Showing posts with label ফুটবল খেলা. Show all posts
Showing posts with label ফুটবল খেলা. Show all posts

Saturday, May 28, 2016

স্পেন হারল ইংল্যান্ডে

ছেলে পিয়েরফিলিপ্পোর বিয়ে আর স্পেনের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচটা পড়ে গেল একই দিনে। বাবা ফ্যাবিও ক্যাপেলো খেলাটাকেই বেছে নিলেন পেশার টানে। তাই পরশু ইতালির মিলানে যখন বাজছিল ছেলে পিয়েরফিলিপ্পোর বিয়ের সানাই, ইংল্যান্ড কোচ ক্যাপেলো ব্যস্ত ওয়েম্বলির ডাগ-আউটে।
তবে ছেলের বিয়েতে উপস্থিত থাকতে না পারার কষ্টটা হয়তো এই রাতে ভুলেই গেছেন ক্যাপেলো। ইংল্যান্ড যে প্রীতি ম্যাচে হারিয়ে দিয়েছে বিশ্ব ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে। জয় এসেছে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের একমাত্র গোলে।
ছেলের বিয়ের একটু আমেজ যেন তাই ৬৫ বছর বয়সী ক্যাপেলো টেনে এনেছিলেন ওয়েম্বলির কোলাহলপূর্ণ স্টেডিয়ামেও। ডাগ-আউটে এসেছিলেন গায়ে দামি সুগন্ধি মেখে। সেই সুগন্ধির সঙ্গে জয়ের সুবাস মিশে ম্যাচ শেষে যেন পুরো ওয়েম্বলিই ভাসছিল আনন্দের মৌতাতে।
কয়েক বছর ধরেই অন্যগ্রহের ফুটবল খেলতে থাকা স্পেন প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়েও তাদের খেলাটাই খেলেছে। পাসিং ফুটবলের পসরা সাজিয়ে পুরো সময়েই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ করে স্প্যানিশরা। শুধু গোলটাই তারা করতে পারেনি। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটে হেড করে স্পেনের পোস্টে বল পাঠিয়ে দেন ল্যাম্পার্ড।
গত ৩১ বছরে ডিফেন্ডিং বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন কোনো দলের বিপক্ষে এটাই ইংল্যান্ডের প্রথম জয়। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ইংল্যান্ড সর্বশেষ জিতেছিল ১৯৮০ সালে, এই ওয়েম্বলিতেই ১৯৭৮-এর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। তরুণ ম্যারাডোনাও ছিলেন সেই দলে। ক্যাপেলো কোচ হওয়ার পর ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর কোনো দলের বিপক্ষে এটা ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় জয়, আর স্পেনের বিপক্ষে ১০ বছর পর। ওয়েম্বলির কথা বললে, স্পেনের বিপক্ষে জয়টা ৪৩ বছর পর। এখানে স্পেনকে সর্বশেষ তারা হারিয়েছিল ১৯৬৮ সালে।
ম্যাচ শেষে ক্যাপেলো ছিলেন উচ্ছ্বসিত, ‘ছেলের বিয়ে এবং ইংল্যান্ডের জয়, সত্যিই এটা আমার জন্য অসাধারণ এক মুহূর্ত।’ জয়ের কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন তরুণ খেলোয়াড়দের। নিয়মিত অধিনায়ক জন টেরি চোটের কারণে খেলতে পারেননি। অধিনায়কের বাহুবন্ধনী পরেন চেলসি তারকা ল্যাম্পার্ড। আর অধিনায়কই জিতিয়েছেন দলকে। ইংল্যান্ডের পক্ষে এটি তাঁর ২৩তম গোল। তাঁর কথা, ‘এই রাতটি আমি কখনোই ভুলব না। আমি হয়তো শেষবারের মতো ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব করলাম। কিন্তু ওয়েম্বলিতে যা করেছি এরপর এটা নিয়ে আমার আর কোনো দুঃখ নেই।’
এই ম্যাচ দিয়েই আন্দোনি জুবিজারেতার স্পেনের পক্ষে সর্বোচ্চ ১২৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াস। কিন্তু রেকর্ড ছোঁয়ার রাতে ক্যাসিয়াসকে ছুঁল হতাশা, ‘খুবই খারাপ লাগছে যে আমরা জিততে পারিনি।’ কোচ দেল বস্কের কণ্ঠেও হতাশা, ‘আমি হতাশ এবং খারাপ লাগছে যে আমরা জিততে পারিনি। কিন্তু আমরা যেভাবে খেলেছি, তাতে আমি খুশি।’

Sunday, May 15, 2016

মেসি-তোরেসের উল্টো যাত্রা

দুজনের গল্পটা দু-রকম। একজন পুরোদস্তুর স্ট্রাইকার, এ সময়ের অন্যতম প্রতিভাবান। তার পরও ‘গোল’ জিনিসটা তাঁর কাছে যেন মরীচিকা হয়ে ছিল। অন্যজন ঠিক স্ট্রাইকার নন। তার পরও গোল তাঁর পায়ে ধরা দেয় অনায়াসে। কিন্তু পরশু রাতটা দুজনের কাটল দু-রকম। জোড়া গোল করলেন চেলসির ফার্নান্দো তোরেস। ৮৭৫ মিনিট আর আড়াই বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগে গোলের দেখা পেলেন এই স্প্যানিয়ার্ড। অথচ এদিন বার্সেলোনায় সবকিছু করেও গোলটাই পাননি লিওনেল মেসি।
এত অবলীলায় গোল করেন, মনে হয় যেন গোল করা কত সহজ। তবে এমন কিছু কিছু দিন যায়, যেদিন দুর্দান্ত খেলেও গোল পান না মেসি। তেমনই এক দিনে দূরপাল্লার ফ্রি কিক থেকে বারে লাগিয়েছেন, একবার লাগিয়েছেন পোস্টে; গোলরক্ষককে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে গেলেও ফাঁকা পোস্টে বল ঢোকাতে পারেননি।
মেসি না পারলেও সমস্যা নেই। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার স্কিলের দুর্দান্ত প্রদর্শনীতে করা ১০ মিনিটের গোল, আর সুযোগসন্ধানী ডেভিড ভিয়ার করা ৮২ মিনিটের গোলে চেক চ্যাম্পিয়ন ভিক্টোরিয়া প্লজেনের কাছ থেকে তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছেড়েছে বার্সেলোনা। অ্যাপোয়েল নিকোসিয়ার সঙ্গে নিজেদের মাঠে পোর্তোর ড্র বাদ দিলে এদিন প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে সবাই। সবচেয়ে বড় জয়টি চেলসির, গেঙ্ককে তারা উড়িয়ে দিয়েছে ৫-০ গোলে। জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ আর কেভিন প্রিন্স বোয়াটেংয়ের দুই অর্ধের দুই গোলে বাতে বরিসভকে হারিয়েছে এসি মিলান। শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে গোল করে আর্সেনালকে জিতিয়েছেন অ্যারন রামসে।
বার্সার আক্রমণে ধার ছিল ঠিকই। কিন্তু ফিনিশিংটা ভালো হয়নি। বিশেষ করে মেসি যেন শেষ মুহূর্তে ছন্দ হারিয়ে ফেলছিলেন। এ কারণে জিতলেও ঠিক মন ভরেনি পেপ গার্দিওলার, ‘এটা ভালো ম্যাচ ছিল, তবে আমরা যে ধরনের ফুটবল উপহার দিয়ে অভ্যস্ত, সেটা হয়নি। প্রতিপক্ষ এতটা রক্ষণাত্মক খেললে কাজটা কঠিন হয়। কিন্তু তার মানে এমন নয়, আমরা বল নিয়ে ঢুকতে পারছিলাম না। ঢুকতে পারছিলাম, কিন্তু কাজটা শেষ করতে পারিনি।’
গার্দিওলার ঠিক উল্টো অনুভূতি আন্দ্রে ভিলাস বোয়াসের। পাঁচ কোটি পাউন্ড খরচ করে লিভারপুল থেকে নিয়ে আসা তোরেস অবশেষে স্বরূপে ফিরছেন বলেই মনে করছেন চেলসি কোচ, ‘আত্মবিশ্বাস খেলোয়াড়দের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ও এখন নিজের দক্ষতার ওপর আস্থা রাখতে পারছে।’
তোরেসের মতো পরশু ম্যাচ শেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন আর্সেন ওয়েঙ্গারও। দল ফল দিতে না পারলে সরে দাঁড়াবেন, এমন ঘোষণাই ম্যাচের আগে দিয়েছিলেন। ৯০ মিনিট পর্যন্ত নিষ্ফলা আর্সেনাল হতাশই করেছে ফরাসি কোচকে। কিন্তু ইনজুরি টাইমে গোল করে ওয়েঙ্গারের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন রামসে। ইংলিশ লিগে অবস্থা খুবই নাজুক হলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে কিন্তু ‘এফ’ গ্রুপের শীর্ষেই আছে আর্সেনাল।

Monday, May 9, 2016

রিয়াল-বার্সার উল্টো ফল

গত মৌসুমের শেষের দিকে বার্সেলোনা এগোচ্ছিল দুর্দম গতিতে, আর রিয়াল মাদ্রিদ হোঁচট খাচ্ছিল মাঝেমধ্যেই। নতুন মৌসুমে চিত্রটা কি উল্টে যাবে? প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির ম্যাচগুলোতে রিয়াল এগিয়ে চলেছে অদম্য, আর হোঁচট খাচ্ছে বার্সেলোনা।
পরশুও রিয়াল-বার্সা দুই দলের ছিল উল্টো যাত্রা। চীন সফররত রিয়াল মাদ্রিদ গুয়াংজু এভারগ্রান্ডেকে উড়িয়ে দিয়েছে ৭-১ গোলে। আর যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে মেক্সিকোর ক্লাব শিভাস গুয়াদালহারা কাল বার্সেলোনাকে হারিয়েছে ৪-১ গোলে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, করিম বেনজেমা, অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া, মেসুত ওজিল—রিয়াল খেলছে পুরো শক্তি নিয়ে। আর বার্সেলোনায় খেলেননি দলের সাফল্যের প্রতীকে পরিণত হওয়া লিওনেল মেসি। গার্দিওলার দলে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশ্রণ ছিল প্রায় সমান সমান।
গত মৌসুমে রিয়ালের অর্জনের খাতাটা শূন্য ছিল বটে, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে রোনালদোকে অপ্রাপ্তি তেমন ছোঁয়নি। স্প্যানিশ লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পেয়েছেন পর্তুগিজ উইঙ্গারই। গোল করার সেই ধারাটা ধরে রেখেছেন রোনালদো। এ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের খেলা ছয়টি প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে একটি হ্যাটট্রিকসহ ৬ গোল করেছেন রোনালদো। গুয়াংজুর সঙ্গে ম্যাচেও একটি গোল পেয়েছেন। রোনালদোর সঙ্গে একটি করে গোল পেয়েছেন স্যামি খেদিরা, ওজিল, জেসে ও ডি মারিয়া। বেনজেমা করেছেন জোড়া গোল।
মেক্সিকান চ্যাম্পিয়ন শিভাসের বিপক্ষে বার্সেলোনার একমাত্র গোলটি করেছেন ডেভিড ভিয়া। ভিয়ার ৪ মিনিটের গোলে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল বার্সাই, প্রথমার্ধে বার্সেলোনার খেলা দেখে মনে হচ্ছিল গোলের মালা গলায় পরতে হবে শিভাসকে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে খেলাটা উল্টে যায় পাশার দানের মতো। ১২ মিনিটের মধ্যে তিন গোল করে শিভাস। দুই মিনিটের মধ্যে মার্কো ফ্যাবিয়ান অসাধারণ দুই গোল করে এগিয়ে দেন শিভাসকে। ৬০ মিনিটে তাঁর প্রথম গোল ৩০ গজ দূর থেকে আচমকা শটে, ৬২ মিনিটে বাইসাইকেল কিকে দ্বিতীয় গোল। ৭২ মিনিটে জিওভানি ক্যাসিয়াসের গোলের পর ৯০ মিনিটে বার্সার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন লুইস ভার্দুজকো। বার্সা বলতে পারে, প্রীতি ম্যাচের এই পরাজয়ে কী যায় আসে! তবে সত্যটা হলো, দলের রক্ষণ এমন বেহাল থাকলে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের আসন্ন মৌসুমে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হবে। ৭০ হাজারেরও বেশি দর্শকে ঠাসা মায়ামি ডলফিনের মাঠটিকে বিষণ্ন দেখা যায়নি ঠিকই। কিন্তু এটাও ঠিক, কেউ বার্সেলোনার ‘লাঞ্ছনা’ দেখতে আসেনি।

Monday, May 2, 2016

ফ্যালকাওয়ের দিকে রিয়ালের চোখ

এবার রাদামেল ফ্যালকাওয়ের দিকে চোখ পড়েছে রিয়াল মাদ্রিদের। ইউরোপা লিগের এক মৌসুমের ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানের গোলের রেকর্ড ভাঙা পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তোর স্ট্রাইকারকে পেতে আড়াই কোটি ইউরো পর্যন্ত খরচ করার কথা ভাবছে ক্লাবটি। ইন্টার মিলানের ডাচ মিডফিল্ডার ওয়েসলি স্নাইডারকে কিনতে চাইছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ওয়েবসাইট।
রিয়াল ফ্যালকাওয়ের পেছনে ছুটবে না-ই বা কেন! বার্সা-রিয়াল দ্বৈরথের বাইরে গত দুই সপ্তাহে ফুটবল-বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আলোচনার খোরাক জুগিয়েছেন তো ২৫ বছর বয়সী এই কলম্বিয়ান ফুটবলার। ইউরোপা লিগের সেমিফাইনালে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে ৫ গোল করে চলে এসেছেন পাদপ্রদীপের আলোয়।
ফ্যালকাও এ মৌসুমের ইউরোপা লিগে মোট ১৬ গোল করে ভেঙেছেন ক্লিন্সমানের ১৫ গোলের রেকর্ড। অসাধারণ এই নৈপুণ্যের জন্যই রিয়াল চাইছে এই মৌসুম শেষে তাঁকে দলে নিতে। অবশ্য এ জন্য তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে ম্যান সিটি থেকে ধারে নিয়ে আসা স্ট্রাইকার ইমানুয়েল আদেবায়োরকে রাখবে কি রাখবে না।
পর্তুগালের ও জোগো পত্রিকা জানিয়েছে, ৩ কোটি ইউরোর বাই আউট শর্ত থাকলেও পোর্তো আড়াই কোটি ইউরো পেলেই ছেড়ে দেবে তাদের সবচেয়ে বড় তারকাকে। যদিও পোর্তোর সঙ্গে বর্তমান চুক্তিটি ২০১৩ সাল পর্যন্ত। আর্জেন্টিনার রিভার প্লেট থেকে ২০০৯ সালে পোর্তোতে আসার পর ৮২ ম্যাচে ৭০ গোল করেছেন ফ্যালকাও। এবার ১৪ গোল করে জিতিয়েছেন লিগ।
এই গ্রীষ্মের দলবদলে ইন্টার মিলানের ডাচ তারকা ওয়েসলি স্নাইডার হলেন অ্যালেক্স ফার্গুসনের লক্ষ্য। ম্যানইউর মালিক পক্ষ গ্লেজার পরিবারকে বিষয়টি তিনি অবহিতও করেছেন বলে জানিয়েছে ক্লাবের ভেতরের একটি সূত্র। মালিকপক্ষ সম্মত হলেই স্নাইডারকে দেখা যেতে পারে ওল্ড ট্রাফোর্ডে। এ মৌসুম শেষে অবসরের ঘোষণা দিতে পারেন পল স্কোলস, আর তাঁর পরিবর্তেই ২৬ বছর বয়সী স্নাইডারকে চাইছেন ফার্গুসন।
ম্যারাডোনার জামাই আর্জেন্টাইন সার্জিও আগুয়েরো উড়িয়ে দিয়েছেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ছাড়ার গুজবকে। ২০১৪ সালে চুক্তি শেষ হওয়া পর্যন্ত মাদ্রিদেই থাকতে চান এই স্ট্রাইকার। শোনা গিয়েছিল চেলসি, জুভেন্টাস ও ম্যানইউ আগ্রহী তাঁর ব্যাপারে।

Tuesday, April 5, 2016

রাউলের ৭ চান রোনালদো

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে গিয়ে শুরুতে ৭ নম্বর জার্সিটা গায়েই তুলতে চাননি। পরে সম্ভাবনাময় তরুণ থেকে খ্যাতির চূড়ায় ওঠেন ওই জার্সি গায়েই। এবার বর্তমান ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদেও ৭ নম্বর জার্সিটা চাইছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ১৪ বছর ধরেই রিয়ালের ৭ নম্বর জার্সিটা রাউল গঞ্জালেসের সম্পত্তি। কিন্তু রিয়ালের সঙ্গে রাউলের ১৬ বছরের বন্ধন শেষ হতে যাচ্ছে এ মৌসুমে। রিয়ালের হয়ে প্রথম মৌসুমেই যা পারফরম্যান্স, তাতে রোনালদোর চাওয়া পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।
২০০৩ সালে পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিং থেকে রোনালদোকে ওল্ড ট্রাফোর্ডে নিয়ে আসেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। ১৮ বছরের তরুণের গায়ে চাপিয়ে দেন জর্জ বেস্ট, এরিক ক্যান্টোনা, ডেভিড বেকহামদের ৭ নম্বর জার্সি। জার্সিটার ওজনের কথা ভেবেই রোনালদো চেয়েছিলেন ২৮ নম্বর জার্সি, ফার্গুসন একরকম জোর করেই জার্সিটা চাপিয়ে দেন তাঁর গায়ে। পরে এই জার্সি গায়েই জিতে নেন ব্যালন ডি’অর ও ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কার। রিয়ালে এই জার্সি পাওয়ার সুযোগ ছিল না, ক্লাবের ঘরের ছেলে রাউলের সম্পত্তি ছিল সেটি। রোনালদোকে দেওয়া হয় ৯ নম্বর জার্সি, ‘সি আর ৯’ জার্সির লাখ লাখ কপিও বিক্রি করেছে রিয়াল।
তবে ঘরের ছেলের পর হয়ে যাওয়াটা এখন প্রায় নিশ্চিত। এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও ৩৩ বছর বয়সী রাউলের সঙ্গে জার্মান ক্লাব সালকে জিরো ফোর-এর দুই বছরের চুক্তি নাকি নিশ্চিত হয়ে গেছে। ১৯৯৪ সালে ক্লাবের ‘সি’ দলে অভিষেক, এরপর ‘বি’ দল হয়ে ওই মৌসুমেই মূল দলে অভিষেক হয়ে যায় ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে। ধীরে ধীরে রাউল হয়ে উঠেছেন রিয়ালেরই সমার্থক। ক্লাবের হয়ে জিতেছেন ছয়টি লা লিগা ও তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ। বছর সাতেক ধরে দলের অধিনায়কও তিনি। তবে বয়সের ভারে ধার অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছেন, হারিয়ে ফেলেছেন সেরা একাদশে জায়গাটাও। গত মৌসুমে ৩০ ম্যাচে গোল করেছেন মোটে সাতটি।
ক্রীড়া পত্রিকা এএস জানিয়েছে, ক্লাবের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার বিদায়টা স্মরণীয় করে রাখার আয়োজন করছে রিয়াল। ২৪ আগস্ট বার্নাব্যুতে একটি প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করা হচ্ছে, যেটায় রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিপক্ষ হতে পারে রাউলের নতুন ক্লাব সালকে জিরো ফোর অথবা বিশ্ব একাদশ। দুই অর্ধে দুদলের হয়ে খেলবেন রাউল। ম্যাচটি খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে লিওনেল মেসি, ডিয়েগো ফোরলান, বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগার, আরিয়েন রোবেন, ওয়েসলি স্নাইডার, কার্লোস পুয়োল ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে।
স্পেনের আরেক ক্রীড়া দৈনিক মার্কা জানিয়েছে, এই ম্যাচেই আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানো হতে পারে ক্লাবের আরেক ঘরের ছেলে গুতিকেও। রাউলের সঙ্গেই রিয়াল ক্যারিয়ার শুরু করা গুতির ১৪ নম্বর জার্সিটা আবার পেতে চান জাবি আলোনসো। স্পেন জাতীয় দলে ১৪ নম্বরই পরেন আলোনসো, পরতেন সাবেক ক্লাব লিভারপুলেও। গুতির জন্য রিয়ালে তাঁকে পরতে হচ্ছে ২২ নম্বর।

Thursday, February 25, 2016

সখীপুরে ফুটবল লিগ

ম্যাট্রিক্স সোয়েটার ফুটবল লিগের কালকের খেলায় নলুয়া ক্রিকেট একাদশ ৬-০ গোলে হারিয়েছে বহেড়াতৈল মুজিব স্মৃতি সংঘকে। নাজমুল ও রফিক ২টি করে গোলকরেছেন।—সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

Wednesday, February 10, 2016

আবার অস্ত্রোপচার মেসির!

কিডনিতে পাথর ধরা পড়ায় গত ডিসেম্বরে একবার অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। সে সমস্যা আবারও মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে লিওনেল মেসির। সোম ও মঙ্গলবার মেসিকে এ জন্য কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করতে দেওয়া হয়েছিল। স্প্যানিশ দৈনিক মার্কা লিখেছে, সেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গতকালই নাকি মেসির আবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। আজই মূল একাদশের সঙ্গে অনুশীলনে ফেরার কথা তাঁর।

রোনালদো জিনেদিন তার নাম!

বাবার পছন্দের ফুটবলার ছিলেন রোনালদো। মায়ের জিনেদিন জিদান। সেই সূত্রেই ছেলের নাম রোনালদো জিনেদিন! মা-বাবা শখ করে ছেলের নাম যা খুশি রাখতেই পারেন। কিন্তু সেই ছেলেও যে ফুটবলার হবে কে জানত!
ছেলে যখন মায়ের গর্ভে তখন ক্লাব ফুটবলে রিয়ালের দোর্দণ্ড দাপট। ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপ জিতে ‘দ্য ফেনোমেনন’ রোনালদো যোগ দিলেন রিয়ালের ‘চাঁদের হাটে’। যেখানে আগে থেকেই জাজ্বল্যমান জিনেদিন জিদান। ভিসেন্তে দেল বস্কের অধীনে সেই ২০০১-০২ মৌসুমে লিগ শিরোপা ছাড়াও, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, উয়েফা সুপার কাপ এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জেতে রিয়াল। রিয়ালভক্ত মেক্সিকান দম্পতি প্রিয় দলের খেলা দেখতেন। আর মায়ের গর্ভে থাকা ছেলে নড়েচড়ে উঠত। মা ধরেই নিয়েছিলেন তাঁর ছেলে নির্ঘাত ফুটবলার হবে। একদিন স্বামীর কাছে কথাটা পাড়লেনও, ‘দেখো সে ওই দুজনের (রোনালদো, জিদান) মতোই খেলোয়াড় হতে যাচ্ছে।’
বাবা ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারের ভক্ত হওয়ায় ছেলের নাম তিনি রোনালদোই রাখতে চেয়েছিলেন। আর মায়ের ইচ্ছা ছিল ছেলের নাম হবে জিনেদিন। শেষ পর্যন্ত দুজনের ইচ্ছার সমন্বয় ঘটিয়েই ২০০২ সালে পৃথিবীর আলোর দেখা ছেলের নাম রাখা হলো রোনালদো জিনেদিন!
১৪ বছর পর সেই ছেলেকে নিয়ে কেন এই লেখা? মেক্সিকোর প্রথম বিভাগ লিগের দল সন্তোস লাগুনার বয়সভিত্তিক দলে খেলা রোনালদো জিনেদিন সম্প্রতি ডাক পেয়েছেন মেক্সিকো অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল দলের অনুশীলন ক্যাম্পে! তাঁর বড় ফুটবলার হওয়ার পথে যেটিকে দেখা হচ্ছে প্রথম সোপান হিসেবে।
মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ কি করতে পারবেন রোনালদো জিনেদিন? গোলডটকম।

রেকর্ড কি গড়েই ফেলবে বার্সা?

 cএই ত্রিমূর্তিকে পাস কাটিয়ে বার্সার রেকর্ড গড়ায়
বাধা হতে পারবে ভ্যালেন্সিয়া? ছবি: রয়টার্স
নেইমারের খুব দ্রুতই কিছু গোল করা দরকার। না, বার্সেলোনার জন্য নয়, সম্ভাব্য সব প্রতিপক্ষের সুবিধার কথা ভেবেই গোল করা উচিত তাঁর। কোপা দেল রে’র সেমিফাইনালে ভ্যালেন্সিয়াকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা, হ্যাটট্রিক করেছেন মেসি-সুয়ারেজ দুজনই। কিন্তু তাতেও কোচ লুইস এনরিকের মন গলেনি। বার্সেলোনা নাকি এখনো সেরা ফর্মে আসতে পারেনি!
শেষ তিন ম্যাচে গোল পাননি নেইমার। এর মধ্যে একটি ম্যাচ ছিল লা লিগার শিরোপার অন্যতম দাবিদার অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে। কিন্তু তাতেও কোনো সমস্যা হয়নি। ২-১ গোলে ওই ম্যাচ জিতে সেদিন লিগের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে তারা। এরপর কাপ সেমিফাইনালের প্রথম লেগের বড় জয় দিয়ে ফাইনালেও এক পা দিয়ে রেখেছে। আর লেভান্তের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় দিয়ে নিজেদের অপরাজিত থাকার রেকর্ডকে নিয়ে গেছে ২৮ ম্যাচ পর্যন্ত। এর মধ্যে ২৩টিতেই জয়, ৫টিতে ড্র। সব প্রতিযোগিতা মিলে অপরাজিত থাকার রেকর্ডে ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের দলকে পার করে পেপ গার্দিওলার রেকর্ডকেও হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে লুইস এনরিকের বার্সেলোনা।
গার্দিওলার অধীনে ২০১০-১১ মৌসুমে টানা ২৮ ম্যাচ অপরাজিত ছিল বার্সা। আজ আবারও ভ্যালেন্সিয়ার মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। এই ম্যাচ না হারলেই রেকর্ড গড়ে ফেলবে বার্সেলোনা। টানা ২৯ ম্যাচ অপরাজিত থেকে গার্দিওলার রেকর্ড তো ভাঙবেই এনরিকের দল, সেই সঙ্গে স্প্যানিশ ফুটবলের নতুন রেকর্ডও গড়ে ফেলবে কাতালান ক্লাবটি।
সর্বশেষ ১০ ম্যাচে ৩৪ গোল বার্সার, খেয়েছে মাত্র ৫টি। যেকোনো বিচারেই দুর্দান্ত খেলছে কাতালান এই ক্লাব। কিন্তু এনরিকে তা মানছেন না, ‘না, এটা আমাদের সেরা ফর্ম নয়। এ মৌসুমে আমরা ভালো খেলছি, কিন্তু গত বছরের মতো নয়। গত মৌসুমের শেষ দিকে আমরা সেরা সময় পার করেছি।’
প্রথম লেগে ৭ গোল দিয়ে ফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছে বার্সা। এমন এক ম্যাচের আগে ফুরফুরে মেজাজেই থাকার কথা বার্সা কোচের। কিন্তু এনরিকে সাবধানী, ‘আমরা এখন মৌসুমের এমন এক পর্যায়ে আছি, যখন ম্যাচের ফল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শীর্ষে থাকার দৌড়ে এগিয়ে থাকাটা অনেক কঠিন।’
দেখাই যাক বার্সার রেকর্ড গড়া আটকাতে পারে কিনা ভ্যালেন্সিয়া! সূত্র: ফোর ফোর টু

কিডনি সমস্যা মেটাতে আজ অস্ত্রোপচার মেসির

অনেকদিন ধরেই কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। যার ফলে ডিসেম্বরে ক্লাব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও খেলতে পারেননি তিনি। তবে তেমন বড় কোনও বিষয় নয়। আজ মঙ্গলবার সেই সমস্যা মেটাতেই ছোট অস্ত্রোপচার হবে মেসির কিডনিতে। দু’দিনের মধ্যেই অনুশীলনে যোগ দিতে পারবেন তিনি। এদিনই চিকিৎসা শেষে বাড়িও ফিরে যাবেন মেসি। বৃহস্পতিবার অনুশীলনেও যোগ দেবেন। সোমবার অনুশীলনে যোগ দেননি মেসি। সোমবার নানা রকম পরীক্ষা হয়েছে তার। তার পরই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয় ডাক্তাররা। এই চিকিৎসার মাধ্যমে মেসির কিডনিতে যে স্টোন পাওয়া গিয়েছে সেটাকে গলিয়ে দেওয়া হবে। তবে ক্লাবের ওয়েব সাইটে জানানো হয়েছে এই দু’দিন ধরে বিভিন্ন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে মেসিকে। বুধবারই ক্লাব অনুশীলনে যোগ দিতে পারেন তিনি। তবে এই অস্ত্রোপচারের জন্য কোপা ডেল রে-র সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে হয়ত খেলা হচ্ছে না মেসির। যদিও ভ্যালেন্সিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম লেগে ৭-০ গোলে জিতে এগিয়ে রয়েছে বার্সেলোনা। এমন অবস্থায় মেসি না থাকলেও ফাইনালের কথা মাথায় রেখে দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের বিশ্রাম দিতে পারেন কোচ লুই এনরিকে।

Tuesday, February 9, 2016

আর্সেনালের সহজ জয়

 মাত্র দু’মিনিটে দু’টি গোল আর তাতেই ইপিএলে বোর্নমাউথের বিরুদ্ধে ম্যাচ সহজেই জিতল আর্সেন ওয়েঙ্গারের ছেলেরা৷ দীর্ঘ একমাস পর প্রিমিয়ার লিগে জয়ের স্বাদ পেল তারা৷  আর্সেনালের হয়ে গোল দুটি করেন মেসুট ওজিল ও অ্যালেক্স অক্সেলেড-চেম্বারলেন৷ এর আগে গত ২ জানুয়ারি লিগে শেষবার জিতেছিলেন ওজিল-স্যাঞ্চেজরা৷ নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল লন্ডনের ক্লাবটি৷ তাই রবিবার প্রতিপক্ষের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই জয়ের জন্য ঝাঁপায় তারা৷ ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুটি গোল হয়৷ ২৩ মিনিটে অলিভিয়ের জিরুঁর হেড থেকে বল পেয়ে জোরালো শটে দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন জার্মান মিডফিল্ডার মেসুট ওজিল৷ ক্রসবারে লেগে বল গোলে ঢুকে যায়৷ এর ঠিক পরের মিনিটেই দলের হয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে ফেলেন চেম্বারলেন৷ প্রথমার্ধে আর কোনও গোল হয়নি৷ দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ বজায় রাখে আর্সেনাল৷ উল্টোদিকে বোর্নমাউথও কয়েকটি সুযোগ পায় ব্যবধান কমানোর কিন্তু আর্সেনাল গোলকিপার পের চেকের তৎপরতায় কোনও গোল করতে পারে নি তারা৷ ফলে সহজেই ম্যাচটি জিতে যায় আর্সেন ওয়েঙ্গারের ছেলেরা৷   এই জয়ের ফলে ২৫ ম্যাচে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে ইপিএলে তৃতীয় স্থানে উঠে আসল আর্সেনাল৷ টটেনহ্যামের পয়েন্ট সমান হলেও গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকার সুবাদে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তারা৷ এছাড়া লিগ টেবিলে চতুর্থ স্থানে নেমে গিয়েছে ম্যাঞ্চেস্টার সিটি৷ তাদের পয়েন্ট ৪৭৷ আর শীর্ষে থাকা লেস্টার সিটির পয়েন্ট ৫৩৷

Saturday, December 3, 2011

স্পেন-আতঙ্কে সবাই

গ্রুপ অব ডেথ’ জীবনে অনেক শুনেছেন। কিন্তু ভাবুন তো, যদি একই গ্রুপে পড়ে স্পেন, জার্মানি, পর্তুগাল আর ফ্রান্স! এমনই এক সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়ে ইউরো ২০১২। আজ ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অনুষ্ঠিত হবে ইউরোর ড্র।
এক নম্বর পাত্রে দুই স্বাগতিক পোল্যান্ড-ইউক্রেনের সঙ্গে আছে স্পেন ও হল্যান্ড। দ্বিতীয় পাত্রে জার্মানি, ইতালি, ইংল্যান্ড ও রাশিয়া। তৃতীয় পাত্রে ক্রোয়েশিয়া, গ্রিস, পর্তুগাল ও সুইডেন এবং চতুর্থ ও শেষ পাত্রে আছে ডেনমার্ক, ফ্রান্স, চেক প্রজাতন্ত্র ও আয়ারল্যান্ড। ফলে ইউরোপের সেরা চারটি দলেরই এক গ্রুপে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ভালোমতোই আছে বৈকি!
অবশ্য সবগুলো দলই চাইছে, তাদের গ্রুপে যেন স্পেন অন্তত না পড়ে।

Friday, December 2, 2011

কাপ থেকেও বিদায় চেলসির

এ অবস্থায় শিরোপা জয়ের আশা করাটা হবে বাড়াবাড়ি। আমরা সেটা করছিও না।’ বাজে শুরুর পর লিগ নিয়ে এই হচ্ছে আর্সেন ওয়েঙ্গারের ভাবনা। ১৩ ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে থাকা চেলসিরও লিগ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ধূসর। এবার আরেকটি শিরোপা জয়ের আশা শেষ হয়ে গেল লন্ডনের ক্লাব দুটির। আর্সেনালকে ১-০ গোলে হারিয়ে লিগ কাপের (কার্লিং কাপ) সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ দল ম্যানচেস্টার সিটি। চেলসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে লিভারপুলও শেষ চারে।
আর্সেনালের মাঠ এমিরেটসে ম্যান সিটিকে জিতিয়েছেন সার্জিও আগুয়েরো। ৬০ হাজার দর্শককে স্তব্ধ করে ম্যারাডোনার জামাতা একমাত্র গোলটি করেছেন ৮৩ মিনিটে। আর্সেনালের মাঠে আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যান সিটি জিতল ৩৬ বছর পর! তবে আর্সেনালের চেয়ে চেলসির হারটাকেই দেখা হচ্ছে বড় করে। ১০ দিনের ব্যবধানে লিভারপুলের কাছে এটা নীল দলের দ্বিতীয় হার। কেনি ডালগ্লিসের দল দুবারই চেলসিকে হারাল চেলসির মাঠে গিয়ে! গত ২০ নভেম্বর, স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে গিয়ে লিভারপুল লিগে জিতেছে ২-১ গোলে।
স্ট্যামফোর্ডে পরশু আন্দ্রেস ভিলাস-বোয়াসের দলের হার ২-০ গোলে! এমনিতেই ভিলাস-বোয়াস চাপে আছেন। চেলসির তরুণ পর্তুগিজ কোচকে আরও চাপে ফেলে দিল লিভারপুল। স্পষ্ট করে বললে, ম্যাক্সি রদ্রিগেজ ও মার্টিন কেলি। গোল করেছেন এই দুজনই।
তবে রদ্রিগেজ বা কেলির চেয়েও ডালগ্লিসের মুখে ক্রেইগ বেলামির কথা শোনা গেছে বেশি। দুই দিন আত্মঘাতী হওয়া ওয়েলসের কোচ গ্যারি স্পিড ছিলেন বেলামির গুরু। তাঁর মৃত্যুর ৪৮ ঘণ্টা পরই মাঠে নেমে বেলামি খেলেছেন দুর্দান্ত।
ম্যান সিটি, লিভারপুলের সঙ্গে শেষ চারে কার্ডিফ সিটিও। আবেগময় এক রাতে দক্ষিণ ওয়েলসের ক্লাবটি ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে লিগ কাপের সেমিতে উঠল ৪৫ বছর পর। কাল রাতে নিজেদের মাঠে ক্রিস্টাল প্যালেসকে হারিয়ে কি সেমিফাইনালে উঠতে পেরেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড?

Friday, November 25, 2011

ব্রাজিলের ওপরে ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ডের কাছে হার আর পুঁচকে কোস্টারিকার সঙ্গে ড্র। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের অনেকগুলো পয়েন্ট নষ্ট হয়েছে এই ফলে। তার পরও কাল প্রকাশিত সর্বশেষ ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে স্পেনই। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে তারা এগিয়ে আছে এখনো ১৯৯ পয়েন্টে। তবে জমে উঠেছে দ্বিতীয় স্থানের লড়াই। জার্মানির কাছে ৩-০ গোলে হেরে হুমকির মুখে পড়েছে হল্যান্ডের দ্বিতীয় স্থান। দুই দলের ব্যবধান মাত্র ২০ পয়েন্ট। এই দুই দলেরই ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে উরুগুয়ে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দারুণ খেলে ও ইতালির সঙ্গে জিতে ওপরের দিকেই উঠছে কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়নরা।
প্রথম চারে কোনো পরিবর্তন না হলেও ব্রাজিলকে টপকে পাঁচে উঠে গেছে ইংল্যান্ড। এগিয়েছে পর্তুগালও, এক ধাপ এগিয়ে সাতে আছে রোনালদোর দল। ব্রাজিল আছে এই দুই দলের মাঝে। ইতালি তিন ধাপ পিছিয়ে এখন নবম স্থানে। আগের মতো দশে রয়েছে মেসির আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ পিছিয়েছে এক ধাপ (১৪২)।

Thursday, November 24, 2011

জার্মানি বনাম ইংল্যান্ড

যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে জার্মানি-ইংল্যান্ডের। শত্রুতা তাদের অনেক পুরোনোই। ভাবছেন, খেলার পাতায় রাজনৈতিক ইতিহাস কেন? আজ যে চ্যাম্পিয়নস লিগে মুখোমুখি হচ্ছে জার্মানি-ইংল্যান্ড!
দেশ নয়; চ্যাম্পিয়নস লিগ ক্লাব ফুটবলের দ্বৈরথ। তার পরও আজ লড়াইটা বিভাজিত হচ্ছে দুই দেশের মানচিত্রে। জার্মানির দুই ক্লাব আজ মুখোমুখি ইংল্যান্ডের দুই ক্লাবের। নিজেদের মাঠে আর্সেনাল খেলবে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সঙ্গে। বায়ার লেভারকুসেন আতিথ্য দেবে চেলসিকে।
আতিথ্য? কথাটা শোনায় ভালো। কিন্তু বাস্তবে হবে তীব্র লড়াই। পরশু পর্যন্ত দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে মাত্র তিনটি দল—বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ ও এসি মিলান। ‘ই’ গ্রুপ থেকে চেলসি আর ‘এফ’ গ্রুপ থেকে আর্সেনালের পরবর্তী রাউন্ডে উত্তরণ নির্ভর করছে আজকের ম্যাচের ওপর।
লন্ডনের এই দুই ক্লাবের সামনে একই সমীকরণ। জিতলে নিশ্চিত হয়ে যাবে পরের রাউন্ড। আর ড্র হলে তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচগুলোর দিকে। চেলসি যদি ড্র করে, সে ক্ষেত্রে তাদের দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হতে দুর্বল গেঙ্কের কাছে হারতে হবে ভ্যালেন্সিয়াকে। আর্সেনালের সমীকরণটা তুলনামূলক সহজ। ‘এফ’ গ্রুপের দুটি ম্যাচই ড্র হলে চলে যাবে তারা। এর পরও অবশ্য গ্রুপে সব দলেরই আরেকটি করে খেলা থাকবে।
আর্সেনাল-চেলসি দুই দলই অবশ্য চাইবে শেষ ম্যাচের জন্য ঝুলে না থাকতে। চেলসির চাওয়াটা আরও বেশি। লিগে গত চার ম্যাচের তিনটিতেই হার! সর্বশেষ পরাজয় লিভারপুলের বিপক্ষে। প্রথম মৌসুমেই বাস্তবতার খানাখন্দে পড়া রাস্তাটা চিনে নিয়েছেন আন্দ্রে ভিলাস-বোয়াস। আর্সেনালের ছবিটা অবশ্য অন্য রকম। নিজেদের সর্বশেষ ১২ ম্যাচের ১০টিতেই জয়।
লেভারকুসেনের এক মিডফিল্ডারের কাছে চেলসির বিপক্ষে ম্যাচটা একটু অন্য রকম। মাইকেল বালাক যে মুখোমুখি হচ্ছেন পুরোনো ক্লাবের। পেশাদার পৃথিবীতে হয়তো এসবের মূল্য নেই, তবে বাড়তি একটু আবেগ কি আর ছুঁয়ে যায় না!
এমনিতে আজ রাতের সবচেয়ে বড় লড়াইটা মিলানে। চ্যাম্পিয়ন বার্সাকে আতিথ্য দেবে এসি মিলান। কিন্তু এই দুই দল আগেই দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করে ফেলায় অনেকটা নিয়ম রক্ষার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে ম্যাচটি। তবে তার পরও একটা ‘ক্ল্যাসিক’ আশা করাই যায়। শুধু সম্মানের নয়, আছে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ব্যাপারও।
সব সাবেক চ্যাম্পিয়নেরই পরের রাউন্ড প্রায় নিশ্চিত, একমাত্র ব্যতিক্রম ২০০৪-এর চ্যাম্পিয়ন পোর্তো! প্রথম চার ম্যাচ থেকে মাত্র ৪ পয়েন্ট পাওয়া পর্তুগিজ দলটি আজ তাদের জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে শাখতারের। ‘জি’ গ্রুপের হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দিয়েছে আসলে অ্যাপোয়েল নিকোশিয়া। আজ জেনিতের সঙ্গে ড্র করলেও সাইপ্রাসের প্রথম দল হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার ইতিহাস গড়বে ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা অ্যাপোয়েল।

Friday, November 18, 2011

পর্তুগালের গোল-উৎসব

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পাশে এমির স্পাহিচ। একজন মহাতারকা তো অন্যজন একেবারেই অচেনা! দুই অধিনায়কের মতোই ব্যবধান দুই দলের মধ্যেও। পর্তুগাল ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত করল বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে। অথচ পরশু রাতে ইউরো বাছাইপর্বের সবচেয়ে ‘আকর্ষণীয়’ লড়াই নাকি ছিল এই দুই দলেরই!
কারণটা প্লে-অফের সমীকরণ। ইউরো ২০১২-এর ষোলো দলের ১২টিই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল আগে। প্লে-অফে নির্ধারিত হয়েছে বাকি চার দলের ভাগ্য। প্লে-অফের প্রথম লেগ জিতেই চূড়ান্ত পর্বে এক পা দিয়ে রেখেছিল চার দলের তিনটি। পুঁচকে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করায় ঝুলে ছিল পর্তুগালের ভাগ্য।
ম্যাচের আগে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা কোচ সাফেত সুসিচ তাই এমনটা বলারও দুঃসাহস পেয়েছিলেন, ‘আমরা আক্রণাত্মকই খেলব।’ লিসবনের ম্যাচটিতে পরশু ৭০ মিনিট পর্যন্ত কিন্তু অস্বস্তিতেই ছিল পর্তুগাল। তারা এগিয়ে গিয়েছিল ৩-২ ব্যবধানে, কিন্তু একটি গোল পাল্টে দিতে পারত সবকিছু। তবে ৭২ থেকে ৮২—এই ১০ মিনিটে আরও তিন গোল করে পর্তুগাল উড়িয়ে দিয়েছে সব দুশ্চিন্তা।
শেষ পর্যন্ত অস্বস্তির জায়গায় হয়েছে গোল-উৎসব, আর বড় এই জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন রোনালদোই। ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই ৩৫ গজি ফ্রি-কিকে করেছেন প্রথম গোল। ৫৩ মিনিটে করেছেন আরেকটি। এর মধ্যে ২৪ মিনিটে গোল করেছেন নানি। ৪১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জুভিজেজদান মিসিমোভিচ আর ৬৬ মিনিটে অধিনায়ক স্পাহিচের গোলে আশা বাঁচিয়ে রাখে সফরকারীরা। কিন্তু ৫৪ মিনিটে সেনাদ লুলিচ লাল কার্ড দেখতেই মাঠ এলোমেলো হয়ে যায় সব। এর পরই সেই ১০ মিনিটে তিন গোলের ঝড়।
লিসবনের চেয়েও পরশু বড় উৎসব হয়েছে ডাবলিনে। ২৪ বছর পর ইউরোর চূড়ান্ত পর্বে গেছে আয়ারল্যান্ড। ২০০২ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম বড় কোনো টুর্নামেন্টের টিকিট পেল আইরিশরা। ঘোচাল একটা দুঃখও। ২০১০ বিশ্বকাপে থিয়েরি অঁরির সেই ‘হ্যান্ডবল কাণ্ডে’ই তো গতবার বিশ্বকাপে খেলা হয়নি। এস্তোনিয়ার সঙ্গে ম্যাচটা ১-১ ড্র হলেও প্রথম লেগের ৪-০ জয় শুরু থেকেই অ্যাভাইভা স্টেডিয়ামকে দিয়েছিল উৎসবের আমেজ। আবেগাপ্লুত আয়ারল্যান্ডের ইতালিয়ান কোচ জিওভানি ত্রাপাত্তোনি এই জয়টিকে তুলনা করেছেন তাঁর জীবনের অন্যসব বড় অর্জনের সঙ্গে, যেখানে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ও আছে!
ওদিকে তুরস্কের বিপক্ষে প্রতিশোধ-পর্ব সমাপ্ত হয়েছে ক্রোয়েশিয়ার। ২০০৮ ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে বিদায় করে দিয়েছিল তুর্কিরা। সেটিও অতিরিক্ত সময়ে সমতা ফেরানোর পর টাইব্রেকারে জিতে!
পরশু ঠিক হয়ে গেল ২০১২ ইউরোর ১৬ দল। স্বাগতিক হিসেবে সরাসরি টিকিট পেয়েছে ইউক্রেন ও পোল্যান্ড, বাছাইপর্ব পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে গেছে জার্মানি, রাশিয়া, ইতালি, ফ্রান্স, হল্যান্ড, গ্রিস, ইংল্যান্ড, ডেনমার্ক, স্পেন ও সুইডেন। প্লে-অফে টিকিট পেল পর্তুগাল, আয়ারল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র।

প্রতিশোধ নিল জার্মানি

গ্যালারিতে একটা পতাকা। কোনো দেশের নয়, তারিখের—২১-০৬-৮৮! কী সেই তারিখ? ওই দিন এই হামবুর্গেই ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে জার্মানদের হূদয় ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল মার্কো ফন বাস্তেনের গোলে। স্বাগতিক দর্শকদের কাঁদিয়ে ফাইনালে উঠে গিয়েছিল হল্যান্ড।
স্রেফ একটা প্রীতি ম্যাচ, কিন্তু দল দুটি যখন জার্মানি-হল্যান্ড, সিন্দুকের ডালা মেলে ধরলে অতীতের বারুদের গন্ধ তো আসবেই। আর তাই তো বিচ্ছিন্ন একটা প্রীতি ম্যাচ হলেও সেই ডাচ দর্শক ঠিকই মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন ২৩ বছর ধরে পুষে রাখা জার্মানির সেই দুঃখ।
গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ হল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সেই দুঃখ ভুলল জার্মানি। কনকনে ঠান্ডা রাতে তাই লড়াইয়ের উত্তাপ জমেনি ডাচদের এই আত্মসমর্পণে। তবে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ভালো খেলে যাওয়ার ধারাটি ধরে রেখেছেন মিরোস্লাভ ক্লোসা। ১৫ মিনিটে টমাস মুলারের করা ম্যাচের প্রথম গোলটি বানিয়ে দিয়েছেন। ৬৬ মিনিটে মেসুত ওজিলের করা ম্যাচের শেষ গোলটিও। শুধু বানিয়ে দেওয়া নয়, মাঝখানে ২৬ মিনিটে জাতীয় দলের হয়ে নিজের ৬৩তম গোলটিও করেছেন। জার্মানির পক্ষে সর্বোচ্চ গোলদাতা জার্ড মুলার এখন মাত্র ৫ গোলের দূরত্বে।
১৯৯৬ সালের পর এই প্রথম হল্যান্ডকে হারানোর সুখস্বাদও পেল জার্মানরা। প্রীতি ম্যাচের এই রাতে ইংল্যান্ডও একটা গেরো খুলেছে। সুইডেনের বিপক্ষে জিতেছে ৪৩ বছর পর। সর্বশেষ সুইডিশদের হারানোর সময় কোচ ছিলেন সেই আলফ রামসে!
ওদিকে রেকর্ড ছোঁয়া আর রেকর্ড ভাঙা—দুটি ম্যাচই হতাশায় কাটল ইকার ক্যাসিয়াসের। গত শনিবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে স্পেনের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড ছুঁয়েছিলেন। সেই ম্যাচে হেরেছিল স্পেন। পরশু ১২৭তম ম্যাচ খেলতে নেমে আন্দোনি জুবিজারেতাকে পেছনে ফেলে রেকর্ডটা একার করে নিলেন ক্যাসিয়াস। তবে জয়ের দেখা পেলেন না এদিনও। কোস্টারিকার সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র যথেষ্টই হতাশার। উল্টো সেটি আনন্দ হয়ে যাচ্ছে এখানে। কারণ ৮২ মিনিট পর্যন্ত ০-২ গোলে পিছিয়ে ছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। দুই ডেভিড উদ্ধার করেছেন দলকে। ৮৩ মিনিটে সিলভা, একদম শেষ মুহূর্তে ভিয়া।
পরশু প্রীতি ম্যাচের পসরায় জার্মানি-হল্যান্ডের পর সবচেয়ে বড় ম্যাচ ছিল ইতালিতে। রোমে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে উরুগুয়ের কাছে হেরে গেছে স্বাগতিক দল। তৃতীয় মিনিটেই গোল করে ফোরলান-সুয়ারেজবিহীন উরুগুয়েকে জয় এনে দিয়েছেন সেবাস্তিয়ান ফার্নান্দেজ। নিজেদের মাঠে বেলজিয়ামের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে ফ্রান্স। জয় না পাওয়ার হতাশায় একটা কথা ভেবেই সান্ত্বনা পেতে পারেন ফরাসি কোচ লরাঁ ব্লাঁ—১৭ ম্যাচ ধরে অপরাজিত আছে তাঁর দল।

Thursday, November 17, 2011

জিতেই চলেছে ব্রাজিল

২০১৪ বিশ্বকাপের স্বাগতিক হিসেবে ব্রাজিলের বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলার সুযোগ নেই। তাই নিজেদের মাটির বিশ্বকাপের জন্য আদর্শ দল গড়ার আশায় মানো মেনেজেস যত পারেন খেলছেন প্রীতি ম্যাচ। সাফল্যও পাচ্ছেন। জয়ের ধারা বজায় রেখে পরশু মিসরের বিপক্ষে ব্রাজিল জিতেছে ২-০ গোলে।
বিশ্বকাপ প্রস্তুতির এই পর্বে এটা পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের টানা পঞ্চম জয়। গত ২৮ আগস্ট বেলেমে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় দিয়ে যাত্রা শুরু। পরে কোস্টারিকা, মেক্সিকো ও গ্যাবনের বিপক্ষে জয়ের পর পরশু হারাল মিসরকে।
ব্রাজিলের তরুণ ‘তুর্কি’ নেইমারকে এ ম্যাচে মাঠেই নামাননি কোচ। নেইমারের অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের জয়ের নায়ক হোনাস অলিভিয়েরা। নিরপেক্ষ ভেন্যু দোহার আল রাইয়ান স্টেডিয়ামে বিরতির আগে-পরে দুটি গোলই করেছেন ভ্যালেন্সিয়ার ২৭ বছর বয়সী স্ট্রাইকার, ৩৯ ও ৫৯ মিনিটে।
লক্ষ্য বিশ্বকাপের জন্য আদর্শ দল গড়ে তোলা, প্রতিটি ম্যাচেই তাই তরুণ প্রতিশ্রুতিশীলদের মাঠে নামিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন মেনেজেস। পরশু যেমন নেইমারের সঙ্গে কাকা, মার্সেলোও ছিলেন না দলে। তবে মিসরীয়দের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক পাসিং ফুটবল খেলে অভিজ্ঞদের অনুপস্থিতি মেনেজেসকে বুঝতেই দেননি তাঁর তরুণেরা। মিসরীয়দের গোলের সুযোগ তেমন দেনইনি বলা চলে।
মাত্রই কয়েক দিন আগে মিসর দলের দায়িত্ব নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কোচ বব ব্র্যাডলি। তিনি নতুন করে গড়ে তুলতে চাইছেন মিসরকে, কিছুদিন আগেও যারা ছিল আফ্রিকান ফুটবলের ‘রাজা’। আফ্রিকান নেশনস কাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭ বার শিরোপাজয়ী মিসর সর্বশেষ তিন আসরেরই চ্যাম্পিয়ন। সেই মিসর এবার আফ্রিকান নেশনস কাপের বাছাইপর্বই পেরোতে পারেনি!
ব্র্যাডলির নেতৃত্বে নতুনভাবে শুরু করা মিসরের পরশুর ম্যাচে প্রাপ্তি একটাই, এই ম্যাচ দিয়ে ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড ছুঁয়েছেন মিডফিল্ডার আহমেদ হাসান।

Wednesday, November 16, 2011

জয়ের খোঁজে আর্জেন্টিনা

আমাদের আর একটি পয়েন্টও হারালে চলবে না’—গত শুক্রবার ঘরের মাঠে বলিভিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর বলেছিলেন লিওনেল মেসি। বার্সেলোনা তারকার এই কথায় স্পষ্ট আর্জেন্টিনা এখন কী বিশাল চাপে। তিন ম্যাচে মাত্র ৪ পয়েন্ট তাদের। চাপ থেকে বেরোতে আজ কলম্বিয়ার সঙ্গে ভালো করতেই হবে। কিন্তু কলম্বিয়ার মাঠে ভালো খেলার গ্যারান্টি কোথায়? রয়টার্স।
একে তো কলম্বিয়া পাবে নিজেদের দর্শক-সমর্থন। তার ওপর ম্যাচের ভেনু্যু বারাঙ্কিলার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যেকোনো সময় নামতে পারে বৃষ্টি। এমন প্রতিকূল পরিবেশে খেলার সমস্যা অকপটে স্বীকার করেছেন সাবেলা। তবে কলম্বিয়ারও কিছু অসুবিধা দেখতে পাচ্ছেন আর্জেন্টাইন কোচ, ‘প্রথমত, তাদের ভ্রমণ করতে হয়নি...দ্বিতীয়ত, ভেনেজুয়েলার বিপক্ষেও তারা খেলেছে প্রচণ্ড গরমে।’ তবে এসব রেখে আর্জেন্টাইনরা তাকাতে পারে পরিসংখ্যানে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ১২ ম্যাচের ৭টিতে জিতেছে আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া জিতেছে ৩টিতে। কলম্বিয়ায় ৬ ম্যাচের তিনটিতে জয় আর্জেন্টিনার। বারাঙ্কিলার তিন ম্যাচে এক জয়, এক হার ও এক ড্র।
জয়ের আশায় আর্জেন্টাইন কোচ কৌশল বদলাচ্ছেন। বলিভিয়া ম্যাচে আর্জেন্টিনা গোল খায় ডিফেন্ডার ডেমিকেলিসের ভুলে। তাঁর জায়গায় সাবেক অধিনায়ক মাচেরানোকে রক্ষণে খেলানোর আভাস দিয়েছেন সাবেলা। দুশ্চিন্তায় কলম্বিয়ার কোচ লিওনেল আলভারেজও। দলের সেরা স্ট্রাইকার ফ্যালকাও এবং মিডফিল্ডার সানচেজ আগে থেকেই নেই। পায়ের চোটের কারণে পাচ্ছেন না গত ম্যাচে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে গোল করা ফ্রেডি গউরিনকেও। আজ অন্য ম্যাচে চিলি ঘরের মাঠে খেলবে প্যারাগুয়ের সঙ্গে, ভেনেজুয়েলার সামনে দাঁড়াবে বলিভিয়া এবং ইকুয়েডরের মুখোমুখি পেরু।

রক্ষণাত্মক ইংল্যান্ডে বিরক্ত স্প্যানিশরা

গত শনিবার ওয়েম্বলিতে ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের দেওয়া একমাত্র গোলে ইংল্যান্ড হারাল বিশ্ব ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে। ইংল্যান্ড এই জয় থেকে কতটা আনন্দসুধা পান করেছে, তা বোঝা যায় ইংলিশ সংবাদমাধ্যমের উচ্ছ্বাসেই। একটি পত্রিকার শিরোনাম ছিল—ইংল্যান্ড ১: বিশ্বসেরারা ০।
যে স্পেন ফিরিয়ে এনেছে হারিয়ে যাওয়া পৃথিবীর সুন্দর ফুটবল, যাদের অভিধানে নেতিবাচক ফুটবল অচল, যাদের বিপক্ষে জয় এখন যেকোনো পরাশক্তির স্বপ্ন, তাদের হারিয়ে দেওয়া অবশ্যই বড় কৃতিত্ব। কোনো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে ৩১ বছর এবং স্পেনের বিপক্ষে ১০ বছর পর এই জয়ে ইংল্যান্ড যেন হঠাৎ করেই আবার বিশ্ব পরাশক্তিদের কাতারে ফিরে গেছে। ল্যাম্পার্ডদের মধ্যে আবার একটা বিশ্বাস ফিরে এসেছে, ‘আমরা অবশ্যই পারি।’
কিন্তু ইংল্যান্ড যেভাবে ‘পারল’, তা প্রশংসা পাচ্ছে না স্প্যানিশদের। দম আটকানো রক্ষণাত্মক, নেতিবাচক কৌশল যে জাভি-ইনিয়েস্তাদের কাছে ফুটবল নয়!
পরাজয়ের পর স্পেনের অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াস বলেছিলেন, ‘এই ফল আমাদের পাওনা ছিল না।’ এই পরাজয় ইংল্যান্ড ছেড়ে কোস্টারিকা যাওয়ার পথে তাঁর অন্য সতীর্থদের কাছেও আত্মদহনের কারণ। সেস ফ্যাব্রিগাস ইংল্যান্ডের খেলাকে সরাসরিই বিরক্তিকর বলে দিলেন, ‘আমরা দুই দলের একেবারেই ভিন্ন দুই রকম খেলা দেখলাম। শেষ পর্যন্ত যারা গোল করতে চাইল, তারা পারল না। জিতল তারাই, যাদের গোল করার চেষ্টা ছিল না।’
ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ প্লে-মেকার ডেভিড সিলভা আরও চাঁছাছোলা ইংল্যান্ডের সমালোচনায়, ‘ইংল্যান্ডের পক্ষে কে ভালো খেলল, এটা বলা খুব দুরূহ। ওরা পুরোটা ম্যাচই তো কাটাল রক্ষণে। ইংল্যান্ডকে এতটা রক্ষণাত্মক দেখে আমরা বিস্মিত। পুরো দলটাই জীবনপণ করে রক্ষণাত্মক খেলে গেল। ভবিষ্যতে তাদের আক্রমণাত্মক খেলা দেখার অপেক্ষায় থাকব আমরা।’
ফ্যাব্রিগাস ও সিলভার এমন দাবির প্রমাণ পরিসংখ্যানেও—স্পেন যেখানে ৭৮৭টি পাস খেলেছে, সেখানে ইংল্যান্ড খেলেছে মাত্র ২৬০টি। তবে কৌশলটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের কোচ ফ্যাবিও ক্যাপেলো, ‘ওদের বিপক্ষে আপনি সামনে এগিয়ে খেলতে পারেন না, তাদের কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়ার আশাও করতে পারেন না। কেননা, আপনাকে এগিয়ে আসতে দেখলেই তারা পাস খেলবে, পাস, পাস আর পাস। ওদের কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়া মুশকিল। অসম্ভব।’
বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে প্রীতি ম্যাচ অবশ্য স্পেনের জন্য অপ্রীতিকর ফলই বেশি বয়ে আনছে। ইংল্যান্ডের আগে তারা হেরেছে ইতালি, পর্তুগাল ও আর্জেন্টিনার কাছে। ড্র করেছে মেক্সিকোর সঙ্গে আর চিলির সঙ্গে জিতেছে অনেক কষ্টে (৩-২)।