Tuesday, August 11, 2015
আমরা এখন মধ্য-আয়ের by আনিসুল হক
অভিনন্দন বাংলাদেশের সব মানুষকে, অভিনন্দন আমাদের খেটে খাওয়া কৃষক-শ্রমিক-ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তা-চাকরিজীবী ও প্রবাসী মানুষদের। অভিনন্দন আমাদের নেতাদের। অভিনন্দন সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর সবাইকে।
মধ্য-আয়ের দেশ হওয়ার কতগুলো সুবিধা আছে, কতগুলো অসুবিধাও আছে—গতকালের খবরেই প্রথম আলোর প্রতিবেদক শওকত হোসেন লিখেছেন। অসুবিধা হলো, আমরা গরিব মানুষ, এইটা আমাগো এমনি এমনি দ্যান, এই বুলি আর চলবে না। আর সুবিধা হলো, ও একেবারেই গরিব না, ওকে ঋণ দাও, ও শোধ দিতে পারবে, এই তুমি মাটিতে বসেছ কেন, টেবিল-চেয়ারে বসে খাও—এই রকমটা হবে।
কী রকম গরিব একটা দেশ ছিল। ১৯৭২-৭৩ সালে আমাদের বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। এবারের বাজেট ২ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। কোটিটা বাদ দিলে তুলনাটা সহজ হবে। আপনার সংসারে আগে ৭৮৬ টাকা ছিল। আর এখন আছে ৩ লাখ টাকা। আপনার পরিবারে আগে মানুষ ছিল ৭ জন, এখন হয়েছে ১৫ জন। আপনি কি আগের তুলনায় বড়লোক হয়েছেন?
গরিব থেকে আপনি যখন মধ্যবিত্ত হন, তখন কী হয়? আপনার ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। আপনার সক্ষমতা বাড়বে। আপনার ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাবে। আর শিক্ষা একটা আশ্চর্য পরশমণি, এর ছোঁয়ায় যেকোনো মানুষ সোনা হয়ে উঠতে পারেন। আমরা দেখতে পাই, কোনো অজানা গ্রাম থেকে উঠে আসছেন ছেলেপুলেরা, তাঁরা চিকিৎসক-ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হচ্ছেন, বিশাল ব্যবসায়ী হচ্ছেন—আজ যাঁরা দেশের সফলতম মানুষ, এঁদের আশি ভাগের জীবনকাহিনি শুনলে জানা যাবে, প্রায় নিঃস্ব অবস্থা থেকে তাঁরা শুরু করেছিলেন, আজ তাঁরা সাফল্যের চূড়া স্পর্শ করেছেন। গোটা বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।
আর মাথাপিছু আয় যখন বাড়ে, তখন সুশাসনও আসবে। গরিব দেশে সুশাসন আসে না। ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের মুশতাক এইচ খান যেমনটা বলেন, মাথাপিছু আয় বাড়লে সুশাসন আসাটা সহজ হয়।
কাজেই আমরা কেবল একটা সচ্ছল দেশ পাব তা নয়, আমরা একটা সুশাসন-সুন্দর দেশও এরপর থেকে আসা করতে পারি। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারও কথায় কথায় অনেকবার বলেছেন, পুঁজি যখন গড়ে ওঠে, পৃথিবীর সর্বত্রই তা ছিল লুটেরা পুঁজি, কিন্তু পুঁজি গড়ে ওঠার পরে তা নিজের স্বার্থেই নিজেকে পাহারা দেয়। তার তখন আইনের শাসন লাগে, আইনকানুন লাগে, গণতন্ত্র লাগে, সভ্যতা লাগে।
আজ আমি গদ্যকার্টুন লিখতে বসেছি। সিরিয়াস তথ্য আলোচনা করতে নয়। কাজেই অতি পুরোনো কৌতুকগুলো আবারও বলি।
নিউইয়র্কে বিড়ালদের লড়াই হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের বিড়াল অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশের বিড়ালের সঙ্গে কেউ পারে না। বাংলাদেশের বিড়ালই শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হলো। শেষে আমেরিকার বিড়াল বলল, আমরা এই প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির পেছনে মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছি, কত প্রশিক্ষণ নিয়েছি, তারপরও তোমার কাছে হেরে গেলাম। তুমি আসলে কার কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছ?
বাংলাদেশের বিড়াল বলল, আমি তো আসলে বিড়াল না, আমি আসলে বাঘ, না খেতে পেয়ে পেয়ে বিড়ালের মতো ছোট হয়ে গেছি।
ভাগ্যিস, এনডিটিভিতে একটা টক শো ধরনের অনুষ্ঠান হয়েছিল। সেখানে প্রহ্লাদ কক্কর নামের একজন ভারত বিজ্ঞাপনগুরু বললেন, এই জিনিসটা খুবই ক্রিয়েটিভ হয়েছে, কাটারের সঙ্গে কাটারের মিল দেওয়া, এটাকে এত সিরিয়াসলি নেওয়ার কী আছে?
আজ কিন্তু এই কৌতুক আর চলবে না। বাংলাদেশের বাঘেরা এখন বাঘ হয়ে গেছে।
বাচ্চা আর বাচ্চা নেহি।
ও আচ্ছা, টেলিভিশনে সারাক্ষণ হিন্দিতে এই বিজ্ঞাপন প্রচারিত হলো, ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সিরিজের আগে। আমি এই বিজ্ঞাপনটা সহ্য করতে পারতাম না, এটা শুরু হলেই চ্যানেল বদলে দিতাম। দুটো দেশ খেলছে, দুটোই আইসিসির পূর্ণ সদস্য, একটা দেশকে কেন বাচ্চা বলা হবে।
তারপর রস+আলোতে একটা কৌতুক প্রকাশিত হলো।
তারপর গোটা ভারতের সংবাদমাধ্যমে মহা হইচই।
ভাগ্যিস, এনডিটিভিতে একটা টক শো ধরনের অনুষ্ঠান হয়েছিল। সেখানে প্রহ্লাদ কক্কর নামের একজন ভারত বিজ্ঞাপনগুরু বললেন, এই জিনিসটা খুবই ক্রিয়েটিভ হয়েছে, কাটারের সঙ্গে কাটারের মিল দেওয়া, এটাকে এত সিরিয়াসলি নেওয়ার কী আছে? আমরাও তো বাচ্চা আর বাচ্চা নেহি বিজ্ঞাপন বানিয়েছি।
রসিকতা করা খুবই বিপজ্জনক।
দুটো গল্প বলব। একটা পড়েছি একটা রুশ হাসির গল্পের সংকলনে।
একজন একটা হাসির পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
তাঁর কাছে এসে তাঁর এক সহকর্মী বললেন, স্যার, আপনাকে একটা কৌতুক বলি।
বলেন।
চিকিৎসকের কাছে এক রোগী এল। রোগীর পায়ে ব্যান্ডেজ। চিকিৎসক বললেন, কী হয়েছে?
রোগী বলল, আমার মাথায় ব্যথা পেয়েছিলাম।
মাথায় ব্যথা পেয়েছেন, তো পায়ে ব্যান্ডেজ কেন?
জি মানে, ব্যান্ডেজটা মাথায় করেছিলাম, কিন্তু সেটা ধীরে ধীরে পিছলে পা পর্যন্ত চলে এসেছে।
অফিসের সবাই হাসতে লাগল। কিন্তু সম্পাদক গম্ভীর। মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা হলো, এই ব্যান্ডেজ পায়ে যাবে কীভাবে? গলায় আটকে যাবে না? মাথা তো একটা, পা তো দুটো...এটা কোনো গল্প হলো...
এইটাই একটা কৌতুক। কৌতুক শেষ।
সবাই কৌতুক বুঝতে পারে না। আবার কেউ কেউ আছেন, যাঁরা মনে করেন, সবকিছু সিরিয়াসলি নিতে হবে।
যেমন মিলান কুন্ডেরার একটা উপন্যাসে একজন চিকিৎসক বন্ধ্যাত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি রোগিণীদের ইনজেকশন দেন। আর রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ছেলেপুলেদের চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখেন, তারা দেখতে তাঁর মতো হয়েছে কি না।
তো একবার মিলান কুন্ডেরার কাছে বন্ধ্যাত্ববিষয়ক চিকিৎসকদের একটা সেমিনারে পেপার পড়ার আমন্ত্রণ এল। মিলান কুন্ডেরা বললেন, আমি তো এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ নই।
চিকিৎসকেরা বললেন, না না, আপনি আপনার উপন্যাসে এই বিষয় নিয়ে লিখেছেন।
আমি তো ইয়ার্কি করেছি। আমার লেখাকে সিরিয়াসলি নেওয়ার কিছু নেই।
চিকিৎসকেরা খুবই মর্মাহত হলেন, বললেন, আপনি এটা কী বলছেন, আপনার লেখাকে সিরিয়াসলি নেওয়ার কিছু নেই? আপনার লেখাকে সিরিয়াসলি নিয়ে আমরা এত দিন ভুল করেছি?
আমি যদি বলি, রস+আলোর লেখাকে সিরিয়াসলি নেওয়ার কিছু নেই, তাতেও অনেকেই রাগ করবেন।
কাজেই রস+আলোওয়ালাদের বলব, আরও সাবধান হোন। ক্রিকেট জিনিসটা এবং যেকোনো খেলা জাতিতে জাতিতে, মানুষে মানুষে মৈত্রী স্থাপনের জন্য; বৈরিতা তৈরির জন্য নয়। খেলা খেলাই, তাতে হার থাকবে, জিত থাকবে, হারলেই...দ্যাটস নট দ্য এন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড।
লেখাটা শুরু করেছিলাম সুসংবাদ দিয়ে। আমরা আর গরিব নই। আমরা এখন নিম্নমধ্যবিত্ত। এখন আমাদের গম্ভীর হতে শিখতে হবে। কথায় কথায় হাসি-তামাশা করা যাবে না। বড়লোকেরা কম হাসেন। তাঁদের হাসি স্মিত। তাঁরা স্মাইল করেন। মোনালিসার মতো রহস্যময় হাসি হাসেন। আর হ্যাঁ, গরিবদের দেখলে লাফ অ্যাট করেন।
আর আমাদের বাঘদের এখন খেলতে হবে বাঘদের সঙ্গেই। বিড়ালের সঙ্গে খেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিন শেষ।
একটা নির্দোষ পুরোনো কৌতুক বলে শেষ করি।
ইঁদুর লাফাচ্ছে, বাঘের বিয়ে, আমাকেও দাওয়াত দিয়েছে, যেতে হবে।
খরগোশ বলল, বাঘের বিয়ে, তো তুই ইঁদুর লাফাচ্ছিস কেন?
ইঁদুর বলল, আসলে আমিও তো বিয়ের আগে বাঘই ছিলাম, বিয়ের পরেই না ইঁদুর হয়ে গেলাম।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশে ছেলে শিশু ধর্ষণের ক্ষেত্র বেড়েছে: শিশু অধিকার ফোরাম
মূলতঃ এক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে রোববার রাতে ঢাকার এক মাদ্রাসা শিক্ষককে পুলিশ আটক করবার পর ছেলেদের উপর যৌন নির্যাতন চালানোর এই বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। বাংলাদেশে বহু ছেলে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও ভিকটিম বা পরিবারের সদস্যদের অনীহার কারণে এসব ঘটনা প্রকাশিত কম হয় বলে উল্লেখ করছেন মাহমুদ। তিনি বলেন, "শুধুমাত্র সেসব ঘটনাই আমরা জানতে পারি যেগুলো পরিস্থিতির কারণে তারা প্রকাশ করতে বাধ্য হয়।" ঢাকায় নির্যাতনের শিকার ওই মাদ্রাসা ছাত্রের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ঘটনাটি তখনই সামনে এসেছে যখন ছাত্রটিকে অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। অথচ ওই একই শিক্ষক এর আগেও ছাত্রটিকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছে বলে জানিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানের চেয়ে প্রতিবেশীদের সামরিক ব্যয় ৮ গুণ বেশি -ওবামা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফার্গুসনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা
হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকা টাইরন হ্যারিসের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনেছেন সরকারী কৌসুলিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ফার্গুসন শহরে পুলিশের গুলিতে নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর মাইকেল ব্রাউন নিহত হবার বছরপূর্তিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসেছিল তারই বন্ধু টাইরন হ্যারিস।
পুলিশ বলছে, ওই সমাবেশ থেকে প্রথম পুলিশের দিকে গুলি ছুড়েছিল এমন ছয় ব্যক্তির একজন হ্যারিস।
তবে, হ্যারিসের বাবা জানিয়েছেন, তার ছেলে নিরস্ত্র ছিল, এবং পুলিশ যখন হামলা চালায়, সে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালাচ্ছিল।
এখন সরকারী কৌশুলিরা হ্যারিসের বিরুদ্ধে পুলিশে কাজে বাধা প্রধান এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নী জেনারেল লোরেটা লিঞ্চ ওই সহিংস হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।
এটর্নি জেনারেল বলেছেন, আমরা সাম্প্রতিক মাস এবং বছরগুলোতে দেখছি, এধরণের সংঘাত যেকোনো শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের বার্তাকে পুরোপুরি আড়াল করে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, পুলিশের গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে হ্যারিস এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
রোববারের ওই সহিংস ঘটনার পর পুলিশ অন্তত পঞ্চাশ জনকে গ্রেফতার করে।
এদের মধ্যে রয়েছেন নাগরিক অধিকার আন্দোলনকর্মী কর্নেল ওয়েস্ট।
বিক্ষোভকারীরা সরকারের কাছে ফার্গুসনের পুলিশ বাহিনীকে বিলুপ্ত করে দেবার আহ্বান জানিয়েছে বলে জানাচ্ছে সেখানকার গণমাধ্যম। বিবিসি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিচারক বদলিতে কনভেনশন গড়ে তুলতে চাই -বিশেষ সাক্ষাৎকারে আইনমন্ত্রী : আনিসুল হক by মিজানুর রহমান খান
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিজানুর রহমান খান
প্রথম আলো : বিচারকদের পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন প্রশ্নে জ্যেষ্ঠ সচিবেরা বিরুদ্ধ অবস্থান নিয়েছেন, এর সর্বশেষ অবস্থাটি কী?
আনিসুল হক : এটা যে ইস্যু হয়েছে তা জানি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখার দায়িত্ব কেবল বিচার বিভাগের নয়, নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভারও। তাই এর আশু নিরসন হওয়া দরকার। যেখানে বিচারক ও বিচারপতিদের বেতন-ভাতার প্রশ্ন জড়িত, সেটা আমার কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচারক ও বিচারপতিদের হাত শক্তিশালী করার জন্য, তাঁদের সম্মান বজায় রেখে যে বেতন তাঁদের প্রাপ্য, সেটা দেওয়াই উচিত। এটা যাতে বিরোধ সৃষ্টি না করে, তা সরকার দেখবে। সরকার চেষ্টা করবে বাস্তবতার নিরিখে যেটা ঠিক, সেটাই যেন তাঁরা পান।
প্রথম আলো : কবে এর সুরাহা হবে?
আনিসুল হক : ঈদের পরে।
প্রথম আলো : বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার নেতৃত্বাধীন পে-কমিশনের সুপারিশ কি জ্যেষ্ঠ সচিবেরা খতিয়ে দেখতে পারেন? কোনো সচিব কমিটি হয়েছে কি?
আনিসুল হক : এ রকম কোনো কমিটি এখন পর্যন্ত হয়নি। তবে জুডিশিয়াল পে-কমিশনের সুপারিশের আলোকে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে।
প্রথম আলো : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রধান বিচারপতি ও আপনার উপস্থিতিতেই মাসদার হোসেন মামলার রায় ওল্টানোর দাবি তুলেছেন?
আনিসুল হক : ওটা তাঁর ব্যক্তিগত মত।
প্রথম আলো : কিন্তু অর্থমন্ত্রীর ওই অভিমত এসেছে মন্ত্রিসভায় বিচার বিভাগের জন্য ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত পাস করানোর প্রেক্ষাপটে।
আনিসুল হক : আপনি কোন সিদ্ধান্তের কথা বলছেন?
প্রথম আলো : আগে মোবাইল কোর্ট করেছেন, এখন অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষ স্বীকার না করলেও ‘পারিপার্শ্বিক অবস্থা’ দেখে শাস্তি দেওয়ার বিধান করছেন, এর সবটাই তো বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
আনিসুল হক : মোবাইল কোর্ট এসেছে বাস্তবতার নিরিখে। এখন দোষ স্বীকার ছাড়াই শাস্তির বিধান করছি কেন? এর প্রয়োজন কী? বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে হাইকোর্টে পেন্ডিং প্রায় ৩ লাখ। বাদবাকি মামলা পড়ে আছে নিম্ন আদালতে। জনগণের প্রত্যাশা, খাদ্যে ভেজাল, ট্রাফিক বিধি লঙ্ঘন, ফরমালিন ইত্যাদির ত্বরিত সাজা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হোক। আমি ও সরকার যখন জনপ্রতিনিধি, সরকার জনগণকে সন্তুষ্ট করতে যে যে আইন দরকার, সেটা করবে। ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যদি এ রকম আইন লাগে, তা জরুরি ভিত্তিতে করতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশেই এ রকম আইন করা হচ্ছে।
প্রথম আলো : কিন্তু সরকারি কর্মচারীরা কোথাও বিচারকার্য করে না। যে মোবাইল কোর্ট করেছেন, তাও নজিরবিহীন। তাহলে কি বলতে চান, বিচারকেরা ত্বরিত বিচার দিতে পারেন না, যা সরকারি কর্মকর্তারা পারেন?
আনিসুল হক : না। আমি বলিনি ত্বরিত বিচার চাইলে নির্বাহী হাকিম লাগবে, তবে পৃথক্করণের আগে ক্ষমতা তাঁদের ছিল, এই জিনিসটা তাঁরা রেখে দিয়েছেন এবং এখন তা প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে এটা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। আমরা খেয়াল রাখছি আদালতগুলো যাতে মামলায় জর্জরিত না হয়। আমি আপনাকে ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দেব। আমি এ বিষয়ে ওসব দেশের স্বনামধন্য বিচারকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা বলেছেন, ৯০ শতাংশ মামলা আদালতের বাইরেই যাতে সুরাহা হয়, তাঁরা এখন তেমনভাবে আদালত চালাচ্ছেন। যেমন রেস্টোরেটিভ জাস্টিস, এর আওতায় থানায় দুই পক্ষকে এনে সুরাহা করে দেয়। এই ব্যবস্থা জনপ্রিয়তা অর্জনের পরে তারা আইনসিদ্ধ করে। আবার যেসব অপরাধ আপসযোগ্য, সেখানে আদালতই সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানিয়ে দেন যে এটা আপসযোগ্য অপরাধ, চেষ্টা করেছেন কি মীমাংসা করে নেওয়ার? বিচারপতি লায়নস, যিনি আমাকে এটা বলেছেন, তিনি আগামী মাসে ঢাকায় রেস্টোরেটিভ জাস্টিস-বিষয়ক একটি সম্মেলনে যোগ দিতে আসছেন। আরেক মার্কিন ফেডারেল বিচারক আমাকে বলেছেন, কোর্টের বাইরে যদি ৯০ শতাংশ মামলা শেষ করতে না পারি, যদি আমরা কার্যপ্রণালি অনুযায়ী যাই, তাহলে জট সৃষ্টি হবেই। আমাদের এখানেও জট ছিল।
প্রথম আলো : আপনার এই উদাহরণের একটিও সরকারি কর্মকর্তা দিয়ে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে ত্বরিত বিচারের ধারণাকে যথার্থতা দেয় না, ওসব দেশে এ ব্যবস্থা নেই।
আনিসুল হক : আমি যথার্থতা দেওয়ার কথা বলছিও না। বলছি এটা চালু আছে। ফরমালিন ও ভেজাল খাদ্য নিয়ে কথা ওঠার প্রেক্ষাপটে আমরা আগে থেকে চালু থাকা মোবাইল কোর্টকে অধিকতর কার্যকর করেছি। যেখানে সিআরপিসির ২৬২ ধারায় বলা আছে, দুই বছর পর্যন্ত সামারি ট্রায়ালে সাজা দেওয়া যাবে, ততটুকুই মোবাইল কোর্টকে সুযোগ দিচ্ছি; এর বেশি নয়।
প্রথম আলো : মোবাইল কোর্ট আইনে প্রথমে কেবল জরিমানা করার বিধান ছিল। এরপর সংসদকে এড়িয়ে আপনারা আইনটির তফসিলে প্রায় ১০০ আইন ঢুকিয়েছেন। যেখানে ১০ বছরের সাজা আছে, সেই আইনও ঢুকেছে, তাই দুই বছরের বিধান তো দ্বৈত বিচার চালু করেছে।
আনিসুল হক : আমি কিন্তু এ বিষয়ে একটি পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছি। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভাও একটি দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে যে, কোনো অবস্থাতেই দুই বছরের বেশি সাজা দেওয়ার সীমার বাইরে যেতে পারবে না। এখন তফসিলভুক্ত প্রতিটি আইন পরীক্ষা করে দেখুন, সেখানে দুই বছর বা দুই বছরের কম সাজা আছে, কেবল এমন আইনেরই উল্লেখ আছে। এমনকি দুই বছর এক মাস যেখানে সাজার বিধান আছে, তেমন আইনও আর তফসিলে নেই।
প্রথম আলো : কিন্তু এ রকম আইন তফসিলে ছিল।
আনিসুল হক : এখানেই আমি জোরটা দিচ্ছি। একজন কর্মরত আইনজীবী হিসেবে আমি এটা দেখে অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছি। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আমি যখন বক্তব্য রেখেছি, তখন প্রধানমন্ত্রীসহ প্রত্যেক সদস্য তাতে সম্মতি দিয়েছেন।
প্রথম আলো : দুই বছরের সাজা প্রদানের ক্ষমতাসম্পন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে চালানো ‘কোর্ট’ সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত স্বাধীন আদালতের বিচার লাভে নাগরিকের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, কারণ এই ‘কোর্ট’ কোর্টই নয়, সুপ্রিম কোর্ট নিয়ন্ত্রিত নয়। আপনি যে বাস্তবতার কথা বলেন, তা কার সৃষ্টি? সরকারি হাকিম রাখার ব্যবস্থামুক্ত ভারত ও পাকিস্তানের বাস্তবতা আমাদের থেকে কীভাবে আলাদা করবেন?
আনিসুল হক : আমাদের দেশে যেটা দরকার, সেটাই তো করতে হবে। আমাদের সমাজে কিছু অপরাধ ছিল, যার বিরুদ্ধে আশু লড়াই চালানো দরকার ছিল এবং সেটা করে সুফল মিলেছে। এ বছর কিন্তু আমে ফরমালিন নেই। স্বাধীনতার কথা যেটা বলছেন, সে বিষয়ে আমি বলব, শিশুর জন্মের পরই তার ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়, এটা আস্তে আস্তে দিতে হয়। ২০০৭ সালে নিম্ন আদালত স্বাধীন হয়। এখন যতই দিন যাবে, ততই তাঁর স্বাধীনতার গণ্ডি প্রসারিত হবে এবং স্বাধীনতাকে ধারণ করার শক্তি আমাদের বিচার বিভাগ পাবে। এটা কিন্তু আমাদের মেনে নিতে হবে।
প্রথম আলো : সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অভিশংসনসংক্রান্ত আইনের খসড়া কবে মিলবে? বিচারপতি নিয়োগ আইনের কী হলো?
আনিসুল হক : প্রক্রিয়াগত এই আইনের খসড়া ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। এ নিয়ে স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে নিশ্চয় আলোচনা করব। একজন বিচারপতিকে দুটি কারণে সরানো যাবে। এর একটি প্রমাণিত গুরুতর অসদাচরণ ও অন্যটি হলো অসামর্থ্য। যাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হবে, তিনি যেন নিজেকে আত্মরক্ষা করতে পারেন, কোনো জায়গায় যাতে এ বিষয়ে কোনো ব্যত্যয় না ঘটে বা বাধা না আসে, সেটা আমাদের সুনিশ্চিত করতে হবে এবং যতক্ষণ তাঁকে সরানো না হবে, ততক্ষণ যাতে তাঁর সম্মান বা অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়, তাও নিশ্চিত করতে হবে। আর বিচারক নিয়োগ আইনটির অগ্রগতি এখনো নেই, তবে এটাও করা হবে।
প্রথম আলো : ঢাকার সিএমএম পদে সরকারি প্রস্তাব তিনবার নাকচ হওয়ার পর চতুর্থবারে আপনি আপনার প্রস্তাবের পক্ষে নির্দিষ্টভাবে কারণ ব্যাখ্যা করলেন। কিন্তু চতুর্থবারও নাকচ করতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কোনো কারণ দেখালেন না। পরস্পরের কাছে এই কারণ দেখানোর বিষয়ে কি এখন থেকে একটি নতুন কনভেনশন গড়ে তোলা যায়?
আনিসুল হক : আইন মন্ত্রণালয় এই প্রথম ব্যাখ্যা দিয়ে পাঠিয়েছে। প্রথম কথা হলো, বর্তমান সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সে জন্য আপনার মনে যে প্রশ্ন উঠেছে, আপনার বক্তব্য হলো সুপ্রিম কোর্ট যখন ফেরত পাঠালেন, তখন তাঁরা কিন্তু কোনো যুক্তি দেননি। কিন্তু আমি যেহেতু বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, তাই আমি কারণ দেখিয়ে একটি রিভিউ প্রস্তাব করেছিলাম, আর সেটা দেখেও তাঁরা যখন আগের অভিমতে স্থির থাকলেন, তখন আমি মনে করেছি নিশ্চয় তাঁদের অবস্থানের পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি আছে। সেটা জিজ্ঞেস করতে গেলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হয়তো কোনো জায়গায় ক্ষুণ্ন হতে পারে। তাই আমি এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলিনি। একটি কনভেনশন, একটি প্র্যাকটিস, একটা নিয়ম যে ছিল, সেটা আমি তাঁদের জানিয়েছিলাম।
প্রথম আলো : কারণ দেখিয়ে কাউকে বদলির প্রস্তাব প্রদানকে কি একটি কনভেনশন হিসেবে গড়ে তুলতে চান? নাকি এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা?
আনিসুল হক : আইন মন্ত্রণালয় নির্বাহী বিভাগ ও সুপ্রিম কোর্টের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে। উভয়ের মধ্যে যাতে কোনো ভুল-বোঝাবুঝি না হয়, সেটার ব্যাপারে প্রশ্ন জাগলে আমি বারংবারই তাদের কাছে এ রকম প্রশ্ন তুলব। বদলি বিষয়ে এখন কোনো নীতিমালা নেই।
প্রথম আলো : তাহলে আপনি মনে করেন যে, বদলি ও প্রেষণে বিচারকের পদায়নে একটি কনভেনশন গড়ে তোলা দরকার?
আনিসুল হক : হ্যাঁ। আমি এখানে একটি প্র্যাকটিস, একটি কনভেনশন গড়ে তোলার চেষ্টা করব। এখন যেসব প্রস্তাব যায়, তার মন্তব্যের ঘর আগে খালি থাকত কি না জানি না, এখন তা পূরণ করা থাকে। স্বামী-স্ত্রী এক জেলায় থাকবেন, সেটা নীতিমালার বরাতে ব্যাখ্যা করে দেওয়া হচ্ছে।
প্রথম আলো : কখনো জনমনে এমন ধারণা হয় যে, সরকারের অপছন্দের আদেশ দানের পরপরই বিচারক বদলির সুপারিশ যাচ্ছে?
আনিসুল হক : অনেক সময় অভিযোগ আসে যে জঙ্গিদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তখন সেটা দেখতে হয়। কারণ, জনপ্রতিনিধি হিসেবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমাকে তাদের কথা শুনতে হয়। এর যদি ৫০-৫৫ শতাংশেরও সত্যতা মেলে, তখন আমাকে একটা ব্যবস্থা নিতে হয়। আর এটাকেই বলে সুশাসন।
প্রথম আলো : আপনাকে ধন্যবাদ।
আনিসুল হক : ধন্যবাদ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা কতটুকু by বিভুরঞ্জন সরকার
বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র উল্লেখ করে সংবাদে বলা হয়, ‘তারাও (বিএনপি) আগামী দেড় বছরের মধ্যে একটা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখছেন। তার আগে বিএনপিতে ভাঙন ধরানোসহ বড় ধরনের ঝড়ের আশঙ্কাও করছেন। সম্প্রতি বিএনপি নেতাদের ফোনালাপ ফাঁস, দল ভাঙার তৎপরতা নতুন করে জোরদার এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বিভিন্ন মামলার দ্রুতগতি সে ঝড়েরই আলামত হিসেবে দেখছেন বিএনপি নেতারা।’
প্রথম আলোতে এই সংবাদটি প্রকাশের পরদিন (২৫ জুন) দৈনিক সমকালে সম্পূর্ণ বিপরীত একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের উদ্ধৃত করে। ‘আগাম নির্বাচন? প্রশ্নই ওঠে না’ শিরোনামে প্রকাশিত সমকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতাদের দৃষ্টিতে, আগামী ২০১৯ সালের আগে একাদশ সংসদ নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সংবিধান অনুযায়ী ওই বছরের ২৯ জানুয়ারির পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। এর আগে নির্বাচনের কথা ভাবা স্বপ্নেরই নামান্তর।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলছেন, ওই নির্বাচনের (৫ জানুয়ারি) পর সরকার কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তায় পড়ে। ফলে তখন দলের ভেতর মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাদের ভাষায়, সরকার পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষতার কারণে গোটা পরিস্থিতি বদলে গেছে। আন্দোলনের নামে যারা পেট্রল দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে মানুষ পুড়িয়েছে তাদের পরাজয় হয়েছে। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিকভাবে সবকিছু সরকারের অনুকূলে রয়েছে।’ আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ড. আবদুর রাজ্জাক, আহমদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে উদ্ধৃত করে সমকাল জানিয়েছে, ‘দেশে এখন শান্তি বিরাজ করছে, সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য সরকারের ওপর কোনো চাপ নেই।... অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে জঙ্গিবাদ তৈরি করতে গিয়ে যারা পরাজিত হয়েছেন তারাই মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা বলছেন। মানুষ মধ্যবর্তী নির্বাচনের নাটক দেখতে চায় না।’ মধ্যবর্তী বা আগাম নির্বাচনের প্রশ্নে আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন জোরালো বক্তব্য সত্ত্বেও প্রথম আলো ‘সরকারের একাধিক সূত্র’ থেকে জানতে পেরেছে আগাম নির্বাচনের অঙ্ক কষার তথ্য। এই দুই বিপরীতধর্মী তথ্যের মধ্যে কোনটা বেশি বিশ্বাসযোগ্য? ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই’ বাক্যটিকে যদি সত্য বলে ধরা হয়, তাহলে আগাম নির্বাচন হওয়া এবং না-হওয়ার দুটি তথ্যই বিশ্বাসযোগ্য। তাছাড়া প্রথম আলোর আগাম নির্বাচনের অঙ্ক কষার খবরটি শর্ত যুক্ত। যেমন ‘যদি এটা হয়, যদি ওটা হয়,’ ইত্যাদি। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে যদি কয়েকটি ঘটনা ঘটে এবং যদি সরকার পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূল বলে মনে করে তাহলেই কেবল আগাম নির্বাচন হতে পারে। আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের ওপর চাপ আছে বলে মনে করা হলেও এই চাপের জন্য যে সরকার মেয়াদপূর্ণ হওয়ার আগে নির্বাচন দেবে না, সেটা প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়। গত বছর ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক আছে, প্রশ্ন আছে। এই নির্বাচনে ১৫৩ জন সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় সরকার নৈতিকভাবে কিছুটা দুর্বল অবস্থায় আছে। তবে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আইনি বৈধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। অনেকেই আশা করেছিলেন, ওই নির্বাচনের পর সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথে হাঁটবে। কিন্তু ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ভণ্ডুল করার জন্য বিএনপি-জামায়াত জোট আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দেয়ার মতো ধ্বংসাত্মক পথে গিয়েও নির্বাচন বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচন হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রকৃত অর্থেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেছে। নির্বাচন হওয়াকে কেন্দ্র করে দেশে যে উত্তেজনা ও সহিংসতার বিস্তার ঘটেছিল নির্বাচন শেষ হওয়ামাত্র তার অবসান ঘটায় দেশের মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে আসে।
আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা কতটুকুবিএনপি যদি সরকারকে তাদের মতো করে নির্বাচন সম্পন্ন করতে দিতো, হিংসা-হানাহানির পথে না চলতো, তাহলে হয়তো পরে সবার সঙ্গে আলোচনা করে অল্প সময়ের মধ্যে নতুন একটি নির্বাচনের কথা সরকার ভাবতে পারত। বিএনপির বাড়াবাড়ি সরকারকেও কঠোর অবস্থানের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের জন্য চরম মূল্য দিতে হয়েছে দেশবাসীকে। সরকারের জন্যও ছিল এই নির্বাচন এক বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন করে একটি নির্বাচনের আয়োজন করলেও পরিস্থিতি ৫ জানুয়ারি থেকে ভিন্নতর হবে, তারইবা গ্যারান্টি কী? একটি জাতীয় নির্বাচন আয়োজন ছেলেখেলা নয়। এর সঙ্গে একদিকে যেমন বিপুল অর্থব্যয়ের প্রশ্ন জড়িত, তেমনি আছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নও। দেশের মানুষ এখন ভোটের অধিকার প্রয়োগের জন্য ব্যাকুল, না শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনে বেশি আগ্রহী সেটা এখন একটি গবেষণার বিষয় হতে পারে। মানুষ গণতন্ত্র চায়। কিন্তু গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের বার বার যেভাবে ঠকানো হয়েছে, তাতে এখন তারা আর আশা মরীচিকার পেছনে ছুটে জীবন ধ্বংস করতে চায় কি-না সেটা অনুসন্ধান করা দরকার।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সরকারকে বিপদে ফেলতে গিয়ে আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত জোট এমন হটকারিতা করেছে যে উল্টো তারাই এখন চরম বিপাকের মধ্যে আছে। বিএনপি-জামায়াতের তিন মাসের অবরোধ-হরতালের ব্যর্থতা থেকে প্রমাণ হয়েছে, সরকারের কাছ থেকে দাবি আদায়ের ক্ষমতা বিএনপি এবং তার সহযোগী রাজনৈতিক দলগুলোর নেই। তিন মাসের আন্দোলনে সরকার দুর্বল হয়নি, বরং বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এই অবস্থায় আন্দোলন করে বিএনপি আগাম বা মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করতে পারবে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, বিএনপি আন্দোলন না করলেও কি সরকার স্বপ্রণোদিত হয়ে আগাম নির্বাচন দিতে পারে না? হ্যাঁ, সেটা দিতে পারে। সরকার যদি মনে করে আগে নির্বাচন দিলে তাদের পক্ষে জয়লাভ সহজ হবে তাহলে তারা আগাম নির্বাচন দিতেও পারে। সে ধরনের পরিস্থিতি হলে অর্থাৎ সরকারের জন্য সহজ জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলে একটি আগাম নির্বাচন দিয়ে সরকার নিজেদের নৈতিক অবস্থান মজবুত করে নিলেও নিতে পারে। সেটা নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর।
২০১৬ সালের শেষে বা ২০১৭ সালের শুরুর দিকে সরকারের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি হবে এমন কোনো সম্ভাবনা কি বাস্তবে দেখা যাচ্ছে? এখানেই আসছে প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ‘যদি’ প্রসঙ্গ। প্রথম যদি, চলতি বছরের মধ্যে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের এক বা একাধিক মামলার বিচার কাজ শেষ হয়ে তাদের সাজা হয় এবং তারা নির্বাচনের অযোগ্য হন। দ্বিতীয় যদি, নানাধরনের কোন্দল-কলহের জের ধরে বিএনপির মধ্যে ভাঙন দেখা দেয় অর্থাৎ বিএনপির যদি দুই বা ততোধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তৃতীয় যদি, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ছিন্ন হয় এবং চতুর্থ যদি, ২০ দলীয় জোট ভেঙে যায়। এই চারটি ‘যদি’ সত্যি সত্যি ঘটে তাহলে পরিস্থিতি সরকারের অনুকূলে যাবে, বিএনপির অবস্থা শোচনীয় হবে। সে অবস্থায় আওয়ামী লীগবিরোধী শক্তিগুলোকে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ না দিয়ে একটি আগাম নির্বাচনের ব্যবস্থা সরকার করলেও করতে পারে।
তবে এই বিষয়গুলো কল্পনায় যতটা সহজ বলে মনে হয়, বাস্তবে ততটা সহজ নয়। এতো সেই মামির যদি গোঁফ হয়, তাহলে... গল্পের মতো। প্রথমত, বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাগুলো সরকার দ্রুত শেষ করতে চাইলেও জটিল আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তা সম্ভব নাও হতে পারে। বেগম জিয়ার আইনজীবীরা সময়ক্ষেপণের কোনো সুযোগই হাতছাড়া করবেন না। ইতোমধ্যেই যেটা তারা করছেন। আবার বিচারিক আদালত বিচার সম্পন্ন করে সাজা দেয়ার পর আছে উচ্চ আদালতে আপীলের প্রশ্ন। সেখানেও লম্বা সময়ের ব্যাপার। তাই খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে নির্বাচনে অযোগ্য করার বিষয়টি দ্রুত ফয়সালা হওয়ার সম্ভাবনা কম। তারপর এক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা দরকার। বেগম জিয়ার বিদেশি মিত্ররা তাকে শাস্তি দেয়া কিংবা নির্বাচনে অযোগ্য করার বিষয়টি কীভাবে নেবে? দেশজুড়ে বিএনপির বিপুল সমর্থকগোষ্ঠীও কি বেগম জিয়ার শাস্তি হলে একেবারেই কি প্রতিক্রিয়াহীন থাকবে? দ্বিতীয়ত, বিএনপির ভাঙনের ঘটনাটিই বা কত দ্রুততার সঙ্গে ঘটবে? দু’চারজন নেতার ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা থেকে যদি বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকটকে অনেক বড় করে দেখা হয়, তাহলে সেটাও ভুল হবে। বিএনপির মধ্যে উপদলীয় কোন্দল আছে, গ্রুপিং আছে, কিন্তু মূল দল থেকে বেরিয়ে গিয়ে যে রাজনীতিতে খুব একটা সুবিধা করা যায় না, এটা যারা রাজনীতি করেন তাদের কারো অজানা নয়। তাই বেগম জিয়া দল থেকে বের করে না দিলে স্বেচ্ছায় বেরিয়ে গিয়ে আলাদা বিএনপি করার ঝুঁকি কেউ নেবেন কিনা, সেটা একটি বড় প্রশ্ন। অতীতে যারা দল থেকে বেরিয়ে গেছেন, তারা খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। তার ওপর যারা বের হবেন তাদের সম্পর্কে যদি সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তো সর্বনাশ। মানুষ সরকারের বি-টিম বিএনপিকে সমর্থন করবে কি? বিএনপি ভাঙলেও সাধারণ সমর্থকরা মূল দলের দিকেই থাকবে। অবশ্য খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান বিএনপির নেতৃত্বে না থাকলে বিএনপির জন্য সত্যিকার অর্থেই বড় সংকট তৈরি হবে।
তৃতীয়ত, জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের বিষয়টিও খুব সহজে ঘটবে বলে মনে হয় না। খালেদা জিয়া শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবেন জামায়াতের সঙ্গে থাকার। নানা মহল থেকে কত কথা হচ্ছে, তারপরও জামায়াতের ইফতার পার্টিতে যোগ দিয়ে খালেদা জিয়া এই বার্তাই দিয়েছেন। পরিস্থিতি যদি বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগে বাধ্য করে তাহলে তা থেকে বিএনপির লাভবান হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যারা জামায়াতের কারণে বিএনপিকে সমর্থন দিতে দ্বিধায় আছেন, (এমন সংখ্যা কম নয়) তারা চোখবন্ধ করে বিএনপির দিকে ঝুঁকবেন। জামায়াত ছাড়লে বিএনপির লাভ বেশি এটা বেগম জিয়া বুঝতে পারছেন না বলেই তিনি দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন। চতুর্থত, ২০ দলীয় জোটে ভাঙন প্রসঙ্গ। নির্বাচনী রাজনীতিতে ২০ দলীয় জোট ভাঙা না-ভাঙা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। ২০ দলে নির্বাচন করার মতো দল কয়টি আছে? বিএনপি-জামায়াত ছাড়া অন্যগুলো তো ‘হোন্ডা’ বা ‘স্কুটার’ পার্টি। ২০ দল মূলত বিএনপি-জামায়াতের জোট। ফলে ২০ দলীয় জোট ভাঙন দেখা দিলে আগাম নির্বাচনের পথ প্রশস্ত হবে মনে করার কারণ নেই।
![]() |
| বিভুরঞ্জন সরকার |
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাগুরায় খুনোখুনির পেছনে শিখর–বীরেনের দ্বন্দ্ব by রোজিনা ইসলাম
![]() |
| মাগুরায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় গর্ভের সন্তানসহ নাজমা খাতুন গুলিবিদ্ধ |
ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে গর্ভের সন্তানসহ নাজমা বেগম গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের বিশেষ শাখা এ গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনটি ৪ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতার বিরোধের জের ধরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইদানীং গ্রাম, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ ধরনের গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘এলাকার পুলিশ প্রশাসনও এ বিষয়ে আমাদের জানিয়েছে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পুলিশের বিশেষ শাখার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সাইফুজ্জামান শিখর গ্রুপ এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ফলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবং গত ২১ জুলাই অনুষ্ঠিত মাগুরা সদর উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অন্তঃকোন্দল ও সংঘর্ষ প্রকট আকার ধারণ করেছে। ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য স্থানীয় নেতা-কর্মীরা প্রায়ই গ্রুপ পরিবর্তন করে স্বার্থসিদ্ধির সুযোগ নিচ্ছেন। জ্যেষ্ঠ নেতাদের উসকানিতে জেলার রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এসব বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য শনিবার রাতে ও গতকাল দিনভর সাইফুজ্জামান শিখরের মুঠোফোনে অনেকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তাঁর মুঠোফোনে কয়েক দফা খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়ে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান শিখরের গ্রুপে আছেন মাগুরা-১ আসনের সাংসদ আবদুল ওয়াহহাব, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুমার কুণ্ডু, মাগুরা সদর উপজেলার চেয়ারম্যান রুস্তম আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তানজেল হোসেন খান, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী গোলাম মওলা, সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক আবদুল মান্নান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান।
অপর দিকে বীরেন শিকদার গ্রুপে আছেন সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু নাসির (বাবলু), জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রানা ওসমান, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাকি ইমাম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক শরীফ, মাগুরা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিরুল ও নাজমুল।
এ বিরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার প্রথম আলোর কাছে স্বীকার করেছেন যে সাইফুজ্জামান শিখরের সঙ্গে তাঁর ‘সম্পর্ক খারাপ’। তিনি বলেন, ‘শিখরের বাবা যে নির্বাচনী এলাকার সাংসদ ছিলেন, আমি সেখানকার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছি। আর এটাই ওদের বিদ্বেষ। কিন্তু ওরা এলাকায় যেসব অপকর্ম করে চলেছে, তা সবাই জানেন।’
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৩ জুলাই মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাগুরা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ভূঁইয়া ও ছাত্রলীগের কর্মী আজিবর শেখ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাকি ইমামের চাচা মোমিন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ওই ঘটনায় আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগম গুলিবিদ্ধ হন। মাগুরা সদর হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর একটি কন্যাসন্তান হয়। মায়ের পেটে থাকা শিশুটির পিঠে গুলি লেগে বুক দিয়ে বেরিয়ে যায়। ওই ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় মামলা হয়েছে। ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একই দিন মাগুরা থানার রূপদাহ গ্রামে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী-সমর্থিত মোস্তফা মেম্বার, মোক্তার ও নান্নু গ্রুপের সঙ্গে সাইফুজ্জামান শিখর-সমর্থিত জহুর মিয়া ও লালন গ্রুপের সংঘর্ষে নান্নু শেখ নামের একজন নিহত হন। আহত হন ১৬-১৭ জন। একই সময়ে একই থানার ডহরসিংড়া গ্রামে শফিকুল ও রাজা গ্রুপের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তাঁর গর্ভজাত সন্তান আহত হওয়ার ঘটনা ব্যাপকভাবে গণমাধ্যমে আসায় আওয়ামী লীগ ও তার ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতার বিরোধ মীমাংসা করা প্রয়োজন। না হলে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অবশ্য স্থানীয় সাংসদ ও প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার বলেন, কোনো রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয়, দরপত্র নিয়ে টাকা ভাগাভাগির সময় ওই মারামারি হয়। তখন নিজের ঘরের বারান্দায় ওই মা ও গর্ভজাত সন্তান গুলিবিদ্ধ হয়। তিনি দাবি করেন, শিখরের দুই ভাই এর সঙ্গে জড়িত।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুর্ঘটনার কারণ এবং প্রতিকার by মুস্তাফা নূরউল ইসলাম
দেশের দক্ষিণ কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এখন সড়কপথে বহু যাত্রী যাতায়াত করলেও নৌপথের গুরুত্ব তাদের কাছে মোটেই কম নয়। দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন অনেক উন্নত হলেও বিপুলসংখ্যক যাত্রী এখনো নৌপথে যাতায়াতেই আগ্রহী। যে ৬০ হাজার নৌযান সারাদেশের নৌপথে চলছে এর মধ্যে মাত্র ১০ হাজার নৌযান নিবন্ধিত বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা গেল, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মোট যাত্রীর এখনো ৩৫ শতাংশ যাতায়াত করে থাকেন ৫৩টি নৌপথে। আরো জানা গেছে, তেলজাত দ্রব্যাদির প্রায় ৯০ শতাংশই পরিবহন করা হয় থাকে নৌপথে। কিন্তু নৌপথের নিরাপত্তা এখনো কাক্সিক্ষত পর্যায়ে নিশ্চিত করা যায়নি। এটি হলো তিক্ত বাস্তবতা। বিগত প্রায় এক দশকে নৌপথ উন্নয়ন এবং নৌ ব্যবস্থাপনায় বেশ অগ্রগতি সাধিত হলেও এখনো তা কাক্সিক্ষত পর্যায় থেকে অনেক দূরে রয়ে গেছে। সরকার নৌপথের গুরুত্বের কথা ভাবছে না তা বলা যাবে না। কিন্তু তার পরও নৌপথের নিরাপত্তা এখনো প্রশ্নবিদ্ধই রয়েছে। ওই প্রতিবেদনেই প্রকাশ, প্রায় ২৪টি নৌপথ ইতোমধ্যে গভীর করা হয়েছে যেগুলো অগভীর পর্যায়ে পৌঁছে নৌ-চলাচল বিঘ্ন ঘটাচ্ছিল। এও জানা গেছে, আরো অনেক নৌপথে খনন কাজ চলছে গভীর করার লক্ষ্যে। অন্যদিকে উন্নত ও টেকসই নৌযান নির্মাণের ক্ষেত্রও এখন অনেক বিস্তৃত হয়েছে। ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জসহ আরো কয়েকটি স্থানে নির্মাণ করা হচ্ছে আধুনিক নৌযান। বুড়িগঙ্গা কিংবা শীতলক্ষ্যা নৌপথ দিয়ে গেলে এমন অনেক কারখানা চোখে পড়ে। দৃষ্টিগ্রাহ্য এসব কারখানায় অনেক উন্নত ও নিরাপদ নৌযান তৈরি হচ্ছে। নৌযানের ফিটনেস নিশ্চিত করার পদ্ধতির ক্ষেত্রেও সুদূরপ্রসারী দৃষ্টি দেয়া হয়েছে এবং এ কারণেই এই ক্ষেত্রে সব কার্যক্রমও আগের চেয়ে অনেক জোরদার হয়েছে।
এতসব কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও প্রতিবছরই বিশেষ করে বর্ষা ও দুই ঈদের সময়ে কম-বেশি নৌ-দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনার জন্য মূলত দায়ী কতিপয় লোভাতুর মানুষের স্বেচ্ছাচারিতা এবং দুর্ঘটনার কারণ এবং প্রতিকারকোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলের কারো কারোর উদাসীনতা কিংবা যথাযথভাবে দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে নিষ্ঠার অভাব। এক পরিসংখ্যানে প্রকাশ, ১৯৭৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫০৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় সলিল সমাধি ঘটেছে ৪৬১০ জন মানুষের। দুর্ঘটনা নিছক দুর্ঘটনাই অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়টি এই বলে মেনে নেয়া যায় না। সচেতন ও দায়িত্ববান হলে অনেক ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব এমনটি নিশ্চিত হওয়া গেছে অনেক দুর্ঘটনা-উত্তর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে। এ যাবত নৌপথে যত দুর্ঘটনা ঘটেছে সেগুলোকে নিছক দুর্ঘটনা বলতে পারলে স্বস্তি পাওয়া যেত। কিন্তু এমনটি বলার অবকাশ সিংহভাগ ক্ষেত্রেই ক্ষীণ। আমাদের স্থল ও নৌপথে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটার কারণগুলো সচেতন মানুষ মাত্রই কম-বেশি জানা। কাণ্ডজ্ঞানহীনতা, অদক্ষতা, স্বেচ্ছাচারিতা, লোভাতুর মনোভাব ইত্যাদি দুর্ঘটনার জন্য মুখ্যত দায়ী। দুর্ঘটনা ঘটছে এবং এর কারণও চিহ্নিত হচ্ছে কিন্তু প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা করা যায়নি নিশ্চিত। এ কারণেই ঝুঁকির মাত্রাও কমছে না বরং বাড়ছে।
নৌ-দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত যাত্রী কিংবা পণ্যবোঝাই। ফিটনেসবিহীন নৌযানও এর অন্যতম কারণ। এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতা-অযোগ্যতা ও অন্যান্য কারণ তো আছেই। এর জন্য নৌপথে চলাচলকারী মানুষজনও কম দায়ী নন। তাদের অসচেতনতা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবনের চেয়ে অর্থের মূল্য মনে মনে বেশি নির্ধারণ করার কারণেও এমন অনাকাক্সিক্ষত-অনভিপ্রেত-মর্মন্তুদ ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। এক কথায় সব পক্ষের কম-বেশি দায় রয়েছে। সময় ও অর্থের মূল্য যে জীবনের চেয়ে কোনোভাবেই বেশি নয়, বেশি হতে পারে না তা অনেকেই জানলেও মানতে চান না। নিজের জীবনযাত্রার পথের বিষয়গুলোতে সর্বাগ্রে নিজেকেই ভাবতে হবে। বর্ষা মৌসুমে প্রকৃতির আচরণের পাশাপাশি অন্য আরো কিছু বিষয়ের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা সবারই তো দায়িত্ব। যাত্রাপথে যদি পুরোপুরি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা কিংবা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয় তাহলে কতগুলো জরুরি বিষয়ের প্রতি অবশ্যই সতর্ক দৃষ্টি রাখা বাঞ্ছনীয়। যেহেতু নৌপথ নিয়ে কথা হচ্ছে সেহেতু আপাতত নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে করণীয় বিষয়গুলোর প্রতিই দৃষ্টি দেয়া যাক।
নৌযানের ফিটনেস নিশ্চিত করা সর্বাগ্রে জরুরি। এ বিষয়টি দেখভালের জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীলরা রয়েছেন। তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে নিষ্ঠ হওয়ার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক তদারকির ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। তাছাড়া চালকদের দক্ষতার বিষয়টিও সমভাবেই জরুরি। নৌপথে এখনো বিশৃঙ্খলা-অব্যবস্থাপনা-অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতা বিদ্যমান। এসবের সমাধানকল্পে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যতম এই বিষয়ে উদাসীন থাকার কোনোই অবকাশ নেই। সংশ্লিষ্ট সবাই যদি হন কর্তব্যপরায়ণ তাহলে অনাকাক্সিক্ষত অনেক কিছুই এড়ানো দুরূহ কোনো বিষয় নয়। যাত্রীদের সচেতনতার বিষয়টি তো আইন দিয়ে নিশ্চিত করা যাবে না নিজেদেরই তাগিদেই সচেতন হতে হবে। বর্ষাকালে নৌপথ সঙ্গত কারণেই আরো দীর্ঘ ও প্রশস্ত হয়। ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এ সময়ে সতর্কতা আরো বেশি জরুরি।
লেখক: শিক্ষাবিদ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কী অপরূপ এই বাংলাদেশ by আনিসুল হক
আপনারা কি ব্যাট হাতে সৌম্য কিংবা তামিমের দাঁড়ানোর ভঙ্গিটা খেয়াল করেছেন? বল জিনিসটা পেটানোর জন্য, তা তোমরা যে দলই হও না কেন—পাকিস্তান, কিংবা ভারত, কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকা—বলটা করো, তারপর দেখো, কোথায় যায়! একটু আগে দক্ষিণ আফ্রিকা যেখানে ব্যাট হাতে থরথর করে কাঁপছিল, সেখানে মারের পরে মার, অসহায় দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়েরা সীমানা থেকে বল কুড়িয়ে আনতে আনতে ধ্বস্ত! সেই উইকেটে খেলতে নেমে সৌম্য কিংবা তামিমের চোখেমুখে দেহভঙ্গিমায় কোনো ভয়ডর দেখেছেন? ভয়শূন্য ক্রিকেট বা ফিয়ারলেস ক্রিকেট—বাংলাদেশের খেলা সম্পর্কে যা বলা হচ্ছে আজকাল। আর চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, সেখানে কী হয়, রবীন্দ্রনাথ বলেই রেখেছেন, উচ্চ সেথা শির।
কিন্তু এই ছেলেগুলো ‘উন্নত মম শির’ হয়ে উঠল কোত্থেকে? তা কি শুধুই ক্রিকেট! জীবনের সর্বক্ষেত্রে মার খেয়ে ক্রিকেটে ভালো করা যায় না। তার মানেটা হলো, বাংলাদেশ ভালো করছে জাতীয় জীবনের আরও আরও ক্ষেত্রে। গতকাল আর পরশুর প্রথম আলোতেই আছে কতগুলো ইতিবাচক খবর। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে রৌপ্যপদক পেয়েছে একটা, ব্রোঞ্জ পদক চারটা, বাংলাদেশ ভালো করেছে ভারতের চেয়েও, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে হয়েছে প্রথম। যুক্তরাষ্ট্রে ভারতকে মনে করা হয় প্রকৌশলী উৎপাদনকারী দেশ। তাদের চেয়ে গণিতে ভালো করা অনেক বড় অর্জন। এক দিন আগেই খবর বেরিয়েছে, বিবিএসের জরিপের সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। চার বছরে গড় আয়ু বেড়েছে তিন বছরের বেশি। আর এর পেছনে আছে সামাজিক ও মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের ভালো করা। শিশু ও মায়ের মৃত্যু কমেছে, বাল্যবিবাহ কমেছে, শিক্ষার হার বাড়ছে। প্রাণঘাতী রোগ এই দেশে বিস্তার লাভ করতে পারে না, মানুষ সচেতন এবং নতুন প্রযুক্তি কিংবা পদ্ধতি গ্রহণে তারা দ্বিধাহীন।
অমর্ত্য সেন বাংলাদেশের এই উন্নতির কথা বারবার করে বলছেন। ভারতের মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের চেয়ে ঢের বেশি, কিন্তু বাংলাদেশ ভারত কিংবা পাকিস্তানের চেয়ে ভালো করে চলেছে নারী ও শিশুর উন্নয়নে, কি শিক্ষায়, কি স্বাস্থ্যে। ভারতের প্রতি দুজনের একজন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে চলে যান উন্মুক্ত আকাশের নিচে, আর বাংলাদেশে ২০০০ থেকে ২০১২ সালে স্যানিটারি ল্যাট্রিন ব্যবহার না করা মানুষের সংখ্যা ১২ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৩ শতাংশ (http://blogs.wsj.com/indiarealtime/2014/10/08/why-many-indians-cant-stand-to-use-the-toilet/)|
এরই মধ্যে আমরা জেনে গেছি, বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে মধ্য আয়ের দেশে, আরও নির্দিষ্ট করে বললে, আমরা এখন নিম্নমধ্য আয়ের দেশ। বাংলাদেশে ৯৮ শতাংশ ছেলেমেয়ে স্কুলে যায়, মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার হার ছেলেদের চেয়ে বেশি। হাজার হাজার ছেলেমেয়ে জিপিএ ফাইভ পাচ্ছে। দেশে ১০ কোটিরও বেশি লোকের হাতে মোবাইল ফোন, এমন বাড়ি এখন খুঁজে পাওয়া মুশকিল, যেখানে মোবাইল ফোন নেই। ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ছে দ্রুত। কমছে কেরোসিনের বাতি ব্যবহারের হার, বাড়ছে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবহার।
ফলটা কী দাঁড়াচ্ছে?
আমাদের দুজন অফিস সহকারীর সঙ্গে কথা বলেছি। দুজনেরই মেয়ে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পেয়েছে। তারপর তারা ভর্তি হয়েছে ঢাকার দুটো ভালো স্কুলে। তাঁদের দুজনেরই আশা, মেয়ে দুটো বড় হলে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে। অর্থাৎ মানুষ সামনে আলো দেখছে। তারা আশা দেখছে।
সামনে আলো থাকলে কী হয়? আপনার ছায়া পড়ে আপনার পেছনে। আলেকজান্ডারের ঘোড়া বুসেফালাস একবার খুব অস্থির হয়ে উঠেছিল। সে কিছুতেই বাগ মানছিল না। কারণ, সূর্য ছিল তার পেছনে। তার ছায়া পড়েছিল তার সামনে। সেই ছায়া দেখে ঘোড়াটা ভীত হয়ে উঠেছিল। কিন্তু যখন ঘোড়াটিকে সূর্যের দিকে মুখ করিয়ে দাঁড় করানো হলো, তার ছায়া পড়ল পেছনে, ঘোড়াটি শান্ত হয়ে গেল। আমাদের সামনে যদি আলো থাকে, আমরা নির্ভীক হয়ে উঠি। আমাদের ছায়া যদি আমাদের সামনে পড়ে, আমরা ভয় পাই।
বাংলাদেশের প্রতিটা মানুষ সামনে আলো দেখতে পাচ্ছেন। ছায়া পড়ছে আমাদের পেছনে। আমরা আর ভয় পাই না। অন্ধকারের দিকে নয়, আমরা আলোর দিকে যাচ্ছি। ভয় পান না সৌম্য কিংবা সাব্বির। ভয় পান না মুস্তাফিজ কিংবা রুবেল। লাখ লাখ মুস্তাফিজ, সাব্বির, মুমিনুল, জোবায়ের বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জ থেকে উঠে আসছেন।
মুস্তাফিজুরের গল্পটাই তো রূপকথাকে হার মানাবে। বাবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, সাতক্ষীরা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে থাকেন। ছেলে ক্রিকেট খেলতে চায়। বাবা তাকে চারটা টিউটর দিয়েছিলেন ক্লাস সিক্সে, যেন সে পড়তে বসে, বারবার ছুটে মাঠে না যায়। সেই ছেলেকে তার সেজো ভাই মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যেতেন সাতক্ষীরা শহরে, সেখানেও গড়ে উঠেছে একটা ক্রিকেট একাডেমি। সেখানে গিয়ে ছেলে ক্রিকেট শেখে। চেহারায় শৈশবের লালিত্য এখনো রয়ে গেছে, পৃথিবীর সেরা ব্যাটসম্যানকে আউট করে সে শিশুর মতো হাততালি দেয়, যেন সে সাতক্ষীরায় তাদের টিনে ছাওয়া বাড়ির ছাদে এই মাত্র একটা পোষা পায়রাকে দেখল শূন্যে ডিগবাজি খেতে। সাতক্ষীরা থেকে ঢাকা, তারপর সরাসরি ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক রেকর্ড বইয়ে। প্রত্যেকেরই প্রায় একই গল্প, সাকিব আল হাসানের বাবা সাকিবের ছোটবেলায় মাগুরা শহরের বাড়িতে সাকিবের ক্রিকেট ব্যাট কেটে ফেলেছিলেন, তাঁর আশঙ্কা ছিল, ছেলে না আবার বড় হয়ে ক্রিকেটার হয়ে যায়। সেই ছেলে এল বিকেএসপিতে, আজ সাকিব পৃথিবীর এক নম্বর, আমি আবার বলছি, পৃথিবীর এক নম্বর অলরাউন্ডার, ক্রিকেটের তিনটা ফরমেই। কী যে মায়া লাগে এই ছেলেগুলোর সঙ্গে কথা বললে। আর কী যে সাহস! মাশরাফি বিন মুর্তজার হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয়েছে ছয়বার। বিশ্বকাপেও তাঁর ট্রাউজার ভেদ করে ফুলে ছিল হাঁটুতে বেঁধে রাখা কী এক ক্যাপ। ছেলেটা মাঠে নামার আগে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ দিয়ে ফুলে ওঠা হাঁটু থেকে পানি বের করে নিতেন। সেই ছেলের বুকে কত সাহস, কত স্নেহ, প্রেরণার কী অনিঃশেষ ফল্গুধারা। রিকশায় চড়ে অনুশীলনে যাচ্ছিলেন, বাসের ধাক্কায় ছিলে গেল হাতের কনুই। তিনি তাঁর সহখেলোয়াড়দের বলেছেন, প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে কথা বলবে। কোহলি আর ধোনিরা বিস্মিত, ঘটনা কী, বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে ফটো তুলতে পারলে ধন্য হয়ে যাবে, তা না উল্টো চোখে চোখ রেখে কথা বলছে! আর মাশরাফির রসবোধ দেখেছেন? রস+আলোয় গত সোমবার বেরোনো তাঁর সাক্ষাৎকারটি পড়ুন।
সাকিব যখন বলেছিলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ স্পষ্ট ফেবারিট, তা নিয়ে শোর উঠেছিল, ধবলধোলাই তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীর সত্যতা প্রমাণ করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে শেষ ওডিআইয়ের আগেও সাকিব জানালেন, সিরিজ জয় করে নেওয়ার এটা হলো সুবর্ণ সুযোগ।
দক্ষিণ আফ্রিকা আগে ব্যাট করে অতি অল্প রান করে আউট হয়েছে। দ্বিতীয় ওডিআইয়ের দিনের কথা। ব্যাট করতে নেমে তামিম আর লিটন দাস শুরুতেই আউট। কিন্তু বাংলাদেশ শিবিরে কোনো উদ্বেগ নেই, দুশ্চিন্তা নেই। সেদিন মাঠে গিয়েছিলাম, দেখি, নাসির আর সাব্বির নীল রঙের পোশাকটা পরে মাঠের ধারে বসে আছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে এই রকম একটা ম্যাচে প্যাড পরে বসে থেকে খেলা শেষে হেসে বললেন, ভাই, ব্যাটিং তো পাইলাম না। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে শেষ দুই ওডিআইতে তাঁর সেই আফসোসও নেই। কারণ, তাঁরা জানেন, ব্যাট করতে হবে না। মাঠে সৌম্য আছেন, তামিম বা রিয়াদ আছেন।
এই যে সাহস, এই যে মনোবল, এই যে ভয়হীন চিত্তের উচ্চ-শির পারফরম্যান্স, এটা এসেছে একটা স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিকের সার্বিক আত্মবিশ্বাস থেকে। ওই যে কবি বলেছিলেন, শাবাশ বাংলাদেশ, এই পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার, তবু মাথা নোয়াবার নয়। একাত্তরে যুদ্ধে জিতে দেশ পেয়েছি, বন্যা-খরা-জলোচ্ছ্বাসে মরিনি, তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে পরিণত হয়েছি বিশ্বের শস্যভান্ডারে, দক্ষিণ এশিয়ায় মানব উন্নয়ন সূচকে কি নারীর ক্ষমতায়নে ভালো করে চলেছি, বাংলাদেশ এখন কেবল এমার্জিং টাইগার নয়, রোরিং টাইগার।
তবে সবটাই যে সুসংবাদ, তা তো নয়। এক হাজারটা ক্ষেত্র আছে, যেখানে আমাদের ভালো করতে পারতে হবে। গতকালের পত্রিকাতেই খবর, আইনের শাসনে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ১০২টি দেশের মধ্যে আমাদের স্থান ৯৩তম। মানবাধিকার পরিস্থিতি এখানে ভালো নয়।
বাংলাদেশের মানুষ সব বাধাবিপত্তি পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা ভালো করছে, তারা ভালো করবেই। তার পেছনে নিশ্চয়ই সরকারগুলোর অনেক অবদান আছে। তবু, আরেকটু ভালো শাসন এই দেশের মানুষের প্রাপ্য। দুর্নীতি যদি কমে আসে, প্রকল্পগুলোর পেছনের উদ্দেশ্য যদি টেকসই উন্নয়ন হয়, লুটপাট না হয়, যদি পরিকল্পনা হয় সুদূরপ্রসারী, যদি থাকে জবাবদিহি, তাহলে এই দেশের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবেই।
অভিনন্দন মাশরাফি বাহিনীকে, ঈদের আগে আমাদের এত সুন্দর একটা উপহার দেওয়ার জন্য। তবে আমাদের নিজেদেরই একটা কথা বলতে হবে, খেলা শেষ পর্যন্ত খেলাই। জয়-পরাজয় থাকবেই। জয়টাকে যেমন সুন্দরভাবে উদ্যাপন করতে পারতে হবে, পরাজয়টাও নিতে পারতে হবে খেলোয়াড়ি মনোভাব নিয়েই। মাশরাফি বলেছিলেন, জয় উদ্যাপন করা সহজ, হারার পরে কে কীভাবে সেটাকে নিচ্ছে, এটা আমি দেখতে চেয়েছিলাম। তিনি তাঁর সহখেলোয়াড়দের সম্পর্কে এটা বলেছিলেন। এটা কিন্তু আমরা আমাদের নিয়েও বলতে পারি, হারার পরে আমরা, দর্শকেরা, কে কী আচরণ করি, সেটাই পরীক্ষা।
এযাবৎকালের বাংলাদেশে দর্শকেরা সেই পরীক্ষায় স্টার মার্কস পেয়ে এসেছে, হারি-জিতি আমরা বাংলাদেশ দলের সঙ্গেই ছিলাম, আছি, থাকব।
এগিয়ে যাও, বাংলাদেশ।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ছাত্রসমাজের ওপর মানুষের আস্থাহীনতার কারণ জানেন না আশরাফ
আজ সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ মিলনায়তনে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ মন্তব্য করেন। ছাত্র ও যুবসমাজকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘এখন দেশের সাধারণ মানুষ ছাত্রসমাজকে বিশ্বাস করে কি না তার উত্তর আমার জানা নাই। কিন্তু তৎকালীন সময়ে ছাত্রদের মানুষ দাম দিত। তাদের কথা বিশ্বাস করত। তখন আমরা যারা ছাত্র ছিলাম, সাধারণ মানুষ সে সময় মূল্যায়ন করত। কিন্তু দুঃখের বিষয় ছাত্রদের ওপর সেই আস্থা ও বিশ্বাস এখন যে কোনো কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেই। কিন্তু সেটার কারণ আমার জানা নেই।’
নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘এখন আমাদের ছাত্র ও যুবসমাজকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হবে। তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। তাদের গঠনমূলক কাজে লাগাতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কথায় কথায় বলি, ছাত্র ও যুব সামজ আমাদের ভবিষ্যৎ। কিন্তু এখন যারা যুবক ও ছাত্রসমাজ, তাদের ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তুলতে না পারলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।’
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘১৯৭০ সালে ময়মনসিংহে ছাত্রলীগের এক সমাবেশে আমি ছিলাম সভাপতি, বঙ্গবন্ধু প্রধান অতিথি এবং আমার পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন বিশেষ অতিথি। বঙ্গবন্ধু সব সময় ছাত্রদের আদর করতেন। সত্তরের নির্বাচনে তাঁর নির্দেশে আমরা দিনের পর দিন ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে নৌকার দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছি।’
ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান খান, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মিসেস হাসিনা-দৌলা। সভা পরিচালনা করেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যখন-তখন গ্যাস-বিদ্যুৎ বিপর্যয়: রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে পাইপে ফাটল by অরূপ দত্ত
![]() |
| মগবাজারের রাশমনো হাসপাতালের সামনে রাস্তার নিচের গ্যাসের পাইপ লাইনে বিস্ফোরণ ঘটে। সংস্কার না করেই স্থানটি মাটিতে ভরাট করা হয়। ছবি আবদুস সালাম |
গ্যাস পাইপ ফেটে আগুন: মগবাজার প্রধান সড়কে নজরুল শিক্ষালয়ের সামনে পাইপ ফেটে পাঁচ দিন ধরে গ্যাস বেরোচ্ছে। সড়কটি ভাঙাচোরা। বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে প্রায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা। জমে থাকা পানিতে গ্যাসের বুদ্বুদ উঠে আসছে। গত সোমবার এ ঘটনা ঘটার পর নজরুল শিক্ষালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করে। গ্যাসের তীব্র গন্ধে এখন সেখানে চলাচলই কঠিন হয়ে গেছে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গ্যাস বেরোবার পর খবর পেয়ে তিতাস গ্যাস কোম্পানি পাইপের ফাটা অংশ সংস্কার না করে ওই স্থানে মাটি চাপা দেয়। এরপর চারপাশে ফিতা টেনে এবং কাগজে ‘সাবধান গ্যাস নির্গত হচ্ছে’ লিখে দায়িত্ব শেষ করে। গতকাল বিকেলে গ্যাসের বুদ্বুদের সঙ্গে আগুন বের হলে আতঙ্কিত এলাকাবাসী রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
যোগাযোগ করা হলে তিতাস গ্যাস কোম্পানির পরিচালক (উৎপাদন) আশরাফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে গ্যাস লাইনের ফুটো মেরামত করা হয়। কিন্তু সেখানে বিদ্যুতের অত্যন্ত শক্তিশালী ২৩০ কেভি ভোল্টের লাইন থাকায় কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে। বিষয়টি ঢাকা পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানিকে (ডিপিডিসি) জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছি, প্রয়োজনে নিজে আজ (শুক্রবার) রাতে মুভ করব।’
মিরপুরের কিছু অংশ ১৯ ঘণ্টা গ্যাসবিহীন: মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১৯ ঘণ্টা মিরপুরের অনেক স্থানে গ্যাস ছিল না। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সূত্র জানায়, সেনপাড়া পর্বতায় ঢাকা ওয়াসার প্রকল্পকাজের রাস্তা খোঁড়ার কারণে মঙ্গলবার তিতাস গ্যাসের চার ইঞ্চি পাইপ লাইন ফেটে যায়। এতে মিরপুরের অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার বিকেল চারটার দিকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেনপাড়া পর্বতায় শিববাড়ি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের কাছে ঢাকা ওয়াসার ‘ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ (ডিডব্লিউএসএসডিপি) আওতায় গভীর গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। গর্ত খুঁড়তে গিয়ে মঙ্গলবার রাতে মাটির গভীরে থাকা চার ইঞ্চি গ্যাস পাইপ ফেটে যায়। ওই অংশ দিয়ে দ্রুত গ্যাস বেরোতে থাকে। এ অবস্থায় তিতাস গ্যাস কোম্পানি একে একে এলাকার নয়টি বাল্ব (গ্যাস সরবরাহ লাইনে থাকে) বন্ধ করে দেয়। এতে সেনপাড়া পর্বতা, মিরপুর ১৩ নম্বর, ১৪ নম্বর সেকশনের কাফরুল, বউবাজার, ইব্রাহিমপুরসহ আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
![]() |
| ইনসেটে ঘটনাস্থলে টাঙানো সতর্ক বার্তা। ছবি আবদুস সালাম |
তিতাসের পরিচালক আশরাফুল হক বলেন, ফেটে যাওয়া গ্যাস পাইপ দ্রুত মেরামত করা হয়েছে। বিষয়টি ওয়াসাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
মোহাম্মদপুরের একাংশ দিনভর বিদ্যুৎবিহীন: গতকাল শুক্রবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত মোহাম্মদপুর নূরজাহান রোড, শেখেরটেক, আদাবরসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। এতে এসব এলাকায় পানির সরবরাহও বিঘ্নিত হয়। উত্তরার আজমপুরেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ছিল না বলে এলাকার একজন বাসিন্দা টেলিফোন করে জানান।
নূরজাহান রোডের আর-৪১ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা নূরুন্নাহার বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকাল আটটার দিকে বিদ্যুৎ যাওয়ার পর প্রথমে মনে হয়েছিল লোডশেডিং। কিন্তু দুই ঘণ্টা পরও যখন বিদ্যুৎ এল না, বুঝলাম অন্য সমস্যা। প্রচণ্ড গরমে কষ্ট করতে হয়ে।’
‘এস’ রোডের বাসিন্দা শাহাবুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘সকাল থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। বাড়িওয়ালার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংরক্ষিত ট্যাংকিতে যেটুকু পানি ছিল শেষ হয়ে গেছে।’
‘এফ’ রোডের বাসিন্দা আবদুস সবুর ও মিল্লাতুর রহমান বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করার জন্য তাঁরা গোসল বা অজু পর্যন্ত করতে পারেননি।
শেকেরটেকের বাসিন্দা পারভীন সুলতানা সন্ধ্যায় প্রথম আলোয় ফোন করে জানান, প্রায় আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে যায়।
এসব এলাকার বাসিন্দারা জানান, অনেক সময় মাইকে আগেই নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ না থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়। গতকাল তেমন কোনো ঘোষণা না দেওয়ায় তাঁরা বুঝতে পারছিলেন না কখন বিদ্যুৎ আসবে।
জানতে চাইলে ঢাকা পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানির (ডিপিডিসি) স্থানীয় (স্ক্যাডা) কর্মকর্তা আমীর হোসেন জানান, মাটির নিচে একটি কেব্ল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের এই বিপর্যয় ঘটে। কারণ, এর জন্য সরবরাহকারী ফিডার বন্ধ রাখতে হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অবাধে চলছে ফিটনেসবিহীন গাড়ি
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লেকের আবর্জনা তুলে রাখা হয়েছে সড়কে by সামছুর রহমান
বাসিন্দারা বলেন, লেকের ময়লা না সরানোয় এলাকার লোকজনও এখানে গেরস্থালি আবর্জনা ফেলতে শুরু করেছেন। ময়লা আরও বেশি জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। ময়লা আবার লেকেই গিয়ে মিশতে শুরু করায় লেক পরিষ্কারের কোনো সুফল হচ্ছে না।
গুলশান সোসাইটির অঞ্চল-৪-এর আহ্বায়ক ফায়েজ আহমেদ বলেন, ‘লেকটা রাজউকের। কিন্তু তারা লেক পরিষ্কার করে না। লেকের তলদেশে ময়লা-আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। স্বেচ্ছাসেবক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গুলশান সোসাইটি লেক পরিষ্কার করেছে। বেশির ভাগ ময়লা নিজেদের অর্থায়নে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ডিএনসিসিকে ময়লা অপসারণ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা লেক রাজউকের বলে সরাতে রাজি হয়নি। আর রাজউক এ বিষয়ে কিছুই করছে না।
গুলশান লেকটির দেখভালের দায়িত্ব রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজউকের সংশ্লিষ্ট একজন প্রকৌশলী বলেন, ‘আমাদের লেক পরিষ্কার করার নির্দিষ্ট সময় আছে। গুলশান সোসাইটি তার আগেই নিজেরা লেক পরিষ্কার করিয়েছে। ময়লা সরানোর বিষয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’
এলাকাটি ডিএনসিসির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘কে ময়লাগুলো সরাবে তা নিয়ে কথা হচ্ছে। দু-এক দিনের মধ্যে আমি নিজে গিয়ে দেখব। অপসারণের বিষয়ে সোসাইটির সঙ্গে কথা বলব।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জুলিয়েটের ৩৬ ছানা by সুমেল সারাফাত
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জুলিয়েট গত ১২ মে ৫১টি ডিম পাড়ে। সেগুলো ওই কেন্দ্রের কর্মচারী জাকির হেসেনের তত্ত্বাবধানে টানা ৮৬ দিন কেন্দ্রের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে সঠিক তাপ ও আর্দ্রতা, পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও আলোর ব্যবস্থা এবং পানি প্রবেশ করতে পারে না—এমন পরিবেশে রাখা হয়। অবশেষে বুধবার রাত ১০টায় ৩৬টি বাচ্চা ফুটে বের হয়। ভ্রূণের মৃত্যু ও অনিষিক্ত হওয়ায় এবার ১৫টি ডিম নষ্ট হয়ে গেছে।
বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির নোনা পানির কুমিরের প্রজনন বৃদ্ধি ও তা সংরক্ষণে ২০০২ সালে পূর্ব সুন্দরবনের করমজল পর্যটনকেন্দ্রে বন বিভাগের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় দেশের একমাত্র সরকারি এ কুমির প্রজননকেন্দ্র। বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন প্রকল্পের আওতায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে আট একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা হয় কেন্দ্রটি।
শুরুতেই জেলেদের জালে ধরা পড়া ছোট-বড় পাঁচটি কুমির দিয়ে কেন্দ্রে প্রজনন কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে কেন্দ্রে মিঠা পানির দুটি নারী কুমির, নোনা পানির দুটি নারী কুমির—জুলিয়েট ও পিলপিল এবং একটি পুরুষ কুমির রোমিও রয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত জুলিয়েট ও পিলপিল থেকে কেন্দ্রে গত ১০ বছরে ৬২৫টি ডিম থেকে ৩৯২টি বাচ্চা ফুটেছে।
কেন্দ্রের সাবেক কর্মকর্তা ও কুমির বিশেষজ্ঞ আবদুর রব জানান, বাংলাদেশে তিন প্রজাতির কুমিরের অস্তিত্ব ছিল। লবণ পানির কুমির, মিঠা পানির কুমির ও গঙ্গোত্রীয় কুমির বা ঘড়িয়াল। এর মধ্যে মিঠা পানির কুমির ও ঘড়িয়ালের বিলুপ্তি ঘটেছে। এখন শুধু লবণ পানির কুমিরের অস্তিত্বই আছে। এরা সাধারণত ৬০-৬৫ বছর পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। আর ৮০-১০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।
বৃষ্টি মাথায় নিয়ে করমজল বন্য প্রাণী ও কুমির প্রজননকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, জুলিয়েটের ছানাগুলো রাখা পরীক্ষাগারে। কেন্দ্রের কর্মচারী জাকির ছানাগুলোর তত্ত্বাবধান করছেন। যে ছানাটি দুর্বল সেটার প্রতি বেশি মনোযোগ তাঁর। এরপর জাকির পুকুরে গিয়ে জুলিয়েটকে ডেকে সুসংবাদ জানায়, তার ৩৬টি ছানা জন্ম নিয়েছে। আর পুরস্কার হিসেবে খেতে দেয় একটি মুরগি।
জাকির বললেন, আগে কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন আবদুর রব নামের এক বিশেষজ্ঞ। তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে কুমিরের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে অবসরে যাওয়ার পর কোনো কুমির বিশেষজ্ঞ এ কেন্দ্রে নেই। ২০০২ সাল থেকে তিনি তাঁর সহকারী হিসেবে কাজ করে এসেছেন। সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই তিনি বাচ্চা ফোটানোর চেষ্টা করেন।
সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কেন্দ্রে কুমির লালন-পালন ও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি যে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায় তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। প্রতিবছরই বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। চলতি অর্থবছরেও এ খাতে সরকারি অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
এই কেন্দ্র থেকে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, পটুয়াখালী বন বিভাগ ও সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-খালে শতাধিক কুমির অবমুক্ত করার পর বর্তমান ৩৬টি বাচ্চাসহ কেন্দ্রে কুমিরের সংখ্যা ২৩৭টি।
![]() |
| জুলিয়েটের ফোটানো ডিম থেকে গত বুধবার রাতে জন্ম হয়েছে ৩৬টি ছানার। সুন্দরবনের করমজল কুমির প্রজননকেন্দ্র থেকে গতকাল দুপুরে ছবিটি তোলা l প্রথম আলো |
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সেই শিশুকে স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীর নির্দেশ
![]() |
| মুতাসিম মাহির |
চতুর্থ শ্রেণির শিশু মুতাসিম মাহিরের বাবা ও গৌরীপুরের ধুরুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাজহারুল আনোয়ার গত শুক্রবার ময়মনসিংহে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের সাংসদ মজিবুর রহমান ফকিরের কারণে তাঁর ছেলের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। সাংসদের অনুমতি না নিয়ে গৌরীপুর পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির আদেশ নিয়ে আসার জেরে ক্ষুব্ধ সাংসদ তাঁকে পৌর মডেল স্কুলে যোগদান করতে দেননি। এমনকি ২১ মে পৌর মডেল স্কুলের ছাত্র মুতাসিমকে ছাড়পত্র দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। পরে সাংসদের কারণে কোনো বিদ্যালয় মুতাসিমকে ভর্তি করাতে রাজি হচ্ছে না।
ওই সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে গতকাল প্রথম আলোর শেষ পৃষ্ঠায় ‘সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ, সাংসদের কারণে চতুর্থ শ্রেণির শিশুর পড়াশোনা বন্ধ!’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
গতকাল রোববার বেলা একটার দিকে মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামকে ফোন করেন। শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আমাকে ফোন করে মুতাসিম মাহিরের ভর্তি করানো নিয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে জানতে চান। পরে তিনি আমাকে নির্দেশ দেন, মুতাসিমকে যেন যেকোনো বিদ্যালয়ে ভর্তি করায়, সে নির্দেশ দিতে। মন্ত্রী পরে আমার মাধ্যমে গৌরীপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জহির উদ্দিনের মুঠোফোন নম্বর নেন। ফোনে কথা বলেন মাজহারুল আনোয়ারের সঙ্গেও।’
মাজহারুল আনোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী আমার কাছে জানতে চান, ছেলেকে কোথায় ভর্তি করাতে চাই। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারিনি। কারণ, এখন গৌরীপুর পৌর শহরে আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি। সাংসদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করায় উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতারাও আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আছেন। এই অবস্থায় আমার ছেলেকে গৌরীপুর ভর্তি করানোর মতো সাহস পাচ্ছি না। মন্ত্রীকে বলেছি, পরে সিদ্ধান্ত জানাব।’
মাজহারুলের বিরুদ্ধে মানববন্ধন: ৩ আগস্ট সাংসদ মজিবুরের চারজন সমর্থকের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জনের নামে হুমকি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন মাজহারুল আনোয়ার। ওই মামলাকে সাজানো আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহার করতে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে গৌরীপুর পৌর শহরের পাট বাজার এলাকায় মানববন্ধন হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিধুভূষণ দাসের নেতৃত্বে ওই মানববন্ধনে মাজহারুল আনোয়ারের অপসারণেরও দাবি জানানো হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দায় স্বীকার করা বার্তাগুলো এসেছে চট্টগ্রাম থেকে!
![]() |
| নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় |
গতকাল দুপুরে মিন্টো রোডে ডিবির কার্যালয়ে যান এফবিআইয়ের তিনজন প্রতিনিধি। ডিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁরা ব্লগার হত্যার তদন্ত নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম, ডিবির চারজন উপকমিশনার ও মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার।
ওই বৈঠকের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিবির উপকমিশনার (পূর্ব) মাহাবুব আলম বলেন, অভিজিৎ হত্যার বিষয়ে এফবিআইয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক ছিল এটি। বৈঠকে নীলাদ্রি হত্যার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এফবিআই কারিগরি সহায়তা করতে চেয়েছে। কোন বিষয়ে সহায়তা নেওয়া যেতে পারে, ডিবির পক্ষ থেকে তা বলা হয়েছে।
জানতে চাইলে উপকমিশনার মাহাবুব বলেন, অভিজিৎ হত্যার বিষয়ে এফবিআই কী সাহায্য করল, সেটা এখনই বলা ঠিক হবে না। তাঁরা কিছু কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। আর যে ১১টি আলামত এফবিআইয়ের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছিল, তার প্রতিবেদন এখনো পায়নি ডিবি। ওই প্রতিবেদনগুলো দ্রুত পাঠানোর জন্য এফবিআইয়ের প্রতিনিধিদের বলা হয়েছে।
মাহাবুব আলম বলেন, নীলাদ্রি হত্যার দায় স্বীকার করে গণমাধ্যমে যে ই-মেইলগুলো এসেছে, তা বাংলাদেশ থেকেই পাঠানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে হত্যাকারী ও ই-মেইলের প্রেরক একই গোষ্ঠীর কি না, তা নিশ্চিত নয়। সেসব নিয়ে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, মামলার প্রাথমিক পর্যায়ের তদন্ত চলছে। অপরাধস্থল থেকে পাওয়া আলামত পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে যে পোশাক ও গামছা পাওয়া গেছে, সেগুলো হত্যাকারীদের বলে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন। প্রযুক্তিগত তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছে ডিবির কয়েকটি দল।
ডিবির একজন কর্মকর্তা গতকাল বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ওই বার্তাগুলো এসেছে বলে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন। এখন বার্তা প্রেরককে খোঁজা হচ্ছে।
শেষকৃত্য সম্পন্ন: মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি জানান, শনিবার রাতে পিরোজপুরে সদর উপজেলার চলিশা গ্রামে পারিবারিক শ্মশানে নীলাদ্রির শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে ঢাকা থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নীলাদ্রির মরদেহ নিয়ে গ্রামে পৌঁছে। এ সময় তাঁর বাবা তারাপদ চট্টোপাধ্যায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। নীলাদ্রির মা অপর্ণা চট্টোপাধ্যায় ও বোন জয়শ্রী চট্টোপাধ্যায়ের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। সান্ত্বনা দিতে আসা প্রতিবেশীদের চোখও ভিজে যায়।
পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শেষকৃত্যের জন্য নীলাদ্রির মরদেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার আগে তাঁর মা অপর্ণা চট্টোপাধ্যায় শেষবারের মতো ছেলের মুখ দেখেন। রাত সোয়া ১২টার দিকে দাহ শুরু হয়। গতকাল ভোর চারটার দিকে তা শেষ হয়।
![]() |
| নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়ের লাশ দাহ করতে নিয়ে যাওয়ার আগে ছেলের মুখটা শেষবারের মতো দেখে নিচ্ছেন মা অপর্ণা চট্টোপাধ্যায়। গত শনিবার রাতে পিরোজপুর সদর উপজেলার চলিশা গ্রাম থেকে তোলা ছবি l প্রথম আলো |
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অবৈধ পারাপার রোধে ‘এন্ট্রি ভিসা’র প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে -সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি প্রধান
বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সদ্য সমাপ্ত সম্মেলনে এ প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। রোববার রাজধানীর পিলখানায় বিজিবির সদর দপ্তরে এ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ২ থেকে ৬ আগস্ট ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, ফেলানী হত্যার বিচার, বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্তে চৌকি (বিওপি) নির্মাণ, চোরাচালান রোধ প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা হয়।
বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, সম্মেলনে ভারতীয় কর্মকর্তারা দাবি করেন, প্রতিবছর প্রচুরসংখ্যক বাংলাদেশি ভারতে অবৈধ অভিবাসন করছেন। এই দাবি নাকচ করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখন নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশ। দেশের আর্থিক, সামাজিক সূচকগুলো উন্নতির দিকে। উল্টো অনেক ভারতীয় বাংলাদেশে কাজ করছেন এবং প্রতিবছর তাঁরা পাঁচ থেকে ছয় বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স ভারতে পাঠান। তিনি বলেন, ‘আমরা তাঁদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে বাংলাদেশিদের ভারতে মাইগ্রেট করার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। বরং বেশির ভাগ লোক চিকিত্সার প্রয়োজনে বা স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে যান। ভারতের ভিসা পাওয়ার জটিলতার কারণে এ সমস্যা হচ্ছে। এন্ট্রি ভিসা চালু করলে এ ধরনের পারাপার কমে যাবে।’
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘ভারতে গরু রপ্তানির বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টির অনুমোদন দিতে পারে না। আমরাও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে তাদের কোনো অনুরোধ করতে পারি না। বিষয়টি যেভাবে দেখা দরকার, তারা সেভাবে দেখবে। তবে আমার কথা হচ্ছে, কোনো বাংলাদেশি যেন গরু আনতে সীমান্ত অতিক্রম না করেন। কারণ, এভাবেই বেশির ভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।’ তিনি বলেন, ফেলানী হত্যা মামলার রায় বিএসএফের মহাপরিচালক এখনো অনুমোদন করেননি। তাঁরা বলেছেন, ফেলানীর পরিবার এই রায়ে সংক্ষুব্ধ হলে তা বিএসএফকে জানালে তাঁরা নতুন বিচারকদের সমন্বয়ে আদালত গঠন করে বিচারিক কার্যক্রম চালাবেন।
সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিএসএফকে আবারও তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বিএসএফ যুক্তি দিয়েছে, চোরাকারবারিদের হামলায় তাদের দুই সদস্য নিহত ও ৫৭ জন আহত হয়েছেন। এরপরও তারা চেষ্টা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সীমান্তে ধৈর্য ধরে পাহারা দিতে বলা হয়েছে।’ বিজিবি মহাপরিচালক মনে করেন, সীমান্ত হত্যা কমছে। তিনি বলেন, ‘গত বছর ৪০ জন নিহত হয়েছেন, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ২৬ জন মারা গেছেন বলে তথ্য রয়েছে। এতে আমরা সন্তুষ্ট নই।’
বিজিবি প্রধান বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৩৯ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্তের মধ্যে গত কয়েক বছরে মাত্র ১১০ কিলোমিটার সুরক্ষিত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৪২৯ কিলোমিটার সুরক্ষিত করার জন্য ১০৭টি বিওপি স্থাপন করা প্রয়োজন। বিএসএফ সেই বিওপি স্থাপনের জন্য সর্বাত্মক সহায়তা দিতে চেয়েছে।
সম্মেলন শেষে ৭ আগস্ট ভারতের টেকনপুরে বিএসএফ প্রশিক্ষণ একাডেমিতে কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে অভিবাদন গ্রহণ করেন বিজিবি মহাপরিচালক। বিএসএফের কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে কোনো বিদেশিকে আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনা এটাই প্রথম বলে বিজিবি থেকে জানানো হয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
August
(765)
-
▼
Aug 11
(20)
- আমরা এখন মধ্য-আয়ের by আনিসুল হক
- বাংলাদেশে ছেলে শিশু ধর্ষণের ক্ষেত্র বেড়েছে: শিশু ...
- ইরানের চেয়ে প্রতিবেশীদের সামরিক ব্যয় ৮ গুণ বেশি -ও...
- ফার্গুসনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা
- বিচারক বদলিতে কনভেনশন গড়ে তুলতে চাই -বিশেষ সাক্ষাৎ...
- আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা কতটুকু by বিভুরঞ্জন সরকার
- মাগুরায় খুনোখুনির পেছনে শিখর–বীরেনের দ্বন্দ্ব by ...
- দুর্ঘটনার কারণ এবং প্রতিকার by মুস্তাফা নূরউল ইসলাম
- কী অপরূপ এই বাংলাদেশ by আনিসুল হক
- ছাত্রসমাজের ওপর মানুষের আস্থাহীনতার কারণ জানেন না ...
- যখন-তখন গ্যাস-বিদ্যুৎ বিপর্যয়: রাস্তা খোঁড়াখুঁড়...
- অবাধে চলছে ফিটনেসবিহীন গাড়ি
- লেকের আবর্জনা তুলে রাখা হয়েছে সড়কে by সামছুর রহমান
- জুলিয়েটের ৩৬ ছানা by সুমেল সারাফাত
- সেই শিশুকে স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীর নি...
- দায় স্বীকার করা বার্তাগুলো এসেছে চট্টগ্রাম থেকে!
- অবৈধ পারাপার রোধে ‘এন্ট্রি ভিসা’র প্রস্তাব দেওয়া ...
- পার্বত্য চট্টগ্রামে পুষ্টি পরিস্থিতি সমতলের চেয়ে খ...
- সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করছে আওয়ামী ওলামা লীগ!
- জয়পুরহাটের আ.লীগ রাজনীতি: নাশকতা মামলার আসামিদের ...
-
▼
Aug 11
(20)
-
▼
August
(765)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

















