Sunday, April 19, 2015

খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রচারণায় আ’লীগের বাধা

রাজধানীতে দ্বিতীয় দিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পরেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ রোববার বিকেলে উত্তরায় গণসংযোগের শুরু থেকে বেশ কয়েকটি জায়গায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার পথ রোধ করার চেষ্টা করে। তারা এ সময় ক্ষুব্ধ শ্লোগান দেয়, কালো পতাকা প্রদর্শন করে। খালেদা জিয়ার বহরে বাধা দেয়ার খবর ছড়িয়ে পরলে ওই এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢল নামে। উভয় দলের নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানে তৈরি হয় উত্তেজনা। তবে তবে এসব আমলে না নিয়েই নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন বেগম জিয়া। উত্তরা-মিরপুর-মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষের কাছে ভোট চেয়েছেন উত্তরে দলের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজ উত্তরায়
তাবিথ আউয়ালের পক্ষে ভোট চান। ছবি: ফোকাস বাংলা
বিকেল পৌনে ৫টার দিকে উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর রোডে আওয়ামী লীগের বাধার মুখে পরেন বেগম জিয়া। আওয়ামী লীগের উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম তোফাজ্জল ও সাধারণ সম্পাদক হাবিব হাসানের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের সামনে এসে স্লোগান দিতে থাকে। তারা খালেদা জিয়াকে কালো পতাকা প্রদর্শন করতে করতে স্লোগান দেয়। এতে করে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে।
তবে এই বাধায় বিচলিত হননি বিএনপি চেয়ারপারসন। বাধার তোয়াক্কা না করে তিনি উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ইনফিনিটি প্লাজায় প্রবেশ করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। ভোট চান সাধারণ দোকানদার ও ক্রেতাদের কাছে। ইনফিনিটি প্লাজা থেকে বেরিয়ে তিনি আমির কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রচারণা চালান।
খালেদা জিয়ার বহরে বাধা দেয়ার খবর ছড়িয়ে পরলে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ওই এলাকায় আসতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে খালেদা জিয়ার গণসংযোগ পথে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢল নামে। তারা মোটরসাইকেলে তাবিথের পক্ষে মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে থাকেন। এতে করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে গণসংযোগ পথে শো ডাউন দিতে থাকে।
সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে প্রথমে রাজউক ভবনের দুই পাশে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারা নিজ নিজ দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে স্লোগান দেয়। এরপর নর্থ টাওয়ারের দুই পাশেও তারা মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেয়।
উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের নর্থ টাওয়ারে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে খালেদা জিয়া বের হলে আবারো গাড়িবহর আটকানোর চেষ্টা করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তারা এসময় কালো পতাকা হাতে নিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। বিএনপি নেতাকর্মীরাও পুরো এলাকা স্লোগানে মুখর করে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের পাশে অবস্থান নেয়। অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার গাড়িকে ঘিরে রাখে।
খালেদার গাড়িবহরের গতিরোধ ও ঢিল ছুড়েছে যুবলীগ-ছাত্রলীগ
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ রোববার বিকেলে
উত্তরায় তাবিথ আউয়ালের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালান
সিটি নির্বাচনের প্রচারণাকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের গতিরোধের চেষ্টা করেছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগকর্মীরা। সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের সময় রাজধানীর উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকায় তারা লাঠিসোটা নিয়ে এ গতিরোধের চেষ্টা করে। এ সময় খালেদা জিয়ার গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিলও ছুড়েছে তারা। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়েছে। এর দেড় ঘণ্টা আগে উত্তরা জসীমউদ্দীন রোডের মুখ ও উত্তরা মডেল টাউনের এসবি প্লাজার সামনে কালোপতাকা দেখিয়ে তার গাড়ি ঘেরাও এবং সেøাগান দেয় স্থানীয় যুবলীগ-ছাত্রলীগ কর্মীরা। টানা দ্বিতীয়দিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় রাজধানীর খালেদা জিয়ার গাড়িবহর জসীমউদ্দীন রোডের মুখে পৌছালে স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কালোপতাকা দেখিয়ে সেøাগান দিতে থাকেন। খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর সেখানে না থেকে এগিয়ে এসবি প্লাজার সামনে পৌঁছালে সেখানে আরেকটি গ্রুপ সেøাগান দিতে দিতে তার গাড়ি ঘেরাওয়ের চেষ্টা করে। এ সময় খালেদা জিয়ার নিরাপত্তারক্ষী ও স্থানীয় বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা এগিয়ে এলে যুবলীগ-ছাত্রলীগের গ্রুপটি সরে যায়। পরে খালেদা জিয়া সেখানে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের প্রতীক বাস মার্কায় লোকজনের কাছে ভোট চান।
খালেদা জিয়া আজ রোববার ঢাকা উত্তরে বিএনপি
সমর্থিত প্রার্থী তাবিথের পক্ষে উত্তরায় প্রচারণা চালান
উত্তরায় খালেদা জিয়ার প্রচারণায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢল
উত্তরায় তাবিথ আউয়ালের পক্ষে খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। রোববার বিকেলে উত্তরা এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ওই এলাকায় আসতে শুরু করে। এই এলাকায় রোববার সন্ধা সাড়ে ছয়টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত মুখোমুখি অবস্থানে ছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। উত্তরা নর্থ টাওয়ারের দুই পাশে তারা মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছে। তবে এরই মধ্যে হাজারো নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত খালেদা জিয়া নর্থ টাওয়ারে প্রবেশ করেছেন। সেখানে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে ভোট চাইছেন।
নির্বাচনে সেনা মোতায়েন চান খালেদা জিয়া
সিটি করপোরশেন নির্বাচনে সেনা মোতায়েন চেয়েছেন বিএনপি চেয়পারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সেনা মোতায়েন চায় দেশের জনগণ। যারা সুষ্ঠু নির্বাচন চায় না তারাই সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে কথা বলে। রাতে শাহজাদপুরের সুবাস্তু নজড়ভেলী মার্কেটে তাবিথ আউয়ালের পক্ষে প্রচারণা শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। বেগম জিয়া বলেন, সিটি নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। তবে জায়গায় জায়গায় বাধা দেয়া হচ্ছে। আমি নির্বিঘ্নে নির্দ্বিধায় সবার কাছে যেতে চাই।

এমআরপি নিয়ে সৌদি, মালয়েশিয়া ইউএইতে হ-য-ব-র-ল by দীন ইসলাম

মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আরিমাতে চলছে হ-য-ব-র-ল কারবার। এ তিন দেশে পাসপোর্টের আবেদন জমা গ্রহণ ও বিতরণ কাজে নিয়োজিত মালয়েশীয় কোম্পানি আইরিশ করপোরেশন বারহাডের কারণেই এমনটা হচ্ছে বলে মনে করছে স্বরাষ্ট্র, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। বিষয়টি সম্পর্কে এরই মধ্যে মালয়েশীয় কোম্পানিকে কয়েক দফা সতর্ক বার্তা দিয়েছে প্রবাসে এমআরপি বিতরণ সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টা কমিটি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। গত সোমবার সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আইরিশের এমআরপি সংক্রান্ত অর্থ জমাদান নিয়ে নয়-ছয়ের চিত্র তুলে ধরে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে আইরিশের নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। গত ১২ই এপ্রিল রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, আইরিশ বর্তমানে রিয়াদ, দাম্মাম ও বুরাইদাহ এলাকায় এমআরপি প্রসেসিং এর কাজ করছে। এসব এলাকায় তারা প্রতিদিন ১৭০০ এমআরপি প্রসেসিং করছে। গত ৭ই এপ্রিল দূতাবাসে পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী ২৭ হাজার ৬২৭টি পাসপোর্টের প্রসেস করেছে। এর বিপরীতে নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সাত কোটি ১৪ লাখ ৮৪ হাজার ৮৬২ টাকা জমা হওয়ার কথা। কিন্তু তারা মাত্র দুই কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার ২৬৫ টাকা জমা করেছে। জন্ম নিবন্ধন ফি’র নির্ধারিত টাকাও তারা জমা করেনি। এ কারণে অতি দ্রুত আইরিশকে অর্থ জমা দেয়ার নির্দেশনা দিতে চিঠি দেয়া হয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার এমআরপি বিতরণ সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশী  মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) বিতরণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। এমআরপি বিতরণে আরও যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এর ব্যতিক্রম হলে আগামী এক মাস পর চুক্তি বাতিল করা হবে। বৈঠকে পাসপোর্টের ডিজি এনএম জিয়াউল আলম সভাকে জানান, সৌদিতে বসবাসরত প্রবাসীদের মধ্যে আইরিশ প্রতিদিন এক হাজার দুই শ’ ৫৮টি এমআরপি প্রসেস করছে। যদিও গত ১৯শে মার্চ তারা অঙ্গীকার করেছিল প্রতিদিন নয় হাজার পাসপোর্ট প্রসেস করবেন। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে তারা প্রতিদিন ১২৫ থেকে ১৫০টি এবং মালয়েশিয়াতে ৮৯টি পাসপোর্ট প্রসেস করছেন। যদিও তারা এ দুই দেশে পাঁচ হাজার করে পাসপোর্ট প্রসেসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পাসপোর্টের ডিজির কথা শোনার পর প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে উদ্দেশ্য করে বলেন, প্রবাসীদের একটি বড় কর্মযজ্ঞে ভুয়া কোম্পানিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি গভীরভাবে দেখার প্রতিশ্রুতি দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইরিশের সিনিয়র অফিসিয়ালদের মধ্যে কেউ ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। শুধুমাত্র দুই জন প্রতিনিধি তাদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর মনোভাব বুঝতে পেরে তারা বলেন, আমরা আগামীতে আরও প্রস্তুতি নিয়ে এ সভায় আসব। তবে আইরিশের সেলস ম্যানেজার পাসপোর্ট প্রসেসে দেরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ইনশাআল্লাহ এ অবস্থা শিগগিরই কেটে যাবে। তার কথা কেড়ে নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী তাদেরকে মিথ্যাবাদী হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, এমআরপি পাসপোর্টের মতো বিশাল কর্মযজ্ঞে আইরিশ কোন মতেই উপযুক্ত কোম্পানি নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ, মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশী হাই কমিশনার শহিদুল ইসলাম এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্যদের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে কোন অসুবিধা হয়নি। তারা বলেন, গত এক বছর ধরে আইরিশ সরকারকে নানাভাবে ঘুরাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অন্যদিকে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর ঠিকভাবে এমআরপি না দিতে পারার দায় কোনভাবেই এড়াতে পারে না। পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আইরিশকে কাজ দেয়ার মূল কলকাঠি নাড়েন পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি আবদুল মাবুদ, প্রকল্প পরিচালক মাসুদ রেজওয়ান ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব সফিকুল ইসলাম। পাশাপাশি তারা আইরিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সব সময় অনীহা প্রকাশ করেছেন। এ কারণে প্রায় দেড় বছর সময় নষ্ট হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার কারণে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসীদের এমআরপি’র বিষয়টি দেখভালের জন্য প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও পাসপোর্টের ডিজিকে আইরিশের কর্মকাণ্ড  মনিটরিং করার নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে আইরিশ তাদের প্রতিদিনের প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে জানাবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা এক সঙ্গে করে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীকে দেবেন। আজ এ সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন সংস্থার (আইকাও) বেঁধে দেয়া ২৪শে নভেম্বরের মধ্যে সৌদি আরবে ২১ লাখ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে চার লাখ এবং মালয়েশিয়াতে পাঁচ লাখ বাংলাদেশী এমআরপি দিতে হবে। এর অন্যথা হলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেশে ফিরে আসতে হবে। এ নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের মাথা ব্যথা চরমে উঠলেও অনেকটা ঘুমুচ্ছে আউটসোর্সিং কোম্পানি আইরিশ।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে অন্তঃহীন অভিযোগ by কাজী জেবেল

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচন নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই প্রার্থীদের। নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকা, প্রতিপক্ষের আচরণবিধি লংঘন, পুলিশের হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা। প্রচারণা শুরুর পর থেকে গত কয়েক দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) বেশ কয়েকজন প্রার্থী লিখিত অভিযোগ করেছেন। তারা এসব বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি জানান। এর আগে মতবিনিময় সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদসহ পুরো কমিশনের সামনেই অনেক প্রার্থী নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ করেন।
শনিবার পর্যন্ত ঢাকার দুই সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে অন্তত ১৫ কাউন্সিলর প্রার্থী লিখিত অভিযোগ করেছেন। নির্বাচন কমিশনেও আবেদন করেছেন কয়েকজন। আবার ‘ঝামেলা’ এড়াতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করছেন না বলে জানান অনেক প্রার্থী। জমা পড়া অভিযোগের বেশির ভাগেই পুলিশি হয়রানি ও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। কয়েকজন প্রার্থী ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়েও চিঠি দিয়েছেন। ওইসব অভিযোগের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে আইনশৃংখলা বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে বেশিরভাগ অভিযোগের ক্ষেত্রেই প্রার্থীরা কাক্সিক্ষত প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানতে চাওয়া হলে ঢাকা দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ যুগান্তরকে বলেন, আমি ৭-৮টি অভিযোগ পেয়েছি। এছাড়া দু’জন মেয়র প্রার্থী ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়েছেন। তিনি বলেন, একজন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তা আইনশৃংখলা বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
একাধিক সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে আজ রোববার আইনশৃংখলাসংক্রান্ত বৈঠকে প্রার্থীদের আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগের বিষয়টি আলোচনা করার কথা রয়েছে। বৈঠকে ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত আচরণবিধি লংঘন রোধে আইনশৃংখলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হবে। তারা আরও বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও প্রার্থীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে পৃথক দুটি ‘আইনশৃংখলা রক্ষাকারী সেল গঠন’ করা হয়েছে। এছাড়া ভিজিলেন্স ও মনিটরিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে। দুটি কমিটি নির্বাচনী কার্যক্রম ও সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে অভিযোগকারীদের একজন ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আবুল হাশেম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দুটি অভিযোগ করেছি। একটিতে বলেছি, আমার সমর্থকরা পোস্টার লাগাতে গেলে পুলিশ অহেতুক আটক করে নিয়ে গেছে। আরেক অভিযোগে আমি বলেছি, রাজধানীর শেখেরটেক এলাকার ৭ নম্বর সড়কে ১৬ এপ্রিল আমার নির্বাচনী ক্যাম্পে পুলিশ হানা দিয়ে চেয়ার-টেবিল বাইরে ফেলে দিয়েছে। আমার সমর্থকদের ক্যাম্প থেকে বের করে তালাবদ্ধ করে দেয়। ওই ঘটনার কিছু সময় পরই আমার এক কর্মীকে পুলিশ আটক করে রিমান্ডে নিয়েছে।’ রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অভিযোগ দেয়ার পর প্রতিকার পেয়েছেন কী কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আবুল হাশেম বলেন, ‘যেহেতু একবার পুলিশ এসেছে, তাই গ্রেফতার আতংকে আমার কর্মীদের ক্যাম্পে না যেতে বলেছি।’
আরেক অভিযোগকারী মিরপুর এলাকার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাসুদ খান। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হওয়ায় প্রতিদিন হত্যা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে ইসিতে লিখিতভাবে জানিয়েছেন তিনি। ১৬ এপ্রিল দেয়া অভিযোগে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের প্রাভাবশালী প্রার্থী আবু তাহের লাল্টু ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের লোকজন প্রচারণা চালাতে বাধা দিচ্ছে। এমনকি নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ালে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। অভিযোগে আরও বলেন, প্রতিদিন তার ও সমর্থকদের বাসায় পুলিশ গিয়ে হয়রানি করছে। এ অবস্থায় প্রচারণা চালানো তো দূরের কথা নির্বাচনী ক্যাম্পও স্থাপন করতে পারছি না। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আমাকে ও আমার কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি পুলিশি হয়রানি বন্ধ ও নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনর দাবি জানান তিনি। উত্তরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী এএলএম কাওছার আহমেদকে বৃহস্পতিবার প্রচারণা চালানোর সময় মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর পরিবার ও নেতাকর্মীরা আতংকে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসিতে অনেক আগে অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা হয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না ইসি। ঢাকা সিটি উত্তরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী অ্যাডভোকেট এনায়েত অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নাজমুল আলম ভূঁইয়া জুয়েল ও তার সমর্থকরা তার সমর্থকদের ওপর হামলা, মাইক ভাংচুর ও ড্রাইভারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। এক সপ্তাহে জুয়েলের লোকজন তিন দফা আমার প্রচার কর্মীদের মারধর, মাইক ভাংচুর ও আমার ড্রাইভারকে হুমকি প্রদান করেছে। এ অবস্থায় প্রচারণা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
প্রার্থীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহ আলম যুগান্তরকে বলেন, আমি ৬-৭টি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগপত্র পাওয়ার পর আইনশৃংখলা বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পাঠিয়ে দিচ্ছি। তারা কী ব্যবস্থা নিয়েছেন তা আমাদে জানাচ্ছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাউকে অযথা হয়রানি না করতে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছে ইসি। এরপর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী এবিএম পারভেজ রেজা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার লোকদের নির্বাচনী প্রচারণায় নানাভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে। কর্মীদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। কখনও কখনও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। একই সিটির ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. শহীদুল হক বলেন, প্রচারণা চালানোর সময় আমার লোকজনকে ধাওয়া দিয়েছে। প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাতে পারছি না। পথে পথে বাধা দেয়া হচ্ছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা কোনো প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেয়নি।
একই সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শফিউদ্দিন আহমেদ সেন্টুর মা সুফিয়া বেগম অভিযোগ করেন, শনিবার বিকালে পুলিশের একদল সদস্য প্রার্থীর বাসায় গিয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। এ সময় বাসার জিনিসপত্র তছনছ করে। ছেলেকে না পেলে অন্যদের গ্রেফতার করা হবে বলেও পুলিশ শাসিয়ে গেছে। শফিউদ্দিন আহমেদ সেন্টুর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে। মামলায় জামিন না থাকায় এ প্রার্থী আত্মগোপনে রয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন প্রার্থী একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।

ভোটারদের মন জয়ে প্রার্থীদের নানা কৌশল

তুঙ্গে উঠেছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের প্রচারণা। শনিবার ঢাকা উত্তরে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের হয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। উত্তরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হক সাইকেল চালিয়ে প্রচারণার পর শনিবার রাস্তা পরিষ্কারে নেমেছিলেন। আর দক্ষিণে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সাঈদ খোকন প্রচারণা চালিয়েছেন সূত্রাপুর. গেণ্ডারিয়া ও কামরাঙ্গীরচর থানায়। বিএনপি সমর্থিত মির্জা আব্বাসের অবর্তমানে তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস প্রচারণা চালিয়েছেন টিকাটুলি, সূত্রাপুর, গেণ্ডারিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায়।
আনিসুল হক : উত্তরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হক শনিবার বেলা পৌনে ১টায় অভিনয় শিল্পী ও সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে গুলশান এক নম্বর পার্ক সংলগ্ন সড়ক পরিষ্কার করেন। এ সময় অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান, ড. ইনামুল হক, রামেন্দু মজুমদার, সংসদ সদস্য তারানা হালিম, শংকর শাওজাল, অরুণা বিশ্বাস ও আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হকসহ অনেক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. দীপু মনি এবং বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা। পরিচ্ছন্নতা অভিযানে আনিসুল হক বলেন, তার জীবন শুরু হয়েছিল একজন সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে। আমাকে মেয়র হিসেবে আপনারা সুযোগ দেন। আমি পাঁচ বছর আপনাদের এমনভাবে সেবা করতে চাই, যাতে রাজধানীতে সুষ্ঠু সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ তৈরি হয়।
আব্বাসের প্রচারেও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব : দক্ষিণে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস শনিবার পুরান ঢাকার গোপীবাগ থেকে প্রচার শুরু করেন। পরে টিকাটুলি, রাজধানী সুপার মার্কেট, সূত্রাপুর, দয়াগঞ্জ, স্বামীবাগ, নারিন্দা, ওয়ারী, গেণ্ডারিয়া, ফরিদাবাদ এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি। শনিবারের প্রচারণায় ব্যালটের মাধ্যমে সরকারের ‘অপকর্মের’ জবাব দিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান আফরোজা আব্বাস। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নানা মিথ্যা মামলা দিয়ে মির্জা আব্বাসকে সামনে আসতে দেয়া হচ্ছে না। সরকার মির্জা আব্বাসের জনপ্রিয়তাকে ভয় পায়। তাই জামিন দিচ্ছে না। জামিন দেয়া নিয়ে লুকোচুরি করছে। আশা করি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে আদালত শিগগিরই মির্জা আব্বাসকে জামিন দিবেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমাদের বিজয় হবে।’
আফরোজা আব্বাসের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আবদুল মালেক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গাজী মাজহারুল আনোয়ার, জাসাসের সভাপতি আবদুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক মনির খান, ড্যাব নেতা ডা. রফিক, অভিনেতা বাবুল আহমেদ, চিত্রনায়ক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, ছড়াকার আবু সালেহ, খল অভিনেতা ডন, চিত্রনায়িকা সোহানা, অভিনেত্রী কেয়া চৌধুরী, সায়লা, মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী ফরিদা ইয়াসমিনসহ ছাত্রদল, যুবদল ও মহিলা দলের নেতাকর্মীরা।
বাবুলের গণসংযোগ : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবলু শনিবার উত্তরা মডেল টাউন এলাকার বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতান ও আবাসিক এলাকায় চরকা প্রতীকের গণসংযোগ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের নেতা জাকির হোসেন জিকু, আশেকুল আমিন, আক্তারুজ্জামান মাসুম, খন্দকার সোহেলসহ দলের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড শাখার নেতারা।
মিলনের প্রচারণা : ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন শনিবার সূত্রাপুর, শ্যামবাজার, বাংলাবাজার, সদরঘাট, ইংলিশ রোড, ধোলাইখাল এলাকার বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতান ও আবাসিক এলাকায় সোফা প্রতীকে গণসংযোগ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতা হাজী মো. ফারুক, মেহবুব হোসেন, আফতাব গনি, কাউন্সিলর প্রার্থী মো. সাইদসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড শাখার নেতারা।
ক্বাফি রতন : সিপিবি-বাসদ সমর্থিত উত্তরের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ক্বাফির পক্ষে শনিবার কারওয়ানবাজার, পান্থপথ, বাংলামোটরে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতারা হাতি মার্কার প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ক্বাফির সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন। এছাড়া ক্বাফি পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের ওপর নিপীড়নকারীদের ১৭ এপ্রিল রাত ১২টার মধ্যে গ্রেফতার না করায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার সকালে ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
জোনায়েদ সাকী : শনিবার জোনায়েদ সাকী তার প্রতিদিনের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে সকালে মিরপুর-১০-এর জল্লাদখানার বদ্ধভূমিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অপর্ণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে তিনি জুটপল্লী, বেনারসি পল্লী, অরিজিনাল-১০ হয়ে অ্যাভিনিউ-৫ এলাকায় জনসংযোগ করেন। দুপুর ৩টায় দ্বিতীয় দফা জনসংযোগে সাকী ১২ নম্বর, ই-ব্লক, ডি-ব্লক, মুসলিম বাজার, কুর্মিটোলা ক্যাম্প ও শহীদনগর এলাকায় যান।
নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান মাহীর : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী মাহী বি. চৌধুরী নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে শনিবার বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তবে সন্দেহ আছে মানুষ সঠিকভাবে ভোট দিতে পারবে কিনা? সঠিকভাবে ভোট দিলেও তা সঠিকভাবে গণনা হবে কিনা? আর সঠিকভাবে গণনা হলেও সঠিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করা হবে কিনা? মাহী শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় উত্তরার রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। তিনি রবীন্দ্র সরণি হয়ে উত্তরা ৩, ১২ ও ১৩ নম্বর সেক্টর, বেড়িবাঁধ, হাউস বিল্ডিং ও নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার বিভিন্ন স্থানে পথসভায় বক্তৃতা এবং গণসংযোগ করেন।
আব্দুর রহমান : দক্ষিণের প্রার্থী আব্দুর রহমানের পক্ষে শনিবার পীরসাহেব চরমোনাই বিকাল ৩টা-৬টা পর্যন্ত ঢাকার পুরানা পল্টন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, বঙ্গবাজার, নাজিরাবাজার, নয়াবাজার মোড় হয়ে রায়সাহেব বাজার, ভিক্টোরিয়া পার্ক, সদরঘাট টার্মিনাল, ইসলামপুর, বাবুবাজার ব্রিজ, নয়াবাজার নর্থসাউথ রোড, গুলিস্তানের গোলাপশাহ চত্বরে গণসংযোগ ও পথসভা করেন।
শেখ ফজলে বারী মাসউদ : উত্তরের প্রার্থী মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের পক্ষে সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত মিরপুরের কালশী থেকে পীরসাহেব চরমোনাই গণসংযোগে করেন। তিনি পল্লবী, ভাষানটেক, ক্যান্টনমেন্ট, মিরপুর-১০, কাফরুল, মিরপুর-১, শাহআলী, দারুসসালামসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন।

কাশ্মীরে পাকসেনাদের জিহাদকে সমর্থন করে জামাত-উদ-দাওয়া

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে হুরিয়ত নেতা মাসারত আলমের পর এবার নতুন করে বিতর্ক তৈরি করলেন ২৬/১১ মুম্বাই সন্ত্রাসের মূলচক্রী হাফিজ সাঈদ। শুক্রবার একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে তার নেতৃত্বে চালিত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়া পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সাহায্য করে বলে স্বীকার করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে কাশ্মীর ভারতের অংশ নয় বলেও দাবি করেছেন তিনি।
গত সপ্তাহেই কাশ্মীরে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের পতাকা তোলায় গ্রেফতার করা হয়েছে কট্টরপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মাসারত আলমকে। এদিন একটি টিভি সাক্ষাৎকারে মাসারতকে পূর্ণ সমর্থন করে হাফিজ সাঈদের বক্তব্য, মাসারত তো দিল্লিতে পাকিস্তানের পতাকা ওড়ায়নি। কাশ্মীর একটি বিতর্কিত এলাকা। ভারতের নয়। তাই মাসারত কোনো ভুল কাজ করেনি।
কাশ্মীরসহ ভারতে নানা জঙ্গি কার্যকলাপ প্রসঙ্গে জঙ্গি নেতার বক্তব্য, ‘পাকিস্তান ও জামাত-উদ-দাওয়া কাশ্মীরবাসীকে সাহায্য করে। একেই আমরা জিহাদ বলি। যদি ভারত তাদের (কাশ্মীর) প্রাপ্য অধিকার না দিতে চায়, সংঘর্ষের পথ নেয়, তাহলে আমরাও জিহাদের রাস্তায় হাঁটব। কাশ্মীরবাসীকে স্বাধীনতা দেয়ার জন্য পাকিস্তান সব সময় আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।’ এদিকে, ভারত শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে হুরিয়ত সমর্থকদের বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গুলিতে এক তরুণ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও দুজন। শনিবার বাদগাম জেলার নরবলে এ ঘটনা ঘটে।
এক সমাবেশে ভারতবিরোধী স্লোগান দেয়ায় এবং পাকিস্তানের পতাকা ওড়ানোর অভিযোগে শুক্রবার হুরিয়ত নেতা মাসারত আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে পুলওয়ামা জেলার ত্রালে সেনাবাহিনীর গুলিতে দুই যুবক নিহত হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার হুরিয়ত নেতা গিলানি শ্রীনগর থেকে ত্রাল পর্যন্ত এক বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু, পুলিশ সেই মিছিলের অনুমতি দেয়নি। অনুমতিহীন সেই মিছিল এ দিন নরবলে পৌঁছতেই পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। মিছিল আটকাতেই পুলিশের দিকে পাথর ছুড়তে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য করে গুলি ছোড়ে পুলিশ। গুলিতে আহত হন তিন যুবক। তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সুহেল নামে একজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

গুমের ভয়ে অনেক কিছু বলতে পারছি না : তাবিথ আউয়াল

‘নতুন প্রজন্ম-নতুন ঢাকা’ গড়তে ‘বাস’ মার্কায় ভোট ও দোয়া চাইতে তার নির্বাচনী এলাকার প্রত্যেকটি ওয়ার্ড, মহল্লা, বাজারে প্রচারণা চালাচ্ছেন আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল। আজ শনিবারও রাজধানীর বিভিন্নস্থানে গণসংযোগ করে ভোটারদের কাছে গিয়ে কুশল বিনিময় করেন এবং বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তাবিথ আউয়াল ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে ওয়ার্ড ও মহল্লায় খানা-খন্দক থাকবে না। পয়ঃনিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করা হবে। স্বল্প আয়ের মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন। পাবেন একটি নির্মল বায়ু, শব্দ দূষণমুক্ত সবুজ ঢাকা।
সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজারো মানুষের মিছিল-সমাবেশে গণসংযোগ শুরু করেন তাবিথ আউয়াল। ‘বাস মার্কায় ভোট চাই’ শ্লোগানে গাবতলী খালেক এন্টারপ্রাইজের অফিসের সামনে থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি সেখানকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এসময় তার সাথে ছিলেন জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান। এরপর মিরপুরে ৭, ৯, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন তাবিথ আউয়াল।
তিনি দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন। এসময় তিনি জনতার উদ্দেশে বলেন, দেখে মনে হচ্ছে অতীতে কেউ এই এলাকার উন্নয়নে কাজ করেনি। এবার আপনারা আমাকে সমর্থন দিলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবো।
গাবতলীর বাসস্ট্যান্ডে এক পথসভায় সাংবাদিকের বলেন, সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের বিপুল সমর্থন পাচ্ছি। তবে নেতাকর্মীরা এখনো গুম-খুন আতঙ্কে গণসংযোগে বের হতে পারছেন না। গুমের ভয়ে অনেক কিছুই বলতে পারি না।
তাবিথ আউয়াল গাবতলীতে বাগবাড়ি, আনন্দ নগর, বড় বাজার, দারুস সালাম, কলোনী বাজার, বসুপাড়া বাজার, লালকুটি বাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন। এসব জায়গায় ছোট ছোট পথসভা করে স্থানীয় নানা সমস্যার শুনেন এবং মেয়র নির্বাচিত হলে তা সমাধানের আশ্বাস দেন। এসময় তার সাথে ছিলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী বদি-উজ-জামান।
বড় বাজারে গণসংযোগকালে নির্বাচনে সেনা বাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাবিথ আউয়াল বলেন, শুধু সেনাবাহিনী নয়, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে যা যা করা প্রয়োজন সবকিছু নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো তৈরি হয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন মুখে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের কথা বললেও বাস্তবে তার কোন ফলাফল পাচ্ছি না।
পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারীদের সম্ভ্রমহানি ও নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে তাবিথ আউয়াল অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
তাবিথের মা’র গণসংযোগ : ছেলের জন্য মা নাসরিন আউয়ালও সারাদিন চষে বেড়াচ্ছেন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা। আজ শনিবার বেলা ১১টায় তিনি মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। এরপর সেখানকার কাঁচাবাজার, নবাব বাগ, বেড়িবাঁধ এলাকায় গণসংযোগ করেন। এসময় বিএনপি নেত্রী সেলিমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সেলিমা রহমান ভোটারদের বলেন, সারা বিশ্বে এখন তারুণ্যের জয়গান। তাই আমরা আপনাদের এমন একজন সৎ, যোগ্য তরুণ প্রার্থী দিয়েছি, যাকে নির্বাচিত করলে নগরবাসী সর্বোচ্চ সেবা পাবে। তাবিথ আউয়ালের মা নাসরিন ফাতেমা আউয়াল বলেন, তাবিথ যেমন আমার সন্তান তেমনি আপনাদেরও সন্তান। তাবিথকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করুন। কথা দিচ্ছি আপনারে কাছে দেয়া সব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।

নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই : কর্নেল জিয়া

সিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন নেই বলে মত দিয়েছেন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) কর্নেল জিয়াউল আহসান। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি। কেউ হুমকি দিলে প্রার্থীরা রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দেবেন, সাংবাদিকদের কেন বলবেন? কতজন টেলিভিশন দেখে, সংবাদপত্র পড়ে? পেট্রলবোমা হামলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। তিনি আরো বলেন, সেনাবহিনীকে মানুষ ‘নামে’ ভয় পায়; আর র‌্যাবকে ভয় পায় ‘কাজে’। আমি নিজেও একজন সেনাসদস্য। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পেট্রলবোমা হামলাকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে, পুরো পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
রোববার দুপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ সব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, সব দলই উইন উইন পজিশনে আছে। তাই নির্বাচনে কেউগণ্ডগোলে জড়াবে না। যে গণ্ডগোল করবে সেই-ই ধরা খাবে, সে সরকারি দলের হোক আর বিএনপির হোক।
এর আগে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে রবিবার সকাল ১১টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে। বৈঠকের আলোচ্য বিষয় ছিল : নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচন-পূর্ব শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টিতে করণীয়, সন্ত্রাসী, মাস্তান ও চাঁদাবাজদের আটক এবং দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া, বিভিন্ন নির্বাচনী কার্যক্রম গ্রহণ এবং নির্বাচনী দ্রব্যাদি পরিবহন ও সংরক্ষণে নিরাপত্তা বিধান, নির্বাচনী আইন এবং আচরণবিধিসহ বিভিন্ন নির্দেশনা সুষ্ঠুভাবে পরিপালনের পরিবেশ সুগম করা এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ।
বৈঠকে সকল নির্বাচন কমিশনার, পুলিশের মহাপরিদর্শক, প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই), ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স (এনএসআই), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), আনসারের মহাপরিচালক, ইসি সচিব, ডিএমপি কমিশনার, সিএমপি কমিশনার, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আগামী ২৮ এপ্রিল ঢাকা (উত্তর-দক্ষিণ) ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।

