Saturday, May 7, 2011

সিএসইতে রোববার থেকে লেনদেন শুরু

অনেক টানাহেঁচড়ার পর অবশেষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আগামী রোববার থেকে এমআই সিমেন্ট ফ্যাক্টরির শেয়ার লেনদেন শুরু হচ্ছে।
স্টক এক্সচেঞ্জটির পরিচালনা পর্ষদ গতকাল নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা মেনে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন শুরু হওয়া নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা কিছুটা হলেও দূর হলো।
তবে একই ধরনের নির্দেশনা থাকার পরও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তি না দেওয়ায় প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ারধারীদের অনেকেই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। ডিএসইর ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে আবেদন করে যাঁরা শেয়ার পেয়েছেন, তাঁরা শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সিএসইর সদস্য ব্রোকারেজ হাউসে সংযোগ হিসাব খুলে প্রাথমিক শেয়ারধারীরা তাঁদের শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন। এতে হয়তো তাঁদের সংশয় কিছুটা কাটবে। কিন্তু ডিএসইর তালিকাভুক্তি না দেওয়ার বিষয়টি সঠিক হয়নি। এসইসি তালিকাভুক্তিকরণ সংশ্লিষ্ট ধারার উল্লেখ করেই দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু ডিএসই তা পরিপালন না করে এসইসির আদেশ অমান্য করেছে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
জানা গেছে, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তালিকাভুক্তি দিতে রাজি থাকলেও পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যের তীব্র আপত্তির মুখে তারা কিছু করতে পারেনি।
শেয়ারবাজারে ধসের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ জানুয়ারি সরকার বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে এমআই সিমেন্টসহ দুটি কোম্পানির শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়েছে উল্লেখ করে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া স্থগিত করে। পরে সরকারের নির্দেশে শর্তসাপেক্ষে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেয় এসইসি।
তালিকাভুক্তির ছয় মাসের মধ্যে বরাদ্দমূল্যের চেয়ে শেয়ারের বাজারদর কমে গেলে প্রাথমিক শেয়ারধারীদের কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকেরা ক্ষতিপূরণ দেবেন—এ শর্তে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তির নির্দেশ দেয় এসইসি।
এসইসির নির্দেশ মেনে কোম্পানিটি ক্ষতিপূরণের বিপরীতে নিরাপত্তা জামানত হিসেবে ৫০ লাখ শেয়ার ডিএসইতে জমা দিয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানির এস্ক্রো হিসাবে পাঁচ কোটি টাকা জমা রাখা হয়েছে।

চলতি বছর বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৪ শতাংশ: এসকাপ

চলতি বছর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (এসকাপ)।
এসকাপের ইকোনমিক ও সোশ্যাল সার্ভে প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশসহ এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৩১টি দেশে একযোগে এসকাপের এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। খবর ইউএনবির।
ঢাকায় এই প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসকাপের পক্ষে বক্তব্য দেন ক্লোভিস ফ্রেইরে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ-বিষয়ক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরী।
কৃষি খাত ও রপ্তানির জোরালো অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে এবার এই হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে বলে মনে করছে এসকাপ।
এ প্রসঙ্গে মুজেরী বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত বছর ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
তবে আগামী দিনগুলোতে উচ্চহারে মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে এসকাপ মনে করছে। এ ছাড়া অবকাঠামোগত ঘাটতি ও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলা দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে মুজেরী বলেন, শুধু বাংলাদেশেই নয়, বরং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এখন বড় ধরনের সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ জন্য চাহিদা ও সরবরাহ—উভয় দিকের উপাদানই দায়ী।
বিদ্যুৎ সমস্যাকেও বাংলাদেশ এবং আরও কয়েকটি দেশের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে এসকাপের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা।
এসকাপ ২০১১ সালে এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার প্রক্ষেপণ করেছে ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ, যা ২০১০ সালে ছিল ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ।
এসকাপের প্রক্ষেপণ অনুসারে, চীন ও ভারতের প্রবৃদ্ধি হতে পারে যথাক্রমে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ ও ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। আর পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই হার ২ দশমিক ৮০ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করে এসকাপ।
উচ্চ জ্বালানি তেল ও খাদ্যমূল্যের কারণে ২০১১ সালে এই অঞ্চলে চার কোটি ২০ লাখ মানুষ দরিদ্রে পতিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে এসকাপ।

বিনিয়োগ শুরু করেছে বাংলাদেশ ফান্ড

বহুল প্রতীক্ষিত বাংলাদেশ ফান্ড গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিয়োগ-কার্যক্রম শুরু করেছে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জ্বালানি খাতের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির শেয়ার কেনার মাধ্যমে ফান্ডটির কার্যক্রম শুরু হয়। তবে বিনিয়োগ-কার্যক্রম শুরু হলেও বাজারে তা খুব একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং এদিনও দুই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, তদন্ত প্রতিবেদন-পরবর্তী সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে সংশয়, তারল্য সংকটসহ নানা কারণে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা আস্থার সংকটে ভুগছেন। এ পরিস্থিতিতে তাঁদের অনেকেই একটু সুযোগ পেলে শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে ভালো সময়ের জন্য অপেক্ষা করার নীতি গ্রহণ করছেন।
এ ধরনের বিনিয়োগকারীরাই বাংলাদেশ ফান্ডের কার্যক্রম শুরু হওয়াটাকে শেয়ার বিক্রির জন্য একটি সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন। তাঁরা বলেন, বাংলাদেশ ফান্ড এলে শেয়ারের দাম বাড়বে। গত কয়েক দিন বাজারে এ গুঞ্জন ছিল। তাই সকালে যখন দাম বেড়েছে, তখনই প্রচুর বিক্রির চাপ চলে আসে। যা দরপতনকেই ত্বরান্বিত করে।
আবার বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ লোকসান সমন্বয় করতে নিটিংয়ের (আর্থিক সমন্বয় সুবিধার) দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। তাঁদের অনেকে সকালে শেয়ার কিনেছিলেন, বাংলাদেশ ফান্ডের কারণে দাম বাড়লে বিকেলে হাতে থাকা অন্য শেয়ার বিক্রি করে লেনদেন সমন্বয় করবেন এ আশায়।
কিন্তু দাম না বাড়লেও বিকেলে তাঁদের শেয়ার বিক্রি করে সমন্বয় করতে হয়েছে, যা বিক্রির চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আর এসব কারণেই গতকাল লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
গতকাল ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হলেও দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে ৭৩ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৮৯৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইতে গতকাল হাতবদল হয়েছে ২৪৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ২৫টির, কমেছে ২১৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল ৫৩১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১৫০ কোটি টাকা বেশি।

মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলাম মা হিসেবে নারী জাতিকে সম্মান ও মর্যাদার উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করেছে এবং মুসলিম পরিবারে সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্থান দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা নারীকে প্রদান করেছেন মাতৃত্বের অধিকার তথা গর্ভধারণের ক্ষমতা। মহান সৃষ্টিকর্তা নারী জাতির মাধ্যমে দুনিয়ায় মানব বংশধারা অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করেন। ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা জীববৈচিত্র্যের মতো বিশাল মানবসম্পদের উন্নয়ন, যথাযথ লালন-পালন ও রক্ষণাবেক্ষণে মায়েদের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। পৃথিবীর আদিকাল থেকে একজন মা তাঁর জীবন-যৌবন উজাড় করে সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় সন্তানের জন্য যে অসামান্য, অমূল্য ও অপরিশোধ্য অবদান রেখে যাচ্ছেন, তা যুক্তি ও প্রমাণের ভিত্তিতে ইসলামে স্বীকৃত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা তাঁদের প্রতি তোমাদের দয়ার বাহু নত করে দাও এবং বলো: হে আমার প্রতিপালক! তুমি তাঁদের প্রতি দয়া করো, যেভাবে শৈশবে তাঁরা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৪)
ইসলাম সন্তানের ওপর পিতা অপেক্ষা মাতার অধিকার বেশি রেখেছে। কেননা, নবজাত শিশুর লালন-পালনের জন্য মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম ও কষ্ট অপরিহার্য। সন্তান ধারণ ও প্রসবের নানা পর্যায়ে মাকে কঠিন বেদনায় ক্লিষ্ট হতে হয়। গর্ভধারণের সময়ে কষ্ট, প্রসবকালে অসহনীয় বেদনার কষ্ট সব সন্তানের ক্ষেত্রে মাতাকেই বহন করতে হয়। নয় মাস গর্ভে ধারণ করে মা তাঁর নবজাতককে অসহনীয় যন্ত্রণাভোগ করে জীবন-মরণের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে প্রসব বেদনার অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করে এ পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ করেন। গর্ভে ধারণকালীন এবং প্রসবকালীন কষ্টের পর নবজাত সন্তানের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পুষ্টি আল্লাহ তাআলা মায়ের স্তনে রেখেছেন বিধায় মাকে সর্বোচ্চ মেয়াদকাল দুই বছর, বিশেষ প্রয়োজনে আরও ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে দুধ পান করিয়ে তিল তিল করে বড় করতে হয়। একজন মায়ের গর্ভকালীন কষ্টের কথা আল্লাহ তাআলা ব্যক্ত করেছেন, ‘আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি, তার মা তাকে কষ্টের ওপর কষ্ট সহ্য করে গর্ভে ধারণ করে এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। সুতরাং আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।’ (সূরা লুকমান, আয়াত: ১৪) পবিত্র কোরআনে অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘তার মা তাকে অতি কষ্টে গর্ভে ধারণ করে এবং কষ্টের সঙ্গে প্রসব করে, তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়াতে লেগেছে ত্রিশ মাস।’ (সূরা আল-আহকাফ, আয়াত: ১৫)
কখনো আবার একটি সন্তানের ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই মাকে আরেকটি সন্তান গ্রহণের কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়। আল্লাহর নির্ধারিত সন্তান মাতৃগর্ভে আশ্রয় নেয়। এ ক্ষেত্রে সন্তান যদি কন্যা হয়, তাহলে দৈহিক কষ্টের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে মা তার ভবিষ্যৎ নিয়েও একটি অর্থহীন দুশ্চিন্তার বোঝা বহন করেন। তাই সন্তানের ভক্তি, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কোমল ব্যবহার পিতা-মাতার অবশ্যই প্রাপ্য। বিশেষ করে সন্তানের আন্তরিক ভালোবাসা, ভক্তি-শ্রদ্ধা মাতা পাওয়ার বেশি অধিকারী। মাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো, অতঃপর মাতার সঙ্গে, অতঃপর মাতার সঙ্গে, অতঃপর পিতার সঙ্গে, অতঃপর নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে।’ আল্লাহ তাআলা পিতার চেয়েও মায়ের অধিকার ও মর্যাদাকে কত উচ্চ পর্যায়ে স্থান দিয়েছেন, এ সম্পর্কে হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে, ‘একদা এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করল, আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার বেশি অধিকারী কে? তিনি বললেন, তোমার মা। ওই ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। ওই ব্যক্তি আবার জিজ্ঞাসা করল, তারপর? তিনি এবারও বললেন, তোমার মা। ওই ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, তারপর? তিনি এবার বললেন, তারপর তোমার পিতা।’ (বুখারি)
ইসলাম মাকে মহিমান্বিত করে প্রকৃতপক্ষে নারী জাতির মর্যাদাকেই সমুন্নত করেছে। ইসলাম মাতৃত্বের মর্যাদায় অভিষিক্ত করে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীকে দিয়েছে সম্মানজনক মর্যাদা। মা হিসেবে একজন নারীর ন্যায্যপ্রাপ্য অধিকার ও মর্যাদা সর্বোচ্চ যতটুকু হতে পারে তার পুরোপুরিই ইসলাম নারীকে দিয়েছে। সন্তানের সার্বক্ষণিক মঙ্গল কামনায় মায়েরা অনেক ত্যাগ করেন, যথাসম্ভব দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেন। সন্তানকে সুস্থ ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মায়েদের সাধনাকে অম্লান করতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুখনিঃসৃত বাণীতে ঘোষিত হয়েছে, ‘মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।’ (আহমাদ, নাসাঈ) মা তথা সমগ্র নারী জাতির প্রতি এর চেয়ে বড় সম্মান আর কী হতে পারে! ইসলাম নারী জাতিকে মা হিসেবে যে সুউচ্চ মর্যাদা ও সম্মান প্রদর্শন করেছে, তা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।
একজন মায়ের জীবনে বৃদ্ধকাল এক বিশেষ সময়, যখন তাঁর জীবন-যৌবন নিঃশেষ হয়ে যায়। ইসলাম এ সময়ে মানবসন্তানকে স্মরণ করিয়ে দিতে চায়, হে মানব জাতি! আজ তোমার যশ-খ্যাতি আছে, প্রতিপত্তি আছে। যখন তোমার হাত ছিল কিন্তু সে হাতে ধরার শক্তি ছিল না, তোমার পা ছিল কিন্তু হাঁটার শক্তি ছিল না, তোমার জবান ছিল কিন্তু বাক্শক্তি ছিল না, তখন মা তোমাকে কোলে-পিঠে মানুষ করেছে, তোমার কান্নার ভাষা বুঝতে পেরেছে, তোমাকে ভাষাজ্ঞান দিয়েছে, কথা বলতে শিখিয়েছে। কাজেই বয়োবৃদ্ধকালে পিতা-মাতা যখন শিশুর মতো হয়ে যায়, তখন তাঁদের সেবাযত্ন করা অবশ্যকরণীয়। প্রকৃতিগতভাবেই পিতা-মাতা বার্ধক্যে উপনীত হয়ে সন্তানের সেবাযত্নের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েন এবং তাঁদের জীবন সন্তানের দয়া ও কৃপার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এ সময়ে মাতা-পিতার যাতে সামান্যতম কষ্টও না হয়, সে জন্য সন্তানের প্রতি আল্লাহ তাআলা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, ‘তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন, তিনি ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত না করতে ও পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তোমাদের সামনে তাঁদের একজন বা উভয়েই বার্ধক্যে উপনীত হলে তাঁদের “উফ” বোলো না এবং তাঁদের ধমক দিয়ো না; আর তাঁদের সঙ্গে সম্মানসূচক নম্র কথা বলো।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৩)
সন্তানের গোটা জীবনই হচ্ছে মায়ের প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের সময়, এমনকি মায়ের মৃত্যুর পরও সন্তানের এ দায়িত্ব কখনো শেষ হয় না। মানবসন্তানেরা মায়ের ত্যাগের কথা বেমালুম ভুলে সত্য স্বীকার করতে চায় না বলেই বিশ্বজুড়ে গৃহে বা বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের প্রতি বঞ্চনা, অবহেলা আর অবজ্ঞার বার্তা শোনা যায়। তাই প্রত্যেক সন্তানসন্ততির অপরিহার্য কর্তব্য সব সময় মাতা-পিতার প্রতি আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধাশীল হওয়া, তাঁদের মান্যগণ্য করা, তাঁদের সঙ্গে নম্র ও সদয় আচরণ করা, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা, বার্ধক্যে উপনীত হলে যথাসাধ্য সেবা-শুশ্রূষা, প্রয়োজনবোধে তাঁদের ভরণপোষণ প্রদান করা এবং যত দূর সম্ভব তাঁদের জীবন আরামদায়ক করা। আর মাতা-পিতার ইন্তেকালের পর ছেলেমেয়েদের সমীচীন হবে তাঁদের ক্ষমা ও কল্যাণের জন্য কায়মনোবাক্যে আল্লাহর দরবারে দোয়া করা এবং কোনো অঙ্গীকার থাকলে যথাশিগগির তা পূরণ করা।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

ভূমিকম্প-সুনামির পর প্রথমবারের মতো কর্মীদের প্রবেশ

ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত জাপানের ফুকুশিমা শহরের দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো কেন্দ্রটির কর্মীরা প্রবেশ করেছেন।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিচালনা প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির (টেপকো) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১ নম্বর কেন্দ্রের ভেতরে গতকাল কর্মীরা কাজ শুরু করেন। তেজস্ক্রিয় শোধনের লক্ষ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রের ভেতরে বায়ু চলাচল-ব্যবস্থা চালু করতে তাঁরা কাজ করছেন।
গত ১২ মার্চ ভূমিকম্প ও সুনামির পর বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ১ নম্বর পারমাণবিক কেন্দ্রে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পারমাণবিক কেন্দ্রটির শীতলীকরণ-ব্যবস্থা নষ্ট হয় এবং উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তা নির্গত হতে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা কমার পরেই সেখানে নতুন শীতলীকরণ-ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে।
টেপকো বলেছে, ১২ জন কর্মী ১ নম্বর কেন্দ্রের ভেতরে তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে কাজ করে। চারজনের প্রতিটি দল সেখানে ১০ মিনিট করে অবস্থান করে। কর্মীদের বিশেষ নিরাপত্তা পোশাক, মুখোশ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সঙ্গে দেওয়া হয়।

বাগবোর সমর্থকদের ঘাঁটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে

আইভরি কোস্টের সরকারি বাহিনী গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট লরা বাগবোর সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজধানী আবিদজানের ইয়োপুওগন নামক স্থান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
এত দিন বাগবোর সমর্থকেরা ইয়োপুওগনে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছিল। তবে সামরিক বাহিনীর এক কমান্ডার জানান, সেখানে বাগবোর সমর্থকেরা পরাস্ত হয়েছে। বাগবো ও প্রেসিডেন্ট আলাসেন ওয়াতারার বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইয়োপুওগনে তুমুল লড়াই হয়েছে।
আইভরি কোস্টের প্রধানমন্ত্রী গুইলাওমে সরো ইয়োপুওগন এলাকা পরিদর্শন শেষে জানান, ওই এলাকার সড়কগুলোয় অনেক মৃতদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। তিনি বলেন, ‘বেসামরিক বাহিনীর সদর দপ্তরে আমরা একটি গণকবরের সন্ধান পেয়েছি। এতে অনুমান করা যায়, সেখানে কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।’ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রেডক্রসের কর্মকর্তারা সেখান থেকে প্রায় ৭০টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাগবোর অনুগত যোদ্ধারা এলাকাটিকে ত্রাসের রাজত্বে পরিণত করেছিল। তারা সশস্ত্র অবস্থায় ছিল এবং খেয়াল-খুশিমতো যাচ্ছেতাই করত।
এদিকে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আইভরি কোস্টের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও তাঁর সহযোগীদের সাত কোটি সুইস ফ্রাঁ জব্দ করেছে।
গত বছরের নভেম্বরে আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হন বাগবো। কিন্তু ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানোয় বাগবোর অনুগত বাহিনীর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ওয়াতারার বাহিনীর লড়াই শুরু হয়। ওই লড়াইয়ে এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়। গত মাসে গ্রেপ্তার হন বাগবো।

যুক্তরাজ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত

যুক্তরাজ্যে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার প্রশ্নে গতকাল বৃহস্পতিবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার শেষ রাত নাগাদ ভোটের ফল পাওয়া যেতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন জোট এই গণভোট নিয়ে চাপের মধ্যে রয়েছে। জোটের প্রধান শরিক দল প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের কনজারভেটিভ পার্টি বর্তমান নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের বিপক্ষে। কিন্তু অন্য শরিক দল উপপ্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগের লিবারেল ডেমোক্র্যাটস সংস্কারের পক্ষে। গত বছরের মে মাসে সাধারণ নির্বাচনের পর কনজারভেটিভ পার্টিকে সমর্থন দেওয়ার জন্য লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের অন্যতম শর্ত ছিল নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার।
নির্বাচনের আগে এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘জনগণ নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের পক্ষে ভোট দিলে যুক্তরাজ্যে বিপর্যয় নেমে আসবে। দেশের জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান নির্বাচনব্যবস্থা দারুণ কার্যকর। তাই আমরা এর বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারি না।’
এদিকে ভোটের আগের রাতে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন ও উপপ্রধানমন্ত্রী ক্লেগ বলেন, গণভোটের ফল যা-ই হোক না কেন, এর প্রভাব ক্ষমতাসীন জোটে পড়বে না। জোট অক্ষুণ্ন থাকবে।
যুক্তরাজ্যে বর্তমানে ‘ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট’ (যে প্রার্থী বেশি ভোট পাবেন, তিনিই বিজয়ী) ভোটব্যবস্থা চালু রয়েছে।
গতকাল গ্রিনিচ মান সময় ০৬০০টা থেকে ২১০০টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। তবে ভোটের ফল জানতে আজ শুক্রবার শেষ রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ব্রিটিশ প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত একটি জরিপে দেখা যায়, ৬৮ শতাংশ মানুষ ভোটব্যবস্থা পরিবর্তনের বিপক্ষে রয়েছে। এর পক্ষে রয়েছে ৩২ শতাংশ মানুষের সমর্থন। অন্যদিকে দ্য সান-এ প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী ভোটব্যবস্থা পরিবর্তনের বিপক্ষে মত দেয় ৬০ শতাংশ মানুষ, পক্ষে ৪০ শতাংশ।
যুক্তরাজ্যে ১৯৭৫ সালের ৬ জুনের পর এই প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হলো। তবে এবারের গণভোটে কোনো পক্ষই তাদের বার্তা জনগণের কাছে সেভাবে পৌঁছে দিতে পারেনি বলে মনে করা হচ্ছে। প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের বিয়ে এবং মার্কিন অভিযানে ওসামা বিন লাদেনের নিহত হওয়ার ঘটনায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
বর্তমান ভোটব্যবস্থার পক্ষে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন ও কনজারভেটিভ পার্টির অবস্থান নেওয়ার পক্ষে যুক্তি হলো—এটি সুষ্ঠু, সহজ ও কার্যকর একটি ব্যবস্থা। এতে ভোটাররা অজনপ্রিয় কোনো সরকারকে বিদায় করে দিতে পারে। অন্যদিকে উপপ্রধানমন্ত্রী ক্লেগ ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের মত হলো, বর্তমান পদ্ধতিতে তাদের মতো ছোট দলগুলোর প্রতি জনসমর্থনের সঠিক মূল্যায়ন হয় না। বর্তমান ব্যবস্থা সংস্কারের পক্ষে তারা অনেক দিন ধরেই প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড ব্যক্তিগতভাবে বর্তমান ভোটব্যবস্থা সংস্কারের পক্ষে। তাঁর মতে, ভোটব্যবস্থা সংস্কার করা সম্ভব হলে ব্রিটিশ রাজনীতিতে পরিবর্তন আসবে। এই গণভোটকে একটি সুযোগ বলেও মনে করেন তিনি। এই ইস্যুতে তাঁর দল লেবার পার্টিতে অবশ্য বিভক্তি রয়েছে। তবে বড় অংশটিই লিবারেল ডেমোক্র্যাটসদের মতো ভোটব্যবস্থা সংস্কারের পক্ষে।

আল-কায়েদা নেতাকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনে ড্রোন হামলা

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের আল-কায়েদার প্রধানকে লক্ষ্য করে মার্কিন চালকবিহীন বিমান ড্রোন থেকে হামলা চালানো হয়েছে। হামলা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় আল-কায়েদার ওই নেতা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে স্থানীয় দুই ব্যক্তি নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার এ হামলা চালানো হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর এক মুখপাত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এ তথ্য জানান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিরাপত্তা বাহিনীর ওই মুখপাত্র বলেন, আল-কায়েদার ওই নেতা গাড়ি করে স্থানীয় ওই দুই সদস্যের বাড়ি যাচ্ছিলেন। এ সময় ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। গাড়ি থেকে বেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ওই দুই ব্যক্তি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত হন। সেটি মার্কিন ড্রোন ছিল কি না, এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেননি ওই মুখপাত্র।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ওই দুই ব্যক্তির নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, নিহত ওই দুই ব্যক্তি সহোদর ছিলেন। তাঁদের নাম আবদুল্লাহ ও মোবারক আল-হারাদ।
স্থানীয় লোকজন জানান, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সাবওয়া প্রদেশের নিসাব শহরে মার্কিন ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে দেখেছেন তাঁরা। এতে ঘটনাস্থলেই ওই দুই সহোদরের মৃত্যু হয়।

সৌদি আরবে শীর্ষ আল-কায়েদা নেতার আত্মসমর্পণ

আল-কায়েদার শীর্ষস্থানীয় নেতা খালেদ হাজাল আল-কাতানি সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত বুধবার এ তথ্য জানায়। কাতানি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত ৪৭ জন মোস্ট ওয়ান্টেড আল-কায়েদা নেতার একজন।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মনসুর আল-তুর্কির বরাত দিয়ে সরকারি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর সংগঠনটির শীর্ষস্থানীয় নেতা হিসেবে আল-কাতানি প্রথম আত্মসমর্পণ করলেন। গত রোববার পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে ওসামা নিহত হন।
আল-তুর্কি আরও জানান, কাতানিকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

চেচনিয়ায় আল-কায়েদার এক নেতা নিহত

আল-কায়েদার এক শীর্ষ নেতাকে চেচনিয়ায় হত্যা করেছে রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী। নিহত ওই নেতার নাম দোগার সেভদেৎ। তিনি উত্তর ককেসাস অঞ্চলে আল-কায়েদার বিদেশি সদস্যদের সমন্বয় করতেন। রাশিয়ার জাতীয় সন্ত্রাস-দমন কমিটি গত বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।
নিহত সেভদেৎ তুর্কি বংশোদ্ভূত। তিনি ১৯৯১ সালে ককেসাস অঞ্চলে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকেই একাধিক সন্ত্রাসী হামলা পরিচালনা করেন তিনি। গত মঙ্গলবার চেচনিয়ার ভেদেসেঙ্ক এলাকায় রুশ নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের সময় সেভদেৎ নিহত হন।
এ ঘটনার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে রুশ নিরাপত্তা বাহিনী ওই অঞ্চলে সৌদি বংশোদ্ভূত মোগানেদ নামের আরও একজন দুর্ধর্ষ আল-কায়েদা জঙ্গিকে হত্যা করে। বিশ্লেষকদের দাবি, গত কয়েক বছরে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে এটাই ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর বড় ধরনের সাফল্য।
ওসামা হত্যার ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমনে এটা একটা বিরাট সাফল্য।’

যুক্তরাজ্যে মুম্বাই ধাঁচে হামলার ষড়যন্ত্র আল-কায়েদার?

ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত মার্কিন জঙ্গি নেতা আনোয়ার আল-আওলাকি যুক্তরাজ্যে মুম্বাই ধাঁচে হামলা চালানোর ষড়যন্ত্র করছেন। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান-এ পাঠানো একটি ই-মেইল বার্তায় তাঁর এই ষড়যন্ত্রের কথা জানা যায়। তিনি আল-কায়েদার একজন শীর্ষস্থানীয় প্রচারকারী।
দ্য সান-এর একজন অনুসন্ধানী প্রতিবেদক যুক্তরাজ্যভিত্তিক উগ্রপন্থী ‘কিউ খান’ সেজে আওলাকির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আওলাকি তাঁর কাছে ওই ই-মেইলটি পাঠান। ই-মেইলে স্বাক্ষরের জায়গায় লেখা হয়েছে, আরব উপদ্বীপের আল-কায়েদার ভাইয়েরা। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬ ই-মেইলের তথ্যের বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে।
ই-মেইল বার্তায় ওই প্রতিবেদককে উদ্দেশ করে আওলাকি বলেন, ‘আমরা প্রার্থনা করি, আল্লাহ তাঁর ধর্মের জন্য আপনাদের কাজ করার শক্তি দিন। আপনারা যদি একটি দলের সদস্য হয়ে থাকেন এবং পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস থাকে, তাহলে আপনারা একসঙ্গে কাজ করতে পারেন। আপনারা যদি একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে আপনাদের তাৎক্ষণিকভাবে ঝাঁপিয়ে পড়া উত্তম।’ তিনি বলেন ‘এসব অভিযানে আপনারা পাইপ বোমা, গুপ্তহত্যা বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে জনাকীর্ণ জায়গায় শত্রুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন।’
২০০৮ সালের নভেম্বরে ভারতের মুম্বাইয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়। এতে ১৬৬ জন নিহত হন।

ইরাকে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২১ পুলিশ নিহত

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের দক্ষিণে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার কমপক্ষে ২১ পুলিশ নিহত ও ৭৫ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ এ কথা জানায়। তবে এখনো কেউ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি। এ ছাড়া বাগদাদের কেন্দ্রস্থলে রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে আরও একজন বেসামরিক ইরাকি প্রাণ হারিয়েছেন।
দক্ষিণ বাগদাদের বাবিল প্রদেশের কাউন্সিল সিকিউরিটি কমিটির প্রধান হায়দার আল-জাজুর জানান, প্রদেশটির শিয়া অধ্যুষিত হিল্লা শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত থানাটি বোমা হামলায় পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। বিস্ফোরণে থানার পার্শ্ববর্তী কয়েকটি বাড়ি এবং দোকানঘরও বিধ্বস্ত হয়। আত্মঘাতী হামলাকারী থানায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের পালা বদলের মধ্যবর্তী সময়ের সুযোগ নেয়। ওই ফাঁকে সে থানা এলাকার প্রধান গেট দিয়ে একটি গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়ে। প্রায় ১২ ফুট পর্যন্ত ঢোকার পর গাড়িটি বিস্ফোরিত হয়। সকাল সাতটার দিকে এই হামলা চালানো হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একটি হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসক জানান, হতাহত সবাই পুলিশের সদস্য। আহতদের মধ্যে ৩০ জনের অবস্থা গুরুতর। একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে একজন পুলিশের ক্যাপ্টেন ও একজন ফার্স্ট লেফটেন্যান্টও আছেন। এ ছাড়া আহতদের মধ্যে আছেন আরও তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
বাবিল প্রদেশের কাউন্সিল প্রধান কাদহিম মাজিদ আল-তাওমান জানান, গাড়িটিতে ১৫০ কিলোগ্রামের মতো বিস্ফোরক বোঝাই ছিল।
এদিকে বাগদাদের কেন্দ্রস্থলে আল-নিধাল সড়কের পাশে পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে গতকাল সকালে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ কথা জানান।
পূর্ণ দায়িত্ব তুলে দিয়ে মার্কিন সেনাদের পাততাড়ি গুটানোর মাত্র কয়েক মাস আগে দেশটিতে আত্মঘাতী হামলার মাত্রা বেড়ে গেছে। গত এপ্রিলে এ রকম হামলায় ২১১ ইরাকি নিহত হয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

ডিম সেদ্ধ করতেও জানেন না!

বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন, প্রতি ২০ জন ব্রিটিশ নারীর একজন ডিম সেদ্ধ করতে জানেন না। জানেন না সকালের নাশতা পর্যন্ত তৈরি করতে।
নতুন একটি গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। মোট দুই হাজার পুরুষ ও নারীর ওপর জরিপ চালিয়ে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ‘গুড ফুড’ নামের একটি টেলিভিশন চ্যানেল।
গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রিটেনের গড়পরতা নারীরা বড়জোর সাত ধরনের রান্না জানেন, যা তাঁদের মায়েদের চেয়ে অর্ধেকেরও কম। বেশির ভাগ নারী জানিয়েছেন, তাঁদের চেয়ে তাঁদের স্বামীদের রান্না ভালো।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন নারীর মধ্যে একজনেরও বেশি খুব সাধারণ রান্না পর্যন্ত জানেন না। সামান্য তরকারি রান্না করতেই ঘাম ঝরে যায় তাঁদের। প্রতি ছয়জনের একজন কেক তৈরি করতে পারেন না। এমনকি রোস্ট তৈরিতেও পিছিয়ে তাঁরা। প্রতি ১০ জনের একজন বই অথবা অন্যের সাহায্য ছাড়া তিনটির বেশি রান্না করতে পারেন না। যাঁদের নিয়মিত রান্নাঘরে যাতায়াত আছে তাঁদের প্রতি ১০ জনের ৮ জন বারবার একই রান্না করেন।

গ্রাউন্ড জিরোতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করলেন ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গতকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোতে ওয়ান-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন। তিনি সেখানে লাল, সাদা ও নীল রংয়ের ফুলের সমন্বয়ে তৈরি করা একটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পাকিস্তানে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার চার দিন পর গ্রাউন্ড জিরোতে গেলেন ওবামা।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার জন্য ওসামার সংগঠন আল-কায়েদাকে দায়ী করা হয়। ওই হামলায় অন্তত তিন হাজার মানুষ নিহত হয়। পরে হামলাস্থলের নামকরণ করা হয় গ্রাউন্ড জিরো।
গ্রাউন্ড জিরোতে ওবামা মাথা নুইয়ে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে হামলায় নিহত ব্যক্তিদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি সেখানে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে কয়েক মুহূর্ত নীরবতা পালন করেন। পরে ওই হামলায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ওবামা।
ওবামা ওই হামলার পর উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া দমকল বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। উদ্ধারকাজ চলার সময় দমকল ও পুলিশের বেশ কিছু সদস্য নিহত হন।
ওবামা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশকেও ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে বুশ ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান।
১ মে পাকিস্তানে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে নিহত হন আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন ।

পাকিস্তানে আর কেউ অভিযান চালালে পরিণতি হবে ভয়াবহ

ওসামা বিন লাদেনকে হত্যায় যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে পাকিস্তান ভূখণ্ডে সশস্ত্র অভিযান চালিয়েছে, সেভাবে অন্য কেউ অভিযান চালানোর চেষ্টা করলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলে ইসলামাবাদ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র গত বুধবার বলেছিল, প্রয়োজন পড়লে পাকিস্তানে আবারও একই ধরনের অভিযান চালানো হবে। এর পরদিন পাকিস্তান এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করল।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জে কারনি গত বুধবার বলেছেন, শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসীদের ধরতে বা তাঁদের হত্যা করতে প্রয়োজনে পাকিস্তানে আবারও অভিযান চালানো হবে
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব সালমান বশির গতকাল বৃহস্পতিবার এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের ধৃষ্টতা ও ভুলের ফল হবে চরম বিপর্যয়মূলক। সামরিকভাবেই পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনা ফের ঘটলে তার পরিণতি যে ভয়াবহ হবে, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।’
সালমান বশির মুখে না বললেও এ হুঁশিয়ারির মধ্য দিয়ে তিনি মূলত চির প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারতকেই সতর্ক করে দিয়েছেন। তা ছাড়া এর মধ্য দিয়ে নিজ দেশের জনগণের কাছেও একটা বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, কোনো বিদেশি শক্তি হামলা চালালে তা মোকাবিলা করে দেশ রক্ষা করার মতো সামর্থ্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আছে।
পাকিস্তান কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই ওসামা বিন লাদেনকে হত্যায় গত রোববার ইসলামাবাদের অদূরে অ্যাবোটাবাদ শহরে হামলা চালায় মার্কিন সেনা কমান্ডোরা।
অ্যাবোটাবাদের মিলিটারি একাডেমির কাছে আল-কায়েদার প্রধান নেতা কীভাবে এতদিন আত্মগোপন করে ছিলেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে পাকিস্তান। পক্ষান্তরে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই সে দেশে হামলা চালানোয় যুক্তরাষ্ট্র সরকারও সমালোচনার মুখে পড়েছে।
বলা হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে সালমান বশির কোনো মন্তব্য করেননি। কিন্তু তিনি বলেছেন, লাদেনকে হত্যার ঘটনায় ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো ফাটল ধরেনি। বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের সম্পর্ক আগের মতোই আছে।
আল-কায়েদার সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনী অথবা এর প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই জড়িত আছে বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে, তা উড়িয়ে দিয়েছেন সালমান বশির। তিনি বলেছেন, ‘এটা বলা সহজ যে আইএসআই ও সরকারের ভেতরকার কেউ আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু এই ধারণা ভুল। এটা মিথ্যা অভিযোগ।’ তিনি বলেন, ‘আইএসআইর সমালোচনা করা শুধু অন্যায়ই নয়, এটা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।’
ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার পর প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি বলেছিলেন, বিন লাদেনকে খুঁজে না পাওয়ার ব্যর্থতা পাকিস্তানের একার নয়। পররাষ্ট্রসচিব গিলানির সেই বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেছেন, ‘এটা গোয়েন্দা-ব্যর্থতা হয়ে থাকলে তা সারা বিশ্বেরই গোয়েন্দাদের ব্যর্থতা।’
এদিকে পাকিস্তানের মূল ধারার রাজনৈতিক দল জামায়াত-ই-ইসলামি মার্কিন অভিযানের নিন্দা জানিয়ে আজ শুক্রবার প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। অনুমতি ছাড়াই পাকিস্তানের মাটিতে হামলা চালানোয় সে দেশে লাদেনের আদর্শের অনুসারীরা এর প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে পারে বলে আগেই ধারণা করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে কিছুসংখ্যক গণমাধ্যমও তাদের পাশে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মরিনহো শরণে ফার্গুসন!

রিয়াল মাদ্রিদের অহংকার চূর্ণ করেছে বার্সেলোনা। ছিঁড়েছে হোসে মরিনহোর পাতা কৌশলের ফাঁদ। অনেকের মতেই অন্য গ্রহের ফুটবল খেলে চলেছে পেপ গার্দিওলার দল। ২৮ মে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ওয়েম্বলিতে এই বার্সেলোনার সামনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
ইংলিশ পরাশক্তি ম্যানইউর কি একটু ভয়-ভয় লাগছে? মোটেই না।
ম্যানইউ ভয় পাওয়ার দল নয়—কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসনের কথায় আত্মবিশ্বাসের স্ফুরণ, ‘নিঃসন্দেহে বার্সা এই মুহূর্তের সেরা দল। চোখ জুড়ানো ফুটবল খেলে তারা। তবে আমারা কাপ জিততে পারি। ওয়েম্বলিতে পর্যাপ্ত আত্মবিশ্বাস নিয়েই যাচ্ছি আমরা। এটা ঠিক, আমরা দুর্দান্ত একটা দলের বিপক্ষে খেলছি। তবে আমরা তাদের ভয় পেতে পারি না।’
ম্যানইউ কোচ বার্সেলোনাকে ভয় পাচ্ছেন না, কারণ তিনি মনে করেন না দলটি অপ্রতিরোধ্য। দুর্দম্য বার্সা রিয়ালের কাছে হেরেছে স্প্যানিশ কাপের ফাইনালে। স্প্যানিশ লিগেও হেরেছে গত সপ্তাহে। তবে কাপের ফাইনালে হারকেই বড় করে দেখছেন ফার্গুসন। ওই পরাজয়কে টেনে এনে ফার্গুসন বলেছেন, ‘বার্সেলোনা অপ্রতিদ্বন্দ্বী কোনো দল নয়।’
আর ফাইনালটা বলতে গেলে ঘরের মাঠেই খেলবে ‘রেড ডেভিল’রা। তবে ওয়েম্বলি নয়, ইউরো-শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইকেই আত্মবিশ্বাসের উৎসব ভাবেন রুনিদের গুরু, ‘টুর্নামেন্টটা ইউরোপের সেরা। এখানে সেরা দলগুলোই খেলে। এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠাটাই একটা অর্জন। তবে শিরোপাই আমাদের লক্ষ্য।’
শিরোপা জিততে হলে কী করতে হবে, তা ভালো করেই জানেন ম্যানইউ কোচ। ভালো খেলা অবশ্যই বড় শর্ত, এর সঙ্গে বার্সেলোনাকে আটকানোর কার্যকর কৌশলও খুঁজতে হবে। স্প্যানিশ কাপের ফাইনালে বার্সাকে কৌশলেই ঘায়েল করেছে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদ। তাহলে বার্সাকে আটকানোর কৌশল জানতে একসময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী মরিনহোর শরণ নেবেন ফার্গুসন?
শিরোপা জয় অথবা ২০০৯ ফাইনালে বার্সার কাছে হারের প্রতিশোধের টোটকা খুঁজতে মরিনহোরও শরণাপন্ন হতে পারেন ম্যানইউ কোচ। ‘আমি এমনিতেই তার সঙ্গে অনেক কথা বলি। গত সপ্তাহেও কথা হয়েছে আমাদের। আমরা বার্সেলোনা সম্পর্কে জানতে আমাদের জানাশোনার ওপরই নির্ভর করব। এমন নয় যে, আগে কখনো বার্সার মুখোমুখি আমরা হইনি! তবে মরিনহোর কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়াই যায়। সে সব সময়ই সাহায্য করতে প্রস্তুত’—বলেছেন গত চার বছরে তৃতীয়বারের মতো ম্যানইউকে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে তোলা ফার্গুসন।

দিলশানকে নিয়ে সন্দিহান ওয়াটসন

তিলকারত্নে দিলশানকে অধিনায়ক করায় আলোচনার ঝড় খুব একটা ওঠেনি। হয়তো আইপিএলের ব্যস্ততায়। হয়তো বিকল্প খুব বেশি ছিল না বলে। তবে আইপিএল খেলতে থাকা একজনই প্রশ্ন তুললেন প্রথম। নামটাও অবাক করার মতো। কোনো শ্রীলঙ্কান নন, দিলশানের নেতৃত্বের সামর্থ্য নিয়ে সন্দিহান শেন ওয়াটসন!
শ্রীলঙ্কার নতুন অধিনায়ককে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারের হঠাৎ মন্তব্য অনেকের কাছেই বিস্ময়কর লাগতে পারে। তবে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের ঐতিহ্যের দিকে তাকালে একে চমকও বলা যাবে না। অস্ট্রেলিয়ার নতুন সহ-অধিনায়ক ওয়াটসন। আর মাইকেল ক্লার্ক ও ওয়াটসন জুটির প্রথম পরীক্ষার নাম শ্রীলঙ্কা। আগামী আগস্টে দিলশানের দেশেই টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। মনস্তাত্ত্বিক লড়াইটা আগেই শুরু হয়ে গেল অস্ট্রেলিয়ার দিক থেকে।
ওয়াটসনের ধারণা, সাঙ্গাকারার সত্যিকারের উত্তরসূরি হওয়াটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দিলশানের, ‘শ্রীলঙ্কার তো বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটেরই অন্যতম সেরা ক্রিকেটার সাঙ্গাকারা। ক্রিকেট মাঠে তো বটেই, সব জায়গাতেই ও দারুণভাবে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। সাঙ্গাকারার ব্যক্তিত্ব আর অধিনায়কত্ব—দুটিই ধরে রাখা খুব কঠিন হবে দিলশানের জন্য। এটা হবে ওর জন্য খুব বড় একটা চ্যালেঞ্জ।’

প্রথম ম্যাচেই কিংসলের বাজিমাত

প্রথম ম্যাচেই দু-দুটি গোল। আর নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার কিংসলে শিগোজির জোড়া গোলেই কাল ব্রাদার্স ৩-২-এ হারাল আরামবাগকে। গ্রামীণফোন বাংলাদেশ লিগের দ্বিতীয় পর্বে ‘কমলা’ দলের প্রথম জয়।
এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের অষ্টম স্থান থেকে ছয়ে উঠে এল ব্রাদার্স। ১৩ ম্যাচে ৪ জয় ও ৪ ড্রয়ে ১৬ পয়েন্ট তাদের। সমান ম্যাচে ৪ জয় ও ৪ ড্র আরামবাগেরও। পয়েন্টে ব্রাদার্সের সমান হলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় সপ্তম স্থানে আরামবাগ।
পারিশ্রমিক নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় দল ছেড়ে দেশে ফিরে গেছেন ঘানার এনক বেনটিল ও ক্যামেরুনের বিচা রিচার্ডস। তবে দুই ফরোয়ার্ডকে হারানোর ধাক্কাটা ব্রাদার্সকে বুঝতেই দেননি নবাগত কিংসলে। তাঁর খেলার কথা ছিল ফরাশগঞ্জের হয়ে। কিন্তু আইটিসি (ছাড়পত্র) জটিলতায় ফরাশগঞ্জে খেলা হয়নি। ছাড়পত্র এনে ব্রাদার্স নিয়ে নেয় কিংসলেকে। আর প্রথম ম্যাচেই কিংসলে ভরসা দিলেন দলটিকে।
এভারটনের সঙ্গে কিংসলের সমন্বয়টা শুরু থেকেই ভালো হচ্ছিল। ৭ মিনিটে ওই এভারটনের পাস থেকে প্রথম গোল করেন কিংসলে (১-০)। ১২ মিনিটে কাশেমের কর্নার থেকে লাইবেরিয়ান কুপারের হেডে সমতায় ফেরে আরামবাগ (১-১)। তখনই যেন বোঝা গিয়েছিল অনেক নাটক জমিয়ে রেখেছে ম্যাচটি। চার মিনিট পর ওই কিংসলেই গোল করে এগিয়ে নেন আরামবাগকে (২-১)। দ্বিতীয়ার্ধে কিংসলের চেয়ে বেশি তৎপর ছিলেন এভারটন। ৬৫ মিনিটে এই ব্রাজিলিয়ানের ‘বাইসাইকেল’ কিক বারের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। তবে দুই মিনিট পরই গোল পেয়ে যান এভারটন (৩-১)। ৮৬ মিনিটে পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছেন আরামবাগের বদলি খেলোয়াড় মামুন (৩-২)।
জয়ের ধারায় ফিরতে পেরে দারুণ খুশি ব্রাদার্স কোচ খোন্দকার ওয়াসিম ইকবাল, ‘গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড় ছাড়া খেলতে কষ্ট হয়েছে। তার পরও ভালোই খেলেছে ছেলেরা। প্রথম ম্যাচ হিসেবে কিংসলের খেলায় আমি সন্তুষ্ট।’
আজকের খেলা: মুক্তিযোদ্ধা-শেখ জামাল ধানমন্ডি (বিকেল ৫টা, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম)।

ব্রাজিলের ফুটবলে কালো রাত

কোপা লিবার্তোদোরেসে আর্জেন্টিনার পরই ব্রাজিলের ক্লাবগুলো। গত বছর পর্যন্ত আর্জেন্টিনার ক্লাবগুলো কোপা লিবার্তোদোরেস জিতেছে ২২ বার, ব্রাজিলে শিরোপা গেছে ১৪ বার। গত বছরও এই টুর্নামেন্ট জিতেছে ব্রাজিলের ইন্টারন্যাসিওনাল। কিন্তু এবার কোপা লিবার্তোদোরেসে হঠাৎ করেই যেন ব্রাজিলিয়ান ক্লাবগুলোর গায়ে লাগল মরণবাতাস। শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিলের চারটি ক্লাব।
চারটি ক্লাবেরই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে পরশু রাতে। গতবারের চ্যাম্পিয়ন ইন্টারন্যাসিওনাল ছিটকে পড়েছে নিজেদের মাঠে, উরুগুয়ের পেনারলের কাছে ২-১ গোলে হেরে। প্রথম লেগ ৩-১ গোলে জিতে আসুনসিয়নে গিয়েছিল ফ্লুমিনেন্স। কিন্তু প্যারাগুয়ের ক্লাব লিবার্তাদের কাছে হেরে এসেছে ৩-০ গোলে। দুবারের চ্যাম্পিয়ন গ্রেমিও চিলির ইউনিভার্সিদাদ কাতোলিকার কাছে হেরেছে ১-০ গোলে।
ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে হতাশার ফেবারিট ক্রুজেরোর বিদায়। সম্ভাব্য ১৮ পয়েন্টের মধ্যে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে পর্বে ওঠা দলটি কলম্বিয়ার ওনচে কালডাসের কাছে হেরেছে ২-০ গোলে।
এই মড়কের মধ্যেও লিবার্তোদোরেস কাপে ব্রাজিলের পতাকা উড়িয়েছে শুধু সান্তোস। মেক্সিকোর আমেরিকাকে হারিয়ে (সব মিলিয়ে ১-০) শেষ আটে উঠেছে পেলে-রবিনহো আর এখন নেইমারের ক্লাব।

ইংল্যান্ডের এখন তিন অধিনায়ক

গুঞ্জন চলছিল বিশ্বকাপের পর থেকেই। ইংল্যান্ড ও ওয়েলশ ক্রিকেট বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় কাল সত্যি হলো সেই গুঞ্জনটাই। ইংল্যান্ডের ওয়ানডে অধিনায়ক মনোনীত হয়েছেন অ্যালিস্টার কুক, অধিনায়ক হওয়ার আগ পর্যন্ত যিনি ছিলেন ওয়ানডে দলেরই বাইরে। অধিনায়কত্বের সঙ্গে ওয়ানডে ক্রিকেটও ছেড়েছেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস। তবে টেস্টের নেতৃত্ব স্ট্রাউসের কাঁধেই থাকছে। অনুমিত এই পরিবর্তনটার সঙ্গে বিস্ময় হয়ে এসেছে আরেকটি ঘোষণা। পল কলিংউডকে সরিয়ে টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক করা হয়েছে স্টুয়ার্ট ব্রডকে। ক্রিকেটের জনকদের হাত ধরে জন্ম হলো আরেকটি ইতিহাস—তিন ধরনের ক্রিকেটে ভিন্ন তিন অধিনায়ক!
এমনিতে ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে খারাপ করছিলেন না স্ট্রাউস। বিশ্বকাপে জোনাথন ট্রটের পর ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ রানসংগ্রহকারী ছিলেন তিনিই (৪৭.৭১ গড়ে ৩৩৪)। তবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে হারার পর থেকেই শোনা যাচ্ছিল স্ট্রাউস সরে দাঁড়াতে পারেন বা তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। সবচেয়ে বড় কারণ বয়স। ৩৪ বছর বয়সী স্ট্রাউস আগামী বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন না নিশ্চিতভাবেই। ভবিষ্যতের কথা ভেবেই নেতৃত্বে এই পরিবর্তন।
কুককে ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ অধিনায়ক হিসেবে ভাবা হচ্ছে জাতীয় দলে ঢোকার আগে থেকেই। স্ট্রাউসের বিশ্রামে গত বছর বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ সফরে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কুকই। তবে বাঁহাতি ওপেনারের সবচেয়ে বড় বাধা ছিল ওয়ানডে খেলার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন। এই প্রশ্ন তাঁর সঙ্গী ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই। ওয়ানডে দলে এ জন্য কখনোই নিয়মিত ছিলেন না, আশেজে ৭৬৬ রান করার পরও ওয়ানডে দলে জায়গা হয়নি। অভিষেকের পর ইংল্যান্ডের খেলা ১১৮ ওয়ানডের কেবল ২৬টিতেই খেলেছেন। একটি সেঞ্চুরি আর ৫টি ফিফটি আছে, তবে সত্তরের সামান্য বেশি স্ট্রাইক রেট বড় একটা প্রশ্ন হয়ে ছিল। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে দেখে ইংল্যান্ডের টিম ম্যানেজমেন্টের বিশ্বাস, কুকের ওয়ানডে খেলায় অনেক উন্নতি হয়েছে। গত বছর বাংলাদেশে এসেও তিন ওয়ানডেতে খারাপ করেননি, করেছিলেন ৬৪, ৬০ ও ৩২।
কুকের নিজেরও বিশ্বাস, আবার রঙিন জার্সি গায়ে তোলার জন্য তিনি প্রস্তুত, ‘সীমিত ওভার ক্রিকেটের খেলা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আমি অনেক কাজ করেছি। নিজেকে কখনোই শুধু টেস্ট ব্যাটসম্যান ভাবিনি, জানি ওয়ানডেতে টপ-অর্ডারে অনেক কিছুই দেওয়ার আছে আমার। গত দুই বছরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দলকে সাফল্যের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্ট্রাউস, দলকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমি রোমাঞ্চিত।’ শীর্ষ পর্যায়ে অধিনায়কত্বের কোনো অভিজ্ঞতা নেই, তবে কুকের মতোই রোমাঞ্চ ছিল স্টুয়ার্ট ব্রডের কণ্ঠেও। বয়স আর ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ—সরে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে অনুমিত এই দুই কারণই বললেন স্ট্রাউস। জানালেন নতুন দুই অধিনায়ককে নিয়ে ইংলিশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে চান।
তিন অধিনায়ক নিয়ে নেতিবাচক ভাবনাগুলোই প্রথমে আসে। তবে শিষ্যদের মতো রোমাঞ্চিত ইংল্যান্ড কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারও, ‘এ ধরনের কিছু এর আগে কখনো হয়নি, এ জন্যই সুযোগটা পেয়ে আমি রোমাঞ্চিত। আমরা ঠিক শতভাগ নিশ্চিত নই এটা কতটুকু সফল হবে বা হবে কিনা। কিন্তু চেষ্টা করতে তো দোষ নেই।’
কে জানে, হয়তো এই চেষ্টাই ইংলিশ ক্রিকেটে নিয়ে আসবে নতুন দিন!

ম্যানইউকেই পেল বার্সেলোনা

একটা জুয়া, একটা বিনিদ্র রাত এবং অতঃপর জয়ের আনন্দ। জুয়াটা ধরেছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন, কী একাদশ সাজাবেন তা নিয়ে। সেমিফাইনালের প্রথম লেগ জেতা দলের ৯ জনকে বসিয়ে রেখেছিলেন। এর পরও ওল্ড ট্রাফোর্ডে পরশু দ্বিতীয় লেগে শালকেকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ম্যানইউ। ২৮ মে ওয়েম্বলির ফাইনালে বার্সার সামনে দাঁড়াবে ফার্গুসনের দল।
দলে পরিবর্তন আনা নিয়ে বিনিদ্র রাত কাটানো ফার্গুসন ভাসছেন আনন্দে। ‘এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। গত কয়েকটা দিন আমি এটা নিয়েই শুধু ভেবেছি। এক অর্থে ব্যাপারটি জুয়া খেলার মতো। আগের রাতে তো আমি ঘুমাতেই পারিনি। চার-চারবার ঘুম ভেঙে গেছে। নিজেকে প্রশ্ন করেছি ঠিক কাজ করছি তো? শেষ পর্যন্ত এটা কাজে লেগেছে’—ম্যাচ শেষে বলেছেন ম্যানইউ কোচ।
এ ম্যাচে ৯ জন খেলোয়াড় বদলে নেমেছিল ম্যানইউ। এদিক দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে একটা রেকর্ড করা এই ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভালো করেছে শালকেই। ম্যাচের প্রথম আক্রমণটাও করে প্রথম লেগে ২-০ গোলে পরাজিত জার্মান দলটি। তবে প্রথম গোল পায় ম্যানইউ। ২৬ মিনিটে গিবসনের দুর্দান্ত এক পাস থেকে ম্যানইউকে এগিয়ে দেওয়া গোলটি করেছেন ভ্যালেন্সিয়া।
এই গোলের পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেন ফার্ডিনান্ড, রুনি, গিগস, ভিদিচদের পরিবর্তে মাঠে নামা ড্যারেন গিবসন, জনি ইভানসরা। ৩২ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন প্রথম গোলের জোগানদাতা গিবসন। ৩ মিনিট পর একটি গোল ফিরিয়ে দেন হোসে ম্যানুয়েল হুয়ার্ডো। ৭২ থেকে ৭৬—দ্বিতীয়ার্ধে এই ৪ মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে শালকের ফেরার পথ একেবারেই বন্ধ করে দেন অ্যান্ডারসন।
ম্যানইউর দ্বিতীয় দল একটি দলকে এভাবে উড়িয়ে দিল—ফার্গুসনের তৃপ্তির জায়গা বিশাল। তবে এই আনন্দের মধ্যেও তাঁকে ব্যাখ্যা করতে হচ্ছে ৯ জন খেলোয়াড় বদলের কারণ। আগামী পরশু চেলসির বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের মহা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ম্যানইউর। সেই ম্যাচে সতেজ রুনি-গিগসদের পেতেই ফার্গুসনের এমন ফাটকা খেলা। তবে প্রিমিয়ার লিগে শালকের বিপক্ষে জেতা দলকেই নামাচ্ছেন না ম্যানইউ কোচ।
শালকে কোচ রালফ রাংনিক ম্যানইউর দ্বিতীয় দলের প্রশংসায়ই পঞ্চমুখ। ‘ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে আমি অভিনন্দন জানাই। দুই লেগেই আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে তারা। আপনি যদি তাদের তথাকথিত দ্বিতীয় দলের দিকে তাকান, দেখবেন এরাও দুর্দান্ত। আমাদের এটি স্বীকার করতেই হবে, ইন্টারের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালেই আমরা বাদ পড়ে যেতে পারতাম। আজ রাতে আমরা আমাদের মানটা বুঝতে পারলাম।’