Monday, September 19, 2011

আবারও হার আর্সেনালের

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের বাজে পারফরমেন্স অব্যাহত আছে। লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে হারের পর এবার নিচের সারির দল ব্ল্যাকবার্ন রোভর্সের কাছেও হেরে গেছে গানাররা। দ্বিতীয়ার্ধে দুটি আত্মঘাতী গোলের মাশুল দিয়ে ৪-৩ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে আর্সেন ওয়েঙ্গারের শিষ্যদের।
ব্ল্যাকবার্নের মাঠে গতকাল প্রথমার্ধের ১০ মিনিটেই গার্ভিনহোর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল আর্সেনাল। ২৫ মিনিটে সেই গোল শোধ করেন ব্ল্যাকবার্ন স্ট্রাইকার ইয়াকুবু আইয়েগবেনি। ৩৪ মিনিটে আবার আর্সেনালকে চালকের আসনে বসান মিকেল আর্টেটা। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে আর্সেনাল। দ্বিতীয়ার্ধের ৫০ ও ৬৮ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করে আর্সেনাল-সমর্থকদের হতাশায় ডোবান অ্যালেক্স সঙ ও লরেন্ত কোসচেনি। মাঝে ৫৯ মিনিটে ব্ল্যাকবার্নের পক্ষে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আইয়েগবেনি। ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে জয় প্রায় নিশ্চিতই করে ফেলে ব্ল্যাকবার্ন। খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে আর্সেনালের বদলি স্ট্রাইকার মারোউনে চামাক আরেকটি গোল করলেও হার এড়াতে পারে নি তারা।
প্রিমিয়ার লিগের প্রথম পাঁচ ম্যাচ শেষে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ১৫তম অবস্থানে আছে আর্সেনাল।

মেসির হ্যাটট্রিকে বড় জয় বার্সার

স্প্যানিশ লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা দুটি ম্যাচে ড্রয়ের পর আবার দুর্দান্ত দাপটে ঘুড়ে দাঁড়িয়েছে বার্সেলোনা। ন্যু ক্যাম্পে গতকাল মেসির হ্যাটট্রিকে ওসাসুনাকে গোলবন্যায় ভাসিয়েছে কাতালানরা। ৮-০ গোলের এই বিশাল জয়ে বাকি গোলগুলো এসেছে ভিয়া, ফেব্রিগাস ও জাভির পা থেকে।
খেলা শুরুর পাঁচ মিনিটের মাথায় ওসাসুনাকে প্রথম গোলটি দেন মেসি। ১৩ মিনিটে মেসির পাস থেকে ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি করেন ফেব্রিগাস। ৩৪ মিনিটে আরেকটি গোল করে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন ডেভিড ভিয়া। এরপর ৪০ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করে ওসাসুনার জন্য ম্যাচটা রীতিমতো দুঃস্বপ্নে পরিণত করেন ডিফেন্ডার রোভারসিও। দুর্ভাগ্যজনক এই গোলের ধাক্কা তাদের সামলে ওঠারও সুযোগ দেননি মেসি। পরের মিনিটেই করেছেন নিজের দ্বিতীয় গোলটি। বার্সেলোনাও প্রথমার্ধ শেষ করে ৫-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৭ মিনিটে মেসির পাস থেকে ম্যাচের ষষ্ঠ গোলটি করেন জাভি। ৭৬ মিনিটে আরেকটি গোল আসে ভিয়ার পাস থেকে। আর তিন মিনিট পর নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ওসাসুনার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন মেসি। ৮-০ গোলের জয় পায় বার্সেলোনা।

২৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে কৃত্রিম উপগ্রহের ধ্বংসাবশেষ!

