Friday, March 11, 2011

‘তামিমকে আটকাতে হবে’

উইকেট, কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপার আছে। তবে বিশ্বকাপে আজ বাংলাদেশের মুখোমুখি হওয়ার আগে ইংলিশদের সবচেয়ে বড় ভয়ের নাম যেন চট্টগ্রামের ‘লোকাল বয়’ তামিম ইকবাল! কাল ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস স্বীকারও করলেন তামিম-ভীতির কথা। সংবাদ সম্মেলনের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো এখানে

 কালকের (আজ) ম্যাচে ইনিংস শুরু করবেন কারা? তিন স্পিনার খেলানোর সম্ভাবনাই বা কতটুকু?
অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস: ওপেনিং ব্যাটসম্যানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ম্যাচের আগে এ ব্যাপারে কিছুই বলতে চাইছি না। তবে ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে কে ভালো হবে, সেটা আমরা জানি। একইভাবে তিন স্পিনারের ব্যাপারেও কোনো মন্তব্য করতে চাইছি না।
 কিন্তু এই কন্ডিশনে তো স্পিনারদেরই ভালো করার কথা...
স্ট্রাউস: কন্ডিশন বুঝে আপনাকে সঠিক দলটাই বেছে নিতে হবে। সেটা অবশ্য যেকোনো ম্যাচের বেলাতেই সত্যি। এই পিচে বল কতটা টার্ন করবে, সেটা আগে বুঝতে হবে আমাদের। আগের অভিজ্ঞতা তো বলছে এই পিচে সবার জন্যই কিছু না-কিছু আছে।
 বিশ্বকাপে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে চলছে আপনাদের। বাংলাদেশকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার ব্যাপারে কতটা আশাবাদী?
স্ট্রাউস: টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত আমাদের পারফরম্যান্স মোটেও ধারাবাহিক নয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের বিপক্ষে দুটি ভালো ম্যাচ খেলেছি আমরা। আবার আয়ারল্যান্ড ও হল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি বাজে ম্যাচ গেছে। এই পরিস্থিতিতেও আমরা কোয়ার্টার ফাইনালে তো যেতে চাই-ই, আমাদের পারফরম্যান্সে আরও ধারাবাহিকতাও আসা দরকার। সেটা করতে হলে এই ম্যাচ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচটাও জিততে হবে।
 আগের ম্যাচের হতাশা ভুলে এ ম্যাচে বাংলাদেশ ফিরে আসতে চাইবে। সে ব্যাপারে কতটা সতর্ক আপনারা?
স্ট্রাউস: তারা আসলেই খুব বিপজ্জনক দল...বিশেষ করে নিজেদের মাঠে। টপ-অর্ডারে শট খেলার মতো অনেক ব্যাটসম্যান আছে, ভালো কিছু স্পিনারও আছে তাদের। তারা যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের চেয়ে এ ম্যাচে ভালো খেলে ফিরে আসতে চাইবে, সেটা আমরাও জানি। আমরা এটাও জানি, আগের ম্যাচে ওভাবে হারাটা তাদের আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। বাংলাদেশের জন্যও তো এই ম্যাচটা ‘মাস্ট উইন’।
 বিশ্বকাপের মাঝপথে পিটারসেন-ব্রডকে হারানোর ধাক্কা সামলাবেন কীভাবে?
স্ট্রাউস: এটা কোনোভাবেই ভালো হলো না। তবে এ রকম পরিস্থিতি আমাদের আগেও সামলাতে হয়েছে। আমাদের সৌভাগ্য, তাদের বদলি হিসেবে দুজন খেলোয়াড় প্রস্তুতই ছিল একরকম। এউইন মরগানের আঙুল ঠিক সময়ে ভালো হয়ে গেছে। এ ছাড়া ক্রিস ট্রেমলেট আমাদের সঙ্গেই আছে, কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে সে। পরিস্থিতি তো এর চেয়েও খারাপ হতে পারত!
 পিটারসেনকে কতটা মিস করবেন?
স্ট্রাউস: কোনো সন্দেহ নেই, আমরা কেপিকে (পিটারসেন) মিস করব। টপ-অর্ডারে সে ভালো খেলছিল। তার শূন্যতা পূরণ করা কঠিন, কিন্তু আমাদের সেটা করতে হবে।
 বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে ইংল্যান্ডকে। কেমন উপভোগ করছেন সেটা?
স্ট্রাউস: এ রকম রোমাঞ্চকর ম্যাচের অংশ হতে পারাটা দারুণ। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, ম্যাচগুলো আরও সহজ হলে ভালো হতো। তাতে আমার মাথায় চুল আরেকটু বেশি থাকত। অবশ্য এই ম্যাচগুলোয় আমরা পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে পেরেছি। আশা করব, পরের দুটি ম্যাচ আমাদের জন্য সহজ হবে।
 বাংলাদেশে স্পিনাররাই বড় সমস্যা হবে, নাকি এখানকার দর্শকেরা?
স্ট্রাউস: বাংলাদেশের স্পিনাররা খুবই ভালো। বিশ্বের যেকোনো ভালো স্পিনারের মতোই ভালো বল করে তারা। তাদের আমরা সমীহ করছি, তাদের ব্যাপারে সতর্কও। বাংলাদেশ দলের সঙ্গে থাকবে গ্যালারি-ভর্তি দর্শক। কাজেই আমাদের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতিরই সৃষ্টি হবে মাঠে। তবে বিশ্বকাপ জিততে চাইলে সবকিছুই তো আর আপনার পছন্দ মতো হবে না।
 ইংল্যান্ডের জন্য বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচই যেন অনিশ্চিত যাত্রা। কেমন লাগছে সময়টা?
স্ট্রাউস: হ্যাঁ...খুবই অনিশ্চিত। আমি চাইব, দলের পারফরম্যান্সে যতটা সম্ভব স্থিরতা আনতে। পরের দুই ম্যাচেই সেই কাজটা করতে হবে।
 বাংলাদেশের বিপক্ষে আপনার রেকর্ড খুব ভালো। ওদের বোলিং এত পছন্দ করার রহস্য কী?
স্ট্রাউস: তাদের বিপক্ষে কিছু ভালো ইনিংস খেললেও বাংলাদেশের বিপক্ষে বাংলাদেশের মাটিতে কখনো খেলিনি। আমার জন্য এটা হবে নতুন অভিজ্ঞতা। তবে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে ওদের বাঁহাতি স্পিনারদের বিপক্ষে কিছু সুবিধা তো পাই-ই।
 ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তো তামিম ইকবালও দুর্দান্ত। তাঁকে আটকাতে কি পরিকল্পনা আঁটছেন?
স্ট্রাউস: খুবই বিপজ্জনক খেলোয়াড়, প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দিতে পারে সে। আমার ধারণা, তামিম কেমন খেলোয়াড়, সেটা আমরা কিছুটা হলেও জানি। ওর বিপক্ষে পরিকল্পনাটা যেন প্রথম বল থেকেই ঠিকঠাক হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। যেভাবেই হোক তামিমকে আটকাতে হবে।
 উইকেট নিয়ে নিজেদের মধ্যে অনেক কথাবার্তা বলেছেন। কী মনে হয়, কেমন হবে উইকেট?
স্ট্রাউস: দেখে তো শুকনোই মনে হয়...সত্যি বলতে কি, খুবই ফ্লাট। পেস বোলারদের বল সম্ভবত একটু নিচু হয়ে আসবে। তবে কাল (আজ) সকালে আরও ভালো ধারণা পাব।

শেষ আটের প্রথম দল শ্রীলঙ্কা

দিনের সবচেয়ে বড় চিৎকারটা শোনা গেল জিম্বাবুয়ে ইনিংসের ১৬তম ওভারে। বল উঠল যে মুত্তিয়া মুরালিধরনের হাতে! গ্যালারি উপচানো দর্শক বলতে যা বোঝায়, শ্রীলঙ্কায় কালই প্রথম দেখা গেল তা। নতুন স্টেডিয়ামটিতে এটাই বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার একমাত্র ম্যাচ, এটা একটা কারণ অবশ্যই। এর চেয়েও বড় কারণ ঘরের ছেলেকে শেষবার বল হাতে সামনাসামনি দেখা। ক্যান্ডির সবচেয়ে বিখ্যাত সন্তান কালই যে শেষ ম্যাচ খেললেন ঘরের মাটিতে!
ক্যারিয়ারজুড়ে যেমন করেছেন, শেষ দিনেও তেমন দর্শকদের উৎসবের উপলক্ষ এনে দিলেন স্পিন-জাদুকর। শতরানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে কুমার সাঙ্গাকারার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। নিখুঁত এক দুসরায় এই ভাঁজ দূর করে দিলেন মুরালিধরন। ম্যাচটা শেষও হলো তাঁর হাতে, ক্রিকেট-বিধাতা যেন সব ঠিকই করে রেখেছিলেন!
মুরালি উইকেট পেয়েছেন আরও একটি। এর মাঝে টপাটপ উইকেট নিলেন দিলশান ও ম্যাথুুস। বিনা উইকেটে ১১৬ থেকে জিম্বাবুয়ে তাই অলআউট ১৮৮ রানে! জয়াবর্ধনে ক্যাচ না ছাড়লে তো একই ম্যাচে সেঞ্চুরি আর হ্যাটট্রিকের অবিস্মরণীয় কীর্তিই গড়ে ফেলতেন দিলশান। যেটা করেছেন সেটাও কম নয়, ওয়ানডে ইতিহাসে সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৪ উইকেট আছে আর মাত্র ১০ জনের, বিশ্বকাপে মাত্র একজনের!
১৩৯ রানের জয়ে প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে শ্রীলঙ্কা। ভারতের কথাও বলা যায়, তবে ক্রিকইনফোর পরিসংখ্যানবিদ জানাচ্ছেন, এখনো শতকরা ০.৫৬৭৩ ভাগ সম্ভাবনা আছে ভারতের না যাওয়ার!
বোলিংয়ের আগে উপুল থারাঙ্গাকে নিয়ে ব্যাট হাতেও মুরালির বিদায়টা রাঙানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন দিলশান। একগাদা স্পিনারের দল, শিশিরকে এড়ানোর জন্য টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন এলটন চিগুম্বুরা। শ্রীলঙ্কার প্রথম উইকেট পড়েছে জিম্বাবুয়ে অধিনায়কের হাতে ধরা পড়েই। কিন্তু ততক্ষণে পেরিয়ে গেছে ৪৪.৩ ওভার! জুটির একগাদা রেকর্ড গড়েছেন দুজন, মাত্র চার রানের জন্য ছুঁতে পারেননি ওয়ানডের বিশ্ব রেকর্ড।
থারাঙ্গার আউটে যখন ভাঙল এই জুটি, জিম্বাবুয়ে আসলে উইকেট পেল ৭৭.৫ ওভার আর ৪৪৮ রান পর! আগের ম্যাচে ৩৩.৩ ওভারেও একটা উইকেট নিতে পারেনি তারা, ১৬৬ রান করে নিউজিল্যান্ড জিতে গিয়েছিল ১০ উইকেটে। আগের তিন ম্যাচের ধারা বদলে কাল দুই পাশেই পেস দিয়ে শুরু করে জিম্বাবুয়ে। লাভ তাতে কিছু হয়নি। দিলশান ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি পেয়েছেন ৯৪ বলে। থারাঙ্গার দশম সেঞ্চুরিটা ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংসও।

