Thursday, November 27, 2025

ভারতে বাড়তে থাকা ইসলামোফোবিয়া ও ঐতিহ্য ধ্বংসের বিষয়ে বিশ্বকে সতর্ক করল পাকিস্তান

অযোধ্যায় ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের জায়গায় নির্মিত রাম মন্দিরে পতাকা উত্তোলন নিয়ে পাকিস্তান গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানায়। বাবরি মসজিদ শতাব্দী প্রাচীন উপাসনালয়। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর এই মসজিদ ধ্বংস করে উগ্রবাদী জনতা। ভারতের পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় দায়ীদের খালাস দেয়া হয়। ভাঙা মসজিদের স্থানে মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেয়া হয়। এই অবস্থান ভারতের রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের পরিচায়ক বলে পাকিস্তান মন্তব্য করেছে। ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘পবিত্র অনুষ্ঠানে’ ওই ‘মন্দিরের’ শীর্ষে একটি গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করেছেন, যা এর নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার সংকেত বহন করে।

এক বিবৃতিতে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির হুসেইন আন্দ্রাবি বলেন, এটি ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর চাপ সৃষ্টির বিস্তৃত প্রবণতা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের প্রভাবে মুসলিম ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টার প্রতিফলন। তিনি বলেন, নানা ঐতিহাসিক মসজিদ এখন অপবিত্র করা বা ভেঙে ফেলার হুমকির মুখে রয়েছে। আর ভারতীয় মুসলিমরা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্রমবর্ধমান প্রান্তিকায়নের শিকার হচ্ছেন।

মুখপাত্র আরও বলেন, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভারতের বাড়তে থাকা ইসলামোফোবিয়া, ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং ঘৃণাপ্রসূত হামলার বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানায়। জাতিসংঘ এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইসলামী ঐতিহ্য সুরক্ষায় এবং সকল সংখ্যালঘুর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকারের নিরাপত্তায় তাদের গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, পাকিস্তান ভারতের সরকারকে আহ্বান জানায় যে তারা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতার আলোকে মুসলিমসহ সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং তাদের উপাসনালয়গুলো রক্ষা করবে।

mzamin

শেখ হাসিনার পতন ও ইতিহাসের শিক্ষা by হাসান ফেরদৌস

ইউটিউব ঘাঁটলে ভিডিওটি এখনো মিলবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সঙ্গে বাংলাদেশের এক দল শিল্পী ও অভিনেতা। দুলে দুলে, তুড়ি বাজিয়ে তাঁরা গাইছেন, ‘তুমি বন্ধু কালা পাখি,/ আমি যেন কী।’ স্মিতহাস্য হাসিনা এক পর্যায়ে তাঁর বোন রেহানাকে হাত ধরে টেনে আনলেন আনন্দ–উৎসবে যোগ দিতে। দরিদ্র এক দেশের পরাক্রমশালী এক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্তাবকদের কেউই তাঁদের এই আনন্দঘন মুহূর্তে ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি একদিন; আর সেদিন তেমন দূরেও নয়, যখন এই গান থেমে যাবে। নিভে আসবে এই তারার মেলা। চোরের মতো পালাতে হবে নিজ বাড়ি থেকে, নিজ দেশ থেকে।

গত বছরের ৫ আগস্ট যেদিন হাসিনা ও তাঁর বোন চারটি সু৵টকেস হাতে নিয়ে দেশ ছাড়েন, তাঁদের মুখে হাসির জায়গায় স্থান পেয়েছিল ভীতি ও গভীর উদ্বেগ। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। লক্ষ জনতা গণভবনের দিকে এগিয়ে আসছে—এ কথা জানার পরও তাঁর অনুগত সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ‘লেথ্যাল উইপন’ ব্যবহার করে বিক্ষোভ থামাতে। সেনাধ্যক্ষরা সম্মত হননি। শেষ চেষ্টা হিসেবে যোগাযোগ করা হলো বিদেশে অবস্থানরত তাঁর ছেলে মার্কিন নাগরিক জয়ের সঙ্গে। তিনিও নাকি বলেছেন, ‘মা, আর বিলম্ব নয়।’ শোনা যায়, নিরুপায় হাসিনা নাকি হেলিকপ্টারে ওঠার আগে স্বগত স্বরে শুধু বলেছিলেন, ‘এত কিছু করলাম, এই তার প্রতিদান!’

হাসিনাই একমাত্র ক্ষমতাধর ব্যক্তি নন, জনতার রোষে যাঁকে পালাতে হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে পূর্ব জার্মানির এরিক হোনেকার, ইরানের শাহেনশাহ রেজা শাহ পাহলভি, ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস অথবা আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির কথা ভাবতে পারি।

হাসিনার পতনের সঙ্গে কাছাকাছি মিল রয়েছে মার্কোসের। একটানা ২১ বছর একনায়ক হিসেবে দেশ শাসনের পর জনতার রোষে পতন হয় মার্কোসের। দিনটি ছিল ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬। এর তিন বছর আগে নিহত হন জনপ্রিয় বিরোধী রাজনীতিক সিনেটর অ্যাকুইনো। সেই মৃত্যুর জন্য মার্কোস দায়ী, এই সন্দেহে ফুঁসে উঠল মানুষ। রাজনৈতিক বিক্ষোভ এড়াতে মার্কোস হঠাৎ নির্বাচন ডেকে বসেন ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে; কিন্তু ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে সে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যাত হয়, আরও জোরদার হয়ে ওঠে বিক্ষোভ। তাঁর বিশ্বাস ছিল, আর কেউ না হোক ফিলিপাইনে অবস্থানরত মার্কিন ছত্রীসেনারা তাঁকে রক্ষায় এগিয়ে আসবেন।

২৪ ফেব্রুয়ারি, পুরো ম্যানিলা যখন বিক্ষোভে উত্তাল, মালামালাকালাং প্রাসাদে স্ত্রী ইমেলদাকে নিয়ে তিনি প্রহর গুনছিলেন কখন মার্কিন ছত্রীসেনারা হস্তক্ষেপ করবেন। বারবার চেষ্টা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিগ্যানের সঙ্গে কথা বলতে। অবশেষে সেই ফোন এল; কিন্তু রিগ্যানের নয়, তাঁর বিশেষ দূত পল লাক্সাল্টের কাছ থেকে। ‘মি. প্রেসিডেন্ট, এখন চলে যাওয়ার সময় এসেছে’ লাক্সাল্ট জানালেন। ভয় ও বিস্ময়ে সাদা হয়ে গেলেন মার্কোস, স্ত্রী ইমেলদার দিকে তাকিয়ে বিমর্ষে বললেন, ‘তার মানে সব শেষ।’ খানিক পরেই মালামালাকালাং প্রাসাদের লনে এসে নামল মার্কিন সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার। তাতে করেই পালালেন মার্কোস। যাওয়ার সময় তাঁর শেষ কথা ছিল, ‘সো, দিস ইজ হাউ ইট এন্ডস’, এভাবেই তাহলে সব শেষ হলো।

ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দিয়েছে—যতই পরাক্রমশালী হও, ক্ষমতার অপব্যবহার তোমাকে সিংহাসন থেকে একসময় টেনে নামাবে সেই জনতা, যাদের নামে তুমি সিংহাসন দখল করেছ। এই পতন হবে দ্রুত, তুমি সামলে নেওয়ার আগেই। রেজা শাহ, ফার্দিনান্দ মার্কোস বা শেখ হাসিনা—প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই ক্ষমতার গতিপথ এবং তার ঊর্ধ্ব ও নিম্নরেখা, কার্যত অভিন্ন। তাঁদের হাতে রাষ্ট্র, সরকার ও নেতা হয়ে পড়েন এক ও অভিন্ন। তাঁরা কেবল সব ক্ষমতার কেন্দ্রই নন, সব ক্ষমতার উৎসও বটে। একনায়কদের পতনের এটাই মূল কারণ। নেতা হয়ে ওঠেন সেই অক্ষ, যার চারদিকে সবকিছু ঘোরে। ফলে যখন সেই অক্ষ বিপদে পড়ে, তাকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসার আর কেউ থাকে না।

শেখ হাসিনার কথা ভাবুন। এমন বিপুল ক্ষমতাধর মানুষ, অথচ বিপদ যখন ঘরের দোরগোড়ায়, তাঁর পাশে কেউ নেই। এমনকি দীর্ঘ সময় ধরে যে সামরিক বাহিনীর ওপর ছিল তাঁর পুরো নিয়ন্ত্রণ, বিপদের সময় তাঁরাও উধাও।

ক্ষমতাধরেরা শুধু নিষ্ঠুর শক্তির জোরেই ক্ষমতা আঁকড়ে থাকেন না, তাঁকে টিকে থাকতে একটি চমৎকার গল্প ফাঁদতে হয়। বাংলাদেশের হাসিনা, ইরানের শাহ, মিসরের হোসনি মোবারক অথবা রোমানিয়ার চসেস্কু—তাঁরা প্রত্যেকেই দেশের জন্য অপরিহার্য হিসেবে নিজেদের উপস্থিত করেছিলেন। নিজেকেই বাংলাদেশের সবকিছুর নিয়ন্তা ভাবতে শুরু করেছিলেন। ‘আমি না থাকলে বন্যায় ভেসে যাবে দেশ’ বলেছিলেন মার্কোস। হোসনি মোবারক মিসরের পরাক্রমশালী একনায়ক। পদত্যাগের দাবির কথায় বলেছিলেন, ‘আমি চলে গেলে টুকরা টুকরা হয়ে যাবে মিসর।’

এসব নেতার বলা গল্পগুলো ফুলিয়ে–ফাঁপিয়ে বলার জন্য স্তাবকদের অভাব থাকে না। দেশের মানুষ সে গল্প বিশ্বাস করুক বা না করুক, এসব নেতা সম্ভবত এসব গালগপ্পো নিজেরা বিশ্বাস করতেন। পালানোর সময় হাসিনার বিস্মিত মুখটি স্মরণ করুন, তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি এই দেশের মানুষ, যাদের জন্য তিনি ‘প্রাণপাত’ করেছেন, তাঁরাই চাইছিলেন তাঁর পদত্যাগ। ১৯৮৯ সালে ঠিক এমন একটি মুহূর্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট চসেস্কুকে। ‘অসম্ভব, হতেই পারে না’, এমন দাবি করে তিনি ২১ ডিসেম্বর বুখারেস্টে রোমানিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির সদর দপ্তরের ব্যালকনি থেকে জনতার উদ্দেশে ভাষণ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করেছি, রোমানিয়া ও তার মানুষ আমার নেতৃত্বের পেছনে ঐক্যবদ্ধ।’ তাঁর সে কথা শুনে উপস্থিত মানুষ হো হো করে হেসে উঠেছিল।

হাসিনাও সেই একই দাবি করেছিলেন—একবার নয়, বহুবার। তাঁর সে দাবিকে জায়েজ করার জন্য সদা প্রস্তুত ছিল ভাড়াটে লেখক ও রাজনীতিকেরা। যেমন ‘ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিটে’ ২০১৯ সালে সালমান এফ রহমান লিখিতভাবে বলেছিলেন, বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য সাফল্যের গোপন ফ্যাক্টরটি হলো শেখ হাসিনা।

কিন্তু একটা সময় আসে, যখন দেশের মানুষ বানিয়ে বানিয়ে বলা এই গল্প আর বিশ্বাস করতে চান না। রাজনৈতিক নিষ্পেষণের ভয় দেখিয়েও তাঁদের হাতে রাখা যায় না। ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের পক্ষে হয়তো সব সময় তাঁদের পতনের রেখাচিত্রটি সহজে ধরা পড়ে না। সে কারণেই যখন ইরানের শাহকে তাঁর বিশ্বস্ত জেনারেল বাদরেইয়ের মুখে শুনতে হয় ‘এখন আপনার যাওয়ার সময় হয়েছে’, অথবা শেখ হাসিনাকে আরেক জেনারেলের মুখে শুনতে হয়, ‘হেলিকপ্টার প্রস্তুত’। তখন তাঁদের মুখ–চোখে একই সঙ্গে ভীতি ও বিস্ময় দানা বাঁধে। নেতা না বুঝতে চাইলেও তাঁর অনুগত অনুগ্রহভোগীদের অনেকেই ভাগে৵র লিখন পড়ে ফেলেন। ফলে নেতাকে একা রেখে সবার আগে পালান তাঁরা। যেমন সপরিবার পালিয়েছিলেন ফজলে নূর তাপসসহ অনেকে।

হাসিনার পতন এবং পরে বিচারের রায়ে তাঁর ফাঁসির নির্দেশ থেকে এ কথা আমরা বলতে পারি—কোনো নেতা বা নেত্রী, তা তিনি যত ক্ষমতাধরই হোন না কেন, অপরিহার্য নন। ভীতি অথবা মিথ্যা গালগপ্পো তাঁর অনন্ত ক্ষমতা ধারণের কোনো নিশ্চয়তা নয়। জর্জ অরওয়েল লিখেছিলেন, ‘সব স্বৈরতন্ত্রই প্রতারণা ও বলপ্রয়োগের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে; কিন্তু প্রতারণা একবার উন্মোচিত হলে, তাঁদের ভরসা থাকে শুধু শক্তির ওপর। কিন্তু সেই শক্তিও একসময় কর্পূরের মতো উবে যায়, পড়ে থাকে পতিত স্বৈরশাসকের বিস্মিত ও ভীতসন্ত্রস্ত মুখ।’

* হাসান ফেরদৌস, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক
- মতামত লেখকের নিজস্ব

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-20%2Fv25iyj7u%2Fquotamovement.jpg?rect=0%2C0%2C2100%2C1400&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
বিক্ষোভ দমনে হাসিনা বাহিনীগুলোকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের আদেশ দিয়েছিলেন। ছবি: প্রথম আলো

গাজায় নিহতের সংখ্যা ১ লাখের বেশি হতে পারে: জার্মানির শীর্ষ গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য

ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় ফিলিস্তিনিদের গাজা উপত্যকায় নিহতের সংখ্যা এক লাখের বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে জার্মানির শীর্ষস্থানীয় গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ম্যাক্স প্ল্যাংক ইনস্টিটিউট ফর ডেমোগ্রাফিক রিসার্চ (এমপিআইডিআর)। গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এমপিআইডিআর এ তথ্য জানিয়েছে।

এমপিআইডিআর জনসংখ্যাবিষয়ক ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান।

এমপিআইডিআরের গবেষণায় বলা হয়, ইসরায়েলের হামলায় গাজায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবে ৭৮ হাজার ৩১৮ জন নিহত হয়েছেন। পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত গাজায় সংঘাতজনিত নিহতের সংখ্যা সম্ভবত এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

এমপিআইডিআরের গাজায় নিহতের সংখ্যা ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গাজায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ৬৯ হাজার ৭৩৩ জন।

এমপিআইডিআরের গবেষণায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ফিলিস্তিনের অধিকৃত অঞ্চলের ইসরায়েলি মানবাধিকার তথ্যকেন্দ্র (বেতসেলেম), জাতিসংঘের দুটি সংস্থা এবং ফিলিস্তিনের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

এমপিআইডিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ধ্বংসযজ্ঞের কারণে গাজার বাসিন্দাদের আয়ুষ্কাল ২০২৩ সালে ৪৪ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৪৭ শতাংশ কমেছে। ফলে অবরুদ্ধ উপত্যকাটির বাসিন্দাদের জীবনের আয়ু ওই দুই বছর যথাক্রমে কমেছে ৩৪ দশমিক ৪ এবং ৩৬ দশমিক ৪ বছর।

নারী ও শিশু নিহত ৩৩ হাজার

গতকাল ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত দুই বছরে ইসরায়েলের সর্বাত্মক হামলায় গাজা এবং পশ্চিম তীরে ৩৩ হাজার ফিলিস্তিনি নারী ও শিশু নিহত হয়েছে। এটাকে আধুনিক বিশ্বে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে গুরুতর বৈষম্য ও নিপীড়নের’ ঘটনা বলে বর্ণনা করেছে তারা।

২৫ নভেম্বর নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূলের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় এ খবর দিয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দুই বছরে গাজায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারীর সংখ্যা সাড়ে ১২ হাজারের বেশি। উপত্যকাটিতে একই সময়ে ২০ হাজারের বেশি শিশুকে হত্যা করেছেন ইসরায়েলের সেনারা। এই দুই বছরে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও নির্বিচার হামলা ও ধরপাকড় অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত ১১ অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। কিন্তু ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

গাজা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ১১ অক্টোবরের পর থেকে উপত্যকাটিতে প্রায় ৫০০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল। এই সময়ে সেখানে অন্তত ৩৩৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়শিবিরে ভারী বর্ষণে পানি জমেছে। গাজা উপত্যকার গাজা নগরীতে, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়শিবিরে ভারী বর্ষণে পানি জমেছে। গাজা উপত্যকার গাজা নগরীতে, ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ছবি: এএফপি

এফবিআই সাবেক প্রধান কোমি ও নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেতিজিয়ার বিরুদ্ধে মামলা খারিজ

এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কোমি এবং নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেতিজিয়া জেমসের বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক। তার মতে, যিনি অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি আইনি দৃষ্টিতে অবৈধভাবে ওই পদে নিয়োগ পান। বিচারক ক্যামেরন কারি রায়ে বলেন, লিন্ডসে হ্যালিগানকে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচন করেন। কিন্তু কখনোই ওই দায়িত্ব গ্রহণের যোগ্য ছিলেন না হ্যালিগ্যান। জেমস কোমি এবং লেতিজিয়া জেমস দু’জনই অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছিলেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

রায়ের পর হোয়াইট হাউস বিবিসিকে জানায়, কোমি ও জেমসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বাস্তবতা বদলায়নি এবং এই রায়ই চূড়ান্ত কথা নয়। ডনাল্ড ট্রাম্প বারবার কোমি ও জেমসকে আক্রমণ করে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘তারা সবাই পুরোপুরি দোষী’। পরে যোগ করেন, ‘এখনই ন্যায়বিচার হওয়া চাই!!!’

হ্যালিগান ছিলেন হোয়াইট হাউসের সাবেক সহকারী। তিনি আগে কখনো কোনো মামলা পরিচালনা করেননি। বিচারক কারি লিখেছেন, তিনি গ্র্যান্ড জুরির সামনে অভিযোগ উপস্থাপনের অনুমোদন পাননি। রায়ে বলা হয়, ‘হ্যালিগানের ত্রুটিপূর্ণ নিয়োগ থেকে উদ্ভূত সব কার্যক্রম অবৈধ নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ এবং সেগুলো বাতিল ঘোষণা করা হলো। এর মধ্যে কোমির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করাও অন্তর্ভুক্ত।’

হ্যালিগানকে এরিক সিবার্টের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখে কোমি ও জেমসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার নির্দেশের পর সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন সিবার্ট। বিচারক জানান, হ্যালিগানের নিয়োগ অন্তর্বর্তী মার্কিন অ্যাটর্নি নিয়োগবিষয়ক আইনের লঙ্ঘন। আইন অনুযায়ী, অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে ১২০ দিনের মধ্যে অন্তর্বর্তী নিয়োগ দেয়ার সুযোগ থাকে। এই সময়সীমা শুরু হয় ২১ জানুয়ারি, সিবার্টকে অন্তর্বর্তী অ্যাটর্নি হিসেবে নিয়োগ দেয়ার দিন থেকে। ২১ মে ১২০ দিনের সীমা শেষ হয়ে যায়। এরপর অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা আর থাকে না। ফলে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে হ্যালিগান ‘অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন,’ বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

মামলা খারিজ হয়েছে ‘উইদাউট প্রিজুডিস’ অর্থাৎ আইন মন্ত্রণালয় চাইলে ভবিষ্যতে আবার মামলা করতে পারে। হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, আইন মন্ত্রণালয় খুব শিগগিরই খারিজের বিরুদ্ধে আপিল করবে। তার দাবি, হ্যালিগানের নিয়োগ আইনসম্মত ছিল এবং কোমি ও জেমসকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন বিচারক।
রায়ের পর কোমি বলেন, দ্বেষ ও অদক্ষতার ভিত্তিতে করা এই মামলা শেষ হওয়ায় কৃতজ্ঞ। তবে আমি জানি, ট্রাম্প সম্ভবত আমাকে আবারও টার্গেট করবেন।

