Wednesday, January 2, 2019

২০১৮ যেমন কাটলো বিশ্বের

বিশ্ব রাজনীতিতে ২০১৮ সালটি ছিল একটি ঝড়ো সময়। এ সময়ে তোলপাড় করার মতো অনেক ঘটনা ঘটে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রকম চুক্তি বাতিল করা, বাণিজ্যিক লড়াই, কূটনৈতিক দর কষাকষি, সাংবিধানিক সংকট। এ বছরেই নিজের ক্ষমতা আরো পোক্ত করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। অন্যদিকে ২০২১ সালে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল। এ বছরেই অস্ট্রেলিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন স্কট মরিসন। উত্থান ঘটেছে ব্রাজিলে ডানপন্থি নেতা বলসোরানোর। এ বছরেই চির বৈরী উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দুই নেতার মধ্যে সিঙ্গাপুরে হয়েছে ঐতিহাসিক সামিট।
বৈঠক করেছেন দুই কোরিয়ার নেতা। যৌনতা বিরোধী আন্দোলন মি-টু ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। এতে কুপোকাত হয়েছেন বিশ্বের অনেক বাঘা বাঘা ব্যক্তি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাতিল করেছেন ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি। এ বছরেই হত্যা করা হয়েছে সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে। সর্বশেষ ইন্দোনেশিয়ায় আঘাত হেনেছে প্রাণঘাতী সুনামি। আর ব্রেক্সিট ইস্যুতে পুরোটা বছর কন্টকময় পথে হেঁটেছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। এ সময়ে তার মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন সহ প্রথম সারির গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী। ব্রেক্সিট ইস্যুতে তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে অনাস্থা ভোট। তাতে উৎরে গেছেন তেরেসা মে।
শি জিনপিং আজীবন প্রেসিডেন্ট
২০১৮ সালের মার্চে পার্লামেন্টের শতভাগ ভোট পেয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন শি জিনপিং। ৬৪ বছর বয়সী এ নেতা ২০১৩ সালে পাঁচ বছর মেয়াদে প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় পার্লামেন্ট সদস্যরা অনির্দিষ্টকালের জন্য তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাখার পক্ষে ভোট দেন। এতে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা পান শি জিনপিং।
চতুর্থ দফায় প্রেসিডেন্ট পুতিন
বিরোধীদের দমনপীড়নের মাধ্যমে চতুর্থ দফায় নিজের ক্ষমতা ধরে রেখেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই বছরের মার্চের নির্বাচনে ছয় বছরের জন্য তিনি আবারো ক্ষমতায় আসেন। অর্থাৎ ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি রাশিয়া শাসন করবেন। গত দুই দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা পুতিন, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য দেশের সংবিধানে অবশ্যই পরিবর্তন আনবেন বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন  পুতিন। তবে ওই নির্বাচনকে পাতানো বলে আখ্যা দেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। এসব সমালোচনার মধ্যেও ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের মাধ্যমে নিজের অবস্থান অনেকটাই দৃঢ় করতে সক্ষম হন এই নেতা।
ট্রামপ-কিমের ঐতিহাসিক করমর্দন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রামপ এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিং জং উনের মধ্যকার উত্তপ্ত সমপর্ক নিয়ে বিশ্ববাসী অবগত। পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি থেকে শুরু করে পরসপরকে ব্যক্তিগত আক্রমণও করতেন তারা। সমপর্কে এই তিক্ততা থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক সম্মেলনে সাক্ষাৎ করেন এই দুই নেতা। সেটাই ছিল তাদের প্রথম সাক্ষাৎ। সে সময় তাদের করমর্দন বিশ্বব্যাপী আলোচনার ইস্যু হয়ে ওঠে। তাদের মধ্যকার ওই বৈঠক সফলভাবে আনুষ্ঠিত করার পেছনে কাজ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন। কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ করার জন্য একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে ট্রামপ ও কিম। এর পরিবর্তে উত্তর কোরিয়াকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়ার বিষয়ে সহমত প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়াও সম্মেলনে উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়া একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করবে বলেও ঘোষণা আসে। এর মধ্য দিয়ে দুই কোরিয়ার মধ্যকার চলমান ৭০ বছরের পারসপারিক দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে।
ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি মে মাসে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রামপ। ২০১৫ সালের ওই চুক্তিতে নিজেদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ করার চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ইরান। ২০১৬ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রামপ চুক্তিটিকে বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ক্ষমতায় এলে তিনি এই চুক্তি বাতিল করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন সে সময়। এরই সূত্র ধরে এ বছর তিনি বলেন, ইরান যদি মধ্যপ্রাচ্যের সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দেয় এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আকাঙ্ক্ষা অব্যাহত রাখে, তাহলে আগের থেকেও বেশি মূল্য দিতে হবে দেশটিকে। এ ছাড়াও ইরানের ওপর পুনরায় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দুই দেশের মধ্যকার সমপর্কে চিড় ধরে।    
ব্রেক্সিট ইস্যু
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র থেকে বৃটেনকে প্রত্যাহারের চুক্তিটিই ব্রেক্সিট চুক্তি। ১৪ই নভেম্বর বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে ও তার মন্ত্রিপরিষদ এই চুক্তিটি অনুমোদন দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ ১৯ মাস কড়া দরকষাকষির পর তেরেসা মে’র এই চুক্তিটি আলোর মুখ দেখে। তবে এ নিয়ে নিজ দেশের কিছু সংখ্যক নেতার কাছে তেরেসা মে সমালোচিত হন। এমনকি ক্ষমতা হারাতেও বসেছিলেন তিনি। তবে আস্থা ভোটে অল্পের জন্য বেঁচে যান। সব ঠিক থাকলে নতুন বছরের ১৯শে মার্চ ব্রেক্সিট চুক্তিটি কার্যকর হতে পারে।
ফ্রান্সের ইয়োলো ভেস্ট আন্দোলন
ফ্রান্সের ইয়োলো ভেস্ট আন্দোলনের সূত্রপাত হয় জ্বালানি শুল্ক বৃদ্ধির প্রতিবাদে। এই আন্দোলনের জের ধরে পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। শুরুতে আন্দোলনকারীরা শুধু শনিবারে এ আন্দোলন করতেন। কয়েক সপ্তাহব্যাপী চলা এ আন্দোলনে প্যারিস এবং প্যারিসের বাইরে বেশ কয়েকজন নিহত এবং কমপক্ষে ৩০০ জন আহত হন। শুধু প্যারিসেই ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তীব্র এ আন্দোলনের মুখে হার মানেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোন। তিনি জ্বালানি শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেন। ফ্রান্সের স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য জরুরিভিত্তিক একটি সহযোগিতামূলক প্যাকেজের অনুমোদন দেন তিনি।
জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড
২রা অক্টোবর তুরস্কে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে ঘটে মর্মান্তিক এবং বিশ্বব্যাপী সামালচিত ও নিন্দিত হত্যাকাণ্ড। সৌদি আরবের সাংবাদিক, ওয়াশিংটন পোস্টের কলামনিস্ট এবং সৌদি সরকারের সমালোচক জামাল খাসোগিকে সৌদি কনস্যুলেট ভবনের মধ্যেই মর্মান্তিকভাবে হত্যা করা হয়। এ হত্যার পেছনে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয় তুরস্কের পক্ষ থেকে। অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া যায় সিআইএ-এর তদন্ত প্রতিবেদনে। এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচিত হয় সৌদি রাজ পরিবার। সরব ছিল সারা বিশ্বের মিডিয়াগুলো। তবে আন্তর্জাতিক মহলের অভিযোগ থাকলেও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে খাসোগি হত্যায় ক্রাউন প্রিন্সের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। এদিকে খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখে কুলুপ আঁটতে দেখা যায় সৌদি আরবের মিত্র যুক্তরাষ্টকে। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছে এমন ১৭ সৌদি নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেই অনেকটা দায় সারে ট্রামপ প্রশাসন। অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে সৌদি আরব তার দেশের কয়েকজন ব্যক্তিকে আটক করে তাদের বিচারের মুখোমুখি করছে। 
শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক সংকট
অক্টোবরে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহকে বরখাস্ত করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। এরপর মাহিন্দ রাজাপাকসেকে তার স্থলাভিষিক্ত করেন। এদিকে বিক্রমাসিংহ তার পদ থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানান। এতে করে দেশটিতে চরম রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হয়। তবে শ্রীলঙ্কার আদালত এবং পার্লামেন্ট সিরিসেনার ওই সিদ্ধান্তকে বেআইনি বলার পর বিক্রমাসিংহকে অপসারণের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী পদে বিক্রমাসিংহকে পুনর্বহাল করতে বাধ্য হন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা এবং এরপর আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।       
ইন্দোনেশিয়ার প্রাণঘাতী সুনামি
সেপ্টেম্বর মাসে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকমেপ কমপক্ষে ১২০০ জনের মৃত্যু হয়। সে সময় সমুদ্রের ২০ ফুট উঁচু ঢেউয়ে বিজ্ঞানীরাও বিস্মিত হয়েছিলেন। এরপরও ২৩শে ডিসেম্বর আরেক দফা ভূমিকম্প হয়। এতে কয়েক শত মানুষের মৃত্যু হয়। অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। 
কিউবার সংবিধান পরিবর্তন
শেষ পর্যন্ত সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অক্ষুণ্ন রেখে নতুন একটি সংবিধানের সংশোধিত খসড়া অনুমোদন করেছে কিউবার পার্লামেন্ট। সর্বসম্মতিক্রমে এটি পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়। সোভিয়েত আমলে প্রণয়ন করা কিউবার আগের সংবিধান পরিবর্তন করে নতুন সংবিধানে ব্যক্তিগত সমপত্তির বৈধতা দিয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে দেশটিতে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে উচ্চগতি সমপন্ন মোবাইল ইন্টারনেট।
এ বছরের জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রথম খসড়ায় লক্ষ্য হিসেবে ‘সাম্যবাদের পথে যাত্রা’ অংশ বাদ দেয়া হলেও সংশোধিত খসড়ায় সংবিধানের এ অনুচ্ছেদটুকু রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে, কিউবার এ পরিবর্তন আসলে সত্যিকারের কমিউনিস্ট রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই করা হচ্ছে।

