Sunday, January 7, 2018

পাপুয়া নিউগিনিতে জেগেছে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি, সুনামির শঙ্কা

হাজার বছর সুপ্ত থাকার পর ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো ব্যাপক অগ্ন্যুৎপাত শুরু করেছে পাপুয়া নিউগিনির কাদোভার দ্বীপের একটি আগ্নেয়গিরি। শুক্রবার শুরু হওয়া আকস্মিক এই অগ্ন্যুৎপাতের ব্যাপকতা এতো বেশি যে এরই মধ্যে দ্বীপটির ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা উত্তপ্ত লাভার নিচে ঢাকা পড়ে গেছে।উৎক্ষিপ্ত ছাই ও গ্যাসীয় মেঘ ভূপৃষ্ঠ থেকে দ্বীপটির কিলোমিটারেরও বেশি উঁচুতে পৌঁছে যাচ্ছে।
 
চতুর্দিকে সাগরঘেরা দ্বীপটির আতঙ্কিত বাসিন্দারা যে যেদিকে পারছে পালাচ্ছে। ৬শরও বেশি লোক ভয়ে দ্বীপ ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
 
কর্তৃপক্ষ দেশটির উত্তর-পূর্ব উপকূলের এই দ্বীপ থেকে সব মানুষকে সরে যেতে বলেছে। তারা এরই মধ্যে দ্বীপের সব বাসিন্দাকে দ্রুত ও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বেশ কিছু নৌকা ও ডিঙ্গি নৌকা পাঠিয়েছেন। উদগীরিত ছাইভস্ম, লাভা ও উৎক্ষিপ্ত পাথরখণ্ড আগ্নেয়গিরির নিচের গ্রাম-জনপদকে কার্পেটের মতো ঢেকে দিয়েছে। বলা যায়, সবকিছু এখন ফুটখানেক ছাইয়ের নিচে ঢাকা পড়ে গেছে। 
 
ভূকম্পন বিশেষজ্ঞরা এই অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ব্যাপক ভূমিধস ও সুনামি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। হাজার বছর ধরে ঘুমিয়ে থাকা এই আগ্নেয়গিরি ৫ জানুয়ারি কী কারণে হঠাৎ জেগে উঠল তার কারণ খুঁজছেন তারা। ইতিহাসে আগে কখনোই এই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা না ঘটায় এর গতিবিধির ওপর নজর রাখার প্রয়োজনীয়তাও কেউ কখনো বোধ করেনি। হঠাই জেগে উঠে আগ্নেয়গিরিটি বোদ্ধাদের পর্যন্ত যারপরনাই চমকে দিয়েছে।
 
উইওয়াক জেলার প্রশাসক রিকি ওয়োবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন, অবস্থা খারাপ থেকে আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে।
 
রাবাউল ভোলক্যানোলজিক্যাল ইরাপশন বা আরভিও নামের একটি সংস্থা বলেছে, দ্বীপটির গঠন খাড়া হওয়ার কারণে অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাবে সেখানে ব্যাপক ভূমিধস হতে পারে। তাছাড়া উত্তপ্ত লাভার কারণে সেখানে সুনামির সৃষ্টি হতে হতে পারে। এ মুহূর্তে দ্বীপে কারোরই অবস্থান করা নিরাপদ নয়’’।
 
আরভিও আরো জানিয়েছে, "দেখে শুনে মনে হচ্ছে আগ্নেগিরির অগ্ন্যুৎপাতের ব্যাপক ধাক্কায় সাগরের নিচে পশ্চিম দিকে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে বা হতে যাচ্ছে।’’ডারউইন ভোলক্যানিক আশ অ্যাডভাইজরি সেন্টারের কর্মকর্তা ও’ব্রায়েন বলেন, ‘‘জেগে ওঠার পর থেকেই আগ্নেয়গিরিটি দিনরাত মুহুর্মুহু উদগীরণ ঘটিয়ে চলেছে। উত্তপ্ত ছাইয়ের ঘন মেঘ বিশাল কুণ্ডলি পাকিয়ে অনবরত পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে উড়ে চলেছে। তবে ছাই ও গ্যাসীয় কুণ্ডলি এখনও বিমান উড্ডয়নের জন্য বড় কোনো ঝুঁকি হয়ে দেখা দেয়নি।’’ 

তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি সামারিটান এভিয়েশন নামের একটি সংস্থা দ্বীপটির সব বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছে। তাদের দাবি, ভাগ্যক্রমে এখনো কোনো প্রাণহানি ঘটেনি বা কেউ আহত হয়নি।

উল্লেখ্য, সংস্থাটির নিজস্ব সি-প্লেন দ্বীপটির চারপাশে নিয়মিত চক্কর দিয়ে যাচ্ছে। ফেসবুক পোস্টে অলাভজনক এই সংস্থা আরও জানায়, শনিবার থেকে অগ্ন্যুৎপাতের শক্তি ও ব্যাপকতা অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে গেছে।

আগ্নেয়গিরির দ্বীপ বলে কথিত কাদোভার দ্বীপটির অবস্থান পাপুয়া নিউগিনির মূল ভূখণ্ডের উত্তর উপকূল থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দূরে।

মন্ত্রিসভায় রদবদল যেকোনো সময় হতে পারে

চলতি মেয়াদে সরকারের শেষ সময়ে এসে মন্ত্রিসভায় যে রদবদল আনা হয়েছে, তা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হয়েছে বলে জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

আজ রোববার সচিবালয়ে এক বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

ফ্রান্সের প্রতিনিধি ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সাবেক সভাপতি প্যাসকেল ল্যামির সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী এদিন বৈঠক করেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভালো উদ্দেশ্যেই মন্ত্রিসভায় রদবদল করা হয়েছে। যাদের দপ্তর পরিবর্তন হয়েছে তারা সবাই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

নির্বাচনকে সামনে রেখে জোট সরকারের মন্ত্রিপরিষদে শরিক দলগুলোর নেতাদের রদবদল বিশেষ কোনো ইঙ্গিত বহন করে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। মন্ত্রিপরিষদে পরিবর্তন যেকোনো সময় হতে পারে। এটা রুটিন ওয়ার্ক।

তোফায়েল আহমেদ আরো বলেন, স্বল্প উন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে যে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয় তা বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই পূরণ করেছে। শর্তগুলোর মধ্যে এক হাজার ২৪২ ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এক হাজার ৬১০ ডলার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ চলতি ২০১৮ সালের মার্চে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল (ডেভলপিং) দেশে পরিণত হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এলডিসি ভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে এভ্রিথিংস বাট আর্মস-এর আওতায় জিএসপি সুবিধা প্রদান করছে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হবার পরও বাংলাদেশকে জিএসপি প্লাস সুবিধা প্রদান করা হবে।

এজন্য মন্ত্রী প্যাসকেল ল্যামির সহযোগিতা কামনা করেন।

বড়হাতিয়ায় কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

লোহাগাড়া থানার বড়হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ও কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো  মত বিনিময় সভা।

রোববার বিকাল ৩ টার দিকে  বড়হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ও কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি কর্তৃক আয়োজিত মাদকদ্রব্য, বহিরাগত সন্ত্রাসী, জঙ্গী, সন্ত্রাসবাদ, অবৈধ দখলদার, বাল্য বিবাহ ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক এক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মত বিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  হাসানুজ্জামান মোল্যা, সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  মো.রফিকুল হোসেন, লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান, পিপিএম, সাতকানিয়া থানার  পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মজিবুর রহমান, চুনতী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) আবদুল জলিল,  ১নং বড়হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জুনাইদসহ  সাতকানিয়া-লোহাগাড়া থানার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিগণ, সংবাদিকবৃন্দ, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্যরা।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  মো.রফিকুল হোসেন বলেন, মাদকদ্রব্য, বহিরাগত সন্ত্রাসী, জঙ্গী, সন্ত্রাসবাদ, অবৈধ দখলদার, বাল্য বিবাহ সম্পর্কিত কর্মকান্ড দেশ ও দেশের অগ্রগতির অন্তরায়। একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনে যেমনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর দায়িত্ব অপরিসীম, তেমনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এবং যে কোন ধরনের দেশ বিরোধী অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনগণের সহযোগিতা অনসিকার্য । 

তিনি দেশ ও জাতি গঠনে সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য, বহিরাগত সন্ত্রাসী, জঙ্গী, সন্ত্রাসবাদ, অবৈধ দখলদার, বাল্য বিবাহ রোধে সহযোগিতা কামনা করেন।

ইরানের বিক্ষোভের ৫টি ব্যাপার যা আপনার জানা দরকার

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে চলছে ভয়াবহ বিক্ষোভ। পরিস্থিতি সহিংস আকার ধারণ করেছে। এতে কমপক্ষে ২২ জন নিহত হয়েছেন। তবে বিভিন্ন মিডিয়ায় এ সংখ্যা বিভিন্ন রকম বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। সরকারবিরোধী এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির আনাচে কানাচে। দেশজুড়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কমপক্ষে ৪০০ জন।
এর মধ্যে রোববার রাতে শুধু রাজধানী তেহরান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে কমপক্ষে ২০০ জনকে। আল জাজিরার মত অনুযায়ী এই বিক্ষোভ সম্পর্কিত পাঁচটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রসঙ্গ নিচে তুলে ধরা হল।
কি হচ্ছে ইরানে?
ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে বৃহস্পতিবার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। শুক্রবার তা ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী তেহরানে। এরপর বেশ দ্রুতগতিতে আন্দোলন ছড়িয়ে যায় দেশজুড়ে।  অবশ্য অনেকে আবার এই বিক্ষোভের কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন ইরানের বিতর্কিত পররাষ্ট্রনীতিকে। বলছেন, আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে ইরানের ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করেই এই অসন্তোষ। আরেক দল বলছেন, সৌদি জোটের আরোপিত অবরোধের কারণে ইরানের জনগণের জীবনযাত্রা প্রভাবিত হয়ে তৈরি হয়েছে এই বিক্ষোভের পটভূমি। এ সম্পর্কে স্থানীয় গণমাধ্যম বলেছে, হাজার হাজার মানুষ সরকারের ওপর ক্ষোভ এবং হতাশা প্রকাশ করতে রাজপথে নেমে আসেন। এই বিক্ষোভকে এক দশকের মধ্যে ইরানে সংঘটিত সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। শনিবার তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক ডজন ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে সরকার বিরোধী স্লোগান দেন। তাদেরকে প্রতিহত করতে মোতায়েন করা হয় দাঙ্গা পুলিশ। তাদের সঙ্গে ছিল সরকারপন্থি লোকজনও। বেঁধে যায় সংঘর্ষ। ওই সংঘর্ষের একটি ভিডিও টুইটারে আপলোড করে ইরানে অবস্থিত নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস। এতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে পুলিশ। অবশ্য ওই ভিডিও চিত্রের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারে নি আল জাজিরা। তবে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স-ও তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং দাঙ্গা পুলিশের মধ্যে সংঘটিত হওয়া সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
আন্দোলনকারীরা কি চাইছে?
কিছু কিছু আন্দোলনকারী বিক্ষোভে নেমেছেন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব সমস্যা এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতার প্রতিবাদে। এমনটি বলছে বার্তা সংস্থা ফার্স এবং সরকার বিরোধী সক্রিয়তাবাদীরা। আবার অনেকেই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন সরকারবিরোধী অভিপ্রায়ে। তারা বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন । প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির মৃত্যু চেয়ে দেয়া হচ্ছে স্লোগান। মিছিলে বলা হচ্ছে, ‘ভুলে যাও ফিলিস্তিনকে’ ‘গাজা বা লেবাননের জন্যে নয়, আমার প্রাণ ইরানের জন্যে’। বিক্ষোভের সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ব্রুকিংস দোহা সেন্টারের ভিসিটিং ফেলো আলী ফাতাহুল্লাহ নেজাদ আল জাজিরাকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট রুহানির অর্থনৈতিক নীতি ব্যর্থ প্রতীয়মান হওয়ায় ইরানের জনগণের মনে যে চাপা রোষ ছিল, বিক্ষোভে সেটাই প্রকটভাবে ফুটে উঠেছে। আবার অন্যদিকে, দেশটিতে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন পরিস্থিতিরও উন্নতি হয় নি। তাই একদিকে তৈরি হয়েছে আর্থ-সামাজিক অসন্তোষ। আরেকদিকে রাজনৈতিক অসন্তোষ’। এ প্রসঙ্গে ইরানের একজন গণতন্ত্রপন্থী ও ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার পটকিন আজারমেহর আল জাজিরাকে নিজের পর্যবেক্ষণ জানিয়ে বলেন, অনেক দলই কিছুদিন ধরে আন্দোলনে জড়িত ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের সমন্বিত স্বর আরো জোরালো এবং বৈপ্লবিক হয়ে উঠেছে।
কি বলছে সরকার?
ইরানের সরকার সে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির গণমানুষের উদ্বিগ্নতার কথা স্বীকার করেছে। তবে একইসঙ্গে, বিক্ষোভকারীদের কোন রকমের ধ্বংসাÍক আচরণ থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দলরহমান রাহমানী ফাযলি বলেন, যারাই জনগণের সম্পদ নষ্ট করবে কিংবা আইনভঙ্গ করবে, তাদেরকে নিজের আচরণের মুল্য দিতে হবে। এর আগে দেয়া এক সতর্কবার্তায় তিনি নাগরিকদের বেআইনি জটলা পাকাতে বারণ করেন। ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট এশাক জাহাঙ্গিরি বলেন, কিছু আন্দোলনকারী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বিক্ষোভ করলেও, অনেক আন্দোলনকারীই সরকার পতনের বিক্ষোভ তৈরির অপচেষ্টা চালিয়েছে। তিনি আরো বলেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সবকিছু মিলিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিতই দেয়। যদিও কিছু পন্যের দাম বেড়েছে, তবে তা নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বাÍক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আরো বলেন, এইসব বিশৃঙ্খলার মূলে কলকাঠি নাড়তে থাকা ষড়যন্ত্রকারীরা ভেবেছে এর মাধ্যমে তারা সরকারকে বিশৃঙ্খল করে তুলতে পারবে। তবে বাস্তবতা হল, সামাজিক আন্দোলন একবার শুরু হয়ে গেলে তা কোনদিকে মোড় নেয় সেটা পুরোপুরি কারোই নিয়ন্ত্রণে থাকে না।  অন্যদিকে, রোববার ইরানের লরিস্তান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর হাবিবোল্লাহ খোজাস্তেপুর বলেন, জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ‘বিদেশী এজেন্টরা’ অংশগ্রহণ করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তুলতে চাইছে। তিনি ইরানের মাশহাদ শহরে পুলিশের গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হবার খবর প্রসঙ্গে বলেন, এটা বিদেশী এজেন্টের কাজ। কারণ, সেখানে পুলিশ জনতাকে লক্ষ্য করে গুলি করে নি।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া কি?
ইরানের বিক্ষোভ পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা ইরানকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর ধরকপাকড় বারণ করেছে। এই ইস্যুতে কয়েক দফা টুইট করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার মধ্যে সাম্প্রতিকতম টুইটে বলেছেন, ‘নির্যাতনকারী রাষ্ট্র আজীবন টিকে থাকতে পারে না। সারা পৃথিবী দেখছে’! উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার সম্পর্কের আরো অবনতি হয়েছে। সিরিয়া এবং ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যকার বৈদেশিক নীতিতে বার বার সংঘর্ষ বেধেছে। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভেদ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, আমরা সকল জাতিকে ইরানের শান্তিকামী মানুষের প্রতি সমর্থন দিতে প্রকাশ্য অনুরোধ জানাচ্ছি। সেখানে দুর্নীতির অবসান হওয়া দরকার। এছাড়াও, ফ্রান্স এবং জার্মানিতে ইরানের নাগরিকদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে ছোট ছোট বিক্ষোভ করা হয়।
সামনে কি হতে পারে?
সংঘাত পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হতে থাকায় তা সংশ্লিষ্টদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমানের চেয়ে অনেক দ্রুত বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এ প্রসঙ্গে ইরান ইন্টারন্যাশনালের সাংবাদিক নেগার মোর্তাজাভি বলেন, প্রথমে এই আন্দোলনকে প্রশাসন এবং প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়া ছাড়া এর কিছুই ভাবা হয় নি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, ইরানের জনগণের মনে এতো বেশি চাপা ক্ষোভ ছিল যে, এই আন্দোলন এখন প্রেসিডেন্টকে ছাড়িয়ে দেশটির সর্বচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল খোমেনি পর্যন্ত চলে গেছে। যা সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

চট্টগ্রামে জেএসসিতে ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণ চায় ১০৫৩১ শিক্ষার্থী

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক না হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন করেছে ১০ হাজার ৫৩১ শিক্ষার্থী। আবেদনের প্রেক্ষিতে ১১টি বিষয়ে ২০ হাজার ৫২১টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করতে হবে বোর্ড কর্তৃপক্ষকে।
 
এবারও যথারীতি সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে গণিতে। এ বিষয়ে আবেদন জমা পড়েছে ৪ হাজার ৫৫টি। পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশিত হবে ২৯ জানুয়ারি।
 
৩০ ডিসেম্বর প্রকাশিত জেএসসির ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৮১ দশমিক ১৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ হাজার ৩১৫ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয়া ১ হাজার ২১২টি স্কুলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬০৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮১৪ জন।
 
শিক্ষাবোর্ডের বেঁধে দেয়া ৩১ ডিসেম্বর থেকে ০৬ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীরা পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন করেছে জানিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান  জানান, ‘জেএসসির প্রকাশিত ফলাফলে যারা আশানুরূপ ফলাফল পায় নি নতুবা অকৃতকার্য হয়েছে, তারাই শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন করেছে। জেএসসির ১১টি বিষয়ে এবার ২০ হাজার ৫২১টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছে ১০ হাজার ৫৩১ জন শিক্ষার্থী। বোর্ড নির্ধারিত যথাযথ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করে পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২৯ জানুয়ারি।
 
শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, এবার জেএসসির পুনর্নিরীক্ষণ আবেদনে বাংলা ১ম পত্রে জমা পড়েছে ১ হাজার ২৮৭টি, বাংলা ২য় পত্রে ১ হাজার ২৮৭টি। ইংরেজি ১ম পত্রে জমা পড়েছে ৩ হাজার ৬৭৮টি ও ইংরেজী ২য় পত্রে ৩ হাজার ৬৭৮টি। গণিতে জমা পড়েছে ৪ হাজার ৫৫টি, ভুগোলে ২২২টি, ইসলাম ধর্মে ৭৬৯টি, হিন্দু ধর্মে ১৫৮টি, বৌদ্ধ ধর্মে ১৬, খ্রিষ্টান ধর্মে ২টি।
 
একইভাবে বিজ্ঞানে ৩ হাজার ১১৬টি, কৃষি শিক্ষায় ৮৬৯টি, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ২৭৮টি এবং আইসিটিতে ২০২টি আবেদন জমা পড়েছে।

‘ভারত শুধু হিন্দুদের, সমস্যার কারণ মুসলিমরা’

ভারত হলো শুধু হিন্দুদের দেশ। মুসলিমদের কারণে সেখানে হিন্দুরা নানা রকম সমস্যায় করছে। এমন অভিযোগ করেছেন উত্তর প্রদেশে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা বিক্রম সাইনি এমএলএ। তিনি আরো বলেছেন, যারা হিন্দু ধর্ম অনুসরণ করছেন ভারত শুধু তাদের। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি-নিউজ। এতে বলা হয়, বিক্রম সাইনি বলেছেন, যেহেতু ভারতের নাম হিন্দুস্তান, তাই এ থেকেই বুঝে নেয়া যায় যে, এই দেশটির মালিক শুধু হিন্দুরা।
তিনি আরো বলেন, জাতিগোষ্ঠীর পরিচয়ের বাইরে এখন প্রত্যেকেই ভারতে সুবিধা ভোগ করছে। তিনি ভারতে ক্ষমতাসীন বিগত সরকারের সমালোচনা করেন। দৃশ্যত মনমোহন সিংকে লক্ষ্য করে বলেন, সবচেয়ে বেশি দাড়িওয়ালারা সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিয়েছে। সোমবার মুজাফফরনগরে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন বলে বলা হয়েছে রিপোর্টে। তিনি আরো বলেন কিছু অপদার্থ মানুষ একদা ভারত ছাড়তে চাওয়া মুসলিমদের থামিয়ে দেয়। এ কারণেই আমরা এখন সমস্যায় ভুগছি। তারা (মুসলিমরা) ভারত ছাড়লেই পুরো ভারত আসবে আমাদের মালিকানায়। তার এমন মন্তব্যে ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি ডাবল বিব্রতকর অবস্থায় পড়লো। কারণ, এই দলেরই একজন এমপি এর আগে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনীতে প্রেষণে থাকা সদস্যদের মরে যাওয়াই উচিত। জম্মু ও কাশ্মীরে সিআরপিএফ ক্যাম্পে সম্প্রতি সন্ত্রাসী হামলা হয়। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিজেপি দলীয় এমপি নেপাল সিং বলেন, এমন কোনো দেশ নেই যেখানে সেনা সদস্যরা মারা যায় না। প্রতিদিনই তারা সেনাবাহিনীতে মারা যাবে। এমন একটি দেশের নাম আমাকে বলুন যেখানে সেনা সদস্যরা মারা যায় না। সন্ত্রাসী হামলায় সেনা সদস্যদের মারা যাওয়ার ইস্যু তুলে তিনি আরো হতাশ করে দেন সবাইকে। বলেন, যখন কোনো গ্রামে গ-গোল লাগে তখন কেউ না কেউ বা কয়েকজন আহত হয়। এমন কোনো দাওয়াইয়ের নাম বলুন আমাকে যা দিয়ে জীবন বাঁচানো যায়। তার এমন সব মন্তব্যকে কেন্দ্র করে চারদিকে ব্যাপক সমালোচনা। এর ধার না কমতেই নতুন করে স্পর্শকাতর হিন্দু-মুসলিম ইস্যুতে কথা বললেন বিক্রম সাইনি।

কুদস ফোর্স প্রধানকে হত্যার ইসরাইলি পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের সায়?

ইরানের বহুল আলোচিত অভিজাত বাহিনী কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসিম সোলাইমানিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে ইসরাইল। আর তাতে ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার কুয়েতি পত্রিকা আল জারিদার এক প্রতিবেদনে একটি ইসরাইলী সূত্রকে উদ্ধৃত করে এ খবর দেওয়া হয়েছে। ওই সূত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে এ নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। দু’ পক্ষই সোলাইমানিকে মধ্যপ্রাচ্যে নিজ নিজ দেশের স্বার্থের ওপর হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইসরাইলি পত্রিকা হারেৎস কুয়েতের আল জারিদাকে উদ্ধৃত করে খবরটি প্রকাশ করেছে।
প্রসঙ্গত, আল জারিদা পত্রিকাকে ইসরাইলের মুখপাত্র হিসেবে ভাবা হয়। এই পত্রিকাটি অতীতেও ইসরাইলের বিভিন্ন কৌশলগত সংবাদ সবার আগে প্রকাশ করেছে।
তিন বছর আগেও সোলাইমানিকে একবার হত্যার পরিকল্পনা নিয়েছিল ইসরাইল। কিন্তু ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করতে উদগ্রীব প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন তখন ওই পরিকল্পনায় সায় দেয়নি। ২০১৪ সালে সোলাইমানিকে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে হত্যার মিশন প্রায় সফল হতে যাচ্ছিল। কিন্তু, মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধ এড়াতে তৎপর তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন ইসরাইলের ওই পরিকল্পনার ব্যাপারে ইরানকে আগেভাগে সতর্ক করে দেয়। ফলে বেঁচে যান সোলাইমানি। ওই ঘটনার পর ইসরাইল ও মার্কিন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে বড় রকমের বিবাদ সৃষ্টি হয়।
আল জারিদার প্রতিবেদনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, এতে সিরিয়ায় সোলাইমানির পর ইরানের দ্বিতীয় উর্ধ্বতন কমান্ডার হিসেবে পরিচিত ‘আবু বকরে’র আসল নাম প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, তার নাম মোহাম্মদ রেদা ফালাহ যাদেহ। প্রতিবেদনে সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সোলাইমানি বা রেজা ফালাহ যাদেহ ছাড়াও সিরিয়ায় অবস্থানরত অন্য ইরানি সমরবিদরাও ইসরাইলের টার্গেট হতে পারেন।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও রহস্যঘেরা ব্যক্তিদের একজন হলেন সোলাইমানি। ১৯ বছর ধরে তিনি কুদস ফোর্সের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে দক্ষ সমরবিদ হিসেবে তার বিশেষ পরিচিতি আছে। তার নেতৃত্বাধীন কুদস ফোর্স হলো ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর (আইআরএসজি) একটি বিশেষ অভিজাত শাখা। সংস্থাটি ইরানের বাইরে সামরিক ও গোপন অভিযান চালিয়ে থাকে। এই বাহিনী শুধুমাত্র ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খোমেনির কাছে রিপোর্ট পেশ করে।
কুদস ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননে সোলায়মানির ব্যপক প্রভাব রয়েছে। ইরাকের আইএস-বিরোধী যুদ্ধে সোলাইমানির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাশার-আল-আসাদের সরকার টিকিয়ে রাখার নেপথ্যে বড় ভূমিকা তার। পাশাপাশি লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনের হামাসকে সামরিক ও কৌশলগত সমর্থন দিয়ে আসছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তারের পেছনে সোলাইমানিকে অনেকখানি কৃতিত্ব দেওয়া হয়। গোপনীয়তাপ্রিয় হিসেবে পরিচিত সোলাইমানির ভাবমূর্তি ইরানে কিংবদন্তীতুল্য। ২০১৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, সুলেমানিকে সমর্থন করেন ৩৮ শতাংশ ইরানি। অপছন্দ করেন ১১ শতাংশ। কিন্তু ৪৫ শতাংশই তাকে চিনতে পারেননি।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ মার্চেই

আগামী মার্চের ২৭ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ হবে। এজন্য সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে বলে জানালেন ডাক ও টেলি যোগাযোগ থেকে বিদায় নেয়া প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

আজ রোববার তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন। 

তারানা হালিম বলেন, আগের মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে সব সাফল্য প্রধানমন্ত্রীর। দায়িত্ব যেখানে দেয়া হবে সেখানে জনগণের জন্য কাজ করবো।  

বেলা পৌনে ১১টার দিকে তিনি সচিবালয়ে ৫০১ নম্বর কক্ষে নতুন দপ্তরে পৌঁছলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। পরে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর কার্যালয়ে যান প্রতিমন্ত্রী তারানা। মন্ত্রীও তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। গত ৩ জানুয়ারি তারানা হালিমকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে সরিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেয়া হয়। 

অভিনেত্রী-সংস্কৃতিকর্মী তারানা প্রায় তিন বছর আগে যোগ দেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে। ওই মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘদিন কোনো মন্ত্রী ছিল না। এখন তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ে কাজ করবেন। 

নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বৃহস্পতিবার নতুন দপ্তরে যোগ দিলেও তারানা হালিম সেদিন অফিসে যাননি। তিনদিন পর তিনি তার নতুন দপ্তরে যোগ দিলেন।

লিবিয়ার উপকূলে নৌকাডুবিতে নিহত ৮, নিখোঁজ ৮৪

লিবিয়ার উপকূলে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় আটজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ৮৪ জন অভিবাসন প্রত্যাশী নিখোঁজ রয়েছে।  ইতালিয়ান কোস্ট গার্ডের বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশ করেছে  সিএনএন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। ইতালীয় কোস্ট গার্ড জানায়, এটাই ২০১৮ সালের প্রথম অভিবাসীবাহী নৌকাডুবির ঘটনা। জাতিসংঘের মতে, এই পথেই ২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশি অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মতে, ২০০০ সালের পর থেকে থেকে এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজার অভিবাসী এই পথে ডুবে মারা গেছে কিংবা নিখোঁজ রয়েছে।

কোস্ট গার্ড জানায়, তাদের টহল নৌকার নজরে একটি ডুবন্ত ডিঙি দৃশ্যমান হয়। এরপরই তারা অভিবাসীদের উদ্ধার করে। এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে বলেও জানায় তারা।

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে ২০১৭ সালে প্রায় তিন হাজার অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের নভেম্বর লিবিয়া উপকূলে ভূমধ্যসাগরে একটি নৌকা ডুবিতে শিশুসহ অন্তত ৩১ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছিল। ডুবন্ত নৌকা থেকে ৬০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছিল লিবিয়ান কোস্ট গার্ড সদস্যরা।

ল্যাপটপ কেনার সময় মাথায় রাখুন ৬ বিষয়

গত কয়েক বছরে ল্যাপটপ প্রযুক্তিতে এসেছে নানা বৈচিত্র্য। নামকরা ল্যাপটপ ব্র্যান্ডগুলো একের পর এক নতুন নতুন মডেল এনেছে বাজারে। ফলে বাজেট অনুযায়ী পছন্দমতো ল্যাপটপ বেছে নেওয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে কঠিন।
 
ল্যাপটপ কেনার সময় কিছু জিনিস মাথায় রাখলে আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়া খুবই সহজ হয়ে উঠতে পারে।
 
বহনযোগ্যতা 
ডেস্কটপের তুলনায় ল্যাপটপের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর বহনযোগ্যতা। যদি ল্যাপটপ নিয়মিত বহন করা প্রয়োজন থাকে, তবে ছোট আকৃতির হালকা ওজনের ল্যাপটপ কেনাই ভালো।
 
নিয়মিত বহনের জন্য ১১ থেকে ১৪ ইঞ্চির স্ক্রিন বিশিষ্ট ল্যাপটপগুলো বেছে নেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে ডেল-এক্সপিএস-১৩ মডেলটি হতে পারে আদর্শ।
 
ল্যাপটপ একেবারেই বহনের দরকার না থাকলে ১৭ ইঞ্চি স্ক্রিন কেনা যেতে পারে।
 
রেজ্যুলেশন
আপনার যদি বাজেটে সমস্যা না থাকে তবে অবশ্যই ভালো রেজ্যুলেশন বিশিষ্ট ল্যাপটপকেই সবার আগে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। ‘১৯২০×১০৮০’ রেজ্যুলেশন বিশিষ্ট ল্যাপটপ বেছে নিন। ভালো রেজ্যুলেশন মাল্টি টাস্কিংয়ের (একসঙ্গে একাধিক কাজ করা) সুবিধা বাড়ায়। তাছাড়া ফটো এডিটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, গেমিংসহ বিভিন্ন ভারী কাজেও অধিক সুবিধা দেয়।

 ব্যাটারি
 এমন ল্যাপটপ বেছে নিন যা কমপক্ষে আট ঘণ্টা ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। কিছু কিছু ল্যাপটপ আট ঘণ্টার বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ দেয়। আসুস জেনবুক-UX330UA মডেলটি নয় ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম।
 
ক্রোমবুক, নাকি উইন্ডোজ-ম্যাক?
বাজারে কিছু কিছু ল্যাপটপ বের হয়েছে যা গুগল ক্রম অপারেটিং সিস্টেমে চলে। এগুলো চালানো খুবই সহজ। তাই স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েদের মধ্যে ক্রমবুক অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমান বাজারে মান ও বাজেট বিবেচনা করলে আসুসের ক্রমবুক ফ্লিপ-C302CA মডেলটি বেশ ভালো।
 
চালানো সহজ হলেও পেশাদারী কাজের জন্য ক্রমবুক উপযুক্ত নয়। এক্ষেত্রে উইন্ডোজ বা ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমচালিত ল্যাপটপই বেছে নেয়া উচিত।

বাজেট ও টাচস্ক্রিন 
বর্তমানে বাজারে কিছু ল্যাপটপ আছে যা একই সঙ্গে পুরনো মডেলের ল্যাপটপগুলোর মতো হলেও এগুলো ট্যাবলেট মোডেও রূপান্তর করা যায়। লেনোভো ইয়োগা-৯২০ এরকমইএকটি ল্যাপটপ। এসব টাচ প্রযুক্তির ল্যাপটপ ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা ও সুবিধা উভয়ই বাড়াবে।

কিন্তু টাচ ল্যাপটপের দাম বেশি। যদি আপনাকে বাজেট নিয়ে ভাবতে হয়, তবে টাচ ল্যাপটপ কেনার দরকার নেই। গতানুগতিক মডেলগুলোর মধ্যে একই দামে অধিক শক্তিশালী ল্যাপটপ পাওয়া যাবে।

কনফিগারেশন
প্রোসেসর, র‌্যাম, এসএসডি ইত্যাদি নির্বাচন করবেন আপনার বাজেটের উপর নির্ভর করে। প্রোসেসর কোর আই ফাইভ, র‌্যাম- ৮জিবি, এসএসডি- ২৫৬জিবির ল্যাপটপ হতে পারে একটি যুগোপযোগী পছন্দ। হার্ডডিস্কের বদলে এসএসডি (সলিড-স্টেড ড্রাইভ) বেছে নেওয়াই ভালো। এতে ল্যাপটপের প্রোগ্রামগুলো দ্রুত লোড হয়।

হতে চেয়েছিলেন ডাক্তার, হলেন নায়িকা

বলিউডের সেনসেশনাল অভিনেত্রী বিপাশা ৩৯ বছরে পা রাখলেন আজ। তার জন্মদিনে স্বামী করণ সিং গ্রোভার একটি ভিডিও পোষ্ট করেছেন। ওই ভিডিওতে বিপাশাকে কেক কাটতে দেখা গিয়েছে।

ভিডিওর নিচে স্ত্রীকে ‘সুইট প্রিন্সেস’ বলে সম্বোধন করে একটি রোমান্টিক ম্যাসেজও দিয়েছেন করণ। এছাড়া জন্মদিনে অনেক তারকা-শিল্পীও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বিপাশার জন্মদিনে তার সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য তুলে ধরা হলো। ছোটবেলায় মোটেই দেখতে সুন্দর দেখতে ছিলেন না বিপাশা। গায়ের রং এবং মোটা চেহারার জন্য বন্ধুরা অনেক সময় তাকে নিয়ে বিদ্রূপ মন্তব্য করত।

বিপাশার পরিবারের বিশেষ করে বাবা মা ও দুই বোনের সঙ্গে তার সম্পর্ক খুবই মধুর। কাজের ফাঁকেও পরিবারের জন্য সময় বের করে নেন তিনি।

অভিনয়ের চেয়ে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে মিডিয়াতে বেশি চর্চা হয়েছে। প্রথমে দিনো মোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। পরে জন আব্রাহামের সঙ্গে বহু বছর প্রেম করেছেন। শেষ পর্যন্ত টিভি তারকা করণ সিং গ্রোভারের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন।

বলিউডে আসার পর ডাস্কি বিউটি নামে ডাকা হয় তাকে। কিন্তু ছোটবেলায় স্কুলের বন্ধুরা তাকে লেডি গুণ্ডা বলে ডাকত। তার রাগী রাগী স্বভাবের জন্য তাকে এই নাম দেয়া হয়েছিল।

বিপাশা প্রথমে ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন। কারণ বিপাশা মনে করতেন যে তিনি দেখতে সুন্দর নন। কিন্তু নিয়তিতে তার ডাক্তার হওয়া যে লেখা ছিল না তা এখন জলের মতো পরিস্কার।

বিপাশা খেতে খুব ভালোবাসেন। ক্যারিয়ারের জন্য ডায়েট মেনে চলতে হয় ঠিকই। কিন্তু বাঙালী খাবার পেলে তখন আর ডায়েটের কথা ভাবেন না। বিশেষ করে পোস্ত, ভাত পেলে আর কিছু চাই না।

২০০১ সালে বলিউডে পা রাখেন তিনি। আব্বাস মাস্তানির ছবি ‘আজনাবি’তে নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করে অনেক প্রশংসা পান। এরপর ‘রাজ’ ছবি তাকে আরো জনপ্রিয় করে তোলে। ফিল্ম ফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারও পান তিনি।

বিপাশাকে শোবিজ জগতে নিয়ে আসেন মেহর জেসা। কলকাতায় এক হোটেলে বিপাশাকে দেখে তাকে মডেলিংয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি।

দেশে-বিদেশে অনেক ভক্ত তার। আর বিপাশা নিজে ভক্ত হলিউড অভিনেতা ব্র্যাড পিটের। ২০১১ ও ২০১২ সালে বিশ্বের সেক্সিয়েস্ট মহিলার প্রথম ৫০ জনের মধ্যে বিপাশার নামও ছিল। ২০১১ সালে তিনি ছিলেন আট নম্বরে। পরের বছর তেরোতে উঠে আসে তার নাম।

আইফেলের আদলে নির্মিত ওয়াচ টাওয়ার উদ্বোধনের অপেক্ষায়

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে ২২০ ফুট উচ্চতার ওয়াচ টাওয়ার। আইফেল টাওয়ারের আদলে নির্মিত টাওয়ারটি আগামী ১৬ জানুয়ারি দুপুর ২টায় রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ উদ্বোধন করবেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ও পৌরসভার বাস্তবায়নে টাওয়ারটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। শহরের প্রাণকেন্দ্র ফ্যাশন স্কয়ারের পাশে নির্মিত সুউচ্চ টাওয়ারটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলে পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

চরফ্যাশন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শামিম হাসান জানান, ১৬ তলাবিশিষ্ট টাওয়ারটির ডিজাইন করেছেন কামরুজ্জামান লিটন। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়।

মাটির ৭৫ ফুট নিচ থেকে ঢালাই-পাইলিং ফাউন্ডেশনের ওপর সম্পূর্ণ ইস্পাত দিয়ে নির্মিত টাওয়ারটি ৮ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয়। চারদিকে অ্যালুমিনিয়ামের ওপর রয়েছে ৫ মিলি ব্যাসের স্বচ্ছ গ্লাস। চূড়ায় ওঠার জন্য সিঁড়ির সঙ্গে ১৩ জন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন থাকছে অত্যাধুনিক ক্যাপসুল লিফট।

স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আব্দুল্লা আল ইসলাম জ্যাকব জানান, এই ওয়াচ টাওয়ারটি চরফ্যাশন তথা ভোলাকে আলাদা পরিচিতি এনে দেবে। টাওয়ারটি কেন্দ্র করে এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের আরো বিকাশ লাভ করবে।

এদিকে ওয়াচ টাওয়ার উদ্বোধনের খবরে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলছেন, ওয়াচ টাওয়ার উদ্বোধনের মাধ্যমে একদিকে এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রা বদলে যাবে। অন্যদিকে সরকারি খাতে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।

পুরুষাঙ্গ দিয়ে ট্রাক্টর টানলেন সন্ন্যাসী

ইন্টারনেটের কল্যাণে আমরা অনেক সময়ই নিজের দাঁত কিংবা চুল দিয়ে ভারি যানবাহন টেনে আনার ছবি দেখে থাকি।

কিন্তু সম্প্রতি নিজের পুরুষাঙ্গ দিয়ে ট্রাক্টর টেনে আলোড়ন সৃষ্টি করলেন ভারতের প্রদেশের এলাহাবাদের এক হিন্দু সন্ন্যাসী। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

গত দুই জানুয়ারি থেকে উত্তরপ্রদেশের প্রায়াগে গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী এ তিন নদীর মোহনায় শুরু হয়ে গেলো দেড়মাসব্যাপী মাঘমেলা।

এটি ভারতের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সম্মেলন কুম্ভমেলার একটি সংক্ষিপ্ত ভার্সন।

এ ধর্মীয় উৎসবে হিন্দুধর্মের হাজারহাজার সাধু-সন্ন্যাসী, ভক্ত-অনুসারীরা অংশগ্রহণ করে থাকেন।

শুধুমাত্র মাঘমাস থেকে এ অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। ধর্মীয় স্নানের পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য হিন্দু সন্ন্যাসী অনেক ধরনের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করার জন্য এ মেলায় আসেন।

আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে নিজেদের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা ও যোগব্যায়ামের দক্ষতা দেখানোর জন্য নানা ক্রিয়াকলাপ।

এরই অংশ হিসেবে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীদের সামনে এক হিন্দু সন্ন্যাসী সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে নিজের পুরুষাঙ্গের সাথে দড়ি দিয়ে বেধে ট্রাক্টরকে কিছুদূর টেনে নিয়ে যান।

গত কয়েকদিন ধরে ছবিটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে দেখা যাচ্ছে।

৯২ বছরে ফের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হলেন মাহাথির মোহাম্মদ

ফের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হলেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। তাও আবার ৯২ বছর বয়সে। দেশটির আগামী সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর পদের জন্য লড়বেন তিনি।

রোববার দেশটির বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা এলো । খবর রয়টার্স।

মাহাথির মোহাম্মদ দীর্ঘ ২২ বছর প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৩ সালে তিনি অবসরে যান। কিন্তু এখনো মালয়েশিয়ানদের মধ্যে তার প্রভাব অক্ষুণ্ণ রয়েছে। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের সমালোচনা করে আসছেন। নাজিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, যদিও তিনি বারবার অস্বীকার করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী নাজিব প্রশাসনে তার সমালোচকদের সরিয়ে দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদও হয়েছে। প্রতিবাদে মাহাথির মোহাম্মদও অংশ নিয়েছেন।

এর আগে মাহাথির বলেন, তিনি ফের প্রধানমন্ত্রী হতে চান না। কিন্তু আগামী  নির্বাচনে তিনি বিরোধীদের নেতৃত্ব দেবেন যদি সব দল সম্মত হয়। আর যদি বিরোধী দল জয়ী হয় তাহলে অন্য কোনো প্রার্থী না পাওয়া গেলে প্রধানমন্ত্রী পদে তিনি আবার বসবেন। তবে প্রধান শর্ত, সবাইকে একমত হতে হবে।

কিমের সঙ্গে কথা বলতে চান ট্রাম্প!

আবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম কিম জং উনের ব্যাপারে নমনীয় মনোভাব প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিম জং উনের সঙ্গে কথা বলতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গতকাল শনিবার ক্যাম্প ডেভিডে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ‘উনের সঙ্গে কথা বলতে আমি প্রস্তুত। আমি সব সময় আলোচনায় বিশ্বাসী। তবে আমাদের অবস্থান সব সময় শক্ত। আমরা খুব কঠোর। কিন্তু আমি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সত্যিকার অর্থে কোনো সমস্যায় জড়াতে চাই না।’

ট্রাম্পকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তাঁর আলোচনায় বসার আদৌ কোনো প্রয়োজন ছিল কি না। উত্তরে ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও খুব ভালো সমাধানে পৌঁছানোর আশাবাদের কথা ব্যক্ত করেন। এভাবে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবেন বলেও জানান।

ট্রাম্প আরও বলেন, যদি আলোচনার মাধ্যমে কোনো ভালো ফলাফল আসে তাহলে মানবতার জন্য মঙ্গলজনক কিছু আসবে। এটি বিশ্বের জন্য ভালো ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বয়ে আনবে।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। কিছুদিন আগে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ঘোষণা দেন তাঁর টেবিলে সব সময় পারমাণবিক বোমার বোতাম থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর পাল্টা জবাবে বলেন, তাঁর পরমাণু বোমা আরও বড়। এ ধরনের মন্তব্যের জন্য দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। সমালোচনা, পাল্টা সমালোচনা শুরু হয়।

২৫ জীবন বাঁচানো পারভেজ পাচ্ছেন বিপিএম পদক

কুমিল্লার গৌরীপুরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাদে পড়া বাসের যাত্রীদের জীবন বাঁচানো পুলিশ সদস্য পারভেজ মিয়াকে পুরস্কৃত করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার পুলিশ সপ্তাহে তার হাতে কাজের জন্য পুলিশের সর্বোচ্চ পুরস্কার বাংলাদেশ পুলিশ পদক বা বিপিএম তুলে দেয়া হবে।

পুরস্কার হিসেবে পারভেজ মিয়া পাবেন নগদ এক লাখ টাকা। এ ছাড়া পুরো চাকরিজীবনে মাসে বেতনের অতিরিক্ত দেড় হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

পারভেজ মিয়া প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন ২৫ থেকে ২৬ জনের। পুরস্কারের এই অর্থ তার কাছে গৌণ। সেই দিনের সেই স্মৃতি তাকে এখনো গর্বিত করে। মানুষের সেবার জন্য শপথ নিয়েই পুলিশ বাহিনীতে আসা তার। আর মানুষের জীবন বাঁচানোর চেয়ে বড় কাজ আর হতে পারে না বলে মনে করেন তিনি।

পারভেজ মিয়া একজন মুক্তিযোদ্ধার ছেলে। তার বাবা দেশবাসীকে পরাধীনতার হাত থেকে মুক্ত করতে অস্ত্র হাতে যে যুদ্ধ করেছেন, সেখান থেকেই মানবসেবার আদর্শ গ্রহণ করেছেন তিনি।

২০১৭ সালের ৭ জুলাই শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুরে প্রায় ৩০ থেকে ৩৪ জন যাত্রী নিয়ে  ‘মতলব এক্সপ্রেস’ নামে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ডোবায় পড়ে যায়। এ সময় সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার কনস্টেবল পারভেজ মিয়া।

পারভেজ তাকিয়ে দেখেন পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত ডোবায় ডুবে যাচ্ছে বাসটি। হাতে সময় নেই, কিছু চিন্তা না করেই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন ডোবায়। গাড়ির জানলার কাঁচ ভেঙে ভেতর গিয়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ২৫ থেকে ২৬ জনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পারভেজ যাদেরকে উদ্ধার করেছিলেন তাদের মধ্যে ছিল পাঁচ থেকে ছয় মাস বয়সী একটি শিশুও।

পারভেজ মিয়ার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার হোসেনদি গ্রামে। তিনি নোয়াখালী পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার থেকে ৪২তম ব্যাচে প্রশিক্ষণ শেষে ২০১৬ সালে পুলিশে যোগ দেন। তিনি বর্তমানে উত্তরায় হাইওয়ে পুলিশের সদরদপ্তরে কর্মরত।

পরে পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে ডেকে এনে পারভেজ মিয়াকে নগদ এক লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল উপহার দেন।

এবার পারভেজ মিয়া পুরস্কার নেবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে। এই খবর এরই মধ্যে জেনেছেন তিনি। আর এ জন্য তার আনন্দের সীমা নেই।

পারভেজ মিয়া বলেন-‘আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তার নীতি ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমার জীবন গড়ে তুলেছি। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দেয়া আমার কর্তব্য। আমার কর্তব্য পালনে আমাকে এভাবে সম্মানিত করা হবে তা ভাবিনি।’

'সুইডেন থেকে নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে বাংলাদেশে গুম হত্যার মিশন'

সুদুর সুইডেন থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বাংলাদেশে গুম-হত্যার মিশন। এ মিশন চালাচ্ছে বিএনপির এজেন্ট নাহিদ।

বললেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রোববার ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে-পরে বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য নিয়ে আয়োজিত খণ্ডচিত্র প্রদর্শনীতে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটি এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে।

প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতাকে পাকিস্তানী বাহিনীর বর্বরতার সঙ্গে তুলনা করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে হঠাৎ হঠাৎ খুন হচ্ছে, কেউ না কেউ গুম হচ্ছে। আর এসব পরিচালনা করছে সুইডেনে বসে নাহিদ নামে এক নেতা।

তিনি বলেন, যারা ৯ বছরের আন্দোলনে ব্যর্থ তারাই আজ এই সিরিয়াল গুম খুনের ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। তারা কোন মুখে ভোট চায়?

কাদের বলেন, বিএনপি-জামায়াত এখনো রক্তের হলিখেলা খেলছে। যারা জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে তারা পাকিস্তানির প্রেত্মাত্মা। এরাই আবার গুম-খুনের কথা বলে। গুমের নাটক যারা সাজায় এরাই গুমের অভিযোগ দিতে দ্বিধা করে না।

তিনি আ‌রো বলেন, ২০১৮ সালে সাম্প্রদায়িকতা পরাজয়ের বছর। তাদের পরাজয় হবে।

ভুক্তভোগীদের বিষয়ে কাদের বলেন, যারা ভিক্টিম তাদের মুখে যে বর্ণনা তারপর আর কোনো বক্তব্য দেওয়ার কিছু থাকে না। বঙ্গবন্ধুর কন্যা আপনাদের পাশে আছে, থাকবে। শেখ হাসিনা বিপন্ন মানবতার বাতিঘর।

দুটি জাহাজের সংঘর্ষ, ২ বাংলাদেশিসহ ৩২ নাবিক নিখোঁজ


চীন সাগরে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে দুটি জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় শনিবার রাতের এ দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ রয়েছে অন্তত ৩২ জন।

দেশটির উদ্ধারকর্মীরা বার্তা সংস্থা এএফপি’কে জানান, পানামার নিবন্ধিত একটি তেলবাহী জাহাজের সাথে হংকংয়ের একটি জাহাজের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এর পরই তেলবাহী জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।

এ ঘটনায় নিখোঁজদের মধ্যে ৩০ জন ইরানী এবং দু’জন বাংলাদেশি। নিখোঁজদের উদ্ধারে এখনও অভিযান চলছে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ড। তবে অপর জাহাজটি থেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে ২১ জন ক্রুকে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে। উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া একটি উড়োজাহাজ ও কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ পাঠিয়েছে।

ইরানের গ্লোরি শিপিং পরিচালিত এই ট্যাংকারটি দক্ষিণ কোরিয়ায় যাচ্ছিল। ট্যাংকারে ১ লাখ ৩৬ হাজার টন তেল ছিল। আর হংকংয়ের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজে ছিল ৬৪ হাজার টন খাদ্য শস্য।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর চমেকে ভর্তি সাবেক সাংসদ

অর্থাভাবে চিকিৎসা বঞ্চিত সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ ইউসূফকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেকে) হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। মোহাম্মদ ইউসূফ ১৯৯১ সালে সাংসদ হিসেবে আওয়ামী লীগ থেকে রাঙ্গুনিয়া-৭ আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। একাত্তরে লড়েছেন রণাঙ্গনে।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাই মোহাম্মদ সেকান্দর ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী শাহ।

একসময়ের কমিউনিস্ট পার্টি ও পরে আওয়ামী লীগের নেতা, সাবেক সাংসদ ইউসুফের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককেও এ নির্দেশনা পৌঁছে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান।


বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নূর আয়শা বেগম। তিনি বলেন, তার যে অবস্থা তাতে যে কোনো সময় তিনি মারা যেতে পারেন। গত পাঁচ দিন ধরেই কিছু খাচ্ছেন না তিনি। সারাদিন শুয়ে থাকতে থাকতে পায়ের পাশাপাশি পিঠেও পচন ধরেছে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মহান এ ব্যক্তিটির পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেকেই। এর মধ্যে রোববার চট্টগ্রাম সমিতি, ওমান শাখার পক্ষ থেকে তার পরিবারকে নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ও সি আই পি মোহাম্মদ ইয়াছিন চৌধুরী ও অন্যান্য প্রবাসী নেতৃবৃন্দ।

আলোচনায় রাজি উত্তর কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাবে রাজি হয়েছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা শুক্রবার এ খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অলিম্পিক গেমসকে সামনে রেখে আগামী সপ্তাহেই উচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার দুই দেশের মধ্যে এ বৈঠক আয়োজন করা হবে। আগামী মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য শীতকালীন অলিম্পিক গেমসে উত্তর কোরিয়ার অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণের উপায় বের করাই হলো এই বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য।
চলতি সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন বলেছিলেন, আসন্ন অলিম্পিক গেমসে প্রতিনিধিদল পাঠানো ‘দুই দেশের মানুষের মধ্যকার একতা প্রদর্শনের ভালো সুযোগ’। ধারণা করা হচ্ছে, সীমান্তবর্তী পানমুনজমে এই বৈঠকের আয়োজন করা হবে। অনুষ্ঠিত হলে এটি হবে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসের পর দুই দেশের প্রথম বৈঠক। তবে এ বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কোন কোন কর্মকর্তারা অংশ নেবেন-তা এখনো স্পষ্ট হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাইক তায়ে-হিউন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, শুক্রবার সকালে আলোচনার প্রস্তাব উত্তর কোরিয়ায় ফ্যাক্স করে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ‘দুই পক্ষ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি কিছু নথিও আদান-প্রদান করবে।’ এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন বলেছিলেন, শীতকালীন অলিম্পিক উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ‘অনেক বড় সুযোগ’। তবে এই আলোচনার ‘কার্যকারিতা’ নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ভবনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, অলিম্পিক গেমসে উত্তরের অংশগ্রহণের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পর বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন সংক্রান্ত কিছু আলোচনাও হতে পারে।

সামর্থ্য বেড়েছে, প্রয়োগে ঘাটতি by ইফতেখারুজ্জামান

এই সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও নীতিকাঠামোর মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যেসব উপাদান অপরিহার্য, সেগুলো প্রতিষ্ঠিত ও বাস্তবায়ন করার অঙ্গীকার ছিল। এখন ফিরে তাকালে আমরা দেখতে পাই, বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এটা স্বীকার না করে উপায় নেই। যেমন নবম সংসদের প্রথম অধিবেশনে তথ্য অধিকার আইন হয়েছে, যেটা দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। এর পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধের যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আছে, অর্থাৎ দুর্নীতি দমন কমিশন, সেটির আইনে কিছু সংস্কার এনে এর দুর্বলতাগুলো কাটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন এখন পর্যন্ত যে রকম বাজেট চেয়েছে, সরকার দিয়েছে। কোনো রকম আর্থিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়নি। সম্প্রতি দুদকের নিজস্ব পুলিশ ফোর্স এবং হেফাজতখানা তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া অ্যান্টি মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের নীতিগত সংশোধন হয়েছে। মানি লন্ডারিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট গঠন করা হয়েছে এই সরকারের আমলে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ যে অঙ্গীকারগুলো করেছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য কর্মপরিকল্পনা এ সরকার প্রণয়ন করেছে। তার ভিত্তিতে আরও কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন। এটাকে আমি খুবই গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে দেখি। বলা বাহুল্য, এটার খসড়া প্রণয়নের সঙ্গে আমরা জড়িত ছিলাম। আমি বলব, এই শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নকে সরকার প্রাধান্য দিয়েছে। কেননা আমরা দেখছি, সরকার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের রিফর্ম ইউনিটের ওপর এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্পণ করেছে। তথ্য প্রকাশকারী সুরক্ষা আইন নামে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন হয়েছে ২০১২ সালে। এই আইনে বলা হয়েছে, তথ্য যাঁরা প্রকাশ করবেন, রাষ্ট্র তাঁদের সুরক্ষা দেবে। ২০০৪ সাল থেকে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন করলেও সরকারিভাবে এত দিন ধরে তা পালন করা হতো না। আমাদের দীর্ঘ প্রচারণার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এ বছর থেকে দিবসটি সরকারিভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটাকে আমি ইতিবাচক রাজনৈতিক সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখি। এগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে বলা চলে, আমাদের রাষ্ট্রকাঠামোয় দুর্নীতি প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণের সামর্থ্য আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অঙ্গীকার আছে, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হয়েছে, কিন্তু ঘাটতি দেখা যাচ্ছে প্রয়োগের ক্ষেত্রে। সে কারণে বাংলাদেশে গত নয় বছরে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্য হারে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে বা কমেছে এমনটা বলা কঠিন। আমাদের গবেষণা এবং পৃথিবীর অন্যান্য সংশ্লিষ্ট গবেষণা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে, উন্নয়নের ক্ষেত্রে এখনো সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা দুর্নীতি। টিআইবির খানা জরিপে দেখা যাচ্ছে, মানুষের দুর্নীতির শিকার হওয়ার যে হার, সেটা অব্যাহতভাবে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশের কাছাকাছি রয়ে গেছে। ২০১৬ সালে আমাদের যে জাতীয় খানা জরিপ প্রকাশিত হয়, যেটা ২০১৫ সালের তথ্য, তাতে দেখা যাচ্ছে, সেবা খাতে ৬৭ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতির শিকার হয়েছে। যারা ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছে, তাদের ৭১ শতাংশ বলেছে, ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া যায় না। অর্থাৎ মানুষকে জিম্মি করে ঘুষ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক তুলনামূলক পরিপ্রেক্ষিতেও বাংলাদেশের অবস্থার কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি। এটা ঠিক যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের যে দুর্নীতির ধারণা সূচক, সেখানে ২০০১ থেকে ২০০৫ সালের মতো সর্বনিম্ন অবস্থানে আমরা এখন আর নেই, কিন্তু আমরা ১৩তম, ১৪তম, ১৫তম অবস্থানে রয়ে গেছি। ২০০৯ সালের পর থেকে অবস্থার হেরফের খুব একটা হয়নি। এতে স্বস্তির কিছু নেই। লক্ষণীয় বিষয় হলো, দুর্নীতির সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শুধু আফগানিস্তান আমাদের নিচে। এটা আমাদের জন্য বিব্রতকর বলেই আমি মনে করি। মোটা দাগে দুর্নীতি একটা ব্যাপক সমস্যা রয়েই গেছে। এখানে সরকার যে খুব সাফল্য দাবি করতে পারে, সেটা বলা কঠিন। এর কারণ অনুসন্ধান করতে গেলে প্রথমত দেখা যাবে, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে জবাবদিহির যে রাজনৈতিক অবকাঠামো দরকার, সেটা ক্রমাগতভাবে সংকুচিত হয়েছে। ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ (কনসেনট্রেশন অব পাওয়ার) আগের চেয়ে বেশি হওয়ায় এটা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোয় ক্ষমতা নির্বাহীদের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার প্রবণতা ক্রমাগত বাড়ছে। এর পাশাপাশি গণতন্ত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করার যে মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, সেগুলোর কার্যকারিতা ক্রমাগতভাবে খর্ব হতে আমরা দেখেছি। যেমন জাতীয় সংসদ। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় সংসদের যে ভূমিকা অপরিহার্য, নবম ও দশম দুটি জাতীয় সংসদের ক্ষেত্রেই সেটা আমরা কার্যকর দেখতে পাইনি। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর কার্যক্রম প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। মাসে অন্তত একটি বৈঠক করার যে বাধ্যবাধকতা, সেটা পালনে কমিটিগুলো যেমন ব্যর্থ হয়েছে, তেমনি এগুলো স্বার্থের দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিল। কোনো কোনো কমিটির আলোচ্য বিষয়ে এটির সদস্য বা সভাপতির স্বার্থ জড়িত দেখা গেছে। সংসদে দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রে, সরকারে দুর্নীতি বিরাজমান-এই কথাগুলো বলা হয়েছে। কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। উল্টো কোনো কোনো ক্ষেত্রে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী বা সাংসদেরা। সামগ্রিকভাবে দুর্নীতির উপস্থিতি অস্বীকৃতির যে সংস্কৃতি, সেটা বিরাজমান থেকেছে। এ কারণে যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁরা সুরক্ষা পেয়েছেন। তাঁরা আরও বেশি ক্ষমতাবান হয়েছেন। দুর্নীতি করলে শাস্তি পেতে হয়-এ ধারণা তৈরি না হলে দুর্নীতি উৎসাহিত হয়। যাঁরা দুর্নীতি করেছেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্যেই স্বীকার করা হয়েছে যে ‘তাঁরা আমাদের মানুষ’। দুর্নীতির কারণে মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে কমেছে, জীবনের ঝুঁকি কীভাবে বেড়েছে, তার একটা প্রকট দৃষ্টান্ত রানা প্লাজা ধস। দুর্নীতির মাধ্যমেই ওরকম একটি ত্রুটিপূর্ণ ভবন নির্মিত হতে পেরেছে। এটির নকশা অনুমোদন করা হয়েছে দুর্নীতির মাধ্যমে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অন্যতম ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে দুর্নীতি। মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে এ রকম কথা বলেন যে ক্ষমতায় থাকলে দুর্নীতি করার, অর্থবিত্তের অধিকারী হওয়ার সুযোগ মিলবে। আবার যাঁরা ক্ষমতার বাইরে থাকেন, তাঁরা এ রকম সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত বোধ করতে থাকেন। ফলে দুর্নীতি করার সুযোগই ক্ষমতায় থাকা বা বাইরে থাকার নিয়ামক হয়ে উঠছে। এটা একটা প্রতিযোগিতার জন্ম দিচ্ছে। পত্রপত্রিকার খবরে দেখা যায়, দুর্নীতির সুযোগের প্রতিযোগিতার কারণে হানাহানিতে অনেককে মৃত্যুবরণ করতে হচ্ছে। এটা আগে এভাবে দেখা যায়নি। ক্ষমতার সঙ্গে যাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, যাঁরা প্রভাবশালী, তাঁদেরকে বিচারের আওতায় আনার দৃষ্টান্ত আগেও কখনো তৈরি হয়নি, এই নয় বছরেও তেমন একটা তৈরি হতে দেখা যায়নি। উচ্চ আদালতের নির্দেশে ও ব্যাপক জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুদক দৃশ্যত বাধ্য হয়ে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে বটে, তবে শেষ পর্যন্ত আবার তা লোক দেখানো একটা ব্যাপার হয়ে যায় কি না, এ রকম সন্দেহ অমূলক না-ও হতে পারে। তা ছাড়া এ বিষয়ে দুদকের সুদীর্ঘকালের গড়িমসি যেমন তার দক্ষতার মাপকাঠিতে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তেমনই এর ফলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আইনের চোখে যে সবাই সমান এবং অভিযুক্তের পরিচয় বা অবস্থাননির্বিশেষে সবাইকে দুদক বিচারের মুখোমুখি করতে সক্ষম, এরূপ আস্থা অর্জন সুদূরপরাহত রয়ে গেল। আমাদের স্বীকার করতে হবে যে দুর্নীতি দমন কমিশন সাম্প্রতিককালে আগের চেয়ে সক্রিয় হয়েছে এবং মানুষের মধ্যে একপ্রকার আশাবাদ তৈরি হয়েছে। মানুষ ভাবছে এই কমিশন চেষ্টা করছে। কিন্তু একটা সীমারেখার মধ্যেই এটা রয়ে গেছে বলে মনে হয়। কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা শ্রেণিই আর ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে না-এমন আস্থা মানুষের মধ্যে এখনো তৈরি হয়নি। দুর্নীতি দমন কমিশন এককভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে পারে না। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যেমন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন, বিচার বিভাগ ইত্যাদির সামর্থ্যকে প্রয়োগ করতে হবে। সেটা প্রয়োগের পরিসর ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিচার বিভাগের সঙ্গে শাসন বিভাগের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা কখনোই শাসনব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক নয়। আইন ও কাঠামো ছাড়াও সাধারণ মানুষকেও দুর্নীতি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে হয়। জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনে সদস্যদেশগুলো এমন এক পরিবেশ তৈরির অঙ্গীকার করেছে, যেখানে সাধারণ মানুষ, গণমাধ্যমসহ সব অংশীজন নিরাপদ পরিবেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সমানভাবে সোচ্চার হতে পারে। সেই পরিসর তৈরির ক্ষেত্রে বৈপরীত্য দেখতে পাচ্ছি। একদিকে সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালন করছে, আবার অন্যদিকে এমন কিছু আইন তৈরি করছে, যার কারণে মানুষের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। যেমন তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা ও ফরেন ডোনেশন রেগুলেশন অ্যাক্টের ১৪ নম্বর ধারা। এসবের মাধ্যমে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সমালোচনার স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষের সোচ্চার হওয়ার সম্ভাবনা তিরোহিত হচ্ছে।
এই সামগ্রিক কারণে দুর্নীতি দমনে এই সরকারের নিজেদের তৈরি করা সম্ভাবনা বাস্তবায়ন করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
ইফতেখারুজ্জামান: নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)
দুর্নীতি প্রতিরোধে উদ্যোগ ও ঘাটতি
ইতিবাচক পদক্ষেপ
* তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন
* তথ্য প্রকাশকারী সুরক্ষা আইন
* বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট গঠন
* অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের নীতিগত সংশোধন
* জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন
দুর্নীতির পরিস্থিতি
* ৬৭ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতির শিকার
* ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া যায় না
* দুর্নীতিতে দক্ষিণ এশিয়ার আট দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সপ্তম
* অধিক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের কাতারেই একটানা অবস্থান
* সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো কম সক্রিয়
সূত্র: দুর্নীতির পরিসংখ্যানগুলো টিআই-এর দুর্নীতির ধারণাসূচক এবং টিআইবির ২০১৬ সালের খানা জরিপ থেকে নেওয়া

মানবাধিকার আন্দোলনের নতুন দিশা লাগবে by মং জার্নি

অধিকারভিত্তিক প্রচারণা ও মানবাধিকার-বিষয়ক বেসরকারি সংস্থাগুলো (এনজিও) নৈতিকভাবে ব্যর্থ হলেও সহজে পার পেয়ে যায়। তবে বিদ্যায়নের মানুষ ও কিছু সহানুভূতিশীল সাংবাদিকের কল্যাণে লেখক ফ্রাঞ্জ ফানোনের কথিত ‘জগতের লাঞ্ছিত ও ভাগ্যহতদের’ দুর্দশার প্রতি বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। আর এভাবেই মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যা করার বিষয়টি ‘নজরে রাখার মতো সংঘাতের’ তালিকায় উঠে এসেছে। মিয়ানমারের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভুলও কম নয়; বরং অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। আমার জন্মের দেশ এক কুখ্যাত তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হয়েছে এবং সেখানে আমরা মানবাধিকার-কর্মীরা জনগণের অধিকারের সুরক্ষা দিতে যা করেছি, তা সব বিচারেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। ফলে এখন সময় এসেছে, মানবাধিকার-বিষয়ক সংস্থাগুলো যেসব ভুল করেছে, তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। দেশটিতে একদিকে রোহিঙ্গাদের গণহত্যা করা হচ্ছে, অন্যদিকে কাচিন ও তাংয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে অভ্যন্তরীণ ঔপনিবেশিক যুদ্ধ চালানো হচ্ছে। আরাকানিরা প্রতিরোধের চেষ্টা করছে এবং যে স্থানীয় সাংবাদিকেরা গণহত্যার দাপ্তরিক ভাষ্য অনুসরণ করেন না, তাঁদের ও প্রকৃত নাগরিক অধিকারকর্মীদের ওপর মারাত্মক হামলা চালানো হচ্ছে। আমি সাত বছর ধরে সতর্কবার্তা দিয়ে যাচ্ছি যে বার্মিজ স্প্রিং নিয়ে যে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা আসলে দেশটির সামরিক বাহিনী কর্তৃক বিদেশি করপোরেট ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলা ছাড়া কিছু নয়। মিয়ানমারের মানবাধিকার সংগঠনগুলোই ‘গণতান্ত্রিক’ রূপান্তরের গোলকধাঁধা তৈরি করেছিল। গভীর দুঃখের সঙ্গে আমি দেখেছি, বিমানভর্তি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কর্মকর্তারা এমন সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট থিয়েন সেইনের সঙ্গে মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেছেন, যখন ১ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গাকে কাঁটাতারে ঘেরা আইডিপি শিবিরে আটকে রাখা হয়েছিল, যেখান থেকে তাদের কখনো বেরোতে দেওয়া হয়নি। হার্ভার্ডের মানবাধিকার-বিষয়ক যে গবেষকেরা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গণহত্যার দৃশ্য ধারণ করেছেন, তাঁদের মধ্যম সারির সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে চায়ের দাওয়াতে আন্তর্জাতিক অপরাধ নিয়ে কথা বলতে হয়েছে। বার্মিজ স্প্রিংয়ের জমিন, অর্থাৎ গণতন্ত্রের বিকাশ ও সংস্কার, শেষমেশ ভৌতিক গণকবর, পোড়া গ্রাম ও গুঁড়িয়ে যাওয়া মসজিদ জমিনে পরিণত হয়েছে। ইয়াঙ্গুনে অং সান সু চির ঔপনিবেশিক আমলের সেই বাড়ি এখন আর মানবাধিকার-কর্মীদের মক্কা নয়। তিনি এখন সেনাবাহিনীর কাতারে দাঁড়িয়ে গেছেন। ব্যাপারটা হলো, মানবাধিকার-বিষয়ক তৎপরতা তখনই ব্যর্থ হলো, যখন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গণহত্যার বিষয়ে একটি বাধ্যবাধকতাহীন প্রস্তাবও পাস হলো না। মানুষকে গণহত্যা থেকে বাঁচানোর ক্ষেত্রে এই সংস্থার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তার তরফ থেকে সে রকম অতিপ্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এখনো আকাশ-কুসুম স্বপ্নের মতো, যেটা মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বাঁচার একমাত্র উপায় ছিল। এই ভুক্তভোগীদের সমস্যা হলো, সব প্রচেষ্টা নিরাপত্তা পরিষদে এসে থেমে গেল। এ সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে কোমায় আছে, যেখান থেকে সে আর কখনো ফিরে আসবে না। গত তিন বছরে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নিপীড়নের ওপর পাঁচটি স্বাধীন সমীক্ষার ফলে দেখা যায়, তারা সবাই এক ও অভিন্ন উপসংহারে পৌঁছেছে। ওআইসি বা অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্সের নিজস্ব নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়া আছে, কানাডার বিশেষ দূত এই ৪০ বছরের গণহত্যার ওপর প্রতিবেদন দাখিল করবেন। সংবাদ সংস্থা এপি ও রয়টার্স নিজেরা সমীক্ষা চালিয়েছে। এ রকম আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের নাম করা যায়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এরা সবাই যেন এক বিকল্প পরিত্রাণের ভ্রমাত্মক চিন্তা দ্বারা প্রভাবিত আর সেটা হলো, ‘সত্য জানো আর সত্যই তোমাকে মুক্তি দেবে।’ জাতিসংঘের ১৯৪৮ সালের গণহত্যা-বিষয়ক কনভেনশনের আওতায় তারা পাঁচটি গণহত্যামূলক অপরাধের মধ্যে চারটি করছে। তা সত্ত্বেও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এ ব্যাপারে বাধ্যবাধকতাহীন একটি বিবৃতিও দিতে পারেনি। এর পেছনে হয়তো চীন ও রাশিয়া আছে। এই অনুদার দেশ দুটি ভেটো-ক্ষমতা ব্যবহার করে গণহত্যা বন্ধে মিয়ানমারের ওপর কোনো চাপ দিতে দেয়নি।
কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের বাকি তিন ভেটো প্রদানের ক্ষমতাধারী ভূরাজনৈতিক ও সম্পর্কিত বাণিজ্যিক স্বার্থের প্রসঙ্গে কখনোই সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হয়নি। ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, ইসরায়েল, সৌদি আরব ও বসনিয়ার প্রসঙ্গ স্মরণ করুন। কিন্তু গণহত্যার শিকার মানুষদের বেলায় নিরাপত্তা পরিষদ যেন মৃত মানুষের মতো। এক বছর আগে আমি কুয়ালালামপুরে এক-আড়াই দিনের ‘কৌশলগত কর্মশালায়’ অংশ নিয়েছিলাম। ওখানে মানবাধিকার-বিষয়ক শীর্ষ নেটওয়ার্ক যেমন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও তাদের দাতা, যেমন ন্যাশনাল এনডাওমেন্ট ফর ডেমোক্রেসিসহ মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের নিয়ে যারা কাজ করে, তারা উপস্থিত ছিল। এর নাম ছিল ‘কৌশলগত কর্মশালা’। কিন্তু পুরো কর্মশালা এমনভাবে পরিচালিত করা হলো, যেখানে আমরা শুধু অ্যাংলো-মার্কিন এনজিও ও তাদের অর্থদাতাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করলাম। সাপুড়েদের মতো এই মানবাধিকার-বিষয়ক এনজিওদের আমি সম্প্রতি মারাকেশের মেইন স্কয়ারে কিছুসংখ্যক ‘রোহিঙ্গা সংগঠন’কে ‘আগামী প্রজন্মের নেতা’, ‘শান্তিপ্রিয়’, ‘মানবাধিকার রক্ষক’ হিসেবে প্রচারণা দিতে দেখেছি। এই রোহিঙ্গা সংগঠনগুলো এনজিওদের পূর্বপরিকল্পিত অ্যাজেন্ডার প্রতিধ্বনি যেন করে, সেটাও তারা নিশ্চিত করেছে, তা সে ‘অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা’, ‘সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা’, ‘তদন্ত কমিশন’ বা ‘সত্যানুসন্ধানের মিশন’ বা যা-ই হোক না কেন। আমাদের মতো তৃণমূলের সংগঠক যারা আর এই বিশ্বব্যবস্থার ওপর ভরসা রাখতে পারে না, তাদের কাছে ইতালীয় শ্রমিক সংগঠক ও চিন্তক আন্তোনিও গ্রামসির এই স্মরণীয় উক্তি প্রণিধানযোগ্য: ‘বুদ্ধির নৈরাশ্য আর হৃদয়ের আশাবাদ’। এ কথাটি বলার কারণ হলো, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ওপর চরম গুরুত্বারোপের কারণে মানুষের কল্যাণের ধারণা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই এ রকম সময়ে হৃদয়ও আর আশাবাদী হতে পারে না যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত এই গণহত্যা বন্ধ হবে। এই সময় আমাদের এই ভুল মানবাধিকার আন্দোলনের বিকল্প দেখা যাচ্ছে না। এটা যেন সেই বিখ্যাত উপন্যাস ক্যাচ-২২-এর মতো পরিস্থিতি, যেখানে আমাদের মধ্যকার অধিকতর সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলো এই ফলবিহীন মানবাধিকার গেম খেলতে বাধ্য হচ্ছে। স্বাধীনতার আন্দোলনের ধারণা প্রণয়ন, গড়ে তোলা বা তা বাস্তবায়ন করার বদলে তারা এসব করছে। সময় এসেছে, আমাদের মানবাধিকার আন্দোলনে জুলুম বা গণহত্যার মতো জুলুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার অধিকার যুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশও গণহত্যার পরিণতিতে জন্মগ্রহণ করেছিল, যার স্মৃতি দেশটির সামগ্রিক স্মৃতিতে এখনো জাগরূক।
অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন
মং জার্নি: বিদেশে বসবাসরত মিয়ানমারের গণহত্যা বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার-কর্মী।

পিপিপিতে চলবে ১৩ বস্ত্রকল

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) মাধ্যমে ১৩টি বস্ত্রকল পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) আওতায় রয়েছে বস্ত্রকলগুলো। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে কলগুলো পিপিপির মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে কলগুলো ভালোভাবে চালু করার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তার অংশ হিসেবেই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান। বস্ত্রকলগুলো হচ্ছে চট্টগ্রামের আর আর টেক্সটাইল, আমিন টেক্সটাইল, জলিল টেক্সটাইল ও এশিয়াটিক কটন, দিনাজপুরের দিনাজপুর টেক্সটাইল, রাঙামাটি টেক্সটাইল, মাগুরা টেক্সটাইল,
যশোরের নওয়াপাড়া টেক্সটাইল, রাজশাহী টেক্সটাইল, সাতক্ষীরার সুন্দরবন টেক্সটাইল, নীলফামারীর দারোয়ানি টেক্সটাইল, ফেনীর দোস্ত টেক্সটাইল ও সাভারের আফসার কটন। বিটিএমসির তথ্যমতে, কলগুলোতে ৩৮০ দশমিক ৪৭ একর জমি রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ মেনেই এসব কল পিপিপির মাধ্যমে পরিচালনার পথে যাচ্ছে। যোগাযোগ করলে বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আহমেদ জাকারিয়া গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘পিপিপির মাধ্যমে ১৩টি বস্ত্রকল পরিচালনার সিদ্ধান্ত এসেছে। বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার জন্য এখন দরপত্র ডাকা হবে।’ পিপিপির মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত হওয়া বস্ত্রকলগুলোর মধ্যে এশিয়াটিক, আফসার, জলিল—এই তিনটিকে মাঝখানে পুনর্গ্রহণ করেছে সরকার। ১৯৭২ সালের ১ জুলাই ৭৪টি কল নিয়ে বিটিএমসির যাত্রা শুরু হয়। পরে গড়ে তোলা হয় আরও ১২টি কল। বিটিএমসির মাসিক ব্যবস্থাপনা তথ্য প্রতিবেদন (সেপ্টেম্বর ২০১৭) অনুযায়ী, পিপিপির মাধ্যমে চালুর অপেক্ষায় থাকা কলগুলোর কিছু সার্ভিস চার্জ পদ্ধতিতে চালু আছে, কিছু চলছে ভাড়ায়, আর কয়েকটি বন্ধ আছে। বন্ধ কলগুলোর যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে বলে বিটিএমসির কর্মকর্তারা জানান। ক্রমাগত লোকসানের কারণে ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছর থেকে সার্ভিস চার্জ পদ্ধতি চালু করা হয়। এ পদ্ধতিতে দরপত্রের মাধ্যমে সুতার ব্যবসায়ীরা নিজেদের টাকায় কাঁচামাল কিনে দেন। ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী সুতা উৎপাদিত হয় এবং নির্ধারিত দরে তা তাঁরা কিনে নেন। চুক্তিবদ্ধ ব্যবসায়ীরাই উৎপাদিত সুতা বাজারজাত করেন। বিটিএমসির চেয়ারম্যান মাহবুব আহমেদ জাকারিয়া আরও বলেন, বস্ত্রকলগুলো পরিচালনার জন্য বেসরকারি খাত আকৃষ্ট হবে বলে তিনি আশাবাদী। পর্যায়ক্রমে অন্য বস্ত্রকলগুলোকেও পিপিপির ভিত্তিতে পরিচালনার চিন্তা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কলগুলোর জমির বিবরণ: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ১৯৬৩ সালে গড়ে ওঠা আর আর টেক্সটাইল মিলের আয়তন ১৮ দশমিক ৯৫ একর। চট্টগ্রামের ষোলশহরে ১৯৮৬ সালে ২৩ দশমিক ৪৯ একর জমির ওপর গড়ে ওঠে আমিন টেক্সটাইল। ১৯৫৯ সালে চট্টগ্রামের হাটহাজারী রোডে গড়ে ওঠা এশিয়াটিক কটন ২৪ দশমিক ৯৬ একর এবং ১৯৬০ সালে ফৌজদারহাটে গড়ে ওঠা জলিল টেক্সটাইল ৬৮ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ ছাড়া রাঙামাটির ঘাগড়া নামক এলাকায় রাঙামাটি টেক্সটাইল ২৬ দশমিক ২৪ একর, দিনাজপুর টেক্সটাইল ৩৫ দশমিক ৪৫ একর, মাগুরা টেক্সটাইল ১৬ দশমিক ১৭ একর, যশোরের নওয়াপাড়া টেক্সটাইল ১৫ দশমিক ৯২ একর, রাজশাহী টেক্সটাইল ২৬ দশমিক ৫৩ একর, সাতক্ষীরার সুন্দরবন টেক্সটাইল ২৯ দশমিক ৪৭ একর, নীলফামারীর দারোয়ানি টেক্সটাইল ৬৮ দশমিক ৩০ একর, ফেনীর দোস্ত টেক্সটাইল ২১ দশমিক ৪৭ একর এবং সাভারের আফসার কটন ৫ দশমিক ৫২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। জানতে চাইলে আফসার কটনের ব্যবস্থাপক চৌধুরী আখতার আলী বেগ গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, তিনি নতুন এসেছেন এবং যতটুকু শুনেছেন আগের মালিক কিছু জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। বাকি জমি নিয়েই দরপত্র ডাকার প্রস্তুতি চলছে। চট্টগ্রামের চারটি কলের ব্যবস্থাপক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, কলগুলোর জমি সরকারের দখলেই আছে। পিপিপি পদ্ধতিতে পরিচালনার জন্য দরপত্র-প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি।

আগামী দিনের ‘টাইম বোমা’

১৯৭৫-এর সহিংস অভ্যুত্থানে একাত্তরের বাংলাদেশ পাল্টে গিয়েছিল। স্বাধীনতাবিরোধীরা আদর্শের দিক থেকে দেশকে অনেকখানি পিছিয়ে দিয়েছে। তারপর অনেক উত্থান-পতন ঘটেছে। ২০০৮-এর নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি ক্ষমতায় আরোহণ করে। ২০১৪-এর নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় ফাঁকা মাঠে গোল করেছে ক্ষমতাসীন দল। টিকেও থেকেছে। ২০১৮-তে আবার নির্বাচন। বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কিছু কঠিন ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণে সফল হয়েছে। সংবিধানে রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি পুনঃসংযোজিত হয়েছে। একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে এবং হচ্ছে। মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর হয়েছে। দেশব্যাপী সহিংসতা দমনে পুলিশ ও র‌্যাবের সক্ষমতা প্রশংসনীয়। অর্থনৈতিক উন্নতিও উল্লেখযোগ্য। জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক ৬ শতাংশ অতিক্রম করে ৭ শতাংশের ওপর পৌঁছে গেছে।
দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়ে কমবেশি ২০ শতাংশে এসেছে। অতিদরিদ্রের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। কৃষি ও শিল্প উভয় ক্ষেত্রের উন্নতি ঈর্ষণীয়। বাহাত্তরে সাড়ে সাত কোটি মানুষের প্রয়োজনের ৬০ শতাংশ চাল উৎপন্ন হতো দেশে। এখন ১৬ কোটি মানুষের প্রয়োজনীয় চাল প্রায় পুরোটাই দেশের কৃষককুল উৎপাদন করে। অন্যদিকে দেশের পোশাকশিল্প একে একে পাকিস্তান, ভারত ও তুরস্ককে অতিক্রম করে একমাত্র চীনের পর দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। মাথাপিছু আয় পাকিস্তানকে অতিক্রম করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টায় অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। বিশ্বব্যাংকের ভ্রুকুটি উপক্ষো করে নিজ সামর্থ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণে হাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আত্মশক্তির এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। এতসব অর্জনের পর দেশের ব্যাংকিং খাতে যে লুণ্ঠন-প্রক্রিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘটেছে, তা অর্জনকেই শুধু ম্লান করেনি, বরং সেই সঙ্গে আগামীর জন্য টাইম বোমার মতো ওত পেতে আছে। ব্যাংকের স্বাস্থ্য সূচক হলো শ্রেণীকৃত ঋণ, যা উন্নত দেশে দেড় শতাংশের মধ্যে থাকে। ২ শতাংশ অতিক্রম করলেই শঙ্কা-সংকেত বেজে ওঠে। আমাদের দেশে ৩ শতাংশের মধ্যে থাকা বাঞ্ছনীয়। ২০১৭ সালের হিসাব পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণের হার গড়ে ৩২ শতাংশ এবং ব্যক্তি খাতের ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণের হার ৭ শতাংশ। ১ জানুয়ারির সংবাদপত্রে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফার অঙ্ক বেরিয়েছে। এটি আদৌ লাভের ইঙ্গিত দেয় না। পরিচালন মুনাফা থেকে সঞ্চিতি (প্রভিশন) ও কর কাটা যাবে। তারপর মিলবে মুনাফার অঙ্ক। সংবাদপত্রে এ কথাগুলোর উল্লেখ নেই। যেহেতু সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণহারের পার্থক্য অনেক বেশি, সে জন্য দুই ধরনের ব্যাংকের পৃথক পর্যালোচনা প্রয়োজন। দুইয়ের সমস্যাও এক নয়। সরকারি ব্যাংকের মালিকানা সরকারের। পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এই বিভাগ চেয়ারম্যান, পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নিয়োগ দিয়ে থাকে। এখান থেকেই সমস্যার শুরু। ব্যাংকিং বিভাগই সোনালী ব্যাংকের বোর্ডে নবীন বয়সী সাবেক ছাত্রনেতাদের নিয়োগ দিয়েছিল। এই বিভাগই বেসিক ব্যাংকে বহুল আলোচিত আবদুল হাই বাচ্চুকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়। কোনো ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার টেস্ট’ না করেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
জনগণের আমানতের নিরাপত্তার খাতিরে বোর্ডে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া উচিত, যাঁদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি অতি উজ্জ্বল এবং সততা, নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততার জন্য নন্দিত। কিন্তু উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের তো সমাজে সে ধরনের পরিচিতি নেই। ফলে যা হওয়ার তা-ই হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণ একসময় ৫০ শতাংশ অতিক্রম করল আর বেসিক ব্যাংকের তো সবই লুণ্ঠন হয়ে গেল। সরকার জনগণের করের টাকা দিয়ে ব্যাংক দুটিকে বাঁচিয়ে রাখছে, যা অনৈতিক। এতে কি সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হলো? অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক এমডি আবদুল হামিদের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ব্যাংক তাঁর নিয়োগে আপত্তি জানাল। ব্যাংকিং বিভাগ তা সত্ত্বেও তাঁকে নিয়োগদান করল, যা আইনের বরখেলাপ। ব্যাংকিং বিভাগের এ কর্মকাণ্ড কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়? সংসদীয় গণতন্ত্রের নিয়মে ব্যাংকের এ রকম লুটতরাজের জন্য বিভাগীয় মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয় দায়ী। বাজেট থেকে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে লুণ্ঠনের ক্ষতিপূরণ করে কি এ দায় মেটানো যায়? মন্ত্রী তো তখন বলেই বসলেন, ‘চার হাজার কোটি টাকা কী টাকা হলো!’ তাঁর কাছে না হলেও গরিব জনগণের আমানতের চার হাজার কোটি টাকা অনেক টাকা। আর যে ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন তখন আট হাজার কোটি টাকা, সে ব্যাংকের চার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন ব্যাংকটির জন্য সর্বনাশা!এখন আসা যাক বেসরকারি ব্যাংক খাতের আলোচনায়। এ ব্যাংকগুলো প্রাথমিক অবস্থা কাটিয়ে গ্রহণযোগ্য অবস্থায় এসেছিল। নব্বইয়ের দশকের শেষ ভাগে ব্যক্তি খাতের ব্যাংকগুলোর ৩৪ জন পরিচালককে গুরুতর অনিয়মের জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি অপসারণ করা হয়েছিল এবং একটি বড় ব্যাংকের পর্ষদ বাতিল করে প্রশাসক বসিয়ে পুনর্গঠন করা হয়েছিল। তারপর ব্যাংকগুলো সুস্থভাবে চলছিল। কিন্তু সরকারি ব্যাংকে বেপরোয়া দুর্নীতির সহযোগীরা ব্যক্তি খাতেও সংক্রমিত হতে লাগল। কয়েকটি ব্যাংকে দুর্নীতি বেশ ছড়িয়ে পড়ল। ব্যক্তি খাতের ব্যাংকের দুর্নীতির হোতা এবং পৃষ্ঠপোষক হলেন মালিকপক্ষ বোর্ড সদস্যবৃন্দ। সেই সঙ্গে ব্যাংক সম্প্রসারণ নীতি হলো অগ্নিতে ঘৃতাহুতি। অনুক্ত যুক্তি ছিল, জামায়াত-বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে নিজেরা অনেক ব্যাংকের লাইসেন্স নিয়েছে এবং বিত্তশালী হয়েছে। আওয়ামী লীগেরও অর্থ প্রয়োজন। যুক্তি গ্রহণযোগ্য। কিন্তু প্রক্রিয়া অগ্রহণযোগ্য। মন্ত্রী, সাংসদ ও বড় নেতারা ব্যাংক লাইসেন্স পেলেন। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, কংগ্রেস দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেসের কোনো মন্ত্রী বা মাঝারি নেতাও ভারতের কোনো ব্যাংকের চেয়ারম্যান বা পরিচালক নেই, ছিলেনও না। কারণ, ব্যবসা বা ব্যাংক পরিচালনা করা উদ্যোক্তা শ্রেণির মানুষের কাজ। নেতাদের না দিয়ে দলের সমর্থক উদ্যোক্তা শ্রেণির লোকদের ব্যাংক লাইসেন্স দিলে আজকের সমস্যার উদ্ভব হতো না। ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এবং গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতা কি আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে, নাকি নিষ্প্রভ করেছে? ব্যাংকের লাইসেন্স ইস্যু করার ক্ষমতা আইন একমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংককে দিয়েছে। সরকারের সঙ্গে ‘কনসালটেশন’-এর একটা সুযোগ আগে ছিল।
ড. ফখরুদ্দীন আহমদ গভর্নর থাকাকালে আইন সংশোধন করে ‘কনসালটেশন’ রদ করা হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা এবং ‘ডিউ ডিলিজেন্সের’ মাধ্যমে ব্যাংক লাইসেন্স প্রদানের লক্ষ্যে। অর্থ মন্ত্রণালয় বর্তমান সময়ে যেভাবে সুপারিশের নামে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নির্দেশ দিচ্ছে, তা শুধু অনৈতিকই নয়, বরং আইনের লঙ্ঘন। আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশ্য বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দরখাস্ত আহ্বান করবে এবং পেশাগতভাবে যাচাই-বাছাই করে শুধু প্রয়োজনীয়সংখ্যক লাইসেন্স ইস্যু করবে। ২০১৩ সাল পর্যন্ত অন্তত বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে, আর কিছু না হোক। এবার সেটিও হয়নি। এটি স্বচ্ছতা ও আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পোস্ট অফিসে পরিণত করা হয়েছে। এমন চলতে থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অকার্যকর হয়ে পড়বে এবং সুশাসনের স্থানে দখল করবে অপশাসন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমাধান প্রয়োজন। গত ডিসেম্বর মাসে জাতীয় সংসদে ব্যাংকিং কোম্পানি আইন সংশোধনের একটি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। সংসদে এখনো আলোচনা হয়নি। ব্যাংকের পর্ষদে একই পরিবারের চারজন (বর্তমানে দুজন) সদস্য নির্বাচন এবং প্রত্যেক পর্ষদ সদস্য একাদিক্রমে নয় বছর (বর্তমানে ছয় বছর) পদে বহাল থাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। সমাজের সব অংশ থেকে এর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান’ বিভাগের সচিবকে লেখা ২১.১১.২০১৬ তারিখের পত্রে এ প্রস্তাবে তাদের আপত্তি জানিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতামত উপেক্ষা করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়-বিষয়ক সংসদীয় কমিটি তাদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়েছিল, কিন্তু রহস্যময় কারণে অনাপত্তি গিলে ফেলে প্রস্তাবের অক্ষরে অক্ষরে সম্মতি জ্ঞাপন করতে হয়েছে পরবর্তী সময়ে। এই হচ্ছে সংসদীয় গণতন্ত্র! অর্থশক্তির কাছে সংসদীয় শক্তি পরাভূত! প্রথম প্রজন্মের ব্যাংক ‘ন্যাশনাল ব্যাংক লি.’-এ যখন আইনানুগভাবে এক পরিবার থেকে দুজনের বেশি পরিচালক ছিলেন না, তখন ব্যাংকটি ছিল দেশের সর্বোত্তম চারটি ব্যাংকের অন্যতম। আইন ভঙ্গ করে এ ব্যাংকটিতে এখন একই পরিবারের পাঁচজন পরিচালক রয়েছেন অনেক দিন যাবৎ। আইনভঙ্গের জন্য শাস্তির বিধান আইনেই রয়েছে। ব্যাখ্যা তলবের পর বাংলাদেশ ব্যাংক আর অগ্রসর হতে পারেনি। তারপর আইন ভঙ্গকারীকে শাস্তি না দিয়ে উল্টো আইনকেই সংশোধন করার বিল সংসদে পেশ করা হয়েছে। একটি পরিবারের জন্য আইন সংশোধন করা হলে আইনের শাসন কীভাবে কায়েম হবে? আইন সংশোধনী প্রস্তাবটির পক্ষে লবি করছে ব্যাংকের মালিক সমিতি। ব্যাংক কিন্তু অন্যান্য কোম্পানির মতো নয়। ব্যাংকের চলতি মূলধনে শেয়ারহোল্ডারদের অংশ ১০ শতাংশের কম। আমানতকারী জনগণের অংশ ৯০ শতাংশের বেশি। ব্যাংকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ হলো ব্যাংকে নিয়োজিত সকল পেশাজীবী। এই তিন পক্ষের মধ্যে মাত্র এক পক্ষের তদবিরে সংশোধনী আনা হয়েছে। প্রস্তাবটি তাই পক্ষপাতদুষ্ট।
ব্যাংকের বড় অংশী (স্টেকহোল্ডার) আমানতকারী ও পেশাজীবী ব্যাংকাররা। তাঁদের মতামতের তোয়াক্কা না করে নামমাত্র ১০ শতাংশ অংশীর হাতে গোনা কয়েকজন তাঁবেদারের সুপারিশে সংশোধনী প্রস্তাব একটি অশনিসংকেত এবং ব্যাংকিং আইনের ‘গ্রাহক সুরক্ষা’ নীতিমালার লঙ্ঘন। আমার অনুসন্ধানমতে, শেয়ারহোল্ডারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এই সংশোধনীর বিরোধী। পাকিস্তানে ব্যাংকভিত্তিক ২২ ধনী পরিবার গড়ে উঠেছিল। তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর দল আওয়ামী লীগ। সংশোধনীটি পাস হলে এক পরিবারের চারজন পর্ষদে থাকবেন। ওই ব্যাংকের বিশাল আমানত একটি পরিবারের তত্ত্বাবধানে ব্যবহৃত হবে। একটি পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের কাছে দেশের অধিকাংশ সম্পদ কেন্দ্রীভূত হবে। এটি বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক ভাবনার বিপরীত এবং সংবিধানের লঙ্ঘন। রাষ্ট্রীয় মূলনীতি সমাজতন্ত্রের বাস্তব অর্থ ‘কল্যাণ অর্থনীতি’। নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড ফ্রান্স, জার্মানিসহ অনেক ইউরোপীয় দেশেই এটি প্রচলিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর বিপরীতে পুঁজিবাদী ধনতান্ত্রিক অর্থনীতির দেশ, যা আমাদের সংবিধানের পরিপন্থী। আমাদের সংবিধানমতে, সম্পদ কেন্দ্রীভূতকরণ নয়, বরং কল্যাণ অর্থনীতির মধ্য দিয়ে সুষম বণ্টন কাম্য—বঙ্গবন্ধুর ভাষায় যা ‘বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা’। এ ব্যবস্থায় মধ্যবিত্তের সম্প্রসারণ এবং দারিদ্যের সংকোচনই লক্ষ্য। উচ্চবিত্ত আইনের মধ্য থেকে যোগ্যতা অনুসারে বড় হবে। কিন্তু আইন সংশোধন করে তাদের সম্পদ সংগ্রহ ও পুঞ্জীভূতকরণের সুযোগ দেওয়া যাবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিবেদন, বাজেট অধিবেশনে যেভাবে তিনি গণমানুষের স্বার্থবিরোধী ব্যাংক চার্জ ও ভ্যাট ঠেকিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক ভাবনাবিরোধী ও কল্যাণ অর্থনীতিবিরোধী ব্যাংক আইনের সংশোধনীটিও সেভাবেই আগামী সংসদ অধিবেশনে গিলোটিনে তুলে দিন।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: ব্যাংকার, সাবেক ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

দুর্নীতি ও জবাবদিহির অভাবে সরকারি মিলের নাজুক অবস্থা

প্রথম আলো: দেশের সরকারি-বেসরকারি পাটকলগুলো কেমন চলছে?
নাজমুল হক: খুব যে ভালো চলছে, তা কোনোভাবেই বলা যাবে না। নানা কারণে সরকারি মিলগুলো তো ভালো চলছেই না, পাশাপাশি বেসরকারি অনেক পাটকলও লোকসান বইতে না পেরে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি খাতের ছোট ছোট অনেক পাটকল বন্ধ হয়ে গেছে। তবে বেসরকারি খাতের যেসব পাটকল ভালো করছে, তারা লাভেই চলছে।
প্রথম আলো: বেসরকারি পাটকল বন্ধ হচ্ছে কেন? বিশ্ববাজারে তো চাহিদা বাড়ছে।
নাজমুল হক: বেসরকারি খাতের পাটকল বন্ধ হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হলো বৈষম্য। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয় প্রতিবছর। অথচ সেই তুলনায় বেসরকারি খাত তেমন কিছুই পাচ্ছে না। শুরু থেকেই এ বৈষম্য চলে আসছে। এ কারণে বেসরকারি খাতের অনেক ভালো ভালো পাটকল নাজুক অবস্থায় চলে গেছে।
প্রথম আলো: কিন্তু সরকারি পাটকলের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, বেসরকারি খাতের অনেক পাটকল ভালোভাবেই টিকে আছে। বছর শেষে ভালো মুনাফাও করছে। সরকারি মিলগুলো পারছে না কেন?
নাজমুল হক: বেসরকারি যেসব পাটকল ভালো করছে, সেগুলো ভালো ব্যবস্থাপনার কারণে করছে। সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে সেসব উদ্যোক্তা নিজেরাই নিজেদের সমস্যার সমাধান করছেন।
প্রথম আলো: তার মানে ব্যবস্থাপনা দুর্বলতার কারণেই সরকারি পাটকল লাভের মুখ দেখছে না?
নাজমুল হক: অবশ্যই। সরকারি পাটকলগুলোর ব্যবস্থাপনায় চরম দুর্বলতা ও ত্রুটি রয়েছে। সরকারের কাছে টাকা চাইলেই টাকা পাওয়া যায়, তাই লাভ-লোকসানের দিকে তারা খুব বেশি মনোযোগী না। সরকারি পাটকলগুলোতে কোনো জবাবদিহি নেই। সরকারের কাছ থেকে টাকা আনছে অথচ তার যথাযথ জবাবদিহির কোনো ব্যবস্থা নেই। জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকলে আজকে সরকারি পাটকলগুলোর এই অবস্থা তৈরি হতো না। অলাভজনক প্রতিষ্ঠানকে কেন সরকার বছরের পর বছর টাকা দিয়ে টিকিয়ে রাখছে, তা আমার বোধগম্য নয়। পাশাপাশি দুর্নীতিও সরকারি খাতের পাটকলকে লাভজনক করতে না পারার পেছনে একটি বড় কারণ। এককথায় বললে, ব্যবস্থাপনা দুর্বলতা, দুর্নীতি ও জবাবদিহির অভাবে সরকারি পাটকলগুলোতে নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছে।
প্রথম আলো: সরকারি পাটকলগুলোকে লাভজনক করার কোনো উপায় কি নেই?
নাজমুল হক: সরকারি পাটকলগুলোকে ভালোভাবে চালাতে হলে সবার আগে দরকার পাটকল করপোরেশন বা বিজেএমসিকে পুনর্গঠন করা। আমলা দিয়ে বিজেএমসি চালালে কখনো সরকারি পাটকল লাভের মুখ দেখবে না। কারণ, পাট খাত নিয়ে তাদের বাস্তব কোনো অভিজ্ঞতা নেই। বিজেএমসি পুনর্গঠন করতে হবে এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও অভিজ্ঞব্যক্তিদের সমন্বয়ে। আমার জানামতে, গত ২০ বছরে বিজেএমসিতে নতুন কোনো লোক নিয়োগ করা হয়নি। ফলে সংস্থাটি তাদের কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মিলগুলো পণ্য বৈচিত্র্যও আনা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববাজার এখন চরম প্রতিযোগিতামূলক। একটা সময় ছিল যখন যা বানানো হতো, ক্রেতারা তা-ই কিনতেন। আর এখন ক্রেতারা পণ্যের নকশা ঠিক করে দেন। সেটি যাঁরা বানাতে পারেন, তাঁরাই ক্রয়াদেশ পান। তাই বর্তমান বাজারে টিকে থাকতে হলে পণ্যে বৈচিত্র্য আনা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে বিপণনের ক্ষেত্রেও দক্ষতা বাড়াতে হবে। এ জন্য সবার আগে প্রয়োজন পেশাদারি। বিজেএমসিতে সেই পেশাদারির অভাব রয়েছে।
প্রথম আলো: সরকারি পাটকলগুলোর যে অবস্থা, তাতে পণ্যে বৈচিত্র্য আনা কতটা বাস্তবভিত্তিক?
নাজমুল হক: আমি মনে করি, সরকারের উচিত সবার আগে বিজেএমসিকে ঢেলে সাজানো। এরপর পাটকলগুলোর আধুনিকায়নে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি সরকারি মিলগুলোকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া দরকার। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে তার জন্য জবাবদিহিরও ব্যবস্থা রাখতে হবে। আমি মনে করি সরকারি পাটকলগুলোর পরিচালনা পেশাদার লোকের হাতে ন্যস্ত করা উচিত।
প্রথম আলো: পাট খাতে সুদিন ফিরিয়ে আনতে হলে কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
নাজমুল হক: আমি মনে করি, বিজেএমসিকে একটি হোল্ডিং কোম্পানিতে রূপান্তর করা দরকার। উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জন্য পেশাদার লোক নিয়োগ করতে হবে। তাতে কাজে গতিশীলতা আসবে। বিজেএমসিতে এখনো কিছু ভালো লোকজন আছে। কিন্তু দুর্নীতিবাজ লোকদের কারণে তারা ভালোভাবে কাজ করতে পারছে না, আবার কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

রিজার্ভ কমে আবারও ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারে

এশিয়া ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দায় পরিশোধের পর আবারও বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারে (৩২ বিলিয়ন) নেমে এসেছে। গত বুধবার রিজার্ভ থেকে আকুতে প্রায় ১৩৬ কোটি ডলার পরিশোধ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরই রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। গত বৃহস্পতিবার তা কিছুটা বেড়ে ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। জানা যায়, এশিয়া মহাদেশের দেশগুলো থেকে রপ্তানির চেয়ে বেশি আমদানি হওয়ায় এবার আকুতে বড় দায় শোধ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে সৃষ্ট এ দায় টাকার অঙ্কে ১১ হাজার কোটি টাকার ওপরে। মার্কিন ডলারের হিসাবে এ দায়ের পরিমাণ প্রায় ১৩৬ কোটি ডলার, এটি এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ দেনা। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আগের তুলনায় বেশি খাদ্যপণ্য আমদানির কারণেই এ দায় তৈরি হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, এর আগে জুলাই-আগস্ট সময়ে আকুতে সৃষ্ট দায় ছিল ১১৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার বা ৯ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সময়ে যা ছিল ১১৩ কোটি ২০ লাখ ডলার বা প্রায় ৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আর নভেম্বর-ডিসেম্বরে এসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ১১ হাজার ১২০ কোটি টাকায়। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটি আন্ত-আঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তিব্যবস্থা। এর মাধ্যমে এশিয়ার ৯ দেশের মধ্যে যেসব আমদানি-রপ্তানি হয়, তা প্রতি দুই মাস পরপর নিষ্পত্তি হয়। তবে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের লেনদেন তাৎক্ষণিক সম্পন্ন হয়। আকুর সদস্যদেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ।

প্রাপ্তবয়স্ক তরুণীর পছন্দে বাধা দেওয়া যাবে না

১৮ বছর বয়সের পর নারী ও পুরুষ সবার নিজের ইচ্ছেমতো জীবন কাটানোর অধিকার রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক নারী বা তরুণীরাও তাঁদের ইচ্ছেমতো চলবেন। এতে পরিবার বা অন্য কারও হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার নেই। আজ শনিবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গতকাল শুক্রবার এ–সংক্রান্ত এক মামলার শুনানি শেষে এই রায় দেন। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি এম খানউইলকার ও বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত বলেছেন, প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক নারী-পুরুষের নিজেদের ইচ্ছেমতো জীবন কাটানোর অধিকার রয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আইন অনুসারে নারীরাও তাঁদের ইচ্ছেমতো নিজের জীবন কাটাবেন। এ ক্ষেত্রে ওই নারী বা পুরুষের অভিভাবকের কথায় আদালতের অভিভাবক বা রক্ষক সাজার কোনো দরকার নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কেরালায় এক দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর ১৩ বছর বয়সী ছেলে ও ১৯ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে সাবেক স্বামী কুয়েতে চলে যান। সম্প্রতি ১৯ বছর বয়সী ওই মেয়েকে কাছে নিয়ে আসার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন ওই নারী। ওই মেয়েকে আদালতে নির্দিষ্ট সময়ে হাজির করাতে বাবাকে নির্দেশ দেন আদালত। আদালতে হাজির হয়ে মামলার শুনানিতে ওই মেয়ে বলেন, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক। ভারতের ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি কুয়েতেও ইন্টার্নশিপ করেছেন। এখন সেখানেই তিনি তাঁর ক্যারিয়ার গড়তে চান। এ কারণে তিনি দেশে মায়ের সঙ্গে থাকতে চান না। শুনানি শেষে আদালত বলেন, ওই তরুণী দ্বিধাহীনভাবে বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় কুয়েতে ফেরত যেতে চান। সেখানেই নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান তিনি। যেহেতু তিনি প্রাপ্তবয়স্ক, তাই এ ক্ষেত্রে তাঁর ইচ্ছার ওপর কারও হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার নেই। তবে ওই নারীর মাতৃত্বের দিক বিবেচনা করে আদালত ১৩ বছর বয়সী ছেলেসন্তানকে গ্রীষ্মের ছুটিতে মায়ের কাছে পাঠাতে বাবাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

কাতারে কমেছে বাংলাদেশি কর্মী

কাতারে বাংলাদেশি কর্মী আসার সংখ্যা ২০১৬ সালের তুলনায় বিগত ২০১৭ সালে কমেছে। পুরুষ ও নারী—উভয় কর্মীর ক্ষেত্রে চিত্র একই। কাতারে নির্মাণাধীন অধিকাংশ প্রকল্প শেষ হওয়ার পথে থাকায়, নতুন অদক্ষ কর্মীর চাহিদা কমায় এমন অবস্থা দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কাতারে বাংলাদেশি কর্মী আসার সংখ্যা কমার এই চিত্র দেখা গেছে। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে কাতারের বাংলাদেশ দূতাবাস। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালে কাতারে মোট পুরুষ কর্মী এসেছেন ৭৭ হাজার ১৪৫ জন। আর নারী কর্মী এসেছেন ৩ হাজার ২৪ জন, যার মোট সংখ্যা ৮০ হাজার ১৬৯। তবে জনশক্তি কর্মসংস্থান এবং প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, কাতারে ২০১৭ সালে পুরুষ ও নারী কর্মী মিলিয়ে ৮২ হাজার ১২ জন এসেছেন। দূতাবাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে এসেছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৩৮২ জন। তবে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী এসেছেন ২০১৫ সালে, এ সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৫। এর আগে কয়েক বছরের মধ্যে ২০১৪ সালে ৮৭ হাজার ৫৭৫ জন, ২০১৩ সালে ৫৭ হাজার ৫৮৪ জন, ২০১২ সালে ২৮ হাজার ৮০১ জন এবং ২০১১ সালে ১৩ হাজার ১১১ জন এসেছেন। প্রতিবেদনে নারী গৃহকর্মীদের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৭ সালে কাতারে বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মী এসেছেন ৩ হাজার ২৪ জন। এর আগের বছর ২০১৬ সালে এসেছিলেন ৫ হাজার ৩৮১ জন। তবে সবচেয়ে বেশি এসেছেন ২০১৫ সালে। ওই বছর এসেছিলেন ৮ হাজার ৬৪২ জন। এর আগের ২ বছরে ২০১৪ সালে ৬ হাজার ৪৫২ জন ও ২০১৩ সালে ২ হাজার ১০০ জন বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মী কাতারে এসেছেন। দূতাবাসের কর্মকর্তারা বলছেন, কাতারে যেসব নির্মাণাধীন বৃহৎ প্রকল্প রয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগই এখন শেষের পথে।
ফলে এসব প্রকল্পে এত দিন অদক্ষ জনশক্তির চাহিদা থাকলেও এখন শেষ হওয়ার পর এসব প্রকল্পের কারিগরি কাজ ও রক্ষণাবেক্ষণে জন্য দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি সরবরাহে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে বলে তাঁরা মনে করছেন। এ প্রসঙ্গে দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর ড. সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৪ সাল থেকে কাতারে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের ৮০ ভাগই অদক্ষ জনশক্তি। আর বাস্তবতা হলো, কাতারে অদক্ষ জনশক্তির চাহিদা কমছে, বাড়ছে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা। কিন্তু বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো কাতারের এই খাতের চাহিদার সঙ্গে নিজেদের এখনো খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাশাপাশি কাতারের নতুন অভিবাসন নীতিও বাংলাদেশি জনশক্তি আসার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। এই নীতি অনুসারে কাতারে নতুন প্রকল্পে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নতুনভাবে কর্মী না এনে বর্তমানে কর্মরত কর্মীদের দিয়ে কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে নতুন নতুন প্রকল্পে আগের মতো বিপুলসংখ্যক কর্মী আনার বিষয়টি পাল্টে যাচ্ছে। তবে শ্রম কাউন্সেলর ড. সিরাজুল ইসলাম আরেকটি সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, ‘২০১৭ সালের জুন মাস থেকে কাতারের বিরুদ্ধে সৌদি আরবসহ তার কয়েকটি মিত্রদেশের অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে কাতারে নিয়োগকর্তারা ধীরগতিতে এগোচ্ছেন বলে আমরা মনে করছি। এ বিষয়টিও কর্মীসংখ্যা কম আসার ব্যাপারে প্রভাব ফেলছে।’ আর নারী গৃহকর্মী কম আসার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শ্রম কাউন্সেলর বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে কেবল কাতারে নারী গৃহকর্মীদের বেতন অন্যান্য দেশের চেয়ে বেশি। তবে সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীদের জন্য নতুন শ্রমবাজার চালু হওয়ায় সেখানে বেশির ভাগ নারী চলে যাচ্ছেন। এর ফলে কাতারে আগমনের হার কিছুটা কমেছে। শ্রম কাউন্সেলর আরও বলেন, সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীদের বেলায় নিয়োগকর্তারা জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যে সার্ভিস চার্জ দেয়, সেটি কাতারের নিয়োগকর্তাদের দেওয়া সার্ভিস চার্জের চেয়ে বেশি। ফলে স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো কাতারের চেয়ে সৌদি আরবে নারীদের পাঠাতে বেশি আগ্রহী। কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা মনে করি, কাতারের বিরুদ্ধে আরোপিত অবরোধ একটি কারণ হতে পারে। কিন্তু এটাই মূল কারণ নয়। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং আশা করছি ২০১৮ সালে কাতারে বাংলাদেশি কর্মীর আগমন আরও বাড়বে।’ দীর্ঘদিন ধরে কাতারে বসবাসরত কয়েকজন প্রথম আলোকে বলেন, কাতার ও বাংলাদেশের মধ্যে শ্রম সম্পর্ক জোরদার করতে সরকারিভাবে আরও বেশি উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে তাঁরা মনে করেন। পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তিতে বাংলাদেশ দূতাবাস নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করলে সুফল মিলবে বলে আশা করেন তাঁরা।

বিশ্বাসঘাতকতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র: পাকিস্তান

পাকিস্তানকে ৯০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামাবাদ। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলে তারা বলেছে, এটি ‘স্বেচ্ছাচারমূলক ও একতরফা সিদ্ধান্ত’। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা গত শুক্রবার বলেছেন, পাকিস্তানকে ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধ করা হতে পারে। আর্থিক অঙ্কের এই পরিমাণ প্রাথমিকভাবে অনুমিত ৯০ কোটি ডলারের দ্বিগুণের বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ করার আগে পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলো সরকারের প্রতি প্রতিশোধ হিসেবে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানায়। পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে কয়েক বছর ধরেই টানাপোড়েন চলছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক টুইটের জেরে দুই দেশের বাদানুবাদ ও উত্তেজনা তীব্র হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মিত্রদেশটির বিরুদ্ধে নেওয়া এ সিদ্ধান্তকে এযাবৎকালের অন্যতম কঠোরতম পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। গত সোমবার টুইটার বার্তায় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বোকার মতো গত ১৫ বছরে ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার পাকিস্তানকে সহায়তা দিয়েছে। বিনিময়ে তারা ‘মিথ্যা ও প্রতারণা’ ছাড়া কিছুই পায়নি। পরদিন মঙ্গলবার জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেন, পাকিস্তানকে ২৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার অর্থসহায়তা দেবে না ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, পাকিস্তান যাতে নিজ ভূখণ্ডকে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ স্বর্গ হয়ে ওঠা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, সে লক্ষ্যে এই সামরিক সহায়তা বন্ধ করা হচ্ছে। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, শান্তি অর্জনে কাজ করতে হলে দরকার ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শন এবং আস্থা। খামখেয়ালি সময়সীমা, একতরফা ঘোষণা ও লক্ষ্যস্থল পরিবর্তন অভিন্ন হুমকি মোকাবিলায় নেতিবাচক ফল বয়ে আনবে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে ইসলামাবাদ বলেছে, গত ১৫ বছরে প্রধানত নিজস্ব সম্পদ দিয়েই সে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে। এই সময়ে এই খাতে তারা ব্যয় করেছে ১২ হাজার কোটি ডলার।

প্রেমের টানে সিরিয়াল কিলার!

পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। গত ২২ বছরে তিনি সাতজনকে হত্যা করেছেন। যার সবগুলোই পরকীয়া প্রেম-সংক্রান্ত ঘটনার জেরে ঘটেছে। ওই অটোরিকশাচালকের সঙ্গে কয়েকজন নারীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তিনি তাঁদের স্বামীদের হত্যা করেন। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ড তিনি ঘটিয়েছেন। ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে জাগরুপ সিং (৪৭) নামের এমনই এক ক্রমিক খুনিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার অভিযান চালিয়ে হরিয়ানা রাজ্যের পাতিয়ালা থেকে ক্রমিক খুনি জাগরুপ সিংকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, জাগরুপ গত ২২ বছরে হরিয়ানার পাতিয়ালা, লুধিয়ানা, পাঞ্জাব ও যমুনা নগরে অন্তত সাতটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তাঁর বাড়ি লুধিয়ানা জেলার বসতি বাদলোয়াল এলাকায়। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। ২০০৪ ও ২০১১ সালে তিনি তাঁর দুই প্রেমিকার স্বামীকে হত্যা করেন। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার জাগরুপ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ১৯৯৫ সালে তিনি প্রথমবারের মতো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩০ ডিসেম্বর পাতিয়ালার মডেল টাউন এলাকায় রাজেন্দর সিং (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার তদন্তে নেমে জাগরুপের সম্পৃক্ততা খুঁজে পায় পুলিশ। পরে গতকাল তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাতিয়ালা রেঞ্জ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সুখচান জিল বলেন, রাজেন্দর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে জাগরুপের সম্পৃক্ততা খুঁজে পায় পুলিশ। জাগরুপের ধারণা ছিল, তাঁর প্রেমিকা হেমার (৪৩) সঙ্গে রাজেন্দরের সম্পর্ক রয়েছে। এর জেরেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে হেমাকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। সুখচান জিল বলেন, রাজেন্দরের সঙ্গে জাগরুপের সুসম্পর্ক ছিল। গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে তাঁরা একসঙ্গে মদ্যপান করেন। রাজেন্দরের গ্লাসে চেতনানাশক মিশিয়ে দেন তিনি। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে হত্যা করেন।
পুলিশ জানায়, রাজেন্দরকে হত্যা করে আবারও লুধিয়ানা ফিরে যান জাগরুপ। কিন্তু সিসি ক্যামেরায় জাগরুপকে স্পষ্ট দেখা যায়। এর ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুখচান জিল বলেন, জাগরুপ স্বীকার করেছেন, ১৯৯৫ সালে লুধিয়ানার শিমলাপুরি এলাকায় ডাকাতি করার সময় প্রথমবারের মতো এক নারীকে তিনি হত্যা করেন। সে সময় তাঁর এক সহযোগী ছিলেন। ১৯৯৮ সালে বারোয়াল এলাকায় তিনি আরও এক নারীকে হত্যা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ২০০৪ সালে হরিয়ানার পরমজিৎ কৌর নামের এক নারীর সঙ্গে জাগরুপের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সূত্র ধরে ওই বছর পরমজিতের স্বামী কুলদীপ সিংকে হত্যা করেন জাগরুপ। কুলদীপের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশ একটি ট্রাঙ্কে ঢুকিয়ে যমুনা নদীতে ফেলে দেন তিনি। ২০১১ সালে লুধিয়ানার হেমা নামের আরেক নারীর সঙ্গে তাঁর অবৈধ সম্পর্ক হয়। হেমা এখন পাতিয়ালায় থাকেন। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য ওই বছর হেমার স্বামী নন্দলালকে কাকোয়াল গ্রামে হত্যা করেন। এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি হেমা তাঁকে সহযোগিতা করেন। পরে তাঁরা দুজন মিলে নন্দলালের ছিন্নবিচ্ছিন্ন দেহ একটি খালি মাঠে আবর্জনার স্তূপে ফেলে দেন। ২০১৫ সালের মে মাসে সাবেক প্রেমিকা পরমজিতের সঙ্গে তাঁর আবারও সম্পর্ক হয়। পরে তাঁর সহযোগিতায় পাতিয়ালার অনিল কুমার নামের ব্যক্তিকে হত্যা করেন জাগরুপ। অনিলের লাশ ব্রিফকেসে ভরে তা বিকাশনগরে ফেলে দেওয়া হয়। পরমজিৎ ও অনিল যৌন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু বেশ কয়েকবার অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার কারণে জাগরুপকে দিয়ে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন পরমজিৎ। এর এক বছর পর ২০১৬ সালে জাগরুপ ও হেমার প্রেমের বিষয়টি জানতে পারেন পরমজিৎ। এ নিয়ে ঝামেলার সৃষ্টি হয়। পরে জাগরুপ ও হেমা লুধিয়ানার দেহলন এলাকায় কৌশলে পরমজিৎকে হত্যা করেন। এ ঘটনায় ওই বছরের এপ্রিলে পুলিশ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ আরও জানায়, হেমাকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে গ্রেপ্তার জাগরুপ ও হেমার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা করা হয়েছে।