মহাকাশে পরিত্যক্ত ২০ বছরের পুরোনো একটি কৃত্রিম উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) আগামী সপ্তাহে পৃথিবীতে ভেঙে পড়তে পারে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা—নাসা বলেছে, তারা এখনো জানে না যে উপগ্রহটির ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর ঠিক কোথায় পড়বে।
নাসা বলেছে, আপার অ্যাটমসফিয়ার রিসার্চ স্যাটেলাইট (ইউএআরএস) নামের এই কৃত্রিম উপগ্রহটির ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এলেও এর কারণে জননিরাপত্তার ঝুঁকি ‘একবারেই কম’। নাসার বিজ্ঞানীদের মতে, উপগ্রহটি পৃথিবীর কাছাকাছি আসার পর এটি ২৬টি খণ্ডে ভেঙে পড়বে এবং বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে পুরোটা না হলেও এর বেশির ভাগ অংশই পুড়ে যাবে।
গত শুক্রবার নাসার ওয়েবসাইটে বলা হয়, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর অথবা এর এক দিন আগে বা পরে উপগ্রহটি পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে।
নাসার পক্ষ থেকে বলা হয়, নিরাপত্তার বিষয়টি নাসার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংস্থাটি জানায়, মহাকাশ থেকে কোনো বস্তুর পৃথিবীতে ফেরত আসার কারণে কোনো ব্যক্তির আহত হওয়ার কোনো নিশ্চিত খবর তাদের কাছে এ পর্যন্ত নেই।
৫৭ ডিগ্রি উত্তর ও ৫৭ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে যেকোনো জায়গায় উপগ্রহটির ধ্বংসাবশেষের পতন হতে পারে।
১৯৯১ সালে কৃত্রিম উপগ্রহ ইউএআরএস কক্ষপথে পাঠানো হয়। বাতাস, তাপমাত্রা ও ওজোন পরিমাপের জন্য ৩৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থ এবং পাঁচ হাজার কেজি ওজনের কৃত্রিম উপগ্রহটিতে ১০টি বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি সংযুক্ত করা হয়। ২০০৫ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গের তিন জেলায় মাওবাদীদের বন্ধ্

পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী-অধ্যুষিত জঙ্গলমহলে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী এবং যৌথ বাহিনীর সদস্যদের অত্যাচারের প্রতিবাদে মাওবাদী নিয়ন্ত্রিত পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনগণের কমিটি (পিসিপিএ) কাল সোমবার ২৪ ঘণ্টার বনেধর ডাক দিয়েছে তিন জেলায়। জেলা তিনটি হলো পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া।
১২ সেপ্টেম্বর সন্তোষ মাহাতো নামের এক মাওবাদী সমর্থককে গ্রেপ্তার করে যৌথ বাহিনী। তাঁর বিরুদ্ধে কাঞ্চন ঘরাই ও সাবির মোল্লা নামের দুই ব্যক্তিকে অপহরণের অভিযোগ রয়েছে। ২০০৯ সালে এই দুজন অপহূত হলেও আজ পর্যন্ত তাঁদের হদিস মেলেনি। এই অপহরণকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে যৌথ বাহিনী সন্তোষকে গ্রেপ্তার করে। সন্তোষসহ অন্যদের মুক্তিসহ তৃণমূল কংগ্রেস ও যৌথ বাহিনীর অত্যাচার বন্ধের দাবিতে এই বনেধর ডাক দিয়েছে পিসিপিএ।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাঁরা ক্ষমতায় এলে জঙ্গলমহল থেকে যৌথ বাহিনী প্রত্যাহার করবেন এবং কারাবন্দীদের মুক্তি দেবেন। এ ঘোষণার পর মাওবাদীরা মমতার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার প্রায় চার মাস অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও মমতা জঙ্গলমহল থেকে যৌথ বাহিনী প্রত্যাহার না করায় তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয় মাওবাদীরা। তারাও মমতার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছে।

লিবিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল নিরাপত্তা পরিষদের

লিবিয়ার জাতীয় তেল কোম্পানি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তবে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ও নো ফ্লাই জোন কার্যকর থাকবে। সামরিক জোট ন্যাটোর হামলায় সার্তে শহরে ৩৫৪ জন নিহত হয়েছে বলে গাদ্দাফির মুখপাত্রের দাবি।
লিবিয়ার ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) সেনারা বনি ওয়ালিদে প্রবেশ করার পর বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। লিবিয়ার ক্ষমতাচ্যুত নেতা কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির অনুগত সেনাদের কঠোর প্রতিরোধের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে তারা। তবে গাদ্দাফির জন্মস্থান সার্তে শহরে এনটিসির সেনাদের অবস্থান সংহত হচ্ছে।
নিরাপত্তা পরিষদ গত শুক্রবার লিবিয়ার জাতীয় তেল কোম্পানি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। একই সঙ্গে লিবিয়ায় জাতিসংঘের মিশন খোলারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নিরাপত্তা পরিষদের ঘোষণায় বলা হয়, লিবিয়ার সম্পদ থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে যত দ্রুত সম্ভব তা দেশটির জনগণের হাতে তুলে দেওয়া নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লিবিয়ার ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকলেও এনটিসি নিরাপত্তার স্বার্থে হালকা ধরনের অস্ত্র আমদানি করতে পারবে।
লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শহর বনি ওয়ালিদ থেকে এনটিসির সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। বনি ওয়ালিদে প্রবেশের পর গাদ্দাফির অনুগত সেনাদের কঠোর প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা।
গাদ্দাফির মুখপাত্র মুসা ইব্রাহিম অভিযোগ করেছেন, সামরিক জোট ন্যাটোর হামলায় সার্তে ৩৫৪ জন নিহত হয়েছে। তবে তাঁর এই দাবি নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভারত এনটিসিকে সমর্থন দিয়েছে। দেশটি লিবিয়া পুনর্গঠনে সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