নির্বাচনকে স্বীকৃতি না দিতে ড. কামালের আহ্বান

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি নতুন সরকারকে স্বীকৃতি না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ আহ্বান জানান।
ড. কামাল বলেন, প্রহসনের এ নির্বাচনে জনগণের মতামতের কোনো প্রতিফলনই ঘটেনি। এটিকে সরকারের একটি ‘পাতানো নির্বাচন’ বলে দাবি  করেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ।
তিনি বলেন, ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ এ নির্বাচনকে বৈধতা দিয়ে নিজের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা। আমি আশা করি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এ ‘ভোট ডাকাতি’র নির্বাচনকে কোনোভাবেই স্বীকৃতি দেবে না।
ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা ৩০ ডিসেম্বরই পাতানো এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে তফসিল ঘোষণা ও পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছি। ঐক্যফ্রন্টের অন্য নেতাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে নির্বাচন পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান ড. কামাল হোসেন।

‘আরব দেশগুলোর মিত্র ইসরাইল’

ইরান ও ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আরব রাষ্ট্রগুলোর পরম মিত্র ইসরাইল। এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ের  বলসোরানোর অভিষেক অনুষ্ঠানে গিয়ে দেশটির স্থানীয় টিভি চ্যানেল গ্লোব টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। সিরিয়ায় ইরানিদের অবস্থান লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলা ও সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে প্রেসিডেন্ট ট্রামেপর সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে এ কথা বলেন তিনি।  ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ইসরাইলকে ধ্বংস করার জন্য ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বর্ধিত করার চেষ্টা করছে। ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসার পরিকল্পনা আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, আমাদেরকে ধ্বংসের জন্য ইরান যদি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে, তাহলে আমার উত্তর না। যদি ইরান সমপূর্ণ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যায়, তাহলেই হয়তো শান্তি আলোচনা সম্ভব। ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত আমরা ফিলিস্তিনিদের নিয়ে আর কোনো বিষয়ে আগ্রসর হই নি। অর্ধেকের বেশি ফিলিস্তিন ইরান ও মৌলবাদী ইসলামের অধীনে রয়েছে।
বলসোরানোর অভিষেক অনুষ্ঠানের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পমেপওর সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর। সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে তারা আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ না করার হুমকি উত্তর কোরিয়ার

উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যদি নিষেধাজ্ঞা দেয়া অব্যাহত রাখে, তাহলে পিয়ংইয়ং এই ইস্যুতে তাদের নীতি পরিবর্তন করবে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এমন হুমকি দিয়েছেন। ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিবছরই উত্তর কোরিয়ার নেতারা নববর্ষে বক্তৃতা দেন। কিম জং উনের পূর্বপুরুষরাও এ ঐতিহ্য পালন করেছেন। নববর্ষের বক্তৃতায় সাধারণত নতুন বছরের সম্ভাব্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নীতির উল্লেখ করা হয়। গত বছরের বক্তৃতায় কিম জং উন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
সে অনুসারে গত বছর দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে উত্তর কোরিয়া। দু’দেশের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। গতকাল রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে প্রচারিত ৩০ মিনিটের বক্তৃতায় উত্তর কোরীয় নেতা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি গোটা বিশ্বের সামনে করা তাদের অঙ্গীকার রক্ষা না করে, আমাদের দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখে, তাহলে আমাদের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার জন্য নতুন চিন্তা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।’ আর ওয়াশিংটন ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলে পিয়ংইয়ং তাদের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া আরো জোরদার করবে বলেও জানান কিম জং উন। বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর কোরিয়া নতুন চিন্তা বলতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি শুরু করার দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। পিয়ংইয়ং এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। যদি এতে কাজ না হয়, তাহলে তারা আবারো পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করতে পারে। বর্তমানে দেশটি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে। এ বিষয়ে কিম জং বলেন, উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি, ব্যবহার বা বিস্তার না করার অঙ্গীকার করেছে। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কঠোর পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে যেকোনো সময় আবারো প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসতে প্রস্তুত বলে জানান কিম জং উন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো সময় আমি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বসতে প্রস্তুত। এ ছাড়া, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সাধুবাদ জানায় এমন যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণে উত্তর কোরিয়া তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
বক্তৃতার প্রায় ২০ মিনিট কিম জং উন দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার মান নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, নতুন বছরে তার সরকার জনগণের জীবনের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবে। একই সঙ্গে জ্বালানি স্বল্পতা কাটিয়ে উঠতেও ত্বরিত পদক্ষেপ নেয়া হবে। দক্ষিণ কোরিয়া ইস্যুতে তিনি বলেন, সিউলকে অবশ্যই বিদেশি বাহিনীর সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া বন্ধ করতে হবে। এসব মহড়াকে তিনি ‘উত্তেজনার উৎস’ আখ্যা দেন।

বাশার আসাদ চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হয়েছেন: দ্যা গার্ডিয়ান

সমাবেশে জনতার উদ্দেশে হাত নাড়ছেন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ
ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্যা গার্ডিয়ান বলেছে, ২০১৮ সাল শেষ হয়েছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্যদিয়ে। এ বিজয় অর্জিত হয়েছে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও সিরিয়ায় আরব দেশগুলোর দূতাবাস খোলার প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি সিরিয়া থেকে দ্রুত সেনা প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেছেন। তার এ ঘোষণার মধ্যদিয়ে সিরিয়ায় অবস্থান করা মার্কিন সেনাদের পক্ষ থেকে সিরিয়ার জন্য সম্ভাব্য যেকোনো রকমের হুমকি শেষ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে গার্ডিয়ান।
গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাত দামেস্কে নতুন করে দূতাবাস চালু করেছে। ২০১১ সালে সিরিয়ায় বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের সহিংসতা শুরুর পরপরই দেশটি দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছিল। আমিরাত দূতাবাস চালুর পর বাহরাইন ও কুয়েত একই ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া, আরো কিছু আরব দেশ এ পথে এগুবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি বহিষ্কারের সাত বছর পর আরব লীগও এখন সিরিয়াকে এ সংস্থায় ফিরিয়ে নিতে চাইছে।
সিরিয়ায় সংয়ুক্ত আরব আমিরাতের নতুন দূতাবাস
গার্ডিয়ানের মতে- পাঁচ মাস আগে সিরিয়ার সেনারা যখন দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারপর থেকে এসব ঘটন ঘটছে। দারা ছিল বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের জন্মভূমি এবং এটাই ছিল সন্ত্রাসীদের সর্বশেষ শক্তিশালী অবস্থান। গার্ডিয়ান লিখেছে, “গত ছয় মাসের সামরিক ও কূটনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় নিয়ে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, আসাদ সরকার এ দ্বন্দ্বে সুস্পষ্ট ও চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হয়েছে।”

এরশাদের অবর্তমানে কাদের চেয়ারম্যান: জাপা সরকারে না বিরোধী দলে সিদ্ধান্ত আজ

জাতীয় পার্টি (জাপা)-এর পরবর্তী চেয়ারম্যান  হবেন জিএম কাদের। এরশাদের অবর্তমানে তিনি পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। গতকাল রাতে জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। এরশাদের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি দেলোয়ার জালালীর পাঠানো ‘জাতীয় পার্টির জন্য ভবিষ্যৎ নির্দেশনা’- শিরোনামের চিঠিতে এরশাদ বলেন, ‘আমি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে পার্টির সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থকদের জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখছি যে, আমার অবর্তমানে পার্টির বর্তমান কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আশা করি, পার্টির জাতীয় কাউন্সিল আমার মতো তাকেও চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে পার্টির সার্বিক- দায়িত্ব অর্পণ করবে। পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে আমি যতদিন দায়িত্ব পালন করবো- জনাব গোলাম মোহাম্মদ কাদের আমাকে সহযোগিতা করবে।
জাপা সরকারি নাকি বিরোধী দলে জানা যাবে আজ
জাতীয় পার্টি (জাপা) সরকারি দলে থাকবে নাকি বিরোধী দলে যাবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানা যাবে আজ। দুপুরে পার্টির বনানী অফিসে অনুষ্ঠিত পার্টির নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সঙ্গে যৌথ সভায় এ বিষয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এরপরে মহাজোটের সঙ্গেও এ নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করবে জাপা।
গতকাল জাতীয় পার্টির ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাপা চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় এক আলোচনা সভায় মহাসচিব মশিউর রহামান রাঙ্গা এসব কথা জানান। তিনি বলেন, মহাজোটের সঙ্গে আলোচনা করে এবং প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিবো আমরা বিরোধী দলে যাব নাকি মহাজোটেই থাকবো। তবে সংবিধান অনুযায়ী জাপার বিরোধী দল হতে কোনো সমস্যা নেই।
রাঙ্গা বলেন, আমরা নির্বাচন নিয়ে সন্তুষ্ট নই। আমাদের যা পাওয়ার কথা ছিলো তা পাইনি। আমাদের মহাজোট থেকে প্রথমে ২৯টি আসন দেয়া হয়েছিলো, সেখান থেকে ২৪টি করা হয়েছে। এখানে আমরা ২২টিতে জয়ী হয়েছি। রাঙ্গা আরও বলেন, নির্বাচনে আমাদের উপর অনেক নির্যাতন করা হয়েছে। অনেক জায়গায় এজেন্টও থাকতে দেয়া হয়নি। তবুও বলবো, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। রাজনীতিতে যে আমাদের ভুল-ত্রুটি হয়নি তা বলার কোনো সুযোগ নেই। এখন আমাদের মহিলা এমপি হিসেবে বঞ্চিতদের জন্য কিছু করা যায় কি না সে চেষ্টা করবো।
জাপা মহাসচিব বলেন, আমাদের চেয়ারম্যানকে ভুল বোঝা এবং তাকে ভুল বোঝানো নেতা-কর্মীদের বিচার করা উচিত। তাহলে আগামী দিনে দল টিকে থাকবে। আমাদেরকে গণতান্ত্রিক উপায়ে শান্তিপূর্ণভাবে রাজনীতির মাঠে থাকতে হবে। রাষ্ট্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করা যাবে না।
নির্বাচনের প্রসঙ্গে জাপা মহাসচিব বলেন, বিএনপি’র মতো আমাদের উপর মামলা-হামলা না হলেও জাপার অনেক নেতা-কর্মী নিগৃহীত হয়েছে। অনেক জায়গাতে তারা (বিএনপি কর্মীরা) এত বেশি নিগৃহীত হয়েছে, এত বেশি মামলা, তাদের উপর হয়েছে, সে পরিমাণ আমাদের উপর হয় নাই। সুতরাং আমরা বিরোধিতা করবো, গণতান্ত্রিকভাবে শালীনতার ভেতরে বিরোধিতা করতে চাই। আমরা লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় নামা, গাড়ি ঘোড়া ভাঙচুর করা, দোকানপাট লুট করা এটা আমরা করতে চাই না।
অনুষ্ঠানে জাপার উন্মুক্ত আসনের কয়েকজন প্রার্থী তাদের উপর হামলা, নির্যাতন ও লাঞ্ছিত হওয়ার বিবরণ তুলে ধরেন। এ সময় জাপা মহাসিচব তাদের খবরাখবর নেয়ার চেষ্টা করার আশ্বাস দেন।
জাপার দপ্তর সম্পাদক সুলতান আহমেদের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সল চিশতি, ভাইস চেয়ারম্যান রওশন আরা মান্নান, আলমগীর সিকদার লোটন, বাহাউদ্দিন বাবুল, নুরুল ইসলাম নুরু, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, জহিরুল ইসলাম রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল আহসান শাহজাদা প্রমুখ।

