Wednesday, June 19, 2019

পুনরায় নির্বাচনে লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ট্রাম্পের

পুনরায় নির্বাচন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আরো চার বছরের জন্য তাঁকে নির্বাচিত করতে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে লাখো সমর্থকের জনসভায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে নিজের যুক্তি তুলে ধরেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি ফ্লোরিডাকে নিজের ‘সেকেন্ড হোম’ বলেও উল্লেখ করেন।
নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ডেমোক্র্যাটদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা তো নিজের দেশকেই ছিন্নভিন্ন করছেন।’
গত নির্বাচনে ট্রাম্পের নির্বাচনী স্লোগান ছিল ‘আমেরিকাকে আবারও মহান করে তুলুন’। সেই স্লোগানের রেশ ধরে ট্রাম্প গতকাল মঙ্গলবার রাতে অরল্যান্ডোর জনসভায় বলেন, ‘আমরা আমেরিকাকে আবারও মহান করব।’
গত নির্বাচনের সময় নিজের প্রথম নির্বাচনী জনসভার কথা স্মরণ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে একটি ভেঙে পড়া রাজনৈতিক অবস্থানকে পুনরুজ্জীবিত করে জনগণের নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য সরকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছি।’
ট্রাম্প আরো বলেন, ‘যত দিন আপনারা এই সরকারকে ক্ষমতায় রাখবেন, আমরা তরতর করে সামনে এগিয়ে যাব। এর আগে কখনোই আমরা সামনে এমন উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখিনি।’  
পুনরায় নির্বাচন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ঠিক আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দেশে অবৈধভাবে বসবাসরত লাখো মানুষকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। ডেমোক্র্যাটরা অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার পাঁয়তারা করছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
নির্বাচনী ঘোষণার ঠিক একদিন আগে ট্রাম্প টুইট করে জানান, যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ করা ‘লাখো অবৈধ এলিয়েনকে (ভিন গ্রহের প্রাণী)’ বিতাড়িত করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে ট্রাম্পের টুইটের ব্যাখ্যায় জানান, এ কার্যক্রমে ১০ লাখের অধিক মানুষের ওপর নজর দেওয়া হবে। তাঁদের বিষয়ে ফেডারেল আদালত চূড়ান্ত বিতাড়ন আদেশ দিয়েছেন, কিন্তু তাঁরা দেশে অবাধে রয়ে গেছেন।
অভিযান চালানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রে তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘোষণা দেওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা। ট্রাম্প প্রশাসনের কেউ কেউ মনে করেন, গণগ্রেপ্তারের মতো শক্তি প্রদর্শন করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রে আসতে চাওয়া অবৈধ অভিবাসীদের বার্তা দেবে।
সোমবার মেক্সিকোর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, তিন সপ্তাহ আগে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার ২০০ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে জড়ো হতেন। এখন তা কমে প্রায় দুই হাজার ৬০০ হয়েছে।
বর্তমানে কতটা গ্রহণযোগ্য ট্রাম্প?
মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যালাপের জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতার মাত্রা কখনোই ৪৬ শতাংশের ওপরে উঠেনি। আর গত মাসে সেটি নেমে গেছে ৪০ শতাংশে।
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নির্বাচনী জরিপ সংস্থা রাসমুসেনের জরিপ অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতার মাত্রা ৪৮ শতাংশ।
তবে পুনরায় প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ডেমোক্রেটিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বেশ পিছিয়ে আছেন ট্রাম্প। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের গণমাধ্যম হিসেবে পরিচিত ফক্স নিউজের একটি জরিপ অনুযায়ী, জো বাইডেন ও বার্নি স্যান্ডার্সের চেয়ে যথাক্রমে ১০ ও ৯ শতাংশ পিছিয়ে আছেন ট্রাম্প।
অবশ্য ট্রাম্প দাবি করছেন, ১৭টি ‘সুইং স্টেটে’ এগিয়ে আছেন তিনি।
এদিকে শোনা গেছে, আগামী বছরের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে হারছেন—এমন তথ্য ফাঁস হওয়ায় নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজন ভাড়াটে প্রচারকারীকে বরখাস্ত করেছেন ট্রাম্প।

তরুণ বয়সে হৃদরোগ হওয়ার কারণ জানালেন ডা. দেবী শেঠি

ইউরোপে হৃদরোগ হয় অবসরকালীন সময়ে। অর্থাৎ ষাট বছরের পর। আর ভারত, বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের মানুষের  হৃদরোগ হয় তরুণ বয়স থেকে। এর প্রধান কারণ জিনগত। এখানকার মানুষের জীবনধারা, খাদ্যাভাস, ধূমপান, ডায়াবেটিস হৃদরোগের জন্য দায়ী। কথাগুলো বলেছেন প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেবী প্রসাদ শেঠী।
চট্টগ্রামে ইমপেরিয়াল হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শনিবার (১৬ জুন) দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ভারতের নারায়ণা হেলথের চেয়ারম্যান শেঠী এই মন্তব্য করেন।
বক্তব্যে এবং মতবিনিময়কালে এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চট্টগ্রামে হৃদরোগের আধুনিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বলেন, ‘ইমপেরিয়াল হাসপাতালে নারায়ণা হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ দল কাজ করবে। মাঝেমধ্যে আমিও আসব। আশা করি, এখানকার মানুষ আধুনিক চিকিৎসা পাবে। বিদেশমুখীতা কমবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের চিকিৎসা পদ্ধতি অনেকটা একই উল্লেখ করে শেঠী বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থা এক। তারপরও কিছু লোক বাইরে যাচ্ছে বিকল্প ব্যবস্থার কারণে। ভারতে অনেকগুলো একই ধরনের হাসপাতাল রয়েছে। মানুষ বিকল্প বেছে নিতে পারছে। এখানে হয়তো এখনো সেভাবে বেশি বিকল্প তৈরি হয়নি।
দেবী শেঠী বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মানুষ রোগ হওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে যায়। কেন সুস্থ থাকার সময় যাবে না? সুস্থ থাকার সময়ও চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। সবকিছু পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে দেখতে হবে কতটা সুস্থ রয়েছি আমি।’

‘মাদক ব্যবসায় না জড়ানোয় জান্নাতিকে পুড়িয়ে হত্যা’

এক বছর আগে কিশোরী জান্নাতির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে শিপলুর। সেই প্রেম পরিনতি দিতে পালিয়ে বিয়েও করে তারা। কিন্তু বিয়ের পরে স্বামীর আসল রূপ ধরা পড়ে জান্নাতির কাছে। জানতে পারে, সে মাদক ব্যবসায়ে জড়িত। শুধু স্বামী নয়, বরং তার পুরো পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ এ ব্যবসা করে আসছে। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন জান্নাতিকেও মাদক ব্যবসায় নামাতে চেয়েছিলো। কিন্তু এতে সায় ছিলো না তার। বরং বিরোধীতা করেছিলো।
আর সেটাই কাল হলো ষোড়শী জান্নাতির। তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো শ্বশুরবাড়ির লোকজন। নির্মম এ ঘটনার ৪০দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জান্নাতি। জান্নাতির খুনীদের স্বীকারোক্তিতে ওঠে এসেছে হত্যার এমন লোমহর্ষক বর্ণনা।
জান্নাতি হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ৪জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নাটোর জেলার নারায়নপুর পুকুরপাড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ব্যাপারে আজ বুধবার দুপুরে নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, নিহত জান্নাতির শ্বাশুড়ি শান্তি বেগম ওরফে ফেন্সী রানী (৪৫), স্বামী সাব্বির আহামেদ শিপলু ওরফে শিবু (২৩) ননদ ফাল্গুনী বেগম (২০) ও শ্বশুর হুমায়ন মিয়া (৫০)। তারা সকলেই নরসিংদী চরহাজিপুরের খাসেরচর গ্রামের বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন (বিপিএম) বলেন, পারিবারিক মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত করদেত না পারায় জান্নাতুল ফেরদৌসি ওরফে জান্নাতিকে পুড়িয়ে হত্যা করে শশ্বড় বাড়ির লোকজন। ঘটনার দিন রাতেই ৬ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্য মতে পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল নারায়গঞ্জের রুপগঞ্জ, টঙ্গী, চাপাইনবাবগঞ্জে অভিযান পরিচালনা করে।  সেখানে না পেয়ে নাটোর জেলায় অভিযান চালালে মঙ্গলবার রাতে এজাহারভূক্ত চার আসামী মাদক ব্যাবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজই তাদের আদালতে তুলে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশ জানায়, নরসিংদী সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামের শরীফুল ইসলাম খানের দশম শ্রেণীতে পড়–য়া মেয়ে জান্নাতি আক্তার (১৬) ও আর পার্শ্ববর্তী খাসেরচর গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার ছেলে শিপলু মিয়ার মধ্যে প্রায় ১ বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এর কিছুদিন পরই পরিবারের অমতে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই জান্নাতি পরিবারের মাদক ব্যবসায়ের বিষয়টি জানতে পারে। তাকেও পারিবারিক মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত করতে শ্বাশুড়ি শান্তি বেগম ও স্বামী শিপলু চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। কিন্তুরাজি করাতে পারেনি জান্নাতিকে। এ কারণে জান্নাতির ওপর চলে কঠোর নির্যাতন। দাবি করে যৌতুকের। দাবির টাকা না দেয়া এবং মাদক ব্যবসায় না জড়ানোয় চলতি বছরের ২১শে এপ্রিল রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাশুড়ি ও স্বামী শিপলু জান্নাতির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। তাদের সহযোগিতা করে ননদ ফাল্গুনী বেগম। দগ্ধ হয়ে ছটফট করলেও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি তারা।
পরে এলাকাবাসীর চাপে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করানো হয়। দীর্ঘ ৪০ দিন মৃত্যু যন্ত্রণার পর গত ৩০শে মে ঢামেকের বার্ন ইউনিটে মারা যায় সে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা শরিফুল ইসলাম গত ১৫ই জুন নরসিংদি সদর মডেল থানায় বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

লোহার খনি আবিষ্কার, ৪০০ ফুট পুরুত্বের আকরিকের সন্ধান : বিপুল মজুদের অস্তিত্ব

দেশে এই প্রথমবারের মতো উন্নত মানের লোহার আকরিকের (ম্যাগনেটাইট) খনি আবিষ্কার করা হয়েছে। দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার ইসবপুর গ্রামে এই খনি আবিষ্কার হয়েছে। বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) কর্মকর্তারা দুই মাস ধরে কূপ খনন করে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আজ মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তারা জানান, ভূগর্ভের ১ হাজার ৭৫০ ফুট নিচে ৪০০ ফুট পুরুত্বের লোহার আকরিকের একটি স্তর পাওয়া গেছে। যা দেশের জন্য একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা এবং বাংলাদেশে প্রথম আবিষ্কার। খনিটি ৬ থেকে ১০ বর্গ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে স্বর্ণের অস্তিত্বের পাশাপাশি কপার, নিকেল ও ক্রোমিয়ামেরও উপস্থিতি রয়েছে। ১ হাজার ১৫০ ফুট গভীরতায় চুনাপাথরের সন্ধানও মিলেছে। সব মিলে নতুন আবিস্কৃত এই খনিতে বিপুল মজুদের অস্তিত্ব রয়েছে। টাকার অঙ্কে যার হিসাব এখনও করা সম্ভব হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, নব্য আবিস্কৃত এই খনি থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার খনিজ সম্পদ আহরণ করা অসম্ভব নয়।
খনন কাজে নিয়োজিত জিএসবির উপপরিচালক মোহাম্মদ মাসুম গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বলেন, বিশ্বের যে কয়েকটি দেশে লোহার খনি আবিষ্কার করা হয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশের আকরিকে লোহার শতাংশ ৬৫-এর ওপরে। কানাডা, চীন, ব্রাজিল, সুইডেন ও অষ্ট্রেলিয়ার খনির লোহার মান ৫০ শতাংশের নিচে। আবিস্কৃত খনি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে জয়পুরহাটে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) পরীক্ষাগারে পরীক্ষার পর এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, খনিটির ব্যাপ্তি ৬-১০ বর্গ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে স্বর্ণের অস্তিত্বের পাশাপাশি কপার, নিকেল ও ক্রোমিয়ামেরও উপস্থিতি রয়েছে। ১ হাজার ১৫০ ফুট গভীরতায় চুনাপাথরের সন্ধানও মিলেছে।
তিনি জানান, জিএসবি ২০১৩ সালে ইসবপুর গ্রামের ৩ কিলোমিটার পূর্বে মুশিদপুর এলাকায় কূপ খনন করে খনিজ পদার্থের সন্ধান পেয়েছিল। সেই গবেষণার সূত্র ধরে চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল থেকে ইসবপুরে কূপ খনন শুরু করা হয়। এরপর ১ হাজার ৩৮০ থেকে দেড় হাজার ফুট গভীরতা পর্যন্ত খননকালে আশার আলো দেখা যায়। এ খবর পেয়ে ২৬ মে জিএসবির মহাপরিচালক জিল্লুর রহমান চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখানে পরিদর্শনে আসেন।
তখন জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের সুখবর না দিলেও লোহার খনি আবিষ্কার হতে চলেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এ অঞ্চলটি ৬০ কোটি বছর আগে সমুদ্র ছিল। সেই কারণে এখানে জমাট বাঁধা আদি শিলার ভেতরে লোহার আকরিকের এ সন্ধান পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাকিমপুর উপজেলা সদর থেকে ১১ কিলোমিটার পূর্বের গ্রাম ইসবপুরের কৃষক ইছাহাক আলীর কাছ থেকে ৫০ শতক জমি ৪ মাসের জন্য ৪৫ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে খনিজ পদার্থের অনুসন্ধানে কূপ খনন শুরু করেছিল ভূ-তাত্তি¡ক জরিপ অধিদফতর। ২০১৩ সালে এ গ্রামের ৩ কিলোমিটার পূর্বে মুশিদপুর এলাকায় কূপ খনন করে খনিজ পদার্থের সন্ধান পেয়েছিল। সেই গবেষণার সূত্রধরে দীর্ঘ ৬ বছর পর চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল থেকে ইসবপুর গ্রামে কূপ খনন শুরু করা হয়। এরপর ১৩৮০-১৫০০ ফুট গভীরতা পর্যন্ত খননকালে সেখানে আশার আলো দেখতে পাওয়া যায়। এ খবর পেয়ে গত ২৬ মে জিএসবি’র মহাপরিচালক জিল্লুর রহমান চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান। এসময় মহাপরিচালক সাংবাদিকদের সুখবর না দিলেও লোহার খনি আবিষ্কার হতে চলেছে এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। অবশেষে দীর্ঘ চেষ্টার ফলে ১৭৫০ ফুট গভীরতা খনন করে লোহার খনির আবিষ্কার করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ৪০০ ফুট পুরুত্বের লোহার আকরিকের এ স্তরটি পাওয়া গেছে।
জিএসবি’র উপ-পরিচালক (ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ার) মাসুদ রানা জানান, গত ১৯ এপ্রিল থেকে ইসবপুর গ্রামে কূপ খনন শুরু করা হয়। ৩০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ একটি দল ৩ শিফটে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
ইসবপুর গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, আমরা জানতে পারলাম এখানে লোহার খনি পাওয়া গেছে। এখান থেকে লোহা উত্তোলন করা হলে এখানকার মানুষের জীবনমান পাল্টে যাবে। কর্মসংস্থান হবে এখানকার মানুষদের। দেশের জন্যও লাভজনক হবে। এমনই আশায় বুক বাঁধছেন এখানকার সর্বস্তরের মানুষ। তাই গুরুত্ব বিবেচনায় সরকারের কাছে খনি বাস্তবায়নে জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

খালেদা জিয়ার মুক্তিতে বাধা দুই মামলা by মঈন উদ্দিন খান ও হাবিবুর রহমান

নতুন করে আইনি কোনো বাধা তৈরি না হলে আর দুটি মামলায় জামিন পেলেই মুক্তি পাবেন ১৬ মাস ধরে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এমন আশার কথা জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলেছেন, চলতি মাসের শেষে জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট সংক্রান্ত ওই দুইটি মামলায় পর্যায়ক্রমে জামিন শুনানি হবে। আইনি প্রক্রিয়া যথানিয়মে চললে দুই মাসের মধ্যেই জামিনে মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে আসবেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বেগম খালেদা জিয়ার সিনিয়র আইনজীবী ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নয়া দিগন্তকে বলেছেন, জিয়া চ্যারিটেবল মামলাটি হাইকোর্ট ডিভিশনে রয়েছে। ৩০ জুনের পরে এই মামলার শুনানি হবে। আদালত সময় বেঁধে দিয়ে এই মামলার নথি তলব করেছিলেন আর ১২ দিন পরেই সেই সময় শেষ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, এর মধ্যে নথি আসুক আর না-ই আসুক, তারা জামিন শুনানি করবেন।
মওদুদ আহমদ জানান গতকালই তারা জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় জামিন শুনানির জন্য পিটিশন দিয়েছিলেন কিন্তু আদালত তাদের বলেছেন, নথি চেয়ে যে আদেশ আদালত দিয়েছেন তার সময় প্রায় শেষ হয়ে আসছে। এরপরই শুনানি হবে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের বছর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের সাজা পেয়ে কারাগারে যান খালেদা জিয়া। কারাগারে যাওয়ার মাসখানেকের মাথায় এই মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও তার বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলা মুক্তির পথে বাধ সাধে। একটি মামলায় জামিন পেলে আরেকটি মামলা সামনে এসে দাঁড়ায়। এভাবেই কেটে গেছে কারাবন্দীর ১৬ মাস।
আইনজীবীরী জানান, বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা রয়েছে। দুইটি মামলা ছাড়া এখন সব মামলায়ই তিনি জামিনে রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সর্বশেষ মানহানি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মওদুদ আহমদ নয়া দিগন্তকে আরো জানিয়েছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি আপিল বিভাগে রয়েছে। এই মামলায় তিনি জামিন পেয়েছিলেন কিন্তু আদালত তার সাজা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেছেন। ৩০ জুনের পর জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় তার জামিন শুনানি হবে। এটি শেষ হলে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন চাওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকারের তরফ থেকে কোনো জটিলতা সৃষ্টি করা না হলে আগামী দুই-আড়াই মাসের মধ্যেই আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি পাবেন বেগম খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নয়া দিগন্তকে বলেন, খালেদা জিয়া সরকারের রাজনৈতিক রোষানলের শিকার। যে মামলায় তিনি কারাবন্দী রয়েছেন, সেই মামলায় তিনি এক মাসের মাথায়ই জামিন পেয়েছিলেন। অর্থাৎ তখনই তার মুক্তি পাওয়ার কথা, কিন্তু সরকারই তাকে একটির পর একটি মামলায় জড়িয়ে মুক্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, সরকার যদি হস্তক্ষেপ না করে তাহলে বেগম জিয়া শিগগিরই মুক্তি পাবেন।
বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে বিএনপির প্রত্যেক নেতাকর্মী। দলীয় প্রধানের মুক্তির দাবিতে বড় কোনো আন্দোলন গড়ে না উঠলেও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি চলছে থেমে থেমে। বিএনপির হাইকমান্ড নতুন করে কর্মসূচি দেয়ার কথা ভাবছে। গতকাল দুইটি মামলায় জামিন হওয়ায় নেতাকর্মীরা তাদের নেত্রী শিগগিরই মুক্তি পাবেন, এমন আশায় বুক বেঁধেছেন।
খালেদা জিয়া বর্তমানে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে- সরকার গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা এমন দাবি করলেও বিএনপি বারবার বলে আসছে, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা মোটেও ভালো নয়। বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার দাবি তাদের।
মানহানির দুই মামলায় জামিন : গতকাল মানহানি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ উভয় মামলায় তাকে ছয় মাস করে জামিন দেন।
আদালতের আদেশের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বিভিন্ন মামলা দিয়ে কী করে আরো বেশি দিন জেলখানায় রাখা যায় সে ব্যবস্থা সরকার করেছে। যে দু’টি মামলা আজ হাইকোর্ট পর্যন্ত এসেছে, তা হাইকোর্ট পর্যন্ত আসার কথা নয়। এসবই মামুলি মামলা। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আছে জামিনযোগ্য মামলা যদি হয় তাহলে জামিন দিতে বাধ্য আদালত। কিন্তু তারপরও দেয়া হয়নি রাজনৈতিক প্রভাবে। এসব আমরা জানি। আজ দুটো মামলাতেই ছয় মাসের জামিন দেয়া হয়েছে। এ আদেশ আমাদের জন্য সহায়ক হবে।
মানহানির এই দুই মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী। আদালতে জামিন আবেদন দায়ের করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। গতকাল আদেশের সময় আইনজীবী হিসেবে আদালতে ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, জয়নুল আবেদীন, এইচ এম কামরুজ্জামান মামুন, ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, আইয়ুব আলী আশ্রাফী, আনিসুর রহমান খান, এ কে এম এহসানুর রহমান প্রমুখ। অন্য দিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফজলুর রহমান খান। এর আগে সোমবার মানহানির দুই মামলায় জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণ করে মঙ্গলবার আদেশের দিন ধার্য করেন আদালত।
২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে এই দুইটি মামলা করা হয়। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির এ মামলা করেন। এ মামলায় গত ২০ মার্চ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ অবস্থায় ওই দুই মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়। গত ২২ মে রাষ্ট্রপক্ষ সময় বাড়ানোর আবেদন করলে শুনানির জন্য ১৭ জুন দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।
গ্যাটকো মামলার শুনানি ১৫ জুলাই : বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার চার্জ গঠনের বিষয়ে শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ১৫ জুলাই ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে নবনির্মিত ২ নম্বর ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেনের আদালত আসামিপক্ষের সময় আবেদন মঞ্জুর করে এ তারিখ ঠিক করেন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কারা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে খালেদা জিয়ার এখনো অসুস্থ, তার চিকিৎসা চলমান। এই অবস্থায় তাকে হাসপাতাল থেকে জেলখানায় পাঠানো সম্ভব হলো না। সিনিয়র জেল সুপার চিঠি লিখে আদালতকে এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আগামী ১৫ জুলাই শুনানির পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।
২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী চার দলীয় জোট সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় এ মামলা করেন। মামলার পরদিন খালেদা জিয়া ও কোকোকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেছেন। মামলার ২৪ আসামির মধ্যে ছয়জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, এম কে আনোয়ার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আহমেদ আবুল কাশেম এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো।

ঢাবি ছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ, অত:পর...

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ এবং ব্ল্যাকমেইল করে ল্যাপটপসহ লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আব্দুল হাই ওরফে রাজু (২৬) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী কালিগঞ্জ উপজেলার মেয়ে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ  বর্ষের ওই ছাত্রী নিজেই থানায় এজাহার দেন। এরপর মঙ্গলবার সকালে থানার উপ-পরিদর্শক সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাজুকে আটক করেন। সে উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের বাজার গ্রাম রহিমপুর গ্রামের শেখ রওশান আলীর ছেলে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মাস পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রীর একবন্ধু উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের কলিযোগা গ্রামের সিদ্দিক ঢালীর ছেলে রোকনুজ্জামান (২৫) ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। সে সময় অসুস্থ বন্ধুকে দেখতে গেলে আব্দুল হাই ওরফে রাজুর সাথে পরিচয় হয় ওই ছাত্রীর। পরবর্তীতে রাজু ওই ছাত্রীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তার সাথে কথা বলতে থাকে। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ও রাজু তাদের অসুস্থ বন্ধু রোকনুজ্জামানের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ব্যাক্তি/প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য গ্রহণ করতে থাকে। এভাবেই তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে।
সেই সুযোগে গত ১৪ এপ্রিল ওই ছাত্রী ঢাকা থেকে বাস যোগে বাড়ি আসার পথিমধ্যে রাজু ওই ছাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে নলতায় তার এক অজ্ঞাত বোনের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে রাজু ওই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দিলে সে রাজি না হওয়ায় তাকে মারপিট করে।
একপর্যায়ে রাত ১০ টার দিকে রাজু ধারালো চাকু দেখিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে।
পরের দিন ওই ছাত্রী বাড়িতে আসার পর রাজু তাকে মোবাইলের মাধ্যমে হুমকি দিয়ে বলে এ ব্যাপারে কাউকে কিছু বললে সে এই ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে। মানসম্মানের ভয়ে ওই ছাত্রী এসব ঘটনা কাউকে কিছু বলেনি। পরবর্তীতে রাজু ধারণকৃত ভিডিও চিত্র দিয়ে ব্ল্যাকমেইল শুরু করে। এ পর্যন্ত সে ব্ল্যাকমেইল করে এক লাখ সত্তর হাজার টাকা এবং একটি ল্যাপটপ হাতিয়ে নিয়েছে বলে এজাহার সূত্রে জানা যায়।
সর্বশেষ গত ২২ মে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে রাজু তার ব্যবহৃত নম্বর থেকে ওই ছাত্রীর ফোন নম্বরে ফোন করে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করে। অবশেষে ওই ছাত্রী বিষয়টি তার পরিবারকে জানিয়ে সোমবার থানায় এজাহার দায়ের করেন।
ঘটনার সতত্য স্বীকার করে থানার পরিদর্শক (তদন্ত এসএম আজিজুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইল করে ল্যাপটপসহ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাজুকে আটক করে ব্ল্যাকমেইল করে নেওয়া ল্যাপটপটি উদ্ধার করেছে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

অমিত মুহুরীর জিন সৌরভের ঘাড়ে! জবাব খুঁজতে মাঠে সোহেল তাজ by আবু আজাদ

বিশ্বায়নের এই যুগে কেউ জিন-ভূতে বিশ্বাস করুক আর না করুক আপাতত চট্টগ্রামের মানুষকে তা নিয়ে ভাবতেই হচ্ছে। কারাগারের ভেতর যুবলীগ ক্যাডার অমিত মুহুরী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত কারাবন্দি রিপন নাথ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আদালতকে জানিয়েছিলেন, ‘জিনের ভয়ে’ অমিত মুহুরীকে খুন করেছেন তিনি! সেই রেশ কাটতে না কাটতে আবারও জিন ভর করেছে বন্দরনগরীতে। এবার সোহেল তাজের ভাগ্নে সৌরভ নিখোঁজের ঘটনাতেও আলোচনায় ‘জিন তত্ত্ব’!
এই যখন বন্দরনগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি- তখন থানায় অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা, সংবাদ সম্মেলনের পরে মামাতো বোনের ছেলে (ভাগ্নে) সৈয়দ ইফতেখার আলম প্রকাশ সৌরভ নিখোঁজের ঘটনায় নিজেই মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ।
মঙ্গলবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এ ঘোষণা দেন। এ সময় সোহেল তাজের সঙ্গে ছিলেন তার মামাতো বোন ও নিখোঁজ সৌরভের মা সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান ও বাবা মো. ইদ্রিস আলী।
১৯ মিনিট ১০ সেকেন্ডের ফেসবুক লাইভের শুরুতেই সোহেল তাজ বলেন, ‘ফেসবুকে এটাই হচ্ছে আমার প্রথম লাইভ ব্রডকাস্ট। আপনারা সবাই জানেন আমার মামাতো বোনের ছেলে সৌরভ গত ৯ দিন ধরে নিখোঁজ। তো আমরা সার্বিকভাবে চাই সৌরভকে (ইফতেখার) অক্ষত অবস্থায়, জীবিত অবস্থায়, সুস্থ অবস্থায় ফেরত চাই। তার বাবা আমার সঙ্গেই আছেন। আমার বাসায়। তো আমার পেছনে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমার মায়ের ছবি। এ বাসাতেই আমি এখন ভাড়া থাকি। কারণ বাংলাদেশে আমি অনেক সময় দিচ্ছি, কয়েকটা প্রজেক্ট করছি। কিছু ভালো কাজ করার জন্য। সেটা আগে আপনাদের জানিয়েছি। এ রকম একটা কাজের মাঝখানে এমন একটা দুর্ঘটনার সম্মুখীন আমরা হয়েছি। আমি নিজেই তদন্ত করব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করব। আমরা যতটুকু তথ্য সংগ্রহ করতে পারি, ততটুকু সংগ্রহ করে তাদের কাছে পৌঁছি দেয়ার চেষ্টা করব। সেই উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করব।’
জিনদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিখোঁজ সৌরভ
সোহেল তাজের ফেসবুক লাইভে সৌরভের মা সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান জানান, এর আগে ঢাকার বনানী থেকে একটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাম করে সৌরভকে নিয়ে যাওয়া হলেও তাকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়া হয়। ওই বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা সৌরভের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। তিনি আরও দাবি করেন, ওই বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের ‘জিন’ হিসেবে পরিচয় দেন।
সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান জানান, নিখোঁজ হওয়ার আগে নিজেদের জিনের সদস্য পরিচয় দিয়ে চাকরি দেয়ার কথা বলে ফোন করে সৌরভকে ডেকে নেয়া হয়। কথিত জিনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েই নিখোঁজ হন সৌরভ। ফেসবুক লাইভে সোহেল তাজ তার মামাতো বোন সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমানের কাছে জানতে চান, ‘ইয়াসমিন (সৌরভের মা) আপা আপনাকে কী বলে গিয়েছিল সৌরভ?’
জবাবে সৈয়দা ইয়াসমিন বলেন, ‘হ্যাঁ জিজ্ঞাস করেছি। যারা তাকে এর আগে উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। তারা সৌরভকে বলেছে, তোমার তো কোনো দোষ নেই, আমরা যদি তোমাকে একটা ভালো জায়গা প্রোভাইড করি। তখন সৌরভ বলেছিল তাদের, আপনারা যা প্রয়োজন করেন তবুও এই যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করেন।’
সোহেল তাজ আবারও প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘তার মানে আপনাকে মূলত সৌরভ বলে গিয়েছে যে, ওই যে মে মাসের ১৬ তারিখে যারা উঠিয়ে নিয়েছিল তারাই তাকে চাকরি দেয়ার কথা বলেছে।’
সৈয়দা ইয়াসমিন বলেন, ‘সৌরভ নাকি চোখবাঁধা অবস্থায় জিজ্ঞাস করেছিল, আমি আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করব কীভাবে? তখন সৌরভকে তারা বলেছে, তোমার যোগাযোগ করতে হবে না, আমরাই তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করব। সৌরভ আরও বলেছে, জিন জিন করে জপতে থাকলেই তারা চলে আসবেন। তারা প্রত্যেকে ইংলিশে কথা বলছিল, প্রত্যেকে শিক্ষিত ও তাদের কাছে ওয়াকিটকি ও আর্মস ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেদিন সৌরভ গুম হলো, এর একদিন আগে আবার সেই নম্বর থেকে সৌরভের কাছে আসে। তখন তাকে সার্টিফিকেট নিয়ে যেতে বলে তারা চাকরি দেবে বলে। তখন সৌরভ বলে, আমার মা অসুস্থ আজ পারব না। তখন তারা আবার ফোন করে বলে, আমাদের দুইজন অফিসার তোমার সঙ্গে বসবে। তাদের কাছে তুমি তোমার পাসপোর্টে ও এনআইডি কার্ডের ফটোকপি দিয়ে আসবে। পরে সৌরভ ফটোকপি করতে গেলে গুম হয়ে যায়।’
সৌরভের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে না পুলিশ!
ফেসবুক লাইভে সোহেল তাজ জানান, সৌরভ নিখোঁজের বিষয়ে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও এরপর থেকে সৌরভের পরিবারের সঙ্গে পুলিশ যোগাযোগ করেনি। উল্টো তার বাবা মো. ইদ্রিস আলীর কাছে ওসি জানতে চেয়েছেন, সংবাদ সম্মেলনের পর কেউ যোগাযোগ করেছিল কি না।
সৌরভের বাবা ইদ্রিস আলী ওরফে মানিক ফেসবুক লাইভে বলেন, ‘আমার সঙ্গে থানা থেকে যোগাযোগ করা হয়নি, আমি নিজে থেকেই যোগাযোগ করেছি। তখন ফোনে ওসি সাহেব (চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানা) আমাকে বলেন, আপনারা কোথাও থেকে কোনো ধরনের তথ্য পেয়েছেন কি না? তখন আমি বললাম, আমরা তো কোনো তথ্য পাইনি। পরে এক পর্যায়ে আমি ওসিকে বলাম, সমস্ত ফুটেজ থেকে শুরু করে সবকিছু তো আপনাদের কাছে আছে।’
লাইভ ভিডিওতে সৌরভের বাবা ইদ্রিস আলী পুলিশ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি- এমন অভিযোগ করলেও পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাসেম ভূঁইয়া জাগো নিউজের কাছে দাবি করেন, ‘পুলিশ যোগাযোগ করেনি এমন কোনো কথা ভিডিওতে বলাই হয়নি!’
ওসি বলেন, সকালেও উনার সঙ্গে (সৌরভের বাবা) আমার কথা হয়েছে। আমি পুরো ভিডিও দেখেছি। তিনি কোথাও এমন কথা বলেননি।
কী আছে ভিডিও ফুটেজে?
ফেসবুক লাইভে সোহেল তাজের এক প্রশ্নের জবাবে সৌরভের বাবা ইদ্রিস আলী বলেন, ‘উনাদের ফুটেজে দেখা যায় ৬টা কত মিনিটে আমার ছেলে আগোরার সুপার মার্কেটের পাশে দাঁড়িয়েছিল। কত মিনিটে তাদের (অপহরণকারীরা) লোক তার সঙ্গে যোগাযোগ করলো।’
সৌরভের বাবা মো. ইদ্রিস আলী সোহেল তাজকে আরও বলেন, ‘ফুটেজে দেখা গেছে একটি প্রাডো গাড়িতে পাঁচ-ছয়জন এসে ইফতেখারকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ফুটেজ পরিষ্কার। গাড়ি কার এবং ভেতরে কারা সেটা চেষ্টা করলেই শনাক্ত করা যাবে।’
এ সময় সোহেল তাজ ইদ্রিস আলীর কাছে জানতে চান, আপনার জানামতে সৌরভকে ৯ তারিখে (৯ জুন) কে ফোন করেছিল? উত্তরে ইদ্রিস আলী বলেন, ‘এই ফোনটা ঢাকা থেকে করা হয়েছিল। যারা ঢাকা থেকে রমজান মাসে আমার ছেলেকে বনানীর বাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। পরে একদিন রেখে বনানীর বাসায় রাতে দিয়ে গিয়েছিল।’
সোহেল তাজ ইদ্রিস আলীর কাছে আবারও জানতে চান, ‘বনানীর বাসায় যারা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, তারা কী পরিচয় দিয়েছিল?’ উত্তরে ইদ্রিস আলী বলেন, ‘তারা র‍্যাব-১ এর পরিচয় দিয়েছিল। এ সময় একটি কাগজও দিয়েছিল আমাদের।’
এ সময় সোহেল তাজকে বলতে শোনা যায়, ‘আচ্ছা তার মানে মে মাসের ১৬ তারিখে সৌরভকে তুলে নিয়ে যায় ২৪ ঘণ্টার জন্য। ফিরিয়ে দেয়ার সময় একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছিল। আর সেই কাগজটি র‍্যাব-১ এর প্রাপ্তিস্বীকার ফরম ছিল।’ জবাবে ইদ্রিস আলী বলেন, ‌‘উনারা (র‍্যাব-১) তখন বলেন, সে সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ দেয়া হয়েছে সব ফেইক।’
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের ছেলে ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ তার মামাতো বোনের ছেলেকে (ভাগ্নে) সৈয়দ ইফতেখার আলম প্রকাশ (সৌরভ) অপহরণের অভিযোগ করেছেন। শুক্রবার রাত ১টায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি জানান, গত ৯ জুন চট্টগ্রামে চাকরির সিভি জমা দিতে গিয়ে নগরের মিমি মার্কেট এলাকা থেকে নিখোঁজ হন সৈয়দ ইফতেখার আলম ওরফে সৌরভ।
সৌরভের পরিবার চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন সুন্নিয়া মাদরাসা এলাকার বাসিন্দা। সৌরভ ব্র্যাক ও ইউনিসেফের জনসচেতনতামূলক শর্টফিল্ম বানাতেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

‘খরচই উঠছে না, মুখে হাসি থাকবে কোথা থেকে?’ by এম জসীম উদ্দীন

কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার বোরো ধান ও চাল ক্রয় শুরু করলেও বাজারে এর প্রভাব তেমন পড়েনি। বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বাজারে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি হচ্ছে। এতে হতাশ প্রান্তিক কৃষকেরা।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিবছরই কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য খাদ্য বিভাগের মাধ্যমে ধান-চাল ক্রয় করে সরকার। তবে সরকারের এই ভর্তুকির অর্থ সাধারণ কৃষকদের পকেটে না গিয়ে মধ্যস্বত্বভোগী, ধান-চাল ব্যবসায়ী ও মিলমালিকদের পকেটে চলে যায়। এবারও তা–ই ঘটছে। কৃষকেরা বলছেন, সরকার ২৬ টাকা কেজি দরে ১ হাজার ৪০ টাকায় প্রতি মণ ধান ক্রয় করছে। আর ৩৬ টাকা দরে ১ হাজার ৪৪০ টাকায় প্রতি মণ চাল ক্রয় করছে। কিন্তু স্থানীয় বাজারে ৪০ কেজির জায়গায় ৪৫ কেজি ধরে প্রতি মণ ধান ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করছেন কৃষকেরা।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের যুবক সিরাজুল ইসলাম (৩৬) এবার ৮ একর জমিতে বোরোর আবাদ করেছেন। ফলনও ভালো পেয়েছেন। তবে ভালো ফলন হাসি ফোটাতে পারেনি সিরাজুলের মুখে। তিনি বলেন, ‘বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ধানের মূল্য কম। ৮ একর জমিতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে বোরো আবাদ করেছি। কিন্তু ধানের যে দাম, তাতে উৎপাদন খরচ ওঠে। লাভ ঘরে তোলা যাবে না। ধান কাটাতে মজুরি দিতে হয়েছে ৩৪ হাজার টাকা। মুখে হাসি আসবে কোথা থেকে?’
সিরাজুলের মতো আরও অনেক কৃষক আছেন, যাঁরা ধান আবাদ করে বিপাকে পড়েছেন। লাভ তো দূরে থাক, আসলও ঘরে তুলতে পারছেন না। উজিরপুর, গৌরনদীর কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এমন হতাশার কথা শোনা গেল।
গৌরনদীর বার্থী গ্রামের মাসুদ সরদার (৪৬) এবার এক একরে বোরো আবাদ করেছেন। তিনি বললেন, ‘জমি চাষ, সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক, সেচ, মাড়াইসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি মণ ধান ফলাতে আমাদের ৮৭৫ টাকা ৭৬ পয়সা খরচ হয়েছে। কিন্তু বাজারে প্রতি মণ ধানের দাম পাচ্ছি ৪৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা। এই ক্ষতি কীভাবে পোষাব আমরা? বাজার থেকে চাল কিনতে গেলে ৫০-৬০ টাকা কেজিতে কিনতে হয়। তবু বছরের খোরাকিটা এই দিয়ে রাখি। কিন্তু এই সব করে আমাদের কোমর ভেঙে যাচ্ছে।’
বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বলছে, চলতি বছর বরিশালের ছয় জেলায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৭৬৩ মেট্রিক টন ধান। এরই মধ্যে এই ধানের বেশির ভাগ কাটা হয়ে গেছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে মনে করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।
বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক তৌফিকুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে প্রচুর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে। সরকার প্রতি মণ ধানের মূল্য ১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। কৃষক যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব খাদ্য বিভাগের।
বরিশাল বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ২৮ মার্চ খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভায় বোরো ধান ও চাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়। ফড়িয়ারা লাভবান না হয়, সে জন্য কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার সিদ্ধান্ত হয়। গত ২৫ এপ্রিল থেকে এই ক্রয় শুরু হয় এবং তা পুরো আগস্ট মাস পর্যন্ত চলবে। এই কার্যক্রমের আওতায় বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ১৬ হাজার ৩০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ হাজার ১৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে।
আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানায়, গতকাল পর্যন্ত বিভাগের ছয় জেলায় ১০০ মিলমালিকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। তাঁরা চাল সরবরাহ করবেন। গতকাল পর্যন্ত এই বিভাগে ৬২৭ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে কোনো ধান সংগ্রহ করা যায়নি।
ধান ক্রয়ের বিষয়ে প্রচার চালানো হয় কি না জানতে চাইলে বরিশাল বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজা মো. মোহসিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ধান-চাল ক্রয়ের আগে মাইকিং, সাইনবোর্ড ঝোলানো, প্রচার চালানোর নিয়ম আছে। সেটা ঠিকভাবে করা হয় না বলে কৃষক জানতে পারে না—এমন অভিযোগ আছে তবে। সেটা সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা ক্রয় কমিটি দেখভাল করে।’

ট্যানারি বর্জ্য দিয়ে মুরগির খাবার তৈরি, হাজারীবাগে অভিযান

চামড়া শিল্পের (ট্যানারি) বর্জ্য দিয়ে পোল্ট্রির (হাঁস-মুরগি) খাবার তৈরির কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় এ অভিযান শুরু হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।
ম্যাজিস্ট্রেট নিজেই জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযান চলছে। অভিযান শেষে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।
তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক র‍্যাব কর্মকর্তা জানান, অভিযানে ট্যানারির বর্জ্য দিয়ে পোল্ট্রির খাবার তৈরির অভিযোগে ৬-৭ জনকে সাজা দেয়া হয়েছে। রাত পৌনে ১২টা পর্যন্ত অভিযান এখনও চলছে।
এর আগে চলতি বছরের ২ এপ্রিল ট্যানারির বর্জ্য দিয়ে মৎস্য ও পোল্ট্রি খাবার তৈরির সকল কারখানা বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এছাড়াও যারা ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার করে মৎস্য ও পোল্ট্রি খাবার তৈরি এবং বিপণন করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে এক মাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দিতে বিবাদী পাঁচ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দেয়া হয়।

