Thursday, October 23, 2014
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম আর নেই
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোলাম আযমের পারসোনাল ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলানিউজকে জানান, গোলাম আযম মারা গেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে দিতে বলা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, হাসপাতালের ফরমালিটিস শেষ করে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হবে।
এর আগে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় রাত পৌনে ১০টার দিকে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের (সিসিইউ) আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
১৯২২ সালের ৭ নভেম্বর (বাংলা ১৩২৯ সালের ৫ই অগ্রহায়ন) সালে ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের শাহ সাহেব বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন গোলাম আযম। তাঁর নানা শাহ সৈয়দ আব্দুল মোনায়েম শাহ সাহেব নামে পরিচিত ছিলেন।

গোলাম কবির ও সৈয়দা আশরাফুন্নিসার সন্তান গোলাম আযমের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নবী নগর উপজেলার বিরগাঁও গ্রামে। তবে ঢাকার বড় মগবাজারের কাজী অফিস লেনের বাড়িতেই দীর্ঘ দিন ধরে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করেছেন।

তাঁর পূর্বপুরুষ শায়খ জাকি (র.) মধ্যপ্রাচ্য থেকে ধর্মপ্রচারের উদ্দেশে বাংলাদেশে আসেন এবং ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় বসবাস করেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করা গোলাম আযম বিরগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয় লেখাপড়া শুরু করলেও একটি মাদ্রাসা থেকে অষ্টম শ্রেণী পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকার সরকারি ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ (বর্তমান কবি নজরুল কলেজ) থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএ ও এমএ পাস করেন।
বৃটিশ উপনিবেশের বিদায়লঘ্নে সংস্কৃতি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পূর্ব বাংলার জাতীয় জীবনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় জড়িয়ে পড়া অধ্যাপক গোলাম আযম ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু'র জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তখন ভাষা আন্দোলনে অসামান্য অবদান রাখায় সবার উপরে নিজের স্থান করে নিয়েছিলেন তিনি।পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা "বাংলা" দাবিতে প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানকে দেয়া স্মারকলিপি পাঠ করে ভাষা সৈনিক হিসেবে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেন গোলাম আযম।

১৯৫১ সালে রংপুরের কারমাইকেল কলেজে শিক্ষকতা শুরু করার পর থেকে তাবলীগ জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে বক্তব্য তুলে ধরতেন গোলাম আযম। ১৯৫৪ সালে সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী দ্বারা প্রভাবিত হয়ে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সংস্পর্শে আসেন।
ইসলাম প্রচার, ইসলামী রাজনীতি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করা গোলাম আযম ১৯৫৫ সালে গ্রেফতার হন। ১৯৬৪ সালে আইয়ুব খান মৌলবাদী ধর্মীয় কাজকর্মের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ও গোলাম আযম দ্বিতীয়বার গ্রেফতার হন। তাকে আট মাস আটক করে রাখা হয়। ১৯৬৯ সালে তিনি তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমীর (সভাপতি) পদে অধিষ্ঠিত হন।

গোলাম আযমের আলোচিত রাজনৈতিক জীবনকে বিতর্কিত করেছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে পাকিস্তানের অখন্ডতার পক্ষে তার দৃঢ় অবস্থান। তিনি দীর্ঘদিন পশ্চিম পাকিস্তানী সামরিক শাসক চক্রের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিলেও বিশ্বাস করতেন একটি ইসলামিক রাষ্ট্র ভেঙে বাংলাদেশের স্বাধীন হওয়া ঠিক সিদ্ধান্ত নয়।
তিন দিক থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে থাকা ভারতের শাসক গোষ্ঠীর ভূমিকার কারণে ভীতশ্রদ্ধ হয়ে গোলাম আযম স্বাধীনতার বিরোধিতা করার ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মনে করার যথেষ্ঠ কারণ থাকলেও, এ সিদ্ধান্ত তাকে রাজনৈতিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করেনি। ব্যক্তিগতভাবেও তাকে এর জন্য দায়মোচন করতে হয়েছে।
ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত মুক্তিযুদ্ধকালীন কোনো অপরাধে গোলাম আযম সরাসরি জড়িত নয় বলে স্বীকার করলেও 'সুপ্রিম কমান্ড রেসপনসিবিলিট'র দায়ে তাকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।

আদালত মনে করেছিলেন, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কারণে তিনি ও তার দল জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধকালীন আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য দায় মোচনে বাধ্য।
এর ফলে ২০১৩ সালের ১৫ জুলাই অধ্যাপক আযমের বিরুদ্ধে আদালত দণ্ডাদেশ ঘোষণা করেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের প্রিজন সেলে দণ্ড ভোগকালে সেখানেই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। ২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তিনি এখানে বন্দি ছিলেন।

১৯৭১ সালের নভেম্বর থেকে গোলাম আযম পাকিস্তানে থাকলেও ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে ফেরেন। জেনারেল এরশাদের সময় দেশে রাজনৈতিক দৈন্য-দশা দেখা দিলে নির্দলীয় তত্ববধায়ক সরকারের রুপরেখা দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে তাকে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমীর ঘোষণা করা হলে দেশে ব্যাপক আন্দোলন দেখা দেয়। তবুও ২০০০ সাল পর্যন্ত এই পদে আসীন ছিলেন। রাজনীতির বাইরে শতাধিক বইও লিখেছেন গোলাম আযম।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আরিয়ানের পর এবার সুহানাও!
গত বছর তৃতীয় সন্তান আবরামের বাবা হয়েছেন ‘বলিউড বাদশাহ’ শাহরুখ খান। আবরামকে শাহরুখ পেয়েছেন সারোগেসি পদ্ধতির কল্যাণে। এ পদ্ধতিতে বাবা-মায়ের অনাগত সন্তানের ভ্রূণ পরিবারের বাইরের কোনো নারীর গর্ভে বেড়ে ওঠে। সন্তান জন্মের আগে লিঙ্গ নির্ধারণের অভিযোগে কিং খানের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল। তবে কি সন্তানের সান্নিধ্য ছাড়া থাকতে পারবেন না বলেই অনেক ঝক্কি-ঝামেলা সহ্য করেও তৃতীয় সন্তানের বাবা হন শাহরুখ!

এ প্রসঙ্গে শাহরুখের পরিবারের কাছের একটি সূত্রের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, আগামী বছর সুহানাকে লন্ডন পাঠানো হচ্ছে। এরই মধ্যে লন্ডন যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে সে। এখন সে ধীরুভাই আম্বানি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়ালেখা করছে। ২০১২ সালে পড়ালেখা করার জন্য লন্ডন পাড়ি জমায় শাহরুখের বড় ছেলে আরিয়ান। এবার পড়ালেখা করতে বড় ভাইয়ের কাছে যাচ্ছে সুহানা।
এদিকে শাহরুখ কেন একে একে সন্তানদের দেশের বাইরে পাঠাচ্ছেন—এর পেছনের কারণ সম্পর্কে জানা গেছে, শাহরুখ চান না, সব সময় মিডিয়ার স্পটলাইটে থেকে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক তাঁর সন্তানদের ওপর। তারা দেশের বাইরে নির্ঝঞ্ঝাটে পড়ালেখার পর্ব শেষ করুক—এটাই শাহরুখের চাওয়া। মূলত এ কারণেই আরিয়ানের পর এবার সুহানাকে দেশের বাইরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৪৮ বছর বয়সী এ তারকা অভিনেতা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শাহরুখের দেওয়ালি উপহার by সাজিদুল হক
কীভাবে?
কিন্তু বলিউডের ক্যালেন্ডার তা-ই তো বলছে। আজ বাদে কাল ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’!
তবে এই ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ যে ‘শুভ নববর্ষ’ নয়, বলিউড-প্রেমীদের তা আর বুঝতে বাকি নেই। হ্যাঁ, শাহরুখ খানের নতুন ছবির কথা বলছি।
তবে নববর্ষ আসতে দেরি হলেও দেওয়ালি উৎসব আজই শুরু হচ্ছে। দেওয়ালিতে কাল শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে শাহরুখের হ্যাপি নিউ ইয়ার। ইতিহাস বলছে, দেওয়ালি শাহরুখকে কখনো নিরাশ করেনি। ১৯ বছর আগে যে ছবি শাহরুখকে রোমান্টিক হিরোর তকমাটা ধরিয়ে দিয়েছিল, বলিউডের সর্বকালের সেরা ছবির মধ্যে অন্যতম সেই দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে (১৯৯৫) মুক্তি পেয়েছিল এই দেওয়ালিতেই। চোপড়া ক্যাম্পের এই ছবির মধ্য দিয়েই শাহরুখ বলিউডে শক্ত মাটি খুঁজে পেয়েছিলেন।

>>হ্যাপি নিউ ইয়ার ছবিতে অভিনয় করেছেন শাহরুখ খান ও দীপিকা পাড়ুকোন
শুধু দেওয়ালির কাঁধে ভর করে বক্স অফিসে উতরে গিয়েছিল রা ওয়ান-এর মতো অন্তঃসারশূন্য ছবিও। মোহাব্বতের মতো দারুণ রোমান্টিক ছবি দেখিয়েছিল দেওয়ালি।
শোনা যায়, শাহরুখ আর চোপড়া ক্যাম্প একসঙ্গে থাকলে পাথরেও নাকি ফুল ফোটানো সম্ভব!
শাহরুখকে এবারো কি উজাড় করে দেবে সেই দেওয়ালি? শাহরুখের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে তৈরি হ্যাপি নিউ ইয়ার ছবির প্রযোজক তাঁর স্ত্রী গৌরী খান। আর তাই শাহরুখ তাঁর নতুন ছবির প্রচারণার কোনো কমতি রাখেননি। বক্স অফিসে রেকর্ড গড়তে নিয়েছেন অভিনব প্রচারণা-কৌশল। আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে শাহরুখের পরামর্শে হ্যাপি নিউ ইয়ার ছবির পুরো টিম ‘স্লাম! দ্য ট্যুর’ নামে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর করেছে। ছবির নামে খোলা হয়েছে টুইটার অ্যাকাউন্ট, তাতে ছবির সর্বশেষ খুঁটিনাটি তথ্য থাকছে। এ ছাড়া সনি টিভির কৌন বনেগা ক্রোড়পতি, কালারস টিভির কমেডি নাইটস উইথ কপিলসহ ভারতের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে জনপ্রিয় অনুষ্ঠানগুলোতে ছবির প্রচারণা করেছেন শাহরুখসহ হ্যাপি নিউ ইয়ার ছবির শিল্পী ও কলাকুশলীরা।
তবে ছবির প্রচারণায় নিজের এইট প্যাক অ্যাবসের ছবি প্রকাশ করে প্রথম সবাইকে চমকে দেন শাহরুখ। পঞ্চাশের দোরগোড়ায় এসে একজন অভিনেতা কীভাবে এইট প্যাক অ্যাবস বানাতে পেরেছেন—এ নিয়ে যখন জোর বিতর্ক চলছে, তখন এর জবাব দিতে টুইটারে নিজের ওয়ার্ক আউট ভিডিও পোস্ট করেন শাহরুখ। বন্ধ হয় সমালোচকদের মুখ। নিজের এই নতুন লুকের জন্য ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক প্রশান্ত সাওয়ান্ত আর ছেলে আরিয়ানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শাহরুখ।
নাচ, গান আর অ্যাকশনে ভরপুর ছবি হ্যাপি নিউ ইয়ার। যার ঝলক পুরোটাই পাওয়া গেছে ট্রেলারে। ম্যায় হু না, ওম শান্তি ওম ছবির পর প্রিয় পরিচালক ফারাহ খানের সঙ্গে শাহরুখের তৃতীয় ছবি হ্যাপি নিউ ইয়ার।
ওম শান্তি ওম আর চেন্নাই এক্সপ্রেস ছবির ব্যাপক সাফল্যের পর এই ছবিতে আবারও দেখা যাবে শাহরুখ-দীপিকা পাড়ুকোন জুটিকে। আছেন অভিষেক বচ্চন, বোমান ইরানি, সোনু সুদ, ভিভান শাহ ও জ্যাকিশ্রফ। তারকা তালিকা এখানেই শেষ? সেরা চমকটা শাহরুখ এত দিন লুকিয়েই রেখেছিলেন। সম্প্রতি জানা গেছে, ছবিতে প্রথমবারের মতো স্ত্রী গৌরীর সঙ্গে শাহরুখের পরিবারের খুদে সদস্য আবরামকে পর্দায় একঝলক দেখতে পাবেন দর্শকেরা।
সাজিদুল হক
ইন্ডিয়া টাইমস, জি নিউজ, টিওআই, ওয়ান ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্বাচন প্রতিহত করতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার খালেদা জিয়ার by তানভীর সোহেল ও মীর মাহমুদুল হাসান
আজ বৃহস্পতিবার নীলফামারী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। দশম সংসদ নির্বাচন প্রতিহত করতে ব্যর্থতার কথা বললেও আগামী দিনে সরকার পতন আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সেবার ঢাকা আন্দোলন করতে পারেনি। কিন্তু এবার ইনশাল্লাহ পারবে। ঢাকাও আন্দোলন করবে। সারা দেশ আন্দোলন করবে।’
প্রায় এক ঘণ্টার বক্তব্যে খালেদা জিয়া সরকারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচার বিভাগের সমালোচনা করেন। আওয়ামী লীগের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে অর্থনীতি খারাপ অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জাতীয় পার্টির সমালোচনা করে বলেন, ‘লাঙ্গল আর লাঙ্গল নেই। লাঙ্গল নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছে।’

>>আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকতে দলীয় কর্মীদের আহ্বান জানাচ্ছেন খালেদা জিয়া। নীলফামারী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় তিনি এ আহ্বান জানান। ছবি: প্রথম আলো
হাসিনাকে বিদায় করে তবেই ঘরে ফেরা
গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ‘প্রতিহত’ করার ডাক দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তবে তাঁর সেই আহ্বান শেষ পর্যন্ত সফল করতে পারেনি বিএনপি ও জোটের শরিকেরা। কবে নাগাদ সরকার পতনের সেই আন্দোলন শুরু হবে, সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো ধারণা দেননি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তবে জনগণকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘যখনই সময় আসবে, তখনই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। এবার আন্দোলন শুরু হলে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে বিদায় করে তবেই ঘরে ফেরা হবে।’ খালেদা জিয়া বলেন, ভালো কথায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন না দিলে কঠোর আন্দোলন করতে হবে। যাকে বলে সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে হবে।
সরকারকে কেউ স্বীকৃতি দেয়নি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবির দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, সরকারকে কেউ স্বীকৃতি দেয়নি। শুধু বিদেশে গিয়ে ছবি তুললেই, ফটোসেশন করলেই স্বীকৃতি পাওয়া যায় না। দেশে গণতন্ত্র না থাকলে কেউ স্বীকৃতি দেবে না।
সরকারের মামলায় ফতুর হচ্ছেন নেতা-কর্মীরা
খালেদা জিয়া বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনে দলীয় নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা ছিল। সেগুলো কীভাবে শেষ হলো। আর বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো কেন শেষ হচ্ছে না। তিনি বলেন, বিরোধী দলের নেতারা মামলার হাজিরা দিতে দিতে ফতুর হয়ে যাচ্ছে।
র্যাব টাকার বিনিময়ে খুন করছে
খালেদা জিয়া বলেন, সরকার মিথ্যার ওপর ভর দিয়ে টিকে আছে। কিন্তু এভাবে টিকে থাকা যাবে না। চুরি করে ক্ষমতায় থাকা যায় না। ভোট দেন, ভোটে জিতলে ক্ষমতায় থাকবেন। তিনি বলেন, সরকার ব্যার ও পুলিশকে রক্ষী বাহিনী বানাচ্ছে। র্যাব টাকার বিনিময়ে মানুষ খুন করছে। র্যাবকে বাতিল করতে হবে। তিনি বলেন, রক্ষীবাহিনী ৩০ হাজার মানুষ হত্যা করেছে আর এরা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করছে।
জামায়াতের ধমকে চুপ বিএনপি
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন টেলিভিশনগুলো সরাসরি দেখানো হবে বলে টেলিভিশন সাংবাদিকদের অনুরোধে বিএনপির চেয়ারপারসনের জনসভার সময় কিছুটা এগিয়ে আনা হয়। তাঁর সাড়ে তিনটায় জনসভাস্থলে আসার কথা থাকলেও তিনি সোয়া তিনটায় পৌঁছান। ৪টা ১০ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে শেষ করেন ৫টায়। সমাবেশ নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর তোপের মুখে পড়েন বিএনপির নেতারা। মঞ্চে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তিনি যখন তাঁর বক্তব্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে তাঁর দলের নেতাদের মুক্তি চাচ্ছিলেন, তখন পেছন থেকে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শামসুজ্জামান ও কয়েকজন নেতা তাঁকে বক্তব্য এক মিনিটে শেষ করতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুজিবুর রহমান বলেন, ‘জামায়াত একটা দল। তাদের এক মিনিটে হবে না।’ এতে চুপসে যান বিএনপির নেতারা। এরপর জামায়াতের নেতা আট মিনিটের মতো বক্তব্য দেন।
সমাবেশ স্থলে জামায়াত ও তাঁদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্যকরা গেছে। তারা পোস্টার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে সমাবেশস্থলের সামনের বেশির ভাগ জায়গা দখল করে রাখেন।
ছাত্রদলের নতুন কমিটির পরিচিতি
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটির সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারকে জনসভায় পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ছাত্রদলের পদবঞ্চিত পক্ষের নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

>>নীলফামারী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের জনসভায় আগত নেতা-কর্মীরা। ছবি: প্রথম আলো
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আনিসুল আরেফিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জনসভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের সভাপতি মো. ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান, জমিরউদ্দিন সরকার, ঢাকা মহানগরের বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস, জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক, জহুরুল আলম, বিএনপিদলীয় সাবেক সাংসদ রিনা পারভীন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খালেদা জিয়া বগুড়া সার্কিট হাউস থেকে নীলফামারীর উদ্দেশে রওনা দেন। গতকাল বুধবার বিকেলে জনসভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে বগুড়ায় আসেন। আজ রাতেই খালেদা জিয়া ঢাকার উদ্দেশে নীলফামারী ছাড়েন। জনসভা শেষে খালেদা জিয়া নীলফামারী সার্কিট হাউসে যান। সেখানে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহতের আন্দোলনে নিহত চারজনের প্রত্যেকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেন তিনি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দায়মুক্তি পাচ্ছেন ক্ষমতাসীনেরা- ছাড় পাচ্ছেন না বিরোধী দলের রাজনীতিবিদেরা by মোর্শেদ নোমান

দুর্নীতি প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেভাবে রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছেন, তাতে দুদকের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। অনেকেই ব্যঙ্গ করে এ সংস্থাটিকে “দায়মুক্তি কমিশন” বলছেন। আমার কাছেও আপাতদৃষ্টিতে তা-ই মনে হচ্ছে।’ প্রতিটি ছাড় ও দায়মুক্তির বিষয়ে দুদকের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা উচিত বলে মনে করেন সাবেক এই মহাহিসাবনিয়ন্ত্রক। তবে দুদকের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পেলে দুদক কাউকেই ছাড় দেয় না। তদন্তে কোনো অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়া গেলেই কেবল চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। কমিশন রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো মামলা করে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে করে থাকে। ঢালাওভাবে কাউকে আটক করা কিংবা ছেড়ে দেওয়া হয় না।
দুদকের দেওয়া দায়মুক্তির ক্ষেত্রে অন্যতম সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হচ্ছে পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ থেকে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীসহ ১০ জনকে দায়মুক্তি দেওয়া। অথচ একই অভিযোগে কানাডার আদালতে মামলা চলছে। এ ছাড়া নবম জাতীয় সংসদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-সাংসদদের হলফনামা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান, সাংসদ আসলামুল হক, এনামুল হক, আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দুদক। তাঁদের মধ্যে হলফনামায় তথ্য দিতে ‘ভুল হয়েছে’—এ যুক্তি গ্রহণ করে আ ফ ম রুহুল হক ও আসলামুল হককে অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দেয় সংস্থাটি। এরও আগে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মোজাম্মেল হোসেন ও বিটিএমসির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম। ২০১২ সালে বহুল আলোচিত রেলের কালো বিড়াল কেলেঙ্কারির ঘটনায় মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানই চালায়নি দুদক। আর টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ বিষয়ে তাঁর পুত্র সৌমেন সেনগুপ্তকে দায়মুক্তি দেয় দুদক। অথচ, চলতি বছরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা প্রবাসী বন্ধুদের সম্মাননা ক্রেস্টের সোনা জালিয়াতির অনুসন্ধানের কাজ শুরু হলেও এ বিষয়ে তেমন অগ্রগতি নেই।
প্রভাবশালীদের অব্যাহতি: এ বছর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন সরকারদলীয় বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তাঁদের মধ্যে আছেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী।
কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত গম আত্মসাতের অভিযোগ থেকে চলতি মাসেই দায়মুক্তি পেয়েছেন এরশাদের ভাইয়ের ছেলে ও রংপুর-১ আসনের সাংসদ হোসেন মকবুল শাহরিয়ার।
রেলের নিয়োগ-বাণিজ্যে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে পাঁচটি মামলা থেকে। ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পেয়েছেন সোনালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী বাহারুল ইসলাম ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী। হল-মার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই আনেনি দুদক।
চলতি বছর দুদক থেকে আরও দায়মুক্তি পেয়েছেন ফিলিপাইনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাজেদা রফিকুন্নেসা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর কমিশনার এমদাদুল হক, রেলওয়ের সাবেক মহাপরিচালক আবু তাহের, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল, পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক আইয়ুব খান চৌধুরী, সাবেক পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, বিমানের হিসাব তত্ত্বাবধায়ক আবুল কাশেম মো. ফজলুল হক, নওরোজ মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খলিলুর রহমান, হোসাফ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ। এ ছাড়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব (বিপিসির সাবেক চেয়ারম্যান) আবু বকর সিদ্দিক, সাবেক দুই চেয়ারম্যান এ কে এম জাফরউল্লাহ ও মুক্তাদির আলী, ওএসডি অতিরিক্ত সচিব (বিপিসির সাবেক সচিব) আনোয়ারুল করিমসহ সংস্থাটির ১১ জন কর্মকর্তা। অন্যদিকে কমিশনের কাছে অপরাধ স্বীকার করেও দায়মুক্তি পেয়েছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর আহমেদ ভূঁইয়া ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (ট্রাফিক) পরিদর্শক আবদুর রব।
এর আগে ২০১৩ সালে ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও সাবেক সাংসদ এইচ বি এম ইকবালকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের দুটি অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দেয় কমিশন। ২০০১ সালে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে আদমশুমারি প্রকল্পে ৯৪ কোটি টাকা অপব্যবহারের অভিযোগে মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বিরুদ্ধে দুদক অনুসন্ধান শুরু করে ২০০৭ সালে। ২০১৩ সালে এ অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পান তিনি। একই বছর সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ টি এম গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, সাবেক সাংসদ আবদুল কাদের খান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী আবদুল মতিন ও চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ সুপার ইফতেখার আহমেদকেও দায়মুক্তি দেয় দুদক।
ছাড় নেই বিরোধী দলের: ক্ষমতাসীন দলের সদস্য ও সমর্থকেরা একের পর এক ছাড় পেলেও বিরোধী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান বা তদন্তে ছাড় দিচ্ছে না দুদক। এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদকে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ১৯৯৬ সালের একটি নোটিশের ধারাবাহিকতায় এ বছর সম্পদ বিবরণী দিতে হয়েছে দুদকে। বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ ও তাঁর প্রবাসী ভাই মঞ্জুর আহমদের বিরুদ্ধে গুলশানে বাড়ি দখলের অভিযোগে মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছে দুদক। এ ছাড়া বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাদেক হোসেন খোকা, জমির উদ্দিন সরকার, এম মোর্শেদ খান, মোসাদ্দেক আলী, এহছানুল হক মিলন, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, আলী আসগার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দুদকের মামলায় লড়ছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তাঁর দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানের বিরুদ্ধেও দুদকের মামলা চলছে। আরাফাত রহমানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় সিঙ্গাপুর থেকে ঘুষের টাকা ফেরত এনেছে দুদক।
তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন: দুর্নীতির অভিযোগে এ বছরের শুরুর দিকে পেট্রোবাংলার সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। ৯ মার্চ দুদকের উপপরিচালক আহসান আলীকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব পেয়ে আহসান আলী পেট্রোবাংলার অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের নথিপত্র সংগ্রহ এবং ৩৮ কর্মকর্তাকে তলব করেন। এরপর আহসান আলীর কাছ থেকে অনুসন্ধান ক্ষমতা প্রত্যাহার করে তাঁকে কুষ্টিয়ায় বদলি করা হয়। পরবর্তী সময়ে আহসান আলীকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। এরপর ১৩ এপ্রিল সহকারী পরিচালক শেখ আবদুস সালামকে অনুসন্ধান কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয় দুদক। অনুসন্ধান শেষে ৭ সেপ্টেম্বর ড. হোসেন মনসুরসহ ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন চেয়ে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন তিনি। কিন্তু প্রতিবেদনটি আমলে না নিয়ে আরও পর্যালোচনা করে অনুসন্ধান প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা দিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর অনুসন্ধান কর্মকর্তার কাছে তা ফেরত পাঠায় কমিশন। ৩০ সেপ্টেম্বর দুদকের এক আদেশে আবদুস সালামকে অব্যাহতি দিয়ে উপপরিচালক ঋত্বিক সাহাকে অনুসন্ধান কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
জানতে চাইলে দুদকের কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, কমিশন চাইলে যেকোনো সময় কর্মকর্তা বদল করতে পারে এবং নতুন করে অনুসন্ধান বা তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে। তবে এভাবে বারবার অনুসন্ধান কর্মকর্তা বদলের বিষয়ে দুদকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দায়মুক্তি দেওয়ার জন্যই এভাবে বারবার তদন্ত কর্মকর্তার বদল হচ্ছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘এ সম্মান একার নয়, ব্র্যাকের সব কর্মীর’ -স্যার ফজলে হাসান আবেদ
আজ বৃহস্পতিবার স্পেনের সর্বোচ্চ বেসামরিক নাগরিক সম্মাননা গ্রহণের পর এ মন্তব্য করেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে স্পেনের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত লুইস তেজাদা চাকোন স্যার ফজলে হাসান আবেদের কাছে সম্মাননার মেডেল ও সনদ তুলে দেন।
বেসরকারি খাতে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্পেন তার দেশের কিংবা বিদেশি নাগরিকদের জন্য ‘অর্ডার অব সিভিল মেরিট’ নামের সর্বোচ্চ এ সম্মাননা দিয়ে থাকে।

স্যার ফজলে হাসান আবেদ। ফাইল ছবি
স্পেনের রাষ্ট্রদূত লুইস তেজাদা চাকোন বলেন, অসামান্য অবদানের জন্য বিদেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের জন্য স্বীকৃত সম্মাননা ‘অর্ডার অব সিভিল মেরিট’ পেয়েছে ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ। আমি মনে করি, ব্র্যাক যা অর্জন করেছে, বাংলাদেশ তো বটেই, এমনকি পৃথিবীর কম ব্যক্তিত্বই তা অর্জন করতে পেরেছে। বাংলাদেশ তাঁর মেধা, কঠোর পরিশ্রম, উদারতা ও প্রজ্ঞা ভাগাভাগি করে। আমরা তাঁকে বাংলাদেশের সেরা প্রতীক মনে করি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক–ই–ইলাহী চৌধুরী ‘অর্ডার অব সিভিল মেরিট’ অর্জনের জন্য স্যার ফজলে হাসান আবেদকে অভিনন্দন জানান।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খালেদার হুমকি প্রসঙ্গে হাসিনা -মানুষের গায়ে হাত দিয়ে দেখুক
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ইতালি সফর-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্দোলনের হুমকি উনি (খালেদা জিয়া) তো অনেক দিলেন। তাদের আন্দোলন হলো মানুষ খুন করার আন্দোলন। তারা তখন (৫ জানুয়ারির আগে) যে কাজটি করতে পেরেছে, এখন সেটা পারবে না। তখন ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এখন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায়। এখন তারা দেশের একটা মানুষের গায়ে হাত দিয়ে দেখুক না এর পরিণতি কী হয়। এখন তাদের (জনগণ) কিছু হবে না, এটাই মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই।’

>>প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ইতালি সফর-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা
বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্বাচনের দাবি প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, ‘বিদেশে বিভিন্ন নির্বাচন জিতে আসছি। উনি কি এটা দেখেন না।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।
আসেম সম্মেলনে উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সম্মেলনে মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কানেক্টিভিটির বিষয় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে করে যেন প্রতিটি দেশ লাভবান হতে পারে। মূলত এই এজেন্ডা ছিল জাতিসংঘের। এ ছাড়া জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিষয়ও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা উন্নত দেশগুলোতে আমি প্রস্তাব দিয়েছি—সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করবেন না। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদে জড়িতদের কোনো ধর্ম নেই। জঙ্গি জঙ্গিই, তাদের কোনো বর্ডার নেই।’
সাংবাদিকরা কৃপণ!
প্রশ্নকারী সাংবাদিকরা ইন্টার-পার্লামেন্ট ইউনিয়ন (আইপিইউ) ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্ট অ্যাসোসিয়েশনে (সিপিইউ) বাংলাদেশের বিজয় নিয়ে প্রশ্ন না করায় সাংবাদিকদের কৃপণ বলে টিপ্পনি কাটেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আইপিইউ ও সিপিএতে জয়ী হলাম। কোনো সাংবাদিক একটু অভিনন্দনও জানাল না। সাংবাদিকরা এতো কৃপণ, আগে জানতাম না।’
আইপিইউ ও সিপিইউতে বাংলাদেশ জয়ী হওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওখানে কারচুপির কোনো সুযোগ ছিল না। মাত্র এক সপ্তাহের গ্যাপে পৃথিবীর কোনো দেশ আইপিইউ ও সিপিইউ এর মতো দুটো প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে বিজয়ী হয়নি। যারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সমালোচনা করেছেন—তাঁদের যে দূরদর্শিতার অভাব, সেটা প্রমাণ হয়েছে। বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা কথা বলছে। কিন্তু তাদের রাষ্ট্রপ্রধানরা একটা প্রশ্নও তোলেনি। প্রত্যেকে আমাদের অভিনন্দন জানিয়েছে। তারপরও ওই নির্বাচনে কেন আনকনটেস্ট (১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত) অনেক উকিল এটা নিয়ে মামলা করতে যায়।’
বিদেশে প্রশ্ন নয় প্রশংসা ও অভিনন্দন পেয়েছি
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ যে আর্থিক উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে, সেটা প্রমাণ হয়েছে। যারা এখনো বলে যাচ্ছে—কূপমণ্ডূকতায় ভুগছে। নয়তো বিশেষ উদ্দেশ্যে বলছে। আপনারা কী এটা নিয়ে গর্ব করবেন না। বাংলাদেশ যে পারে সেটা প্রমাণ করেছি।’ পুতিনের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক আলাপ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এখন পার্লামেন্টে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রয়েছে। এখন খিস্তিখেউর নেই। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। যে দল নির্বাচনে নেই, সেই দল নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নাই। বিদেশে কারোর কাছ থেকে প্রশ্ন পাইনি, সবার প্রশংসা ও অভিনন্দন পেয়েছি।’
যমুনায় তো সম্রাট শাহজাহান যাবে
প্রধানমন্ত্রীকে টক শো তে যাওয়ার আমন্ত্রণের বিষয়ে এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি অতো টক টক কথা বলতে পারব না। মধ্য রাতে জেগে থাকতে পারি না। কার বিরুদ্ধে কথা বলব।’ যমুনায় যেতে পারেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘যমুনায় যাওয়ার ইচ্ছা নাই। ওখানে তো সম্রাট শাহজাহান যাবে।’
লতিফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, এটা ঠিক না
লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ২৬ অক্টোবর ইসলামি দলগুলোর হরতাল আহ্বানের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেইনি, এটা ঠিক না। যখন ঘটনা ঘটে তখন আমি প্লেনে। কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছি। শোকজ করেছি। ওয়ার্কিং কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শোকজের উত্তর আমাদের জেনারেল সেক্রেটারির কাছে রয়েছে। কাল ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। আর যে দেশেই নেই, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব কীভাবে? এ জন্য হরতাল ডাকার তো যৌক্তিকতা নেই, প্রয়োজন নেই। আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছে, ব্যবস্থা নিয়েছি। যথাযথ ব্যবস্থা যা যা নেওয়ার সেটা নিয়েছি।’
বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যারা খুনি, যারা খুনিদের সঙ্গে হাত মেলায়, তাদের সঙ্গে কিসের আলোচনা।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নোবেল শান্তি পুরস্কার ও বঞ্চিত জাপান by মনজুরুল হক
বারাক ওবামার কথা বাদ দিয়ে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পাওয়া অন্যদের দিকে দৃষ্টিপাত করলেও রাজনীতির ফায়দা লুটে নেওয়ার হিসাবটাও সহজে চোখে পড়ে। এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের পাঠান বংশোদ্ভূত বালিকা কিংবা ভারতের এক এনজিওকর্মী কতটা অবদান রাখতে পারবেন, তা ভেবে দেখা দরকার। মালালার বেলায় পরিষ্কার যে আভাস ইতিমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে তা হলো, ওকে এখন সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হবে পশ্চিমের মানবাধিকার আর সম-অধিকারের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে। সম্ভবত এটাই ছিল নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য সেই বালিকাকে বাছাই করে নেওয়ার উদ্দেশ্য। একা ওকে পুরস্কার দেওয়া হলে ব্যাপারটা গোলমেলে ঠেকতে পারে বলেই হয়তো ভারতের সত্যার্থীর ভাগ্য খুলে গেল। বিবদমান উপমহাদেশে তাঁরা দুজনে মিলে কীভাবে শান্তি ফিরিয়ে আনেন, মানুষ সেটা দেখার অপেক্ষায় থাকবে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রবর্তনের পেছনের উদ্দেশ্য ছিল, বিশ্বজুড়ে হানাহানি আর সংঘাত বন্ধে সত্যিকার অর্থে যাঁরা অবদান রেখেছেন বা রাখছেন, তাঁদের পুরস্কৃত করার মধ্য দিয়ে শান্তির সম্ভাবনার ধারণাকে এগিয়ে নেওয়া। ফলে অশান্তি সৃষ্টির পেছনে সামষ্টিক যে কাঠামোকে সব সময় কাজে লাগানো হয়, সেই সামরিক বাহিনীর বিলুপ্তিতে সহায়ক পদক্ষেপ গ্রহণকেও পুরস্কৃত করার বিষয়টি আলফ্রেড নোবেল তাঁর রেখে যাওয়া দলিলে উল্লেখ করেছিলেন। আমরা জানি, সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত সে রকম কিছুর জন্য কাউকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়নি, এবার যদিও নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটির সামনে সেই সুযোগ উপস্থিত হয়েছিল।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের এবারের এক প্রত্যাশী প্রার্থী ছিল জাপানের জনগণ। এই সত্য হয়তো জাপানের বাইরে অনেকেরই অজানা। এর কারণ হলো, এমনকি জাপান সরকারও চায়নি যে পুরস্কার তাদের দেশের নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে দেওয়া হোক। কেননা, তেমন কিছু ঘটলে রাজনীতির হিসাব-নিকাশের দিক থেকে খুবই অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হতো প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সরকারকে। সমালোচকেরা বলছেন, জাপানের নাগরিকদের পুরস্কৃত না করার জন্য জোর লবি যারা চালিয়েছিল, তাদের মধ্যে সক্রিয় ছিল জাপান সরকার। প্রশ্ন হচ্ছে, নিজের দেশের নাগরিকদের যেন নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য বেছে নেওয়া না হয়, সে জন্য জাপান সরকার কেন মরিয়া হয়ে উঠল? রাজনীতির হিসাব-নিকাশের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর নিহিত।
জাপানের সংবিধান হচ্ছে বিশ্বের একমাত্র সংবিধান, যুদ্ধ পরিহারের পরিষ্কার বার্তা যুক্ত থাকার পাশাপাশি সামরিক বাহিনী রাখার অধিকার থেকেও যে সংবিধান দেশকে বঞ্চিত করেছে। ফলে আলফ্রেড নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য যেসব শর্ত তাঁর দলিলে উল্লেখ করে গেছেন, তার সঙ্গে খুবই সামঞ্জস্য আছে জাপানের সংবিধানের বিশেষ সেই ধারাটির, সাধারণভাবে নবম সাংবিধানিক ধারা বা শান্তির ধারা নামে যেটা পরিচিত।
তবে জাপানের বর্তমান সরকার দেশকে আবারও রণসাজে সজ্জিত করার ব্রত নিয়ে সংবিধানের নবম ধারাকে বাদ দেওয়ার পাঁয়তারা শুরু করার পর শান্তির সেই সনদকে কীভাবে সংবিধানে টিকিয়ে রাখা যায়, তা নিয়ে অনেকেই ভাবতে শুরু করেন। নাগরিক পর্যায়ের সেই ভাবনাচিন্তার প্রক্রিয়ায় কাওয়াসাকি শহরের দুই সন্তানের জননী, ৩৭ বছর বয়সী এক গৃহবধূর মাথায় হঠাৎ করেই সাংবিধানিক সেই ধারাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাইয়ে দেওয়ার ধারণাটি এসেছিল। কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে মিলে তিনি প্রথমবারের মতো নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চেয়েছিলেন, সংবিধানের নবম ধারাকে কীভাবে তারা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করতে পারে। নোবেল কমিটি উত্তরে তাঁদের জানিয়েছিল যে বিশেষ ধারণা বা নীতিমালার মতো অস্পষ্ট কোনো কিছুকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয় না এবং শুধু ব্যক্তি কিংবা সংঘবদ্ধ কোনো গ্রুপ বা দলই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হতে পারে।
তত দিনে কাওয়াসাকির সেই গৃহবধূর ব্যক্তিগত উদ্যোগ সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত খবরে অনেকেই জেনে গিয়েছিলেন এবং তাঁরা একসময় এ রকম প্রস্তাব রেখেছিলেন যে সংবিধান যেহেতু জাপানের নাগরিকদের সম্পত্তি, ফলে নবম সংবিধানের রক্ষক হিসেবে জাপানের জনগণকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হোক। নাগরিক সমাজের অনেকের কাছে এই প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য মনে হওয়ায় দেশজুড়ে স্বাক্ষর অভিযান চালানোর মধ্য দিয়ে জাপানের জনগণকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয় এবং নোবেল কমিটিও সেই মনোনয়ন গ্রহণ করে। তবে বিষয়টি জাপান সরকারের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
জাপান সরকার এখন চীনের ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠাকে হুমকি হিসেবে গণ্য করছে এবং তা মোকাবিলার পথ খুঁজে বেড়াচ্ছে। অন্যদিকে, জাপানের সনাতন সামরিক মিত্র যুক্তরাষ্ট্র চাইছে জাপান যেন দ্বিপক্ষীয় শান্তি চুক্তির আওতাকে সম্প্রসারিত করে নিয়ে আত্মরক্ষার সম্মিলিত অধিকার প্রয়োগের ধারণা মেনে নেয়। আত্মরক্ষার সম্মিলিত অধিকার প্রয়োগের ধারণার পেছনে যে প্রক্রিয়া কাজ করে থাকে তা হলো, একটি দেশ আক্রান্ত হলে চুক্তির আওতায় সেই দেশের সমর্থনে অন্যের এগিয়ে আসা। অর্থাৎ, চীন কিংবা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে লিপ্ত হলে জাপানকেও সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে শামিল হতে হবে।
জাপান সরকার চীনের বিরুদ্ধে নিবারক পদক্ষেপ হিসেবে আত্মরক্ষার এই যৌথ অধিকার প্রয়োগে আগ্রহী। তবে সংবিধানের বিশেষ সেই ধারা যেহেতু দেশের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে যেকোনো সামরিক কর্মকাণ্ডে জাপানের জড়িত হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, তাই সেই সাংবিধানিক ধারাকে কীভাবে বাদ দেওয়া কিংবা অকেজো করে ফেলা যায়, সেই লক্ষ্যে সরকার এখন কাজ করে চলেছে। তাই সংবিধানের শান্তির ধারার রক্ষক হিসেবে জাপানের নাগরিকদের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হলে আবে সরকারের হিসাব-নিকাশ ভন্ডুল হতে পারে, সে রকম আশঙ্কা থেকেই দেশের নাগরিকদের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার বিরুদ্ধে সরকার অবস্থান নিয়েছিল।
বলার অপেক্ষা রাখে না, বিশ্বজুড়ে জাপান সরকারের শক্তিশালী সব মিত্রও পুরস্কার না দেওয়ার ধরনায় আবে সরকারের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল। সে রকম চাপের মুখে কাওয়াসাকি শহরের অজানা এক গৃহবধূর মাথায় প্রথম দেখা দেওয়া ধারণার যে খুব বেশিদূর অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়, তা তো সহজেই অনুমান করে নেওয়া যায়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মনোব্যাধির চিকিৎসক by আতাউর রহমান
যাহোক, সাইকোলজিস্ট তথা মনোবিজ্ঞানী সম্পর্কে গল্প প্রচলিত আছে: রাস্তায় হঠাৎ দুই মনোবিজ্ঞানীর সাক্ষাৎ ঘটলে একজন অপরজনকে উদ্দেশ করে বলে উঠলেন, ‘আপনি ভালো আছেন। আমি কেমন আছি?’ অর্থাৎ, তিনি অপরের চেহারা দেখে সেই ব্যক্তি কেমন আছেন বলে দিতে পারেন। কিন্তু নিজের চেহারা তো দেখা যায় না, তাই অপর মনোবিজ্ঞানীকে তাঁকে বলে দিতে হয়, তিনি কেমন আছেন। আর সাইকিয়াট্রিস্ট তথা মনোব্যাধির চিকিৎসক সম্পর্কে গল্প প্রচলিত আছে যে জনৈক রোগী তাঁর কাছে গিয়ে নিজেকে জীবনে ব্যর্থকাম বলে অভিহিত করলে তিনি বলেছিলেন, ‘আপনার ঘাবড়ানোর কোনো কারণ নেই, আমার এখানে চিকিৎসা প্রলম্বিত ও ব্যয়বহুল জেনেই তো আমার কাছে এসেছেন এবং আমার এখানে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনে যিনি সক্ষম, তিনি জীবনে ব্যর্থকাম হতে পারেন না।’
প্রসঙ্গত মনে পড়ল, নিউইয়র্ক শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে একবার নাকি দিনের বেলায় আগুন লাগলে দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় এক মহিলা তাঁর প্রতিবেশীকে লোহার খাঁচায় করে একটি গৃহপালিত মোরগকে নিয়ে নামতে দেখে অজ্ঞান হয়ে যান এবং খানিকক্ষণ সেবা-শুশ্রূষার পর জ্ঞান ফিরলে তিনি বলতে লাগলেন, ‘আমি পূর্বে কখনো জ্ঞান হারাইনি। কিন্তু দেখুন, বিগত এক বছর যাবৎ আমি একজন মনোব্যাধি-চিকিৎসকের চিকিৎসাধীন আছি। কারণ আমি প্রতিনিয়তই কংক্রিটের এই শহরে একটা মোরগের ডাক শুনে আসছিলাম।’
সাইকোএনালিস্ট তথা মনঃসমীক্ষক সম্পর্কেও গল্প প্রচলিত আছে: এক লোকের ‘ক্লেপ্টোমেনিয়া’ রোগ ছিল। জনৈক মনঃসমীক্ষকের চিকিৎসায় আরোগ্যলাভের পর সে বলল, ‘আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি বিনিময়ে আপনার কী সেবা করতে পারি, বলুন?’ তিনি জবাব দিলেন, ‘আপনি আমার ফি পরিশোধ করেছেন, আর কোনো সেবার প্রয়োজন নেই।’ কিন্তু লোকটি পীড়াপীড়ি করায় তিনি বললেন, ‘আপনার এই রোগটি যদি ফিরে আসে তাহলে জানবেন, আমার ছেলেটার বহুদিন থেকে একটি ছোট্ট বহনযোগ্য কালার টিভির শখ।’
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমেরিকায় সাইকিয়াট্রিস্টকে বিকল্পভাবে বলা হয় ‘শ্রিংক’ (shrink) এবং, আমরা জানি, শ্রিংক মানে হচ্ছে সংকুচিত হওয়া; যেমন, কোনো কোনো কাপড় ধোয়ার পরে শ্রিংক করে। বাস্তবে সাইকিয়াট্রিস্ট চিকিৎসা করে আপনার মানসিক ব্যালান্স বা ভারসাম্য বজায় রাখেন বটে, তবে আপনার ব্যাংক ব্যালান্স অবশ্যই সংকুচিত করে ফেলেন। আর বর্তমানের যে হতাশাগ্রস্ত যুগে আমরা বাস করছি, তাতে সাইকিয়াট্রিস্টরা নিজেরাই এতটা স্নায়বিক দৌর্বল্যে ভোগেন যে তাঁদের বোধ করি একে অন্যের কাছে চিকিৎসার জন্য ধরনা দিতে হচ্ছে।
এবারে তাহলে নিজের কথায় আসি। দীর্ঘমেয়াদি রোগভোগের একপর্যায়ে ডিপ্রেশন তথা বিষণ্নতা রোগ আমাকে পেয়ে বসে। একদিন প্রত্যুষে ঘুম থেকে উঠে অনুভব করি, এযাবৎ যা কিছু পছন্দ করে আসছি তার কিছুই ভালো লাগছে না, ইচ্ছে হচ্ছে গভীর জঙ্গলে নিয়ে একাকী বসে থাকি। বিলেতে সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পর্কে একটা কৌতুক আছে: জনৈক সরকারি কর্মকর্তা ঘুম কমের অনুযোগ নিয়ে গেলেন ডাক্তারের কাছে এবং ‘আপনার রাতের ঘুম কি কম হচ্ছে?’— ডাক্তারের এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন, ‘না, আমার রাতের ও সকালের ঘুম ঠিকই হচ্ছে, দুপুরে খাবারের পরে যে ঘুমাই, আসলে ওটা কম হচ্ছে।’ তা আমারও দীর্ঘদিনের দিবানিদ্রার অভ্যাস, সেটা তো উবে গেলই, রাতের ঘুমও হারাম হয়ে গেল।
অনন্যোপায় হয়ে গেলাম রাজধানীর নামকরা এক মনোব্যাধি চিকিৎসকের কাছে। তিনি প্রথম আলোর নিয়মিত পাঠক। তাই পরিচয় পেয়েই মন্তব্য করে বসলেন, যিনি মানুষকে হাসান, তিনি কেন বিষণ্নতায় ভুগবেন? আমি তখন তাঁকে বিবিসির ‘মি. বিন’ খ্যাত রোয়ান এটিকনসনের উপাখ্যান শোনালাম। এটিকনসন সাহেব বিচিত্র অঙ্গভঙ্গিসহকারে সবাইকে হাসান। কিন্তু কয়েক বছর আগে পত্রিকায় বেরিয়েছিল, তিনি বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্যে আমেরিকায় গেছেন। যাহোক, তিনি একটা ব্যবস্থাপত্র দিলেন। স্রষ্টার অশেষ কৃপায় তাতেই কাজ হলো, আর প্রলম্বিত ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ল না। অনেকটা সেই গল্পের মতো আরকি।
মার্কিন নাগরিক জ্যাকসন জনৈক মনোব্যাধি চিকিৎসকের কাছে গিয়ে বললেন, ‘ডক্টর, আমি বড় বিপদে পড়েছি। যখনই আমি বিছানায় শুতে যাই, আমার ধারণা হয় বিছানার নিচে কেউ একজন শুয়ে আছে। আবার বিছানার নিচে গেলে মনে হয় বিছানার ওপরে কেউ একজন শুয়ে আছে। এই ওপর-নিচ করতে করতে আমি পাগল হয়ে যাব।’ ‘আপনি দুবছর আমার চিকিৎসাধীন থাকেন’, প্রত্যুত্তরে চিকিৎসক বললেন, ‘সপ্তাহে তিন দিন আমার এখানে আসেন; আমি আপনাকে সুস্থ করে তুলব।’
‘আপনার ফি কত?’
‘প্রতি ভিজিটে এক শ ডলার।’
‘আমি ভেবে দেখি’, এই বলে মি. জ্যাকসন যে গেলেন আর তাঁর খোঁজ নেই। মাস ছয়েক পরে রাস্তায় হঠাৎ চিকিৎসকের সঙ্গে তাঁর দেখা হলো। চিকিৎসক তাঁকে ফিরে না আসার কারণ জিজ্ঞেস করতেই তিনি বললেন, ‘প্রতি ভিজিটে এক শ ডলারের’ কথা শুনেই মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। একজন মদের দোকানের পরিবেশক মাত্র ১০ ডলারে আমাকে রোগমুক্ত করে দিয়েছে। সে আমাকে পরামর্শ দিল, খাটের পায়াগুলো কেটে ফেলতে। আমি তাই করলাম, ফলে আমি এখন রোগমুক্ত।’
শেষ করছি রিডার্স ডাইজেস্ট-এ প্রকাশিত এ–সংক্রান্ত আরেকটি মজার গল্প দিয়ে: মনোব্যাধির চিকিৎসক নতুন রোগীর সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন। ‘আপনি বলছেন আপনি এখানে এসেছেন’, তিনি প্রশ্ন করলেন, ‘কারণ আপনার পরিবারের সদস্যবৃন্দ আপনার মোজা আসক্তির ব্যাপারে উদ্বিগ্ন?’ ‘হ্যাঁ তাই’, রোগী প্রত্যুত্তরে বললেন, ‘আমি উলেন মোজা পছন্দ করি।’
‘কিন্তু সেটা তো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক’, চিকিৎসক এবারে বললেন, ‘অনেক লোকই তো তুলা বা নাইলনের মোজার চাইতে উলেন মোজা বেশি পছন্দ করেন। সত্যি বলতে কি, আমার নিজেরও উলেন মোজাই পছন্দ।’
‘তাই নাকি!’ রোগী উল্লসিত হয়ে বলে উঠলেন, ‘তা তেল ও ভিনেগার নাকি শুধু লবণ আর লেবু দিয়ে?’
আতাউর রহমান: রম্যলেখক৷ ডাক বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিপি গ্যাং, গং এবং ‘নিষিদ্ধ শহীদ মিনার’ by সোহরাব হাসান
পিয়াস করিমের প্রতি যদি কেউ শ্রদ্ধা জানাতে না চান, সে অধিকার তাঁর আছে। একজনের মৃত্যুতে বাংলাদেশের সব মানুষ শোক প্রকাশ নাও করতে পারেন। যেখানে রাষ্ট্রের স্থপতির মৃত্যুদিবসে ঘটা করে কেক কাটা হয়, সেখানে এটি আশাও করা যায় না। কিন্তু তাই বলে অন্যের শোক প্রকাশে বাধা দেওয়ার অধিকার কারও নেই। পিয়াস করিমের স্ত্রী, বন্ধু, স্বজন ও সুহৃদেরা শহীদ মিনারে তাঁর মরদেহ নিয়ে গিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের সেটি করতে দেওয়া হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঠুনকো অজুহাতে পিয়াস করিমের মরদেহ সেখানে নিতে দেয়নি। বলেছে, যেহেতু কোনো কোনো সংগঠন পিয়াস করিমের মরদেহ নেওয়ার বিরোধিতা করেছে, তাই সেখানে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া গেল না। তাহলে তারা বিরোধিতাকারীদের কেন সেখানে সমাবেশ ও মানববন্ধন করার অনুমতি দিল? এ প্রশ্নের জবাব কে দেবেন?
শহীদ মিনারে মানববন্ধন ও সমাবেশ পালনকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, গণজাগরণ মঞ্চের একাংশ, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম, বঙ্গবন্ধুর সৈনিক প্লাটুন, সিপি গ্যাং প্রভৃতি। তারা কেবল প্রয়াত অধ্যাপক পিয়াস করিম ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তির ছবিতে কাটা চিহ্নযুক্ত ব্যানার টানিয়ে তাঁদের শহীদ মিনারে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে। এই বিশিষ্ট ব্যক্তিরা হলেন সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী, মাহফুজউল্লাহ, নূরুল কবীর, গোলাম মোর্তোজা, কবি ফরহাদ মজহার, দিলারা চৌধুরী, আসিফ নজরুল, আমেনা মহসিন ও তুহিন মালিক। সিপি গ্যাংয়ের ব্যানারে লেখা ছিল ‘মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সুশীল নামধারী এসব মিথ্যাবাদী, স্বাধীনতাবিরোধী বুদ্ধি... (শালীনতার কারণে শব্দটি পুরো লিখলাম না) প্রতিহত করুন।’ আর ব্যানারে ‘গং’ কথাটি লিখে এই তালিকা দীর্ঘ করারই ইঙ্গিত দিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

অনলাইনভিত্তিক কয়েকটি সংগঠনের ডাকে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি হয়েছিল। আর আজ সিপি গ্যাং ও তাদের সহযোগীরা ভিন্নমতের মানুষের টুঁটি চেপে ধরতে চাইছে। মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি মেহেদী বলেছেন, শুধু কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নয়, দেশের সব শহীদ মিনারে তাঁদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। তাঁর দাবি, যাঁরা মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদ মিনারের চেতনা লালন ও ধারণ করে না, সেসব গণশত্রুর শহীদ মিনারে আসার কোনো অধিকার নেই।
প্রথমেই বলতে হয়, যাঁরা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে টানানো ব্যানারে উচ্চারণ-অযোগ্য শব্দ লিখেছেন, তাঁরা কেবল শহীদ মিনারকে অপমান করেননি, অপমান করেছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও। অপমান করেছেন দেশের নারীসমাজকেও। এই সাহস তাঁরা কোথায় পেলেন? তাঁরা নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে শহীদ মিনারে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন, তাঁরা কেউ রাষ্ট্রের আইন ভঙ্গ করেননি, সংবিধান লঙ্ঘন করেননি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি। এই নয় বিশিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে গণজাগরণ মঞ্চের প্রবল সমর্থক এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হওয়া মানুষও আছেন।
বলা হতে পারে, তাঁরা লেখালেখি, টক শো ও সভা-সমাবেশে সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের সমালোচনা করা কি অপরাধ? সরকারের সমালোচনা করলেই কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়?
সংবিধান অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হলো ‘সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচারের নিশ্চয়তা।’ (দ্রষ্টব্য: সংবিধানের প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ৯)। যাঁরা শহীদ মিনারে পিয়াস করিমের মরদেহ নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আইনের শাসনের পরিপন্থী কিছু করেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায় তাঁরা আইন লঙ্ঘন করে সেখানে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টাও করেননি।
বরং আমরা দেখতে পাই, সিপি গ্যাংসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে আইন লঙ্ঘন করেছেন, তঁারা মৃত ব্যক্তির লাশ শহীদ মিনারে নিতে বাধা দিয়ে এবং জীবিত ব্যক্তিদের জন্য দেশের সব শহীদ মিনার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পরিণতি যে কত ভয়াবহ হতে পারে, তা কি তঁারা ভেবে দেখেছেন?
সিপি গ্যাং ও তার সহযোগীরা যাঁদের স্বাধীনতাবিরোধী বলে প্রচারণা চালাচ্ছে, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিসহ অনেক পেশাজীবী সংগঠনে এখন তাঁরা নির্বাচিত প্রতিনিধি। যদি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ঘোষণা দেয় যে ভিন্নমতের কেউ বিচারালয়ে ঢুকতে পারবে না, তাহলে কী পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে? নিষিদ্ধ ঘোষণাকারীরা যাঁদের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি মনে করেন না, দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়রও সেই দলের। তাঁরা যদি নিজ শহরে কারফিউ জারি করে বলে দেন, সেখানে তাঁদের মতের বাইরের কেউ ঢুকতে পারবে না, তাহলে অবস্থাটি কী দাঁড়াবে?
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহানের একটি কলামের নাম ছিল ‘আমার সমালোচক আমার বন্ধু’। আর শহীদ মিনারে মানববন্ধনকারীরা মনে করেন, সমালোচকেরাই তাঁদের শত্রু। এই বন্ধুতা ও শত্রুতাও সময়ের ব্যবধানে কীভাবে বদলে যায়, তার একটি উদাহরণ দিই।
বর্তমান সরকারের অংশীদার জাতীয় পার্টির নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া ও আলপনা আঁকাকে বিদায়াত বলে অভিহিত করেছিলেন। শহীদ মিনার তাঁর জন্য অবাঞ্ছিত হতে পারে, কেননা তিনি শহীদ মিনারের সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করেন না। জাতীয় পার্টির নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে ছাত্র-জনতার হাতে লাঞ্ছিতও হয়েছিলেন।
কিন্তু যাঁরা শহীদ মিনারের চেতনা ও সংস্কৃতি ধারণ করেন, যাঁরা যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের সেখানে যেতে বাধা দেওয়া হবে কেন? তাঁরা ভিন্নমত প্রকাশ করেন বলে?
সংবিধান মানলে, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের ১ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।’ একই অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ধারায় আছে, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে ক. নাগরিকের বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের এবং খ. সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তার নিশ্চয়তা দান করা হইল।’
যে নয়জন সাংবাদিক, অধ্যাপক ও লেখককে শহীদ মিনারে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে, তাঁরা সংবিধানের উপরিউক্ত ধারা লঙ্ঘন করেছেন—এ রকম প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন না। বরং যাঁরা তাঁদের শহীদ মিনারে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছেন, তাঁরাই সংবিধানের মানবাধিকারসংক্রান্ত ধারা লঙ্ঘন করেছেন।
আমরা স্মরণ করতে পারি, ২০০৩ সালে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা দেশের বিভিন্ন স্থানে শহীদ মিনারে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছিল, তাহলে সেই হামলাকারীদের সঙ্গে আজকের অবাঞ্ছিত ঘোষণাকারীদের পার্থক্য কী?
বোতলের সিপি আঁটা দৈত্যরা যে কত ভয়ংকর, তা আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বক্তব্যে যুবলীগসহ সরকার সমর্থক বিভিন্ন সংগঠনের ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়াই স্পষ্ট। তিনি একাত্তরে পিয়াস করিমের ও তাঁর বাবার প্রকৃত ভূমিকা তুলে ধরায় প্রেসক্লাবের সামনে তারা আইনমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা পর্যন্ত দাহ করেছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী সরকারের একজন মন্ত্রীকে সম্মান দেয় না, তাদের কাছে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অপমানিত হবেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
শহীদ মিনারে মানববন্ধন পালনকারীরা কেবল শালীনতা ও নৈতিকতা নয়, জনশৃঙ্খলার সীমাও লঙ্ঘন করেছেন। তাই সরকারের উচিত হবে এঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। আর যদি সরকার সেটি নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মানুষ ধরে নেবে যে এসবের পেছনে তাদেরও ইন্ধন আছে।
ফরাসি দার্শনিক ফ্রাঁসোয়া মারি আবুজে, যিনি ভলতেয়ার নামে অধিক পরিচিত, বলেছিলেন, ‘আমি তোমার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারি। কিন্তু তোমাকে তোমার কথা বলতে দেওয়ার জন্য আমি জীবন দিতে প্রস্তুত আছি।’ আর শহীদ মিনারে মানববন্ধন পালনকারীরা তার উল্টোটাই করেছেন, তঁারা ভিন্নমতের কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চাইছেন। হয়তো একদিন রাষ্ট্রের টুঁটি চেপে ধরতেও দ্বিধা করবেন না। তবে তঁাদের মনে রাখা উচিত, শেষেরও শেষ আছে। বর্তমান সরকারই বাংলাদেশের শেষ সরকার নয়।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabo3@dhaka.net
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শিক্ষা পরিস্থিতি- শিক্ষা নিয়ে বিতর্ক চলুক by আমিরুল আলম খান
শিক্ষা যেমন জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া, তেমনি তার উৎকর্ষের জন্য লাগাতার কাজ করতে হয়। জ্ঞান সাধনায় শীর্ষবিন্দু বলে কিছু নেই। তাই ‘সব অর্জিত হয়েছে’ বলে দুনিয়ার কোনো জাতি আত্মতুষ্টিতে আক্রান্ত না হয়ে লাগাতার গবেষণা করে অধিকতর উৎকর্ষের জন্য।
শিক্ষা কেমন হওয়া উচিত, এ বিতর্ক কখনোই শেষ হবে না। শিক্ষা ও সভ্যতার মধ্যকার দৌড়বাজিতে শিক্ষা যদি পিছিয়ে পড়ে, তাহলে সভ্যতারই পতন ঘটে। অন্য যেকোনো সম্পদের চেয়ে মানবসম্পদকে সবচেয়ে মূল্যবান বলে গণ্য করা হয়। মানবসম্পদ উন্নয়নের মূল সূত্র হলো শিক্ষা। তাই মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করার তাগিদ এখন বিশ্বব্যাপী। প্রায় তিন দশকের যুদ্ধে বিধ্বস্ত ভিয়েতনাম শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বিনিয়োগ করে প্রতিযোগিতাময় বিশ্বে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, যেখানে আমাদের বিনিয়োগ দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন, মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ। জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করতে পারলে আমরা সার্কভুক্ত দেশের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারতাম।

হালের শিক্ষাবিতর্কে একটি প্রশ্ন প্রধান হয়ে উঠেছে। সংখ্যাগত সাফল্য গুণগত মানকে নিম্নগামী করছে কি না। শিক্ষার স্তরভেদে শিক্ষার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়। আমরা যে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছি, তা প্রায় সবার সমর্থন লাভ করলেও বাস্তবায়নে আমাদের অর্জন বা অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়। ২০১০ সালে শিক্ষানীতি গৃহীত হলেও একই সরকার কেন তা দ্রুত বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে পারছে না, তা অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে ভেবে দেখতে হবে। ইতিমধ্যে প্রায় পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হতে চলেছে। আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে বছর দশেক পরই আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা জরুরি হয়ে পড়বে।
আমাদের শিক্ষা বহুধাবিভক্ত। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্য। গ্রাম-শহরের শিক্ষায় দৃষ্টিকটু বৈষম্য, বৈষম্য ধনী-দরিদ্রের শিক্ষালাভের সুযোগে। দুই দশক আগে বেসরকারি খাতে শিক্ষার দায়িত্ব অর্পণ করার ফলে শিক্ষা পরিণত হয়েছে দামি পণ্যে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। যে শিক্ষা তাদের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে, তা রুটি-রুজির কোনোটারই নিশ্চয়তা দিতে পারছে না, মর্যাদার প্রশ্ন সেখানে একেবারে অবান্তর।
শিক্ষার মৌল ধারণাগুলো যেন আমরা বিস্মৃত না হই। মানবসম্পদ উন্নয়নে শিশুকে তিনটি মৌলিক বিষয়ে পারদর্শী করে তুলতে হয়। এক. ভাষাজ্ঞান, দুই. গাণিতিক জ্ঞান এবং তিন. সমাজ ও প্রকৃতি–সম্পর্কিত জ্ঞান। ভাষা হলো চিন্তার বাহন। তাই শিশুর ভাষাশিক্ষার ভিত মজবুত না হলে চিন্তার ক্ষেত্রে সে বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ে। চিন্তাজড়তা জ্ঞান অর্জনের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
গণিতকে বলা হয় জ্ঞানের জননী। দুনিয়ার তাবৎ বিজ্ঞান গণিতের অধীনে। গাণিতিক জ্ঞান ছাড়া যৌক্তিক চিন্তা অসম্ভব। যৌক্তিক চিন্তা করতে ব্যর্থ হলে সে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। তাই শিশুকে গাণিতিক জ্ঞানে ঋদ্ধ করে তোলা জরুরি। এর সঙ্গে যুক্ত হতে হয় সামাজিক ও নাগরিক নিয়ম–রীতি, আচার-আচরণ, শৃঙ্খলা, মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় পরিচয় ও নান্দনিকতা। ১১ বছর বয়সের মধ্যে শিশুমনে এসব বিষয়ে দৃঢ় ভিত্তি তৈরি না হলে পরবর্তী জীবনে তার চিন্তার জগতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটানো যায় না। শিশু মনোবিজ্ঞানীরা তাই প্রাথমিক শিক্ষার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেন। এই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে অনুসন্ধিৎসু শিশু মাধ্যমিক স্তরের জ্ঞানালোকে বিশ্ব, সমাজ, প্রকৃতিকে উপলব্ধি করতে শেখে। সারা পৃথিবীতে তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়।
আমরা প্রাথমিক শিক্ষাকে (অবশ্যই অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত) বলতে পারি বুনিয়াদি শিক্ষা, যা শিশুর ভবিষ্যৎ জীবনের গতিমুখ নির্ধারণ করে দেয়। প্রত্যেক শিশুকে এই বুনিয়াদি শিক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। আমাদের সংবিধানেও সেই স্বীকৃতি আছে। মাধ্যমিক শিক্ষা (দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত) হতে হবে জীবিকার জন্য শিক্ষা। শিক্ষাব্যবস্থাকে তাই এমনভাবে ঢেলে সাজানো দরকার, যাতে মাধ্যমিক স্তর অতিক্রম করে একজন তরুণ কর্মজীবনে প্রবেশ করার মতো জ্ঞান ও কর্মদক্ষতা অর্জন করতে পারে।
উচ্চশিক্ষা হবে সেই সব মেধাবীর জন্য, যাঁরা গবেষণা করবেন, পরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন, নতুন নতুন জ্ঞানের বিকাশ ঘটাবেন। এর জন্য তাঁরা নিরন্তর গবেষণায় নিয়োজিত থাকবেন। মাঝারি বা নিম্ন মেধার মানুষের জন্য উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত রাখার অর্থ মানবসম্পদের অবচয়।
আজকের আলোচনা প্রাথমিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ রাখতে চাই। দেখা যাক, শিক্ষার মৌলিক বিষয়গুলোকে আমরা কীভাবে ধারণ ও লালন করছি। প্রথমে আমরা আমাদের সাফল্যগুলো চিহ্নিত করতে পারি। বাংলাদেশে ৯৮ শতাংশ শিশু এখন স্কুলগামী। তারা বছরের প্রথম দিনেই পাঠ্যবই হাতে পায়। স্কুলগামী ছেলেমেয়ের সমানুপাত প্রশংসনীয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নও চোখে পড়ার মতো। সেখানে এখন গড়ে তিনজন শিক্ষক কর্মরত। তঁাদের ৫০ শতাংশের বেশি আবার সি-ইন-এড, অনেকেই বিএড বা এমএড প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। দেশের সব রেজিস্টার্ড প্রাইমারি স্কুলকে সরকারি করার মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। ক্লাস্টার পদ্ধতির মাধ্যমে শ্রেণি পাঠদানে নজরদারি ও দক্ষতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
কিন্তু এত সাফল্যের পরও কয়েকটি মৌলিক সমস্যা সমাধানে আমাদের সাফল্য অনুজ্জ্বল। প্রধান ব্যর্থতা হলো ভালো কারিকুলাম প্রণয়ন এবং শিশুদের জন্য ভালো পাঠ্যপুস্তক রচনায়। উত্তম শিক্ষার জন্য উত্তম পাঠ্যপুস্তক এবং প্রশিক্ষিত, দক্ষ ও উদ্ভাবনীÿ ক্ষমতাসম্পন্ন শিক্ষক প্রয়োজন। ভাষাশিক্ষায়, বিশেষ করে মাতৃভাষা বাংলা শিক্ষাদানে আমাদের ব্যর্থতা সীমাহীন। ভাষাশিক্ষাদানে বহুকাল ধরে প্রচলিত ব্যবস্থাকে ছাঁটাই করে আমরা মূলত ভাষাশিক্ষার শিকড়টাই উপড়ে ফেলেছি; বিকল্পে উন্নত কোনো ব্যবস্থার উদ্ভাবন ঘটাতে পারিনি। মাতৃভাষার সঙ্গে বিদেশি ভাষা হিসেবে ইংরেজি এবং ধর্মীয় ভাষা আরবি, সংস্কৃত, পালি ভাষাশিক্ষার অবস্থা চরম হতাশাজনক।
গাণিতিক শিক্ষার দুর্বলতা সীমাহীন। শিশুকে প্রতিনিয়ত এই ধারণাই দেওয়া হয় যে গণিত অত্যন্ত কঠিন একটি বিষয়। গণিতভীতি গণিতশিক্ষার প্রধান অন্তরায়। আনন্দের মধ্য দিয়েই ভাষা ও গণিতশিক্ষাদান নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু আমরা আমাদের শিক্ষকদের সেভাবে প্রশিক্ষিত করে তুলতে পারিনি। আর সামাজিক, নৈতিক ও প্রকৃতি বিষয়ে আমাদের বইপুস্তক যেমন অপ্রতুল ও নিম্নমানের, তেমনি শিক্ষাদানে ব্যর্থতা জাতির বৃহদাংশকে অদক্ষ, অকর্মণ্য, মানবতাবোধহীন, আত্মপরায়ণ ও দুর্নীতিগ্রস্ত করে তুলছে।
সর্বোপরি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনায় চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতি শিক্ষার মূলোৎপাটনে শেষ কোপ বসিয়ে দিয়েছে। অব্যাহত বিতর্কের মধ্য দিয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।
আমিরুল আলম খান: শিক্ষাবিদ।
Amirulkhan7@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মোজাম্বিকে ক্ষমতাসীন দলের জয় by মো: সাজ্জাদুল ইসলাম
স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী দলটি পরে ক্ষমতাসীন দলে পরিণত হয়। গত ২০ বছর ধরে দেশের হাল ধরে রয়েছে দলটি। এই প্রথম ফ্রিলিমোর তার পার্লামেন্টারি প্রতিনিধিত্বে বড় ধরনের ধস প্রত্যক্ষ করল। প্রধান বিরোধী দল জাতীয় প্রতিরোধ আন্দোলন বা রেনামো পার্টি এবং নতুন দল ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট অব মোজাম্বিক (এমডিএম) বেশ ভালো ফল করেছে এ নির্বাচনে। পণ্ডিত ব্যক্তিরা মনে করছেন, ফ্রিলিমোর প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী যদি ৫০ শতাংশের কম ভোট পান এবং দ্বিতীয় দফা ভোট অনুষ্ঠানে বাধ্য হন তাহলে তা হবে দলটির জন্য একটি বড় ধরনের আঘাত। প্রাথমিক ফলাফলে মনে হচ্ছে, দলটিকে এবার হয়তো এমন সঙ্কটে পড়তে হবে না। মোজাম্বিকের এ অভিজ্ঞতা হচ্ছে গোটা অঞ্চলের জন্য শিক্ষণীয় বিষয়। কারণ ফ্রিলিমোর সঙ্কট কোনো বিরল ঘটনা নয়। এ বছরের প্রথম দিকে প্রতিবেশী দণি আফ্রিকার ক্ষমতাসীন দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস(এএনসি) অনুরূপ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। প্রধান বিরোধী দল ও নবগঠিত দ্য ইকোনমিক ফ্রিডম ফাইটার্স (ইএফএফ) উভয়েই ওই নির্বাচনে অনেক ভালো ফল করে।
ঊভয় দেশ একদলীয় প্রতিযোগিতা থেকে উঠে এসে ত্রিদলীয় প্রতিযোগিতা শুরু করেছে, যাতে তাদের গণতন্ত্রের পরিপক্বতার বিষয় ফুটে উঠেছে। তবে এ পরিবর্তনে দেশ দু’টির ক্ষমতাসীন দলগুলোর জন্য জেগে ওঠার নতুন বার্তা রয়েছে, যারা তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের কৃতিত্বকে ‘ঈসা আ:-এর পুনরাবির্ভাব না হওয়া পর্যন্ত’ অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন। এটি হলো দণি আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জাকোব জুমার উক্তি।
ক্ষমতায় বহাল থাকতে ভোট কারচুপি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অন্যান্য অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ প্রকাশ্যে গ্রহণ না করলে জিম্বাবুয়ের রবার্ট মুগাবের জানু-পিএফ, এএনসি, ফ্রিলিমে ও অনুরূপ অন্যান্য দলের জন্য বেশ উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হতো। মুগাবের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে।
হালকাপাতলা বসতিপূর্ণ দেশ নামিবিয়া। তুলনামূলক শান্ত দেশটিতে সম্প্রতি বিক্ষোভরত তরুণদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে হঠাৎ সেখানকার পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আসন্ন নির্বাচনে সোয়েটোর ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে। নামিবিয়ার ইকোনমিক ফ্রিডম ফাইটার্স (এনইএফএফ) দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন রক্ত সঞ্চালন করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রতিবেশী অ্যাঙ্গোলায় ২০১১ সাল থেকে তরুণদের নেতৃত্বে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে। একনায়কতান্ত্রিক এমপিএলএ সরকার নৃশংস পন্থায় এসব প্রতিবাদ বিক্ষোভ দমন করে আসছে। নামিবিয়া ও অ্যাঙ্গোলা উভয় দেশই খনিজ ও অন্যান্য সম্পদে সমৃদ্ধ। দেশ দু’টিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে। সেই সাথে তাদের সমাজে বৈষম্য ও কর্মহীনতা ব্যাপক বেড়েছে।
মোজাম্বিক তার সম্পদের অভিশাপ দূর করতে সক্ষম হয়েছে। ফ্রিলিমোর সরকার সমাজের গভীর শ্রেণিবিভাজন দূর করতে ব্যর্থতা, বেপরোয়া দুর্নীতি ও স্বচ্ছতার অভাবের জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে। গত এক দশকে দেশটিতে বছরে ৮-১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হওয়া সত্ত্বেও মোজাম্বিকের ৯-১০ শতাংশ মানুষ এখনো দিনে দুই ডলারেরও কম আয়ের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে। সম্প্রতি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের এক জরিপে এ কথা জানা গেছে। মোজাম্বিকের অ-উত্তোলিত গ্যাস ও কয়লা মজুদ আবিষ্কারের ফলে দেশটিতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হয়। জনগণ এ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির একটি অংশ দাবি করছে এবং ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান তাদের এ দাবি তুলে ধরার চেষ্টা করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ যুগে ভোক্তাদের স্বার্থরক্ষার বিষয়টি সম্ভবত সামাজিক-রাজনৈতিক প্রতিবাদ-বিক্ষোভের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। ২০১০ সালে মোজাম্বিকের রাজধানী মপুতোতে খাদ্য দাঙ্গার ঘটনায় এ বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছিল। আরব বসন্তের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে সে সময় রুটির জন্য দাঙ্গার সৃষ্টি হয়েছিল।
মোজাম্বিকের প্রধান বিরোধী দল রিনেমো প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টারি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বলেছেÑ এ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি করা হয়েছে। দলটির মুখপাত্র এন্টোনিও মুচাঙ্গা বলেন, ১৫ অক্টোবরের নির্বাচন বাতিল করতে হবে। তিনজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হলেন, ফ্রিলিমোর সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ফিলিপ নাইউসি, রিনেমোর আফোনসো ধলাকামা ও রিনেমো থেকে বেরিয়ে এসে নবগঠিত দল এডিএমের ডেভিস সিমাঙ্গা। পর্যবেক্ষক গ্রুপ সাউদার্ন আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট কমিউনিটি বলেছে, নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হয়েছে। তাদের এ ঘোষণার নিন্দা করেছে ধলাকামা। আফ্রিকান ইউনিয়নও এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে। আফোনসো নির্বাচন অর্থহীন বলে উল্লেখ করে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। সিমাঙ্গাও নির্বাচনে অনিয়মের নিন্দা করেছেন।
নির্বাচন চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা বলেছেন, এসব ঘটনা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলকে প্রভাবিত করবে না। প্রাথমিক আংশিক ফলাফলে দেখা গেছে, ফ্রিলিমোর প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা আইনি প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে অনিয়ম হলে তার সাক্ষ্যপ্রমাণ পেশ করার জন্য রিনেমোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকেরা বলেছেন, প্রচারণা ফ্রিলিমোর অনুকূলে থাকলেও নির্বাচন বেশ ভালোই হয়েছে। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বান কি মুনও নির্বাচনের প্রশংসা করেছেন।
ক্ষমতাসীন দল ফ্রিলিমো পার্টি ও রিনেমো দীর্ঘ দিন ধরে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত ছিল। ১৯৯২ সালে এ যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। এ যুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ লোক নিহত হয়। রিনেমো ২০১৩ সালে পুনরায় অস্ত্র হাতে তুলে নেয়, কিন্তু সে বছর আগস্টে তাদের মধ্যে অস্ত্রবিরতি চুক্তি হয়। নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে আফোনসো বলেন, ‘আমি যুদ্ধবাজ নই। দেশটির মহাসড়কে আর কখনো হামলার ঘটনা ঘটবে না।’ তিনি চূড়ান্ত ফলফল ঘোষণা করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
১৯৭৫ সালে পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করার পর দেশটি শাসন করছে ফ্রিলিমো। পলাতক অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে রিনেমো নেতা আফোনসো ধলাকামা এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। শেষ মুহূর্তে তার এ অংশগ্রহণে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে রূপ নেয়।
মোজাম্বিকের ১১টি প্রদেশে ভোটার এক কোটি সাত লাখ। এ ছাড়া অন্যত্র আরো ৮৯ হাজার ৫০০ ভোটার রয়েছে।
গত সপ্তাহে অক্সফামের দেয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, দণি আফ্রিকার এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ রাতে অনাহারে বিছানায় যায়। দেশটির জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষের এ দশা। তবে এএনসি সরকার কি বিষয়টির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে অথবা জুমার বাড়ির উন্নয়নের বিষয়ে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বেশি ব্যস্ত? এ জন্য দেশটির করদাতাদের ব্যয় করতে হবে দুই কোটি ২০ লাখ ডলার।
অ্যাঙ্গোলায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খরা চলছে। এতে দেশটিতে ুধা ও অপুষ্টিতে মৃত্যুর হার অনেক বেড়েছে। গত মাসে দেশটিতে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে, যার প্রভাব খাদ্যদ্রব্যের দামের ওপর পড়বে এবং খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি দেখা দেবে। এ হলো আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশের বিধিলিপি। অথচ দেশটির প্রেসিডেন্টের মেয়ে হলো আফ্রিকার প্রথম নারী শত কোটি ডলারের মালিক।
সুবিধাবাদী রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণী এবং সমাজে ধনী ও গরিবের মধ্যে ব্যাপক বিভাজনের বিষয়টি এখন ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে। নাগরিক সাংবাদিকতার উত্থান, সেলফোন প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশের সুযোগ এখন গণতন্ত্র বজায় রাখার পাশাপাশি নির্বাচনে কারচুপি করা ও বিক্ষোভ দমন করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মপুতোর সেন্টার ফর পাবলিক ইন্টিগ্রিটির (সিআইপি) মতো প্রতিষ্ঠান নাগরিক সাংবাদিকতাকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয় বেশ সাফল্যের সাথে তুলে ধরেছে এবং গত বছরের স্থানীয় নির্বাচন নতুন করে ভোট অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অ্যাঙ্গোলায় এমপিএলএ ক্ষমতায় টিকে থাকতে সাংবিধানিক অধিকারকে ত্যাগ করতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামের অংশীদার প্রতিবেশী দেশগুলোর বন্ধুরা আশাবাদী। তারা চান না, রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের কষ্টার্জিত গণতান্ত্রিক সাফল্য ধ্বংস হয়ে যাক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীন by মাসুম বিল্লাহ
আইএমএফের হিসাবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ চীনের অর্থনীতির আকার দাঁড়াবে ১৭.৬৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর তখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির আকার হবে ১৭.৪২ মার্কিন ডলার। পার্চেজিং পাওয়ার প্যারিটি (পিপিপি) স্ট্যান্ডার্ডের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়। গত বছর এ দেশটি ৯.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য ও সেবা উৎপাদন করেছে, যা ২০০৭ সালের প্রায় তিন গুণ।
বহু দিন ধরেই কানাঘুষা চলছিল, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশটি কবে নাগাদ অর্থনীতিতেও শীর্ষস্থানটি দখল করবে। অর্থনীতিবিদেরা এ ব্যাপারে একটি হিসাবও কষে রেখেছিলেন। কিন্তু গত সপ্তাহান্তে আইএমএফ যখন ঘোষণা করে দেশটির অর্থনীতির আকার ১৭.৬ ট্রিলিয়ন ডলার, আর যুক্তরাষ্ট্রের ১৯.৪ ট্রিলিয়ন ডলার তখন অনেকেই অবাক হন। কারণ, এই ঘোষণা প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে অন্তত পাঁচ বছর আগে দেয়া হয়েছে।
অনেক অর্থনীতিবিদ অবশ্য এই অর্থনীতির আকার নিরূপণের জন্য ‘চলতি মূল্য’-ভিত্তিক পদ্ধতি পছন্দ করেন না। কারণ, বিভিন্ন দেশে পণ্যমূল্য বিভিন্ন রকম। এতে ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার ব্যয় হিসাব করা হয়। এ বিবেচনায় অনেক ক্ষেত্রেই ধনাঢ্য যুক্তরাষ্ট্র বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে থাকবে। হিসাবও করেছেন অর্থনীতিবিদেরা। ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় চীনের অর্থনীতির আকার দাঁড়াবে মাত্র ১০.৪ ট্রিলিয়ন ডলার। মাথাপিছু আয়ের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে এটা ৫৫ হাজার ডলার, সেখানে চীনে মাত্র আট হাজার ডলার। ব্লুমবার্গ হিসাব করে দেখিয়েছে, জনসংখ্যার ভিত্তিতে সব কিছু হিসাব করা হলে পিপিপি সূচকে চীনের অবস্থান দাঁড়াবে ৮৬তম। যদিও এক দশক আগের তুলনায় তা ২৯ ধাপ এগিয়েছে।
কিন্তু চীন যে শিল্পোন্নত দেশের কাতারে এসে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। চলতি বছর দেশটির প্রবৃদ্ধি ৭.৫ শতাংশ। বাকি সব অগ্রসর অর্থনীতির তুলনায় এটা অনেক বেশি। আর এটাও ঠিক, এই নতুন শক্তির আবির্ভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় আইএমএফকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। যদিও বৈশ্বিক সংস্থাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটিং পাওয়ার ১৬.৭ শতাংশ। তাই ওয়াশিংটনের ভেটো এড়িয়ে সংস্থাটির বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই। ভোটিংয়ে চীনের অংশ ৩.৮ শতাংশ, ঠিক ইতালির সমান। অথচ ইতালির অর্থনীতি চীনের এক-পঞ্চমাংশ মাত্র।
আইএমএফ সংস্কারের পরিকল্পনা চার বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে আছে। ফলে চীন, ভারতসহ অন্যান্য উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিগুলো ক্রমেই এই তহবিল থেকে তাদের অংশ কমিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে ৭০ বছরের পুরনো সংস্থাটি ক্রমেই হয়ে উঠছে অপ্রাসঙ্গিক। এভাবে এক সময় হয়তো এটা তার বৈধতাই হারিয়ে ফেলবে।
২০১০ সালের সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ভোটিং কোটায় পরিবর্তন আসত, শেয়ারহোল্ডারদের ভোটিং ক্ষমতা বাড়ত এবং সংস্থাটির সার্বিক আর্থিক সম্পদ ব্যাপক বৃদ্ধি পেত। আর তা দরকার ছিল গ্রিস ও আয়ারল্যান্ড এবং অতি সম্প্রতি ইউক্রেনের মতো দেশগুলোকে সহায়তার জন্য। প্রতিটি বড় অর্থনীতি এই সংস্কার অনুমোদন করেছে। কিন্তু সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য চাই যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনও শুরুতেই সংস্কার পরিকল্পনা অনুমোদন করে। কিন্তু বাদ সাধে কংগ্রেস, তাই এর অনুমোদন পাওয়া যায়নি।
আইএমএফকে নিয়ে সমস্যা অনেক পুরনো। অনেকেই এর বিকল্প খুঁজছিলেন অনেক দিন ধরে। সংস্থার কর্মকাণ্ড নিয়ে হতাশা এর বর্তমান প্রধান ক্রিস্টিন লাগারদের কণ্ঠেও ফুটে ওঠে গত সপ্তাহান্তের বৈঠকে। এমনকি তিনি ব্যঙ্গচ্ছলে বলেন, যদি মার্কিন কংগ্রেস সংস্থাটির সংস্কার পরিকল্পনা অনুমোদন করে, তাহলে তিনি খুশিতে কংগ্রেসের সামনে গিয়ে ‘ব্যালেড্যান্স’ নাচবেন। তার ভাষায়, ‘২০১২ সালেই এটা পাওনা হয়েছিল, আর ২০১৪ সালে তা হয়ে গেছে বাড়তি পাওনা।’
এই সংস্থার সাবেক উপপরিচালক ও মেক্সিকোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর অগাস্টিন কার্স্টেন্সও অনেকের মতো উদ্বিগ্ন বৈশ্বিক সংস্থাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে। তার ভাষায়, ‘এটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ আইএমএফ নীতি-পরামর্শ দেয়। আর পারমর্শ কোনো প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেই আসা উচিত।’
তাই চীন ও ভারতের মতো দেশগুলোর অর্থনৈতিক শক্তি অর্জন আইএমএফের বর্তমান ভোটিং অংশটি কেবল অন্যায্যই নয়, অবৈধ ও হাস্যকর।
২০১০ সালের সংস্কারও যথেষ্ট নয় বলে অনেকে মনে করেন। কারণ, তাতে চীনের ভোটিং-রাইট ৬.১ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। কিন্তু সংস্থার অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রয়েছে প্রবল বাধা।
এই বাধা দূর হবে কিভাবে? ২০১৩ সালে ৭.৭ শতাংশের তুলনায় চলতি বছর চীনের প্রবৃদ্ধি কিছুটা ধীর। তার ওপর হংকংয়ের মতো ‘অর্থনৈতিক পাওয়ার হাউজে’ অস্থিরতা। এসব দেখিয়ে অনেকে হয়তো চীনের অর্থনৈতিক শক্তিমত্তাকে উপেক্ষা করতে চাইবেন। কিন্তু তাই বলে কি থেমে থাকবে আইএমএফের সংস্কার?
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বসনিয়ায় পরিবর্তনের হাওয়া by মুহাম্মদ খায়রুল বাশার
গত ১২ অক্টোবর যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে দেশটিতে কোনো পরিবর্তন আসবে বলে মনে হয় না। বারবার কয়েক দফা পলিটিক্যাল মিউজিক্যাল চেয়ার পরিবর্তন করে কোনো লাভ হবে না। এ ধরনের প্রয়াস চালানো হবে ভুল। অবশ্য এখন কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুদ্ধ বসনিয়াকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। একটি হচ্ছে সার্ব নিয়ন্ত্রিত রিপাবলিকান (আরএস) এবং অপরটি হচ্ছে ফেডারেশন। মুসলিম এবং ক্রোটদের সমন্বয়ে বসনিয়া ফেডারেশন গঠিত। ফেডারেশন দশটি কেন্টনে বিভক্ত। ফেব্রুয়ারিতে বিুব্ধ দাঙ্গাকারীদের দ্বারা বসনিয়া প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। দাঙ্গাকারীরা রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। গত মে মাসে দেশটি প্রায় পুরোপুরি বন্যায় আক্রান্ত হয়। ব্যাপক এই বন্যায় দেশটির মারাত্মক ক্ষতি হয়। বসনিয়ার বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরি হয়ে যাওয়ায় দেশটির অবকাঠামো আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে রয়েছে। এ ছাড়া নির্মাণকাজের জন্য সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ দিতে হয়।
বসনিয়া ফেডারেশনের নির্বাচনে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের ব্যাপক ভরাডুবি হয়। চার বছর ধরে দেশটির রাজনীতিতে তারাই প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছিল। ক্ষমতা এখন বসনিয়ার ন্যাশনালিস্ট পার্টির হাতে। কিন্তু অনেক শহরে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ভোটাররা সম্পূর্ণভাবে একটি নতুন দলের দিকে ধাবিত হয়েছে। নতুন দলটির নাম ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট। এ দলটি আগামী দিনের সরকারে একটি ভূমিকা পালন করতে পারে।
আরএসের মিলোরাড দোদিক দীর্ঘ দিনের একজন নেতা। তিনি তার সমর্থন হারিয়েছেন। তার বিরোধীরাই এখন জনগণের কাছে অধিকতর বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছেন। দোদিক আরএস থেকে চলে যেতে চেয়েছিলেনÑ এটা অবশ্য নতুন সঙ্ঘাত সৃষ্টি করতে পারে। তিনি আরএসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বহাল থাকবেন। কিন্তু তার দল পরবর্তী সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তার প্রার্থী বসনিয়ার তিন সদস্যের প্রেসিডেন্সিতে পার্টির আসনটি ম্লাদের আইভানিকের কাছে হারিয়েছিলেন। আইভানিক বসনিয়ার প্রথম দিকে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তার সাথে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। বসনিয়ার প্রেসিডেন্সির তেমন কোনো ক্ষমতা নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাসমিন মোজানোভিচ বলেন, আইভানোভিচের ফিরে আসাটা বিশাল ব্যাপার। এতে বসনিয়ার সার্ব রাজনীতিতে ভাদিচের দীর্ঘ প্রতিপত্তির অবসান ঘটবে।
২০১০ সালে বসনিয়ার নির্বাচনের পর সরকার গঠন করতে এক বছরেরও বেশি সময় লেগেছিল। এখন সরকার গঠন হয়তো দ্রুত হয়ে যেতে পারে। সরকার গঠনের চেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অংশবিভাজন প্রশ্নে সম্মত করানো। পরিবার এবং বন্ধুদের ভোটের জন্য বিভিন্ন প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিতে হাজার হাজার চাকরিকে পুরস্কার হিসেবে দেখানো হয়েছে।
মাত্র ৩৮ লাখ লোকের ছোট্ট এ দেশটিতে কঠিন সিস্টেমে একটি কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর জন্য এসব চাকরি সংরক্ষিত করে রাখা হয়। বসনিয়ার আজব রাজনৈতিক গঠনের অর্থ হচ্ছে যে, রাজনীতিবিদেরা কোন ধরনের সাংবিধানিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার প্রয়োজন তা জানা সত্ত্বেও তারা এর সমাধান করতে পারেন না। যেকোনো বড় পরিবর্তনের জন্য প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে চুক্তি হওয়া দরকার। রাজনৈতিক দলগুলো সরকারে থাকুক বা না থাকুক, তাদের মধ্যে অবশ্যই সমঝোতা প্রয়োজন।
সাধারণ ও কেন্টনাল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার দুই বছরের মধ্যেই স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ক্ষমতা ভাগাভাগির ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে আবার দ্রুত স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উভয় নির্বাচন এবং মতামত জরিপ থেকে জানা গেছে, পরিবর্তনই হচ্ছে সবার দাবি। তাই পরিবর্তনের দাবিটি এখন একটি জনপ্রিয় দাবি। দেশটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্থবির হয়ে আছে। বসনিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি পিটার সোরেন সেন বলেছেন, ভালো সংবাদ হচ্ছেÑ বসনিয়ায় পরিবর্তনের প্রয়োজনে অনেক কাজ করা হয়েছে। বসনিয়ার জনগণ দ্রুত পরিবর্তন চায়। নতুন সরকারকে এই জনপ্রিয় দাবিটিকে সামনে রেখে ভবিষ্যতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ড. পিয়াস করিম- শহীদ মিনার থেকে জাতীয় মসজিদ by মো: সিরাজুল ইসলাম
তার টকশো থেকেই জেনেছি, তিনি বাম রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। সে ঘরানার বুদ্ধিজীবী হিসেবে এটা সহজেই ধারণা করা যায় যে, মৃত্যুর পর তার লাশ শহীদ মিনারে কিছু সময়ের জন্য হলেও রাখা হবে। কারণ এমনটাই করা হয়ে আসছে নিয়মিত। এটাও মোটামুটি নিশ্চিত করে বলা যায় যে, বাম ঘরানার একজন বুদ্ধিজীবীর লাশের নামাজে জানাজা জাতীয় মসজিদে হওয়ার কথা সাধারণ চিন্তা করা হয় না। কিন্তু সাহসী বক্তব্য ইতোমধ্যেই তার ও অটল বিশ্বাস তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা বৃদ্ধি করেছে। পরিবার-পরিজন, সহকর্মী, সহযোদ্ধাদের মধ্যেও এ বিশ্বাস জন্মেছে যে, তার লাশ শুধু শহীদ মিনারে নেয়ার যোগ্য নয়, বরং জাতীয় মসজিদে তার নামাজে জানাজা হওয়ার দাবি রাখে। কারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা তার সত্যবাদিতা, সাহসিকতায় উদ্বুব্ধ এবং এটাই বাস্তবতা যে, তাদের বেশির ভাগ মানুষ তার লাশ দেখতে শহীদ মিনারে যাওয়ার মতো আকর্ষণ অনুভব করবেন না। বায়তুল মোকাররমে নামাজে জানাজা হবে এটা জেনে আল্লাহর মহিমার কথা স্মরণ করেছি। আল্লাহ একটা মানুষকে এভাবেই আলোর দিকে নিয়ে আসতে পারেন। আমার বিশ্বাস, গত দুই বছরে ড. পিয়াস করিম যেসব কথা বলেছেন, তা না বললে হয়তো একজন বাম ঘরানার মানুষ হিসেবে তার নামাজে জানাজা জাতীয় মসজিদে হতো কি না সন্দেহ। আর করা হলে মানুষ অন্যত্র জানাজায় কতটুকু উপস্থিত হতো সেটাও নিশ্চিত ছিল না।
নির্দিষ্ট কিছু কারণে মরহুমের দাফন করতে কয়েক দিন বিলম্ব হলো। তাকে জুমাবার তথা শুক্রবার দাফনের জন্য সিদ্ধান্ত হলো। ইতোমধ্যেই যারা তার অকপটে সত্যের পে কথা বলাকে সহ্য করতে পারেননি এবং সাজানো ইতিহাসের পে না বলে সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ কথা বলাতে তার ওপর ুব্ধ ছিলেন, যারা তার ‘অমুক থিওরির ধারক না হয়েই এ কথাগুলো বলছি’ কথাটুকুকে কানের মধ্যে ঢোকাতে পারেননি, তাদের ধারক সেকুলার ও বাম কিছু সংগঠনের প থেকে মরহুমের লাশ শহীদ মিনারে নিতে বাধা দেয়ার জন্য ঘোষণা দেয়া হলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শহীদ মিনারের অবস্থান হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপরে অনুমতি নিয়ে সেখানে লাশ রাখার নিয়ম; কিন্তু কর্তৃপ নানা ধরনের কথা বলতে থাকলেন- ‘আবেদন পাইনি’, ‘আবেদন এলে তারপর চিন্তা করা হবে’, ‘তার লাশ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে যারা লাশ আনবেন, তারা দায়ী হবেন’ প্রভৃতি। নাগরিক সমাজের প থেকে সংবাদ সম্মেলন করে মরহুমের লাশ সর্বসাধারণের শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দেয়ার জন্য শুক্রবার সকাল ১০টায় শহীদ মিনারে রাখা এবং জুমার নামাজের পরে বায়তুল মোকাররমে নামাজে জানাজা শেষে দাফনের সিদ্ধান্ত জানানো হলো। ধর্মপ্রাণ অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে মত দিতে থাকলেন শহীদ মিনারে লাশ না নেয়ার জন্য। সেখানে লাশ না নেয়াটাকেই হয়তো আল্লাহ পছন্দ করছেন বলে কেউ কেউ অভিমত দিলেন।
আল্লাহর সিদ্ধান্ত জানার অপোয় থাকলাম। একপর্যায়ে ঢাবি কর্তৃপও সেকুলার ও বাম সংগঠনগুলোর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করল এবং লাশ শহীদ মিনারে নেয়ার অনুমতি দিলো না। অতএব, সর্বশেষ সিদ্ধান্ত হলোÑ মরহুমের নিজ বাড়িতেই সর্বসাধারণের শেষ দেখার জন্য লাশ রাখা হবে এবং এরপর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে নামাজে জানাজা হবে। দোয়া করলামÑ আল্লাহ যেন সত্যিকারার্থেই এ ব্যক্তিকে কবুল করেন, মাগফিরাত দান করেন।
জুমার নামাজ সাধারণত এলাকার মসজিদে পড়ি; কিন্তু জানাজায় অংশ নেয়ার উদ্দেশ্যেই বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ পড়লাম। খতিব সাহেব তিন তিনবার ড. পিয়াস করিমের জন্য হাত তুলে দোয়া করলেন, সেই সাথে সব মুসল্লি। বাংলা খুতবা শেষ করে হঠাৎ হাত তুললেন, ফরজ নামাজ শেষ করে আরেকবার, নামাজে জানাজা শেষ করেই সাথে সাথে আরেকবার। এ জন্য আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করলাম। জুমার নামাজের পরে মসজিদে নামাজে জানাজা হলে কখনো কখনো জুমার ফরজের পরে আবার কখনো পরবর্তী সুন্নত নামাজ শেষে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ইমাম সাহেব জুমার নামাজের পরে ঘোষণা দিলেন, ‘অবশিষ্ট সুন্নত নামাজের পরে নামাজে জানাজা হবে, যারা যারা ইচ্ছুক জানাজায় অংশ নেবেন।’ সাধারণত, জুমার ফরজের পরে অনেকে বাসায় গিয়ে সুন্নত নামাজ পড়েন। খেয়াল করলাম, আজ ফরজ শেষে দু-চারজন ছাড়া কেউ চলে যাচ্ছেন না। সবাই সুন্নত নামাজ মসজিদেই পড়লেন। সুবহানাল্লাহ, এ মানুষগুলো জানাজার নিয়ত করেই সম্ভবত রয়ে গেছেন এবং এই বিপুল সংখ্যক মানুষের বিরাট অংশ আমার মতো জানাজায় অংশ নেয়ার উদ্দেশ্যেই এসেছেন।
নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হলো। মরহুমের লাশ গেটে রাখার ঘোষণা হলো। ল করলাম, মসজিদের ভেতর থেকে প্রায় সবাই সে দিকে রওয়ানা দিয়েছেন। বিশাল জনমানুষের স্রোত সেদিকে। অথচ উত্তর গেট দিয়ে সচরাচর বেশির ভাগ মানুষ বের হন; কিন্তু আজ এ অন্য রকম দৃশ্য। হাঁটছি আর হাতের মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করায় আরেকজনকে সহযোগিতা করছি। আশপাশের মানুষের কথা লক্ষ করলাম। অনেকেই বলছেনÑ এত মানুষ! অনেকে বলছেন- শহীদ মিনারে অনুমতি না দেয়ায় ভালোই হয়েছে। তাতে জানাজায় মনে হচ্ছে লোক আরো বেড়ে গেছে। কফিনের কাছে যাওয়াই সম্ভভ হচ্ছিল না। এত ভিড়! অনেকণ চেষ্টার পর যখন প্রায় কাছে গিয়েছি ততণে সময় অনেকটা গড়িয়ে গেছে। কফিন কাঁধে করে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের গাড়ির দিকে রওয়ানা হয়ে গেছেন তার শুভাকাক্সীরা। কাফনে মোড়ানো শ্রদ্ধেয় ড. পিয়াস করিমের লাশ চলে গেল একেবারে সামনে দিয়ে। আল্লাহর কাছে দোয়া করলামÑ আল্লাহ তাকে মাগফিরাত নসিব করুন। আমার দৃঢ়বিশ্বাস, হয়তো আল্লাহর ইচ্ছাই ছিল, এ ব্যক্তিকে তিনি কাছে টেনে নেবেন। আর সেজন্যই কয়েক হাজার মুসল্লি তার নামাজে জানাজায় উপস্থিত হয়েছেন, দোয়া করেছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইওরোপিয়ান ডিপ্লম্যাট, ক্ষমাপ্রাপ্ত খুনি ও উপকৃত পাখিরা by শফিক রেহমান
১৪ নভেম্বর ২০১২ তে তদানীন্তন পার্লামেন্টে স্বতন্ত্র এমপি ফজলুল আজিমের এক প্রশ্নের উত্তরে তদানীন্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর জানান রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পান :
১৯৮৭ ১ জন
২০০৫ ২ জন
২০০৮ ১ জন
২০০৯ ১ জন
২০১০ ১৮ জন
২০১১ ২ জন
অর্থাৎ, ১৯৭২ থেকে ২০১১ পর্যন্ত মোট ২৫ জন মৃত্যুদণ্ডের আদেশ থেকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পান।
এই পরিসংখ্যানে দেখা যায় :
স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত কোনো আসামিকে ক্ষমা করা হয়নি।
সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের আমলে ক্ষমা করার সূচনা হয়। আওয়ামী লীগ নেতা ময়েজউদ্দিন আহমেদ হত্যা মামলায় দণ্ডিত এক আসামিকে ১৯৮৭ তে ক্ষমা করা হয়। ময়েজ হত্যা মামলায় শাস্তিপ্রাপ্তরা ছিলেন এরশাদের জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী। তাই ধারণা করা যেতে পারে এ ক্ষেত্রে দণ্ডিত ব্যক্তিকে ক্ষমার কারণ ছিল রাজনৈতিক।
খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্বে চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে ২০০৫-এ রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পান মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি। এর মধ্যে ঝণ্টুকে ক্ষমা করার বিষয়টি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল। অনুমান করা হয়েছিল এই ক্ষমার কারণ ছিল রাজনৈতিক।
সেনা সমর্থিত ফখরুদ্দীন আহমদের সরকারের সময়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত এক আসামিকে ক্ষমা করা হয়।
শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বে মহাজোট সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ২০১০ এবং ২০১১-তে দুটি ভিন্ন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোট ২৯ আসামিকে ক্ষমা করেন।
প্রথম মামলায় বিএনপির সাবেক উপমন্ত্রী নাটোরের রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর ভাতিজা সব্বির ওরফে গামাকে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৪-এ নলডাঙ্গা থানার আমতলি বাজারে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার দায়ে ২৪ আগস্ট ২০০৬-এ ঢাকার দ্রুত বিচার আদালতে মামলার রায়ে ২১ জন মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। এদের মধ্যে একজন পলাতক ছিলেন। বাকি ২০ জন ক্ষমা এবং জেল থেকে মুক্তি পান আওয়ামী লীগ শাসন আমলে। ধারণা করা হয় এই ক্ষমার কারণ ছিল রাজনৈতিক। গণহারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের গণহারে ক্ষমা পাওয়া ও গণ খালাস হওয়ার এই দৃষ্টান্ত ছিল বাংলাদেশে প্রথম। মৃত্যুদণ্ডবিরোধীরা এই গণ ক্ষমাকে সমর্থন দিলেও প্রকৃত আসামিদের কোনো শাস্তিই না হওয়াটার সমালোচনা করেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকার এই সময়ে ক্ষমার মাহাত্ম্য প্রচার করলেও দুই বছর পরেই ২০১৩ তে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় দণ্ডিত পাচজনকে গণ ফাসি দেয়।
দ্বিতীয় মামলায় লক্ষ্মীপুরের এডভোকেট নুরুল ইসলামকে হত্যার দায়ে আওয়ামী লীগ নেতা তাহেরের ছেলে এ.এইচ.এম বিপ্লবের মৃত্যুদণ্ড রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ৪ জুলাই ২০১২-তে ক্ষমা করে দেন। বলা বাহুল্য, এই ক্ষমাটিরও কারণ ছিল রাজনৈতিক।
১৪ নভেম্বর ২০১২-তে আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে তদানীন্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর আরো জানান যে, দেশের ৬৮-টি জেলখানার মধ্যে, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, যশোর ও রাঙামাটি ছাড়া বাকি ৬৪টিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বন্দি রাখা হয়েছে। এ মধ্যে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে ২,৮৮২ জন ধারণক্ষমতার বিপরীতে বন্দি রয়েছেন ৭,৮৩০ জন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের জেলখানাগুলোর মোট ধারণক্ষমতা হচ্ছে ৩৩,৪৩৬ জন। কিন্তু সেখানে মোট বন্দি আছেন ৬৪,২৫৫ জন Ñ অর্থাৎ, প্রায় দ্বিগুণ। এই বন্দিদের মধ্যে ৬২,০৪১ জন পুরুষ এবং ২,২১৪ জন নারী।
এগিয়ে এসেছেন ইইউ রাষ্ট্রদূতরা
অতি সম্প্রতি সম্পূর্ণ মানবিক কারণে মৃত্যুদণ্ড রহিত করার লক্ষ্যে এগিয়ে এসেছেন ঢাকাস্থ ইওরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতরা।
১০ অক্টোবরে জাতিসংঘ ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডবিরোধী বিশ্ব দিবস (World Day Against Death Penalty) পালন উপলক্ষে ইওরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা সম্মিলিতভাবে একটি বিবৃতিতে বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ড পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধ করা এবং ইতিমধ্যে যাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে সেসব কার্যকর না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
৯ অক্টোবর ২০১৪-তে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইইউ আশা করে জাতিসংঘের একটি সদস্য দেশ রূপে জাতি সংঘের সব প্রস্তাব বাংলাদেশ মেনে চলবে এবং সেইভাবে সকল মৌলিক অধিকার ও মানব সম্মান রক্ষা করবে।
সম্মিলিত বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, মানব অধিকার ও সম্মান রক্ষায় মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ করণ একটি অতি আবশ্যকীয় পদক্ষেপ। কূটনীতিকরা স্মরণ করিয়ে দেন, ১৮ ডিসেম্বর ২০০৭-এ জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেনে গৃহীত প্রস্তাব নং ৬২/১৪৯-কে আরো শক্তিশালী করেছে আরো তিনটি প্রস্তাব। এই তিনটি প্রস্তাব হচ্ছে ১৮ ডিসেম্বর ২০০৮-এর ৬৩/১৬৮ প্রস্তাব (Resolution রিজলিউশন), ২১ ডিসেম্বর ২০১০-এর ৬৫/২০৬ প্রস্তাব এবং ২০ ডিসেম্বর ২০১২-র ৬৭/১৭৬ প্রস্তাব। যেসব দেশে এখনো মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় সেটা নিষিদ্ধ করার জন্য এবং ইতিমধ্যে যাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে সেটা কার্যকর না করার জন্য চার বছরের এই চার প্রস্তাবে বলা হয়েছে।
কূটনীতিকরা বলেন, মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ করণের দিকে যদিও একটি বৈশ্বিক ধারা এখন চলছে, তবুও বহু দেশে এখনো মৃত্যুদণ্ড চালু আছে এবং সেটা উদ্বেগজনক।
বেচে থাকার অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার ও তৎপর থেকেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। জাতি সংঘ থেকে মানব অধিকার বিষয়ে সর্বজনীন ঘোষণা প্রকাশিত হয়েছে। বেসামরিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক চুক্তি (International Covenant on Civil and Political Rights) সম্পাদিত হয়েছে।
ঢাকাস্থ কূটনীতিকদের এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটা অবশ্যই বুঝতে হবে যে, কোনো অন্যায় বিচার অথবা ভুল ভ্রান্তিমূলক বিচারের ফলে যদি কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং সেটা কার্যকর করা হয় তাহলে সেই ভুল সংশোধনের কোনো পথ আর থাকে না। মৃত ব্যক্তিকে পুনর্জীবিত করা যায় না।
এই কূটনীতিকরা আরো বলেন, সকল ব্যক্তির মানব অধিকার রক্ষার চূড়ান্ত দায়িত্ব হচ্ছে রাষ্ট্রের। সুতরাং রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে কোনো ব্যক্তিই যেন তার মানব অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়।
নয় ডিপ্লম্যাটের একটি মাইলস্টোন
এই সম্মিলিত বিবৃতিতে সই করেছেন নয় কূটনীতিক :
ফ্রেডারিক মৌলারু (Frederic Maoluraud), ইইউ এর শার্জ ডি এফেয়ার্স
হেইনে ফুগি এসকেআর (Hanne Fugi Eskjaer), ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত
মিশেল টৃনকেয়ার (Michel Trinquier), ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত
ড. ফার্দিনান্দ ফন ওয়েওয়ে (Dr Ferdinand von Weyhe), জার্মানির শার্জ ডি এফেয়ার্স
জর্জিও গুলেইলমিনো (Giorgio Guglielmino), ইটালির রাষ্ট্রদূত
গারবেন ডি ইয়ং (Gerben de Jong), নেদারল্যান্ডসের (হল্যান্ড) রাষ্ট্রদূত
লুই টেয়াডা শাকোন (Luis Tejada Chacon), স্পেনের রাষ্ট্রদূত
কারিন ম্যাকডোনাল্ড (Karin McDonald), সুইডেনের শার্জ ডি এফেয়ার্স
রবার্ট গিবসন (Robert Gibson), বৃটিশ হাই কমিশনার
বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধকরণ তথা মানব অধিকার ও সভ্যসমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই নয় ডিপ্লম্যাটের সম্মিলিত বিবৃতিটি একটি মাইলস্টোন হয়ে থাকবে।
তবে কূটনীতিকদের এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। ২০১৩-তে বাংলাদেশে অন্তত ১৭১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় গণমৃত্যুদণ্ড হয়েছে ১৬৪ জনের Ñ দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় ১৪ জনের এবং পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় ১৫২ জনের। আরেকটি মামলায় রায়ের পর প্রচলিত আইন বদলিয়ে আবদুল কাদের মোল্লাকে নতুন আইনের রেট্রসপ্রেকটিভ এফেক্ট দিয়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং কার্যকর করা হয় গত বছরে। অনেকের মতে এটা ছিল বাংলাদেশে এবং হয়তো বা বিশ্বে ব্যাক ডেট দিয়ে ফাসি দেওয়ার প্রথম ঘটনা।
পাইকারি হারে এসব মৃত্যুদণ্ড ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে মৃত্যুদণ্ডপিপাসু দল রূপে প্রতিষ্ঠা করেছে। সুতরাং এই নয় ডিপ্লম্যাট এবং ইওরোপিয়ান ইউনিয়নকে চাপ সৃষ্টি করতে হবে যেন আওয়ামী লীগ এই বিকৃত মানসিকতা মুক্ত হয়। পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াত এবং জাতীয় পার্টিকেও স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে ভবিষ্যতে তারা কেউ ক্ষমতায় এলে (একক অথবা জোটবদ্ধভাবে) আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসা পলিটিক্স যেন অনুসরণ না করে। অর্থাৎ, আওয়ামী লীগ সহ দেশের প্রতিটি প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে মৃত্যুদণ্ড বিরোধিতায় ইইউয়ের সুদৃঢ় অবস্থানটি বুঝিয়ে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে এই দলগুলো তাদের আগামী নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে মৃত্যুদণ্ডবিরোধী অবস্থান ঘোষণা করতে পারে।
মৃত্যুদণ্ড বিরোধী এনজিও অনুপস্থিতির কারণ
একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে সাধারণ মানুষ এবং মানব অধিকারবিষয়ক এনজিওগুলোকেও সচেতন করার দায়িত্ব নিতে হবে। ইইউ এবং অন্যান্য দেশের সহযোগিতা ও অর্থায়নে বাংলাদেশে কয়েক হাজার এনজিও থাকলেও মৃত্যুদণ্ডবিরোধী আন্দোলনের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে একটি এনজিওর-ও কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে না।
এর কারণ কি?
কারণ আওয়ামী লীগের ভয় এবং আওয়ামী লীগ আয়োজিত গণরোষের ভয়।
বাংলাদেশে কেউ মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করলে, আওয়ামী লীগ দ্বারা তিনি চিহ্নিত হতে পারেন :
১. তিনি শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ডবিরোধী এবং
২. তিনি যুদ্ধ অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড বিরোধী।
শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা Ñ এই দুই খুটির ওপর মৃত্যুদণ্ডের গ্রহণযোগ্যতাকে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে বহু সভ্যমানুষ আছেন যারা এই বিশেষ দুটি শ্রদ্ধা ও চেতনা পোষণ করে, অভিযুক্তদের ন্যায়বিচার ও শাস্তি চাইলেও, মৃত্যুদণ্ড চান না।
টোটাল কনফিউশনে সমাজের একাংশ
অতি দুঃখের বিষয় আওয়ামী লীগের এই অমানবিক রাজনৈতিক দর্শনে আচ্ছন্ন হয়েছেন বুদ্ধিজীবীদের একাংশ, সুশীলসমাজের একাংশ এবং তরুণ সমাজের একাংশ। যার পরিণামে ২০১৩-র ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ঢাকায় শাহবাগে হয়েছিল মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে বিভ্রান্ত তরুণদের আন্দোলন। এই তরুণ সমাজ, যারা শাহবাগি নামে পরিচিত হয়েছে তারা এতটাই বিভ্রান্ত হয়েছিল যে ব্যক্তির মৃত্যুর দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গণজমায়েত করেছিল নম্রতার প্রতীক মোমবাতি হাতে নিয়ে। তবে কি ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির জন্মদিন পালনের উপলক্ষে গণজমায়েত হবে কাঠিন্যের প্রতীক ফাসির দড়ি হাতে নিয়ে?
এই বিভ্রান্তি গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে গেছে সমাজে। যার একটি দৃষ্টান্ত দেখা গেছে ১০ অক্টোবর ২০১৪-তে মৃত্যুদণ্ডবিরোধী বিশ্ব দিবসে।
এই দিন ট্রান্সকম গ্রুপের বাংলা দৈনিক প্রথম আলো-তে “শাহবাগে বাংলা বসন্ত” শিরোনামে মহিউদ্দিন আহমদের একটি রচনায় চার কলামব্যাপী ২০১৩-র সেই মোমবাতি মিছিলের ছবি ছাপা হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে প্রকাশিত চারটি বইয়ের প্রচ্ছদ ছাপা হয়েছে। রচনাটিতে শাহবাগের এই তরুণ সমাবেশকে ইজিপ্টের তাহরির স্কোয়ারের গণসমাবেশের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
এই তুলনা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ তাহরির স্কোয়ারের গণসমাবেশ ছিল ইজিপ্টে ৪,০০০ বছরের মধ্যে এই প্রথম সত্যিকার একটি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এবং স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপতি হোসনি মোবারক ও তার সামরিক সহযোগীদের বিদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন। শাহবাগে আন্দোলনের কোনো গণতান্ত্রিক লক্ষ্য ছিল না। বরং এই আন্দোলন সহায়ক হয়েছে শেখ হাসিনাকে নির্বাচনবিহীন নির্বাচনে ক্ষমতায় থেকে যেতে অর্থাৎ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে পরাজিত করতে এবং স্বৈরাচারকে প্রতিষ্ঠিত করতে।
অন্যদিকে একই দিনে ট্রান্সকম গ্রুপের ইংরেজি দৈনিক দি ডেইলি স্টার-এ তৃতীয় পৃষ্ঠায় এবং দৈনিক নিউ এইজÑএর প্রথম পৃষ্ঠায় যথাযোগ্য গুরুত্বের সঙ্গে ইওরোপিয়ান ইউনিয়ন ডিপ্লম্যাটদের মৃত্যুদণ্ড বিরোধী বিবৃতিটির সারমর্ম প্রকাশিত হয় Ñ যা বাংলাদেশের অন্য কোনো প্রধান দৈনিকে সেদিন প্রকাশিত হয়নি। বিবৃতিটি দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত হয়েছিল পরদিন ১১ অক্টোবর ২০১৪-তে।
মিডিয়া, বুদ্ধিজীবী, সুশীলসমাজ ও তরুণসমাজের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে যে বিশাল কনফিউশন বিরাজ করছে সেটা যেহেতু রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির কারণে লালিত হচ্ছে আওয়ামী লীগ দ্বারা, সেহেতু, মৃত্যুদণ্ডবিরোধী কোনো আন্দোলনকে সফল করতে হলে ইওরোপিয়ান ইউনিয়নকে আরো অনেক বেশি সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। বিশেষত মৃত্যুদণ্ডবিরোধী কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টা সূচিত হলে তাকে সর্বাত্মক সাহায্য করতে হবে এবং নির্ভয় দিতে হবে।
আরো সক্রিয় হতে হবে
ইইউয়ের এই মানবতাবাদি ডিপ্লম্যাটরা হয়তো শুনেছেন উইসকনসিনÑম্যাডিসন ইউনিভার্সিটির ড. রবার্ট এনরাইট আন্তর্জাতিক ক্ষমাপরায়ণতা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছেন (Dr Robert Enright, Founder of International Forgiveness Institute, University of Wisconsin-Madison)। ক্ষমতাপরায়ণতা বিষয়ে রিসার্চের জনক রূপে ড. এনরাইট স্বীকৃত।
ক্ষমা করার ২০ ধাপের একটি পদ্ধতি ড. এনরাইট প্রচার করেছেন। তার সাম্প্রতিক রিসার্চে তিনি দেখিয়েছেন কোন ধরনের ব্যক্তিরা ক্ষমাপরায়ণ হতে পারেন। তার রিসার্চ প্রতিষ্ঠা করেছে যারা নিউরোটিক, ক্রুদ্ধ এবং সমাজের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন তারা কম ক্ষমাপরায়ণ হন এবং বহু সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের মনোভাবের পরিবর্তন হয় না। পক্ষান্তরে, যারা ক্ষমাপরায়ণ তারা সাধারণত সুখী এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হন।
ড. এনরাইটের রিসার্চ বুঝতে চেষ্টা করেছে এর কারণ। দেখা গেছে ক্ষমাশীলতা মানুষের কার্ডিওভাসকুলার ও নার্ভাস সিসটেমকে শান্ত ও ভালো রাখে এবং তার ফলে ক্ষমাপরায়ণ ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও মনমেজাজ ভালো থাকে। উইসকনসিন ইউনিভার্সিটির আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে যারা কম ক্ষমাপরায়ণ তাদের মানসিক তো বটেই, স্বাস্থ্যগত সমস্যাও হয় বেশি।
লার্নিং টু ফরগিভ বইয়ের লেখক স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ড. ফ্রেড লাসকিন (Learning to Forgive by Dr. Fred Luskin of Stanford University) একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ক্ষমাপরায়ণতা মানুষকে দৈহিক ও মানসিকভাবে শক্তিমান করে। আর তাই, মানুষকে যেমন বিভিন্ন গুণ আয়ত্ত করতে হয়, ঠিক তেমনি তাকে ক্ষমাপরায়ণতার গুণটিও আয়ত্ত করতে হবে।
মানুষ যেন ক্ষমাপরায়ণতার গুণটি আয়ত্ত করতে পারে সেই লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ডওয়াইড ফরগিভনেস এলায়েন্স (Worldwide Forgivenss Alliance, বিশ্বব্যাপী ক্ষমাপরায়ণতা জোট) কাজ করে যাচ্ছে। আগস্ট মাসের প্রথম রোববারটি ফরগিভনেস ডে (Forgiveness Day, ক্ষমাপরায়ণতা দিবস) রূপে উদযাপিত হচ্ছে। এই সংস্থাটি ড. লাসকিনকে “ক্ষমাপরায়ণতার চ্যাম্পিয়ন” উপাধি দিয়েছে।
উত্তর আয়ারল্যান্ডে রাজনৈতিক সহিংসতায় যেসব ব্যক্তি নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর তিনটি ভিন্ন রিসার্চে জানা গেছে যারা ক্ষমাশীল হয়েছেন তারা এখন আরো আশাবাদি, আরো মায়া-মমতাময় এবং আরো আত্মবিশ্বাসী হয়েছেন। এই তিনটি রিসার্চে দেখা গেছে প্রতিহিংসাপরায়ণ ব্যক্তিরা মানসিক চাপে ভোগেন এবং তার ফলে তাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়।
ক্ষমাপরায়ণতার প্রয়োজনীয়তা এখন বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত হলেও, কিভাবে ক্ষমা করা সম্ভব সে বিষয়ে গবেষণা চলছে। জনমত জরিপ সংস্থা গ্যালাপ (Gallup) ১৯৮৮-তে আমেরিকায় একটি জরিপ চালিয়ে জানতে পারে ৯৪% মনে করেন কোনো মানুষকে ক্ষমাশীল করে তোলার জন্য অন্যের সাহায্য দরকার হতে পারে।
আর তাই ইওরোপিয়ান ইউনিয়নের ডিপ্লম্যাটরা যে বাংলাদেশে ক্ষমাপরায়ণতার বাণী প্রচার করেছেন সেজন্য তারা প্রশংসা পাবেন। কিন্তু তাদের কাজে সাফল্য অর্জন করায় প্রচুর বাধা আছে। বিশেষত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে, ক্ষমা নয়Ñ ঠিক তার বিপরীতটাই, অর্থাৎ, প্রতিশোধÑপ্রতিহিংসার পোস্টার যখন অবিরাম প্রচারিত হয়। সুতরাং শুধু বিবৃতি নয়, ডিপ্লম্যাটদের অন্য কাজও করতে হবে।
ইওরোপিয়ান ইউনিয়নের ডিপ্লম্যাটরা তাদের এই কাজের সূচনা এখনই করতে পারেন। বাংলাদেশের তরুণসমাজের বিভ্রান্ত অংশটিকে সুপথগামী করতে বার্ডম্যান অফ আলকাতরাজ মুভি ও কাহিনীর বহুল প্রচারের ব্যবস্থা তারা করতে পারেন। কালজয়ী এই মুভিতে দেখানো হয়েছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ক্ষমা করলে মানবসমাজ ও প্রাণীকুল Ñ উভয়েই উপকৃত হতে পারে। এখন এর কাহিনীর সংক্ষিপ্তসার পড়ুন।
বার্ডম্যান অফ আলকাতরাজ
রবার্ট স্ট্রাউড-এর জন্ম হয়েছিল ২৮ জানুয়ারি ১৮৯০-এ আমেরিকার সিয়াটল শহরে। তার মা অ্যান-এর প্রথম স্বামীর ঔরসে দুটি কন্যাসন্তান ছিল। দ্বিতীয় স্বামী, বেনজামিন স্ট্রাউড ছিলেন রবার্টের পিতা। তিনি মদ খেতে আসক্ত ছিলেন। বাড়ির দুর্বিষহ পরিবেশ থেকে রক্ষা পেতে রবার্ট স্ট্রাউড ১৩ বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। ১৮ বছর বয়সে তিনি পৌছান সুদূর আলাস্কায়।
সেখানে জুনিউ শহরে তার পরিচয় হয় কিটি ও’ ব্রায়েন নামে এক যৌনকর্মী ও ডান্স হল এনটারটেইনারের সঙ্গে। রবার্ট তার দালালি শুরু করেন এবং কাস্টমার আনতে থাকলেন।
১৯০৯-এ রবার্ট যখন একটি কাজে ছিলেন তখন চার্লি ভন ডাহমার নামে এক কাস্টমার কিটির সঙ্গে মিলন শেষে কোনো টাকা দেন না। বরং কিটি তার প্রাপ্য টাকা চাইলে চার্লি তাকে পিটিয়ে তার গলা থেকে একটা লকেট ছিনিয়ে চলে যান। ওই লকেটে ছিল কিটির মেয়ের একটা ছবি। কিটি এই লকেট হারানোটা মেনে নিতে পারেন না।
রবার্ট কাজ থেকে ফিরে এলে কিটি তাকে সবিস্তারে ঘটনাটি বলেন। রবার্ট ক্ষিপ্ত হয়ে চার্লির কাছে যান। দু’জনের মধ্যে মারামারি হয়। ফলে গুলিবিদ্ধ হয়ে চার্লি মারা যান। এই ঘটনার পরপরই রবার্ট স্ট্রাউড থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ এবং রিভলভার সমর্পণ করেন। পুলিশ তাদের রিপোর্টে বলে, মারামারিতে চার্লি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পরে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জে রবার্ট তাকে গুলি করেছিলেন।
রবার্টের মা অ্যান তাকে বাচানোর জন্য একজন উকিল নিয়োগ করেন। ২৩ আগস্ট ১৯০৯-এ রবার্টের বারো বছর জেলদণ্ড হয়। তাকে ম্যাকলিন আইল্যান্ডের জেলখানায় দ্বীপান্তর করা হয়।
ম্যাকনিল আইল্যান্ডের এই জেলখানায় সহিংস বন্দিরূপে রবার্ট দ্রুত কুখ্যাত হন। তিনি প্রায়ই অন্যান্য বন্দি ও জেলকর্মীদের এটাক করতেন। তিনি কিচেন থেকে খাবার চুরি করেছিলেন, বিষয়টি এক বন্দি রিপোর্ট করায় তাকে ছুরি মেরেছিলেন। নেশার জিনিস জেলখানায় আনতে ব্যর্থ হয়ে এক গার্ড এবং আরেক বন্দিকে আক্রমণ করেছিলেন। এসব কারণে তাকে ম্যাকলিন আইল্যান্ড থেকে সরিয়ে কানসাসের লিভেনওয়ার্থ জেলে ট্রান্সফার করা হয়।
সেখানে মাত্র ছয় মাস পরে ২৬ মার্চ ১৯১৬-তে আরেকটি হত্যাকাণ্ডে রবার্ট জড়িয়ে পড়েন। রবার্টের ছোট ভাই তার সঙ্গে আট বছর পরে দেখা করতে এসে ফিরে যেতে বাধ্য হন। এনড্রু টার্নার নামে জেলখানার কাফেটরিয়ার এক স্টাফ এর জন্য দায়ী ছিলেন। রাগে রবার্ট হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে ছুরিকাঘাত করেন এনড্রু-কে। এনড্রু মারা যান।
এবার ফার্স্ট ডিগৃ মার্ডার চার্জে ফাসিতে রবার্টের মৃত্যুদণ্ড হয়। রবার্ট যখন সলিটারি সেলে ফাসি কার্যকরের অপেক্ষায় ছিলেন তখন সুপৃম কোর্টের একটি শুনানিতে তার মৃত্যুদণ্ড মওকুফ হয়ে যায়। পরিবর্তে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রবার্ট স্ট্রাউডের মৃত্যুদণ্ড মওকুফের কারণ ছিল সরকার পক্ষের সলিসিটর জেনারেল জন ডেভিস স্বীকার করেন যে, যেহেতু তিনি আগে থেকেই রবার্টের মৃত্যুদণ্ড চাইছিলেন, সেহেতু মামলা চলা কালে তিনি ভুল করেছিলেন।
এরপর হত্যা মামলার তৃতীয় শুনানি হয়। এবার সুপৃম কোর্ট মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে এবং ২৩ এপৃল ১৯২০-এ এই দণ্ড কার্যকর করার ব্যবস্থা হয়। জেলখানায় ফাসির মঞ্চ বানানো হয় যেটা রবার্ট তার সেল থেকে দেখতে পারতেন।
রবার্টের মা আবার তৎপর হন। তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উডরো উইলসন ও তার স্ত্রী ইডিথ উইলসনের কাছে প্রাণ ভিক্ষা করেন।
প্রেসিডেন্ট ফাসি মওকুফ করে দিয়ে রবার্টকে আজীবন জেলে রাখার নির্দেশ দেন। তবে প্রেসিডেন্টের এটর্নি জেনারেল আলেকজান্ডার মিচেল পার্মার নির্দেশ দেন রবার্টকে আজীবন সলিটারি সেলে একা রাখতে হবে।
এভাবে শুরু হয় লিভেনওয়ার্থ জেলে রবার্ট স্ট্রাউডের নির্জন কারাবাস।
যেভাবে পাখি বিজ্ঞানী হলেন
বছর চারেক পরে ১৯২০-এ একদিন রবার্ট জেল প্রাঙ্গণে একটি নীড়ে তিনটি আহত চড়–ই পাখি পান। রবার্ট তাদের সুস্থ করে তোলেন। পাশাপাশি তিনি আরো পাখি কেনা শুরু করেন। তখন ওই জেলে ক্যানারি (ছোট হলুদ রঙের পাখি) কেনার অনুমতি বন্দিদের দেওয়া হতো।
জেলখানায় থেকে এসব পাখি পুষে এবং তাদের বিক্রি করে সেই টাকায় তিনি তার বৃদ্ধ মাকে সাহায্য করতেন।
এরপর লিভেনওয়ার্থ জেল কর্তৃপক্ষ বদলি হয়ে গেলে নতুন ওয়ার্ডেন বেনেট স্থির করেন সেখানে বন্দিদের প্রগতিশীলভাবে পুনর্বাসিত করতে হবে। এই নতুন কর্মসূচির আওতায় বেনেট জেলখানায় খাচা, কেমিকালস ও স্টেশনারি কিনে দেন রবার্টকে। রবার্ট একটি বড় এভিয়ারি (Aviary, পাখির খাচা যেখানে অনেক রকমের পাখি থাকতে পারে, উড়তেও পারে) তৈরি করেন। জেলখানায় ভিজিটররা এলে তারা ওই এভিয়ারি দেখতেন। রবার্টের কাছ থেকে ক্যানারি কিনতেন।
রবার্ট প্রায় ৩০০ ক্যানারি সেখানে পেলেছিলেন। ক্যানারিদের অসুখ বিসুখ বিষয়ে ৬০,০০০ শব্দ বিশিষ্ট দুটি বই, ডিজিজেস অফ ক্যানারিজ (Diseases of Canaries, ১৯৩৩) বই লিখেছিলেন। এই বই দুটির পাণ্ডুলিপি জেল থেকে চোরাপথে বাইরে চালান করা হয় এবং প্রকাশিত হয়। দুটি বই-ই বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়। ১৯৪৩-এ একটি নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়। পাখি যারা ভালোবাসেন তাদের সম্মান ও সহানুভূতি পান রবার্ট স্ট্রাউড। কালক্রমে তিনি পরিচিত হন অরিনথলজিস্ট (Orinthologist) বা পাখিবিজ্ঞানী রূপে।
রবার্টের এই সুনাম ও সাফল্য জেল কর্তৃপক্ষের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করে। যেসব চিঠি রবার্ট লিখতেন জেল কোড অনুযায়ী তা পড়তে হতো, হাতে কপি করতে হতো (তখন ফটোকপিয়ার ছিল না) এবং অনুমোদিত করতে হতো। রবার্টের পাখি ব্যবসা এত বেড়ে গিয়েছিল যে তার জন্য একটা ফুলটাইম সেক্রেটারি নিয়োগ করতে হয়েছিল। আরেকটা সমস্যা হয়েছিল পাখিদের মল সাফ করতে। রবার্টের সেলে পাখিদের ওড়ার অনুমতি ছিল। তাই রবার্ট তার নির্জন সেলে অনেক পাখি রাখতেন। কিন্তু তাদের মল নিয়মিত পরিষ্কার করাটা ছিল সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ।
১৯৩১-এ জেল কর্তৃপক্ষ স্থির করেন রবার্টের এই ব্যবসা বন্ধ করতে হবে এবং জেলখানা থেকে পাখিদের সরিয়ে ফেলতে হবে। কিন্তু ইনডিয়ানা-র ডেলা মে জোন্স নামে এক নারী পাখি গবেষক বিষয়টি পত্রপত্রিকায় ফাস করে দিলে সারা আমেরিকা জুড়ে প্রতিবাদ ওঠে। চিঠিপত্রের ক্যামপেইন শুরু হয়ে যায়। অল্প কয়েকদিনের মধ্যে ৫০,০০০ স্বাক্ষর সংবলিত নাগরিকদের চিঠি যায় প্রেসিডেন্ট হার্বার্ট হুভার-এর কাছে।
গণচাপে প্রেসিডেন্ট হুভার অনুমতি দেন রবার্টকে পাখি পুষতে। শুধু তাই নয়, রবার্টকে একটি অতিরিক্ত সেল দেওয়া হয় বেশি পাখি রাখতে। তবে রবার্টের চিঠি লেখার সুবিধা কমিয়ে দেওয়া হয়।
ইতিমধ্যে ডেলা মে জোন্স জেলে আরো কয়েকবার দেখা করেন রবার্টের সঙ্গে। ডেলা ইনডিয়ানা ছেড়ে কানসাসে থাকা শুরু করেন। তিনি আর রবার্ট পার্টনারশিপে বিজনেস আরম্ভ করেন। তারা পাখি, পাখি বিষয়ে বই এবং পাখির ওষুধপথ্য বিক্রি করতেন।
রবার্টের এসব কাজকর্ম এবং বহির্জগতে তার খ্যাতি বিস্তৃৃত হওয়ায় জেল কর্তৃপক্ষ বিরক্ত বোধ করেন। তারা লিভেনওয়ার্থ থেকে রবার্টকে অন্যত্র বদলির চেষ্টা শুরু করেন।
ইতিমধ্যে রবার্ট তার পড়াশোনায় জেনেছিলেন, কানসাসে কোনো জেলবন্দি যদি বিবাহিত থাকেন তাহলে তাকে অন্যত্র বদলি করা যায় না। তিনি তখন প্রক্সিতে ডেলা জোন্সকে বিয়ে করেন।
এতে জেল কর্তৃপক্ষ ক্ষেপে যান। তারা ডেলার সঙ্গে রবার্টের চিঠি বিনিময় বন্ধ করে দেন।
শুধু জেল কর্তৃপক্ষই নন Ñ রবার্টের মা, অ্যান-ও এই বিয়েতে চটে যান। তিনি বিশ্বাস করতেন নারীরা রবার্টের জীবনে বিপদ ডেকে আনে। সুতরাং তার ছেলের বিয়ে করা উচিত নয়। অ্যান, যিনি এত দিন চেষ্টা করেছিলেন পেরলে রবার্টের মুক্তির জন্য, তিনি তখন পেরলের বিরুদ্ধে বলেন এবং শহর ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। তিনি আর কোনো যোগাযোগ রাখেন নি ছেলের সঙ্গে এবং ১৯৩৭-এ মারা যান।
১৯৩৩-এ রবার্ট পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপনে জানান যে ডিজিজেস অফ ক্যানারিজ (Diseases of Canaries, ক্যানারিজ পাখির অসুখ) বইয়ের কোনো রয়ালটি তিনি পান নি। বইটির প্রকাশক এর শোধ নেওয়ার জন্য জেল কর্তৃপক্ষের কাছে রবার্টের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ করেন।
এমন একটা নালিশের অপেক্ষায় ছিলেন লিভেনওয়ার্থ জেল কর্তৃপক্ষ। তারা রবার্টকে আলকাতরাজ (Alcatraz) জেলে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন, যেখানে পাখি পালন ছিল নিষিদ্ধ। তার পরেও রবার্টকে বদলি করা সম্ভব হচ্ছিল না কারণ তিনি সেই সময়ে জেলের সব নিয়মকানুন মেনে চলছিলেন।
সেটাই ভেবেছিলেন জেল কর্তৃপক্ষ।
হঠাৎ একদিন রবার্ট ধরা পড়ে যান নিয়ম ভাঙার অপরাধে। প্রমাণিত হয় যে পাখির ওষুধ বানানোর ল্যাবরেটরিতে রবার্ট চোলাই মদও তৈরি করছিলেন। অবশেষে লিভেনওয়ার্থ জেল কর্তৃপক্ষ বিদায় করতে পারেন রবার্টকে।
কুখ্যাত আলকাতরাজ দ্বীপে
ক্যালিফোর্নিয়ায় সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরে আলকাতরাজ দ্বীপে আলকাতরাজ ফেডারাল জেলখানাটি ছিল। সান ফ্রান্সিসকো শহর থেকে দেড় মাইল দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটি দেখা যায় বিখ্যাত গোলডেন গেইট বৃজ থেকে। অতীতে ইনডিয়াতে দণ্ডপ্রাপ্ত ভয়ঙ্কর অপরাধীদের যেমন আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে পাঠিয়ে দেওয়া হতো, ঠিক তেমনই আমেরিকাতে দণ্ডিত ডেনজারাস কৃমিনালদের আলকাতরাজ দ্বীপে রাখা হতো ১৯৩৪ থেকে ১৯৬৩ পর্যন্ত।
আমেরিকার আদিবাসীরা ২২ একরের এই দ্বীপটিকে বলতো ইভিল আইল্যান্ড বা খারাপ দ্বীপ। ২৯ বছরে এই দ্বীপের জেলখানা থেকে মোট ৩৬ বন্দি পালানোর চেষ্টা করেছিল। এদের মধ্যে ২৩ জন ধরা পড়েছিল। ৬ জন পালানোর সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিল। ২ জন ডুবে মারা গিয়েছিল। আর বাকি ৫ জন নিখোজ হয়ে যায়। জেল কর্তৃপক্ষ দাবি করেন তারা ডুবে মারা গিয়েছিল। কেউ কেউ বলেন তারা কোনো রকমে সান ফ্রান্সিসকোর তীরে পৌছে বাদবাকি জীবন গোপনে কাটিয়ে দিয়েছিল।
আমি ১৯৮৩-তে সান ফ্রান্সিসকোতে টুরের সময়ে এই কুখ্যাত আলকাতরাজ দ্বীপটি দেখেছিলাম। এখন এই দ্বীপটি হয়েছে একটি বিখ্যাত টুরিস্ট স্পট।
১৯ ডিসেম্বর ১৯৪২-এ রবার্ট স্ট্রাউডকে ট্রান্সফার করা হয় আলকাতরাজ জেলে। ট্রান্সফারের আগে রবার্টকে বলা হয়নি যে তাকে লিভেনওয়ার্থ এবং পাখিদের ছেড়ে যেতে হবে। মাত্র দশ মিনিট সময় রবার্টকে দেওয়া হয়েছিল। এরই মধ্যে তিনি তার সব পাখি ও যন্ত্রপাতি তার ভাইকে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
আলকাতরাজের কড়া নিয়মে প্রথমে ছয় বছর রবার্টকে থাকতে হয় নির্জনে Ñ পাখি ছাড়া।
এরপর তাকে আলকাতরাজের হসপিটাল বিভাগে বন্দি রাখা হয়।
১৯৪৩-এ সাইকিয়াটৃস্ট রমনি রিচি তাকে একজন সাইকোপ্যাথ রূপে চিহ্নিত করেন, যে হঠাৎ সহিংস হতে পারে কিন্তু যার আইকিউ খুব বেশি Ñ ১৩৪!
আলকাতরাজে পাখি পালনে অনুমতি না পেলেও রবার্ট বই লেখার অনুমতি পেয়েছিলেন। সেখানে তিনি দুটি বই লেখেন। একটি তার আত্মজীবনী এবং অপরটি আমেরিকার জেল সিসটেমের ওপর। আলকাতরাজ কর্তৃপক্ষ শংকিত হন রবার্টের এই নতুন কর্মকাণ্ডে। তারা ভয় পান রবার্ট আবারও বহির্বিশ্বে তার প্রভাব বিস্তার করবেন বইয়ের মাধ্যমে। তারা বই দুটির প্রকাশনার বিরোধিতা করেন। একটি মামলা হয়। বিচারক রায় দেন রবার্ট বই লিখতে পারবেন এবং পাণ্ডুলিপি রাখতে পারবেন, কিন্তু প্রকাশ করতে পারবেন না। রবার্ট স্ট্রাউডের মৃত্যুর পরে তার উকিল, রিচার্ড ইংলিশকে বই দুটির পাণ্ডুলিপি দেওয়া হয়।
শেষ ৪২ বছর সলিটারি কনফাইনমেন্টে
আলকাতরাজে ১৭ বছর থাকার সময়ে রবার্টকে জেল লাইব্রেরি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। মাঝে মধ্যে এক গার্ডের সঙ্গে তাকে দাবা খেলার অনুমতি দেওয়া হতো।
আইন পড়াশোনার পরে রবার্ট তার মুক্তির জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে থাকেন। তিনি যুক্তি দেন তার দীর্ঘ এবং নির্জন কারাবাস নিষ্ঠুর ও ব্যতিক্রমী শাস্তি। ১৯৫৯-এ তার স্বাস্থ্য ভেঙে পড়তে থাকে। তাকে স্পৃংফিল্ড, মিসৌরিতে মেডিকাল সেন্টার ফর ফেডারাল পৃজনার্স-এ ট্রান্সফার করা হয়। ২১ নভেম্বর ১৯৬৩-তে তার মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সেখানে ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩।
জীবনের শেষ ৫৪ বছর রবার্ট স্ট্রাউস জেলবন্দি ছিলেন যার মধ্যে ৪২ বছর ছিলেন নির্জনে Ñ সলিটারি কনফাইনমেন্টে। জীবনের শেষ দিকে তিনি ফ্রেঞ্চ ভাষা শেখা শুরু করেছিলেন।
আমেরিকান ইতিহাসে রবার্ট স্ট্রাউডকে ভয়ংকর কৃমিনালদের অন্যতম রূপে গণ্য করা হয়। তার মেধা ও বুদ্ধি অসাধারণ ছিল এবং তিনি জেলে থেকেই হয়েছিলেন একজন প্রথম শ্রেণীর পাখিবিজ্ঞানী ও লেখক। কিন্তু রেগে গেলে তিনি হতে পারতেন হিতাহিত জ্ঞানশূন্য। তাকে জেল কর্তৃপক্ষ এবং জেলের সহবন্দিরা অপছন্দ ও অবিশ্বাস করতেন।
তবে জীবনের শেষ দিকে কেউ কেউ তাকে সুনজরে দেখেছিলেন। বিচারক বেকার মনে করেন বয়োবৃদ্ধ রবার্ট সমাজের জন্য বিপজ্জনক ছিলেন না এবং তার পাখিপ্রীতি ছিল আন্তরিক। তিনি যে দুটি হত্যাকাণ্ডের জন্য আজীবন শাস্তি ভোগ করেন সেই দুটির স্পষ্ট কারণ ছিল। দুটি ক্ষেত্রেই তিনি আবেগতাড়িত হয়ে আঘাত করেছিলেন। সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, রবার্ট স্ট্রাউড হয়েছিলেন পাখি বিষয়ে স্বশিক্ষিত বৃলিয়ান্ট এক্সপার্ট এবং আমেরিকান জেলখানায় আত্ম উন্নয়ন ও পুনর্বাসনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
অরিনথলজিতে অবদানের জন্য হাজার হাজার পাখি পালক ও পোলটৃ (হাস-মুরগি) ব্যবসায়ীদের কাছে রবার্ট খুব প্রিয় হয়েছিলেন। তাকে জেলমুক্ত করার জন্য ‘কমিটি টু রিলিজ রবার্ট স্ট্রাউড’ নামে একটি সংগঠন তারা করেছিলেন। কিন্তু যেহেতু, রবার্ট একজন ফেডারাল পুলিশ অফিসারকে খুন করেছিলেন সেহেতু তার সলিটারি কনফাইনমেন্ট বলবৎ থাকে।
১৯৬৩-তে রবার্টের তরুণ উকিল রিচার্ড ইংলিশ দেখা করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যানের সঙ্গে। কিন্তু এ বিষয়ে কিছু করতে রাজি হন না ট্রুম্যান। নাছোড়বান্দা রিচার্ড ইংলিশ পরবর্তীকালে কেনেডি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তারাও কিছু করেন না। রবার্ট তার সব ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং অরিজিনাল পাণ্ডুলিপিগুলো রিচার্ড ইংলিশকে দান করে যান।
১৯৫৫-তে টমাস ই গ্যাডিস, বার্ডম্যান অফ আলকাতরাজ নামে একটি বই প্রকাশ করেন। এই বইয়ে জেলবন্দিদের পুনর্বাসন বিষয়ে তিনি লেখেন এবং এতে রবার্টের বিষয়ে সহানুভূতি দেখান। ১৯৬২-তে এই বইয়ের ভিত্তিতে একই নামে মুভি নির্মাণে এগিয়ে আসেন ডিরেক্টর জন ফ্র্যাংকেনহাইমার। এতে রবার্টের ভূমিকায় দুর্দান্ত অভিনয় করেন বার্ট ল্যাংকাস্টার এবং সেরা অভিনেতার অস্কার প্রাইজের জন্য মনোনীত হন।
শুটিংয়ের সময়ে বার্ট ল্যাংকাস্টার আলকাতরাজে গিয়ে রবার্টের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, রবার্ট সমকামী, এই গুজব সত্যি কি না।
রবার্ট উত্তর দিয়েছিলেন, জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি নির্জন সেলে থেকেছেন। সমকামী হবেন কিভাবে? তা ছাড়া, বয়স এখন বাহাত্তর। সমকামী হলেও সমাজের জন্য তিনি কতখানি বিপজ্জনক হবেন?
রবার্ট স্ট্রাউড বেচে থাকতেই মুভিটি রিলিজড হয়েছিল। কিন্তু তাকে সেই মুভি দেখার অনুমতি দেওয়া হয়নি। মৃত্যুর পরে তার জীবনী নির্ভর ১৯৮০-তে আলকাতরাজ : দি হোল শকিং স্টোরি (Alcatraz : The Whole Shocking Story) নামে এবং সিক্স এগেইনস্ট দি রক (Six Against the Rock) নামে টিভি মুভি হয়। রবার্ট স্ট্রাউডের নামে গান ও ভিডিও গেমস আছে।
রবার্ট স্ট্রাউডকে যদি ১৯২০-এ ফাসি দেওয়া হতো, তাহলে পাখিপালকরা এবং পাখিরা উপকৃত হওয়া থেকে বঞ্চিত হতো।
২২ অক্টোবর ২০১৪
facebook.com/Shafik Rehman Presents
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
October
(1240)
-
▼
Oct 23
(45)
- জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম আর নেই
- আরিয়ানের পর এবার সুহানাও!
- শাহরুখের দেওয়ালি উপহার by সাজিদুল হক
- নির্বাচন প্রতিহত করতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার খা...
- দায়মুক্তি পাচ্ছেন ক্ষমতাসীনেরা- ছাড় পাচ্ছেন না ব...
- ‘এ সম্মান একার নয়, ব্র্যাকের সব কর্মীর’ -স্যার ফজ...
- খালেদার হুমকি প্রসঙ্গে হাসিনা -মানুষের গায়ে হাত দ...
- নোবেল শান্তি পুরস্কার ও বঞ্চিত জাপান by মনজুরুল হক
- মনোব্যাধির চিকিৎসক by আতাউর রহমান
- সিপি গ্যাং, গং এবং ‘নিষিদ্ধ শহীদ মিনার’ by সোহরাব ...
- শিক্ষা পরিস্থিতি- শিক্ষা নিয়ে বিতর্ক চলুক by আমিরু...
- মোজাম্বিকে ক্ষমতাসীন দলের জয় by মো: সাজ্জাদুল ইসলাম
- বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীন by মাসুম বিল্লাহ
- বসনিয়ায় পরিবর্তনের হাওয়া by মুহাম্মদ খায়রুল বাশার
- ড. পিয়াস করিম- শহীদ মিনার থেকে জাতীয় মসজিদ by মো: ...
- ইওরোপিয়ান ডিপ্লম্যাট, ক্ষমাপ্রাপ্ত খুনি ও উপকৃত পা...
- চট্টগ্রামে ৩০ বছর পুরনো ব্যবস্থায় চলছে বিদ্যুৎ বিত...
- লাউয়ের চেয়ে লাউশাক বেশি পুষ্টিকর by ফরহাদ আহাম্মেদ
- ভালো মানুষ আছে! নেই, ভালো মাইনছের দাম নেই by শাহাদ...
- থেরাটুন- চিরকুমার সঙ্ঘ by আইডিয়া : মহসিন মিজি আঁকা...
- বিভক্ত সরকারের পথে আমেরিকা by মোহাম্মদ হাসান শরীফ
- থেরাফিল্ম- চোর বটে! by মাহফুজুর রহমান
- আন্তর্জালিক- অ্যাকাউন্টিং বিভ্রাট by নুসরাত শ্রাবণী
- ছি:এনজি কথন by ইকবাল খন্দকার
- রাজনৈতিক ইসলাম নস্যাৎ করতে পাশ্চাত্যের দেশগুলো আইএ...
- হত্যাকারীদের সাথে কিসের আলোচনা : প্রধানমন্ত্রী
- ‘র’-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা
- পরকীয়ার বলি হলো অনার্স পড়ুয়া জেসমিন
- অধ্যাপক গোলাম আযমের রক্তচাপ অনেক কম
- স্বৈরাচার বিদায় করেছি, হাসিনাকেও বিদায় করব : খালেদ...
- পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপ জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট- গু...
- রোগী ফেলে পালালেন চালক- সড়ক বিভাজকে অ্যাম্বুলেন্স...
- মুখ থেকে মুছে যাক বয়সের ছাপ by ডা: দিদারুল আহসান
- সোনা কুড়িয়ে পেট চলে!
- দেশে এ বছর ১৯ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে -মোট কর্মক...
- নাটোর দুর্ঘটনায় মায়ের সঙ্গে বেঁচে গেছে ইভ
- ডুবোজাহাজের রহস্য
- ফ্রান্সও ‘দায়েশ’ ডাকবে আইএস গোষ্ঠীকে
- সাইবার নির্যাতনের প্রথম শিকার আমি: মনিকা
- সহিংসতায় নিহত পাঁচ মিনিটে এক শিশু
- সাবধান শাকিব খান by এফ আই দীপু
- বেপরোয়া বিদ্যা বালান by পিয়াস রায়
- পল্লী বিদ্যুতে লুটপাট by মুজিব মাসুদ
- করাতকল শ্রমিকেরা অসন্তুষ্ট by শুভংকর কর্মকার
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার চেয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন বেশি জ...
-
▼
Oct 23
(45)
-
▼
October
(1240)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...