Sunday, March 17, 2019
ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলায় আহতদের বাঁচাতে প্রাণান্তকর চেষ্টা

স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে প্রথমে ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদ ও পরে লিনউড মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসল্লিদের ওপর হামলা চালান ব্রেনটন হ্যারিসন টারান্ট নামের এক অস্ট্রেলীয় যুবক। শ্বেতাঙ্গ উগ্রপন্থী ওই যুবক একাই দুই মসজিদে হামলা চালিয়েছেন বলে মনে করছে পুলিশ।
এদিকে আজ রোববার আহত ৩৪ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালে। এর মধ্যে ১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অ্যালিন আলসাতি নামের চার বছরের এক মেয়েশিশুকে অকল্যান্ডের শিশু হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালের প্রধান শল্য চিকিৎসক গ্রেগ রবার্টসন শুক্রবারের ভয়াবহ পরিস্থিতি–পরবর্তী চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রথমে ব্যক্তিগত গাড়ি ও পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে যখন আহত রক্তাক্ত ব্যক্তিদের আনা হচ্ছিল, তখন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা ‘আতঙ্কিত, স্তব্ধ, ক্ষুব্ধ’ হয়ে পড়েন।
শহরটিতে এই প্রথম এমন হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি; এর আগে ২০১০ ও ২০১১ সালে ধারাবাহিক ভূমিকম্পে শহরে ১৮০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। আহত হন বহু।
এ ব্যাপারে গ্রেগ রবার্টসন বলেন, মানুষের সৃষ্ট এই দুর্যোগ (মসজিদে হামলা) স্টাফদের মনের ওপর অনেক বেশি চাপ ফেলেছে। তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্প আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। কিন্তু কেউ একজন আমাদের মানুষ, আমাদের বন্ধু, আমাদের সহকর্মীদের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটাচ্ছে, এটা অবিশ্বাস্য।’
রবার্টসন জানান, এর আগেও গুলির আঘাতের অস্ত্রোপচার তাঁরা করেছেন। তবে এত ব্যাপকসংখ্যক কখনো করেননি।
অনেকের দেহে একাধিক গুলি। হাসপাতালে ভর্তি কোনো কোনো আহত ব্যক্তির একাধিকবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। অঙ্গহানি থেকে বাঁচাতে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।
শুরুতে হাসপাতালে আনা ব্যক্তিদের বাঁচাতে প্যারেমেডিকরা (জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
রবার্টসন বলেন, হাসপাতালে আনার পর মাত্র একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া যাঁদের আনা হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের বেঁচে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
পাকিস্তানি নাগরিক মোহাম্মদ আমন নাস শুধু প্যারামেডিকদের তৎপরতায় বেঁচে গেছেন।
অন্যদিন ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালে বড় ধরনের তিনটি অস্ত্রোপচার হয়। আজ সেখানে সাতজনের অস্ত্রোপচার হয়েছে। রাতদিন কাজ করছেন চিকিৎসকসহ হাসপাতালের কর্মীরা।
রবার্টসন বলেন, হামলাকারী এমনভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন যেন সর্বোচ্চ আঘাত করা যায়।
যাঁরা আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাঁদের অবধারিতভাবে এই ভয়াবহ আঘাতের দুঃসহ মানসিক স্মৃতি রয়ে যাবে। এই মুহূর্তে তাঁদের জীবন রক্ষা করার ওপরই জোর দেওয়া হচ্ছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিউজিল্যান্ডে জাকারিয়ার লাশ শনাক্ত, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫ by মিজানুর রহমান

তার পূর্ব পরিচিত স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম তার লাশ শনাক্ত করেছেন। ফলে বেসরকারীভাবে বাংলাদেশী মৃতের সংখ্যা এখন ৫-ই বলা হচ্ছে। নরসিংদীর জাকারিয়া প্রায় ১৮ মাস আগে সিঙ্গাপুর থেকে নিউজিল্যান্ডে গিয়েছিলেন।
এদিকে নিখোঁজ জাকারিয়ার বাড়িতে তার নিহত হওয়ার খবর আগেই পৌঁছেছে। গত দুদিন ধরে তার বাড়িতে শোকের মাতম চলছে বলে স্থানীয় সংবাদদাতারা খবর পাঠিয়েছেন। উল্লেখ্য, রোববার সর্বশেষ চার বাংলাদেশি নাগরিক নিহতের খবর জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
নিহতের সংখ্যা ছয়জন পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তবে সেদিনই প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, হামলার পরপরই দুই বাংলাদেশি নিহতের খবর নিশ্চিত করেছিল নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।
তারা এখনও সেই অবস্থানেই আছে। দেশটিতে থাকা অন্যান্য বাংলাদেশী এবং স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রী বেসরকারীভাবে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহতের খবর পেয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন।
নিউজিল্যান্ড সরকারের শনাক্ত করা নিহত দু’জন বাংলাদেশী হলেন- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. আব্দুস সামাদ ও সিলেটের ফরিদ আহমেদের স্ত্রী হোসনে আরা আহমেদ। রোববার বেসরকারীভাবে শনাক্ত হওয়া দু’জন হলেন- নারায়ণগঞ্জের মো. ওমর ফারুক ও চাঁদপুরের মোজাম্মেল হক।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ক্যানবেরা মিশন এবং নিউজিল্যান্ডের (অনারারী) কনস্যুলেটের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় আহতদের মধ্যে লিপির অবস্থা সংকটাপন্ন। তার আরেকটি অস্ত্রোপচার করা লাগতে পারে। কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা লিপিকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন নিউজিল্যন্ডের প্রধানমন্ত্রী।
তিনি তার চিকিৎসার সার্বিক খোঁজ-খবর নিয়েছেন বলেও জানা গেছে। ওদিকে পয়ে গুলিবিদ্ধ গাজিপুরের মুতাসসিম ও শেখ হাসান রুবেলের অবস্থা বিপদমুক্ত বলে জানানো হয়েছে। গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে নৃশংস হামলায় ওই বাংলাদেশীসহ ৫০ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হন। হামলার পর আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শনিবার পর্যন্ত নিহতদের মরদেহ মসজিদে রাখা হয়। নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ নিহতদের মোট সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। তবে তারা এখনও নিহতদের জাতীয়তা ও আহতদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি। কর্মকর্তাদের মতে, শিগগিরই তাদের বিচার বিভাগ এসব ঘোষণা করবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সেজদা দিয়ে অমুসলিম ফুটবলারের অভিনব প্রতিবাদ

অভিনব পন্থায় নিজের গোল উদযাপন করে হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং হামলাকারীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কস্তা।
গতকাল রাতে অস্ট্রেলিয়ান ‘এ’ লিগে ব্রিসবেন রোয়ারের বিপক্ষে খেলার ছিল মেলবোর্ন ভিক্টরির। খেলায় ২-১ গোলে জিতেছে মেলবোর্ন ভিক্টরি। মেলবোর্নের হয়ে দুটি গোলই করেছেন নিউজিল্যান্ডের ২৯ বছর বয়সী উইঙ্গার কস্তা বারবারোস।
২৪ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন এই অমুসলিম ফুটবলার। এরপর মাঠের মধ্যেই হাঁটু মুড়ে বসে নামাজের মতো করে ‘সেজদা’ করেন।
খেলা শেষে স্পোর্টসকে বারবারোস বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, ভীষণ বিধ্বস্ত লাগছে। ভীষণ আবেগের দিন। হতাহতের স্বজনদের কাছে এটা কিছু না, কিন্তু এটা বিশেষ কিছু। অভিনব এই গোল উদযাপন সাড়া ফেলেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই বারবারোসের প্রতিবাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্রাইস্টচার্চের ঘটনায় নিহত ও নিখোঁজ যারা

নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, আফগানিস্তান, সিরিয়া, মিসর, জর্ডান, ফিজি, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও সোমালিয়ার নাগরিক রয়েছেন।
হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান ভূঁইয়া। নিহত বাংলাদেশিরা হলেন স্থানীয় লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আবদুস সামাদ ও গৃহবধূ হোসনে আরা ফরিদ। হোসনে আরা স্বামীকে খুঁজতে গিয়ে নিহত হন বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবার।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিন বছর বয়সী এক শিশু রয়েছে। নাম মুকাদ ইব্রাহিম। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে ওই দিন আল নুর মসজিদে গিয়েছিল ছোট্ট মুকাদ। ঘটনার সময় বাবা ও তার ভাই পালিয়ে আসতে পারেন। তবে তাকে এখনো খুঁজে পায়নি পরিবারের সদস্যরা। মুকাদের ভাই আবদি জানিয়েছে, ‘ধারণা করছি, মসজিদের ওই হামলায় মুকাদ নিহত হয়েছে। পুলিশও জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছোট্ট তিন বছরের একটি শিশু রয়েছে।’
ক্রাইস্টচার্চের ক্যাশমেরি হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের তিনজন শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে। একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে আফগান বংশোদ্ভূত দাউদ নবী (৭১) রয়েছেন। ১৯৮০ সালে নিউজিল্যান্ডে যান দাউদ। তিনি প্রকৌশলী ছিলেন।
সায়াদ মিলনে (১৪) বড় হয়ে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখত। ঘটনার দিন মায়ের সঙ্গে আল নুর মসজিদে গিয়েছিল সে। হয়তো তার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নের সেখানেই সমাপ্তি ঘটেছে।
পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ থেকে আসা নাইম রশিদ (৫০) ক্রাইস্টচার্চে শিক্ষকতা করতেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বন্দুকধারীকে মোকাবিলা করার চেষ্টা করছেন নাইম রশিদ। গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাঁর ছেলে তালহা রশিদও (২১) নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির মন্ত্রণালয়। ১১ বছর আগে বাবার সঙ্গে নিউজিল্যান্ড আসেন তালহা। সম্প্রতি নতুন চাকরি পেয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, কিছুদিনের মধ্যে তালহার বিয়ে করার কথা ছিল।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় নাগরিক ফারহাজ আহসান (৩০)। হায়দরাবাদ থেকে নিউজিল্যান্ডে এসেছিলেন। পেশাগত জীবনে তড়িৎ প্রকৌশলী ছিলেন। তাঁর সাত মাস বয়সী ও তিন বছর বয়সী দুই শিশুসন্তান রয়েছে।
নিউজিল্যান্ডে সিরিয়ান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার দিন আল নুর মসজিদে দুই ছেলেসহ নামাজ আদায়ে গিয়েছিলেন সিরিয়ার নাগরিক খালেদ মোস্তফা। খালেদ সিরিয়া যুদ্ধে শরণার্থী হয়ে গত বছর পরিবার নিয়ে নিউজিল্যান্ড আসেন। শান্তিতে বাঁচতেই এখানে এসেছিলেন তাঁরা। তাঁর এক কিশোর ছেলে ঘটনার পর নিখোঁজ রয়েছে। গুরুতর আহত আরেক ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সিরিয়ার নাগরিক আমজাদ হামিদ (৫৭) নিখোঁজ রয়েছেন। ক্যান্টেবেরি হাসপাতালের এই চিকিৎসক ঘটনার দিন আল নুর মসজিদে ছিলেন বলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। ২৩ বছর আগে পরিবার নিয়ে নিউজিল্যান্ড আসেন তিনি। তাঁর দুই ছেলে আছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে নিউজিল্যান্ডে এসেছিলেন হুসাইন আল ওমারি (৩৫) ও জান্নাহ ইজাত। ঘটনার পর থেকে তাঁরা নিখোঁজ।
লিলিক আবদুল হামিদ নামের এক ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনার দিন লিলিকসহ আরও সাতজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক আল নুর ও লিনউড মসজিদে ছিলেন। পাঁচজন নিরাপদে পালিয়ে আসতে পারেন। বাকিদের খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গুলিবিদ্ধ ৪ বছরের শিশু জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে

এতে বলা হয়েছে তাকে স্থানান্তর করা হয়েছে অকল্যান্ডের একটি হাসপাতালে।
এখনও স্কুলের আঙ্গিনায় পা পড়েনি ফুলের মতো এই শিশুটির। আগামী মাসে তার ৫ বছর বয়স হওয়ার কথা। এর পরই তার স্কুলে পা রাখার কথা। কিন্তু তার শেষ পর্যন্ত ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের বিছানা। সেখানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা বলতে পারছেন না সে নতুন করে পৃথিবীর আলো দেখতে পারে কিনা। তার বিছানার পাশে মা আসমা দারাগমে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছেন আর প্রার্থনা করছেন। পিতা ওয়াসিম আলসাতির সঙ্গে মেয়ে আলসাতি নামাজ আদায় করতে গিয়েছিল।
সেখানে তার পাশেই হামলাকারী সন্ত্রাসীর গুলিতে লুটিয়ে পড়েন পিতা ওয়াসিম। তিনি জর্ডান থেকে গিয়ে নিউজিল্যান্ডে বসবাস করছিলেন। তাকেও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে হাসপাতালে।
এলিনের মা আসমা হাসপাতালের বিছানার পাশে বসে ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তাতে তিনি বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন নিজের ও মেয়ের জন্য। ওই ভিডিওতে আসমার কণ্ঠ অস্পষ্ট। তাকে খুব ক্লান্ত দেখায়। কোনো রকমে সবাইকে তাদের সমর্থন দেযার জন্য ধন্যবাদ জানান। এতে তিনি বলছেন, ‘সবার এই সমর্থনের জবাব দিতে সক্ষম নই আমি এখন। আমি এই ভিডিওটি শুধু পোস্ট করছি এ জন্য যে, আমি পুরোপুরি ভাল আছি।
আল্লাহ আমাদের সবার মঙ্গল করুন।
এই পরিবারের এক বন্ধু নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে বলেছেন, ওই পরিবারটির চারটি সন্তান। তার মধ্যে তিনটি মেয়ে ও একটি ছেলে। এর মধ্যে এলিন সবার ছোট। তবে ঘটনার সময় ওই মসজিদে পরিবারটির অন্য কোনো সন্তান ছিল কিনা তা জানা যায় নি। পারিবারিক ওই বন্ধু বলেছেন, এলিন সুন্দরী। মিষ্টি। কোমল হৃদয়ের। তার চোখে বিস্ময়ভরা। সে এক সুইটহার্ট।
পারিবারিক আরেক বন্ধু ক্যারোলাইন ফিলিপস ফেসবুকে এক পোস্টে শনিবার বলেছেন, ওয়াসিমের আরো সার্জারি করা হয়েছে। তার শরীরে শার্পনেল বিঁধে আছে। নিতম্বেও আটকে আছে এমন জিনিস। তার পেটে এরই মধ্যে অপারেশন করা হয়েছে। তিনি আসমা দারাগমেহর সঙ্গে কথা বলেছেন।
উল্লেখ্য, এই পরিবারটি জর্ডানের রাজধানী আম্মান থেকে ২০১৪ সালে পাড়ি দেন নিউজিল্যান্ডে। সেখানে রিভাইভ হেয়ারড্রেসিংয়ে নরসুন্দর হিসেবে কাজ করতেন। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে তিনি রে অ্যাস্টউড বারবারিং ইভেন্ট পুরস্কার জেতেন। মাত্র তিন সপ্তাহ আগে তিনি নিজে সেলুন ব্যবসা শুরু করেছেন। এর নাম দিয়েছেন ওয়াস বারবারস।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল সিলেটের হোসনে আরার by ওয়েছ খছরু

আর তার স্বামী ফরিদ উদ্দিন আহমদ ছিলেন পুরুষদের মসজিদে। মসজিদের ভেতরে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পান হোসনে আরা।
এমন সময় তিনি অসুস্থ স্বামীর কাছে দৌড় দেন। কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পরপরই ঘাতকের বুলেট তাকে বিদ্ধ করে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান হোসনে আরা পারভীন। তবে, প্রাণে বেঁচে যান স্বামী ফরিদ উদ্দিন আহমদ। এ ঘটনার খবর গতকাল সকাল ১০টার দিকে নিউজিল্যান্ডে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে দেশে থাকা স্বজনরা জানতে পান। খবর পেয়ে কান্নার রোল পড়েছে বিশ্বনাথ ও গোলাপগঞ্জে। স্বজনরা জানিয়েছেন, হোসনে আরা পারভীনের স্বামী ফরিদ উদ্দিন আহমদের বাড়ি বিশ্বনাথ উপজেলার মীরের চক গ্রামে। আর হোসনে আরা পারভীনের বাড়ি গোলাপগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালহাটা গ্রামে। ১৯৯৪ সালে বিয়ে হয় ফরিদ ও হোসনে আরার। বিয়ের কয়েক বছর পর তারা নিউজিল্যান্ড চলে যান। তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। ২০০৯ সালের দিকে স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন হোসনে আরা পারভীন। তখন তিনি স্বামীর বাড়ির পাশাপাশি পিতার বাড়িতেও বসবাস করেন।
গোলাপগঞ্জের জাঙ্গালহাটা বাড়িতে তার ভাই নাজিম উদ্দিন বসবাস করেন। তিনিও অসুস্থ। স্বজনরা জানান, ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনার পরপরই স্বজনরা এসে মসজিদ থেকে ফরিদ উদ্দিন আহমদকে নিয়ে যান। তাকে বাসায় রাখা হয়। এরপরও ঘটনার বিবরণ জানতে নিউজিল্যান্ড পুলিশ তার সঙ্গে কথা বলেছে। তবে, গতকাল বিকাল পর্যন্ত হোসনে আরা পারভীনের মরদেহ পুলিশের কাছে ছিল। এখনো লাশ নিউজিল্যান্ড থাকা স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। ঘটনার বিবরণ দিয়ে দেশে থাকা হোসনে আরার স্বজনরা জানিয়েছেন, ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় একটি মসজিদে দুটি আলাদা ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে এক ইউনিটে পুরুষ ও অন্য ইউনিটে মহিলারা নামাজ আদায় করেন। নামাজের প্রায় আধা ঘণ্টা আগে হোসনে আরা স্বামী ফরিদ উদ্দিনকে হুইল চেয়ারে করে নিয়ে যান মসজিদে।
সেখানে পুরুষ ইউনিটে স্বামীকে রেখে তিনি নামাজ পড়তে মহিলা ইউনিটে চলে যান। প্রায় ১৫ মিনিট পর পুরুষদের মসজিদের ভেতরে গুলির শব্দ শুনে পারভীন তার স্বামীকে বাঁচানোর জন্য বের হন। এ সময় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাকে গুলি করলে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান। নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চে নিহত হওয়া হোসনে আরা পারভীনের ভাগ্নে মাহফুজ চৌধুরী গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, মসজিদের বাইরে গুলির শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন মুসল্লি হুইল চেয়ারে করে ফরিদ উদ্দিনকে মসজিদ থেকে বের করে নেন। এতে ফরিদ উদ্দিন আহমদ প্রাণে রক্ষা পান। কিন্তু পেছনে স্বামীর দিকে দৌড়ে যাওয়া পারভীনের উপর এসে বুলেট লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান পারভীন বেগম। নিউজিল্যান্ডে বসবাস করেন নিহত হোসনে আরা পারভীনের ভাবি হিমা বেগমসহ কয়েকজন স্বজন। তারা ফোন করে দেশে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন। মাহফুজ জানান, ঘটনার পর থেকে তার মামা ও তাদের পরিবারে কান্নার রোল পড়েছে।
ঘটনা শুনে তিনিও বাড়িতে পৌঁছেছেন। বোনের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তার মাও শোকে কাতর। ফরিদ উদ্দিন আহমদের বিশ্বনাথের বাড়ি উত্তর মীরের চক গ্রামে বসবাস করেন ভাই মইন উদ্দিন। তিনি সন্ধ্যায় মানবজমিনকে জানিয়েছেন, গতকাল জুমার পর ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। ওই সময় ফরিদ উদ্দিন তাকে জানিয়েছেন, তার স্ত্রী হোসনে আরা পারভীন নিহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে মুসল্লিরা তাকে মসজিদ থেকে বের করে নেয়ায় তিনি বেঁচে যান। মইনউদ্দিন জানান, ফরিদ ও হোসনে আরার পরিবারের তাদের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। ওই মেয়ের নাম শিপা বেগম। সে বর্তমানে পিতার কাছেই আছে। এক সময় ভিজিট ভিসায় নিউজিল্যান্ড যান ফরিদ উদ্দিন। পরে দেশে এসে বিয়ে করে নিজের স্ত্রীকে নিয়ে যান। দেশে বেড়াতে এলে বিশ্বনাথেই থাকতেন বলে জানান তিনি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিহতের সংখ্যা ৫০, প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন, আরো অভিযোগ আনা হবে ব্রেনটনের বিরুদ্ধে

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, হামলাকারী ৫টি অস্ত্র ব্যবহার করেছিল।
তার ছিল অস্ত্রের লাইসেন্স। হামলায় আটক অন্য তিনজনের মধ্যে একজন নারীকে শনিবার কোনো অভিযোগ ছাড়া ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ফলে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে অন্য দু’জন পুরুষ। হামলার নিন্দা জানিয়ে ও হতাহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সিডনির অপেরা হাউস সাজানো হয়েছিল ভিন্ন আঙ্গিকে। তাতে সিলভার ফার্ন অঙ্কিত করা হয়। নিউজিল্যান্ডের প্রতীকও তুলে ধরা হয় এর মাধ্যমে। শনিবার নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিনদা আরডেনকে দেখা গেছে শোকার্ত মুসলিমদের সঙ্গে সাক্ষাত করছেন। এ সময় তিনি মুসলিম রীতি অনুযায়ী মাথায় কাপড় দিয়েছিলেন।
বলেছেন, রোববার থেকে ক্রাইস্টচার্চে অতিরিক্ত ১২০ জন পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েন থাকবেন। যখনই মসজিদ খোলা হবে তখন তারা তার পাহারা দেবেন। তা ছাড়া ক্রাইস্টচার্চে মোতায়েন থাকবেন আরো অনেক স্টাফ। তিনি নিশ্চিত করেন রোববার মন্ত্রিপরিষদ এ নিয়ে বৈঠক করবে। এ ছাড়া তিনি সেবা দেয়ার জন্য পুলিশ, হাসপাতাল, প্রথমে সহায়তায় এগিয়ে যাওয়া লোকজন ও শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তিনি আরো নিশ্চিত করেন, অভিযুক্তদের বিচার হবে নিউজিল্যান্ডেই।
তবে সন্দেহভাজন আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে টেরোরিজম সাপ্রেশন অ্যাক্টের অধীনে অভিযোগ আনা হবে কিনা সে বিষয়ে কিছু বলেন নি তিনি। তবে অস্ত্র আইন পরিবর্তন হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি ওয়েলিংটনে অবস্থিত কিলবারনিতে মসজিদ পরিদর্শন করেছেন রোববার। সেখানে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। বলেছেন, সেখানেও এক শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
ওদিকে রোববার ক্রাইস্টচার্চে আল নূর মসজিদের বাইরে সমবেত হন শোকার্ত জনতা। তারা হতাহতদের জন্য প্রার্থনা করেন। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তাদের সবার প্রতি। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে। এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয় সেখানে। ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জাসিনদা আরডেন। তিনি শোকার্ত, ক্রন্দনরত নারী, পুরষ ও শিশুদের জড়িয়ে ধরেন। তাদের শান্তনা দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মেয়র জাস্টিন লেস্টার। তারা পরে মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অযোধ্যা বিতর্ক: মধ্যস্থতায় মিটবে? by অর্ণব সান্যাল

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গত শুক্রবার মধ্যস্থতা করার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। আদালত বলছেন, অযোধ্য বিতর্ক নিয়ে অন্তত একবারের জন্য হলেও মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এই মধ্যস্থতার স্থান, কাল, পাত্রও নির্ধারণ করে দিয়েছেন আদালত। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার আলাপ-আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে উত্তর প্রদেশ রাজ্যের ফৈজাবাদে। শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে ক্ষণ গণনা। এক সপ্তাহের মধ্যে মধ্যস্থতার কাজ শুরু করতে হবে। মধ্যস্থতার স্থান ও মধ্যস্থতাকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে উত্তর প্রদেশের রাজ্য সরকার।
আদালতের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, এই মধ্যস্থতার সব কার্যক্রমে কঠোর গোপনীয়তা বজায় থাকবে। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার ক্ষতি যাতে না হয়, সে জন্য আলোচনার কোনো অংশ আগ বাড়িয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে না। মধ্যস্থতা শুরুর পর চার সপ্তাহের মধ্যে এ–সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে হবে এবং পুরো আলোচনা শেষ করতে হবে আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে।
সুপ্রিম কোর্টের গঠন করা মধ্যস্থতাকারীদের কমিটি নিয়েও ইতিমধ্যে শোরগোল উঠেছে। তিনজনের কমিটিতে আছেন—সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারক ফকির মোহাম্মদ ইব্রাহিম কলিফুল্লাহ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শ্রীরাম পাঁচু ও আধ্যাত্মিক গুরু শ্রীশ্রী রবি শংকর। মজার বিষয় হলো, এই তিনজনই তামিলনাড়ু রাজ্যের। ডেকান হেরাল্ড বলছে, অযোধ্যা বিতর্ক নিয়ে পুরো ভারতে যতই দাঙ্গা-বিক্ষোভ হোক না কেন, তামিলনাড়ুতে কখনোই এর কোনো প্রভাব পড়েনি। কারণ বাবরি মসজিদ বা রামমন্দির—এসব নিয়ে তামিলদের কোনো মাথাব্যথাই নেই। মধ্যস্থতাকারীদের কমিটির প্রধান হলেন ফকির মোহাম্মদ ইব্রাহিম কলিফুল্লাহ। আদালত বলে দিয়েছেন, প্রয়োজনে মধ্যস্থতাকারীর সংখ্যা আরও বাড়াতে পারে এই কমিটি।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, আদালতের আদেশে এটি স্পষ্ট যে, অযোধ্যা বিতর্ককে স্রেফ আইনের চোখে এখন আর দেখা হচ্ছে না। যে ২ দশমিক ৭৭ একর জমি নিয়ে দশকের পর দশক ধরে বিতর্ক চলছে, সেটিকে দেখা হচ্ছে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে। আদালত চাচ্ছেন, এর সমাধান করতে গিয়ে যেন কোনো পক্ষ অসন্তুষ্ট না হয়। কিন্তু ইতিহাস বলছে, এভাবে সমাধান পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
প্রশ্ন উঠেছে, যে মধ্যস্থতাকারীদের নির্বাচন করা হয়েছে, তাঁরা কি যোগ্য? তাঁরা কি পারবেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে বাবরি মসজিদ ও রামমন্দিরের নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ মেটাতে?
.........মধ্যস্থতাকারী কারা?.......
ফকির মোহাম্মদ ইব্রাহিম কলিফুল্লাহ: মধ্যস্থতাকারী দলের নেতা তিনি। পেশাগত দিক থেকে কলিফুল্লাহ ছিলেন আইনজীবী। ২০০০ সালে তিনি মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারক নিযুক্ত হোন। ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ভারত–নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানাচ্ছে, কলিফুল্লাহর বাবাও ছিলেন বিচারক। তামিলনাড়ুর শিবাগঙ্গা জেলায় কলিফুল্লাহর জন্ম। বলা হয়ে থাকে, জম্মু-কাশ্মীরের সাধারণ কাশ্মীরিদের মনে ন্যায়বিচার পাওয়ার আস্থা জাগিয়েছিলেন তিনি। কর্মজীবনে বেশ কয়েকটি আলোচিত মামলার রায় দিয়েছিলেন কলিফুল্লাহ। অবসরে যাওয়ার এক দিন আগে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) পরিকাঠামো–সংক্রান্ত মামলায় যুগান্তকারী রায় দিয়েছিলেন তিনি। তাতে পুরো বিসিসিআইয়ের কাঠামো ও কর্মপ্রক্রিয়াই বদলাতে হয়েছিল!
২০১৫ সালে কলিফুল্লাহর দেওয়া এক রায়ে পিছু হটতে হয়েছিল তামিলনাড়ুর রাজ্য সরকারকে। সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া ওই আদেশে বলা হয়েছিল, রাজীব গান্ধী হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই রাজ্য সরকারের। এ–সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দেবে শুধুই কেন্দ্রীয় সরকার। এ ছাড়া ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈদিক জ্যোতিষবিদ্যা–বিষয়ক কোর্স চালুর বিষয়েও নির্দেশনা দিয়েছিলেন কলিফুল্লাহ।
অযোধ্যা বিতর্কের মধ্যস্থতাকারী কমিটির প্রধান হিসেবে নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে কলিফুল্লাহকে। তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনাও কম।
শ্রীরাম পাঁচু: তিনি একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। আদালতের বিচারক হওয়ার প্রস্তাব পেয়েও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন শ্রীরাম পাঁচু। ভারতে মধ্যস্থতা করার সংস্কৃতি চালুর পুরোধা ব্যক্তি তিনি। ১৯৯০ সালের পর থেকে বিতর্কের অবসানে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া চালুর পথিকৃৎ এই শ্রীরাম পাঁচু।
টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, মুম্বাইয়ের এলফিনস্টোন কলেজ থেকে ১৯৭৩ সালে অর্থনীতিতে স্নাতক পাস করেন পাঁচু। ১৯৭৬ সালে আইনের ওপর ডিগ্রি নিয়ে তিনি আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর মর্যাদা পান এবং ভারতের অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ান মিডিয়েটরস নামক সংস্থার তিনি সহসভাপতি। পাঁচ শরও বেশি মধ্যস্থতাকারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন পাঁচু।
এই ট্র্যাক রেকর্ডের ভিত্তিতে বলাই যায় যে, অযোধ্যা বিতর্ক অবসানে সঠিক লোককেই বেছে নিয়েছেন আদালত। এর আগে আসাম ও নাগাল্যান্ড রাজ্যের সীমা–সংক্রান্ত বিরোধ মধ্যস্থতা করে মিটিয়েছিলেন পাঁচু। তবে এবারের কাজ যে আরও কঠিন, তা নিয়ে দ্বিমত নেই কারও। পাঁচু জানিয়েছেন, অযোধ্যা বিতর্কের সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন তিনি।
শ্রীশ্রী রবি শংকর: এই আধ্যাত্মিক গুরুকে নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। নিন্দুকেরা বলছেন, অযোধ্যা বিতর্ক নিয়ে এর আগেও মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন শ্রীশ্রী রবি শংকর। কিন্তু সে ক্ষেত্রে কার্যত একটি পক্ষকে সমর্থন দিয়েছিলেন তিনি।
ইকোনমিক টাইমস জানাচ্ছে, আর্ট অব লিভিং ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীশ্রী রবি শংকর। তিনি সব সময়ই বলে এসেছেন যে, অযোধ্যা বিতর্কের সমাধান আদালতে সম্ভব নয়। তাঁর মতে, এই সমস্যার সমাধান করতে হবে আদালতের বাইরে, মধ্যস্থতার মাধ্যমে।
স্ক্রল ডট ইন বলছে, মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় শ্রীশ্রী রবি শংকরকে বেছে নেওয়াতেই বিতর্কের সূত্রপাত হচ্ছে। কারণ এর আগে এক সাক্ষাৎকারে রবি শংকর বলেছিলেন যে, অযোধ্যা বিতর্কের সমাধান করার জন্য মুসলিমদের জমির দাবি ছেড়ে দেওয়া উচিত। সেদিক থেকে স্পষ্টতই রবি শংকর একটি পক্ষের প্রতি সহানুভূতিশীল। এমন ব্যক্তি কীভাবে সব পক্ষের জন্য সন্তোষজনক সমাধানের উপায় খুঁজে বের করবেন—তা নিয়েই সন্দেহ দেখা দিচ্ছে।
গত বছর ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্রীশ্রী রবি শংকর বলেছিলেন, মুসলিমদের বিশ্বাসের জায়গা অযোধ্যা নয়। তাই মুসলিমদের এই জমির দাবি ছেড়ে দেওয়া উচিত। তাঁর দেওয়া সমাধানের সূত্রমতে, হিন্দুদের এক একর জমি ছেড়ে দেবে মুসলমানরা। এর বদলে হিন্দুরা কাছাকাছি কোনো স্থানে মসজিদ নির্মাণের জন্য পাঁচ একর জমি ছেড়ে দেবে। নতুন নির্মিত মন্দিরের ক্ষেত্রে স্বীকার করে নেওয়া হবে যে, হিন্দু ও মুসলমানদের যৌথ সহযোগিতায় তা নির্মাণ করা হয়েছে। এবং এভাবেই অযোধ্যা বিতর্কের সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন রবি শংকর। এর অন্যথা হলে ভারতে গৃহযুদ্ধও লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর।
অবশ্য নিন্দুকেরা বলছেন, এই প্রক্রিয়ায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তখন হিন্দু মৌলবাদীরা ভারতের বিভিন্ন স্থানে মসজিদের জায়গায় মন্দির নির্মাণের দাবি তুলতে পারে। সে ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক সংঘাত আরও বাড়তে পারে।
মধ্যস্থতায় মিটবে অযোধ্যা বিতর্ক?
সংশয়বাদীদের জিজ্ঞাসা, আদৌ কি এই মধ্যস্থতায় কোনো সমাধান হবে? কেউ কেউ আশাবাদী হচ্ছেন বটে। তাঁদের কথা, আদালতে আইনের দৃষ্টিতে ফয়সালা হওয়ার আগে একবার মধ্যস্থতার চেষ্টা করা যেতেই পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অন্য পক্ষের বক্তব্য শোনা ও যুক্তিযুক্তভাবে তা মেনে নেওয়ার বাস্তবতা কি ভারতে এখন আছে?
ইতিহাসের দিকে তাকালে অবশ্য মধ্যস্থতার বিষয়ে সংশয়বাদী হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। কারণ এর আগেও অযোধ্যা বিতর্ক নিয়ে কয়েক দফা মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনোটিতেই সফলতা পাওয়া যায়নি। ২০১০ সালের আগস্ট মাসে এলাহাবাদ হাইকোর্টের লক্ষ্ণৌ বেঞ্চ মধ্যস্থতার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে বের হওয়া সমাধান মেনে নেয়নি হিন্দুরা। ২০১৭ সালের মার্চে ভারতের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি জে এস খেহার মধ্যস্থতার প্রস্তাব তুলেছিলেন। কিন্তু তা কেবল প্রস্তাবেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং একসময় পরিত্যক্ত হয়। ১৯৯২ সালের আগেও এ নিয়ে মধ্যস্থতার ঢের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনার পর সব মধ্যস্থতাই ভেস্তে যায়।
এবার আদালত বলে দিয়েছেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে যে সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসবে, তাতে বিবদমান সব পক্ষের সম্মতি থাকতে হবে। কিন্তু সব পক্ষকে পোষ মানিয়ে বাবরি মসজিদ ও রামমন্দির ইস্যুতে সমাধান খুঁজে বের করা অত্যন্ত দুষ্কর বলেই মনে হয়। সমালোচকেরা বলছেন, মধ্যস্থতার পথে এগিয়ে বিতর্ক মেটানোর পুরো কাজটিই স্থবির হয়ে যেতে পারে। তখন উল্টো এ থেকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এখন বিজেপির নেতৃত্বাধীন। খুব স্বাভাবিকভাবেই যেকোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার রাজনৈতিক ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা করবে নরেন্দ্র মোদির দল। আজকেই ঘোষণা হয়ে গেছে আসন্ন লোকসভার নির্বাচনের দিনক্ষণ। সুতরাং ভোটের আগে যত দিন এই অযোধ্যা বিতর্ক জিইয়ে রাখা যায় এবং রামমন্দির ইস্যুকে প্রচারের আলোয় রাখা যায়, মোদির দলের ততই মঙ্গল।
কথা হলো—অন্যান্যবারের মতো এবারও যদি মধ্যস্থতার চেষ্টা ব্যর্থ হয়, তখন সুপ্রিম কোর্ট কি করবেন? এই প্রশ্নের উত্তর সহসা জানার কোনো উপায় নেই। হয়তো অতীতের মতো আদালতের এক বেঞ্চ থেকে আরেক বেঞ্চে ঘুরতে থাকাই অযোধ্যা বিতর্কের ভবিতব্য!
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্বিচার গ্রেপ্তার, সেন্সরশিপ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হয়নি -মার্কিন মানবাধিকার রিপোর্টে বাংলাদেশ পরিস্থিতি

বন্ধ করে দেয়া হয় ওয়েবসাইট। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও জনসভা করার স্বাধীনতার অধিকারেও রয়েছে অযাচিত হস্তক্ষেপ। আছে বেসরকারি সংগঠন এনজিও বিষয়ক অতিমাত্রায় বিধিনিষেধমূলক কঠোর আইন। আছে তাদের কার্যক্রমে বিধিনিষেধ।
আন্দোলনের স্বাধীনতায় আছে উল্লেখযোগ্য বিধিনিষেধ। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণেও আছে বিধিনিষেধ, যেখানে নির্বাচনগুলো কোনোভাবেই খাঁটি, অবাধ ও সুষ্ঠু নয়। আছে দুর্নীতি। আছে মানবপাচার। সমকামী নারী, সমকামী পুরুষ, উভকামী, হিজড়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রয়েছে সহিংসতা। এখানে সমলিঙ্গে যৌনতা অপরাধ। নিরপেক্ষ ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিকদের অধিকারে আছে বিধিনিষেধ। এ ছাড়া শিশু শ্রমের সবচেয়ে বাজে ফর্মটির ব্যবহার করা হয় বাংলাদেশে।
২০১৮ সালে ঘটে যাওয়া বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত বার্ষিক মানবাধিকার রিপোর্টে এসব কথা বলেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সারাবিশ্বের মানবাধিকার রিপোর্ট-২০১৮ প্রকাশ করেন বুধবার। সেখানে বাংলাদেশ চ্যাপ্টারটি ৫০ পৃষ্ঠার। এতে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম, হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, খেয়ালখুশিমতো গ্রেপ্তার ও সহিংসতার কথা তুলে ধরা হয়। বলা হয়, এসব কারণে বিরোধীদলীয় প্রার্থীদের প্রচারণা কঠিন হয়ে উঠেছিল। তাদের সমর্থকরা সভা করতে পারেন নি, কোনো র্যালি করতে পারেন নি। অবাধে প্রচারণা চালাতে পারেন নি। নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা নানা অনিয়মের পরও ব্যাপকভাবে দায়মুক্তি পেয়েছেন বলে ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।
নির্বাচন ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: ২০১৮ সালের শেষে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, ওই নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি। এতে বাছবিচারহীনভাবে ব্যালট বাক্স ভর্তি, বিরোধীদলীয় নির্বাচনী এজেন্ট ও ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগ ও নির্বাচনী মিত্র দলগুলো ৮০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসনে জয় পেয়েছে। যেখানে বিএনপি ও এর মিত্র দলগুলো পেয়েছে মাত্র সাতটি আসন। এর আগে, নির্বাচনী প্রচারণার সময় হয়রানি, ভীতিপ্রদর্শন, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট রয়েছে। এতে বিরোধী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের জন্য সভা-সমাবেশ ও নির্বাচনী প্রচারণা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। বেসরকারি সংস্থা ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুসারে, নির্বাচনের আগের মাসগুলোতে বিএনপি ও অন্য বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে ১২৩৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। আর আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ২১১টি।
বাংলাদেশের সরকার সঠিক সময়ে আনফ্রেলের পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্র ও ভিসা প্রদান করেনি। এ বিষয়ে আনফ্রেল গত ২৩শে ডিসেম্বর একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, তারা বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ৩২টি আবেদনপত্র জমা দিয়েছিল। কিন্তু ২১শে ডিসেম্বর সরকার মাত্র ১৩ জনকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেয়। নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব করার কারণে আনফ্রেল ২২শে ডিসেম্বর তাদের পর্যবেক্ষণ মিশন বাতিল করতে বাধ্য হয়। একই বছরে খুলনা, গাজীপুর, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেটে সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই নির্বাচনগুলোতেও বিরোধী নেতা-কর্মীদের ওপর একই ধরনের হয়রানি, গ্রেপ্তার, ভীতিপ্রদর্শন ও সহিংসতা চালানোর বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট রয়েছে। এমনকি নির্বাচনের দিনেও ভোট কারচুপি, জালিয়াতি ও নানা অনিয়ম ঘটেছে। ৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৪টিতেই জয় পেয়েছে। শুধু সিলেটে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির কাছে হেরেছে।
বিরোধীদলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে উস্কে দিয়েছে। বিএনপি নেতা খালেদা জিয়াকে গত ৮ই ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির অভিযোগে সাজা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়। ওই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল ২০০৮ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। এ ছাড়া, গত কয়েক বছরে সরকার তার বিরুদ্ধে আরো দু’ডজনেরও বেশি মামলা দায়ের করেছে। ফলে খালেদা জিয়া জামিনের সুবিধাও ভোগ করতে পারছেন না। শুধু তাই না, সংসদ নির্বাচনের আগের মাসগুলোতে প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার বিএনপি কর্মীকে অপরাধ মামলায় জড়ানো হয়েছে। এদের মধ্যে অনেককে আটকও করা হয়েছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের দাবি, এগুলোর অনেক অভিযোগই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গত কয়েক বছরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে ৮৬টি অপরাধ মামলা দেয়া হয়েছে। এগুলোর এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। মির্জা ফখরুল বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি পোড়ানো ও বোমা নিক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে।
অন্য সরকার-বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধেও একই ধরনের মামলা দেয়া হয়েছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ব্যাপক হয়রানির কারণে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা তাদের সংবিধান স্বীকৃত বাক-স্বাধীনতা ও সমাবেশের অধিকার চর্চা করতে পারছে না। সরকার রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করেছে। কিন্তু দলটির নেতাকর্মীদের সংবিধান স্বীকৃত বাক-স্বাধীনতা ও সমাবেশের মৌলিক অধিকার অব্যাহতভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। সরকারের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি না হওয়ার জন্য গণমাধ্যমগুলোও সেল্ফ সেন্সরশিপের চর্চা করছে।
সরকারের দুর্নীতি ও স্বচ্ছতার অভাব: বাংলাদেশের আইনে দুর্নীতির দায়ে শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু সরকার ওই আইনের কার্যকর প্রয়োগ করছে না। ফলে সরকারি কর্মকর্তারা অব্যাহতভাবে দুর্নীতি করছে। এতে তাদেরকে দায়মুক্তিও দেয়া হচ্ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ২০১৮ সালের জরিপ অনুসারে, সরকারের ১৮টি বিভাগের মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত। দুর্নীতির দিক দিয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট বিভাগ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া অন্য দুর্নীতিগ্রস্ত বিভাগগুলো হলো- বিচার বিভাগ, ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ও কর এবং শুল্ক বিভাগ।
গত বছরের ২০শে আগস্ট সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারে দুর্নীতি দমন কমিশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একটি আইন পাস করে মন্ত্রিসভা। সুশাসন ও স্বচ্ছতার জন্য আন্দোলনকারীরা ওই আইনের সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছেন। তারা বলছেন, দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দিতে ও দুদকের স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য ওই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
এদিকে, অনেক ক্ষেত্রে সরকারের সমালোচনা করার কারণে ব্যবসায়ী, সংবাদপত্রের মালিক, বিরোধীদলীয় কর্মী ও সুশীল সমাজের বিরুদ্ধে দুদককে দিয়ে তদন্ত করানো বা তদন্তের ভয় দেখানো হচ্ছে। রাজনৈতিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট দুদককে তিরস্কার করে। যা হোক, সরকার কমিউনিটি পুলিশিং প্রোগ্রাম ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ বিভাগে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি লাঘবের উদ্যোগ নিয়েছে।
শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা: বছরজুড়ে বিএনপিকে কোনো মিছিল ও সমাবেশ করতে দেয়নি সরকার। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গত বছরের মার্চ মাসের ১১, ১৯ ও ২৯ তারিখে বিএনপির সমাবেশ করার আবেদন বাতিল করা হয়েছে। কারণ হিসেবে নিরাপত্তাজনিত কারণ উল্লেখ করা হয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই সমাবেশের জন্য ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু বিএনপিকে তখন অন্য স্থানে সমাবেশ করতে বাধ্য করা হয়।
বিএনপি জানিয়েছে, ১লা সেপ্টেম্বর মৌখিকভাবে তাদেরকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। একইসঙ্গে ১০ই সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তারা মানববন্ধন করেছিল। এই দুই কর্মসূচিতে দলটির শত শত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপি। অপরদিকে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো বছরজুড়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ তাদের পছন্দমত সকল স্থানে সমাবেশ করেছে।
১৫ই সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিনি সকল দলকে সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের অনুমতি দিতে ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর ২৯শে সেপ্টেম্বর ডিএমপি ২২টি শর্তের মধ্যে থেকে বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড: ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার দিয়েছে বাংলাদেশের সংবিধান। তা সত্ত্বেও সরকার অথবা তার এজেন্টরা খেয়ালখুশিমতো অথবা বেআইনিভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে বহু রিপোর্ট পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালে সারা বছরই আইনপ্রয়োগকারীরা ঘেরাও অভিযান চালিয়েছে। প্রথমত তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এটা শুরু করে। তবে কিছু ঘেরাও, গ্রেপ্তার ও অন্যান্য আইনপ্রয়োগ বিষয়ক অপারেশনের সময় সন্দেহজনক অনেক মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যু হয়েছে বন্দুকযুদ্ধে এমনটা দাবি করে আইনপ্রয়োগকারীরা। এসব হত্যাকে র্যাব অথবা পুলিশের অন্য ইউনিটের সঙ্গে অপরাধী গ্যাংদের ‘ক্রসফায়ারে মুত্যু’, ‘গান ফাইট’ অথবা ‘এনকাউন্টারে মৃত্যু’ বলে উল্লেখ করে তারা। মিডিয়াও অনেক সময় এসব হত্যাকে বৈধতা দেয় পুলিশি ভাষায়।
মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন ও মিডিয়াগুলো এসব হত্যার অনেকগুলোকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে বর্ণনা করে।
ওই রিপোর্টে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার গত বছর মে মাসে দেশে মাদক সমস্যা মোকাবিলার জন্য মাদকবিরোধী পদক্ষেপ নেয়। এতে অন্য বছরের তুলনায় গত বছর দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়ে যায়। স্থানীয় মিডিয়ার রিপোর্টে বলা হয়েছে, এ অভিযানে প্রায় ২৩০ জন মাদকের ডিলারকে হত্যা করা হয়েছে। গত বছর মে মাস থেকে শুরু হয়ে জুন পর্যন্ত এই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৭০০০ মানুষকে। বিচারবহির্ভূত এসব হত্যাকাণ্ড ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো ও নাগরিক সমাজ। তারা দাবি করেছে, ভিকটিমদের অনেকে ছিলেন নিরপরাধ। তাদের দাবি, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করার জন্য সরকার মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে।
গুম: মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো ও মিডিয়ার রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে চলমান গুম ও অপহরণের তথ্য। এসব গুম বা অপহরণের বেশির ভাগই ঘটিয়েছে নিরাপত্তা রক্ষাকারী সার্ভিসগুলো। এমন সব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ বা তদন্তে সীমিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গুমের অভিযোগের পর নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা কিছু ব্যক্তিকে অভিযোগ ছাড়াই মুক্তি দিয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তার করেছে। কাউকে পাওয়া গেছে মৃত অবস্থায়। আবার অনেকে আছেন যাদেরকে আর কখনোই পাওয়া যায় নি। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জোরপূর্বক গুম করা হয়েছে ৫৮ জনকে। অধিকার বলেছে, জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত জোরপূর্বক গুম করা হয়েছে ৮৩ জনকে। বিরোধী দলীয় সাবেক তিন নেতা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযুক্ত হন। তাদের ছেলেদের ২০১৬ সালে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয় কর্তৃপক্ষ।
তাদেরকে কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে অপরাধের কারণে আটক বা অভিযুক্ত দেখানো হয় নি আনুষ্ঠানিকভাবে। সাত মাস পরে কর্তৃপক্ষ মুক্তি দেয় হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে। কিন্তু মীর আহমেদ বিন কাসিম ও আমান আজমি ২০১৮ সালের শেষ পর্যন্তও ছিলেন নিখোঁজ। ইউএন ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড ডিজঅ্যাপেয়ারেন্সেস বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুমতি চায় এ দেশ সফর করতে। কিন্তু সরকার তাদের সেই আবেদনে কোনো সাড়া দেয় নি।
এমন অবস্থায় বার বার জোরপূর্বক গুমের ঘটনা প্রত্যাখ্যান করতে থাকেন সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা। তারা উল্টো দাবি করেন, ভিকটিমরা নিজের স্বার্থে আত্মগোপন করে আছেন। ২০১৭ সালে বিচার বিভাগীয় এক তদন্তে বলা হয়, জোরপূর্বক গুম করা হয়েছে। এ জন্য গুম হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে নির্দেশ দেয়া হয়। ২০১৮ সাল জুড়েই এসব গুমের তদন্ত আইন অব্যাহত রাখা হয়েছিল বলে জানায় আইনপ্রয়োগকারীরা।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাকায় আন্দোলন চলছিল। এ আন্দোলন নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে ৫ই আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয় ফটোসাংবাদিক ড. শহিদুল আলমকে। তাকে পরের দিন ৬ই আগস্ট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় দেখা যায় তিনি কারো সহায়তা ছাড়া হাঁটতে সক্ষম হচ্ছেন না। দেখেই বোঝা যায় তিনি আহত হয়েছেন বা তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তিনি বক্তব্য দেন। এতে শহিদুল আলম অভিযোগ করেন যে, আটক করার প্রথম রাতে তার চোখ বেঁধে ফেলা হয়েছিল। মাথার ওপর ভারি কিছু রাখা হয়েছিল।
তার মুখে আঘাত করা হয়েছিল। আইনগতভাবে একটি সরকারি হাসপাতালে তার মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দেয়ার একদিন পরে ৯ই আগস্ট আদালতে জমা দেয়া হয় ওই রিপোর্ট। তাতে বলা হয়, শহিদুল আলম ‘শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ’ আছেন বলে মনে হয়। শহিদুল আলমের স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ ২২শে আগস্ট একটি বিবৃতি দেন। এতে তিনি তার স্বামীকে হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানান। তিনি জেলখানায় শহিদুল আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে শহিদুল আলম তাকে বলেন, তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন দাঁতে ব্যথা ও দৃষ্টিশক্তির জটিলতায় ভুগছিলেন। আটকের আগে তার এসব সমস্যা ছিল না। অবশেষে ২০শে নভেম্বর শহিদুল আলমকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়।
ওই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে ভূমিকা থাকার কারণে ৫ই সেপ্টেম্বর ঢাকার ডিবি কর্মকর্তারা বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে তাদের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। কর্তৃপক্ষ কিছু শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দিয়েছে। একজন বিচারকের সামনে তোলার আগে ১২ জন শিক্ষার্থীকে রাখা হয় নিরাপত্তা হেফাজতে। কিন্তু প্রাথমিকভাবে এসব গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করে ডিবি। তাদের এমন গ্রেপ্তার ও তাদেরকে গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে ব্যর্থতার জন্য ব্যাপক সমালোচনা করেছেন মানবকাধিকার বিষয়ক কর্মীরা। ১১ই সেপ্টেম্বর ডেইলি স্টার পত্রিকা একটি তালিকা প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, তালিকায় থাকা বিরোধী দল বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ভুয়া ফৌজদারি অভিযোগ করেছে। এর মধ্যে নাম ছিল হাসপাতালের বিছানায় শয্যাশায়ী ৮২ বছর বয়সী একজন ব্যক্তির। ঘটনার সময় তিনি ছিলেন বিদেশে। এ ছাড়া ওই তালিকায় এমন এক ব্যক্তির নাম ছিল, যিনি মারা গেছেন অপরাধের প্রায় দুই বছর আগে। নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে ১০৪৬টি মিথ্যা মামলার আংশিক তালিকা প্রধানমন্ত্রীর অফিসে জমা দেয় বিএনপি।
রাজনৈতিক বন্দি:
২০১৮ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক বন্দিত্ব ও আটকের ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে বিরোধী দলীয় সদস্যদের অনেক সময় গ্রেপ্তার ও বিচার করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার হুমকির জবাবে অনেক মিথ্যা অভিযোগেও এমনটা করা হয়েছে। সারা বছরে খেয়ালখুশি মতো গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিরোধী দল বিএনপির কয়েক হাজার সদস্যকে।
৮ই ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ২০০৮ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রথমে এ বিষয়ে মামলা করা হয়েছিল। এ অভিযোগকে সমর্থন করতে তথ্যপ্রমাণের যে ঘাটতি রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক ও দেশের ভিতরকার আইনি বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন। তারা বলেছেন, এটা হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বিরোধীদলীয় এই নেতাকে সরিয়ে রাখার জন্য একটি রাজনৈতিক পটভূমি। তার জামিন পাওয়ার আবেদনে আদালত ধীর গতিতে অগ্রসর হয়েছে।
একই পরিস্থিতিতে একজন অভিযুক্ত সাধারণত তাৎক্ষণিক জামিন পেয়ে থাকেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি প্রায় এক মাসের মতো স্থগিত রাখা হয়েছিল। হাইকোর্ট ১২ই মার্চ তাকে জামিন দেন। কিন্তু বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিলেট ডিভিশন সেই আদেশে অবিলম্বে দুই মাসের জন্য স্টে অর্ডার দেন। অভিযোগ গঠনের প্রায় তিন মাস পরে জামিনের আদেশ নিশ্চিত হওয়ার পর সরকার অন্যান্য মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলছে, খালেদা জিয়ার শাস্তি প্রক্রিয়ার আট দিনে বিএনপির ১৭৮৬ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিএনপির একজন মুখপাত্র হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে বলেছেন, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ও কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন এমন কয়েক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাদের এই দাবি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা যায় নি।
প্রেস ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের সংবিধান গণমাধ্যমসহ সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। কিন্তু সরকার সেই অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্যভাবে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। হয়রানি ও প্রতিশোধের ভয়ে সরকারের সমালোচনার ক্ষেত্রে কিছু সাংবাদিক সেলফ-সেন্সরশিপ প্রয়োগ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবাধিকার রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, সংবিধানের সমলোচনাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। রাষ্ট্রদ্রোহের শাস্তি তিন বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আইন ঘৃণামূলক বক্তব্যকে সীমাবদ্ধ করেছে। তবে এটা পরিষ্কারভাবে সংজ্ঞায়িত করে নি, কোনো রকম বক্তব্যকে ঘৃণামূলক বক্তব্য বলা হবে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিরুদ্ধে, আইনশৃঙ্খলা, আদর্শের বিরুদ্ধে, আদালত অবমাননা, মানহানিকর অথবা উস্কানিমূলক বক্তব্যকে সীমাবদ্ধ করতে পারে সরকার। সাংবিধানিক পরিষদের যেকোনো সমালোচনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে ফরেন ডোনেশন অ্যাক্টে। ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ব্যবহার করা হয়েছে বিরোধী দলীয় ব্যক্তি ও নাগরিক সমাজের বিচারে।
ওই রিপোর্টে সেলফ সেন্সরশিপ ও বিধিনিষেধের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, আর্থিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দিয়ে মিডিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এমন অভিযোগ করেছেন নিরপেক্ষ সাংবাদিকরা। তারা আরো বলেছেন, এক্ষেত্রে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকেও একই উদ্দেশ্যে বিজ্ঞাপন দেয়ার ওপর চাপ প্রয়োগ করেছে ওইসব গোয়েন্দা সংস্থা। আরএসএফ অভিযোগ করেছে, সাংবাদিক ও মিডিয়া আউটলেটের বিরুদ্ধে ‘মহামারী আকারে সহিংসতা’ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে সেলফ সেন্সরশিপ। আর যারা এ জন্য দায়ী তারা ভোগ করছে দায়মুক্তি। সাধারণত বেসরকারি সংবাদপত্রগুলো বিভিন্ন রকম দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করে। কিন্তু সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক মেরূকরণ ও সেলফ সেন্সরশিপ একটি সমস্যা রয়েই গেছে।
জাতীয় সংসদ সেপ্টেম্বর মাসে পাস করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। দাবি করা হয়, সাইবার অপরাধ দমনের জন্য এটা করা হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতাকে গলা টিপে ধরতে ও মুক্ত মত প্রকাশকে অপরাধ হিসেবে দেখানোর জন্য এই আইন করা হয়েছে বলে এর নিন্দা জানায় মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো, সাংবাদিকরা, মিডিয়া আউটলেটগুলো ও রাজনৈতিক বিরোধী দলগুলো। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে, জাতীয় সঙ্গীতের বিরুদ্ধে অথবা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা ছড়ানোর শাস্তি এই আইনে রাখা হয়েছে ১০ বছর পর্যন্ত জেল। তবে এ আইন দিয়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমিত করার সমালোচনা করেছে মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো।
যেসব মিডিয়া সরকারের সমালোচনা করে অথবা বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড ও বিবৃতি করে সম্প্রচার তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলতক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। আগস্টে ছাত্রদের নিরাপদ সদকের দাবির আন্দোলনের সময় সরকার ওই আন্দোলনকে সীমিত করতে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়। টেলিভিশন স্টেশনগুলো রিপোর্ট করেছে যে, রাজপথে ছাত্র আন্দোলনের রিপোর্ট সম্প্রচার না করতে তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা। কিছু সাংবাদিক ও মানবাধিকার বিষয়ক এনজিওগুলোর মতো, নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিশোধ নেয়ার আতঙ্কে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানোর ভয়ে সাংবাদিকরা সেলফ সেন্সরশিপে লিপ্ত। যদিও সরকারের সমালোচনা সাধারণ বিষয়, তথাপি সরকারের হয়রানির ভয়ে মিডিয়ার অনেকে আতঙ্কিত।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মুক্ত ফুটপাতে স্বস্তির পথচলা

ফুটপাতের কাঙ্ক্ষিত এই পরিবর্তন এসেছে মাসখানেক আগে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, এই পরিবর্তনকে স্থায়ী রূপ দিয়ে তারা সক্রিয়। তবে আবার ফুটপাতে হকার বসানোর চেষ্টা চলছে। পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে আগামী ১৮ এপ্রিল নগর ভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দিয়েছে হকার্স ইউনিয়ন নামের একটি সংগঠন।
এর আগেও একবার এসব এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সে পরিবর্তন টেকেনি বেশি দিন। তাই এবারের পরিবর্তন কত দিন টেকে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে অনেকের। নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পথচারীদের সঙ্গে হকারদের সামাজিক ও আর্থিক সম্পর্ক আছে। হকাররা নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের পণ্যের জোগান দেন। হকারদের পরিবারও এর আয় থেকে চলে। এ কারণে হকারদের পুনর্বাসন করতে হবে। অন্যথায় হকাররা আবার ফুটপাতে বসে পড়বেন।
২০ ফেব্রুয়ারি গুলিস্তান, পল্টন, বায়তুল মোকাররম ও মতিঝিল এলাকা থেকে হকারদের উচ্ছেদ করে ডিএসসিসি ও ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।
জানতে চাইলে ট্রাফিক পূর্ব বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এ এইচ এম কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ফুটপাত পথচারীবান্ধব করতেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। ফুটপাতে কোনোভাবেই আর হকার বসতে দেওয়া হবে না, নীতিগতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএমপি।
গত বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় দেখা যায়, গুলিস্তানের ঢাকা ট্রেড সেন্টার উত্তর ও দক্ষিণ, সুন্দরবন মার্কেট, গুলিস্তান ট্রেড সেন্টার, সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্স, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকার ফুটপাত ফাঁকা। প্রশস্ত ফুটপাতে স্বচ্ছন্দে চলাচল করছে পথচারীরা। সড়কেও তেমন যানজট নেই। পুরানা পল্টন মোড়, জিরো পয়েন্ট, বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকা, দৈনিক বাংলা ও মতিঝিল এলাকায়ও একই চিত্র দেখা গেছে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আজহার আলী প্রতিদিন নবাবপুরের বাসা থেকে হেঁটে নয়াপল্টনের অফিসে যান। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর সঙ্গে কথা হয় গুলিস্তানে। আজহার বলেন, আগে গুলিস্তানের ফুটপাতে সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত হকারদের দখলে থাকত। ফুটপাত দিয়ে পথচারীদের হাঁটার কোনো জায়গা ছিল না। নবাবপুর থেকে হেঁটে অফিসে যেতে সময় লাগত প্রায় ৪০ মিনিট। এখন লাগে ১৫ থেকে ২০ মিনিট।
ঢাকা ট্রেড সেন্টার উত্তরের ব্যবসায়ী আহমেদ হোসেন বলেন, তাঁদের মার্কেটের চারপাশে ১ হাজারের বেশি হকার ছিলেন। তাঁরা শামিয়ানা টানিয়ে ফুটপাতে বসতেন। এতে মার্কেটের মূল দোকান আড়ালে চলে যেত। এখন হকারদের উচ্ছেদ করায় গুলিস্তানের মার্কেটগুলোর পরিবেশ অনেক সুন্দর হয়েছে।
১৩ মার্চ পল্টনে হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে নগর ভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেয় হকার্স ইউনিয়ন। সংগঠনটির সভাপতি আবদুল হাশেমের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। আর বাংলাদেশ হকার্স লীগের সভাপতি এম এ কাশেম বলেন, হকার্স ইউনিয়ন হকারদের সংগঠন নয়। তবে তাঁদের দাবি যৌক্তিক। অবিলম্বে সিটি করপোরেশন হকারদের পুনর্বাসন না করলে তাঁরাও কর্মসূচি দেবেন।
জানতে চাইলে স্থপতি ইকবাল হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য হকারমুক্ত ফুটপাত দরকার। আবার নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও হকারদের দরকার। তারা অল্প দামে কেনাকাটা করতে পারে। তিনি বলেন, হকারদের পুনর্বাসন করা অনেক কঠিন কাজ। এই কাজটা সহজভাবে করতে ডিএসসিসি মেয়রকে একটা প্রাথমিক পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন প্রথম আলোকে বলেন, ফুটপাত পথচারীবান্ধব করতে উচ্চ আদালতের পৃথক নির্দেশনা আছে। সে অনুযায়ী ফুটপাত পথচারীবান্ধব করা হয়েছে। এখন গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকার ফুটপাত প্রায় শতভাগ হকারমুক্ত। স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করছে পথচারীরা। তিনি বলেন, হকারদের পুনর্বাসনে কাজ চলবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্রাইস্টচার্চ হামলা: জীবন বাজি রাখা হিরো নাইম রশিদ

তাকে মারাত্মক আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলো। কিন্তু সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। তাই বিশ্ব মিডিয়া তাকে হিরো বা নায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তার ছবি দিয়ে আলাদা রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে।
শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নূরে গিয়েছিলেন নাইম রশিদ ও তার ছেলে তালহা। মসজিদ তখন কানায় কানায় পূর্ণ। অকস্মাৎ সেখানে সিনেমার ভিলেনদের মতো এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করে সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্ট (২৮)। নাইম রশিদের চোখের সামনে লুটিয়ে পড়তে থাকে মুসল্লি ভাইদের দেহ। রক্তে ভেসে যেতে থাকে মসজিদের মেঝে। চারদিকে আর্ত চিৎকার। দিকভ্রান্ত মানুষ। ছুটাছুটি করছে। তার সামনে লুটিয়ে পড়ছেন মানুষ। তার মধ্যে রয়েছেন তার ২১ বছর বয়সী ছেলে তালহাও। একজন পিতা হিসেবে সেই দৃশ্য তার হৃদয়ে যে কম্পন তোলার কথা, যে ঝড়ে তার ভেঙে পড়ার কথা, তিনি তার বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন। নিজেকে স্থির করলেন। অস্ট্রেলিয়ান হামলাকারী ব্রেনটন টেরেন্টের কাছ থেকে তার অস্ত্র কেড়ে নেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগলেন। এই ধস্তাধস্তিতে যে সময়টা লেগেছে তার মধ্যে অনেক মুসলিম মসজিদ থেকে বেরিয়ে যেতে পেরেছেন। তা না হলে আরও কি ভয়াবহতা ঘটতে পারতো তা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। তাই তিনি হয়ে উঠেছেন হিরো।
লন্ডনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ লিখেছে, নামাজ আদায় করতে যাওয়া ভাইদের রক্ষার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়লেন রশিদ। তিনি হামলাকারী ব্রেনটনের অস্ত্র কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এতে মারাত্মকভাবে আহত হন রশিদ। এক পর্যায়ে হামলাকারী মসজিদ থেকে বেরিয়ে পালায়। সঙ্গে সঙ্গে অন্য মুসলিমরা রশিদকে উদ্ধার করে দ্রুত নিয়ে যান হাসপাতালে। কিন্তু যিনি অন্য মুসলিমদের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবনকে বাজি ধরলেন, তিনিই বাঁচতে পারলেন না। শুক্রবার রাতের শেষভাগে তিনি মারা যান।
নাইম রশিদের বাড়ি পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে। পাকিস্তানে তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করতেন। কিন্তু একজন শিক্ষক হিসেবে চাকরি পেয়ে যান নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে। সেখানে গিয়ে জীবনযাপন শুরু করেন।
পাকিস্তানের এআরওয়াই নিউজকে ড. খুরশিদ আলম নিশ্চিত করেছেন নিহত নাইম রশিদ তার ভাই। তাকে ও তার ভাজিতা তালহাকে শুক্রবারের নৃশংস হামলায় হত্যা করা হয়েছে। এর আগে ওয়েলিংটনে পাকিস্তানের হাই কমিশন নিশ্চিত করেছে, হামলায় ৪ জন পাকিস্তানি আহত হয়েছেন। ৫ জন রয়েছেন নিখোঁজ।
হামলার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া প্রত্যক্ষদর্শী সৈয়দ মাজহারুদ্দিন। তিনি বলেছেন, আরেকজন মানুষ কিভাবে হামলাকারীকে মোকাবিলা করেছিলেন এবং তার একটি অস্ত্র কেড়ে নিয়েছিলেন। এ ঘটনা ঘটেছিল লিনউড মসজিদে। সেখানে তিনি দেখতে পান হামলাকারী প্রতিরক্ষামূলক ‘গিয়ার’ পরে আছে। মাতালের মতো গুলি ছুড়ছিল সে। তারপরই তাকে মোকাবিলা করতে একজন যুবক উদ্যোগ নেন। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে তিনি বলেছেন, ওই যুবক সুযোগ বুঝে হামলাকারীকে পাকড়াও করে ধরে এবং তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র কেড়ে নেয়। তারপরই ওই যুবক মসজিদে থাকা মুসল্লিদের সুরক্ষা দেয়ার চেষ্টা করেন। তবে তিনি জানতেন না কিভাবে অস্ত্র চালাতে হয়।
ওই যুবককেও হিরো হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মাজহারুদ্দিন। তিনি বলেছেন, ওই ‘হিরো’ বন্দুক চালানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি বন্দুকের ট্রিগার খুঁজে পান নি। এ সময় হামলাকারীকে ধরতে পিছন থেকে দৌড়াতে থাকেন ওই ‘হিরো’। কিন্তু বাইরে তখন একটি গাড়িতে হামলাকারীর সহযোগীরা অপেক্ষা করছিল। হামলাকারী দৌড়ে গিয়ে তাতে উঠে পড়ে এবং পালিয়ে যায়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হামলার দশ মিনিট আগেই প্রধানমন্ত্রীকে মেনিফেস্টো পাঠিয়েছিল

তার দপ্তরের কর্মকর্তারা এটি ব্যবহার করেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা মেইলে পাঠানো ওই ম্যানিফেস্টো দেখতে পান। তিনি সেটা সংসদীয় নিরাপত্তা বিভাগের কাছে পাঠিয়ে দেন। সেখান থেকে পাঠানো হয় পুলিশের কাছে। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই কর্মকর্তা টেরেন্টের পাঠানো ম্যানিফেস্টো ততটা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেননি। অন্য যাদের কাছে ম্যানিফেস্টো পাঠানো হয়েছে, তারাও এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেননি। ফলে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে টেরেন্টের নির্মম হামলায় প্রাণ হারান ৪৯ মুসল্লি।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নূর ও লিনউড মসজিদে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত হামলা চালায় ব্রেনটন টেরেন্ট। শান্ত পায়ে অস্ত্র হাতে নিয়ে মসজিদে ঢুকে সে। এরপর সামনে যাকেই পায় তাকেই গুলি করে । ভেতরে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। গুলি শেষ হয়ে গেলে বারবার ম্যাগাজিন রিলোড করছিল সে। একপর্যায়ে মসজিদের মধ্যে থাকা আহতদের আবারো গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। মসজিদের ভেতরে রক্তের বন্যা বাধিয়ে শান্তভাবে বেরিয়ে আসে হামলাকারী।
তার নৃশংসতার কবল থেকে কয়েক মিনিটের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা। শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে তারা ওই সময় গিয়েছিলেন মসজিদে। ভিতরে রক্তে তখন সয়লাব। একজন নারী বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ভেতরে প্রবেশ করতে বারণ করেন। তার নিষেধেই তড়িঘড়ি করে ওই স্থান ত্যাগ করে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
ব্রেন্টন টেরেন্ট তার শুক্রবারের রক্তক্ষয়ী হামলার কারণ ম্যানিফেস্টোতে বিস্তারিত তুলে ধরেছে। এতে বলেছে, আরেক সন্ত্রাসী অ্যান্ডার্স ব্রেইভিকের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিউজিল্যান্ডে হামলা চালিয়েছে সে। একই সঙ্গে সে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান এবং লন্ডনের মেয়র সাদেক খানের মৃত্যু কামনা করেছে টেরেস্ট। ওই ম্যানিফেস্টোর নাম দিয়েছে সে ‘দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’।
মসজিদে হামলাকারীকে আদালতে তোলা হয়েছে: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে গুলি করে কমপক্ষে ৪৯ জনকে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত ব্রেনটন টেরান্টকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে একটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ। শনিবার আদালতে হাজির করার সময় তার পরনে ছিল কয়েদিদের জন্য নির্ধারিত সাদা শার্ট। হাতে ছিল হ্যান্ডকাফ। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বলেছে, তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ আনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রেনটন টেরান্ট বাদেও আরো দু’জন সন্দেহভাজন হামলাকারী রয়েছে পুলিশি হেফাজতে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিনদা আরডেন শুক্রবারের ওই হামলাকে উগ্র-সন্ত্রাসী হামলা বলে আখ্যায়িত করেছেন। আর বলা হয়েছে প্রধান সন্দেহভাজন এই হামলাকারী যে অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে তা ছিল বৈধ, অর্থাৎ লাইসেন্সকৃত অস্ত্র। আরডেন আরো বলেছেন, যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আগে থেকে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই।
শুক্রবারের হামলার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথম দাউদ নবী নামে একজনের নাম প্রকাশ করেছে তার পরিবার। ৭১ বছর বয়সী নবী ১৯৮০ সালে আফগানিস্তান থেকে নিউজিল্যান্ডে যান। হতাহত অন্যদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে জুমার নামাজরত শত শত মুসল্লির ওপর ওই হামলা চালায় সশস্ত্র বন্দুকধারী। এতে কয়েকজন জড়িত বলে বলা হয়। হামলায় আহত হয়েছেন ৪৮ জন। তার মধ্যে দুই বছর বয়সী এবং ১৩ বছর বয়সী দুটি শিশুও রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া এরই মধ্যে জানিয়েছে, হতাহতদের মধ্যে এসব দেশের নাগরিকও রয়েছেন। ক্রাইস্টচার্চে ব্যাপক নিরাপত্তা বিরাজ করছে এবং দেশজুড়ে সকল মসজিদ বন্ধ রয়েছে।
হামলাকারী সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিনদা আরডেন বলেছেন, মসজিদে হামলার এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তির পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং একটি লাইসেন্স ছিল। শনিবার তিনি আরো জানিয়েছেন, দেশটির অস্ত্র আইন বদলানো হবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হামলাকারীর বন্দুকের লাইসেন্স ছিল এবং সেটি ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরডেন বলেছেন, প্রধান সন্দেহভাজন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণ করেছে এবং নিউজিল্যান্ডে বিক্ষিপ্ত সময় অতিবাহিত করেছে। তার ভাষায়- তাকে আমি দীর্ঘকালীন বাসিন্দা বলবো না। হামলাকারীর বন্দুক লাইসেন্স ছিল। আমাকে জানানো হয়েছে সেটি ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে নেয়া হয়েছে। নিউজিল্যান্ডে গোয়েন্দা সংস্থা উগ্র চরমপন্থিদের বিষয়ে তদন্ত করছে। কিন্তু হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি চরমপন্থার জন্য গোয়েন্দা সমপ্রদায়ের কিংবা পুলিশ কারও নজরেই আসেনি। ওই ব্যক্তি ২০১৭ সালে ইউরোপ ভ্রমণের পর থেকে এই হামলার পরিকল্পনা করছিল এবং সেখানকার ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন আজ

স্বাধীনতার পর তার নেতৃত্বে দেশ গঠনের কাজ শুরু হলেও সাড়ে তিন বছরের মাথায় ঘাতকেরা সপরিবারে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুকে। জাতি যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন উদ্যাপন করবে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশে বাংলাদেশি দূতাবাসসমূহে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদ্যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দিনটিতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। এ ছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে ১৮ই মার্চ সোমবার আলোচনা সভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। এদিন বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ায়ও প্রতিবারের মতো এবারও বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকাল দশটায় টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করবেন। পরে তারা ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস-২০১৯ উদ্যাপন উপলক্ষে গোপালগঞ্জ জেলা ব্রান্ডিং-এর লোগোর রেপ্লিকা উপহার হিসেবে গ্রহণ করবেন। এ ছাড়াও ‘বঙ্গবন্ধুকে লেখা চিঠি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, বঙ্গবন্ধুকে লেখা শ্রেষ্ঠ চিঠি পাঠ, সেলাই মেশিন বিতরণ, ‘আমার কথা শোন’-শীর্ষক ভিডিও প্রদর্শন, জাতীয় শিশু দিবসের আলোচনা সভায় যোগদান ও প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। কাব্যনৃত্যগীতি আলেখ্যানুষ্ঠান উপভোগ, শিশুদের ফটোসেশনে অংশগ্রহণ এবং বইমেলা উদ্বোধন ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের আঁকা ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন তিনি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু কিশোর দিবস উপলক্ষে সব সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বহির্বিভাগে সকাল সাড়ে আটটা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করা হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি ও দোয়া মাহফিল। এ ছাড়াও এ উপলক্ষে এদিন বিএসএমএমইউ’র বহির্বিভাগে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সারা দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলায় কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ইসলামিক মিশনের ৪৬৩টি মক্তবে এদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে বাংলাদেশি দূতাবাসসমূহে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদ্যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪০ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমানে মাওলানা আজাদ কলেজ) ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু ১৯৪৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগের পূর্ব পাকিস্তান শাখার যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৫৩ সালে তিনি পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের টিকিটে ইস্ট বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন। ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আজীবন সোচ্চার এই অবিসংবাদিত নেতাকে রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাবরণ করতে হয়। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা ও পরবর্তীতে ১১ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং বঙ্গবন্ধু উপাধি লাভ করেন। তার সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ধাপে-ধাপে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে থাকে।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হলেও তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বাঙালি জাতির ওপর নানা নির্যাতন শুরু করে। বঙ্গবন্ধু একাত্তরের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। যা ইউনেস্কোর ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। অন্যদিকে ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং তার নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙালির বহু আকাঙ্ক্ষিত বিজয় ও স্বাধীনতা অর্জিত হয়।
বিংশ শতাব্দীতে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করে যারা বিশ্বনন্দিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের অন্যতম। সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিরামহীন সংগ্রামে অবদান রাখার জন্য তিনি বিশ্বশান্তি পরিষদের জুলিও কুরি পদকে ভূষিত হন। বিবিসি’র এক জরিপে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নির্বাচিত হন। যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু যখন বিভিন্নমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করতে শুরু করেন ঠিক সেই মুহূর্তে স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শক্তি ও কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং ওই ষড়যন্ত্রেরই অংশ হিসেবে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট তিনি তার ধানমণ্ডির বাসভবনে কতিপয় বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নিহত হন।
বিশ্ব গণমাধ্যমের চোখে বঙ্গবন্ধু ক্ষণজন্মা পুরুষ। বিগত বিংশ শতাব্দীর কিংবদন্তি কিউবার বিপ্লবী নেতা প্রয়াত ফিদেল ক্যাস্ত্রো বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হিমালয়ের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। ক্যাস্ত্রো বলেন, ‘আমি হিমালয়কে দেখিনি, তবে শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসে এই মানুষটি ছিলেন হিমালয় সমান। সুতরাং হিমালয় দেখার অভিজ্ঞতা আমি লাভ করেছি। ১৯৭৩ সালে আলজেরিয়ায় জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ক্যাস্ত্রোর সাক্ষাৎ ঘটে। শ্রীলঙ্কার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী লক্ষ্মণ কাদির গামা (নৃশংস হত্যার শিকার) বাংলাদেশের এই মহান নেতা সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া গত কয়েক শতকে বিশ্বকে অনেক শিক্ষক, দার্শনিক, দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক, রাজনৈতিক নেতা ও যোদ্ধা উপহার দিয়েছে। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান সবকিছুকে ছাপিয়ে যান, তার স্থান নির্ধারিত হয়ে আছে সর্বকালের সর্বোচ্চ আসনে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1402)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
March
(458)
-
▼
Mar 17
(13)
- ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলায় আহতদের বাঁচাতে প্রাণান...
- নিউজিল্যান্ডে জাকারিয়ার লাশ শনাক্ত, নিহতের সংখ্যা ...
- সেজদা দিয়ে অমুসলিম ফুটবলারের অভিনব প্রতিবাদ
- ক্রাইস্টচার্চের ঘটনায় নিহত ও নিখোঁজ যারা
- গুলিবিদ্ধ ৪ বছরের শিশু জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে
- স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল সিলেটের হোসনে আরার...
- নিহতের সংখ্যা ৫০, প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন, আ...
- অযোধ্যা বিতর্ক: মধ্যস্থতায় মিটবে? by অর্ণব সান্যাল
- নির্বিচার গ্রেপ্তার, সেন্সরশিপ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ...
- মুক্ত ফুটপাতে স্বস্তির পথচলা
- ক্রাইস্টচার্চ হামলা: জীবন বাজি রাখা হিরো নাইম রশিদ
- হামলার দশ মিনিট আগেই প্রধানমন্ত্রীকে মেনিফেস্টো পা...
- বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন আজ
-
▼
Mar 17
(13)
-
▼
March
(458)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...