ভাগ্নে অপহরণের ‘তদন্তে’ সোহেল তাজ

অপহৃত ভাগ্নে সৈয়দ ইফতেখার আলম সৌরভের সন্ধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত কার্যক্রমে থাকবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। গতকাল দুপুরে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, সৌরভকে ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তিনি নিজেই পুলিশের উদ্ধার কাজে সহযোগিতার  অংশ হিসেবে তদন্তে নামবেন। ওই স্ট্যাটাসে সোহেল তাজ লেখেন, সৌরভ ফিরে না আসা পর্যন্ত পুলিশের উদ্ধার কাজে সহযোগিতার অংশ হিসেবে আমি নিজেই তদন্তের কাজে নামছি। এরই ধারাবাহিকতায় সন্ধ্যা ছয়টায় তিনি ফেসবুক লাইভে আসেন। এ সময় সৌরভের মা সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান ও বাবা মো. ইদ্রিস আলমও উপস্থিত ছিলেন। তারা ফেসবুক লাইভে সৌরভকে কারা তুলে নিয়ে গেছেন সেসব তথ্য দিয়েছেন। সে সঙ্গে পুলিশের অগ্রগতি সম্পর্কেও জানিয়েছেন। সোহেল তাজের করা ফেসবুক লাইভে সৌরভের মা জানান, ২০১৮ সালের ১৬ই মে র‌্যাব-১ পরিচয় দিয়ে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে তারা সৌরভকে ফেরতও দেয়। ফিরিয়ে দেয়ার সময় র‌্যাব সদস্যরা তাকে অক্ষত অবস্থায় পরিবারের কাছে দিয়ে গেছে মর্মে লিখিত নেয়। এ সময় সৌরভদের বাড়ির প্রতিবেশীদেরও ডেকে জানিয়ে দেয় যে, তাকে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের সত্যতা মেলেনি।
সৌরভের মা জানান, বাড়ি ফিরিয়ে দিয়ে গেলেও র‌্যাবের পরিচয় দেয়া ব্যক্তিরা কিছুদিন পর থেকেই নানাভাবে যন্ত্রণা শুরু করছিল। শেষতক সৌরভকে চাকরি দেয়ার কথা বলে আবার নিয়ে যায় বলে দাবি করেন সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান। সোহেল তাজের পারিচালনায় ওই ফেসবুক লাইভে পুলিশের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সৌরভের বাবা বলেন, পুলিশের সঙ্গে কথা চলছে। তারা আমাদের কাছে কোনো ফল পেয়েছি কিনা জানতে চেয়েছে। তিনি বলেন, আমরা পুলিশকে সৌরভ যে সবশেষ আগোরার সামনে দাঁড়িয়েছিল সেই সিসিটিভি ফুটেজও দিয়েছি। সেই ফুটেজে আরো দেখা গেছে, কালো রঙের একটি প্রাডো গাড়িতে করে ৪-৫ জন সৌরভকে তুলে নেয়। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছেও আকুল আবেদন জানিয়েছি। আমার ছেলে যেন আমাদের কাছে সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসে এই কামনা করেছি।
এদিকে সৌরভ নিখোঁজের বিষয়টি অবগত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।  সে সঙ্গে সৌরভ উদ্ধার হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল বলেন, তিনি (সোহলে তাজ) ঘোষণা দিয়েছেন তার ভাগ্নেকে নাকি পাওয়া যাচ্ছে না। সে জন্য থানায় একটা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। আমি মনে করি, তিনি যদি কোনোখানে গিয়ে থাকেন, তা হলে ফিরে আসবেন। আর না হলে জিডি অনুযায়ী আমাদের পুলিশ কর্মকর্তা আছেন তারা আইনি ব্যবস্থা নেবেন। তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তাকে তুলে নেয়া হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে- এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এই রকম শব্দ আমি শুনিনি। তিনি বলেন, আমাদের সম্মানীত তাজউদ্দীন সাহেবের ছেলে এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী সোহেল আমাকে ফোন করে এ ঘটনার কথা বলেছেন। আমি শুনে পুলিশ কমিশনারকে যা বলার বলে দিয়েছি। তিনি কাজ করছেন। হয়তো তার খোঁজ পাওয়া যাবে এবং তিনি বেরিয়ে আসবেন। মন্ত্রী বলেন, এখানে দুটোই হতে পারে- সে কোনোখানে গিয়ে থাকতে পারে; কিংবা কেউ নিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। আশা করি, উদ্ধার হয়ে যাবে, যেহেতু পুলিশি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মুরসিকে হত্যা করা হয়েছে, দায় নিতে হবে সরকারকে

মুসলিম ব্রাদারহুডের দাবি, সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে হত্যা করা হয়েছে। তার মৃত্যুকে ভয়াবহ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, এই মৃত্যুর দায় নিতে হবে মিশর সরকারকে। মুরসি কারাগারে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা পান নি। এর প্রতিবাদে দেশে দেশে মিশরীয় দূতাবাসগুলোর বাইরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে মুসলিম ব্রাদারহুড। মুরসি মারা যাওয়ার পর মঙ্গলবার কায়রোর পূর্বাঞ্চলে মদিনা নাসর কবরস্তানে তাকে দাফন করা হয়েছে। তার আইনজীবী আবদেল মোনেম আবদেল মাকসুদ বলেছেন, এ সময় মুরসির পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রোববার তিনি আদালতে অচেতন হয়ে পড়েন।
এর একদিন পরেই সোমবার মারা যান মুরসি। তার নামাজে জানাজা পড়ানো হয়েছে তোরা জেলখানার হাসপাতাল এলাকায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা ছিলেন মোহাম্মদ মুরসি। আরব বসন্তের ধারাবাহিকতায় ৩০ বছরের স্বৈরশাসক হোসনি মুবারকের পতনের পর মিশরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয় ২০১২ সালে। ওই নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে নির্বাচিত হন মোহাম্মদ মুরসি। এটাই সেখানে প্রথম কোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচন। কিন্তু ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেন নি মুরসি। এক গণ প্রতিবাদ ও সামরিক অভ্যুত্থানে ২০১৩ সালের জুলাই মাসে তাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়। ক্ষমতা কেড়ে নেন সেনা প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। তারপর তিনি প্রেসিডেন্ট হন। ওদিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের পর পরই গ্রেপ্তার করা হয় মুরসিকে। তারপর থেকে তিনি জেলেই ছিলেন।
মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ হয়েছে। তবে তারা তাদের নেতা মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুকে একটি হত্যাকা- আখ্যাযিত করে তার জানাজায় গণজমায়েত আহ্বান করেছিল। কিন্তু মঙ্গলবার তাকে দাফন করার সময় মদিনা নাসর কবরস্থান ছিল ফাঁকা। কোনো নেতাকর্মী বা সাধারণ মানুষকে দেখা যায় নি সেখানে। তবে নিজেদের ওয়েবসাইটে মুসলিম ব্রাদারহুড একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে সারা বিশ্বে মিশরীয় দূতাবাসের বাইরে প্রতিবাদে জমায়েত হতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ব্রাদারহুড।
বেশ কয়েক বছর ধরে রিপোর্ট প্রকাশ হচ্ছিল যে, মুরসির সঙ্গে কারাগারে অশোভন আচরণ ও নির্যাতন করা হচ্ছে। তাই অধিকারকর্মীরা বলছেন, তার মৃত্যুকে জেলখানায় নিঃসঙ্গ রেখে তার ওপর পর্যায়ক্রমে দুর্ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষাপতে দেখা উচিত। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, মুরসির মৃত্যুর দায় এখন মিশর সরকারকে নিতে হবে। তারা তার উপযুক্ত মেডিকেল সেবা ও কারাগারে বন্দির মৌলিক অধিকার দিতে ব্যর্থ হয়েছে।  অন্যদিকে একই রকম বিবৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক আরেক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তারা বলেছে, সাবেক এই প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর দায় নিতে হবে মিশর সরকারকে। মুরসি মারা যাওয়ার শেষ কয়েক ঘন্টায় সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে তারা।
মোহাম্মদ মুরসির বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি প্রায় ৬ বছর ধরে জেলে বন্দি ছিলেন। ডায়াবেটিস, লিভার ও কিডনি সহ বিভিন্ন রোগে দীর্ঘদিন ভুগছিলেন তিনি। ২০১২ সালে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি করে হত্যা করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে তিনি ২০ বছরের জেল ভোগ করছিলেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে কমপক্ষে ৬টি মামলা। অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশ কাতার সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দাগিরির দায়ে তাকে দেয়া হয়েছিল যাবজ্জীবন জেল। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে রয়েছে জেলবিদ্রোহ করা, বিচার বিভাগকে অবমাননা করা ও সন্ত্রাসে জড়িত থাকার অভিযোগ। তবে তার সমর্থকরা এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেন।

নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ থেকে কাদের আনা হয়েছিল: বিজেপিকে মমতার প্রশ্ন

লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের নেপথ্যে ইভিএম জালিয়াতি ও বিদেশিদের ইন্ধন রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুনির্দিষ্ট নাম-পরিচয় উল্লেখ না করে তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশ থেকে মানুষ নিয়ে গিয়ে তাদের নির্বাচনে জালিয়াতির কাজে ব্যবহার করেছে ক্ষমতাসীনরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মমতা এসব দাবি করেন।
সম্প্রতি শেষ হওয়া লোকসভা নির্বাচন, মোদির নিরঙ্কুশ বিজয়, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান ও তৃণমূলের বেশ কিছু আসন হারানোর ব্যাপারে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মমতা। বিজেপির আবারও বিপুল সংখ্যক আসন জিতে ক্ষমতায় আসা প্রসঙ্গে সঞ্চালক সুমন চট্টোপাধ্যায়ের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আরএসএস-এর এখনও ১ হাজার লোক বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করছে। খোঁজ নিন না ওরা কত স্কুল চালায়। কোথা থেকে টাকা আসছে? কারা তাদের টাকা দিচ্ছে? ফরেনস ফান্ডস ইনভলভড। বাংলাদেশের বর্ডার থেকে ইলেকশনের সময় কারা এসছিলো মিটিং করতে?’প্রশ্ন তোলেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, ‘বাংলাদেশের বর্ডার থেকে অন্য ধর্মের লোক পাঠিয়েছে। কোন ধর্মের মানুষ আমি বলবো না।’
লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনাকে ঘিরে এর আগে-পরে বিরোধীরা বারবার ইভিএম জালিয়াতির আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিল। গণনার আগে সে দেশের ২৩টি রাজনৈতিক দল জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এ ব্যাপারে আশঙ্কা জানিয়ে এসেছিল। সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে এ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়েরের পদক্ষেপও নিয়েছিল বিরোধীরা। তবে সর্বোচ্চ আদালত সেসব অভিযোগ আমলে নেননি। এবিপির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মমতা অভিযোগ করেন, বিজেপি আগেই মেশিনে প্রোগ্রামিং করে রেখে দিয়েছিল। দেশজুড়ে ৩০০টি আসনে এবং পশ্চিমবঙ্গে ২৩টি আসনে প্রোগ্রামিং করে রেখেছিল তারা। তবে তার মধ্যেও তৃণমূল কংগ্রেস বেশি আসনে জিতে যায়। প্রোগ্রামিংয়ের কারণে বিজেপির আসলে ২৩টি আসনে জয়ের কথা ছিল। তবে তাদের দুর্ভাগ্য যে ২৮টি আসনে জয় পেয়েছে। নির্বাচনের আগেই ২৩টি আসনে জয় পাবে বলে বিজেপির দাবির কথা মনে করিযে দেন মমতা। নরেন্দ্র মোদি তার দল ৩০০টির বেশি আসন পাবে বলে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তা-ও উল্লেখ করেন তৃণমূল নেত্রী। প্রশ্ন করেন, ‘কীভাবে এ সংখ্যা মিলে গেল?’
মমতার অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় বাঙালিদের নামে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছিল বিজেপি। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল তারা। মমতা বলেন ‘আসামে বিজেপি প্রচারণা চালিয়েছিল, সেখানে বাঙালিরা জিতলে রাজবংশীদের জমি কেড়ে নেবে। কুচবিহারে বাঙালিদের সঙ্গে বাংলাদেশিদের লাগিয়ে দিয়েছিল বিজেপি, রাজবংশীদেরও লাগিয়ে দিয়েছিল। দার্জিলিংয়ে গিয়ে বলেছে গোর্খাল্যান্ড করবো। ওখানেও লাগিয়ে দিয়েছে। আবার বিভিন্ন জেলায় জেলায় হিন্দিভাষীদের সঙ্গে বাঙালিদের লাগিয়ে দিয়েছে।’

ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবাসীদের নিয়ে হঠাৎ কী হলো by রাকিব হাসনাত

লেবাননসহ কয়েকটি দেশ থেকে আসা প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকরা গত কিছুদিন ধরেই বাড়ি ফেরার পথে ঢাকায় এসে আটকা পড়ছেন বিমানবন্দরে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, নানা সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদ এবং শেষ পর্যন্ত আগতদের এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সার্টিফিকেট কিংবা ফোনের পর বিমানবন্দর ছাড়ার অনুমতি মিলছে ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছ থেকে।
প্রবাসীদের কয়েকজন বিবিসি বাংলাকে বলছেন, নিজের দেশে এসে এভাবে দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে আটকে থাকতে হবে বা হেনস্থা হতে হবে এটি তারা কল্পনাও করেননি।
এদেরই একজন ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার জান্নাত বেগম।
লেবানন থেকে বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে প্রায় ৩৫ জনের একটি দলের সাথে দেশে ফিরেছিলেন তিনি।
শ্রমিক হিসেবে গিয়ে দালাল আর প্রতারকের কারণে নিজের পাসপোর্ট আর পাননি সেখানে গিয়ে। দু'বছর ওই অবস্থায় থাকতে পারলেও শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরতে হয়েছে তাকে।
"কাগজ নিয়া (ট্রাভেল পাস) ফিরছি। কোনো জায়গায় কোনো ঝামেলা হইলো না। বিপদে পড়লাম নিজের দেশে আইসা। পরে আমার ভাই চেয়ারম্যানের কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিয়া ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ছুটায়া আনছে আমারে"।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, এয়ারপোর্টে নামার পরপরই তাদের দলটিকে আটকে দেয় ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তারা।
"আমরা নাকি রোহিঙ্গা। কত সালে গেছি। কেনো গেছি। এমন সব উল্টাপাল্টা কথা। এতো যন্ত্রণা লেবানন, দুবাই এয়ারপোর্টেও দেয় নাই। রাত তিনটায় নাইমা পরদিন রাত নয়টায় ছাড়া পাইছি।"
শেষ পর্যন্ত সারাদিন আটকে থাকার পর তার ভাই ও স্বজনরা এলাকার চেয়ারম্যানের সার্টিফিকেট সহ বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দিয়ে পরদিন রাত নয়টায় তাকে নিয়ে বাড়ির পথ ধরতে সমর্থ হন।
আবার ফরিদপুরের নগরকান্দার হাসি বেগম। ছয় বছর লেবাননে থাকার পর দেশে ফিরেছেন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়।
লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা দেশে ফিরে বিপাকে পড়েছেন ঢাকা বিমানবন্দরে নেমে।
শনিবার সকাল নয়টায় প্রায় চল্লিশ জনের একটি দলের সাথে ঢাকায় নামার পর তাকে বিমানবন্দরে থাকতে হয়েছে রাত প্রায় দশটা পর্যন্ত।
"এয়ারপোর্টে নামার পর আমাদের দাঁড় করায়া রাখে। এভাবে কয়েক ঘণ্টা দাঁড় করায়া রাখলেও কেউ কিছু বলেনা। কয়েক ঘণ্টা পর এসে জিগায় পাসপোর্ট কই, পরিচয়পত্র কই। এলাকার চেয়ারম্যান কে। তারে ফোন দেন। সে চিনলে ছাড়া পাবেন। এমন সব কথাবার্তা"।
হাসি বেগম ও জান্নাত বেগমের মতো এমন অনেকে প্রতিদিনই আসেন যাদের কার্যত কোনো পাসপোর্ট নেই।
কারণ দালালের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার পর তাদেরকে দালালরা আর পাসপোর্ট ফেরত দেয়নি। ফলে তারা সেখানে কাজ করতে পেরেছেন কিন্তু একই মালিকের কাজ করতে হয়েছে।
ফেরা হাসি বেগম বলছেন, এভাবেই বহু বাঙ্গালী কাজ করে সেখানে এবং প্রতিদিন আবার অনেকে ফেরতও আসে।
তিনি বলেন, "অনেকে যখন মনে করে আর থাকবেনা তখন দূতাবাসে গিয়া বলে আমি দেশে যেতে চাই। তখন একটা জরিমানা দিতে হয় ও পরে দূতাবাস ট্রাভেল পাস দেয় যা দেখিয়ে তারা দেশে ফিরে আসে"।
হাসি বেগম বলছেন, তিনি অপারেশনের রোগী। এর মধ্যেও এমন হয়রানিতে পড়তে হয়েছে তাকে, অথচ বৈধ ট্রাভেল পাস নিয়েই তিনি এসেছিলেন।
দূতাবাসের সেই ট্রাভেল পাস নিয়ে এসেও গত কিছুদিন ধরে বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমনকি কখনো কখ‌নো একদিনও প্রবাসী কর্মীদের বিমানবন্দরে অপেক্ষা কর‌তে হ‌চ্ছে বলে জানাচ্ছেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন বিভাগের প্রধান শরিফুল হাসান।
মি. হাসান বলছেন, সাম্প্রতিক সময় নিরাপত্তা তল্লাশি বা নিরাপত্তা জোরদারের নামে বিমানবন্দরের ঢুক‌তে বি‌দেশগামীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাক‌তে হচ্ছে।আর বি‌দেশ‌ ফেরতরা এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাক‌তে হয়। এতে করে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে প্রবাসী নারী কর্মীরা। দীর্ঘ ভ্রমণের পর গোসল খাবার ছাড়া দীর্ঘ সময় অপেক্ষা কঠিন।
আরও কয়েকটি ঘ্টনায় জোরদার হয়েছে বিমানবন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থা
"গত কয়েকদিনে বহু প্রবাসী পাস‌পোর্ট বা যথাথয ট্রাভেল পাস নিয়ে এসেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি গোটা একদিনও বিমানবন্দরে অসহনীয় পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। নানা ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ, খাবার পানির সংকট, ভ্রমণ ক্লান্তি—সব মিলিয়েই একটা বাজে পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে"।
তিনি বলেন, শ্রমিক হিসেবে কোন জঙ্গিও যেনও না আসতে পারে বা ট্রা‌ভেল পাস পে‌তে না পা‌রে সেটাও যাচাই হোক, কিন্তু অযথা বিদেশ ফেরত‌দের হয়রানি বন্ধ হওয়া জরুরি।
ইমিগ্রেশন পুলিশ কি বলছে?
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের একজন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেন, যারা ফেরত আসছেন তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে একটু বিমানবন্দর থেকে ছাড় দেযার ক্ষেত্রে একটু বিলম্ব হচ্ছে।
"যেসব দেশ নিয়ে উদ্বেগ আছে সেখান থেকে যারা আসছে আমরা দেখছি তারা আর কোনো দেশে গিয়েছিলো কি-না। এ কারণেই একটু বিলম্ব হচ্ছে"।
তবে ওই কর্মকর্তা তার নাম প্রকাশ করতে রাজী হননি।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়া ফেরত জঙ্গিদের বিষয়ে কিছু সতকর্তামূলক ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছিলো পুলিশ।
কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার মহিবুল ইসলাম খান সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে বলছেন, তারা একটি তালিকা ইমিগ্রেশন বিভাগে দিয়েছেন।
"ফলে তারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলেই আমরা জানতে পারবো"।
যদিও ওই তালিকার অনেকেই সিরিয়া বা ইরাকে যুদ্ধ করতে গিয়ে মারা গেছেন বলে বাংলাদেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।
সিরিয়া ফেরত একজন সন্দেহভাজন জঙ্গি সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডেও নিয়েছিলো ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।
ওই ব্যক্তি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে প্রবেশের পর জঙ্গি তৎপরতার পরিকল্পনা করছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এরকম অন্তত ৫০জন বিভিন্ন দেশ থেকে গিয়ে সিরিয়া আর ইরাকে আইএসের সঙ্গে জড়িত হয়েছিল, যাদের ফরেন টেরোরিস্ট ফাইটার বলে বর্ণনা করছেন কর্মকর্তারা।
এখন ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন এসব কারণেই মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ বিশেষ করে সিরিয়ার আশেপাশের দেশগুলো থেকে আসা প্রবাসীদের বিষয়ে এজন্যই বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
২০১১ সালে লিবিয়া থেকে স্বজনদের ফেরার অপেক্ষায় ঢাকার শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরের গেটে পরিবাররের ভিড়। (ফাইল ছবি)

লোহার খাঁচায় গঙ্গায় ডুবিয়ে দেয়া হলো জাদুকরকে, অতঃপর...

সবাইকে বিস্মিত করে দিতে চেয়েছিলেন জাদুকর মন্দ্রাকে। তাই ৪০ বছর বয়সী এই জাদুকরকে লোহার রডে তৈরি খাঁচায় ভরে তা আটকে দেয়া হয়। এরপর ওই খাঁচাটি ক্রেনের সাহায্যে নামিয়ে দেয়া হয় গঙ্গা নদীতে। তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ওভাবে তাকে পানিতে ডুবিয়ে দিলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বেরিয়ে আসতে পারেন জাদুর বলে। কিন্তু ডুবিয়ে দেয়ার পর তার কোনো সন্ধান মিলছে না। কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না তাকে। ফলে তাকে উদ্ধারে নেমেছে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি ঘটে  গত রোববার। জাদুকর মন্দ্রাকে’র প্রকৃত নাম চঞ্চল লাহিড়ি। পানিতে ডুবিয়ে দেয়ার আগে তার চ্যালেঞ্জ ছিল- ‘ইফ আই ক্যান ফ্রি মাইসেলফ ইট উইল বি ম্যাজিক, ইফ আই ক্যান নট ইট উইল বি ট্রাজিক’। অর্থাৎ আমি বেরিয়ে আসতে পারলে এটা হবে ম্যাজিক। আর যদি না পারি তাহলে তা হবে ট্রাজিক। দৃশ্যত পরের ঘটনাটিই সত্য হতে চলেছে। তাকে যখন গঙ্গার পানিতে নামিয়ে দেয়া হয়, চঞ্চল তখন বাইরে অপেক্ষমাণ পরিবারের সদস্য, মিডিয়া ও পুলিশের উদ্দেশে হাত নাড়ছিলেন। এ দৃশ্য দেখার জন্য হাওয়ায় গঙ্গাপাড়ে ঢল নামে মানুষের। কিন্তু শেষ কৌশল দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। কর্তৃপক্ষ এখন হন্যে হয়ে খুঁজছে তাকে। তার পরিবারের এক সদস্য বলেছেন, এখনও অনুসন্ধান চলছে।
এর আগে চঞ্চল দাবি করেন, ২১ বছর আগে ওই একই এলাকায় সফলতার সঙ্গে তিনি এই জাদু দেখিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তখন আমাকে একটি বুলেটপ্রুফ কাচের বাক্সে চেইনে বেঁধে রাখা হয়েছিল। তারপর ওই বাক্স তালা দিয়ে আটকে দেয়া হয়েছিল। হাওড়া ব্রিজ থেকে পানিতে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল সেই বাক্স। কিন্তু মাত্র ২৯ সেকেন্ডের মধ্যে আমি তার ভিতর থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম। চঞ্চল স্বীকার করেন, এবার নিজেকে সেভাবে মুক্ত করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
২০১৩ সালে গঙ্গায় একই চর্চা করেছিলেন চঞ্চল। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছিলেন, তিনি তালাবন্ধ একটি খাঁচার ভিতর থেকে একটি দরজা দিয়ে বেরিয়ে এসেছেন। এটা পরিষ্কার দেখা গেছে। এ নিয়ে অনেক কথা শুনতে হয়েছে চঞ্চলকে। তিনি দাবি করেছিলেন, তাকে ৩০ ফুট পানির নিচে লোহার খাঁচায় ডুবিয়ে দেয়া হোক। সেখান থেকে তিনি বেরিয়ে আসবেন। যদিও সেবার তিনি ৬ সেকেন্ডের মধ্যে বেরিয়ে এসেছিলেন, কিন্তু হাজার হাজার ভক্ত দাবি করেছেন, তিনি কিভাবে ওই খাঁচা থেকে বেরিয়ে এসেছেন তা তারা ধরে ফেলেছেন। এক পর্যায়ে তাদের হাতে প্রহারের শিকারে পরিণত হন তিনি।

খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য বড় ছাড়

যাঁরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শোধ করছেন না, তাঁদের জন্য বড় সুবিধা চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক। বকেয়া ঋণের ২ শতাংশ টাকা জমা দিয়েই তাঁরা ঋণ নিয়মিত করতে পারবেন। এতে সুদ হার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। আর এক বছরের ঋণ পরিশোধে বিরতিসহ ১০ বছরের মধ্যে বাকি টাকা শোধ করতে পারবেন। আবার ব্যাংক থেকে নতুন করে ঋণও নিতে পারবেন।
আর যাঁরা এক বছরের মধ্যে ঋণ শোধ করে দিতে চান, তাঁদের জন্য রয়েছে বড় ছাড়। তাঁরা চাইলে তহবিল খরচের সমান সুদ দিয়েই বাকি টাকা শোধ করতে পারবেন। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর তহবিল খরচের হার সাড়ে ৭ থেকে ৯ শতাংশ।
এ নিয়ে গত ১৬ মে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন পরিশোধসংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালা’ জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ-সংক্রান্ত একটি খসড়া নীতিমালা এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়। তাতে কিছুটা ঘষামাজা করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যদিও সব সুবিধা রয়েছে সরকারের দেওয়া খসড়া মোতাবেক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ঋণ বিরূপভাবে খেলাপি হয়ে পড়ায় ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উৎপাদনশীল খাতে স্বাভাবিক ঋণপ্রবাহ বজায় রাখতে ও খেলাপি ঋণ আদায়ে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যেসব ঋণ মন্দ বা ক্ষতিজনক, মানে খেলাপি হয়ে পড়েছে, সে ক্ষেত্রে এ সুবিধা দেওয়া হবে।
এ দিকে গত ১৬ বৃহস্পতিবার আরেকটি প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষণা করেছে, যেসব ব্যবসায়ী ঋণের সব কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করেছেন, কখনই কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হননি, তাঁরা ‘ভালো গ্রাহক’। তাঁদের থেকে এক বছরে যে পরিমাণ সুদ আদায় করা হয়েছে, তার ১০ শতাংশ ফেরত দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ এ নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘নতুন এ সুবিধা পুরো ব্যাংক খাতের জন্য অন্তর্ঘাতমূলক ব্যাপার। এ সুযোগ খেলাপি ঋণ কার্পেটের নিচে চলে যাবে। আমার ৬০ বছরের কর্মজীবনে এমন সুবিধার কথা শুনিনি।’
একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, নতুন এ সুবিধার ফলে ব্যাংক খাতের সংকট কাটবে না। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে তারল্য-সংকট চলছে। কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থা এত খারাপ যে, জমা টাকা ফেরত দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে ঋণখেলাপিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

ইউরেনিয়াম মজুত সীমা ১০ দিনেই অতিক্রমের হুমকি ইরানের

দশ দিনের মধ্যে ইউরেনিয়ামের মজুত সীমা অতিক্রমের হুমকি দিয়েছে তেহরান। আজ সোমবার ইরান এ হুমকি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান নতুন এ হুমকি দিলেও তারা জানিয়েছে, ইউরোপীয় দেশগুলোর হাতে এখনো সময় আছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। গত বৃহস্পতিবার ওমান উপসাগরে দুটি তেলের ট্যাংকারে হওয়া হামলার দায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবও আঙুল তুলেছে ইরানের দিকে। তবে ইরান এ দায় অস্বীকার করেছে। গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটে হওয়া সর্বশেষ এ হামলার সূত্র ধরেই নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে ইরান ইউরেনিয়াম পুনঃ সমৃদ্ধকরণের হুমকি দিল। তবে তারা এ ক্ষেত্রে উত্তেজনা প্রশমনের একটি রাস্তা খোলা রেখেছে। তারা বলেছে, ইউরোপের দেশগুলো যদি এই সময়ের মধ্যে একটি পরমাণু চুক্তি সম্পাদনের পথে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তবে সংকটের সমাধান অন্যভাবে হতে পারে।
ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বেহরুজ কামালভান্দি বলেছেন, ‘(ইউরেনিয়াম) সমৃদ্ধকরণ হার আমরা চারগুণ করেছি। সম্প্রতি এ হার আমরা আরও বাড়িয়েছি, যাতে দশ দিনের মধ্যেই আমরা বেঁধে দেওয়া ৩০০ কেজি সীমা অতিক্রম করতে পারি। ইউরোপীয় দেশগুলো সক্রিয় হলে অবশ্য এখনো সময় আছে। ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত বৃদ্ধির হার প্রতিদিন আরও বাড়ছে। চুক্তি সুরক্ষিত রাখাটা যদি (ইউরোপ) তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়, তবে তাদের উচিত সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। তারা যত দ্রুত প্রতিশ্রুত পদক্ষেপ নেবে, পরিস্থিতিও তত দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে।’
উল্লেখ্য, গত মে মাসে তেহরান ছয় জাতি পরমাণু চুক্তি থেকে কিছুটা সরে আসার ঘোষণা দেয়। ২০১৫ সালে হওয়া ওই চুক্তি থেকে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া ও নতুন করে কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিক্রিয়াতেই এ পদক্ষেপ নেয় ইরান।
ওই চুক্তি অনুযায়ী ইরান তার পরমাণু অস্ত্র প্রকল্প থেকে সরে আসার অংশ হিসেবে ইউরেনিয়াম মজুত কমানোর কথা। চুক্তিতে ১৫ বছরের জন্য ইরান নিম্নমানের ইউরেনিয়ামের (ইউরেনিয়াম-২৩৫ আইসোটোপের পরিমাণ যেখানে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ) মজুত ৩০০ কেজিতে সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল চুক্তির বাকি পাঁচ অংশীদারের পক্ষ থেকে। চুক্তি অনুযায়ী ইরান তার প্রতিশ্রুতি পালন করলেও যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে অভিযোগ এনে গত বছর নিজেকে চুক্তি থেকে সরিয়ে নেয়।
ইরানের পক্ষ থেকে ইউরোপকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হলেও ইউরোপ এ ক্ষেত্রে তাদের নিরুপায় অবস্থার কথা প্রকারান্তরে জানিয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় ইরান বলেছে, মে মাসে যে ষাট দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, তা শেষ হওয়ার পর তারা আরও ষাট দিন সময়ের প্রত্যাশা করতে পারে না।

দুই মামলায় আটকে আছে খালেদার মুক্তি

দুই মামলায় মুক্তি আটকে আছে বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার। সাজার রায় হওয়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন হলেই খুলবে তার মুক্তির পথ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দায়ের ৩৭টি মামলার মধ্যে ৩৩ মামলায় আগেই জামিনে ছিলেন তিনি। গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে কটূক্তি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগের দুই মামলায় জামিন পান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দুই মামলায় হাইকোর্ট তাকে ৬ মাস করে জামিন দিয়েছেন। বিচারপতি মোহাম্মদ হাফিজ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ জামিন মঞ্জুর করেন। ফলে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আর দুই মামলায় জামিন পেলেই মুক্তি পাবেন বলে মনে করছেন তার আইনজীবীরা। এ দুই মামলায় দণ্ডাদেশ পেয়ে কারাগারে আছেন বিএনপি  চেয়ারপারসন।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এ জে  মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, একেএম এহসানুর রহমান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফজলুর রহমান (এফ. আর খান) ও সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল স্বপন কুমার দাস। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বেগম জিয়া কারাবন্দি। বিভিন্ন মামলা দিয়ে তাকে কী করে আরও বেশি দিন জেলখানায় রাখা যায়, সে ব্যবস্থা করেছে সরকার। যে দুটি মামলা আজকে হাইকোর্ট পর্যন্ত এসেছে। অথচ সেটা হাইকোর্ট পর্যন্ত আসার কথা না। আরো কতটি মামলায় জামিন পেলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আর দুটি মামলায় তিনি জামিন পেলেই মুক্তি পাবেন। একটি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা, অপরটি- জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা। এ দুই মামলাতেই তার সাজা হয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্ট ১০ বছরের কারাদন্ডাদেশ দিয়েছে। অপরদিকে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালত তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল মামলায়ও জামিন আবেদন করা হয়েছে। ওই মামলায় নথি আসতে ১২দিন বাকি আছে। আশাকরি ১২ দিন পর ওই মামলায় তার জামিন শুনানি হবে। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এফ আর খান সাংবাদিকদের বলেন, জামিনযোগ্য সেকশন হওয়ার কারণে আদালত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দুই মামলায় জামিন দিয়েছেন। জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল-এর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২১শে অক্টোবর জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী বাদী হয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানীর দুটি মামলা করেন। একটি মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালের ১৪ই অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরে আছে। আসলে দলটি ধর্মহীনতায় বিশ্বাসী। আওয়ামী লীগের কাছে কোনো ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেছে। হিন্দুদের ওপর হামলা করেছে। খালেদা জিয়ার ওই বক্তব্য যেমন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে, তেমনি হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে  শ্রেণিগত বিভেদ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে এ বি সিদ্দিকী ২০১৭ সালের ২৫শে জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরো একটি মানহানির মামলা করেন। এই মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালের ৩১শে ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ সরকার নিয়ে কটূক্তি করেন। এই দুই মামলাতেই গত বছরের ৩০শে জুন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয় শাহবাগ থানা পুলিশ। আদালত দুই তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ২০শে মার্চ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। 
খালেদা জিয়ার মামলায় প্রথার ব্যতিক্রম ঘটছে: ব্যারিস্টার কায়সার
বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী ও দলের আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলার মধ্যে মাত্র দুইটি মামলায় জামিন বাকি রয়েছে। সেই দুইটি হচ্ছে- জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা। মামলা দুইটির গতিপ্রকৃতি ও জামিন প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৫ বছরের সাজার রায় দিয়েছিল। বিচার ব্যবস্থার রীতি অনুযায়ী উচ্চ আদালতে সাধারণত বিবাদীপক্ষ সুবিবেচনা পান। কিন্তু এখানে হয়েছে উল্টো ঘটনা। ২০১৬-২০১৭ সালের মামলাগুলোর যেখানে আপিল শুনানি হয়নি, সেখানে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মামলায় আপিল শুনানি সম্পন্ন করা হয়েছে। সে আপিল শুনানি সম্পন্ন করতে বেঁধে দেয়া হয়েছিল মাত্র ৪ মাস সময়। যা এই উপমহাদেশে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। তিনি বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দুদক খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের সাজা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ সাজা দেয়ার আবেদন করেছিল। দুদকের সেই আবেদনের ওপর বেগম খালেদা জিয়ার কোন আইনজীবীকে শুনানির সুযোগ দেয়া হয়নি। হাইকোর্ট দুদকের আইনজীবীদের শুনানি শুনেই রায় দিয়েছেন। যেখানে হাইকোর্ট সাজার মেয়াদ বাড়িয়ে সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণা করেছেন। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আমরা হাইকোর্ট বিভাগে জামিন শুনানির আবেদন করেছি। কিন্তু আদালত বলে দিয়েছে নিম্ন আদালত থেকে নথি আসার পর জামিন শুনানি হবে। সাধারণত ৫-৭ বছরের সাজার রায়ের ক্ষেত্রে এমনটি করা হয় না। মাননীয় আদালত, যেদিন আপিল গ্রহণ করেন সেদিনই জামিনের আবেদনের উপরে শুনানি করে থাকেন। কিন্তু কেবল বেগম খালেদা জিয়ার মামলার ক্ষেত্রে এমন প্রথার ব্যতিক্রম ঘটেছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানান, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতের পাঁচ বছরের সাজা ঘোষণা হলে আপিল করেন তারা। গত ৩০শে অক্টোবর হাইকোর্ট এ মামলায় সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের রায় দেন। গত ২৮শে জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে। এখন এ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করতে হবে। অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় গত ২৯শে অক্টোবর বিচারিক আদালতের সাত বছরের কারাদণ্ড ঘোষণার পর ১৮ই নভেম্বর হাইকোর্টে আপিল করা হয়েছে সাজার বিরুদ্ধে। এই মামলাতেও জামিন আবেদন করতে হবে। এছাড়া গ্যাটকো, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ও নাইকো মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি চলছে। তার আইনজীবীরা জানান, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ান ইলেভেন সরকারের আমলে ৪টি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের গত দশ বছরে ৩৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। এরমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ৫টি, রাজধানীর গুলশানসহ খুলনার ফুলতলা, পঞ্চগড়,  নাশকতার ১৬টি, মানহানির ৪টি, ৩টি হত্যা, সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে দেয়া মানহানিকর বক্তব্যের অভিযোগে ২টি, রাষ্ট্রদ্রোহের একটি, ভুয়া জন্মদিন পালনের একটি, সাবেক নৌমন্ত্রীর ওপর বোমা হামলার একটি, জাতীয় পতাকার অবমাননার একটি, ড্যান্ডি ডাইংয়ের অর্থঋণ আদালতে বিচারাধীন একটি এবং বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের মালিকানা নিয়ে রয়েছে একটি দেওয়ানী মামলা। এর মধ্যে দুই মামলায় রায় হলেও ১৬টিতে অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে এবং উচ্চ আদালতে ১১টির বিচার স্থগিত আছে। আর বাকি মামলাগুলোর কোনোটিতে অভিযোগপত্র জমা পড়েছে, বা কোনোটি তদন্তের পর্যায়ে আছে। রাজধানী ঢাকাসহ কুমিল্লা ও কক্সবাজারে বেশ কয়েকটি মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামী করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা বিদ্বেষ নীতি: মিয়ানমারে সহায়তা প্রত্যাহারের হুমকি দিল জাতিসংঘ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত বিদ্বেষ নীতি’ অনুসরণের ফলে দেশটির রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো থেকে সহায়তা প্রত্যাহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এই প্রথম মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প প্রশ্নে জাতিসংঘ কঠিন কোনো পদক্ষেপের ঘোষণা দিল।
জাতিসংঘের এক চিঠির বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান জানায়, সংস্থাটির আবাসনবিষয়ক সমন্বয়ক নাট অসবি মিয়ানমার সরকারের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। যেখানে বলা হয়েছে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দেশটিতে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত অধিবাসী (আইডিপি) ক্যাম্পগুলোতে প্রতিশ্রুত পরিবর্তন নিশ্চিত না করা পর্যন্ত জাতিসংঘ ও তার সহযোগী সংস্থাগুলো সেখানে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা ছাড়াও সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করে দেবে।
সাত বছর আগে সহিংসতার কারণে রাখাইন রাজ্যের বাস্তুচ্যুত মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য বানানো ক্যাম্পগুলোতে অব্যাহতভাবে সহায়তা দিয়ে আসছে জাতিসংঘ।
গত ৬ জুন পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, এসব ক্যাম্পে আশ্রিতদের বিচরণের স্বাধীনতাসহ মৌলিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে মিয়ানমার সরকারের প্রতিশ্রুতির স্পষ্ট অগ্রগতি হলেই কেবল আগামীতে জাতিসংঘের সহায়তা দেওয়া হবে। বর্তমানে দেশটির গৃহীত নীতির ফলে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত করার ঝুঁকি বজায় রাখছে বলে চিঠিতে বলা হয়।
২০১৭ সালে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এক লাখ ২৮ হাজার রোহিঙ্গা ও কামান মুসলিম থাকা ওইসব ক্যাম্প বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেয়। ২০১২ সালের সহিংসতায় বাস্তুহারা মুসলিমদের বিচরণের স্বাধীনতা হরণ করে জোরপূর্বক ওই সব ক্যাম্পে দারিদ্র্য ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে বাধ্য করা হয়।
সে সময় জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে পরিচালিত এক কমিশনের সুপারিশে মিয়ানমার পর্যায়ক্রমে ওই সব বাস্তুহারার জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থাসহ তাদের নিজ গ্রাম বা তার কাছাকাছি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি এবং এখানকার বাসিন্দাদের মৌলিক অধিকার, জীবিকাব্যবস্থা, বিচরণের স্বাধীনতা সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য করা হয়েছে বলে জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়।
মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী ড. উইন ম্যায়েট আয়ে বরাবর জাতিসংঘের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, পুরোনো ও নতুন করে নির্মিত ক্যাম্পগুলোর বাসিন্দারা আগের মতোই অমর্যাদার শিকার হচ্ছে। তাদের জীবনযাপনে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
মিয়ানমারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ক্যাম্পগুলো বা তার আশপাশেই ক্যাম্পবাসীর জন্য স্থায়ী বসতি নির্মাণ করছে সরকার। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে এটাই স্পষ্ট যে, সরকারের জাতিগত বিদ্বেষ নীতি স্থায়ী হবে। এভাবে সরকার জাতিসংঘের অব্যাহত সহায়তা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করছে।’
মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বহু বছর ধরে জাতিগত সহিংসতার শিকার। ২০১২ সালের পর ২০১৬ সালের অক্টোবর ও ২০১৭ সালে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পরে প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে মিয়ানমারে পাঁচ লাখের মতো রোহিঙ্গা রয়েছে।
শরণার্থী শিবিরে কয়েকটি রোহিঙ্গা শিশু

দুশ্চিন্তায় সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকরা by এম এম মাসুদ

নতুন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে সঞ্চয়পত্রের সুদহার না কমিয়ে উৎসে কর বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এতে আগের চেয়ে কম মুনাফা পাবেন বিনিয়োগকারীরা। এর ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ  হিসেবে বিবেচিত সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকরা পড়েছেন দুঃশ্চিন্তায়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাজেট পেশের আগে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারে হাত দেবেন না অর্থমন্ত্রী। সে কথা তিনি রেখেছেন। কিন্তু গ্রাহকদের মুনাফার টাকার ওপর উৎসে কর দ্বিগুণ করে বিপদে ফেলেছেন বিনিয়োগকারীদের। অর্থাৎ বর্তমানে উৎসে কর (চূড়ান্ত দায়) দিতে হচ্ছে ৫ শতাংশ, প্রস্তাবিত বাজেট পাশ হলে দিতে হবে ১০ শতাংশ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের মতে, ১০ শতাংশ উৎসে কর ১লা জুলাই থেকেই কার্যকর হবে।
যারা এখনো মুনাফার টাকা তোলেননি এবং যারা ৫ শতাংশ উৎসে কর দিয়েই মুনাফার টাকা তুলতে চান, তাদের উচিত হবে ৩০শে জুনের মধ্যেই তা তুলে ফেলা। সে ক্ষেত্রে তাদের বাড়তি কর দিতে হবে না।
অর্থনীতিবিদরা বলেন, সঞ্চয়পত্রে উৎস কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত যৌক্তিক হয়নি। এর ফলে স্বল্প ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের সঞ্চয়ের পথ সংকুচিত হয়ে পড়বে। যেমন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের কারণে কোনো গ্রাহক যদি মাসে ৫ হাজার টাকা মুনাফা পেয়ে থাকেন, ১লা জুলাইয়ের পর থেকে তিনি ৫ হাজার থেকে ৫০০ টাকা কম পাবেন। ব্যাংকের কাছ থেকে এ টাকা বুঝে নেবে এনবিআর। অর্থাৎ সঞ্চয়পত্রের মুনাফা চলতি মাস জুনের মধ্যে না তুললেই বাড়তি কর ১০ শতাংশ দিতে হবে গ্রাহককে।
জানা গেছে, সঞ্চয়পত্রে উৎস কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে অর্থ আইন-২০১৯-এর আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ৫২(ডি) ধারা সংশোধনের মাধ্যমে। ওই ধারায় সঞ্চয়পত্রে ৫ শতাংশ উৎস কর নেয়ার বিধান আছে। সেটি সংশোধন করে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে আমানতের সুদের ওপর কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিন) থাকলে ১০ শতাংশ এবং না থাকলে ১৫ শতাংশ হারে উৎস কর নেয়া হয়। ১লা জুলাই থেকে সঞ্চয়পত্রে নতুন হারে উৎস কর কার্যকর হবে। ব্যাংকে আমানতের ওপর আরোপ করা উৎস করের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে আনতে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ২৭ হাজার কোটি টাকা নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে সরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সঞ্চয়পত্রে উৎস কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত যৌক্তিক হয়নি। কারণ সঞ্চয়পত্র যারা কেনে তারা নির্দিষ্ট আয়ের লোক। ফলে তাদের আয় আরো কমে যাবে।
সূত্র মতে, ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ হারে কর কর্তনের বিধান করা হয়, যা ২০১১ সালের ১লা জুলাই থেকে প্রযোজ্য হয়। তবে ২০১১ সালের ৩০শে জুন পর্যন্ত পরিবার ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র ছাড়া অন্য সঞ্চয়পত্রগুলোর মুনাফায় ১০ শতাংশ হারে উৎস কর কর্তনের বিধান ছিল।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, ওই সময় ব্যাংকে আমানতের সুদ হারও বেশি ছিল। ফলে অবসরভোগী ও সাধারণ মানুষ তাদের জমানো টাকা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের বদলে ব্যাংকে রাখত। এ পরিস্থিতির বদল করতে ওই সময় উৎস কর অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়। আর ২০১৬ সালে প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল থেকে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ হারে উৎস কর আদায়ের নতুন বিধান সংযোজন করা হয়েছে। আর ব্যক্তি খাতের পেনশন স্কিম সঞ্চয়পত্রের ৫ লাখ টাকার বিনিয়োগ উৎস করমুক্ত রাখা হয়েছে। তবে ব্যক্তি খাতের পেনশন স্কিমে ৫ লাখ টাকার অতিরিক্ত বিনিয়োগ হলেই পুরো মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ হারে উৎস কর আদায়ের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা নেয়ার কথা থাকলেও সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়। কিন্তু অর্থবছরের ৯ মাসেই ৩৯ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকার বেশি নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। তাই সঞ্চয়পত্রে অতিরিক্ত বিনিয়োগ ঠেকাতে সমপ্রতি বিনিয়োগকারীদের তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়েছে। আগামী ১লা জুলাই থেকে অনলাইনে সঞ্চয়পত্র কেনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্র ক্রয়-বিক্রয় ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের উদ্দেশ্যে জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে সঞ্চয় স্কিমগুলোর বিক্রয়, মুনাফা নগদায়ন ইত্যাদি বিষয়ে রিয়েল টাইম তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। এনআইডির ভিত্তিতে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের ঊর্ধ্বসীমা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। গ্রাহকের মুনাফা ও আসল ইএফটির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিশোধ করা সম্ভব হবে। এতে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে এবং এ খাতে সুদ বাবদ ব্যয়ের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে কমে আসবে।
এদিকে বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ধার করবে সরকার। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার পরিকল্পনার কথা নতুন বাজেটে তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের কমপক্ষে প্রতি দুই মাস অন্তর সুদ দিতে হয়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
প্রস্তাবিত বাজেটের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যত বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি, সরকারের সুদ ব্যয়ও তত বেশি। আগামী অর্থবছরের জন্য সঞ্চয়পত্রের সুদ ব্যয় বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সুদ বাবদ বরাদ্দ রয়েছে ২৯ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের সুদ বাবদ সরকারের ব্যয় হয়েছে ১৯ হাজার ১০৯ কোটি টাকা।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত এবং সুদের হার বেশি হওয়ায় এখানে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগ বাড়ছে। সেক্ষেত্রে সরকারের করণীয় হলো বাজেটে সঞ্চয়পত্র বিক্রির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, তা পূরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বন্ধ করে দেয়া। এতে করে সরকারকে অতিরিক্ত সঞ্চয়পত্র বিক্রির সুদের বোঝা টানতে হবে না।
এদিকে সরজমিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে গিয়ে দেখা যায়, সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য লাইনে অপেক্ষা করছেন বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যে সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য অপেক্ষা করছেন রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার সৈয়দা আফরোজা বেগম। বয়স ৬০ এর কাছাকাছি। তিনি বলেন, কিছু টাকা ব্যাংকে আছে। ইন্টারেস্ট পাই ৬ শতাংশ। নানান খরচ বাদ দিয়ে সাড়ে ৫ শতাংশ পড়ে। এর চেয়ে সঞ্চয়পত্রে সুদ অনেক বেশি। তাই সঞ্চয়পত্র কিনতে এসেছি। তিনি বলেন, এবারের বাজেটে গ্রাহকদের মুনাফার ওপর উৎসে কর দ্বিগুণ করা হয়েছে। তার পরও সঞ্চয়পত্র কিনবো। কারণ ব্যাংকের অবস্থা ভালো না। আস্থাও নাই বলে জানান তিনি। 
সঞ্চয়পত্রের সুদহার: সঞ্চয়পত্রগুলোর মধ্যে ৫ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষে ১১.৫২ শতাংশ সুদ পাওয়া যায়। ৫ বছর মেয়াদি পেনশন সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১.৭৬ শতাংশ। ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১.২৮ শতাংশ। ৩ বছর মেয়াদি মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১.০৪ শতাংশ। ৩ বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বর্তমানে ১১.২৮ শতাংশ।

ডুবিয়ে দেয়া হলো বিশাল বিমানটি

ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে এয়ার বাস এ৩৩০
সমুদ্রের পানিতে ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে একটি বিশাল আকারের যাত্রীবাহী বিমান। চারপাশে কাজ করছেন কয়েজন ক্রু। দূর থেকে কৌতুহলি মানুষজন ছবি তোলায় ব্যস্ত। ধীরে ধীরে বিশাল বিমানটি তলিয়ে গেল পানির নিচে। ঘটনাটি তুরস্কের। গত ১৫ জুন শনিবার দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় ইদাইর্ন শহরের কাছের সারোস উপসাগরে ডুবিয়ে দেয়া হয় বিশাল আকারের যাত্রীবাহী বিমান এয়ারবাস এ৩৩০।
তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্তালিয়া নগরী থেকে আনা হয় বিমানটি। ডাইভিং সেক্টরে পর্যটক আকর্ষণের জন্যই এটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সমুদ্রের তলদেশে থাকা বিমানটিতে প্রবেশ করতে পারবেন শখের ডুবুরিরা। এই অঞ্চলে ডাইভিং করতে আসা লোকদের বাড়তি বিনোদন দেবে এটি। বিমানটির মধ্যে কিছুক্ষণ অবস্থানও করতে পারবেন তারা। কর্তৃপক্ষ বলছে, এর ফলে পর্যটক আকর্ষণে নতুন মাত্রা যোগ হবে অঞ্চলটিতে। বিশেষ করে যেসব পর্যটক সমুদ্রের তলদেশে ডাইভিং করেন।
এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমান যেটি ডুবিয়ে দেয়া হলো পর্যটক আকর্ষণের জন্য। ৯০ টন ওজনের বিমানটি ডুবিয়ে দিয়ে সময় লেগেছে ৪ ঘণ্টা। কিছুদিন আগে বিমানটিকে যাত্রী পরিবহন থেকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। পরে সেটিকে পর্যটক আকর্ষণের কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়।
বিশাল আকারের রাবারের নৌকার ওপর ভাসিয়ে বিমানটিকে উপকূল থেকে আধা নটিক্যাল মাইল সমুদ্রের ভেতরে নেয়া হয়। এরপর বাবারের নৌকাগুলোর বাতাস বের করে দিলে বিমানটি ধীরে ধীরে তলিয়ে যায় সমুদ্রের তলদেশে।
তুরস্কের অর্থনীতির বড় একটি আয়ের উৎস পর্যটন খাত। দেশটিতে প্রতি বছর প্রচুর পর্যটন যান। গত কয়েক বছরে এই খাতকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন চমকপ্রদ ব্যবস্থা নিচ্ছে তুর্কি পর্যটন বিভাগ। বিমান ডুবিয়ে দেয়াও তারই একটি অংশ। সূত্র : ডেইলি সাবাহ

নওগাঁয় মাকে হত্যার পর মেয়েকে ধর্ষণ: ৫ স্কুলছাত্রীসহ ৭ নারী ধর্ষিত

মানবজমিন, ১৯ জুন ২০১৯ বুধবারঃ সাত জেলায় ৫ স্কুলছাত্রীসহ ৭ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে নওগাঁর মান্দায় মাকে হত্যার পর মেয়েকে ধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া হোমনায় স্কুল থেকে ডেকে নিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে এক বখাটে। শেরপুরের নালিতাবাড়িতে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণ করে দুই দুর্বৃত্ত। গোপালগঞ্জে স্বামী সেজে প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণ করে আরেক দুর্বৃত্ত। এদিকে চাঁদপুরের কচুয়ায় এক স্কুলছাত্রী, জগন্নাথপুরে মাদরাসা ছাত্রী ও  আড়াইহাজারে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে-

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, মান্দায় মাকে গলা কেটে হত্যার পর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহতের নাম নাসিমা আক্তার সাথী (৪০)।
তিনি উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের দ্বারিয়াপুর গ্রামের এমদাদুল হক মণ্ডলের স্ত্রী। গত সোমবার দিবাগত গভীর রাতে নিহতের ঘরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে ঘাতক ধর্ষক সামিউল ইসলাম সাগরকে (২২) আটক করেছে পুলিশ। আটক সাগর উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের চকশ্যামরা গ্রামের জান মোহাম্মদের ছেলে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বামী এমদাদুল হক জানান, আমি নাটোরের একটি ফার্মে নৈশপ্রহরীর চাকরি করি। বাড়িতে স্ত্রী সার্থী ও ছোটমেয়ে একসঙ্গে থাকতেন। সোমবার গভীর রাতে মোবাইলফোনের মাধ্যমে স্ত্রী সাথীর মৃত্যুর সংবাদ জানতে পারি।

মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, নিহতের ছোটমেয়ে রীমা আক্তারের সঙ্গে আটক সাগরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি সেই সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। ঘটনার রাতে রীমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে একটি চাকু নিয়ে তাদের বাড়িতে যায় সাগর। বাড়ির পেছনের দিক দিয়ে ছাদে উঠে অপেক্ষা করতে থাকে। এ সময় সাগর যৌন উত্তেজক পানীয় পান করে। পরে ছাদ থেকে নেমে রীমার ঘরে যায়। এ সময় নিহত সাথী ও মেয়ে রীমা একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। ওসি আরো জানান, সাগর ও রীমা কথা বলার সময় নিহত সাথী জেগে উঠে। তখন সাগরের কাছে থাকা চাকু দিয়ে সাথীর শরীরের একাধিক আঘাত করে। এতে সাথী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে গলা কেটে হত্যা করে সাগর। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিহতের মেয়েকে ধর্ষণ করে সে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক সাগর এ ধরনের তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি। সাগর জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানায়, অপরাধকর্ম সংঘটিত করে পায়ে হেঁটে বুড়িদহ খেয়াঘাটের বাঁশের সাকো দিয়ে নদী পার হওয়ার সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটি নদীতে ফেলে দিয়ে সে বাড়ি চলে আসে।

শেরপুর প্রতিনিধি জানান, শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে এক গৃহবধূকে (৩৫)  গণধর্ষণের অভিযোগে ১ মোখলেছুর রহমান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার দুপুরে ভিন্ন জেলার অধিবাসী ওই অভিযোগকারী গৃহবধূকে তদন্ত কর্মকর্তা নিরাপদ হেফাজতে রাখার আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করলে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আল মামুন পৃথক আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে স্বামীর জিম্মায় প্রদান করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে,  জামালপুর শহরের বগাবাড়ি বোর্ডঘর এলাকার ওই গৃহবধূ শুক্রবার বিকেলে জামালপুর ব্রিজ থেকে শেরপুরের উদ্দেশ্যে সদর উপজেলার মুন্সীরচর এলাকার ইয়াসিনের (৩৫) সিএনজিতে উঠলে ইয়াসিন কৌশলে কৃষ্ণপুরের দিকে গিয়ে ওই গাড়িতে মালিক স্থানীয় জুয়েল মিয়াকে উঠায়। এরপর নন্দীরবাজার থেকে একই গাড়িতে মুন্সীরচর এলাকার হামিদুল (২২) ও মোখলেছকে (২৬) কে উঠায়। এরপর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ওই গৃহবধূকে নালিতাবাড়ীর সূর্যনগর এলাকার কাশেমপুর বাজার সংলগ্ন ব্রিজের পাশে থাকা হামিদুলের এক খালার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সন্ধ্যায় তালাবদ্ধ করে রাখে। রাতে হামিদুল ও মোখলেছ ওই ঘরে গিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। শনিবার সকালে ইয়াসিন ও জুয়েল সিএনজি নিয়ে গিয়ে হামিদুল ও মোখলেছসহ গৃহবধূকে ওই বাড়ি থেকে নিয়ে এসে নানাভাবে চাপ দিয়ে ফের জামালপুর ব্রিজে নামিয়ে দেয়। পরে ওইদিনই ওই গৃহবধূ নালিতাবাড়ী থানায় ৪ জনকে আসামী করে অভিযোগ দায়ের করলে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোখলেসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। 

হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, হোমনায় ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে স্কুল থেকে নিজ রুমে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল ছাত্রীটিকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমেক হাসপাতালে এবং জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ব্যাপারে ভিকটিমের বাবা শ্রমিক লীগ নেতা বাদী হয়ে সোমবার রাতে চার জনকে আসামি করে হোমনা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক আবু সালেহ নামে একজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার বাগমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ওই ছাত্রী স্কুলে যাওয়া-আসার পথে একই গ্রামের মুফতি নূরুজ্জামানের ছেলে জালাল মিয়া প্রেম নিবেদনসহ উত্ত্যক্ত করতো। বিষয়টি বার বার জালালের পরিবারের সদস্যদের জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এভাবে দীর্ঘদিন প্রেম নিবেদন করার এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। এরই সূত্র ধরে জালাল গত এক বছর আগে ছাত্রীটিকে ফুসলিয়ে বাগমারা মহিলা মাদরাসা ছুটির সময় মাদরাসার একটি কক্ষে নিয়ে মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। তখন মেয়েটির পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে জালালের অভিভাবকদের নিকট বিচার দিলেও তারা এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। লোক লজ্জার ভয়ে মেয়েটির পরিবার তখন থানায় জানানো বা কোনো দেন-দরবারও করেননি।
গত সোমবার বিকাল তিনটায় ছাত্রীটি স্কুলে ছিল। এরই এক ফাঁকে তাকে আবারো জালাল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে স্কুল থেকে ডেকে স্কুলের পাশে নিজ বাড়িতে তার থাকার রুমে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় জালালের বন্ধু আবু সালেহ তাদের পাহারা দেয়। ছাত্রীটির আর্তচিৎকারে লোকজন ছুটে এলে জালাল দৌড়ে পালিয়ে যায় এবং তারা ছাত্রীটিকে উদ্ধার করে মর্মে অভিযোগ করা হয়েছে। 

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জে ৩ সন্তানের জননী এক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিমুল মোল্লা নামে এক রাজমিস্ত্রিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিমুলের বাড়ি সদর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের চরমানিকদহ গ্রামে। গত রোববার দিবাগত রাত ১০টার দিকে একই গ্রামের গুচ্ছপল্লীতে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষিত প্রতিবন্ধী ওই নারী বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।

ধর্ষিত নারীর ও থানায় জমা দেয়া অভিযোগের বরাত দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মুকুল হোসেন জানান, সদর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের চরমানিকদহ  গ্রামের (গুচ্ছপল্লীতে) দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী ধর্ষিতা ৩ সন্তানের জননীর স্বামী পেশায় একজন পুরি বিক্রেতা। গত রোববার রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে দরজা খোলা রেখে ঘুমিয়ে যায় ওই প্রতিবন্ধী নারী। আনুমানিক রাত ১০টার পর একই গ্রামের শিমুল মোল্লা (রাজমিস্ত্রি) ওই নারীর অন্ধকার ঘরে ঢুকে স্বামী সেজে প্রতারণার মাধ্যমে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। কিছুক্ষণ পর ওই নারী বুঝতে পারে যে, ওই পুরুষ তার স্বামী নয়। রাত ১১টার পর তার স্বামী ঘরে ফিরলে ঘটনাটি তাকে জানায়। সোমবার তার স্বামী প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করে।

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত লাল মিয়া (৩৫) কে আসামি করে গত সোমবার জগন্নাথপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ এলাকাবাসী ও শিশুটির পরিবার সূত্র জানায়, জামালপুর রোডস্থ এলাকার বাসিন্দা সাদেক মিয়ার আট বছরের মেয়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে গত শনিবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশী যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুন নূরের বাড়িতে বসবাসকারী হবিগঞ্জ জেলা সদরের হাসপাড়া বাসিন্দা আব্দুল হাশিমের চার সন্তানের জনক লাল মিয়া ঘরে ডেকে নিয়ে মেয়েটিকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। মেয়েটির চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন এগিয়ে এলে লাল মিয়া পালিয়ে যায়। পরদিন মেয়েটির বাবা যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুন নূরের কাছে এ ঘটনার বিচার প্রার্থী হলে তিনি বিচার না করে মেয়েটির বাবাকে ঘটনাটি কাউকে না বলতে নিষেধ করেন এবং লাল মিয়াকে তার বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিবেন বলে জানান। পরে মেয়েটির বাবা জগন্নাথপুর থানায় লাল মিয়াকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আড়াইহাজারে ইয়াছিন নামে স্থানীয় এক কাপড় ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সে স্থানীয় জোকারদিয়ার নয়াপাড়া এলাকার মোতালিবের ছেলে। ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে গতকাল মামলাটি করেন। তবে ধর্ষককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এরই মধ্যে ছাত্রীটি সাড়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। সে স্থানীয় লতবদী মহিলা মাদরাসায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওই ছাত্রী জানায়, ৪ঠা জানুয়ারি তাকে বাড়ির পাশে একা পেয়ে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে কাপড় ব্যবসায়ী ইয়াছিন। বিষয়টি জানাজানি না করতে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয়। এতে তার পরিবারের লোকজনের কাছে তা সে গোপন রাখে। আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ধর্ষককে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। ওই ছাত্রীকে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে।

কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি জানান, কচুয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে রাকিবুল হাসান জয়েল মীর(২৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সকালে কচুয়া পৌর বাজার থেকে ধর্ষণের মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি কাদলা ইউনিয়নের সখিপুরা গ্রামের আঃ মালেকের ছেলে রাকিবুল হাসান জয়েল মীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার এজাহার মর্মে জানা যায়,  কচুয়া বঙ্গবন্ধু সরকারি ডিগ্রি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রীর সাথে রাকিবুল হাসান জয়েল দীর্ঘদিন কলেজ ছাত্রীর সাথে প্রেমের অভিনয় করে কোর্টে বিয়ে করবে বলে কলেজ থেকে নিয়ে চাঁদপুরের শরিয়তপুর আবাসিক হোটেল নিয়ে  ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় । এ ঘটনায় কলেজ ছাত্রী বাদী হয়ে ২২শে ফেব্রুয়ারি রাকিবুল হাসান জুয়েলসহ ৬ জনকে আসামি করে চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যতন ট্রাইবুনালে একটি মামলা দায়ের করেন।

ক্রিকেটে পাকিস্তানের পরাজয়: টুইটারে বীণা মালিক ও সানিয়া মির্জার বাহাস

ভারতের কাছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে হেরে যাওয়ার পর দেশে বিদেশে তীব্র সমালোচিত পাকিস্তান টিম। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে খেলার আগের রাতে একটি সিসা পার্টি নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছেন পাকিস্তানিরা। এবার এই একই ইস্যুতে বাহাসে জড়িয়ে পড়েছেন পাকিস্তানের সুপরিচিত অভিনেত্রী বীণা মালিক ও ভারতীয় টেনিস তারকা, পাকিস্তানি বধু সানিয়া মির্জা। ওই পার্টিতে সানিয়া মির্জা ও তার স্বামী শোয়েব মালিক তাদের সন্তানকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন বলে মিডিয়ায় বলাবলি হচ্ছে। রোববার ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের খেলা হয়। এর আগের রাতে ওই পার্টি আয়োজন করা হয়। তবে শোয়েব মালিক তা অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেছেন, ওই পার্টি করা হয়েছিল তারও আগে।
কিন্তু অভিনেত্রী বীণা মালিকের চোখ পড়েছে অন্যখানে। মিডিয়ার দাবি অনুযায়ী, শনিবার দিবাগত রাতে ম্যানচেস্টারের ওই পার্টিতে সানিয়া মির্জা, শোয়েব মালিক, পাকিস্তান দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। খেলার আগের রাতে এমন পার্টিতে সানিয়া মির্জা ও শোয়েব মালিকের ছেলে ইজানকে সঙ্গে নিয়ে যোগ দেয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বীণা মালিক। তিনি টুইটারে সানিয়া মির্জার কাছে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সিসা ক্যাফেতে যে ধোয়া নির্গত হয় তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সেখানে শিশু ইজানকে নিয়ে হাজির হওয়া নিয়ে বীণা লিখেছেনÑ সানিয়া, আমি প্রকৃতপক্ষে শিশুটিকে নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন। তোমার তাকে সিসা পানের স্থানে নিয়ে গিয়েছিলে। এটা কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়? আরও আমি যতদূর জানি, আর্চির খাবারগুলো জাঙ্ক ফুড। এটা অ্যাথলেট বা শিশুদের কারো জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। একজন মা ও নিজে একজন অ্যাথলেট হিসেবে এটা তোমার অবশ্যই জানা উচিত।
বীণা মালিকের এমন আক্রমণের জবাব দিয়েছেন সানিয়া মির্জা। তিনি টুইটে লিখেছেন- বীণা, আমি আমার সন্তানকে সিসা ক্যাফেতে নিয়ে যাই নি। এটা তোমার বা বাকি বিশ্বের মাথা ঘামানোর বিষয় নয়। আমি মনে করি অন্য যেকারো থেকে আমার ছেলের বেশি যতœ করি আমি। দ্বিতীয়ত, আমি পাকিস্তান ক্রিকেট টিমের পুষ্টিবিদ নই। আমি তাদের মা, প্রিন্সিপাল বা শিক্ষক নই যে, তাদেরকে বলে দেব কখন ঘুমাতে হবে, কখন উঠতে হবে এবং খেতে হবে।
এরপরে সানিয়া যোগ করেছেন, তোমার সচেতনতার জন্য ধন্যবাদ। এর অর্থ অনেক কিছু হতে পারে। টুইটার আমাকে ভেঙেচুরে খাচ্ছে, কিছু মানুষ তো অবশ্যই। তোমাদের হতাশা প্রকাশের জন্য তোমাদের অন্য কোনো মিডিয়াম ব্যবহার করা উচিত।
অন্যদিকে তার স্বামী শোয়েব মালিক ওই ভিডিওর বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভারত পাকিস্তান ম্যাচের আগের রাতের ভিডিও ওটা নয়। ওই ভিডিও ১৩ জুনের। তাই সব খেলোয়াড়ের পক্ষে আমি মিডিয়া ও জনগণকে অনুরোধ করবো আমাদের পরিবারগুলোর দিকে তাকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করুন। তাদেরকে এমন আলোচনায় টেনে আনবেন না। এটা ভাল দেখায় না।

প্রত্যাশার চেয়ে ৩০০০ কোটি ডলার কম আয় হবে হুয়াওয়ের

মার্কিন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞায় কিছুটা হলেও জেরবার চীনা প্রযুক্তি জায়ান্ট হুয়াওয়ে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা রেন ঝেংফেই নিজেই তা স্বীকার করেছেন। হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অবরোধ তীব্র হয়ে উঠার পর থেকে তাদের মোবাইল ফোন বিক্রি গত এক মাসেই কমে গেছে ৪০ শতাংশ। হুয়াওয়ের সদর দপ্তরে দেওয়া এক বক্তৃতায় ঝেংফেই আরও বলেছেন, আগামী দুই বছরে প্রত্যাশার চেয়েও ৩০০০ কোটি ডলার কম আয় করবে তার প্রতিষ্ঠান। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
গত মাসে হুয়াওয়েকে একটি বিশেষ তালিকার অন্তর্ভূক্ত করে মার্কিন প্রশাসন। এ কারণে একটি বিশেষ লাইসেন্স না থাকলে আমেরিকান প্রতিষ্ঠানগুলো হুয়াওয়ের সঙ্গে কোনো ধরণের বাণিজ্যে জড়িত হতে পারবে না।
হুয়াওয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমা বিশ্ব সহ বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি জগতে, বিশেষ করে টেলিযোগাযোগ খাতে, নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বলছে, বিশ্বের বৃহত্তম টেলিযোগাযোগ যন্ত্রাংশ ও দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন নির্মাতা এই প্রতিষ্ঠানটি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
মার্কিন প্রশাসনের যুক্তি, হুয়াওয়েকে ব্যবহার করে চীন সরকার পশ্চিমা ও মার্কিন নাগরিকদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালাতে পারবে। কেননা চীনে সরকারের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার কোনো সামর্থ্য স্থানীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের নেই। তবে হুয়াওয়ে বলছে, তারা চীন সরকার থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন।
চীনের শেংঝেনে অবস্থিত হুয়াওয়ে সদরদপ্তরে এক প্যানেল আলোচনায় হুয়াওয়ে প্রতিষ্ঠাতা রেন বলেন, আগামী দুই বছরে হুয়াওয়ের উৎপাদন ৩০০০ কোটি ডলার কমানো হবে। ২০১৯ ও ২০২০ সালে হুয়াওয়ে ১০০০০ কোটি ডলারের পণ্য বিক্রি করবে। যদিও হুয়াওয়ে ২০১৯ সালে ১২৫০০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য বিক্রির আশা করেছিল। রেন অবশ্য বলছেন, ২০২১ সালে ফের ঘুরে দাঁড়াবে হুয়াওয়ে।
তিনি আরও বলেছেন, বিদেশে হুয়াওয়ের স্মার্টফোন বিক্রি কমলেও, চীনে তা আগের মতোই অব্যাহত আছে। তিনি আরও বলেন, গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে হুয়াওয়ের বিপুল ব্যয় কমবে না।
হুয়াওয়ে প্রতিষ্ঠাতা অবশ্য আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব উড়িয়ে দিয়েছেন। এবার তিনি বলছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এমন কঠোর হবে, তা তারা কখনোই অনুমান করতে পারেননি। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে, অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের কর্ণধার গুগল ঘোষণা দেয়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আপডেট হুয়াওয়েকে দেওয়া হবে না। ফলে হুয়াওয়ের নতুন স্মার্টফোনে গুগলের তীব্র জনপ্রিয় অনেক অ্যাপ থাকবে না। জাপানের সফটব্যাংক ও কেডিডিআই জানায়, তারা আপাতত হুয়াওয়ের নতুন ফোন বিক্রি করবে না। মার্কিন চিপ ডিজাইনার এআরএম জানায়, তাদেরকেও হুয়াওয়ের সঙ্গে ব্যবসা গুটাতে হবে।