Wednesday, May 30, 2018

তাহলে কি আমি অভিযান বন্ধ করে দেবো: শেখ হাসিনার প্রশ্ন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সন্ত্রাস আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি। অন্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে আছে। কে কি গডফাদার আমরা দেখছি না। আমরা অভিযান হঠাৎ করে শুরু করিনি। অনেক দিন ধরে দেখে তারপর এ অভিযান শুরু হয়েছে।
আজ (বুধবার) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সাম্প্রতিক ভারত সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। মাদকবিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে মৃত্যুর ঘটনার সমালোচনাকারীদের পাল্টা সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, "দেশকে মাদকমুক্ত করতে এ অভিযান শুরু হয়েছে। অনেক পত্রপত্রিকা মাদক নিয়ে অনেক খবর দিয়েছে। এখন আবার অভিযানে কিছু একটা ঘটলে সমালোচনা করছে। তাহলে কি আমি অভিযান বন্ধ করে দেবো?"
তিনি জানান, এই পর্যন্ত দশ হাজারের মতো গ্রেপ্তার হয়েছে, মাদক বিরোধী অভিযানে কোনো নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছে এমন একটি ঘটনা ঘটেনি।
শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, মাদকের পেছনে যেই গডফাদারই থাকুক তাদের ছাড়া হচ্ছে না, হবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, "যখন কোথাও পুলিশ, র‍্যাব কোথাও অভিযানে যায়, আর সেখানে যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকলে, কোনো নিরীহ ব্যক্তি শিকার হলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব।"
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লিখিত বক্তব্যে তিনি সাম্প্রতিক ভারত সফরে নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
গত শুক্রবার দুই দিনের সরকারি সফরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতা যান প্রধানমন্ত্রী। ওই দিনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি র সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন করেন। এ সময় হাসিনা ও মোদির মধ্যে বাংলাদেশ ভবনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগদান করেন শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শনিবার পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি গ্রহণ করেন।  এ বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, "আপনি পুরস্কার আরও পেয়েছেন, আরও পাবেন, কিন্তু যে পুরস্কারের প্রাপ্য আপনি, তা এখনও পাননি, সেটা শান্তিতে নোবেল পুরস্কার। এজন্য এখন থেকেই প্রক্রিয়া শুরুর আহ্বান জানাই।"
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "কোনো পুরস্কারের প্রতি আমার প্রবৃত্তি নেই। আমি চাই আমার দেশের মানুষ যেন দু'বেলা দু'মুঠো খেতে পারে। আর কোনো পুরস্কারের জন্য লবিস্ট নিয়োগের আর্থিক সামর্থ্যও নেই আমার। সামর্থ্য থাকলেও এসব আমি সমর্থন করি না। বরং টাকা থাকলে আমার গরিবের মাঝে বিলিয়ে দিতে চাই।"
সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, এতে তিস্তা চুক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কথা হয়েছে কি-না, প্রশ্ন করা হলে সরকারপ্রধান বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ সফরে গিয়েছি বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনে, সেদিকেই আমাদের গুরুত্ব ছিল। আর তিস্তা চুক্তির বিষয়ে আমাদের দু'দেশের যৌথ নদী কমিশন আছে, সেখানে আলোচনা চলছে।"
এই সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সফরের মধ্য দিয়ে দু'দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
তার সফর নিয়ে বিএনপি নেতাদের সমালোচনা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তারা বলে, আমরা নাকি এক বালতি পানিও আনতে পারিনি। অথচ গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি আমরাই করেছি। যারা মুচলেকা দেয়, আমি সে দলে নই।

ফিলিস্তিনের পক্ষে কেন সোচ্চার শিখ তরুণরা? by জসপ্রিত ওবেরয়

কানাডায় এই ৮ বছরে বসবাস করতে গিয়ে প্রাণহানির যেকোনো খবর নিয়ে আমার মধ্যে ভীষণ সংবেদনশীলতা তৈরি হয়েছে। কেবল বড় কোনো প্রাণসংহার, বা জোড়া খুন কিংবা মানুষের মৃত্যুই যে কেবল আমার মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, তা নয়। মৃত্যু বিষয়টিই আমার মধ্যে অপরিসীম দুঃখের জন্ম দেয়। মনে হয় যে, আমার এই পরিবর্তনের নেপথ্যে হয়তো কাজ করছে কানাডার সংবেদনশীলতা ও মূল্যবোধ।
১৪ই মে যখন গাজায় ৫৯ ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হলেন, আমি এই তীব্র দুঃখ বৈ কিছু বোধ করিনি। যন্ত্রণা, ক্ষোভ, পরিতাপ আর ঘৃণা আমার হাবভাবে যেন প্রকট হয়ে উঠছিল। কিন্তু নিজেকে শান্ত করার পর আমি যখন চারদিকে তাকালাম, তখন শুদুই নিস্তব্ধ নীরবতাই টের পেলাম।
কানাডার কেউই হয়তো এই হত্যাযজ্ঞ নিয়ে উল্লাশ বা একে যৌক্তিক দাবি করছে না, যেমনটা বিশ্বের অনেক ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো করছে। তবে কোনো কড়া সমালোচনাও দেখতে পেলাম না।
তবে কিছুদিন পর যখন জানা গেল নিহতদের মধ্যে একজন কানাডিয়ান ডাক্তারও রয়েছেন, তখন বেশ শোরগোল হলো। এরপরও এই ঘটনায় কানাডাবাসী যতটা ক্ষোভ দেখিয়েছে, তা এক বনবিড়াল মারা যাওয়া কিংবা গরুর ওপর নিষ্ঠুরতা নিয়ে সৃষ্ট সাম্প্রতিক জনক্ষোভের ধারে কাছেও তা ছিল না। লজ্জাজনক হলেও এটাই সত্যি।
এ কারণেই আমি ভাবছিলাম, তাহলে আমিই কেন গাজার ঘটনা নিয়ে অন্য কানাডিয়ানের চেয়ে এত বেশি ক্ষোভ অনুভব করছি? উত্তরটা সম্ভবত নিহিত আছে আমার শিখ শেকড়ে।
শিখ ধর্মের বয়স ৫০০ বছর। বিশ্বজুড়ে মোট আড়াই কোটি অনুসারী আছে এই ধর্মের। এর মধ্যে দুই কোটিই বসবাস করেন ভারতে। আর ভারতে বসবাসরত শিখদের ৭৭ শতাংশই বসবাস করেন পাঞ্জাব অঙ্গরাজ্যে। ভারতের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১.৭ শতাংশ হলেন শিখ। ভারতের স্বাধীনতার পর এই ৭০ বছরে শিখ ধর্মাবলম্বীরা শুধুমাত্র তাদের ধর্মবিশ্বাসের কারণে নানা সময়ে নির্যাতিত হয়েছেন।
তুলনামূলকভাবে সংখ্যায় কম হলেও, শিখ জাতিগোষ্ঠী বৃটিশদের বিরুদ্ধে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বেশ বড় ভূমিকা রেখেছিল। স্বাধীনতার প্রশ্নে পরে মুসলিমরা পৃথক হয়ে আলাদা রাষ্ট্র পাকিস্তান গড়ে তোলে। তবে শিখ নেতারা নেহরুর ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের ধারণায় আস্থা রাখে। বিনিময়ে তাদেরকে ভারতের আইনসভায় পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্বের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
তবে সময় যত যেতে থাকে, ততই ভারতের তৎকালীন সর্ববৃহৎ দল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার পাঞ্জাব রাজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকে। ভারতের এই একটি রাজ্যে শিখ জনগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ। ওই সময়ে শিখ রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিহত করতে কংগ্রেস একসময় জারনাইল সিং ভিন্দেরানোয়ালে নামে এক উগ্রপন্থীকে সমর্থন দেয়। তবে পরে এই জারনাইল এত জনপ্রিয় ও ক্ষমতাধর হয়ে উঠেন যে, তিনি নিজেকে অজেয় ভাবতে থাকেন। এবং নিজেরই প্রভু কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যান।
এই যে ভুল করে ফ্রাংকেন্সটাইন দানব তৈরি করার ন্যারেটিভ, এটা কি পরিচিত মনে হয়?
১৯৮৪ সালে, জারনাইল একটি স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন। এই দাবি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ভালোভাবে নেয়নি। ভারতীয় বাহিনীর অভিযানে তিনি পালিয়ে বেড়াতে থাকেন। তিনি একসময় লুকিয়ে ছিলেন অমৃতসরে অবস্থিত শিখদের সবচেয়ে পবিত্র মন্দির গোল্ডেন টেম্পলে।
জারনাইল ও তার সঙ্গীদের ধরতে ভারতীয় বাহিনী গোল্ডেন টেম্পলে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। হাজার হাজার নিরীহ পূণ্যার্থীর ওপর আক্রমণ করতে ভারতীয় সেনাবাহিনী ¯œাইপার, মর্টার, মেশিন গান ব্যবহার করে। এই পূন্যার্থীদের মধ্যে নারী, পুরুষ, আবাল, বৃদ্ধ-বণিতা - সকলেই ছিলেন। তারা একটি শিখ উৎসবে সামিল হতে সেখানে গিয়েছিলেন। এই হামলা শুধু স্রেফ একটি ভবনের ওপর হামলা ছিল না। ছিল হাজার হাজার নিরীহ মানুষের ওপর হামলা। ছিল লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ শিখের অনুভূতির ওপর খুনে পাশবিকতা। ভারতের সামরিক বাহিনী কখনই কোনো হিন্দু মন্দিরে এই ধরণের হামলা চালাতে পারতো না, ভবিষ্যতেও পারবেও না।
তবে গোল্ডেন টেম্পল অভিযানের পরের কাহিনী আরও মর্মস্তুদ। ওই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে তার শিখ দেহরক্ষীরা একেবারে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করে। আর এই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে শিখদের বিরুদ্ধে ভারত-জুড়ে এক গণহত্যা রচিত হয়।
হাজার হাজার শিখ পুরুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। নারীদেরকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। শিশু-বৃদ্ধও বাঁচতে পারেননি হত্যাযজ্ঞ থেকে। কিন্তু যেই রাজনৈতিক নেতারা এসব দাঙ্গা উস্কে দিয়েছিলেন তাদের কারও সাজা হয়নি। তারা এখনও মুক্ত। এবং, পুরো দুনিয়া থেকে আসেনি কোনো প্রতিবাদ। এই ন্যারেটিভও কি পরিচিত মনে হচ্ছে না?
পরবর্তীতে পাঞ্জাবে শুরু হয় সশস্ত্র বিচ্ছন্নতাবাদ। পুরো রাজ্যে সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকে সেনাবাহিনী। ১৯৮৪ সালের পরের এক দশকে দাঙ্গাহাঙ্গামা ছিল এই রাজ্যের নিত্য নৈমিত্যিক ঘটনা। রাজ্য পুলিশ ও ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী যা খুশি তা-ই করতে পারতো পাঞ্জাবে। এতে নজিরবিহীন নৃশংসতা আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- দুইই ঘটেছে। এই ১০-১২ বছরে যত শিখ পুরুষ নিখোঁজ হয়েছে তাদের সংখ্যা বিপুল। এই কাহিনীও কি পরিচিত মনে হচ্ছে না?
ওই মৃত্যুর রঙ্গভূমি থেকে যারা পালাতে পেরেছিলেন তারা যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করেন। আজ বিদেশে অবস্থানরত শিখ সম্প্রদায় সমৃদ্ধশালী, যোগাযোগসম্পন্ন ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী।
কিন্তু এরপরও যখনই এই সম্প্রদায় ১৯৮৪ সালের গণহত্যা ও অন্ধকার সময় নিয়ে কথা বলে, তখনই ভারত সরকার যেই প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা ফিলিস্তিনিদের কান্নায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়াহীনতারই সমতুল্য।
ভারত সরকার শুধু আমাদের ন্যায়বিচারের আবেদনই প্রকাশ্যে অগ্রাহ্য করছে না, বিদেশের রাজনৈতিক প্রাঙ্গনে শিখদের উত্থান দমাতেও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এর একটি বড় উদাহরণ হলো কানাডার তৃতীয় বৃহত্তম দল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা জগমিত সিং-এর রাজনৈতিক উত্থান প্রতিহত করতে ডানপন্থী হিন্দু দলগুলোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা।
শিখ সম্প্রদায় জানে নিজের মাতৃভূমি থেকে কার্যত উৎখাত হয়ে অন্য দেশে বাধ্যতামূলক নির্বাসনে থাকতে কেমন লাগে। ‘শুধু মজা’র জন্য কারও টার্গেট প্র্যকটিস হিসেবে গুলিবিদ্ধ হতে কেমন লাগে। তারা বোঝেন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিত্য হয়রানির শিকার হতে কেমন লাগে। তারা আরও জানেন ৭ বছর ধরে ‘সন্ত্রাসবাদে’র অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় ঝুললে কেমন লাগে। তারা বোঝেন যখন পুরো বিশ্ব আপনার দুর্দশা অগ্রাহ্য করে তেমন কেমন বোধ হয়।
হয়তো এ কারণেই আমি আজ ফিলিস্তিনিদের ওপর নৃশংসতার প্রতিবাদ করছি। হয়তো এ কারণেই আমার মতো আরও অনেক শিখ একই কাজ করছেন। এ কারণেই হয়তো অন্যরা যা অনুভব করেনি বা করবে না, সেই কষ্ট আমি অনুভব করি। তবে একজন শিখ, মুসলিম, ইহুদী বা খ্রিস্টান হওয়ার আগে আমরা সবাই সমানভাবে একই হৃদয় আর মগজের, রক্তে আর মাংসের মানুষ। অন্তত আমি আশা করি আমরা তা-ই।
(জসপ্রিত ওবেরয় একজন ব্লগার ও কলামিস্ট। তার এই নিবন্ধ ইসরাইলি পত্রিকা হারেৎসে প্রকাশিত হয়েছে। অনুবাদ করেছেন মাহমুদ ফেরদৌস।)

সাতছড়িতে পর্যটক টানতে ট্রি এডভেন্সার by রাজীব দেব রায় রাজু

আমরা প্রকৃতিকে বাঁচাবো আগামী প্রজন্মের জন্য এই স্ল্লোগানকে ধারণ করে ইউএসএআইডির অর্থায়নে ২০০৫ সালে ২৪৩ হেক্টর বনভূমিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। তখন এ বনটি বিভিন্নভাবে ধ্বংস হতে চলছিল। এ বনটির জীববৈচিত্র্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বনের মধ্যে ২১ প্রজাতির উভয়চর প্রাণী, ৫০ প্রজাতির সরীসৃপ, ২০৩ প্রজাতির পাখি এবং ২৪ প্রজাতির স্তন্যপ্রায়ী প্রাণী ছিল। ২০০৫ সাল থেকে হবিগঞ্জের মাধবপুর-চুনারুঘাট বন এলাকার ৩৮টি গ্রামের জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠী নিয়ে সহব্যবস্থাপনা কমিটি রয়েছে। বন বিভাগ সহব্যবস্থাপনা কমিটি, উদ্যান সহব্যবস্থাপনা কমিটির যৌথ ব্যবস্থাপনায় সাতছড়ি বনের জীববৈচিত্র্য, গাছপালা এবং বণ্যপ্রাণীর অভয়াশ্রমে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।
পর্যটকদের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে নানা উদ্যোগ। এর মধ্যে রয়েছে দর্শনার্থী তথ্য কেন্দ্র, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, উদ্ভিদ গবেষণা কেন্দ্র, ছাত্র-শিক্ষকদের ডরমেটরি, ট্রি এডভেন্সার সেন্টার। সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন, এ বনে অবাধে সর্ব সাধারণের প্রবেশ সংরক্ষিত হওয়ায় এবং বনের ভিতরে বসবাসকারী পশু-পাখি নিরাপত্তা ও খাদ্যের সংস্থান থাকায় এখন সাতছড়ি বনে বিভিন্ন বণ্যপ্রাণীর প্রজনন বৃদ্ধি পেয়েছে। স্তন্যপ্রাণী প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে বন্য শূকর, উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, চশমাপড়া হনুমান, কুলু বানর, লজ্জাবতি বানর, কাঠ বিড়ালি, খরগোশ, ডাইনি বাদর, বন বিড়াল, মেচু বিড়াল, গন্ধগোকুল, হলদে গলা মারটিন, মায়া হরিণ। উভয়চর প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে সোনা ব্যাঙ্গ, কোনা ব্যাঙ্গ, বেনপু ব্যাঙ্গ, লালপিঠ লাউবিচি ব্যাঙ্গ, মুরগি ডাকা ব্যাঙ্গ। সরীসৃপ প্রাণীর মধ্যে রয়েছে উড়ন্ত টিকটিকি, নীলগলা গিরগিটি, তক্ষক, কিং  কোবরা, গোখরা সাপ, সবুজ বোরা সাপ, দোড়া সাপ, লাউডগা সাপ, পাহাড়ি সাপ। পাখির মধ্যে রয়েছে কাউ ধনেশ, পাতি ময়না, লালমাথা কুচকুচি, উদয়ী বামনরাঙ্গা, মেটে হাঁড়িচাচা, খয়রামাথা শুমচা, তুর্কীবাজ, সবুজ ঘুঘু, সবুজ ধুমকল, চিত্রা হুতোম প্যাঁচা, তামাটে বেনেবউ, পাতি সবুজ তাউরা, নীলচুটকি, কালাগলা টুনটুনি, কালাঝুটি বুলবুল, জলপাই বুলবুল, এশিয় শ্যামাপাপিয়া ।
সাতছড়ি টিপড়া বস্তির হেডম্যান চিত্তরঞ্জন বর্মন জানান, এক সময় মনুষ্যসৃষ্ট তাণ্ডবে বনভূমি ক্ষতবিক্ষত ছিল। এ কারণে জীববৈচিত্র্য ও দুর্লভ অনেক বণ্যপ্রাণী বিলুপ্ত হতে যাচ্ছিল। এখন সাতছড়ি বনকে অভয়াশ্রম ও জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করায় পাহাড়ে বৃক্ষরাজি বৃদ্ধির পাশাপাশি অনেক বণ্যপ্রাণী ও  পাখি, সরীসৃপ প্রাণী  বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাঝে মাঝে বনের পশু, পাখিগুলোকে রাস্তায় চলে আসতে দেখা যায়। অনেক দর্শনার্থী এগুলো দেখে আনন্দ পেয়ে থাকেন।
প্রায় প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন গাড়ি নিয়ে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যোনে ছুটে আসেন। বিশেষ করে জাতীয় দিবসগুলোতে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যোনে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। গত বছর সাতছড়ি জাতীয় উদ্যোনে প্রবেশের টিকিট বিক্রি করে ১২ লাখ টাকা আয় করা হয়। এ বছর প্রায় ১৫ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। 
রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন জানান, বণ্যপ্রাণীর খাবারের সংস্থানের জন্য ৪টি ফল বাগান করা হয়েছে। এ সব বাগান থেকে এখন পশু পাখি খাবার সংগ্রহ করে। এ বছরও ২৩০ হেক্টর জায়গায় ফল বাগান করা হবে। এছাড়া খরা মৌসুমে পশু পাখির পানি সংকট দেখা দেয়। এ সংকট মোকাবেলায় বনের ভিতরে জলাধার সৃষ্টি করা হয়েছে।
বণ্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ তানিয়া খান জানান, দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সাতছড়ি বনে গাছকাটা বন্ধ  এবং বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণের কারণে এখন  সাতছড়ি জাতীয় উদ্যোনে অনেক বণ্যপ্রাণী বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবায় ভারতকে পিছনে ফেলেছে বাংলাদেশ

স্বাস্থ্যসেবার মান ও সহজপ্রাপ্যতার দিক দিয়ে ভারতকে পিছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। শুধু বাংলাদেশই নয়, এ হিসেবে ভারতকে পিছনে ফেলেছে চীন, শ্রীলংকা, ভুটানের মতো দেশ। বার্তা সংস্থা পিটিআই এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সারা বিশ্বের ১৯৫টি দেশের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার মান ও সহজপ্রাপ্যতার দিক দিয়ে ১৪৫ নম্বর অবস্থানে রয়েছে ভারত। এমন কথা বলা হয়েছে ল্যানসেট গবেষণায়। তবে গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজের গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৯০ থেকে স্বাস্থ্যসেবার মান ও সহজপ্রাপ্যতার উন্নতি ঘটেছে ভারতে।
২০১৬ সালে ভারতে স্বাস্থ্যসেবার মান ও সহজপ্রাপ্যতার সূচকে ভারত অর্জন করেছে ৪১.২। ১৯৯০ সালে তা ছিল ২৪.৭। গবেষণায় বলা হয়েছে, যদিও স্বাস্থ্যসেবার মান ও সহজপ্রাপ্যতার উন্নতির দিক দিয়ে এইচএকিউ সূচকের দ্রুত উন্নতি ঘটেছে ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে, তবু দেশটির সর্বোচ্চ ও সর্বনিন্ম পয়েন্ট অর্জনের ফারাক অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯০ সালে এই পার্থক্য ছিল ২৩.৪ পয়েন্ট। ২০১৬ সালে এই ব্যবধান দাঁড়ায় ৩০.৮ পয়েন্টে। এতে বলা হয়, সূচকে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট অর্জন করেছে গোয়া ও কেরালা। প্রত্যেকেই ৬০ পয়েন্টের বেশি পেয়েছে। অন্যদিকে সর্বনি¤œ পয়েন্ট পেয়েছে আসাম ও উত্তর প্রদেশ। এ দুটি রাজ্যের প্রতিটির অর্জন ৪০ এর নিচে। ১৯৫ টি দেশের মধ্যে সূচকের হিসাবে চীনের অবস্থান ৪৮তম। শ্রীলংকা রয়েছে ৭১তম অবস্থানে। বাংলাদেশ ১৩৩তম ও ভুটান ১৩৪তম। তবে নেপাল (১৪৯তম), পাকিস্তান (১৫৪তম) ও আফগানিস্তানের (১৯১তম) চেয়ে ভাল অবস্থানে আছে ভারত।  বিশ্বে ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা ও গুণগত মান ছিল যে পাঁচটি দেশে তারা হলো আইসল্যান্ড (৯৭.১ পয়েন্ট), নরওয়ে (৯৬.৬ পয়েন্ট), নেদারল্যান্ডস (৯৬.১ পয়েন্ট), লুক্সেমবার্গ (৯৬ পয়েন্ট), ফিনল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া (প্রত্যেকেই ৯৫.৯ পয়েন্ট করে)। সবচেয়ে কম স্কোর করেছে যেসব দেশ তার মধ্যে রয়েছে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র (১৮.৬ পয়েন্ট), সোমালিয়া (১৯.০ পয়েন্ট), গিনি বিসু (২৩.৪ পয়েন্ট), চাদ (২৫.৪ পয়েন্ট) ও আফগানিস্তান (২৫.৯ পয়েন্ট)। গবেষণা অনযায়ী, ভারত যেসব রোগ মোকবিলায় দুর্বল পারফরমেন্স দেখিয়েছে তা হলো টিবি বা যক্ষা, রিউমেটিক হার্ট ডিজিজ, ইসাইমিক হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোক, মূত্রাশয়ের ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, কিডনি সংক্রান্ত জটিল রোগ ও অন্যান্য। গবেষণায় বলা হয়েছে, এই রিপোর্ট এটাকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরে যে, সমস্ত সার্ভিস এরিয়া ও জনগণের জন্য গুণগত স্বাস্থ্যসেবার মান ও সহজপ্রাপ্যতা জরুরি ভিত্তিতে উন্নতি করতে হবে। তা নাহলে যে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক খাত ও যেসব রোগ স্থানীয় জনগণ বয়ে বেড়াচ্ছেন তার ব্যবধান অনেক বাড়বে।

গাজা ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলায় ২০১৪ সালের ‘যুদ্ধস্মৃতি’

২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলের একটি খালি কিন্ডারগার্টেনকে লক্ষ্য করে ৩০টি মর্টার হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। তাদের দাবি, গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রতিরোধেই এই হামলা চালিয়েছে তারা। জবাবে মঙ্গলবার হামাস ও ইসলামিক জিহাদের ৩৫টি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েল। ২০১৪ সালের গাজা যুদ্ধের পর এমন বৃহৎ পরিসরে পারস্পরিক হামলার ঘটনা এবারই প্রথম।
ইসরায়েলের দাবি, হামাসের হামলায় তাদের তিনজন সেনা আহত হয়েছেন। গাজা উপত্যকা থেকে এসব রকেট হামলা করা করা হয়। ইসলামিক জিহাদ ও হামাস এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েলের অবরোধের জবাবে তারা এই হামলা  চালিয়েছে। সম্প্রতি ফিলিস্তিনে বেশ কয়েকবার ইসরায়েলের চালানো হামলার জবাব দিয়েছে তারা।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, হামাস ও ইসলামিক জিহাদের স্থাপনা লক্ষ্য করে ৫৫টি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তবে ইসরায়েলের হামলায় এখনও কোনও হতাহতের কথা জানা যায়নি।
ইসরায়েলি গোয়েন্দাবিষয়ক মন্ত্রী ইসরায়েল কাতজ বলেন, ‘যুদ্ধের খুব কাছাকাছি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। যদি গুলি চলতেই থাকে তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’
ইসলামিক জিহাদের দাউদ সাহাব বলেন, মিসরের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন।  তার দাবি, ইসলামিক জিহাদ সহিংসতা চায়নি। ইসরায়েলের দোষেই এমনটা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যদি ইসরায়েল চুপ থাকে এবং সবধরনের আগ্রাসন থাকে, তবেই আমরা শান্ত হবো।’
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জোনাথান কনরিকাস বলেন, ২০১৪ সালের পর এটাই সবচেয়ে বড় হামলা। সেনাবাহিনীর দাবি, মঙ্গলবার ৭০টির বেশি হামলা চালিয়েছিলা হামাস ও ইসলামিক জিহাদ। অনেকগুলো প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে ইসরায়েল। বাকিগুলো খালিস্থানে আঘাত এনেছে। একটি রকেট কিন্ডারগার্টেনের মধ্যে পড়লে এর দেয়াল ধসে যায়। এক ঘণ্টা পরই স্কুলটি খোলার কথা ছিল।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় সম্প্রতি সহিংসতার মাত্রা বেড়েছে। গত মার্চ থেকে ফিলিস্তিনিদের ছয় সপ্তাহের মার্চ অব রিটার্ন আন্দোলন চলার সময় গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১১৮ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনিরাও ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইসরায়েলের গুলি চালানোর নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। তবে ইসরায়েলের দাবি, নিহতরা সবাই সন্ত্রাসী।
হামাসের এক মুখপাত্র বলেন, এটি ইসরায়েলের আগ্রাসনের স্বাভাবিক জবাব। তিনি বলেন, ‘আমাদের রক্ত সস্তা না।’ ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ইসরায়েলেরে আগ্রাসনই প্রমাণ করে যে তারা শান্তি চায় না।
এদিকে হামাসের রকেট হামলা নিয়ে বুধবার বৈঠকে বসছে জাতিসংঘ। যুক্তরাষ্ট্র চায় জাতিসংঘ যেন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালে বলেন, ‘ফিলিস্তিনি থেকে ছোড়া মরটার কিন্ডারগার্টেনসহ বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত এনেছে। নিরাপত্তা পরিষদের এই নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ফিলিস্তিনির নেতাদের দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
গাজার শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরায়েলের নিক্ষেপ করা একটি মিসাইলের অংশ স্কুলে এসে পড়ে। হামলায় চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের বিশেষ দূত নিকোলায় ম্লাদেনোভ বলেন, এই পরিস্থিতিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন তিনি।
মঙ্গলবার গাজা উপত্যকায় একটি ফিলিস্তিনিবাহী নৌকা আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলি সমুদ্র অবরোধের জবাবে ওই নৌকা চালাচ্ছিল ফিলিস্তিনিরা। সেনাবাহিনী জানায়, কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা ছাড়াই নৌকাটি জব্দ করে তারা। সেখানে ১৭ জন যাত্রী ছিল।

ঢাকায় এবার আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো হচ্ছে by দীন ইসলাম

মেট্রোরেলের পর রাজধানীতে আন্ডারগ্রাউন্ড সাবওয়ে (আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো) নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। সাবওয়েতে রেল ছাড়াও বাস সংযোগ থাকছে। সহসাই ঢাকা শহরে সাবওয়ে নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। সমীক্ষা পরিচালনার জন্য পরামর্শক নিয়োগের একটি প্রস্তাব আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠেয় সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উঠবে। গত ২৪শে মে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ। সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, যানজট নিরসনে রাজধানীতে প্রথমবারের মতো মাটির নিচে তৈরি হবে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই প্রকল্প। তবে প্রকল্প ব্যয় কত হবে তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহেই সাবওয়ে নিয়ে সংশ্লিষ্টরা চিন্তা-ভাবনা করছেন। ২০২০ সালের এপ্রিলের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২২৪ কোটি ৫৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। প্রকল্প অনুমোদনের আগেই সমীক্ষা চালানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। নির্ধারিত এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট দাখিলের সময়সীমার মধ্যে পাঁচটি বিদেশি কোম্পানি অংশ নেয়। এরপর প্রস্তাব আহ্বান করা হলে তিনটি কোম্পানি অংশ নেয়। এর মধ্যে স্পেন ও জাপানের জয়েন্ট ভেঞ্চারের একটি কোম্পানি সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হয়েছে। তাদের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য আজ মন্ত্রিসভা কমিটিতে প্রস্তাব উঠবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে চারটি রুটে সাবওয়ে নির্মাণ করা হবে। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে ট্রেন ও বাসে ঘণ্টায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার যাত্রী রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে চলাচল করতে পারবে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, সাবওয়ে নির্মাণ হবে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কেননা, পৃথিবীর সব বড় শহরেই সাবওয়ে রয়েছে। এটি নির্মাণ হলে একটি অংশ ওপরে থাকবে আর অন্য অংশটি মাটির নিচে থাকবে। ফলে যানজট কমে যাবে। সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে এ প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করা হবে। সমীক্ষা চলাকালীন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক প্রতিবেদন, অগ্রগতি প্রতিবেদন, মধ্যবর্তী প্রতিবেদন, খসড়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং সর্বশেষ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে। এরই মধ্যে সাবওয়ে নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে চারটি রুট চিহ্নিত করা হয়েছে। রুট-১: টঙ্গী-বিমানবন্দর-কাকলী-মহাখালী-মগবাজার-পল্টন-শাপলা চত্বর-সায়েদাবাদ-নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার। রুট-২: আমিনবাজার-গাবতলী-আসাদগেট-নিউমার্কেট-টিএসসি-ইত্তেফাক ও সায়েদাবাদ পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার। রুট-৩: গাবতলী-মিরপুর-১-মিরপুর-১০-কাকলী-গুলশান-২-নতুনবাজার-রামপুরা টিভি ভবন-খিলক্ষেত-শাপলা চত্বর-জগন্নাথ হল ও কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত এবং রুট-৪: রামপুরা টিভি ভবন-নিকেতন- তেজগাঁও- সোনারগাঁও-পান্থপথ-ধানমন্ডি-২৭, রায়েরবাজার-জিগাতলা-আজিমপুর-লালবাগ ও সদরঘাট পর্যন্ত এটি নির্মাণের চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। এদিকে সাবওয়ে নির্মাণের যুক্তি দেখিয়ে সেতু বিভাগ বলছে, ঢাকা শহরে বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রায় ৭৯৫০ জন। মোট সড়কের দৈর্ঘ্য রয়েছে ১২৮৬ কিলোমিটার। সড়কের ঘনত্ব ৯ দশমিক ০১ শতাংশ। অথচ আদর্শমান হচ্ছে ২০-২৫ শতাংশ সড়কের ঘনত্ব। ফাঁকা জায়গা রয়েছে ৩ দশমিক ০৯ শতাংশ, কিন্তু থাকার প্রয়োজন ১৫-২০ শতাংশ। সড়কের বর্তমান সক্ষমতা ৩ লাখ হলেও বিআরটিএ’র নিবন্ধিত গাড়ি প্রায় ৯ লাখ। ঢাকা শহরে যানজটের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য সেতু বিভাগ ঢাকা শহরে সাবওয়ে (আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো) নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে, সড়কপথে যেখানে ১০০ বাসে ঘণ্টায় ১০ হাজার যাত্রী চলাচল করতে পারে, সেখানে একই পরিমাণ বাসে সাবওয়েতে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী চলাচল সম্ভব। মাটির নিচে সাবওয়ে নির্মাণ হলে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ মাটির নিচ দিয়ে চলাচল করতে পারবে। ফলে ভূমির ওপর জনসংখ্যার চাপ কমবে এবং যানজট কমে যাবে।

সিলেটে এসডিএফ’র কার্যক্রম: তমিরের এক রিপোর্টে চাপা পড়ছে মূল ঘটনা by ওয়েছ খছরু

প্রবেশন কর্মকর্তার এক রিপোর্টেই বদলে যাচ্ছে ঘটনা। দোষী হচ্ছে নির্দোষ আর নির্দোষ হচ্ছে দোষী। এতে করে সিলেট শহরতলীর একটি গ্রামে সামাজিক দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করছে। টাকার লোভেই তমির হোসেন নিজে সরকারি কর্মকর্তা হয়ে আরেক সরকারি প্রজেক্টের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ করে সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন- এসডিএফ’র কর্মকর্তারা। তারা বলেন, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর এসডিএফের গ্রাম প্রজেক্টের সভাপতি রায়না বেগমকে পুলিশ দিয়ে হেনস্থা করেন তিনি। এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন মীরপুর গ্রামের এসডিএফের গ্রাম সমিতির সদস্যরা। গতকাল সিলেট জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবর দেয়া স্মারকলিপিতে সরাসরি তমির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন এসডিএফ’র ২ নম্বর ক্লাস্টার কমিউনিটি সোসাইটির সভাপতি রাজিয়া বেগম। আবেদনে তিনি জানান, শহরতলীর মীরপুর গ্রামের ২০১২ সাল থেকে দায়িত্বে থাকা সভাপতি রায়না বেগমের বিরুদ্ধে সম্প্রতি মিথ্যা অভিযোগ এনে আদালতে একটি মামলা করেন ওই গ্রামের জমিরুন নেছা নামের এক মহিলা। পরে আদালত অভিযোগের তদন্ত করতে জেলা প্রবেশন অফিসারকে দায়িত্ব দেন। তদন্তভার পেয়েই তমির হোসেন সরাসরি রায়না বেগমের কাছে ঘুষ চান। কিন্তু কথা মতো টাকা না পেয়ে জমিরুন নেছার কাছ থেকে অন্যায়ভাবে টাকা গ্রহণ করে মীরপুর গ্রাম সমিতির সভাপতি রায়না বেগমের বিরুদ্ধে ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করেই মিথ্যা তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। আবেদনে রেজিয়া বেগম বলেন, তমির হোসেন চৌধুরী ২০শে ফেব্রুয়ারি তার নিজ কার্যালয়ে ডেকে আনেন মীরপুর গ্রামের নাসিমা বেগম, রোহেনা বেগম, আংগুরা বেগম, হাওয়ারুন বেগম, ফাতেমা বেগম, নাসিমা বেগম-২, আয়মলা বেগম, হাছিনা বেগম, মনোয়ারা বেগম, মতাচ্ছির, জয়নুদ্দীন, আলাউদ্দিন, খালেদ, জয়নালসহ কয়েকজন সহ-ক্লাস্টার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সামনে রিপোর্ট পক্ষে দিতে টাকা দাবি করেন। রায়না বেগম টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিজ বারান্দা থেকে পুলিশ ডেকে এনে রায়না বেগমকে হেনস্থা করেন। সিলেট শহরতলীর মীরপুর গ্রামে ২০১২ সালে কার্যক্রম শুরু করে এসএডিএফ। গ্রামীণ মানুষদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৬৪ জন সদস্যর সমন্বয়ে নতুন জীবন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গ্রাম সমিতি গঠন করা হয়। ওই গ্রাম সমিতি পরিচালনার জন্য রায়না বেগম নামের এক মহিলাকে সভাপতি করে তারা ৯ সদস্যের পরিচালনা কমিটি করেন এবং গ্রামের উন্নয়নের জন্য গ্রাম সমিতির কাছে ৪০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা প্রদান করে এসডিএফ। এই টাকা পাওয়ার পর গ্রাম সমিতির একটি ঋণ সমন্বয়ক কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির টিম লিডার করা হয় আব্দুল জলিলের স্ত্রী কমলা বেগমকে। ২০১৩ সালে ঋণ কমিটি গ্রাম সমিতির কাছ থেকে ১৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা সমঝে নিয়ে ঋণ কার্যক্রম শুরু করে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত ঋণ প্রদান ও কার্যক্রম আদায় সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মূলধন হয়। এরই মধ্যে গ্রামের মধ্যে ৪ শতক জমি কিনে স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণ করে এসডিএফ। এদিকে, ২০১৫ সালের দিকে এসডিএফ’র মনিটরিং টিমের সদস্যরা ঋণ কমিটির কার্যক্রম মনিটরিং করতে গিয়ে টিম লিডার কমলার বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পান। এসডিএফ’র মনিটরিং কর্মকর্তা লিটন চন্দ্র পাল জানিয়েছেন, টাকা উদ্ধারের ব্যাপারে ২০১৭ সালের অক্টোবরে গ্রামের অফিসে যৌথ সভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু ওই সভায় কমলার পক্ষ নিয়ে কিছু সংখ্যক উচ্ছৃঙ্খল যুবক অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দেয়। এ কারণে শেষ পর্যন্ত বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি। লিটন জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মীরপুর গ্রামে থাকা তাদের অফিস তছনছ করা হয়। ওই অফিসের ৭টি টিন খুলে নেয়া ছাড়া ঋণ কমিটির সদস্য থাকা ১২৪ জনের কাগজপত্র গায়েব করা হয়। এ ঘটনার পর এসডিএফের গ্রাম সমিতির সভাপতি রায়না বেগম বাদী হয়ে ১২ই জানুয়ারি কমলা বেগম, হাবিবুর রহমান, মাহমদ আলী, আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে জালালাবাদ থানায় চুরির মামলা করেন। এদিকে, চুরির মামলা থেকে রেহাই পেতে কমলার বিশ্বস্তজন মীরপুর গ্রামের জমিরুন্নেছা বেগম গ্রাম সমিতির সভাপতি রায়না বেগমকে আসামি করে আদালতে পাল্টা আত্মসাৎ মামলা করেন। সিলেট অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট থেকে তদন্তভার দেয়া হয় প্রবেশন অফিসার তমির হোসেনকে। আর তদন্তভার পেয়েই তমির হোসেন প্রকাশ্য ঘুষ চান। কিন্তু রায়না বেগমের পক্ষ ঘুষ না দেয়ায় সত্য ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছেন দাবি করেন রায়না বেগম। এদিকে, তদন্ত রিপোর্ট প্রস্তুতকালে ঘুষ চাওয়া এবং গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা তমির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, রিপোর্ট দিলে কারো পক্ষে কারো বিপক্ষে যাবে। সেখানে আমাদের কিছুই করার নেই। পরবর্তী বিষয়টি আদালত সিদ্বান্ত নেবে বলে জানান তিনি। এসডিএফ’র সিলেট জেলা ব্যবস্থাপক মো. সামিউল হক জানিয়েছেন, তমির হোসেন চৌধুরী তার রিপোর্টে যে রায়না বেগমকে অভিযুক্ত করেছেন সেই রায়না বেগম অর্থ কমিটির কেউ না। দোষী হলে হতে পারে কমলা। কিন্তু অফিস চুরির ঘটনা ও টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে রায়নাকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। আর তমির হোসেন টাকার বিনিময়ে নির্দোষ রায়নাকেই অভিযুক্ত করেছেন।

মমতাজের ঠিকানা এখন মানসিক হাসপাতাল by রোকনুজ্জামান পিয়াস

সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত এক গ্রামের মমতাজ খাতুন। স্বামী পরিত্যক্তা। পিতা-মাতার সংসারেও নিত্য অভাব-অনটন। সেই সংসারেই ঠাঁই হয়েছে তার। সঙ্গে একমাত্র ছেলে। ওই ছেলেই তার বেঁচে থাকার অবলম্বন। সে এখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। ভাগ্যবিড়ম্বিত এই নারী স্বপ্ন দেখতেন, ছেলে একদিন বড় হবে। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবে। ভালো চাকরি করবে। ছেলের ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে তাই সৌদি আরব পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য প্রতারণা করেছে তার সঙ্গে। প্রথম ৬ মাস নিয়মিত বেতনের টাকা পাঠালেও গত তিন মাস ধরে খোঁজ ছিল না মমতাজের। পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন দুশ্চিন্তায়। অবশেষে খোঁজ মিলেছে তার। ফিরে এসেছেন সৌদি আরব থেকে। তবে এ এক অন্য মমতাজ। এখন তিনি মৃত্যু ভয়ে ভীত।
সারাক্ষণ বিড়বিড় করেন। এই অবস্থায় তার ঠিকানা হয়েছে রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে। হাসপাতালের ৩০৮ নং কক্ষের ১ নং বেডে ভর্তি করিয়ে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গত শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটায় দেশে ফেরার পর ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালটিতে ভর্তি করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৌদি আরবে গৃহকর্মে যাওয়া নারীদের অধিকাংশই শারীরিক, মানসিক ও যৌনসহ নানা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিনই একাধিক নারী দেশে ফিরে আসছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি সংখ্যক দেশে ফিরছেন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে। মমতাজ ছাড়াও বিভিন্ন সময় বেশ কয়েকজন নারী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে দেশে ফিরেছেন। গত রোববার নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরা ৪০ নারীর মধ্যে মনোয়ারা নামে এক নারী মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন। ফিরে আসা নারীরা জানিয়েছেন, দেশটিতে গৃহকর্তার নির্যাতনের শিকার হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারানো আরো বেশ কয়েকজন নারী দূতাবাসের সেফ হোমে অবস্থান করছেন।
জাতীয় মানসিক হাসপাতালে কথা হয় সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া গ্রামের রুদ্রপুর গ্রামের মমতাজের ভাই আফজালের সঙ্গে। তিনি জানান, তার বোন স্বামী পরিত্যক্তা। একমাত্র ছেলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। ছেলের কথা চিন্তা করেই নয় মাস আগে পাশের গ্রামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি সৌদি গিয়েছিলেন। প্রথম ৬ মাস নিয়মিত বেতন পাঠাতেন। ওই সময় প্রতিমাসে একবার করে কথা হতো। গত তিনমাস ধরে তার বোন ফোন করেনি। বেতনও পাঠাননি। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। পরে গত শুক্রবার সকালে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মকর্তা আল আমিন নয়ন তাকে ফোন করে জানান, তার বোন দেশে এসেছে। তাকে অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) অফিসে রাখা হয়েছে। আফজাল বলেন, ওই অফিসে গিয়ে বোনকে দেখে হতভম্ব হয়ে পড়ি। তিনি এক কাপড়ে সৌদি থেকে এসেছে। আফজাল বলেন, ওই সময় তার বোন বলছিলো, ‘আমার মা-বাবা, ভাই-বোনকে মেরে ফেলেছে। তাদের কেটে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রেখেছে।’ এছাড়া সবসময় সে বিড়বিড় করে কথা বলে। কার সঙ্গে সে কথা বলছে জানতে চাইলে বলে, ‘তোরা বুঝবি না। আমি যার সঙ্গে কথা বলছি সে ঠিকই বুঝছে।’ মাঝে মাঝে বলে, ‘ওরা আসছে, মেরে ফেলবে।’ তিনি বলেন, পরে নয়ন তার বোনকে মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যান। তার সহযোগিতায় এখানে ভর্তি করা হয়। জানা যায়, ৩২ বছর বয়সী মমতাজ খাতুন গত বছরের ২৯শে সেপ্টেম্বর রিক্রুটিং এজেন্সি বিএস ইন্টারন্যাশনাল-এর মাধ্যমে সৌদি আরব যান। শুক্রবার দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে তাকে উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়।
এ সময় বিমানবন্দরের দায়িত্বে থাকা এক নারী পুলিশকে মারধর করেন তিনি। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়েন। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বিমানবন্দরের কর্তব্যরত ডাক্তারের পরামর্শে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মকর্তারা তাকে জরুরিভিত্তিতে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেন। হাসপাতালের চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মানসিক হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু অভিভাবক না থাকার কারণে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাতে ওকাপ-এর শেল্টারে পাঠানো হয়। রাতে মমতাজের মা ও ভাই পৌঁছার পর রোববার সকালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে গত তিন মাসে মমতাজের সঙ্গে কি ঘটনা ঘটেছিলো সে ব্যাপারে কিছুই জানা যায়নি। কীভাবে তিনি দূতাবাসের সেফ হোমে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাও অজানা রয়ে গেছে। মমতাজ সুস্থ না হলে হয়তো প্রকৃত ঘটনা রহস্যাবৃতই থেকে যাবে।
নরসিংদী জেলার শিবপুরের ঝর্ণা বেগম। গত ৮ মাস আগে তিনি সৌদি আরব গিয়েছিলেন। পরিবারের অমতেই তিনি দেশটিতে যান। সেখানে যাওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অবশেষে দেশে ফিরে আসলেই খোঁজ মেলে তার। গত ২২শে মার্চ বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্যরা তাকে পায় মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায়। এরপর চলে চিকিৎসা। কিন্তু এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন তিনি। তার ভাই লোকমান জানান, তার ওপর নানান ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছে। প্রায় ৬ মাস দেশটিতে অবস্থান করলেও কোনো বেতনাদি পাননি। তিনি বলেন, পুরোপুরি সুস্থ হতে এখনো সময় লাগবে। টাকা পয়সার অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয় না বলেও জানান তিনি। ঝর্ণার সঙ্গে একই দিন দেশে ফেরেন আরেক মানসিক ভারসাম্যহীন ফরিদপুরের আকলিমা। জানা গেছে, বিভিন্ন সময় দেশে ফিরে আসা মানসিক ভারসাম্যহীন এসব নারীদের কাউন্সেলিং করছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
এ ব্যাপারে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, এ পর্যন্ত কতজন সৌদি ফেরত নারী পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে যেসব নারীরা ফেরত আসছেন তারা সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তিনি বলেন, ফেরত আসা প্রত্যেক কর্মীই নানা ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অনেককে ফ্যামিলি গ্রহণ করছে না, কেউ সমাজে স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারছে না। কেউ একঘরে হয়ে পড়েছেন। এতে করে তারা ভয়ঙ্করভাবে ট্রমাটাইজ হয়ে পড়ছে। সেই অর্থে প্রত্যেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তিনি আরো বলেন, এসব মানসিক বিপর্যস্ত মানুষের জন্য প্রথম দরকার কাউন্সেলিং। তাদের সংস্থায় কাউন্সেলিং ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমান ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম এ ধরনের ৬টি কেস তত্ত্বাবধান করছে। সংস্থা তাদের নিয়মিত কাউন্সেলিং দিয়ে আসছে।

জোরপূর্বক গুম, সরকারের দাবির পক্ষে স্বচ্ছতা নেই বললেই চলে

জোরপূর্বক গুমের ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের নীবরতায় তীব্র সমালোচনা করেছে মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো। সরকার জোরপূর্বক গুমের ঘটনাগুলোতে চোখ বন্ধ করে রেখেছে। এমনটা অভিযোগ করে অনলাইন দ্য ডিপ্লোম্যাটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে জোরপূর্বক গুমের ঘটনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু রাষ্ট্র তা বার বারই প্রত্যাখ্যান করছে। ডিপ্লোম্যাটে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭ থেকে ১৮ই মে পর্যন্ত জেনেভায় জাতিসংঘের ইউনিভার্সেল পিরিয়ডিক রিভিউ (ইউপিআর)-এ বাংলাদেশ সরকার এ অবস্থা নিয়ে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে সর্বশেষ এই রিপোর্টে জোরপূর্বক গুমের ঘটনা ক্ষমতাসীন বাংলাদেশে সবচেয়ে পুরনো দল আওয়ামী লীগ অস্বীকার করেছে।
ইউপিআর ওয়ার্কিং গ্রুপের মে মাসের সেশনে ১৪টি দেশের অবস্থা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। জাতিসংঘ জোরপূর্বক গুমকে ‘হায়েনার মতো অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ১৭ কোটি মানুষের এই দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে অনেক ক্ষেত্রেই এমন গুমকে মদত দিয়ে আসার অভিযোগ আছে। কিন্তু ইউপিআরে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে বাংলাদেশ তাতে এ ইস্যুটি উল্লেখও করা হয় নি। বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুমের গঠনাগুলোকে পূর্ণাঙ্গভাবে এবং এর গভীরে গিয়ে তদন্ত করে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। ইউপিআরে সর্বশেষ যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে বাংলাদেশ তাতে জোরপূর্বক গুলের বিষয়ে সরকারের নীরবতার কড়া সমালোচনা করেছে এইচআরডব্লিউ। এ সংগঠনের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেছেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী জোপূর্বক গুম, হত্যাকা-, নির্যাতন ও খেয়ালখুশিমতো গ্রেপ্তারের সঙ্গে জড়িত। এর বেশির ভাগই ঘটে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। তাই এমন সব গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে নজর দেয়া উচিত এবং এসব ঘটনাকে এড়িয়ে যাওয়ার রীতি বন্ধ করা উচিত। ঢাকাভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী ড. শাহদিন মালিক বলেছেন, জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ ‘ভয়াবহভাবে প্রত্যাখ্যানের’ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভয়াবহভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে মোটেও নজর দিচ্ছে না। এটা উদ্বেগজনক বা এলার্মিং।  সুইডেনের জেনেভাতে ইউপিআরের তৃতীয় দফা বৈঠকে আগের রিভিউয়ের সময় যেসব সুপারিশ করা হয়েছিল তার কতটুকু বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করেছে তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। ওই রিভিউয়ের সুপারিশ অনুসরণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল বাংলাদেশ। পাশাপাশি দেশে সম্প্রতিক মানবাধিকার বিষয়েও জোর দিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। ২০০৬ সালের জুনে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সহ জাতিসংঘের ১৯৩ টি সদস্য রাষ্ট্রের সবাইকে এরপর দুবার রিভিউ করা হয়েছে। একটি ছিল প্রথম দফায় এবং পরেরটি ছিল তৃতীয় দফায়। বাংলাদেশের জন্য প্রথম রিভিউটি হয়েছিল ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে। দ্বিতীয় রিভিউটি হয়েছিল ২০১৩ সালের এপ্রিলে। দ্য ডিপ্লোম্যাট লিখেছে, ইউপিআরের তৃতীয় রিভিউতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল শুধু সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে। তবে তারা জোরপূর্বক গুম, গোপন ও খেয়ালখুশি মতো আটক, বিচার বহির্ভূত হত্যাকা- নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যান। বাংলাদেশ ওই রিপোর্টকে বড় করে দেখাতে চেষ্টা করে যে, তারা কিভাবে অভিজাত বাহিনী র‌্যাবের ১৬ সদস্যকে শাস্তি দিয়েছে। একজন সিটি মেয়র ও তার ৬ সহযোগীকে হত্যার জন্য দায়ী করা হয় তাদেরকে। এই ঘটনাকে দেশে প্রেসের কাছে তুলে ধরা হয় এভাবে যে, আইন প্রয়োগকারী এজেন্সিগুলোর অপরাধের বিষয়ে শূন্য সহনশীলতার নীতি অবলম্বন করেছে বাংলাদেশ। এর আগে দ্বিতীয় রিভিউতে বাংলাদেশ রিপোর্ট জমা দেয় ২০১৩ সালে। তাতে বলা হয়, বিদ্যমান আইনগত কাঠামোতে গুম বা জোরপূর্বক গুমের কোনো স্থান নেই। আইনগতভাবে যে শব্দটি প্রচলিত আছে দন্ডবিধিতে তা হলো কিডন্যাপ/এবডাকশন। এতে আরো বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কিডন্যাপ বা এবডাকশনের মতো ঘটনার সঙ্গে র‌্যাব বা আইন প্রয়োগকারী এজেন্সিগুলোর নাম ব্যবহারের একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ওই সময় পর্যন্ত র‌্যাব কমপক্ষে ৫০০ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে। এসব অপরাধী অপহরণের মতো ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
দ্য ডিপ্লোম্যাট লিখেছে, মজার বিষয় হলো ইউপিআরের দ্বিতীয় রিভিউয়ের পর জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের মতো ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়ে রিপোর্ট করা হয়েছে। ডকুমেন্ট আকারে ঘটনা সামনে আনা হয়েছে। ২০১৩ সালে দ্বিতীয় রিভিউয়ে এসব বিষয়ে যে রেফারেন্স উল্লেখ করা হয়েছিল তার চেয়ে ২০১৮ সালে অনেক কম রেফারেন্স তুলে ধরা হয়েছে জমা দেয়া রিপোর্টে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয় পর্যায়ের যেসব রিপোর্ট জমা দিয়েছে তার সঙ্গে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের ও অন্যান্য অংশীদারদের দেয়া রিপোর্ট মিলিয়ে দেখবে ইউপিআর। এসব অংশীদারের মধ্যে রয়েছে জাতীয় মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিষ্ঠান, আঞ্চলিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন গ্রুপ। জোরপূর্বক গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের কথা ভীষণ জোর দিয়ে অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ সরকার। এমন বিষয়কে তারা চাপা দিয়ে রেখেছে। কিন্তু ইউপিআরে অন্যরা যেসব রিপোর্ট জমা দিয়েছে তাতে এসব অপরাধের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এমন রিপোর্টের একটি তেরি করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার ভিসয়ক হাই কমিশনার। আরেকটি রিপোর্ট তৈরি করেছে জাতীয় পর্যায়ের ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রথম সারির ৫৬টি প্রতিষ্ঠান। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনার বাংলাদেশের ওপর যে রিপোর্ট তৈরি করেছেন তাতে উচ্চ মাত্রায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড, জোরপূর্বক গুম, রাষ্ট্রীয় নিয়ামক শক্তিগুলোর অতিমাত্রায় শক্তি প্রয়োগ, তদন্তে ঘাটতি ও অপরাধীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার ঘাতটি রয়েছে বলে বলা হয় এবং এ অবস্থায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জাতিসংঘের রিপোর্টে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক গুমের ঘটনাকে কার্যত অপরাধ হিসেবে সমর্থন করে না বাংলাদেশের আভ্যন্তরণীন আইন। তাই বাংলাদেশ জোরপূর্বক গুমের ঘঠনাকে স্বীকার করে না। নিজেদের রিপোর্টে নির্যাতন, নির্যাতন মুলক আটরণ, টর্চার অ্যান্ড কাস্টডিয়াল ডেথ (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট বন্ধ করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানায় জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক কমিটি। এতে সব অভিযোগ তদন্ত করতে একটি স্বাধীন মেকানিজম প্রতিষ্ঠা করার জন্য আহ্বান জানানো হয় বাংলাদেশের প্রতি। এতে অভিযুক্ত অপরাধীকে অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি করতে বলা হয। এরই মধ্যে ইউপিআরে অন্যান্য অংশীদাররা যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, জোরপূর্বক গুম ও খেয়ালখুশি মতো গ্রেপ্তার বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব অংশীদারদের রিপোর্ট ৮৪৫টি বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-ের কথা উল্লেখ করা হয়। ২০১৩ সালের মে থেকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৪৮ জন নির্যাতনের ফলে মারা গেছেন। এতে আরো বলা হয়, ২০১৩ সালের মে থেকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছেন প্রায় ৩০০ মানুষ। এসব মানুষকে পরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এতে আরো উল্লেখ করা হয় যে, এসব গুমের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী এজেন্সিগুলোর জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বহুক্ষেত্রে কিন্তু বহু অভিযোগ এবং বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের পরও সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এরই প্রেক্ষিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ পয়েন্টআউট করেছে। ইউপিআর কমিটির কাছে সরকারের দেয়া রিপোর্ট ও অন্য দুটি রিপোর্ট দেখা যাচ্ছে সাংঘর্ষিক। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, দেশে মানবাধিকার নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে এবং তার প্রেক্ষিতে যে চাপ রয়েছে তাতে সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। এর আগের ইউপিআরের রিভিউতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের বিরুদ্ধে হলেও সব রকম মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পূর্ণাঙ্গভাবে এবং পক্ষপাতিত্বহীনভাবে তদন্ত করবে এবং তার বিচার করবে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, কিন্তু তারপর থেকেই ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের দ্বারা সংঘটিত সহিংসতা, বিশেষ করে নির্বাচনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের ওপর সহিংসতার মতো নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করে আসছে বাংলাদেশ। সরকারের প্রতিনিধিরা বলেছেন, যারা এমন নিয়ম লঙ্ঘনকারী তাদের বিরুদ্ধে তারা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কিন্তু তাদের এমন দাবি প্রমাণের পক্ষে স্বচ্ছতা নেই বললেই চলে।

গারোদের জীবন by ওমর ফারুক সুমন

ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাটের আঁচকিপাড়া, ঝলঝলিয়া, জখমকূড়া, বুটিয়া পাড়া, গাবড়াখালি, ঘিলাভূই, নালিতাবাড়ীর পানিহাতা, বারোমারীসহ আশপাশের উপজেলার গারো আদিবাসীদের দিনকাল ভালো যাচ্ছে না। এসব সীমান্তের পাহাড়িয়া অঞ্চলের গারোদের জীবনমানে প্রতিনিয়ত চলছে বাঁচার লড়াই। কেউ নেয় না তাদের  খোঁজ-খবর। সরকার আসে সরকার যায় উন্নয়ন হয় অনেক কিছুর। কিন্তু সীমান্তবর্তী পাহাড়ি গারোদের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হয় না- কথাগুলো আক্ষেপের সুরে বলেন হালুয়াঘাট উপজেলার কড়ইকান্দা গ্রামের গারো নারী ধরনী রিছিল। তার ভাষায় অভাব-অনটন, দুঃখ-দুর্দশাই যেন হালুয়াঘাট উপজেলার গারোদের নিত্যদিনের সঙ্গী। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গারো পাহাড়ের পাদদেশে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত পাহাড়ি জনপদ ময়মনসিংহ জেলার গারো পাহাড়। জানা গেছে, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও  নেত্রকোনা জেলার ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী, নেত্রকোনার দুর্গাপুর, ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া  উপজেলায় গারো, হাজং, কোচ, বানাই, হদি, বর্মন ও বংশীসহ বিভিন্ন জাতি-গোত্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী মিলে প্রায় ৫০ হাজার পরিবারের বসবাস। এদের মধ্যে ৭০ ভাগ নৃতাত্ত্বিক পরিবারের সদস্যরা দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। অথচ এককালে এদের সবকিছুই ছিল। ছিল  গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ, গোলা ভরা ধান। কিন্তু  কালের আবর্তনে সবকিছু হারিয়ে আজ তারা দিশেহারা। এখন এদের অধিকাংশের নেই নিজস্ব  কোনো জমি-জমা। এসব জনগোষ্ঠীর পরিবারের সদস্যরা বন বিভাগের জমির উপর ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে বসবাসের পাশাপাশি শ্রম বিক্রিসহ নানাভাবে পরিবারের সদস্যদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। বাকি ৩০ ভাগ নৃতাত্ত্বিক জসগোষ্ঠীর পরিবারের সদস্যদের জমি থাকলেও বন্য হাতির তাণ্ডবে গত ১২/১৪ বছর ধরে তাদের জমিতে কোনো ফসল উৎপাদন করতে পারছে না। এ কারণে অনেক জমি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী সন্ত্রাসীরা। নানাভাবে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে। ফলে এ উপজেলার নৃ-তাত্ত্বিক এখন দিনমজুর ভূমিহীনে পরিণত হয়েছে। জানা যায়, নালিতাবাড়ি উপজেলার বাকাকুড়া গ্রামের রঘুনাথ কোচের দুই একর রেকর্ডিয় জমি সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে চাষাবাদ করতে না পেরে সে এখন পথে নেমেছে। এ ছাড়া নওকুচি গ্রামের পাজাই কোচনীদের জমি দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মহিলারাই ক্ষেতে খামারে, মাঠে-ময়দানে এমনকি সংসারের সব কাজ কর্ম করে থাকে। আর পুরুষরা বাড়িতে বসে তাদের ছেলে মেয়েদের দেখাশোনা করে থাকে। তবে, অতীতের তুলনায় অনেক পুরুষ এখন আর ঘরে বসে থাকতে চাইছে না। বছরে দুই মাস আমন ও ইরি বোরো মৌসুমে এ উপজেলার নারী-পুরুষ শ্রমিকরা কৃষির উপর শ্রম বিক্রি করে যা পায় তাই দিয়ে কোনো রকমে পরিবারের সদস্যদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। বাকি ১০ মাস তাদের থাকতে হয় বেকার, নির্ভর করতে হয় গারো পাহাড়ের বনাঞ্চলের উপর। মহিলারা গারো পাহাড় থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ ও তা বাজারে বিক্রি করে পরিবারের সদস্যদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। কিন্তু গারো পাহাড়ে আগের মতো এখন আর জ্বালানি কাঠ পাওয়া যায় না। যা কিছু পাওয়া যায় তাও আবার আনতে দিচ্ছে না বন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অংশীদাররা। দীর্ঘ ৪০ বছরেও এখানে গড়ে উঠেনি শ্রমিকদের জন্য কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। ফলে বর্তমানে  ময়মনসিংহ-শেরপুর ও নেত্রকোনা জেলার ছয় উপজেলায় নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর দুঃখ কষ্টের শেষ  নেই। অনেকের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে বন্য হাতির দল। ১২/১৪ বছর ধরে পাহাড়ি এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত বন্য হাতির সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে আছে। গজনী গ্রামের মনেন্দ্র কোচ, হালচাটী গ্রামের সুরেন্দ্র  কোচ জানান- কেরোসিন কিনতে হয় তাদের। প্রথম দিকে সরকারিভাবে এবং বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে হাতি তাড়ানোর জন্য কেরোসিন বিতরণ করা হলেও এখন তা হচ্ছে না। এখন আর কেউ খোঁজ খবর নেয় না। সরকারিভাবে কয়েকটি জেনারেটর দেয়া হয়েছিল হাতি তাড়ানোর জন্য। এসব জেনারেটর আর চোখে পড়ে না। এক সময় পাহাড়ি জনপদের মানুষ পাহাড়ে জুম চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু পাহাড় উজাড় ও বন্য হাতির তাণ্ডবে জুম চাষ হারিয়ে গেছে। বন্য হাতির তাণ্ডবে অনেকে গৃহহীন। সরজমিন অনুসন্ধানে  দেখা গেছে, সহায় সম্বলহীন এসব মানুষের এখন নেই  পেটে ভাত, পরনের কাপড়। পাহাড়ি আলু নানা ধরনের বন্য প্রাণী শিকার করে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছে। এসব মানুষ খুব পরিশ্রমী হয়ে থাকে। তাদের উন্নয়নের জন্য এনজিও বিভিন্ন কাজ করে আসলেও তা শুধু কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ। হালুয়াঘাটের জয়রামকূড়া গ্রামের পল সুরেশ বানোয়ারি বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী গারোদের জীবনযাত্রা এখন আগের তুলনায় উন্নয়নের দিকে। গারোরা এখন শিক্ষাগ্রহণসহ কর্মসংস্থানের জন্যে ঢাকা শহরে যাওয়ায় জীবনমান উন্নত হয়েছে। ভবিষ্যতে যারা অতিদরিদ্র তাদের সংকট অনেকাংশে লাঘব হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। আচকিপাড়া গ্রামের সুফলা ম্রং(৫৫) জানান, সাবেক ট্রাইবাল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান বিজয় ম্রংয়ের কারণে তারা তাদের সব সম্পত্তি হারিয়েছেন। এ রকম আরো অনেক গারোই অভিযোগ করেছেন তাদের এই  নেতার বিজয় ম্রংয়ের বিরুদ্ধে। শেরপুর জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া উপজেলায় গারোদের সংখ্যা সবচেয়ে  বেশি। এরা নানাদিক থেকে এগিয়ে গেছে। গারো নারী-পুরুষ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মক্ষেত্র তৈরি করে নিয়েছে। আর নানাদিক থেকে অবহেলিত ও পিছিয়ে রয়েছে কোচ সমপ্রদায়ের লোকজন। তাদের অভিযোগ ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন  থেকেও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এখানে তুলনামূলকভাবে পায়নি ভিজিডি ভিজিএফ কার্ড, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা। শিক্ষায়-দীক্ষায়ও কোচ সমপ্রদায়ের লোকেরা রয়েছে অনেক পিছিয়ে।

ফিটনেসবিহীন যান ‘ফিট’ করার হিড়িক

ঈদকে সামনে রেখে বাড়তি টাকার আশায় পুরনো, ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁঁকিপূর্ণ দূরপাল্লার বাস ও লঞ্চে রঙের প্রলেপ লাগিয়ে ফিট করার হিড়িক পড়েছে। এ অবস্থায় প্রতি বছরের মতো এবারো ঘরমুখো মানুষের নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিয়ে এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে সংশয়। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সচেতনতা ও নিরাপত্তা জোরদার করে সাময়িকভাবে সমস্যার সমাধান হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য সঠিক পরিকল্পনা নিতে হবে। আর এ ধরনের অনৈতিক কাজের জন্য আইন প্রয়োগের বিধান থাকলেও নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রাজধানী এবং এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকার গ্যারেজ ও ডক ইয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটি গ্যারেজ ও ডকইয়ার্ডে চলছে গাড়ি মেরামত ও রং করার কাজ। মেরামত শেষে এসব যান দিয়েই দেশের বিভিন্ন স্থল ও নৌরুটে যাত্রী পরিবহন করা হবে ঈদের সময়। ঈদকে সামনে রেখে বেশি মুনাফা করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন অনেক পরিবহন ব্যবসায়ী। অভিযোগ রয়েছে, পুরনো বাস ও লঞ্চ ফিটনেস পরীক্ষা ছাড়া রাস্তায় নামানো, অতিরিক্ত ট্রিপ দিতে চালকদের বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন না মানার কারণে ঈদের সময় বেড়ে যায় সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা।
জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে পড়ে থাকা অচল এসব বাস দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে জোরেশোরে। বিশেষ করে লক্কড়-ঝক্কড় মার্কা দূরপাল্লার সড়ক পরিবহনের গাড়িগুলোকে রংতুলির আঁচড়ে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারি এড়ানোর কৌশল হিসেবেই মেরামত ও রংতুলির এই আঁচড় দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গ্যারেজ মিস্ত্রিরা। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, এসব ঝুঁকিপূর্ণ বাসের মেরামতের কাজ চলছে। বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা এলাকা ছাড়াও মাতুয়াইল, কাজলা, জুরাইন, বাবুবাজার, কেরানীগঞ্জ এলাকার গ্যারেজ ও ডকইয়ার্ডে। বিশেষ করে যাত্রাবাড়ীর কাজলা, মাতুয়াইল এলাকার প্রতিটি গ্যারেজে ঈদকে সামনে রেখে শ্রমিকরা বিরামহীন কাজ করছে। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুরনো বাসে নতুন সিট লাগানো, রং করা, জানালা মেরামতসহ নানা কাজ করে দিতে হচ্ছে। বাস মালিকরা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি বাস যায়। চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল। ঈদের আগের দু-তিন দিন এবং ঈদের দিন এসব লোকাল বাস দূরপাল্লার রুটে নামিয়ে দেয়া হয়। জানা যায়, ঈদের আগের দিন বেশ কিছু বাস রিজার্ভ বাস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আসার সময় যাত্রী পাওয়া যায় না বলে যাওয়ার সময় বেশি ভাড়া আদায় করা হয়।
রাজধানীসহ বিভাগীয় ও জেলা সদরেও বছরজুড়েই চলাচল করছে ফিটনেসবিহীন অনুমোদনহীন বাস। সেসব জায়গাতেও দূরপাল্লার বাস হিসেবে চলবে রং তুলির আঁচড়ে পুরনো বাস। ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-চাঁদপুর, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-ফরিদপুর, ঢাকা-মানিকগঞ্জ ও ঢাকা-নরসিংদীর মতো কাছাকাছি রুটে চালানোর জন্য রাজধানীর ভেতর চলাচলকারী ভাঙাচোড়া বাসগুলো নামানো হচ্ছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব গাড়ি শুধু দুর্ঘটনারই কারণ নয়, ঈদের ব্যস্ত মহাসড়কে বিকল হয়ে দুঃসহ দুর্ভোগেরও সৃষ্টি করে। কেননা, রাস্তায় বিকল হলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
মাতুয়াইলের মোশাররফ বডি বিল্ডার্স নামের একটি ওয়ার্কশপে গিয়ে দেখা যায়, পুরনো কয়েকটি বাসকে মেরামত করা হচ্ছে। ফিটনেস নেই এমন কয়েকটি বাসও সেখানে রয়েছে। সেগুলোতেও চলছে রংতুলির কাজ। ওয়ার্কশপের এক শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসছে ঈদে দূরপাল্লায় যাত্রী বাহনের জন্য বাসগুলোতে নতুন রং দেয়া হচ্ছে। তার মতে, বাসগুলোর ইঞ্জিনের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। বিশেষ করে দূরপাল্লায় যাত্রী বাহনের জন্য উপযোগী নয়। একই সড়কের উপর গড়ে ওঠা আরেকটি ওয়ার্কশপে গিয়ে দেখা যায়, আসছে ঈদে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কে যাত্রী বহনের জন্য রাজধানীতে চলাচল করা সুপ্রভাত কোম্পানির একটি বাসে রং করা হচ্ছে। শ্রমিক রবিন জানান, আমাদের এখানে তো শুধু কাজ করতে নিয়ে আসা হয়। তবে যতদূর জানি বাসটি ঈদে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কে পাঠানো হবে। এজন্যই খুব তাড়াতাড়ি কাজটি করতে হচ্ছে। পাশেই আরেকটি ওয়ার্কশপে চলছে পুরনো একটি বাসের বডি লাগানোর কাজ। এই ওয়ার্কশপের শ্রমিক রায়হান বলেন, এটি কুমিল্লার রুটে চলবে। এজন্য নতুন বডি লাগানো হচ্ছে। ২৭শে রমজানের মধ্যে যত বাস আছে সব ডেলিভারি দিতে হবে।
এদিকে লক্কড়-ঝক্কড় বাস রঙিন ও মেরামত করার পাশাপাশি চলছে ডকইয়ার্ডে পুরনো লঞ্চ মেরামতের কাজও। ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও পড়েছে আনফিট লঞ্চ ফিট করার হিড়িক। বেশ কয়েকটি লঞ্চ সারিবদ্ধ অবস্থায় সাজানো। এগুলোর কোনোটির রঙয়ের কাজ চলছে আবার কোনোটির জানালা-দরজা মেরামতের কাজ চলছে।
পারজোয়ার ডকইয়ার্ড নামের এই প্রতিষ্ঠানের মালিক হুমায়ুন কবির বলেন, এখানে তেমন কোনো কাজ হয় না। এসব লঞ্চের একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আবার নতুন করে নির্মাণ করার জন্য ডকইয়ার্ডে আনা হয়। তবে ঈদেই ছাড়ার উদ্দেশ্যে কাজ হচ্ছে -এমনটা নয়।

দ্বিতীয় স্বামীর হাত ধরে আবারো পালিয়েছেন চেয়ারম্যান কন্যা

মাত্র ছয়দিনের মাথায় দ্বিতীয় স্বামীর হাত ধরে আবারো পালিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের মেয়ে নাজিরা আক্তার মিতু। প্রথম স্বামী ইউসুফের রূপায়ন টাউনের ফ্ল্যাট থেকে সোমবার সকালে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও তা প্রকাশ পায় মঙ্গলবার। এদিকে মিতু পালানোর ঘটনায় ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের লোকজন নিয়ে প্রথম স্বামী ইউসুফ মিয়াসহ মিতুর দ্বিতীয় স্বামী আবুল হোসেন সজীবের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকার বাড়িতে গিয়ে মঙ্গলবার সকালে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে মঙ্গলবার বিকেলে মিতু নিজে বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ইউসুফ মিয়া, সাদ্দাম ও কায়েসের নাম উল্লেখ করে একটি জিডি করেন। জিডি নং ১২৭৪।
জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন ২১শে মে আদালতে জবানবন্দি দিয়ে বের হওয়ার পর আদালতপাড়া থেকে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে আটকে রাখা হয়েছিল। আদালত তাকে তার নিজ জিম্মায় জামিন দিলে তিনি তার বর্তমান স্বামী আবুল হোসেন সজীবের কাছে যেতে চাইলে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সে বন্দিদশা থেকে পালিয়ে এলেও তার পূর্বের স্বামী দলবল নিয়ে তার বর্তমান স্বামীসহ পরিবারকে হুমকি ধমকি দিয়ে যায়। এতে সে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে উল্লেখ করেছে।
উল্লেখ, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের মেয়ে নাজিরা আক্তার মিতু তার স্বামী ইউসুফ মিয়া ও তাদের দুই সন্তান নিয়ে ফতুল্লার ভূইগড় রূপায়ন টাউনে বসবাস করেন। এরমধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে এক সন্তানের জনক আবুল হোসেন সজীবের সঙ্গে পূর্ব পরিচয়ে মিতুর পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ ঘটনা সজীবের স্ত্রী সায়মা আক্তার জানতে পেরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবর গত বছরের ২৩শে আগস্ট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এতে উভয়পক্ষকে ডেকে শাসিয়ে দেন পুলিশ। এরপর গত মাসের ১৮ই এপ্রিল দুই সন্তানকে রেখে রূপায়ণ টাউনের বাসা থেকে নাজিরা আক্তার মিতু পালিয়ে যায়। পরে ২৯শে এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় জিডি করেন মিতুর স্বামী ইউসুফ মিয়া। তবে এর আগের দিন সজীবের ভাই সালাউদ্দিনও ২৮শে এপ্রিল একই থানায় আরেকটি জিডি করেন। তার জিডিতে দাবি করা হয়, তার ভাই সজীবকে অপহরণ করা হয়েছে। পরে ২৬শে এপ্রিল মিতুর স্বামী ইউসুফ মিয়া বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন মিতুর পরকীয়া প্রেমিক, তার ভাইসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এই মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ ২০শে মে দুপুরে নাজিরা আক্তার মিতুকে ফতুল্লার সস্তাপুর থেকে উদ্ধার করে।
২১শে মে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশোক কুমারের আদালতে নাজিরা আক্তার মিতুকে হাজির করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। আদালতে মিতু ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। মিতু তার জবানবন্দিতে আদালতকে জানান, ‘তাকে কেউ অপহরণ করেনি। সে স্বেচ্ছায় তার প্রেমিক আবুল হোসেন সজীবের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছেন।’
আদালতে শুনানি শেষে মিতু সাবালক, স্বাভাবিক বিবেচনায় তাকে তার নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেন। পরে মিতু আদালত থেকে বেরিয়ে জিআরও সেকশনে যান। সেখানে মিতুকে নিতে একদিকে পরকীয়া প্রেমিকের পরিবার অন্যদিকে তার দুই সন্তানসহ অন্য স্বজনরা অবস্থান নেয়। এমন পরিস্থিতে আদালত চত্বরে যখন জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তখন দায়িত্বরত পুলিশ উভয়পক্ষকে জিআরও সেকশন থেকে বের করে দেন। এবং মিতুকে কিছুটা নিরাপদে বাইরে বের করে দিয়ে যান।
এ সময় আদালতের বাইরে মিতুকে বের করে দেয়ার পর এখানেও দুই পক্ষের টানাটানি শুরু হয় মিতুকে নিয়ে। এই পরিস্থিতিতে মিতু কোন দিকে যাবে নিজেও ঠিক করতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে মিতু তার বর্তমান স্বামী আবুল হোসেন সজীবের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে। এ সময় কৌশলে ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ মিতুকে তার বাবা সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের কালো রঙের নোহা মাইক্রোবাসে একরকম জোর করে তুলে দেন।
এর আগে নাজিরা আক্তার মিতু জানায়, সজীব তাকে অপহরণ করেনি। নিজ থেকে স্বেচ্ছায় সজীবের সঙ্গে এসেছি। সজীবকে আমি বিয়ে করেছি। আমার আগের স্বামীকে পূর্বেই তালাক দিয়েছি।
মিতু আরো বলেন, আমাদের মধ্যে সম্পর্ক প্রায় তিন বছর যাবত। এ ঘটনা সবাই জানতেন। আমার আগের স্বামী একটা মানসিক রোগী।

পাকিস্তানে আর্মি ও নওয়াজের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ

নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ বাকি। এর মধ্যে ব্যাপক চাপের মধ্যে পড়েছে পাকিস্তানের সবচেয়ে পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত একটি পত্রিকা ডন। শহর এলাকায় পত্রিকাটির বিতরণ অনেকটা বন্ধ। কারণ এসব এলাকাগুলোর বেশিরভাগই ডিফেন্স হাউজিং অথরিটির নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু এ অবস্থা শুধু ডন পত্রিকাটিরই নয়। গত মার্চে জিও টেলিভিশন নেটওয়ার্কেরও একই দশা হয়েছিলো। আর এ দুটি ঘটনাই আসলে সদ্য ক্ষমতা হারানো প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও প্রতাপশালী সেনাবাহিনীর মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধেরই বহিঃপ্রকাশ। পাকিস্তানের বেসামরিক কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা এ ধরনের কোনো কিছুর আদেশ দেয়নি। তাই সঙ্গত কারণেই দৃষ্টি চলে যাচ্ছে সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে।
ডনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে মূলত নওয়াজ শরীফের একটি সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে। যেটি চলতি মাসের শুরুতেই প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে মিস্টার শরীফ পাকিস্তানি জঙ্গিদের সীমান্ত অতিক্রম করে মুম্বইয়ে ১৫০ জনকে হত্যার ‘অনুমতি’ দেয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন কেন পাকিস্তান ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার করলো না? অথচ তারা পাকিস্তানেই আটক হয়েছিলো। এসব মন্তব্যই মনে করা হয় যে সামরিক বাহিনীর দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। জিও টেলিভিশন নেটওয়ার্ককেও একই কারণে শাস্তি পেতে হয়েছে। এর একজন রিপোর্টার নওয়াজ শরীফের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা নিয়মিত ফলো করছিলেন এবং তিনি একটি তথ্য বের করে আনেন যে কারণে মিস্টার শরীফকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে তার ভিত্তি খুবই দুর্বল।
সমালোচকরা বলেন যে, সামরিক বাহিনী গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় যখন তাদের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য অন্তত দুটি ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। আর এর প্রথমটি মিস্টার শরীফ নিজেই তৈরি করেছেন। কারণ তার জনপ্রিয়তার কমতি দেখা যাচ্ছিলো না যা সেনাবাহিনীকে বিব্রত করে তুলে। কারণ তাদের কাছে মনে হচ্ছিলো যে এখনই না থামালে সামনের নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হতে পারেন। আরেকটি হলো উপজাতি এলাকাগুলোতে আন্দোলন বেড়ে যাওয়া। এসব আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকলেও যুদ্ধগুলো কীভাবে হয় ও স্থানীয়রা সেজন্য কী মূল্য দেয় এমন প্রশ্নগুলো উঠছিলো।
নওয়াজ শরীফ ১৯৯০-এর পর থেকে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। ক্ষমতার শক্তিগুলোর সঙ্গে তার যোগাযোগ আশির দশকে জেনারেল জিয়াউল হক যখন তাকে পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী বানান তখন থেকেই। সামরিক বাহিনীর সঙ্গে একটি যোগসূত্র তারও ছিল। আবার ১৯৯৯ সালে আলোচিত কারগিল যুদ্ধের ভেতরের গল্পও তার জানা কারণ তিনি তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আর পাকিস্তানের সেনাবাহিনীও তখন যে যুদ্ধের সূচনা করেছিলো। শরীফ অনেকবারই এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধটি ছিল পরিকল্পিত যা বাস্তবায়ন করেছিলেন তখনকার সেনাপ্রধান পারভেজ মোশাররফ। যদিও এর বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি। বিশ্লেষকদের বিশ্বাস মিস্টার শরীফ ভারতের সঙ্গে সমপর্ক স্বাভাবিক করতে যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন সেটি ঠেকাতেই ওই যুদ্ধ।
আশির দশক থেকেই দেশটিতে সেনাবাহিনীই বড় ব্যবসায়িক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে রাজনীতি ও সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাও তাদের নিয়ন্ত্রণে। শরীফ এখন সামরিক বাহিনীর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিব্রতকর সত্যগুলো নিয়ে। বা হয়তো তিনিও একটি সমঝোতা চুক্তি চাইছেন এর মাধ্যমে। কিন্তু গণমাধ্যমের কাছে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, গণমাধ্যমকে এভাবে কখনোই চাপের মুখে থাকতে হয়নি এবং মিস্টার শরীফের দলকে ভাঙার একটি চেষ্টা চলছে আগামী নির্বাচনের আগেই।

বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে ক্ষোভ সমন্বয়হীনতা by দীন ইসলাম

অর্থ ব্যয়ে স্বাধীনতা না থাকা, ভ্রমণ ও চিকিৎসা-ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যাসহ নানা কারণে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের উইং কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এছাড়া উইংগুলোর জন্য আলাদা ব্যাংক হিসাব না থাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। কাজের ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতাও বিরাজ করছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে, কয়েকটি বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মকর্তাদের মধ্যে মুখ দেখাদেখি বন্ধ রয়েছে।
নিজেদের এসব ক্ষোভের কথা সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় খোলামেলাভাবে উল্লেখ করেন বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের মিনিস্টার, কাউন্সেলর, প্রথম সচিব, দ্বিতীয় সচিব ও অন্যান্য পদে কর্মরত কর্মকর্তারা। কর্মকর্তাদের সমস্যাগুলো পয়েন্ট আকারে চিহ্নিত করে কার্যবিবরণী তৈরি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রশাসনিক উন্নয়ন ও সমন্বয়-১ অধিশাখা। এসব সমস্যা সমাধানে স্টেকহোল্ডারদের পরামর্শের মাধ্যমে কীভাবে নিষ্পত্তি করা যায় তার সুপারিশ দিতে গত ১৬ই মে ১১ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যবিবরণী সূত্রে জানা গেছে, মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ মিশনে কর্মরত কর্মকর্তারা মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনায় তারা বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। ওই সভায় উপস্থিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কিছু বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন। কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে মিশনের উইংগুলো তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য উইং প্রধানদের পরিদর্শন ও অভ্যন্তরীণ সফর অত্যাবশ্যক। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে পরিদর্শনে যাওয়া যায় না। কোনো কোনো দূতাবাসের অফিস ব্যবস্থাপনা যথাযথ নয়। তাতে কোনো রেজিস্ট্রার নেই, গার্ড ফাইল নেই, দাপ্তরিক ব্যবস্থাপনায় সচিবালয় নির্দেশমালা/কার্যপ্রণালী বিধিমালা বা সরকারি অন্য কোনো বিধি মানা হয় না। অনেক সময় দূতাবাস থেকে জারি করা পত্রে স্মারক নম্বর না থাকায় পত্রের জবাব দেয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। জরুরি প্রয়োজনে কোনো কোনো দূতাবাসে ফোন বা ই-মেইল করলে উত্তর পাওয়া যায় না। অনেক মিশনে ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি বা পরম্পরা ধরে রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে পুরনো কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না। তারা জানান, মিশনের বিভিন্ন উইংয়ের কর্মকর্তারা নিজ নিজ মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে বাজেট বরাদ্দ পেয়ে থাকেন। এ বাজেটের অর্থ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেটের অর্থের সঙ্গে মিলিয়ে একই ব্যাংক হিসাবে রাখা হয়। এ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে উইংয়ের কর্মকর্তাদের কোনো স্বাধীনতা থাকে না। তাদেরকে যেকোনো ব্যয় নির্বাহের জন্য মিশনের হেড অব চ্যান্সারির ওপর নির্ভর করতে হয়। অনেকক্ষেত্রে উইং কর্মকর্তাদের অজ্ঞাতে তাদের বাজেট বরাদ্দ থেকে দূতাবাসের ব্যয় নির্বাহ করা হয়। এর ফলে বাজেট ব্যবস্থাপনায় জটিলতার সৃষ্টি হয় এবং উইং প্রধানরা অনভিপ্রেত অডিট আপত্তির সম্মুখীন হন। এ জন্য মতবিনিময় সভায় উইং প্রধানরা নিজেদের ড্রয়িং অ্যান্ড ডিজভার্সিং অফিসার (ডিডিও) হিসেবে নিয়োগ করা এবং প্রতিটি উইং-এর জন্য বাজেটভিত্তিক আলাদা ব্যাংক হিসাব রাখার প্রস্তাব করেন। কর্মকর্তারা জানান, দূতাবাসের প্রতিটি উইংকে নিয়ে সমন্বিত দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো চার্টার অব ডিউটিজ নেই। এজন্য সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করা যাচ্ছে না। কর্মকর্তারা জানান, অনেক মিশনে সমন্বয়হীনতা বিরাজ করে। কোনো কোনো মিশনে কোনো বিষয়ে বিভিন্ন উইংয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে তেমন আলোচনা করা হয় না। দলগত টিম স্পিরিটের অভাবে মিশনগুলো সর্বোচ্চ সফলতা অর্জন করতে পারে না। মিশনের কর্মকর্তারা ছুটির বিষয়ে অনেক জটিলতার সম্মুখীন হন। মিশনের প্রতিটি উইংয়ের কর্মকর্তারা নিজ নিজ মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে বাজেট বরাদ্দ পেয়ে থাকেন। মাঝে মধ্যে দেখা যায়, কর্মকর্তারা ‘পরিবার ভাতা’ খাতের অর্থ কোনো রকম আলোচনা ছাড়াই অন্যখাতে ব্যয় করেন। এতে কর্মকর্তারা নানা ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হন। এজন্য তাদেরকে অডিট আপত্তির মুখোমুখিও হতে হয়।
কর্মকর্তারা ঊর্ধ্বতনদের জানান, কোনো কোনো মিশনে স্থানীয় ও স্বদেশভিত্তিক স্টাফদের বেতন- ভাতার বৈষম্য রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভ্রমণ ও চিকিৎসা ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে থাকে। কখনো কখনো বাড়ি ভাড়া ভাতার ক্ষেত্রে পদ অনুসারে বৈষম্য দেখা দেয়। বিভিন্ন উইং-এর গাড়িগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে উইং কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হয় না। কখনো উইং সংশ্লিষ্ট কাজে গাড়িগুলো ব্যবহারের সুযোগ না দিয়ে অন্য কাজে গাড়ি ব্যবহার করা হয়। মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পাসপোর্ট ও ভিসা খাতে যে অর্থ আয় হয় তা একটি আলাদা হিসাবে জমা করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে সুরক্ষা সেবা বিভাগ সহজেই সরকারি কোষাগারে ওই অর্থ জমা করতে পারবে ও সরকারের রাজস্ব আয় বেড়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এসব বিষয় নিষ্পত্তির জন্য স্টেকহোল্ডারদের পরামর্শ নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে উচ্চ পর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের উপ-সচিব, অর্থ বিভাগের প্রতিনিধি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং সুরক্ষা সেবা বিভাগের প্রতিনিধিকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

যে কষ্টে হাসপাতাল ছেড়েছেন বৃক্ষমানব

‘হাতেতে যদিও না মারিত তারে, শত যে মারিত ঠোঁটে!’ বার্ন ইউনিটের জুনিয়র ডাক্তার, সিস্টার, ওয়ার্ড বয় আর আয়াদের অবহেলা, বিরক্তিকর আচরণ ও অভুক্তির কারণেই হাসপাতাল ছেড়েছেন বলে দাবি ‘বৃক্ষমানব’ খ্যাত আবুল বাজানদার । গত শনিবার কাউকে কিছু না জানিয়েই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছেড়ে নিজ বাড়ি খুলনার পাইকগাছায় চলে যান আবুল। আবুল বাজানদার মানবজমিনকে বলেন, ‘আমি ভালো নাই আপা। ভালো থাকলে কি আর হাসপাতাল থেকে চইলে আসি। হাসপাতালের কেবিনে আমার সঙ্গে মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস তাহিরা ও স্ত্রী হালিম আক্তার থাকত।
প্রথমদিকে আমাদের তিনটা (তিনজনের) খাবার দেয়া হতো। কিছুদিন পর দুটা খাবার দেয়া শুরু করে। শেষের দিকে মাত্র ১টা খাবার দিত। আমরা মানুষ তিনজন আর খাবার যদি একজনের হয়, তাহলি কেমনে চলে বলতি পারেন? না খেয়ে কয় দিন থাকা যায় বলেন। তার ওপর জুনিয়র স্যারেরা, সিস্টার আপারা তো এখন আমাকে সহ্য করতিই পারতেন না। তারা মুখে সরাসরি না বললিও আচরণে বুঝিয়েছেন, যে তুমি হাসপাতাল ছেড়ে চলি যাও। তার ওপর কেবিন থেকে ১ মিনিটের জন্য বের হতে দিতেন না আমাকে। জানালার পাশে দাঁড়ালে চিল্লাচিল্লি করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার ভয় দেখাতেন। বলতেন, আমাদের কথা না শুনলে পুলিশ ডেকে ধরাইয়া দেবনে। কেবিনে আমার বাচ্চাটা একটু খেলাধুলা করলেই সিস্টাররা ধমক দিয়ে বলতেন, এখানে কোনো বাচ্চা রাখা যাবে না। বাচ্চা বাড়িতে পাঠিয়ে দিন।’
হাসপাতালের কাউকে কিছু না বলে এভাবে চলে গেলেন কেন জানতে চাইলে বাজানদার বলেন, ‘কী করবো? দীর্ঘ আড়াই বছর চিকিৎসার পর এখন ডাক্তাররা বলছেন যে এটা তোমার জেনেটিক সমস্যা। তোমার এই সমস্যা আর কোনো দিনই সমাধান হবে না। এটা অস্ত্রোপচার করে কমিয়ে রাখতে হবে। বাকিটা জীবন তোমাকে হাসপাতালেই কাটাতে হবে। এ কথা শোনার পর আমি কোন ভরসায় হাসপাতালে থাকি আপা। একে তো ওখানে থাকার কোনো পরিবেশ নেই। তার ওপর সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছি না। হাতের যে অংশের মূল শিকড়গুলো অপারেশন করে কেটে ফেলা হয়েছে সেখানে আর নতুন শিকড় গজায়নি। আর যে অংশে শিকড় রয়ে গেছে সে অংশে আবার আধা ইঞ্চি পরিমাণ বেড়ে গেছে। প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয়। ঠিক মতো ঘুমাতি পারি না, খাতি পারি না। খাওয়া ঘুম সব হারাম হয়ে গেছে। অথচ উনারা বলছেন, জেনেটিক সমস্যা।
হাসপাতাল থেকে আসার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর বা আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল বলেন, না আমি আসার সময় কোনো কাগজপত্রে স্বাক্ষর করিনি। কারণ, সেই কাগজে লেখা ছিল আমি স্বেচ্ছায় যাচ্ছি এবং আমি আর কোনো চিকিৎসা করাবো না। আমার কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। কিন্তু আমি তো চিকিৎসা করাতে চাই, তবে ওই হাসপাতালে না। ওই কাগজে স্বাক্ষর করলে আমি তো আর চিকিৎসার দাবি করতে পারবো না। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করে জানাবো যে আমার মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে দেশে বা বিদেশে এই রোগের যদি উন্নত কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকে, আমাকে যেন উক্ত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়।
বাবা মো. মানিক বাজানদার কিছুদিন আগে স্ট্রোক করেছেন। এখন বড় ভাই মো. আইয়ুব বাজানদারই তাদের একমাত্র ভরসা। ভ্যান চালিয়ে পুরো পরিবারের ভরণপোষণ করেন আবুলের বড় ভাই।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আবুল বাজানদার কাউকে কিছু না জানিয়েই চলে গেছে। সে যেতে চেয়েছিল, তাকে আমরা বলেছি, তোমার আরও অস্ত্রোপচার করতে হবে। শনিবার তার মতামত জানানোর কথা থাকলেও ওইদিন ডা. লতা আমাকে জানায়, আবুল চলে গেছে। ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবুলের কাগজপত্রে তাকে ফেরারি হিসেবে দেখানো হয়েছে। আবুল বাজানদার এই হাসপাতালে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। এত বেশি সময় কোনো রোগীর অবস্থান ঢাকা মেডিকেলে নেই বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ খান আবুল কালাম আজাদ।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তর, অপেক্ষার শেষ নেই by চৌধুরী মুমতাজ আহমদ

২৬শে মার্চ বা ১৬ই ডিসেম্বর- এরকম একেকটি বিশেষ দিবস সামনে এলেই প্রসঙ্গটি উঠে আসে। কয়েক বছর ধরেই নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্বোধনের ডেডলাইন হিসেবে বেছে নেয়া হচ্ছে এমন বিশেষ দিনগুলোকে। সেদিন চলে গেলে নতুন আরো একটি বিশেষ দিনকে টার্গেট করা হয়। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে গত ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসে কারাগারের উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিলো, তারও আগে গত ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের দিনেও কথা ছিলো কারাগার উদ্বোধনের। ১৬ই ডিসেম্বর চলে গেছে, ২৬শে মার্চও চলে গেছে, আপাতত কারাগার উদ্বোধনের কোনো টার্গেট দিনই নেই। কবে উদ্বোধন হবে সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে কোনো ধারণা দিতে পারেননি।
সিলেটে কারাগারের ইতিহাস ১২৯ বছরের পুরনো। ১৭৮৯ সালে নগরীর ধোপাদীঘির পারে ২৪.৬৭ একর ভূমির উপর ১ লাখ রুপি ব্যয়ে গড়ে উঠে কারাগার। বন্দি আধিক্য ও গুরুত্ব বিবেচনায় ১৯৯৭ সালে সিলেট কারাগার উন্নীত হয় কেন্দ্রীয় কারাগারে। সোয়া দুই শ’ বছর পর সেই কারাগারই সরে যাচ্ছে সিলেট নগর থেকে শহরতলিতে। পুরনো ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়া সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি কয়েদি থাকার কারণে ২০১০ সালে একনেকে ১৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণ ও স্থানান্তর প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছিল। এরই পরিপেক্ষিতে ২০১১ সালের ১১ই আগস্ট তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জালালাবাদ থানাধীন বাদাঘাটে কারাগারের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এক বছর পর ২০১২ সালের ১২ই জুলাই শুরু হয় নির্মাণ কাজ।
নির্মাণাধীন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রকল্পস্থলে সংরক্ষিত মাস্টারপ্ল্যান থেকে জানা গেছে, কারা কম্পাউন্ডজুড়ে ছড়িয়ে থাকবে ৬৪টি ভবন। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নির্মিতব্য নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারে জায়গা হবে ২ হাজার বন্দির। বন্দিদের রাখা হবে ৭টি ভবনে। এ ভবনগুলোর মধ্যে পুরুষ বন্দিদের জন্য ৪টি এবং নারী বন্দিদের জন্য রয়েছে ৩টি ভবন। পুরুষ বন্দিদের ৪টি ভবনই ৬ তলাবিশিষ্ট আর নারী বন্দিদের জন্য নির্ধারিত ভবনের মধ্যে একটি ৪ তলা এবং দুটি দ্বিতল ভবন রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নবনির্মিত কারাগারে হাসপাতাল রয়েছে ৫টি, এর মধ্যে ৪টি শুধুমাত্র বন্দিদের জন্য, অন্যটি কারাগার সংশ্লিষ্টদের। বন্দিদের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালের মধ্যে পুরুষ ও নারীদের জন্য ১টি করে ৫ তলাবিশিষ্ট হাসপাতাল, একটি করে দোতলা যক্ষ্মা ও মানসিক হাসপাতাল। রান্নার কাজের জন্য রয়েছে একতলা ৫টি ভবন। খাবার মজুত রাখার জন্য রয়েছে ১ তলা ৪টি ভবন, দোতলা একটি রেস্ট হাউসও আছে। ৪ তলাবিশিষ্ট একটি ডে কেয়ার সেন্টার রয়েছে, মসজিদ আছে, স্কুল আছে, আছে লাইব্রেরিও। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের ৩০ একর জায়গার মধ্যে মূল কারাগারের ভেতরে রয়েছে ১৪ একর ও বাইরে রয়েছে ১৬ একর জায়গা। কারাগারের বাইরের জায়গায় থাকছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন, ক্যান্টিন, বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার রুম, অ্যাডমিন অফিস, কেন্দ্রীয় মসজিদ ও স্কুল।
১৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য কারাগারটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৫ সালের জুন মাসে। এ সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় লক্ষ্য বেঁধে দেয়া হয় ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত। নির্মাণকাজের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়েও এ সময়ের মধ্যে কারাগারের ৭০ ভাগের বেশি কাজ শেষ করা সম্ভব না হওয়ায় তৃতীয় দফায় আরো এক বছর সময় দেয়া হয় কাজ শেষ করার জন্য। ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও সে সময়ে কাজ শেষ হয়নি। এরপর আরো এক বছর অতিবাহিত হলেও কারাগার উদ্বোধনের কোনো নিশ্চিত তারিখ এখনো জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এখনো কারাগারের অনেক কাজই বাকি রয়ে গেছে। ফাঁসির মঞ্চ তৈরি হয়নি এখনো। ওয়াকওয়ে ও পুকুরের কাজও শেষ হয়নি। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ হয়নি। বিভিন্ন সূত্র বলছে, বাকি কাজগুলো দ্রুত শেষ করে আগামী নির্বাচনের আগেই সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্বোধন করা হবে।
সিলেট কারাগারের জেলার আবু সায়েম মানবজমিনকে বলেন, কবে নাগাদ কারাগার স্থানান্তর হবে বিষয়টি এখনই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তবে আমরা যেকোনো সময়েই নতুন কারাগারে যাওয়ার জন্য পুরো প্রস্তুত আছি।

জিয়াউর রহমানের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের ৩৭তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ। ১৯৮১ সালের এই দিনে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে শাহাদাতবরণ করেন তিনি। শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ১০ দিন ব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। দলের সকল অঙ্গ সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্মরণ করছে মুক্তিযুুদ্ধের জেড ফোর্সের অধিনায়ক ও অন্যতম সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকাল ১০টায় জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে দরিদ্রদের মধ্যে কাঙালি ভোজ ও রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন।
জিয়াউর রহমানের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৯শে জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে। তার শৈশবের কিছুদিন কাটে বগুড়া ও কলকাতায়। ভারত বিভাগের পর রসায়নবিদ পিতার বদলির সুবাদে তিনি করাচি যান। করাচির একাডেমি স্কুল থেকে ১৯৫২ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। ১৯৫৩ সালে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন কাকুল মিলিটারি একাডেমিতে। ১৯৫৫ সালে তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদ লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে লাহোর সীমান্তের খেমকারান সেক্টরে ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে প্রথম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট ভারতের আক্রমণ ঠেকিয়ে দেয়। বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে দেয়া হয় পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক উপাধি। বিএনপির দাবি ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর তার নেতৃত্বে অষ্টম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট মুক্তিযুদ্ধ শুরু করে। যুদ্ধকালে প্রথমে তিনি সেক্টর কমান্ডার ও পরে তার নামের আদ্যাক্ষর দিয়ে গঠিত জেড ফোর্সের নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে বীরউত্তম উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১৯৭৫ সালের ২৫শে আগস্ট নিযুক্ত হন চিফ অব আর্মি স্টাফ পদে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিচারপতি সায়েম পদত্যাগ করলে ১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল তিনি প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হন। এরপর ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর গঠন করেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি-বিএনপি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৭তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ১০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। ২৫শে মে থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচিগুলো চলবে আগামী ৫ই জুন পর্যন্ত। কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল ২৯শে মে আলোচনা সভা করেছে বিএনপি। আজ সকাল ১০টায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও কবর প্রাঙ্গণে মিলাদ মাহফিল, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, বইমেলা করবে বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনগুলো। বিএনপির নয়াপল্টনের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ বুকে ধারণ করবে। মহানগরের প্রতিটি থানায় দুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে কাপড় ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হবে। ছাত্রদলের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জিয়াউর রহমানের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। বিভাগীয় শহরগুলোয় জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে মাজারে কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং ওষুধ বিতরণ করবে। এদিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৭তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণীতে বলেছেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তনকারী, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ কালজয়ী দর্শনের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, সফল রাষ্ট্রনায়ক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৭তম শাহাদতবার্ষিকীতে আমি তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার অম্লান আদর্শ, দর্শন ও কর্মসূচি আমাদের স্বাধীনতা রক্ষা, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং দেশীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির রক্ষাকবচ। তার জীবিতকালে জাতির চরম দুঃসময়গুলোতে জিয়াউর রহমান দেশ ও জনগণের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। মহান স্বাধীনতার বীরোচিত ঘোষণা, স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য ভূমিকা এবং রাষ্ট্র গঠনে তার অনন্য কৃতিত্বের কথা আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। তিনি বলেন, এই মহান জাতীয়তাবাদী নেতার জনপ্রিয়তা দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারী শক্তি কখনোই মেনে নিতে পারেনি। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই অশুভ চক্র তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এই চক্রান্তকারীরা ১৯৮১ সালের ৩০শে মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান অনৈতিক সরকার একদলীয় সরকারের আদলে দেশ পরিচালনা করছে। নতুন কায়দায় পুরনো বাকশালকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। বিরোধী দলের অধিকার, চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত করে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। সেজন্য দেশনেত্রীকে মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সাজানো মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। জনমনে ভয় আর আতঙ্ক সৃষ্টি করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালানো হচ্ছে। এমতাবস্থায় হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সকল গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আপোষহীন নেত্রী কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আবারো তার নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। জাতীয় জীবনের চলমান সংকটে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ও আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
জাতীয় স্বার্থ, বহুমাত্রিক গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় ইস্পাতকঠিন গণঐক্য গড়ে তুলতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্ভীক নির্মোহ রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়ার বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী শক্তির ক্রমাগত বিদ্বেষপূর্ণ আক্রমণের পটভূমিতে তার আদর্শ, দেশপ্রেম, সততা ও কর্মনিষ্ঠাকে জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবার ৩০শে মে মহান নেতার শাহাদতবার্ষিকী সর্বস্তরে ব্যাপকভাবে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের জন্য দল, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহসহ সকল স্তরের জনগণের প্রতি আমি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপিত

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও গতকাল যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপিত হয়। এবছর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী সদস্যদের গৌরবময় অংশগ্রহণের ৩০ বছরপূর্তি উপলক্ষে এবং বিশ্বের সব দেশের শান্তিরক্ষীদের অসামান্য অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), পুলিশের মহাপরিদর্শক, জাতিসংঘের মহাসচিব এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী পৃথক বাণী দিয়েছেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, শান্তিরক্ষী দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বেলা ১টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শহীদ শান্তিরক্ষীদের নিকটাত্মীয় এবং আহত শান্তিরক্ষীদের সংবর্ধনা হয়। সংবর্ধনায় প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণের ৩০ বছরপূর্তি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট একটি স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত করেন।
এছাড়া সেনাপ্রধান প্রেসিডেন্টকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণের ৩০ বছরপূর্তির মনোগ্রামসংবলিত ক্রেস্ট উপহার হিসেবে প্রদান করেন।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পবিত্র কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরুর পর শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকালীন শাহাদাতবরণকারীদের জন্য এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ওপর বিশেষ উপস্থাপনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট শান্তিরক্ষীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা অনুকরণীয় পেশাগত দক্ষতা প্রর্দশন করে বিশ্বের অন্যান্য সহযোগী শান্তিরক্ষীদের শ্রদ্ধা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছেন। একই সঙ্গে শান্তি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি স্থানীয় দেশের জনগণের অকুণ্ঠ ভালোবাসা অর্জন করেছেন। জাতিসংঘ এবং বিশ্বের সব শান্তিপ্রিয় দেশ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের সাফল্য এবং উপযুক্ততার প্রশংসা করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এছাড়াও, আপনারা দেশের জন্য অতি প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন, যা আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বে প্রথম সারির শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে যে গৌরব ও মর্যাদা লাভ করেছে, তা আপনাদের সাহস, বীরত্ব, অসামান্য পেশাদারিত্ব ও দক্ষতারই ফসল। এ গৌরব আপনাদের সমুন্নত রাখতে হবে। প্রেসিডেন্ট বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে জাতিসংঘ মিশনে নিয়োজিত শান্তিরক্ষীদেরও প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরাও যাতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে পারে সে লক্ষ্যে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদুল হামিদ শান্তিরক্ষীদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ভাষায় দক্ষতা বাড়ানোর ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বক্তব্য দেন।
এছাড়া জ্যেষ্ঠতম শান্তিরক্ষী হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো। পরে, শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের কার্যক্রমের ওপর নির্মিত থিম/ডকুমেন্টারি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং এ বিষয়ে বিপসট-এর অবদান তুলে ধরা হয়। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণ, সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব/সচিবগণ, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকগণ, বাংলাদেশে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, সকাল ৭টায় ঢাকার তেজগাঁওস্থ পুরাতন বিমানবন্দর মসজিদ কমপ্লেক্সে এবং অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ‘পিসকিপার্স রান’-এর মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে ‘পিসকিপার্স রান’ উদ্বোধন করেন।
এতে অংশগ্রহণ করেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের শান্তিরক্ষীগণ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তঃবাহিনী সংস্থাসমূহের মনোনীত প্রতিনিধিগণ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের শতাধিক ছাত্রছাত্রীসহ আনুমানিক ৮৭০ জন সদস্য। উল্লেখ্য, দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরার লক্ষ্যে বিশেষ জার্নাল ও বিভিন্ন দৈনিকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি চ্যানেলে বিশেষ টক-শো প্রচারিত হয়। এছাড়াও শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের কার্যক্রমের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি চ্যানেলে প্রচারিত হচ্ছে । এছাড়াও, চট্টগ্রামস্থ বিএএফ জহুরুল হক ঘাঁটিসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও ‘পিসকিপার্স রান’ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার বেলুন, ফেস্টুন ও কবুতর উড়িয়ে চট্টগ্রামের ‘পিসকিপার্স রান’ সমাবেশ উদ্বোধন করেন।

যুক্তফ্রন্ট জাতীয় সরকার গঠন করবে: বি. চৌধুরী

একাদশ নির্বাচনের পরে পাঁচ বছরের জন্য জাতীয় সরকার চায় বিকল্পধারার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট। বিকল্পধারা আয়োজিত ইফতার মাহফিল পূর্ব বক্তব্যে দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এ দাবি জানান। তিনি বলেন, যুক্তফ্রন্ট সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তির একটি মঞ্চ; যা অন্য দুটি রাজনৈতিক শক্তিকে ভারসাম্যের মধ্যে রাখতে পারবে। জনগণ ভোট দিলে যুুক্তফ্রন্ট জাতীয় নির্বাচনের পর একটি জাতীয় সরকার গঠনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনের পরে দেশের মানুষকে শান্তি ও নিরাপত্তা দেয়া এবং দেশের অগ্রগতির জন্য আমরা আগামী ৫ বছরের জন্য একটি জাতীয় সরকার চাই। তাহলে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা, অগ্নিসংযোগসহ কোনো ধরনের অন্যায়-অত্যাচার-অবিচার হবে না।
কতগুলো ম্যাচুর্ড ব্রেইন (পরিপক্ক মস্তিষ্ক) একত্রিত করলে হয়তো আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পাবো। যুক্তফ্রন্ট গঠনের কারণ তুলে ধরে ফ্রন্টের আহ্বায়ক বলেন, আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা নিউক্লিয়াস গঠন করেছি, যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছি। তার মাধ্যমে আমরা একটা নেতৃত্ব দিতে চাই। যে নেতৃত্বে চরিত্র থাকবে, সততা থাকবে এবং কথা বলার দাম থাকবে। তিনি বলেন, আমরা আজকে শক্তির উত্থান চেয়েছি। সে শক্তির মাধ্যমে আমরা সমস্ত রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে সরকারি দলকে সাবধান করে দিতে পারবো- দেশের ভবিষ্যৎ শুধু জনগণের হাতে চলে যাবে, আপনারা কিছুই করতে পারবেন না। ঢাকায় ২০ ভাগ ভোটারের বসবাস হলেও বিরোধী দলকে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হয় না। বিরোধী দলকে সমাবেশ করতে না দেয়া ও হাজার হাজার নেতাকর্মীকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে- সেটা কোনোভাবে সহ্য করা যায় না। বি. চৌধুরী বলেন, মামলা করে রাজনীতিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আগেই আমরা বলেছিÑ যখনই বিচার হয়, বিচারের রায় আসে। সুপ্রিম কোর্ট-হাইকোর্টের রায়কে আপনারা বুড়ো আঙুল দেখান। এর চেয়ে লজ্জার বিষয় কী হতে পারে। তিনি বলেন, রুল অব ল’Ñ আছে কী? নির্বাচনী প্রক্রিয়া কিভাবে ট্যাম্পার করে দেখিয়ে দিয়েছেন। ২০১৪ সালে দেখেছি, এবার খুলনায় দেখলাম। এভাবে চলতে পারে না, দেশের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। বি. চৌধুরী বলেন, এ থেকে উত্তরণের অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে। আমরা এটা আদায় করবো। সংসদ ভেঙে দিতে হবে ১০০ দিন আগে। আমরা আর নির্বাচনের তামাশা দেখতে চাই না। সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে নির্বাচনে। সাহসী নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জাতির সামনে আজকে যে সংকট, সেই সংকট কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়। এই সংকট আজকে পুরো দেশের, পুরো জাতির। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে হলে ভয়াবহ স্বৈরাচার যারা আমাদের সমগ্র অর্জনগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছেÑ তাদের পরাজিত করতে হবে।
তাদের যদি পরাজিত করতে হয় তাহলে ছোট-খাটো সমস্যাগুলো দূর করে আমাদের একটা ইস্পাত দৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। সে ঐক্যের মধ্যদিয়েই আমরা এই ভয়াবহ শক্তিকে পরাজিত করতে পারবো। তিনি বলেন, জনগণের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো। জনগণ আশান্বিত হবে এবং জনগণের যে প্রত্যাশা সত্যিকার অর্থে একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবো। কারাবন্দি খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকেই দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন আবার আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে, স্থগিত করে দেয়া হয়েছে। খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর পর থেকেই এই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। কারাগারে তাকে আটকিয়ে রাখার জন্যই এই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া নিঃসন্দেহে এদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোভাগের নেতা। আমি এ ফোরাম থেকে আবারও তার ?মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সর্বশেষ এই কয়দিন ১১১ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এটা সত্যি সত্যি একটা মৃত্যুর মিছিল বলতে পারেন। সেই মিছিল চলছে, থামছে না। আমরা অনেক অনুনয়-বিনয় ও প্রতিবাদ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনার এমপিকে যদি প্রমাণ ছাড়া গ্রেপ্তার করা না যায়, তাহলে এদের নামে অভিযোগ আছে তারও কোনো প্রমাণ নেই। তাহলে এদের গুলি করে মারবেন কেন? মান্না বলেন, সরকার বলছে তারা যুদ্ধ করছে। নিরস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর এরকম প্রকাশ্য ঘোষণা বাংলাদেশই নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম। আমরা যারা এখানে আছি তারা এই হত্যার নিন্দা করি। তিনি বলেন, আমি প্রথমে মির্জা আলমগীরের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলতে চাই- কবরেরও ঘুম ভাঙে জীবনের দাবি আজ এতই বিরাট। জীবন রক্ষার জন্য, জীবন বাঁচাবার জন্য সমস্ত মানুষকে এক হতে হবে- এটা ঠিক। বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ফখরুল ভাইÑ কথা কিন্তু আমাদের অনেক আছে। কারণ, এই যে লড়াই করবো, একদিন একটা ভোট হবে, ভোটের পরে জিতে ব্যাপক ভোট পেয়ে আপনারা সরকার গঠন করবেন। তখন আর আমাদের চিনবেন না; যদি এমন হয়? মান্না বলেন, আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা ভালো নয়। আপনাকে কষ্ট দেবার জন্য বলছি না, অহেতুক খোঁচাও দিচ্ছি না। শুধু এটিই বলছি, এটা বিবেচনায় রাখবেন। একই সঙ্গে লড়াই করতে চাই। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি কোনো শর্ত ছাড়া বেগম জিয়ার মুক্তি দেয়া উচিত। সরকার যদি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। আর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কোনো বিকল্পও নেই। এর বিকল্প যা কিছু হবে, তা দেশের সর্বনাশ ঢেকে আনবে। গুলশান-২ এর অল কমিউনিটি ক্লাবে বাংলাদেশ বিকল্পধারার ইফতারে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল ও যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার ওমর ফারুক বক্তব্য দেন। এছাড়াও ইফতারে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান, বিজেপির আবদুল মতিন সউদসহ বিকল্পধারার কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন।

মস্কোর হোটেলে ফুটবল ভক্তদের মনোরঞ্জন করবে রোবট নারী

বিশ্ব মাতানো বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল আসরের জন্য এখন শুধু দিন গণনার পালা। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই রাশিয়ার মস্কোতে পর্দা উঠছে বিশ্বকাপ ফুটবলের। এ মহাআয়োজনকে সামনে রেখে আগেভাগেই হোটেল বুকিং হয়ে গেছে অথবা এখনও চড়া দামে বুকিং হচ্ছে। ফলে হোটেলে হোটেলে গিজ গিজ করবে বিদেশী অতিথিতে। তাদের এক একজনের এক এক নেশা। কেউ শুধুই খেলার পাগল। তারা শুধুই খেলা উপভোগ করতে যাবেন। আবার কিছু পর্যটক আছেন। তারা খেলা উপভোগের পাশাপাশি মেতে উঠবেন নারী নেশায়। তাদেরকে সুবিধা করে দিতে মস্কোতে গড়ে উঠছে মানবীয় গুণসম্পন্ন নারী রোবটের নিষিদ্ধ জগত। সেখানে একজন পর্যটক অর্থের বিনিময়ে এসব নারী রোবটের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবেন। এর ফলে যারা প্রকৃত দেহপসারিনী তারা পড়তে চলেছেন বেকায়দায়। আশঙ্কা দেখা দিয়েছে রোবট বিপ্লবের ফলে তারা বেকার হয়ে পড়তে পারেন। বিশ্বকাপ উপলক্ষে তাদের আয় কমে যেতে পারে। ফলে রোবট নারীদের নিয়ে গড়ে তোলা নিষিদ্ধ জগত নিয়ে তাদের টেনশনের শেষ নেই। মানবীয় গুনসম্পন্ন রোবটগুলোকে দেখতে একেবারে বাস্তব মনে হয়। মস্কোতে ব্যবসায়ী এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে ‘দ্য ডলস হোটেল’। এখানে নারী রোবট দিয়ে সাজানো হয়েছে। উদ্দেশ্য, বিশ্বকাপ উপলক্ষে যে হাজার হাজার ভক্ত মস্কো সফরে যাবেন তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ। আইনগতভাবে রোবটদের এমন নিষিদ্ধ পল্লী গড়ে তোলার বৈধতা নেয়া হয়েছে। একটি রোবট ডলের সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর জন্য সময় ও বিনিময় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তা হলো প্রতি ঘন্টায় ২৪ থেকে ৪০ ডলার। চারদিকে যখন এইচআইভি ভাইরাসের ঝুঁকি তখন এমন উদ্যোগ সম্পর্কে রোবটদের নিষিদ্ধ পল্লী সম্পর্কে কথা বলেছেন এর প্রতিষ্ঠাতা দমিত্র আলেক্সানদ্রোভ। তিনি বলেছেন, রোবট নারীরা এখানে শুধু বৈধ এমনটাই নয়। একই সঙ্গে যৌন জীবনের জন্য নিরাপদ ব্যবস্থা। রাশিয়ায় অনেক দিনের পুরনো একটি সমস্যা সমাধানেরও এটা একটি উপায়।

সামরিক-বেসামরিক, বিচার বিভাগের সম্পর্ক নিয়ে উন্মুক্ত বিতর্কের আহ্বান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর

বেসামরিক-সামরিক সম্পর্ক, বিচার বিভাগের ভূমিকা, স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কি হবে তা নির্ধারণের জন্য জাতীয় বিতর্ক আহ্বান করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসী। যখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ নেতৃত্বাধীন ও ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএলএন) সরকার তার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে যাচ্ছে তখন এমন মন্তব্য করলেন আব্বাসী। সোমবার তিনি অর্থমন্ত্রী ড. মিফতাহ ইসমাইলকে সঙ্গে নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে আব্বাসী বলেন, যখন নির্বাহী বিভাগের কাজে বিচার বিভাগ হস্তক্ষেপ করে, সরকারি কাজে জাতীয় জবাবদিহিতামূলক ব্যুরো নাক গলায় তখন কোনো সরকারই কাজ করতে পারে না। পারফরম করতে পারে না। তাই এ ইস্যুতে একটি জাতীয় সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাতে বিচার বিভাগের ভূমিকা, জাতীয় জবাবদিহিতামূলক ব্যুরোর ভূমিকা কি হবে তা নিয়ে আলোচনা বা বিতর্ক করা যেতে পারে। আর এটা হতে হবে আগামী সরকার ক্ষমতায় আসার আগে, যাতে সেই সরকার তার ক্ষমতা সম্পর্কে সজাগ থাকে। শাহিদ খাকান আব্বাসী বলেন, বিচার বিভাগীয় একটি সিদ্ধান্তে যখন হাজার হাজার কোটি রুপির ক্ষতি হয় তখন এর জন্য কাকে দায়ী করা হবে। যদি জবাবদিহিতামূলক ব্যুরো সরকারের বিভিন্ন বিভাগকে পঙ্গু করে রাখে এবং কোনো সরকারই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না তখন তার জন্য জবাব দেবে কে। তিনি আরো বলেন, বেসামরিক ও সামরিক সম্পর্ক নিয়েও হতে পারে একটি জাতীয় সংলাপ। দেশ এভাবে চলতে পারে না। এতে সরকার পারফরম করতে পারে না। তিনি আরো বলেন, জনগণ তার দলকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় পাঠিয়েছে পাঁচ বছর আগে। সেই ভোটের মূল্য বজায় রেখে তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন আব্বাসী। তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় দেশের ও সরকারের পারফরমেন্সের ওপর একটি বিপর্যয়কর প্রভাব পড়েছে। ২০১৪ সালের অবস্থান ধর্মঘট, পানামা পেপারস নিয়ে রায়, সুপ্রিম কোর্টের ২রা জুলাইয়ের রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে বরখাস্ত করায় দেশের অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে। তা নাহলে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো থাকতো। আর্থিক ক্ষতি থাকতো সীমাবদ্ধ। উল্লেখ্য, প্রায় দু’মাসের মধ্যে পাকিস্তানে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। সে অনুযায়ী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫শে জুলাই।