Wednesday, July 22, 2015
দুর্ঘটনায় জীবনের এ অপচয় মানা যায় নাঃ ঈদ আনন্দে মৃত্যুর শোক
প্রথম আলোর খবরের সূত্রে জানা যাচ্ছে, সিরাজগঞ্জে গত দুই মাসে ১৪টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫৯ জন। বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক ও হাটিকুমরুল-বনপাড়া সড়কেই ঘটেছে অধিকাংশ ঘটনা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষ। এই সড়কে প্রতিদিন ২২ জেলার ১০ থেকে ১২ হাজার গাড়ি চলাচল করে। অথচ এটি হওয়া দরকার ছিল চার লেনের। দ্বিমুখী দুটি লেনে মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকে অনেক বেশি। দ্বিতীয় দায় অদক্ষ, ক্লান্ত ও গতিসীমা না-মানা চালকদের। এঁদের নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব মালিক ও সড়ক কর্তৃপক্ষের। তারা বরাবরের মতোই দায়সারা।
বাংলাদেশে প্রতিবছর ১২ থেকে ১৫ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। এত মৃত্যুর জন্য দায়ী অবকাঠামো ও সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনার সংকট। যোগাযোগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক কর্তৃপক্ষের মজ্জাগত সুবিধাবাদ ও গাফিলতির খেসারতও প্রাণের এমন অপচয়। সুতরাং এত মৃত্যুকে দুর্ঘটনা না বলে কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড বলাই শ্রেয়।
ঈদে বাড়ি ও কর্মস্থলের মধ্যে যাতায়াতকারী মানুষ লাখে লাখে রাস্তায় নামে। হাজার হাজার গাড়ি যার যার গন্তব্যে হন্যে হয়ে ছোটে। সড়কের অব্যবস্থা ও দুর্দশার মধ্যে আনাড়ি চালক-শ্রমিকের হাতে তুলে দিতে হচ্ছে জীবন ও সম্পদ। এভাবে আর কত দিন?
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আশরাফ ও আতরাফ by মাহবুব তালুকদার
চাচার বাসায় বসে দৈনিক পত্রিকার পাতা উল্টাতে উল্টাতে আশরাফ ও ফখরুলের গুরুত্বপূর্ণ খবর দুটি পড়ছিলাম। আশরাফকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে ফখরুলকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে জেলখাটা থেকে। আশরাফের মতো সৎ ও অনুগত রাজনীতিবিদকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার কারণ কী হতে পারে? তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তিনি মন্ত্রণালয়ের কাজকর্ম যথাযথভাবে দেখভাল করেন না, একনেকের গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত থাকেননি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকরূপে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার দূরত্ব রয়েছে, ইত্যাদি। তবে মন্ত্রিত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হলেও তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকই থাকলেন। আর ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাস্থ্যগত কারণে জামিনে মুক্তি লাভ করলেও চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে যেতে হবে। তার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের মতোই তার দলের স্বাস্থ্যও ভালো নয়। এই সময়ে অসংখ্য মামলার জালে জড়িয়ে আছে বিএনপির অগণিত নেতাকর্মী। হাজার হাজার নেতাকর্মী আন্দোলনের ফসল হিসেবে পলাতক এবং পারিবারিক ও ব্যবসা ক্ষেত্রে বিপর্যস্ত। এমতাবস্থায় ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপি ও ফখরুল কবে কিভাবে রাজনৈতিক মঞ্চে ফিরে আসবেন, তা এক জিজ্ঞাসা।
আমাকে পত্রিকার পাতায় নিবিষ্ট দেখে চাচা বললেন, কী ব্যাপার? এত মনোযোগ দিয়ে কি পড়ছো?
আশরাফ ও আতরাফের ঘটনা।
আতরাফ কী? চাচা জিজ্ঞাসা করলেন।
আমি বর্তমান রাজনীতিতে আতরাফ কথাটার তাৎপর্য তুলে ধরলাম।
চাচা কিঞ্চিৎ বিরক্ত হয়ে বললেন, তুমি আশরাফ ও ফখরুলকে এক পাল্লায় মাপছো? একজন পার্টির পূর্ণ সাধারণ সম্পাদক, আরেকজন দলের ভারপ্রাপ্ত। দু’জনের প্রটোকল আলাদা।
আমি বললাম, পাল্লা তো একটাই হতে হবে। আলাদা আলাদা পাল্লায় মেপে তুলনামূলক বিচার করা যাবে না।
চাচা ক্ষুব্ধস্বরে বললেন, আশরাফ সাহেবের সঙ্গে ফখরুলের তুলনা? তোমার কী মাথা খারাপ হয়েছে?
চাচা! আমি আপনার দৃষ্টি দিয়ে দেখছি না। সাধারণ মানুষের দৃষ্টি দিয়ে দেখছি। তারা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ারও তুলনামূলক বিচার করতে পারে। কথার শেষে আমি চাচার প্রতি একটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলাম, মন্ত্রিত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া আশরাফের পরিণতিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
চাচা বললেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুবই দূরদর্শী। তিনি কেবল রাষ্ট্রনায়ক নন, রাষ্ট্রচিন্তকও বটে। তার ডিসিশন অবশ্যই কারেক্ট।
কিন্তু তাকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হলো কেন? এটা এইচ এম এরশাদের বিশেষ দূতের মতো অবস্থা হয়ে গেল না?
তুমি তো রাজনীতি বোঝো না। তাই এসব বিষয়ের মাজেজা বুঝতে পারো না। আশরাফ সাহেবকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী না করা হলে যারা তাকে ঘিরে আছে, তারা কোথায় যাবে? আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই বা তাকে মানবে কেন? আর এরশাদ স্যারের কথা বলছো? তিনি যে নির্বাচন না করতে চেয়ে নিজের মাথায় পিস্তল ধরে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন, তাকেও তো কিছু একটা দিতে হবে?
চাচা! নির্বাচনের সময় এরশাদ সাহেব নমিনেশন পেপার লিখিতভাবে তুলে নিলেও তিনি বাধ্যতামূলকভাবে এমপি হয়ে যান। হতে না চেয়েও তিনি এমপি ও মন্ত্রীর পদমর্যাদায় আসীন হয়েছেন।
হ্যাঁ। এরই নাম রাজনীতি। চাচা বললেন, ভবিষ্যতে নমিনেশন পেপার সাবমিট না করেও কেউ কেউ এমপি হতে পারেন। প্রেমে, যুদ্ধে ও রাজনীতিতে সবই সম্ভব। এ বিষয়টা তুমি বুঝতে পারবে না।
রাজনীতি আমি ঠিকই ভালো বুঝতে পারি না। শুধু এটুকু বুঝতে পারলাম, পর্দার অন্তরালে আশরাফকে নিয়ে মান-অভিমানের খেলা চলছে। আশরাফ লন্ডনে চলে যাওয়ার ‘হুমকি’ দিচ্ছেন, ঘন ঘন শেখ রেহানার সঙ্গে তার ফোনালাপ হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কয়েকবার দেখাও হয়ে গেল। আমার কাছে মনে হলো, অন্তরালে কিছু একটা নাটক চলছে। এরপর জানা গেল, আশরাফ সাহেব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী হয়েছেন। খবরটি পেয়ে আমি চাচাকে ফোন করলাম। বললাম, আশরাফ সাহেব তো আবার মন্ত্রী হয়েছেন। আপনার প্রতিক্রিয়া কি?
চাচা বললেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুবই দূরদর্শী। তিনি কেবল রাষ্ট্রনায়ক নন, রাষ্ট্রচিন্তকও বটে। তার ডিসিশন অবশ্যই কারেক্ট।
বললাম, আগের ডিসিশন আর এখনকার ডিসিশন তো অনেকটা পরস্পরবিরোধী।
তুমি যদি এসব বিষয় বুঝতে পারতে, তাহলে তুমিই তো রাজনীতিবিদ হয়ে যেতে। আগের পরিস্থিতিতে মন্ত্রিত্ব থেকে তার অব্যাহতি দান ঠিকই ছিল। আবার এখনকার পরিস্থিতিতে নতুন মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদের মন্ত্রিত্ব প্রদান ঠিকই আছে। আগেই বলেছি, এসব তুমি বুঝবে না।
আসলেই আমি এসব বুঝতে পারি না। আমার মনে হয়েছে, আশরাফের অভিমানের কাছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে হার মেনেছেন। দু’জনেই পরস্পরের প্রতি গভীর অনুরাগের বন্ধনে আবদ্ধ। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠতম সহযোগী ছিলেন। এ জন্যই তাকে জেল হত্যাকাণ্ডের সময় প্রাণ দিতে হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনায় এসব বিষয় নিশ্চয়ই কাজ করেছে।
বাংলাদেশ এক অদ্ভুত দেশ। বিশেষত্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে। স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারা মন্ত্রিত্বের ইঁদুর দৌড়ে প্রতিনিয়ত ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু মন্ত্রিত্ব জোর করে চাপিয়ে দেয়ার পরও কেউ কেউ ক্ষমতা থেকে দূরে সরে থাকতে চান। সোহেল তাজের ঘটনাটা মনে পড়লো। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদকে কেন মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল, সে রহস্য আজও আমার কাছে অজ্ঞাত। সম্ভবত সেই ঘটনার প্রভাবেই সোহেল তাজকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়। তবে তিনি এক পর্যায়ে একরকম জোর করেই মন্ত্রিত্ব থেকে অব্যাহতি চান। অবশেষে তাজউদ্দীন কন্যা ও সোহেল তাজের বোন সিমিন হোসেন রিমিকে এমপি বানিয়ে, তাজউদ্দীন পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়। রাজনীতির অন্তরালে কত কৌতূহলপূর্ণ ঘটনা অনবরত ঘটে চলেছে, যা আমরা জানি না।
আবার আতরাফের কথায় আসা যাক। এক্ষণে ফখরুল ব্যক্তিগতভাবে হয়তো আতরাফ নন, কিন্তু তার দলকে আতরাফ বললে অত্যুক্তি হয় না। জাতীয়তাবাদী দলের প্রধান খালেদা জিয়া সম্ভবত তার রাজনৈতিক জীবনের কঠিনতম সময় পার করছেন। সরকার তার দলকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে তার বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা ঝুলছে। এর কোন একটিতে সাজা হলেও তাকে জেলে যেতে হবে এবং জেলে থাকতে হবে বলে মাননীয় তথ্যমন্ত্রী আগাম বলে দিয়েছেন। আদালতের রায় কি হবে তা কেউ জানে না। কিন্তু আমাদের মন্ত্রীদের কেউ কেউ রাজনৈতিক জ্যোতিষীও বটে। তারা অনেক ভবিষ্যদ্বাণী করে থাকেন।
আতরাফ বিএনপিকে নিয়ে নতুন একটি খেলা শুরু হয়েছে। এমনিতে বিএনপিকে টুকরো করার প্রচেষ্টা এক-এগারোর সময় থেকেই চলে আসছিল। আসল বিএনপি’র ব্যানারে দলে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করা হয়। এক কালের বিএনপি নেতা আবু হেনা ও সংস্কারপন্থি নেতা এখন আওয়ামী ভাষায় কথা বলেন। কিন্তু বর্তমান খেলাটা বেশ চমকপ্রদ। বিএনপি’র অসংখ্য নেতাকর্মীকে আওয়ামী লীগ কোলে তুলে বরণ করে নেয়ার চমৎকার ছবি পত্রিকাতে দেখা যাচ্ছে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে বিগত আন্দোলনকালে সহিংসতা, মানুষ পুড়িয়ে মারার অভিযোগ রয়েছে, মামলাও রয়েছে। হামলা- মামলার ভয়ে বিপর্যস্ত বিএনপি’র অনেক আতরাফ নেতাকর্মী আত্মরক্ষার তাগিদে আওয়ামী লীগে যোগদানের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিচ্ছেন। জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে আওয়ামী লীগে ঢুকে পড়েছেন। কিন্তু আখেরে এসব ঘটনা রাজনীতিকে কোথায় নিয়ে যাবে কে জানে!
আমি চাচাকে জিজ্ঞাসা করলাম, দেশের ভবিষ্যৎ কি?
দেশের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। রাজনীতির খেলায় আওয়ামী লীগ চ্যাম্পিয়ন। আগামীতে জাতীয় নির্বাচন কিভাবে হবে?
মানে? চাচা চোখ কপালে তুলে বললেন, সিটি করপোরেশনের এবারের নির্বাচন ছিল অত্যন্ত সাফল্যমণ্ডিত। জাতীয় নির্বাচনের জন্য এটা ছিল একটা মহড়া। এভাবে বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ নেয় এবং নির্বাচনের দিন দুপুর বেলা উইথড্র করে, তাহলে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কি আছে?
কিন্তু বিএনপি, মানে আতরাফের দল যদি নির্বাচনে না আসে?
তাতে অসুবিধা কি? জাতীয় পার্টি আছে, ... পার্টি আছে। আর আগামীতে ইনশাআল্লাহ আওয়ামী লীগ থেকে মাত্র ১৫৩টি পদে নয়, সংসদের বিরোধী দলের সঙ্গে ভাগাভাগি করে প্রায় পৌনে তিনশ’ পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হবে।
কিন্তু আতরাফকে বাদ দিয়ে আশরাফের নির্বাচন কি সম্ভব?
কেন? চাচা সবিস্ময়ে আমার দিকে তাকালেন।
বললাম, আতরাফ পাশাপাশি না থাকলে আশরাফ তার মর্যাদার স্বীকৃতি পাবে কিভাবে?
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খালাস পেলেন মেয়র নাছির, সাংসদ নিজাম হাজারী
চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মো. আবুল হাশেম প্রথম আলোকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
১৯৯৩ সালের ২৪ জানুয়ারি লালদীঘি মাঠে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় তৎকালীন নগর ছাত্রলীগের নেতা সুফিয়ান সিদ্দিকীর ওপর অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সুফিয়ান সিদ্দিকী কোতোয়ালি থানায় নাছিরসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ১৯৯৪ সালে এ মামলায় আসামিরা হাইকোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ নেন। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ তা প্রত্যাহার হয়। এ মামলায় গত ১ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন নাছির। ৬ এপ্রিল মামলার বাদীকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। জেরাকালে বাদী দাবি করেন, তৎকালীন বিএনপি সরকারের চাপে মামলাটি করেছিলেন তিনি।
২২ বছর আগের এই মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। আজ রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কী পেলাম, কী পেলাম না, তা বড় করে দেখলে চলবে না -সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী
![]() |
| প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা |
প্রধানমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান। খবর বাসসের।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তৃতা দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ। এতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন সংস্থাগুলোর প্রধান ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের প্রথম দেশের কথা বিশেষ করে দরিদ্র ও শ্রমিক শ্রেণির বিষয় চিন্তা করতে হবে। তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই হবে আমাদের দায়িত্ব।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি দৃঢ় বিশ্বাসী যে আমরা দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হব।’ এ প্রসঙ্গে তিনি বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এই মেগা প্রকল্প আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম যে এটি নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করব। আমরা আমাদের এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছি।’
বাংলাদেশ এরই মধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে এবং ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয় এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উন্নীত হবে—এ কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কেবল নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবেই থাকতে চাই না। মিলেমিশে কাজ করলে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশে বিগত ছয় বছরে জিডিপি ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে। মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৩১৪ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৫ দশমিক ২ বিলিয়নে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার ২০০৯ সালে পে-স্কেল দিয়েছে। ওই পে-স্কেলে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি নামমাত্র ছিল না। এতে যথেষ্ট বেতন-ভাতা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরও একটি পে-স্কেল চলতি মাস থেকে কার্যকর হতে পারে। আল্লাহর রহমতে এ প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্নের পথে এবং আমরা এটা বাস্তবায়ন করব।’
দেশে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন জোরদার করতে বেসরকারীকরণ কমিশন এবং বিনিয়োগ বোর্ড একীভূত হবে বলে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জবাব দিতে সময় পেলেন জাফরুল্লাহ
আজ সকালে ট্রাইব্যুনাল-২-এ হাজির হয়ে জবাব দাখিলের জন্য সময়ের আবেদন জানান জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তাঁর সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ৫ আগস্ট তারিখ ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল-২।
এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ট্রাইব্যুনালে আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত হলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এর আগে অবমাননার জন্য ট্রাইব্যুনাল-১ তাঁকে সতর্ক করেছিলেন। আর ট্রাইব্যুনাল-২ তাঁকে এজলাসে এক ঘণ্টা আটকে রাখার দণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।
সবশেষ ৬ জুলাই জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনেন তিনজন মুক্তিযোদ্ধা ও গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের দুজন সংগঠক। ৭ জুলাই এ আবেদনের ওপর শুনানি করেন আইনজীবী খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ ও মোর্শেদ আহমেদ খান। শুনানিতে তাঁরা বলেন, গত ১০ জুন আদালত অবমাননার দায়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে সাজা দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ওই দিন রায়ের পর আদালত থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের কাছে ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারকদের সম্পর্কে কটূক্তি করেন, যা আদালত অবমাননার শামিল।
বাংলাদেশে বসবাসরত ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের সাজায় উদ্বেগ জানিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়ায় গত ১০ জুন জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে এজলাসে আসামির কাঠগড়ায় এক ঘণ্টার কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেন। এক সপ্তাহের মধ্যে জরিমানার ওই টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই দিনই জাফরুল্লাহ এজলাসে কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করলেও অর্থদণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেন। গত ১৬ জুন চেম্বার আদালত তাঁর অর্থদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেন এবং আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আশরাফ পারবেন? রাজনীতিমুক্ত প্রশাসন বড় চ্যালেঞ্জ by শরিফুজ্জামান
![]() |
| জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম |
২০০৯ সাল থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছেই ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর এই প্রথম সেখানে একজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন একজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক, যিনি সরকারি দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত ঈদের ছুটি থাকায় গতকাল সচিবালয়ে নিজের মন্ত্রণালয়ে প্রথম যান তিনি। মন্ত্রণালয়ে ঢোকার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশাসন নিয়ে তিনি সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তারা।
নবনিযুক্ত জনপ্রশাসনমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা প্রশাসনে দলীয়করণে বিশ্বাস করি না। যাঁরা দক্ষ, তাঁরাই এখানে কাজ করবেন। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে যাঁর যে যোগ্যতা আছে, সেখানে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।’
বর্তমান সরকারের গত সাড়ে ছয় বছরে কয়েক দফায় প্রায় আড়াই হাজার কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ফলে উপসচিব থেকে ওপরের পদগুলোতে আর শূন্য পদ নেই। পদের চেয়ে কর্মকর্তা অনেক বেশি হওয়ায় পদায়ন, বসার জায়গা ও দায়িত্ব নিয়ে অনেকটা কাড়াকাড়ি অবস্থা চলছে।
সর্বশেষ গত এপ্রিলে সরকার ৮৭৩ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিতে গিয়ে আরও কয়েক শ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি‘বঞ্চিত’ করে বলেও অভিযোগ ওঠে। এই ‘গণপদোন্নতি’ নিয়ে জনপ্রশাসনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া চলছে। এক পক্ষের অভিযোগ, যোগ্যতা থাকার পরও রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে অনেককে বঞ্চিত করা হচ্ছে। যদিও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলে আসছে, পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাই প্রাধান্য পাচ্ছে।
প্রশাসন দলীয়করণমুক্ত রাখার যে অঙ্গীকার সৈয়দ আশরাফ প্রথম কর্মদিবসে করলেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রশাসনকে দলীয়করণমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত এককভাবে তিনি নিতে পারবেন না। কিন্তু যথেষ্ট অবদান রাখতে পারেন। এই মিশন নিয়ে যদি উনি এগিয়ে যান, লেগে থাকেন, তাহলে প্রশাসনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
সাবেক ওই সচিব মনে করেন, দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ রাখার অনুভূতিটাই নেই। তারা যদি এটা করত, তাহলে সরকার ও জনগণ উপকৃত হতো।
জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজউদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সামগ্রিক রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকলে প্রশাসনকে দলীয়করণমুক্ত করা সম্ভব। তবে ব্যক্তিবিশেষের পক্ষে এটা করা আর সম্ভব নয়। যে মাত্রায় দলীয়করণ প্রশাসনসহ সব ক্ষেত্রে হয়েছে, তাতে এর লাগাম টেনে ধরাটা কঠিন।’
প্রশাসনে দলীয়করণ: বর্তমান ও সাবেক একাধিক সরকারি কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, নব্বইয়ের পর থেকে প্রশাসনে দলীয়করণ মাত্রাতিরিক্ত হয়ে পড়ে। আর প্রকাশ্যে দলীয়করণ শুরু হয় ১৯৯৬ সালে জনতা মঞ্চের মাধ্যমে। তখন সাবেক সচিব মহীউদ্দীন খান আলমগীরের নেতৃত্বে একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী ওই মঞ্চে যোগ দিয়ে আলোচনায় আসেন। পরে মহীউদ্দীন খান আলমগীর মন্ত্রী হন এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে প্রশাসনের ওই সব কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ পদ পান।
ওই সময় থেকে পদোন্নতি ও ভালো পদ দেওয়া শুরু হয় মুখ দেখে, দলীয় বিবেচনায় বলে অভিযোগ আছে। আবার তদবিরেও অনেকের পদোন্নতি হয়। এরপর বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর এসব কর্মকর্তাকে ‘শাস্তিমূলক ওএসডি’ (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) করা, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো বা পদোন্নতি আটকে দেওয়া হয়। বিপরীতে বিএনপি-জামায়াত জোট তাদের পছন্দের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও ভালো পদ দেওয়া শুরু করে। অবস্থা এমন দাঁড়ায় এক সরকারের আমলে জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করলে আরেক সরকারের সময়ে এসে তিনি ‘বঞ্চিত’ হন। এরপর এটি নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে।
১৯৮৪ সালের বিসিএস কর্মকর্তাদের কয়েকজন সচিব বা ভারপ্রাপ্ত পদমর্যাদায় রয়েছেন। কিন্তু এই ব্যাচের অনেক কর্মকর্তাই এখনো উপসচিব রয়ে গেছেন। তাঁদের প্রায় সবাই রাজনৈতিক বঞ্চনার শিকার। জনপ্রশাসনের কোনো কোনো কর্মকর্তার মতে, এমন ভারসাম্যহীন অবস্থার মধ্যে কেউবা সামনে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন, আবার কারও কারও পেছাতে পেছাতে দেয়ালে পিঠ ঠেকার উপক্রম হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জনপ্রশাসনে এখন ভিন্নমতের কর্মকর্তা খুঁজে পাওয়া কঠিন। সরকারি দলের সমর্থকেরাই প্রশাসনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছেন।
গত বছরের নভেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে ছাত্রলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা, এইচ টি ইমাম, যিনি সরকারের আগের মেয়াদে জনপ্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে হবে। তার পরে আমরা দেখব।’ ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন সম্পর্কে তিনি সেদিন আরও বলেছিলেন, ‘নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ পুলিশ ও প্রশাসনের যে ভূমিকা, নির্বাচনের সময় আমি তো প্রত্যেকটি উপজেলায় কথা বলেছি, সব জায়গায় আমাদের যারা রিক্রুটেড, তাদের সঙ্গে কথা বলে, তাদের দিয়ে মোবাইল কোর্ট করিয়ে আমরা নির্বাচন করেছি। তারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, বুক পেতে দিয়েছে।’ এই মন্তব্যের পর সরকার বিব্রত হয় এবং তাঁকে অপসারণ করা না হলেও তাঁর কাজের পরিধি কমিয়ে দেওয়া হয় বলে দলীয় নেতারা জানান। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর সাবেক আমলা এইচ টি ইমাম প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা হিসেবে সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হন। প্রশাসনে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনা আছে।
সৈয়দ আশরাফের মন্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপি সরকারের মন্ত্রী এবং সাবেক সচিব এম কে আনোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, প্রশাসন যে অবস্থায় গেছে সেখান থেকে বের করা সম্ভব, কিন্তু সেই ইচ্ছা সরকারের নেই। তবে, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন দলীয়করণের অভিযোগ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপির সময় দলীয়করণ কিছুটা হলেও সহনশীল পর্যায়ে ছিল। এখন প্রশাসনে দলীয়করণ যে পর্যায়ে হয়েছে, তা অতীতে কখনই হয়নি। তাই আমি মনে করি, এটা দলীয়করণ নয়, লাইসেন্স দেওয়া।’
জনপ্রশাসনে ভারসাম্যহীনতা: অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জনপ্রশাসনে অতিরিক্ত সচিবের পদ ১০৭। কর্মরত আছেন ২৬৬ জন। এক মন্ত্রণালয়ে সাধারণত একজন অতিরিক্ত সচিব থাকার কথা, কিন্তু আছেন একাধিক। অতএব, একজনের দায়িত্ব বা কাজই তাঁরা ভাগাভাগি করে করছেন, এ নিয়ে বিরোধও তৈরি হচ্ছে।
প্রশাসনে যুগ্ম সচিবের ৪৩০টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন দ্বিগুণের বেশি, ৮৯৩ জন। এসব কর্মকর্তার অনেকেই বসার জায়গা পান না। একটি কক্ষে ভাগাভাগি করে বসছেন একাধিক কর্মকর্তা। পদ না থাকলেও পদোন্নতি পাওয়া এসব কর্মকর্তাকে কাজ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে শাখা, অধিশাখা, বিভাগ ও অনুবিভাগ খোলা হয়েছে। তবে এ অবস্থার মধ্যেও সুষ্ঠু ও নিয়মিত পদোন্নতি চান ভুক্তভোগীরা। পদ না থাকলেও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সেই নিশ্চয়তা অনেকের ভাগ্যে জোটেনি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পদোন্নতি পাওয়া যেসব কর্মকর্তা যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব হয়েছেন, তাঁরা বেশি খুশি হয়েছেন। কারণ, এ পদগুলোকে প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গাড়িসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বেশি।
সরকারি কর্মকর্তাদের অনেকেই মনে করছেন, যে বৈষম্য ও বঞ্চনা জনপ্রশাসনে তৈরি হয়ে আছে, তা ঘোচানোর উদ্যোগ নেওয়া দূরে থাক, আরও পেঁচিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জ্যেষ্ঠ অনেক কর্মকর্তাই এখন কনিষ্ঠের অধীনে কাজ করছেন। ফলে প্রশাসনে তাঁদের কর্মস্পৃহা নষ্ট হচ্ছে।
সংস্কার কেবল আলোচনায়: প্রশাসন ক্যাডারের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাধীনতার পর জনপ্রশাসনে সংস্কারের জন্য বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত ১৮টি কমিশন বা কমিটি গঠন করে সংস্কারের নানাবিধ উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি কখনো। বরং অপরিকল্পিত কয়েকটি বিসিএস ব্যাচের কারণে প্রশাসনের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। ফলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা পদোন্নতি ও ভালো পদ পেতে রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজেছেন বারবার।
সর্বশেষ মন্ত্রিসভা যে ‘সরকারি কর্মচারী আইন’ অনুমোদন করেছে, তাতে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হলে অভিযোগপত্র দাখিলের আগে গ্রেপ্তারের জন্য সরকারের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী প্রথম আলোর প্রশ্নের জবাবে বলেন, এই আইন প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। প্রশাসনে দীর্ঘ সময় ধরে সৃষ্টি হওয়া সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে দূর করার চেষ্টা চলছে। দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি বলেন, ৮৭৩ জন কর্মকর্তার পদোন্নতির পর তাঁদের পদায়নগুলো দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে পেরেছে মন্ত্রণালয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নারায়ণগঞ্জে সাত খুনঃ বাদীর নারাজি নামঞ্জুর আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন মামলা
বাদী পক্ষের আইনজীবী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেছেন, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে নিম্ন আদালত থেকে নথি তলব করেছেন।
অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি পাওয়া পাঁচ আসামি হলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া এবং হাসমত আলী, আমিনুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন ও ইকবাল হোসেন।
এর আগে ৮ জুলাই নারাজি আবেদন গ্রহণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বাদী সেলিনা বলেন, এজাহারভুক্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার বা জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রভাবিত হয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।
নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় একটি মামলার বাদী সেলিনার দাখিল করা নারাজি আবেদন ৮ জুলাই নামঞ্জুর করে পৃথক দুটি মামলায়ই র্যা বের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন নারায়ণগঞ্জ বিচারিক হাকিম সাইদুজ্জামান শরীফ। একই সঙ্গে পলাতক ১৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ও মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দেন তিনি।
গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকা থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। এর তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় সেলিনা বাদী হয়ে নূর হোসেনসহ পাঁচ আসামির নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি এবং নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একই থানায় আরেকটি মামলা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডল গত ৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে নূর হোসেন, র্যা বের সাবেক তিন কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) এম এম রানাসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বর্তমানে র্যা বের সাবেক এই তিন কর্মকর্তাসহ ২২ জন কারাগারে রয়েছেন। পলাতক আছেন ১৩ জন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সরকারি কর্মচারীদের দায়মুক্তি: মন্ত্রিসভায় পাস হওয়া খসড়া অসাংবিধানিক
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৭ ধারা অনুসারে সরকারি কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। তারপরও সরকারি কর্মচারী আইনে এটা সংযুক্ত করার উদ্দেশ্য কী?
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে এতকাল ধরে যে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে এসেছে, তা কেন হঠাৎ অপ্রতুল হয়ে পড়ল, তার গ্রহণযোগ্য কারণ নেই।
এর আগে সংবিধানের পরিপন্থী বিবেচনায় দুদক আইনে সন্নিবেশ করা অনুরূপ একটি বিধান হাইকোর্ট বাতিল করে দিয়েছিলেন। ওই বিধানেও একইভাবে মামলা দায়েরে সরকারের পূর্বানুমতির ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। এখন এটা মনে করা যুক্তিসংগত যে, ক্ষমতাসীন রাজনীতিকদের ওপর একশ্রেণির আমলার প্রভাব খুবই শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি সুশাসনের ধারণাকে সমর্থন করে না। আমলাতন্ত্র যেন তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, এটা থামানো দরকার।
এটা লক্ষণীয় যে ইউএনডিপির একটি প্রকল্পের অধীনে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য প্রস্তুত করা ওই প্রস্তাবিত আইনের ২০১০ সালের খসড়ায় গ্রেপ্তার থেকে দায়মুক্তির আলোচ্য বিধানটি ছিল না বলে খবর বেরিয়েছে, যা পরে যুক্ত করা হয়।
প্রস্তাবিত বিধান স্পষ্টতই সংবিধানের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে বলা হয়েছে, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। গণতান্ত্রিক দেশে সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইন দেশের সব নাগরিকের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দল পুনর্গঠনের পর আন্দোলন- খালেদা
কূটনীতিকদের শুভেচ্ছা ও বার্নিকাটের শাড়ির প্রশংসা
বিএনপি চেয়ারপারসনের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন কূটনীতিক কোরের ডিন প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রদূত শাহের মোহাম্মদ এইচ আবুইয়াদেহ, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট, রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দর নিকোলায়েভ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদন, পাকিস্তানের হাইকমিশনার সুজা আলম, ভারতের হাইকমিশনার পংকজ শরণ, নেপালের রাষ্ট্রদূত হরি কুমার শ্রেষ্ঠাসহ ৩৯টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, মিশনপ্রধান, কূটনীতিক ও কর্মকর্তারা। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে কূটনীতিকদের সেমাই-জর্দাসহ মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। লাইনে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা অনুষ্ঠানের মঞ্চে খালেদা জিয়ার সঙ্গে একে একে করমর্দন করে ঈদে শুভেচ্ছা জানান। তবে সবার নজর কাড়েন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সবুজ রঙের একটি শাড়ি পরে বিএনপি চেয়ারপারসনের অনুষ্ঠানে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট। বাঙালি নারীর মতো শাড়ি পরা দেখে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তার প্রশংসা করেছেন খালেদা জিয়া। বার্নিকাটের সঙ্গে করমর্দন করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনাকে শাড়িতে সুন্দর মানিয়েছে, খুব সুন্দর লাগছে।’ জবাবে বার্নিকাটও হাসিমুখে বিএনপি চেয়ারপারসনের ক্রিম রঙের শাড়ির প্রশংসা করেন। এরপর তারা দুজনই ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর একান্তে কথাও বলেন। বার্নিকাটের পাশাপাশি ইউরোপের দুটি দেশের নারী রাষ্ট্রদূতও রঙিন শাড়ি এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দার নিকোলায়েভ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদন পাজামা-পাঞ্জাবি পরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত শাহের মোহাম্মদ এইচ আবুইয়াদেহ ও নেপালের রাষ্ট্রদূত হরি কুমার শ্রেষ্ঠা, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রী নিজ দেশীয় পোশাক পরে আসেন। তারা তাদের নবজাত সন্তানকেও সঙ্গে আনেন। মায়ের কোলে থাকা শিশুটিকে দোয়া করেন খালেদা জিয়া। সস্ত্রীক অনুষ্ঠানে অংশ নেন পাকিস্তানের হাইকমিশনারও। ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের পাশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এমকে আনোয়ার, ব্রিগেডিয়ার (অব.) আসম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, সারোয়ারী রহমান, নজরুল ইসলাম খান, সদ্য কারামুক্ত গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, সাবিহউদ্দিন আহমেদ অংশ নেন।
রাজনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়
ঈদের দিন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিশিষ্ট নাগরিক, পেশাজীবী, জোটের শরিক ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্যে শিক্ষাবিদ প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ, প্রফেসর ড. মাহবুবউল্লাহ, প্রফেসর আফম ইউসুফ হায়দার, চলচ্চিত্রকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার, ছড়াকার আবু সালেহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর খন্দকার মুুস্তাহিদুর রহমান, সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী, অ্যাব নেতা আনহ আখতার হোসেন, সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, আবদুল হাই শিকদার, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট নেতা জাকির হোসেন, সাংবাদিক আবদুল আউয়াল ঠাকুর, কামরুল ইসলাম চৌধুরী, কণ্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভীন অংশ নেন। জোটের শরিক দলের নেতাদের মধ্যে- কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, জাগপা’র শফিউল আলম প্রধান, খন্দকার লুৎফর রহমান, জাপা (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর প্রফেসর মুজিবুর রহমান, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, কর্মপরিষদ সদস্য ডা. রেদোয়ান উল্লাহ শাহেদী, আমিনুল ইসলাম, মোবারক হোসেন, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, বাংলাদেশ ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ ও বিজেপির সালাহউদ্দিন প্রকাশ এবং বিএনপি নেতাদের মধ্যে- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল মান্নান, শাহজাহান ওমর বীরউত্তম, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আবদুল হালিম, সুজাউদ্দিন, ইসমাইল জবিউল্লাহ, রুহুল আলম চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, দলের মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান ও সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক তৈমূর আলম খন্দকার, সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের ভূঁঁইয়া, বিএনপির সমর্থনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে অংশগ্রহণকারী তাবিথ আউয়াল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, শফিউল বারী বাবু, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সম্পাদক সাইফুল আলম নিরব, ছাত্রদল সম্পাদক আকরামুল হাসানসহ বিভিন্ন স্তরের নেতারা চেয়ারপারসনের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
জিয়া ও কোকোর কবর জিয়ারত
ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন খালেদা জিয়া। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে বনানী কবরস্থানে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর কবরে যান খালেদা জিয়া। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আরাফাত রহমান কোকোর দুই কন্যা জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান। সেখান থেকে দুই নাতনিকে নিয়ে গুলশানের বাসায় ফিরেন তিনি। এর আগে বেলা ১১টায় কোকোর কবর জিয়ারত করেন তার স্ত্রী শর্মিলা রহমান।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কারাগারে হবিগঞ্জ পৌর মেয়রের ওপর হামলা
![]() |
| হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জি কে গউছের ওপর কারাগারে হামলা চালিয়েছেন অন্য একজন আসামি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ছবি: হাফিজুর রহমান |
শায়েস্তাগঞ্জে আতঙ্কের নাম ছিল ইলিয়াছ
শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার দাউদনগর গ্রামের কনা মিয়ার ছেলে ইলিয়াছ মিয়া ওরফে ছোটন। সে ছিল শায়েস্তাগঞ্জের আতঙ্ক। তার নাম শুনলেই লোকজনের মাঝে ভয় দেখা দিত। ২০০৮ সালের আগেই সে শায়েস্তাগঞ্জে ত্রাসের রাজ্য কায়েম করে। মূলত ২০০০ সাল থেকে সে শায়েস্তাগঞ্জ দাউদনগর এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ড শুরু করে। ধীরে ধীরে সে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। এরপর তার ভয়াবহতা শায়েস্তাগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে। কালো টাকা রোজগারে সে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। এলাকায় তার ভয়ে লোকজন আতঙ্কে বসবাস করতো। সে কাউকেই পাত্তা দিত না। ২০০৮ সালের ১৩ই এপ্রিল সে দক্ষিণ লেঞ্জাপাড়ার বাসিন্দা মরম আলীর ছেলে আলী আহমদ সুজনকে হত্যা করে পলাতক ছিল। ঘটনার পর তার পিতা তাকে ত্যাজ্য করেন। এরপর সে ভারতে চলে যায়। সেখানে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সে জড়িয়ে পড়ে। মাঝেমাঝে চুনারুঘাটের আসামপাড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে নিজের অভিযান শেষে পুনরায় ভারতে চলে যেত। ২০১১ সালের ১৬ই জুলাই সে একই রুটে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে। পরে চুনারুঘাট থেকে বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী বাজারে যাওয়ার জন্য সে আবদুল জলিলের সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা ১ হাজার টাকায় ভাড়া নেয়। সন্ধ্যায় বাহুবল বাজারে পৌঁছে জলিল আর যাবে না বলে তার ভাড়া দাবি করে। এ সময় ছোটন ৪শ’ টাকা দিয়ে বাকি টাকা পুটিজুরী বাজারে গিয়ে দেবে বলে চালক জলিলকে বলে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রথমে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে ছোটন নিজেকে উল্লিখিত হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি বলে পরিচয় দেয়। সঙ্গে সঙ্গে অটোরিকশা চালক জলিল মোবাইলে ফোনে কথা বলে অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে। কিন্তু ছোটন মনে করে জলিল ফোনটি পুলিশকে করেছে। আর কিছু না ভেবে সে জলিলকে ছুরিকাঘাত করতে থাকলে সে দৌড়ে গিয়ে একটি বাসায় ঢুকে। এরপর আর কিছু সে বলতে পারে না। ঘটনার পর ছোটন প্রথমে ঢাকা গিয়ে চাকরি খুঁজতে থাকে। পরে চাকরি না পেয়ে সিলেট ও পরে বানিয়াচং উপজেলার মার্কুলী যায়। সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়। দুটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে কারাগারে থাকা ছোটনকে জেলেও সবাই সমীহ করে চলে।
বিএনপির হরতাল ও আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সভা
হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছের ওপর কারাগারে হামলার প্রতিবাদে রোববার অর্ধদিবস হরতাল পালন করেছে জেলা বিএনপি। শহরের শায়েস্তানগরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পিকেটিং করেন নেতাকর্মীরা। দুপুরে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সামছু মিয়া, মিজানুর রহমান, মাহবুবুর রহমান আওয়াল, আজিজুর রহমান কাজল ও তাজুল ইসলাম চৌধুরী ফরিদ প্রমুখ। এদিকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরকে হত্যার জন্য জি কে গউছ ষড়যন্ত্র করেছেন বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে হবিগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগ ও পৌর যুবলীগ। রোববার বিকালে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোতাচ্ছিরুল ইসলামের পরিচালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খান এমপি। বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলমগীর চৌধুরী, শরীফ উল্লাহ, শেখ সামছুল হক, অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, মর্তুজা হাসান, মশিউর রহমান শামীম, মরতুজ আলী, আকবর হোসেন জিতু ও অ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পৌর যুবলীগও অনুরূপ কর্মসূিচ পালন করে। গতকাল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ। একই কর্মসূচি পালন করে লাখাই উপজেলা আওয়ামী লীগ।
তদন্ত কমিটি গঠন ও মামলা দায়ের
হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের ভেতরে হামলার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। শনিবার রাতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সুবেদার তাজ উদ্দিনসহ একজন হাবিলদার ও দুজন কারারক্ষীকে আসামি করে এ মামলা করা হয়। এছাড়াও জি কে গউছের ওপর হামলাকারী ইলিয়াছ মিয়া ওরফে ছোটনকে আসামি করে একই দিন রাতে হবিগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেছেন জেলার শামীম ইকবাল। এদিকে কারাগারের এ ঘটনার জন্য শনিবার রাতে হবিগঞ্জের এডিএম শফিউল আলমকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করেছেন জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন এনএসআইর উপপরিচালক শাহ আলম, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. দেবাশীষ দাশ, সহকারী পুলিশ সুপার সাজ্জাদ ইবনে রায়হান ও জেল সুপার গিয়াস উদ্দিন। তদন্ত কমিটিকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে মতামত ও সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কামরুলকে ফেরত আনতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ
রাজন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ইন্সপেক্টর সুরঞ্জিত তালুকদার যুগান্তরকে জানান, আসামি নূর মিয়া ও দুলাল আহমদ অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন তারা। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। এদিকে রিমান্ডে নেয়ার পর অপর আসামি আলী হায়দার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, জবাবন্দিতে নূর জানান, ঘটনাস্থলের পাশেই তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নূর আহমদ সিএনজি ওয়ার্কশপ। ঘটনার আগের দিন সারা রাত কাজ শেষে ওয়ার্কশপেই ঘুমাই। সকালে ঘুম থেকে উঠে হাত-মুখ ধোয়ার জন্য পুকুরপাড়ে যাওয়ার সময় দেখি কামরুল, চৌকিদার ময়না ও অজ্ঞাত লম্বা একটি ছেলে রাজনকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করছে। তখন কামরুল আমাকে বলে, ভাইগ্না চোর ধরছি। তুই ভিডিও কর, তারপর ইন্টারনেটে ছেড়ে দে। মানুষ যেন দেখে চোরকে কীভাবে পেটানো হয়। কামরুলের কথামতো আমার মোবাইলে প্রায় ২৮ মিনিট ভিডিও রেকর্ড করি। দুপুরের দিকে খবর পাই শিশু রাজন মারা গেছে। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে গেছে ভেবে মোবাইলের ভিডিওটি লোকজনকে দেখাই। এ সময় অনেকেই ভিডিওটি মোবাইলে নেয় ব্লু-টুথে করে। এর মধ্যে একজন সাংবাদিক ভিডিওটি নিয়ে ফেসবুক ও ইউটিউবে ছেড়ে দেন। খুব সম্ভবত ওই সাংবাদিকের নাম পংকি।
এদিকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দুলাল জানান, তিনি একজন চা বিক্রেতা। ঘটনাস্থলের পাশে একটি টংঘরে তিনি চা বিক্রি করেন। ঘটনার দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পান চৌকিদার ময়না একটি গ্যারেজের পাশে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে এক শিশুকে মারছে। এ সময় ময়নার হাতে থাকা লাঠি নিয়ে কামরুল শিশুটিকে পেটাতে শুরু করে। তারা আমাকে বলে, ভ্যান চুরির সময় তাকে হাতেনাতে ধরেছে। তবে রাজনের স্বজনদের দাবি, সব স্বীকারোক্তির ভাষ্য অনেকটা এক। আসামিরা রাজনের বিরুদ্ধে ‘চুরির’ অপবাদ প্রতিষ্ঠায় মরিয়া। এসব জবানবন্দির মাধ্যমে ‘বিতর্কিত এজাহার’ প্রতিষ্ঠার যড়যন্ত্র হচ্ছে। রাজনের খালু আবদুল খালেক বলেন, ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগে ক্লোজড আমিনুল এ এজাহারের ‘রচয়িতা’। তিনি এজাহারে শিশু রাজনকে লিখেছে ‘অজ্ঞাত পুরুষ’। ভিকটিমকে বলা হয়েছে ‘চোর’। অপবাদ দেয়া হয়েছে চুরির। স্বজনদের দাবি, রাজন চোর নয়, সত্য গোপন করা হচ্ছে। এত কিছুর পর মামলার এজাহারকারী এসআই আমিনুলকে ক্লোজড করা হলেও মামলা গ্রহণ ও তদন্তকারী জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর এখনও বহাল তবিয়তে।
৮ জুলাই বুধবার শহরতলির কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শিশু রাজনকে পিটিয়ে খুন করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ভিডিও চিত্র ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি কামরুল সৌদি আরবে আটক হয়েছে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এছাড়া আরও ১০ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরমধ্যে রাজনের লাশ গুমের চেষ্টাকালে স্থানীয়রা মুহিত আলমকে আটক করে পুলিশে দেন। এরপর ১৩ জুলাই মুহিতের আত্মীয় ইসমাঈল হোসেন আবলুসকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ১৪ জুলাই চৌকিদার ময়নাকে পুলিশে দেন স্থানীয়রা। এরপর ১৫ জুলাই দুলাল আহমদ ও নূর মিয়া, ১৮ জুলাই রুহুল আমিনকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ফিরোজ ও আছমত আলী, মুহিতের স্ত্রী লিপি বেগমকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এরমধ্যে সোমবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ময়না চৌকিদার। এর আগে ১৪ জুলাই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফিরোজ আলী ও আসমত উল্লাহ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ঘটনা দেখার পরও পুলিশকে না জানানোর কারণে এ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া মুহিত আলম, ইসমাইল হোসেন আবলুস, আলী হায়দার ও রুহুল আমিন রিমান্ডে রয়েছেন। আর জেলহাজতে রয়েছেন মুহিত আলমের স্ত্রী লিপি বেগম।
এদিকে এ মামলায় পুলিশের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৬ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটি মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেনি। যদিও তিনদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা ছিল। তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রুকন উদ্দিন বলেন, প্রতিবেদন দাখিলে একটু বিলম্ব হবে। ইন্টারপোলের রেড নোটিশ : রাজন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি কামরুল ইসলামকে সৌদি আরব থেকে ফেরত আনার জন্য ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’ জারি করা হয়েছে। তার বিষয়ে যাবতীয় তথ্য আরবিতে অনুবাদ করে দু-একদিনের মধ্যে রিয়াদে ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে (এনসিবি) পাঠানো হবে। ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় কামরুলের জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৫ এপ্রিল ১৯৬৮। বয়স ৪৮ বছর। জন্মস্থান শেখপাড়া, জালালাবাদ সিলেট। উচ্চতা ৫.৫৯ মিটার। ভাষা বাংলা, আরবি। চুল ও চোখের রং কালো। অভিযোগ- হত্যা, হত্যার তথ্য গোপন। সেখানে তার একটি ছবিও আপলোড করা হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (এনসিবি) মাহবুবুর রহমান জানান, রেড নোটিশের পর কামরুলের অবস্থান নিশ্চিত করে সৌদি আরবে বার্তা পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে রিয়াদ এবং ঢাকার মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। পুলিশ সদর দফতরের এএনসিবি শাখার এ কর্মকর্তা আরও বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে এখন যাবতীয় তথ্য আরবিতে অনুবাদের কাজ চলছে। শেষ হলে দু-একদিনের মধ্যে তা রিয়াদের এনসিবিতে পাঠানো হবে। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে সেটা রিয়াদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঢাকায় ফিরছে মানুষ, স্টেশনে ভিড়
রেলওয়ে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকা অভিমুখে ছেড়ে আসা প্রতিটি ট্রেনেই উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। মঙ্গলবার রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে হাজার হাজার যাত্রীকে নামতে দেখা গেছে। টানা বৃষ্টির মধ্যেও ট্রেনের ছাদ, ইঞ্জিন ও দু’বগির সংযোগস্থলে বসে যাত্রীরা রাজধানীতে ফিরছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছেন, প্রতি ঈদেই ট্রেনে যাত্রীদের চাপ বাড়ে। ঈদের আগে প্রতিদিন কমলাপুর ও বিমানবন্দর স্টেশন থেকে প্রায় পৌনে ২ লাখ যাত্রী রাজধানী ছেড়েছেন। ঈদ শেষে আবারও এসব যাত্রী ট্রেনে রাজধানীতে ফিরে আসছেন। সরেজমিন কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, আন্তঃনগর ট্রেন থেকে শুরু করে লোকাল ট্রেনগুলোতেও মানুষের উপচেপড়া ভিড়। রাজধানীতে আসা প্রতিটি ট্রেনেই ছিল প্রায় ৩-৪ গুণ বেশি যাত্রী। বাস কিংবা লঞ্চের মতো ট্রেন যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখী কিংবা শহরমুখী যাত্রীরা কোনো বাধাই মানেন না। শত বাধার পরও যাত্রীরা ট্রেনের ছাদ, ইঞ্জিন ও দু’বগির সংযোগস্থলে চড়ে রাজধানীতে আসছেন।
চট্টগ্রাম থেকে আসা যাত্রী আমিনুল ইসলাম পরিবারের ৬ সদস্যকে নিয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে চট্টলা এক্সপ্রেস থেকে নামেন। আমিনুল ইসলাম জানান, ৭ জনের মধ্যে ফিরতি টিকিট পেয়েছেন মাত্র ৩টি। বাকিরা দাঁড়িয়ে এসেছেন। রাজশাহী থেকে আসা যাত্রী বুলবুল চৌধুরী জানান, পরিবারের ৫ সদস্য মিলে ঈদের দু’দিন আগে ট্রেনে করেই গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। এসেছেনও ট্রেনে করে। বিমানবন্দর স্টেশনে বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘তিন বন্ধু মিলে ফেনী থেকে এসেছি। পলিথিন মাথায় দিয়ে ছাদে চড়েছি। কোনো উপায় ছিল না।’ সিলেট থেকে আসা জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের যাত্রী হিরণ মিয়া জানান, ট্রেনটির বিভিন্ন বগি বেয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। তিনিসহ অনেক যাত্রীই বৃষ্টির পানিতে ভিজেছেন। মনে কোনো দুঃখ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকেই তো বৃষ্টিতে ভিজে ছাদে চড়ে এসেছেন। তাই কোনো কষ্ট নেই।’
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার-১ এনএস সাহা জানান, লালমনি, সুন্দরবন ও খুলনা স্পেশাল ট্রেন ৪০ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টা বিলম্বে কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছেছে। এবার ট্রেনের সিডিউল অত্যন্ত ভালো জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব ট্রেন কিছুুুটা বিলম্বে চলাচল করছে তার কারণ হচ্ছে, যাত্রীদের সুবিধার্তে বিভিন্ন স্টেশনে বিরতির সময় বাড়িয়ে দিতে হচ্ছে। ২ মিনিট বিরতির স্থলে কখনও কখনও ৫ থেকে ১০ মিনিট পর্যন্ত বিরতি দিতে হচ্ছে। যাত্রীরা যেমন করে ঈদের আগে বিভিন্ন ট্রেনে করে রাজধানী ছেড়েছেন টিক তেমনি করেই রাজধানীতে আসছেন। প্রতিটি ট্রেনেই উপচেপড়া ভিড় রয়েছে। এবার কোনো ট্রেনে কোনো প্রকার ত্র“টি দেখা যায়নি। যথাসময়ে অধিকাংশ ট্রেন চলাচল করছে। ঢাকা নদী বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে নির্ধারিত সবকটি লঞ্চ ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। ফেরার পথেও যেন অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা হয় সে নির্দেশনা রয়েছে। বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি লঞ্চগুলোর চালকদের আবহাওয়া সংকেত মেনে চলাচলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চমকের নাম মুস্তাফিজ
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ছেলেটি আবোল তাবোল মেয়েটি পাগল পাগল
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অপেক্ষা কললিস্টের by চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
এদিকে পুলিশের দায়েরকৃত এজাহারে হত্যা ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা রয়েছে বলে আইন পেশায় নিয়োজিত অনেকেই মন্তব্য করেছেন। মামলার নথি পর্যালোচনা করে তারা বলছেন, রাজন নিহতের ঘটনায় জালালাবাদ থানার এস আই আমিনুল বাদী হয়ে ৮ই জুলাই রাত ৮টা ৪০ মিনিটে মামলা (নং:০৪) করেন। ঐ রাতেই রাজনের বাবা আজিজুর রহমান আলম রাজনের লাশ শনাক্ত করেন। তারপরও পুলিশ রাজনকে ‘অজ্ঞাত পুরুষ’ পরিচয়ে যে মামলাটি করেছিলো তা সংশোধন করতে পারতো। কারণ পুলিশ আদালতে নথি প্রেরণ করে পরদিন ৯ই জুলাই। এফআইআর সংশোধন না করায় প্রমাণিত হয়েছে কোন ‘দুরভিসন্ধি’ ছিলো। এ প্রসঙ্গে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ই ইউ শহীদুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, রাজন হত্যা মামলায় এসআই আমিনুল ইসলাম কর্তৃক দাখিলকৃত এজাহারে আসামি মুহিত আলম ও ময়না মিয়ার নামোল্লেখক্রমে আশপাশ ওয়ার্কশপের লোকজন জড়িত বলে উল্লেখ করেছেন। অপরদিকে রাজনের বাবা আজিজুর রহমান আলমের দরখাস্তে মুহিত, আলী, কামরুল, ময়না ও অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দুইজন আসামির নাম উভয় দরখাস্তে থাকলেও মোট আসামি ৪ জন। অথচ পুলিশ ইতিমধ্যে ডজনখানেক লোককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের এই অতি আগ্রহ জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ এজাহারনামীয় আসামিদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনকেও আটক করেছে। এ ধরনের ঢালাও গণগ্রেপ্তার মামলার কার্যক্রমকে ভিন্নখাতে নিয়ে যেতে পারে। আইনজীবী ই ইউ শহীদুল ইসলাম বলেন, ফৌজদারি আইনে অপরাধের দায় ‘ইনডিভিজ্যুয়াল লায়েবিলিটি’। একজনের কৃত অপরাধের দায় অন্য কারো উপর বর্তানো ফৌজদারি আইন কোনভাবেই সমর্থন করে না। তিনি বলেন, লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে পুলিশকে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে। সজাগ থাকতে হবে যাতে কোনভাবেই পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার বাণিজ্যের অভিযোগ না উঠে।
সামিউল আলম রাজন হত্যা ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব এখন নগর গোয়েন্দা পুলিশের। জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় তাকে বুধবার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। চাঞ্চল্যকর এ মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার। তদন্ত কর্মকর্তা সোমবার বিকালে মানবজমিনকে বলেন, কাজ করে যাচ্ছি। ভীষণ ব্যস্ততা। ৭ জন আসামিকে হেফাজতে এনেছি- তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তদন্ত কর্মকর্তা সুরঞ্জিত তালুকদার বলেন, ময়নার কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। বলাৎকারের বিষয়ে ময়নার কোন বক্তব্য পাওয়া গেছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, তদন্তের স্বার্থে সরাসরি এমন প্রশ্নের জবাব দেয়া সম্ভব নয়। জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আখতার হোসেন মানবজমিনকে জানান, তদন্তের দায়িত্ব এখন তাদের হাতে না থাকলেও আসামি গ্রেপ্তারে তারা গোয়েন্দা পুলিশকে সহযোগিতা করছেন। তিনি আরও জানান, এ হত্যা ঘটনার কোন আসামি এখন আর তাদের হেফাজতে নেই। গোয়েন্দা পুলিশ কোতোয়ালি থানাসহ বিভিন্ন স্থানে রেখে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
রাজন হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত ১১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ঈদের দিন টুকের বাজারের হায়দারপুর থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন আলী হায়দারের শ্যালক রুহুল আমীন। এর আগে শুক্রবার শেখপাড়া থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন কামরুল-মুহিতের বড় ভাই আলী হায়দার। এদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয় মুহিত আলম, চৌকিদার ময়না, দুলাল আহমদ এবং সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশীদের হাতে আটক কামরুল ইসলাম। এছাড়া, ফিরোজ আলী ও আজমত আলী ঘটনার দুই প্রত্যক্ষদর্শী আটক আছেন। এ দু’জন ইতিমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় ঘটনার প্রত্যক্ষ বর্ণনা দিয়েছেন। এছাড়াও গ্রেপ্তার হয়েছেন রাজনের ওপর নির্যাতনের দৃশ্য মোবাইলে ধারণকারী নূর আহমদ এবং প্রধান আসামি মুহিতের স্ত্রী লিপি বেগম। এদিকে ৫ দিন পুলিশ রিমান্ডে থাকা মুহিত আলমের রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই আরও ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে তাকে। মুহিতের তালতো ভাই ইসমাইল হোসেন আবলুসের দ্বিতীয় দফা ৭ দিনের রিমান্ড চলছে। এছাড়াও ৭ দিনের রিমান্ডে আছেন নূর আহমদ, দুলাল, আলী হায়দার ও রুহুল আমিন। এ হত্যা ঘটনায় গ্রেপ্তার নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন আরেক দফা বাণিজ্যের পথ খুলেছে পুলিশ। এ প্রসঙ্গে তারা বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আলী হায়দারের শ্যালক রুহুল আমীন, মুহিতের তালতো ভাই ইসমাইল হোসেন আবলুস এবং ঘটনার দুই প্রত্যক্ষদর্শী ফিরোজ আলী ও আজমত আলী রাজন হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোন ভাবেই সম্পৃক্ত নন। এদের কেউ হত্যা ঘটনা দেখেছেন কিন্তু পুলিশকে জানাননি বা আসামিদের আত্মীয় বলেই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। তারা বলছেন, নির্যাতন ঘটনা প্রত্যক্ষ করলেও কামরুল-মুহিতের ভয়ে কেউই প্রতিবাদী হতে সাহস করেননি। আবার এত সকালে কারো সঙ্গে ছিলো না মোবাইল-জানেন না থানার নাম্বারও। এ প্রসঙ্গে তারা তথ্য দেন, কামরুল-মুহিতের বাবা আব্দুল মানিকের বসতভিটা ছিলো টুকের বাজার ইউনিয়নের হায়দরপুর গ্রামে। তার ছেলে আলী-কামরুল-মুহিতের অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে উঠে মানুষ। ২০০০ সালে তারই এক মামাতো ভাইকে ব্যাপক নির্যাতন করলে এলাকাবাসী তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়। আশ্রয়হীন মানিকের পরিবার চলে আসে শ্বশুরবাড়ি পার্শ্ববর্তী গ্রাম শেখপাড়ায়। আশ্রয় দিতে না চাইলে আলী-কামরুল-মুহিত মায়ের ফরায়েজ দাবি করে সেখানেই জোর করে ঘর বানিয়ে ফেলে। সেই থেকে তাদের ঠিকানা হয় শেখপাড়ায়। আলী হায়দার চলাফেরা করতে থাকে ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে। এলাকায় কোন ঘটনা ঘটলে গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে আলীও থানা পুলিশের সঙ্গে সমঝোতায় অংশ নিতো। এভাবেই পুলিশের সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠে আলী হায়দারের। আলী হায়দার এখন টুকের বাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দাপুটে নেতা। তাই ভয়ে কেউ প্রতিবাদী হয়নি বা পুলিশকে জানানোর সাহস করেনি। ঘটনা প্রকাশের পর এসব মানুষইতো আসামিদের ধরিয়ে দিচ্ছে।
শিশু সামিউল আলম রাজনকে নির্মম নির্যাতনে হত্যার পর এলাকাবাসী কামরুল ইসলাম ও মুহিতুল আলমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছিলো। অভিযোগ ওঠে জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন ও এস আই আমিনুল ইসলাম ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে হত্যা ঘটনা ধামাচাপা দিতে উদ্যোগী হন। ৬ লাখ টাকা হাতে পেয়ে কামরুলকে সৌদি আরব পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। দুইটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা বিক্রি করে তৎক্ষণাত কামরুল ও মুহিত ৬ লাখ টাকা জালালাবাদ থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে যোগান দিয়েছিলো। কথা ছিলো আরও ৬ লাখ টাকা পেলে মুহিতকেও ছেড়ে দেয়ার। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নির্যাতনের ভিডিও চিত্র প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় সব উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
৮ই জুলাই সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে গাড়িচালক শেখ মোহাম্মদ আজিজুর রহমান আলমের ছেলে সামিউল আলম রাজনকে কুমারগাঁও এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে ভ্যান চুরির মিথ্যা অপবাদে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের এ চিত্র মোবাইলে ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। একপর্যায়ে রাজন মারা গেলে তার লাশ একটি মাইক্রোবাসে তুলে গুম করার চেষ্টাকালে জনতা শেখপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মালিকের ছেলে কামরুল ইসলাম ও মুহিত আলমকে আটক করে জালালাবাদ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে ঐ থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সহায়তায় কামরুল সৌদি আরবে পালিয়ে যাওয়ার পর সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশীদের হাতে আটক হয়। সামিউল আলম রাজন সিলেট নগরীর কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের পাশে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদে আলী গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করা রাজন সবজি বিক্রি করতো।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইংল্যান্ডের দর্প চূর্ণ
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস ৫৬৬/৮ ডিক্লেয়ার (রজার্স ১৭৩, স্মিথ ২১৫, নেভিল ৪৫০। ব্রড ৪/৮৩, রুট ২/৫৫)। ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস ৩১২ (কুক ৯৬, স্টোকস ৮৭, মঈন ৩৯। জনসন ৩/৫৩, হ্যাজল উড ৩/৬৮)। অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস ২৫৪/২ ডিক্লেয়ার (রজার্স ৪৯, ওয়ার্নার ৮৩, স্মিথ ৫৮, ক্লার্ক ৩২*, মিচেল মার্শ ২৭*। মঈন ২/৭৮)। ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস ১০৩ (ব্যালান্স ১৪, রুট ১৭, ব্রড ২৫। জনসন ৩/২৩, হ্যাজলউড ২/২০, লায়ন ২/২৭)। ফল : অস্ট্রেলিয়া ৪০৫ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : স্টিভেন স্মিথ (অস্ট্রেলিয়া)। এএফপি/ওয়েবসাইট।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নাঈম-স্পর্শিয়ার ত্রিকোণোমিতি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুর্নীতির দায়ে শিক্ষামন্ত্রীর এপিএসকে অব্যাহতি
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস-এর নানা দুর্নীতির তথ্য এরই মধ্যে জেনেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গেল মেয়াদের পাঁচ বছর ও এ মেয়াদের দেড় বছর কোন কোন খাত থেকে কিভাবে দুর্নীতি হয়েছে ওই বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈর সরকারি চাকরিতে যোগদান ও বর্তমান বিত্তবৈভব সম্পর্কেও তালাশ করা হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এপিএস-এর অবৈধ আয়ের প্রধান উৎস ছিল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) ও পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। এই দুই দপ্তরে হাতেগোনা দু’চারজন বাদে প্রায় সবাই এপিএসপন্থি এবং ক্যাশ সরকার হিসেবে পরিচিত। এপিএস’র ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত ইইডি ও ডিআইএ’র ৬জন কর্মকর্তা। পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সচিবসহ সকল সদস্যই এপিএস সিন্ডিকেটের সদস্য ও ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত। ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শ্রীকান্ত কুমার চন্দ্র ও সচিব শাহেদুল খবীর, উপ-কলেজ পরিদর্শক অদ্বৈত কুমার তার সবচেয়ে কাছের লোক। মাদ্রাসা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা নিয়মিত বাজার করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বাসায়। তাকে দু’বার অবৈধ পদোন্নতি দেয়া হলেও একবার তা বাতিল করেছেন বর্তমান শিক্ষাসচিব।
রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের কোন ফাইলই রাজনৈতিক বিবেচনায় নিযুক্ত এপিএস’র টেবিলে যাওয়ার কথা নয়। তবে বাস্তবতা ছিল যাবতীয় বদলিভিত্তিক পদায়ন, পদোন্নতি, সরাসরি নিয়োগ, এমপিও, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, বিদেশ ভ্রমণের তালিকা, ভর্তি, কমিটি অনুমোদন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবল নিয়োগ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনের ফাইল প্রক্রিয়াকরণ, টেন্ডারসহ গুরুত্বপূর্ণ সবকিছুতেই নজর ছিল বিতর্কিত এপিএস’র। এই সুযোগে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের ফাইল গায়েব, কখনও ফেরত পাঠাতেন তিনি। এসব কারণে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব এপিএস’র এসব কর্মকাণ্ড কখনই পছন্দ করেননি। সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন আহমেদ এপিএসকে উপাধি দিয়েছেন বাড়ৈ বা ‘ইনফেমাস বাড়ৈ’ নামে। এপিএস’র অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিপক্ষে সচিবের অবস্থান নিয়ে ২০১২ ও ২০১৩ সালে সংবাদমাধ্যমগুলোতে তার বিরুদ্ধে নানা প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
এর আগে ২০১২ ও ২০১৩ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ নানা অভিযোগ করেন সরকার সমর্থিত বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত হলেও রহস্যজনক কারণে তার কার্যক্রম হয়নি। শুধু এটি নয়, তার বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতি, অনিয়মের বদলি বাণিজ্যে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে কমিশনসহ অভিযোগের পাহাড়। তিনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন ২০১৪ সালে। বর্তমান সরকারের গত মেয়াদের শেষ সময়ে ৫ বছরের জন্য ছুটির আবেদন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে একটি কোম্পানিতে চাকরি করবেন উল্লেখ করা ছুটির আবেদনপত্রের ৩ বছরের জন্য অনুমোদন দেন শিক্ষামন্ত্রী। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নজরে এলে তাৎক্ষণিক তার ছুটি বাতিল করা হয়। তখন তাকে ঢাকা বোর্ডে পদায়ন করা হলেও বসতেন মন্ত্রীর দপ্তরে। এরপর ৫ মাসের মাথায় বর্তমান সরকার ফের ক্ষমতায় আসীন হলে ৭ই মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে পুনরায় এপিএস হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এর আগে ২০০৮ সালে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। এরপর তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, বদলি বাণিজ্য, শিক্ষাভবন, সারা দেশের বোর্ড, নায়েম, ইইডিসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। নিতে থাকেন একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ। গড়ে তোলেন কমিশন বাণিজ্য। তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের সায় দেয়া। কখনও তাদের ফাইল গায়েব, কখনও ফেরত পাঠানো। এসব অভিযোগের কারণে পুরো সাড়ে ৬ বছর শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন তিনি।
শুধু এখানেই নয়, তার বিরুদ্ধে রয়েছে এখতিয়ারের বাইরে প্রকল্পের গাড়ি দখল থেকে শুরু করে নানা ধরনের অন্যায়ে জড়িয়ে পড়াসহ একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলে শিক্ষাখাতে। তারই অনুসারী হিসেবে কর্মকর্তারা শিক্ষাভবনসহ ঢাকার শিক্ষাসম্পর্কিত বিভিন্ন দপ্তরে পদায়ন পান এবং ওইসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। একটি ঘটনায় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সরকার সমর্থিত এক শিক্ষক সমিতির এক নেতা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সিন্ডিকেটের ব্যাপারে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি। পরে ওই নেতা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে তখন অভিযোগ তদন্ত করতে বলা হয়। শুধু তাই নয়, ওই ঘটনা নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা উপদেষ্টা ড. আলাউদ্দিনের মধ্যে দূরত্বও সৃষ্টি হয়। এপিএস’র ইন্ধনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও বর্তমান সচিব নজরুল ইসলাম খানের মধ্যে এক ধরনের শীতল সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। বাধ্য হয়ে শিক্ষামন্ত্রী সচিবকে বদলানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ওই পদে নিয়োগ পেয়ে বিপুল পরিমাণ টাকার মালিক হয়েছেন শিক্ষামন্ত্রীর বিতর্কিত এই এপিএস। তার নেতৃত্বেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সব দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সেই টাকার ভাগ চলে যায় তার পকেটে।
২০১৩ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিজের কন্যার ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্ত শেষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানো হলে তা ফেরত পাঠানো হয়। শিক্ষা প্রকৗশল অধিদপ্তরের রয়েছে এপিএস’র একচেটিয়া আধিপত্য।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এপিএস’র সিন্ডিকেটের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- ঢাকা বোর্ডের উপ-কলেজ পরিদর্শক অদ্বৈত কুমার রায়, মইনুল হক, শফিকুল ইসলাম সিদ্দিকী, জসিমউদ্দিন, ডিআইএর মফিজুল ইসলাম, ঢাকা বোর্ডের সচিব শাহেদুল খবির, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শ্রীকান্ত কুমার চন্দ প্রমুখ। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এবং শিক্ষা ক্যাডারের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এভাবে সিন্ডিকেট করে শিক্ষা প্রশাসন পরিচালনার কারণে অনেকটা সমালোচিত মন্ত্রীর এপিএস। যার সর্বশেষ পরিণতি দেরিতে হলেও অব্যাহতি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাধা না মানা ঈদ আনন্দ
যানবাহন পেলে ফাঁকা ও যানজটমুক্ত রাজপথ পেরিয়ে অল্প সময়েই বিনোদনকেন্দ্রে পৌঁছেছেন মানুষ। তবে গণপরিবহন কম থাকায় চলাচলে সমস্যায় পড়েছেন অনেকেই। সময়মতো যানবাহন না পেয়ে বৃষ্টিতে ভিজলেও তাতে আনন্দের রেশ কাটেনি।
চিড়িয়াখানায় জিরাফের অপেক্ষায়: লম্বা গলার জিরাফ মানুষের আগ্রহ বোঝে না, তাই রোববার দুপুরে বেশ খানিকটা সময় দেয়ালঘেরা ঘরের বাইরে বের হয়নি। ওদিকে জিরাফ দেখতে তখন বৃষ্টির মধ্যেই বেষ্টনীর বাইরে কয়েক শ নারী, পুরুষ, শিশুর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা। একসময় অবসান হয় দর্শনার্থীদের অপেক্ষার। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে বড় জিরাফটি। উল্লাসে মেতে ওঠে সবাই, সঙ্গে চিৎকার আর করতালির আওয়াজ।
এ দৃশ্য মিরপুরের চিড়িয়াখানার। সেদিন এমন দৃশ্য দেখা যায় আরও কয়েকটি প্রাণীর খাঁচার বেষ্টনীর বাইরে।
ঈদে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত কিংবা উচ্চ মধ্যবিত্তের বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র ছিল এই চিড়িয়াখানা। শিশুরা মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে নানা প্রাণী দেখেছে, উপভোগ করেছে। কিন্তু ঈদের দিন তুমুল বৃষ্টি এই আনন্দ অনেকটা ম্লান করে দেয়। আর চিড়িয়াখানার ভেতর কোনো ছাউনি না থাকায় প্রায় সব দর্শনার্থীকেই কাকভেজা হতে হয়েছে।
পুরান ঢাকার দক্ষিণ মৈশুন্ডী থেকে যমজ সহোদর শিশু হাসান ও হোসেন চিড়িয়াখানায় এসেছিল ঈদের পরদিন। বড়দের সঙ্গে দুই ভাই এখাঁচা থেকে ওখাঁচা ঘুরে ঘুরে দেখেছে। দুজনই বৃষ্টিতে ভিজে একাকার। হোসেন বলল, ঈদের সালামি হিসেবে বড় ভাইয়ের কাছে আবদার করেছিল চিড়িয়াখানায় আসবে।
ওয়ারী থেকে তিন বছরের এষা ও সাত বছরের মালিহা এসেছে চাচার সঙ্গে। মালিহার চাচা ইউসুফ আলী বলেন, ‘ঈদের সময় বেড়াতে আসার নানা ঝক্কি। অটোরিকশা দ্বিগুণ ভাড়া নিয়েছে। এখানে এসে বৃষ্টিতে ভিজছি। তবু বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়ে এসেছি। বাচ্চাদের আনন্দ দেখে ভালো লাগছে।’
ছোটদের-বড়দের শিশুপার্ক: বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীবাগ থেকে শাহবাগের শিশুপার্কে এসেছিল শিশু মারিয়াম মনোয়ার। রোববার সারা বিকেল বৃষ্টি মাথায় নিয়ে শিশুপার্কে কাটিয়েছে সে। চড়েছে বিভিন্ন রাইডে। তার বাবা মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মেয়ের কান্না সামলাতেই ওর মাকে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে চলে এসেছি।’
ঈদের দিন এবং এর পরদিনের মতো গতকালও শিশুপার্কের প্রতিটি রাইডের সামনে সাধারণ দিনের তুলনায় বেশি ভিড় দেখা গেছে। ঈদ উপলক্ষে নতুন করে সাজানো হয় পার্কের চারপাশ। রং নষ্ট হয়ে যাওয়া রাইডগুলোতে নতুন করে রং লাগানো হয়। কিন্তু সাজসজ্জা তেমন কাজে আসেনি, বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে। পার্কের পরিবেশ পরিষ্কার করা হলেও বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় পার্কের প্রবেশমুখে ঢুকতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
শিশুদের সঙ্গে এসেছিলেন বড়রা। বড়দের সংখ্যাও কম ছিল না। বলতে গেলে শিশুপার্কে বড়দের সংখ্যা ছিল শিশুদের সংখ্যার কাছাকাছি।
শিশুপার্কের উল্টো দিকে রাস্তার ওপারে রমনা পার্কেও দেখা যায় ভিড়। কেউ সবান্ধব এসেছেন, কেউ এসেছেন সপরিবারে। বৃষ্টির সময় রমনা পার্কের ছাউনিগুলোতে তিলধারণের ঠাঁই ছিল না। বড় গাছগুলোই বৃষ্টিতে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও ঘুরতে গেছেন অনেকে।
শ্যামলীর শিশুমেলাতেও ছিল আনন্দপ্রিয় শিশু, কিশোর ও তাদের অভিভাবকদের ভিড়।
পুরান ঢাকার বিনোদন-কেন্দ্রগুলো: পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লার পাশাপাশি বলধা গার্ডেন, আহসান মঞ্জিলসহ বেড়ানোর জায়গাগুলোতে সপরিবারে এসেছিলেন অনেকে। ঈদের দিন দুপুরে বলধা গার্ডেনের সামনে দেখা গেল শাহিন-লিপি দম্পতিকে। শাহিন দাঁড়িয়ে ছিলেন টিকিট কাউন্টারের সামনে। বললেন, ‘বাসা থেকে অনেক দূরে হওয়ায় বলধা গার্ডেনে তেমন একটা আসা হয় না। ঈদ উপলক্ষে স্ত্রীকে নিয়ে এলাম।’
চকবাজার, লক্ষ্মীবাজার, সুরিটোলা, আরমানিটোলা, ইংলিশ রোড, ধূপখোলা মাঠ, নয়াবাজারসহ বেশ কিছু এলাকায় স্থানীয়ভাবে মেলার আয়োজন করা হয়। ঈদের দিন থেকে শুরু হওয়া এই মেলাগুলোতে ঘুরে দেখা যায় শিশু-কিশোরদের সরব উপস্থিতি। ছিল বড়রাও।
ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্ক এবং অন্যান্য: রাজধানীর পাশে থিম পার্ক বলে খ্যাত বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও ছিল উল্লেখ করার মতো ভিড়। ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্কের মতো আধুনিক এই বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে বৃষ্টি কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ঈদের দিন দুপুরের পর থেকে ঢল নেমেছিল এসব কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের। মধ্যরাত পর্যন্ত হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণে মুখর ছিল এসব কেন্দ্র। ঈদ উপলক্ষে এসব কেন্দ্রে প্রতিদিন থাকছে কনসার্ট, ড্যান্স শো, ডিজে শো, সেলফি জোন, মেহেদি কর্নারসহ অনেক কিছু। ঈদের দিন এসব আয়োজনে অংশ নিয়েছে অনেকেই।
ভিআইপি সড়কে রিকশাবিলাস, সেলফি: ঈদের দিন থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত রাজধানীর বেশির ভাগ প্রধান সড়ক ছিল যানজটমুক্ত। প্রায় ফাঁকা। ঈদের ছুটিতে প্রায় ফাঁকা ভিআইপি সড়কে রিকশা চলতেও ছিল না কোনো বাধা। বৃষ্টির মধ্যে রিকশায় করে ঘুরে বেড়িয়েছেন অনেকে। এই রিকশাবিলাসে কেউ কেউ বৃষ্টি থেকে বাঁচতে রিকশার হুড ফেলেছেন, কেউবা হুড খোলা রেখে বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দ উপভোগ করেছেন।
অনেকে আনন্দকে ধরে রাখতে মেতে ছিলেন মোবাইল ফোনে সেলফি তোলায়। নগরের বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে দেখা গেছে দল বেঁধে সেলফি তোলার দৃশ্য।
অবশ্য ঘুরে বেড়িয়ে আনন্দ পাওয়া মানুষের আনন্দে কিছুটা বাদ সেধেছে যানবাহনের ভাড়া। উৎসবকে উপলক্ষ করে রিকশা, অটোরিকশা, মিশুকের ভাড়া গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত। বাসেও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
![]() |
| ঈদের আগের দিন থেকেই রাজধানীতে শুরু হয়েছিল বৃষ্টি। গতকালও ছিল। এর মধ্যেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে গিয়েছিল মানুষ। ঈদের পরদিন গত রোববার ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে তোলা ছবি l প্রথম আলো |
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাংসদের ভাই ও পৌর মেয়র মুক্তি ফিরে আসায় উত্তপ্ত টাঙ্গাইল
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামে দুই আসামিকে গত বছরের আগস্টে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাংসদ আমানুর ও তাঁর তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সহিদুর রহমান খান, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান (কাকন) ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান (বাপ্পা) জড়িত বলে উল্লেখ করেন। এরপর থেকে আমানুর ও তাঁর ভাইয়েরা আত্মগোপন করেন।
১২ জুলাই আমানুর ও সহিদুর হাইকোর্টে হাজির হয়ে ফারুক হত্যা মামলায় জামিনের আবেদন করেন। হাইকোর্ট ১৪ জুলাই আমানুর ও সহিদুরকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। এ সময়ের মধ্যে তাঁদের গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতেও পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মেয়র সহিদুর তাঁর কলেজপাড়া এলাকার বাসভবনে ফিরে আসেন। পরদিন শুক্রবার সকালে তাঁর অনুসারী শতাধিক নেতা-কর্মী বাসভবনে সমবেত হন। তাঁকে দলীয় কার্যালয়ে অভ্যর্থনা জানাতে শহর আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী সেখানে অবস্থান নেন।
এদিকে সহিদুর টাঙ্গাইলে ফিরে আসার খবরে ফারুক আহমেদ হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁরা মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অবস্থানকারী মেয়র অনুসারীদের ওপর হামলা করেন। এতে টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ খানসহ পাঁচ-ছয়জন আহত হন। ঘটনার দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে সময় টেলিভিশনের চিত্রগ্রাহক রাশেদ খান হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা তাঁর ক্যামেরা ভাঙচুর করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে র্যা ব পৌঁছে নুরুজ্জামান ও মহসিনকে গ্রেপ্তার করে। হামলাকারীরা মিছিল নিয়ে মেয়রের বাসভবন ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তাঁরা মেয়রের বাসা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে মারেন। মেয়রের বাসায় অবস্থানরত তাঁর অনুসারীরা পাল্টা ঢিল ছোড়েন। পরে পুলিশ ও র্যা ব এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর পুলিশ মেয়রের বাসভবনে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে টাঙ্গাইল শহর যুবদলের সভাপতি মোমিনুর রহমানসহ ২৭ জনকে আটক করা হয়। পরে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে রাতে অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মেয়র-সমর্থকদের অভিযুক্ত করে জেলা তাঁতী লীগের আহ্বায়ক সোলায়মান হাসান টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেছেন। অপর দিকে মেয়রের স্ত্রী ফারজানা খান ঝুমা বাদী হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগ অফিসে হামলার ঘটনায় র্যা বের উপসহকারী পরিচালক বজলুর রশীদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সুখন খানসহ দশজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার মেয়র পৌরসভায় যোগদান করতে পারেন—এই খবরে সকাল থেকে নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদের নেতৃত্বে ‘নির্যাতিত আওয়ামী সমর্থক পরিবার’-এর ব্যানারে ফারুক হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা পৌর ভবনের পাশে শহীদ মিনারে অবস্থান নেন। সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জোয়াহেরুল ইসলাম, শামসুজ্জামান পাশা, সোলায়মান হাসান, মাহমুদুল হাসান, আবদুর রউফ, সাইফুজ্জামান খান, তানভীর হাসান প্রমুখ বক্তব্য দেন। পরে তাঁরা সাংসদ আমানুর ও তাঁর ভাইদের বিচারের দাবিতে মিছিল করেন।
মেয়র সহিদুর গতকাল সোমবার পৌরসভায় না এলেও বাসা থেকে তিনি যোগদানপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে পৌরসভা সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁর কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
July
(1347)
-
▼
Jul 22
(20)
- দুর্ঘটনায় জীবনের এ অপচয় মানা যায় নাঃ ঈদ আনন্দে মৃত...
- আশরাফ ও আতরাফ by মাহবুব তালুকদার
- খালাস পেলেন মেয়র নাছির, সাংসদ নিজাম হাজারী
- কী পেলাম, কী পেলাম না, তা বড় করে দেখলে চলবে না -স...
- জবাব দিতে সময় পেলেন জাফরুল্লাহ
- আশরাফ পারবেন? রাজনীতিমুক্ত প্রশাসন বড় চ্যালেঞ্জ by...
- নারায়ণগঞ্জে সাত খুনঃ বাদীর নারাজি নামঞ্জুর আদেশের...
- সরকারি কর্মচারীদের দায়মুক্তি: মন্ত্রিসভায় পাস হওয়া...
- দল পুনর্গঠনের পর আন্দোলন- খালেদা
- কারাগারে হবিগঞ্জ পৌর মেয়রের ওপর হামলা
- কামরুলকে ফেরত আনতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ
- ঢাকায় ফিরছে মানুষ, স্টেশনে ভিড়
- চমকের নাম মুস্তাফিজ
- ছেলেটি আবোল তাবোল মেয়েটি পাগল পাগল
- অপেক্ষা কললিস্টের by চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
- ইংল্যান্ডের দর্প চূর্ণ
- নাঈম-স্পর্শিয়ার ত্রিকোণোমিতি
- দুর্নীতির দায়ে শিক্ষামন্ত্রীর এপিএসকে অব্যাহতি
- বাধা না মানা ঈদ আনন্দ
- সাংসদের ভাই ও পৌর মেয়র মুক্তি ফিরে আসায় উত্তপ্ত ট...
-
▼
Jul 22
(20)
-
▼
July
(1347)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...















