Monday, September 10, 2012

অকুতোভয় শাকিরা

প্রায় ১১ বছর ধরে তার সঙ্গে কাজ করছেন, এমন দু’জন কর্মচারীকে বরখাস্ত করলেন শাকিরা! শোনা যায়, এই দু’জন নাকি শাকিরার সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য এবং কাছের লোক ছিলেন।

রিহানার ফ্যান ফলোয়িং

প্রত্যেক সেলেব্রিটিই বলে থাকেন, তারা তাদের ফ্যানদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। রিহানা এবার সেই কৃতজ্ঞতা বাস্তবে প্রকাশ করে দেখালেন। সম্প্রতি, তার সেরা পাঁচজন ফ্যানকে সিলেক্ট করেন তিনি।

বিশ্বব্যাংক নতুন করে অসন্তুষ্ট, অনিশ্চিত দাতা অর্থায়ন অসন্তোষের চার কারণ

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ পদ্মা সেতু নিয়ে চার কারণে নতুন করে অসন্তুষ্ট বিশ্বব্যাংক। ফলে সরকারের প্রতি সংস্থাটির অসন্তোষের মাত্রা বাড়ছেই। পাশাপাশি অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে দাতাদের অর্থায়ন। সর্বোচ্চ ঋণ দাতা এ সংস্থাটির একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ প্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও ঋণচুক্তি পুনর্বিবেচনা কিংবা নতুন চুক্তি কোন বিষয়েই কার্যত এখনও সরকারের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের আলোচনা শুরুই হয়নি। তবে যে কোন মুহূর্তে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ অফিসের একটি সূত্র। অন্যদিকে আগামী শুক্রবার ওয়াশিংটন থেকে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর এ্যালেন গোল্ডস্টেইন। তার ফেরার পর পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে বলেও জানা গেছে। বিশ্বব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, যে চারটি কারণে নতুন করে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে তা হলো প্রথমত, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন পদত্যাদপত্র জমা দিলেও তা এখনও গৃহীত হয়নি। দ্বিতীয়ত দুর্নীতি দমন কমিশন মুখে বিশ্বব্যাংকের শর্ত মেনে নেয়ার কথা বললেও বাস্তবিকভাবে তা এখনও কার্যকর হয়নি। তৃতীয়ত দেশে-বিদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বব্যাংক ও আবুল হোসেনকে নিয়ে সাম্প্রতিক লাগামহীন বক্তব্য এবং চতুর্থত একদিকে বিশ্বব্যাংক তোষণ অন্যদিকে বিকল্প অর্থায়নে মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরে নতুন করে তৎপরতা।এসব কারণে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে কোন সাড়াই পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের কর্মকা- গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংস্থাটি। পাশাপাশি পদ্মা সেতুতে অর্থায়নকারী অপর দাতা সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ঋণ কার্যকারিতার সময় এক মাস বাড়ালেও শেষ পর্যন্ত তাদের অর্থায়নও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কেননা ওই দুই উন্নয়ন সহযোগীও আশা করছে বর্ধিত সময়ের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছতে পারবে বাংলাদেশ। কিন্তু বর্তমান সরকারের কর্মকা-ে তারাও হতাশ হচ্ছেন। 
কারণ এডিবি আগেই বলেছে, পরিচালনার ক্ষেত্রে এডিবি ও বিশ্বব্যাংক একই ধরনের নীতি, নিয়ম ও পদ্ধতি অনুসরণ করে। যে কারণে বিশ্বব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এডিবি তা অনুধাবন করতে পারে এবং চুক্তি বাতিলের এই সিদ্ধান্তকে সম্মান করে। বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংক সমঝোতায় আসতে ব্যর্থ হওয়ায় এডিবি হতাশ হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে এ বিষয়ে কার্যকর মতৈক্যে পৌঁছতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং বাংলাদেশ ও এই অঞ্চলের জন্য পদ্মা সেতুর গুরুত্ব বিবেচনা করে এডিবি মর্মাহত। তবে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে আগামীতেও উন্নয়নসহযোগী হিসেবে বাংলাদেশের পাশে থাকতে এডিবি প্রতিশ্রুতবদ্ধ। সূত্র জানায়, গত ২৩ জুলাই পদ্মা সেতু নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ও পরবর্তীতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী আবুল হোসেন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। কিন্তু ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি। ফলে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়ায় তিনি এখনও মন্ত্রীই রয়েছেন। পদত্যাগেরে নামে এ ধরনের কার্যক্রমকে এক ধরনের প্রতারণা হিসেবেই দেখছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের শর্তে দুদককে বিশ্বব্যাংকের তত্ত্বাবধানে একটি বাইরের প্যানেলের কাছে তথ্য দেয়ার এবং প্যানেলকে তদন্ত প্রক্রিয়ার পর্যাপ্ততা মূল্যায়নের সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সম্প্রতি দুদক বাইরের প্যানেলের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করার কোন আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক রাখার বিষয়টি মেনে নিয়েছে বলে বললেও এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ অফিস জানিয়েছে। এ বিষয়টিকে একটি ঘোষণা মাত্র হিসেবে দেখছে সংস্থাটি। জুলাই মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডন সফরের সময় বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের আবদার রক্ষা না করায় ঋণচুক্তি বাতিল করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, একটি বিদেশী কোম্পানিকে পরামর্শক কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য বাংলাদেশের ওপর বিশ্বব্যাংকের চাপের বিনিময়ে পার্সেন্টেজ কত ছিল এটি যদি আমরা জানতে চাই তা কি খুব অন্যায় হবে? আবুল হোসেনকে দেশপ্রেমিক হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন দেশপ্রেম আছে বলেই আবুল হোসেন পদত্যাগ করেছেন। তাছাড়া দেশেও বিভিন্ন সভা সেমিনারে বিশ্বব্যাংককে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর লাগামহীন বিষোদ্গার পদ্মা সেতুতে ঋণচুক্তি পুনর্বিবেচনায় বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাব বাস্তবায়নে মনোযোগী না হয়ে সরকার বিকল্প অর্থায়নে বিশেষ করে মালয়েশিয়ার প্রতি বেশি আগ্রহ থাকায় বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বিশ্বব্যাংক। গত ৫ আগস্ট মালয়েশিয়া সরকারের দক্ষিণ এশীয় অবকাঠামো বিষয়ক দূত দাতো সেরি এস সামির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল যোগাযোগমন্ত্রী ওয়াবদুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাত করে পদ্মা সেতু নির্মাণে কনসেশনস এগ্রিমেন্ট হস্তান্তর করে। এ সময় যোগাযোগমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণে চূড়ান্ত প্রস্তাব দেবে মালয়েশিয়া। পরে প্রতিনিধি দলটি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গেও বৈঠক করে। এছাড়া পদ্মা সেতু নির্মাণে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনাও শুরু হয়ে গেছে। সফররত প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাংলাদেশের টেকনিক্যাল কমিটি সেতু ভবনে দীর্ঘ বৈঠকও করেছে। ওই বৈঠকে নদী শাসন, মূল ভিত্তি নির্র্মাণে কারিগরি দিক, নকশা এবং নির্মাণকালীন অর্থায়নে কর রেয়াত ও নির্মাণের পর টোল আদায়ে রাজস্ব গ্যারান্টিসহ মালয়েশিয়ার প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়গুলোকে সরকারের দ্বিমুখী নীতি হিসেবে দেখছে বিশ্বব্যাংক। সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূলসেতু ও তদারকি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের দরপত্রে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছিল বিশ্বব্যাংক। সংস্থার পক্ষ থেকে পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে করা একটি তদন্ত প্রতিবেদন গত বছরের সেপ্টম্বর মাসে অর্থমন্ত্রীকে দেয়া হয়েছিল। সেখানে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য ঘুষ বা কমিশন চেয়েছিল সৈয়দ আবুল হোসেনের মালিকানাধীন সাকো ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিরা। যোগাযোগমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে অর্থ চাওয়া হয়েছে। কমিশন পেলে সৈয়দ আবুল হোসেন নিজেই কাজ পাইয়ে দেয়ার বিষয়ে সহায়তা করবেন বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবশেষে সৈয়দ আবুল হোসেনকে সরিয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় ওবায়দুল কাদেরকে। এতেও কোন ফল হয়নি। গত ২৯ জুন পদ্মা সেতুর ঋণচুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। চুক্তি বাতিলের কারণ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক দীর্ঘ ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। সংস্থাটি বলেছে, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের ব্যাপারে বাংলাদেশের সরকারী কর্মকর্তা, এসএনসি লাভালিনের কর্মকর্তা এবং বেসরকারী পর্যায়ে ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতিমূলক ষড়যন্ত্র সম্পর্কে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্বব্যাংকের কাছে রয়েছে। বিশ্বব্যাংক ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এবং ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে দুটি তদন্তের তথ্য-প্রমাণ প্রদান করেছে। আমরা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি পূর্ণ তদন্ত করতে এবং যথাযথ বিবেচিত হলে দুর্নীতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। আমরা এ পদক্ষেপ নিয়েছিলাম, কারণ আমরা আশা করেছিলাম যে সরকার বিষয়টিতে যথাযথ গুরুত্ব আরোপ করবে।

জাল জালিয়াতি করে দীর্ঘ এক যুগ বিমান ব্যবসা চালিয়েছে জিএমজি

আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সংস্থা আইকাওর কোড নম্বর জাল-জালিয়াতি করে এবং ভুয়া কোডে দীর্ঘ ১২ বছর আন্তর্জাতিক রুটে এয়ারলাইন্স ব্যবসা চালিয়েছে জিএমজি। খোদ দেশের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষও দীর্ঘ এক যুগ তাদের এই জাল-জালিয়াতি ধরতে পারেনি। শুধু তাই নয়, এয়ারলাইন্স ব্যবসা চালাতে গিয়ে জিএমজি এয়ারলাইন্স কোন ধরনের আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মানত না। শেষ পর্যন্ত তাদের এই জাল-জালিয়াতি ধরা পড়ে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) গোপন অনুসন্ধানে। আর তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে আইকাও বাংলাদেশের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে কালো তালিকাভুক্ত করে। সিভিল এভিয়েশনের একজন কর্মকর্তা জানান, শুধু জিএমজি এয়ারলাইন্সের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশনকে সিগনিফিকেন্ট সেফটি কনসার্নের (এসএসসি) খাতায় তালিকাভুক্ত থাকতে হয়েছে। আর এই তালিকাভুক্ত হওয়ার কারণে ৫ বছর ধরে বাংলাদেশের কোন বিমান সংস্থাকে আন্তর্জাতিক রুটে নতুন করে ফ্লাইট চালানোর অনুমতি দেয়নি আইকাও। একই সঙ্গে নতুন কোন উড়োজাহাজ সংস্থাকে আন্তর্জাতিক রুট খুলতে অনুমতি দেয়া হয়নি। একই অভিযোগে আইকাওকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন এজেন্সিও বাংলাদেশ বিমানের ঢাকা-নিউইয়র্ক রুট পরিচালনা বাতিল করে দেয়। এসব কারণে সিভিল এভিয়েশন প্রতি বছর কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। শুধু অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগই নয়, জিএমজির কাছে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। বছরের পর বছর দেনদরবার করেও এ টাকা উদ্ধার করতে পারছে না তারা। বর্তমানে জিএমজির কাছে সিভিল এভিয়েশন, বিমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, জ্বালানি তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন সংস্থার সাড়ে ৩শ’ কোটি টাকার বেশি পাওনা রয়েছে। খোদ সিভিল এভিয়েশনের পাওনা টাকার পরিমাণ প্রায় ২শ’ কোটি টাকা। আর যাত্রীদের কাছ থেকে ট্যাক্সের টাকা উঠিয়েও সে টাকা সরকারের কোষাগারে জমা না দিয়ে সে টাকা দিয়ে ব্যবসা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর পরিমাণও শত কোটি টাকার বেশি। এই টাকা উদ্ধারে সিভিল এভিয়েশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বিমান জিএমজিকে অসংখ্যবার চিঠি দিয়েও কোন ফল পায়নি। প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্র্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৩০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে জিএমজি এয়ারলাইনস। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ৫০ টাকা। কিন্তু বাজারে ৯০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোম্পানিটি আর বাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি। তবে এখন আবার নতুন কৌশলে কোম্পানিটিকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জিএমজির বিরুদ্ধে অভিযোগ, উড়োজাহাজ উড্ডয়ন, অবতরণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের যে নিয়মনীতি রয়েছে তাও মানত না জিএমজি কর্তৃপক্ষ। সব ধরনের নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে জিএমজি রানওয়ের ওপর উড়োজাহাজ রেখে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করত। মেরামতের জন্য উড়োজাহাজের ইঞ্জিন বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রেও সিভিল এভিয়েশনের কোন নীতি মানত না। অনুমতি ছাড়া ইঞ্জিন মেরামতের জন্য বিদেশ পাঠানো, সেটা সংযোজন, সিভিল এভিয়েশনের অনুমোদন নেই এ ধরনের কোম্পানির কাছ থেকে ইঞ্জিন মেরামত করানোসহ হেন কোন কাজ ছিল না যা জিএমজি করত না। এ অবস্থায় চলতি বছরের প্রথম দিকে জিএমজির আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট অপারেশন বন্ধ করে দেয় সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। যদিও জিএমজি বলছে, সিভিল এভিয়েশন নয়, তারা নিজেরাই তাদের অপারেশন বন্ধ করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন দেশের বিমান বন্দরে জিএমজির জাল-জালিয়াতিসহ ভুয়া কোড নম্বরের কাহিনী সবাই জানে। এ কারণে নতুন করে এই বিমান সংস্থাটি আগামীতে আর কোনদিন অপারেশনে আসতে পারবে কিনা তাতে সন্দেহ রয়েছে। সিভিল এভিয়েশনের একটি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নীতিমালা লঙ্ঘন ও জাল-জালিয়াতির ঘটনায় শিগগিরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে সিভিল এভিয়েশনের ফ্লাইট অপারেশন শাখা। এ কমিটি গত ১০ বছরে জিএমজি কর্তৃপক্ষ উড়োজাহাজ চলাচলে কি ধরনের অনিয়ম করেছে তা খুঁজে বের করবে। যদি জাল-জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে কর্তৃপক্ষ জিএমজির এয়ারওয়ার্দিনেস সার্টিফিকেটও (উড়োজাহাজ চলাচল সংক্রান্ত লাইসেন্স) বাতিল করবে। তাতে নতুন লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত জিএমজি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে আর ফ্লাইট চালাতে পারবে না। যে কোন বিমান সংস্থা আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চালাতে হলে তাদের ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইকাও) থেকে একটি কোর্ড নম্বর নিতে হয়। মূলত ওই কোর্ড নম্বরটি দেখে বিশ্বের বিমানবন্দরগুলো ওই সংস্থার ফ্লাইট হ্যান্ডেলিং করে থাকে। বিমানবন্দরগুলোর রাডার স্টেশনেও ওই কোড নম্বরটি ব্যবহার করে উড়োজাহাজকে সংকেত দেয়া হয়। জিএমজির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা এই কোড নম্বরটি ভুয়া জাল-জালিয়াতি করে ব্যবহার করছে। জানা গেছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদেশী একটি এয়ারলাইন্সের কোড নম্বর গোপনে ব্যবহার করত জিএমজি। আর এজন্য ওই কোম্পানির কাছ থেকে কোন ধরনের অনুমতি পর্যন্ত তারা নেয়নি, যা আইকাওর আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি আইকাও টের পেয়ে বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশনকে চিঠি দেয় জিএমজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু ২০১০ সালের মাঝামাঝিতে জিএমজির মালিকানা বদল হয়ে বর্তমান সরকারের একজন প্রভাবশালী নেতার মালিকানায় চলে যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি সিভিল এভিয়েশন। তবে বেশ কয়েকবার চিঠি দিয়ে হুশিয়ার করে দিয়েছিল বেবিচক। তারপরও জিএমজি কর্তৃপক্ষ তাদের ভুয়া কোড পরিচালনা বন্ধ করেনি। যার কারণে আইকাও সিভিল এভিয়েশনকে এক চিঠিতে জানায়, অবিলম্বে জিএমজির অপারেশন বন্ধ না করলে তারা এসএসসি প্রত্যাহারে অডিট করতে বাংলাদেশে আসবে না। এরপর সিভিল এভিয়েশনের নির্দেশে জিএমজি তাদের ফ্লাইট অপারেশন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। সিগনিফিকেন্ট সেফটি কনসার্ন প্রত্যাহার সংক্রান্ত শর্ত : সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (আইকাও) শর্ত সাপেক্ষে বাংলাদেশকে দেয়া সিগনিফিকেন্ট সেফটি কনসার্ন প্রত্যাহার করেছে। এর মধ্যে অন্যতম শর্ত হচ্ছে জাল-জালিয়াতি করে উড়োজাহাজ পরিচালনা করার অভিযোগে জিএমজি এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া। সিভিল এভিয়েশনের ফ্লাইট অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা-প্রকৌশলীদের বেতন দেশের প্রচলিত বেতন কাঠামো থেকে সরিয়ে আন্তর্জাতিক মানের করা এবং সিভিল এভিয়েশনের অর্গানোগ্রাম ঠিক করা। আগামী ৬ মাসের মধ্যে এসব শর্ত পূরণ করতে না পারলে আবারও সিভিল এভিয়েশনকে ‘এসএসসি’ তালিকায় রাখা হবে বলে কঠোর হুশিয়ারিও উচ্চারণ করেছে আইকাও। এ অবস্থায় দেশের সিএএবিকে রক্ষা করতে এবং বাংলাদেশ বিমানের ঢাকা-নিউইয়র্ক রুট চালুকরণের স্বার্থে জিএমজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছে সিভিল এভিয়েশন। আইকাও তাদের রিপোর্টে বলছে, বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন জিএমজিসহ ১১টি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে কোন ধরনের নিয়মনীতি তোয়াক্কা করেনি। আইকাও নিরীক্ষায় বলা হয়েছে, এসব এয়ারলাইন্সের বেশির ভাগের উড্ডয়ন নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ, যোগ্য জনবল বা অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় মারাÍক ত্র“টি আছে। এর মধ্যে লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে ১২টি পরিচালনার ক্ষেত্রে ৭টিসহ প্রকৌশল, এয়ার নেভিগেশন ও আইন মানার ক্ষেত্রে সিভিল এভিয়েশনের অনেক ত্র“টি চিহ্নিত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত আইকাও প্রণীত নির্দেশিকাও ঠিকভাবে মানা হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। আর এসব দক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ, পরিচালনা ও মান উন্নয়নে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের মারাÍক ঘাটতি আছে। আইকাও এ ধরনের নিয়ন্ত্রণকারী লাইসেন্স পাওয়া বিমান সংস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে। এর আগে এসএসসি হিসাবে তালিকাভুক্ত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার গারুদা এয়ারলাইন্সসহ তাদের বিমান সংস্থাকে দীর্ঘদিন ইউরোপের আকাশে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ইন্দোনেশিয়া তাদের ওপর থেকে এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সমর্থ হয়। একই কারণে পাকিস্তান এয়ারলাইন্সসহ পাকিস্তানের বিমান সংস্থাগুলোকেও এক সময় এ পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছিল। জিএমজির এই জাল-জালিয়াতির কারণে কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা রিজেন্ট এয়ারলাইন্স দীর্ঘদিন আগ থেকে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পচিালনার অনুমতি চেয়ে পায়নি। আইকাও থেকে বলা হয়েছে, আগে জিএমজিসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক তারপর তারা ওই এয়ারলাইন্সকে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চালানোর অনুমতি দেবে। প্লেসমেন্টের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ : প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্র্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৩০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে জিএমজি এয়ারলাইন্স। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ৫০ টাকা। কিন্তু বাজারে তা ৯০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোম্পানিটি আর বাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি। এখন আবার নতুন কৌশলে কোম্পানিটিকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির সিংহভাগ মালিকানা বেক্সিমকো গ্র“পের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের। খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে গঠিত শেয়ারবাজার কারসাজি তদন্ত কমিটির রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, ২০১০ সালে কোম্পানিটিকে শেয়ারবাজারে তালিকভুক্তির উদ্যোগ নেয়া হয়। তালিকাভুক্তির জন্য বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে জিএমজির প্রতিটি শেয়ারের দাম নির্ধারিত হয় ১৫০ টাকা। অর্থাৎ প্লেসমেন্টে বরাদ্দ কর শেয়ারের চেয়ে বাজারদর ছিল ১০০ টাকা বেশি। শেষ পর্যন্ত কোম্পানিটি আর বাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারেনি। ফলে আর্থিক সংকটে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছরের মার্চে এয়ারলাইন্সটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান ও তার স্ত্রী সোমা আলম রহমানের মালিকানাধীন নিউ ইংল্যান্ড ইকুইটির নামে রয়েছে ১৫ কোটি টাকার শেয়ার, শোর ক্যাপ হোল্ডিংসের নামে ৩২ কোটি টাকার শেয়ার, লুৎফর রহমানের নিজের নামে রয়েছে ৫০ লাখ টাকার শেয়ার। এছাড়া অ্যাবসুলিউট রিটার্ন ও ইকুইটি গ্রোথ লিমিটেডের ৩২ কোটি টাকা করে ৬৪ কোটি টাকার শেয়ার, অ্যাডভেন্ট ইকুইটি ম্যানেজমেন্টের নামে রয়েছে প্রায় ৩২ কোটি টাকা শেয়ার, ইনোভেটিভ ক্যাপিটালের নামে ১ কোটি টাকার ৩৪ লাখ শেয়ার। ব্যবসায়ী নূর আলীর নিজ নামে রয়েছে সাড়ে ১৬ কোটি টাকার শেয়ার। নূর আলীর মালিকানাধীন কোম্পানি বোরাক ট্রাভেলসের নামে রয়েছে ৪ কোটি টাকার শেয়ার, ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেডের নামে সাড়ে চার কোটি টাকার শেয়ার। অ্যাপোলো ট্রেডিংয়ের নামে রয়েছে প্রায় ৩২ কোটি টাকা শেয়ার। এর বাইরে বেশ কয়েকজন বিদেশী ও দেশী সাধারণ বিনিয়োগকারীর নামে কোম্পানিটির ৮২ কোটি টাকার শেয়ার রয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া জিএমজির ফ্লাইট পরিচালনা সম্পর্কে সিভিল এভিয়েশনের পরিচালক ফ্লাইট সেফটি, উইং কমান্ডার নামজুল আনাম বলেন, এখন জিএমজিকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে শুরু করতে হবে। আর এখন থেকে তাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ড সিভিল এভিয়েশন পর্যবেক্ষণ করবে। একই সঙ্গে তাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ড সিভিল এভিয়েশনকে জানাতে হবে। অন্যথায় তাদের অপারেশন চালু করা খুবই কঠিন হবে। নাজমুল আনাম জানান, কালো তালিকা থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে তাদের গত ১ বছর ধরে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হয়েছে। রাতদিন কাজ করতে হয়েছে। কাজেই কোন প্রতিষ্ঠানের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি আর নষ্ট করতে দেয়া যায় না। তিনি এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়মনীতি মেনে কাজ করতে অনুরোধ জানান।

আমি যদি অর্থমন্ত্রী থাকি নাসিরউদ্দিন থাকবে না

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কর্মকাণ্ডে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এনবিআরের চেয়ারম্যান হিসেবে নাসিরউদ্দিন সম্পূর্ণ অযোগ্য। রাবিশ। এই চেয়ারম্যান শুরু থেকেই আমাকে অপমান করছে। আমার উপদেশ, আদেশ, পরামর্শ অগ্রাহ্য করছে। এতে আমি বারবার বিব্রত হয়েছি। তাকে আর সহ্য করা যাচ্ছে না। সে এনবিআরে থাকছে না। ভবিষ্যতে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না। যতই খুঁটির জোর থাকুক, আমি যদি অর্থমন্ত্রী থাকি, নিশ্চয়তা দিতে পারি সে আর এনবিআরে থাকছে না। দায়িত্বশীল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রী এ ধরনের মন্তব্য করেছেন এনবিআরেরই দু’জন সদস্যের কাছে। বুধবার সকালে এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট নীতি) ফরিদ উদ্দিন এবং সদস্য (শুল্ক ও বন্ড) নাসির উদ্দিনকে অর্থমন্ত্রী তার দফতরে ডেকে নেন। বিভিন্ন প্রসঙ্গ আলোচনার এক পর্যায়ে অর্থমন্ত্রী উপরোক্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এসময় অর্থমন্ত্রীকে দারুণ রাগান্বিত দেখাচ্ছিল। অর্থমন্ত্রী বলেন, এনবিআরের চেয়ারম্যান আমার কথা শুনবে না এটা মানা যায় না। এর আগে এক কমিশনারকে বদলি করতে বলেছি, শোনেনি। জনস্বার্থে ডায়াবেটিক রোগীদের ব্যবহারে বারডেমের আনা আমদানি পণ্যে শুল্ক রেয়াত দেয়ার কথা একাধিকবার বলেছি, কিন্তু সে রেয়াত দেয়নি। ভারতের সঙ্গে ট্রানজিটের বিধিমালা জারি করতে বলেছি, তা করা হয়নি। কার কথায় কাজ করছে বুঝি না।
এ ধরনের আরও অনেক প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, কমিশনারদের বদলির একটি প্রস্তাব নিজের হাতে লিখে নাসিরউদ্দিন আমাকে দেয়। আমি বলেছি, দেখে জানাব। তারপর বদলি হবে। এখন দরকার নেই। আগে সদস্যদের পদোন্নতি দিন। তবে কোন কর্মবণ্টন করার প্রয়োজন নেই। আমি সিদ্ধান্ত দেব। কিন্তু আমার সঙ্গে কথা বলেই চেয়ারম্যান কমিশনারদের বদলি করে দিল? সদস্যদের কর্মবণ্টন করল? আমার কোন কথাই সে শোনে না। অর্থমন্ত্রী অসন্তোষের সঙ্গে আরও বলেন, চেয়ারম্যানকে শুক্রবার টেলিফোনে বদলি আদেশ বাতিল করতে বলেছি। কিন্তু তা না করে উল্টো কমিশনারদের নিয়োগ কার্যকর করতে বলে। এই চেয়ারম্যানের আর এক্সটেনশন দূরের কথা, তার আগেই বিদায় নিতে হবে। সমঝোতায় আসার চেষ্টা : জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সমঝোতায় আসার চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেও এ বিষয়ে গ্রিন সিগন্যাল দেয়া হয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। এজন্য কমিশনারদের বিতর্কিত নিয়োগ আদেশ রোববার বাতিল করা হতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট চট্টগ্রামের কমিশনার হিসেবে সৈয়দ গোলাম কিবরিয়ার নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। এ কর্মকর্তার ওপর অর্থমন্ত্রী দারুণ ক্ষুব্ধ ছিলেন। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ থাকায় অর্থমন্ত্রী একাধিকবার তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি এনবিআরের চেয়ারম্যান। আর এ থেকেই অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যানের তিক্ততার সূত্রপাত। অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, গোলাম কিবরিয়াকে কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট চট্টগ্রাম ট্রেনিং একাডেমিতে পদস্থ করতে। কিন্তু তার বদলে বৃহস্পতিবার এনবিআরের বিতর্কিত আদেশে চট্টগ্রাম আপিল কমিশনারের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে গোলাম কিবরিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনার নিয়োগ দেয়া হয়। আর এতেই রুষ্ট হন অর্থমন্ত্রী। বুধবার এক আদেশে সৈয়দ গোলাম কিবরিয়ার নিয়োগ বাতিল করে কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট চট্টগ্রামে কমিশনার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে চট্টগ্রামের বন্ড কমিশনার জামাল হোসেনকে। একই সঙ্গে তাকে বন্ড কমিশনারের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলে মন্ত্রী ও চেয়ারম্যানের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনা কিছুটা হলেও কমবে। তবে আরও কিছু বিতর্কিত বিষয়ের সুরাহা না হলে পুরো বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে না বলে সূত্র দাবি করেছে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক সুলতান মোঃ ইকবালকে সদস্যপদে পদোন্নতি দিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম কমিশনার মারুফুল ইসলামকে শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালক করার পরামর্শ ছিল। কিন্তু তা কার্যকর করা হয়নি। মারুফুল ইসলামের নিয়োগ ঠেকাতে পদ থাকা সত্ত্বেও সুলতান ইকবালকে সদস্যপদে নিয়োগ দেয়া হয়নি। এছাড়া বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (ভ্যাট এলটিইউ) কমিশনার হিসেবে কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট ঢাকা দক্ষিণের কমিশনার আবদুল কাফির নিয়োগ চূড়ান্ত করা ছিল। সদস্যদের পদোন্নতি সংক্রান্ত সারসংক্ষেপে এনবিআরের চেয়ারম্যান ও অর্থমন্ত্রীর এ বিষয়ে অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তাকে ঢাকা উত্তরের কমিশনার নিয়োগ দিয়ে মাত্র ৮ মাস আগে নিয়োগ পাওয়া কমিশনার সাইফুল ইসলামকে ভ্যাট এলটিইউর কমিশনার করাকে মন্ত্রী সমর্থন করেননি। এ নিয়োগে চেয়ারম্যানও রাজি ছিলেন না এবং বিশেষ কারণে করতে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ঢাবি ক্যাম্পাসে ছিনতাইকারীর হামলায় ব্যবসায়ীর মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত ব্যবসায়ী মো. মাহমুদুল হাসান রতন চৌধুরী (৫০) মারা গেছেন। রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন ওই ব্যবসায়ী। মেডিকেল সূত্র জানায়, গুরুতর আহত অবস্থায় বাংলা একাডেমীর সামনে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। নিহতের বোন শিরিন আক্তার জানান, রতন শ্রীপুরের বরমী এলাকায় থাকতেন। কালার এ্যন্ড ফ্যাশন নামে তার একটি ডায়িং কারখানা আছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে আমার শষ কথা হয়। বিকালে চকবাজার থেকে রিক্সাযোগে পলাশী এলাকায় তার বাসায় যাচ্ছিলেন। এর পর থেকে তার ফোন বন্ধ ছিল। পরে খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসি। তার সঙ্গে থাকা সব কিছু খোয়া গেছে।

আবার আসছে ‘ভিট-চ্যানেল আই টপ মডেল’ প্রতিযোগিতা

দ্বিতীয়বারের মতো শুরু হতে যাচ্ছে  ‘ভিট-চ্যানেল আই টপ মডেল‘ প্রতিযোগিতা। এই রিয়েলিটি শোর মাধ্যমে সারাদেশ থেকে প্রতিভাবান মডেল খুঁজে বের করা হবে। এবারের প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে থাকছেন জনপ্রিয় মডেল নোবেল, অভিনেত্রী ও নির্মাতা তানিয়া আহমেদ ও রূপ বিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান।

এক নাটকে তিন লাক্স সুন্দরী

প্রথমবারের মত একসঙ্গে অভিনয় করলেন সাবেক তিন লাক্স সুন্দরী মম, মুনমুন, মেহজাবীন। রুম্মান রশীদ খানের লেখা, সৈয়দ জামিম পরিচালিত ‘হিয়ার মাঝে লুকিয়ে...’ নাটকে জনপ্রিয় অভিনেতা সজলের বিপরীতে অভিনয় করেছেন এই তিন তারকা।

নারীর পছন্দ

নারীদেরও রুচি এবং পছন্দ রয়েছে। জীবন সঙ্গী নিয়ে তারও রয়েছে কিছু ব্যক্তিগত পছন্দ- অপছন্দ। আমরা অনেক সময় মনে করি নারীরা লম্বা, সুদর্শন পুরুষ পছন্দ করে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে পুরুষের শারীরিক সৌন্দর্য থেকে নারীকে বেশি আকৃষ্ট করে তাদের `পুরুষালী` গুণাবলী।পুরুষকেও জানতে হবে কোন বিষয়গুলো নারীর কাছে আপনাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে: