Wednesday, August 3, 2016

অভ্যুত্থানে তুরস্কের ক্ষতি ১০ হাজার কোটি ডলার

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েফ এরদোগানকে উৎখাতের লক্ষ্যে সংঘটিত ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টাকে কেন্দ্র করে ১০ হাজার কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে দেশটিতে। তুর্কি বাণিজ্যমন্ত্রী বুলেন্ট তুফেনক্সি সোমবার স্থানীয় হুররিয়াত পত্রিকাকে বলেন, ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে তবে দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে সরকার। এএফপি জানায় যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, অস্ত্র, গোলাবারুদ, ভবন ধ্বংসসহ ১৫ জুলাই রাতের অভ্যুত্থানচেষ্টার নাশকতায় ইরানি মুদ্রায় ৩০ হাজার কোটি লিরার সমমূল্যের ক্ষতিসাধন হয়েছে। ধসে পড়েছে দেশটির পর্যটন ক্ষেত্র এবং বৈদেশিক বাণিজ্য। দেশটিতে সব ধরনের সরকারি ছুটি বাতিল ঘোষণা করায় বাতিল হয়ে গেছে অভ্যন্তরীণ পর্যটনের ১০ লাখ বুকিং। এ ছাড়া বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা কমেছে ৪০ শতাংশ- যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বনিু। তবে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের মাধ্যমে আবারও পর্যটক বাড়ানোর স্বপ্ন দেখছে তুরস্ক। অভ্যুত্থানের পর থেকে ৯ জেনারেলসহ ৩১১ সেনাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফিকরি ইসিক সোমবার সিএনএনকে বলেন, তিন শতাধিক সেনা সদস্য অভ্যুত্থানচেষ্টার পর থেকে বাহিনীতে সংযুক্ত নেই। বাহিনীর সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগও নেই। তাদের অভ্যুত্থানের কুচক্রী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ৯৫ শতাংশ মিলিটারি ইশকুল গুলেনপন্থী সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ আরও জানানো হয়, তুরস্কের সেনা,
নৌ এবং বিমানবাহিনীকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ফোর্স কমান্ডারদের কাছে আদেশ পাঠাতে পারবেন। কোনো আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হবে না এ জন্য। গণতন্ত্রপন্থীদের সমাবেশে নোবেলজয়ী কারমান : তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় আয়োজিত অভ্যুত্থানবিরোধী সমাবেশে অংশ নিয়েছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী ইয়েমেনের নারী তাওয়াককুল কারমান। রোববার রাতে আয়োজিত সমাবেশে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে তুর্কি জনগণের প্রতিরোধের ঘটনার প্রশংসা করেন তিনি। পেশায় সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী এ নোবেলজয়ী বলেন, ‘১৫ জুলাইয়ের অভ্যুত্থানচেষ্টার পরও যারা নীরব আছে তারাও ষড়যন্ত্রের অংশ। কামানের মুখে দাঁড়িয়ে যারা তুরস্কের গণতন্ত্র রক্ষা করেছে তারাই প্রকৃত বীর।’ এ সময় তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ব্যাপারে পশ্চিমা বিশ্বের মিশ্র প্রতিক্রিয়াকে নিন্দা জানান তিনি। অভ্যুত্থানচেষ্টার পর দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাজধানীতে অভ্যুত্থানবিরোধী সমাবেশ ও স্লোগান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে কিছু ভুলত্রুটি হতে পারে : তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার সন্দেহে গণহারে ধরপাকড়ে কিছু ভুলক্রটি হতে পারে বলে সোমবার স্বীকার করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলরিদিম। তিনি বলেন, অনেকেই হয়তো শুধুমাত্র সন্দেহের কারণে আটক হয়েছেন। খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে কিছু ভুল হতে পারে। তবে খুব শিগগিরই নিরপরাধীদের সসম্মানে ছেড়ে দেয়া হবে। অভ্যুত্থান পরবর্তী ব্যবস্থা হিসেবে এ পর্যন্ত দেশটির হাজার হাজার মানুষকে চাকরি থেকে অব্যাহতি এবং ১৯ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে জানায় এএফপি।

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর আনন্দিবেন পটেল সোমবার পদত্যাগ করেছেন দলিতদের চাপে দীর্ঘদিনের মিত্রতা ভুলে আনন্দিবেনকে সরাতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, গাভীর দুধ দোয়ানোর কারণে দলিত যুবকের ওপর চড়াও হয় কয়েকজন উচ্চবংশীয় তরুণ। কারণ তারা গাভীকে ধর্মীয়ভাবে পবিত্র মনে করেন। তবে ঘটনার প্রতিবাদে দলিতরা মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মাঠে নামেন।
অন্যদিকে বিজেপির সংগঠনিক অবস্থাও দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া বার্তায় আনন্দিবেন বলেন, ‘এ বছরের নভেম্বরে আমি ৭৫ বছরে পা দিচ্ছি। এদিকে সামনের বছরে বিধানসভার ভোট। তার আগে নতুন যিনি মুখ্যমন্ত্রী আসবেন তিনি যাতে নিজেকে গুছিয়ে নেয়ার সুযোগ পান সে জন্য আগাম অবসরে যাচ্ছি আমি।’ এনডিটিভি

মার্কিন নির্বাচন বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শুধু আমেরিকার জন্য নয়, সারা বিশ্বের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। চলতি বছর ৮ নভেম্বর আমেরিকার ৫৮তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল তাদের নিজ নিজ প্রার্থীর চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে। রিপাবলিকান দল ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এবং ডেমোক্রেটিক দল হিলারি ক্লিনটনকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এই প্রথম কোনো নারী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় কোনো দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লাভ করেছেন। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো কোনো ব্যক্তির চূড়ান্ত রিপাবলিকান প্রার্থী হতে পারাও অভূতপূর্ব। সঙ্গত কারণেই এবারের নির্বাচনী লড়াই পেয়েছে ভিন্নমাত্রা। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে নতুন প্রেসিডেন্ট আমেরিকার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। নির্বাচনে জিতে কে হবেন নতুন প্রেসিডেন্ট? হিলারি ক্লিনটন কি প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারবেন? শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে সামগ্রিক পরিণতি কী হবে? নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতি কেমন হবে? বিশ্বে তার প্রভাব কেমন হবে? বাংলাদেশের ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হবে?
এসব প্রশ্ন নিয়ে সবার কৌতূহল রয়েছে। চলতি সপ্তাহে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইটা ভিন্নমাত্রায় পৌঁছেছে। এতদিন প্রার্থীরা নিজ দলের মনোনয়নের জন্য লড়াই করেছেন। এখন তারা দলীয় চূড়ান্ত মনোনয়ন নিয়ে সর্বশেষ ধাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের সঙ্গে আছেন রানিংমেট ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীরাও। প্রসঙ্গত, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী জš§সূত্রে যে কোনো মার্কিন নাগরিক যিনি ন্যূনতম ১৪ বছর ধরে আমেরিকায় বসবাস করছেন এবং যার বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। উল্লেখ্য, কেউ দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। আমেরিকার নির্বাচনী প্রক্রিয়া অন্য অনেক গণতান্ত্রিক দেশের চেয়ে ভিন্ন। কোনো একক নেতা বা কর্তৃপক্ষ দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে না। বরং বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলীয় প্রার্থীরা চূড়ান্ত মনোনয়ন অর্জন করেন। এরপর শুরু হয় সব রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীদের নির্বাচনী লড়াই। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ইলেক্টোরাল কলেজ খুব গুরুত্বপূর্ণ। যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ইলেক্টোরাল কলেজের সমর্থন লাভ করবেন তিনিই হবেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। তবে যদি কোনো প্রার্থীই অন্তত ২৭০ ইলেক্টোরাল কলেজ সমর্থন অর্জন করতে না পারেন, তখন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বাছাই করা হয়। আমেরিকায় নির্বাচনী লড়াইটা হয় মূলত ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান দলের মধ্যে।
যদিও ছোট ছোট রাজনৈতিক দলের এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নির্বাচনে অংশ নেন। মার্কিন রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনুযায়ী দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একজন হবেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। শেষমেশ কে বিজয়ী হবেন তা নির্ভর করবে প্রার্থীদের নির্বাচনী কৌশল এবং ভোটারদের রায়ের ওপর। এখন পর্যন্ত কোনো নারী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হননি। ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন একজন সফল রাজনীতিক ও সংগঠক হিসেবে সুপরিচিত। তিনি আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। নিউইয়র্কের সিনেটর ছিলেন। তার স্বামী প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সময় ফার্স্টলেডি হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তিনি মেধাবী আইনজীবী, ভালো বক্তা, নারী অধিকার, নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নারী ভোটারদের মধ্যে রয়েছে তার বিশেষ জনপ্রিয়তা। এছাড়া মধ্যপন্থী ও উদারপন্থী মার্কিনিদের সমর্থন রয়েছে তার প্রতি। তিনি নির্বাচিত হলে আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে রেকর্ড সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন অর্জন করেছেন তার নিজ ক্যারিশমার গুণে। তিনি জানেন কীভাবে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুকে দক্ষভাবে ভোটের রাজনীতিতে ব্যবহার করা যায়। সামনের দিনগুলোতে তিনি নতুন নতুন রাজনৈতিক কার্ড খেলে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের সর্বাÍক চেষ্টা করবেন। তাছাড়া মার্কিন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সাধারণত কোনো দল পরপর দু’বারের বেশি ক্ষমতায় আসতে পারে না। ডেমোক্রেট দলের বারাক ওবামা পরপর দু’বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেক্ষেত্রে এবার রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচনে যিনি নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন তার পররাষ্ট্রনীতি সারা বিশ্বে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে চীন ও আমেরিকা পরস্পরবিরোধী মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালত দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের একক মালিকানার দাবি নাকচ কর দিয়েছে। হোয়াইট হাউসে নতুন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেয়ার পর আমেরিকা দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেবে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী ইসলামিক স্টেটের কার্যক্রম মোকাবেলায় নতুন কর্মপন্থা নিতে হবে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। নতুন মার্কিন প্রশাসন যদি এসব ব্যাপারে বল প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে, তাহলে বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা আরও বাড়বে। ব্রেক্সিটের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বিশ্ব অর্থনীতি এক অনিশ্চিত সময় পার করছে। নতুন যে কোনো সংঘাত-অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। আবার, সুচিন্তিত নীতি-কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করার অনবদ্য সুযোগও রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোও দারুণ আগ্রহী। বাংলাদেশের জন্য আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্টের দৃষ্টিভঙ্গি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সম্প্রতিক গুলশান ও শোলাকিয়া ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন মার্কিন প্রশাসন যে নীতি গ্রহণ করবে, তার সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে যাবে। নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, বাংলাদেশের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে আমেরিকার অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে বাংলাদেশী রাজনৈতিক নেতাদের প্রচুর কৌতূহল রয়েছে। জনসংখ্যার বিচারে বাংলাদেশ বিশ্বের বড় গণতান্ত্রিক দেশগুলোর একটি। সেক্ষেত্রে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে অর্থবহ গণতান্ত্রিক নির্বাচনের উদ্দেশে কোনো প্রকাশ্য নীতি-কৌশল গ্রহণ করলে তা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে দেবে। যদিও গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে জড়ানো অনাকাক্সিক্ষত। যা হোক, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত কিছু বলার সময় এখনও আসেনি। সামনের দিনগুলোতে খুব দ্রুত নির্বাচনী দৃশ্যপট বদলাতে থাকবে। পরিস্থিতিকে নিজের অনুকূলে নিতে প্রার্থীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। এতে রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর, ধর্মীয় বিতর্ক, এমনকি ব্যক্তিগত আক্রমণও দেখা যেতে পারে। তবে শেষ কথা বলবেন ভোটাররা। তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে কে হবেন পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মো. সাজজাদ হোসেন : সহকারী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
sazzad.ir.du@gmail.com

দুই শেয়ারবাজারে ৪৬৩ কোটি টাকা লেনদেন

শেয়ারবাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়ছে না। মঙ্গলবারও দেশের দুই শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) মিলে ৪৬৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। যদিও এ লেনদেন আগের দিনের চেয়ে কিছুটা বেশি। কিন্তু দুই বাজার মিলেও লেনদেন ৫শ’ কোটি টাকা ছাড়াতে পারেনি। এদিকে উভয় শেয়ারবাজারে মঙ্গলবার মূল্যসূচক ও বাজার মূলধন বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে মঙ্গলবার ৩২৪টি প্রতিষ্ঠানের ১০ কোটি ৪৮ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৪৪০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আগের দিনের চেয়ে যা ৬৩ কোটি ১১ লাখ টাকা বেশি। এরমধ্যে দাম বেড়েছে ১৮৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ৯৪টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসই ব্রডসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৮ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৫৫২ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ৭ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৮২ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ৪ পয়েন্টে বেড়ে ১ হাজার ১১৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে বেড়ে ৩ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
সিএসই : চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে মঙ্গলবার ২৪২টি প্রতিষ্ঠানের ৭৫ লাখ ১২ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ২০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এরমধ্যে দাম বেড়েছে ১২৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ৭৭টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৩ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। সিএসই ৩০ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৪৭ পয়েন্ট বেড়ে ১২ হাজার ৯০৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। সিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে বেড়ে ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। শীর্ষ দশ কোম্পানি : মঙ্গলবার ডিএসইতে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হল- মবিল যমুনা, তিতাস গ্যাস, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, স্কয়ার ফার্মা, যমুনা অয়েল, ব্র্যাক ব্যাংক, আইপিডিসি, ইসলামী ব্যাংক, এ্যাকমি ল্যাবরেটরিজ এবং বিএসআরএম লিমিটেড। ডিএসইতে মঙ্গলবার যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে সেগুলো হল- সোনালী আঁশ, নর্দার্ন জুট, তাল্লু স্পিনিং, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, জাহিন স্পিনিং, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম টেক্সটাইল, জেমিনি সি ফুড, এইচআর টেক্সটাইল এবং বিচ হ্যাচারি।

অর্থোপেডিক সার্জন ফাংকের দ্বারস্থ মুস্তাফিজ

কাঁধের অস্ত্রোপচারের জন্য টনি কোচারের পর আরেকজন বিশেষজ্ঞ সার্জনের পরামর্শ নিতে মঙ্গলবার ল্যাংকাশায়ারের উইগানে যাচ্ছেন মুস্তাফিজুর রহমান। বিসিবির নির্দেশে রাইটিংটন, উইগান অ্যান্ড লি এনএইচএস ফাউন্ডেশনের রাইটিংটন হাসপাতালের সার্জন অধ্যাপক লেনার্ড ফাংকের কাছ থেকে মতামত নেয়ার জন্যই মুস্তাফিজ উইগান যাচ্ছেন। লন্ডনে তার হোস্ট সেন্ট পিটার্স কলেজ অব লন্ডনের অধ্যক্ষ এজিএম সাব্বির তাকে উইগান নিয়ে যাচ্ছেন। সাব্বির জানান, অর্থোপেডিক সার্জারির জন্য বিশেষায়িত এ হাসপাতালে যাওয়ার জন্য মঙ্গলবার সকালে মুস্তাফিজকে নিয়ে তিনি লন্ডন থেকে ট্রেনে উইগানের উদ্দেশে রওনা হবেন। হাসপাতালের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, অধ্যাপক ফাংক কাঁধ, কনুই ও ঊর্ধ্বাঙ্গের সার্জারিতে বিশেষজ্ঞ। কাঁধে ক্রীড়াবিষয়ক চোটের অর্থোপেডিক সার্জারিতে তিনি পারদর্শী।
এর আগে টেলিফোনে আলাপকালে বিসিবি মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস জানিয়েছিলেন, মুস্তাফিজের বয়স যদি ২৭-২৮ হতো তাহলে তারা তার কনজারভেটিভ ট্রিটমেন্টের কথাই ভাবতেন। কিন্তু মুস্তাফিজের বয়স যেহেতু মাত্র ২০ বছর তাই তারা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার এ চোটের স্থায়ী সমাধানের পথেই যেতে চান। মুস্তাফিজের এ চিকিৎসার ব্যাপারে বিসিবি বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নেবে না। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সঙ্গে পরামর্শ করে বা তাদের সুপারিশ অনুযায়ী মুস্তাফিজের অস্ত্রোপচার নিয়ে বিশেষজ্ঞ সার্জনদের পরামর্শ নেয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সাসেক্সে খেলতে গিয়ে কাঁধে চোট পাওয়া মুস্তাফিজ এর আগে যান লন্ডন ব্রিজ হাসপাতালের অধ্যাপক কোচারের কাছে। দুই দফা এমআরআই করানোর পর কোচারের পরামর্শে সিদ্ধান্ত হয় মুস্তাফিজের বাঁ-কাঁধে অস্ত্রোপচার করানোর। এখন লেনার্ড ফাংকের মতামত নেয়ার জন্য মুস্তাফিজকে উইগান পাঠানো হচ্ছে। বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম।

স্বপ্ন পূরণ হয়নি মেহজাবিনের

অভিনয় আর মডেলিং- দুটিতেই ব্যস্ততা বেড়েছে লাক্স তারকা মেহজাবিন চৌধুরীর। শহরের কোনো না কোনো শুটিং স্পটে ঢুঁ মারলেই লাইট, ক্যামেরার সামনে দেখা মেলে এ তারকার। মডেলিং ও অভিনয়ের বাইরেও সম্প্রতি নাচ নিয়ে কোনো না কোনো চ্যানেলে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তাকে। লাক্স তারকার মুকুট মাথায় নিয়ে শোবিজ অঙ্গনে আসার পর থেকেই সাফল্য ধরা দিয়েছে এ মডেলকন্যার ঝুলিতে। গেল ঈদে দেশের বরেণ্য অভিনেতা আফজাল হোসেনের বিপরীতেও অভিনয় করতে দেখা গেছে তাকে। নাটকটির জন্য দর্শকদের কাছ থেকে পেয়েছেন অবারিত প্রশংসা। তবুও বুকের কোথায় যেন স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার বেদনা রয়ে গেছে এ তারকার, যা ফুটে উঠল তার কথাতেই। দর্শকদের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সিনেমায় নেই কেন- এমন প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতেই বের হয়ে আসে বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখা কথাগুলো।
বলেন, ‘অসম্ভব ভালোবাসা ও স্বপ্ন নিয়ে চলচ্চিত্রে নাম লিখিয়েছিলাম। কিন্তু অভিনয়ের শুরুতেই তা পণ্ড হয়ে যায়। তাই আর সিনেমায় পা বাড়ানোর সাহস দেখায়নি। এছাড়া অনেক শ্রম, মেধা দিয়ে সিনেমা বানান নির্মাতারা। কিন্তু মুক্তির দুই বা তিনদিন পরই দেখা যায় প্রেক্ষাগৃহ থেকে নামিয়ে দেয়া হয় সেই সিনেমা। এ দৃশ্য দেখার পর সিনেমায় নামতে ইচ্ছে করে না। তবে আশা রাখি আমাদের দেশের সিনেমা শিল্পও একদিন ঘুরে দাঁড়াবে। এমনটি হলে চলচ্চিত্রে অভিনয় করব।’ সহকর্মীর অনেকেই তো বিয়ে করছেন আপনি কবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে এ তারকা বলেন, ‘আমার সহকর্মীদের অনেকেই বিয়ে করে ফেলছেন। কারণ তারা সবাই তাদের প্রিয় মানুষ খুঁজে পেয়েছেন। কিন্তু আমার এখনও সে রকম কেউ আসেনি। এলে তার পরই বিয়ে করব।’

আলেপ্লোয় তুমুল লড়াই শুরু

সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোর দখল বজায় রাখতে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে নেমেছে বিদ্রোহীরা। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনী কয়েক দিন ধরে শহরটি ঘিরে রেখেছে এবং নগরী পুনর্দখলে চূড়ান্ত অভিযান শুরু করেছে। এতে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়। সেখানে আটকা পড়েছে অন্তত ৩ লাখ বাসিন্দা। এ অবস্থায় তাদের খাদ্য ও ওষুধ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। রোবরার বিদ্রোহীদের ছোড়া গোলায় কয়েক ডজন বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সোমবার আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানিয়েছে।
সিরিয়ার সরকার ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযান শুরুর আগে আলেপ্পো নগর থেকে বের হওয়ার সুযোগ দিতে বেসামরিক লোক ও বিদ্রোহীদের জন্য চারটি করিডর (পথ) খুলে দিয়েছে সরকারি বাহিনী। শহরটির বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত পূর্বাঞ্চলে প্রায় তিন লাখ মানুষ আটকা পড়ে আছে। বড় সংঘাতের আগে তাদের বেরিয়ে আসার সুযোগ দিতেই মূলত ওই করিডর খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই সয়গু। এ উদ্যোগকে ‘বড় ধরনের মানবিক তৎপরতা’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেছেন, সবার আগে বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ পদক্ষেপের লক্ষ্য। এরই মধ্যে সেসব করিডোর দিয়ে বহু লোক বেরিয়ে গেছে।
এদিকে ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, আলেপ্পো শহরের উপকণ্ঠে কয়েকটি ফ্রন্টে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সংস্থাটির পরিচালক রামি আবদেল রহমান বলছেন, আলেপ্পো দখলের এ লড়াই হবে ‘দীর্ঘ এবং কঠিন’। আল জাজিরা জানিয়েছে, শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে কয়েকটি বিদ্রোহী সংগঠন। এদের নেতৃত্ব দিচ্ছে জাবাত ফাতাহ আল শাম গ্র“প। সংগঠনটির সঙ্গে আল কায়দা নুসরা ফ্রন্টের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আল আহরার শাম গ্র“প। এদিকে আলেপ্পোর আবাসিক এলাকায় সন্ত্রাসীদের ছোড়া গোলায় হতাহতের মধ্যে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী,
এক শিশুও রয়েছে। আলেপ্পোয় আটকে পড়া প্রায় তিন লাখ লোকের অবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের প্রধান স্টিফেন ও’ব্রায়ান বলেছেন, ‘আগস্টের মাঝামাঝি নগরে খাদ্যের মজুত ফুরিয়ে যেতে পারে। হামলা চলতে পারে অনেক চিকিৎসা স্থাপনায়।’ অবরুদ্ধ আলেপ্পো থেকে বেসামরিক লোকজনের বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা রেডক্রস। সংগঠনটি বলেছে, ত্রাণ সহায়তা ও উদ্ধারকর্মীদের আলেপ্পো ছেড়ে বের হওয়া বেসামরিক লোকজনের কাছে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। যেসব পরিবার শহরটি ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে তাদের সদস্যরা যাতে একসঙ্গে থাকতে পারেন, তাও নিশ্চিত করতে হবে।

তুরস্কের অভ্যুত্থান যেন হলিউডি মুভি : গুলেন

‘একটি সামরিক অভ্যুত্থানের চেয়ে একে হলিউডের সিনেমার মতোই মনে হচ্ছে বেশি। ঠিক যেন অনেকটাই সাজানো নাটকের মতো। তারা যে সুপরিকল্পিতভাবে অভ্যুত্থানের পটভূমি রচনা করেছিল, তা ঘটনা দেখেই বোঝা গেছে।’ জুলাইয়ে তুরস্কে সংঘটিত একটি ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার প্রসঙ্গে এভাবেই বলেছেন দেশটির স্বেচ্ছানির্বাসিত ধর্মগুরু ফেতুল্লাহ গুলেন। অবশ্য অভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে গুলেনকেই দায়ী করছে তুর্কি সরকার। সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সঙ্গে নিজের জড়িত থাকা, না থাকার ব্যাপারে বিস্তারিত কথা বলেছেন তিনি। ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা এই ৭৭ বছর বয়সী ধর্মগুরু তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন বলে জোর দাবি করেছেন।
গুলেন বলেন, ‘অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাকারীদের মধ্যে এমন অনেক থাকতে পারে যারা আমার প্রতি সহানুভূতিশীল। তবে এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’ অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়ার পর একসময়কার মিত্র ও পরবর্তী সময়ে শত্র“তে পরিণত হওয়া ফেতুল্লাহ গুলেনকে মূল খলনায়ক বলে দাবি করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েফ এরদোগান। এরদোগানের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে গুলেন বলেন, ‘আমি যদি অভ্যুত্থান ঘটানোর জন্য কাউকে মৌখিকভাবে হুকুম করে থাকি, কেউ যদি কোনো কথা বলার তেমন প্রমাণও দিতে পারে, এমনকি আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তারা তুলেছে তার এক দশমাংশও যদি সত্য প্রমাণ করতে পারে কেউ- আমি আমার নাকে খত দেব।’ তাকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের দাবিতে মার্কিন সরকারকে চাপ প্রয়োগ করে আসছে তুর্কি সরকার। এ প্রসঙ্গে গুলেন আরও বলেন, ‘কেউ ন্যূনতম প্রমাণ দিতে পারলে আমি তাদের সত্য বলে মেনে নেব এবং আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের আহ্বান জানাব। আমাকে ফাঁসিতে ঝুলালেও কোনো প্রতিবাদ করব না।’
এর আগে সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্বাসঘাতকতার অপরাধে অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের ঘোষণা দেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরগোদান। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী নুমান কুরতুলমুস বলেন, অভ্যুত্থানের ঘটনার সঙ্গে গুলেনের জড়িত থাকার হাজার হাজার প্রমাণ আছে সরকারের। বিশ্বাসঘাতকতার অপরাধে গুলেনকে আমেরিকা থেকে বহিষ্কার করার আহ্বান জানিয়ে আসছে তুরস্ক। কিন্তু আঙ্কারা ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চুক্তি অনুসারে বিশ্বাসঘাতকতার অপরাধে কাউকে বহিষ্কার করার নীতির কথা কোথাও লেখা নেই। অন্যদিকে তুরস্কে রয়েছে গুলেনের বিশাল কর্মী বাহিনী। একজন মডারেট মুসলিম নেতা হিসেবে তার আছে আন্তর্জাতিক খ্যাতি। তার অনুসারীরা একে হিজমত মুভমেন্ট নামে অভিহত করে। তবে সরকার পক্ষ এটাকে গুলেনের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক বলে অভিহত করে আসছে। বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশে গুলেনের মতাদর্শের বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এমনকি তুরস্কের সবচেয়ে বেশি প্রচারিত পত্রিকা, টিভি চ্যানেল, ব্যাংক এবং সোনার খনির মালিকানাও রয়েছে হিজমত আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবীদের।

জঙ্গি দমনে রাজনৈতিক ভারসাম্যও জরুরি

দেশের রাজনীতি এক জায়গায় স্থির থাকছে না। রাজনীতি ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলাচ্ছে। আসলে দেশে কোনো সুস্থ রাজনীতিই নেই, চলছে অসুস্থ রাজনীতির প্রতিযোগিতা। বাস্তবে এর কুফলও আমরা দেখতে পাচ্ছি সমাজ ও রাষ্ট্রে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে শিক্ষিত ও মেধাবীরা। অসুস্থ রাজনীতির কারণেই এমনটি হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। রাজনীতিতে সুস্থ ধারা ফিরে না এলে তা রোধ করা সম্ভব নয় বলেও বিশ্লেষকরা মনে করেন। কাজেই রাজনীতিকে ফিরে আসতে হবে ঐক্য ও সুস্থ ধারায়। শিক্ষিত ও মেধাবীরা যদি সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদে ঝুঁকে পড়ে, তারা যদি আত্মঘাতী হয়ে ওঠে, জীবন দিতে প্রস্তুত হয়- তাহলে কোথায় যাবে রাজনীতি, কোথায় যাবে দেশ, কোথায় যাবে দেশের নিরাপত্তা। এসব ভাবার সময় এখন এসেছে। এখন মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে গলা ফাটিয়ে উল্টাপাল্টা বক্তৃতা দেয়ার সময় নয়। এখন সময় দেশ নিয়ে ভাবার।
আমরা চাই না দেশের সবাই আওয়ামী লীগ হয়ে যাক। আমরা এও চাই না দেশের সবাই বিএনপি হয়ে যাক। আমরা চাই ভারসাম্যের রাজনীতি। কেননা দেশটা একেবারে আওয়ামী লীগের হয়ে গেলেও বিপদ, বিএনপির হয়ে গেলেও বিপদ। গত ইউপি নির্বাচনে এ বিপদের কিছুটা আলামত আমরা দেখতে পেয়েছি। ১৯৭৪-৭৫ সালেও আমরা দেখেছি- রাজনীতিতে ভারসাম্য না থাকলে কী হয়। ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। তবে ইতিহাসের শিক্ষা হল এই যে, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের জনসমর্থন প্রশ্নবিদ্ধ। এটি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য বড় ধরনের দুর্বলতা। এ দুর্বলতা বিদেশীদের জন্য সৃষ্টি করে দিচ্ছে অবারিত সুযোগ। এ সুযোগটিই তারা নিচ্ছে এবং কাজেও লাগাচ্ছে পরিপূর্ণভাবে। বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষা করতে হলে দরকার একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকারের আর সেটি হতে পারে সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও পক্ষপাতহীন নির্বাচনের মাধ্যমে। কিন্তু কে শোনে কার কথা।
আসলে সংকট উত্তরণের প্রধান উপায় হল সংকটের অস্তিত্ব স্বীকার করা, বাংলাদেশ রাজনৈতিকভাবে একটা ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে; এ সংকট উপলব্ধি করে সম্মানিত ব্যক্তিরা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যার যার দায়িত্ববোধ থেকে দেশে জাতীয় ঐক্য গড়তে এবং সংকট সমাধানে সরকারকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু সরকার এ হাত বাড়িয়ে দেয়াকে কোনো আমলে নিচ্ছে না। সরকারকে মনে রাখতে হবে, সুশাসন উপহার দিতে এবং জনজীবনের বিরাজমান সমস্যা সমাধানে তারা শুধু ব্যর্থই হয়নি, চরমভাবেই ব্যর্থ হয়েছেন। মনে রাখতে হবে, একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে কাউকে অসম্ভব শক্তিশালী মনে হতে পারে, আবার আরেকটি বিশেষ পরিস্থিতিতে তিনিই হয়ে যেতে পারেন পৃথিবীর দুর্বলতম মানুষ। আরও মনে রাখতে হবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন কখনও থেমে থাকে না; অন্যায়ের জয় হয় না, মানুষের ভেতরে ভেতরে ঠিকই আন্দোলন চলতে থাকে। একসময় সেই আন্দোলন দৃশ্যমান হয়ে গণবিস্ফোরণে রূপ নেয়। এসব কথা ক্ষমতাসীনদের আমলে নিতে হবে। বিপজ্জনক রাজনৈতিক পথ থেকে ফিরে আসতে হবে। জাতীয় ঐক্যের আহ্বানে সাড়া দিতে হবে। ক্ষমতাসীনদের বুঝতে হবে, অযাচিত শক্তি প্রয়োগ দুর্বলতার প্রকাশ। এভাবে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করা যায় না। কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে হলে দেশে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে আর সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক সংকট সমাধানের বাস্তবধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। রাজনীতিতে কেউ কারও শত্রু নয়,
প্রতিপক্ষ মাত্র; এ অনিবার্য বাস্তবতা মেনেই রাজনীতি করতে হয়। বিএনপির ক্ষতি আওয়ামী লীগের জন্য হিতকর নয়। অনুরূপ আওয়ামী লীগের ক্ষতিও বিএনপির জন্য মঙ্গলজনক নয়। কেননা এ দুটি দল একে অপরের ভারসাম্য রক্ষা করে। ভারসাম্য ছাড়া কোনো কিছুই সঠিকভাবে চলতে পারে না, যেমন বাংলাদেশ সঠিকভাবে চলছে না। বিএনপিকে ছাড়া আওয়ামী লীগ যেমন অচল, তেমনি আওয়ামী লীগকে ছাড়াও বিএনপি অচল। এ অনিবার্য সত্য উভয় দলকেই মানতে হবে, তাহলেই দেশে জঙ্গি হামলা, মারামারি ও রক্তারক্তি বন্ধ হবে; নয়তো কোনো নেতা-নেত্রীর পক্ষেই দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। গুলশানের হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী-জঙ্গি হামলায় দেশের ইমেজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। এটি বিদেশে যারা আছেন, তারা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করছেন। পত্রিকায় এসেছে, বহু তৈরি পোশাক ক্রেতা তাদের নির্ধারিত সভা ঢাকা থেকে অন্য দেশে সরিয়ে নিচ্ছেন। এটা দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য মোটেও সুখবর নয়। বিশেষ করে পোশাক শিল্পের জন্য এটা একটা অশনিসংকেত।
এসব দেখে রাজনীতিকরা চুপ থাকতে পারেন না। তাদের মধ্যে অনৈক্য ও ভেদাভেদ কাম্য নয়। এ মুহূর্তে জাতীয় ঐক্য হলে দেশ ব্যাপকভাবে লাভবান হবে; দেশী-বিদেশী ব্যবসায়ীরা উৎসাহ পাবেন, তাদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে। গুলশান ট্রাজেডি মানুষের মনকে প্রচণ্ডভাবে নাড়া দিয়েছে। সব শ্রেণী-পেশার মানুষই উপলব্ধি করছে, দেশ একটি সংকটকাল অতিক্রম করছে। এ সংকট এখন প্রান্তসীমায় এসে উপনীত হয়েছে। এখন সবার উচিত দেশ নিয়ে ভাবা এবং দায়িত্বশীল আচরণ করা। কেননা দেশটা আমাদের সবার। আমাদের রাজনৈতিক বিভাজনের সুযোগ নেয়ার জন্য ওঁৎপেতে আছে দেশী-বিদেশী সুযোগ সন্ধানী চক্র। এটি আমাদের সবাইকে ভাবতে হবে। একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিকের প্রথম কাজ দেশ নিয়ে ভাবা। এ ভাবনাটা থাকলে দেশের বিভেদ-বিভাজন দূর হতে বাধ্য। বিভেদ-বিভাজন দূর হলেই রাজনীতিতে শান্তি ও স্থিতি প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ থেকে দূর হবে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ। দেশ থাকবে নিরাপদ, দেশের মানুষ থাকবে নিরাপদ; বাংলাদেশ পরিণত হবে শান্তির দেশে। আমরা রেখে যেতে পারব আমাদের সন্তানদের জন্য একটি সমৃদ্ধ দেশ।
মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
belayet-1@yahoo.com

মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারে বাড়ছে সৌদি ফান্ড

রাজধানীর বহুল আলোচিত মগবাজার-মৌচার ফ্লাইওভার প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থায়ন করছে সৌদি আরব। সৌদি ফান্ডের মাধ্যমে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে দেশটি। এ অর্থ দিয়ে এফডিসি গেট থেকে কারওয়ান বাজারের সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে নতুন ফ্লাইওভার। এর দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৪৫০ মিটার। এ অংশটি নির্মিত হলে এফডিসি রেলক্রসিং এরিয়ে সহজ যাতায়াত স্থাপিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সরকার ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। সৌদি এক্সপোর্ট প্রোগ্রামের মহাপরিচালক আহমেদ এম আলগানান ঢাকা সফরের সময় চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন। ইআরডি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোমবার যুগান্তরকে জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সৌদি আরব শুরু থেকেই অর্থায়ন করছে। পরবর্তীকালে এফডিসি থেকে সোনারগাঁও পর্যন্ত অংশটি মূল নকশায় না থাকায় তারা অর্থায়নে রাজি হচ্ছিল না। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে শেষে তাদের রাজি করা হয়েছে।
তারপরও চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। সূত্র জানায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ-শান্তিনগর ও তেজগাঁও এলাকার যানজট নিরসন করে অবাধ যান চলাচল নিশ্চিত করতে ২০১১ সালে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। সে মময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। পরে প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রায় ৪৪৬ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ২১৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। বর্তমানে নতুন অংশ যুক্ত হওয়ায় অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরব অর্থ সহায়তা বাড়িয়েছে। এ প্রকল্পে ইতিমধ্যেই ২৫০ মিলিয়ন সৌদি রিয়েল বা ৬ কোটি ৮৩ লাখ মার্কিন ডলার দিয়েছে সৌদি ফান্ড। নতুন অংশ নির্মাণে সৌদি আরব অতিরিক্ত অর্থায়ন হিসেবে দিচ্ছে ৫০ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল বা ১ কোটি ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার। সৌদি ফান্ডের শর্ত অনুযায়ী এ ঋণের বার্ষিক লোন চার্জ দিতে হবে ২ শতাংশ। ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে সরকারকে। সূত্র জানায়, ঢাকায় গত কয়েক দশকে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফলে নগরীর পরিবহন ব্যবস্থা এ অধিক জনসংখ্যার ভার বহন করতে পারছে না। ব্যাপক যানজটের কারণে অসহনীয় নগরীর মানুষের জীবন। এ অবস্থায় ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন বোর্ড ঢাকার কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে। এছাড়া আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট তাদের ১৯৯৯ সালের সমীক্ষায় ঢাকা মহানগরীর ২০টি পয়েন্টে ফ্লাইওভার/ইন্টারসেকশন আন্ডারপাস, বাস বে-বাস টার্মিনাল ও পার্কিং এরিয়া নির্মাণের প্রস্তাব করে। এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতেই মগবাজার মৌচাক ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এর একটি অংশ যান চলাচলের জন্য উদ্বোধন করা হয়েছে। অন্যান্য অংশের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ প্রকল্পে সৌদি আরবের পাশাপাশি ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় যেসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে সেগুলো হল- ৮ দশমিক ৭০ কিলোমিটার ফ্লাইওভার নির্মাণ, ৩ হাজার ৮৪৩ দশমিক ৭০ বর্গকিলোমিটার অবকাঠামো অধিগ্রহণ এবং ৪০ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণ।

‘বাটারফ্লাই’ নিয়ে আসছেন রুবেল

অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের স্টুয়ার্ট ব্রড ও জেমস অ্যান্ডারসনকে বোল্ড করার ছবিটা এখনও উজ্জ্বল। গত বছর তিন বলের ব্যবধানে রুবেল হোসেনের ওই দুটি উইকেটেই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে দেয় বাংলাদেশকে। এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ। ইংল্যান্ডকে সামনে রেখে রুবেল নতুন এক ডেলিভারি প্রয়োগ করার চিন্তা করছেন। নতুন এ ডেলিভারির নাম ‘বাটারফ্লাই’। এ ডেলিভারি দিয়েই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আবারও সফল হতে চান এই ডান-হাতি পেসার। কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে রুবেল বলেন, ‘বোলিংয়ে আমার শক্তি, আমি জোরে বোলিং করতে পারি। ইয়র্কার আমার শক্তির জায়গা। বলে আরও পেস বাড়ানোর জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি। আগের গতি ফেরানোর চেষ্টা করেছি।’ তিনি বলেন, ‘এ ডেলিভারিটা (বাটারফ্লাই) নিয়ে অনেকদিন ধরে অনুশীলন করছি। যদিও আমার সাইড আর্ম অ্যাকশনের জন্য এটা করা কঠিন। তবুও চেষ্টা করছি নতুন কিছু করতে। অফকাটার, ইয়র্কার, গতির সঙ্গে যদি অতিরিক্ত কিছু যোগ করতে পারি স্লগ ওভারে আমার জন্য ভালো হবে।’ সঠিকভাবে ডেলিভারিটা প্রয়োগ করতে পারলে কাজে দেবে বলে মনে করেন রুবেল। ডান-হাতি পেসার বলেন, ‘এটা আঙুলের মাঝখানে বল রেখে ডেলিভারি দিতে হয়। বল ছাড়ার পর ক্রিজে পড়েই কিছুটা স্লো হয়ে যাবে। যদি সফল ডেলিভারি দেয়া যায়, তবে নিশ্চিত সাফল্য পাওয়া সম্ভব হবে।’
গত বছর সেপ্টেম্বরে ‘এ’ দলের হয়ে ভারত সফরে গিয়ে চোট নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন রুবেল। ওই ইনজুরির দরুন তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হয় দুই মাস। এরপর বিপিএলে সিলেট সুপারস্টার্সের হয়ে ছয় ম্যাচ খেলার পর আবারও ইনজুরিতে পড়েন। ইনজুরির কারণে টি ২০ বিশ্বকাপে খেলা হয়নি তার। প্রায় পাঁচ মাসের পুনর্বাসন পর ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে ফিরেছেন তিনি। তার ফিটনেস নিয়েই কথা উঠছে। রুবেল বলেন, ‘আমি অনেকদিন ইনজুরিতে ছিলাম। এজন্য আমি অনেক কিছু মিস করেছি। এ ক্যাম্পের মাধ্যমে চেষ্টা করছি আমার ফিটনেসটা আরও বাড়িয়ে নিতে।’ হিথ স্ট্রিক চলে যাওয়ার পর বাংলাদেশ এখনও বোলিং কোচ খুঁজে পায়নি। বোলিং কোচের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানালেন তিনি। একসময় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গতির বোলার ছিলেন রুবেল। মুস্তাফিজ আসার পর পেস বোলিংয়ের পুরো আলোই কেড়ে নিয়েছেন তিনি। তবে মুস্তাফিজের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে চান না রুবেল। তিনি বলেন, ‘মুস্তাফিজের সঙ্গে তুলনা করার কিছু নেই। ও অন্যরকম বোলার। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, পুরো বিশ্বে মুস্তাফিজ তা প্রমাণ করেছে। এখন সে ইনজুরিতে। আমি চাই ও দ্রুত বাংলাদেশ দলে ফিরে আসুক। দলে তাকে প্রয়োজন। ও থাকলে প্রতিপক্ষ চাপ অনুভব করে।’ আকিব জাভেদ বাংলাদেশে এসেছেন দেড় সপ্তাহের জন্য। সাবেক পাকিস্তানি পেসারের কাছ থেকে রিভার্স সুইংয়ের ব্যাপারে আলোচনা করতে চান রুবেল।

২১ বছর পেরিয়ে

১৯৯৫ সালের ২ আগস্ট ভালোবেসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ওমর সানী-মৌসুমী। সুখে-দুঃখে, ভালোবেসে দেখতে দেখতে দাম্পত্য জীবনের ২১টি বছর পার করেছেন তারা। বিবাহিত আজ ২২ বছরে পা রেখেছেন এ তারকা দম্পতি। বিগত বছরে ওমর সানী-মৌসুমীর ঘর আলোকিত করে দুটি সন্তানও এসেছে। একজন পুত্র ফারদিন ও অন্যজন কন্যা ফাইজাহ। দুই সন্তান এবং পরিবারের সবাইকে নিয়ে বেশ সুখেই আছেন এ দম্পতি।
২১তম বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে ছোট্ট পরিসরে হলেও আজকের দিনটি বিশেষভাবে উদযাপন করবেন বলে জানিয়েছেন তারা। ২১ বছরেও ভালোবাসা অটুট থাকার পেছনের রহস্য হিসেবে একে অপরের প্রতি দায়িত্ববোধ ও বিশ্বাসকেই প্রধান শক্তি বলে জানিয়েছেন। আগামী দিনগুলো ভালোভাবে যেন কাটে এজন্য ভক্ত-দর্শকদের কাছে দোয়াও চেয়েছেন এ তারকা দম্পতি।

মুদ্রানীতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক কিছু

সরকারের অনেক নীতির মধ্যে একটি হচ্ছে মুদ্রানীতি। আগে এই নীতি এত আনুষ্ঠানিকতা করে ঘোষিত হতো না। এখন হয়- হয় বছরে দু’বার। একবার বাজেট ঘোষণার পর- জুলাই মাসে, আরেকবার জানুয়ারির দিকে। বাজেট হচ্ছে রাজস্বনীতি (ফিসক্যাল পলিসি) এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিবৃতির সমাহার। রয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি আর সেটা হচ্ছে বাণিজ্যনীতি (ট্রেড-ইমপোর্ট ও এক্সপোর্ট পলিসি)। বলা বাহুল্য, একটি আরেকটির পরিপূরক ও সম্পূরক। মনিটারি পলিসি, ফিসক্যাল পলিসি ও ট্রেড পলিসি একই উদ্দেশ্যে কাজ না করলে বিশেষ করে ঋণের টাকার সদ্ব্যবহার না হলে ফল লাভ করা যায় না। যেমন- ২০১০-১১ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের হার ছিল ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ, অথচ জিডিপি সে বছর বৃদ্ধি পায় মাত্র সাড়ে ছয় শতাংশ হারে। পরের বছর বেসরকারি খাতে ঋণ বৃদ্ধি পায় ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ হারে। মজা হচ্ছে, সে বছরও জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। দেখা যাচ্ছে, ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেসরকারি ঋণ বৃদ্ধিতেও সাড়ে ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে (২০১৪-১৫)। অতএব দেখা যাচ্ছে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বেশি হলেই ‘জিডিপি’ প্রবৃদ্ধি বেশি হবে- এ কথার কোনো সঠিক ভিত্তি নেই। দরকার সব নীতির একমুখী বাস্তবায়ন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সবকিছু বাদ দিয়ে আমাদের মিডিয়া, আলোচক-সমালোচকরা বেসরকারি খাতে ‘ক্রেডিট’ কত এই নিরিখেই মনিটারি পলিসি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। দেখা যাচ্ছে,
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর ফজলে কবির ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য মুদ্রানীতি যথাবিহিতভাবে ঘোষণা করেছেন। নীতিতে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সরকারি খাতে ঋণ বাড়বে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ, আর বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি পাবে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। ‘জিডিপি’ প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতির হার ধরা হয়েছে সাড়ে পাঁচ শতাংশ। ‘রেপো’ (যে হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেয়) রেট এবং রিভার্স রেপো (যে হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ধার দেয়) রেট যথাক্রমে ৬ দশমিক ৭৪৫ এবং ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ‘পলিসি’ রেট বলে পরিচিত রেটে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। যথারীতি ‘ব্রডমানি’ (কারেন্সি আউটসাইট ব্যাংকস যোগ তলবি আমানত যোগ মেয়াদি আমানত) এবং ‘ন্যারো মানি’র (ব্রডমানি বিয়োগ মেয়াদি আমানত) লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মুদ্রানীতিকে ‘সংযত’ মুদ্রানীতি, ‘সংকুলানমুখী’ মুদ্রানীতি, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ মুদ্রানীতি, পরিবেশবান্ধব মুদ্রানীতি, বিনিয়োগবান্ধব মুদ্রানীতি ইত্যাদি নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বিশেষ করে দেখা যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা বেশ খুশি। কারণ বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় দুই শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। সরকারি খাতে ঋণ বাড়লে তারা খুশি হন না।
তারা মনে করেন এতে তাদের ভাগে কম পড়বে, যদিও বিদ্যমান বাস্তবতায় এর কোনো কারণ নেই। বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়লেই বিনিয়োগ বাড়বে, জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে ইত্যাদি আশাবাদের যে বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই এ কথা প্রথমেই বলে ফেলেছি। আসলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বা ভিন্নভাবে বললে বলতে হয় ব্যবসায়ীরা চান পর্যাপ্ত ঋণ, সময়মতো ঋণ এবং স্বল্পসুদে ঋণ। স্বল্পসুদে ঋণের দাবিই তাদের প্রবল। তারা চান স্বল্পসুদে ঋণ। ইতিমধ্যে তাদের দাবি মোতাবেক ব্যাংকগুলো ঋণের ওপর সুদের হার কমিয়েছে। কমিয়েছে বেশ ভালোভাবেই। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আরও কমার সম্ভাবনা আছে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের দুটো বিষয় বিবেচনায় নেয়া দরকার। প্রথমত. তাদের উৎপাদন খরচে ঋণের সুদের পরিমাণ কত এবং অন্যান্য খরচ কত। সুদ খরচ কমিয়েই কি তারা তাদের দক্ষতা বাড়াবেন, না অন্যান্য খরচের দক্ষতাও বৃদ্ধি করা দরকার? দ্বিতীয়ত. যারা আমানতকারী তাদের স্বার্থও কিন্তু এর সঙ্গে জড়িত। তৃতীয়ত. শেয়ারবাজার থেকে পুঁজি সংগ্রহের বিকল্পের কথাও তাদের দীর্ঘমেয়াদে মনে রাখতে হবে। দৃশ্যত ঋণের ওপর সুদের হার বেশি বলে মনেই হয়। এর কারণ দুটো। মাত্রাতিরিক্ত কু-ঋণ বা শ্রেণিবিন্যাসিত ঋণ (ক্ল্যাসিফায়েড লোন)। এটা কিন্তু ব্যবসায়ীদের কাছেই পাওনা। ব্যবসায়ীদের কেউ ইচ্ছাকৃত খেলাপি,
কেউ ব্যবসায়িক কারণে খেলাপি। যেভাবেই হোক এর বোঝা কিন্তু ভালো গ্রাহকদের বেশি সুদ বহন করে পুষিয়ে দিতে হচ্ছে। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেলে ব্যবসায়ীরা আরও সস্তায় ঋণ পেতে পারতেন। এমনকি আমানতকারীরাও একটু বেশি সুদ পেতে পারতেন। কিন্তু তা হচ্ছে না। হাজার হাজার মামলা ঝুলে আছে। উচ্চতর আদালতে ‘রিট’ করে বহু মামলা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, সরকার অধিকসংখ্যক ‘বেঞ্চ’ এবং অধিকসংখ্যক বিচারক দেয়ার ব্যবস্থা করে এখন পর্যন্ত এ সমস্যার কোনো সমাধান করতে পারেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত সরকারকে তাগিদ দিয়ে এ সমস্যার সমাধান করা। আদালতে কমপক্ষে ২০ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার মামলা ঝুলে আছে। এর সমাধান হলে ব্যবসায়ীদের কম সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়, আমানতকারীও দুটো পয়সা বেশি পান। এ ব্যাপারে ‘এফবিসিসিআই’ কেন উদ্যোগী হবে না তাও আমি বুঝি না। সমস্যাটা ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতার মধ্যে। ‘এফবিসিসিআই’য়ের সদস্যরা ঋণগ্রহীতা এবং আমানতকারীও বটে। তারা উদ্যোগ নিলে দেশবাসী উপকৃত হয়। মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে যে সংখ্যাতাত্ত্বিক চর্চা করা হয়েছে ওইসব বিষয়ে আমি কোনো আলোচনা করব না। যেমন- বেসরকারি খাতে এত শতাংশ ঋণের প্রবৃদ্ধির কথা না বলে আরেকটু বেশি করার দরকার ছিল, অথবা কম করার দরকার ছিল- এসব বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।
কারণ আমি বিশ্বাস করি পরিমিত ঋণে। মাত্রাতিরিক্ত ঋণ কী ক্ষতি করে তা আমরা বর্তমান সরকারের প্রথম দিকে লক্ষ্য করেছি। আমি পূর্বাহ্নেই দেখিয়েছি বেশি বেসরকারি ঋণ দিলেই বিনিয়োগ তরতর করে বাড়বে, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে তা সত্য নয়। বরং ঋণ ‘ডাইভার্ট’ হয়, ঋণের অপব্যবহার হয়, ঋণের টাকা পাচার হয়। এসব হলে ব্যাংকের যেমন ক্ষতি, তেমনি ক্ষতি গ্রাহকেরও। সস্তায় ঋণ পেয়ে অনেক গ্রাহক অবিবেচকের মতো অতিমুনাফার আশায় যেখানে-সেখানে বিনিয়োগ করে পরিণামে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর উদাহরণ বহু। জমি কেনা এর একটা উদাহরণ। আশার কথা গভর্নর ফজলে কবীর বলেছেন, তিনি ঋণ অপ্রয়োজনীয় খাতে, ঝুঁকিপূর্ণ খাতে যেতে দেবেন না। বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়ুক- কিন্তু তা যেন উৎপাদনমূলক খাতে বাড়ে এটাই কাম্য। আরেকটি কথা। বড় বড় কর্পোরেট ঋণের বড় ধরনের বিচার-বিশ্লেষণ দরকার। তাদের অনেকেই ‘ওভার বোরো’ করে ফেলেছে বলে দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অডিট ফার্ম দিয়ে একটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার একটা বিহিত করা দরকার। যাতে যাদের দরকার তারা ঋণ পায়।
বিশেষ করে আমি বলব ছোট ও মাঝারিদের কথা। ব্যাংকে ব্যাংকে দশ, বিশ, পঞ্চাশ লাখ, এক-দুই কোটি, পাঁচ কোটি টাকার গ্রাহকের সংখ্যা হওয়া দরকার বেশি। কিন্তু এখানে দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। বড় বড় ঋণের পরিমাণ মাত্রার বাইরে চলে গেছে। পুরো ব্যাংকিং খাত ভীষণ বড় ঝুঁকির মধ্যে। ঋণ কেন্দ্রীভূত হয়েছে কয়েকটি অঞ্চলে। এ প্রবণতা রোধ করা দরকার। ছোট ও মাঝারি ঋণের পরিমাণ বাড়ানো দরকার। বড়দের উৎসাহিত করা দরকার শেয়ারবাজারে যেতে। এতে করে ব্যাংকিং খাতের বোঝা কিছুটা হ্রাস পাবে। খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, বৃহত্তর ময়মনসিংহ, সিলেট অঞ্চলে ঋণ যাচ্ছে না। এটা ভালো লক্ষণ নয়। মুদ্রানীতিতে এসব বিষয় স্থান পাওয়া উচিত। আরেকটি বিষয় বলা দরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনেক ভালো নীতি আছে। কিন্তু তা ব্যাংকগুলো বাস্তবায়িত করে না। না করলে তাদের কোনো শাস্তি হয় না। যেমন ঋণ কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিরুদ্ধে যথেষ্ট নিয়ম-কানুন রয়েছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো তা হরেদরে অমান্য করছে। বিচার? বিচার নেই। মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের জন্য দরকার কঠোর ‘সুপারভিশন’ যার কথা গভর্নর বলেছেন। এর জন্য হাজার হজার ব্রাঞ্চ সুপারভিশন করার প্রয়োজনীয়তা কম। প্রত্যেক ব্যাংকের (৫৬টি ব্যাংক সর্বমোট) দশটি বড় ব্রাঞ্চ মনিটরিং করা হোক, সব বেরিয়ে আসবে। যেসব ব্রাঞ্চে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন হয়, যেসব ব্রাঞ্চে এলসি খোলা হয়,
সেসব ব্রাঞ্চ টার্গেট করে নামলে ফল পাওয়া যাবে। আগেই উল্লেখ করেছি শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে কাজ হবে না। মুদ্রানীতির দ্বারা ঋণের ব্যবস্থা হল, কিন্তু বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, অবকাঠামোগত সুবিধা নেই, তাহলে কীভাবে হবে? ঋণ জোগানের সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ব্যবসায়ীদের দিতে হবে। জমি নেই দেশে। থাকলেও প্রচণ্ড দাম। দালিলিক সমস্যা। অতএব এসবের সমাধান না করে শুধু ঋণের ব্যবস্থা করে বিনিয়োগও বাড়ানো যাবে না, জিডিপির প্রবৃদ্ধির হারও বাড়ানো যাবে না। এবার অবশ্য একটা বাড়তি সমস্যা যোগ হয়েছে। যে ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রফতানি, কেনাবেচায় অর্থ জোগানের জন্য মুদ্রানীতি সেই ব্যবসা-বাণিজ্য, বিশেষ করে রফতানি ব্যবসা দারুণ হুমকির মুখে। এর কারণ নিরাপত্তাজনিত সমস্যা যা সৃষ্টি হয়েছে গুলশানের নারকীয় ঘটনার পর। বিদেশীদের হত্যাজনিত ঘটনার কারণে পোশাক খাতে একটা অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। এর সমাধান দরকার সর্বাগ্রে। এর সঙ্গে মুদ্রানীতি সম্পর্ক নেই। কিন্তু এ সমস্যার সমাধান না হলে মুদ্রনীতি কোনো ফল দেবে না। পরিশেষে আমি মুদ্রানীতির সফলতা কামনা করি। শক্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাকিং খাতের হাল ধরুক তা চাই। তারা যাতে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে তার নিশ্চয়তা চাই। দ্বৈত শাসনেরও অবসান চাই।
ড. আর এম দেবনাথ : ম্যানেজমেন্ট ইকোনমিস্ট; সাবেক শিক্ষক, ঢাবি