Showing posts with label বান্দরবান. Show all posts
Showing posts with label বান্দরবান. Show all posts

Friday, February 13, 2026

২০ কিলোমিটার দূরে ভোটকেন্দ্র, যেতে হয় হেঁটে by বুদ্ধজ্যোতি চাকমা

বান্দরবানের নীলগিরি পর্যটনকেন্দ্র–সংলগ্ন কাপ্রু পাড়া। এই পাড়ার বাসিন্দা মেনদুই ম্রো জানান, তাঁদের ভোটকেন্দ্রের নাম পালংমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ কেন্দ্রে পৌঁছাতে হেঁটে যেতে হবে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। আবার সড়কপথে যানবাহনে জেলা শহর ও সরই হয়ে গেলে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে কেন্দ্রটি। ভোট দিতে গেলে ভোটকেন্দ্রের কাছে রাতযাপনের প্রয়োজন পড়বে ভোটারদের।

একই অবস্থা বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের দোলাপাড়া, তাংখুংপাড়া, মংহ্লাপাড়ার ভোটারদেরও। তাংখুংপাড়ার বাসিন্দা লাং রাও ম্রো জানান, তাঁদের আট কিলোমিটার  হেঁটে জিন্দাবটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ভোট দিতে যেতে হয়।

কেবল মেনদুই ম্রো ও রাও ম্রো নয়, বান্দরবানের অন্তত তিনটি উপজেলার দুর্গম অনেক এলাকার বাসিন্দাদেরই ভোটকেন্দ্রে যেতে হয় দীর্ঘ পথ হেঁটে। অনেক ক্ষেত্রে কিছুদূর গিয়ে সড়কপথ থাকলেও ভোটের দিন যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় এই ভোটারদের। ফলে এসব এলাকার ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসাও চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে সম্প্রতি উঠে এসেছে নির্বাচন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়ে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায়।

বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ের বাবুপাড়ার বাসিন্দাদের একজন ৭৭ বছর বয়সী মেননী ম্রো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে হলে তাঁকে পাহাড় ও ঝিরি-ঝরনা পেরিয়ে হেঁটে যেতে হবে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের মুরংবাজারে। ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় তিন ঘণ্টা। অবশ্য পাড়া থেকে কিছুদূরে গিয়ে গাড়ি চলাচলের রাস্তা রয়েছে। তবে ভোটের দিন যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় হাঁটা ছাড়া উপায় নেই তাঁর। এ অবস্থায় এত দূর পথ পাড়ি দিয়ে ভোট দিতে যাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন বলে জানালেন মেননী ম্রো।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান আসনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৮৬টি। এর মধ্যে অতিদুর্গম কেন্দ্র ৩৮টি, যেখানে মুঠোফোনের নেটওয়ার্কও নেই। এসব কেন্দ্রের অধিকাংশে সড়ক যোগাযোগ নেই, কোনোটিতে সীমিত আকারে রয়েছে। ভোটারদের পায়ে হেঁটে কেন্দ্রে আসতে হয়।

বান্দরবানের ৩০টি ভোটকেন্দ্রে কিছুদূর পায়ে হেঁটে এবং এরপর সড়কপথে যানবাহনে যাতায়াত করা সম্ভব। কিন্তু ভোটের দিন যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় হেঁটেই যেতে হয় ভোটারদের। আসনের অন্তত ৫০টি ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই।

নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, বান্দরবানে অনেকটা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ১১টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানো হয় হেলিকপ্টারে করে। ওই কেন্দ্রগুলোকে ‘হেলিসটি’ কেন্দ্র বলা হয়। তবে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারিত হওয়ায় আগের চেয়ে ‘হেলিসটি’ কেন্দ্র কমে এসেছে। আগে বান্দরবানে ১৫ থেকে ১৮টি ‘হেলিসটি’ কেন্দ্র ছিল।

দুর্গম এলাকার স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি বলেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে ভোটারদের চিহ্নিত করে তাঁদের যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। প্রয়োজনে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও কমিশন থেকে করা যেতে পেরে। নির্বাচন কমিশন এই ব্যবস্থা না নেওয়ায় অনেক সময় প্রার্থীরা ‘অনৈতিকভাবে’ এসব সুবিধা ভোটারদের জন্য নিশ্চিত করেন, যা নিয়ে সমালোচনা হয়।

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল শুক্কুর বলেন, জেলায় দুর্গম কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি থানচি, রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলায়। থানচি উপজেলা সদর থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে সর্বশেষ ভোটকেন্দ্র বড় মদক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

থানচির জনপ্রতিনিধিরা জানান, রেমাক্রী ইউনিয়নের বড় মদক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে মিয়ানমারের সীমান্তসংলগ্ন পানঝিরি, লৈইক্রী ও আন্ধারমানিক থেকে বাসিন্দারা ভোট দিতে আসেন। এ ক্ষেত্রে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করলে জনপ্রতি এক হাজার টাকা খরচ হয়। এক রাত থাকা-খাওয়ার খরচসহ প্রায় দুই হাজার টাকা প্রয়োজন। তিন্দু ইউনিয়নের প্রতিটি কেন্দ্রেরও একই রকম অবস্থা।

নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বান্দরবানে ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করে নির্বাচন আয়োজনের জন্য ১০টি চ্যালেঞ্জ শনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে দুর্গম এলাকার ভোটকেন্দ্রে ভোটার নিয়ে আসা, আঞ্চলিক দলগুলোর সশস্ত্র কার্যক্রম, মুঠোফোন নেটওয়ার্কহীন ও বিদ্যুৎবিহীন কেন্দ্রের ফলাফল দ্রুত পৌঁছানোর বিষয়টি রয়েছে।

জানতে চাইলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল আলম বলেন, চ্যালেঞ্জগুলো প্রকৃত নয়, অনুমিত। এ পর্যন্ত এসব বিষয়ে কোনো প্রার্থী অভিযোগ করেননি। তবে এটা ঠিক, দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতির কিছুটা চ্যালেঞ্জ আছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, দুর্গম এলাকার ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের যাতায়াতের সমস্যার ব্যাপারে আলাপ চলছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে জানানো হবে। নির্বাচন কমিশন থেকে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা এত স্বল্প সময়ে সম্ভব নয়, তবে এলাকার বাস্তবতায় সীমিত পরিসরে যানবাহন চালু রাখা যায় কি না, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-02-04%2Fpwcvwyyr%2F5ded41de-31ed-4577-8e1d-6540fb29281b.jfif?rect=44%2C0%2C534%2C356&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়। ফাইল ছবি

Tuesday, January 13, 2026

কুকিদের অশান্তিময় এক বছর ও ইতিহাসের নতুন অধ্যায় by আলতাফ পারভেজ

প্রকাশ ২৭ এপ্রিল ২০২৪ঃ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হিন্দিভাষী, বাংলাভাষী এবং বার্মিজদের ত্রিমুখী সংখ্যাগরিষ্ঠতার মুখে থাকা কুকি–চিন–মিজো–বমদের বঞ্চনা ও অধিকারের পাশাপাশি তিনটি দেশে তাদের সশস্ত্র তৎপরতা ও এর প্রভাব নিয়ে লিখেছেন আলতাফ পারভেজ

‘কুকিদের’ সম্পর্কে বাংলাদেশের সংখ্যাগুরু মানুষ সামান্যই অবহিত ছিল। এর মধ্যে পরপর চারটি ঘটনা ঘটল। প্রায় এক বছর আগে মণিপুরে মেইতেই-কুকি সংঘাত বাধল। একই সময়ে মিয়ানমারের চিন প্রদেশে বেগবান হলো বামারদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের প্রতিরোধযুদ্ধ। পরপরই বান্দরবানে কুকিরা নজর কাড়ল কিছু দাবিদাওয়া তুলে ধরে।

মণিপুর, চিন, বান্দরবানের ঘটনাবলির খবরাখবর গেল মিজোরামে। সব সহজাতির সঙ্গে সংহতি দেখিয়ে সেখানেও কিছু মিটিং-মিছিল হলো। এভাবেই গত এক বছরে কুকি-দুনিয়া বিশেষ মনোযোগ পেল অকুকিদের। সেই সূত্রেই অনেকের আগ্রহ এখন জাতিসত্তাটি নিয়ে। তবে এই আগ্রহের আগে-পরে কুকি অঞ্চলগুলোতে সহিংসতাও চলেছে। যুগের পর যুগ আশপাশের সংখ্যাগুরুর সাংস্কৃতিক দাপট ও নানানমুখী চাপে কুকি সমাজ ক্লান্ত ও বিপন্ন।

বুক চিতিয়ে না দাঁড়ালে কোনো সংখ্যাগুরু কোনো দিন তাঁদের কথা শোনেননি। ফিরেও তাকাননি। আবার সশস্ত্রতা এবং সন্ত্রাসও তাঁদের শান্তি ও স্বস্তির অতীত ফিরিয়ে আনতে পারেনি। পাশাপাশি কল্পনার স্বাধীন ভূমি ‘জালেন-গামে’র কথাও ভুলতে পারে না তাদের ইতিহাস।

মূলত তাঁরা ‘জো’ এবং শান্তিতে নেই

‘কুকি’ শব্দের সঙ্গে চলে আসে ‘চিন’ শব্দ। ‘চিন’ কুকি পরিবারের আরেক ট্রাইবমণ্ডলী। একই পরিবারের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয় মিজো, বম, খিয়াং, লুসাইদেরও। সবাই তাঁরা বৃহত্তর ‘জো’ জাতির মানুষ। যেহেতু এসব জাতিসত্তার মানুষ দু-তিনটি রাষ্ট্রের সীমানায় বহু রাজ্যে বিভক্ত এবং এ রকম সব রাষ্ট্রে তাঁদের অবস্থান বেশ প্রান্তিক, সে কারণে তাঁদের সঠিক সংখ্যা বলতে পারে না কেউ।

কেবল অনুমান করা হয়, সবচেয়ে বেশি জো আছে মিজোরামে। ১০ লাখ অধিবাসীর রাজ্যটিতে জোরা হবে ৮ লাখ। ৩৬ লাখ মানুষের মণিপুরে ১৫-২০ শতাংশ হলো জো। রাজধানী ইম্ফলে তাঁদের সংখ্যা ৬-৭ শতাংশ ছিল। এখন অনেকটাই নেই।

■ কুকি-চিন-বম-মিজোরা দু-তিনটি রাষ্ট্রের সীমানায় বহু রাজ্যে বিভক্ত এবং এ রকম সব রাষ্ট্রে তাঁদের অবস্থান বেশ প্রান্তিক।

■ মণিপুরে কুকি-মেইতেই সংঘাতের মধ্যেই বান্দরবানের জো অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অশান্তি ও অস্থিরতা শুরু হয়।

■ জোরা এখন মিজোরাম ও বান্দরবানের সঙ্গে স্বতন্ত্রভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যও করতে চাইছেন। বিষয়টি কোনো কোনো দেশের জন্য অস্বস্তিকর।

চিন প্রদেশে জো আছেন চার-পাঁচ লাখ। সেখানে তাঁরাই সংখ্যায় বেশি। তবে প্রায় ৫০টি ট্রাইবে বিভক্ত। নাগাল্যান্ড ও বান্দরবানেও জোরা আছেন যথাক্রমে ৩০ ও ১৫ হাজারের মতো। ফলে অনুমাননির্ভর হিসাব বলে, দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া মিলে জো জাতির মানুষ আছেন আনুমানিক ২০ লাখ।

এর মধ্যে আবার কুকি-চিন-মিজো সমাজের ছোট একটি অংশ নিজেদের ‘বেনে মেনাশে’ নামে ইহুদি ঐতিহ্যের হারিয়ে যাওয়া একটি গোত্র হিসেবেও মনে করে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার দূরে কীভাবে তারা এল, এ নিয়ে নানা মত আছে। এ রকম দাবিদার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ আছেন মণিপুরে। যাঁদের অনেকে অবশ্য মেইতেইয়ের তাড়া খেয়ে এখন মিজোরামে শরণার্থী। ছোট এই ট্রাইবসহ গত এক বছরে মণিপুর থেকে চিন-বান্দরবান—সর্বত্র জোরা অশান্তিময় এক জীবনে আছে।

যে আগুন থামেনি এক বছরেও

সমকালীন ইতিহাসে জো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আঘাতে এসেছে মণিপুরে। এক বছর ধরে সেখানে সহিংসতা চলছে। রাজ্যের বড় জাতি মেইতেইদের ‘শিডিউল ট্রাইব’ সুবিধা দেওয়ার প্রতিবাদ জানাতে আয়োজিত কুকি সমাবেশ থেকে ওই সংঘাতের শুরু।

প্রথম দিকে ক্ষয়ক্ষতি সমানে সমান হলেও ক্রমে ‘দাঙ্গা’ একপক্ষীয় চেহারা নিয়েছে বলে অভিযোগ আছে। কুকিদের ইম্ফল থেকে এখন অনেকটাই সরে যেতে হয়েছে। জোদের ক্ষোভের আগুন সেখানে এত বিস্তৃত যে ভারতের চলতি জাতীয় নির্বাচনও বর্জন করেছে তারা।

মণিপুরে লোকসভার দুটি আসন। ‘আউটার মণিপুরের’ আসনটিতে সচরাচর কুকিরা দাঁড়ান এবং জেতেন। এটা ‘শিডিউল ট্রাইবদের’ জন্য সংরক্ষিত। কুকিরা নির্বাচনে না থাকায় হয়তো কোনো নাগা এই আসনে জিতে আসবেন, যাঁরা এ মুহূর্তে কুকিদের আরেক জাতিগত প্রতিপক্ষ।

রাজনৈতিক বিবেচনায় মণিপুরজুড়ে কুকিদের এখন চূড়ান্ত প্রান্তিক অবস্থা। কেউ যেন তাদের কথা শোনার জায়গায় নেই। বিশেষ করে রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলে। বিধানসভার কুকি এমএলএরাও সেখানে যান না বা যেতে পারেন না। ৬০ সদস্যবিশিষ্ট বিধানসভায় কুকি প্রতিনিধিদের মধ্যে যাঁরা বিজেপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাঁরাও ইম্ফলে নিরাপত্তাসংকটে ভোগেন।

রাজধানীতে অভিগম্যতা না থাকায় কুকিরা বিচারব্যবস্থার সুবিধা থেকেও বঞ্চিতও হচ্ছেন। এ অবস্থায় রাজ্যের এখনকার ২২ হাজার বর্গকিলোমিটার থেকে ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটার কেটে তাঁদের জন্য আলাদা রাজ্য চাইছেন কুকিরা। এই দাবিতে যুক্ত হয়েছেন রাজ্য মন্ত্রিসভার দুই কুকি সদস্যও। বলা বাহুল্য, মেইতেইরা তার বিরুদ্ধে। কুকিদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসে’র অভিযোগ আছে তাঁদেরও।

অস্থিরতার ঢেউ বান্দরবানেও

মণিপুরে কুকি-মেইতেই সংঘাতের মধ্যেই বান্দরবানের জো অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অশান্তি ও অস্থিরতা শুরু হয়। যার একরকম পরিণতি হিসেবে সর্বশেষ এপ্রিলে একদিকে ‘ব্যাংক ডাকাতি’, অন্যদিকে অনেক মানুষ গ্রেপ্তার হলেন। দ্য নিউএজ ৯ এপ্রিল বিভিন্ন প্রশাসনিক সূত্রের বরাতে ৫৪ ব্যক্তির আটকের খবর দিয়েছিল। যাঁদের মধ্যে ১৮ জন জো নারীও আছেন। নিরাপত্তা প্রশ্নে নারীদের আটকের ঘটনা এদিকে অতীতে কমই ঘটেছে। ব্যাংক ডাকাতির মতো ত্রাসও বিরল।

বান্দরবানের চলতি অবস্থার শেষ কোথায়, সেটা কেউ জানে না। বমদের অনেক গ্রাম এখন মানুষশূন্য। কোথায় চলে গেলেন এসব মানুষ, তার কোনো হদিসও পাওয়া গেল না সংবাদমাধ্যমে। কেবল বলা হচ্ছে, সেখানে জনজীবন আগের মতো স্বাভাবিক নেই। ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থাও খারাপ।

এর মধ্যে স্থানীয় ত্রিপুরারা জানাচ্ছেন, কুকি-চিন বলে অনেক ত্রিপুরাকেও আটক করা হয়েছে। সত্য হলে, এসব নিশ্চয়ই পাহাড়ি সমাজে জটিলতা বাড়াচ্ছে। বরাবরই দক্ষিণ এশিয়ায় জাতিগত সংঘাতের ইতিহাস একধরনের অন্ধকারাচ্ছন্ন একমুখী সড়কের মতো। সংখ্যাগুরু সমাজের আন্তরিক ও সুচিন্তিত চেষ্টা ছাড়া যার নিদান নেই।

স্বায়ত্তশাসনচর্চায় ‘চিনল্যান্ড’

মণিপুর ও বান্দরবানের তুলনায় চিন প্রদেশের জোরা ভিন্ন ধাঁচের এক সময় পার করছে। পাহাড়ি প্রদেশটির কুকি-চিনরা বহুকাল প্রকৃত স্বায়ত্তশাসনের জন্য সংগ্রাম করছে। দেশটির প্রধান জাতিসত্তা বামারদের সঙ্গে পেরে উঠছিল না তারা। ২০২১ থেকে যখন গণতন্ত্রের প্রশ্নে মিয়ানমারে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের সুযোগ নেয় কুকি-চিনদের বড় একাংশ। চিন প্রদেশের অনেকখানি মুক্তাঞ্চলও বানিয়েছে তারা।

ভারত সীমান্তবর্তী স্থলবন্দরগুলো অনেকটাই এখন সশস্ত্র চিনদের দখলে। সংবিধান, প্রশাসন, বিচার ও শিক্ষাব্যবস্থাও গড়ে তুলেছে নিজেদের ভাবনাচিন্তায়। চিন প্রদেশ এভাবে দ্রুত ‘চিনল্যান্ড’ হয়ে যাচ্ছে। গত ডিসেম্বরে ‘চিনল্যান্ডে’র প্রথম রাজনৈতিক সম্মেলন হলো ঐতিহাসিক শহর ক্যাম্প ভিক্টোরিয়ায়।

মিয়ানমারে জান্তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ‘জাতীয় ঐক্য সরকার’ (এনইউজি)–এর নেতারাও বেশির ভাগ চিনল্যান্ডে থাকেন এখন। চিনল্যান্ড ন্যাশনাল ফ্রন্ট (চিএনএফ) এবং এনইউজি রীতিমতো চুক্তি করে রাজনৈতিক সম্পর্ক পাতিয়েছে।

সংখ্যাগুরু জাতির সঙ্গে সংখ্যালঘু জাতির প্রতিনিধিদের এ রকম চুক্তি এ অঞ্চলে এই প্রথম। এতে তাঁরা উভয়েই লাভবান হচ্ছেন। মিয়ানমারে গণতন্ত্রের সংগ্রাম বিজয়ী হলে চিন-বামার ওই চুক্তির চূড়ান্ত সুফল দেখা যাবে। চিনের রাজনীতিবিদ এল এইচ সেখং এনইউজির হয়ে পুরো মিয়ানমারের জন্য নতুন সংবিধান লিখছেন।

চিনে জো জাতির ভেতর বেশ কটি উপশাখা রয়েছে। ৪০টির মতো ভাষায় কথা বলেন এখানকার পাহাড়ের মানুষ। স্থানীয় নানান বিষয়ে এদের দ্বন্দ্ব-বিবাদও আছে এবং সব জো চিনল্যান্ড কাউন্সিলে যুক্তও হননি। কিন্তু এই মুহূর্তে সাধারণভাবে তাঁরা সবাই বেশ স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছেন।

এই জোরা এখন মিজোরাম ও বান্দরবানের সঙ্গে স্বতন্ত্রভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যও করতে চাইছেন। বিষয়টি আশপাশের কোনো কোনো দেশের জন্য অস্বস্তিকর। কারণ, চিন-মিজোরাম-বান্দরবানজুড়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের ভিন্ন রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় তাৎপর্যও আছে। অর্থনীতি যে অনেক সময় রাজনীতি ও ধর্মকেও তার বিকাশে সঙ্গে নেয়, সেটি অসত্য নয়।

জোদের নেতৃত্বে মিজোরাম

চিএনএফ এবং মিজোরামের এমএনএফ (মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট) হলো পুরো কুকি জগতের দুটি প্রধান জাতীয়তাবাদী সংগঠন। মণিপুরের কুকিদেরও একটি সশস্ত্র সংগঠন আছে কেএনও বা কুকি ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন নামে। চিএনএফ ও কেএনও গঠিত হয়েছিল একই বছর, ১৯৮৮ সালে।

চিএনএফ এখনো প্রবলভাবে সশস্ত্র ধরনের হলেও মিজোদের এমএনএফ নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে চলে এসেছে। মণিপুর দাঙ্গার পর কেএনও কর্মীরা আবারও অস্ত্র ব্যবহার করছেন বলে খবর আছে। দাঙ্গার আগপর্যন্ত তাঁরা ভারত সরকারের সঙ্গে অস্ত্রবিরতিতে ছিল।

সীমান্তের ওদিকের এ রকম অস্থিরতার মধ্যেই পার্শ্ববর্তী বান্দরবানে একই রকম আরেক সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট নিয়ে আলোচনা উঠেছে। জো জগতের আলোচ্য চারটি সংগঠনের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেই বিতর্ক এ মুহূর্তে যতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, ততটাই আড়ালে পড়ে আছে, কী ধরনের আর্থসামাজিক পরিবেশে বিভিন্ন দেশে বিভক্ত হয়ে থাকা জো সমাজে সশস্ত্রতার ব্যাপারগুলো দানা বাঁধল।

দেশি-বিদেশি গবেষকদের সূত্রে দেখা যায়, একদা জো সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বঞ্চনা এবং প্রান্তিকতার আরেক পার্শ্বফল হিসেবে খ্রিষ্টধর্মের বিকাশ শুরু হয়েছিল।

মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধে গণতন্ত্রপন্থীদের সঙ্গে পশ্চিমের নাগরিক সমাজের যোগাযোগ মূলত চিনল্যান্ড ও মিজোরামের যাজকদের মাধ্যমে। তবে জো বা কুকিদের সমস্যা ‘খ্রিষ্টত্ব বনাম হিন্দুত্ব’র কিংবা ‘খ্রিষ্টত্ব বনাম বৌদ্ধধর্মীয়’ সমস্যা নয়। এ হলো যার যার জনপদে প্রত্যাশিত প্রশাসনিক অংশীদারত্বের ঘাটতি ও দারিদ্র্যজনিত সমস্যা।

ধর্ম ও স্বায়ত্তশাসন বিতর্ক

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি জো সমাজকে বেশ কটি দেশে বিভক্ত করে যে ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটিয়ে গেছে, তার মৃদু কিছু ক্ষতিপূরণ হতে পারত এলাকার প্রশাসনে এসব মানুষের কার্যকর সামাজিক-অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ ঘটলে। আইজল, ইম্ফল কিংবা ক্যাম্প ভিক্টোরিয়া—সর্বত্র জো নেতাদের ও রকম মত। সেটি হয়তো ধীরে ধীরে হবে।

তবে প্রতিটি দেশে সংখ্যালঘুর শাসনতান্ত্রিক অধিকারের দাবি সংখ্যাগরিষ্ঠের কাছে অতি স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ। বরং আঞ্চলিক অনেক শক্তি এ রকমও ভাবে, কুকি অঞ্চলে ‘ভারসাম্য’ আনতে অন্যান্য ধর্মের প্রভাব বাড়াতে হবে। এই সূত্রেই একদা মণিপুরে মেইতেইদের সঙ্গে আরএসএসের মৈত্রী বেড়েছিল। আবার কুকিদের কেএনও’ও সেখানে একদা বিজেপিকেই রাজনৈতিক সমর্থন দেয়। এই সবই ‘স্বার্থের সম্পর্ক’ এবং প্রতিনিয়ত তার ধরন বদলাচ্ছে সীমান্তের এদিকে-ওদিকে।

মণিপুরে আরএসএসের মনোযোগ বাড়ার একটা ফল হলো ২০১২ সালেও যে মণিপুরে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি কোনো আসন পায়নি, তারাই পরের নির্বাচনে ২১টি আসন পায় এবং ক্রমে এখন সেখানে সরকার চালাচ্ছে।

অপর দিকে একই সময়ে ৬০ আসনের বিধানসভায় কংগ্রেসের শক্তি কমতে কমতে ৪২ থেকে ৫–এ এসে দাঁড়িয়েছে। তবে আরএসএস মণিপুরে হিন্দু মেইতেইদের প্রতি বেশি পক্ষপাত দেখাতে গিয়ে পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ইতিমধ্যে এবং এভাবে পুরো কুকি জগতেও প্রবল ঝাঁকুনি তৈরি হয়েছে।

সব মিলে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হিন্দিভাষী, বাংলাভাষী এবং বার্মিজদের ত্রিমুখী সংখ্যাগরিষ্ঠতার মুখে থাকা কুকি-চিন-মিজো-বমদের শান্তি ও স্বস্তির নিরিবিলি পুরোনো দিনে ফিরে যাওয়া আগামী দিনে কতটা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে অনেক অনিশ্চয়তা।

তবে এর মধ্যে মণিপুরে শান্তি ফেরাতে কুকিদের এলাকায় তাদের দাবিমতো যদি নতুন একটা ‘রাজ্য’ হয়, তাহলে চিন ও মিজোরামের পাশাপাশি জোদের তৃতীয় আরেক ঠিকানা হবে। এ ঘটনার আঞ্চলিক তাৎপর্যও থাকবে অবশ্যই। অনেকেই একে জো সাহিত্য-সংস্কৃতির অধরা ‘জালেন-গাম’ ধারণা দিয়েও ব্যাখ্যা করতে চাইবেন।

গত ১২ মাসে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুকি-বিশ্ব প্রকৃতই ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করল। দেখার ব্যাপার, অশান্তির সময় পেরিয়ে সামনে তারা ঐক্য ও অর্জনের পরিসর বাড়াতে পারে কি না?

আলতাফ পারভেজ, দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসবিষয়ক গবেষক

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2024-04%2F8d6bea44-53d8-4770-b664-577d9948ad3d%2FCHT.jpg?rect=155%2C0%2C891%2C594&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif

Monday, January 5, 2026

বান্দরবানে চিত্র প্রদর্শনী: পাল্লায় উঠেছে প্রাণ-প্রকৃতি, শিল্পীর তুলিতে বিপন্ন পাহাড় by বুদ্ধজ্যোতি চাকমা

প্রকাশ ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ঃ ঝিরি-ঝরনার পাথর ও জীবন্ত ব্যাঙ দাঁড়িপাল্লায় ঝুলছে। বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে। প্রাণ-প্রকৃতি যেন পণ্যে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ের নিসর্গ ও পাহাড়ি মানুষের অস্তিত্বের সংকট নিয়ে আঁকা এই ছবির সামনে দর্শকেরা মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ান। শিল্পী খিং সাই মং মারমার আঁকা ছবিটি যেন পাহাড়ের প্রাণ-প্রকৃতির দীর্ঘশ্বাস।

বান্দরবান জেলা শহরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে (কেএসআই) খিং সাই মং মারমার একক চিত্র প্রদর্শনীর শেষ দিন ছিল গতকাল সোমবার। চার দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী শুরু হয় ১৯ ডিসেম্বর। ‘রোয়া-দ্ব’ নামের এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে শিল্পীর জলরং ও তেলরঙে আঁকা ২৭টি ছবি।

শিল্পী খিং সাই মং মারমা প্রতিটি ছবিতে বান্দরবানের প্রাকৃতিক ও জাতিতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যের ছোঁয়া যেমন রয়েছে, তেমনি উঠে এসেছে হারানো সময়ের চালচিত্র। আদিবাসী ঐতিহ্যের শিকড়সন্ধানী শিল্পীর মনোভাবে পরিচয় মেলে প্রদর্শনীর নামকরণেও। ‘রোয়া-দ্ব’ নামে আয়োজিত এই প্রদর্শনী বান্দরবানের অতীতের কথা মনে পড়িয়ে দেয়। মারমা ভাষায় ‘রোয়া-দ্ব’ বলতে বান্দরবানকে বোঝায়। আরও পরিষ্কার করে বললে, ‘রোয়া-দ্ব’ হলো বোমাং সার্কেলের কেন্দ্রীয় গ্রাম বা রাজধানী।

শিল্পীর বেশ কয়েকটি ছবির শিরোনাম ‘অস্তিত্ব’। এই সিরিজের একটি ছবিতে দেখা যায়, কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল, কুকুরের পাশ ঘেঁষে বসে থাকা কয়েকটি পাহাড়ি শিশু শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে উড়ন্ত পালকের দিকে। ছবিটি দর্শককে আচ্ছন্ন করে। আক্রান্ত করে। পাহাড়ের বাস্তবতা ও তার অনিশ্চয়তার দিকে টেনে নিয়ে যায়।

‘পাথর’ শিরোনামে একটি ছবিতে দেখা যায়, ঝিরি-ঝরনার পাথর দাঁড়িপাল্লায় তোলা হয়েছে, তার নিচে একটি কাঁকড়া। কোটি বছর ধরে বালুকণা জমে সৃষ্ট পাথর বিক্রি হচ্ছে, অপর দিকে এই পাথর যার আবাস, সেই কাঁকড়ার অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে উঠছে।

শিল্পী খিং সাই মং মারমার ছবিতে হাইপাররিয়েলিজম অর্থাৎ অতিবাস্তবতা আর পরাবাস্তবতার মেলবন্ধন ঘটেছে। ফটোগ্রাফির নিখুঁত ডিটেইল পাওয়া যায় তাঁর ছবিতে। একই সঙ্গে পরিপার্শ্বকে বদলে দেওয়া নতুন বাস্তবতাও আবিষ্কার করে দর্শক।

প্রকৃতিঘনিষ্ঠ ১১টি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জীবনের প্রতিচ্ছবি উঠে এসেছে খিং সাইয়ের ছবিতে। শিল্পী খিং সাই মং বলেন, তাঁর শৈল্পিক পথচলায় পাহাড়ের ভূমি, ভূমিপুত্র ও তাদের জীবনযাত্রা ভীষণভাবে প্রভাব ফেলেছে। ছবিগুলো সেই গভীর অনুভূতির প্রতিফলন। খিং সাইয়ের এটি প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী। ঢাকা চারুকলা ইনস্টিটিউটের সাবেক এই ছাত্র এর আগে দলগতভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ১৫টি প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন।

চিত্র প্রদর্শনীতে সহযোগিতা করেছেন সেনাবাহিনীর বান্দরবান ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম রাকিব ইবনে রেজওয়ান। সমাপনী অনুষ্ঠানে এস এম রাকিব ইবনে রেজওয়ান বলেন, শিল্পী খিং সাই মং মারমার এই প্রদর্শনী দেখে আরও অনেকে অনুপ্রাণিত হবেন। তাঁর ছবি ভবিষ্যতে পাহাড়কে আলোকিত করবে।

শিল্পী খিং সাই মং মারমার একক চিত্র প্রদর্শনীতে ছবি দেখছেন এক দর্শক। গত শুক্রবার বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটে
শিল্পী খিং সাই মং মারমার একক চিত্র প্রদর্শনীতে ছবি দেখছেন এক দর্শক। গত শুক্রবার বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটে। ছবি- মং হাই সিং মারমা

Thursday, July 3, 2025

জলের কুমির যেভাবে গেল নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়চূড়ায় by আব্দুল কুদ্দুস

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু পাহাড়ে গড়ে উঠেছে দেশের একমাত্র কুমির প্রজনন খামার। প্রায় তিন হাজার কুমির রয়েছে এই খামারে, যার মধ্যে এক হাজারের বেশি রপ্তানিযোগ্য হলেও আইনি জটিলতায় তা আটকে আছে এক যুগ ধরে। দর্শনার্থীরা কুমির দেখতে এলেও খামারের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

‘জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ’—বহু পুরোনো এই বাগ্‌ধারাই বলে দিচ্ছে, এ দেশে স্মরণাতীতকাল থেকেই কুমিরের অস্তিত্ব রয়েছে। কিন্তু জলের কুমির পাহাড়চূড়ায় বসবাসের খবর যে কাউকে চমকে দিতে পারে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু এলাকার পাহাড়চূড়ায় সত্যিই দেখা মিলবে কুমিরের। তা–ও এক-দুটি নয়, কয়েক হাজার।

তুমব্রুর পাহাড়চূড়ায় রয়েছে দেশের একমাত্র বাণিজ্যিক কুমিরের খামার। ২৫ একরের ওই একটি খামারে আছে ছোট–বড় মিলিয়ে ৩ হাজার কুমির। রাস্তার পাশে একাধিক বেষ্টনীতে দেখা মেলে বাচ্চা কুমিরের লাফালাফি। কিছু বেষ্টনীতে গাছের গুঁড়ির মতো নিশ্চল পড়ে আছে কুমিরের দল। কিছু কুমির মুরগি খেতে ব্যস্ত। পাহাড়ের নিচে একাধিক জলাধারেও রয়েছে কুমির। খামারে নিয়মিত ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। ঘুরে ঘুরে কুমির দেখেন। কুমিরের জীবনচক্র জানার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ পাহাড়চূড়ায় খামার গড়ার ইতিহাস, কুমিরের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন।

সম্প্রতি নাইক্ষ্যংছড়ির ওই খামার ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এখানকার কর্মীরা জানালেন, বিদেশে কুমির রপ্তানির উদ্দেশ্যে খামারটি গড়ে তোলা হয়। তবে এখনো মেলেনি রপ্তানির অনুমতি। এ জন্য খামারটি লাভের মুখ দেখতে পারেনি এখনো।

খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এপ্রিল মাস থেকে কুমিরের প্রজনন মৌসুম শুরু হয়। এখনো মৌসুম চলছে। এর মধ্যে ডিম ফুটে বেশ কিছু ছানারও জন্ম হয়েছে। এ মৌসুমে প্রায় ২০০টি ছানার জন্ম হয়েছে। আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত আরও ১৫০টি ছানা হবে। সব মিলিয়ে খামারে কুমিরের সংখ্যা দাঁড়াবে তিন হাজারের কাছাকাছি।

যেভাবে কুমিরের খামার


নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু এলাকাটি লেক আর পাহাড়ঘেরা। এমন মনভোলানো নিসর্গের মধ্যে ২০০৮ সালে ২৫ একর জায়গায় প্রতিষ্ঠা পায় দেশের একমাত্র কুমির প্রজনন খামার। নাম ‘আকিজ ওয়াইল্ডলাইফ ফার্ম লিমিটেড’।

২০১০ সালে ৫০টি কুমির দিয়ে শুরু খামারের প্রজনন কার্যক্রম। এর ছয়-সাত বছরের মাথায় জন্ম নেয় দুই হাজারের বেশি কুমির। খামারে এখনো রপ্তানি উপযোগী এক হাজারের বেশি কুমির পড়ে আছে, কিন্তু আইনি জটিলতায় এক যুগের বেশি সময়ে একটি কুমিরও বিদেশে রপ্তানি করা যায়নি। তাতে খামারটি লাভের মুখ দেখছে না।

খামার কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে ৫০টি লোনাপানির কুমির দিয়ে প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ৫০টি কুমিরের মধ্যে স্ত্রী কুমির ছিল ৩১টি। গত ১৪ বছরে কুমিরগুলোর ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো হয়েছে।

প্রাপ্তবয়স্ক হতে কুমিরের সময় লাগে ৮ থেকে ১০ বছর। মাদি কুমির ৪০ থেকে ৮০টি পর্যন্ত ডিম দেয়। ডিম ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৮০ থেকে ৯০ দিন ইনকিউবেটরে রেখে বাচ্চা ফোটানো হয়। বাচ্চার বয়স দুই বছর হলে লিঙ্গ শনাক্ত করা যায়। লোনাপানির কুমির সর্বোচ্চ বাঁচে ১০০ বছর। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে খামারটি গড়ে তোলা হলেও রপ্তানি বন্ধ থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। কুমির রপ্তানি করতে হলে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগে।

কুমির দেখে মুগ্ধ দর্শনার্থী

সম্প্রতি খামারে গিয়ে দেখা গেছে, বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ হেঁটে হেঁটে কুমির দেখছেন। মুঠোফোনে তুলছেন ছবি। কেউ কুমিরের দিকে ছুড়ে মারেন চিপস, বিস্কুট। বেষ্টনীর পাকা দেয়ালের ভেতরে থাকায় কুমির মানুষকে আক্রমণ করতে পারে না।

পাহাড়চূড়ায় পাকা দেয়ালের সারিবদ্ধ ৮-৯টি কক্ষে (বেষ্টনীতে) রাখা আছে ১ হাজারের বেশি কুমির। বেশির ভাগ ছানা। ওজন ৫ থেকে ১০ কেজি। একটি কক্ষে ১০০ থেকে ২০০টি কুমিরছানা থাকছে গাদাগাদি করে। কয়েকটি কক্ষে বাচ্চার সঙ্গে দেখা মেলে বড় কুমিরও। কক্ষগুলোর ওপরে ছাউনি নেই। দর্শনার্থীরা বেষ্টনীর বাইরে দাঁড়িয়ে কুমিরের দৌড়ঝাঁপ দেখেন। প্রজনন মৌসুম বলে গত এপ্রিল থেকে দর্শনার্থীর সমাগম সীমিত রাখা হয়েছে।

খামার দেখতে হলে ৫০ টাকার টিকিট কাটতে হয়। টিকিটের গায়ে লেখা থাকে, ‘কুমির হিংস্র প্রাণী, তাই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। ইট, পাথর, পানির বোতল ইত্যাদি নিক্ষেপ করবেন না। এই টিকিট ৩০ মিনিট অবস্থানের জন্য প্রযোজ্য।’

স্ত্রী ও স্কুলপড়ুয়া দুই ছেলে–মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে খামার দেখতে আসেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান। আধঘণ্টা খামার দেখে মুগ্ধ পরিবারের সদস্যরা। তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালে প্রথমবার খামার দেখতে এসেই মুগ্ধ হয়েছি। এ কারণে এবার পরিবার নিয়ে এলাম।’

খামারের ইনচার্জ (তত্ত্বাবধায়ক) জীবন খান বলেন, খামারে বর্তমানে কতটি কুমির আছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। গণনা করাও কঠিন। ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কুমিরের পরিচর্যা করছেন। তবে সব মিলিয়ে খামারের কুমিরের সংখ্যা ২ হাজার ৯০০–এর বেশি হতে পারে।

খামারের একজন কর্মী (কুমির সংরক্ষক) বলেন, কুমিরছানাদের মুরগি আর গরুর মাংস কিমা করে দিনে একবার খাওয়াতে হয়। বড় কুমিরকে খাওয়ানো হয় সপ্তাহে একবার। পূর্ণবয়স্ক কুমিরকে বেশি খেতে দেওয়া হয় না। বেশি খেলে কুমিরের শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমে। তখন স্ত্রী কুমির ডিম দিতে পারে না।

প্রতি কেজি মাংস ৩০ ডলার

খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারের অনুমতি পেলে কুমিরগুলো রপ্তানি করা হবে। রপ্তানির জন্য কুমিরের ওজন ২০ থেকে ২৫ কেজি এবং লম্বায় ৫ ফুট হতে হয়। খামারে এমন কুমিরের সংখ্যা এখন ১ হাজারের বেশি। এগুলো বিদেশে রপ্তানির উপযোগী হয়েছে। বিদেশে কুমিরের প্রতি কেজি মাংস বিক্রি হয় ৩০ ডলারে। সে হিসাবে প্রতিবছরই প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার সুযোগ রয়েছে।

খামারের একটি কুমির। প্রতিদিন এসব কুমির দেখতে প্রচুর দর্শনার্থী হাজির হন। সম্প্রতি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ধুমধুমের পাহাড়ে দেশের একমাত্র কুমির প্রজনন খামারে
খামারের একটি কুমির। প্রতিদিন এসব কুমির দেখতে প্রচুর দর্শনার্থী হাজির হন। সম্প্রতি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ধুমধুমের পাহাড়ে দেশের একমাত্র কুমির প্রজনন খামারে। ছবি-প্রথম আলো

Tuesday, November 5, 2024

প্রাণিসম্পদের প্রশ্নবিদ্ধ প্রকল্প by মো. আল-আমিন

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও করেছে সংস্থাটি। তবে প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কীভাবে পূরণ হবে সেই তথ্য নেই সমীক্ষা প্রতিবেদনে। এ ছাড়া চার বছর মেয়াদি এই প্রকল্প শেষে পঞ্চম বছর থেকে আরও বরাদ্দ বিনিয়োগ করা হবে, যার মাধ্যমে প্রায় দ্বিগুণ আয়ের কথা প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু কোন খাত থেকে কী পরিমাণ আয় হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি। অন্যদিকে দেশে মাংস ও ডিমের উৎপাদন বেশি হয় বলে সমীক্ষায় জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। সেক্ষেত্রে প্রকল্পের আওতায় প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য হাঁস, মুরগি, ছাগল, ভেড়া ও কবুতর বিতরণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

সূত্র জানায়, দেশের তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধি করা প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। প্রস্তাবটি নিয়ে সম্প্রতি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সূত্র বলছে, প্রকল্প প্রস্তাবের সঙ্গে একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা সমীক্ষা) প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনটি করেছে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। স্টাডিটির আয় ও ব্যয় বিশ্লেষণ অধ্যায়ের টেবিলে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে সেটি পূর্ণাঙ্গ নয়। এতে দেখা যায়, প্রকল্প শেষে অর্থাৎ ৪ বছর পর পঞ্চম বছর আরও অতিরিক্ত ৩৭৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হলে প্রকল্প থেকে আয় হবে ৬৩৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। একইভাবে পরবর্তী বছরগুলোতে অতিরিক্ত ৩২৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হলে প্রতি বছর ৬৭৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আয় হবে। কিন্তু এই আয় প্রকল্পের কোন কোন খাত থেকে কীভাবে হবে তার কোনো হিসাব প্রতিবেদনে দেয়া হয়নি। এ ছাড়া এই আয়ের জন্য প্রতি বছর অতিরিক্ত যে ৩২৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয় করতে হবে তার সংস্থান কীভাবে হবে তারও কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সমীক্ষা প্রতিবেদনে নেই।
কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১১৬ কোটি টাকা এডিপি বরাদ্দের প্রয়োজন হবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর তথ্যে থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ১২২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরেও ঘাটতি থাকবে ৬২৬ কোটি ২১ লাখ টাকা। এমন প্রেক্ষাপটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাজেট সিলিংয়ের মধ্যে থেকে এই প্রকল্পের অর্থায়ন কীভাবে করা হবে সে বিষয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্টে কিছু উল্লেখ নেই।
সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনে প্রকল্পের ৩টি কম্পোনেন্ট প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম কম্পোনেন্টটি হলো- পার্বত্য এলাকার জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ৭২ হাজার ২৭টি পরিবারকে অনুদান হিসাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী (গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, ভেড়া ইত্যাদি) বিতরণ করা হবে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তথা দারিদ্র্যবিমোচনের মূল ম্যান্ডেট হলো পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ সমবায়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ মডেলের আওতায় এই ধরনের কাজ করে থাকে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনুদান হিসেবে উপকরণ সহায়তা দিয়ে টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কতোখানি ফলপ্রসূ তার জন্য ক্ষুদ্রঋণ মডেলের সঙ্গে কোনো তুলনামূলক বিশ্লেষণ সমীক্ষায় উল্লেখ নেই।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, পার্বত্য জেলার প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। কিন্তু সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনে পার্বত্য জেলাগুলোর প্রাণিজ আমিষের চাহিদা বা ঘাটতি এবং সরবরাহের তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্টাডি রিপোর্টে সারা দেশের দুধ, মাংস এবং ডিমের চাহিদা, উৎপাদন ও প্রাপ্যতার একটি তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। যেখানে দেখা যায়, চাহিদার তুলনায় মাংস ও ডিমের উৎপাদন বেশি রয়েছে এবং দুধের উৎপাদনে কিছুটা ঘাটতি আছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় পার্বত্য এলাকার প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য হাঁস, মুরগি, ছাগল, ভেড়া, কবুতর ইত্যাদি বিতরণের যৌক্তিকতা প্রতীয়মান হয় না বলে মনে করে পরিকল্পনা কমিশন।
প্রকল্পের দ্বিতীয় কম্পোনেন্টটি হলো রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত পিগ ফার্ম আধুনিকীকরণ। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা। রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত পিগ ফার্মটি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীন প্রতিষ্ঠান এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা। তাই রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত পিগ ফার্মটি উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে করতে হবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের তৃতীয় কম্পোনেন্টটি হলো বান্দরবান জেলায় একটি ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএলএসটি) স্থাপন করা। এই আইএলএসটি স্থাপনের বিষয়ে প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডিতে প্রস্তাব করা হলেও ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্টের ডিমান্ড অ্যানালাইসিস অংশে বাংলাদেশ লাইভ স্টক ডিপ্লোমা গ্র্যাজুয়েটদের কোন কোন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ রয়েছে সেটি নেই। এসব ক্ষেত্রে কি পরিমাণ ডিপ্লোমা গ্র্যাজুয়েটের চাহিদা রয়েছে, বর্তমানে প্রতি বছর কি পরিমাণ ডিপ্লোমা গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে ইত্যাদি বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য উল্লেখ নেই। ফলে অসম্পূর্ণ ফিজিবিলিটি স্টাডির ভিত্তিতে প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডিপিপিতে নানা অসঙ্গতি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থা তাদের মতো করে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কমিশন থেকে বেশ কিছু সুপারিশ দেয়া হয়েছে। ডিপিপি সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হবে।

Wednesday, October 30, 2024

বান্দরবানে হোটেল-রিসোর্ট রেস্টুরেন্ট বন্ধের আশঙ্কা

খরচ পোষাতে না পেরে বান্দরবানে অনির্দিষ্টকালের জন্য হোটেল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দেয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন  হোটেল-রিসোর্ট-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা। হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, সেবার মাধ্যমে সামান্য লাভের আশায় জেলা জুড়ে  কয়েক শত লোক পর্যটন খাতে  বিনিয়োগ করেছেন। এসব বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অধিকাংশই ঋণগ্রস্ত। এদের সঙ্গে গণপরিবহন, চাঁদের গাড়ি, বার্মিজ স্টোর, ইঞ্জিনচালিত বোট, থ্রি হুইলার, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন খাতে যুক্ত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে অন্তত ২০ হাজারেরও অধিক মানুষ। যা সম্পূর্ণ পর্যটকনির্ভর। তবে ২০১৯ সাল থেকে করোনা ভাইরাস, বান্দরবানে ভয়াবহ বন্যা, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি চিন-এর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে লাগাতারভাবে বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। বিগত কয়েক মাস পূর্বে সীমিত পরিসরে কিছু পর্যটন স্পট পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য খুলে দিলেও দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কাঙ্ক্ষিত পর্যটক, ভ্রমণে আসতে পারেননি। ফলে এখানকার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলোতে ব্যাপক ধস নামে। সর্বশেষ গত ৮ই অক্টোবর থেকে  ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটকদের বান্দরবান ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেছে জেলা প্রশাসন। যার কারণে ব্যয়ভার মেটাতে না পেরে কর্মী ছাঁটাইসহ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে অনেক বিনিয়োগকারী।

হোটেল ডি’মোরের ম্যানেজার হ্যাপী মারমা জানান, তিন তারকামানের তাদের হোটেলটিতে দৈনিক অন্তত ৫০ হাজার টাকা খরচ আছে। পর্যটকের উপস্থিতি না থাকায়  তাদের হোটেলটি চলতি মাসের গত ৫ তারিখ থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি গিয়াস উদ্দীন মাস্টার জানান, দীর্ঘদিন ধরে পারিপার্শ্বিক কারণে পর্যটকের উপস্থিতি অশানুরূপ না থাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা। খরচ পোষাতে না পারায় ইতিমধ্যে বেয়াই বাড়ি, গার্ডেনসিটি, কলাপাতাসহ জেলা সদরের প্রায় ২৫টি রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী ৩১ তারিখের পর চলতি ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা না হলে আরও রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

বান্দরবান আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক  মো. জসিম উদ্দিন জানান, ২০১৯ সালের শেষের দিক থেকে ক্রমান্বয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বান্দরবান জেলার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে হোটেলের চলমান খরচ বহন করতে না পারায় অনেক হোটেলের মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। বন্ধ করে দিয়েছে হোটেল ডি’মোর, লাভা তং, হোটেল হিলবার্ডসহ আরও কয়েকটি আবাসিক হোটেল। আগামী ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটক ভ্রমণে দেয়া নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা না হলে অন্যান্য হোটেলগুলো বন্ধ করে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। তিনি আরও বলেন, ৩১শে অক্টোবর পরবর্তী ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জেলাপ্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

mzamin

Wednesday, October 2, 2024

ঘুমধুমে অবৈধ করাত কল

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী ঘুমধুম ইউনিয়নে সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করেই গড়ে উঠেছে নামে-বেনামে অবৈধ করাত কল বা স’মিল। এসব করাত কলের দাপটে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। পরিবেশ ও বন বিভাগের ছাড়পত্র কিংবা লাইসেন্সও নেই বেশির ভাগ করাত কলের। উপজেলা বন বিভাগের তথ্যমতে ২৫টি করাত কল রয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়। এরমধ্যে ১৪টির লাইসেন্স থাকলেও ১১টির কোনো লাইসেন্স নেই।

নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা নঈমুল ইসলাম বলেন, বন আইন অনুযায়ী কোনো করাত কল মালিক লাইসেন্স না নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন না। লাইসেন্স নেয়ার পর প্রতি বছর নবায়ন করতে হবে। করাত কল স্থাপনের জন্য বন বিভাগের লাইসেন্স পাওয়ার পর পরিবেশ অধিদপ্তর থেকেও ছাড়পত্র নিতে হয়। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করছেন বলে জানান তিনি। উপজেলার বিভিন্ন করাত কল ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন ছাড়াই চলছে অনেক করাত কল। এসব করাত কল চত্বরে গেলে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রজাতির গাছ মজুত করে রাখা হয়েছে। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এসব করাত কলে বিরামহীন চলে কাঠ কাটার কাজ। জানা গেছে, অবৈধ করাত কলগুলোতে সরকার নির্ধারিত কোনো আইন ও নীতিমালা মানার কোনো বালাই নেই। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়ে থাকে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার লাইসেন্স করতে বলা হলেও প্রশাসনের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেদারছে চলছে অবৈধ করাত কল। সীমান্তঘেঁষা পাহাড় থেকে শুরু করে সমতল ভূমিতে লাগানো সব ধরনের গাছ কেটে সাবাড় করছে করাত কলের মালিক ও অসাধু ফড়িয়া কাঠ ব্যবসায়ীরা। এতে কমছে অক্সিজেনের ভারসাম্য। এ কারণে দ্রুত এ সকল অবৈধ করাত কল বন্ধের দাবি জানান স্থানীয় সচেতন মহল। স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় নজরদারির অভাবে করাত কল স্থাপন করে কাঠের ব্যবসা করছে। ঘুমধুমের ইউপি চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, করাত কলে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পাহাড়ি গাছ। অবৈধ ও লাইন্সেসবিহীন করাত কলগুলো বন্ধ করা হোক। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসমত জাহান ইতু বলেন, মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশ এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বন, বন্যপ্রাণী ও বনভূমি সংরক্ষণ অপরিহার্য। অবৈধ মালিকদের দ্রুত লাইসেন্স করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স না করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

mzamin

Sunday, September 15, 2024

ঘুমধুমে আওয়ামী লীগ নেতা আজিজের ত্রাসের রাজত্ব by নুরুল কবির

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা ঘুমধুম ইউনিয়ন। সেই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ।  সেই সুবাদে এলাকার জায়গা দখলসহ বহু অপকর্মের মূলহোতা হিসাবে ঘুমধুমের ত্রাসে পরিণত হয়েছেন চেয়ারম্যান আজিজ। দুই ক্ষমতাকে পুঁজি করে আজিজ ঘুমধুমে তার অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কাছে অসহায় করে তোলেন পুরো ইউনিয়নবাসীকে। অন্যের জমি দখল, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম-দুর্নীতি, সীমান্ত চোরাই পণ্য সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণসহ অসংখ্য অপরাধ জগতে নিজেকে জড়িয়ে কায়েম করেন ত্রাসের রাজত্ব এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের। তার অপকর্মের সহযোগী এলাকার ২৬৭ মৌজার হেডম্যান নুরুল হক। আজিজের অবৈধ চোরাই গরু-মহিষের ব্যবসা, প্রত্যয়ন বাণিজ্য, দখল বাণিজ্য, রোহিঙ্গা ভোটার, হত্যাকাণ্ডের মতো সীমান্ত চোরাই বাণিজ্য সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণসহ পাহাড়সম অভিযোগ এই আজিজের বিরুদ্ধে। জানা যায়, ২০১৪ ও ২০১৯ সালের দুই ইউপি নির্বাচনে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাহাঙ্গীর আজিজ নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট কারচুপির মাধ্যমে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সেই থেকে তিনি জড়িয়ে পড়েন নানান অপরাধ কর্মকাণ্ডে। এসব অপরাধ কর্মকাণ্ড সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করেন তার ছোট ভাই বারেক আজিজ, মুস্তকিম আজিজ, বোরহান আজিজসহ তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তাদের ভয়ে এলাকায় কারও মুখ খোলার সাহস ছিল না বলেই এসব এতদিন অজানা ছিল। সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তার বিরুদ্ধে অনেকেই মুখ খুলতে শুরু করেছে। তুলছেন নানান অভিযোগ এবং উঠে আসছে ভয়ঙ্কর সব তথ্যও। এলাকা ঘুরে আরও উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আজিজ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সরকারি লিজ প্লটের নামে স্থানীয় অসংখ্য মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগ দখলীয় বসতভিটা ও খাসজমি জোরপূর্বক দখল করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিক্রি করে নিঃস্ব করে দিয়েছেন অনেক পরিবারকে। বিনিময়ে তিনি কামিয়েছেন মোটা অঙ্কের অর্থ। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের হয়ে উঠেন আস্থাভাজন। সেই কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে দৃশ্যমান ছিলেন বাহাউদ্দীন নাসিমের নাম। সেই সুযোগে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির পদটিও বাগিয়ে নেন জাহাঙ্গীর আজিজ। চেয়ারম্যান ও সভাপতি দুই ক্ষমতার দাপটে মিয়ানমার থেকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে হাজার হাজার গরু-মহিষ এনে তুমব্রু গরু বাজারের ইজারাদারের মাধ্যমে গরুর রশিদ বানিয়ে সারা দেশে পাচার করতো তার নিয়ন্ত্রিত একটি সিন্ডিকেট। আর সেই সিন্ডিকেটের প্রধান হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন তারই আপন ছোট ভাই বারেক আজিজ। সেই সিন্ডিকেট মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে আনা গরু-মহিষের পাশাপাশি মরণ নেশা ইয়াবা, আইস, বিভিন্ন আইটেমের বিদেশি মদ এমনকি স্বর্ণের চালানও এপারে এনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করতো বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আজিজের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, চেয়ারম্যান সাহেব আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন অনেক অন্যায় অবিচার করেছে মানুষের সঙ্গে। স্বৈরাচার সরকারের পতন হলেও এই আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান এখনো বহাল তবিয়তে। সকলকে ম্যানেজ করে টিকিয়ে রাখছেন ইউপি চেয়ারম্যানের পদটি। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মান্নান জানান, ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ রতন বড়ুয়া হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করার সুযোগ নেই। এনআইডি জালিয়াতি মামলার বিষয়ে সিআইডি আদলতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আদালত থেকে নির্দেশনা আসলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নাইক্ষ্যংছড়ি বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজের বিরুদ্ধে এনআইডি জালিয়াতি ও হত্যা মামলা রয়েছে বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আদালত বা ডিসি মহোদয় থেকে নির্দেশনা পেলেই তার বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিত্ব বা অপরাধ দমনে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
mzamin

Friday, October 18, 2019

পাহাড়ে পাহাড়ে জুম কাটার উৎসব by নুরুল কবির

বান্দরবানের পাহাড়ে পাহাড়ে চলছে জুমের পাকা ধান কাটার উৎসব। জেলার ৭টি উপজেলায় বিশেষ করে দুর্গম পহাাড়গুলোতে চলতি মৌসুমে রোপিত জুমের পাহাড়ে পাহাড়ে পেকেছে ধান, খাবার উপযোগী হয়ে পড়েছে মারফাসহ হরেক রকম কৃষিপণ্য। এসব কৃষিপণ্য জুমক্ষেত থেকে আহরণ করে ক্ষেত-খামার এবং ঘরে তুলতে শুরু করেছেন জুমচাষিরা। ইতিমধ্যে চাষিরা জুম থেকে পাকা ধানসহ রকমারি ফসল কাটতে শুরু করেছে। জেলা শহর থেকে ওয়াইজংশন এবং চিম্বুক এলাকার পাহাড়ে পাহাড়ে দেখা গেছে পাকাধান কাটতে নারী-পুরুষ জুমচাষিদের। চারদিকে যেন জুম কাটার ধুম। একই সঙ্গে ধুম পড়েছে মারফা,  বেগুন, মরিচ, ঢেঁড়শ, কাঁকরোল, কুমড়াসহ বিভিন্ন জুমের ফসল তোলার কাজও। আর এ বছর পাহাড়ে জুমের মোটামুটি ভালো ফলন হওয়ায় উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে জুমিয়া পরিবারগুলোর মাঝে প্রতিবছর এপ্রিল মাসের শেষের দিকে শুরু হয়  জুমে ধান লাগানোর প্রক্রিয়া।
প্রায় ৩-৪ মাস পরির্চযার পর সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিক থেকে পাহাড়ে জুমের ধান কাটা শুরু করে জুমিয়ারা আর শেষ হয় অক্টোবর মাসে। তাই জুমের ফসল ঘরে তুলতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে জুমিয়া পরিবারগুলো। শিশু-কিশোরসহ পরিবারের কেউই বসে নেই ঘরে। পরিবারের সবাই জুমের ধান কাটতে নেমেছে পাহাড়ে। তবে এবছর আবাহাওয়া অনুকূল থাকার কারণে ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় জুম চাষে বেশি ফলন  পেতে শুরু করেছেন বান্দরবানের চাষিরা। জুমের ফসলের মধ্যে মারফা, ভুট্টা, তিল, তুলা, মরিচ কাকনচাল, বিনিচাল, ও ধান অন্যতম। জুমচাষিরা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়িরা প্রতিবছর জেলার বিভিন্ন স্থানে শত শত একর পাহাড়ে জুম চাষ করে। জুমিয়ারা পাহাড়ে ধানের পাশাপাশি ভুট্টা, মরিচ, যব, সরিষা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্নরকমের সবজির চাষ করে থাকে। তবে একই পাহাড়ে একাধিকবার জুম চাষ করা যায় না বলে জুমিয়ারা প্রতিবছর ভিন্ন ভিন্ন পাহাড়ে এ জুম চাষ করা হয়ে থাকে। জেলায় বসবাসরত মার্মা, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমী, লুসাই, পাংখো, বম, চাকসহ ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই জুম চাষের উপর নির্ভরশীল। জেলা শহরে বসবাসরত কিছু শিক্ষিত পরিবার ছাড়া দুর্গম এলাকায় বসবাসরত পাহাড়িরা আজও জুম চাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। জুমিয়া পরিবারগুলো প্রতিবছর মার্চ-এপ্রিল মাসের দিকে জুম চাষের জন্য পাহাড়ে আগুন দেয়। আর মে-জুন মাসের দিকে আগুনে পোড়ানো পাহাড়ে জুম চাষ শুরু করে।  চিম্বুক পাড়ার জুমচাষি মেনড্রং ম্রো জানান, এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় জুমের ফসল ভালো হয়েছে। নিজেদের জন্য রেখে বাকিটা বিক্রি করে ভালো টাকাও আয় করতে পারবো। আরেক জুমচাষি থংপ্রে ম্র্রো বলেন, জুমের ফলন ভালো হওয়ায় খুব খুশি লাগছে পরিশ্রমও সার্থক হয়েছে সারা বছর শান্তিতে খেতে পারব। ১১ টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে একমাত্র ম্রো সম্প্রদায় আদিকাল থেকে এখনো পর্যন্ত জুম চাষের মাধ্যমেই সারা বছরের জীবিকা সংগ্রহ করে। ফসল ঘরে তোলার আনন্দে পাহাড়ি পল্লীগুলোতে চলছে এখন নবান্ন উৎসবও। গোত্র ভেদে পাহাড়িরা উৎপাদিত ফসল দেবতাকে উৎসর্গের মাধ্যমে এই নবান্ন উৎসব উদযাপন করে থাকে। কৃষি বিভাগ জানায়, চলতিবছর জেলায় ৮৮৯৫ হেক্টর জমিতে জুম ধান চাষ হয়েছে এর লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১২৪৫৩ মেট্রিক টন। এর মধ্যে নিড়িখা, উফশি, পিডি, ককরো, বিনি, গেলং, কানভূঁই জাতের ধান। আর গতবছর জুম চাষ করা হয়েছিল ৮৪৫৮ হেক্টর জমিতে সে হিসেবে এ বছর পাহাড়ে ৪৩৭ হেক্টর জমিতে জুম চাষ বেড়েছে।
থানছি চিম্বুক এলাকার জুমচাষি ম্রো কৃষক চিংরাই ম্রো এবং খামলিং ম্রো জানান, এবারে জুমক্ষেতে ফলন ভালো হয়েছে, কারণ চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ভালো এবং উৎপাদন পরিবেশ ভালোই ছিল। ধানের পাশাপাশি ছোটমরিচ, মারফা, মিষ্টি কুমড়া, কুমড়া, তিল ও আদার ফলনও ভালো হয়েছে। তবে তিল ও আদা সংগ্রহ করা যাবে আরো কয়েক মাস পর।
বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক ড. একেএম নাজমুল হক বলেন বান্দরবান জেলায় প্রতিবছর জুম চাষ হয় জুমে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতের ধানের ফলন বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃষি গবেষণা এবং কৃষি অধিদপ্তর কাজ করছে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিবছর জুম চাষ করা হলে তাদের আর্থসামজিক উন্নয়ন সহ আর্থিক  সচ্ছলতা আসবে এবং সারা বছরের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে মনে করেন তিনি।

Saturday, June 1, 2019

টাঙ্কি পাহাড়ে বসবাসের ঝুঁকি ফায়ার সার্ভিসের সতর্কবার্তা

বান্দরবানের জেলা শহরের ইসলামপুর টাঙ্কি পাহাড়ে ধসের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে ৫০টি পরিবার। অগ্নিনির্বাপণ সংস্থা ফায়ার সার্ভিস ওই পাহাড়কে অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত সরে যাওয়ার অথবা সরিয়ে নেওয়ার জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে। ফায়ার সার্ভিস বলছে ভারী বর্ষণে ওই এলাকায় পাহাড়ধসে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। গত শনিবার ফায়ার সার্ভিস ওই এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের সরে যেতে অনুরোধ করেছে।
গত বুধবার অগ্নিনির্বাপণ সংস্থার স্টেশন কর্মকর্তা ফরহাদ উদ্দিন গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেছেন, টাঙ্কি পাহাড়ে শুকনো মৌসুমে শুকিয়ে যাওয়া ঝরনা ও খাঁড়া দুই পাড় দখল করে কিছু পরিবার বাসাবাড়ি নির্মাণ করেছে—যা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
ফরহাদ উদ্দিন আরও বলেন, গত শনিবার কয়েক ঘণ্টার হালকা বৃষ্টিপাতেই কয়েকটি ঝরনার খাঁড়া পাড় ধসে পড়েছে এবং ঝরনার ওপর নির্মিত বাড়ি পানির প্রবাহে ভেসে গেছে। যেকোনো সময় ভারী বৃষ্টি হলে সেখানে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য ভারী বৃষ্টির আগে ওই পরিবারগুলোকে দ্রুত সরে যাওয়ার জন্য অথবা সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হয়েছে।
টাঙ্কি পাহাড়ে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ম্যাক্সি খালের পশ্চিম পাশে খাঁড়া পাহাড়ে একটি ঝরনা শঙ্খ নদে গিয়ে পড়েছে। ওই ঝরনা ও ঝরনার অতি খাঁড়া দুই পাড় দখল করে প্রায় ৫০টি পরিবার বাসাবাড়ি নির্মাণ করে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। ঝরনার খাঁড়া পাড়ে কারও কারও বাড়ির কিছু অংশ ইতিমধ্যে ধসে পড়েছে।
ঝরনা দখল করে নির্মিত বাসায় ভাড়া থাকেন আয়েশা আক্তার ও রহিমা বেগম। আয়েশা আক্তার বলেন, রিকশাচালক স্বামীর আয়ে দুই হাজার টাকা বাসা ভাড়া দিয়ে পরিবার চালাতে হয়। মৃত্যুর ভয় রয়েছে জেনেও এখানে থাকছেন, কারণ অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
আয়েশা আক্তার আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসের লোকজন তাঁদের বলে গেছেন বাসা থেকে চলে যেতে। কিন্তু কোথায় তাঁরা যাবেন বলেননি।
ঝরনার খাঁড়া পাড়ে বসবাসকারী সোহরাব শিকদারের বাসার একাংশ ধসে পড়েছে। তিনি বলেছেন, ভারী বৃষ্টি হলে তাঁর বাসাসহ দুই পাড়ে আরও আট-নয়টি পরিবারে বাড়ি ধসে পড়বে। ঝরনায় থাকা ছয়-সাত পরিবারের বাড়ি ভেসে যাবে। কিন্তু তাঁরা গরিব মানুষ। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। সরে যাওয়ার জন্য জায়গা দিতে প্রশাসনের কাছে দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
টাঙ্কি পাহাড় জামে মসজিদের ইমাম মো. সিরাজুল ইসলাম ও প্রবীণ গোলাম সোবহান বলেছেন, লাঙ্গিপাড়া ইউকে চিং বীরবিক্রম সড়ক পানির টাঙ্কি পর্যন্ত এলাকায় ঝরনার পাড়ে বসবাসরত কারও বাসাবাড়ি থাকবে না। মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে থাকা ৫০টি পরিবার এখনই সরে না গেলে বর্ষা মৌসুমে দুর্ঘটনার শিকার হবে।
বান্দরবান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালাম বলেছেন, ৫০–এর অধিক পরিবারকে টাঙ্কি পাহাড় এলাকা থেকে সরে যাওয়ার জন্য কয়েকবার বলা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১২-১৫টি পরিবারকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া দরকার।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নোমান হোসেন বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের বর্ষার আগে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
বান্দরবান জেলা শহরের টাঙ্কির পাহাড়ে ঝরনা ও ঝরনার পাড় দখল করে ঝুঁকিপূর্ণ বাসাবাড়ি। গত৩০ মে দুপুরে। প্রথম আলো

Saturday, April 13, 2019

মরা গাছ কাটার নির্দেশ ছিল, কাটা হলো ভালো গাছও by নজরুল ইসলাম

কোনও নিলাম ছাড়াই বান্দরবানের লামার সরই ইউনিয়‌নে সড়‌কের দু’পা‌শে থাকা চার শতা‌ধিক গাছ কেটে ফেলার অ‌ভি‌যোগ উ‌ঠে‌ছে ইউ‌পি চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরু‌দ্ধে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যানকে মরা গাছ কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ভালো গাছগুলো কেন কেটেছেন তা প্রশাসনের জানা নেই।
স্থানীয়রা জানায়, গত এক  মাস ধরে লামা-সুয়ালক সড়কের কম্পনিয়া, আন্ধারী হিমছড়ি, কেয়াজুপাড়া বাজার ও আমতলী পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশ চার শতা‌ধিক গাছ কাটা হ‌য়ে গে‌ছে।
সরকারি অনুমতি আছে-এমন কথা বলে সরই ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম ও সচিব মো. মুসা পরিষদের দফাদার মোবারক হোসেনকে দিয়ে ভালো গাছগুলো কেটে বিভিন্ন ব্রিকফিল্ড ও তামাকচুল্লিতে বিক্রি করে দিয়েছেন। এছাড়া কিছুদিন আগে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস কোম্পানি কম্পনিয়া এলাকা হতে কয়েক গাড়ি এবং আব্দুল আজিজ না‌মের আ‌রেক গাছ ব্যবসায়ী আমতলী হতে বেশকিছু গাছ কে‌টে ফে‌লেছেন।
কেটে ফেলা গাছের গোড়া
কেটে ফেলা গাছের গোড়া
স‌রেজ‌মিন ঘু‌রে দেখা গে‌ছে,  লামা-সুয়ালক সড়কের দু’পাশে গা‌ছের কাটা অংশ পড়ে রয়েছে। সড়কের আন্ধারী হিমছড়ি এলাকায় বড় বড় দুইটি একাশি গাছ আধাকাটা অবস্থায় দেখা গে‌ছে।
স্থানীরা জানি‌য়ে‌ছেন, গাছগুলো চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম গাছ ব্যবসায়ী মোস্তফা সওদাগরকে বিক্রি করেছে এবং তি‌নি গাছগু‌লো পাচার করে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে মোস্তফা সওদাগর বলেন, ‘আমি ১৫ হাজার টাকা দিয়ে চেয়ারম্যানের কাছ থে‌কে রাস্তার পাশের পাঁচটি গাছ কিনেছি।’
কেটে ফেলা গাছ
কেটে ফেলা গাছ
দোকানদার আসমা বেগম বলেন, ‘সচিব মুসা লোকজন দিয়ে গাছগুলো কেটে নিয়ে গেছে। গাছ কেটে নেওয়ার পরে অ‌নেকগু‌লো গা‌ছের গোড়ায় মাটি চাপা দিয়েছে। যাতে কাটা গা‌ছের গোড়াগু‌লো দেখা না যায়।’
আমতলী পাড়ার মনসুর আলম বলেন, ‘রাস্তার পাশের বড় বড় গাছগুলো কেটে নিয়ে গেছে চেয়ারম্যান ও সচিব।’
এ বিষ‌য়ে দফাদার মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমাকে চেয়ারম্যান ও সচিব গাছগুলো কাটতে বলেছেন। তা‌দের সঙ্গে কথা ব‌লেন।’
কেটে ফেলা গাছ
কেটে ফেলা গাছ
ইউপি সচিব মো. মুসা বলেন, ‘আমি কোনও গাছ কাটিনি। এ বিষ‌য়ে আ‌মি কিছু জা‌নি না।’
চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম বলেন, ‘আমাকে লামা উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা সড়কের দু’পাশের মরা গাছগুলো কাটতে অনুমতি দিয়েছেন।’ 
কেটে ফেলা গাছ
কেটে ফেলা গাছ
প্রকৌশলী নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সরই ইউপি চেয়ারম্যানকে রাস্তার পাশের কয়েকটি মরা গাছ কাটার জন্য চিঠি দিয়েছিলাম। তিনি ভালো গাছ কেন কাটলেন এবং কেন বিক্রি করেছেন তা আমি জানি না।’
এ বিষ‌য়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ জান্নাত রুমি বলেন, ‘খবর পে‌য়ে চেয়ারম্যানকে গাছ কাটা বন্ধ করতে বলেছি। এই বিষয়ে লামা উপজেলা প্রকৌশলীকে খোঁজ নি‌য়ে আমাকে জানাতে বলেছি।’

Friday, June 22, 2018

৯০ বছরেও জোটেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড by ‌মো. নজরুল ইসলাম টিটু

ক্রই হ্লা মারমা
বয়সের ভারে ন্যুব্জ ক্রই হ্লা মারমা। লাঠিতে ভর দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটেন। স্বামী নেই। নেই সন্তানও। তার ভরণপোষণ বহনের নেই কেউ-ই। ৯০ বছরেও জোটেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড। তিনি আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘কতজনকেই দেখলাম, বয়স্ক ভাতার কার্ড পেতে। খালি আমারই জুটলো না। স্বামীকে হারিয়েছি অনেক আগে। অথচ, বিধবা ভাতাও পাইনি কখনও।’
বান্দরবানের থান‌চি সদর উপ‌জেলার সদর ইউনিয়‌নের ২নং ওয়ার্ড ছান্দাক পাড়ার বৌদ্ধ বিহা‌রে থাকেন ক্রই হ্লা মারমা। তিনি জানান, অনেক আগে তার স্বামী মারা গেছেন। এক সন্তান ছিল, সেও ছোটকালে মারা গেছে। আপন বলতে আর কেউ নেই তার। কাজ করার শক্তি হারানোর পর থেকে আশ্রয় নিয়েছেন বৌদ্ধ বিহা‌রে।
ক্রই হ্লা মারমা বলেন, ‘যারা বিধবা ও বয়স্ক ভাতা পায়। এ টাকা দিয়েই তাদের ভালোই চলে যায়। এসব ভাতা পাওয়া দূরের কথা, এ নিয়ে কেউ কখনও আমার কোনও খোঁজখবরই নেয়নি।’
তি‌নি ব‌লেন, ‘আমি এখন অনেক দুর্বল। এ বয়‌সে একটু‌ আরামের জন্য আমার এক‌টি বিছানা, বালিশ, পরিধানের কাপড় (থামি), স্যান্ডেল, তরল খাদ্য (হরলিকস, বার্লি, সাগু) ও ওষুধ প্রয়োজন। কিন্তু এসবের ব্যবস্থা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। বৌদ্ধ বিহার আমার জন্য আর কত কর‌বে? তা‌দের কা‌ছে আর কত চাইবো? তা‌দের কার‌ণে তো‌ আমি এখনও বেঁচে আছি।’
চহ্লা মারমা নামে থান‌চির এক বা‌সিন্দা ব‌লেন, ‘আমি এই বৃদ্ধা‌কে বয়স্ক ভাতার কার্ড পাইয়ে দিতে অনেক‌দিন ধ‌রেই চেষ্টা চালি‌য়ে যা‌চ্ছি। কিন্তু এখনও সফল হতে পারিনি।’
এ ব্যাপারে উপ‌জেলার সদর ইউনিয়‌নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের নারী সদস্য চ‌লি চং মারমা ব‌লেন, ‘আমি অনেক দিন ধ‌রেই বৃদ্ধাকে চি‌নি। তি‌নি সরকারি কোনও সহ‌যো‌গিতা পাননি। আমি তা‌কে অনেকবার সহ‌যো‌গিতা দেওয়ার জন্য ভোটার আইডি‌ কার্ড চে‌য়ে‌ছি। কিন্তু তি‌নি আমা‌কে ব‌লে‌ছেন, এসব সহ‌যো‌গিতা আমার লাগ‌বে না; আমি ‌তো বৌদ্ধ বিহা‌রেই থা‌কি, খাই।
তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি তার ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ ক‌রে থান‌চি উপ‌জেলা সমাজ সেবা অফি‌‌সে জমা দি‌য়ে‌ছি। আশা কর‌ছি, শিগগিরই তি‌নি বিধবা ভাতা ও বয়স্ক ভাতা পা‌বেন।’ ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী‌ ক্রই হ্লা মারমার বর্তমান বয়স ৯০ বছর বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে বান্দরবান সমাজ‌সেবা অধি-দফত‌রের উপ-প‌রিচালক মিল্টন মুহুরী ব‌লেন, ‘আমি এ বৃদ্ধার বিষ‌য়ে আগে কখ‌নো শু‌নি‌নি। এখন জান‌তে পারলাম। আমি খবর নি‌য়ে  এই বৃদ্ধার জন্য যা যা কর‌তে হয়, করব।’

Sunday, June 3, 2018

কাঁচা-পাকা আমে ভরে উঠেছে পাহাড়ের বাজার by মো. নজরুল ইসলাম

বাজারে তোলার জন্য আম বাছাই করছেন চাষিরা
আম, আনারস, লিচুসহ বিভিন্ন ফলজ বাগান সৃজন করে দারিদ্রতা দূর কর‌ছেন পাহাড়ের চাষিরা। বিশেষ করে আম্রপালি ও রাংগোওয়া‌ জাতের আম বাগান কর স্বাবলম্বী হয়েছেন তারা। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের ফলন ভালো হয়ে‌ছে। কাঁচা-পাকা আমে ভরে উঠেছে পাহাড়ের বাজার।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গে‌ছে, জেলার সদর উপজলার লাইমিপাড়া, ফারুকপাড়া, লাইলুনপি পাড়া, ব্যথনীপাড়া, গ্যাসমনি পাড়া, শ্যারণপাড়া, চিম্বুকসহ, রুমা, রোয়াংছড়ি, থানছি, লামা, আলীকদমের পাহাড়ের বুকে শত শত একর পাহাড়ি ভূমিতে বিভিন্ন জাতের আমের বাগান করেছেন চাষিরা।
বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, বান্দরবান জেলায় এবার ৬হাজার ৯২০ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে আমের বাগান রয়ে‌ছে। প্রতিটি বাগানে আমের ভালো ফলন হয়ে‌ছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়ে‌ছে ৮১হাজার ৮৪০ মেট্রিকটন।
বান্দরবান-চিম্বুক সড়কের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গে‌ছে, চাষিরা আমসহ বিভিন্ন ফলজ বাগানের পরিচর্যার পাশাপাশি বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার কর‌ছেন। বর্তমানে কাঁচা আম ও পাকা আমে বাজারগুলো ভরে উঠে‌ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন আম কিনতে ওইসব এলাকায় ভিড় জমাচ্ছেন।
চিম্বুক পাহাড়ের আম চাষি পাইরিং ম্রো জানান, চট্টগ্রাম, কেরানিহাট, সাতকানিয়া, লোহাগাড়াসহ দে‌শের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা আম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এই বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের ফলন ভালো হয়ে‌ছে।
আম্রপালি ও রাংগোওয়া জাতের কাঁচা ও পাকা আমের চাহিদা রয়ে‌ছে সারাদে‌শে। এ জাতের আম রসা‌লো ও সুস্বাদু। গত কয়েক বছরের তুলনায় জেলার ৭টি উপজেলায় আম্রপালি ও রাংগোওয়া আম চাষের মাধ্যমে কয়েক হাজার পরিবার স্বাবলম্বী হয়ে উঠে‌ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ মেয়াদী হওয়ায় পাহাড়ে জুমচাষের পাশাপাশি আম বাগান করার পেশায় ঝুঁকছেন পাহা‌ড়ের চাষিরা।
বান্দরবান বাজার ঘুরে দেখা গে‌ছে, ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি চাষিরা নিজেরাই বাগানের কাঁচা ও পাকা আম পাইকারী ও খুচরা বিক্রি করছেন। কাঁচা আম প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থে‌কে ৬০ টাকা দরে। আর পাকা আম প্রতি কেজি ১২০ থে‌কে ১৫০ টাকা দামে বিক্রি করছেন তারা।
থানছির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খামলাই ম্রো জানান, চেয়ারম্যান থাকাকালে তিনি ৫ একর পাহাড়ি জমিতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার আম্রপালি ও রাংগোওয়া আমের চারা সৃজন করেন। বেশ কয়েক বছর ধরে এ বাগানের আম বিক্রি করছেন। এবছরও ভালো ফলন হয়ে‌ছে।
পাইকারি আম ক্রেতা মো. জসিম উদ্দিন, মো. জাফর ও আবু তাহের বলেন, আমরা প্রতিবছর এখান থে‌কে কাঁচা ও পাকা আম কিনে দে‌শের বিভিন্ন স্থা‌নে সরবরাহ করে থাকি। এ‌তে আমাদর ভালো লাভ হয়।
বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ‌মো. আলতাফ হো‌সেন বলেন, ‘পাহাড়ে এ জাতের আম গাছ রোপণের কয়েক বছরের মধ্যেই ফলন দেয়। এ আমে পোকা-মাকড়ের আক্রমণও কম হয়। তাছাড়া স্থানীয় বাজারসহ দে‌শের বিভিন্ন স্থা‌নে এর চাহিদা বেশি থাকায় এর চাষ প্রতিবছর বাড়ছে। ফলে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন পাহাড়ের কৃষকরা।’
বাগান থেকে আম নিয়ে ফিরছেন চাষিরা

Friday, April 27, 2018

বান্দরবানে বৌদ্ধ ভিক্ষুকে কুপিয়ে হত্যা!

বান্দরবানে বাকিছড়া-মাঝেরপাড়া বৌদ্ধ বিহারের উপ-অধ্যক্ষ ভান্তে মংথুই সাং (প্রকাশ নাইন্দা ভিক্ষু-৭৫)কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বান্দরবানের কুহালং ইউনিয়নের বাকিছড়া-মাঝেরপাড়া বৌদ্ধ বিহারের উপ-অধ্যক্ষ ভান্তে মংথুই সাং প্রকাশ নাইন্দা ভিক্ষু (৭৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের মুখে এবং গলায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পর থেকে বৌদ্ধ বিহারের শ্রবণ ভান্তে (শিক্ষা নবিশ) ম্রায় থোই (৪৪) পলাতক রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ছোট ভান্তে বিহারের বড় বৌদ্ধ ভিক্ষু’কে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ভান্তের লাশ উদ্ধার করেছে। লাশটি ময়না তদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী-প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নিহত বৌদ্ধ বিহারের উপ-অধ্যক্ষ ভান্তে মংথুই সাং (প্রকাশ (নাইন্দা ভিক্ষ)বাড়ি বাকিছড়া-মাঝেরপাড়া বলে জানা গেছে। কুহালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সানু প্রু মারমা বলেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে বিহারের উপ-অধ্যক্ষ নাইন্দা ভিক্ষু’কে হত্যা করেছে ছোট ভান্তে ম্রায় থোই। আগে সে ক্যায়ামলং বিহারে ছিল, সেখান থেকে এ বিহারে এসেছে তিন বছর হচ্ছে। শ্রবণ ছোট ভান্তেটি মানষিকভাবে অসুস্থ। নিহত উপ-অধ্যক্ষর সঙ্গে তার শ্রবণের কয়েকবার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তারই জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাররা জানায়, পুরনো বৌদ্ধ বিহারটি আগে পাড়ার নীচে ছিল। পাহাড়ের চূড়ায় নতুনভাবে বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করা হয়েছে বছর চারেক হচ্ছে। বিহারে ৩ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু, ১জন শ্রবণ ভিক্ষু (শিক্ষা নবিশ) এবং ১৫ জন শিশু শ্রবণ ছাত্র থাকতো। বিহারের উপ-অধ্যক্ষ নাইন্দা ভিক্ষু’ হত্যার পর পালিয়ে যাওয়া শ্রবণ ছোটভান্তে মানষিকভাবে অসুস্থ ছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত (সাকেল)পুলিশ সুপার ইয়াছিন আরাফাত জানান, সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের বাকিছড়া-মাঝের পাড়া বৌদ্ধ বিহারের উপ-অধ্যক্ষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরের গলায় এবং মুখে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শ্রবনভান্তে ম্রায় থোই কুপিয়ে ভিক্ষুকে হত্যা করেছে। ঘটনার পর থেকে শ্রবনটি পলাতক রয়েছে। লাশটি ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকারীকে গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে।

Friday, April 13, 2018

সাঙ্গু নদীতে ভাসলো বিজুর ফুল! by নুরুল কবির

বান্দরবানে শুরু হলো চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ফুল বিজু। বৃহস্পতিবার সকালে বান্দরবানের সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সমপ্রদায়ের বর্ষবরণ বিজু ও বিষু শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে ভোর থেকে তরুণ-তরুণীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে নানা সাজে সেজে ফুল বিজুতে অংশ নেয়। এ সময় তারা নানা রকমের ফুল নদীর জলে ভাসিয়ে দেয়। এদিকে পাড়ায় পাড়ায় চলছে পিঠা-পুলি তৈরির আয়োজন ও নানা রকমের সবজি দিয়ে পাচন রান্নার কাজ। চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের ফুল বিজু শুক্রবার মূল বিজু ও শনিবার গইজ্জা পইজ্জা। তিনদিন তারা বর্ষবরণ উৎসব পালন করে।

স্থানীয় হিমেল চাকমা বলেন, প্রতিবছরই বর্ষবরণে চাকমারা নানা আয়োজন করে থাকে। পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে ঘুরে পাচন খাওয়া, পিঠা তৈরিসহ নানা আয়োজনে তারা সবাই অংশগ্রহণ করে।  এদিকে তঞ্চঙ্গ্যা সমপ্রদায় বর্ষবরণে বালাঘাটায় ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলায় মেতে উঠেছে। তরুণ-তরুণীরা দল বেঁধে এই খেলা খেলছে। ঘিলা পাহাড়ি একটি গাছের ফল। এটিকে তারা পবিত্র মনে করে। তাই নতুন বছরের শুরুতে বর্ষবরণে তঞ্চঙ্গ্যারা পাহাড়ে পাহাড়ে ঘিলা খেলার আয়োজন করে। এবার শহরের বালাঘাটা বিলকিস বেগম স্কুল মাঠে বড় আকারে ঘিলা খেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে তঞ্চঙ্গ্যারা।এদিকে, সাংগ্রাই কমিটি সাধারণ সম্পাদক কো কো চিং জানান, মারমাদের বর্ষবরণ সাংগ্রাইয়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার সকাল শোভযাত্রার মাধ্যমে সাংগ্রাই উৎসব শুরু হবে বান্দরবানে। শনিবার সাঙ্গু নদীর তীরে চন্দনের পানিতে বৌদ্ধমূর্তিকে স্নান করানো হবে।
রোববার শহরের রাজার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে সাংগ্রাইয়ের মৈত্রী পানি বর্ষণ বা জলকেলি উৎসব। মারমা তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে বরণ করে নেবে নতুন বছরকে। স্বচ্ছ পানির ধারা ধুয়ে মুছে দিবে পুরনো বছরের যত দুঃখ গ্লানি। এছাড়া পাড়ায় পাড়ায় পিঠা তৈরির আয়োজনও থাকছে সাংগ্রাই উৎসবে। শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ত্রিপুরা সমপ্রদায়ের বৈসু উৎসব। তারা নেচে-গেয়ে  বৈসু পালন করে থাকে।

Saturday, March 31, 2018

মোটরসাইকেল চালকদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানালো ট্রাফিক পুলিশ

বান্দরবানে হেলমেট পড়া মোটর সাইকেল চালকদের দাড় করিয়ে ফুল দিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। আজ শনিবার বিকেলে বান্দরবান শহরের ট্রাফিক মোড় এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের একটি দল হেলমেট পরিহিত মোটর সাইকেল চালকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। এসময় তারা হেলমেট বিহীন মোটর সাইকেল চালকদের হেলমেট পড়ে গাড়ি চালানোর জন্য অনুরোধ জানায়।
ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ মোঃ সালাউদ্দীন মামুন জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে হেলমেট পরিধানে জনগণকে সচেতন করতে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি বান্দরবানে মটর সাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতের হার বেড়ে যাওয়ায় হেলমেট পড়তে জনগণকে উৎসাহিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বেশীর ভাগ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হেলমেট না পরার কারণে চালকরা মারা যায়। হেলমেট পড়া থাকলে অনেকাংশে বড় ধরনের আঘাতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাই বান্দরবান ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে তাদের দেখে অন্যরা হেলমেট পড়তে উৎসাহিত হয়।
ট্রাফিক পুলিশের এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগে খুশি মটর সাইকেল চালকরাও। কিছু মোটরসাইকেল চালক জানান, পুলিশ সবসময় মোটর সাইকেল দাড় করিয়ে মামলা দেয় কিন্তু আজকে ফুল দিচ্ছে। তাই যারা হেলমেট ছাড়া গাড়ি চালায় পুলিশের উৎসাহ দেখে আজকে থেকে তারাও হেলমেট পড়ে গাড়ি চালাবে।
উল্লেখ্য, আজ দুপুরে শহরের বালাঘাটা এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হেলমেট না পড়ায় মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই এক চালকের মৃত্যু হয় এবং দুজন গুরুত্ব আহত হন। এর পর থেকে পুলিশের তৎপড়তা বেড়ে যায়।

Saturday, December 9, 2017

লামায় পিকআপের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত

বান্দরবানের লামা উপজেলায় একটি বালুভর্তি পিকআপের ধাক্কায় মোমেনা বেগম (৯০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লামা-আলীকদম সড়কের হরিণঝিরি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মোমেনা বেগম হরিণঝিরি গ্রামের বাসিন্দা মৃত আবদুল আজিজের স্ত্রী। লামা থানা পুলিশের ওসি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, সকালে বালু বোঝাই করে একটি পিকআপ আলীকদম যাচ্ছিল। গাড়িটি সড়কের হরিণঝিরি এলাকা নামক স্থানে পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথচারী মোমেনাকে ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মোমেনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

Saturday, March 25, 2017

বান্দরবানে মারমা দম্পতিকে গলা কেটে হত্যা

বান্দরবানে মারমা দম্পতিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। আজ শনিবার ভোররাতে লামা উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দম্পতি মারমা নৃগোষ্ঠীর।
তাদের বাড়ী উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংগাছা ছোটপাড়ায়।নিহত দুজন হলেন- ক্যহ্লাচিং মারমা (৭০) ও তাঁর স্ত্রী চিংহ্লানী মারমা (৫০)। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করেছে। লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা স্বিকার করেছেন।

ঘরে ঢুকে দম্পতিকে গলা কেটে হত্যা

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ঘরে ঢুকে স্বামী ও স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার গভীররাতে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা ছোট পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ক্যহ্লাচিং মার্মা (৭৫) ও তার স্ত্রী চিংহ্লানি মার্মা (৫০)। ক্যহ্লাচিং মার্মা ইয়াংছা ছোট পাড়ার বাসিন্দা ও মৃত মংছাচি মার্মার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের খাবার শেষে এই দম্পতি প্রতিদিনের মতো নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাদের গলা কেটে হত্যা করে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে পালিয়ে যায়। লামা থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।