Monday, January 19, 2015

সাংবাদিক নির্যাতনে ডিআরইউর উদ্বেগ

সারা দেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে এবং সাংবাদিকরা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে ব্যাপারে  সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চেয়েছে সংগঠনটি। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সাংবাদিক নেতারা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথকে যেমন রুদ্ধ করবে, তেমনি পুরো গণমাধ্যমে সৃষ্টি কববে ভীতিকর পরিস্থিতি। সাংবাদিক সমাজ  তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ার করেন তারা।   বিবৃতিতে বলা হয়, ডিআরইউ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে, সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।  কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের গাড়ি ভাঙচুর, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং তাদের লক্ষ্য করে ঢিলও ছোড়া হচ্ছে। গত ৫ জানুয়ারির পর থেকে এসব ঘটনায় বেশ কিছু সাংবাদিক আহতও হয়েছেন। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে সরকার-সমর্থিত দল, বিরোধী দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্য জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।” সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সবার সহযোগিতা চান সাংবাদিক নেতারা।

রাসুলের (সা.) ব্যঙ্গচিত্র চায় না ফ্রান্স

শার্লি এবদোর দপ্তরে প্রাণঘাতী আক্রমণের পর আলোচনা শুরু ফ্রান্সে৷ বিষয়, সংবাদপত্র বা অন্যান্য পত্রিকায় এমন সংবেদনশীল ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের যৌক্তিকতা৷ এই নিয়ে সমীক্ষাও শুরু করেছে এক সংস্থা৷ সমীক্ষায় পাওয়া ফরাসি নাগরিকদের মানসিকতা কিন্তু একেবারেই মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে যায়নি৷ প্রায় অর্ধেক ফরাসিই মনে করেছেন, ধর্মশ্বিাসে আঘাত দেওয়া এমন ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ অর্থহীন৷ রাসুলের (সা.) ব্যঙ্গচিত্র ছাপলে যদি ইসলামি আদর্শে বিশ্বাসী মানুষদের ধর্মীয় চেতনায় আঘাত লাগে, তবে তা না ছাপাই ভালো- এমনই মত প্রকাশ করেছেন সমীক্ষা নেওয়া ফরাসিরদের ৪২ শতাংশই৷ ৫০ শতাংশের মত, ইন্টারনেটে 'যেমন তেমন' মন্তব্য প্রকাশের ওপর লাগাম দেওয়া হোক৷ তবে, ধর্মীয় সংবেদনশীলতায় আঘাত দেওয়ার বিরোধিতা করলেও ফ্রান্সের মানুষ কিন্তু মোটেই ধর্মের নামে নাশকতা চালানোর পক্ষে মত দেননি৷ যাদের ওপর সমীক্ষা নেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে ৮১ শতাংশই জানিয়েছেন, ফ্রান্সে বসবাসকারীদের মধ্যে যারা পশ্চিম এশিয়ার জিহাদে অংশ নিতে সিরিয়া বা ইরাকে গিয়েছেন তাদের ফরাসি নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হোক৷ ৫৭ শতাংশ জানিয়েছেন, উত্তর আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ায় ফরাসি হস্তক্ষেপ বন্ধ হোক৷ শার্লি এবদোর দপ্তরে হামলার পরের সপ্তাহে প্রকাশিত পত্রিকার প্রচ্ছদে নতুন করে নবি মহম্মদের ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করা নিয়ে ওই পত্রিকার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন এক সৌদি ধর্মীয় নেতা৷ অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশন নামে এক সংগঠনের প্রধান ও সৌদি আরবের প্রাক্তন সংস্কৃতিমন্ত্রী আইয়াদ মদানি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এই পত্রিতার বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য তিনি আইনজীবী নিয়োগ করেছেন৷ মদানি নিযুক্ত আইনজীবীরা ইতিমধ্যেই ফরাসি আইন সম্পর্কে পড়াশোনা করে সই বিষয়ে বিশেষ ধারণা তৈরি করে নিচ্ছেন৷ তাদের প্রস্তুতি শেষ হলেই এই ব্যঙ্গপত্রিকার বিরুদ্ধে ফ্রান্সের আদালতে মামলা দায়ের করবে অর্গানাইন অফ ইসলামিক কোঅপারেশন৷ -সংবাদসংস্থা

খালেদা জিয়ার পুরো বক্তব্য

গত ৩রা জানুয়ারি থেকে গুলশানের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গত রাতে তার কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশের ব্যারিকেড তুলে নেয়া হয়। আজ বিকালে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করেন খালেদা জিয়া। সংবাদ সম্মেলনে দেয়া লিখিত বক্তব্য নিচে হুবহু দেয়া হলো।
প্রিয় সাংবাদিক ভাই-বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম।
আমি প্রথমেই অন্তরের অন্ত:স্থল থেকে আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। গত ১৬ দিন ধরে আপনারা আমার এই অফিসের সামনে খোলা আকাশের নীচে তীব্র শীত, বৃষ্টি ও কুয়াশা উপেক্ষা করে রাস্তায় নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। ২৪ ঘন্টা পেশাগত কর্তব্য পালন করেছেন। নানা কড়াকড়ি ও সেন্সরশীপ উপেক্ষা করে সকলকে দ্রুত সংবাদ পৌঁছে দিয়েছেন। টিভি সেটের সামনে বসে কিংবা সংবাদপত্রের পৃষ্ঠায় আমাদের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর রাখার জন্য উৎকণ্ঠিত দেশবাসীর প্রতিও আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, দেশী-বিদেশী বন্ধুরা, অন্যান্য ব্যক্তি ও সংগঠন উদ্বেগ ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। তাদের সকলকে ধন্যবাদ। আমাদের দল-জোটের নেতা-কর্মী সারা দেশে যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে চলেছেন, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছেন ধন্যবাদ তাদেরকেও।
আপনারা জানেন, আমাকে এখানে অবরুদ্ধ করে রাখার আগেই ক্ষমতাসীনরা সারা দেশকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছিল। ঢাকাকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল সকল যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে। এরপর আমি গত ৫ তারিখে এই কার্যালয় থেকে বেরুবার চেষ্টা করলে আমাদেরকে তালাবন্দী করে রাখা হয়। ট্রাক, জলকামান, সাঁজোয়া যান দিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়। অবরুদ্ধ অবস্থায় আমাদের ওপর নিষিদ্ধ পিপার স্প্রে ছোঁড়া হয়। এর বিষক্রিয়ায় আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি। কী অমানবিক আচরণ আমাদের ওপর করা হয়েছে তা আপনারা দেখেছেন। আমি বিস্তারিত বিবরণ দিতে চাই না।
সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আপনারা জানেন, অতীতের ধারাবাহিকতায় গত এক বছর ধরে আমাদের এবং দেশবাসীর ন্যূনতম অধিকারগুলো কিভাবে হরণ করা হয়েছে। কিভাবে জুলুম-নির্যাতন, গুম-খুন, হামলা-মামলা চালানো হয়েছে। কেমন জঘণ্য ও উষ্কানিমূলক ভাষায় আমাদেরকে ক্রমাগত আক্রমণ করা হয়েছে। তারপরেও আমরা বারবার একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য আলোচনার আহ্বান জানিয়েছি। আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ৭ দফা প্রস্তাব পেশ করেছি। তারা আমাদের আহ্বান ও প্রস্তাবকে তাৎক্ষণিক ভাবে নাকচ করে দিয়ে অস্ত্রের ভাষায় সব দমিয়ে দেয়ার পথ বেছে নিয়েছে। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ সারা দেশে নেতা-কর্মীদের গণহারে গ্রেফতার করেছে। সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। মিছিলের ওপর গুলী করেছে। টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করেছে। জনগণের প্রতিবাদের নিয়মতান্ত্রিক সব পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে।
এ অবস্থায় আমরা বাধ্য হয়ে সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছি। কর্মসূচি চলছে এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত তা চলতে থাকবে। আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের কোনো সুযোগ না দিতে ক্ষমতাসীনরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। সারা দেশে বিএনপি ও ২০ দলের নেতা-কর্মীরা সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিরাট মিছিল নিয়ে রাস্তায় নামছেন। সঙ্গে সঙ্গে মিছিলে গুলী চালানো হচ্ছে। কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করা হচ্ছে। পুলিশের ছত্রছায়ায় ক্ষমতাসীনদের মদতপুষ্ঠ সন্ত্রাসীরাও হামলা করছে। এর মধ্যে গুলীতে বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। আমরা তাদের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানাচ্ছি। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সম্পর্কে দেশে-বিদেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ক্ষমতাসীনরা নাশকতা ও অন্তর্ঘাতের পথ বেছে নিয়েছে। পুলিশী প্রহরার মধ্যে নারী, শিশু, ছাত্র-ছাত্রীদের বহনকরী যানবাহনে পেট্রোল বোমা মেরে অনেক নিরপরাধ মানুষকে হতাহত ও দগ্ধ করা হয়েছে। এই সব পৈশাচিক বর্বরতার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।
বিএনপি ও ২০ দল নিরীহ নিরপরাধ জনগণকে হত্যা ও তাদের ওপর আক্রমণ করা কিংবা তাদেরকে পুড়িয়ে মারার নৃশংস অপতৎপরতায় বিশ্বাস করেনা। মানুষের জীবনের বিনিময়ে আমরা রাজনীতি করতে চাইনা, কখনো করিনি। অতীতে যাত্রীবাসে গান পাউডার দিয়ে আগুনে মানুষ পুড়িয়ে মারা, বোমা মেরে ও লগি বৈঠার তা-ব চালিয়ে মানুষ হত্যা এবং পুলিশ খুনের অপরাজনীতি আওয়ামী লীগই করেছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এখনো তারাই সুপরিকল্পিত ভাবে এসব নৃশংস ঘটনা ঘটাচ্ছে। এর মাধ্যমে বিএনপি ও ২০ দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা, গ্রেফতার ও অত্যাচারের পথ প্রশস্ত করছে। ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক বোমাবাজদের গ্রেফতার না করে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ঘর-বাড়িতে হানা দিয়ে তাদের আটক করা হচ্ছে। মহিলাসহ পরিবারের সদস্যদের হেনস্তা করা হচ্ছে। যৌথবাহিনীর অভিযানের নামে বিভিন্ন জনপদে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হচ্ছে। এসব হত্যা-নির্যাতনের ঘটনার জড়িতদের আগামীতে অবশ্যই আইনমলে আনা হবে। আমরা আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতীত নিরপেক্ষ ঐতিহ্য বহাল রেখে আইনসম্মত ভাবে কর্তব্য পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।আপনারা জানেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয় এখনো তালাবন্ধ। দলের নেতা-কর্মীরা কেউ নিরাপদে বাসায় থাকতে পারেনা। হত্যার উদ্দেশ্যে রিয়াজ রহমানের উপর গুলী হয়েছে। তাঁর গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। বিএনপি নেতা সাবিহউদ্দিনের গাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। আমাদের দলের অনেক সিনিয়র নেতার বাসা ও অফিসে গুলি ও বোমা হামলা হয়েছে। আমাদের দলের অফিস অনেক জায়গায় পোড়ানো হয়েছে। কাউকে ধরা হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা অনেক জায়গায় অস্ত্র, বোমা ও গুলীসহ ধরা পড়েছে। তাদের সকলকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন পর্যায়ে যে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে তার প্রতি আমি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দেশের চলমান সংকট নিছক কোনো আইন-শৃংখলার সমস্যা নয়। এটি রাজনৈতিক সংকট। এর রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমরা আবারও আহ্বান জানাচ্ছি। সকল প্রতিকূলতার মধ্যে, নির্যাতন সয়ে অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্য বিএনপিসহ ২০ দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আমরা উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। ক্ষমতাসীনরা যদি শুভবুদ্ধি প্রণোদিত হয়ে আমার কার্যালয় থেকে গতকাল গভীর রাতে বিনা ঘোষণায় অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়ে থাকে তাহলে আমি তা স্বাগত: জানাই। আমি তাদেরকে হিংসা ও নাশকতা, অন্তর্ঘাত ও জুলুমের পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানাই। অত্যাচার, দমন অভিযান, গণগ্রেফতার বন্ধ করুন। মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা বন্দীদের মুক্তি দিন। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর থেকে সব বাধা তুলে নিন। যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন তা স্বাভাবিক করুন। মানুষকে স্বস্তি ও শান্তি দিন। উষ্কানী, ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচারের অপরাজনীতি বন্ধ করুন। জনগণের ভোট দেওয়ার যে অধিকার কেড়ে নিয়েছেন তা ফিরিয়ে দিন এবং অবিলম্বে গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের পদক্ষেপ নিন।
এই আহ্বান জানিয়ে আমার বক্তব্য আজ এখানেই শেষ করছি।

‘পোড়া জায়গা হুগাইলে না কাম করমু’ by মানসুরা হোসাইন

(ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিছানায় মাসুম। ছবি: মনিরুল আলম) মাসুমের বয়স মাত্র ১৫ বছর। পড়াশোনা করা ইচ্ছা ছিল প্রচণ্ড। কিন্তু বাবার রিকশা চালানোর টাকায় ছয়জনের সংসারের খরচই জুটে না। তাই স্বপ্নকে পেছনে ফেলে বাসে হেলপারের কাজ নেয় মাসুম। দিনে ১০০ বা ২০০ টাকার মতো পেত। নিজে না পারলেও ছোট দুই বোনকে ঠিকই স্কুলে পাঠিয়েছে সে। আরেক বোন অনেক ছোট। কিন্তু এখন বোনদের পড়ানো তো দূরের কথা, মাসুম আবার কাজ করতে পারবে কি না, তা-ই অনিশ্চিত। ২০ -দলীয় জোটের ডাকা অবরোধের মধ্যে ১৪ জানুয়ারি পেট্রলবোমায় দগ্ধ হয়েছে মাসুম। ঘটনার এক দিন আগে নরসিংদীতে সামিয়া পরিবহনে হেলপারের কাজ নেয় মাসুম। ঘটনার দিন কাজ শেষে বাসেই ঘুমিয়ে ছিল। রাত সাড়ে নয়টার দিকে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রলবোমায় মুখসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গা পুড়ে যায় মাসুমের। ঘটনার পরপরই মাসুমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসা হয়। এখানেই তার চিকিৎসা চলছে। বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আগুনে মাসুমের শরীরের ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
গতকাল রোববার বার্ন ইউনিটে কথা হয় মাসুমের সঙ্গে। কালো হয়ে যাওয়া দগ্ধ মুখে একটু হাসি ফুটিয়ে বলল, ‘এখন একটু ভালা আছি। ’ কাজের প্রসঙ্গ আসতেই বলল, ‘পোড়া জায়গা হুগাইলে (শুকালে) না কাম করমু। কবে যে হুগাইবো কেডা জানে। ’
মাসুমের পাশে তার এক ফুফু ছিলেন। তিনি জানালেন, মাসুমের বাবা আলেক মিয়া রিকশাচালক। আর মা পিয়ারা বেগম গৃহিণী। মাসুমই তাঁদের একমাত্র ছেলে। তাই ছোটবেলা থেকেই পরিবারের দায়িত্ব তার কাঁধে পড়ে। সুতা বানাত এক সময়। তারপর বাসের হেলপারের কাজ নেয়। ঘটনার পর থেকে পরিবারের কাউকে না কাউকে মাসুমের সঙ্গে হাসপাতালে থাকতেই হচ্ছে। এতে করে চাচা, ফুফুসহ যাঁরাই থাকছেন, তাঁদের আয়ের পথও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু মাসুমের সঙ্গে না থেকেও উপায় নেই। মাসুমকে প্রস্রাব, পায়খানা করাতে নিয়ে যেতে হয়। খাইয়ে দিতে হয়। যন্ত্রণায় যখন অস্থির হয়ে পড়ে তখন তাকে সামলাতেও হয়।
মাসুমের সঙ্গে কথা বলার সময় তার পাশের বিছানার অবরোধে দগ্ধ হওয়া আরেকজনের আত্মীয় বলেন, ‘ও (মাসুম) যখন যন্ত্রণায় কাতরায় তখন ওয়ার্ডের আমরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না। কী যে যন্ত্রণা, তা ওর মুখ দেখলেই বোঝা যায়। ’
সামিয়া পরিবহনে মাসুম মাত্র এক দিন আগেই কাজ নিয়েছিল। এর আগে সে কাজ করত মেঘালয় পরিবহনে। সামিয়া পরিবহনের চালক কালাম টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ ঘটনার দিন সারা দিন গাড়ি চালাইছি। রাতে মাসুমরে খাওনের টাকা দিছি। দিনের বেতন দিছি। ও খাইয়া আইলে গাড়ি বুঝাইয়্যা দিয়া আমি বাড়ি যাই। ও গাড়িতেই ঘুমাইয়্যা পড়ে। তারপর শুনি গাড়ি পুইড়া গেছে। বাড়ি থেইক্যা আইতে আইতে দেহি খালি আগুন। তারপর শুনি মাসুমের শইলও পুইড়া গেছে। ঘটনার পর মালিক দুই হাজার টাকা দিছে। কইছে সুস্থ হইয়া আইলে কামের ব্যবস্থা কইরা দিব। ’
মাসুমের মা-বাবা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেন পরিবারের উপার্জনক্ষম ছেলের হাল। এ ছাড়া আর যে কিছু করার নেই তাঁদের। তাঁরা বলেন, বার্ন ইউনিটে ছেলের চিকিৎসার জন্য কিছু সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু হাসপাতাল থেকে যে পথ্য দেওয়া হয় তা দিয়ে চলে না। চিকিৎসকেরা মাসুমকে ডিম, দুধসহ পুষ্টিকর খাবার দিতে বলেছেন। মাসুমের সঙ্গে যে যখন থাকে তাঁরও খাবারসহ বাড়তি খরচ আছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের অবৈতনিক উপদেষ্টা সামন্ত লাল সেন প্রথম আলোকে বলেন, পুড়ে যাওয়া রোগীদের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয় বহুল। এই রোগীরা সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যাবে বা আগের মতো কাজ করতে পারবে, তা বলা যায় না। তাই অবরোধের শিকার নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায় থেকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করাটা জরুরি।

মতিঝিলে বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা- শাহবাগে বাসে ককটেল, চালক আহত

রাজধানীর মতিঝিলে একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। দুপুর ১টার দিকে মধুমিতা হলের সামনে বাসে আগুন দিয়ে দুবৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সিদ্দিকবাজার ইউনিটের কর্মীরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।
শাহবাগে বাসে ককটেল, চালক আহত
রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে ইউনাটেড পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে ককটেল নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে ওই বাসের চালক রাশেদুল ইসলাম রাসেল (২৫) আহত হয়েছেন। সোমবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রাসেলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক সেন্টু চন্দ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কাদির ও হৃদয়ের চিকিৎসার ভার নিলেন প্রধানমন্ত্রী

(ছবি:-১ ফেনী সরকারি পাইলট হাইস্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী শাহরিয়ার হৃদয়।ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সৌজন্যে ছবি:-২ হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাঁতরাচ্ছেন দুর্বৃত্তের ককটেলে আহত ফেনীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল কাদির মিয়া। ছবি: মানসুরা হোসাইন) বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের অবরোধে বোমার আঘাতে আহত ফেনীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল কাদির মিয়া ও ফেনী সরকারি পাইলট হাইস্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী শাহরিয়ার হৃদয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব আশরাফুল আলম প্রথম আলোকে এ কথা জানিয়েছেন।
আশরাফুল আলম বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল কাদির ও শাহরিয়ার হৃদয়ের চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক চিকিৎসক জুলফিকার আলীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শাহরিয়ার হৃদয় ফেনীর স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। তাকে এর মধ্যে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে আনা হয়েছে। এ ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল কাদির মিয়াও জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে আহত দুজনকে বিদেশ নেওয়ার কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
গতকাল রোববার দুর্বৃত্তদের ছোড়া ককটেলে আহত মিনহাজুল ইসলাম অনিকেরও চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চিকিৎসার জন্য অনীককেও বিদেশ পাঠাতে বলেছেন তিনি।
গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত নয়টার দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি টহল দলের সঙ্গে ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল কাদির মিয়া। তাঁদের গাড়ি শহরের এসএসকে সড়কের জহিরিয়া মসজিদের কাছে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা কয়েকটি বোমা ছোড়ে। এতে ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল কাদির মিয়া গুরুতর আহত হন। তাঁর চোখের চারদিকে স্প্লিন্টার বিঁধে।
৫ জানুয়ারি (সোমবার) বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ফেনী শহরের খেজুর চত্বরে দুর্বৃত্তদের ছোড়া বোমার আঘাতে ফেনী সরকারি পাইলট হাইস্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী মিনহাজুল ইসলাম অনিক (১৫) ও শাহরিয়ার হৃদয় (১৬) গুরুতর আহত হয়। তারা প্রাইভেট পড়া শেষে বাসায় ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অনিক ও হৃদয়ের চোখে আঘাত লাগে।

অবরোধ চলবে, সরকারই নাশকতা করছে -সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া

পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সন্ধ্যায় তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। গত ৩রা জানুয়ারি কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার পর ৫ই জানুয়ারি সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ঘোষণা করেন খালেদা জিয়া। এরপরই আজ প্রথম সংবাদ মাধ্যমের সামনে এলেন বিরোধী জোটের নেতা। সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া বলেন, চলমান সঙ্কট আইন শৃঙ্খলার নয়। রাজনৈতিক এ সঙ্কট রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে।
বিরোধী জোটের অবরোধ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই কর্মসূচি বানচালে সরকার নাশকতার পথ বেছে নিয়েছে। গাড়িতে আগুন দিয়ে, পেট্রলবোমা দিয়ে সরকারের এজেন্টরা মানুষ মারছে। মানুষ হত্যা করছে আওয়ামী লীগ। অতীতে আওয়ামী লীগ গাড়িতে গান পাউডার দিয়ে মানুষ পুড়িয়েছে। ককটেল বোমা ছুড়েছে। এখনও তারা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এ কাজ করছে।
খালেদা জিয়া আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আইনের মধ্যে থেকে আপনারা কাজ করুন। অবিলম্বে সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, অবরোধ কর্মসূচি দিতে সরকারই বাধ্য করেছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার জন্য দেশবাসী ও জোটের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকার সময় দেশের অন্যন্য রাজনৈতিক দল ও বিশ্ব সম্প্রদায় সংহতি জানানোয় তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া।
সংবাদ সম্মেলনের আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য আর এ গনি, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, লে. জে (অব.) মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, সারোয়ারি রহমান উপস্থিত ছিলেন।

ভাইবার ট্যাংগো বন্ধের সুফল আছে?

বাংলাদেশে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইন্টারনেট টেলিফোন সার্ভিস ভাইবার এবং ট্যাংগো রোববার বেশ কয়েক ঘন্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিলো। নিরাপত্তার অজুহাতে এ নির্দেশ দেয়া হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর কোন পদক্ষেপ নয়। কারণ প্রযুক্তি বন্ধ করে মনিটর করাটা অসম্ভব বলেই মনে করেন তারা।
তারা বলছেন পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরে সাম্প্রতিক অতীতে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়নি। তরুণরা বিকল্প উপায়ে এসব অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে পারে।
ইন্টারনেট টেলিফোন সার্ভিস বা মেসেজ আদান প্রদানের যে অ্যাপ্লিকেশন আছে সেগুলি কতটা নিরাপদ বা এর মাধ্যমে কথা বললে ব্যক্তি কোথা থেকে, কি কথা বলছে, সেগুলো ট্রাক করা যায় কিনা
এসব বিষয় নিয়ে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেছেন কলম্বো ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আবু সাঈদ খান।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন , “বন্ধ করে দেয়ার মানেই হলো সরকার কার্যকরভাবে মনিটর করতে পারেনা। সেটা সম্ভবও নয়”।
তিনি বলেন এ ধরনের অ্যাপ্লিকেশন্স গুলো কুটির শিল্পের মতো। যারা কোডার আছে এমন ১০/১২ জন ছাত্র যদি মনে করে অ্যাপস তৈরি করবে, সেটা তারা করেও ফেলতে পারে।
প্রযুক্তির সক্ষমতার বিষয়ে ধারণা না থাকার কারণেই আমলাতান্ত্রিক এসব সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হয় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যাতে একেবারে সাধারণ মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মনে করেন মিস্টার খান।
তিনি জানান যারা একটু প্রযুক্তি সচেতন তারা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কিভাবে ব্যবহার করতে সেটা তারা জানেন।
তিনি বলেন এটা কোন গোপন বিষয় নয়, এটা স্বাভাবিক একটি বিষয়।
সরকারি প্রশাসনযন্ত্রে যারা আছেন তারা প্রযুক্তির বাস্তবতা নিয়ে অজ্ঞ থাকেন বলেই এ ধরণের হাস্যকর সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মিস্টার খান বলেন পৃথিবীতে এমন কোন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নেই যেখানে আড়িপাতা যায়না। তবে একটি কারিগরি সক্ষমতার উপর নির্ভর করে। তবে কোথাও কেউ বলেনা কোনটায় তারা আড়ি পাতবে।
তিনি বলেন কারও অবস্থান ট্রাকিং করতে হলে যে ডিভাইস বা যন্ত্রে কথা বলছেন সেটা ট্র্যাক করা এক ধরনের প্রযুক্তি। তবে এ ধরনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়না। পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্কে এ ধরনের অ্যাপ্লিকেশনের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলো।
“তরুণরা অত্যন্ত চালাক। জিপিএন প্যানেলিং করে সরকারের নিষেধাজ্ঞা বাইপাস করে তারা বিদেশে কথা বলে, ভাইবারে কথা বলে”।

পুলিশ ও বিজিবির পাহারায়ও চলছে না দূরপাল্লার বাস

পুুলিশ ও বিজিবির পাহারায় দূরপাল্লার বাস চালানোর সাহস পাচ্ছেন না বাস মালিকরা। অনেক জেলায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকামুখী কোন বাস ছেড়ে যায়নি। রাজধানীর প্রধান তিনটি বাস টার্মিনাল থেকেও দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। তবে কয়েকঘণ্টা পরপর দুয়েকটি লোকাল পরিবহনের বাস ছাড়লেও যাত্রীদের মধ্যে বিরাজ করছে পেট্রল বোমা আতঙ্ক। আমাদের জেলা প্রতিনিধিদের সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে জানান, যেখানে প্রতিদিন গড়ে চট্টগ্রাম থেকে এক হাজার বাস ছেড়ে যায় সেখানে কয়েক ঘণ্টা পরপর একটি লোকাল বাস ছেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া গতরাতে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ইউনিক পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাস পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এরপর থেকে বাস মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। চট্টগ্রাম বাস-মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কফিলউদ্দিন জানান, আশানুরূপ দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যাচ্ছে না। অবরোধকারীরা আমাদের একটি বাস পুড়িয়ে দিয়েছে। তাই মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে দুপুরের পর থেকে দূরপাল্লার বাস ছাড়তে পারে।
এদিকে স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান, বেলা ১২টা পর্যন্ত রাজশাহী থেকে ঢাকামুখী একটি বাসও ছেড়ে যায়নি। তবে দুপুরের পর অল্প কিছু বাস ছাড়তে পারে। এদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি নাদিম মোস্তফার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাজশাহী জেলায় হরতাল ডেকেছে দলটি।
সিলেট অফিস জানায়, পুলিশ-বিজিবির পাহারায় এক ঘণ্টা পরপর একটি বাস ছেড়ে যাচ্ছে। তবে হানিফ-শ্যামলী-ইউনিকসহ অভিজাত পরিবহনের বাসগুলো ছাড়েনি।
ওদিকে স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঈগল পরিবহনের ৩টি বাস ছেড়েছে। তাও পুলিশ-বিজিবির পাহারায়।
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া থেকে জানান, বগুড়ার থলথলিয়া কোচ টার্মিনাল থেকে ঢাকামুখী দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। কাউন্টারগুলো বন্ধ রয়েছে। 
উল্লেখ্য, গত গত ৬ই জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচী ঘোষণা করেন বিরোধী জোটের শীর্ষনেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর থেকে বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার বাস চলাচল।

খালেদা জিয়া অবরোধমুক্ত

(ছবি:-১ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে থাকা পুলিশের ভ্যান ও জলকামান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে প্রধান ফটক থেকে পুলিশও সরে গেছে। ছবি: প্রথম আলো) (ছবি:-২ ১৫ দিন পর রোববার রাতে হঠাৎ করে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশের ব্যারিকেড সরানো হয়। ছবিটি রাত তিনটার দিকে বেসরকারি টেলিভিশন ইন্ডিপেন্ডেন্ট থেকে সংগৃহীত।) বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে থাকা পুলিশের ভ্যান ও জলকামান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে প্রধান ফটক থেকে পুলিশ সরে গেছে। সেখানে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর (সিএসএফ) সদস্যদের দেখা গেছে। সিএসএফের একটি গাড়ি ফটকের সামনে আড়াআড়িভাবে রাখা আছে। ফটকের ভেতরেও সিএসএফের একটি গাড়ি আড়াআড়িভাবে রাখা।
খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের ফটকে কেন অবস্থান করছেন—জানতে চাইলে সিএসএফের সদস্যরা বলেন, কেন রাখা হয়েছে বলতে পারব না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে। সিএসএফের অবস্থানের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান বলেন, কেন গাড়ি রাখা হয়েছে তা সিএসএফই বলতে পারবে। গতকাল রাতে হঠাৎ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পুলিশ তুলে নেওয়া হয়েছে। হয়তো বা নিরাপত্তার কারণেও সিএসএফ রাখা হতে পারে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে তাঁর কবরে খালেদা জিয়া শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন কি না—জানতে চাইলে শায়রুল কবির খান দাবি করেন, জিয়াউর রহমানের কবরে কাউকেই যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এর আগে যাঁরা সেখানে গেছেন তাঁদের বাধা দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার রাত আড়াইটার পর হঠাৎ করে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থাকা পুলিশের দুটি গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়। সকালে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের আশপাশে পাঁচ-ছয়জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। গুলশান-২-এর ৮৬ নম্বর সড়কের প্রবেশ মুখ থেকে পুলিশ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় অবশ্য কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে টহল দিতে দেখা গেছে। তবে গুলশান-২-এর ৮৮ নম্বর সড়কে পুলিশের কয়েকটি গাড়ি দেখা গেছে।
এ ব্যাপারে গতকাল দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে যোগাযোগ করা হলে গুলশান থানায় কর্তব্যরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর প্রথম আলোকে বলেন, তিনি এমন খবর জানেন না। তবে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশের পিকআপ ভ্যান ও জলকামান সরিয়ে নেওয়ার কথা জানান বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার। রাত তিনটার দিকে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘রোববার রাত আড়াইটার পর হঠাৎ করেই চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যান সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর জলকামান সরিয়ে নেওয়া হয়।’ ওইসময় দিদার জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনের নিয়মিত নিরাপত্তায় যাঁরা থাকতেন, তাঁরা আছেন।
গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৫ দিন ধরে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ৩ জানুয়ারি রাত নয়টার পর থেকে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ‘অসুস্থ’ রুহুল কবির রিজভীকে দেখতে নয়াপল্টনে যেতে চাইলে পুলিশ তাঁকে বাধা দেয়। এর পর থেকে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন খালেদা জিয়া। অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় ৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়া অবরোধের ডাক দেন। ৬ জানুয়ারি থেকে দেশে অবরোধ চলছে। এই অবরোধে রোববার পর্যন্ত ১৫ দিনে সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ২৭ জন। গত ১৭ জানুয়ারি রাত পৌনে একটার দিকে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের প্রধান ফটকে আবারও তালা দেওয়া হয়। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে তা আবার খুলে নেওয়া হয়। এরপর খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের প্রধান ফটকে আর তালা লাগানো হয়নি। গুলশান-২-এর ৮৬ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাসাটি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়। কার্যালয়টি একটি দোতলা ভবন। খালেদা জিয়া বসেন দ্বিতীয় তলায়।
রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সঙ্গে বাইরের কেউ দেখা করতে যাননি। খালেদা জিয়া অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, শীর্ষ নেতারা তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথেই সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানের গাড়িতে আগুন দেয় ও গুলি করে দুর্বৃত্তরা। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান প্রমুখ খালেদা জিয়ার সঙ্গে কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান করছেন।
৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ৬ জানুয়ারি থেকে চলছে অবরোধ। তবে ৪ জানুয়ারি থেকেই শুরু সংঘাতের। এই দিন থেকে রোববার পর্যন্ত ১৫ দিনে সহিংসতায় নিহত হলেন ২৭ জন। আহত পাঁচ শতাধিক। এ সময়ে আগুন দেওয়া হয় ২৩৮টি যানবাহনে। ভাঙচুর করা হয় অন্তত ৩০৭টি।

জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে চারজন গ্রেপ্তার

(যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ছবি: ডিএমপি) জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁরা হলেন সাখাওয়াতুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, রবিউল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম। ডিবির দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া সাখাওয়াতুল জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও সমন্বয়কের কাজ করেন। অন্যদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন বিস্ফোরক রাখার অভিযোগে তিন বছর কারাভোগ শেষে কিছুদিন আগে জামিনে বের হয়েছেন। আর নজরুল জঙ্গি কর্মকাণ্ডে অর্থ জোগান দেন বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
গতকাল রোববার যাত্রাবাড়ীর খানবাড়ি চৌরাস্তায় সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুল আলমের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল অভিযান চালিয়ে এই চারজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ জিহাদি লিফলেট, জঙ্গি প্রশিক্ষণের ভিডিও, তিনটি ল্যাপটপসহ বেশ কিছু ইলেকট্রনিক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মো. সাখাওয়াতুল কবিরের পাসপোর্ট ও পাকিস্তানের ভিসার জন্য আবেদনপত্র উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাখাওয়াতুল কবির ডিবিকে জানান, আইএসের কাছ থেকে অর্থ ও অস্ত্র সংগ্রহ করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতি করা, হুমকি ও খেলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য।
ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি পাকিস্তানি পুলিশের আইএসবিরোধী অভিযানে সাখাওয়াতুল কবিরের ভায়রা শামিম আহম্মেদ এবং আনোয়ার হোসেনের বোনের স্বামী সায়েম মারা গেছেন। সাখাওয়াতুল কবির নিজেও পাকিস্তানে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

সংসদ ভবন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা

(জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় চন্দ্রিমা উদ্যানে যাওয়ার সড়কের মুখে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। ছবিটি আজ দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তোলা। ছবি: সাজিদ হোসেন) জাতীয় সংসদ ভবন এবং চন্দ্রিমা উদ্যানের আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই এলাকার আশপাশে বিপুলসংখ্যক র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও পুলিশ দেখা গেছে। বিএনপির মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৭৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় নেতা-কর্মীদের তাঁর সমাধিতে যেতে বাধা দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারের ভাষ্য, সংসদ অধিবেশন উপলক্ষে সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় সব সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এবারও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জিয়াউর রহমানের কবরে নেতা-কর্মীদের শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কি না—জানতে চাইলে বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা চাইলে শ্রদ্ধা জানাতে যেতে পারবেন। কিন্তু পুলিশ কোনো মিছিল বা সমাবেশ করতে দেবে না। কারণ অধিবেশন চলাকালে সংসদ ভবন এলাকায় মিছিল, সমাবেশ ইত্যাদির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকে। ওই নিষেধাজ্ঞার কারণেই মিছিল-সমাবেশ করা যাবে না। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চলচ্চিত্র পরিচালক গাজী মাজহারুল আনোয়ার, নায়ক উজ্জ্বল ও হেলাল খান ওই এলাকায় যান। পুলিশ তাঁদের জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানানোর অনুমতি দেয়। এ ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বেশ কিছু নারী কর্মী জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানান। পরে তাঁরা চলে যান। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় কোনো নেতাকে ওই এলাকায় যেতে দেখা যায়নি।

নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাকে আগুন, আহত ৩

নারায়ণগঞ্জে যাত্রীবাহী একটি বাস ও একটি ট্রাকে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আজ সোমবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নগরের মাসদাইর গাবতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে বাসের তিন যাত্রী আহত হয়েছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, বাসের আহত তিন যাত্রীকে খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়। বাসে আগুনদাতাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। নাম প্রকাশ না করে ওই বাসের চার যাত্রী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আনন্দ পরিবহনের একটি বাস চাষাঢ়া থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিল। বাসটি গাবতলীর মোড়ে পৌঁছালে ২০-৩০ জন যুবক বাসটিতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে বাসে ভাঙচুর করে। এরপর পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলাকারীরা বাসের পেছনে থামানো একটি ট্রাকেও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এর আগে গতকাল রোববার রাতে চাষাঢ়া মোড়ে যাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এতে এক চিকিৎসক দম্পতিসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। ৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অবরোধে নারায়ণগঞ্জে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে।

‘সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে’ -ড. কামাল

সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তারা ক্ষমতায় থাকার জন্য যা খুশি তাই করছে। বিরোধীদের ওপর গুলি চালাচ্ছে, জেলে ভরছে। দেশের মানুষ এসব চায় না। তারা শান্তি চায়। আজ সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সভা-সমাবেশ, গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকার নিশ্চিত ও সহিংসতা বন্ধসহ ৪টি দাবিতে সমমনা কয়েকটি রাজনৈতিক দল যৌথভাবে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। পুলিশের নিষেধের কারণে বক্তারা মাইক ছাড়াই কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না সরকারের উদ্দেশে বলেন, আপনারা সময় চেয়েছেন সাত দিনের মধ্যে দেশের অবস্থা স্বাভাবিক করে দেবেন। আমি সময় দেয়ার কেউ না। তবুও বলছি, সাতদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে না পারলে ক্ষমতা ছেড়ে দিন। এছাড়া মানববন্ধন কর্মসূচিতে ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম রব, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সেক্রেটারি খালেকুজ্জামান বক্তব্য রাখেন।

আপাতত কার্যালয়েই থাকছেন খালেদা

জলকামান ও পুলিশ ভ্যানের ব্যারিকেড সরিয়ে নেয়া হলেও আপাতত গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়েই থাকছেন বিরোধী জোটের শীর্ষনেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলাকালীন কার্যালয় থেকে বের হবেন না বলে জানিয়েছেন দলটির এক শীর্ষ নেতা। রাতে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন খালেদা জিয়া। এদিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শেরেবাংলানগরস্থ তার মাজারে যেতে অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বাধা দেয়ার অভিযোগ করেছে দলটি। সংসদ ভবনের ভেতরে জিয়ার মাজারে প্রবেশের মূল গেটে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাখা হয়েছে জলকামান, প্রিজন ভ্যান ও এসিসি কার। ফলে ফুল দিতে আসা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফতসহ শতাধিক নেতাকর্মী দীর্ঘক্ষণ বাইরে অবস্থান করেন। গতরাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ করেই দীর্ঘ ১৬ দিন পর খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনের রাস্তার কয়েক গজ উত্তরদিকে আড়াআড়িভাবে রাখা দুটি পুলিশভ্যান ও দক্ষিণ দিকে রাখা একটি জলকামানের ব্যারিকেড সরিয়ে নেয় পুলিশ। প্রত্যাহার করা হয় কার্যালয়ের সামনে মোতায়েন করা নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্যদের। ৮৬ নম্বর সড়কের দুইপ্রান্তে পুলিশের তল্লাশি চৌকিও সরানো হয়। তবে মোতায়েন রয়েছে সাদা পোশাকের পুলিশ। কার্যালয়টির নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন সিএসএফের সদস্যরা। এদিকে কার্যালয়টিতে এখনও অবস্থান করছেন খালেদা জিয়াসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতা। কার্যালয়টিতে অবস্থানরত দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান মানবজমিন অনলাইনকে বলেন, গতরাত ৪টা পর্যন্ত ম্যাডামের সঙ্গে আমরা জেগে ছিলাম। কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশের ব্যারিকেড সরালেও বিরোধী জোটকে দমন করতে অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছে সরকার। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৭৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বাধা দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের অবরোধ কর্মসূচি চলছে। কর্মসূচি চলাকালীন  ম্যাডাম কার্যালয়েই অবস্থান করবেন। রাতে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।  ৩রা জানুয়ারি থেকে কার্যালয়ে রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মাহবুব আল-আমিন ডিউ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা ও আরেক মহিলা নেত্রী হেনা আলাউদ্দিন, চেয়ারপারসনের প্রধান নিরাপত্তা সমন্বয়কারী লে. কর্নেল (অব.) আবদুল মজিদ, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খান।
উল্লেখ্য, গত ৩রা জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টায় কার্যালয়ে আসেন খালেদা জিয়া। এর পরপরই কার্যালয়ের সামনে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অর্ধশতাধিক নারী পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হয় কার্যালয়ের সামনে। কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশে একটি জলকামান ও পুলিশ ভ্যান ও উত্তর পাশে আরেকটি জলকামান ও পুলিশ ভ্যান দিয়ে ব্যারিকেড। ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অসুস্থ দলের যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদকে দেখতে যেতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের পথরোধ করে পুলিশ। প্রায় আধাঘণ্টা গাড়িতে বসে থেকে ফের কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন তিনি। পূর্ব ঘোষিত ৫ই জানুয়ারির সমাবেশে যাওয়া ঠেকাতে শনিবার রাত ১২টার পর থেকেই একে একে কার্যালয়ের সামনের রাস্তার দুইপাশে এনে রাখা হয় ১১টি ইট ও বালুভর্তি ট্রাক। এরপর থেকেই কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনবারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী। ৫ই জানুয়ারি দুপুরে কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় পুলিশ। বিকাল পৌনে ৪টায় কার্যালয়ের দোতলা থেকে নিচে নামেন তিনি। এ সময় বের হওয়ার চেষ্টা করলে খালেদা জিয়ার গাড়ি লক্ষ্য করে পেপার ¯েপ্র ছোড়ে পুলিশ। প্রায় এক ঘণ্টা গাড়ি থেকে বের হয়ে উপস্থিত গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এদিকে ওই দিন সন্ধ্যার পর পেপার ¯েপ্রর গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। রাতেই একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রতিনিধি দল কার্যালয়ে প্রবেশ তাকে চিকিৎসা দেন। ৬ই জানুয়ারি কার্যালয়ের দুই পাশে বালু ও ইটের ট্রাক সরিয়ে নেয়া হয়।

খালেদার কার্যালয়ের জলকামান-পুলিশ ভ্যানের ব্যারিকেড প্রত্যাহার

দীর্ঘ ১৬ দিন পর অবরুদ্ধ বিরোধী জোটের শীর্ষনেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে থেকে জলকামান ও পুলিশ ভ্যানের ব্যারিকেড সরিয়ে নিয়েছে পুলিশ। গত রাত পৌনে তিনটার দিকে একে একে সরানো হয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তার কয়েক গজ উত্তরদিকে আড়াআড়িভাবে রাখা দুটি পুলিশভ্যান ও দক্ষিণ দিকে রাখা একটি জলকামান।  সরিয়ে নেয়া  হয়েছে নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্যদের। ৮৬ নম্বর সড়কের দুইপ্রান্তে পুলিশের তল্লাশি চৌকিও প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে মোতায়েন রয়েছে সাদা পোশাকের পুলিশ। এদিকে কার্যালয়টিতে এখনও অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন খালেদা জিয়াসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতা।  
উল্লেখ্য, গত ৩রা জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টায় কার্যালয়ে আসেন খালেদা জিয়া। এর পরপরই কার্যালয়ের সামনে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অর্ধশতাধিক নারী পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হয় কার্যালয়ের সামনে। কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশে একটি জলকামান ও পুলিশ ভ্যান ও উত্তর পাশে আরেকটি জলকামান ও পুলিশ ভ্যান দিয়ে ব্যারিকেড। ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অসুস্থ দলের যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদকে দেখতে যেতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের পথরোধ করে পুলিশ। প্রায় আধাঘণ্টা গাড়িতে বসে থেকে ফের কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন তিনি। পূর্ব ঘোষিত ৫ই জানুয়ারির সমাবেশে যাওয়া ঠেকাতে শনিবার রাত ১২টার পর থেকেই একে একে কার্যালয়ের সামনের রাস্তার দুইপাশে এনে রাখা হয় ১১টি ইট ও বালুভর্তি ট্রাক। এরপর থেকেই কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনবারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী। কার্যালয়টিতে ঘুমানোর ব্যবস্থা না থাকায় ওই রাতেই বাইরে থেকে একটি খাট আনানো হয়। তবে আকারে বড় হওয়ায় ওই রাতে সেটি আর পাতা যায়নি। পরদিন দলের স্থায়ী কমিটির সভাকক্ষে খাটটি পাতা হয়। ফলে ওই রাত সোফায় হেলান দিয়েই কাটান  খালেদা জিয়া।  ৫ই জানুয়ারি দুপুরে কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় পুলিশ। বিকাল পৌনে ৪টায় কার্যালয়ের দোতলা থেকে নিচে নামেন তিনি। এসময় বের হওয়ার চেষ্টা করলে খালেদা জিয়ার গাড়ি লক্ষ্য করে পেপার স্প্রে ছোড়ে পুলিশ। প্রায় এক ঘণ্টা গাড়ি থেকে বের হয়ে উপস্থিত গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এদিকে ওই দিন সন্ধ্যার পর পেপার স্প্রের গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। রাতেই একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রতিনিধি দল কার্যালয়ে প্রবেশ তাকে চিকিৎসা দেন। ৬ই জানুয়ারি কার্যালয়ের দুই পাশে বালু ও ইটের ট্রাক সরিয়ে নেয়া হয়।

ঘানির মন্ত্রী ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড

আফগানিস্তানের নতুন মন্ত্রিসভার একজন প্রার্থী ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি। দেশটি কৃষি মন্ত্রীর পদের জন্য প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির মনোনীত মোহাম্মদ ইয়াকুব হায়দারি নামের ওই ব্যক্তি ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন জানার পর এ ব্যাপারে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে আফগান প্রেসিডেন্ট কার্যালয়। খবর বিবিসির। ইন্টারপোলের ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে কর ফাঁকির অভিযোগে এস্টোনিয়ায় ওয়ান্টেডের তালিকায় রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াকুব হায়দারি। তবে, হায়দারি কোনো ধরনের আইনি জটিলতায় ভুগছেন, এমন তথ্য আফগান প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের জানা না থাকলেও এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান এক মুখপাত্র।
কয়েক বছর ধরে হায়দারি ওয়ান্টেড তালিকায় থাকলেও আফগানিস্তানে খবরটি কখনও সেভাবে জানাজানি হয়নি। হায়দারি বলছেন, যদিও মোস্ট ওয়ান্টেডের তালিকায় তার নাম আছে, কিন্তু তিনি আসলে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ‘বিশ্ব রাজনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে এমনটা ঘটতেই পারে।’ তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে যে কর ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি পরিশোধের দায়িত্ব ছিল অন্য এক ব্যক্তির। যিনি হায়দারির কাছ থেকে এসটোনিয়ার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিনেছিলেন। ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় তিনমাস পর সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী ও বর্তমান সরকারের প্রধান নির্বাহী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে সমঝোতার পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভার মনোনয়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন আফগান প্রেসিডেন্ট।

১৬ ছক্কায় বিশ্বরেকর্ড

ওয়ানডে ক্রিকেটে এক ইনিংসে ভারতের রোহিত শর্মার সর্বোচ্চ ছক্কা মারার বিশ্বরেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৪৪ বলে ১৪৯ রান করার পথে ১৬টি ছক্কা হাঁকান দক্ষিণ আফ্রিকার এই ব্যাটসম্যান। রোববার জোহানেসবার্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচটি যেন রেকর্ডের এক ম্যাচই ছিল। আর রেকর্ডের এ ম্যাচে ব্যক্তিগত অনেক অর্জনে ভাসেন ডি ভিলিয়ার্স। ১৬ বলে অর্ধশতক করে তিনি সনথ জয়সুরিয়াকে হটিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটের দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ডের মালিক হন।
শতক পূর্ণ করেন তিনি ৩১ বলে। ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ডের কোরি অ্যান্ডারসনের দ্রুততম শতকের (৩৬ বলে) রেকর্ডটি ভেঙে দেন ডি ভিলিয়ার্স। শতক পূর্ণ করতে ১০টি ছক্কা মারেন ডি ভিলিয়ার্স। এরপর আরও ১৩ বল খেলেন তিনি। ছক্কা মারেন আরও ৬টি। ইনিংসটিতে মোট ৯টি চার মারেন ডি ভিলিয়ার্স। এর আগে ২০১৩ সালের নভেম্বরে বাঙ্গালোরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০৯ রানের ইনিংস খেলার পথে ১৬টি ছক্কা মেরেছিলেন ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংসের মালিক রোহিত। ওয়েবসাইট।
ডি ভিলিয়ার্স ঝড়
বল ৪৪ রান ১৪৯ চার ৯
ছয় ১৬ স্ট্রাইক রেট ৩৩৮.৬৩

গুঞ্জন শুনি

যে কোনো অভিনেত্রীকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি কার সঙ্গে অভিনয় করতে ইচ্ছুক? নির্ধিদ্বায় সবাই বলবে, শাহরুখ, সালমান কিংবা আমির খানের নাম। বলার যৌক্তিকতাও আছে। বলিউডে এ তিন খানেরই রাজত্ব। খানদের ছবি মানেই সুপারহিট। ব্যবসার কথাটা আর বাকি থাকে না। বছর শেষে দেখা যায়, এ তিন খানের ছবির পাল্লাই ভারি। শাহরুখ, সালমান কিংবা আমির খানের সঙ্গে অভিনয় করা অনেক অভিনেত্রীর স্বপ্নও বটে। কিন্তু বলিউডের এমন এক নায়িকা আছেন যিনি এ তিন খানের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী নন। তিনি বিপাশা বসু। বলিউডে তার বয়স ১৫ বছর হয়ে গেল। এখনও পর্যন্ত কোনো খানের সঙ্গেই তার জুটি বাঁধা হয়নি। এ নিয়ে তার কোনো আক্ষেপও নেই। সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছেন এ বঙ্গললনা।
গেল শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে বিপাশা অভিনীত নতুন ছবি ‘অ্যালোন’। ছবির প্রচারণার সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিপাশা বলেন, ‘বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে এমন অনেকেই আছেন যারা তিন খানের সঙ্গে ছবি করেও আজ অন্ধকারে। তাহলে তাদের সঙ্গে কাজ করে কী লাভ হয়েছে? ২০০১ সালে আমার প্রথম ছবি আজনবী যখন মুক্তি পেয়েছিল একই সঙ্গে আমির খানের লগনও মুক্তি পেয়েছিল। আমার ছবিটি ব্যবসাও করেছে। শুধু এটুকু বলতে চাই, লগনের গ্রেসি সিং হারিয়ে গেছেন আর ১৫ বছর পরও আমি কাজ করছি।’ বিপাশার বক্তব্য সঠিক হলেও এর ভেতর কিন্তু আছে বলে জানিয়েছেন সমালোচকরা। তারা বলছেন, আসলে তিন খানের সঙ্গে অভিনয় করার জন্য কখনওই তাকে ডাকা হয়নি বলেই বিপাশা এ ধরনের কথা বলছেন। পাশাপাশি নতুন ছবির প্রচারণার কৌশল হিসেবে তিন খানের নাম জুড়ে দিয়ে সংবাদ মাধ্যমে আলোচনায় থাকতে চাইছেন বিপাশা।

এশিয়া আফ্রিকা মধ্যপ্রাচ্যে বিক্ষোভ

ফরাসি বিদ্রুপ ম্যাগাজিন শার্লি হেবাদাতে মুহাম্মদ (সা.)-কে ব্যঙ্গ করে নতুন কার্টুন প্রকাশের বিরুদ্ধে শুক্রবার এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন দেশে ফরাসি প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও ফ্রান্সের পতাকায় অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ প্রতিবাদকারীরা। পাকিস্তানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে সাংবাদিসহ ৩ জন আহত হয়েছে। খবর এএফপির। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ‘নবীকে অপমান করা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ’ লেখা ব্যানার নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। নাইজারের দ্বিতীয় প্রধান শহর জিন্দারে স্মরণকালের বৃহৎ বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ফরাসি সংস্কৃতি কেন্দ্রে ব্যাপক ভাংচুর চালায় এবং ক্যাফেটেরিয়ায় আগুন ধরিয়ে দেয়। জিন্দার প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানান, ‘এ শহরে এমন বিক্ষোভ আর কখনও হয়নি।
এটা একটা কালো শুক্রবার।’ এদিকে পাকিস্তানের করাচিতে ফরাসি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভের সময় প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এতে এএফপির একজন ফটোগ্রাফারসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়। সেনেগালের রাজধানী ডাকার ও মৌরতানিয়ায় ফ্রান্সের পতাকা পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। শার্লি হেবদোর কার্টুনের বিরুদ্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে কাতার ও বাহরাইন। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- এটি সমাজে ঘৃণা ছড়াচ্ছে। আম্মানে আড়াই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী আল হুসাইনি মসজিদের সামনে বিক্ষোভে স্লোগান দেয় ‘নবীকে অপমান করা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ’। আলজিয়ার্সে প্রায় তিন হাজার বিক্ষোভকারী ‘আমরা সবাই মুহাম্মদ’ প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানায়। তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে বিক্ষোভের সময় অনেক প্রতিবাদী প্যারিসে হামলাকারীদের ছবি বহন করে। আলজেরিয়ার বিক্ষোভকারীরা ‘কৌবি শহীদ’ ‘আমিই কৌবি’ বলে স্লোগান দেন। একই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে জেরুজালেম, খার্তুম, ত্রিপোলি, বাদাবি, তিউনিস ও তেহরানে।

পাষণ্ড বাবার কাণ্ড!

ভারতে দশ বছরের এক মেয়ে শিশুকে জীবন্ত মাটিচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন এক পাষণ্ড পিতা। কিন্তু স্ত্রীর হস্তক্ষেপে তার সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এনডিটিভি জানায়, শুক্রবার ত্রিপুরা রাজ্যের বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী এক গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, আবুল হোসেন নামের ওই ব্যক্তি মেয়েদের পছন্দ করতেন না। নিজের স্ত্রীর গর্ভে মেয়ে হওয়ার ঘটনা নিয়ে তিনি বেশ বিরক্ত ছিলেন। তিনি মেয়েটিকে মোটেও পছন্দ করতেন না। শুক্রবার স্ত্রীর অবর্তমানে মেয়েটিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আবুল হোসেন। এ উদ্দেশে তিনি বাড়ির পেছনের আঙ্গিনায় একটি গর্ত করেন। এরপর টেপ দিয়ে মেয়েটির মুখ আটকে দেন যাতে সে চিৎকার না করতে পারে। এরপর দু’হাত বেঁধে শিশুটিকে গর্তে শুইয়ে মাটি ফেলতে শুরু করেন। তিনি মাটি দিয়ে মেয়েটির বুক পর্যন্ত ঢেকে ফেলেন।
এ সময় হঠাৎ করেই বাড়ি ফেরেন তার স্ত্রী। স্ত্রীর নজর এড়াতে তাড়াহুড়ো করে একটি বাঁশের ঝুড়ি দিয়ে শিশুটির খোলা অংশ ঢেকে দেন তিনি। তার উদ্দেশ্য ছিল, গোপনে মেয়েটির বাকি অংশ মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া। কিন্তু স্ত্রী ঘরে ঢুকেই মেয়ের খোঁজ করায় তিনি বিপদে পড়েন। স্বামীর আচরণে সন্দেহ হওয়ায় চিৎকার শুরু করেন মেয়ের মা। তার চিৎকার শুনে পাড়া প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। শেষে তারাই মেয়েটিকে খুঁজে বের করেন এবং গর্ত থেকে উদ্ধার করেন। পরে গ্রামের লোকজন আবুল হোসেনকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এ ঘটনায় আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

টোঙ্গায় অগ্ন্যুৎপাতে নতুন দ্বীপ

টোঙ্গায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে একটি নতুন দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে। গত মাসে এ আগ্নেয়গিরি থেকে উদগিরণ শুরু হয়েছে। অগ্ন্যুৎপাতের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পাথর ও ঘন ছাই নির্গত হচ্ছে। এতে আশপাশের গাছপালা মারা গেছে। শনিবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক খবরে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে গত বছরের ২০ ডিসেম্বর আগ্নেয়গিরিটি প্রথমবারের মতো সক্রিয় হয়ে ওঠে। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশ টোঙ্গার রাজধানী নুকুয়ালোফার প্রায় ৬৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এ আগ্নেয়গিরি অবস্থিত। দেশটির ভূমি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়,
দুটি জ্বালামুখ দিয়ে এই অগ্ন্যুৎপাত হচ্ছে। একটি জ্বালামুখ জনবসতিহীন হাঙ্গা হাপাই দ্বীপে। অন্যটি উপকূল থেকে ১০০ মিটার দূরে পানির নিচে। অগ্ন্যুৎপাত থেকে বিপুল পরিমাণ পাথর ও ঘন ছাই নির্গত হয়। এতে আশপাশের গাছপালা মরে গেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বৃহস্পতিবার একটি নৌকায় করে বিশেষজ্ঞরা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত পরিদর্শন করতে যান। অগ্ন্যুৎপাতে ভূমিরূপে পরিবর্তন এসে নতুন একটি দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা নিশ্চিত করেন। নতুন এই দ্বীপটি এক কিলোমিটারেরও বেশি প্রশস্থ। লম্বায় দুই কিলোমিটার ও উচ্চতা ১০০ মিটার। এএফপি

বৃষ্টিভেজা ম্যাচে ছন্নছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছে সব দলই। টি ২০ সিরিজ জিতে সমর্থকদের আশার আলো দেখালেও ওয়ানডে ফরম্যাটে ফিরেই আবারও সেই ছন্নছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ! ডারবানের কিংসমিডে শনিবার পাঁচ ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বৃষ্টির বাধা জয় করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হেলায় হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ৬১ রানে জিতেছে স্বাগতিকরা। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪৮.২ ওভারে আট উইকেটে ২৭৯ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর বৃষ্টি নামলে স্বাগতিকদের আর ব্যাটিং করা হয়নি। কয়েক ঘণ্টা পর খেলা শুরু হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২২৬ রান। কিন্তু প্রোটিয়া বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে লক্ষ্যের ধারে-কাছেও যেতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। ইমরান তাহির, ডেল স্টেইন ও ভারনন ফিল্যান্ডারের তোপের মুখে ২৮.২ ওভারে ১৬৪ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বৃষ্টিতে ম্যাচটা পণ্ড হয়ে গেলে আফসোসের শেষ থাকত না হাশিম আমলার।
এ ম্যাচেই যে ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন প্রোটিয়া ব্যাটিংস্তম্ভ। ৬৬ বলে ৬৬ রান করার পথে ওয়ানডেতে সবচেয়ে কম ইনিংসে পাঁচ হাজার রান পূর্ণ করেন তিনি। এটি দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট অধিনায়কের ১০১তম ইনিংস। আগের রেকর্ডটি ছিল ভিভ রিচার্ডস ও বিরাট কোহলির দখলে। পাঁচ হাজার রান পেতে তাদের লেগেছিল ১১৪ ইনিংস। ২০০৮ সালের মার্চে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকের পর দ্রুততম দুই হাজার, তিন হাজার ও চার হাজার রানের রেকর্ডও ভেঙেছিলেন আমলা। জেরোমি টেলরের তোপে মাত্র ১৬ রানে দুই উইকেট হারিয়ে শুরুটা ভালো হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। কিন্তু আমলার সঙ্গে ৯৯ ও ডেভিড মিলারের সঙ্গে ১২৩ রানের দুটি কার্যকর জুটি গড়ে দলকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যান ম্যাচসেরা এবি ডি ভিলিয়ার্স। ৯৪ বলে ৮১ রান করেন প্রোটিয়া অধিনায়ক। সাত চার ও দুই ছক্কায় ৬৮ বলে মিলার করেন ৭০। জবাবে ক্রিস গেইল ও ডুয়ানে স্মিথের ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালোই হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ৫.৪ ওভারে উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৫১ রান। কিন্তু ২৪ বলে পাঁচ চার ও দুই ছয়ে ৪১ রান করে গেইল আউট হওয়ার পর ক্যারিবীয় ঝড়ের তেজ কমে আসে। গেইলের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন দিনেশ রামদিন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে স্টেইন, আমলা ও ফিল্যান্ডার তিনটি করে উইকেট নেন। আজ জোহানেসবার্গে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। এএফপি/ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা ২৭৯/৮, ৪৮.২ ওভারে (আমলা ৬৬, ডি ভিলিয়ার্স ৮১, মিলার ৭০, ডুমিনি ১২, বেহারডিন ১২। টেলর ২/৫০, রাসেল ২/৫১)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৬৪/১০, ২৮.২ ওভারে (স্মিথ ২৯, গেইল ৪১, রামদিন ৩১, কার্টার ১৭, রাসেল ১৯। স্টেইন ৩/২৭, ইমরান ৩/৩০, ফিল্যান্ডার ৩/৪৪)।
ফল : বৃষ্টি আইনে ৬১ রানে জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : এবি ডি ভিলিয়ার্স (দক্ষিণ আফ্রিকা)।

ইডেনের দুই ছাত্রী ও শিশুসহ চিকিৎসক দম্পতি দগ্ধ, নিহত আরও ১

(ছবি:-১ রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় গাড়িতে পেট্রলবোমায় দগ্ধ ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রী শারমিন আক্তারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ছুটছেন তাঁর স্বামী জাহিদ হাসান। গতকাল বেলা দেড়টার দিকে ওই বাসে পে​ট্রলবোমা ছোড়ে দুর্বৃত্তরা l ছবি:-২ সংসদ ভবন এলাকায় গতকাল বাসে পেট্রলবোমায় দগ্ধ হন ইডেন কলেজের ছাত্রী মায়মুনা আক্তার। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন আশপাশের লোকজন ও পুলিশ সদস্যরা l ছবি: প্রথম আলো) রংপুরের মিঠাপুকুরে পেট্রলবোমা মেরে শিশুসহ পাঁচ বাসযাত্রীকে হত্যার রেশ না মিলতেই গতকাল রোববার নারায়ণগঞ্জে যাত্রীবাহী আরেক বাসে পেট্রলবোমা হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে দগ্ধ হয়েছেন দুই বছর বয়সী শিশুসহ এক চিকিৎসক দম্পতি। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। এ দিনই বরিশালে পেট্রলবোমায় মারা গেছেন এক ট্রাকচালকের সহকারী। আর খোদ রাজধানীতে পুলিশের উপস্থিতিতে বাসে পেট্রলবোমায় পুড়েছেন দুই কলেজছাত্রী। আহত হন আরও দুই সহপাঠী।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের অবরোধের ১৩তম দিন গতকাল ১৩টি জেলায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আগুন দেওয়া হয় ১৯টি যানবাহনে। ভাঙচুর করা হয় আরও ১১টি। আটক করা হয় কমপক্ষে ১৪৯ জনকে।
৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ৬ জানুয়ারি থেকে চলছে অবরোধ। তবে ৪ জানুয়ারি থেকেই শুরু সংঘাতের। এই দিন থেকে গতকাল পর্যন্ত ১৫ দিনে সহিংসতায় নিহত হলেন ২৭ জন। আহত পাঁচ শতাধিক। এ সময়ে আগুন দেওয়া হয় ২৩৮টি যানবাহনে। ভাঙচুর করা হয় অন্তত ৩০৭টি।
চিকিৎসক দম্পতি দগ্ধ: প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, গত রাত সাড়ে নয়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ নগরের চাষাঢ়া বঙ্গবন্ধু সড়কে সমবায় মার্কেটের সামনে তারকাঁটা গাঁথা কাঠের সাহায্যে অবরোধ সৃষ্টি করে বন্ধন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস থামায় দুর্বৃত্তরা। বাসটি ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ আসছিল। থামানোর পরপরই বাসে পেট্রলবোমা মেরে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। এতে বাসযাত্রী ডা. সাইফুল ইসলাম (৩৮), তাঁর স্ত্রী ডা. শারমীন (৩২) ও ছেলে সাদী (২) পুড়ে যান। বাস থেকে নামতে গিয়ে আহত হন আরও পাঁচজন। এ নিয়ে গত ১০ দিনে এই সড়কে তিন দফায় চারটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটল। হামলার পর শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
চিকিৎসক দম্পতি তাঁদের কর্মস্থল ঢাকার উত্তরা থেকে নারায়ণগঞ্জ বেড়াতে আসছিলেন বলে জানা গেছে। হামলার পর শিশুসহ এ দম্পতিকে ৩০০ শয্যার নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।
পুলিশের ভাষ্য, হামলা করে পালিয়ে যাওয়ার সময় আজিম গাজী নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে জনতা। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুই বোতল পেট্রল ও বেশ কিছু জ্বালানি কাঠ।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের জানান, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নেভান। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ইডেনের ছাত্রী দগ্ধ: পরীক্ষার ফরম পূরণ করে বাসে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রলবোমায় দগ্ধ হয়েছেন রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের দুই ছাত্রী। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হন আরও দুই ছাত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, গতকাল বেলা দেড়টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন সংসদ ভবনের দক্ষিণ-পূর্বে খেজুরবাগান এলাকায় ওই হামলা চালানো হয়। মোটরসাইকেলে করে আসা এক যুবক বিকল্প পরিবহনের একটি বাস লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। বাসটি আজিমপুর থেকে মিরপুর যাচ্ছিল। বেশ কিছু পুলিশ সদস্যের উপস্থিতির মধ্যেই এ হামলা চালিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
দগ্ধ দুই ছাত্রী হলেন শারমিন আক্তার (১৯) ও জয়নাব আক্তার (১৯)। বেলা তিনটার দিকে বার্ন ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎসক কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের একজনের দুই পায়ের কিছু অংশ ও আরেকজনের পায়ের পাতা পুড়ে গেছে। তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আরও সময় না গেলে তাঁদের শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে কিছু বলা যাবে না।
এদিকে এই হামলার সময় বাস থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হন দগ্ধ দুই ছাত্রীর সহপাঠী মায়মুনা আক্তার (১৮) ও হেলেন আফরিন (১৯)। মায়মুনার পা ভেঙে গেছে। বেলা তিনটার দিকে বার্ন ইউনিটে দেখা মেলে হেলেনের। তিনি পা খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন। জানতে চাইলে বলেন, ‘মোটরসাইকেলে করে এক যুবককে বাসের মধ্যে কিছু একটা ছুড়ে মারতে দেখার পর আর কিছু মনে নেই। কীভাবে বাস থেকে নামলাম, সেটাও জানি না। ওই সময় সংসদ ভবন এলাকায় অনেক পুলিশ ছিল।’
আহত চারজনই কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। এই বিভাগের অধ্যাপক জিয়াউল হক প্রথম আলোকে বলেন, অবরোধের মধ্যেই তাঁর এই ছাত্রীরা মিরপুর থেকে প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে কলেজে এসেছিলেন। বাসায় যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। হামলার খবর পেয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ও অন্য শিক্ষকেরাও হাসপাতালে এসেছেন।
বোমা হামলার পর আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে ঢাকা মেডিকেলে যান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
রিজভীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা: গত শনিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা হামলার ঘটনায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। এ হামলার ঘটনায় পুলিশ নান্নু নামের স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকেও আটক করেছে। হামলায় দগ্ধ চারজন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার এই মামলা ও আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, বরকতউল্লা বুলু ও রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
গতকাল বার্ন ইউনিটে গিয়ে দেখা যায়, দগ্ধ আবু তাহের, বিল্লাল হোসেন, আরমান ও নূরজাহানের পাশে উৎকণ্ঠিত তাঁদের স্বজনেরা। কেউ কাঁদছিলেন অঝোরে। আবু তাহেরের শরীরের ১৪ ভাগ, বিল্লালের ২৫ ভাগ, আরমানের ১২ ভাগ ও নূরজাহানের ৪ ভাগ পুড়ে গেছে। গতকাল বার্ন ইউনিটে এসব দগ্ধ ব্যক্তিকে দেখতে যান গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি এসব নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানান ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসব ঘটনা ছাড়া সকালে ডেমরা এলাকায় একটি লেগুনা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস জানায়।
ককটেলে সাতজন আহত: রাজধানীর রামপুরা ও পুরান ঢাকায় গতকাল পৃথক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে চকবাজার মোড়ে হাজী সেলিম টাওয়ারের সামনে তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে আট বছরের শিশু রহিমাসহ ছয়জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে আহত আলমগীর হোসেন (৪০), আনোয়ার হোসেন (৩৮), ফকির চান (৪০) ও আফজাল হোসেন (৪৫) মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আর শামসুল হক (৪০) নামের এক রিকশাচালককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রামপুরা টিভি সেন্টারের সামনে ককটেল বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন মো. হানিফ (৫৫) নামের আরেকজন রিকশাচালক। গতকাল রাত পৌনে নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢাকার বাইরের চিত্র: বরিশালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলায় গতকাল ভোরে একটি ট্রাকে পেট্রলবোমা হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলেই ট্রাকচালকের সহকারী পুড়ে মারা গেছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন চালক।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলামের ভাষ্য, সকাল পৌনে ছয়টার দিকে ফরিদপুর থেকে আসা পেঁয়াজবোঝাই একটি ট্রাক বরিশালে তা খালাস করে ফেরত যাচ্ছিল। সাড়ে ছয়টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুরের সানুহার ও বামরাইল এলাকার মধ্যবর্তী একটি স্থানে ১০-১২ জন অবরোধকারী ট্রাকটি লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা ছোড়ে। এতে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই চালকের সহকারী সোহাগ বিশ্বাস (১৭) নিহত ও চালক রিপন শেখ (২১) গুরুতর আহত হন।
দগ্ধ চালক জানান, হামলার আতঙ্কে তিনি খুব দ্রুতবেগেই ফেরত যাচ্ছিলেন। পথে ওই হামলার মুখে পড়েন। পেট্রলবোমায় মুহূর্তেই ট্রাকটিতে আগুন ধরে যায়। নিহত সোহাগের বাড়ি ফরিদপুরের শংকরপাশা গ্রামে। তাঁর বাড়িও একই জায়গায়।
পুলিশ সোহাগের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনের কাছে হস্তান্তর করে। হামলার ঘটনায় উজিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সহিদুর রহমান একটি মামলা করেছেন। হামলায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ উজিরপুর পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সহিদুল ইসলাম খান, উপজেলা যুবদলের সভাপতি সফিকুল ইসলাম শিকদার, বামরাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সেলিম রাড়ী ও সানুহার এলাকার বিএনপির নেতা সেলিম মৃধাকে গ্রেপ্তার করেছে।
চট্টগ্রাম নগরের ডেবারপাড় এলাকায় শনিবার রাতে ককটেল বণ্টনের সময় তিন দুর্বৃত্তকে পিটুনি দিয়েছে জনতা। পরে পুলিশ এসে নয়টি ককটেল উদ্ধার করে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে। পিটুনিতে আহত সোহেল রানা (২২), নুর মোহাম্মদ ওরফে পারভেজ (২৫) ও মামুনুর রশিদ (২২) বিএনপির কর্মী বলে জানা গেছে। এদিকে গতকাল সকালে নগরের ইপিজেড মোড়ে যাত্রীবেশী এক যুবক বাসে আগুন লাগিয়ে দেয়। তবে কেউ হতাহত হননি। সকালে চামড়া গুদাম এলাকায় অবরোধকারীদের ঢিলে মজিবুর রহমান নামের একজন ব্যাংক কর্মকর্তা আহত হন। রাত আটটায় অলংকার মোড়ে একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
ফেনী-পরশুরাম সড়কের কালিরহাট এলাকায় গত রাত আটটার দিকে যাত্রীবাহী একটি বাস ভাঙচুরের পর তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। একই সময় ফেনী সদর হাসপাতাল মোড়ে তিনটি অটোরিকশা ও ইজিবাইক ভাঙচুর করা হয়।
গাজীপুরের শ্রীপুরে গত রাতে এমসি বাজার মেঘনা সাইকেল কারখানার সামনে পোশাককর্মীদের বহনকারী একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় চালক আবদুর রহমান (৪৮) দগ্ধ হন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে শনিবার রাতে পেট্রলবোমা ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে কার্যালয়ে আগুন ধরে গেলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে তা নেভান।
জয়পুরহাট সদর উপজেলার কাদিপুর তিন মাথা মোড়ে আলুবোঝাই ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ সময় চালককে ধরে পিটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ট্রাকে থাকা ট্রাকমালিক ইউনুস খন্দকারের কাছ থেকে সাত হাজার টাকা ও একটি মুঠোফোনও ছিনিয়ে নেয় তারা। এ ছাড়া পাঁচবিবিতে মাছবাহী একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়।
দিনাজপুরে শনিবার রাতে দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের দশমাইল মোড় নামক স্থানে আলুবোঝাই একটি ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়েছে। গতকাল বিকেলে দিনাজপুর শহরের নিমনগর এলাকায় আলুবোঝাই আরেকটি ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়।
সিরাজগঞ্জে শনিবার রাতে উল্লাপাড়া উপজেলার মণ্ডলজানি গ্রামের পাশে ৩২ নম্বর সেতুর কাছাকাছি রেললাইনে আগুন দিয়েছে অবরোধকারীরা। গতকাল সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ও পৌর এলাকার বাহিরগোলায় একটি অটোরিকশা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ বিএনপি-জামায়াতের ছয়জন কর্মীকে আটক করেছে। কোনাগাঁতী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচটি পেট্রলবোমা।
যশোর শহরের বকচর এলাকার কোল্ডস্টার মোড়ে রাত পৌনে নয়টার দিকে থেমে থাকা একটি বাসে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ-শোভাগঞ্জ সড়কের বালাছিড়া এলাকায় শনিবার রাতে একটি ট্রাক ভাঙচুর করে অবরোধকারীরা। এ সময় চালকসহ তিনজন আহত হন। একই এলাকায় একটি অটোরিকশা ও একটি ভটভটি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রাতেই গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাড়া শাখা ডাকঘরের আসবাব ও চিঠিপত্র তছনছ করেছে দুর্বৃত্তরা।
নওগাঁর বিভিন্ন স্থানে গতকাল বিক্ষোভ মিছিল ও আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেছে পিকেটাররা। এ সময় তারা চারটি গাড়ি ভাঙচুর করে।
কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনায় গতকাল সকালে একতা পরিবহনের থেমে থাকা একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
{প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন: প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা; বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক; বরিশাল, যশোর, ফেনী ও দিনাজপুর অফিস; গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, জয়পুরহাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, গৌরনদী (বরিশাল) ও আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি}

মুন্নীকে যেভাবে বাড়ি থেকে উঠিয়ে আনে ডিবি কর্মকর্তা

আমেরিকান কইন্যা আফরোজ আক্তার মুন্নীকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে আসেন গোয়েন্দা পুলিশের এসআই গাজী মিজান। নিজ বাড়ি থেকে তাকে গাড়িতে তুলে কয়েক কিলোমিটার এলাকা দূরে নিয়ে আসার পর বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেছে কৌশলে তাকে শ্যাওলা ব্রিজের কাছে নামিয়ে দেয়া হয়। গতকাল সকালে সিলেটের বিয়ানীবাজারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিয়ানীবাজারজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় আমেরিকান কইন্যা মুন্নী বিয়ানীবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। গতকাল বিকাল থেকে পুলিশ এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। আমেরিকান সিটিজেন আফরোজা আক্তার মুন্নী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে একজন কর্মকর্তা তার স্বামীর বাড়ী বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ার বাজার ইউনিয়নের আঙ্গারজুর গ্রামে আসেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা মুখ বাঁধা একজন যুবকসহ কয়েকজন যুবক ও একজন মহিলা ছিলেন। মহিলা নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার রুমে প্রবেশ করে তাকে তাড়াতাড়ি পোশাক পরে তৈরি হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এ সময় মুন্নী তাকে নেয়ার কারণ জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা তাকে ডিবি পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর গাজী মিজান পরিচয় দিয়ে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রয়েছে বলে জানান। এ সময় তারা জোরপূর্বক মুন্নী ও তার শাশুড়িকে তুলে নিতে চাইলে বাদ সাধেন পরিবারের লোকজন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ শুরু করেন মুন্নীর শ্বশুর আজির উদ্দিন। বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, শিক্ষামন্ত্রীর এপিএসসহ বিভিন্ন মহল বিষয়টি অবগত হন এবং ওপর মহলে কথা বলেন তারা। এরই একপর্যায়ে আজির উদ্দিন বিয়ানীবাজার থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওসি তার এলাকায় কোন কর্মকর্তা প্রবেশ করতে হলে তাকে জানানোর নিয়ম রয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তাকে ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তুু ওসির সঙ্গে যোগাযোগ না করেই তাকে নিয়ে সিলেটের পথে রওয়ানা দেন তারা। ওসি এ বিষয়ে অবগত হয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মিডিয়াকর্মীরাও বিষয়টির খবর পেয়ে আমেরিকান সিটিজেন কন্যার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। এ নিয়ে বিয়ানীবাজারে হুলস্থূল পড়ে গেলে তড়িঘড়ি করে ডিবি পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর গাজী মিজান আমেরিকান কন্যা আফরোজা আক্তার মুন্নী ও তার শশুর আজির উদ্দিন ও ননদ লাবণীকে নিয়ে একটি গাড়িযোগে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেয়ায় তাদের আর পাওয়া যায়নি। তাৎক্ষণিক বিষয়টি নিয়ে সিলেট পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। মুন্নীর শশুর আজির উদ্দিন জানান, সিলেটের পুলিশ সুপারের নির্দেশের পর ডিবি কর্মকর্তা তাদেরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়ার পাঁয়তারা শুরু করেন। তারা গাজী মিজানকে বলেন, তাদের বাড়ি পৌঁছে দেয়ার জন্য। এরই একপর্যায়ে ডিবি কর্মকর্তারা বিয়ানীবাজার-সিলেট সড়কের শেওলা ব্রিজের উত্তর পারের নির্জন স্থানে তাদের ফেলে দিয়ে দ্রুত গাড়ি নিয়ে চলে যান। আফরোজা আক্তার মুন্নী জানান, ডিবি অফিসার আমাদের ফেলে যাওয়ার পর আমাদের পেছন থেকে দুটি গাড়ি আমাদের ধাওয়া করে। আমরা প্রাণ রক্ষার্থে গোলাপগঞ্জ থানায় গিয়ে আশ্রয় নিয়ে গোলাপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম ফজলুল হক শিবলীকে ঘটনা খুলে বলি। পরে ওসি আমাদের বিশেষ ব্যবস্থায় গোলাপগঞ্জ থেকে বিয়ানীবাজার থানায় পাঠিয়ে দেন। আফরোজা আক্তার মুন্নী বলেন, গোলাপগঞ্জ থানার ওসির সহযোগিতায় আমরা নিশ্চিত অপহরণ থেকে মুক্তি পেয়েছি। এদিকে গতকাল রোববার এ খবর শুনে মিডিয়া কর্মীরা চারদিকে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। এদিকে, বেলা ২টায় বিয়ানীবাজার থানায় এসে হাজির হন আমেরিকান সিটিজেন আফরোজা আক্তার মুন্নী, শ্বশুর আজির উদ্দিন ও ননদ লাবণী। বিয়ানীবাজার থানার ওসির জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মিডিয়ার সামনে হাজির হন মুন্নী। তিনি নিজেকে সাড়ে ২৬ বছর বয়সী উল্লেখ করে বলেন, ২০০৮ইং সনে ভালবেসে কুড়ারবাজার ইউনিয়নের আঙ্গারজুর গ্রামের আজির উদ্দিনের পুত্র সুহেল আহমদের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি সংসার করেছেন।  এরপর তিনি পিতা-মাতার সঙ্গে চলে যান আমেরিকা। এরই মধ্যে তার পিতা জকিগঞ্জের এক পাত্রের সঙ্গে ২০ লাখ টাকা রফাদফার মাধ্যমে তার বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করেন। বিষয়টি তিনি অবগত হয়ে বিয়ের আগের দিন তার স্বামীর বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন এবং স্বামীকে দেশে আসার পরামর্শ দেন। স্বামীও সঙ্গে সঙ্গে দেশে এসে পৌঁছেন। পিতার এসব ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বিয়ানীবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন জানিয়ে মুন্নী বলেন, আমার স্বামী ও তার পরিবারের সবাইকে নিয়ে যখন আমি সুখে শান্তিতে বসবাস করছি, তখন আমার পিতা আমার সুখ সহ্য করতে না পেরে আমাকে ও আমার স্বামীর পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি শুরু করেন। ডিবি পুলিশ কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর গাজী মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আদালতের একটি আদেশ বলে তাদের আদালতে হাজির করার জন্য পুলিশ নিয়ে যাই। পরবর্তীকালে ওপর মহলের নির্দেশে তাদের রেখে আসি। এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার ওসি জুবের আহমদ বলেন, আমার এলাকায় কোন অফিসার প্রবেশ করতে হলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু আমার সঙ্গে যোগাযোগ না করে প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অবগত হয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তার নির্দেশে ডিবি পুলিশ শেওলা ব্রিজের কাছে তাদের ফেলে রেখে চলে যায়। পরে আত্মরক্ষার্থে তারা গোলাপগঞ্জ থানায় আশ্রয় নিয়ে গোলাপগঞ্জ থানার ওসি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদেরকে বিয়ানীবাজার নিয়ে আসা হয় এবং তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়। ওসি জানান, এ বিষয়ে আফরোজা আক্তার মুন্নী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

৩৫০ জন ইয়াজিদিকে মুক্তি দিল আইএস

ইরাকের সুন্নি জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) উত্তরাঞ্চলের সংখ্যালঘু ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের প্রায় ৩৫০ জনকে গত শনিবার মুক্তি দিয়েছে। মুক্তি পাওয়া দলটির বেশির ভাগ মানুষই প্রবীণ ও অসুস্থ। তাঁদের কয়েক মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। সরকারি কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। খবর এএফপি ও বিবিসির। কিরকুক শহরের কাছাকাছি কুর্দি সম্প্রদায়ের কর্মকর্তারা ওই ইয়াজিদিদের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। আইএস জঙ্গিরা কেন তাঁদের ছেড়ে দিল, তা স্পষ্ট নয়। তারা গত বছরই ইয়াজিদিদের ওপর হামলা চালিয়ে বহু লোককে হত্যা ও অপহরণ করে।
শনিবার মুক্তি পাওয়া ইয়াজিদিদের প্রায় সবাই বয়স্ক অথবা অসুস্থ বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ওই দলে কয়েকজন অসুস্থ শিশুও রয়েছে। ইয়াজিদি অধিকার আন্দোলনের কর্মী খোদর দোমলি বলেন, মুক্তি পাওয়া ইয়াজিদিদের কেউ আহত, কেউ পঙ্গু এবং কেউ কেউ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। মসুল এলাকা থেকে তাঁদের ধরে নেওয়া হয়েছিল।
মুক্তি পাওয়া এক প্রবীণ ইয়াজিদি বলেন, জঙ্গিরা যখন তাঁদের বাসে উঠতে বলে, তখন মেরে ফেলা হবে ভেবে তাঁরা ভয় পেয়েছিলেন। কিন্তু সবাইকে নিয়ে যাওয়া হয় আইএস নিয়ন্ত্রিত হাওইজা এবং কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত কিরকুক শহরের মাঝামাঝি এক জায়গায়।
হুইলচেয়ারে বসা এক প্রবীণ ইয়াজিদি বলেন, তিনি মাসের পর মাস বন্দী ছিলেন। অনাহার ও দুর্ভাবনার ওই সময়টা ছিল খুবই কঠিন। কুর্দি পেশমেরগা বাহিনীর অভিযানে আইএস জঙ্গিরা গত মাসে ইরাকের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে পিছু হটে যায়। এর আগে সিনজার পার্বত্য এলাকা দীর্ঘদিন ধরে ওই জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সেখানে বসবাসকারী ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ মাসের পর মাস ধরে অসহায় অবস্থায় দিন কাটায়। অধিকারকর্মীদের অনুমান, ওই সম্প্রদায়ের প্রায় তিন হাজার নারী ও শিশু এখনো আইএসের কবলে বন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

রাজাপক্ষের পরাজয়ের পেছনে র–এর কর্মকর্তা?

মাহিন্দা রাজাপক্ষেকে ক্ষমতাচ্যুত করতে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীকে সহায়তার অভিযোগে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) কলম্বো প্রধানকে শ্রীলঙ্কা বরখাস্ত করেছিল। রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা সূত্র এ কথা জানিয়েছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় র-এর ওই প্রতিনিধিকে বরখাস্ত করার বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছে, নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁকে বদলি করা হয়েছে। খবর রয়টার্সের। ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্ষমতা হারানো রাজাপক্ষে রয়টার্সকে বলেছেন, তিনি এ বিষয়ে সবকিছু জানেন না। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার নবনির্বাচিত সরকার বলেছে, তারা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনটি সম্পর্কে অবগত হলেও বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারছে না। তবে কলম্বো ও নয়াদিল্লির কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, র-এর কলম্বো শাখা প্রধানের বিরুদ্ধে বিরোধী প্রার্থী মাইথ্রিপালা সিরিসেনার পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করার অভিযোগ করেছিল কলম্বো। তাদের অভিযোগে বলা হয়, ওই র কর্মকর্তা নির্বাচনের আগে সিরিসেনাকে রাজাপক্ষের মন্ত্রিসভা ত্যাগ করার প্ররোচনা দেন। এ কারণে তাঁকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য ভারতকে আহ্বান জানায় শ্রীলঙ্কা। গত ২৮ ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কার সানডে টাইমস-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্মিলিত বিরোধী দলের সঙ্গে সংযোগের কারণে র-এর কলম্বো শাখার প্রধানকে সরে যেতে হয়েছে। ভারতের দক্ষিণ উপকূলের অদূরে অবস্থিত ছোট দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। ১৯৮৭ সালে শ্রীলঙ্কা সে দেশের সরকার ও তামিল টাইগার বিদ্রোহীদের মধ্যে শান্তি-প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতা করতে সে দেশে সেনা পাঠায় ভারত।
দুই দফায় ক্ষমতায় থাকা রাজাপক্ষে সরকার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ায় প্রভাব হারানোর ব্যাপারে ভারতের উদ্বেগ বেড়ে চলছিল। এ রকম প্রেক্ষাপটেই রাজাপক্ষের পরাজয় হলো। গত বছর চীনের দুটি ডুবোজাহাজকে রাজাপক্ষে যখন শ্রীলঙ্কার উপকূলে ঢোকার অনুমোদন দেন, তখন ভারতের উদ্বেগ বিপৎসংকেতে পরিণত হয়।
ভারতের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কার বিরোধী দলগুলোকে একজন যৌথ প্রার্থীর বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে কাজ করার অভিযোগ ওঠার পর কলম্বোর র প্রধানকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনাসহ কয়েকজন এমপিকে রাজাপক্ষের দল থেকে পদত্যাগ করতেও উৎসাহিত করার অভিযোগ ওঠে।
ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা শ্রীলঙ্কার এক আইনপ্রণেতা ও কর্মকর্তা বলেন, বিরোধী দলের প্রধান নেতা রনিল উইকরামাসিংহেকে রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করতে বোঝানোর অভিযোগও রয়েছে র-এর ওই প্রতিনিধির বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, র-এর ওই প্রতিনিধির সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গার যোগাযোগ ছিল। কুমারাতুঙ্গা সিরিসেনাকে রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে বড় ভূমিকা পালন করেন। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা আগামী মাসে দিল্লিতে তাঁর প্রথম বিদেশ সফরের কথা ঘোষণা করেন। সিরিসেনা বলেছেন, তাঁর পররাষ্ট্রনীতির ‘প্রথম এবং মূল বিষয়’ হবে ভারত।

ওবামার ভাষণের আগেই বিতর্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কাল মঙ্গলবার রাতে স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণ দেবেন। এ ভাষণের আগেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। দেশটির মধ্যবিত্ত জনগণের জীবনমানের উন্নয়নে কর আইনে ব্যাপক সংস্কার চান ওবামা। এ সংস্কারের ফলে উচ্চবিত্তের কর বাড়বে। এ নিয়ে চলছে অসন্তোষ। রিপাবলিকানরা বলছেন, কর্মসফল মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়ানো হলে তাদের কর্মপ্রয়াসকে নিরুৎসাহ করা হবে। থমকে যাবে আমেরিকার অগ্রযাত্রা। ক্ষমতার দ্বিতীয় মেয়াদে ভিন্ন এক বাস্তবতা ওবামার সামনে। প্রথমবারের মতো ভিন্ন এক কংগ্রেসকে সামনে রেখে স্টেট অব ইউনিয়ন বক্তব্য দেবেন তিনি।গত নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর মার্কিন আইনসভা এখন রিপাবলিকানদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। ওবামার নানা উদ্যোগ এবং সংস্কারের বিরোধিতা এখন ওয়াশিংটনের চরম রাজনৈতিক বাস্তবতা। তার পরও এবারের স্টেট অব ইউনিয়ন বক্তৃতায় ওবামা তাঁর সাফল্যের কথা দৃঢ়তার সঙ্গে তুলে ধরবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেকারত্বকে সহনীয় পর্যায়ে দেখা হলেও প্রতিদিন নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। ধসে পড়া মার্কিন অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কথা বলে ওবামা তাঁর বক্তব্যে আমেরিকার ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ফারাক কমানোর আহ্বান জানাবেন।
হোয়াইট হাউস থেকে আগাম জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট এবারে কর আইনে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের আহ্বান জানাবেন। উচ্চবিত্তের ওপর মুনাফা করের হার বাড়ানোর প্রস্তাব করবেন। থাকবে বড় বড় ব্যাংক ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের ওপর করের হার বাড়ানো, কর্মজীবীদের ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর কথা। সীমিত আয়ের লোকজনের জন্য বর্ধিত কর সুবিধার ঘোষণা থাকবে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশসহ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আমেরিকার বর্ধিত বিনিয়োগসহ অংশীদারত্ব বাড়ানোর আহ্বান থাকবে স্টেট অব ইউনিয়ন বক্তৃতায়। অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট তাঁর পরিকল্পনার কথা জানাবেন। গৃহীত পদক্ষেপের উল্লেখ করে তিনি আইনপ্রণেতাদের স্থায়ী অভিবাসন সংস্কার আইন প্রণয়নের আহ্বান জানাবেন।
হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া আগাম তথ্যে জানানো হয়, স্টেট অব ইউনিয়ন বক্তৃতায় সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করার পদক্ষেপ ঘোষণা করবেন ওবামা। জঙ্গিবাদ দমনে নতুন কর্মকৌশল গ্রহণের আহ্বান জানানো হবে। মধ্যবিত্ত জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কর্মজীবীদের সবেতন ছুটি বাড়ানো হবে। নিম্ন মজুরির কর্মচারী এবং ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য অবসরকালীন ভাতা প্রাপ্তির কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। স্টেট অব ইউনিয়ন বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ওবামা উচ্চশিক্ষার জন্য দুই বছরের কলেজশিক্ষা অবৈতনিক করার ঘোষণা প্রদান করবেন।
সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের প্রসঙ্গটিও ওবামার বক্তৃতায় থাকবে বলে মার্কিন গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। পুলিশ আইনে সংস্কারের প্রস্তাব দেবেন ওবামা। ওবামার বক্তব্যের জবাব দেওয়ার জন্য রিপাবলিকান দলের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কর বাড়িয়ে সরকারের ব্যয় বাড়ানোর কর্মসূচির ঘোর বিরোধিতা করা হবে বলে রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে আগেই আভাস দেওয়া হয়েছে। ওবামার বক্তব্যের পর দলের পক্ষ থেকে জবাব দেবেন রিপাবলিকান দলের নতুন সিনেটর জনি আর্নস্ট।
সিনেটে রিপাবলিকান দলের নেতা মিচ ম্যাক কনেল বলেছেন, ওবামাকে তাঁর কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিরোধীদের কথা শুনতে হবে। ‘একলা চলো’ নীতি পরিহার না করলে কোনো প্রস্তাবই বাস্তবায়ন হবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি।

শিক্ষাকে করতে হবে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার -রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি

(রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কৃতী এক শিক্ষার্থীর হাতে সনদ তুলে দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ (বাঁয়ে)। মাঝে উপাচার্য মুহম্মদ মিজানউদ্দিন l প্রথম আলো) শিক্ষাকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ারে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষার সাথে গবেষণা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কারণ, গবেষণার মাধ্যমে সৃষ্টি হয় নতুন জ্ঞানের, যা সমাজের বিদ্যমান চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষাকে করতে হবে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার।’ গতকাল রোববার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী গ্র্যাজুয়েটদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম এবং বিশ্বজনীনতার মতো দৃষ্টিভঙ্গি হৃদয়ে লালন করার আহ্বান জানিয়ে আচার্য বলেন, ‘শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়ন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, সর্বোপরি গভীর দেশপ্রেম জাগ্রত করার একমাত্র উপায় হচ্ছে মানসম্মত শিক্ষা। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার পাশাপাশি সৃজনশীল কর্মকাণ্ড ও চিন্তার স্বাধীনতা বিকাশে অবদান রাখতে হয়।’
বেলা পৌনে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ মাঠ থেকে সমাবর্তন শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সমাবর্তন বক্তা দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার উপাচার্য তালাত আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ তারুণ্যের দেশ। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্য সবকিছুর চেয়ে শিক্ষার্থীরাই প্রধান। বড় বড় দালানকোঠার চেয়ে শিক্ষার্থীদের উৎকর্ষের মাধ্যমেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচিত হয়। তাই তোমাদের যে পরিবেশে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, পেশাগত একাগ্রতা, দক্ষতা ও ব্যক্তিগত শক্তিমত্তার মাধ্যমেই তার সীমা অতিক্রম করতে পারবে।’
স্বাগত বক্তব্য দেন উপাচার্য মুহম্মদ মিজানউদ্দিন। সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আগে রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য নবনির্মিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হলের উদ্বোধন করেন।

সংরক্ষিত এলাকা অরক্ষিত- জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা– :নিরাপত্তাবেষ্টনী ভাঙা : অনায়াসে চলছে অনুপ্রবেশ by হারুন আল রশীদ

(নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে যাওয়ায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে সংরক্ষিত জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা। সম্প্রতি তোলা ছবি l সাবিনা ইয়াসমিন) জাতীয় সংসদ ভবন সংরক্ষিত এলাকা। সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষেধ। কিন্তু সংরক্ষিত ওই এলাকায় এখন যে কেউ যেকোনো সময় ঢুকতে পারেন বিনা বাধায়। সেখানে গেলেই ওই এলাকা অরক্ষিত থাকার এ দৃশ্য দেখা যায়। কারণ সংসদ ভবন এলাকার নিরাপত্তার জন্য দেওয়া সীমানাবেষ্টনীর অনেক অংশই ভাঙা বা উপড়ে পড়ে রয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে এ অবস্থা। বেষ্টনী না থাকা এসব অংশ দিয়ে অনাহুত লোকজন হরহামেশা ভেতরে ঢুকছে, বের হচ্ছে। ফটক থেকে দূরে হওয়ায় ফটকে থাকা প্রহরীদের পক্ষেও এই অনুপ্রবেশ ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে এই এলাকা নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে মনে করেন সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা এবং ওই এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে নিযুক্ত ব্যক্তিরা। সংসদ সচিবালয়ের সূত্র জানায়, ভাঙা বেষ্টনী ঠিক করার জন্য গত এক বছরে সংসদ ভবন এবং ওই এলাকার তত্ত্বাবধানকারী গণপূর্ত বিভাগকে দুই দফায় চিঠি দেওয়া হলেও তা মেরামত করা হয়নি।
রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত এলাকা সংসদ ভবনে ঢোকার জন্য তিন দিকে তিনটি প্রবেশপথ (ফটক) রয়েছে। এগুলোতে নিরাপত্তারক্ষীরাও রয়েছেন। তিনটি ফটক ছাড়া বাকি অংশ ছিল লোহার বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা। কিন্তু ওই বেষ্টনীর বেশির ভাগ অংশ ভেঙে গেছে। সীমানাপ্রাচীর করার জন্য কিছু অংশ উপড়ে রাখা হয়েছে। এক বছর ধরে বেষ্টনী রক্ষণাবেক্ষণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বেষ্টনী না থাকা অরক্ষিত এসব অংশ রয়েছে পশ্চিম, পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে।
গত বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি কলস ও বালতি নিয়ে মাটিতে নুয়ে থাকা বেষ্টনী পার হয়ে বাইরে আসছেন। কিছুক্ষণ পর পর ওই পথ দিয়ে জারিকেনসহ বিভিন্ন পাত্র নিয়ে কয়েকজনকে আসতে দেখা গেল। কথা বলে জানা গেল, তাঁরা ওই এলাকায় ফুটপাতে চটপটি, ফুচকাসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রি করেন। প্রয়োজনীয় পানি আনেন সংসদ ভবনের আসাদগেটসংলগ্ন ফটকের দক্ষিণ দিকের পানির পাম্প থেকে। প্রতিদিনই তাঁরা এভাবে পানি আনেন। এ ছাড়া ভেতরে সবুজ চত্বরে কম বয়সী কয়েকজনকে বসে থাকতে বা আড্ডা দিতে দেখা গেল।
পূর্ব দিকের বেশির ভাগ জায়গায় ২০১৩ সালে প্রাচীর করার জন্য বেষ্টনী উপড়ে ফেলা হয়। সেখানে প্রতি পাঁচ ফুট অন্তর একটি করে পিলার করার জন্য গর্ত করা হয়েছে। একই জায়গায় ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ মেট্রোরেলের পথ তৈরির জন্য বেষ্টনীর পাঁচ ফুট ভেতরে মাটি পরীক্ষার কাজ করছে। এ জন্যও বেশ কিছু গর্ত করা হয়েছে।
নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদ ভবন এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে যখন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়, তখন অনেকে বেষ্টনীর ভাঙা অংশ দিয়ে ঢুকে পড়েন। এঁদের বেশির ভাগই মন্ত্রী-সাংসদদের সাক্ষাৎপ্রার্থী।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে সংসদ ভবন এলাকার লোহার বেষ্টনী সরিয়ে প্রাচীর করার সিদ্ধান্ত হয়। ওই বছরের শেষ দিকে কাজ শুরুও হয়েছিল। কিন্তু পরিবেশবাদীদের আপত্তির মুখে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিবেশবাদীরা দাবি করেন, প্রাচীর দিয়ে বিশ্বের অন্যতম এই স্থাপত্য নিদর্শনকে চোখের আড়াল করা যাবে না। এতে এর স্থাপত্যমান নষ্ট হবে।
সংসদ সচিবালয় এরপর ভারত, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডাসহ কয়েকটি দেশের আইন সভা ভবনের নকশা যাচাই করে বেষ্টনী তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আড়াই ফুট উঁচু প্রাচীরের ওপর থাকবে ছয় ফুট উঁচু ইস্পাতের গ্রিল। গত সপ্তাহ থেকে আসাদগেটসংলগ্ন পশ্চিম পাশে এই বেষ্টনী তৈরি শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, নতুন বেষ্টনী তৈরি করতে সময় লাগবে। কিন্তু তা হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তাবেষ্টনী থাকবে না, তা হতে পারে না। যেসব গর্ত করা হয়েছে, তার কারণে পথচারীরা দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারেন। সে জন্যই সাময়িকভাবে হলেও আগের বেষ্টনী মেরামত করা উচিত।
সংসদ ভবনে গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল মোমেন চৌধুরীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, সংসদ ভবন এলাকার পরিধি ১৪ হাজার ৩৩৫ ফুট। এতে বেষ্টনী তৈরি করতে কম-বেশি এক বছর লাগতে পারে। মেট্রোরেলের মাটি পরীক্ষার কাজ চলছে বলে পূর্ব পাশে বেষ্টনী মেরামত করা যাচ্ছে না।

প্রকৃতি- নগরে বিদেশি মেহমান! by সুমনকুমার দাশ

(শীতের পাখির কলরবে মুখর সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল এলাকা। গত বৃহস্পতিবার ছবিটি তুলেছেন আনিছ মাহমুদ) ‘আমাদের জীবন পাখিদের মতো নয়’ বলে আফসোস করেছিলেন কবি জীবনানন্দ দাশ। তাঁর ইচ্ছে ছিল আপন মনে ‘মাঘের নীল আকাশে’ উড়ে চলবেন। কবির কল্পনা বাস্তবে রূপ না পেলেও পাখিদের ওড়াউড়ি কিন্তু থেমে নেই। এই মাঘে, এই হাড়কাঁপানো শীতে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে আসা পাখির ঝাঁক উড়ছে আকাশজুড়ে। বিলে-ঝিলে-গাছে-ডালে-রং-বেরঙের পাখিদের সে কী কিচিরমিচির! মাস খানেক ধরেই এ দৃশ্য চোখে পড়ছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল এলাকা-লাগোয়া জলাশয়গুলোতে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, হাজারো পাখি কিচিরমিচির রবে চারপাশ মুখর করে রেখেছে। বাসা-বাড়ির ছাদ, উঠান থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপনের জন্য সাঁটানো বিলবোর্ড—সব খানেই পাখিদের নির্বিঘ্ন ওড়াউড়ি। খাবারের খোঁজে এসব পাখি বাড়ির পাশের জলাশয়, বিল-ঝিল, পরিত্যক্ত জায়গা ও ডোবায় অনুসন্ধান করছে। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, তীব্র শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে সাইবেরিয়া থেকে নানা জাতের পাখি উড়ে এসে চণ্ডীপুল এলাকার নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজসংলগ্ন জলাশয়ে অস্থায়ী বসতি গেড়েছে। এসব পাখির মধ্যে হাঁস-জাতীয় প্রজাতির আধিক্যই বেশি। শিকারিরা যেন বিদেশি ‘অতিথি’ এসব পাখির উপদ্রব করতে না পারে, সে জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের মতো করে নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখভাল করছেন।
নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক তাহের উদ্দিন বলেন, পাখিদের অস্থায়ী আবাস শহরের ঠিক লাগোয়া জলাশয়ে হওয়ায় অনেকেই পাখি দেখতে নিয়মিত ভিড় করছেন। পাখিরা স্থানটিকে নিরাপদ মনে করেছে বলেই এখানে আশ্রয় নিয়েছে। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলে পাখির কিচিরমিচির শব্দে আশপাশের এলাকার পরিবেশটাই মধুর হেয় পড়ে।
আবাসনের চাপে পিষ্ট ইট-পাথরের সিলেট নগরে উন্মুক্ত স্থান দিনে দিনে ক্রমশই সংকুচিত হচ্ছে। এ অবস্থায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাঁ পাশে কয়েক একর বিস্তৃত উন্মুক্ত জলাশয় রয়েছে। আশপাশের বাড়িঘরের ফাঁকে ফাঁকেও রয়েছে ডোবা-বিল-ঝিল। তিন বছর ধরে নিয়মিত শীতের পাখিরা এই উন্মুক্ত স্থানে কয়েক মাসের জন্য অস্থায়ী বসতি তৈরি করছে।
চণ্ডীপুল এলাকার ব্যবসায়ী আবুল বাশার বলেন, পাখি শিকারিরা তৎপর থাকে এখানে। সুযোগ পেলেই ওরা ফাঁদে পাখিদের আটকাতে চায়। তবে এলাকার সচেতন মানুষের বাধার কারণে শিকারিরা সেটা খুব একটা করে উঠতে পারে না। তবে শিকারিদের হাত থেকে পাখিদের রক্ষা করতে পর্যাপ্ত নজরদারি প্রয়োজন। এটি সম্ভব হলে প্রতিবছরই এখানে পাখি আসবে। এমনকি আশপাশের জলাশয়গুলোতেও পাখিদের অবাধ বিচরণের বিষয়টি নিশ্চিত হবে।
নগরের প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে শীতের পাখির আগমনের বিষয়টি মোটামুটিভাবে প্রচারিত হয়ে গেছে। এ খবরটি নগরবাসীর জীবনযাপনে অন্য এক ধরনের প্রাণচাঞ্চল্য ও আমেজের জন্ম দিয়েছে। কারণ, অনেকেই এখন সকাল কিংবা বিকেলে দলবেঁধে পাখি দেখতে চণ্ডীপুল এলাকায় যাচ্ছেন। কেউ কেউ পাখির সঙ্গে সেলফিও তুলছেন। মানুষের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় পাখিদের স্থান ত্যাগের আশঙ্কা করছেন পরিবেশপ্রেমীরা। তাঁদের ভাষ্য, দর্শনার্থীদের এমন কিছুই করা উচিত নয়, যা থেকে পাখিরা জলাশয়টি অনিরাপদ ভাবতে শুরু করে দেয়।
সকাল থেকে বিকেল। এরপর হিমসন্ধ্যা শরীরে জড়িয়ে আসে শীতের রাত। তবুও থামে না পাখিদের কলরব। এ যেন জীবনানন্দের কবিতার সেই পঙ্ক্তির মতোই—‘রাত আরো বাড়িতেছে—এক সারি রাজহাঁস চুপে চুপে চ’লে যায় তাই,/এই শান্ত রাত্রিময় পৃথিবীরে ইহাদের পালকের নরম ধবল/তুলি দিয়ে আঁকে এরা—পৃথিবীতে এই বিজনতা যেন কোনোখানে নাই।’

অব্যবস্থাপনা ও যানজটে নাকাল- মগবাজার-মৌচাক উড়ালসড়ক by অরূপ দত্ত

(মৌচাক এলাকার এই ছবিটি দেখে সহজেই বোঝা যায় নগরবাসীর ভোগান্তি l ছবি: সাহাদাত পারভেজ) যেখানেই কাজ চলছে, সেখানেই অব্যবস্থাপনা আর সমন্বয়হীনতা। নির্মাণস্থলের বাইরেও রাস্তায় ছড়িয়ে রাখা হয়েছে পরিত্যক্ত নির্মাণসামগ্রী। অনেক স্থানে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। ধুলা ও কাদামটিতে সয়লাব প্রকল্প এলাকার রাস্তাঘাট। মগবাজার-মৌচাক উড়ালসড়ক এলাকাস্থল ঘুরে এমন অবস্থা দেখা গেছে। টানা অবরোধ কর্মসূচির কারণে রাজধানীতে যানবাহন সীমিত থাকলেও গতকাল রোববার প্রকল্প এলাকায় ছিল দীর্ঘ যানজট। বিকেল চারটার দিকে দেখা যায়, মগবাজার রেলক্রসিং থেকে তেজগাঁও সাতরাস্তা পর্যন্ত যানবাহন স্থবির হয়ে আছে। মৌচাক মোড় এলাকায় দিনভরই যানজট ছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান ভূঁইয়া গতকাল বেলা একটার দিকে ঘটনাস্থলে ছিলেন। তিনি বলেন, অবরোধের মধ্যে এমন যানজট ভাবা যায় না। এ অবস্থায় নির্মাণকাজ চালাতে হচ্ছে। অবরোধের আগে ৩ জানুয়ারি বিকেলেও ছিল একই অবস্থা। কাকরাইল রাজমণি মোড় থেকে পশ্চিম বরাবর প্রধান বিচারপতির বাসভবন ছাড়িয়ে রমনা পার্ক, সেখান থেকে হোটেল কন্টিনেন্টাল এলাকায় যানবাহনের চলাচল ছিল শম্বুকগতিতে। শাহবাগ মোড় থেকে বাংলামোটর, সোনারগাঁও মোড় সিগন্যালে গাড়ি আটকে আছে। কাকরাইল মোড় ও বেইলি রোড থেকে রমনা থানার পাশ দিয়ে মগবাজার মোড় হয়ে বাংলামোটর, তেজগাঁও এবং সোনারগাঁও মাড়ে যাওয়া যায়। সে জন্য কিছু গাড়ি শহীদ মনসুর আলী সড়ক ব্যবহার করছিল। কিন্তু সেই পথে আরও ভয়াবহ অবস্থা। কাকরাইলের দিক থেকে আসা গাড়িগুলো আটকে আছে পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের কাছে। সেখান থেকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত পুরো রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে। রাস্তার ওপর মাটির স্তূপ, পড়ে আছে ব্লকের অংশ, অগোছালো রড। মগবাজার রেলক্রসিং দিয়ে ট্রেন চলে গেছে, তার পরও লেভেল ক্রসিংয়ের গেট উঠছে না। লাইনম্যান আবদুর রহিম এই প্রতিবেদককে বলেন, বতর্মানে এমন অবস্থা চলছে যে সার্বক্ষণিক সতর্ক থেকেও উপায় নেই। যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
দেখা গেল, উত্তর দিক বরাবর তেজগাঁওয়ের দিকে কিছু পিলারের গর্ত খোঁড়া হচ্ছে। কয়েকটি পিলার আগেই দাঁড়িয়ে গেছে। টঙ্গী ডাইভারশন রোডে ৩৭, ৩৮, ৩৯ নম্বর স্তম্ভের (পিলার) কাজ শেষ। ৪৬ নম্বরসহ আশপাশের স্তম্ভগুলোতে টিনের ঘেরাও দেওয়া। এর পরই এফডিসির মোড়। সেখানে দীর্ঘ যানজট। দিনে-রাতে যেকোনো সময়ে। কারণ ওই স্থানে হাতিরঝিলে ঢোকা ও বেরোনোর পথ। স্থানীয় একটি তালাচাবির দোকানি আবদুর রশীদ বলেন, মাঝে মাঝে হাতিরঝিলের প্রবেশপথ থেকে ভেতরে অন্তত এক কিলোমিটার পথ অবরুদ্ধ থাকে শুধু উড়ালসড়ক নির্মাণস্থলে অব্যবস্থাপনার কারণে।
পয়োবর্জ্য, পথের ওপর বাজার: মগবাজার মোড় থেকে পশ্চিম দিকে নিউ ইস্কাটন বরাবর ২৪৪ থেকে ২৬৫ নম্বর স্তম্ভ। প্রায় দুই বছর ধরে এখানে কাজ চলছে। স্তম্ভ নির্মাণের কাজ শেষ। কিন্তু আশপাশের দোকানপাট, পথচারীদের দুর্ভোগ শেষ হয়নি। এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ২৪৭ থেকে ২৪৯ নম্বর স্তম্ভ পর্যন্ত দক্ষিণ অংশের রাস্তায় পয়োবর্জ্যের পানিতে ভরে গেছে। সেই বর্জ্য মাড়িয়ে চলতে হচ্ছে ইস্কাটন গার্ডেনের বাসিন্দা ছাড়াও অন্য পথচারীদের। নাসিমা ম্যানশন বিপণিবিতানের মোটর সরঞ্জামের দোকানিরা সার্বক্ষণিকভাবে নাকে মাস্ক পরে আছেন। আবদুল জলিল নামের এক দোকানি বলেন, দ্রুতগতিতে কোনো গাড়ি যাওয়ার সময় রাস্তায় জমে থাকা পয়োবর্জ্যের পানি দোকানে এসে পড়ে। যার জন্য সামনের দোকানগুলোর শাটারের অর্ধেকেরও বেশি অংশ বন্ধ রেখে কাজ চালানো হচ্ছিল।
২৫৩ নম্বর স্তম্ভের কাছে ওষুধের দোকান মো. আক্কাসের। তিনি বললেন, টানা দুই বছর ‘ধুলার দিনে ধুলা খাই, কাদার দিনে কাদা খাই’। তিনি বলেন, উন্নয়নকাজ করছে ভালো কথা, কিন্তু রাস্তায় ইট-সুরকি না রেখে চলাচলের ব্যবস্থা রাখলে সমস্যা কোথায়। একেই রাস্তায় চলা যায় না, তার ওপর পশ্চিম দিক বরাবর দিলু রোডের মুখে কাঁচাবাজার বসানো হয়েছে। এতে চলাফেরায় আরও সমস্যা।
প্রকল্প পরিচালক নাজমুল আলম বলেন, কাঁচাবাজারটি উঠিয়ে দেওয়ার জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে (ডিএসসিসি) কয়েক দফায় অনুরোধ জানানো হয়েছে। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনসার আলী খান এ বিষয়ে বলেন, করপোরেশন থেকে এ ধরনের বাজার উঠিয়ে দিলে তাৎক্ষণিকভাবে আবার বসে যায়। এর জন্য নাগরিক সচেতনতা দরকার।
মৌচাক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টি না হলেও বিশাল গর্তজুড়ে পানি জমে আছে। ভাঙা রাস্তা আরও ভেঙে পড়েছে। ওই এলাকা ছাড়াও মগবাজার এলাকায় ঢাকা ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের ড্রেনেজব্যবস্থা বন্ধ হয়ে আছে। পয়োবর্জ্য ও গৃহস্থালির বর্জ্য একাকার হয়ে গেছে।
জানতে চাইলে ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এ ডি এম কামরুল আলম চৌধুরী বলেন, উড়ালসড়ক নির্মাণের কারণেই তাঁদের এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মাটি, বালু, সুরকি দিয়ে নর্দমা ভরাট করে ফেলা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের নর্দমা ভরাট হলে ওয়াসার ড্রেনেজ লাইনও বন্ধ হয়ে যায়। করপোরেশন সেগুলো পরিষ্কার করে না।
সেবা সংস্থার তারের বেড়াজাল: দীর্ঘ এই উড়ালসড়ক এলাকার মাটির নিচে জালের মতো ছড়িয়ে আছে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস এবং টেলিফোন লাইন। প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, মাটির নিচের বিদ্যুৎলাইন বা কেব্ল সরানোর জন্য ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে (ডিপিডিসি) বলার পর তারা দুই বছর সময় চেয়েছিল। ওয়াসাসহ অন্য সংস্থাগুলোও এ ধরনের সময় চায়। এ ছাড়া তার বা পাইপ সরিয়ে নেওয়ার জন্য দাবি করা হয় অস্বাভাবিক ক্ষতিপূরণ। প্রকল্প পরিচালক বলেন, এটা করতে হলে প্রকল্পের নির্মাণ সময় অনেক পিছিয়ে যেত।
তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান ভূঁইয়া বলেন, মাটির নিচে কাজ করতে হয়েছে বিভিন্ন ঝুঁকি নিয়ে। মানিকনগর-উলন ১৩২ কেভি বৈদ্যুতিক লাইন চলে গেছে মৌচাক-মগবাজার হয়ে ধানমন্ডি।