Showing posts with label শেষের পাতা. Show all posts
Showing posts with label শেষের পাতা. Show all posts

Sunday, February 18, 2018

১০ ঘণ্টায় প্লেন বানাবে বোয়িং!

নতুন নতুন যাত্রীর সঙ্গে দিন দিন বাড়ছে প্লেনের সংখ্যা। তাই ২০২০ সালের মধ্যে প্রতি ১০ ঘণ্টায় একটি করে প্লেন বানানোর লক্ষ্যে এগোচ্ছে বোয়িং। বোয়িংপ্রধান ডেনিস মুইলেনবার্গ জানিয়েছেন, এ দশকের শেষে বছরে ৯০০টিরও বেশি প্লেন বানানোর কথা রয়েছে। বর্তমানে রেকর্ড হারে প্লেন উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে তাদের। সিএনবিসিকে মুইলেনবার্গ বলেন, এ দশকের শেষে অ্যারোস্পেস ও প্রতিরক্ষা জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি বছরে ৯০০টির বেশি প্লেন তৈরি করবে। আগের বছর রেকর্ড ৭৬৩টি বাণিজ্যিক প্লেন সরবরাহ করেছে বোয়িং। এ হিসাবে প্রতিটি প্লেন তৈরিতে সময় লেগেছে সাড়ে ১১ ঘণ্টা। চলতি বছর ৮১০ থেকে ৮১৫টি প্লেন সরবরাহের প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। মুইলেনবার্গ বলেন, সামনের ২০ বছরে ‘প্লেনের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে’- যেখানে ৪১ হাজার নতুন প্লেনের দরকার হবে। তিনি বলেন, প্রতি বছর এয়ার ট্রাফিক বাড়ছে, যা বছরে ছয় থেকে সাত শতাংশ। এতে বিশ্বজুড়ে প্লেনের চাহিদা বাড়ছে বলে জানান বোয়িংপ্রধান।

Thursday, December 21, 2017

প্রধানমন্ত্রী নির্দেশিত প্রকল্পেও বাধা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশিত খাল সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নও বাধার মুখে পড়েছে। সুরাহা করতে হিমশিম খাচ্ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। নগরীর মধ্যে প্রবাহিত পয়ঃনিষ্কাশন কাজে ব্যবহৃত ১৩টি প্রধান খালের ৭৩ কিলোমিটারের মধ্যে ৬১.৫ কিলোমিটারই এখন দখলদারদের কবলে। ছড়া (খাল) সংরক্ষণে গত বছর ২৩৬.৪০ কোটি টাকা একনেক সভায় অনুমোদন হলেও দখলদারদের উচ্ছেদ করতে না পারায় থমকে গেছে প্রকল্পের কাজ। খাল উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদামতো সহযোগিতা না পাওয়ায় সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে সিসিক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে আজ বৃহস্পতিবার সিলেটের স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়ে বৈঠকে বসছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কয়েক বছর ধরে বৃষ্টির নগরীতে পরিণত হয়েছে সিলেট।
সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর রাস্তাঘাট ডুবে যায়, পানি ঢুকে নাকাল হয়ে পড়ে বাসা, বাড়ি, দোকানপাট। ২০১৩ সালের শুরুর দিকে জলাবদ্ধতা যখন প্রকট, ঠিক তখনই ঘোষণা করা হয় সিসিকের নির্বাচনী তফসিল। নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের প্রতি নগরবাসীর প্রধান দাবিও ছিল জলাবদ্ধতা নিরসন। বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল জলাবদ্ধতা নিরসন। নির্বাচিত হওয়ার পর কাজও শুরু করেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য যেসব খাল নগরীর ওপর দিয়ে বয়ে গেছে তা দখলমুক্ত করে সংরক্ষণের কাজ শুরু করেন। খাল উদ্ধার করতে গিয়ে দেখা যায় ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সিটি কর্পোরেশনের ১৩টি বড় খালের দু’পাশ দখল করে প্রায় এক হাজার স্থাপনা তৈরি করেছে অবৈধ দখলদাররা। ৩০ ফুট প্রস্থের খাল এখন কোথাও কোথাও ৩ কিংবা ৪ ফুটে পরিণত হয়েছে। কোথাও আবার খালের গতিপথ পরিবর্তন করে গড়ে উঠেছে বহুতল আবাসিক ভবন। অবৈধ দখলদারের তালিকা হলেও উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় বেশিদূর যেতে পারেনি সিসিক। ৭৩ কিলোমিটারের মধ্যে নকশা অনুযায়ী মাত্র ১১.৫ কিলোমিটার সংরক্ষণ করে দুই পাশে গার্ড ওয়াল তৈরির কাজ হয়েছে গত ৪ বছরে। সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, বাকিটুকু উদ্ধার করে সংরক্ষণ এবং এর দুই পাশে নগরবাসীর চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণের প্রস্তাব দিয়ে একটি প্রকল্প পাঠানো হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। প্রকল্পটির প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর ২৩৬.৪০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয় একনেকে। যা সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাসে খাল সংরক্ষণের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। নূর আজিজুর রহমান বলেন, প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার পরই নকশা অনুযায়ী খাল চিহ্নিত করতে মাঠে নামে সিসিক। এরই মধ্যে চিহ্নিতের কাজ শেষ হয়েছে। তিনি জানান, নকশা অনুযায়ী কোথাও খালের পূর্ণ অস্তিত্ব নেই। নকশা মেনে খাল সংরক্ষণ করতে হলে উচ্ছেদ করতে হবে প্রায় হাজারখানেক স্থাপনা। এটা কোনোভাবেই সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি জানান, খালের জমি সরকারের খাস খতিয়ানে। সেই হিসেবে জেলা প্রশাসক এ জমির মালিক। কিন্তু উচ্ছেদ করতে হচ্ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে।
জেলা প্রশাসনের তেমন সহযোগিতাও মিলছে না। আর উচ্ছেদ প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান তিনি। সিটি কর্পোরেশনে জরিপ অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার দখলদারের তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রভাবশালী দখলদার মার্লিন বিল্ডার্সের মালিক চৌধুরী শামীম হামিদ। তিনি মালনীছড়া বা খালের ১ লাখ ১০ হাজার বর্গফুট জমির ওপর বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। এই খালে আরও ২১ জন বড় দখলদার রয়েছেন। এর পরই বড় দখলদার হিসেবে রয়েছেন শামিমাবাদ আবাসিক এলাকার স্বত্বাধিকারী কুতুব উদ্দিন। তিনি গাভিয়ার খালের গতি পরিবর্তন করে ১৫শ’ ফুট জমি দখল করেছেন। এছাড়া মালনী ছড়ার অন্যতম দখলদার হিসেবে রয়েছেন মিরের ময়দানের মনির মিয়া। গোয়ালীছড়ায় নাছির মিয়া, আফজল আহমেদসহ ২০ জন। যোগনীছড়ায় বেলাল আহমেদ চৌধুরী, আবদুল মতিন। হলদীছড়ায় আবদুল মান্নান, রফিক হাসান, ধোপাছড়ায় আজিজ মিয়া, ভুবিছড়ায় ফরিদ আহমেদসহ ৬ জন, মঙ্গলীছড়ায় গণি মিয়া দখলদার। এমতাবস্থায় উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় সরকারের সব মহলের সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনা চেয়ে একটি আবেদন দিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। তাদের প্রত্যাশা খাল থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. রাহাত আনোয়ার যুগান্তরকে বলেন, খাল দখল উচ্ছেদ যেহেতু সরকারের স্বার্থে সুতরাং এ কাজে সহযোগিতা না করার কোনো কারণই নেই। সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। খাল উদ্ধারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ভূমিকাও সন্তোষজনক নয়। এমন অভিযোগ নগরভবন সংশ্লিষ্টদের। এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়াকে কয়েক দফায় কল করলেও তিনি ফোন ধরেননি। মেসেজ পাঠালেও কোনো প্রত্যুত্তর মেলেনি। এদিকে সিটি কর্পোরেশনের একটি সূত্রের দাবি খাল দখলদারদের উচ্ছেদে নাখোশ খোদ সিটি কর্পোরেশনের বিএনপি ও আওয়ামী লীগের চার কাউন্সিলর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ কর্মকর্তা জানান, দখলদারদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এই চার কাউন্সিলর উচ্ছেদ কাজে নিজ নিজ এলাকায় বাধাও দিচ্ছেন। এ চার কাউন্সিলর হচ্ছেন ফরহাদ চৌধুরী শামীম, দিনার খান হাসু, আজাদুর রহমান আজাদ ও ইলিয়াছুর রহমান। খাল দখলে সহযোগিতার অভিযোগ প্রসঙ্গে কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম যুগান্তরকে বলেন, আমি বারবার নির্বাচিত হয়েছি। আমি শাসক নই, সেবক।
সামনে নির্বাচন তাই প্রতিপক্ষ এমন গুজব রটাচ্ছে। আমি উচ্ছেদ ও উদ্ধারে শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলাম এখনও আছি। তিনি আরও বলেন, আমার এলাকায় শুধু একটি ছড়া, মালনীছড়া। এ ছড়াটি আমার এলাকায় ৩০ ফুট থাকলেও হাউজিং এস্টেটে মাত্র ৮ ফুট। অথচ এটা দেখার কেউ নেই। কাউন্সিলর দিনার খান হাসু বলেন, আমার এলাকার ৪টি স্পটে খাল উদ্ধারের কাজ চলছে। আমি নিজে উপস্থিত থেকে উদ্ধার অভিযান করছি। সাধারণ মানুষ বাড়িঘর নিজেরা ভেঙে জায়গা দিচ্ছে। আমরা উদ্ধারের পক্ষে, দখলদারদের পক্ষে নয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে তার ওয়ার্ডের কালীবাড়ি ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। অবৈধভাবে ছড়া খাল দখলদারদের সহযোগিতা করার প্রশ্নই আসে না। সিটি কর্পোরেশনের ২০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ অভিযোগের ব্যাপারে বলেন, এসব অপপ্রচার। ছড়া-খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সিটি মেয়রকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি ওয়ার্ডবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছি। খাল দখলদার উচ্ছেদ ও প্রতিবন্ধকতা দূর করতে করণীয় ঠিক করতে আজ (বৃহস্পতিবার) রাতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সিলেট সার্কিট হাউসে সভা ডেকেছেন। এসব বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি নগরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু কাজ শুরুর চার মাসের মাথায় তাকে জেলে যেতে হয়। প্রায় ৩০ মাস পর তিনি দায়িত্বে ফেরেন। কিন্তু তিনি যেসব পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন তার অনুপস্থিতিতে তা আর সামনে এগোয়নি। বাকি যে সময়টুকু তিনি দায়িত্বে রয়েছেন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

Wednesday, December 20, 2017

সঠিকভাবে তদারকি হচ্ছে না প্রকল্পের কাজ

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি পরিবীক্ষণসহ পরিকল্পনা কমিশনের গাইডলাইন এবং পিপিআরের বিধিবিধান সঠিকভাবে পরিপালনের বিষয়টি তদারকি হচ্ছে না। এমনকি দফতর ও সংস্থাপর্যায়ে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত সভাও হচ্ছে না। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অগ্রগতি মাত্র ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। এমনকি জাতীয় গড় অপেক্ষাও কম বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের পর্যালোচনায় বেরিয়ে এসেছে। সম্প্রতি সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের সভাপতিত্বে এডিপি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা সভায় সভাপতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিধি অনুসরণ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কি না তা তদারকি করার জন্য গত অক্টোবরে অধীনস্থ দফতর বা সংস্থার প্রধানদের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু সেটি করা হয়নি। এই কাজ সঠিকভাবে পালনের জন্য আবারো দফতর বা সংস্থার প্রধানদের নির্দেশনা দেয়া হয়। পর্যালোচনা সভায় জানানো হয়, চলতি অর্থবছর এডিপিতে সুরক্ষা সেবা বিভাগের ১৮টি প্রকল্পের অনুকূলে মোট ৯৩৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে জিওবি খাতে ৮৮৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য খাতে ৫৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা রয়েছে। ওই অর্থ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ২৮৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা অবমুক্ত হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৩০ দশমিক ২৭ শতাংশ। কিন্তু প্রকল্প পরিচালকেরা ব্যয় করতে পেরেছে মাত্র ১১০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা ছাড়কৃত অর্থের মাত্র ৩৯ দশমিক ৬ শতাংশ। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক কম।
গত অর্থবছর অগ্রগতি ছিল বরাদ্দকৃত অর্থের ২৪ শতাংশ এবং ছাড়কৃত অর্থের ৬৬ শতাংশ। এখানে জাতীয় গড় অগ্রগতি হলো ১৮ শতাংশ। সভায় এই অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে প্রকল্প পরিচালকদের নির্দেশনা দেয়া হয় বলে সভা সূত্রে জানা গেছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের অগ্রগতি মাত্র ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। সংস্থাটির পাঁচটি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৬১৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। অর্থ ছাড় হয়েছে ১৫৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। কিন্তু ব্যয় হয়েছে মাত্র ৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। কারা অধিদফতরের অগ্রগতি ১৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ৯টি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ রয়েছে ২৬৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। ছাড় হয়েছে ১০৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। তারা ব্যয় করতে পেরেছে মাত্র ৪৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা। পাসপোর্ট অধিদফতরের তিন প্রকল্পের অগ্রগতি ১৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এরা ব্যয় করতে পেরেছে মাত্র ছয় কোটি ৩৬ লাখ টাকা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক প্রকল্পের অগ্রগতি ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছে, ১৮টি প্রকল্পের মধ্যে আটটি চলতি অর্থবছরে শেষ হয়ে যাবে। তাই এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত নতুন অননুমোদিত প্রকল্পগুলোর খসড়া প্রস্তাব অতি দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা নিতে হবে। এটি করা না হলে আগামী অর্থবছর এই বিভাগের এডিপির আকার কমে যাবে।

Sunday, December 10, 2017

দেশ ও মানুষের কল্যাণে আজীবন কাজ করব

দেশ ও মানুষের কল্যাণে আজীবন কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আজ থেকে ৭০ বছর আগে কামারখোলা গ্রামে আমার জন্ম হয়েছে। মানুষ হিসেবে জন্ম যখন নিয়েছি, তখন একদিন মরতে হবে। তবে যত দিন বেঁচে থাকব তত দিন দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব। শনিবার ঢাকার নবাবগঞ্জের চুড়াইনে মরহুম জাকির হোসেন মেমোরিয়াল চ্যালেঞ্জ গোল্ডকাপ ও মরহুম আহসান উল্লাহ মোড়ল স্মৃতি রানার্সআপ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চুড়াইন সাংস্কৃতিক সংঘ এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে আমার ওয়াদা ছিল, দোহার উপজেলাকে মডেল থানা হিসেবে সারা দেশের কাছে পরিচিত করব। হিসাব কষে দেখবেন, বিগত সাড়ে তিন বছরে সালমা ইসলাম এমপি এখানে যে উন্নয়ন করেছেন, তা ৫০ বছরেও কেউ করতে পারেনি। আরেকটি ওয়াদা ছিল- এলাকায় চুরি-ডাকাতি থাকবে না, থাকবে না মাদকের ভয়াল গ্রাস। কেউ অন্যের সম্পত্তিও দখল করতে পারবে না। সালমা ইসলামের নিজস্ব বাহিনীও থাকবে না। তিনি সবার কাছে সমান থাকবেন। সে কথা নিশ্চয় তিনি রাখতে পেরেছেন। বাংলাদেশে ৩০০ আসনের মধ্যে সালমা ইসলামের নির্বাচনী এলাকায় অর্থাৎ দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষ সবচেয়ে বেশি শান্তিতে বসবাস করছেন। এখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। সবাই একটি পরিবার হিসেবে বসবাস করছে। তাই আগামী নির্বাচনে আপনারা সালমা ইসলামের সঙ্গে থাকবেন বলে আশা করি। তিনি আরও বলেন, আগে মন্ত্রী-এমপি তো দূরের কথা চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সঙ্গে মানুষ কথা বলতে ভয় পেত। এখন রাত ১২টা বাজলেও সালমা ইসলাম আপনাদের ফোন রিসিভ করেন।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের যত ওয়াদা দিয়েছি, তার সবই করেছি। সুযোগ পেলে আরও কাজ করব। আমার দরজা এই এলাকার মানুষের জন্য সব সময় খোলা। পৃথিবীর যে দেশেই থাকি না কেন আপনাদের কথা মনে করে মাটির টানে এখানে চলে আসি।উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয় তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আগে এই গ্রাম থেকে ঢাকায় যেতে ১০-১২ ঘণ্টা সময় লাগত। এখন এক থেকে দেড় ঘণ্টায় ঢাকায় যাতায়াত করা যায়। ১৯৯৬ সালে এই গ্রামে প্রথম বিদ্যুৎ এনেছি। এবার সালমা ইসলাম নদীভাঙন ঠেকাতে ২১৭ কোটি টাকা এনেছেন। ঢাকা-দোহারের সড়ক উন্নয়নে ৪৭০ কোটি টাকার বরাদ্দ এনেছি। গত সাড়ে তিন বছরে এ আসনের ২২টি ইউনিয়নের জন্য ২২৫ কোটি টাকার কাজ করেছি। তার মধ্যে শুধু চুড়াইনে ১৫ কোটি টাকার কাজ করেছি। স্বাধীনতার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরে বিশিষ্ট এই শিল্পপতি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। ৩০ লাখ শহীদ ও আড়াই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি, পেয়েছি লাল-সবুজের পতাকা। এটা আমাদের গৌরব। আর সবকিছু সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুর কারণে। চুড়াইন সাংস্কৃতিক সংঘকে ১০ লাখ টাকা অনুদান : এদিকে ফাইনাল খেলার মধ্য বিরতির সময় চুড়াইন সাংস্কৃতিক সংঘের শীর্ষস্থানীয় কর্তাব্যক্তিদের হাতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেন যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম। মরহুম জাকির হোসেন মেমোরিয়াল চ্যালেঞ্জ গোল্ডকাপ ও মরহুম আহসান উল্লাহ মোড়ল স্মৃতি রানার্সআপ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০১৭-এর ফাইনালে অংশ নেয় আগলা খানহাটি ডায়মন্ড ক্লাব ও মরিচপট্টি সোনালি সংঘ। টাইব্রেকারে মরিচপট্টি সোনালি সংঘকে ৫-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় আগলা খানহাটি ডায়মন্ড ক্লাব। চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে আগলা খানহাটি ডায়মন্ড ক্লাব দেড় লাখ টাকা ও চ্যাম্পিয়ন ট্রুফি এবং রানারআপ দল মরিচপট্টি সোনালি সংঘকে ৯০ হাজার টাকা ও রানারআপ ট্রুফি তুলে দেয়া হয়। চুড়াইন সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি আলহাজ বদিউল আলম সহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন, ঢাকা জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মোড়ল, চুড়াইন ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বেপারি, ঢাকা জেলা পরিষদের সদস্য এসএম সাইফুল ইসলাম, চুড়াইন সাংস্কৃতিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আমির হোসেন গফুর, মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন মোড়ল ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল বাসেত প্রমুখ।

Monday, December 4, 2017

পদ্মা সেতু নির্মাণে হাত দেয়ায় সবাই সমীহ করে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিজস্ব অর্থায়নে মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতু নির্মাণে হাত দেয়ার ফলে বাংলাদেশের প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে হোটেল সোফিটেলে ওপ্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে এক নৈশভোজে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন তারা দেখবেন, আমরা পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করায় বিশ্ববাসী এখন বাংলাদেশকে ভিন্ন চোখে দেখতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, এটা বাস্তব যে, সবাই এখন বাংলাদেশ সম্পর্কে সমীহ করে কথা বলেন। বিজয়ী জাতি হিসেবে বাংলাদেশ সবসময় মাথা উঁচু করে চলবে। থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং বর্তমানে কম্বোডিয়ার অ্যাক্রিডেটেড সাইদা মুনা তাসনিম প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে এই নৈশভোজের আয়োজন করেন। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানাও নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণটা আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ এবং অনেকেরই এমন ধারণা ছিল বিশ্বব্যাংকের সাহায্য ছাড়া আমরা এটা নির্মাণ করতে পারব না। কিন্তু আমি বলেছি, আমরা পারব এবং আমরা করে দেখাব। আমরা মিথ্যা অভিযোগ কেন মাথা পেতে নেব। এটা সত্য যে, এর ফলে আমাদের অনেক সমস্যা পোহাতে হয়েছে। তা সত্ত্বেও আমরা চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করেছি।’ পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রজেক্টও বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের নিজস্ব সামগ্রী- বিশেষ করে আমাদের সিমেন্ট এবং স্টিল দিয়ে ব্রিজটি নির্মাণ করছি।’ বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে নানা দিকে সাদৃশ্য রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দু’দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কও ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে। এই দুটি দেশই একসময় গণহত্যার শিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুটি দেশের জনগণকেই সংগ্রাম করে স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়েছে। বর্তমানে কম্বোডিয়ান প্রধানমন্ত্রীও অনেক যন্ত্রণা এবং সংকটের মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করেছেন। কম্বোডিয়া পৌঁছার পরও তিনি যেন বাংলাদেশেই রয়েছেন- এমন অভিমত ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি খুব সুন্দর দেশ। আমাদের সম্মিলিতভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করতে হবে। দু’দেশের কূটনীতিকে আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের কাজকর্ম, ব্যবসা-বাণিজ্য দক্ষিণ এবং দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব এবং ইউরো-এশিয়ার দেশগুলো বিশেষ করে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডে বিস্তার ঘটাতে পারি সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের নতুন বাজার খোঁজার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনাদের নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে, যেখানে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কানেকটিভিটি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ভূমিকা রাখবে। তিনি এ সময় দেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের রফতানি জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন এবং বিদেশিদের সরাসরি বিনিয়োগের জন্য তার সরকার প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধাগুলোও তুলে ধরেন। থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া এবং আশপাশের দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি শিল্পীরা অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন এবং কবিতা আবৃত্তি করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে-বেসমরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইট স্থানীয় নমপেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এ সময় সেখানে তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা জানানো হয়। কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের আমন্ত্রণে তিন দিনের এ সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ হুনসেনের সঙ্গে তার একান্ত ও আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করবেন কম্বোডিয়ার রাজা নরোদম সিহামনির সঙ্গেও। রোববার সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইটটি নমপেনের উদ্দেশে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। নমপেন বিমানবন্দরে পৌঁছলে কম্বোডিয়ার নারী বিষয়কমন্ত্রী ইং কান্থা পাভি, পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহায়তাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট ইতা সোফিয়া, বাংলাদেশে কম্বোডিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত পিচকুন পানহা এবং থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও কম্বোডিয়ায় এক্রেডিটেড রাষ্ট্রদূত সাইদা মুনা তাসনিম শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রী বিমান থেকে নামলে একটি কম্বোডীয় শিশু তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। এ সময় নমপেনে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা তাকে বাংলাদেশি পতাকা নেড়ে অভিবাদন জানান। অভ্যর্থনা শেষে মোটর শোভাযাত্রায় শেখ হাসিনাকে হোটেল সফিটেলে নিয়ে যাওয়া হয়, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী এ হোটেলেই অবস্থান করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে বিমানবন্দর থেকে নগরীর সড়কগুলো বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার পতাকা ও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে আকর্ষণীয় করে সাজানো হয়েছে। শেখ হাসিনা হোটেল সোফিটেল থেকে যান দেশটির স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধে। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। প্রধানমন্ত্রীকে তিন বাহিনীর এক সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার দেয়। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। ১৯৫৩ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের স্মারক হিসেবে ১৯৫৮ সালে এই স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়। এর নকশা করেন স্থপতি ভ্যান মলিভান। পরে প্রধানমন্ত্রী কম্বোডিয়ার প্রয়াত রাজা নরোদম সিহানুকের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে প্রয়াত রাজার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কম্বোডিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেয়। এ সময় বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা ও প্রধানমন্ত্রীর অন্য সফরসঙ্গীরা সেখানে ছিলেন। শেখ হাসিনা এরপর তুল সেলং গণহত্যা জাদুঘর পরিদর্শন করেন। নমপেনের কেন্দ্রস্থলে মিউজিয়ামটি অবস্থিত। শেখ রেহানার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মিউজিয়ামের বিভিন্ন সেকশন ঘুরে দেখেন। সেখানে তারা খেমার রুজ শাসনের নৃশংসতার সাক্ষ্য প্রত্যক্ষ করেন। মিউজিয়ামের পরিচালক চিহে ভিসথ তাদের বিভিন্ন বিষয়ে ব্রিফ করেন। জাদুঘরটি ছিল একটি উচ্চ বিদ্যালয়। এটি খেমার রুজের ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ পর্যন্ত শাসনকালে কুখ্যাত সিকিউরিটি ডিভিশন ২১ (এস-২১) ব্যবহার করে। তুল সেলং অর্থ হচ্ছে ‘হিল অব দ্য পয়েজনাস ট্রিজ’ বা স্ট্রিচিনিন হিল। এটি ছিল খেমার রুজের কমপক্ষে ১৫০টি মৃত্যুদণ্ড কেন্দ্রের একটি। ২০১০ সালের ২৬ জুলাই কম্বোডিয়ার বিশেষ আদালত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন লংঘনের দায়ে তুল সেলং কারাগারের প্রধান কাইং কেক ইউকে আজীবন কারাদণ্ড দেন। সরকারি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কম্বোডিয়া সফরে দুই দেশের মধ্যে ১১টিরও বেশি ইন্সট্রুমেন্ট, দুটি চুক্তি এবং নয়টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় ঢাকা ও নমপেনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দু’দেশের জাতির পিতার নামে নামকরণ করার কথা ঘোষণা দেয়া হবে। কাল প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

নান্দনিক ‘সুপারমুন’ দেখলেন জোছনাপ্রেমীরা

হেমন্তের স্বচ্ছ আকাশে ‘সুপারমুন’। চাঁদকে দেখা গেল আরও কাছ থেকে আরও উজ্জ্বল। চাঁদের সৌন্দর্যপিপাসুদের জন্য এ যেন এক বিশেষ রাত। রোববার রাতে বাংলাদেশের আকাশে খুব কাছ থেকে দেখা যায় চাঁদের পূর্ণ অবয়ব। রাত ৯টা ৪৬ মিনিটে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নান্দনিক এ দৃশ্য উপভোগ করেন জোছনাপ্রেমীরা। ‘সুপারমুন’-এর বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে ‘পেরিগি মুন’। পেরিগি মানে ‘পৃথিবীর নিকটতম’। চাঁদ যখন পূর্ণ পূর্ণিমায় থাকে এবং বার্ষিক প্রদক্ষিণের সময় পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসে, তখন একে সুপারমুন বলা হয়। পৃথিবীর কাছাকাছি আসায় এ চাঁদকে স্বাভাবিক পূর্ণিমার চাঁদের তুলনায় বেশ বড় ও উজ্জ্বল দেখায়। এবার স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় ৭ শতাংশ বড় ও ১৫ শতাংশ উজ্জ্বল দেখা গেছে চাঁদ। তবে খালি চোখে এ পার্থক্য খুব একটা বুঝতে পারেননি অনেকে। সুপারমুন দেখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এবং রাজধানীর হাতিরঝিলে ভিড় করেন নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে দেখা যায় বহুল আকাক্সিক্ষত এ পূর্ণ চাঁদ। টিএসসি ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আরও কয়েকটি স্থানে সুপারমুন দেখতে মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে কার্জন হল, শহীদুল্লাহ হলের পুকুর পাড়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ উল্লেখযোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্র্থী ছাড়াও অন্যান্য স্থান থেকে আগত দর্শনার্থীরা সুপারমুন দেখতে আকাশ পানে চেয়ে থাকেন। টিএসসিতে সুপারমুন দেখছিলেন মনোবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের তিন ছাত্রী লুবাবা সুলতানা সিসিলি, নাসরিন শিলা ও তানজিয়া এম মৌ। তারা জানান, আকাশের উজ্জ্বলতম চাঁদ দেখতে ক্যাম্পাসে এসেছেন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান থেকে সুপারমুন দেখেছেন। এটি একটি অন্যরকম স্মৃতি হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তারা। ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র মেহেদী হাসান নাফিজ এসেছেন টিএসসিতে সুপারমুন দেখতে। তিনি জানান, সুপারমুন উপভোগ করতে ধানমণ্ডি থেকে তিনি টিএসসি এসেছেন। সুপারমুন দেখতে রাজধানীর হাতিরঝিলেও দেখা গেছে ভিড়। হাতিরঝিলের ব্রিজগুলোর ওপরে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়া অনেককে শখের মুঠোফোনে সুপারমুনসহ নিজেকে ফ্রেমবন্দি করতেও দেখা গেছে। এমন একজন সাদিকা তাবাস্সুম জানান, হাতিরঝিলের খোলা পরিবেশে সুপারমুন দেখতেই এখানে আসা। এ সময়টিকে স্মরণীয় করে রাখতেই তিনি মুঠোফোনে সুপারমুনসহ নিজের ছবি তুলেছেন। জানা যায়, ১৯৪৮ সালের পর গত বছর চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে এসেছিল। ২০৩০ সালের ২৫ নভেম্বরের আগে চাঁদ আর পৃথিবীর এত কাছে আসবে না। রোববারকে নাসা আগামী ২ মাসের সুপারমুন ট্রিলজির প্রথম পর্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, যার পরের দুটি দেখা যাবে ১ ও ৩১ জানুয়ারি। ডিসেম্বরের পূর্ণিমাকে সাধারণত শীতল চাঁদ (কোল্ডমুন) বলা হয়। রোববার দুপুরে চাঁদ যখন সূর্যের বিপরীতে থাকে, পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব হয় ২ লাখ ২২ হাজার ৭৬১ মাইল, যা গড় দূরত্ব ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯০০ মাইলের চেয়ে কম। যুক্তরাষ্ট্রের রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটির রবার্ট ম্যাসে বলেছেন, সবচেয়ে নান্দনিক দৃশ্য দেখা যাবে রোববার চাঁদ ওঠার সময় আর সোমবার ভোরে চাঁদ ডুবে যাওয়ার সময়। এটি এক ধরনের দৃষ্টিবিভ্রম, যা চন্দ্রবিভ্রম নামে পরিচিত। দিগন্তরেখার কাছাকাছি অবস্থানে এসময় চাঁদকে অস্বাভাবিক বড় দেখা যায়। রবার্ট ম্যাসে আরও বলেন, এটি চমৎকার একটি ঘটনা। মানুষের দেখার জন্য দারুণ একটি ব্যাপার। আপনার মনে নাও হতে পারে এটি বিশাল। স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বড় দেখা যাবে এটিকে। তবে পাঁচগুণ বড় চাঁদ দেখার আশা করবেন না। চাঁদ পৃথিবীর চারপাশে বৃত্তাকারে ঘোরে না। এটি অনেকটা উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। অর্থাৎ পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব সব সময় সমান হয় না, কক্ষপথের বিভিন্ন স্থানে দূরত্বের তারতম্য হয়। কিন্তু সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর পরিভ্রমণের কারণে এ অসম কক্ষপথের মাঝেও পরিবর্তন হয়ে থাকে। এর অর্থ পৃথিবী থেকে চাঁদের কক্ষপথের নিকটতম অবস্থান আর পূর্ণ চন্দ্রের অবস্থান সব সময় এক হয় না। কক্ষপথের এ নিকটতম অবস্থান পূর্ণ চন্দ্রের অবস্থানের সঙ্গে মিলে গেলে সেই উপলক্ষকে সুপারমুন বলা হয়।

Monday, June 5, 2017

সিয়াম পালনকারী তিনটি শক্তি অর্জন করে

সিয়াম সাধনা ও রমজানকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ সাধনা সিয়াম পালনকারীকে তিনটি শক্তিতে শক্তিশালী করে। আর এ শক্তিগুলো ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে উন্নতি ও সাফল্যের ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা পালন করে।
প্রথম শক্তি হল সহিষ্ণুতা : ধৈর্য সহিষ্ণুতা এমন এক মহৎ গুণ যা মানুষকে পৌঁছে দেয় তার সফলতার চরম বিন্দুতে। সহিষ্ণুতা এমন এক রুহানি শক্তি যা যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত অস্ত্রের চেয়েও বেশি কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত। রমজানে একজন সিয়াম পালনকারী পানাহার, জৈবিক ক্ষুধা নিবারণসহ বহু বৈধ উপকরণ উপভোগ থেকে বিরত থেকে নিজেকে আল্লাহর সামনে সমর্পণ করে চরম সহিষ্ণুতা ও ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে। সে নিজেকে ধৈর্যশীল ও পরমসহিষ্ণু হিসেবে গড়ে তোলে। যে সহিষ্ণুতা তাকে নিয়ে যায় মহাপ্রাপ্তির সোপানে। এ ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা ব্যক্তি এবং সমাজ জীবনে বড় প্রয়োজন। আর এর অভাবে আজ সমাজ জীবন বড়ই দুর্বীষহ হয়ে উঠেছে। অধৈর্য আর সহিষ্ণুহীনতায় জন্ম নেয় নানা অপরাধ, মানুষ জড়িয়ে পড়ে পাপাচারে। ঝগড়া-বিবাদ, কলহ-দ্বন্দ্ব, মারামারি, হানাহানি, ধোঁকা, প্রতারণ, প্রবঞ্চনাসহ নানা অমানবিক গুণাবলি যা আমাদের সমাজের নিত্যদিনের সঙ্গী, সবই সহিষ্ণুহীনতার ফসল। রমজান ধৈর্য সহিষ্ণুতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করে একজন মানুষকে খাঁটি মানুষে পরিণত করতে চায়।
দ্বিতীয় শক্তি আনুগত্য : আনুুগত্যের মহাগুণ ও শক্তি একজন সিয়াম পালনকারী তার সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নিজের মাঝে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। একজন মুসলমান রমজান মাসে পানাহার ও অন্যান্য আরও নানা অভ্যাস থেকে এ জন্যই বিরত থাকে যে এটা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর নির্দেশ। সে তার আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্যে আরাম ও কষ্ট, সুখ ও দুঃখ কিছুরই পরোয়া করে না। সে জানে, আল্লাহকে নিজের প্রভু বলে স্বীকার করেছে এবং এ অঙ্গীকার করেছে যে, অভাব বা সমৃদ্ধি সুদিন বা দুর্দিন সুখ বা দুঃখ সর্বাবস্থায় অনুগত থাকবে। তাই প্রকৃত অর্থে সিয়াম পালনকারী কোনো বান্দা সেহরির সময় শেষ হওয়ার ১ মিনিট পরে আর পানাহার করে না। আবার ইফতার সময় হওয়ার ১ মিনিট আগেও কিছু খায় না। যদি এর ব্যতিক্রম করে তাহলে তাকে সিয়াম পালনকারী হিসেবে ধরা হয় না। এখানে সে আল্লাহর নির্দেশের সামনে পূর্ণ মাত্রায় নিজেকে সমর্পণ করে অনুগত গোলাম হিসেবে প্রকাশ করছে। সিয়ামের উদ্দেশ্য এটাই, সে যেমন রমজানের এক মাস আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে সপে দিচ্ছে, এভাবে বাকি ১১ মাসও যেন সে আল্লাহর নির্দেশের অনুগত হয়ে জীবন যাপন করে।
তৃতীয় শক্তি শৃঙ্খলা : রমজান মাসে মুসলমানরা বিশেষ একটি নিয়মের অধীনে পানাহার করে, নিদ্রায় যায় ও জাগ্রত থাকে। রমজান মাসে মুসলিম সমাজ একই নিয়মে আবর্তিত হয়। সিয়াম পালনকারী দিবাভাগে অভুক্ত থাকে ও সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করে, এশা, তারাবি ও ফজরের নামাজ সবই একটি নিয়মের অধীনে আদায় করে। এ সময় গোটা মুসলিম সমাজে একটি সুশৃঙ্খল ও পরিপাটি পরিবেশ বিরাজ করে। দুনিয়ার আর অন্য কোনো জাতি বা ধর্মে এমন শৃঙ্খলা দেখা যায় না। যে নিয়মের অধীনে ছোট-বড়, ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, রাজা-প্রজা সবাই সমান হয়ে যায়। এ তিনটি চারিত্রিক শক্তি একজন মুসলমানের মাঝে সৃষ্টি করে সিয়াম সাধনা। এ শক্তিতে যদি মুসলিম জাতি ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে সব অপশক্তি হবে পরাভূত আর মুসলিম জাতি হবে সফল।
লেখক : সায়খুল হাদীস, খতিব ও প্রাবন্ধিক।

সাভারে জমি দখল করতে গিয়ে যুবলীগ নেতা বাদশা নিহত

সাভারে জমি দখল করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় পৌর যুবলীগ নেতা সিএম বাদশা ফয়সাল নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। রোববার দুপুরে সাভার পৌর এলাকার জামসিং মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। সাভার পুলিশ জানায়, দুপুরে পৌর যুবলীগ নেতা সিএম বাদশা ফয়সালসহ ১০ জন জামসিং এলাকার কাদের বাহিনীর পক্ষে স্থানীয় ইয়াকুবদের চল্লিশ শতাংশ জমি দখল করতে যান। এ সময় প্রতিপক্ষরা একজোট হয়ে সিএম বাদশা ফয়সালের ওপর টেঁটা নিক্ষেপ করে। এতে সিএম বাদশা ফয়সালসহ আহত হন ১০ জন। পরে তাদের উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে যুবলীগ নেতা সিএম বাদশা ফয়সালকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। পরে খবর পেয়ে সাভার থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কামরুজ্জামান। সিএম বাদশা ফয়সাল সাভারের ইমান্দিপুরের সৈয়দুজ্জামানের ছেলে। এ ঘটনায় সাভার থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

অবশেষে মহাকাশে ‘ব্র্যাক অন্বেষা’

শেষ হল বহুল প্রতীক্ষার প্রহর। রোববার মধ্যরাতে মহাকাশে পাড়ি দিল বাংলাদেশের তৈরি প্রথম ন্যানো স্যাটেলাইট ‘ব্র্যাক অন্বেষা’। ব্র্যাক অন্বেষা দলের দেয়া বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। ব্র্যাক অন্বেষা দল আরও জানায়, আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে পৌঁছানো ও ন্যানো স্যাটেলাইটটি কক্ষপথে স্থাপনের তথ্য পরে যথাসময়ে জানানো হবে। বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সিআরএস-১১ অভিযানে স্পেসএক্স-এর ফ্যালকন ৯ রকেটে করে এই ন্যানো স্যাটেলাইট পাঠানো হয়। উৎক্ষেপণের ঠিক আগ মুহূর্তে নাসার বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ফ্লোরিডায় আমাদের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলীয় স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৭ মিনিটে ফ্যালকন ৯ রকেট উৎক্ষেপণ করা হবে।’ জাপানে বাংলাদেশের ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী রায়হানা শামস ইসলাম অন্তরা, আবদুল্লা হিল কাফি ও মাইসুন ইবনে মানোয়ার ব্র্যাক অন্বেষা নামে ন্যানো স্যাটেলাইটটি তৈরি করেন। উৎক্ষেপণের পর এক ভিডিও পোস্টে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তারা। 
ভিডিওতে মাইসুন বলেন, এটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) পৌঁছানোর পর একে কক্ষপথে স্থাপন করা হবে। তারপর আমরা এটি থেকে সিগন্যাল পাওয়া শুরু করলেই পুরো কাজ সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশের ন্যানো স্যাটেলাইট যাত্রা গবেষক ড. আরিফুর রহমান খানের হাত ধরেই শুরু। উৎক্ষেপণের পর নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ‘মহাকাশে বাংলাদেশ...।’ আইএসএস থেকে ন্যানো স্যাটেলাইটটি স্থাপন করা সেই ‘সবচেয়ে প্রত্যাশিত’ দিনটি এক সপ্তাহের মধ্যে জানা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন কাফি। উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে অন্তরা বলেন, ‘বাংলাদেশিদের হাতে তৈরি স্যাটেলাইট মহাকাশে গেছে, এর চেয়ে বেশি আনন্দ আর কী হতে পারে?’ এদিকে ন্যানো স্যাটেলাইটের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাখালী ক্যাম্পাসের ৪ নম্বর ভবনে বানানো হয়েছে গ্রাউন্ড স্টেশন। সামনে পরিকল্পনার ব্যাপারে গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাতা দলের দলনেতা মোহাম্মদ সৌরভ বলেন, ‘এবার হয়েছে মেইড বাই বাংলাদেশ, আমাদের ইচ্ছা সামনে মেইড ইন বাংলাদেশ স্যাটেলাইটও হবে।’

Saturday, April 8, 2017

সম্পর্ক ভিন্নমাত্রায় নেয়ার অঙ্গীকার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের মালিকাধীন অবকাশ কেন্দ্রে স্বাগত জানিয়েছেন। এটি তাদের মধ্যে প্রথম সাক্ষাৎ। ট্রাম্প ক্ষমতা নেয়ার পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন জিনপিং। সফরের প্রথম দিন চীনা নেতার সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন ট্রাম্প। সেখানে দু’নেতার মধ্যে প্রথমবার দেখা হয়। ট্রাম্প বলেছেন, মার-এ-লাগো অবকাশ কেন্দ্রে দু’জনের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন হবে। মার্কিন নেতা উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে চীনকে চাপ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে তাইওয়ান ইস্যুতে দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতি বজায় রাখার বিষয়ে নিশ্চয়তা চান জিনপিং। বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডায় বিলাসবহুল মার-এ-লাগো গলফ রিসোর্টে পৌঁছান চীনা প্রেসিডেন্ট। রাতে দু’নেতা আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে মিলিত হন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দু’নেতাকে আন্তরিকভাবে সময় কাটাতে দেখা যায়। এ সময় চীনা ফার্স্টলেডি ও দেশটির জনপ্রিয় ফোকশিল্পী পেং লিউয়ান, মার্কিন ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, ট্রাম্পের বড় মেয়ে ইভাঙ্কা, জামাতা ও তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জেরার্ড কুশনারসহ উভয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আন্তরিক সময় কেটেছে।
আমরা উভয়ে দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যেতে চাই।’ শুক্রবার দু’নেতার মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। হাইপ্রোফাইল এ বৈঠক নিয়ে বিশ্বব্যাপী আগ্রহ তৈরি হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে রাশ টানতে চীনের সহায়তা চান ট্রাম্প। যদিও তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, এ বিষয়ে চীন সহায়তা না করলে তিনি একাই ব্যবস্থা নেবেন। হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প জিনপিংয়ের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পিয়ংইয়ং ইস্যুটি মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।’ অন্যদিকে তাইওয়ান ইস্যুতে দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতি বহাল রাখার বিষয়ে নিশ্চয়তা চান জিনপিং। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টকে ফোন করে প্রোটোকল ভাঙেন ট্রাম্প। পরে ফেব্রুয়ারি মাসে চীনা প্রেসিডেন্টকে ফোন করে ‘এক চীন নীতি’র প্রতি সম্মান দেখানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ ছাড়া বাণিজ্য যুদ্ধ, দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন সেনা উপস্থিতি, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ মিত্রতাসহ নানা ইস্যুতে দু’দেশের মধ্যে বিরোধ চলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প ও জিনপিংয়ের মধ্যকার এ বৈঠক বিশ্বরাজনীতিতে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। এমন এক সময় এ দুই বিশ্বনেতার দেখা হল যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাহিনী সিরিয়ার শায়রাত বিমান ঘাঁটিতে পরপর ৫৯টি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বেসামরিক মানুষের ওপর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র এমন পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে। আসন্ন বৈঠকে সিরিয়া ইস্যুটিও গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Thursday, April 6, 2017

দেশের জন্য ক্ষতিকর কিছু করা হবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কোনো চুক্তি হলে তা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেই হবে, দেশের জন্য ক্ষতিকর এমন কিছু করা হবে না। তিনি বলেন, ‘একটি স্বার্থান্বেষী মহল ১৯৭৪ সালে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত ২৫ বছরের সমঝোতা চুক্তিকে গোলামির চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। কিন্তুু এ চুক্তি থেকে সীমান্ত সমস্যা সমাধানসহ বাংলাদেশেরই অর্জন বেশি।’ প্রধানমন্ত্রী তার তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে বাংলাদেশ পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটির প্লটের বরাদ্দপত্র বিভিন্ন পদমর্যাদার ২৫ জন পুলিশ সদস্যের মধ্যে বিতরণকালে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতির জন্য শেখ হাসিনা দেশের পঁচাত্তর-পরবর্তী সরকারগুলোকেই দায়ী করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া কখনও ভারতের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত সমস্যা সমাধানে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। উপরন্তু তারা সীমান্তে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে উদাসীন ছিলেন। বিএনপি-জামায়াত তাদের শাসনামলে দেশের ভেতরের সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং বহুল আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র পাচারের মূল হোতা ছিল। ওই অস্ত্র বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে চোরাচালান হয়ে ভারতে যাচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব অটুট রেখেই সীমান্ত সমস্যার সমাধান করতে পেরেছে। একই সঙ্গে একইভাবে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র সীমানা সমস্যারও সমাধান করেছে।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদিও অনেকেই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে গৃহীত আমাদের অ্যাকশন প্ল্যান নিয়ে সমালোচনা করেছে। কিন্তু বাংলাদেশই পৃথিবীতে একমাত্র দেশ যারা জঙ্গিদের অ্যাকশনের আগেই বহু জঙ্গি আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে সমর্থ হয়েছে। পুলিশের কর্তব্য পালনের কোনো নির্দিষ্ট ডিউটি আওয়ার না থাকায় তাদের দায়িত্ব পালনকে অত্যন্ত কঠিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে কোনো সময় ডাক পড়লেই তাদের যেতে হয়।’ শেখ হাসিনা বলেন, সরকার দেশের জনসংখ্যার সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে পুলিশ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা আরও বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই ৪১ হাজার পুলিশ সদস্যকে বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং শিগগিরই আরও ১০ হাজারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পুলিশ বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবার-পরিজনের কল্যাণে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সরকারই প্রথম ২০০০ সালে পুলিশ স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে। অন্য সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদেরও আবাসনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদস্যদের জন্য এ ধরনের আবাসন সুবিধা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও সম্প্রসারণ করা হবে। তবে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হতে ১৭ বছর লাগায় আক্ষেপ করেন শেখ হাসিনা। এর আগে পুলিশের আইজি মো. শহীদুল হক শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও পুলিশ হাউজিং সোসাইটিকে বাস্তব রূপ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামের প্রসারে সৌদি সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস : সৌদি আরবের পবিত্র মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীর ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ বিন নাসির বিন মোহাম্মদ আল খুজাইম বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, সৌদি আরব ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাবে। ড. মুহাম্মদ আল খুজাইম মসজিদে নববীর ইমাম আবদুল মেহসিন বিন মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল কাশেমকে সঙ্গে নিয়ে বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহ্সানুল করিম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, বৈঠকে দুটি পবিত্র মসজিদের ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সব উপজেলায় মসজিদ-কাম ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে সহায়তা প্রদানে সৌদি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। ড. মোহাম্মদ আল খুজাইম বিগত আট বছরে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করে বলেন, আমাদের ধারণা হচ্ছে, বাংলাদেশ সম্পূর্ণ একটি পরিবর্তিত দেশ। দেশটি এখন খুবই ভালো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এই দুই সৌদি অতিথি যথাক্রমে মোহাম্মদ আল খুজাইম ও আবদুল রহমান আল কাশিমকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আপনারা এখানে আসায় আমরা খুব খুশি হয়েছি। মক্কা ও মদিনা দুটি পবিত্র স্থান। আমাদের হৃদয়ে এর বিশেষ স্থান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সাইদকে অভ্যর্থনা জানাতে বাংলাদেশ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। জবাবে আল খুজাইম বলেন, সৌদি বাদশাহ বাংলাদেশের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং তার সফর কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে আলোচনা চলছে।
এ দুই সৌদি অতিথি ও ইমাম আজ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওলামা মাশায়েখ ও আলেম-উলামাদের মহাসমাবেশে যোগ দেবেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। ত্রাণ তহবিলের জন্য চেক গ্রহণ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ত্রাণ তহবিলে দেয়া বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ৮১ লাখ ৪০ হাজার টাকার চেক গ্রহণ করেছেন। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর হাতে তার কার্যালয়ে এ চেক তুলে দেন উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম শফিক আহমেদ। জীবন বীমা কোম্পানি বাংলাদেশের পরিচালক ও চেয়ারম্যান নাফিস সরাফুল এ সময় উপস্থিত ছিলেন। চেকশ্লোভাকিয়ার সঙ্গে পুরনো সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্ব আরোপ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও চেকোশ্লোভাকিয়ার মধ্যে পুরনো সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। আইপিইউ সম্মেলনে যোগদান উপলক্ষে ঢাকায় আগমনকারী চেক রিপাবলিকের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি একথা বলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে চেক রিপাবলিকের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী ‘ডাবল ট্যাক্সেশন’ এড়ানোসহ অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতে গুরুত্বারোপ করেন। চেক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন গ্রোসপিক এমপি।

Saturday, April 1, 2017

দেশকে গোরস্থানে পরিণত করাই যেন আ’লীগের লক্ষ্য : খালেদা জিয়া

দেশকে গোরস্থানে পরিণত করাই যেন আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম নুরুকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেয়ার ১২ ঘণ্টা পর লাশ পাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন। দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত খালেদা জিয়ার এ বিবৃতি বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশকে গোরস্থানে পরিণত করাই যেন আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য। দেশের শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত মৃত্যু বিভীষিকা ওঁৎ পেতে আছে। দেশের মানুষ আজ রক্তহিম করা ভীতি এবং উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন যাপন করছে।’ তিনি বলেন, বুধবার রাতে ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম নুরুকে পুলিশের গ্রেফতার ও তা অস্বীকারের পর বৃহস্পতিবার তাকে হত্যা করে লাশ রাউজান উপজেলার কর্ণফুলী নদীর তীরে খেলাঘাট কৈয়াপাড়া এলাকায় ফেলে রাখা হয়। এ মর্মন্তুদ ও পৈশাচিক ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি। খালেদা জিয়া বলেন, চারদিকে সংশয়-ভয়জনিত আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। রক্তাক্ত সহিংসতা আওয়ামী দুঃশাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এ সরকারের ক্রোধের প্রধান টার্গেট হচ্ছে যুবক ও তরুণরা।
ফ্যাসিস্টদের ভয়াবহ ভ্রƒকুটি উপেক্ষা করে প্রতিবাদী তরুণরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। আর সেজন্যই দেশবিরোধী নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত সরকারের বিরুদ্ধে তারুণ্যের দ্রোহকে নির্মূল করার জন্যই আওয়ামী সরকার জাতীয়তাবাদী শক্তির ছাত্র ও যুবকদের হত্যা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের এ ধারাবাহিক প্রাণঘাতী নৃশংসতার করুণ শিকার হয়েছে নুরুল আলম নুরু। ছাত্রনেতা নুরুল আলম নুরু হারানো গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার জন্যই তাকে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে। যে সরকার বাক, চিন্তা, মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে পারে সেই সরকার নিজেদেরকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার স্বার্থে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্বিচারে হত্যা করতে দ্বিধা করে না। বর্তমান সরকার ক্ষমতার মোহে অন্ধ ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সরকার নিজেই দুর্বিনীত অনাচার সৃষ্টি করে দেশকে এক মহাদুর্যোগের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। তবে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী রক্তাক্ত পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে লাশের স্তূপ বানিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবে না বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা টের পাচ্ছে না অপকীর্তি ও অনাচারের জন্য তাদের দিকে মহাদুর্দিন এগিয়ে আসছে। বর্তমান আওয়ামী সরকারের অপশাসনে দেশের সামগ্রিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতি এখন কুৎসিত রূপ ধারণ করেছে। ক্ষমতাসীনদের নির্দেশেই আইনশৃংখলা বাহিনী নুরুল আলম নুরুকে হত্যা করেছে। এ পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে বর্তমান সরকার রেহাই দিলেও সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন তাদেরকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ত্রাস সৃষ্টি করে ক্ষমতার দাপটে জনগণকে ভয় পাইয়ে দেয়ার অপকৌশল করে কোনো লাভ হবে না।

দুর্নীতি মামলায় পার্ক জিউন গ্রেফতার

দুর্নীতির অভিযোগে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন হাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সিউলের প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে দক্ষিণ সিউলের একটি কারাগারে নেয়া হয়। সেখানে পার্ককে সাধারণ বন্দির মর্যাদা দেয়া হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত পার্কের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন মঞ্জুর করার পর তাকে কারাগারে নেয়া হয়। ৬৫ বছরের পার্ককে রাজধানী সিউলের দক্ষিণের একটি ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। পার্কের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের আগে তাকে সর্বোচ্চ ২০ দিন আটক করে রাখা যাবে। যদি পার্ক দোষী সাব্যস্ত হন তবে তার ১০ বছরের বেশি কারাদণ্ড হতে পারে। বৃহস্পতিবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে প্রায় নয় ঘণ্টার শুনানি শেষে আদালত পার্কের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালতের রায়ে বলা হয়, ‘পার্কের বিরুদ্ধে আনা প্রধান অভিযোগগুলো ন্যায্য এবং যেহেতু এখানে প্রমাণ নষ্ট করার ঝুঁকি রয়েছে তাই তাকে গ্রেফতার প্রয়োজন এবং সমর্থনযোগ্য।’ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, কালো রঙের একটি সেডান গাড়িতে করে কৌঁসুলির কার্যালয়ে অপেক্ষারত পার্ককে ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
মধ্যরাতের পরপর পার্ককে নিয়ে যাওয়া হলেও ওই সময় কৌঁসুলির কার্যালয়ের সামনে তার প্রায় ৫০ জন সমর্থক জাতীয় পতাকা হাতে নেতার মুক্তির দাবি জানান। রাজপ্রাসাদের বিলাসবহুল জীবন থেকে এখন কারাগারের ছোট্ট কুঠুরিতে সময় কাটছে পার্ক জিউন হাইয়ের। এএফপি জানিয়েছে, পার্ককে কারাগারে সাধারণ বন্দির মর্যাদা দেয়া হয়েছে। কারাগারের একজনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, সারা রাত পার্ক নির্ঘুম ছিলেন, এমনকি রাতের খাবারও গ্রহণ করেননি। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্ককে রাতে সাধারণ মানের সস্তা খাবার দেয়া হয়, ওই খাবারের দাম মাত্র ১.৩০ ডলার (১০৪ টাকা)। খাওয়ার পর নিজের প্লেট নিজেকেই ধুয়ে নিতে হয়। ঘুমানোর জন্য সাধারণ বিছানা দেয়া হয়েছে, যার ভাঁজ খুলে ফ্লোরেই পাততে হয়। ব্যক্তিগত লাভের লক্ষ্যে বান্ধবীকে সুবিধা পাইয়ে দিতে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যবহার করেছেন- এমন অভিযোগে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে সংসদে ও রাজপথে পার্কের ?বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। গত ডিসেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পার্ককে অভিশংসনের পক্ষে রায় দেয় পার্লামেন্ট। মার্চে দেশটির সাংবিধানিক আদালত ওই রায় বহাল রাখেন। তবে যাবতীয় দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পার্ক। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

Tuesday, March 28, 2017

বিএনপি প্রমাণ করেছে তারা পাকিস্তানের পক্ষে

গণহত্যা দিবসে বিএনপির কর্মসূচি না থাকার তীব্র সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সরকার ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণা করেছে। কিন্তু একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী বিএনপি-জামায়াত তা পালন করল না। এর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হল যে একদিকে তারা যেমন বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, অপরদিকে যুদ্ধাপরাধী, গণহত্যাকারী, লুণ্ঠনকারী, অগ্নিসংযোগকারী, মেয়েদের ইজ্জত লুণ্ঠনকারী এবং অপরাধীদেরকেই এরা আপন মনে করে। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে বিষয়টি মনে রাখার আহ্বান জানান। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সোমবার বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ ৯ ডিসেম্বরকে গণহত্যা দিবস ঘোষণা করেছে। কিন্তু যে দেশে যেদিন গণহত্যা শুরু হয়, সে দেশে সেদিন দিবসটি পালনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের পার্লামেন্টে আলোচনার পর সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এরপর কেবিনেটেও সেটা পাস করেছি। কেবিনেট যখন পাস করেছে, তখন সবার জন্য প্রযোজ্য, সবাই হণহত্যা দিবস পালন করবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিএনপি-জামায়াত বুঝিয়ে দিল তারা বাংলার জনগণের সঙ্গে নেই- তারা আছে আলবদর, আলশামস, রাজাকার, হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে কোনো জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের স্থান হবে না। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের মাটিতে এদের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করার সবই করা হবে।
জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানও চলবে, দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির চাকাও সচল রাখা হবে। সরকার প্রধান আরও বলেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানে গেলেই কাদের মনে কষ্ট লাগে, মনোবেদনার সৃষ্টি হয় তা দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট। দেশ এগিয়ে গেলে, দেশের মানুষ শান্তিতে থাকলেই এদের অন্তর্জ্বালা শুরু হয়। কিভাবে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের রক্ষা করবে, তাদের অপকর্ম কিভাবে ঢাকবে সেজন্য একই ভাঙা রেকর্ড তারা বাজিয়েই যাচ্ছে। কিন্তু জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। আমরা চাই না দেশে কোনো জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের সৃষ্টি হোক। বিএনপি-জামায়াত জোটের অগ্নিসন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও যেভাবে দেশের মানুষ মোকাবেলা করেছে, এখন সময় এসেছে এসব জঙ্গি-সন্ত্রাসীদেরও ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা ও প্রতিহত করার। ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ ও আত্মহননের পথ বেছে নিয়ে মুষ্টিমেয় একটি গোষ্ঠী মুসলমানদেরকেই বিশ্বের সামনে হেয় করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম শান্তি ও পবিত্র ধর্ম। ইসলামে আত্মহনন মহাপাপ। কিন্তু ইসলাম ধর্মের নাম ব্যবহার করে কিছু বিপথগামী এসব অপকর্ম করে বিশ্বের সব মুসলমানদেরই হেয় করছে। আত্মহনন করে মানুষ মারতে পারলেই নাকি জান্নাতে যাওয়া যাবে, সঙ্গে আরও ৭০ জনকে নিয়ে যেতে পারবে! এ পর্যন্ত যারা আত্মঘাতী হয়েছে তারা কী জান্নাতে গেছে নাকি দোজখে গেছে? কেউ (আত্মঘাতী) কি এ ব্যাপারে কোনো মেসেজ পাঠিয়েছে, কেউ কী সেই মেসেজ পেয়েছে? আসলে এরা পবিত্র ও শান্তির ধর্ম ইসলামকেই হেয় করছে। মুষ্টিমেয় কিছু লোক গোটা মুসলমানদের জীবনই অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বাড়ি ভাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে মালিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা বাড়ি ভাড়া দিচ্ছেন, কাকে দিচ্ছেন, সে কী করেন, এসব খোঁজখবর নিন। শুধু ঢাকা শহরেই নয়, দেশের যে কোনো জায়গায় বাড়ি ভাড়া দেয়ার আগে এসব খোঁজখবর নেয়ার জন্য বাড়ির মালিকদের আহ্বান জানাচ্ছি। তা না হলে কিন্তু ক্ষতি আপনাদেরও হবে। বিপদে আপনারাও পড়বেন। জিয়াউর রহমানকে যারা স্বাধীনতার ঘোষক বলেন তাদের ‘অর্বাচীন’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো একজনের বাঁশির ফুঁতে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। বঙ্গবন্ধুর ২৪ বছরের সংগ্রাম ও নেতৃত্বের ফসলই হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা। তাই এখন স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কে কী বলে তা নিয়ে আলোচনা করার কোনো দরকার নেই। আর স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়েই বিতর্কের অবসান হয়ে গেছে। সর্বোচ্চ আদালতের রায়েই রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই হচ্ছেন স্বাধীনতার ঘোষক। আদালতের রায় অমান্য করে যেসব অর্বাচীন ঘোষক নিয়ে মিথ্যাচার করবে তখন বুঝবেন- ‘পাগলে কিনা কয়, ছাগলে কিনা খায়।’ আসলে যারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না,
পরাজিত শক্তির পদহেলন করে তারাই এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আকতারুজ্জামান, ড. শাম্মী আহমেদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মঞ্চে উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য দেননি। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ আলোচনা সভা বিকাল ৩টায় শুরু হয়। এর আগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেত হন কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট অডিটরিয়াম এলাকায়। দুপুর ২টার মধ্যে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয় হলরুম। বাইরে দাঁড়িয়ে শত শত লোক মাইকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শোনেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ ৩৪ মিনিট বক্তৃতায় দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদান, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখা এবং বিএনপির অপরাজনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

Thursday, March 23, 2017

সমরাস্ত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বুধবার সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর সম্মিলিত সমরাস্ত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছেন। বিকালে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে সাত দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন তিনি। পরে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান প্রদর্শনী স্থানের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। এ সময় প্যারেড স্কয়ারে প্যারাট্রোপার সফলভাবে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রী তিন বাহিনীর বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন হালকা ও ভারি সমরাস্ত্র দেখেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় সশস্ত্রবাহিনীর অবদান ও সাহসিকতাপূর্ণ ঘটনা প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া স্টলগুলো ঘুরে দেখেন তিনি। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত আট বছরে সশস্ত্রবাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্টলে স্থান পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জাতি গঠনে সশস্ত্রবাহিনীর কর্মকাণ্ড এবং জাতিসংঘ শান্তি মিশনে সশস্ত্রবাহিনীর অবদান তুলে ধরা তিন বাহিনীর স্টল ও প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন। তিনি মিগ-২৯ এবং মিগ-২১ যুদ্ধবিমানের বর্ণাঢ্য অ্যারোবেটিক শো দেখেন। প্রধানমন্ত্রী পরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এবং অন্য শিল্পীদের পরিবেশিত সঙ্গীত ও নৃত্য উপভোগ করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে এসে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান আবু বেলাল মুহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ,
বিমানবাহিনী প্রধান মার্শাল আবু এসরার এবং সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) মো. মাহফুজুর রহমান তাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সচিব, রাষ্ট্রদূত, উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রদর্শনীটি ২৩, ২৬, ২৭ ও ২৯ মার্চ সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বেসামরিক লোকদের জন্যউন্মুক্ত থাকবে। ২৪ মার্চ সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ২৮ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত শুধু সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের এবং সামরিক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ২৯ মার্চ সাধারণ জনগণসহ ঢাকা মহানগরীর স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে।

Tuesday, March 21, 2017

টাকা ভাগাভাগি নিয়ে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সোমবার দুপুরে এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন। নগরীর কাটাবিল এলাকায় ভোট কেনাবেচার টাকা নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারির পর এ খুনের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. খোরশেদ আলম। চাল ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম ওই এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী সাইফুল বিন জলিলের পক্ষে ভোট কেনার জন্য টাকা নেন নগরীর কাটাবিল এলাকার কয়েকজন সমর্থক। তারা হচ্ছেন রাগা বাদশার বাড়ির হারুন মিয়া ও তার ছেলে তানিম, একই বাড়ির কাজল, জিলানী ও খোরশেদ আলম। প্রার্থীর কাছ থেকে নেয়া টাকা ভাগবাটোয়ারা করতে গিয়েই বিপত্তি ঘটে।
হারুনের বিরুদ্ধে বেশি টাকা নেয়ার অভিযোগ ওঠে। চাল ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম এর প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়। জানা যায়, হারুন মিয়া ও তার ছেলে তানিমের পিটুনিতে একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন খোরশেদ আলম। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নগরীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ভাই জামাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, আমার ভাইকে হারুন মিয়া ও তার ছেলে তানিম পিটিয়ে হত্যা করেছে। ঘটনার পর ঘাতক বাবা-ছেলে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। নগরীতে যখন উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনী প্রচার চলছিল, ঠিক তখনই এ ধরনের একটি খুনের ঘটনা ঘটল। এ ব্যাপারে কাউন্সিলর প্রার্থী সাইফুল বিন জলিলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Monday, March 20, 2017

পানি ছাড়াই ঝকঝকে শৌচাগার!

কম পানি দিয়ে অর্থাৎ এক রকম পানি ছাড়াই ঝকঝকে থাকবে শৌচাগার। শৌচাগারে বিপুল পরিমাণ পানির অপব্যবহার ঠেকাতে এমন অভিনব এক আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের এই আবিষ্কারের নাম দেয়া হয়েছে ‘জিরোওডোর’। সারা দিনে মাত্র একবার পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই হবে। এটির মূল আবিষ্কর্তা দিল্লি আইআইটির সাবেক ছাত্র উত্তম বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আইআইটির রুরাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির প্রফেসর এবং একাম ইকো সলিউশনের চেয়ারম্যান বিজয়রাঘবন এম চ্যারিয়রকে সঙ্গে নিয়ে এই আবিষ্কার করেন। এই বিশেষ টয়লেটে ব্যবহার করা হয়েছে একটি টেকনোলজি। এ ক্ষেত্রে প্যানের মধ্যে ব্যবহার করা হয় একটি মেকানিক্যাল ভাল্ব, যা নালীর মধ্যে দিয়ে ইউরিন ‘পাস’ করে দেয়, কিন্তু অ্যামোনিয়ার কটু গন্ধ ভেতরে আসতে দেয় না। উপরন্তু ইউরিন সরাসরি গিয়ে মেশে জমিতে।
যা সার হিসেবে কাজে লাগে। কোনো রকম রাসায়নিক পদার্থ এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই এটি সম্ভব। ফলে এর রক্ষণাবেক্ষণের খরচও খুব কম। সারা দিনে একবার শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই হবে। উত্তম জানান, ‘শৌচাগারে একেকবারের ফ্লাশে ৬-১০ লিটার পানি খরচ হয়। সুতরাং খুব সহজেই আন্দাজ করা যায় প্রতি দিন একটি শৌচাগারে কত পানি খরচ হতে পারে। নতুন ধরনের এই শৌচাগার বছরে ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ লিটার পানির অপব্যবহার রোধ করতে পারবে।’ জিরোওডোর তৈরি খরচও খুব কম। সাধারণ মানুষও নিজের ঘরে বা অফিসে এই টয়লেট তৈরি করতে পারবেন।

আ’লীগ মানুষের জন্য কাজ করে, বিএনপি করে নির্যাতন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের জন্য কাজ করে। এদেশের দারিদ্র্যপীড়িত জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদেশের যত উন্নয়ন আর অর্জন, সব আওয়ামী লীগের হাত ধরেই। অপরদিকে বিএনপি দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন আর জুলুম করে। ক্ষমতায় গিয়ে দেশ ও জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তে নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নে ব্যস্ত থাকে। ওই দলটি দেশের উন্নয়ন-সমৃদ্ধি চায় না। রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ মিলনায়তনে তাঁতী লীগের সম্মেলনে রোববার প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সভাপতি পদাধিকারবলে দলের অন্যতম এ সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক নেতা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন তাঁতী লীগের আহ্বায়ক এনায়েতুর রহমান চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন যুগ্ম আহ্বায়ক সাধনা দাস গুপ্তা। প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক খগেন চন্দ্র দেবনাথ সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন। শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব শওকত আলী। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের সব শহীদ, কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, গণতন্ত্র উদ্ধারে আত্মাহুতিদানকারী তাঁতী লীগের প্রয়াত নেতাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তাঁতী লীগকে শক্তিশালী করাসহ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নের কাজ করার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি বলেন, নেতা হয়ে শুধু বসে থাকলে চলবে না। তাঁতীদের কল্যাণে কাজ করতে হবে। তাদের সমস্যাগুলো কী, তা দেখতে হবে। তাদের দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। তাদের মধ্যে যে মেধা রয়ে গেছে, এ ঐতিহ্যটাকে যেন তারা লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধরে রাখতে পারে। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে দেখা যায়, যে দলের হাত ধরে দেশ স্বাধীন হয়েছে সেই দল অনেক দিন সরকার পরিচালনা করেছে। তাদের হাত ধরেই সে দেশের উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে কী হল? স্বাধীনতার অল্প কিছুদিন পরেই স্বাধীনতার স্থপতিকে সপরিবারে মেরে ফেলা হল। তার জায়গায় ক্ষমতায় এলো পাকিস্তানের দোসররা। যারা এদেশের অগণিত মানুষকে হত্যা করেছে, মা-বোনদের নির্যাতন করেছে, তাদের এদেশীয় সহযোগীরা। কিন্তু এই শক্তি দেশের উন্নয়ন করেনি। করবেই বা কেন?
কারণ যারা স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে, অবর্ণনীয় কষ্ট করেছে, দেশের জন্য দরদ, তাদেরই আছে, ওদের নেই। তাঁতশিল্পকে আরও আধুনিক ও বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ শিল্পের প্রসারে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপই সরকার নেবে। এটা অত্যন্ত উন্নতমানের শিল্প। কাজেই এটাকে আরও বেশি সহযোগিতা করার জন্য আমাদের সরকার সব সময় প্রস্তুত। তাঁত বোর্ডকে ডিজিটালাইজড করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে আমরা দেশে একটা টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁতের শাড়ি আমরা ব্যবহার করি, ফ্রেঞ্চের শিফন শাড়ি পরি না। আমার মনে হয়, আমাদের ছেলে-মেয়েরাও এ তাঁতীদের তৈরি কাপড় ব্যবহার করতে পারে। আমাদের তাঁতশিল্পের কাপড় শুধু পরিধান নয়, গৃহে নানামুখী কাজে এর ব্যবহারেরও সুযোগ রয়েছে। আমি আশা করব, সবাই সেদিকে নজর দেবেন। সরকারপ্রধান বাংলার ঐতিহ্যবাহী মসলিনকে আবার ফিরিয়ে আনায় প্রসঙ্গে বলেন, সারা দেশে আমরা একটা সমীক্ষা করছি, মসলিন কোন কোন এলাকায় তৈরি হতো, এর সুতা আবার পাওয়া যায় কিনা, এজন্য আমরা গবেষণা করছি। পাশাপাশি স্বতন্ত্র জামদানি পল্লী, বেনারসি পল্লী ও তাঁত পল্লী স্থাপনেরও কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁতীদের কল্যাণে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। বাজেটে সুতা ও রং আমদানি ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর রহিত করা হয়েছে, যাতে দাম কমে। মাদারীপুরের শিবচর এবং শরীয়তপুরের জাজিরায় ১২০ একর জমিতে তাঁত পল্লী স্থাপন প্রকল্প নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশ জামদানির পেটেন্ট রাইটস অর্জন করায় এ শিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরা এবং পাশাপাশি তাঁত ও সিল্ক শিল্প যেন বিশ্বব্যাপী প্রসার লাভ করতে পারে,
তার জন্য সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান। নিজের সারা দেশ ঘুরে বেড়ানোর স্মৃতি উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা একসময় বাংলাদেশের দুরবস্থার কথা স্মরণ করে বলেন, একবেলা খাবার, মোটা কাপড় জুটত না, রোগে চিকিৎসা পেত না, রোগে ধুঁকে ধুঁকে মারা যেত, লেখা-পড়া তো ছিল অনেক পরের ব্যাপার। দু’মুঠো খাবারের জন্য মানুষ হাত পেতে বলেছে, ‘ক্ষুধার জ্বালায় মরে যাচ্ছি’। কঠোর পরিশ্রম করে আমরা এসব সমস্যা ও অভাব দূর করে দেশের উন্নতি করেছি। দেশে এখন কেউ আর না খেয়ে থাকে না। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যেকটি সংগঠন নীতি ও আদর্শ মেনে চলবে এবং এর ফলে সংগঠনের উন্নয়ন হবে। অন্যান্য সহযোগী সংগঠন যারা যেখানেই করছেন, সেখানেও সেই সম্প্রদায়ের মানুষের যাতে কল্যাণ ও উন্নতি হয় সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন।

Tuesday, December 1, 2015

কেরানীগঞ্জে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক কেমিক্যাল উদ্ধার

দেশকে অস্থিতিশীল করতে যখন বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তখন রাজধানীর পাশে কেরানীগঞ্জ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক কেমিক্যাল উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন গোডাউন থেকে ৫২৯ ড্রাম রাসায়নিক কেমিক্যাল উদ্ধার করে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। বিষয়টি আইনশৃংখলা বাহিনীকেও ভাবিয়ে তুলেছে। আশংকা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব নাশকতার ঘটনা ঘটেছে তার সঙ্গে এই কেমিক্যাল মজুদ করার মধ্যে বিশেষ যোগসূত্র থাকতে পারে। এসব কেমিক্যাল ব্যবহার করে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের সময় বড় ধরনের নাশকতামূলক সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টিও তারা উড়িয়ে দিতে চান না। শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, এসব ড্রামে ভয়ংকর রাসায়নিক কেমিক্যাল রয়েছে। প্রতিটি ড্রামে যে পরিমাণ দ্রব্য রয়েছে তা বিস্ফোরিত হলে ওই এলাকা নিমেষেই ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হবে। এছাড়া এগুলো বহনের সময় রাসায়নিক কেমিক্যাল বাতাসে ছড়িয়ে আশপাশের পরিবেশকেও দূষণ করছে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ ছাড়াও আইনশৃংখলা বাহিনী ইতিমধ্যে এর পেছনে জড়িত মূল হোতাদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে।
ইতিমধ্যে কেরানীগঞ্জের ব্রাহ্মণকিত্তা এলাকায় অবস্থিত গোডাউনটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। জব্দ করা বিস্ফোরকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে মিথাইলিন ক্লোরাইড ২২ ড্রাম, গ্লিসারিন ৫২ ড্রাম, ড্রাই ইথাইল গ্লু ক্রাইড ৫৬ ড্রাম, ডাইক্লো মিথেন ৩২১ ড্রাম, অন্যান্য রাসায়নিক কেমিক্যাল ৭৮ ড্রাম। এ প্রসঙ্গে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ ঢাকার সহকারী পরিচালক মো. তারেক মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা মেসার্স সাইজু এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানটির গোডাউনে অভিযান চালান। এরপর সেখান থেকে মজুদ করে রাখা বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক কেমিক্যাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা রাসায়নিকের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো দ্রুত পরীক্ষা করা হবে। তিনি জানান, গোডাউনটি সিলগালা করার পাশাপাশি এসব রাসায়নিক কেমিক্যালের মালিককে আমদানি ডকুমেন্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব কেমিক্যাল ভারত, চীন ও কোরিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছে। তবে যে কেমিক্যালের নাম দিয়ে এগুলো আমদানি করা হয়েছে বাস্তবে ড্রামে সেই কেমিক্যাল আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। জানা যায়, সোমবার বেলা ২টার দিকে অভিযান শুরু করে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তারেক মাহমুদ ও ওমর ফারুক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শিপু সরকার ও সবুজ মিয়া। বেলা ২টার দিকে গোডাউনে প্রবেশ করে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের আভিযানিক দল। এ সময় এত বিপুল বিস্ফোরকদ্রব্য দেখে কর্মকর্তাদের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। তারা মোবাইলে যোগাযোগ করেন বিস্ফোরকদ্রব্য আমদানিকারক সারফুদ্দিনের সঙ্গে। তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়। কিন্তু তিনি নানাভাবে কালক্ষেপণ করে সন্ধ্যার দিকে প্রিন্স নামে তার এক ব্যবসায়িক পার্টনারকে ঘটনাস্থলে পাঠান। কিন্তু এসব কাগজ যথাযথ কিনা তা নিয়ে শুল্ক বিভাগের সন্দেহ হওয়ায় সেগুলো অধিকতর যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শুল্ক বিভাগ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত গোডাউনটি সিলগালা করে দেয়া হয়। এরপর শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা পার্শ্ববর্তী গদারবাগে সোনার বাংলা আবাসন প্রকল্পের ভেতর আরও দুটি গোডাউনে অভিযান চালান। গোডাউনের একটির মালিক প্রিন্স। অপরটির মালিককে পাওয়া যায়নি।
প্রিন্সের গোডাউনে নীল রংয়ের কিছু ড্রাম পাওয়া যায়। তবে সেগুলো ছিল পরিত্যক্ত অবস্থায়। এগুলোর মধ্যে থাকা রাসায়নিক কেমিক্যাল আগেই বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে মালিক না থাকায় অপর গোডাউনে ঢুকতে পারেননি শুল্ক গোয়েন্দারা। জানা যায়, সারফুদ্দিন ও প্রিন্স নামে দুই ব্যক্তি রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় কেমিক্যালের ব্যবসা করেন। এজন্য তারা বিদেশ থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক ও বিস্ফোরকদ্রব্য আমদানি করেন। আমদানি ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রাসায়নিক ও বিস্ফোরকদ্রব্য তারা মজুদ করেছেন। এগুলো অবৈধভাবে বাইরে বিক্রি করে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। আইনশৃংখলা বাহিনী ও চট্টগ্রাম কাস্টমসকে ফাঁকি দিয়ে এসব অতিরিক্ত রাসায়নিক ও বিস্ফোরকদ্রব্য কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে গোডাউন বানিয়ে মজুদ করে রাখা হয়- যা সম্পূর্ণ বেআইনি। সময় সুযোগ বুঝে এসব কেমিক্যাল বাইরে বিক্রি করে দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আবাসিক এলাকায় এসব বিস্ফোরকদ্রব্য রাখার নিয়ম না থাকলেও আইনশৃংখলা বাহিনীকে ফাঁকি দিতে তারা আবাসিক এলাকায় গোডাউন বানিয়ে মজুদ করে রাখছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃংখলা বাহিনীর কেউ কেউ বিষয়টি জানলেও তারা রহস্যজনক কারণে চুপ থাকেন। এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি ফেরদাউছ হোসেন বলেন, শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে আমাকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে। বিপুল রাসায়নিক কেমিক্যাল মজুদের অভিযোগে একটি গোডাউন তারা সিলগালা করে দিয়েছেন। সেখান থেকে কিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো আসলে কি তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে।

নব্বইয়েও দুরন্ত!

বয়স আসলেই একটা সংখ্যা। না হলে, নরওয়ের ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা কীভাবে এমন অবলীলায় ফুটবল নাচাতে পারেন তার পায়ের ওপর! মেরি নর্দাজেন নামের এ বৃদ্ধার বল নাচানোর একটি ভিডিও ইদানীং দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে নরওয়েতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ‘ভাইরাল’ তার এ ভিডিও। সবাই অবাক-বিস্ময়ে দেখছেন এ ‘বিস্ময়-বৃদ্ধা’র ফুটবল কারিশমা। পায়ের ওপর বল নাচিয়ে দারুণ একটা রেকর্ডও আছে এ মেরি নর্দাজেনের। আজ থেকে ৭৫ বছর আগে, ১৫ বছর বয়সে পায়ের ওপর ১ হাজার তিনবার বল নাচিয়ে রেকর্ড করেছিলেন তিনি।
আজ ৯০ বছর বয়সেও সেই প্রতিভায় ধুলো জমেনি এতটুকুও। না, আগের মতো হাজার বার বল নাচাতে পারেন না। কিন্তু এ বয়সে যা করছেন, বয়সের তুলনায় সেটিকে ১৫ বছর বয়সের সেই কীর্তির চেয়ে কম মনে হচ্ছে না মোটেও। লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো মেরি নর্দাজেনের এ ভিডিও ফুটেজটি দেখেছেন কিনা জানা নেই। এ সময়ের এ দুই বিশ্বসেরা দেখে থাকলে বৃদ্ধা মেরি নর্দাজেনে নিশ্চয় মুগ্ধ হবেন।