Wednesday, November 17, 2010

লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

পবিত্র হজ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম ফরজ ইবাদত। আরবি ‘হজ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ কোনো স্থান দর্শনের সংকল্প করা, পবিত্র স্থানে গমনের ইচ্ছা করা। ইসলামের পরিভাষায়, নির্দিষ্ট দিনসমূহে কাবাগৃহ এবং এর সংলগ্ন কয়েকটি পবিত্র স্থানে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ অনুসারে অবস্থান করা, জিয়ারত করা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করার নামই হজ। প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্ক, প্রাপ্ত বয়স্ক, স্বাধীন মুসলমান, যার ভ্রমণ করার ক্ষমতা আছে এবং হজ থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত পরিবারের আবশ্যকীয় ব্যয় বাদে যাতায়াতের খরচ বহন করতে সক্ষম, তার ওপর হজ ফরজ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহর হজ করা ওই সব লোকের ওপর ফরজ, যাঁরা ওই (কাবাঘর) পর্যন্ত রাস্তা অতিক্রম করার (দৈহিক ও আর্থিক) ক্ষমতা রাখেন।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ৯৭)
নবম হিজরিতে হজ ফরজ হয়। হজ কেবল ধনী মুসলমানদের ওপর জীবনে একবার ফরজ, কিন্তু গরিবদের ওপর এটা ফরজ নয়। নবী করিম (সা.) উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন, ‘ওহে লোকেরা! আল্লাহ তোমাদের ওপর হজ ফরজ করেছেন, অতএব তোমরা হজ আদায় করো।’ (মুসলিম)
পৃথিবীর সব দেশের মুসলমান তাদের একমাত্র প্রভু আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এক নির্দিষ্ট সময়ে কাবাঘরের চারপাশে এবং মক্কার অপর কয়েকটি স্থানে সম্মিলিত কতগুলো ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে হজ আদায় করেন। মূলত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজ। প্রতিবছর ৯ জিলহজ বিশ্বের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান আরাফাতের ময়দানে সশরীরে উপস্থিত হয়ে উচ্চস্বরে সমবেত কণ্ঠে ঘোষণা দেন, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা-শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা ওয়ান নি’অমাতা লাকা ওয়াল মুলকা লা শারিকা লাআ’ অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে হাজির, আমি তোমার দ্বারে উপস্থিত, আমি হাজির, তোমার কোনো অংশীদার নেই, তোমার দরবারে উপস্থিত হয়েছি। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নিয়ামতের সামগ্রী সবই তোমার, (সর্বযুগে ও সর্বত্র) তোমারই রাজত্ব, তোমার কোনো অংশীদার নেই।’
যে ব্যক্তি হজ করে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ এমনভাবে ক্ষমা করে দেন, যেন সে নবজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহর জন্য হজ করেছে, এরপর কোনো অশ্লীল কাজ করেনি এবং কোনো পাপাচারও করেনি, সে হজ থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে প্রত্যাবর্তন করবে।’ (বুখারি ও মুসলিম) পানি যেমন ময়লা-আবর্জনা ধুয়ে পরিষ্কার করে দেয়, হজও তেমন গুনাহসমূহ ধুয়ে পরিষ্কার করে দেয়। (বায়হাকি) হজ আদায় করার জন্য বের হয়ে মৃত্যুবরণ করলেও অশেষ পুণ্য লাভ করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজ, ওমরাহ অথবা জিহাদের জন্য বের হয়ে পথিমধ্যে মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহ তার জন্য গাজি, হাজি অথবা ওমরাহকারীর সওয়াব নির্দিষ্ট করে দেন।’ (মিশকাত)
হাজিরা যখন হজ আদায় করেন তখন তাঁরা আল্লাহর কাছে যা প্রার্থনা করেন, তিনি তা কবুল করেন। নিজেদের পাপরাশির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি তা মার্জনা করে দেন। হাজিরা যখন আরাফাত ময়দানে অবস্থান করেন, তখন তাঁদের ওপর আল্লাহর অশেষ রহমত বর্ষিত হতে থাকে। প্রকৃত হজকারীর জন্য দোজখ হারাম হয়ে যায় এবং বেহেশত নির্ধারিত হয়ে যায়। নবী করিম (সা.) ফরমান, ‘যার ওপর হজ ফরজ হয়, আর সে যদি হজ আদায় না করে, আমি বলতে পারি না যে, সে ব্যক্তি ইসলাম ধর্মচ্যুত হয়ে মৃত্যুবরণ করবে।’ (বুখারি) ‘আল্লাহ যাকে হজ করার সামর্থ্য দিয়েছেন, যদি সে হজ না করে ওই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তাহলে সে জাহান্নামের ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হবে।’ (মিশকাত) ইসলামের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে হলে ধনী ব্যক্তির হজ পালন করা অবশ্যকর্তব্য। আর হজের ইচ্ছা পোষণকারী ব্যক্তিরও যথাসময় হজ সমাপন করা উচিত। এ মর্মে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘হজের ইচ্ছা পোষণকারী যেন তাড়াতাড়ি হজ সমাপন করে।’ (আবু দাউদ)
ইসলামে হজের যথেষ্ট সামাজিক গুরুত্ব রয়েছে। হজ মানুষকে ঐক্য ও একত্ববোধ শিক্ষা দেয়। বিশ্বের সব মুসলমান হজের মৌসুমে মক্কা শরিফে একতাবদ্ধ হন এবং কাবাঘর তাওয়াফ, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান, সাফা-মারওয়ায় দৌড়ানো ইত্যাদি ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করেন। এতে ঐক্যবোধ জাগরিত হয় এবং সামাজিক জীবনে এর প্রতিফলন দেখা যায়। হজ মানুষের মধ্যে সামাজিক সাম্যবোধ জাগরিত করে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলমান সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সবাই সেলাইবিহীন একই ধরনের সাদা পোশাক শরীরে জড়িয়ে হজ পালন করেন। ফলে তাঁদের মধ্যে যাবতীয় বৈষম্য বিদূরিত হয় এবং সাম্যের অনুপম মহড়ার অনুশীলন হয়। হজ মানুষের মনেপ্রাণে সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ জাগিয়ে তোলে। হজের প্রতিটি অনুষ্ঠান পালনের ক্ষেত্রে হাজিরা একই সারিতে সমবেত হন। তাঁদের মধ্যে কোনো ঝগড়া-বিবাদ থাকে না। সবাই এক আল্লাহর বান্দা ও এক রাসুলের উম্মত হিসেবে পরিচিত হন। এতে প্রতীয়মান হয় যে, বিশ্বের সব মুসলমান একটি অখণ্ড উম্মাহ এবং সবাই পরস্পর ভাই ভাই।
হজ উপলক্ষে সারা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলমান একত্র হন বিধায় তাঁরা একে অপরের সঙ্গে মেলামেশা করার সুযোগ পান এবং তাঁদের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদান গড়ে ওঠে। আর এহেন মেলামেশা ও ভাবের আদান-প্রদান সামাজিক জীবনেও প্রতিফলিত হয়ে থাকে। সব মুসলমান হজ করার সময় শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে থাকেন। সবাই সারিবদ্ধভাবে কাবা শরিফ তাওয়াফ করেন, নামাজ আদায় করেন ও অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করেন। তাঁদের মধ্যে কোনো রকম হইচই হয় না, সবার মধ্যে পরম শান্তি ও শৃঙ্খলাবোধ জেগে ওঠে। আর এই শৃঙ্খলাবোধ সমাজের সবার মধ্যে গড়ে ওঠে। হজ মানুষকে সামাজিকভাবে পারস্পরিক সহানুভূতিশীল করে তোলে। পরস্পরের সঙ্গে মেলামেশার ফলে একে অপরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-কষ্ট অনুভব করতে শিখে এবং সহানুভূতি প্রকাশ করে। ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সেতুবন্ধন সৃষ্টিতে হজের চেয়ে উৎকৃষ্ট পন্থা আর হতে পারে না।
সর্বোপরি হজ মুসলমানদের সর্ববৃহৎ বার্ষিক সম্মেলন। প্রতিবছর হজ উপলক্ষে মক্কা ও মদিনায় যে বিশ্বসম্মিলন ঘটে তার সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক ফলাফল অর্জিত হয় এবং মুসলিম উম্মাহর মধ্যে নতুন উদ্যম ও প্রেরণা সঞ্চারিত হয়। হজ মুসলমানদের মনে সর্ববিষয়ে আল্লাহর আনুগত্যের স্বীকৃতি, হূদয়ের পবিত্রতা, ঈমানের শক্তি বৃদ্ধি ও তাদের আধ্যাত্মিক জীবনের চরম উন্নতি সাধনের দ্বারা অন্তরে পারলৌকিক সুখের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। আর সাম্য, মৈত্রী, বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির সৃষ্টি এবং ভাষা ও বর্ণ-বৈষম্য ভাবের উৎখাত করে। এতদ্ব্যতীত হজে গিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহ খাতাসমূহের জন্য অত্যন্ত বিনয়সহকারে মনের আবেগ মিটিয়ে, অশ্রু বিসর্জন দিয়ে সব অপরাধ ক্ষমা প্রার্থনা ও সর্বাঙ্গীণ কল্যাণের জন্য দোয়া করে থাকেন এবং বাকি জীবন আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলার জন্য প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে আসেন। তাই হজরত ইমাম আবু হানিফা (র.) পবিত্র হজকে ইসলামের শ্রেষ্ঠতম ইবাদত বলে অভিহিত করেছেন। আল্লাহ পাক সামর্থ্যবান মুসলমানদের জীবনে একবার পবিত্র হজব্রত পালনের তাওফিক দান করেন। আমিন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড দাওয়াহ, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।

ওয়েবসাইটে মন্ত্রীদের সম্পদের তথ্য

ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সম্পদের তথ্য ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে। তাঁদের সম্পদ নিয়ে বারবার অভিযোগ ওঠায় প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সব সদস্যের সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হবে। এতে সাধারণ মানুষ মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাব জানতে পারবে।

ভারতের লক্ষ্য ১০ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

ভারত আগামী দুই বছরে দুই অঙ্কের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত করেছে। বৈশ্বিক মন্দা থেকে বাকি বিশ্ব ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই ভারত এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পরিকল্পনা করেছে।
ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেছেন, অর্থনৈতিক মন্দা থেকে পৃথিবীর পুরোপুুরি ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই ভারতের প্রবৃদ্ধি নয় শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আগামী দুই বছরে দুইয়ের অঙ্কে নিয়ে যাওয়া একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ।
ভারতে চলতি বছরের এপ্রিলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ছিল আট দশমিক আট শতাংশ। এটি বিশ্বের দ্বিতীয় দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির চিত্র। প্রথম স্থানে রয়েছে চীন।
‘সবাই বিশ্বের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির একটি পটপরিবর্তন দেখছি। যা আমাদের আশাবাদী করে তুলেছে। এ পটপরিবর্তনই অর্থনীতিতে ভারতের সফলতা নিয়ে আসবে।’
দক্ষিণ কোরিয়ায় অর্থনৈতিক জোট জি-২০-এর সম্মেলন শেষ হওয়ার পরপরই প্রণব মুখোপাধ্যায় এ মন্তব্য করলেন।

ঝাড়খন্ডের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর দুর্নীতির তদন্ত শুরু

ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মধু কোড়ার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। গতকাল প্রকাশিত এক খবরে এ কথা জানা যায়।
মধু কোড়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, খনিমন্ত্রী থাকাকালে তিনি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে খনিসংক্রান্ত চুক্তির বিনিময়ে কয়েক শ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানায়, সরকার মধু কোড়া ও তাঁর দুই সহকর্মীর অবৈধভাবে অর্জিত দুই কোটি ৩০ লাখ ডলার মূল্যের সম্পত্তি জব্দ করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে পিটিআই আরও জানায়, আদালত এরই মধ্যে তাঁদের অবৈধ সম্পদ জব্দের অনুমতি দিয়েছেন। তাঁদের বিতর্কিত ওই সম্পদ কমপক্ষে তিন মাসের জন্য সরকারি হেফাজতে রাখা হবে।
শুল্ক কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, খনিমন্ত্রী থাকাকালে মধু কোড়া ও তাঁর দুই সহকর্মী ৪০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের অর্থ লুট করেন। তাঁরা অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দিয়ে লাইবেরিয়ায় একটি কয়লার খনি কিনেছেন।
এ ছাড়া হংকং ও ইন্দোনেশিয়ায় তাঁদের সম্পদ রয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে খনিসংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তির বিনিময়ে মধু ও তাঁর দুই সহকমী এই অর্থ উপার্জন করেছেন। কোড়া এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চলছে।

দ্রুত বাড়ি নির্মাণ করছে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা

পশ্চিম তীরে বসতি নির্মাণের ওপর স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ার পর থেকে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা দ্রুত নতুন বাড়িঘর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
গতকাল রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। এদিকে বসতি স্থাপনের ওপর নতুন করে ৯০ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার জন্য ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা বৈঠকে বসতে যাচ্ছে।
পিস নাও নামের একটি সংস্থা জানায়, পশ্চিম তীরে বসতি নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার সাত সপ্তাহের মধ্যে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা নতুন করে এক হাজার ৬৪৯টি নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।
পিস নাও নামের এ সংস্থাটি ইসরায়েলি বসতি নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করে থাকে। সংস্থাটি জানায়, ১০ মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে বসতি নির্মাণে যে শূন্যস্থান তৈরি হয়েছিল, তা খুব দ্রুত পূরণ করতে সক্ষম হন বসতি স্থাপনকারীরা।
সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, সীমান্ত ও বসতি নির্মাণের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি সরকারের অবশ্যই বসতি নির্মাণের ওপর স্থগিতাদেশ নবায়ন করা উচিত, যাতে কয়েক সপ্তাহ ধরে শুরু করা বসতি নির্মাণ প্রকল্পসহ সব নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রঘোষিত একটি প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা যখন বৈঠকে বসতে যাচ্ছে, তার কয়েক ঘণ্টা আগে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো।
শান্তি আলোচনা পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় বসতি নির্মাণের ওপর স্থগিতাদেশ দিতে ইসরায়েলকে রাজি করানোর চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে।

ছাত্ররাজনীতির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান

মালয়েশিয়ার ভারপ্রাপ্ত আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ নাজরি আবদুল আজিজ গতকাল রোববার ছাত্ররাজনীতির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ছাত্রদের ক্যাম্পাসে রাজনীতির পক্ষপাতী নই। তার মানে এই নয়, ছাত্ররা রাজনীতি করতে পারবে না। বরং ছাত্রদের চিন্তা ও মননশীলতার বিকাশের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া উচিত।’ ১৯৭১ সালে প্রণীত একটি আইনের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়।

সোয়াতে সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ছয় জঙ্গি নিহত

পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ছয় জঙ্গি নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে এক সেনা। নিরাপত্তা বাহিনী গতকাল রোববার এ কথা জানিয়েছে। গতকাল দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নয়জন আহত হয়েছে।
সেনা মুখপাত্র মেজর মুশতাক আহমেদ গতকাল জানান, গত শনিবার রাতে জঙ্গিরা সোয়াত উপত্যকার শাকার দারা এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায়। এর পর সেনারা জঙ্গিদের আটকে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। এ সময় মাত্তা এলাকায় তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ছয় জঙ্গি নিহত ও এক সেনা আহত হয়।
সেনা কর্মকর্তারা জানান, গতকাল দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের শাখাই গ্রামের কাছে একটি ব্যস্ততম বাজারে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নয়জন আহত হয়। আদিবাসী-অধ্যুষিত ওই এলাকার কর্মকর্তা সাজ্জাদ আহমেদ জানান, হামলার সময় লোকজন আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু কেনাকাটা করছিল।
দুই বছর পর মুক্তি: পাকিস্তানের পেশোয়ারে নিযুক্ত আফগানিস্তানের কনসাল জেনারেল আবদুল খালেক ফারাহিকে জঙ্গিরা মুক্তি দিয়েছে। দুই বছর আগে পাকিস্তানি জঙ্গিরা তাঁকে অপহরণ করেছিল। কাবুলে আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে গতকাল এ কথা জানানো হয়েছে।
কাশ্মীরে পাকিস্তানি জঙ্গি নিহত: ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গতকাল দুই জঙ্গিকে গুলি করে হত্যা করেছে ভারতীয় সেনারা। বিতর্কিত নিয়ন্ত্রণ রেখা পার হয়ে পাকিস্তান থেকে ভারতে প্রবেশের সময় তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়।

টেলিফোনে ছেলের সঙ্গে আলাপে আবেগপ্রবণ সু চি

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি গত শনিবার টেলিফোনে ছোট ছেলে কিম এরিসের সঙ্গে কথা বলেছেন। কথা বলার সময় দুজনেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। মুক্তি পাওয়ার পর এই প্রথম নিজের পরিবারের কোনো সদস্যের সঙ্গে কথা বললেন সু চি। থাইল্যান্ডের ব্রিটিশ দূতাবাস মা-ছেলের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সু চি মুক্তি পেতে পারেন— আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এমন খবর প্রচারিত হলে ব্রিটেন থেকে মিয়ানমারের উদ্দেশে রওনা হন এরিস। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে পৌঁছে মিয়ানমারের ভিসার জন্য আবেদন করেন তিনি।
ব্যাংককের ব্রিটিশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা জানান, ‘কিম এরিস শনিবার সন্ধ্যায় তাঁর মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। কথা বলার পরও কিমকে বেশ আবেগপ্রবণ দেখা গেছে। তাঁর পরিবারের সূত্র থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছি আমরা।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরও জানান, কিম মিয়ানমারের ভিসার জন্য আবেদন করেছেন, তবে এখনো পাননি। মায়ের সঙ্গে দেখা করতে মিয়ানমারে প্রবেশের জন্য ভিসা পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
মিয়ানমারের জান্তা সরকার কিমকে সে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে গিয়ে ব্যক্তিগত অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে সু চিকে। ১৯৯৯ সালে সু চির স্বামী ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ মাইকেল এরিস ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শেষবারের মতো গৃহবন্দী স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও তাঁকে অনুমতি দেয়নি জান্তা সরকার।
এ ছাড়া প্রায় এক দশক ধরে দুই ছেলেকে সু চির সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত প্রিয় নাতিরও মুখ দেখা হয়নি সু চির।

দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহাসিক দলিল ফেরত দেবে জাপান

দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহাসিক দলিল ফেরত দেবে জাপান। গতকাল রোববার সিঙ্গাপুরে এশিয়া-প্যাসিফিক সম্মেলনের পাশাপাশি একটি বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হয়েছে। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি মিফুং বাক উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠককালে নাওতো কান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি মিফুংকে বলেন, ‘চলতি বছরটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে থাকবে। নতুন এ চুক্তির মাধ্যমে আমরা দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভিত রচনা করেছি।’ লি এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তিনি আশা করছেন, এর মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার মন্ত্রিপরিষদের এক কর্মকর্তা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া জাপানের উপনিবেশ ছিল। গত ২১ আগস্ট উপনিবেশ স্থাপনের শতবর্ষ পূর্ণ হয়। ওই দিন এক বিবৃতিতে নাওতো কান ঔপনিবেশিক আমলে জাপানের ভূমিকার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহাসিক দলিল ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দেন।
চুক্তি অনুযায়ী জোসেন সাম্রাজ্যের (১৩৯২-১৯১০) ঐতিহাসিক তথ্যসহ এক হাজার ২০০-এর বেশি দলিল দক্ষিণ কোরিয়াকে ফিরিয়ে দেবে জাপান।

আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য এলাকা গড়ে তোলার অঙ্গীকার

আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য এলাকা গড়ে তোলার ব্যাপারে অঙ্গীকার করেছেন ২১ সদস্যের এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সহযোগিতা (অ্যাপেক) ফোরামের নেতারা। জাপানের ইয়োকোহামায় অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী অ্যাপেক সম্মেলনের শেষ দিনে গতকাল রোববার বিশ্বনেতারা এ অঙ্গীকার করেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আশার সঞ্চার হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও বলেছেন, তাঁর দেশ ভালো প্রতিবেশী হিসেবে থাকতে অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রতিবেশী দেশ জাপানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, দুই দেশেরই উচিত শান্তি, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার পথ অনুসরণ করা। এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের আচরণ নিয়ে অভিযোগ ও উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে হু জিনতাও এ কথা বললেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্ব অর্থনীতি একীভূত করার লক্ষ্যে ‘ইয়োকোহামা ভিশন’ নামে একটি রূপকল্প ঘোষণা করেছেন। সমন্বিত নীতির মাধ্যমে অ্যাপেকভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক সঞ্জীবনী শক্তি পুনরুদ্ধার করাই এই রূপকল্পের প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আটটি দেশ ২০১২ সালের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সইয়ে রাজি হয়েছে। এ-সংক্রান্ত ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য নয়টি দেশের নেতারা এবারই প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হলেন।
টিপিপিতে এরই মধ্যে ব্রুনাই, চিলি, সিঙ্গাপুর ও নিউজিল্যান্ড স্বাক্ষর করেছে। আর চুক্তিতে আগ্রহী অন্য দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, পেরু ও ভিয়েতনাম। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া ও কানাডাও চুক্তি স্বাক্ষরে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ব্যাপক বাণিজ্য ঘাটতি ও মুদ্রাবৈষম্য কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এবারও কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে রপ্তানি বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে বলেছে, ওয়াশিংটন এ অঞ্চলে রপ্তানি বাড়াতে চায়, তবে চীনের সস্তা মুদ্রা ব্যবস্থাই হলো এ ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা। যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চীন বলেছে, নিজস্ব স্বার্থ ছাড়া মুদ্রাব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনবে না বেইজিং।
এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে মুক্ত বাণিজ্য এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্বনেতারা গঠনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করলেও কবে নাগাদ এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে সম্পর্কে তাঁরা কিছু বলেননি।
চিলির প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘টিপিপি বাস্তবায়নের ব্যাপারে জোরালো দাবি উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে আজকের (রোববার) এক বৈঠকে পরবর্তী অ্যাপেক সম্মেলনের আগেই এ চুক্তি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী বছরের নভেম্বরে হনুলুলুতে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।’

রোনালদোই জেতালেন করিন্থিয়ানসকে

আবারও আলোচনায় রোনালদো। না, ক্রিস্টিয়ানো নয়; আসল রোনালদো। ছোটজনের ঔজ্জ্বল্য আর নিজের ক্যারিয়ারের গোধূলিবেলায় প্রচারের আড়ালে চলে গেছেন। ইতালি, স্পেন মাতিয়ে দেশে ফিরে খেলছেনও ব্রাজিলিয়ান লিগে। কিন্তু এই ৩৫ বছর বয়সীর গোলেই মহা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পুরো তিন পয়েন্ট পেল করিন্থিয়ানস। উঠে গেল শীর্ষেও।
৩৪ ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের পয়েন্ট টেবিলের অবস্থা ছিল এমন: ৬১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ফ্লুমিনেন্স, সমান ৬০ পয়েন্ট করে নিয়ে পরের দুটো স্থানে করিন্থিয়ানস আর ক্রুজেরো। গোল ব্যবধানের হিসাবে দুই আর তিনে থাকা এ দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল কাল। ৮৬ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য থাকার পর রোনালদোর পেনাল্টি। পেনাল্টি শোনার পর রোনালদোর কৃতিত্ব খাটো চোখে দেখবেন না।
ওই আগুনে উত্তেজনার মধ্যে ঠান্ডা মাথায় বল জালে ঢুকিয়ে রোনালদো প্রমাণ করেছেন অভিজ্ঞতার দাম কতটা। তা ছাড়া ম্যাচটি রোনালদোর জন্য ছিল আবেগেরও। প্রতিপক্ষ যে ছিল নিজের আঁতুড়ঘর ক্রুজেরো। এই ক্লাবের হয়েই ১৯৯৩ সালে পেশাদার ফুটবলে আবির্ভাব, এর পরই আস্তে আস্তে তাঁর মহাতারকা হয়ে ওঠা।
এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপে এটি তাঁর ষষ্ঠ গোল। গোলের সংখ্যা যা-ই হোক, রোনালদো আবারও প্রমাণ করে দিলেন বড় ম্যাচে তাঁর উপস্থিতিই কতটা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

ফেদেরার ফিরলেন খালি হাতেই

এই প্রথম প্যারিস মাস্টার্সের সেমিফাইনালে উঠেছিলেন ফেদেরার। প্রত্যাশা নিশ্চয়ই ছিল শিরোপা-বন্ধ্যাত্ব ঘোচানো। কিন্তু পারলেন না অনেকের মতেই সর্বকালের সেরা রজার ফেদেরার। এবারও প্যারিস মাস্টার্স তাঁকে ফিরিয়ে দিল শূন্য হাতে। তাঁকে হারিয়ে ফাইনালে ঘরের ছেলে গায়েল মনফিলস। এর আগে যিনি কখনোই হারাতে পারেননি ফেদেরারকে। গ্যালারি সমর্থন পেয়ে শুরু থেকেই দাপট দেখাতে শুরু করেন মনফিলস। তবে তিনটি সেটেরই নিষ্পত্তি হয়েছে টাইব্রেকারে। ৭-৬, ৬-৭, ৭-৬ গেমে জিতেছেন মনফিলস।

লাগাম দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে

আগের দিন সকালে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, কাল সকালেই আবার নিয়ে নিল নিয়ন্ত্রণ। বোলারদের সৌজন্যে পাওয়া সুযোগটা পাকিস্তান হেলায় হারিয়েছে ব্যাটসম্যানদের নিদারুণ ব্যর্থতায়। তৃতীয় দিন শেষে ২৭১ রানে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা, এখনো অক্ষত ৮ উইকেট। জয় দূর অস্ত, প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তেও এখন অসাধারণ কিছু করতে হবে পাকিস্তানকে।
দ্বিতীয় দিন দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ ৭ উইকেট হারিয়েছিল ৭৩ রানে। কাল তারাই পাকিস্তানের শেষ ৭ উইকেট তুলে নিল মাত্র ৫২ রানে। নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিনে পাকিস্তানের মিডল-অর্ডারে ধস নামান ইয়োহান বোথা, দুরন্ত গতি আর বাউন্সে লেজটা মুড়ে দিয়েছেন মরনে মরকেল আর গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট নিয়েছেন হাশিম আমলা। আমলার নাম শুনে চমকে গেছেন? এমনিতে হাত ঘোরানোর অভ্যাস তাঁর খুব বেশি নেই। কালও বোলিং করেননি। কিন্তু শর্ট লেগে দাঁড়িয়ে যে দুটি ক্যাচ নিয়েছেন, উইকেট দুটো আমলাকে দিয়ে দিলে হয়তো বোলাররাও খুব একটা আপত্তি করবেন না।
সকালে কোনো উইকেট না পেলেও স্বস্তিতে থাকতে দেননি ইউনুস-আজহারকে। দুজনের প্রথম ৮ ওভার থেকে তাই রান এসেছে ১৬। এই চাপটাকেই দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন বোথা। সঙ্গে ছিল গ্রায়েম স্মিথের দুর্দান্ত ফিল্ডিং সাজানো। রানের জন্য হাঁসফাঁস করতে করতেই উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে আলতো চিপে ডি ভিলিয়ার্সকে ক্যাচ দেন ইউনুস। অধিনায়কত্বের অভিষেক ইনিংসে মিসবাহ হলেন আমলার দুর্দান্ত এক ক্যাচ। উমর আকমল উইকেটে যাওয়ার পর থেকেই মনে হচ্ছিল যেন তাঁর খুব তাড়াহুড়ো। লাঞ্চের মাত্র ১৫ মিনিট আগে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে বোথাকে এমনভাবে হাঁকাতে চাইলেন যেন দুবাই থেকে বল পাঠিয়ে দেবেন আবুধাবি। ফলাফল—বল উঠল শূন্যে। ধারাভাষ্যকক্ষে বসে পমি বাংওয়া বললেন, ‘মস্তিষ্ক বিস্ফোরণ!’
এরপর যা হওয়ার কথা ছিল, হয়েছে তাই। দ্বিতীয় নতুন বলে জ্বলে উঠলেন মরকেল, ২৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো নিলেন ৫ উইকেট। নতুন বল নেওয়ার পর ১৩ ওভারে ৪০ রানে পড়েছে পাকিস্তানের শেষ ৫ উইকেট। আমলার চোখ ধাঁধানো ক্যাচের শিকার হয়েছেন এক পাশে ধৈর্যের প্রতিমূর্তি হয়ে থাকা আজহার আলী। আবারও দক্ষিণ আফ্রিকা ভালো একটা সূচনা এনে দিয়েছেন স্মিথ-পিটারসেন। আর অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৬৩ রানের জুটিতে আমলা-ক্যালিস ইঙ্গিত দিয়েছেন স্কোরকে পাকিস্তানের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাওয়ার।