Saturday, November 23, 2013
নেতৃত্বের সদিচ্ছার দিকে তাকিয়ে মানুষ: গভর্নর

আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে মার্কেন্টাইল ব্যাংক আয়োজিত আব্দুল জলিল শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে গভর্নর এ কথা বলেন।
আতিউর রহমান বলেন, ‘দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অধিকারের নামে যে বিধ্বংসী প্রবণতা বিরাজ করছে, তা দীর্ঘায়িত বা স্থায়ী হলে আমাদের সব অর্জন ও সম্ভাবনা ম্লান হয়ে যাবে।’
দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরে আতিউর রহমান বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও গত পাঁচ বছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি গড়ে ৬ শতাংশের বেশি অর্জিত হয়েছে। দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার ক্রমে কমছে। গত বছরও মুদ্রাস্ফীতি দুই ডিজিটে ছিল। চলতি অর্থবছরের অক্টোবর মাস শেষে মুদ্রাস্ফীতি কমে ৭ দশমিক ৩ শতাংশে চলে এসেছে।
দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৭ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়েছে বলেও জানান গভর্নর।
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহসানুল হকসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের উদ্যোগে ২০১২ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৭৫৭ জনকে এক কোটি টাকার শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। আজ এর মধ্যে ১৭৪ জনকে বৃত্তি দেওয়া হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সময়চিত্র- আবার আওয়ামী লীগ সরকার by আসিফ নজরুল
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হুঁশিয়ার বাংলাদেশ
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নৌকা-লাঙ্গলের সরকার সর্বদলীয় নয় by কাজী সুমন
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশ্ব উদ্যোক্তা সপ্তাহ ২০১৩- ‘চাকরি খুঁজব না, চাকরি দেব’ by মুনির হাসান
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উদ্যোগী নারী- আত্মপরিচয়ে আত্মবঞ্চনা by উম্মে মুসলিমা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কল্পনা আর বাস্তবতায় কেনেডি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আবার অরণ্য by মো. সাইফুল্লাহ
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তাজরীন ও রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা- এক পয়সাও দিতে রাজি নয় মার্কিন ক্রেতারা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্বাচন হোক, গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণ হোক by ফকির ইলিয়াস

বস্তুত দাগিদের বাঁচাতে যখন কেন্দ্রীয় সরকার অর্ডিন্যান্স আনে, তখন নিন্দুকরা বলতে শুরু করে পশুখাদ্য কেলেংকারি মামলার রায় লালুর বিরুদ্ধে গেলেও যাতে তার সদস্যপদ খারিজ না হয়, সেজন্যই কংগ্রেস সরকার চেষ্টা করছিল? পরে রাহুলের ‘বিদ্রোহে’ ভেস্তে যায় সব কিছুই? তাই শেষরক্ষা করা গেল না বিহারের বন্ধুকে?
বাংলাদেশে বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে খালাস দিয়েছেন আদালাত। তার বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের কারাদণ্ড হয়েছে। মামলার আপিল হবে। এদিকে তারেক রহমানের এ খালাসের খবরে বিএনপি ঘরানায় আনন্দের বন্যা। স্বভাবতই সরকার এ রায়ের মাধ্যমে নিজেদের আরও স্বচ্ছতা দাবি করেছে। বলেছে, আমরা আইনি বিষয়ে হস্তক্ষেপ করি না। যদিও এটা না মেনে বিএনপি বলছে, তারেকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ সরকার প্রমাণই করতে পারেনি।
তারেকের মামলার বিষয়টি এখন কমই গুরুত্ব পেয়েছে দেশের মানুষের কাছে। এর কারণ সামনেই নির্বাচন। কী হবে, কী হতে পারে, সেটাই মানুষের ভাবনার বিষয়। সরকার সেই ভাবনাকে জিইয়ে রেখেই নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। দেশে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, জেপির নেতারা শপথ নিয়েছেন। অনেকের চোখ ছিল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দিকে। তার দলের মনোনীত মন্ত্রীরা শপথ নিয়েছেন। জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। হতে পারে তা বাংলাদেশের ললাট লিখন। পাশ্চাত্যের উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো এ কথা মানে না। ডিবেট হয়। আলোচনা হয়। শাটডাউন হয়। কিন্তু তারপরও দেশের নাগরিকের অধিকার ও চাওয়া সমুন্নত থাকে। বাংলাদেশে তা হয়নি। কেন হয়নি- তা ভাবা দরকার সবারই।
আমরা দেখছি, দীর্ঘদিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে না। তাই বলে কি ছাত্ররাজনীতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে? না হয়নি। বড় দলগুলো ছাত্র সংসদ নির্বাচন না করে প্রকারান্তরে নিজেদের দলের সভাপতি-সম্পাদককেই ডাকসু-রাকসু-চাকসু ইত্যাদির ছায়া ( শ্যাডো ) ভিপি-জিএস বানিয়েছে। এরাই এখন দেশের রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্ব। মেধাবীরা রাজনীতিতে আসেনি। এসেছে বড় দলগুলোর মদতপুষ্টরা। ছাত্র রাজনীতি কোনো দলই বাদ দেয়নি। দিতে পারেনি। বরং বিভিন্ন সরকারের সময় ছাত্র নামধারী কিছু সন্ত্রাসী-মাস্তান-টেন্ডারবাজরা লুটপাট করেছে। এ চেতনায় কি এদেশের মানুষ বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল? না- আনেনি। বীরের রক্তসে াত এদেশে এখন যেন কপাটবন্দি ইতিহাস !
বাংলাদেশকে ভোগ করছে একটি চক্র। এরা কারা? কী তাদের উদ্দেশ্য? এসব প্রশ্নের জবাব খোঁজা প্রজন্মের জন্য দরকারি বিষয়। বাংলাদেশের রাজনীতি বিদেশ থেকে যেসব দাতা গোষ্ঠী ও মিত্ররা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের আসল পরিচয় আমরা জানি কি?
একটা ছোট্ট ঘটনা বলি। তখন ইরাকে মার্কিন সেনাসন্ত্রাস চলছে। আমার প্রতিবেশী এক মহিলা আমাকে জানালেন, জ্বালানি তেলের দাম নিউইয়র্কে আজ সকালেই বেশ বেড়ে গেছে। আমি বললাম, সংবাদটা তো খারাপ বটেই । মহিলা ভ্রু কুঁচকে আরও বললেন, প্রভুর কাছে আশীর্বাদ কামনা কর। আমরা যেন ইরাকে জিতে আসতে পারি। না হয় তেলের দাম আরও বাড়বে। আমি বললাম, রক্তের বিনিময়ে আমরা তেল চাইব! এ হল মার্কিনি নীতি। এটা বাংলাদেশের রাজনীতিকরাও জানেন ভালো করেই। আর জানেন বলেই তারা তাদের সন্তানদের বিদেশে লেখাপড়া করাতে পাঠান। আর বাংলাদেশের প্রজন্ম পুড়ে হরতালের আগুনে।
বাঙালির প্রথম স্বপ্ন ছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। সব ধর্মের মানুষের নিরাপদ আবাসস্থল। দেশ আমরা পেয়েছি। কিন্তু শান্তি পাইনি। শেষ কথা কিছু থাকবে না কেন? অহিংস রাজনীতি, মহান স্বাধীনতার চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ এ জাতি ধারণ করতে পারছে না কেন পুরোপুরিভাবে? কেন এখনও রাজাকারের প্রেতাত্মা ভর করছে কিছু মানুষের মননে? দেশে নির্বাচন হোক। সেই নির্বাচনে গণমানুষের প্রত্যাশাপূর্ণ জয় হোক। আমরা গণতান্ত্রিক জাগরণ চাই। মনে রাখতে হবে, আজ ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ যা করছে, এর দ্বিগুণ হঠকারিতা করবে বিএনপি, তারা যখন ক্ষমতায় যাবে। তারাও বলবে, আমরা সংবিধান অনুযায়ী সবকিছু করছি। এ নিষ্ঠুরতায় পিষ্ট হতে হতেই দাঁড়াবে মানুষ। তবে এর জন্য আর কত সময় লাগবে, তা এখনও বলা যাচ্ছে না।
ফকির ইলিয়াস : যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী প্রাবন্ধিক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গর্ব ও গ্লানির সংমিশ্রণ by বদিউর রহমান

তিনি যখন খুব বলিষ্ঠ আওয়াজে আমাদের আশাবাদী করেন, বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছে মানুষ, যখন বলেন দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠিয়ে দেবেন, তখন আমাদের রক্তে শিহরণ জাগে। ভাবতে আনন্দ লাগে, আমরাও পারব, আমাদের প্রজন্ম না হোক পরবর্তী প্রজন্ম তো হতেই পারে। হ্যাঁ, এটা সম্ভব। ইতিমধ্যে আমাদের আয় অনেক বেড়েছে, মধ্য আয়ের দেশে যাই-যাই বলে; বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড করেছে; গড় আয়ুও বেড়েছে। আর বলা সমীচীন নয়। অনেক পাঠক ভাবতে পারেন, আমি বুঝি বিলবোর্ডীয় প্রচারে চলে গেলাম। কিন্তু উন্নতি যে হয়েছে তা অস্বীকার করব কীভাবে? এই ষাটের দশকেও গ্রামে ভাতের ফ্যান (মাড়) নেয়ার গরিব মানুষ ছিল, প্রতি সপ্তাহের শুক্রবারে ভিক্ষা করতে আসার পুরুষ-মহিলা ছিল, মহিলা বেশি ছিল, প্রচুর কৃষি শ্রমিক ছিল। এখন তো এসব আর চোখে পড়ে না। গ্রামে গ্রামে পাকা রাস্তা, দালান, নিদেনপক্ষে টিনের ঘর। ছনের ছাউনির কুঁড়েঘর আর তেমন চোখে পড়ে না। তহবন্দ (লুঙ্গি) মাথার উপর উঠিয়ে খাল-নদী তো আর পার হতে হয় না, মানুষ এখন চলে গাড়িতে। গ্রামের গরিব মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে অনেক সমালোচনা, অনেক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ড. ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি কাজ দিয়েছে। নারীদের স্বাবলম্বী করাতে চড়া সুদে হলেও গ্রামীণ ব্যাংকের জামানতবিহীন ঋণ সহায়ক হয়েছে। অবশ্যই আমরা ড. ইউনূসকে বড় মানুষ ভাবি। বাড়ির গরু ঘাটার (আঙিনার) ঘাস খায় না, আমরা দেশে তাকে তুলনামূলকভাবে কম মূল্যায়ন করি, বিদেশে তার কদর অনেক বেশি। তা এমনি এমনি তো হয়নি, তার যোগ্যতা অবশ্যই আছে। প্রেসিডেন্ট, রানীদের ‘পটিয়ে’ যদি সব করে থাকেন, তবু বলব, সেটাও একটা যোগ্যতা। পারলে আপনিও করুন না, আরেকটা নোবেল নিয়ে আসুন দেখি। গায়ে পড়ে তাকে ‘ছোট’ করার চেষ্টায় আপনিই ছোট হলেন, তার কিছু হয়নি। ডজনে ডজনে সম্মানসূচক ডক্টরেট না হয় আনা যায়, কিন্তু নোবেল কি এখনও তেমন সহজপ্রাপ্য কিংবা বেচাকেনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে? অবশ্যই নয়। অতএব আমরা ড. ইউনূসকে সম্মান করি, সম্মান করব। তিনি অন্তত সবার সঙ্গে ফটো তুলতে দ্বিধা করেন না, নিজের কনিষ্ঠ সহকর্মীদের ছেলেমেয়ের বিয়েতে হাজির হতে বিরত থাকেন না, গ্রামের বাড়িতে হলেও যান দেখি। তখন তার সঙ্গে একটা ছবি রাখার জন্য যত চাহিদা থাকে, তিনি দেখলাম তাও পূরণ করেন। এটা কি একটা বড় গুণ নয়?
কিন্তু তার কিছু কাজ আমার ভালো লাগে না। হতেই পারে সবাইকে সবার সমানভাবে ভালো লাগবে না, লাগার কথাও নয়। কর নিয়ে তাকে অসম্মানের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমি সরাসরি সম্প্র্রচারেও বলিষ্ঠ ও দৃঢ়ভাবে বলেছি। কিন্তু নোবেল জয়ের প্রাপ্ত অর্থের করমুক্তি নিয়ে তার যে আকুলতা কিংবা ব্যাকুলতা কিংবা অস্থিরতা আমি লক্ষ্য করেছি, তা আমার কাছে বড় বেমানান ঠেকেছে। সে অবস্থায় এক সহকর্মীকে বলেছিলাম, আমি নোবেল পেলে এমনটি করতাম না, প্রযোজ্য না হলেও কর দেয়ার সুযোগ নিতাম। আমার ধারণা ছিল, যারা নোবেল বিজয়ী হোন তাদের মনও বিরাট, তাদের হৃদয় থাকে বিশাল, তাদের ত্যাগের বা দেয়ার মানসিকতা থাকে সবার উপরে। কিন্তু ড. ইউনূসের তখনকার হাবভাব আমাকে পীড়িত করেছে, হতাশ করেছে, আমার ধারণা বদলে দিয়েছে।
আমি মাঝে মধ্যে বলি, টিভি অনুষ্ঠানেও বলেছি, আমার শেষ পদায়নটা আমাকে বেশ পরিচিতি দিয়েছে, বলা চলে অনেক মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসাও দিয়েছে, যার ফল আল্লাহর মেহেরবানিতে এখনও ভোগ করে চলেছি। কিন্তু সেই পদায়ন আমার কাছে অনেক অনেক নুরানি চেহারায় মানুষের ভেতরের দুর্গন্ধযুক্ত কর্দযকে খোলাসা করে দিয়েছে। এ মানুষগুলোই কি আমার নমস্য ছিলেন? কর না দেয়াতে তাদের এ কী আচরণ! যাক, হতেই পারে, টাকার ব্যাপার তো, কেয়ামত পর্যন্ত কেবল টাকা আর টাকা চাই। এ টাকা দিয়েই তো মন্ত্রী-এমপি সব হওয়া যায়, নয় কি? অনেক বড় সাহেব আজও আমার ওপর বেশ অসন্তুষ্ট। কিন্তু এ আমার ধারণা ছিল না, বিশ্বাস ছিল না।
ড. ইউনূসকে নিয়ে বা বলা চলে তার সঙ্গে সরকারের, আমার মতে, অযাচিত বা গায়ে পড়ে ঝগড়ার বিষয় নিয়ে, বিশেষত প্রধানমন্ত্রীর ‘সুদখোর’, ‘রক্তচোষা’ ধরনের বক্তব্য নিয়ে আমি এর আগে দু’বার লিখেছি। ভেবেছিলাম, তাকে নিয়ে আমাকে আর লিখতে হবে না। কিন্তু এখন দেখি ড. ইউনূস তাকে নিয়ে আরও লেখার সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছেন। সম্প্রতি ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে তার ‘হাত ভেঙে দেয়ার’ হুমকি বড় দুঃখজনক। তার মুখে এমনতরো মারদাঙ্গা আওয়াজ, আহ্বান, কিংবা হুমকি বড়ই দুঃখজনক। কারও হাত ভাঙা অত সহজ নয়। আক্ষরিক অর্থে তা না নিয়ে আমরা তা রূপক অর্থে বা আলংকারিক অর্থে নিলেও বুঝে নিতে পারি যে, তিনি সরকারকেই বিপক্ষ শক্তি হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছেন। অবশ্যই আমরা অস্বীকার করি না, খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অর্থমন্ত্রী মুহিত সাহেব যেভাবে ড. ইউনূসকে অশোভন শব্দে আক্রমণ করেন এবং গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে আইনি লড়াইয়ে ড. ইউনূসের পরাজয়ের পরও তা অব্যাহত রেখেছেন, তা অপ্রত্যাশিত ও বেমানান। কিন্তু তাই বলে ড. ইউনূস তো আর তার সম্মান ক্ষুণ্নকারী শব্দ ব্যবহার করতে পারেন না। তিনি কিভাবে বলেন, হাত ভেঙে দেয়া হবে? অর্থমন্ত্রী যদি তার এ বক্তব্যকে সন্ত্রাসী বক্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করেন, আমরা তাতে বিস্মিত হব না। ড. ইউনূসের এমনতরো বক্তব্য তার সাহসের পরিচয় বহন করে না, তার হীনমন্যতাকেই প্রকাশ করে। তিনি কি বোঝেন না যে, ক্ষমতার পালাবদল হলে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়েও পালাবদল হতে পারে। ইতিমধ্যেই ক্ষমতায় গেলে গ্রামীণ ব্যাংককে পূর্বাবস্থায় নেয়ার আশ্বাস বাজাদ দিয়ে আসছে। বাজাদের (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) লক্ষ্য হচ্ছে ড. ইউনূসকে তুষ্ট করা, তার সমর্থন আদায় করা, তাকে পক্ষে পাওয়া। আলীর সঙ্গে ড. ইউনূসের সম্পর্কের পতনের সুযোগ নিতে গিয়ে ভোটের রাজনীতিতে ইউনূসের সমর্থন এখন বাজাদের জন্য বেশি প্রয়োজন। ইউনূসের রাজনৈতিক দল নেই, সে হিসেবে ভোটার নেই। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য অনেক, তারা তার সমর্থনে বাজাদের ভোটব্যাংক হতে পারে। এটাই বাজাদের রাজনীতি। তাছাড়া ড. ইউনূসকে খুশি রাখতে পারলে কিন্তু বিদেশী, বিশেষত আমেরিকার সমর্থনও সহায়ক হতে পারে মর্মে বাজাদ ভেবে থাকতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয়, এ আশায় গুড়েবালি। আমাদের মর্জিনা বেগমরা অতি ধুরন্ধর, অতীব কৌশলী, নিজ স্বার্থের বাইরে তাদের কোনো নীতি নেই। অতএব বাজাদের ইউনূস-তোষণ নীতিতে বিদেশী সমর্থন বড় বেশি ফলদায়ক হবে বলে মনে হয় না।
ড. ইউনূস সেনা-নির্দেশিত তত্ত্বাবধায়ক আমলে খোলা চিঠি দিয়ে রাজনীতিতে আসতে চেয়েছিলেন। তাকে তখন অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল ভালো চোখে দেখেনি। দুর্জনরা সমালোচনা করে থাকেন যে, শেখ হাসিনার ড. ইউনূসের প্রতি অসন্তোষের এটাও একটা বড় কারণ। এমনকি শেখ হাসিনা পার্বত্য শান্তিচুক্তির পরও শান্তিতে নোবেল পাননি, অথচ ইউনূস পেয়ে গেলেন- এতেও নাকি শেখ হাসিনার একটা ক্ষোভ রয়েছে। তবে ড. ইউনূসের চেয়ে শেখ হাসিনার ডক্টরেট কিছু কম নয় বোধ হয়। গত মেয়াদে শেখ হাসিনা অনেক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন। যাক, খোলা চিঠি বন্ধ করে দিয়ে ড. ইউনূস তার নিজ ঘরে ফিরে গিয়েছেন। গত তত্ত্বাবধায়কের কলকাঠি নাড়ানোর অভিযোগও ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে রয়েছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, তখনও ইউনূসের একটা প্রভাব ছিল। বাজাদ বা বেগম খালেদা সরকারের সঙ্গে তার সখ্য বা অপ্রকাশিত দহরম-মহরম হয়তো অজানাও নয়। হালে ড. ইউনূসের রাজনৈতিক বক্তব্য বড় বেশি প্রকাশ্য। রাজনীতি না করেও তিনি সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন মানবেন না বলে যে ধমক উচ্চারণ করেছেন, তা শেখ হাসিনার ‘একচুলও নড়ব না’ থেকে কম ওজনের নয়। আমরা পরিষ্কার বুঝতে পারছি, ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে হাসিনা সরকার এবং হাসিনা নিজেও যে আচরণ প্রকাশ্যে করছেন, ইউনূসও এখন সরাসরি তার প্রতিশোধে নেমেছেন। তার রাজনৈতিক বক্তব্য এবং হাত ভেঙে দেয়ার ঘোষণায় তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
একজন সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে, এ দেশের গর্ব হিসেবে, একজন উঁচু পর্যায়ের নাগরিক হিসেবে ড. ইউনূস রাজনীতি নিয়েও অবশ্যই তার মত প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু তার সম্মানের অবস্থান থেকে অবশ্যই তার আরও রুচিশীল হওয়া সমীচীন। তিনি যদি কোনো কোনো মন্ত্রীর মতো হাত ভাঙার কথা বলেন, তিনি যদি খালেদা জিয়ার মতো নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণার সুরে নির্বাচন না মানার হুমকি দেন, তাহলে তো আমাদের বুঝতে কষ্ট হয় না যে, তিনিও রাজনীতিতে দলকানা হয়ে পড়েছেন। তার হালের কর্মকাণ্ড থেকে এমন ধারণা যদি আমজনতা করেই ফেলে, ড. ইউনূস দেশেও একটা কিছু হতে চাচ্ছেন, তাহলে বোধ হয় আমাদের দোষ দেয়া যাবে না। হয়তোবা নেপথ্যে থেকে তিনি রাজনীতির একজন গডফাদার হতে চাচ্ছেন। আমরা আশা করব, তিনি আর আড়ালে না থেকে বাজাদে যোগ দেবেন অথবা তার অবস্থান পরিষ্কার করবেন।
বদিউর রহমান : সাবেক সচিব, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনীতির বরফ গলুক by মাহমুদুল বাসার

ভালোমন্দ অভিজ্ঞতার স্তর পার হয়ে এসে জাপার চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ সর্বদলীয় সরকারে অংশ নেয়ার ভেতর দিয়ে একটি বড় ভূমিকা পালন করলেন। এ কথা অবিসংবাদিতভাবে সত্য, সাংবিধানিক ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য নির্বাচন করতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। এরশাদ সাহেব যথার্থই বলেছেন, ক্ষমতার হাত বদলের দুটো উপায়- প্রথমত. নির্বাচন, দ্বিতীয়ত. মিলিটারি অভ্যুত্থান। এরশাদ সাহেব নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার হাত বদলের গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের বাঁকা প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, সরকার গঠনের জন্য নির্বাচন করছি, প্রধান বিরোধী দল হওয়ার জন্য নয়। আমরা চাই সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। নির্বাচন ঠেকাতে কোনো দলকেই ভেটো-ক্ষমতা দেয়া হয়নি। তাই কেউ না চাইলে নির্বাচন হবে না, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় সুষ্ঠু নির্বাচন করা। সর্বদলীয় সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই কাজ করবে বলে আশা করছি (জনকণ্ঠ, ১৯.১১.১৩)।
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নায়ক তোফায়েল আহমেদ ও রাশেদ খান মেনন দুজনই বলেছেন, যখন মন্ত্রিত্ব নেইনি তখন প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। এখন নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করার জন্য মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছি। তারা দুজনেই আশা করছেন, শেষ মুহূর্তে হলেও বিএনপি সর্বদলীয় সরকারে যোগ দেবে এবং নির্বাচনেও অংশ নেবে। বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ নিলে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
আমাদের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে, মহাজোট বিএনপিকে কখনও উপেক্ষা করেনি। তারা এই নির্বাচনে অংশ না নিলে নির্বাচনে একটা ফাঁক থেকে যাবে, সে কথা মাথায় রেখে এমন মন্তব্য করেছেন। জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ভাষণ দিয়েছেন, তাতেও বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্মানজনক পথ অনেকটাই খুলে দিয়েছিলেন। এর পর টেলিফোন সংলাপেও নির্বাচনে অংশ নেয়ার পথ উন্মুক্ত হয়েছিল। বিএনপির উচিত ইগো পরিহার করে নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়া। এখনও পর্যন্ত সর্বদলীয় মন্ত্রিসভায় তাদের জন্য জায়গা খালি রাখা হয়েছে। নির্বাচনে যোগদান করার ঘোষণা দিয়ে বরং তাদের পছন্দমতো মন্ত্রণালয় পাওয়ার বার্গেনিং করার সুযোগ গ্রহণ করা উচিত। বিএনপির মনে রাখা উচিত, উপনির্বাচনে ও স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পেরেছেন, জয়ী হয়ে দলের মনোবল বৃদ্ধি করতে পেরেছেন। ইগো দেখিয়ে ‘এই নির্বাচন কমিশনারের অধীনে নির্বাচন করব না’ বলে সরকারকে মাঠ ছেড়ে দিলে বিএনপির কোনো লাভ হতো না। অনুরূপভাবে এখনও যদি তারা নির্বাচন না করে জামায়াতকে নিয়ে আন্দোলনের হুমকি দেয়, তাহলে আখেরে কোনো ফল দেবে না। পত্রিকায় এসেছে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নাকি এখনও গোপনে গোপনে বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন, যাতে তারা সর্বদলীয় সরকারে যোগদান করেন। এটা তো ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে সাধারণ নির্বাচনগুলোর তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা আছে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে আমাদের পূর্বপুরুষরা মুসলিম লীগকে কবর দিয়েছিল। আর ১৯৭০ সালের নির্বাচন আমাদের স্বাধীনতা এনেছিল। এমনকি ১৯৬৫ সালের আইয়ুববিরোধী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ফাতেমা জিন্নাহকে বাঙালিদের সমর্থন দেয়ার তাৎপর্যও আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অংশ হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। ভেবে দেখতে হবে, ১৯৭৮ ও ৭৯ সালে আওয়ামী লীগ কতটা বিপদ মাথায় নিয়ে, বদনামের বোঝা স্কন্ধে বহন করে মালেক-রাজ্জাক-তোফায়েলের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী ভাঙা বুকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। এ সঠিক সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করার কারণে আজও দলটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তখনকার আওয়ামী লীগের প্রতিকূলতার তুলনায় বর্তমানে বিএনপির জন্য পরিবেশ অনেক বেশি অনুকূল। এ নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশগ্রহণ না করে, তাহলে বিএনপিতে ভাঙন ধরার আশংকা আছে। বাংলাদেশের মানুষ সানন্দে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী।
মহাজোট ঘড়ির পেন্ডুলামের মতো দোল খেতে খেতে শেষ পর্যন্ত এক সূত্রে মিলিত হয়েছে। সরকারের ইমেজ সংকটের ফাঁড়া অনেকটা কেটে গেছে। এরশাদ সাহেব যে হেফাজতের আল্লামা শফীর দোয়া নিলেন, তারও রাজনৈতিক তাৎপর্য আছে। মহাজোটের মুখ্য শরিক এরশাদ সাহেব হেফাজতের সরকারবিরোধী ক্রোধের প্রশমনের কাজ করেছেন, এতে সন্দেহ কী? বিএনপির ভুলে যাওয়া উচিত নয়, তাদের মিত্র জামায়াত ১৯৮৬ সালে তাদের উপেক্ষা করে নির্বাচনে গিয়েছিল। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জামায়াত আওয়ামী লীগকে অপশন দিয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটেও যে জামায়াত ফাঁকফোকর খুঁজছে না, তা কে বলবে! সর্বোচ্চ আদালত থেকে তারেক রহমানের ব্যাপারে একটা ইতিবাচক রায় হল। এটাকে সেলিব্রেট করে হলেও নির্বাচনে এগিয়ে আসা উচিত বিএনপির। এটা নিশ্চিত, জনগণের রায় খণ্ডানোর শক্তি এ মুহূর্তে কারও নেই। প্রতিটি সরকারই এখন মিডিয়াকে ভয় পায়। নির্বাচন না করে জামায়াত-শিবিরের অস্ত্রবাজির ওপর নির্ভর করে হঠকারিতার পথ বেছে নেয়া বিএনপির জন্য আত্মঘাতী হবে। তাছাড়া সাধারণ মানুষ সহিংস হরতাল মোটেও প্রত্যাশা করে না। অগ্নিদগ্ধ স্বজনের চেহারা দেখতে চায় না মানুষ। দিনের পর দিন হরতালে অবরুদ্ধ হয়ে ঘরে বসে অর্থনীতির বারোটা বাজাতে চায় না মানুষ। গেল হরতালে খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড পোশাকশিল্প।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুর্নীতিবাজদের তুষ্ট করতেই দুদক আইন সংশোধন? by মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার

এ বিলটি যদিও সংসদে উত্থাপন করা হয় দুর্নীতি দমনে দুদককে অধিকতর ক্ষমতাশালী করে তোলার লক্ষ্যে; কিন্তু সরকার এ আইন পাসের মধ্য দিয়ে কাজ করল ঠিক তার বিপরীত। এ কাজটি করার মধ্য দিয়ে সরকার দুর্নীতিমুক্ত সমাজ দেখতে আগ্রহী সাধারণ মানুষকে হতাশ করলেও যুগপৎ দুর্নীতিবাজ রাজনীতিক ও সরকারি আমলাদের খুশি করতে পেরেছে। কারণ এ আইন কার্যকর থাকলে অসৎ রাজনীতিক এবং দুর্নীতিবাজ আমলারা সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে দুদককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফ্রি-স্টাইলে দুর্নীতি করতে পারবে। আর গত পাঁচ বছর যেসব রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তা সরকারি প্রশ্রয়ে দুর্নীতি করে ব্যাপক অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন, তারা এখন এ সরকারকে বাহবা দিয়ে নিরাপদে নিশ্চিন্তে ঘুমাবেন।
আলোচ্য আইনটি পাসের ফলে দুদক যে কেবল স্বাধীনতা হারাল তাই নয়, এ আইনটি দুদক আইনের ২৪ ধারা ও সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। উল্লেখ্য, দুদক আইনের ২৪ ধারায় দুদককে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা দেয়া হলেও নতুন আইনে দুদকের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে পুরো উল্টো কথা বলা হয়েছে। আর সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়, ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয়লাভের অধিকারী।’ নতুন সংশোধিত দুদক আইন দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে দুদক কর্মকর্তাদের জন্য এক রকম এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য আরেক রকম আচরণ করার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সমাজবিজ্ঞানীরা এ আইনের তীব্র নিন্দা করেন। আইনটির সমালোচনা করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘সরকার সংসদে যে বিলটি পাস করেছে তা সংবিধানের ২৭ ধারা ও দুদক আইনের ২৪ ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই আইনের ফলে সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি আরও বাড়বে। তারা দুর্নীতি করার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছন্দবোধ করবে।’ দুদক কমিশনার ও কর্মকর্তারাও একই সুরে তীব্র ভাষায় এ আইনের সমালোচনা করেন। বাংলাদেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কর্মরত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ আইন পাস হওয়ার পর হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক এ সংশোধনী পাস করা শুধু হতাশাজনকই নয়, সরকারের জন্য আত্মঘাতীমূলক। দুদকের যতটুকুই ক্ষমতা ছিল তাও খর্ব করায় জনগণের কাছে সরকারের এই পদক্ষেপ প্রতারণামূলক হিসেবে বিবেচিত হবে।’ এই বিশিষ্ট নাগরিক সরকারের মেয়াদান্তে পাস হওয়া এ আইন সম্পর্কে বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে বুঝতে পারেন যে, এ আইনটি পাস করায় সচেতন মানুষ সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ। কারণ এ দেশের অধিকাংশ মানুষ দুর্নীতিমুক্ত সমাজ দেখতে চান। তারা সমাজের সর্বক্ষেত্রে নিয়ম-শৃংখলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত দেখতে চান। তারা চান দুদককে স্বাধীনতা দিয়ে শক্তিশালী করা হোক, যাতে তারা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে সফলকাম হয়। কারণ সাধারণ মানুষ দেখেছে, ২০০৭-২০০৮ সালে ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দীন অসাংবিধানিক সরকারের আমলে কীভাবে দুদককে বিরাজনীতিকরণ ও মাইনাস-টু থিউরি কার্যকর করতে ব্যবহার করা হয়। ওই সময় বিধিবহির্ভূতভাবে প্রাথমিক অনুসন্ধান না করে দুদক বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক রাজনৈতিক নেতাকে সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজের তালিকাভুক্ত করে তাদের গ্রেফতারে সরকারকে সহায়তা করে। এ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি দমন করতে না পারলেও ওই সরকার অন্যায়ভাবে দুর্নীতিবাজদের মধ্যে একটি সাময়িক ত্রাস সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু দেশবাসী দুদককে নিপীড়নকারী বা নির্যাতনকারীর ভূমিকায় দেখতে চায়নি। এ জন্য তারা ভেবেছিল, নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এসে দুদককে একটি স্বাধীন ও পেশাদার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবে। সে কারণে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতিহারে অন্তর্ভুক্ত দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্র“তি জনসমর্থন পেয়েছিল।
নবম সংসদ নির্বাচনের আগে দুর্নীতি দমনের বড় বড় প্রতিশ্র“তি দিলেও এ সরকার যে দুদককে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার মধ্য দিয়ে দুর্নীতি দমন করতে চায়নি সে বিষয়টি মহাজোট ক্ষমতাসীন হওয়ার পর সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে। কারণ সরকার তার নির্বাচনী প্রতিশ্র“তি মোতাবেক দুদককে শক্তিশালী করার নামে ২০০৯ সালের মার্চে দুর্নীতি দমন আইন পর্যালোচনা করার জন্য যে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে, ওই কমিটি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ১১ দফা সুপারিশ সংবলিত দুদক আইনের খসড়া মন্ত্রিসভার ২০১০ সালের ২৬ এপ্রিল বৈঠকে পাস হলে সবার কাছে সরকারের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়। কারণ এ খসড়া দেখে কারোই বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে, সরকার দুদকের ক্ষমতা কমিয়ে একে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে চায়। আলোচ্য ১১ দফা সুপারিশের মধ্যে ৯টি সুপারিশের সঙ্গে স্বয়ং দুদক দ্বিমত পোষণ করে। ওই সময় এ নিয়ে সরকার ও দুদকের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। সরকারি কর্মকর্তারা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে ধরে নিয়ে ওই সময় মন্ত্রিসভা কমিটি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়। দুদক চেয়ারম্যান ওই সময় দুঃখ করে বলেছিলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন এমনিতেই একটি দন্তহীন বাঘ, এখন এর নখগুলোও কেটে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে দুদক দাঁত ও নখবিহীন বাঘে পরিণত হবে। তখন আর একে দিয়ে কোনো অবস্থাতেই দুর্নীতি দমন করা সম্ভব হবে না।’ টিআইবিও এ রকম সরকারি প্রচেষ্টার সমালোচনা করে এবং সরকার দুদককে পেশাদার দুর্নীতি দমনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে বক্তব্য, বিবৃতি ও সেমিনারের মাধ্যমে পরামর্শ দেয়। কিন্তু কমিটি চায়, দুদক যেন এর ক্ষমতা ব্যবহার করে সরকারি কর্মচারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে। দুদককে রাষ্ট্রপতির কাছে দায়ী করা হলে এর ক্ষমতার অপব্যবহার কমবে বলে কমিটির পক্ষ থেকে আশা করা হয়। কিন্তু দুদকের পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাবের সমালোচনা করা হয়। দুদককে যে সরকার স্বাধীনতা দিতে চায় না তা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকেও অনুধাবনীয়। ২০১০ সালের ২৬ এপ্রিল মন্ত্রিসভার বৈঠকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই দুদক স্বাধীন সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এটি আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে, তা আমরা চাই। তবে স্বাধীনতা মানে এই নয়, তারা ইচ্ছা-খুশিমতো চলবে। তাদের একটি নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ থাকা উচিত। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, সরকার দুদককে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে চায় না। পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী ওই বৈঠকে এমনও মন্তব্য করা হয়- দুদক রাষ্ট্রপতির কাছে জবাবদিহি করতে চায় না, সংসদ, জনগণ কারও কাছে জবাবদিহি করবে না। তবে কি শুধু আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করবে? দুদক যে ধরনের স্বাধীনতা চায়, মন্ত্রিপরিষদ কমিটি বৈঠকের আলোচনায় আলোচকরা দুদককে ওই প্রকার স্বাধীনতা প্রদানের বিপক্ষে মতামত দেন। ফলে আলোচ্য সংশোধনী মন্ত্রিসভায় পাস হওয়ার পর দুদকের সঙ্গে আর ২০০৪-পূর্ববর্তী দুর্নীতি দমন ব্যুরোর উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকে না।
মন্ত্রিপরিষদ সভায় দুদক আইনের আলোচ্য সংশোধনী পাস হওয়ার পর সর্বমহলে এর তীব্র সমালোচনা হয়। সুশীল সমাজ, সাধারণ মানুষ, দুদক, দুর্নীতি দমনে কর্মরত সংস্থা এবং সমাজ গবেষকরা সরকারকে এ সংশোধনী চূড়ান্ত না করে এ নিয়ে পুনর্ভাবনার পরামর্শ দেন। সমালোচনার তীব্রতা বুঝতে পেরে সরকার এ বিষয়টি নিয়ে অগ্রসর হতে ধীরগতি অবলম্বন করে। ফলে সংশ্লিষ্ট মহল ভাবে, সরকার হয়তো দুদকের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না এবং দুদক আইন পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন করে ভিন্ন রূপ দিয়ে পাস করবে। কিন্তু না, সরকার সে পথে যায়নি। দুদকের স্বাধীনতা কেড়ে নিলে যে এ প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারের ডিকটেশন অনুযায়ী কাজ করতে হবে, সে বিষয়টি সবার কাছে স্পষ্ট। দুর্নীতি দমনের স্বার্থের চেয়ে সরকার দুর্নীতিবাজদের স্বার্থের প্রতিই হয়তো বেশি মনোযোগ দিয়েছে। এজন্য মন্ত্রিপরিষদ সভায় সংশোধিত দুদক আইন অনুমোদিত হওয়ার সাড়ে তিন বছর পর দুদকের ক্ষমতা খর্বকারী এ আইনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না এনেই ক্ষমতার মেয়াদান্তে এসে ১০ নভেম্বর জাতীয় সংসদে দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন বিল-২০১৩ পাস করা হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন বিল-২০১৩ পাস হওয়ার পর দেশবাসীর আর বুঝতে বাকি থাকল না যে, মহাজোট ক্ষমতায় আসার আগে ও পরে এতদিন দুর্নীতি দমনের যেসব প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল, তা ছিল স্রেফ রাজনৈতিক বক্তব্য। এর মধ্যে কোনো আন্তরিকতা ছিল না। সরকারি দলের নেতারা দুর্নীতিবিরোধী বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছিলেন এবং তা করতে পেরেছিলেন। কিন্তু পদ্মা সেতু, হলমার্ক, রেলওয়ের বস্তাভরা টাকার নিয়োগ-দুর্নীতিসহ আরও অনেক দুর্নীতির কারণে দশম সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায়ও যে এবার দুর্নীতি একটি প্রধান ইস্যু হবে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। দেখার বিষয়, নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলে সরকারদলীয় প্রার্থীরা নৌকা মার্কায় ভোট চাওয়ার সময় গতবারের মতো এবার আবারও দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্র“তি প্রদান করেন কিনা। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে মহাজোট সরকারের পাঁচ বছরের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড দেখার পর দশম সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকালে আওয়ামী লীগ বা মহাজোটের প্রার্থীরা যদি আবারও দুর্নীতি দমনের ওয়াদা করে ভোটারদের সমর্থন প্রার্থনা করেন, তাহলে সচেতন ভোটাররা যে সে আবেদনে সাড়া দেবেন না তা বলে দেয়া যায়। কারণ নবম সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা দুর্নীতি দমনে যেসব ওয়াদা করেছিলেন তা পূরণে আন্তরিকতা না দেখিয়ে তারা ভোটারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। দুর্নীতি দমনে আওয়ামী লীগের ওয়াদা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে এ সরকারের পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ডের নির্মোহ বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন জায়ারের একজন বিশিষ্ট দুর্নীতি গবেষকের উক্তিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ওই গবেষক ১৯৮০ সালে ‘মডার্ন আফ্রিকান স্টাডিজ’ জার্নালে প্রকাশিত তার একটি প্রবন্ধে বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকে বেশি বেশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঘোষণা এলে বুঝতে হবে এটা সংশ্লিষ্ট ঘোষকদের নিজেদের দুর্নীতি ঢাকার একটা কৌশল।’ দুদকের স্বাধীনতা খর্ব করে জাতীয় সংসদে পাস করা দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন বিল-২০১৩ সুশীল সমাজ ও নাগরিক সম্প্রদায়কে যেমন অসন্তুষ্ট করেছে, তেমনি সরকারকেও করেছে ক্ষতিগ্রস্ত, বিব্রত ও অজনপ্রিয়। তবে এ বিল পাস করে সরকার সবাইকে অসন্তুষ্ট করলেও দুর্নীতিবাজ কালো টাকার মালিকদের সন্তুষ্ট করতে পেরেছে।
ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনৈতিক বিক্ষোভ, নাকি নাশকতা?
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সর্বদলীয় নির্বাচনই জরুরি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৫০ বছর পরও কানে ভাসে সেই কণ্ঠস্বর
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1330)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
November
(403)
-
▼
Nov 23
(16)
- নেতৃত্বের সদিচ্ছার দিকে তাকিয়ে মানুষ: গভর্নর
- সময়চিত্র- আবার আওয়ামী লীগ সরকার by আসিফ নজরুল
- হুঁশিয়ার বাংলাদেশ
- নৌকা-লাঙ্গলের সরকার সর্বদলীয় নয় by কাজী সুমন
- বিশ্ব উদ্যোক্তা সপ্তাহ ২০১৩- ‘চাকরি খুঁজব না, চাকর...
- উদ্যোগী নারী- আত্মপরিচয়ে আত্মবঞ্চনা by উম্মে মুসলিমা
- কল্পনা আর বাস্তবতায় কেনেডি
- আবার অরণ্য by মো. সাইফুল্লাহ
- তাজরীন ও রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা- এক পয়...
- নির্বাচন হোক, গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণ হোক by ফকির...
- গর্ব ও গ্লানির সংমিশ্রণ by বদিউর রহমান
- রাজনীতির বরফ গলুক by মাহমুদুল বাসার
- দুর্নীতিবাজদের তুষ্ট করতেই দুদক আইন সংশোধন? by মুহ...
- রাজনৈতিক বিক্ষোভ, নাকি নাশকতা?
- সর্বদলীয় নির্বাচনই জরুরি
- ৫০ বছর পরও কানে ভাসে সেই কণ্ঠস্বর
-
▼
Nov 23
(16)
-
▼
November
(403)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
