Friday, October 31, 2014
দালাল পুলিশ আনসারদের মিনি পাসপোর্ট অফিস
চাপাচাপিতে গোলাম দস্তগীর শেষ পর্যন্ত কিছু টাকা বেশি দিয়ে আয়নালকেই পাসপোর্ট তৈরি করার দায়িত্ব দেন। আয়নাল পাসপোর্ট অফিসের দালাল। এভাবে পাসপোর্ট বানানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মেয়ের পাসপোর্ট বানাতে গিয়ে তার যে ঝামেলা সেই থেকে তিনি শিক্ষা পেয়েছেন। তাই দালালকেই তিনি বেছে নিলেন।’
দস্তগীরের পাসপোর্ট তৈরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই পাসপোর্টসহ মঙ্গলবার ধরা পড়েছেন দালাল আয়নাল। অনেক দালাল ধরা পড়ার খবরে বুধবার পাসপোর্ট অফিসে ছুটে যান দস্তগীর। সেখানেই তার সঙ্গে কথা হয়।
সরকারি পাসপোর্ট অধিদফতরের পাশে মাত্র ২০০ গজ দূরেই ‘বেসরকারি পাসপোর্ট অফিস’ গড়ে তুলেছেন দালালরা। সরকারি অফিসের মতোই সেখানে চলে কার্যক্রম। কাজে দালালদের সহায়তা করে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। র্যাবের অনুসন্ধানে পাসপোর্ট অফিসের দুজন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্যও মিলেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, দালালরা পাসপোর্ট অফিসের সামনে এবং সেখান থেকে একটু দূরে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের পিছু ধরছেন। দালালরা টোপ দেয়, ফরম পূরণ, ফরম সত্যায়ন, ব্যাংকে ফি জমা, কাগজপত্র ঘাটতি ভুল বা ভুয়া কাগজপত্র, এমনকি ২ থেকে ৬ হাজার টাকায় ভেরিফিকেশন ছাড়াই অতি দ্রুত পাসপোর্ট তৈরি করে দেবে। দালাল পান্নু খান জানান, তার হাত দিয়ে ভেরিফিকেশন ছাড়াই অসংখ্য পাসপোর্ট গেছে। তার সঙ্গে মিরপুরের একটি অপরাধী চক্রের যোগসূত্রের তথ্যও পাওয়া গেছে।
অনেকে আবার তাদের কাছে টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। র্যাবের কাছে আবুল ফজল ও কান্তিলাল নামের দুই ব্যক্তি সম্প্রতি এ ধরনের অভিযোগ দিয়েছেন। ফজল অভিযোগ করেছেন, হারুন নামের এক দালাল তার কাছে ৬ হাজার টাকা নেয়। আর কান্তির কাছে আসলাম মিয়া নামের একজন নেয় প্রায় ৭ হাজার টাকা। এরা দ্রুত পাসপোর্ট তৈরি করে দিতে পারে বলে জানায়। কিন্তু পাসপোর্ট তো নেই, টাকারও খবর নেই।
ফজল ও কান্তি জানান, পাসপোর্ট অফিসের দক্ষিণ দিকে একটি মেস বাসায় তাদের নেয়া হয়। সেখানে তারা টাকা দেন। হয়রানির শিকার অভিযোগকারী আবু বক্কর বলেন, একজন পুলিশ কনস্টেবল তার কাছে টাকা নিয়েছে। এছাড়া মারুফ আক্তারকে পাসপোর্ট দেয়ার কথা বলে টাকা নেন দুই আনসার সদস্য। তারা সরকারি অফিস থেকে ওই বাসায় নিয়ে গিয়ে ফরম পূরণ করিয়ে নেয়।
দালালদেও উৎপাতের কারণে, পাসপোর্ট অধিদফতরে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচারিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিটি নোটিশ বোর্ড ছাড়াও বিভিন্ন দৃশ্যমান স্থানে ঝুলানো হয় এবং মাইকিং করে উপদ্রব সৃষ্টিকারী দালালদের সতর্ক করা হয়েছে। সতর্ক করা বিজ্ঞপ্তি বড় আকারের সাইনবোর্ডে বড় বড় অক্ষরে লিখে পাসপোর্ট অফিসের প্রবেশ গেট সংলগ্ন ভবনের দেয়ালে স্থাপন করা হয়। এতেও কোনো কাজ হচ্ছে না।
র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আনোয়ার পাশা যুগান্তরকে বলেন, পাসপোর্ট অফিস ঘিরে পুরনো সিন্ডিকেটই নানাভাবে সক্রিয় হয়েছে। বেশির ভাগ সময় এরা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে।
র্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কেএম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, একটি হেল্পডেস্ক প্রয়োজন, যেখান থেকে লোকজন পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে পারে। পাসপোর্ট অফিস থেকে টাকা জমা দেয়ার জন্য যারা সোনালী ব্যাংকে যান তারাও হয়রানির শিকার হন। পাসপোর্ট অফিস লাগোয়া টাকা জমা দেয়ার জন্য স্থায়ী বুথ স্থাপনও জরুরি।
তিনি বলেন, সরকারি অফিসের পাশেই দালালরা অবৈধ পাসপোর্ট অফিস তৈরি করে ফেলেছে। এ ধরনের অপরাধে ওই অফিসের কারও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।
‘বেসরকারি’ এই পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম তদারকি করতেন দালাল আয়নাল হোসেন। ঢাকার মিরপুরের মধ্যপীরেরবাগে তার বাড়ি। তার সঙ্গে নাসির ও নুরুজ্জামান মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করে থাকে। এদের সঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রটেকশন বিভাগের কনস্টেবল ফিরোজ মিয়া এবং আনসার সদস্য আলতাফ হোসেন জড়িত। এই অফিসটি সাত মাস আগে স্থাপন করা হয়।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, এখানে অভিযান চালিয়ে ৯৭টি এমআরপি পাসপোর্ট এবং পাসপোর্ট তৈরির জন্য আবেদনকৃত অনেক ফরম পাওয়া গেছে। এগুলোতে দেখা গেছে, সরকারি কর্মকর্তাদের সিলমোহর ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়িত করা। এর মধ্যে অনেকের পাসপোর্ট অধিদফতর থেকেই করে আনা।
মঙ্গলবার র্যাব অভিযান চালিয়ে এখান থেকে ৩০ জন দালালকে আটক করে। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। পুলিশ ও আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অধ্যাপক সালাউদ্দিন সর্বপ্রথম বাকশালের বিরোধিতা করেছিলেন -স্মরণসভায় বক্তারা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খালেদাকে স্বাগত জানাতে উড়বে লক্ষাধিক বেলুন by ইসাহাক আলী
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খুলনাঞ্চলের অর্ধেক গাড়িই ফিটনেসবিহীন by রাশিদুল ইসলাম
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে চা শ্রমিকরা by আবদুর রহমান সোহেল
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাস উৎসব লোনা পানিতে প্রার্থনা by আবু সাঈদ শুনু
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এনআইএ তদন্তকারী দল ঢাকা আসতে পারে
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাগরের গ্যাস ব্লক ছেড়ে দিয়েছে মার্কিন কোম্পানি কনোকোফিলিপস
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভাবীর সঙ্গে পরকীয়া, অতঃপর আত্মহত্যার চেষ্টা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হরতালের পালে হাওয়া by সাযযাদ কাদির
৩০.১০.২০১৪
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তরুণদের কেন আমরা পথ দেখাতে পারছি না? by মহিউদ্দিন আহমদ
একুশ শতকের বাংলাদেশের দিকে তাকালে তারুণ্যের সেই দীপ্তি খুঁজে পাই না। এখানে যে বয়সে ছাত্রসংগঠনের কমিটিগুলোতে ঢোকার জন্য রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়, তার চেয়ে কম বয়সী অনেক বড় বড় রাষ্ট্রনায়ককে আমরা দেখেছি বিশ শতকে। লিড ট্রটস্কি ১৯১৭ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে সফল অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাত্র ৩৮ বছর বয়সে। মিসরে গামাল আবদেল নাসের একই বয়সে রাষ্ট্রের হাল ধরেছিলেন। কিউবায় যখন বিপ্লব সংগঠিত হয়, তখন এর নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর বয়স ছিল ৩২। তাঁর অন্যতম সহযোগী চে’ গুয়েভারার মাত্র ৩০ চলছে তখন। এ সবই ঘটেছে ১৯৫৯ সালের জানুয়ারিতে। একই বছর লিবিয়ায় রাজতন্ত্র উচ্ছেদ করে আদিম যাযাবর সমাজের পালাবদল ঘটিয়েছিলেন মুয়াম্মার গাদ্দাফি মাত্র ২৩ বছর বয়সে। এ রকম উদাহরণ আরও অনেক দেওয়া যায়।
আমাদের দেশে তরুণসমাজ কোনো অবিমিশ্র ও অবিভাজ্য সামাজিক শক্তি নয়। একাত্তরে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনে তরুণসমাজের একটি অংশ সক্রিয় হয়েছিল। এদের সংখ্যা বড়জোর এক লাখ বা তার চেয়ে কিছু বেশি। বিরাটসংখ্যক তরুণ এদের সক্রিয় সহযোগিতা দিয়েছে, তা স্বীকার করতেই হবে। এর পাশাপাশি তরুণসমাজের একটি অংশ ছিল পুরোপুরি নির্লিপ্ত, এমনকি দখলদার বাহিনীর প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ সহযোগী। দেশের অবস্থা যে পুরোপুরি ‘স্বাভাবিক’ এবং দেশে ঘটে যাওয়া গণহত্যা ও অন্যান্য নৃশংস ঘটনাবলি যে ‘ভারতের ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণা’, এটা দেখানোর জন্য তখন সামরিক জান্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিয়েছিল। আমাদের অনেক সতীর্থ তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করেছিল এবং পরীক্ষা দিয়েছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ‘গণ্ডগোল’ যদি মিটে যেত, তাহলে কী হতো? হয়তো শেখ মুজিবের ফাঁসি হতো আর আমাদের মতো মুক্তিযোদ্ধাদের ‘দুষ্কৃতকারী’ পরিচয় নিয়ে দালাই লামার সহযাত্রীদের মতো ভারতের কোনো আশ্রয়শিবিরে অথবা রাস্তাঘাটে ভবঘুরের জীবন যাপন করতে হতো। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই আমরা এ দেশে তারুণ্যের বিভক্তি ও অবক্ষয়ের শুরু দেখতে পেয়েছি। জিন্দাবাদ-মুর্দাবাদের রাজনীতি, অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার প্রক্রিয়া তখন থেকেই চলে আসছে। ডাকসুর ব্যালট বাক্স ছিনতাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলের ‘সাত খুন’, লাল সন্ত্রাসের নামে আতঙ্ক ছড়ানো—এ সবই ছিল তরুণদের কাজ। নেতৃত্বেও ছিল প্রধানত তরুণেরাই। এর মূল্যও দিতে হয়েছে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তরুণদেরই।
আমরা অনেক সময় গর্ব করে বলে থাকি, এ দেশের ছাত্রসমাজ জাতীয় রাজনীতিতে অনেক ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল একটা সময় পর্যন্ত। উদাহরণ হিসেবে ভাষা আন্দোলন, আইয়ুবের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন এবং উনসত্তরের গণ-আন্দোলনের কথা আমরা অহংকারের সঙ্গে উচ্চারণ করি। এ ধারাটির অবসান হয় পরবর্তী রাজনৈতিক দলগুলোর লেজুড়বৃত্তির মাধ্যমে। এটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় ১৯৭৬ সালের একটি সামরিক ফরমানের মাধ্যমে, যেখানে রাজনৈতিক দলবিধি অনুযায়ী ছাত্রসংগঠন ও অন্যান্য গণসংগঠনকে মূল রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত আছে এখনো। একটি রাজনৈতিক দল এখন ‘গ্রুপ অব কোম্পানিজ’। তার একটি মূল সংগঠন আছে, আছে একটি করে ছাত্র, শ্রমিক ও কৃষক সংগঠন। এ ছাড়া এখন ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে হাজারো নামসর্বস্ব সংগঠন, যেমন তাঁতী দল বা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক দল বা লীগ, প্রজন্ম দল বা লীগ ইত্যাদি। ‘দল’-এর মালিক হলো বিএনপি, আর লীগ মানেই আওয়ামী লীগ। তরুণদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। সবাই নেতা হতে চায়। দলের কোনো একটা কমিটিতে থাকতে পারলে আখের গোছাতে সুবিধা হয় অনেক। তাই একটার পর একটা সংগঠন তৈরি হচ্ছে। দেশরত্ন প্রজন্ম লীগ, দেশনেত্রী সমর্থক দল, আমরা জিয়ার সৈনিক, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ—এ রকম আরও অনেক সংগঠন মাটি ফুঁড়ে উঠছে প্রায় প্রতিনিয়ত।
জাতীয় প্রেসক্লাবের দোতলায় কয়েকটা কামরা ভাড়া নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় সারির নেতারা একটি সংগঠনের ব্যানার লাগিয়ে জ্বালাময়ী ভাষণ দেন। আশপাশে ১৪-২০ জন তরুণ নিশ্চুপ বসে থাকে। এদের নানা উপায়ে জড়ো করা হয়। এই সভার পর আর হয়তো ওই সংগঠনের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। এতে প্রেসক্লাবের লাভ হয়, ঘরভাড়া পাওয়া যায়। আর টেলিভিশনের পর্দায় আমরা এই একঘেয়ে ও বিরক্তিকর নাটকে মঞ্চায়ন দেখি দিনের পর দিন। এসব তরুণের কি কোনো কাজ নেই?
২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতাসীন হয়। তখন একটা কথা চাউর হয়েছিল, তরুণ প্রজন্ম আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট দিয়েছে। কেননা, তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অঙ্গীকারে এটা বলা হয়েছিল। হয়তো কথাটা সত্য। গত কয়েক বছরে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে আমরা দেখলাম তারুণ্যের জয়জয়কার। শাহবাগে তারুণ্যের জোয়ার লক্ষ করি। টেলিভিশনের পর্দায় দেখলাম, যারা পুলিশ পেটাচ্ছে, গাড়িতে আগুন দিচ্ছে, লাঠি, সড়কি কিংবা রামদা নিয়ে প্রতিপক্ষকে তাড়া করছে, তারাও সবাই তরুণ। তাদের পরনে জিনস, হাতে হাতে ‘ককটেল’।
দেশে চরমপন্থার বিস্তৃতি ঘটছে। ধর্মীয় চরমপন্থার দিকে ঝুঁকছে অনেকেই। হিজবুত তাহ্রীর এবং এ–জাতীয় সংগঠনগুলোর সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তারা সবাই তরুণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, তাদের ধরা হচ্ছে অস্ত্র, জিহাদি বইসহ। যাদের ধরা হচ্ছে, তারা প্রায় সবাই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এরা ছাত্রলীগ কিংবা ছাত্রদলের ক্যাডারদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম বয়সী এবং অধিকতর মেধাবী। এসব তরুণ কেন চরমপন্থার দিকে ঝুঁকছে?
রাজনীতিতে চরমপন্থা নতুন বিষয় নয়। একসময় এ দেশের তরুণদের একটা বড় অংশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের আদর্শে উজ্জীবিত হয়েছিল। তারা শ্রেণি-সংগ্রামের নামে প্রতিপক্ষকে নির্মূল করাকে জায়েজ মনে করেছিল। এর ধারাবাহিকতায় অনেকেই পূর্ববাংলা সর্বহারা পার্টি ও জাসদের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী গণবাহিনীর ঝান্ডা উঁচিয়ে রাজনীতিতে চরমপন্থা অবলম্বন করেছিল। এখন কমিউনিস্ট বা বাম ঘরানার চরমপন্থী রাজনীতির অবসান হয়েছে। তার জায়গায় দেখা যাচ্ছে ধর্মাশ্রয়ী চরমপন্থা। শুধু ষড়যন্ত্রতত্ত্ব আউড়ে এই সমস্যার মীমাংসা হবে না। নিরাপত্তার নামে বাহিনীগুলোকে আরও নিষ্ঠুরতার দিকে ঠেলে দিয়েও এই তরুণদের দমানো যাবে বলে মনে হয় না। যেতে হবে আরও গভীরে। তরুণদের আহত মনস্তত্ত্ব পুলিশি অ্যাকশন দিয়ে সমাধান করা যাবে না।
দেশে অনুসরণযোগ্য নেতৃত্ব নেই। সব ক্ষেত্রেই গালাগাল, চিৎকার। তরুণেরা প্রেরণা পাবে কোথা থেকে? অর্থনীতির চাকা ঘুরছে মন্থর গতিতে। বিনিয়োগ পরিস্থিতি হতাশাব্যঞ্জক। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের অরণ্যে খুঁজে পাওয়া হতভাগ্য বাংলাদেশি তরুণদের দৃষ্টান্ত থেকেই বোঝা যায়, কত অনন্যোপায় হলে রুটিরুজির জন্য মানুষ এ রকম অনিশ্চয়তা ও বিপদের পথে পা বাড়ায়।
মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত দালাল চক্রের ওপর দায় চাপিয়ে পার পাওয়া যাবে না। আমাদের রাষ্ট্র তরুণদের জন্য তেমন কোনো ‘স্পেস’ তৈরি করে দিচ্ছে না। আমরা শুধু বাগাড়ম্বর শুনি। সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার কোনো আয়োজন দেখি না। এসব তরুণ কোথায় যাবে? যাঁদের ক্ষমতা আছে, তাঁরা তাঁদের সন্তানদের দেশের বাইরে নিরাপদ পরিবেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন বা দিচ্ছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তাদের সন্তানদের জন্য কী ব্যবস্থা করবে? পাচার হওয়া, মাদকের কাছে সমর্পিত হওয়া অথবা চরমপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়া ছাড়া তাদের সামনে কোনো গ্রহণযোগ্য পথ কি আমরা দেখাতে পারছি? নাকি সবাই আমরা আঁধারের যাত্রী?
মহিউদ্দিন আহমদ: লেখক ও গবেষক। প্রথমা থেকে প্রকাশিত হলো তাঁর জাসদের উত্থান পতন: অস্থির সময়ের রাজনীতি।
mohi2005@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শেয়ার বাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িত সবার শাস্তি হোক by খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ

বিশেষ করে অমনিবাস অ্যাকাউন্টবিষয়ক অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা আমরা খুঁজে পেয়েছিলাম। এই অমনিবাস অ্যাকাউন্ট ভুতুড়ে অ্যাকাউন্ট হিসেবে পরিচিত ছিল। এই অ্যাকাউন্ট নিয়ে সরকার বা বিএসইসি কেউই তেমন একটা মাথা ঘামাত না। এতে বোঝা যায়, এসব অ্যাকাউন্ট যাঁরা পরিচালনা করেন, তাঁরা অনেক শক্তিশালী। অনুসন্ধানে আমরা অমনিবাস অ্যাকাউন্টে দুর্নীতির সত্যতা খুঁজে পেয়েছিলাম। এ কথাও সত্য যে, সময়ের অভাবে আমরা এই কয়েক লাখ ছায়া হিসাব পরীক্ষা করতে পারিনি। আমরা পুনর্গঠিত বিএসইসিকে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছিলাম।
কিন্তু আমরা তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করার পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বললেন, এ প্রতিবেদন ধারণাসম্মত, বাস্তবতার প্রতিফলন এখানে নেই। সরকারের আরও কোনো কোনো মন্ত্রী নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন বলে শুনেছি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এ তদন্ত কমিটিতে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা কেউই ধারণার ওপর ভিত্তি করে এত বড় একটি ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করবেন, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
পরবর্তীকালে, আমাদের সুপারিশ অনুসারে বিএসইসি তদন্ত করে আমাদের অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পেয়েছে। এমনকি আমাদের কিছু সুপারিশ বাস্তবায়িতও হয়েছে। অর্থমন্ত্রী এখন তাঁর সেই বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন বলে আশা করি। আমরা সুপারিশ করেছিলাম, শেয়ারের ডিমিউচুয়ালাইজেশন করতে হবে। বিএসইসি দেরিতে হলেও তা করেছে। এর ফলে পুঁজিবাজারে এখন বড় কোনো উল্লম্ফন নেই, আবার বড় পতনও নেই। বলা যায়, বাজারে একধরনের স্থিতিশীলতা এসেছে। এটা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ঘটনা।
সরকার অ্যান্টি মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট করতে গিয়ে একটি শর্ত পূরণ করতে বাধ্য হয়। কারণ, এ আইনটি করতে গেলে প্যারিসভিত্তিক এগমন্ট গ্রুপের সদস্য হতে হয়। তাদের শর্তানুসারে কোনো দেশ অ্যান্টি মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট করতে গেলে তাকে আগে অমনিবাস অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে হবে। ফলে সরকার অমনিবাস অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে এ প্রক্রিয়া একরকম ধীরগতিতে চলছে। বলাবাহুল্য, আমরা প্রতিবেদনে অমনিবাস অ্যাকাউন্ট বন্ধের সুপারিশ করেছিলাম। একই সঙ্গে এখন বিএসইসির নজরদারিব্যবস্থা আরও উন্নত হয়েছে। এ কাজে লোক নিয়োগ করা হয়েছে, সফটওয়্যার প্রবর্তন করা হয়েছে। একটি সাির্ভল্যান্স বিভাগ চালু হয়েছে। এর ফলে শেয়ারবাজারের দুর্নীতি তারা এখন আরও দক্ষতার সঙ্গে চিহ্নিত করতে পারবে বলে আমি আশা রাখি।
এবার দুজন ব্যক্তিকে শেয়ারবাজার কারসাজি করার অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছে। এটাকে শুভ সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা যায়। আমরা আরও অনেকের বিরুদ্ধেই অমনিবাস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কারসাজি করার অভিযোগ এনেছিলাম, আশা করি তাঁদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করে বিএসইসি যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। অর্থাৎ অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে, আর প্রমাণিত না হলে তাঁদের নির্দোষ ঘোষণা করবে।
শুধু শেয়ারবাজার নয়, বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে মাফিয়া চক্রের প্রভাব খুব বেশি। সরকারের ওপরও এদের প্রভাব অনেক। অতীতে আমরা হাওয়া ভবন দেখেছি, এখন হয়তো হাওয়া ভবন নেই, কিন্তু কাজগুলো ঠিকই হচ্ছে। এখানে একটা উদাহরণ দিতে পারি, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির পর আমরা যখন তদন্তের কাজ করছিলাম, তখন একদিন শেয়ারবাজারে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি আমাদের কাছে এলেন। পুরো তদন্ত কমিটির সামনে তিনি বললেন, ‘স্যার, আমাদের ঘাঁটায়েন না। কিছু করতে পারবেন না।’ আমি তখন তাঁকে বললাম, আমরা ঘাঁটানোর কে, তদন্তে যা বেরিয়ে আসবে, তাই আমরা তুলে ধরব। ঘাঁটাবে তো সরকার। তখন তিনি বললেন, ‘স্যার, ওটা ঠিক আছে। আপনারা ঘাঁটায়েন না।’ তখন তিনি আরও বললেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে আমরা সামনে থাকি আর বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে অন্যরা সামনে আসবে, আমরা পেছনে থাকব।’
বিএসইসি শেয়ারবাজার কারসাজির দায়ে মোসাদ্দেক আলী ফালু ও গোলাম মোস্তফাকে যথাক্রমে এক কোটি ও তিন কোটি টাকা জরিমানা করেছে। এর মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হলো যে প্রভাবশালীরা যত শক্তিশালীই হোন না কেন, তাঁরা আইনের ঊর্ধ্বে নন। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, শেয়ারবাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে কেউ এসে তদন্ত কমিটিকে এ কথা বলার সাহস পাবে না যে আমাদের ঘাঁটায়েন না। সরকারের উচিত এ ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
তবে শেয়ারবাজার তথা আর্থিক খাতের অনিয়ম রোধ করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাই বড় বিষয়। শুধু একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি হলেই সে কাজ করতে পারে না। ওই প্রতিষ্ঠানকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক অনেক দিন ধরে কাজ করতে করতে এখন একটি পর্যায়ে এসেছে। এটি যদি খুব খারাপও চলে, তার পরও অনেক অনিয়ম বেরিয়ে আসবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও বিএসইসির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ সম্পন্ন হয়নি। আমরা তদন্তের কাজ করতে গিয়ে দেখলাম বিএসইসির তেমন কোনো অর্গানোগ্রাম নেই,
আবার লোকবলেরও যথেষ্ট ঘাটতি ছিল তখন। ব্যবস্থাপনায় একটি কথা বলা হয়, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও সুশাসন নির্ভর করে ওই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যবস্থাপকদের ওপর। তাঁরা যেভাবে আচরণ করবেন, প্রতিষ্ঠানও সে রকম আচরণ করবে।
বিএসইসির আগের কমিশনের মধ্যে অদক্ষতার পাশাপাশি দুর্নীতিও আমরা দেখতে পেয়েছি। মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ও ফারুক আহমেদ সিদ্দিকীর পর ওই মাপের যোগ্য নেতৃত্ব বিএসইসিতে আর দেখা যায়নি। সে জন্য বিএসইসির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও সুশাসনের বিষয়টি বেশ সময়সাপেক্ষ বলে আমার মনে হয়। আমি ব্যবস্থাপনার ছাত্র ছিলাম। সেখানে আমাদের ব্যবস্থাপনাবিষয়ক বিষয়গুলো শেখানো হতো। বলা হতো, প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা যদি দুর্নীতিপরায়ণ বা অযোগ্য হন, তাহলে প্রতিষ্ঠানও সে রকম হবে।
আশার কথা, আমাদের সুপারিশ অনুসারে বিএসইসি পুনর্গঠন হয়েছে, যদিও সেটা করতে বেশ কিছুটা সময় লেগেছে। নতুন বিএসইসি প্রথম দিকে অতটা আস্থা নিয়ে কাজ করতে পারেনি। তবে এখন তারা আস্থার সঙ্গে কাজ করছে। এ পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হচ্ছে বিএসইসি, এ সংস্থাটি যদি ঠিকঠাক কাজ না করে, তাহলে মানুষ পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরে পাবে না। ফলে তাদের তরফ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া খুব জরুরি।
দেরিতে হলেও বিএসইসি যে দুজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, এটা ভালো লক্ষণ। কারণ, অনিয়মের শাস্তি না হলে তা আরও বাড়ে। তবে এই দুজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্য দিয়েই যেন বিএসইসির কার্যক্রম থেমে না যায়। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে যদি তারা অভিযুক্ত আরও কয়েকজনকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে পারে, তাহলে সেটা বাজারের জন্য খুবই ইতিবাচক ব্যাপার হবে। তবে এ ক্ষেত্রে বিএসইসির কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ, তারা যদি সরকারি দলের অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাঁচিয়ে কেবল অভিযুক্ত বিএনপি ও অন্য দলের লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তবে শেয়ারবাজারের কারসাজিও যেমন বন্ধ হবে না, তেমনি ন্যায়বিচারও নিশ্চিত হবে না। আমরা চাই শেয়ারবাজারের কারসাজির সঙ্গে জড়িত সবার শাস্তি হোক।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: ব্যাংকার, সাবেক ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শ্রদ্ধাঞ্জলি- অনন্য মাওলা বখশ চাচা by আসজাদুল কিবরিয়া
মাওলা বখশ চাচার খুব কাছাকাছি প্রথম আসি ১৯৮৭ সালে। তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা ফখরুদ্দীন আহমদ তখন পররাষ্ট্রসচিব। সম্ভবত ওই সময় সরকারের একটা সিদ্ধান্ত ছিল যে সচিব ও জ্যেষ্ঠ আমলারা নিজ নিজ গ্রাম ও এলাকা পরিদর্শনে যাবেন। তারই অংশ হিসেবে ফখরু চাচা তাঁর আরও কয়েক ভাইকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের আদি নিবাসে যাওয়ার আয়োজন করেন। তিন দিনের সেই সফরে মাওলা বখশ চাচার সঙ্গে আমিও গিয়েছিলাম। আরও ছিলেন আমার আব্বার দুই বড় ভাই ফজলে রাব্বি (জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সাবেক পরিচালক) এবং বজলে রাব্বি (সাবেক ব্যাংকার) ও তাঁর দুই ছেলে। সম্ভবত সেটাই মাওলা বখশ চাচার নিজ গ্রামে শেষবারের মতো যাওয়া। ফখরুদ্দীন আহমদ আবার বাংলাদেশের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হয়েছিলেন ১৯৯১ সালে। তিনি ইন্তেকাল করেছেন বেশ কয়েক বছর আগে। তাঁদের আরেক ভাই মহিউদ্দীন আহমদ বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী। বাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে।
আদি নিবাসের কথা যখন এল, তখন সালাহ্উদ্দীন আহমদের পূর্বপুরুষের পরিচয়সূত্রটা স্পষ্টভাবে বলা দরকার। নিজে সারা জীবন নির্মোহভাবে কাটিয়েছেন বলেই বোধ হয় এ বিষয়ে তেমন কথা বলেননি। হয়তো ভেবেছিলেন, ব্যক্তির পারিবারিক বংশ-পরিচয়ের চেয়ে সমাজ–জাতির বৃহত্তর পরিচয়টা বেশি তাৎপর্যবাহী। এই ঔদার্যের ফলে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের শুভানুধ্যায়ী, গুণগ্রাহী থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীরা অনেকেই জানেন না যে তাঁর পিতামহ মৌলভি আহমদ অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলমান গ্র্যাজুয়েটদের একজন। আহমদের পিতা মুন্সি ফইজুদ্দীন এখন থেকে দেড় শ বছরের বেশি সময় আগে আজকের গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রাম থেকে পাড়ি দিয়েছিলেন কলকাতায়। উপলব্ধি করেছিলেন, ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত না হলে পিছিয়েই থাকতে হবে। সে কারণেই পুত্র আহমদকে কলকাতায় পড়ালেখা করিয়েছিলেন।
কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ ও এমএ পাস করে মৌলভি আহমদ হয়েছিলেন ব্রিটিশ রাজের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। অবশ্য তার আগে কিছুকাল শিক্ষকতা ও স্কুল পরিদর্শকের কাজ করেছিলেন। মেদিনীপুর, ফেনী ও ময়মনসিংহে কর্মজীবন কেটেছে। ফেনীতে এসডিও অবস্থায় একটি স্কুলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আর ময়মনসিংহে সম্ভবত এসডিও অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় অকালমৃত্যু হয় মৌলভি আহমদের। সেটা ১৯১৩ সালে। তাঁর তখন এক কন্যা ও তিন পুত্র। জ্যেষ্ঠ পুত্র আবু আহমেদ ফয়জুল মহীই হলেন সালাহ্উদ্দীন আহমদের বাবা। অন্যদিকে তাঁর মাতামহ বিহারের মতিহারি নিবাসী কাজী আজিজুল হক ছিলেন ফিঙ্গারপ্রিন্টের অন্যতম আবিষ্কারক, যা কিনা শত বছর ধরে অস্বীকৃত ছিল। ঘটনাচক্রে পিতামহ মৌলভি আহমদের মৃত্যুর ১০১ বছর পর এ বছরের ১৯ অক্টোবর তাঁরই জ্যেষ্ঠ পৌত্র সালাহ্উদ্দীন আহমদ চিরবিদায় নিলেন। তিনি জন্মেছিলেন ১৯২২ সালে ফরিদপুরে। তাঁর বাবা-চাচারা তখন ফরিদপুর শহরে বসবাস করতেন। তবে বাঁশবাড়িয়া গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি। পরবর্তীকালে চাচার ভাইবোনেরা অনেকেই বিদেশে পাড়ি জমান।
স্পষ্ট মনে আছে, প্রথম যেদিন বনানীতে মাওলা বখশ চাচার বাসায় গিয়ে সারা দিন তাঁর সঙ্গে কাটালাম, সেদিন তিনি আমার হাতে তাঁর বাঙালির সাধনা ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বইটি তুলে দেন। বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের ধারাবাহিকতা বোঝার জন্য এটি আসলেই একটি অসাধারণ গ্রন্থ। ১২টি প্রবন্ধ-নিবন্ধের সংকলন এই বইতে সালাহ্উদ্দীন আহমদ তত্ত্ব-তথ্য ও যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতার একটি চূড়ান্ত রূপ। তার মৃত্যুর পর বাসায় বইটি খুলে দেখলাম তাঁর স্বাক্ষরটি ১৯৯৪ সালের আগস্ট মাসের। অর্থাৎ আজ থেকে ২০ বছর আগে আমি মাওলা বখশ চাচার সান্নিধ্যে আসতে শুরু করি। তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সেদিন দুপুরে চাচা-চাচির সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করি। চাচি হামিদা খানমের কথাও একটু বলা দরকার। কলকাতার বেথুন কলেজের প্রথম দিককার মুসলমান ছাত্রীদের একজন তিনি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৃত্তি নিয়ে ব্রিটিশ আমলেই বিলেত গিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষার্থে। প্রখর ব্যক্তিত্ববোধসম্পন্ন চাচিও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে গেছেন। সর্বশেষ ছিলেন ঢাকার গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যক্ষ। চাচার আগেই চাচি বিদায় নিয়েছেন। সেটা ২০১২ সালে। তাঁর বড় ভাই মরহুম আবদুল আহাদ হলেন বিখ্যাত সুরকার ও রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ।
মাওলা বখশ চাচার সঙ্গে যোগাযোগ কিছুটা স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল মাঝখানে কয়েক বছর। তবে পারিবারিক বিভিন্ন আয়োজনে যেখানেই আমাকে দেখতেন, সস্নেহে কাছে টেনে নিতেন, হাসিমুখে কথা বলতেন নানা বিষয়ে। পড়তে বলতেন বিভিন্ন বইপত্র। আর তাঁর বাসায় গেলে আলাপচারিতায় সব সময়ই বলতেন মুক্তমনে চিন্তা করতে। তিনি প্রবলভাবে বিশ্বাস করতেন ধর্মনিরপেক্ষতায়। শুধু মুখের কথায় নয়, জীবনজুড়ে তিনি ও চাচি এই বিশ্বাসের লালন ও চর্চা করেছেন। ধর্মপরিচয়ের চেয়ে মানুষের পরিচয় তাঁদের কাছে সব সময়ই অগ্রাধিকার পেয়েছে। আর তাই ধর্মানুরাগ বা ধর্মের অনুশাসন যাঁরা অনুসরণ করতেন, কোনো রকম বিরাগের বাইরে থেকে তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক ও যোগাযোগ বজায় রাখতেন। আর স্পষ্টতই ধর্মীয় গোঁড়ামি প্রচণ্ডভাবে অপছন্দ করতেন।
বস্তুত, মাওলা বখশ চাচা আমাদের শিখিয়েছিলেন ও বুঝিয়েছিলেন যে বাঙালির ইতিহাসে ইসলামের যে প্রভাব, তার মধ্যে সমন্বয়বাদী ধারাটিই মানবমুখী ধারা। অর্থাৎ মুসলমান ধর্মাবলম্বী হয়েও মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিলে জীবন যাপন করা, সহিষ্ণুতা ও উদারতার চর্চা করার মাধ্যমেই শত শত বছর ধরে এই ভূখণ্ডে বাঙালি মুসলমানের আলোকিত মানসলোক গড়ে উঠেছে। এর বিপরীতে রক্ষণশীল গোঁড়াপন্থী ধারায় বিশ্বাসী মুসলমানরা বরাবরই গোটা সম্প্রদায়কে পেছনে টেনে রেখেছে, কূপমণ্ডূকতায় নিমজ্জিত হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রকে সাম্প্রদায়িকতার শিকলে বেঁধে রাখতে চেয়েছে। মাওলা বখশ চাচা এ বিষয়েও সব সময় আমাদের সতর্ক করেছেন। ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠতায় সচেষ্ট থেকেছেন সব সময়। জগন্নাথ কলেজ থেকে অধ্যাপনা শুরু করে পরবর্তী সময়ে ঢাকা, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। কথ্য ইতিহাস প্রকল্পের মূল পরিকল্পক তিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার ক্যাসেটবন্দী করে তা পরবর্তী সময়ে লিখিত রূপ দেওয়ার একটি কাজে তিনি আমাকেও সম্পৃক্ত করেছিলেন। আমি কয়েকটি ক্যাসেটের শ্রুতিলিখন করেছিলাম।
মাওলা বখশ চাচার সঙ্গে সর্বশেষ সাক্ষাৎ এ বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর। ওই তারিখে সন্ধ্যার পর আমরা বেশ কয়েকজন তাঁর বাসায় জড়ো হয়েছিলাম। অনেক খানাদানার আয়োজন ছিল। চাচার দীর্ঘদিনের সহকারী অমল ও শিল্পী যাবতীয় রান্নাবান্না ও আপ্যায়নের সবকিছু করত। অমলের ছেলে আশীষ চাচার আত্মজীবনীর শ্রুতিলিখন করেছে। চাচার শেষনিঃশ্বাস ত্যাগের সময় এরা তিনজনই পাশে ছিল। এই তিনজন চাচার পরম আত্মীয় বললে অত্যুক্তি হবে না। বিশেষত, অমলকে চেনে না, চাচার এমন কোনো আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, গুণগ্রাহী বা ছাত্রছাত্রী নেই বললেই চলে।
ওই দিন চাচা বারবার করে সবার খাওয়া ঠিকমতো হয়েছে কি না, তার খোঁজ নিচ্ছেলেন। চলে আসার আগে আমার সহধর্মিণীর মাথায় হাত রেখে দোয়া করে দেন। আমাদের বৃহত্তর পরিবারের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য যেন এভাবেই সবাইকে আশ্বস্ত করতেন, ভরসা দিতেন। সেই হাতটি চিরদিনের মতো হারিয়ে গেল।
আসজাদুল কিবরিয়া: সাংবাদিক।
asjadulk@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সরকারের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করা হবে : জামায়াত

বুলবুল বলেন, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। সরকারের প্রতিহিংসার কারণেই সাবেক আমিরে জামায়াত অধ্যাপক গোলাম আযম কারাগারেই ইন্তেকাল করেছেন। কিন্তু বরেণ্য এসব জাতীয় নেতাদের সাথে সরকারের ন্যাক্কারজনক আচরণ সচেতন জনতা বিনাচ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেবে না।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মোবারক হোসাইন, কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুর রহমান মুসা ও লস্কর মোহাম্মদ তসলিম, জামায়াত নেতা আব্দুস সালাম, মাহফুজুর রহমান, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সোলাইমান হোসেন, মিজানুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান প্রমূখ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দিনে শিক্ষক, রাতে চোর

তিনি স্কটল্যান্ডের মিথিলহিল প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তবে চুরির অভিযোগ এনে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে স্কটল্যান্ডের জেনারেল টিচিং কাউন্সিল।
ভ্যানিসা নেশার খরচ যোগানোর জন্য অন্যের ঘরের দরজা ভেঙে নগদ টাকা চুরি করেন। এ ছাড়া ২০১২ সালে গ্যারেজ থেকে পেট্রোল চুরি করার অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে।
অবশ্য চেষ্টার পর তার হেরোইন আসত্তি ছুটে গেছে বলে জানিয়েছেন স্বয়ং ভ্যানিসা। এখন তিনি তার দাদির সাথে বসবাস করছেন।
ভ্যানিসা বলেন, আমি হেরোইনের নেশা ছাড়ার উদ্দেশে দাদির কাছে চলে আসি। প্রথমে দাদিকে জানাই আমি ভালো হতে চাই। তিনি আমাকে আশ্রয় দেন। এতে দিন দিন আমিও সুস্থ হয়ে উঠি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মহররম ও আশুরা by মুসলিহুদ্দীন আহমাদ রূমী

ওপরে উল্লিখিত আয়াতে সম্মানিত মাসগুলো কী তা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিস শরিফে বলে দিয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব (সহিহ বুখারি, দ্বিতীয় খণ্ড, ৬৭২)।
মহররম শব্দের অর্থ হচ্ছে যাকে ‘হুরমত’ প্রদান করা হয়েছে। আরবি ভাষায় হুরমত বলা হয় সম্মান, মর্যাদা, মাহাত্ম ও পবিত্রতাকে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই মাসকে বিশেষ সম্মান দান করেছেন।
হজরত ইবরাহিম আ:-এর শরিয়তেও অন্যান্য নবীগণের মতো এই মাসগুলোর সম্মান-মর্যাদা স্বীকৃত ছিল এবং এগুলোতে জায়েজ উদ্দেশ্যও যুদ্ধ-বিগ্রহ হারাম ছিল। মক্কার মুশরিকরা নিজেদের হজরত ইবরাহিম আলাইহিসসালামের অনুসারী দাবি করত, এবং তাদের মধ্যে হজরত ইবরাহিম আ:-এর অনেক কথার প্রচলন ছিল। যদিও বাস্তবতা ছিল এর ভিন্ন, যা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাদের এই অসার দাবি খণ্ডন করেছেন এই বলে, ‘তিনি (হজরত ইবরাহিম আ:) মুশরিক ছিলেন না’ (সূরা বাকারা : ১৩৫)।
তথাপি তারা এই মাসগুলোকে সম্মান করত এবং যুদ্ববিগ্রহকে হারাম মনে করত। তাই কুরআনে কারিমে হুকুম করা হয়েছে এই মাসগুলোকে সম্মান করতে। আর এগুলোর মধ্যে মহররম মাস অন্যতম।
হাদিস শরিফে নবী করিম সা: মহররমের দশ তারিখে রোজা রাখার আদেশ দিয়েছেন। শুরুতে যখন রমজানের রোজা ফরজ ছিল না তখন আশুরার রোজা ফরজ ছিল। পরে যখন রমজানের রোজা ফরজ হয় তখন আশুরার রোজা ফরজ থাকেনি (সুনানে আবু দাউদ : ২৪৪৪)।
তবে এই রোজা অনেক ফজিলতপূর্ণ এবং এর মহা সাওয়াবের কথা নবী করিম সা: হাদিস শরিফে ব্যক্ত করেছেন। নবী করিম সা: ইরশাদ করেন, ‘রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হচ্ছে মহররম মাসের রোজা’ (মুসলিম শরীফ)।
হজরত ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সা:- কে আশুরার দিন এবং রমজান মাসে যেরূপ যতেœর সাথে রোজা রাখতে দেখেছি, অন্য কোনো সময় দেখিনি’ (বুখারি, মুসলিম)।
হজরত আবু কাতাদাহ আল-আনসারী রা: থেকে বর্ণিত, নবী করিম সা: আশুরার রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ইরশাদ করেন, এই রোজার দ্বারা বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ হয় (ইবনে মাজাহ, মুসলিম শরীফ)।
ওপরে উল্লিখিত আয়াত ও হাদিসগুলো দ্বারা এই মাসে, বিশেষভাবে আশুরার দিনে যা করণীয় ও বর্জনীয় সাব্যস্ত হয়, সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো।
করনীয় কাজগুলো : আগেই উল্লেখ হয়েছে, রমজান মাসের পর সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ রোজা হচ্ছে মহররম মাসের রোজা, তাই সাধ্য অনুযায়ী পুরো মহররম মাসজুড়ে বেশি বেশি রোজা রাখতে সচেষ্ট হতে হবে। বিশেষভাবে আশুরা দিবসের রোজা রাখা। এর অনেক ফজিলত ও গুরুত্ব এসেছে হাদিস শরিফে। এর দ্বারা বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।
আগেই উল্লেখ হয়েছে যে, আশুরার রোজা একসময় ফরজ ছিল, পরে যখন রমজানের রোজা ফরজ হয় তখন এই রোজা রাখা আর ফরজ থাকেনি। তবে যেহেতু এই দিন ইহুদিরাও রোজা রাখে, তাই নবী করিম সা: ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা এর সাথে আগে বা পরে একটি রোজা মিলিয়ে রাখো যেন ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য না হয়।’ তাই ওলামায়ে কিরাম বলেন, আশুরার সাথে আগে অথবা পরে অর্থাৎ ৯-১০ বা ১০-১১ তারিখে একসাথে দু’টি রোজা রাখা উত্তম।
এ দিনে আল্লাহ তায়ালা পূর্ববর্তী উম্মতের তওবা কবুল করেছেন এবং এ উম্মতকেও ক্ষমা করার প্রতিশ্রুতি হাদিস শরিফে এসেছে। তাই এ দিনে আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি ইসতেগফার করা এবং খালেস দিলে তওবা করা।
বর্জনীয় কাজগুলো : যে আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন যে, চারটি মাস সম্মানিত, সে আয়াতেরই শেষ অংশে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘অতএব তোমরা এই মাসগুলোতে নিজেদের ওপর জুলুম কোরো না’ (সূরা তাওবা : ৩৬)।
বাহ্যিক অর্থ হচ্ছে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যে জান আমাদের দান করেছেন এটার হিফাজত করা। একে কষ্ট না দেয়া, অকারণে একে বিপদে না ফেলা। সব ক্ষতিকারক জিনিস থেকে এর হিফাজত করা। তাই এই মাসে অনেকে হজরত হুসাইন রা:-এর শাহাদতের ওপর শোকের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ যে বুক চাপড়ায়, নিজের শরীরকে জখম করে, রক্তাক্ত করে, কুরআন মজিদ এই কাজকে কঠিনভাবে নিষেধ করছে।
নিজের জানকে কষ্টে ফেলে শোক প্রকাশ করার ওপর হাদিস শরীফেও কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, ‘ওই ব্যক্তি আমাদের (মুসলমানদের) দলভুক্ত নয় যে তার গাল চাপড়ায়, জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং জামানায় জাহিলিয়াতের মতো ক্রন্দন করে (শোক প্রকাশ করে)’ (সহিহ বুখারি, কিতাবুল জানায়েজ)।
আজকাল আশুরা উপলক্ষে যে মাতম করা হয়, ইসলাম তার অনুমতি দেয় না, এবং যার শাহাদতে শোক প্রকাশ করা হয়ে থাকে, তিনি নিজেও এরূপ করতে পরিষ্কারভাকে বারণ করে গেছেন।
এই মাসে নেক আমলের যেমন বিশাল সওয়াব রয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে এ দিনগুলোয় গুনাহেরও ভয়াবহ শাস্তি রয়েছে। তাই এমন কোনো কাজে লিপ্ত না হওয়া একান্ত কাম্য যার দ্বারা এ মাসের পবিত্রতা নষ্ট হয় অথবা এর মর্যাদাহানি হয়।
আমাদের সমাজে অনেকের একটা ভুল ধারণা রয়েছে, অনেকে মনে করেন, আশুরা বা দশই মহররমের ফজিলত এই জন্য যে, এই দিনে নবী দৌহিত্র হজরত হুসাইন রা: কারবালার ময়দানে শাহাদতবরণ করেছেন। অথচ এই মাসের, বিশেষ করে আশুরার ফজিলত নবী করিম সা:-এর দুনিয়াতে আগমনের আগে থেকেই সাব্যস্ত। যেহেতু আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের হুকুম ছিল, তাই সব নবী আ:-এর ফজিলতের কথা উম্মতকে জানিয়ে গিয়েছেন। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ সা: ও এটাকে আল্লাহর হুকুমে অবশিষ্ট রেখেছেন। যখন তিনি এর ফজিলত উম্মতের সামনে পেশ করেন, তখন হজরত হুসাইন রা: ছিলেন শিশু। আর বাস্তবতাও হচ্ছে এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আর তা হচ্ছে হজরত হুসাইন রা:-এর ফজিলত ও মহত্ত্বের বহিঃপ্রকাশের উদ্দেশ্যেই হয়তো আল্লাহ তায়ালা তাঁর শাহাদতের জন্য এই মহান দিনকে বেঁছে নিয়েছেন, যার ফজিলত পূর্ববর্তী আম্বিয়া আলাইহিমুসসালামের যুগ থেকে স্বীকৃত।
আমাদের সমাজে একটা প্রথা প্রচলিত রয়েছে, আর তা হচ্ছে এই দিনে অন্যান্য দিনের তুলনায় ঘরে ভালো রান্না করা। আর পেছনে বিভিন্ন ফজিলতও বর্ণনা করা হয়। যদিও কেউ কেউ এ বিষয়ক রেওয়াত এনেছেন, যেমন বাইহাকি ও ইবনে হিব্বান প্রমুখ; কিন্তু তা কোনো সূত্র দ্বারা সমর্থিত নয়।
লেখক : প্রবন্ধকার
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আশুরার আমল by মাওলানা জিয়াউল আশরাফ
অপর হাদিসে রাসূলে করিম সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি মহররমের প্রথম দশ দিন রোজা রাখে, সে যেন দশ হাজার বছর যাবৎ দিনে রোজা রাখল এবং রাতে ইবাদত করল’ (বায়হাকি)। মহররম মাসের সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো ইয়াওমুল আশুরা তথা মহররমের দশ তারিখের রোজা। তবে যেহেতু ইহুদিরাও দশ তারিখের রোজা রাখে, তাই রাসূল সা: দশ তারিখের রোজার সাথে মিলিয়ে আরো একটি, অর্থাৎ মোট দু’টি রোজা রাখার কথা বলেছেন। নিঃসন্দেহে এই রোজা অনেক ফজিলতপূর্ণ, যা একাধিক হাদিস ও বুজুর্গানে দ্বীনের আমল দ্বারা প্রমাণিত। তবুও আমাদের মনে রাখতে হবে, এই রোজা ফরজ নয়। তাই যার যার ইচ্ছানুযায়ী এই দিনে রোজা রাখতে পারেন। না রাখলে কোনো গুনাহ হবে না। আজকের সমাজে অনেকে এই রোজা না রাখাকে মহাপাপ মনে করেন, যা চরম অজ্ঞতার পরিচায়ক। মহররম মাস যেহেতু পবিত্র ও সম্মানিত, তাই এ মাসে সামর্থ্য অনুসারে দান-খয়রাত, নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াতেরও বিশেষ ফজিলত রয়েছে। তাই এই মাসে এবাদতের প্রতি বিশেষভাবে মনোনিবেশ করা দরকার।
মহররম মাসে বিদআত : মহররম মাস আনন্দের মাস, আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করার মাস। নতুন বছরের শুরুর মাসেই নিজেকে সংশোধন ও সত্যের আলোয় রাঙানোর মাস। এখানে বিদআত তথা অতিরঞ্জিত কোনো কিছুর স্থান নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলোÑ আশুরাকে কেন্দ্র করে কিছু ভ্রান্ত মতবাদ সমাজে চালু আছে। যেমন তাজিয়া তৈরি, হোসাইন রা:-কে স্মরণ করার নামে মাতম করা অথবা অতি আনন্দে আলোকসজ্জা বা পটকা ফুটানো ইত্যাদি। এগুলো ইসলাম কোনোভাবেই সমর্থন করে না। ইসলামের মতো সত্য ও সুন্দর ধর্মে এসব ভণ্ডামির কোনো আশ্রয় নেই। মহররম মাসে আমাদের উচিত সর্বপ্রকার কুসংস্কার ও বিদআত থেকে মুক্ত হয়ে কুরআন ও হাদিসের আলোকে এ মাসকে যথাযথ সম্মান করা এবং বেশি বেশি এবাদত করা।
লেখক : পরিচালক, মাদরাসা হাদিউল
উম্মাহ ইন্টারন্যাশনাল
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কারবালার বিশ্বাসঘাতকেরা by রুমানা আক্তার রুমা

১. ইয়াজিদ : ইয়াজিদের কারণেই কারবালা প্রান্তরে হজরত হুসাইনকে শহীদ করা হয়। কারবালা যুদ্ধের পর মুসলিম দুনিয়ায় বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে। বিশেষ করে মক্কা-মদিনার অধিবাসীরা এমন বিয়োগান্ত ঘটনার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতে লাগল। ইতোমধ্যে ইয়াজিদ বাহিনী মক্কা-মদিনা আক্রমণ করে বহুসংখ্যক লোককে শহীদ করল। এমনকি ইয়াজিদের বাহিনী পবিত্র কাবা শরিফে অগ্নিসংযোগ করে। যেদিন কাবা শরিফে আগুন দেয়া হয়েছিল সেদিন ইয়াজিদ এক অজ্ঞাত রোগে দামেস্কে মারা যায়। তার অনুসারীরা রাতের আঁধারে অজ্ঞাত স্থানে তাকে কবর দেয়। আজ পর্যন্ত কেউ ইয়াজিদের কবরের সন্ধান পায়নি। ইয়াজিদের মৃত্যুর পর তার ছেলে মাবিয়া আসগরের হাতে লোকেরা বাইয়াত গ্রহণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করল। কিন্তু সে তাতে রাজি হয়নি। এরপর সে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ৪০ দিন পর মারা যায়।
মুখতার সকফির যথার্থ প্রতিশোধ গ্রহণ : ইয়াজিদের মৃত্যুর কিছু দিন পর মারওয়ান ক্ষমতা দখল করে। তখন মক্কা-মদিনা ও কুফাসহ সমগ্র আরব বিশ্বে বিদ্রোহ চরম আকারে দেখা দিলো। কুফাবাসী বেশি অনুতপ্ত ছিল। কেননা তাদের বিশ্বাসঘাতকতার ফলে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটল। তারা ভাবল, কিভাবে এর প্রায়শ্চিত্ত করা যায়। কুফার গভর্নর ইবনে জিয়াদ পালিয়ে দামেস্কে চলে যায়। মুখতার সকফি কুফায় গভর্নরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মুখতার সকফি ইমাম হুসাইনের শাহাদতের বদলা নেয়ার জন্য ডাক দিলেন। সাথে সাথে সমগ্র কুফাবাসী তার আহ্বানে সাড়া দিলো। শুরু হলো প্রতিশোধ নেয়ার পালা।
১. আমর বিন সাদ ও তার ছেলে : সর্বপ্রথম সেই নরাধম, পাপিষ্ঠ আমর বিন সাদকে তলব করা হলো, যে ইয়াজিদের বর্বর বাহিনীর সেনাপতি ছিল এবং তারই পরিচালনায় কারবালায় যুদ্ধ সংঘটিত হয়। তার ছেলে এসে বলল, আমার পিতা এখন সব কিছু ত্যাগ করে নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করছে। সে ঘর থেকে বের হয় না। সকফি কোনো অজুহাত গ্রহণ করলেন না। তারপর তাকে ধরে এনে পিতা-পুত্রের মাথা কেটে মদিনা শরিফে মুহাম্মাদ বিন হানফিয়া রা:-এর কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
২. হাওলা বিন ইয়াজিদ : হাওলা বিন ইয়াজিদ ইমাম হুসাইনের মস্তক দেহ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে তার নিজের ঘরে নিয়ে গিয়েছিল। তাকে ধরে এনে হাত-পা কেটে শূলে চড়ানো হলো। তার লাশ জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল।
৩. সিমার : এই সিমার ইমাম হুসাইনের গলায় ছুরি চালিয়েছিল। মুখতার সকফি যখন ইমাম হুসাইন রা:-এর বিরুদ্ধে অস্ত্রধারী একেকজনকে হত্যা করছিলেন তখন পাপিষ্ঠ সিমার কুফা থেকে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল। এ পাপিষ্ঠের শেষ রক্ষা হয়নি। সে মুখতার সকফির বাহিনীর হাতে ধরা পড়ল। তারা তাকে দুই টুকরা করে মুখতার সকফির কাছে পাঠিয়ে দেয় এবং লাশ কুকুরকে দেয়া হয়।
৪. হাকিম বিন তোফায়েল : এই নরাধম, যে হজরত আব্বাস রা:-এর শরীর থেকে পোশাক খুলে নিয়েছিল এবং ইমাম হুসাইনের প্রতি তীর নিক্ষেপ করেছিল, তাকেও হত্যা করা হয়েছিল এবং তার মাথা বর্শার অগ্রভাগে উঠিয়ে মুখতার সকফির সামনে আনা হয়েছিল।
৫. জায়েদ বিন রেকাত : এই জালিম, যে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে আকিল রা:-এর কপালে তীর নিক্ষেপ করেছিল। তাকে ধরে এনে জীবিত জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল।
৬. উমর বিন সবি : এই লোক হজরত ইমাম হুসাইন রা:-এর সাথীদেরকে তীর নিক্ষেপ করে আহত করেছিল। তাকে ধরে তীরের আঘাতে হত্যা করা হয়েছিল।
৭. আমর বিন সবি : এই আমর বিন সবি, যে গর্ব করে বলে বেড়াত, ‘আমি হুসাইনের কোনো সাহাবিকে হত্যা করার সুযোগ পাইনি বটে, কিন্তু তীর নিক্ষেপ করে অনেককে জখম করতে সক্ষম হয়েছিলাম। একে ধরে সবার সামনে বর্শার আঘাতে হত্যা করা হয়েছিল।
৮. নরাধম ইবনে জিয়াদের করুণ পরিণতি : ইয়াজিদের পর এই নরাধম ইবনে জিয়াদ সবচেয়ে জঘন্য অপরাধী। কারবালার ঘটনার সময় এই ব্যক্তি কুফার গভর্নর ছিল। মুখতার সকফি এই নরাধমকে হত্যা না করা পর্যন্ত স্বস্তি পাচ্ছিলেন না। তিনি ইব্রাহিম বিন মালেক আলতাবের নেতৃত্বে এক বিরাট সৈন্যবাহিনী ইবনে জিয়াদকে পরাস্ত করার জন্য প্রেরণ করেন। মুসল শহরের কাছে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। এ যুদ্ধে ইবনে জিয়াদের বাহিনীর পরাজয় ঘটে। ইবনে জিয়াদ পলায়নকালে ইব্রাহিম মালেকের সৈন্যবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। ইব্রাহিম মালেকের সৈন্যরা ইবনে জিয়াদের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। দেহ আগুনে পুড়িয়ে দেয়। মাথা বর্শার অগ্রভাগে তুলে কুফায় নিয়ে আসে। তখন সকফি কুফাবাসীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আজ থেকে ছয় বছর আগে এই দিনেই এই জায়গায়, এই জালিমের সামনে ইমাম হুসাইন রা:-এর মস্তক রাখা হয়েছিল। আজ আমার সামনে সেই জালিমের মাথা রাখা হয়েছে।’ এই সময় হঠাৎ একটি সাপ এসে ইবনে জিয়াদের নাকের ভেতর দিয়ে মস্তকে প্রবেশ করে বের হয়ে গেল। এই রূপ তিনবার করে সাপটি অদৃশ্য হয়ে গেল। এভাবে মুখতার সকফি কারবালার শহীদদের পবিত্র রক্তের যথাযথ বদলা নিয়েছিলেন।
লেখক : প্রবন্ধকার
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হিজরি সনের প্রচলন ও তাৎপর্য by নইম কাদের
হজরত মুহাম্মদ সা: এবং প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর রা:-এর শাসনকালে মুসলিম সমাজে হিজরি সন গণনা এবং সরকারি নথিপত্রে হিজরি সন-তারিখ ব্যবহারের প্রচলন ছিল না। তবে প্রাক-ইসলামী যুগ থেকে কিছু বিখ্যাত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন গণনার প্রথা প্রচলিত ছিল। যেমন পাপিষ্ঠ বাদশাহ আবরাহা কর্তৃক পবিত্র কাবাঘর ধ্বংসের জন্য আগমনের সালকে ‘হাতির বছর’ হিসেবে গণনা করা হতো। মুসলমানদের মাঝেও এ রকম কিছু সন গণনার প্রচলন ছিল। যেমন আল্লাহর রাসূল সা:-এর চাচা আবু তালিব ও উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজাতুল কোবরা রা:-এর ইন্তেকালের বছর ‘পেরেশানির বছর’, হিজরতের বছর ‘অনমুতির বছর’, হিজরতের দ্বিতীয় বছর ‘যুদ্ধের আদেশের বছর’ ইত্যাদি আরো কিছু সন গণনা করা হতো। তবে একটি স্বতন্ত্র কোনো ইসলামী ক্যালেন্ডার ছিল না।
হিজরি সন আনুষ্ঠানিকভাবে গণনা শুরু হয় হিজরতের ১৭ বছর পর, হজরত ওমর রা:-এর সময়ে, তার খিলাফতের চতুর্থ বছরে। অপর এক মত অনুযায়ী সর্বপ্রথম হিজরি সন গণনার প্রচলন করেন প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর রা: কর্তৃক নিযুক্ত ইয়েমেনের শাসনকর্তা হজরত ইয়ালা ইবনে উমাইয়া রা:। তবে এই মতটি খুবই দুর্বল। তা ছাড়া যুক্তিও এ মতকে পুরোপুরি গ্রহণ করে না। হজরত ইয়ালা ইবনে উমাইয়া রা: ছিলেন হজরত আবু বকর রা: কর্তৃক নিযুক্ত একটি প্রদেশের শাসনকর্তা। হজরত আবু বকর রা: কর্তৃক হিজরি সন গণনার কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় না। খলিফা কর্তৃক নিযুক্ত একজন প্রাদেশিক শাসনকর্তা খলিফার অগোচরে এ রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন তা হতে পারে না। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর রা: কর্তৃক তারই খেলাফতকালে সর্বপ্রথম হিজরি সন গণনা শুরু হয়। এটাই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মত।
হিজরি সন গণনা শুরু হয় যেভাবে : স্বতন্ত্র ইসলামী সন গণনা বিষয়ে সর্বপ্রথম হজরত ওমর রা: সিদ্ধান্ত নেন। হজরত ওমর রা:-এর শাসনামলে ইসলামী সাম্রাজ্যের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটে। রাষ্ট্র পরিচলনা, কর, খাজনা, জাকাত আদায়, সরকারি চিঠিপত্র আদান-প্রদান ইত্যাদিতে সন-তারিখের উল্লেখ খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অপর এক বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, এ সময় প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবু মুসা আশআ’রি রা: খলিফার কাছে এক চিঠিতে খলিফার পক্ষ থেকে প্রেরিত সরকারি চিঠিপত্রে সন-তারিখ উল্লেখ না থাকায় এর বিভিন্ন অসুবিধার কথা জানান। গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি নিয়ে খলিফা সবার সাথে আলোচনা করেন এবং একটি আলাদা ইসলামী ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। খলিফা ওমর ইবনে খাত্তাব রা: ইসলামী সনের শুরু কী হবে, ইসলামী সনের প্রথম বছর কোন জায়গা থেকে আরম্ভ করা হবে তা নিয়ে বিভিন্ন জনের সাথে পরামর্শ করলেন। কারো পরামর্শ ছিল ইসলামী ক্যালেন্ডার শুরু করা হোক প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর জন্মের তারিখ থেকে। আবার কেউ পরামর্শ দিলেন হজরতের ইন্তেকাল থেকেই ইসলামী ক্যালেন্ডার শুরু করার জন্য। হজরত আলী রা: ইসলামী ক্যালেন্ডার শুরুর পরামর্শ দিলেন হজরতের মক্কা থেকে মদিনা হিজরতের তারিখ থেকে। অনেক আলোচনা পর্যালোচনার পর হজরত আলী রা:-এর পরামর্শই গৃহীত হয়। এরপর আবার প্রশ্ন সৃষ্টি হয়, কোন মাস থেকে ইসলামী ক্যালেন্ডার গণনা শুরু হবে? অর্থাৎ হিজরি সনের প্রথম মাস হবে কোনটি? এ প্রশ্নেও বিভিন্ন জন বিভিন্ন রকম পরামর্শ দেন। কারো পরামর্শ ছিল রজব মাস হোক ইসলামী সন গণনার প্রথম মাস। তাদের যুক্তি ছিল প্রাক-ইসলামী যুগেও রজব মাসকে সবাই পবিত্র মাস হিসেবে মানত। আবার কেউ পরামর্শ দিলেন রমজান মাস দিয়ে ইসলামী ক্যালেন্ডার শুরু করতে। কারণ মাহে রমজান মুসলমানদের কাছে পবিত্র মাস। পবিত্র হজের মাস হিসেবে জিলহজ মাসকে ইসলামী ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস গণনার পরামর্শ ছিল কারো কারো। কিন্তু হজরত ওসমান রা: পরামর্শ দিলেন মহররম মাস দিয়েই ইসলামী সন গণনার। তার যুক্তি ছিল সমগ্র আরব অঞ্চলে নুতন সন গণনা শুরু হয় মহররম মাস দিয়েই। সুতরাং নতুন ইসলামী ক্যালেন্ডারও মহররম মাস দিয়ে শুরু করা হোক। অবশেষে হজরত ওসমান রা:-এর পরামর্শই গৃহীত হয়। বাকি মাসগুলো আরব অঞ্চলে প্রচলিত আগের নিয়ম মতোই রাখা হলো। ইসলামী ক্যালেন্ডারের নামকরণ হয় হিজরি সন।
হজরত মুহাম্মদ সা: নববী ত্রয়োদশ সাল, বরিউল আউয়ালের শুরু অথবা সফর মাসের শেষ দিন সোমবার মদিনার উদ্দেশে মক্কা ত্যাগ করেন। বেশির ভাগ ঐতিহাসিকের বর্ণনা মতে ৮ রবিউল আউয়াল, কারো কারো মতে ১২ রবিউল আউয়াল, নববী ১৩ সাল, মোতাবেক ২০ সেপ্টেম্বর, ৬২২ সাল তিনি মদিনায় পৌঁছেন। হিজরতের এ হিসাব অনুযায়ী হিজরি সন গণনা দুই মাস আট দিন বা ১২ দিন পিছিয়ে নিয়ে ১ মহররম থেকে শুরু করা হয়েছে।
মুসলমানদের প্রাত্যহিক জীবনে হিজরি সন গণনার গুরুত্ব অপরিসীম। একজন মুসলমান সন তারিখ হিসাবের জন্য যেকোনো ক্যালেন্ডার ব্যবহার করতে পারেন, ইসলামী শরিয়ায় তাতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু তা হাদিসের ওপর আমল হবে না। হাদিসের ওপর আমল হবে যদি তা হিজরি সন হয়। হিজরি সন হচ্ছে ইসলামী ঐতিহ্য। যে ঐতিহ্যের সাথে সরাসরি সম্পর্ক আল্লাহর রাসূল সা: এবং সাহাবায়ে কেরামদের। হাদিসে বর্ণিত আছে যে, একদা আল্লাহর রাসূল সা:-কে প্রশ্ন করা হলো তিনি কী কারণে সোমবারকে বিশেষভাবে পালন করেন? উত্তরে তিনি ইরশাদ করলেন, ‘ওই দিন আমি জন্মগ্রহণ করি, ওই দিন আমি নুবুওয়াত লাভ করি এবং ওই দিন আমি স্বদেশ পরিত্যাগ করে মদিনাভিমুখে যাত্রা করি।’
একসময় মুসলমানদের দৈনন্দিন কাজে সন তারিখ গণনায় হিজরি সন ব্যবহার করা হতো। এমনকি বিয়ের তারিখ লেখায় প্রথমেই হিজরি সনের উল্লেখ থাকত, তারপর থাকত বাংলা ও ইংরেজি। বর্তমানে তা কমে গেছে। এটাকে কোনো মতেই আধুনিকতা বলা যাবে না। বরং নিজ ধর্ম ও ঐতিহ্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ায় এটাকে হীনম্মন্যতা বলা চলে। আফসোসের বিষয় হচ্ছে, ইসলামী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেও হিজরি সন গণনার রেওয়াজ উঠে গেছে। এমনকি সরকারি মাদরাসাগুলোতেও হিজরি সনের প্রচলন নেই। অবশ্য কওমি মাদরাসাগুলো এখনো ইসলামের এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। হাদিসের ওপর আমল এবং মুসলিম জাতিসত্তা হিসেবে নিজেদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ ও সংরক্ষণ করার জন্য আমাদের উচিত দৈনন্দিন হিসাবে হিজরি সন, অর্থাৎ ইসলামী ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমাদের গায়কপাখি আব্বাসউদ্দীন by ড. নাসের হোসেন

বাংলা গানের অভিভাবকসম ব্যক্তিত্ব তিনি; বাংলার লোকসঙ্গীত-সংসারের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। আদিনিবাস ভারতের কোচবিহারের তুফানগঞ্জ এলাকায়। পিতা জাফর আলী আহমদ ছিলেন জোতদার এবং পেশায় অ্যাডভোকেট। পারিবারিক আবহে, স্বাভাবিকভাবেই, তিনি সামাজিক সঙ্কট ও বিভ্রান্তি অবলোকনের সুযোগ পেয়েছেন। তার মানস গড়ে উঠেছিল সমাজ-রূপান্তরের সমাগত পরিপ্রেক্ষিতের ভেতর দিয়ে। এই স্বভাবশিল্পী তার চার পাশের জীবনাচার, মানুষের প্রাণের তাগিদ, সমাজের গতি ও প্রগতির দিকে প্রসারিত রেখেছিলেন নিজের সাবধানী ও অনুসন্ধানী দৃষ্টি। শৈশব থেকেই আব্বাসউদ্দীন গানের প্রতি ঝুঁকে পড়েছিলেন সরল ও স্বাভাবিক প্রাণময়তায়। অদ্ভুত সুন্দর ছিল তার কণ্ঠ; দারুণ আকর্ষণীয় ছিল গানের গলা। গান আয়ত্ত করার বা মনে রাখার ক্ষমতাও ছিল অবিশ্বাস্য রকম; যেকোনো গান দু-একবার শুনেই অবিকল সুরে গাইতে পারতেন তিনি।
অবিভক্ত ভারতে ও পরবর্তীকালের পাকিস্তানে সঙ্গীতসাধক ও প্রচার-প্রসারক হিসেবে তিনি সবিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত আগ্রহের কারণেই তিনি সমকালে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী শিল্পী হয়ে উঠেছিলেন। এবং উত্তরকালেও নিজের প্রভাব ও অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছেন কেবল শৈল্পিক সাফল্যের ওপর ভর করে। এই সাধক সঙ্গীতশিল্পী কখনো কোনো শিক্ষকের বা গুরুর কাছে শিক্ষা বা তালিম নেননি।
নিজের প্রচেষ্টায় হারমোনিয়াম বাজিয়ে নিখুঁতভাবে গান গাওয়ার রীতি ও কৌশলাদি আয়ত্ত করেছেন মেধা আর কণ্ঠের কারুকাজকে কাজে লাগিয়ে। সঙ্গীতে পারফর্ম ও পাবলিসিটিতে অনন্যসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাকিস্তান সরকার তাকে ‘প্রাইড অব পারফরম্যান্স’ এবং বাংলাদেশ সরকার ‘স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার’-এ ভূষিত করে। তবে পুরস্কার দু’টি ছিল মরণোত্তর। এসব সামাজিক-রাষ্ট্রীয় সম্মাননার গণ্ডির অনেক ওপরে শিল্পী আব্বাসউদ্দীনের অবস্থান; যে জায়গাকে ঠিক সীমিত পরিসরের পুরস্কারের কাঠামোয় আঁকা যায় না। আর এ কথাও ঠিক, মরণোত্তর পুরস্কার প্রদান করায় তিনি আলোকিত হননি; বরং আমরা আনন্দিত হয়েছি; প্রসারিত হয়েছে আমাদের সংস্কৃতির উঠান ও সাধনার শোভা।
স্নাতক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে চাকরিতে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন কালজয়ী এবং উত্তরকালেও অসম্ভব জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আব্বাসউদ্দীন। দেশবিভাগের আগে কলকাতার বাংলা সরকারের রেকর্ডিং এক্সপার্ট এবং পরে অতিরিক্ত সং পাবলিসিটি অফিসার পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মপরিসরের পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং ব্যক্তিগত ঝোঁকের কারণেই হয়তো বাংলা সঙ্গীত প্রচার ও প্রসারের দিকে তিনি বিশেষভাবে আগ্রহী ও মনোযোগী হয়ে ওঠেন। অবশ্য অন্তরে ছিল প্রকাশের ভার আর সৃজনকর্মের তাগিদ। চাকরিতে প্রবেশের অল্পকাল পরই কাজী নজরুল ইসলামের সান্নিধ্যে প্রফেশনালি সঙ্গীতভুবনে প্রবেশ করেন। কলকাতায় গ্রামোফোন কোম্পানি হিজ মাস্টার্স ভয়েস থেকে নজরুলের ‘কোন বিরহীর নয়ন জলে’, ‘স্মরণ পারের ওগো প্রিয়’; শৈলেন রায়ের ‘আজি শরতের রূপ দিপালী’ এবং জীতেন মৈত্রের ‘ওগো, প্রিয়া নিতি আসি’- এ চারখানি গান রেকর্ড করে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছিলেন। তিনি তখনকার কলকাতায় গানের ভুবনে জনপ্রিয়তা সৃষ্টিকারী একজন অনবদ্য ও অনুকরণীয় কণ্ঠকারিগর। সঙ্গীতের ভুবনে মোহময়তা ও মায়াজাল বানানোর কৌশলী জাদুকর। আব্বাসউদ্দীনের তারুণ্যভরা ভরাট গলা তখনকার বাঙালি শ্রোতার কাছে ছিল আনন্দঘন অধীর অপেক্ষার বিষয়। নজরুল সঙ্গীতের রেকর্ড প্রকাশে তাঁর সাফল্য আজো আমাদের সঙ্গীতের ইতিহাসে উজ্জ্বল ইশারা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ‘বেণুকার বনে কাঁদে বাতাস বিধুর-/সে আমারি গান প্রিয় সে আমারি সুর’, ‘অনেক ছিল বলার’, ‘গাঙে জোয়ার এলো’, ‘বন্ধু আজো মনে রে পড়ে’- নজরুলের এইসব গানের রেকর্ড প্রচারে চার দিকে প্রবল সাড়া পড়ে যায়। অতঃপর এই সঙ্গীতসাধক নজরুলকে দিয়ে ইসলামি গান লিখিয়ে তাতে কণ্ঠ প্রদান করেন। আর এভাবে সরল ভাবনাকে সম্বল করে, বৃহৎ ও অনগ্রসর মুসলমান সমাজে সঙ্গীতের প্রবাহ প্রচলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন। সেদিন তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন- বাঙালি মুসলমানের মনে কী ধরনের জীবন-জিজ্ঞাসার বীজ ও বাতাস প্রবাহিত এবং তাতে কোন কায়দায় আনন্দ ও বার্তা প্রবেশ করানো যেতে পারে। বিজ্ঞান ও যুক্তির যুগে কেবল ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতি দিয়ে যে সমাজকে, মানুষের চিন্তাকে আর সভ্যতার অগ্রগমনকে বিবেচনা করা বোকামি, সে কথা বুঝতে সমাজলগ্ন শিল্পী ও সংগঠক আব্বাসউদ্দীনের এতটা অসুবিধা হয়নি। আর তার সেই অনুধাবনের জায়গাটি নিজের কাছে গোপন না রেখে, আটকে না ফেলে সাধারণ জনতার কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন। এবং সে অনুযায়ী তিনি সমকালীন সঙ্গীতের ধারা ও সুর সংযোজনে আন্তরিক ও সচেষ্ট ছিলেন সর্বদা। তৎকালীন মুসলমান সমাজের বেশির ভাগ প্রতিনিধি ও সদস্য সঙ্গীতের প্রতি ছিল ভীষণ বীতশ্রদ্ধ। বিশেষত জ্ঞানবিজ্ঞানে পিছিয়ে থাকা এবং যুগের বাণীকে আত্মস্থ করতে না পারার বিষয়াদিই ছিল এর মূল কারণ। গান গাওয়া ও গান শোনা- উভয়ই ছিল তাদের কাছে অধর্মের কাজ। এমন একটি ভীষণ প্রতিকূল প্রতিবেশে সাধারণভাবে মুসলিম সমাজের এবং বিশেষভাবে সব ধর্ম-শ্রেণীর সাধারণ মানুষের প্রাণের চাহিদা অনুযায়ী সঙ্গীত সরবরাহ করার প্রতি তার অভিনিবেশ সত্যিই আজ নিবিড় গবেষণার বিষয়। আজ এত দিন পরও অনুমান করা যায়, অনুসন্ধিৎসা ও সমাজ-রূপান্তরের অভিজ্ঞান ও আন্তরিকতাই ছিল তার সমূহ সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। মুসলমান নাগরিকের চিন্তায় সাঙ্গীতিক আবহ প্রবেশের কৌশল হিসেবে তিনি নজরুলের কয়েকটি গান প্রচারের অভিযানে নেমেছিলেন। এ প্রসঙ্গে মনে করা যায়- ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে, এলো খুশির ঈদ’, ‘ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ/এল রে দুনিয়ায়/ আয় রে সাগর আকাশ বাতাস, দেখবি যদি আয়’, ‘তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে’ প্রভৃতি দারুণ শ্রোতাপ্রিয় নজরুলসঙ্গীতের কথা। এসব ইসলামি গান শুনে সঙ্গীতের প্রতি তখনকার অনগ্রসর মুসলমান সমাজের আগ্রহ জেগেছিল- যা ছিল সমকালীন সমাজে রীতিমতো অবিশ্বাস্য ব্যাপার। এই যে একটি বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়কে সঙ্গীতের আনন্দভুবনের দিকে ডেকে আনা- এর প্রায় বেশির ভাগের দায় সেদিন নিয়েছিলেন আব্বাসউদ্দীন। আর কেবল একটি সম্প্রদায়ের কথাই বা বলি কেন- নানান জাতের ও বিভিন্ন ধাঁচের গান গেয়ে তিনি আমজনতাকে গানের বারান্দায়, আড্ডায় ও আসরে হাজির করতে পেরেছিলেন। কাজেই তিনি কেবল একজন কণ্ঠশিল্পী নন; প্রবল নিষ্ঠাবান সঙ্গীত সংগঠক এবং সমাজ রূপান্তরেরও অনন্য কারিগর।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আইসল্যান্ডের জাতীয় কবি ওনাস হলগ্রিমসন by ড. শাহাজাদা বসুনিয়া
কবি ওনাস হলগ্রিমসন আইসল্যান্ডের সাহিত্যে প্রথম রোমান্টিক ধারার প্রবর্তন করেন। আইসল্যান্ডের নিসর্গকে ধারণ করে তার লেখনীতে সার্থকভাবে ইমেজারি প্রয়োগ করেন তিনি। তার কবিতায় বিদেশী ছন্দ যেমন; প্যারামিটার ব্যবহার করে তিনি আইসল্যান্ডের কবিতাভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেন। একটি কবিতার অনুবাদ দেয়া হলো :
‘তুমি হচ্ছো মনোরম ও সুন্দর ভূমি ,
এবং যুকুলস (হিমবাহ)-এর চূড়া শুভ্র-সাদা,
মেঘহীন নীল আকাশ,
ওশান ঝিকিমিকি উজ্জল,
কিন্তু মাঠগুলো উঁচু যেখানে
ওসার নদী বয়ে চলে নিরবধি,
আর স্রোতস্বিনী মিশে যায় আলমানায়,
কোনোকিছু এখানে ধরে রাখা যায় না,
অথচ এখন সব জায়গা হচ্ছে চারণভূমি,
লগবার্জের গুল্ম অতি পবিত্র
আর মূল্যবান পাথরগুলো প্রতি বছরে
নীল হয় সবার কাছে, সন্তানের কাছে।
পূর্বপুরুষের অর্জিত খ্যাতি কিভাবে
ভুলে যাই, প্রিয় আইসল্যান্ড আমার।’
কবি ওনাসের বাবার মৃত্যুর ২০ বছর পর তিনি খধু ড়ভ এৎরবভ কবিতায় তার বাবার মৃত্যুর বিয়োগান্তক স্মৃতিচারণ করেন। নৌকা থেকে পড়ে হ্রদে তার বাবার মৃত্যুকে তিনি প্রতিনিয়ত স্মরণ করতেন বেদনাভারাক্রান্ত হৃদয়ে। নি¤েœ কবিতাটির অনুবাদ দেয়া হলো:
“আমি একজন বালক ছিলাম মাত্র
যখন দৃষ্টিহীন হ্রদের পানিতে
তার দৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়
এবং সারা জীবনের জন্য স্তব্ধ করে দেয় তাকে,
অথচ আমি কিছুই ভুলি নাই
যা ছিল শোকাহত অপূরণীয় ক্ষতি-
পৃথিবীতে এটিই প্রথম-
যখন আমার বাবা মৃত্যুবরণ করেন।
আমি স্মরণ করি
তার আত্মার অবিচল শক্তি,
তার পুরাদস্তুর আদর
যা তার চক্ষু থেকে প্রতিফলিত হতো;
তারা অতি উৎসাহে ভালবাসা বিতরণ করে
যেন বিধাতার আশীর্বাদের সূর্যালোকের
আলোকে সবুজের সমাহার।
আমার মনে পড়ে মায়ের অশ্রু বিসর্জন,
তিনি জানতেন বাবা আর ফিরে আসবে না
কখনো, তার ভালবাসা তাকে
আলোকিত করবে না জীবনে।
এমনকি তার সন্তানদের,
একি এক অনন্ত প্রস্থান।”
২১ মে, ১৮৪৫ সালে কবি ওনাস হলগ্রিমসনের জীবনাবসান ঘটে। মাত্র ৩৭ বছরে ব্লাড পয়জনিং- এ তিনি মারা যান। কোপেনহেগেনে তাকে সমাধিস্থ করা হয়; কিন্তু ১৯৪৬ সালে তার দেহাবশেষ কোপেনহেগেন থেকে আইসল্যান্ডে এনে পুনঃসমাহিত করার প্রয়াস নেন সিজারসন পিটারসন নামের তার এক শুভাকাক্সক্ষী । তদানিন্তন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী এতে বাধা দিয়ে বলেন যে, কবি হলগ্রিমসন রাষ্ট্রীয় সম্পদ। সুতরাং তাকে জাতীয় কবরস্থানে সমাহিত করা হবে। দেহাবশেষ বহনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা ও যানবাহন বরাদ্দে সরকারের অনীহার কারণে সিজারসন পিটারসন নিজেই সমুদয় ব্যয়ভার বহন করে কবির দেহাবশেষ আইসল্যান্ডে নিয়ে আসেন। উল্লেখ্য যে, তার পুনঃঅন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করতে পুরোহিতের অনীহার ফলে তার কফিন একটি গির্জায় এক সপ্তাহ রাখা হয়। পরবর্তীতে আইসল্যান্ড সরকারের পছন্দের জায়গায় তাকে ১৬ নভেম্বর ১৯৪৬ সালে পুনঃসমাহিত করা হয়। তাকে স্মরণ করার জন্য এই দিনটি আইসল্যান্ডে ল্যাংগুয়েজ ডে হিসেবে উদ্যাপন করা হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গল্প- লুলা পেট্রল by রিপনচন্দ্র মল্লিক
ছেলেবেলায় মায়ের মুখে শুনেছিলাম, আমি নাকি জন্মের পরে কাঁদিনি। মা মাঝে মাঝে আমাকে বলত, ‘বাদশা, তুই বড় পাষাণ হইছিস। তোর বুকে কোনো দয়ামায়া নাই। জন্মের পরে যার চোখ দিয়া দুই ফোঁডা পানি পড়ে নাই। তোর ভিতরে আবার কিসের দয়ামায়া। দয়ামায়া তো তুই দুনিয়ায় নিয়া আহোস নাই।’
মায়ের কথাই ঠিক। আমার চোখ দুটো পাথর দিয়ে বানানো। পাথরে চোখ চকচক করে। সেই চকচকা পাথরের সাথে সূর্যের আলোর বিকিরণে যতটুকু দেখা যায় আমি আসলে ততটুকুই দেখি। বাকিটা আমার কেবলই অন্ধকার। তবে আমি কিন্তু চোখে একেবারে কম দেখি না। চোখে যতটুকু দেখি তাতে এখনো নাকের ওপরে চশমা বসিয়ে তার দুই হাত দিয়ে নিজের কান দুটোকে ধরিয়ে রাখতে হচ্ছে না। বয়স তো কম হলো না। এই অক্টোবরে ত্রিশের ঘরে ঢুকে পড়ব। ডান হাতটা অকেজো হয়ে যাওয়ার পর থেকে বাম হাত দিয়েই সব কিছু করি।
আমার একটি মাত্র হাত। তাতে কোনো দুঃখ নেই। আখের রস বানানো মেশিনের চাপে ডান হাতটি যে বছর শেষ হয়ে গেল তারপর থেকেই মূলত আমি এক হাতবিশিষ্ট মানুষ। আমি দেখি আমার হাত আছে। কিন্তু অন্যরা দেখে না। তারা মনে করে মানুষের হাতের কব্জি, আঙুল না থাকলে সেই অঙ্গকে আর হাত বলা যায় না। আমি সেটা বিশ্বাস করি না। আমার কব্জি নেই, আঙুল নেই। তার পরও আমার অবশিষ্ট ডান হাতটিতে যে শক্তি পাই, আমার মনে হয় অনেকেরই সেই শক্তিটুকু ডান হাতে নেই। তেজগাঁও রেলগেটের আশপাশেই কাটিয়ে দিলাম জীবনের দশটি বছর। রেললাইনের পাশ ঘেঁষে একটি খুপরিঘরে আমার রসের জীবন। যেদিন থেকে রসের জীবন শেষ হলো, তারপর থেকে আমি আর কোনো কাজকর্মে মন দিতে পারি নাই। তেজগাঁও রেলগেটের পাশের ট্রাকস্ট্যান্ডের কাছে যে মসজিদটা, ওখানেই ভিা করে খাই। ভালোই আয়রোজগার হয়। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসে ভিা করি। কোনো দিন খুপরিতে এসে গুনে দেখি পাঁচ শ’ টাকা। আবার কোনো দিন গুনে দেখি সাত শ’ টাকা। তবে এখন মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান হয়ে গেছে। ভিুক দেখলেই সহজে ভিা দেয় না। আগে ভিুকের চোখ, মুখ, হাত, পা দেখে তার পরে দুই টাকা পকেট থেকে বের করে দেয়। অবশ্য একটি হাত না থাকায় অনেকেই দুই টাকা, পাঁচ টাকা পকেট থেকে বের করে দেয় আমাকে।
যখন গ্রামে ছিলাম, কোনো রকমে টেনেটুনে কাস নাইন পাস করেছি। জীবনে কোনো কিছুতেই সফল হতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত সব কিছু ছেড়েছুড়ে ভেবেছিলাম ধনী হবো। দামি দামি গাড়িতে চড়ব। লাইনটা পেয়েও গিয়েছিলাম। আমাকে যে এই লাইনে ঢুকে পড়ার টিকিট কেটে দিলো, বেচারা আমি লাইনে ওঠার আগেই একদিন সকালে ধপাস করে বুকে ব্যথা ওঠায় মরে গেল। আমি কোনো কষ্ট পাইনি। কাউকে মরতে দেখলে ছোটবেলা থেকেই আমার কোনো ব্যথা লাগে না। যে মানুষ জন্মের পরে কাঁদেনি তার আবার কিসের দুঃখ-ব্যথা!
এত ঝামেলাময় জীবন নিয়েও আমি কিন্তু খুব সুখীই ছিলাম। আমাকে সত্যিকারের ধনী হওয়ার স্বপ্ন একজনই দেখিয়েছিল, তার নাম মায়া। আমি তাকে আদর করে ডাকতাম ‘মায়াবি মায়া’। মায়ার চোখে তাকালেই আমি সব কিছু ভুলে যেতাম। আমার খুপরিঘরেই এসে মায়া দেখা দিত। মঙ্গার এলাকা থেকে পেটের জ্বালায় মায়া ঢাকা এসেছে। কারওয়ানবাজারের একটি হোটেলে রান্না করে। ঢাকায় আসার আগে একবার বিয়েও হয়েছিল বলে জেনেছি। তাতে কী, আমার তো মায়ার জন্য খুব মায়া লাগে। মায়াই আমাকে একদিন বলেছিল, ‘তুমি অনেক টাকা কামাও, টাকা না থাকলে কোনো সুখ নাই। তুমি টাকা কামাইলে আমরা ঘর বানমু।’ আমি জানতে চেয়েছিলাম, ‘কত টাকা কামাইতে হইবে মায়া?’
মায়ার মুখে কোনো কথা নেই। মায়া চুপ হয়ে যায়। আমিও মায়াকে বলি, ‘যাও শিগগিরই আমি ধনী হয়ে যাবো। যেভাবেই হোক আমাকে ধনী হইতেই হবে। লোকে আমাকে লুলা বাদশা বলে। আমাকে যারা লুলা বাদশা বলে আমি তাদের দেখিয়ে দিতে চাই, লুলা হইলেও আমি সত্যিকারের বাদশা।’ আমি ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম। আমি আরো স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম, আমি আর মায়া বাবুইপাখির মতো ঘর বুনছি। আমার এ স্বপ্নগুলো বাস্তবতায় রূপ দেয়ার পথেই আমি আস্তে করে হাঁটছিলাম। একদিন মায়াকে ডেকে বললাম, ‘শোনো মায়া, আমি শিগগিরই ধনী হয়ে যাবো। তারপর তোমাকে নিয়ে বাবুইপাখির বাসার মতো করে একটি ঘর বানামু।’ আমার কথা শুনে মায়া শুধু হাসে। মায়ার সেই মায়াবী হাসির মধ্যে আমি আটকে যাই। শুধু আটকে যাই বললে ভুল হবে, আসলে মায়ার মুখে হাসি দেখলে আমি বিদিক হয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যাই। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় মায়ার জন্য আমি সব কিছুই করতে পারি।
দেশে আন্দোলন এলেই আমার ডাক পড়ে যায়। দেশে যত দল আছে, দলের ওপরমহলে যত নেতা আছে, সবাই আমাকে খোঁজে। আমি নাকি তাদের আন্দোলনের হাতিয়ার। আমাকে খুঁজে না পেলে নাকি তেজগাঁও থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট থেকে শাহবাগ, শাহবাগ থেকে মতিঝিলে তাদের কোনো আন্দোলন হয় না। আমি মাঝে মাঝে নেতাদের বলি, ‘আমি লুলা মানুষ, আমাকে নিয়ে এত টানাটানি করেন ক্যান? এই ঢাকা শহরে কি আমি একাই আছি, আমি ছাড়া আপনাদের আর কোনো মানুষ নাই? আমি আপনাদের এত কাজ করে দিতে পারব না।’ Ñএই কথা বলে আমি আমার কাজের রেট বাড়ানোর চেষ্টা করি।
ইদানীং সব দলের ওপরমহলের নেতারা আমার কথা শুনে চোখেমুখে অন্ধকার দেখে। তারা ভাবতে পারে না আমি মুখফুটে খই ফোটার মতো করে কিভাবে এ কথা বলে ফেলছি। আমার কথা শুনে এই লাইনের পুরান মাল শ্যামলা বাবু বলে, ‘আরে কচ কী, বাদশা। তুই দেখি বদলাইয়া যাইতেছোস!’ ‘হ। এখন থেকে আমার বদলাইয়া যাইতে হবে। আপনেরা সুযোগ সুবিধা নিয়ে দল পাল্টে ফেলেন। আমিও এখন থেকে নিজেকে পাল্টে ফেলব।’
শ্যামলা বাবু আগে আমার মতোই কাজ করত। এখন কাজ করতে করতে অনেক টাকা আয় করে ফেলছে। এখন সে এই এলাকায় সাদা লুঙ্গি আর সাদা পাঞ্জাবি পরে সরকারি দল আর বিরোধী দলের নেতাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সুবিধাবাদী আন্দোলনের ব্যবসা করছে। আমার কথা শুনে শ্যামলা বাবু বলে, ‘আ রে, দেশের সব নেতার কাছে তোর নামটি মুখস্থ হয়ে গেছে। আন্দোলনের আদর্শ হাতিয়ার হিসেবে সবাই তোকে এক নামেই চেনে। এই লাইনে তোর ক্যারিয়ারের জন্য এটা কম কিসের, বল।’
আমার চোখে শুধু মায়ার কথা ভাসে। মায়াকে নিয়ে ঘর বানাব। ভাই নেতারা আমাকে হাতিয়ার বলুক আর মতিয়ারই বলুক, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আমাকে দিয়ে যদি আপনি কাজ করাতে চান তাহলে এখন থেকে রেট বাড়াতে হবে। প্রতি ্যাপে ১০ হাজার টাকা করে দিতে হবে।
আপনার কাজ সেরেই আমি ভিা করতে বসে পড়ব, মিডিয়ার লোকজন এসে আমার ছবি তুলবে না। তারা তুলবে পোড়া গাড়ি, পোড়া মানুষের ছবি। আপনিই বলেন ভাই, অনেক হরতাল-অবরোধেই তো আপনি আমাকে সরকারি দলের নেতাদের গাড়িও পোড়াতে বললেন আবার বিরোধী দলের নেতাদের গাড়িও পোড়াতে বললেন। একটি অপারেশনও কি মিস করেছি আমি?
ঠিক আছে, তুই যখন বলছিস রেট বাড়াতে হবে, তোকে রেট বাড়িয়ে দেবো। তবে অন্য সিস্টেমে।
আচ্ছা বলেন, কী সিস্টেমে?
আগামীকাল থেকে ১০ দিনের অবরোধ হবে দেশে। অফার আছে পেট্রলবোমার আগুন জ্বালাতে হবে। এই আগুন নিয়ে চুল টানাটানি। মানে বুঝছোস তো, টিভিতে নেতারা বুদ্ধিজীবীরা এই পেট্রল আগুন নিয়া চুলচেরা বিশ্লেষণ, টকশো, মিষ্টিশো ইত্যাদি করবে।
ভালো কথা। মাল ছাড়েন। কাজ ঠিক সময়মতো করে দেবো।
আমার কথামতো তোকে আগামী ১০ দিনে মোট ১৫টা বাস ও ট্রাকে পেট্রলবোমা মারতে হবে। তবে কথা আছে, আমরা যে গাড়িগুলোর নাম তোকে লিখে দেবো, ঠিকভাবে শুধু ওইসব গাড়িতেই বোমাগুলো মেরে দিতে হবে।
মেরে দেবো। কিন্তু টাকা?
প্রতিদিন কাজ শেষ করে রাতে ১০ হাজার করে টাকা নিয়ে যাবি।
আমি বাদশা। যে কিনা গত এক বছরে নেতাদের কাছে লুলা পেট্রল নামে পরিচিত হয়ে উঠেছি। আগামী ১০ দিন পরে আমার হাতে অনেক টাকা চলে আসবে। জীবনপ্রবাহে আমার সুদিন হাতছানি দিচ্ছে। মায়াকে খবর দিতে হবে, সামনের ১০ দিন পরে মায়াকে বিয়ে করে আমরা সুখী সংসার গড়ে তুলব। ঠিক করেছি। বিয়ের পরে এই শহর ছেড়ে অনেক দূরে চলে যাবো। প্রত্যন্ত কোনো গ্রামে গিয়ে আমরা একটা বাড়ি বানাব। বর্ষার দিনে বাড়ির চার পাশে থাকবে পানি আর পানি। পানিতে চার দিক থৈ থৈ করবে। সেই বাড়িতে আমি আর মায়া থাকব। যেদিন রাতের আকাশ ফুটে জোছনা ঝরে পড়বে, সেদিন আমি আর মায়া বাড়ির উঠানে সারা রাত জোছনায় ভিজে জবুথবু হবো। মায়াকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে এভাবেই কেটে যাচ্ছিল আমার একেকটি দিন।
দেশজুড়ে চলছে টানা অবরোধ। ‘....’ পরিবহনে পেট্রল মারতে হবে। বাবু ভাই সকালে নির্দেশ দিয়েছে। আমার আর কোনো কিছুই সইছে না। আজ রাতেই অপারেশনটা শেষ হলে আমি লাখপতি হয়ে যাবো। মায়াকে কাল বিয়ে করে ঢাকা শহর ছেড়ে চলে যাবো। দূরে চলে যাবো, অনেক দূরে চলে যাবো। এই পোড়া শহরে আর কোনো দিন আসব না। বাবু ভাইয়ের কথামতো রাতেই বাসে পেট্রলবোমা মেরেছিলাম। কিন্তু এরপর এমন ঘটনা ঘটবে আমি কোনো দিন ভাবিনি। এত পেট্রলবোমা মারলাম কোনো দিন তো এ রকম হয়নি।
গাড়িটিতে পেট্রল ছোড়ার সময় কে যেন আমাকে গুলি করল। সাথে সাথে শাহবাগের এই সড়কে আমি ধপাস করে পড়ে যাই। কিছুণের মধ্যেই দেখি, আমার মাথার কাছে কে যেন দাঁড়িয়ে আছে। আমি চোখ তুলে মানুষটির দিকে তাকাতে চেষ্টা করছিলাম। আমার চোখ দুটোকে মেলতে পারছিলাম না। অনেক চেষ্টা করে কিছুটা চোখ মেলে চেয়ে দেখি, আমার মাথার পাশে যে লোকটি দাঁড়িয়ে আছে, সে শ্যামলা বাবু। অদ্ভুত রকমের শব্দ করে হাসছেন আর বলছেন, ‘তুই নাকি তোর রেট বাড়াইছোস? এখন থেকে তোর যত খুশি রেট দরকার বাড়িয়ে ফ্যাল শালার লুলা পেট্রল, কেউ তোকে মানা করবে না।’
আমার দম বের হয়ে আসছে। কোনো কথা বলতে পারছি না। আমার মনে হচ্ছে শরীরের সমস্ত রক্ত বের হয়ে যাচ্ছে। আমি মারা যাচ্ছি। আমি কি কখনো ভেবেছিলাম এভাবেই আমি শেষ হয়ে যাবো? না, এ কথা আমি কোনো দিনও ভাবিনি। মায়ার কী হবে? মায়া তো আমার জন্য পায়জামা, পাঞ্জাবি আর পাগড়ি কিনেছে। নিজের জন্য কিনেছে শাড়ি, আলতা, কাচের চুড়ি, মেহেদি আর লাল রঙের টিপ। আমার মনে হচ্ছিল, এই আমি কত মানুষের জীবন এই সড়কে নিভিয়ে দিয়েছি। আজ আমি নিজেই এই সড়কেই নিভে যাচ্ছি। চার দিকে থৈ থৈ করা পানির মাঝে বাড়ি বানিয়ে আমার ও মায়ার কোনো দিন থাকা হলো না। কোনো দিন আর হলো না বাড়ির উঠানে চাটাই বিছিয়ে দু’জনে সারা রাত জোছনায় ভিজে জবুথবু হয়ে ঘুমিয়ে থাকা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন by শেখ রকিব উদ্দিন
ইতিহাসের খ্যাতনামা সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ময়ূরকণ্ঠী গ্রন্থে লিখিত কয়েকটি বাক্য ভাষাসৈনিক মতিনের মৃত্যুতে আমার স্মৃতির কোণে ভেসে উঠছে। মুজতবা আলী একজন জাপানি কবির একটি কবিতার কয়েকটি লাইন অনূদিত করেছিলেন ওই গ্রন্থে...
‘কমলের দলে শিশিরের মতো মোদের জীবন হায়Ñ ঝড়ের সময় লাগে যে কম্পন সেই তো জীবন।’
অর্থাৎ যে জীবনপ্রবাহ বর্ণাঢ্য জীবন পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়ার প্রাক্কালে কম্পন দিয়ে যায় অর্থাৎ ঝাঁকুনি দিয়ে যায়। শত শত, হাজার হাজার, লাখ লাখ ও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে ব্যথা বেদনার তাণ্ডব সৃষ্টি করে সেই জীবন বেশি সার্থক, বেশি সফল। ভাষা মতিন ইতিহাসে এমনই একজন খ্যাতিমান ইতিহাস সৃষ্টিকারী ব্যক্তিত্ব যিনি পৃথিবী থেকে প্রায় শতাব্দীর বর্ণাঢ্য জীবন যাপনের পর চলে গেছেন; কিন্তু তিনি অমর, অক্ষয়, ভাস্বর। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চির অগ্রগতির ছন্দে ছন্দে তার নামটি সুমধুর সঙ্গীতের লহরিতে ধ্বনিত হবে।
সম্ভবত ১৯৪৮ সালের শীতকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে এক জনাকীর্ণ সমাবেশে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দীপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করলেন, পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। সাথে সাথে সমাবেশের একটি কোণ থেকে কয়েকজন বীরসিংহ বীরাচারী বীর দীপ্তকণ্ঠে প্রতিবাদ করলেন না না না। পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষা বাংলা। এরপর থেকে ধীরে ধীরে শুরু হলো সারা দেশে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন। একসময় দেশের সব শ্রেণীর মানুষ আবালবৃদ্ধবনিতা, শিক্ষক-কর্মচারী ছাত্র আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ল। বর্তমান বাংলাদেশ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী, শহর, গ্রাম, বন্দরসহ সারা দেশে আন্দোলন অগ্নিকুণ্ডের মতো ছড়িয়ে পড়ল; যার ফলশ্রুতিতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে গুলিবর্ষণে শহীদ হলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার আরো অনেকে তাদের স্মৃতির প্রতি আমি শ্রদ্ধা নিবেদন না করে পারছি না। এই ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সূত্রপাত।
১৯৫২ সালে আমি বাগেরহাট জেলার সদর থানার কারাপারা গ্রামের শরৎচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। স্কুল থেকে মিছিল করে তৎকালীন মহকুমা শহরে বর্তমানে জেলা শহরে সিসি ব্যাংকের সামনে ভাষা আন্দোলনের জনসভায় যোগদান করতাম। এ সভায় বক্তৃতা করতেন মরহুম মীর মোশারেদ আলী, মীর মুনসুর আলী, মুনসুর সাহেব, আমজাদ আলী গোরাই, সৈয়দ রওনক আলী, শেখ আশরাফ হোসেন ও এ জেড এম দেলোয়ার হোসেন। বাগেরহাটে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে যে ব্যক্তিটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন তিনি হলেন নেতা শেখ আব্দুল আজিজ। শেখ আব্দুল আজিজ এখনো বেঁচে আছেন। গুলশানে তার বাসভবনে জীবনের শেষ প্রান্তে নিভৃত নীরব জীবনযাপন করছেন। কার্জন হলে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভায় যে প্রতিবাদ করেন তার উল্লেখযোগ্য হলেন ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন। আব্দুল মতিনসহ বেশ কয়েকজন মৃত্যুঞ্জয়ী বীর সে দিন বাংলা ভাষার পক্ষে বাংলা ভাষার মর্যাদার স্বার্থে ও মাতৃভাষার সম্মানে বিরোচিত কণ্ঠে আওয়াজ না তুলতেন তবে হয়তো ইতিহাস অন্য রকম হতে পারত। কাজেই এ মৃত্যুঞ্জয়ী বীরদের স্থান জাতির ইতিহাসে সবার ঊর্ধ্বে। আমার সাংবাদিকতার পেশাগত জীবনে ভাষা মতিনের সাথে বহু সভা সেমিনারে বক্তৃতা করেছি। তাকে সবসময় শ্রদ্ধাভরে সম্মান করতাম। আমি তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। তিনি চিরঞ্জীব, চির অমর ও চির অক্ষয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আফ্রিকার সাহিত্য ও সংস্কৃতি by সৈয়দ লুৎফুল হক

সবকিছু বাদ দিয়ে ভৌগোলিকভাবে দেখতে গেলে ভাষা এবং রাজনীতিগত বৈচিত্র তো আছেই। যদিও আফ্রিকার একটি স্বচ্ছ সংস্কৃতি রয়েছে, যা অন্যাদের সাথে বিনিময় করা যায়। চরিত্রগতভাবে দেখতে গেলে একটি জাতিত্ববোধ লক্ষ করা যায়; যার মূলভিত্তি হলো পরিবার। অথবা একটি গ্রুপ যা পরস্পরের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে অথবা বেঁচে থাকার জন্য পরস্পরের প্রতি সম্পৃক্ত হয়েছে। আফ্রিকার গোত্রগুলো একত্রিত রয়েছে একটি ফেডারেশনের মতো অথবা এক্সটেন্ডেন্ট পরিবারের বা গোষ্ঠীর মতো; যা শাসিত হয় পরিবারের বয়োজেষ্ঠদের শাসনের মাধ্যমে অথবা নির্বাচিত কোনো ব্যক্তি যিনি আধ্যাত্মিক যোগ্যতাসম্পন্ন। তা ছাড়া মূল বিষয় হলো যিনি এ পরিবারকে ধারণ করেন অথবা গোত্রের সদস্য। যিনি জীবিত বা মৃত এ গোত্রের সদস্য ছিলেন, তিনিই কেবল নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচিত হতে পারতেন। যদিও এ সব নিয়ম আফ্রিকার সমাজে কোনো সুন্দর বিষয় নয়, এটিকে নির্দিষ্ট করা যায় পৃথিবীর কৃষক সমাজের গ্রামীণ সভ্যতার সাথে। এসব গোত্রীয় কাঠামো পদ্ধতি ঐতিহ্যগতভাবে আফ্রিকান সংস্কৃতি যা প্রাথমিকভাবে প্রকৃতির বিষয়বস্তুর প্রতি বিশ্বাসের দিক নির্দেশনা প্রতীয়মান হয়। আফ্রিকার চরিত্রগত সম্পর্ক হলো পৃথিবীর সব প্রকৃতি যা প্রাকৃতিক ধ্যানধারণার অলৌকিক অধিক্ষমতার প্রতি নিজেকে নিবেদন করা। আফ্রিকানরা সব কিছু সৃষ্টি করেছেন যিনি অসীম ক্ষমতার অধিকারী তার প্রতি নিজেকে নিবেদন করে। আফ্রিকানদের বিশ্বাস হলো তাদের পূর্বপুরুষ যারা মারা গেছেন তাদের আত্মা প্রাকৃতিক শক্তি হিসেবে জীবিতদের সহায়তা করে এবং তাদের পরিচালিত করে। তাদের সম্মান দেখালে এ ট্রাইবগুলো বেঁচে থাকবে এবং তাদের জীবনের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাদের মঙ্গলের জন্য কাজ করবে। যে কারণে আনুষ্ঠানিকতা, আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ড এবং তাদের যাজকদের একটি উচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠাপ্রাপ্তি ঘটে আফ্রিকান সমাজে।
কালো আফ্রিকানরা লেখার চেয়ে মৌখিকভাবে তাদের সাহিত্য নিজেদের মধ্যে প্রচার করত, যার ফলে তাদের সাহিত্যের কোনো রেকর্ডে বা মুদ্রিত কোনো নিদর্শন পাওয়া যায় না। হাজার হাজার বছর ধরে এভাবে তাদের সাহিত্য জনগণের কাছে শ্রুতির মাধ্যমে বেঁচে আছে। দশ শতাব্দী থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত আরব স্কলাররা আফ্রিকানদের মধ্যে তাদের রূপকথাগুলো প্রচার করে আসছে, যা আরবি ভাষায় ছিল। বর্তমান সময়ে আফ্রিকানরা আরবিতে রচিত বিখ্যাত রূপকথাগুলো লিখিত রূপ দিতে শুরু করেছে। তা ছাড়া বিভিন্ন আফ্রিকান ভাষায় এগুলো লিপিবদ্ধ হচ্ছে। বর্তমান সময়ে এসব আফ্রিকান রূপকথা বিশ্বে আলোচিত হচ্ছে। তা ছাড়া তাদের সংস্কৃতিতে এর প্রাধান্য পাচ্ছে।
প্রাচীন আফ্রিকানরা মৌখিক এই সাহিত্যকর্ম ‘গ্রাইওটিস’ এক ধরনের বিশেষ শ্রেণী যারা মূলত কবি অথবা ঐতিহাসিক এগুলো সংগ্রহ করত। অতীতের এসব সঙ্গীত তারা মন থেকে গাইত জংলিদের মতো করে, মধ্যযুগের মতো। এসব গ্রাইওটসরা তাদের ইতিহাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিত বংশ পরম্পরায়। এর মধ্যে বিশেষভাবে সোন্দিতা রূপকথার ব্যাখ্যা বর্ণনা করত, যা মালির বিখ্যাত সাম্রাজ্যের কাহিনী। বিংশ শতাব্দীতে এগুলো ফরাসি ও ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়। এই গ্রয়েটটি মনে করিয়ে দেয় নিজস্ব চেতনার দুয়ারকে। এ রূপ কথাটি সুন্দিতা প্রতিষ্ঠাতা মালি সাম্রাজ্যের প্রচার ও স্মরণীয় করে রাখার জন্য এই রূপকথাগুলো গাওয়া হয়ে থাকে। যেমন করে পশ্চিমা সম্রাট ও শাসকদের কাহিনীগুলো লিখা হয়ে থাকে। যেমন গিলগামেস, এচিলিজ, আলেকজান্ডার এবং রোলেন্ডের (লায়েন চাইল্ড)। সুন্দিতা বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হয় মৃতদের নিয়ে তাদের সম্মান, গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় এবং তাদের জনগণের ঐতিহ্যকে নিয়ে। প্রথমে তাদের গ্রয়েট (কবিতার) মাধ্যমে পরিচিত করানো হয়। যেসব গল্পে যুদ্ধের বর্ণনা থাকে ‘টেবন’ সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হয় যাতে করে সুন্দিতাগুলো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। মালি চিত্রিত করা হয় শান্তির জায়গাকে, ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রা এবং শেষযাত্রার ইতিহাসকে।
আফ্রিকার সঙ্গীত অত্যন্ত কাব্যিক ও রিদমিক। এই সঙ্গীত একটি তালের ওপর ভিত্তি করে সুরের সমতায় গাওয়া হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো বিষয় যার কোনো অর্থ থাকে নৃত্যের সাহায্যে সেটি মানুষদের বোঝানো হয়। এসব মিউজিক বা সঙ্গীতে কোনো বাদ্যযন্ত্রের প্রভাব না থাকলেও সুর সৃষ্টিতে কাঠের যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। প্রয়োজনীয় বিষয় হলো জাতিগত ধ্যান-ধারণা এবং আফ্রিকার সংস্কৃতির প্রভাব ওই সঙ্গীত ও নৃত্যে প্রতিফলিত হতে হবে, যা আফ্রিকার কাব্যের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। যে বিষয়টি আফ্রিকান মিউজিকে দৃষ্টিগোচর হয় সেটি হলো পলিরিদমিক কাঠামো। একটি সঙ্গীতের পিসকে ৫ থেকে ১০ রকম বিভিন্ন রিদমে গাওয়া ও বাজানো হয়। কোনো কোনোটি বারবার একই সুর বাজানো হয়। এসব মিউজিক বাজানোর নিয়ম হলো বৈপরীত্যে অথবা বন্ধ করে মূল বিটের সাথে বাদ্যযন্ত্রটি গতানুগতিকভাবে বাজানো। পশ্চিম আফ্রিকার মিউজিক অনেকটা অফ বিটে বাজানো হয় আদিকালে বাজানো আধুনিক জাজ মিউজিশিয়ানদের মতো।
আফ্রিকানদের অনেক ধরনের পারকাশান রয়েছে যার মধ্যে অনেক রকম ড্রাম এবং রেটেল ব্যবহার করা হয় কবিতা ও নৃত্যশিল্পে উপস্থাপন করার সময়ে। বেলাফো বাদ্যযন্ত্রটি আফ্রিকায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটি দেখতে জাইলোফোনের মতো। এই বোলন এবং কোরা বড় হাসের মতো দেখতে এবং সানসা কাঠের সাউন্ডবোর্ডের সাথে একটি মেনুবার, যার সাথে মেটেল টোঙ্গাস যুক্ত করতে হবে; যা আফ্রিকার ঐতিহ্যগত বাদ্যযন্ত্র হিসেবে পরিচিত। যেগুলো পরবর্তীতে এই দুইটি বাদ্যযন্ত্র ব্যবহৃত হয় গল্পের বর্ণনা দেয়ার সময়ে। যখন তারা কোনো অলৌকিক শক্তিকে বিশ্বাস করত সেখানে বেআইনি যে কোনো ঘটনা তাদের গোত্রের ওপর তার প্রভাব ফেলত। আফ্রিকাই একমাত্র স্থান যেখানে তাদের নিজস্বতাকে ধরে রেখেছে তাদের সমাজব্যবস্থা, সাহিত্য সঙ্গীত ও নৃত্যকলায়। এমনকি তাদের বেনজো (বেলস, ড্রাম এবং অন্যান্য ইনস্ট্রুমেন্ট যেগুলো হারিয়ে গেছে) এর মধ্যে অনেক বাদ্যযন্ত্র আছে অতি প্রাচীন যা ক্রীতাদাসরা আটলান্টিক পাড়ি দেয়ার সময় বাজানো হতো অঙ্গভঙ্গি করে। এর ফলে একটি নাটকীয়তা সৃষ্টি হতো অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে। আফ্রিকার সংস্কৃতি ও সাহিত্য তাদের জাতিগত বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে ধারণ করে আছে। তাদের আনন্দ-বেদনার প্রকাশ হলো তাদের সাহিত্য সংস্কৃতি। জীবনকে জাগিয়ে রাখার সাধনায় তারা সাহিত্যকে ধারণ করে আছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
October
(1240)
-
▼
Oct 31
(75)
- দালাল পুলিশ আনসারদের মিনি পাসপোর্ট অফিস
- অধ্যাপক সালাউদ্দিন সর্বপ্রথম বাকশালের বিরোধিতা করে...
- খালেদাকে স্বাগত জানাতে উড়বে লক্ষাধিক বেলুন by ইসাহ...
- খুলনাঞ্চলের অর্ধেক গাড়িই ফিটনেসবিহীন by রাশিদুল ইসলাম
- ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে চা শ্রমিকরা by আবদুর রহমান সোহেল
- রাস উৎসব লোনা পানিতে প্রার্থনা by আবু সাঈদ শুনু
- এনআইএ তদন্তকারী দল ঢাকা আসতে পারে
- সাগরের গ্যাস ব্লক ছেড়ে দিয়েছে মার্কিন কোম্পানি কনো...
- ভাবীর সঙ্গে পরকীয়া, অতঃপর আত্মহত্যার চেষ্টা
- হরতালের পালে হাওয়া by সাযযাদ কাদির
- তরুণদের কেন আমরা পথ দেখাতে পারছি না? by মহিউদ্দিন ...
- শেয়ার বাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িত সবার শাস্তি হোক b...
- শ্রদ্ধাঞ্জলি- অনন্য মাওলা বখশ চাচা by আসজাদুল কিবরিয়া
- সরকারের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা ক...
- দিনে শিক্ষক, রাতে চোর
- মহররম ও আশুরা by মুসলিহুদ্দীন আহমাদ রূমী
- আশুরার আমল by মাওলানা জিয়াউল আশরাফ
- কারবালার বিশ্বাসঘাতকেরা by রুমানা আক্তার রুমা
- হিজরি সনের প্রচলন ও তাৎপর্য by নইম কাদের
- আমাদের গায়কপাখি আব্বাসউদ্দীন by ড. নাসের হোসেন
- আইসল্যান্ডের জাতীয় কবি ওনাস হলগ্রিমসন by ড. শাহাজা...
- গল্প- লুলা পেট্রল by রিপনচন্দ্র মল্লিক
- ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন by শেখ রকিব উদ্দিন
- আফ্রিকার সাহিত্য ও সংস্কৃতি by সৈয়দ লুৎফুল হক
- জাদুর কাঠি আর প্রতারিত বাংলাদেশ by সিরাজুর রহমান
- সরকারপ্রধানের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুইবার হোক by ইকতেদা...
- ঋণ যুগে যুগে by কাজী আশরাফ আলী
- সড়ক দুর্ঘটনা- পুলিশ কর্মকর্তার অভিমত by মো: সালাহউ...
- বঙ্গভবনে মোশতাক ও এরশাদ by এ কে এম শামছুল হক রেণু
- দৈনিক আজাদ উপমহাদেশ খ্যাত একটি বাংলা পত্রিকা
- মোমের বাড়িটি গলতে শুরু করবে ১৮ নভেম্বর
- অর্থবিত্ত মানুষকে কতটুকু সুখ দিতে পারে?
- শিশুকে কফ সিরাপ, প্যারাসিটামল খাওয়াচ্ছেন? সাবধান!
- শিশুর ক্যামেরায় ভূতের যুদ্ধ
- পেটের ভেতর মাছ
- ইঁদুরের কাছে পরাজিত
- আযমীর দুঃখ প্রকাশ
- আবার একা নেহা ধুপিয়া
- অধ্যাপক গোলাম আযমের মৃত্যু- বিএনপির ভূমিকায় বিস্মি...
- অংশীদারিত্ব সংলাপ- অধিকতর সহযোগিতার পথে এগিয়ে যাওয়...
- যুদ্ধাপরাধের বিচার হওয়া উচিত সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ
- নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি পরিবর্তনের আহ্বান অ্যা...
- হরতালে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ৬০০
- গ্রেপ্তার হয়নি রিপার ঘাতক ছিনতাইকারীরা- কান্না থাম...
- চালের ঘাটতি, তবুও রপ্তানি পাঁচ বছরে আমদানি ১৮ লাখ টন
- ষড়যন্ত্র আর দ্বন্দ্বের সময়ে ভিআইপি বিয়ে by দেবদীপ ...
- মায়ের জন্য ওষুধ নিয়ে ফেরা হলো না মেহেদির
- পবিত্র আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে দিল ইসরায়েল
- নাগরিক বৈষম্য দূর করার তাগিদ -সমতাভিত্তিক নগর ও সা...
- ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিল সুইডেন
- একাত্তর by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
- জামায়াতের টাকার জোগানদাতা by ফখরুল ইসলাম
- মন্ত্রী হয়েও তাঁরা কোম্পানির পরিচালক- সংবিধানের ১...
- ছয় বছরের শিশুকে দুবার ধর্ষণ করলেন শিক্ষক!
- ইহুদি বসতির পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন
- পার্লামেন্টে হামলা
- স্কুলের জন্য ৫০ হাজার ডলার দিল মালালা
- ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিল সুইডেন
- বার্কিনা ফাসোতে বিক্ষোভ পার্লামেন্টে আগুন
- যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ইসরাইল
- সিরিয়ায় শরণার্থী শিবিরে ব্যারেলবোমা
- শাহরুখের জন্য স্বামীর মুখে এসিড ছুড়লেন স্ত্রী!
- চট্টগ্রামে মসজিদের একাউন্টে ১৯ কোটি টাকা, তদন্তে দ...
- ম্যান বুকার পুরস্কার নিতে এসে রিচার্ড ফ্ল্যানাগান ...
- নেতা by সাব্বির আহমেদ সুবীর
- কবিতার ভাষা : সাম্প্রতিক অন্বেষা by হামিদ রায়হান
- ‘হ্যাঁ, আমরা বলেছিলাম’ -প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
- গদ্যকার্টুন- তাঁর দরকার ‘লিভ টুগেদার’! by আনিসুল হক
- রংপুরের কলঙ্কতিলক দূর হবে কি? by তুহিন ওয়াদুদ
- ‘কুড়িতে বুড়ি নয়, বিশের আগে বিয়ে নয়’ by মুহাম্মদ ...
- ভূরাজনীতি- চাতুরীর ফল ভালো হয় না by হাভিয়ার সোলানা
- এখন বিশ্বব্যাংকের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার পালা by এ ...
- গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু- পুলিশ বাহিনী কী করছে আসলে?
- মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির পূর্বাপর by আলী ইমাম ম...
- গাড়িচোর ধরতে মাত্র পাঁচ সেকেন্ড! তরুণ প্রকৌশলী আশ...
-
▼
Oct 31
(75)
-
▼
October
(1240)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...