পুরুষকে মানুষ করো, বাঙালিকে সভ্য by আনিসুল হক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, টিএসসি সহ আরো অনেক স্থানে নারীকে
বিবস্ত্র করে যৌন নির্যাতন করা হয়। হরণ করা হয় নারীর সতীত্বকে।
বর্ষবরণের নামে যা করা হয়েছে তার দায়ভার কে নেবে? এভাবে
বাংলা উৎসব গুলি বা নববর্ষতে যদি নারীর শ্লীনতাহানি,
নারীর প্রতি পাশবিক অত্যাচার,নববর্ষ মানে যদি হয়
আমার দেশের ধর্ষিতা মা-বোনদের করুন আর্তনাদ!
বহুদিন আগে একজন তরুণী আমাকে বলেছিলেন, আপনারা, পুরুষেরা কখনোই আমাদের বেদনাটা বুঝবেন না। একটা ছোট উদাহরণ দিই। চৈত্রের রাত ১১টায় ধরুন বিদ্যুৎ নেই, গরমে ছটফট করতে করতে আপনি ভাবলেন, যাই, ঘর থেকে বেরিয়ে একটু রাস্তায় যাই, হাওয়া খেয়ে আসি, আপনি চাইলে একটা স্যান্ডো গেঞ্জি পরে এটা করতে পারবেন, কিন্তু আমি কি সেটা পারব? রাত ১১টায় একটা ২৫ বছরের তরুণী রাস্তায় পায়চারি করছেন, শুধু ঘরে প্রচণ্ড গরম বলে, এটা কি এই দেশে হওয়ার জো আছে?
আমি উত্তর দিতে পারিনি। সেই সামান্য না পারার অসামান্য বেদনাটা বুঝে চলার চেষ্টা করছি আজও।
একদিন আমার ছোট্ট মেয়েটি, আমার হাত ধরে রিকশায় করে ফিরছিল স্কুল থেকে, ধানমন্ডি ৮ নম্বরের খেলার মাঠের দিকে তাকিয়ে বলল, বাবা, কত ছেলে ক্রিকেট খেলছে, ফুটবল খেলছে, এর মধ্যে একজনও মেয়ে নেই কেন?
আমার বুক বিদীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, এই প্রশ্নের কী জবাব আমি দেব আমার চার-পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে?
আমি ভিতু ধরনের মানুষ। আপনাদের কাছে আমি স্বীকার করি, আমার মেয়েকে আমি কোনো দিন কোনো ভিড়ের অনুষ্ঠানে নিয়ে যাইনি। আমার ফোবিয়া আছে, ভিড়-আতঙ্ক, বলা ভালো, পুরুষদের ভিড়ের আতঙ্ক। আমরা একবার কয়েকটা নিকটাত্মীয় পরিবার আজমির শরিফ গিয়েছিলাম, মাজারঘরটা ছোট, সেখানে নারী-পুরুষ গিজগিজ করছে, এক দরজা দিয়ে ঢুকে আরেক দরজা দিয়ে বেরোতে হয়, আমার মেয়ের হাত আমার মুঠোয়, দরজায় পা রেখেই আমি মেয়েকে নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলাম।
কিন্তু আমার স্ত্রীকে নিয়ে, তাঁর হাত ধরে আমি অনেক জায়গায় যাই, যেখানে ভিড় আছে। বইমেলায়, কিংবা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ধরা যাক, ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গিয়েছি। বাংলাদেশ জয়লাভ করেছে। বন্ধুবান্ধবও সঙ্গে আছে। আনন্দ করতে করতে ফিরছি। ফেরার পর গাড়িতে উঠে অবধারিতভাবেই স্ত্রী বলবেন, পুরুষ কোনো দিনও মানুষ হবে না। ভিড়ের মধ্যে নারী পেলে পুরুষ পশু হয়ে যায়।
কী জানি, পশু বললে পশুদের অপমান করা হয় কি না।
পশুদের সমাজে কি যৌন হয়রানি আছে? ইভ টিজিং আছে? ভিড়ের মধ্যে পুরুষ পশুরা নারী পশুর গায়ে থাবা দেয়? পশুরা কাপড় পরে না, পরলে পুরুষ পশু নারী পশুর কাপড় কি ছিঁড়ে ফেলত?
ইভ টিজিং কিছুদিন আগে আমাদের জাতীয় সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। কয়েকটা হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনার পরে সরকারকে জনপদে জনপদে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে আসতে হয়েছিল।
আমি মনোবিদ নই। মনোবিদ ও সমাজবিদেরা বলতে পারবেন, এই রোগটা কী রোগ? বাঙালি পুরুষ ভিড়ের মধ্যে কেন পশুরও অধম হয়ে ওঠে? কেন তাদের লেজ গজায়, থাবা প্রশস্ত হয়, নখর বেরিয়ে আসে, জিব লকলক করে, মাংসাশী দাঁত আগ্রাসী হয়ে ওঠে? এইটা কোন ধরনের আনন্দ? কী চরিতার্থ হয় এতে? একটা মেয়েকে অসহায় ভিকটিমে পরিণত করে কতগুলো থাবা হামলে পড়ে তার শরীরে, এমনকি ছিঁড়ে ফেলে তার পোশাক? এইটা কি যৌন-আনন্দ? নাকি স্যাডিজম? একটা লোক বিকৃতমনা হতে পারে, স্যাডিস্ট হতে পারে, কিন্তু একদল ছেলেপুলে একযোগে কী করে হিংস্র পশু হয়ে ওঠে? তা-ও এক মুহূর্তের জন্য নয়।
আগের ঘটনার বিচার কি হয়েছিল? এবারের ঘটনার বিচার ও কি হবে?
বস্ত্রহরণরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগ নেতা রাসেল ও
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গনিত বিভাগের ছাত্র ছাত্রলীগ নেতা আলম
পয়লা বৈশাখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের টিএসসির নিকটবর্তী ফটকের কাছে যা ঘটেছে বলে কাগজে পড়ছি, তাতে তো ওই হিংস্র পুরুষ হায়েনার দল অনেকক্ষণ ধরে একটার পর একটা নারীকে টার্গেট করছিল, আর তাঁকে অবমানিত ক্ষতবিক্ষত করে মেতে উঠছিল পাশবিক আনন্দে!
পাশবিক কথাটা বারবার উচ্চারণ করছি বটে, কিন্তু পশুদের কাছেও ক্ষমাপ্রার্থনা করতে হবে এই বাঙালি পুরুষদের সঙ্গে তাদের তুলনা করার জন্য!
সমস্যা অনেক গভীরে। বিবিসির ইন্ডিয়া’স ডটার শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্রে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে ধর্ষকদের মনস্তত্ত্ব, খানিকটা। ভারতের উচ্চ আদালতের আইনজীবীরা, যাঁরা দিল্লির বাসে গণধর্ষণ ও হত্যার মামলার আসামিপক্ষের উকিল ছিলেন, তাঁদের ভাষ্যে, পুরুষতন্ত্রের খানিকটা বোঝা গেছে। তাঁরা বলছেন, রাতের বেলায় একটা মেয়ে কেন বেরোবেন? এটা ভারতীয় কালচার নয়। একজন উকিল তো বলেই বসলেন, আমার নিজের মেয়েও যদি প্রেম করে, আমি তাকে পেট্রল দিয়ে জ্বালিয়ে মেরে ফেলব। বুঝুন, পিতৃতন্ত্র কত ভয়ংকর, কত নিষ্ঠুর। মেয়েকে তার সম্পত্তি মনে করে, বাঁচা-মরার অধিকার বাপের হাতে বলে গণ্য করে।
আর আছে বিচারহীনতার সংস্কৃতি। আমরা খুব শুনি, এবার পয়লা বৈশাখে তিন স্তরের নিরাপত্তা চার স্তরের নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হবে। সেই স্তরের পর স্তরের বলয়ের মধ্যে সব ঘটে, কিন্তু পুলিশ কখনো তৎপর হয় না। অভিজিৎকে মেরে ফেলা হলো, পুলিশ এগোলো না, একজনের পর একজন নারী নিগৃহীত হলেন, পুলিশ এগোলো না। কী করলে পুলিশ তৎপর হবে?
তবু একজন-দুজন এগোয়। এবার যিনি এগিয়েছেন, তিনিও পুরুষ। ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি লিটন নন্দী। ওয়াশিকুর হত্যার পর খুনিদের ধরতে এগিয়ে গিয়েছিলেন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা। এঁরা আছেন বলে আজও এই দেশে সূর্য ওঠে, আকাশে মেঘ জমে, ভোর হয়, পাখি গায়, পয়লা বৈশাখ আসে।
এসব ক্ষেত্রে সব সময় আমার নিজের কথাটাই মনে পড়ে। মনে হয়, প্রত্যেক পুরুষের ভেতরেই হয়তো একটা পশু বসবাস করে; আমার জ্ঞান, আমার সভ্যতা, আমার সংস্কৃতি, আমার শিক্ষা আমাকে বলে ভেতরের পশুটাকে খাঁচাবন্দী করে রাখো। আর মনে হয়, ওই মেয়েটি যদি আমার মেয়ে হতো! ধরা যাক, আমার কিশোরীকন্যাকে নিয়ে আমি বেরোচ্ছি। মা, ওঠো, ভোর হচ্ছে, নতুন বছরের নতুন দিনের ভোর। শাড়ি পরো। চলো, বেরিয়ে পড়ি। আমার দুহিতা উঠল, অনভ্যস্তভাবে শাড়ি পরল, সুতির শাড়ি ফুলে রইল তার শরীরটাজুড়ে। মাথায় ফুল জড়াল, চোখে-মুখে হাসি। হয়তো ওর মা-ও সঙ্গে রইলেন, মেয়ের শাড়িতে সেফটিপিন জুড়ে দিলেন, মেয়ে মেঝেতে বসে মায়ের শাড়ি টেনে দিল। তারপর আমরা হাসিমুখে চললাম রমনার দিকে, টিএসসির দিকে। ‘এসো হে বৈশাখ’ গাইতে লাগলাম নিজেরাই, বেসুরো গলায়। কিংবা গাইলাম শিরোনামহীন ব্যান্ডেরই গান, ‘প্রতিটি রাস্তায় প্রতিটি জানালায় হাসিমুখ, হাসিমুখে আনন্দধারা...’
তারপর পড়ে গেলাম ভিড়ের মধ্যে, পরিকল্পিত ভিড়, একদল শিয়াল হামলে পড়ল, ছিঁড়ে গেল শাড়ি, কাপড়ের অংশ গেঁথে রইল সব নখরে নখরে...
আমি আর কল্পনা করতে পারছি না। পুরুষ, কবে তুমি মানুষ হবে, বাঙালি কবে তুমি সভ্য হবে?
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

নির্বাচন কমিশন যা বিবেচনায় নিতে পারে by এম সাখাওয়াত হোসেন

ভোট ডাকাতি, কারচুপি, জাল ভোট, ব্যালট ছিনতাই
অনেক জল্পনাকল্পনা এবং আশঙ্কার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রথম ধাপের মনোনয়নপত্র দাখিল ও প্রতীক বরাদ্দের পর্ব। এখন চলছে প্রার্থীদের প্রচারণা। বেশ কয়েকটি আশঙ্কা ছিল প্রথম পর্বের আগেই। প্রথমত, প্রশ্ন ছিল এই নির্বাচনে চলমান আন্দোলনে জড়িত ২০-দলীয় জোট–সমর্থিত প্রার্থীদের যোগদানের বিষয় নিয়ে। দ্বিতীয়ত, অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন এই নির্বাচন, বিশেষ করে ঢাকার দুই করপোরেশনের নির্বাচন আদৌ হবে কি না? এই দুই আশঙ্কা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার পালা হয়তো শেষ হয়েছে। এ সময়ে এই নির্বাচনপ্রক্রিয়া যত দূর এগিয়েছে, তাতে অন্তত এতটুকু বলা যায় যে এই নির্বাচন ঘোষিত দিনগুলোর মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে বলে ধারণা করা যায়। তবে কেমন নির্বাচন হবে তা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে, যদিও নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার কথা বহুবার বহুভাবে ব্যক্ত করেছে।
নির্বাচনপ্রক্রিয়ার সময় শুরু হয়েছে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সময় থেকে এবং এই প্রক্রিয়া শেষ হবে ফলাফল সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশের পর। এই প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ সময়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের মধ্যে বর্তায়। সংবিধানের ধারা ১১৯ মোতাবেক সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দায়দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। আর এই দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সংবিধান ও আইনে বিধৃত অথবা প্রাসঙ্গিক নয় এবং পরিপন্থী নয়, এমন যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করার যেকোনো ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা রয়েছে এবং এই ক্ষমতা প্রয়োগে নির্বাচন কমিশনকে কারও মুখাপেক্ষী থাকতে হবে না বা হয় না। কাজেই যেকোনো কারণে নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে তার দায়দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য রয়েছে সহায়ক আইন, বিধি, নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র এবং সহায়ক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে বিচার বিভাগ।
জনগণ, বিশেষ করে ভোটাররা একটি সুষ্ঠু ও কারচুপিবিহীন নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা রাখতেই পারে এবং এই আকাঙ্ক্ষার পরিপূর্ণতা দেওয়ার একমাত্র দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সহায়ক শক্তি হিসেবে সরকারকে নির্বাচন কমিশনের কাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সে ধরনের সহযোগিতা প্রদান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। শুধু মুখেই নয়, কার্যত নির্বাচন কমিশনকে সে সহযোগিতা প্রদান করতে হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা যায়।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা এবং পরবর্তী সময়ে অন্য বেশির ভাগ নির্বাচন যেভাবে হয়েছে, সেগুলো গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। কোথাও কোথাও কিছু কিছু স্থানীয় সরকার নির্বাচন অর্ধেক দিনের মধ্যেই শেষ হয়েছে বলে খবরে প্রকাশ। অর্থাৎ নির্বাচনের দিন ভোট বাক্সে রহস্যজনকভাবে যা ভোট পড়ার, তা সম্পূর্ণ হয়ে গেছে ওই সময়েই। সাধারণত এবং দৃশ্যত ব্যাপক কারচুপি হয়েছে বলে পত্রপত্রিকায় প্রকাশ। এর কারণেই ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে একধরনের নেতিবাচক ধারণা জন্মেছে। নেতিবাচক ধারণা জন্মেছে নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা ও কার্যক্ষমতার ওপরও। এমনই প্রেক্ষাপটে ২৮ এপ্রিল তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে বিবিধ সংগত-অসংগত কারণে অনেক প্রার্থী এবং সমর্থকেরা আশঙ্কা করছেন যে নির্বাচনে সমতল ক্ষেত্র তৈরিতে নির্বাচন কমিশন অন্তরায়ের সম্মুখীন হচ্ছে।
আমাদের সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রচলিত ধারণা যে নির্বাচনে কারচুপি শুধু ভোটের দিনেই হয়ে থাকে। কারণ, সেদিন শুধু ভোট গ্রহণই নয়, ভোট গণনাও শেষ হয়ে যায়। ভোট প্রদানে কারচুপি, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান ইত্যাদি কমবেশি ঠেকানো গেলেও গণনার সময়েও অসাধু প্রক্রিয়া গ্রহণ করা সম্ভব এবং অতীতে এমনটাও প্রতীয়মান হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম নির্বাচন যেহেতু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া তথা লাখো চোখের দৃষ্টিগোচরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে এমন ব্যাপক ভোট চুরির এবং কেন্দ্র দখলের মতো ঘটনা ব্যাপক আকারে নাও সম্ভব হতে পারে। এমনটি হলেও নির্বাচন কমিশন স্ব–উদ্যোগে আইনানুগ ব্যবস্থায় কেন্দ্রভিত্তিক আংশিক এমনকি সামগ্রিকভাবে নির্বাচন বাতিল বা স্থগিত করার আইনানুগ ক্ষমতা রাখে এবং প্রয়োগ করতে পারে। বর্তমান আইন ও প্রক্রিয়ায় সন্দেহজনক কেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান করলে কারচুপি সহজেই নির্ণয় করা সম্ভব।
৩য় পর্যায়ের উপজেলা নির্বাচনের চিত্র
নির্বাচন কমিশন চাইলে এ ধরনের কারচুপি ঠেকাতে নানা উপায় গ্রহণ করা সম্ভব। সর্বাগ্রে পর্যবেক্ষক হিসেবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের প্রতিটি ওয়ার্ডে নিজস্ব লোকবল নিয়োগ দেওয়া সম্ভব এবং শুধু নিয়োগই নয়, গোলযোগপূর্ণ কেন্দ্রে উপস্থিতির জন্য বাহন হিসেবে মোটরসাইকেলের এবং কিছু কিছু জায়গায় ভিডিও ক্যামেরা ব্যবহার করা সম্ভব। অতীতে কমিশনের এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার উদাহরণ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বেশির ভাগ কর্মকর্তা এ বিষয়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। শুধু পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগই নয়, কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে নিজস্ব প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগও অসম্ভব নয়। এসব ব্যবস্থা করা হলেও নির্বাচন কমিশনকে সর্বতোভাবে দৃশ্যমান, নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকতে এবং ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো মনমানসিকতায় থাকতে হবে। অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে চাই যে অতীতে এই কয়টি নির্বাচন বেশ জটিল বলে প্রমাণিত হয়েছিল। বিগত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ নির্বিঘ্নে হলেও পরবর্তী সময়ে বেশ জটিল পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল। তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সম্পূর্ণ কমিশনকে সকল শক্তি প্রয়োগ করতে হয়েছিল পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করতে এবং সময়মতো ফলাফল ঘোষণা করতে। তবে প্রতিটি নির্বাচন এক ছকে অনুষ্ঠিত হবে তেমনও নয়, কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যৎ নির্ণয় করা যায়।
ভোট গ্রহণের দিন সম্ভাব্য স্বচ্ছ ব্যবস্থার বিষয়ে অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু বক্তব্য ও একটি সুপারিশ দিয়ে তুলে ধরতে চাই, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও নির্বাচন কমিশন খতিয়ে দেখতে পারে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও তৎপরবর্তী নির্বাচনগুলোতে যে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে, তা আর রাখঢাকের মধ্যে নেই। এরই আলোকে ভোটের সংখ্যা ও গড় নিয়ে অবিশ্বাস্য তেলেসমাতি কাণ্ড হতে দেখেছি। এমনকি নির্বাচন কমিশনও অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে। আমাদের উপমহাদেশের, বিশেষ করে বাংলাদেশের নির্বাচনগুলোতে গড়পড়তা যা পরিলক্ষিত হয়, তা হলো সকাল থেকে প্রায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত সাধারণত নারী ভোটারদের উপস্থিতি থাকে, অপর দিকে দুপুরে সাধারণ ভোটার সমাগম কম হয় এবং বিকেলে পুরুষ ভোটারদের আধিক্য বেশি হয়ে থাকে। সাধারণত ভোটকেন্দ্রে জালিয়াতি হয় প্রথম প্রহরে ও দ্বিপ্রহরে। শেষ সময় জালিয়াতির ঘটনা ঘটে, যদি প্রথম থেকে ভোটার উপস্থিতি কম হয়।
পুকুরে ভাসছে ব্যালট, ভাঙা বাক্স পড়ে আছে মাঠে
ভোটার উপস্থিতি বেশি হলে জাল ভোট, কেন্দ্র দখল, এজেন্ট বের করার ঘটনা তুলনামূলক কম হয়। আমাদের নির্বাচনগুলো তখনই সুষ্ঠু বলে বিবেচিত হয়, যদি বাস্তবিক পক্ষে গড়পড়তা ৬০ শতাংশ অথবা তদূর্ধ্ব ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। অন্যথায় ব্যালট পেপারের মুড়ি গুনে ভোট প্রয়োগ সঠিক হয়েছে বলে বিবেচনা করার মধ্যেও বিড়ম্বনা হতে পারে। কেন্দ্র দখল করে ব্যালট প্রবেশ করালে মুড়ি গুনে ন্যায্যতা নির্ণয় সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে বিধিতে উল্লেখ না থাকলেও নির্বাচন কমিশন প্রত্যেক প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে প্রতি ঘণ্টায় ভোট গ্রহণের হার লিপিবদ্ধ করে রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিতে পারে। এ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনয়নের জন্য নিজস্ব পর্যবেক্ষক এবং অনুমোদিত পর্যবেক্ষণে এই নথি অবলোকন করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এ ব্যবস্থায় সঠিক প্রয়োগ হলে হয়তো ব্যালট ভর্তি করা এবং কারচুপি ঠেকানো সহজতর হতে পারে। অবশ্য এ ক্ষেত্রে ইভিএমের ব্যবহার যথেষ্ট উপযোগী প্রমাণিত হতে পারত। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একজন ভোটারকে তিনটি ব্যালটে নির্বাচন করতে হবে। কাজেই সঠিক ভোট আর জালিয়াতি বিষয়টি প্রতি ঘণ্টার হিসাবেও নির্ণয় করা সম্ভব হবে।
ভোট গ্রহণের দিন ছাড়াও সম্পূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময়েও কারচুপি সম্ভব, তবে সেগুলো বেশ কৌশলগত হয়ে থাকে। মনোনয়নপত্র গ্রহণ, প্রার্থীদের স্বাধীনভাবে মনোনয়ন দাখিল, মনোনয়ন প্রদানে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ বাধা, বৈধ প্রার্থীদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আতঙ্কের সৃষ্টি করা এবং সরকারি দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের হুংকার—এসবই একধরনের নির্বাচনী দুর্নীতির মধ্যে পড়ে। শুধু দুর্নীতিই নয়, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টার বেশ কিছু উদাহরণ আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের এ পর্যায়ে সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রায়ই বিভিন্ন উপায় অবলম্বনের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে। দেখা গেছে একটি নির্দলীয় নির্বাচন দলীয় প্রভাবে স্ব–উদ্যোগে অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে দেখা যায়নি। এমনকি ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আগাম প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে প্রকাশ, যা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনী আইনের পরিপন্থী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে করা হচ্ছে বলে মনে হয় না। বহু মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকা সত্ত্বেও গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের শামিল বলে বিবেচিত।
ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে অবজ্ঞা করার প্রবণতার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কয়েক দিন আগে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঢাকা উত্তরে মতবিনিময় সভায় যা ঘটেছে, তা কোনো শালীনতার সংজ্ঞায় পড়ে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য দেওয়ার আগেই কয়েকজন মেয়র প্রার্থী ও তাঁদের অনুসারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা স্থান ত্যাগ করেন। এমন কর্মকাণ্ড যেমন অভূতপূর্ব, তেমনি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশের শামিল। এই কতিপয় প্রার্থীর এহেন কর্মকাণ্ড অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রকারান্তরে নির্বাচন কমিশনের তোয়াক্কা না করার শামিল। এ ধরনের আচরণ উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীদের কাছ থেকে আশা করা যায় না। এঁদেরকেই এই কমিশনের অধীনে নির্বাচন করতে হবে। এ বিষয়ে কমিশনের উচিত এসব প্রার্থীকে সতর্ক করা। এ ধরনের অবজ্ঞা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মনে রাখতে হবে, স্বচ্ছ নির্বাচন করার দায়িত্ব শুধু কমিশনেরই নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেরও বটে। সেই সঙ্গে সহযোগী প্রতিষ্ঠানেরও দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করা।
এম সাখাওয়াত হোসেন: অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও কলাম লেখক৷
hhintlbd@yahoo.com

প্রভাবশালীদের তালিকায় আবারও মালালা

টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্বব্যাপী ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় এবারও ঠাঁই পেয়েছেন পাকিস্তানের কিশোরী মানবাধিকারকর্মী ও সর্বকনিষ্ঠ নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই। খবর ডন নিউজের। তালেবান হামলার শিকার হওয়া ১৭ বছর বয়সী মালালা বর্তমানে নারী শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন।
পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী নিপীড়িত শিশুদের নিয়েও কাজ করছেন এ কিশোরী। টাইম ম্যাগাজিনে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই তালিকায় যথারীতি রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন।

বিদেশীরা দ. আফ্রিকা ছাড়

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার দিনে ও রাতে অভিবাসীদের পক্ষে ও বিপক্ষে বিক্ষোভ হয়েছে। রাতে এই বিক্ষোভ সংঘর্ষে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা দোকানপাট, গাড়ি ভাঙচুর করেছে। হাতুড়ি ও কুড়াল হাতে নিয়ে একদল বিক্ষোভকারী স্লোগান দিতে থাকে, ‘বিদেশীরা, দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়।’ পাথর ফেলে, টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয় তারা।
যদিও এর আগের দিন বিদেশীদের নিরাপদ আশ্রয়ের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে কয়েকটি অধিকার-সংগঠন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান বাণিজ্যিক শহর জোহানেসবার্গে এই সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভকারীরা বিদেশীদের দেশ ছেড়ে যাওয়ার দাবিতে স্লোগান নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। এ সময় তাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে বেশ কিছু মানুষ আহত হয়েছে। এদিকে বিদেশীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে জোহানেসবার্গে। প্রতিবাদকারীদের গতিরোধ করে কোথাও কোথাও তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে অভিবাসীবিরোধীরা। অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভকারীরা জোহানেসবার্গে বিদেশীদের কয়েকটি দোকান লুট করার পর গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এখন বিদেশীরা সেখানে আতংকে দিন কাটাচ্ছে। বিবিসি এক খবরে জানানো হয়েছে, জোহানেসবার্গের বিদেশীরা চরম শংকায় সময় কাটাচ্ছে। কারণ যখন তখন তাদের ওপর হামলার আশংকা করছে তারা।

চীনের নতুন ব্যাংক ও এশিয়ার বহুপাক্ষিকতা by জোসেফ স্টিগলিৎজ

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংক (ডব্লিউবি) তাদের বার্ষিক সভার আয়োজন করছে। তবে সামনের দিনগুলোয় বৈশ্বিক অর্থনীতি পরিচালনার বড় সংবাদ আর ওয়াশিংটনে ঘটবে না। সে রকম বড় সংবাদ জন্মেছিল গত মাসে, যখন আরও ৩০টা দেশসহ যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকে (এআইআইবি) যোগ দেয়। চীনের তৈরি করা এই ব্যাংকের ৫০ বিলিয়ন ডলার এশিয়ার বিপুল অবকাঠামো চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে। এই চাহিদা বিনিয়োগের বর্তমান বন্দোবস্তের সাধ্যের অনেক বাইরে।
কেউ ভাবতে পারত যে এআইআইবির প্রতিষ্ঠা ও দুনিয়ার এতগুলো সরকারের একে সমর্থনের সিদ্ধান্ত সর্বজনীন অভ্যর্থনা পাবে। এবং আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের জন্য ব্যাপারটা সে রকমই ছিল। কিন্তু ধনী ইউরোপীয় দেশগুলোর এহেন সিদ্ধান্তে অদ্ভুতভাবে মার্কিন কর্মকর্তারা গোস্যা করেছেন। একজন অনামা মার্কিন প্রতিনিধি যুক্তরাজ্যের প্রতি অভিযোগ করেছেন যে তারা ‘লাগাতারভাবে চীনকে আগলে’ রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র গোপনে দুনিয়ার অনেক দেশকেই চীন থেকে দূরে থাকার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে।
বাস্তবে, এআইআইবির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতা এশিয়ায় এর ঘোষিত অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের পরিপন্থী। দুঃখজনকভাবে, এটা আমেরিকার বৈশ্বিক প্রভাব হারানোর ভয়েরই প্রকাশ। এর মাধ্যমে তারা সম্ভবত এশিয়ার উন্নয়নশীল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার সুযোগকেই অবহেলা করছে। অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ কী অবদান রাখতে পারে, চীন নিজেই তার বড় প্রমাণ। এ ধরনের বিনিয়োগ কী করতে পারে, তা আমি গত মাসে চীনের সাবেক এক প্রত্যন্ত অঞ্চল সফর করে বুঝতে পারি। ওই এলাকাটা এখন সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে স্রেফ যোগাযোগ বাড়ার কারণে। এতে মানুষ, পণ্য ও চিন্তাভাবনা আগের চেয়ে অনেক মুক্তভাবে চলাচল করছে। এটা সম্ভব করেছে অবকাঠামোয় বিনিয়োগ।
এআইআইবি এশিয়ার অন্যান্য অংশে এ ধরনের সুবিধা এনে দিতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রহসনকে আরও গভীরই করবে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন বাণিজ্যবৃত্তির জয়গান গায়। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশে বাণিজ্যের পথে শুল্কের চেয়ে বড় বাধা হলো অপ্রতুল অবকাঠামো।
এআইআইবির তহবিল বিশ্বকে আরও অনেক সুবিধাই দেবে। এ মুহূর্তে বিশ্বে মোট চাহিদার তুলনায় বিনিয়োগের সরবরাহ কম। যেখানে আয়ের থেকে ব্যয় বেশি, সেখান থেকে শুরু করে যেখানে বিনিয়োগ দরকার, সেসব জায়গায় সঞ্চয়কে পুনর্বিনিয়োগে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক বাজারের অসাম্য প্রমাণিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সভাপতি থাকার সময় বেন বার্নাকি ভুল করে এ সমস্যাকে ‘বৈশ্বিক সঞ্চয় প্রাচুর্য’ বলে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু যে পৃথিবীতে এত বিপুল পরিমাণ অবকাঠামো নির্মাণ বাকি আছে, সেখানে উদ্বৃত্ত সঞ্চয় অথবা ভালো বিনিয়োগ-সুবিধার ঘাটতি আসলে সমস্যা নয়। সমস্যা হলো এই আর্থিক ব্যবস্থা, যা বাজারের কারসাজি, ফাটকাবাজি ও অভ্যন্তরীণ যোগসাজশে ব্যবসায় পারদর্শিতা অর্জন করলেও এর মূল যে কাজ তাতেই ব্যর্থ: বৈশ্বিক পর্যায়ে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। এ কারণেই এআইআইবি বৈশ্বিক মোট চাহিদার অল্প হলেও অতীব প্রয়োজনীয় চাহিদার উল্লম্ফন ঘটাবে।
তাই বিনিয়োগের প্রবাহকে বহুপক্ষীয় করায় চীনের উদ্যোগকে আমাদের স্বাগত জানানো উচিত। কার্যত চীন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর আমেরিকার নীতিরই অনুকরণ করছে। সে সময় উন্নয়নের তহবিলকে বহুপক্ষীয় করে তোলার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। আর এই তহবিল ব্যাপকভাবে আসছিল যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে (এই উদ্যোগের ফলে এক আন্তর্জাতিক প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা বাহিনী এবং উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ সৃষ্টি হয়েছিল)।
বিশ্বব্যাংকের এই সহযোগিতা অনেক সময় সে সময়ে প্রাধান্য করা মতাদর্শের দ্বারা ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ত। যেমন মুক্তবাজারনির্ভর ওয়াশিংটন সমঝোতার নীতির বেড়াজালে গছিয়ে দেওয়া ঋণ কার্যত সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোয় বিশিল্পায়ন ও আয় হ্রাস ঘটিয়ে দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও মোটের ওপর মার্কিন সহযোগিতা আরও কার্যকর হতো, যদি একে আরও বহুপক্ষীয় করা যেত। এই তহবিল যদি মার্কিন প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরিত হতো, তাহলে তা বিভিন্ন প্রশাসনের উন্নয়নচিন্তা (অথবা সে ধরনের চিন্তার অনুপস্থিতির) খামখেয়ালের শিকার হতো।
সহযোগিতার প্রবাহকে বহুপক্ষীয় করে তোলার নতুন প্রচেষ্টা (যেমন গত জুলাইয়ে চালু করা ব্রিকস দেশগুলোর নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক) বৈশ্বিক উন্নয়নে বড় আকারের অবদান রাখতে পারে। কয়েক বছর আগে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) প্রতিযোগিতামূলক বহুপাক্ষিকতার নীতির পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। উন্নয়ন অর্থায়নে সেই ধারণাকে এআইআইবি পরীক্ষা করার সুযোগ এনে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে এআইআইবির বিরোধিতা দেখে আমার মনে পড়ছে সেই অর্থনৈতিক ঘটনার উদাহরণের কথা: কোম্পানিগুলো সবখানেই আরও বেশি প্রতিযোগিতা চায়, কেবল নিজের প্রতিষ্ঠান ছাড়া। এই অবস্থানের জন্য ইতিমধ্যে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে: যদি চিন্তার রাজ্যে প্রতিযোগিতামূলক বাজার থাকত, তাহলে সমস্যাজনক ওয়াশিংটন সমঝোতা আদৌ কোনো সমঝোতাই হয়ে উঠতে পারত না।
আমেরিকার এই এআইআইবির বিরোধিতা অভূতপূর্ব নয়। কার্যত এটা ১৯৯০-এর দশকে নেওয়া জাপানের নতুন মিয়াজাওয়া উদ্যোগের বিপক্ষতার কাছাকাছি, যেখানে জাপান পূর্ব এশিয়ার সংকটে পড়া দেশগুলোকে ৮০ বিলিয়ন ডলারের সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছিল। এখনকার মতো তখনো বিষয়টা এমন ছিল না যে যুক্তরাষ্ট্র তহবিলের বিকল্প কোনো উৎস দেখিয়ে দিচ্ছে। তারা স্রেফ আধিপত্য করতে চেয়েছিল। ক্রমবর্ধমানভাবে বহুপক্ষীয় হয়ে ওঠা বিশ্বে তারা চাইছে এক নম্বর সরকার তথা জি-ওয়ান থাকতে। অথচ এখন অর্থের অভাবের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার ভুল সমাধানে জোর দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জেদের ফলে তাদের অবনতি আরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি হতে যাচ্ছে। অথচ নিজেদের শুধরে নিলে এমনটা হওয়ার কথা ছিল না।
বলা হয় যে যুক্তরাষ্ট্রের এআইআইবি বিরোধিতা পরিমাপ করা কঠিন। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে, বিশ্বব্যাংকে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে তার মর্জিমাফিক বিশেষ স্বার্থে নীতিমালাকে প্রভাবিত করে, অবকাঠামো নীতির বিষয়টি ততটা মতাদর্শ প্রভাবিত এলাকা নয়। তা ছাড়া বহুপক্ষীয় কাঠামোর ভেতর দিয়ে নেওয়া অবকাঠামো বিনিয়োগে পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষার পদক্ষেপ আরও বেশি করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি এবং অন্য যে দেশগুলো এআইআইবিতে যোগ দিয়েছে, তাদের অভিনন্দন জানানো উচিত। আশা রাখাই যায় যে ইউরোপ ও এশিয়ার অন্য দেশগুলোও এতে যোগ দেবে। আর এতে চীন যেমন অবকাঠামোর উন্নতির মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নত করেছে, পৃথিবীর অন্যান্য অংশেও তেমন উচ্চাশা বাস্তবায়িত হবে।
ইংরেজি থেকে অনূদিত; স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট
জোসেফ স্টিগলিৎজ: নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বিশ্বব্যাংকের সাবেক শীর্ষ অর্থনীতিবিদ।

ছাত্রলীগ আর কতদূর যাবে? রাশ টানার সময় হয়েছে

ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের উত্তম-অঞ্জন গ্রুপের
সাথে সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এতে সুমন দাস নামে
সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্র
নিহত হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়
অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। -২০ নভেম্বর, ২০১৪
দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে নিজেদের মধ্যে খুনোখুনি করলেন সরকার-সমর্থিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২০ জন। এর ঠিক আগের দিনই রংপুর মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে দিতে হয়েছে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে। তিন দিন আগে কুমিল্লায় ছাত্রলীগের সভাপতি খুন হয়েছেন নিজের কর্মীদেরই হাতে। মৃত্যুর আগে তিনি বলে গেছেন, ‘নিজের লোকেরাই আমাকে শেষ করে দিয়েছে।’
ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা নিজেরাই নিজেদের ‘শেষ’ করে দেন, খুনোখুনির জন্য তাঁদের বিরোধী কোনো ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে হয় না। আওয়ামী লীগের গত ছয় বছরের শাসনকালে তাঁদের নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে কতজনের প্রাণ গেছে, অথচ ক্ষমতাসীন দল ও সরকার নির্বিকার থেকে গেছে। আগে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে মারামারি হতো প্রতিপক্ষের সঙ্গে; কিন্তু আওয়ামী লীগের শাসন যখন নিরঙ্কুশ, তখন ছাত্রলীগ একাই নিজেদের মধ্যে রক্তপাত ঘটিয়ে চলেছে, সরকার চেয়ে চেয়ে দেখছে। ছাত্রলীগের বেলায় আইন কাজ করে না, আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এ ক্ষেত্রে চক্ষু-কর্ণহীন।
কুমিল্লায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল গোলাগুলি
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে রক্তপাতের ঘটনাগুলো ঘটতে পারছে বিচারহীনতার ফলে। এসবের ফলে সরকার কিংবা সরকারি দলের কোনো উপকার হয় না। বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে এগুলো বিরাট বাধা হিসেবে কাজ করে। ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন নেতা, সাংসদ, কিংবা মন্ত্রী। ছাত্রলীগের আচরণের জন্য তাঁদের জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকা উচিত। ঊর্ধ্বতন নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া ছাত্রলীগের এসব দৌরাত্ম্য সম্ভব নয়। ছাত্রলীগের ক্ষমতার রাজনীতিতে জড়িয়ে যে সন্ত্রাসী হয়ে উঠছে বা যে পরাস্ত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে, উভয়ের প্রতিই দায়িত্ব রয়েছে সরকারের। মানুষ আর এসব দেখতে ও সহ্য করতে রাজি নয়। ছাত্রলীগের দৌরাত্ম্যের রাশ টানার সময় হয়েছে।
ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
ছাত্রলীগের কর্মীদের একটি পক্ষ রামদা, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে
প্রতিপক্ষের কর্মীদের ধাওয়া করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন,
ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি
হাজী দানেশে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ২
আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০১৫
দিনাজপুরে হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার দুই ছাত্র নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহত দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের মো. জাকারিয়া ও ভেটেরিনারি অনুষদের মাস্টার্সের মিল্টন।
ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
ছাত্রলীগের কর্মীদের একটি পক্ষ রামদা, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে
প্রতিপক্ষের কর্মীদের ধাওয়া করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন,
ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী জানান, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ওই ঘটনা ঘটে। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে চার মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফতেখারুল ইসলাম ও বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক অরুণ কান্তি রায়ের নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র দল হামলা চালায়। ছাত্রলীগের অন্য পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ছাত্রলীগের কর্মী আসাদুজ্জামান ওরফে জেমী ও নাহিদ আহমেদ ওরফে নয়ন।
সিলেটের এমসি কলেজে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে
ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সশস্ত্র মহড়া (ফাইল ছবি)
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, গতকাল সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর মিলনায়তনে ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন আফরোজা খাতুনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভার শেষ পর্যায়ে রাত সাড়ে আটটার দিকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপাচার্য মো. রুহুল আমিন বক্তব্য দেওয়ার জন্য মঞ্চে দাঁড়ানোমাত্র মিলনায়তনের আলো নিভে যায়। পেছন থেকে ইফতেখারুল ইসলাম ও অরুণপক্ষের ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল সাধারণ ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে অনুষ্ঠানস্থলে থাকা কমপক্ষে ২০ ছাত্র আহত হন। এঁদের মধ্যে আটজনকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাঁদের কারও নাম জানা যায়নি। এ সময় শিক্ষার্থীদের আর্তচিৎকারে ভয়ানক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানও পণ্ড হয়ে যায়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে
সংঘর্ষের একপর্যায়ে এভাবে দা-বঁটি নিয়ে ধাওয়া
দেয় একপক্ষ ২৫-০১-২০১২ :প্রথম আলো
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ বিভাগের পরিচালক শাহাদাৎ হোসেন খান বলেন, রাত নয়টার দিকে ইফতেখারুল ইসলামসহ তাঁর সমর্থকেরা ক্যাম্পাসে শেখ রাসেল হলে প্রবেশ করেন। সেখানে অবস্থানরত ছাত্রদের বেধড়ক লাঠিপেটা করেন তাঁরা। এরপর সাধারণ ছাত্ররা একজোট হয়ে শেখ রাসেল হলে পাল্টা হামলা চালান। এ সময় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক অরুণ কান্তি রায় বলেন, সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের আঘাতে তাঁদের পক্ষের দুজন নিহত হয়েছেন। এঁদের মধ্যে জাকারিয়া শেখ রাসেল হলে এবং মিল্টন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে
সংঘর্ষের একপর্যায়ে এভাবে দা-বঁটি নিয়ে ধাওয়া
দেয় একপক্ষ ২৫-০১-২০১২ :প্রথম আলো
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ছাত্র পরামর্শক শাহাদাৎ হোসেন খান জানান, রাত সাড়ে নয়টায় পুলিশ নিয়ে শেখ রাসেল হলে অভিযান চালানো হয়। হল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় ছয়জনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
দিনাজপুর পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিবিএর ছাত্র মো. জাকারিয়ার মরদেহ শেখ রাসেল হলের ছাদ থেকে উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে ভেটেরিনারি অনুষদের ছাত্র মিল্টন হাসপাতালে মারা গেছেন। এ ছাড়া আরও পাঁচজন ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
রাত ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন জানান।

পুলিশের বিরুদ্ধে ছাত্রকে খুনের অভিযোগ : উত্তাল কাশ্মির

কাশ্মিরে নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করার অভিযোগ আনা হয়েছে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। স্বাধীনতাকামী নেতা মাসারাত আলমকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিন শনিবার পুলিশ এই হত্যাকাণ্ড চালায়।
সোহাইল সফির পরিবার সদস্যরা জানান, একটি গলিতে পুলিশ একেবারে কাছ থেকে গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে। তাদের অভিযোগের পর পুলিশের ডিজি কে রাজিন্দ্র ওই দুই পুলিশকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেন। আটক দুই পুলিশের একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিনডেন্টেন্ড, অপরজ কনস্টেবল। কাশ্মিরে বর্তমানে হরতালও চলছে। বুধবার শ্রীনগরে কথিত পাকিস্তানি পতাকা উড়ানোর অভিযোগে আলমকে গ্রেফতার করা হয়।
সূত্র ; হিন্দুস্তান টাইমস।

সমতল ও সংস্কার by তোফায়েল আহমেদ

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের নির্বাচন দেশের সামগ্রিক রাজনীতির গতি-প্রকৃতিতে কিছু সাময়িক স্বস্তির পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হয়েছে—এটি নিঃসন্দেহে বলা যায়। দীর্ঘ মেয়াদে এ স্বস্তি কতটুকু সুস্থিরতা দেবে, তা দুই বাংলাদেশি রাজনৈতিক পরাশক্তি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করবে। তবে এ পর্যন্ত উভয় পক্ষের আচার-আচরণে সহনশীলতার পরিচয় ছিল। নির্বাচনে ‘সমতল ভূমি’বিষয়ক সব প্রশ্নের এখনো সুরাহা হয়নি। ঘুড়ি আকাশে উড়ছে, নাটাই এখনো সরকারেরই হাতে। সহাবস্থানের শুভসূচনা হয়েছে কিন্তু তা এখনো খুবই ভঙ্গুর, ইংরেজিতে যাকে বলা যায় ফ্রেজাইল। এটিকে টেকসই এবং সুদূরপ্রসারী করতে হলে এ নির্বাচনের মাধ্যমে আস্থা ও বিশ্বাসের ভিতকে আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ আছে।
প্রার্থিতা, প্রতীক এবং প্রতিশ্রুতিপর্ব চূড়ান্ত। প্রচারণা পর্ব চলছে কিন্তু গতি পেয়েছে বলা যাচ্ছে না। নির্বাচনের আগের ১০ দিন প্রার্থীরা প্রচারণায় সর্বশক্তিতে সমর্পিত হবেন। কিছু কিছু প্রার্থী এখনো আত্মগোপনে বা আদালতের বারান্দায়। তাতে সর্বসাধারণের মধ্যেও সংশয়, অবস্থা বুঝে নাটাইয়ের সুতায় কী ধরনের টান পড়ে, তা বোঝা যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন তিন সিটি করপোরেশনের প্রার্থীদের নিয়ে সভা করে তাঁদের অভয় দিয়েছেন। এ উদ্যোগ অভিনন্দনযোগ্য। বিরোধী জোট-সমর্থিত প্রার্থীরা পুরোপুরি সন্তুষ্টি নিয়ে ফিরতে পারেননি। তাঁদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার বিষয়টি হচ্ছে, যাঁরা বৈধ প্রার্থী হিসেবে কমিশনের প্রতীক বরাদ্দ পেলেন, তাঁদের অবাধ প্রচারণায় আইনি বাধা বা পুলিশি ভীতি বহাল থাকলে নিরীহ ভোটাররাই বা কোন ভরসায় ভোটকেন্দ্রে যাবেন।
নিকট অতীতের নির্বাচনী-প্রক্রিয়া এবং ফলাফল সাধারণ ভোটারদের কিছুটা নির্বাচনবিমুখ করেছে। সে প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বর্তমান নির্বাচনেও বজায় থাকবে, নাকি এখানে কিছু গুণগত পরিবর্তন আসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গ নাই-ই বা আনা হলো। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের অনিয়মগুলোর প্রতিরোধ বা প্রতিকারের বিষয় মনে এলেই নির্বাচনে আগ্রহ ফিরে আসার কথা নয়। এখানে সরকার ও সরকারি দলের পক্ষ থেকে সদিচ্ছা, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক নীতি-আদর্শের প্রতি আস্থা-বিশ্বাসের প্রমাণই নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার গ্যারান্টি। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন এবং দেশের ‘স্বাধীন’ বিচারব্যবস্থার ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনটি সিটি করপোরেশনের মোট ১৭৯টি ওয়ার্ড। ভোটকেন্দ্র ২ হাজার ৭১০ এবং বুথ সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার ৫১৭। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং এবং পোলিং কর্মকর্তা মিলে কমপক্ষে ২৫ হাজার কর্মকর্তা নিয়োজিত হবেন। এই কর্মকর্তাদের নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হলে যে পদক্ষেপ ও সহায়তা দরকার, তার আয়োজন কতটুকু সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে হবে, সেটি নির্বাচন কমিশনের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক দলের ক্যাডার, সাধারণ প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন তথা সরকারের ভূমিকা এখানেই সত্যিকারের অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন।
দশম জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় উল্লিখিত সব পক্ষেরই একপক্ষীয় আচরণ উৎকটভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। অনেক নির্বাচন কর্মকর্তা লাঞ্ছিত-অপমানিত হয়েছিলেন, যার সত্যিকার কোনো প্রতিকার তাঁরা পাননি। কেন্দ্র ব্যবস্থাপনার অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সব বৈধ প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টদের আইনসম্মত দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা। নির্বাচন কমিশন (রিটার্নিং কর্মকর্তা) এজেন্টদের নিরাপত্তার বিষয়টির কী নিশ্চয়তা দিতে পারবে, সেটি অতীত অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে আগাম নিশ্চিত করতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, সেনাবাহিনী নিয়োগের প্রশ্নগুলো এ বিষয়গুলোর সঙ্গেই সম্পর্কিত। বিষয়টি ভাবাবেগে উপেক্ষার নয়।
নির্বাচনী বিরোধ, হয়রানি, হানাহানি নির্বাচনের দিনই শেষ হয় না। তার রেশ আরও বহুদিন চলে। তাই সুস্থ-স্বাভাবিক আইনের শাসনই এসব কিছুর স্থায়ী সমাধান। আমরা সবাই মিলে ভবিষ্যৎ দিনগুলোতে আইনের শাসনের পথে কি হাঁটতে পারব? দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতাদের বচন এবং আচরণ তো আমাদের কোনোভাবে এ বিষয়ে আশাবাদী করতে পারছে না।
তবু নির্বাচনী প্রচারণা ধীরে ধীরে গতি পাচ্ছে। এটি আরও গতি পাক। মেয়র পদপ্রার্থীরা রীতিমতো জাতীয় নির্বাচনের মতো তথাকথিত। ‘ইশতেহার’ প্রকাশ করছেন। নির্বাচনের পর কাকে, কীভাবে পাওয়া যাবে এবং শেষ পর্যন্ত আগামী পাঁচ বছরে এ দুটি নগরের মানুষ কী কী সমস্যার সমাধান পাবে, সেটি এখনো সুদূরের ভাবনা। তবে অন্তত একগুচ্ছ ইশতেহার ইতিমধ্যে পেয়েছে। এ পাওনাটিও নিতান্ত তুচ্ছ নয়। ঢাকা শহর নিয়ে জননেতৃত্ব থেকে এ-জাতীয় চিন্তাভাবনা অতীতে দেখা যায়নি। কিছু ব্যক্তি নির্বাচন উপলক্ষে অন্তত কিছু ‘স্বপ্নের সওদাগরি’ করছেন। শহর নিয়ে স্বপ্ন দেখা এবং দেখানো কিংবা স্বপ্নচর্চার প্রয়োজন অনস্বীকার্য। নেতাদের কাজ স্বপ্ন বিনির্মাণ এবং সে স্বপ্নের সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্তি ঘটানো।
প্রসঙ্গক্রমে এ ইশতেহার বা ঘোষণাগুলোর একটি সাধারণ ভ্রান্তির কথা স্পষ্টভাবে এ সময়টাতেই বলা প্রয়োজন। ঢাকা বা চট্টগ্রাম মহানগর নিয়ে যে স্বপ্নের তালিকা মেয়র প্রার্থীরা সুলিখিত বাক্যে এবং সুললিত ভাষণে প্রচার করছেন, তা কি তাঁদের নিজ নিজ দলের প্রতিশ্রুতি নাকি প্রার্থীর ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা? সিটি করপোরেশন একটি প্রতিষ্ঠান, যা একটি আইনি কাঠামোর অধীনে কাজ করে। প্রতিটি করপোরেশনে একটি নির্বাচিত কাউন্সিল থাকবে। মেয়ররা সে কাউন্সিলগুলোর সভাপতি হবেন। মেয়রই কাউন্সিল নয়। এখন মান্যবর মেয়র পদপ্রার্থীদের অনেকে যে ভাষায় প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তাতে মনে হচ্ছে তিনি কাউন্সিলের অস্তিত্ব, ভূমিকা এবং শক্তি সম্পর্কে হয়তো অজ্ঞ-উদাসীন কিংবা লা পরোয়া। এ-জাতীয় ইশতেহার অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করত যদি কোনো মেয়র প্রার্থী একগুচ্ছ কাউন্সিলর প্রার্থীসহ এ-জাতীয় ঘোষণাপত্র তৈরি করতে পারতেন। ব্যক্তি মেয়র প্রার্থীর একক ঘোষণাপত্রের ওপর আস্থা যেমন রাখা যাচ্ছে না, তেমনিভাবে ব্যক্তিসর্বস্বতা সিটি করপোরেশনকে তার প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি ও সামর্থ্য অর্জনের পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ানোর পুরোনো ভীতিকে আবার নতুনভাবে নাড়া দিচ্ছে।
এটি অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই যে ব্যক্তির সততা, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, ব্যবস্থাপনাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতার অপরিসীম মূল্য রয়েছে। ব্যক্তির যোগ্যতার সঙ্গে সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিকতার সংযোগের প্রশ্নও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সমষ্টির চিন্তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের গণতান্ত্রিক আদর্শ এখানে ভূলুণ্ঠিত হতে পারে না। আমাদের বিদ্যমান কাঠামোর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যক্তিশাসনের প্রাবল্য এবং প্রাতিষ্ঠানিকতা ও গণতন্ত্রায়ণ পদে পদে বিপর্যস্ত। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের সব আইনের সরষের মধ্যেই ভূত। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশন—সর্বত্রই নারী-পুরুষনির্বিশেষে সব সদস্য এবং কাউন্সিলরই অক্ষম ও অসহায়। আবার মেয়র-চেয়ারম্যানরা কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শক্তির কাছে সমর্পিত-পরাজিত। স্থানীয় সরকারে সর্বত্রই অধিকার প্রতিষ্ঠার চেয়ে অনুগ্রহপ্রার্থীরা অনেক বেশি সক্রিয়। এ অচলায়তন আমাদের সামগ্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে অসংস্কৃতি এবং অধস্তনতার সংস্কৃতিতে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। তাই বলা যায়, বর্তমান ব্যবস্থায় মোটামুটি একটা ভোটাভুটিই হবে। কিন্তু গণতন্ত্র, সুশাসন ও স্বশাসনের সূচনা এখনো সুদূরপরাহত।
এসব বিষয় নিয়ে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যম আজকাল অনেক সোচ্চার। কিন্তু বড় দুটি দল বা জোটের নীতিনির্ধারকেরা বরাবরের মতোই নির্বিকার। এ নীরবতা ভেঙে এ বিষয়টি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের সক্রিয়তার কাছে আকুতি—এভাবে নির্বাচনেই শুরু, নির্বাচনেই শেষ—এ রাজনীতির ভবিষ্যৎ ভালো নয়। স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঠিক, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন যেমন প্রয়োজন, তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা প্রয়োজন। এগুলো দীর্ঘদিনের উপেক্ষিত বিষয়। দিনে দিনে সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। নির্বাচিত স্থানীয় পরিষদগুলোকে কাজের সুযোগ করে দিলে জাতীয়ভাবে গণতন্ত্র, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধির একটি স্থিতিশীল কাঠামো বিনির্মাণে আমাদের সামগ্রিক অগ্রগতি অনেক বেশি অর্থবহ ও টেকসই হবে।
ড. তোফায়েল আহমেদ: স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ।

প্রেসিডেন্ট হিলারি: টু বি অর নট টু বি? by হাসান ফেরদৌস

অবশেষে হিলারি ক্লিনটন ঘোষণা করেছেন, তিনি আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রস্তুত। রোববার এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই ঘোষণা দেন।
দুই দশক ধরেই ভাবা হচ্ছে, আজ হোক, কাল হোক, এই নারী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হবেনই। দুই বছর আগে হলেও এ কথা বলা অনেক সহজ ছিল যে হিলারি নির্ঘাত আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। বারাক ওবামার প্রথম দফা প্রেসিডেন্সিতে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। দু-চারজন মুখচেনা রিপাবলিকান ছাড়া শত্রু-মিত্র সবাই তাঁর দক্ষ নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। কিন্তু তা দুই বছর আগের কথা, যখন হিলারি সব রাজনৈতিক বাদ-বিবাদ সযত্নে এড়িয়ে চলেছেন। এখন প্রার্থিতা ঘোষণা করতে না-করতেই তাঁর রিপাবলিকান প্রতিপক্ষ একদম ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। লিবিয়ার বেনগাজিতে মার্কিন দূতাবাসে সন্ত্রাসী হামলা থেকে শুরু করে অতি সম্প্রতি ফাঁস হওয়া তথ্য যে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার করতেন, যার অধিকাংশ তিনি মুছে ফেলেছেন, সেসব পুরোনো-নতুন নানা কাসুন্দি ঘেঁটে তঁারা এ কথা প্রমাণ করতে চাইছেন, এই মহিলা প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নন। ‘স্টপ হিলারি’ নামে এক বিরুদ্ধ-প্রচারণার অংশ হিসেবে গোটা দুই ভিডিও তঁারা এরই মধ্যে বাজারে ছেড়েছেন। একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও শিগগিরই বাজারে আসছে।
হিলারি যোগ্য এবং যেকোনো রিপাবলিকান প্রার্থীর চেয়ে অধিক জনপ্রিয়—এ কথা তাঁরা জানেন বলেই এ দেশের রক্ষণশীলরা আদাজল খেয়ে এই বিরুদ্ধ প্রচারণায় নেমেছেন। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক সম্মেলনে সম্ভাব্য প্রতিটি রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হেন বিষয় নেই, যার জন্য হিলারিকে দোষারোপ করেননি। ১৪ বছর আগে বিল ক্লিনটন হোয়াইট হাউস ছেড়েছেন, কিন্তু সেই তখন প্রেসিডেন্ট থাকাকালে মনিকা লিউনস্কির সঙ্গে তিনি যে ফষ্টিনষ্টি করেছেন, তা–ও তুলে এনেছেন। তাঁদের কথা শুনে মনে হবে, ক্লিনটন নয়, তাঁর স্ত্রী হিলারিই সেই স্ক্যান্ডালের জন্য দায়ী।
শুধু দক্ষিণপন্থী মহল নয়, ডেমোক্রেটিক দলের ভেতরেও, বিশেষত এর বামঘেঁষা অংশ মনে করে, হিলারি প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বিল ও হিলারি উভয়েই ওয়াল স্ট্রিট অর্থাৎ করপোরেট মহলের সঙ্গে খোলামেলাভাবে আঁতাতে লিপ্ত। বিল ক্লিনটন তাঁর ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার চাঁদা তুলেছেন, যাঁরা চাঁদা দিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই সন্দেহজনক চরিত্রের মানুষ। দুর্নীতিবাজ বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানও এই তালিকায় রয়েছেন। এই সেদিনও হিলারি এক ভাষণ দিয়ে এক করপোরেশনের কাছ থেকে ৩০ হাজার ডলার ফি আদায় করে নিয়েছেন। ফলে, এমন একজন প্রার্থী প্রেসিডেন্ট হলে আমেরিকার মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্তের কোনো লাভ হবে না।
রোড আইল্যান্ডের সাবেক গভর্নর লিঙ্কন শেফি তুলেছেন অন্য আরেক আপত্তি। তাঁর যুক্তি, ২০০২ সালে যাঁরা ইরাক যুদ্ধের পক্ষে কংগ্রেসে ভোট দিয়েছেন, তাঁরা কেউই প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নন। বলাই বাহুল্য, হিলারি ও আরও ৭৫ জন মার্কিন সিনেটর, যাঁদের অধিকাংশই রিপাবলিকান, সে যুদ্ধের অনুমোদন দিয়েছিলেন। এ কথাও মনে রাখা ভালো, ২০০৮ সালে বারাক ওবামার হাতে তাঁর পরাজয়ের বড় কারণই ছিল ইরাক যুদ্ধ প্রশ্নে তাঁদের ভিন্ন অবস্থান।
এসব যুক্তি তুলে ধরে স্বঘোষিত প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটরা হিলারির বদলে বামপন্থী মহলে জনপ্রিয় ম্যাসাচুসেটস থেকে নির্বাচিত সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনকে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য উসকে দিচ্ছিলেন। কিন্তু সিনেটর ওয়ারেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি সে লড়াইতে আগ্রহী নন। তাই হিলারিকে চ্যালেঞ্জ করে এমন আর কোনো ‘সিরিয়াস’ প্রতিদ্বন্দ্বী এই মুহূর্তে নেই। ম্যারিল্যান্ডের সাবেক গভর্নর মার্টিন ও’ম্যালে ইঙ্গিত করেছেন, তিনি হিলারির বিরুদ্ধে প্রার্থিতা লাভের জন্য প্রচারণায় নামবেন। কিন্তু সে লক্ষ্যে কোনো বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ তিনি নেননি। কেউ কেউ ভার্জিনিয়া থেকে নির্বাচিত সাবেক সিনেটর জিম ওয়েবকে একজন সম্ভাব্য ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন। কিন্তু খুব কম লোকই আছেন, যাঁরা মনে করেন হিলারিকে হারানোর মতো প্রস্তুতি বা রেস্ত তাঁদের রয়েছে।
ফলে নিজ দলের ভেতর কোনো লক্ষণীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই হিলারি প্রস্তুতিপর্বের লড়াই উতরে যাবেন—এ কথা অনেকেই বিশ্বাস করেন। কিন্তু সে ‘সড়ক-বাধা’ অতিক্রমের পর চূড়ান্ত পর্যায়ের লড়াইেয় টিকে থাকতে পারবেন কি না, সেটি অবশ্য স্বতন্ত্র প্রশ্ন। এই ভাষ্যকারের নিজের ধারণা, অন্য কোনো বড় ধরনের স্ক্যান্ডালে জড়িয়ে না পড়লে এবং স্বাস্থ্যগত কোনো জটিলতা প্রকাশিত না হলে, হিলারির হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তন প্রায় নিশ্চিত। মনে রাখা দরকার, ২০১৬ সালে হিলারির বয়স হবে ৬৯। সেদিক দিয়ে তিনি হবেন দ্বিতীয় বয়োবৃদ্ধ প্রেসিডেন্ট। এর আগে রোনাল্ড রিগ্যান ৭০ বছর বয়সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
হিলারির নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনার পক্ষে প্রধান যুক্তি, অন্য যেকোনো প্রার্থীর চেয়ে তিনি অধিক অভিজ্ঞ। শুধু আমেরিকায় কেন, সারা পৃথিবীতে খুব বেশি লোক নেই যিনি হিলারির নাম শোনেননি। রিপাবলিকান দলে যিনিই মনোনয়ন পান না কেন, হিলারির ‘নেম-রিকগনিশন’-এর সঙ্গে তাঁকে পাল্লা দিতে হবে। কাজটা খুব সহজ নয়। ৪০ বছর ধরে হিলারি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাঁর প্রতিটি কথা ও কাজের সঙ্গে এ দেশের মানুষের পরিচয় আছে। রিপাবলিকানদের সব চেষ্টা সত্ত্বেও এ দেশের অধিকাংশ মানুষ তাঁকে যেকোনো রিপাবলিকানের চেয়ে অধিক যোগ্য প্রার্থী মনে করে। মনে রাখা ভালো, ভোটাররা এমন একজনকে তাঁদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চান, যিনি তাঁদের চোখে অভিজ্ঞ ও এই পদের জন্য যোগ্য।
অন্য বড় কারণ আমেরিকার রাজনৈতিক বিভক্তি। বর্তমানে এক হোয়াইট হাউস ছাড়া মার্কিন রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি শাখায় রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রণ। কংগ্রেসের উভয় কক্ষ এবং বিচার বিভাগেও রক্ষণশীলদের দৌরাত্ম্য। অধিকাংশ গভর্নর পদেও রিপাবলিকানরা। এই অবস্থার আশু পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই। সুতরাং, সুস্থ বুদ্ধির কোনো ভোটার চাইবেন না প্রেসিডেন্ট পদটিও রিপাবলিকানদের হাতে চলে যাক।
তৃতীয় কারণ, ২০০৮ সালে নিজের প্রার্থিতার পক্ষে যে ‘কোয়ালিশন’টি বারাক ওবামা গড়ে তোলেন, তা মোটের ওপর এখনো টিকে আছে। এই কোয়ালিশনের মুখ্য সদস্য অনূর্ধ্ব-৩০ যুবক-যুবতী, আফ্রিকান-আমেরিকান ও হিস্পানিক ভোটার। এর সঙ্গে যোগ করুন মহিলা ভোটারদের। দীর্ঘদিন থেকে আমেরিকার নারী সমাজ একজন নারী প্রেসিডেন্টের অপেক্ষায়। অন্য কোনো কারণে না হোক, এই ‘জেন্ডার অ্যাডভানটেজ’ হিলারিকে দৌড়ে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে রাখবে। যেকোনো রিপাবলিকান প্রার্থীর চেয়ে তো বটেই।
গত ছয় বছরে ওবামার জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে, কিন্তু ২০০৮ সালের যে কোয়ালিশন তিনি নির্মাণ করে, তাঁদের সিংহভাগ এখনো তাঁর নেতৃত্বে আস্থাবান। সে কথা মাথায় রেখে হিলারি খুব ভেবেচিন্তে ওবামাকে আলিঙ্গন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি ওবামার অংশীদার, এভাবেই নিজেকে উপস্থাপন করতে চান, ওবামা থেকে পালিয়ে থাকতে চান না। ওবামার ছয় বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর আমেরিকার অর্থনীতি আগের চেয়ে অনেক ভালো, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তথ্যাভিজ্ঞ মহল বলছে, হিলারি ওবামার অর্থনৈতিক সাফল্যকে তাঁর ও তাঁর দলের সাফল্য বলেই দেখাতে চাইবেন। আফ্রিকান, আমেরিকান ও হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যে ওবামার জনপ্রিয়তা এখনো অটুট। তার সঙ্গে যোগ করুন মহিলা ভোটারদের সংখ্যা।
খোদ ওবামা হিলারির প্রার্থিতা ঘোষণার আগ মুহূর্তে সাংবাদিকদের বলেছেন, তাঁর বিশ্বাস, হিলারি একজন যোগ্য প্রেসিডেন্ট হবেন। হিলারিকে তিনি ‘আমার বন্ধু’ বলেও সম্বোধন করেন। হিলারি বা দলের সঙ্গে কথা না বলে ওবামা এমন মন্তব্য করেছেন, তা ভাবার কোনো কারণ নেই।
হিলারির বিজয়ের পক্ষে অন্য সম্ভাব্য যুক্তি খোদ রিপাবলিকান পার্টি ও এই দলের প্রার্থীরা। প্রাইমারি পর্যায়ে তাঁদের প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে প্রায় সব রিপাবলিকান প্রার্থী সবচেয়ে কট্টর ও দক্ষিণপন্থী অবস্থান নেবেন—এ কথা প্রায় নিশ্চিত। অভিবাসন থেকে বৈশ্বিক উষ্ণতা, হেন প্রশ্ন নেই যাতে রিপাবলিকান প্রার্থীরা তাঁদের ‘বেস’ বা তৃণমূলকে খুশি করতে সবচেয়ে অবাস্তব ও যুক্তিবিরুদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করবেন। গর্ভপাতের মতো প্রশ্নে তাঁদের প্রত্যেকেরই চলতি অবস্থান অতিরক্ষণশীল। প্রার্থিতা নিশ্চিত হলে দলের মনোনীত প্রার্থী তাঁর অবস্থান বদলাবেন, তা আমরা জানি। কিন্তু আগামী এক বছর প্রাইমারি প্রক্রিয়ায় তাঁরা যা বলবেন, তার কোনোটাই ইথারে মিলিয়ে যাবে না। হিলারি ও তাঁর নির্বাচনী দল সেসব কথার প্রতিটি বারবার শুনিয়ে ভোটারদের মনে করিয়ে দেবেন কেন এই কট্টর প্রার্থীকে নির্বাচিত করা তাঁদের স্বার্থের পরিপন্থী।
এসব কারণে হিলারির দলের প্রার্থিতা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে একধরনের অনিবার্যতা রয়েছে। সেটি তাঁর জন্য সুখবর বটে, কিন্তু তা আবার বিপদের কারণও হতে পারে। ২০০৮ সালে সেই রকম অনিবার্য অবস্থান থেকেই তিনি শেষ পর্যন্ত ঠকে গিয়েছিলেন। এবারও সেই একই ঘটনা ঘটবে না, এ কথা হলফ করে বলা কঠিন। তবে টেবিলে এই মুহূর্তে যে কখানা তাস রয়েছে, তা দেখে বলা যায়, তেমন বিপর্যয়ের আশঙ্কা কার্যত শূন্য।
রাজনীতিতে অবশ্য শেষ বলে কোনো কথা নেই। হিলারির ব্যাপারেও না।
হাসান ফেরদৌস: যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি।