া মানুষের অসহায়ত্ব আরও বাড়বে। আমরা চাই, দেশের ২৯টি সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠা হোক। মানুষ পোড়ানোর হোতাদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে যেমন, তেমনই দগ্ধদের চিকিৎসায় যেন ত্রুটি না থাকে। সেক্ষেত্রে স্বস্তির খবর হচ্ছে যে, বার্ন ইউনিটের সংখ্যা, জনবল ও সরঞ্জাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকার ইতিমধ্যেই উদ্যোগী হয়েছে। পোড়া রোগীর চিকিৎসায় রাজধানীর মুগদাপাড়ার ৫শ' শয্যার জেনারেল হাসপাতাল, গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে প্রাথমিকভাবে ২০ শয্যার করে বার্ন ইউনিট চালু হচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটকে পৃথক ইনস্টিটিউটে উন্নয়নের উদ্যোগও এগিয়ে গেছে। সেখানে অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পোড়া চিকিৎসার উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকলেও অত্যাধুনিক সরঞ্জামের অভাবে দগ্ধ শ্বাসনালির নিরাময় সম্ভব হয় না। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারেও ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। আমরা আশা করি, পোড়া চিকিৎসায় বাংলাদেশের সামর্থ্য সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়বে। কিন্তু তাতে যেন কেবল দুর্ঘটনাক্রমে দগ্ধদেরই আসতে হয়; রাজনৈতিক সহিংসতার শিকারদের নয়। আর এজন্য নাগরিকদের প্রতি রাজনীতিকদের মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীলতার বিকল্প নেই।

সৌদিতে বিতাড়নের মধ্যে শ্রমিক আমদানির তোড়জোড়

বিদেশী শ্রমিক বিতাড়ন এবং গৃহপরিচারিকা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে সৌদি নাগরিকদের চাকরি করতে অস্বীকৃতি জানানোর প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে পর্যায়ক্রমে দুই লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক পাঠানোর প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, নিয়মকানুন মেনে কেবল ‘যোগ্যতা সম্পন্ন দক্ষ’ শ্রমিক প্রেরণ করতে বাংলাদেশ প্রশাসন ব্যর্থ হলে পরে তার কঠিন মাশুল দিতে হতে পারে। সৌদি আরব সাম্প্রতিককালেও দুর্নীতির কারণে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশী  রিক্রুটিং এজেন্সিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।  ওয়াকিবহাল মহল স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, বাংলাদেশকে সৌদি সরকারের  দ্বারা গত বছরের অ্যামনেস্টি প্রদান পরবর্তী চলমান ঘটনাবলী বিবেচনায় নিতে হবে। সৌদি আরব বছরে ১২ লাখ শ্রমিক নিয়োগ করে আসছিল। কিন্তু সেদেশের অর্থনীতিবিদরা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, এর ফলে অভ্যন্তরীণ চাকরির বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সৌদি আরবের নিজেরও বেকারত্ব বাড়ছে। সেকারণে বিদেশী শ্রমিকদের তাড়িয়ে তারা সাড়ে ৭ লাখ চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু এসব ‘অড জব’ গ্রহণে সৌদি নাগরিকরা কোন আগ্রহ দেখায়নি। 
ঢাকায় এখন সৌদি আরবে প্রবেশে তুলনামূলক দরিদ্র ও অনগ্রসর অংশের চাকরি প্রত্যাশীরা সঙ্গতকারণেই দীর্ঘ লাইন দিচ্ছেন। বিনা মূল্যের  ফরম দুই থেকে ৫শ’ টাকা খরচ করেও অনেকে কিনছেন। অনেকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও শুরুটাই করছেন অনিয়ম দিয়ে, তারা গোড়াতেই দালালদের খপ্পরে পড়ছেন। গতকালই আরব নিউজে খবর ছাপা হয়েছে,  সৌদি থেকে ২৭ হাজার ইন্দোনেশীয়কে বহিষ্কার করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ইতিমধ্যে বাড়ি ফিরে গেছেন। বাকিরা এখন দেশে ফেরার পথে জেদ্দায় অপেক্ষমাণ রয়েছেন। তারা নির্ধারিত মেয়াদের বেশি সময় সৌদিতে অবস্থান করছিলেন।
উল্লেখ্য যে, ২০০৮ সালে বাংলাদেশের ওপর শ্রমিক প্রেরণে সৌদি প্রশাসন যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, সম্প্রতি তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ দক্ষ শ্রমিক নেয়ার ঘোষণায় শ্রমবাজারে দীর্ঘ দিন পরে একটা সাড়া পড়ে গেছে। ২০০৮ সালের আগ পর্যন্ত গড়ে বছরে দেড় লাখ শ্রমিক যেত সৌদি আরবে। ২০০৫ সালের ১৬ই জানুয়ারি আরব টাইমসে ইমরান রহমানের রিপোর্ট মতে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ১ লাখ ৪৯ হাজার এবং ২০০৪ সালে ১ লাখ ৩০ হাজার শ্রমিক সৌদি আরবে রপ্তানি করেছিল।    
শ্রমমন্ত্রী সৌদি সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে পরররাষ্ট্র নীতির ইতিহাসে মাইলফলক বলে বর্ণনা করেন। তবে মাত্র কয়েক মাস আগেই প্রায় ৩০ হাজার বাংলাদেশী দেশে ফিরতে বাধ্য হন। গত বছর সৌদি আরব সরকার অবৈধ বিদেশী শ্রমিকদের ওপর ক্র্যাকডাউন চালিয়েছিল। ২০১৪ সালের ৩রা নভেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্রায় দেড় লাখ বিদেশী শ্রমিককে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সৌদি সরকার ঘোষিত ৭ মাস সময়ের অ্যামনেস্টির সুযোগ গ্রহণ করে ভারতের ১৪ লাখ এবং বাংলাদেশের সাড়ে ৭ লাখ অবৈধ শ্রমিক তাদের কাগজপত্র ঠিক করে নেয়ার সুযোগ পেয়েছিল। এই সাড়ে ৭ লাখের  মধ্যে প্রায় ৪ লাখ পাসপোর্ট নবায়ন করে এবং অবৈধ হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা আরও সাড়ে ৩ লাখ বাংলাদেশী তাদের কাগজপত্র ঠিক করে নেন।  কিন্তু বিতাড়নের চিত্রটিও ছিল ব্যাপক।
৯ই ডিসেম্বর ২০১৪ আরব নিউজে পিকে আবদুল গফুর লিখেছিলেন, সৌদি আরব থেকে অবৈধ হয়ে পড়া বিদেশী শ্রমিকদের তাদের নিজ নিজ দেশে রপ্তানি করতে বাদশাহ আজিজ বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন ২২টি ফ্লাইট ছেড়ে গেছে। অ্যামনেস্টি ঘোষণার পরে দুই লাখ স্বেচ্ছায় ও আরও প্রায় দেড় লাখ ইথিওপিও এবং ১ লাখ ৪১ হাজার ভারতীয় শ্রমিক সৌদি আরব ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। এভাবে বিদেশী শ্রমিক বিতারণের মধ্য দিয়ে সৌদি আরব ৭শ’ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করেছিল। এ ধরনের পদক্ষেপে অত্যন্ত সন্তুষ্ট সৌদি প্রশাসন লোক নিয়োগে তাদের দেশ ও শ্রমবাজারের জন্য অধিকতর অনুকূল শর্ত সংবলিত নিয়মকানুন প্রবর্তন করতে সক্ষম হয়েছিল। আরব টাইমসের রিপোর্ট মতে সৌদি আরবের বেঁধে দেয়া যাবতীয় নতুন শর্তে বাংলাদেশ সরকার শ্রমিক প্রেরণে রাজি হয়েছে।

স্কুলছাত্রীরা দিনের ৭ ঘণ্টাই মুঠোফোনে

জাপানে হাইস্কুল ছাত্রীরা দৈনিক গড়ে সাত ঘণ্টা তাদের মোবাইল ফোনের পেছনে সময় ব্যয় করে থাকে। এদের প্রায় ১০ শতাংশ দিনে কমপক্ষে ১৫ ঘণ্টা মোবাইলে সময় কাটায়। নতুন এক জরিপ থেকে এ তথ্য জানা যায়। সোমবার প্রকাশিত তথ্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল আর্টসের জরিপে বলা হয়, পক্ষান্তরে একই বয়সের ছাত্ররা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র চার ঘণ্টা মোবাইলের পেছনে সময় ব্যয় করে। স্মার্টফোন গেমের পাশাপাশি জাপানের মেসেজিং ও নেটওয়ার্কিং অ্যাপ লাইনের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কিশোর-কিশোরীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
সহজে বহনযোগ্য এ প্রযুক্তির প্রতি নবীন প্রজন্ম আসক্ত হয়ে পড়া নিয়ে ক্রমেই উদ্বেগ বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যেই এ জরিপ চালানো হয়। ডিজিটাল আর্টস জানায়, জাপানের হাইস্কুলের মোট শিক্ষার্থীর ৯৬ শতাংশ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকে। পক্ষান্তরে জুনিয়র হাইস্কুলের ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। এদিকে জাপানের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপরের দিকে প্রতি ১০ জনের চারজন শিক্ষার্থী মোবাইল ব্যবহার করে থাকে। অনলাইনে চালানো এ জরিপে জাপানের বিভিন্ন স্কুলের ৬১৮ শিক্ষার্থীর মতামত নেয়া হয়। এএফপি।

চা খেতে খেতে খুনের খতিয়ান দেখেন ওবামা

খুন, ধ্বংসযজ্ঞ আর বিশৃংখলার খতিয়ান দেখে দিন শুরু হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার। সোমবার অনলাইন সংবাদ সংস্থা ‘ভক্স’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ?প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ‘সকালের চায়ের সঙ্গে আমি একটি পাতলা বইও পাই, যেটি মৃত্যু, ধ্বংস, সংঘাত আর বিশৃংখলার খবরে পূর্ণ থাকে।’
দুনিয়ায় সংঘটিত নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে গোয়েন্দাদের তৈরি করা প্রতিবেদনই প্রতিদিন সকালে নাস্তার টেবিলে ওবামার হাতে আসে বলে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা যেসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ বলা যায় এই ‘পাতলা বইটি’কে। সপ্তাহের ছয়দিনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে তা দেয়া হয়। একে ‘প্রেসিডেন্টের জন্য দৈনন্দিন ব্রিফ-পিডিবি’ বলা হয়, যার চর্চা শুরু হয়েছিল প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের সময় থেকে।
সিআইএ’র সহায়তায় তৈরি করা বইটি প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছানোর দায়িত্ব জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের কার্যালয়ের। সিএনএন জানায়, ‘অতি গোপনীয়’ এই বইয়ে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোই থাকে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি ও বিপজ্জনক সব তথ্যই এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট এবং তার নিরাপত্তা কাউন্সিলের সদস্যদের সরবরাহ করা হয়। বই বলা হলেও প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এটি এখন আধুনিক রূপ পেয়েছে। প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামাই প্রথমবারের মতো গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি ট্যাবের মাধ্যমে পান ‘মৃত্যু আর ধ্বংসের’ খবর। এরপরই ওবামা প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যাতে গোয়েন্দাদের ওই প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে আলোচনা হয়।

দিল্লি বিধানসভায় বিরোধী দল নেই

ভারতের দিল্লি বিধানসভায় এই প্রথমবারের মতো কার্যত কোনো বিরোধী দল থাকছে না। নির্বাচনের একতরফা ফল সে কথাই জানান দিচ্ছে। আম আদমি পার্টি একচেটিয়াভাবে দখলে নিয়েছে বিধানসভার সব আসন। বিজেপি, কংগ্রেসের ওপর জনগণ এতই ক্ষিপ্ত যে তাদের বিরোধী দলের আসনে বসার মতো সমর্থনও দেয়নি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দলের ২২ গুণের বেশি সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করছেন দুর্নীতিবিরোধী নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। বিজয়ী আম আদমি ৬৭ আসনের বিপরীতে বিজেপি আসন পেয়েছে ৩টি। কংগ্রেস ০, অন্যান্য ০। আর কোনো সর্বভারতীয় দলই ডাবল ডিজিটে পৌঁছাতে পারেনি। সাম্প্রতিক অতীতে বিজেপি এমন হারের সম্মুখীন হয়নি।
দিল্লির ২০১৪ সালের বিধানসভায় যেখানে ৩২ আসনে জয়ী হয়েছিল বিজেপি প্রার্থীরা, সেখানে এবার শুধু ৩টি আসনই দখলে রাখতে পেরেছে। আর কংগ্রেস? বলার মতো কোনো কিছুই করতে পারেনি দলটি। সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মাকেন, এএপি ছেড়ে যাওয়া শাজিয়া ইলমি, বিন্নি, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির কন্যা শর্মিষ্ঠার উপস্থিতিতেও নিট ফল শূন্য। কার্যক্ষেত্রেও শূন্যই। কারণ কোনো আসনে জয়ী হতে পারেনি কংগ্রেস। তবে কি পরিবারতন্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করলো জনতা? ফলাফলেই উত্তরটা পরিষ্কার। সাধ্বী নিরঞ্জনই হোন বা স্মৃতি ইরানি, কি মোহন ভাগবত, বার বার রাজনীতির সঙ্গে ‘ধর্মালোচনা’ যে নতুন ১১ লাখ ভোটারের কেউই শুনতে আগ্রহী নন, সেটাও এই রায়ে স্পষ্ট। সোজা কথায়, পরিবারতন্ত্র ও ধর্মীয় উগ্রতা প্রত্যাখ্যান করেছে দিল্লির মানুষ। একদিকে যেমন দলের হারের দায় নিয়ে কংগ্রেসের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অজয় মাকেন। অন্যদিকে, দিল্লির মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েও পরাজয়ের ভার নিজেই নিয়েছেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী কিরণ বেদি। তিনি নিজেও হেরেছেন। তবে এটা জানাতেও ভোলেননি তিনি, ‘নির্বাচনে আমি হারিনি, হেরেছে বিজেপি’।
স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে ধন্যবাদ
জানালেন কেজরিওয়াল
দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত ভালো ফলাফলের জন্য স্ত্রীকে জড়িয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এএপির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি ভক্ত-সমর্থকদের সামনেই নিজের আবেগকে ধরে রাখতে পারেননি। ভারতের রাজস্ব খাতে চাকরির সুবাদে পরিচয় হয় সুনিতা এবং কেজরিওয়ালের। দলের সমর্থকদের উদ্দেশে স্ত্রী সম্পর্কে বলেন, ‘সব পরিস্থিতি ওর (সুনিতা) সহায়তা এবং বুদ্ধিদীপ্ত ও যুক্তিযুক্ত মতামত ছাড়া সফলতা অর্জন সম্ভব ছিল না।’ সুনিতা সম্পর্কে কেজরিওয়াল আরও বলেন, ‘সম্মুখে ও (সুনিতা) না এলেও, পেছন থেকে আমাকে সব সময় সহযোগিতা করেছে। সুনিতা পাশে না থাকলে আমার পক্ষে কিছুই অর্জন সম্ভব নয়।’ স্মৃতিচারণ করে কেজরিওয়াল বলেন, ‘হঠাৎ একদিন একাডেমিতে গিয়ে দরজায় নাড়া দিয়ে সুনিতাকে প্রস্তাব করেছিলাম এবং সেও আমাকে হ্যাঁ বলেছিল।’ কেজরিওয়াল ও সুনিতার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এছাড়া কেজরিওয়ালের পরিবারে তার ছোট এক বোন এবং ভাই রয়েছে। আইআরএস কর্মকর্তা হিসেবে সুনিতা সরকারি একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেয়েছেন। ওই ফ্ল্যাটেই মা-বাবাকে নিয়ে থাকেন দিল্লির হবু মুখ্যমন্ত্রী।
আন্দোলনের কথা ভুলে যাবেন
না : আন্না হাজারে
দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সমাজকর্মী আন্না হাজারে। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগেই কেজরিওয়ালকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সহযাত্রী কেজরিওয়ালকে শুভ কামনা জানিয়ে আন্না বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর আন্দোলন সংগ্রামকে ভুলে যাবেন না।’ দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়েই কেজরিওয়াল মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। আন্না আরও বলেন, ‘আমি ওনাকে অনুরোধ জানাবো আগের মতো ভুল এবার আর করবেন না।’
মহারাষ্ট্রে নিজের গ্রাম রেলেগাঁ সিদ্ধিতে বসে তিনি আরও বলেন, ‘দিল্লি বিধানসভা ভোটে বিজেপির এই হার আসলে নরেন্দ্র মোদির হার।’ মোদির সমালোচনা করলেও বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী কিরণ বেদিকে আড়াল করলেন আন্না। কিরণও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে আন্না ও কেজরিওয়ালের সঙ্গী ছিলেন। এদিকে এএপির জয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এক টুইটে বলেছেন, ‘ঔদ্ধত্য ও বিদ্বেষমূলক আচরণের যোগ্য জবাব পেল বিজেপি।’

বাংলাদেশের জন্য স্কটল্যান্ডের সতর্ক সংকেত

বিশ্বকাপ প্রস্তুতি পর্বে বাংলাদেশের ম্যাচ ছিল না কাল। তবে গ্রুপপর্বে যে দু’দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত ধরে নেয়া হয়েছে, সেই আফগানিস্তান ও স্কটল্যান্ড মাঠে নেমেছিল। অ্যাডিলেডে ভারতের কাছে আফগানিস্তানের ১৫৩ রানের বড়সড় হার যদি বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির উপলক্ষ হয়, তবে মাশরাফিদের কপালে ভাঁজ ফেলে দিয়েছে স্কটল্যান্ড! বড় মঞ্চে দৈত্যবধে অভ্যস্ত যারা, সেই আয়াল্যান্ড এবার নিজেই শিকার। প্রস্তুতি ম্যাচে আইরিশদের (১১৭/১০) ১৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বাংলাদেশের জন্য সতর্ক সংকেত দিয়ে রাখল স্কটিশরা (২৯৬/৬)। অভাবনীয় হারে তেতে থাকা আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেই আবার আগামীকাল শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। মঙ্গলবারের দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন ভারতের রোহিত শর্মা ও স্কটল্যান্ডের ম্যাট মাচান। ১৮ ফেব্র“য়ারি ক্যানবেরায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। দুঃসময়ের ঘেরাটোপে বন্দি ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ-বধের প্রস্তুতি নিতে চেয়েছিল আফগানরা। কিন্তু তা আর হয়নি। উল্টো বিশ্বকাপের নবীনতম দলটিকে সমনে পেয়ে বাঘ হয়ে গেল ভারত! তিন মাসের অস্ট্রেলিয়া সফরে ১২তম ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। হোক না প্রতিপক্ষ দুর্বল আফগানিস্তান, বিশ্বকাপের আগে একটি জয় নিশ্চয় ধোনিদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। রোহিত শর্মার তাণ্ডবে প্রথম ব্যাট করে পাঁচ উইকেটে ৩৬৪ রানের পাহাড় গড়েছিল ভারত। জবাবে সাধ্যমতো লড়াই করে আট উইকেটে ২১১ রানে থামে আফগানিস্তানের দৌড়। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে কিছুটা বিপদেই পড়েছিল ভারত। ১৬ রানের মধ্যে বিদায় নেন শিখর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলি।
পরের গল্পটা ভারতের ঘুরে দাঁড়ানোর। তৃতীয় উইকেটে ১৫৮ রানের জুটি গড়েন রোহিত ও সুরেশ রায়না। আফগান বোলারদের কচুকাটা করে রোহিত শর্মা আবারও জানান দিলেন বিশ্বকাপে যেকোনো দলের বিপক্ষেই দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠতে পারেন তিনি। ১২২ বলে ১২ চার ও সাত ছয়ে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৫০ রানের অনবদ্য এক ইনিংস। রায়না খেলেছেন ৭৫ রানের ইনিংস। শেষদিকে ৬১ বলে অপরাজিত ৮৮ রানের আরেকটি ঝড়ো ইনিংস উপহার দেন আজিংকা রাহানে। তাতেই ভারতের সংগ্রহ সাড়ে তিনশ’ ছাড়িয়ে যায়। বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে শুরুটা খারাপ হয়নি আফগানিস্তানের। নওরোজ মঙ্গলের ৬০ ও উসমান গনির ৪৪ রানের সুবাদে একপার্যায় তাদের সংগ্রহ ছিল দুই উইকেটে ১৫৩। তবে এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ভারতকে আর চোখ রাঙাতে পারেনি আফগানিস্তান। ভারতের পক্ষে মোহিত শর্মা ও রবীন্দ্র জাদেজা দুটি করে উইকেট নেন। সিডনির ব্ল্যাকটাউন অলিম্পিক পার্ক ওভালে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা স্কটল্যান্ড ছয় উইকেটে তুলেছিল ২৯৬। বড় সংগ্রহের ভিতটা গড়ে দেয় ম্যাট মাচানের সেঞ্চুরি। ৮৬ রানে তিন উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক প্রেস্টন মমসেনের সঙ্গে ৯৬ ও রিচি বেরিংটনের সঙ্গে ৯৮ রানের দুটি চমৎকার জুটি গড়ে দলকে তিনশ’ রানের কাছাকাছি নিয়ে যান মাচান। ১০৮ বলে ১০৩ রান করে আউট হন তিনি। এছাড়া মমসেন ৫৬ ও বেরিংটন ৫২ রান করেন। জবাবে অ্যালাসডার ইভান্স ও মাজিদ হকের মারাÍক বোলিংয়ে ২৭ ওভারে মাত্র ১১৭ রানে গুটিয়ে যায় আয়াল্যান্ড। পল স্টার্লিং (৩৭) ও উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের (২৩) ৫৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর মাত্র ৫১ রানে শেষ নয় উইকেট হারায় আইরিশরা। দীর্ঘদেহী পেসার ইভান্স ১৭ রানে নেন চার উইকেট। অফ-স্পিনার মাজিদ তিন উইকেট নেন মাত্র নয় রানের বিনিময়ে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত ও আফগানিস্তান
ভারত ৩৬৪/৫, ৫০ ওভারে
(রোহিত শর্মা ১৫০, রায়না ৭৫, রাহানে ৮৮*, জাদেজা ১১*।
হামিদ হাসান ১/৪৯, মোহাম্মদ নবী ১/৬২, দৌলত জাদরান ১/৬৬,
শাপুর জাদরান ১/৫৮)।
আফগানিস্তান ২১১/৮,
৫০ ওভারে (উসমান গনি ৪০, নওরোজ মঙ্গল ৬৬,
আজগর ২০, আফসার ২৪*।
মোহিত শর্মা ২/৪০,
জাদেজা ২/৩৮)।
ফল : ভারত ১৫৩ রানে জয়ী।
স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড
স্কটল্যান্ড ২৯৬/৬, ৫০
ওভারে (ম্যাকলিওড ৪১,
মাচান ১০৩, মমসেন ৫৬,
বেরিংটন ৫২। সরেনসেন ৩/৫৫,
ক্রিস ইয়ং ২/৩০)।
আয়ারল্যান্ড ১১৭, ২৭ ওভারে (পোর্টারফিল্ড ২৩, স্টার্লিং ৩৭, উইলসন ১৫। ইভান্স ৪/১৭, মাজিদ হক ৩/৯, ডেভি ২/৩৬)।
ফল : স্কটল্যান্ড ১৭৯ রানে জয়ী।

দেশ শান্ত হলে ঢাকার বাইরে শুটিং করব

*বর্তমানে ব্যস্ততা কী নিয়ে?
**সংসার ও অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত আছি। সঙ্গে নাচের অনুশীলনও চালিয়ে যাচ্ছি। আমার মেয়ের পরীক্ষা ছিল তার জন্য বেশকিছু দিন অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছিলাম।
*থাইল্যান্ডে ধারণকৃত নাটকটির শুটিং কি শেষ?
**‘গন্তব্য নিরুদ্দেশ’ ধারাবাহিক নাটকটি ৫২ পর্বের। সম্পূর্ণ শুটিং হবে থাইল্যান্ডে। আর মাত্র দুই-তিন দিন শুটিং করলে শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু দেশের যে অবস্থা তাতে একটু দেরিতে শুটিং করা হবে।
*ঢাকার বাইরে শুটিং করছেন?
**না, কীভাবে শুটিং করব? দেশের যে রাজনৈতিক অস্থির অবস্থা। চারদিকে জ্বালাও-পোড়াও। এর মধ্যে ঢাকার বাইরে শুটিং করতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। অল্পকিছু কাজ করছি ঢাকার ভেতরে। অস্থির পরিবেশ শান্ত হলে ঢাকার বাইরে শুটিং করব।
*অন্যান্য ব্যস্ততা...
**প্রচার হচ্ছে ও অপেক্ষায় আছে ধারাবাহিক নাটক বাতিঘর, চোরকাটা, দ্য এ টিম, এই শহরের গল্প। এছাড়া নতুন ধারাবাহিক ‘কাছাকাছি’ নাটকের শুটিং শুরু করব শিগগিরই।
*বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে কি নাটক থাকছে?
**কোনো নাটক করিনি। নিজের বেশ কিছু ব্যক্তিগত কারণে ভালোবাসা দিবসের কাজ করতে পারিনি। য় বিএম ইমরান

কপোতাক্ষ নদ দখল করে ভবন নির্মাণ

(ঝিনাইদহের মহেশপুরে কপোতক্ষ নদের মধ্যে ভবন নির্মাণ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তি। সম্প্রতি তোলা ছবি l প্রথম আলো) ঝিনাইদহের মহেশপুরে কপোতাক্ষ নদ দখল করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। আলামপুর সেতুঘাটের অদূরে ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে চলছে এই কাজ।
ভবনটি নির্মাণ করছেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বেনেপাড়ার আলা উদ্দিন নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস ধরে ওই জায়গায় বালু ফেলা হয়। ১৫ থেকে ২০ দিন আগে সেখানে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, কোটচাঁদপুর শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কপোতাক্ষ নদ। এই নদের উত্তরে কোটচাঁদপুর আর দক্ষিণে মহেশপুর উপজেলা। মহেশপুরের সীমানায় আলামপুর সেতুঘাটের পূর্ব দিকে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। আলা উদ্দিন চার কক্ষের ঘর তৈরি করছেন। ইতিমধ্যে ইটের গাঁথুনি তিন ফুট উচ্চতায় উঠেছে।
মহেশপুর উপজেলার আজমপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কপোতাক্ষ নদ প্রস্থে ২৪০ ফুট। ভবনটি ওই ২৪০ ফুটের মধ্যেই নির্মাণ করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে আলা উদ্দিন বলেন, স্থানটি দেখলে নদের মধ্যে মনে হতে পারে। আসলে এটি ব্যক্তিমালিকানার জায়গা। মহেশপুরের আলামপুর গ্রামের কামরুজ্জামানের কাছ থেকে তিনি ১০ শতক জমি কিনেছেন। ওই জমিতেই ঘর বানাচ্ছেন।
আলা উদ্দিন নদের জায়গা দখল করেননি দাবি করে কামরুজ্জামান বলেন, জায়গাটি তাঁর মালিকানাধীন ছিল। ১৮৩ নম্বর আলামপুর মৌজার ৭১৭ নম্বর দাগের জমি এটি।
আজমপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আক্কাচ আলী বলেন, বিষয়টি তিনি জানতেন না। দ্রুত খোঁজ নিয়ে দেখবেন। কাউকে নদ দখল করতে দেওয়া হবে না।
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছিমা খাতুন বলেন, বিষয়টি জানা নেই। দ্রুত খোঁজ নেওয়া হবে। কেউ নদ দখল করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগ্রহ গল্প-উপন্যাসে by ফররুখ মাহমুদ

অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১১তম দিন অতিবাহিত হয়েছে। দিন যত অতিবাহিত হচ্ছে, মেলার আকর্ষণ ততই বাড়ছে। প্রতিদিন শতাধিক নতুন নতুন বই আসছে গ্রন্থমেলায়। দর্শনার্থীদের সঙ্গে বেড়েছে বিক্রি। প্রতিবারের মতো এবার পাঠকদের আগ্রহের জায়গায় রয়েছে গল্প-উপন্যাসের বই। গত ১১ দিনে মেলায় বেশি বিক্রি হয়েছে গল্প-উপন্যাসের বই। এমনটিই জানিয়েছেন বই বিক্রেতা-প্রকাশকরা। পাঠকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে সেভাবেই স্টল সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। বরাবরের মতোই এবারও হুমায়ূন আহমেদের বই রয়েছে বিক্রির শীর্ষে। এমনি জানিয়েছেন অন্য প্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম। বলেন, গল্প-উপন্যাসের প্রতি বাঙালির টান সহজাত। আর এ দুই ধারায় অসামান্য অবদান রেখেছেন হুমায়ূন। তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা শারমিন আহমেদের লেখা দুটি বই ঐতিহ্য প্রকাশনীর স্টলে বিক্রির শীর্ষে রয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী আমজাদ হোসেন কাজল। তিনি বলেন, বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাঙালি পাঠকের বরাবরই বেশি। এবারের মেলায় পুরনো লেখকদের পাশাপাশি নতুন লেখকরাও ভাল করছেন বলে জানান তিনি।
সৈয়দ ওয়ালীউলাহ্‌ পুরস্কার ঘোষণা: প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চায় সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি পরিচালিত সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ পুরস্কার ’১৪ লাভ করেছেন কবি ও কথাসাহিত্যিক ইকবাল হাসান এবং লেখক ও চিত্রশিল্পী সৈয়দ ইকবাল। আগামী ২৮শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় অমর একুশে গ্রন্থমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার দেয়া হবে। এ পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার টাকা।
নতুন বই: অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১১তম দিনে গতকাল নতুন বই এসেছে ১০৭টি। ৬টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। নতুন বইয়ের মধ্যে গল্প ২২, উপন্যাস ১৬, প্রবন্ধ ৭, ইতিহাস ২, রাজনীতি ২, কবিতা ২০, স্বাস্থ্য ১, গবেষণা ২, ছড়া ৩, জীবনী ১, অনুবাদ ১, মুক্তিযুদ্ধ ৩, বিজ্ঞান ৩, সায়েন্স ফিকশন ১ ও অন্যান্য ২৩টি। নতুন বইয়ের মধ্যে ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত হয়েছে জাকির আবু জাফরের কাব্যগ্রন্থ ‘ব্যক্তিগত জোছনার বিজ্ঞাপন’। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ। এ ছাড়া সময় থেকে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের ‘ওড়াউড়ির দিন, দ্বিতীয় খ-: ইংল্যান্ড’ মিজান পাবলিশার্স থেকে এস এম মুকুলের ‘সামাজিক পুঁজি, সামাজিক উদ্যোগ ও সমবায় আন্দোলন’, অ্যাডর্ন থেকে ‘উপমহাদেশের আইন ও শাসনের ইতিহাস’ তালহা বিন জসিমের ‘ধুলোপায়ে হাঁটছি অনন্তকাল’ প্রভৃতি।
মূলমঞ্চের আয়োজন: বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় নেতা শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের নব্বইতম জন্মবর্ষ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুর রশীদ। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক এম এম আকাশ, মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী সিকদার ও সুভাষ সিংহ রায়। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ। আলোচকরা বলেন, জাতির কঠিনতম সময়ে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে তাজউদ্দীন শক্ত করে হাল না ধরলে মুক্তযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকার গঠন করা সহজ হতো না। তার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ও সাহসী পদক্ষেপে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পথ কুসুমাস্তীর্ণ হয়েছিল।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল আবৃত্তি সংগঠন ‘ক’জনা’ মো. সুলতান হোসেনের পরিচালনায় ‘মাটির সুর সংগীত পরিষদের পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ফারভীন, আকরামুল ইসলাম, সেলিম চৌধুরী, বদিয়ার রহমান, আবদুল লতিফ সাঁই, শফিউল আলম রাজা, শিপ্রা ঘোষ ও জসীমউদ্দীন সজল।
আজকের অনুষ্ঠান: আজ বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে শিশুসংগঠক রোকনুজ্জামান খান দাদাভাইয়ের নব্বইতম জন্মবর্ষ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন শিশুসাহিত্যিক খালেক বিন জয়েনউদদীন। আলোচনায় অংশ নেবেন মাহবুব তালুকদার, আলী ইমাম, লুৎফর রহমান রিটন ও প্রত্যয়। সভাপতিত্ব করবেন শিল্পী হাশেম খান।