উপনির্বাচনে লড়তে প্রচারণা শুরু করেছেন মমতা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য (বিধায়ক) না হয়েই এবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। ভারতের সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী মমতাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের যেকোনো একটি আসন থেকে বিধায়ক হিসেবে জয়ী হয়ে আসতে হবে। সেই লক্ষ্যে মমতা দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর আসনে ২৫ সেপ্টেম্বরের উপনির্বাচনে লড়ছেন। এখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএমের প্রার্থী নন্দিনী মুখার্জি। ভবানীপুর আসনের বিধায়ক সুব্রত বকসী এই আসনটি মমতার জন্য ছেড়ে দেন।
ইতিমধ্যে এই আসনে সিপিএম ও তৃণমূল কংগ্রেস নিজ নিজ দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে। মমতা নিজের আসনে গতকাল শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারাভিযান শুরু করেছেন। এই প্রচারাভিযান শুরু হয় কলকাতা পৌরসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে। আজ রোববারও মমতা প্রচারাভিযান চালাবেন ভবানীপুর কেন্দ্রে।
২৫ সেপ্টেম্বর একই সঙ্গে বসিরহাট উত্তর আসনেও উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই আসনের সিপিএমের বিধায়ক ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করলে আসনটি শূন্য হয়।

তহবিল সংগ্রহের জন্য অ্যাসাঞ্জের কিছু জিনিস নিলামে

তহবিল সংগ্রহের জন্য উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের কিছু জিনিস বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হয়েছে। অনলাইন নিলামের সাইট ইবেতে তোলা এসব বস্তুর মধ্যে রয়েছে একটি কফিব্যাগ ও একটি ল্যাপটপ কম্পিউটার।
ধারণা করা হচ্ছে, গত বছরের ডিসেম্বরে অ্যাসাঞ্জ জামিনে মুক্ত হওয়ার আগে ওই কফিব্যাগটি অবৈধভাবে কারাগারের বাইরে পাচার করা হয়েছিল। কম্পিউটারটির বর্তমান বাজার মূল্য পাঁচ লাখ ৫২ হাজার ৬১৫ ডলার। এ কম্পিউটার উইকিলিকসের গণমাধ্যম অংশীদারদের জন্য তারবার্তা প্রস্তুত ও ফাঁস করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
ইবের নিলামে কফিব্যাগের জন্য ৩১৫ ডলার থেকে এবং কম্পিউটারের জন্য ছয় হাজার ডলার থেকে দাম হাঁকা শুরু হয়েছে। তহবিল সংগ্রহের উৎ সগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে উইকিলিকস অর্থ সংকটে পড়েছে।
উইকিলিকসে গোপন মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তার তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনায় কয়েকটি দেশের সরকার এর সমালোচনা করেছে। সমালোচকেরা বলছেন, মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তা ফাঁস হওয়ার ঘটনায় সূত্র হিসেবে যাঁদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, তাঁদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের নেতৃত্বের ধরনের কারণে উইকিলিকসের অন্য প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সঙ্গে তাঁর বিবাদ ওয়েবসাইটটিকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে।

রহস্যময় তরুণ নিয়ে বিপাকে জার্মান পুলিশ

তরুণের বয়স ১৭ বছর হবে। ইংরেজি বলায় বেশ পটু। দু্-একটা জার্মান শব্দও বলে। নিজেকে রে নামে পরিচয় দিয়ে জার্মান পুলিশকে সে যেসব তথ্য দিয়েছে, এতে বেশ রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তরুণের পরিচয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের শরণাপন্ন জার্মান পুলিশ।
পুলিশকে রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সে তার বাবার সঙ্গে পাঁচ বছর ধরে এক জঙ্গলে বাস করছিল। বাবা মারা যাওয়ার পর ওই জঙ্গল ছেড়ে প্রায় দুই সপ্তাহ হেঁটে বার্লিন পৌঁছায় সে। তাঁর মা ডরেন মারা যাওয়ার পর বাবার সঙ্গে জঙ্গলে একটি তাঁবুতে বাস করছিল রে। সেখানে কয়েকটি কুঁড়েঘরও ছিল। বাবার নাম রাইয়ান বললেও পরিবার সম্পর্কে আর কোনো তথ্যই পুলিশকে জানাতে পারেনি সে।
রের ভাষ্য, সপ্তাহ দুয়েক আগে জঙ্গলে তার বাবা মারা যান। সে তাঁর লাশ একটি পাথরের নিচে শুইয়ে রাখে। এরপর কম্পাস দিয়ে উত্তর দিক নিশ্চিত হয়ে হাঁটতে শুরু করে। এভাবে ৫ সেপ্টেম্বর সে বার্লিন পৌঁছায়। রে জানায়, মারা যাওয়ার আগে বাবা তাকে বার্লিনে যেতে উত্তর দিকে হাঁটার পরামর্শ দেন।
বার্লিন পুলিশের মুখপাত্র মাইকেল মাস বলেন, পাঁচ বছর ধরে জঙ্গলে থাকার কথা বললেও তার স্বাস্থ্য কিন্তু বেশ ভালো। তাকে যুব বন্দীশিবিরে পাঠানো হয়েছে।

আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য আবেদন

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অরগানাইজেশনের (পিএলও) চেয়ারম্যান মাহমুদ আব্বাস ফিলিস্তিনিদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের জন্য তিনি আগামী সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদে আবেদন করবেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরোধিতার মুখে তিনি এ ঘোষণা দেন।
গত শুক্রবার টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে মাহমুদ আব্বাস বলেন, ‘জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদ দাবি করা আমাদের বৈধ অধিকার।’ এর মধ্যে ওয়াশিংটন বলেছে, ফিলিস্তিনের এ পদক্ষেপ ‘হিতে বিপরীত ফল’ বয়ে আনতে পারে।
রামাল্লা থেকে দেওয়া ভাষণে মাহমুদ আব্বাস বলেন, তাঁরা নিরাপত্তা পরিষদে যাচ্ছেন। তাঁদের জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ, একটি রাষ্ট্র এবং জাতিসংঘে একটি আসন দরকার।
মাহমুদ আব্বাস জানান, ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করবেন। তিনি বলেন, এর মধ্যে ১২০টির বেশি দেশ ফিলিস্তিনের আবেদনের প্রতি সমর্থন করার অঙ্গীকার করেছে। মাহমুদ আব্বাস তাঁর ভাষণে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দেওয়া ভাষণের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। আগামী বছরের মধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র জাতিসংঘে যোগ দিতে পারবে বলে তিনি ওই ভাষণে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।
পূর্ণ স্বীকৃতির জন্য সাধারণ পরিষদে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন। তবে এতে নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন লাগবে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, পূর্ণ সদস্যপদের জন্য ফিলিস্তিনের আবেদনে তারা ভেটো দেবে।
মাহমুদ আব্বাস তাঁর ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ভেটো সম্পর্কে কিছু বলেননি।
আব্বাস ভাষণে নিজেকে শুধু পশ্চিম তীরের জনগণের নয়, গোটা ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। যদিও তিনি তাঁর ভাষণে গাজা বা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ফিলিস্তিনিদের সম্পর্কে বলতে গেলে কিছুই বলেননি।
মাহমুদ আব্বাসের ভাষণের পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেন, ফিলিস্তিনিরা ‘সুপরিকল্পিতভাবে’ ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এড়িয়ে চলছে।
হামাসের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী গাজি হামাদ বলেন, মাহমুদ আব্বাসের ভাষণ পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার স্বপ্ন, প্রতিশ্রুতি ও আশাবাদে পরিপূর্ণ। তিনি বলেন, হামাসের কেউ রাষ্ট্রের অধিকারের বিপক্ষে নন। ১৯৬৭ সাল থেকেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখন প্রশ্ন হলো, তাঁরা এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারবেন কি না, রাষ্ট্র ঘোষণার পর দখলদারির অবসান ঘটবে। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনিরা কি তাঁদের স্বাধীনতা ও মর্যাদা পাবে? এখনো আমাদের কাছে এর কোনো উত্তর নেই।’
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মার্ক রেগেভ ফিলিস্তিনের এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেন, এটি ১৯৯৩ সালে ইসরায়েল ও পিএলওর মধ্যে স্বাক্ষরিত অসলো চুক্তির লঙ্ঘন।

সুদানে মাংস বর্জনের ডাক

আগামী সাপ্তাহিক ছুটিতে রাতের খাবারে আদরের সন্তানদের পাতে এক টুকরো মাংস তুলে দিতে পারবেন না তিনি। শুধু শাকসবজিই খাওয়াতে হবে।
আফ্রিকার দেশ সুদানে খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে রাজধানী খার্তুমের বাসিন্দা ইসরাগা ইউসেফকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, এটাকে প্রতিবাদ বলতে পারেন, আবার টাকা বাঁচানোও বলতে পারেন।
ইউসেফ পেশায় আইনজীবী। খাতুর্মের কেন্দ্রস্থলে নিজের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘মাংসের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। বাড়িতে আর মাংস আনতে পারব না। কোনোভাবেই তা আর সম্ভব নয়।’
সুদানের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সোসাইটি খাবারের তালিকা থেকে মাংস বর্জনের ডাক দিয়েছে। সংগঠনটি আশা করছে, সামনের সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তাদের এই আহ্বানে অনেকেই সাড়া দেবে। গরু, মুরগি, ভেড়ার মাংস এবং মাংস দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবার সুদানিদের প্রধান খাদ্য। কিন্তু দাম বাড়ার কারণে তারা এই বর্জনের ডাক দিতে বাধ্য হয়েছে।
সুদানে গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের একই মাসে মাংসের দাম বেড়েছে ৪১ শতাংশ। এক বছর আগের তুলনায় ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ, মাছের দাম বেড়েছে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ। সুদানের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো এই তথ্য দিয়েছে।
দেশটিতে মূল্যস্ফীতির জন্য সরকার মজুতদারদের দায়ী করলেও সমালোচকেরা বলছেন, এটা সরকারের অব্যবস্থাপনার ফল। গত বছরের আগস্টে মূল্যস্ফীতি ছিল ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি বছরের আগস্টে তা দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ১ শতাংশ।
সুদানের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সোসাইটির প্রধান ইয়াসির মিরগানি আবদুল রহমান বলেন, ‘বেশির ভাগ মাংস স্থানীয়ভাবে উৎ পাদিত হলেও মাংসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এটা ন্যায্যমূল্য নয়। শুধু মাংস নয়, দুধ ও শাকসবজির দামও বেড়েছে। এটা নিয়েও আন্দোলনে যাব আমরা।’

শ্রীলঙ্কায় নীলকান্তমণির রমরমা ব্যবসা

ব্রিটেনের রাজপরিবারের প্রিন্স ইউলিয়ামের সঙ্গে কেট মিডলটনের বিয়ের পর শ্রীলঙ্কায় নীলকান্তমণির চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনি জমে উঠেছে এই রত্নের ব্যবসা।
দেশটির মূল্যবান রত্ন ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজদম্পতির বিয়ের আংটি নীলকান্তমণির হওয়ায় মানুষের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। আংটিটি ছিল মূলত প্রিন্সেস ডায়ানার। এটির নীলকান্তমণি নেওয়া হয়েছিল শ্রীলঙ্কা থেকে। তাঁরা জানান, এ বছরের প্রথমার্ধে শ্রীলঙ্কার রত্ন রপ্তানি গত বছরের চেয়ে ৩৫ শতাংশ বেড়েছে, যার মূল্য প্রায় চার কোটি ৮০ লাখ ডলার।
একটি সাধারণ মানের নীলকান্তমণির মূল্য প্রায় ১৭ হাজার ডলার। খনি থেকে এই পাথর উত্তোলন অনেক কষ্টসাধ্য হওয়ায় এর দাম অন্যান্য রত্নের তুলনায় বেশি। শ্রীলঙ্কায় যেসব রত্ন পাওয়া যায়, তার মধ্যে রয়েছে লালমণি, নীলকান্তমণি, হলুদ ও গোলাপি রত্ন।
শ্রীলঙ্কা জেম অ্যান্ড জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, কেটের বিয়ের আংটির পাথর যে শ্রীলঙ্কা থেকে গেছে, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। এটি তিন দশক আগের কথা। তবে এ বছরের শুরুতে উইলিয়ামের সঙ্গে কেটের বিয়ের সময় রাজপরিবারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি।
কলম্বোয় সম্প্রতি মূল্যবান পাথর ও অলংকারের প্রদর্শনী বসেছে। সেখানে দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নীলকান্তমণি।
এ ব্যাপারে সিনান সালাহউদিন নামের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘নীলকান্তমণির জন্য মানুষের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। তিনি (কেট) বিয়েতে যে সিলন নীলকান্তমণির আংটি পরেছেন, এটা বিশেষ কিছু। শুধু এ কারণে এ পাথরের দামও বেড়েছে বহু গুণ। এটা আমাদের দেশের জন্য সম্মানের বিষয়।

লড়াই সম্প্রসারিত করতে হবে, তবে যেখানে ইচ্ছা হামলা করা যাবে না

যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসবিরোধী উপদেষ্টা বলেছেন, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইকে অবশ্যই আফগানিস্তানের মতো ‘উত্তপ্ত’ রণাঙ্গনের বাইরে সম্প্রসারিত করতে হবে। তবে আইনগত বিধিনিষেধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র যখন-তখন বা যেখানে ইচ্ছা সেখানে আক্রমণ করতে পারবে না।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা (হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা জন ব্রেনান গত শুক্রবার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’ স্কুলে বক্তব্য দেন। ব্রেনানের ওই বক্তব্য ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই, বিশেষ করে লড়াইয়ের ভৌগোলিক বিস্তৃতির বৈধতার প্রশ্নকে কেন্দ্র করে।
জন ব্রেনান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এটা মনে করে না যে, আল-কায়েদার বিরুদ্ধে তাদের সামরিক শক্তি প্রয়োগের কর্তৃত্ব শুধু আফগানিস্তান বা এ ধরনের রণাঙ্গনগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যদি কোনো দেশের সরকার নিজেরা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনিচ্ছা পোষণ করে বা অক্ষম হয়, তবে অবশ্যই আমরা সেখানে একতরফা পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখি। তবে তার মানে এই নয়, আমরা যখন বা যেখানে ইচ্ছা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারি।
ব্রেনান বলেন, অন্য দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং যুদ্ধের নীতিমালাসহ এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির কারণে বিদেশি ভূখণ্ডে একতরফা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে আমাদের ওপর সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
এর আগে প্রশাসনিক এবং কংগ্রেস কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, ইয়েমেন এবং সোমালিয়ায় ইসলামি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানের ধরনের বৈধতা নিয়ে ওবামা প্রশাসন দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। পত্রিকাটির মতে, বর্তমানের শীর্ষস্থানীয় আল-কায়েদা নেতা থেকে হাজার হাজার সাধারণ পদাতিক জঙ্গির বিরুদ্ধে চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা কমান্ডো অভিযান কোন মাত্রায় তীব্রতর করা যেতে পারে, তা-ই তাঁদের আলোচনার বিষয়বস্তু। শীর্ষ কর্মকর্তাদের এ আলোচনা ভবিষ্যৎ সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের জন্য জরুরি।
অন্যদিকেওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনে গত শুক্রবার বলা হয়েছে, ওবামা প্রশাসন ইয়েমেনে আল-কায়েদার বিরুদ্ধে চালকবিহীন বিমান হামলা এবং অন্য ধরনের বিমান হামলার পরিধি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। কিছু হামলার লক্ষ্যবস্তু দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে, যেখানে জঙ্গিরা প্রথমবারের মতো এলাকা দখল করেছে। সেনাবাহিনীর জয়েন্ট স্পেশাল অপারেশন্স কমান্ড এ অভিযানগুলো চালাচ্ছে। পত্রিকাটির মতে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ থাকায় পাকিস্তানে ইচ্ছামতো চালকবিহীন বিমান হামলা পরিচালনা করতে পারে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। কিন্তু ইয়েমেন এবং সোমালিয়ায় প্রতিটি হামলার আগে হোয়াইট হাউসের অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন হয়।
ব্রেনান সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের বিচার প্রচলিত আদালতের বদলে সামরিক আদালতে পরিচালনার ব্যাপারে কিছু আইনপ্রণেতার আহ্বানের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মার্কিন আদালত ও জনগণ এটি প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তাও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।