Monday, January 21, 2019
অবশেষে জানা গেল শনির দিন কত বড়

গবেষকেরা বলেন, শনি গ্রহে দিনের প্রকৃত দৈর্ঘ্য বের করা কঠিন ছিল কারণ গ্যাসীয় গ্রহটিতে কোনো কঠিন পৃষ্ঠ নেই। এ ছাড়া এমন কোনো চিহ্ন নেই যা দেখে গ্রহটির প্রদক্ষিণ হওয়ার বিষয়টি বোঝা যাবে। এর বাইরে গ্রহটির বিশাল চৌম্বক ক্ষেত্র এর ঘূর্ণনের হার দেখার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে রেখেছিল।
নাসার ক্যাসিনি নভোযানের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন গ্রহটির দিনের প্রকৃত দৈর্ঘ্য আগে হিসাব করা দিনের দৈর্ঘ্যের চেয়ে কম। এর আগে ১৯৮১ সালে ভয়েজারের পাঠানো চৌম্বক ক্ষেত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে গ্রহটির দিনের দৈর্ঘ্যে নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট ২২ সেকেন্ড।
নাসার পক্ষ থেকে ১৯৯৭ সালে ক্যাসিনি নভোযানটি পাঠানো হয়। ২০১৭ সালে ওই গ্রহের আবহাওয়ামন্ডলে ধ্বংস হয় এটি। তবে ধ্বংস হওয়ার আগে শনির বলয় সংক্রান্ত ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ করে ওই নভোযানটি। এ ছাড়া ২০০৪ সাল থেকে শনিকে পরিভ্রমণের সময় ওই নভোযানটি এর বরফাচ্ছন্ন ও পাথুরে বলয়ের উচ্চ রেজুলেশনের ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠায়। ওই তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষক ক্রিস্টোফার মানকোভিচ। তিনি ওই বলয়ের তরঙ্গের ধরন নিয়ে গবেষণা করেন।
মানকোভিচ দেখেন, শনির বলয় অনেকটাই সিসমোমিটারের মতো কাজ করে। গ্রহে যে কম্পন সৃষ্টি হয় তাতে বলয়ে সাড়া জাগায়। এ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট তরঙ্গ ওই বলয়ে পর্যবেক্ষণ করা যায়। এর অর্থ, গবেষকেরা ওই গ্রহের পৃষ্ঠকে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে ওই গ্রহের ঘূর্ণনের বিষয়টি বোঝা সম্ভব। এর মাধ্যমে শনির দিনের প্রকৃত তথ্য হিসাব করা সম্ভব হয়েছে।
ক্যাসিনি প্রকল্পের বিজ্ঞানী লিন্ডা স্পাইলকার বলেন, গবেষকেরা বলয়ের তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে শনির দিনের দৈর্ঘ্য বের করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ ধাঁধার উত্তর খোঁজা হচ্ছিল। এটা নিখুঁত ফল। শনির বলয়ে এর উত্তর প্রশ্নের জবাব লুকানো ছিল। তথ্যসূত্র: ডিজিটাল ট্রেন্ডস।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এক সময় এখানে ছিল পাখিদের মিলনমেলা

পর্যটকদের জন্য এখানে বানানো ওয়াচ টাওয়ারে উঠে পর্যটকরা পাখি খুঁজে বেড়াচ্ছেন। বাইক্কা বিলের আশেপাশে ছবি তুলে ফিরে যাচ্ছেন।
এখানে বেড়াতে আসা পর্যটক মিঠুন পাল বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে পাখি দেখতে বাইক্কা বিলে গিয়েছিলাম। এখানে আসার উদ্দেশ্যই পাখি দেখা। এসে দেখি শুধু পানি, কোনো পাখি নেই। বছর তিনেক আগে এখানে এসে অনেক পাখি দেখেছিলাম। এবার এসে দেখলাম পাখির সংখ্যা একবারেই কম। পাখি দেখতে না পেরে অনেকটা হতাশ হয়েছি।
বাইক্কা বিলে ছবি তুলতে আসা ওয়ার্ল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার রণজিত জনি বলেন, পাখির ছবি তুলার জন্য বাইক্কা একটি ভালো জায়গা। এখানে প্রচুর পাখি পাওয়া যায়। রঙ বেরঙের পাখির ছবি তুলতে সারা দেশ থেকেই এখানে ফটোগ্রাফাররা আসেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় দিন দিন পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এতে করে পর্যটকরাও এখানে আসা কমিয়ে দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট মহল এর কারণ খুঁজে জরুরি পদক্ষেপ নেবে বলে মনে করছি।
বাইক্কা বিলে পাখি কমে যাওয়ার নানা সমস্যা তুলে ধরে শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব বলেন, হাওরের পানিতে শিকারীরা জাল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। হাওরে বাঁধ দিয়ে মেশিন লাগিয়ে বিল সেচা হয়। কারেন্ট জাল বিছিয়ে রাখা হয় পাখিদের ধরার জন্য। জালে একটি পাখি আটকা পড়লে অন্য পাখিরা ভয়ে পালিয়ে যায়। তাছাড়া বাইক্কা বিলে নৌকা নিয়ে প্রায়ই চলাচল করতে দেখা যায়। যা পাখির জন্য খুবই ভয়ানক বিষয়।
গত বছর বাইক্কা বিল চলতি শীত মৌসুমে ৩৮ প্রজাতির পরিযায়ী পাখির দেখা পাওয়া গেছে। মোট পাখির দেখা মিলেছে ৫ হাজার ৪১৮টি। এরমধ্যে ‘পাতি তিলিহাঁস’ পাখির দেখা মিলেছে সবচেয়ে বেশি। পাখির সংখ্যায় পাতি তিলিহাঁস দেখা গেছে ১ হাজার ৫৮০টি। আর ২০১৭ সালে এই বিলে পাখি শুমারিতে ৪১ প্রজাতির ১০ হাজার ৭১৩টা পাখির দেখা মিলেছিল। ২০১৬ সালে দেখা পাওয়া গিয়েছিল ৩১ প্রজাতির ৮ হাজার ৮৩১টি পাখির।
সেইফ আওয়ার আনপ্রটেক্ট লাইফ (সউল) এর নির্বাহী পরিচালক বলেন, বাইক্কা বিলে আসা পরিযায়ী পাখিরা একটি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বাইক্কা বিলকে বেছে নেয়। বাইক্কা বিল অভায়শ্রমের কচুরিপানা, নলখাগড়া ইত্যাদি হচ্ছে পাখিদের খাবার ও আশ্রয়স্থল। পাখিরা এগুলো খায় এখানেই ঘুমায়। কিন্তু বছর কয়েক ধরে দেখা যাচ্ছে কিছুদিন পর পর বিল পরিষ্কারের নামে এগুলোকে অপসারণ করা হয়। খাদ্য ও বাসস্থানের সংকটের কারণেই মূলত পাখিরা এখানে আসা কমিয়ে দিয়েছে। বাইক্কা বিলের দুই পাশে যেভাবে ফিশারি ও ঘরবাড়ি নির্মাণ হচ্ছে এতে করে পাখিরা ভীত হচ্ছে। আর এ কারণে দিন দিন এখানে পাখির আনাগোনা কমে যাচ্ছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভাড়ায় ভগ্নি মিলছে যেখানে

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে যা বেরিয়ে এল, তা বেশ ভয়াবহ। অনেকটা আলোর নিচে অন্ধকারের মতো ঘটনা। জানা গেল, হিকিকোমোরি নামের একটি সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে জাপানের তরুণ প্রজন্ম। এতে আক্রান্ত তরুণ-তরুণী সমাজ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেন। তাঁরা ঘরবন্দী হয়ে যান। মা-বাবা বা আপনজনদের সঙ্গ এড়িয়ে চলেন। বরং কিছু জানতে চাইলে বিরক্ত হন, কখনোবা সহিংস আচরণ করেন। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর তাঁরা এভাবেই থাকেন। টিভি দেখেন, গেম খেলেন। আর কিছুতে তাঁদের মন থাকে না।
হিকিকোমোরিতে আক্রান্ত হতে পারেন যে–কেউ। তবে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। বয়সী অল্প কিছু মেয়ের মধ্যেও এমনটা দেখা যায়। হিকিকোমোরিতে আক্রান্ত সন্তান থাকাটা সমাজের চোখে লজ্জাজনক। তাই পরিবার তাদের কথা গোপন রাখে। কীভাবে এ থেকে মুক্তি পাবে, সেই চিন্তায় অস্থির থাকে। জাপানে তরুণ প্রজন্মের প্রায় পাঁচ লাখ এই সমস্যায় আক্রান্ত। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে মনে করা হয়।
বিবিসির সাংবাদিক কথা বলেন কেনতা নামের হিকিকোমোরিতে আক্রান্ত এক তরুণের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ে আমি মেয়েদের সঙ্গে বেশি মিশতাম। এ জন্য সবাই আমাকে খ্যাপাত। বলত, তুমি ছেলে না মেয়ে? আমার ভীষণ খারাপ লাগত। আমি খুবই অসুখী বোধ করতাম। নিঃসঙ্গ বোধ করতাম। সারাক্ষণ কাঁদতাম। মা-বাবাকে দোষারোপ করতাম। নিজের ওপর রাগ হতো, সমাজের ওপর রাগ হতো। মনে হতো আমার কিছু করার নেই। এমন পরিস্থিতি পর্যন্ত হয়েছে যে, বাবা-মাকে পুলিশ ডেকেছে। মুক্তি পেতে আমি ওষুধ খাচ্ছিলাম। তবে কিছুতেই আমার কিছু হয়নি। আমি সারা রাত ভিডিও গেম খেলে, সারা দিন ঘুমাতাম। সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুমাতাম। আবার সারা রাত খেলতাম, সারা দিন ঘুমাতাম।’
কেনতার মতো মানুষকে মুক্তি দিতে এগিয়ে এসেছে নিউ স্টার্ট নামের একটি সংগঠন। তারাই ভাড়ায় বোন সরবরাহ করার ধারণা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। তাদের এই উদ্যোগ যে কাজে লাগছে, সেই প্রমাণও মিলেছে।
নিউ স্টার্টের হয়ে ভাড়ায় কাজ করেন—এমন এক বোন আয়াকো। এই বিশেষায়িত দলে আছেন তাঁর মতো আরও অনেক নারী। হিকিকোমোরিতে আক্রান্ত তরুণদের সহায়তা করার জন্য এই তরুণীদের ভাড়ায় নেওয়া হয়। তাঁদের মূল কাজ ওই তরুণদের নিজের ঘরের বাইরে বের করে নিয়ে যাওয়া। সমাজে আবার মিশে যেতে সহায়তা করা।
তরুণেরা কেন হিকিকোমোরিতে আক্রান্ত হচ্ছেন, এর কোনো কারণ জানা যায়নি। এর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা নেই। সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসাও নেই। তবে নিঃসঙ্গতা থেকে এমনটা হতে পারে ধরে নিয়েই কাজ শুরু করে নিউ স্টার্ট। চেষ্টা করে তরুণদের নতুন পথে নিয়ে যেতে, তাদের সামনে নতুন জগৎ মেলে ধরতে।
যে তরুণীরা হিকিকোমোরিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সারাতে কাজ করেন, তাঁরা কেউই চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রিধারী নন। একেবারেই সাধারণ যোগ্যতার। তবে তাঁদের আয় শুনলে কপালে চোখ উঠে যেতে বাধ্য। মাসে এক লাখ ইয়েনের বেশি আয় তাঁদের। আয়াকো নামের ভাড়াটে বোন বললেন, ‘আমি কোনো কৌশল জানি না। আমি শুধু তাদের সঙ্গে তাদের মতো করে মেশার চেষ্টা করি।’ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এ পেশায় আছেন।
আয়াকোর সাহচর্যে বদলে যেতে শুরু করে কেনতা। ছয় মাস ধরে কেনতার ভাড়াটে বোন হিসেবে কাজ করছেন তিনি। কেনতা এখন বাড়ির বাইরে বের হন। কেনতা বলেন, ‘আমি আমার ভাড়ায় আনা বোনকে দেখে খুশি হই। গল্পগুজব করি। দুজনে মিলে বাইরে খাওয়াদাওয়া করতে যাই। তিনি আমাকে অনেক সাহায্য করেন। আমার নিজেকে আর একা মনে হয় না। ভালো লাগতে শুরু করে। তিনি আমাকে প্রেরণা দেন। নিজের ওপর বিশ্বাস ফিরে আসছে আমার।’
এভাবে ভাইবোনের মতো থাকতে থাকতে অনেক সময় উভয়ের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে সেটা সব সময় নয়। আয়াকোর ভাষ্য, তাঁদের সাহচর্য পেয়ে সবাই যে খুব খুশি হয় বা তাদের সঙ্গে প্রাণ খুলে মজা করে, এমনটা সব সময় হয় না। তবে কেনতার মতো অনেকেই তাঁদের ভালোভাবে মেনে নেন। কেনতাও বললেন, ‘আমি যখন আর তাঁকে দেখব না, তখন খুব খারাপ লাগবে। তবে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আনন্দও আমার মধ্যে তখন প্রবলভাবে কাজ করবে। আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।’ আয়াকো জানালেন, তিনি রোগীদের সঙ্গে ভণিতা করেন না। কারণ, সেটা তারা বুঝে ফেলে। তাঁর ভাষায়, ‘আমি যা, যেমন, সেটাই তাদের সামনে তুলে ধরি। সেভাবেই কাজ করি।’ তবে এ পেশায় টিকতে হলে ধৈর্যের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য তাঁর।
আয়াকোর এই মন্তব্য কেন ঠিক, তা স্পষ্ট হলো এক বাবার কথায়। হারুতো নামের ছদ্মনামধারী এক বাবা বলেন, কিশোর বয়সে তাঁর ছেলে নিজেকে ঘরে বন্দী করে ফেলে। একবার ঘুষি মেরে জানালার সব কাচ ভেঙে ফেলল। নিজের মাকে এমন জোরে ঘুষি দিল যে তাঁর পাঁজর ভেঙে গেল। ছেলের এমন অবস্থার দুই দশক পেরিয়ে গেছে। এখনো সে নিজের ঘরেই নিজেকে আটকে রাখে। কীভাবে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে, তা তিনি জানেন না। ছেলে তার মায়ের মৃত্যুর পরও আগের মতোই আছে। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত তিনি।
এই বাবা তখন নিউ স্টার্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে আৎসুকো নামের এক তরুণী তাঁর ছেলের বোন হওয়ার জন্য যান। আৎসুকো বললেন, ‘ওই বাড়িতে গিয়ে আমি ভয়াবহ বিপদের মধ্যে পড়ি। ওই তরুণ ঘর থেকে বের হতে চাননি। উল্টো আমাকে মারধর করেন। আমি আর সেখানে যাইনি।’
ঠিক কী কারণে হিকিকোমোরি হয়, তার কারণ বেশ জটিল। কেনতার ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ে হাসিঠাট্টার শিকার হওয়ার বিষয়টি কাজ করেছে। বিষণ্নতা, মাত্রাতিরিক্ত চাপ থেকেও এমনটা হতে পারে। তবে একেকজনের লক্ষণ একেক রকম হয়।
মনোবিজ্ঞানী তামাকি সাইতো বলেন, জাপানে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা ১০ হাজারের কম। অথচ হিকিকোমোরিতে আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক লাখ। অনেকে ভাবেন, হিকিকোমোরিতে আক্রান্তরা অলস। আবার কেউ কেউ ভাবেন, তাঁরা বিপজ্জনক কিংবা তাঁরা ভয়াবহ অপরাধী হতে যাচ্ছে। আসলে বিষয়টা এমন না।
ভাড়ায় বোন সরবরাহের পাশাপাশি ভাড়ায় থাকার ব্যবস্থাও আছে নিউ স্টার্টের। আছে খণ্ডকালীন কাজের ব্যবস্থাও। তবে সেগুলো জনসেবামূলক কাজ। এখানে যাঁরা আসেন, তাঁরা ফোন ব্যবহার করতে পারেন না। ভিডিও গেম খেলা নিষিদ্ধ। শুধু টিভি দেখতে পারেন, তাও সবাই মিলে এক জায়গায় বসে। দেড় যুগের বেশি সময় ধরে এখানে প্রায় দুই হাজার লোক থেকেছেন। ৮০ শতাংশের বেশি এক বছরের মতো এখানে থেকে স্বাভাবিক হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। মিশে গেছেন মূল স্রোতে।
ভাড়ায় নিউ স্টার্টের আবাসনে থেকেছেন ইকো নামের এক তরুণ। তিনি জানালেন, এখানে থেকে থেকে তাঁর জীবন বদলে গেছে। জীবনবোধ ইতিবাচক হয়েছে। হতাশা, একাকিত্বকে পেছনে ফেলে তিনি এখন সাধারণ আর স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। তবে নিজে ভালো থেকেই ক্ষান্ত হননি তিনি। তাঁর মতো যাঁরা হিকিকোমোরিতে আক্রান্ত, তাঁদের পাশে দাঁড়ান তিনি। বিশেষ করে আক্রান্ত তরুণীদের ভাই হয়ে পাশে দাঁড়ান তিনি। এটা করেন স্বেচ্ছায়, বিনা পারিশ্রমিকে। কারণ, হিকিকোমোরিতে আক্রান্ত তরুণীদের অবস্থা বেশি খারাপ। গোপনীয়তার সংস্কৃতি এই তরুণীদের জীবনকে আরও খারাপ করে তোলে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কোরিয়ার উন্নয়নযাত্রা: কী শিখতে পারে বাংলাদেশ?

নিজের দেশের মাটিতে তৈরি করা পণ্য বহির্বিশ্বে রপ্তানির জন্য পর্যাপ্ত কাঁচামালের জোগান দেওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে সম্ভব ছিল না। এদিকে কৃষিকাজ দিয়ে অর্থনীতির চাকা ঘোরানো সম্ভব নয়। এমনই একটি নিরেট নির্মম অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে কোরিয়া ১৯৬০ সালে একটি সিদ্ধান্ত নিল। পরিকল্পনাটি ছিল, তারা পণ্য রপ্তানির জন্য মূল কাঁচামাল অন্য দেশ থেকে আমদানি করে সেই কাঁচামাল ব্যবহার করে পণ্য প্রস্তুত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কারখানা তৈরি করবে।
এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়া প্রথম সফলতা পেয়েছিল কাপড়, জামা ও ঘড়ি তৈরির ক্ষেত্রে। ধীরে ধীরে বাজার বড় হতে লাগল। সময়ের প্রয়োজনে তারা পণ্যের মধ্যে ভিন্নতা নিয়ে এল। ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন থেকে কাঁচামাল হিসেবে আনা চেড়া কাঠ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্লাইউড হিসেবে রপ্তানি করা শুরু হলো। আমদানি করা চামড়া দিয়ে জুতা তৈরি করে তা বিক্রি করা হতো আমেরিকা ও কানাডায়। জাপান ও আমেরিকা থেকে খুচরা যন্ত্রাংশ কিনে সেগুলো ব্যবহার করে ইলেকট্রনিক যন্ত্র তৈরি করে রপ্তানি করা হতো বিভিন্ন দেশে।
সরকার রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া শুরু করল। যেসব প্রতিষ্ঠান পণ্য রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের জন্য কর ছাড় ছাড়াও বিশেষ অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া শুরু হলো। কৃষি খাত থেকে অর্থনীতি রপ্তানির বাজারে ধীরে ধীরে ইলেকট্রনিকের দিকে ঝুঁকে পড়ল। রপ্তানির এই পরিবর্তন কোরীয় সরকারের বিশেষ পরিকল্পনায় ছিল। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতকে তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল। ২০১৮ এর প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এই বিষয়গুলো অনেক স্বাভাবিক আর সহজ মনে হলেও ১৯৬১ সালের সেই সময়ে এমন সিদ্ধান্তগুলো অনেক বেশি বিতর্ক তৈরি করেছিল।
জামা ও জুতা তৈরির যাত্রা ১৯৭০-এ এসে থেমেছিল স্টিল, ভারী যন্ত্রপাতি, জাহাজ নির্মাণ এবং পেট্রো কেমিক্যালে। পরবর্তী সময়ে ১৯৮০ সালে তারা ইলেকট্রনিক ও অটোমোবাইলের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
এই পুরো অগ্রযাত্রায় উদ্যোক্তাদের একটা বড় ভূমিকা আছে।
প্রথমত, টেক্সটাইল–নির্ভর উৎপাদনকে ধীরে ধীরে ইলেকট্রনিক পণ্যে নিয়ে আসার পেছনে উদ্যোক্তা এবং তাদের বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানের বিশাল প্রভাব ছিল। আর কোরিয়ার সরকার এই বিষয়কে দূরদৃষ্টির কারণে বুঝতে পেরেছিল। যার ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেটকে তখন খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওইসিডি ২০১২ পিসা টেস্টের ফল অনুসারে গণিত, রিডিং ও বিজ্ঞানে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান পঞ্চম, সমস্যা সমাধানে দ্বিতীয়।
বিষয়টি খুব গুরুত্বসহকারে লক্ষণীয় এবং বিবেচ্য। কেননা শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেট বাড়ানোর পেছনে যখন অর্থনৈতিক পরিবর্তনটাই মূল লক্ষ্য, তখন কোন ধরনের শিক্ষার উন্নয়ন প্রয়োজন, সেটি বুঝতে পারা জরুরি। কোরিয়া এ জায়গাতেই সবচেয়ে বড় যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে। নতুন ধরনের রপ্তানির জন্য তারা সৃজনশীল মানুষকে বের করে আনতে পেরেছে।
দ্বিতীয়ত, ২০১৩ থেকে কোরিয়ার অর্থনীতিকে পৃথিবীতে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকার স্টার্টআপের জন্য ১৭৬ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার স্মল এবং মিডিয়াম বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুসারে, ১৯৯৯ সালে স্টার্টআপের সংখ্যা ছিল ২ হাজার, যা ২০১৫ সালে ৩০ হাজার হয়েছে!
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভোলাগঞ্জে বোমার তাণ্ডব, ৫০ কোটি টাকার পাথর লুট by ওয়েছ খছরু
![]() |
| প্রতীকী ছবিঃ পাথর লুটপাট |
সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকায় রয়েছে ভোলাগঞ্জ এলসি স্টেশন।
পাশেই ডাম্পিং স্টেশন। ভারত থেকে চুনাপাথর এনে ব্যবসায়ীরা ওই এলাকায় চুনাপাথর ডাম্পিং করে রাখেন। পরে ওখান থেকে তারা চুনাপাথর বিক্রি করেন। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরকার প্রতি বছর প্রায় শত-কোটি টাকা রাজস্ব পায়। পাশেই হচ্ছে গুচ্ছগ্রাম (আদর্শ গ্রাম)। এরশাদের জমানায় এখানে কাজের সন্ধানে আসা মানুষদের পুনর্বাসন করে ওই গ্রাম তৈরি করা হয়। এই গ্রামে এখন হাজারো পরিবার। কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকার পর থেকে আদর্শ গ্রামের ওই ডাম্পিং স্টেশনে নজর পড়ে পাথরখেকোদের। এরপর থেকেই ওই এলাকায় শুরু হয় পাথর লুটপাট।
প্রায় তিন মাস কোম্পানীগঞ্জের তখনকার ইউএনও আবুল লাইছের নজরে পড়েছিল ওই এলাকাটি। ওই সময় ভোলাগঞ্জ চুনাপাথর আমদানি কারক গ্রুপের কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান, অবাধে পাথর উত্তোলনের ফলে তাদের ডাম্পিং স্টেশনের পরিসর ছোট হয়ে আসছে। এতে করে ওই এলাকায় ডাম্পিং করা যাচ্ছে না। তারা জানিয়েছেন, তখনকার ইউএনও অভিযান জোরদার করায় ওই স্থানে পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু গত দুই মাস ধরে আবার পাথর উত্তোলন শুরু হওয়ায় ডাম্পিং স্টেশন হুমকির মুখে পড়েছে।
ভোলাগঞ্জ চুনাপাথর আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মিন্টু জানিয়েছেন, এভাবে পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে ডাম্পিং এলাকা বিলীন হয়ে যাবে। তিনি এজন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আগের ইউএনও আবুল লাইছ অভিযানকালে তিনটি মামলা করেছিলেন। বেশ কয়েকজন আসামিকে আটক করা হয়েছিল। আসামিরা গ্রেপ্তার হওয়ার কারণে পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল। এখন তারা জামিনে বেরিয়ে আবার পাথর উত্তোলন শুরু করেছে।
ভোলাগঞ্জ নয়াবাজারে রয়েছে ৩০০-৪০০ দোকানঘর। ওই বাজারের দোকানিরা বারবার স্থান বদল করলেও বাজার রক্ষা হচ্ছে না। দিনে দিনে এখানে দোকানপাট বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ভুসিমালের দোকানি আব্দুল লতিফ জানিয়েছেন, তিনি তিনবার স্থান পরিবর্তন করেছেন। আগের তিনটি স্থান ইতিমধ্যে পুকুরে পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি সময়ে পাথর উত্তোলনের ফলে নতুন করে তারা উচ্ছেদ আতঙ্কে পড়েছেন। এখন বাজারের একেবারে পাশ ঘেঁষে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তারা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
আর্দশ গ্রামের ওই স্থানে শুধু ডাম্পিং স্টেশন নয়, বিজিবির একটি স্থায়ী ক্যাম্প করারও প্রস্তাবনা রয়েছে। কিন্তু পাথরখেকোদের কারণে সেই ক্যাম্প স্থাপনের জমিও শেষ মুহূর্তে বিলীন হয়ে যাবে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে প্রতিদিন আদর্শগ্রামের ওই স্থান থেকে প্রায় কোটি টাকার পাথর লুটপাট করা হচ্ছে। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে শতাধিক বোমা মেশিন। ওই মেশিনগুলোর শব্দে রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে এলাকাবাসীর। তারা প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। এদিকে পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকলে সিলেট-ভোলাগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক হুমকির মুখে পড়বে। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও বিজেন ব্যানার্জি মানবজমিনকে জানিয়েছেন, তিনি দু-একদিনের মধ্যে ভোলাগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালাবেন। আগেও ওই এলাকায় অভিযান চালিয়েছিলেন। কিন্তু রাতের আঁধারে ওখানে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে বলে শুনেছেন। তিনি বলেন, ডাম্পিং এলাকায় ব্যবসায়ীদেরও উচ্ছেদ করা হবে। এরপর ওখানে নতুন করে পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভোলা গ্রাম টু গুলশান by জিয়া চৌধুরী

একটু নিরিবিলি বসবাসের জন্য এই ভোলা গ্রামকেই বেছে নেয়া হয়। কিন্তু এরতো সুন্দর নাম প্রয়োজন।
কি আর করা- পাকিস্তানের করাচির অভিজাত এলাকা গুলশানকে টেনে আনা হয় এখানে। নাম দেয়া হয় গুলশান। করাচির গুলশানের মতোই ভোলা গ্রামকে বদলে দেয়ার চেষ্টা চলে। এগুতে থাকে গুলশান। আর পেছনে তাকাতে হয়নি। তখনকার অভিজাত শ্রেণির মানুষজন এখানে জমি কিনতে থাকে। নিজের মনের মতো করে বানাতে থাকে বাড়ি। কিছু দিনের মধ্যেই বদলে যায় চিত্র। একতলা-দোতলা বাড়ির সারি। চওড়া রাস্তা। বাড়ির উঠোনে বসে গল্প ও খেলা করার মতো সাজিয়ে নেয় কেউ কেউ। কেউ আবার বাড়ির সামনে গড়ে তুলে ফুলের বাগান। দেশ স্বাধীনের পর ভোলা নামটি একেবারে হারিয়ে যায়। গুলশান দৃষ্টি কাড়ে সবার।
একের পর এক দূতাবাসগুলোও গুলশানকে বেছে নেয়। আশির দশক পর্যন্ত গুলশান ছিল ছিমছাম আবাসিক এলাকা। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া লেক এ গুলশানকে করে তুলে আরও আকর্ষণীয়। কিন্তু নব্বই দশকে এসে সেই আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠতে থাকে একের পর এক বিশাল অট্টালিকা। যে চিন্তা নিয়ে গুলশানের সৃষ্টি তা এখন যেন অনেকটাই মিইয়ে গেছে। বিভিন্ন ডেভলপার কোম্পানির চোখ পড়ে গুলশানে। অন্যদিকে ঢাকার বিস্তৃতি আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এর রেশ পড়ে সেখানে। অন্য এলাকার মতো গুলশানও হয়ে উঠে ব্যস্ততম এক এলাকা।
পাকিস্তান আমলের সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নবী। বড় শখ করে গুলশান প্রতিষ্ঠার প্রায় তিন বছর পর ১৯৬৪ সালে তিনি স্ত্রী বেলা নবী ও দুই ছেলেকে নিয়ে গুলশানে বসবাস শুরু করেন। গুলশানের প্রবীণ এই বাসিন্দার মুখেই শোনা যাক এখানকার কথা। মোহাম্মদ নবী বলেন, বন-জঙ্গলে ঘেরা অন্যরকম এক গুলশান ছিল তখন। ভোলা গ্রাম থেকে গুলশান হওয়ার বর্ণনাও তিনি দিলেন। বলেন, ঢাকার কাছের এই জায়গায় ভোলা দ্বীপ থেকে মানুষ এসে চাষবাস করত বলেই ঢাকার লোকজন একে ভোলা গ্রাম নাম দিয়েছিল। সরকার যখন এর দিকে নজর দেয় তখন ওয়াপদার প্রকৌশলী মোহাম্মদ নবী এখানে জমি কেনেন। তখন জমির দামও ছিল খুব কম। হাজার টাকায় মিলতো এক কাঠা জমি। পুরো গুলশানে তখন ছিল মাত্র একটি মসজিদ। তাও ছিল মাটির।
যা পরে গুলশান অ্যাভিনিউ মসজিদ নামে পরিচিতি পায়। গুলশান ক্লাবের একটি প্রকাশনায় মোহাম্মদ নবীর একটি লেখা প্রকাশ পায়। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন ১৯৬৪ সালের দিকে ছোট বাঘ বা মেছো বাঘের দেখা মিলত গুলশানের ঘন বন-জঙ্গলে। ষাটের দশকের আদি গুলশানে পাখির কলকাকলি আর রাত হলেই পুরো এলাকা ঘোর অন্ধকারের স্মৃতি আছে মোহাম্মদ নবীর। আজ যে জায়গায় নিকেতন আবাসিক এলাকার বিস্তৃতি সেটা ছিল দ্বীপের মতো। ছিল বৃহৎ জলাশয়। এখানে ঢাকার আশপাশের মানুষজন গরু চরাতে আসতো। পরে ধনকুবের জহুরুল ইসলাম জায়গাটিকে ভরাট করে আবাসিক এলাকায় রূপ দেন। গুলশানে শুরুর দিকে প্রায় ১ হাজার তিনশো প্লট ছিল বলেও স্মরণ করেন মোহাম্মদ নবী। অধিবাসীদের মধ্যে শতকরা মাত্র দশ ভাগ লোক ছিলেন বাঙালি।
মোহাম্মদ নবীর ভাষ্য মতে, তৎকালীন সময়ে ডিআইটি’র চেয়ারম্যান মাদানি সাহেব পুরো ভোলা গ্রাম অধিগ্রহণ করেন। এর নাম দেন গুলশান। সেখানে একটি মসজিদ ও খেলার মাঠ করেন তিনি। পুরো গুলশান এলাকার আশেপাশের লেকগুলোকে খনন করে মাঝে রেস্তরাঁ ও রিংরোড বানানোর ইচ্ছা ছিল ডিআইটি চেয়ারম্যানের। সে সময়কার গুলশান সম্বন্ধে মোহাম্মদ নবী বলেন, লোকজন মহাখালী থেকে গুলশানে হেঁটে আসতো। কোন ব্রিজ ছিল না। সেই সময়ে মাত্র গুলশানের দুটি বাজারের কাঠামো নির্মাণ শুরু করা হয়, যা আরো পরে চালু হয়। ডিআইটি চেয়ারম্যান মাদানি সাহেবের সঙ্গে গুলশানের গোড়াপত্তনের বিষয়ে আলাপনের স্মৃতি হাতড়ে মোহাম্মদ নবী বলেন, গুলশান হলো ঠিকই কিন্তু কোনো লোকজন আসতো না। বাস, সেতু, সড়কবাতি, থানা-পুলিশ, নিরাপত্তা, স্কুল-কলেজ, বাজার কোনো কিছুই ছিল না ষাটের দশকের গুলশানে।
ডিআইটি চেয়ারম্যান একে একে গুলশানে সেতু, বাজার, সড়কবাতি সবই করেন। থানা না হলেও পুলিশ আর্ম ফোর্সের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গুলশান অ্যাভিনিউ জামে মসজিদ ও বাড্ডার ভোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখনো সেই ভোলা গ্রামের স্মৃতি আঁকড়ে আছে। গ্রামটিতে প্রথম বানানো মসজিদটি এখন গুলশান অ্যাভিনিউতে ঠাঁই পেয়েছে। আর ওই সময়ে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে বাড্ডায়। জনশ্রুতি আছে, কৃষিপ্রধান এলাকা ছিল পুরনো ভোলা গ্রাম। জমি চাষাবাদ, অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে কিংবা গরু চরিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন ভোলা গ্রামের বাসিন্দারা। এদের মধ্যে লেখাপড়া করতেন নিতান্তই কয়েকজন।
এসব কারণে গুলশানে শতবর্ষী কোনো স্কুল-কলেজের সন্ধান মিলে না। মূলত ১৯৬১ সালে ভোলা গ্রামকে অধিগ্রহণ করা হলে এখানকার বাসিন্দাদের বেশির ভাগ পাশের বাঁশতলা, নতুন বাজার ও বাড্ডা এলাকায় বসতি গড়েন। এর মধ্যে একটি বড় অংশ চলে যান গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার আন্ধারমানিক নামের একটি গ্রামে। ভোলা গ্রামটি অধিগ্রহণ করে ১৯৬১ সালের দিকে পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা ‘গুলশান’ গড়ে তোলেন ডিআইটির প্রথম চেয়ারম্যান পাকিস্তানি আমলা জি এ মাদানি। গুলশান একসময় একটি ইউনিয়ন ও পরে পৌরসভায় পরিণত হয়। ১৯৭২ সালের দিকে গুলশানসহ আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত হয় গুলশান থানা। ১৯৮২ সালে গুলশান পৌরসভাকে ঢাকার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তখন থেকে গুলশান ঢাকা পৌরসভার একটি ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে ওঠে। তিলে তিলে রূপ পায় আজকের গুলশান।
গুলশান দুই নম্বর এলাকায় গাছের নার্সারির ব্যবসা করেন লক্ষ্মীপুরের কামাল উদ্দিন। প্রায় ৩৫ বছর ধরে আছেন গুলশানে। গুলশানের পুরনো দিনের কথা বলতে গিয়ে কামাল জানান ১৯৮৮ সালে বন্যায় পুরো গুলশান এলাকা প্রায় হাঁটু পানিতে ডুবে যায়। তবে সে সময় আশপাশের লেকের পানির প্রবাহ ঠিক থাকায় দ্রুতই সরে যায় বন্যার পানি। ১৯৬৯ সালের দিকে গুলশানে একটি দূতাবাসে চাকরি শুরু করেন সেকান্দার। তিনি এখন ব্যবসা করেন গুলশানেই। ওই সময় গুলশানে টিলার মতো উঁচু উঁচু জায়গায় মানুষ ঘরবাড়ি করতো বলে দাবি তার। সবমিলিয়ে তখন শ’দুয়েক বাড়ি ছিল বলেও জানান ষাটোর্ধ্ব এই প্রবীণ।
জানান, গুলশান এলাকায় বেশ কিছু রাস্তা তখন ইট দিয়ে তৈরি করা শুরু হয়। গুলশান লেকের পাড়েই থাকতেন সেকান্দার। সত্তরের দশকে গুলশান লেক আরো গতিময় আর সুজলা ছিল। সে সময় লেকে বিশাল সাইজের সিলভার কার্প ও চাপিলা মাছ ধরা পড়তো। ১৯৯১ সালে গুলশান এক নম্বর এলাকার সমুদ্র নামে একটি বাড়িতে বসবাস শুরু করেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আসিফ আলতাফ। পুরনো গুলশানের কথা জিজ্ঞেস করতেই আদি গুলশানের দোতলা বাড়ি, নদীর মতো স্বচ্ছ লেক আর পরিবেশের সৌন্দর্য্যের কথা স্মরণ করেন। নব্বইয়ের দশকের স্মৃতি হাতড়ে আলতাফ বলেন, গুলশানের বনানী লেকের পাড়ে ছিল বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা শাবানার বাড়ি। অসম্ভব সুন্দর ওই বাড়িটির পাড়ের লেকে ছিল স্পিডবোট।
অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বোটে চড়তেন শাবানা। ১৯৯৯ সালের দিকে নিজের দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি ভেঙ্গে বহুতল ভবনে রূপ দেন। তারও তিন বছর আগে গুলশানে ভূমিদস্যুদের আগ্রাসন শুরু বলে জানান আলতাফ। গুলশান এক নম্বর লেকের পাড়ে গড়ে তোলা হয় মরিয়ম টাওয়ার নামে একটি ভবন। ২০০১ সালে জলাধার আইন হলে কিছুটা বন্ধ হয় দখলের থাবা। তবে ভেতরে চলতে থাকে বাণিজ্যিক ভবনের আগ্রাসন। আর এ আগ্রাসনে গুলশানের অভিজাত, বনেদি চেহারা পাল্টে যায়। গুলশান এক নম্বর এলাকার আরেক বাসিন্দা ইফতেখার ইসলাম অনুভব করেন সাইকেলে চেপে গুলশান মাঠে খেলতে যাওয়ার সময়গুলোকে। গুলশানের এখনকার চেহারায় অনেকটাই হতাশ তিনি। বলেন, পুরান ঢাকার চকবাজারের চেয়ে খারাপ অবস্থা হয়েছে বনেদি গুলশানের। শুটিং ক্লাব থেকে গুলশান এক নম্বর মোড়ে যেতেই আধা ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। শব্দদূষণ আর বহুতল ভবনের চাপে তাদের শৈশবও হারিয়ে গেছে বলে মনে করেন এই ব্যক্তি। এত গেল, গুলশানের ইতিহাস আর বেদনার গল্প।
এর উল্টো পিঠেও আছে নানা রংয়ের গল্প। অভিজাত আবাসিক এলাকাটি ব্যবসা-অফিসের ভারে নুয়ে গেলেও তরুণ প্রজন্মের এসব বিষয়ে খুব একটা রাঁ নেই। গুলশানের শুটিং ক্লাব থেকে ইউনাইটেড হাসপাতাল এলাকা পর্যন্ত পুরো গুলশান অ্যাভিনিউটি রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা যেন জেগে থাকে। বহুতল ভবন, ব্যবসায়িক কেন্দ্র আর রেস্তরাঁ বিনোদনের পসরা ভিআইপি সড়কটির আশেপাশে। গড়ে উঠেছে বিনোদনের ক্লাব আর সৌন্দর্য সেবাকেন্দ্র। গুলশান এলাকায় প্রায় ২৫ বছর ধরে থাকেন শাহানা আলম নির্ঝর। পৈত্রিক সূত্রে বারিধারায় ফ্ল্যাট পেলেও গুলশানে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন শাহানা আলম নির্জর। কেনাকাটা, বিভিন্ন অফিস আর নাগরিক সুবিধার বিবেচনায় তিনি গুলশান ছেড়ে যাননি। তবে, শিক্ষাজীবনে রিকশায় করে কলেজে যাবার সুযোগ এখন আর নেই বলেও জানান।
পুরো গুলশানকে এখন তার যানজট আর শব্দদূষণের এলাকাই মনে হয়। শাহানা আলমের মতো লাল-নীল বাতির গুলশানকে পছন্দ করেন শিক্ষার্থী অধরা আঞ্জুমান প্রথা। নিজের বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মগেট এলাকায় হলেও গুলশানে থাকছেন গত চার বছর ধরে। তার মতে, তরুণ প্রজন্মের জীবনাচরণের সব উপাদান আছে গুলশানে। যানজট আর হাঁকডাককে উতরে এসবকেই বড় করে দেখেন তিনি। প্রথার ভাষায়, গুলশান একটি নিরাপদ, শান্ত ও ভদ্র এলাকার নাম। এই তরুণের সঙ্গে গলা মেলালেন এক বিদেশিও। একটি বহুজাতিক তৈরিপোশাক উৎপাদন ও বিপণন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত রাশিয়ান নাগরিক সার্গেই কোনেরেঙ্ক। নিজ শহর ফেলে হাজার মাইল দূরের ঢাকায় এসে গুলশানের প্রেমে পড়েছেন এই বিদেশি। গুলশান এলাকার খাবার-দাবার, রেস্তরাঁ আর জীবনাচরণে মানিয়ে নিয়েছেন নিজেকে। তবে, নিরাপত্তাজনিত কারণে অফিসের অনুমতি ছাড়া অফিস ও বাসার বাইরে যাবার সুযোগ কম তার মতো অনেক বিদেশির। তবে আদি গুলশানের যে গল্প প্রতিনিয়ত শুনতে হয় তার কিছুটা এখানো আঁকড়ে ধরে আছেন গুলশান দুই নম্বর এলাকা থেকে ইউনাইটেড হাসপাতাল পর্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা।
এদের বেশির ভাগই গুলশান গোড়াপত্তনের শুরুর দিক থেকে বসবাস করছেন। গুলশান দুইয়ের ৮০ নম্বর সড়কের কমপক্ষে দশটি বাড়ি এখনও গুলশানের ঐতিহ্য ধরে আছে। দোতলা বাড়ি, সামনে খোলা লন বা বাগান কিংবা বাড়ির ভেতরে থাকা বড়োসড়ো গাছ জানান দেয় সেই গুলশানকে। বেশির ভাগ বাড়িগুলোই উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা বাইরে থেকে খুব একটা বোঝার জো নেই ভেতরে কি আছে। ভেতরে গেলেই নজর কাড়ে পরিবেশশৈলী আর বাড়ির নকশা। বেশিরভাগ বাড়িতেই প্রাণী পোষা হয়। বিকালের পর থেকে এলসেশিয়ান কুকুরসহ বিভিন্ন পোষা প্রাণীদের নিয়ে গলির সড়কে বের হয়ে আসেন তরুণরা।
এরকম এক বিকালে ৮০ নম্বর সড়কে দেখা মিলে একটি নজরকাড়া ঘোড়া। সুঠাম দেহ আর চিকচিক করা গড়নে যে কেউ মুগ্ধ হবেই। হালকা গতিতে ধাবমান ঘোড়সওয়ারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘোড়াটিকে পালেন এখানকারই এক বাসিন্দা। দৌড়ের গতি পরখ করে নিতেই রাস্তায় বের হয়েছেন সওয়ার। এই এলাকায় সাধারণ প্রাইভেট কার খুব একটা চোখে পড়ে না, যা দেখা যায় সবই বিলাসবহুল দামি গাড়ি। মার্সিডিজ বেঞ্জ, হ্যামার, রেঞ্জ রোভার, ঘোস্ট মডেলের রোলস রয়েস, টয়োটা প্রিমিও কিংবা বিএমডব্লিউ’র মতো গাড়ি। পুরো গুলশান এলাকা যখন দিনের বেলায় নানা ব্যবসা আর দাপ্তরিক কাজে ধাবমান থাকে তখন তেমন একটা বের হতে দেখা যায়না বাসিন্দাদের। গুলশানের তরুণ থেকে মাঝারি বয়সের মানুষদের পছন্দের সময় রাত।
দল বেঁধে বন্ধু কিংবা পরিজনের সাথে আড্ডা দেন, বিনোদনে মেতে ওঠেন তারা। বিলাসবহুল গাড়িতে দেখা মেলে সন্ধ্যার পর থেকে। গুলশান অ্যাভিনিউর ফাঁকা রাস্তায় নামেন রেসিংয়ে। গুলশানের রেস্তরাঁ, ক্লাবগুলোতে আনাগোনা বাড়ে তাদের। এখানকার বেশিরভাগ তরুণের মুখে শোনা যায় ইংরেজি-বাংলার মিশেল। খাঁটি বাংলা বলেন এরকম তরুণদের দেখা মেলাই ভার এসব এলাকায়। গুলশান এক নম্বরে থাকা এই এলাকার একমাত্র ৫ তারকা হোটেল ওয়েস্টিনকে ঘিরেও চলে এক শ্রেণির আড্ডা। হোটেলটির সামনের ধানসিঁড়ি রেস্তরাঁ অতিথিদের জন্য জেগে থাকে সারা রাত। রাতের বেলা দামি রেস্টুরেন্ট ছাড়া বাংলা খাবারের ব্যবস্থা শুধু এখানেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক তরুণ জানান, বিনোদনের সব আঁধারই আছে এই গুলশানে। যার যা প্রয়োজন সব। কে কেমন বিনোদন নিবে সে আগ্রহই ঠিক করবে আপনি কোথায় যাবেন? এতো গেল তরুণ প্রজন্মের কথা। মাঝবয়সী আর বয়োজ্যেষ্ঠদের আনাগোনা গুলশানের দুই পার্ক আর অভিজাত ক্লাবগুলোতে।
দিনের বেলা পার্কে প্রাতঃভ্রমণ আর রাতে ক্লাবের আড্ডা এই হলো বেশিরভাগের জীবন। নারীদের সৌন্দর্য চর্চা আর যত্নআত্তির জন্য আছে বিউটি পার্লার ও স্পা সেন্টার। গুলশানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত ক্লাব গড়ে উঠলেও সবচেয়ে অভিজাত হলো ‘গুলশান ক্লাব’। জিমনেসিয়াম, লাইব্রেরি, সিনেমা হল, সুইমিং পুল অথবা বার কি নেই এতে। দিনের বেলা সকাল থেকে শারীরিক কসরত আর ব্যায়ামে নিজেকে ঝালিয়ে নিতে আসেন জ্যেষ্ঠরা। আর মূলত বিকালের পর থেকে শুরু হয় মাঝ বয়সীদের আনাগোনা। কেতাদুরস্ত পোশাক আর দামি গাড়ি থেকে নামেন ক্লাবের সদস্যরা। রাত অবধি থাকেন ক্লাবে, আড্ডা আর আনন্দে সময় কাটে তাদের। গুলশান ক্লাবের সদস্য হতে আজকাল ১ কোটি থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করার কথা মুখে মুখে। আজকের অভিজাত গুলশান ক্লাবের কথা বলতে গিয়ে মোহাম্মদ নবী জানান, গুলশান ক্লাবের জায়গায় ছিল বস্তির মতো এলাকা। মানুষজন গরু রাখতো সেখানে, ছিল বিশাল কাঁঠাল বাগানও। বস্তির ফাঁকা জায়গায় চাষ হতো হলুদের। ঢাকার মনিপুরিপাড়া থেকে কলাম তৈরি করা আনা হয়েছিল গুলশান ক্লাব বানানোর জন্য।
নুরু মিস্ত্রিসহ প্রায় ৫০-৬০জন লোক প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে কলাম পুঁতলেন। এরপর দেয়া হয় ছাউনি। গুলশান ক্লাব প্রতিষ্ঠার সময় একটি গাছ কাটতে গিয়ে ভূত বিষয়ক বিড়ম্বনা শুরু হয়। গাছটি কাটতে গেলে সেখানকার বস্তির লোকজন বলাবলি শুরু করলো গাছের ফোঁকরে একজন সাদা দাঁড়িওয়ালা হুজুরের যাতায়াত ছিল। এসব শুনে কাঠুরিয়ারা গাছ কাটতে রাজি না হওয়ায় নামাজ পড়ে দোয়া-দুরুদেরও ব্যবস্থা করা হয়। গাছটি কাটতেও অনেক দিন সময় লাগে। বস্তিবাসীরা এতে অবাক হলেও পরে আর কোন জিন-ভূতের উপদ্রব দেখা যায়নি। ক্লাবের বিষয়ে আব্দুল জব্বার মেহমান বলেন, সবে ধানমন্ডি থেকে গুলশান এসেছি। বেশিরভাগ প্লটই খালি। সেসময় আমরা সকলে একত্র হতে আরম্ভ করলাম। পুকুর পাড়, লেডিস পার্ক ও বিচারপতি সাহাবুদ্দিন পার্কে হাঁটতাম ও একত্র হতাম। সপ্তাহে একবার না হলেও মাসে একবার কোথাও আমরা বসবার চেষ্টা করতাম। এভাবেই গুলশান ক্লাবের যাত্রা শুরু হয়। প্রায় তিন লাখ লোকের বসবাস গুলশানে।
এখানে জমি বিক্রি করতে চাওয়া মানুষের চেয়ে জমি কেনায় আগ্রহী মানুষের সংখ্যাই বেশি। গুলশানে জমি কিনতে চেয়ে পত্রিকায় দেয়া বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে প্রায়শই। কিন্তু বিজ্ঞাপনেও কাজ হয়না তেমন একটা। জমি বিক্রিতে অনাগ্রহী হলেও বেচাকেনার সাইটগুলোতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির বিজ্ঞাপনের সংখ্যা বেশ চোখে পড়ার মতো। কারণ একটাই, দোতলা ঐতিহ্যবাহী ভবন ভেঙ্গে বহুতল ভবন উঠছে হু হু করে। ফ্ল্যাট কিনতে গেলে প্রতি স্কয়ার ফিটে কোথাও কোথাও খরচ করতে হয় সত্তর হাজার টাকা। আর প্রতি কাঠা জমির দাম গুলশানে অন্তত তিন থেকে পাঁচ কোটি টাকা। জমি কিনতে রেজিস্ট্রি করতে হলে গুনতে হয় কাঠা প্রতি ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকার মতো। তেজগাঁও রেজিস্ট্রি অফিস থেকে জানা গেছে এমন তথ্য।
সিটি করপোরেশন বলছে, গুলশান এলাকায় আছে, দুটি পার্ক ও অন্তত ৩৮টি দূতাবাস। হলি আর্টিজান হামলার পর থেকেই গুলশানের অলি-গলি ও মোড়ে মোড়ে নজরদারি আর গোয়েন্দা তৎপরতা বেড়েছে। এখনো বন্ধ করে রাখা হয়েছে হলি আর্টিজান রেস্তরাঁ সংলগ্ন লেকপাড়ের সড়কটি। নজরকাড়া বিলাসী জীবনযাপনের আড়ালেও আছে ভিন্ন গল্প। গুলশানে কাজ করেন এমন অনেকেই থাকেন গুলশানের আশপাশের এলাকায়। এখানকার জীবনযাত্রায় ব্যয়ে কুলিয়ে উঠতে পারেন না অনেকে। গুদারাঘাট, নিকেতন ও মহাখালী এলাকা থেকে অফিস করেন এসব মানুষ। আবার অনেকে গুলশানে অফিস করলেও খাবার নিয়ে আসেন কিংবা গুলশানের বাইরে গিয়ে দুপুরের খাবার সারেন। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন বুয়েট থেকে পাস করা ইকবাল মাহমুদ। থাকেন গুলশানের বাইরে। এমনকি দুপুরের খাবার খান গুলশানের এলাকার বাইরে গুদারাঘাটে নয়ন বিরিয়ানি হাউজ নামে একটি হোটেলে। এক দুপুরে গিয়ে দেখা গেল দোকনটিতে বেশ ভিড়। এসব মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এখানকার বিরিয়ানি স্বাদ আর দামের কারণেই নিয়মিত আসেন তারা।
গুলশান এলাকায় রিকশা চালান মফিজ মিয়া। বাড়ি উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে। অভিজাত এলাকায় রিকশা চালিয়ে উপার্জন বেশ হলেও বেশিরভাগই খরচ হয়ে যায় বলে মত তার। মফিজ মিয়া বলেন, এলাকাটা ভালোই, ঝামেলা কম, তয় ইনকাম খুব একটা থাকে না। কোন রকমে দুপুরের খাবার খেতেই এই এলাকায় একশো টাকার বেশি খরচ হয়। তাই চিন্তা করছি অন্য এলাকায় রিকশা চালামু। গুলশান এলাকার বেশিরভাগ গৃহকর্মী ও শ্রমিকরাও থাকেন গুলশান এলাকার বাইরে। ভাটারা, বাড্ডা ও বাঁশতলা এলাকায় থেকে যাওয়া আসা করে কাজ করেন তারা। শফিক এরকমই একজন। গুলশান এলাকার ব্যস্ততা, আভিজাত্য তার নজর কাড়ে না। তবে বাড়ি ফেরার সময় একটা জায়গায় প্রতিদিন মিনিট পাঁচেক দাঁড়ান শফিক। গুলশান দুই নম্বর গোলচত্বরে প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলা শত-শত চড়ুই পাখি জড়ো হয়। অপলক নয়নে এসব পাখির দিকে চেয়ে থাকেন তিনি। আর ভাবেন, আহা জীবনটা যদি পাখির মতো হতো!
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চাঁদে স্বর্ণ, প্লাটিনাম খননের প্রতিযোগিতা!

কিন্তু এই ধারা তাড়াতাড়িই পাল্টে যেতে পারে। বেশ কিছু কোম্পানি চাঁদের গায়ে বিভিন্ন রকম আবিস্কারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। স্বর্ণ, প্লাটিনাম অথবা জাগতিক ধাতব পদার্থ উদ্ধারের জন্য সেখানে খনন কাজ করতে পারে তারা।
এ মাসের শুরুর দিকে চেঞ্জ’ই-৪ নামে একটি উপগ্রহ চাঁদে অবতরণ করেছে চীনের। সেখানে চাঁদের পৃষ্ঠে একটি তুলার বীজ অঙ্কুরোদগম করিয়েছে তা। সেখানে তারা একটি গবেষণা ঘাঁটি স্থাপন করতে চাইছে। ওদিকে ‘আর্থ-মুন ট্রান্সপোর্টেশন প্লাটফরম’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে জাপানের প্রতিষ্ঠান আইস্পেস। পাশাপাশি তারা চাঁদের মেরু অঞ্চলে পানি আবিষ্কার করতে চাইছে তারা।
তবে অলড্রিন যে শূন্যতা দেখে অভিভূত হয়েছিলেন সেখানে কি বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেল? সেখানকার সম্পদ কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে গেল? শীতল যুদ্ধের সময় মহাকাশ গবেষণা যখন শুরু হয় তখন থেকেই মহাজাগতিক বস্তুগুলোর মালিক কে হবে তা একটি ইস্যু হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা যখন প্রথম মানুষ বহনকারী চন্দ্র মিশন পাঠানোর পরিকল্পনা করছিল তখন জাতিসংঘ একটি চুক্তি করে। এর নাম আউটার স্পেস ট্রিটি, যাতে যুক্তরাষ্ট্র, তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন, বৃটেন সহ সদস্য দেশগুলো স্বাক্ষর করে। এতে বলা হয়েছে, চাঁদ বা অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তু সহ মহাশূন্যের কোনো বস্তুর সার্বভৌমত্ব দাবি করা, ব্যবহার করা বা দখল করা বা অন্য কোনো উপায়ে জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে না।
মহাকাশ স্পেশালিস্ট বিষয়ক কোম্পানি অলডেন এডভাইজারের পরিচালব জোয়ানে হুইলার এই চুক্তিকে ‘মহাশাক বিষয়ক ম্যাগনা কার্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নিল আর্মস্ট্রং ও তার উত্তরসুরিরা চাঁদের গায়ে যে পতাকা উড়িয়ে দিয়েছেন তাকে অর্থহীন বলে মনে করে এ প্রতিষ্ঠানটি। কারণ, তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তিবিশেষ, কোম্পানি বা দেশকে এমন অধিকার দেয় নি ওই চুক্তি।
১৯৬৯ সালে চাঁদের জমির মালিকানা অথবা সেখানে খননের অধিকারের বিষয়টি এখনকার মতো এতো গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। কিন্তু যেহেতু প্রযুক্তির উন্নয়ন হয়েছে, এর লাভজনক ব্যবহারে বেড়েছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কুয়েতে দূতাবাসে ভাঙচুর: ২১৫ বাংলাদেশিকে ফিরতেই হবে

তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবো। এদিকে কুয়েতে বসবাসরত বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি মানবজমিনকে জানান, বেতন ভাতা ও আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) আদায় নিয়ে দূতাবাসে নালিশ করতে গিয়ে আমরা কোনো অপরাধ করিনি। লেসকো কোম্পানিতে গত তিন মাস ধরে বেতন হয়নি। তাই শ্রমিকরা নিজেদের পেটের তাগিদে এমনিতেই ক্ষুব্ধ ছিল। তাদের ক্ষোভকে আমলে না নেয়ার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ভাঙচুরের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও একটি কোম্পানিতে চাকরিরত এক বাংলাদেশি মানবজমিনকে বলেন, শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ প্রথমে ওই কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর কোম্পানির একজন কর্মকর্তা লিখিতভাবে আগামী ৫ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে বেতন পরিশোধ ও আকামা নবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু কোম্পানির ওই প্রতিশ্রুতিতে শ্রমিকরা আশ্বস্ত হননি। এজন্য কোম্পানির কর্মকর্তাকে দূতাবাস ত্যাগ করতে দিতে চাননি তারা। শ্রমিকদের আপত্তি উপেক্ষা করে লেসকোর প্রতিনিধিকে দূতাবাস কর্মকর্তা গাড়িতে তুলে দিতে চান। এরপরই হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের গ্রেপ্তার করানোর জন্য পুলিশ ডাকার বিষয়টি দৃষ্টিকটু ছিল। তবে অবস্থা দেখে কোম্পানির কর্মকর্তাকে পুলিশি সহায়তায় বের করে দিলে হয়তোবা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতো না।
দেন-দরবার করে এয়ারপোর্ট থেকে তাদের আমরা ফেরত এনেছি। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারের ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত।
কুয়েতের কোম্পানি লেসকোর সঙ্গে বিষয়টি মিটে গেলেও কী কারণে দূতাবাস ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলা হয়েছে- তা মাথায় আসছে না। বাংলাদেশি ভাইয়েরা কেন এমন করতে গেলেন তা ভেবে পাই না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ দূতাবাসে ভাঙচুরের ঘটনায় আটক শ্রমিকদের মুক্ত করার চেষ্টা চলছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের মুক্ত করার চেষ্টা করছে সেখানকার কূটনীতিকরা। রাষ্ট্রদূত এসএম আবুল কালাম বলেন, আমরা তাদের ছাড়ানোর জন্য ইতিমধ্যে কুয়েত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।
আশা করছি, তাদের অপরাধকে খাটো করে দেখা হবে। এ বিষয়ে কুয়েত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। তারা আমাকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, নিরীহ কোনো বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাবেন না তারা। তিনি বলেন, যে কোম্পানিতে বাংলাদেশি ওই শ্রমিকরা কর্মরত ছিলেন, তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। বিষয়টি সুন্দর সমাধানও হয়েছিল। কোম্পানি লেসকো আন্ডারটেকিং দিয়েছিল। তারা ৫ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে বেতন ও বকেয়া পরিশোধ করবে। পাশাপাশি আকামা পুনরায় নবায়নের বিষয়ে সম্মত হন। এদিকে লেসকো নামের কুয়েতি ওই কোম্পানিতে কয়েকশ’ বাংলাদেশি কাজ করছেন। তারা অভিযোগ জানিয়ে বলেন, গত তিন মাস ধরে তারা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না।
এছাড়া, আকামা পরিবর্তনের সুবিধা না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা এই কাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৬ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিতে শুরু করে কুয়েত। ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে প্রায় চার লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক নিয়েছে দেশটি। ওই বছর বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করার পর, ২০১৪ সালে আবার শ্রমিক নিয়োগ চালু হয়। এরপর ২০১৬ সালে পুরুষ গৃহকর্মী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কুয়েত সরকার। কয়েক মাস পর ওই নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া হয়। এখন বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে শ্রমিক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বৃহস্পতিবার কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ভাঙচুর ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনা শ্রম-বাজার আবারও ব্যাকফুটে চলে গেল।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যে গাঁয়ে মেয়ের নাম শবনম রাখেন না কেউ

ওই নারীর নাম শবনম আলী। তিনি তার আট মাস বয়সী এক সন্তানসহ পরিবারের সাত সদস্যকে হত্যার দায়ে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে গত ১১ বছর জেলে। ওই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল ২০০৮ সালে এপ্রিলের ১৪, ১৫ তারিখে। ঘটনাটি ঘটে উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদের আমরোহা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের গ্রাম বাওয়ানখেরিতে। শবনম তখন সাত সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। তবে গর্ভস্থ ওই সন্তানের পিতা তার স্বামী নন। ওই সন্তানের পিতা তার প্রেমিক সলিম। তাকে সঙ্গে নিয়ে শবনম ঘটনার রাতে পরিবারের সবাইকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান বাইরে। এরপর তাদের হত্যা করেন। কারণ, তারা তাদের প্রেমের সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
সলিম ছিলেন ভিন্ন একটি অর্থনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও গোত্রের। শবনমের ছিল ইংরেজি ও ভূগোলে ডবল এমএ। তিনি ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষিকা। তার পরিবার ছিল ধনী। অন্যদিকে সলিম একজন পাঠান। তিনি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পড়াশোনা বাদ দিয়েছেন। কাজ করতেন দিনমজুর হিসেবে। তাদের প্রেমের সম্পর্কে ওই হত্যাকাণ্ডে ওই গ্রামের মানুষকে এখনো ১১ বছর পরে নাড়া দিয়ে যায়। ওই গ্রামের কোনো মানুষই তাদের মেয়ের নাম এরপর আর শবনম রাখেননি। শবনম আলীর বাসার সামনেই বাড়ি ইনতেজার আলীর। তিনি বলেন, ওই করুণ রাতের পর থেকে বাওয়ানখেরি গ্রামে আর কোনো শবনমের জন্ম হয়নি। এ গ্রামের মানুষ এতটাই ভীতশঙ্কিত যে তারা তাদের মেয়ের নাম শবনম রাখেন না। এখনো শবনমের ঘরের ভিতর রয়েছে রক্তের দাগ।
সেই বাড়িটা এখন শবনমের আঙ্কেল সাত্তার আলীর দখলে। তিনি ওই ভয়াবহ ঘটনা সম্পর্কে বলেন, আমার কাছে একজন মৃত মানুষ। ওইসব স্মৃতি আমি আর মনে করতে চাই না। তার পরিবারের ছিল ৩০ বিঘা জমি। তার পিতা ছিলেন স্থানীয় একটি কলেজের মানবিকের শিক্ষক। শবনমও গ্রামের স্কুলে পড়াতো। শিক্ষার্থীদের কাছে সে ছিল খুব প্রিয়। কেউই বাস্তবে চিন্তাও করতে পারেনি যে, তার মতো নরম স্বভাবের একটি মেয়ে এমন ভয়াবহ অপরাধ করতে পারে। ওই খবর শুনে আমরা হতাশ হয়েছি। ওই পুরুষের সঙ্গে তার সম্পর্কের খবরে পরিবারে একটা উত্তেজনা ছিলই। তবে এমন ঘটনায় তার ইতি ঘটবে তা কেউ কল্পনা করতে পারেনি।
প্রথম দিকে ওই হত্যাকাণ্ডে নিজের কোনো ভূমিকা থাকার কথা অস্বীকার করেন শবনম। তার পরিবর্তে তিনি দাবি করেন, তার ঘরে চোর ঢুকেছিল। সে সময় তিনি ছিলেন বাথরুমে। কিন্তু তদন্তকারীরা তাকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করতে থাকেন। ইনতেজার আলী বলেন, তদন্তে তাদের ফোনকল রেকর্ড থেকে দেখা যায় ১৪ই এপ্রিল তারা একে অন্যকে ৫০ থেকে ৬০ বার ফোনে কথা বলেছেন। সলিমকে শেষ ফোন কল করেছিল শবনম রাত একটা ৪৫ মিনিটে। এর কয়েক মিনিট পরে শবনম তার ব্যালকনিতে এসে চিৎকার করতে থাকে সাহায্য চেয়ে। ইনতেজার আলী বলেন, তার চিৎকার প্রথমে শুনতে পাই আমি এবং পুলিশে খবর দিই। পরে পোস্টমর্টেমে দেখা যায়, ওই পরিবারের সদস্যদের হত্যার আগে তাদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এটা করা যেতে পারে শুধু বাড়ির ভিতরের কারো সহযোগিতা নিয়ে। এমনকি নিহতদের দেহে কোনো ধস্তাধস্তির দাগও ছিল না। এর পরপরই শবনমের মূল বক্তব্যে সন্দেহ হয় পুলিশের। ফলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এতে উভয়েই অপরাধ স্বীকার করে। পুলিশ উদ্ধার করে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র।
একদিন যখন প্রেমিক-প্রেমিকাকে আদালতে তোলা হয়, তখন তারা একজন একে অন্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তাদের স্থানীয় আদালত শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে। সেই রায় বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট। প্রেসিডেন্টের কাছে তারা প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যাত হয়। এখন শবনমের আইনজীবীর হাতে একটিই শেষ সুযোগ। তা হলো সুপ্রিম কোর্টে শেষ রিভিউ পিটিশন। তার শুনানি হওয়ার কথা এ মাসে। এই পিটিশনের রায়ই বলে দেবে শবনম বেঁচে থাকতে পারবেন নাকি তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে। একই রকম আবেদন করেছেন সলিমও।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ীরা এককভাবে কি সংসদে যেতে পারবেন? by কাজী সোহাগ

আর নির্বাচিত হওয়ার পর কেউ যদি সংসদ সচিবালয়ে শপথ নিতে আসেন তাহলে তাকে ফিরিয়ে দেয়ার আইনগত কোনো এখতিয়ার নেই। শপথ নেয়ার পর সংসদেও যোগ দিতে পারবেন।
মৌলভীবাজার-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ। অন্যদিকে সিলেট-২ আসনে গণফোরামের নিজস্ব প্রতীক ‘উদীয়মান সূর্য’ নিয়ে জয়ী হন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত গণফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খান। এ প্রসঙ্গে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, এই দুজন চাইলে যেকোনো সময় এমপি হিসেবে শপথ নিতে পারেন। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করেছে। শপথের জন্য সময় নির্ধারণ করা আছে নির্বাচিত হওয়ার পর ৯০ দিন পর্যন্ত। একই প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া মানবজমিনকে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত যে কেউ শপথ নিতে পারেন। সংসদ সচিবালয় তাদের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করবে। এক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কোনো বাধা নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, সবকিছু তো হয় আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে। তাদের আসার বিষয়টি যদি ঐক্যফ্রন্টের মত নিয়ে না হয় সেক্ষেত্রে বিএনপি তাদের বিষয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্টভাবে আইনগত কোনো ব্যাখ্যা নেই বলে দাবি করেছে সংসদ সচিবালয়। প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কয়েক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, অতীতে এ ধরনের কোনো উদাহরণ নেই। গণফোরামের দুই সদস্য যদি সংসদে যোগ দেন তাহলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বরখেলাপ হবে না। ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন তাহলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে। এর সাংবিধানিক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে-যদি কোনো সংসদ সদস্য, যে দল তাহাকে নির্বাচনে প্রার্থীরূপে মনোনীত করিয়াছেন, সেই দলের নির্দেশ অমান্য করিয়া-(ক) সংসদে উপস্থিত থাকিয়া ভোটদানে বিরত থাকেন অথবা (খ) সংসদের কোনো বৈঠকে অনুপস্থিত থাকেন তাহা হইলে তিনি উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, সংসদে যোগ দিতে ইচ্ছুক ঐক্যফ্রন্টের এমপিরা যদি শপথ নেন ও সংসদে যোগ দেন তাহলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ তাদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। কারণ সংসদে যোগ দিয়ে দলের বিপক্ষে ভোট দেয়ার কোনো সুযোগ তাদের নেই। কারণ তাদের দলই তো সংসদে নেই।
আর যদি দল থেকে পদত্যাগ করে তাহলে ভিন্ন বিষয়। এদিকে গণফোরামের দুই সদস্য সংসদে যোগ দেবেন কি-না তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, সংসদে যোগ দেয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যদি যোগ দেয় তাহলে সবাই একসঙ্গে যোগ দেবে। আর যদি না দেই তাহলে কেউ যোগ দেবেন না। তবে এই সংসদে সবার যোগ না দেয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এদিকে সংসদে যোগ দিচ্ছেন কি-না এমন প্রশ্নে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, এখন কিছু বলা যাবে না। সময়ই কথা বলবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাবিতে ‘মাদক পার্টিতে’ তুলকালাম

আটককৃতরা ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় তোলপাড় চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।
আটকদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির এক ছাত্রী, ফার্সি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির আরেক ছাত্রী, এমআইএস, স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের আরেক ছাত্রী, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের দুই ছাত্র। পরে তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা শাখার সদস্যরা ক্যাম্পাসে টহলরত অবস্থায় আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তমঞ্চের আশপাশে ও কেন্দ্র্রীয় খেলার মাঠে হাতেনাতে মাদক সেবন অবস্থায় আটক করে নিরাপত্তা শাখা অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের ভুল স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এরকম ঘটনার সঙ্গে জড়িত হবে না বলে প্রতিজ্ঞা করেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের ৭ম ব্যাচের এক শিক্ষার্থীকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন বলেন, গতরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ডসহ ৮ জন, গাঁজা, ইয়াবার প্যাকেট, মদ, সীসা খাওয়ার সরঞ্জামসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে নিরাপত্তা শাখা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসে এদের অনেককে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘মুক্তমঞ্চে কনসার্ট চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি মঞ্চে ছিলেন। আমরা টহল দিয়ে দেখি অনেকগুলো টিম গাঁজা ও মদ খাচ্ছিল। কয়েকটা গ্রুপকে ধরে সতর্ক করে ছেড়ে দেই। যাদের অধিকাংশই বহিরাগত। পরে আবার মাঝরাতে তারা বটতলায়ও ছিল।’ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ করেন বহিরাগতদের নিয়ে এসে যেন ক্যাম্পাসকে মাদকের আখড়া বানানো না হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধও জানান।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঘরে-বাইরে বেকায়দায়

তার জীবন মামলায় জেরবার হলেও তার স্বাভাবিক জীবন খুব ব্যাহত হয়নি। কারণ তিনি এখনও তার স্ত্রীর দেয়া উপহারের গাড়িতে চলতে পারেন। গত ১০ বছরে তার স্ত্রীর সম্পদ আড়াই গুণ বেড়েছে।
দুটি আসনে নির্বাচন করে যথারীতি সর্বোচ্চ সিলিং ২৫ লাখ টাকা করেই ব্যয় দেখাতেও পেরেছেন।
তিনি এই মুহূর্তে নিজের দলেও নানা প্রশ্নের মুখোমুখি। নানা দ্বিধাদ্বন্দ্ব। নানামুখী সন্দেহ সংশয়। এমনকি নিন্দুকদের কেউ কেউ সরকারের সঙ্গে লাইনঘাট রাখার দিকেও ইঙ্গিত দিতে ইতস্তত করছেন না।
বাংলাদেশ ষড়যন্ত্রের থিওরি ভালো খায়। এটাও যে একদম খাচ্ছে না। তা নয়। কিন্তু বিএনপির সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ। টিকে থাকার লড়াই।
নির্বাচনের পরে বিশেষ করে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে তিনটি বিষয়ে। নির্বাচনের আগে সংলাপে যাওয়া কি ঠিক ছিল? ঐক্যফ্রন্ট করা কি ঠিক ছিল? ভোটের আগের দিন ইসিতে ধর্না দিয়ে নির্বাচন বয়কট করা কি ঠিক ছিল না?
এর বাইরে বেগম খালদা জিয়ার জামিন নিশ্চিত করার বিষয়ে তার নেতৃত্ব কার্যকর বলে প্রতিয়মান হচ্ছে না। অন্তত দলের একটি অংশের কাছে এই প্রশ্নটি তীব্রতা পেয়েছে। বিএনপির স্টান্ডিং কমিটির কেউ নির্বাচিত হওয়ার তকমা পাননি। তিনি একা পেয়েছেন।
সেই অর্থে মির্জা ফখরুলই বিএনপির একমাত্র সিনিয়র নেতা, যাকে নির্বাচিত হতে দেখা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর কথা উঠেছে। সেখানে প্রশ্ন উঠছে, তাকে সরিয়ে দেয়া একটি গঠনমূলক সমাধানের সূত্র কিনা। অনেকেই স্মরণ করছেন, মির্জা হলেন সেই নেতা, যাকে একটি দীর্ঘ সময় ভারপ্রাপ্ত রাখা হয়েছে। সেটা একটা দুর্বল সাংগঠনিক অবস্থার নির্দেশক ছিল। কিন্তু ঝুলন্ত রাখার সময়টা বড় বেশি দীর্ঘ ছিল।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জন্ম ঠাকুরগাঁয়, ১৯৪৮ সালে। বিসিএস পরীক্ষায় নিজকে ফিট করেই তবে শিক্ষকতা পেশা বেছে নিয়েছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় ছাত্র রাজনীতি করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (অধুনা বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন) সদস্য হন এবং সংগঠনটির এস.এম. হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময়ে তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন।
৮৬ সালের পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে মির্জা ফখরুল তার শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নেন। ১৯৮৮ সালে পৌর চেয়ারম্যান হন। এরশাদ খেদাও পর্বে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।
কেউ ভাবতেও পারেননি, পূর্ণ মন্ত্রী করার কথাও যাকে ভাবা যায়নি। যিনি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বর্তমানে দলের প্রধান কাণ্ডারি। মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশের একটা ব্যতিক্রম চরিত্র তিনি । তিনি তার ভাবমূর্তি এবং বিনম্র চিত্ত দিয়ে শত্রুমিত্রকে আপন করার মুন্সীয়নাও দেখিয়েছেন। অনেকেই বলছেন যে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সংকটকালীন সময়ে ওয়ান ম্যান আর্মি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। কিন্তু তার সমালোচনার মধ্যে যেসব বিষয় গুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে, তাকে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল যে নির্বাচনে না গিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ঘেরাও করে রাখা। মওদুদ আহমদের টেলিফোন ফাঁসে যে ধারণা প্রকাশ পেয়েছ, সেটা না হওয়ার জন্য অনেকে তাকে দায়ী করেন। অবশ্য বিশ্বাস করা কঠিন যে, তিনি হাইকমান্ডের জানাশোনার বাইরে তিনি কিছু করে থাকবেন।
কারো মতে ৩শ’ প্রার্থী যদি ঢাকায় এসে নির্বাচন কমিশনে বসে পড়তেন নির্দিষ্ট কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে এবং সেটা পূরণ না হলে তারা পরদিন নির্বাচনে যাবেন না বলতেন, তাহলে সেটা অনেক বেশি জোরালো এবং শক্তিশালী আন্দোলনের কর্মসূচিতে রূপান্তরিত হতে পারতো। কিন্তু সেটা ঘটেনি। যদিও কেউ কেউ বলছেন যে আরো কিছু পরামর্শ তাকে দেয়া হয়েছিল, তা তিনি নেননি।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ কথা বলার অবকাশ রাখে না যে যদি ওই ধরনের একটি আল্টিমেটাম নির্বাচনের আগেই দেয়া হতো, তাহলে সেটা অহিংস কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকত, সে কথায় অনেকেরই সংশয় রয়েছে। কারণ, সরকারের সঙ্গে বিরোধের পথে গিয়ে কোনো কর্মসূচি গত ১০ বছরে সাফল্যের মুখ দেখেনি।
তাদের মতে, দেখা যাচ্ছে যে, আসলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটাই ছিল সঠিক পদক্ষেপ। কারণ, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ফলে আজকের সারা বিশ্বে এটা প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে যে নির্বাচনটা ভালো হয়নি। ২০১৪ সালের বয়কট এটাও প্রমাণ করছে যে, বিএনপি গত নির্বাচনের বৈধতা দেয়নি বলে সরকার চালাতে কোনো অসুবিধা হয়নি।
বিএনপি কোনো পদক্ষেপ দিয়ে বৈধতার প্রশ্ন ফয়সালা বা রাজনৈতিকভাবে কোনো চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। গত পাঁচ বছরে বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেছেন যে বয়কট সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। এমনকি ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনের পরেও তারা সেটা বলেছেন। কিন্তু তার মূল্য কি? নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের অনেকেই বলছেন, এই ধরনের যুক্তি আবেগপ্রসূত। কারণ যদি এই নির্বাচনে না যাওয়া হতো, তাহলে সরকারকে এভাবে উন্মোচন করা সম্ভব ছিল না। তখন বলা হতো যে নির্বাচন বিরোধী দল পরিকল্পিতভাবে বয়কট করেছে, সেই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে আলোচনা বা প্রশ্ন তোলার অবকাশ কম।
এখন অনেক কিছুই সামনে রয়েছে। আইনগত (কার্যত আন্দোলনের অংশ) লড়াই চালানো তার অন্যতম। দলটি এখন কার্যকরভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে এবং সারা দেশে বিএনপির পক্ষে যে সহানুভূতি সেটা তারা কাজে লাগাতে পারে।
দ্বিতীয় জ্বলন্ত সমালোচনার বিষয় হচ্ছে, তিনি নির্বাচনপূর্ব ঐক্যফ্রন্ট গঠন করলেন কেন? ড. কামাল হোসেন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। তাদের যুক্ত করে দলের কি লাভ হয়েছে? আওয়ামী লীগের মুখ উজ্জ্বল হয়েছে।
সেই প্রশ্ন তীক্ষ্ণভাবে তুলেছেন মেজর হাফিজ। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন শুধু শুধু আমরা ওদের নেতা বানিয়েছি। ড. কামাল হোসেন একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি। তিনি শ্রদ্ধার পাত্র। তিনি সংবিধান প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু রাজনীতিতে তার ভূমিকা কতখানি? তার কথা সারসংক্ষেপ করলে এটাই দাঁড়ায় যে ঐক্যফ্রন্টে তাদেরকে নিয়ে বিএনপি কোনো ভাবে লাভবান হয়নি। কিন্তু পর্যবেক্ষকরা একথা নাকচ না করে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন যে, নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে সুবাতাস এসেছে। বিএনপি সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকারের সঙ্গে যে সহযোগিতা করতে চায় সেটা তারা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।
ঐক্যফ্রন্ট আলোচনায় গিয়ে প্রমাণ করেছে যে, সরকার আসলে ক্ষমতা ছাড়া সংলাপের অন্য কোনো মানে বোঝে না। অন্তত সেই বিষয়টি আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়সহ সবার কাছে পরিষ্কার ধরা পড়েছে।
সচেতন মহল বলছেন, মির্জার নেতৃত্ব সন্তোষজনক সফল হয়েছে, সেটা অবশ্যই বলা যাবে না। কিন্তু এর থেকে উত্তম বা তৃতীয় বিকল্প কি আছে ? দলটি একটি অভূতপূর্ব রাজনৈতিক টানাপড়েন এবং নেতৃত্বের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বিএনপির দুর্বল নেতৃত্ব থেকে এখন কাউকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে দেয়া সহজ নয়, আবার পরিবর্তন ছাড়া কিভাবে চলবে সেটাও স্পষ্ট নয়।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি এই মুহূর্তে সম্ভব মনে হয় না। বিএনপিকে আরো অনেকটা পথ যেতে হবে। সেই পথে যাওয়ার জন্য যে মননশীল চিন্তা, ধৈর্য এবং সংযম থাকার কথা, সেটা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেই, সেটা হয়তো তার নিন্দুকরাও বলবেন না। মওদুদ আহমদ, রফিকুল ইসলাম. ড. মোশাররফদের মতো কেউ এলেই সব পাল্টে যাবে, সেটা ধরে নেয়ার কারণ নেই। সুতরাং জাতীয় রাজনীতিতে মির্জা প্রাসঙ্গিক থাকবেন। কিন্তু তিনি প্রচলিত অর্থে ব্যর্থ হবেন। তিনি দ্রুত সাফল্য আনতে পারবেন না। দলটির কর্মকর্তারা বলছেন, দেশব্যাপী বিএনপির নেতাকর্মীরা যেভাবে গ্রেপ্তার ও হয়রানির শিকার হন, সেটা রোধে তার সাফল্য আছে, সেটা বলা যাবে না। অদূর ভবিষ্যতে সেই চিত্র তিনি বদলাতে পারবেন না। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, তাকে সরালেই এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। বিরাজমান অচলাবস্থা কেটে যাবে। বিএনপির রাজনীতির পথে মহাসচিবের নেতৃত্বই কি মূল বাধা? কর্মকর্তারা বলেন, নেতৃত্বের ব্যর্থতা প্রশ্নে তাকে সরানোর কথা উঠলে কেউ এটা বদলের গ্যারান্টি দেবেন, তা বিশ্বাস করা কঠিন। বরং ক্ষতি যেটা হতে পারে সেটা হলো, মির্জার বুদ্ধিদীপ্ত এবং সময়োপযোগী রাজনৈতিক উত্তর।
নির্বাচনের পরে তিনি অল্প কথায় পরাজয়ের কাব্যগাঁথা রচনা করেছেন এভাবে:
“নির্বাচনে আমরা বাধা দিতে পারিনি। সেজন্য বারবার ছুটে গেছি বিভিন্ন জায়গায়। বলেছি জেগে উঠুন, আপনার অধিকার আপনারা রক্ষা করুন। আমরা রক্ষা করতে পারিনি। কেন পারিনি? পারিনি এজন্য যে আমরা সুশৃঙ্খল নই। আমরা মরার আগে মরে যাই।’
মির্জা ফখরুল প্রশ্ন করেন, ‘কেন মরে যাই? কেন রুখে দাঁড়াচ্ছি না? আমার দেশ, এই মাটি আমার। আমি এর মালিক। জনগণ এর মালিক। জনগণের পয়সায় তারা সরকার চালাবে। আমাদের খাবে, আমাদের পরবে আমাদের বুকের ওপর গুলি চালাবে? ক্ষোভ হয় না? রাগ হয় না? উত্তেজনা হয় না?’
বিএনপিকে অবশ্যই নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে টিকে থেকে অবস্থা নিজেদের জন্য অনুকূলে আনতে হবে। তাকে রিপ্লেস করা বা তাকে সরিয়ে কোনো বিকল্প তৈরি করা বিএনপির পক্ষে এখনই সম্ভব নয়। কেউ কেউ বলেন, কোনো ব্যক্তিই অপরিহার্য নন। সেই যুক্তিতে তিনিও অপরিহার্য নন। কিন্তু দেশের বিরাজমান পরিস্থিতি যার সঙ্গে বাংলাদেশের চিরচেনা রাজনীতির কোনো মিল নেই, সেখানে ব্যর্থতার দায়ভার এককভাবে তার ওপরে চাপিয়ে দিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে তা হঠকারী হতে বাধ্য।
অনেকের মতে এখন যেটা দরকার সেটা হচ্ছে: মির্জা ফখরুল ইসলামের অধিকতর ক্ষমতায়ন, কেউ কেউ এমনটাও দাবি করছেন যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদে একাই এক শ’ হতে পারেন। কিন্তু মুশকিল হলো, একথা তাত্ত্বিকভাবে কেউ কেউ স্বীকার করে নিলেও এ কথা বাস্তবে মানা খুব কঠিন হবে। কারণ, সমমর্যাদাসম্পন্নরা কেউ তাকে সংসদে বসতে দেখতে চাইবেন না। মির্জা নিজে যদিও সংসদ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাচন বর্জনেও স্বাভাবিক ঝোঁক আছে। কিন্তু কারো কি জানা আছে, বয়কট বিএনপিকে কি দেবে? সরকারি দল লজ্জিত হবে? বৈধতার সংকটে পড়বে? আগামী ৫ বছর তাহলে সব কিছু বর্জন করে যেতে হবে। কে গ্যারান্টি দেবেন, শুধু বয়কটই আন্দোলনকে বেগবান করবে?
তবে কেউ কেউ বলছেন, আবেগই জয়ী হবে। বেগম খালেদা জিয়া জেলে থাকবেন। তারেক রহমান নির্বাসিত থাকবেন। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দুজন শীর্ষ সদস্যও নির্বাচিত নন। সেরকম একটি পরিবেশে বিএনপি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পার্লামেন্টে যেতে দেবে, সেটি বাস্তবতা সমর্থন করে না।
অবশ্য এইসব টানাপড়েন সত্ত্বেও বিএনপি এবং বাংলাদেশের রাজনীতি এগিয়ে যাবে। ইতিহাসের রথযাত্রার তো ইতি নেই। অবশ্য কোথায় গিয়ে থামবে তা কেউ জানে না। বিএনপি বেকায়দায়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেকায়দায়। তার সমালোচকরা বেকায়দায়। বিএনপির নেতা-কর্মী মানেই বেকায়দায় থাকা।
সুতরাং এইসব বেকায়দাকে কে কায়দা দেবেন এবং এই গ্যারান্টি কেউ দিতে পারেন কিনা, কারো পক্ষে সম্ভব কিনা, সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ। তবে সার্বিকভাবে বর্তমান নেতৃত্ব দিয়ে যে চলছে না, তাও কোনো লুকোছাপার বিষয় নয়। গত নভেম্বরে তফসিল ঘোষণার পরেই মির্জা বলেছিলেন, ‘এবারের সংকট আরো কঠিন। আরো ভয়াবহ।’ তার মানে রাজনীতিটা তিনি বোঝেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আন্দোলন ও নির্বাচনের ব্যর্থতার দায়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদত্যাগ করা উচিত।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভুবনচিলের মায়ায়...

ভুবনচিলের মায়ার এ ঘটনা নগরের লালাদিঘিরপাড় এলাকার মণিপুরি মহল্লার। ভূমিসন্তান বাংলাদেশের সমন্বয়ক মোহাম্মদ আশরাফুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, পেখমে লাগা সুতোগুলো ঘুড়ির। ধারণা করা হচ্ছে ঘুড়ির সুতোর মধ্যে আটকা পড়ে এমন অবস্থা। একটি বাঁশে ঠায় বসেছিল উড়তে না পারার কারণে। পাশাপাশি সুতোয় ডানায় ক্ষতও দেখা দেয়। মণিপুরি মহল্লার তরুণ বিনয় সিংহ, রাজীব সিংহ, বিক্রম সিংহ, অর্ণব সিংহ, শুভংকর সিংহ ও প্রবীণ সিংহ এটিকে উদ্ধার করে খাবার স্যালাইন খাইয়ে উড়ে যাওয়ার কসরত করান। কিন্তু চিলটি উড়তে পারছিল না। সেখান থেকে উদ্ধার করে গতকাল সন্ধ্যায় সিলেটের বন বিভাগের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রের হাসপাতালে নেন তাঁরা।
আশরাফ জানান, চিলটি হয়তো নগরে ওড়ার সময় সুতোয় বাঁধা পড়ে আটকা পড়েছিল।
হাসপাতালের চিকিৎসক মনজুর কাদের চৌধুরী বলেন, ঘুড়ির সুতোয় ধারালো আঠা থাকায় তাতে ডানায় জখম হয়েছে। এ জন্য এটি উড়তে পারছে না। প্রাথমিক কিছু চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অপরাধীদের শুধু শাস্তি নয় পুনর্বাসনও জরুরি -স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী

মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বহুমুখী পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেখানে একটা মাদকাসক্ত আছে, সে পরিবারের যে কী কষ্ট, সেটা আমরা উপলব্ধি করতে পারি। সে কারণে অভিযানটাকে আমাদের আরো ব্যাপকভাবে পরিচালনা করে যেতে হবে। এক্ষেত্রে মাদকাসক্তির খারাপ দিকটি মানুষের সামনে তুলে ধরে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সমাজের সব স্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে প্রচার চালাতে হবে। এদিকে নতুন বছরের শুরুতে ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণের সুযোগ নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়।
পরে কক্সবাজারের চিহ্নিত মাদক পাচারকারীদের একটি অংশ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণের আগ্রহ জানালে বিষয়টি আকার পেতে শুরু করে।
এরই মধ্যে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়ে শতাধিক তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী কক্সবাজার শহরের কোনো এক স্থানে জড়ো হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আগামী ৩০শে জানুয়ারি অথবা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আত্মসমর্পণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে পারে। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করলে অপরাধী আবার অপরাধের জীবনে ফিরে যায় মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের যে অভিযান, সেটা অব্যাহত থাকতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে মাদকমুক্ত করা, মাদক কারা আনে, পাচারকারী, কারা সেবন করে- এখানে কিন্তু বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। যারা সুস্থভাবে সমাজে ফিরে আসতে চাইবে, সংসারে ফিরে আসতে চাইবে, তাদেরকেও সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদককে সমাজের ‘কালো ব্যাধি’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সবসময় এটাই চাই, এই সমস্ত কালো ব্যাধি থেকে সমাজকে মুক্ত করা। তার জন্য যা যা করণীয় সেটা আমাদের করতে হবে।
কারণ একটা দেশকে যদি আমরা উন্নত করতে চাই, তাহলে এই সমস্ত মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমি মনে করি এই মন্ত্রণালয়ে যারা কাজ করে সবাইকে সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। এদিকে ২০১৬ সালের ১লা জুলাই রাতে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জঙ্গিবিরোধী অভিযানের মধ্যেই স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, ইমাম, ধর্মগুরুসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়। ওই প্রসঙ্গ এনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে এক করে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমেই কিন্তু এই জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হয়ে গেছে। এই বিষয়গুলো আমার মনে হয় অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এত ঘন বসতির দেশেও দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে পারায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ। এটা খুব একটা কঠিন কাজ এবং সেটা আমরা করতে পেরেছি। এটা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।
মাদক, জঙ্গিবাদের মতো দুর্নীতির বিরুদ্ধেও সরকারের শক্ত অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতিও একটা কালো ব্যাধি। এটা সমাজের উন্নয়ন যথেষ্ট ব্যাহত করে। সে ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে এবং দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তারের জন্য অতীতের সরকারগুলোকে দায়ী করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, যে দেশেই মিলিটারি ডিক্টেটররা ক্ষমতায় আসে, তারা প্রথমেই সমাজটাকে ধ্বংস করে দেয়। দুর্নীতিটাকে তারা নীতি হিসেবে নেয় এবং সুযোগও সৃষ্টি করে দেয়। ঋণখেলাপি থেকে শুরু করে যা কিছু বাংলাদেশে আমরা দেখি, তার গোড়াপত্তন কিন্তু ৭৫-এর পরে যারা ক্ষমতায় এসেছে তারাই সৃষ্টি করে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। সেটা ধরে রেখে আরো সামনে এগিয়ে যেতে হবে। দেশকে উন্নয়নশীল দেশ থেকে ধীরে ধীরে উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
আর উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে গেলে খুব স্বাভাবিক মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিধান করা এবং আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যাতে যথাযথভাবে কার্যকর হয় সে ব্যবস্থা করা। সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিয়ে সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সূচনা বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। জননিরাপত্তা বিভাগ ও সুরক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কঙ্গোতে শিসেকেদিই প্রেসিডেন্ট-আদালতের রায়

ওদিকে শুক্রবার নির্বাচনের ফল নিয়ে ‘মারাত্মক সংশয়’ আছে বলে শুক্রবার মন্তব্য করেছে আফ্রিকান ইউনিয়ন।
আদালত যা বলেছে
আদালত বলেছে, নির্বাচন কমিশন যে মিথ্যা ফল ঘোষণা করেছে তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন মার্টিন ফায়ুলু। তাই ফেলিক্স শিসেকেদি হলেন সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট।
এখন ১০ দিনের মধ্যে তার শপথ নেয়ার কথা রয়েছে। কঙ্গোতে একজন নেতার কাছ থেকে অন্য একজনের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সব সময় সহিংসতা দেখা দেয়। তবে ১৯৬০ সালে বেলজিয়ামের কাছ থেকে দেশটি স্বাধীন হওয়ার পর এবারই সরকারি ফলাফলে প্রথমবারের মতো একটি সুশৃংখল ক্ষমতা হস্তান্তর হতে যাচ্ছে।
এর আগে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে যে, মার্টিন শিসেকেদি পেয়েছেন শতকরা ৩৮.৫ ভাগ ভোট। আর মার্টিন ফায়ুলু পেয়েছেন ৩৪.৭ ভাগ ভোট। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোটের প্রার্থী ইমানুয়েল শেডারি পেয়েছেন শতকরা ২৩.৮ ভাগ ভোট। কঙ্গোতে ১৮ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন জোসেফ কাবিলা। মার্টিন ফায়ুলুর অভিযোগ তার সঙ্গে চুক্তি করেছেন শিসেকেদি। কারণ, সাংবিধানিকভাবে তৃতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচনে অযোগ্য জোসেফ কাবিলা। দুই বছর আগেই সেখানে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারণে বার বার তা স্থগিত হয়েছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওবায়দুল কাদেরের প্রশ্ন নিখুঁত নির্বাচন কোথায় হয়

বিএনপি আর দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেশে-বিদেশে অপপ্রয়াস চালিয়েছেন। সেটাতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। এখন নির্বাচন নিয়ে তাদের বক্তব্য পরাজিতের মুখে ব্যর্থতার প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়। এর আগে তিনি সেতু বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে পদ্মা সেতু প্রকল্প সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি শতকরা ৬৩ ভাগ এবং এ মাসের শেষ সপ্তাহে জাজিরা প্রান্তে আরো একটি স্প্যান স্থাপন করা হবে। আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে ট্যানেল বোরিং মেশিনের (টিএমবি) মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্ণফুলী টানেলের খনন কাজ শুরু করা হবে বলেও তিনি জানান। ওবায়দুল কাদের জানান,পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের মূল সেতুর অগ্রগতি শতকরা ৭৩ ভাগ, নদী শাসন কাজের অগ্রগতি শতকরা ৫০ ভাগ ও মোট ২৬১টি পাইলের মধ্যে ১৯১টি পাইলের কাজ সম্পাদিত এবং আরো ১৫টি পাইলের আংশিক কাজ শেষ হয়েছে। মোট পিলার ৪২টি, এরমধ্যে ১৬টির কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। ১৫টি পিলারের কাজ চলমান রয়েছে। মোট স্প্যান ৪১টি, ইতিমধ্যে ৬টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে। ফলে এখন ৯০০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। এ ছাড়া ১৭টি স্প্যান প্রস্তুত রয়েছে। আরো ১৮টি স্প্যানের প্রস্তুতির কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি বলেন, ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেন বিশিষ্ট কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণে ব্যয় হবে ৯ হাজার ৮৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
খনন কাজের জন্য চীন থেকে সংগৃহীত টানেল বোরিং মেশিনটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী মাসের মাঝামাঝিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্ণফুলী টানেলের খনন কাজ শুরু হবে। ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত সার্বিক অগ্রগতি শতকরা ৩০ ভাগ। ২০২২ সালে টানেলটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলেও তিনি জানান। মন্ত্রী জানান, যমুনা নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ প্রকল্পের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। আগামী ২৪শে জানুয়ারি এ ব্যাপারে পিইসি আহ্বান করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮ হাজার ৯৪০ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের ভৌত কাজ এ পর্যন্ত ১ হাজার ২৮৯টি পাইল, ২৭০টি পাইল ক্যাপ, ৫৬টি ক্রস-বিম, কলাম ১৫৭ (সম্পূর্ণ) ও ৮২টি (আংশিক), ১৮৬টি আই গার্ডার নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম ধাপের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের ক্ষতিপূরণ প্রদান চলমান রয়েছে। এ সময় সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ সেতু বিভাগের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মেক্সিকোতে তেলপাইপ বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩

স্থানীয়ভাবে তেলচোররা ‘হুয়াচিকোলেও’ নামে পরিচিত। মেক্সিকোতে এরা খুবই বেপরোয়া। সরকারি হিসাব অনুসারে, গত বছরে তেলচুরির কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ৩ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার দিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইসাইয়াস গার্সিয়া। রয়টার্সকে তিনি বলেন, সেখানে মানুষজন জ্বালানির অভাবে ভুগছে। সবাই ঘটনাস্থলে এসেছিল যাতে তাদের গাড়ির জন্য জ্বালানি পেতে পারে। আমিও আমার প্রতিবেশীদের নিয়ে সেখানে ছিলাম। এসময় অনেক মানুষকে দেখা যায় যাদের গায়ে আগুন জ্বলছে ও দৌড়াচ্ছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1403)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
January
(487)
-
▼
Jan 21
(17)
- অবশেষে জানা গেল শনির দিন কত বড়
- এক সময় এখানে ছিল পাখিদের মিলনমেলা
- ভাড়ায় ভগ্নি মিলছে যেখানে
- কোরিয়ার উন্নয়নযাত্রা: কী শিখতে পারে বাংলাদেশ?
- ভোলাগঞ্জে বোমার তাণ্ডব, ৫০ কোটি টাকার পাথর লুট by ...
- ভোলা গ্রাম টু গুলশান by জিয়া চৌধুরী
- চাঁদে স্বর্ণ, প্লাটিনাম খননের প্রতিযোগিতা!
- কুয়েতে দূতাবাসে ভাঙচুর: ২১৫ বাংলাদেশিকে ফিরতেই হবে
- যে গাঁয়ে মেয়ের নাম শবনম রাখেন না কেউ
- ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ীরা এককভাবে কি সংসদে যেতে পারবেন?...
- জাবিতে ‘মাদক পার্টিতে’ তুলকালাম
- ঘরে-বাইরে বেকায়দায়
- ভুবনচিলের মায়ায়...
- অপরাধীদের শুধু শাস্তি নয় পুনর্বাসনও জরুরি -স্বরাষ্...
- কঙ্গোতে শিসেকেদিই প্রেসিডেন্ট-আদালতের রায়
- ওবায়দুল কাদেরের প্রশ্ন নিখুঁত নির্বাচন কোথায় হয়
- মেক্সিকোতে তেলপাইপ বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩
-
▼
Jan 21
(17)
-
▼
January
(487)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
