Friday, January 15, 2010

নাম তাঁর ‘কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী’ by কেয়া চৌধুরী

স্বাধীনতা সংগ্রামে যাঁরা শৌর্য-বীর্যে বীরত্বে দেশপ্রেমের অনন্য স্বাক্ষর বহন করে স্মরণে বরেণ্য হয়ে আছেন, স্বাধীনতার সূর্যসৈনিক, কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী তাঁদেরই একজন। একাত্তরের ২৫ মার্চ পৃথিবীর ইতিহাসে একটি নিষ্ঠুরতম দিন। সেদিন বর্বর ইয়াহিয়া বাংলার নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করেছিল। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষকে দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা করেছিল। কিন্তু ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার যে দিকনির্দেশনা ছিল, তাতে বাংলার দেশপ্রেমিক সন্তানেরা সঠিকভাবেই দেশাত্মবোধে জাগ্রত হয়ে নিজ নিজ কর্তব্য ও দায়িত্ব পালনে মোটেও পিছপা হয়নি। এমন হাজারো বীরের গল্প আমাদের অজানা নয়। তেমনি একজন বীর কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী। ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনে হবিগঞ্জ মহকুমায় যাঁরা সক্রিয় ছিলেন, তাঁদের সংস্পর্শে থেকে ষষ্ঠ শ্রেণীর স্কুলছাত্র মানিক ব্রিটিশ হঠাও আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকা শহরে শহীদদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হলো। এর এক দিন পর হবিগঞ্জ মহকুমায় খবর এল আর মানিক চৌধুরী সরকারি বৃন্দাবন কলেজের ছাত্রনেতাদের সঙ্গে হবিগঞ্জ মহকুমায় বিক্ষোভ মিছিলসহ সভা-সমাবেশে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তারপর আইয়ুব-বিরোধী আন্দোলন, ’৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়, তাতে তিনি সক্রিয় অংশ নেন।
’৭০-এর নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বাহুবল-চুনারুঘাট-শ্রীমঙ্গল নির্বাচনী এলাকা থেকে গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ২৫ মার্চ রাতের গণহত্যা শুরু হওয়ার পর মানিক চৌধুরী সত্যিকার অর্থেই তাঁর নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে গাছ কেটে প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন এবং স্থানীয় ও চা-বাগানের পাঁচ হাজার শ্রমিক নিয়ে একটি বাহিনী প্রস্তুত করেন, যাঁদের হাতিয়ার ছিল তীর ও ধনুক। এভাবেই তিনি ব্যারিকেড তৈরি করেন, যাতে শত্রুসেনা হবিগঞ্জ মহকুমায় প্রবেশ করতে না পারে। আরও জানা যায়, মাধবপুর থানার তত্কালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুসলিম উদ্দিন, সার্কেল অফিসার মমতাজ উদ্দিন মানিক চৌধুরীর কাছে ১২টি রাইফেলসহ ১২ জন কনস্টেবল নিয়ে প্রথমবারের মতো আত্মসমর্পণ করে এবং এভাবেই মানিক বাহিনীর কাছে প্রথম অস্ত্র হাতে আসে। পরবর্তী সময় ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ হবিগঞ্জ ট্রেজারি থেকে ৫৫০টি রাইফেল এবং ২২ হাজার গুলি ছিনিয়ে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তুলে দেন মানিক চৌধুরী। অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র লুণ্ঠনে যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তাতে তিনি মুক্তিফৌজের কাছে নায়ক হয়ে উঠলেন।
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ পুনর্গঠনে একটি গ্রাম উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা প্রস্তুতক্রমে কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী মুজিবনগর সরকারের কাছে পেশ করেন, যা তত্কালীন সব দৈনিক পত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশ পায় (১২-০১-৭২, বাংলাদেশ অবজারভার )। বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের পর ১৯৭২ সালের ১৯ জানুয়ারি তাঁর এ প্রস্তাবগুলো পুস্তিকাকারে বঙ্গবন্ধুর কাছে উপস্থাপন করেন মানিক চৌধুরী। কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী প্রস্তাবিত গ্রাম উন্নয়নের মহাপরিকল্পনায় যা ছিল তা হলো, গ্রামের চিরবঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে গ্রাম পঞ্চায়েত সভা, থানা কাউন্সিল, জেলা কাউন্সিল, জনশাসন এবং উন্নয়নের বিভিন্ন প্রস্তাব। প্রস্তাবিত থানা কাউন্সিলগুলো ছিল স্বায়ত্তশাসিত ও সমবায়ভিত্তিক কাঠামোর আদলে গড়া। পরবর্তী সময় বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ আদর্শে বিশ্বাসী মানিক চৌধুরী বঙ্গবন্ধুরই নির্দেশে ১৯৭৪-৭৫ সালে এ গ্রাম উন্নয়নের মহাপরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন ঘটান তাঁর নির্বাচনী এলাকার মাধবপুরে।
যুদ্ধবিজয়ের পর বিধ্বস্ত দেশে চরম অব্যবস্থা বিরাজ করছিল, চুরি-ডাকাতিসহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তখন তুঙ্গে। অপরদিকে বন্যায় যখন সাধারণ মানুষের সবকিছু ভাসিয়ে দিয়ে একেবারে নিঃস্ব জরাজীর্ণ করে তুলল, তখন মানিক চৌধুরী তাঁর কৃষিবিপ্লবের এক পরিকল্পনার কথা সবাইকে অবহিত করলেন। প্রকল্পের নাম দিলেন ‘ক্ষেতে পানি শ্যামল প্রকল্প’। তিনি ঘোষণা দিলেন কৃষির উন্নয়ন ব্যতীত সমাজের উন্নয়ন হবে না। গ্রাম বাঁচলেই দেশ বাঁচবে। ‘চল চল গ্রামে চল, গ্রাম-বাংলা গড়ে তোল’ রব তুললেন। প্রকল্পের প্রধান উপদেষ্টা হলেন মানিক চৌধুরী। শ্রমশক্তির পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়ে স্বনির্ভর অর্থনীতি এবং নিরাপদ সমাজ-ব্যবস্থা গড়ে তোলার সংগ্রামে মাধবপুরের নারী-পুরুষ ও মানিক চৌধুরী একাত্ম হয়ে এক সবুজ বিপ্লব সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর এ প্রকল্প দেখতে মাধবপুরে আসেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তখন তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ছিলেন। এ ছাড়া আতাউল গণি ওসমানী, দেওয়ান ফরিদ গাজীসহ সালে নরওয়ের যুবরাজও এ এলাকা পরিদর্শনে আসেন।
আরও একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, তা হলো কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী বরাবরই তাঁর বিভিন্ন লেখায় ও বক্তব্যে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে সুশাসনের প্রতি বিশেষ তাগিদ দিতেন। তিনি বলেন, যেহেতু ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও জনশাসন-পদ্ধতি গ্রামের মানুষের মুক্তির একমাত্র পথ, আর গ্রাম বাঁচলেই দেশ বাঁচবে। ‘কেননা, গ্রামই হচ্ছে দেশের প্রাণ।’
এমনই এক অতিসাধারণ মানুষ ছিলেন মানিক চৌধুরী। তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।
nhk6903@hotmail.com

রোগী মরিলেন, ডাক্তারও মরিয়া গেলেন by সুমন রহমান

ছোট্ট একটি খবর ছাপা হয়েছে প্রথম আলোর ১০ জানুয়ারি ২০১০ সংখ্যার শেষ পৃষ্ঠায়। কবিরাজের দেওয়া আমাশয়ের ওষুধ খাওয়ার পর পেটের ব্যথায় মৃত্যু হয় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার যুবক হাবিবুর রহমানের। পরে ওই যুবকের আত্মীয়স্বজন কবিরাজকে হাবিবুর রহমানের মৃত্যুর জন্য দায়ী করতে চাইলে কবিরাজ ময়দান আলী অভিযোগ হাতে-কলমে মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য তাঁদের সামনে নিজেই সেই ওষুধ পান করেন। একইভাবে তিনিও প্রচণ্ড পেটের ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
‘ওষুধ বটে’ শিরোনামের এ সংবাদটি পড়ি প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে। সেখানে আবার পাঠকদের প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ আছে। যথারীতি এ সংবাদটুকুতেও প্রতিক্রিয়া করেছেন পাঠক। বেশির ভাগ প্রতিক্রিয়াই গ্রাম্য হাতুড়ে ডাক্তারদের এসব ‘অপকীর্তি’র নিন্দা জানিয়ে। কেউ কেউ আবার দেখছি, এ জোড়া মৃত্যুর জন্য সরাসরি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ওষুধ প্রশাসনকে দোষারোপ বা দায়ী করেছেন। তাঁদের বক্তব্য ন্যায্য, সন্দেহ নেই। তবু কেন জানি এ সংবাদটুকুর মধ্যে আরও ভাববার কিছু আছে বলে মন খচখচ করতে থাকল। মামুলি দুটি মৃত্যু, এ মৃত্যুময় বাংলাদেশে আমার স্বস্তি হরণ করে নিল।
হাবিবুর রহমান দুরারোগ্য আমাশয়ের রোগী ছিলেন, পত্রিকা পড়ে যতটুকু জানা যায়। অনেক চিকিত্সা করিয়েও কোনো সুফল পাননি তিনি। ফলে কবিরাজের দ্বারস্থ হন। এটুকু থেকে অনুমান করা যায়, আমাশয়ের জন্য তিনি অ্যালোপ্যাথি চিকিত্সা করিয়েছেন। তারপর কবিরাজের শরণ নেন।
কবিরাজি, হাতুড়ে ডাক্তারিবিদ্যা বা টোটকা দাওয়াই, যা-ই বলি না কেন, এ চিকিত্সাপদ্ধতি অনাদিকাল থেকে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে প্রচলিত আছে এবং শহরেও এর দাপট খুব কম নয়। ঢাকা শহরের গুলিস্তানে জ্যান্ত খাঁচাবন্দী শেয়ালকে নমুনা হিসেবে দেখিয়ে বাতের ওষুধ বিক্রির ঘটনা তো হরহামেশাই দেখা যায়। গ্রামের মানুষ সহায়-সম্বল হারিয়ে কিংবা ভাগ্যান্বেষণে যখন শহরে আসে, তখন তার সঙ্গে সে নিয়ে আসে তার গরিবি, তার সংস্কৃতি, তার গান এবং তার চিকিত্সাপদ্ধতিকেও। ফলে হাজার হাজার শিক্ষিত ডাক্তার, শত শত প্যাথলজি আর গন্ডা গন্ডা হাসপাতালের শহর এ ঢাকায় তাই কবিরাজি চিকিত্সা স্বচ্ছন্দে এবং প্রকাশ্যেই চলমান থাকে।
তবে মানুষ যে শুধু সামর্থ্যের অভাবেই কবিরাজের কাছে যায়, তা নয়। আলোচ্য ঘটনাটিই দেখি, বলা হয়েছে, হাবিবুর রহমান অনেক চিকিত্সার পর কবিরাজের কাছে ধরনা দেন। হাবিবুর রহমানের আমাশয় আধুনিক চিকিত্সাবিজ্ঞানের অনধিগম্য সত্যিই ছিল কি না, তা আজ আর জানার উপায় নেই, যেহেতু তিনি মৃত। আর আমাশয় কতটা দুরারোগ্য কি অনারোগ্য, তার খবর চিকিত্সাবিজ্ঞানী কিংবা চিকিত্সকই জানবেন। তবে সাধারণভাবে যতটুকু বুঝি, দুরারোগ্য বা অনারোগ্য কোনো ব্যাধির সঙ্গে কীভাবে বসবাস করতে হয়, সে বিষয়ে রোগীকে ওয়াকিবহাল করা চিকিত্সকের দায়িত্ব। উন্নত বিশ্বের চিকিত্সাপদ্ধতির সঙ্গে যতটুকু পরিচয় হয়েছে, তাতে দেখেছি, চিকিত্সক রোগীকে বা তাঁর অভিভাবককে রোগ সম্পর্কে জানাতে কী পরিমাণ সময় ব্যয় করেন। সেসব দেশে চিকিত্সা একটি পেশা বা বৃত্তি, যাতে কিছু দায়িত্বশীল মানুষ নিয়োজিত থাকেন। আর আমাদের দেশে চিকিত্সক একটা স্ট্যাটাস গ্রুপ। একটা অভিজাত শ্রেণী। অংশত এ কারণে, অংশত চর্চার অভাবে আমাদের চিকিত্সকদের রোগীর সামনে বাকস্ফুর্তি বিশেষ হয় না। রোগীর কী হয়েছে, কেন হয়েছে, কী করতে হবে, এতে রোগীর সায় আছে কি না— এসব বিষয়ে কথা খরচ করতে নারাজ তাঁরা। এমনকি রোগীর বাকস্ফুর্তিকেও তাঁরা খুব উত্সাহিত করেন, এমন চর্চাও বিরল।
এ রকম কোনো অবস্থার ফেরেই হয়তো অ্যালোপ্যাথি চিকিত্সায় ফলাফলশূন্য আমাশয়ের রোগী হাবুিবর রহমানকে কবিরাজ ময়দান আলীর দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। কারণ, ময়দান আলী হচ্ছেন সেই ডাক্তার এবং প্রতিবেশী, যাঁকে মনের সব কথা খুলে বলা যায়, জিজ্ঞেস করা যায়। ধমকের ভয়ে সিঁটিয়ে থাকতে হয় না। আবার ময়দান নিজেই ডাক্তার, নিজেই ফার্মাসি, সেই সঙ্গে নিজেই ফার্মাসিউটিক্যালস। ফলে তাঁর কাছে রোগী এক ধরনের স্বচ্ছতার অনুভব পাবে, এটা অস্বাভাবিক নয়। ভুল বুঝবেন না পাঠক! আমি কবিরাজি চিকিত্সার ওকালতি করছি না। তার কোনো কারণও নেই। কিন্তু যত দিন না রাষ্ট্র তার নাগরিকদের চিকিত্সার দায়দায়িত্ব নিতে পারবে, এবং যত দিন না ‘আধুনিক’ চিকিত্সা-ব্যবস্থা শ্রেণীনির্বিশেষে সেবামূলক হয়ে উঠতে পারবে, তত দিন পর্যন্ত কবিরাজিকে হজম করতে হবে। কারণ, কবিরাজি চিকিত্সা-ব্যবস্থা তার ইনক্লুসিভ চরিত্র এবং তৃণমূল-সংশ্লিষ্টতার কারণে রোগীর মধ্যে এমন এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তি এনে দেয়, যা আমাদের দেশের কম্পার্টমেন্টালাইজড এবং প্রেজুডিসড অ্যালোপ্যাথি চিকিত্সা-ব্যবস্থা দেয় না। অথচ এটা দেওয়া তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
মৃত হাবিবুর রহমানের আত্মীয়স্বজনের সামনে কবিরাজ ময়দান আলীর নিজের তৈরি ওষুধ সেবনে আত্মাহুতি দেওয়ার ঘটনাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। আগেই বলেছি, ময়দান শুধু ডাক্তারই নন, পাশাপাশি তিনি একজন ওষুধ বিক্রেতা এবং ওষুধ প্রস্তুতকারী। বিবেক পরিষ্কার থাকায় নিজের ওষুধের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস তাঁর ছিল। এ মৃত্যু ডাক্তার ময়দান আলীর যতটা, ওষুধ প্রস্তুতকারী ময়দান আলীর তার চেয়ে বেশি। এটি নিঃসন্দেহে একটি নৈতিক মৃত্যু। এখানে যা কিছু গলদ, তা কবিরাজিবিদ্যার—ইতিহাস বা ঐতিহ্য তার পক্ষে থাকলেও সে বর্তমানের চাহিদানুযায়ী অভিযোজিত হয়নি। যা কিছু গলদ তা বাংলাদেশে প্রচলিত এলিট অ্যালোপ্যাথি চিকিত্সাবিদ্যার—কারণ, তা সর্বসাধারণকে প্রবেশাধিকার দেয় না। অর্থনৈতিকভাবেও না, মনস্তাত্ত্বিকভাবেও না।
জবাবদিহিতার প্রশ্নটি খুব গুরুত্বপূর্ণ হওয়া দরকার বাংলাদেশের চিকিত্সা-ব্যবস্থায়। ময়দান আলী যেখানে নিজের জীবন দিয়ে কৃতকর্মের জবাবদিহিতা করেছেন, সেখানে মাত্র কিছুদিন আগে প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে ১৫-এর বেশি শিশুমৃত্যুর ঘটনার আদৌ কতটুকু প্রতিকার হয়েছে? কেবল ওষুধ কোম্পানিকে নিষিদ্ধ আর জরিমানা করে এ ধরনের ভয়াবহ ঘটনাকে সামাল দেওয়া কতটা যুক্তিসংগত, যেখানে আমরা দেখেছি, ওই প্যারাসিটামল বিষাক্ত হয়ে ওঠার মূল কারণ ছিল একটি বিশেষ কাঁচামাল, যা কেবল মুনাফা বাড়ানোর জন্য হিতাহিত জ্ঞানশূন্যভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল! কার কাছে কতটুকু জবাবদিহি করতে হয় আমাদের চিকিত্সক, প্যাথলজি ল্যাব আর হাসপাতালগুলোকে? উত্তর সবাই জানেন। বাংলাদেশের মতো দেশ যেখানে ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অবাধে ওষুধ বিক্রি হয়, যেখানে ওষুধ কোম্পানিগুলো ওষুধের গুণগত মান নিশ্চিত করার বদলে ব্র্যান্ড প্রমোশনের বাজেট বাড়ায়, যেখানে নামধামহীন কোম্পানির রমরমা প্রমোশনে প্রলুব্ধ হয় নামধামওয়ালা দায়িত্বশীল চিকিত্সকের ব্যবস্থাপত্র, সেখানে একটি আদিম চিকিত্সা-ব্যবস্থার বিভ্রান্ত বাহক ময়দান আলীর আত্মাহুতির ঘটনাটি কি কোনো নৈতিক টানাপোড়েন তৈরি করবে এ চিকিত্সা-বাণিজ্যের পাপচক্রে?
সুমন রহমান: লেখক ও গল্পকার।

পুনর্বিজয় থেকে পুনর্দখল ইউরোপ by তারিক আলি

আমাকে আপনারা পুরস্কৃত করেছেন বলে আমি সম্মানিত বোধ করছি। ১৪৯২ সালের এই দিনে (২ জানুয়ারি) স্পেনের শেষ মুসলিম শাসক ক্যাথলিক রাজা ফার্ডিনান্ড ও রানি ইসাবেলার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তবে আমি আরও বেশি আগ্রহী ইসলাম-বিষয়ে আমার পাঁচ পর্বের উপন্যাস ইসলাম কুইনটেট-এর প্রথম পর্বে বিবৃত ধারণাগুলোর বিষয়ে। ইউরোপের ইতিহাসে মুসলিম শাসন বিতাড়নের নাম ‘রিকনকুয়েস্তা’ বা পুনর্বিজয়।
২০ বছর আগে এই গ্রানাডা শহরে আমি উপন্যাসটি লেখা শুরু করি। আমি এতে স্পেনে (আল-আন্দালুসিয়া) মুসলিম শাসনের কষ্টকর শেষ দিনগুলোর কথা পাঠকদের মনে করিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। স্মৃতিকাতরতার জন্য নয়, বরং তাদের ওপর যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল তা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য। এখান থেকে কিছু দূরেই বিব্বারাম্বলা এলাকা। সেখানকার পাঠাগারের সব বই পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ইহুদিদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। অনেককে জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়েছিল। বিধর্মী বলে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল অনেককে। পবিত্র ভ্রাতৃত্ব নামে বিধর্মী নিধনের উদ্দেশ্যে গোপন পুলিশ দল লেলিয়ে দেওয়া হয় ও চূড়ান্তভাবে স্পেনীয় মুসলমানদের বের করে দেওয়া হয় দেশ থেকে। এসবের মধ্যে দিয়ে ইউরোপ ইসলামের চিহ্ন মুছে দিয়ে নতুন পরিচয় অর্জন করে। বলা যায়, এসব প্রবণতাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে জার্মানি, ইতালি ও স্পেনে ফ্যাসিবাদের উত্থানের মধ্য দিয়ে আবার আত্মপ্রকাশ করে। আজও স্পেনের ডানপন্থীরা এই দিনটিতে ‘নতুন রিকনকুয়েস্তার জন্য স্পেনের সব মুসলিমকে তাড়িয়ে দাও’ লেখা ব্যানার নিয়ে মিছিল করে।
ইতিহাসে অতীত ফিরে ফিরে আসে, কিন্তু ঠিক আগের মতো করে ঘটনা আর ঘটে না। অনেক সময় অতীতের প্রতিধ্বনি আগের থেকে মারাত্মক চেহারা নিয়ে আসে। তাই অতীতকে স্মরণ করা মানে আজকের প্রজন্মকে তাদের পূর্বপুরুষদের অপরাধ সম্পর্কে অপরাধবোধে ভোগানো নয়, কিংবা তা নয় অতীতের কৃতকর্মের শোধবোধের আয়োজন। বরং এর লক্ষ্য হওয়া উচিত অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া।
পঞ্চদশ শতাব্দীর পুনর্বিজয় আজ ফিরে এসেছে পুনরায় উপ-নিবেশিকীকরণের (রিকলোনাইজেশন) মাধ্যমে। একসময় পাশ্চাত্যের উপনিবেশ ছিল এমন দেশগুলো হয় সরাসরি দখল হচ্ছে, নতুবা তাদের সম্পদ ও স্বাধীনতা পশ্চিমা পরাশক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
ইরাকে মার্কিন দখলদারি কায়েম হওয়ার পর সেখানে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। দানবীয় সেনা ঘাঁটি তৈরি করে সেই দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার আয়োজন চলছে। আট বছর ধরে আফগানিস্তান তাদের দখলাধীন। সেই দখলদারি শক্তির মধ্যে আপনাদের দেশে স্পেনের সেনারাও আছে। এসব দেখে দেখেই মুসলিম দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে একটি ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে, ক্রুসেড (খ্রিষ্টীয় ধর্মযুদ্ধ) এখনো শেষ হয়নি?
ইউরোপের নাগরিক হিসেবে আমাদের সবারই নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়দায়িত্ব রয়েছে। তার অন্যতম হলো, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের বিরোধিতা করা। আমরা বিভিন্ন মত ও পথের যেসব রাজনীতিবিদকে নির্বাচিত করেছি, তাঁদের এই যুদ্ধের তোড়জোড় আমাদের রুখে দিতে হবে।
মার্কিন সূর্যকে প্রদক্ষিণ করা খুদে উপগ্রহ বনে গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আপনাদের মধ্যে কতজন আছেন, যাঁরা একজন ইউরোপীয় বা মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর মতো একজন ইরাকি বা একজন আফগান বা একজন ফিলিস্তিনির মৃত্যুকেও সমান চোখে দেখতে পারেন? তোমার জন্য এক নিয়ম আর আমার জন্য আরেক নিয়ম; এমন ধারা যদি চলতে থাকে তাহলে বলব, ইউরোপীয়রা ঘুমের ঘোরে আরেকটি বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং তা হবে ১৪৯২ সালের জানুয়ারি মাসে গ্রানাডায় যা ঘটেছিল তার থেকে অনেক গুণ বেশি।
সবকিছুর পরও দুনিয়াকে যতই আশাহীন মনে হোক, আমাদের আশা হারানো চলবে না। কেননা আশা হারানো মানে নিষ্ক্রিয় থাকা, এবং মেনে নেওয়া যে পৃথিবী আর কখনো ভালো হবে না।
কাউন্টার পাঞ্চ থেকে অনূদিত
তারিক আলি: পাকিস্তানি-ব্রিটিশ লেখক, সম্পাদক নিউ লেফট।

জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চল by মো. জামাত খান

আজ পৃথিবীর দিকে তাকালে দেখা যাবে, পৃথিবীজুড়েই বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও হারিকেনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া হারাচ্ছে তার স্বকীয়তা। উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশ হারাচ্ছে তার ষড়্ঋতুর খেলা, একেবারেই হারিয়ে গেছে দুই ঋতু শরত্ ও হেমন্ত। নেই বর্ষার সময় বৃষ্টি, নেই শীতের সময় শীত (এ বছরের শীত বহুদিনের মধ্যে ব্যতিক্রম)। মনে হচ্ছে, একটি ঋতু গ্রীষ্মই যেন এখন প্রভাব বিস্তার করে আছে। এ দৃশ্য শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবীতেই বৃদ্ধি পাচ্ছে উষ্ণতা। আর এসব অবস্থার জন্য দায়ী জলবায়ু পরিবর্তন। বর্তমানে বায়ুমণ্ডল এবং জলবায়ু পরিবর্তিত হচ্ছে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে, যা এখন আর অনুমান বা গবেষণার বিষয় নয়। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন, ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণ করার জন্য মাটি খনন করে ছোট-বড় জলাশয় সৃষ্টি করতে। সম্প্রতি তিনি স্টকহোমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এর প্রভাবে বাংলাদেশের দুই কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশের কৃষি এবং কৃষকের দিকে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য দলমত-নির্বিশেষে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ভূ-উপরিস্থ পানি দিয়ে সেচব্যবস্থা গড়ে তুলতে বলেছেন।
পৃথিবীর খাদ্য পরিস্থিতির বিবেচনায় দেশের মানুষের জন্য খাদ্যনিরাপত্তা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। খাদ্যনিরাপত্তার জন্য দেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় খাদ্য উত্পাদন বাড়াতে হবে। খাদ্য উত্পাদনের জন্য যেমন জমির সর্বোত্তম ব্যবহার প্রয়োজন, তেমনি ফসল উত্পাদনের জন্য যথাসময়ে বীজ, সেচ ও সার সরবরাহ আবশ্যক। গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করা যাচ্ছে, এখনো বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে গভীর নলকূপের পানি দিয়ে সেচব্যবস্থা করা হয়। বরেন্দ্র অঞ্চলে ১২ হাজার গভীর নলকূপের সাহায্যে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে এ অঞ্চলে পানির স্তর প্রতিবছর নিচে নেমে যাচ্ছে। বরেন্দ্রভূমি এখন ক্লান্ত, বিষণ্ন।
বরেন্দ্র অঞ্চলে দেশের অন্য অংশের চেয়ে বৃষ্টিপাত অনেক কম। বরেন্দ্র অঞ্চলের সমভূমির উচ্চতা ১২ মিটার হলেও বরেন্দ্র অঞ্চলের উঁচু এলাকার উচ্চতা ৪৫ মিটার পর্যন্ত রয়েছে। তাই বরেন্দ্র অঞ্চল বন্যামুক্ত। বৃষ্টি কম এবং বন্যামুক্ত অঞ্চল হওয়ার কারণে গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানি পুনর্ভরণ হচ্ছে না। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্রমতে, ১৯৯১ সালে উচ্চ বরেন্দ্র এলাকায় পানির স্তর ছিল ৪৮ ফুট নিচে, ২০০০ সালে তা ৬২ ফুটে নেমে যায়। মধ্য বরেন্দ্র এলাকায় ১৯৯১ সালে পানির স্তর ছিল ২৭ ফুট নিচে, ২০০০ সালে তা নামে ৪০ ফুটে। নিম্ন বরেন্দ্র এলাকায় ১৯৯১ সালে পানির স্তর ছিল ২০ ফুট নিচে, ২০০০ সালে তা নামে ২৯ ফুটে। এ পরিস্থিতি বর্তমান সময়ে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
রাজশাহীর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গত বর্ষার ১ আষাঢ় থেকে ১২ শ্রাবণ পর্যন্ত রাজশাহীতে বৃষ্টি হয়েছে ২৭৩ দশমিক ৪ মিলিমিটার। এই বৃষ্টি হয়েছে বিচ্ছিন্নভাবে এলাকাভেদে। ২০০৮ সালের জুন মাসে রাজশাহীতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ২৪৪ দশমিক ৮ মিলিমিটার। ওই বছরের জুন মাসে বৃষ্টি হয়েছে ১৩২ দশমিক ৪ মিলিমিটার। এমনিতেই রাজশাহী অঞ্চলে দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় কম বৃষ্টি হয়ে থাকে। ওই বছরের জুন মাসে আগের বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ অঞ্চলের পরিবেশে অস্বাভাবিকতা বিরাজ করছে। মে ও জুন মাসে বেশ কয়েকবার রাজশাহী অঞ্চলে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছে। অস্বাভাবিক এই আবহাওয়া পরিস্থিতি এ অঞ্চলের কৃষি, জনস্বাস্থ্য, বন ও মত্স্য সম্পদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। একদিকে কৃষিতে ফসলের উত্পাদনপ্রক্রিয়ায় যেমন প্রভাব পড়েছে, তেমনি জনস্বাস্থ্যও হুমকির মুখে পড়েছে। দরিদ্র মানুষ ভাপসা গরম ও পানিবাহিত রোগে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। অনাবৃষ্টির ফলে নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর ও উন্মুক্ত জলাশয়গুলো পানিশূন্য হয়ে পড়েছে।
এ জন্য বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর লাগাতারভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে জমি শুষ্ক হচ্ছে, হ্যান্ড টিউবওয়েলে এমনকি তারাপাম্পেও পানি ওঠে না। সেচকাজে ভূ-গর্ভস্থ পানির অধিক ব্যবহারের কারণে ভূমির ওপরের স্তর লৌহ ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা দূষিত হচ্ছে। ফলে জমির উর্বরতাশক্তি কমে যাচ্ছে। রাসায়নিক সারের ব্যবহার বাড়ছে। কৃষকের ব্যয় বাড়ছে, আর সবচেয়ে ক্ষতি হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশের। গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে বরেন্দ্র অঞ্চল ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্পের বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৭৪ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে পদ্মা ও মহানন্দা নদীর পানি ব্যবহার করে সেচসুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে। এতে সেচের জন্য ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর অতিশয় নির্ভরতা কমবে এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির আধার পুনর্ভরণে সহায়ক হবে। পরিবেশের ভারসাম্য ফিরে আসবে।
এই প্রকল্পটি নিয়ে এখন বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ এ অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে জনসভা, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠক করে আসছে। বরেন্দ্রের সর্বস্তরের মানুষ চায় পদ্মা ও মহানন্দা নদীর পানির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানিনির্ভর সেচব্যবস্থা গড়ে উঠুক। বর্তমানে দলমত-নির্বিশেষে মেয়র, সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, আদিবাসীসহ সর্বস্তরের মানুষ খরা মৌসুম আসার আগেই সেচ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে লাগাতার কর্মসূচি পালন করছে। উত্তরাঞ্চলের খরাপ্রবণ এলাকায় খাদ্য উত্পাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষার্থে গঙ্গা ব্যারাজ এবং উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প গ্রহণ অতীব জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট থেকে বরেন্দ্র অঞ্চলকে রক্ষার জন্য উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আশু পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
মো. জামাত খান: আহ্বায়ক, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

জেনারেল উইন্টার -দুই দু’গুণে পাঁচ by আতাউর রহমান

স্বনামধন্য রুশ ঔপন্যাসিক লিও টলস্টয়ের কালজয়ী উপন্যাস ওয়ার অ্যান্ড পিস যাঁরা পাঠ করেছেন, তাঁদের ব্যাপারটা বলা অনেকটা বিলেতের নিউক্যাসল শহরে কয়লা নিয়ে যাওয়ার সমান, কিন্তু যাঁরা ওটা পড়েননি, তাঁদের উদ্দেশে নিবেদন করছি: সময়টা ১৮১২ সাল, ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন তাঁর বিরাট সেনাবাহিনী দিয়ে রাশিয়া আক্রমণ করে বসলেন। কিন্তু রুশরা কোনো সম্মুখ-সমরে অবতীর্ণ হলো না, ধাবমান ফরাসিদের বিপরীতে ওরা ক্রমাগত পিছু হটতে থাকল। তবে পিছু হটার সময় ওরা পোড়ামাটিনীতি, যেটাকে ইংরেজিতে বলে ‘স্করচড আর্থ পলিসি’ (Scorched Earth Policy) গ্রহণ করায় ক্রম-অগ্রসরমাণ ফরাসি বাহিনী চরম বেকায়দায় পড়ে গেল। তদুপরি শীতকাল এসে পড়ায় উপায়ান্তর না দেখে নেপোলিয়ন যখন তাঁর সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেন, তখন ফেরার পথে বিরাট সেনাবাহিনীর প্রায় অর্ধেক অনাহারে ও অবশিষ্টরা রাশান শীতের তীব্রতা সইতে না পেরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল।
তা উপন্যাসটি নেপোলিয়নের সেই আগ্রাসনের পটভূমিকায় লিখিত বিধায় টলস্টয় ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে পরিশেষে একটি মজার মন্তব্য করেছেন: অতঃপর রুশরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাল জেনারেল কুটুজক (যিনি তত্কালে রুশ বাহিনী পরিচালনা করেছিলেন) ও জেনারেল উইন্টারকে (অর্থাত্ শীতকালকে)। সত্যিই তো, শীতকালটা একজন আর্মি জেনারেলের মতোই পরাক্রমশালী। তা না হলে সম্প্রতি আমাদের চোখের সামনেই আমরা দেখতে পেতাম না বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে সমুন্নত ইউরোপ ও আমেরিকা শীতকালে তুষারপাতের যন্ত্রণায় কীভাবে পর্যুদস্ত। আর রাশান শীতের ব্যাপারস্যাপারই আলাদা। সাধে কি আর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিজয়ী ইউরোপীয় মিত্রশক্তিগুলো যখন বিভিন্ন দেশের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করছিল, তখন সীমান্তবর্তী এক পোলিশ কৃষকের বাড়ি রাশিয়ায় না পড়ে পোল্যান্ডের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সে খুব খুশি হয়ে বলেছিল, ‘যাক বাবা, বাঁচা গেল, রাশিয়ার ওই তীব্র শীত আমি কিছুতেই সহ্য করতে পারতাম না!’
শীতকালের বদনাম অনেক—শীতকাল নাকি স্থবিরতা ও নির্জীবতার প্রতীক। প্রখ্যাত ইংরেজ কবি পার্সি বিসি শেলী (P. B. Shelley) কিন্তু তাঁর একটি বিখ্যাত কবিতার শেষ চরণে শীতকাল প্রসঙ্গে একটি অত্যন্ত সারগর্ভ কথা বলেছেন, ‘ইফ উইন্টার কামস, ক্যান স্প্রিং বি ফার বিহাইন্ড (If winter comes, can spring be far behind)?’ অর্থাত্, ‘শীতকাল যদি আসে, তাহলে বসন্তকাল কি রয় দূরে?’ আর বসন্তকাল হচ্ছে প্রাণচাঞ্চল্য ও জীবনীশক্তির প্রতীক। তাই তো এক বাঙালি কবি বসন্তের আগমনে উত্ফুল্ল হয়ে লিখেছেন, ‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত।’ তাই তো শীতকালকে উপেক্ষা করার কোনো উপায় নেই—শীতকাল আছে বলেই তো বসন্তকে আমরা উপভোগ করি, সানন্দে স্বাগত জানাই। প্রসঙ্গত, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের সেই বহু-পঠিত পঙিক্তগুলোও স্মর্তব্য: ‘মেঘ দেখে তোরা কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে/হারা শশীর হারা হাসি অন্ধকারেই ফিরে আসে।’
বলছিলাম রাশান শীতের কথা। সে দেশের যে অঞ্চলটি সাইবেরিয়া নামে খ্যাত, সেখানটাই শীতের তীব্রতা সারা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর এ কারণেই ওই অঞ্চলের হাঁস-পাখিরা শীতের আগমনে আমাদের মতো উষ্ণমণ্ডলীয় দেশে ‘মাইগ্রেট’ করে এবং গ্রীষ্মের আগমনে আবার যখন ওদের আবাসস্থলে ফিরে যেতে হয়, তখন নাকি ওদের কণ্ঠে এক ধরনের করুণ সংগীত শোনা যায়; যে কারণে ইংরেজি ভাষায় একটি বাগধারাই উদ্ভাবিত হয়েছে ‘সোয়ান সং’ (Swan song)—কোনো শিল্পীর শেষ সেরা কাজকে এই নামে অভিহিত করা হয়। তা সে যা হোক, সাইবেরিয়ার এক অধিবাসী নাকি একবার গল্পচ্ছলে বলেছিল, ‘আমাদের ওখানে শীত এতটাই তীব্র যে, শীতকালে যখন আমরা দুজন লোক বাইরে বসে আলাপ করি, তখন মাঝখানে একটা স্টোভ জ্বালিয়ে রাখতে হয়। কেননা, তা না হলে কেউ কারও কথা শুনতে পাই না, কথা জমে বরফ হয়ে যায়।’
স্কটল্যান্ডও পাহাড়ি এলাকা বিধায় শীত প্রচুর। তো আরেকবার একজন ইংলিশম্যান ও একজন স্কচম্যানের মধ্যে শীতকাল নিয়ে কথা হচ্ছিল। এক পর্যায়ে স্কচম্যান ইংলিশম্যানকে বলল, ‘আমাদের এখানকার শীতের তুলনায় তোমাদের ইংল্যান্ডের শীত কিছুই নয়। আমার মনে পড়ে, একবার শীতকালে একটি ভেড়া টিলার ওপর থেকে মাঠের উদ্দেশে লাফ দিয়ে আর মাটিতে পড়তে পারেনি, মাঝপথে জমে গিয়ে বরফের বলের মতো ভাসছিল।’
‘কিন্তু মাধ্যাকর্ষণ শক্তি তো সেটা মানবে না,’ ইংলিশম্যানের এই মন্তব্যে স্কচম্যান ঝটপট জবাব দিল, ‘আরে, রাখো তোমার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি, মাধ্যাকর্ষণ শক্তি নিজেই যে জমে বরফ হয়ে গিয়েছিল।’
আর শীতকাল তো আমাদের জীবনেরই একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই হাসির গল্পেও শীতকাল তথা শীত ঘুরেফিরে আসে বৈকি। উদাহরণ চান? নিন তাহলে—
রকেটের সমান গতিসম্পন্ন প্লেনে তিন বন্ধু পৃথিবী পরিভ্রমণ করছিল; তাদের একজন আফ্রিকান, একজন রাশান ও একজন বাঙালি। তো তারা প্রত্যেকে প্লেনের জানালা দিয়ে হাত গলিয়ে ধারণা করার চেষ্টা করছিল, প্লেনটি সে মুহূর্তে কোথায় আছে। রাশান লোকটি তার এক হাত বের করেই সেটা গুটিয়ে এনে বলল, ‘জায়গাটা নিশ্চয়ই আমাদের সাইবেরিয়ার কোথাও হবে। কারণ, ঠান্ডায় আমার হাত জমে যাচ্ছিল।’ খানিকক্ষণ পর আফ্রিকান তার ডান হাত বের করেই তা গুটিয়ে এনে বলতে লাগল, ‘জায়গাটা আমার মহাদেশের সাহারা মরুভূমি হবে। কারণ, গরমে আমার হাত যেন পুড়ে যাচ্ছিল।’ আরও কিছুক্ষণ পর বাঙালি ভদ্রলোক তার বাঁ হাত বের করেই ঝাড়ি খেয়ে হাতটা ভেতরে টেনে নিয়ে এসে বলল, ‘এটা নিশ্চয়ই আমাদের ঢাকার গুলিস্তান এরিয়া হবে। কার,ণ আমি বাঁ হাত বের করা মাত্রই কে যেন ঝটকা দিয়ে আমার হাতঘড়িটা ছিনিয়ে নিয়ে গেল।’
>>>আতাউর রহমান: রম্য লেখক। ডাক বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক।

ভূমিদস্যুতা ও একজন ব্যতিক্রমী প্রতিমন্ত্রী -সময়ের প্রতিবিম্ব

এসব কী শুনলাম গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খানের জবানিতে। আবাসন ব্যবসায়ের কতিপয় দুর্বৃত্ত ও সর্বজনবিদিত ভূমিদস্যুর সঙ্গে বৈঠকে এমন কঠোর ভাষায় বাতচিত করলেন কিসের ভরসায়? অগ্রপশ্চাত্ বিবেচনা না করে এমন সব চাঁচাছোলা কথা বললেন প্রভাবশালী কোটি-কোটিপতি অর্থবানদের, পত্রিকায় সেই বিবরণী পড়ে অবাক হয়ে গেলাম। ভূমিদস্যুর নামে খ্যাতিমান একজন আবার দম্ভভরে অনেকখানি পাল্টা ধমকের সুরে মন্ত্রীকে শুনিয়েও দিলেন, সেদিন সকালেই তাঁর ছেলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। কী কথা বলেছেন, যদি সত্যিই বলে থাকেন, অথবা কী বোঝাতে চেয়েছেন তা অবশ্য পত্রিকার পাতায় আসেনি। তবে বোঝা গেল, পরোক্ষে জানিয়ে দিলেন তাঁর প্রভাব কতখানি বিস্তৃত। তাঁর প্রচ্ছন্ন হুমকি আর প্রধানমন্ত্রীর দোহাইকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন আবদুল মান্নান খান, কী আশ্চর্য! আমার আজকের প্রতিবেদনের বিষয় এই ব্যতিক্রমী প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে।
নির্দিষ্ট বিষয় আলোচনার আগে বিশেষ কারণে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের মন্ত্রীদের নিয়ে আলোচনায় প্রসঙ্গান্তরে যেতে হচ্ছে। প্রথমেই বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলের কথা বলছি। গত সপ্তাহে একটি প্রতিবেদনে তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দেড় দিন পর ১১ সদস্যের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের একটুখানি বিবরণ দিয়েছি। কয়েকজন পাঠক কৌতূহলবশত জানতে চেয়েছেন, ১০ জন মন্ত্রী কারা ছিলেন? মন্ত্রীরা ছিলেন জ্যেষ্ঠতাক্রমে সৈয়দ নজরুল ইসলাম (শিল্প), তাজউদ্দীন আহমদ (অর্থ), ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (স্বরাষ্ট্র), খন্দকার মোশতাক আহমদ (পানিসম্পদ-জ্বালানি), আবদুস সামাদ আজাদ (পররাষ্ট্র), শেখ আবদুল আজিজ (তথ্য), অধ্যাপক ইউসুফ আলী (শিক্ষা), জহুর আহমেদ চৌধুরী (স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা), ফণীভূষণ মজুমদার (খাদ্য), কামরুজ্জামান ও ড. কামাল হোসেন (আইন-সংসদ)। পরবর্তী সময় মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী, সোহরাব হোসেন ও মতিউর রহমান। পুরোনো লেখার জের ধরে মন্ত্রীদের নামোল্লেখ করছি বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার বিশেষত্বটির কারণে। সবাই ছিলেন পোড় খাওয়া জনসম্পৃক্ত রাজনীতিবিদ। সরকার চালনায় দু-চারজনের অভিজ্ঞতা শুধু পাকিস্তানি আমলে স্বল্পকালীন কেন্দ্রে ও প্রদেশে মন্ত্রী থাকাকালের। অন্যদের অভিজ্ঞতা না থাকুক, ব্যক্তিত্ব ছিল। বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যদের অধিকাংশের সেই ব্যক্তিত্ব বা অভিজ্ঞতা কোনোটিই নেই বলে অনেকের ধারণা। তাই তো আমার আজকের লেখাটির শুরুতে আবদুল মান্নান খানের বিরল ব্যক্তিত্ব প্রকাশের জন্য উল্লিখিত হয়েছেন।
জনান্তিকে, অর্থাত্ মূল গুরুগম্ভীর আলোচনার বাইরে দপ্তর বণ্টন নিয়ে বঙ্গবন্ধুর দুটি রসাল মন্তব্য অপ্রাসঙ্গিক মনে হলেও পাঠক সমীপে পেশ করার লোভ সামলাতে পারছিলাম না। শপথ অনুষ্ঠানের পর বঙ্গভবন চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে খোশগল্পের সময়ে বঙ্গবন্ধু তাঁর দপ্তর বণ্টনের তথ্যটি দিলেন। মুচকি হেসে বললেন, ‘জহুরের দুই বউ আর এক ডজন ছেলেমেয়ে। তাই তাকে পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় দিয়েছি।’ বঙ্গবন্ধুর আরও একটি রসিকতা পাঠক উপভোগ করবেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী যখন বাংলাদেশে এলেন, বঙ্গভবনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সদস্যদের স্ত্রীদের জন্য একটি করে দামি বেনারসি শাড়ি উপহার দিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বঙ্গবন্ধু ফণীভূষণের হাত থেকে শাড়িটি নিয়ে বললেন, ‘দাদা, আপনি তো ব্যাচেলর মানুষ, শাড়ি দিয়ে কী করবেন। ওটি জহুরকে দেব, তা না হলে তার দুই বউ একটি শাড়ি নিয়ে কাড়াকাড়ি করবে।’ পাঠক ক্ষমা করবেন, প্রথম আলোতে ‘অন্তরঙ্গ অবলোকে বঙ্গবন্ধু’ প্রতিবেদনটিতে উপরিউক্ত কাহিনি স্থানাভাবে সংযুক্ত করতে পারিনি বলে মনে একটুখানি খুঁতখুঁতি ছিল, তাই আজকের লেখায় সংযোজন করে দিলাম।
আগেই বলেছি, আমার আজকের প্রতিবেদনের মূল বিষয় হলো শেখ হাসিনার চমক লাগানো মন্ত্রিসভার একজন ব্যতিক্রমী সদস্যকে অভিনন্দন জানানো। বর্তমান মন্ত্রিসভাকে প্রথম দিকে অনেকে কচিকাঁচার আসর বলেছেন, আমি বলেছি পাঠশালা। আমার বিশেষণটির মাজেজা ছিল, পাঠশালার ছাত্রছাত্রীরা, শিক্ষানবিশেরা যা জানার পণ্ডিত মশায়ের কাছ থেকে জেনে নেন, যা করার তাঁর অনুমতি নিয়ে করেন। একটুখানি বিস্তৃত ব্যাখ্যা করে বলছি, কোনো মন্ত্রী বা উপমন্ত্রী নানাজনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশেষ সমস্যা নিয়ে বৈঠক করেন। সবার চাহিদা, দাবি ও অভাব-অভিযোগ শোনেন। সবার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন, যথার্থতা মেনে নিয়ে সব সমস্যা সমাধানের ও দাবি পূরণের আশ্বাস দেন। সবশেষে আসন থেকে ওঠার সময়ে বলেন, ‘এসব নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’ এ কথা পত্রিকায় প্রকাশিত বিবরণী পড়ে বলছি না, এতদসম্পর্কীয় আমার নিজেরই অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট একটি চাহিদা নিয়ে একজন পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করছিলাম। আমার চাহিদার যথার্থতা ও যোগ্যতা সম্পর্কে তাঁর কোনো দ্বিধাবোধ ছিল না, সেটি পূরণে আন্তরিকতার অভাবও ছিল না। কিন্তু সব কথার শেষ কথাটি বললেন, ‘আপনাকেও নেত্রী অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন। তাঁকে একবার বলুন না।’ অর্থাত্ পূর্ণমন্ত্রী হয়েও পুরো দায়িত্ব তাঁর নয়, ফাইল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দৌড়াতে হয়। পরবর্তী ঘটনাবলি বর্ণনা করা নিষ্প্রয়োজন মনে করি, তবুও বলছি আমার চাহিদাটি মেটেনি। কারণ, মন্ত্রীকে বলতে পারিনি, আজই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এসেছি। কারণ, শিখণ্ডী মন্ত্রীর অসহায়ত্ব আমি বুঝতে পারি।
তার পরও আমি ভেবে পাই না, বর্তমান মন্ত্রিসভার কিছু প্রবীণ ও অধিকাংশ নবীন সদস্য কি সত্যিই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে অভিজ্ঞতার অভাবে অপারগ অথবা সব বোঝা একজনের ওপর চাপিয়ে দিয়ে সব দায়দায়িত্ব পালন থেকে দূরে থাকতে চান? এই প্রসঙ্গে আবার বঙ্গবন্ধু সরকারের জমানার আদি পর্বে যাচ্ছি। গণভবনে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু তাঁর রাষ্ট্রীয় ও সরকারি কাজকর্ম শেষে পেছনের বারান্দায় আমরা কয়েকজন নিত্য যাতায়াতকারীর সঙ্গে খোশগল্প করতেন। একদিন সন্ধ্যায় বারান্দায় তাঁর আগমনের প্রতীক্ষা করছি। একটু পরে তিনি বারান্দায় এসে একটি ফাইল আমাদের সামনে ছুড়ে দিয়ে রাগান্বিত স্বরে বললেন, ‘দেখ দেখ, কাদের আমি মন্ত্রী বানিয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদ চালানোর ক্ষমতা নাই, দপ্তর চালাবেন।’ আমাদের একজন ফাইলটি মাটি থেকে কুড়িয়ে তুলে সবার সামনে মেলে ধরল। চোখে পড়ল জনৈক মন্ত্রী তাঁর ব্যক্তিগত বাবুর্চি নিয়োগ দেবেন, প্রধানমন্ত্রীর সহূদয় অনুমোদন প্রয়োজন। এ ছিল দেশের ঝুনো রাজনীতিবিদ মন্ত্রীদের প্রাথমিক কার্যক্রম। পরবর্তী সময় কালক্রমে তাঁরা প্রত্যেকেই আপন ব্যক্তিত্বের প্রভাবে স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে অভিজ্ঞতার ঘাটতি পূরণ করে স্বাধীনভাবে আপন দায়িত্ব পালন করেছেন। কেউ আর ‘বাবুর্চি নিয়োগের’ ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাননি অথবা বলেননি, ‘একবার নেত্রীর সঙ্গে কথা বলুন।’ বর্তমান মন্ত্রিসভার কাঁচা মন্ত্রীদের কি এদ্দিনে পাকা হওয়ার কথা। শিক্ষানবিশী পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ‘মূল্যায়ন করে’ স্বপদে বহাল রেখেছেন। তার পরও পূর্তমন্ত্রীর মতো কেউ ধমকটি পর্যন্ত দিতে পারেন না।
পাঠক সমীপে ক্ষমা চাই, বারবার মূল প্রসঙ্গ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি, তাই বক্তব্যও খাপছাড়া হয়ে যাচ্ছে। তবে পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক নয়। তাই আবদুল মান্নান খান প্রসঙ্গে ফিরে আসি। সেদিনকার প্রতিমন্ত্রী এবং ভূমি ব্যবসায়ীদের মধ্যকার বৈঠকের খণ্ডচিত্র অনেকেই টেলিভিশনে দেখেছেন, প্রথম আলোসহ কতিপয় পত্রিকার পাতায় একটুখানি পড়েছেন। একমাত্র দৈনিক ডেসটিনি ভূমিদস্যুদের সর্দারের নামোল্লেখ করে যে বিস্তারিত বিবরণ ছেপেছে, আমি তার কয়েকটি বাক্য উল্লেখ করতে চাই। একজন ‘ভূমিদস্যু’কে মন্ত্রী বললেন, এক. আপনার বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকিসহ ৭১টি অভিযোগ আছে। এসব অভিযোগের প্রমাণও রয়েছে আমার কাছে। দুই. স্বপ্নের ঠিকানা আর বেহেশতে নিয়ে যাওয়ার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করেন; আপনারা ঘুমান কীভাবে? অন্যের জমি নিজের নামে বিক্রি করেন, লজ্জা করে না? উত্তরটি আমিই দিয়ে দিচ্ছি এই বলে, ‘লজ্জা, ঘৃণা, ভয়—তিন থাকতে নয়।’
তিন. অন্য একজনের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো রকম শিক্ষা-দীক্ষা ছাড়াই বড় বড় কথা বলেন!
উচিত কথা বলার জন্য যতই প্রশংসা করি না কেন, প্রশ্ন হচ্ছে, আবদুল মান্নান খান একটি অপরাধী চক্রের যেসব কুকর্মের ফিরিস্তি দিয়েছেন কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি অথবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারবেন কি? তিনি ক্ষোভ ও ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ করেছেন কিন্তু ‘দশ বাঁও মিলে না’ পানির নিচের জমি উদ্ধার করতে পারবেন না। তিনি অবশ্যই অবগত আছেন, কেন আদালতের শাস্তি এড়িয়ে বুক ফুলিয়ে বেড়ানো আসামিকে স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিতে পারছেন না। শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র নামধারী দলীয় লেবাসধারী সন্ত্রাসীরা অরাজকতা ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করলে প্রধানমন্ত্রী বারবার শুধু হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, শিক্ষামন্ত্রীর কিছু বলার সাহস নেই কেন? নৌপরিবহনমন্ত্রী নদী অবমুক্ত করার কাজ ঢাকঢোল পিটিয়ে শুরু করেন, তারপর কখন যেন থেমে যায়। বনদস্যুরা দলীয় সাংসদের প্রশ্রয়ে উপকূলীয় গাছ যখন নিশ্চিন্তে উজাড় করছে, তখন পরিবেশমন্ত্রী তাদের বিরুদ্ধে টুঁ-শব্দটি করেন না বরং বিশ্ব আবহাওয়া নিয়ে বিশ্ব সম্মেলনে মুখে খই ফোটান। বাণিজ্যমন্ত্রী সিন্ডিকেটের ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করেন, ‘দয়া করে আর দাম বাড়াবেন না।’ কিন্তু একটি গুদামে হানা দিতে পারেননি, একজন মজুদদারকেও শায়েস্তা করতে পারেননি। তাদের সঙ্গে তোয়াজ করে কথা বলেছেন, আঙুল তুলে ধমক দিতে পারেননি। একজন প্রতিমন্ত্রী পেরেছেন, এ জন্য তাঁকে শত বাহবা দিয়েও দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, তাঁর দাবড়ানি আর ধমকি-ধামকিই সার। আর কিস্যু করতে পারবেন না, বরং উল্টো ধমক খেতে হবে, ‘আমার ছেলে আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন।’ এই ধৃষ্টতার সারকথাটি তিনি জানেন বৈকি। জেনেও অন্তত মৌখিক দাবড়ানি তো দিয়েছেন, তা-ই বা কম কী!
এবিএম মূসা: সাংবাদিক।

গাছ উজাড় -দস্যুদের পাকড়াও করতে হবে

গাছ কাটার বিরুদ্ধে আইন করা হবে বলে পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা যে বনদস্যুদের চৈতন্যোদয় ঘটাতে পারেনি, চট্টগ্রামের চকরিয়া ও বগুড়ার ধুনটের ঘটনাই তার প্রমাণ। চকরিয়ার বিভিন্ন সড়কের পাশের গাছ নির্বিচারে কেটে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা।
গত দুই মাসে কয়েক শ গাছ কাটার ঘটনা ঘটেছে। আট থেকে দশ বছর আগে বন বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কের দুই পাশে ও বেড়িবাঁধের কয়েক কিলোমিটারে গাছের চারা রোপণ করে। গাছগুলো এখন বেশ বড়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলেই দুর্বৃত্তরা গাছ কাটার অভিযানে নামে। তাদের সঙ্গে এলাকার জনপ্রতিনিধির ছেলে ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত থাকায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। চিরিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। সরকারি জমিতে লাগানো গাছ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বন বিভাগের। তারা সে দায়িত্ব পালন করলে দুর্বৃত্তরা এভাবে গাছ কাটতে পারত না। কয়েকটি সড়কের পাশের গাছ দুর্বৃত্তরা সাবাড় করে দিলেও মামলা হয়েছে মাত্র একটি সড়কের পাশের গাছ কাটা নিয়ে। সেই মামলার ফলও শূন্য। গাছদস্যুরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তারা আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
অন্যদিকে ধুনটে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই নাটাবাড়ী দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের শতবর্ষী বটবৃক্ষটি বিক্রি করে দিয়েছেন কমিটির সভাপতি। তাঁর খুঁটির জোর কোথায়? তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপিরও সভাপতি। আর গাছটির ক্রেতা হচ্ছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি।
জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই মেরুতে অবস্থান করলেও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থে এক। অন্য কারও কাছে গাছটি বিক্রি করলে বিএনপির নেতা বিরোধিতার মুখোমুখি হতেন। আওয়ামী লীগ নেতার মুখ বন্ধ করে দিলেন তাঁকে সুবিধার বখরা দিয়ে। এ রকম ভাগ-বাটোয়ারার ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তির জোরে অবৈধ কাজ বৈধ করে নিচ্ছেন। কমিটির সভাপতি হলেই তিনি বিদ্যালয়ের সম্পত্তিকে নিজের ভাবতে পারেন না।
চকরিয়ার গাছদস্যুদের ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা যা বলেছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। গ্রেপ্তারের চেষ্টা কি অনন্তকাল চলবে? আমরা কোনো অজুহাত শুনতে চাই না। অবিলম্বে দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার করে বিচারে সোপর্দ করতে হবে। বন বিভাগকে পাহারা জোরদার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ গাছ চুরি করতে না পারে।

দিল্লি শীর্ষ বৈঠক -চুক্তি-সমঝোতার সুফল জনগণ পেতে চায়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে ৫০ দফার যে যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করা হলো, তা থেকে এটা পরিষ্কার যে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের অধিকতর সহযোগিতামূলক ধারা সূচিত হতে যাচ্ছে, যা দেশ দুটির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্র ছাড়িয়ে আঞ্চলিক ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। উভয় দেশের জনগণের জন্যই আশাব্যঞ্জক বার্তা বয়ে এনেছে হাসিনা-মনমোহন শীর্ষ বৈঠক।
প্রথমত, সন্ত্রাসবাদ দমনের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত তিনটি চুক্তি এই অঞ্চলে জঙ্গিবাদ ও সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী তত্পরতা দমনের উদ্যোগে দুই দেশকে আরও কাছে টানবে। দুই দেশের আন্তরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে পারে। উভয় দেশের জনগণ শান্তিকামী; সন্ত্রাসবাদ তাই কোনো এক পক্ষের বিষয় নয়।
দ্বিতীয়ত, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের সমুদ্র, রেল ও সড়কপথ একে অন্যকে ব্যবহারের সুযোগ দেবে বলে যে সমঝোতা হয়েছে, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিসঞ্চারের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ভারতের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানকে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেবে বাংলাদেশ; এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অনেক রাজস্ব আয় হবে। বিশেষত, প্রায় অচল মংলা বন্দরটি এই সুবাদে প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে, সেখানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানও ঘটবে। আর নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাবে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ। ওই দুটি দেশে আমাদের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি হবে অত্যন্ত সহায়ক। এই উদ্যোগ শুধু দ্বিপক্ষীয়ভাবে ভারত-বাংলাদেশ নয়, বরং আঞ্চলিক যোগাযোগ বা কানেকটিভিটির পথ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা ঘটাতে পারে।
বাংলাদেশের প্রতি ভারতের আরও কিছু ইতিবাচক, বন্ধুসুলভ মনোভঙ্গির প্রকাশ ঘটেছে কয়েকটি বিষয়ের মধ্য দিয়ে। এসবের মধ্যে আরও ৪৭টি পণ্যের শুল্কমুক্তভাবে ভারতে প্রবেশাধিকার, রেল ও যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, নদী পুনঃখনন ইত্যাদির জন্য ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ-সহায়তার ঘোষণা ও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ বিক্রির বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। যেমন, তিস্তা নদীর পানিবণ্টন, যা বাংলাদেশের একটি বড় অগ্রাধিকার; তা নিয়ে কোনো চুক্তি হয়নি। কথা হয়েছে, চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে মার্চে দুই দেশের পানিসম্পদমন্ত্রীদের বৈঠক বসবে। সমুদ্রসীমা নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট রূপ পরিগ্রহ করেনি, শুধু আভাস দেওয়া হয়েছে যে জাতিসংঘের প্রচলিত সালিসব্যবস্থার পরিবর্তে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রয়াস নেওয়া হবে। সীমান্ত নির্ধারণ, ছিটমহল ও অপদখলীয় জমি—এ ধরনের কিছু বিষয়ও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এ বিষয়গুলো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কূটনৈতিক সূত্রে বলা হয়েছে, এসব বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক বাস্তবতাকে যুক্তিপূর্ণভাবে পারস্পরিক মঙ্গলের স্বার্থে কাজে লাগানোর পরিবর্তে অবিশ্বাস, অনাস্থা, দোষারোপের যে ধারা এত দিন কমবেশি চলে এসেছে, তার অবসান ঘটানো জরুরি হয়ে পড়েছিল। দিল্লি শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের সরকারের মধ্যে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং আরও যা হতে যাচ্ছে, সেগুলোর বাস্তবিক সুফল জনজীবনে প্রতিফলিত হলেই দুই দেশের সম্পর্কের প্রকৃত উন্নতি ঘটবে। জনগণ চুক্তি ও সমঝোতার সুফল পেতে আগ্রহী।
আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর দেশ দুটির মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাকে গঠনমূলকভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলে আঞ্চলিকভাবে বড় ধরনের উন্নয়নে সূচনা ঘটানো সম্ভব হবে।

২০৩০ সাল নাগাদ ৮০টি পরমাণু চুল্লি রপ্তানি করতে চায় দ. কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ তারা ৮০টি পরমাণু চুল্লি বিদেশে রপ্তানি করতে চায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে চার হাজার কোটি ডলারের পরমাণু জ্বালানি চুক্তির পরপর দেশটি তাদের এই লক্ষ্যের কথা জানাল।
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, নিজেদের পরমাণু জ্বালানি চুল্লি প্রযুক্তির উন্নয়ন ও গবেষণায় ২০১১ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ৩৫৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোক্তারা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চারটি পরমাণু চুল্লি স্থাপন এবং পরিচালনার কাজ পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন সংস্থা।

ইয়েমেনে বন্দুকযুদ্ধে আল-কায়েদা নেতা আবদুল্লাহ মেহদার নিহত

ইয়েমেনের শাবাওয়া প্রদেশে গত মঙ্গলবার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আল-কায়েদার প্রভাবশালী নেতা আবদুল্লাহ মেহদার নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ওই এলাকায় জঙ্গিদের গুপ্ত হামলায় দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, রাজধানী সানা থেকে ৬০০ কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়ি এলাকা শাবাওয়া প্রদেশের একটি বাড়িতে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় মেহদার ওই বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন। এ ছাড়া সংগঠনের আরও চার সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছে।
শাবাওয়া প্রদেশের গভর্নর আলী হাসান আল-আহমাদি সাংবাদিকদের বলেন, মেহদার গত রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন। সংগঠনের অন্য সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
আহমাদি আরও জানান, নিরাপত্তা বাহিনী আল-কায়েদার সন্দেহভাজন চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মধ্যে দুজন বন্দুকযুদ্ধে আহত হয়েছে।
ওই এলাকার আদিবাসীরা জানিয়েছে, পুলিশের অভিযানের পর আরও ১৮ সন্দেহভাজন পালিয়ে পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, শাবাওয়া প্রদেশে গুপ্ত হামলায় সেনাবাহিনীর দুই সদস্য নিহত হয়েছেন।
গত ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনে যুক্তরাষ্ট্রগামী একটি বিমানে এক নাইজেরীয় চরমপন্থীর বোমা হামলার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। আল-কায়েদার ইয়েমেন শাখা ওই হামলার পরিকল্পনার দায় স্বীকার করার পর থেকে ইয়েমেনে আল-কায়েদার কর্মকাণ্ড জোরেশোরে আলোচনায় উঠে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে সেনা পাঠাতে পারে বলে শোনা যাচ্ছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে জানিয়ে দিয়েছেন, ইয়েমেনে সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে তাঁর নেই।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে চাপের মুখে পড়ে এবং সৌদি আরবে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের কারণে আল-কায়েদার জঙ্গিরা ইয়েমেনে চলে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে একটি বন্দর বন্ধ ঘোষণা

‘উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য’ বহনকারী নয়টি কনটেইনারে দুর্ঘটনাবশত ছিদ্র সৃষ্টি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় বন্দর গত মঙ্গলবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
পুলিশ জানায়, উত্তর ক্যারোলাইনার মোরহেড সিটি বন্দরে গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল নয়টার দিকে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
শহরের বন্দর বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘মোরহেড সিটি বন্দরে নয়টি কনটেইনারের ভেতরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য পেয়েছি আমরা।’ কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই ঘটনায় কেউ আহত হননি।

মমতার সমালোচনায় মাওবাদী নেতা কিষানজি

এত দিন মাওবাদীদের বিরুদ্ধে তেমন একটা মুখ খোলেননি তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং প্রকারান্তরে তিনি পরোক্ষভাবে সমর্থনই দিয়ে আসছিলেন মাওবাদীদের। আর এতে সন্তুষ্ট মাওবাদী নেতা কিষানজিও কিছুদিন আগে বলেছিলেন, তাঁরা মমতাকে ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই দেখতে চান। কিন্তু রাজনীতিতে শেষকথা বলে কিছু নেই।
এবার রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার জন্যই মমতা সোচ্চার মাওবাদীদের বিরুদ্ধে। শনিবার কলকাতায় রীতিমতো সংবাদ সম্মেলন করে মাওবাদীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মাওবাদী দমনে যৌথবাহিনী ব্যর্থ। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারও ব্যর্থ। এবার তাদের দলই মাওবাদী দমনে অগ্রণী ভূমিকা নেবে। জঙ্গলমহলকে মাওবাদী দখলমুক্ত করে ফিরিয়ে দেবেন আদিবাসীদের হাতে। শুধু তা-ই নয়, মাওবাদীদের খুনি বলতেও দ্বিধা করেননি তিনি। এমনকি লালগড়ে পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনগণের কমিটির নেতা ছত্রধর মাহাতোকে তিনি এই বার্তা পৌঁছে দেন যে খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয় তৃণমূল।
এ ঘোষণার পর খেপে যান মাওবাদী নেতা কিষানজি। তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় মমতা তাঁদের সহযোগিতা নিলেও এখন ক্ষমতার লোভে এবং ভবিষ্যতের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার চিন্তায় মমতা সুর বদলে ফেলেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সুরেই তিনি এখন মাওবাদীদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। মমতার দলের সাংসদ কবীর সুমন ছত্রধরের পক্ষে কথা বলে ঠিকই কাজ করেছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় শিক্ষকের ১০ বছর কারাদণ্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত গতকাল বুধবার একজন কলেজশিক্ষককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। পিয়ংইয়ংয়ের হয়ে প্রায় দুই দশক ধরে গুপ্তচরবৃত্তি করার অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার পর আদালত এ রায় দেন।
সিউলের দক্ষিণাঞ্চলীয় সুওয়েনের আদালত রায়ে বলেছেন, ‘৩৭ বছরের কলেজশিক্ষক লি দেশের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। বিগত ১৭ বছর ধরে দেশের সামরিক গোপন তথ্য উত্তর কোরিয়ায় পাচার করে তিনি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে হুমকির সৃষ্টি করেছেন।’
কারাদণ্ডের পাশাপাশি লিকে ২৮ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
সিউলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯৯২ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে একটি কলেজে পড়ালেখা করার সময় লিকে উত্তর কোরিয়ার গোয়েন্দা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর তিনি দুবার পিয়ংইয়ং সফরে যান এবং সেখানকার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন। এ সময় লিকে অন্তত ৩০ হাজার মার্কিন ডলার দেওয়া হয়।
পরে দেশে ফিরে স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষে একটি কলেজে যোগ দেন লি। এ সময় দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় একত্রীকরণ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। এই পদাধিকারবলে দেশের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক গোপন তথ্য সংগ্রহের অধিকার অর্জন করেন লি।

রাশিয়া থেকে ডুবোজাহাজ ইজারা নেবে ভারত



রাশিয়ার কাছ থেকে পরমাণুশক্তিসম্পন্ন ডুবোজাহাজ নেরপাকে ১০ বছরের জন্য ইজারা নেবে ভারত। এ বছরের গ্রীষ্মকাল বা শরত্কালে ডুবোজাহাজটি ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে। গত মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। খবর জি নিউজের।
এর আগে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ভারতকে নেরপা ডুবোজাহাজ ইজারা দেওয়ার ব্যাপারে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অস্বীকার করেছিল।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র দেশটির বার্তা সংস্থা ইতার-তাসকে জানায়, নেরপা পরমাণু ডুবোজাহাজ ১০ বছরের জন্য ভারতকে ইজারা দেওয়া হবে। এটা এ বছরের গ্রীষ্মকাল বা শরত্কালে দেওয়া হবে।
ভারতীয় কর্মকর্তারাও ইজারা চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘রাশিয়া থেকে শিগগিরই আমরা ডুবোজাহাজ পাচ্ছি।’ ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যত শিগগির সম্ভব আমরা ডুবোজাহাজটি পেতে চাই। এটা নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান শক্তি বাড়াতে বাড়তি ভূমিকা রাখবে।’
কত টাকার বিনিময়ে ইজারা চুক্তি হয়েছে তা জানা যায়নি। ইতার-তাস জানিয়েছে, ডুবোজাহাজটি রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি ভ্লাদিভস্তক বন্দরে ভারতীয় এক নাবিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
প্রচলিত টর্পেডো ও দ্রুতগতিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম নেরপার সাংকেতিক নাম ‘আকুলা’। ন্যাটো এই নাম দিয়েছে। নেরপাকে প্রথম পানিতে ডোবানো হয় ১৯৯৩ সালে। তবে ২০০৮ সাল থেকে সমুদ্রে নেরপার পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হয়। ওই বছরের নভেম্বর মাসে পরীক্ষামূলকভাবে সমুদ্রে চলার সময় হঠাত্ করে নেপরার একটি অংশে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণ হয়ে ২০ জনের মৃত্যু হয়। ২০০০ সালের পর ওটিই ছিল রাশিয়ার নৌবাহিনীর বড় দুর্ঘটনা।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র বলেন, নেরপা গত বছরের শেষে রাশিয়ান নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়। বিভিন্ন অসুবিধা দূর করে ফেব্রুয়ারি মাসে আরও কয়েকবার পরীক্ষামূলকভাবে ডুবোজাহাজটি চালানো হবে।

অস্ট্রেলিয়ায় আবারও এক ভারতীয় হামলার শিকার

অস্ট্রেলিয়ায় আবারও হামলার শিকার হলেন এক ভারতীয়। গত মঙ্গলবার সিডনির সমুদ্র সৈকতে একদল অস্ট্রেলীয় তরুণ-তরুণী ওই ভারতীয়কে বেদম মারধর করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২৮ বছর বয়সী ওই ভারতীয় জানান, মঙ্গলবার সিডনির কুগি সমুদ্র সৈকতে হাঁটাহাঁটির সময় পাঁচ-ছয়জন অস্ট্রেলীয় তাঁর কাছে অর্থ দাবি করে। তিনি অর্থ না দিয়ে দ্রুত গাড়ির উদ্দেশে হাঁটতে থাকেন। তখন তারা তাঁর ওপর হামলা চালায়।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ওই ভারতীয় জানান, হামলাকারীরা তাঁর কাছে অর্থ দাবি করলেও তাঁর মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়নি। চিত্কার করে সাহায্য চাইলেও কেউ তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।
হামলার ৪০ মিনিট পর ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এ সম্পর্কে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তারা।
মাথা, কাঁধ আর পিঠে আঘাত নিয়ে ওই ভারতীয় এখন চিকিত্সাধীন। তিনি বর্ণবাদী হামলার শিকার হয়েছেন—ওই ভারতীয় এমন কোনো কথা বলেননি। তবে এই হামলা বর্ণবাদী হামলার সন্দেহকেই উসকে দিচ্ছে।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে ইয়ারভিলে খুন হয়েছিলেন ভারতীয় যুবক নিতিন গার্গ। ওই ঘটনার পর মেলবোর্নে অপর এক ভারতীয়কে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়। গত শনিবার হামলার শিকার হন যশপ্রীত নামের আরও এক ভারতীয়।
তবে এসব হামলার পেছনে বর্ণবাদের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন স্মিথ বলেন, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক যথেষ্ট ভালো। ভারতীয়দের ওপর আক্রমণ সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত।

দক্ষিণ কোরিয়ায় মেয়েশিশুর কদর বাড়ছে

ছেলেশিশু বংশের ধারা বজায় রাখবে এবং বড় হয়ে বৃদ্ধ মা-বাবাকে সহায়তা করবে—এমন সনাতন বিশ্বাস দক্ষিণ কোরীয়দেরও ছিল। সন্তান জন্ম নেওয়ার আগে তাদের প্রত্যাশা থাকত, যেন পুত্রসন্তান হয়। দক্ষিণ কোরীয়দের এ ধরনের বিশ্বাস ও ধারণা এখন পরিবর্তিত হচ্ছে। ছেলেশিশুর চেয়ে মেয়েশিশুই তাদের কাছে বেশি পছন্দ। এক জরিপের বরাত দিয়ে দেশটির গবেষকেরা গতকাল বুধবার এ কথা জানিয়েছেন। খবর এএফপির।
গবেষকেরা দম্পতিদের সন্তান জন্মদানের আগে তাঁদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তাঁরা মেয়েশিশু নাকি ছেলেশিশু প্রত্যাশা করছেন। সন্তানসম্ভবা প্রায় ৩৮ শতাংশ মা জানান, তাঁরা চাইছেন কন্যাসন্তান হোক। ৩১ শতাংশ মা চেয়েছেন পুত্রসন্তান। বাকি ৩১ শতাংশ মায়ের কোনো প্রত্যাশা ছিল না। বাবাদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ চেয়েছেন কন্যাসন্তান হোক। ২৯ শতাংশ বাবা প্রত্যাশা করেন পুত্রসন্তান। বাকি ৩৪ শতাংশ বাবার কোনো প্রত্যাশা ছিল না।
গবেষকেরা ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত সন্তান জন্মদানের আগে দুই হাজার ৭৮টি পরিবারের সদস্যদের ওপর এ জরিপ চালান।
গবেষকেরা জানান, দক্ষিণ কোরিয়ায় আগে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল। সেখানে এই প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, লোকজন ছেলেশিশুর চেয়ে মেয়েশিশু বেশি প্রত্যাশা করছে।
২০০৮ সালের ওই জরিপে নেতৃত্ব দেওয়া কোরিয়া ইনস্টিটিউট অব চাইল্ডকেয়ার ও এডুকেশনের গবেষক লি জিয়ং-রিম বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, অনেক মা-বাবা ছেলেশিশুর চেয়ে মেয়েশিশুকে বেশি পছন্দ করছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে ইরান

ইরানের শীর্ষস্থানীয় পরমাণুবিজ্ঞানী নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে তেহরান। তেহরান অভিযোগ করেছে, পরমাণুবিজ্ঞানী মাসুদ মোহাম্মাদিকে হত্যার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হাত রয়েছে। এই দুই বিদেশি সংস্থাই পরিকল্পিতভাবে মাসুদ মোহাম্মাদিকে হত্যা করেছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এ হত্যাকাণ্ডের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের অভিযোগ করেছেন। তবে ওয়াশিংটন তেহরানের এসব অভিযোগকে ‘উদ্ভট’ বলে অভিহিত করে তা অস্বীকার করেছে। খবর এএফপি ও বিবিসির।
মঙ্গলবার তেহরানে নিজের বাড়ির কাছে বোমা বিস্ফোরণে মারা যান ৫০ বছরের মাসুদ আলী মোহাম্মাদি। তিনি তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরমাণু পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যাপনা করতেন।
বার্তা সংস্থা আইএসএনএ ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার আলি লারিজানির বরাত দিয়ে বলেছে, এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা চালানো সহজ বটে, তবে এর ফলাফল মোটেই ভালো নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে উদ্দেশ করে লারিজানি বলেন, ‘আপনিই সন্ত্রাসবাদের উসকানি দিচ্ছেন।’
ইরানের পুলিশ অথবা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কেউই এখনো পর্যন্ত মাসুদ মোহাম্মাদির নিহত হওয়ার ঘটনায় কে বা কারা জড়িত সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে স্পিকার লারিজানি এ হত্যাকাণ্ডের জন্য সিআইএ এবং মোসাদকে দায়ী করেছেন।
লারিজানি বলেন, ‘এ ঘটনার (মোহাম্মাদি হতাকাণ্ড) আগেই আমাদের কাছে তথ্য এসেছিল যে ইসরায়েলের গোয়েন্দা বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের সহায়তায় তেহরানে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে।’ তিনি বলেন, সিআইএ ও মোসাদ ভেবেছে, ইরানের কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যার সুযোগে সেখানে হামলা চালানো যেতে পারে, যা কিনা ইরানের শিক্ষাবিদদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করবে এবং পরমাণু গবেষণা কাজকে বাধাগ্রস্ত করবে।
লারিজানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে পরমাণুবিজ্ঞানী-শূন্য করতে চাইছে। কিন্তু এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে কোনো লাভ হবে না। মোহাম্মাদির হত্যার ঘটনা ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। পরমাণু সফলতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ইরান।
ইরানের টেলিভিশন তদন্ত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলেছে, হামলার কৌশল এবং ব্যবহূত সরঞ্জামের সঙ্গে কয়েকটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা বিশেষ করে ইসরায়েলের মোসাদের কৌশল ও সরঞ্জামের মিল পাওয়া গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এ সন্ত্রাসী ঘটনার সঙ্গে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ভাড়া করা গোয়েন্দাদের জড়িত থাকার নিদর্শন পাওয়া গেছে।’
কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মার্ক টোনার তেহরানের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ইরানের অভিযোগকে ‘অযৌক্তিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
ইরানের একজন বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা জানান, মাসুদ মোহাম্মাদি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তবে তাঁর হত্যাকাণ্ডের পেছনে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাক্কালে বিরোধী নেতা মীর হোসেন মৌসাভির সমর্থনকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি তালিকা করা হয়। সেই তালিকায় মোহাম্মাদির নাম ছিল।

মংলা বন্দরে দ্বিতীয় দফায় সাত শতাধিক গাড়ি খালাস হয়েছে

মংলা বন্দর দিয়ে দ্বিতীয় দফায় আবার সাত শতাধিক গাড়ি খালাস করা হয়েছে। মাত্র সাত মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় এ বন্দর দিয়ে গাড়ি খালাস করা হলো।
গতকাল বুধবার দুপুরে পানামার পতাকাবাহী এমভি ওশান ব্লু নামের জাহাজটি জাপান থেকে ৭১৪টি রিকন্ডিশন গাড়ি নিয়ে বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে ভেড়ে। এ সময় বন্দরের চেয়ারম্যান কমোডর এম ফারুক, ট্রাফিক পরিচালক মাহবুল্ল্যাহসহ বন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তারা ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আমদানি করা গাড়ি খালাস শেষে গতকাল সন্ধ্যায়ই জাহাজটির মংলা বন্দর ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
বন্দর সূত্র জানায়, জাপান থেকে গত বছরের ৩ জুন ঢাকার গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হক’স বের প্রথমবারের মতো ২৫৫টি গাড়ি আমদানির মধ্য দিয়ে মংলা বন্দরে গাড়ি খালাস শুরু হয়। এরপর আবারও একই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হক’স বে দ্বিতীয় দফায় জাপান থেকে ৭১৪টি রিকন্ডিশন গাড়ি মংলা বন্দরের মাধ্যমে আমদানি করেছে।
সূত্র জানায়, এবারের জাহাজের গাড়ি খালাস প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে মংলা বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানির ভবিষ্যত্। শুল্ক কর্মকর্তাদের অনিয়ম, অদক্ষতা আর খামখেয়ালিপনার কারণে মংলা বন্দরে হক’স বের প্রথম দফায় আমদানি করা গাড়ির চালানের মধ্যে এখনো ১০০টি গাড়ি ছাড়পত্রের অপেক্ষায় শেডে পড়ে রয়েছে।
আমদানিকারক আবদুল হক বলেন, এবারের আমদানি করা গাড়ি খালাসে কোনো জটিলতা না হলে এ বন্দর দিয়েই গাড়ি আমদানি অব্যাহত রাখা হবে। কারণ চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় মংলা বন্দরে খরচ কম এবং সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশি।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক পরিচালক মাহবুল্ল্যাহ জানান, জাহাজ থেকে খালাস করা সাত শতাধিক গাড়ি আপাতত বন্দরের শেড ও ওয়্যার হাউসে রাখা হবে। পরে শুল্ক বিভাগের ছাড়পত্র পাওয়ার পর এগুলোকে জেটির বাইরে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।
এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর এম ফারুক গাড়ি ছাড় করার ক্ষেত্রে শুল্ক কর্মকর্তাদের প্রতি আরও বেশি আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন মহল শুল্ক কর্মকর্তাদের কাজে আরও গতি বাড়ানোর জন্য এ বন্দরে খুব দ্রুত অটোমেশন পদ্ধতি চালুর দাবিও জানিয়েছে।

শিল্পঋণের প্রবাহ কমেছে

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মেয়াদি শিল্পঋণের প্রবাহ আগের অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় কমে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়কালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মেয়াদি শিল্পঋণ হিসেবে মোট পাঁচ হাজার ৪০৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা বিতরণ করেছে।
আর ২০০৮-০৯ অর্থবছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বিতরণ করা মেয়াদি শিল্পঋণের পরিমাণ ছিল ছয় হাজার ৭৯৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
তার মানে আগের প্রান্তিকের তুলনায় আলোচ্য প্রান্তিকে শিল্পঋণ বিতরণ কমেছে প্রায় ২৬ শতাংশ।
পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে বিতরণ করা ঋণের মধ্যে তিন হাজার ৯০৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা গেছে বৃহদায়তন শিল্পে।
এ ছাড়া মাঝারি শিল্পে এক হাজার ২৩০ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র শিল্পে ২৬৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বকেয়া শিল্পঋণ আদায় আগের বছরের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় কমেছে।
আলোচ্য সময়কালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তিন হাজার ৮৩২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার ঋণ আদায় করেছে।
অন্যদিকে গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে এই আদায়ের পরিমাণ ছিল পাঁচ হাজার ৭০ কোটি ২১ লাখ টাকা।

রাজধানীতে চার দিনব্যাপী বস্ত্র ও প্রযুক্তি মেলা শুরু হয়েছে

ঢাকায় গতকাল বুধবার থেকে শুরু হয়েছে ‘গার্মেনটেক-২০১০’ শীর্ষক চার দিনব্যাপী বস্ত্র ও প্রযুক্তি মেলা। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাকারিয়া ট্রেড অ্যান্ড ফেয়ার ইন্টারন্যাশনাল এবং আক্স ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিউশন প্রাইভেট লিমিটেড যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করছে। মেলায় ২৫টি দেশের ১৫০টি খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান তাদের সর্বশেষ প্রযুক্তির তৈরি পোশাকের যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফারুক হোসেন মেলার উদ্বোধন করেন। এ সময় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ বাসেত, জার্মানির জিটিজেড কর্মকর্তা ডিয়েট্রিজ স্টুজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এবারের মেলায় যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ইত্যাদি ইউরোপীয় দেশ, কানাডা, সিঙ্গাপুর, চীন, হংকং, তাইওয়ান, কোরিয়া, মালয়েশিয়ার খ্যাতনামা কোম্পানিগুলো তাদের বস্ত্র ও পোশাক তৈরির আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছে। মেলায় আধুনিক নিটিং, ডায়িং, সুয়িং, কাটিং রুস, এমব্রয়ডারি, ফেব্রিক্স, এক্সেসরিজসহ গার্মেন্টস শিল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, মেলাটি আগামী শনিবার পর্যন্ত চলবে। মেলায় প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট রাখা হয়নি। এ ছাড়া মেলা চলাকালে তৈরি পোশাক খাতের প্রযুক্তিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে একাধিক কারিগরি সেমিনার ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।

বাণিজ্য মেলায় ইন্ট্রাকো গ্রুপের প্যাভিলিয়ন পরিদর্শনে দ. কোরীয় রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত সুক বুম পার্ক সম্প্রতি ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ইন্ট্রাকো গ্রুপের প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন।
এ সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের দক্ষিণ কোরিয়ার অনারারি কনসাল রিয়াদ আলী।

আল-আরাফাহ্ ব্যাংকের নতুন ভাইস চেয়ারম্যান এস এম শামীম ইকবাল

এস এম শামীম ইকবাল আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ১৮৯তম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে এ পদে নির্বাচিত করা হয়।
শামীম ইকবাল যুক্তরাজ্যের সাউথইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেন। তিনি ডমিনক্স গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্টস, ডমিনক্স রিয়েলিটি ও ডমিনক্স টেকনোলজিসের চেয়ারম্যান, কেডিএস এক্সেসরিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং কেডিএস টেক্সটাইল মিলস ও কেডিএস ইনফরমেশন টেকনোলজিসের পরিচালকসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

বগুড়ায় এনসিসি ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউসের নতুন শাখা চালু

পুুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে বগুড়ায় এনসিসি ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউসের নতুন শাখা চালু করা হয়েছে।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল আমিন প্রধান অতিথি হিসেবে সম্প্রতি এ শাখার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এতে ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে মো. সিদ্দিক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মহব্বত খান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফখরুল ইসলাম চৌধুরী ও মান্জুম আলী, বগুড়া শাখার ব্যবস্থাপক মো. রেজা-উন নূরসহ উর্ধ্বতন নির্বাহী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদ নূরুল আমিন বলেন, শেয়ার ব্যবসায়ের সুবিধা বিনিয়োগকারীদের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া ও উন্নত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে এনসিসি ব্যাংক বগুড়ায় ব্রোকারেজ হাউসের শাখা খুলেছে। এর ফলে পুঁজিবাজারে গতিশীলতা বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভারতে চিনির অগ্নিমূল্য ঠেকাতে বিনা শুল্কে আমদানির অনুমতি

ভারতে চিনির বাজারে এখন অগ্নিমূল্য চলছে। সে জন্য বিনা শুল্কে চিনি আমদানি ও কাঁচা চিনি প্রক্রিয়াকরণের অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
বর্তমানে ভারতে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ রুপি মূল্যে, যা তিন মাস আগেও ছিল ২০ রুপি। চিনির এই অগ্নিমূল্য ঠেকাতেই কেন্দ্রীয় সরকার আমদানি শুল্ক তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ ছাড়া আগামী দুই মাসে খাদ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ২০ থেকে ৩০ লাখ টন চাল ও গম খোলাবাজারে বিক্রি করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে মজুদদারির বিরুদ্ধে প্রতিটি রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানী নয়াদিল্লিতে গত বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার মূল্যবৃদ্ধিবিষয়ক কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়, কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী শারদ পাওয়ার প্রমুখ।
বৈঠকে চিনির মূল্য স্থিতিশীল রাখতে আরও ২০ লাখ টন চিনি বিনা শুল্কে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কাঁচা চিনি দ্রুত প্রক্রিয়াকরণেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে কেবল উত্তর প্রদেশে নয় লাখ টন কাঁচা চিনি মজুদ রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
বৈঠকের পর কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী শারদ পাওয়ার বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই চিনির মূল্য কমে যাবে।
অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেন, চলতি অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হলেও খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশে চাল ও গমের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। এই মজুদ থেকেই চাল ও গম খোলাবাজারে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এ মাসেই প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের সব মুখ্যমন্ত্রীদের এক সভা ডাকছেন বলে জানা গেছে।

ভারতে চিনির অগ্নিমূল্য ঠেকাতে বিনা শুল্কে আমদানির অনুমতি

ভারতে চিনির বাজারে এখন অগ্নিমূল্য চলছে। সে জন্য বিনা শুল্কে চিনি আমদানি ও কাঁচা চিনি প্রক্রিয়াকরণের অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
বর্তমানে ভারতে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ রুপি মূল্যে, যা তিন মাস আগেও ছিল ২০ রুপি। চিনির এই অগ্নিমূল্য ঠেকাতেই কেন্দ্রীয় সরকার আমদানি শুল্ক তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ ছাড়া আগামী দুই মাসে খাদ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ২০ থেকে ৩০ লাখ টন চাল ও গম খোলাবাজারে বিক্রি করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে মজুদদারির বিরুদ্ধে প্রতিটি রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানী নয়াদিল্লিতে গত বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার মূল্যবৃদ্ধিবিষয়ক কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়, কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী শারদ পাওয়ার প্রমুখ।
বৈঠকে চিনির মূল্য স্থিতিশীল রাখতে আরও ২০ লাখ টন চিনি বিনা শুল্কে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কাঁচা চিনি দ্রুত প্রক্রিয়াকরণেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে কেবল উত্তর প্রদেশে নয় লাখ টন কাঁচা চিনি মজুদ রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
বৈঠকের পর কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী শারদ পাওয়ার বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই চিনির মূল্য কমে যাবে।
অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেন, চলতি অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হলেও খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশে চাল ও গমের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। এই মজুদ থেকেই চাল ও গম খোলাবাজারে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এ মাসেই প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের সব মুখ্যমন্ত্রীদের এক সভা ডাকছেন বলে জানা গেছে।

রুগ্ণ শিল্পের সমস্যা নিরসনে দুটি কমিটি

দেশের বিরাজমান রুগ্ণ শিল্পসমূহের সমস্যাদি নিরসনের প্রয়োজনীয় আইনের খসড়া প্রণয়ন এবং রুগ্ণ শিল্পসমূহের আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সরকার সম্প্রতি দুটি কমিটি গঠন করেছে। এ ছাড়া আগে গঠন করা রুগ্ণ শিল্পবিষয়ক টাস্কফোর্স আংশিক পুনর্গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে।
নবগঠিত রুগ্ণ শিল্প আইনের খসড়া প্রণয়নের জন্য ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটিতে অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিনিয়োগ বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ বা বিকেএমইএ, বিসিআই ও বাংলাদেশ সিক ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বিআই-১) কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
এ কমিটি বিভিন্ন রুগ্ণ শিল্প আইন পর্যালোচনা করে একটি খসড়া আইন প্রণয়ন করে টাস্কফোর্সের কাছে উপস্থাপন করবে। এ জন্য কমিটিকে দুই মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিবকে (বিআ-১) আহ্বায়ক করে মোট ছয় সদস্যবিশিষ্ট রুগ্ণ শিল্প যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিনিয়োগ বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, এফবিসিসিআই ও বাংলাদেশ সিক ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র সহকারী সচিব বা সহকারী সচিব (বিআ-১) সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ কমিটি বিভিন্ন সংস্থা বা দপ্তর থেকে প্রাপ্ত রুগ্ণ শিল্পের আবেদনসমূহ নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করবে। এ ছাড়া এ শিল্পের সমস্যা নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ দুই মাসের মধ্যে টাস্কফোর্সের কাছে পেশ করবে।

মোট বাজার মূলধন দুই লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে by হাসান ইমাম

বড় ধরনের দরপতনের পরের দিনই ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের শেয়ারবাজারের মূল্যসূচক। আগের দিন যে গতিতে সূচকের পতন হয়েছিল, গতকাল বৃহস্পতিবার তার চেয়েও বেশি গতিতে বেড়েছে। তবে লেনদেনের পরিমাণ এই গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি, বরং কমেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক প্রায় ১৩৪ পয়েন্ট বা তিন শতাংশ বেড়ে চার হাজার ৮৩৮ পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। গত ১৬ নভেম্বর গ্রামীণফোনের তালিকাভুক্তির দিন ছাড়া এক দিনের সূচক বাড়ার এটাই সর্বোচ্চ নজির।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৩৭৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৮৮ পয়েন্ট হয়েছে। সূচক বৃদ্ধির এই ধারা বাজার মূলধনের পরিমাণকেও নিয়ে গেছে নতুন উচ্চতায়। গতকাল প্রথমবারের মতো ডিএসইর বাজার মূলধন দুই লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। বাজার মূলধনের এই পরিমাণ মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩৩ শতাংশ।
সূত্র জানায়, ডিএসইতে তালিকাভুক্ত সব ধরনের সিকিউরিটিজের গতকালের সমাপনী মূল্যের ভিত্তিতে মোট বাজার মূলধন দাঁড়ায় দুই লাখ ৮৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে শেয়ার মূলধন এক লাখ ৬৫ হাজার কোটি এবং ঋণপত্রের মূলধন ৩৫ হাজার ৭৮১ কোটি টাকার মতো।
তবে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা কম হওয়ায় সিএসইর বাজার মূলধন এক লাখ ৬০ হাজার কোটির ঘরে রয়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) হঠাত্ হস্তক্ষেপই আগের দিনের সূচক পতনের মূল কারণ ছিল। তবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বাজারে শেয়ার সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে। আর এরই প্রতিফলন ঘটেছে গতকালের মূল্যসূচকে।
বাজার সম্পর্কে ডিএসইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অর্থমন্ত্রী গতকাল ২৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাজারে শেয়ার ছাড়ার তাগিদ দিয়েছেন। বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের জন্য যথেষ্ট উত্সাহব্যঞ্জক, যা তাঁদের আস্থা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। তা ছাড়া বাজারে প্রচুর টাকা রয়েছে। এসব ঘটনা মূল্যসূচক বাড়াতে বেশি অবদান রেখেছে।
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে সরকারের উচিত তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার আগে ছাড়া।
এদিকে গতকাল দুপুরে এসইসির সঙ্গে এক বৈঠকে ডিএসই ও সিএসইর নেতারা বাজার চলাকালীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, এ ধরনের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা তাঁদের সামনে আবারও হস্তক্ষেপের কথা অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা ঋণ অনুপাত ও আর্থিক সমন্বয় সুবিধা বা নেটিং সম্পর্কে যৌথভাবে সিদ্ধান্তের পরিকল্পনা নিয়েছেন। একটি বা দুটি প্রতিষ্ঠানকে হঠাত্ করে টেলিফোনের মাধ্যমে নির্দেশনা দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা না করতেও এসইসিকে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।
বাজার পরিস্থিতি: ডিএসইতে গতকাল এক হাজার ৭২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের দিনের রেকর্ড পরিমাণ লেনদেনের চেয়ে যা প্রায় ৩৬৬ কোটি টাকা কম। সিএসইতে গতকাল লেনদেন হয়েছে ৭৮ কোটি টাকার শেয়ার।
ডিএসইতে ২৩৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ২২৩টির, কমেছে মাত্র ১৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল একটি কোম্পানির শেয়ার।
সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২১৭টি কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৯৭টির, কমেছে ১৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল একটি কোম্পানির।

ফিরলেন ইউনুস

অবশেষে পাকিস্তান দলে ফিরেছেন ইউনুস খান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য ১৭ সদস্যের পাকিস্তান দলে নেওয়া হয়েছে সাবেক অধিনায়ককে। দলে ফিরেছেন একটি ওয়ানডে খেলা ওপেনার খালিদ লতিফও। হোবার্ট টেস্টে বাদ পড়া উইকেটকিপার কামরান আকমলকেও রাখা হয়েছে ওয়ানডে দলে, যদিও দলে আছেন আরেক উইকেটকিপার সরফরাজ আহমেদও। ঘোষণা করা হয়েছে ১৭ সদস্যের টি-টোয়েন্টির দলও। ২২ জানুয়ারি শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ।

কাল শুরু জব্বার স্মৃতি টেনিস

সেই ১৯৮২ সালে ছোট পরিসরে শুরু হয়েছিল এটি। এর পর ১৯৯১ সাল থেকে বড় আকারে চলতে থাকে প্রকৌশলী এম এ জব্বার স্মৃতি টেনিস। তারই ধারাবাহিকতায় ইঞ্জিনিয়ার্স রিক্রিয়েশন সেন্টারে কাল থেকে শুরু হচ্ছে এই টুর্নামেন্ট।
পুরুষ একক, পুরুষ দ্বৈত, মহিলা একক, বালক ১৬ বছরের গ্রুপ, বালক ও বালিকা একক, মিনি টেনিস গ্রুপ, দলগত ঊর্ধ্ব-৪০ গ্রুপ ও প্রকৌশলী দ্বৈতে অংশ নিচ্ছে ২২টি ক্লাবের ৩৩৪ জন খেলোয়াড়।
আগামী ২২ জানুয়ারি হবে ফাইনাল। কাল সংবাদ সম্মেলনে তথ্যগুলো জানান ইআরসির সাধারণ সম্পাদক খান আতাউর রহমান। উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলমগীর প্রমুখ।

আবার টোকাই কাবাডি

ব্যাপারটা প্রায়ই ঘটে এবং সেটা ভেবে তিনি মাঝেমধ্যে খুব আনন্দ পান। একটা অচেনা ছেলে হঠাত্ সামনে এসে সালাম দিয়ে বলল, ‘স্যার, ভালো আছেন। চিনলেন না আমাকে? ওই যে আপনাদের টোকাই কাবাডিতে খেলেছিলাম।’ তৃতীয় ওরিয়েন্ট ব্রেড টোকাই কাবাডির পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্ট ব্রেডের চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছিলেন কাল।
ঢাকা কাবাডি স্টেডিয়ামে আজ থেকে আবারও শুরু হচ্ছে টোকাই কাবাডি। ঢাকা শহরের ছিন্নমূল পথশিশুদের নির্মল আনন্দের পাশাপাশি খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করা এর উদ্দেশ্য। লিগ পদ্ধতিতে দুই গ্রুপে খেলবে ধলপুর, গুলিস্তান, রহমতগঞ্জ, গোলাপবাগ, স্টেডিয়াম, শরীফবাগ, মাতুয়াইল ও আগারগাঁও টোকাই দল। ২০০৭ সালে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতায় গত দুবারের চ্যাম্পিয়ন মিরপুর ও ধলপুর।
আগামী ১৮ জানুয়ারি ফাইনাল। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে পোশাক ও অর্থ দেওয়া হবে। কাল সংবাদ সম্মেলনে তথ্যগুলো জানান কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুনীর হোসেন। উপস্থিত ছিলেন ওরিয়েন্ট ফুডের চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান, টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য আমজাদ হোসেন।

জর্জেভিচের ক্যাম্পে কাঞ্চন রজনী-বিপ্লবদেরও ডাক

আরিফ, সৈকত, মারুফ, মোস্তাক ও শাহেদ চলে গেছেন নিজ নিজ ঠিকানায়। ইনজুরিগ্রস্ত এই ফুটবলাররা নিজেরাই ‘ফিট হয়ে ফিরে আসতে চাই’ বলার পর রাজি হয়ে যান জোরান জর্জেভিচ। সার্বিয়ান কোচের একটা আশ্বাসবাণী সঙ্গে নিয়ে কাল এই পাঁচজন বিকেএসপিতে চলমান অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দলের এসএ গেমস ক্যাম্প ছেড়েছেন। ফিট হয়ে গেলে তাঁদের ক্যাম্পে যোগ দিতে বলেছেন কোচ।
৫ জন বিদায় নেওয়ায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দলের প্রাথমিক ক্যাম্পে খেলোয়াড়ের সংখ্যা দাঁড়ানোর কথা ৩২। কিন্তু তা হলো ৩৪। অনেক দিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা স্ট্রাইকার কাঞ্চন (মুক্তিযোদ্ধা অধিনায়ক) এবং ফরাশগঞ্জের ডিফেন্ডার রেজাউল সুযোগ পেয়ে কাল ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। শুধু এই দুজনই নয়, আরও চারজন খেলোয়াড়কে ক্যাম্পে ডাকার জন্য বাফুফের কাছে চাহিদাপত্র দিয়েছেন নতুন কোচ।
এটা জানা গেল বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার হাসানুজ্জামান বাবলুর কাছ থেকে, ‘রজনী-বিপ্লব-উজ্জ্বল-প্রাণতোষকে চেয়েছেন কোচ। তাঁদের ডাকার ব্যাপারে ব্যবস্থাপনা কমিটি হয়তো আজ-কালের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবে। যেহেতু এসএ গেমসের পরপরই এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ। হাতে সময় একদমই নেই। তাই অনূর্ধ্ব-২৩ দলের পাশাপাশি এখনই জাতীয় দল তৈরির ব্যাপারটিও মাথায় রাখছেন নতুন কোচ।’
আর সেই পরিকল্পনা থেকেই গত দুই দিনে শুধু ম্যাচ প্র্যাকটিসই করানো হলো। কিছু খেলোয়াড় কমিয়ে ফেলার পরিকল্পনা আছে কোচের। নতুন কোচ কেমন? স্ট্রাইকার এমিলি কাল সন্ধ্যায় ফোনে বললেন, ‘দুই দিনে সব বোঝা যাবে না। কিন্তু মনে হচ্ছে কোচ ভালো। মূলত তাঁর একজন সহকারীই হাতে-কলমে করাচ্ছেন সব। টেকনিক্যাল দিকগুলো উনি দেখাচ্ছেন, খুবই ভালো হচ্ছে সবকিছু।’
ক্যাম্প ছেড়ে আসা তরুণ মারুফের কথাও প্রায় একই। সাফের ক্যাম্প থেকে বাদ পড়ে ক্ষোভ ছিল তাঁর। বলেছিলেন, কোচ (সাহীদুর রহমান সান্টু) নাকি তাঁকে চিনতেনই না। ‘তাহলে বাদ পড়লাম কীভাবে’—প্রশ্ন ছিল তাঁর। কিন্তু এবার বললেন, ‘খুবই ভালো ব্যবহার করেছেন কোচ। বলেছেন, তোমাদের জন্য আমার দরজা খোলা।

জয়ে ফিরল আলজেরিয়া, গ্যাবনের চমক

মাঝখানে এক দিনের জন্য যেন দম নিয়েছে। এক দিন বিরতির পরই আবারও আফ্রিকান নেশনস কাপে অঘটন। পরশু চারবারের চ্যাম্পিয়ন ক্যামেরুনকে ০-১ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছে গ্যাবন। দিনের অন্য ম্যাচে ২০০৪ আসরের চ্যাম্পিয়ন তিউনিশিয়া ১-১ গোলে ড্র করেছে জাম্বিয়ার সঙ্গে।
এদিকে প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের ধাক্কা সামলে উঠেছে আলজেরিয়া। কাল নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মালিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা। প্রথম ম্যাচে মালাউইর কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল আলজেরিয়া। অন্যদিকে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ৪-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অ্যাঙ্গোলার সঙ্গে ৪-৪ গোলে ড্র করেছিল মালি।
প্রথম ম্যাচের দল থেকে কাল দুটো পরিবর্তন এনেছিলেন আলজেরিয়ার কোচ রাবাহ সাদানে। আর মালির নাইজেরিয়ান কোচ স্টিফেন কেশি প্রথম ম্যাচের দল থেকে সেরা একাদশের বাইরে রেখেছিলেন ছয়জনকে। এঁদের মধ্যে ছিলেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা ফ্রেডেরিক কানুটেও। ম্যাচের একমাত্র গোলটি হয়েছে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার দু মিনিট আগে। ৩০ মিটার দূর থেকে নেওয়া জিয়ানির একটি ফ্রিকিকে মাথা ছুঁইয়ে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন ডিফেন্ডার রাফিক হালিচে।
মাঠের বাইরে টোগো দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার কালো ছায়া নিয়ে অ্যাঙ্গোলায় শুরু হয়েছে আফ্রিকান নেশনস কাপের ২৭তম আসর। মাঠেও ফেবারিটরা ‘হামলা’র শিকার হচ্ছে ‘আন্ডারডগ’দের। উদ্বোধনী ম্যাচে ০-৪ গোলে এগিয়ে গিয়েও স্বাগতিক অ্যাঙ্গোলা জিততে পারেনি, ৪-৪ গোলে ড্র করেছে মালির বিপক্ষে। পরদিন আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চমকে দিয়েছে মালাবি। আর আইভরিকোস্টকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে বার্কিনা ফাসো। টুর্নামেন্টের তৃতীয় দিনটা কেবল অঘটনবিহীন কেটেছে। গত দুবারের চ্যাম্পিয়ন মিসর নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় দিয়েই শুরু করেছে যাত্রা।
এবার ইন্টার মিলানের তারকা স্ট্রাইকার স্যামুয়েল ইতোর দলও অঘটনের শিকার। ১৭ মিনিটে গ্যাবন স্ট্রাইকার ড্যানিয়েল কাজিনের গোল শেষ পর্যন্ত আর শোধ করে উঠতে পারেনি কাগজ-কলমে আফ্রিকার সবচেয়ে শক্তিশালী দলটি। গ্যাবনের কাছ থেকে নিশ্চিত তিনটা পয়েন্টের হিসাব করে রেখেছিলেন ক্যামেরুন কোচ। পল লে গুয়েনের সেই হিসাব এখন ওলটপালট হয়ে গেল। পরের ম্যাচটা হেরে গেলে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নিতে হবে ১৯৮৪, ১৯৮৮, ২০০০ আর ২০০২ আসরের চ্যাম্পিয়নদের।
গুয়েন অবশ্য ‘সব শেষ হয়ে যায়নি’ বলে শিষ্যদের উদ্দীপ্ত করছেন। ইতোর কণ্ঠেও সেই সুর। তবে ম্যাচটা সবচেয়ে বেশি হতাশার গেল ক্যামেরুনের বর্ষীয়ান ডিফেন্ডার রিগোবার্ট সংয়ের জন্য। রেকর্ড অষ্টম নেশনস কাপে খেলার রেকর্ড তিনি এই ম্যাচেই করেছেন।

ক্রিকেটের দশক-সেরা

টেস্ট-ওয়ানডে দুটোতেই গত ১০ বছরে সর্বোচ্চ রান তাঁর। এই সময়ে দুই ধরনের ক্রিকেটেই ৯০০০ রান করেছেন একমাত্র তিনিই। জ্যাক ক্যালিস, মুত্তিয়া মুরালিধরন, শচীন টেন্ডুলকারদের পেছনে ফেলে একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকের (২০০০-০৯) সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন তাই রিকি পন্টিংই। দশক-সেরা ক্রিকেটার নির্বাচনের কাজটি করেছে ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো।
ক্রিকইনফোর জুরি বোর্ডে ছিলেন বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার, ক্রিকেট লেখক মিলিয়ে মোট ৩৮ জন। ছিলেন ইয়ান চ্যাপেল, টনি কোজিয়ার, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, জাভাগাল শ্রীনাথ, টম মুডি, জিওফ বয়কট, রশিদ লতিফ, মুশতাক আহমেদ, শিল্ড বেরি, টনি গ্রেগ, রমিজ রাজা, পিটার রোবাক, গ্রাহাম গুচের মতো ক্রিকেট-ব্যক্তিত্বরা। বাংলাদেশেরও একজন ছিলেন—আতহার আলী খান।
প্রত্যেকে তিনজন করে ক্রিকেটারকে ভোট দিয়েছেন। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের জন্য ছিল যথাক্রমে ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট করে। ৬০ পয়েন্ট পাওয়া পন্টিংকে এক নম্বরে রেখেছেন সর্বোচ্চ ১৩ জন জুরি। পন্টিংয়ের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী যিনি হবেন বলে ভাবা হচ্ছিল, সেই ক্যালিস ৫ জনের চোখে সেরা হয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ৩৭ পয়েন্ট পেয়ে। অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে শীর্ষে রেখেছেন ৭ জন, যদিও মোট পয়েন্টে তিনি ক্যালিসের পরে। ৩ জন করে জুরি শীর্ষে রাখেন টেন্ডুলকার, ম্যাকগ্রা, মুরালিধরন ও ওয়ার্নকে। একটাও ভোট পাননি তালিকায় থাকা সাঙ্গাকারা, জয়াবর্ধনে, হেইডেন, গ্রায়েম স্মিথ, ইনজামাম ও ইউসুফ।
‘আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত। এমন একটা সময়ে আমি খেলেছি, যখন খেলাটার সর্বকালের সেরা রান ও উইকেট সংগ্রহকারীরা খেলেছে। তাদের ছাড়িয়ে দশক-সেরা হওয়ায় অর্জনটা আরও স্পেশাল হয়ে উঠেছে’—প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন পন্টিং।

বাফুফেকে জার্মানির উপহার

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে এক শ বল ও আরও অনেক আধুনিক ফুটবলসামগ্রী উপহার দিয়েছে জার্মান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। এগুলো কাল বিকেলে ধানমন্ডি মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের হাতে তুলে দেন ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত হোলগার মাইকেল।
ঢাকার ৫টি গার্লস স্কুলের ৬৬ জন মেয়ের (অনূর্ধ্ব-১৪,) অংশগ্রহণে এক দিনের ফুটবল প্রশিক্ষণ শেষে ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। যৌথ আয়োজনে ছিল বাফুফে ও জার্মানি। আর তাতে ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশের যুব ফুটবল উন্নয়নে তিন মাস কাজ শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়া জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের অবৈতনিক কোচ আলী আসগার লালী। বাফুফের টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর সাহীদুর রহমান সান্টু ছিলেন প্রশিক্ষণ তত্ত্বাবধানে।
মহিলা ফুটবল উন্নয়নে অনেক দিন ধরে কাজ করছে বাফুফে। এরই মধ্যে বেশ কিছু টুর্নামেন্টও তারা করেছে। এখন স্কুলের ছোট ছোট মেয়েদের ফুটবলে টেনে আনতেই এক দিনের এই প্রশিক্ষণ শিবিরের উদ্যোগ—জানিয়েছেন বাফুফের কর্মকর্তারা।

নিউজিল্যান্ডে ‘কালো ঘোড়া’ বাংলাদেশ

হয়তো আর কিছুদিন পরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাবার মতো আগুন ঝরাতে দেখা যাবে অ্যালিস্টার ম্যাকডরমটকে কিংবা বোলারদের বিনিদ্র রাত উপহার দেবেন জিওফ মার্শের ছেলে ও শন মার্শের ছোট ভাই মিচেল মার্শ। সত্যিই পারবেন কি না, সেটা বুঝতে আজ থেকে চোখ রাখুন নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট মাঠে। আজই শুরু হয়ে যাচ্ছে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের অষ্টম আসর।
বিশ্ব ক্রিকেটের অনেক ভবিষ্যত্ তারকার প্রথম দেখাটা পেয়ে যেতে পারেন এই টুর্নামেন্টেই। ব্রায়ান লারা, সনাত্ জয়াসুরিয়া, ক্রিস গেইল, ইনজামাম-উল-হক, মাইকেল ক্লার্ক, যুবরাজ সিং, গ্রায়েম স্মিথরা ভবিষ্যতের আভাস দিয়েছিলেন এই টুর্নামেন্টেই। এতদূর যেতে হবে না, এই একেবারে সাম্প্রতিক সময়ের তারকা উমর আকমল, বিরাট কোহলি, রবীন্দ্র জাদেজারা খেলেছেন গত টুর্নামেন্টেই। শুধু ক্রেইগ ম্যাকডরমট বা মার্শের ছেলেই নন, পাকিস্তানের আব্দুল কাদিরের ছেলে উসমান কাদির, নিউজিল্যান্ডের জন ব্রেসওয়েলের ছেলে মাইকেল ব্রেসওয়েল, অস্ট্রেলিয়ার জন বুকাননের ছেলে নিক বুকানন এবং ভারতের অজয় শর্মার ছেলে মনন শর্মারা বাবাকেও ছাড়িয়ে যাবেন কি না, পাওয়া যাবে সেই পূর্বাভাসও।
গত পাঁচবারের চারবারই শিরোপা জিতেছে ভারত ও পাকিস্তান। এবারের টুর্নামেন্টেও সবচেয়ে ফেবারিট এই দুদল। দুবার শিরোপাজয়ী আরেক দল অস্ট্রেলিয়াও থাকবে লড়াইয়ে। ১৯৯৮ সংস্করণের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড সেভাবে আলোচনায় নেই, তবে আছে বাংলাদেশ। এই টুর্নামেন্টের কালো ঘোড়া (ডার্ক হর্স) ধরা হচ্ছে বাংলাদেশকে। আগামীকাল পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে মাহমুদুল হাসানদের বিশ্বকাপ। সবচেয়ে কঠিন গ্রুপ ‘ডি’তে বাকি দুদল পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আজ প্রথম দিনে ম্যাচ চারটি, ভারত-আফগাস্তািন, দক্ষিণ আফ্রিকা-আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে-কানাডা ও পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

১৭ কোটি টাকা পেল বিওএ

দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিকখ্যাত ক্রীড়াযজ্ঞের জন্য যে ১৭০ কোটি টাকা বাজেট ধরা হয়েছে, তার ১২২ কোটি দিচ্ছে সরকার। বাকি টাকার জোগান আসছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। এরই মধ্যে তা শুরুও হয়ে গেছে। গতকাল বিওএ ভবনে এক অনুষ্ঠানে আট রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (সরকারি ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠান) কর্মকর্তারা ১৭ কোটি টাকার চেক তুলে দেন গেমসের সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের হাতে।
মূলত পৃষ্ঠপোষক, তবে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলা হচ্ছে গেমসের অংশীদার (পার্টনার)। যেমন—বেশি টাকা দেওয়া অগ্রণী-জনতা-সোনালী ব্যাংক ও সাধারণ বীমা করপোরেশন হলো গোল্ডেন পার্টনার। এর পর ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) হলো সিলভার পার্টনার। জীবন বীমা করপোরেশন, বেসিক ব্যাংক ও রুপালী ব্যাংক কো-স্পনসর।
গেমস পৃষ্ঠপোষণায় এগিয়ে আসা এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধন্যবাদ জানালেন অর্থমন্ত্রী, ‘এসএ গেমসের মতো মেগা ইভেন্টে যারা পৃষ্ঠপোষকতা করল তাদের ধন্যবাদ। আশা করি, এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে এর সুফল পাওয়া যাবে।’ বিওএ মহাসচিব কুতুবউদ্দিন আহমেদের কাছে এটা ছিল স্মরণীয় এক দিন, ‘বাংলাদেশে কোনো আন্তর্জাতিক ইভেন্টের জন্য এর আগে এত টাকা পাওয়া যায়নি পৃষ্ঠপোষণা বাবদ। এটা ক্রীড়াঙ্গনে বড় এক ঘটনাই।

২০১৩ সালে ভারত প্রথম মনুষ্যবাহী নভোযান পাঠাবে

ভারত ২০১৩ সালে মহাকাশে প্রথম মনুষ্যবাহী নভোযান পাঠাবে। রাশিয়ার কাছ থেকে অধিগ্রহণ করা সয়ুজ নভোযানে করে দুই নভোচারীকে মহাকাশে পাঠাবে তারা।
নভোযান মহাকাশে পাঠানোর সব খরচ বহন করবে ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (আইএসআরও)। এজন্য ভারতের দুই নভোচারীকে প্রশিক্ষণ দেবেন রাশিয়ার এক কমান্ডার।

ইরানে বোমা বিস্ফোরণে পরমাণুবিজ্ঞানী নিহত

ইরানের রাজধানী তেহরানে গতকাল মঙ্গলবার বোমা বিস্ফোরণে একজন পরমাণুবিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম মাসুদ মোহাম্মাদি। তিনি তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরমাণু পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন। সে দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এএফপির।
সরকারনিয়ন্ত্রিত প্রেস টিভি জানায়, গতকাল সকালে কাজের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়ার পর বোমা বিস্ফোরণে অধ্যাপক মাসুদ মোহাম্মাদি নিহত হন। দূরনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁর গাড়িতে আগে থেকে পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এ হামলা চালানো হয়। বোমার আঘাতে মোহাম্মাদির বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
অধ্যাপক মোহাম্মাদি ইরানের পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, এ ব্যাপারে দেশটির সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংবাদমাধ্যমই কিছু বলতে পারেনি।
প্রেস টিভি বলেছে, অধ্যাপক মোহাম্মাদি ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের গোঁড়া সমর্থক ছিলেন। ওই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শাহ শাসনের পতন হয় এবং মুসলিম নেতারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।

চীনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা

চীন একটি ক্ষেপণাস্ত্রকে গন্তব্যের মাঝপথে সফলভাবে বাধা দিতে সক্ষম হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ কথা বলা হয়। তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে চীন অত্যাধুনিক ওই আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির পরীক্ষা চালাল।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র বাধা দেওয়াসংক্রান্ত প্রযুক্তির পরীক্ষা করেছে চীন। পরীক্ষায় আশানুরূপ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জিত হয়েছে। উল্লেখ্য, সোমবার এই পরীক্ষা চালানো হয়। বার্তা সংস্থার খবরে আরও বলা হয়, পরীক্ষার প্রকৃতি ছিল প্রতিরক্ষামূলক। কোনো দেশকে লক্ষ্য করে এই পরীক্ষা চালানো হয়নি।
তাইওয়ানের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি বিক্রির বিষয়টি অনুমোদন করেছে পেন্টাগন—তাইপেতে একজন মার্কিন কর্মকর্তা এ কথা জানানোর পর চীনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক প্রযুক্তির পরীক্ষার এ খবর এল। এক বছর আগে কংগ্রেস অনুমোদিত একটি বিস্তারিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাইওয়ানের কাছে এই প্রযুক্তি বিক্রি করা হচ্ছে।
তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ মনে করে চীন। ওই দ্বীপটিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বেইজিং। তাইওয়ানের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির তীব্র বিরোধিতা করে আসছে চীন। ওই অস্ত্র বিক্রি চুক্তি বাতিল করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
জ্যেষ্ঠ সামরিক কৌশলবিদ ইয়াং চেংজুনকে উদ্ধৃত করে দ্য গ্লোবাল টাইমস জানায়, এই পরীক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চীনকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেল।

গাড়িবোমা হামলার হুমকি পেয়ে বাগদাদে নিরাপত্তা জোরদার

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে গাড়িবোমা হামলার হুমকি পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গতকাল মঙ্গলবার শহরটির বেশির ভাগ প্রবেশপথ বন্ধ করে দেন। তাঁরা শহরের অনেক স্থানে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালান। শহরের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র কাশিম আত্তা এ কথা জানিয়েছেন। খবর এএফপির।
কাশিম আত্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, তল্লাশি অভিযানের অংশ হিসেবে বাগদাদের বেশির ভাগ এলাকায় প্রতিরোধমূলক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী।
পরে সরকারি এক বিবৃতিতে কাশিম আত্তা বলেন, সন্ত্রাসীরা গতকাল সকালে বাগদাদে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের হুমকি দেয়। এতে আরও বলা হয়, ‘বেসামরিক নাগরিকের জীবন রক্ষায় নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে অনেক সড়কের প্রবেশপথ বন্ধ করে সন্দেহভাজন গাড়িতে তল্লাশি চালাতে বলা হয়েছে।’
বাগদাদ শহরে গতকাল ভোরে গাড়ি, বাস ও লরির চলাচল এবং টাইগ্রিস নদীর ওপর সেতুগুলোর প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। গাড়ি না পেয়ে লোকজনকে বাধ্য হয়ে হেঁটে শহরে চলতে হয়। পরে সকাল সোয়া নয়টার দিকে খুলে দেওয়া হয় টাইগ্রিস নদীর সেতুগুলোর প্রবেশপথ। সেনাবাহিনীর কয়েকটি হেলিকপ্টার আকাশে টহল দেয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা খবর পান জঙ্গিরা রাজধানীতে বোমা বহনকারী যানবাহন রাখবে।
গত আগস্ট, অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসে বাগদাদে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে প্রায় ৪০০ লোক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে এক হাজারেরও বেশি লোক।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ভবন উড়িয়ে দেওয়ার মতো শক্তিশালী গাড়িবোমা বিস্ফোরণের পরিকল্পনার অভিযোগে ৭ জানুয়ারি ইরাকি বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযান চালিয়ে বাগদাদ থেকে ‘আল-কায়েদা ইন ইরাক’ (একিউআই)-এর এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী বাগদাদে থাকা একিউআইয়ের যোদ্ধারা ইরাকের রাজনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত করার জন্য ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করেছে। গত কয়েক মাসে ইরাকে জঙ্গিদের হামলার ধরন পাল্টে গেছে। বেসামরিক লোকজনকে হত্যার পরিবর্তে তারা এখন সরকারি ভবন উড়িয়ে দেওয়াসহ বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে।

নাক দিয়ে মাউথ অর্গান বাজিয়ে বিশ্ব রেকর্ড

নাক দিয়ে একটানা ১২ ঘণ্টা মাউথ অর্গান বাজিয়ে বিশ্ব রেকর্ড করেছে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলের বছর চব্বিশের যুবক চয়ন চক্রবর্তী। ইতিমধ্যে চয়নের নাম উঠেছে ‘লিমকা বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকডর্স’-এ।
চয়ন এখন মাউথ অর্গানে প্রায় ৭০০ গান তুলতে পারেন। চয়নের আগে সাড়ে সাত ঘণ্টার রেকর্ড ছিল বিশাল শর্মার। সেই রেকর্ড ভেঙেছেন চয়ন। চয়ন বলেছেন, তাঁর এখন লক্ষ্য একটানা ২৪ ঘণ্টা নাক দিয়ে মাউথ অর্গান বাজিয়ে নতুন রেকর্ড গড়ার। মাত্র ছয় বছর আগে কলকাতার শৈবাল সেনের কাছ থেকে নাক দিয়ে মাউথ অর্গান বাজনোর তালিম নেন চয়ন। তারপর দীর্ঘ সাধনার পর গড়েন বিশ্ব রেকর্ড। চয়ন এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। এখন একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করছেন।

নিউজিল্যান্ড ও ফিজি সম্পর্ক উন্নয়নে রাজি

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুরে ম্যাককালি বলেছেন, নিউজিল্যান্ড সরকার ও ফিজির সামরিক শাসক দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাতে সম্মত হয়েছে। এএফপি।
গত শুক্রবার ও শনিবার ফিজির পর্যটনকেন্দ্র নাদি নগরে ম্যাককালি ও ফিজির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাতু ইনোক কুবুয়াবোলার মধ্যে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এক বিবৃতিতে ম্যাককালি বলেন, ‘একটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

পাকিস্তানে তালেবানের হামলায় এক সেনা নিহত

আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের উপজাতীয় এলাকার একটি তল্লাশি চৌকিতে গতকাল মঙ্গলবার তালেবানের হামলায় একজন সেনাসদস্য নিহত এবং আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। সে দেশের কর্মকর্তারা গতকাল এ তথ্য দিয়েছেন। এএফপি।
স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাবিত খান বলেন, আফগান সীমান্তবর্তী উপজাতীয় অধ্যুষিত পার্বত্য এলাকা মোহমান্দ জেলার ঘানান শাহ এলাকায় গতকাল খুব ভোরের দিকে তালেবানেরা হামলা চালায়। এ সময় ৩০ জনেরও বেশি তালেবানের একটি দল স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র এবং রকেট লঞ্চার নিয়ে তিন দিক থেকে এসে সেনাদের তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায়। এতে একজন আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত এবং তিনজন আহত হন।
একজন সেনা কর্মকর্তা এ হামলার কথা স্বীকার করে বলেন, নিরাপত্তারক্ষীদের পাল্টা হামলায় চারজন তালেবান সদস্যও নিহত হয়েছে। সহিংসতাপূর্ণ উপজাতীয় অঞ্চল বাজাউরের প্রধান শহর খারের ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এ ঘটনা ঘটে।
২০০৮ সালের আগস্টে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বাজাউরে জঙ্গিবিরোধী ব্যাপক অভিযান শুরু করে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কর্তৃপক্ষ বাজাউর জঙ্গিমুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেন।

আফগানিস্তানে ছয় ন্যাটো সেনা নিহত

আফগানিস্তানের কাবুলে গত সোমবার বিভিন্ন ঘটনায় ন্যাটো বাহিনীর ছয়জন সেনা নিহত হয়েছেন। ন্যাটোর কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
বিবিসি অনলাইন সূত্রে জানা যায়, নিহত সেনাদের মধ্যে তিনজন মার্কিন, একজন ব্রিটিশ ও একজন ফরাসি। নিহত অপর সেনার পরিচয় জানা যায়নি।
গত দুই মাসের মধ্যে গতকালেরটিই ছিল ন্যাটো সেনাদের ওপর সবচেয়ে বড় আক্রমণের ঘটনা।
বিবিসি আরও জানায়, দক্ষিণ আফগানিস্তানে টহল দেওয়ার সময় জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিন মার্কিন সেনা নিহত হন বলে মার্কিন সামরিক মুখপাত্র কর্নেল ওয়েন শ্যাংকস জানান।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর হেলমান্দে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলে কর্মরত তাঁদের একজন সেনা দায়িত্ব পালনের সময় বোমা বিস্ফোরণে মারা গেছেন। সেই সেনার পরিবারকে তাঁর মৃত্যুসংবাদ জানানো হয়েছে।
উত্তর-পূর্ব কাবুলে জঙ্গি অধ্যুষিত অ্যালেসি উপত্যকায় টহল দেওয়ার সময় জঙ্গিদের আক্রমণে ফ্রান্সের একজন সেনা নিহত ও আরেকজন আহত হন বলে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের সংবাদে জানা যায়।
ন্যাটো জানায়, অপর এক সেনা পূর্ব আফগানিস্তানে নিহত হয়েছেন।
এই নিয়ে আফগানিস্তানে এ বছরের প্রথম মাসেই ১৫ জন সৈন্য নিহত হলেন।

অ্যানি ফ্র্যাঙ্কের ডায়েরি সংরক্ষণকারী মেইপ গিয়েস মারা গেছেন

নািস বাহিনীর হাত থেকে অ্যানি ফ্র্যাঙ্কের বিখ্যাত সেই ডায়েরি সংরক্ষণকারী মেইপ গিয়েস মারা গেছেন। গত সোমবার নেদারল্যান্ডের একটি নার্সিং হোমে ১০০ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নেদারল্যান্ডে নািসদের হাত থেকে অ্যানি ফ্র্যাঙ্ক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের লুকিয়ে থাকতে যাঁরা যাহায্য করেছিলেন তাঁদের মধ্যে একজন হলেন মেইপ গিয়েস। নািস বাহিনী নেদারল্যান্ড দখল করে নেওয়ার পর অ্যানির বাবা অটো ফ্র্যাঙ্ক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তাঁর অফিস ভবনের একটি গুপ্তকক্ষে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে তাঁদের খাবারসহ অন্যান্য জিনিস সরবরাহ করত মেইপ গিয়েসসহ কয়েকজন। পরে সাহায্যকারীদের কোনো একজনের বিশ্বাসঘাতকতায় নািস বাহিনী অটো ফ্র্যাঙ্কের পরিবারকে গ্রেপ্তার করে বন্দিশিবিরে নিয়ে যায়। গ্রেপ্তারের সাত মাস পর টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে মাত্র মাত্র ১৫ বছর বয়সে বন্দিশিবিরে মারা যায় অ্যানি ফ্র্যাঙ্ক। একমাত্র বাবা ছাড়া অ্যানির পরিবারের অন্য সদস্যরাও মারা যায় ওই শিবিরে।
নািস বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে গুপ্ত ওই অফিসভবনে দুই বছর বাস করার সময় কিশোরী অ্যানি ফ্র্যাঙ্ক একটি ডায়েরি লেখেন। নািস বাহিনী যখন অ্যানি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বন্দী করে নিয়ে যায় তখন ডায়েরিটি সংরক্ষণ করেছিলেন মেইপ গিয়েস। তিনি আশা করেছিলেন একদিন হয়তো তিনি ডায়েরি অ্যানিকে ফেরত দিতে পারবেন।
যুদ্ধ শেষে অ্যানির বাবা অটো ফ্র্যাঙ্ক আমাস্টারডামে ফিরে এসে পরিবারের সদস্যদের কাউকে জীবিত পাননি। তবে তিনি অ্যানির লেখা ডায়েরিটি সংগ্রহ করেন। মেইপ গিয়েসের কাছ থেকে। ১৯৪৭ সালে তিনি ‘এ ডায়েরি অব এ ইয়াং গার্ল’ নামে ডায়েরিটি প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীকালে ডায়েরিটি বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়। বিক্রি হয় এর লাখ লাখ কপি। এই ডায়েরিকে উপজীব্য করে অনেক নাটক ও চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়।
অ্যানির পরিবারকে সাহায্যের বিষয়ে ১৯৯৮ সালে একটি পত্রিকাকে এক সাক্ষাত্কারে মেইপ গিয়েস বলেন, ‘তাঁরা ছিলেন অসহায়, কোথায় যেতে হবে জানেন না। মানবিক দায়িত্ব হিসেবেই আমরা তাঁদের সাহায্য করেছিলাম।’ তিনি জানান, তাঁর দায়িত্ব ছিল তাঁদের সবজি ও মাংস সরবরাহ করা, অন্যরা দিত রুটি ও বই।
অ্যানি সম্পর্কে গিয়েস বলেন, তার কথাবার্তা ছিল প্রাপ্তবয়স্কদের মতোই। তিনি বলেন, ‘একদিন দেখলাম সে ডায়েরি লিখছে। আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না তার কাছে যাব নাকি চলে যাব। ওই মুহূর্তে সে আমার দিকে এমনভাবে তাকাল, যা আমি কোনো দিন ভুলব না।’
গিয়েস আরও বলেন, ‘অ্যানিকে আমি খুবই প্রাণচঞ্চল, হাসিখুশি একটি মেয়ে হিসেবেই জানতাম। কিন্তু সে আমার দিকে তাকানোর পর দেখলাম, চোখেমুখে ভীষণ রাগের ছাপ। সে উঠে দাঁড়াল। ডায়েরিটি বন্ধ করে রেখে গম্ভীরভাবে বলল, ‘হ্যাঁ, আমি আপনার সম্পর্কেও লিখছি।’
গিয়েস বলেন, ‘আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না কী বলি, শুধু মুখে আসল, ‘সেটা তো অনেক মজার ব্যাপার।’

হোবার্টে আকমল ভাইদের বিচ্ছেদ!

সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া! কথাটা অনেকবার শুনেছেন। আর পাকিস্তান ক্রিকেট দল সেটাই হাতে-কলমে বুঝিয়ে দিল সিডনি টেস্টে। ১৪ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটা টেস্ট জেতার স্বাদ পেতে পেতেও পাওয়া হলো না।
এসবই পুরোনো কথা। তার পরও লিখতে হচ্ছে। সিডনি টেস্টে ৩৬ রানে হেরে যাওয়ার দুঃখ যে এখনো ভুলতে পারেনি পাকিস্তান। আর ওই টেস্টে চারটি ক্যাচ ফেলা কামরান আকমলকেই হতে হচ্ছে বলি। ছোট্ট মেয়েকে সামলাতে গিয়ে রাতে নাকি ঘুম হচ্ছে না, কামরানের কম রান আর উইকেটের পেছনে বাজে পারফরম্যান্সের এটাই কারণ। তাঁকে শান্তিতে ঘুমানোর সুযোগ করে দিয়ে আগামীকাল হোবার্টে শুরু টেস্টে একাদশে নেওয়া হচ্ছে উইকেটকিপার সরফরাজ আহমেদকে।

টেন্ডুলকার-দ্রাবিড়রা আসছেন আজ

চাইলে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচের পুরোটাই মাঠে বসে দেখতে পারবেন শচীন টেন্ডুলকার-রাহুল দ্রাবিড়রা। আজ দুপুর ১২টায় ঢাকায় এসে পৌঁছাচ্ছেন তাঁরা। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে খেলতে এই দুজনের সঙ্গে আরও আসছেন আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ভি ভি এস লক্ষ্মণ, ওপেনার মুরালি বিজয়, পেসার ইশান্ত শর্মা ও বাঁহাতি স্পিনার প্রজ্ঞান ওঝা। ১৭ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রামে প্রথম টেস্ট, ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্ট শুরু ২৪ জানুয়ারি

বাংলাদেশের আইডিয়া কাপ

আইডিয়া কাপে জয়ের মুখ দেখেনি বাংলাদেশ। তার পরও অধিনায়ক সাকিব আল হাসান দলের পারফরম্যান্সকে মূল্যায়ন করছেন ‘এক শতে আশি’ বলে! চার ম্যাচে বাংলাদেশের স্কোর ২৬০, ২৯৬, ২৪৯ ও ২৪৭—সাকিবের দাবির পেছনে বড় যুক্তি এটাই। তবে টুর্নামেন্টে এমন কিছুও করেছেন সাকিব-সতীর্থরা, ফাইনালের আগে ভারত ও শ্রীলঙ্কানদের সরিয়ে যেখানে শীর্ষে তাঁরাই।
যেমন টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ব্যাটিং গড় মাহমুদউল্লাহর। ৪ ম্যাচের ৩টিতেই অপরাজিত থেকে করেছেন ১৯৩ রান। ব্যাটিং গড়ও ১৯৩! গড় স্ট্রাইক রেটের ক্ষেত্রে শীর্ষে থাকা বীরেন্দর শেবাগের (১৫৩.৮৪) সামান্য পেছনেই আছেন নাঈম ইসলাম। তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৫৩.৬৫। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি তিন ছক্কা নাঈম ইসলামের। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ২টি ছক্কাও তাঁর। ইনিংসে দুটি ছক্কা অবশ্য আছে আরও দুজনের, বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিম ও ভারতের যুবরাজ সিংয়ের। আরেকটি জায়গাতেও শীর্ষে মুশফিকুর। সাঙ্গাকারার সঙ্গে সর্বোচ্চ ৪টি ডিসমিসালের যৌথ মালিক তিনি। সাকিব কি আর এমনি এমনিই ভালো করেছেন বলে দাবি করছেন!

এবার অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচটি অনেক দিক থেকেই অনুসরণ করল প্রথম ম্যাচকে। শূন্য রানেই আউট বাংলাদেশের দুই ওপেনারের একজন, এরপর আরেকজনের ঝোড়ো ব্যাটিং, দ্বিতীয় উইকেটে বড় জুটি, তিন নম্বরে সৈকত আলির ফিফটি, অধিনায়ক মাহমুদুল হাসানের আরেকটি অপরাজিত ইনিংস এবং... বাংলাদেশের জয়!
আগের দিন নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারানোর পর কাল ক্রাইস্টচার্চে তাদেরই তাসমান প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
প্রথম ম্যাচে প্রথম ওভারে আউট হয়েছিলেন ওপেনার আনামুল হক। কাল দ্বিতীয় ওভারে রানের খাতা খোলার আগে আউট অমিত মজুমদার। এরপর যথারীতি পাল্টা আক্রমণ। দ্বিতীয় উইকেটে আনামুল-সৈকতের ৮৪ রানের জুটি। সমান ৩টি করে চার ও ছয়ে ৫০ বলে ৫৮ রান করেন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান আনামুল। আর একটি ছয় কম মেরে ৭৫ বলে ৬১ সৈকতের। পাঁচ নম্বরে নেমে অধিনায়ক মাহমুদুলের ৬৫ বলে অপরাজিত ৭৫ নির্ধারিত ৩৯ ওভারে দলকে এনে দেয় ২৩০ রানের পুঁজি।
অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ হেরে বসে প্রথম ১৩ ওভারেই। ৭৮ রানে হারিয়ে ফেলে প্রথম ৫ ব্যাটসম্যানকে। ষষ্ঠ উইকেটে জেসন ফ্লোরোস ও টিম আর্মস্ট্রংয়ের ৮০ রানের জুটি ব্যবধান কমিয়েছে মাত্র। চার উইকেট নিয়ে লেগ স্পিনার সাব্বির রহমান পূর্বাভাস দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের পেস-সহায়ক উইকেটেও কার্যকরী হতে পারেন বাংলাদেশের স্পিনাররা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৩৯ ওভারে ২৩০/৭ (মাহমুদুল ৭৫*, সৈকত ৬১, আনামুল ৫৮; ডোরান ২/২৪, রিচার্ডসন ২/৪২)।
অস্ট্রেলিয়া: ৩৮.৪ ওভারে ২১০/১০ (ফ্লোরোস ৪৬, আর্মস্ট্রং ৪১; সাব্বির ৪/৩৪, কামরুল ১/১৫, মাহমুদুল ১/২৯, শাকের ১/৩৯, রাজু ১/৪১)।

বাংলাদেশের আসল পরীক্ষার নাম তো টেস্ট

সিরিজে নিজেদের শেষ ম্যাচ সাকিব আল হাসানের উপলব্ধিটাও যেন বদলে দিল একটু। শিশিরের কারণেই হোক কিংবা বোলারদের ব্যর্থতায়, ভারতের বিপক্ষে পরশুর ম্যাচের আগ পর্যন্ত এই সিরিজের বোলিং মন ভরাতে পারেনি তাঁর। কিন্তু কাল বিসিবি অফিসে কী একটা কাজে এসে বলে গেলেন, ‘ব্যাটিং বলেন...বোলিং বলেন, আমি সবকিছুতেই সন্তুষ্ট।’
আইডিয়া কাপের শিশির-তত্ত্ব অনুযায়ী, আপনি যত ভালো বোলিংই করুন, শিশির সেটাকে ভিজিয়ে দেবেই। পরে বল করলে অবধারিতভাবে খারাপই হবে। পরশুর ম্যাচে শিশিরের সেই বাধা বাংলাদেশ বোলাররা অতিক্রম করতে পেরেছেন বলে মনে করেন সাকিব। এদিন শিশির খুব বেশি সমস্যা সৃষ্টি না করলেও অবশেষে বোলাররা তাঁদের সামর্থ্যের কিছুটা তো দেখাল—অধিনায়কের তৃপ্তি সেখানেই।
কোচ জেমি সিডন্স অবশ্য এত সহজে তৃপ্ত হতে পারছেন না। ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কি না জানতে চাইলে আগে বলে নিচ্ছেন বোলিং আর ফিল্ডিং নিয়ে হতাশার কথা। কাল মিরপুর ইনডোরে টেস্ট সিরিজের অনুশীলন শুরুর আগে যেমন বললেন, ‘বোলিং ভালো হচ্ছে না। মাশরাফিকে ছাড়া পেস আক্রমণ আসলেই দুর্বল।’ স্পিনারদের পারফরম্যান্সেও খুব খুশি মনে হলো না তাঁকে। আকারে-ইঙ্গিতে বোঝাতে চাইলেন, বাংলাদেশের স্পিনাররা ভালো বল করেন কেবল স্পিন-সহায়ক উইকেটে। তবে ব্যাটিং নিয়ে যারপরনাই সন্তুষ্টই কোচ, ‘গড়ে ২৫০-এর বেশি রান করতে পারা অবশ্যই ভালো লক্ষণ। তা ছাড়া এই সিরিজে আমরা দুবার খুব বাজে শুরু করেও শেষ পর্যন্ত বড় স্কোর করতে পেরেছি, যেটা এর আগে কখনো হয়নি।’
বাংলাদেশ কোচের বিশ্বাস, ভারতের বিপক্ষে ১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু টেস্ট সিরিজে বোলিং নিয়েও দুশ্চিন্তার কিছু থাকবে না। স্পিনই বোলিংয়ে বাংলাদেশের ভরসার জায়গা। কিন্তু ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা যে আবার স্পিনারদের পেটাতেই বেশি আরাম পান! এটুকু বলতেই ভুলটা ধরিয়ে দিয়ে সিডন্স বললেন, ‘শুধু স্পিনে নয়, ওরা সবকিছুতেই ভালো। তাই বলে সুপারম্যান তো নয়। আমাদের সাকিব বিশ্বমানের স্পিনার। ও জায়গামতো বল করতে পারলে ভারতের জন্য তাই কাজটা এত সহজ হবে না।’
তবে সার্বিকভাবে টেস্ট সিরিজ নিয়ে একটু যেন চিন্তিতই মনে হলো সিডন্সকে। বাংলাদেশ সর্বশেষ টেস্ট খেলেছে প্রায় ছয় মাস আগে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। দেশের মাটিতে টেস্ট খেলেছে তারও আগে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গত জানুয়ারিতে। আবার টেস্টে ফেরা হচ্ছে বলে কিছুটা রোমাঞ্চিত কি না জানতে চাইলে পাল্টা প্রশ্ন দিয়ে উত্তর শুরু করলেন কোচ, ‘আপনি নিজে কি রোমাঞ্চিত? টেস্টে তো একটা সেশনেই সব শেষ হয়ে যেতে পারে আমাদের। টেস্টে ভালো কিছু করতে হলে প্রতিটা সেশনেই ভালো খেলতে হবে।’
কথাটা মিথ্যে নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাফল্যের পর এই ত্রিদেশীয় সিরিজটাকে বলা হচ্ছিল বাংলাদেশ দলের জন্য আসল পরীক্ষা। কিন্তু আসল পরীক্ষা যে টেস্টে, কাল সিডন্সই মনে করিয়ে দিলেন সেটা

জর্জেভিচের প্রথম ক্লাস

সাতসকালেই নিজের প্রথম ক্লাসটা শুরু করে দিলেন জোরান জর্জেভিচ। বাফুফে ভবনের তৃতীয় তলায় ৩৭ জন ফুটবলারকে নিয়ে কাল এক টেবিলে বসলেন সার্বিয়ান কোচ। বসা তো নয়, যেন রণহুঙ্কার আর কঠোর সতর্কবাণী মেশানো এক বক্তৃতা দিলেন। খেলোয়াড়দের উদ্দেশে দেওয়া বক্তৃতার মূল সুর ছিল, মাঠে ২০০ ভাগ দেওয়ার জন্য তৈরি হতে হবে। দুর্বল চিত্ত আর ঢিলেমি দেওয়ার মানসিকতা আছে যাঁদের, সেসব ফুটবলারের ঠাঁই হবে না তাঁর এসএ গেমসের ক্যাম্পে।
বেলা একটা নাগাদ বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দল বিকেএসপিগামী গাড়িতে উঠল। এসএ গেমস শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত আগামী ১৫-১৬ দিন দলটা সেখানেই অনুশীলন করবে। যাওয়ার আগে খেলোয়াড়দের দেখে মনে হচ্ছিল, ‘বাঘের খাঁচা’য় বন্দী হতে চলেছেন। একটু আগে জোরানের প্রথম ক্লাসে ওই খেলোয়াড়দের জনা পাঁচেক তো ‘শাস্তি’ও ভোগ করেছেন। শাস্তিটা প্রতীকী, কিন্তু ওতেই নতুন কোচ বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁর ক্লাসে নড়েচড়েও বসা যাবে না। হাতের নখ খুঁটলে কোচ বলবেন, ‘তোমার মনোযোগ নেই। উঠে এসে আমার পাশে বসো।’ আবার কেউ ঝিমুচ্ছে মনে করে তাঁর প্রতি কড়া নির্দেশ জারি হবে, ‘মুখ ধুয়ে এসো। এখানে বসে ঝিমুনো চলবে না, ম্যান...।’
এসবই ঘটল সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে। এমনিতে কোচের ব্রিফিংয়ে মিডিয়ার প্রবেশাধিকার থাকে না। কিন্তু জোরান কাল সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে ভেতরে নিলেন এবং তাঁর ‘কথার ঝড়’ বইল সাংবাদিকদের ওপরও। খেলোয়াড়দের উদ্দেশে দেওয়া বক্তৃতা থামিয়ে হঠাত্ সংবাদমাধ্যমের ‘কী করা উচিত’ বলা শুরু করলেন। এই ফাঁকে গোটা তিনেক প্রশ্নের উত্তরও দিলেন, যা ছিল মূলত প্রস্তুতিবিষয়ক।
এই প্রস্তুতিটা ১৯৯৯ কাঠমান্ডু সাফে জেতা ফুটবলের একমাত্র সোনা পুনরুদ্ধারের। কিন্তু এবার গেমস আয়োজক বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সম্ভাব্য ১৭টি সোনার যে তালিকা করেছে, তাতে নেই ফুটবল!
সাফ ফুটবলে বিপর্যরের পরও এসএ গেমসে সোনা জয়ের ব্যাপারে অবশ্য খুবই আশাবাদী দেখাল ফুটবলারদের। গোলরক্ষক আমিনুল বললেন, ‘সাফে আমরা পারিনি। এসএ গেমসে পারতেই হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে অবশ্যই পারব।’ স্ট্রাইকার এমিলির কথা, ‘আমি মনে করি, এটা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো টিম। সব সময়ই বাংলাদেশ দল সাফ গেমসে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য খেলে। এবার, আমি মনে করি, দলের সব খেলোয়াড়ই ভালো। এখন মাঠেই প্রমাণ করতে হবে নিজেদের।’
এই ‘মাঠে প্রমাণে’র ওপরই জোর দিলেন জর্জেভিচ। খেলোয়াড়দের বললেন, ‘দেশ তোমাদের অনেক কিছু দিচ্ছে, এখন তোমাদের দেবার পালা।’ শুধু চাইলেই হবে না, প্রস্তুতিটা ভালো হওয়া চাই। সেই প্রস্তুতিটা মাত্র ১৫-১৬ দিনে ভালোই হবে বলে তাঁর বিশ্বাস, ‘সময় যা আছে, চলবে। এটা কোনো সমস্যা নয়।’
গত দুটি গেমসে অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দল খেলেছে বলে গেমস ফুটবলের আকর্ষণ এখন তেমন নেই। এই দুবার বাংলাদেশ সেমিফাইনালেই যেতে পারেনি। তার আগ পর্যন্ত ফুটবল ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রে এবং ফুটবলের সোনাই ছিল সবার কাঙ্ক্ষিত। এখনো যে পুরোপুরি আকর্ষণহীন তা নয়। তবে বাংলাদেশের জন্য এটা বিরাট চ্যালেঞ্জ এবং জোরান তাঁর প্রথম ক্লাসেই সেটা মেনে নিলেন, ‘অবশ্যই এটা বড় চ্যালেঞ্জ আমাদের জন্য।’
ইংল্যান্ড প্রবাসী দুই ফুটবলারই শুধু ছিলেন না কাল। ওই দুজন আসবেন ১৫ জানুয়ারি।

যারা টস জিতবে তারাই ফেবারিট



আগের ম্যাচগুলোর অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, ফাইনালে টস অবশ্যই বড় একটা ব্যাপার হবে। যে দলই এখানে পরে ব্যাটিং করছে, তারাই ম্যাচ জিতছে। টস তাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে পরশু রাতে আমাদের ম্যাচের সময় শিশির অনেক কম ছিল। ৩০ ওভার পর শিশির এসেছে। মাঠ অনেক ভালো ছিল। ফাইনালের আগে এটা খুবই ভালো লক্ষণ। কন্ডিশন ওরকম থাকলে পরে বোলিং করেও জেতা সম্ভব এখানে।
আমি বলব, ফাইনালে ভারত-শ্রীলঙ্কা দুই দলের কাউকে এগিয়ে রাখা কঠিন। দুই দলেই অনেক ভালো ভালো খেলোয়াড়। তা ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত বা শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটীয় পার্থক্য অনেক। এদিক দিয়ে ভারত-শ্রীলঙ্কা কাছাকাছি শক্তির দল। শিশির বা কন্ডিশনের ব্যাপারগুলো এই দুই দলের ম্যাচেই বেশি কাজ করবে। লক্ষ করে থাকবেন, শ্রীলঙ্কা যে ম্যাচে পরে বোলিং করেছে সে ম্যাচে ভারত তাদের কোনো সুযোগই দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে জিতলেও ভারত সেদিন ম্যাচটা ৮ উইকেটেও জিততে পারত। তার পরও ফাইনালে কারা এগিয়ে, সেটা বলা সহজ হবে না। আর আমরা কোনো ম্যাচে আগে বোলিং করলে হয়তো বুঝতাম কার শক্তিমত্তা বেশি, কার কম। আমার পক্ষে তাই বলা খুব কঠিন কাদের শক্তি বেশি।
তবে শুধু ব্যাটিংয়ের কথা বললে ভারত এগিয়ে। দলে অনেক ব্যাটসম্যান। আর শুধু ব্যাটসম্যানের সংখ্যা নয়, ব্যাটসম্যানদের নামগুলো দেখলেও বুঝবেন কেন ওদের ব্যাটিং এত শক্তিশালী। বিরাট কোহলিও এখন ভালো ফর্মে আছে, ভালো ব্যাটিং করছে। সত্যি বলতে কি, এই সিরিজের আগ পর্যন্তও আমি ওকে অতটা গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, ও বেশ ভালো খেলোয়াড়। আর র্যাঙ্কিংয়েও ভারত এগিয়ে। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার পেস আক্রমণ ভালো। দলে অনেক নতুন বোলার থাকলেও তারা মাথা খাটিয়ে বল করে। ব্যাটসম্যানদের বিপদে ফেলতে পারে। তবে ফাইনাল তো একটা মাত্র ম্যাচেরই ব্যাপার। এ দিনে যারা ভালো খেলবে, তারাই জিতবে।
ভারতে নিজেদের মধ্যে সিরিজ খেলে এসেছে দু দল। সে সিরিজে ভারত ভালোভাবে জিতলেও শ্রীলঙ্কাও ভালো ক্রিকেট খেলেছে। এই সিরিজটা জিতে তারা হয়তো চাইবে আগের সিরিজের হতাশা দূর করতে। সেদিক দিয়ে ফাইনালের মতো একটা ফাইনালই আশা করছি আমি। দু-একটা ম্যাচ বাদ দিলে এখন পর্যন্ত প্রতিটা ম্যাচেই বড় রান হয়েছে। ফাইনালে সে রকম কিছু দেখব বলে আশা করি।
আবারও বলছি, কন্ডিশন অনেক বড় ব্যাপার হবে ফাইনালে। টস আর কন্ডিশনের ওপর বলতে পারেন ম্যাচের অর্ধেকের বেশি নির্ভর করছে। ফাইনালে কে ফেবারিট বলতেই হবে? ঠিক আছে বলে দিচ্ছি—যে দল টস জিতবে, তারাই ফেবারিট!

কারা এগিয়ে

ফাইনালে কে ফেবারিট, ভারত না শ্রীলঙ্কা? এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য দূর অতীতে যাওয়ার দরকার নেই। আইডিয়া কাপেই দু দলের তুলনামূলক পারফরম্যান্স তুলে ধরা হলো এখানে, যা পড়ে ফেবারিট নির্বাচনের দায়িত্ব আপনারই!

টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর করেছে ভারত—২৯৭। আর শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ রান ২৮৩। ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি রানও এক ভারতীয় ব্যাটসম্যানের—২৭৩ রান করেছেন বিরাট কোহলি। তাঁর পরেই অবশ্য আছেন শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা। তাঁর রান—২১৯।
ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোরের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে শ্রীলঙ্কা। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় চারটি ইনিংসই চার শ্রীলঙ্কানের—উপুল থারাঙ্গা (১১৮*), মাহেলা জয়াবর্ধনে (১০৮), থিলান সামারাবীরা (১০৫*) ও তিলকরত্নে দিলশান (১০৪)। টুর্নামেন্টের ৬ সেঞ্চুরির বাকি দুটি দুই ভারতীয় বিরাট কোহলি (১০২*) ও মহেন্দ্র সিং ধোনির (১০১*)।
ব্যাটিং গড়ে ভারতের চেয়ে শ্রীলঙ্কাকে এগিয়ে রেখেছেন থিলান সামারাবীরা। ব্যাটিং গড় ১৪৬.০০। ভারতের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ব্যাটিং গড় বিরাট কোহলির ১৩৬.৫০।
সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেটের বড় দুটি ইনিংসও দুই শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানের। দুটি ইনিংসই আবার এসেছে ভারতের বিপক্ষে। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে ১৫ বলে অপরাজিত ৩৬ করেন থিসারা পেরেরা, স্ট্রাইক রেট ২৪০.০০! আর ফিরতি পর্বে তিলকরত্নে দিলশান ১৭ বলে করেন ৩৩ রান। তাঁর এই ইনিংসের স্ট্রাইক রেট ১৯৪.১১।
সর্বোচ্চে ৫ উইকেট নিয়েছেন দুজন। দুজনই শ্রীলঙ্কার—থিসারা পেরেরা ও চানাকা ভেলেগেদারা। ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়া একমাত্র বোলারও শ্রীলঙ্কার ভেলেগেদারা।
টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানের জুটিটিও শ্রীলঙ্কার—বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে প্রথম উইকেটে থারাঙ্গা ও সাঙ্গাকারার ২১৫ রান। ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ জুটি ১৫২ রানের, বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে চতুর্থ উইকেটে ধোনি ও কোহলির।