ফিরে আসুক ব্রিস্টলের স্মৃতি

বিশ্বকাপের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে আজ শুক্রবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গত ম্যাচে লজ্জাজনক পরাজয়ের দুঃসহ স্মৃতি মুছে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়েই নিশ্চয়ই মাঠে নামবেন সাকিব-তামিমেরা। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষও সেই প্রত্যাশা নিয়েই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ সাফল্যের পর এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিটের তকমা আঁটা ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত খুব বেশি সুবিধা করে উঠতে পারেনি। ভারতের সঙ্গে টাই আর আয়ারল্যান্ডের কাছে হারের পর বেশ টালমাটাল অবস্থায় পড়ে গিয়েছিল স্ট্রাউস বাহিনী। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের অতি গুরুত্বপূর্ণ খেলাটাতে তারা শেষ পর্যন্ত হারতে হারতেও পেয়েছে ছয় রানের অবিশ্বাস্য জয়। কিন্তু পিটারসেন আর স্টুয়ার্ট ব্রডের ইনজুরিতেও কিছুটা ছন্দপতন হতে পারে ইংল্যান্ড শিবিরে।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচটা হতে যাচ্ছে ফ্লাডলাইটের আলোয়। দিবা-রাত্রির এ গুরুত্বপূর্ণ লড়াইটার ক্ষেত্রে টসে জিতে ব্যাট করতে পারাটা একটা বাড়তি সুবিধা আনতে পারে বলে ধারণা করছেন ক্রিকেট বোদ্ধারা। গতকাল দুপুরে অনুশীলনের সময় বেশ কিছুক্ষণ ধরে চট্টগ্রামের হালকা বাদামি এই উইকেটটা পর্যবেক্ষণ করেছেন ইংলিশ অধিনায়ক অ্যান্ডি স্ট্রাউস, বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ, গ্রান্ড ফ্লাওয়াররা। স্পিনাররা এই পিচে নিশ্চিতভাবেই একটা বড় ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করছেন অনেকে। সে ক্ষেত্রে পিটারসেনের অফ স্পিনের অভাবটা কিছুটা টের পেতে পারেন স্ট্রাউস। আজ জিততে পারলেই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটটা অনেকখানিই নিশ্চিত করে ফেলতে পারবে ইংলিশরা।
অন্যদিকে বাংলাদেশের লড়াইটা প্রত্যাবর্তনের। ভয়াবহ দুঃসময়ের ঘোর কাটিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর। আজ নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের প্রধান প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে গত বছর ব্রিস্টলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ রানের সেই অসাধারণ জয়। সেই ম্যাচের জয়ের নায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে অবশ্য আজ মাঠে পাওয়া যাবে না। তবে এবারের ম্যাচটা কিন্তু হতে যাচ্ছে নিজেদের মাঠে। সাকিবেরা পাশে পাবেন বাংলাদেশের হাজার হাজার দর্শককে। এটাও নিশ্চয়ই বাড়তি শক্তি জোগাবে বাংলাদেশ শিবিরে।
আবদুর রাজ্জাক, সাকিব আল হাসানের স্পিন আক্রমণ দিয়ে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের অল্প রানেই বেঁধে ফেলার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। কিন্তু টাইগারদের প্রধান দুশ্চিন্তার জায়গা নড়বড়ে ব্যাটিং অর্ডার। প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ২৮৩ রানের বড় স্কোর গড়ে আশা জাগালেও পরের দুটা ম্যাচে শুধু ভয়াবহ হতাশাই উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। কোচ জিমি সিডন্সও গতকাল অনুশীলনে আলাদাভাবে সময় দিয়েছেন ইমরুল কায়েস, জুনায়েদ সিদ্দিকীদের। আজ মিডল অর্ডারে আশরাফুলের পরিবর্তে মাঠে নামতে পারেন মাহমুদুল্লাহ। সে ক্ষেত্রে বোলার মাহমুদুল্লাহর থেকে ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহর ওপরই প্রত্যাশাটা বেশি থাকবে বাংলাদেশ সমর্থকদের।
গত বছর ব্রিস্টলে ইংল্যান্ডকে হারিয়েই টেস্ট খেলুড়ে সবগুলো দেশকে পরাজয়ের স্বাদ দেওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল টাইগাররা। আজ বাংলাদেশ ক্রিকেটের অসময়ে আবারও সেই ব্রিস্টলের মধুর স্মৃতিটাই ফিরে আসুক—এ আশাতেই প্রহর গুনছে গোটা বাংলাদেশ।

আশরাফুলকে সরিয়ে মাহমুদউল্লাহ

ভুল যে কেউই করতে পারত। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিশ্চয়ই খেলছেন ওই দুজন! বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচের আগে নেটে এতটা সময় নিয়ে ব্যাট করেননি শাহরিয়ার নাফীস বা মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী। করার দরকারও নেই, তাঁরা তো আর খেলছেন না! জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে কাল ঘটল বিপরীত ঘটনা। যাঁরা ম্যাচ খেলবেন, তাঁদের মতোই লম্বা সময় ধরে নেটে ব্যাট করলেন শাহরিয়ার-সোহরাওয়ার্দী।
বাতাসে গুঞ্জন—দলে পরিবর্তন হবে। ‘কে বাদ পড়বেন, কে ঢুকবেন’-এর আলোচনায় শাহরিয়ার-সোহরাওয়ার্দীর নাম দুটিও থাকায় কালকের অনুশীলন দেখে বিভ্রান্তি জাগাটাই স্বাভাবিক। বাস্তবতা হলো এ দুজনের কেউই খেলছেন না আজকের ম্যাচে। অনুশীলনের পর কাল ড্রেসিংরুমে থিংক ট্যাংকের দীর্ঘ আলোচনায় দলে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হলেও তাতে শাহরিয়ার-সোহরাওয়ার্দীর ভাগ্য খুলছে না বলেই খবর। শিশির-প্রভাব বিবেচনায় এক পেসার খেলানোর ঝুঁকিও শেষ পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে না সম্ভবত। রাত পর্যন্ত দলে পরিবর্তন একটাই—মোহাম্মদ আশরাফুলের জায়গায় ফিরবেন মাহমুদউল্লাহ। তবে দিবারাত্রির ম্যাচ যেহেতু, আজ ম্যাচের আগের সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। আবহাওয়া কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ইনজুরি পরিবর্তন ঘটাতে পারে কাল রাতে জানা সম্ভাবনায়।
হালকা ইনজুরির ঘটনা অবশ্য কালই একটা ঘটেছে। নেটে বল করার সময় পড়ে গিয়ে কোমর আর বাঁ অ্যাংকেলে চোট পেয়েছেন পেসার নাজমুল হোসেন। টিম ম্যানেজার তানজীব আহসান আশার কথা শুনিয়েছেন, ‘তেমন সিরিয়াস কিছু না। কোমর আর অ্যাংকেলে একটু চোট পেয়েছে। ঠিক হয়ে যাবে।’ নাজমুলকে তার পরও রাখা হয়েছে পর্যবেক্ষণে। প্রয়োজন মনে হলে চোট পাওয়ার জায়গায় আজ এক্সরে-স্ক্যান ইত্যাদি করানো হতে পারে।
‘আশরাফুলকে বাদ দিয়ে মাহমুদউল্লাহ কেন’ প্রশ্নটা উঠতেই পারে। মাত্র দুইটা ম্যাচই তো খেললেন আশরাফুল! আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে সফল না হলেও অফ স্পিনে নিয়েছেন ২ উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৮ রানে অলআউট হওয়ার কলঙ্কে তাঁর রান দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১। তবে হ্যাঁ, দ্বিতীয় সর্বোচ্চই হোক কিংবা সর্বোচ্চ, দলে থাকার দাবি জানাতে ১১ কোনো রানই নয়। কিন্তু ৫৮ রানের ইনিংসে যেখানে সব ব্যাটসম্যানই ব্যর্থ, সেখানে এক আশরাফুলের ওপরই তোপ দাগাতে হবে কেন? থিংক ট্যাংকের ব্যাখ্যা সম্ভবত এই—আশরাফুলের চেয়ে অফ স্পিনে এগিয়ে আছেন মাহমুদউল্লাহ। ইংল্যান্ডের বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের কথা ভেবেই হয়তো এই পরিবর্তন। পরিবর্তন হচ্ছে ব্যাটিং লাইনআপেও। মুশফিকুর রহিমকে চার নম্বর থেকে আবার ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ছয় নম্বরে। চারে খেলবেন রকিবুল।
চট্টগ্রামে ম্যাচ মানেই উইকেট নিয়ে আলোচনা। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেটে ৩০৯ রানের ইনিংস যেমন আছে, ঘটেছে ৪৪ রানে অলআউটের ঘটনাও। আজকের ম্যাচের উইকেটকে দুদলের অধিনায়কেরই ‘ফ্লাট’ বললেও উইকেটে বল কিছুটা নিচু হয়ে আসার সম্ভাবনা। স্পিনাররা পাবেন টার্ন। এই উইকেটে ২৩০-২৪০ রানকেই ধরা হচ্ছে জেতার মতো রান।
একাদশ, ইনজুরি আর উইকেটের আলোচনার মধ্যেই ইংল্যান্ড ম্যাচের আবহে ঘুরেফিরে চলে আসছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচটা। বাংলাদেশ কি পারবে ৫৮ রানের লজ্জা ঢাকতে? সাকিব আল হাসান কি পারবেন বিতর্কের পাল্টা জবাবটা ব্যাটে দিতে? দলের ভেতর থেকে আসা খবর হলো, গত ম্যাচের হতাশা বুক থেকে বের করে দিয়েছেন সবাই। আজকের ম্যাচটাকে একদমই নতুন একটা ম্যাচ ধরে নিয়ে বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াইটা করতে চায় বাংলাদেশ। কাল সন্ধ্যায় হোটেলে হওয়া টিম মিটিংয়ে ক্রিকেটারদের কানে এই মন্ত্রই নাকি পড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন অধিনায়ক-কোচ। মাঠে মন্ত্রটা মনে থাকলেই হয়।

পোলার্ডের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়

ডেভন স্মিথের সেঞ্চুরি, এরপর পোলার্ড ‘ঝড়’। দুইয়ে মিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৭৫ রান। জবাবে বাধা হয়ে দাঁড়ালেও আয়ারল্যান্ডের হার ঠেকাতে পারেননি এড জয়েস ও গ্যারি উইলসন। মোহালিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৪৪ রানের।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাত্র চারজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পেরেছেন। তবে সফল বলতে কেবল স্মিথ ও পোলার্ড। সাজঘরে ফেরার আগে স্মিথ খেলেন ১০৭ রানের ইনিংস। ব্যাটে ঝড় তুলে ৫৫ বলে ৯৪ রান করেন কাইরন পোলার্ড। এ পথে রয়েছে আটটি চার ও পাঁচটি ছয়ের মার! কেভিন ও’ব্রায়েন শিকার করেন চারটি উইকেট।
স্মিথ-পোলার্ডকে পাল্টা জবাব দেন এড জয়েস ও গ্যারি উইলসন। সেঞ্চুরি পাননি কেউ। সাজঘরে ফেরার আগে জয়েস ৮৪ ও উইলসন ৬১ রান করেন। তবে বাকিদের ব্যর্থতায় এক ওভার বাকি থাকতেই ২৩১ রানে অলআউট আয়ারল্যান্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সুলিমান বেন চারটি ও ড্যারেন স্যামি তিনটি উইকেট শিকার করেন।

স্টেডিয়ামে ঢুকতে শুরু করেছে দর্শকেরা

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচ বিশ্বকাপের চট্টগ্রাম পর্বের যাত্রা শুরু হচ্ছে আজ শুক্রবার। দিবা-রাত্রির এই ম্যাচ দেখার জন্য সকাল নয়টা থেকেই স্টেডিয়ামের বিভিন্ন ফটকে ভিড় করতে থাকে দর্শকেরা। তবে গেট খুলে দেওয়া হয় বেলা ১১টায়। বেলা দেড়টার মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার দর্শক স্টেডিয়ামে ঢুকেছে।
এর আগে দর্শকেরা নিজেদের লাল-সবুজে রাঙিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে স্টেডিয়ামের দিকে যাত্রা শুরু করে। কারণ, অলংকার মোড়, সাগরিকা মোড়ে থেকে পাস ছাড়া কোনো গাড়ি স্টেডিয়াম এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
তবে বিশ্বকাপ ম্যাচের সাক্ষী হতে তাদের কাছে এসব কষ্ট ম্লান হয়ে যাচ্ছে। কারণ, এই ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের চট্টগ্রাম পর্বের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। তাই উচ্ছ্বাসে-আনন্দে ভাসছে পুরো স্টেডিয়াম পাড়া। স্টেডিয়ামের বিভিন্ন গেটের বাইরে জাতীয় পতাকা ও বাংলাদেশ দলের লাল-সবুজ জার্সি বিক্রি হচ্ছে। আবার মুখে লাল-সবুজ পতাকা এঁকে দেওয়ার জন্যও তৈরি রয়েছেন কয়েকজন। এ ছাড়া দর্শকদের হাতে বাংলাদেশ দলকে শুভকামনা জানিয়ে বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুনও শোভা পাচ্ছে।
এই ম্যাচের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন সাড়ে তিন হাজার পুলিশ, র্যাব ও সেনাসদস্য। জরুরি প্রয়োজনে থাকছে দুটি হেলিকপ্টারও। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানও রাখা হয়েছে।

ইতিহাসের পাতায় আমিনুল হক চৌধুরী by ফুয়াদ চৌধুরী

আজ আমিনুল হক চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি আমার বাবা। আমার সৌভাগ্য, আমি তাঁর মতো একজন বাবার সান্নিধ্য পেয়েছি।
বরিশাল আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আমিনুল হক চৌধুরী ১৯১৯ সালের ৪ ডিসেম্বর বরিশালের উলানিয়ার জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত পাকিস্তান আইনসভার সদস্য ছিলেন।
একজন নবীন আইনজীবী হিসেবে আমিনুল হক চৌধুরী ১৯৪৬ সালে কলকাতা আলীপুর কোর্টে কাজ শুরু করেন। রাজনৈতিক মতাদর্শে মিল থাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে দেশ ভাগের আগে থেকেই। দেশ ভাগ হওয়ার পর তিনি ঢাকা জজ কোর্টে সিভিল সার্ভিসে মুন্সেফ হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৫২ সালে কারাগার থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের চিঠি এলে মুন্সেফ পদ থেকে তিনি ইস্তফা দেন। শুরু হয় তাঁর রাজনৈতিক জীবন। সে সময় পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে আসে বিশাল পটপরিবর্তন। ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিবুর রহমান বরিশালে প্রগতিশীল ব্যক্তিদের নিয়ে আওয়ামী মুসলিম লীগের একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কমিটি গঠন করেন এবং কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্ব দেওয়া হয় আমিনুল হক চৌধুরীকে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে আমিনুল হক চৌধুরী বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে পূর্ব পাকিস্তান আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। আমিনুল হক চৌধুরীর রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠতা ছিল শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও খান আবদুল গাফফার খানের (সীমান্ত গান্ধী) সঙ্গে। পরবর্তী সময়ে যখন আইয়ুব খান দেশে মার্শাল ল জারি করেন, তখন তিনি হয়ে পড়েন সামরিক জান্তার চক্ষুশূল।
তখন বাঙালি রাজনৈতিক নেতারা জেল-জুলুমের শিকার হতেন প্রতিনিয়ত। ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের পর অরক্ষিত পূর্ব বাংলার স্বার্থে ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণা দিয়ে বঙ্গবন্ধু স্বাধিকার আন্দোলন শুরু করেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে বরিশালের তরুণ রাজনৈতিক কর্মী আমির হোসেন আমু, আবদুল বারেক, তোফায়েল আহমেদ, নুরুল ইসলাম মঞ্জুসহ অনেকেই আমিনুল হক চৌধুরীর সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক নীতির বিরোধিতা করে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যান। ছয় দফা ঘোষণার পর এ অঞ্চলে দলের রাজনৈতিক, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দায়িত্ব তাঁর কাঁধে এসে পড়ে। ১৯৬৯ সালে শুরু হয় আইয়ুব-মোনেমবিরোধী গণ-আন্দোলন। আন্দোলনের মুখে ধসে যায় আইয়ুবের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। সত্তরের নির্বাচনের ডাক আসে বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে। আগরতলা মামলা শেষে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দক্ষিণ বাংলার নদীপথে ব্যাপক নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করেন আমিনুল হক চৌধুরী। দক্ষিণ বাংলার নদীপথগুলোতে হাজার হাজার মানুষ শত শত নৌকা নিয়ে চলতে থাকে, আর বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে থাকে। আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের এলাকাগুলোতেও তিনি সাংগঠনিক দায়িত্ব নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। কিন্তু এরই মধ্যে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নেমে আসে এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর মহা প্রলয়ংকরী সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে ধ্বংস হয়ে যায় অসংখ্য ঘরবাড়ি। হাজার হাজার মানুষ ভেসে যায়, তলিয়ে যায় সমুদ্রের গহ্বরে। এ সময় আমিনুল হক চৌধুরী তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে ছুটে যান অসহায় মানুষের সাহায্যে। দক্ষিণ বাংলার এই জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারায়। অথচ পাকিস্তান সরকার ছিল একেবারেই নির্লিপ্ত। পাকিস্তানের এই বিমাতাসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালিদের ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ করে। পাকিস্তানের প্রতি এ মনোভাব দেশের জনসাধারণ ও নেতাদের পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন স্বদেশ গড়ায় উদ্বুদ্ধ করে। আমিনুল হক চৌধুরী এ সময় আসন্ন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করতে থাকেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যার পর বরিশালকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ বাংলার বিপ্লবী পরিষদ এ সময় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা করে। আমিনুল হক চৌধুরীকে বরিশালের আইন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিচারক হিসেবে তাঁর প্রধান দায়িত্ব ছিল যারা পাকিস্তানি সেনাদের স্বার্থে বাঙালির স্বাধীনতাসংগ্রামের বিরোধিতা করত, তাদের বিচার করা। পাকিস্তানি বিমানবাহিনী তাদের বোমারু বিমান নিয়ে কয়েকবার বরিশাল এলাকায় আক্রমণ চালায়। তবু এ এলাকা ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত মুক্ত ছিল। ২৬ এপ্রিল স্থলপথে বরিশালে পাকিস্তানি বাহিনী ঢুকলে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল বাধার সম্মুখীন হয়। পরে শহরের পতন ঘটলে নদীপথে আমিনুল হক চৌধুরী তাঁর সহযোদ্ধাদের নিয়ে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে ৩০ এপ্রিল ভারতের চব্বিশ পরগনার বশিরহাট মহকুমার হাসনাবাদ থানা বন্দরে পৌঁছান। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য এই এলাকাকে মেজর জলিলের নেতৃত্বে ৯ নম্বর সেক্টরে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। ৯ নম্বর সেক্টরে তিনি রিক্রুটিং ও ক্যাম্প পরিদর্শকের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে তিনি বরিশাল বারের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং পরপর চার বছর এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি বরিশাল এলাকায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কাজ করেন। উল্লেখ্য, তখন বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র জমা দিলেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে বেশ কিছু অস্ত্র। দক্ষিণ বাংলার গোপন বাম সংগঠনের কর্মীরা এসব অস্ত্র বিভিন্ন দলীয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করতে শুরু করেন। এঁদের সামাল দেওয়া ও এলাকার নিজ দলের মধ্যে যে অন্তর্দ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল, তাকে সামলানো ছিল তাঁর দায়িত্ব। তাঁর সততা, ব্যক্তিত্ব এবং মানুষের প্রতি সম্মানবোধ তাঁকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করেছিল। তাই বঙ্গবন্ধু তাঁকে বরিশালের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করেন।
বার্ধক্যজনিত কারণে ১৯৮৯ সালের ১০ মার্চ তিনি মারা যান। একজন সফল রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের ২২তম মৃত্যুদিবসে আমরা তাঁকে সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করি।

লক্ষ করুন: মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘দূরে নিঃশব্দে প্রাকৃতজন’ ফিচারটিতে ছাপা হওয়া ছবিটি সালেক খোকনের তোলা। অনাবধনতায় তাঁর নামটি বাদ পড়ে গেছে। দুঃখিত।

তেলের দাম বাড়লে কার লাভ? by জয়তী ঘোষ

আড়াই বছরের মধ্যে এখন তেলের দাম সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। যে তেল এপ্রিলে সরবরাহ করার কথা, তার দাম গত সপ্তাহান্তে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারের ওপরে উঠে গেল নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরের পর এটাই সর্বোচ্চ। অন্যদিকে লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল কমোডিটিজ এক্সচেঞ্জে দাম আরও বেশি—ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার। এই মুহূর্তে দামের পূর্বাভাস এখনো ঊর্ধ্বমুখী।
বর্তমান মূল্যস্ফুরণের পেছনে সাধারণভাবে চালিকাশক্তি মনে করা হয় মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষত লিবিয়া সংকটকে। তবে সারা দুনিয়ার পেট্রোলিয়ামের ৩ শতাংশের কম লিবিয়ায় উৎপাদন করা হয়। আর কোনো ঘাটতি দেখা দিলে তা পূরণের প্রতিশ্রুতি ইতিমধ্যে দিয়ে রেখেছে সৌদি আরব (দেশটিতে বাড়তি মজুদের পরিমাণ লিবিয়া ও আলজেরিয়ার বার্ষিক উৎপাদনেরও বেশি)।
তেলের মূল্যবৃদ্ধি চালিত হয়েছে অনিশ্চয়তা, গুজব ও ফিউচার বাজারের ফাটকাবাজি কর্মকাণ্ডের দ্বারা। পুরো সমস্যার মাত্র একটি দিক লিবিয়া। আসলে গৃহযুদ্ধ চলতে থাকলেও লিবিয়ার বেশ কিছু তেলক্ষেত্রে এখনো উৎপাদন অব্যাহত আছে। আর্থিক বাজারের উদ্বেগ আসলে শেষ অবধি সৌদি আরবে বিক্ষোভ ছড়ায় কি না, তা নিয়ে। কিন্তু তেমন নাটকীয় কিছু ঘটা এবং তেলের জোগানে গুরুতর ব্যাঘাত ঘটার বহু আগেই তেলের মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে।
তেলের দাম বাড়লে কার ক্ষতি, তা সবারই জানা। দুনিয়ার বেশির ভাগ মানুষ ভুক্তভোগী হয়। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তেলের মূল্য অন্য সব দ্রব্যমূল্যে চলে আসে উৎপাদন ও যানবাহন খরচ বৃদ্ধির আদলে। সরাসরি আক্রান্ত হয় কৃষি। তাই খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়বে; খাদ্যসংকটের আরও অবনতি ঘটবে। খরচ বাড়ার পরিণতিতে সরকারের ওপর চাপ তৈরি হয় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ (যেমন—সুদের হার বাড়ানো) নেওয়ার। এতে ব্যবসায়, বিশেষত ক্ষুদ্র ব্যবসায় ব্যয়বৃদ্ধি ঘটে। চলমান সংকটের সময়ে তা দুর্বল বিশ্ব অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাকেও দুর্বল করে। তাই সারা দুনিয়ার মানুষকে তাদের প্রকৃত আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ার বাস্তবতার সম্মুখীন হতে হবে।
তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ভেতরে উন্নতদের চেয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলো সাধারণত বেশি আক্রান্ত হয়। প্রথমত, উন্নত দেশগুলোতে শিল্পোৎপাদনে যে জ্বালানি লাগে, তার প্রায় দ্বিগুণ জ্বালানি লাগে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। আর দ্বিতীয়ত, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অনেক ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার দিক থেকেও বিপত্তিতে পড়তে হয়। তাই তেল আমদানির জন্য অনেক অর্থ খরচ করতে হলে অর্থ পরিশোধের ভারসাম্যে অসংগতি দেখা দেয়। দরিদ্রতম দেশগুলো সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। আর উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অধিকতর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপরই চেপে বসে জীবন যাপনের উচ্চব্যয় ও নিম্নমজুরির বোঝা।
তেল আমদানিকারক উন্নয়নশীল দেশগুলো যে বৈদেশিক সহায়তা পেয়েছিল, এক বছরে তেলের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় তার ইতিবাচক সব প্রভাবই ধ্বংস হয়েছে। খাদ্য আমদানিকারক দেশগুলোর ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব যুক্ত হয়। ২০০৮ সালে শেষবার যখন তেলের দাম চূড়ায় পৌঁছে, তখন তেল ও খাদ্য আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য আইএমএফ যেন ক্ষতিপূরণমূলক অর্থায়ন করে, সেই দাবি তোলা হয়। সেটি বাস্তব রূপ পায়নি। এবার সে রকম কোনো দাবির কথা শোনা যাচ্ছে না অথবা শুনতে পারার মতো জোরালো স্বরে তেমন কোনো দাবি তোলা হচ্ছে না।
কিন্তু তেলের দাম বাড়লে কার লাভ? প্রচলিত দৃষ্টিতে শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশগুলোর ওপরই চোখ যায়, মনে করা হয় এরাই সুবিধাভোগী, এমনকি এমনও মনে করা হয় যে তেল আমদানিকারক দেশগুলোর বৈশ্বিক আয় পুনর্বণ্টিত হয়ে চলে যায় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর হাতে। এই দৃষ্টিভঙ্গি জোরেশোরে তুলে ধরে গণমাধ্যম। রপ্তানিকারক দেশগুলোর সরকারের অপ্রত্যাশিত মুনাফার ওপর জোর দেওয়ার মাধ্যমে সেই কাজটি করা হয়। কিন্তু এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক বাদ যায়। প্রকৃত বড় মাপের সুবিধাভোগী হলো বড় তেল কোম্পানি। এদের ভাগে লাভের বড় অংশটা যায়। অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে বড় তেল কোম্পানিগুলো ধাক্কা খেয়েছিল। ২০১১ সালে পেট্রোলিয়ামের দাম বাড়ার ওপর ভর করে অত্যন্ত সফলভাবে ফিরে এসেছে এসব কোম্পানি।
২০১০ সালের জানুয়ারিতে বড় তেল কোম্পানিগুলো আগের বছরের তুলনায় আয় দ্বিগুণ হওয়ার ঘোষণা দেয়। খরচ ও কর বাদে এক্সনমবিল, শেভরন ও কোনকোফিলিপস নামের তিন মার্কিন কোম্পানি একত্রে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার লাভ করে। ইঙ্গ-ডাচ কোম্পানি রয়াল ডাচ শেল প্রত্যাশিত উৎপাদন না করতে পারলেও আগের বছরের প্রায় দ্বিগুণ আয় করে।
তেলের দাম যখন বেশি কিংবা ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তখন বড় তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফা এত বাড়ল কেন? মূলত কোম্পানির প্রতি ব্যারেল তেলের দামের মধ্যে প্রতিফলিত হয় খনন, অনুসন্ধানের এবং অথবা অশোধিত তেল ক্রয়ের মূল্য। এগুলো বহু আগের দামে। বর্তমান অশোধিত তেলের মূল্যের সঙ্গে সেসব মূল্যের সম্পর্ক অতি সামান্য অথবা কোনো সম্পর্কই নেই। কিন্তু বাজারে তেলের দাম বাড়লে তারা নিজেদের পণ্যের দাম খুব দ্রুত বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি মূল্য নিয়ে যায়। বিপরীতে পরিশোধিত তেলের দাম কমলে তাদের পণ্যের দাম কমানোর ক্ষেত্রে ধীরগতি দেখা যায়। তাই অশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি তাদের জন্য অপ্রত্যাশিত বিরাট মুনাফা নিয়ে আসে। সুতরাং বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির সময়ে ফিউচার বাজারের প্রকৃত লাভবানেরা হলো ফিউচার বাজারের ফাটকাবাজ আর বড় তেল কোম্পানিগুলো। বাজারের উত্তেজনাপূর্ণ ভাবের কারণে এসব কোম্পানি তাদের পণ্য উৎপাদনের খরচের চেয়ে অনেক বেশি মূল্য ধরে বিপুল মুনাফা তুলে নিতে পারে।
এই অপ্রত্যাশিত মুনাফার ওপর তাৎক্ষণিক ও মোটা অঙ্কের করারোপ খুবই আবশ্যক। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা চালানোর সময় বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রে এমন করারোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তাঁর প্রশাসন এখনো তা করেনি। এমন করের বিরুদ্ধে সাধারণত যেসব যুক্তি দেখানো হয় তা হলো, কোনো কোম্পানি অতিরিক্ত মুনাফা করলে প্রদত্ত করের হার অনুযায়ী তারা আরও বেশি কর দেয়; তারা ভোক্তাপ্রদেয় মূল্য আরও বাড়িয়ে দেবে (কোম্পানিগুলো নিজস্ব খরচ তুলে আনবে পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের কাছ থেকে আদায় করে নিয়ে); আর এই করের ফলে দেশীয় কোম্পানিগুলোর চেয়ে বেশি লাভবান হবে বিদেশি জোগানদাতারা।
কিন্তু এসব যুক্তিই খণ্ডনীয়। অপ্রত্যাশিত বিপুল মুনাফা হয় আসলে প্রতিযোগিতাবিরোধী কোম্পানি অনুশীলনের ফলে—দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী মূল্য পুনর্নির্ধারণ এবং নিম্নমুখিতার ক্ষেত্রে জড়তা। সুতরাং করারোপই ন্যায্য। কেননা এই উদ্বৃত্তমূল্য কোম্পানির বর্তমান ব্যয়ে কিংবা বিনিয়োগের পরিমাণকে প্রতিফলিত করে না, বরং অন্য নিয়ামকের দ্বারা মূল্যবৃদ্ধির ফলে তাদের মুনাফা করার সামর্থ্যকেই প্রকাশ করে।
এভাবে সংগৃহীত কর ভর্তুকি অথবা সরকারি বিনিয়োগে ব্যবহার করা যায়, যা উৎপাদন ও ভোগের ক্ষেত্রে অধিকতর দক্ষ জ্বালানি ব্যবহার এবং ঘরে ব্যবহারোপযোগী বিকল্প জ্বালানির বিকাশে উৎসাহ জোগাবে। নিয়ন্ত্রণহীন ও জট সৃষ্টিকারী ব্যক্তিগত যানকেন্দ্রিক পরিবহনব্যবস্থার পরিবর্তে জ্বালানি-সাশ্রয়ী গণপরিবহনব্যবস্থা বিকশিত করতে তা কাজে লাগানো যেতে পারে।
উন্নত দেশগুলোর সরকার এমন কর থেকে অর্জিত অর্থের একাংশ আজ মূল্যবৃদ্ধির দ্বারা আক্রান্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ক্ষতিপূরণমূলক ও শর্তহীন সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারে।
ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনূদিত।
জয়তী ঘোষ: ভারতীয় অর্থনীতিবিদ। জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক।

এন্ডা কেনি হচ্ছেন আয়ারল্যান্ডের নতুন প্রধানমন্ত্রী

মধ্য ডানপন্থী ফিনে গোয়েল দলের নেতা এন্ডা কেনি আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। গতকাল বুধবার আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে নতুন পার্লামেন্টে এ নিয়ে ভোটাভুটিতে কেনি ১৬৬ ভোটের মধ্যে ১১৩ ভোট পান। গত মাসে সে দেশের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ফিয়ানা ফেল পার্টি বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়।
কেনির ফিনে গোয়েল এবং মধ্য বামপন্থী লেবার পার্টি দেশটিতে নতুন সরকার গঠন করবে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন মন্ত্রিপরিষদে ১০ জন ফিনে গোয়েল এবং লেবার পার্টির পাঁচজন সদস্য থাকবেন।
সাধারণ নির্বাচনের তিন মাস আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ৯০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ নেয় আয়ারল্যান্ড। এই ঋণসংক্রান্ত ব্যাপারে আলোচনার জন্য আগামীকাল শুক্রবার ইইউর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন এন্ডা কেনি।
এদিকে গত মঙ্গলবার ডাবলিনে বিদায়ী মন্ত্রিপরিষদের সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

স্পেনে বিমানবন্দরে টানা ধর্মঘটের হুমকি

স্পেনে বিমানবন্দর বেসরকারীকরণ করার পরিকল্পনার প্রতিবাদে শ্রমিকেরা ২২ দিন ধর্মঘট করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এ কারণে ইস্টার সানডে ও গ্রীষ্মের ছুটিতে বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্পেনের রাষ্ট্রীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের (এইএনএ) অধীনে কর্মরত সাড়ে ১২ হাজার শ্রমিকের প্রতিনিধিত্বকারী তিনটি ইউনিয়ন এ ধর্মঘট ডাকার হুমকি দেয়। তারা আগামী এপ্রিল মাসের ২০, ২১, ২৪, ২৫ ও ৩০ তারিখে ধর্মঘট ডাকার পরিকল্পনা করছে। এ ছাড়া মে, জুন ও জুলাই মাসে আরও ধর্মঘট ডাকার পরিকল্পনা হয়েছে।
শ্রমিকদের আশঙ্কা, স্পেনের সরকার রাষ্ট্রীয় বিমানবন্দরের ৪৯ ভাগ মালিকানা বিক্রি এবং মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা বেসরকারীকরণের পরিকল্পনা করছে। এতে শ্রমিকদের কাজের শর্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আয়ারল্যান্ডের রায়ানেয়ার এয়ারলাইনস জানায়, ধর্মঘট এড়ানো না গেলে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০০ ফ্লাইট বাতিল করতে হবে। ইস্টার ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে এসব ফ্লাইটে ৫৭ হাজার যাত্রীকে স্পেনে নিয়ে যাওয়ার কথা।
স্পেনের আয়ের মূল উৎস হচ্ছে পর্যটন খাত। দেশটিতে প্রতিবছর চার কোটি ৪০ লাখ পর্যটক বেড়াতে আসে। তাদের মধ্যে দেড় কোটিই যুক্তরাজ্যের পর্যটক।

কলকাতায় নকল চিত্র প্রদর্শনীর অভিযোগে মামলা

কলকাতায় এক চিত্র প্রদর্শনীতে কবিগুরুর নকল চিত্র প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার কলকাতা সরকারি আর্ট কলেজের সাবেক ছাত্র ও বিশিষ্ট ভাস্কর তাপস সরকার হাইকোর্টে এ মামলা করেন।
জানা গেছে, ওই কলেজে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবর্ষ উপলক্ষে কবির আঁকা ছবি নিয়ে চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলকাতা ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আর্ট, লিটারেচার অ্যান্ড কালচার যৌথভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে। এতে কবিগুরুর আঁকা বেশ কিছু ছবি প্রদর্শিত হয়।

তিউনিসিয়ায় বেন আলীর দল বিলুপ্ত

তিউনিসিয়ার সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট জয়নাল আবেদিন বেন আলীর দল র্যালি ফর কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেসি (আরসিডি) বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সে দেশের একটি আদালত এই নির্দেশ দেন।
নির্দেশে বলা হয়, আদালত আরসিডি বিলুপ্ত এবং ওই দলের যাবতীয় সম্পদ ও তহবিল বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর আগে বেন আলী ১৪ জানুয়ারি দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁর দলের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। তাঁর স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের একপর্যায়ে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, বেন আলী একদলীয় শাসনতন্ত্র কায়েম করে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। এই দলের দাবি, দেশের এক কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে তাদের সদস্য ২০ লাখ।
বেন আলীর দলটি ১৯৮৮ সালে গঠিত হয়। এর পর থেকে দলটির তহবিলের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বার্ষিক হিসাবের কোনো নথি করা হয়নি।

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় আবার অস্থির কায়রো, নিহত ১০

প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পতনের পর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসার আগেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মিসর। রাজধানী কায়রোতে মুসলমান ও কপটিক খ্রিষ্টানদের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি গুলিতে কমপক্ষে ১০ জন নিহত ও ১১০ জন আহত হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া মানবাধিকারকর্মীরা দেশটির একটি গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে উৎপীড়নের অভিযোগ এনে বিক্ষোভ শুরু করায় নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, গত সপ্তাহে একটি গির্জায় অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার কপটিক খ্রিষ্টানরা কায়রোয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এর জের ধরে মুসলমানদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। গুলিতে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীর একজন নিহত হলে দাঙ্গা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। দুই সম্প্রদায়ের লোকজন পাল্টাপাল্টি গুলি ও পরস্পরের দিকে পাথর ছুড়তে থাকে। এতে বহু লোক গুলিবিদ্ধ হয়।
গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান শেরিফ জামেল বলেন, মঙ্গলবারের ঘটনায় ১০ জন নিহত ও ১১০ জন আহত হওয়ার ব্যাপারে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন। কোন সম্প্রদায়ের কতজন নিহত হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে কায়রোর একজন খ্রিষ্টান ধর্মগুরু দাবি করেছেন, ওই ঘটনায় তাঁদের ছয়জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে মানবাধিকারকর্মীরা গতকাল কায়রোতে বিক্ষোভ করে অভিযোগ করেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক তাঁর ক্ষমতা ধরে রাখতে স্টেট সিকিউরিটি নামের একটি গোয়েন্দা সংস্থা চালু করেছিলেন। ওই সংস্থার সদস্যরা সেনা কর্মকর্তাদের স্বার্থরক্ষায় জনগণের ওপর আগেও উৎপীড়ন চালাত, এখনো চালাচ্ছে। তাঁরা বলেছেন, এর প্রয়োজনীয়তা সাধারণ জনগণের কাছে নেই। তাই তাঁরা অবিলম্বে সংস্থাটি বিলুপ্ত করার দাবি জানান।

কংগ্রেস রাজনৈতিক পরীক্ষায় পড়বে বিধানসভা নির্বাচনে

দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে চাপের মুখে পড়া ভারতের ক্ষমতাসীন জোট সরকারের প্রধান শরিক কংগ্রেস পার্টি ও আরেক শরিক তামিলনাড়ুর দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাঝাগাম (ডিএমকে) হয়তো তাদের বন্ধুত্বটা শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পেরেছে। তবে আগামী মার্চ-এপ্রিলে পাঁচ রাজ্যে অনুষ্ঠেয় বিধানসভার নির্বাচনে কংগ্রেসকে আসল পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। এই পাঁচ রাজ্য হচ্ছে—পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরালা, আসাম ও পুডুচেরি।
আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় তামিলনাড়ু রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে গত মঙ্গলবার কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে ডিএমকে নেতাদের বৈঠক হয়। বৈঠকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও ডিএমকে নেতা এম করুণানিধি ওই রাজ্যের ২৩৪ আসনের মধ্যে ৬৩টি আসন কংগ্রেসকে ছেড়ে দিতে রাজি হন। এর আগে আসন ভাগাভাগি নিয়ে ঐক্যমত না হওয়ায় ৫ মার্চ ডিএমকে তাদের ছয় মন্ত্রীকে সরকার থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
বিশ্লেষকেরা ডিএমকেকে জোটে ধরে রাখার বিষয়টি কংগ্রেসের আপাতত রাজনৈতিক সফলতা বলে মনে করছেন। টেলিকম খাতের দুর্নীতিসহ নানা কারণে মনমোহন সরকারের নষ্ট হওয়া ভাবমূর্তি এ নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরুদ্ধারের আশা করছে কংগ্রেস।
পশ্চিমবঙ্গ ও কেরালার নির্বাচনে কংগ্রেস এবং শরিক দলগুলো ভালো ফল করবে। আসামেও তাদের ভালো ফল করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে টেলিকম কেলেঙ্কারির কারণে তামিলনাড়ুতে জিততে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটকে বেশ বেগ পেতে হতে পারে। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক টেলিকমমন্ত্রী ও ডিএমকে নেতা এ রাজার বিরুদ্ধে সরকার আগেভাগেই কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ডিএমকে এবং কংগ্রেস—উভয় দলেরই সুনাম নষ্ট হয়েছে।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি মসৃণভাবে সম্পন্ন হলে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস ভালো ফল করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর এর মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থীদের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান হবে।
কেরালায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইডেট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউডিএফ) সম্ভাব্য সাফল্য ভারতের মার্কসবাদীদের জন্য আরেকটি বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা দেবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

আট মাসে রপ্তানি বেড়েছে ৪০.৩%

চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে উচ্চ হারে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি আয় ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১০-১১ অর্থবছরে প্রথম আট মাসে পণ্য রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছে এক হাজার ৪০৭ কোটি ডলার। আর গত ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল এক হাজার তিন কোটি ডলার। অর্থাৎ এই সময়কালে পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪০ দশমিক ২৮ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রপ্তানির কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ১১৭ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। তার মানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রকৃত রপ্তানি ১৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি হয়েছে।
আবার চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে ১৮৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আর ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ১৩১ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। অর্থাৎ এ সময়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
ইপিবির পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, আলোচ্য আট মাসে তৈরি পোশাকসহ প্রধান প্রধান রপ্তানি পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
ইপিবির পরিসংখ্যান অনুসারে, আলোচ্য সময়কালে প্রধান রপ্তানিমুখী পণ্য নিট পোশাক ও ওভেন পোশাকের প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে প্রায় ৪৪ শতাংশ ও ৩৮ শতাংশ। এই সময়কালে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৫৭৯ কোটি ১৫ লাখ ডলার। আর ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৫১২ কোটি ৩৫ লাখ ডলার।
পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে চলতি অর্থবছরে আট মাসে দেশে এসেছে ৭৩ কোটি ৪৪ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫১ দশমিক শতাংশ বেশি। এ সময়ে ২৪ কোটি ডলারের কাঁচা পাট, ৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারের পাটের সুতা ও ১২ কোটি ৮৭ লাখ ডলারের পাটের ব্যাগ ও চট রপ্তানি হয়েছে।
অন্য দিকে হোম টেক্সটাইল রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৪৫ কোটি ৬১ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের প্রথম আট মাসের তুলনায় প্রায় ৯৫ শতাংশ বেশি।
ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৪৩ কোটি ১৩ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৮ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। আর চামড়া রপ্তানি থেকে এই আট মাসে আয় হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি ৬৫ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি।
এ ছাড়া পাদুকা রপ্তানি করে আট মাসে বাংলাদেশ আয় করেছে ১৯ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৮ দশমিক ০৫ শতাংশ বেশি।
ইপিবির পরিসংখ্যান থেকে আরও জানা যায়, আলোচ্য সময়ে ২১ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের কৃষিপণ্য, ১৯ কোটি ১৭ লাখ ডলারের প্রকৌশল পণ্য, ১৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, আট কোটি ৩৭ লাখ ডলারের টেরিটাওয়েল এবং দুই কোটি ৮১ লাখ ডলারের ওষুধ রপ্তানি হয়েছে।

বিনিয়োগের স্বার্থে নবায়ন মাশুল যৌক্তিক হতে হবে

বাংলাদেশে দ্বিতীয় প্রজন্মের (২-জি) মোবাইল সেবা লাইসেন্স নবায়নের জন্য প্রণীত খসড়া নীতিমালা পর্যালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশন বা জিএসএম অ্যাসোসিয়েশন (জিএসএমএ)।
জিএসএমএ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, লাইসেন্স নবায়নের মাশুল হিসেবে অতিরিক্ত অর্থ রাখা হলে মোবাইল ফোন অপারেটরদের মুনাফা কম হবে। এ দেশের সম্ভাবনাময় টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই যৌক্তিক নবায়ন মাশুল নির্ধারণ করা উচিত।
গতকাল বুধবার স্থানীয় এক হোটেলে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ ২০২১ অর্জনে মোবাইল ফোনের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান জিএসএমএ কর্তৃপক্ষ। জিএসএমএর পক্ষে বক্তব্য দেন অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক (স্পেকট্রাম) ক্রিস্টিন ডু হগ এবং পরিচালক (পাবলিক পলিসি) সুজি হেনরি। সেমিনারেরও আয়োজন করে জিএসএমএ।
ক্রিস্টিন ডু হগ জানান, দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল সেবা লাইসেন্স নবায়ন মাশুল আরোপের সময় বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করতে হবে। প্রথমত, মাশুল বেশি হলে ব্যবসায় মুনাফা তুলনামূলক কম হবে। এতে টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ হ্রাস পেতে পারে। দ্বিতীয়ত, অর্থনীতি ও বাজারের প্রকৃত মূল্যমান বিবেচনা করে নবায়ন মাশুল নির্ধারণ করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল সেবার সুবিধা অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই আপাতদৃষ্টিতে সরকারের রাজস্ব কম হলেও ভবিষ্যতে এই খাতকে কেন্দ্র করে নানামুখী ব্যবসা সম্প্রসারিত হবে, যা রাজস্ব আদায় বাড়বে। তাই সরকারকে স্বল্পমেয়াদে বেশি রাজস্ব আদায়ের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদে অধিক রাজস্ব আদায়ের দিকে নজর দিতে হবে।
সুজি হেনরি বলেন, ‘খসড়া নীতিমালাটি পর্যালোচনা করার জন্য আমরা বলেছি। লাইসেন্স নবায়ন মাশুল কম রাখা হলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে।’
উল্লেখ্য, আগামী নভেম্বর মাসে মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোন, রবি, সিটিসেল ও বাংলালিংকের লাইসেন্স বা তরঙ্গ বরাদ্দের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল সেবা লাইসেন্স নবায়ন নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছে।
এর আগে সকালে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ ২০২১ অর্জনে মোবাইল ফোনের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। সেমিনারের উদ্বোধন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু। এতে আরও বক্তব্য দেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ।

সুদহারের ওপর সীমা প্রত্যাহার

বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষি খাত ও শিল্পের মেয়াদি ঋণ ছাড়া অন্যান্য খাতে ঋণের সুদহারের ওপর ইতিপূর্বে আরোপিত ১৩ শতাংশ সীমা তুলে নিয়েছে। এর ফলে বাকি খাতগুলোয় ব্যাংকঋণ ব্যয়বহুল হবে।
অবশ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, সব ধরনের রপ্তানিতে ইতিপূর্বে নির্ধারিত ঋণের সুদহার (৭ শতাংশ) এবং চাল, গম, ভোজ্যতেল (পরিশোধিত ও অপরিশোধিত) ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ, খেজুর ও চিনি আমদানি অর্থায়নের ঋণের সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা ১২ শতাংশ বহাল থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এক প্রজ্ঞাপনে গতকাল বুধবার এ নির্দেশনা দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র বলছে, এখন আমানত সংগ্রহ করতেই ব্যাংকগুলোকে ১২-১৩ শতাংশ হারে সুদ দিতে হচ্ছে। তাই ঋণের সুদের ওপর যে সীমা আরোপ করা ছিল, তা পরিপালন করা যৌক্তিকভাবেই সম্ভব নয়। এ কারণে সাধারণভাবে এই ঋণের সুদসীমা তুলে নেওয়া হয়েছে।
সূত্রটি আরও বলছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর পরও দেশের কৃষি, শিল্প উৎপাদন ও অগ্রাধিকার খাত এবং নিত্যপণ্যের আমদানি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে নজর রেখেছে। ফলে এসব ক্ষেত্রে সুদের আরোপিত সীমা বহাল রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) নেতারা যে ১৪ দফা দাবি উত্থাপন করেন, তার মধ্যে ঋণের সুদের ওপর আরোপিত সীমা প্রত্যাহারের দাবি ছিল। উপরন্তু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) সম্প্রতি ঋণের সুদহারের ওপর দেওয়া সীমা প্রত্যাহারের পরামর্শ দেয়।
বিএবি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি ফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এ জন্য আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
ডলার দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক: এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত সোমবার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে খাদ্যসামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
জানা যায়, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পরামর্শ দিয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, কারও বৈদেশিক মুদ্রার সমস্যা হলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তা দেওয়া হবে। বৈদেশিক মুদ্রার অভাবের কারণে যেন কোনো ঋণপত্র (এলসি) খোলা ব্যাহত না হয়।
তবে এ মুহূর্তে দেশের অর্থনীতির জন্য ততটা জরুরি নয়—এমন বিলাসী পণ্য আমদানিতে কিছুটা রক্ষণশীল থাকার দরকার রয়েছে বলেও মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক এ মুহূর্তে সরাসরি ডলার বাজারে বিক্রি করলে তার বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে স্থানীয় মুদ্রা, টাকা উঠে আসবে। এটি আবার বর্তমান টানাটানির মধ্যে থাকা মুদ্রাবাজারের নগদ অর্থপ্রবাহের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করবে।
এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পর্যায়ে ওডির (ওভার ড্রাফট) মাধ্যমে ডলার সরবরাহ বাড়িয়ে বাজারের চাহিদা মেটাতে ও টাকার মূল্যমান স্থিতিশীল রাখতে বাজারে হস্তক্ষেপ করছে।
সেবাসংক্রান্ত তথ্য প্রদর্শন: কেন্দ্রীয় ব্যাংক গতকাল আরেকটি প্রজ্ঞাপনে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন, সার্বিক কার্যক্রম ও স্থিতিপত্র, আমানত ও ঋণের খাতভিত্তিক সুদহার-সম্পর্কিত তথ্য ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ শাখা পর্যায়ে এবং ওয়েবসাইটে প্রকাশের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
সোমবার চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয় বন্ধ: সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে আগামী সোমবার চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা অফিস বন্ধ থাকবে।
ওই দিন বিশ্বকাপ ক্রিকেটের খেলাটি চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে খেলার আয়োজন সম্পন্ন করতে এদিন চট্টগ্রাম মহানগরে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বুধবার এই সিদ্ধান্তের আলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চট্টগ্রাম কার্যালয় বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

দর বৃদ্ধির ধারায় ফিরছে বাজার

পতনের ধারা থেকে দর বৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে দেশের শেয়ারবাজার। দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই গতকাল বুধবার মূল্যসূচক ও লেনদেন বেড়েছে। এ নিয়ে টানা পাঁচ দিন ধরে বাড়ল শেয়ারবাজারের মূল্যসূচক।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাজারের পতন ঠেকাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার মিউচুয়াল ফান্ড গঠনের ঘোষণার পর থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। তাই যাঁরা এত দিন লোকসান দিয়ে শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁরাও এখন ফিরতে শুরু করেছেন। মূলত এ কারণেই মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণ বাড়ছে।
যোগাযোগ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, লেনদেনের ধরন দেখে মনে হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের অনেকে আবার সক্রিয় হচ্ছেন। এটা নিঃসন্দেহে ভালো খবর। তবে খেয়াল রাখতে হবে দুর্বল মৌলভিত্তির অতিমূল্যায়িত শেয়ার যাতে আবারও অতিমূল্যায়িত হয়ে না পড়ে।
বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ও ডিএসইকে এখন থেকেই নজরদারি বাড়াতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গতকাল দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ২৬৫ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে ছয় হাজার ৩১৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইতে ২৫৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ২৪৩টির, কমেছে ১৩টির এবং অপরিবর্তিত থাকে তিনটি প্রতিষ্ঠানের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল এক হাজার ২৪৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ২৭৯ কোটি টাকা বেশি। দীর্ঘ দুই মাস পর স্টক এক্সচেঞ্জটিতে এ পরিমাণ লেনদেন হতে দেখা গেল।
অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৭২১ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৭ হাজার ৮১৭ পয়েন্টে ছাড়িয়েছে। আর মোট লেনদেন হয়েছে ১৫০ কোটি টাকার শেয়ার।
বিনিয়োগকারীদের দোয়া: বিনিয়োগকারীদের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, পুঁজিবাজারের অব্যাহত দরপতন ঠেকাতে এবং বর্তমান স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আল্লাহর দরবারে খতমে ইউনুস ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করেন বিনিয়োগকারীরা। গতকাল বেলা আড়াইটায় ডিএসইর সামনে বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্যপরিষদের ব্যানারে এ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

ইস্টল্যান্ড ইনস্যুরেন্সের লভ্যাংশ ঘোষণা

ইস্টল্যান্ড ইনস্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য ৩৭ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ অনুমোদন করেছে। একই সঙ্গে পর্ষদ তিনটি শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার প্রদানও অনুমোদন করেছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) শেয়ার মালিকদের অনুমোদনের পরই এই লভ্যাংশ ও রাইট শেয়ার দেওয়া হবে।
ইস্টল্যান্ড ইনস্যুরেন্সের ইজিএম ও এজিএম অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৮ এপ্রিল ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে । ইজিএম বেলা সাড়ে ১১টায় এবং এজিএম দুপুর ১২টায় হবে। ইজিএম ও এজিএমের রেকর্ড ডেট ২১ মার্চ।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে ওই সময়ে তাদের শেয়ার প্রতি আয় ৬১.৬৫ টাকা, শেয়ার প্রতি মোট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ২৪৬.৭২ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৩৯.৩৩ টাকা।

বিওসির ১০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বিওসির পরিচালনা পর্ষদ ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া বছরের জন্য ১০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অর্থাত্ প্রতিষ্ঠানটির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১০ টাকা লভ্যাংশ প্রদান করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে, যার ভেন্যু পরে জানানো হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ২৩ মার্চ।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) ১৯৯ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা, শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৪৩.৯০ টাকা এবং প্রতি শেয়ারে নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৪৫.৪৫ টাকা।

রুবচিচের দলের আত্মসমর্পণ

কুয়েত ৩: ০ বাংলাদেশ
একটু লড়াই, একটু প্রতিরোধ—এর চেয়ে বেশি চাওয়ার ছিল না। কিন্তু এর কিছুই পাওয়া গেল না রুবচিচের দলের কাছে। কুয়েতের মাটিতে ২-০ গোলে হেরে আসা দল দেশের মাটিতে হারল আরও বড় ব্যবধানে—৩-০।
নিজেদের মাঠে জিতে থাকা কুয়েতের জন্য এ ম্যাচে ড্র করলেই চলত। কিন্তু হালকা মেজাজে খেলেও বড় জয় নিয়ে পেরিয়ে গেল তারা অলিম্পিক ফুটবলের প্রাক-বাছাই পর্ব।
বাংলাদেশ কখনো কুয়েতের বাধা পেরোনোর স্বপ্ন দেখেনি। চেয়েছে ভালো ফুটবল খেলতে। প্রথম ম্যাচে কুয়েতের মাঠে ২-০ গোলে হারলেও সেই আশা নাকি পূরণ হয়েছিল অনেকটা। কিন্তু কাল নিজেদের মাঠে সেই বাংলাদেশকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। খেলোয়াড়দের শরীরই চলছিল না। জোরে একটা দৌড়ও দেখা গেল না। বলতে গেলে খেলল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। কী ক্লান্তি!
অথচ প্রথম ম্যাচের পর ১২-১৩ দিন পাওয়া গেছে। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মিঠুন চৌধুরীর দাবি, লিগের ম্যাচ খেলার কারণে তাঁরা ক্লান্ত ছিলেন! তবে ঘটনা হলো, এ দলের ৩-৪ জন ছাড়া বাকিরা ঘরোয়া লিগে নিজ নিজ একাদশের বাইরে থাকেন। ক্লান্তির অজুহাত কীভাবে আসে?
তবে খেলার কয়েকটি মুহূর্তে জমিনে বল দেওয়া-নেওয়ায় খানিক ভালো ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু কুয়েতের লম্বা খেলোয়াড়দের বিপক্ষে হাওয়ায় তারা মোটেই পারেনি। তাই ফল—তিনটি গোলই সেট পিচে।
কুয়েত জাতীয় দলের একমাত্র খেলোয়াড় ইউসেফ সোলায়মান করেছেন দুটি গোল। ৪৫ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে হেডে এবং ৮৯ মিনিটে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে বল জড়িয়েছেন জালে। আর ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই কর্নার থেকে ডিফেন্ডার ফাহাদ হেডে করেছেন প্রথম গোল। গোলগুলো অনেকটাই বাংলাদেশের দেওয়া উপহার। বাংলাদেশ দলের এক ডিফেন্ডার অহেতুক কর্নার করে প্রথম গোলের ক্ষেত্র তৈরি করেছেন। আগাগোড়া ম্যাচে ছিল আরও অনেক ভুল।
প্রায় ৯ মাস পর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফুটবল ফিরল। কিন্তু ঝা চকচকে স্টেডিয়ামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পারফরম্যান্স কই? মাঝমাঠে বল ধরে রাখা যায়নি কখনোই। তাই বাংলাদেশের সীমানায়ই খেলে গেল সফরকারীরা। গোলরক্ষক নেহাল গোটা চারেক গোল না বাঁচালে ব্যবধান আরও বড়ই হয়। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কাচঘেরা বক্সে বসে বাফুফের কর্তারা খেলা দেখলেন। কিন্তু তাঁদের ‘পেশাদার চোখে’ কি কিছু ধরা পড়ল? পাশের প্রেস বক্সে খেলোয়াড় তালিকা এসেছে ম্যাচের ৩০ মিনিট পর!
অসন্তুষ্ট রুবচিচ সংবাদ সম্মেলনে নানা সমস্যার কথা বলে গেলেন। প্রতিপক্ষকে গোল উপহার দেওয়ার জন্য তাঁর মুখে খেদ। হাসি মুখের কুয়েত কোচ ছিলেন নির্ভার।

বিশ্বকাপের সাক্ষী হতে পারাই অনেক

চট্টগ্রামে বিশ্বকাপের আঁচ আগেই লেগেছিল। আগামীকালের ইংল্যান্ড ম্যাচ ও ১৪ মার্চের হল্যান্ড ম্যাচ যত কাছে আসছে উত্তেজনা তত বাড়ছে। ক্রিকেটারদের হোটেল ও স্টেডিয়ামের আশপাশে উন্মাদনাটা বেশি। ম্যাচের ফল যা-ই হোক, সবাই বিশ্বকাপের সাক্ষী হয়ে থাকতে চায়।
স্টেডিয়াম-সংলগ্ন এ কে খান মাঠের পাঁচটি কাউন্টার থেকে টিকিট বিতরণ শুরু হয়েছে। টিকিটের জন্য অনেকে ভোর থেকে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
লাইনে দাঁড়ানো কয়েকজন সমস্বরে জানালেন, ‘ভোরে এসেছি ভাই। কিন্তু এখনো লাইনের মাঝামাঝি। আরও কয়েকটি কাউন্টার করলে ভালো হতো। তবে টিকিট না নিয়ে যাব না।’ যাঁরা আগে ব্যাংক থেকে নিশ্চয়তাপত্র সংগ্রহ করেছিলেন তাঁরাই এখান থেকে টিকিট পাবেন। আজও হবে টিকিট বিতরণ। দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, এখান থেকে দুই দিনে ৯ থেকে ১০ হাজার টিকিট বিতরণ হবে। প্রয়োজনে ম্যাচের দিন দুপুর পর্যন্ত কাজ চলবে। এত গেল স্থানীয় দর্শকদের কথা। বার্মি আর্মি নামের অতিপরিচিত ইংলিশ সমর্থকগোষ্ঠীর ৫০ জনের একটি দলও আজ পা রাখছে চট্টগ্রামে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-কানাডা প্রস্তুতি ম্যাচের দিন কিছু সাংবাদিক ও স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের স্টেডিয়ামে ঢোকার পাস দিয়েছিল নগর পুলিশ। সিএমপির এমন ভুতুড়ে কাণ্ড সম্পর্কে অবগত ছিল না আইসিসি কিংবা বিসিবি। ফলে এই পাস নিয়ে স্টেডিয়ামের ফটকে গিয়ে অনেককে ফিরে আসতে হয়।
আগামীকালের ম্যাচ সামনে রেখেও সিএমপি একই ধরনের কিছু পাস দিয়েছে বলে অভিযোগ। ওই পাসে স্থানীয় এক ক্লাবের কর্মকর্তার পদবি লেখা হয়েছে ‘বিসিবি পরিচালক’।
সিএমপির উপকমিশনার (সদর) মো. ময়নুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যাদের পাস দিচ্ছি তারা কেবল স্টেডিয়াম এলাকায় নিজ দায়িত্ব পালন করবেন। কোনোভাবেই গ্যালারি কিংবা প্যাভিলিয়নে ঢুকতে পারবেন না।’

আসল প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড নয়

কেভিন পিটারসেনের বিশ্বকাপ শেষ!
খবরটা শুনে আবদুর রাজ্জাকের খুব মন খারাপ হওয়ার কথা। বাঁচা-মরার ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান নেই জেনে বাংলাদেশের তো খুশিই হওয়া উচিত। রাজ্জাক মন খারাপ করবেন কেন?
পিটারসেন সম্পর্কে সামান্যতম খোঁজখবর রাখলেও কারণটা আপনার অনুমান করে ফেলার কথা। সঙ্গে আরেকটা তথ্যই শুধু জানা প্রয়োজন—জনাব আবদুর রাজ্জাক একজন বাঁহাতি স্পিনার। পিটারসেনকে না পেয়ে তাঁর মনে হতেই পারে, আহা রে, নিশ্চিত একটা উইকেট চলে গেল!
একদা ক্রিকেট সার্কিটে একটা রসিকতা খুব চালু ছিল। বাঁহাতি স্পিনাররা জরুরি আন্তর্জাতিক সম্মেলন ডেকেছে। সেখানে সৌরভ গাঙ্গুলীকে ‘এনিমি নাম্বার ওয়ান’ ঘোষণা করে সর্বসম্মতভাবে নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়েছে। ভারতীয় বাঁহাতির মতো বাঁহাতি স্পিনারদের এমন হেনস্থা যে ক্রিকেট ইতিহাসে আর কেউ করতে পারেননি।
সৌরভ যদি সন্দেহাতীতভাবে বাঁহাতি স্পিনারদের সবচেয়ে অপ্রিয় ব্যাটসম্যান হয়ে থাকেন, সবচেয়ে প্রিয় অবশ্যই পিটারসেন। সৌরভকে দেখলেই বাঁহাতি স্পিনারদের বুকে ধুকপুকানি বেড়ে যেত আর পিটারসেনকে দেখলে উল্টো চকচক করে ওঠে তাঁদের চোখ।
আধুনিক ক্রিকেটের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যিনি অবশ্যই থাকবেন, সেই পিটারসেনের এই দুর্বলতা প্রথম চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন যুবরাজ সিং। সেটি দিগ্বিদিকে ছড়িয়ে পড়ে গত বছর ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরে। প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে শুরু করে ওয়ানডে-টেস্ট সিরিজ অনুসরণ করে গেছে একই পাণ্ডুলিপি—বাঁহাতি স্পিনেই লুকিয়ে পিটারসেনের প্রাণভোমরা। প্রথম ওয়ানডেতে সাকিবের শিকার। পরের দুই ম্যাচে রাজ্জাকের। টেস্ট সিরিজেও সাকিবের ‘বানি’।
এই বিশ্বকাপেও যে চার ম্যাচ খেলেছেন, তার দুটিতেই ঘাতকের নাম বাঁহাতি স্পিন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তো রবিন পিটারসনের প্রথম ওভারেই। ম্যাচ শেষে গ্রায়েম স্মিথ বলেও দিলেন, বাঁহাতি স্পিনারকে দিয়ে প্রথম ওভারটা করানো কেভিন পিটারসেনের কথা ভেবেই। রাজ্জাকও নিশ্চয়ই দিব্যচোখে দেখতে শুরু করেছিলেন দৃশ্যটা—শুক্রবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের ইনিংসের প্রথম ওভারেই তুলে নিচ্ছেন পিটারসেনকে।
সেটি আর হচ্ছে না। হচ্ছে না পিটারসেনের নাটকীয় বিদায়ে। পিটারসেন যেভাবে বিশ্বকাপকে বিদায় বলে ফেললেন, অনায়াসে সেটিকে এই বিশ্বকাপের অন্যতম চমক বলে ফেলা যায়। হার্নিয়ার সমস্যার কথা প্রকাশ্য হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের আগেই। কথা ছিল—ব্যথাটা ‘ম্যানেজ’ করেই বিশ্বকাপটা শেষ করবেন। ৮ ওভার বোলিং করাটাই কি তাহলে সর্বনাশ করল?
চেন্নাইয়ের ওই টার্নিং উইকেটে স্ট্রাউস বাধ্য হয়েই পিটারসেনের অফ স্পিনের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। তবে অষ্টম ওভারটি করার সময়ও পিটারসেন কোনো অস্বস্তিতে ভুগছেন বলে মনে হয়নি। অথচ খেলা শেষেই জানিয়ে দেন, ব্যথাটা এত অসহ্য হয়ে উঠেছে যে আর এক দিনও এটা নিয়ে খেলা সম্ভব নয়। কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার যে পুরোপুরি একমত নন, সেটি তিনি গোপন রাখেননি। ইংলিশ মিডিয়ায় সহানুভূতির চেয়ে সমালোচনাই তাই বেশি জুটেছে পিটারসেনের।
এটি ইংল্যান্ডের ব্যাপার, ইংল্যান্ড বুঝুক। বাংলাদেশের যা বোঝার, তা হলো পিটারসেন না থাকায় কি ভালো হলো, না খারাপ? খারাপ হওয়ার কথা উঠছে একটাই কারণে, পিটারসেনের বদলি খেলোয়াড়ের নাম এউইন মরগান। প্রথম আলোর বিশ্বকাপ বিশেষ সংখ্যায় অধিনায়ক সাকিব আল হাসান তাঁর লেখায় নাম ধরেই বলেছিলেন, এউইন মরগান না থাকাটা বাংলাদেশের জন্য খুব ভালো হয়েছে।
কারণ তো অবশ্যই গত বছর ফেব্রুয়ারিতে মিরপুরের সেই ওয়ানডে। ১০৪ বলে ১১০ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলে বাংলাদেশের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়েছিলেন মরগান। পাকেচক্রে ঠিক বাংলাদেশের ম্যাচের আগেই বিশ্বকাপে এসে গেলেন আইরিশ বাঁহাতি।
গত এক বছরে ইংল্যান্ডের সেরা ওয়ানডে ব্যাটসম্যান বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়েছিলেন আঙুল ভেঙে যাওয়ায়। তাঁর বদলে সুযোগ পাওয়া রবি বোপারা প্রথম সুযোগ পেয়েই ম্যান অব দ্য ম্যাচ। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে বোপারাও থাকবেন, মরগানও থাকবেন। ক্রিকেটে আসলেই শেষ কথা বলে কিছু নেই!
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শেষ দুটি ম্যাচই দিনে। ইংল্যান্ডেরটাই শেষ ডে-নাইট ম্যাচ। এতে মরগানের খুব খুশি হওয়ার কথা। ডে-নাইট ম্যাচ যে তাঁর খুব পছন্দের। ইংল্যান্ডের পক্ষে ওয়ানডেতে মরগানের ৩টি সেঞ্চুরিই ডে-নাইট ম্যাচে। দিনের ম্যাচে গড় ৩১.০৬, ডে-নাইট ম্যাচে ৪৯.৫২।
পিটারসেনের বদলে মরগান—বাংলাদেশের লাভ হলো, না ক্ষতি আলোচনা হতেই পারে। তবে স্টুয়ার্ট ব্রডের না থাকাটা যে খুব ভালো হলো, এ নিয়ে কোনো তর্ক নেই। আগের ম্যাচেই দুর্দান্ত বোলিং করেছেন, রিভার্স সুইংয়ের প্রদর্শনীতে ইংল্যান্ডকে এনে দিয়েছেন স্মরণীয় এক জয়। ব্রড না থাকায় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের একটু স্বস্তি পাওয়ারই কথা।
ক্রিকেটে লাভ-ক্ষতির হিসাব সব সময় এভাবে হয় না। তবে বাংলাদেশের একটা লাভ তো অবশ্যই হয়েছে। হঠাৎ করে পিটারসেন-ব্রডকে হারিয়ে ইংল্যান্ডকে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে। বিশ্বকাপের দুই-তিন সপ্তাহ আগে থেকে ভেবে আসা গেম প্ল্যানে ধাক্কা লাগায় একটু এলোমেলো তো হয়েছেই ইংল্যান্ড। নইলে কি আর পিটারসেনকে নিয়ে আপত্তিটা এভাবে প্রকাশ করে ফেলেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার!
বাংলাদেশ এটি কাজে লাগাতে পারবে কি না, এটিই এখন প্রশ্ন। সাকিবের দল যে এখন ইংল্যান্ডের চেয়েও এলোমেলো। টালমাটাল করে দিতে ৫৮-ই যথেষ্ট ছিল। এর পর সাকিবের কলাম আর সেটির প্রতিক্রিয়ায় গত কদিন যা হয়েছে, তাতে মানসিক শক্তির চরমতম পরীক্ষা দিতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে।
আগামীকাল বাংলাদেশের আসল প্রতিপক্ষও এটিই। ইংল্যান্ড দলে পিটারসেন-ব্রড থাকলেন কি থাকলেন না, তাতে কিছুই আসে-যায় না।

আবারও নায়ক যুবরাজ

কষ্ট করেই নাকি জেতা ভালো। জেতা ভালো স্নায়ুর পরীক্ষা দিয়ে দিয়ে। এতে স্নায়ু শক্ত হয়। আত্মবিশ্বাস বাড়ে। ভবিষ্যতের জটিলতর পরিস্থিতিতে কাজে দেয় এই অভিজ্ঞতা। এই তত্ত্ব গ্যারি কারস্টেনের। দল একের পর এক ম্যাচে ঘাম ঝরিয়ে জিতছে বলেই হয়তো এই দর্শন। ভারতের কোচ নিশ্চয়ই খুশি। কালও যে ঘাম ঝরিয়েই ৫ উইকেটে জিতল মহেন্দ্র সিং ধোনির দল।
দিল্লিতে টসে জিতে ব্যাট করতে নামা হল্যান্ড গুটিয়ে গিয়েছিল মাত্র ১৮৯ রানে। কিন্তু সহজ এই লক্ষ্য ছুঁতে ৯৯ রানে ৪ উইকেট হারায় ভারত। ঠিক যেন গত ম্যাচের পুনরাবৃত্তি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও ১০০-এর মধ্যে ৪ উইকেট হারানো ভারত জয়ের নাগাল পেয়েছিল ধোনি-যুবরাজের জুটিতে। কালও এ দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৫২ রানের জুটি এনে দিল ২ পয়েন্ট। অঙ্কের হিসাবে একটু ফাঁক আছে; না হলে বলে দেওয়াই যায়, কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল মহেন্দ্র সিং ধোনির দল।
অপরাজিত ফিফটির পাশাপাশি ২ উইকেট, আবারও ম্যাচের নায়ক যুবরাজ সিং। তবে দিনটা হতে পারত শচীন টেন্ডুলকারের। ভালো শুরুও করেছিলেন। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে ২ হাজার রানের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন। কিন্তু গত ম্যাচের মতো এদিনও বাঁহাতি স্পিনে আউট হলেন টেন্ডুলকার। পিটার সিলার তাঁর আগের ওভারে আউট করেন বীরেন্দর শেবাগকেও।
টেন্ডুলকার-শেবাগের ওপেনিং জুটির ৬৯ রানের পরও এই যুগল আঘাতে ৮০ রান তুলতেই ২ উইকেট হারায় ভারত। আরও ব্যাটিংয়ের সুযোগ করে দিতে ইউসুফ পাঠানকে এদিন তিনে নামিয়েছিল ভারত। কিন্তু টেন্ডুলকারকে ফেরানোর চার বল পর সিলার তুলে নেন ইউসুফকেও। ৮২ রানে নেই ৩ উইকেট!
ভারত আরও চাপে পড়ে যায় দিল্লিরই ছেলে কোহলি পিটার বোরেনের বলে বোল্ড হয়ে গেলে। স্কোর বোর্ডে ১০০ ওঠার আগেই নেই ৪ উইকেট। এখান থেকেই পঞ্চম উইকেটে ৪০ রানের জুটি গড়েন যুবরাজ-গম্ভীর। দলীয় ১৩৯ রানে পঞ্চম উইকেট হিসেবে গম্ভীর আউট হলে হাল ধরেন যুবরাজ-ধোনি।
বল হাতেও এদিন ভালো করেছেন যুবরাজ। ‘ডেঞ্জারম্যান’ রায়ান টেন ডেসকাটকে ফিরিয়েছেন, ফিরিয়েছেন ওপেনিংয়ে নেমে অনেকক্ষণ ভোগানো ওয়েসলি বারেসিকেও। জহির ২০ রানে ৩টি আর চাওলা ৪৭ রানে ২ উইকেট নিলেও এদিনও উইকেটশূন্য হরভজন। বিশ্বকাপে চার ম্যাচ মিলে মাত্র দুটি উইকেট তাঁর।
কারস্টেন বলতে পারেন, ভবিষ্যতের জন্য উইকেট জমিয়ে রেখেছেন ‘ভাজ্জি’!

জিম্বাবুয়ের আতঙ্কের ম্যাচ

খেলা আজ পাল্লেকেলেতে, মাহেলা জয়াবর্ধনের চোখ কিন্তু ওয়াংখেড়েতে! দেশের মাটিতে বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচ খেলতে হচ্ছে অন্য দেশে। কান পাতলেই এ নিয়ে হা-হুতাশ শোনা যাচ্ছে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট-মহলে। তবে জয়াবর্ধনে এতে খুব একটা সমস্যা দেখছেন না। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ম্যাচটি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। সাবেক শ্রীলঙ্কা অধিনায়কের যুক্তি, ‘ফাইনালের একটা ভালো প্র্যাকটিস হয়ে যাবে ওই ম্যাচে!’
মজা করেই বলা। তবে মনের সুপ্ত ইচ্ছাটা ঠিকই বেরিয়ে এল। এলটন চিগুম্বুরার কাছে প্রশ্ন, ‘এতগুলো বিশ্বকাপ খেলে ফেলল, জিম্বাবুয়ে কি পারবে এবার সেমিফাইনালে উঠতে?’ জিম্বাবুয়ে অধিনায়কের সরল স্বীকারোক্তি, ‘গ্রুপ পর্ব পার হতে পারলেই মনে করব অনেক।’
ভাবছেন আজকের ম্যাচের কথা কোথায়? দুদলের দুই ক্রিকেটারের কথাতেই তো পরিষ্কার আজকের ম্যাচের গুরুত্ব! জয়াবর্ধনে বললেন বটে, জিম্বাবুয়েকে হারানো সহজ হবে না। কিন্তু সেটা কেউ খুব বিশ্বাস করেছে বলে মনে হলো না। আজকের ম্যাচের চেয়ে টুর্নামেন্টের ভবিষ্যতে পথচলা নিয়েই যে কথা হলো বেশি!
বাস্তবতা এখন এটাই। ‘শ্রীলঙ্কা’ শব্দটি শুনলেই আঁতকে ওঠার কথা জিম্বাবুয়ের। দুটি দেশই মোটামুটি একই পথের পথিক, একসময় বিশ্বকাপ খেলতে হতো আইসিসি ট্রফি খেলে, এরপর জোটে টেস্ট স্ট্যাটাস। কোথায় একটু সহমর্মিতা থাকবে, উল্টো জিম্বাবুয়েকে পেলেই যেন বড্ড নির্মম হয়ে ওঠে শ্রীলঙ্কা। ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট তিনটি স্কোরের দুটিই জিম্বাবুয়ের (৩৫ ও ৩৮), দুবারই প্রতিপক্ষের নাম শ্রীলঙ্কা। খুব বেশি আগের ঘটনাও নয়, ২০০২ আর ২০০৪ সালের।
আজ যখন দুদল মুখোমুখি হবে বিশ্বকাপের ম্যাচে, পরিসংখ্যানেও শুধু বিশ্বকাপেই থাকুন। এখানেও শ্রীলঙ্কা মানে জিম্বাবুয়ের আতঙ্ক। চার সাক্ষাতের প্রতিটিতেই জয় শ্রীলঙ্কার। এর মধ্যে আছে ১৯৯২ বিশ্বকাপের সেই স্মরণীয় ম্যাচটিও। শুধু বিশ্বকাপ নয়, ওয়ানডেতেও সেটি ছিল দুদলের প্রথম লড়াই। অভিষেকে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের সেঞ্চুরি আর অ্যান্ডি ওয়ালারের ৪৫ বলে ৮৩ রানের ঝড়ে ৩১২ রান করেছিল জিম্বাবুয়ে, সেই সময়ের বিবেচনায় এভারেস্ট। রানাতুঙ্গা-সামারাসেকেরাদের ব্যাটিংয়ে সেই এভারেস্টও টপকে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। পরের তিন বিশ্বকাপে তিনবার মুখোমুখি হয়েও জয়ের কাছাকাছি আর যেতে পারেনি জিম্বাবুয়ে।
আজ জয় তো দূরের কথা, বাস্তবতা বলছে ১৯৯২ বিশ্বকাপের ওই ম্যাচের মতো লড়াই হওয়ার সম্ভাবনাও কম। এমনিতেই দুদলের শক্তিতে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। শন উইলিয়ামস দেশে ফিরে গেছেন চোট নিয়ে, চোট আছে ডাফিন-পোফুদেরও। জিম্বাবুয়ে তাই আরও হীনশক্তির। জয়টা তাই শ্রীলঙ্কার জন্য রুটিন কাজ হওয়ার কথা।
তবে আজ ভালো কিছু করার বাড়তি তাগিদ থাকতে পারে মুত্তিয়া মুরালিধরনের। এই স্টেডিয়ামের নাম তাঁর নামেই হওয়ার কথা, একদিন হয়েও যাবে নিশ্চিত। মুরালিধরন স্টেডিয়ামে ৫ উইকেট পেয়েছিলেন মুরালিধরন—অবসরজীবনে এমন কিছু শুনতে নিশ্চয়ই খারাপ লাগবে না স্পিন জাদুকরের!

ভেট্টোরিকে নিয়ে শঙ্কা

পাকিস্তানের বিপক্ষে ১১০ রানের বিশাল জয় পাওয়া ম্যাচে একটা মূল্যও দিতে হয়েছে নিউজিল্যান্ডকে। ফিল্ডিং করতে গিয়ে হাঁটুতে চোট পেয়েছেন অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। ইনজুরি গুরুতর কি না, সেটা অবশ্য এখনো পরিষ্কার নয়। নিউজিল্যান্ডের পরের ম্যাচ মুম্বাইয়ে, ১৩ মার্চ কানাডার বিপক্ষে। ক্যান্ডি থেকে মুম্বাইয়ে গিয়েই ভেট্টোরির চোট পরীক্ষা করে দেখবে নিউজিল্যান্ড।
চোট যদি গুরুতর হয় তাহলে ভালোই বিপদে পড়ে যাবে নিউজিল্যান্ড। পরশুর ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান রস টেলরও ভয়ে আছেন, ‘ভেট্টোরি আমাদের দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। এই টুর্নামেন্টে আরও অনেক দূর যেতে গেলে তাকে আমাদের দরকার।’ বোলিং দূরের কথা, চোট পেয়ে ওই দিন মাঠেই থাকতে পারেননি দলের প্রধান স্পিনার। যদিও দলে সেটির প্রভাব পড়েনি। টেলর অবশ্য আশাবাদী শিগগিরই সেরে উঠবেন ভেট্টোরি, ‘ওর সুস্থ হওয়ার জন্য অবশ্যই আমাদের কয়েক দিন সময় দিতে হবে এবং দেখতে হবে কী হয়। অবশ্যই সে আমাদের দলের বড় একটা অংশ। আশা করি, দুই-তিন দিনের মধ্যেই ও ফিট হয়ে উঠবে।’
উপমহাদেশের মন্থর উইকেটে ভেট্টোরির ভূমিকাকে অনেক বড় করেই দেখছেন টেলর। যদি শেষ পর্যন্ত ভেট্টোরি না-ই খেলতে পারেন তখন কিউইদের ভরসা হবে নাথান ম্যাককালাম আর অনভিজ্ঞ লুক রাইটের স্পিন।
‘এ’ গ্রুপে ৪ ম্যাচে তিনটিতে জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে এখন পর্যন্ত সবার ওপরে নিউজিল্যান্ড। মুম্বাইয়ে গ্রুপের বাকি দুটি ম্যাচ খেলবে নিউজিল্যান্ড কানাডা ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। পাঁচবারের সেমিফাইনালিস্ট নিউজিল্যান্ডের স্বপ্ন এবার প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার। কিন্তু ভেট্টোরিকে ছাড়া অতদূর যাওয়া কি সম্ভব? ওয়েবসাইট।

গরমকেই ভয় মরগানের

বাংলাদেশকে এর আগেও তিনবার দেখে গেছেন। আয়ারল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল এবং আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে এসেছেন দুবার। গত বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ঘুরে গেছেন ইংল্যান্ড দলের সঙ্গেও। এ দেশের জল-হাওয়া তাই ভালোই চেনা এউইন মরগানের। কেভিন পিটারসেনের জায়গায় হঠাৎ বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়ার পর হঠাৎই বাংলাদেশে চলে এসে তাই একেবারেই হকচকিত নন। তবে হ্যাঁ, বাংলাদেশের গরম নিয়ে কিছুটা যেন উদ্বিগ্ন বাঁহাতি এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।
‘এখানকার কন্ডিশন সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং। উইকেটে অসম বাউন্স আছে এবং টার্নও একটু বেশি হয়। তবে এখানকার গরমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাই হবে বড় কাজ। সেটা করতে পারলে আশা করি আগের মতোই ভালো খেলতে পারব এখানে’—কাল সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন পরশুই চট্টগ্রামে পৌঁছা মরগান। ২০০৮-এ আয়ারল্যান্ড দলের হয়ে খেলে গেলেও বাংলাদেশে মধুরতম সফরটা গত বছর করে গেছেন ইংল্যান্ডের হয়ে। মিরপুরে খেলা প্রথম দুই ওয়ানডেতে করেছিলেন ৩৩ ও অপরাজিত ১১০ রান, চট্টগ্রামে ৩৬। বাংলাদেশের আগের সফরগুলোর সুবাদে এখানকার দর্শকদেরও ভালোই চেনা মরগানের, ‘এ নিয়ে চারবার এলাম। বাংলাদেশে খেলতে সব সময়ই ভালো লাগে। এখানকার মানুষ দারুণ ক্রিকেট-পাগল।’
বিশ্বকাপে দর্শকদের উন্মাদনা আগের চেয়ে বেশিই দেখার কথা মরগানের। তবে এটাই প্রথম নয়, এ নিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেলছেন তিনি। ২০০৭ বিশ্বকাপে তাঁর মাথায় ছিল আয়ারল্যান্ডের টুপি। মরগান তখনই বলেছিলেন, ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে পারাটাই তাঁর স্বপ্ন। সেই সুযোগটা যখন দোরগোড়ায়, ভীষণই রোমাঞ্চিত ২০০৯ সাল থেকে ইংল্যান্ড দলের হয়ে যাওয়া এই ক্রিকেটার, ‘অ্যান্ডির (ফ্লাওয়ার) ফোনটা পেয়ে ভীষণই ভালো লাগছিল। আমি এর আগেও ইংল্যান্ড দলে ছিলাম, কিন্তু এটা তো বিশ্বকাপের দল! ভালো তো লাগবেই।’ বিশ্বকাপ দলে না থাকলেও অনুশীলনের মধ্যেই ছিলেন তিনি। মিডলসেক্সের প্রাক-মৌসুম ক্যাম্পে অনুশীলন করেছেন গত কয়েক সপ্তাহ।
এবারের বিশ্বকাপ মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল মরগানের দুই সময়ের দুই দল ইংল্যান্ড আর আয়ারল্যান্ডকে। আয়ারল্যান্ডের নাটকীয় জয়ের ম্যাচটা পুরোপুরি না দেখলেও ইংল্যান্ডের হারে ভীষণই মন খারাপ হয়েছিল তাঁর, ‘ম্যাচের শেষ অর্ধেক দেখেছি। কেভিন ও’ব্রায়েন দুর্দান্ত একটা ইনিংস খেলল। প্রত্যাশিত জয়টা না পাওয়ায় খুবই খারাপ লেগেছে। তবে আয়ারল্যান্ড খুব ভালো খেলেছে।’
পাঁচ নম্বরে ব্যাট করেন, বাংলাদেশ দলের মূল বোলিং শক্তি স্পিনারদের মুখোমুখি হওয়াটা অনিবার্য মরগানের জন্য। বাংলাদেশের স্পিনারদের জন্য তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই জানালেও বলেছেন পাঁচ নম্বরে ব্যাট করাটাই তাঁর পছন্দ, ‘আগেও পাঁচ নম্বরে ভালো ব্যাট করেছি এবং এটাই আমার পছন্দের জায়গা। মাঝের ওভারগুলোতে উইকেটে যেতে হয়, বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে স্পিনারদের বল ভালো খেলি...সব মিলিয়ে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতেই বেশি ভালো লাগে।’
তবে মরগানের সবচেয়ে ভালো লাগে ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলতে, দলকে জিতিয়ে ব্যাট উঁচিয়ে মাঠ ছাড়তে। মিডল অর্ডারে ভালো খেলার গোপন কোনো চাবিকাঠি না থাকলেও মনের মধ্যে ভালো খেলার বিশ্বাসটা ধরে রাখেন সব সময়। বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা, বিশ্বকাপেও সেই ক্ষুধাটা নিয়েই এসেছেন মরগান, ‘ম্যাচ জেতানোতেও অবদান রাখতে ভালো লাগে। এই টুর্নামেন্টেও সেই কাজটাই করতে চাই।’
পিটারসেনকে হারানোর হতাশা থাকলেও মরগান আসায় দারুণ উজ্জীবিত ইংল্যান্ড শিবির। আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে কথাটা বলেছিলেন স্টুয়ার্ট ব্রডও। মরগানের জন্য অবশ্য সতীর্থদের এই প্রত্যাশা কোনো চাপ নয়, ‘এটা নিয়ে একদমই ভাবছি না। আমার কাজটা তো সেই একই থাকছে—সামর্থ্য অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করতে হবে। নিজের পরিকল্পনাগুলো কীভাবে কাজে লাগাব, সেটা নিয়েই ভাবছি।’

বিশ্বকাপেও সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা

সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় বিশ্বকাপের আয়োজক দেশের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে পাকিস্তানের নাম। কিন্তু তার পরও উপমহাদেশে আয়োজিত ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এ আসরটিতে নাশকতার আশঙ্কা পুরোপুরি নাকচ করে দেওয়া যাচ্ছে না। ভারতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের খেলাগুলোতে আল-কায়েদা বা লস্কর-ই-তাইয়েবা ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
সম্প্রতি এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা করে ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা। সেখানে বলা হয়েছে, ‘আল-কায়েদা ও লস্কর-ই-তাইয়েবা খুব দ্রুতই হামলার পরিকল্পনা করছে। লস্কর-ই-তাইয়েবার উর্দুভাষী ক্যাডাররা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভারতে ঢোকার চেষ্টা চালাবে। পুনায় জার্মান বেকারিতে যে হামলা হয়েছিল, তার মূল হোতা জাবিউদ্দিন আনসারি ও তাঁর অনুসারীরা এ বিশ্বকাপে হামলার চেষ্টা চালাতে পারেন। হামলার ধরনটা ২০০৮ সালের বিভীষিকাময় মুম্বাই হামলার মতো হতে পারে। ওই হামলার সঙ্গে যুক্ত কেউ কেউ এখনো এখানেই আছে আর কেউ কেউ ভারতে ঢোকার চেষ্টা করছে। এখন যেকোনো মূল্যে এ ধরনের নাশকতা ঠেকানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার এ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের গণমাধ্যমবিষয়ক সভাপতি রাজীব শুক্লা বলেছেন, ‘আমরা সব সময়ই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। যেকোনো বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি। খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক প্রশাসন ও সরকার সব সময়ই তত্পর আছে।’

জুনায়েদের দুই রকম চ্যালেঞ্জ

জেমি সিডন্সের কাছে ভালো ব্যাটসম্যানের দুই রকম সংজ্ঞা আছে। যার গড় ভালো কিংবা যে ধারাবাহিক। মজার হলো, এই দুটি সংজ্ঞাই কোচ একসঙ্গে এক ব্যাটসম্যানের বেলায় প্রয়োগ করেন না।
মোহাম্মদ আশরাফুল বা আফতাব আহমেদের মতো ব্যাটসম্যানরা কোচের দৃষ্টিতে অচল গরিবি রান-গড়ের কারণে। আবার জুনায়েদ সিদ্দিক ও রকিবুল হাসানরা ভালো ব্যাটসম্যান, কারণ তাঁরা ‘ধারাবাহিক’! নইলে ওয়ানডেতে আশরাফুলের ২৩.০৯ গড়ের সঙ্গে জুনায়েদের ২৩.৮৫ বা রকিবুলের ২৯.৫৬ গড়ের কতটুকু পার্থক্য?
এই পরিসংখ্যানকে বিশ্বকাপেও ঢাল হিসেবে পাচ্ছেন জুনায়েদ। ইংল্যান্ড ম্যাচে দল থেকে বাদ পড়ার আলোচনায় তিনি থাকলেও থিঙ্ক ট্যাঙ্ক থেকে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সেই সম্ভাবনা। কেন বাদ পড়বেন জুনায়েদ? ৩৭, ৩, ২৫—প্রথম তিন ম্যাচে খারাপ কী করেছেন তিন নম্বরে! ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের ৫৮ রানের মধ্যে তাঁর একারই তো ২৫!
ব্যাপারটা যেমন জুনায়েদের জন্য ঢাল হচ্ছে, তেমনি এটা একটা অভিযোগও। ব্যাটসম্যানদের ভালো শুরু করেও লম্বা ইনিংস খেলতে না পারাটা ক্রিকেটে একটা ‘অপরাধ’। ৪৯টি ওয়ানডে খেলে ১টি সেঞ্চুরি ও ৬টি ফিফটি করা জুনায়েদ এই ‘অপরাধ’ করেছেন অসংখ্যবার। কাল দুপুরে অনুশীলনে নামার আগে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রসঙ্গটি তোলা হলে গত ১০ ইনিংসে মাত্র দুটি ফিফটি করা জুনায়েদও মানলেন অভিযোগটা, ‘অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করছি বড় ইনিংস খেলার। পরের ম্যাচেও সেই চেষ্টা থাকবে। অন্তত ২০-৩০ রান করতে পারলে ইনিংসটাকে বড় করতে পারব আশা করি।’
জুনায়েদও মানছেন, তাঁর বড় ইনিংস খেলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে টপ-অর্ডারে বড় জুটি হওয়ার সম্ভাবনা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটিকে পাখির চোখই করছেন এই বাঁহাতি। তবে অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সবচেয়ে জরুরি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের হতাশাটা পুরোপুরি ঝেড়ে ফেলা। গত ৪-৫ দিনে সেটা অনেকটাই হয়ে গেছে বলে আশ্বস্ত জুনায়েদ, ‘কাল (গতকাল) ছুটির দিনটা সবাই উপভোগ করেছে। এ রকম একটা দিন দরকার ছিল। গত ম্যাচের পর সবাই-ই আপসেট ছিলাম। দিনে দিনে সেটা কাটিয়ে উঠছি।’ একই সঙ্গে দলীয় সমঝোতাও এখন আগের চেয়ে অনেক দৃঢ় বলে তাঁর দাবি, ‘আমাদের ঐক্য সব সময়ই ভালো ছিল। এখন আরও ভালো। একটা বাজে দিন গেলেও সেটা আর মনে করতে চাইছি না। এখন শুধু সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। ভালো ক্রিকেট খেললে অবশ্যই ভালো কিছু সম্ভব।’
খেলায় জয়-পরাজয় আছে জেনেই খেলতে নামেন খেলোয়াড়েরা। কিন্তু বাজে পরাজয় কখনো কখনো দুমড়েমুচড়ে দেয় আত্মবিশ্বাস, যেখান থেকে মাথা তুলে দাঁড়ানোটা সব সময় সহজ হয় না। ৪ মার্চ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সে রকমই এক পরাজয় দেখে এসেছে বাংলাদেশ। এরপর গত কয়েকটি রাতে হয়তো বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের স্বপ্নেও হানা দিয়েছে রোচ-বেনরা। তবে জুনায়েদের কাছ থেকে পাওয়া গেল তাঁদের দৃঢ় মানসিকতারই খবর, ‘সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো আমরা আমাদের মনটাকে কীভাবে, কোন দিকে নিয়ে যাব। এটা ঠিক, ওই দিনের পর সবাই আপসেট ছিলাম। তবে যা হওয়ার হয়েছে। বারবার সেটাই মনে করতে চাই না। সব জায়গা থেকে সবাই আমাদের সাপোর্ট করেছে। এখন আর কোনো নেতিবাচক চিন্তা নেই কারও মধ্যে।’
ইংল্যান্ড দলে কেভিন পিটারসেন নেই, স্টুয়ার্ট ব্রড এসেও চলে যাচ্ছেন—গেম প্ল্যানে এসবের প্রভাব থাকতে পারে, তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মনোজগতে আপাতত অন্যকে নিয়ে ভাবার সুযোগ নেই। নিজেদের সঙ্গে লড়াইয়েই যে জিততে হবে আগে!
জুনায়েদের লড়াই আবার দুই রকম। আগের ম্যাচের হতাশা কাটানোর সঙ্গে ভালো শুরুকে বড় ইনিংসে রূপ দেওয়ার চ্যালেঞ্জও সামনে! কোচ ভালো ব্যাটসম্যানের সার্টিফিকেট আগেই দিয়ে রেখেছেন। আশা করা যায়, সেটা এবার সমালোচকদের দিয়েও সত্যায়িত করে নেবেন জুনায়েদ।

ব্রডের বদলি ট্রেমলেট

ইংলিশ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডের ইনজুরির পর তাঁর স্থলে দলে জায়গা পেয়েছেন ক্রিস ট্রেমলেট। গতকাল ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে আইসিসির টেকনিক্যাল কমিটি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর গত ম্যাচটিতে হাঁটুতে আঘাত পেয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছেন স্টুয়ার্ট ব্রড।
ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান চিকিত্সক নিক পিয়ার্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচটিতেই সে বাঁ-পায়ে চোট পায়। প্রাথমিক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা গেছে হাঁটুর এই ইনজুরির কারণে তার পক্ষে আর বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচগুলো খেলা সম্ভব হবে না।’
গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজেও ইনজুরির কবলে পড়েছিলেন ব্রড। তবে এবারের ইনজুরিটার সঙ্গে আগেরটার কোনো সম্পর্ক নেই। এটা একেবারে নতুন একটা ইনজুরি বলেই জানিয়েছেন পিয়ার্স।
অ্যাশেজ সিরিজেও ব্রড মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার পর দলে সুযোগ পেয়েছিলেন ক্রিম ট্রেমলেট। সেবার শেষ তিনটা টেস্ট খেলে তিনি শিকার করেছিলেন ১৭টি উইকেট। ২৪ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ জয়ের পেছনে তাঁরও একটা বড় অবদান ছিল। এবারও ট্রেমলেটের কাছ থেকে সে ধরনের পারফরমেন্সই নিশ্চয়ই আশা করবে ইংলিশ সমর্থকেরা। ট্রেমলেট সেই আস্থার প্রতিদান কতটা দিতে পারবেন—এটাই এখন দেখার বিষয়।