কোমিকে ট্রাম্প বরখাস্ত করেন প্রথম দফায় প্রেসিডেন্সির সময় ২০১৬ সালের নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ তদন্ত করার পর। এ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কোমির বিরুদ্ধে মিথ্যা বিবৃতি ও বিচার ব্যাহত করার অভিযোগ আনা হয়। ট্রাম্প প্রকাশ্যে এর আহ্বান জানানোর পর নতুন ফেডারেল প্রসিকিউটর নিয়োগ করে এই অভিযোগ দাখিল করা হয়। জেমস বিবৃতিতে বলেন, তিনি রায়ে উচ্ছ্বসিত। তার ভাষায়- আমি নির্ভীক। নিউইয়র্কবাসীর জন্য প্রতিদিন লড়াই করছি এবং এই ভিত্তিহীন অভিযোগ আমাকে থামাতে পারবে না। জেমসের বিরুদ্ধে ব্যাংক জালিয়াতি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার আগেই তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এর পর থেকেই তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন।

mzamin

হংকংয়ে ভয়াবহ আগুনে পুড়লো ৩১ তলা ভবন, নিহত কমপক্ষে ১৩

হংকংয়ের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা তাই পোর বহুতল একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের প্রাণহানীর কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে একজন দমকলকর্মীও রয়েছেন। এখনও বহু মানুষ ভবনের ভেতরে আটক আছেন বলে জানানো হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এতে বলা হয়, বুধবার বিকেলে ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ৩১ তলা বিশিষ্ট আটটি ব্লকের এই কমপ্লেক্সে মোট দুই হাজার ফ্ল্যাট রয়েছে। এদিন বিকেল ২টা ৫১ মিনিটে আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রবল বেগের হাওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই আগুন ভবনের সাতটি ব্লক পর্যন্ত ছড়িয়েছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে দমকল বাহিনীর। ঘন কালো ধোঁয়া ও দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা আগুনে আকাশ লাল হয়ে ওঠে। অনেক ভবনের বাইরের অংশে যে বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং ছিল, আগুনের তাপে সেগুলো ভেঙে পড়তে দেখা যায়। অসংখ্য ফায়ার ইঞ্জিন ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে।

৭১ বছর বয়সী এক বাসিন্দা ওয়ং কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আগুন লাগার সময় তার স্ত্রী ভবনের ভেতরে আটকে পড়েন। আরেক বাসিন্দা হ্যারি চিউং (৬৬) বলেন, বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে তিনি একটি বিকট শব্দ শুনতে পান। পরে দেখতে পান যে পাশের ব্লকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। চিউং বলেন, আমি সঙ্গে সঙ্গে ঘরে গিয়ে জরুরি জিনিসপত্র গুছিয়ে বের হয়েছি। তবে এখন কোথায় ঘুমাব, সেটাই ভাবছি।

ঘটনাস্থলের ওপরের ফুটওভার ব্রিজে দাঁড়িয়ে অনেকেই আগুনের দৃশ্য দেখেন এবং ছবি তুলতে থাকেন। সামাজিক মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভবনগুলো প্রায় এক বছর ধরে সংস্কারের কাজ চলছিল। আগুনের কারণে তাই পো রোডের একটি বড় অংশ বন্ধ করে দিয়েছে পরিবহন বিভাগ। বাসসহ অন্যান্য যানবাহন বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ওয়াং ফুক কোর্ট সরকারি ভর্তুকিযুক্ত হাউজিং স্কিমের আওতায় নির্মিত একটি ভবন। হংকংয়ের মতো জনবহুল শহরে এ ধরনের বহু উচ্চাভিলাষী আবাসিক প্রকল্প রয়েছে, যেখানে বাড়ি কেনা সাধারণ মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব স্বপ্ন।

গত বছর এপ্রিলেও জনবহুল কাউলুন জেলায় এক আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজন প্রাণ হারান। ৬৮ বছর বয়সী আরেক বাসিন্দা ওয়াই ওয়াই চ্যান ঘটনার পর বাইরে দাঁড়িয়ে বলেন, আমার ব্লকে আগুন নেভানো হলেও চারপাশে আগুন জ্বলতে দেখে মনটা ভেঙে যাচ্ছে।

mzamin

জেলেনস্কি প্রশাসনের দুর্নীতি এখন পশ্চিমাদের যুদ্ধ ছাড়ার পথ by লিওনিদ রাগোজিন

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে দেশটির জ্বালানি খাত থেকে ১০ কোটি ডলার আত্মসাতের চক্রান্তে জড়িত থাকার অভিযোগ এসেছে। ১০ নভেম্বর ইউক্রেনের দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে জেলেনস্কির ব্যবসায়িক অংশীদার তিমুর মিনদিচ এবং সরকারের দুজন মন্ত্রীকে ইতিমধ্যে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

এই তদন্ত পরিচালনা করছে ইউক্রেনের ন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো, যা পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থিত একটি সংস্থা। ইউক্রেনীয় ও পশ্চিমা গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ আন্দ্রি ইয়েরমাকও এই চক্রে জড়িত থাকতে পারেন।

এই কেলেঙ্কারি জেলেনস্কির আন্তর্জাতিক সুনাম এবং সামগ্রিকভাবে ইউক্রেনের অবস্থানকে বড় ধরনের আঘাত করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে এখন মনে হচ্ছে অন্য কারও ইশারায় নাচা পুতুলের মতো। পর্দার আড়াল থেকে যাকে নিয়ন্ত্রণ করছে অন্য কেউ। সেই নিয়ন্ত্রক যে কেউ হতে পারে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনও।

রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় ইউক্রেনের নীতিতে ইতিমধ্যেই নাটকীয় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার দায়িত্বে আছেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই কিসলিৎসিয়ার।

১১ নভেম্বর তাঁর একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য টাইমস। তিনি সেখানে স্পষ্ট জানান যে আলোচনায় কোনো ফল না আসায় মস্কোর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহ পরই জেলেনস্কি ঘোষণা করেন, তিনি রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে চান।

এরপরই কথা উঠতে থাকে উদীয়মান মার্কিন শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে। গণমাধ্যমের ফাঁস হওয়া তথ্যমতে, যা মূলত যুদ্ধের অবসানের জন্য রাশিয়ার সব প্রধান দাবি মেনে নেওয়ার প্রস্তাব। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের এর বিরুদ্ধে অবস্থান সত্ত্বেও জেলেনস্কি ওই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেননি, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দুর্নীতি কেলেঙ্কারি তার প্রতিবাদ জানানোর ক্ষমতা সীমিত করে দিয়েছে।

এখন শান্তির সম্ভাবনা আরও বাস্তবসম্মত বলে মনে হচ্ছে। কারণ, ইউক্রেনের সম্ভাব্য পরাজয়ের জন্য এখন একটি স্পষ্ট বলির পাঁঠা পাওয়া গেছে। সেই বলির পাঁঠা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নিজেই।

এ বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্পের নেতৃত্বে আলোচনাগুলো তেমন অগ্রসর হয়নি। কারণ, কেউই এমন ফলাফলের দায় নিতে চায়নি, যা যুদ্ধের সমর্থকদের প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীত। সামরিক পরাজয় কিয়েভের জন্য মুক্তির পথ হতে পারে, কিন্তু এটি হবে সেসব যুদ্ধপন্থী রাজনীতিবিদ ও লবি গোষ্ঠীর জন্য ভয়াবহ আঘাত। কারণ, তারা মনে করেছিল রাশিয়ার মতো পরমাণু শক্তিধর দেশকে বল প্রয়োগ করে পশ্চিমা আধিপত্য মেনে নিতে বাধ্য করা যাবে। এই ভ্রান্ত ধারণাই সংঘাতজুড়ে রাশিয়া সম্পর্কে পশ্চিমা নীতির ভিত্তি ছিল।

অনেক দিন ধরেই স্পষ্ট যে ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররা সামরিক সহায়তা, অর্থায়ন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে একপ্রকার ‘দেয়ালে’ দিয়ে ঠেকেছে। অর্থাৎ আর এগোনো তাদের পক্ষে কঠিন। মস্কোর বিরুদ্ধে আরোপিত উনিশ দফা কঠোর নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে থামাতে ব্যর্থ হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় রুশ সেনাবাহিনী এখন আরও শক্তিশালী এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত।

অন্যদিকে ইউক্রেন ভুগছে সামরিক পরিকল্পনাহীনতা, ভূখণ্ড হারানো এবং জনবল ক্ষতির কারণে। ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেন আগামী এপ্রিলের মধ্যেই পশ্চিমা অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়তে পারে। আরও খারাপ খবর হলো দেশটির ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্ররা ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা বিপুলসংখ্যক ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের খরচ বহন করতে প্রস্তুত নয়।

ইউরোপে রাশিয়ার সঙ্গে আরও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ অনেকটাই শেষ। তবুও এমন একটি অপ্রত্যাশিত সমঝোতায় পৌঁছানোর দায় কেউই নিতে চায় না, যা এই যুদ্ধ ছাড়াও অর্জন করা যেত।

ইউক্রেনের পরাজয়ের দায় নেওয়া ট্রাম্পের জন্য খুব বড় ঝুঁকি নয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এই সংঘাতকে ‘বাইডেনের যুদ্ধ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ইউরোপীয় নেতাদের জন্য আর জেলেনস্কির নিজের জন্য এটি মেনে নেওয়া অনেক বেশি কঠিন। কারণ, তারা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে এসেছেন যে রাশিয়াকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজিত করা সম্ভব।

আজকের পরিস্থিতি বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরর, যখন প্যারিসে জেলেনস্কি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ওই বৈঠকে দুই পক্ষ পূর্ব ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, যার ফলে পরবর্তী ১২ মাসে লড়াই বন্ধ থাকে এবং ফ্রন্টলাইনও স্থির হয়ে যায়।

সেই সময়ই যুদ্ধ এমন শর্তে শেষ হতে পারত, যা আজ কিয়েভ জন্য কেবলই স্বপ্ন। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে বাইডেন হোয়াইট হাউসে আসার পর জেলেনস্কি হঠাৎ শান্তি প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে উল্টো পথে হাঁটা শুরু করেন।

জেলেনস্কি ইউক্রেনে পুতিনের প্রধান রাজনৈতিক মিত্রের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালান এবং ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ নিয়ে জোরালো প্রচারণা শুরু করেন। তাঁর পশ্চিমা মিত্ররা জার্মানিকে নর্ড স্ট্রিম ২ পাইপলাইন, যা রাশিয়ার একটি বড় জ্বালানি রপ্তানি প্রকল্প, তা বন্ধ করতে চাপ দিতে থাকে। লন্ডনও ক্রিমিয়ার উপকূলে (যা রাশিয়া নিজের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে) একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে মস্কোকে চ্যালেঞ্জ করে।

এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই বিপজ্জনক ‘ব্রিঙ্কম্যানশিপ’ বা সংঘর্ষের সীমানায় দাঁড়িয়ে চালানো উত্তেজনার রাজনীতি শেষ হয় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে, যখন পুতিন ইউক্রেনে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করেন।

এ বছরে ইউক্রেন একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির দাবিতে ফিরে আসে। আর এটি করতে হয়েছে ইউক্রেনকে বিপুল ভূখণ্ড, অনেক অবকাঠামো, সাড়ে ১৪ হাজার সাধারণ নাগরিক এবং প্রায় ১ লাখ সামরিক সদস্য হারানোর পর।

রাশিয়ার শর্তে শান্তিচুক্তি করা ইউক্রেনের জন্য নিঃসন্দেহে অত্যন্ত অন্যায় হবে এবং আন্তর্জাতিক আইনবিরোধীও। কিন্তু এর একমাত্র বিকল্প হলো দেশটি আরও গভীরভাবে ধ্বংসের গহ্বরে ডুবে যাওয়া এবং রাষ্ট্র হিসেবে ভেঙে পড়া।

শান্তি পরিকল্পনার খসড়ার প্রতি প্রতিক্রিয়া ছিল প্রত্যাশিত। তা ছিল কিছুটা নৈতিকতার প্রদর্শন, অভিনয়সুলভ প্রতিবাদ আর উগ্র জাতীয়তাবাদী সুরের মিশ্রণ। তবে এতে ছিল না বাস্তবসম্মত কোনো পরিকল্পনা, যা ইউক্রেনের আলোচনার অবস্থানকে কিছুটা হলেও শক্তিশালী করতে পারত।

এখন জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠমহলের দুর্নীতি পশ্চিমে ইউক্রেনপন্থী সমর্থকদের জন্য একটি ‘পালানোর পথ’ তৈরি করেছে। এই পালানোর পথ তাদের যুদ্ধের ভয়াবহ বিপর্যয়ের দায় থেকে মুক্তি দেবে, অথচ এই বিপর্যয় সৃষ্টিতে তারাও ছিল সমানভাবে দায়ী।

লিওনিদ রাগোজিন, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক
- আল–জাজিরা থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত

 ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: রয়টার্স

প্লট জালিয়াতি: টিউলিপের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বৃটিশ আইনজীবীদের নিন্দা

পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে বৃটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের মামলার রায়ের আগে এ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন বৃটেনের শীর্ষ পাঁচ আইনজীবী। তারা চলমান মামলাকে ‘কৃত্রিম, সাজানো ও অন্যায্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।  এ বিষয়ে লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে চিঠি দিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য গার্ডিয়ান।

এতে বলা হয়, বৃটেনের বর্তমান ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির মন্ত্রী ছিলেন টিউলিপ। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের কাছ থেকে উপহার নেয়ার জেরে তার বিরুদ্ধে লন্ডনের পত্রিকাগুলোতে লাগাতার প্রতিবেদন ছাপা হয়। যা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে তার সরকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত জানুয়ারিতে মন্ত্রীত্ব ছাড়েন টিউলিপ। বাংলাদেশে প্লট বরাদ্দের জালিয়াতির মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনিও অভিযুক্ত। তার অনুপস্থিতিতেই বিচার শুরু হয় এবং এই মামলার রায় ঘোষণার কথা জানিয়েছে আদলত। আদালতে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আজীবন কারাদণ্ড চাওয়া হয়েছে।

গার্ডিয়ানের রিপোর্টে বলা হয়, হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেটের এমপি টিউলিপ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি। গত সপ্তাহে শেখ হাসিনাকে ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন রবার্ট বাকল্যান্ড। যিনি বরিস জনসন সরকারের আইনমন্ত্রী ছিলেন। তার সঙ্গে আরও আছেন মিনিক গ্রিভ, শেরি ব্লেয়ার কেসি, ফিলিপ স্যান্ডস কেসি ও জেফ্রি রবার্টসন কেসি। আইনজীবীদের সই করা চিঠিতে বলা হয়, টিউলিপের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে যথাযথ তথ্য পাননি তিনি। এমনকি আইনগত প্রতিনিধিত্বও নিশ্চিত করতে পারেননি। আইনজীবীরা লিখেছেন, এ ধরনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ কৃত্রিম। এভাবে কাউকে বিচার করা নিছক অসৎ উদ্দেশ্য পূরণের মাধ্যম।

গত আগস্টের শুরু থেকে ঢাকা আদালতে টিউলিপ সিদ্দিকসহ তার খালা শেখ হাসিনা, মা, ভাই ও বোনসহ অনেকের বিরুদ্ধে বিচার চলছে। অভিযোগ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাব খাটিয়ে ঢাকায় নিজের মায়ের জন্য বরাদ্দ প্লট হাতিয়ে নিয়েছিলেন টিউলিপ। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, এসব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

চিঠিতে আইনজীবীরা লিখেছেন, যে সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব নিয়ে নিয়মিত বক্তব্য দিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই এমন বিচারিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তারা আরও বলেন, টিউলিপ বৃটেনের নাগরিক এবং সংসদ সদস্য। তিনি পলাতক নন। সংসদ ভবনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়, এমনকি আইনগত ভিত্তি থাকলে তাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণও করা সম্ভব। কিন্তু তিনি অভিযোগপত্র পাননি, আইনজীবীও পাননি।

আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিয়মিত মিডিয়াতে টিউলিপের বিরুদ্ধে মন্তব্য করছেন। যা একটি ন্যায়সঙ্গত বিচারের পরিপন্থী। তারা লিখেছেন, গণমাধ্যমে এমন প্রচার ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে অপরাধের ইঙ্গিতমূলক বক্তব্য নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার পরিপন্থী।

চিঠির শেষে আইনজীবীরা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, উল্লিখিত অভিযোগ সংশোধন করে টিউলিপ সিদ্দিকের জন্য ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করুন। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে গার্ডিয়ানের অনুরোধে সাড়া দেয়নি বাংলাদেশ হাইকমিশন।

mzamin

হাসিনাকে দেশে ফেরানোর অনুরোধ পর্যালোচনা করছে ভারত

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধটি পর্যালোচনা করছে ভারত সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি ভারতের চলমান বিচারিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা দিয়েছে রয়টার্স।

গত বছরের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে শেখ হাসিনা ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে থাকা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার আগে থেকেই শেখ হাসিনা ও কামাল ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থান করছেন। রায় ঘোষণার দিনই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে তাদের প্রত্যর্পণ চেয়ে নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক বার্তা দেয়। ভারত বর্তমানে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে বলেই জানা গেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে দু’দেশের কূটনৈতিক মহল। হাসিনাকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে দিল্লির কাছে প্রথম আনুষ্ঠানিক বার্তা পাঠানো হয় গত বছরের ডিসেম্বরে। সেসময় ভারত এ বিষয়ে সাড়া দেয়নি। এ বছর রায় ঘোষণার পর পুনরায় হাসিনাকে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দেশে পাঠানোর আহ্বানে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানায় নয়াদিল্লি। সেখানে তারা জানায় হাসিনার রায়ে গভীর নজর রাখছে তারা। 

mzamin

মুসলিম ব্রাদারহুডকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ ট্রাম্পের

মিশর, লেবানন ও জর্ডানের মুসলিম ব্রাদারহুডের শাখাগুলোকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। হামাসের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

এতে বলা হয়, সোমবার জারি করা এই নির্বাহী আদেশ মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের দমননীতিকে আরও তীব্র করেছে। এতে বলা হয়, জর্ডানের মুসলিম ব্রাদারহুড নেতারা হামাসকে সহায়তা দিয়েছেন এবং লেবাননের শাখা আল-জামাআ আল-ইসলামিয়া ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামাস ও হিজবুল্লাহর পক্ষ নিয়েছে।

একজন মিশরীয় নেতা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে সহিংস হামলার ডাক দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। যদিও হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ দেখায়নি। উল্লেখ্য, মিশরে ব্রাদারহুড দীর্ঘদিন ধরেই নিষিদ্ধ এবং গোপন তৎপরতার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এই সংগঠন।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মুসলিম ব্রাদারহুডের আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্ককে মোকাবিলা করছেন। যে নেটওয়ার্ক সন্ত্রাসবাদকে উস্কে দেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও মিত্রদের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে।
ট্রাম্পের আদেশ অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ট্রেজারি সেক্রেটারিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রধানের সঙ্গে পরামর্শ করে ৩০ দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে। এর ৪৫ দিনের মধ্যে প্রাসঙ্গিক শাখাগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে। সাধারণত এই প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। তালিকাকরণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুতও হতে পারে। আদেশটি অন্যান্য শাখাকেও কালো তালিকাভুক্ত করার সুযোগ উন্মুক্ত রেখেছে।

এই ঘোষণা কার্যকর হলে সংগঠনটিকে সহায়তা প্রদান করা বেআইনি বলে বিবেচিত হবে। তাদের বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশও প্রধানত নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। আর্থিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তাদের তহবিল প্রবাহও বাধাগ্রস্ত করা হবে।

১৯২৮ সালে মিশরীয় ইসলামী চিন্তাবিদ হাসান আল-বান্না প্রতিষ্ঠা করেন মুসলিম ব্রাদারহুড নামের এই সংগঠন। মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বহু দেশে সরাসরি এই সংগঠনের শাখা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন দেশে এই সংগঠনের মতালম্বীরা জাতীয় নির্বাচন ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ বহু আগেই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থি কর্মীরা বহুদিন ধরেই ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে আসছিল। সমালোচকদের মতে, এমন পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে কর্তৃত্ববাদী শাসনকে আরও উৎসাহিত করবে এবং স্বাধীন রাজনৈতিক মত প্রকাশের ওপর দমন-পীড়ন বাড়াবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সমাজের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেও এটি ব্যবহার হতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে মুসলিম সংগঠনগুলোর ওপর ভিত্তিহীনভাবে ব্রাদারহুডের যোগসাজশের অভিযোগ আনা হতে পারে।

mzamin