Monday, March 27, 2017

১৪ তলায় গিয়ে যা দেখা গেল

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ভবনের ১৪ তলায় গত বৃহস্পতিবারে লাগা আগুনে বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের পুরো কক্ষই পুড়ে কালো হয়ে গেছে। এ ছাড়া মহাব্যবস্থাপকের ব্যক্তিগত সহকারীর বসার কক্ষটিও পুড়েছে বলে দেখা গেছে। ১৪ তালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ কার্যক্রম পরিচালনা করে। আজ সোমবার মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে এ অবস্থা দেখা যায়। গত বৃহস্পতিবার রাতে ভবনের ১৪ তালায় আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ওই দিন রাত সাড়ে নয়টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩১ তলা ভবনের ১৪ তলার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের (জিএম) কক্ষে আগুন আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ওই দিন রাতে এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আগুন লাগার ওই ঘটনার পর আজ প্রথম কর্মদিবস ছিল। শুক্রবার ও শনিবার সাধারণ সরকারি ছুটি ও রোববার মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ব্যাংকের সব কার্যক্রম বন্ধ ছিল। আজ ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায়, আগুন পুড়ে পুরো বিভাগটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আজ এই বিভাগে কোনো কার্যক্রম চলছে না। সকাল থেকেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এখানে উপস্থিত আছেন। তারা বিভাগের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তদন্ত বিভাগও কাজ করছে। পাশাপাশি বিভাগটিকে নতুন করে ঠিক করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে কাজ করতে দেখা যায় আজ।

আঙুলের ছাপ ও নমুনা নিয়ে দুজনের লাশ হস্তান্তর

সিলেটের আতিয়া মহলে সেনা অভিযান অপারেশন টোয়াইলাইট চলাকালে দুই দফা বিস্ফোরণে নিহত ডেকোরেটার ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ও খাদিম শাহের লাশ পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে আঙুলের ছাপ ও জামাকাপড়ের নমুনা রেখে তাঁদের লাশ পরিবারকে দেওয়া হয়। মোগলাবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস সাত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ বলছে, হামলাকারীকে শনাক্ত করতে নমুনা সংগ্রহের জন্য দুজনের লাশ রাখা হয়েছিল। গতকাল রোববার পুলিশের দুই কর্মকর্তা ও দুজন কলেজছাত্রের লাশ হস্তান্তর করা হয়। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এম রোকন উদ্দিন আহমদের ভাষ্য, ‘নিহত ছয়জনের মধ্যে দুজনের লাশ হস্তান্তর করা হয়নি।
তাঁদের ব্যাপারে আমাদের একটু খোঁজখবর নেওয়া দরকার। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে আমরা আলাপ করব।’ তিনি আরও বলেন, কারা হামলার সঙ্গে জড়িত, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে এ ব্যাপারে বলা যাবে। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের ব্যাপারেও খোঁজ চলছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন সিলেটে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক চৌধুরী আবু মো. কয়সর, জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম, মদনমোহন কলেজের হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ওয়াহিদুল ইসলাম অপু, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের উপপরিবেশ-বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফাহিম, সিলেটের দাড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম, খাদিম শাহ।
একনজরে অভিযান
২৩ মার্চ দিবাগত রাত আড়াইটায় ‘আতিয়া মহল’ ঘেরাও করে পুলিশ
২৪ মার্চ পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে জঙ্গিরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সোয়াট। সেনাবাহিনীর পর্যবেক্ষণ
২৫ মার্চ সেনাবাহিনীর অপারেশন টোয়াইলাইট শুরু। আটকা পড়া ৭৮ জন উদ্ধার। সেনাবাহিনীর সংবাদ সম্মেলনের পর দুই দফা বোমা বিস্ফোরণ। ছয়জন নিহত
২৬ মার্চ সকাল থেকেই ওই এলাকায় জঙ্গিবিরোধী তল্লাশি ও অভিযান। দুই জঙ্গি নিহত। অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা
২৭ মার্চ সকাল থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত থেমে থেমে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ।

সাবেক স্ত্রীকে ফিরে পেতে ছোট বোনকে অপহরণ!

সাবেক স্ত্রীকে ফিরে পেতে তাঁর সাত বছর বয়সী ছোট বোনকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অপহরণের তিন দিন পর পুলিশ ছোট বোনকে উদ্ধার করতে পারলেও পালিয়ে গেছেন ওই ব্যক্তি। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় এ ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার উপজেলার ভেজকী গ্রাম থেকে রিয়া আক্তার নামের শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে উপজেলার বকসির ঘটিচোরা গ্রামের কালাম ঘরামির মেয়ে। পুলিশ ও উদ্ধার হওয়া শিশুটির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে উপজেলার কুমিরমারা গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মো. রাসেলের সঙ্গে রিয়ার বড় বোন কেয়া আক্তারের বিয়ে হয়। ওই দম্পতির একটি কন্যাশিশু রয়েছে। রাসেল মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ করেছে কেয়ার পরিবার। এ কারণে সাত মাস আগে কেয়া রাসেলকে তালাক দেন। এরপর রাসেল দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী সম্প্রতি রাসেলকে ছেড়ে চলে যান। এরপর রাসেল প্রথম স্ত্রী কেয়াকে পুনরায় বিয়ে করার জন্য চেষ্টা চালান।
কিন্তু কেয়া ও তাঁর পরিবার এতে রাজি হয়নি। গত শুক্রবার বিকেলে রাসেল রিয়াকে বাড়ির সামনে থেকে নতুন জামা কিনে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। এরপর রাসেল মুঠোফোনে কেয়ার পরিবারকে জানান, কেয়াকে তাঁর সঙ্গে বিয়ে না দিলে তিনি রিয়াকে ফেরত দেবেন না। এ ঘটনার পরদিন রিয়ার মা লাইলী আক্তার বাদী হয়ে রাসেলকে আসামি করে মঠবাড়িয়া থানায় অপহরণ মামলা করেন। মঠবাড়িয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী শাহনেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিশুটিকে অপহরণের পর আমরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাসেলের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালাই। একপর্যায়ে রাসেল শিশু রিয়াকে ভেজকী গ্রামে রেখে পালিয়ে যান।’

ধর্ষণের দায়ে দুই যুবকের যাবজ্জীবন

বাক্‌প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের দায়ে দুই যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়। মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) রেজাউল করিম এ রায় দেন। দণ্ড পাওয়া দুই আসামি হলেন সুইট ওরফে কালু (৩২) ও মো. চান মিয়া ওরফে ফেরদৌস (২৬)। রায়ের পর তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। খালাস পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন মাহাবুবুর রহমান (৩২), মোস্তাক (৩০) ও মজনু ওরফে কুটু (২৮)। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট রাতে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসর বাজার থেকে বাক্‌প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এরপর ধর্ষণ করে তাঁকে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের একটি সেতুর নিচে ফেলে যায় তারা। পরদিন সকালে স্থানীয় এক নারী তাঁকে উদ্ধার করেন। কিন্তু এই তরুণীর ইশারা ভাষা বুঝতে না পারায় তাঁর নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। এতে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। পরে ওই উদ্ধারকারী নারীও নিখোঁজ হয়ে যান। স্থানীয় সূত্রে ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে সিংড়া থানার কালিগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।
মামলায় সিংড়ার হোসেনপুর গ্রামের মাহাবুবুর রহমান, সুইট প্রাং, মো. মোস্তাক, চান মিয়া, মো. মজনু ও শান্তকে আসামি করা হয়। মামলাটির তদন্ত শুরু করেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল হাই। তদন্তকালে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে আসামি সুইট ও চান বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওই তরুণীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষা করান। বিচারকের সামনে তাঁকে ইশারা ভাষা বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে জবানবন্দি দিতে হাজির করা হলেও তিনি অসুস্থ থাকায় জবানবন্দি দিতে পারেননি না। পরে তাঁকে রাজশাহীর সেভ হোমে পাঠানো হয়। কিছুদিন পর সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৬ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচারকালে নয়জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আইনজীবী হারুণ উর রশিদ জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষীই সাক্ষ্য দেননি। তাই দণ্ডের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। তবে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি শাহজাহান কবীর রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। বলেন, যাঁর কেউ নেই, তিনিও যে আদালতের কাছে বিচার পেতে পারেন, তার উদাহরণ এই মামলার রায়। তিনি গণমাধ্যম ও পুলিশকে এই রায় প্রাপ্তির জন্য ধন্যবাদ জানান।

‘ধরতা পারলে সবার লাগি ভালা’

‘ধরতা পারলে আমরার লাগি ভালা। সবার লাগি ভালা। এরারে তাড়াতাড়ি ধরলে খুব ভালা। তারা ধরা পড়ুক।’ এই প্রতিক্রিয়া সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির পাশের এলাকা জৈনপুরের বাসিন্দা মো. আলী হোসেনের। তিনি সেখানকার বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি। আতিয়া মহলে জঙ্গিবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন। একই এলাকার আরেক বাসিন্দা মতিউর রহমান বলেন, এই এলাকায় এ রকম ঘটনা হবে তাঁরা কল্পনাও করেননি।
জঙ্গি ধরা পড়লে শান্তি পাবেন। শিববাড়ির পাশের আরেকটি এলাকা তালুকদারপাড়া। সেখানকার বাসিন্দা ইজিবাইকচালক তাজুল মিয়া (৩২) বলেন, ‘ভোগান্তি হচ্ছে। কিন্তু জঙ্গিরা ধরা পড়ুক। জঙ্গিরা দেশ ও জাতির শত্রু। জঙ্গিরা ধরা পড়লে আমরা খুশি।’ সিলেট কমার্স কলেজের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সঞ্জীব দাশ বলেন, বছর খানেক ধরে সিলেটে জঙ্গিদের উপদ্রব বেড়েছে। নিয়ন্ত্রণ দরকার। মাঝপাড়া, জৈনপুর, তালুকদারপাড়া, তেলিপাড়া, ফকিরপাড়া, গালিমপুর, চান্দাই এলাকার ১০ থেকে ১৫ জনের সঙ্গে আলাপ হয়। তাঁরা সবাই জঙ্গিরা ধরা পড়ুক—এমনটাই চান বলে জানালেন।

প্রথম নারী প্রধান নির্বাহী পেল হংকং

চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ের নতুন নেতা ক্যারি লাম সেখানকার রাজনৈতিক বিভক্তি দূর করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত ভোটে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী নির্বাচিত হয়েছেন। ক্যারি লামই হংকংয়ের প্রথম নারী প্রধান নির্বাহী। সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ক্যারি লাম চীনের পছন্দের হলেও অঞ্চলটির গণতন্ত্রপন্থীরা তাঁর নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, হংকং এই প্রশাসনের অধীনে স্বাধীনতা হারাবে। ঔপনিবেশিক শাসক যুক্তরাজ্য ১৯৯৭ সালে হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তর করার পর থেকে অঞ্চলটি আধা স্বায়ত্তশাসিত। তবে তার ২০ বছর পর স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, বেইজিংয়ের কর্তৃপক্ষ ওই হস্তান্তর চুক্তি অমান্য করছে। এতে হংকংয়ের নিজস্ব জীবনধারা সুরক্ষার অঙ্গীকার ছিল।
হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী নির্বাচনে জনগণের সরাসরি ভোটের ব্যবস্থা নেই। চীনপন্থী ১ হাজার ২০০ জনের একটি কমিটি এই ভোটাভুটি সম্পন্ন করে থাকে। কমিটি সব সময়ই বেইজিংয়ের পছন্দের কাউকে হংকংয়ের প্রধান পদে দেখতে চায়। এ কারণে অবাধ নির্বাচনের দাবিতে ২০১৪ সালে হংকংয়ে গণ-আন্দোলন হয়েছিল। সমালোচকেরা বলছেন, ক্যারি লামের নেতৃত্বে বিভক্তি বাড়বে। তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, হংকংকে ঐক্যবদ্ধ করবেন। রোববারের নির্বাচনে বিজয়ের পর ৫৯ বছর বয়সী এই নারী বলেছেন, তিনি হংকংয়ের ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতি বহাল রাখবেন। সেখানকার মৌলিক মূল্যবোধগুলোর সুরক্ষা দেবেন। এসবের মধ্যে রয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন বিচার বিভাগ। চীনের কর্তৃপক্ষ হংকংয়ের ক্ষমতার রাশ ক্রমশ টেনে ধরছে—এ মর্মে জনমনে উদ্বেগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে লাম বলেন, হংকংয়ের সরকার ও চীনের কর্তৃপক্ষের মধ্যে কোনো ব্যবধান নেই। বেইজিং বরাবরই হংকংয়ের মর্যাদা ও স্বাধীনতার সুরক্ষা দিতে চায়।

মঙ্গলে সুনামি!

মঙ্গল গ্রহে ৩০০ কোটি বছর আগে এক শক্তিশালী সুনামি হওয়ার ইঙ্গিত পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। রহস্যময় লাল গ্রহটির উত্তরাঞ্চলের একটি বিশাল গর্ত সৃষ্টির কারণ সম্পর্কে অনেকটাই নিশ্চিত হতে পেরেছেন তাঁরা। মনে করা হচ্ছে, ৩০০ কোটি বছর আগে মঙ্গলের বুকে একটি গ্রহাণু আছড়ে পড়ার প্রভাবে শক্তিশালী সুনামি বয়ে গিয়েছিল। ফ্রান্সের প্যারিস-সুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রাঁসোয়া কোস্তা, স্টিভ ক্লিফোর্ড ও তাঁদের সহকর্মীরা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বিজ্ঞান সম্মেলনে ধারণাটির বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন।
মঙ্গলের উত্তরাঞ্চলীয় সমভূমিতে পলির অস্তিত্ব এবং স্পষ্টত তা উপকূলীয় রেখা ধরে দক্ষিণ দিকে বয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছেন তাঁরা। ফ্রাঁসোয়া কোস্তার দল বলছে, ৩০০ কোটি বছর আগে মঙ্গলের উত্তরাঞ্চলের মহাসাগরে ১৫০ মিটার উচ্চতার একটি গ্রহাণু আছড়ে পড়ে। এতেই ওই গর্তের সৃষ্টি। আর শক্তিশালী সুনামির চিহ্ন এখনো এর পৃষ্ঠে রয়ে গেছে। প্যারিস-সুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা বলছেন, মঙ্গলের দক্ষিণাঞ্চলীয় উঁচুভূমি আর উত্তরাঞ্চলীয় নিম্নভূমির মধ্যবর্তী জায়গা দিয়ে সুনামি বয়ে যাওয়ার প্রমাণ দিনে দিনে আরও বেশি করে পাচ্ছেন তাঁরা। এর আগেও কিছু বিজ্ঞানী ধারণা দিয়েছিলেন, উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত একটি মহাসাগর কোনো একসময় কোনো কারণে ভরাট হয়ে যায়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এই তত্ত্বের গ্রহণযোগ্যতায় খানিকটা ভাটা পড়েছিল।

বিমানঘাঁটি হারিয়েছে আইএস

সিরিয়ার রাকার কাছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দখল থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটির পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সিরীয় বিদ্রোহীরা। আজ সোমবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। রাকা আইএসের শক্ত ঘাঁটি। জঙ্গিগোষ্ঠীটি রাকাকে তাদের কথিত খেলাফতের রাজধানী বলে অভিহিত করে আসছে। রাকার কাছের বিমানঘাঁটিটি আইএসের দখলমুক্ত করার ঘটনাকে শহর থেকে জঙ্গিগোষ্ঠীটিকে হটিয়ে দেওয়ার যুদ্ধে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রাকাকে আইএসমুক্ত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সিরীয় বিদ্রোহীরা অগ্রসর হচ্ছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে রাকার কাছের বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ হারাল আইএস। সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এসডিএফ) মুখপাত্র তালাল সেলো বলেন, তাঁরা আইএস জঙ্গিদের কাছ থেকে তাবাকা বিমানঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। ২০১৪ সালে সিরীয় সেনাবাহিনীর কাছ থেকে বিমানঘাঁটিটির দখল নেয় আইএস। আইএসের কাছ থেকে রাকা পুনর্দখলে নেওয়ার অভিযানে তুমুল লড়াইয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থানরত বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলছে, গত সপ্তাহে আইএসবিরোধী আন্তর্জাতিক জোটের বিমান হামলায় অন্তত ৮৯ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে।

২০ শকুনের মৃত্যু

ভারতের আসাম রাজ্যে মৃত গরুর বিষাক্ত মাংস খেয়ে ২০টি শকুনের মৃত্যু হয়েছে গত শনিবার। বন বিভাগের চিকিৎসকেরা আরও ৪৫টি শকুন সুস্থ করে আকাশে উড়িয়ে দিয়েছেন। আসামের লখিমপুর জেলার আখৈপুটিয়া গ্রামে নদীর তীরে বেশ কয়েকটি মৃত শকুন পড়ে থাকতে দেখে গ্রামবাসী খবর দেন বন দপ্তরকে। বনকর্মীরা এসে দেখতে পান, অন্তত ২০টি শকুন মরে পড়ে আছে।
অসুস্থ আরও ৫২টি। প্রাথমিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, মৃত গরুর বিষাক্ত মাংস খেয়ে ওই শকুনগুলো মারা গেছে। ২০১৫ সালে এই গ্রামেই হঠাৎ ২৮টি শকুনের মৃত্যু হয়েছিল। গরুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের কারণে ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে এ পর্যন্ত অনেক শকুনের মৃত্যু হয়েছে।

যেখানে শিশুর রক্তে ঘোরে অর্থনীতির চাকা

মিয়ানমারের ১৪ বছরের শিশু সান মিন হতিক। সে কাজ করত একটি ইস্পাত কারখানায়। কয়েক সপ্তাহ হলো সে আর কাজ করছে না। আসলে কাজ করতে পারছে না। কারণ, কারখানা দুর্ঘটনায় তার একটি হাতের দুটি আঙুল কাটা পড়েছে। ওই হাতের অন্য আঙুলগুলো রক্ষা করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা। সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যাওয়ার পরও মেলেনি বড় অঙ্কের কোনো ক্ষতিপূরণ। বরং সানের মা-বাবার হাতে খুবই সামান্য অর্থ ধরিয়ে দিয়ে এ দুর্ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। শুধু সান নয়, মিয়ানমারের বহু শিশুর জীবনের গল্প এমন কষ্ট আর বেদনার। দেশটিতে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিশুশ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার শিকার হওয়া শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। শিশুশ্রমের দিক থেকে খারাপ অবস্থায় থাকা দেশের তালিকায় মিয়ানমারের অবস্থা ওপরের দিকে। এখানে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রতি পাঁচজনে একজন শিশুশ্রমে নিয়োজিত। এই শিশুশ্রমিকদের বেশির ভাগের পরিবার চলে তাদের উপার্জনের অর্থে। কলকারখানা, দোকান ও গৃহপরিচারক হিসেবে কাজ করে এসব শিশুশ্রমিক। সানের দেখা মিলল দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনের কাছে হামাবি উপশহরে। এখানে দ্রুতগতিতে বৈদেশিক মালিকানাধীন কলকারখানার প্রসার ঘটছে, যা অর্থনীতির গতিকে এগিয়ে নিচ্ছে। এর ওপর ভিত্তি করে দেশটি সামনের বছরগুলোতে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্ন দেখছে। এএফপির সঙ্গে আলাপকালে সান বলল, ‘আমি যা করতে চাই, তা করতে পারছি না। আমার ভীষণ মন খারাপ। আমি চাই, আমার পরিবার ভালোভাবে বাঁচুক। প্রয়োজনীয় খাবারটুকু খেতে পারুক। অন্যরা যেমন পোশাক পরে, তেমন পোশাক পরতে পারুক।’ সানের মা তিন তিন তায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সান যে ইস্পাত কারখানায় কাজ করত, সেটা চীনের মালিকানাধীন। দুর্ঘটনার পর তাদের ১ হাজার ৮০০ ডলার দেওয়া হয় ক্ষতিপূরণ বাবদ। সানের মা-বাবা ওই অর্থটা নিয়েছেন, কারণ সেটা দিয়ে তার চিকিৎসা করাচ্ছেন।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছোট ছোট দুটি সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে অর্থটা না নেওয়া ছাড়া তাঁদের আর কোনো উপায় ছিল না। অর্থটা নেওয়ার সময় কতটা কষ্ট হয়েছে, সে বিষয়ে সানের মা বলেন, ‘আমরা যখন ক্ষতিপূরণের অর্থটা নিচ্ছিলাম, তখন বারবার মনে হচ্ছিল যে এই অর্থ দিয়ে তারা আমাদের ছেলের হাতটা কিনে নিয়েছে আর সেটা দুর্ঘটনায় কেটে ফেলেছে।’ বিষয়টি জানার জন্য এএফপির সাংবাদিকেরা ওই ইস্পাত কারখানায় যাওয়ার চেষ্টা করলেও সফল হননি। কর্তৃপক্ষের একজনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। কারখানা কর্তৃপক্ষ সান উইন নামের স্থানীয় এক শ্রমিকনেতার সহায়তায় সানের দুর্ঘটনার বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে সমঝোতা করে। জানতে চাইলে এই শ্রমিকনেতা বলেন, ‘সবাই কঠিন অবস্থার মধ্যে আছে। পেটে খিদে নিয়ে বাচ্চাদের কাজে না পাঠানোর মতো অবস্থা কারও নেই।’ মিয়ানমারের আইন অনুযায়ী, ১৪ বছর বয়স থেকে কেউ চাইলে কাজ করতে পারবে। তবে দিনে চার ঘণ্টার বেশি না এবং ভারী কোনো কলকারখানায় কাজ করা যাবে না। তবে দেশটির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ানমারে প্রতি চারজনে একজন দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এর ফলে এই আইন মানা সম্ভব হয় না। শিশুরা চার ঘণ্টার বেশি সময়ই কাজ করে। আর বেশি বয়স দেখিয়ে ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে কারখানায় কাজ নেয়। তবে মিয়ানমারের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের সংগঠন এ ধরনের শিশুশ্রমের কথা অস্বীকার করেছে।

গাড়ি চালাতে অষ্টম শ্রেণি পাস করতে হবে

গাড়ি চালানোর জন্য চালকের কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে। আর চালকের সহযোগীদের (কনট্রাকটর) কমপক্ষে পঞ্চম শ্রেণি পাস লাগবে। এমন আরো কিছু বিধান যুক্ত করে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৭-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। দুর্ঘটনার জন্য শাস্তি আগের মতোই দণ্ডবিধি অনুযায়ী দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই আইনের খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। যদি কেউ তা করে, তাহলে এক মাসের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নতুন করে গাড়ি চালনায় ২৫টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমলযোগ্য অপরাধ হলে পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কেউ গাড়ি চালাতে পারবেন না। যদি কেউ তা করেন,
তাহলে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। আর কনট্রাকটরের লাইসেন্স না থাকলে এক মাসের কারাদণ্ড অথবা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। কনট্রাকটরদের লাইসেন্স দেবে বিআরটিএ। মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালালে এক বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা গুণতে হবে। আর সড়কে দুটি গাড়ি যদি পাল্লা দিয়ে (রেসিং) চালানোর সময় দুর্ঘটনা ঘটে, সে ক্ষেত্রে তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা ২৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার জন্য মৃত্যু বা অন্যান্য ক্ষেত্রে আগের মতোই দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, কেউ যদি গাড়ি চালিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নরহত্যা করে, তাহলে ৩০২ ধারা অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে। আর মৃত্যু নয়, এমন ঘটনায় ৩০৪ ধারা অনুযায়ী সাজা দেওয়া হবে। শুধু দুর্ঘটনা হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হবে। এ ছাড়া আজকের সভায় বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন ২০১৭ এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (সংশোধন) আইন ২০১৭-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

তারা আর ফিরবেন না আতিয়া মহলে!

"জঙ্গি-বিরোধী এই অভিযান এক সময় শেষ হবে, বাড়িটা থেকে জঙ্গি ও বিস্ফোরকও খালি করা হবে। সবই হয়তো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।" "কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত থেকে ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ঐ বাড়িতে আটকে থাকার সময়ে এত দুঃসহ স্মৃতি ও ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হয়েছে, যে সেখানে আর বসবাস করা সম্ভব না।" বলছিলেন আতিয়া ভবনের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ও শিরিন আক্তার দম্পতি। গোলগুলির শব্দে তারা ধরে নিয়েছিলেন, এই ভবন থেকে আর জীবিত বের হতে পারবেন না তারা। লাশের পরিচয় যেন নিশ্চিত হতে পারে সবাই, সেজন্য জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে নিয়েছিলেন পুরোটা সময়। কিন্তু শিরিন সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে যান, যখন তার স্কুলপড়ুয়া শিশুকন্যা জানতে চায়, "মা আমার তো পরিচয়পত্র নাই, আমার কি হবে? আমাকে কি মেরে ফেলবে?"
শিরিন জানিয়েছেন, নতুন ভাড়টিয়াদের তেমন একটা চিনতেন না তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন মাইকে মর্জিনা বেগমকে বের হয়ে আসতে বলছিল, তারা বুঝতে পারছিলেন না কাকে ডাকা হচ্ছে। শিরিন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এলেও আর কখনো আতিয়া মহলে ফিরতে চাননা তিনি বা তার পরিবার। প্রতি মূহুর্তে মৃত্যুর শঙ্কায় ৩০ঘন্টা কাটিয়ে আসার পর ঐ বাড়িতে আর দৈনন্দিন জীবন যাপন করা সম্ভব না বলে জানিয়েছেন শিরিন। একই বক্তব্য ঐ বাড়ির আরেক বাসিন্দা পঞ্চম তলার বাসিন্দা আনিসুর রহমানের। আটকে থাকার পুরো সময়টাতে ফ্ল্যাটের মেঝেতে লেপ আর তোষক ফেলে শুয়েছিলেন মি. রহমান ও তার স্ত্রী। ভেবেছিলেন, অভিযানে উগ্রবাদীদের সাথে তারাও মারা পড়বেন।
"শুক্রবার রাতে প্রতি মূহুর্তের গোলাগুলির শব্দে ভেবেছি মৃত্যু আমার দরজায় কড়া নাড়ছে"। মৃত্যু আসন্ন জেনে প্রায় সব আত্মীয়কে ফোন করে কথা বলে নিয়েছিলেন। শনিবার সকাল ১০-১১টার দিকে, যখন তার দরজায় টোকা পড়ে, উকি দিয়ে দেখলেন দরজায় সেনাসদস্যরা। ইশারায় চুপ থাকতে বলে একে তাদের বের করে নিয়ে আসে সেনা সদস্যরা। বের হবার পরও আতংক কাটেনি রহমানের। স্ত্রীকে নিয়ে চলে গেছেন সিলেট শহরে। আর কখনো ফিরতে চান না আতিয়া মহলে। সব স্বাভাবিক হয়ে গেলেও না।
সূত্র : বিবিসি

কেন কমান্ডো অভিযান শেষ হতে সময় লাগছে?