জীবনে প্রথম হার দেখলেন অলি আহমদ by ইব্রাহিম খলিল

রাজনৈতিক জীবনে প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে হার দেখলেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর বিক্রম। এর আগে তিনি নিজ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়বার অংশ নিয়ে প্রতিবারই সম্মানজনক ব্যবধানে জয়লাভ করেন।
এমনকি পাশের চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া- লোহাগাড়া আসনে প্রার্থী হয়েও জয়ী হন তিনি।
চট্টগ্রাম-১১ বন্দর-পতেঙ্গা আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, এটা কোনো নির্বাচন নয়। এটা প্রহসনের নির্বাচন। সরকার, সিইসি ও প্রশাসনের লোকজন মিলে পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে ভোট নিয়ে নিয়েছে। নির্বাচনের নামে জাতির সঙ্গে তামাশা করেছে তারা। এমন জালিয়াতি ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন আমার রাজনৈতিক জীবনে আমি কখনও দেখিনি।
এতে আমরা বিস্মিত ও হতভম্ব।
চট্টগ্রাম-১০ ডবলমুরিং-পাহাড়তলী আসনের ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, জীবনে এত নির্বাচন করেছি। কখনও জামানত হারানোর মতো হয়নি। এই সরকার পরিকল্পিতভাবে শুধু ভোট ডাকাতি করেছে তাই নয়; জামানত কেড়ে নেয়ার মতো একটি চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচন করেছে। জামানত কেড়ে নিয়েও সরকার মোটা অঙ্কের অর্থ ছিনতাই করেছে। যা অবশ্যই বিস্ময়ের ব্যাপার।
চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এলডিপির চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সভাপতি নুরুল আলম বলেন, এ আসনে বিগত সবক’টি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেও আমি কখনো জামানত হারাইনি। এই নির্বাচনে আমি ভোট পেয়েছি মাত্র ৬,০৬৫। যা অবিশ্বাস্য ও হাস্যকর। এ নির্বাচন আমরা মানি না।
চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নুরুল আমিন বলেন, ২০১৪ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ৫৬,১৭৯ ভোট পেয়ে আমি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। কিন্তু এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি ভোট পেয়েছি মাত্র ৩,৯৯১ ভোট। যা সত্যিই অবাক করার মতো।
চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, ওয়ার্ডভিত্তিক সভা করলেও রাউজানে বিএনপির ৪-৫ হাজার নেতাকর্মীর সমাবেশ ঘটে। সেখানে আমি ভোট পেয়েছি মাত্র ২৩০৭। অথচ এই রাউজান আসন বিএনপির ভোট ব্যাংক।
এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীরবিক্রম বলেন, এটা নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। আমার ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এ ধরনের জালিয়াতি আর কখনো দেখিনি। আওয়ামী লীগের লোকজন রাতে ভোট নিয়ে বাক্সে ভরেছে। দিনের বেলায় আমার এজেন্টদের বের করে দিয়ে কারচুপি করেছে।

এমপিদের শপথ কাল দোটানায় বিরোধীরা: মন্ত্রীদের শপথ হতে পারে রোববার

সব কিছু ঠিক থাকলে কাল সকাল ১০টায় নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ হতে যাচ্ছে। গতকাল নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশন। আগামী ৬ই জানুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভার শপথ হতে পারে। জাতীয় সংসদ সচিবালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওইভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে এগুচ্ছে। গতকাল সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)-এর সঙ্গে সংলাপে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সংসদ সদস্যদের শপথের তারিখ উল্লেখ করে বলেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আগামী ৩রা জানুয়ারি বৃহস্পতিবার শপথ নেবেন। এদিকে বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সাত প্রার্থী শপথ নেবেন কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে দোটানায় রয়েছেন জোট নেতারা। যদিও জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যেহেতু তারা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছেন তাই এমপি হিসেবে শপথ নেয়ার সুযোগ নেই।
তারা শপথ না নিলে এই আসনগুলোতে নতুন নির্বাচন হতে পারে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন নতুন এমপিদের  শপথবাক্য পাঠ করাবেন। শপথ কক্ষের ধারণক্ষমতা কম হওয়ায় দুই দফায় শপথ হবে। সংসদের আইন শাখার কর্মকর্তারা বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন। গতকাল সারা দিন শপথ কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পর পরই নতুন এমপিদের ফোন করতে শুরু করবে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। ওইভাবে প্রস্তুতি নেয়া আছে। এদিকে নতুন মন্ত্রিসভার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে এনেছে। নতুন মন্ত্রিসভার আগমন ও পুরনো মন্ত্রিসভার বিদায় কিভাবে হবে তাও চূড়ান্ত করে ফেলেছে তারা।
এজন্য আলাদা আলাদা দুটি গেজেট নোটিফিকেশন জারি করা হবে। নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান প্রাপ্তদের জন্য একটি গেজেট এবং পুরনো মন্ত্রিসভা বাতিল করার জন্য আলাদা আরেকটি গেজেট হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর ৮ই জানুয়ারি বুধবার সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১২ই জানুয়ারি রোববার মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হয়। ওই বিষয়টি মাথায় রেখে ৬ই জানুয়ারি রোববার মন্ত্রিসভার শপথের বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। এদিকে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন অনেকেই। তাই নিজের এলাকার নেতাকর্মীরা তাদের এমপি মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন। এজন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কদর হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। বিভিন্ন সংসদীয় আসনের এমপিদের শুভানুধ্যায়ীরা মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন কিনা তার খোঁজ রাখছেন। বর্তমান মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যদের ব্যক্তিগত স্টাফরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে খোঁজ খবর রাখছেন। নতুন গঠিত মন্ত্রিসভায় তারা থাকছেন কিনা এনিয়েও চিন্তিত তারা। গতকাল বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে দেখা যায়, মিষ্টিমুখের ধুম লেগেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীন দপ্তর, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তর থেকে ফুল নিয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কাছে আসেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গেল মন্ত্রিসভার বেশিরভাগ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা টেনশনে আছেন। নিজের মন্ত্রিত্ব থাকছে কিনা তা বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করছেন তারা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন মন্ত্রিসভা শপথের আগে এ বিষয়ে জানা সম্ভব নয়। তাই ৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের। আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র বলছে, নতুন মন্ত্রিসভা হবে নতুন পুরনো সদস্যদের মিশেলে। এক্ষেত্রে কেউ কেউ বাদ পড়বেন। যোগ হবে নতুন মুখ। যোগ্য এবং দক্ষদের নিয়ে গঠিত হবে এবারের মন্ত্রিসভা।     
একাদশ সংসদের এমপিদের গেজেট প্রকাশ
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিতদের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব এস এম আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গতকাল বিকালেই বিজি প্রেসে গেজেট প্রকাশের জন্য পাঠানো হয়েছে। আশা করছি বুধবারের মধ্যে হাতে পৌঁছাবে। এর আগে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছিলেন, নাম, ঠিকানাসহ নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংগ্রহ করা হচ্ছে। মঙ্গলবারের মধ্যে সম্ভব না হলে বুধবার গেজেট প্রকাশ করা হবে। গেজেট প্রকাশের পর শপথের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্পিকারের কাছে তা পাঠাবে ইসি সচিবালয়। সংসদ নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের তিনদিনের মধ্যে শপথের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে অধিবেশন ডাকতে হবে। তবে ভোটের কতদিন পর গেজেট হবে, সেই বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে অবহিত না করলে বা শপথ না নিলে সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাবে। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনে তিনদিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশের পর ৯ই জানুয়ারি নির্বাচিতদের শপথ পড়ানো হয়। গত ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ২৯৯ সংসদীয় আসনের ভোটগ্রহণ। গাইবান্ধা-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় সেখানে ভোট হবে ২৭শে জানুয়ারি। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নির্বাচনে তিনটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত হওয়ায় সেখানে পুনঃনির্বাচনের পর ফল ঘোষণা করা হবে।

রাশেদ খান মেননের শপথ স্থগিত চেয়ে রিট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের ফলাফলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিট আবেদনে আর্জি জানানো হয়েছে সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেননের শপথ গ্রহণ ও প্রজ্ঞাপন প্রকাশের ওপরও স্থগিতাদেশ জারির।
গতকাল ওই সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আকন্দ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করেন।
এতে বিবাদী করা হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা, চার কমিশনার, আইন সচিব, রিটার্নিং কর্মকর্তা ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেননকে।
রিট আবেদনে যুক্তি হিসেবে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ (গ) ধারা উল্লেখ করে বলা হয়েছে ‘কোনো ব্যক্তি লাভজনক পদে থেকে নির্বাচনের অযোগ্য হবেন।’ সংসদ সদস্য পদ লাভজনক বিধায় রাশেদ খান মেনন নির্বাচনের অযোগ্য। একইসঙ্গে বলা হয়েছে তিনি ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি হিসেবে প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির ছবি ব্যবহার করেছেন এবং নিজ দলের হাতুড়ি প্রতীক বাদ দিয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। যাতে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর লঙ্ঘন হয়েছে। এতে রাশেদ খান মেননের শপথ ও প্রজ্ঞাপন স্থগিত করে রিট আবেদনকারীকে বিজয়ী ঘোষণার নির্দেশনার আর্জি রয়েছে।
ইউনুস আলী আকন্দ মানবজমিনকে বলেন, এ রিট  আবেদনটি জনস্বার্থে করা হয়নি। এটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে করা হয়েছে।   
গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে মহাজোটের প্রার্থী বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এক লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৮ ভোটে নির্বাচিত হন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস পান ৩৮ হাজার ৭১৭ ভোট। ইউনুস আলী আকন্দ জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী হয়ে লড়েন নির্বাচনে।
একই রিট আবেদনকারী গত ২৩শে ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর সেনা, নৌ ও বিমান সদস্যদের দিয়ে ভোট গ্রহণ, গণনা ও ফলাফল ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন। তিনদিন পর বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ রিট আবেদনের শুনানির জন্য অবকাশের পরে আসতে বলেন। ওই রিটে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি হয়েও রাশেদ খান মেননের নৌকা প্রতীকের ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।

পশ্চিম তীরে বাড়ছে হামাসের সমর্থন; উদ্বেগে ইসরাইল

হামাস সমর্থকদের বিক্ষোভ
অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের প্রতি দিন দিন সমর্থন বাড়ছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি পশ্চিম তীর থেকে প্রায় দুই ডজন ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইহুদিবাদী সেনারা।
পশ্চিম তীরে হামাসের প্রতিদ্বন্দ্বী ফাতাহ দলের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে কিন্তু চলতি সপ্তাহ জুড়ে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সমর্থকদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এর পাশাপাশি গত শুক্রবার পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনারা ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান চালায়।
পশ্চিম তীরে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সেনাদের তৎপরতা
এর আগে ৩১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে হামাস সমর্থকরা রামাল্লাহ, নাবলুস ও আল-খলিল শহরে প্রচণ্ড বিক্ষোভ-মিছিল করে। এ সময় স্থানীয় পুলিশ হামাসের পতাকা দেখে বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং শূণ্যে গুলি ছোঁড়ে। এর পাশাপাশি পশ্চিম তীরে তিন ইসরাইলিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং হামাস তার দায়িত্ব স্বীকার করেছে।
অন্যদিকে, ইসরাইলি সেনাদের সঙ্গে ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের পুলিশ মিলে বিক্ষোভ দমন করার কারণে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা স্বশাসন কর্তৃপক্ষের পুলিশকে মনে করছেন দখলদার ইসরাইলের সহায়ক শক্তি। উপরন্তু, ইসরাইলি সেনাদের অভিযানের সময় স্থানীয় পুলিশ উধাও হয়ে যায়- এ ঘটনাও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় পশ্চিম তীরে হামাসের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

সুন্দরবন দস্যুমুক্ত ঘোষণা ছিল আলোচিত

গেল ২০১৮ সাল নানা কারণেই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশেষ করে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করা ছিল একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। ২০১৬ সাল থেকে শুরু হওয়া প্রক্রিয়া ২০১৮ সালের ১লা নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সফলতার মুখ দেখে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় অঞ্চলের বনজীবী লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদ সুন্দরবন উপহার দিয়েছেন। তাছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণাও ছিল গেল বছরের একটি আলোচিত বিষয়। গত সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ছিল চোখে পড়ার মতো। তাছাড়া সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে প্রায় আড়াইশ’ মাদক কারবারি নিহতের পর থেকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে মাদকের ব্যবহার। এ ছাড়া মাদকের ১৯৯০ সালের আইন সংশোধন করে গেল বছরই অনুমোদন হয়েছে নতুন আইন ‘মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮’।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে- মাদক দ্রব্য ইয়াবা, কোকেন, হেরোইন ও প্যাথেড্রিন জাতীয় মাদকের ব্যবহার, পরিবহন, চাষাবাদ, উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি বা বাজারজাত করার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন অথবা মৃত্যুদণ্ড বিধান রেখে বিদায়ী বছর ২০১৮তে আইন পাস করা হয়। ক্ষেত্র বিশেষে মাদকের পরিমাণ ২৫ গ্রাম বা তার বেশি হলেই একই সাজার আওতায় পড়বে। গত ২৭শে ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ সঠিকভাবে কার্যকর করতে পারলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা সহজ হবে।
এদিকে, সুন্দরবনের ভারসাম্য রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০১২ সালে উপকূলীয় এলাকায় বনদস্যু, জলদস্যুদের দমনের জন্য র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও বন বিভাগের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। তারপর থেকে বেগবান হয় সুন্দরবনে র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে র‌্যাব এ পর্যন্ত ২২৩টি সফল অভিযানে ৫০৭ জলদস্যু ও বনদস্যু গ্রেপ্তার, ১ হাজার ৫৫৬টি অস্ত্র এবং ৩৩ হাজার ৩২৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। ১৩৫ জন জলদস্যু ও বনদস্যু র‌্যাবের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে নিহত হয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের জলদস্যুদের বিনাশর্তে আত্মসমর্পণের বিষয়ে ২০১৬ সাল থেকে সরকার বিশেষ দৃষ্টি দেয়। যার ফলশ্রুতিতে গেল ২০১৮ সালের ১লা নভেম্বর সর্বশেষ ৬টি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলে ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সালের ১লা নভেম্বর পর্যন্ত ৩২টি বাহিনীর ৩২৮ জন জলদস্যু ও বনদস্যু আত্মসমর্পণ করেছে। এরা সরকারের কাছে ৪৬২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২২ হাজার ৫০৪ রাউন্ড গুলি জমা দিয়েছে। তাছাড়া আবার যেন জলদস্যু ও বনদস্যুর অধ্যায় ফিরে না আসে সে জন্য সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে র‌্যাব ফোর্সেস টহল নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখাসহ সুন্দরবন অভ্যন্তরে ৪টি র‌্যাব ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।