Wednesday, April 20, 2016

ঝিনাইদহে আর কত মায়ের বুক খালি হবে? by সাজেদুল হক

আর্তনাদ এখনও থামেনি। মা বাধা দিয়ে সন্তানকে রাখতে পারেননি। ডিবি পুলিশ পরিচয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তুলে। ঝিনাইদহে এ কাহিনী এখন নিত্যকার। তিন বছরে এমন তুলে নেয়ার পর লাশ মিলেছে ২৪ জনের। এতোদিন সংখ্যাটি ছিল ২৩। বুধবার যোগ হয়েছে আরেকটি নাম। সোহানূর। কতই বা ছেলেটির বয়স। কেবল ১৬। মিষ্টি-মায়াবী মুখের ছবি দেখে হাহাহার জাগে। এই ছেলেটিকেও গুলি করে মেরে ফেলা হলো। সবাই জানেন কারা মারছেন। কিন্তু আতঙ্কগ্রস্থ এক জনপদে এ নিয়ে প্রতিবাদের কেউ নেই। সোহানূরের মা বলছেন, তার ছেলের কোন রাজনীতি ছিল না। কোন দলের সঙ্গে জড়িত ছিল না। কোন মামলাও ছিল না। তবুও রেহাই মিলেনি সোহানূরের।
এখন প্রশ্ন উঠেছে এরপর কে? এরপর বুক খালি খালি হবে কোন মায়ের। সোহানূরের ভাগ্য বরণ করবেন আর কোন তরুণ বা যুবক। না সোহানূরের জন্য কান্নার কেউ নেই। এ দেশে কোথাও খাল দখল হলে, কোথাও রাস্তায় গাছ কাটা হলে প্রতিবাদ হয়। আদেশ আসে। কিন্তু সোহানূরের জন্য এমন কিছু হবে না তা হয়তো নিশ্চিতই থাকা যায়। প্রতিবাদ আর প্রতিকারের জন্যও রক্তের গ্রুপের মিল থাকা চাই। মানুষের জীবন কখন যে এদেশে এতো সস্তা হয়ে গেলো তা বুঝা দায়। জীবনের এখানে কোন দাম নেই। যারা হত্যার শিকার হচ্ছেন হতে পারে তাদের কোন রাজনীতি আছে। হতে পারে তারা অপরাধী। সভ্যতার দাবি তাদের বিচারের মুখোমুখি করা। তা না করে এভাবে বুকে গুলি করে হত্যা করা কেমন বিচার। কোন আদালতের রায়ে হত্যা করা হচ্ছে তাদের। কারা সেই বিচারক। এই গুপ্ত হত্যা বন্ধে আদালতেরও কি কোন দায় নেই।
ঝিনাইদহের ঘরে ঘরে এ কান্নাররোল কখন বন্ধ হবে কেউ জানেন না। কেউ জানেন না পরবর্তী শিকার কে হবেন। একটি স্বাধীন দেশের এক জনপদের মানুষের এভাবে বেঁচে থাকাকে কি বেঁচে থাকা বলে। নাকি তারা মৃত? নাকি আমরা সবাই আসলে মৃত। আমরা তা বুঝতে পারছি না। ঝিনাইদহে তিন বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে যাদের লাশ পাওয়া গেছে তারা হলেন- রফিকুল ইসলাম (৩৭), ইউসুফ আলী বিশ্বাস (৪০), উজ্জ্বল হোসেন (৩২), আসাদুল ইসলাম (৩০), মফিজুল হক, এনামুল হক বিশ্বাস (৫৫), ইউপি সদস্য হাফেজ আবুল কালাম (৩৮), হাদিউজ্জামান হাদি (৪০), সোহাগ সরদার (৩০), মইনুদ্দিন, গোলাম আজম ওরফে পলাশ (২৮), দুলাল হোসেন (২৯),  মিরাজুল ইসলাম, তৈমুর রহমান তুরান (৩৫), ছব্দুল হোসেন (৪৫), এনামুল হোসেন (২৩), রবিউল ইসলাম রবি (৪৭), শরিফুল ইসলাম নজু, আবু হুরাইরা (৫২), হাফেজ জসিম উদ্দীন, আবুজার গিফারী, শামীম মাহমুদ ও সোহানূর। একজনের লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি। আরও কয়েকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

বাঙালি তরুণী গড়লেন ইতিহাস

দীপা কর্মকার: অলিম্পিকে নাম লেখালেন এই বাঙালি তরুণী
 প্রথম বাঙালি নারী হিসেবে অলিম্পিক জিমন্যাস্টিকসে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন দীপা কর্মকার। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মেয়ে দীপার আদিপুরুষ বাংলাদেশের নরসিংদীর রায়পুরার। রিও ডি জেনিরোয় চলা অলিম্পিকের বাছাইপর্বে ৫২ হাজার ৬৯৮ পয়েন্ট স্কোর করে দীপা আদায় করে নিয়েছেন অলিম্পিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার। শুধু তা-ই নয়, প্রথম ভারতীয় হিসেবে ভল্টে সোনা জয় করে গৌরবে ভাসিয়েছেন সবাইকে। জিমন্যাস্টিকের মতো একটি খেলায় কোনো বাঙালি মেয়ে তো বটেই, ভারতীয় নারীর মধ্যেই এমন কীর্তি অনন্য। ওয়াইল্ড কার্ড নিয়ে নয়, দীপা অলিম্পিকে খেলবেন সরাসরি, নিজের যোগ্যতায়।দীপার কীর্তিতে উচ্ছ্বসিত গোটা ভারত। টুইট করে তাঁকে অভিনন্দিত করেছেন শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ, ভি ভি এস লক্ষ্মণ ও বিশ্বনাথন আনন্দের মতো তারকারা। তাঁদের সবারই কথা, ভারতীয় জিমন্যাস্টিকসকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এই বাঙালি মেয়ে।ত্রিপুরার আগরতলায় অভয়নগর নামের এক এলাকায় বর্তমান বাস দীপার পরিবারের। গতকাল সোমবার দিনটা ছিল পুরো পরিবারের জন্যই অসম্ভব গর্বের এক দিন। দীপার বাবা দুলাল কর্মকারও একজন সাবেক ক্রীড়াবিদ। একসময় ভারোত্তলন করতেন। মা গৌরী কর্মকার একজন গৃহিণী। দুলাল কর্মকার জানিয়েছেন, তাঁদের আদি বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরায়। দীপার জন্ম ভারতে হলেও তাঁদের পূর্বপুরুষেরা বাংলাদেশ থেকেই ত্রিপুরায় গেছেন। মা–বাবার আশা, আগামী আগস্টে রিও অলিম্পিকের মূল লড়াইয়েও নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারবেন দীপা। গর্বিত করবেন সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিদের।

কলকাতার একমাত্র ‘বাঙালি’ সাকিব!

কলকাতা নাইট রাইডার্সের একমাত্র ‘বাঙালি’ সাকিব!
মাশরাফি বিন মুর্তজাকে দিয়েই শুরু। ঘরের ছেলেকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলতে দেখে বাংলাদেশের মানুষ প্রেমে পড়ে গেল আইপিএলের এই দলের। ‘কলকাতা’ নামটি আর এই দলের সঙ্গে সৌরভ গাঙ্গুলীর সম্পৃক্ততার কারণে আইপিএলের শুরুর দিন থেকেই অবশ্য এই দলের প্রতি একটা প্রচ্ছন্ন দুর্বলতা ছিল বাংলাদেশের মানুষের। পাঁচ মৌসুম ধরে ঘরের আরেক ছেলে সাকিব আল হাসান কলকাতার হয়ে খেলার ফলে দুর্বলতা আর ভালো লাগা এখন পরিণত জোর সমর্থনে। এবারের মৌসুমে মুস্তাফিজুর রহমান সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলার কারণে এই সমর্থন হয়তো কিছুটা হলেও ভাগ হয়ে গেছে, কিন্তু বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্রিকেটপ্রেমীর আইপিএল উপভোগের কারণ এখনো কলকাতাই। কিন্তু যে শহরের নামে আইপিএলের এই দলটি, সেখানে সেই শহরেরই কোনো ক্রিকেটারই নেই। সেই শহর তো দূরের কথা, ‘করব, লড়ব, জিতব রে’র স্লোগান আর বাঙালি​য়ানা ব্র্যান্ডিং পুঁজি হিসেবে নিয়েছে যে কেকেআর, সেই দলে সাকিবই এখন একমাত্র বাঙালি। এ নিয়ে কলকাতার স্থানীয় কিছু পত্রিকায় হাহুতাশও চলছে। আছে সমালোচনাও। তাদের সমালোচনার মূল লক্ষ্য দলের মালিক বলিউড তারকা শাহরুখ খান। কলকাতার ক্রিকেটার না থাকায় কলকাতার ক্রিকেটপ্রেমীরাও এই দলের ব্যাপারে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে স্থানীয় পত্রিকাগুলোর প্রতিবেদনে জা​নানো হচ্ছে। এবারের আইপিএলে কলকাতার ইডেন গার্ডেনের বেশির ভাগ গ্যালারি যে ফাঁকা থাকছে, এটাও নাকি এর জন্য দায়ী। কলকাতার ক্রিকেটপ্রেমী বাঙালি আপাতত সাকিবকেই অন্ধের যষ্টি মানছেন। অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর দিল্লির, উমেশ যাদব বিদর্ভের। ইউসুফ পাঠান ভদোদরার। দলে নেই বাংলার কোনো ক্রিকেটারই। অথচ এই দলেই এককালে খেলেছেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা, মনোজ তিওয়ারী ও ঋদ্ধিমান সাহাদের মতো বাংলার ক্রিকেটাররা। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এ যেন এক দুধারি তলোয়ারের মতো বাস্তবতা। একদিকে শহরকেন্দ্রিক দল গড়ে তোলা, অন্যদিকে সাফল্যটাই শেষ কথা জন্য সেই শহরের কোনো প্রতিনিধি না রাখা। কোহলি দিল্লির ছেলে হলেও আইপিএলে যেমন তিনি হয়ে যান পুরোদস্তুর বেঙ্গালুরুর। কিন্তু বাকি দলগুলো এর একটা ভারসাম্য এনেছে। স্থানীয় রাজ্যের, ভারতের পাশাপা​শি বিশ্বের তারকা ক্রিকেটারদের মিলিয়ে দল গড়ার চেষ্টা তো আছেই। সেই সঙ্গে দলের নীতিনির্ধারণে বেশ কিছু পরিচিত মুখও রাখা হয়েছে। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসে যেমন আছেন শচীন টেন্ডুলকার। সানরাইজার্স হায়দরাবাদে ভি ভি এস লক্ষ্মণ। প্রশ্ন উঠেছে, সৌরভ গাঙ্গুলী কি কলকাতা নাইট রাইডার্সের শীর্ষ দায়িত্ব পেতে পারতেন না? কলকাতার একটি পত্রিকার দাবি, সৌরভকে কলকাতা দলে থেকে দূরে রাখাটা নাকি মালিক শাহরুখেরই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। শাহরুখের সঙ্গে ব্যক্তিত্বের সংঘাত হওয়ায় দুই মৌসুম পর কেকেআর ছেড়ে সৌরভ চলে গিয়েছিলেন পুনেতে। আপাতত কলকাতার ক্রিকেটারবিহীন কেকেআরে একমাত্র বাঙালি নাইট সাকিবের কাঁধেই প্রত্যাশার ভার।

‘দেপোর্তিভো ঠিক করে দেবে কে হবে চ্যাম্পিয়ন’

দুই দলের আগের দেখার ম্যাচটা ২-২ গোলে ড্র হয়েছিল
দৌড়টা এখন উন্মুক্ত। শেষ ১০০ মিটারে তিন দলই প্রায় সমতায়। যে কেউই জিততে পারে। আর তিনজনের কেউ কাউকে পা মাড়িয়েও ফেলে দেওয়ার সুযোগ নেই। কারও সঙ্গে কারও দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু বাইরে থেকে এসে মাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগটা কিন্তু কারও কারও রয়েছে। দেপোর্তিভোর ফরোয়ার্ড লুকাস পেরেজ সেটিই মনে করিয়ে দিলেন।  বার্সেলোনা টানা তিন ম্যাচে হারের পর হঠাৎ করেই জমজমাট লা লিগা। বার্সেলোনার পয়েন্ট ৭৬, অ্যাটলেটিকোরও তা-ই। রিয়াল মাদ্রিদ আছে ১ পয়েন্ট পেছনে। বাকি পাঁচ ম্যাচে অনেক কিছুই হতে পারে। বার্সা, অ্যাটলেটিকো, রিয়াল যেমন কেউ কারও সঙ্গে খেলবে না। কিন্তু দুই দলকে অন্তত হোঁচট খাইয়ে দিতে পারে, এ রকম দল আছে। দেপোর্তিভোরও সেই সুযোগ আছে। বার্সেলোনাকে আগামীকালই দেপোর্তিভোর মাঠে গিয়ে খেলতে হবে। আর রিয়ালকে খেলতে হবে লিগের শেষ ম্যাচে। মূল দুই প্রতিদ্বন্দ্বীরই ম্যাচ আছে দেপোর্তিভোর সঙ্গে। শিরোপা-প্রত্যাশী দুই দলের ৬ পয়েন্ট দেপোর্তিভোর মাঠে! আগামীকাল বার্সা তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে না পারলে যেমন কাতালান ক্লাবটির জন্য অপেক্ষা করছে বড় বিপদ। বার্সার মুখোমুখি হওয়ার আগে পেরেজ অবশ্য বলছেন, ‘লা লিগার গতিপথ আমরাই ঠিক করে দিতে পারি। অনেকেই বলেছিল, লা লিগার লড়াই শেষ হয়ে গেছে আগেই। কিন্তু এখন আর সেটা নেই। আমি তো আগেই বলেছিলাম, মে মাসের আগে লিগের মীমাংসা হবে না।’  দেপোর্তিভো নিজে আছে তেরো নম্বরে। তবে বার্সার সঙ্গে আগের দেখায় ন্যু ক্যাম্পে গিয়ে ২-২ গোলে ড্র করে এসেছিল। পেরেজ অবশ্য সতর্ক, ‘যে অবস্থাতেই থাকুক, বার্সেলোনা, সব সময়ই বিপজ্জনক একটা দল।’

আবার ‘অস্কার’ জেতা হলো না মেসির

লরিয়াসে চুমু! কাল বার্লিনে
লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও পর্যন্ত এবার অস্কার জিতে গেলেন। তবু লিওনেল মেসির কাছে আরাধ্য অধরাই থেকে গেল লরিয়াস ক্রীড়া পুরস্কার। খেলার দুনিয়ায় অনেকে যেটিকে ‘অস্কার’ বলেই জানে। সব খেলা মিলিয়ে যে বছরের সেরাকে দেওয়া হয় এই পুরস্কার। টানা দ্বিতীয়বারের মতো এবার এটি জিতলেন নোভাক জোকোভিচ। বর্ষসেরা নারী ক্রীড়াবিদ হয়েছেন সেরেনা উইলিয়ামস। ২০০০ সাল থেকে চালুর পর এ নিয়ে ১৭ বারের মতো দে​ওয়া হলো এই পুরস্কার। এখন পর্যন্ত কোনো ফুটবলারই তা জেতেননি। এমনকি মেসি বা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও নয়। অবশ্য বর্ষসেরা দল হিসেবে ফুটবলের ভাগে এই পুরস্কার বেশ কবার গেছে। গতবার যেমন বর্ষসেরা দল হয়েছিল ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী জার্মানি। তবে এবার বর্ষসেরা দলের পুরস্কার জিতেছে নিউজিল্যান্ড রাগবি দল। গত বছর তিনটি গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন, একটির ফাইনালেও গিয়েছিলেন। জোকোভিচ যোগ্য হিসেবেই জিতেছেন এই পুরস্কার। তবে গতবার ট্রেবল জিতিয়েও ​যদি এই পুরস্কার মেসি না জেতেন, তাহলে প্রশ্নটা ওঠেই—কোনো ফুটবলার কি কখনোই জিতবে না ক্রীড়াঙ্গনের অস্কার!  টেনিসের প্রতি যেন এই পুরস্কারের দুর্বলতা আছে। আটবারই জিতেছেন টেনিস তারকারা। এর মধ্যে জোকোভিচ জিতলেন তৃতীয়বারের মতো। ২০১২ সালেও লরিয়াস জিতেছিলেন। সেরেনাও তৃতীয়বারের মতো হলেন বর্ষসেরা নারী। এবার আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন সাবেক ফর্মুলা ওয়ান চালক নিকি লাউডা।

‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ প্রথাটাই গম্ভীরের অপছন্দ

গৌতম গম্ভীর
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে কী দুর্দান্ত ইনিংসটাই না খেললেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর! ৬০ বলে ৯০ রানের সেই ইনিংসটা তাঁকে এনে দিয়েছে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। তবে কেকেআর অধিনায়ক এই ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচনের প্রথাটা ঠিক পছন্দ করেন না। তাঁর মতে, ক্রিকেটের মতো একটি টিম গেমে একজন নির্দিষ্ট ক্রিকেটারকে ‘ম্যাচ সেরা’র পুরস্কার দেওয়াটা কোনোমতেই দলের আর সবার প্রতি সুবিচার করা নয়। ভারতের একটি পত্রিকায় লেখা কলামে গম্ভীর বলেছেন, ‘হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে আমি ৬০ বলে ৯০ করে দলকে জিতিয়েই ফিরেছি। এটাকে ম্যাচ সেরা পারফরম্যান্স বলা হচ্ছে। কিন্তু আমার দলের বোলাররা প্রতিপক্ষকে ১৪২ রানে আটকে রেখে আমাদের যে জয়ের রাস্তা তৈরি করে দিল, সেই পারফরম্যান্সের তো কোনো মূল্যায়ন হলো না। বোলারদের বোলিংয়ের কারণেই তো ব্যাটিংয়ের সময় আমাকে চাপের মুখে পড়তে হয়নি।’ আরও স্পষ্ট বক্তব্য আছে তাঁর এ ব্যাপারে, ‘টিম স্পোর্টে ম্যাচের সেরার পুরস্কার দেওয়ার এই যে রেওয়াজ, এটা মন থেকে মেনে নিতে পারি না। বরং বিশ্বাস করি, এটা তুলে দেওয়া উচিত। আমি জানি, এটা এমন একটা রীতি, যা বছরের পর বছর ধরে চলছে। কিন্তু ক্রিকেটের মতো টিম স্পোর্টে টিমের সদস্যদের প্রচুর অবদান থাকে। সেখানে যেকোনো একজনকে ম্যাচের সেরা বেছে নেওয়া অন্যায় নয়?’
ম্যান অব দ্য ম্যাচ প্রথাটা যেহেতু এখনই তুলে দেওয়া যাচ্ছে না, তাই এটি নির্বাচনের একটি বিকল্প উপায়ও বাতলে দিয়েছেন গম্ভীর, ‘এখন তো ধারাভাষ্যকাররা ম্যাচ সেরা নির্বাচন করেন। কিন্তু ভেবে দেখুন তো, যদি ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়কে দুই দলের কোচ নির্বাচন করত, সেটা ধারাভাষ্যকারদের নির্বাচনের চেয়ে অনেক ভালো হতো। পরাজিত দলের কোচই কেবল বুঝতে পারে তাঁর দলটাকে মাঠে কে “খুন” করল।’

মেসির দাম ১৪ কোটি, রোনালদোর ১০ কোটি!

মেসি ও রোনালদো
দলবদলের মৌসুম এলেই শোনা যায়, লিওনেল মেসিকে কিনতে পিএসজি-সিটি টাকার বস্তা নিয়ে বসে আছে। কিন্তু মেসিকে কিনতে এখন আসলে কত টাকা দরকার ? স্পেনের পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি অব ভ্যালেন্সিয়ার (ইউপিভি) হিসাবে সেই দাম ১৪ কোটি ১০ লাখ ইউরো। একটু কম মনে হচ্ছে না? তাহলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দাম শুনুন। ১০ কোটি ১০ লাখ ইউরো। ইউপিভি এই জরিপের কাজটা করেছে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সঙ্গে। ২০১৪-১৫ মৌসুমে মেসি-রোনালদোর গোল, অ্যাসিস্ট, লাল বা হলুদ কার্ড, নেতৃত্ব ও বিপণনমূল্য হিসাব করা হয়েছে। শুধু তা–ই নয়, দুজনকে তাঁদের সতীর্থদের বাজারমূল্যের সঙ্গেও তুলনা করা হয়েছে। মেসিকে যেমন সুয়ারেজ, নেইমারের সঙ্গে, রোনালদোকে তুলনা করা হয়েছে বেল, বেনজেমাদের সঙ্গে। আর এটাও মাথায় রাখা হয়েছে, রোনালদোর বয়স এখন ৩১, মেসির ২৮। এখনো দুজন দুর্দান্ত খেলছেন, কিন্তু ভাটার টান শুরু হতে খুব দেরি নেই। কিন্তু এই মুহূর্তে এ দামেই যদি মেসি-রোনালদোদের কিনে ফেলা যায়, তাহলে আগ্রহী ক্লাবের অভাব হওয়ার কথা নয়!

মুম্বাইয়ের গলির ক্রিকেটে স্টেইন!

ডেল স্টেইন
সময়টা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না ডেল স্টেইনের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার গতি তারকা কেন যেন বেশ নিষ্প্রভ। বিশ্বকাপের বাজে পারফরম্যান্সই হয়তো গুজরাট লায়নসের হয়ে আইপিএলে মাঠে নামতে দেয়নি তাঁকে এখনো। গুজরাটের প্রথম তিনটি ম্যাচের একটিতেও প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ হয়নি স্টেইনের। কিন্তু তাতে কী! স্টেইন কিন্তু ঠিকই বের করে নিয়েছেন খেলার সুযোগ! মুম্বাইয়ের রাস্তায় একদল ছেলেকে ক্রিকেট খেলতে দেখে বসে থাকতে পারেননি স্টেইন। নেমে পড়েন তাদের সঙ্গে। পেয়েছেন একটি উইকেটও। আইপিএলে এখনো বোলিং করার সুযোগ না পেলেও মুম্বাইয়ের গলিতে খেলে খেলাবিহীন সময়টাকে নিজের মতো করে উপভোগই করেছেন। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন সেটির ভিডিও।  স্টেইনের জন্য ব্যাপারটি নতুন কিছু নয়। গত বছর জুলাইয়ে বাংলাদেশ সফরে চট্টগ্রামের টিম হোটেলের পাশেই একদল ছেলের সঙ্গে ফুটবলে মেতে উঠেছিলেন। বৃষ্টিভেজা সেই বিকেলে ‘পাড়ার ফুটবল’টাও সেদিন দারুণ উপভোগ করেছিলেন। তুলে ধরেছিলেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।

সেমিতে ​শেখ জামাল

শেখ জামালের জয়ের নায়ক ওয়েডসন
হোম ও অ্যাওয়ে মিলিয়ে এএফসি কাপে ৬টি ম্যাচ খেলার কথা শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের। এরই মধ্যে ৪টি ম্যাচ শেষ হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নদের। কিন্তু সব ম্যাচে হেরে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে তারা। শেষ দুটি ম্যাচ জিততেই চাইবে শেখ জামাল। এএফসি কাপে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচ ২৬ এপ্রিল, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুরের টেম্পাইনস রোভার্স। সেই ম্যাচের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেল শেখ জামাল। আজ স্বাধীনতা কাপের গ্রুপ পর্বে মুক্তিযোদ্ধাকে হারাল ৩-১ গোলে। এই জয়ে ৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালও নিশ্চিত করে ফেলেছে দলটি। এর আগে সেমিফাইনালে ওঠে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। আগের ম্যাচে উত্তর বারিধারার সঙ্গে হ্যাটট্রিক করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধার আবু মুসা। মুক্তিযোদ্ধার জয় মানেই মুসার গোল, এবারের স্বাধীনতা কাপে এমনটাই হয়ে আসছিল। কিন্তু আজ মুসা ছিলেন নিষ্প্রভ, মুক্তিযোদ্ধাও হেরেছে। ম্যাচের ১৪ মিনিটে ওয়েডসনের ক্রস থেকে প্লেসিংয়ে শেখ জামালকে এগিয়ে দেন এমেকা। ৪৪ মিনিটে ল্যান্ডিং ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এবারও বলের জোগানদাতা ওয়েডসনই। ৪৫ মিনিটেই স্কোরলাইন ৩-০; আবারও গোলদাতা ওয়েডসন। ৪৯ মিনিটে পেনাল্টি পায় মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধার ফরোয়ার্ড তৌহিদুলকে বক্সের মধ্যে ফেলে দেন শেখ জামালের গোলরক্ষক হিমেল। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তা থেকে গোল করেন মোবারক হোসেন (৩-১)। বাকি সময় অবশ্য দুই দলই গোলের জন্য চেষ্টা করেছে, কিন্তু গোলের দেখা পায়নি।

কেকেআর জিতলেও ‘অচেনা’ সাকিব

সাকিব উইকেটশূন্য থাকলেও জিতেছে তাঁর দল কেকেআর
আগের ম্যাচে ৩ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়েছিলেন। উইকেট যদিও পাননি, তবু সাকিব আল হাসানকে দিয়ে পুরো ৪ ওভার কেন করাননি কলকাতা নাইট রাইডার্স অধিনায়ক-এ নিয়ে একটু আফসোস ছিল বাংলাদেশের মানুষের। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে মোহালিতে সেই আক্ষেপ আর থাকল না। পুরো ৪ ওভারই করেছেন সাকিব। তবে অন্য একটা আক্ষেপ থেকেই গেল, ২৮ রান দিয়ে যে কালও উইকেটশূন্য থাকলেন বাংলাদেশ অলরাউন্ডার! ব্যাট হাতেও ভালো কিছু হয়নি। একবার ‘জীবন’ পেয়েও আউট হওয়ার আগে ১৫ বলে এক চারে করেছেন ১১। অবশ্য ম্যাচ ৬ উইকেটে জিতেছে সাকিবের দল কেকেআর (১৪১/৪)। এর আগে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৩৮ রান তোলে পাঞ্জাব। শুরু থেকেই পাঞ্জাবের ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখতে সাকিবকে তৃতীয় ওভারে বোলিংয়ে নিয়ে আসে কলকাতা। নিজের প্রথম ওভারে দেন ৬ রান। দ্বিতীয় ওভারটায় একটু রাশ ছুটে যায়, ৯ রান। তবে শেষের দুই ওভার আবার নিয়ন্ত্রিত, যথাক্রমে ৬ ও ৭ রান। নিয়ন্ত্রণ ছিল সাকিবের ফিল্ডিংয়েও। দলের প্রথম উইকেটটিই তো তাঁর অবদান। ডিপ মিড উইকেটে অনেক দূর দৌড়ে এসে ঝাঁপ দিয়ে ক্যাচ ধরলেন। সেটিই ‘আসল’ সাকিবকে বোঝাল এই ম্যাচে। চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে বল খেলেছেন বেশি, রান করেছেন কম। অক্ষর প্যাটেলের যে বলে আউট হয়েছেন, তার আগের বলেই জীবন ​পান ফিল্ডারের ব্যর্থতায়। ক্রিকইনফো।

স্টাম্প ওপড়ানোতে যাঁদের আনন্দ

১৬ এপ্রিল মুস্তাফিজের একটি ইয়র্কার সামলাতে না পেরে আন্দ্রে রাসেল হুমড়ি খেয়ে তো পড়লেনই, উপড়ে গেল তাঁর স্টাম্পও। পরশু পরের ম্যাচে অতটা দাপটের সঙ্গে না হলেও হার্দিক পান্ডিয়ার স্টাম্প ঠিকই উপড়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। মুস্তাফিজের বলে এভাবে স্টাম্প উপড়ে পড়ার দৃশ্য এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ উইকেটের ৪টিই পেয়েছেন বোল্ড করে। উইকেট পাওয়ার জন্য স্টাম্প ওপড়ানোতেই যেন তাঁর আনন্দ। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২২ উইকেটের ১০টিই পেয়েছেন এভাবে। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগগুলোতেও ‘কাটার মাস্টারে’র খুব পছন্দের রাস্তা যেন এটি। তবে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশিবার বোল্ড আউট করা বোলার হতে চাইলে আরও অনেক দূর যেতে হবে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসারকে। ১২২ বার ব্যাটসম্যানদের স্টাম্প উপড়ে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা।

লরিয়াস অ্যাওয়ার্ড

পরশু বার্লিনে বসেছিল লরিয়াস ক্রীড়া পুরস্কারের ১৭তম আসর। সেখানে দেখা মিলল ক্রীড়াজগতের বর্তমান ও সাবেক তারকাদের। তৃতীয়বারের মতো মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার জিতলেন টেনিস তারকা নোভাক জোকোভিচ। ২০১৫ সালের চারটি গ্র্যান্ড স্লামের তিনটিরই শিরোপা জেতা জোকোভিচ লরিয়াসের বর্ষসেরা হয়েছেন বার্সা তারকা লিওনেল মেসি ও ট্র্যাকের রাজা উসাইন বোল্টকে পেছনে ফেলে। বর্ষসেরা নারী ক্রীড়াবিদ হয়েছেন সেরেনা উইলিয়ামস। ‘স্পিরিট অব স্পোর্টস’ পুরস্কার দিয়ে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়েছে ডাচ কিংবদন্তি ফুটবলার ইয়োহান ক্রুইফকে। বার্লিনের আলোঝলমল অনুষ্ঠান থেকেই তোলা হয়েছে পাশের চারটি ছবি
রয়টার্স ও এএফপি

দুই মেরুতে এনরিকে-জিদান

একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে আচম্বিতে জমে উঠেছে লা লিগার
শিরোপা লড়াই, সেই লড়াইয়ে ফিরেছে রিয়াল মাদ্রিদও।
অনুশীলনে রোনালদো-মার্সেলোরা তাই যেন একটু বেশিই চাঙা
লুইস এনরিকে ও জিনেদিন জিদান কি আগে ভাবতে পেরেছিলেন দুই সপ্তাহ পরের সংবাদ সম্মেলনে এমন সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে? আজ দেপোর্তিভোর ম্যাচের আগে শিরোপার উদ্যাপন নিয়েই কিছু বলার কথা ছিল এনরিকের। আর ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে ম্যাচের আগে জিদানের মুখে থাকার কথা ছিল তো চ্যাম্পিয়নস লিগ! অথচ কাল সবকিছুই কেমন পাল্টে গেল। এনরিকের কথাই ধরুন। এপ্রিলের ঝড়ে হঠাৎ এলোমেলো বার্সা, টানা তিন হারে প্রায় মুঠোয় চলে আসা শিরোপাটা ফসকে যেতে বসেছে। তবে এনরিকে শিরোপাটা কিছুতেই ফসকে যেতে দিতে চান না, ‘গিজন (স্পেনের উত্তরের একটা অঞ্চল) এলাকায় আমার বাড়ি, এ জন্যই এসব ঝড়-ঝাপটায় আমি বেশি অভ্যস্ত। অনেকেই হয়তো বিশ্বাস করবে না, কিন্তু কেউ কেউ যেমন শুধু জিততে পছন্দ করে, আমি এ রকম চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। আপনি কল্পনা করতে পারবেন না, হারের বৃত্ত থেকে বেরোতে পারলে আমার কতটা খুশি লাগবে।’ কিন্তু দেপোর্তিভোর মাঠ থেকে যদি আবার হেরে আসতে হয়? এনরিকের সেই মানসিক প্রস্তুতিও আছে, ‘কাজ না হলে যে চ্যাম্পিয়ন হবে, তাদের আমি সবার আগে অভিনন্দন জানাব।’ কিন্তু বার্সার আসলে হয়েছেটা কী? এই দুঃস্বপ্ন থেকে বেরোনোর উপায় বা কী? এনরিকে যেমন বলে দিলেন, ‘আমি অবশ্যই বিশ্বাস করি, বার্সেলোনা লা লিগা জিতবে। যদি সন্দেহ থাকত, আমি এখানে থাকতাম না। আর এই সমস্যার নির্দিষ্ট কোনো সমাধান নেই। অনেকগুলো কারণেই আমাদের এই সমস্যা হয়েছে।’ সেই কারণগুলো নিয়ে এনরিকে অবশ্য বিস্তারিত কিছু বলেননি। কী অদ্ভুত, এনরিকে যখন অনেকটা আর্তকণ্ঠে কথা বলছেন, জিদান কথা বলছেন শিরোপা সম্ভাবনা নিয়ে। তবে এখনই রিয়ালের হাতে শিরোপা দেখেন না জিজু, ‘সবাই বলছে আমরা সবকিছুই জিতে যাব। কিন্তু এই ব্যাপারটা আমার একদমই পছন্দ হচ্ছে না। দুটি শিরোপা জেতারই ক্ষমতা আমাদের আছে। কিন্তু সেটার কোনো অর্থ নেই।’ মনে করিয়ে দিয়েছেন, বার্সা ও অ্যাটলেটিকো নিজেদের ম্যাচ জিতলে রিয়ালের কোনো সুযোগই নেই, ‘বার্সা ও অ্যাটলেটিকো সব ম্যাচ জিততেই পারে। আর সেটা তারা করতে পারলে আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ সেই সুযোগটা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদেরও আছে। শিরোপা লড়াইয়ে আজ তারাও মাঠে নামছে। তবে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের মাঠে কঠিন পরীক্ষাই হয়তো দিতে হবে তাদের।

বাবা হচ্ছেন গেইল

গেইল
য়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সামনের অন্তত দুটি ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ক্রিস গেইলের। দেশে ফিরে গেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ওপেনার। না, চোট কিংবা কোনো নিষেধাজ্ঞা নয়। এবারের আইপিএলের প্রথম দুই ম্যাচে ০ ও ১ রান করা গেইলকে হঠাৎ দল থেকে বাদও দেয়নি বেঙ্গালুরু। ক্যারিবীয় ওপেনার জ্যামাইকা ফিরে গেছেন একটা সুসংবাদ পেয়ে, বান্ধবী নাতাশা বেরিজের কোল আলো করে আসছে নতুন অতিথি। বাবা হচ্ছেন ক্রিস গেইল! গত পরশু রয়্যাল চ্যালেঞ্জারসের এক কর্মকর্তা ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। টুইটারেও নিজের বিমানভ্রমণের একটি ছবি দিয়েছেন গেইল, সঙ্গে ‘গেইলীয়’ ক্যাপশন—‘আসছি আমি, প্রিয়তমা!’ খুশির খবরটা হয়তো কয়েক দিন পর শুনবেন, অনেক শুভেচ্ছা-অভিনন্দনও পাবেন তখন। তবে পরশু বিমানে যাওয়ার সময়ই অগ্রিম অভিবাদন পেয়ে গেছেন ৩৬ বছর বয়সী ক্যারিবিয়ান। ‘অভিনন্দন’ লেখা একটি কেক দিয়ে গেইলকে
শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিমানের ক্রুরা। ডেকান ক্রনিকল।

‘সদস্য পদে প্রার্থী হতে চেয়েছিলাম’

শফিউল আরেফিন টুটুল
বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার। প্রায় দেড় যুগ ধরে তাঁর পরিচয় অবশ্য ক্রিকেট সংগঠক। সেসব ছাপিয়ে দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক। এবার হঠাৎ তাঁর আবির্ভাব বাফুফের নির্বাচনে। কেন এই নির্বাচনে এলেন, তা নিয়েই কথা বললেন সাবেক এই ফুটবলার
* মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে হঠাৎ শোনা গেল আপনি জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি পদে প্রার্থী হচ্ছেন। কীভাবে এই নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেন? দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল: সত্যি বলতে, এবার সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা আমার প্রথম থেকেই ছিল। এ নিয়ে হারুন ভাই, বাদল, নাবিলদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার বসেছিও। কিন্তু তাঁরা যে প্যানেলটা চূড়ান্ত করলেন, সেটার সঙ্গে আমি একমত নই। আমি কিছু মুখ বাদ দিতে বলেছিলাম, কিন্তু তাঁরা সেটা করেননি বা করতে পারেননি।
* এ জন্যই কি আপনি সালাউদ্দিনবিরোধী জোটে গেলেন? অনেকে বলছেন, সালাউদ্দিনকে সরাতে আপনার ভূমিকা চাইছে একটি পক্ষ... টুটুল: আমি সালাউদ্দিন ভাইকে সরাতে এসেছি, এটা ভুল। গত নির্বাচনেই প্রার্থী হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি বিসিবিতে থাকার কারণে। বিসিবিতে থাকলে অন্য কোনো ফেডারেশনের কমিটিতে থাকা যাবে না। এবার সেই বাধা নেই বলেই বাফুফের নির্বাচনে আসা।
* ফুটবলার হিসেবে সালাউদ্দিনকে অনেক সম্মান করেন আপনারা। সংগঠক হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে গেলেন কেন?
টুটুল: আমি একটা পরিবর্তন চাই। আট বছর তো ওনাকে দেখলাম। আমার ধারণা, দেশের ৯৯ ভাগ মানুষই ফুটবলে পরিবর্তন চায়।
* পরিবর্তনই যদি চান, তাহলে হারুনুর রশিদ, বাদল রায়দের সঙ্গে বসেছিলেন কেন? তাঁরা তো সালাউদ্দিনের সঙ্গী...
টুটুল: সভাপতি-শাসিত ফেডারেশনে অন্যদের ভূমিকা রাখার সুযোগ কম। তবু আমি চাইছিলাম কিছু মুখ বাদ দিয়ে নতুন শুরু। সেটা হয়নি। তাই ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যেতে হলো। তা ছাড়া প্রশাসনিকভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার আছে। সেটা কাজে লাগাতে পারব। সদস্য পদে ভূমিকা রাখার সুযোগ কম। সব ভেবেচিন্তে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হচ্ছি সবার পরামর্শে।
* আপনি ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক। তো আপনি বাফুফের নির্বাচন করা মানে সেখানে রাজনৈতিক একটা প্রভাব থাকবে মনে করেন অনেকে। আপনি নিজে কী মনে করেন?
টুটুল: এখানে রাজনৈতিক প্রভাবের কিছু নেই। কাউন্সিলর ১৩৪ জন। এঁরা যাঁর যাঁর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। আমার প্রভাব থাকবে না। কারণ এটা আমজনতার ইলেকশন নয়। আমি বললেই কেউ আমাকে ভোট দিয়ে দেবে, ব্যাপারটা সে রকমও নয়। যদি আমাকে ভোটাররা ফুটবলার টুটুল হিসেবে বা সংগঠক হিসেবে ভোট দেন, তো দেবেন। না দিলে নেই...।
* আপনি ফুটবল বাঁচাও আন্দোলনের ব্যানারে গেছেন। ওই পরিষদের সভাপতি প্রার্থী ফুটবলে অচেনা মুখ। এটাকে কীভাবে দেখছেন?
টুটুল: ফুটবলে এর চেয়ে খারাপ তো আর কিছু হওয়ার নয়। কাজেই সভাপতি প্রার্থী নিয়ে বেশি কিছু বলার দেখছি না। একটা পরিষদে যাওয়ার জন্যই আসলে আমার যাওয়া। শেষ পর্যন্ত কাজটা তো ব্যক্তিগতভাবে আমাকেই করতে হবে।
* অনেকে বলেন, আপনি বিসিবির নির্বাচনে হেরে ফুটবলে আসতে চাইছেন...।
টুটুল: কে কী বলে, সেটা বড় নয়। আমি বিসিবিতে থাকলাম কি থাকলাম না, সেটাও বিষয় নয়। ওখানে আমি সফল না ব্যর্থ, সেটাই বিবেচ্য হওয়া উচিত। ক্রিকেটের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, আপনারা যাঁরা আছেন, আপনারা বিচার করতে পারবেন। তা ছাড়া রাজনৈতিক বা বিভিন্ন কারণে কেউ ছিটকে যেতেই পারে। মূল্যায়নটা হওয়া উচিত কাজ দিয়ে।
* সে ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি পদে সালাম মুর্শেদীর বিপক্ষে জিততে পারবেন?
টুটুল: সালাম ভালো প্রার্থী। আমার জন্য নির্বাচনটা তাই সহজ হবে না।

শেখ জামালকে সেমিতে নিলেন ওয়েডসন

উৎসবের মধ্যমণি এমেকা (মাঝে)। প্রথম গোল করার
পর এনামুল (বাঁয়ে) ও ওয়েডসনের সঙ্গে গোল
উদ্‌যাপন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ডের
ড্র করলেই সেমিফাইনাল, এমন সমীকরণ সামনে রেখে কাল মাঠে নেমেছিল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। কিন্তু ড্র নয়, হেসেখেলেই জিতেছে শেখ জামাল। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ চারে উঠল দলটি। সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। শেখ জামালের গোল তিনটি এমেকা ডার্লিংটন, ল্যান্ডিং দারবোয়ে ও ওয়েডসন আনসেলমের। পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার মোবারক। ‘এ’ গ্রুপে ৪ ম্যাচে জিতে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে শেখ জামাল। ২২ এপ্রিল চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে তাদের শেষ ম্যাচটি এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। ৫ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা দুইয়ে থাকলেও সেমিতে ওঠার জন্য তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে অনেক ‘যদি-কিন্তু’ সমীকরণের দিকে। এবারের স্বাধীনতা কাপে মুক্তিযোদ্ধার জয় মানেই যেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড আবু মুসার গোল। ৫ ম্যাচের যে তিনটিতে গোল পেয়েছেন মুসা, সেই ম্যাচগুলোতে জিতেছে মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু কাল মুসাকে একরকম বোতলবন্দীই করে রাখে শেখ জামাল। এরপরও মুসার একটি শট সাইড পোস্টে লেগে ফেরে। অন্যটি বারের ওপর দিয়ে তুলে দেন। মুক্তিযোদ্ধার আছে একজন মুসা। কিন্তু শেখ জামালের আক্রমণভাগে যে ত্রিফলা! ওয়েডসন, এমেকা ও ল্যান্ডিং। ওয়েডসন দুটি গোল করিয়েছেন, নিজে করেছেন একটি। ১৪ মিনিটে ওয়েডসনের ক্রস থেকে এমেকা শেখ জামালকে প্রথমে এগিয়ে নেন। ৪৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ল্যান্ডিং। এবারও বলের জোগানদাতা সেই ওয়েডসন। ৪৫ মিনিটে বক্সের মধ্যে থেকে ওয়েডসনের জোরালো শটে স্কোর ৩-০। ৪৯ মিনিটে মুক্তিযোদ্ধাকে পেনাল্টি উপহার দেন শেখ জামালের গোলরক্ষক হিমেল। মুক্তিযোদ্ধার ফরোয়ার্ড তৌহিদুল বল নিয়ে বক্সে ঢুকলে মুখে ঘুষি মারেন তিনি। পেনাল্টি থেকে গোল করেন মোবারক হোসেন (৩-১)। টানা ম্যাচ খেলে ক্লান্ত শেখ জামাল। কাল ম্যাচ শেষে কোচ শফিকুল ইসলাম মানিকও সেটাই বললেন, ‘এএফসি কাপ ও ঘরোয়া টুর্নামেন্টে মিলিয়ে এত ফুটবল খেলতে হচ্ছে ছেলেদের, ওরা ঠিকমতো বিশ্রামই পাচ্ছে না। আজ আমরা আরও বেশি গোল পেতে পারতাম। কিন্তু ৩ গোলের পর ছেলেরা নির্ভার হয়ে খেলেছে।’ হোম ও অ্যাওয়ে মিলিয়ে এএফসি কাপে ৬টি ম্যাচ খেলার কথা শেখ জামালের। এরই মধ্যে ৪টি শেষ। সব ম্যাচ হেরে পয়েন্ট তালিকার তলানিতেই শেখ জামাল। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ২৬ এপ্রিল খেলবে সিঙ্গাপুরের টেম্পাইনস রোভার্সের সঙ্গে। এর আগে ২২ এপ্রিল খেলতে হবে স্বাধীনতা কাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ। টেম্পাইন রোভার্সের সঙ্গে খেলতে নামার আগে তাই জয়ের ধারায় থাকতে চাইছেন শেখ জামাল কোচ, ‘ঘরের মাঠে টেম্পাইন রোভার্সের সঙ্গে অন্তত সম্মানজনক একটা ফল চাই। ছেলেদের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে জয়ের বিকল্প নেই।

এলিটা কিংসলের আগে যাঁরা

কাজী সালাউদ্দিন এক ম্যাচে ৭ গোল
ফুটবল মাঠে একটা দলের পাঁচ গোলের জয় খুব বিশাল কিছু নয়। তবে এক ম্যাচে একজন খেলোয়াড়ের পাঁচ গোল করা দুর্দান্ত ব্যাপারই। তেমন এক ঘটনাই পরশু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দেখা গেল এলিটা কিংসলের সৌজন্যে। বিজেএমসির এই নাইজেরিয়ার স্ট্রাইকার পাঁচ গোল করেছেন ফেনী সকারের বিপক্ষে। ঢাকার মাঠে নিকট অতীতে পাঁচ গোল আছে মিঠুন চৌধুরীর। বর্তমানে শেখ রাসেলের এই ফরোয়ার্ড পাঁচ গোলের আনন্দে মেতে উঠেছিলেন ২০১৪ সালে সপ্তম পেশাদার লিগে। ওই বছরের ১৪ অক্টোবর উত্তর বারিধারার বিপক্ষে শেখ রাসেলের ৭-১ জয়ে তাঁর পাঁচ গোল। পেশাদার লিগে এক ম্যাচে পাঁচ গোল এসেছে এনামুল হকের পা থেকেও। ২০০৯ সালে দ্বিতীয় পেশাদার লিগে খুলনা আবাহনীকে ৭-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ফরাশগঞ্জ, যার পাঁচটিই স্ট্রাইকার এনামুলের। তবে এখন পর্যন্ত আটটি পেশাদার লিগে এক ম্যাচে ডাবল হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব আছে শুধু একজনের। মোহামেডানের জার্সি গায়ে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে ৭-১ জয়ে ছয় গোল করেছিলেন নাইজেরিয়ার স্ট্রাইকার নোয়ানচাওয়া পল। সেটিও ২০০৭ সালের ১৩ এপ্রিল। ১৯৮৪ সালে এশিয়ান ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে মালদ্বীপের ক্লাবের বিপক্ষে পাঁচ গোলের আনন্দ নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন শেখ মোহাম্মদ আসলাম। তবে ঢাকায় নয়, আসলামের পাঁচ গোল শ্রীলঙ্কার মাঠে।
হাফিজউদ্দিন এক ম্যাচে ৬ গোল
ঢাকার মাঠে আরেকজনের গোল উৎসবের কথা স্মরণ করা যেতে পারে। ১৯৭৫ সালে মোহামেডানের জার্সি গায়ে অভিষেক ম্যাচেই একটা টুর্নামেন্টে দিলকুশার বিপক্ষে পাঁচ গোল করার সুখস্মৃতি আছে সাবেক স্ট্রাইকার নওশেরুজ্জামানের। সেই স্মৃতিচারণায় কাল নওশের বলছিলেন, ‘মাঠে গোল করার আনন্দই ছিল আলাদা। আজও সেসব গোলের কথা মনে পড়ে।’  তবে ঢাকার ফুটবলে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত গোলের কথা উঠলেই ফিরে আসে সেই ১৯৭৪ লিগ। সেবার কয়েক দিনের ব্যবধানে গোল উৎসবে মেতে উঠেছেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ ও কাজী সালাউদ্দিন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ফুটবলে প্রথম ডাবল হ্যাটট্রিক করে হাফিজ ইতিহাসের পাতায় নিজের নামটি লিখে রেখেছেন আলাদা করে। ফায়ার সার্ভিসের বিপক্ষে ৬-১ জয়ে মোহামেডানের সব কটি গোলই তাঁর। কিছুদিন আগে ওই ডাবল হ্যাটট্রিকের স্মৃতিচারণায় এই প্রতিবেদককে বলছিলেন, ‘নেমেই হেলাফেলায় দুটি গোল হয়ে গেছে। ভাবলাম, এবার তো হ্যাটট্রিক করা যায়। সেই হ্যাটট্রিকও হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ফুলব্যাক ছিল দুলাল। সে বলছিল, হাফিজ ভাই, প্লিজ আর আমাদের বক্সের আশপাশে আসবেন না। আমিও ঠিক করলাম আর গোলটোল দেব না। কিন্তু সেদিন গোল হয়ে গেছে একের পর এক।’ ওই ডাবল হ্যাটট্রিকের কদিন পরই দিলকুশার জালে একাই সাত গোল দিলেন সালাউদ্দিন। তাঁর রুদ্রমূর্তিতে আবাহনীর জয় ১০-০ গোলে। প্রথম সাত গোলই সালাউদ্দিনের। আবাহনীর বাকি তিন গোল স্কুটার গফুর, অমলেশ ও টিপুর। সালাউদ্দিন ফিরে যান ৪২ বছর পেছনে,‘তখন তো সুপার ফিট ছিলাম। যেখান থেকেই চেষ্টা করতাম, গোল হয়ে যেত।’

২২ গজ থেকে জীবনের জুটি

নববিবাহিত স্ত্রী অ্যালিসিয়া হিলির সঙ্গে মিচেল স্টার্ক
এই তো দুই বছর আগে বাংলাদেশে হয়ে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা। স্মিথ-ফিঞ্চরা সেমিফাইনালের আগেই বিদায় নিয়েছেন, তবে অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের দলটা তখনো টিকে ছিল। তাদের খেলা দেখতে প্রতি ম্যাচেই একজন নিবিষ্ট দর্শক বসে থাকতেন গ্যালারিতে। কিন্তু মেয়েদের ম্যাচে মিচেল স্টার্কের এমন নিয়মিত উপস্থিতি কেন? অনেকেই জানতেন কারণটা, অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের দলের অ্যালিসিয়া হিলির সঙ্গে অনেক দিন ধরেই মন দেওয়া-নেওয়া চলছে! সেই প্রেমটা পূর্ণতা পেয়েছে এই সপ্তাহে। স্টার্ক বোলার আর হিলি উইকেটকিপার, দুজন খেলেন দুই দলে। ২২ গজে দুজনের জুটি বাঁধা সম্ভব নয়। কিন্তু জীবনের ইনিংসে জুটি বাঁধতে তো সমস্যা নেই। দুজনের পরিচয় সেই শৈশব থেকে, তবে বন্ধুতা প্রেমে রূপ নিয়েছে বছর তিনেক আগ থেকে। এখন তো সারা জীবনের জন্যই একে অন্যের পাশে থাকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন! স্টার্ক-হিলিই অবশ্য ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার দম্পতি নন। তবে দুজনেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, এটা বিবেচনায় নিলে সেই দম্পতিদের সংখ্যা মাত্র চার। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি রিচার্ড হ্যাডলি ও ক্যারেন হ্যাডলি। হ্যাডলিকে নতুন করে পরিচয় করে দেওয়ার কিছু নেই। নিউজিল্যান্ডের তো বটেই, সর্বকালেরই অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। ক্যারেন অবশ্য এতটা বিখ্যাত নন, নিউজিল্যান্ডের হয়ে ১৯৭৮ সালে একটা মাত্র ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। তবে দুজনের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে আরও দুই দশক আগেই। এই দুজনকে অবশ্য টেস্ট খেলুড়ে জুটি বলার উপায় নেই। তবে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার দম্পতি যাঁদের বলা হয়, তাঁরা এমন বিখ্যাত কেউ নন। রজার প্রিডো ১৯৬০ সালের শেষ দিকে তিনটি টেস্ট খেলেছিলেন ইংল্যান্ডের হয়ে। তাঁর স্ত্রী রুথ ওয়েস্টব্রুক অবশ্য ১১টি টেস্ট খেলেছেন। প্রিডো এখনো বেঁচে আছেন, ওয়েস্টব্রুক পৃথিবী ছেড়ে গেছেন কিছুদিন আগে। এই তালিকার শেষ যে দম্পতি, তাঁদের একজনও ক্যানসারের কাছে হার মেনে পৃথিবী ছেড়ে গেছেন বছর তিনেক আগে। তিনি শ্রীলঙ্কার সাবেক উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান গাই ডে অলভিস। শ্রীলঙ্কার হয়ে ১১টি টেস্ট খেলেছিলেন অলভিস, ১৯৮৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ রানও ছিল এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের। খেলা ছাড়ার পর শ্রীলঙ্কার মেয়েদের দলের কোচ হয়েছিলেন। পরে ওই দলেরই রাসাঞ্জলি চান্ডিমা সিলভাকে বিয়ে করেন। রাসাঞ্জলিও ১৯৯৮ সালে একটি টেস্ট খেলেছিলেন শ্রীলঙ্কার হয়ে।

জিতল সাকিবের কেকেআর

সাকিব আল হাসান
আগের ম্যাচে ৩ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়েছিলেন। উইকেট যদিও পাননি, তবু সাকিব আল হাসানকে দিয়ে পুরো ৪ ওভার কেন করাননি কলকাতা নাইট রাইডার্স অধিনায়ক—এ নিয়ে একটু আফসোস ছিল বাংলাদেশের মানুষের। গতকাল মোহালিতে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে সেই আক্ষেপ আর থাকল না। পুরো ৪ ওভারই করেছেন সাকিব। তবে অন্য একটা আক্ষেপ থেকেই গেল, ২৮ রান দিয়ে যে কালও উইকেটশূন্য থাকলেন বাংলাদেশ অলরাউন্ডার! ব্যাট হাতেও ভালো কিছু হয়নি। একবার ‘জীবন’ পেয়েও ১৫ বলে এক চারে করেছেন ১১। অবশ্য ১৭ বল হাতে রেখেই ম্যাচ ৬ উইকেটে জিতেছে সাকিবের দল কেকেআর (১৪১/৪)। এর আগে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৩৮ রান তোলে পাঞ্জাব। শুরু থেকেই পাঞ্জাব ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখতে সাকিবকে তৃতীয় ওভারে বোলিংয়ে নিয়ে আসে কলকাতা। নিজের প্রথম ওভারে দেন ৬ রান। দ্বিতীয় ওভারটায় একটু রাশ ছুটে যায়, ৯ রান। তবে শেষের দুই ওভার আবার নিয়ন্ত্রিত, যথাক্রমে ৬ ও ৭ রান। নিয়ন্ত্রণ ছিল সাকিবের ফিল্ডিংয়েও। দলের প্রথম উইকেটটি তো তাঁরই অবদান। ডিপ মিড উইকেটে অনেক দূর দৌড়ে এসে ঝাঁপ দিয়ে যে ক্যাচ ধরলেন, সেটিই ‘আসল’ সাকিবকে বোঝাল এই ম্যাচে। দ্রুত রান তোলার তাড়া ছিল না বলেই হয়তো ৪ নম্বরে ব্যাটিংয়ে এসে বল খেলেছেন বেশি, রান করেছেন কম। অক্ষর প্যাটেলের যে বলে আউট হয়েছেন, তার আগের বলে ক্যাচ তুলে দিয়েও বেঁচে যান ফিল্ডারের ব্যর্থতায়।

এখন মাঠে নামার অপেক্ষা

প্রস্তুতি ম্যাচেও ঝড় উঠল
আবাহনীর তামিমের ব্যাটে।
৮০ বলে ১৩৯! পাঁচ ছক্কা ও ১৮টি চার থেকেই ১০২। কিন্তু কে এই ব্যাটসম্যান, যাঁর ব্যাটে কাল এমন ঝড় তুলল? কোথায় উঠল সেই ঝড়? ব্যাটসম্যানের নাম তামিম ইকবাল এবং ভেন্যু ফতুল্লা স্টেডিয়াম। না, বিনা নোটিশে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি কাল। প্রিমিয়ার লিগও হুট করে এগিয়ে আসেনি। তামিম তাহলে কোন ম্যাচে চালালেন এমন তাণ্ডব! আসলে ২২ এপ্রিল থেকে শুরু লিগ সামনে রেখে গত দুই দিন নিজেদের মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে চারটি ক্লাব। পরশু ফতুল্লায় খেলল মোহামেডান ও প্রাইম দোলেশ্বর। কাল প্রাইম ব্যাংকের মুখোমুখি হয়েছে আবাহনী এবং সেই ম্যাচেই এই তামিম-ঝড়। লিগ শুরুর আগে আবাহনীর বাঁহাতি ওপেনার এটিকে নিচ্ছেন দারুণ অনুপ্রেরণাদায়ী হিসেবে, ‘যেকোনো ম্যাচেই এ রকম একটা ইনিংস আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। খুব ভালো লাগবে আমি যদি লিগেও এই খেলাটা খেলতে পারি।’ ৩২২ রান করে আবাহনী ম্যাচ জিতেছে ৭৫ রানে। প্রস্তুতি ম্যাচ দুই দিন ধরে হলেও ঢাকার ক্রিকেটে প্রিমিয়ার লিগের হাওয়া লেগেছে আরও আগেই। এখন শুধু মাঠে নামার অপেক্ষা। মিরপুরের একাডেমি মাঠ ভাগ করে প্রতিদিন দুই বেলা অনুশীলন করছে দলগুলো। কাল তো প্রথম তিন রাউন্ডের সূচিও ঘোষণা হয়ে গেছে। এক দিন করে ‘রিজার্ভ ডে’, প্রতিদিন তিনটি ম্যাচ হবে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম, ফতুল্লা স্টেডিয়াম ও বিকেএসপিতে। সুপার লিগে মিরপুর ও ফতুল্লার ম্যাচগুলো হবে দিবারাত্রির। মিরপুরের ম্যাচ সরাসরি দেখানো হতে পারে টেলিভিশনে। সব দলের কোচ-অধিনায়কদের নিয়ে বিসিবি কার্যালয়ে কাল হলো সিসিডিএমের বাইলজ সভাও। ঝড়-বৃষ্টির মৌসুম বলে সভায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে রিজার্ভ ডে ও কর্তিত ওভারের ম্যাচের প্রসঙ্গ। কোনো ম্যাচ যদি শুরুই হয় ২৫ বা তার কম ওভারের দৈর্ঘ্যের, তাহলে দুই প্রান্ত থেকে দুই নতুন বলের পরিবর্তে খেলা হবে এক বল দিয়ে। তবে খেলা শুরুর পর বৃষ্টির বাগড়ায় ওভার কাটা হলে দুই বলেই হবে বোলিং। রিজার্ভ ডের নিয়মটাও রাখা হয়েছে নমনীয়। ধরুন টস হয়ে গেল, ঘোষণা হয়ে গেল দুই দলের প্রথম একাদশ, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেদিন একটি বলও খেলা হলো না; সে ক্ষেত্রে পরদিন টস হবে নতুন করে। খেলোয়াড় তালিকা বদলানোরও সুযোগ থাকবে। ম্যাচ শুরু হয়ে গিয়ে রিজার্ভ ডেতে গেলে খেলোয়াড় পরিবর্তনের সুযোগ স্বাভাবিকভাবেই থাকবে না। তবে একবার খেলা শুরু হয়ে গেলে রিজার্ভ ডের কথা না ভেবে লক্ষ্য থাকবে ওভার কমিয়ে হলেও ওই দিনই ম্যাচ শেষ করার। বৃষ্টির কারণে সেটা সম্ভব না হলেই শুধু পরের দিনে গড়াবে খেলা।  সভায় ২২ এপ্রিলের মধ্যে সিসিডএমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে চুক্তির কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে ক্লাবগুলোকে। চুক্তিপত্র ছাড়া কোনো খেলোয়াড়কে মাঠে নামতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। প্রতিটি দল লিগজুড়ে যতজন সম্ভব বিদেশি খেলোয়াড় নিবন্ধন করাতে পারবে। কিন্তু এক ম্যাচে খেলানো যাবে একজনকেই। অবশ্য কাল পর্যন্ত যে কয়টি দলের বিদেশি খেলোয়াড় নিশ্চিত হয়েছে বলে জানা গেছে, তাতে বড় নাম তেমন একটা নেই। দুই জিম্বাবুইয়ান শন উইলিয়ামস ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজা খেলবেন ব্রাদার্স ও কলাবাগান ক্রীড়া চক্রে। শ্রীলঙ্কার উপুল থারাঙ্গা মোহামেডানে, এহসান লাহিরু মালিনথা প্রাইম দোলেশ্বরে ও দিলশান মুনাবিরার প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেটার্সে খেলা নিশ্চিত। প্রাইম ব্যাংক পরে আনতে পারে পাকিস্তানের শোয়েব মালিককেও। এবারের লিগে আরও­ দুজন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের খেলা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে খেলবেন সাঈদ আনোয়ার জুনিয়র, কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমিতে আসহার জাইদি। শ্রীলঙ্কার চামারা কাপুগেদারার সঙ্গে এখনো কথা চলছে আবাহনীর। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব চেষ্টা করছে ইংল্যান্ডের রবি বোপারাকে আনতে।

টেনিসে চলছে ‘কঠিন সময়’

যতক্ষণ প্রমাণ না মিলছে, টেনিসকে পরিচ্ছন্ন খেলাই ভাবতে চান জোকোভিচ
মারিয়া শারাপোভার মতো বড় তারকা, টেনিসের সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর একটি নিষিদ্ধ হয়েছেন নিষিদ্ধ ড্রাগ ব্যবহার করায়। যদিও এই নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী নয়, অপরাধটাও নয় গুরুতর। তবে টেনিসের আড়ালে থাকা ক্ষত যেন ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে। ডোপিং আর ম্যাচ পাতানোর ফিসফাস শোনা যায় কান পাতলেই। এ সময়ের টেনিসের এক নম্বর তারকা মনে করেন, স্বচ্ছ ও নিষ্কলুষ খেলা বলে পরিচিত টেনিস পার করছে কঠিন এক সময়। নোভাক জোকোভিচ মনে করেন, টেনিসে ম্যাচ পাতানো ও ডোপ কেলেঙ্কারির যেসব কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে, খেলাটার বিশ্বাসযোগ্যতার বারোটা বাজাতে এতটুকুই যথেষ্ট। অভিযোগগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি তাই জরুরি। তবে নিষ্পত্তির আগে পুরো বিষয়টি নিয়ে যেকোনো উপসংহার টানারও ঘোর বিরোধী তিনি। জোকোভিচ এখনো আশার দিকটাই, আলোর দিকটাই বড় করে দেখতে চান, ‘যতক্ষণ ডোপসংক্রান্ত কোনো প্রমাণ আমি না দেখছি, ততক্ষণ খেলাটিকে পরিচ্ছন্ন হিসাবে মেনে নিতে আমার কোনো আপত্তি নেই।’ গত সোমবার বিশ্ব ক্রীড়ার অত্যন্ত সম্মানজনক পুরস্কার ‘লরিয়াস’ জিতেছেন জোকোভিচ। বছরের সেরা ক্রীড়াবিদ হয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জোকোভিচের চাওয়া একটাই—খুব দ্রুতই যেন টেনিস দুনিয়ার আকাশে-বাতাসে ভেসে বেড়ানো নেতিবাচক কানাঘুষাগুলোর সমাধান করা হয়, সম্প্রতি টেনিস খেলাটা বাজি, জুয়া, পাতানো খেলা, ডোপিং ইত্যাদি অভিযোগে ভারাক্রান্ত। তবে এসবের প্রমাণ বের করার দায়িত্ব বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের। তারা এই অভিযোগগুলোর দ্রুত সমাধান করুক। অভিযোগগুলো সম্বন্ধে প্রমাণ হাজির করুক। কিছুদিন আগেই ব্রিটিশ টেনিস তারকা অ্যান্ডি মারে অভিযোগের সুরে বলেছিলেন, টেনিস নাকি পরিচ্ছন্নতা হারিয়ে ফেলছে। মারের এই মন্তব্যের সঙ্গে একমত নন জোকোভিচ, ‘যতক্ষণ কোনো প্রমাণ না পাওয়া যাচ্ছে, আমি খেলাটিকে পরিচ্ছন্ন হিসেবেই ধরে নেব। মারের সঙ্গে আমি এ ব্যাপারে কথা বলেছি। আমি ওর মতামতকে শ্রদ্ধা করি। তবে আমি এসব ব্যাপারে প্রমাণে বিশ্বাসী।’ মারের মন্তব্যটা ছিল অনেকটাই তীক্ষ্ণ। ব্রিটিশ পত্রিকা মেইল অনলাইন তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিল, মারে প্রতিপক্ষ কোনো খেলোয়াড়ের ডোপ-পাপ সন্দেহ করেন কি না। এমন প্রশ্নের জবাবে মারে বেশ কয়েকবার সন্দেহ জাগার কথা জানিয়েছেন। মারের মন্তব্যে জোকোভিচের প্রতিক্রিয়া কূটনৈতিক হলেও ভীষণ খেপেছেন জোকোভিচের কোচ, টেনিসের সাবেক তারকা বরিস বেকার। তিনি বলেছেন, কেউ একজন গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন বলে কিংবা কোনো খেলোয়াড় মারের চেয়ে ফিট বলেই যে তিনি ডোপ নিয়েছেন—এমনটা ভাবা মারের পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

দ্বিতীয় দ্রুততম গোলের সেঞ্চুরি আগুয়েরোর

আগুয়েরো ছুঁয়ে ফেললেন গোলের সেঞ্চুরি
নিজের ক্যারিয়ারের ৫০০তম গোলের দিন হতাশা নিয়েই মাঠ ছেড়েছিলেন লিওনেল মেসি। আ​র বন্ধু সার্জিও আগুয়েরোও কাল একটা মাইলফলক ছুঁলেন। তাঁরও সঙ্গী হলো হতাশা। অবনমন অঞ্চলে ধুঁকতে থাকা নিউক্যাসলের সঙ্গে যে ১-১ ড্র করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। আগুয়েরো অবশ্য নিজেকে ভাগ্যবানও ভাবতে পারেন। পরিষ্কার অফসাইডে থাকার পরও লাইন্সম্যানের পতাকা ওঠেনি। আর সেই অফসাইড গোল দিয়েই প্রিমিয়ার লিগে নিজের শততম গোলটি করে ফেললেন এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। ১৪ মিনিটে দলকে এগিয়ে​ যাওয়ার পরও সিটি বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি। দুই বছর পর ভারনন আনিটা গোলের খাতায় নাম লেখানোয় ৩১ মিনিটে ১-১ সমতায় ফেরে রাফা বেনিতেজের দল। শেষ পর্যন্ত ওটাই ম্যাচের ফল। ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে ২৫তম খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ গোল করলেন আগুয়েরো। তালিকাটা লম্বা হলেও অনেক দিক দিয়েই আগুয়েরো পেরিয়ে যাচ্ছেন বাকিদের। তাঁর চেয়ে দ্রুততম সময়ে শততম গোল করেছেন কেবল অ্যালান শিয়েরার। সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকারের লেগেছিল ১২৪ ম্যাচ, কালকের ম্যাচটি ছিল আগুয়েরোর ১৪৭তম। প্রিমিয়ার লিগের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে নিখুঁত গোলশিকারি হিসেবে পরিচিত থিয়েরি অঁরিরও লেগেছিল ১৬০ ম্যাচ। একদিক গিয়ে আগুয়েরো পেরিয়ে গেলেন সবাইকে, এমনিকে শিয়েরারকেও। আগুয়েরো গড়ে প্রতি ১০৮.৪ ​মিনিটে একটি করে গোল করেছেন। যেখানে অঁরির প্রতিটি গোল এসেছে ​গড়ে ১২১.৮ মিনিটে, রুড ফন নিস্টলরয়ের প্রতিটা গোল এসেছে ১২৮.২ মিনিটে। অবশ্য প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সংক্ষিপ্ত তালিকাতে ঢুকতে আগুয়েরোকে পাড়ি দিতে হবে লম্বা সময়। শিয়েরার করেছেন ২৬০ গোল। ২০০ গোলও আর কারও নেই। ১৯২ গোল করা রুনি ​সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন। অ্যান্ডি কোল (১৮৭), ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড (১৭৭), অঁরি (১৭৫) আছেন এরপর। আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা আগুয়েরো আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। লিগে টানা চার ম্যাচে গোল ক​রলেন। রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ​চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে সিটির ইতিহাস গড়ার মূল ভরসাও এখন তিনি। সব মিলিয়ে পেশাদার ক্যারিয়ারে তাঁর গোল ২৯০টি। মেসির সঙ্গেই যাত্রা শুরু করলেও গোলসংখ্যায় কিন্তু পিছিয়ে আছেন ঢের। মেসি অস্বাভাবিক হারে গোল করলে আগুয়েরোরই–বা কী করবেন!

শীর্ষে সাকিবের কেকেআর

কাল অনায়াস জয় দিয়ে শীর্ষে সাকিবের কেকেআর
বল হাতে ২৮ রান দিয়ে উইকেটশূন্য। ব্যাট হাতে এবারের আইপিএলে প্রথম সুযোগ পেলেও করেছেন মাত্র ১১। তবু কাল দিন শেষে সাকিব আল হাসানের মুখে চওড়া হাসিই থাকল। তাঁর দল কল​কাতা নাইট রাইডার্স যে উঠে এসেছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। রবিন উথাপ্পার ২৮ বলে ৫৩ রানের ইনিংসের সৌজন্যে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের করা ১৩৮ কেকেআর পেরিয়ে গেছে ৬ উইকেট আর ১৭ বল হাতে রেখে। চার ম্যাচে এটি কেকেআরের তৃতীয় জয়। ৬ পয়েন্ট পয়েন্ট আছে গুজরাট লায়ন্সেরও। কিন্তু রান রেটে এগিয়ে থাকায় শীর্ষে কলকাতা। সুরেশ রায়নার নেতৃত্বে এবারের আইপি​এলের নতুন দল গুজরাট বেশ চমক দেখাচ্ছে। কেকেআরের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলা গুজরাট আগামীকাল হায়দরাবাদ সানরাইজার্সের বিপক্ষে জিতলে আবারও শীর্ষে ফিরবে। তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে তিনে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। বাকি পাঁচটি দলেরই পয়েন্ট দুই। এর মধ্যে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস আর কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব চারটি করে ম্যাচ খেলে মাত্র এক জয় পেয়েছে। তিন ম্যাচের দুটিতে হেরেছে হায়দরাবাদ ও রাইজিং পুনে। দুই ম্যাচ খেলে একটি করে জয়-পরাজয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর। বেঙ্গালুরু আর মুম্বাই মুখোমুখি হবে আজ।

বিপাশার বিয়েতে জনের প্রতিক্রিয়া

বিপাশা বসু ও জন আব্রাহাম
টানা এক দশক প্রেম করার পর বিচ্ছেদ ঘটেছিল বলিউডের তারকা বিপাশা বসু ও জন আব্রাহামের। ‘জিসম’, ‘মাদহোশি’, ‘অ্যাইতবার’-এর মতো বেশ কয়েকটি ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন এই দুই বলিউড অভিনয়শিল্পী। তাঁদের মধ্যে এখন আর কোনো সম্পর্কই নেই। জন এখন অন্য আরেক নারীর স্বামী। আর মাত্র দিন কয়েক পর বিপাশাও গাঁটছড়া বাঁধতে যাচ্ছেন বলিউডের আরেক অভিনেতা করন সিং গ্রোভারের সঙ্গে। সাবেক প্রেমিকার বিয়ে প্রসঙ্গে জনের প্রতিক্রিয়া জানতে সাংবাদিকেরা উৎসুক হয়েছিলেন। সাংবাদিকদের সেই উৎসাহ নিমেষেই নিভিয়ে দিয়েছেন জন। কীভাবে? গতকাল সোমবার একটি অনুষ্ঠানে অনেক প্রশ্নের ভিড়ে জন আব্রাহামের কাছে একটি ‘বিশেষ প্রশ্ন’ ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, বিপাশার বিয়ে নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া কী? কিন্তু সংবাদমাধ্যমের এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি ৪৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা। প্রশ্ন শুনে মুখের সামনে থেকে মাইক সরিয়ে, অন্যদিকে তাকিয়ে হাঁটতে শুরু করেন এই ‘হাউসফুল-দুই’ তারকা। জন আব্রাহাম ২০১৪ সালে বিয়ে করেন প্রিয়া রাঞ্চালকে। তিনি পেশায় একজন ব্যাংকার। এদিকে ৩০ এপ্রিল প্রেমিক করন সিং গ্রোভারকে বিয়ে করবেন বলিউডের ‘বং বিউটি’ বিপাশা বসু।

দীপিকার এক শর্ত

দীপিকা পাড়ুকোন
পরিচালক কবির খানকে শর্ত বেঁধে দিয়েছেন দীপিকা পাড়ুকোন। শর্ত মানলেই কেবল বলিউডের সুপারস্টার সালমান খানের বিপরীতে তাঁর ছবিতে অভিনয় করবেন এই অভিনেত্রী। সেই শর্ত মানতে কবির খানকে ভাঙতে হবে ছোট্ট একটি প্রথা। তাতেও রাজি কবির। কী সেই শর্ত সালমানের বিপরীতে অভিনয় করতে মুখিয়ে আছেন বলিউডের বহু নায়িকা। কিন্তু এমন শর্ত বেঁধে দেওয়ার ঘটনা সম্ভবত এটাই প্রথম। দীপিকার শর্ত বেঁধে দেওয়ার কারণ একটাই। নিজের অবস্থানটা তিনি বুঝে গেছেন, সেটা অন্যদের বোঝাতেও চেয়েছেন। তাই পরিচালক কবির খানকে জানিয়ে দিয়েছেন, শুধু ছবিতে ‘থাকা’র জন্যই থাকবেন না তিনি। তাঁর চরিত্রটিকে হতে হবে মজবুত। সচরাচর সালমান খানের ছবিতে নায়িকা থাকেন শুধু ‘নামমাত্র’। পর্দায় তাঁদের দেখা মেলে অল্প কিছু দৃশ্যে। এমনকি সিনেমার গল্পেও তাঁদের তেমন কোনো গুরুত্ব থাকে না। কিন্তু কবির খান তাঁর পরবর্তী ছবি ‘মাঝদার’-এ দীপিকাকে সেভাবে উপস্থাপন করবেন না বলেই কথা দিয়েছেন। বলিউডে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম সালমানের সঙ্গে জুটি বাঁধতে যাচ্ছেন দীপিকা। এর আগে সালমানের ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’ ছবিতে অভিনয়ের কথা ছিল দীপিকার। কিন্তু তাতে অভিনয় করেছিলেন সোনম কাপুর। আবার ‘সুলতান’ ছবির নায়িকা হিসেবেও কাজের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল দীপিকাকে। কিন্তু দীপিকার ব্যস্ততায় সেটি আর সম্ভব হয়নি। কবির খান পরিচালিত ‘মাঝদার’ ছবিটি মুক্তি পাবে ২০১৭ সালের ঈদে। বলিউডের সব থেকে পারিশ্রমিক নেওয়া অভিনেত্রী দীপিকা এখন শুধু বলিউডের নন। সম্প্রতি তিনি শেষ করেছেন তাঁর প্রথম হলিউডের ছবি ‘এক্সএক্সএক্স: দ্য রিটার্ন অব ​জেন্ডার কেজ’। তাঁর বিপরীতে এতে অভিনয় করেছেন ভিন ডিজেল। ছবিটি মুক্তি পাবে আগামী বছরের শুরুতে।

মাহি, ফারিয়া, জলি, নাকি নতুন কেউ? শফিক আল মামুন

মাহিয়া মাহি, নুসরাত ফারিয়া ও জলি
এসকে মুভিজ ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার যৌথ প্রযোজিত লেডি অ্যাকশনধর্মী ছবি ‘অগ্নি’ ও সিক্যুয়াল ‘অগ্নি-২’। ঘোষণা থাকলেও পরের সিক্যুয়াল ‘অগ্নি-৩’ হচ্ছে না আপাতত। তবে অগ্নি ছবির আদলে যৌথভাবে নতুন একটি ছবি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন এই দুই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। ছবির নাম ‘রক্ত’। পরিচালনা করবেন মালেক আফসারি। জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজ জানিয়েছেন, ‘অগ্নি’ ছবির মতোই এটিও ‘লেডি অ্যাকশন’ ছবি হবে। বাজেটও অনেক বড়। এ ছবির অ্যাকশন দৃশ্যের জন্য ফাইট ডিরেক্টর হিসেবে থাকছেন থাইল্যান্ডের জাইকা ও চেন্নাইয়ের রাজেশ। কিন্তু ছবির নায়িকা হিসেবে সেই ‘অ্যাকশন লেডি’ কে হচ্ছেন? এবারও কি মাহিয়া মাহি, নাকি ফারিয়া কিংবা জলি? নায়িকার নামের বিষয়টি রহস্যে রেখেই উত্তর দিলেন জাজের এই কর্ণধার। তিনি বলেন, ‘এখনই নায়ক-নায়িকার নাম প্রকাশ করতে চাইছি না। তবে নায়ক নয়, এখানে নায়িকাকে নিয়ে চমক দিতে চাই। এতটুকু বলতে চাই যে এমন একজনকে নায়িকা হিসেবে এ ছবিতে নেওয়া হয়েছে, দেখলে সবাই অবাকই হবেন।’ আবদুল আজিজ জানান, আগামী সপ্তাহে রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে বড় অনুষ্ঠান করার মধ্য দিয়ে সবার সামনে সরাসরি মঞ্চে উঠিয়ে নায়িকার চমক দেওয়া হবে। ছবির গল্প প্রসঙ্গে পরিচালক মালেক আফসারি জানান, ছোট ভাইকে উদ্ধার অভিযানে শত্রুদের সঙ্গে বড় বোনের লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই এর গল্প এগিয়ে যায়। পরিচালক আরও জানান, আগামী ১০ মে থেকে ‘রক্ত’ ছবির শুটিং শুরু হবে। বাংলাদেশ, ভারত ও থাইল্যান্ডের লোকেশনে ছবিটির শুটিং করার কথা রয়েছে।

টমি সিংয়ে হানি সিংয়ের ছায়া?

শহীদ কাপুর ও হানি সিং।
নির্মাতা অভিষেক চৌবের নতুন ছবি ‘উড়তা পাঞ্জাব’-এর নাম ঘোষণার পর থেকেই সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় এসেছে। এ ছবিতে বলিউডের তারকা শহীদ কাপুর অভিনয় করেছেন একজন মাদকাসক্ত রকসংগীতশিল্পীর চরিত্রে। ‘উড়তা পাঞ্জাব’ ছবিতে তাঁর চরিত্রটির নাম ‘টমি সিং’। সম্প্রতি বলিউডে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে ছবিটি নাকি ভারতীয় র‍্যাপসংগীত গায়ক হিরদেশ সিং; যিনি ‘হানি সিং’ নামেই বেশি পরিচিত, তাঁর জীবন নিয়ে তৈরি। সম্প্রতি ভারতের বেশ কিছু গণমাধ্যম এমন খবরই প্রকাশ করেছে। হানি সিংয়ের জন্ম ভারতের পাঞ্জাবে। সংগীতপরিচালক ও গায়ক হিসেবে যখন সাফল্যের প্রায় চূড়ায় পৌঁছে যাচ্ছিলেন, তিনি ঠিক তখনই তাঁর নামে মাদকাসক্তির অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘ ১৮ মাস লোকচক্ষুর আড়ালেই ছিলেন হানি সিং। সে সময়টা মাদক নিরাময়কেন্দ্রে চিকিৎসা চলছিল তাঁর।‘উড়তা পাঞ্জাব’ ছবির ট্রেলার দেখে অনেকেই ধারণা করছেন যে এখানে শহীদ কাপুরের চরিত্রটি ‘হানি সিং’-এর জীবন থেকে অনুপ্রাণিত। যদিও ছবির নির্মাতা এ কথা স্বীকার করেননি। তবে এ ছবির সঙ্গে যুক্ত আছেন এমন একজন জানিয়েছেন, ‘উড়তা পাঞ্জাব’ ছবিতে হানি সিংয়ের জীবনের ছায়া পাওয়া যাবে। ১৭ জুন এই ছবি মুক্তির পরই নিশ্চিত করে বিষয়টি জানা যাবে। ‘উড়তা পাঞ্জাব’ ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন কারিনা কাপুর খান ও আলিয়া ভাট।

‘বালিকা বধূ’ প্রত্যুষা মৃত্যুর আগে অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন!

প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতীয় টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বালিকা বধূর’ পরিচিত মুখ প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর আগে অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। মৃত্যুর আগে সম্ভবত তিনি একবার গর্ভপাতও করিয়েছিলেন। জে জে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। আজ মঙ্গলবার টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জে জে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা প্রত্যুষার অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি জানিয়েছেন। তদন্ত–সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, পরীক্ষায় দেখা গেছে, মৃত্যুর মাস খানেক আগে প্রত্যুষা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ভ্রূণটির অপরিণত অবস্থায় মৃত্যু হয়। প্রত্যুষার জরায়ুর কোষ পরীক্ষায় দেখা গেছে, তিনি গর্ভপাত করিয়েছিলেন বা গর্ভপাত হয়েছিল। তবে প্রত্যুষার সেই সন্তানের পিতৃপরিচয় বের করা নিয়ে বেশ কঠিন সময় পার করছে পুলিশ। এখন শুধু ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেই তা জানা সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। জে জে হাসপাতালের ডিন টিপি লাহানে বলেন, এ–সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রত্যুষার মৃত্যুর পর প্রাথমিক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গলায় ফাঁস লেগে শ্বাসরোধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর ওপর কোনো রকমের বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, সে সংক্রান্ত পরীক্ষা কিছুদিনের মধ্যে কালিনা ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে জানা যাবে। ১ এপ্রিল মুম্বাইয়ের ফ্ল্যাট থেকে প্রত্যুষার গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ অনুমান করেছিল, প্রত্যুষা আত্মহত্যা করেছেন। পরে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানানো হয়, শ্বাসরোধে প্রত্যুষার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রত্যুষার আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে তাঁর প্রেমিক অভিনেতা-প্রযোজক রাহুল রাজ সিংকে অভিযুক্ত করেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতেই বাঙ্গুর নগর থানার পুলিশ রাহুলকে আটক করে। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে রাহুল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে রাহুল আদালত থেকে শর্ত সাপেক্ষে আগাম জামিন নেন। কলকাতার জামশেদপুরের মেয়ে প্রত্যুষা বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত শেষ সম্প্রচারিত ধারাবাহিক ‘শ্বশুরাল সিমার কি’। রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস ৭’-এ দেখা গেছে তাঁকে।

শুটিংয়ে-চিত্রনাট্যে মোশাররফ করিম

যমজ নাটকে একসঙ্গে তিন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম
কয়েক দিন আগে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরেছেন মোশাররফ করিম। পরদিনই অভিনয় শুরু করেছেন সাগর জাহানের পরিচালনায় চুপ ভাই কিছু ভাবছে নাটকে। ছয় পর্বের নাটকটি নির্মিত হচ্ছে ঈদুল ফিতরের জন্য। অবশ্য বছর দুয়েক আগে চুপ ভাই কিছু বলবে নামে একই নির্মাতার একটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন মোশাররফ। নির্মাতা বলেন, এটা ওই নাটকেরই সিক্যুয়েল। যেমনটি ছিল তাঁর আরমান ভাই ও সিকান্দার বক্স নামের ঈদ ধারাবাহিক দুটি। যখন চুপ ভাই কিছু ভাবছে নাটকের শুটিং করছিলেন মোশাররফ করিম, তখনই নির্মাতা অনিমেষ আইচের ফেসবুক টাইমলাইনে দেখা গেল নতুন একটি নাটকের চিত্রনাট্য লেখার খবর। চিত্রনাট্যের একটি পাতার পাশাপাশি মোশাররফ করিমের দুটি ভিন্ন ধরনের বেশভুষার ছবি। ছবি তিনটির ক্যাপশনে অনিমেষ আইচ লিখেছেন, ‘আমি আমার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বেশ সিরিয়াসধর্মী কাজ করে আসছি। যদিও কিছু নাটকে তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। কিন্তু কয়েক বছর যাবৎ আমার লেখা একটি কমেডি নাটক জনপ্রিয়তার চরমে পৌঁছে গেছে।
চুপ ভাই কিছু ভাবছে নাটকে
সহশিল্পীদের সঙ্গে মোশাররফ করিম
নাটকটির নাম যমজ। সেই নাটকটির সিক্যুয়েল লিখছি এখন। লিখতে লিখতে এক্কা, নিক্কা আর কদু আজাদকে চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি আর একা একাই হাসছি। স্ক্রিপ্ট হাতে পেলে মোশাররফ করিম তাঁর অভিনয় জাদু দিয়ে দর্শকদের অন্য মাত্রার বিনোদন দেবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এবার ঈদে পুনরায় লোক হাসাতে আসছি আমরা যমজ ৫ নিয়ে। এক্কা দোক্কা এবার ক্রিকেটার।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেল, যমজ ৫-এর গল্প এবার গ্রামের ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে। পুরো নাটকে নারী অভিনয়শিল্পীর উপস্থিতি নেই বললেই চলে। অনিমেষ আইচের চিত্রনাট্যে এটি নির্মাণ করছেন আজাদ কালাম। নির্মাতা বলেন, ‘এ মাসের শেষ দিকে নাটকটির শুটিং হবে মানকিগঞ্জের একটি গ্রামে। সে অনুযায়ী মোশাররফ করিমের কাছ থেকে সময়ও নেওয়া হয়েছে। এই দুই নাটকের গল্পই মোশাররফ করিমকে ঘিরে।’ কথা হলো মোশাররফ করিমের সঙ্গে। বললেন, ‘আমার জন্য এটা আনন্দের খবর। নির্মাতাদের পছন্দ অনুযায়ী কাজ করতে পারছি।’