সিলেটে আতিয়া মহল নামের বাড়িটিতে কমান্ডো অভিযান এখনো চলছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রোববার বিকেলে জানিয়েছে, সিলেট শহরের একটি ফ্ল্যাটবাড়িকে ঘিরে তাদের সম্মিলিত অভিযানে দুই উগ্রবাদী নিহত হয়েছে। দক্ষিণ সুরমা থানার শিববাড়ি এলাকায় 'আতিয়া মহল' নামের ওই বাড়িটিতে আরো উগ্রবাদী থাকতে পারে বলে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে বাড়িটির ভেতর আটকা পড়া ৭৮ জন বাসিন্দাকে উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী। শনিবারই অভিযান চলাকালে শহরের অন্য দুটি জায়গায় বোমা হামলায় পুলিশসহ অন্তত ৬জন নিহত হয় এবং ৩০ জনেরও বেশি আহত হয়। কিন্তু সিলেটের এই বাড়িটিকে ঘিরে প্রায় চার দিন ধরে চলছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত অভিযান। এর নিষ্পত্তি ঘটানো যাচ্ছে না কেন? আইএসপিআরএর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল রাশিদুল হাসান বলছিলেন, "এখনও বাইরে থেকে বাড়িটি ঘিরে রেখে অভিযান চালানো হচ্ছে। কারণ ভবনের বিভিন্ন জায়গায় 'এক্সপ্লোসিভ' পেতে রাখা হয়েছে। এজন্য বাইরে থেকে তাদের অন্যভাবে 'এঙ্গেজ' করার চেষ্টা করা হচ্ছে"। "পাঁচতলা বাড়ি আর এতে ৩০টি ফ্ল্যাট। গতকাল যখন আটকে পড়া বাসিন্দাদের কমান্ডোরা উদ্ধার করে তখনই তারা দেখছিলে যে বিভিন্ন জায়গায় 'এক্সপ্লোসিভ' লাগানো আছে। খুব কৌশলে কাজ করতে হচ্ছে"-বলেন হাসান।
লেফটেন্যান্ট কর্ণেল রাশিদুল হাসান বলছিলেন "যারা ভেতরে আছে তারা বেশ প্রশিক্ষিত। আমরা বের হয়ে আসতে বললেও তারা বের হয়ে আসেনি। আমাদের এখান থেকে যে গ্রেনেড লক করে ছোঁড়া হয়েছিল, তারা আবার সেটিকে বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে"। "তারা 'এক্সপ্লোসিভ' তৈরিতে ও লাগানোতে বিশেষভাবে দক্ষ বলে মনে হচ্ছে" -বলছিলেন সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা। অভিযানের বর্ণনায় হাসান বলছিলেন "রোববার সকালে কমান্ডোরা বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করেছে। ভবনটি ছিদ্র করে ঢুকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। তারপর ভবনের কয়েকটি জায়গায় বিস্ফোরক লাগিয়ে চেষ্টা করেছে, কিন্তু সেটাও কাজে না লাগায় টিয়ার গ্যাস ছোঁড়া হয় ঘরের ভেতর। এসময় উগ্রবাদীদের দৌড়াতে দেখা যায়। তারপর কমান্ডোরা গুলি ছুঁড়ে"। এ পর্যন্ত দুজন 'জঙ্গি' নিহত হবার খবর নিশ্চিত করেছে সেনাবাহিনী। নিরাপত্তা বাহিনী বাইরে থেকে অভিযান চালাচ্ছে। অভিযান চলাকালে ওই বাড়িটিতে থেমে থেমে বিস্ফোরণ হচ্ছে, তাই কমান্ডো অভিযান কখন শেষ হবে সে বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারছেন না কর্মকর্তারা। তবে, জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের যে আশা তৈরি হয়েছিল সেই আশা নেই বলেই জানাচ্ছেন লেফটেন্যান্ট কর্ণেল রাশিদুল হাসান। কারণ অভিযানের সময় তারা দেখেছেন কজনের গায়ে 'সুইসাইডাল ভেস্ট' পরা আছে। "আত্মোৎসর্গের জন্যই তারা অপারেশন চালাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে" বলছিলেন সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা।
সূত্র : বিবিসি

বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়

ইমার্জিং এশিয়া কাপে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচেই হংকংয়ের বিরুদ্ধে ৮ উইকেটে সহজ জয় পেয়েছে তারা। সকালে টস জিতে ব্যাট করতে নামে হংকং। বাংলাদেশের বোলিং তাণ্ডবে ৩৫ ওভারে ১২৫ রানে অলআউট হয় তারা। পরে ব্যাট করতে নেমে ব্যাট হাতে ঝড় তোলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ২ উইকেট হারিয়ে ১৬ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মমিনুল-নাসিররা।

পার্কের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসিকিউটররা দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন। দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহারের কেলেংকারির বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কয়েকদিন পর তারা এ আবেদন জানালেন। এ মাসের গোড়ার দিকে দেশটির উচ্চ আদালত পার্ককে (৬৫) ক্ষমতাচ্যুত করে। এর মধ্যদিয়ে তার নির্বাহী দায়মুক্তির অবসান ঘটে। লাখ লাখ লোক তার বিচারের দাবি জানিয়ে আসছিল এবং তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে তারা রাজপথে অবস্থান নিয়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক এ প্রেসিডেন্টকে ঘুষ গ্রহণ, সরকারি তথ্য ফাঁস এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।
প্রসিকিউটরদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্ত এ প্রেসিডেন্ট ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশের বৃহৎ কোম্পানীগুলোর কাছ থেকে ঘুষ নেন এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন তথ্য ফাঁস করে দেন। এসব অভিযোগের ব্যাপারে এ পর্যন্ত অনেক প্রমাণ সংগ্রহ করা হলেও পার্ক তার বিরুদ্ধে আনীত অধিকাংশ অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন। এক্ষেত্রে প্রসিকিউটররা বলেন, এ অবস্থায় পার্ককে গ্রেফতার করা না হলে তা হবে ন্যায় বিচারের পরিপন্থী। সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক কোর্ট পার্কের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন মঞ্জুর করলে এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির এ দেশে দুর্নীতি প্রশ্নে তিনি হবেন গ্রেফতার হওয়া তৃতীয় সাবেক নেতা।

ভারতে গো বলয়ে ধর্মঘটে গোশতবিক্রেতারা

ভারতের উত্তরপ্রদেশে সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে শুরু করলে গোশত বিক্রেতারা। রাজধানী লখনউসহ এলাহাবাদ ও রাজ্যের বিভিন্ন জেলার গোশত বিক্রেতারাও প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। সামিল রাজ্যের মৎস্যবিক্রেতারাও। তাদের অভিযোগ, অভিযোগ বেআইনি কসাইখানা বন্ধের নামে খামোকা গোশত বিক্রেতাদের হেনস্থা করছে যোগী প্রশাসন। লখনউয়ের ‘‌বকরা গোশত ব্যাপার মণ্ডল’‌–এর কর্মকর্তা মুবিন কুরেশি জানিয়েছেন, ‘‌আজ ধর্মঘট শুরু করেছি। সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে। মৎস্য ব্যবসায়ীরাও আমাদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। সরকারকেই পিছু হটতে হবে। সরকার কসাইখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।’ দিল্লি থেকে এক ঘণ্টার দুরত্বে অবস্থিত নোয়ডা বাজারেও যোগী আদিত্যনাথ সরকারের সিদ্ধান্তের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে বলে দাবি সেখানকার ব্যবসায়ীদের। এক ব্যবসায়ীর দাবি, ‘‌উপযুক্ত নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও জোর করে অনেক গোশতের দোকান বন্ধ করে দিচ্ছে প্রশাসন। দোকানের সামনে পর্দা ঝোলাতে বাধ্য করা হচ্ছে।
নতুন করে লাইসেন্স তৈরি বা পুরনো লাইসেন্সের পুনর্নবীকরণও করতে দেয়া হচ্ছে না।’‌ পুলিশ অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গৌতম বুদ্ধ নগর থানার পুলিশ সুপার সুজাতা সিংয়ের মতে, ‘‌নথিপত্র যাচাই করে দেখা পুলিশের দায়িত্ব। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় অনেক দোকানদার নিজে থেকেই দোকান বন্ধ করে দিচ্ছেন।’‌ উত্তরপ্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ নাথ সিং জানিয়েছেন, ‘‌বেআইনি কসাইখানাগুলোর বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করছে সরকার। বৈধ কাগজপত্র থাকলে ভয় নেই। মুরগির গোশত এবং ডিমের দোকান বন্ধ করার নির্দেশ দেয়নি সরকার। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া খবর ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।’‌ বিধানসভা ভোটে জয়লাভের পর যোগী আদিত্যনাথকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করেছে বিজেপি। ক্ষমতায় এসেই রাজ্যের একাধিক কসাইখানা বন্ধের ফরমান জারি করেছেন তিনি। তার যুক্তি, কসাইখানাগুলো সম্পূর্ণ বেআইনি। যোগীর এই অভিযানের জেরে লখনউয়ের বিখ্যাত রেস্তোরাঁগুলি প্রায় বন্ধ হতে বসেছে। গরুর গোশতের পরিবর্তে মুরগি ও খাসির মাংস দিয়েই কাবাব তৈরি করে কোনোমতে কাজ চালানো হচ্ছে।

পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধে জাতিসঙ্ঘের আলোচনা

বিশ্বব্যাপী পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে সোমবার এক শ’টির বেশি দেশের অংশগ্রহণে প্রথম জাতিসঙ্ঘ বৈঠক শুরু হতে যাচ্ছে। যদিও প্রধান পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো এই বৈঠকের বিরোধিতা করছে। জাতিসঙ্ঘের প্রায় ১২৩টি সদস্যরাষ্ট্র অক্টোবর মাসে আইনগতভাবে পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধ চুক্তির ব্যাপারে আলোচনার লক্ষে এই সম্মেলন শুরুর ঘোষণা দেয়া হয়। এমনকি বিশ্বের অধিকাংশ ঘোষিত ও অঘোষিত পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্র এই বৈঠকের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইসরাইল,রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র এই বৈঠকের ওপর না ভোট দিয়েছে। অপর পরমাণু ক্ষমতাধর দেশ চীন, ভারত ও পাকিস্তান ভোট দেয়া থেকে বিরত থেকেছে।
এমনকি পরমাণু অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত একমাত্র দেশ জাপানও বৈঠকটির বিরুদ্ধে মত দিয়েছে। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকির ওপর পরমাণু অস্ত্র ফেলে মিত্র বাহিনী। জাপান বৈঠকটির বিরোধীতা করে যুক্তি দেখিয়েছে, ঐক্যের অভাবে এ ধরনের আলোচনা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের কার্যকর প্রক্রিয়াকে ব্যহত করতে পারে। বৈঠকের পক্ষে যে রাষ্ট্রগুলো রয়েছে তাদের মধ্যে অস্ট্রিয়া, আয়ারল্যান্ড, মেক্সিকো, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সুইডেন অন্যতম। এছাড়াও কয়েকশ’ এনজিও বৈঠকের পক্ষে মত দিয়েছে। তারা বলেছে, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি ও ওয়াশিংটনের নতুন হঠকারি প্রশাসনের কারণে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে পরমাণু বিপর্যয়ের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

ইউক্রেনে ভেঙে পড়ল সেনাবাহিনীর কপ্টার

পূর্ব ইউক্রেনে সেদেশের সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ভেঙে পাঁচ সেনা কর্মীর মৃত্যু হয়েছে৷ রুশ সীমান্তের লাগোয়া এলাকায় ঘটেছে এই দুর্ঘটনা৷ জানিয়েছেন ইউক্রেন সেনার মুখপাত্র৷ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, ডোনেৎস্ক অঞ্চলের সরকারি সেনা নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ঘটেছে দুর্ঘটনা৷ কী কারণে কপ্টারটি ভেঙে পড়ল তা খতিয়ে দেখছে সেনা৷
সম্প্রতি ইউক্রেনের একটি অস্ত্রাগারে প্রবল বিস্ফোরণ হয়৷ তার জেরে ধ্বংস হয়েছে সেই অস্ত্রাগার৷ এমই অবস্থা তৈরি হয়েছে যে অস্ত্রাগার-সংলগ্ন ১০ কিলোমিটার এলাকা খালি করতে হয়েছে৷ ইউক্রেনের অভিযোগ, বিস্ফোরণে জড়িত রাশিয়া৷ অভিযোগ উড়িয়েছে রুশ সরকার৷ এবার সেনা কপ্টার দুর্ঘটনা নিয়েও বিতর্ক দানা বাঁধছে৷ ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়া বেরিয়ে গিয়ে রাশিয়ার সাথে যুক্ত হয়েছে৷ ক্রিমিয়ার রুশ অন্তর্ভুক্তি ঘিরে পূর্ব ইউক্রেন সংঘর্ষে রক্তাক্ত৷

লেগিংস পরায় বিমানে উঠতে বাধা ২ কিশোরীকে

লেগিংস পরার জন্য দুই কিশোরীকে বিমানে চড়তে দিল না ইউনিাইটেড এয়ারলাইন্স। আর এক কিশোরী লেগিংসের উপরে আর একটি প্যান্ট পরার পর, তবে সে বিমানে চড়ার অনুমতি পায়। আগের দুজনের কাছে অন্য কোনো পোশাক ছিল না, তাই তাদের আর বিমানে চড়তেই দেয়া হয়নি। রোববার কলোরাডোর ডেনভার বিমানবন্দরে ঘটে এই ঘটনা। ডেনভার বিমানবন্দরের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী শ্যানন ওয়াটস টুইট করে জানিয়েছেন, 'মেয়েটিকে লেগিংসের বদলে অন্য পোশাক পরতে বা লেগিংসের উপরেই অন্য কিছু পরার জন্য জোর করা হচ্ছিল। আমার মনে হয় এই নীতি সেক্সিস্ট। শুধুমাত্র জামাকাপড়ের ভিত্তিতে নারীদের আলাদা করা হচ্ছে ও ছোট মেয়েদের মধ্যেও যৌনতা দেখা হচ্ছে।' এই টুইটের জবাবে পাল্টা টুইট করে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, 'আমাদের উড়ানের নিয়মনীতি মেনে জামাকাপড় না পরলে, যাত্রীকে ফিরিয়ে দেয়ার অধিকার ইউনাইটেডের রয়েছে।'
ইউনাইটেডের যাত্রীদের সঙ্গে চুক্তিপত্রে বলা রয়েছে, সমস্ত যাত্রী ও ক্রু-দের সুরক্ষার জন্য এই বিমানসংস্থা চাইলে খালি পায়ে থাকা বা ঠিকঠাক পোশাক না পরে থাকা যাত্রীদের বিমানে উঠতে বাধা দিতে পারে। যদিও 'ঠিকঠাক পোশাক' বলতে ঠিক কী বলা হয়েছে, তার উল্লেখ নেই সেই চুক্তিপত্রে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র জোনাথন গুয়েরিন এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, যে দুই কিশোরীকে বিমানে উঠতে দেয়া হয়নি, তারা একজন কর্মীর পাস নিয়ে সফর করছিল এবং তারা বিমানসংস্থার ড্রেসকোড মানেনি। সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে লেগিংস বা যোগাপ্যান্ট পরা থাকলেও তাদের বিমানে উঠতে দেয়া হয়। তবে, কেউ কোনো পাস নিয়ে যাত্রা করলে তাকে সংস্থার নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে।

ভারতে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১০

ভারতের মনিপুরের সেনাপতি জেলায় সোমবার ভোরে বাস দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ২৫ জন। বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি জলাশয়ে পড়লে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। সিনিয়র এক পুলিশ কর্মকর্তা একথা জানিয়েছে। স্থানীয় সময় ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে মাকান ও চাখুমাই এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে ইম্ফাল-দিমাপুর জাতীয় মহাসড়ক ৩৯-তে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বাসটি ইম্ফালে যাচ্ছিল।
রাজ্যের রাজধানী থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি জলাশয়ে পড়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। তিনি আরো বলেন, আহতদের স্থানীয় আসাম রাইফেলস মারাম ও আশপাশের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শাস্ত্র মেনে কুকুরের শ্রাদ্ধ

বড় আদরের কুকুর ছিল চিকো। চার বছর বাড়িতে থাকলে যা হয়!‌ একটা মায়া পড়ে যায়। হঠাৎ এক দুর্ঘটনায় মারা গেল জার্মান স্পিৎজ এই কুকুরটি। পরিবারে শোকের আবহ থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এরপর যা যা হলো, কিছুটা অস্বাভাবিক। শাস্ত্র মেনে কুকুরের শ্রাদ্ধ হল। সেই শ্রাদ্ধে আত্মীয়, প্রতিবেশী, বন্ধুদের ভুরিভোজ। কুকুরের এমন অভিনব শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হয়ে গেল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য হাওড়ার বালিতে। কেউ বলছেন, অভিনব ব্যাপার। আবার কেউ বলছেন, আদিখ্যেতা। যিনি এই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজক, তিনি সৌরভ মণ্ডল। বিজেপি–‌র রাজ্য কমিটির সদস্য। তার স্ত্রী বনশ্রীও বিজেপি–‌র যুব মোর্চার রাজ্য কমিটিতে আছেন।
অর্থাৎ, কর্তা–‌গিন্নি দুজনেই রাজ্য কমিটিতে। এলাকায় পরিচিতিও ভালোই। সকালে পুরোহিত ডেকে পারলৌকিক কাজকর্ম। তারপর ছিল ঢালাও খাওয়া দাওয়ার আয়োজন। সৌরভের দাবি, সন্তানস্নেহে কুকুরটিকে দেখভাল করেছি। তাই শ্রাদ্ধের কাজেও কোনো ত্রুটি রাখিনি।’‌ কিন্তু পাল্টা প্রশ্নও উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, এ এক লোকদেখানো আদিখ্যেতা। সত্যিই যদি শোক হত, তাহলে এভাবে ঢালাও খাওয়া–‌দাওয়ার আয়োজন হতো না। পার্টি দেয়ার ইচ্ছে হতেই পারে। লোককে খাওয়ানোর ইচ্ছে হতেই পারে। উপলক্ষের তো অভাব নেই। তাই বলে কুকুরের মৃত্যুকে বেছে নিতে হলো কেন?‌

জাপানে বরফ ধসে ৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর আশঙ্কা

জাপানে পর্বত আরোহণের সময় বরফ ধসে সোমবার আট স্কুল শিক্ষার্থী মারা গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির কর্মকর্তা ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সোমবার ভোরে টোকিওর উত্তরে তোচিগি এলাকার পর্বতে বরফধসের ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে। সরকারি সম্প্রচারকেন্দ্র এনইইচকে জানায়, এই ঘটনায় আরো তিন ছাত্র আহত হয়েছে।
তবে শিক্ষাসফরে থাকা তিন শিক্ষকের সাথে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা যায়নি। তোচিগি এলাকার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পার্বত্য এই অঞ্চলের সাতটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা সফরে অংশ নিয়েছিল। টোকিও থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার উত্তরে নাসু শহরে বরফধসের এই ঘটনা ঘটে।

চীনে ভূমিকম্প

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশের ইয়ংবি কাউন্টিতে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে এখন পর্যন্ত কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। চায়না ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক সেন্টার (সিইএনসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির প্রাণকেন্দ্র ছিল প্রায় ১২ কিলোমিটার গভীরে।
কেন্দ্রটি আরো জানায়, ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানার আগে ও পরে একই এলাকায় ৩ থেকে ৪.৭ মাত্রার আরো চারটি কম্পন হয়। ইয়াংবির গণসংযোগ কর্মকর্তা ওয়াং সিয়াজুন জানান, ভূমিকম্পটির প্রাণকেন্দ্র ছিল কাউন্টির আজিয়া ও পুলিং গ্রামে। সেখানে কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দমকল ও চিকিৎসা কর্মীরা গ্রামগুলোর দিকে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

আমেরিকা-দ. কোরিয়ার ওপর হামলা চালাবে উ. কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া সামরিক মহড়ায় নিয়োজিত আমেরিকা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো হুঁশিয়ারি ছাড়াই আগাম হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে। যৌথ মহড়ার আড়ালে পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালানোর তৎপরতা চলছে ধারণা করে এ হুমকি দিল পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ মাধ্যম কেসিএনএ দেশটির সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে। এতে 'ফোয়াল ইগল' এবং 'কি রিজলভ' নামের বার্ষিক মহড়ায় নিয়োজিত মার্কিন এবং দক্ষিণ কোরিয় সেনাদের প্রতি আগাম হামলার হুমকি দেয়া হয়। শুরু থেকেই আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার এ যৌথ মহড়ার কঠোর বিরোধিতা করে আসছে পিয়ংইয়ং।
দেশটির হুমকিতে বলা হয়েছে, আমেরিকা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাদের জানা উচিত, তাদের বিরুদ্ধে পূর্ব হুঁশিয়ারি ছাড়াই আগাম প্রাণঘাতী হামলা চালাতে পারে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে ‘বিশেষ অভিযান’ বা ‘আগাম হামলার’ চেষ্টা করা হলে এ ধরণের হামলা হতে পারে বলেও কেসিএনএ'র খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়া জাতিসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পরমাণু বোমার পরীক্ষা করেছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অব্যাহত রেখেছে। মাঝে মধ্যেই দেশটি আমেরিকা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় হুমকি দেয়।
সূত্র : ওয়েবসাইট

পঞ্চগড়ে শিশুসহ সন্দেহভাজন ছয় নারী আটক

পঞ্চগড়ে এক শিশুসহ সন্দেহভাজন ছয় নারীকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ক্যানটিনের সামনে থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হাসান সরকার বলেন, আটক হওয়া নারীরা কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক হওয়া নারীরা জানান, তাঁদের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানায়। তাঁরা পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বার আউলিয়া মাজারে যাওয়ার উদ্দেশে এসেছেন। তাঁরা কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নন।

দামুড়হুদায় ১৩ জনের দাফন সম্পন্ন

দামুড়হুদায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩ জনের লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। স্হানীয় স্কুল এ্যান্ড কলেজ মাঠে হাজার হাজার মানুষের উপস্হিতিতে জানাজা শেষে সারি সারি কবরে যখন লাশ গুলো শোয়ানো হয় ঠিক তখনিই যেন চাপা আর গোংড়ানো কান্নার আওয়াজে আকাশ বাতাশ ভারি হয়ে উঠে। ৭৬ বছর বয়সি গ্রামের বৃদ্ধ মানুষ নুরুল ইসলাম কাপা কাপা কন্ঠে বল্লেন এ দুর্ঘটনা যেন পাক বাহিনীর বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে,কারন ঐ সময় ৭১ সালে এক সাথে ৪/৫ টি গন কবর দেয়া হয়েছিল,কিন্তু এতোদিন পর আমাকে এত গুলো লাশ নিজ চোখে দেখে কবর দিতে হলো,এর চাইতে বড় কস্ট আর কি হতে পারে-- যেন লাশের মিছিল,লাশ শুধু লাশ,সন্ধার পরপরই দাফন কাজ শেষ হয়।
এ দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক বেগম সায়মা ইউনুছ প্রতি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা অনুদানের ঘোষনা দিয়েছেন। স্হানীয় ইউ পি চেয়ারম্যান এ এস এম জাকারিয়া আলম আর্থিক সহায়তার ঘোষনা দিয়েছেন। উল্লেখ্য ২৬ মার্চ সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে দামুড়হুদার বড় বলদিয়া গ্রামের ২৩ জন দিন মজুর একটি আলম সাধু যোগে চুয়াডাঙ্গার মুন্সিগন্জে যাওয়ার পথে জয়রামপুর নামক স্হানে বালি ভর্তি ট্রাকের সাথে সামনা সামনি ধাক্কা লেগে ১৩ জন মারা যায়।বাকি ১০ জন মরার মত করে বেচেঁ আছেন।

বালিয়াকান্দিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর কলেজে সোমবার সকালে এইচ,এস,সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামালপুর কলেজ হলরুমে অধ্যক্ষ মোঃ জাকির হোসেন মৃধার সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন, প্রভাষক মীর মনিরুজ্জামান বাবু, এমদাদুল হক শামীম, এস,এম জাহাঙ্গীর হোসেন, বিধান ভট্রাচার্য্য, শামীমা ইয়াসমিন, বিলকিছ আক্তার, গর্ভনিং বডির সদস্য পারভেজ মিয়া ও অজয় পাল প্রমুখ।

বালিয়াকান্দিতে দু,গ্রুপের সংঘর্ষে ৯ জন আহত

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের চরঘিকমলা গ্রামে রবিবার বিকালে পাট ক্ষেতে হাটাকে কেন্দ্র করে দু,গ্রুপের সংঘর্ষে ৯জন আহত হয়েছে। আহতদেরকে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন, চরঘিকমলা গ্রামের বদর উদ্দিন মন্ডলের ছেলে নুরুল ইসলাম (৬০), সালাম মন্ডল (৩৯), তোজাম মন্ডল (৩৫), নায়েব আলী (৪৫), আনোয়ার হোসেন (৫০), নুরুল ইসলামের ছেলে রব মন্ডল (২৫), নায়েব আলীর স্ত্রী চায়না বেগম (৪০), বাজু মন্ডলের ছেলে মনোয়ার হোসেন (৫০), মাসুদ মন্ডল (৩২)। 
নুরুল ইসলাম জানান, সে তার পাট ক্ষেতে পানি দিচ্ছিল। এসময় মনোয়ারের ছেলে এরশাদ মন্ডল পানি দেওয়া পাট ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে পিয়াজ নিয়ে যাচ্ছিল। এসময় এরশাদের নিষেধ করা হয়। পরে তারা পরিকল্পিত ভাবে দৈশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এব্যাপারে বালিয়াকান্দি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। মনোয়ার হোসেন জানান, আমার ছেলে ভুল করে পাট ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে আসে। আমি ক্ষমা চাইলেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হামলা চালানোর কারণে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

সাগর ও নদীতে নারী-পুরুষরা অবৈধ মশারি জালে ধরছে রেনু

উপকূলীয় জেলা বরগুনাসহ দক্ষিন অঞ্চলের নদ-নদীতে অবৈধ ভাবে মশারি জাল দিয়ে নিধন করা হচ্ছে সমুদ্রের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।এতে সামুদ্রিক মাছের বংশ বিস্তারে নানা রকম প্রভাব পরছে। মশারি জাল দিয়ে বাগদা ও গলদা চিংড়ি পোনা ধরার নামে প্রতিদিন নির্বিচারে বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক লাখ মাছের পোনা নিধন করা হচ্ছে। এতে সামুদ্রিক মাছের বংশবিস্তার হুমকিতে পড়েছে। মৎস্য বিভাগের যোগসাজোসে স্থানীয় নেতাদের মাসিক মাসোহারা দিয়ে এই বাণিজ্য চলছে বলে এলাকায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটি জরিপের ফলাফলে জানা যায়, পোনা সংগ্রহকারীরা একটি বাগদা পোনা ধরতে গিয়ে ধ্বংস করছে ৩৮ প্রজাতির চিংড়ি ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির অন্যান্য মাছ এবং ৫৬ প্রজাতির জুপ¬াংটনসহ ১০০ প্রজাতির জলজ প্রাণী। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের ডিন সুলতান মাহমুদ বলেন, এটি যে মৎস্য ভান্ডারের জন্য বিরাট হুমকি তা বিশেষজ্ঞ পর্যায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করা হচ্ছে। এ বিষয়ে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কৃত্রিম উপায়ে (হ্যাচারি পদ্ধতি) চিংড়ি রেণু উৎপাদনকে উৎসাহিত করা দরকার। জানা গেছে, সরকার উপকূলে পোনা শিকার নিষিদ্ধ করলেও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা লগ্নি করে দরিদ্র জেলেদের চিংড়ি ধরার কাজে উৎসাহিত করছে। পাথরঘাটার চরদুয়ানি মৎস্য উপকেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ১৮টি ট্রাক গলদা ও বাগদা রেণু নিয়ে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট যায়। বরগুনার আমতলী, তালতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া, মহিপুর, কুয়াকাটা ও আলীপুর মোকাম থেকে কমপক্ষে ১০টি ট্রাক এবং বরগুনা সদর থেকে দুটি ট্রাক বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরায় যায়। তালতলীর কয়েকজন পোনা ব্যবসায়ী বলেন, ট্রাকভেদে ১৮ থেকে ৩০টি পাতিল বহন করা যায়।
একেকটি পাতিলে ১০হাজার করে পোনা বহন করা হয়। সে অনুযায়ী প্রতিটি ট্রাকে এক লাখ ৪০ হাজার থেকে তিন লাখ পোনা বহন করা হয়। সেই হিসাবে প্রতিদিন এই তিন পথে ৩০টি ট্রাকে গড়ে ৬০লাখ পোনা পাচার হয়। এ ছাড়া নদীপথে ট্রলারে করে পাচার হয় কমপক্ষে আরও ৪০লাখ পোনা। বাগদা রেণুর প্রতি হাজার এক হাজার টাকায় কিনে মোকামে দেড় হাজার এবং গলদা পোনা দেড় হাজার টাকায় কিনে মোকামে দুই হাজার টাকা দামে বিক্রি হয়। আমতলীর কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা ও ক্যাডারদের মাসে এক লাখ টাকা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মাসিক ৪০ হাজার টাকা দিয়ে এসব ট্রাকে করে পোনা পাচার করা হয়। সরেজমিনে বরগুনার বিষখালী, বলেশ্বর ও পায়রা নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, বহু নারী-শিশু মশারির জাল দিয়ে চিংড়ি রেণু ধরার কাজে ব্যস্ত। প্রতিবার জাল ফেলে সাত-আটটি চিংড়ি পোনা পেলেও তার সঙ্গে উঠে আসছে টেংরা, পোয়া, তপসিসহ কয়েক প্রজাতির পোনা। চিংড়ি পোনা আলাদা করে মাটি ও অন্যান্য পাত্রে জিইয়ে রাখলেও অন্য প্রজাতির মাছের পোনাগুলো ডাঙায় অথবা চরে ফেলে দেওয়ায় সেগুলো মারা যাচ্ছে। এ ব্যপারে বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড: ওহিদুজ্জামান নয়াদিগন্তকে বলেন, জেলেরা যাতে রেণু পোনা শিকার করতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা সচেতনতামূলক কর্মকর্তা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে রেণু জব্দ করে নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পাবনা নাটোর ও সিরাজগঞ্জের চাষিরা সরষের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত

পাবনা নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলায় এ বছর সরষের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকুল আবহাওয়ার কারণে এ অঞ্চলের প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে তিন লাখ টনের বেশি সরষে উৎপাদন হয়েছে। হাট-বাজারে প্রচুর সরষে আমদানি হচ্ছে। ফড়িয়া দালালদের সিন্ডিকেট বাজারদর নিয়ন্ত্রন করায় প্রান্তিক ও বর্গাচাষিরা সরষের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমানে হাট-বাজারে মানভেদে প্রতিমণ সরষে এক হাজার ৭০০ টাকা থেকে এক হাজার ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগামীতে সরষের দাম বাড়ার আশায় অনেক ব্যবসায়ীই সরষে কিনি গুদামজাত করতে শুরু করেছেন। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পাবনা জেলার বেড়া, সাঁথিয়া, সুজানগর, পাবনা সদর, আটঘড়িয়া, ঈশ্বরদী, ফরিদপুর, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, নাটোরের লালপুর, বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, সিংড়া, বাগাতিপাড়া, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, তারাশ, কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, চৌহালীসহ ২১টি উপজেলায় এ বছর প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম, নাবী ও বারি-১৪ জাতের সরষের চাষ হয়েছিল। প্রতি হেক্টরে দুই টন হিসেবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল তিন লাখ টন। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলে কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার চরপেচাকোলা, চরআড়ালিয়া, সাঁড়াশিয়া, চরসাফুল¬া, আগবাকশোয়া, চরনাগদা, চরঢালা, চরকল্যানপুর, পূর্বশ্রীকন্ঠদিয়া, পদ্মারচর, চরযমুনা, বাইরচর, শ্রীপুর, খিদ্রদাশুরিয়া, মুরাদপুর, বরাংগাল, ঘোড়জান এবং সিরাজগঞ্জ জেলার মেঘাইরচর, খাসকাউলিয়া, মিনারদিয়াচর, ওমরপুরচর, পয়লারচর, বানতিয়ারচর, মীরকুটিয়ারচর, রস্তমেরচর, সোলজানারচর, দইকান্দিরচর, চরআগবাঙলা, শিমুলকান্দি, বারোপাখিয়ারচর, ধীতপুর, কুশিরচর, ভুমোরিয়া, চাঁমতারা, শিংঘুলি, নয়াহাটাবরংগাইল, ভারদিঘুলিয়া, চরবলরামপুর, চরভাড়ারা, সাদিপুর, সুদিরাজপুর, আশুতোষপুর, কোমরপুর, বীরপুর, পীরপুর, চালাকপাড়া, হঠাতপাড়ারার চরের ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে সরষের আশাতীত ফলন পাওয়া গেছে। গত একযুগে সরষের এমন বাম্পার ফলন পাওয়া যায়নি বলে চাষিরা জানিয়েছেন। সরষের গুণগত মান বৃদ্ধি ও হাটবাজারে বিক্রির জন্য চাষিরা সরষে রোদে শুকিয়েছেন।
শুকানো সরষের দাম ভাল পাওয়া যায়। পাইকার ও মজুতদারা হাটবাজার থেকে সরষে কিনে ভালভাবে শুকিয়ে গুদামজাত শুরু করেছেন। বর্তমানে সরষের বাজারদর এক হাজার ৭০০ টাকা থেকে এক হাজার ৭৫০ টাকা। ফড়িয়া দালালরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কম দামে সরষে কিনে বেশি দামে বিভিন্ন তেল মিলে বিক্রি করছে। এ বছর বাম্পার ফলন হওয়ায় হাট-বাজারে সরষের সরবরাহ বেড়েছে। গত বছর প্রতিমণ সরষে বিক্রি হয়েছিল এক হাজার ৮০০ টাকা থেকে এক হাজার ৯০০ টাকায়। এ বছর সরষের দাম কিছুটা কম। আগামীতে সরষের দাম বাড়বে বলে আশা করছেন অনেক ব্যবসায়ী। ত্ইা অনেক ব্যবসায়ীই সরষে কিনি গুদামজাত করতে শুরু করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাটোরের লক্ষীকোল বাজার, রয়না ভরট হাট, মৌখাড়া হাট, জালশুকা হাট, চাঁচকৈড় হাট, চাটমোহরের অমৃতকুন্ডা হাট, মির্জাপুর হাট, ছাইকোলাহাট, নওগাঁহাট, চতুরহাট, কাশিনাথপুরহাট, বনগ্রামহাট, তালগাছি, ডেমরা, বনওয়ারীনগড়, আতাইকুলাহাট সরষে বিক্রির জন্য প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেছে। সরষে বেচা-কেনার জন্য বিভিন্ন হাট-বাজারে গড়ে উঠেছে অসংখ্য আড়ৎ। হাট-বাজারগুলোতে প্রচুর সরষের আমদানি হচ্ছে। খুলনা, চট্রগ্রাম, সিলেট, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরষের পাইকার ও মিলাররা এসে আরৎদারদের মাধ্যমে চাহিদা অনুয়ায়ী সরষে কিনছেন। পরে সরষে বস্তায় ভরে ট্রাকে করে সড়ক পথে নিজ নিজ গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে হাট-বাজারে মান ভেদে প্রতি মণ শুকনা সরষে এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর্দ্র সরষে প্রতিমণ এক হাজার ৫০০ দরে বিক্রি হচ্ছে। সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মিনারদিয়াচর এলাকার সরষে চাষী খোরশেদ আলম ও রফিক মোল্লা বলেন, প্রতি বছরই কৃষকদের সরষে যখন বেচা হয়ে যায়, তখন সরষের দাম বাড়ে। অথচ মৌসুমের শেষে মজুতদারেরা বেশি দামে সরষে বিক্রি করে লাভের টাকা ঘরে তোলেন। যমুনা নদী বেষ্টিত ঢালারচরের কৃষক আহেদ প্রামানিক জানান, এক একর জমিতে সরষে চাষ করতে খরচ হয় এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি বিঘায় ৬ থেকে ৭ মণ সরষে উৎপাদন হয়। এ বছর বারি-১৪ জাতের সরষে প্রতি বিঘায় গড়ে ৮ মণ ফলন পাওয়া গেছে। মানভেদে প্রতিমণ সরষের বাজার মূল্য এক হাজার ৬০০ টাকা থেকে এক হাজার ৭৫০ টাকা। অন্যান্য ফসল আবাদ করে প্রতি বিঘায় যে পরিমাণ লাভ হয় তার চেয়ে ওই পরিমাণ জমিতে সরষে চাষ করে দ্বিগুণ লাভ করা যায়। পাবনার হান্ডিয়াল এলাকার কৃষক জামাল শেখ এ বছর পাঁচ একর জমিতে সরষে আবাদ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। সাত বছর ধরে সরষে আবাদ করে তিনি প্রতি মওসুমে দেড় থেকে পৌণে দুই লাখ টাকা লাভ করছেন। এছাড়া সরষের পাতা ও ফুল ঝরে তৈরি হয় জৈবসার।
ফলে পরবর্তী ফসল আবাদের জন্য সারের তেমন প্রয়োজন হয় না বলে তিনি জানান। ফরিদপুরের সোনাহারা গ্রামের সরষেচাষি নুরুল ইসলাম চলতি বছর প্রতি বিঘা জমিতে ৬ মণ করে মাঘি সরষে পেয়েছেন। আগে একই পরিমান জমিতে মাঘি সরষে পাওয়া যেত ৩ থেকে ৪ মণ। গত বছর প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছিল ৫ মণ। পাবনা কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম জানান, মাঘি সরষের চেয়ে বারি-১৪ জাতের সরষের ফলন বেশি হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে কৃষক এ সরষের সর্বোচ্চ ফলন পেয়েছেন ৭ থেকে ৮ মণ। পাবনা কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের উপপরিচালক বিভূতি ভূষন সরকার বলেন, চলতি বছর পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলায় সরষের ভাল ফলন হয়েছে। ফলন বাড়ানোর জন্য ক্ষেতের পাশে মৌ-বাক্স বসানো হয়েছিল। মৌমাছি পরাগায়ণে সহায়তা করেছে। ফলে সরষের ফলন বেড়েছে। এ পদ্ধতিতে লাভবান হয়েছেন কৃষক ও মৌ ব্যবসায়ী উভয়েই। এছাড়া এ বছর ডাল জাতীয় ফসলের আশাতীত ফলন হয়েছে। যদি কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হয় তাহলে মসলা জাতীয় ফসল পেঁয়াজ ও রসুনের ভাল ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

সেনবাগ-সোনাইমুড়ীর জরাজীর্ণ সড়ক

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সেনবাগ-সোনাইমুড়ী সড়ক। উপজেলার প্রধান এই সড়কটি দীর্ঘ ৮বছর ধরে সংস্কার করা হয়নি। ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক জুড়ে বর্তমানে গর্ত ও খানা খন্দকে কারণে বেহাল দশা পুরো সড়কটির। মারাতœক ভাবে ব্যবহত হচ্ছে যান চালাচল। চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে যাত্রী সাধারন। হেলে দুলে চলার কারনে বিকল হচ্ছে গাড়ী। প্রতিনিয়িত ঘটছে দুর্ঘটনা। ভাড়ছে হতাহত। এই হলো সড়কটির নিত্য দিনের চিত্র। সেনবাগ-সোনাইমুড়ী প্রধান এই সড়কের ছাতারপাইয়া বাজার, কানকিরহাট বাজার, কেশারপাড়, গাজীর হাট মোড়, সাতবাড়িয়া ফকিরেরহাট বাজার, কাদরা মোড়, সেনবাগ পৌর শহর হয়ে সেনবাগ রাস্তার মাথা ফেনী- চৌমুহনী মহাসড়ক পর্যন্ত সড়কের অবস্থা বেশি খারাপ। ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের কারণে সড়কটি অনেকটাই যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের অনেক অংশে পিচের আস্তরণ (কার্পেটিং) উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। নিচু অনেক স্থানে দেখা গেছে সড়ক ভেঙে পড়ছে পাশের পুকুর-ডোবায়। এ অবস্থায় সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে অসংখ্য যানবাহন ও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করছে। এ কারনে প্রতিদিন সড়কে ঘটছে দুর্ঘটনা ভাড়ছে হতাহতের ঘটনা। আহত হয়ে পুঙ্গ হচ্ছে অনেকে। দূর্ঘটনার আশংক্ষা নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা গামী কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী ,অফিস মুখি কর্মজীাবি লোকজন। এই নিয়ে কথা হলো সড়কে চলাচলকারী সিএনজি অটো রিকসা চালক নজীর আহম্মেদের সঙ্গে তিন বলেন, উপজেলার প্রধান এ সড়কে খানাখন্দের কারণে প্রতিনিয়িত গাড়ীর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। এতে আয়ের একটি বড় অংশ চলে যায় গাড়ী রক্ষণাবেক্ষণ খাতে। তা ছাড়া খানাখন্দের কারণে যাত্রীদেরও সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। সেনবাগ প্রেসক্লাবের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, গত সরকারের আমলে সেনবাগ-সোনাইমুড়ী সড়কটি প্রশস্ত করার পাশাপাশি নতুন করে কার্পেটিং করা হয়। এরপর মাঝে মধ্যে ছোটখাটো গর্ত ভরাট ছাড়া সড়কটিতে তেমন উন্নয়নকাজ হয়নি।
ফলে সড়কটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কানকিরহাট কলেজের অনার্স ১০ বর্ষের ছাত্র ইকবাল হোসেন বলেন, সড়কের দুরবস্থার কারণে একদিন কলেজে ক্লাস করতে গেলে পরদিন আর যেতে ইচ্ছা করে না। এলাকার সকল শ্রেনী ও পেশার মানুষের দাবী পাকা না হোক অন্তত গর্ত গুলো ভরাট করে যেন মেশিন দিয়ে সমান করে দেওয়া হয়। নোয়াখালী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কার্যালয় সূত্র জানায়, সেনবাগ-সোনাইমুড়ী সড়কে বড় ধরনের সংস্কারকাজ করা হয়েছিল আট বছর আগে। এ বিষয়ে সওজের নোয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সড়কের খারাপ অবস্থার কথা স্বীকার করে গতকাল বলেন, ২৪ কিলোমিটার এ সড়কের প্রথম কিস্তিতে ১৪ কিলোমিটার কাজের টেন্ডার ইতিমধ্যে আহবান করা হয়েছে। যা সোনাইমুড়ি থেকে সেনবাগ উপজেলার গাজীরহাট মোড় পর্যন্ত হবে। বাকী ১০ কিলোমিটার সড়কের কাজ পরবর্তীতে টেন্ডার আহবান করা হবে। পুরো সড়কটির সুফল পেতে মানুষকে একটু অপেক্ষা করতে হবে বলে তিনি জানান। এব্যাপারে নোয়াখালী-২ (সেনবাগ- সোনাইমুড়ি আংশিক) আসনের স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব মোরশেদ আলম গনমাধ্যমকর্মিদের জানান, যান চলাচল ও যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন- খুবই শীঘ্রই সড়কটিতে কাজ সম্পন্ন করার জন্য তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। ইতিমধ্যে সড়কটির একটি অংশের টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। বাকী অংশের টেন্ডার পরবর্তীতে আহবান করা হবে বলে তিনি জানান।

নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগে নির্মিত হলো চিত্রা সেতু

মহান স্বাধীনতা দিবসের দিন যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে নড়াইলবাসীর স্বপ্নের চিত্রা সেতু। গতকাল রোববার ২৬ মার্চ বিকেলে যানচলাচলসহ জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে দ্বিতীয় চিত্রা সেতু। নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক মাস আগে শেষ হয়েছে সেতুর নির্মাণ কাজ।  স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে নড়াইল শহরের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় ২৮ কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মিত হয়েছে। সেতুটি চালুর ফলে নড়াইল শহরের সাথে লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলাবাসী এবং প্রতিবেশি জেলা গোপালগঞ্জ ও যশোরসহ ঢাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। এ সেতু দিয়ে বাস, ট্রাক, কার, মাইক্রোবাসসহ সব ধরণের যানবাহন চলাচল করবে। এদিকে, নড়াইল-যশোর সড়কের মাছিমদিয়া এলাকায় প্রায় নয় বছর আগে ‘এসএস সুলতান সেতু’ (প্রথম চিত্রা সেতু) চালু হয়। নড়াইল সদরের রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সঞ্জিত মজুমদার বলেন, দ্বিতীয় চিত্রা সেতু চালুর ফলে জেলা শহরের সাথে গ্রামাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সহজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করছেন। কৃষিপণ্যসহ তরিতরকারি ও সবজি পরিবহনও সহজ হয়েছে। নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ডালিয়া পারভীন বলেন, চিত্রা সেতু চালুর ফলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই সহজ হয়নি, এটি শহরবাসীর বিনোদন কেন্দ্রে রূপ নিয়েছে। নদীর শান্ত-স্বচ্ছ পানি, আর নদীর পাড়ের গাছপালার ঘেরা পরিবেশের মধ্যে নির্মিত সেতুটি আরো আকর্ষণীয় হয়েছে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক আলোয় রাতের বেলা অন্যরকম পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বিকেল থেকেই সবাই ভিড় করছেন এখানে। পরিবারসহ ঘুরতে এসে অনেক আনন্দ পেয়েছি। বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা জানান, নড়াইলের লোহাগড়া এবং কালিয়া উপজেলা থেকে জেলা শহরে প্রবেশ করতে প্রথম চিত্রা সেতুর ওপর দিয়ে প্রায় আট কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো। সেতুটি চালুর ফলে সময় ও জ¦ালানি তেলের সাশ্রয় হয়েছে। নড়াইল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ বলেন, চিত্রা নদীর পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় সেতু নির্মাণের দাবিতে প্রায় একযুগ ধরে বিভিন্ন পেশার মানুষ আন্দোলন করে আসছিলেন। বর্তমান সরকার জনগণের সেই দাবি বাস্তবায়ন করেছে। স্বাধীনতা দিবসে নড়াইলবাসীর বড় উপহার যেন এই সেতুটি। অ্যাডভোকেট তারিকুজ্জামান লিটু বলেন, সেতুটি চালুর ফলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আদালত চত্বর, নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা বিদ্যালয়, শহর প্রাথমিক বিদ্যালয়, চৌরাস্তা বাজারসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ সহজ হয়েছে। পুরাতন ফেরিঘাট এলাকার খেয়া মাঝি আবুল হোসেন (৬৫) বলেন, সেতু চালুর ফলে দীর্ঘদিনের খেয়া নৌকা পারাপার বন্ধ হয়ে গেছে।
এতে ৬০ জন মাঝি বেকার হয়েছেন। সরকারের কাছে ঋণ সহায়তা বা বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবি করছি আমরা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আবিদুর রহমান বলেন, আমাদের আন্তরিকতা এবং সবার সহযোগিতায় নির্ধারিত মেয়াদের আগেই সেতুর কাজ শেষ হয়েছে। তিনি জানান, ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তবে, নির্ধারিত সময়ের আগে ২৬ মার্চ যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। সেতুর মূল দৈর্ঘ্য ১৪০ মিটার। এর বাইরে দুই পাশে ফ্লাইওভারের মতো দেখতে ভায়াডাক্টের দৈর্ঘ্য ২৩৭ দশমিক ৫০ মিটার। সেতুর প্রস্থ ৫ দশমিক ৪৬ মিটার বা ১৮ ফুট। পানির স্তর থেকে সেতুর উচ্চতা ৭ মিটার। দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক আছে ৪৩১ মিটার। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমবিইএল-ইউডিসি (জেভি) সেতুটি নির্মাণ করেছে। এলজিইডি নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু ছায়েদ জানান, সেতুটি নির্মাণে ৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও প্রায় ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এক মাস আগে নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এ সেতু দিয়ে বাস, ট্রাক, কার, মাইক্রোবাসসহ সব ধরণের যানবাহন চলাচল করবে। যানবাহন থেকে টোল আদায় করা হবে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি তিনি। তবে, বর্তমানে কোনো প্রকার টোল ছাড়াই যানবাহন চলাচল করছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা। জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবসে সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হবে। আশা করছি প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। তবে, এখনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি। শেখ রাসেলের নামে সেতুটির নামকরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে খালেদা জিয়ার চিঠি

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে‘র কাছে চিঠি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ সোমবার সকালে বারিধারায় বৃটিশ হাইকমিশনের পলিটিক্যাল উইংয়ের প্রধান এডরেইন জনস এর কাছে বিএনপির চেয়ারপারসনের পত্র পৌঁছিয়ে দেন দলের বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন। রিপন জানান, যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ভবনের কাছে সন্ত্রাসী ঘটনায় নিন্দা ও হতাহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। আমি সেই চিঠি সকালে হাইকমিশনে পৌঁছিয়ে দিয়েছি, পলিটিকাল উইংয়ের প্রধান চিঠিটি রিসিভ করেছেন। চিঠিতে বিএনপি চেয়ারপারসন ওই জঙ্গি ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বৃটিশ সরকার ও জনগনের সাথেে এই বিষয়ে সহমত পোষণ করেছেন বলে জানান রিপন। প্রসঙ্গত, গত ২৩ মার্চ পার্লামেন্ট ভবনের কাছে একটি গাড়ি পথচারীদের উপর তুলে দেওয়ার পর ছুরি হাতে পুলিশকে মেরে এক ব্যক্তি পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকতে গেলে তাকে গুলি করে।
পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ হাউস অব কমন্সের অধিবেশন চলাকালে এই ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। ব্রাসেলসে সন্ত্রাসী হামলার বছর পূর্তির দিনে লন্ডনের এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী ঘটনা’ বলছে যুক্তরাজ্য পুলিশ। পার্লামেন্ট ভবনের কাছে ওয়েস্টমিনস্টার সেতুতে ঘটে গাড়ি দুর্ঘটনাটি; আর ওয়েস্টমিনস্টার প্যালেসের প্রাঙ্গণে ছুরি নিয়ে চড়াও ব্যক্তিকে ধাওয়া করে গুলি করে নিরাপত্তা বাহিনী। ২৩ মার্চ যুক্তরাজ্যের ওই জঙ্গি ঘটনার পরপরই খালেদা জিয়া নিজের টুইটবার্তায় বলেন, ওয়েস্টমিনিস্টারে সন্ত্রাসী হামলার’ তীব্র নিন্দা এবং হতাহতদের জন্য গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা।

২ এপ্রিল ব্লগার রাজীব হত্যা মামলার রায়

গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর আগামী ২ এপ্রিল রায় দেবেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার রায়ের এ তারিখ ধার্য করেন।
এর আগে গত ৯ জানুয়ারি ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। একই সঙ্গে ছয় আসামির সাজা বৃদ্ধি চেয়ে রাজীবের বাবা নাজিম উদ্দিনের করা রিভিশন আবেদনেরও ওপরও ৯ জানুয়ারি শুনানি শেষ হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিপনের প্রাণভিক্ষার আবেদন

ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপন রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার লিখিত আবেদন করেছেন।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক মো. ছগির মিয়া জানান, সোমবার বেলা ১২টার দিকে রিপন প্রাণভিক্ষার লিখিত আবেদন করেছেন।   আপিল বিভাগে রিভিউ খারিজের রায় এবং বিচারিক আদালতের পরোয়ানা পড়ে শোনানো হলে রিপন প্রাণভিক্ষা চাইবেন বলে বৃহস্পতিবারই কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন।

সরকার জঙ্গিবাদকে লালন করছে : রিজভী

সরকারের উদ্দেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার যদি প্রকৃত অর্থেই জঙ্গিবাদের নিধন চায় তবে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করুক। আর না হলে বুঝবো সরকার নিজেদের স্বার্থে জঙ্গিবাদকে জিইয়ে রাখছে। বাংলাদেশের সাথে ভারতের প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ভারতের কমনসেন্স থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি বলেন, ভারত একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক দল, সেখানে অনেক বুদ্ধিমান ব্যাক্তি রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ কি ভাবছে এটা না ভেবেই যদি সিদ্ধান্ত নেয় তবে বুঝতে হবে ভারত বাংলাদেশকে তাদের উপরাষ্ট্র বানাতে চায়। আজ সোমবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন প্রমুখ। রিজভী বলেন, ভারত যদি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয় তবে অবশ্যই বাংলাদেশের মানুষের চাওয়া পাওয়ার দিকে নজর দিবে। বেগম খালেদা জিয়া ভারতের সাথে চুক্তির প্রতিবাদে কোনো কথা বলেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ভারতের সাথে দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলেন। আমরা বিদেশে বন্ধু চাই প্রভু নয়।
ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি হলে তা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল জনক হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ভূলুণ্ঠিত হবে। দেশের নিরাপত্তা ভারতের কাছে গুম করে দেয়া হচ্ছে। সরকার জণগণের কথা না ভেবেই বাকশালী কায়দায় এই চুক্তি করছে বলেও জানান তিনি। জঙ্গি এবং সরকার দুজনেই অস্ত্রের ভাষায় কথা বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার নিজেদের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখার জন্যই আওয়ামী জঙ্গিবাদের লালন করছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী কে বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায়ও চলছে অনিয়ম। অনিয়মের অভিযোগ করেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, প্রশাসন নিজেদের জনগণের মনে করে না আওয়ামী লীগের মনে করে।

সারা দেশের বিচারক সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তায় প্রজ্ঞাপন জারি

সারা দেশের আদালত, বিচারকদের বাস ভবন ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত  করার জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন সুপ্রিমকোর্ট। সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার  আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন স্বাক্ষরিত এই সার্কুলার জারি করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের সকল আদালতের বিচারক, বিচার সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ মহল আশ্বাস দেয়। তাই নিরাপত্তা  সংক্রান্ত  নির্দেশনা মন্ত্রী পরিষদ সচিব, প্রধান মন্ত্রীর সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, পুলিশের আইজি ও র‌্যারেব মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ২৮  দপ্তরে এই সার্কুলার পাঠানো হয়। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য তাদের বলা হয়ছে। নির্দেশনায় বলা হয়, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার উদ্বেগ থাকার কারণে তার পরামর্শক্রমে এই  সার্কুলার জারি করা হয়।
গত ২৩ মার্চ হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন স্বাক্ষরিত সারাদেশের আদালত অঙ্গনে নিরাপত্তা জোরদারে নির্দেশনায় বলা হয়, দেশে সম্প্রতি  সন্ত্রাসী কর্মকান্ড  বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সারাদেশের আদালত প্রাঙ্গন,বিচারকদের বাস ভবন সমূহে নিরাপত্তা জোরদার করতে নির্দেশনা পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। আজ সোমবার হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (বিচার ও প্রশাসন) সাব্বির ফয়েজ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সার্কুলারে বলা হয়,সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে দেশের সকল  আদালত অঙ্গন,এজলাস,বিচারকদের বাস ভবন,বিচারক ও কর্মচারীসহ আদালত সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রধান বিচারপতি উদ্বিগ্ন। এমন প্রেক্ষাপটে সকল আদালত অঙ্গন,এজলাস,বিচারকদের বাস ভবন,বিচারক ও কর্মচারীসহ আদালত সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রাজধানীর জুরাইনে দুই শিশুসহ দগ্ধ ৩

রাজধানীর জুরাইন এলাকায় একটি বাড়িতে দুই শিশুসহ তিনজন দগ্ধ হয়েছে। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জুরাইনের মুরাদপুর উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় ঘটনাটি ঘটে। আহত মোরসালিন সরকার (৫০), শাওন (৮) ও হাসানকে (৯) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে শাওন ও হাসান গৃহকর্মী।
আহত মোরসালিনের আত্মীয় পল্লব সরকার জানান, আজ সকালে বাড়ির নিচতলায় পানির মোটর চালু করতে গিয়েছিলেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ওই দুই শিশু ছিল। মোটরের কাছে থাকা গ্যাসলাইনে ছিদ্র ছিল। মোটর চালু করার সময় তৈরি আগুনের ফুলকি গ্যাসলাইনের সংস্পর্শে এলে আগুন ধরে যায়। এতে দগ্ধ হন মোরসালিনসহ তিনজন। ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের কর্বব্যরত চিকিৎসক জানান, তিনজনের শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। মোরসালিনের শরীরের ২৮ শতাংশ, শাওনের ২২ ও হাসানের ১৮ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানান শঙ্কর পাল।

এফবিসিসিআই’র নির্বাচন স্থগিতে আপিলের শুনানি ৩০ মার্চ

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র নির্বাচন স্থগিত করে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদনের শুনানি ৩০ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে । আজ সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ ৩০ মার্চ পর্যন্ত শুনানি মুলতবির আদেশ দেন। আদালতে এফবিসিসিআই’র পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ব্যবসায়ীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। ময়মনসিংহের এক ব্যবসায়ীর করা আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২২ মার্চ এফবিসিসিআই’র আগামী ১৪ মে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন দুই মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। গত ২৩ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদালত আবেদনটি ২৭ মার্চ শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ দেন। এ বিষয়ে বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, আবেদনকারীদের (এফবিসিসিআই) আবেদনে ভুল ছিলো। তাই আজ শুনানি হয়নি। ৩০ মার্চ শুনানি হবে।
তবে আপাতত নির্বাচনের কার্যক্রম চালানো যাবে। হাইকোর্টে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আবেদনটি দায়ের করেন ময়মনসিংহ চেম্বারের সভাপতি আমিনুল হক শামীম। আবেদনকারীদের দাবি, নিয়ম হচ্ছে বিভাগীয় পর্যায়ে একজন প্রতিনিধি থাকবেন। কিন্তু এতে ময়মনসিংহকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে আবেদন করেও কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। পরে আবেদনকারী হাইকোর্টে আবেদন করেন। হাইকোর্ট নির্দেশ দিলেও ময়মনসিংহকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ কারণে আমিনুল হক শামীম নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন। হাইকোর্ট দুই মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দেন। এর আগে, তফসিল অনুযায়ী ১০ এপ্রিলের মধ্যে পরিচালক পদে মনোনয়নপত্র দাখিলের নিয়ম ছিলো। আর ১৪ মে’র নির্বাচনে নির্বাচিত পরিচালকরা ১৬ মে সভাপতি, প্রথম সহ-সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন করবেন।

ট্যানারি মালিকদের ৩১ কোটি জরিমানা পরিশোধের শুনানি ৩০ মার্চ

পরিবেশের ক্ষতি হিসেবে হাজারীবাগের ১৫৪ ট্যানারি মালিককে বকেয়া বাবদ প্রায় ৩১ কোটি টাকা জরিমানা পরিশোধের আদেশ স্থগিতের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৩০ মার্চ বৃহস্পতিবার ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে ওই দিন ট্যানারি কারখানাগুলোকে জরিমানা করে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনেরও শুনানি হবে। আদালতে ট্যানারি মালিকদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। এর আগে গত ১৯ মার্চ ১৫৪ ট্যানারি মালিককে বকেয়া বাবদ ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা জরিমানা পরিশোধের আদেশ স্থগিত করে শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন চেম্বার আদালত। গত ২ মার্চ ১৫৪ ট্যানারি কারখানাকে বকেয়া বাবদ ৩০ কোটি ৮৫ লাখ জরিমানা ২ সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ফিনিশড লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন হাইকোর্টে আবেদন করেন। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরিয়ে সাভারের হেমায়েতপুরে নিতে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন না করায় গত বছরের ১৮ জুলাই ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে ধার্য করেছিলেন আপিল বিভাগ। শিল্প সচিবকে এই অর্থ আদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল।
সেই জরিমানা আদায়ে ব্যর্থতার কারণে শিল্প সচিবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে হাজারীবাগে ট্যানারি প্রতিষ্ঠান চালু রাখায় ১৫৪ প্রতিষ্ঠানের মালিককে জরিমানা ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছিলেন হাইকোর্ট। গত ১৮ জুলাই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এর আগে গত বছরের ১৬ জুন বিচারপতি সৈয়দ মোহম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ ট্যানারি মালিকদের পরিবেশের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রদানের নির্দেশ দেন। পরে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ জুন হাইকোর্টের আদেশ ১৭ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

রাক্কায় বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ হারাল আইএস

সিরিয়ার রাক্কার নিকটে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি বিমানঘাঁটি সম্পূর্ণ দখলে নেয়ার দাবি করেছে বিদ্রোহীরা। খবর বিবিসির। রাক্কাকে আইএস ওই অঞ্চলে তাদের স্বঘোষিত রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছিল। রাক্কার নিকট আইএসের ওই বিমানঘাঁটির পতন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস-এসডিএফ’র মুখপাত্র তালাল সেল্লু জানান, তারা আইএসের নিকট থেকে তাবাকা বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন।
২০১৪ সালে সিরীয় সেনাবাহিনীর কাছ থেকে বিমানঘাঁটির দখল নেয় আইএস। কুর্দি নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা মুল শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। রাক্কা পুনরুদ্ধারের যুদ্ধে ভয়ানক সংঘর্ষের আশংকা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তারা সেখানে অবস্থানরত সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানাচ্ছে, গত সপ্তাহে আইএসবিরোধী আন্তর্জাতিক জোটের বিমান হামলায় কমপক্ষে ৮৯ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন।

ব্লগার রাজিব হত্যার আপিলের রায় ২ এপ্রিল

ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যা মামলার আপিলের রায় আগামী ২ এপ্রিল। সোমবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ব্লগার রাজীব হায়দারকে রাজধানীর পল্লবীতে তার বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র রেদোয়ানুল আজাদ রানা (পলাতক) ও ফয়সাল বিন নাঈম ওরফে দীপকে এই হত্যায় জড়িত থাকার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন। এছাড়া আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসিমউদ্দিন রাহমানিকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা,
অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। আসামি সাদমান ইয়াছির মাহমুদকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। রায়ে মাকসুর হাসান অনিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এহসান রেজা রুম্মান, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজকে দশ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। একইসঙ্গে প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। এ রায়ের পর মামলার নথিপত্র গত ১৭ জানুয়ারি হাইকোর্টে আসে। পরে প্রধান বিচারপতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার পেপারবুক প্রস্তুতের নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী এই মামলার পেপার বুক প্রস্তুত করা হয়। গত বছরের ৩১ অক্টোবর এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় আসে।

অতিথি না করায় অধ্যক্ষকে ইউপি চেয়ারম্যানের জুতাপেটা

রাজশাহীর তানোরে শিক্ষার্থী বরণ, বিদায় ও স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি না করায় কলেজ অধ্যক্ষ ইমারত আলীকে জুতাপেটা করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার সরনজাই ডিগ্রি কলেজ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টায় উপজেলার সরনজাই ডিগ্রি কলেজে ওই আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট একরামুল হক। এ সময় সরনজাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক তার লোকজন নিয়ে সভাস্থলে হামলা করেন। এ সময় তারা প্যান্ডেলের চেয়ার ভাংচুর করে এবং কলেজ অধ্যক্ষ ইমারত আলীকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন। কলেজ অধ্যক্ষ ইমারত আলী এর প্রতিবাদ জানালে আলোচনা মঞ্চ থেকে শার্টের কলার ধরে তাকে নামিয়ে এনে চড়থাপ্পড় মেরে মাটিতে ফেলে দেয়া হয়।
এরপর জুতা দিয়ে চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক নিজে অধ্যক্ষকে পেটান। এ সময় সঙ্গে থাকা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহাদাৎ হোসেনসহ চেয়ারম্যানের লোকজন মঞ্চ ভাংচুরসহ আধা ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালায়। পরে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে গেলে চেয়ারম্যান লোকজন নিয়ে সটকে পড়েন। এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ ইমারত আলী জানান, অ্যাডভোকেট একরামুল হক সম্মানিত মানুষ। এ কারণে এমপি তাকে কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করেছেন। তার নির্দেশে সভা ও সেমিনারে অতিথি আমন্ত্রণ করে থাকেন তিনি। অধ্যক্ষ বলেন, 'চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে অনুষ্ঠানে হামলা ও তাকে মারধর করেছেন।' বিষয়টি নিয়ে এমপির সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান ইমারত আলী। এ বিষয়ে সরনজাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, 'আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান। এ কারণে পুরো ইউনিয়নবাসী আমাকে সম্মান করেন। শুধু এই অধ্যক্ষ আমাকে এড়িয়ে চলেন।' তিনি বলেন, 'অধ্যক্ষের চলাফেরায় অনেক দোষ রয়েছে। এজন্য তাকে উচিৎ শিক্ষা দেয়া হয়েছে।'

বুধবার ফরিদপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী বুধবার ফরিদপুরে যাচ্ছেন। তিনি হেলিকপ্টারে করে ফরিদপুরে আসবেন। বিকাল পৌনে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এরপর শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভা শেষে বিকাল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে ফরিদপুর শহরে সাজসাজ অবস্থা বিরাজ করছে। রাস্তা ও রাস্তার দুপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে সড়কে তোরণ নির্মাণ, ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণগুলোতে নৌকা প্রতীক শোভা পাচ্ছে। সড়ক বিভাজকসহ আশপাশের স্থাপনা ও ভবন রং করা হয়েছে। এছাড়া সড়কের দু’পাশ ও অনেক ভবনে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য ও ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মৃধা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে আমরা সব প্রস্তুতি নিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফরিদপুর জেলাবাসীর অনেক প্রত্যাশা। তিনি জেলাবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী। পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহা জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ জেলার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বুধবার প্রধানমন্ত্রী যে ২০টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন সেগুলো হচ্ছে, ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ভবন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নবনির্মিত ভবন, কবি জসীম উদ্‌দীন সংগ্রহশালা, ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি, শিশু একাডেমি ভবন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের উপমহাপরিদর্শকের কার্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট, সরকারি রাজেন্দ্র একাডেমিক কাম পরীক্ষা হল, কুমার নদের ওপর সেতু, ভাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, বিএসআইটি ভবন, ভাঙ্গা থানা ভবন, মধুখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, সদর উপজেলায় বাখুন্ডা রসুলপুর ভায়া নিখুরদী সড়ক, সদরের ডিক্রিরচর ইউনিয়নের মুন্সীডাঙ্গি কমিউনিটি ক্লিনিক ও ৩৩/১১ কেভি হাড়োকান্দি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র। এছাড়া যে ১২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে সেগুলো হচ্ছে, কুমার নদ পুনঃখনন, আলফাডাঙ্গা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র্র, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পুলিশ অফিসার্স মেস, পুলিশ হাসপাতাল, সালথা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবন, সদরপুরের চন্দ্রপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্র, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাস, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, এক হাজার ৫০০ আসনের মাল্টিপারপাস হল, সদরপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও সালথা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন প্রকল্প।

গাজীপুরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ইটহাটা এলাকায় এক মুদি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। ওই ব্যবসায়ীর নাম সাইফুর রহমান আলমগীর (৪০)। তিনি চাঁদপুরের মতলব থানার উত্তর বারগাও এলাকার আলী আকবর মাস্টারের ছেলে। নিহতের স্ত্রীর বড় ভাই এমদাদুল হক জানান, সাইফুর ইটাহাটা এলাকায় আট বছর আগে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে।
সেখানে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিল। একই সঙ্গে ওই এলাকায় মুদি দোকানে ব্যবসা করতো। রোববার দোকান থেকে ফেরার পথে বাড়ির কিছুদূরে রাত সোয়া ১২টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুরকে মৃত ঘোষণা করেন। জয়দেবপুর থানার এসআই নুরুল ইসলাম জানান, নিহতের মাথা, গলা, ও কাঁধে ধারালো অস্ত্রের তিনটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ আ'লীগ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে: বিএনপি

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে পুলিশ প্রশাসন সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। সোমবার দুপুরে নগরীর ধর্মসাগরপাড়ে বিএনপির নির্বাচনী প্রচার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কুসিক নির্বাচনে দলটি মনোনিত প্রার্থীর প্রধান সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, নির্বাচনে মাঠে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে সরকারদলীয়রা পুলিশকে ব্যবহার করছে। বিএনপির মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর পক্ষে মাঠে কাজ করা নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাদা পোশাকে তল্লাশির নামে হয়রানি করা হচ্ছে। অনেকের নামে মামলা না থাকলেও পুরাতন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারদলীয় প্রার্থী ও তাদের নেতারা নিয়মিত আচরণবিধি লংঘন করলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আমরা এর বাস্তবায়ন দেখতে চাই। ভোটের দিন ভোটাররা যেন কেন্দ্রে নির্বিঘ্নে গিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে মতামত দিতে পারেন এজন্য রিটার্নিং অফিসার এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান বিএনপির এই নেতা। তিনি ভোট চুরি ও জালভোট প্রতিরোধে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ নিরপেক্ষ ভোটের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতিও আহবান জানান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবদীন ফারুক, হাবিবুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ইমরান সালেহ প্রিন্স, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রশীদ ইয়াছিন, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য সামছুদ্দিন দিদার প্রমুখ।

টাইট পোশাকে আটকে গেল ২ কিশোরীর বিমান ভ্রমণ

শুধু লেগিংস (এক ধরনের আঁটোসাঁটো পাজামা) পরিধান করায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান কর্তৃপক্ষ দুই কিশোরীকে ফেরত দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভার থেকে মিনেপোলিসগামী বিমানে রোববার সকালে এ ঘটনা ঘটে। খবর বিবিসির। ওই দুই কিশোরীকে বিমানে উঠতে না দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। শুধু লেগিংস পড়ার কারণে দুই কিশোরীকে বিমান কর্তৃপক্ষ বোর্ডিং সম্পন্ন করতে দেয়নি। ফলে তারা পরিবারের সঙ্গে মিনেপোলিস যেতে পারেননি।
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের কর্মীরা ওই দুই কিশোরীকে লেগিংসের ওপর অন্য কোনো পোশাক পরিধান অথবা পোশাক পরিবর্তন করার কথা বলেন। সেটি না করায় তাদের দু'জনকে ফেরত পাঠানো হয়। এ ঘটনার পরপরই সমালোচনার ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মেয়েদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন এমন একজন নেত্রী শ্যানন ওয়াটস টুইটারে বলেন, 'ওই পরিবারটির বাবা শর্টস পরিহিত অবস্থায় বিমানে উঠতে পারলেও মেয়ে দুটো পারল না। আমার জানার খুব ইচ্ছে এ পর্যন্ত কতজন পুরুষকে এ রকম পোশাক পরিধান করায় বিমানে উঠতে বাধা দেয়া হয়েছে?' সমালোচনার জবাবে অবশ্য ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স বলেছে, তাদের ড্রেস কোড রয়েছে এবং সেটা তারা পরিপালন করেন। ওই যাত্রীদের কাছে ‘ইউনাইটেড পাস ট্রাভেলার্স’র টিকেট ছিল, যাতে ড্রেসকোডও লেখা ছিল।

হোটেলবাসের পর বিচ্ছেদ হলে টাকা ফেরত

নিভৃতে সময় কাটানোর জন্য সাধারণত দম্পতিরা পছন্দের কোনো হোটেল বেছে নেন। কিন্তু এমন কি কখনো শুনেছেন ডিভোর্স বা বিবাহ বিচ্ছেদ হলে টাকা ফেরত দেবে হোটেল কর্তৃপক্ষ? তবে এমনটাই ঘটছে সুইডেনে। দেশটির বেশ কয়েকটি হোটেল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের হোটেলে থাকার এক বছরের মধ্যে কোনো দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে সেই হোটেলে থাকার দুই রাতের খরচ তারা ফেরত দেবে। খবর বিবিসি মনিটরিং। সুইডিশ হোটেল মালিকদের একটি গোষ্ঠী নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছে। তারা বলছে, একসঙ্গে চলতে চলতে জটিল সময়ে পড়লে সম্পর্কের মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়, তা থেকে নিস্তার পেতে প্রয়োজন এক মনোরম পরিবেশ। আর সেই পরিবেশ মেলে তাদের হোটেলেই। তারা 'সম্পর্ক উন্নয়নের গ্যারান্টিও' দিচ্ছে তাদের অফারে।
সুইডেনের কান্ট্রিসাইড হোটেল গ্রুপের কোনো একটি হোটেলে রাত কাটালেই দম্পতিরা এই সুযোগ নিতে পারবেন। তাদের হোটেলে কাটিয়ে যাবার এক বছরের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে গেলে দুই রাতে টাকা ফেরত দেবে কর্তৃপক্ষ। তেমনই একটি হোটেলের মালিক পেত্রা ফাগরেল জ্যানসন বলছেন, তার কাছে মনে হচ্ছে না এটা খুব ব্যয়বহুল অফার। তিনি মনে করেন, প্রত্যেকের জীবনে ছোট্ট একটু অবসর প্রয়োজন। আর সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করার সময়ও প্রয়োজন। হোটেলগুলোতে থেকে যাবার পর বিচ্ছেদ যদি ঘটেই যায় তাহল দম্পতিদের হোটেল খরচের টাকা ফেরত পেতে গেলে উপযুক্ত প্রমাণ দিতে হবে। প্রথমে তাদের প্রমাণ করতে হবে আইনত স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই তারা ওই হোটেলে থেকেছেন, কখন থেকেছেন সেটাও দেখাতে হবে। আর ওই হোটেলে থাকার এক বছরের মধ্যেই ডিভোর্স হয়ে গেছে তার উপযুক্ত কাগজপত্র দেখাতে পারলে তবেই মিলবে এই টাকা।

রাশিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতাসহ আটক ৫০০

রাশিয়ার প্রধান বিরোধীদল প্রগ্রেস পার্টির নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনিকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার মস্কোতে দুর্নীতিবিরোধী এক বিক্ষোভ থেকে তাকে আটক করা হয়। খবর বিবিসির। এদিন রুশ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবিতে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। অ্যালেক্সই ছাড়াও রাজধানী এবং রাজধানীর বাইরে থেকে ৫ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, বেশিরভাগ বিক্ষোভই অবৈধ। কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই তারা এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। স্থানীয় টেলিভিশনে প্রচার এ সংক্রান্ত খবরে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পদত্যাগেরও প্লাকার্ড হাতে মিছিলে অংশ নেন। এতে লেখা, 'পুতিনের পতন চাই!
পুতিনমুক্ত রাশিয়া চাই! এবং পুতিন একজন চোর!' ২০১১-২০১২ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর এটিকেই এ যাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে বিবিসির সংবাদদাতারা উল্লেখ করেছেন। মানবাধিকার সংগঠন ওভিডি ইনফো বলছে, শুধু মস্কোতেই ১৩০ বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে তাদের ওপর পিপার স্প্রে বা মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করা হয়। মস্কোয় কয়েক হাজার মানুষের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে আগে থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। অ্যালেক্সাই নাভালনির গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র মার্ক টোনার এক বিবৃতিতে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ থেকে আটক সবাইকে মুক্তি দেয়া এবং জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি সরকারের শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, গ্রেফতারের পর টুইটারের এক পোস্টে আন্দোলন অব্যাহত রাখতে বিক্ষোভকারীদের প্রতি আহ্বান জানান অ্যালেক্সেই নাভালনি। তিনি বলেন, 'ভাইয়েরা, আমি ভালো আছি। আমাকে মুক্ত করতে আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া। মস্কোর রাজপথে অবস্থান করে আপনারা এই আন্দোলন চালিয়ে যান।'

কৃত্রিম সূর্য!

জার্মানিতে আলো আর উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে বিশ্বের বৃহত্তম কৃত্রিম সূর্য। বৃহস্পতিবার এ কৃত্রিম সূর্যের উদ্বোধন করেন দেশটির পরিবেশমন্ত্রী জোহান্স রেমেল, অর্থমন্ত্রী গর্গ মেনজেন এবং জার্মান অরোস্পেস সেন্টারের নির্বাহী বোর্ডের সদস্য কার্স্টেন লেমের। বৃহত্তম এ কৃত্রিম সূর্যের নাম দেয়া হয়েছে সিনলাইট। দ্য গার্ডিয়ান। সৌরশক্তির ব্যবহারই ভবিষ্যৎ শক্তির উৎস। কিন্তু পৃথিবীর অনেক স্থানেই সূর্যরশ্মি ঠিকমতো পৌঁছায় না। তাই প্রয়োজন থাকলেও সৌরশক্তির ব্যবহার সম্ভব হয় না। যেসব এলাকায় সৌরশক্তি পৌঁছায় না সে সব স্থানের কথা মাথায় রেখেই এ কৃত্রিম সূর্য তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
সিনলাইট থেকে হাইড্রোজেন প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। হাইড্রোজেন পুড়লে যেহেতু কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস প্রস্তুত হয় না, তাই ভবিষ্যতে হাইড্রোজেনকেই জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা। সিনলাইটের ভবনটি তিন তলা উঁচু। এখানে ১৪০ জেনন শর্ট আর্ক ল্যাম্প জ্বলছে। মাল্টিপ্লেক্সের লার্জ সিনেমা স্ক্রিনে আলোর জন্য একটিমাত্র জেনন শর্ট আর্ক ল্যাম্প জ্বালানো হয়। তিন হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উত্তাপ তৈরি করতে পারে এ সিনলাইট। এ প্রচণ্ড তাপমাত্রায় গবেষকরা হাইড্রোজেন গ্যাস প্রস্তুত করছেন। সোলার র‌্যাডিয়েশন ব্যবহার করে হাইড্রোজেন প্রস্তুত করার প্রণালি বেশ কয়েক বছর আগেই আবিষ্কার হয়েছে। কিন্তু সিনলাইটের ফলে প্রচুর পরিমাণে হাইড্রোজেন উৎপন্ন করা সম্ভব। যা ব্যবহার করা যাবে শিল্প-কারখানাসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে।