Tuesday, January 9, 2018

চট্টগ্রামে সফরে আসলেন ভারতীয় কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক

চট্টগ্রামে সফরে আসলেন ভারতীয় কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রাজেন্দ্র সিং । 
মঙ্গলবার  সকাল পৌনে ১১টার দিকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন এম ওয়াসিম মকসুদ।

এরপর তিনি বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জাহাজ তাজউদ্দিনের অধিনায়কের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, পরিদর্শন ও ক্রেস্ট বিনিময় করেন।

তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার বিএন ফ্লিট ও জোনাল কমান্ডার পূর্ব জোনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, ক্রেস্ট বিনিময় করেন। রাতে আইসিজি শৌনক’র সৌজন্যে আয়োজিত বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ওপিভিতে নৈশভোজে অংশ নেবেন।

নৈশভোজে সামরিক বহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন।

আলোচ্য সফর বাংলাদেশ ও ভারতীয় কোস্টগার্ড তথা দুই দেশের পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে।

১৪৭ বছরে মারা গেলেন সৌদির সবচেয়ে বয়োবৃদ্ধ

 
সৌদি আরবের সবচেয়ে বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি মারা গেছেন। শেখ আলি আল আলাকমি নামের ওই ব্যক্তির বয়স হয়েছিল ১৪৭ বছর। তিনি গত সপ্তাহে মারা গেছেন বলে জানিয়ে খবর প্রকাশ করেছে দুবাই ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম খালিজ টাইমস।

আলাকমি ব্রেন স্ট্রোকে মারা গেছেন। যদিও অনেক আগেই তার ছেলে মারা গেছেন।

কিন্তু এতো দিন বেঁচে থাকার রহস্যটা কী?

জানা গেলো আলাকমির পরিবারের কাছ থেকেই। তারা বলছেন, আলাকমি সবসময় অরগ্যানিক খাবার খেতেন।  গাড়ির পরিবর্তে সবসময় হেঁটে চলতেন  তিনি।

তার পরিবার আরো জানিয়েছে, তিনি হাঁটাহাঁটি খুবই পছন্দ করতেন। এতোটাই পছন্দ করতেন যে, একবার আভায় নিজ বাড়ি থেকে হেঁটে তিনি মক্কায় হজ করতে গিয়েছিলেন। এই পথটাও কম নয়। তাও প্রায় ছয়শ কিলোমিটারের ওপরে।

ইয়াহইয়া আল আলেকামি নামের পরিবারের এক সদস্য বলেছেন, শেখ আলি সবসময় নিজের খেতের অরগ্যানিক খাবার খেতেন। তার খাবার তালিকায় ছিল গম, ভুট্টা, বার্লি ও মধু। তিনি নিজের খামারের গবাদি পশুর মাংস খেতেন। শেখ আলি প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ভুরিভোজ এড়িয়ে চলতেন।

মৃত্যুর আগে শেখ আলি বলেছেন, আগেই জীবন সুন্দর ছিল। এখন মানুষ বা কোনো কিছুই আর আগের মতো নেই। আমার প্রজন্মের আর কেউ বেঁচে নেই। তাই আমি মানুষের মধ্যে একাকী অনুভব করি।

সোনার ভরি ৫০ হাজার টাকা ছাড়াল


সোনার দর আরেক দফা বেড়ে প্রতি ভরি ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। বুধবার থেকে প্রতি ভরি সবচেয়ে ভালো মানের সোনা ৫০ হাজার ৭৩৮ টাকায় বিক্রি হবে। 

মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এই সোনার দাম বেড়েছে ভরিতে এক হাজার ৪০০ টাকা বেড়েছে। অন্যান্য মানের দাম বেড়েছে ভরিতে এক হাজার ৩০০ টাকার মতো।

বুধবার থেকে নতুন দর কার্যকর হবে বলে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে।

বিয়ের মওসুমে স্থানীয় বাজারে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে বলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা জানিয়েছেন।

তিনি  বলেন, “বিয়ের মৌসুম, বড় দিন এবং নতুন বছরকে সামনে রেখে স্থানীয় বাজারে সোনার চাহিদা বেশ বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় সরবরাহ কম। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এবার আমরা সোনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

বাংলাদেশে শীতকালে সাধারণত বিয়ে বেশি হয়ে থাকে। এবারও শীতের শুরুতে গত ২৬ নভেম্বর সোনার দাম বাড়িয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা।

ট্যাক্স দিতে হবে না সৌদি প্রবাসী শ্রমিকদের!

সৌদিতে প্রবাসী শ্রমিকদের নতুন করে কোনো ট্যাক্স দিতে হবে না বলে নিশ্চিত করেছে শ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (এমএলএসডি)। মন্ত্রণালয়ের দাবি সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। প্রবাসী শ্রমিকদের মাসিক বেতন ৩ হাজার সৌদি রিয়ালের বেশি হলেই তাদের ১০ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হবে বলে যে খবর ছড়িয়েছে তা সত্য নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এমন তথ্য দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে সৌদি গেজেট।

কিছুদিন আগেই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৮ সাল থেকে মূল্য সংযোজন কর ধার্য করা হবে।

ফেডারেল ট্যাক্স অথরিটির নতুন কর পদ্ধতির আওতায় আরো পণ্য ও সেবার উপর ভ্যাট ও ট্যাক্স জারি হচ্ছে। যেসব ব্যবসায় তিন লাখ পঁচাত্তর হাজার দিরহাম বা তার বেশি আয় হবে সে সব প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট এর আওতায় আনা হচ্ছে।

তবে প্রবাসী শ্রমিকরা এই ট্যাক্সের আওতায় থাকছেন না। শ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খালেদ আবা আল খইল বলেছেন, এ ধরনের খবরের কোনো সত্যতা নেই। বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নতুন ট্যাক্স আরোপের কোনো ইচ্ছাই আমাদের নেই।

প্রবাসীদের নিয়োগ ও ওয়ার্ক পারমিটের ক্ষেত্রে ৬০টি চাকরির ক্ষেত্র বাতিল করা হচ্ছে বলেও যে সব খবর বেড়িয়েছে তা ভুল। আবা আল খইল জানিয়েছেন, মাত্র ১৯টি চাকরির ক্ষেত্র সীমিত করা হচ্ছে।

ঢাকায় সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হল সাবেক এমপি ইউসুফকে


গুরুতর অসুস্থ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউসুফকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে পুলিশ প্রহরায় ইউসুফকে নিয়ে একটি  অ্যাম্বুলেন্স সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা.আজিজুর রহমান সিদ্দিকী  বলেন, সকালে আবারও মেডিকেল বোর্ড উনার (মোহাম্মদ ইউসুফ) শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে মতামত দিয়েছে।  রক্তচাপ আগের চেয়ে বেড়েছে।  তবে শরীরের অবস্থা ফ্লাইটে ভ্রমণের উপযোগী নয় বলে মত দিয়েছে মেডিকেল বোর্ড।  এজন্য সড়কপথে অ্যান্বুলেন্সে করে নেওয়া হচ্ছে।
শরীরে রক্তচাপ কিছুটা বাড়লেও কিডনি এখনও খুবই দুর্বল এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে সংক্রমণের ক্ষত আছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।
মোহাম্মদ ইউসুফকে ঢাকায় নেওয়ার সময় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী।
একসময়ের তুখোড় বামপন্থী নেতা মোহাম্মদ ইউসুফ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।  পরে তিনি সিপিবি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
বর্ষীয়ান রাজনীতিক হলেও মোহাম্মদ ইউসুফের অর্থবিত্ত নেই।  বিয়েও করেননি। বার্ধক্যে পৌঁছা মানুষটি নানা রোগে ভুগলেও অর্থাভাবে যথাযথ চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না।
শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রোববার (০৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন রাঙ্গুনিয়ায় মোহাম্মদ ইউসুফের গ্রামের বাড়িতে যান।  তাঁকে এনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করেন।

টানা দুই বছর লোকসানে ইউনাইটেড এয়ার

লোকসান থেকে কাটিয়ে উঠতে পারেনি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেসামরিক বিমান চলাচল কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। এ কারণে শেষ হিসাব বছরেও কোম্পানিটি তার শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে পারছে না।

আজ মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, ৩০ জুন, ২০১৭ শেষ হওয়া হিসাব বছরের জন্য কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশের সুপারিশ করেনি।

কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সবশেষ হিসাব বছরে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের শেয়ার প্রতি লোকসান ১ টাকা ৬৮ পয়সা। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ১৪ পয়সায়।

এর আগের বছরও কোম্পানিটি লোকসানে ছিল। ২০১৬ সালে কোম্পানির লোকসান ছিল শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৬৬ পয়সা। যেখানে আগের বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৩১ পয়সা।

সে হিসেবে টানা দুই বছর লোকসানে বিমান খাতের এ কোম্পানিটি।

সবশেষ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও অন্যান্য অ্যাজেন্ডা অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করবে কোম্পানিটি। এজিএমের তারিখ, সময় ও স্থান পরে জানিয়ে দেয়া হবে। রেকর্ড ডেটও পরে জানিয়ে দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি শুরু থেকে টানা লভ্যাংশ দিয়ে আসছে।

এর মধ্যে কোম্পানিটি ২০১৫ সালে ১০ শতাংশ, ২০১৪ সালে ১০ শতাংশ, ২০১৩ সালে ১২ শতাংশ, ২০১২ সালে ১৫ শতাংশ, ২০১১ সালে ১০ শতাংশ এবং ২০১০ সালে ৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে।


দীপিকার জন্মদিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নলকূপ


এবারের জন্মদিনে বাংলাদেশের ভক্তদের কাছ থেকে বিশেষ উপহার পেয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। সৌদি আরবে কর্মরত দীপিকার প্রবাসী ভক্তরা তহবিল গঠন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে ওই নলকূপটি স্থাপন করে। 

গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে ভক্তরা এমন উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে ভারতের একাধিক সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে।

এদিকে ৬ জানুয়ারি টুইটারে দীপিকার আরব ফ্যান পেজ থেকে নলকূপের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করা হয়। ক্যাপশনে লেখা হয়, দীপিকার জন্মদিনে আমাদের পক্ষ থেকে উপহার। একটি গ্রামে আমরা আপনার আরবের ভক্তরা তহবিল সংগ্রহ করে এই পানির নলকূপ স্থাপন করেছি। আশা করি, আপনার ভালো লাগবে। শুভ জন্মদিন দীপিকা পাড়ুকোন। ভক্তদের এমন উদ্যোগে ভীষণ আনন্দিত দীপিকা পাড়ুকোন। 

টুইটারে ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন। ৮ জানুয়ারি তিনি লিখেছেন, পৃথিবীতে একটি সুন্দর ও সুখী স্থান বানানোর জন্য আপনাদের এই মহৎ অবদান আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। জন্মদিনে এর চেয়ে সেরা উপহার আর কী হতে পারে! আপনাদের প্রতি আমার অশেষ ভালোবাসা। আপনাদের নিয়ে আমার গর্ব হচ্ছে। 


এবারের জন্মদিনে প্রেমিক রণবীর সিংয়ের মা-বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন দামি শাড়ি আর হীরার অলংকার। কিন্তু ভক্তদের ভালোবাসার এই উপহারকে বিশেষ বলে মনে করছেন এই নায়িকা। গত ৫ জানুয়ারি দীপিকার জন্মদিন ছিল।

বাংলাদেশীদের জন্য ভারতের শিক্ষাবৃত্তি ঘোষণা


 


ভারতে পড়তে ইচ্ছুক বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি ঘোষণা করেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশন্স (আইসিসিআর)।  ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই শিক্ষাবৃত্তির আবেদন করা যাচ্ছে অনলাইনে।

ভারতের সহকারী হাই কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চিকিৎসা বিজ্ঞান ছাড়া অন্য সব বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য বৃত্তির আবেদন চাওয়া হয়েছে।

দুই ভাগে দেওয়া শিক্ষাবৃত্তির মধ্যে বাংলাদেশ বৃত্তি স্কিমে সব বিষয়ের সঙ্গে প্রকৌশল বিষয়েও আবেদন করা যাবে।  ভারত বৃত্তি স্কিমে প্রকৌশল বিষয়ে আবেদন করা যাবে না।

শিক্ষার্থীদের ২০ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে বলা হয়েছে।  https://a2ascholarships.iccr.gov.in ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের ব্যক্তিগত লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ড নিতে হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, প্রত্যেক প্রার্থীকে ইংরেজিতে দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য ৩০ মিনিটের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।  পরীক্ষায় কমপক্ষে ৬০ শতাংশ নম্বর অথবা জিপিএ ৫ এর মধ্যে ৩ থাকতে হবে।

যারা ব্যাচেলর অব ইঞ্জিনিয়ারিং (বিই) বা ব্যাচেলর অব টেকনোলজি (বিটেক) কোর্সের জন্য আবেদন করবেন, তাদের স্কুল-কলেজের পাঠ্যসূচিতে অবশ্যই পদার্থবিদ্যা, গণিত ও রসায়ন থাকতে হবে।

আবেদনকারীর বয়স ২০১৮ সালের জুলাইয়ের মধ্যে হতে হবে ১৮ বছর।  বৃত্তি পাওয়া সব শিক্ষার্থীকে থাকতে হবে হোস্টেলে। পরিবার বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কারণ ছাড়া বাইরে থাকা যাবে না।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিস্তারিত তথ্যের জন্য বারিধারায় ভারতীয় হাই কমিশনে কিংবা edu1.dhaka@mea.gov.in ই-মেইল ঠিকানায় যোগাযোগ করা যাবে।

এই শীতে শিশুর বিশেষ যত্ন

কয়েকদিন ধরে টানা শৈত্যপ্রবাহ চলছে। এই সময় শিশুদের ব্যাপারে অধিক যত্নশীল হওয়া বাঞ্চনীয়। কারণ বিরূপ আবহাওয়ায় শিশুরা সর্দি-কাশিতে বেশি আক্রান্ত হয়। শীতকালে আবহাওয়া শুষ্ক থাকে এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে রোগজীবাণু যত্রতত্র উড়ে বেড়ায়। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে বলে জীবাণু শিশুদের নিঃশ্বাসের সাথে শরীরে প্রবেশ করে সহজেই রোগাক্রান্ত করে তোলে। শরীরে ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়া ঢুকে এই সর্দি-কাশির উদ্রেক ঘটায়। এ জীবাণুগুলো সাধারণত অসুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে এসে সুস্থ শিশুকে আক্রমণ করে। যদি কোনো ব্যক্তি সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়, তাহলে তার হাঁচি কিংবা কাশির সাথে জীবাণুগুলো বাইরে বেরিয়ে এসে অতি ক্ষুদ্র কণা হিসেবে বাতাসে মিশে যায় এবং পরে সুস্থ ব্যক্তির নিঃশ্বাসের সাথে শ্বাসনালী দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে রোগের বিকাশ ঘটায়। শিশুদের সর্দি-কাশিতে সাধারণত নাক দিয়ে স্বচ্ছ পানি বেরোতে থাকে, চোখ জ্বালাপোড়া করে, হাঁচি ও কাশি হয়। এ সময় শিশুর জ্বর থাকতে পারে। অনেক সময় মাথাব্যথা করে। ফলে শিশুরা কেঁদে থাকে। কাশি খুব বেশি হলে শিশুর বুকে গড়গড় শব্দ শোনা যায় এবং শিশুর শ্বাসকষ্ট হয়। অনেক সময় সর্দিতে শিশুর নাকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায়- ফলে সে মুখ হাঁ করে বাতাস নেয়। শিশুকে এ সময় গরম তরল খাবার বেশি করে খেতে দিতে হবে। শিশু যেসব খাবার খেতে চায় সবই তাকে খেতে দেয়া যাবে- শুধু দেখতে হবে খাবারটা যেন ঠাণ্ডা না হয়। শিশুকে লেবুর রস খেতে দিতে হবে। যেসব শিশু বুকের দুধ খায়- এ সময়ে তাদের বেশি করে বুকের দুধ খেতে দিতে হবে। অনেক বাবা-মা শিশুকে একগাদা গরম কাপড়ে ঢেকে রাখেন; কিন্তু এটা ঠিক নয়। বেশি কাপড়চোপড়ে শিশুর শরীর ঘামতে পারে। কোনো কোনো বাবা-মা এ সময়ে শিশুর বুকে ও হাতে পায়ে তেল মালিশ করে থাকেন; কিন্তু এ পদ্ধতি শিশুর কোনো উপকারে আসে না, বরং বুকে তেলমর্দন শিশুর জন্য আরো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কেননা বুকে তেল মালিশ করলে লোমকূপগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শিশুর তাপমাত্রা বের হতে পারে না। ঠাণ্ডা বা সর্দি-কাশিতে বাবা-মায়ের বেশি চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। কেননা এটা আপনা আপনি কমে যাবে। তবে সর্দি-কাশি যেন বেশি না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিশুর যদি শরীরে জ্বর থাকে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো প্যারাসিটামল সিরাপ শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে। শিশুর শরীর ভালোমতো মুছে দিতে হবে। শিশুকে সব সময় সুতি কাপড় পরাতে হবে। যদি সর্দিতে শিশুর নাক বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তা পরিষ্কার করে দিতে হবে। একটি সরু কাঠি বা শলাকার মাথায় তুলো পেঁচিয়ে তা হালকা গরম পানি বা অলিভ অয়েলে ভিজিয়ে সেটা দিয়ে নাক পরিষ্কার করে দেয়া যেতে পারে। তবে নাক পরিষ্কারের জন্য সরিষার তেল ব্যবহার না করাই উত্তম। কারণ সরিষার তেলে শিশুর নাকের ঝিল্লিতে জ্বালাপোড়া করতে পারে। এতেও যদি নাক পরিষ্কার না হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ‘ন্যাজাল ডিকনজেস্ট্যান্ট’ ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশুর ঘর সব সময় খোলামেলা রাখতে হবে, যাতে ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঢুকতে পারে। আরেকটি কথা মনে রাখতে হবে, শিশুকে কখনো সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে নেয়া যাবে না। যদি বাবা কিংবা মা সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হন, তাহলে শিশুর মুখের কাছে হাঁচি-কাশি দেয়া যাবে না কিংবা শিশুকে চুমু দেয়া যাবে না। তাই পরিবারের কারো সর্দি-কাশি হলে শিশুকে তার কাছ থেকে যথাসম্ভব সরিয়ে রাখতে হবে।
লেখক - ডা: মিজানুর রহমান কল্লোল, সহকারী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমাটোলজি বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল।

শীতে কেউ মারা যায়নি : মায়া

শীতে সারাদেশে কেউই মারা যায়নি। এ পর্যন্ত যে তিনজন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে, তারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। শীতজনিত কারণে কিংবা কম্বলের অভাবে কোনো মানুষ মারা যায়নি। বলেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পুনর্বাসন ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তিনি এ সব কথা বলেন। 

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে খবর নিয়েছি। শুধু শীতের কারণে মারা যাওয়ার খবর সঠিক নয়। উত্তরাঞ্চলের ২০ জেলায় এরইমধ্যে ২৮ লাখ ১০ হাজার কম্বল বিতরণের জন্য পাঠানো হয়েছে। এসব জেলায় ত্রাণ বিতরণের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে ২০ জন কর্মকর্তাকে মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন-‘এ সব কর্মকর্তারা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সভা করবেন। একইসঙ্গে কম্বল, শুকনো খাবার বিতরণ করবেন এবং শৈত্যপ্রাহের সার্বিক পরিস্থিতি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবেন। 

মালয়েশিয়ায় ডাকাত ধরলেন ৩ বাংলাদেশি

চার বাংলাদেশির কাছ থেকে ডাকাতির ঘটনায় এক ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশ। ডাকাতি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় অপরাধীকে ধরে পুলিশে দেন বাংলাদেশিরা।
 
সেবেরাং পেরাই উতারা জেলা পুলিশের প্রধান এসিপি নুরজাইনি মোহা. নূর বলেন, ৩৩ বছর বয়সী একজনকে আটক করা হয়েছে। ডাকাতির সময় তিনজন বাংলাদেশি ধস্তাধস্তি করে তাকে আটক করে।

গত সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার কেপালা বাতাসের লাহার তেমবুনের এক পেঁপে চাষের জমিতে এ ঘটনা ঘটে।
 
জানা যায়, চারজন বাংলাদেশি একটি জমিতে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় ওই ডাকাত ধারালো অস্ত্র নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে বাংলাদেশিদের সঙ্গে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন চান। তবে ৪০ বছর বয়সী একজন বাংলাদেশি টাকা দিতে অস্বীকার করলে ডাকাত তার ওপর চড়াও হন এবং গুরুতর জখম করেন। পরে দু’টি মোবাইল ফোন ও ২১০ রিঙ্গিত তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন।
 
তবে ওই ডাকাত পালানোর সময় তাকে পেছন থেকে আক্রমণ করে ধরে ফেলেন বাংলাদেশিরা। পরে খবর দিয়ে দ্রুত সেখানে গিয়ে পুলিশ তাকে আটক করে।

নুরজায়নি বলেন, আটক হওয়া ব্যক্তির কাছ থেকে ডাকাতির বিভিন্ন জিনিস যেমন, স্প্যানার, স্ক্রু ড্রাইভার, হাতুড়ি, স্টিল কাটার ও চাপাতিসহ একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এসময় তার কাছ থেকে নগদ অর্থ এবং কয়েকটি মোবাইল সেটও জব্দ করা হয়।
 
আহত বাংলাদেশিকে ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। ক্ষতস্থানে দিতে হয়েছে দশটি সেলাই।
এ অঞ্চলটিতে বিদেশি শ্রমিকদের কাছ থেকে ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এসিপি।

ডিআইজি মিজানকে প্রত্যাহার


ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহার করেছে পুলিশ প্রশাসন।

মঙ্গলবার তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ প্রশাসন।

অস্ত্রের মুখে এক নারীকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ ছিল ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে।

এর আগে গতকাল সোমবার বিকেলে ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বিয়ে ও নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

সেসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে। তার অপরাধ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মিজানুর রহমান বিরুদ্ধে অভিযোগ করা ওই নারী একটি সংবাদপত্রকে বলেন, পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালের কাছে তার বাসা। সেখান থেকে কৌশলে গত বছরের জুলাই মাসে তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা মিজান। পরে বেইলি রোডের মিজানের বাসায় নিয়ে তিনদিন আটকে রাখা হয়েছিল তাকে। আটকে রাখার পর বগুড়া থেকে তার মা’কে ১৭ জুলাই ডেকে আনা হয় এবং ৫০ লাখ টাকা কাবিননামায় মিজানকে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়। পরে লালমাটিয়ার একটি ভাড়া বাড়িতে তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে রাখেন ইতোপূর্বে বিবাহিত মিজান।

এই নারীর অভিযোগ, কয়েক মাস কোনো সমস্যা না হলেও ফেইসবুকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে একটি ছবি তোলার পর ক্ষিপ্ত হন মিজান। ভাঙচুরের ‘মিথ্যা’ একটি মামলা দিয়ে তাকে গেলো ১২ ডিসেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়। সেই মামলায় জামিন পাওয়ার পর মিথ্যা কাবিননামা তৈরির অভিযোগে আরেকটি মামলা করানো হয়।

তবে মিজানুর রহমান দাবি করে আসছিলেন ওই নারী প্রতারক।

সৌদি কিশোরীদের বিয়েতে আদালতের অনুমতি লাগবে

১৮ বছরের কম বয়সী কিশোরীর বিয়েতে আদালতের অনুমতি  নেওয়া লাগবে। এমন সুপারিশ করেছে সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিল।

সোমবার দেশটির ইসলাম ও বিচার বিষয়ক কমিটি ১৮ বছরের কম বয়সী নারীদের বিয়ের ব্যাপারে আলোচনার পর এ ধরনের সুপারিশ করেছে। খবর আরব নিউজ।

শুরা কাউন্সিলের বরাত দিয়ে আরব নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আদালতের নির্দেশনা ছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো কিশোরীর বিয়ে দেওয়া হলে তা কার্যকর হবে না।

এক্ষেত্রে একজন বিচারক ওই কিশোরীর বয়স যাচাই-বাছাইয়ের পর বিয়ের ব্যাপারে নির্দেশনা দেবেন।

শুরা কাউন্সিল থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, কোনো কিশোরীর কোনোভাবেই ১৮ বছরের আগে যেন বিয়ে না হয়, সেটা আপনারা নিশ্চিত করবেন।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়েরও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় এ ব্যাপারে। ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো কিশোরীর বিয়ে হলে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে সে ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয় শুরা কাউন্সিল থেকে।

সীতাকুণ্ডে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৩


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে তিনজন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে এই সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মনির হোসেন (৫৫), রাজিব দে (২৫) ও রাম দাশ (২৭)।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন সীতাকুণ্ডে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় একটি কারখানার কয়েকজন শ্রমিক কারখানার বাইরে সিলিন্ডার গ্যাস দিয়ে ভাত রান্না করার সময় গ্যাস সিলিন্ডারটি আকস্মিকভাবে বিস্ফোরিত হয়। এতে তিন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। আহতদের শরীরের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

'আইফোন-আসক্তি' ঠেকাতে অ্যাপলকে অভিভাবকদের অনুরোধ

অনেক পরিবারেই দেখা যায়, বড়দের তুলনায় বাচ্চারাই বামা-মায়ের স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট ব্যবহার করছে এমনকি এতে তারা অভিভাবকদের চেযে বেশি পারদর্শিতাও অর্জন করে ফেলেছে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে এটা রীতিমত আসক্তিতে পরিণত হয়েছে। শিশুরা বাবা-মায়ের ফোন নিয়ে এত বেশি সময় কাটাচ্ছে যে অনেক অভিভাবকই এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এখন বড় বিনিয়োগকারীরা আইফোন-নির্মাতা অ্যাপলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন, তারা যেন এমন সফটওয়্যার তৈরি করেন, যা বাচ্চারা কতক্ষণ স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবে তা সীমিত করে দেবে। এমন দুটি বিনিয়োগ কোম্পানি এই আহ্বান জানিয়েছে যারা অ্যাপলের দুই বিলিয়ন ডলারের শেয়ারের মালিক। জানা পার্টনার্স এবং ক্যালিফোর্নিয়া টিচার্স পেনশন ফান্ড নামে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অ্যাপলকে এক ডিজিটাল লক চালু করার আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়, শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার যে প্রভাব ফেলছে - তা অ্যাপলকে বিবেচনা করতে হবে। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে অ্যাপল যদি এই ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের ব্যাপারে কিছু না করে তাহলে তাদের সুনাম এবং স্টক মার্কেটে তাদের মূল্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সম্প্রতি রয়টার্সের একটি রিপোর্টে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক টিনএজার মনে করে যে তাদের মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়ে গেছে। তারা তাড়না বোধ করে যে তাদের কোনো মেসেজ এলে সঙ্গে সঙ্গেই তার জবাব দিতে হবে। যে শিক্ষাবিদরা বাচ্চাদের প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করছেন - তারা একে স্বাগত জানিয়েছেন। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স-এর সামাজিক মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক সোনিয়া লিভিংস্টোন বলেন, এই আহ্বান শুনে তিনি খুশি হয়েছেন। অ্যাপল এবং অন্যান্য প্রস্তুতকারকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান যেন স্মার্টফোনে যেন বাচ্চাদের দীর্ঘ সময় ব্যবহারের পর বিরতি দেয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়া হয়। অবশ্য তিনি স্মার্টফোনের ব্যাপারে 'নেশা' কথাটির ব্যবহার নিয়ে আপত্তি তোলেন। "স্মার্টফোনে বুঁদ হয়ে থাকার ব্যাপারটা ঠিক কিন্তু একে নেশা বলা যায় না" - বলেন তিনি। অ্যাপল এ ব্যাপারে এখনো কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

সুন্দরবনে বন্দুকযুদ্ধে বনদস্যু নিহত : জিম্মি ৬ জেলে, অস্ত্র ও মালামাল উদ্ধার, আস্তানা ধ্বংস

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনে নৌ-পুলিশের সঙ্গে বন্দুবযুদ্ধে ফরিদ হোসেন (৩৫) নামের এক বনদস্যু নিহত হয়েছে। সে সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট্ট বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড বলে জানা গেছে। সোমবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের শ্যালা নদী সংলগ্ন কাতিয়ার খালে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। পরে দস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা ৬ জেলেসহ দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, ৬টি মোবাইল ফোন, একটি ডিঙ্গি নৌকা ও বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়। এসময় দস্যুদের একটি আস্তানা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন, শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ বাধাল গ্রামের ইসমাইল ফকিরের ছেলে শাহ্ আবুল ফকির (২৮), উত্তর রাজাপুর গ্রামের ইসমাইল খানের ছেলে সুমন খান (২০), একই গ্রামের মোফাজ্জেল আকনের ছেলে সুমন আকন (২৮), রতিয়া রাজাপুর গ্রামের রুহুল পহলানের ছেলে ইসরাফিল পহলান (২৩), মোংলা উপজেলার খাসেরডাঙ্গা গ্রামের নিরোধ হালদারের ছেলে প্রতুল হালদার (২৮) এবং জয়মনি গ্রামের ছত্তার হাওলাদারের ছেলে হাফিজ হাওলাদার (২৫)।
অভিযানের নেতৃত্বে থাকা শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএসআই আকবর আলী জানান, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে সোমবার রাতে নৌ-পুলিশের পাঁচ সদস্য নিয়ে সুন্দরবনে অভিযান চালানো হয়। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে শ্যালা নদীর কাতিয়ার খালে পৌঁছলে বনের ভেতর থেকে জেলেদের চিৎকার ভেসে আসে। এসময় সামনের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশকে লক্ষ্য করে দস্যুরা গুলি ছুঁড়তে থাকে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় আধা ঘন্টা গোলাগুলির পর টিকতে না পেরে দস্যুরা বনের গহীনে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ ওই দস্যুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় দস্যুদের আস্তানা থেকে জিম্মি ৬ জেলে, একটি টুটুবোর রাইফেল, একটি এয়ারগান, ৬টি মোবাইল ফোনসেট, একটি ডিঙ্গি নৌকাসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়। নিহত দস্যু ফরিদের বাড়ি মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের বৌদ্দমারী গ্রামে বলে জানান তিনি। শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কবিরুল ইসলাম জানান, নিহত দস্যুর লাশ ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জেলেদেরকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত রোববার ও সোমবার পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিপণের দাবিতে ৭ জেলেকে অপহরণ করে বনদস্যু ছোট্ট বাহিনী।

রাষ্ট্রপক্ষের আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট চলবে

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি) নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। ফলে এই সময়ের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় কোনও বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। আজ মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মোধ আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার হাসান এমএস আজিম। শুনানিকালে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন। ২০০৭ সালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অধ্যাদেশ জারি করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বধীন মহাজোট সরকার ২০০৯ সালে এটিকে আইনে পরিণত করে। এই আইন অনুযায়ী ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আবাসন কোম্পানি এসথেটিক প্রোপার্টিজ ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খানকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান। আর ১১ অক্টোবর ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের (মোবাইল কোর্ট অ্যাক্ট, ২০০৯) কয়েকটি ধারা ও উপ-ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন তিনি। পরে এ ধরনের আরও দু’টি রিট করা হয়। তিন রিটের শুনানি শেষে গত বছরের ১১ মে রায় দেন হাইকোর্ট। সেই রায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা সংক্রান্ত ২০০৯ সালের আইনের ১১টি ধারা ও উপধারাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এই আইনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাও অবৈধ ঘোষণা করা হয়। গত বছর ১৪ মে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন জানান রাষ্ট্রপক্ষ। ২১ মে থেকে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের ওপর কয়েক দফা স্থগিতাদেশ দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বন্ধে সরকারকে বারবার দিয়ে আসছে আপিল বিভাগ।

জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন একটি বাস্তবতা : সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন একটি বাস্তবতা। বিবিসির প্রবাহ টিভি অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে মি. হুদা বলেন, ‘আগে নির্বাচনগুলোতে সেনা মোতায়েন হয়েছে। সুতরাং এবারের নির্বাচনগুলোতে যে সেনা মোতায়েন হবে না সেটা বলা যাবে না। আমরা তো সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে কিছু দেখি না।’ জাতীয় নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে কিনা এ নিয়ে বাংলাদেশে প্রতিটি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিতর্ক হয়। সে প্রেক্ষাপটে মি. হুদা এসব কথা বলেন। তিনি মনে করেন, কোন রাজনৈতিক দল নির্বাচন বয়কট করার আশঙ্কা নেই। আর যদি বয়কট করে, সেক্ষেত্রে সাংবিধানিক যে প্রক্রিয়া আছে সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের কাজ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
‘সংবিধানের বাইরে তো কিছু করা যাবে না। তবে আমি শতভাগ আশাবাদী সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে,’ বলেন মি. হুদা। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি মনে করে একটি নিরপেক্ষ সরকার না থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে বিএনপিকে আশ্বস্ত করার জন্য নির্বাচন কমিশন কী করতে পারে? এমন প্রশ্নে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমি বলতে পারি নির্বাচন কমিশন যে পরিবেশ-পরিস্থিতি হোক না কেন, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। কোন ধরনের সরকার হবে এটা নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করতে পারে না।’ রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে নির্বাচন কমিশনের সংলাপ অনুষ্ঠিত হবার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, সে সংলাপের উদ্দেশ্য ছিল সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান করা এবং সংলাপের মাধ্যমে সবগুলো রাজনৈতিক দল আশ্বস্ত হয়েছে। ‘তারা সবাই বিশ্বাস করেছেন নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব’। তিনি দাবী করেন, বর্তমান কমিশনের অধীনে ৬০০’র বেশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেগুলো নিয়ে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি হয়নি। মি. হুদা বলেন, ‘আমরা যে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারি সেটা জাতির কাছে আমরা প্রমাণ করেছি।’
সূত্র: বিবিসি

‘বাড়ি ছেড়ে হোস্টেলে ওঠে মেয়েটি’

‘ধনী পরিবারের মেয়ে। মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা আবার বিয়ে করেন। এরপর মেয়েটি বাসা ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে ওঠেন। কিন্তু হোস্টেলের পরিবেশের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না। এদিকে বাবা চান, মেয়ে হোস্টেল থেকে বাসায় ফিরে আসুক।’

এভাবেই ‘ব্যাচেলর ডটকম’ নাটকের গল্পটি জানান ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ জেসিয়া ইসলাম। তিনি বলেন, গল্প ও চরিত্র আমার খুব পছন্দ হয়েছে। কাজটি সুন্দরভাবে শেষ করতে চাই। আরো কিছু নতুন কাজের ব্যাপারে কথা হচ্ছে। চূড়ান্ত হলেই সবাইকে জানাবো।

‘ব্যাচেলর ডটকম’ নাটকে আরো অভিনয় করছেন- নিলয় আলমগীর, জোভান, নাদিয়া, আইরিন, তানিয়া বৃষ্টি, সিদ্দিক, বাঁধন, ফারুখ আহমেদ, আহমেদ রুবেল, বড়দা মিঠু, কাজী উজ্জ্বল, তুলনা আল হারুন, ফারজানা রিক্তা প্রমুখ। এটি একুশে টেলিভিশনের ধারাবাহিক নাটক।

পরিচালক ইফতেখার শুভর সঙ্গে এই নাটকে জেসিয়ার কাজের ব্যাপারটি চূড়ান্ত হয়েছে গত রোববার। জেসিয়া জানান, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নাটকটির শুটিংয়ে অংশ নেবেন তিনি।


এর আগে মাবরুর রশীদ বান্নাহর একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন জেসিয়া। এবার অভিনয় করছেন নতুন ধারাবাহিক নাটকে। নতুন কাজ নিয়ে বেশ সিরিয়াস এই তারকা।

তিনি বলেন, চীন থেকে এসে অনেক কাজের অফার পেয়েছি, চাইলে অনেক কাজ করতে পারতাম। সময় নিয়েছি ভালো কিছু করার জন্য। আশা করছি সবাইকে সুন্দর কিছু উপহার দিতে পারবো।

উঁকি দিয়েছে সূর্য

দেশের বিভিন্ন জায়গার ওপর দিয়ে এখনো শৈত্যপ্রবাহ বইলেও গতকালের তুলনায় তাপমাত্রা আজ মঙ্গলবার কিছুটা কমেছে। সকালেই দেখা মিলেছে সূর্যের। ফলে কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে জনজীবন।

তবে সূর্যের মুখ দেখা গেলেও কনকনে বাতাস অব্যাহত রয়েছে। সকাল থেকে ঝিরঝিরে বৃষ্টির মতো শিশির ঝরতে দেখা গেছে।

এর আগে সোমবার দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড পাওয়া গেছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। সেখানে ব্যারোমিটারে তাপমাত্রা ছিল ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় সর্বনিম্ন ৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস।

প্রচণ্ড শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। দেখা দিয়েছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগবালাই।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তবে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. সাইফুল ইসলাম।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানায়, জেলার দুই লাখ দুঃস্থ শীতার্তের বিপরীতে জেলায় এ পর্যন্ত মাত্র ৩০ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। তবে আরো শীত বস্ত্রের চাহিদা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

এদিকে শৈত্যপ্রবাহ চললেও তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে দিনাজপুরে। গতকাল সোমবার এই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে সেই তাপমাত্রা বেড়ে আজ দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। টানা ছয় দিন শৈত্যপ্রবাহ চলার পর আজ সকালে সূর্যের মুখ দেখা গেছে।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন জানান, শৈত্যপ্রবাহ আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে। তবে সূর্যের তাপমাত্রা বাড়বে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্য এ মাসে আরো দুটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে শীতার্ত মানুষের জন্য জেলা প্রশাসন ৬৪ হাজার কম্বল বিতরণের পর এবার  সদর আসনের এমপি হুইপ ইকবালুর রহিম ৫০ হাজার কম্বল চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে আবেদন জানিয়েছেন।

সোমবার ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি। দিনেও তাপমাত্রা বাড়েনি। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা যদি ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামে, তবে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। আর ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে বলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।

এ হিসাবে এবারের শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে ২ জানুয়ারি। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার সারা দেশে শীত পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। আগামীকাল নাগাদ পরিস্থিতি এমনই থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া বিভাগের (বিএমডি) কর্মকর্তারা।

বিএমডির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টাঙ্গাইল, শ্রীমঙ্গল ও চুয়াডাঙ্গাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলসহ ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগ এবং ঢাকা, সিলেট ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্ট অংশের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বইছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়েছে। তা কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী থাকতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন দক্ষিণ আন্দামান সাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে।

চবির ডিলিট ডিগ্রি পাচ্ছেন প্রণব মুখার্জি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ( চবি) কর্তৃপক্ষ ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে ‘সম্মাননাসূচক ডিলিট’ ডিগ্রিতে ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে । ১৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আসার কথা রয়েছে মুখার্জির।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২৩তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, প্রণব মুখার্জি ওইদিন দুপুর ১২টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত চবিতে অবস্থান করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. কামরুল হুদা গনমাধ্যমকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরামর্শ করেই ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে সম্মাননাসূচক ডিলিট উপাধিতে ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাবরি মসজিদের সওদাগর by মাসুম মুরাদাবাদী

কিছু দিন আগে শীর্ষস্থানীয় এক মুসলিম নেতাকে ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ এক ধনকুবের এ প্রস্তাব করেন, যদি তিনি বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দির নির্মাণের ব্যাপারে ওকালতি করেন, তাহলে তাকে এর বিনিময়ে এক কোটি রুপি দেয়া হবে। ওই মুসলিম নেতা জবাবে বলেন, ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ১৭ কোটির বেশি। সুতরাং তাকে কমপক্ষে ১৭ কোটি রুপি তো দেয়া উচিত। অর্থাৎ একজন মুসলমানের মূল্য কমপক্ষে এক রুপি তো হওয়া উচিত। বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনা থেমে গেছে। মোট কথা আজকাল ক্ষমতাসীন দলের লোকজন অযোধ্যাবিবাদকে আদালতের বাইরে মিটমাট করার জন্য এমন মুসলমানদের প্রতি ভালোবাসার মিথ্যা অভিনয় করছে, যাদের তারা বিক্রয়যোগ্য পণ্য মনে করছে। বাহ্যত সবাই বিক্রয়যোগ্য পণ্য হয় না। তবে কিছু কুলাঙ্গার প্রকৃতির লোক সম্পদ ও ক্ষমতার উচ্চাকাক্সক্ষায় সঙ্ঘ পরিবারের ধোঁকায় পড়ে যাচ্ছে এবং তারা এমন সব বক্তব্য দিচ্ছে যে, তাদের মুসলমান হওয়া নিয়ে সন্দেহ জাগে।
এখানে এমন ধরনের লোকদের নাম উল্লেখ করে আমার কলম ও আপনাদের মননকে নোংরা করতে চাই না। বিগত দিনে বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দির নির্মাণের ব্যাপারে যত বক্তব্য দৃশ্যপটে এসেছে, তা মূলত সঙ্ঘ পরিবারের উল্লিখিত প্রচেষ্টারই ফল। উল্লেখ্য, ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের শাহাদতের ২৫ বছর পূরণ হলো। এর আগের দিন অর্থাৎ ৫ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টে অযোধ্যাবিবাদের ওপর শুনানি শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা ৮ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে স্পর্শকাতর মামলায় আদালতের ফায়সালা কী হবে, সেই আলোচনা উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। এ কথাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, বাবরি মসজিদের জন্য লড়াই শুধু একটি ভবন বা একখণ্ড জমির লড়াই নয়, বরং এর সাথে রয়েছে ভারতের মুসলমানদের সাংবিধানিক অধিকারের সম্পর্ক। ইসলামি দৃষ্টিতে মসজিদ আল্লাহর মালিকানাধীন হয় এবং এটা নিয়ে বাণিজ্য করার অধিকার কারো থাকে না। মোগল শাহেনশাহ বাবরের সিপাহসালার মীর বাকী ১৫২৮ সালে এক নির্ঝঞ্জাট, নিষ্কণ্টক ও পরিষ্কার স্থানে বাবরি মসজিদ নির্মাণ করিয়েছিলেন। এখানে মুসলমানেরা শত শত বছর তাদের কপালকে সেজদা দ্বারা আলোকিত করেছেন। বাবরি মসজিদের বাইরের চত্বরে ইংরেজদের আমলে একটি বিবাদ সৃষ্টি হয়েছিল, তবে মসজিদের দিকে কেউ কখনো আঙ্গুল তোলেনি। ১৯৪৯ সালের ২২ ডিসেম্বর এখানে শেষবারের মতো ইশার নামাজ আদায় করা হয়। এরপর এক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেয়াল টপকে জোরপূর্বক মসজিদের মিম্বরে মূর্তি রাখা হয়। তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতারা চেয়েছিলেন, বাবরি মসজিদের মিম্বর থেকে মূর্তি অপসারণ করে মসজিদের পবিত্রতা পুনর্বহাল করা হোক। কিন্তু তৎকালীন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী গোবিন্দ বল্লভ পন্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের ওই নির্দেশ কবুল করেননি। আর এভাবে এমন এক বিবাদের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে, যার ভার পরে ভারতের রাজনীতির নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে। যদি এ বিবাদ সৃষ্টি না হতো, তাহলে আজ ভারতে সাম্প্রদায়িকতা এতটা চাঙ্গা হতো না এবং সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো ক্ষমতায় আসত না। ১৯৮৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাবরি মসজিদের তালা যদিও ফয়েজাবাদের একটি আদালতের নির্দেশে খোলা হয়েছিল, কিন্তু সরকারি টিভি চ্যানেল দূরদর্শনে তার প্রচার যে ভঙ্গিতে করা হয়েছিল, তার দিয়ে বেশ ভালো অনুমান করা গিয়েছিল যে, এক পরিকল্পনাকে সামনে নিয়েই এ কাজটা করা হয়েছে। বাবরি মসজিদকে সর্বসাধারণের ইবাদতের জন্য খুলে দেয়া মূলত সাম্প্রদায়িকতার ভয়ঙ্কর ভূতকে বোতল থেকে বের করার নামান্তর ছিল। সব সেক্যুলার শক্তি তাদের সর্বোত্তম প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ওই ভূতকে দ্বিতীয়বার বোতলে প্রবেশ করাতে পারেনি। আজ ওই ভূত এতটাই শক্তিশালী যে, সে ভারতে গণতন্ত্রকেই গিলে ফেলতে প্রস্তুত দেখা যাচ্ছে। আরএসএসের বিশেষ মুখপাত্র রবি শঙ্করের পক্ষ থেকে অযোধ্যাবিবাদকে আদালতের বাইরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রচেষ্টা ওই লোকেরাই শুরু করেছে, যারা বাবরি মসজিদ ও মুসলমানদের সব অধিকার লুট করতে চায়। যেসব নামসর্বস্ব মুসলমান ব্যাঙ্গালোরে রবি শঙ্করের সাথে সাক্ষাৎ করেছে বা তার সাথে ফোনে যোগাযোগ করেছে, তারা মূলত নিজেদের সবকিছু সঙ্ঘ পরিবারের কাছে বন্ধক রেখেছে।
এখানে আমরা বিবেকের মতো মাহাত্ম্যপূর্ণ জিনিসের নাম নেব না, কেননা যদি তাদের কাছে বিবেক থাকত, তাহলে তারা ফ্যাসিবাদী শক্তির খেলনা হতে অস্বীকার করত। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, রবির সাথে সাক্ষাৎ ও আলোচনাকারীদের মাঝে মুসলমানদের মর্যাদাপূর্ণ সংগঠনের এমন কিছু উপর শ্রেণীর নেতা ও সদস্যের নামও সামনে চলে এসেছে, যাদের উপর মুসলমানেরা তাদের শরিয়ত রক্ষার ব্যাপারে অনেক ভরসা রাখে। মূলত কিছু খোদাভীরু বুজুর্গের ওফাতের পর এখন ওই সংগঠনের লাগাম এমন লোকদের হাতে চলে এসেছে, যারা ওই মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যাটফর্মকে নিজেদের রাজনৈতিক অভিলাষের নজরানা পেশ করতে চাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, যারা বাবরি মসজিদের সমস্যাকে আলোচনার টেবিলে সমাধান নিয়ে কথা বলছে, তাদের এ বিবাদের সাথে না আছে কোনো সম্পৃক্ততা, না আছে এর চক্কর সম্পর্কে কোনো ধারণা। আপনাদের স্মরণ থাকার কথা, অযোধ্যাবিবাদকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সবচেয়ে গোছানো প্রচেষ্টা হয়েছিল ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চন্দ্র শেখরের শাসনামলে। অধম ওই আলোচনার যথারীতি রিপোর্ট করেছিল। এ কারণে ওই সময়ের অনেক কথাই আজও স্মৃতিতে রক্ষিত রয়েছে। ওই আলোচনায় বাবরি মসজিদ কমিটির সব নেতা ও সদস্য এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতারা ছাড়াও তিনটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও শরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে ইউপির মোলায়েম সিং যাদব, মহারাষ্ট্রের শারদ পাওয়ার ও রাজস্থানের ভাইরোন সিং শেখাওয়াত অংশগ্রহণ করেছিলেন। ওই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ ছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আক্রমণাত্মক ও একগুঁয়েমি মনোভাব। তারা তাদের দাবি থেকে পিছু হটতে প্রস্তুত ছিল না। ওই সময় বাবরি মসজিদ যথাস্থানে দাঁড়িয়ে ছিল এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চন্দ্র শেখর এটা চাচ্ছিলেন, এ সমস্যার কোনো একটা গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসুক। কিন্তু বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বাবরি মসজিদের স্থানেই রামমন্দির নির্মাণের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে লাগল। আজ বাবরি মসজিদ তার স্থানে বিদ্যমান নেই। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর সন্ত্রাসীরা তাকে শহীদ করে দিয়েছে। কিন্তু মসজিদের ভূমি আজও বিদ্যমান, যেখানে বর্তমানে রামমন্দিরের একটি চূড়ান্ত শক্ত খসড়া দাঁড়িয়ে রয়েছে। গত ২৫ বছর সময়ে সব ধরনের আইনি প্রচেষ্টা সত্ত্বেও না হয়েছে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের অপরাধীদের শাস্তি, না হয়েছে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাওয়ের ওয়াদা মোতাবেক নতুন মসজিদ নির্মাণ। তবে এ সময়ে অবৈধ রামমন্দিরের রূপরেখাকে অধিকতর মজবুত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনিতেই কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দির নির্মাণের জোরপূর্বক চেষ্টার সূচনা হয়েছিল। এর পর উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের ক্ষমতায় আসার পর ওই চেষ্টায় গতি বৃদ্ধি হয়। যোগীর গুরু মাহান্ত অভেদ্যনাথ রামজন্মভূমি মুক্তি আন্দোলনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং তিনি বাবরি মসজিদের বিরুদ্ধে পরিবেশ তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বিজেপি ২০১৯ সালের নির্বাচনে বাবরি মসজিদের ভূমিতে বিশাল রামমন্দির নির্মাণের ইস্যুতে লড়াই করতে চাচ্ছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনগণের কাছে যে সোনালি ওয়াদা করেছিলেন, তার কোনোটিই পূরণ হয়নি। জনগণের মাঝে অর্থনৈতিক সঙ্কট ও দরিদ্র্যতার কারণে মারাত্মক অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ অসন্তোষ দূর করার জন্য বিজেপি আরো একবার সাম্প্রদায়িকতার নিজের পরীক্ষিত ফর্মুলাকে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। আর এ উদ্দেশ্যে নামসর্বস্ব মুসলমানদের বাবরি মসজিদ নিয়ে বাণিজ্য করার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
মুম্বাই থেকে প্রকাশিত দৈনিক উর্দু টাইমস হতে উর্দু থেকে ভাষান্তর ইমতিয়াজ বিন মাহতাব
ahmadimtiajdr@gmail.com
* লেখক : ভারতের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট

ট্রাম্প টাওয়ারে আগুন

আগুন লেগেছে ট্রাম্প টাওয়ারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টায় নিউ ইয়র্কের দমকল বিভাগের কাছে ভবনটিতে আগুন লাগার খবর আসে। রাত সাড়ে ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন নেভানোর কাজ অব্যাহত ছিল। টিভি চ্যানেলে প্রচারিত ফুটেজে ম্যানহাটনের ফিফথ এভিনিউ ও ইস্ট ফিফটি সেভেন্থ স্ট্রিটে অবস্থিত আকাশচুম্বী ভবনটির ছাদে দমকলকর্মীদের দেখা গেছে।
দমকল বিভাগ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডটি খুব গুরুতর নয়। সম্ভবত বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে এর সূত্রপাত হয়েছে। খবর পাওয়ার পর, প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলে ৮৪ জন দমকলকর্মী আগুন নেভাতে পৌঁছান। কিন্তু এক ঘণ্টা পরে মাত্র কয়েকজনকেই ছাদে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, টাওয়ারটিতে বেশ কয়েকটি বাসভবন ও ব্যবসায়িক কার্যালয় রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পেরও সেখানে বাসভবন রয়েছে। আগুন লাগার সময় তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত হোয়াইট হাউজে অবস্থান করছিলেন।

সৌদি যুবরাজের নিজস্ব এলিট বাহিনী

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান রাজপরিবারের ভিন্ন মতালম্বীদের দমন করতে একটি এলিট বাহিনী ব্যবহার করছেন। আল-আজরাব সোর্ড (মরচে ধরা তলোয়ার) নামক এই বাহিনী সরাসরি যুবরাজের কাছে রিপোর্ট করে। সদ্য আরোপিত কৃচ্ছ্রতার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রিয়াদে সমবেত ১১ জন প্রিন্সকে এই বাহিনী গ্রেফতার করে।
বিশেষ এই বাহিনীর নামকরণ করা হয়েছে দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্র নজদের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহ আল সউদের তলোয়ারের নামানুষারে। কথিত আছে ইমাম তুর্কি একবার তার তলোয়ারের ওপর মরিচ জমতে দেখে সেটিকে আল-আজরাব নাম দেন। সৌদি সূত্রে জানা গেছে, দেশটির জাতীয় পতাকায় কালেমায় তাইয়েবার নিচে যে তলোয়ারের ছবি রয়েছে সেটিও এই তলোয়ার। তলোয়ারটি ১৫০ বছরেরও বেশি বাহরাইনে সংরক্ষিত ছিল। ২০১০ সালে বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ঈসা আল খালিফা তৎকালীন সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহকে সেটি উপহার দেন। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে বাদশাহ সালমান দায়িত্ব নেয়ার পর একটি এলিট ফোর্স হিসেবে আল আজরাব সোর্ড ব্রিগেড গঠন করা হয়। সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন পদমর্যাদার পাঁচ হাজার সদস্য নিয়ে গঠিত হয়েছে এই বাহিনী। সেনা, নৌ, বিমান ও রাজকীয় বাহিনীর সদস্যদের মধ্য থেকে নেয়া হয়েছে তাদের। এই বিশেষ বাহিনীর তদারকি করেন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। প্যারাস্যুট, দাঙ্গা দমন, স্নাইপার, বিস্ফোরক, স্কুবা ডাইভিংসহ উচ্চপর্যায়ের সব ধরনের সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয় বাহিনীর সদস্যদের। এই বাহিনীর দায়িত্ব কী বা কী উদ্দেশ্যে এটি গঠন করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, স্পর্শকাতর ও সরাসরি রাজকার্য সম্পৃক্ত কাজ করে এরা।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
এদিকে সৌদি আরবে চার মাস ধরে আটক থাকা শীর্ষস্থানীয় এক আলেমের পরিবারকে দেশত্যাগ করতে বাধা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছেন, সালমান আল আওদা নামে ওই আলেমের পরিবারের ১৭ সদস্য বিদেশ ভ্রমণ করতে চাইলে তাদের বাধা দেয়া হয়। সৌদি কাস্টমস কর্মকর্তারা পরিবারটিকে জানিয়েছে, বাদশাহর কার্যালয় থেকে কোনো কারণ উল্লেখ না করে পরিবারটিকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর ওই আলেমকে আটক করা হয়। তিনি সাহওয়া মুভমেন্ট বা জাগরণ আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন। কাতার অবরোধ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট বার্তা টুইটারে পোস্ট করতে রাজি না হওয়ায় তাকে আটক করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়াবহ বিপদে ফেলতে যাচ্ছে পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতা স্থগিতের ঘোষণার পর আফগানিস্তান সীমান্ত দিয়ে মার্কিন সেনাদের রসদ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রস্তাবটি নিয়ে কূটনীতিক এবং বেসামরিক ও সামরিক নেতাদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। আমরা শিগগিরই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাব।’ তিনি আরো বলেন, ‘পাকিস্তানি কূটনীতিকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের বিপরীতে এটা একটা ভালো কৌশল। আমাদের এই একটি অস্ত্র আছে।’ যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান থেকে এসব পথ দিয়ে আফগানিস্তানে খাদ্য ও যন্ত্রপাতি আনা-নেয়া করে থাকে। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানকে সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে পাকিস্তান বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
আর এর পর থেকে পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলো সরকারকে এ উদ্যোগ নিতে চাপ দিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন কারণে যুক্তরাষ্ট্রও পাকিস্তানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে পাকিস্তান। এ ছাড়া পাকিস্তানকে ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা দেয়ার ট্রাম্পের দাবি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দেশটি। ইসলামাবাদ বলছে, তারা নিজ দেশ ও বিশ্বের শান্তি বজায় রাখতে নিজের সম্পদ ব্যবহার করে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই করে আসছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস সাংবাদিকদের বলেন, পাকিস্তান স্থলপথে বা আকাশ পথে সরবরাহ পথ বন্ধ করার কোনো আভাস দেয়নি।  তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের সহযোগিতা স্থগিতের ঘোষণার পরও আফগানিস্তানে সামরিক রসদ সরবরাহের জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। ম্যাটিস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রধান কমান্ডার জেনারেল যোশেফ ভোটেল পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার সঙ্গে কয়েক দিন আগেই কথা বলেছেন।

ভারতে পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না বাংলাদেশী কিশোর-কিশোরীর

একজন কলেজে পড়ত, আরেকজন ক্লাস নাইনে। দুজনেই সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা। প্রেমে পড়েছিল তারা। কিন্তু এলাকায় জানাজানি হতেই শুধু বাড়িই নয়, দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল তারা। ভেবেছিল ভারতে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে জীবন বাঁধবে নতুন করে। সেটা ২০১৬ সালের নভেম্বর মাস। পশ্চিমবঙ্গ আর বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট থেকে বাস ধরে শিলিগুড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল ওদের। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তাদের বাসস্ট্যান্ডেই আটক করে। তারপরে শিশু-কিশোর বিচার বোর্ডের নির্দেশে দুজনের ঠাঁই হয় দুটি চাইল্ড কেয়ার হোমে। কিশোরীটিকে পাঠানো হয়েছিল মালদা জেলার হোমে, আর কিশোরটিকে রাখা হয়েছিল বালুরঘাটেরই শুভায়ন হোমে। এরমধ্যেই কাউন্সেলিং চলে দুজনের, যোগাযোগ হয় বাংলাদেশে তাদের অভিভাবকদের সঙ্গেও।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে দিন পনেরো আগে কিশোরীটিকে তার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আর রবিবার ওই কিশোরকে হিলি সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানো হল বাংলাদেশে। শিশু-কিশোরদের সহায়তার জন্য ‘চাইল্ড-লাইন’ নামে যে সরকারি ব্যবস্থা রয়েছে। তারই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সমন্বয়ক সুরজ দাস জানিয়েছেন, ‘ভিন ধর্মের মধ্যে প্রেম, এই কারণে ছেলেমেয়ে দুটি দেশ ছেড়ে ভারতে চলে এসেছিল। প্রায় সাত-আট মাস ধরে ওদের মধ্যে প্রেম ছিল। কিন্তু লোক জানাজানি হতেই ভয় পেয়ে গিয়েছিল। ভেবেছিল ভারতে এসে বিয়ে করে ঘর বাঁধবে।’ দুজনেই জেলা চাইল্ড-লাইনের হেফাজতে ছিল এতদিন। রোববার হিলি সীমান্তে ওই কিশোরকে ফেরত নিয়ে যেতে বিজিবি আধিকারিকদের সঙ্গেই হাজির ছিলেন তার বাবা মা-ও। তবে মি. দাস জানাচ্ছেন, ‘সিরাজগঞ্জে ছেলেটির নামে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তাই দেশে ফেরত যাওয়ার পরে তাকে গ্রেফতার করার আশঙ্কা আছে।’ তার কিশোরী প্রেমিকা অবশ্য দিন পনেরো আগে ওই একই পথে নিজের দেশে, বাবা-মায়ের কাছে ফিরে গেছে। সিরাজগঞ্জ জেলার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: হেলাল উদ্দিন বিবিসিকে জানিয়েছেন, মামলা থাকায় কিশোরটিকে রোববারই থানায় আনা হয়েছে এবং আজ সোমবার তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

ইসলামপুরে ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলে ঘরে ঘরে টাকার গাছ!

জামালপুরের ইসলামপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলের বেগুন টালকে (ক্ষেত) টাকার গাছের সাথে তুলনা করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে স্থানীয় কৃষিবিদরা বেগুন চাষকে কৃষকদের আপতকালীন ফসল হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। দু’দফা ভয়াবহ বন্যার পর ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে উৎপাদিত বেগুন বন্যাকবলিত কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে বিপদে বন্ধু হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুরে উৎপাদিত বেগুন সারাদেশের সবজির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বন্যার পর এ অঞ্চলের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছে। প্রচলিত আছে ‘কাঁসা, বেগুন, গুড়- এই মিলে ইসলামপুর’। এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী কাঁসা শিল্প ও আখের গুড়ের কদর এখন তেমন একটা না থাকলেও এখানের উৎপাদিত বেগুন বিদেশে রফতানি হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চল গোয়ালের চর, গাইবান্ধা, চরপুটিমারী, চর গোয়ালীনি ইউনিয়নে এক হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষ হয়েছে। বেগুন চাষ করে চরাঞ্চলের অর্ধলক্ষাধিক কৃষক স্বাবলম্বী হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের চরগুলোতে এ বছর ৭৫ হাজার মেট্রিক টন বেগুন উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নিয়ে এক হাজার ২৫০ হেক্টর একর জমিতে বিভিন্ন জাতের বেগুন চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উফশী বারি(১), বারি(২), বোতল বেগুন- স্থানীয় জাত সাদা ও জয়েন্ট গ্রীন জাতের বেগুন চাষ হয়েছে। বাম্পার ফলন হওয়ায় লক্ষমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ বেশি বেগুন উৎপাদন হয়েছে। চরাঞ্চলের কৃষকরা সকাল-বিকাল বেগুন ক্ষেত গেলেই পাচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। তাই তারা বেগুন টালকে টাকার গাছ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। চাষিরা জানান, এ বছর আবহাওয়া বেগুন চাষের জন্য এতোই ভালো ছিলো যে এক বিঘা জমিতে লাখ টাকার বেগুন উৎপাদ সম্ভব হয়েছে। বেগুন চাষি করিম আলী জানান, এ বছর বৃষ্টি ও ঠান্ডা কম হওয়ায় ক্ষেত অনেক ভালো হয়েছে। প্রথম দিকে ৮০ টাকা কেজি দামে বেগুন বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে দাম কমলেও যা হচ্ছে সবই লাভ বলে জানান এ কৃষক। অনুকুল আবহাওয়া ও ভালো দাম থাকায় বেগুন চাষে তাদের ভাগ্য বদলে গেছে। ডিগ্রীর গ্রামের আব্দুল বাছেদ বলেন, রাস্তাঘাট ভালো হওয়ায় ট্রাক সরাসরি ক্ষেতে ঢুকছে তাই বেগুন চাষিরা এবার তারা ভালো মূল্য পেয়েছেন। আগ্রখালী গ্রামের রমজান আলী জানান, এ বছর বেগুনের বাম্পার ফলন ও দাম ভালো পেয়েছি। তার তিন বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করে এ পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ টাকার বিক্রি হয়েছে।
এখনো বিক্রি চলছে। মতিউর রহমান জানান, কৃষি কাজে অল্প ব্যয় ও স্বল্প সময়ে বেশি আয় এক মাত্র বেগুন চাষেই সম্ভব। তিনি বলেন, এক বিঘা জমির বেগুন চাষে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। বাম্পার ফলন ও ভালো দাম হলে লক্ষাধিক টাকা বিক্রি করা যায়। ইসলামপুর বাজারের আড়ৎ মালিক সুলতান মিয়া জানান, শুধু এ বাজার থেকেই প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার মন বেগুন সিলেট, ঢাকা, চট্রগ্রাম ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রফতানী হয়। ব্যবসায়ী আকবর আলী জানান, এ বছর বেগুনের ব্যবসা করে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা লাভ হয়েছে। তিনি বলেন, এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী বেগুনের ব্যবসা করে বছরে লাখ লাখ টাকা আয় করে থাকেন। ব্যবসায়ী আলাল উদ্দিন জানান, ব্রহ্মপুত্র চরের উৎপাদিত বেগুন ইসলামপুর, মেলান্দহ, বকশীগঞ্জ ও শ্রীবর্দী উপজেলার প্রায় ২০টি স্পট থেকে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার মন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে রফতানী হচ্ছে। এতে চরের মানুষের প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা লেনদেন হচ্ছে। মৃত্তিকা বিশেষজ্ঞরা জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের পলি মাটি বেগুন চাষের জন্য অত্যান্ত উপযোগী। তাই বেগুন চাষ করে চরাঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্য বদলে গেছে। ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, বেগুন চাষ ইসলামপুরের কৃষকদেও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে পুষিয়ে নিয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বেগুন সংরক্ষণের মতো কোনো প্রযুক্তি আবিষ্কার হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। সংরক্ষণের ব্যবস্থা যদি থাকতো সরকার অবশ্যই তা করতো। তবে এ অঞ্চলের বেগুন বিদেশে রফতানি হচ্ছে। তিনি বলেন, বেগুন একটি শতভাগ কীটনাশকমুক্ত সবজি। বেগুন চাষে শুধুমাত্র ছত্রাকনাশক ছাড়া কোনো কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না।

এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে কোচিং সেন্টার বন্ধ

আগামী পহেলা ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা আগে অবশ্যই পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে স্ব স্ব আসন গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এর অন্যথা পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতেও দেয়া হবে না। কোনো পরীক্ষার্থীর হাতে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তাকে তৎক্ষণাৎ বহিষ্কার করা হবে। আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা সূষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জাতীয় মনিটরিং কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সুষ্ঠু, নির্বিঘ্ন ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আরো কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে থেকে শুরু করে সব পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত দেশে সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। এ সময়ের মধ্যে কোনো কোচিং সেন্টার খোলা রাখা যাবে না। পরীক্ষাকেন্দ্রে কেউ স্মার্ট ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। শুধুমাত্র কেন্দ্র সচিব একটি সাধারণ ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। সভায়,পরীক্ষা শুরুর আগে থেকে পরীক্ষা চলাকালীন দেশে ইন্টারনেট ও ফেইসবুক বন্ধ রাখার ব্যাপারেও বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কমিশনের (বিটিআরসি) সাথে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নেবে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বহনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা টেপযুক্ত বিশেষ খামে পরিবহন করা হবে। বহু সেট প্রশ্ন প্রস্তুত রাখা, নির্ধারিত সময়ের আগে প্রশ্ন না খোলা, পিন কোড ব্যবহার, অনলাইনে বা ইউএসবি ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্ন পাঠানো এবং পরীক্ষা শুরুর আগে থেকে কিছু সময়ের জন্য কেন্দ্র এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ রাখা যায় কি না তা নিয়ে বিটিআরসির সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো শিক্ষক-কর্মকর্তা প্রশ্নফাঁসসহ এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে বা তৎপরতায় জড়িত থাকেন তাকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারসহ শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এবং শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানদের বিশেষ নির্দেশনা দেন। উল্লেখ্য, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই পাবলিক পরীক্ষায় ১৭ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেবে। তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি। বিগত কয়েক বছর ধরে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মোঃ সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর মো. মাহাবুবুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমদ, ড. অরুনা বিশ্বাস, ও জাবেদ আহমেদ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, বিজি প্রেসের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন।

তীব্র শীতে কাঁপছে দেশ : ১০ জনের মৃত্যু

তীব্র শীতে কাঁপছে দেশ। উত্তরাঞ্চলের মানুষ কাঁপছে ঠক ঠক করে। পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায় গতকাল সোমবার তাপমাত্রা নেমেছিল ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এটিই ৫০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের সর্বনিম্তা মাত্রা। এর আগে ১৯৬৮ সালে বাংলাদেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড ছিল মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রংপুর বিভাগের অবশিষ্ট জেলাগুলোতেও গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করে।। গতকাল সৈয়দপুরে তাপমাত্রা নেমে যায় ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এসব অঞ্চলে প্রচণ্ড শীতে জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। গতকাল শীতে পাবনায় ছয়জনসহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। হঠাৎ এত ঠাণ্ডা নেমে আসায় মানুষের একেবারে দিশেহারা অবস্থা। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা মোকাবেলার প্রস্তুতি না থাকায় কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে। এক সময়ের মঙ্গাপ্রবণ রংপুর বিভাগের সর্বত্রই অভাবী মানুষের বাস। এরা অনেকেই নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলে অথবা বিশাল ফসলের মাঠে অথবা বড় রাস্তার পাশে খড়ের তৈরি ছাউনি ও বেড়া নির্মাণ করে বাস করে। মুষ্টিমেয় কিছু ছাড়া রংপুর বিভাগে বেশির ভাগ কাঁচা ঘরবাড়িতে বাস করে মানুষ। ঘরে আশ্রয় নিয়েও কনকনে শীত প্রতিরোধ করতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। এ এক অসহনীয় অবস্থা। না রাতে ঘুমিয়ে শান্তি পাওয়া যাচ্ছে, না দিনে কাজে বের হয়ে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন। শান্তিতে রাত কাঠানোর জন্য না আছে ভারী লেপ-কম্বল এবং দিনের বেলা কাজে বের হওয়ার জন্য না আছে উপযুক্ত গরম জামা-কাপড়। হাঁড় কাঁপানো এ শীত শুধু যে রংপুর বিভাগে তা নয়। রাজশাহী বিভাগেও প্রচণ্ড ঠাণ্ডা হাওয়ায় নাকাল অবস্থা মানুষের। তবে রংপুর বিভাগের চেয়ে রাজশাহী বিভাগে ঠাণ্ডা তুলনামূলকভাবে একটু কম। আবহাওয়া অফিস বলছে, দু’টি বিভাগেই তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, ১৯৪৮ সাল থেকে আবহাওয়া অফিসে তাপমাত্রার রেকর্ড রয়েছে।
দেখা যাচ্ছে ১৯৬৮ সালে শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা নামে ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কিন্তু আজকে (গতকাল সোমবার) তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলের রেকর্ড ভেঙেছে। রাজধানী ঢাকায় রংপুর অথবা রাজশাহী বিভাগের মতো এতটা ঠাণ্ডা পড়েনি। প্রায় দেড় কোটি মানুষ এখানে অল্প পরিসরে গাদাগাদি করে বাস করে বলে ঢাকার তাপমাত্রা খুব বেশি নামে না। ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রা নেমে গেলেই খুব অস্বস্তিতে পড়েন ঢাকাবাসী। এখানে পাকা ভবনে যত মানুষ বাস করেন তার চেয়ে বেশি মানুষ বাস করেন শহরের মাঝখানে সরকারি জমিতে, রেল লাইনের পাশে ও নিম্নাঞ্চলে। এসব মানুষ বেশ বেকায়দায় পড়েছেন হঠাৎ এ প্রচণ্ড শীতে। প্রচণ্ড শীতে মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা ধরনের সমস্যা। কারো ডায়রিয়া, কেউ ভুগছেন হাঁপানিতে। আবার সর্দি-কাশি খুবই সাধারণ বিষয়। কেউ কেউ ভুগছেন প্রচণ্ড মাথা ব্যথায়। হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসকেরা সর্দি-কাশি, হাঁপানি ও ডায়রিয়ার রোগী বেশি আসছেন বলে জানান। চিকিৎসকদের চেম্বারে এত রোগী আসছেন যে রাত পর্যন্ত তাদের চেম্বারেই থাকতে হচ্ছে। শীত নামলেই প্রতি বছরই চাহিদা বাড়ে গরম কাপড়ের। রাজধানী ঢাকায় কম্বলের বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী। যে পাতলা কম্বল সাধারণ সময়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি সেটা এখন এক হাজার টাকায়ও বিক্রি করছে না। সাধারণ মানের গরম সুয়েটার আগে ২০০-৩০০ টাকায় বিক্রি হতো এগুলোই ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গতকাল রাজধানীর মতিঝিলের ফুটপাথে গিয়ে দেখা গেছে, দামা-দামি করার সুযোগই দিচ্ছে না বিক্রেতারা। এক দামে বিক্রি করে শেষ করতে পারছে না। আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান জানান, হিমালয় অঞ্চলের হিমশীতল বায়ুপ্রবাহ বাংলাদেশের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে নেমে আসায় এবং শুষ্ক বাতাস, ঘন কুয়াশা, ঊর্ধ্বাকাশের জেট বায়ু ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি চলে আসার কারণেই তাপমাত্রা এত বেশি নিচে নেমেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেট বায়ু খুবই ঠাণ্ডা থাকে। এটি স্বাভাবিক সময়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার ফুটের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময় এটি ১০ থেকে ২০ হাজার ফুটে নেমে আসে। এ বছর জানুয়ারির শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ঠাণ্ডা বায়ু প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। গত ৩ জানুয়ারির বিকেল থেকেই দেশের অর্ধেক অঞ্চল মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের আওতায় চলে আসে। গত ৪ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা নামে সাড়ে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এরই ধারবাহিকতায় গত দুই দিন থেকে কয়েকটি স্থানে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছেন, চলতি শৈত্যপ্রবাহের মাত্রা দুই থেকে তিন দিন পর ধীরে ধীরে উন্নতি হবে। তবে আগামী পাঁচ দিন পর তাপমাত্রা অনেকটাই বাড়তে শুরু করবে।
কারণ আন্দামান সাগরে একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়ে গতকাল বিকেল পর্যন্ত তা অগ্রসর হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তংসংগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। লঘুচাপটি আরেকটু অগ্রসর হলে তা দেশের তাপমাত্রার ওপর প্রভাব ফেলবে। ধীরে ধীরে শৈত্যপ্রবাহকে আরো উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের দিকে ঠেলে দেবে। তখন তাপমাত্রা একটি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসতে পারে। গতকাল পর্যন্ত রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ ছাড়া টাঙ্গাইল, শ্রীমঙ্গল, চুয়াডাঙ্গা এলাকায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল। আজ মঙ্গলবারও এসব অঞ্চল ছাড়া তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আওতা বাড়বে যশোর অঞ্চলেও। আজ ময়মনসিংহ, বরিশাল বিভাগ এবং ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অবশিষ্ট অঞ্চল এবং সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলে বয়ে যেতে পারে মৃদু থেকে মাঝারি (৬.১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ধরনের শৈত্যপ্রবাহ। আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে রাতের তাপমাত্রা সকাল পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাবে। নীলফামারী সংবাদদাতা জানান, নীলফামারীতে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা অব্যাহত রয়েছে। রাত ৮টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়েছে। ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকছে সব কিছু। তবে গত চার দিন পর সোমবার গতকাল নীলফামারীতে সূর্যের দেখা মিলেছে। এ দিকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় গতকাল সকালে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া সৈয়দপুর উপজেলায় ৩ দশমিক ৫ ও নীলফামারী সদর, ডোমার ও জলঢাকা উপজেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। নীলফামারী জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা এ টি এম আখতারুজ্জামান জানান, এ পর্যন্ত জেলায় ৪১ হাজার ৯৩৭টি শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। শিশুর পোশাকসহ আরো ২০ হাজার কম্বলের চাহিদা দেয়া আছে বলে তিনি জানান। সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, নীলফামারীর সৈয়দপুরে কনকনে ঠাণ্ডা ও শৈত্যপ্রবাহ চলছে। এতে গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্টে পড়েছেন। সরকারি ও বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। ফলে লোকজন খড়কুটা, কাগজ ইত্যাদি জ্বালিয়ে শীতের হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। নীলফামারীর সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, গতকাল সোমবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সৈয়দপুরে ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সাদা মেঘের ভেলায় ঢাকা পড়েছে পুরো জনপদ। চার দিক কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে। বৃষ্টির মতো ঝিরঝির করে কুয়াশা ঝরছে। ফলে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীর গতিতে চলাচল করেছে সকাল ও ভোরে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বা মোড়ে জ্বালানো হয়েছে আগুনের কুণ্ডলি। চালক ও পথচারীরা হাত ও শরীর আগুনে তাপিয়ে নিয়ে গন্তব্যে ছুটছেন। দোকানিদের প্রতিষ্ঠানের খড়কুটা জ¦ালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। এ দিকে শীতজনিত রোগে হাসপাতালে রোগীদের ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুরা সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। যশোর অফিস জানায়, শৈত্যপ্রবাহে অচল হয়ে পড়েছে যশোরের জনজীবন।
স্থবির হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কেউ কোনো কাজকর্মে যেতে পারছেন না। ঘন কুয়াশায় যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। গতকাল সোমবার যশোরের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শ্রমজীবী সাধারণ মানুষও শীতে কষ্ট পাচ্ছেন। একান্ত বাধ্য না হলে কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। শীতের সাথে প্রচণ্ড কুয়াশা থাকায় যান চলাচলও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে সকাল ১০টার দিকে কুয়াশা ভেদ করে সূর্য ওঠার পর এ অঞ্চলের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে শুরু করে। যশোর জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগী বেড়েছে। পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়া সংবাদদাতা জানান, গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। গতকাল সোমবার সকালে এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত চার দিনের মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের পর রোববার রাত থেকে শুরু হয় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। গতকাল ভোর থেকেই ভারী কুয়াশায় ঢেকে যায় জেলার সব এলাকা। ভোরে দুই হাত সামনের জিনিসও ভালোমতো দেখা যায়নি। তবে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সূর্যের মুখ দেখা যাওয়ার পর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক তৌহিদুল ইসলাম জানান, সোমবার সকাল ৬টার সময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবার সকাল ৯টায় রেকর্ড করা হয় সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গতকাল বেলা ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি আরো জানান, একই অফিসের গ্রাস থার্মোমিটারে গতকাল সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ দিকে পঞ্চগড়ের শীতার্ত মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য গতকাল রাতে পঞ্চগড়ে পৌঁছেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিলুপ্ত গারাতি ছিটমহলে শীতবস্ত্র বিতরণ করবেন। সেখানে শীতবস্ত্র বিতরণ শেষে তিনি বোদা উপজেলার পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে শীতবস্ত্র বিতরণ শেষে ঠাকুরগাঁও যাবেন। রাজবাড়ী সংবাদদাতা জানান, রাজবাড়ীতে শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রোটা ভাইরাস ও ডায়রিয়ার প্রকোপ। এ ছাড়া এখানে এক সপ্তাহ ধরে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগ। বিশেষ করে রাজবাড়ীর পদ্মা নদী ভাঙনের শিকার বেড়িবাঁধ ও জেগে ওঠা চরাঞ্চলে ঝুপড়ি পেতে আশ্রয় নেয়া ছিন্নমূল পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধরা এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। রোটা ভাইরাস ও ডায়রিয়ায় আক্রান্তরা প্রতিদিনই রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া বিভাগে ভর্তি হচ্ছে। এ রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে যাওয়ায় এ হাসপাতালে শয্যার সঙ্কটে অনেক রোগীতে ফ্লোরে আশ্রয় নিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। যার বেশির ভাগই শিশু। পাশাপাশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন বয়স্করাও। লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা জানান, মেঘনা উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে গত কয়েক দিনে শীতের তীব্রতা, ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। এ অঞ্চলে দিনদিনই কমছে তাপমাত্রা, বাড়ছে শীত। এখানকার বেশির ভাগ মানুষ জেলে ও কৃষক হওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে তারাই। হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও শ্রমজীবীসহ সাধারণ মানুষ। এসব নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের শীত নিবারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সকাল, দুপুর, বিকেল ও রাতে সব সময় কন কনে বাতাশের সাথে তীব্র শীতে নাকাল শিশু ও বৃদ্ধরা। শীত নিবারণের জন্য মানুয় খড়কুটা জ্বালিয়ে সাময়িক শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। শীতের তীব্রতার করণে মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে। গত এক সাপ্তাহ ধরে দিনে ও রাতে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। সঙ্গে সঙ্গে হিমেল হাওয়া শীতের তীব্রতা আরো বাড়ছে। মওসুমি শীতের প্রভাবে মানুষের পাশাপাশি প্রাণিকুলেও কষ্ট লক্ষ করা গেছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিনেও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে। সন্ধ্যার পর সব হাটবাজারের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দিচ্ছেন। রাতে মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বেরে হচ্ছেন না। দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা জানান, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে বলে এলাকার কৃষকেরা জানিয়েছেন। ধানের বীজতলা, সরিষা, মসুরি নষ্ট হতে পারে। কয়েক দিন ধরে আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন রয়েছে। মানুষের দুর্ভোগ চরমে, শিশুদের পাশাপাশি বয়স্করাও ঠাণ্ডজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা ও সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় ধান বিজতলা কিছুটা বিনষ্ট হতে পারে তবে অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রে সে ধরনের আলামত দেখা যায়নি। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, গতকাল সোমবার ফের তাপমাত্রা নেমে চুয়াডাঙ্গায় ৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। জেলার ওপর দিয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। উত্তরের বাতাস বইছে। খড়কুটায় আগুন জ্বালিয়ে মানুষ শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার ভাঙনকবলিত পদ্মা পাড়ের বাসিন্দারা গত ক’দিন ধরে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এসব মানুষ পদ্মা নদীর পাড়ে, বিভিন্ন বেড়িবাঁধ, ও উন্মুক্ত ফসলি মাঠের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার বসবাস করছে। পদ্মার তুষারাচ্ছন্ন বাতাস আর হাড়কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে নারী, শিশু, বৃদ্ধরা গবাদিপশু নিয়ে খড়কুটা ও ছালা জড়িয়ে বেঁচে আছেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগ শ্রমজীবী, মজুর ও জেলে পরিবার। চলতি বোরো মওসুমে গ্রামাঞ্চলে ইরি ও বোরা ধান রোপণের ধুম পড়েছে। তাই ধান রোপণের কাজগুলো কাদা পানির বলে তীব্র শীতে বৃদ্ধ কৃষক ও শ্রমিকেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সেই সাথে পরিবারের শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদিপশুর মধ্যে দেখা দিয়েছে ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগ। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মানস বসু জানান, ‘এ বছর সরকারিভাবে আমরা ১ হাজার ২০০ পিস কম্বল পেয়েছি। উপজেলার প্রতিটি দুস্থ পরিবারে সরেজমিনে ঘুরে ঘুরে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করেছি।’ কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা জানান, টানা আট দিনের তীব্র শৈত্যপ্রবাহে কুড়িগ্রামের জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। কুড়িগ্রামের কৃষি আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক সুবল চন্দ্র সরকার জানান, সোমবার এ অঞ্চলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। কনকনে ঠাণ্ডা ও উত্তরের হাওয়ায় ঘর থেকে বের হতে পারছেন না মানুষ। সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা।
গত কয়েক দিনে রাত ও দিনের তাপমাত্রার তারতম্য না থাকায় কাজে বের হতে পারছেন না শ্রমজীবী মানুষ। গরম কাপড়ের অভাবে সর্বত্রই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে নি¤œ আয়ের মানুষজন। তীব্র ঠাণ্ডায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। তবে সোমবার বেলা ১১টা থেকে সূর্যের দেখা মেলায় একটু স্বস্তি ফিরে এসেছে শীতকাতর মানুষের মাঝে। কুড়িগ্রাম শহরের ভ্যানচালক মোকছেদ মিয়া জানান- এমন ঠাণ্ডা, হাতও বের করা যায় না। তারপরও গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। কিন্তু এই ঠাণ্ডায় কোনো ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের সোহরাব আলী জানান, নদীর পাড়ে বাড়ি। ঠাণ্ডায় ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। কাজও চলে না। গরম কাপড়ও নাই। ছেলেমেয়ে নিয়ে খুবই কষ্টে আছি। এ দিকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা: শাহিনুর রহমান সরদার জানান, শীতের তীব্রতা বাড়ায় সদর হাসপাতালে শিশু ও বৃদ্ধ রোগী বাড়ছে। বর্তমান হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৩১ জন শিশু রোগী ভর্তি রয়েছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শিশু ও বৃদ্ধসহ ২১ জন ভর্তি রয়েছে। এখন পর্যন্ত সদর হাসপাতালে শীতজনিত রোগে কোনো রোগী মারা যায়নি বলে জানান তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসক সঙ্কট থাকলেও যথাসাধ্য চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানান, সরকারের কাছে থেকে আমরা ৫৭ হাজার শীতবস্ত্র পেয়েছি, যা অতীতের চেয়ে বেশি। শীতবস্ত্র যথাযথভাবে যাতে বিতরণ হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করেছি। জেলায় দুস্থ মানুষ যারা আছেন তাদের তালিকা করে কম্বল পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। আমরা আরো কম্বল চেয়েছি। আশা করছি সেটি পেয়ে যাব এবং দ্রুত শীতার্ত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারব।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্ব করতে মংডুতে মাইন বিস্ফোরণ নাটক

মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে প্রতিনিয়ত গুলিবর্ষণসহ উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে রোহিঙ্গাদের কোণঠাসা করে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করছে। রোহিঙ্গা পল্লীগুলোতে সেনাদের টহল ও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।  গত শুক্রবার সকালে মংডুতে স্থলমাইন বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ ও ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে রোহিঙ্গাদের মধ্যে। রাখাইনের মংডু শহরের অদূরে স্থলমাইন বিস্ফোরণে পাঁচ সেনাসদস্য আহত হওয়ার খবরকে রোহিঙ্গা পল্লীতে নতুন করে অভিযান চালানো ও বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত করতেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী মংডুতে এ বিস্ফোরণ নাটক করছে বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, উত্তর রাখাইনে যে ক’টি রোহিঙ্গা পল্লী অক্ষত রয়েছে সেগুলো অবরোধ করে রেখেছে সেনারা। কোনো রোহিঙ্গা গ্রামের বাইরে যেতে পারছে না। এমনকি হাটবাজারে কেনাকাটা ও চিকিৎসা নিতেও বাইরে যেতে মানা। প্রতিদিন সেনাসদস্যরা রোহিঙ্গা গ্রামে সারিবদ্ধভাবে টহল দিচ্ছে। টহল দেয়ার সময় ক’জন রোহিঙ্গাকে আটকও করেছে তারা। ফলে গ্রামগুলোতে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুরুষরা ঘর ছেড়ে খামার বাড়ি ও পাহাড়ে আত্মগোপন করেছেন। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী শহর মংডুর আশপাশে রোহিঙ্গা পল্লীগুলোতে সেনাদের টহল ও তল্লাশি জোরদার করেছে। মংডু এলাকার খায়ের পাড়া, জামতলী, কোনাপাড়া, হরিতলা, জুলাপাড়া ও তুম্বুতে ভারী অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে সেনাসদস্যরা মহড়া দিতে দেখেছে রোহিঙ্গারা। এ সময় আতঙ্কিত রোহিঙ্গারা ঘর ছেড়ে পালিয়ে জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, তমব্রু সীমান্ত এলাকা থেকে দুই রোহিঙ্গা কিশোরকে ধরে নিয়ে গেছে টহলরত সেনারা। সীমান্তের একেবারে জিরো পয়েন্টে থাকা রোহিঙ্গাদের ঘিরে মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রতিনিয়ত গুলিবর্ষণসহ উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ায় সীমান্তে সঙ্ঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় চলতি মাসেই তাদের আশ্রয় শিবিরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজিবি। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শুরুর দিকে বিজিবির বাধার মুখে বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম, তমব্রু চাকমার কূল সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নেয় হাজার হাজার রোহিঙ্গা।
তাৎক্ষণিকভাবে উখিয়ার কুতুপালং এবং বালুখালী আশ্রয় শিবিরে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ার পাশাপাশি নানা জটিলতার কারণে নো-ম্যান্স ল্যান্ডই হয়ে ওঠে তাদের আশ্রয়কেন্দ্র। কিন্তু অবস্থানরত এসব রোহিঙ্গাকে ঘিরেই নানা ধরনের উসকানিমূলক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং মগরা এ রাস্তা দিয়ে আসা-যাওয়া করে তাই খুব ভয় লাগে। আমাদের ওপারে যেতে দেয় না সে দিন পাঁচ-ছয়জন যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। রোহিঙ্গা পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে নিতে প্রথম থেকেই মিয়ানমার সেনাবাহিনী সীমান্তের খুব কাছাকাছি এসে গুলিবর্ষণ করছে। এ অবস্থায় মিয়ানমারের সাথে সঙ্ঘাত এড়াতে নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে জানালেন ৩৪ বিজিবি উপ-অধিনায়ক মেজর ইকবাল আহমেদ। তিনি বলেন, এখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে এবং বর্ডার ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রেও এটা বাধার সৃষ্টি করে। এ জন্য তাদের আমরা নিয়ে আসছি। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানরত ১৫ হাজার রোহিঙ্গার জন্য নতুন করে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে উখিয়ার কুতুপালং আশ্রয় শিবিরের ইউইউ শেডে বলে জানালেন উখিয়ার ইউএনও মোহাম্মদ নিকারুজ্জামান চৌধুরী। কুতুপালং আশ্রয় শিবির ক্যাম্প ইনচার্জ রেজাউল করিম বলেন, হয়তো দু-এক সপ্তাহের মধ্যে নো-ম্যানস ল্যান্ড থেকে রোহিঙ্গাদের আনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এর আগে একই উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ে অবস্থানরত অন্তত ২০ হাজার রোহিঙ্গাকে সরিয়ে আনা হয়েছে। এ দিকে আকিয়াবে রোহিঙ্গাদের আইডিপি ক্যাম্পের পাঁচ রোহিঙ্গা যুবককে অমানবিক নির্যাতন করেছে মিয়ানমারের পুলিশ। গত ৩ জানুয়ারি বিকেলে প্রয়োজনীয় কাজে আইডিপি ক্যাম্পের বাইরে যায় ওই যুবকেরা। তারা শৈ থেম মাই জি এলাকায় পৌঁছলে পুলিশ তাদের আটক করে নির্যাতন চালায়। পুলিশ চলে গেলে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ক্লিনিকে নিয়ে যায়। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর ওপর হামলার অজুহাতে পুরো রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, উচ্ছেদের মাধ্যমে জাতিগত নিধন চালায় সেনারা। এতে অন্তত ৯ হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু নিহত হন। সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে আশ্রয় নেন বাংলাদেশে।