Saturday, December 25, 2010

আগের দিনও ঠিক হয়নি ভেন্যু

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন পেশাদারির কথা বলে। কিন্তু তাদের কাজকর্ম দিন-দিনই চরম অপেশাদার হয়ে পড়ছে। আর সব বাদই দেওয়া যাক, আজ থেকে শুরু চতুর্থ পেশাদার লিগে একটি দলের ভেন্যু গতকাল পর্যন্ত তারা ঠিক করতে পারেনি!
পৃথিবীর কোথাও লিগ শুরুর আগের দিন ভেন্যুর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় না কোনো ফেডারেশন। কিন্তু বাফুফে সেটিও নিতে পারেনি। গতকাল পর্যন্ত তারা জানাতে পারেনি চট্টগ্রাম মোহামেডানের খেলা কোথায় হবে?
চট্টগ্রাম আবাহনী এবার তাদের ভেন্যু করেছে কক্সবাজার স্টেডিয়ামকে। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে দু-তিন দিন আগে। চট্টগ্রাম মোহামেডান ভেন্যু চায় বান্দরবানে। তাও মাস খানেক আগের কথা। বাফুফের প্রতিনিধি স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে মতামত জানালেই হয়ে যেত। বাফুফের কর্তারা এবং কর্মীরা কক্সবাজারে ১৫ দিন কাটিয়ে এলেন মহিলা সাফ ফুটবলের সময়, তখন কেন এটি চূড়ান্ত করা হলো না—বড় প্রশ্ন।
জানা গেছে, মহিলা টুর্নামেন্ট নিয়ে তাঁরা নাকি মহাব্যস্ত ছিলেন। খাওয়ার সময়ও পাননি। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনে বরাবরই দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া বাফুফের কাছে ঘরোয়া আয়োজন বরাবরই উপেক্ষিত।
অবশেষে বাফুফের একজন প্রতিনিধি গতকাল বান্দরবান স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছেন। ওই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ লিগের খেলা সম্ভব নয়—ঢাকায় পাঠানো বার্তায় বলেছেন তিনি। রাতে বাফুফে জানিয়েছে, চট্টগ্রাম মোহামেডানের আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। খুব সম্ভবত কক্সবাজার স্টেডিয়াম চট্টগ্রাম মোহামেডানেরও ভেন্যু হতে পারে। গতবার বাংলাদেশ লিগে পাঁচটি ভেন্যু ছিল, এবার ভেন্যু কমে মাত্র তিনটি (ঢাকা, কক্সবাজার, ফেনী)!
লিগের পৃষ্ঠপোষকের নাম গতকাল পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি (গ্রামীণফোন হতে পারে)। আজ খেলা শুরুর আগে লোগো উন্মোচন হওয়ার কথা। উদ্বোধনী ম্যাচের আয়োজক শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব বিশেষ কিছু আয়োজন রেখেছে। ম্যাচটা সরাসরি দেখাবে এটিএন বাংলা।

সেই স্টেইনেই বিপন্ন ভারত

যে ভয়টা ভারত পাচ্ছিল সেটাই হলো। সকালে বৃষ্টি। এরপর মাথার ওপর মেঘ রেখে টস করতে নেমে ধোনির হেরে যাওয়া। সেঞ্চুরিয়ন টেস্টের প্রথম দিনের পুনরাবৃত্তি কাল ডারবানের প্রথম দিনেও হলো অনেক দিক দিয়ে। ১৮৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে ভারত।
সেঞ্চুরিয়নে প্রথম বলেই গৌতম গম্ভীরকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন ডেল স্টেইন। শেষ পর্যন্ত একাদশ থেকে ছিটকে পড়ায় গম্ভীর অবশ্য ছিলেন না। তবে কাঁপিয়ে দেওয়ার কাজটি স্টেইন করে গেলেন বীরেন্দর শেবাগের আঙুল প্রায় থেঁতলে দেওয়ার ব্যবস্থা করে।
মুরালি বিজয়কে নিয়ে শেবাগ অবশ্য সুস্থির শুরুই এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু ৪৩ রানের ওপেনিং জুটির পর ভারতীয় উইকেটের মৃদু বর্ষণ শুরু হয়ে গেল। স্টেইন আবারও দেখা দিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে। শেবাগ, বিজয়, রাহুল দ্রাবিড়—তিনজনকেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করলেন স্টেইন। এর মাঝখানে লনওয়াবো তোতসোবে ফেরালেন শচীন টেন্ডুলকারকে। ১১৭ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারাল ভারত।
স্টেইনই মূল নায়ক। পরপর দুই ওভারে ফিরিয়ে দিয়েছেন দুই ওপেনারকে। ভারতের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের পাশাপাশি ভিভিএস লক্ষ্মণও তাঁর শিকার। তবে তোতসোবেরও কৃতিত্বও কম নয়।
ভারতের মূল প্রতিরোধ আসতে পারত যে দুজনের কাছ থেকে, লক্ষ্মণ আর টেন্ডুলকার, দুজনই তাঁর ‘শিকার’। টেন্ডুলকার হতাশ করেছেন দলের দারুণ প্রয়োজনের সময় ব্যর্থ হয়ে। ৫০তম টেস্ট সেঞ্চুরির আনন্দও অনেকখানি ফিকে হয়ে গেছে নির্ঘাত।
স্কোরকার্ড বলছে, লক্ষ্মণের উইকেটটি স্টেইনের। কিন্তু মিডঅনে নিচু হয়ে আসা ক্যাচটি যেভাবে লুফে নিয়েছেন, স্টেইন নিজেই মানবেন, মূল কৃতিত্ব তোতসোবেরই। টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ক্যাচটাই স্মরণীয় হয়ে থাকল এই তরুণের। অথচ এ টেস্টে বাদও পড়তে পারতেন। সুরেশ রায়নার বদলে সুযোগ পাওয়া চেতেশ্বর পূজারাও তাঁর শিকার। স্টেইনের উইকেট ৪টি, বাকি দুটি তোতসোবের।
ভারতের আট ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন। তার পরও এই দশা হওয়ার কারণ বোঝা যাবে এখান থেকে। সর্বোচ্চ স্কোর লক্ষ্মণের রান যে ৩৮। ভারতের শেষ ভরসা এখন অধিনায়ক ধোনি আর হরভজন। দুই অঙ্ক ছোঁয়াটাইকে এঁরা যথেষ্ট মনে না করলেই স্বস্তি ভাবে ভারত। ওয়েবসাইট।

পার্থক্য
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেবাগের ব্যাটিং-গড় ৫৪.৩৪, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে গড় ২৭.১৬!

বক্সিং ডেতে নকআউট অস্ট্রেলিয়া

ক্রিকেট ভিক্টোরিয়ার প্রত্যাশামতো রেকর্ড দর্শক হয়নি। ৮৪৩৪৫ দর্শক নিয়ে তবু টইটম্বুরই ছিল মেলবোর্নের গ্যালারি। চা-বিরতির পর দেখা গেল গ্যালারি অর্ধেক ফাঁকা। দিনের খেলার শেষ দিকে স্বাগতিক দেশের দর্শকের চেয়ে মনে হলো বার্মি আর্মির সংখ্যাই বেশি! কয়েক দিন ধরে চলে আসা কথার লড়াই, চাপ, উত্তেজনা—সব মিলিয়ে বক্সিং ডে টেস্টটার নাম দেওয়া যেতে পারে বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ। সেই লড়াইয়ে নিজেদের দলকে প্রথম রাউন্ডেই এভাবে নকআউট হতে দেখে দর্শক গ্যালারিতে থাকবেই বা কেন!
অস্ট্রেলিয়া ৯৮, অ্যালিস্টার কুক অপরাজিত ৮০—এটুকুই বলে দিচ্ছে বক্সিং ডে টেস্টের প্রথম দিনের চিত্র। অপরাজিত ৬৪ রানে কুকের সঙ্গী অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস। এখনই ইংল্যান্ডের লিড ৫৯ রানের, হাতে আছে ১০ উইকেট আর ৪ দিন। মেলবোর্নের প্রথম দিনেই অ্যাশেজ নিজেদের কাছে রেখে দেওয়া প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে ইংলিশরা। কোনো ‘ক্রিসমাস মিরাকল’-ই এখন কেবল বাঁচাতে পারে অস্ট্রেলিয়াকে।
প্রভাত যে সব সময় দিনের পূর্বাভাস দেয় না, তার প্রমাণও যেন হয়ে গেল কাল। ইনিংসের দ্বিতীয় আর ক্রিস ট্রেমলেটের প্রথম ওভারেই ১০ রান নিয়েছিলেন ফিল হিউজ, প্রথম সাত বলে দুবার জীবন পেয়েছিলেন শেন ওয়াটসন। এই ওয়াটসনকে আউট করেই ভাগ্য নিজেদের দিকে ফেরাতে শুরু করে ইংল্যান্ড। ট্রেমলেটের লাফিয়ে ওঠা বলে গালিতে ধরা পড়েন আগের টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম নায়ক ওয়াটসন।
এরপর অস্ট্রেলিয়ার পুরো ইনিংসেই দেখা গেছে এই ছবি। একটা তথ্যই প্রমাণ দেয় ইনিংসজুড়ে ইংলিশদের প্রায় নিখুঁত বোলিং আর অস্ট্রেলিয়ানদের ব্যাটিং-দৈন্য। সব ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন উইকেটের পেছনে! ৬টি ক্যাচ নিয়েছেন উইকেটরক্ষক ম্যাট প্রিয়র, গালিতে দুটি কেভিন পিটারসেন আর স্লিপে একটি করে গ্রায়েম সোয়ান ও স্ট্রাউস।
প্রথম ওভারে ট্রেমলেটকে দুটো কাভার ড্রাইভে চার মেরে হিউজ ও অ্যান্ডারসনকে দুটো পুলে পন্টিং ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দারুণ কিছু করার। কিন্তু দুজনই আউট হয়েছেন বাজেভাবে। অস্ট্রেলিয়ায় সর্বশেষ অ্যাশেজে এই মেলবোর্নেই ৮৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া, কিন্তু ছয়ে নেমে ১৫৬ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে দলকে বাঁচিয়েছিলেন অ্যান্ডু্র সাইমন্ডস। কাল সাইমন্ডস হতে পারেননি কেউ, মি. ক্রিকেট মাইক হাসিও পারেননি দলের মুখে হাসি ফোটাতে। অবশ্য ৩৭ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ক্লার্কের সঙ্গে হাাসির ২১ রানের জুটিটাই অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ!
শেষ ৭ উইকেট হারায় তারা ৪০ রানে, দলকে ৭৭ রানে রেখেই ফিরে গেছেন তিনজন। দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার ‘সেরা পারফর্মার’ মাইকেল ক্লার্ক মাথা পেতে নিলেন নিজেদের ব্যর্থতা, ‘আমাদের শট নির্বাচন মোটেও ভালো ছিল না, সবাই উইকেটের পেছনে আউট হয়েছি। সবাই বাজে শট খেলেছি। রোদ ওঠার পর উইকেট অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল।’ তথ্যসূত্র: স্টার ক্রিকেট।
সহজ হয়ে আসার ফায়দা নিয়েছেন ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার। যে উইকেটে ইচ্ছেমতো সুইং করিয়েছে ইংলিশ বোলাররা, সেখানে লাইন-লেন্থই খুঁজে পাচ্ছিল না অস্ট্রেলিয়ার অল-পেস অ্যাটাক। কুক-স্ট্রাউস তাই রান তুলেছেন ওভারপ্রতি প্রায় সাড়ে তিন করে। আর ইঙ্গিত দিয়েছেন সামনে কী অপেক্ষা করছে অস্ট্রেলিয়ার জন্য।

টস জিতে ফিল্ডিং
২০০১ সালে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন স্টিভ ওয়াহ, দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপর কালই প্রথম মেলবোর্নে টস জিতে ফিল্ডিং নিলেন কোনো অধিনায়ক।

অকল্যান্ডে সাউদি-বীরত্ব

অস্ট্রেলিয়ায় চলছে অ্যাশেজ, দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের সেরা দুই দলের লড়াই। এই সময়ে নানা বিতর্ক আর ব্যর্থতার সুড়ঙ্গ বেয়ে হাঁটা দুই দল পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট দ্বৈরথ নিয়ে ক্রিকেট-প্রেমীদের কৌতূহল একটু কমই। তবুও যাঁরা সময় বের করে গতকাল চোখ রেখেছিলেন অকল্যান্ডে, টিম সাউদির দারুণ এক বোলিং কীর্তির সাক্ষীই হয়েছেন তাঁরা।
অকল্যান্ডে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ টানা হারের মধ্যে থাকা নিউজিল্যান্ডকে অবশেষে জয়ের মুখ দেখাল। আর ৫ উইকেটের এই জয়ে মুখ্য ভূমিকা সাউদির। ইউনুস খান, মোহাম্মদ হাফিজ ও ওমর আকমল—পাকিস্তানের এই তিন ব্যাটসম্যানকে পরপর তিন বলে আউট করে হ্যাটট্রিক করেছেন কিউই পেসার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে তৃতীয় হ্যাটট্রিক পূর্ণ করাই শুধু নয়, সাউদি আসলে ৫ বলে তুলে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ৫ উইকেট নিয়েছেন ৯ বলের ব্যবধানে। নিজের প্রথম ওভারের শেষ বলে আহমেদ শেহজাদকে দিয়ে শুরু, দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বলে করেন হ্যাটট্রিক। পরের ওভারের দ্বিতীয় বলেই আবার আউট করেন আবদুল রাজ্জাককে। তাঁর বোলিং বিশ্লেষণ ৪-১-১৮-৫, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্বিতীয় আর নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সেরা বোলিং কীর্তি। সাউদি-ঝড়ে একপর্যায়ে ৮৪ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে বসা পাকিস্তান ৯ উইকেটে ১৪৩ করতে পারে ওমর গুল আর ওয়াহাব রিয়াজের কল্যাণে। গুল ১ ছক্কা ও ৩ চারে ৩১ বলে ৩০ এবং সমান ২ ছক্কা-চারে রিয়াজ অপরাজিত ৩০ রান করেন ২১ বলে।
১৪৪ রানের লক্ষ্যের পথে ৫৫ রানের মধ্যে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে একটা ধাক্কা দেন শোয়েব আখতার। কিন্তু মার্টিন গাপটিল আর রস টেলরের ঝোড়ো ইনিংসে ১৭ বল বাকি থাকতেই নিউজিল্যান্ড তুলে নেয় ৫ উইকেটের অনায়াস জয়। ৪ ছক্কা ও ৪ চারে গাপটিল মাত্র ২৯ বলে ৫৪ রান করে রানআউট হন। ৩ ছক্কা ও ২ চারে ২১ বলে ৩৯ করে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক টেলর। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ আগামীকাল। ওয়েবসাইট।
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৪৩/৯ (হাফিজ ২৪, আফ্রিদি ২০, শেহজাদ ১৪, ইউনুস ২, ফাওয়াদ ৯, উমর ০, রাজ্জাক ১, গুল ৩০, ওয়াহাব ৩০*, আজমল ১, শোয়েব ৮*; সাউদি ৫/১৮, মিলস ৩/৩৭, স্টাইরিস ১/১৮)। নিউজিল্যান্ড: ১৭.১ ওভারে ১৪৬/৫ (রাইডার ৬, গাপটিল ৫৪, ব্রাউনলি ৫, স্টাইরিস ৭, টেলর ৩৯*, ফ্রাঙ্কলিন ১৯, ম্যাকগ্লাশান ৫*; শোয়েব ৩/৩৮, হাফিজ ১/২৯)। ফল: নিউজিল্যান্ড ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: টিম সাউদি।
টি-টোয়েন্টিতে হ্যাটট্রিক
প্রতিপক্ষ ভেন্যু সাল ব্যাটসম্যান
ব্রেট লি (অস্ট্রেলিয়া) বাংলাদেশ কেপটাউন ২০০৭ সাকিব, মাশরাফি, অলক
জ্যাকব ওরাম (নিউজিল্যান্ড) কলম্বো শ্রীলঙ্কা ২০০৯ ম্যাথুস, বান্দারা, কুলাসেকারা
টিম সাউদি (নিউজিল্যান্ড) পাকিস্তান অকল্যান্ড ২০১০ ইউনুস, হাফিজ, উমর

শুরুতেই সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ

লিগের প্রথম দিনেই বড় ম্যাচ মানে শুরুতে শিরোপাপ্রত্যাশী এক দল একটু পিছিয়ে পড়ে। অন্য দল বড় বাধা পেরোয়। কিন্তু এটি জিতলেই লিগ জিতে গেলাম, হারলে সব শেষ—ব্যাপারটা এমন নয়।
আজ চতুর্থ পেশাদার লিগ শুরুর প্রথম দিনই এই কথাটা মনে করিয়ে দিচ্ছে। গত তিনটি পেশাদার লিগের চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর সামনে নবাগত পরাশক্তি শেখ জামাল ধানমন্ডি। আবাহনী প্রতিষ্ঠিত শক্তি, শেখ জামালে জাতীয় দলের প্রায় সব খেলোয়াড়। এবার মুক্তিযোদ্ধা, শেখ রাসেল এমনকি ব্রাদার্সও শিরোপা দৌড়ে থাকতে পারে। দুর্বল হলেও নামের ওজনে মোহামেডানকেও উপেক্ষা করা যাবে না। তবে আবাহনী-শেখ জামালের শিরোপা সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
মাঠে এই দুই দলের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে তা অনূদিত হলে চতুর্থ বাংলাদেশ লিগ জমজমাটই হবে। যেমনটা গত ফেডারেশনের কাপের ফাইনালে দেখা গিয়েছিল। আবাহনী-শেখ জামাল রুদ্ধশ্বাস লড়াই সেদিন কমলাপুরের মাঠভর্তি দর্শককে বিমোহিত করেছিল। প্রথম লড়াইয়ে জয় আবাহনীর। গোলবহুল ম্যাচটি আকাশি-নীলরা জিতেছিল ৫-৩-এ।
আজ বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে কমলাপুরের মাঠেই শুরু হচ্ছে দুই দলের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। পেশাদার লিগে প্রথম। শেখ জামাল নাম নিয়ে নবরূপে যাত্রা করা ধানমন্ডি ক্লাবেরও পেশাদার লিগে অভিষেক ম্যাচ এটি।
আবাহনী এ পর্যন্ত তিনটি পেশাদার লিগে মোট ৬৪টি ম্যাচ খেলেছে। জয় ৫২টি, ড্র ৮, হার ৪। আবাহনীর এই বিশাল অভিজ্ঞতার সামনে দল হিসেবে শেখ জামাল দুধের শিশু, কিন্তু তাদের খেলোয়াড়েরা নন। পেশাদার লিগের এর আগে অন্য দলে খেলে তাঁরা অভিজ্ঞতায় পুষ্ট।
কিন্তু একটা জায়গায় স্পষ্টই দুই দলের মাঝখানে ব্যবধান দেখা যাচ্ছে। আত্মবিশ্বাস, উদ্দীপনা, প্রস্তুতি—সবকিছুতেই জামালের চেয়ে আবাহনী এগিয়ে। এ মৌসুমে আসামের বরদুলই ট্রফির পর ফেডারেশন কাপ জিতেছে আবাহনী। ব্যাংককে ১১ দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্প করে কেবলই দলটি দেশে ফিরেছে। লিগ নিয়ে গোটা দলই আত্মবিশ্বাসী।
আবাহনীর ইরানি কোচ আলী আকবর পোরমুসলিমি বলছেন, ‘এটি আর দশটা ম্যাচের মতোই। এই ম্যাচের পর আরও ২১টি ম্যাচ থাকবে, অনেক কিছুই ঘটতে পারে। ম্যাচটাকে গুরুত্ব দিচ্ছি বটে কিন্তু এটিই সব নয়।’
কাল বিকেলে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে দলকে অনুশীলন করিয়ে ফেরার পথে শেখ জামালের কোচ জোরান কার্লেভিচের মুখেও একই কথা শোনা গেল, ‘এই ম্যাচই সব নয়। অনেকে এটিকে ফাইনালও বলে ফেলছেন, কিন্তু আমি তা মনে করি না। সামনে অনেক পথ, অনেক কিছুই তখন হতে পারে।’
ঠিকই বলেছেন। তবে আজকের ম্যাচ শেখ জামালের কাছে প্রতিশোধের ম্যাচও কি নয়? সার্বিয়ান কোচ বললেন, ‘তা তো অবশ্যই।’ স্ট্রাইকার এমিলি, ডিফেন্ডার ওয়ালি ফয়সাল জ্বর থেকে সেরে উঠলেও এখনো ফিট মনে করেন না কার্লেভিচ। চোট আছে শাহেদ, কমল, মিন্টু শেখের। এই পাঁচজনকে ছাড়াই আজ দল সাজানোর ইঙ্গিত কার্লেভিচের। এদিক থেকে আবাহনীর তেমন দুশ্চিন্তা নেই।
গত তিনটি পেশাদার লিগ আবাহনী-মোহামেডানের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে আর তেমন কিছুই দেখেনি। এবার দেখা যাবে—ফুটবল অঙ্গনে এমন আশাবাদ। আশা পূরণ করার দায়িত্বটা আবাহনী-শেখ জামালের ওপর একটু বেশিই। দুই দলের এই লড়াইটা তাই পেয়ে যাচ্ছে ভিন্নমাত্রা।

ট্রটের সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় দিনেও ইংলিশ আধিপত্য

মেলবোর্ন টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ২৮৬ রানেই ইংল্যান্ডের পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে আবার লড়াইয়ে ফেরার স্বপ্ন দেখছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু অসিদের সেই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হতে দেননি জনাথন ট্রট আর ম্যাট প্রিয়র। বরং ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১৫৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে আরও একটা দিন অস্ট্রেলিয়াকে হতাশায় ডুবিয়েছেন এ দুই ব্যাটসম্যান। টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ট্রট অপরাজিত আছেন ১৪১ রানে। আর ৭৫ রান করে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরির আশা জিইয়ে রেখেছেন প্রিয়র। দিন শেষে ইংল্যান্ড স্কোরবোর্ডে যুক্ত হয়েছে ৪৪৪ রান।
আজ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সূচনাটা ভালোই করেছিলেন পিটার সিডল। আগের দিনের সঙ্গে মাত্র দুই রান যোগ করেই ফিরে গেছেন অ্যালিস্টার কুক (৮২)। কয়েক ওভার পর ইংল্যান্ডের অধিনায়ক স্ট্রাউসকেও (৬৯) ফিরিয়েছেন সিডল। তৃতীয় উইকেট জুটিতে আবার অস্ট্রেলিয়াকে হতাশায় ডোবাচ্ছিলেন কেভিন পিটারসন আর জনাথন ট্রট। ৩১ ওভার উইকেটে থেকে ৯১ রানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়েছিলেন এ দুই ব্যাটসম্যান। বহু সাধ্য-সাধনার পর আবার সিডলই ভাঙেন এ জুটি। ক্যারিয়ারের ২১তম অর্ধশতক পূর্ণ করে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন কেভিনসন। এরপর পল কলিংউড আর ইয়ান বেলকে খুব বেশিক্ষণ টিকতে দেননি মিচেল জনসন। বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই সাজঘরমুখী করেছেন তাঁদের। এ দুটি উইকেটের পেছনেও আছে সিডলের অবদান। জনসনের বলে দুই ইংলিশ ব্যাটসম্যানই বন্দী হয়েছেন সিডলের হাতে। সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড (প্রথম ইনিংস)—৪৪৪/৫; জনাথন ট্রট ১৪১*, অ্যালিস্টার কুক ৮২, ম্যাট প্রিয়র ৭৫*;
পিটার সিডল ২৬-৮-৫৮-৩, মিচেল জনসন ২৫-২-১০৩-২
অস্ট্রেলিয়া (প্রথম ইনিংস)—৯৮
দ্বিতীয় দিন শেষে ইংল্যান্ড ৩৪৬ রানে এগিয়ে
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, ক্রিকইনফো।

আবাহনী-শেখ জামালের গোলশূন্য ড্র

গোলশূন্য ড্র দিয়ে শুরু হলো চতুর্থ পেশাদার লিগের আসর। আজ বাংলাদেশ লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে গোলের দেখা পায়নি আবাহনী বা শেখ জামাল ধানমন্ডির কোনো দলই।
প্রতিশোধ নেওয়া হলো না শেখ জামালের। গত ফেডারেশন কাপের ফাইনালে আবাহনীর মুখোমুখি হয়েছিল তারা। কিন্তু সেই ম্যাচে ৫-৩ গোলে জিতে শিরোপা ঘরে তুলেছিল আবাহনী। আজ প্রথম ম্যাচেই প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগটা এসেছিল। কিন্তু অগোছালো খেলার কারণে পারেনি শেখ জামাল। একইভাবে আবাহনীও পারেনি পেশাদার লিগে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিতে।

সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালী by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

সারা দেশে এখন বইছে শীতের হাড়কাঁপানো হাওয়া কিন্তু একই সঙ্গে বইছে গা-কাঁপানো আরেক হাওয়া—নির্বাচনী হাওয়া। ঢাকা-চট্টগ্রামে বসে সেই হাওয়ার আঁচ পাওয়া কঠিন। কিন্তু ছোট ছোট শহরে যান, বন্দর-উপজেলায় যান, সেই হাওয়া বাঁচিয়ে হাঁটা সম্ভব হবে না। ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি ২০১১ হবে পৌরসভা নির্বাচন। ২৬৯ পৌরসভার ওই সংখ্যক মেয়র, দুই হাজার ৫৩৪ কাউন্সিলর এবং ৮৭৪ সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য প্রায় ৭৫ লাখ ৬০ হাজার ভোটার ভোটকেন্দ্রে যাবেন অথবা যাবেন বলে আশা প্রার্থীদের। আমাদের দেশে ভোটের হাওয়ার প্রতিশ্রুতির ফানুস ওড়ে, টাকা ওড়ে, আনুগত্য ও বিরোধিতার দলীয় ঝান্ডা ওড়ে। কিন্তু একই সঙ্গে ওড়ে রেষারেষি-শত্রুতা এবং প্রতিহিংসার বিষাক্ত ধোঁয়া। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রার্থী-সমর্থকের শেষ নিঃশ্বাস। আমাদের দেশে জাতীয় থেকে স্থানীয়—সব নির্বাচনেই সহিংসতা একটা অনিবার্য শর্ত। পৌর নির্বাচনেও অনেকে সহিংসতার ভয় করছেন, কোনো কোনো এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে। ২১ ডিসেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকের প্রধান শিরোনাম: ‘প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় মাঠে নামছে সন্ত্রাসীরা।’
শিরোনামটি ভয় পাওয়ার মতো, কিন্তু এটি এতই সাধারণ যে পাঠক সংবাদটি নিয়ে খুব উৎসাহ বোধ করবেন না। নির্বাচন যেহেতু, সন্ত্রাসীরা তো মাঠে নামবেই। এ আর নতুন কী। এবং সন্ত্রাসীরা যেখানে আছে প্রভাবশালীরাও সেখানে আছেন, তাদের মেলে দেওয়া ছাতাও আছে। সে ছাতার নিচে সন্ত্রাসীদের পরিবর্তে সাধারণ শান্তিকামী মানুষই যদি জোটে, তাহলে তাঁরা প্রভাবশালী কেন হলেন? তাঁদের বড়জোর জনদরদি বলা যায়। কিন্তু জনদরদি হওয়ার মধ্যে মানুষের ও প্রশাসনের সমীহ আদায়কারী বীরত্বের ভাবটি নেই। জনদরদিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বারান্দায় বসে থাকেন, থানার দারোগার সাক্ষাৎ না পেয়ে বিষণ্ন মনে ফিরে যান; প্রভাবশালীরা সেখানে হুঙ্কারে চেঁচামেচি ও আদেশ-নির্দেশে থানা অফিস কাঁপান। প্রভাবশালীদের ছায়ায় নামছে সন্ত্রাসীরা—এ সংবাদটি তাই সাধারণ পাঠককে যেমন ভয় দেখাবে, স্থানীয় প্রশাসনকেও। এটি প্রকৃত অর্থে সংবাদ না হলেও আমাদের জীবনের এক অনিবার্যতা তো বটে। একে উপেক্ষা করার উপায় সাধারণ মানুষের যেমন নেই, স্থানীয় প্রশাসনেরও তেমনি নেই। স্থানীয় প্রশাসনের কেন্দ্র থেকে জানানো হবে, সন্ত্রাসী যে দলেরই হোক, ব্যবস্থা নিতে হবে। কেন্দ্র-তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সরকারের অন্যান্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং সরকারি দলের সাধারণ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাঁরা অবশ্যই এই ডাক দেবেন মিডিয়ার সামনে, আট-দশ টিভি চ্যানেলের ক্যামেরা এবং এগুলোর ভিড়ে পেছনে পড়ে যাওয়া ছাপা-মাধ্যমের সাংবাদিকদের সামনে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে এই বার্তাটির অন্তর্নিহিত ইঙ্গিতটি বুঝে নেবে—না নিলে এলাকার প্রভাবশালীরাই তাদের তা বুঝিয়ে দেবেন। সন্ত্রাসী যে দলেরই হোক, ব্যবস্থা নিতে হবে, শুধু সরকারদলীয় ছাড়া। কোনো ভুলোমনা আমলা বা দারোগা যদি ব্যবস্থা নেনও, স্থানীয় প্রভাবশালীরা নিশ্চিত করবেন, ব্যবস্থাটা অব্যবস্থা হয়ে ভুলোমনাদের বিরুদ্ধেই যেন যায়। এবং যায় যে, সে প্রমাণও ওই সংবাদমাধ্যমেই মাঝেমধ্যে সখেদে প্রচারিত হয়।
পৌর নির্বাচনে প্রভাবশালীদের ছাতার নিচে যে তাণ্ডব করবে সন্ত্রাসীরা, এটি তাই শিরোনাম হওয়ার মতো কোনো সংবাদ নয়, যা অনিবার্য, যা স্বতঃসিদ্ধ তাতে সংবাদের চমক থাকে না। যেমন শুল্ক বা পুলিশ বিভাগে দুর্নীতি বা সিন্ডিকেটের কারসাজিতে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার ঘটনা। সন্ত্রাসীদের মাঠে নামার খরবটা তাই ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের সতর্ক বার্তার মতো। আসছে, ধেয়ে আসছে, এখন নিজেকে বাঁচান। সংবাদটি তাই পড়ে দেখতেও আগ্রহ বোধ করিনি। কিন্তু আগ্রহটা জেগেছে অন্য জায়গায়—ওই সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালীর বন্ধনীভুক্ত হওয়ার বিষয়টায়। এই আগ্রহ যতটা অপরাধবিজ্ঞানীয়, তার থেকে বেশি সমাজতাত্ত্বিক। অথবা আরও সহজভাবে, লৌকিক। আমাদের সমাজে সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালীর যে সখ্য, তার একটা জটিল প্রকাশই তো দেখি রাজনীতিতে। এবং তা যে শুধু বাংলাদেশে, তা তো নয়, ইউরোপ-আমেরিকার মতো সভ্য বলে বিবেচিত সমাজেও তো তার প্রকাশ দেখি। ভারতে এই সখ্যের প্রকাশ এমনই ব্যাপক, কোনো কোনো রাজ্যে যে সিনেমাওলারাও একে লুফে নিয়েছেন ব্যবসার উপাদান হিসেবে। বলিউডের এক সিনেমায় একবার দেখেছিলাম, এক রাজ্যের খোদ মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন সন্ত্রাসীদের গডফাদার। এমন খারাপ কাজ নেই যা মুখ্যমন্ত্রী করেন না, কিন্তু এক সৎ, সাহসী এবং দেশপ্রেমী পুলিশ ইন্সপেক্টরের কাছে তিনি শেষ পর্যন্ত ধরাশায়ী হলেন। সত্যের জয় হলো, তবে এমনই অবিশ্বাস্য এবং উদ্ভট উপায়ে যে ওই জয়ের আনন্দ দর্শক বাড়ি পর্যন্ত বয়ে নিতে পারবে না।
আমাদের দেশেও সন্ত্রাসী-প্রভাবশালীর সখ্য নিয়ে ছবি হয়েছে। ছবিগুলোর কাঠামো একই, তবে পাত্রপাত্রী একটু পরিবর্তিত। সেটিই স্বাভাবিক। আমাদের দেশের উচ্চপর্যায়ে যে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস হয়, তার সরাসরি উল্লেখ দূরে থাকুক, প্রতীকী পরিবেশনাও বিপজ্জনক। শরীফ বদমাশ বাজনতার শত্রু ধরনের ছবিতে তাই আকারে-ইঙ্গিতে বোঝানো হয়, প্রভাবশালীরা কারা। কিন্তু সেন্সর বোর্ডে যখন যায় কোনো ছবি, তার ছাড়পত্র পেতে হলে কারা সন্ত্রাসী, কারা গডফাদার সে ব্যাপারটাকে একটু দূরবর্তী ইঙ্গিতে না ফেললে প্রযোজককে মাথায় হাত দিতে হয়।
সিনেমার কথা থাক, বাস্তবেই বরং ফিরে আসি। বাস্তবে প্রভাবশালী কারা, তা বলা খুবই সহজ। আবার খুব কঠিনও বটে। যারা সন্ত্রাসের শিকার, তারা সন্ত্রাসীদের চেনে, তাদের মাথায় ছাতা মেলে দেওয়া প্রভাবশালীদেরও একসময় চিনতে পারে। এদের পুলিশ ও প্রশাসন চেনে, সংবাদকর্মীরা চেনেন, কিন্তু তাদের নাম সবাই বলতে পারে না। তাদেরকে লোকজন চেনে, কিন্তু তাদের চিহ্নিত করা সহজ হয় না। পুলিশ যেমন মাঝেমধ্যে ‘কে বা কাহারা’ বর্ণনায় অপরাধীর পরিচিতি নির্ণয় করে, প্রভাবশালীরাও এই সাধারণ পরিচয়ে উপস্থিত হন। জাতীয় দৈনিকটিও শিরোনামে নিচে যে প্রতিবেদন ছাপিয়েছে, তাতে প্রভাবশালীরা অচিহ্নিত, সন্ত্রাসীদের মতোই।
একটা দেশে যদি শুধু সন্ত্রাসের শিকাররাই চিহ্নিত হন, সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালীরা রয়ে যান অনির্ণীত, অশনাক্ত, ওই সাধারণ পরিচিতির আড়ালে, তাহলে আইনি শাসন কীভাবে প্রতিষ্ঠা পাবে? আইনি শাসন, আর যা হোক, ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ করে প্রতিষ্ঠা করা যায় না। অথচ বর্তমানে তাই চলছে। তা ছাড়া যুদ্ধ যে চলছে, তাও বলা যাবে না। বরং বলা যায়, ছায়ার সঙ্গে সন্ধি চলছে সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম।

২.
সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে সমস্যা তেমন নেই। সন্ত্রাসীরা কারা, কেন এবং কী কী সন্ত্রাস তারা করে, এ নিয়ে রহস্য নেই। পুলিশের খাতায় তাদের নাম থাকে, নাম না থাকলেও পুলিশ জানে এবং বুঝতে পারে কারা সন্ত্রাসী। মানুষও জানে—মানুষই বরং অনেক ভালোভাবে জানে—কারা সন্ত্রাসী। এবং তাদের সংখ্যা যে দিনে দিনে বাড়ছে, তাও সাধারণ জ্ঞানের বিষয়। কিন্তু সমস্যা হয় প্রভাবশালীদের নিয়ে। প্রভাবশালী তকমাটা আগেই বলেছি, সমীহ আদায়কারী। প্রভাবশালীদের প্রতিপত্তি ও বিত্ত থাকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ ও পেশাজীবীর পরিচিতিও থাকে। অনেকে ধার্মিক একটা লেবাসও গায়ে চাপান। এদের সন্তানেরা পড়াশোনা, চাকরি-বাকরি করে। এদের ভাই-বেরাদররাও চাকরি-বাকরি ব্যবসাপাতি করে। এরা যদি সৎ হতো, রুচিশীল হতো, সংস্কৃতিমনা হতো; এরা যদি সন্ত্রাসীদের ছাতার নিচে আশ্রয় না দিয়ে ওই ছাতা ভাঁজ করে পেটাত এবং এরা যদি তাদের প্রভাব ইতিবাচক কাজে লাগাত, তাহলে সমাজটা কত সুন্দর হতো। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। শিক্ষিত হয়েও তাঁদের মানসিকতায় কোনো পরিবর্তন আসে না, সন্তানের পিতা হয়েও তাঁরা আরেক পিতার সন্তানকে খুন করার দায়িত্ব নিতে দুবার ভাবেন না। বিষয়টা আমাকে ভাবায়। কিন্তু কেন প্রভাবশালীরা প্রায় সব ক্ষেত্রে তাঁদের প্রভাব খারাপ কাজে খাটান, তার কোনো উত্তর পাই না।
বিশাল উদাহরণসমুদ্র থেকে এ রকম খারাপ কাজের মাত্র তিনটি উল্লেখ করছি। এক গ্রামে এক মেয়েকে ধর্ষণ করেছে তিন সন্ত্রাসী (পত্রিকার ভাষায় ‘বখাটে’)। জনগণ সন্ত্রাসীদের ধরে থানায় দিয়েছে। কিন্তু খবর পেয়েই এক প্রভাবশালী তাঁদের থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী শহরতলিতে তিন কাঠা জমিতে একটি আধপাকা ঘর তুলেছেন। ঘরটি দখল করে নিল স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। তিনি গেলেন স্থানীয় প্রভাবশালীর কাছে। প্রভাবশালী তাঁকে পিটিয়ে বের করে দিলেন। অথচ প্রভাবশালী নিজে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। চট্টগ্রাম থেকে পাঠানো ইয়াবার একটা চালান ধরেছে পুলিশ, দুই অপরাধী, যাকে বলে বামাল ধরা পড়েছে। তাদের আধা মাইল দূরে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় পায়নি পুলিশ, প্রভাবশালী গিয়ে হাজির। তারপর যা হওয়ার তা-ই হলো। শুধু ইয়াবাটুকু ফেলে যেতে হলো। অথচ ওই প্রভাবশালীর ছেলেমেয়ে কলেজে পড়ে; কাপড়ে-লেবাসে তাঁকে দেখে খুবই ধার্মিক মনে হতে পারে।
এসব দুর্নীতি-অরাজকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কম, প্রতিরোধ কম। এ ক্ষেত্রে পুলিশের থেকে বেশি দায়ী প্রভাবশালী। এবং প্রভাবশালীদের এক শ জনের মধ্যে প্রায় নিরানব্বই জনই হলো সরকারদলীয়।

৩.
এই সরকার ক্ষমতায় গিয়েছিল দিনবদলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। দিনবদল হয় না, যদি অনেক কিছুর সঙ্গে পুরোনো অপরাধ কাঠামোগুলো না বদলায়। এই অপরাধ কাঠামোতে শক্ত অবস্থানে আছেন প্রভাবশালীরা। যদি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে এই প্রভাবশালীদেরও কঠোর শাস্তি দেওয়া না হয়, এ দেশের অপরাধচিত্রের সামান্য পরিবর্তনও হবে না।
সংবাদপত্র তথা মিডিয়ার অনেক অবদান রয়েছে এ দেশের নানা ইতিবাচক পরিবর্তনে। এখন উচিত, এই ভয়ংকর ভাসুরগুলোর নাম মুখে আনা। তাদের নাম-পরিচয় ছাপিয়ে দেওয়া। সত্যিকার গণরোষ জাগলে নিষ্ক্রিয় সরকারও সক্রিয় হবে প্রভাবশালীদের হাত থেকে তাদের ছাতা ছিনিয়ে নিতে।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম: কথাসাহিত্যিক। অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ইসলাম ও সর্বজনীন মানবাধিকার by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলামে সর্বজনীন মানবাধিকারের বিষয়টি জীবনের সর্বক্ষেত্র ও বিভাগে পরিব্যাপ্ত। ইসলাম মানবজাতিকে শ্রেষ্ঠত্বের গৌরবময় অধিকার ও মর্যাদা প্রদান করেছে। মানুষকে সাম্য, মৈত্রী, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের মর্মবাণী শুনিয়ে জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব, বংশীয় মর্যাদা, শ্রেণীবৈষম্য ও বর্ণপ্রথার বিলুপ্তি ঘোষণা করেছে। অধীনদের প্রতি সদাচারী ও ন্যায়পরায়ণ হতে শিক্ষা দিয়েছে। আরব-অনারব, সাদা-কালো সবাই একই পিতা-মাতা হজরত আদম (আ.) ও বিবি হাওয়া (আ.)-এর সন্তান। মানুষের মধ্যে মর্যাদার কোনো পার্থক্য হতে পারে না। সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানবজাতির সম্মান ও মর্যাদার অধিকার, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা প্রভৃতি জীবনযাত্রার মৌলিক অধিকার, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অধিকার, জীবনরক্ষণ ও সম্পদের নিরাপত্তার অধিকার, ব্যক্তিস্বাধীনতা, মতপ্রকাশ ও বাকস্বাধীনতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, একতা, সংঘবদ্ধ ও সাম্যের অধিকার, হালাল উপার্জনের অধিকার, এতিম, মিসকিন, অসহায় নারী ও শিশুর অধিকার, প্রতিবেশীর অধিকার, কৃষক-শ্রমিকের অধিকার, প্রতিবন্ধীদের অধিকার প্রভৃতি সব ব্যাপারেই পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা ও কালজয়ী চিরন্তন আদর্শ হিসেবে ইসলাম মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।
জাতিসংঘের ঘোষণারও প্রায় ১৪০০ বছর আগে ইসলাম মানবসমাজের সর্বজনীন মানবাধিকারের সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রদান করেছে। ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে জিলহজ মাসের ৯ তারিখ জুমার দিন পবিত্র আরাফাতের ময়দানে জাবালে রহমতের পাদদেশে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের যে অবিস্মরণীয় ভাষণ দিয়েছিলেন, তা ছিল সর্বজনীন মানবাধিকারের একটি ঐতিহাসিক দলিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) জনসমুদ্রে ঘোষণা করেছিলেন, ‘ওহে লোকেরা! অবশ্যই তোমাদের প্রতিপালক এক এবং তোমাদের পিতাও এক; সুতরাং কোনো আরবের কোনো অনারবের ওপর প্রাধান্য নেই। শ্বেতবর্ণের লোকের কালো বর্ণের লোকের ওপর এবং কালো বর্ণের লোকের শ্বেতবর্ণের লোকের ওপর কোনোই প্রাধান্য নেই; কিন্তু তাকওয়া ও পরহেজগারী হলো মর্যাদার একমাত্র মানদণ্ড।’ তারপর তিনি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বললেন, ‘মনে রেখো! প্রত্যেক মুসলমান একে অন্যের ভাই, সবাই ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ। কেউ কারও থেকে ছোট নও, কারও চেয়ে বড় নও। আল্লাহর চোখে সবাই সমান। নারী জাতির কথা ভুলে যেয়ো না। নারীর ওপর পুরুষের যেমন অধিকার আছে, পুরুষের ওপর নারীরও তেমন অধিকার আছে। তাদের প্রতি অত্যাচার করো না। মনে রেখো! আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের গ্রহণ করেছ। সাবধান! ধর্ম সম্বন্ধে বাড়াবাড়ি করো না। এ বাড়াবাড়ির কারণে অতীতে বহু জাতি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।’
সর্বপ্রথম ইসলাম মানুষের জীবনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান করেছে। মুসলিম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ গোলযোগ, বহিরাক্রমণ বা অন্য যেকোনো ধরনের বিপদ থেকে নাগরিকদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে বহন করতে হবে। ইসলাম সব মানুষের বৈধভাবে সম্পদ অর্জন, আয়-ব্যয়, ভোগ ও সঞ্চয়ের অধিকার দিয়েছে। এ ব্যাপারে রাষ্ট্র নাগরিকের সম্পদের নিরাপত্তা বিধান করবে। নবী করিম (সা.) মক্কা বিজয়ের পর অমুসলিমদের জানমাল রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন। কোনো মানুষের ধন-সম্পদ জোরপূর্বক দখল বা আত্মসাৎ করা ইসলামসম্মত নয়। ইসলাম মানুষের ইজ্জত ও সম্মানের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নানা বিধিব্যবস্থা প্র্রবর্তন করেছে। পরনিন্দা, অন্যায়-অত্যাচার, মিথ্যা অপবাদ, কুৎসা রটনা প্রভৃতিকে হারাম ঘোষণা করেছে। অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যার প্রতি কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নরহত্যা অথবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন দুনিয়ার সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে হত্যা করলো; আর কেউ কারো প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে প্রাণে রক্ষা করলো।’ (সূরা আল মায়িদা, আয়াত-৩২)
ইসলামে সব মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা রয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় কার্যকলাপ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে কোনো ধরনের বাধাবিঘ্ন নেই। সব ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের রক্ষণাবেক্ষণের সুবন্দোবস্ত রয়েছে। কখনো ভিন্নধর্মাবলম্বীদের জোরপূর্বক ইসলামে দীক্ষিত করা যাবে না এবং তাদের ধর্মীয় কাজে কটাক্ষ করা যাবে না। মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিম ও সংখ্যালঘুদের সম-অধিকার ইসলাম প্রদান করেছে। ইসলামের ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান ‘মদীনা সনদ’-এর একটি বিশেষ ধারায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব মানুষের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদার সর্বজনীন ঘোষণা রয়েছে, ‘মদীনায় বসবাসরত ইহুদী, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিক এবং মুসলমান সবাই একদেশী এবং সবাই সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবে। সব ধর্মের লোক স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে, কেউ কারো ধর্মে হস্তক্ষেপ করবে না। এমনকি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুমতি ব্যতীত কারো সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতে পারবে না। মদীনা নগরী বহিঃশত্রু কর্তৃক আক্রান্ত হলে সবাই সম্মিলিতভাবে শত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধ করবে। নিজেদের মধ্যে কোনো বিরোধ দেখা দিলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ফয়সালা মেনে নিতে হবে।’ মানবাধিকারের রক্ষাকবচ ‘মদীনা সনদ’ প্রদান করে নবী করিম (সা.) মদীনায় বসবাসরত বহুমাত্রিক ধর্মাবলম্বী ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিক ও মুসলমানদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
ইসলামে নারী-পুরুষদের উভয়ের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা লাভের অধিকার রয়েছে। স্বামী যা উপার্জন করবে, তা তার অধিকারে থাকবে আর স্ত্রী যা কিছু উপার্জন করবে, তা তার অধিকারে থাকবে। ইসলামী বিধান অনুযায়ী নারীরাও পুরুষদের ন্যায় সম্পদের উত্তরাধিকারী হবে। ইসলামের সম্পদ বণ্টনব্যবস্থায় নারীরা তাদের মৃত পিতা-মাতা, স্বামী ও সন্তানদের একটি নির্দিষ্ট অংশ ভোগ করতে পারবে।
নবী করিম (সা.) যখন মদীনাকেন্দ্রিক ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন, তখন তথায় নাগরিকদের সর্বপ্রকার মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করেন। মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সম্পদের ভারসাম্য রক্ষার জন্য ইসলাম জাকাত, উত্তরাধিকার, খারাজ প্রভৃতি বিধান প্রবর্তন করেছে এবং দান-সাদকার প্রতি উৎসাহিত করেছে। সক্ষম লোকদের ভিক্ষাবৃত্তির প্রতি নিরুৎসাহিত করেছে। ইসলাম সমাজের ধনী লোকের সম্পদে এতিম-মিসকিন, দুস্থ ও অসহায়দের অধিকার সুনিশ্চিত করেছে। তাই দরিদ্রদের সঙ্গে সর্বাবস্থায় সদ্ব্যবহার করতে হবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘তোমাদের (ধনী) সম্পদে প্রার্থী (গরিব) ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।’ (সূরা আল-যারিআত, আয়াত-১৯)
এমনিভাবে ইসলামে মানবজাতির গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকারসহ জাতি-ধর্ম-বর্ণ-দল-মতনির্বিশেষে সর্বক্ষেত্রে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক জীবনবিধান ও আইনকানুন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবাধিকার সংরক্ষণের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা করা হয়েছে। যখন সমাজে ইসলামের শান্তিপূর্ণ বিধান ও ধর্মীয় অনুশাসন পরিপূর্ণরূপে পালিত হবে এবং সামগ্রিকভাবে তা বাস্তবায়িত হবে, তখন মানুষ আর অধিকারবঞ্চিত থাকবে না।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড দাওয়াহ, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।

জাতীয় শিক্ষানীতি, ধর্ম এবং হরতাল by মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দল ২৬ ডিসেম্বর দেশে হরতাল ডেকেছে, কারণটা আমি পুরোপুরি বুঝতে পারিনি। খবরের কাগজ পড়ে মনে হলো, আমাদের জাতীয় শিক্ষানীতিতে যথেষ্ট পরিমাণ ‘ইসলামধর্ম’ নেই, সেটা হচ্ছে কারণ। আমি মোটামুটি নিশ্চিত, যাঁরা হরতাল ডেকেছেন তাঁরা নিশ্চয়ই জাতীয় শিক্ষানীতিটি পড়ে দেখেননি, পড়ে থাকলে তাঁরা কখনোই এ ধরনের একটি কারণ দেখিয়ে হরতাল ডাকতে পারতেন না। এই শিক্ষানীতিতে ধর্মকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কি হয়নি, সেই বিতর্কে না গিয়ে আমি সরাসরি শিক্ষানীতি থেকে কিছু অংশ তুলে দিচ্ছি, দেশের মানুষই বিচার করুক, হরতাল দেওয়ার আসলেই কারণ আছে কি নেই।
শিক্ষানীতির একেবারে প্রথম লাইনে আমাদের সংবিধানের নির্দেশনা এবং দ্বিতীয় লাইনে জাতিসংঘের শিশু শিক্ষার অধিকারের কথাটি স্মরণ করানো হয়েছে। কাজেই শিক্ষানীতির মূল বক্তব্যটি শুরু হয়েছে তৃতীয় লাইনে এবং লাইনটি আমি হুবহু তুলে দিই: ‘শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য মানবতার বিকাশ এবং জনমুখী উন্নয়ন ও প্রগতিতে নেতৃত্বদানের উপযোগী মননশীল, যুক্তিবাদী, নীতিবান, নিজের এবং অন্যান্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কুসংস্কারমুক্ত, পরমতসহিষ্ণু, অসাম্প্রদায়িক, দেশপ্রেমিক এবং কর্মকুশল নাগরিক গড়ে তোলা।’ যাঁরা বলছেন শিক্ষানীতিতে যথেষ্ট ধর্ম নেই, তাঁদের আমি প্রয়োজন হলে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে চাই যে একেবারে শুরুতেই বলা হয়েছে, এই শিক্ষানীতির যে কয়টি মূল উদ্দেশ্য আছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে নিজের এবং অন্যান্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলা। সেটি কীভাবে করা হবে, পরে বিস্তৃতভাবে বলা আছে। কিন্তু একেবারে প্রথম পর্যায়ে যে ৩০টি লক্ষ্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে, তার রোল নম্বর হলো: ‘প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে উন্নত চরিত্র গঠনে সহায়তা করা।’
সেই ১৯৭১ সালে ভয়াবহভাবে এবং গত ৪০ বছর নানাভাবে ধর্মকে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই অনেক শিক্ষাবিদই মনে করেন, পৃথিবীর অন্য অনেক দেশের মতো আমাদেরও স্কুল-কলেজে ধর্মশিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তারা সেটা নিজেদের বাসায় পরিবারের কাছ থেকে শিখে নেবে। কিন্তু আমাদের দেশের জন্য এ যুক্তিটি ব্যবহার করার উপায় নেই—দেশের বেশির ভাগ ছেলেমেয়ের মা-বাবা অশিক্ষিত কিংবা অল্প শিক্ষিত। তাঁরা ছেলেমেয়েদের ধর্মশিক্ষা দিতে পারবেন বলে মনে হয় না, বরং ধর্মান্ধ কোনো মানুষের হাতে তুলে দেবেন এবং ছেলেমেয়েরা ধর্মের উদার অংশটুকু না শিখে কিছু আচার-আচরণের সঙ্গে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িকতা শিখে বসে থাকবে। তার চেয়ে অনেক নিরাপদ ব্যাপার হচ্ছে, দেশের জ্ঞানী-গুণী ধর্মপ্রাণ মানুষ দিয়ে চমৎকার কিছু পাঠ্যবই লিখিয়ে নেওয়া, যেটা থেকে এরা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ধর্ম শিখে নেবে। এবং সবচেয়ে বড় কথা, ধর্মের সঙ্গে নৈতিকতা শেখানোর এটা হচ্ছে আরেকটা সুযোগ। তাই শিক্ষানীতিতে স্পষ্ট করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ধর্মশিক্ষার ব্যাপারটা উল্লেখ করা আছে।
এই শিক্ষানীতিতে প্রথমবার প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপারটি এসেছে। প্রাথমিক শিক্ষায় আনুষ্ঠানিকভাবে লেখাপড়া শুরু করার আগে শিশুদের লেখাপড়ায় আগ্রহী করার জন্য কয়েকটা কৌশলের কথা বলা আছে, তার মধ্যে একটা কৌশল হিসেবে যেটা লেখা আছে, সেটা হুবহু তুলে দিচ্ছি (পৃষ্ঠা ৩) ‘মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত সকল ধর্মের শিশুদের ধর্মীয় জ্ঞান, অক্ষরজ্ঞানসহ আধুনিক শিক্ষা ও নৈতিকতা শিক্ষা প্রদানের কর্মসূচি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে।’ যার অর্থ শুধু যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ধর্মশিক্ষার ব্যাপারটা আছে, তা নয়, সেটা শুরু হয়েছে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায় থেকে।
জাতীয় শিক্ষানীতিতে যথেষ্ট পরিমাণ ধর্ম নেই বলে হরতাল ডাকা হয়েছে অথচ সপ্তম পরিচ্ছেদটির (পৃষ্ঠা ২০) শিরোনাম হচ্ছে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা। সেখানে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হিসেবে লেখা আছে: ‘ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ধর্ম সম্পর্কে পরিচিত, আচরণগত উৎকর্ষ সাধন এবং জীবন ও সমাজে নৈতিক মানসিকতা সৃষ্টি ও চরিত্র গঠন।’ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য দুটি যথাক্রমে ‘প্রচলিত ব্যবস্থাকে গতিশীল করে যথাযথ মানসম্পন্ন ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাদান’ এবং ‘প্রত্যেক ধর্মে ধর্মীয় মৌল বিষয়সমূহের সঙ্গে নৈতিকতার ওপর জোর দেওয়া এবং ধর্ম শিক্ষা যাতে শুধু আনুষ্ঠানিক আচার পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চরিত্র গঠনে সহায়ক হয়, সেদিকে নজর দেওয়া।’
শিক্ষানীতিতে যথেষ্ট পরিমাণ ধর্ম নেই বলে হরতাল ডাকা হয়েছে, অথচ ইসলামধর্ম শিক্ষার কৌশল হিসেবে যে কয়টি প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তার প্রথম তিনটি হচ্ছে: ১. শিক্ষার্থীদের মনে আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও আখিরাতের প্রতি অটল ঈমান ও বিশ্বাস যাতে গড়ে ওঠে এবং তাদের শিক্ষা যেন আচারসর্বস্ব না হয়ে তাদের মধ্যে ইসলামের মর্মবাণীর যথাযথ উপলব্ধি ঘটায়, সেভাবে ইসলামধর্ম শিক্ষা দেওয়া হবে। ২. ইসলামধর্মের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত হওয়া, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও সংস্কার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের জন্য মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা হবে। ৩. কলেমা, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের তাৎপর্য বর্ণনাসহ ইসলামধর্মের বিভিন্ন দিক যথার্থভাবে পঠনপাঠনের ব্যবস্থা করা হবে।
শিক্ষানীতিতে খুঁটিনাটি থাকার কথা নয়, মূল নীতিটা বলে দেওয়া হয়, যে নীতিকে সামনে রেখে পুরো ব্যবস্থাকে সাজিয়ে নেওয়া হয়। যাঁরা হরতাল ডেকেছেন, তাঁদের কাছে আমার প্রশ্ন, যদি ওপরের তিনটি কৌশল অবলম্বন করা হয়, তাহলে আর কোন বিষয়টি বাকি থাকল? একটি শিক্ষানীতিতে এর চেয়ে বেশি কী দেওয়ার আছে?
অন্যান্য পাঠককে বলে দেওয়া যায়, ইসলামধর্ম শিক্ষার মতো হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম ও খ্রিষ্টধর্ম শিক্ষার কৌশলগুলোও এভাবে গুছিয়ে বলে দেওয়া আছে। শুধু তা-ই নয়, স্পষ্ট করে বলে দেওয়া আছে (পৃষ্ঠা ২১) ‘আদিবাসীসহ অন্যান্য সম্প্রদায় যারা দেশের প্রচলিত মূল চারটি ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের অনুসারী, তাদের জন্য নিজেদের ধর্মসহ নৈতিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।’
শুধু যে ধর্মের কথা বলা হয়েছে তা নয়, জাতীয় শিক্ষানীতিতে ধর্মের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার কথা বলা হয়েছে (পৃষ্ঠা ২১), যার প্রথম বাক্যটি হচ্ছে, ‘নৈতিকতার মৌলিক উৎস ধর্ম।’ ইউরোপের অনেক দেশের একটি বড় অংশের মানুষ কোনো আনুষ্ঠানিক ধর্মাবলম্বী না হয়েই বড় হচ্ছে এবং তার পরও তারা যথেষ্ট নীতিমান। কাজেই আধুনিক পৃথিবীর মানুষ এই বাক্যটি নিয়ে তর্কবিতর্ক করতে পারে কিন্তু তার পরও ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই বাক্যটিকে শিক্ষানীতিতে সংযোজন করে দেওয়া হয়েছে।
এখন পর্যন্ত যেটুকু লেখা হয়েছে, তার পুরোটুকু হচ্ছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ধর্মশিক্ষা। এ ছাড়া রয়েছে মাদ্রাসাশিক্ষা—তার জন্য পুরো একটা অধ্যায় রয়েছে (পৃষ্ঠা ১৮)। তার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হিসেবে যেটা লেখা হয়েছে, সেটা হুবহু আমি তুলে দিচ্ছি: ‘মাদ্রাসা শিক্ষায় ইসলাম ধর্মশিক্ষার সকল প্রকার সুযোগ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষার্থীরা যেন ইসলামের আদর্শ ও মর্মবাণী অনুধাবনের পাশাপাশি জীবন ধারণসংক্রান্ত জ্ঞানলাভ করতে পারে এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় পারদর্শী হয় ও তার উৎকর্ষ সাধনে ভূমিকা রাখতে পারে, তার জন্য যথার্থ জ্ঞানলাভের ব্যবস্থা করা হবে। সাধারণ বা ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তারা যেন সমানভাবে অংশ নিতে পারে, সে জন্য মাদ্রাসা ও শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিম্নরূপ: এরপর চারটি ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্য আর লক্ষ্যের কথা বলা হয়েছে। যার প্রথমটি হচ্ছে: ‘শিক্ষার্থীর মনে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর প্রতি অটল বিশ্বাস গড়ে তোলা এবং শান্তির ধর্ম ইসলামের প্রকৃত মর্মার্থ অনুধাবনে সমর্থ করে তোলা।’ আমরা যদি লেখাপড়ার দিক থেকে বিবেচনা করি, তাহলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে চতুর্থটি: ‘শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে অন্যান্য ধারার সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষায় সাধারণ আবশ্যিক বিষয়সমূহে অভিন্ন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করা।’ এ বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে আরও একবার বলা হয়েছে, ‘পরীক্ষা ও মূল্যায়ন অধ্যায়ে (২১ নম্বর অধ্যায়, পৃষ্ঠা ৫০)।’ সেখানে ৯ নম্বর কৌশল হিসেবে লেখা হয়েছে, ‘মাদ্রাসার ক্ষেত্রে জুনিয়র দাখিল, দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় সকল ধারার জন্য আবশ্যিক বিষয়সমূহে অন্যান্য ধারার সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্র অনুসরণ করা হবে।’
শিক্ষানীতির অন্য সবকিছু ছেড়ে দিয়ে শুধু এই একটি বিষয়ের কথাটা চিন্তা করলেই সবাই বুঝতে পারবে, এটি কত যুগান্তকারী একটা সিদ্ধান্ত। বিষয়টা একটু ব্যাখ্যা করলেই সবাই সেটা বুঝতে পারবে। সবাই জানে, দাখিল এবং এসএসসিকে সমপর্যায় ধরা হয়, ঠিক সে রকম আলিম এবং এইচএসসিকে সমপর্যায় ধরা হয়। শুধু তা-ই নয়, সাধারণ ধারার মতো মাদ্রাসাতেও বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার সুযোগ আছে। এই বিষয়গুলো জেনে অনেকের ধারণা হতে পারে, মাদ্রাসায় যারা লেখাপড়া করে, তাদের বুঝি স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করা ছেলেমেয়েদের মতোই বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি একেবারেই সত্যি নয়—আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এবারে প্রায় ১৫ হাজার ছেলেমেয়ে বিজ্ঞান বা ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের ভেতর থেকে মাদ্রাসার মাত্র একটি ছাত্র বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিটে মেধা তালিকায় আসতে পেরেছে। হাজার হাজার ছেলেমেয়ের ভেতর থেকে যদি মাত্র একটি ছাত্র ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে, তাহলে বুঝতে হবে, সেই লেখাপড়ার মাঝে খুব বড় গলদ রয়েছে।
মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীরা সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের বিষয়গুলোতে তুলনামূলকভাবে বেশি এসেছে কিন্তু ভর্তি হতে গিয়ে তারা আবিষ্কার করেছে, বেশির ভাগ বিভাগে তাদের ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা নেই। কারণ, তারা যে বিষয়গুলো পড়ে এসেছে, সেগুলোতে মার্কস পাওয়া যায় অনেক বেশি, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোতে ভর্তি হওয়ার জন্য সেগুলো কোনো কাজে আসে না।
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় মাদ্রাসাছাত্রদের সঙ্গে আসলে যে প্রতারণাটা করা হচ্ছে, সেটি এই শিক্ষানীতিতে প্রথমবার বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন থেকে তারা যখন দাখিল বা আলিম পাস করবে, তখন তাদের লেখাপড়ার মান হবে একজন এসএসসি বা এইচএসসি পাস করা শিক্ষার্থীর সমান। তার কারণ সবাই এখন একই পাঠ্যসূচিতে লেখাপড়া করবে, একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবে। এত দিন যারা ভেবে এসেছে, মাদ্রাসায় গিয়ে কম লেখাপড়া করে বেশি গ্রেড পেয়ে যাবে, তাদেরও ফাঁকি দেওয়ার দিন শেষ। এখন অন্য সবার মতো সমান লেখাপড়া করে তাদের গ্রেড তুলে আনতে হবে।
এ তো গেল দাখিল-আলিমের কথা, এর পরও স্নাতক আর স্নাতকোত্তর পর্যায়ে রয়েছে ফাজিল আর কামিল। তাদের ডিগ্রি কে দেবে? শিক্ষানীতিতে পরিষ্কার করে লেখা আছে, ‘উল্লিখিত কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য একটি অনুমোদনকারী (অ্যাফিলিয়েটিং) ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।’
কওমি মাদ্রাসাগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসতে চায় না, তার পরও শিক্ষানীতিতে তাদের উপেক্ষা করা হয়নি। কৌশলের একটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কওমি মাদ্রাসার ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশন করে উক্ত কমিশন কওমি প্রক্রিয়ায় ইসলাম শিক্ষার ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষাদান বিষয়ে সুপারিশ তৈরি করে সরকারের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করবে।’
এই হচ্ছে শিক্ষানীতিতে ধর্মসংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে একটা ধারণা। এ দেশের মানুষের কাছে আমার প্রশ্ন, একটি শিক্ষানীতিতে কি এর চেয়ে বেশি ধর্ম সম্পর্কে থাকা প্রয়োজন? যদিও শিক্ষানীতিতে ধর্ম নেই বলে যাঁরা দাবি করছেন, তাঁরা কি সরাসরি এটা নিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্কে যেতে প্রস্তুত আছেন? তাঁদের যদি একটা চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়, তাঁরা কি সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার সাহস দেখাতে পারবেন?

২.
যাঁরা হরতাল ডেকেছেন, মোটামুটিভাবে বোঝা যায় যে তাঁদের কাছে ধর্ম খুব একটা সংকীর্ণ বিষয়, ধর্ম পালন থেকে সেটা ব্যবহার করায় তাঁদের আগ্রহ বেশি। কিন্তু আমি খুব অবাক হয়ে লক্ষ করেছি, বিএনপি এই হরতালকে সমর্থন দিয়েছে। আমি যেহেতু শিক্ষানীতি কমিটির একজন সদস্য হিসেবে কাজ করেছিলাম, তাই খুব আগ্রহ নিয়ে এ বিষয়ে কে কী বলছে, সেটা লক্ষ করছিলাম। আমি বেশ আনন্দের সঙ্গে লক্ষ করেছিলাম, বিএনপিপন্থী শিক্ষাবিদেরাও এই শিক্ষানীতির বিপক্ষে গুরুতর কিছু বলেননি, তাঁরা সাধারণভাবে এটা সমর্থন করেছেন। কিন্তু ২৬ ডিসেম্বরে হরতালকে সমর্থন জানানোর পর আমি খানিকটা বিভ্রান্ত হয়ে গেছি। বিএনপির একাধিক সাবেক শিক্ষামন্ত্রী আছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আছেন, অন্যান্য শিক্ষানীতির সঙ্গে যুক্ত শিক্ষাবিদেরা আছেন, তাঁদের কাছে আমার অত্যন্ত সহজ একটা অনুরোধ—তাঁরা কি পরিষ্কার করে বলবেন, শিক্ষানীতির কোন অংশটির কারণে তাঁরা হরতালকে সমর্থন দিয়েছেন? যদি সে রকম কিছু খুঁজে না পান, তাহলে কি তাঁরা তাঁদের দলকে সেটা বোঝাবেন?

৩.
আসলে যাঁরা হরতাল ডেকেছেন এবং যাঁরা সেটাকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের আপত্তি অন্য জায়গায়। এই শিক্ষানীতিটি তৈরি করা হয়েছে আমাদের ছেলেমেয়েদের আধুনিক ছেলেমেয়ে হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। তাদের দেশপ্রেম শেখানোর কথা বলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলা হয়েছে, অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলা হয়েছে। মেয়েদের শিক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, ছেলেদের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে একই সুযোগ পেয়ে একই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। তাদের কারুকলা শেখানোর কথা বলা হয়েছে, সুকুমার বৃত্তি বিকাশের কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞানমনস্কতার কথা বলা হয়েছে, সৃজনশীলতার কথা বলা হয়েছে—এক কথায় আমরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, সেই বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য যে রকম একটি শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজন, সে রকম একটি শিক্ষাব্যবস্থার কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। যাঁরা হরতাল ডেকেছেন, তাঁরা আসলে সেই বাংলাদেশকে চান না। সত্যি কথা বলতে কি, তাঁরা এ বাংলাদেশটিকেই চাননি—যে পাকিস্তানকে পরাজিত করে আমরা এই বাংলাদেশ পেয়েছি, তাদের ঘাড়ে এখনো সেই পাকিস্তানি ভূত চেপে বসে আছে। এই বাংলাদেশকে তাঁরা আর পাকিস্তান রাষ্ট্র বানাতে পারবেন না কিন্তু চিন্তাভাবনায়, আদর্শে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো ১০০ বছর পিছিয়ে নেওয়াই হচ্ছে তাঁদের একমাত্র স্বপ্ন। শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে কথা বলে তাঁরা সেই কাজটিই করে যাচ্ছেন।
এ দেশে যতবার শিক্ষানীতি জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, দেশের প্রগতিশীল মানুষ ততবার তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। এই প্রথমবার একটি শিক্ষানীতি দেওয়া হয়েছে, যেটি প্রগতিশীল মানুষ সাদরে গ্রহণ করেছে। দেশের ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী যদি এর বিরোধিতা করে, তাহলে অন্য সবাইকে মাঠে নেমে এসে এর বাস্তবায়নের কথা বলতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধী মানুষগুলোকে বোঝাতে হবে, এই দেশটি আমাদের—তাদের নয়!
মুহম্মদ জাফর ইকবাল: লেখক। অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষ - ছাত্রলীগের জন্যও আইন নিজস্ব গতিতে চলতে হবে

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নাকের ডগায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আরেক দফা হানাহানির ঘটনা ঘটল এবং এর হোতা সরকারসমর্থক ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ। গত দুই বছরে এই ক্যাম্পাসেই তারা বেশ কয়েকবার হিংসাত্মক তৎপরতা চালিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনোটারই তদন্ত বা বিচার হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহিরাগত নয়, খাতাপত্রে নাম খোদাই করা ছাত্ররা যখন এসব ঘটনা ঘটিয়ে থাকে, তখন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বিকার। শিক্ষকেরা উচ্চবাচ্য করেন না মান-সম্মান খোয়ানোর ভয়ে। সে কারণে ছাদ থেকে কাউকে ফেলে দেওয়ার ঘটনাকেও মামুলি ব্যাপার বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই ভয়ংকর হয়ে পড়েছে যে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সব সময়ই আতঙ্কে কাটান।
প্রশ্ন হলো, ক্যাম্পাসে এই সন্ত্রাসী ঘটনাগুলো যারা ঘটায়, তাদের বিরুদ্ধে সরকার বা দল কী ব্যবস্থা নিয়েছে? সাময়িক বহিষ্কার বা কমিটি বিলুপ্ত করা কোনো শাস্তি নয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, এমন প্রমাণ নেই। কেউ আচানক ধরা পড়লেও প্রভাবশালীদের হুকুমে ছেড়ে দেওয়া হয়। কাগজে-কলমে ফৌজদারি আইন থাকবে, মন্ত্রী-নেতারা আইন নিজস্ব গতিতে চলবে বলে প্রচার চালাবেন, অথচ ক্যাম্পাসে হাঙ্গামা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এটি চলতে পারে না।
আইনের শাসনের কথা বলেই কিন্তু সরকার বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে থাকে। অথচ অভিযুক্ত শাসক দলের কেউ হলে এর বিপরীত আচরণই লক্ষ করা যায়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা অনেক সময় নিরীহ মানুষের ওপর হাত তোলেন, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নির্দয়ভাবে লাঠিপেটা করতেও তাঁদের বাধে না। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের কেউকেটারা মহা অন্যায় করলেও কিছু বলেন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই স্ববিরোধিতার কারণে পাবলিক বিদ্যাপীঠগুলোতে সরকারসমর্থক ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা অলিখিত দায়মুক্তি ভোগ করে চলেছেন। ইদানীং পাবলিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরাও দায়মুক্তির স্বাদ নিচ্ছেন, কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের জন্য তাঁদেরও জবাবদিহি করতে হচ্ছে না। কেননা তাঁরা সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট। এ কারণেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘটিত দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের কারণে কাউকে শাস্তি ভোগ করতে হয় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা রক্ষায় কমিটি আছে। এগুলো নিষ্ক্রিয় অথবা সরকারসমর্থক ছাত্রসংগঠনটির ভয়ে তটস্থ। ক্ষেত্রবিশেষে দুই পক্ষের অশুভ আঁতাতও থাকার অভিযোগ অসত্য নয়।
২১ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের দুই পক্ষ প্রকাশ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত হয়ে গেছে। এই গুরুতর অপরাধের জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া হয়নি, কেবল কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এরই নাম আইনের শাসনের সঙ্গে নিষ্ঠুর মশকরা। শাসক দল যদি শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের কালিমামোচন কিংবা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাহলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কথায় বলে, আপনি আচরি ধর্ম পরকে শেখাও। আইন নিজস্ব গতিতে চলার কাজটি সরকারসমর্থক ছাত্রসংগঠন দিয়েই শুরু হোক।

মিয়ানমারের পরমাণু স্থাপনা দেখতে চায় আইএইএ

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) মিয়ানমারের সন্দেহজনক পরমাণু স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সংস্থাটি এরই মধ্যে মিয়ানমার সরকারের কাছে ওই সব স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছে। আইএইএর একটি বিশ্বস্ত সূত্র গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রটি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছে, মিয়ানমারের সন্দেহজনক স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি চেয়ে দেশটির সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে আইএইএ। তবে এ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো জবাব পাওয়া গেছে কি না, তা জানাতে পারেনি সূত্রটি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গত সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে বলেছে, মিয়ানমারের কাছে এসব সন্দেহজনক স্থাপনার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছে আইএইএ। এসব স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি চেয়ে মিয়ানমারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
আইএইএর চিঠি পাঠানো-সংক্রান্ত এ খবর এমন সময়ে ফাঁস হলো, যখন মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য পরমাণু সম্পর্ক নিয়ে পশ্চিমারা উদ্বিগ্ন। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ করে আসছে, পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে গোপনে পরমাণু কর্মসূচি চালাচ্ছে মিয়ানমার সরকার।
সম্প্রতি আলোচিত ওয়েবসাইট উইকিলিকস প্রকাশিত একটি গোপন মার্কিন নথিতে দেখা গেছে, একজন বিদেশি ব্যবসায়ীর বরাত দিয়ে ওয়াশিংটনে পাঠানো একটি বার্তায় বলা হয়েছে, মিয়ানমারের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাহাড়ি এলাকায় উত্তর কোরিয়ার সহযোগিতায় পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চলছে। সেখানে উত্তর কোরিয়ার প্রায় ৩০০ জন কর্মী কাজ করছেন।

সাবেক গুপ্তচরের কারাদণ্ড

অর্থের বিনিময়ে উত্তর কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সামরিক তথ্য পাচারের দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক এক গুপ্তচরকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাজধানী সিউলের একটি আদালত গতকাল বৃহস্পতিবার এ সাজা দেন।
পার্ক নামে ওই গুপ্তচর ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৫ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক প্রশিক্ষণ ও অভিযানের গোপন দলিল পিয়ংইয়ংয়ের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তুলে দেন।

রোমে সুইস ও চিলির দূতাবাসে বোমা বিস্ফোরণ, আহত ২

ইতালির রাজধানী রোমের সুইস ও চিলির দূতাবাসে গতকাল বৃহস্পতিবার বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইজন আহত হয়েছেন। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, সুইস দূতাবাসে একটি পার্সেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দূতাবাসের এক কর্মী গুরুতর আহত হন। এর এক ঘণ্টা পর চিলির দূতাবাসে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একজন আহত হন। তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।
এর আগে গত মঙ্গলবার রোমের পাতাল ট্রেন থেকে বোমাসদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলেছে, ওই বস্তুটিতে কোনো ডেটোনেটর ছিল না। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এটি দিয়ে কোনো বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব ছিল না।
ইতালিতে সম্প্রতি সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় রোমে বেশ কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব সহিংসতায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

লা মঁদের পাঠক ভোটে সেরা ব্যক্তিত্ব অ্যাসাঞ্জ



ফ্রান্সের প্রভাবশালী দৈনিক লা মঁদের পাঠকদের ভোটে বছরের সেরা ব্যক্তিত্ব (ম্যান অব দ্য ইয়ার) নির্বাচিত হয়েছেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। আজ শুক্রবার পত্রিকাটি সাপ্তাহিক ক্রোড়পত্রের মাধ্যমে চলতি বছরের সেরা ব্যক্তিত্ব হিসেবে অ্যাসাঞ্জের নাম ঘোষণা করবে।
লা মঁদে সেরা ব্যক্তিত্ব নির্বাচনের জন্য নিজেদের ওয়েবসাইটে ভোটের আয়োজন করে। এতে অ্যাসাঞ্জ ৫৬ শতাংশ ভোট পেয়ে বছরের সেরা ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত হন। অ্যাসাঞ্জের পরের অবস্থানে আছেন চীনের ভিন্নমতাবলম্বী রাজনৈতিক কর্মী এবং চলতি বছর শান্তিতে নোবেলজয়ী লিউ সিয়াওবো। তিনি ২২ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। আর টাইম সাময়িকীর ২০১০ সালের ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ পেয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট।
টাইম সাময়িকীর ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও পাঠকের ভোটে শীর্ষ ছিলেন অ্যাসাঞ্জ। তবে তাঁকে বাদ দিয়ে জাকারবার্গকেই নির্বাচিত করা হয়।
প্রসঙ্গত, উইকিলিকসের নথি প্রকাশে সহযোগী বিশ্বের অন্যতম পাঁচটি পত্রিকার একটি হলো লা মঁদে।
এ দিকে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, উইকিলিকসের কাছে ২০০৬ সালের ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধ এবং জানুয়ারিতে দুবাইয়ে হামাস-নেতা মাহমুদ আল মাবহুহর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্পর্শকতার ও গোপন নথি রয়েছে। তাঁরা এগুলো প্রকাশ করবেন।
অ্যাসাঞ্জ বলেন, তাঁদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মোট তিন হাজার ৭০০ নথি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের গোপন কোনো চুক্তি নেই। ইসরায়েলের সঙ্গেও আমাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো যোগাযোগ নেই।’ গতকাল বৃহস্পতিবার অ্যাসাঞ্জের সাক্ষাৎকার প্রচার করে আল জাজিরা।
২০০৬ সালে লেবাননের শিয়া গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে মাসব্যাপী যুদ্ধ চলে। এতে লেবাননের এক হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। এদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। ইসরায়েলের পক্ষে ১৬০ জন নিহত হয়, যার বেশির ভাগই ইসরায়েলি সেনা।

আগামী ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন হু জিনতাও

চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও আগামী ১৯ জানুয়ারি সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন। এ সময় তিনি হোয়াইট হাউসে নৈশভোজে অংশ নেবেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি রবার্ট গিবস গত বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এক বিবৃতিতে গিবস জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে হুর এ সফর হোয়াইট হাউস ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। এ দুটি দেশই তাদের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর ও কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালাচ্ছে। উত্তর কোরিয়া ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে অবরোধ আরোপের মতো বিভিন্ন বিষয়ে একটি অভিন্ন ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে উভয় পক্ষ প্রচেষ্টা চালানো সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির সময় এ সফরে যাচ্ছেন হু।
গিবসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট হুর এ সফর দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সহযোগিতা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সম্প্রসারণের গুরুত্ব তুলে ধরবে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে অংশীদারি গড়ে তোলা অব্যাহত রাখতে ওবামা ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট হুকে স্বাগত জানানোর প্রতীক্ষায় রয়েছেন।
গত বছরের নভেম্বরে ওবামা বেইজিং সফর করেন।

আর্জেন্টিনার সাবেক স্বৈরশাসক ভিদেলার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আর্জেন্টিনার সাবেক স্বৈরশাসক জেনারেল হোর্হে রাফায়েল ভিদেলাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার করডোবা প্রদেশের একটি আদালত এ কারাদণ্ডাদেশ দেন। ভিদেলা ছাড়াও আরও ২৯ জন সামরিক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
১৯৭৬ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ভিদেলার শাসনামলে বামপন্থীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান পরিচালিত হয়, যা ‘নোংরা যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। ওই সময় ৩০ হাজার ব্যক্তি নিখোঁজ হন। সামরিক সরকারের মদদে ওই ব্যক্তিদের হত্যা করে বিমানে করে তাঁদের লাশ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ছিল। আদালতের বিচারক ভিদেলাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
৮৫ বছর বয়সী ভিদেলা ওই অপরাধের অভিযোগে বেশ কয়েক বছর কারাগারে ও গৃহবন্দী ছিলেন।
প্রসঙ্গত, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ১৯৮৫ সালেও ভিদেলাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ১৯৯০ সালে তৎকালীন সরকার-ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার আওতায় তিনি কারাদণ্ড থেকে রক্ষা পান। ২০০৭ সালে একটি আদালত সাজা মওকুফের বিষয়টি খারিজ করে দিয়ে ভিদেলাকে আবার বিচারের আওতায় আনেন।

বাগবোকে জোর করে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আইভরি কোস্টের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট লঅন্ত বাগবোকে সরিয়ে দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী গিউম সরো। গত ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধীদলীয় নেতা আলাসেন ওয়েতাহাকে জয়ী বলে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ ও অন্যান্য দেশ। কিন্তু বাগবো প্রেসিডেন্টের পদ না ছাড়তে অনড়। সেনারা তাঁর পক্ষে থাকার কথা ঘোষণা করেছে। বাগবোর এ সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বব্যাংক গত বুধবার সে দেশে ঋণ-সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে।
আইভরি কোস্টে ১৬ ডিসেম্বরের পর ১৭৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতিসংঘের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা।
গত বুধবার ফ্রান্সেস আই-টেলি টিভি চ্যানেলে দেওয়া ভাষণে বাগবোকে সরিয়ে দিতে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকান ইউনিয়নসহ অন্যদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী গিউম সরো। তিনি বলেন, ‘এটি স্পষ্ট যে এ সমস্যার সমাধান এখন একটিই—তা হচ্ছে, বল প্রয়োগ করা।’
গিউম সরো বলেন, ‘লাইবেরিয়া ও অ্যাঙ্গোলার ভাড়াটে সেনাদের গুলিতে আইভরি কোস্টে এরই মধ্যে ২০০ লোক নিহত হয়েছে।’ এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। তবে তাঁর এ দাবির ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গতকাল জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক উপপ্রধান কিয়াং হোয়া ক্যাং বলেন, গত ১৬ থেকে ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে সে দেশে ১৭৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। নির্যাতন ও অপদস্থ করার ঘটনা ঘটেছে ৯০টি। ৪৭১ জনকে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে ক্যাং এসব তথ্য জানান।
ক্যাং আরও বলেন, এটি দুর্ভাগ্যজনক যে সে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণকবর দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তদন্ত করে দেখা যাচ্ছে না। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের চলাচলের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করায় তা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রতিবেশী দেশ লাইবেরিয়া থেকে ভাড়াটে সেনা নিয়োগ করা নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এসব ঘটনা দেশটিকে আবার গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
আইভরি কোস্টের সেনারা ক্ষমতাসীন বাগবোর আসন রক্ষা করার ব্যাপারে এককাট্টা হয়েছে। গত বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভাষণ দেওয়ার সময় সেনা মুখপাত্র বাবরি গোহাউরো বলেন, ‘নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে প্রকৃত ভাই হিসেবে এককাট্টা থাকার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। প্রেসিডেন্টের পাশে থাকার ব্যাপারে আমরা আবারও নিশ্চয়তা দিচ্ছি।’
এদিকে বিশ্বব্যাংক গত বুধবার আইভরি কোস্টের ঋণ-সহায়তা বন্ধ করার কথা ঘোষণা করেছে। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট রবার্ট জোয়েলিক বলেন, এ ঋণ এরই মধ্যে স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি মালির প্রেসিডেন্ট আমান্দু তুমানি তুরের সঙ্গে কথা বলেছেন।

বিতর্ক করতে বিশেষ অধিবেশনের প্রস্তাব

ভারত সরকার সে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের একটি দুর্নীতি নিয়ে যুক্তিতর্ক করার জন্য পার্লামেন্টে একটি বিশেষ অধিবেশন করার প্রস্তাব দিয়েছে। বিরোধী দলগুলো এ দুর্নীতির বিষয়ে যৌথ তদন্তের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করার পর গত বুধবার রাতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি সরকারের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব দেন।
সম্প্রতি সরকারকে কোটি কোটি ডলারের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করে কয়েকটি কোম্পানিকে ২ জি বা দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোনের লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে পার্লামেন্টে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পার্লামেন্টের শীতকালীন অধিবেশন একরকম অচল ছিল। আয়কর বিভাগের তদন্তে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে লাইসেন্স দেওয়ার তথ্য উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের টেলিকম মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কয়েকজন আমলা ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়ে কয়েকটি কোম্পানিকে ২ জি ফোনের লাইসেন্স দেন। এতে সরকার প্রায় তিন হাজার ৭০ কোটি ডলারের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় হিসাব নিরীক্ষা বিভাগ যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে একটি ক্রস পার্টি পার্লামেন্টারি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি তা যাচাই-বাছাই করে দেখছে। তবে বিরোধী দলগুলো এ বিষয়ে একটি যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) তদন্ত দাবি করেছে।
প্রণব মুখার্জি বলেছেন, বিরোধীরা যদি এ বিষয়ে যুক্তিতর্ক করতে আগ্রহী হয় তাহলে তিনি আগামী বাজেট অধিবেশনের আগে একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রস্তাব দিতে রাজি আছেন। সে অধিবেশনে শুধু এ কেলেঙ্কারি নিয়ে যুক্তিতর্ক হবে।
বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, সরকার থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এলে তাঁরা তার জবাব দেবেন।

মার্কিন সিনেটে পারমাণবিক অস্ত্র হ্রাস চুক্তি অনুমোদন

পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে ক্রেমলিন ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত অস্ত্র হ্রাস চুক্তি (স্টার্ট) অনুমোদন করেছে মার্কিন সিনেট।
গত বুধবার এ বিষয়ে সিনেটে ভোটাভুটি হয়। চুক্তি অনুমোদন-সংক্রান্ত বিলটি ৭১-২৬ ভোটে পাস হয়। বিলটির পক্ষে ৫৬ জন ডেমোক্র্যাট ছাড়াও ১৩ জন রিপাবলিকান এবং দুজন স্বতন্ত্র সদস্য ভোট দেন।
তবে স্টার্ট চুক্তিটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। রাশিয়ার পার্লামেন্টে অনুমোদন পাওয়ার পরই তা কার্যকর হবে।
২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধের বিষয়টি ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। চুক্তিটি সিনেটে অনুমোদিত হওয়ায় এটিকে ওবামা প্রশাসনের জন্য বিশাল কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিনেটে চুক্তিটি অনুমোদিত হওয়ায় রাশিয়া অভিনন্দন জানিয়েছে। তবে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই লাভরভ বলেছেন, রাশিয়ার পার্লামেন্ট চুক্তি অনুমোদন করার আগে মার্কিন সিনেটে অনুমোদিত চুক্তির নথিপত্র খতিয়ে দেখা হবে। কেননা দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিটির প্রাথমিক খসড়ায় যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী সময় সংশোধনী এনেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন সিনেটে চুক্তি অনুমোদনের খবরে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এর ফলে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টা অগ্রগতি লাভ করবে।
সিনেটে চুক্তিটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ওবামা হোয়াইট হাউসে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘গত দুই দশকের মধ্যে এটাই সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি। এটা আমাদের নিরাপদ করবে এবং রাশিয়া ও আমাদের পারমাণবিক অস্ত্র হ্রাস করবে। পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে এই চুক্তি আমাদের নেতৃত্বকে সমৃদ্ধ করবে এবং তা বিশ্বে শান্তি বয়ে আনবে।’
‘ডোন্ট আস্ক, ডোন্ট টেল’ রহিতকরণ বিলে সই
মাকিন সেনাবাহিনীতে সমকামীদের নিষিদ্ধ করে ১৭ বছরের বহুল সমালোচিত বৈষম্যমূলক আইন ‘ডোন্ট আস্ক, ডোন্ট টেল’ রহিতকরণ বিলে সই করেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। এ উপলক্ষে বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিতর্কিত এ আইনটি বাতিল হয়ে যাওয়ায় দেশটির সেনাবাহিনীতে এখন থেকে আবারও কাজ করতে পারবেন সমকামীরা।
সেনাবাহিনীতে সমকামীদের অধিকার ফিরে আসায় উদারপন্থী মার্কিনিরা উল্লাস প্রকাশ করেছে। ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট সদস্য বার্নি ফ্র্যাঙ্ক বলেন, ‘আপনি যদি দেশের জন্য যুদ্ধ করতে পারেন, তাহলে আপনার সবকিছু করার অধিকার আছে।’

দায়িত্ব পালনে আন্তরিক নন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন তাঁর দায়িত্ব পালনে আন্তরিক নন। তাঁকে বিশ্বাস করা যায় না। এ ছাড়া সাধারণ মানুষের জীবনযাপন সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী জর্জ অসবর্নের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। পরিচয় গোপন করা সাংবাদিকদের কাছে ক্যামেরন ও অসবর্ন সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট সরকারের চারজন মন্ত্রী। তাঁরা জোটের শরিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা। গতকাল বৃহস্পতিবার ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা জানা যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবহনমন্ত্রী নরম্যান বেকার, পার্লামেন্টের উপনেতা ডেভিড হিথ, কেয়ার সার্ভিস মন্ত্রী পল বার্সটো এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী অ্যান্ড্রু স্টানেল সম্প্রতি ছদ্মবেশী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। গোপন টেপে ধারণ করা তাঁদের কথোপকথন হস্তগত হওয়ার দাবি করেছে ডেইলি টেলিগ্রাফ।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী অ্যান্ড্রু স্টানেল প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের আন্তরিকতা নিয়ে সরাসরি সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘পরিচালক হিসেবে তিনি (ক্যামেরন) নিঃসন্দেহে দক্ষ। তিনি টোরিদের কায়দায় তাঁর কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু তিনি আন্তরিক কি না—এ প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই।’
পল বার্সটো সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে তাঁকে সহজে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাই না আপনারা ডেভিড ক্যামেরনকে বিশ্বাস করুন।’
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পার্লামেন্টের উপনেতা ডেভিড হিথ সাংবাদিকদের বলেন, অর্থমন্ত্রী অসবর্ন একজন ধনকুবের। সাধারণ মানুষের কষ্টের জীবনযাপন সম্পর্কে তাঁর বিন্দুমাত্র ধারণা নেই।
ডিভিড হিথের বক্তব্যকে সমর্থন করে পরিবহনমন্ত্রী নরম্যান বেকার বলেন, তিনি অসবর্নকে খুব একটা পছন্দ করেন না। তবে তিনি বলেন, কনজারভেটিভ পার্টির অনেক নেতা আছেন, যাঁরা সত্যিকার অর্থে ভালো ও বিশ্বাসযোগ্য।
লিবারেল পার্টির সাবেক নেতা লর্ড ডেভিড বিবিসি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি মনে করেন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা-কর্মীরা এই ভেবে আনন্দ পাবেন যে সরকারে থাকা তাঁদের দলীয় সহকর্মীরা জোটের বৃহৎ অংশের সঙ্গে ভালোভাবেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
স্কটল্যান্ড-বিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল মুর, পেনশন মন্ত্রী স্টিভ ওয়েব ও বাণিজ্যমন্ত্রী অ্যাডওয়ার্ড ডেভি ইতিমধ্যে কনজারভেটিভ পার্টির তীব্র সমালোচনা করেছেন। শরিক দলের নেতাদের সমালোচনার শিকার হয়ে কনজারভেটিভ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ও উপপ্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ উভয়ই দৃশ্যত হতাশ হয়ে পড়েছেন।
ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দল দুটি পরস্পরের প্রতি কাদা ছোড়াছুড়ি করায় প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ড বর্তমান সরকারকে ‘কপট মিত্র’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

সপ্তাহের শেষ দিন বাজারে দরপতন

সর্বোচ্চ দরপতনের ধাক্কা সামলে টানা তিন দিন বাড়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের শেয়ারবাজারের মূল্যসূচক সামান্য কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম, আর্থিক লেনদেন ও বাজার মূলধনের পরিমাণ।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৬৩ পয়েন্ট কমে আট হাজার ১০৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ২০৩ পয়েন্ট কমে হয়েছে ২৩ হাজার ২২৯ পয়েন্ট।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, রোববার ৫৫১ পয়েন্ট সূচক পতনের দিন যাঁরা কম দামে শেয়ার কিনেছিলেন, গতকাল তাঁদের অনেকেই মুনাফা তুলে নিতে শেয়ার বিক্রি করেছেন। ফলে বাজারে কিছুটা হলেও শেয়ার বিক্রির চাপ ছিল। কিন্তু বাজারে তারল্য ঘাটতি থাকায় ক্রয়-প্রবণতা ছিল কম। অন্যদিকে, বছর সমাপ্তির কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও নতুন করে শেয়ার ক্রয়ে যাননি।
এ ছাড়া শেয়ারবাজারে নিয়মবহির্ভূত বিনিয়োগের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর মনোভাবের ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো শেয়ারে বিনিয়োগের জন্য ঋণ সরবরাহে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করছে। এ কারণে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ঋণসুবিধা (১:১ দশমিক ৫) বাড়ালেও মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো তাদের গ্রাহকদের তা দিতে পারছে না। কোনো কোনো মার্চেন্ট ব্যাংক এসইসির সিদ্ধান্তের পর ঋণসুবিধা কিছুটা বাড়িয়েছিল। কিন্তু মূল প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নগদ অর্থের সরবরাহ না পেয়ে পরে তা কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।
একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী প্রথম আলোকে জানান, মধ্য জানুয়ারির আগে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী ঋণ দেওয়া কঠিন হবে। তাঁদের ধারণা, ওই সময়ে তারল্য সমস্যা কিছুটা হলেও কাটবে। তখন হয়তো গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী ঋণ দেওয়া সম্ভব হবে।
বাজার পরিস্থিতি: ডিএসইতে গতকাল দরপতনের মধ্য দিয়েই লেনদেন শুরু হয়। তবে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৬০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এ সময় শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়তে শুরু করলে সূচক নিম্নগামী হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত সূচক পতনের এ ধারা অব্যাহত ছিল। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া মোট ২৪৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম কমেছে ১৭২টির, বেড়েছে ৬৮টির। আর অপরিবর্তিত ছিল পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। ডিএসইতে গতকাল মোট এক হাজার ৩৪৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ২৭৮ কোটি টাকা কম।
সিএসইতে ১৮৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৩৭টির, কমেছে ১৪৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল তিন কোম্পানির শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল মোট লেনদেন হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা।

ছয় ব্যাংককে তহবিল ব্যবস্থাপনা ১৫ দিনে ঠিক করতে হবে

আরও ছয়টি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের ডেকে এনে তাঁদের তহবিল ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে তহবিল ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কাটাতে।
সাম্প্রতিক মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা ও উচ্চসুদে (সর্বোচ্চ ১৯০ শতাংশ) বাজারে অর্থ লেনদেন (কলমানি) নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর এই নির্দেশ দিয়েছে। এই ব্যাংকগুলো হলো: ইস্টার্ন ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউসিবিএল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নজরুল হুদা গতকাল বৃহস্পতিবার ছয়টি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীসহ তহবিল ব্যবস্থাপকদের তলব করে এনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোভাব জানিয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এস কে সুর চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুর চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ইতিমধ্যে মুদ্রাবাজারে কলমানির সুদের হার অনেকটা সহনীয় হওয়াসহ অস্থিরতা কেটে গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আগামী দু-এক লেনদেন দিবসে বাজার আরও স্থিতিশীল হয়ে আসবে বলে মনে করছি আমরা।’
সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলোর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে নজরুল হুদা বলেন, ইস্টার্ন ও ন্যাশনাল ব্যাংক মুদ্রাবাজার থেকে অর্থ ধার করে আবার পরে উচ্চসুদে ধার দিয়েছে। আবার একটা ব্যাংকের অর্থ প্রয়োজন না থাকলেও ব্যাংকটি ধার করে আবার খাটিয়েছে।
অন্যদিকে বাকি ব্যাংকগুলোর আমানত-ঋণ অনুপাত যা থাকা উচিত, তার চেয়ে বেশি। ব্যাংকগুলো অস্বাভাবিক এবং ঘোষিত সুদের চেয়ে বেশি সুদ দিয়ে আমানত সংগ্রহ করেছে।
ডেপুটি গভর্নর স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব অব্যবস্থা ঠিক করা না হলে ব্যাংকগুলোর নতুন শাখা ও বৈদেশিক বিনিময় শাখার নিবন্ধন দেওয়া হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দিক থেকে ঋণ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বিদেশে এক্সচেঞ্জ হাউস খুলতে দেওয়া হবে না এবং আরও বেশি কঠোর হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে আগাম সতর্কব্যবস্থার (আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম) আওতায় নিয়ে আসবে।
এদিকে গতকাল মুদ্রাবাজারে কলমানির সুদের হার নেমে ২০-২৫ শতাংশের মধ্যে চলে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, দু-এক দিনের মধ্যে এই হার ২০-এর নিচে চলে আসবে।
এর আগে গত বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক আরও দুটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের তলব করেছিল। ব্যাংক দুটি হলো সিটি ব্যাংক ও এবি ব্যাংক। তাঁদেরও একই ধরনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

ইন্ডিয়া ট্রেড ফেয়ারে যোগ দিচ্ছেন বাণিজ্যমন্ত্রী

কলকাতার ২৪তম ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্ডিয়া ট্রেড ফেয়ারে যোগ দিতে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান ঢাকা ত্যাগ করেছেন। আজ শুক্রবার থেকে এ মেলা শুরু হচ্ছে এবং চলবে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত।
বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল ২৫ ডিসেম্বর ফেয়ার গ্রাউন্ড অডিটরিয়ামে ‘ইন্দো-সার্ক বাণিজ্য জোরদারকরণ’ শীর্ষক আলোচনায় অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রীর প্রতিনিধিদলে তিন সরকারি কর্মকর্তা ও আটজন ব্যবসায়ী রয়েছেন।
কলকাতা সফর শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে নতুন উচ্চফলনশীল পেঁয়াজ উদ্ভাবিত

বাংলাদেশ মসলা গবেষণা কেন্দ্র বারি-৫ নামের এক উচ্চফলনশীল পেঁয়াজের জাত উদ্ভাবন করেছে। এ উচ্চফলনশীল পেঁয়াজ সাধারণ জাতের পেঁয়াজের চেয়ে তিন গুণ বেশি উৎপাদনক্ষম। উচ্চফলনশীল জাতের পেঁয়াজ উদ্ভাবনের ধারাবাহিকতায় মসলা গবেষণা কেন্দ্র এ নতুন জাতের পেঁয়াজ উত্পাদন করেছে বলে জানা গেছে।
মাগুরা আঞ্চলিক মসলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, দেশি জাতের ফরিদপুর ভাটি, জিটকা, কৈলাশনগর ও তাহেরপুরী পেঁয়াজের তুলনায় বারি-৫ পেঁয়াজ তিন গুণ বেশি উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন। দেশি পেঁয়াজ যেখানে হেক্টরপ্রতি উৎপাদিত হয় সাত থেকে আট টন। সেখানে এ জাতের পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় ১৮ থেকে ২২ টন।
এ জাতের পেঁয়াজ আকারে বড় হয়। এক কেজিতে এই জাতের পেঁয়াজ পাওয়া যায় ৮-১০টি। তা ছাড়া এ পেঁয়াজের স্বাদ, রং ও গন্ধ অন্যান্য পেঁয়াজের তুলনায় আকর্ষণীয়। ইতিমধ্যে মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এর চাষ শুরু হয়েছে।

অপেক্ষায় সবুজ উইকেট

অবশেষে সাত দিন পর গত পরশু হেসেছে ডারবানের আকাশ, দেখা পাওয়া গেছে সূয্যিমামার। কিন্তু হাসি নেই মহেন্দ্র সিং ধোনির মুখে। কিংসমিডের উইকেটকে যে মাঠের সবুজ গালিচা থেকে আলাদা করাই দায়! চিফ কিউরেটর উইলসন গবিসে অবশ্য বলছেন, উইকেটের ঘাস কিছুটা ছেঁটে ফেলা হবে। তার পরও যেটুকু থাকবে, ব্যাটসম্যানদের নাক বরাবর বল তোলার জন্য যথেষ্ট। উইকেটের সঙ্গে ধোনির আরেক দুশ্চিন্তার নাম জহির খান। এই উইকেটকে কাজে লাগাতে পারেন যিনি, সেই চোট নিয়ে মাঠের বাইরে।
সেঞ্চুরিয়নের যে উইকেটে আগুন ঝরিয়েছেন স্টেইন-মরকেলরা, সেই উইকেটেই ইশান্ত-শ্রীশান্ত-উনাদকাটরা বেদম প্রহারের শিকার। ম্যাচ শেষে বোলিং নিয়ে অসন্তুষ্টি লুকাননি ধোনি। জহিরের সঙ্গে অন্যদের পার্থক্যটাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন, ‘এমন নয় যে জহির যখনই খেলতে নামে, তখনই উইকেট পায়। কিন্তু ওর অভিজ্ঞতা এমন যে প্রথম পরিকল্পনা কাজে না লাগলে দ্বিতীয় পরিকল্পনা ওর সব সময়ই প্রস্তুত থাকে।’ অভিজ্ঞ পেসারকে ডারবানে পাওয়া যাবে কি না, নিশ্চিত নয় এখনো। তবে সিরিজে ফিরে আসায় ধোনিকে ভরসা দিচ্ছে তাঁদের সাম্প্রতিক ইতিহাস, ‘শুধু ভারতে নয়, দেশের বাইরেও গত কয়েক বছরে অনেকবার আমরা প্রথম টেস্টে ভালো করিনি। কিন্তু পরের দিকে আমরা দারুণভাবে ফিরে এসেছি। এই একটা গুণ আমাদের আছে। আশা করি, এবারও পরের দুই টেস্টে ভালো করব।’
ধোনির মতো মুখ বেজার গবিসেরও। কিংসমিডের কিউরেটরের দাবি, দুদলকেই ‘ন্যায্য’ একটা উইকেট উপহার দিতে চান তিনি। কিন্তু তাঁর ইচ্ছা পূরণে বড় বাধা আবহাওয়া। বুধবার সূর্য উঠেছে। কিন্তু আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, বৃহস্পতি-শুক্রবার তো বটেই, বৃষ্টি হতে পারে টেস্টের প্রথম দিনেই। আর যথেষ্ট রোদ না পেলে কিংসমিডের উইকেটও শুরুতে ভয়ংকর হতে পারে সেঞ্চুরিয়নের মতো। সে ক্ষেত্রে আবার ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হবে টস, বাড়তি সুবিধা পাবে শুরুতে বোলিং করা দল।
ঐতিহ্যগতভাবেই কিংসমিডকে মনে করা হয় দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে দ্রুতগতির ও বাউন্সি উইকেট। অনেকেই তাই নিশ্চিত, এবার পেসাররাই গড়ে দেবে ম্যাচের ভাগ্য। তবে সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকা স্পিনার পল অ্যাডামসের ধারণা, এই উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন স্পিনাররাও, ‘ডারবানের উইকেটের ঘাস অন্য উইকেটগুলোর চেয়ে একটু বেশি মোটা। উইকেটে ঘাস রেখে দেওয়া হলে ঘাস শুকানোর পর স্পিনাররা বড় ভূমিকা রাখবে। ম্যাচ যতই এগোবে, স্পিনাররা টার্ন ও বাউন্স পেতে শুরু করবে।’
উইকেট থেকে পাওয়া বাউন্সটাই আবার হরভজন সিংয়ের মূল শক্তি। ধোনি কি তাহলে হাসার মতো কিছু একটা পাবেন!

হতাশ রুবচিচ আরও খেলোয়াড় খুঁজছেন

চার দিন আগে বিকেএসপিতে মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র। কাল মোহামেডানের কাছে অনুশীলন ম্যাচে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দল। কমলাপুর স্টেডিয়ামে বিদেশি খেলোয়াড়বিহীন মোহামেডানের দুটি গোলই করেছেন রিপন খান।
আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি কুয়েতে এবং ৯ মার্চ ঢাকায় কুয়েতের বিপক্ষে প্রাক-অলিম্পিকের দুটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। তারই প্রস্তুতি হিসেবে কোচ রবার্ট রুবচিচ শিষ্যদের যত পারেন অনুশীলন ম্যাচ খেলিয়ে দেখতে চান।
কাল ম্যাচের পর তাঁকে স্পষ্টতই হতাশ দেখাল। ক্রোয়েশিয়ান কোচ যেভাবে চাইছেন সেভাবে যে হচ্ছে না। প্রাথমিক দলে ২৬ জন খেলোয়াড় ডেকে ছয়জনকেই পাননি। থাইল্যান্ড সফরে থাকায় আবাহনীর খেলোয়াড়দের পাননি। শেখ জামাল ধানমন্ডি তাদের দুজন খেলোয়াড় ছাড়েনি। ২০ জনকে নিয়েই কাল শেষ করেছেন চার দিনের ক্যাম্প।
মজার ব্যাপার, শেখ জামাল খেলোয়াড় ছাড়ল না, ভবিষ্যতে অন্য দল খেলোয়াড় না ছাড়লে কোচ তো আর খেলোয়াড়ই পাবেন না! বাফুফের এ ব্যাপারে শক্তিশালী কোনো ভূমিকা এখনো দেখা গেল না।
‘আরও খেলোয়াড় খুঁজছি আমি। উইং ব্যাক, মিডফিল্ডার এবং স্ট্রাইকার দরকার আমার’—বললেন রুবচিচ। এও জানালেন, শেখ জামালের দুই খেলোয়াড় মিন্টু শেখ ও তৌহিদুল আলমকে ক্যাম্পে আর নেবেন না। তৌহিদুল দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হওয়ায় বিকল্প খুঁজতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে পছন্দনীয় খেলোয়াড়ের অভাবে অলিম্পিক প্রাক-বাছাই নিয়ে ভালোই বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশ কোচ।

কুমিল্লাতেও বিশ্বকাপের ঢেউ

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জাগরণ-যাত্রার ঢেউ এসে পড়ল কুমিল্লাতেও। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের রোড শো উপলক্ষে শহরে লাল সবুজ পতাকা নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করেন কাল কুমিল্লার ক্রিকেটানুরাগীরা। সকাল ১০টায় কুমিল্লা স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে এসে শেষ হয় শোভাযাত্রা। সেই শেষ থেকেই শুরু, বেলুন উড়িয়ে রোড শো উদ্বোধন করেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রেজাউল আহসান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কুমিল্লার জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ জামিল বাবু। ‘ক্যাচ বাংলাদেশ ক্যাচ’ জয়ধ্বনি তোলেন ক্রিকেটানুরাগীরা। সুন্দরবনকে ভোট প্রদান পর্বের পর চলে সংগীতের আসরও। রোড শো গতকালই ফেনীর উদ্দেশে রওনা হয়ে যায়।

খেলা রেখে কনসার্ট

মাঠ সংকটের কারণে রাজশাহীতে বিভিন্ন লিগের ম্যাচ নিয়মিত হতে পারে না। কিন্তু স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক জেলা ক্রীড়া সংস্থা খেলা বন্ধ রেখে রাজশাহীর জেলা স্টেডিয়াম কনসার্টের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে। দুই দিনের বরাদ্দ বাবদ ৭৫ হাজার টাকা পাচ্ছে জেলা ক্রীড়া সংস্থা। আগামীকাল কনসার্ট। অথচ রাজশাহী প্রিমিয়ার ও প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগ চালুর পর মাঠ সংকটের কারণে পাঁচবার খেলা বন্ধ রাখতে হয়েছে আয়োজক সংস্থা আরডিএফএকে। শুধু ফুটবলই নয়, প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগও মাঠ সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে। তাই খেলা বন্ধ রেখে কনসার্টের জন্য মাঠ বরাদ্দ দেওয়াটাকে মোটেই ভালোভাবে নেয়নি স্থানীয় ক্রীড়ামোদীরা।

কাবাডিতে নতুন নামে শুরু চ্যাম্পিয়নদের

২৯তম জাতীয় কাবাডি শুরু হয়েছে কাল। ছয়টি সার্ভিসেস দলের চারটিই নেমেছে প্রথম দিনে। সকালে ঢাকার কাবাডি কোর্টে ফায়ার সার্ভিসকে ৪৫-১৬ পয়েন্টে হারিয়েছে ১৯৯৫ থেকে জাতীয় কাবাডিতে টানা চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ রাইফেলস। এই নামটি অবশ্য কাল থেকে হয়ে গেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। বিমানবাহিনীর বিপক্ষে জিতেছে সেনাবাহিনী।
আজ থেকে দেশের ছয়টি অঞ্চলে ২৭টি জেলা দল খেলছে। গতবার কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত জাতীয় কাবাডিতে খেলেছে ১৭টি জেলা। কাবাডি ফেডারেশনের আর্থিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। তবু আগের মতোই জেলাগুলোকে নিয়ে নকআউট প্রতিযোগিতা হচ্ছে! সেই একই জায়গায় জাতীয় কাবাডি রয়ে গেছে। ওদিকে কাবাডির মান পৌঁছেছে তলানিতে। সদ্য শেষ হওয়া এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ কাবাডি দলের পদকহীন থাকা তারই প্রমাণ।
কাল সংবাদ সম্মেলনে এসব নিয়ে প্রশ্ন শুনে কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুনীর হোসেন নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে হাজির করেছেন নানা অজুহাত এবং যুক্তি। তাঁর পাশে বসা জাতীয় কাবাডির স্পনসর স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিটপি দাস চৌধুরী বরং তাকাতে চাইলেন সামনের দিকে। কাবাডির এগিয়ে চলার পথে তিনি দিলেন আরও সহযোগিতার আশ্বাস।

যেতেই হলো বেনিতেজকে

ইন্টার মিলানে রাফায়েল বেনিতেজ এখন অতীতের একটি নাম। ছয় মাস পেরোনোর আগেই এই স্প্যানিয়ার্ড কোচকে বরখাস্ত করল ইন্টার। দুই পক্ষের পারস্পরিক সমঝোতার পরই শেষ হলো বেনিতেজের ইন্টার অধ্যায়। নতুন কোচ হিসেবে শোনা যাচ্ছে লিওনার্দোর নাম।
বেনিতেজ বরখাস্ত হচ্ছেন, এমন খবর অবশ্য আরও দিন কয়েক আগে চাউর হয়ে গিয়েছিল। ইতালিরই ক্রীড়া দৈনিক গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ত প্রথম দেয় খবরটি। লিভারপুলে ছুটি কাটাতে যাওয়া বেনিতেজ অবশ্য বলেছিলেন, সবকিছুই গুজব। কিন্তু ‘গুজব’টাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো। আপাতদৃষ্টিতে বেনিতেজকে চাকরি হারাতে হয়েছে ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের পর তাঁর ক্ষোভ উগরে দেওয়ায়।
এ ঘটনা না ঘটলেও লিভারপুলের সাবেক কোচের বরখাস্ত হওয়াটা অনিবার্য ছিল। জেনেশুনে তিনি তো বিষের পেয়ালাই হাতে নিয়েছিলেন! কারণ, গত মৌসুমে হোসে মরিনহো ইন্টারকে যে জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন, এর সঙ্গে মোটেই তাল মেলাতে পারছিলেন না। তাল মেলানোটা কঠিনও বৈকি!

বিদায় বলেই দিচ্ছিলেন হ্যারিস

রিকি পন্টিং শুনে বলতে পারেন, ‘ভাগ্যিস হ্যারির সুমতি হয়েছিল!’ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ-স্বপ্ন এখনো বাঁচিয়ে রাখায় বড় ভূমিকা আছে হ্যারির, মানে রায়ান হ্যারিসের। কিন্তু পার্থে ৯ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের অন্যতম নায়ক এত দিনে হয়তো চলে যেতেন সাবেকদের দলে! মাত্র মাস দেড়েক আগেই যে বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটকে বিদায় প্রায় বলেই ফেলেছিলেন ৩১ বছর বয়সী পেসার!
জোঁকের মতো লেগে থাকা হাঁটুর চোট থেকে মুক্তি পেতে গত মৌসুম শেষে হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন হ্যারিস। মাঠে ফেরার পর শুরু হলো আরেক যন্ত্রণা—প্রচণ্ড ব্যথা। নভেম্বরের শুরুতে কুইন্সল্যান্ডের হয়ে তাসমানিয়ার বিপক্ষে শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে, প্রায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিলেন। হেরাল্ড সানকে সে সময়ের কথা বলেছেন হ্যারিস, ‘ছয় সপ্তাহ আগেও ভাবতে পারিনি আজ এ অবস্থায় থাকব। তাসমানিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটার সময় আমি ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম, অ্যালেক্সও (কন্টুরি, জাতীয় দলের ফিজিও) চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল। মনে আছে, চার দিনের ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়েই ভাবছিলাম। এখন ভেবে ভালো লাগছে যে সিদ্ধান্তটি নিইনি।’
হ্যারিস এখন খুশি, খুশি অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটমহলও। ইংলিশরা হয়তো শুনে বলবে, ‘কী হতো অবসরটা নিয়ে ফেললে!’

আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে পরশু স্বাগতিক জাহাঙ্গীরনগর ১-০ গোলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ৫-১ গোলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়েছে।

পন্টিংয়ের টানা ৭৩

আঙুলে চিড় নিয়ে খেলা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। ব্যথা যতই থাকুক, আমি নিশ্চিত মেলবোর্নে রিকি খেলবেই’—পার্থ টেস্টের শেষ দিনে চোটের কারণে রিকি পন্টিং ফিল্ডিংয়ে যখন আর নামলেন না, বলেছিলেন মাইকেল স্ল্যাটার। সাবেক অস্ট্রেলীয় ওপেনারের কথাই দেখা যাচ্ছে ঠিক। গত কয়েক দিনের গুঞ্জন, শঙ্কা সবকিছুকে থামিয়ে দিয়ে কাল ফিল্ডিং অনুশীলন করেছেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। আজ নেটে ব্যাটিংও করবেন। অর্থাৎ, ২০০৪ সালের অক্টোবরে ভারত সফরের পর থেকে টানা টেস্ট খেলার ধারায় আপাতত ছেদ পড়ছে না পন্টিংয়ের। বক্সিং ডে টেস্টটা হবে তাঁর খেলা টানা ৭৩তম টেস্ট।
বাঁহাতের কনিষ্ঠায় চিড়, ফিল্ডিংয়ে তাই বাঁহাতের ব্যবহার যতটা সম্ভব এড়িয়ে গেছেন। অনুশীলন শেষে এক সামাজিক অনুষ্ঠানে পন্টিং প্রকাশ করলেন খেলার জন্য নিজের ব্যাকুলতা, ‘আঙুলের অবস্থা এখন বেশ ভালো। দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে আজ কিছু ফিল্ডিং অনুশীলন করলাম। আজ ব্যাটিং করিনি, কিন্তু কাল ব্যাট হাতে নেটে ঝাঁপিয়ে পড়ব। পার্থ টেস্টের পর যেমন বলেছিলাম, মেলবোর্নে খেলার ভালো সম্ভাবনা আছে আমার। আশা করি, ব্যথা ছাড়াই খেলতে পারব।’
ব্যাট হাতে সময়টা বিশেষ ভালো যাচ্ছে না পন্টিংয়ের। সিরিজের তিন টেস্টে ১৬.৬০ গড়ে রান ৮৩, এর মধ্যে ব্রিসবেনে এক ইনিংসেই করেছিলেন অপরাজিত ৫১। সেঞ্চুরিহীন টানা ৯ টেস্ট। কিন্তু এই পন্টিংকেও অস্ট্রেলিয়ার জন্য ভীষণ প্রয়োজন মনে করেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান ব্র্যাড হাডিন, ‘সে আমাদের নেতা এবং আমাদের প্রেরণার উৎস। অস্ট্রেলিয়ার জন্য অনেক দিন ধরেই সে অসাধারণ এক নেতা, বিশেষ করে, এই দলটার জন্য। অ্যাডিলেড থেকে পার্থ টেস্টে আমাদের ঘুরে দাঁড়ানো দেখলেই বোঝা যাবে দলে তার কতটা প্রভাব। ওর খেলাটা এ জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
পন্টিং হয়তো খেলছেনই, ‘ছয় বছর বয়স থেকেই অভিষেকের জন্য প্রস্তুত’ হয়ে থাকা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্যাটসম্যান উসমান খাজার অপেক্ষা তাই দীর্ঘ হচ্ছে আরও। অস্ট্রেলিয়ার একাদশ নিয়ে প্রশ্ন এখন একটিই—চার পেসার, নাকি তিন পেসার-এক স্পিনার? ইংলিশ মিডিয়ায় গত কয়েক দিনে খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘পিচ-ষড়যন্ত্র’। পার্থে গতি ও বাউন্সে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের নাস্তানাবুদ হওয়া দেখে মেলবোর্নেও প্রথাগত উইকেট বাদ দিয়ে নাকি পার্থের মতো উইকেট বানানো হচ্ছে। এসব খবরে আবার হেসেই খুন ক্যামেরন হজকিনস। মেলবোর্নের প্রধান কিউরেটর সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, প্রথাগত ব্যাটিং উইকেটই দেখা যাবে মেলবোর্নে। পিটার সিডলের জায়গায় তাই অভিষেক হয়ে যেতে পারে বাঁহাতি স্পিনার মাইকেল বিয়ারের। শেন ওয়ার্নও নির্বাচকদের পরামর্শ দিয়েছেন একজন স্পিনার খেলাতে। মেলবোর্নের উইকেট যাঁর হাতের তালুর মতোই চেনা, সেই ওয়ার্নের পরামর্শ নিশ্চয়ই উপেক্ষা করবে না অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যানেজমেন্ট!

সেরেনা-ক্লাইস্টার্সের মাঝে ওজনিয়াকি

যা করার করেছেন বছরের প্রথমার্ধে। জানুয়ারি থেকে জুন। জুলাই থেকেই তিনি কোর্টের বাইরে। প্রথম ছয় মাসে খুব একটা টুর্নামেন্টে খেলেছেন এমনও নয়। তার পরও মেয়েদের টেনিসের এ বছরে আধিপত্য ছিল সেরেনা উইলিয়ামসের।
বছরটাকে আসলে সমান দুই ভাগে ভাগ করছেন মেয়েদের কোর্টের প্রবীণ ও নবীন দুই খেলোয়াড়। তাতে ৩০ বছর বয়সী সেরেনা থাকছেন, থাকছেন ২০ বছর বয়সী ক্যারোলিন ওজনিয়াকিও। গত নভেম্বরে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছেন এই ডেনিশ। ওজনিয়াকি অবশ্য গ্র্যান্ড স্লাম জিততে পারেননি এখনো। এ বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন আর উইম্বলডনের ফাইনালে উঠেছিলেন। বছরজুড়ে ধারাবাহিকতার পুরস্কার এই র‌্যাঙ্কিং শ্রেষ্ঠত্ব।
সেরেনা বছরের শেষ ছয় মাস কোর্টে থাকলে কী হতো, বলা মুশকিল। বছরের শুরুটা করেছিলেন ‘কামব্যাক কুইন’ জাস্টিন হেনিনকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে। দুই বছরের অবসর ভেঙে জানুয়ারিতে টেনিসে ফেরেন হেনিন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালেও ভালোই লড়েছিলেন (৬-৪, ৩-৬, ৬-২)। কিন্তু সেরেনার কাছে শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেননি।
খেলাটার প্রতি সেরেনার আত্মনিবেদন অবশ্য বরাবরের মতোই ছিল ছাড়া ছাড়া। অভিনয়, টিভি নাটক, ফ্যাশন থেকে শুরু করে আফ্রিকায় দাতব্য কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা—সেরেনা টেনিসের বাইরের জগৎটাও উপভোগ করতে ভালোবাসেন। ফ্রেঞ্চ ওপেনের আগে তাই মাত্র দুটো টুর্নামেন্টে খেলেছেন। লালদুর্গে থেমে গেছেন কোয়ার্টার ফাইনালে। ৩০ বছর বয়সে প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জিতে ফ্রেঞ্চ ওপেনে চমক দেখান ইতালির ফ্রান্সেসকা শিয়াভোনে।
এর পরই শুরু হয়ে যায় সেরেনা তাঁর সেরাটা পেছনে ফেলে এসেছেন কি না, এমন আলোচনা। সেই আলোচনা থামিয়ে দিয়ে সেরেনা জিতে নেন উইম্বলডন। নামের পাশে যোগ করেন এককের ১৩ নম্বর গ্র্যান্ড স্লাম। পুরো টুর্নামেন্টে জিতেছেন সরাসরি সেটে। ফাইনালে রাশিয়ার ভেরা জনারেভা একদম দাঁড়াতেই পারেননি (৬-৩, ৬-২)।
উইম্বলডনে শিরোপা জয়ের আনন্দ বেশি দিন উপভোগ করা হয়নি। মাত্র কদিন পর মিউনিখের এক রেস্তোরাঁয় ভাঙা কাচের টুকরো ঢুকে যায় তাঁর পায়ের পাতায়। সেরেনা এর পর থেকেই কোর্টের বাইরে। খেলতে পারবেন না জানুয়ারির অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও।
সেরেনার অনুপস্থিতিতে আলো ছড়ান কিম ক্লাইস্টার্স। আগের বছর অবসর থেকে ফিরে ক্লাইস্টার্স জিতে নিয়েছিলেন ইউএস ওপেন। এ বছরও শিরোপা ধরে রেখেছেন বেলজিয়ান ‘টেনিস মম’। এখানেও ফাইনালের স্নায়ুচাপ ভুগিয়েছে ভেরা জনারেভাকে। উইম্বলডন ফাইনালের চেয়েও বাজে খেলেছেন ইউএস ওপেনে, হেরেছেন ৬-২, ৬-১ গেমে। মাত্র ৫৯ মিনিটের ফাইনালটি ছিল ইউএস ওপেনের ইতিহাসে সংক্ষিপ্ততম।
বছরের সমাপক টুর্নামেন্ট ডব্লুটিএ চ্যাম্পিয়নশিপও জিতেছেন ক্লাইস্টার্স। এখানেও ফাইনালে উঠে হেরে যান ওজনিয়াকি। অবশ্য এর আগেই নিশ্চিত হয়ে যায়, বছরটা তিনি এক নম্বরে থেকেই শেষ করবেন। ২০০০ সালে মার্টিনা হিঙ্গিসের পর ওজনিয়াকিই সবচেয়ে কম বয়সে র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থেকে বছর শেষ করার কীর্তি গড়লেন।
সব মিলে পাওয়া না-পাওয়ার মিশ্র অনুভূতিতে বছরটা কেটেছে ওজনিয়াকির। অবশ্য হতাশ হওয়ার কিছু নেই। উইলিয়ামস বোনদের রাজত্ব একসময় তাঁর হাতেই সমর্পিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্টিনা নাভ্রাতিলোভার মতো কিংবদন্তি। উইলিয়ামস বোনদের রাজত্ব যে সূর্যাস্তের পথে, এ বছর সেই আলোচনাও হয়েছে বেশ।
ভেনাস যেমন হতাশার একটি বছর কাটিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায়, ফ্রেঞ্চ ওপেনে চতুর্থ রাউন্ড, উইম্বলডনে কোয়ার্টার ফাইনাল, ইউএস ওপেনে সেমি—চার শীর্ষ টুর্নামেন্টেই খালি হাতে ফিরেছেন। বছরটা শেষদিকে হতাশার চাদরে মুড়ে গেছে ইনজুরিতে পড়া হেনিনের জন্যও। আর জোড়া বছরে গ্র্যান্ড স্লাম জেতার (তিনটি গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন ২০০৪, ২০০৬ ও ২০০৮-এ) কথা মনে করিয়ে দিয়ে যে মারিয়া শারাপোভা ২০১০-এ নতুন শুরুর প্রত্যয় জানিয়েছিলেন, তারও এ বছরে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল তারকা শাশা ভুয়াচিচের সঙ্গে বাগদান!

মেসি এবার পারবেন

ডিয়েগো ম্যারাডোনা পারেননি। সার্জিও বাতিস্তা পারবেন?
বাতিস্তা আত্মবিশ্বাসী। লিওনেল মেসির বার্সা-সাফল্য অনূদিত হবে আকাশি-সাদা জার্সিতেও। ‘বার্সার মেসি’কে ‘আর্জেন্টিনার মেসি’ বানিয়ে ফেলার মন্ত্রটাও তাঁর জানা। মেসিকে খেলতে দিতে হবে একেবারে চাপ ছাড়াই, ‘ও অনেকগুলো ভালো ম্যাচ খেলেছে। জাতীয় দলের হয়ে সব সময় নিজের সেরাটাই দেয়। ওর ওপর এভাবে এত বোঝা চাপিয়ে দেওয়াটা আমার কাছে মনে হয় অন্যায়।’
বাতিস্তার হিসাব পরিষ্কার। মেসি যেভাবে খেলে স্বস্তি খুঁজে পাবেন, দলটাকে গড়ে তোলা হবে সেভাবেই, ‘লিওনেল কীভাবে স্বস্তি পায়, আমাদের সেটাই মাথায় রাখতে হবে। কারণ, ও বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। দলে ওকে মানসিকভাবে তরতাজা অবস্থায় পাওয়াটা জরুরি।’
২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে বার্সেলোনার হয়ে এ পর্যন্ত ১২৮ ম্যাচে মেসি গোল করেছেন ১১২টি। গোল গড় দশমিক ৮৭। ২০০৮ সাল থেকে এ বছর পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ২৮ ম্যাচে মেসির গোল সাতটি। গড় দশমিক ২৫। এমন ব্যবধানের একটাই কারণ খুঁজে পান বাতিস্তা, ‘লিওনেলকে নানামুখী চাপে পিষ্ট করে রাখা হয়েছে। ওকে দলের ত্রাণকর্তা হিসেবেও দেখা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি ও যেন একদমই চাপে না ভোগে। জাতীয় দলে খেলতে এলে ও যাতে চাপমুক্ত থেকে সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন-জীবন উপভোগ করে, আমরা সেই চেষ্টাই করছি। আমরা কোনো খেলোয়াড়কেই চাপ টের পেতে দিতে চাই না। আমরা নিশ্চিত, খেলোয়াড়েরা এতেই স্বস্তি বোধ করে।’
আর্জেন্টিনা ও বার্সেলোনার খেলার ধরন একই। এটা তাঁর দলের জন্য সুবিধাই করে দেবে বলে মনে করেন বাতিস্তা। তার মানে এই নয়, পেপ গার্দিওলাকে অন্ধ অনুকরণ করবেন, ‘আমার নিজের ফুটবল-দর্শন আছে। আমি বার্সেলোনার খেলা পছন্দ করি। আমি আত্মবিশ্বাসী, আর্জেন্টিনা ওদের মতো খেলতে পারবে।’
মেসিকে ছন্দ খুঁজে পাওয়ার আগে ৪৮ বছর বয়সী বাতিস্তার প্রথম কাজ হবে ম্যারাডোনার বলয় থেকে দলকে বের করে নিয়ে আসা। স্পেন আর ব্রাজিলের মতো দুই শক্ত প্রতিপক্ষকে হারানো বাতিস্তা এরই মধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তাঁর জীবনবৃত্তান্তে একটাই লাল দাগ—জাপানের বিপক্ষে পরাজয়।
বাতিস্তার ওপর আস্থা রাখাই যায়। ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য কিন্তু ফলাফলের চেয়েও বেশি তৃপ্ত যেভাবে কাজ করতে চান সেটার পেছনে দলের সবার নিরঙ্কুশ সমর্থন দেখে। বাতিস্তা সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন মেসির কাছ থেকেই। ম্যারাডোনার মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিকে সরিয়ে দিয়ে আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্থা যখন অনেকের চোখেই খলনায়ক, সেই সময় সংবাদমাধ্যমে মেসি সমর্থন দিয়েছেন বাতিস্তাকে।
বাতিস্তা-মেসি জুটি সাফল্য-বুভুক্ষু আর্জেন্টিনাকে এখন আশার গান শোনাচ্ছে। সর্বশেষ সাফল্য ২০০৮ অলিম্পিক সোনা এসেছিল এই বাতিস্তার হাত ধরেই। জাতীয় দলের হয়ে মেসির গোল-হাহাকারও ঘোচার আভাস মিলেছে। সর্বশেষ তিন ম্যাচে করেছেন দুটো গোল। তবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দেশের মাটিতে আগামী বছরের কোপা আমেরিকা। বাতিস্তা অবশ্য ‘মেসির নিজেকে প্রমাণের কিছুই নেই’ বলে এখনই চাপটা সরিয়ে রাখলেন।

ঢাকার ক্রিকেটে মোহাম্মদ ইউসুফ

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিসিবির পুরোনো অফিসে দুপুরেই খবর পৌঁছে যায়, মোহাম্মদ ইউসুফ আসছেন। আগের সেই দিন থাকলে গোটা স্টেডিয়াম এলাকাতেই সাড়া পড়ে যেত। কিন্তু কাল দুপুরে ঢাকায় পৌঁছে সন্ধ্যা নাগাদ পাকিস্তানের তারকা ব্যাটসম্যান যখন বিসিবিতে এলেন, সাংবাদিকদের ছোটখাটো জটলা আর বিসিবির কর্মীদের উপস্থিতির বাইরে তেমন কিছু চোখে পড়ল না।
ঢাকা মেট্রোপলিশ ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রথমে নেওয়া হলো মোহাম্মদ ইউসুফকে। ৯০ টেস্টে ৫২ গড়ে ৭৫৩০ রানের মালিক এখানে এসে জানান দিলেন, প্রথমবারের মতো ঢাকার প্রিমিয়ার ক্রিকেটে খেলছেন তিনি। দলের নাম ঢাকা মোহামেডান।
প্রিমিয়ার ক্রিকেটে গতবারের শিরোপা ধরে রাখতেই যে ইউসুফকে এনেছে মোহামেডান, তা না বললেও চলছে। কালই সাকিব আল হাসানকে অধিনায়ক ও খালেদ মাসুদকে প্রধান কোচ কাম ক্রিকেটার হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে মোহামেডান। সাদা-কালোরা দুটি ম্যাচ খেলে একটি জিতেছে, অন্যটি হয়েছে টাই। আজ বিকেএসপিতে সূর্যতরুণের সঙ্গে তৃতীয় ম্যাচ। ইংল্যান্ডের মঈন আলী প্রথম থেকেই খেলছেন। দ্বিতীয় বিদেশি হিসেবে আজ থেকেই নামছেন মোহাম্মদ ইউসুফ।
মুখভর্তি দাড়ি। টি-শার্টের ওপর সোয়েটার। মাগরিবের আজান ততক্ষণে হয়ে গেছে। পাশের কক্ষে নামাজ পড়তে ইউসুফের জন্য জায়নামাজ প্রস্তুত। ঠিক তার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেন। তবে শুরুতেই ‘প্লিজ, এই লিগ ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করবেন না’—অনুরোধ রেখে নিজেকে রাখলেন বিতর্কিত প্রসঙ্গের বাইরে।
‘বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে কোনো ধারণা নেই। তবে ক্রিকেট ইজ ক্রিকেট’—প্রথম প্রশ্নের জবাবটা যেন ভেবেই রেখেছিলেন ৪১.৭০ গড়ে ২৮৮ ওয়ানডেতে ৯৭২০ রান করা মোহাম্মদ ইউসুফ। সম্পূরক প্রশ্নে এরপর জবাব আসে, ‘দুটি ম্যাচ দেখি। তারপর এখানকার পিচ-খেলার মান সবই আঁচ করতে পারব।’
কটি ম্যাচ খেলার জন্য এসেছেন? ‘যদি পাকিস্তান দল থেকে ডাক না পাই, তাহলে পুরো লিগই খেলব আশা করি’—জানালেন ইউসুফ। এও বললেন, ‘বিশ্বকাপের জন্য এটা ভালো প্রস্তুতির একটা সুযোগ আমার কাছে।’ পাকিস্তানের প্রাথমিক বিশ্বকাপ দলে থাকলেও বর্তমানে নিউজিল্যান্ড সফররত দলে নেই ইউসুফ। ফিটনেসের কারণেই বাদ পড়েছেন বলে গুঞ্জন। ইউসুফ আপাতত ডাক পান, সেটি অবশ্য চাইবে না মোহামেডান।
মোহামেডানের কর্মকর্তা তারিকুল ইসলামের কথা, ‘পুরো লিগই খেলবেন ইউসুফ।’ আর্থিক চুক্তি নিয়ে তারিকুল বল ঠেলেছেন মোহামেডানের ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান লুৎফর রহমানের কোর্টে, ‘যা বলার উনিই বলবেন।’ লুৎফর রহমানের ফোন বন্ধ থাকায় এ ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি।
ঢাকার ক্রিকেটে খেলাটা তাঁর নিজের জন্য কতটা উদ্দীপনামূলক? ইউসুফের জবাব, ‘পেশাদার ক্রিকেটারদের জন্য যেকোনো ক্রিকেটই মোটিভেশন।’ মোহামেডানে খেলা কতটা চাপ? ‘শুনেছি এখানে দু-তিনটা টপ টিম আছে। মোহামেডান, আবাহনী...। ক্রিকেট তো আসলে চাপের খেলাই। কথা হলো, আপনি এই চাপ কীভাবে সামলাবেন’—স্বচ্ছন্দেই ব্যাট করলেন ইউসুফ।
ওয়াসিম আকরাম খেলে গেছেন ঢাকার ক্রিকেটে। নিকট অতীতে খেলে গেছেন মিসবাহ-উল-হকরা। ঢাকার ক্রিকেট সম্পর্কে তাঁদের কাছ থেকে কিছু জেনেছেন কি না প্রশ্নে জবাব, ‘সেভাবে না। তবে শুনেছি, এখানকার উইকেটে টার্ন আছে, স্পিনার আক্রমণে আসে দ্রুতই।’
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন হলো এই সুযোগে। ‘গত কয়েকটি সিরিজ থেকে বাংলাদেশ ভালো করছে। তামিম, মুশফিকরা ভালো খেলছে। আশরাফুল, মাশরাফিরা আগে থেকেই ভালো করছে। গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভারতকে হারিয়েছে। হারিয়েছে আরও অনেক দলকে। বাংলাদেশ ভালো করবে বিশ্বকাপে’—ইউসুফ নন, যেন বাংলাদেশের এক ক্রিকেট-ভক্তই কথা বললেন।

ভারতই পরল সেরার মুকুট

বিকেলের সোনা রোদে সোনালি রঙের ট্রফিটা ঝিলিক দিচ্ছিল। সেই আলো এসে পড়ছিল তাবাবি দেবীর মুখে। সোনালি প্রলেপ দেওয়া ছয় কেজির ধাতব ট্রফিটাকে পরম মমতায় ছুঁয়ে দেখলেন ভারতের অধিনায়ক। শুধু ট্রফি নয়, ইতিহাসই তো ছোঁয়া হয়ে গেল তাঁর। প্রথম সাফ মহিলা ফুটবলের ফাইনালে সাসমিতার একমাত্র গোলে নেপালকে হারাল ভারত। দক্ষিণ এশিয়া-সেরার মুকুটটা উঠল তাদের মাথায়। যে ইতিহাসের সাক্ষী হলো কক্সবাজার জেলা স্টেডিয়ামের গ্যালারি উপচে পড়া হাজার ছয়েক দর্শক।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য মরিয়া হয়েই মাঠে নেমেছিল কাল ভারত। তারা খেলেছে ৪-৪-২ ছকে, নেপাল ৫-৩-২-এ। অন্য ম্যাচের তুলনায় নেপালের মাঝমাঠ কাল ছিল বেশি এলোমেলো। আক্রমণের দুই অস্ত্র অনু লামা ও যমুনা গুরুংকে সেভাবে সমর্থন দিতে পারছিল না তাদের মাঝমাঠ। তার পরও লড়াইটা জমজমাটই হলো। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্যভাবে। দ্বিতীয়ার্ধে নেপালকে বেশি ব্যতিব্যস্ত করে রাখেন বালা-তাবাবিরা। ৬৬ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সের দিকে এগিয়ে যেতেই তাবাবিকে ফেলে দেন চন্দ্রা ভান্ডারি। নেপালের সর্বনাশটা হয় তখনই। ফাউলের নির্দেশ দেন জাপানের রেফারি সাতো নামি। বক্সের কেবলই বাইরে থেকে চমৎকার ফ্রি-কিক নেন সাসমিতা। বাতাসে ভেসে বল ঢুকে যায় জালে (১-০)। আনন্দে দর্শকদের ওড়িশি নৃত্য দেখিয়ে দেন সাসমিতা। বাকি ২৩ মিনিট গোল শোধের মরিয়া চেষ্টা করে গেছে নেপাল। কিন্তু অনু লামাদের সব রকমের কৌশল ব্যর্থ করে দিয়েছে ভারত।
ভারতের প্রধান কোচ শহীদ জব্বারকে কাল সারাক্ষণ দেখা গেছে ডাগ আউটে বসে থাকতে। বাউন্ডারি লাইনের পাশে দাঁড়িয়ে গলা ফাটিয়ে বাংলায় উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছিলেন সহকারী কোচ প্রতিমা বিশ্বাস। তবে জিতেও শহীদ জব্বার দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন, ‘চ্যাম্পিয়ন হলেও মেয়েদের খেলায় আমি সন্তুষ্ট না। আরও বেশি গোল পাওয়া উচিত ছিল আমাদের। অনেক গোল মিস করেছি। প্রথমার্ধেই আমরা এগিয়ে যেতে পারতাম।’ একই কথা টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ স্কোরার সাসমিতারও। তবে এই অর্জনকে পুঁজি করে ভারতের নারী ফুটবলকে আরও ওপরে দেখতে চান ১৪ গোলের মালিক, ‘আমি স্বপ্ন দেখি আমরা একদিন বিশ্বকাপে খেলব।’
নেপালের কোচ ধ্রুব বাহাদুর যেন আগেই হার মেনে নিয়েছিলেন, ‘ভারতীয় দল অভিজ্ঞতায়, স্কিলে, গতিতে অনেক এগিয়ে। ওদের সঙ্গে আমরা কীভাবে পারি?’ কাল সকালে অনুশীলনের সময় পড়ে গিয়ে বাঁহাতে আঘাত পান যমুনা। খেলার মধ্যে মাঠে পড়েছেন আবার, তাই খেলতে হয়েছে ব্যান্ডেজ বেঁধে। স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেননি বলে হতাশা ব্যক্ত করেছেন যমুনা। গত এসএ গেমসের হারের প্রতিশোধ নেওয়া হলো না বলে হতাশ অনু লামা। তবে টুর্নামেন্টে নেপালের সেরা খেলোয়াড় হওয়াটা তাঁর হতাশায় একটু সান্ত্বনার প্রলেপ দিতে পারে। ভারতের সেরা হয়েছেন বালা দেবী। ফেয়ার প্লের ট্রফিটা উঠেছে নেপালের হাতে।

শিল্প-অর্থনীতি- বছর শেষে অর্থনৈতিক সমীক্ষা পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ by ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী

লতি বছর খ্রি. ২০১০ শেষ হতে স্বল্প কয়দিন বাকি রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি কেমন হলো, তা নিয়ে বর্তমানে জনগণ মোটামুটিভাবে চিন্তা-ভাবনা করছে। আসলে এদেশবাসীর গুটিকয়েক বাদে অধিকাংশ মানুষের চাহিদা খুব কম। তবু জনসংখ্যার আধিক্য এবং সামষ্টিক চাহিদা অনুযায়ী সামষ্টিক সরবরাহের মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা বিরাজ করছে। বর্তমান সরকার অবশ্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে,

আন্তর্জাতিক- দুই কোরিয়ার একত্রিকরণ কি সম্ভব by ড. তারেক শামসুর রেহমান

দুই কোরিয়ার একত্রিকরণ কী আদৌ সম্ভব? সম্প্রতি বহুল আলোচিত উইকিলিকস এর ফাঁস হওয়া একটি নথিতে দেখা যায় চীন তার আগের অবস্থান পরিবর্তন করে দুই কোরিয়ার একত্রিকরণের পক্ষে। সম্প্রতি কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে দুই কোরিয়ার একত্রিকরণের প্রশ্নটি সামনে চলে এসেছে। যদিও চীন সরাসরিভাবে দুই কোরিয়ার একত্রিকরণের ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেনি।

খবর, প্রথম আলোর- গ্যাসের ওপর বিপজ্জনক বসবাস

দেশের সবচেয়ে বড় ও সমৃদ্ধ গ্যাসক্ষেত্র তিতাস ভয়ানক বিপদাপন্ন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থিত সরকারি মালিকানাধীন এই ক্ষেত্রটির প্রায় চার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে সাত বছর ধরে যে গ্যাস উদিগরণ হচ্ছে, তা একটুও কমেনি। ফলে সেখানে বিস্ফোরণের (ব্লো আউট) পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে ভূতত্ত্ববিদেরা আশঙ্কা করছেন।