Wednesday, November 4, 2009

বিশ্বভারতীতে দুর্নীতির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দুর্নীতির অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে বিশ্বভারতীর শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রথমে অধ্যাপক ও কর্মিসভা উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলন শুরু করে। এরপর সম্প্রতি উপাচার্য রজতকান্ত রায়ও কয়েকজন অধ্যাপক ও কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তিনি আচার্যকে এ ব্যাপারে চিঠিও দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে ছয়টি লাশ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে ছয়টি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওয়াহিয়ো অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডের বাসিন্দা অ্যান্থনি সোয়েল (৫০) নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে ওই লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলেছে, অ্যান্থনির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা রয়েছে। ওই মামলায় গত বৃহস্পতিবার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে প্রথমে দুটি লাশ উদ্ধার করে।
পরের দিন পুলিশ ওই বাড়ি থেকে আরও একটি লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি বাড়ির পেছনের একটি কবর খুঁড়ে সেখান থেকে তিনটি লাশ উদ্ধার করে।
ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলায় অ্যান্থনিকে ১৯৮৯ সালে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কুয়াহোগা কাউন্টি ঘটনার তদন্তকারী বিচারক ফ্র্যাঙ্ক মিলার বলেন, লাশগুলোর মধ্যে দুটি লাশকে কৃষ্ণাঙ্গ নারীর বলে শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে একজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
বিচারকের কার্যালয় থেকে বিবিসিকে জানানো হয়, লাশগুলোর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ এখনো জানানো হয়নি।
পুলিশপ্রধান মাইকেল ম্যাকগ্রেথ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সোয়েলকে যখন গ্রেপ্তার করা হয় তখন তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। তবে তিনি প্রথমে পুলিশের কাছে অস্বীকার করেন, পুলিশ যাঁকে খুঁজছে, তিনি সেই ব্যক্তি নন। পরে পুলিশ তাঁর আঙুলের ছাপ মিলিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করে।
পুলিশ জানায়, নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা থেকে দেখা যায়, ২০০৫ সালের জুন মাস থেকে এসব নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে। আর এ সময়ই অ্যান্থনি জেল থেকে মুক্তি পান।

পাকিস্তানে বালিকা বিদ্যালয় উড়িয়ে দিয়েছে জঙ্গিরা

পাকিস্তানে আদিবাসী-অধ্যুষিত খাইবার জেলায় বালিকাদের একটি বিদ্যালয় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করেছে জঙ্গিরা। গতকাল রোববার এ ঘটনা ঘটে। কর্মকর্তারা জানান, এতে বিদ্যালয় ভবনটি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী বাড়িগুলোর চারজন বাসিন্দা আহত হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা শফির উল্লাহ জানান, জঙ্গিদের দুটো বোমার বিস্ফোরণে কারিগর গ্রামে ১৮ কক্ষবিশিষ্ট সরকারি বিদ্যালয় ভবনটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। ওই সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে থাকা এক বালক নিখোঁজ রয়েছে। তাদের ধারণা, জঙ্গিরা বালকটিকে অপহরণ করেছে। কর্তৃপক্ষ তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আদিবাসী-অধ্যুষিত এলাকা জঙ্গিদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ওই এলাকায় এ পর্যন্ত ১০০-এর বেশি বিদ্যালয় ধ্বংস করেছে জঙ্গিরা।
গত মাসে ইসলামাবাদে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আত্মঘাতী হামলা চালানোর কারণে ওই দিন কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের সব বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে।
ওদিকে গত দুই বছরে পাকিস্তানে তালেবান জঙ্গিদের তত্পরতা বাড়ার কারণে শুধু সোয়াত উপত্যকা এলাকাতেই ২০০-এর বেশি বিদ্যালয় ধ্বংস করা হয়েছে, যেগুলোর বেশির ভাগই বালিকা বিদ্যালয়। অথচ একসময় শীতকালে সোয়াতের নিসর্গ উপভোগ করতে পাকিস্তানে আসতেন বিদেশি পর্যটকেরা। জঙ্গি তত্পরতা বেড়ে যাওয়ার পর পর্যটকদের আগমন শূন্যের কেঠায়নেমে এসেছে।

তালেবানের বোমায় নাকাল ন্যাটোর সেনারা

আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে বিশ্বের চৌকস সেনারা। সেখানে যুদ্ধ করছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী। তাঁরা অত্যাধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত। আকাশ ও স্থলের সর্বত্র আধিপত্য বিস্তারের মতো তাদের রয়েছে সমরাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান। অন্যদিকে তালেবান যোদ্ধাদের হাতে রয়েছে সেই তুলনায় অতি সাধারণ অস্ত্র। তাদের এই অস্ত্র আসে চোরাই পথে। আর কিছু নিজেরাই বানায়। তারা পাহাড় থেকে পাহাড়ে পালিয়ে বেড়ায়। একদিকে বিশ্বের পরাক্রমশালী এক বাহিনী, অন্যদিকে পালিয়ে বেড়ানো জঙ্গি দল। কিন্তু অসম এই যুদ্ধেও নাকাল হচ্ছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন চৌকস ন্যাটো বাহিনী। খবর এএফপির।
সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গিদের হাতে ন্যাটো বাহিনীর সদস্যদের নিহত হওয়ার সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। তাঁদের অনেকেই মরেছেন এবং এখনো মরছেন রাস্তার পাশে তালেবানের পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে। এসব বোমা ঘরেই তৈরি করে তালেবান জঙ্গিরা। এই বোমা বানাতে তারা ব্যবহার করে সার, জ্বালানি ও ধাতব পদার্থ।
মার্কিন বাহিনী ইরাকে তবু সাফল্যের মুখ দেখেছে। ইরাকের আকাশে অসংখ্য মনুষ্যবিহীন বিমান নজর রাখত বিদ্রোহীদের ওপর। এসব বিমানই তাদের তথ্য সরবারহ করেছে। এ থেকে মার্কিন সেনারা সহজেই জেনে যেত কোন রাস্তার পাশে কখন কে বোমা পুঁতে রাখছে। এ ক্ষেত্রে আফগানিস্তানে সবকিছুই ব্যর্থ হচ্ছে। এর একটা কারণ হলো, দেশটির ভূ-প্রকৃতি। এই ভূ-প্রকৃতির কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি পায় না সেনারা। এ কারণে পেতে রাখা বোমা শনাক্ত করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
পেন্টাগনের জয়েন্ট ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস ডিফিট অরগানাইজেশনের (জেআইইডিডিও) প্রধান টমাস মেটজ বলেছেন, ‘আফগানিস্তানের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে আমরা পেরে উঠছি না।’ মার্কিন কংগ্রেসে এক শুনানি শেষে তিনি সম্প্রতি সাংবাদিকদের জানান, আফগানিস্তানের রয়েছে বিশাল বিস্তৃত অথচ উঁচু-নিচু ভূমি, যা অবিশ্বাস্য রকমের বন্ধুর। এর আবহাওয়াও বিদেশিদের জন্য প্রতিকূল। রাস্তাঘাটের চিত্রও ভয়াবহ। ধুলো ওড়ে যখন-তখন। এই ভূ-প্রকৃতি তালেবানের চিরচেনা। কিন্তু বিদেশি সেনাদের জন্য মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা।
এ সম্বন্ধে জেআইইডিডিওর কমান্ড মাস্টার সার্জেন্ট টোড বারনেট মন্তব্য করেন, ‘ইরাকের পথ-ঘাট ছিল আমাদের নখদর্পণে। কিন্তু আফগানিস্তানকে প্রতিদিন নতুন করে জানতে হয়। পদে পদে শিখতে হয়। আর মুশকিল হলো, ইরাকি বিদ্রোহীদের মতো তালেবান জঙ্গিরা শহরকেন্দ্রিক হামলা চালায় না। তারা দেশটির আনাচে-কানাচে বোমা পুঁতে রাখে। কখন কোথায় বিস্ফোরণ ঘটবে তার ঠিক নেই।’

বদলে দেওয়া সহজ নয়, বললেন ওবামা

ঠিক এক বছর আগে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনী প্রচারণার সময় মার্কিন জনগণের প্রতি তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘চেঞ্জ উই ক্যান বিলিভ ইন’ (আমরা পরিবর্তনে বিশ্বাস করি)। এক বছর পর তিনিই বললেন, ‘চেঞ্জ ইজ হার্ড’ (বদলে দেওয়া সহজ নয়)। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। সর্বোচ্চ অর্জন হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম বছরই পেয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার। প্রাপ্তি আর প্রত্যাশার চাপ সামাল দিতে গিয়েই গত এক বছরে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষটির এ উপলব্ধি।
গত সপ্তাহে সামরিক খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর একটি বিলে সই করার সময় বারাক ওবামা বলেন, ‘পরিবর্তন আনা সহজ নয়।’ এর কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতে ওবামা বলেছিলেন, ‘পরিবর্তন খুব সহজে আসবে না।’ পরের দিন ভার্জিনিয়াতে তিনি বলেছিলেন, ‘রাতারাতি কোনো কিছু বদলে দেওয়া যাবে না।’ তাঁর এসব ধারাবাহিক বক্তব্যই প্রমাণ করছে নির্বাচনী প্রচারণার সময় যেসব প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন সেগুলোর বাস্তবায়ন করা আসলে খুব একটা সহজ হবে না।
তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন ক্ষমতায় আসার পর বেশির ভাগ মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেয়ে অনেক বেশিই তিনি দেশবাসীকে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ব্রুস বুকানন বলেন, ‘অন্য যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেয়ে তিনি বেশি কাজ করেছেন এবং তা করেছেন অনেকের চাইতে অনেক বেশি দ্রুততার সঙ্গে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তরে ওবামার ১০ মাসকে তিনি সাফল্যময় সময় হিসেবেই বর্ণনা করতে চান বলে জানালেন।
ক্ষমতায় আসার পরই গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যখান থেকে দেশকে বের করে আনার দায়িত্ব চাপে ওবামার কাঁধে। পাশাপাশি অন্যান্য চ্যালেঞ্জের মধ্যে ছিল ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধ, গুয়ানতানামো বে কারাগার নিয়ে জটিলতা, ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা স্থাপন করা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্ব, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার পরমাণু সংকট, মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার অচলাবস্থা সর্বোপরি বহির্বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের নেতিবাচক ভাবমূর্তি। এগুলো ছাড়াও মার্কিন স্বাস্থ্যসেবা খাতের সংস্কার, কর্মসংস্থান তৈরি করা ও মার্কিন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তোলার কাজেও হাত দিতে হয়েছে তাঁকে।
কিন্তু এত চ্যালেঞ্জের সামনে হার মানেননি তিনি। সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন, করছেন। ইরাক থেকে এরই মধ্যে বেশির ভাগ মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করেছেন। কিউবায় গুয়ানতানামো বে কারাগার বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছেন। ওবামা প্রশাসনের নেওয়া অর্থনৈতিক উদ্দীপনা প্যাকেজের আওতায় মার্কিন অর্থনীতি ধীরে ধীরে গতি ফিরে পাচ্ছে। বেকারত্বের হার না কমলেও এর গতি শ্লথ হয়েছে। সর্বোপরি এ বছর শান্তিতে তাঁর নোবেল পুরস্কার পাওয়া এটাই প্রমাণ করেছে, বহির্বিশ্বে তিনি মার্কিন ভাবমূর্তির ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব অনেকাংশেই ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন। সব মিলিয়ে আলাদিনের দৈত্যের মতো রাতারাতি বদলে দিতে না পরলেও তাঁর কর্মকাণ্ড প্রমাণ করছে, বদলে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন ওবামা।

আফগানিস্তানে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন আবদুল্লাহ -দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ

আফগানিস্তানের দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন হামিদ কারজাইয়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ। গতকাল রোববার আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি তাঁর সমর্থকদের রাজপথে না নামার জন্যও আহ্বান জানান। খবর এএফপি ও বিবিসি অনলাইন।
প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর সব দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর অন্যতম দাবি ছিল, বাতিল হওয়া প্রথম দফা নির্বাচনের সব কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে নেওয়া।
আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ তাঁর সমর্থকদের ভোট বয়কটের আহ্বান জানাবেন কি না, সাংবাদিকদের এ ধরনের এক প্রশ্নের উত্তরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এটা তাঁর সমর্থকদের ব্যাপার তাঁরা ভোট দেবেন কি না। তবে তিনি বলেন, তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন না। তিনি বলেন ‘আমার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, ৭ নভেম্বরের নির্বাচনে আমি দাঁড়াচ্ছি না।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, ‘কেউ নির্বাচন থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের সম্মুখীন হবে না।’ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে সফররত হিলারি ক্লিনটন সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত যেকোনো নির্বাচনের আগে দু-একজন প্রার্থী নাম প্রত্যাহার করে নেন। এতে নির্বাচন নিয়ে তো কোনো প্রশ্ন ওঠে না। এ রকম হতেই পারে।’
তবে আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হামিদ কারজাইয়ের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীই থাকল না। এতে আফগানিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে গেল।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইন জানিয়েছে, আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর নির্বাচন থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়া কোনো একটি গোপন রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হতে পারে। এ রাজনৈতিক সমঝোতার মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানে একটি জাতীয় সরকার গঠিত হতে পারে।
হামিদ কারজাইয়ের সমর্থকেরা অবশ্য এ সম্ভাবনার কথা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ নির্বাচন থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিলেও হামিদ কারজাইয়ের উচিত, এককভাবে হলেও নির্বাচন করা।
গত আগস্ট মাসে আফগানিস্তানে প্রথম দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে হামিদ কারজাইয়ের বিপক্ষে। কারজাইকে ওই নির্বাচনে ৫০ শতাংশের বেশি ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করেছিল। তখন সেই নির্বাচনী ফল প্রত্যাখ্যান করেছিলেন আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ। ওই নির্বাচনে আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ পান ৩১ শতাংশ ভোট।
ভোটে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠলে জাতিসংঘের একটি নির্বাচনী তদন্ত দল এর পক্ষে সত্যতা খুঁজে পায়। তদন্ত দলটি দেখতে পায়, কারজাই ভোট পেয়েছেন ৪৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। কিন্তু বিজয়ের জন্য দরকার ছিল ৫০ শতাংশের বেশি ভোট। ফলে আফগানিস্তানের নির্বাচন কমিশন নতুন করে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে।

পাকিস্তানকে সতর্ক করলেন চিদাম্বরম

ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলাতে পাকিস্তানকে সতর্ক করে দিলেন ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম। আর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলার জবাব ‘ইটের বদলে পাটকেলের’ মাধ্যমেই দেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ার করে দেন। একই সঙ্গে তিনি পাকিস্তানকে ভারতের সঙ্গে ‘ছেলেখেলা’ না করারও পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মুম্বাই হামলাই যেন এ খেলার শেষ দৃশ্য হয়। গত শনিবার রাতে তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ে এক জনসভায় এসব কথা বলেন।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সীমান্তের ওপার থেকে সংঘটিত সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারত ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে। আমি পাকিস্তানকে সতর্ক করে বলতে চাই, আমাদের সঙ্গে খেলবেন না। মুম্বাই হামলাই যেন আপনাদের শেষ খেলা হয়। এই খেলা এখনই বন্ধ করুন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তামিল ভাষায় দেওয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘পাকিস্তানের জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরা যদি ভারতে কোনো হামলার চেষ্টা করে, তবে তাদের শুধু পরাস্তই করা হবে না, কঠোর ভাষায় এর পাল্টা জবাবও দেওয়া হবে।

ইরাক যুদ্ধ নিয়ে বুশের দুঃখ প্রকাশ

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ারে হামলার পর ‘নিষ্ঠুর স্বৈরশাসক’ সাদ্দাম হোসেনকে উত্খাত করা জরুরি ছিল, কিন্তু দুঃখজনক হলেও এ ক্ষেত্রে সামরিক শক্তি ব্যবহার করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে একটি সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশ বলেন, ‘আমার ইচ্ছা ছিল সাদ্দামকে শান্তিপূর্ণভাবে নিরস্ত্র করা। কিন্তু আমি দুঃখিত, ইরাকে আমাকে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে হয়েছে। কারণ এর কোনো বিকল্প ছিল না।’ ইরাকে সামরিক শক্তি ব্যবহার করার বৈধতা প্রসঙ্গে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদন করা ১৭ নম্বর খসড়া প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন। সেখানে আইএইএকে সহযোগিতা না করার কারণে সাদ্দামকে নিরস্ত্র করার কথা বলা হয়েছিল।
২০০৩ সালের মার্চে ইরাকে আগ্রাসন চালানোর কারণেই মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরমপন্থীদের উদ্ভব হয়েছে—এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বুশ দাবি করেন, ওই যুদ্ধের পর ইরাক এবং বিশ্ব এখন আগের চেয়ে ভালো আছে।
ইরাকে আগ্রাসন চালানোর পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি বলেন, ‘ওই সময় ধারণা করা হচ্ছিল, ইরাক গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করছে। সাদ্দাম হোসেন আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পর্যবেক্ষকদের ইরাকে পর্যবেক্ষণ করার অনুমতি দিচ্ছিলেন না। আর এসব কারণেই সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতা থেকে সরানো জরুরি ছিল।’ পাশাপাশি সাদ্দামকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পরিকল্পনা তাঁর পূর্বসূরি বিল ক্লিনটনের শাসনামলেই নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন বুশ। ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন বাহিনী। ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

অস্ট্রেলিয়ার তেলক্ষেত্রে আগুন

অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলে তিমুর সাগরে একটি তেল উত্তোলন ক্ষেত্রের লাইন ফুটো হয়ে গেছে। ফলে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ওই ফুটো দিয়ে হাজার হাজার ব্যারেল তেল সাগরে পড়ছে। গতকাল রোববার সেই তেলে আগুন লেগেছে। তেল উত্তোলন ক্ষেত্র পরিচালনাকারী কোম্পানির তরফ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদেরা।
পিটিটিইপি অস্ট্রেলাসিয়া নামের ওই কোম্পানিটি বলেছে, ওয়েস্ট আটলাস তেল উত্তোলন ক্ষেত্র ও মন্টারা খনির প্রধান স্থাপনায় আগুন লেগেছে।
কোম্পানির একজন মুখপাত্র বলেছেন, গত ২১ আগস্ট ওই তেল উত্তোলন ক্ষেত্রের একটি লাইনে ফুটোর সৃষ্টি হয়। তখন থেকে বিপুল পরিমাণ তেল সাগরে পড়ছে। প্রতিদিন গড়ে ৪০০ ব্যারেল তেল এভাবে সাগরের পানিতে মিশছে। তিনি জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞেরা প্রাথমিকভাবে লাইনটি তেলক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন করতে সমর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা তেল নির্গমণ বন্ধ করতে পারেননি। এ কারণেই আগুন লেগেছে।
পিটিটিইপি বলেছে, সমুদ্র উপকূল থেকে ২৫০ কিলোমিটার ভেতরে ওই তেলক্ষেত্রের কর্মীরা নিরাপদে রয়েছেন। জরুরি নয় এমন কর্মীদের ব্লক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তেল উত্তোলন ক্ষেত্রটির পরিচালকেরা তেল নিঃসরণ বন্ধে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। পরিবেশবিদেরা বলেছেন, বিপুল পরিমাণ তেল বের হয়ে সমুদ্রের পানিতে মেশায় সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য তা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অস্ট্রেলীয় সরকারের দায়িত্ব পাওয়া একজন জীববিজ্ঞানী জেমস ওয়াটসন বলেছেন, তেলের কারণে অনেক সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু এসব প্রাণীর মৃতদেহ ভেসে না উঠায় সঠিকভাবে তাদের ক্ষতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া নাও যেতে পারে।

বার্লিন প্রাচীর পতনের ২০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান শুরু by সরাফ আহমেদ

জার্মানিতে বার্লিন প্রাচীর পতনের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। পূর্ব জার্মানির জনগণের আন্দোলনের মুখে ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর এই প্রাচীরের পতন ঘটে।
অনুষ্ঠানের প্রথম দিন গত শনিবার ওই সময়ের নেতৃস্থানীয় নেতাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর হেলমুট কোহল, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা মিখাইল গর্বাচেভ।
অনুষ্ঠানে জার্মানির প্রেসিডেন্ট হোর্স্ট কোলার বলেছেন, ‘জার্মান নাগরিকদের পক্ষ থেকে এই তিন নেতাকে কৃতজ্ঞতা জানাই; যাঁদের নেতৃত্বে একদিন দুই জার্মানিকে বিভক্তকারী প্রাচীরটি ভেঙে ফেলা সম্ভব হয়েছিল।’ হেলমুট বলেন, ‘জার্মান জাতির জন্য গর্ব করার কিছু নেই। তবে এই বার্লিন প্রাচীরের পতন এবং জার্মান জাতির পুনরেকত্রীকরণ নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি।’
বার্লিন প্রাচীর পতনের এক বছর পরই সাবেক পূর্ব জার্মানির কমিউনিস্ট সরকার ভেঙে পড়ে এবং এক বছরের মধ্যেই দুই জার্মানি আবারও একত্র হয়। ৯ নভেম্বর হবে মূল অনুষ্ঠান।

বার্লিন প্রাচীর এখন লসএঞ্জেলেসে

পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানিকে আলাদা করতে এখন আর পাষাণের মতো দাঁড়িয়ে নেই বার্লিন প্রাচীর। এটি ভাঙা হয়েছিল এখন থেকে ২০ বছর আগে। কিন্তু সেটিকে আবারও গড়া হয়েছে। তবে এবার আর জার্মানিতে নয়; বরং স্নায়ুযুদ্ধের স্মারক হিসেবে প্রাচীরটি আবারও দেখা যাচ্ছে লসঅ্যাঞ্জেলেসে, একটি জাদুঘরের সামনে।
লসঅ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ওয়েনডে মিউজিয়ামের উদ্যোগেই নবজীবন পেল বার্লিন প্রাচীর। জার্মানির রাজধানীতে একযোগে বার্লিন প্রাচীরের পতনের ঘটনা স্মরণ করতে গত শনিবার স্নায়ুযুদ্ধ যুগের তিন নেতা সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মিখাইল গর্বাচেভ, পশ্চিম জার্মানির হেলমুট কোল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়র বার্লিনে মিলিত হয়েছেন। তাঁরা ১৯৮৯ সালে শান্তিপূর্ণ বিপ্লবের নেপথ্যে থাকা সাধারণ মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বার্লিন প্রাচীর পতনের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে লাগাতার অনুষ্ঠান চলছে। সবচেয়ে বড় আয়োজন থাকবে ৯ নভেম্বর, এই দিনে প্রাচীরটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছিল পূর্ব জার্মানির সরকার। আর এ কাজে তখন বুশ, গর্বাচেভ ও হেলমুট রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। পরবর্তী সময়ে প্রাচীরটি ভেঙে ফেলা হয়। পুনরায় একত্র হয় পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি। প্রাচীরটি ভেঙে ফেলার সেই স্মৃতি গত শনিবার প্রায় এক হাজার ৮০০ মানুষের উপস্থিতিতে স্মরণ করা হয়।
একসময় যে প্রাচীর দুই জার্মানিকে আলাদা করে রাখত, তারই খণ্ডিত অংশ দিয়ে লসঅ্যাঞ্জেলেসে দেওয়া হয়েছে এর নতুন আদল। এ জন্য জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বার্লিন প্রাচীরের প্রায় ২ দশমিক ৬ টন খণ্ডিতাংশ সংগ্রহ করেছিল। পুনর্নির্মিত প্রাচীরে তুলির আঁচড় দিচ্ছেন বিশ্বের নামী-দামি শিল্পীরা। ওয়েনডে মিউজিয়ামের পরিচালক জাস্টিনিয়ান জ্যামপল বলেন, বার্লিন প্রাচীর নেহাত একটি প্রাচীর নয়, মূর্তিমান ইতিহাস। আন্তর্জাতিক প্রতীক। বিশ্ববাসীর অঙ্গীভূত ঐতিহ্য। শিল্পীদের জন্য রাখা হয়েছে ফাঁকা ক্যানভাস। শিল্পীরা সেখানে স্নায়ুযুদ্ধের স্মৃতিকে উপজীব্য করে নানা ধরনের ছবি আঁকছেন। ভিন্ন মাত্রা দিচ্ছেন ওই প্রাচীরকে। তিনি এও বলেন, এরই মধ্যে দর্শনার্থীদের সমাগম শুরু হয়ে গেছে। তারা ঘুরে ঘুরে ওই প্রাচীর দেখছে।

ফিলিপাইনে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ -টাইফুন মিরিনায়ে

ফিলিপাইনে টাইফুন মিরিনায়ের আঘাতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২। গতকাল রোববার দেশটির কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
টাইফুনের প্রভাবে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় রাজধানী ম্যানিলা ও আশপাশের শহরগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রচুর গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে। অনেক ঘর পানির তোড়ে ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার তত্পরতা চলছে। উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত চারটি সেতু মেরামতের কাজ করছেন।
রেডক্রস বলেছে, টাইফুন মিরিনায়ের আঘাতে অন্তত ২২টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব শহরের বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
ফিলিপাইনে রেডক্রসের মহাসচিব গুয়েন প্যাং বলেন, ‘সরকারের তরফ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, বেশির ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আবার বিদ্যুত্ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। তবে পানি সরবরাহ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।’
গুয়েন প্যাং জানান, টাইফুন মিরিনায়ে আঘাত হানার আগেই এবার পূর্ব সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়। এ কারণে মৌসুমি ঝড় কেটসানা ও টাইফুন পারমার চেয়ে প্রাণহানির ঘটনা কম হয়েছে।
ফিলিপাইনের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, টাইফুন মিরিনায়ে গতকাল সকাল ছয়টার দিকে দুর্বল হতে শুরু করে। এটি পরে ম্যানিলা থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থান নেয়।
ম্যানিলার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক কাউন্সিল ও প্রাদেশিক কর্মকর্তারা বলেছেন, এ পর্যন্ত ১২ জনের প্রাণহানির খবর মিলেছে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর মৌসুমি ঝড় কেটসানা ফিলিপাইনে আঘাত হানে। কেটসানার প্রভাবে দেশটিতে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয় এবং ভূমিধসের সৃষ্টি হয়। এর সপ্তাহখানেক পরই টাইফুন পারমা আগাত হানে।

উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে ওয়াশিংটন ও সিউলের আপত্কালীন পরিকল্পনা

উত্তর কোরিয়ায় আপত্কালীন কার কী দায়িত্ব হবে, সে-সংক্রান্ত একটি খসড়া পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। গতকাল রোববার সিউলের একটি বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘অপারেশনাল প্ল্যান ৫০২৯’ নামের ওই পরিকল্পনাটি সম্প্রতি সম্পন্ন করেছে সিউল ও ওয়াশিংটন।
ইয়ুনহাপ নামের ওই বার্তা সংস্থাটি সিউলের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলেছে, উত্তর কোরিয়ায় গৃহযুদ্ধ বাধলে, মারণাস্ত্রের ব্যবহার হলে, শরণার্থী পরিস্থিতির সৃষ্টি অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে, সে সম্পর্কে আগাম পরিকল্পনা করেছে মিত্র দেশ দুটি।
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রসহ সব মারণাস্ত্র ধ্বংসের দায়িত্ব নেবে যুক্তরাষ্ট্র। বাকি সব ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করবে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা।
এই প্রতিবেদনের ব্যাপারে সিউলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তাত্ক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে পিয়ংইয়ং এই প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করে বলেছে, কমিউনিস্ট রাষ্ট্রটির ওপর হামলার প্রস্তুতি হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া এ পরিকল্পনা করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্ববর্তী উদার সরকার এ ধরনের পরিকল্পনা থেকে বিরত ছিল। তারা মনে করত, এ ধরনের পরিকল্পনা সিউলের নিজের সার্বভৌমত্বের জন্যই হুমকি।
বার্তা সংস্থাটি আরও বলেছে, গত বছর প্রেসিডেন্ট লি মাইয়ুং-বাকের নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়ায় আপত্কালীন পরিকল্পনা করা শুরু হয়। কিছুদিন আগে এ পরিকল্পনার কাজ সম্পন্ন হয়। ভবিষ্যতে এ পরিকল্পনার আরও উন্নয়ন করা হবে।
ইয়ুনহাপকে সিউলের একটি সূত্র বলেছে, ‘উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া হস্তক্ষেপ করলে সে ক্ষেত্রে সিউলের সেনারাই বেশির ভাগ ভূমিকা পালন করবে। পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু অস্ত্র ও অন্যান্য মারণাস্ত্র ধ্বংসের দায়িত্ব নেবে যুক্তরাষ্ট্র।’
সূত্রটি বলেছে, সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলোর কাছে উত্তর কোরিয়ার মারণাস্ত্র ও এ অস্ত্রসংক্রান্ত প্রযুক্তি হস্তান্তরের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া উদ্বিগ্ন।
১৯৫০-১৯৫৩ সালের যুদ্ধের পর থেকে দুই কোরিয়ার মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ বিরাজ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সাড়ে ছয় লাখ সেনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে ২৮ হাজার ৫০০ নিজস্ব সেনা মোতায়েন করেছে। উত্তর কোরিয়ার ১২ লাখ সেনা রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার জেনারেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ -যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ

তামিল বিদ্রোহীদের দমন করতে গিয়ে শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছিল আগেই। এ ব্যাপারে তারা এখন শ্রীলঙ্কার একজন জেনারেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে জানিয়েছে। গতকাল রোববার কলম্বোর সানডে টাইমস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
পত্রিকাটি বলেছে, শ্রীলঙ্কার জেনারেল সরত্ ফনসেকা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা সফর করছেন। গত বুধবার মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের পক্ষ থেকে তাঁকে তামিলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
পত্রিকাটি বলেছে, ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের ফলে কলম্বো সংশয়ে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র গত মাসে তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনের একটি ভিত্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে। তামিল বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযানের সময় শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী ও তামিল বিদ্রোহী দুই পক্ষই মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ওয়াশিংটনের ওই পদক্ষেপের ব্যাপারে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কলম্বোয় মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো তাত্ক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সানডে টাইমস বলেছে, ওয়াশিংটনে শ্রীলঙ্কান দূতাবাস জেনারেল ফনসেকাকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ডধারী জেনারেল ফনসেকা গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান। ওকলাহোমায় তাঁর মেয়েরা বসবাস করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামিল বিদ্রোহীরা ছেলেমেয়েদের জোর করে তাদের সংগঠনে নিয়ে যেত। অন্যদিকে সরকারি বাহিনী যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে এবং তারা আত্মসমর্পণ করা বিদ্রোহীদের হত্যা করেছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী তামিলদের অপহরণ করে হত্যা করেছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু ও যুবক।
গত জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সার্বিক ঘটনা বিবেচনা করে ওই প্রতিবেনটি তৈরি করা হয়। জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কা সরকার তামিলবিরোধী চূড়ান্ত অভিযান শুরু করে। মে মাসের শেষের দিকে তামিলদের বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার দাবি করে তারা।
শ্রীলঙ্কা সরকার গত সপ্তাহে ঘোষণা করে, তাদের বিরুদ্ধে আনা যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকারের অভিযোগ তদন্তে একটি প্যানেল তৈরি করা হবে। শ্রীলঙ্কা প্রথমদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনকে অন্তসারশূন্য বলে অভিহিত করেছিল।

পানির উপস্থিতি বিশ্লেষণে নতুন উপগ্রহ

পৃথিবী নামের গ্রহে পানির উপস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (এসা) নতুন কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়েছে। এই উপগ্রহ মাটিতে আদ্রর্তার এবং সমুদ্রের পানিতে লবণের পরিমাণ বিচার-বিশ্লেষণ করবে। আর এরই ভিত্তিতে তৈরি হবে একটি মানচিত্র।
আজ সোমবার ভোরে রাশিয়ার প্লেসেতাস্ত স্পেস এজেন্সি থেকে এই উপগ্রহটি মহাকাশে পাঠানো হয়।
এসার মহাপরিচালক জাঁ জ্যাক দোরদাইন বলেন, খুব ভালোভাবে উপগ্রহটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা শুধু উপগ্রহ পাঠানোর বিষয় হিসেবে দেখাটা ঠিক হবে না। বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে চেষ্টা করবে এই উপগ্রহটি।’ জানা গেছে, উপগ্রহটি আগামী দুই বছর তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করবে। এসব তথ্য আবহাওয়া ও বন্যার পূর্বাভাস দিতে ব্যবহার করা হবে।

রাওয়ালপিন্ডিতে সেনা সদর দপ্তরের কাছে বোমায় নিহত ২৪

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে সেনা সদর দপ্তরের কাছে একটি হোটেলের বাইরে আজ সোমবার শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অর্ধশতাধিক। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। রাওয়ালপিন্ডিতে হাসপাতালগুলোয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আজ স্থানীয় সময় ১০টা ৪০ মিনিটে সেনা সদর দপ্তরের কাছ থেকে একটু দূরে মল রোডে শালিমার হোটেলের বাইরে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে হোটেলটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গাড়ি বা মোটরসাইকেলে করে বোমাটি বহন করা হচ্ছিল বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।
পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়, বিস্ফোরণ স্থলের পাশেই সেনা কর্মকর্তাদের মেস, গুরুত্বপূর্ণ সেনা স্থাপনা এবং বেশ কয়েকটি হোটেল রয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই মিলিটারি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা এলাকাটি ঘিরে ফেলেন এবং ওই রাস্তায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

তৈরি পোশাকের জাপানি বাজার ধরার সুযোগ আছে বাংলাদেশের -সিপিডির সংলাপে গুণগত মান বাড়ানোর তাগিদ

জাপান বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ তৈরি পোশাক আমদানিকারক দেশ। প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে দুই হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বেশি পোশাক আমদানি করে। এর মধ্যে শুধু চীন থেকে দেশটি ৮০ শতাংশ পোশাক আমদানি করে থাকে। আর বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব ১ শতাংশের কম।
কিন্তু সম্প্রতি জাপান সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন থেকে পোশাক আমদানি কমিয়ে অন্য দেশ থেকে আমদানি করবে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ থেকে জাপানের বাজারে প্রচুর পরিমাণ তৈরি পোশাক রপ্তানি হবে।
গতকাল রোববার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের নতুন বাজার জাপান’ শীর্ষক এক আলোচনায় বক্তারা এসব তথ্য জানান।
আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশীয় পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলেন, জাপানে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া গেলেও রুলস অব অরিজিনের শর্ত কঠিন হওয়ায় রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। রুলস অব অরিজিন শিথিল করা হলে আগামী এক বছরের মধ্যে জাপানে ১০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি সম্ভব হবে।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সিপিডির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান প্রধান অতিথি এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিশেষ অতিথি ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বলেন, জাপানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রুলস অব অরিজিনের শর্ত বাংলাদেশের অনুকূলে না হওয়ায় রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে জাপানের সঙ্গে সরকারিভাবে এসব শর্ত শিথিল করার জন্য আলোচনা করা হবে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জাপানে তৈরি পোশাকের বাজার বাড়াতে হলে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ইপিবি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাপান খুবই উন্নতমানের পোশাক তৈরি করে থাকে। তাই জাপানি ক্রেতাদের উপযোগী পোশাক তৈরির জন্য ডিজাইন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও গুণগত মানোন্নয়নে দেশে জাপানি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
আমীর খসরু স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে বাণিজ্য সহায়তার আওতায় রুলস অব অরিজিন শিথিল করার জন্য জাপানের প্রতি আহ্বান জানান।
সংলাপের সম্মানিত অতিথি ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত তামোতসু শিনোতসুকা বলেন, জাপানে পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য তিনি উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
নির্ধারিত আলোচক বিকেএমইএর সভাপতি মো. ফজলুল হক নিট পোশাকের রপ্তানিতে তিন স্তরবিশিষ্ট রুলস অব অরিজিনের পরিবর্তে দুই স্তর করা হলে অচিরেই জাপানে দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. ফারুক হাসান বলেন, দেশের উদ্যোক্তারা জাপানের বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে। এ জন্য সরকারের সহায়তা প্রয়োজন।
হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, জাপান তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলেও বাজার ধরা সম্ভব হয়নি। কারণ, জাপানিরা গুণগত মানের ব্যাপারে কোনো ধরনের আপস করে না। তিনি জাপানে বাজার বাড়ানোর অংশ হিসেবে গ্যাস ও বিদ্যুত্সহ অন্যান্য অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর সুপারিশ করেন।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে জাপানের বাজারে তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের ৯৮ দশমিক ৬০ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। আর জাপানে দুই হাজার ৪০০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাকের বাজার রয়েছে। কিন্তু এ বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব খুবই কম।

দুই বোনের আরেকটি ফাইনাল

টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচ শেষে ছিলেন পয়েন্ট তালিকার সবার শেষে, হেরেছিলেন দুটো ম্যাচেই। অথচ সেই ভেনাস উইলিয়ামসই পৌঁছে গেছেন ফাইনালে। ফাইনালের প্রতিপক্ষ নিয়ে অবশ্য অবাক হওয়ার কিছু নেই। ৪.৫৫ মিলিয়ন ডলারের দোহা ডব্লুটিএ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভেনাস লড়বেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ছোট বোন সেরেনা উইলিয়ামসের সঙ্গে। ফাইনালটা হয়ে যাওয়ার কথা কাল রাতেই।
সেমিফাইনালে সেরেনা হারিয়েছেন ডেনমার্কের ক্যারোলিন ওঝনিয়াকিকে। বাঁ ঊরুর পেশিতে চোট নিয়েই সেমিফাইনালে উঠেছিলেন ওঝনিয়াকি। শেষ পর্যন্ত ওখান থেকেই তাঁকে বিদায় নিতে হয় ইনজুরির কাছে হার মেনে। এবার পাকস্থলীর পেশিতে টান পড়ায় যখন হার মেনে নেন ১৯ বছর বয়সী ডেনিস, তখন সেরেনা এগিয়ে ছিলেন ৬-৪, ০-১ গেমে। ইয়েলেনা জাঙ্কোভিচকে ভেনাস হারিয়েছেন ৫-৭, ৬-৩, ৬-৪ গেমে। জাঙ্কোভিচের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়েও এখন সমতা ভেনাসের, দুজনেই জিতেছেন পাঁচবার করে। ফাইনালটি হবে দুই বোনের ২৩তম লড়াই। এককে পারলেও দ্বৈতের ফাইনালে অবশ্য উঠতে পারেননি দুই বোন। ভেনাস-সেরেনাকে ২-৬, ৬-৪, ১০-৮ গেমে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে স্পেনের নুরিয়া লাগোস্তেরা ভিভেস ও হোসে মার্টিনেজ সানচেজ।

স্কোয়াশের ‘বাদলা’কে ঢাকা ক্লাবের স্বীকৃতি

টেনিসের বল-বয় হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু। ১৯৭৯ সালে শেরাটন হোটেলের শাজাহান আলী তাঁকে স্কোয়াশে নিয়ে আসেন। ঢাকা ক্লাবের স্কোয়াশ-মার্কার বাদল চৌহানের স্কোয়াশে হাতেখড়ি এভাবেই। পরে খেলেছেন জাতীয় স্কোয়াশ দলেও। ভারত, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়া এশিয়ান স্কোয়াশে রানারআপ হওয়া বাদল ঢাকা ক্লাবেই পার করে দিলেন জীবনের অনেকগুলো বসন্ত। ৪৯ বছর বয়সী বাদল চৌহান ওরফে বাদলা এখন বিদায় জানাতে চাইছেন স্কোয়াশকে। তাঁর সম্মানেই ঢাকা ক্লাব কাল থেকে শুরু করেছে ‘বাদলা বেনিফিট ওপেন জাতীয় স্কোয়াশ টুর্নামেন্ট।’ ফাইনাল ৭ নভেম্বর।
এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে বাদল চৌহানকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে বলেই কাল সংবাদ সম্মেলনে জানালেন টুর্নামেন্টের আয়োজক এবং প্রধান উদ্যোক্তা সাবেক স্কোয়াশ খেলোয়াড় এরশাদ হোসেন। অবসরের পর যাতে সম্মানের সঙ্গে বাকি জীবনটা সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে কাটিয়ে দিতে পারেন এ জন্যই তাঁকে তিন লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা ক্লাব। খেলোয়াড়েরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুই লাখ আর ঢাকা ক্লাব দিচ্ছে এক লাখ টাকা। ফেডারেশনও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আসন্ন এসএ গেমসের স্কোয়াশ রাজশাহীতে হবে বলে জানিয়েছিল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। তবে ঢাকা ক্লাবকেই ভেন্যু বানিয়ে তাঁর স্কোয়াশ ঐতিহ্যকে সম্মান দেওয়া হবে বলে আশাবাদী ক্লাবের প্রেসিডেন্ট সাদাত হোসেন সেলিম, ‘এই উপমহাদেশে স্কোয়াশের শুরুটাই হয়েছে এই ঢাকা ক্লাব থেকে। এখানে যেকোনো জাতীয় টুর্নামেন্ট ছাড়াও ৫টি দেশের কার্নিভালও হয়েছে। এবার এসএ গেমসের ভেন্যুও হবে ঢাকা ক্লাব।’ খেলাটি জনপ্রিয় করতে ক্লাবের গণ্ডির বাইরে এটিকে ছড়িয়ে দিতে চান তিনি, ‘ক্লাবের বাইরে স্কোয়াশকে ছড়িয়ে দিতে বাদল চৌহানের মতো মার্কার দরকার।’
‘বাদলা বেনিফিট’ স্কোয়াশে অংশ নিচ্ছেন ঢাকা ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, ক্যাডেট কলেজ ক্লাব ও রাওয়া ক্লাবের মোট ৫২ জন খেলোয়াড়। ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান ইফতেখার উদ্দিন, ঢাকা ক্লাবের সদস্য রুহুল আমিন, সাবেক সদস্য মেজর (অব.) আতিকুর রহমান ও ড. আবদুল কাইয়ুম।

সব পক্ষের পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ চাই -শ্রমিক-অসন্তোষ ও মৃত্যু

টঙ্গীতে পুলিশের গুলিতে দুজনের মৃত্যু কিছু জ্বলন্ত প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে: তৈরি পোশাকশিল্পে মজুরি-শোষণ আর গুলি করে শ্রমিক হত্যা কি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে? মানুষের জীবন নেওয়া কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ? ইচ্ছামতো কারখানা বন্ধ করে দেওয়া কিংবা ইচ্ছামতো গুলিবর্ষণের ঘটনা কি আইনের ঊর্ধ্বের ব্যাপার?
যেকোনো মৃত্যুই দুঃখজনক এবং পুলিশের গুলিতে মৃত্যু আরও দুঃখজনক। তাই এটি হত্যাকাণ্ড, নাকি আইনের বিকল্পহীন প্রয়োগ—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সহস্রাধিক টিয়ার শেল নিক্ষেপ, বস্তিতে ঢুকে নির্বিচারে গুলি এবং পঞ্চাশেরও বেশি শ্রমিককে আহত করার কী প্রয়োজন তৈরি হয়েছিল? উভয় পক্ষের মধ্যে গ্রহণযোগ্য সমঝোতার চেষ্টা ছাড়াই পুলিশ কেন দমনের পথে গেল? এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর এই কথা যেন অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয় এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা ক্ষতিপূরণ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের তরফে একাধিক লাশ গুমের যে অভিযোগ উঠেছে, তার সত্যাসত্যও নিশ্চিত করা জরুরি।
কারখানা বন্ধ করার বিষয়ে শ্রম আইনে নির্দিষ্ট কিছু বিধি রয়েছে। নিপ্পন গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের আগাম নোটিশ দেওয়া, বন্ধকালীন (লে-অফ) অবস্থায় তাদের বেতন-ভাতা দেওয়ার বন্দোবস্তসহ অবশ্যপালনীয় বিধিগুলো মানেনি বলে প্রতীয়মান হয়। বিশেষত, ঈদের আগে এই ঘটনা শ্রমিকদের হতাশ ও বিক্ষুব্ধ করেছে। যেখানে তৈরি পোশাকশিল্পে মানবাধিকার লঙ্ঘন, মজুরি-শোষণ এবং বেতন-ভাতা না দেওয়াই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে শ্রমিকদের লা-জবাব করে রাখা কঠিন।
নিষ্ঠুর পরিহাসটি করেছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। তারা বলেছে, শ্রমিক-অসন্তোষের কারণ নাশকতা। অকাট্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ তোলা দায়িত্বশীলতা নয়। এই অসন্তোষ যে মূলত কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অন্যায়েরই প্রতিক্রিয়া, এই উপলব্ধি আসতে হবে। শ্রমিকের ক্ষুধার্ত উদরই অসন্তোষের কারণ। মালিক-শ্রমিক-সরকারের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি মোতাবেক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দেওয়াসহ এ পর্যন্ত সম্পাদিত বেশির ভাগ চুক্তিই অনেক কারখানায় বাস্তবায়িত হয়নি। একবিংশ শতকে শ্রমিকদের আগের মতো শোষণ করার সুযোগ নেই।
প্রবাসী শ্রমিক খাতের পরই তৈরি পোশাকশিল্প দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশি মুদ্রা অর্জনকারী খাত। এর বিকাশে সরকার ব্যাপক সহযোগিতা ও ভর্তুকি দিয়ে চলেছে। কর মওকুফসহ বহুবিধ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাধন্য এ শিল্পে কেন এত অনিয়ম-বঞ্চনা থাকবে, তা বোধগম্য নয়। এ শিল্পের ভবিষ্যতের স্বার্থেই এসব সমস্যার উচিত বিহিত হওয়া দরকার। সরকারকে মালিক-শ্রমিক উভয়েরই অভিভাবকের ভূমিকা নিতে হবে। মালিককে হতে হবে দায়িত্বশীল এবং শ্রমিকদের এ শিল্পের ভবিষ্যত্ স্বার্থের দিকটিও হিসেবে রাখতে হবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কারও জন্যই কোনো শুভ পরিণাম বয়ে আনে না।

বার্সার ড্র, রিয়াল ফিরল জয়ে

অতিরিক্ত সময়ের খেলা চলছে। খেলা শেষের বাঁশি এই বেজে উঠল প্রায়। এমন সময় জেরার্ড পিকের গোল! কিন্তু বার্সেলোনা শিবিরে কোনো উল্লাস নেই। গোলদাতা পিকেও হতবিহ্বল। গোলটা যে তিনি জড়িয়ে দিয়েছেন নিজেদেরই জালে!
৯৩ মিনিটের এই আত্মঘাতী গোলে ওসাসুনার মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরতে পারেনি বার্সা। আগের ম্যাচের হ্যাটট্রিক নায়ক কেইটা এই মৌসুমে লিগে ষষ্ঠ গোল করেও তিন পয়েন্ট এনে দিতে পারলেন না সতীর্থের ভুলে। ১-১ গোলে ড্র করে দুই পয়েন্ট হারালেও বার্সা (২৩ পয়েন্ট) এখনো স্প্যানিশ লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। অবশ্য দুইয়ে থাকা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ ব্যবধান কমিয়ে এনেছে মাত্র এক পয়েন্টে। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েইনের জোড়া গোলে পরশু রিয়াল গেটাফের বিপক্ষে জিতেছে ২-০ গোলে।
ওদিকে ইতালিয়ান লিগে আরেক আর্জেন্টাইন জেসাস দাতোলোর চমকে জুভেন্টাসকে চমকে দিয়েছে নাপোলি। আগের ম্যাচে ইন্টার মিলানের কাছে ৬ মিনিটে ২ গোল খেয়ে বসা নাপোলি ৯০ মিনিটে শোধ করে দিয়েছিল দুটো গোল। তাদের এই ‘ফাইট ব্যাক’ দেখা গেছে পরশুও। ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়ে এবার তারা জিতেছে ৩-২ গোলে। ম্যারাডোনার দলে অভিষেকেই গোল করে নজর কাড়া দাতোলো পরশু একটি গোল করেছেন, আরেকটি করিয়েছেন।
নিজেদের মাঠে নাপোলির কাছে এই পরাজয় শিরোপার লড়াইয়ে মৃদু ধাক্কাই দিল দুই নম্বরে থাকা জুভেন্টাসকে। শীর্ষে থাকা ইন্টার মিলানের সঙ্গে তাদের ব্যবধান চার পয়েন্টের। গতকাল রাতে লিভর্নোর বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয় পেয়ে থাকলে হোসে মরিনহোর দল ব্যবধানটা নিয়ে গেছে সাতে। নাপোলির কাছে আগের ম্যাচে পয়েন্ট হারানো এসি মিলান অবশ্য পরশু তিন পয়েন্টই তুলে নিয়েছে পার্মার বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতে। মিলানের দুটো গোলই করেছেন মার্কো বরিয়েল্লো।
ইতালির এই ২৭ বছর বয়সীর জোড়া গোল দলের চেয়ে নিজের জন্যই ছিল বেশি জরুরি। প্রায় এক বছর পর যে গোলের দেখা পেলেন তিনি! অবশ্য এই একটা বছর বেশির ভাগই তাঁকে লড়াই করতে হয়েছে ইনজুরির সঙ্গে। ক্লান্ত-বিধ্বস্ত বরিয়েল্লো জানিয়েছেন, একটা সময় অবসরই নিয়ে ফেলার কথা ভেবেছিলেন।
স্প্যানিশ লিগের জোড়া গোলের নায়ক হিগুয়েইনের জন্য পরিস্থিতি এতটা নাজুক ছিল না। বয়স মাত্র ২১। সামনে অনাদি ভবিষ্যত্। তবে তাঁর জন্যও পরশুর জোড়া গোল স্বস্তির সুবাতাস বয়ে আনল বৈকি। গত মৌসুমে লিগে ২২ গোল করে রিয়ালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। তার পরও এবার ‘দ্বিতীয় গ্যালাকটিকোসে’ আক্রমণ ভাগে জায়গা নিশ্চিত করা তাঁর জন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে চ্যালেঞ্জ। তিন মিনিটের মধ্যে (৫৩ ও ৫৬) দুই গোল করে শুধু জায়গাটাই পাকা করলেন না, কদিন আগে কিংস কাপে অ্যালকরকনের মতো তৃতীয় বিভাগের দলের কাছে ০-৪ গোলে হারের লজ্জাও কিছুটা কমালেন। তাও এমন একদিনে, যেদিন ২৭ মিনিটে সেন্টার ব্যাক রাউল অ্যালবিওল লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় বাকিটা সময় ১০ জনের দল নিয়ে খেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে মিলানের মুখোমুখি হওয়ার আগে দলে স্বস্তি ফেরানোর তৃপ্তি তাই হিগুয়েইনের কণ্ঠে, ‘ভয়াবহ একটা সপ্তাহের পর অতি জরুরি হয়ে পড়া প্রেরণাটা আমরা পেয়েছি।’ বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগে রুবিন কাজানের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচে (প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে বার্সা হেরেছিল ১-২ গোলে) মুখোমুখি হওয়ার আগে বার্সাও নিশ্চয়ই খুঁজছিল বাড়তি প্রেরণা। সেটা পাওয়া হলো না তাদের।

মণিপুরি রাসমেলা -উত্সব by আকমল হোসেন নিপু

কার্তিকের হালকা কুয়াশামোড়া ভোর। সেই কুয়াশার চাদর সরিয়ে ভোরের আলো ফোটামাত্রই অন্য এক দিন, অন্য রকম কোলাহল, হইচই। নিভৃত পল্লীর শান্ত পরিবেশে যা সম্পূর্ণ আলাদা। নানা বয়সের শত শত মানুষ, হাজার হাজার মানুষ একটি স্থির গন্তব্যের দিকে ছুটছেন। ধুলো ওড়া বাতাসে ভাসছে মৃদঙ্গ, ঢোল, কাঁসরঘণ্টা, বাঁশির সুরতরঙ্গ। সম্পূর্ণ নতুন সাজে প্রাণচঞ্চল পুরো এলাকা।
আর দিন শেষে রোদের রং মুছে গেলেই গাছের পাতায়, ধানের শীষে, খোলা মাঠে, ঘরের চালে লুটিয়ে পড়বে রাসপূর্ণিমার মন আলাভোলা করা আলো। সেই জোছনায় ভাসবে গ্রাম, ভাসবে মানুষ...। যেন এই একটা দিন, একটা রাত্তিরের জন্যই উত্সবপ্রাণ মানুষের অপেক্ষা ছিল, পথচেয়ে কেটেছে সারা বছর।
মণিপুরি সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় মহোত্সব শ্রীশ্রীমহারাসলীলা এলে এ রকমই একটি দৃশ্য, উত্সবের চেনা হাট। এ বছরও এই উত্সব নিয়ে প্রস্তুত সব আয়োজন। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ও আদমপুর এলাকায় এখন উত্সবের উত্তেজনা। মাধবপুর ইউনিয়নের শিববাজার জোড়ামাণ্ডপে ২ নভেম্বর ২০০৯ সোমবার উদ্যাপন করা হবে ১৬৭তম শ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলানুসরণ মহোত্সব। জানা গেছে, মাধবপুর জোড়ামাণ্ডপের রাসলীলার আয়োজক হচ্ছে মণিপুরি বিষ্ণুপ্রিয়া সম্প্রদায়। অন্যদিকে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের আদমপুরে রাসমেলার আয়োজন করে মণিপুরি মৈতৈ সম্প্রদায়। দুই জায়গাতে আয়োজন হলেও উত্সবের মর্মবাণী সেই একই। আয়োজকেরা জানালেন, রাসলীলার মূল বাণীতে রয়েছে বিশ্বশান্তি, সম্প্রীতি ও সত্য সুন্দর মানবপ্রেমের কথা।
রাসলীলা উদ্যাপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মণিপুরের রাজা ভাগ্যচন্দ্র মণিপুরে প্রথম এই রাসমেলা প্রবর্তন করেছিলেন। আর মণিপুরের বাইরে ১৮৪২ সালে মৌলভীবাজারের এই মাধবপুরেই প্রথম শুরু হয়েছিল রাসমেলা। সেই ধারাবাহিকতায় শ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলানুসরণ মহোত্সব মাধবপুরেরই শুধু নয়, উত্সব-পার্বণ হিসেবে মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে গেছে।
জানা গেছে, জগত্পতি কৃষ্ণের ১২ ধরনের রস থেকেই এই রাস শব্দের উত্পত্তি। আর এই রাসের সঙ্গে মেলা যুক্ত হয়ে ‘রাসমেলা’। এই ১২টি রসের মধ্যে আবার সাতটি রস হচ্ছে গৌণ। আর পাঁচটি রস হচ্ছে মুখ্য। এই পাঁচটি রসের মধ্যে আবার তিনটি রস হচ্ছে প্রধান। এগুলো হচ্ছে সখ্য, বাত্সল্য ও মধুর। এই তিন রসের উপস্থাপন করা হয়ে থাকে রাসলীলায়।
আয়োজকেরা জানান, রাসমেলার দিন সকালে মাধবপুর জোড়ামাণ্ডপ প্রাঙ্গণে শুরু হবে ‘গোষ্ঠলীলা বা রাখাল নৃত্য’— গোষ্ঠলীলায় কৃষ্ণের বালকবেলার রাখাল সাজে মণিপুরি শিশুরা নৃত্য করবে। কলাগাছের তৈরি কুঞ্জে গোষ্ঠলীলায় পরিবেশন করা হয় কৃষ্ণের সখ্য ও বাত্সল্য রসের বর্ণনা। গোধূলি পর্যন্ত এই রাখাল নৃত্য চলতে থাকবে। রাতের বেলা চলে মধুর রসের নৃত্য বা শ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলানুসরণ। মূলত গভীর রাতে শুরু হয় রাসনৃত্য। ভোর (ব্রাহ্ম মুহূর্ত) পর্যন্ত টানা এই রাসনৃত্য চলতে থাকে। এই রাসনৃত্যে গোপিনীদের সঙ্গে কৃষ্ণের মধুর লীলাই গানে-সুরে-কথায় প্রকাশিত হয়। তখন জোড়ামাণ্ডপ ঘিরে থাকেন কৃষ্ণভক্তরা। মাঝেমধ্যে মানসের হরিলুট (কলা, বাতাসা ছুড়ে দেওয়া হয়) চলে। অনেকেরই নানা রকম মানস থাকে। হরিলুটের প্রসাদ কুড়ানোর আছে অন্য রকম আনন্দ। গোষ্ঠলীলা ও রাসনৃত্যের ফাঁকে ফাঁকে দিনব্যাপী চলে অন্যান্য অনুষ্ঠানও।
জানা গেছে, রাসপূর্ণিমায় এই জোড়ামাণ্ডপ সাজানোর দায়িত্ব নিয়ে আছে বেশ কাড়াকাড়ি। যাঁরাই জোড়ামাণ্ডপ সাজানোর দায়িত্ব পান, তাঁরা নিজেদের গৌরবান্বিত মনে করেন। নিয়ম অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে একেক বছর একেক ‘শিংলুপ’ (পুঞ্জি বা গোষ্ঠী) এই দায়িত্ব পেয়ে থাকে। এই শিংলুপের মধ্যে আবার পর্যায়ক্রমে কন্যাসন্তান আছে, এমন পরিবারের ওপর দায়িত্ব পড়ে থাকে। আনন্দের সঙ্গে সেই পরিবার মণ্ডপ সাজানোর দায়িত্ব পালন করে থাকে। তবে এই দায়িত্ব নিতে অনেকেই আগ্রহী। অনেক সময় শিংলুপের মধ্যে কে দায়িত্ব নেবেন, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ লেগে যায়। তখন মহারাসলীলা উদ্যাপন কমিটি নিজেদের ক্ষমতাবলে দায়িত্ব বণ্টন করে থাকে। যাঁরা আগে দায়িত্ব পেয়েছেন তাঁদের বাদ দিয়ে নতুনদের দায়িত্ব দেন। জানা গেছে, গোষ্ঠলীলা ও রাসনৃত্যের মহড়া এরই মাঝে শেষ হয়েছে। রাসপূর্ণিমা আসছে, এই বার্তাতেই নড়ে উঠেছে এলাকা। মাধবপুর জোড়ামাণ্ডপে রাসমেলার আয়োজক মণিপুরি মহারাসলীলা সেবাসংঘের সাধারণ সম্পাদক নৃপেন্দ্রকুমার সিংহ জানালেন, সুন্দরভাবে রাসমেলা সম্পন্ন করতে সকল আয়োজনই সম্পন্ন করা হয়েছে। গোষ্ঠলীলা ও রাসলীলার বাইরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে।
অপরদিকে ১৯৮৬ সাল থেকে আদমপুরে মণিপুরি মৈতৈ সম্প্রদায় রাসমেলার আয়োজন করে আসছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এর আগে শুধু মাধবপুরেই রাসমেলা হতো। বিষ্ণুপ্রিয়া ও মৈতৈ এই দ্বন্দ্বে ভাগ হয়ে যায় মাধবপুরের রাসমেলা। মাধবপুর শিববাড়ির জোড়ামাণ্ডপে রাসমেলার যেমন ঐতিহ্য তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি এখন আদমপুরের রাসমেলাও নিজস্ব একটা আদল তৈরি করে নিয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। আদমপুরে গোষ্ঠলীলা ও রাসনৃত্যের পাশাপাশি উপস্থাপন করা হয় মণিপুরিদের ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাসমেলাকে ঘিরে ভানুগাছ-ধলই এবং উপজেলা-আদমপুর সড়ক ছোট-বড় শত শত গাড়ির আসা-যাওয়ায় ব্যস্ত থাকে এই একটি দিন। অনুষ্ঠানস্থলের অনেক আগেই জটে পড়ে থেমে যায় গাড়ির চাকা। এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাসমেলা এখন আর শুধু মণিপুরি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উত্সবই থাকেনি। জাতপাত, ধর্ম-বর্ণের বাইরে উত্সবে এসে মানুষের কাতারে একাকার হয়ে যায় সবাই।
রাসমেলাকে কেন্দ্র করে মাধবপুর ও আদমপুর দুটি স্থানেই বসে শত শত রকমারি পণ্যের দোকান। মণিপুরি তাঁতের তৈরি পোশাক, কুটির শিল্প, নানা রকম তৈজসপত্র, শিশুর খেলনা, চুড়ি কিংবা খোঁপার ফুল—কী নেই রাসমেলায়। আছে খৈ-মুড়ির মোয়া, নানা রকমের খাবার, ফুলকপির বড়া। আর নির্বিরোধ ভিড় তো আছেই। সবাই হইহই করে এদিক-ওদিক ছুটছে। সারা বছরে জমিয়ে তোলা এই একটা দিন—যেন অকারণে ফুরিয়ে না যায়, এই তাড়া সবার মধ্যে। ষোলো আনা আনন্দ চাই ঘরে ফেরার আগে। যে আনন্দের নিঃসরণ চলবে সারাটা বছর ধরেই।

নাসির ভাইকে খুব মনে পড়ে -স্মরণ by পান্না বালা

ঠিক এক বছর আগে ২ নভেম্বর ভোরে চলে গেলেন নাসিরউদ্দীন আহমেদ মুসা। আমাদের সবার নাসির ভাই। আমরা নানা পরিচয়ে চিনি নাসির মুসাকে। একজন মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, শিক্ষানুরাগী। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা তথা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি। অসাম্প্রদায়িক এই মানুষটি আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যুক্ত ছিলেন বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে। কবিতা লিখতেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন একবুক স্বপ্ন নিয়ে। কিন্ত সে আশা পূরণ না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ছিলেন হতাশ, বেদনাহত। তারই প্রকাশ ১৯৮৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর তাঁর লেখা ‘স্বাধীনতার সংলাপ’ নামের কবিতায়। ‘এই ষোলই ডিসেম্বরে-/ এক বুক আশা নিয়ে ফিরেছিলাম ঘরে।/ আজ সেই ষোলই ডিসেম্বর/ দীর্ঘ ১৬ বছর পর,/ এক বুক শূন্যতায়-/ ভরা আমার ঘর।’
ছোটবেলা থেকেই কবিতা লিখতেন। কবিতা লেখা নিয়ে তাঁর জীবনে ঘটেছে অনেক অম্ল-মধুর ঘটনা। ভর্তি পরীক্ষার খাতায় স্বরচিত কবিতা লেখার অপরাধে ফরিদপুর জিলা স্কুলে ভর্তি হতে পারেননি। ফরিদপুর উচ্চবিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীর বাছাই পরীক্ষায় অঙ্ক খাতায় কবিতা লিখে বিপদে পড়ে গিয়েছিলেন। সে যাত্রায় তাাঁক উদ্ধার করেছিলেন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নলিনীরঞ্জন চক্রবর্তী। ১৯৬৯ সালে ‘স্বাধীন দেশের নগরিক তবু পরাধীন হয়ে বাঁচি’ কবিতাটি লেখার অপরাধে তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয়। এ ঘটনার পর তাঁর মা হাজেরা বেগম ও বাবা মুন্সী কবিরউদ্দীনের পরামর্শে বড় ভাই চিত্রশিল্পী এম মহিউদ্দীন বাড়ির পাশের পুকুরে বস্তায় ভরে তাঁর লেখা কবিতা ও গানের পাণ্ডুলিপি ফেলে দেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে ইঙ্গিত নামের একটি সংকলন সম্পাদনার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।
১৯৪৯ সালের ১ জুলাই ভাঙ্গার সদরদী গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম হয় তাঁর। ১৯৬৬ সালে ফরিদপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৮ সালে রাজেন্দ্র কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮১ সালে এলএলবি পাস করেন।
১৯৬৯ সালে তিনি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ছাত্রছাত্রী সংসদের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি ফরিদপুর ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। গণ-অভ্যুথানের সময় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্ব দেন এবং কারারুদ্ধ হন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
বাংলা একাডেমীর চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি চলে আসেন ফরিদপুরে। ফরিদপুর ইয়াসিন কলেজ এবং পরে ভাঙ্গা কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। এরপর মধুখালী আয়েনউদ্দিন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তিনি ফরিদপুর শহরে প্রতিষ্ঠা করেন ফরিদপুর সিটি কলেজ। কলেজের নিবন্ধন করা, জায়গা জোগাড় করাসহ প্রতিটি কাজ তিনি করেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। কিন্তু কলেজটি পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হওয়ার পর একটি মহল নাসির মুসার জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। ২০০৬ সালে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয়। তাঁকে অধ্যক্ষের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনটি মামলাই প্রমাণিত না হওয়ায় খারিজ হয়ে যায়। ২০০৮ সালের আগস্টে তাঁকে আবার সিটি কলেজের অধ্যক্ষের পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। জীবনের এই সংকটময় সময়ে গভীর দুশ্চিন্তায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। অনেক ভালোবাসা, শ্রম আর নিষ্ঠা দিয়ে তিনি সিটি কলেজ প্রতিষ্ঠায় যুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু এ কলেজই তাঁর জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে। এ জন্য তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ সিটি কলেজ চত্বরে নেওয়া হয়নি। এ প্রতিবাদের মাধ্যমেই পদে পদে ঘা খাওয়া লাঞ্ছিত-বঞ্চিত এ মানুষটি নিজের শেষ অভিমানের জানান দিয়ে যান।
পান্না বালা: সাংবাদিক।

নিউজিল্যান্ড ও বার্কিনা ফাসোর চমক -অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ

নেদারল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়েছে ইরান, কোস্টারিকাকে হারিয়েছে বার্কিনা ফাসো, আর তুরস্ককে রুখে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের পরশুর দিনটা ছিল ঘটনাবহুল। তবে সবচেয়ে বড় অর্জন আসলে নিউজিল্যান্ডের যুবাদেরই। তুরস্কের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক গড়ল ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশটি। ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় এই প্রথম গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরোল তারা।
তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের ১৭ মিনিটেই পিছিয়ে পড়েছিল নিউজিল্যান্ড। ইনজুরি সময়ের গোলে ম্যাচে সমতা আনে কিউইরা। ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় সেরা দলের একটি হয়ে নকআউট পর্বের টিকিট পাওয়া গেছে তাতেই।
নেদারল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে ইরান। তবে দিনের আরেকটি চমক ছিল বার্কিনা ফাসোর কাছে কোস্টারিকার ১-৪ গোলে পরাজয়।

দুই গঞ্জের লড়াইয়ে নায়ক জনসন

ম্যাচটা শেষ দিকে জমে উঠল। দেখল দুই লাল কার্ড আর দুই গোল। কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সিটিসেল বাংলাদেশ লিগে রহমতগঞ্জকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় ফরাশগঞ্জের (২-০)।
ফরাশগঞ্জ-রহমতগঞ্জ মানেই পুরান ঢাকার দুই দলের মর্যাদার লড়াই। কাল সেই লড়াইয়ে ফরাশগঞ্জের নায়ক নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার কালু জনসন। ৮২ আর ৮৯ মিনিটে তাঁর দুই গোলেই আনন্দে মাতল ফরাশগঞ্জ। তবে ৬৩ মিনিটে রেজাউল লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ফরাশগঞ্জ চাপেই পড়ে গিয়েছিল। ১৬ মিনিট পর রহমতগঞ্জের আসিফ লাল কার্ড দেখার পর ‘সমতা’ আসে ম্যাচে। এর পরই জ্বলে ওঠেন জনসন।
চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে আগের ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করা ফরাশগঞ্জের দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট। অন্যদিকে পরাজয় দিয়ে এবার বাংলাদেশ লিগ শুরু করল গতবার প্রথম ম্যাচেই আবাহনীকে হারিয়ে চমক দেখানো রহমতগঞ্জ।
আবাহনী ছেড়ে যাচ্ছেন আলভারো
আবাহনীর আর্জেন্টাইন ট্রেনার ডিয়েগো আলভারো আজ রাতে দেশে ফিরে যাচ্ছেন। চার মাসের চুক্তি শেষ হওয়ার ক’দিন আগেই তাঁর চলে যাওয়া প্রসঙ্গে ঢাকা আবাহনীর পরিচালক কাজী নাবিল আহমেদ জানান, ‘আমরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে তাঁকে এনেছিলাম, সেটার ৮০ ভাগ পূরণ হয়েছে। এখন আর ফিটনেস নিয়ে কাজ করার কিছু নেই। তিনি চলে গেলে দলের সমস্যা হবে না।

সংবিধান কমিশন যে কারণে জরুরি -সরকারের মেয়াদ by এ কে এম জাকারিয়া

নির্বাচনে জিতে ক্ষমতা নেওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই বিরোধী পক্ষের সরকার পতনের আন্দোলন শুরুর রেওয়াজ নব্বইয়ের পরবর্তী সবগুলো সরকারের আমলেই আমরা দেখেছি। এবার অবশ্য এখনো ঘোষণা দিয়ে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হয়নি। তবে বিরোধী দলের সংসদ বর্জন অব্যাহত আছে। সংসদীয় কমিটিগুলো কাজ করছে, সংসদ বসছে, আলোচনা হচ্ছে—এসব যুক্তি যতই দেওয়া হোক, বিরোধী দল ছাড়া সংসদ কোনোভাবেই কার্যকর বলা যায় না। সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর, বর্তমান সরকার সে সময় পর্যন্তই ক্ষমতায় থাকবে ধরে নেওয়া যায়। আমরা সবাই সেটা চাই। গত তিনটি সরকারের মেয়াদপূর্তি আমাদের সেই আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু সংসদ ও সরকার তার পাঁচ বছর মেয়াদ পূরণ করলেও সংসদ কার্যকর থাকবে, সে ভরসা আমরা করতে পারছি না।
বর্তমান সরকারের এক বছর পূর্তি হতে আরও মাস দুয়েক বাকি। অভিজ্ঞতা থেকে আশঙ্কা হচ্ছে, কোনো না কোনো কারণ দেখিয়ে একপর্যায়ে বিরোধী দলের সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক ও সংসদ বর্জন—এসবের মধ্য দিয়েই বাকি চার বছর দুই মাস সময় কাটবে। তবে সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সরকারের মেয়াদ কমানোর যে প্রস্তাব রেখেছেন, তা কার্যকর করা হলে অবশ্য ভিন্ন কথা। তিনি বলেছেন, সংসদ ও স্থানীয় সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদের বিষয়টি বেশ লম্বা, তাই তা কমানো উচিত। স্থানীয় সরকারের মেয়াদ তিন বছর হওয়া উচিত বলে তিনি মত দিয়েছেন। তবে সংসদের মেয়াদ কত হওয়া উচিত, সে ব্যাপারে কোনো প্রস্তাব রাখেননি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করলে তাঁর এই প্রস্তাবকে যৌক্তিক মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
গত তিনটি নির্বাচিত সরকারের সময়ে সরকার পতনের আন্দোলন এবং এর নামে ঘেরাও, হরতাল, অবরোধ ও জ্বালাও-পোড়াও—সবই হয়েছে। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে কোনো সরকার পতনের ঘটনা ঘটেনি। এর কারণ এটা নয় যে জনগণ সরকার ও তার কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সন্তুষ্ট ছিল। সরকারের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্টি নিয়েও জনগণ এটা মেনে নিয়েছে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছে পাঁচ বছরের জন্য, এই সময়ে খারাপ ভালো যাই করুক, তারাই ক্ষমতায় থাকুক। নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো পথে ক্ষমতার পরিবর্তন হোক, এটা সাধারণভাবে জনগণ গ্রহণ করেনি। তাই বিরোধী পক্ষের সরকার পতনের আন্দোলন বা ডাক সফল হয়নি। জনগণ ভোট পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে, সেখানে তারা তাদের কাজটি করেছে। জনগণ যে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সঠিক অবস্থান নিয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল তার বড় প্রমাণ। কিন্তু জনগণকে এ জন্য পাঁচ বছরের ধৈর্য আর সহনশীলতার পরীক্ষা দিতে হয়। একদিকে হয়তো তারা সরকারের কর্মকাণ্ডে বিরক্ত, অন্যদিকে বিরোধী পক্ষের সরকার পতনের আন্দোলনের নামে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপও মেনে নিতে পারে না। সরকার বা সংসদের মেয়াদ কমলে এই দিক থেকে জনগণের ওপর চাপ কিছু কমবে বলে মনে হয়।
সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশ যুক্তরাজ্যে হাউজ অব কমন্সের সর্বোচ্চ মেয়াদ পাঁচ বছর। কিন্তু কার্যকর মেয়াদ চার বছর। সরকারের মেয়াদ চার বছর পুরো হলেই নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের মেয়াদ চার বছর। গণতন্ত্র আর বেশি মেয়াদের সরকার — এই দুটি আসলে একসঙ্গে যায় না। তুরস্কে পার্লামেন্টের মেয়াদ কমানো হয়েছে ২০০৭ সালে। গণভোটের মাধ্যমে সেখানকার জনগণ পার্লামেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছরের যায়গায় চার বছর করেছে। ভারতে অবশ্য লোকসভার মেয়াদ পাঁচ বছর। ভারতকে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা উদাহরণ হিসেবে বিবেচনায় নিই। সেখানে যদি চলতে পারে, তবে আমাদের এখানে কেন মেয়াদ কমানোর দরকার পড়ল, সে প্রশ্ন নিশ্চয়ই উঠতে পারে। এর একটি সাধারণ জবাব হচ্ছে, যুক্তরাজ্য বা ভারতে নতুন সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পরপরই সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হয় না, আমাদের মতো অকার্যকর সংসদ নিয়ে সরকারকে পুরো মেয়াদ কাটাতে হয় না। এর চাইতেও বড় কথা, দেশ দুটিতে আমাদের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের মতো কঠোর কোনো অনুচ্ছেদ নেই—‘কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যাক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে উক্ত দলের বিরুদ্ধে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য বলিয়া গণ্য হইবে।’ সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধন আইন ১৯৯১(১৯৯১ সালের ২৮ নং আইন)-এর ৫ ধারা বলে এই বিধান কার্যকর করা হয়েছে। অর্থাত্ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার চরম স্বেচ্ছাচারী কোনো আচরণ করলেও আমাদের সংবিধান সরকারের পতন ঘটানোর মতো কোনো ক্ষমতা সাংসদদের দেয়নি। নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় যেতে পারলেই পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতা নিশ্চিত। ভারতের বর্তমান সংবিধান এককভাবে পার্লামেন্টের কোনো সদস্যকে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান বা ভোট দেওয়ার ক্ষমতা না দিলেও সমষ্টিগতভাবে দিয়েছে। দলের সদস্যদের একটি গ্রুপ প্রয়োজনে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারবে। ১৯৮৫ সালে ভারতীয় সংবিধানের এই ৫২তম সংশোধনীর আগে পার্লামেন্টের সদস্যরা দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারতেন। দীর্ঘ সময়ে এই গণতান্ত্রিক চর্চার পর তারা এই সংশোধনী এনেছে। ভারতের সংবিধান শুরুতে এককভাবে এবং পরে সমষ্টিগতভাবে পার্লামেন্টের সদস্যদের দলের অবস্থানের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের কোনো স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে অবস্থান খোলা রয়েছে। জওহরলাল নেহরুর পর ভারতে প্রথমবারের মতো গত মনমোহন সিংয়ের সরকার ক্ষমতার পুরো পাঁচ বছর মেয়াদে ক্ষমতায় ছিল। গত ৪০ বছরে ভারতে কোনো সরকার পুরো মেয়াদ ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। ১৯৮৫ সালের আগ পর্যন্ত সরকারি দলের সদস্যদের দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার ক্ষমতা থাকায় ভারতের সরকারগুলো হয়তো এক অর্থে স্থিতিশীল ছিল না। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নানা কারণে সরকারের পতন ঘটেছে। কিন্তু এই চর্চা সরকারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না করলেও দেশটির গণতন্ত্রকে স্থিতিশীল করেছে।
বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে দলের প্রধান দলের মধ্যে একক ক্ষমতা ভোগ করেন, বিরোধী দলের কারণে-অকারণে সংসদ বর্জনের ফলে সংসদ যেখানে অকার্যকর, সংবিধান যেখানে দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত সাংসদকে দলের কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার ক্ষমতা দেয়নি, সংবিধান বরং প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত ক্ষমতা নিশ্চিত করেছে ‘প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে’ বাক্যটির দ্বারা, তখন পাঁচ বছর মেয়াদের একটি সরকার মানে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি সরকারকে কার্যত পাঁচ বছরের জন্য যা ইচ্ছা, তা করার স্বাধীনতা দেওয়া। অন্তত বিগত জোট সরকারের কাজে-কর্মে এর প্রমাণ মিলেছে। সরকারের মেয়াদ কম হলে, ধরা যাক যদি চার বছর হয়, তবে জনগণ সরকারকে অন্তত এক বছর আগে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারবে। আর বিরোধী পক্ষের সরকার পতনের আন্দোলনের মেয়াদও তখন বছরখানেক কমবে।
সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক সংসদের মেয়াদ কমানোসহ আরও কিছু মৌলিক ক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখায় আমরা ধরে নিতে পারি, এ ব্যাপারে নিশ্চয়ই দলের মধ্যে জোরালো চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। আবার সরকারি দল থেকে এ ধরনের প্রস্তাব আসায় বিরোধী পক্ষ তাঁকে সন্দেহের চোখে দেখবে—আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটাই স্বাভাবিক। অনেকের ব্যাখ্যা, সরকার অজনপ্রিয় হওয়ার আগেই নির্বাচন দিয়ে আবার ক্ষমতায় আসতে চায়। তাই সরকারের মেয়াদ কমানোর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এটা মানতে হবে, আমাদের সংবিধান হয়েছে ১৯৭২ সালে। এর পর প্রায় ৩৭ বছর পার হয়ে গেছে। সংবিধানে এর মধ্যে নানা পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু সংবিধান বা শাসনতান্ত্রিক ত্রুটি-বিচ্যুতি পর্যালোচনা করে পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন সময় এসেছে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার। একতরফাভাবে কিছু করার চেয়ে সরকারের উচিত, বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সংবিধান পর্যালোচনা কমিশন গঠন করা। যাঁরা সংবিধানের নানা দিক পর্যালোচনা করে এর ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত ও প্রয়োজনয়ীয় সংশোধনের প্রস্তাব দেবেন। ভারতে ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এ ধরনের কমিশন গঠন করা হয়েছিল (Constitution Review Commission)। যাদের ওপর গত ৫০ বছরের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রের আওতায় কার্যকর সুশাসন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আধুনিক ভারতের জন্য সংবিধানে কী পরিবর্তন আনা উচিত, সে ব্যাপারে মতামত ও প্রস্তাব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি বি পি জীবন রেড্ডির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের ওই কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন প্রায় দুই বছর সময় নিয়ে ২০০২ সালের ৩১ মার্চ সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। বাংলাদেশের আইনমন্ত্রীও সংবিধান সংশোধনে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। সংসদ ও সরকার বা স্থানীয় সরকারের মেয়াদ কমানো, কিংবা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার ভবিষ্যত্—বিষয়গুলো পর্যালোচনায় নিয়ে আমাদের দেশে এ ধরনের একটি কমিশন গঠন করা যেতে পারে। ভারতের সংবিধান পর্যালোচনা কমিশন বিভিন্ন ইস্যুতে খোলামেলা বিতর্ককে উত্সাহিত করেছে। একই ধরনের কিছু এখানেও শুরু করা যায়।
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com

প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের পাঁচ গোলে পরাজয় -অনূর্ধ্ব-১৯ এশীয় ফুটবল

শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে পরাজয় মানতে মানসিকভাবে তৈরিই ছিল বাংলাদেশ। তবে সেটি যত কম ব্যবধানে আসে, এই ছিল কামনা। শেষ পর্যন্ত পরাজয় ০-৫ গোলে। কাল ব্যাংককে এই ম্যাচ দিয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলের গ্রুপ পর্ব শুরু করল বাংলাদেশ।
ছয় মিনিটে লি জা গুয়ান শুরু করেন গোল-উত্সব। ৩৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লি হাকমিন। বিরতির পর আক্রমণ বাড়িয়ে ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ৩-০ কিম ওয়ান সিক। দুই মিনিট পর সুক হাইনজুনের গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০। শেষ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের শেষ গোলটি লি হাকমিনের।
বাফুফে জানিয়েছে, বাংলাদেশ দল প্রতি-আক্রমণে উঠেছে এবং গোলের সুযোগও তৈরি করেছে। গোলরক্ষক সোহেল আলম ৫ গোল খেলেও বাঁচিয়েছেন বেশ কয়েকটি। তবে বাংলাদেশ দলের কোচ শফিকুল ইসলাম এমন পরাজয়ে হতাশ নন, ‘বিশ্বকাপে খেলা দক্ষিণ কোরিয়ার যুবদলের কাছে ৫ গোলে পরাজয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’ বাংলাদেশ আগামীকাল দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে ভিয়েতনামের সঙ্গে।

আবাহনী-মোহামেডানের জয়

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ত জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁদের অনুপস্থিতি অবশ্য প্রভাব ফেলছে না দেশের ঐতিহ্যবাহী দুই ক্লাবের খেলার ফলাফলে। প্রিমিয়ার ক্রিকেটে কাল দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় পেয়েছে আবাহনী ও মোহামেডান। তবে প্রথম ম্যাচে জয়ী সূর্যতরুণ হেরে গেছে ভিক্টোরিয়ার কাছে।
ফতুল্লায় আবাহনী ২৯ রানে খেলাঘরকে, বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে মোহামেডান ২৭ রানে বিকেএসপিকে এবং বিকেএসপিতে ভিক্টোরিয়া ৩৫ রানে সূর্যতরুণকে হারিয়েছে।
ভারতীয় ব্যাটসম্যান অজয় খোড়া (৬৭) ও সগীর হোসেনের (৫২) জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে প্রথমে ব্যাট করা আবাহনী ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে তোলে ২৬৮ রান। জবাবে ৭ উইকেটে ২৩৯ রান তুলতে পারে খেলাঘর। ৪১ রানে প্রথম উইকেট হারানো আবাহনীর একসময় স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৮৫ রান। এরপরই চতুর্থ উইকেটে সগীরকে নিয়ে অজয়ের ৮৯ রান। খেলাঘরের আশরাফ করেন সর্বোচ্চ অপরাজিত ৫৮ রান।
মোহামেডানের ইনিংসে ছিল টপ-অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার মিছিল। তিন নম্বরে নামা আগের ম্যাচের হাফ সেঞ্চুরিয়ান আফতাবও (৫) ছিলেন সেই দলে। ৫৫ রানে ৪ উইকেট খুইয়ে বসা মোহামেডানের দুই শ রান পার হয় পঞ্চম উইকেটে ফয়সাল (৩৮) ও ফারভিজ মাহরুফের (৩১) ৬১ রানের জুটির কল্যাণে। শেষ পর্যন্ত ৪৮.৪ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ২০৮ রান তুলতে পারে তারা। শুরুটা ভালোই করেছিল বিকেএসপি। আশিকুল ও সৌম্য গড়েন ৮১ রানের উদ্বোধনী জুটি। এর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো বিকেএসপি গুটিয়ে যায় ১৮১ রানেই।
বিকেএসপিতে সূর্যতরুণ-ভিক্টোরিয়ার ম্যাচটিও ছিল লো-স্কোরিং। জয়ের জন্য সূর্যতরুণকে ১৪৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা দিলেও হাবিবুল বাশারের দল তুলতে পারে মাত্র ১০৯ রান। ৯ নম্বরে নামা ভিক্টোরিয়ার পেসার শরীফের ব্যাট থেকে এসেছে সর্বোচ্চ ৪৩ রান। ৪৬.২ ওভারে ভিক্টোরিয়াকে অলআউট করার বড় কৃতিত্ব সানজামুল ও মাহবুবুল আলমের। সানজামুল ২২ রানে ৪টি ও মাহবুবুল ২৪ রানে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন। ২১ রানে প্রথম উইকেট হারানের পর সূর্যতরুণের আর কেউই বেরোতে পারেননি ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে। গত ম্যাচের অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরিয়ান হাবিবুল বাশার ১২ রানেই রানআউট। সর্বোচ্চ ২২ রান হান্নান সরকারের। সূর্যতরুণকে এত কম রানে বেঁধে ফেলার কৃতিত্ব আবুল বাশারের। ৫.৩ ওভারে ১০ রানে ৩ উইকেট নেন এই পেসার।

বাংলাদেশের সাফ প্রস্তুতিতে নানা জট

কাল দুপুরে নিজের বাসায় বসে সাফ ফুটবল নিয়ে পরিকল্পনা সাজাচ্ছিলেন। প্রস্তুতি কবে শুরু জানতে চাইলে মনে হলো এডসন সিলভা ডিডো এখনো অন্ধকারেই আছেন, ‘আমি জানি না লিগ (বাংলাদেশ লিগ) কবে স্থগিত হবে। সম্ভবত ১২-১৩ নভেম্বর শুরু করতে পারব।’
লিগ কবে স্থগিত হচ্ছে, সেটা জানা গেল বাফুফে অফিসে এসে। বাফুফের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তৃতীয় রাউন্ড শেষে এই লিগ বন্ধ করে সাফ ফুটবলের প্রস্তুতিতে নামবে বাংলাদেশ দল। ৭ নভেম্বর তৃতীয় রাউন্ড শেষ। সে ক্ষেত্রে তো পরদিনই সাফ ফুটবলের জন্য অনুশীলনে নেমে পড়তে বাধা নেই।
কোচের কথায় বোঝা গেল, এ বিষয়গুলো নিয়ে বাফুফের জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ হয় না। না হলে ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায় কেন তত্ক্ষণাত্ বাফুফের এক কর্মীকে ডেকে বলবেন, ‘বিকেএসপিতে চিঠি লিখে ৭ তারিখ থেকে মাঠ চান। দরকার হলে ওই দিনই দল পাঠিয়ে দেব বিকেএসপি।’
ব্যবস্থাপনা কমিটি দল পাঠাতে চায় বিকেএসপিতে। কিন্তু ডিডো বলছেন, ঢাকাতেই সাফ ক্যাম্প করার পরিকল্পনা তাঁর। কেন তিনি ঢাকায় অনুশীলন করতে চান তার একটা ব্যাখ্যাও দিয়েছেন, ‘সাফ ফুটবল যেহেতু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হবে তাই এখানে প্র্যাকটিস করলেই সবচেয়ে ভালো হবে।’ এই কথা শুনে বাদল রায় তো বিস্মিত, ‘বিএকএসপিতে ক্যাম্প হবে, এটা আমাদের সিদ্ধান্ত। কোচ বললে তো আর হবে না।’ বাদল রায়ের ক্ষোভ, ‘‘কোচ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে ডিঙিয়ে ফেডারেশনের প্রেসিডেন্টকে চিঠি দিয়ে সাফের জন্য ছয় সপ্তাহ সময় চেয়েছেন শুনলাম। ফেডারেশন কাপের পর সব খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সসহ মূল্যায়ন রিপোর্ট চেয়েছিলাম, বললেন এটা নাকি ‘পুওর শো’ হয়েছে।’’
সাফ ফুটবলের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট সামনে, তখন কি না ব্যবস্থাপনা কমিটি আর কোচের মধ্যে দূরত্ব এমন বেড়ে গেল! এটা গেল একটা দিক। সামনে আরও বড় সমস্যারই আশঙ্কা জাগছে। ডিডোর আগের ক্যাম্প থেকে বহিষ্কার হওয়া ৮ ফুটবলারকে সাফ ক্যাম্পে রাখা না-রাখা নিয়ে এরই মধ্যে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
একটি সূত্রের খবর, ওই আটজনের মধ্যে শুধু স্ট্রাইকার এমিলি ও লেফট ব্যাক ওয়ালি ফয়সালকে দলে জায়গা দিতে পারেন ডিডো। বাকি ছয়জনের মধ্যে উইঙ্গার জাহিদ, স্টপার রজনী ও আরিফ দলে না থাকলে ব্যবস্থাপনা কমিটি সেটা মেনে নেবে বলে মনে হয় না। বাদল রায়ের কথা, ‘দেখি কোচ কী করেন। তবে ভালো পারফর্ম করেও কাউকে বাদ দিলে আমরা তা মানব না।’
কোচ কাকে দলে নেবেন, এটা পুরোপুরি তাঁর এখতিয়ার। সেই স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে ফেডারেশন কাপ ও লিগ দেখে ডিডো ২০ জন খেলোয়াড় বাছাই করেছেন। ৫ জনকে রেখেছেন পর্যবেক্ষণে। তাঁর নির্বাচিত ২০ জনের মধ্যে একজন একেবারেই নতুন (রহমতগঞ্জের খেলোয়াড়)। ২৫ জনের প্রাথমিক দলে একটা বড় ধরনের চমক থাকতে পারে। বাদ পড়তে পারেন এমন একজন, স্কোয়াডে যাঁর জায়গা পাকা বলেই ধরে নেন অনেকে। তাহলে কি চ্যালেঞ্জ কাপের মতো তারুণ্য-নির্ভর দল নিয়ে ৪-১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় সাফ ফুটবলের চ্যালেঞ্জ নিতে যাচ্ছেন ডিডো?
‘তরুণ বা সিনিয়র বুঝি না, যারা আমার নজর কেড়েছে বা কাড়তে পারবে, তাদেরই দলে নেব। এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপার নেই’—বললেন ডিডো। এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত মাঠে না নামলেও গোলরক্ষক আমিনুলের ওপরই আস্থা রাখছেন। ইনজুরি থেকে সেরে ওঠা আমিনুল সরাসরি সাফ ফুটবল দিয়ে মাঠে ফিরবেন।
দল একটা বেছে নিচ্ছেন ডিডো, কিন্তু সেটি তাঁর মনমতো হচ্ছে? ‘না, এটা আমার মনমতো হচ্ছে না। আমার পছন্দের কয়েক খেলোয়াড়কে দেখি সাইড বেঞ্চে। এটা ক্লাবগুলোর নিজস্ব ব্যাপার হলেও আমি হতাশ, সবাইকে ভালো করে দেখতে পারলাম না।’ খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়েও তাঁর অসন্তোষ, ‘জাতীয় দলের ক্যাম্পের পর এখন ওদের ফিটনেস অনেক নেমে গেছে।’ হাতে মাত্র সপ্তাহ তিনেক সময়, কতটা কী করতে পারবেন? কিন্তু বাংলাদেশের ব্রাজিলিয়ান কোচ তাঁর হাতে সর্বরোগের কোনো ওষুধ দেখেন না, ‘ক্লাবগুলোতে ট্রেনার নেই। এ জন্য ফিটনেসের লেবেলটা নিচের দিকে। এখন আর কী করব। আমি তো আর জাদুকর নই যে সব ঠিক করে ফেলব।

আইনের শাসন থাকলে ‘ক্রসফায়ার’-এর দরকার হতো না -টে লি ফো নে না গ রি ক ম ন্ত ব্য

প্রিয় পাঠক, আপনাদের সরাসরি মন্তব্য নিয়ে আমাদের নিয়মিত আয়োজনে এবার ‘ক্রসফায়ার’ চলছে: আপনার মন্তব্য কী? প্রশ্নে টেলিফোনের মাধ্যমে মন্তব্য আহ্বান করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে আপনারা উত্সাহব্যঞ্জক সাড়া দিয়েছেন। মন্তব্যগুলোর কিছু অংশ আজ ছাপা হলো; বাকি অংশ আগামীকাল প্রকাশিত হবে।
সাইফুল ইসলাম শোভন, শিক্ষার্থী
নাখালপাড়া, ঢাকা।
ছোটবেলা থেকে কেউ অপরাধী হয়ে জন্ম নেয় না। পরিবেশ ও পরিস্থিতির কারণে মানুষ সন্ত্রাসী হয়ে ওঠে। পুলিশ ও র্যাবের উচিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। ভূত তাড়াতে গিয়ে তাদের ভূত হওয়া মানায় না। শেখ হাসিনাকে অনুরোধ জানাচ্ছি, অবিলম্বে ক্রসফায়ারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিন, না হলে কখনোই সোনার বাংলা গড়া সম্ভব না।
আমিনুল ইসলাম, ব্যবসায়ী
ইস্টার্ন প্লাজা, ঢাকা।
মাঝেমধ্যে ক্রসফায়ারের প্রয়োজন আছে। ক্রসফায়ারের ভয়ে বড় বড় সন্ত্রাসী দেশ ত্যাগ করেছে। এতে অপরাধ কমে গেছে। ১০০ জন খারাপ মানুষ থেকে একজন ভালো মানুষ অনেক ভালো। ক্রসফায়ার বন্ধ করলে সন্ত্রাসীদের সাহস বেড়ে যাবে। আরও অপরাধ সংঘটিত হবে।
শামসুন নাহার (ক্রসফায়ারে নিহত বাপ্পির বড় বোন)
পূর্ব রামপুরা, ঢাকা।
ক্রসফায়ার এখনই বন্ধ হোক। এর জন্য কোনো তদন্তের প্রয়োজন নেই। কারণ আমার ভাইকে আমি আর ফিরে পাব না। এর ক্ষতিপূরণ চাই না। চাই এর সুষ্ঠু তদন্ত হোক। আমার মা কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হওয়ার উপক্রম।
আমিনুল হক, শিক্ষক
ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ।
বর্তমানে দেশে যে ক্রসফায়ার চলছে এটা আসলে ঠিক না। ছোট সন্ত্রাসীদের বদলে গডফাদারদের ক্রসফায়ার করতে হবে। তাহলে অপরাধ দূর হবে।
মাসুদ পারভেজ, শিক্ষার্থী
শাবিপ্রবি, সিলেট।
একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড যদি এ দেশে অবলীলায় ঘটতে থাকে তবে এর ফলে দেশের নিরপরাধ ও নিরীহ জনগণ এর শিকার হতে পারে। ক্রসফায়ার সম্পূর্ণরূপে আইন ও সংবিধান বিরোধী। সন্ত্রাসীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য কোনোভাবে ক্রসফায়ারকে সমর্থন করা যায় না। সরকারের উচিত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা।
তাপসকুমার সাহা, ব্যবসায়ী
টানবাজার, নারায়ণগঞ্জ।
ক্রসফায়ার কোনোমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। এটা মানবতাবিরোধী একটি সিদ্ধান্ত। মানুষ খারাপ হওয়ার পেছনে পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতা সবচেয়ে বেশি দায়ী। প্রত্যেককে যাতে উন্নত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, সে জন্য সমাজের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
গাজী মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, শিক্ষার্থী
ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ।
আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্রসফায়ার সমর্থন করি। কারণ সন্ত্রাসীরা সব সময় কোনো না কোনোভাবে আইনের ফাঁক গলিয়ে বেরিয়ে যায়। তারা যখন মানুষ মারার সময় মানবাধিকারের চিন্তা করে না, আমরা কেন চিন্তা করব?
জাহাঙ্গীর আলম, চাকরিজীবী
সিতাকুণ্ডু, চট্টগ্রাম।
ক্রসফায়ার মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। অপরাধী কিংবা সন্ত্রাসীদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে বিকল্প পথ খুঁজতে হবে। ক্রসফায়ারের নামে আর কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড দেখতে চাই না। আমি আশা করি, আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারের কথা স্মরণ করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করবে।
মেজবাহ উদ্দিন আহমদ, প্রকাশক
গ্রীন রোড, পান্থপথ, ঢাকা।
আমার মতে, যদিও ক্রসফায়ার আইনবহির্ভূত কাজ, তার পরও আমি চাই এটা থাকুক। কারণ এই ক্রসফায়ারের ভয়ে সন্ত্রাসীরা আতঙ্কিত থাকে। এতে করে কিছুটা হলেও সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে।
মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী, সাবেক ফুটবলার
পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা।
ছেলের অপকর্মে পিতা অতিষ্ঠ হয়ে ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে এমন ভূরি ভূরি নজির আছে। একবার বিশ্বকাপে সামান্য অপরাধে রেফারি কোটেচান একটি পেনাল্টি দিয়েছিলেন। এ জন্য ফিফা তাঁকে নিষিদ্ধ করে। তিনি যাওয়ার সময় বলে গেছেন, যত দিন ফুটবল থাকবে, তত দিন পেনাল্টি থাকবে। তাই আমি সরকারকে দোষারোপ করি না। দেশের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সরকার যা করছে তা ভালোর জন্যই করছে। নজর রাখতে হবে, নিরপরাধ ব্যক্তি যেন না পড়ে।
মাসুদ আলম, শিক্ষার্থী
পশ্চিম চৌমুহনী, কুমিল্লা।
বর্তমান সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহারে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সরকারের কতিপয় মন্ত্রী এখন ক্রসফায়ারের পক্ষে বিবৃতি দিচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমার আকুল আবেদন, আপনি সংবিধান-পরিপন্থী হত্যাকাণ্ড বন্ধ করে অপরাধীকে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বিচার কার্যক্রম প্রচলিত আইনে করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিন।
মুহাম্মদ জিন্নাহ ভূঁইয়া, শিক্ষার্থী
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রত্যেক নাগরিক আইনের সমান আশ্রয়লাভের অধিকারী। সন্ত্রাস দমনের নামে ক্রসফায়ার, বন্ধুকযুদ্ধ বা নানা নামে যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে তা সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আর এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সন্ত্রাসীদের বিচার করা যেতে পারে।
মাসুদ পারভেজ, চাকরিজীবী (অব.)
ধানমন্ডি, ঢাকা।
আমার মতে, ক্রসফায়ার মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়। এ কাজ যাদের ইঙ্গিতে যারা করছে তাদের দ্রুত বিচার করে শাস্তি দেওয়া উচিত। এটি যত দ্রুত সম্ভব, দরকার হলে আজই বন্ধ করা উচিত।
মো. জিয়াউল হক, শিক্ষার্থী
পটুয়াখালী।
ক্রসফায়ারকে আমি সমর্থন করি না। কারণ একদিকে যেমন মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, অন্যদিকে একজন মানুষকে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ক্রসফায়ারের নামে র্যাব, পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নিজেদের মাস্তান হিসেবে সমাজের কাছে পরিচিত করছে। এভাবে ক্রসফায়ার চলতে থাকলে মানুষ তো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভয়ে খুলতে পারবে না। এ জন্য আমি বলি, ক্রসফায়ার বন্ধ হোক।
মুক্তার হোসেন, শিক্ষার্থী
মিরপুর, ঢাকা।
ক্রসফায়ার এক আতঙ্কের নাম। যেখানে বিচারের নামে হত্যা করা হচ্ছে অপরাধীসহ নিরপরাধ মানুষকেও। জেএমবি এবং অন্য সংগঠনগুলো যেমন ন্যায়বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালায়, ক্রসফায়ারও অনেকটা তেমনই। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে গডফাদারের চেলারা। বড় বড় গড ফাদার সব সময় থাকছে পর্দার অন্তরালে।
খন্দকার শরীফ উদ্দিন, ব্যবসায়ী
ময়মনসিংহ।
আমরা তো স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক। আমাদের টাকায় চলে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের হাতেই আমরা এখন ক্রসফায়ারে মরছি। তাহলে বিচারব্যবস্থা বা জেলখানার কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ডই কোনো নাগরিক সমর্থন করে না।
তৌহিদ, শিক্ষার্থী
প্রাইম ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।
ক্রসফায়ার কিংবা বন্ধুকযুদ্ধ যে নামেই চালিয়ে দেওয়া হোক, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বিচারবহির্ভূত, যা সত্যিই দুঃখজনক। বাপ্পীর মতো কোনো নিরীহ ব্যক্তির মৃত্যু জাতি আর দেখতে চায় না। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটতে দেওয়া মানে মানবাধিকারের চরম অবমাননা আর আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তাই এর সুষ্ঠু তদন্ত ও শাস্তি দাবি করছি।
পলাশ বণিক, ব্যবসায়ী
সীতাকুণ্ডু, চট্টগ্রাম।
ক্রসফায়ার যদি শুধু সন্ত্রাসীদের বেলায় কার্যকর হয়, তাহলে আমি তা নীতিগতভাবে সমর্থন করি, কারণ আমাদের দেশে আইনের শাসন বলে কিছু নেই। সুতরাং তা হবে মন্দের ভালো। আর যদি ক্রসফায়ার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মূল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহূত হয়, তা হবে সমাজ এবং দেশের জন্য ভয়াবহ।
রিফাত রফিক, শিক্ষার্থী
পূর্ব নাখালপাড়া, ঢাকা।
আমি মনে করি, ক্রসফায়ার চলা উচিত। কারণ বাংলাদেশের পেক্ষাপটে অনেক সন্ত্রাসীই সঠিক শাস্তি পায় না। অনেক খুনের সঠিক বিচার হয় না। গত সরকারের সময়ে যারা এটা চালু করেছিলেন, তাঁরা বর্তমানে ক্ষমতা হারিয়ে এর বিপক্ষে চলে গেছেন।
মূল কথা হলো, এটা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে।
শাহ মোহাম্মদ আলম,
সরকারি কর্মকর্তা (অব.), চট্টগ্রাম।
ক্রসফায়ারের নামে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বিনা বিচারে মানুষ হত্যার মতো মহা পাপকাজে লিপ্ত সরকার। কোনো বিবেকবান ব্যক্তির পক্ষে এ পাপাচার সমর্থন সম্ভব নয়। বরং ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করা উচিত। আমার প্রশ্ন, ওপরমহল থেকে নির্দেশ না পেলে র্যাব ক্রসফায়ার করার সাহস পায় কোথা থেকে।
আব্দুর রহমান, প্রধান শিক্ষক (অব.)
গাঙ্গেরকোট, মুরাদনগর, কুমিল্লা।
আমাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের বীজ লুকায়িত রয়েছে। এবং তার ফলে ধনী-গরিবের পার্থক্য ক্রমেই বেড়ে চলেছে। নদীভাঙন, খরা ও মঙ্গার ফলে সৃষ্ট দারিদ্র্য এই বৈষম্যকে আরও প্রকট করে তুলছে। এই সর্বহারাদের একটি অংশ প্রধানত পেটের দায়ে বিপথগামী হয়। এবং পরবর্তীকালে চরমপন্থী বা সন্ত্রাসী দলের সদস্য হয়ে যায়। তাই সমস্যার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণকে চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা না করে এদেরকে নির্বিচারে ক্রসফায়ারে হত্যা করা অমানবিক ও অগ্রহণযোগ্য।
মাহমুদ, চাকরিজীবী
বাসাবো, ঢাকা।
ক্রসফায়ারকে আমি সমর্থন করি, কেননা যাদের মারা হচ্ছে তাদের নামে কোনো না কোনো অভিযোগ আছে। কিন্তু যাদের সমর্থনে তারা অপরাধ করছে, তাদের খোঁজা হচ্ছে না।
হ্যাপী, শিক্ষার্থী
মিরপুর, ঢাকা।
ক্রসফায়ার অবশ্যই সন্ত্রাসীদের দমনে একমাত্র উপযুক্ত পন্থা। কিন্তু সাধারণ জনগণ নয়। সাধারণ মানুষ যেন হয়রানি না হয় সেদিকে সরকারের লক্ষ রাখা উচিত।
নুরউন নাহার শিরীন, লেখক
গুলশান, ঢাকা।
ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার বিষয়টি কোন সভ্য সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে ভাবা যায় না। কিন্তু এখানে কথা আছে, যখন দেশ ও সমাজ সন্ত্রাসযজ্ঞের শিকারে পরিণত হয় তখন সমাজ থেকে চিহ্নিত দাগী অপরাধীদের নির্মূলের কৌশল হিসেবে যদি ক্রসফায়ার করে তবে তা সমর্থযোগ্য।
মোজাম্মেল হক, ব্যবসায়ী
কিশোরগঞ্জ।
আমি ক্রসফায়ার সমর্থন করি। এটা চলুক। চলতে থাক।
জামেদ হুদা
সরকারি চাকরিজীবী, সিলেট।
ক্রসফায়ার সন্ত্রাসীদের আতঙ্ক। আমাদের বিচারপ্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতির। এ জন্য সন্ত্রাসীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাই কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে বিচারের চেয়ে এই পন্থাই উত্তম। তবে ক্রসফায়ার যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির জীবন কেড়ে না নেয়, এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে।
তাহমিনা বেগম
গৃহিণী, মিরপুর, ঢাকা।
সরকার সন্ত্রাসীদের দমন করার লক্ষ্যে ক্রসফায়ার চালু করেছে। কিন্তু এটা আমি সমর্থন করি না, কারণ এভাবে সন্ত্রাস দমন সম্ভব নয়। এটা এক ধরনের আইওয়াশ বলে আমি মনে করি। মানবিক দৃষ্টিতে এটা সমর্থনযোগ্য নয়।
শুভ, শিক্ষার্থী
নোয়াখালী সরকারি কলেজ।
আমি মনে করি, ক্রসফায়ার পদ্ধতি ঠিক নয়। কারণ বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাই সমর্থনযোগ্য নয়।
শাহিন আলম
ব্যবসায়ী, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।
এই সরকার যদি ক্রসফায়ার বন্ধ না করে, তাহলে তারা ওয়াদা ভঙ্গকারী হিসেবে চিহ্নিত হবে। কারণ এটা তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল।
শেখ সিরাজুল ইসলাম
চাকরিজীবী, পাইকাড়পাড়া, বগুড়া।
ক্রসফায়ার থাকুক, তবে এর যেন অপব্যবহার করা না হয়।
বিমান ধর
শিক্ষার্থী, সিলেট।
আমি ক্রসফায়ার সমর্থন করি না। কারণ এতে ছোট সন্ত্রাসীরাই মারা পড়ছে, গডফাদাররা এর আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
রাশেদ খান হূদয়, শিক্ষার্থী
শ্যামলী, ঢাকা।
বিএনপি গত শাসনামলে ক্রসফায়ার চালু করে। সে সময় অনেক শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসীকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হয়। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ক্রসফায়ার বন্ধ ছিল। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে প্রথম দিকে এর বিরোধিতা করলেও আবার চালু করে। আমার মতে, ক্রসফায়ার অব্যাহত থাকলে সন্ত্রাস কিছুটা দমন থাকবে। তবে সাধারণ মানুষ যেন এর শিকারে পরিনত না হয় সেদিকে সজাগ থাকতে হবে।
আবু ইউসুফ মাসুদ
ব্যবসায়ী, বসুরহাট, নোয়াখালী।
ক্রসফায়ার একটা মিসফায়ার, কারণ ক্রসফায়ার করে শুধু সন্ত্রাসীদের মেরে ফেললে সন্ত্রাস নির্মূল হবে না, বরং সন্ত্রাসীদের গোড়া নির্মূল করতে হলে যারা সন্ত্রাস এবং সন্ত্রাসীদের লালন করে, সেসব গডফাদারকে খুঁজে তাদের বিচার আগে করতে হবে। তা না হলে সন্ত্রাসী বাড়তে থাকবে এবং ক্রসফায়ার চলবে।
সেলিম
ব্যবসায়ী, সিলেট।
ক্রসফায়ার নিন্দনীয় শব্দ। গত সরকার ও এই সরকার যে বিচারবহির্ভূত হত্যাগুলো করেছে, এগুলো ঠিক নয়। এর ফলে সন্ত্রাসী আরও বাড়ছে।
মিরাজ-উল-ইসলাম মাহীর
শিক্ষার্থী, মীরকাদিম সদর, মুন্সিগঞ্জ।
অন্যায়কে প্রতিরোধ করতে মহা অন্যায় করা হচ্ছে। বিনা বিচারে যারা ক্রসফায়ারে মানুষকে হত্যা করছে তারা দেশ ও জাতির শত্রু।
স্বাধীন এই মাতৃভূমিতে ক্রসফায়ার করে যেন আর একটি প্রাণও বধ করা না হয়।
অলিউর রহমান
সরকারি কর্মকর্তা (অব.)
কাফরুল, ঢাকা।
আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা সমর্থন করি না। তবে আমার মনে হয়, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এটা ঠিক আছে। ক্রসফায়ারের আগে অপরাধীর ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে। এটার জন্য আমাদের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আছে।

মানহানিকর বিজ্ঞাপন ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট -সরল গরল by মিজানুর রহমান খান

সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন অর্থের বিনিময়ে প্রকাশ করা হয়। তাই বলে তা একেবারে সাংবাদিকতার নীতিমালার বাইরের বিষয় নয়। একজন দায়িত্বশীল সম্পাদক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রিপোর্ট বা সম্পাদকীয় প্রকাশে সতর্কতার পরিচয় দেন। কিন্তু বিজ্ঞাপন বলেই তিনি অসতর্ক হতে পারেন না।
বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ৩৯ বছরে সাংবাদিকতাবিষয়ক প্রশিক্ষণ, লেখালেখি, গ্রন্থ রচনা বিরল নয়। কিন্তু বিজ্ঞাপনের বিশাল জায়গাটি রয়ে গেছে অচেনা, অনাবিষ্কৃত ও অনালোচিত। বিজ্ঞাপন ছাপার সীমারেখা নিয়ে একটি তর্ক-বিতর্কের সূচনা ঘটানোর তাড়না থেকেই এ লেখা। আর তা লিখতে গিয়ে সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপনবিষয়ক জগিট আমার কাছে যেভাবে উন্মোচিত হলো, তা চমকপ্রদ।
১৯৮৪ সালে পেঙ্গুইন প্রকাশ করেছে মিডিয়া ল। এর দুই লেখক জিওফ্রে রবার্টসন ও অ্যান্ড্রু নিকোল। দুজনই আইনজীবী, কুইন্স কাউন্সেল। ওই বইটির চতুর্থ সংস্করণের (২০০২) ৭১০ পৃষ্ঠায় দেখি একটি উপশিরোনাম, ‘দ্য অ্যাডভার্টাইজিং স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি’ (বিজ্ঞাপন মান কর্তৃপক্ষ) এএসএ। তারাই ব্রিটেনের বিজ্ঞাপন শাসনকর্তা। তাদের অভিজ্ঞতা একটু বিশদ বলি। কারণ ব্রিটিশ বিজ্ঞাপন কোডই বিশ্বজুড়ে অনুসরণীয়। প্রতিবেশী ভারতেও তা সমাদৃত।
ব্রিটেনের বিজ্ঞাপনশিল্প ১৯৬২ সালে চাপের মুখে পড়েছিল। কারণ এ সময়টিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণসংক্রান্ত মলোনি কমিটি (Moloney Committee) গঠিত হয়। তারা বিধিবদ্ধ নিয়মকানুন চালুসহ নানা কড়াকড়ি আরোপ করে। বিজ্ঞাপনজগত্ নড়েচড়ে বসে। তাঁরা বুঝতে পারেন, নিয়মনীতি ছাড়া বিজ্ঞাপন ছাপানোর দিন শেষ। সরকারের মুখাপেক্ষী হননি তাঁরা। নিজেরাই বিজ্ঞাপনবিষয়ক কার্য ও নীতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হন। গঠিত হয় ওই এএসএ। এর মূলমন্ত্র ঠিক হলো, বিজ্ঞাপন হবে ‘আইনানুগ, সুন্দর, সত্ ও সত্য।’ গত ৫০ বছরে এএসএ ব্রিটেনে সবচেয়ে কার্যকর ও শ্রদ্ধেয় জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সে তুলনায় ব্রিটিশ প্রেস কাউন্সিল দুর্বল।
স্বেচ্ছাসেবী ও বিজ্ঞাপনদাতাদের একান্ত নিজস্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে এএসএর মর্যাদা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি সরকারি সংস্থার চেয়ে কম নয়। তাদের প্রণীত বিজ্ঞাপন কোড বা বিজ্ঞাপনবিধি সবাই মানে। তাদের সীমাবদ্ধতা হলো, মিথ্যা বিজ্ঞাপনদাতা বা আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের তারা সরাসরি শাস্তি দিতে অপারগ। তবে বিজ্ঞাপনদাতার কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কৈফিয়ত তলব করতে পারে।
ব্রিটেনে যারা বিজ্ঞাপন কোড লঙ্ঘন করেন, তাদের শাস্তি জোটে সরকারি ‘অফিস অব ফেয়ার ট্রেডিং’ বা ওএফটির মহাপরিচালকের মাধ্যমে। রবার্টসন ও নিকোল লিখেছেন, ‘কেউ মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া ফেয়ার ট্রেডিং সংস্থার সংবিধিবদ্ধ দায়িত্ব।’
এএসএর কাউন্সিল খণ্ডকালীন ১২ সদস্য নিয়ে গঠিত। এর সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজ্ঞাপনজগতের বাইরের লোক। তাদের এখতিয়ারও ব্যাপক। পত্রিকা ছাড়াও সিনেমা, ভিডিও, ই-মেইল, ফ্যাক্স এমনকি রাস্তার ধারের হোর্ডিংগুলোতে সাঁটানো পোস্টার বিজ্ঞাপন পর্যন্ত। ব্রিটিশ প্রেসে বছরে প্রায় তিন কোটি বিজ্ঞাপন ছাপা হয়। হোর্ডিংগুলোতে পোস্টার পড়ে এক লাখ। আর এ থেকে গড়ে ১২ হাজার অভিযোগ আসে। বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনবিষয়ক এ রকম কোনো তথ্য জানা যায় না।
বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যক্তির চরিত্র হনন বা তাকে কোনোভাবেই হেয়প্রতিপন্ন করার বিষয়ে ব্রিটিশ কোড অত্যন্ত সংবেদনশীল। কোড বলেছে, ‘বিজ্ঞাপনদাতাদের উচিত নয় কোনো লোককে নেতিবাচক বা আক্রমণাত্মকভাবে উপস্থাপন করা।’ ব্যক্তি ছাড়াও অন্যের ব্যবসায় বা তাদের পণ্য সম্পর্কে কোড বলেছে, বিজ্ঞাপনদাতাদের উচিত নয়, অন্যের ব্যবসায় বা পণ্যের বিরুদ্ধে অশালীন আক্রমণ করা বা তাকে খাটো করা।
আধাবিচারিক সরকারি সংস্থা ওএফটি এবং বেসরকারি এএসএর কার্যক্রমের ওপর রয়েছে ব্রিটিশ আদালতের পূর্ণ এখতিয়ার। এএসএ যখন কোনো আপত্তিকর বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করার আদেশ দেয়, তখন অধিকাংশ বিজ্ঞাপনী সংস্থা তা দ্রুত তামিল করে। ১৩ সদস্যের কাউন্সিলের বর্তমান চেয়ারম্যান সাবেক সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমমন্ত্রী ক্রিস স্মিথ।
মিথ্যা বিজ্ঞাপন প্রকাশের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকার বিশেষ মনোযোগ দেয় দুই দশক আগেই। রবিনসন ও নিকোল বলেন, ‘১৯৮৮ সালে ফেয়ার ট্রেডিংয়ের মহাপরিচালককে নির্দিষ্টভাবে মিথ্যা বিজ্ঞাপনদাতাদের শায়েস্তা করতে সংবিধিবদ্ধ ক্ষমতা দেওয়া হয়।’ (প্রাগুক্ত। পৃ. ৭১৮)। দ্য কন্ট্রোল অব মিসলিডিং অ্যাডভার্টাইজমেন্টস রেগুলেশনস, ১৯৮৮-এর মূল কথা হলো, বিজ্ঞাপনে মিথ্যা তথ্য দেওয়া যাবে না।’ এএসএ কখনো ব্যর্থ হলে সরকারি ফেয়ার ট্রেডিংয়ের মহাপরিচালক উদ্যোগ নেন। এটাই সর্বশেষ হাতিয়ার। ব্রিটিশদের রয়েছে অন্ধ স্লিম-প্রীতি। বছরে ৬০০ কোটি পাউন্ডের ব্যবসা। সানডে স্পোর্ট পত্রিকায় স্লিম হওয়া নিয়ে একটি আপত্তিকর বিজ্ঞাপন ছাপা হচ্ছিল। এএসএর সিদ্ধান্তও পত্রিকাটি উপেক্ষা করে। আপত্তিকর বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা তাদের নেই। তাই তারা বিষয়টি পাঠায় ফেয়ার ট্রেডিংয়ের কাছে। এএসএর চিঠি পেয়ে ফেয়ার ট্রেডিং দেরি করেনি। সঙ্গে সঙ্গে ওই বিজ্ঞাপন বা একই ধরনের বক্তব্যসংবলিত বিজ্ঞাপন প্রকাশ নিষিদ্ধ করতে আদালতের মাধ্যমে ইনজাংশন জারির পদক্ষেপ নেয়। বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতার স্বর্গভূমিতেও বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণের নজির কিন্তু আমরা পেলাম।
বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত পত্রপত্রিকাও অনেক সময় বিজ্ঞাপনকে পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদনের চেহারা দিয়ে ছাপানোর চেষ্টা চালায়। উদ্দেশ্য হলো পাঠককে বিভ্রান্ত করা। তাদের বোঝানো যে এটি বিজ্ঞাপন নয়, পত্রিকার প্রতিবেদন বা নিবন্ধ। ব্রিটিশ কোডে এ ধরনের তত্পরতা নিষিদ্ধ।
রবিনসন ও কলিন তাঁদের বইয়ের ৭২০ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ‘সংবাদপত্রগুলো বিজ্ঞাপনদাতাদের পণ্য বা তাদের লোকজন সম্পর্কে সমালোচনামূলক সম্পাদকীয় প্রকাশ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করতে গিয়ে সময়ে সময়ে বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রতিশোধের শিকার হয়।’ বাংলাদেশে এ ধরনের প্রতিশোধপরায়ণতার বহিঃপ্রকাশ ‘যেকোনো পন্থায়’ ঘটানো সম্ভব হতে পারে। সভ্য ব্রিটেনের বিজ্ঞাপনদাতারাও প্রতিশোধ নেন। তবে তা নেওয়ার উপায়টা হলো, কোনো সংবাদপত্রকে ভবিষ্যত্ বিজ্ঞাপন দেওয়া থেকে বঞ্চিত করে। বিজ্ঞাপনবিষয়ক চুক্তি বাতিল করে। আবার এ কাজ একটি বেসরকারি সংস্থার পক্ষে যতটা সহজ, সরকারি সংস্থার পক্ষে তত সহজ নয়। মিডিয়া সম্রাট রুপার্ট মারডকের সাময়িকী টাইমস এডুকেশন সাপ্লিমেন্ট-এ শিক্ষাবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিত লেবার-দলীয় নেতা নিয়ন্ত্রিত ‘ডারবিশায়ার কাউন্টি কাউন্সিল’। কিন্তু মারডকের মালিকানাধীন দৈনিক সানডে টাইমস যখন লেবার নিয়ন্ত্রিত ওই কাউন্সিল ও তার নেতা ডেভিড বুকবাইন্ডারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ শুরু করে, তখন তারা প্রতিশোধ নেয়। এডুকেশন সাপ্লিমেন্টের বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দিলে তারা মামলা করে। কাউন্সিল আদালতে হেরে যায়। আদালত বলেন, বিজ্ঞাপন বাতিলের সিদ্ধান্ত জনস্বার্থে হয়নি। এটা প্রতিশোধ, তাই তা অবৈধ।
ব্রিটিশ বিজ্ঞাপন কোড অনুসরণ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ব্রিটেন ইইউর বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। শুধু ইইউভুক্ত নয়, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশও এর সদস্য হয়েছে। সেখানে রয়েছে মিসলিডিং অ্যাডভার্টাইজমেন্টস (সংশোধন) রেগুলেশন ২০০০। কমনওয়েলথের বহু দেশ ওই কোডের আদলে স্বতন্ত্র বিজ্ঞাপন কোড করেছে। আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স আইসিসির ওয়েবসাইটেও একটি বিজ্ঞাপন কোড রয়েছে। সবগুলোরই বিষয়বস্তু মোটামুটি অভিন্ন। ডাহা মিথ্যা রিপোর্ট যে সংবাদপত্রে ছাপা যায় না, তা কে না জানে। কিন্তু টাকার বিনিময়ে জেনে-শুনে ডাহা মিথ্যা কথা বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে দায়মোচনের কোনো পথ কোথাও খোলা আছে কি না, তা কিছুটা খতিয়ে দেখলাম। কোথাও দৃষ্টান্ত পেলাম না।
ভারতের দি অ্যাডভার্টাইজিং স্ট্যান্ডার্ডস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (এএসসিআই) একটি অমুনাফাভোগী প্রতিষ্ঠান। ভারতীয় কোম্পানি আইনের ২৫ ধারা অনুযায়ী গঠিত মুম্বইভিত্তিক এএসসিআই একটি শক্তিশালী ও কার্যকর বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সব বিভাগ ও সংস্থায় বিজ্ঞাপনসংক্রান্ত যেকোনো কমিটি বা আলোচনায় তাদের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এএসসিআই প্রণীত বিজ্ঞাপনবিধির প্রথম পরিচ্ছেদের প্রথম দফার প্রথম বাক্যটি হলো, বিজ্ঞাপন অবশ্যই ট্রুথফুল বা সত্যনিষ্ঠ হবে। তিন দফা বলেছে, বিজ্ঞাপনে যদি কোনো ব্যক্তির সুনামও করা হয়, তাহলে সে জন্য তার অনুমতি থাকতে হবে। আর বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করা যাবে না। বিজ্ঞাপন দিয়ে তথ্যের বিকৃতি ঘটানো যাবে না। এএসসিআই বছরে ১২০ থেকে ১৪০টি বিজ্ঞাপনবিষয়ক অভিযোগ পেয়ে থাকে।
ব্রিটেনে মানহানির মামলায় পরাস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে মিলিয়ন মিলিয়ন পাউন্ড গুনতে হয়। বাক্স্বাধীনতার দেশ আমেরিকায় অবশ্য মানহানি মামলায় জেতা সহজ নয়। কিন্তু যদি প্রমাণ করা যায় যে মিডিয়া সত্যিই মিথ্যা ও মানহানিকর খবর বা বিজ্ঞাপন ছেপেছে, তাহলে তার নিস্তার নেই। ২০০৬ সালে লুজিয়ানার এক নারী ফ্লোরিডার এক নারীর বিরুদ্ধে ইন্টারনেট ব্লগ বা মেসেজ বোর্ডে মানহানিকর কথা লিখেছিলেন। তিনি তাঁকে বলেছিলেন, ‘ক্রুক ও ফ্রড’। ফ্লোরিডার ব্রওয়ার্ড কাউন্টির একজন জুরি এ কারণে অভিযুক্তকে ১১ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদানের রায় দেন। ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাপানো দণ্ডনীয় বলে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ১৯০৯ সালেই রায় দিয়েছিলেন। পেক বনাম ট্রিবিউন শীর্ষক ওই মামলায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এ কথাও বলে দেন, বিজ্ঞাপনে দেওয়া ভুল তথ্য তৃতীয় কোনো ব্যক্তির জন্য মানহানিকর হলে তাও দণ্ডনীয়।
বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় তেমন কোনো ঝুঁকি ছাড়াই মানহানিকর খবর ও বিজ্ঞাপন ছাপা হয়। প্রতিকারের জন্য আইনি ও বিচার পরিমণ্ডল থেকে প্রতিকার লাভ পরিচ্ছন্ন নয়। ফৌজদারি কার্যবিধিতে ৫০০, ৫০১, ৫০২-এর যেসব বিধান রয়েছে, তার কার্যকর প্রয়োগ ঢিলেঢালা। মানহানির মামলা দায়ের করা ও তার খবর ফলাও করে প্রচারের মাধ্যমেই সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা প্রায়ই সান্ত্বনা খোঁজেন। ওই সব বিধান অজামিনযোগ্য। তাই মামলা দায়েরকারীরা সর্বাগ্রে একটি মামলা ঠুকে ওয়ারেন্ট জারি করানোর প্রবণতা দেখান। পত্রিকার সম্পাদকেরা তাই দাবি জানিয়ে আসছিলেন, যাতে এই বিধান না থাকে। জরুরি অবস্থায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিষয়টি আইন কমিশনে পাঠিয়েছিলেন। বিচারপতি মোস্তাফা কামালের নেতৃত্বাধীন তত্কালীন আইন কমিশন এই বিধান রহিত করতে রাজি হয়নি। তারা যুক্তি দেখায়, ব্যক্তির সম্মান ও মর্যাদা সবচেয়ে দামি। এ জন্য ফৌজদারি কার্যবিধিতে ওই বিধান থাকতে হবে।
বিজ্ঞাপনের এক বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে আজ বাংলাদেশে। গড়ে উঠেছে অনেক বিজ্ঞাপনী সংস্থা। তাদের একটি সংগঠনও রয়েছে বলে জানালেন প্রথম আলোর বিজ্ঞাপন বিভাগের প্রধান রশিদুর রহমান সবুর। তিনি নিশ্চিত করেন, ‘বাংলাদেশে বিজ্ঞাপনবিধি প্রবর্তন নিয়ে তেমন আলাপ-আলোচনা কখনো হয়নি। পত্রিকাগুলো অলিখিত কিছু নিয়মকানুন মেনে চলে। প্রথম আলো নানা ধরনের হেকমত, স্বপ্নবিষয়ক বুজরুকি, ধরিয়ে দিন ইত্যাদি ধরনের বিজ্ঞাপন ছাপে না।’ আসলে এসব মুদ্রণ প্রচলিত আইনে নিষিদ্ধ। কিন্তু সংবাদপত্র এক ধরনের অঘোষিত অন্যায্য দায়মুক্তি ভোগ করে চলেছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ মামলা করার ঝামেলায় যেতে চায় না। বিশ্বের ও ভারতের অভিজ্ঞতা আমরা কাজে লাগাতে পারি। ভারতীয় বিজ্ঞাপনবিধির চতুর্থ পরিচ্ছেদের চতুর্থ দফা বলেছে, বিজ্ঞাপন প্রচলিত কোনো আইনের লঙ্ঘন ঘটাবে না কিংবা আইনের শর্ত পূরণ করা থেকে বিচ্যুত হবে না। এ ধরনের একটি বিধান আমাদের থাকা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। মনে রাখা ভালো, আমরা বিশ্বায়নের যুগে বাস করছি। জাতীয় আইনি পরিমণ্ডলে শূন্যতা বজায় রেখে নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে রেখে অনন্তকাল ধরে নিরাপদ ভাবা বোকামি। আমেরিকার বিখ্যাত ব্যবসা সাময়িকী ফর্বস। তাদের এক লেখায় ক্ষুব্ধ হলেন রুশ ব্যবসায়ী বরিস ব্রেজোভস্কি। তিনি আমেরিকা কিংবা রাশিয়ায় নয়, মানহানির মামলা ঠুকলেন ব্রিটেনে। ওই সাময়িকীর অনলাইন সংস্করণ যেহেতু ইন্টারনেটে ব্রিটেনবাসী দেখতে পায় এবং ব্রিটেনে ব্রেজোভস্কির ব্যবসাগত স্বার্থ ও যোগসূত্র রয়েছে, তাই তিনি ব্রিটেনের টর্ট আইনে প্রতিকার চাইলেন। বিচারপতি পপলওয়েল ১৯৯৭ সালের ২২ অক্টোবর এর ওপর দাঁড়িয়ে রায় দেন, মামলা দায়েরের অধিকার তাঁর রয়েছে। কিন্তু ব্রিটেনে তাঁর স্বার্থ খুবই নগণ্য। তাই তাঁর উচিত রুশ কোর্টে মামলা করা। ব্রেজেভস্কি দমবার পাত্র নন। ১৯৯৮ সালের ১৯ নভেম্বর ইংল্যান্ডের কোর্ট অব আপিল তাঁর আপিল গ্রহণ করেন। তাঁরা বলেন, এই মানহানি মামলার বিচার অবশ্যই ব্রিটেনে হতে পারে। সুতরাং দেশে যাঁরা আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী রয়েছেন, তাঁরা বিদেশি জুরিসডিকশন বা অধিকারক্ষেত্রের দিকে চোখ রাখতে পারেন। কোনো কোনো সম্পাদক ভাবতে পারেন, অনলাইনে পাওয়া জিনিস বর্জ্য কি না, তা পরখ করার দরকার নেই। কিন্তু তা ভুল। ইন্টারনেট-সংক্রান্ত মানহানি আইন ও তার ব্যাপকতা অনেকটা ধেয়ে আসছে। কোনো ওয়েবসাইটের গালগল্প ছেপে ঘুমিয়ে পড়লে চলবে না।
আমাদের পত্রপত্রিকাগুলো অনলাইনে গিয়ে কার্যত নিজেদের অজান্তেই আন্তর্জাতিক আইনি পরিমণ্ডলে প্রবেশ করছে। যেকোনো মিথ্যা ও কুত্সাপূর্ণ বিজ্ঞাপন এখন অনলাইনের কল্যাণে আর কেবলই অভ্যন্তরীণ থাকছে না; এর আন্তসীমান্ত প্রভাব অনিবার্য হচ্ছে। এফবিসিসিআইয়ের মতো সংগঠনগুলো তাই বাংলাদেশে বিজ্ঞাপনবিধি না থাকার বিষয়ে নীরব দর্শক হতে পারে না। ব্রিটেন ও ইউরোপে যাদের যথেষ্ট বাণিজ্য স্বার্থ রয়েছে, আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স—আইসিসির সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, বিদেশি অধিকারক্ষেত্রেও তাদের প্রতিকারের উপায় আছে কি না, তা হয়তো খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। ব্রাসেলসভিত্তিক ইউরোপীয় অ্যাডভার্টাইজিং স্টান্ড্যার্ডস অ্যালায়েন্স প্রণীত ব্লু বুক বাংলাদেশ সরকারের ওপরও সমানভাবে প্রযোজ্য। সুতরাং ব্রিটেন বা ইউরোপের সঙ্গে বিরাট ব্যবসায় স্বার্থ রয়েছে, এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে মিথ্যা বিজ্ঞাপন আগ্রাসনের শিকার হলে বা আগ্রাসী ভূমিকায় নেমে পড়লে সরকার বাহাদুরও হয়তো নিরপেক্ষ বা ‘চেয়ে চেয়ে দেখলাম’ অবস্থান নিতে পারে না।
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের বিধিবিধান একটি বিরাট রক্ষাকবচ। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করতে নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হবে। গণমাধ্যমের ওপর এর প্রভাব ন্যূনতম। ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্টের আওতায় ১৯৯৩ সালে একটি আচরণবিধি প্রণীত হয়। এতে বলা আছে, ‘মানহানিকর ও জনস্বার্থবিরোধী না হলে উপযুক্ত ব্যক্তির সই করা যেকোনো বিজ্ঞাপন ছাপানোর অধিকার সম্পাদকের রয়েছে। তবে কেউ যদি কোনো বিজ্ঞাপনের প্রতিবাদ করেন তাহলে তখন তাঁকে তা বিনামূল্যে ছাপতে হবে।’ অনেক ক্ষেত্রে সংবাদপত্রের সম্পাদকেরা এই আচারণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন। একটি সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত দিই।
নারায়ণগঞ্জের দৈনিক খবরের পাতায় ২০০৬ সালের ২১ নভেম্বর একটি মানহানিকর প্রতিবেদন বিজ্ঞাপন আকারে ছাপা হয়। এতে নারায়ণগঞ্জের তত্কালীন নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতের বিচারকের বিরুদ্ধে মামলার এক পক্ষ উেকাচের বিনিময়ে তার প্রতিপক্ষকে জামিন দান ও মামলা খালাসের জন্য বিচারককে ৫০ হাজার টাকা প্রদানের মতো অভিযোগ আনে। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। বিচারক পত্রিকার সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মাসুমের বিরুদ্ধে প্রেস কাউন্সিলে মামলা (নং ৫/২০০৭) করেন। প্রেস কাউন্সিলের পাঁচ সদস্যের জুডিশিয়াল কমিটি (বিচারপতি আবু সাঈদ আহাম্মদ, প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ, আলমগীর মহিউদ্দিন, ফজলুল করিম ও আব্বাস উদ্দিন আফসারীকে নিয়ে গঠিত) ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর পত্রিকার সম্পাদককে দোষী সাব্যস্ত করেন। কমিটির রায়, ‘খবরের পাতা পত্রিকার সম্পাদককে মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ সংবাদ প্রচারের কারণে তিরস্কার, ভর্ত্সনা ও সতর্ক করা হলো।’ এই রায় হুবহু সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় ছাপানোর নির্দেশ ছিল। এবং তা তামিল হয়েছিল বলে পত্রিকাটির সম্পাদক আমাকে টেলিফোনে নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশের একটি বিজ্ঞাপনবিধি দরকার। দরকার এ বিষয়ে একটি স্বনিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান। বিজ্ঞাপনশিল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশু বিবেচনায় নিতে পারেন যে নিজেরা নিজেদের তদারক না করলে তাঁরা অন্যের নিয়ন্ত্রণের কবলে পড়তে পারেন।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।

সরকারি প্রকল্প কেন যথাযথভাবে শেষ হয় না -ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথ

সরকারের কী কাজ, অনেক সময় তা নিয়ে কঠিন ধাঁধায় পড়তে হয়। সরকারি সংস্থার ভূমিকা জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করা কি না, এমন প্রশ্ন জাগাও অস্বাভাবিক নয়। ঢাকা শহর ঘিরে বৃত্তাকার নৌপথ প্রকল্পের বেহাল দশাই এই অপ্রিয় প্রশ্ন তোলার কারণ।
২০০৫ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প চার বছর পরও শেষ হয়নি। কাজ যতটা হয়েছিল, তাও অবহেলায় বাতিল হওয়ার পথে। অথচ যানজটে অচল ঢাকার জন্য, দূষণ ও দখলে বিপন্ন ঢাকার নদীর জন্য, রাজধানীতে থেকেও রাজধানীর সুবিধাহীন ঢাকাবাসীর জন্য এই প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন ও সুফলভোগ ছিল খুবই জরুরি। যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়; যার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তা-ই আসে সবচেয়ে দেরিতে। ঢাকাকে ঘিরে বৃত্তাকার নৌপথ তেমনই এক আসি আসি করে না-আসা অগ্রগতির অপর নাম। গত বৃহস্পতিবারের প্রথম আলোয় এ অবহেলার সাতকাহন প্রকাশিত হয়েছে। যেমন: ড্রেজার নেই বলে নদী-খাল খনন বন্ধ, আগের খনন করা অংশ দখল করে নিচ্ছে ডেভেলপাররা। ওদিকে মন্ত্রী জানান, ড্রেজার হাতে পেলে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে। ড্রেজার আসতে দেড় বছর। তার আগে কি তাহলে দখলই থাকবে? নদী আর নৌপথের দেশে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) হাতে রয়েছে মাত্র সাতটি ড্রেজার! এটা বিশ্বাসযোগ্য? শেষ ড্রেজার কেনা হয়েছে ১৯৭৫ সালে। কর্তৃপক্ষের অবদান হলো, যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য ১২টি ল্যান্ডিং স্টেশন তো তৈরি হয়েছে! প্রথম আলোর অনুসন্ধান বলছে, ব্যবহার না হওয়ায় সেগুলো এখন বখাটেদের আখড়া, আর এসবের এক প্রহরী যিনি কিনা সেখানে বালুর ব্যবসা তদারকিতে ব্যস্ত।
অথচ প্রধানমন্ত্রী নিজে বারবার নদী উদ্ধার করে যোগাযোগে গতি আনার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু কাজের বেলায় মন্ত্রণালয় ও আমলাতন্ত্র পরস্পরকে দোষারোপে ব্যস্ত, এক বিভাগ আরেক বিভাগের মুখাপেক্ষী। এসবের খেসারত হিসেবে এক কাজ দুইবার করতে হয় এবং প্রকল্পের ব্যয় বেড়েই চলে। অন্যদিকে, নদীতীর, নদীবক্ষ, মজে যাওয়া খাল প্রভৃতি চলে যায় বালু, ভাটা, আবাসনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর দখলে। প্রকল্প সম্পাদনে এসব প্রভাবশালী ভূমি-ব্যবসায়ীর বাধাও কম নয়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জনস্বার্থ এবং লোপাট হয় সরকারি কোষাগার। পরিহাস করে তাই বলতে হয়, এর নামই সরকার!
ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথ প্রকল্প অতীব জরুরি এবং জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রকল্প—এই উপলব্ধি সরকারের সংশ্লিষ্ট সবার থাকা উচিত। প্রয়োজনে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের হস্তক্ষেপও আসুক। প্রমাণিত হোক, সরকার সক্রিয় আছে, দায়িত্বশীল আছে।

সব পক্ষের পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ চাই -শ্রমিক-অসন্তোষ ও মৃত্যু

টঙ্গীতে পুলিশের গুলিতে দুজনের মৃত্যু কিছু জ্বলন্ত প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে: তৈরি পোশাকশিল্পে মজুরি-শোষণ আর গুলি করে শ্রমিক হত্যা কি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে? মানুষের জীবন নেওয়া কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ? ইচ্ছামতো কারখানা বন্ধ করে দেওয়া কিংবা ইচ্ছামতো গুলিবর্ষণের ঘটনা কি আইনের ঊর্ধ্বের ব্যাপার?
যেকোনো মৃত্যুই দুঃখজনক এবং পুলিশের গুলিতে মৃত্যু আরও দুঃখজনক। তাই এটি হত্যাকাণ্ড, নাকি আইনের বিকল্পহীন প্রয়োগ—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সহস্রাধিক টিয়ার শেল নিক্ষেপ, বস্তিতে ঢুকে নির্বিচারে গুলি এবং পঞ্চাশেরও বেশি শ্রমিককে আহত করার কী প্রয়োজন তৈরি হয়েছিল? উভয় পক্ষের মধ্যে গ্রহণযোগ্য সমঝোতার চেষ্টা ছাড়াই পুলিশ কেন দমনের পথে গেল? এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর এই কথা যেন অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয় এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা ক্ষতিপূরণ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের তরফে একাধিক লাশ গুমের যে অভিযোগ উঠেছে, তার সত্যাসত্যও নিশ্চিত করা জরুরি।
কারখানা বন্ধ করার বিষয়ে শ্রম আইনে নির্দিষ্ট কিছু বিধি রয়েছে। নিপ্পন গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের আগাম নোটিশ দেওয়া, বন্ধকালীন (লে-অফ) অবস্থায় তাদের বেতন-ভাতা দেওয়ার বন্দোবস্তসহ অবশ্যপালনীয় বিধিগুলো মানেনি বলে প্রতীয়মান হয়। বিশেষত, ঈদের আগে এই ঘটনা শ্রমিকদের হতাশ ও বিক্ষুব্ধ করেছে। যেখানে তৈরি পোশাকশিল্পে মানবাধিকার লঙ্ঘন, মজুরি-শোষণ এবং বেতন-ভাতা না দেওয়াই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে শ্রমিকদের লা-জবাব করে রাখা কঠিন।
নিষ্ঠুর পরিহাসটি করেছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। তারা বলেছে, শ্রমিক-অসন্তোষের কারণ নাশকতা। অকাট্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ তোলা দায়িত্বশীলতা নয়। এই অসন্তোষ যে মূলত কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অন্যায়েরই প্রতিক্রিয়া, এই উপলব্ধি আসতে হবে। শ্রমিকের ক্ষুধার্ত উদরই অসন্তোষের কারণ। মালিক-শ্রমিক-সরকারের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি মোতাবেক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দেওয়াসহ এ পর্যন্ত সম্পাদিত বেশির ভাগ চুক্তিই অনেক কারখানায় বাস্তবায়িত হয়নি। একবিংশ শতকে শ্রমিকদের আগের মতো শোষণ করার সুযোগ নেই।
প্রবাসী শ্রমিক খাতের পরই তৈরি পোশাকশিল্প দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশি মুদ্রা অর্জনকারী খাত। এর বিকাশে সরকার ব্যাপক সহযোগিতা ও ভর্তুকি দিয়ে চলেছে। কর মওকুফসহ বহুবিধ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাধন্য এ শিল্পে কেন এত অনিয়ম-বঞ্চনা থাকবে, তা বোধগম্য নয়। এ শিল্পের ভবিষ্যতের স্বার্থেই এসব সমস্যার উচিত বিহিত হওয়া দরকার। সরকারকে মালিক-শ্রমিক উভয়েরই অভিভাবকের ভূমিকা নিতে হবে। মালিককে হতে হবে দায়িত্বশীল এবং শ্রমিকদের এ শিল্পের ভবিষ্যত্ স্বার্থের দিকটিও হিসেবে রাখতে হবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কারও জন্যই কোনো শুভ পরিণাম বয়ে আনে না।

প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা

প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনার ব্যবস্থা আছে; কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে সুযোগ কম। প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা করতে প্রয়োজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং শিশুদের প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা। প্রতিটি জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণকেন্দ্র আছে। সেখানে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিষ্ঠাবান শিক্ষকদের নিয়ে দক্ষ দল গঠন করে পরে সব জেলায় তাঁদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন করে বিশেষ শিক্ষার শিক্ষক দেওয়া হলে তাঁরা প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষিত করে তুলতে ভালো ভূমিকারাখতে পারবেন।
 মো. আলী আহাদ, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ।

অর্থনৈতিক উন্নয়নে পর্যটনশিল্প

পর্যটন হচ্ছে চিত্তবিনোদনের জন্য বা শিক্ষার উদ্দেশ্যে পরিভ্রমণ। জ্ঞানের পরিধিতে পর্যটন একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। তাই বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই পর্যটনশিল্প একটি উল্লেখযোগ্য সেবা খাত হিসেবে সুপরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ পর্যটনশিল্প দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নিতে পারেনি, যদিও আমাদের রয়েছে কক্সবাজার, সুন্দরবনের মতো অনেক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থান। অথচ ছোট একটি দ্বীপ দেশ মরিশাস পর্যটনশিল্প দিয়েই আজ সারা বিশ্বে সুপরিচিত। পৃথিবীতে এমন অনেক দেশই আছে যাদের জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ আসে পর্যটনশিল্প থেকে। বাংলাদেশে পর্যটনশিল্প বিকশিত ও প্রসার লাভ করলে এ দেশের অর্থনীতিতে তা বড় অবদান রাখবে।
দ্য ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড টুরিজম কাউন্সিল পরিমাপ করে দেখেছে, ১৯৯৮ সালে বিশ্বে পর্যটনশিল্পের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের অবদান ছিল ৮০০ বিলিয়ন ডলার, যার পরিমাণ ২০১০ সাল নাগাদ দ্বিগুণ হবে। এ ক্ষেত্রে বলা যায়, পর্যটনশিল্পের উন্নতির অর্থই হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের আয়ের ক্ষেত্র প্রসারিত হওয়া।
বিদেশে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প পণ্যের যথেষ্ট চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আমরা এসব পণ্য প্রচার ও দক্ষ মার্কেটিং ব্যবস্থার অভাবে বিদেশিদের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হই। তাই পর্যটনশিল্পের বিকাশের মাধ্যমে বেশি বেশি বিদেশি পর্যটক এ দেশে আনা সম্ভব হলে, এসব শিল্পপণ্যের চাহিদা অনেক বাড়বে। ফলে এসব ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প উত্পাদনকারী পরিবারগুলোর আয় বাড়বে। আর এতে করে বাড়বে দেশের সামগ্রিক চাহিদা। এভাবে ছোট পরিবারগুলোর আয় বাড়লে, এ দেশের অর্থনীতি একটি সুষম উন্নতির মাধ্যমে এগিয়ে যাবে।
পর্যটনশিল্পের বিকাশের ক্ষেত্রে প্রধান অবলম্বন বিদেশি পর্যটক। বিদেশিদের জন্য পৃথক টুরিস্ট জোন করে দিয়ে এ সম্ভাবনা আরও ভালোভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে। উল্লেখ্য, পার্শ্ববর্তী ভারতেও পৃথক টুরিস্ট জোন রয়েছে (যেখানে শুধু বিদেশি পর্যটকদের প্রবেশাধিকার রয়েছে)। বাংলাদেশ সরকারের উচিত সম্ভাবনাময় পর্যটনশিল্পের বিকাশে অনুরূপ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
>>সুজিত বণিক। শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

পুলিশি পাহারায় দরপত্র জমা -দ্রুত অনলাইনে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে

সরকারি ক্রয়, নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু প্রায় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী বা তাঁদের আশীর্বাদপুষ্ট মহল জোর করে দরপত্র ছিনতাই করে। অনেক সময় অন্যরা দরপত্র জমা দেওয়ার সুযোগই পান না। ফলে দক্ষ ঠিকাদারেরা কাজ পান না। প্রকল্পের বেশির ভাগ টাকা লুটপাট হয়ে যায়। উন্নয়ন-সহযোগী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংগতভাবেই স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলে। মর্যাদাসম্পন্ন যেকোনো জাতির জন্য এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক ব্যাপার।
দরপত্র-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীর সাবধানবাণী শোনা গেছে, কিন্তু কাজ হয়নি। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি দরপত্র ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ যাবতীয় অপকর্ম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার যথাযথ বাস্তবায়নই আসল কথা।
সব সন্ত্রাসীই সরকারি বা প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদে মহাপরাক্রমশালীরূপে আবির্ভূত হয়। সরকার যদি এদের পরাভূত করতে যথার্থই আন্তরিক হয়, তাহলে প্রথমে অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের মাথার ওপর থেকে সরকারি আশীর্বাদের ছাতাটি সরিয়ে নিতে হবে। সরকার এই সহজ কাজটি করতে কতটা প্রস্তুত, সেটাই বড় প্রশ্ন।
মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরির কথাও বলা হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে পুলিশ ও সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ এ ব্যাপারে কাজ করবে। গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে ছাড়িয়ে নিতে কোনো মন্ত্রী, সাংসদ বা সরকারি দলের কেউ তদবির করতে পারবেন না বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটিও ভালো, কিন্তু অংশিক ভালো মাত্র। কারণ, তদবিরে কেউ ছাড়া পেলে শুধু সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়ী করার কথা বলা হয়েছে। তার মানে তদবিরকারীরা থাকবেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এটা হতে পারে না। যাঁরা থানা-পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা দরকার।
সম্প্রতি পুলিশি পাহারায় ঢাকা সিটি করপোরেশনে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বোঝা যায়, উদ্যোগটি সুফল দেবে। কিন্তু ১ নভেম্বর প্রথম আলোর ইন্টারনেট জরিপে দেখা যায়, এক হাজার ২১ জন পাঠকের মাত্র ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ মনে করেন, পুলিশি ব্যবস্থায় টেন্ডারবাজি বন্ধ হতে পারে। এই আস্থাহীনতার পেছনে রয়েছে মানুষের দীর্ঘদিনের তিক্ত অভিজ্ঞতা। তাই দ্রুত অনলাইনে দরপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থায় যেতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও কারিগরি ব্যবস্থা চালু করা হোক। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির সুযোগ কমবে।

জেলহত্যা দিবস -ন্যায্য বিচার ছাড়া কলঙ্কমোচন ঘটবে না

শোকাবহ জেলহত্যা দিবস আজ। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে অশুভ রাজনৈতিক শক্তির চক্রান্তে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বাংলাদেশের জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের কলঙ্কিত এক অধ্যায়। আমরা আজ চার জাতীয় নেতা স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।
এ হত্যাকাণ্ড ছিল বিরাট ট্র্যাজেডি, কিন্তু ঘটনার ২৯ বছর পরও বিচার সম্পন্ন না হওয়ায় বিচার-প্রক্রিয়াটি দৃশ্যত পরিহাস হয়ে উঠেছে। সন্দেহ নেই যে এ হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ আলামত পরিকল্পিতভাবে নষ্ট করা হয়েছিল। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার দায়রা জজ মো. মতিউর রহমান দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারার অপরাধে রিসালদার মোসলেম উদ্দিন, দফাদার মারফত আলী শাহ ও এলডি দফাদার মো. আবুল হাশেম মৃধাকে আদালতের ভাষায় ‘নৃশংস, পৈশাচিক ও বর্বরোচিতভাবে গুলি করে হত্যা’র দায়ে মৃত্যুদণ্ড এবং ৩০২/১০৯ ধারার অপরাধে ফারুক-রশিদসহ ১৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া ষড়যন্ত্রের দায়ে অভিযুক্ত মেজর মো. খায়রুজ্জামানসহ চার রাজনীতিক তাহের উদ্দিন ঠাকুর, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, কে এম ওবায়েদুর রহমান ও নুরুল ইসলাম মঞ্জুর অভিযোগ ‘সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত’ না হওয়ায় খালাস পান। খায়রুজ্জামান ছাড়া বাকি অভিযুক্তদের মৃত্যু হয়েছে। লক্ষণীয় যে বিচারিক আদালতের ওই রায়ে ফারুক-রশিদসহ ২০ জনকে দণ্ডবিধির ১২০বি ধারার অভিযোগ থেকে ‘সম্পূর্ণ নির্দোষ গণ্যে প্রত্যেককে বেকসুর খালাস’ দেওয়া হয়।
মামলার মূল আসামিদের বেশির ভাগই ছাড়া পেয়ে যাওয়ায় রায়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ ওঠে। গভীর ষড়যন্ত্র ছাড়া এত বড় একটি হত্যাকাণ্ড সম্ভব কি না, সে প্রশ্নও বাস্তব। জাতীয় চার নেতার পরিবারের সদস্যরা এ রায় মেনে নেননি, সাধারণ মানুষের মনেও রয়েছে সংশয় ও ক্ষোভ। অনেক আইনবিদ মনে করেন, ওই ২০ জনকে ‘সম্পূর্ণ নির্দোষ’ ঘোষণার বিরুদ্ধে যথাসময়ে রিভিশন মামলা হওয়া উচিত ছিল। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল না করার বিষয়টিও বিস্ময়কর। উপরন্তু উচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দণ্ড নিশ্চিতকরণের শুনানি তো দূরের কথা, আদালতের দৈনন্দিন কার্যক্রমের (কজলিস্ট) তালিকায়ও তা ঠাঁই পায়নি। এ মামলার প্রধান কৌঁসুলি আনিসুল হক মন্তব্য করেছিলেন, ‘রাষ্ট্রের উচিত আপিল করা। কারণ এ রায় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বাস্তবতাবিবর্জিত।’ সুতরাং যা করা হয়নি, তা করাটা জরুরী।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করেছিল, ‘জেলখানায় চার নেতার হত্যাকাণ্ডের পুনর্বিচার করা হবে।’ কিন্তু ইতিমধ্যে হাইকোর্ট কেবল রিসালদার মোসলেম উদ্দিন ছাড়া অন্য দুজনের ফাঁসি মওকুফ এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া ১৫ আসামিকেই খালাস দেন। এই হলো জেলহত্যা মামলার পরিহাসময় পরিণতি, যেখানে কেবল একজনের ফাঁসি ছাড়া বাকি সবাই রেয়াত পেয়ে গেছেন, যাঁদের বেশির ভাগই এখন পলাতক।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ সুপ্রিম কোর্টে আপিলের আবেদন মঞ্জুরের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করেছে। আইনের শাসনের স্বার্থে দ্রুতই আপিল আবেদনের মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তির কোনো বিকল্প নেই। এবং এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের গাফিলতিতে ছাড় পাওয়া আসামিদের শাস্তির আওতায় আনার আইনি দিকগুলোও খতিয়ে দেখতে হবে।