Monday, May 11, 2026

তাঁরা বাবাকে দাফন করলেন মাত্র, এরপরই অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা কবর খুঁড়তে শুরু করে

বাবাকে দাফন করে সবে বাড়ি ফিরেছেন মোহাম্মদ আসাসা। এমন সময় কয়েকটি শিশু দৌড়াতে দৌড়াতে এসে চিৎকার করে বলল, ‘অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা কবরটি খুঁড়ে ফেলছে।’

মোহাম্মদের বাবা হুসেইন আসাসার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। গত শুক্রবার তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়। পশ্চিম তীরের জেনিনের কাছে আসাসা নামের ছোট্ট গ্রামে তিনি ছিলেন একজন সম্মানিত মানুষ। গ্রামের নামটিও এই পরিবারের পদবি থেকেই এসেছে। সাবেক এই পশু ব্যবসায়ী ১০ সন্তানের বাবা ছিলেন। ইসলামি রীতি মেনে বাড়ির উল্টো দিকের ছোট টিলায় গ্রাম্য কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

মোহাম্মদ বলেন, কোনো সমস্যা যেন না হয়, সে জন্য তিনি কাছের একটি ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি থেকে জানাজা ও দাফনের অনুমতিও নিয়েছিলেন।

কিন্তু দাফনের আধা ঘণ্টা না পেরোতেই তিনি ও তাঁর ভাইয়েরা আবার কবরস্থানের সামনে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, কয়েকজন সশস্ত্র অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারী ভারী যন্ত্র দিয়ে নতুন কবরটি খুঁড়ছে।

প্রথমে বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন মোহাম্মদ। কিন্তু তারা যখন কবরের ভেতরের পাথরের স্ল্যাব ভেঙে ফেলতে যাচ্ছিল, তখন তিনি দ্রুত কবরের কাছে যান।

মোহাম্মদ বলেন, ‘তারা প্রায় মরদেহ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। আমি নিশ্চিত, তারা মরদেহ সরিয়ে ফেলতে যাচ্ছিল। তাই তখনই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।’

বসতি স্থাপনকারীরা কাছের সা-নুর নামের একটি পুনঃস্থাপিত অবৈধ বসতি থেকে এসেছিল। কবরস্থানের ওপরে পাহাড়ে ওই অবৈধ বসতির অবস্থান।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সব ইসরায়েলি বসতি অবৈধ। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার সম্প্রতি সা-নুর বসতিটি আবার চালুর অনুমতি দিয়েছে। পশ্চিম তীরে নতুন বসতি সম্প্রসারণের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে এটি করা হয়।

মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, সশস্ত্র অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা আসাসা পরিবারকে হুমকি দিয়ে বলছে, ‘তোমরা কবর খুঁড়ে মরদেহটি তোলো, না হয় আমরা তুলব।’ তাদের দাবি ছিল, কবরটি তাদের বসতির খুব কাছে।

আরও কিছু ছবিতে দেখা যায়, পরে মোহাম্মদ ও তাঁর ভাইয়েরা বাবার কাফনে মোড়ানো মরদেহ কবরস্থান থেকে তুলে পাহাড় বেয়ে নিচে নিয়ে যাচ্ছেন। অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা তখন দূর থেকে তা দেখছিল।

পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করেছে এবং বসতি স্থাপনকারীদের কাছ থেকে খোঁড়াখুঁড়ির যন্ত্র জব্দ করেছে, যাতে উত্তেজনা বৃদ্ধি না পায়।

তবে পরিবারটির অভিযোগ, সেনারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব দেখেছে। অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের চাপে তাঁদের অপমানজনকভাবে নতুন কবরটি থেকে মরদেহ তুলে ফেলতে বাধ্য করা হয়েছে।

বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, শৃঙ্খলা, আইনের শাসন এবং জীবিত ও মৃত মানুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে—এমন যেকোনো আচরণের নিন্দা জানায় তারা।

‘কেউই রেহাই পাচ্ছে না’

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় এই ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ এবং অধিকৃত অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের প্রতি অমানবিক আচরণের প্রতীক’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের স্থানীয় প্রধান অজিত সাংঘাই বলেন, ‘জীবিত হোক বা মৃত—কেউই এই নিষ্ঠুরতা থেকে রেহাই পাচ্ছে না।’

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অবৈধ সা-নুর বসতি পুনঃস্থাপনের পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বেড়েছে।

হুসেইন আসাসার শোক পালনের জন্য টানানো তাঁবুতে আসা এক অতিথি বলেন, ‘আবার ফিরে আসার পর তারা মনে করছে, পুরো এলাকাই এখন তাদের। এটা খুবই ভয়ংকর।’

আসাসা পরিবারের আরেক সদস্য বলেন, ‘সম্প্রতি আমাদের এক আত্মীয়ের জমিতে সেনা ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা ঢুকে কোনো কারণ ছাড়াই সব জলপাইগাছ কেটে ফেলেছে।’

স্থানীয়দের ভাষ্য, সা-নুরে বসতি স্থাপনকারীদের ফিরিয়ে আনার পর পুরো এলাকার বড় একটি অংশকে ‘বদ্ধ সামরিক এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে।

মূলত এর অর্থ হলো, গ্রামের মানুষ এখন নিজেদের জলপাইবাগান, ফসলি জমি, এমনকি কবরস্থানেও ইচ্ছেমতো প্রবেশ করতে পারবে না।

গ্রামবাসীরা বলছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমতি নেওয়ার পরও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা বেশি আগ্রাসী আচরণ করছে। তাঁদের অনেকেই এখন প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বেড়েছে। বিশ্বের দৃষ্টি যখন অন্য যুদ্ধ ও সংঘাতের দিকে। ফলে এসব ঘটনা আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শত শত মানুষ। আরও অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, নেতানিয়াহু সরকারের কট্টরপন্থী মন্ত্রীদের সমর্থন পেয়ে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা এখন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। অস্ত্র ব্যবহারেও তারা আগের চেয়ে বেশি আগ্রাসী। ফলে অধিকৃত ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা ও জীবিকা ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে।

শেষ পর্যন্ত হুসেইন আসাসার মরদেহ পাশের গ্রামের একটি ছোট কবরস্থানে আবার দাফন করেন তাঁর ছেলেরা। সেখানে অন্তত তাঁকে আর সেই অপমান ও উত্তেজনার মুখে পড়তে হয়নি, যা এখন এই ভূখণ্ডের অনেক মানুষের নিত্যদিনের ভাগ্যে পরিণত হয়েছে।

পশ্চিম তীরে বাবাকে দাফনের পর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের চাপে কবর খুঁড়ে মরদেহ সরিয়ে নিতে বাধ্য হন পরিবারের সদস্যরা
পশ্চিম তীরে বাবাকে দাফনের পর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের চাপে কবর খুঁড়ে মরদেহ সরিয়ে নিতে বাধ্য হন পরিবারের সদস্যরা। ছবি: বিবিসির স্ক্রিনশট

ধানের দানার চেয়ে ক্ষুদ্র মস্তিষ্কের ইমপ্ল্যান্ট উদ্ভাবন by আহসান হাবীব

নিউরো প্রযুক্তির অগ্রগতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছেন একদল গবেষক। ধানের দানার চেয়ে ছোট একটি মস্তিষ্কের ইমপ্ল্যান্ট তৈরি করা হয়েছে। এটি মস্তিষ্কের ভেতরের বৈদ্যুতিক সংকেত পর্যবেক্ষণ ও তারহীন তথ্য পাঠাতে সক্ষম। মাইক্রোস্কেল অপটোইলেকট্রনিক টেথারলেস ইলেকট্রোড বা মোট নামের এই যন্ত্র আকারে ক্ষুদ্র। এর কার্যক্ষমতা ও নির্ভুলতা ভবিষ্যতের স্নায়ুবিজ্ঞানের নতুন সম্ভাবনা বলে বিবেচিত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী অ্যালিওশা মলনার বলেন, ‘আমাদের জানামতে, এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ছোট স্নায়ু ইমপ্ল্যান্ট। এটি মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ মাপতে ও তথ্য তারহীন প্রেরণ করতে পারে। মানবচুলের প্রস্থের প্রায় সমান বা মাত্র ৩০০ মাইক্রোমিটার লম্বা ও ৭০ মাইক্রোমিটার চওড়া এই ইমপ্ল্যান্ট। এটি ইনফ্রারেড আলোর মাধ্যমে স্নায়ুসংকেত কোডে রূপান্তর করে। পরে সেই সংকেত মস্তিষ্কের টিস্যু ও হাড় ভেদ করে নির্দিষ্ট রিসিভারে পৌঁছায়।

বিজ্ঞানী মলনার ২০০১ সালে এই ধারণা প্রথম উপস্থাপন করেন। প্রায় দুই দশকের গবেষণা ও পরীক্ষার পর সেটি বাস্তব রূপ পেল। অ্যালুমিনিয়াম গ্যালিয়াম আর্সেনাইড নামের সেমিকন্ডাক্টর উপাদান দিয়ে তৈরি এই ডায়োডভিত্তিক যন্ত্রটি একই সঙ্গে আলো ব্যবহার করে শক্তি আহরণ ও তথ্য প্রেরণ করতে পারে।

গবেষকেরা জানান, ইমপ্ল্যান্টে ব্যবহৃত প্রযুক্তি আধুনিক মাইক্রোচিপের নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। অপটিক্যাল এনকোডার ও লো নয়েজ অ্যামপ্লিফায়ারের মাধ্যমে এটি সংকেতকে আরও পরিষ্কারভাবে প্রেরণ করতে পারে। ডেটা পাঠাতে ব্যবহৃত হয়েছে পালস পজিশন মড্যুলেশন। বিজ্ঞানী মলনার বলেন, এই ইমপ্ল্যান্ট অত্যন্ত অল্প বিদ্যুৎ ব্যবহার করেই নির্ভুলভাবে তথ্য পাঠাতে পারে।

গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে যন্ত্রটি ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত সেল কালচারে পরীক্ষা করা হয়েছে। ইঁদুরের মস্তিষ্কের ব্যারেল কর্টেক্সে প্রতিস্থাপন করেছেন বিজ্ঞানীরা। ইমপ্ল্যান্টটি এক বছরের বেশি সময় ধরে ইঁদুরের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ ও স্নায়ুসংযোগের ধরন স্থিতিশীলভাবে ধারণ (রেকর্ড) করেছে। বিজ্ঞানী মলনার আরও বলেন, ‘প্রচলিত ইলেকট্রোড ও ফাইবার অনেক সময় মস্তিষ্কে জ্বালা বা প্রদাহ সৃষ্টি করে। টিস্যু ক্রমাগত নড়াচড়া করে বলে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। আমরা এমন এক ইমপ্ল্যান্ট তৈরি করতে চেয়েছি, যা বেশ ক্ষুদ্র হলেও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন না ঘটিয়ে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে। অন্যান্য সংবেদনশীল অঙ্গে, যেমন মেরুদণ্ডে এটি ব্যবহারের সুযোগ আছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ধানের দানার চেয়ে ক্ষুদ্র মস্তিষ্কের ইমপ্ল্যান্ট উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা
ধানের দানার চেয়ে ক্ষুদ্র মস্তিষ্কের ইমপ্ল্যান্ট উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র

অমিতাভ বললেন, ‘বাংলা বুঝি পুরোটা’

মুম্বাইয়ের এক বিজ্ঞাপনচিত্রের সেটে হঠাৎ দেখা হয়ে গেল ঢাকাই সিনেমার নির্মাতার সঙ্গে বলিউড কিংবদন্তি অমিতাভ বচ্চনের। সেই সেটেই কাজ করছিলেন ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফার অমিত রায়। তাঁর আমন্ত্রণেই মুম্বাই সফররত পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ ও প্রযোজক শিরিন সুলতানা পৌঁছে যান অমিতাভের শুটিং লোকেশনে। আর সেখানে ঘটে চমকপ্রদ মুহূর্ত—বাংলাদেশের সিনেমা নিয়েও আগ্রহ দেখান বলিউড শাহেনশাহ, জানান শুভকামনাও।

‘এটা সত্যিই এক প্রাইসলেস মুহূর্ত,’ একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটি বললেন আবু হায়াত মাহমুদ। ‘আমরা গিয়েছিলাম অমিত রায়ের সঙ্গে কাজের পরিকল্পনা নিয়ে। হঠাৎই অমিতাভ স্যরের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। অমিত রায় আমাদের পরিচয় করিয়ে দিলেন। আমি বললাম, আপনি তো বাংলাতেও কথা বলতে পারেন! উনি হেসে বললেন, পারি অল্প অল্প, তবে পুরোটা বুঝি। এরপর আমাদের ছবির বিষয়ে জানলেন, শুভকামনাও জানালেন। ছবিও তুললেন আমাদের সঙ্গে। জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা এটি।’

নির্মাতা জানান, ‘প্রিন্স’–এর প্রি–প্রোডাকশন ও কাস্টিংয়ের কাজ চলছে পুরোদমে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই শুরু হবে শুটিং। ভারত ও বাংলাদেশ—দুই দেশেই হবে দৃশ্যধারণ।

‘পুরো কাস্টিং ও শুটিং প্ল্যান এক সপ্তাহের মধ্যে জানাতে পারব,’ বললেন অমিত রায়। মূলত সেই বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতেই মুম্বাই সফর তাঁর।
এর আগে মুম্বাই ফিল্ম সিটিতে বলিউড তারকা আমির খানের শুটিং সেটেও দেখা গিয়েছিল ‘প্রিন্স’ টিমকে। তখনো তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সিনেমাটোগ্রাফার অমিত রায়। তিনি তখন আমির খানের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজ করছিলেন।
‘আমাদের আগেই অমিত রায়ের সঙ্গে মিটিং ঠিক ছিল,’ বলেন আবু হায়াত। ‘তিনি শুটিংয়ে থাকায় আমাদের সেটে ডাকেন। গল্প, চিত্রনাট্য, এক্সিকিউশনসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। একপর্যায়ে উনি আমাদের আমির খানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। আমরা বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রি ও সিনেমা নিয়ে কথা বলি। তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনলেন, শুভকামনাও জানালেন।’

অমিত রায় বলিউডের অভিজ্ঞ সিনেমাটোগ্রাফার—‘সরকার’, ‘অ্যানিমেল’, ‘ডানকি’, ‘ধোঁকা’, ‘ফিদা’সহ একাধিক জনপ্রিয় ছবির চিত্রগ্রাহক। এবার তিনি যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের সিনেমা ‘প্রিন্স’-এর সঙ্গে।

ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে ‘প্রিন্স’-এর গল্প
নব্বই দশকের ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড ঘিরে নির্মিত হচ্ছে ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’। পরিচালক জানিয়েছেন, এটি অনেকটাই সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি হচ্ছে। ছবির ট্যাগলাইন—‘আমি কালা’। শাকিব খান থাকছেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে। গুঞ্জন রয়েছে, আলোচিত সন্ত্রাসী কালা জাহাঙ্গীরের বাস্তব ঘটনাবলি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা হয়েছে এর কাহিনি।

কালা জাহাঙ্গীরের চরিত্রে মোশাররফ করিম অভিনয় করতে পারেন বলে আলোচনা চলছে, যদিও পরিচালক বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।

‘মোশাররফের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে কথা হয়েছে,’ বললেন আবু হায়াত। ‘তবে শিডিউল মেলাতে পারলে তবেই হবে। এখনো কোনো চরিত্রই পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়।’
বলিউডের দুই মহাতারকা—অমিতাভ বচ্চন ও আমির খানের শুভকামনা নিয়ে এবার শাকিব খানের ‘প্রিন্স’ এগিয়ে যাচ্ছে শুটিংয়ের দিকে। ঢাকাই সিনেমার জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক নতুন অনুপ্রেরণার গল্প।

অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে প্রযোজক শিরিন সুলতানা ও পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ
অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে প্রযোজক শিরিন সুলতানা ও পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ। ফেসবুক থেকে