Friday, December 7, 2018

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে ইউরোপের সমর্থন চায় আমেরিকা: তেহরানের প্রতিক্রিয়া

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আবারো তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে আমেরিকা। এমনকি এ ইস্যুতে ইউরোপের কয়েকটি দেশও আমেরিকার সঙ্গে সুর মিলিয়ে কথা বলছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ তার দেশের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ব্যাপারে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বিশেষ বৈঠকের ব্যাপারে পাশ্চাত্যের কয়েকটি দেশের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি এক টুইট বার্তায় বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদকে অপব্যবহার করে আমেরিকা আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে পারবে না। আমেরিকা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে বেআইনি অভিহিত করলেও ইরানের এ কর্মসূচি নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের লঙ্ঘন নয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা এমন সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের লঙ্ঘন বলে দাবি করছেন যখন ওই প্রস্তাবে ইরানকে কেবল পরমাণুবাহী ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাতে নিষেধ করা হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং এতে পরমাণু ওয়ারহেড স্থাপনের কোনো চিন্তা ইরানের নেই।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আমেরিকা ও ইউরোপ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে অতি স্পর্শকাতরতা দেখাচ্ছে অথচ তারা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও প্রকৃত হুমকি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন রয়েছে। ইরান যদি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে তাহলে তাদের এটা জেনে রাখা উচিত শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয় ইউরোপ এমনকি আমেরিকার শহরগুলোও নিরাপদ থাকতে পারবে না। আমেরিকা, সৌদি আরব ও ইসরাইল এবং ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে বিশ্বের অন্যত্র নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে।
আমেরিকা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে হুমকি বলে তুলে ধরে ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। দেশটি জানিয়েছে ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা হলেও ইউরোপে ন্যাটোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন থাকবে তাতে পরমাণু সমঝোতার অস্তিত্ব থাকুক বা না থাকুক। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এক নিবন্ধে লিখেছেন, আমেরিকার এ ধরণের আচরণ বেআইনি এবং ইরানকে তারা কেবল অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে। রুশ উপপ্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রুগোজিন বলেছেন, ইরানকে অজুহাত করে আমেরিকা ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে।
যাইহোক, পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আমেরিকা দুটি লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে। প্রথমত, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে কার্যকর পন্থা বলে প্রমাণের চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রশাসন। আর এ ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য প্রয়োজন ইউরোপের সমর্থন। যদিও ইউরোপের সমর্থন তারা এখনো পায়নি। দ্বিতীয়ত, আমেরিকা ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

পাকিস্তান কি আসলেই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে চায়?

পাকিস্তান ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে যে খবর বেরিয়েছে ইসলামাবাদ তাকে গুজব অভিহিত করে বলেছে এ ধরণের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ ফয়সাল এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি ইসরাইল ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার খবরকে ভিত্তিহীন আখ্যায়িত করে বলেছেন, এ ধরণের মিথ্যা খবর যারা ছড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যদিও এ ধরণের খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কিন্তু দেশটির জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন দল তেহরিকে ইনসাফ পার্টির প্রতিনিধি আসমা হাদিদ সম্প্রতি সংসদে দেয়া বক্তৃতায় দখলদার ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার এ বক্তব্য পাকিস্তানে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে এবং ইসরাইল-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। পিটিআই দলের সংসদ সদস্য হিসেবে আসমা হাদিদের এ বক্তব্যকে পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় সংগঠন ও ব্যক্তিত্ব একে পিটিআই দলের নীতি হিসেবেই ধরে নিয়েছেন। ইসরাইলের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের গুঞ্জন নিয়ে দেশটির জনমনেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে।
তেহরিকে ইনসাফ পার্টির প্রতিনিধি আসমা হাদিদ
পাকিস্তানের ধর্মীয় নেতারা বলছেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে পিটিআই দলের সংসদ সদস্যের এ বক্তব্য পবিত্র কুরআন ও হাদিসের শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এ কারণে দেশটির ধর্মীয় সংগঠনগুলো এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার বা লক্ষ্য অর্জনের কোনো সুযোগ ইসরাইলকে দেয়া হবে না। পাকিস্তানের শিয়া ও সুন্নি ধর্মীয় নেতারাও সম্প্রতি লেবাননে অনুষ্ঠিত  ওলামা পরিষদের বৈঠকে বলেছেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার যে কোনো উদ্যোগ ইসলাম, মুসলিম উম্মাহ ও মানবতার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
পাকিস্তানের মোত্তাহিদা মজলিশে আমাল দলের উপপ্রধান মাওলানা আব্দুল গাফুর হায়দারি, আহলে হাদিস ওলামা পরিষদের নেতা আল্লামা ইবতেসাম এলাহি জাহির, আল্লামা কাজি আব্দুল কাদিরসহ আরো অন্যান্য ধর্মীয় নেতারা ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে পিটিআই নেতা আসমা হাদিদের বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেতৃত্বে পাকিস্তান সরকারের নীতির সমালোচনা থেকে বোঝা যায়, সৌদি আরবের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও দেশটির কাছ থেকে এক হাজার ২০০ কোটি ডলার সাহায্য নেয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন মহলে সৃষ্ট উদ্বেগ ও সন্দেহ অমূলক ছিল না। অনেকে আশঙ্কা করছেন ইসরাইল ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য সৌদি আরব মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করতে পারে। আর এ কারণেই হয়তো সৌদি আরব পাকিস্তানকে বিপুল অংকের সাহায্য দিয়েছে।
মাওলানা আব্দুল গাফুর হায়দারি
সম্প্রতি ইসলামাবাদের বিমানবন্দরে দখলদার ইসরাইলের একটি সন্দেহজনক বিমান অবতরণ করে এবং এরপর বিমানটি পাকিস্তান ত্যাগ করে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ওই বিমানটির আগমন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও পাক প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি ইসরাইলি বিমানের পাকিস্তানে অবতরণের খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কিন্তু ক্ষমতাসীন পিটিআই দলের প্রতিনিধির পক্ষ থেকে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার দাবি জানানো থেকে বোঝা যায়, চেপে রাখার চেষ্টা করা হলেও এ সংক্রান্ত খবরাখবর ধীরে ধীরে ফাঁস হচ্ছে।
মোত্তাহিদা মজলিশে আমাল দলের উপপ্রধান মাওলানা আব্দুল গাফুর হায়দারি বলেছেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য পিটিআই দলের সংসদ সদস্য আসমা হাদিদের ‌আহ্বান খুবই সাধারণ বা ছোটখাটো ঘটনা বরং পর্দার আড়ালে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার বিষয়টি হয়তো আরো অনেক দূর এগিয়ে গেছে যা এখন আর গোপন নয়।
যাইহোক, সংসদে দাঁড়িয়ে পিটিআই দলের সদস্যের এ বক্তব্যের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে ব্যাপক প্রতিবাদ ও সমালোচনার ঘটনা থেকে বোঝা যায়, বিষয়টি কেবল আহ্বান কিংবা গুজবের পর্যায়ে নেই। এ অবস্থায় ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে আসমা হাদিদের বক্তব্যের ব্যাপারে ক্ষমতাসীন পিটিআই দলের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে বলে দেশটির  জনগণ ও ধর্মীয় নেতারা আশা করছেন।

বাবরী মসজিদ ধ্বংসের বার্ষিকীতে মিছিল-সমাবেশে উত্তাল কোলকাতা

ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ ধ্বংসের বার্ষিকীতে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতায় মহামিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। মুসলিম ও তপশিলি-দলিত-আদিবাসীদের সংগঠন যৌথভাবে ‘সংবিধান বাঁচাও সমিতি’র ব্যানারে সংবিধান প্রণেতা ড. বি. আর. আম্বেদকরের মৃত্যুদিবস ও বাবরী মসজিদ ধ্বংসের প্রতিবাদে ওই কর্মসূচি পালিত হয়।
কোলকাতার ওই মহামিছিল ও সমাবেশ থেকে হাজার হাজার প্রতিবাদী জনতা ‘মোদি হটাও, দেশ বাঁচাও’ বলে স্লোগানে দেন।
সমাবেশে সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান তাঁর ভাষণে বলেন, ‘ধর্ম পালনের অধিকার, মসজিদে নামাজ পড়ার অধিকার আমার দেশে দেয়া হয়েছে, সেই অধিকারকে নরেন্দ্র মোদি সরকার কোনোভাবেই খর্ব করতে পারে না। কিন্তু বিজেপি বাবরী মসজিদ ভেঙে শহীদ করার মধ্যদিয়ে সেই অধিকারকে খর্ব করেছে। আজ বাবরী মসজিদের জায়গায় তারা রাম মন্দির তৈরি করতে চায়। কিন্তু বাবরী মসজিদের জায়গায় বাবরী মসজিদ নির্মাণ হওয়াটাই স্বাভাবিক ও সঙ্গত দাবি। এই দাবি আমরা বিগত ২৬ বছর ধরে জানিয়ে এসেছি।’
‘উদার আকাশ’ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ তাঁর ভাষণে দেশের বিভেদকামী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোসহ বিজেপি সরকারকে 'দু’হাজার উনিশ সালে ফিনিশ' করতে উপস্থিত জনতার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার উপরে বিশেষ গুরুত্ব দেন।
ফারুক আহমেদ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার সাংবিধানিক অধিকারকে খর্ব করছে এজন্য আগামী নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সরকারের পতন সুনিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই বলেও মন্তব্য করেন।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি মুহাম্মদ নুরুদ্দিন, রেলওয়ে কর্মী সমীর দাসসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রকাশ্য দিবালোকে ‘করসেবক’ নামধারী উগ্রহিন্দুত্ববাদী ধর্মান্ধরা কয়েকশ’ বছরের পুরোনো বাবরী মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল।
সমাবেশে বক্তৃতা করছেন মুহাম্মদ কামরুজ্জামান

হ্যানয় শহরের রেলপথ হয়ে উঠেছে ছবি তোলার স্পট! by নাদিয়া নাহরিন

ঔপনিবেশিক যুগের রেলপথের সুবাদে হ্যানয়ের ওল্ড কোয়ার্টার পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ
বেড়াতে গেলে সেলফি বা ছবি তুলতে এখন ভুল হয় না কারও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কেন্দ্রিক কিছু গন্তব্য তাই পর্যটকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। এ তালিকায় ওপরের দিকে রয়েছে ভিয়েতনামের হ্যানয় শহর। সেখানে রয়েছে আধুনিকতা ও পুরনোর সম্মিলন। ফলে দৃশ্যপট হিসেবে এই জায়গা দারুণ।
হ্যানয়ে পর্যটকদের মধ্যে ছবি তোলার জনপ্রিয় স্পট হলো ওল্ড কোয়ার্টার। এমন সেলফিবান্ধব জায়গা খুব কমই আছে দুনিয়ায়। সেখানে গেলে মন কাড়বে ফরাসি ঔপনিবেশিক যুগের রেলপথ। এর সুবাদে হ্যানয়ের ওল্ড কোয়ার্টার পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। এ কারণে সেলফি বা ছবি তোলার সময় ফুটপাত দখল হয়ে যায়। স্থানীয়রা এ নিয়ে কিছুটা বিরক্ত।
ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের কাছে এই রেলপথ হয়ে উঠেছে হ্যানয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থানগুলোর অন্যতম
ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের কাছে এই রেলপথ হয়ে উঠেছে হ্যানয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থানগুলোর অন্যতম
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সেখানে প্রায় সারাদিনই রেলগাড়ি চলাচল করে। এ কারণে রেলপথে দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা হাঁটার সময় একটু অসাবধানতার কারণে পর্যটক ও এলাকাবাসীর জীবনের ঝুঁকির আশঙ্কা রয়ে যায়। তাই স্থানীয়দের মধ্যে যারা ট্রেনের সময়সূচি জানেন, তাদের অনেকে মন থেকেই দর্শনার্থীদের গাইড করে থাকেন। অবশ্য ছবি তোলার মোক্ষম সময়ের জন্য পর্যটকদের অপেক্ষা করতে হয় বেশ।
প্রতি সপ্তাহে ইনস্টাগ্রামে আপলোড হয় এই রেলপথে তোলা অসংখ্য ছবি
প্রতি সপ্তাহে ইনস্টাগ্রামে আপলোড হয় এই রেলপথে তোলা অসংখ্য ছবি
ঔপনিবেশিক যুগের রেলপথে যাওয়া প্রসঙ্গে সিএনএন ট্রাভেলকে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী ক্রিস্টাবেল বলেন, ‘আমরা ছবি তুলতে গিয়েছিলাম দিনের একেবারে শুরুতে। সেই সময়ে ওল্ড কোয়ার্টারে ছিল নীরবতা।’ বোঝা যাচ্ছে, কোনোরকম ভিড়ভাট্টা ছাড়াই মনের মতো ছবি তুলতে পেরেছিলেন ক্রিস্টাবেল। গত ২৯ অক্টোবর এই নারী বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন। তার মতে, ‘স্থানীয়রা অনেক বন্ধুভাবাপন্ন। তারাই আমাদের ট্রেন আসা-যাওয়ার সূচি বলে দিয়েছিলেন।’
ছবি তোলার জন্য রেলপথে নাচ, লাফ, চুম্বনসহ অনেক কিছুতে মেতে ওঠেন দর্শনার্থীরা
ছবি তোলার জন্য রেলপথে নাচ, লাফ, চুম্বনসহ অনেক কিছুতে মেতে ওঠেন দর্শনার্থীরা
ক্রিস্টাবেলের মতো হাজারও মানুষ হ্যানয়ের রেলপথে তোলা ছবি শেয়ার করেছেন ইনস্টাগ্রামে। এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের কাছে ওল্ড কোয়ার্টার হয়ে উঠেছে হ্যানয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থানগুলোর অন্যতম। কেউ কেউ তো এককাঠি অতিরিক্ত সরেস! ইনস্টাগ্রামে দেওয়ার মতো পুরোপুরি নিখুঁত ছবি তোলার জন্য পেশাদার আলোকচিত্রী ভাড়া করে নিয়ে গেছেন তারা। নতুন একটি কথাও প্রচলিত হয়ে গেছে এর মধ্যে। পর্যটকদের ভাষায় তা হলো ‘ডু ইট ফর গ্রাম’। অর্থাৎ ইনস্টাগ্রামে শেয়ার দেওয়ার জন্য ছবি তোলো!
স্থানীয়রাই ট্রেন আসার সময়সূচি জানিয়ে দেন পর্যটকদের
স্থানীয়রাই ট্রেন আসার সময়সূচি জানিয়ে দেন পর্যটকদের
কোনও জায়গা পছন্দ হলে সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনার সুবিধার্থে এ বছর ইনস্টাগ্রামে সেভ বাটন যুক্ত হয়েছে। তাই ওল্ড কোয়ার্টারের ছবি পাওয়া যাচ্ছে অসংখ্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুঁজে দেখা গেছে, ওল্ড কোয়ার্টারে বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি তুলেছেন পর্যটকরা। কেউ হয়তো বসে আছেন, কেউবা দৌড়াচ্ছেন। আবার কেউ লাফ দিচ্ছেন সমান্তরাল রেলপথের ওপর। নাচ, চুম্বন, পড়ে যাওয়ার ভানরত অবস্থায়ও ছবি তোলা হয়েছে।
রেলপথে ক্যামেরা কিংবা গোপ্রো দিয়ে পর্যটকদের ছবি তোলা পাগলামির পর্যায়ে পৌঁছে যায়
রেলপথে ক্যামেরা কিংবা গোপ্রো দিয়ে পর্যটকদের ছবি তোলা পাগলামির পর্যায়ে পৌঁছে যায়
ভিয়েতনামের লেখক ডেভ ফক্স ২০১০ সালে প্রথমবার ওল্ড কোয়ার্টারে ঘুরেছেন। তখনই তার চোখে পড়েছে, রেলপথে দাঁড়িয়ে ক্যামেরা কিংবা গোপ্রো দিয়ে পর্যটকদের ছবি তোলা নিয়ে পাগলামি! তার মন্তব্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে এই জায়গা লোকারণ্যে পরিণত হয়েছে। পর্যটকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনুমতি নিয়ে মানুষের ছবি তোলা খারাপ কিছু নয়। কারণ ভিয়েতনামের বেশিরভাগ মানুষই দারুণ মনের। মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না তারা কোনও জাদুঘরের বস্তু নয়।’

৭ বছরের শিশু ইউটিউব থেকে আয় করেছে ১৭৬ কোটি টাকা

প্রযুক্তি জগতে এক বিশ্বয়ের সৃষ্টি করেছে মাত্র সাত বছর বয়সী শিশু রায়ান। এই বয়সেই সে ইউটিউব থেকে আয় করেছে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার। যা বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় ১৭৬ কোটি টাকা। এর ফলে ইউ টিউব থেকে সর্বোচ্চ অর্থ আয়কারী হিসেবে নিজের নাম লেখাতে যাচ্ছে ওইটুকুন এক ছোট্ট শিশু। না, তেমন কোনো কারিশমা তাকে দেখাতে হয় নি। ¯্রফে শিশুদের খেলনার রিভিউ পোস্ট করে সে এখন বিশ্বজুড়ে তারকা খ্যাতি পেয়ে গেছে। ইউটিউবে তার চ্যানেলের নাম ‘রায়ান টয়েস রিভিউ’। এর আগে ১২ মাসে ইউটিউব থেকে সর্বোচ্চ অর্থ আয় করেছে জ্যাক পল।
তার আয়ের পরিমাণ ৫ লাখ ডলার। এখন জুন পর্যন্ত তাকে টপকে যাওয়ার পাল্লায় রয়েছে রায়ান। এ জন্য সে প্রায়দিনই ভিডিও পোস্ট করে। সর্বোচ্চ আয়ের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ডিউড পারফেক্ট চ্যানেল। তাদের আয় ২ কোটি ডলার। ফোর্বস ম্যাগাজিনকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়েছে, এ বছর রায়ানের আয় বেড়েছে আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুন। একদম ছোট্ট বাচ্চারা কেন তার ভিডিও পছন্দ করে এমন প্রশ্নের উত্তরে রায়ান বলেছে, কারণ আমি বিনোদন দিই। আমি মজা দিই।
রায়ানকে ওই চ্যানেলটি ২০১৫ সালে খুলে দেন তার পিতামাতা। এর মধ্যে তার চ্যানেলে যে পরিমাণ ভিডিও জমা হয়েছে তা ভিউ হয়েছে ২৬০০ কোটিবার। ফলো বা অনুসরণ করছে এক কোটি ৭৩ জন। এই চ্যানেল থেকে রায়ান যে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার উপার্জন করেছে তার মধ্যে ভিডিও শুরু হওয়ার আগে যে বিজ্ঞাপন দেখানো হয় তা থেকে এসেছে ১০ লাখ ডলার। বাকিটা এসেছে স্পন্সর পোস্ট থেকে। কেন তার ভিডিও পোস্টে এত লাইক, বিজ্ঞাপন! এর উত্তর হলো রায়ান যেসব খেলনার রিভিউ করে তা দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। ফলে তার চ্যানেলে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিজ্ঞাপন।
গত আগাস্ট মাস থেকে ‘রায়ান’স ওয়ার্ল্ড’ নামে খেলনা আর পোশাকের বেশ কিছু আইটেম বিক্রি করতে শুরু করে খুচরা পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট। এখানে একটি ভিডিও দেখানো হয় যে, রায়ান এবং তার বাবা-মা নিজেদের খেলনা খুঁজছে, যে ভিডিওটি ইউটিউবে গত তিনমাসের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি বার দেখা হয়েছে।
ওয়ালমার্ট থেকে পাওয়া লভ্যাংশ সামনের বছর রায়ানের আয়ে যোগ হবে বলে বলছে ফোর্বস। শিশু হওয়ার কারণে রায়ানের মোট আয়ের ১৫ শতাংশ একটি ব্যাংক একাউন্টে জমা করে রাখা হচ্ছে। যখন সে প্রাপ্তবয়স্ক হবে, তখন এই টাকা তুলতে পারবে। রায়ানের একজোড়া জমজ বোনও রয়েছে। রায়ানের পরিবার নামে কিছু ভিডিওতে তাদেরও দেখা যাবে।
ইন্টারনেটে খুবই পরিচিত মুখগুলোর একটি হওয়া সত্ত্বেও রায়ানের পরিচয় নিয়ে রয়েছে ব্যাপক রহস্য। তার নামের শেষাংশ কী, রায়ান কোথায় থাকে, কেউ জানে না। রায়ানের বাবা-মা মাত্র অল্প কয়েকবার গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। একটি সাক্ষাৎকারে রায়ানের মা দাবি করেছেন যে, যখন তার ছেলের বয়স মাত্র তিন বছর, তখন এই ইউটিউব চ্যানেল করার আইডিয়া রায়ানই দিয়েছিল। তবে রায়ানের মা নিজেও তার পরিচয় প্রকাশ করেন নি।
ইউটিউবে রায়ানের প্রথম ভিডিওটি ছিল প্লাস্টিকের ডিম ভেঙ্গে সেখান থেকে খেলনা বের করা। আশি কোটি বার এই ভিডিও দেখা হয়েছে। তার ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে এক কোটি মানুষ। রায়ানের ভিডিওর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তার স্বতস্ফূর্ততা। নিত্য নতুন খেলনা নিয়ে সে যেভাবে খেলে, সেটা লোকে পছন্দ করে।
একটি রিভিউতে বলা হচ্ছে, ‘রায়ান যেভাবে তার খেলনার প্যাকেট খোলে, তখন সেটি একটি নাটকীয় পরিবেশ তৈরি করে।’