Monday, February 23, 2015
শেখ হাসিনার লেখা চিঠি প্রদর্শন করছেন কাদের সিদ্দিকী
একটি চিঠির শুরুতেই শেখ হাসিনা কাদের সিদ্দিকীকে ‘কল্যাণীয় বজ্র’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। তারপর লিখেছিলেন, “জানি খুব রেগে আছ। মনে হয় দূর থেকেও তোমার রাগ দেখতে পাই। আমার সঙ্গে তো শুধু রাগ অভিমানই করলে আবার এও জানি যত রাগই কর না কেন আপার সামনে এলে সব রাগ পানি হয়ে যেতে বাধ্য। চিঠি দেই না দেখে এটা ভেব না যে, মনে করি না। সব সময় মনে করি। খবরও যে পাই না তা নয়, খবরও পাই।” শেখ হাসিনা লিখেছেন, “তাছাড়া ঢাকায় অনেক ভিড়ের মাঝে আমি ভীষণ একা। প্রায়ই পরশ-তাপসদের (মণি ভাইয়ের বাচ্চারা) কাছে যাই একটু সান্ত্বনা পাই। কি যন্ত্রণা নিয়ে যে আমি সেখানে থাকি কাউকে বলতে পারব না। যখনই অপারগ হই দম বন্ধ হয়ে আসে। এখানে চলে আসি। তাছাড়া অনেক আশা নিয়ে দেশে ফিরেছিলাম।” তিনি লিখেছিলেন, “আজ দেশ বিরাট সঙ্কটের মুখে। স্বাধীনতা বিরোধী চক্র কিভাবে শক্তি সঞ্চয় করেছে... যেখানে সমগ্র দেশ, সমগ্র বিশ্ব জাতির পিতা বলে মানে সেখানে কয়েকটা ক্ষমতা দখলকারীরাই মানতে রাজি নয়...” যে লক্ষ্য সামনে রেখে স্বাধীনতা চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু, সে স্বাধীনতা লক্ষ্য থেকে আজ অনেক দূরে দেশ চলে গেছে। ১৫ই আগস্টেও যে ষড়যন্ত্র দেশ ও জাতিকে নিঃশেষ করার ষড়যন্ত্র। আমরা আমাদের মৌলিক অধিকার হারিয়েছি, সেই অধিকার আজও আদায় করতে পারলাম না। যখন দেশ ও জাতি এ সঙ্কটের সম্মুখীন তখন একটি দল সব থেকে একটি সংগঠিত দল জাতির পিতার হাতে গড়া স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দলের কি ভূমিকা হওয়া উচিৎ? এখানে আমার দায়িত্ব বড়? এই দেশ ও জাতির স্বার্থ বড়? একটি দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হলে কত ‘আমি’কে বিসর্জন দিতে হয় তবেই না লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়। কিন্তু আমাদের দলের কি ভূমিকা কি চেহারা আমি পেয়েছি?’ “কারো বাড়া ভাতে ছাই ঢালতে আমি যাই নাই। আমি ‘জাতির পিতার’ মেয়ে সেই হিসাবে শুধু সেই হিসাবেই যে ভালবাসা, যে সম্মান আমি এই বয়সে পেয়েছি। সারা জীবন আমার বাবা সাধনা করেছেন, ত্যাগ করেছেন তারই দানে আমি সমগ্র জাতির ভালবাসা, সম্মান পেয়েছি। আমার আর পাবার কি আছে? আমি এখন দিতে চাই। আমি সবই হারিয়েছি, চরম মূল্য দিয়েছি। আমার আর হারাবার কিছু নাই। চরম ত্যাগের মনোভাব নিয়েই যে দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছিল, তা পালন করতে গিয়েছিলাম (স্বপ্নেও কখনও ভাবি নাই যে এত বড় গুরুদায়িত্ব আমার উপর পড়বে) কিন্তু সেখানে গিয়ে কি পেয়েছি। সব থেকে বেশি সাহায্য সহযোগিতা যাদের কাছ থেকে পাব আশা করেছিলাম সেখানে বড় ফাঁক। এই এক বছরের ঘটনা কিছু বিশ্লেষণ করলেই দেখবে, বুঝবে। যার যা যোগ্যতা কর্মদক্ষতা তার মধ্য দিয়েই উঠবে কিন্তু একজনকে ছোট করে খাটো করে আর একজন উঠবে সেটা তো হয় না। আর এখানে তো আমরা দিতে এসেছি। কিন্তু সে মনোভাব কোথায়? অনেক খোঁজ-খবর পেয়েছি। দলের ভিতরেও এজেন্ট আছে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রেরই এজেন্ট তারাই দলের ইমেজ নষ্ট করবার জন্য। যাতে এগোতে না পারে সে জন্য, মূল লক্ষ্যে যাতে পৌঁছাতে না পারে তারই জন্যে কাজ করে যাচ্ছে। কেউ সচেতনভাবে কেউ অবচেতনায় সাহায্য করছে। বুঝতেও পারছে না। আত্মচিন্তায় এতটুকু চেতনাও হচ্ছে না যে কি সর্বনাশ দেশ ও জাতির জন্য করে যাচ্ছে।” ‘আজকের এই সঙ্কটময় মুহূর্তে সকলকে এক থাকতে হবে, বৃহৎ স্বার্থে কাজ করতে হবে। আজকে সে সময় নয় যে, ব্যারোমিটার দিয়ে কে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে কতটুকু বিশ্বাসী তা মাপার সময় এখন নয়। সেটা বোঝা যাবে ভবিষ্যতে কাজের মধ্যে দিয়ে কিন্তু কিছু কার্যকলাপ এভাবেই চলছে। তাতে গোটা দলের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। একটা স্থবিরতা এসে যাচ্ছে সে চেতনা কারো নেই। তার উপর সব থেকে বড় কথা হচ্ছে যারা এই ধরনের কথা তুলে দলকে এগোতে দিচ্ছে না তারা কি সত্যিই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী না কি জীবনেও যাতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়িত হতে না পারে সেই প্রচেষ্টায় নিমগ্ন। সেই প্রশ্নই আজ মনে আসে। গতবারই একটা কথা বলেছিলাম, ভীষণ একা আমি। শাঁখের করাতের ভিতর দিয়ে চলছি। তবে নিরাশ নই যা ঘটছে আমার বিশ্বাস একদিন না একদিন সফলকাম হবই। হত্যার প্রতিশোধ নেবই। ২/৪টা খুনি মারলেই হবে না। মূল থেকে উপড়াতে হবে সেটা মনে রেখ। যারা বঙ্গবন্ধুর গায়ে হাত দিতে সাহস করে তাদের দুর্বল ভাবলে চলবে না। মাটির অনেক গভীরে তাদের শিকড় গাড়া সেটা মনে রাখতে হবে। যাক অনেক বকবক করলাম। মনের কথা আমি খুব কমই বলি। স্মৃতি রোমন্থনই বেশি করি, আজ অনেক কথা লিখলাম...’ ইতি : আপা ১৫/১০/৮২ এদিকে দেশের বর্তমান সঙ্কট উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আলোচনায় বসতে এবং বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে কাদের সিদ্দিকী গত ২১ দিনের নিরবচ্ছিন্ন অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে তার অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আজ বুধবার বেলা ১২টায় সাংবাদিকদের কাছে তার বক্তব্য তুলে ধরবেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সেনাবাহিনী ক্ষমতা নেয়ার সাহস পাবে না : কূটনীতিক রীতি ভঙ্গের জন্য যা দরকার করব : শেখ সেলিম
সোমবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে শেখ সেলিম এ কথা বলেন। এসময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন বৈঠকে সভাপতিত্ব করছিলেন।
বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধের সমালোচনা করে শেখ সেলিম আরো বলেন, অবরোধ হরতালের নাম দেশব্যাপী জ্বালাও পাড়ও নাশকতা চালিয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ভাবছেন, তৃতীয় কোন শক্তি এসে উনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিবেন। কিন্তু সেই দিন আর নেই। সেনাবাহিনী এখন আর কাউকে ক্ষমতায় বসাতে পারবে না। আর কোন জুনিয়র হোমরা চোমরা পুচকে (জুনিয়র) আর্মি অফিসার উনাকে আশ্বাস দিলে তাতে লাভ হবে না, ক্ষমতায়ও বসাতে পারবে না। সেনাবাহিনী আর কোন দিন অবৈধভাবে ক্ষমতা নেয়ার সাহস পাবে না, কারণ অবৈধভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করলে কেউ তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদন্ড।
সুশীল সমাজের সমালোচনা করে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, তারা কিসের সুশীল? নাগরিক কমিটি অপরাধীদের আড়াল করতে সংলাপের কথা বলছে। এদের কারা সুশীল বানিয়েছে? নিজেরা নিজেদের সুশীল দাবি করছেন তারা। এরা নিজেরা ঘরে বসে নিজেদের সুশীল বানিয়েছে। জঙ্গি তৎপরতায় যারা উস্কানি দেবে, তারা টকশো করুক আর মিষ্টি শো করুক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। শেখ সেলিম বলেন, তারা অবৈধ পন্থায় ক্ষমতায় আসায় বিশ্বাস করে। কারণ অবৈধ পন্থায় ক্ষমতায় এলে দু’একটি ভালো কথা বলে উপদেষ্টা হওয়া যায়।
মাহমুদুর রহমান মান্না ও সাদেক হোসেন খোকার কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সেলিম বলেন, একজন বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ ফেললে সরকার উৎখাত করা যাবে। সরকার উৎখাত করে ক্ষমতায় যাওয়া যাবে। তাদের এই স্বপ্ন কোনদিনই বাস্তবায়িত হবে না।
শেখ সেলিম বলেন, শেখ হাসিনা কারো সঙ্গে কোন আলোচনা করবে না। জঙ্গীদের সঙ্গে কোন আলোচনা হতে পারে না। টুইন টাওয়ার ধ্বংসকারীদের সঙ্গে বুশ কোন আলোচনা করেনি। খালেদা জিয়াকে গণতন্ত্র ইসলাম ও মানবতার শক্র আখ্যায়িত করে শেখ সেলিম বলেন, তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা কালেও জঙ্গী তৎপড়তা চালায় ক্ষমতার বাইরে থেকেও চালায়। উনি (খালেদা জিয়া) হচ্ছেন সেই নেত্রী, জামায়াত যেটা বলে সেটাই তিনি করেন। সুশীল সমাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এরা কখনো বাংলাদেশের পক্ষে ছিল না। একাত্তুরে এরা পাকিস্তানের পক্ষে ওয়ান ইলেভেনের সময় এরা আর্মি ব্যাকড সরকারের পক্ষে থাকে। এরা জঙ্গীবাদকে উৎসাহিত করছে। শেখ সেলিম খুনী ও জঙ্গীবাদের উত্থানের জন্য জিয়াউর রহমানকে দায়ী করে বলেন, জিয়া জেল হত্যার বিচার বিচার বন্ধ করেছিল। ২১ হাজার যুদ্ধাপাধীকে ক্ষমা করে দিয়ে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেছেন। খালেদা জিয়াও ৭১-৭৫-এর খুনীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনর্বাসন করেছেন।
রাস্ট্রপতির ভাষনের ওপর এছাড়াও এডভোকেট প্রমোদ মানকিন, সানজিদা খানক, বেগম সালমা ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল জ্যাকব প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পদ্মাপাড়ে আহাজারি- কার্গোর ধাক্কায় লঞ্চডুবি, ৪১ লাশ উদ্ধার by রিপন আনসারী
লঞ্চে থাকা যাত্রী রুমা খাতুনের স্বজন আবুল কাশেম জানান, রুমার ৭ বছরের ছেলে উৎসব ও দু’মাস বয়সের এক শিশু নিয়ে মানিকগঞ্জ স্বামীর কর্মস্থল থেকে রাজবাড়ী জেলার ভবানীপুর কর্মস্থলে ফিরছিলেন। এক বছর আগে রাজবাড়ীর ব্রাহ্মণদিয়া গ্রামের সাগর বিয়ে করেন রাবেয়া আক্তারকে। বিয়ের পর তারা নবীনগর থাকতেন। গতকাল নবীনগর থেকে বাড়ি ফেরার পথে লঞ্চডুবির ঘটনায় ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা রাবেয়া নিখোঁজ রয়েছেন। মানিকগঞ্জে কর্মরত ডিবি পুলিশের সদস্য নুর হোসেনের স্ত্রী ও ৬ বছরের ছেলে ও আড়াই মাসের মেয়েকে নিয়ে রাজবাড়ী যাওয়ার পথে তিন জন নিখোঁজ রয়েছেন। এরকম প্রায় ১০০ যাত্রীর কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। লঞ্চডুবির ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুরুর রহমানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি। এ তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। অন্যটি সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের কমিটি। এ কমিটিকে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এদিকে নার্গিস-১ কার্গোর তিন জনকে পুলিশ আটক করেছে। এরা হলেন, কার্গোর তিন লস্কর শাহীনুর রহমান (২১), শহীদুল ইসলাম (২৪) ও জহিরুল ইসলাম (২১)।
লঞ্চের যাত্রী ব্র্যাক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, তাদের বহনকারী লঞ্চটিতে প্রায় শতাধিক যাত্রী ছিল। এদিকে পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের সুপারভাইজার জুয়েল রানা জানান, নদীতে ডুবে যাওয়া লঞ্চে কমফোর্ট লাইনের গাড়ির প্রায় ৪০ জন যাত্রী এবং আরও অন্তত ৬০ জন যাত্রী ছিল।
নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, বিআইডাব্লিউটিএর চেয়ারম্যান ড. সামসুজোহা খন্দকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়া মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাশেদা ফেরদৌস, পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা, রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা জানান, লঞ্চটি প্রায় শতাধিক যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া অভিমুখে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে মাঝ পদ্মায় কাজিরহাটগামী মালবাহী জাহাজ এমভি নার্গিস-১ এর সঙ্গে ধাক্কা লেগে লঞ্চটি ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া লঞ্চের উদ্ধার অভিযানে আসা মানিকগঞ্জের ঘিওরের ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ম্যানেজার জিহাদ হোসেন জানান, নদীতে প্রায় ১৮ ফিট পানি রয়েছে। ঢাকা থেকে একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ম্যাজিস্ট্রেট সেতাবুল ইসলাম পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় অবস্থান করে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন। এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে নিহতদের পরিবারকে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেয়ার কথা জানান মন্ত্রী শাজাহান খান।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সেনাবাহিনীকে বিতর্কে জড়াতে চাই না : বিএনপি

বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রোববার উত্তরপাড়ার ক্ষমতা দখলের আশঙ্কা প্রকাশ করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি করেছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী জাতীয় সেনাবাহিনীকে আমরা কখনোই বিতর্কে জড়াতে চাই না। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক ক্ষমতার বাইরে গণশক্তির ক্ষমতার ধারণা এদেশের জনগণ ১৯৬৯, ৭১ এবং ৯০’ এ প্রমাণ করেছে। রাষ্ট্রীয় শ্বেতসন্ত্রাস ও গণহত্যার বিরুদ্ধে আজ গণশক্তির বহুমাত্রিক উত্থান হয়েছে; সেই গণশক্তির প্রচন্ড সুনামীতে আওয়ামী লীগের অবৈধ ক্ষমতার মসনদ ভেসে যাবে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, কোন সংবিধানই অপরিবর্তনযোগ্য নয়। জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন বর্তমান সময়ের দাবি।
সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৯৫-৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি মেনে নিয়ে আমরা সংবিধান সংশোধন করেছিলাম। সেই দাবিতে জামায়াত-জাতীয় পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ আন্দোলন করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা দখলের সুবিধার্থে সেই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এবং সংবিধানের এক তৃতীয়াংশ অপরিবর্তনযোগ্য করে ভবিষ্যত সংসদের ক্ষমতা হরণ করা হয়েছে, যা সরাসরি বেআইনী। অতএব সেই সংবিধানের দোহাই দিয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকাও বেআইনী। কোন সংবিধানই অপরিবর্তনযোগ্য নয়, জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন বর্তমান সময়ের দাবি।
তিনি আরো বলেন, এদেশের জনগণ জানে-আওয়ামী লীগের পক্ষে তিনি ১৯৮২ সালে সামরিক সরকারকে স্বাগতম জানিয়েছিলেন; ১৯৮৬ সালে এরশাদের স্বৈরশাসনকে বৈধতা দেয়ার জন্য সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৭ম সংশোধনীর মাধ্যমে এরশাদের স্বৈরশাসনকে বৈধতা দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই ২০০৭ সালের মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের ১/১১ এর মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন-তাদের লগী-বৈঠার নরহত্যার আন্দোলনের ফসল ছিল সেই সরকার এবং তাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে পুরোপুরি বৈধতা দেন। সেই মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সরকারের সকল কর্মকান্ডের বৈধতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হল। বলা বাহুল্য, তিনি তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেননি বরং তাদেরকে পুরস্কৃত করে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন।
বিবৃতিতে সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা বলতে চাই-বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুণ:প্রতিষ্ঠাকারী দেশের একটি নিয়মতান্ত্রিক সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। দেশ ও জাতির গর্ব সেনাবাহিনী তাদের সুনাম অক্ষুন্ন রেখে নিজেদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আসছে। রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী জাতীয় সেনাবাহিনীকে আমরা কখনোই বিতর্কে জড়াতে চাই না।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে : মান্না

সোমবার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে ফোনালাপের বিষয়ে তিনি তার অবস্থান পরিষ্কার করেন। মান্নার ফেসবুক স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরে হল:
দুটি কথোপকথন প্রসঙ্গে : ‘সামগ্রিক ঘটনায় আমি বিস্মিত, দুঃখিত, মর্মাহত। এ পর্যন্ত আমার রাজনীতি জীবনে কখনও সহিংসতা, ষড়যন্ত্রকে প্রশ্রয় দেইনি। আমার অতীত ইতিহাস স্যা দেবে। যে দুটো সাাৎকার ছেপেছে পাঠকদের অনুরোধ করবো যেন ভালো করে সেটা শোনা এবং পড়ে দেখার। কোথাও কোনো ষড়যন্ত্রের গন্ধ নেই, উস্কানি নেই। সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে কথা হয়েছে আলাপচারিতার মতো আন্দোলনের প্রসঙ্গ এসেছে আমি বলেছি, গণতন্ত্রের দাবিতে আমি আন্দোলনে সমর্থন করি। সহিংসতা সমর্থন করিনা।
এ থেকে বেড়িয়ে আসার জন্যে ব্যাপক জনগণকে সংযুক্ত করার চেষ্টা করা উচিত। সহিংসতা দায়িত্ব নিয়ে বর্জন করা উচিত। এ আন্দোলনে এখনও ছাত্ররা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। এ জন্যই বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ছাত্র আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত ও বিস্তৃত করতে হবে। এটা করতে গিয়ে যদি পুলিশি বা সন্ত্রাসী হামলায় দুচার জনের জীবনও যায় কিছু করার নেই।
মান্না বলেন, এমনিতেই তো মানুষ মরছে। আমার এই বক্তব্যকে বিকৃতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যেন আমি লাশ চাই। একইভাবে সেনাবাহিনীর কোনো কোনো কর্মকর্তা আমার সাথে কথা বলতে আগ্রহী হলে বলব কি না সে কথা জানতে চাইলে, আমি বলেছি রাজি আছি। আমি রাজনীতি করি সবার সঙ্গে কথা বলতে হয়। এটা থেকে এক এগারো বা সামরিক কুয়ের ষড়যন্ত্রের আবিষ্কার হয় কিভাবে? যেখানে এরকম কোনো বৈঠকই হয়নি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাঁদছে পদ্মাপাড়, ৪১ লাশ উদ্ধার by আতাউর রহমান ও বিপ্লব চক্রবর্তী
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বার্তায় লঞ্চডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন এবং দুর্ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা সমকালকে জানান, নিহত ৪১ জনের মধ্যে ৩৮ জনের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতটি শিশু ও ১৮ জন নারী। শনাক্ত না হওয়া তিনজনের মধ্যে এক নারী, এক শিশু ও একজন পুরুষ।
দুর্ঘটনার পর পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটে ভিড় করেছেন নিখোঁজদের স্বজনরা। তারা উৎকণ্ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন পদ্মার তীরে। গতকাল দুপুরে যাত্রা শুরুর মিনিট দশেক পর মাঝনদীতে কার্গোর ধাক্কায় উল্টে যায় লঞ্চটি। এর আগে গত বছরের ৪ আগস্ট পদ্মার মাওয়া পয়েন্টে যাত্রীবাহী লঞ্চ পিনাক-৬ ডুবে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় সন্ধান মেলেনি আরও ৬১ যাত্রীর। পদ্মাপাড়ের মানুষের স্বজন হারানো সেই কান্না না থামতেই এবার পাটুরিয়া পয়েন্টে ঘটল আরেক হৃদয়বিদারক ঘটনা।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নৌবাহিনীর ডুবুরি দল, ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছিল। লঞ্চটির সন্ধান পাওয়া গেলেও টেনে তোলা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার যান 'রুস্তম' রাত সোয়া ১১টায় ঘটনাস্থলে পেঁৗছে। এর আগে বিকেলে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও বিআইডবি্লউটিএর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা জানান, যে কার্গোর ধাক্কায় লঞ্চটি ডুবে গেছে, নারগিস-১ নামের সেই কার্গো জাহাজের লস্কর শাহিনুর রহমান, শহীদুল ইসলাম ও জহিরুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।
মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস সমকালকে জানান, লঞ্চটির ভেতরে আর কোনো লাশ রয়েছে কি-না, তা তল্লাশি করা হচ্ছে। লাশ শনাক্তের পর বহন ও দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বজনদের ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। রাত ৮টা পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিআইডবি্লউটিএর পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের পেট্রোল ইন্সপেক্টর ফরিদুল ইসলাম সমকালকে জানান, দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে এমভি মোস্তফা লঞ্চটি দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তার দাবি, লঞ্চটির ধারণক্ষমতা ১৪২ জন হলেও যাত্রীসংখ্যা এর কম ছিল।
অবশ্য পাটুরিয়া ঘাটের অন্যান্য লঞ্চের কর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় লোকজন বলছেন, লঞ্চটিতে ১৬০ জনের বেশি যাত্রী ছিল। এর মধ্যে গোপালগঞ্জগামী কমফোর্ট পরিবহনের একটি বাসের অন্তত ৪২ যাত্রী ছিল লঞ্চটিতে।
ঘাটের কর্মীরা জানান, কার্গোর ধাক্কার পর লঞ্চটি ডুবে যেতে দেখে তারা ঘাটে নোঙরে থাকা ৮ থেকে ১০টি লঞ্চ ও ট্রলার নিয়ে মাঝনদীতে উদ্ধার অভিযানে যান। বিভিন্ন লঞ্চ থেকে বয়া ফেলে যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা চালান। এতে অন্তত ১০০ যাত্রী প্রাণে রক্ষা পান। তা ছাড়া দুর্ঘটনায় দায়ী কার্গো জাহাজেও ডুবে যাওয়া যাত্রীদের উদ্ধার করে তুলে দেওয়া হয়। পরে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী এমভি নারগিস-১ কার্গো জাহাজটি উদ্ধার করা হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানান, খবর পেয়ে ঘটনার আধা ঘণ্টার মধ্যেই তারা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
যেভাবে ডুবল লঞ্চটি :ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে জীবিত উদ্ধার যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লঞ্চটি ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়ার ১০ মিনিটের মাথায় দুর্ঘটনায় পড়ে। মাঝনদীতে গিয়ে লঞ্চটি ঘাট থেকে আড়াআড়িভাবে নদী পাড়ি দিয়েছিল। এতে ঢাকামুখী সারবোঝাই কার্গো জাহাজটি লঞ্চের মাঝখানে ধাক্কা দেয়। সঙ্গে সঙ্গেই লঞ্চটি উল্টে যায়।
কুষ্টিয়ার বাসিন্দা মিলন মিয়া জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। তার তিন বছরের মেয়ে নীলিমাকেও জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছেন। মিলন সমকালকে জানান, তিনি মেয়েকে নিয়ে লঞ্চের সামনের অংশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ দেখেন, একটি কার্গো লঞ্চটির দিকে আসছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই লঞ্চের সঙ্গে কার্গোটির ধাক্কা লাগে। সঙ্গে সঙ্গে লঞ্চটি উল্টে গেলে তিনি নদীতে পড়ে যান। তবে তার স্ত্রী লিপি বেগমকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর সোহরাব হোসেন তিন বছরের ছেলে জুনায়েদ আর স্ত্রী শিরিনকে নিয়ে ঢাকা থেকে গ্রামে যাচ্ছিলেন। ছেলের লাশ পাওয়া গেলেও স্ত্রীর হদিস নেই। সোহরাব জানান, কার্গো জাহাজটি জোরে ধাক্কা দেয়। মুহূর্তেই লঞ্চটি ডুবে যায়। জীবন রক্ষায় লঞ্চের ছাদে ও সামনে থাকা মানুষ নদীতে লাফিয়ে পড়েন। তবে ভেতরের কেউ বের হতে পারেননি। তারা জানান, দোতলা লঞ্চটি পুরো বোঝাই ছিল।
পাটুরিয়া ঘাট লঞ্চ মালিক সমিতির টিকিট ম্যানেজার মঞ্জু মিয়া জানান, ঘাট থেকেই ডুবে যাওয়ার দৃশ্যটি দেখা যাচ্ছিল। লঞ্চটি ডুবতে পাঁচ থেকে সাত মিনিট সময় নিয়েছে। ভেতরের কোনো যাত্রী বের হতে পারেননি। তারা শুধু নদীতে লাফিয়ে পড়া লোকজনকে উদ্ধার করতে পেরেছেন।
নিহত যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে :মাগুরার লাইলী বেগম, মানিকগঞ্জের লাবণী আক্তার মুক্তা, লতা, দৌলতপুরের শিশু ইমরান, সেলিম, কুষ্টিয়ার মেহেদী হাসান, ইউসুফ, ইমামুল, রেবেকা, বীথি খাতুন, কুষ্টিয়ার মিলনপাড়ার নাসির উদ্দিন, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের সুফিয়া বেগম, রাজবাড়ীর নবীজান, সাবু, রাবেয়া বেগম, নাসিমা আক্তার, জয়নাল শেখ, মধুখালীর মধুসূদন সাহা, ঢাকার নবাবগঞ্জের শিশু ফারজানা আক্তার স্মৃতি, ফরিদপুরের ভাঙ্গার ইমামুল, ফরিদপুরের কিশোরী নারগিস, ফরিদপুরের কোতোয়ালির রতন, পাঁচ বছরের শিশু পাবন, নগরকান্দার রথীন সরকার, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর শিশু জুনায়েদ শেখ ও ফরিদপুরের অর্চনা।
নিখোঁজের সংখ্যা কত :তলিয়ে যাওয়া লঞ্চে যাত্রীর সংখ্যা ছিল কত, কতজন উদ্ধার হয়েছেন_ তার পুরো হিসাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। ঘাটে দায়িত্বরত বিআইডবি্লউটিএ, ঘাটকর্মী এবং উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জানান, যাত্রীসংখ্যা কোনোভাবেই ১৪০ জনের বেশি হবে না। ঘাটের কর্মী ও উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা বলছেন, যাত্রী ১৬০ জনের বেশি হবে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন একশ'র মতো যাত্রীকে উদ্ধার করেছেন। সে হিসাবে এখনও অন্তত ২০ যাত্রী নিখোঁজ। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলা প্রশাসন নিখোঁজদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেনি।
সারি সারি লাশের পাশে আহাজারি :ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে ডুবুরিরা লাশ উদ্ধার করে ট্রলার দিয়ে পাটুরিয়া ঘাটে পাঠাচ্ছেন। সেখান থেকে রেড ক্রিসেন্ট ও স্থানীয় লোকজন পাটুরিয়া মোড়ে বিআরটিসি বাসের যাত্রী ছাউনিতে লাশগুলো সারি করে রাখছেন। একেকটি লাশ আসছে আর হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন স্বজনরা। প্রিয় স্বজনের নিথর দেহ চিনতে পেরেই গগনবিদারী কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তারা। এখনও যাদের লাশ পাওয়া যায়নি সেই স্বজনরা উৎকণ্ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন পদ্মার দুই পাড় পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটে।
যাত্রী ছাউনির ভেতর এক শিশুর লাশ নিয়ে গড়াগড়ি করছিলেন উজ্জ্বল। তার দুই ছেলে ইমরান (৮) ও ইমন (৪) সেলিম নামে এক আত্মীয়র সঙ্গে এমভি মোস্তফা লঞ্চটিতে ফরিদপুরে যাচ্ছিল। লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার পর ইমরান ও সেলিমের লাশ পাওয়া গেলেও ছোট্ট ইমনের খোঁজ পাওয়া যায়নি এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত। এই বাবার কান্নায় যে কারোরই চোখের পানি ধরে রাখা দায়। আহাজারি করে তিনি বলেন, ছেলে দুইটা মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার সমেতপুর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। স্কুল খোলায় মামাতো ভাই সেলিমের সঙ্গে ফরিদপুর যাচ্ছিল। উজ্জ্বল ফরিদপুর মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মচারী। তিনি সেখানেই থাকেন।
৫৫ বছর বয়সী ফজলুর রহমান বিআইডবি্লউটিএর ফরিদপুর অফিসের সহকারী পরিচালক ছিলেন। রাক্ষসী পদ্মা তারও প্রাণ নিয়েছে। ফজলুর রহমানের লাশের পাশে তার ছোট ভাই ফারুক হোসেন আহাজারী করছিলেন।
স্কয়ার টেক্সটাইলের সিনিয়র অপারেটর সোহরাব হোসেন শেখ। ঢাকা থেকে তিন বছরের ছেলে জুনায়েদ শেখ আর স্ত্রী রিনা বেগমকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি কাশিয়ানি যাচ্ছিলেন। সোহরাব বেঁচে গেলেও ছেলে আর স্ত্রী নিহত হয়েছেন। ছোট্ট ছেলের লাশ কোলে নিয়ে এই বাবা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। আহাজারি করে বলছিলেন, দুনিয়ায় তার আর কিছুই রইল না।
মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান সমকালকে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়েই জেলা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায়। পরে ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ডুবে যাওয়া লঞ্চটিতে তল্লাশি শুরু করে।
ফিটনেসের মেয়াদ ছিল দু'দিন :সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক শফিউর রহমান সমকালকে জানান, দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ ছিল আর মাত্র দু'দিন। ২৪ ফেব্রুয়ারির পর সনদের মেয়াদোত্তীর্ণ হতো। আর দুর্ঘটনায় দায়ী কার্গো জাহাজের ফিটনেস সনদের মেয়াদ রয়েছে ২০ জুন পর্যন্ত। সুতরাং ফিটনেসের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আপাতত বলা যাচ্ছে না। তবে জাহাজ দুটির চালক প্রশিক্ষিত ছিলেন কি-না সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নূর উর রহমান সমকালকে বলেন, ডুবে যাওয়া লঞ্চটিতে দিনে ধারণক্ষমতা ১৪০ যাত্রী, রাতে ৬২ জন। ডুবে যাওয়ার সময় লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল কি-না সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শিবালয় থানার ওসি রকিবুজ্জামান সমকালকে জানান, লঞ্চডুবির ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে রাত ১২টা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। দুর্ঘটনায় দায়ী কার্গোর তিন কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। কার্গোটিও জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
পাটুরিয়া লঞ্চঘাট সূত্র ও নৌপুলিশ জানায়, ডুবে যাওয়া লঞ্চটির মালিক মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহিম খান। তিনি পাটুরিয়া লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয় লোকজন জানান, রহিম খান একসময় জাকের পার্টি করলেও বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সর্বশেষ তিনি গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে শিবালয় উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে পরাজিত হন। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে তার অন্তত সাতটি লঞ্চ রয়েছে। এ ছাড়া তার একাধিক কার্গো ছাড়াও নানা ব্যবসা রয়েছে।
তদন্তে তিন কমিটি :লঞ্চ ডুবে যাওয়ার ঘটনা তদন্তে পৃথক তিনটি কমিটি করা হয়েছে। নৌ মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটিতে বিআইডবি্লউটিএ চেয়ারম্যান ড. শামসুজ্জোহা খন্দকারকে প্রধান করে আরও চারজন সদস্য রাখা হয়েছে। এ কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর অন্য একটি কমিটি করেছে। এতে সংস্থাটির নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন মো. শাহজানকে প্রধান করা হয়েছে। এ কমিটিতে আরও দুই সদস্য রয়েছেন। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া নৌ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নূর উর রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন রাজবাড়ী প্রতিনিধি সৌমিত্র শীল চন্দন, মানিকগঞ্জ (শিবালয়) প্রতিনিধি নিরঞ্জন সূত্রধর, রাজবাড়ী (গোয়ালন্দ) প্রতিনিধি আসজাদ হোসেন আজু, সালথা (ফরিদপুর) মো. মজিবুল হক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কত দূর যাবেন তারানকো? by সাজেদুল হক
‘৫ই জানুয়ারি’ থেকে সৃষ্ট সঙ্কটে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে অচলাবস্থা চলছে বাংলাদেশে। মারা যাচ্ছে মানুষ। কেউ পেট্রলবোমায়, কেউ বন্দুকযুদ্ধে। ভিড় বার্ন ইউনিট আর পঙ্গু হাসপাতালে। এ অবস্থায় গত তিন দিনে বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম ক্রীড়নক তিন শক্তির প্রতিক্রিয়া জানা গেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিক্রিয়াটিই সম্ভবত সবচেয়ে স্পষ্ট। বাংলাদেশ সফরে আসা ইইউর প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে, শান্তি ও স্থিতিশীলতা রাজনৈতিক অধিকারের বিনিময়ে হতে পারে না। সহিংসতা, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। গণতন্ত্র আর মানবাধিকারকে বর্ণনা করা হয়েছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বানও জানানো হয়েছে।
স্টিফেন ডুজাররিকের সর্বশেষ ব্রিফিং এক ধরনের হুঁশিয়ারিও। তিনি স্পষ্টই বলেছেন, অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো বাংলাদেশ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন এবং প্রয়োজনে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন। সন্ত্রাসবিরোধী সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে ওয়াশিংটনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। জাতিসংঘ মহাসচিব ফের আহ্বান জানান সংলাপের। আর জন কেরি প্রস্তাব করেছেন সহযোগিতার।
সরকার যথারীতি অনড় অবস্থায় রয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচন তো দূরের কথা কোন ধরনের সংলাপের সম্ভাবনাও নাকচ করে দেয়া হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে, বিএনপি জোট বরাবরই সংলাপের পক্ষে রয়েছে। তবে তাদের আন্দোলন সমালোচিত হচ্ছে সহিংসতার জন্য। হরতাল-অবরোধ ক্রমেই ঢিলা হয়ে যাচ্ছে। রাজপথে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি কম।
সরকারের অনড় অবস্থানের মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিরোধী জোটের আন্দোলনকে জঙ্গি তৎপরতা হিসেবে প্রমাণের সরকারি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সারা দুনিয়াই বাংলাদেশের সংকটকে রাজনৈতিক সংকট হিসেবেই চিহ্নিত করেছে। তবে জাতিসংঘ, ইইউ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর উদ্যোগ কোন ফল বয়ে আনবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। এ অবস্থায় বেশ কয়েকটি পয়েন্টই আলোচিত হচ্ছে-
১. জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন সহকারী মহাসচিব তারানকোকে বাংলাদেশ সংকটের সমাধানে যে দায়িত্ব দিয়েছেন- তা কতদূর এগোবে? এটা স্পষ্ট, বাংলাদেশ সরকার তারানকোকে ঢাকায় স্বাগত জানাতে প্রস্তুত নয়। এ অবস্থায় জাতিসংঘের উদ্যোগ কি সামনে এগোবে না থমকে যাবে? তারানকো প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন- ডুজাররিকের এ কথা কি বাতকি বাত?
২. বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ভিত্তিতে ফেরাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব কি কোন ইঙ্গিতবহ? জন কেরির আহ্বানের কি কোন ফল আছে?
৩. বাংলাদেশ প্রশ্নে কংগ্রেস-বিজেপি সরকারের নীতির প্রকাশ্য কিছু পরিবর্তন হলেও অন্দরমহলে বড় কোন পরিবর্তন হয়নি। তবে বাংলাদেশে কোন জাতীয় ঐকমত্যের সরকার হলে তাতে ভারতের আপত্তি থাকবে না বলে সাউথ ব্লক সূত্রে আগেই খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বিএনপিরও এক ধরনের যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভারত আর আগের মতো সব আম এক ঝুড়িতে রাখতে চাচ্ছে না।
৪. নাগরিক সমাজের সংলাপ উদ্যোগ এখনও রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর তেমন বড় কোন চাপ তৈরি করতে পারেনি। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করলেও বঙ্গভবন থেকে এ ব্যাপারে এখনও সাড়া পাওয়া যায়নি। সংকটকালীন সময়ে বঙ্গভবনের নীরবতা অবশ্য নানা মহলে বিস্ময়ের তৈরি করেছে।
৫. ক্রসফায়ার-গ্রেপ্তার-বন্দুকযুদ্ধের প্রশাসনিক পদক্ষেপের বাইরে প্রায় অনুকূল সব শক্তিকেই মাঠে নামিয়েছে সরকার। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী বিভিন্ন সংগঠন প্রতিদিনই বিশেষ করে রাজধানীতে শোডাউন করছে। বেগম খালেদা জিয়া যেন কার্যালয় ছেড়ে বাড়ি যান এ ব্যাপারে তার ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে।
৬. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপকে বিএনপি তাদের আন্দোলনের এক ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখছে। তবে আন্দোলন চালিয়ে নেয়া এবং গতি বাড়ানোকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে দলটি।
শেষ কথা: এক ধরনের পরিবর্তনের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। তবে তা খুবই ক্ষীণ। কেউ বাধ্য না করলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান দেখছেন না পর্যবেক্ষকরা।
লিখেছেন: সাজেদুল হক
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যে ১০টি কারণে সংখ্যা ৫০ বিশ্ব বিখ্যাত যে ১টি কারণে সংখ্যা ৫০ বাংলাদেশে কুখ্যাত by শফিক রেহমান
তারপর প্রায় (৩১০০+২০১৫ = ৫১১৫) পাচ হাজার বছর জুড়ে মানুষ ১০ সংখ্যা ভিত্তিক নাম্বারিং সিস্টেমে জ্ঞান চর্চা করেছে ও বিজ্ঞানের অগ্রগতি ঘটিয়েছে। এই ভিত্তিতে মানুষ ইতিহাস লিখেছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে খেলাধুলার রেকর্ড রেখেছে। এসবই রেকর্ড করা হয়েছে জিরো বা শূন্য থেকে মিলিয়ন, বিলিয়ন, টৃলিয়ন সংখ্যার হিসাবে। তবে আজকের এই লেখাটি শুধু ৫০ সংখ্যাটিকে নিয়ে।
প্রথমে জেনে নিন, যে ১০টি কারণে ৫০ সংখ্যাটি বিশ্ব বিখ্যাত হয়েছে।
১
সারা এপৃল মাস জুড়ে ইজিপ্টে খামসিন ঝড় বয়ে যেতে পারে। এই গরম ঝড়ের নামটি এসেছে আরবি ভাষার ৫০ শব্দটি থেকে।
২
পূর্ব লন্ডনে বাণিজ্যিক কেন্দ্রের একটি ভবন, ক্যানারি হোয়ার্ফ (Canary Wharf) ইওরোপের উচ্চতম বিলডিং যেখানে মানুষ থাকে। এই ভবনের ওপরাংশ দেখতে পিরামিডের মতো।
৩
লেজেন্ডারি ইটালিয়ান রোমান্টিক জিয়াকোমো ক্যাসানোভা (১৭২৫ - ১৭৯৮) নারী জয় করতে প্রয়োজনীয় যৌনক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে পুরুষদের উপদেশ দিয়েছিলেন ব্রেকফাস্টে পঞ্চাশটি ঝিনুক (অয়েস্টার) খেতে। তবে ক্যাসানোভা জাতীয় প্রেমিকদের কামদৃষ্টি এড়াতে আমেরিকার প্রায় ৫০% নারীদের শালীনভাবে পায়ের ওপর পা রেখে অর্থাৎ ক্রস লেগেড (Cross legged) ভংগিতে বসেন।
৪
১৯৫৯-এ হাওয়াই যোগ দেওয়ার পরে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মোট অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা হয় পঞ্চাশ।
৫
জনপ্রিয় আমেরিকান পপ মিউজিক গায়ক পল সাইমন-এর একটি বিশ্বখ্যাত গানের নাম ‘আপনার প্রেমিককে ছেড়ে দেওয়ার পঞ্চাশটি উপায়’ (Fifty Ways to Leave Your Lover)।
আরেক জনপ্রিয় আমেরিকান গায়ক ফিফটি সেন্ট (50 Cent)-কে মনে করা হয় বর্তমানে তিনি সবচেয়ে ধনী র্যাপ সিংগার।
৬
স্পোর্টসের ক্ষেত্রে, কৃকেটে ৫০ রান করাকে বড় কৃতিত্ব রূপে গণ্য করা হয়। চলমান বিশ্ব কৃকেট কাপ ২০১৫-তে অস্ট্রেলিয়ায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে মুশফিক এবং সাকিব, দুজনই ৫০-এর বেশি অর্থাৎ হাফ-সেঞ্চুরি করে প্রশংসিত হয়েছেন (কংগ্রাচুলেশন্স মুশফিক-সাকিব। কিপ অন ব্যাটিং)।
৭
কানাডার একটি জনপ্রিয় বিয়ারের ব্র্যান্ড নাম ল্যাবাট ফিফটি (Labatt 50)। প্রতিবেশী দেশ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের নোবেল বিজয়ী ঔপন্যাসিক উইলিয়াম ফকনার বলেছিলেন, ‘পঞ্চাশ বছর বয়সের আগে কোনো পুরুষের উচিত নয় মদ নিয়ে বাড়াবাড়ি করা তারপর তার বয়স পঞ্চাশ পেরিয়ে গেলে সে যদি বাড়াবাড়ি না করে তাহলে সে একটা চরম বোকা।’ (A man shouldn't fool with booze until he's fifty; then he is a damn fool if he doesn't.)
৮
দুটি বিকল্পের মধ্যে পারফেক্ট ব্যালান্স বোঝাতে ফিফটি-ফিফটি শব্দ দু’টি ব্যবহার করা হয়।
ফিফটি/ফিফটি (Fifty/Fifty) নামে ১৯৯১-এ মুক্তিপ্রাপ্ত আমেরিকান মুভি জনপ্রিয় হয়েছিল।
৯
পঞ্চাশ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে অন্তত আরো তিনটি হলিউড মুভির নামে। ফিফটি ডেড মেন ওয়াকিং (Fifty Dead Men Walking, ২০০৮), ফিফটি ফার্স্ট ডেটস (50 First Dates, ২০০৪) এবং ফেব্রুয়ারি ২০১৫-তে মুক্তিপ্রাপ্ত বক্স অফিস সুপারহিট মুভির নাম ফিফটি শেইডস অফ গ্রে (Fifty Shades of Grey)। এর আগে নারী লেখক ই.এল জেমস-এর এই নামের হট সেক্সি উপন্যাস বিশ্ব জুড়ে ১০ কোটির বেশি কপি বিক্রি হয়। এই মুভির ডিভিডি এখন ঢাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
১০
বিয়ের পঞ্চাশ বছর পূর্তিকে বলা হয় গোলডেন এনিভার্সারি। কেউ কেউ তখন এই বিয়েটাকে গোলডেন ওয়েডিং-ও বলেন। সাধারণত এই দিনে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে সোনার তৈরি কোনো গিফট দেন।
যে ১টি কারণে সংখ্যা ৫০ বাংলাদেশে হয়েছে কুখ্যাত
প্রায় পাচ হাজার বছর জুড়ে অসাধারণ সুন্দর ও শোভন সব কর্মকাণ্ডে, যেমন, বিভিন্ন অর্জন, গৌরব ও সাফল্যে, কালচার, মুভি, বই ও স্পোর্টসে, পানীয়, প্রেম ও বিয়েতে পঞ্চাশ সংখ্যাটি বিশ্ব বিখ্যাত হলেও ২০১৫-তে বাংলাদেশে এই সংখ্যাটি হয়েছে কুখ্যাত।
এর কারণ?
ম্যাডাম খালেদা জিয়া অন্তত ৫০ রাজনৈতিক নারী-পুরুষ সহকর্মীসহ ৫০ দিন অবরুদ্ধ হয়ে আছেন গুলশানে প্রায় ৫০০০ বর্গফুট বিশিষ্ট একটি দোতলা বাড়িতে। ভবিষ্যতে বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি অসাধারণ চরম মানবতাবিরোধী দুষ্কর্ম রূপে চিহ্নিত হবে। যেমনটি এখন হয়েছে অতীতে সাউথ আফৃকাতে শাদাদের শাসন আমলে রোডেন আইল্যান্ডে কালোদের নেতা নেলসন ম্যানডেলার ২৭ বছর বন্দি থাকার ঘটনাটি।
কিন্তু বর্তমানে অবরুদ্ধ ওই ৫০-ঊর্ধ্ব সংখ্যক ব্যক্তি কিভাবে তাদের দুঃসহ ৫০ দিন পার করেছেন সে বিষয়ে বাংলাদেশের পাঠকরা খুব কমই জানতে পেরেছেন।
এর কারণ?
আওয়ামী সরকারের অলিখিত এবং অঘোষিত সেন্সরশিপের ভয় মিডিয়াকে পূর্ণ গ্রাস করেছে।
বাংলাদেশে একদলীয় শাসন দূরীকরণ এবং বহুদলীয় শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ সর্বদলীয় সাধারণ নির্বাচনের দাবিতে ম্যাডাম খালেদা জিয়া যে আন্দোলন শুরু করেছেন তারই ধারাবাহিকতায় ৩ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে তিনি ও তার সহকর্মী সহযোদ্ধারা গুলশানের ৮৬ নাম্বার রোডের ৬ নাম্বার বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকার হাফ সেঞ্চুরি বা ৫০ দিন পূর্ণ করেছেন রাত ৮.২৫, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫-তে। আর তার ফলে ২০১৫-র ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মাঝ রাতে খালেদা জিয়া যেতে পারেননি শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে।
দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠা সবার কর্তব্য
এই বাড়িতে খালেদা জিয়া তার অফিস কখন থেকে শুরু করেন সেটা জানার আগে ফিরে যেতে হবে ১১ জানুয়ারি ২০০৭-এ মেজর জেনারেল মইন ইউ আহমেদের তথাকথিত ওয়ান-ইলেভেন ক্যুর ঘটনাকালে। ওই সময়ে ৭ মার্চ ২০০৭-এ খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টে তার বাড়িতে জীবনে প্রথমবার অন্তরীণ হয়েছিলেন। এর প্রায় ছয় মাস পরে ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭-এ জেনারেল মইন অনুগত সেনারা তাকে গ্রেফতার করে সংসদ ভবন সংলগ্ন দ্বিতীয় সাবজেলে নিয়ে যায়। প্রথম সাবজেলে কিছুকাল ছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। তখন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এডভোকেট শিমুল বিশ্বাস, সাংবাদিক-লেখক মারুফ কামাল খান এবং এই রচনাটির লেখক, গোপন তৎপরতা চালিয়ে যান। এদের সহযোগিতা করেন গোয়েন্দা বিভাগীয় জনৈক দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা যিনি মইন-ফখরুদ্দীন সরকারের বিদায়ের পর নিজেও বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যান নিরাপত্তার কারণে। তবে এই প্রচেষ্টায় এই লেখক শেখ হাসিনার মুক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন এবং তার প্রচেষ্টার আপডেট শেখ হাসিনাকে পৌছে দেয়ার জন্য তিনি আওয়ামী পন্থী একটি দৈনিকের সম্পাদককে অনুরোধ করেছিলেন। সম্পাদক সেই অনুরোধ রক্ষা করেছিলেন। এই লেখক তখন উভয়কেই সাহায্য করতে চেয়েছিলেন, তার কারণ ছিল, তিনি মনে করতেন এবং এখনো মনে করেন, একটা ভালো সেনাতন্ত্রের চাইতে একটা খোড়া গণতন্ত্র ভালো এবং একটা ভালো গণতন্ত্র বাংলাদেশে আনার জন্য দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠা সবার কর্তব্য।
এক বছরের বেশি সময় সাবজেলে থাকার পরে ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৮-এ খালেদা জিয়া মুক্ত হন।
সেদিনই বিকেল থেকে তিনি এই লেখকের বাড়ি, ১৫ ইস্কাটন গার্ডেনসে, তার অফিশিয়াল কাজকর্ম শুরু করেন। খালেদা জিয়া নিয়মিত ইস্কাটন অফিসে আসতেন তার ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে। কিন্তু এই যাত্রাপথটি ছিল ঝুকিপূর্ণ। কারণ এয়ারপোর্ট রোডের দুই পাশে বহুতলবিশিষ্ট ভবনগুলো এবং এই পথে ফার্মগেইট ও বাংলা মোটরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ফুটওভার বৃজগুলো ছিল সিকিউরিটি রিস্ক। এসব ভবনের ছাদ বা উচু তলা অথবা ফুটওভার বৃজ থেকে কোনো স্নাইপার বা শার্প শুটার অঘটন ঘটাতে পারতো যেমন ১৯৬৩-তে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি নিহত হয়েছিলেন ডালাস-এ একটি বহুতল বিশিষ্ট ভবন, টেক্সাস স্কুল বুক ডিপজিটরি (ডাল-টেক্স বিলডিং) থেকে আততায়ীর গুলিতে। এই বিলডিংয়ে এই লেখক গিয়েছিলেন এবং জেনেছিলেন সেই রকম রিস্ক সম্পর্কে।
তাই ম্যাডাম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাকর্মীরা স্থির করেন তার অফিস ১৫ ইস্কাটন গার্ডেনস থেকে তুলনামূলক নিরাপদ স্থানে ট্রান্সফার করতে হবে। মারুফ কামাল খান, শিমুল বিশ্বাস, সেই লেখক এবং আরো কয়েকজন (যারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বাড়ি খোজা শুরু করেন।
একটি বিষয়ে এরা সবাই একমত ছিলেন যে ম্যাডাম জিয়ার নতুন অফিস ভবনের কোনো নাম থাকবে না। এর আগে বনানীতে তার অফিসের নাম ‘হাওয়া ভবন’ যে নাম সেখানে তার অফিস করার আগেই ছিল বেশ বিব্রতকর হয়েছিল। তাই বাড়ি খোজাখুজির এক পর্বে বনানীর এগারো নাম্বার রোডে কুইন্স ইউনিভার্সিটির ছেড়ে দেওয়া ভবনটি উপযুক্ত হলেও সেটা ভাড়া নেওয়া হয়নি কুইন্স শব্দটির জন্য।
পরিশেষে গুলশানের ৮৬ নাম্বার রোডের ৬ নাম্বার বাড়িটি নির্বাচিত হয়। এই বাড়ির কোনো নাম ছিল না এখনো নেই। এটির টেনান্ট ছিলেন ইজিপ্টের তদানীন্তন রাষ্ট্রদূত। তিনি চলে যাবার পর এটি ডেভেলপারকে দিতে চেয়েছিলেন বাড়ির মালিক দুই ভাই, যাদের প্রয়াত পিতা ছিলেন বিএনপির এমপি। এই দুই ভাইয়ের সুবিবেচনা এবং আনুকূল্যে দোতলা ভবনটি হয় ম্যাডাম জিয়ার নতুন অফিস ভবন। ইজিপশিয়ান রাষ্ট্রদূত চলে যাবার পর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা বাড়িটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। ডেভেলপাররা বাড়ির সামনের দিকে পাইলিংয়ের জন্য কিছু খোড়াখুড়ি শুরু করেছিলেন। এই বাড়িটিকে বাসযোগ্য এবং অফিসযোগ্য করার দায়িত্ব নেন ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুর রহমান (খাই ত্রাণ দেই রুল নামে জনৈক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির ভাষায় ‘বাইচান্স সম্পাদক’ মাহমুদুর রহমান এবং যে বিচারপতি চলমান বহু সংকটের জন্য অন্যতম দায়ী ব্যক্তি)।
ধীরে ধীরে বাড়িটি পরিচ্ছন্ন ও সজ্জিত হয়। সব রুমে নয় কয়েকটি রুমে এয়ারকন্ডিশনার বসানো হয়। হাওয়া ভবনে ফেলে আসা ও নষ্ট হয়ে যাওয়া ডিজেল জেনারেটরটি এনে মেরামত করা হয় এবং লোডশেডিংকে কিছু সময়ের জন্য সামাল দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পুরনো ফার্নিচার ও ম্যাডাম জিয়ার অফিস রুমের জন্য পুরনো কার্পেট আনা হয়। সব রুমে লেমন ও ডিপ ইয়েলো রংয়ের কম্বিনেশনে সাধারণ পর্দা টানানো হয়। চারটি ছোট টিভি সেট আনা হয় দোতলার জন্য দুটি এবং নিচতলার জন্য দুটি। সারা বাড়িতে একটি ছোট কিচেন করা হয়। নিচতলায় এই কিচেনে শুধু চা-কফি তৈরি এবং পিরিচ-পেয়ালা-চামচ ধোবার ব্যবস্থা করা হয়। এই কিচেনে দৈনন্দিন রান্নার ব্যবস্থা হয়নি ডেইলি ৫০ ঊর্ধ সংখ্যক মানুষের রান্না সেখানে অসম্ভব।
নভেম্বর ২০০৮-এর শেষ সপ্তাহ থেকে, অর্থাৎ ডিসেম্বর ২০০৮-এর নির্বাচনের সপ্তাহ পাচেক আগে থেকে গুলশানের এই বাড়ি ম্যাডাম জিয়ার অফিস রুমে কার্যকর হয়। ওদিকে পল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সেক্রেটারি জেনারেল ও অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মীদের কাজ শুরু হয়।
উচ্ছেদ বাহিনীর হাস্যকর অজ্ঞতা
ম্যাডাম জিয়া তার একটি নিজস্ব অফিস পেয়ে খুশি হন এবং তখন থেকে শুধু সরকারি ছুটির দিন বাদে প্রতিদিনই সন্ধ্যাবেলায় তিনি এই অফিসে আসা শুরু করেন। প্রথমে তিনি আসতেন ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে বনানী কাকলি রেল ক্রসিং পেরিয়ে সোজা কামাল আতাতুর্ক রোড ধরে গুলশান দুই নাম্বার গোল চত্বর পেরিয়ে।
২৯ ডিসেম্বর ২০০৮-এর নির্বাচনে বিএনপির পরাজয়ের পরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ম্যাডাম জিয়াকে তার চার দশকের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্য বদ্ধপরিকর হয়। এই অন্যায় প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে মামলা চলার এক পর্যায়ে অনুগত আওয়ামী (সংক্ষেপে অ আ) বাহিনীর একাংশ ১৩ নভেম্বর ২০১০-এর বিকেলে খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করে। সেদিন খালেদার নিজের থাকার কোনো বাড়ি ছিল না।
উচ্ছেদকারী অ আ বাহিনীর সদস্যরা জানতো না কোন রুটে এবং কোথায় খালেদা যাবেন। আমেরিকান মুভির চেইজ Chase স্টাইলে খালেদার নির্দেশে তার অভিজ্ঞ ড্রাইভার সেদিন বহু ট্রেইনিং ও বহু সুবিধাপ্রাপ্ত উচ্ছেদকারী অ আ বাহিনীর ধাওয়াকারী একাধিক গাড়ির কনভয়কে দ্রুত পরাজিত করে বিকেলে গাড়ি নিয়ে হাজির হন গুলশানের এই অফিস বাড়িতে। সেই সময়ে মাত্র দুটি ক্যারিয়ার ব্যাগসহ (একটিতে ওষুধ এবং আরেকটিতে অতি প্রয়োজনীয় টয়লেটৃজ) ম্যাডাম জিয়াকে রিসিভ করেন মারুফ কামাল খান এবং এই লেখক।
খালেদা জিয়াকে অবৈধ, অমানবিক, অশালীন এবং অসভ্যভাবে তার চার দশকের বাড়ি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তারপরে তার চরিত্র হনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে আওয়ামী সরকার কয়েক দিন ব্যাপী মিডিয়া ক্যামপেইন চালিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় যে তিনি সেখানে বিলাসী জীবন যাপন করতেন। বাস্তবটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। খালেদা জিয়া শৈশবকাল থেকে উচ্চ মধ্যবিত্ত ঘরে মানুষ হয়েছিলেন (যেটা তার প্রতিপক্ষ হননি) এবং তার ফলে বড় বাড়ি ও বিলাসসামগ্রী বিষয়ে তার আগ্রহ কখনোই ছিল না। ওই চরিত্র হনন প্রপাগান্ডায় দেখানো হয়েছিল খালেদার বাড়ির ফৃজ থেকে রেড এবং হোয়াইট ওয়াইনের দুটি বটল পাওয়া গিয়েছে। যারা ওয়াইন খান তারা জানেন, সাধারণত হোয়াইট ওয়াইন ঠাণ্ডা খাওয়া হয় এবং তাই সেটা খোলার আগে কিছুক্ষণ ফৃজে রেখে অল্প ঠাণ্ডা অর্থাৎ চিলড (Chilled) করে সার্ভ করা হয়। আর রেড ওয়াইন খাবার আগে কর্ক খুলে রুম টেমপারেচারে রাখা হয় এবং কখনোই ঠাণ্ডা খাওয়া হয় না। বরং কেউ কেউ মাইক্রোওয়েভে একটু গরম করে রেড ওয়াইন খেতে ভালোবাসেন। ওয়াইন প্রসঙ্গে একটু তথ্য দিলাম এই জন্য যে ভবিষ্যতে যদি খালেদাকে তার অফিস এবং বর্তমান আবাসস্থল থেকে আবারও উচ্ছেদ করা হয় তাহলে পাঠকরা অবশ্যই যেন সেকেন্ড রাউন্ড চরিত্র হনন সম্পর্কে প্রস্তুত থাকেন। এখানে পাঠকদের মনে পড়বে, পল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে গোপালিশ বাহিনীর হামলার পরে সেখানে কম্পিউটার ধ্বংস করা হয়েছিল এবং তাজা বোমা পাওয়ার দাবি করা হয়েছিল। সুতরাং অ আ বাহিনী আবারও যদি উচ্ছেদ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় তাহলে গুলশান অফিসের কম্পিউটার ধ্বংস করা হতে পারে এবং বোমাও পাওয়া যেতে পারে। আওয়ামী প্রচারণা প্রতিভা হয়তো আবিষ্কার করবে জঙ্গি বিএনপির গুলশান অফিসের ছাদে নিউক্লিয়ার রকেট এবং ড্রোন এয়ারক্রাফট রেডি ছিল। আমি অ আ উচ্ছেদ বাহিনীকে উপদেশ দেব তারা যেন ওভারকিল না করেন। ওয়াইন বটলের মতো ভুলের পুনরাবৃত্তি না করেন ককটেল বোমা অথবা পেট্রলবোমার পরিবর্তে অতি উৎসাহী উচ্ছেদ বাহিনী যেন গুলশান অফিসে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র সম্ভার ড্রোন বা রকেটলঞ্চার স্টক না দেখিয়ে দেয়। আর হ্যা, ওয়াইন বটল রাখলে, এবার শস্তা অস্ট্রেলিয়ান ওয়াইন না রেখে দামি ফ্রেঞ্চ ওয়াইন, মার্লো (রেড) এবং শাবলি (হোয়াইট) রাখবেন। তাতে অ আ বাহিনীর পরিচালকদের শিক্ষা ও রুচিবোধ জানা যাবে।
বাই দি ওয়ে, ১৩ নভেম্বর ২০১০-এ খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করার পরে সেখানে পাওয়া আমার হাতে লেখা একটি চিঠির কপি উচ্ছেদ বাহিনী প্রকাশ করেছিল। এই চিঠি ছিল অক্টোবর ২০০১-এর নির্বাচনের আগে ম্যাডামকে তার ভাষণ সম্পর্কিত আট-দশ লাইনের সাজেশন। এখন আমি সম্ভাব্য উচ্ছেদ বাহিনীকে অনুরোধ করবো আমার কোনো লেখা বের করার জন্য সময় নষ্ট না করতে। কারণ, আমার বিবেচনায় অক্টোবর ২০০১-এর পর বাংলাদেশে যেসব সাধারণ নির্বাচন হয়েছে তার ফলাফল পূর্বনির্ধারিত ছিল এবং সেসব নির্বাচন বিষয়ে আগাম সাজেশন দেওয়া পণ্ডশ্রম হতো। তাই কোনো চিঠি আমি আর লিখিনি। সরি, ফোকস।
মনের মতো বাড়ি
গুলশান অফিসে কাজ শুরু করার পরে ধীরে ধীরে ম্যাডাম জিয়া তার নিজের রুচি অনুযায়ী ওপরতলায় কার্টেইন, কার্পেট, ফার্নিচার ও লাইটসও বদলানো শুরু করেন। প্রথমে তিনি থাকতেন গুলশানে লেইক শোর হোটেলের কাছে তার ভাইয়ের ফ্ল্যাটে। অর্থাৎ, গুলশানের অফিসটাই ছিল তার ব্যক্তিগত স্থান। সুতরাং ব্যক্তিগত আবাসস্থল না পাওয়া পর্যন্ত গুলশান অফিসই হয় তার বাড়ি যেখানে তিনি দীর্ঘ রাত পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিটিং করতেন এবং মাঝে মাঝে রেস্ট রুমে একটি ছোট ডিভানে রেস্ট নিতেন। নতুন নীল রংয়ের কার্টেইন, শাদা কার্পেট এবং একাধিক টেবিল ল্যাম্পে তিনি গুলশান অফিস সাজান। ফার্নিচার হয় কিছুটা হেভি। দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মিটিং রুমে টিক ও গ্লাসের চার কোনা সেন্টার টেবিলটা হয় বেশ বড়। এখানে প্রতিদিন ফ্রেশ ফ্লাওয়ারের আগমন হতে থাকে। ম্যাডামের খাস অফিস রুম, যেটা ছোট, সেখানেও সেন্টার টেবিলে নিয়মিত ফ্রেশ ফ্লাওয়ারের ব্যবস্থা হয়। তার এই দুটি রুমের কার্পেট হয় শাদা রংয়ের, যে রংটি তার সবচেয়ে প্রিয়। শ্যান্ডলিয়ের বা ঝাড়বাতি এবং উগ্র বাতি ম্যাডামের অপ্রিয়। তার হবি হচ্ছে টেবিল ল্যাম্প কালেকশন যেখানে শেডের নিচ থেকে নম্র আলো ছড়িয়ে পড়ে রুমে। ক্যান্টনমেন্ট থেকে উচ্ছেদ হবার সময়ে ম্যাডামের দুশ্চিন্তা ছিল তার কালেকশনের টেবিল ল্যাম্পগুলোর কি হবে এবং শাদা কার্পেটের কি দুরবস্থা হবে, গুলশান অফিসে ম্যাডামের মিটিং এবং অফিস রুমে কার্পেটের শাদা রং রক্ষার জন্য কিছু অংশে ট্রান্সপারেন্ট প্লাস্টিক কভার দেওয়া হয় এবং অতিথিদের অনুরোধ করা হয় জুতা খুলে ঢুকতে।
ওপরতলায় ম্যাডাম জিয়া যে রুমে স্ট্যানডিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে মিটিং করেন, সেখানে কনফারেন্স টেবিলের মাঝখানে মিনি পাম টৃর চারা আছে। মিটিংয়ের সুবিধার্থে সেখানে কোনো ফ্লাওয়ার ভাস (Vase) রাখা হয় না।
দোতলার দুটি দেওয়ালে ম্যাডাম তার প্রয়াত স্বামীর ফটো স্থাপন করেন এবং তার পাশেই তার নিজের দুটি ফটোও স্থাপিত হয়। এ ছাড়া অন্য স্থানে তার দুই ছেলে, তারেক ও আরাফাতের ছবিও স্থাপিত হয়। ২০০৯ এবং ২০১০-এ মিডিয়াতে অতি সমালোচিত তারেক ও আরাফাতের ছবি তখন অফিসে স্থাপন করাটা ছিল ম্যাডামের দৃঢ় ইচ্ছার প্রতিফলন। বিএনপির কিছু শীর্ষ নেতা এবং কর্মী, তাদের মতে সঙ্গত কারণেই, চাননি তার দুই ছেলের ছবি অফিসে টাঙ্গানো হোক। গুলশান অফিসে গুঞ্জরিত হতে থাকে কেন ম্যাডাম তার দুই ছেলের ছবি অফিসে টাঙ্গালেন? বিদেশি অতিথিরা, বিশেষত যারা ডেইলি স্টার পড়ে আসেন তারা অফিসে এসে দুই ‘ভিলেইনে’র ছবি দেখবেন? কিন্তু তারা কেউই সাহস করে তাদের আপত্তি ম্যাডামকে জানাতে পারেননি।
প্রসঙ্গটি একদিন সবিনয়ে উত্থাপন করায় ম্যাডাম জিয়া উত্তর দিয়েছিলেন, ‘ওনার (জিয়ার) মৃত্যুর পর থেকে আমি আমার এই দুই ছেলে, তাদের বৌ আর নাতনিদের নিয়েই বাড়িতে ছিলাম। বাড়িতে তাদের ঘিরেই ছিল আমার জীবন। তারা কেউই আজ আমার পাশে নেই। তাদের সবাইকে বিদেশে থাকতে হচ্ছে। এখন গুলশানের এই ঠিকানাই আমার অফিস এবং বাড়ি দুটিই। তাই এই ভবনটি আমি সাজিয়েছি। এখানেই তো আমি বেশির ভাগ সময় কাটাচ্ছি। কিন্তু ওরা কোথায়? ওরা আছে। দেওয়ালে ছবির মধ্যে আছে। ওদের দেখলে কিছুটা শান্তি পাই।’
খালেদা জিয়ার প্রতিপক্ষ নেত্রী সিমপ্যাথি পলিটিক্স বা সহানুভূতি আদায়ের রাজনীতিতে পারদর্শী, অশ্রু বিসর্জনে পটিয়সী এবং সহমর্মিতা অর্জনে পরিশ্রমী। খালেদা জিয়ার চারিত্রিক অবস্থান এর সম্পূর্ণ বিপরীতে। তিনি ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক কথা খুব কম বলেন। আর তাই গুলশানের অফিসে দুই ছেলের ছবি টাঙিয়ে তাদের প্রতি এক মায়ের শাশ্বত টানের আর কোনো ব্যাখ্যা খালেদা তার দলীয় নেতাকর্মীদের দেননি।
এই প্রসঙ্গটি এখানে উল্লেখের কারণ হলো, সম্প্রতি শেখ হাসিনা একাধিকবার প্রকাশ্যে প্রশ্ন করেছেন, উনি (খালেদা জিয়া) কেন অফিসে থাকেন? উনি কেন গুলশান অফিস ছেড়ে নিজের বাড়িতে যাচ্ছেন না?
আশা করি শেখ হাসিনা এখন বুঝবেন, গুলশানের অফিস, খালেদার শুধু অফিসই নয় বাড়িও বটে। তা ছাড়া খালেদা কোন গৃহে কখন থাকবেন সেটা নির্দেশ দানের ক্ষমতা তার নেই। বরং শেখ হাসিনা এটা ভেবে খালেদা জিয়াকে ধন্যবাদ জানাতে পারেন যে কেন তিনি (খালেদা) দাবি তোলেন নি যে, অনির্বাচিত ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও হাসিনা কেন গণভবন ছেড়ে সুধা সদনে যাচ্ছেন না। কারণ গণভবন তার অফিসও নয় বাড়িও নয়।
লেইক শোরের ফ্ল্যাট থেকে পরে খালেদা জিয়া গুলশানের ৭৯ নাম্বার রোডের ১ নাম্বার বাড়ি থেকে স্বল্প দূরে ৮৬ নাম্বার রোডের ৬ নাম্বার বাড়িতে এই অফিসে যাতায়াত শুরু করেন।
এভারেস্টের চাইতেও বড় মিথ্যাবাদী
অবরোধের ৫০ দিনের প্রথম পর্যায়ে গুলশানে রোড ৮৬-র বিভিন্ন স্থানে ইট ও বালির একাধিক ট্রাক এবং অ আ বাহিনীর জলকামান এনে খালেদা জিয়ার অফিসের চারদিকে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়। আওয়ামী নেতারা তখন টিভিতে বারংবার বলতে থাকেন, খালেদা প্রায়ই তার অফিসে ও বাড়িতে মেরামতের কাজ করান। এ জন্যই এই ট্রাকগুলো সেখানে এসেছে এবং এ সব ট্রাক সেখানে উপস্থিত হওয়ার দায়-দায়িত্ব তাদের নয়।
কিন্তু টিভিতে ওইসব ইট ও বালির ট্রাক ড্রাইভাররা তাদের ইন্টারভিউতে বলেন, বনানীর কাছাকাছি থেকে অ আ বাহিনীর নির্দেশে তাদের গুলশানে নিয়ে আসা হয় এবং এ জন্য তারা কোনো ভাড়া অথবা পারিশ্রমিক পাননি। তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন তারা খাবার ও পানি পাবেন কিনা সে বিষয়ে।
এভারেস্টেরও উচ্চতার পরিমাপ সম্ভব। কিন্তু আওয়ামী নেতাদের মিথ্যা কথনের কোনো পরিমাপ সম্ভব নয়।
কিভাবে ৫০ দিন কেটেছে
৩ জানুয়ারি ২০১৫-তে খালেদা জিয়া জানতেন না যে গুলশানের এই বাড়িতেই তাকে অবরুদ্ধ হতে হবে এবং পঞ্চাশ দিন কাটাতে হবে।
কিভাবে তার এই দিনগুলো কেটেছে এবং কাটছে?
এখানে প্রকাশিত গুলশান অফিস ভবনটির দুই তলার ফ্লোর চার্ট প্রকাশিত হলো। বলা বাহুল্য, সেখানে এই সময়ে কোনো আর্কিটেকটকে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই আমার স্মৃতি থেকে যতোটা সম্ভব ওই ভবনের ফ্লোর প্ল্যান আমি বুঝিয়ে দেই জনৈক তরুণ আর্কিটেকটকে (বর্তমানে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)। আমার বর্ণনার ভিত্তিতে এই তরুণ আর্কিটেকট (মেনি থ্যাংকস) ফ্লোর প্ল্যানটি একেছেন। ফলে কিছু ভুলভ্রান্তি এখানে থেকে যেতে পারে।
তা সত্ত্বেও এই ফ্লোর প্ল্যান থেকে পাঠকরা বুঝবেন একটানা ৫০ দিন মাত্র প্রায় ৫০০০ স্কোয়ার ফিটের একটি বাড়িতে ৫০ ঊর্ধ্ব সংখ্যক ব্যক্তির অবরুদ্ধ হয়ে থাকাটা কতো কঠিন।
নিচ তলা : গ্রাউন্ড ফ্লোর প্ল্যান
টিভি দর্শকরা সাধারণত বন্ধ মেইন গেইটের ছবি দেখতে পান। এটি অ আ বাহিনী বা অনুগত আওয়ামী বাহিনী (গোটা পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনীকে দায়ী করা অনুচিত হবে) বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রেখেছে। সাধারণত ভিজিটররা ছোট গেইট দিয়ে ভবনের প্রাঙ্গনে ঢোকেন। এই ছোট গেইটের বাইরে অনুগত আওয়ামী বাহিনী খাতাপত্র নিয়ে বসে আছে। কে ভেতরে গেল এবং বাইরে এল এসব তারা খাতায় লেখে। কেউ পানি অথবা খাবার নিয়ে গেলে এরা বাধা দেয় এবং ‘ওপরের নির্দেশ আছে’ বাক্যটি উচ্চারণ করে সাধারণত ভদ্রভাবে আগন্তুকদের ফিরিয়ে দেয়। তবে বেবি নাজনীনের মতো সেলিবৃটি হলে তাকে গুলশান থানাতেও নিয়ে যেতে পারে। এত কাছে থেকে বেবি নাজনীনের মতো নিরপেক্ষ নন এমন সেলিবৃটিকে দেখার সুযোগ অ আ বাহিনী হাতছাড়া যে করতে চায় না তাতে অবাক হবার কিছু নেই।
৩ জানুয়ারি ২০১৫তে অবরুদ্ধ হবার আগে খালেদা জিয়ার শাদা নিসান গাড়ি মেইন গেইট দিয়ে ঢুকতো এবং বেরুতো। এই গাড়ি গারাজে নয় কার পার্কে থাকে। মেইন গেইট দিয়ে ঢোকার পরে ডান দিকে পরিত্যক্ত গারাজে বসানো হয়েছে ডিজেল জেনারেটর যার কথা আগেই বলেছি। এটি পাওয়ারফুল জেনারেটর এবং এটা দিয়ে পুরো ভবনের সব এসি, লাইট ও কম্পিউটার চালু রাখা সম্ভব।
গাড়ি পার্কিং প্লেস থেকে তিন সিড়ি ওপরে রিসেপশন বারান্দা। এখান থেকে ম্যাডাম জিয়া ঘোরানো সিড়ি দিয়ে ওপরে যান। ম্যাডামের হাটুর সমস্যা থাকায় সিড়িতে উঠতে তার কিছুটা অসুবিধা হয়। তাই অন্য নেতা-কর্মী, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকদের সঙ্গে মিটিং নির্ধারিত থাকলে তিনি ওপর তলায় না উঠে, সরাসরি নিচতলার বৈঠকরুমে বসেন। এই রুমে একটা ছোট কাঠের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। তবে সেখানে সাধারণত ম্যাডাম বসেন না।
এই রুমে একটি সার্কুলার টেবিল আছে যার চারপাশে বিশিষ্ট অতিথিরা বসেন। এই রুম ও তার পাশের রুমের দেওয়াল ভেঙ্গে কাঠের ফ্লেক্সিবল পার্টিশন করা হয়েছে। ফলে পাশের রুমে সব টিভি ক্যামেরা ও টিভি কর্মীদের সংকুলান হয়। টিভি ক্যামেরা রুমের পেছন দিকে একটা ছোট দরজা আছে। এই দরজার অবস্থানটি জেনে নিলে অ আ বাহিনীর সম্ভাব্য আকস্মিক আক্রমণের সময়ে সাংবাদিক ও ক্যামেরা ক্রুরা দ্রুত প্রস্থান করতে পারবেন।
নিচ তলায় আছে আরো দুটি রুম। একটিতে বসেন অফিসের প্রশাসনিক কাজের দায়িত্বে নিয়োজিত সাবেক ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (আইজিপি) আবদুল কাইয়ুম। যিনি ছাত্রকালে ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন এবং প্রগতিশীল রাজনীতি করতেন। তার বিশেষ গর্ব, তার আইজিপি থাকাকালে তিনি ক্রসফায়ার জাতীয় অবৈধভাবে কাউকেই মৃত্যুমুখে ঠেলে দেননি। আর্থিকভাবে সৎ বলে তার সুখ্যাতি আছে। খুব দুঃখজনক বিষয় যে তার সভ্য, মানবিক আচরণ, নৈতিকতা এবং আর্থিক সততা পরবর্তীকালে তার উত্তরাধিকারদের মধ্যে খুব কম দেখা গেছে।
২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত আপাত স্বাভাবিক সময়ে কাইয়ুম আসতেন উত্তরায় তার বাড়ি থেকে। এখন ৩ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে তিনি গুলশানে অবরুদ্ধ আছেন এবং সেই ভবনটির সার্বিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনি খুব লো প্রোফাইলে থাকতে পছন্দ করেন। তাই টিভি দর্শকরা খুব কমই তাকে দেখেছেন। তাহলে একজন আইজিপি কাইয়ুমের কোনো দোষই কি নেই?
হ্যা, আছে। তিনি ধূমপান করেন তবে কম এবং লাইট নিকোটিনের সিগারেট।
এই রুমে তার পাশে বসতেন সাবেক আমলা ও রাষ্ট্রদূত সাবিহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বিএনপির ফরেইন এফেয়ার্স কমিটির সক্রিয় সদস্য।
১০ জানুয়ারিতে তার শাদা ড্যাটসান মোটরকার দুর্বৃত্তরা গুলশান অফিসের কাছেই পুড়িয়ে দেয়।
বৃটিশ হাইকমিশনার মি. রবার্ট গিবসন যখন অবরুদ্ধ ম্যাডাম জিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন, তখন, সাবিহউদ্দিন তার সঙ্গে গুলশান অফিসে যান। কিন্তু তিনি ফিরে আসতে পারেন নি। দুই দিন অফিসে তিনি অবরুদ্ধ ছিলেন। এখন তিনি মিডিয়া-ফোকাস থেকে দূরে আছেন।
একইভাবে স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য মি. নজরুল ইসলাম খান যখন সফরকারী ইওরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্যদের নিয়ে যান ম্যাডাম জিয়ার সঙ্গে দেখা করাতে, তখন তিনিও আটকে যান এবং এই লেখার সময় পর্যন্ত তিনিও সেখানে অবরুদ্ধ আছেন।
এই রুমে আরো বসেন (ডেস্ক শেয়ার করে) ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিন। উদ্যমী এবং উদ্যোগী এই তরুণ ইঞ্জিনিয়ারকে এখানে নিয়োগ দিয়েছিলেন মাহমুদুর রহমান। দুই যমজ শিশু কন্যা সন্তানের পিতা জসিমও অবরুদ্ধ আছেন এই ভবনে যাদের কথা তিনি আমাকে প্রায়ই বলতেন। তিনি তার দুই নয়নমনি ও স্ত্রীকে ছেড়ে গুলশান অফিসের ইঞ্জিনিয়ারিং দিক (কম্পিউটিং, জেনারেটর, এসি, ওয়াটার সাপ্লাই) প্রভৃতি দিক সচল রাখছেন। এ ছাড়া এই রুমে আছেন কমপিউটার অপারেটর হুমায়ুন কবির। নিচতলার এই রুমে দুজন অতিথি বসতে পারেন। বলা বাহুল্য অনেক অতিথি এখানে আসেন যার ফলে অনেক অফিশিয়াল কাজ বিঘিœত হয়। অ আ বাহিনী যদি গুলশান অফিস এটাক করে তাহলে হুমায়ুনের কম্পিউটার থেকে আওয়ামী মস্তিষ্কপ্রসূত বিভিন্ন “সাংঘাতিক ইসলামী জেহাদি এবং দেশদ্রোহিতামূলক” ই-মেইল ইত্যাদি আবিষ্কৃত হবে এবং সেসব নিরপেক্ষ টিভিতে ভবিষ্যতে প্রচারিত হতে পারে। ভিউয়ার্স, ইউ হ্যাভ বিন ওয়ার্নড!
গুলশান অফিসের প্রেস বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত মারুফ কামাল খানের খুব ছোট অফিসটি নিচ তলায় অবস্থিত। এখানে ঠাসাঠাসি করে সর্বোচ্চ পাচ অতিথি বসতে পারেন। একটা সচল ছোট টিভি এবং একটা অচল ফটো কপিয়ার আছে এই রুমে। আর আছে মারুফ কামাল খানের বেনসন অ্যান্ড হেজেস নিঃসৃত ধোয়া, যেটা তার জন্য খারাপ, তার গেস্টদের জন্যও খারাপ। পঞ্চাশ দিন একটানা অবরুদ্ধ থাকার ফলে খালেদা জিয়ার পরেই সবচেয়ে বেশি হেলথ রিস্কে আছেন মারুফ কামাল খান। গত তিন বছরে বিভিন্ন চিকিৎসার জন্য ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে বহুবার এবং সিংগাপুরে দুইবার তাকে থাকতে হয়েছিল।
এ ছাড়া নিচের তলায় কাজ করেন প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান ও শামসুদ্দিন দিদার এবং অন্যান্য স্টাফ। এদের সবার জন্য এই ফ্লোরে আছে দুটি টয়লেট। এই ফ্লোরে হাটাহাটির জায়গা বলতে আছে চার অথবা পাচ ফিট চওড়া একটা ছোট করিডোর।
দোতলা : ফার্স্ট ফ্লোর প্ল্যান
এবার আমার সঙ্গে চলুন ঘোরানো সিড়ি বেয়ে দোতলায়।
দোতলায় উঠলে ডান দিকে দেখবেন চেয়ারপার্সনস সিকিউরিটি ফোর্স, সংক্ষেপে সিএসএফ (CSF) -এর রুম। ম্যাডাম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা সমন্বয়কারী সাবেক সেনা কর্মকর্তা সুদর্শন আবদুল মজিদ ও তার সহকর্মীরা এই রুমে থেকে সিকিউরিটি মনিটরিং স্কৃনে নজর রাখেন বাড়ির ভেতরে এবং বাইরে কি হচ্ছে। সিএসএফ-এর এই রুমটি গাড়ি পার্কের ঠিক ওপরে আগে এটি ছিল এই বাড়ির একমাত্র বারান্দা বা ব্যালকনি। পরে থাই গ্লাস দিয়ে ব্যালকনিকে পরিবর্তিত করা হয় রুমে। ফলে গ্রীষ্মকালে রুমটি খুব গরম হয়ে যায়।
এই রুমের বিপরীতে আছে স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিং রুম। এখানে একটি সার্কুলার টেবিলের চারপাশে বসেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা। সাধারণত এই রুমটি ব্যবহার করেন বিশিষ্ট অতিথিরা এবং বিএনপির নেতারা ওয়েটিং রুম রূপে। এখান থেকে তাদের ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় ম্যাডাম জিয়ার অফিস রুমে।
এই রুমের পরে আছে একটি অফিস রুম যেটা প্রথমে নির্ধারিত হয়েছিল এই লেখক, মাহমুদুর রহমান এবং সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরীর জন্য। শেষোক্ত দুজন এখন জেলবন্দি। এখন এই লেখকের ডেস্কটি ব্যবহার করছেন চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। এ ছাড়া এই রুমে আট জন অতিথি বসার স্টিল ফার্নিচার আছে।
এই রুমের বিপরীতে একটি ছোট রুমে আছে কিছু কম্পিউটার ও ইন্টারনেট কানেকশন। এই রুমটি কদাচিৎ ব্যবহৃত হয়। এসব রুমের শেষ প্রান্তে আছে একটি টয়লেট।
স্ট্যান্ডিং কমিটি রুমের পরে আছে আরেকটি অফিস রুম যেখানে বসেন ম্যাডামের সহকারী (জিয়াউর রহমানের ভ্রাতুষ্পুত্র) ডিউ। এই রুমে আছে কয়েকটি ফাইলিং ক্যাবিনেট। আর আছে একটি এটাচড টয়লেট।
এর পরেই আছে বিশিষ্ট অতিথিদের মিটিং রুম যেখানে ঢুকতে হয় লবি থেকে সরাসরি। ঢোকার আগে সিএসএফ সদস্যদের কাছে রেখে দিতে হয় ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন। এই ডিগনিটারি রিসেপশন রুমের ছবি সাধারণত দর্শক পাঠকরা দেখেন। ম্যাডাম খালেদা জিয়া এই রুমে রিসিভ করেন দেশ বিদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের, যেমন রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি ডেলিগেটদের। এই রুমের দেওয়ালে প্রেসিডেন্ট জিয়ার ও ম্যাডাম খালেদার ছবি ছাড়াও আছে বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকার কিছু অয়েল পেইনটিং। আর আছে বাংলাদেশ ও বিএনপির ফ্ল্যাগ।
এই ফ্লোরে কোনো কিচেন বা কুকিং স্পেইস নেই। ফলে অতিথিদের চা-কফি-স্ন্যাকস সার্ভ করতে হয় নিচতলা থেকে সযতেœ ওপর তলায় এনে। এই কাজটি করেন স্বপন এবং এনাম। ম্যাডামের অভিরুচি অনুযায়ী এরা খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও ফিটফাট খাবেন। এদের হাতে প্লাস্টিক গ্লাভস থাকে পরিবেশনের সময়ে।
ডিগনিটারি রিসেপশন রুমের পরেই আছে ম্যাডাম জিয়ার অফিস। এখানে ছোট একটা ডেস্ক ব্যবহার করেন খালেদা যার ওপরে একটি ফুলদানিতে আছে ধানের শীষ। তার বসার চেয়ারের পেছনে আছে প্রয়াত স্বামী ও নিজের ছবি এবং বাংলাদেশ ও বিএনপির ফ্ল্যাগ। এ ছাড়া দেওয়ালে আছে কয়েকটি অয়েল পেইনটিংয়ে গ্রামীণ বাংলার দৃশ্য। সেন্টার টেবিলে আছে ফ্রেশ ফ্লাওয়ার ভাস। এই রুমে চার পাচজন অতিথি বসার জন্য দুটি সোফা আছে। একটি সোফা আছে ম্যাডামের জন্য। তবে তিনি কদাচিৎ সোফায় বসেন। সাধারণত তিনি চেয়ারে বসেন এবং অতিথিরা স্টিল চেয়ারে (দুটি কাঠের) বসেন। এই রুমে আছে একটি ছোট ফ্ল্যাট স্কৃনের টিভি।
এই অফিস রুমের সঙ্গেই এটাচড লম্বাটে রেস্ট রুম যেখানে কোনো জানালা নেই, শুধু একটা সরু ডিভান পাতা সম্ভব সেখানে। ধারণা করছি এই ডিভানেই খালেদা জিয়া তার পঞ্চাশটি রাত কাটিয়েছেন। এই রুমের সংলগ্ন আছে একটি টয়লেট।
দোতলায় খালেদা জিয়ার সাহচর্যে আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান যিনি এক পর্যায়ে নিচে গেইটে এসে অ আ বাহিনীকে দৃপ্তভাবে জানিয়ে দেন, জেলখানাতেও বন্দিদের পানি ও খাবার ব্যবস্থা হয় - কিন্তু অবরুদ্ধ রোড ৮৬-র ৬ নাম্বার বাড়িতে সেটা হচ্ছে না। তিনি জানতে চান এর কারণ কি?
অ অ বাহিনী নিরুত্তর থেকেছে।
অ আ বাহিনীর নেত্রীও নীরব থেকেছেন।
অ আ বাহিনীর গুলশান কর্মকর্তারা বলেছেন তারা খাবার ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি জানেন না।
তাহলে সেলিমা রহমানের প্রশ্নের উত্তরটি কে জানে?
সাগরেরও সীমানা আছে, কিন্তু এদের নির্লজ্জার সীমানা নেই।
দোতলায় আরো আছেন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা।
এ ছাড়া খালেদা জিয়াকে সার্বক্ষণিক পরিচর্যা ও সাহায্যের জন্য আছেন তার বুয়া ফাতেমা যাকে নিয়ে তিনি বিদেশেও যান।
বর্তমান অবস্থা
এবার ভেবে দেখুন কিভাবে মাত্র ৫০০০ স্কোয়ার ফিটে ৫০ দিন কাটিয়েছেন ৫০ অথবা তার উর্ধ্ব সংখ্যক ব্যক্তিরা? যেখানে কিচেন মাত্র একটি (তা-ও সব রান্নার জন্য অনুপযুক্ত), টয়লেট মাত্র পাচটি, যেখানে নেই কোনো বারান্দা-ব্যালকনি, যেখানে নেই হাটাচলার কোনো স্পেইস, যেখানে নেই কোনো লন্ডৃ রুম এবং যেখানে নেই কোনো বেডরুম।
কিন্তু যেখানে আছে ইলেকটৃসিটি লাইন কেটে দেওয়ার সম্ভাবনা (৩১ জানুয়ারি ভোর রাত দুটো থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০১৫ রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত ইলেকটৃসিটি লাইন কেটে দেওয়া হয়েছিল)। যেখানে আছে ওয়াটার সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা (ইলেকটৃসিটি না থাকলে ওয়াটার পাম্প চলবে না)। যেখানে আছে অনাহার ও অভুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা।
বিভিন্ন পত্রিকার সূত্রে জানা যাচ্ছে ম্যাডাম জিয়ার সহ-অবরুদ্ধরা ড্রাই খাবার যেমন, চিড়া, মুড়ি, গুড়, খেজুর খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু এই খাবারের স্টক কতো দিনের? সম্প্রতি জি-নাইন নামে একটি রিসার্চ গোষ্ঠির প্রেসিডেন্ট এডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এবং জেনারেল সেক্রেটারি ড. সায়ন্থ সাখাওয়াৎ কেএফসির ফ্যামিলি বাকেট খাবার ম্যাডাম জিয়া ও তার সহযোদ্ধাদের জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন। অ আ বাহিনী তাদের বলেছিল, খাবার নিয়ে ভেতরে যেতে পারেন, তবে বাইরে ফিরে আসার কোনো নিশ্চয়তা তারা দিতে পারবে না। (ওপরের নির্দেশে?)। এরপর জি-নাইন টিম সেই খাবার ভেতরে পৌছে দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে ফিরে আসেন।
আজ এই লেখাটি লেখার সময়ে জি-নাইনের অপর এক সদস্য এভিয়েটর রেজাউর রহমান, যিনি এক সময়ে এয়ার ফোর্সে ছিলেন, তিনি জানান, তিনি এবং সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কিছু অফিসার ও তাদের স্ত্রীরা অবরুদ্ধদের জন্য খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু অ আ বাহিনী তাদের ফিরিয়ে দেয় এবং কোনো খাবারই গুলশান অফিসে পৌছাতে দেয় না।
‘তোমাদের ভাতে মারবো, পানিতে মারবো’ ৭ মার্চ ১৯৭১-এর শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের এই অংশটি ৪৪ বছর পরে বাস্তবায়িত করতে প্রতিজ্ঞ হয়েছে তার অনুসারীরা - তবে পাকবাহিনীকে মারতে নয় - বাঙালিদের মারতে।
জি-নাইন, বেবি নাজনীনসহ আরো অনেকে যারা পানি ও খাবার নিয়ে গুলশান অফিসে গিয়েছেন, তাদের দৃষ্টান্ত অনুকরণীয়। প্রতিদিনই সহমর্মিদের উচিত হবে সেখানে পানি ও খাবার নিয়ে যাওয়া। এক পর্যায়ে প্রতিরোধকারী অ আ বাহিনী বাধ্য হতে পারে পানি ও খাবার ভেতরে পৌছে দিতে।
প্রসঙ্গত মনে পড়ছে বিশ্ব শ্রদ্ধেয় কংগ্রেস নেতা মোহন দাস করমচাদ গান্ধির একটি কাহিনী।
তিনি লন্ডনে ব্যারিস্টার হবার পরে সাউথ আফৃকাতে আইন পেশা শুরু করেছিলেন। একবার তিনি সেখানে ট্রেনে ফার্স্ট ক্লাসে ভ্রমণ করছিলেন। তখন শ্বেতাঙ্গ শাসিত সাউথ আফৃকার কোনো ট্রেনের ফার্স্ট ক্লাসে কোনো কালো বা ব্রাউন যাত্রীর উপস্থিতি ছিল অকল্পনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য। ফার্স্ট ক্লাসে সেই সময় আরেকটি মাত্র যাত্রী ছিলেন। তিনি ছিলেন শ্বেতাঙ্গ। ট্রেন চলা শুরু হবার কিছু পরে গান্ধির দিকে তাকিয়ে ওই শাদা লোকটি কম্পার্টমেন্টের মেঝেতে ঘৃণাভরে থুথু ফেললেন। গান্ধি কিছু না বলে সেই থুথু একটা রুমালে মুছে তুলে নিলেন। শাদা লোকটি কিছুক্ষণ পর আবারও একই কাজ করলেন। গান্ধি আবারও তার রুমালে থুথু মুছে তুলে নিলেন। এভাবে তিনবার যখন ওই শাদা লোকটি মেঝেতে থুথু ফেললেন তখন তিনবারই গান্ধি তার থুথু তুলে নিলেন।
শাদা লোকটি নৈতিক পরাজয় মেনে চতুর্থবারে চলমান ট্রেনের জানালার বাইরে থুথু ফেললেন। গান্ধিও মৃদু হেসে তার রুমালটি বাইরে ফেলে দিলেন।
হয়তো অ আ বাহিনী এমন সংশোধনী আচরণ করবে না। তবুও তাদের পরীক্ষা করে দেখতে পারেন খালেদা ভক্তরা।
শিগগিরই গরম পড়বে।
তখন এই অবরোধবাসিনী ও অবরোধবাসীদের দুর্দশা চরমে উঠতে থাকবে।
আমাদের তথা বিশ্ববাসীর চোখের সামনেই এটা ঘটছে এবং ঘটবে।
আমরা দেখছি ২০১৫-তে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দুর্দমনীয় লক্ষ্যে ৫০ ব্যক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত থেকে লড়াই করছেন। যেটা আমরা লক্ষ্য করিনি ১৯৭১-এ। তখন আওয়ামী নেতারা আত্মসমর্পন করেছিলেন অথবা পলায়ন করেছিলেন কোনো যুদ্ধক্ষেত্রেই আওয়ামী নেতারা দৃশ্যমান ছিলেন না।
দেশবাসীর একমাত্র কর্তব্য
২০১৫-র গণতন্ত্র লড়াইয়ে গুলশানে বিএনপির নেত্রী ও তার সহযোদ্ধারা দৃশ্যমান। বাংলাদেশের বহু বীরত্ব গাথার মধ্যে চিরকালের মতো সংযুক্ত হয়ে গিয়েছে তাদের নাম।
আশা করা যায় এই অবরুদ্ধ বীর যোদ্ধারা ৫০ সংখ্যার কলংক মোচনে সফল হবেন।
ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে এদের নাম?
না।
বাংলাদেশে বিকৃত ইতিহাস রচিত হয়।
যে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন আওয়ামী লীগ প্রণীত ইতিহাসে তাকে পাকিস্তানি গুপ্তচর বলা হয়।
এই বিকৃত ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে এদের নাম লেখানোর জন্য এরা লড়াই করছেন না।
এরা লড়াই করছেন প্রকৃত বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সত্য ইতিহাস দেশবাসীকে দেওয়ার জন্য।
তাই এই মুহূর্তে দেশবাসীর একমাত্র করণীয় হলো ম্যাডাম খালেদা জিয়ার আন্দোলনের ডাকে সদা সচেতন থাকা, সদা সক্রিয় হওয়া এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে সফল হওয়া।
২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
২৯ ধর্ষণে ১৫৩৫ বছর জেল
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আফগানিস্তানে টেকসই সাফল্য চায় যুক্তরাষ্ট্র
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমরা ভুলিনি, ক্ষমা করিনি
ইউক্রেনে সেনা ও ট্যাঙ্ক
পাঠাচ্ছে মস্কো : কিয়েভ
ইউক্রেন অভিযোগ করে বলেছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক রাজ্যে আরও সেনা ও ট্যাঙ্ক পাঠাচ্ছে রাশিয়া। শুক্রবার কিয়েভের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, রাশিয়ার পাঠানো ওইসব সেনা ও ট্যাঙ্ক ইউক্রেনের নভোয়াজোভাস্ক শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফলে নতুন করে সহিংসতার আশংকা করা হচ্ছে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একজন কেজরিওয়াল ও আমরা by এম সাখাওয়াত হোসেন
আম আদমি পার্টির প্রধান স্লোগান ‘পরিবর্তন’ এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধের স্পৃহা ভোটারদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। ভারতে দুর্নীতি রাষ্ট্রীয় সমস্যা বলে চিহ্নিত। দুর্নীতির জালে জড়িয়ে পড়েছে বহু রাজনীতিবিদ। কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতির চাক্ষুষ প্রমাণ ছিল দিল্লির তথা ভারতের জনগণের সামনে। দিল্লির তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শিলা দীক্ষিতের পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। অপর দিকে দিল্লির নিম্ন আয়ের জনগণের ওপর ট্যাক্স, বিদ্যুৎ ও পানির দাম বাড়ানোর ফলে দিল্লির নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আম আদমি পার্টি নিম্নবিত্ত শ্রেণিকে দুর্মূল্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিতে যে কর্মসূচি ২০১৩ সালের নির্বাচনে এবং ৪৯ দিনের সরকার নিয়েছিল, তাতে সাধারণ নিম্নবিত্তের মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সহমর্মিতা অর্জনে সক্ষম হয়েছিল।
আম আদমি পার্টির এমন বিজয়ের কারণগুলো ভারতের রাজনীতিতে কিছুটা হলেও নতুন মাত্রা জোগাবে। কারণগুলোর কয়েকটির আলোচনা করতে গেলেই বলতে হয় প্রথমত, ভারতের রাজনীতিতে বহুবার ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেসের নেতৃত্বে স্থবিরতা দৃশ্যমান। পরিবারতন্ত্র কাজ করেনি, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন যেমন ফলপ্রসূ হয়নি, তেমনি কাজ করেনি দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনেও। দ্বিতীয়ত, বিজেপির পেছনের শক্তি বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং আরএসএস-এর ‘ঘরওয়াপসি’ বা পুনঃহিন্দুকরণ প্রক্রিয়া দিল্লির সংখ্যালঘুদের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির সংখ্যালঘুদের কংগ্রেস ও বিজেপি প্রত্যাখ্যানের কারণও আম আদমি পার্টির এ সাফল্যের অনুকূলে ছিল। তা ছাড়া মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তাঁর আচার-আচরণ, বহু মূল্যের পোশাকাদি আর স্টাইল আইকন হয়ে ওঠাকে সাধারণ ভারতীয়রা, বিশেষ করে বড় শহরের নিম্ন আয়ের মানুষকে আকর্ষণ করেনি। হঠাৎ করে কিরণ বেদির অন্তর্ভুক্তি দিল্লির বিজেপির মধ্যে হিতে বিপরীত প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছিল।
এসব রাজনৈতিক কারণ ছাড়াও বাস্তবিক কিছু পদক্ষেপ আম আদমি পার্টির পক্ষে তরুণদের আকৃষ্ট করেছে। বর্তমানে আম আদমি পার্টি তথা সাত সদস্যের মন্ত্রিসভায় ভারতের তরুণদের অন্তর্ভুক্তিই হয়েছে সবচেয়ে বেশি। অনেক তরুণ পেশা ত্যাগ করে ভারতের রাজনীতিতে স্থবিরতা, দুর্নীতি আর পরিবারতন্ত্র ভাঙতে কেজরিওয়ালের নেতৃত্বে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। এটা ভারতের আগামীর রাজনীতির গতি পরিবর্তন করবে।
কেজরিওয়ালের প্রথম সরকারের স্থায়িত্ব স্বল্প সময়ের হলেও দিল্লির নিম্ন আয়ের মানুষকে সস্তায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ করা, ভিআইপি কালচারকে বাতিলকরণ ইত্যাদি এবারও কেজরিওয়ালের পক্ষে গেছে। এসব নিয়ে আম আদমি পার্টি দিল্লি ‘ডায়লগ’ও করেছে। এরই ফলে শুধু নিম্ন আয়েরই নয়, দিল্লির বিশাল মধ্যবিত্তদেরও কেজরিওয়ালের সপক্ষে টেনেছে।
দিল্লিতে বড় দলগুলোর ভরাডুবির অন্যতম কারণ ছিল বৃহৎ ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত পৃষ্ঠপোষকতা। বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদির গুজরাট স্টাইলে অর্থনীতি চাঙাকরণের ফর্মুলায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উল্লেখ নেই। বিজেপি বর্তমানে ভারতের রাজনৈতিক অর্থায়নের বিষয়ে শীর্ষে। গত নির্বাচনের প্রাক্কালে কয়েকজন বড় ব্যবসায়ীর তরফের চাঁদা ৩৬১ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এ ব্যাপারে কংগ্রেস বেশ পেছনে।
যা-ই হোক, কেজরিওয়াল বিশাল ভারতের রাজধানী জয় করেছেন। এ জয়ের পেছনে যত কারণই থাকুক, আমার মতে প্রধান কারণ, আমজনতা অতি সাধারণ, সৎ একজন মানুষকে নিজেদের মতো করে পেয়েছে। কেজরিওয়াল সাধারণ মানুষের মনের কথা নিজে বলেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও যে ব্যক্তি নিরাপত্তা আর সরকারি প্রটোকলের ঘেরাটোপে থাকেননি, এখনো থাকতে চান না, দিল্লির সাধারণ থেকে বিত্তবানেরাও এ ধরনের নেতৃত্বই চেয়েছিলেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেজরিওয়ালের কার্যকর পদক্ষেপের যৎসামান্য উদাহরণ মানুষের মনে নাড়া দিয়েছিল। এবার আরও কার্যকর অবস্থান আশা করে। এমন অভিপ্রায়ই রামলীলা ময়দানে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর আম আদমিপ্রধান ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন।
কেজরিওয়াল ভারতীয় জনতা পার্টির অহংকে কিছুটা হলেও ফুটো করার চেষ্টা করেছেন, তা না হলে যেখানে মাত্র কয়েক মাস আগে লোকসভায় বিজেপি দিল্লি অঞ্চলের সাতটি আসনেই জয়ী হয়েছিল, সেখানেই মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এমনভাবে ধরাশায়ী হবে কেন? লোকসভা নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ৪৬ শতাংশ ভোট বিজেপি পেয়েছিল কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে একই স্থানে ভোট কমে ৩২ দশমিক ২ শতাংশ এবং আম আদমি পার্টির ২৪ দশমিক ৮১ শতাংশ ভোট বেড়ে প্রদত্ত ভোটের ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৯ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। এ পরিসংখ্যান থেকেই প্রতীয়মান যে ভারতে, অন্তত রাজধানী অঞ্চলের ভোটাররা কেজরিওয়ালের এবং আম আদমি পার্টির মতো কাউকে পেলে দুটি বৃহৎ দলের প্রভাবমুক্ত হতে চাইবেন।
কেজরিওয়ালের এ সাফল্য বিজেপির রথযাত্রায় সামান্য হলেও ধাক্কা দিয়েছে। এ বিষয় হয়তো ভারতের রাজনীতিতে গেড়ে থাকা দুই দলের বাইরে সাধারণ মানুষের একটি শক্তির উত্থান দৃশ্যমান হতে পারে। অবশ্যই নির্ভর করবে আগামী কয়েক বছরে দিল্লি সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা কতখানি পূরণ করতে পারবে। বড় দুই দলের মাঝে কেজরিওয়ালের অভিযাত্রা যতটা সহজ মনে করা যায়, তেমন না–ও হতে পারে। ভারতের রাজধানী অঞ্চলে আম আদমি পার্টির উত্থান খালি সাদা-কালোর বিচারে হয়তো বিশাল ভারতীয় রাজনীতিতে খুব বড় একটা রাজনৈতিক বিপ্লব না–ও হতে পারে, তবে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
আমাদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পেছনে যে বড় দুটি দলের সংঘাতময় অবস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে অনেকেই কেজরিওয়ালের মতো অতি সাধারণ কাউকে খোঁজার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে আমাদের দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ভারতের গণতন্ত্রের এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার মতো নয়। এখানে কেজরিওয়ালদের উত্থান বড় দলগুলোর স্বার্থহানি করলে অথবা অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করলে সে উত্থান বহুদূর এগোতে পারবে না। কারণ, আমাদের দেশের রাজনীতিতে দুটি বৃহৎ দল যেভাবে জায়গা দখল করে রয়েছে, সেখানে অন্য কারও প্রবেশ সহজ নয়। তবে লেজুড়বৃত্তিতে সমস্যা হয় না, এমন অতীত উদাহরণ রয়েছে। বিগত বিএনপি সরকারের সময় একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি বৃহৎ দলকে চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন। এখনো এমন বাস্তবতাই রয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে ভারতের মতো শক্ত নাগরিক সমাজও গড়ে উঠতে পারেনি। নাগরিক সমাজের যেকোনো উদ্যোগকে ‘বিরাজনীতিকরণের’ সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা হয়। এসব কারণে এ দেশে আন্না হাজারের মতো মানুষের আবির্ভাব হয় না। আমাদের রাজনীতি যত সংঘাতময়ই হোক না কেন, প্রতিষ্ঠিত ও প্রচলিত রাজনীতিকে কেউ চ্যালেঞ্জ করলে তিনি সহজে পার পাবেন না।
পূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং উচ্চ রাজনৈতিক, নৈতিক ও সংস্কৃতিসম্পন্ন দেশেই কেজরিওয়ালদের উত্থান সম্ভব। যত দিন পর্যন্ত আমাদের দেশের গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ না পাবে, তত দিন নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান দুরূহ মনে হয়। গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করতে হলে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন এবং সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে। যত দিন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলসহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো শক্ত ভিতে দাঁড়াতে না পারবে, তত দিন গণতন্ত্রের বৈচিত্র্যের এবং ভিন্নমতের স্বাদ সাধারণ জনগণ পাবে বলে মনে হয় না।
তথাপি আশা করা যায়, আমাদের সচেতন জনগণই নতুন ধারার রাজনীতির পথ ধরতে আমাদের রাজনীতিবিদদের বাধ্য করবেন। এই পরিবর্তনের জন্য আমাদের দেশের তরুণদেরই এগিয়ে আসতে হবে। তরুণেরাই পারবেন বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে। ভারতের তরুণেরা পারলে আমাদের তরুণেরা পারবেন না কেন?
এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.): অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও কলাম লেখক৷
hhintlbd@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সমান্তরাল ভালোবাসা by মোজাম্মেল বাবু
২. এ স্পেস-টাইমে অর্ক ও লিলিথের দেখা হয় প্রথম যৌবনের দেড় যুগ পরে। বিষয়টি তদন্ত শেষে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলসের অ্যাসট্রোনমার জন ওয়েব মন্তব্য করেন ‘আলোর গতি শ্লথ হয়ে যাওয়াই এ বিলম্বের কারণ হয়ে থাকবে’। ওয়েবের যুগান্তকারী এ উদ্ভাবন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী পল ডেভিস বলেন, ‘কোয়াসার আলো বিচ্ছুরণকারী পরমাণুগুলোর গঠনে মানবদেহের পরমাণু থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে, যা সত্য হলে আলোর গতির তারতম্যই হবে এ ভিন্নতার একমাত্র সম্ভাব্য কারণ’। সমগ্র মানব জাতির জন্য অত্যন্ত অর্থবহ এ অবজারভেশনটির ফলে হুমকির সম্মুখীন হবে আইনস্টাইনের কালজয়ী ‘থিওরি অব রিলেটিভিটি’, ‘কোনো বস্তুই আলোক-প্রতিবন্ধক অতিক্রম করতে পারে না’- এ সম্পর্কিত ‘টাইম ডায়লেশন’ সূত্র এবং আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি- ‘আলোর গতির স্থিরতা’র তত্ত্বটিও। তবে ঈশ্বরের সাম্রাজ্যে সময় রাখতে না পারার এটাই প্রথম নজির নয়। মাতৃতান্ত্রিক মায়োকন্ড্রিয়াল ডিএনএ ও পিতৃতান্ত্রিক ওয়াই ক্রোমোজমের বংশপরম্পরা বিশ্লেষণ করে মলিক্যুলার বায়োলজিস্টরা সম্প্রতি নিশ্চিত হয়েছেন যে, মানব জাতির অভিন্ন পিতা-মাতা হিসেবে খ্যাত ‘আদম’ ও ‘ইভ’ পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছেন অন্তত ৯০ হাজার বছরের ব্যবধানে। পিছিয়ে পড়ে আদম বোধ করি লিলিথেরই তালাশ করে থাকবেন। আঠারো বছরের বিলম্ব মুছে ফেলতে পারেনি এ যুগের অর্ক ও লিলিথের প্রেম। হঠাৎ দেখার অকস্মাৎ আঙ্গুলের ছোঁয়ায় তাদের মধ্যে আবারও জ্বলে ওঠে জন্ম-মৃত্তিকার ভালোবাসা। অনুভূতির বিদ্যুৎস্পর্শ গলা, গ্রীবা ও চিবুক ছাড়িয়ে বিনির্মিত হয় শাশ্বত এক কাব্য। ‘কে বলে আগুন, এক ফালি চুম্বনই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার!’ তাপের কোনো বিনাশ নেই, কেবল অবস্থার পরিবর্তন ঘটে মাত্র- তাপের অবিনাশিতাবাদ এ সূত্র মেনে, একজনের ভালোবাসার আজন্ম উত্তাপে বাষ্পায়িত হতে থাকে আরেকজনের ভালোবাসা। ভালো বাসতে বাসতে ফতুর হয়ে যায় আদিম দুটি মানুষ। ততক্ষণে ‘ফেন্সিং’ খেলার মতো পেছন থেকে সুতা টেনে ধরে দুটি সংসার এবং সন্তানদের উজ্জ্বল মুখ।৩. বিদ্যমান বাস্তবতায় মিলনের কোনো সম্ভাবনা খুঁজে না পেয়ে অর্ক ও লিলিথ ‘টাইম টানেল’ বেয়ে ফিরে যায় দেড় যুগ আগে। ‘গ্র্যান্ডফাদার প্যারাডক্স’ সূত্রমতে- অতীত ভ্রমণ করে কেউ যদি নিজের ‘বাবা’র জন্মের আগেই ‘দাদা’কে হত্যা করে ফেলে, তখন ‘বাবা’ এবং একই সঙ্গে তার নিজের অস্তিত্বও মিথ্যা হয়ে যাবে। অর্ক ও লিলিথ অতীতে ফিরে গিয়ে কোনো হত্যাকাণ্ড না ঘটিয়ে শুধু নিজেদের বিয়ে দুটো ভেঙে দিয়ে আবার বর্তমান পৃথিবীতে ফিরে আসে। সকালে ঘুম ভেঙে হাত মেলতেই অর্ক স্পর্শ করে লিলিথের পেলব শরীর। লিলিথও চোখ খুলে অর্ককে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ না যেতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে ওরা দুজন, সময়ের পর্দা থেকে ততক্ষণে বিলীন হয়ে গেছে তাদের প্রাণপ্রিয় সন্তানরা। বস্তুত অতীত কিংবা ভবিষ্যৎ ভ্রমণে কখনো এমন কিছু করা যাবে না যাতে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ন হয়। পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয়- ‘থিওরি অব আনইন্টারেপটেড ক্রোনোলজি’। বিলাপ করতে করতে ওরা দুজন আবার ছুটে যায় অতীতের কাছে, ফিরিয়ে দেয় কালের স্বাভাবিক পরম্পরা। অতীতে ফিরে গিয়ে ‘ভুল’ শুধরে নেবার কৌশলটি যথার্থ হলেও ‘পথ’ নির্বাচন তাদের সঠিক ছিল না। টাইম-টানেল বেছে না নিয়ে তাদের উচিত ছিল ওয়ার্মহোলের ওপর আস্থা রাখা। টাইম-টানেল ভ্রমণে ফিরে আসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ‘এনট্রপি’কে রিভার্স করা, যেখানে ‘ডিগ্রি ও ডিজঅর্ডার ইনক্রিজেস উইথ টাইম’। সর্বশেষ উদ্যোগে বিনাইন ওয়ার্মহোল সুড়ঙ্গ দিয়ে অর্ক ও লিলিথ পৌঁছে গেল সেই সময়-সন্ধিক্ষণে, যেখান থেকে ‘দুজনার দুটি পথ দুটি দিকে গিয়েছিল বেঁকে’। ‘ওয়ার্মহোল’ একধরনের ‘ব্ল্যাকহোল’ মাত্র। সাধারণ ব্ল্যাকহোল আলো পর্যন্ত গিলে খায়, সেখান থেকে কোনো কিছুই বের হয়ে আসতে পারে না। কিন্তু অর্ক ও লিলিথের প্রয়োজনে কালের দুই প্রান্তকে সংযোগের স্বার্থে ‘অ্যান্টি-গ্র্যাভেটি’ ম্যাটার দিয়ে তৈরি হয় একটি ‘বিনাইন’ অর্থাৎ অপ্রতিকূল প্রাকৃতিক গহ্বর। কার্ল সাগানের ‘কসমস’ গ্রন্থ ও চলচ্চিত্রে ওয়ার্মহোল ভ্রমণের বিশদ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। শেষমেশ ওয়ার্মহোল পথ বেয়ে অর্ক ও লিলিথ অতীতে ফিরে গিয়ে ক্রসরোডে দাঁড়িয়ে নিজেদের আবদ্ধ করল গভীর এক চুম্বনে। আর তখনই ভালোবাসার প্রকাণ্ড শক্তিতে প্রচণ্ড এক ‘বিগ ব্যাং’ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলল। অর্ক ও লিলিথের জন্য জন্ম নিল প্যারালাল দুটো ইউনিভার্স- একটি ‘বিরাজমান বাস্তবতার’ এবং আরেকটি ‘আকাক্সক্ষার বাস্তবতার’। একটির সঙ্গে অন্যটির কোনো বিরোধ নেই এবং দুটোই সমানভাবে সত্য। তবে প্যারালাল ইউনিভার্স থিওরিতে সমান্তরালভাবে বিরাজমান ইউনিভার্সের সংখ্যায় কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘সুপার স্ট্রিং থিওরি’ অনুসারেও বিদ্যমান ১১টি স্পেস-টাইম ডায়মেনশনের প্রতিটিতেই পৃথক একটি ‘বাস্তবতা’ বিরাজ করতে পারে।৪. কিন্তু অর্ক ও লিলিথ পরস্পরকে চিনবে কী করে? ‘মিমিকিং’ এবং ‘ক্যামোফ্লেজ’ প্রাণিকুলের শাশ্বত সক্ষমতা। একেবারে ভিন্ন প্রজাতির একটি প্রাণীও জীবনের প্রয়োজনে শারীরিক গঠন বদলিয়ে অন্য প্রজাতির আরেকটি প্রাণীর দলে ঢুকে পড়তে পারে। পিঁপড়ার খাদ্যের সহজলভ্যতার লোভে অনেক সুবিধাবাদী প্রজাতিই পিঁপড়ার রূপ নিয়ে তাদের পালে ঢুকে পড়ে। অন্যদিকে গ্রাসহপাররা গায়ের রং বদলে সবুজ ঘাসের মধ্যে মিশে থেকে পেডেটারদের চোখ ফাঁকি দেয়। মানুষের ভিতরেও এমন সব ঘটনা ঘটা সম্ভব। এ পৃথিবীতে অর্ক কিংবা লিলিথের ছদ্মবেশ নিয়ে হাজির হওয়ার অধ্যায় ঘটেছে অনেক। রয়েছে নিজেকে লুকিয়ে রাখার উপাখ্যানও। আবার লিলিথ খোঁজার নামে একাধিক ‘দ্বিতীয়া’র অভিসারেও জড়িয়েছে অনেকে। একক নারীর সঙ্গে পেরে না ওঠা পুরুষের চরে বেড়ানোর স্বভাব তার ভিন্নতা অন্বেষণের তাগিদমাত্র, বায়োলজিক্যাল নিড নয়। ‘ঈশ্বর-বিশ্বাস’ যেমন মানুষের একেবারে অন্তর্গত, তেমনি ‘বহুগামিতা’ও সম্ভবত এত দিনে তাদের ‘ডিএনএ’তে হার্ডওয়্যারড হয়ে গেছে। অন্যদিকে নারীর ‘বুক ফাটে তো মুখ ফুটে না’ রক্ষণশীলতার কারণে তাকে বঞ্চিত হতে হয়েছে বহু স্বর্গীয় সান্নিধ্য থেকে। অর্ক কিংবা লিলিথের অনুসন্ধান, মানুষের কেবল ইন্দ্রিয়ের তাড়না নয়, জন্ম-মৃত্তিকার টান! যা মানুষকে মহাচুম্বকের মতো উড়িয়ে, ভাসিয়ে, কক্ষচ্যুত করে নিয়ে যায় অসীম ভালোবাসার এক দুনিয়ায়। তথাপি বাঁধা পড়ে থাকে অনন্ত প্রতীক্ষার আবর্তে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভ্রান্তিবিলাসে আর কতকাল? by একেএম শাহনাওয়াজ
আমাদের ক্ষমতার রাজনীতিকদের বারবারই মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। গণতন্ত্রের বুলি শুনেছে; কিন্তু এর প্রায়োগিক ভূমিকা দেখেনি। সব পক্ষের শাসনকালেই সুশাসন সুদূরপরাহত হয়েছে। সাধারণ মানুষকে আগ বাড়িয়ে বলার দরকার হয়নি- বিবদমান পক্ষগুলোই একে অন্যকে চোর, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, খুনি বলেছে- বলে যাচ্ছে। দেশপ্রেমের বদলে দলপ্রেম এবং নেতৃত্বের একনায়কতান্ত্রিক আচরণ প্রত্যক্ষ করেছে মানুষ। নির্লোভ, দেশপ্রেমিক, প্রকৃত গণতান্ত্রিক চেতনা আশ্রয়ী কোনো নেতৃত্বের সংঘশক্তি দৃশ্যমান না থাকায় সুন্দরের পক্ষে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি। ফলে একই বৃত্তে দাপটের সঙ্গে
ক্ষমতাপ্রিয় দলগুলোই আবর্তিত হচ্ছে বারবার। তবুও মানুষ অগত্যা মন্দের ভালো নিয়ে তুষ্ট থাকতে চেয়েছে। একপক্ষ রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে অন্যপক্ষ দাপটের সঙ্গে বিরোধী পক্ষে থাকবে এটিই স্বাভাবিক রীতি। এতে বজায় থাকবে শক্তির ভারসাম্য।
সরকার পক্ষ স্বৈরাচারী মনোভাব বজায় রাখতে পারবে না।
এবার আন্দোলনের নামে টানা অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি ও সহিংসতার কারণে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে যে ক্ষতিগ্রস্ত হল তাতে এখন সে সম্ভাবনাও তিরোহিত হয়ে যাচ্ছে। বিএনপি একটি বড় জনপ্রিয় দল। এ দলের কর্মী, সমর্থক এবং তৃণমূলের অনেক নেতাও- যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় ভাগ বসান না, নিজ দলকে গণতান্ত্রিক অবয়বেই দেখতে চান- তারা জামায়াতি চেহারায় সন্ত্রাসী দল হিসেবে আপন দলকে দেখতে চাননি। ব্যক্তি ও পরিবারের স্বার্থ রক্ষার জন্য দল কলংকতিলক কপালে পড়ুক, তা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিএনপি নেতাকর্মীর কাম্য নয়। তাই এবার বিএনপি জোটের দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির কারণে অনেক কর্মী-সমর্থক দিন দিন হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। এর প্রমাণ দেখা গেল ১৪ ফেব্রুয়ারিতে।
ভুল রাজনীতির কারণে বিএনপি নেতৃত্ব যখন ব্যর্থ হচ্ছিল, তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পরবর্তী কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে কর্মী-সমর্থকদের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার মতো বাস্তব অবস্থা যাচাই করার। এ কারণেই টেস্ট কেস হিসেবে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। পাঁচ-দশটি এলাকায় ঝটিকা মিছিল ছাড়া এবারও কর্মীদের মাঠে নামাতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি জোট। আশা করেছিলাম, এদিন অন্তত খালেদা জিয়া তার অনুসারীদের নিয়ে পথে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ করবেন। কিন্তু তারা সে উদাহরণ রাখেননি। ভাবখানা এমন, ঝড়-ঝাপটা যা যাওয়ার তা সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের ওপর দিয়ে যাক। অতি জ্ঞানীরা বলে থাকেন, এমন পুলিশি অত্যাচার থাকলে কেমন করে পথে নামবেন নেতা-নেত্রীরা! মুক্তচিন্তার মানুষ উত্তরে বলবেন, আমাদের এ ধারার বুর্জোয়া রাজনীতিতে কবেইবা বিরোধী দলের রাজনীতির পথে ফুল
বিছানো ছিল? যারা আন্দোলন করেছে, তারা কণ্টক বিছানো পথে পা ক্ষতবিক্ষত হবে জেনেই নেমেছে। আর এ বাস্তবতা পেতে চাইলে দলের কর্মসূচির বস্তুনিষ্ঠতার প্রতি সমর্থকদের আস্থা থাকতে হবে।
কিন্তু সেই আস্থার জায়গাটি নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা মনে করি, ১৪ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষায় ফলাফল ইতিবাচক না হওয়ায় পরিণতি নিয়ে বিএনপির নতুন করে উদ্বেগ বেড়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি আমি ক্যাম্পাসের ব্যাংকে গিয়েছিলাম। ম্যানেজার সাহেব সজ্জন মানুষ। বললেন, স্যার আপনি তো কাগজে লেখেন। এ অবস্থা আর কতকাল চলবে? আমি আমার বিবেচনা মতো বললাম, কেরোসিনের কুপিতে ততক্ষণই আলো জ্বলে যতক্ষণ তেল থাকে। তেল ফুরিয়ে গেলে ধপ করে নিভে যায়। আমার ধারণা, তেল ফুরিয়ে যাওয়ার সময় এসে যাচ্ছে। তবে ধপ করে নিভে যাওয়াটা বিএনপির জন্য মঙ্গলের হবে না। দলীয় স্বার্থেই জেতা-হারার লড়াইয়ে না থেকে সমাধানের পথে বিএনপিকে নেমে আসতে হবে। সুবিধাজনক আসনে বসে যদি সরকার পক্ষের হাতে স্টিয়ারিং থাকে, তবে আমাদের রাজনীতির
বাস্তবতায় সরকার পক্ষ নেমে আসবে না। তাছাড়া কর্মসূচির নামে মানবতাবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে বিএনপি নেতারাই তো সরকার পক্ষকে শক্ত হয়ে থাকতে রসদ জুগিয়েছেন।
দলীয় প্রস্তুতির অনেক আগেই সংবাদকর্মীদের পীড়াপীড়িতে খালেদা জিয়ার হঠাৎ লাগাতার অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণায় আমরা অনেকেই চমকে গিয়েছিলাম। এ নিয়ে বিশ্লেষণ সে সময় কাগজে আমরা অনেকেই করেছি। আমাদের বারবার মনে হয়েছে, এমন অপরিণামদর্শিতার ফল বিএনপির জন্য শুভ হবে না। নেতাকর্মী ও গণমানুষকে আন্দোলনের পক্ষে মাঠে না নামাতে পারলে সে আন্দোলন কখনও সফল হয় না। ভেবেছিলাম, ভুল সংশোধন করে এ অসময়ের অপরিপক্ব আন্দোলন থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ খুঁজবে বিএনপি। দু’বার সুযোগ এসেছিল। প্রথমবার ছিল বিশ্ব ইজতেমা সামনে রেখে সরকারকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের অগ্রিম হুমকি দিয়ে প্যাভেলিয়নে ফিরে আসা। দ্বিতীয়বারের সুযোগটি ছিল এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার সময়। অনেকটা পানি ঘোলা করার পরও বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে এসএসসি পরীক্ষাকে উসিলা ধরে ফিরে আসতে পারত
তারা। এ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে বিএনপির আন্দোলন মুলতবি করার সুযোগ ছিল। এভাবে এক্সপ্রেস ট্রেন ও লোকাল ট্রেন দুটোই মিস করল বিএনপি।
সবচেয়ে দুর্ভাগ্য, কাঠামোগত দিক থেকে এবং প্রচারিত আদর্শের বিচারে বিএনপি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। জঙ্গিবাদী জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক বন্ধুত্ব থাকলেও লাখ লাখ বিএনপি নেতাকর্মী-সমর্থক তাদের দলকে জঙ্গি দল মনে করে না। ৫ জানুয়ারি ২০১৪-এর নির্বাচন ঠেকাতে জামায়াতের হাতে জঙ্গি আচরণের দায়িত্ব দিয়ে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে নিজের অনেক ক্ষতি করেছিল। সচেতন মানুষ মনে করেছিল, এ শিক্ষাটি বিএনপি মনে রাখবে। তা ছাড়া এদেশের দীর্ঘ ইতিহাস বিচার করলেও বিএনপি নেতৃত্বের বোঝা উচিত ছিল গণমানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া সন্ত্রাসী তৎপরতায় সরকারের পতন সম্ভব নয়। আর আওয়ামী লীগের মতো প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে হলে প্রকৃত গণআন্দোলনের শক্তিই ছড়িয়ে দিতে হবে।
বিএনপি নেতৃত্বের ভ্রান্তিবিলাসে এসব শিক্ষা কাজে এলো না। আমাদের ধারণা নিকট অতীতে জামায়াত সুচতুরভাবে নিজেদের ওপর বিএনপিকে নির্ভরশীল করে তুলেছিল। বলা যায়, নিজ লভ্যাংশ ঘরে তোলার জন্য জামায়াত সুনিপুণভাবে বিএনপিকে ব্যবহার করল। অবশ্য আমরা বিশ্বাস করি, এক্ষেত্রে বিএনপির প্রভাবশালী কোনো কোনো নেতা-নেত্রীর সমর্থন পেয়েছে জামায়াত।
বিএনপির দেশজুড়ে যে জনসমর্থন, আমরা বারবার সে শক্তিকে ব্যবহার করে দলটিকে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পথে হাঁটতে অনুরোধ করেছিলাম। বিএনপি নেতৃত্ব সে পথে হাঁটেননি। এবার জামায়াতি ফর্মুলা গণতান্ত্রিক দলকে জঙ্গিবাদী দর্শনে ঠেলে দিল। আমাদের ধারণা, বিএনপি ভেবেছিল এভাবে পেট্রলবোমা আর ককটেল ছুড়ে সরকারকে অসহায় করে তুলবে। এতে নাশকতা দমনে সরকার ব্যর্থ বলে সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগ সরকারের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। অন্যদিকে চাপে পড়ে সরকার বিএনপির সঙ্গে একটি আপসরফায় আসবে। মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে কথা বলবে।
আমাদের ধারণাগুলো যদি সত্যি হয় তাহলে বলতে হবে, বিএনপি নেতৃত্ব প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক কৌশলের ক্ষমতাকে ঠিকমতো মাপতে পারেনি। অন্যদিকে অবরোধের মাঝখানে প্রায় বিরতিহীন হরতাল ডেকে মানুষের জীবন-জীবিকাকে যখন হুমকির মুখে নিয়ে এলো, তখনই সরকারের দিকে ছোড়া তীর বিএনপির দিকে বুমেরাং হয়ে ফিরতে লাগল। এর সঙ্গে যুক্ত হল পেট্রলবোমার বীভৎসতা। বার্ন ইউনিটে অসহায় মানুষের আর্তচিৎকার। কৃষক আর শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা ছিনতাই করা। রেললাইন উপড়ে ফেলা। অর্থনীতির ধস নামানো। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ছুড়ে ফেলা। বিএনপি নেতারা যত কথাই বলুন,
সাধারণ মানুষের চোখে এসবের দায় জামায়াত-বিএনপির ওপরই বর্তেছে। এভাবে মানুষের
সহানুভূতি লাভ করতে গিয়ে বিএনপি গণআস্থা
থেকে অনেক দূর সরে গেছে। রাজনৈতিক সুবিধা
লাভ করতে গিয়ে রাজনীতির হিংসাত্মক পথটি বেছে নিয়ে নিজের যাত্রাপথ নিজেই কণ্টকাকীর্ণ করে ফেলেছে।
নিজ রাজনৈতিক পথে হাঁটতে গিয়ে বিএনপি বারবার চোরাবালিতে পা রেখেছে আর পরিত্রাণ পেতে চেয়েছে বিদেশী রাষ্ট্র ও কূটনীতিকদের করুণা নিয়ে। কিন্তু এবার তাতেও সংকট তৈরি হয়েছে। পেট্রলবোমাসহ নানা নাশকতা করতে গিয়ে এ মহলের সহানুভূতি পাওয়ার সম্ভাবনাটুকুও হারাতে বসেছে। প্রতি সপ্তাহে ঠুনকো কারণ দেখিয়ে হরতাল ডাকাটা সাধারণ মানুষ এখন ভীষণ বাড়াবাড়ি হিসেবে দেখছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক দল এভাবে দাঁড়াতে পারে, এটি কেউ ভাবতে পারেনি।
দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় ব্যবসায়ী সংগঠনসহ সাধারণ মানুষ এখন আইন করে হরতাল-অবরোধ বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে ১৫ ফেব্র“য়ারি হাইকোর্ট হরতাল-অবরোধের নামে নৈরাজ্য রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি নির্দেশ জারি করেছেন। একই সঙ্গে এমন নৃশংস অবরোধ কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে একটি রুলও জারি করা হয়েছে। আসলে জল ঘোলা করলে এমনটিই হয়। আন্দোলনের নামে বিএনপির নৈরাজ্য দমনে এবার সরকার একটি আইনগত ভিত্তিও পেয়ে গেল। নাগরিক সমাজের কোনো কোনো জ্ঞানী মানুষের আপত্তি থাকলেও বিপন্ন মানুষ হরতাল-অবরোধ আহ্বানকারীদের সন্ত্রাসী তৎপরতা থেকে মুক্তি পেতে সরকারকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের চাওয়া জীবনের নিরাপত্তা, শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, অর্থনীতির চাকা গতিশীল রাখা। এজন্য সরকারের গৃহীত সব পদক্ষেপে মানুষের সমর্থন থাকবে।
আর বেশি না হারিয়ে বিএনপির উচিত বাস্তবতার আলোয় এসে দাঁড়ানো। তারা অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে যত তাড়াতাড়ি নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথে হাঁটবে, তত দেশ ও জাতির মঙ্গল এবং দল হিসেবে বিএনপিরও মঙ্গল। অসংখ্য দলপ্রেমিক সমর্থক থাকার পরও বিএনপি নেতৃত্ব কেন নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথে হাঁটতে চাইছে না, সে এক রহস্য।
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
shahnawaz7b@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
February
(1363)
-
▼
Feb 23
(48)
- শেখ হাসিনার লেখা চিঠি প্রদর্শন করছেন কাদের সিদ্দিকী
- সেনাবাহিনী ক্ষমতা নেয়ার সাহস পাবে না : কূটনীতিক রী...
- পদ্মাপাড়ে আহাজারি- কার্গোর ধাক্কায় লঞ্চডুবি, ৪১ ল...
- সেনাবাহিনীকে বিতর্কে জড়াতে চাই না : বিএনপি
- আমার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে : মান্না
- কাঁদছে পদ্মাপাড়, ৪১ লাশ উদ্ধার by আতাউর রহমান ও বি...
- কত দূর যাবেন তারানকো? by সাজেদুল হক
- যে ১০টি কারণে সংখ্যা ৫০ বিশ্ব বিখ্যাত যে ১টি কারণে...
- ২৯ ধর্ষণে ১৫৩৫ বছর জেল
- আফগানিস্তানে টেকসই সাফল্য চায় যুক্তরাষ্ট্র
- আমরা ভুলিনি, ক্ষমা করিনি
- একজন কেজরিওয়াল ও আমরা by এম সাখাওয়াত হোসেন
- সমান্তরাল ভালোবাসা by মোজাম্মেল বাবু
- ভ্রান্তিবিলাসে আর কতকাল? by একেএম শাহনাওয়াজ
- একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন ও মাতৃভাষা চর্চা by বদরুদ্...
- বাংলাদেশ, আমার সম্প্রসারিত মাতৃভূমি by প্রসেনজিৎ চ...
- শুদ্ধ সংস্কৃতির চর্চা শুরু হোক by আলী যাকের
- ঢাকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার সফর
- বেসরকারি মেডিকেল- বিডিএস কোর্সে ভর্তির পাস নম্বর ক...
- সভ্যতা-সংস্কৃতি, পানের বরজের নিচে...
- উনি ভাবেন উত্তরপাড়া থেকে কেউ এসে ক্ষমতায় বসিয়ে দেব...
- প্রবাসে প্রজন্ম ও বাংলা ভাষা by উম্মে মুসলিমা
- রুখে দাঁড়াও সহিংসতা- ভাষাশহীদদের প্রতি জাতির বিনম্...
- গরু প্রধান অতিথি ছাগল বিশেষ অতিথি!
- মঙ্গোলিয়ার আকাশে একসঙ্গে তিন সূর্য
- বিদ্যালয়, নাকি বিধ্বস্ত ভবন! by পলাশ বড়ুয়া
- সাতক্ষীরা শান্ত, সমগ্র দেশ হবে কবে? by আলমগীর স্বপন
- সাহসে প্রত্যয়ে সমানে সমান, কিন্তু by সাহাদাত হোসেন...
- বিশ্বের মাতৃভাষা সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্...
- সাইকেলের ডানায় ভর করে...
- ভূমিকম্প মোকাবেলায় অর্থ সহায়তা দেয়া হবে by মামুন আ...
- তিস্তায় এখন ধু-ধু বালুচর
- ‘হিসাবি’ জামায়াত, কৌশলে কাজ হচ্ছে না by সেলিম জাহিদ
- পদ্মায় লঞ্চডুবি ৪০ লাশ উদ্ধার
- 'চাকরি করব না, চাকরি দেব' by প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ
- রাজধানীতে আকাশছোঁয়া অট্টালিকা অলিগলিতে by অমিতোষ পাল
- উত্তরাঞ্চলে ২০ লাখ শ্রমিক পরিবারে হাহাকার by সরকার...
- সাগর সন্ধানে by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
- আবুধাবিতে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু- ছুটি থেকে শেষ ছুটিতে ত...
- কৃষকের কান্না ক্রেতাদের হাহাকার- হরতাল-অবরোধের প্র...
- মোবাইল ব্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ by শুভ দেব...
- ছয় হাজার গাছের মৃত্যু পরোয়ানা! by মো. জাফর খান
- মমতা ব্যানার্জির সফর
- সরকারি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং বাতিল হচ্ছে মাঠ প্রশাসনে...
- অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু
- হরতাল ও অবরোধের সমীকরণ by আইরিন সুলতানা
- সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য -১৫৬ by ড. একেএম শাহনাওয়াজ
- মানুষ পুড়িয়ে কি আন্দোলন হবে? by নুরুল ইসলাম বিএসসি
-
▼
Feb 23
(48)
-
▼
February
(1363)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...











