Tuesday, January 4, 2011

‘খুব সাবধানে পা ফেলো’ by মনিরুল ইসলাম

আজ ৩ জানুয়ারি। একজন একান্ত আপন মানুষের চিরপ্রস্থানের দিন। কাঁচাপাকা চুলের সদা হাস্যোজ্জ্বল সেই মানুষটার চিরবিদায়ে ব্যথিত আমরা। শোকাহত তাঁর সহযোদ্ধা-সঙ্গীরা।
সবার প্রিয় হয়ে ওঠা একজন মানুষ, কোনো লোভ-মোহ যাঁকে আচ্ছন্ন করতে পারেনি। তিনি আমাদের অশোক দা, যিনি আমার অগ্রজ। একান্ত অভিভাবক। পথনির্দেশক। যাঁর অনুপ্রেরণায় আমার এত দূরে আসা। তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা।
২০০৪ সাল। বাংলা সাহিত্যে অনার্স পড়তে যশোর শহরে আসা। সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজে অধ্যয়নের নতুন পাঠ শুরু। নাটকের প্রতি ভালোবাসার কারণে নাট্য সংগঠন বিবর্তন যশোরে নিয়মিত নাটকের মহড়ার সঙ্গে যুক্ত হলাম। হয়ে উঠলাম পুরোদস্তুর নাট্যকর্মী। বিবর্তনই হলো আমার ভাত-বাটি। সঙ্গে ‘ওঠা-বসা’ শুরু করলাম যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক যশোর (এখন প্রকাশনা বন্ধ) পত্রিকার অফিসে। কয়েক মাস পরে বিবর্তনের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ আর তুহিন আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন আনন্দ দাদার (অশোক দার মতো আরেকজন কাছের মানুষ) সঙ্গে। আনন্দ দার সানুগ্রহে দৈনিক কল্যাণ পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যোগদান করলাম। প্রথম আলো যশোর অফিসের নিচতলায় অফিস। অশোক দা ওই কল্যাণ পত্রিকাতেই একসময় উপসম্পাদকীয় লিখতেন। অশোক দার সঙ্গে পরিচয় হলো। কেশবপুরের ছেলে হওয়ায় আমার প্রতি অশোক দার আন্তরিকতা বোধ হয় একটু বেশিই ছিল। কারণ অশোক দার বাড়িও কেশবপুরে। অশোক দা অত্যন্ত সাবলীলভাবে আমার সঙ্গে কথা বলতেন। আমি তাঁর ছেলের বয়সী, তবু বন্ধুর মতো কথা হতো।
২০০৬ সালে অশোক দার পরামর্শে দৈনিক রানার (যশোর থেকে প্রকাশিত) পত্রিকায় যোগদান করলাম। মালিকানার জটিলতায় তিন মাস পরে রানার বন্ধ হয়ে গেল। বেকার হলাম। ঠিকানা হয়ে গেল প্রথম আলো অফিস। দিনের একটি বড় সময় এ অফিসেই কাটত। অশোক দা, আনন্দ দা তখন আমার পুরোপুরি অভিভাবক। আমার একটি চাকরির জন্য তাঁরা খুবই চিন্তিত। এরই মধ্যে যশোর থেকে নতুন একটি পত্রিকা প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। সাংবাদিকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা। সেখানে আমার যোগ দেওয়া নিয়ে কথাবার্তা চলছে।
কিন্তু অশোক দার ভিন্ন পরামর্শ। তিনি বললেন, নতুন পত্রিকায় না গিয়ে বরং পেশাদার মালিকানার কোনো পত্রিকায় যাওয়া ভালো। আর যা-ই হোক, পত্রিকাটি বন্ধ হওয়ার ভয় থাকবে না। স্বচ্ছন্দে কাজও করা যাবে। আনন্দ দাও তাঁর কথায় উৎসাহ দিলেন।
উল্লেখ্য, তখন দৈনিক গ্রামের কাগজ ( যশোর থেকে প্রকাশিত) থেকে কয়েকজন সাংবাদিক নতুন ওই পত্রিকায় চলে যাচ্ছেন। আমি অশোক দার কথায় সম্মতি দিতেই তিনি আমার সামনেই গ্রামের কাগজ-এর সম্পাদক মবিনুল ইসলামের কাছে ফোন করে বললেন, ‘মবিন, তোমাকে একটি ভালো ছেলে দিচ্ছি। দেখো কাজে লাগাতে পার কি না।’
ওই বছরের ১৪ নভেম্বর মবিন ভাইয়ের কাছে গেলাম। অশোক দা পাঠিয়েছেন বলতেই মবিন ভাই বললেন, ‘ইচ্ছা করলে আজ থেকেই তুমি কাজ শুরু করতে পার।’ পিছু না তাকিয়ে ওই দিন থেকেই কাজ শুরু করলাম। সংবাদ আদান-প্রদানের জন্য অশোক দার সঙ্গে যোগাযোগটা আরও নিবিড় হলো। বছর দেড়েক পরে গ্রামের কাগজ ছেড়ে দিলাম। আবার বেকার। গ্রামের কাগজ ছাড়ার আগে অশোক দার সঙ্গে পরামর্শ করা হয়নি। মবিন ভাইয়ের ওপর অভিমান করে কাগজ ছেড়ে এলাম। অশোক দা বললেন, এত অভিমান থাকা ভালো না। পরক্ষণে আবার বললেন, ‘জব স্যাটিসফেকশন বলে একটি কথা আছে। সেটি না থাকলেও কাজ করা যায় না।’ সংবাদ সংগ্রহের জন্য দাদা বিভিন্ন সময় আমাকে বিভিন্ন জায়গায় পাঠাতেন।
খুবই খারাপ সময় যেতে লাগল। পকেটে টাকা নেই। সময় কাটে না। আমাকে নিয়ে দাদা আবার চিন্তিত হয়ে পড়লেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য বেসরকারি একটি সংস্থা তিন মাসের একটি প্রকল্প শুরু করল। দাদা কাকে যেন ফোন করে দিলেন, আমি পর্যবেক্ষক হিসেবে তিন মাসের জন্য কাজ পেলাম। সে নির্বাচন আবার পণ্ড হয়ে গেল। দুর্ভাগ্য, আমার সে কাজটিও আর করা হলো না।
শেষ দিকে এসে দাদা প্রায়ই বলতেন, তাঁর কোমরে ব্যথা। ভালো চিকিৎসক দেখাতে বলতাম। দাদা গুরুত্ব দিতেন না। তাঁর একসময়ের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ডাক্তার কাজী রবিউল হক ছিলেন তাঁর চিকিৎসক। কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর জন্য তিনি পরামর্শ দিলেন। তাঁর পরামর্শ অশোক দা শোনেননি। পরে অশোক দার এক ভাই (লন্ডনে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন) রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শুনে ক্যানসারের আশঙ্কা করলেন। ভারতে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর অশোক দার দেহে সত্যিই ক্যানসার ধরা পড়ল। চিকিৎসকেরা তাঁকে দেশে ফিরিয়ে দিলেন। শয্যাশায়ী হয়ে পড়লেন তিনি।
২০০৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর। প্রথম আলো ঢাকা অফিস থেকে ফোন করে আমাকে যশোর অফিসের দায়িত্ব নিতে বলা হলো। শুনে প্রথমেই অশোক দার বাসায় গেলাম তাঁর আশীর্বাদ নিতে। দাদার মাথার কাছে বসে বিষয়টি জানালাম। দাদা আস্তে আস্তে বললেন, ‘চোখ কান খোলা রেখে খুব সাবধানে পা ফেলো।’ ২০০৯ সালের ৩ জানুয়ারি দাদা পরপারে পাড়ি দিলেন। আজও সেই কথাটি কানে বাজে, ‘খুব সাবধানে পা ফেলো।’

জলবায়ু সম্মেলনে আমরা কী পেলাম? by আহসান উদ্দিন আহমেদ ও শরমিন্দ নীলোর্মি

কানকুনে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আন্তসরকারি আলোচনা ও দর-কষাকষি শেষ হয়েছে। সমস্যা সমাধানের অগ্রগতি হয়েছে নিঃসন্দেহে, তবে আরও এগোনোর সুযোগ ছিল, তা হয়নি। আলোচনার ধরনটাই এমন যে নিজেদের সুবিধামতো সব ফলাফল হয়ে যাবে, তা হওয়ার নয়। এককথায় মন্দের ভালো একটা অগ্রগতির স্মারক দিয়ে শেষ হয়েছে কানকুন বৈঠক।
ঘুমবিহীন দুই রাতের টানা দর-কষাকষির পর প্রায় মতৈক্যের একটা সনদ গৃহীত হয়েছে। এটি মূলত গেল বছরের কোপেনহেগেন সমঝোতার সুরে পুনরায় বেজেছে, তবে বেশি নির্গমনকারী দেশগুলোর দায় স্বীকারের চেষ্টা হিসেবে অর্থ ছাড়ের কথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। বহু আকাঙ্ক্ষিত বিষয় ‘নির্গমন হ্রাসের’ ব্যাপারে যা বলা হয়েছে, তা চুলচেরা বিচারে বিশ্বের দুর্গত মানুষের বাঁচার জন্য যথেষ্ট উৎসাহ-উদ্দীপক নয়।
সম্মেলনের শুরুটা খারাপই ছিল। প্রথম সকালেই উদ্বোধনীতে জি ৭৭+নয়া চীনের পক্ষে আশাবাদ ব্যক্ত করা হলো যে, ‘কানকুনে এমন আলোচনা হবে, যাতে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে গিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও বাধ্যবাধকতার চুক্তিতে পৌঁছানো যায়।’ অর্থাৎ কানকুনে কেবল পথ রচনা করাই হবে মূল লক্ষ্য। শেষে যে বিষয়টির বাইরে কিছু হয়েছে তা নয়, মোটা দাগে তা-ই থেকেছে, তবে অর্থায়নে সামান্য অগ্রগতি হয়েছে বৈকি। যেহেতু বড় কোনো নির্গমন হ্রাসের চুক্তিপত্র করতে হয়নি, জলবায়ু সনদের আওতায় বেশি নির্গমনকারী দেশগুলো (যা সংযুক্তি-১ভুক্ত) তা-ই কিছুটা খুশিমনে বাড়ি ফিরেছে। বলা হয়েছে, ‘...তাপমাত্রা বৃদ্ধি যেন দুই ডিগ্রির বেশি না হয়’ এবং এর জন্য বেশি নির্গমনকারী দেশগুলো ১৯৯০ সালের তুলনায় তাদের নির্গমনের হার ২০২০ সালের মধ্যে ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ কমাবে। নির্গমন বেশি হ্রাসের ঘোষণা থাকলেও এ লক্ষ্যমাত্রা তেমন আহামরি নয়। নির্গমন বেশি হ্রাস করতে হলে ন্যূনতম ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ করতে হবে। কম হ্রাস করার সুযোগ থাকাতে সংযুক্তি-১ভুক্ত দেশগুলো খুশি হবেই, জানা কথা। অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী তাই বলেছেন, ‘...এটি এগিয়ে যাওয়ার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।’
তবে সবাই খুশি হয়নি। বলিভিয়া একেবারে বিরোধিতাই করেছে। যেখানে তাপমাত্রা বৃদ্ধি দুই ডিগ্রির নিচে রাখার দাবি ছিল (বাংলাদেশের মন্ত্রী তাঁর পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যে কী সুন্দর করেই না ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের দাবি পেশ করেছিলেন), সেখানে অর্জন ন্যূনতম দুই ডিগ্রি? এটা সার্বিকভাবে হতাশার বৈকি। পেদ্রো সলন সাধেই বলেননি, ‘(এই দলিল) বহু মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার দলিল।’ মানবতাবাদী এনজিওগুলো তেমনটাই মনে করছে।
এর বিপরীতে যা পাওয়া গেছে, তা যেন মন্দের ভালো। জলবায়ু তহবিলে (যে সবুজ অর্থায়নের কথা কোপেনহেগেনে বলা হয়েছে) এবার কিছু সুস্পষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। দ্রুত ছাড়ের তহবিলে ৩০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে। এ ছাড়া দূরবর্তী সময়ের সবুজ তহবিলের জন্য ২০২০ থেকেই ফি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন দেওয়ার মতৈক্য হয়েছে (এটা কিছুতেই সংযুক্তি-১-এর দেশগুলো দিতে চাইছিল না)। অর্থ দ্রুত ছাড়ের ব্যাপারে স্বল্পোন্নত দেশগুলো এবং দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর একটু তাড়া ছিল, তারই প্রতিফলন ঘটল এই অর্থায়নের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে।
জাপানের তীব্র বিরোধিতার মুখেও কিয়োটো প্রটোকল বোধকরি এ যাত্রা টিকেই গেল। হঠাৎ করেই ভারতের পক্ষে ভবিষ্যতে নির্গমন হ্রাসে বাধ্যবাধকতায় অংশ নেওয়ার ইঙ্গিতের পরই জাপান আশ্বস্ত হয়েছে, ইউরোপীয় গোষ্ঠী আহ্বান করেছে কিয়োটো চুক্তির নতুন রাউন্ডে অংশ নেওয়ার জন্য। এটা তীব্র ক্ষতির মুখোমুখি দেশগুলোর জন্য অন্তত ইতিবাচক হবে বলে ধারণা করা যায়।
অভিযোজনের একটি কমিটি নিয়ে বহু তর্ক-বিতর্ক হয়েছে সম্মেলনজুড়ে। অবশেষে একটি কমিটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে! অভিযোজনের বিষয়ে ক্ষয়ক্ষতি পূরণের কথাই মেনে নিয়েছে বিরোধকারী দেশগুলো (বলিভিয়া ছাড়া), সেখানে তেল উৎপাদানকারী দেশগুলোর (তথাকথিত) ‘ক্ষতিপূরণের’ জোরালো দাবিটা প্রায় অনুল্লেখ্য থেকেছে। ফলে অভিযোজনের বিষয়ে অর্থ ব্যবহারে তেমন কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না বলে মনে হয়। অভিযোজনের সুবিধার্ধে আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মতৈক্য হয়েছে, এটা ছিল বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অন্যতম চাহিদা, যা পূরণ হবে বলে মনে হচ্ছে।
নির্গমন হ্রাসের ব্যাপারে সংযুক্তি-১ভুক্ত দেশগুলোর ওপর আলোচনা করার চাপটা নতুন দলিলে আর নেই, কিয়োটো চুক্তির পরের পর্বে বাধ্যবাধকতার চাপ রাখার সুযোগ আর পাওয়া যাবে না বলেই মনে হচ্ছে। উপরন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর বহুল আলোচিত এমআরভির (পরিমাপযোগ্য, পরিবর্তনযোগ্য এবং সত্যায়নযোগ্য) বোঝা বেশ ভালোভাবেই চাপানো হয়েছে। অর্থায়ন পেলেও বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য এমআরভির বোঝা ভবিষ্যতেও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এটা হলে শর্ত পূরণ করে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে বাধ্য।
মোদ্দা কথা, কিছু মুদ্রার আগাম ঝনঝনানি শুনিয়ে সংযুক্তি-১ভুক্ত বেশি নির্গমনকারী দেশগুলো কিছুটা সুবিধা নিয়ে নিল বলে মনে হলো। এটা নিশ্চিত, দ্রুত অর্থায়নের কিছুটা তহবিল দ্রুতই এসে যাবে অভিযোজনের জন্য। তবে তাতে অভিযোজনের প্রয়োজন আরও বেড়ে যাবে বলে মনে হয়। কেননা ‘গভীর নির্গমন হ্রাসের’ বড় নিশ্চয়তা একেবারেই মেলেনি কানকুনে। প্রশ্ন তাই থেকেই গেল; নাকের বদলে নরুন পেলাম না তো?
এবার অর্থায়নের জন্য বিশেষ কমিটিতে কো-চেয়ার ছিলেন আমাদের পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী। কাজও করেছেন দিনরাত, প্রশংসনীয়ভাবে। তবে তিনি দৃষ্টি কেড়েছেন তাঁর বক্তৃতায়, যা বিপুলভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সেখানে বিশ্বব্যাপী নির্গমন হ্রাসের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছেন, দ্রুত নির্গমন হ্রাস না করলে একদিন অভিযোজনের আর দরকার পড়বে না। কেননা তা হবে বহু মানুষের মৃত্যুর কারণ। এর পরও নির্গমনের ক্ষেত্রে আয়োজন কমই হয়েছে বলতে হবে। যেন বা ধনী দেশগুলো বিলিয়ন ডলারের ‘ক্ষতিপূরণের’ আশা দেখিয়ে নির্গমন কমানোর চাপটা কিছুটা হালকা করে নিল।
জলবায়ু পরিবর্তনের থাবায় বাংলাদেশের যে মানুষের জীবন যাচ্ছে, ওই ক্ষতির আবার পূরণ কী? প্রাপ্তির খাতাটা তাই লিখতে বসে মনে হচ্ছে, একটি গ্লাস আমরা বিশ্বনেতাদের কাছ থেকে পেলাম, যেটি অর্ধেক খালি। গ্লাসটা অর্ধেক ভরা হলে বরং বেশি খুশি হতাম।
লেখকদ্বয়: কানকুন সম্মেলনে বেসরকারিভাবে অংশগ্রহণকারী এবং যথাক্রমে সেন্টার ফর গ্লোবাল চেঞ্জ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত পরিবেশবিদ।

মানবাধিকার পরিস্থিতি

যে নামেই ডাকা হোক, গোলাপ গোলাপই, অন্য কিছু নয়। যে পদ্ধতিতেই হোক, র্যাব বা পুলিশের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হত্যাই বটে। প্রথমে ছিল ‘ক্রসফায়ার’, পরে হয়েছে ‘বন্দুকযুদ্ধ’, নতুন কৌশল হলো ‘গুপ্তহত্যা’। গল্পটাই শুধু বদলায়, কিন্তু সব গল্পের শেষেই গুলিবিদ্ধ হয়ে কারও না-কারও মৃত্যু হয়, বিচার হয় না। এবং বরাবরের মতো পুলিশ বা র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা আত্মরক্ষার্থে গুলি করে এবং তাতে মানবাধিকারের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যখন অভিযুক্ত, তখন তাঁদের কৃতকর্মের সঠিক মূল্যায়ন তাঁদের কাছ থেকে না পাওয়াই স্বাভাবিক। মানবাধিকারের সংজ্ঞাটি বরং মানবাধিকারবিষয়ক কর্মী-গবেষক ও আইনবিদদের দ্বারাই নিরূপিত হোক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাদের করণীয় বিষয়ে সজাগ হোক।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং অধিকার একযোগে বলেছে, ২০১০ সালে সবচেয়ে উদ্বেগজনক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ছিল র্যাব ও পুলিশের ক্রসফায়ার। বিশেষ করে ধরে নিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখার যে অভিযোগ গত শনিবার আসকের সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়েছে, তা গভীরভাবে উদ্বেগের বিষয়। আইনের আওতার বাইরে যেকোনো হত্যাকাণ্ড, তা যত মহৎ উদ্দেশ্যেই করা হোক না কেন, তার ফল মন্দ হতে বাধ্য। আইন-আদালত থাকতে বিনা বিচারে মানুষ হত্যার প্রয়োজনটাই বা কেন হচ্ছে, সেটাই খতিয়ে দেখা দরকার।
বিদায়ী বছরের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়েও একই কথা বলা যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর হানাহানিতে বেশ কয়েকটি প্রাণ ঝরে গেছে। অজস্র নারী নির্যাতিত হয়েছেন এবং বখাটে যুবকদের ‘যৌন সন্ত্রাসের’ কবলে ঝরে গেছে অনেক তরুণীর প্রাণ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেও রক্ত ঝরেছে, প্রাণ গেছে। চিহ্নিত অপরাধীদের মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সব মিলিয়ে সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি সুখকর ছিল না। মুশকিল হচ্ছে, সরকার একদিকে মানবাধিকার কমিশন গঠন করছে, অন্যদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বিষয়ে উদাসীনতা দেখাচ্ছে। অথচ আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে এবং প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা গ্রহণের অল্প দিন পরই সংসদে দাঁড়িয়ে ক্রসফায়ার বন্ধের অঙ্গীকার করেছিলেন।
মানবাধিকার হচ্ছে যেকোনো সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতার অন্যতম নিরিখ। অন্য অনেক ক্ষেত্রের সাফল্যও কিন্তু ম্লান হয়ে যেতে পারে, যদি সরকার তার অধীন সরকারি প্রতিষ্ঠান তথা র্যাব-পুলিশ-আদালত-প্রশাসন এবং সরকারদলীয় সংগঠনগুলোর আচরণকে সংযত করতে না পারে। দুর্নীতির মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনও অন্যতম জাতীয় সমস্যা। মনে রাখা চাই, পেটের মারের চেয়ে অনেক সময় পিঠের মার বেশি অসহনীয়। ক্রমাগত মানবাধিকার লঙ্ঘন সে রকমই এক নাজুক বিষয়, যার অবসান হওয়া জরুরি।

জনসমর্থন ধরে রাখতে হবে by আবদুল মান্নান

দেখতে দেখতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের দুই বছর পূর্ণ হতে চলল। সরকার তো বটেই, যাঁরা সরকারের বাইরে থাকেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিজয়ী হলে আনন্দিত হন, তাঁরা নিশ্চয়ই এখন হিসাব-নিকাশ করছেন গত দুই বছরের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির। এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য, যখনই এ দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে, তাদের কাছে প্রত্যাশাও অনেক বেশি ছিল। সত্তরের নির্বাচনে যখন বাঙালি উজাড় করে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে সারা দুনিয়াকে অবাক করে দিয়েছিল, তখন তাদের প্রত্যাশা ছিল আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষকে পাকিস্তানের শোষণ ও শাসন থেকে মুক্ত করবে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ তা করেছিল। স্বাধীনতার পর মুক্ত বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন। বঙ্গবন্ধুর সরকার তা অনেকাংশে করেও এনেছিল, কিন্তু তা শেষ করার আগেই মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট ঘাতকের বুলেট তাঁকে বাঙালির কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছিল।
১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত, দীর্ঘ ২১ বছর আওয়ামী লীগকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ক্ষমতায় ফিরে আসতে। এই উপমহাদেশের রাজনীতিতে এত দীর্ঘ বিরতির পর একটি রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় ফিরে আসা একটি নজিরবিহীন ঘটনা। পাকিস্তানে মুসলিম লীগ পঞ্চাশের দশকে সেই যে একবার ক্ষমতা থেকে উৎখাত হলো, আর কখনো ক্ষমতায় ফিরে আসেনি, যদিও ওই নামে আরও একাধিক মুসলিম লীগের জন্ম হয়েছে। ভারতে ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর কংগ্রেস ঠিক আগের শক্তি নিয়ে বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। বাংলাদেশে বিএনপি এখন ক্ষমতার বাইরে। আর এক টার্ম যদি দলটিকে ক্ষমতার বাইরে থাকতে হয়, তাহলে তারও বিলুপ্তি ঘটতে পারে বলে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন। আওয়ামী লীগের এত দীর্ঘ বিরতির পর ক্ষমতায় ফিরে আসা অথবা দল হিসেবে টিকে থাকা এবং শক্তিশালী হওয়ার অন্যতম কারণ দলটির প্রতি গণমানুষের ব্যাপক সমর্থন ও আস্থা। তবে পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, অনেক সময় দলের নেতারা জনগণ যে তাঁদের শক্তির উৎস, তা বুঝতে পারেন না। এই না পারার কারণে তাঁরা সমর্থনের জন্য সময় সময় অপ্রত্যাশিত জায়গায় হাত বাড়ান।
স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর সর্বমহলে এটি প্রত্যাশিত ছিল ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগই বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে। তা না হওয়ার প্রধান কারণ ছিল অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাস এবং নির্বাচন পরিচালনায় ঠিকমতো যত্নশীল না হওয়া। ১৯৯১ সালের অভিজ্ঞতার আলোকে ১৯৯৬-এর নির্বাচনে কিছুটা ভালো করলেও সরকার গঠনের জন্য তার প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না। এরশাদের জাতীয় পার্টি আর জাসদের সমর্থন নিয়ে শেখ হাসিনাকে সরকার গঠন করতে হয়েছিল। সরকার গঠনে এরশাদের জাতীয় পার্টির সমর্থন নেওয়াটা কতটুকু যুক্তিসংগত ছিল, সে প্রশ্নের মুখোমুখি এখনো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে হতে হয়। ১৯৯৬ সালে ২১ বছর বিরতি দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও তার প্রথম দুই বছর চলে যায় ঘর গোছাতে। প্রশাসনে আস্থাভাজন বলতে প্রায় কেউই ছিল না। এ সময় সরকার অনেক ক্ষেত্রে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছে। অনেকটা ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ সিনড্রম। তার পরও সে আমলে শেখ হাসিনা সরকারের একাধিক অর্জন মানুষকে আশান্বিত করে। সে সময়ের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল পার্বত্য চুক্তি ও ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি। ২০০১ সালের নির্বাচনে আবারও পরাজয়। এর কারণ মূলত সময়মতো লতিফুর রহমান-আবু সাঈদ গংদের পক্ষপাতমূলক আচরণ, রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের নির্লিপ্ততা সম্পর্কে সঠিকভাবে সচেতন না হওয়া, ১৯৯১ সালের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নেওয়া এবং মেয়াদের শেষের দিকে এসে কতিপয় মন্ত্রী-সাংসদের সন্তানদের লাগামহীন সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজি—বর্তমানে যার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে ছাত্রলীগ আর যুবলীগ।
২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে যদি সময়মতো একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো, তাহলে এটি মোটামুটি ধরে নেওয়া যায়, আওয়ামী লীগই জয়ী হতো। কারণ, জোট সরকারের পাঁচ বছরের দুঃশাসন। অনেকটা জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চাওয়ার কারণেই জোটের পরাজয় দেখতে জনগণকে আরও দুই বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পর আগের ধারাবাহিকতায় এবারও জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেকটা আকাশচুম্বী। তারা জোটের অতীত দুঃশাসনের কবল থেকে মুক্তি চাইছিল এবং একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল। শেখ হাসিনাও তা বুঝতে পেরেছিলেন এবং নির্বাচনী ইশতেহারের স্লোগান ছিল ‘দিনবদলের সনদ’। দুই বছরের মাথায় এসে যদি একজন শিক্ষক হিসেবে সরকারের এ সময়ের কাজের মূল্যায়ন করে তাকে গ্রেড দিতে বলা হয়, তাহলে ‘বি প্লাস’ পর্যন্ত দেওয়া যেতে পারে। এটাও মনে রাখতে হবে, আগামী বছরগুলোতে বি প্লাস থেকে নিচে সি অথবা ওপরে এ গ্রেডেও আসা-যাওয়া সম্ভব। এসব কিছু নির্ভর করবে সরকারের আগামী দিনের কর্মকাণ্ডের ওপর। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি মন্ত্রিসভার এক সভায় বলেছেন, ‘এখন জনগণ সরকারের কাজের মূল্যায়ন করবে। এখন জনপ্রিয়তায় ভাটার টান পড়বে। দুই বছর ভালো গেছে। আগামী তিন বছর সবকিছু দ্রুত করতে হবে।’ এমন উপলব্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। তবে বলে রাখা ভালো, বাস্তবে সবকিছু শেষ করার সময় গোনা শুরু হবে দুই বছর পর। কারণ, সাধারণত প্রশাসন শেষের বছরে পরবর্তী সরকারের জন্য কাজ করে।
দুই বছরের মাথায় এটি বলতে দ্বিধা নেই, ১৯৯৬ বা ২০০১-এর শেখ হাসিনা এবং ২০০৮-এর শেখ হাসিনার মধ্যে পার্থক্য আকাশ-পাতাল। এখনকার শেখ হাসিনা অনেক বেশি সাহসী, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং নেতা হিসেবে ঝুঁকি নিতে অভ্যস্ত হয়েছেন। তবে একটা কথা না বললেই নয়, আর তা হচ্ছে, শেখ হাসিনার শুভার্থীরা মনে করেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকুন আর না-ই থাকুন, সব সময় এমন কিছু ব্যক্তি দ্বারা তিনি পরিবেষ্টিত হয়ে পড়েন, যাঁরা তাঁর লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করেন। তাঁর শুভার্থীরা এখনো এই আশঙ্কা থেকে মুক্ত নন। তাঁদের ধারণা, এদিকে প্রধানমন্ত্রী একটু নজর দিলে তাঁর এবং দেশের জন্য মঙ্গল হবে।
গত দুই বছরে বর্তমান সরকারের বড় সফলতা ছিল বিডিআর বিদ্রোহ এবং আইলার মতো দুটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিগত জোট সরকারের আমলে যে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল, আশা করা যাচ্ছে, আগামী গ্রীষ্মকালের আগেই তা সহনীয় পর্যায়ে পৌঁঁছাবে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, আগামী এক বছরে জাতীয় গ্রিডে আরও তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে। এটি সম্ভব হবে নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনের কারণে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও তা আরও উন্নতি হওয়ার দাবি রাখে। মানবাধিকারের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য। এক ক্রসফায়ারই সরকারের মানবাধিকার সংরক্ষণ বিষয়টাকে দেশে এবং দেশের বাইরে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বর্তমান সরকারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সফলতা এসেছে দেশের কৃষি ক্ষেত্রে। শেখ হাসিনার বড় সৌভাগ্য, তাঁর মন্ত্রিসভায় একজন মতিয়া চৌধুরী আছেন, যিনি হতে পারেন শিক্ষানবিশ মন্ত্রীদের রোল মডেল। যাঁরা এটি করতে পেরেছেন, তাঁরা সফলতা দেখাতে পেরেছেন। আর যাঁরা পারেননি, তাঁদের ব্যর্থতা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন—এখনো তাঁদের কেন মন্ত্রিসভায় রাখতে হবে? শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নেতৃত্বে তাঁর মন্ত্রণালয়ের সাফল্য জাতিকে আশান্বিত করেছে। স্বল্পতম সময়ে তিনি একটি যুগোপযোগী শিক্ষানীতি উপহার দিয়ে প্রমাণ করেছেন, নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে পারলে অনেক কঠিন কাজও সহজভাবে করা সম্ভব। গত বছর শেষ মুহূর্তে তিনি যেভাবে স্কুলপাঠ্য বইয়ের সংকট কার্যকরভাবে মোকাবিলা করেছেন, তা একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম অঙ্গীকার ছিল ক্ষমতায় গেলে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা করা। কাজটি সরকার কিছুটা দেরিতে হলেও শুরু করেছে। মানুষ প্রত্যাশা করে, অন্তত মূল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ বর্তমান সরকারের আমলেই শেষ হবে। দুটি বিষয় নিয়ে আগামী দিনে বর্তমান সরকারকে আরও কার্যকরভাবে ভাবতে হবে। প্রথমটা হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি। এর কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে গড়ে ওঠা শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বর্তমান অবস্থায় মনে হয়, পুরো বাজারব্যবস্থা সরকার এই সিন্ডিকেটের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। আর দ্বিতীয়টা হচ্ছে, দেশব্যাপী ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নামধারী কিছু দুর্বৃত্তের বেপরোয়া দুর্বৃত্তপনা। আগামী দিনে আওয়ামী লীগ বা মহাজোটকে যদি কোনো বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে তা হবে এদের কারণেই। যানজট-সমস্যার কোনো উন্নতি এত দ্রুত হওয়া সম্ভব নয়। একমাত্র দক্ষ ও সুষ্ঠু জনপরিবহনব্যবস্থা সে সমস্যার সমাধান এনে দিতে পারে। সরকারের কিছু মন্ত্রীর লাগামহীন অতিকথন অনেক সময় সরকারকেই বেকায়দায় ফেলে। দেখা যায়, একই বিষয়ে একই টেবিলে বসে দুজন মন্ত্রী দুই রকমের বক্তব্য দিচ্ছেন। এটি সাধারণ মানুষকে শুধু বিভ্রান্তই করে না, বিরক্তও করে। দু-একজন মন্ত্রী আছেন, যাঁরা এখনো রাজপথে স্লোগান দেওয়া অথবা পুলিশের প্রতি ঢিল ছোড়া দলীয় কর্মীর বাইরে নিজেদের চিন্তা করতে পারেন না। জনগণ আশা করে, সামনের দিনগুলোতে তাঁরা তাঁদের আচরণ পরিবর্তন করতে সক্ষম হবেন।
শেখ হাসিনা তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে রূপকল্প ২০২১-এর কথা বলেছেন। তা বাস্তবায়ন করতে হলে জনগণের সমর্থন ধরে রাখতে হবে, যার প্রস্তুতি শুরু করার সময় এখনই। এর কোনো বিকল্প নেই। যে দলটির নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, সে দলটির নেতৃত্বেই বাংলাদেশ তার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবে—এটাই তো প্রত্যাশিত। সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।
আবদুল মান্নান: সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে শিক্ষক, ইউল্যাব, ঢাকা।

কিউবার বন্দীরা শিগগির মুক্তি পাবে: ওর্তেগা

কিউবা সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বাকি ১১ জন রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হবে। গত শনিবার নববর্ষের প্রথম দিনে একটি প্রার্থনা সভায় ক্যাথলিক কার্ডিনাল জেইম ওর্তেগা তাঁদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
২০০৩ সালে সরকার ৫২ জন ভিন্নমতাবলম্বীকে কারাদণ্ড দেয়। এরপর ঐতিহাসিক এক চুক্তির পর গত ৭ জুলাই সরকার রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এতে বলা হয়, বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হতে তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে। তবে এরই মধ্যে প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সবাইকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। এ পর্যন্ত ৪১ জন বন্দী মুক্তি পেয়েছেন।

উনের জন্যবিলাসবহুল বাড়ি হচ্ছে

উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার উত্তরাধিকারী কিম জং উনের অফিস ও বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণে ১০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি বরাদ্দ করেছে উত্তর কোরিয়া। কমিউনিস্ট-শাসিত দেশটিতে তীব্র খাদ্যসংকট থাকলেও নিজ ছেলের বিলাসী জীবন নিশ্চিত করতে এই বিপুল বাজেটে অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির নেতা কিম জং ইল। গত মাসে উনকে তাঁর বাবার উত্তরসূরি ঘোষণা করা হয়।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন পরিবারটির সদস্যদের বিলাসবহুল জীবনযাপনের ইতিহাস সর্বজনবিদিত। পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যাঞ্চলীয় ১৫ নম্বর বাড়িটিতে বেড়ে উঠেছেন উন। এই বাড়িটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হবে নতুন নেতার জন্য। টেলিগ্রাফ।

জার্মান সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন আশতিয়ানি

ইরানে হত্যা ও ব্যভিচারের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা পাওয়া নারী সাকিনেহ মোহাম্মাদি আশতিয়ানি বলেছেন, তাঁর ছেলের সাক্ষাৎকার নেওয়া দুই জার্মান সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করবেন। কারণ ওই দুই সাংবাদিক তাঁকে ও তাঁর দেশকে হেয়প্রতিপন্ন করেছেন। তাঁর এ মন্তব্যের পরদিন বিচার বিভাগের একজন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, তাঁর পাথর ছুড়ে মারার শাস্তি বাতিল হতে পারে।
গত শনিবার কারাগারের বাইরে বসে ছেলেমেয়ের সঙ্গে খাবার খাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় আশতিয়ানিকে। আর সে ফাঁকেই তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
আশতিয়ানির ছেলে সাজ্জাদ ঘাদারজাদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার অপরাধে ওই দুই জার্মান সাংবাদিক ইরানের কারাগারে বন্দী আছেন। সাক্ষাৎকারে সাজ্জাদ তাঁর মাকে পাথর ছুড়ে যেন হত্যা না করা হয় সে জন্য ইরান সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ কোটি লোকের আয়কর জমার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পাঁচ কোটি লোকের বার্ষিক আয়করবিবরণী জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবে। ১৪ জানুয়ারি থেকে আগের বছরের করবিবরণী জমা দেওয়ার কথা। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ (আইআরএস) জানিয়েছে, কর আইনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তন ঘটায় বিবরণী জমা দেওয়ার জন্য মধ্য ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, প্রতিবছর ১৪ জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে আগের বছরের করবিবরণী জমা দিতে হয়। করদাতারা এসব বিবরণীতে সংযোজন-বিয়োজন করতে পারেন। বছরব্যাপী পরিশোধিত কর থেকে অধিকাংশ করদাতা এর সঙ্গে অতিরিক্ত আদায় হওয়া কর ফেরত পেয়ে থাকেন।
গত শনিবার আইআরএসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১০ সালের শেষের দিকে কর আইনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত ১৭ ডিসেম্বর করদাতাদের জন্য বেশ কিছু রাজস্ব ও কেন্দ্রীয় করকর্তন-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এসব সুবিধার মধ্যে রয়েছে করদাতা বাবা-মায়েরা কলেজগামী সন্তানের শিক্ষাব্যয়ের জন্য চার হাজার ডলার পর্যন্ত করকর্তন-সুবিধা পাবেন।
আইআরএস জানায়, বিভিন্ন কর্তনসুবিধা সংযুক্ত হওয়ার ফলে বিবরণী গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। যেসব করদাতা লিখিত বিবরণী জমা দেন অথবা ইলেকট্রনিক ফাইল করেন, তাঁদের বিবরণী জমা দেওয়ার জন্য মধ্য ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
আলাদা বিষয়ভিত্তিক কর্তন (আইটেমাইজড ডিডাকশন) ছাড়াই যাঁরা বিবরণী জমা দেন, তাঁদের বেলায় অপেক্ষার কোনো কারণ নেই বলে জানানো হয়েছে।

ভারতে আসছে টাটার জলগাড়ি

নতুন গাড়ি বের করতে যাচ্ছে ভারতের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী টাটা। পরিবেশবান্ধব এই গাড়ি রাস্তায় নয়, চলবে পানিতে; চলবে নদীনালা, খালবিল ও সমুদ্রে।
টাটার কর্ণধার রতন টাটা এই অভিনব গাড়ি বের করার জন্য ইতিমধ্যে এক কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার খরচ করেছেন। এই গাড়ি নির্মাণের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন চূড়ান্ত পর্বের কাজ চলছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও গবেষক ড্যানিয়েল নোকেরা এই বিশেষ গাড়ি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। আর এই গাড়ি তৈরির কথা তিনি প্রথম বলেছিলেন তাঁর ভারতীয় বিজ্ঞানী-বন্ধু সি এন আর রাওকে। রাও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বিজ্ঞানসংক্রান্ত উপদেষ্টামণ্ডলীর চেয়ারম্যান। তিনি শিল্পপতি রতন টাটার বন্ধু। বিজ্ঞানী-বন্ধু ড্যানিয়েলের এই জলগাড়ি বানানোর স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন রতন টাটাকে তিনি। আর রতন টাটা সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে বিজ্ঞানী ড্যানিয়েলকে জোগান দিয়েছেন অর্থের।
জানা গেছে, এই গাড়ির স্বত্ব থাকছে রতন টাটা ও ড্যানিয়েল নোকেরার নামেই। গাড়িটি অবশ্য বাণিজ্যিকভাবে ছাড়পত্র পাবে টাটা গোষ্ঠীর গাড়ি হিসেবেই। এই গাড়ি শুধু ভারতেই নয়, বিদেশেও বিক্রি হবে।
ড্যানিয়েল জানিয়েছেন, এই গাড়ি হবে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব। চলবে গ্যাসে এবং পুরোপুরি জলপথে। ড্যানিয়েল আরও জানিয়েছেন, এই গাড়ি চলন্ত অবস্থায় পানির রাসায়নিক বিশ্লেষণ ঘটিয়ে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন বিভাজন করবে। বিশ্লেষিত এই হাইড্রোজেনই জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করবে গাড়িটি। গাড়ির নকশা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে নকশাটি যে ভিন্ন ধরণের হবে, তা অবশ্য ড্যানিয়েল জানিয়ে দিয়েছেন।

দেশের অসহায় মানুষের জন্য কাজ করতে চান দিলমা

ব্রাজিলের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট দিলমা রোসেফের প্রথম পূর্ণ কার্যদিবস ছিল গতকাল রোববার। এর আগে গত শনিবার তিনি শপথ গ্রহণ করেন।
ব্রাজিলের ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভার স্থলাভিষিক্ত হলেন দিলমা রোসেফ।
শপথ গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দিলমা রোসেফ তাঁর পূর্বসূরি লুলা ডি সিলভার কর্মকাণ্ড সংহত করার প্রতিশ্রুতি দেন। সাবেক প্রেসিডেন্টের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বেলকনি থেকে দেওয়া ভাষণে রোসেফ বলেন, তিনি অসহায় মানুষের জন্য কাজ করবেন। তাঁর সরকার হবে জনগণের সরকার।
প্রেসিডেন্টের এই ভাষণ সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়।
এদিকে ব্রাজিলের কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে রোসেফ লুলা ডি সিলভার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁকে ‘মহান মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন রোসেফ। তিনি বলেন, সবচেয়ে কঠিন কাজ হবে চরম দারিদ্র্য নিরসন করা। প্রেসিডেন্ট রোসেফ বলেন, ব্রাজিল আরও উন্নত ও সুন্দর দেশ হতে পারবে।
দিলমা রোসেফ কর সংস্কার, পরিবেশ সুরক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতি সাধন ও আঞ্চলিক উন্নয়নে তাঁর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন।

রাশিয়া ও চীনের মধ্যে তেলের পাইপলাইন চালু

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া এবং জ্বালানির সর্ববৃহৎ ভোক্তা চীনের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি তেল সরবরাহের জন্য পাইপলাইন সংযোগ চালু হয়েছে।
রাশিয়ার সাইবেরিয়ার মধ্য দিয়ে চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাকিং পর্যন্ত এই পাইপলাইন বসানো হয়েছে। এই পাইপলাইন সংযোগ দেশ দুটির মধ্যে তেলের বাণিজ্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
এত দিন রেলপথে রাশিয়া থেকে চীনে তেল রপ্তানি করা হচ্ছিল। আগামী দুই দশক এই পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়া প্রতিদিন তিন লাখ ব্যারেল তেল চীনে রপ্তানি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ২০ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। ঋণ হিসেবে এই খরচের অংশবিশেষ জোগান দিয়েছে চীন। ২০১৪ সালে এই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজ শেষ হবে।
প্রসঙ্গত, সৌদি আরবকে পেছনে ফেলে ২০০৯ সালে রাশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী দেশের স্থান দখল করে

মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের প্রতি ঐক্যের ডাক মোবারকের

মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক সে দেশের মুসলিম ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোকজনকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেকজান্দ্রিয়ায় গির্জার বাইরে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনাকে ‘পাপপূর্ণ কর্মকাণ্ড’ উল্লেখ করে এই দুই সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়ার আহ্বান জানান তিনি।
নতুন বছর উপলক্ষে আয়োজিত প্রার্থনা ও আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দিতে আলেকজান্দ্রিয়ার আল-কিদ্দিসিন গির্জায় গত শনিবার খ্রিষ্ট ধর্মের প্রায় এক হাজার মানুষ জড়ো হয়। একপর্যায়ে গির্জাটির বাইরে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে অন্তত ২১ জন নিহত ও ৭০ জন আহত হয়। এ ঘটনার জেরে কয়েক শ খ্রিষ্টান বিক্ষোভ করে। এ সময় ওই এলাকার মুসলমান ও পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।
এ বোমা হামলাকে ‘বর্বর ও হায়েনার কর্মকাণ্ড’ বলে মন্তব্য করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিন্দা জানিয়েছেন।
গতকাল রোববার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে মিসরের প্রেসিডেন্ট বলেন, ওই হামলায় বিদেশিদের হাত রয়েছে। মিসরকে অস্থিতিশীল করতেই এ ধরনের তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
মুসলমান-অধ্যুষিত মিসরে ১০ শতাংশ খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী। দেশটির মোট জনসংখ্যা আট কোটি। এর আগে বেশ কয়েকবার এ দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গা হয়।

পাকিস্তানে জোট সরকার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা এমকিউএমের

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট সরকার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে অন্যতম শরিক মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম)। গতকাল রোববার এমকিউএমের নেতা ফয়সাল সাবজারি এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।
ফয়সাল সাবজারি বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলের আসনে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ, যেসব কারণে আমরা প্রতিবাদ করছি, সে ব্যাপারে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের সামনে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে গেছে। এ কারণে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গত মাসে আমাদের দলের দুজন এমপি পদত্যাগ করেন। তাতেও সরকার কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এখন বিরোধী দলের আসনে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তবে তিনি জানান, সিন্ধু প্রদেশে পিপিপির সঙ্গে তাঁদের জোট থাকবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখবে না এমকিউএম।
এমকিউএমের এই ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি লাহোরে সাংবাদিকদের বলেন, এমকিউএম বেরিয়ে গেলেও সরকারের কোনো সমস্যা হবে না। তিনি বলেন, ‘আমি সর্বসম্মতভাবে নির্বাচিত হয়েছি। জাতীয় পরিষদে সব দল আমাকে ভোট দিয়েছে। সব দলের সঙ্গেই আমাদের যোগাযোগ রয়েছে।’

পার্লামেন্টে ভোটে হেরে যেতে পারেন ক্যামেরন

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রসঙ্গে একটি বিল নিয়ে পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে হেরে যেতে পারেন। গতকাল রোববার দ্য সানডে টাইমস-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় গণভোট ছাড়াই ইইউর কিছু ক্ষমতা লন্ডন থেকে ব্রাসেলসের হাতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ১১ জানুয়ারি বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের দল কনজারভেটিভ পার্টির অনেক আইনপ্রণেতা এই বিলের বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারেন। আর বিরোধী দল লেবার পার্টিও এই বিলের বিরোধিতা করবে। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন এই প্রথমবারের মতো কোনো বিল নিয়ে ভোটাভুটিতে হেরে যেতে পারেন।
কনজারভেটিভ পার্টির অনেক আইনপ্রণেতার মতে, যেখানে গণভোটের কথা বলাই আছে, সেখানে সেটি মানা উচিত। এটা ছাড়া তাঁদের সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড এই বিলের বিরোধিতা করতে তাঁর দলের আইনপ্রণেতাদের নির্দেশ দেবেন।

যুক্তরাজ্যের কারাগারে বন্দীদের আগুন, দাঙ্গা

যুক্তরাজ্যের একটি কারাগারে সৃষ্ট দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ করেছে পুলিশ। নববর্ষের দিন কারা-কর্মীরা মদপান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে ক্ষিপ্ত কারাবন্দীরা কারাভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। গতকাল রোববার পুলিশ এ কথা জানায়।
দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের ফোর্ড ওপেন কারাগারে এই ঘটনা ঘটে। দিনব্যাপী এই দাঙ্গার ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। গত শনিবারের এই দাঙ্গার সঙ্গে প্রায় ৪০ জন কারাবন্দী জড়িত ছিল। দাঙ্গার সময় বেশ কয়েকটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ ও দমকল-কর্মীদের ডাকা হয়। টেলিভিশন ফুটেজে ষাটের দশকের কারাগারটির কয়েকটি ভবনে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ন্যাশনাল অফেন্ডার ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল স্পার বলেন, শনিবার বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কারারক্ষীরা সফলভাবে বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনে।
মাইকেল স্পার বলেন, ঘটনার সময় কারাগারে কর্মকর্তা ও কারারক্ষীর সংখ্যা ছিল স্বাভাবিক। যদিও কয়েকটি খবরে বলা হয়, প্রায় ৫০০ জন কারাবন্দীর এই কারাগারে ঘটনার সময় মাত্র দুই জন কারা কর্মকর্তা ও চারজন কারারক্ষী দায়িত্ব পালন করছিলেন।
প্রিজন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, কারাগারে নিষিদ্ধ মদ ঢোকানো হয়েছে—এই আশঙ্কায় কারা-কর্মীরা প্রায় ২০০ জন কারাবন্দীর শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষার চেষ্টা করলে দাঙ্গা শুরু হয়ে যায়। অ্যাসোসিয়েশনের মার্ক ফ্রিম্যান বলেন, ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিরা নিজেদের পরিচয় আড়াল করার জন্য মুখে কাপড় বেঁধে ছিলেন।
মার্ক ফ্রিম্যান বলেন, কয়েকজন কারাবন্দী মদপান করেছেন—এই সন্দেহে কারা-কর্মীরা কয়েকজন কারাবন্দীর শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষার চেষ্টা করে। এ সময় কারাবন্দীরা পরীক্ষা করতে অস্বীকৃতি জানায় ও একপর্যায়ে তারা সহিংস হয়ে ওঠে। বিচার মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, দাঙ্গায় কোনো কারাবন্দী অথবা কারা-কর্মী আহত হননি।
আগুনে কারাগারের ছয়টি আবাসন ব্লক, একটি ডাক কক্ষ, একটি ব্যায়ামাগার, একটি স্নুকার কক্ষ ও একটি পোল কক্ষ ধ্বংস হয়েছে।

পাকিস্তানের সংবিধান সংশোধনীতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি গত শনিবার দেশের সংবিধানের ১৯তম সংশোধনীতে স্বাক্ষর করেছেন। এই সংশোধনীর ফলে বিচার বিভাগের শীর্ষস্থানীয় পদগুলোতে নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশটিতে বিচার ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে বিভেদ কমবে।
সংশোধনী অনুযায়ী, জুডিশিয়াল কমিশনের সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে চারজন করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ বিচারকদের মধ্য থেকেই তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে জুডিশিয়াল কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য বার কাউন্সিলের সদস্যদের ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কমিশনের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে উচ্চতর আদালতগুলোতে অস্থায়ীভাবে বিচারক নিয়োগ দিতে পারবেন প্রধান বিচারপতি।
এ ছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনের নিয়োগের জন্য গঠিত সংসদীয় কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ১২ জন করা হয়েছে। আর ওই সময় সংসদ না থাকলে সিনেট থেকে সদস্য নেওয়া হবে।
এ ছাড়া সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত ইসলামাবাদ হাইকোর্টকে প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এই সংশোধনীতে।
১৯তম সংশোধনীতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর উপলক্ষে গত শনিবার সন্ধ্যায় করাচিতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রচারণার জন্য প্রেসিডেন্ট করাচিতেই ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনেটের সভাপতি ফারুক এইচ নায়েক, জাতীয় সংসদের স্পিকার ফাহমিদা মির্জা এবং সাংবিধানিক সংস্কারসংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি রাজা রাব্বানি।
অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট জারদারি ১৯তম সংশোধনীকে দেশের জনগণের জন্য নববর্ষের উপহার হিসেবে অভিহিত করেন। স্বাক্ষরের জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানোর আগে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বিলিতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হয় বিলটি।

হাত মেলালেন, কথা বললেন শাভেজ ও হিলারি

একে অন্যের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাখ্যান করায় ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই আন্তরিক ভঙ্গিমায় গত শনিবার একে অন্যের সঙ্গে করমর্দন করলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় সে দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফের অভিষেক অনুষ্ঠানে তাঁদের হাত মেলাতে দেখা যায়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শাভেজ ও হিলারির এই করমর্দনের দৃশ্যকে ‘বিরল’ ঘটনা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তবে ওই অনুষ্ঠানে তাঁদের মধ্যে আলাদাভাবে কোনো বৈঠক হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত হতে পারেননি। হুগো শাভেজ বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সাম্রাজ্যবাদী’ আখ্যায়িত করে এর সমালোচনা করে থাকেন।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কারাকাসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ল্যারি পালমার নামে এক কূটনীতিকের নাম ঘোষণা করেন। তবে পালমারকে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাসীন সরকারের কট্টর সমালোচক উল্লেখ করে শাভেজ তাঁকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করেন। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ওয়াশিংটনে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত বার্নার্দো আলভারেজের ভিসা বাতিল করে। বর্তমানে দুই দেশের রাজধানীতে পরস্পরের রাষ্ট্রদূত নেই। এ অবস্থায় শাভেজ ও হিলারির হাস্যোজ্জ্বল করমর্দনকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক আভাস বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে হাজির ছিলেন ব্রাজিলের এমন একজন কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, তাঁদের দেখে মনে হয়েছে যে তাঁরা খোশগল্প করছেন। হাত মেলানোর সময় দুজনকেই হাস্যোজ্জ্বল দেখা গেছে।
ভেনেজুয়েলার সরকারি টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাভেজ বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিসেস ক্লিনটন হাসছিলেন। তাঁকে বেশ উৎফুল্ল মনে হচ্ছিল। আমিও খুশি ছিলাম। কুশলাদি বিনিময়ের পর আমাদের মধ্যে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।’ তবে তাঁদের মধ্যে কী কী বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে, তা তিনি বলেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুভাবাপন্ন দেশ ইরান, সিরিয়া ও কিউবার সঙ্গে আগের চেয়ে ঘনিষ্ঠ হওয়ায় সম্প্রতি কারাকাসের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে চরম অবনতির সৃষ্টি হয়।

অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল এখন অথই পানির নিচে

অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন অথই পানির নিচে। ভয়াবহ বন্যায় গতকাল রোববার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যে আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানির তোড়ে ভেসে যাওয়া এক মহিলার লাশ গতকাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এবারের বন্যায় এটাই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।
অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এ বন্যায় ইতিমধ্যেই দুই লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৯৮ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে যেভাবে নদীর পানি ফুঁসছে, তাতে বন্যার আরও বিস্তার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদেরা।
ব্রিসবেনের আবহাওয়াবিদ, গর্ডন ব্যাঙ্ক বলেছেন, ‘দক্ষিণ কুইন্সল্যান্ডে যে বন্যা হয়েছে, তা নজিরবিহীন। এখানে এত পানি হতে আমরা কখনো দেখিনি।’
কুইন্সল্যান্ডের মেয়র ব্রড কার্টার বলেছেন, সারা প্রদেশে বন্যায় কমপক্ষে দুই লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ প্রদেশের রকহ্যামটন শহর পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রাস্তায় নেমে তাকালে এখানে পানি ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। এখানে লোকজন নৌকায় করে বাড়িঘর থেকে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছে। বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রেল ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এ শহরে প্রায় ৭৭ হাজার লোক বাস করে। কুইন্সল্যান্ডের রাজ্যের অর্থমন্ত্রী বন্যায় এ পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ ৯৮ কোটি ডলার বলে জানিয়েছেন। পুলিশ গতকাল কার্পেন্টেরিয়া এলাকা থেকে এক মহিলার লাশ উদ্ধার করেছে। বন্যার পানির তোড়ে তাঁর গাড়িটি ভেসে গেলে ওই মহিলার মৃৃত্যু হয়।
এদিকে রেল চলাচল অচল হয়েপড়ায়কুইন্সল্যান্ডের সবচেয়েবড় খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয়বৃহত্তম কয়লা রপ্তানি বন্দর গ্ল্রাডস্টোনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে য়লা রপ্তানি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

যুদ্ধ চালানোর সামর্থ্য নেই ভারত-পাকিস্তানের

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি বলেছেন, যুদ্ধ শুরু হলে তা চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য ভারত-পাকিস্তানের নেই। কাজেই দুই দেশের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসায় আলোচনাকেই একমাত্র পথ বলে মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা বলেছেন, পাকিস্তানকে ‘বাধ্যতামূলক শত্রুতার’ মনোভাব পরিহার করতে হবে, তা না হলে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা কোনো কাজে আসবে না।
গত শনিবার রাতে পিটিভি এবং দুনিয়া টিভিতে যৌথভাবে আয়োজিত একটি সরাসরি প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী গিলানি। এ সময় তিনি স্বীকার করেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ক্ষেত্রে মুম্বাই হামলাকে ইস্যু করা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত। তবে তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানকে কোনো ছাড় দিতে ভারত প্রস্তুত নয়।
গিলানি বলেন, ‘আমার সঙ্গে একাধিক বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং জানিয়েছেন, আলোচনার ক্ষেত্রে মুম্বাই হামলা কোনো বাধা হবে না। কিন্তু মনে হচ্ছে, পাকিস্তানকে কোনো ছাড় না দেওয়ার জন্য তিনি নিজের দেশেই রাজনৈতিকভাবে চাপের মুখে আছেন।’
৫০ মিনিটের ওই অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ও এর সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক বিভন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন গিলানি।
পাকিস্তানে জঙ্গিদের আস্তানা ভেঙে দেওয়ার নামে কয়েক বছর ধরে সেখানে ধারাবাহিকভাবে ড্রোন (চালকবিহীন বিমান) হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ফলে পাকিস্তানের সরকারবিরোধীরা বলছে, পাকিস্তানেরও এ বিষয়ে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ সময় গিলানি বলেন, ‘পরমাণু শক্তিধর দায়িত্বশীল একটি রাষ্ট্র হয়ে পাকিস্তান ওই হামলা বন্ধ করার জন্য কোনো দায়িত্বহীন পদক্ষেপ নিতে পারে না। তবে আমাদের বিশ্বাস, ড্রোন হামলা বন্ধ করার জন্য আমরা বিশ্ব সম্প্রদায় এবং যুক্তরাষ্ট্রকে রাজি করাতে পারব। আমরা ওয়াশিংটনকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে ওই হামলায় কোনো কাজ হচ্ছে না বরং জঙ্গিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে।’
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানান, তাঁর সরকার নতুন বছরে (২০১১) দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করবে। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ শুরু করাই হবে নতুন বছরে আমাদের প্রতিজ্ঞা। সমঝোতার মাধ্যমে আইন তৈরির জন্য আমি মিয়া সাহেবের (বিরোধী দল পিএমএল-এন নেতা নওয়াজ শরীফ) সঙ্গে কথা বলেছি। এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে এমনভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে কেউ এর দিকে আঙুল তুলতে না পারে।’
এদিকে, পাকিস্তানকে বিদ্বেষমূলক মনোভাব পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে গতকাল রোববার এক সাক্ষাৎকারে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা বলেন, ‘আমরা খুবই আন্তরিকভাবে আশা করছি যে আমাদের প্রতিবেশী গঠনমূলক আলোচনার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবে এবং বাধ্যতামূলক শত্রুতার মনোভাব ত্যাগ করবে।’
কৃষ্ণা বলেন, ‘আমাদের শুধু একটাই প্রত্যাশা, পাকিস্তান তাদের ভূখণ্ডে জঙ্গিদের অবকাঠামো ভেঙে দেবে। কেবল শান্তিপূর্ণ ও সন্ত্রাসবাদমুক্ত পরিবেশেই ফলপ্রসূ এবং স্থায়ী সংলাপ এগিয়ে যেতে পারে।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় মদদে বা মদদ ছাড়া সে যেভাবেই হোক আজকের বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই এবং সবার সম্মিলিত পদক্ষেপের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের মূল উৎপাটন করা উচিত।’ গত শনিবার নতুন বছরের প্রথম দিনে ভারত ও পাকিস্তান তাদের নিজ নিজ পরমাণু অস্ত্র ও স্থাপনা তালিকা বিনিময় করেছে।
ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের এক কর্মকর্তার হাতে নিজেদের পরমাণু অস্ত্র ও স্থাপনার তালিকা তুলে দেয় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানি হাইকমিশনের কাছে তালিকা হস্তান্তর করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একটি চুক্তির আওতায় দুটি দেশ দুই দশক ধরে এ তালিকা বিনিময় করে আসছে।

চার মাসে লেনদেনের ভারসাম্যে ঘাটতি

সামগ্রিকভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) লেনদেনের ভারসাম্যে ৫১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
অথচ গত অর্থবছরের একই সময় সামগ্রিক ভারসাম্যে উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ১১৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে, দেশের লেনদেনের ভারসাম্যে চাপ ক্রমেই বাড়ছে। রপ্তানি-আয় বাড়ার পাশাপাশি আমদানি-ব্যয়ও বাড়তে শুরু করেছে। আবার প্রবাসী-আয়ের প্রবৃদ্ধির হার শ্লথ হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্য প্রত্যাশা করছে, আগামী দিনগুলোয় লেনদেনের সার্বিক ভারসাম্য পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি ঘটবে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি বিবৃতিতে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের যে প্রক্ষেপণ দেওয়া হয়েছে, তাতে চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের শেষে এসে সামগ্রিক ভারসাম্যে প্রায় ৩৬ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত দেখানো হয়েছে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই সঙ্গে চলতি হিসাবের উদ্বৃত্ত বছর শেষে ১০৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারে নেমে আসবে বলে উল্লেখ করেছে।
২০০৯-১০ অর্থবছরের লেনদেনের সামগ্রিক ভারসাম্যে ২৮৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছিল।
এই সময়কালে আগে গৃহীত মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি ঋণের আসল পরিশোধ বাবদ ব্যয় করতে হয়েছে প্রায় ২২ কোটি ডলার। আবার নতুনভাবে এই সময়কালে ২৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে।
তবে এই সময়কালে বাণিজ্যিক ঋণের (ট্রেড ক্রেডিট যা কিনা সরবরাহকারী ঋণের আরেক নাম) আসল ফেরত বাবদ সরকারকে ৭৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার ব্যয় করতে হয়েছে।

সেরা প্যাভিলিয়ন বাংলাদেশের

কলকাতা শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় সেরা প্যাভিলিয়নের পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ। এতে দ্বিতীয় পুরস্কার পায় ভুটান।
মেলার শেষ দিনে গতকাল রোববার পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেন কলকাতা উপ-হাইকমিশনে নিযুক্ত বাংলাদেশের বাণিজ্যসচিব মো. ওমর ফারুকের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। এ উপলক্ষে মিলনমেলা ময়দানে মেলা প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘এই আন্তর্জাতিক মেলায় বাংলাদেশ সেরা প্যাভিলিয়নের সম্মান পাওয়ায় গর্বিত বাংলাদেশ। এ গৌরব আমাদের গোটা বাংলাদেশের।’
এবারের মেলায় ফোকাস কান্ট্রি ছিল ভুটান। তবে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাংলাদেশ। মেলা চলাকালে প্রতিদিনই সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ করা গেছে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কলকাতার বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএনসিসিআই) আয়োজিত এই মেলার শেষ দুই দিনে শনিবার ও গতকাল রোববার বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে ছিল উপচে পড়া ভিড়। প্যাভিলিয়নের ভেতর যেন হাঁটার উপায় ছিল না, গিজগিজ করছিল ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়ে। তাঁরা লাইন ধরে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে ঢোকেন। গত ২৪ ডিসেম্বর কলকাতার বাইপাস-সংলগ্ন মিলনমেলা ময়দানে শুরু হয় এই মেলা।
এবারের এই মেলায় যোগ দিয়েছে বাংলাদেশের ৪৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: অ্যাকমে অ্যাগ্রোভেট অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড, মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, গ্লোব সফট ড্রিংকস লিমিটেড, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন, শরীফ মেলামাইন, সোহাগ মেলামাইন, ডায়মন্ড মেলামাইন, চিটাগং ফ্যাশন মিলেনিয়াম টেক্সটাইলস লিমিটেড, বাংলাদেশ স্মল অ্যান্ড কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিক), অরক্রিস্টা ক্রাফট, নুর নকশী, এলমা ট্রেডিং অ্যান্ড করপোরেশন, হ্যাপি টাঙ্গাইল শাড়ি ও ড্রেস, সিফাত বুটিক হাউস, জেরি, বাংলাদেশ রেশমশিল্প মালিক সমিতি, ওয়ার্ক টু সার্ভ জে শপস, নিউ সুমাত্রা, স্পাডিক্স লিমিটেড, বেবি ক্যাম্প, নৈবেদ্য, মহুয়া নকশী, পিয়াল ক্রাফট, আসমা হ্যান্ডিক্রাফট, কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, ফেয়ার ইন্টারন্যাশনাল, কারিগর, আধুনিকা, লালোমা হ্যান্ডিক্রাফটস এবং বিভিন্ন জামদানি শাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।

অতিচাহিদার কারণে মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে

দেশের শেয়ারবাজারের সার্বিক অবস্থা নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ খান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাসান ইমাম

প্রথম আলো: সদ্য সমাপ্ত বছরে পুঁজিবাজার সম্পর্কে আপনার সামগ্রিক মূল্যায়ন কী?
সালাহউদ্দিন: ২০১০ সালে আমাদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ও লেনদেনের পরিমাণে নতুন মাইলফলক অর্জন হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা সামগ্রিকভাবে অনেক মুনাফা করেছেন। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের ব্যাপকহারে বাজারে আগমন খুব বেশি ইতিবাচকভাবে নেওয়া যাবে না। কারণ, এই নতুন বিনিয়োগকারীদের একটা বড় অংশ বিকল্প বিনিয়োগ-সম্ভাবনার সংকোচনের ফলে পুঁজিবাজারমুখী হয়েছেন। সামগ্রিক বিনিয়োগ-পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা মূল বিনিয়োগ ক্ষেত্রে আবার ফেরত যাবেন। তাই নতুন বিনিয়োগকারীর ব্যাপক আগমনের কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত চাহিদার বিপরীতে কিছু কিছু ভুল নীতি, সামগ্রিক বিনিয়োগে স্থবিরতা ইত্যাদি কারণে প্রাথমিক বাজারে নতুন শেয়ারের সরবরাহ ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে অতিচাহিদাজনিত মূল্যস্ফীতি বা মূল্যবৃদ্ধি ঘটে দেশের পুঁজিবাজার একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
প্রথম আলো: এ সময় বাজারের ইতিবাচক দিকগুলো কী ছিল?
সালাহউদ্দিন: আমাদের পুঁজিবাজারের সার্বিকভাবে বিস্তৃতি ঘটেছে। প্রচলিত বিনিয়োগ (ব্যাংকে আমানত ও সঞ্চয়পত্র) ছেড়ে এই প্রকার বিনিয়োগে অংশ নেওয়া আমাদের দেশের জনগণের চিন্তা-চেতনার মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিতবাহী। এ ছাড়া মিউচুয়াল ফান্ডের প্রবাহ এবং কনভার্টেবল বন্ড ইস্যু বাজারের বিনিয়োগ-বৈচিত্র্য বাড়িয়েছে।
প্রথম আলো: বাজারের কোনো অস্বাভাবিকতা আপনার চোখে পড়েছে কি?
সালাহউদ্দিন: পুঁজিবাজারে ব্যাপক ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে চাহিদার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির সুযোগে অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন প্রকার গুজব ছড়িয়ে শেয়ারের মূল্য বাড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জগুলো এ ক্ষেত্রে তাদের বাজার তদারকি কার্যক্রম সঠিকভাবে চালিয়েছে কি না, সে ব্যাপারেও প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও আসার ক্ষেত্রেও শেয়ারের বেশি মূল্য নির্ধারণ বাজারকে কিছুটা হলেও অস্থির করেছে। প্লেসমেন্টের বিষয়টি বেশ কিছু বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
প্রথম আলো: অনেকে মনে করেন সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে ফাটকাবাজি ও জুয়াবাজি বেড়ে গেছে। এ ব্যাপারে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?
সালাহউদ্দিন: যেকোনো পুঁজিবাজারেই ফাটকা কারবারি বা স্পেকুলেটর থাকবে। যেহেতু আমাদের দেশে এখনো ব্যক্তিশ্রেণীর বিনিয়োগকারী বেশি, তাই এটা স্বাভাবিক। আমাদের দেশে যেহেতু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সংখ্যা এখনো খুব বেশি নেই, তাই এখানে ফাটকা বিনিয়োগ অনেক বেশি হচ্ছে। ধীরে ধীরে মিউচুয়াল ফান্ড-জাতীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়তে থাকলে ব্যক্তিশ্রেণীর বিনিয়োগকারীর তুলনামূলক প্রভাব কমে আসবে।
প্রথম আলো: নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির ভূমিকা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
সালাহউদ্দিন: আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংস্থাটির আরও বেশি সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া বাজারসংক্রান্ত নীতিমালায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে পর্যালোচনার অভাব প্রকটভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে।
প্রথম আলো: সরকার দুই বছর পার করলেও বাজার সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা গ্রহণ করেনি। আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
সালাহউদ্দিন: বিগত দুই বছরে বাজারের যে ব্যাপক অগ্রগতি তা মূলত এসেছে জনগণের সম্পৃক্ততায়। সরকারি ভূমিকা এ ক্ষেত্রে খুব একটা লক্ষ করা যায়নি। অধিকন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে অযাচিতভাবে বাজার নীতিমালায় হস্তক্ষেপের ফলে বাজারে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আইপিও আনার ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা বাধার সৃষ্টি করেছে। তবে বছর শেষে এই নীতি কিছুটা সংশোধন করায় ভবিষ্যতে এই সমস্যা কমবে বলে আশা করা যায়। এ ছাড়া কিছু সরকারি কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার কথা ঘোষণা করে তা বাস্তবায়ন না করায় সরকারি নীতি সম্পর্কে বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রথম আলো: সব মিলিয়ে আগামী দিনের পুঁজিবাজার নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
সালাহউদ্দিন: আগামী দিনে আমরা আরও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব বলে বিশ্বাস করি। কারণ সাম্প্রতিককালে আইপিও-সংক্রান্ত নীতির আংশিক সংশোধনী, নতুন আইপিও আনার ক্ষেত্রে সৃষ্ট অনেক বাধা দূর করতে সমর্থ হবে। ফলে বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে অতি মূল্যে কেনা শেয়ারগুলো ছেড়ে ধীরে ধীরে নতুন শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। এতে বাজারে বিদ্যমান অতি মূল্যায়িত অবস্থা ক্রমান্বয়ে সংশোধনের পথে যেতে পারবে। অন্যদিকে পুঁজিবাজারের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায় ব্যাংকিং খাতে মেয়াদি ঋণও কমবে এবং খেলাপি ঋণের কুপ্রভাব থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ হবে। তবে সরকারকে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যক্ষম করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

পুঁজিবাজারে বিশাল উল্লম্ফনের বছর

২০০৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধনের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। আর ২০১০ সালের ৩০ ডিসেম্বর তা ৮৪ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে হয় তিন লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।
এর ফলে ডিএসইর বাজার মূলধন এখন মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে ৫০ দশমিক ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা দুই বছর আগে ছিল ১৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
এই একটি পরিসংখ্যানেই দেশের শেয়ারবাজারের বিশাল স্ফীতির বিষয়টি ধরা পড়ে। এটি আরও জোরদার হয়, যখন জানা যায়, গত বছর শেয়ারবাজারের কার্যক্রম তথা উল্লম্ফনের দিক থেকে শ্রীলঙ্কা ও মঙ্গোলিয়ার পর বাংলাদেশের অবস্থান। অর্থাৎ ২০১০ সালে পুঁজিবাজারের বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ তৃতীয়। লংকা-বাংলা ফাইন্যান্সের এক বিশ্লেষণে এমনটি বলা হয়েছে।
এগুলো পুঁজিবাজার ঘিরে উৎসাহকে যেমন বাড়িয়ে তোলে, তেমনি সতর্ক হওয়ারও আভাস দেয়। বিশাল উল্লম্ফনে বাজার যত উচ্চতায় উঠুক না কেন, তা সংশোধনের জন্য পতন হওয়াটাই অনিবার্য।
তবে পতনের শঙ্কা যা-ই থাকুক না কেন, গত বছরটি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী ও কারবারিদের কেটেছে দারুণ সময়। লাভের মাত্রা বা পরিমাণ কম হলেও লোকসান গুনেছেন—এমন বিনিয়োগকারী খুব কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা কম লাভ বা মুনাফা করতে পেরেছেন তাঁদের সীমিত পুঁজির জন্য। কিন্তু বড় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বড় পুঁজির জোরে বাজারে মুনাফার বড় অংশই নিজেদের করে নিতে সক্ষম হয়েছেন।
আর মুনাফা তোলার প্রতিযোগিতায় বাজারে নানা ধরনের অনিয়মের ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ঘন ঘন নিয়মনীতি পরিবর্তন করে বাজারকে সময় সময় অস্থির করে তুলেছে, যা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
আবার বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও বাজারের গতি-প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা-বোঝার যথেষ্ট ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। আর তাই দরপতন হলেই রাস্তায় নেমে মিছিল-বিক্ষোভ এমনকি ভাঙচুর করারও ঘটনা ঘটেছে।
এসবের মধ্য দিয়ে এটাই প্রতীয়মান হয়, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার স্ফীত হলেও যথেষ্ট পরিপক্ব বা সুসংহত হতে পারেনি। সে জন্য আরও অনেক সময় লাগবে।
গত বছর ৫ ডিসেম্বর ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক সর্বোচ্চ আট হাজার ৯১৮ দশমিক ৫১ পয়েন্টে উন্নীত হয়। আর ৩ জানুয়ারি সাধারণ মূল্যসূচক ছিল সর্বনিম্ন চার হাজার ৫৬৮ দশমিক ৪০ পয়েন্ট।
ডিএসইর সূত্রে আরও জানা যায়, ২০০৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক চার হাজার ৫৩৫ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট থেকে ক্রমান্বয়ে বেড়ে ২০১০ সালের ৩০ ডিসেম্বর আট হাজার ২৯০ দশমিক ৪১ পয়েন্টে পৌঁছায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৮২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বাড়ে।
বাজারের এই ক্রমাগত স্ফীতি বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষকে পুঁজিবাজারমুখী করে তোলে। সরকারও বাজারকে সমর্থন দেওয়ার জন্য কিছু ছাড় দেয়। তারই অংশ হিসেবে ২০১০-১১ অর্থবছরে বাজেটে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মূলধনী মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে করারোপ করা হলেও ব্যক্তিশ্রেণীর বিনিয়োগকারীর মূলধনী মুনাফা ছিল করমুক্ত।
অনেকেই অবশ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, যেখানে সঞ্চয়পত্রে যেকোনো পরিমাণ মুনাফার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ হারে কর্তন করা হচ্ছে, সেখানে শেয়ারবাজারের মূলধনী আয়কে পুরোপুরি করমুক্ত রেখে ফাটকা কারবারে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
তবে ডিএসই লেনদেনের ওপর উৎসে কর সংগ্রহ করে ২০১০ সালে ৩১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে। ২০০৯ সালে জমার পরিমাণ ছিল ৬২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার শেয়ার লেনদেনের ওপর উৎসে করের হার ১০০ টাকায় আড়াই পয়সা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ পয়সা নির্ধারণ করে। ফলে এই আয় বেড়েছে।
শেয়ারবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অতিমাত্রায় সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে ব্যাপক বিতর্ক দেখা দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে কঠোরতা আরোপ করে। আর বছরের একেবারে শেষদিকে এসে মূল্যস্ফীতি প্রশমনের জন্য সংকোচনমূলক নীতি গ্রহণ করায় মুদ্রাবাজারে আকস্মিক অস্থিরতা দেখা দেয়, যার ঢেউ এসে লাগে শেয়ারবাজারে। ডিসেম্বর মাসেই এযাবৎকালের সর্বোচ্চ দরপতন ঘটে।
পুঁজিবাজারে নানা অর্জনও লক্ষ্য করা যায়। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ক্রমেই অবস্থান সুসংহত করছে। নতুন ধরনের পণ্য-সেবা ধীরে ধীরে আসছে। বাজারে বৈচিত্র্যময়তার পথ তৈরি হচ্ছে। পুঁজিবাজারবিষয়ক ইনস্টিটিউট আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। বাজার বিশ্লেষণে তরুণ ও পেশাদার বিশ্লেষকদের আবির্ভাব ঘটছে। ১ অক্টোবর থেকে কাগুজের শেয়ারের লেনদেন বিলুপ্ত করা হয়েছে। ফলে শেয়ারবাজারের লেনদেন এখন পুরোপুরি ইলেকট্রনিক।
এগুলো সবই দীর্ঘমেয়াদে পুঁজিবাজারকে একটি সুসংহত অবস্থানে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
২০১০ সালে একটি প্রাতিষ্ঠানিক বন্ড, একটি কনভার্টেবল বন্ড, ১০টি মিউচুয়াল ফান্ডসহ ১৮টি সিকিউরিটিজ দুই হাজার ৬৫৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধনসম্পন্ন প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বাজারে আসে। এর মধ্যে এক হাজার ৩২৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা তোলা হয় সাধারণ জনগণের কাছ থেকে প্রাথমিক শেয়ারের বিনিময়ে।
তবে চাহিদার তুলনায় বাজারে শেয়ারের জোগান কম ছিল। বিশেষ করে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার জন্য একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি।

বছরের প্রথম কর্মদিবসে শেয়ারের মূল্যসূচক বৃদ্ধি

সাধারণ মূল্যসূচক বাড়ার মধ্য দিয়ে বছরের প্রথম দিন শুরু করেছে দেশের দুই শেয়ারবাজার। গতকাল রোববার ২০১১ সালের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা শেয়ারবাজারে মূল্যসূচক বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ খানিকটা কমেছে। তবে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারের মূল্যসূচক ও লেনদেন দুই-ই বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, লিজিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা ও বস্ত্র খাতের বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে ব্যাংকিং ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিগত বছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো ভালো মুনাফা করেছে—এ ধরনের গুঞ্জন আগে থেকেই শোনা গিয়েছিল। তবে বছর শেষে তার বাস্তব প্রমাণও মিলেছে। আর এ কারণে ডিসেম্বর মাসে বড় ধরনের দরপতনের পরও ব্যাংকিং খাতের শেয়ারগুলোর দাম বাড়তে থাকে। গতকালের পত্রপত্রিকায় ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাই সকাল থেকে ব্যাংকের শেয়ারের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের একাংশ মুনাফা করার প্রবণতা থেকে বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দেয়। এর পর থেকেই দাম কমতে থাকে। এতে করে বেশির ভাগ ব্যাংকের শেয়ারের দাম পড়ে যায়।
অন্যদিকে ডিসেম্বরের শেষভাগে এসে লিজিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিমা কোম্পানির শেয়ারগুলোর দামে বড় ধরনের পতন ঘটে। সদ্য সমাপ্ত বছরে লিজিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি মুনাফা করেছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের অনেকেই ব্যাংকিং খাতের শেয়ার বিক্রি করে লিজিং ও বিমা খাতের শেয়ারের দিকে ঝুঁকে পড়ে। যার পরিপ্রেক্ষিতে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর কিছুটা বেড়েছে।
বাজারের লেনদেন কমে যাওয়া সম্পর্কে বাজার বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাজারে এখনো তারল্য-সংকট রয়েছে। কারণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির পক্ষ থেকে ঋণসীমা বাড়ানো হলেও মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো এখনো তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বাজারে তারল্যপ্রবাহ না বাড়লে লেনদেন বাড়ার সম্ভাবনা কম।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তবে দিন শেষে সাধারণ মূল্যসূচক ১৪ দশমিক ১৭ পয়েন্ট বেড়ে আট হাজার ৩০৪ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে এসে দাঁড়ায়। গতকাল ডিএসইতে এক হাজার ৬১২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা গত বছরের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবারের লেনদেন এক হাজার ৭৮৩ কোটি টাকার চেয়ে ১৭১ কোটি টাকা কম।
এদিকে গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৪৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩৭টির, কমেছে ১০৫টির ও অপরিবর্তিত ছিল দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক ৪১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৪৯০। গতকাল লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৮৭ কোটি টাকার কিছু বেশি। গত বছরের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৭৯ কোটি টাকা। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯০টি কোম্পানির মধ্যে ১০১টির দাম বেড়েছে, ৮৭টির দাম কমেছে ও অপরিবর্তিত ছিল দুটি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
এদিকে খাত অনুযায়ী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ডিএসইতে গতকাল লিজিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ২১টির মধ্যে ১৮টির, বিমা খাতের ৪৪টির মধ্যে ৩৮টির ও বস্ত্র খাতের ২২টির মধ্যে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়েছে। এ ছাড়া সিমেন্ট খাতের পাঁচটির মধ্যে চারটির, প্রকৌশল খাতের ২১টির মধ্যে ১২টির, জ্বালানি খাতের ১১টির মধ্যে সাতটির, আইটি খাতের পাঁচটির মধ্যে তিনটির, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ১৯টির মধ্যে নয়টির দাম বেড়েছে। তবে ব্যাংকিং খাতের ৩০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৬টির ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ৩১টির মধ্যে ২৭টিরই দাম কমেছে।

কনকর্ডের সঙ্গে বাংলালিংকের চুক্তি

‘বাংলালিংক টেলিকম ব্র্যান্ড আইকন’-এর আওতায় বাংলালিংকের গ্রাহকেরা মুঠোফোনের সর্বোচ্চ সুবিধা উপভোগ করেন। বিশেষ করে অভিজাত গ্রাহকদের জন্য বাড়তি সুবিধা নিশ্চিত করেছে বাংলালিংক।
আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানে বাংলালিংকের কার্যালয় টাইগার ডেনে এই প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড আইকন নিয়ে কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে বাংলালিংক চুক্তি সই করেছে। উভয় পক্ষের ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্দেশে এই চুক্তি সই করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলালিংক কর্তৃপক্ষ।
সমঝোতা চুক্তিতে সই করেছেন বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ আবু দোমা ও কনকর্ড গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) শাহরিয়ার কামাল।
এই চুক্তির আওতায় বাংলালিংকের আইকন গ্রাহকেরা কনকর্ডের ফয়’স লেক রিসোর্ট, মোটেল আটলান্টিক ও ফ্যান্টাসি কিংডমে অগ্রাধিকার ও বিশেষ সেবা সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। এসব স্থ্থানে বুকিংয়ে অগ্রাধিকার, নিবেদিতপ্রাণ বিপণন নির্বাহীদের আন্তরিক সেবা, নানা ধরনের মূল্যতালিকায় ছাড়, বিশেষ স্থানগুলো ব্যবহার এবং ওয়াটার পার্কে সৌজন্য প্রবেশ-সুবিধা ও সব রাইডে ছাড় পাবেন বাংলালিংকের আইকন গ্রাহকেরা।
বাংলালিংকের সিইও আহমেদ আবু দোমা বলেন, ‘হাইপ্রোফাইল মুঠোফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আইকন হচ্ছে একটি বিশেষায়িত ক্লাব। আমাদের বিশ্বাস, কনকর্ডের সঙ্গে এ চুক্তি দুই পক্ষের জন্যই ইতিবাচক হবে। পাশাপাশি আইকন সদস্যদের জন্য তাঁদের চাহিদামতো উন্নতমানের সেবা সুবিধাও সরবরাহ করতে পারব।’

বিটিআই পেশাদার গলফ

কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে কাল শুরু হয়েছে বিটিআই পেশাদার গলফ টুর্নামেন্ট। এতে ছয় স্ট্রোক কম খেলে শীর্ষে সিদ্দিকুর রহমান। পাঁচ স্ট্রোক কম খেলা সাখাওয়াত হোসেন আছেন দ্বিতীয় স্থানে। টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন ৫৪ জন গলফার।

রাজশাহীর খেলা

দ্বিতীয় বিভাগ হকি: দ্বিতীয় বিভাগ হকি লিগে কাল আনসার আলী স্মৃতি সংঘকে ২-০ গোলে হারিয়েছে রজনীগন্ধা ক্রীড়াচক্র। গোল দুটি বাপ্পার।
আন্তবিভাগ ভলিবল: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগ আয়োজিত আন্তবিভাগ ভলিবল টুর্নামেন্টে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী খেলায় সমাজকর্ম বিভাগ ২-০ সেটে লোকপ্রশাসন বিভাগকে, অর্থনীতি বিভাগ ২-১ সেটে ব্যবস্থাপনা বিভাগকে, ফলিত রসায়ন বিভাগ ২-০ সেটে লোকপ্রশাসন বিভাগকে হারিয়েছে। এতে অংশ নিচ্ছে ১৯টি দল।

দাবায় আগ্রহ হারাচ্ছে মেয়েরা

ছোট্ট এরিনা এখনো স্কুলে ভর্তি হয়নি। প্রথম শ্রেণীর ‘ভর্তিযুদ্ধ’ শেষে সুযোগ মিলেছে বনশ্রী কোয়ালিটি এডুকেশন স্কুলে পড়ার। এরই মধ্যে দাবা খেলার নিয়মকানুন রপ্ত হয়ে গেছে ভালোই। কাল প্রাইম ব্যাংক মহিলা ওপেন ফিদে রেটিং দাবার পঞ্চম রাউন্ডে হেরে মন খারাপ করে বাবার কোলে চড়ে বসল। বাবা সান্ত্বনা দিলেন, ‘পরের রাউন্ডে ভালো খেলো।’
শুধু এরিনা নয়, এই টুর্নামেন্টে খেলছে তার বড় দুই বোন আন্নি ও অ্যানিও। দাবা বোর্ডে মগ্ন মা তামান্নাও। মহিলা রেটিং টুর্নামেন্টে মেয়েদের উপস্থিতি এবার অনেক কম। এ জন্য কি পুরো পরিবারকেই টুর্নামেন্টে খেলাচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক? মোকাদ্দেস হোসাইন হেসে বললেন, ‘আসলে তা নয়। আমাদের পরিবারটা দাবাপ্রেমী। ছেলে সাইফ জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন। বড় মেয়ে অ্যানি রেটেড খেলোয়াড়। মেজো মেয়ে আন্নিও নিয়মিত খেলে।’ আর মা? ‘ছোট মেয়েরও শখ দাবা খেলবে। ওকে এখানে নিয়ে এসে চুপচাপ বসে না থেকে নিজেও খেলছে। এর মধ্যে অন্য কিছু খুঁজে লাভ নেই।’ এই টুর্নামেন্টে খেলছে আরেক জোড়া মা-মেয়েও। কুষ্টিয়া থেকে এসেছেন প্রতিভা তালুকদার। সঙ্গী মা ডেইজি তালুকদারও অংশ নিচ্ছেন প্রতিযোগিতায়।
অন্যবারের চেয়ে অনেক কম মেয়ে অংশ নিচ্ছে এই টুর্নামেন্টে। সাধারণ সম্পাদকের পরিবারের ৪ জন ধরেও প্রতিযোগীর সংখ্যা মাত্র ২৪। মোসাদ্দেক একটা কারণও খুঁজে পাচ্ছেন, ‘দাবায় মেয়েদের আর্থিক সুবিধা একেবারে কম।’ অন্য সমস্যার কথাও অবশ্য স্বীকার করলেন তিনি, ‘এখানকার পরিবেশ সত্যি খারাপ। একটা মাত্র টয়লেট, তাও ছেলে ও মেয়েরা ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে। এটা দেখে অনেকে পরেরবার খেলতে আসতে চায় না। ঢাকার বাইরের মেয়েদের আবাসন-সুবিধাও নেই।’ এসব ব্যাপারে একাধিকবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আবেদন করেও কোনো ফল পাননি বলে দাবি তাঁর।

চলে গেলেন ‘বকুল আপা’

গত সপ্তাহে একবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। স্কয়ার হাসপাতালে কয়েক দিন থাকার পর বুধবার বাড়ি ফেরার অনুমতি মেলে লুৎফুন্নেসা হক বকুলের। কিন্তু পরশু আবারও হার্ট অ্যাটাক, হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে আটটায় মারা যান একসময়ের ট্র্যাক কাঁপানো অ্যাথলেট।
ক্রীড়াঙ্গনে সবাই তাঁকে ‘বকুল আপা’ বলেই চিনতেন। ৭০ বছর বয়সী এই অ্যাথলেট পাকিস্তান অলিম্পিকে ৮০ মিটার হার্ডলসের রেকর্ড গড়ে সোনা জিতেছিলেন ১৯৫৬ সালে। ১৯৭১ সালে রওশন আক্তার (ছবি) ভেঙে দেওয়ার আগপর্যন্ত টিকে ছিল যে রেকর্ড। ১৯৭৩ সালে দিল্লিতে রুরাল গেমসে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার ছিলেন লুৎফুন্নেসা। ১৯৭৮ সালে পেয়েছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার। বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা গঠনে তাঁর ছিল অগ্রণী ভূমিকা। দীর্ঘদিন তিনি এই সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। চাকরিজীবনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক, উপপরিচালকের দায়িত্বে থাকাকালে শিক্ষা ও মাদ্রাসা বোর্ডেও খেলাধুলার আয়োজনে দারুণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
কাল ধানমন্ডি মসজিদ-উর-তাকওয়ায় জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে লুৎফুন্নেসার মরদেহ। তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার। শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ), বাফুফে, অ্যাথলেটিকস ও হ্যান্ডবল ফেডারেশন এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।

ম্যাককালামের ডাবল সেঞ্চুরি

নাম দুটোই শুধু আলাদা। পাকিস্তানিস আর নিউজিল্যান্ড একাদশের ক্রিকেটাররা প্রায় সবাই জাতীয় দলেরই। প্রস্তুতি ম্যাচে সফরকারী দল সাধারণত সেরা দলই নামায়, কিন্তু স্বাগতিকদের জন্য এ ঘটনা একটু বিরলই। একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে রস টেলর ছাড়া খেলছেন নিউজিল্যান্ডের মূল ক্রিকেটারদের প্রায় সবাই। টি-টোয়েন্টি সিরিজে না খেলা ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ডাবল সেঞ্চুরিতে প্রথম দিনটা ছিল কিউইদের। গতকাল ওয়ানগারেইয়ে তিন দিনের ম্যাচের প্রথম দিনে নিউজিল্যান্ড একাদশ তুলেছে ৪ উইকেটে ৩২৪। ২১৮ বলে ২০৬ করেছেন ম্যাককালাম। ম্যাকিন্টোশের (৫১) সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতেই তুলেছেন ১৬২।

বেকহামকে চাইছেন পেলে

দেখতে-শুনতে ভালো। চাইলে পাল্লা দিতে পারবেন হলিউডের সুদর্শন সব নায়কের সঙ্গে। ডেভিড বেকহাম হলিউডে ক্যারিয়ার শুরু করে দিতেই পারেন। তবে চমক হলো, এবার সেই প্রস্তাব ইংলিশ তারকা পেলেন কিনা পেলের কাছ থেকে!
ব্রাজিল কিংবদন্তির নিজের ক্যারিয়ারটা সমৃদ্ধই। না, ফুটবল ক্যারিয়ারের কথা হচ্ছে না। সেটা নিয়ে আলোচনার তো কিছুই নেই। বলা হচ্ছিল পেলের অভিনয়-ক্যারিয়ার নিয়ে। পেলে এখন পর্যন্ত ডজন খানেক টিভি সিরিজ কিংবা রুপালি পর্দায় দর্শন দিয়েছেন। এর মধ্যে তিনি নিজে বারবার উল্লেখ করেন এসকেপ টু ভিক্টরি সিনেমাটির কথা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান বাহিনীর হাতে বন্দীদের ফুটবল খেলে কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার গল্প নিয়ে তৈরি এই সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন সিলভেস্টার স্ট্যালন, পেলে, ববি মুররা।
ফুটবলার থেকে অভিনেতা হয়ে যাওয়া ভিনি জোনস সেই ছবিটা বানাতে চাইছেন নতুন করে। আর সেখানেই পেলে সহ-অভিনেতা হিসেবে চান বেকহামকে, ‘এসকেপ টু ভিক্টরি নতুন করে বানানো হচ্ছে শুনে খুব খুশি হয়েছিলাম। জানি না শেষ পর্যন্ত হবে কিনা, তবে এসকেপ টু ভিক্টরি টু তৈরির জন্য ওরা যে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে, আমি নিশ্চিত। ওই ছবিতে অভিনয় করা আমার জন্য ছিল দারুণ এক অভিজ্ঞতা। এখনো লোকে সেটার কথা বলে। বেকহাম তো খুব ভালো, জনপ্রিয় একজন ফুটবলার। সব মিলে এটা তাই ভালো হবে বলেই মনে হচ্ছে।’
ক্লাসিক ওই ছবিটায় ছোট্ট চরিত্র পেলেও রাজি আছেন পেলে, ‘আমি তৈরি আছি। ওরা আমাকে ডাকলেই আমি হাজির হব।’

আসল সময়ে টস জিতলেন ধোনি

নতুন বছরই কি তবে সৌভাগ্য বয়ে আনল মহেন্দ্র সিং ধোনির জন্য? সর্বশেষ ১৪টির মাত্র ১টিতে জিতেছেন, টস ব্যাপারটা যে অনিশ্চিত কিছু, এই বিশ্বাসটাই হয়তো হারিয়ে ফেলছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক। সবুজাভ উইকেট, মেঘলা আকাশ আর ভেজা বাতাস—টস জয়টা খুব জরুরি ছিল ভারতের জন্য। কী আশ্চর্য, ধোনি জিতলেন!
টসের পরই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আরও বাড়িয়ে দিল ধোনির টস জয়ের গুরুত্ব। খেলা অবশ্য শুরু হয়েছে যথাসময়েই। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনারকে দ্রুত ফিরিয়ে কাঙ্ক্ষিত শুরুটা পেয়েছিল ভারত। এর পরই হাশিম আমলার পাল্টা আক্রমণ। আমলা এবং পরে ডি ভিলিয়ার্সকেও অবশ্য ফিরিয়ে দিয়েছে ভারত। তবে ভারতের বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার আশা জ্যাক ক্যালিস ও রান-খরায় থাকা অ্যাশওয়েল প্রিন্স। বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতার কারণে দুই দফা খেলা বন্ধ ছিল। ৭৪ ওভার খেলা হয়েছে, তাতে ৪ উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ২৩২। বড় কিছুরই ইঙ্গিত ক্যালিসের ব্যাটে, ৮১ রান করে উইকেটে আছেন তিনি। তাঁর সঙ্গী অ্যাশওয়েল প্রিন্স ব্যাট করছেন ২৮ রানে। তবে একটা উইকেটই খুলে দিতে পারে আরও বেশ কিছু উইকেটের দ্বার। সিরিজে এখন পর্যন্ত ভীষণ নড়বড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার লোয়ার অর্ডার।
টস জিতে যখন হাসছেন ধোনি, হাসছেন তখন গ্রায়েম স্মিথও। কারণ? ‘টস হারায় ভালো হয়েছে, বুঝতে পারছিলাম না জিতলে কী করব!’ খেলা শুরুর আধঘণ্টার মধ্যে উধাও সেই হাসি, ব্যক্তিগত লড়াইয়ে যে পিছিয়ে পড়লেন! দীর্ঘদিনের লড়াইটা জহির খানের সঙ্গে। গত টেস্টের প্রথম ইনিংসে জহিরের বলে আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮ বলে ২৪ রান নিয়ে আক্রমণ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন জহিরকে। জহির আবার এগিয়ে গেলেন ২-১-এ, আরও একবার ভেতরে ঢোকা বলে এলবিডব্লু স্মিথ।
সুইং বোলিংয়ের বিপক্ষে শুরুতে সতর্ক আমলা পরে হাত খুলেছেন। আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার সময় রান ছিল ৪৮ বলে ২২, খেলা শুরুর পর ২২ বলে ৩৭! এই অতি-আক্রমণাত্মক মানসিকতারই বলি হয়ে শ্রীশান্তের বাউন্সারে ধরা পড়েছেন সীমানায়। ক্যালিসের সঙ্গে ৫৮ রানের জুটি গড়া ডি ভিলিয়ার্সকেও ফিরিয়েছেন শ্রীশান্ত। আর ক্যালিস-প্রিন্সের পঞ্চম উইকেট জুটিটা অক্ষত ৬৮ রানে। ওয়েবসাইট।

প্রিয় শিকার
সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে ২৩ ইনিংসে এই নিয়ে ১১ বার গ্রায়েম স্মিথকে আউট করলেন জহির খান।

একটি টিকিট চাই তাঁদের

শুধু একটি টিকিট চাই তাঁদের। নিজ দেশে ক্রিকেট বিশ্বকাপ উপভোগের লোভ ছাড়তে চান না তাঁরা কেউই। তাই তো টিকিট সংগ্রহের লক্ষ্যে নাম নিবন্ধনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা। এই অপেক্ষার পালা শেষে কেউ হাসিমুখে বাড়ি ফিরে গেছেন, কেউ বঞ্চিত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এই চিত্র কেবল রাজধানীর নয়, সারা দেশের। এরই কিছু খণ্ডচিত্র তুলে এনেছেন আমাদের প্রতিনিধিরা:
সাতক্ষীরা: নাম নিবন্ধনের আশায় গত শনিবার গভীর রাত থেকে সাতক্ষীরায় সিটি ব্যাংকের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ায় কয়েক শ ক্রীড়ামোদী। অনেক প্রতীক্ষার পর গতকাল রোববার সকাল ১০টা থেকে নাম নিবন্ধনের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে ইন্টারনেটের সার্ভার ঠিকমতো কাজ না করায় প্রথম দিনে শ খানেকের বেশি নাম নিবন্ধন করা সম্ভব হয়নি।
গতকাল রোববার ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শহরের কাটিয়া এলাকার ইদ্রিস আলী, পলাশপোল এলাকার আবদুর রহমানসহ অনেকে জানান, তাঁরা দুপুর দুইটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও নাম নিবন্ধন করাতে পারেননি।
সিটি ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখার ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা না আসায় উদ্বোধনী খেলার টিকিটের জন্য নাম নিবন্ধন করা হয়নি। তবে অন্য খেলা দেখার জন্য টিকিট পেতে নাম নিবন্ধন করা হয়েছে।
নীলফামারী: নাম নিবন্ধন করতে গতকাল ভোর থেকেই উৎসাহী লোকজন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শহরের সবুজপাড়ার মজিদুল হোসেন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজের নাম নিবন্ধন করান। তিনি বলেন, এর আনন্দই অন্য রকম। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলা দেখতে পারব, ভাবতেই দারুণ লাগছে।
মৌলভীবাজার: শনিবার রাত থেকে সিটি ব্যাংকের সামনে আগ্রহী ব্যক্তিদের ভিড় জমে। তারা শুয়ে-বসে রাত পার করে। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয় নাম নিবন্ধনের কাজ। বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত চলে এ কার্যক্রম।
সিটি ব্যাংক মৌলভীবাজার শাখার ব্যবস্থাপক মো. হুমায়ূন কবীর গতকাল জানান, ‘আমরা কম্পিউটারের মাধ্যমে নাম রেজিস্ট্রেশন করে টাকা নিয়ে রসিদ দিয়েছি। রসিদ দেখিয়ে নির্দিষ্ট স্থান থেকে খেলার এক সপ্তাহ আগে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। ব্যবস্থাপক জানান, গতকাল প্রায় ২০০ জনকে রসিদ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
টাঙ্গাইল: সকাল ১০টার দিকে নাম নিবন্ধন শুরু হয়ে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলে। সিটি ব্যাংকের টাঙ্গাইল শাখার ব্যবস্থাপক আনিসুর রহমান জানান, ইন্টারনেটের গতি কম থাকায় নাম নিবন্ধনের কাজে দেরি হয়েছে।
গতকাল ভোর থেকেই টিকিট কিনতে আসা লোকজন ব্যাংকের সামনে লাইনে দাঁড়ায়। উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে ব্যাংকের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীদের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ দায়িত্ব পালন করে। অনেকে অভিযোগ করেছেন, সারা দিন লাইনে দাঁড়িয়েও তাঁরা ব্যাংকে ঢুকতে পারেননি। মওলনা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিজানুর রহমান জানান, লাইন ভেঙে অনেকে ব্যাংকে ঢুকে পড়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।
নারায়ণগঞ্জ: লাইনে টোকেন দেওয়ার পরও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ জন মাত্র ব্যাংকে প্রবেশ করে নাম নিবন্ধন করাতে পেরেছেন। নিবন্ধন করতে না পেরে দুপুর দুইটার দিকে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করে। একপর্যায়ে তারা ব্যাংক লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে ব্যাংকের সামনের কাচ ভেঙে যায়। পরে পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক শরীফুল আজিজ জানান, ইন্টারনেটে ধীরগতি থাকায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে। প্রয়োজনে পুরো জানুয়ারি মাস টিকিট বিক্রি হবে।

‘আমরাও ক্রিকেট খেলতে পারি!’

বড় খেলার মাঠ। চারপাশে দর্শকের ভিড়। স্কুলপড়ুয়া মেয়েরা ক্রিকেট খেলছে। টানটান উত্তেজনা। হঠাৎ চিৎকার শোনা যায়, ‘আউট, আউট’! মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত প্রমীলা ক্রিকেট প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের দৃশ্য এটি। গতকাল বিকেলে স্থানীয় তৈয়বুন্নেছা খানম একাডেমি ডিগ্রি কলেজ মাঠে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, ৪০তম জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা পর্যায়ে শীতকালীন খেলাধুলা-২০১০ এর প্রমীলা ক্রিকেট প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে উপজেলা সদরের জুড়ী উচ্চবিদ্যালয় এবং মক্তদীর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দুটি দল অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে জুড়ী উচ্চবিদ্যালয় ৬৮ রানে জয়লাভ করে। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছে লিজা আক্তার।
লিজা তার প্রতিক্রিয়ায় বলে, ‘আমরাও ছেলেদের মতো ক্রিকেট খেলতে পারি। একটি ওভারে হ্যাটট্রিকসহ মোট চারটি উইকেট পেয়েছি।’
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ এম আসুক বলেন, ‘জুড়ীতে প্রথমবারের মতো প্রমীলা ক্রিকেট প্রতিযোগিতা হলো। মাত্র দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এতে নিবন্ধন করেছে। ছাত্রীদের আগ্রহে আমরা খুবই খুশি হয়েছি। ভবিষ্যতে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীরাও এগিয়ে আসবে আশা করছি।’

টিকিটের পেছনে সারা রাত, তবু মেলেনি অনেকের ভাগ্যে

দেশে প্রথমবারের মতো স্বপ্নের ক্রিকেট বিশ্বকাপ হচ্ছে। এই আয়োজন বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন এক যাত্রাও বটে। তার ওপর নিজের প্রিয় তারকাকে সরাসরি দেখার কৌতূহল তো আছেই। তাই ক্রিকেটামোদীরা বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য নাওয়া-খাওয়া ভুলে ব্যাংকের সামনে গত শনিবার রাত থেকে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন। কনকনে ঠান্ডায় দাঁড়িয়ে রাত জাগার কষ্টও যেন তাঁদের স্পর্শ করতে পারেনি।
শীতের রাতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে সকালে যাঁরা সোনার হরিণের দেখা পেয়েছেন, তাঁদের মুখে যেন রাজ্যজয়ের হাসি। আর যাঁরা পাননি, তাঁদের মুখে রাত জাগার ক্লান্তি আর রাজ্যের হতাশা। আবার ‘তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার সোনার হরিণ চাই’ এমন লোকেরও অভাব নেই। আজ আবার টিকিট সংগ্রহের ‘অভিযানে’ নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রামে সিটি ব্যাংকের চকবাজার, জিইসি মোড়, আন্দরকিল্লা, জুবিলি রোড শাখা ও অগ্রণী ব্যাংকের আগ্রাবাদ করপোরেট শাখার সামনে হাজার হাজার মানুষের ভিড়। আগের দিন রাত থেকে ব্যাংকের সামনে টিকিটের জন্য তাঁদের প্রতীক্ষার শুরু। গতকাল সকালে যখন ব্যাংকের দুয়ার খুলল, তখন তাঁদের মনে আশার ঝিলিক। দীর্ঘ লাইন, টিকিট না-ও পেতে পারেন—এমন আশঙ্কায় লাইনের পেছনের দিকে থাকা লোকজন সারা দিনই হইচই করে গেছেন।
টিকিটবঞ্চিত লোকজনের অভিযোগ, খুব ধীরগতিতে ভেতরে লোক ঢোকানো হয়েছে। তা ছাড়া লাইন না মেনে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় লাইনের বাইরের লোক ঢুকে পড়েছে। লাইনে দাঁড়ানো টিকিটবঞ্চিত লোকজনের অনেকে পরের দিনের জন্য টোকেন দেওয়ার দাবিও তুলেন। অবশ্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁদের এই দাবি মানেনি।
টিকিটবঞ্চিত লোকজনের অভিযোগ প্রসঙ্গে সিটি ব্যাংকের চকবাজারের শাখা ব্যবস্থাপক আবু সেলিম জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, একটি টিকিটের জন্য ফরম পূরণ, ডাটা ইনপুট দেওয়া, সার্ভারে ঢোকাসহ নানা কাজ করতে হয়। লাইনে দাঁড়ানো অনেকেই এটা নিজে করতে পারছেন না।

তিনজনের দুই রকম অভিষেক

দুই দলের ক্রিকেটারদের সম্মানে অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজের একটা ছবি ছাপা হয়েছে সিডনির সান-হেরাল্ড পত্রিকায়। দুজন আছেন ছবিতে। ক্যাপশন—‘একজনের হাতে এই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে কঠিন কাজ, আরেকজন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী।’ অনুমান করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ডের সঙ্গের লোকটি কে? মাইকেল ক্লার্ক!
ছবির ক্যাপশনটাই বলে দিচ্ছে, কেমন চাপে আছেন ক্লার্ক। দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার আজন্ম লালিত স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে, অথচ সেটি উদ্যাপন করার কি উপায় আছে! ২৪ বছর পর দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ হারার শঙ্কা যে চোখ রাঙাচ্ছে। সেটি ঠেকানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েই আজ টেস্ট অধিনায়কত্বে অভিষেক ক্লার্কের, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটেও যাঁর অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা নেই।
টেস্ট অধিনায়ক ক্লার্কের অভিষেক টেস্টে অভিষেক হচ্ছে আরও দুজনের। একজন সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডেই প্রথম ঢুকলেন দুই দিন আগে, এক বছর আগে যাঁর স্বপ্নের পরিধি ছিল প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পর্যন্ত। আরেকজনের জাতীয় দলে আশপাশে ঘোরাঘুরি বছর খানেক ধরেই, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে গড় ৫১.৭০। রিকি পন্টিংয়ের চোট উসমান খাজাকে সুযোগ করে দিচ্ছে টেস্ট খেলার স্বপ্ন পূরণের। মাইকেল বিয়ারের জন্য টেস্ট খেলাটা তো স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু!
অচেনা এই দুজন সিডনিতে চমকে দেবে ইংলিশদের, এমন প্রত্যাশা গোটা অস্ট্রেলিয়ার। তবে ম্যাচের আগেই দুজনের জন্য একটা চমক রেখে দিয়েছেন ক্লার্ক। রিকি পন্টিংয়ের অধিনায়কত্বের সময় ব্যাগি গ্রিন ক্যাপটা অভিষিক্তদের নিজ হাতে তুলে দিতেন পন্টিং। ক্লার্ক ফিরে যাচ্ছেন স্টিভ ওয়াহর যুগে, যখন টেস্ট ক্যাপ তুলে দিতেন সাবেক কোনো অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার। বিয়ারের হাতে শেন ওয়ার্ন ক্যাপ তুলে দেবেন বলে একটা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, তবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নতুন দুই সেনানির অভিষেকের মুহূর্তটাকে স্মরণীয় করতে পুরোটাকেই একটা চমক হিসেবে রেখেছিলেন ক্লার্ক।
তবে ক্লার্কের অধিনায়কত্বের অভিষেকটা স্মরণীয় হবে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। দলের তো বটেই, নিজেরও চলছে চরম দুঃসময়। প্রথম চার টেস্টে ২১.১৪ গড়ে করতে পেরেছেন মাত্র ১৪৮ রান। টেস্ট শুরুর আগের দিন চাপটাকে আরেকটু বাড়িয়ে দিতে ভোলেননি প্রতিপক্ষ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, ‘দীর্ঘ সময়ের জন্য অধিনায়ক হতে হলে ক্লার্ককে আগে রানে ফিরতে হবে।’ তবে ক্লার্কের কিন্তু নিজের সামর্থ্যের ওপর অগাধ বিশ্বাস, ‘আশা করি, কাল (আজ) মাঠে এসে আমি স্রেফ নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেব, নিজের ভাবনামতো কাজ করব। ক্যারিয়ারজুড়ে যাঁরা আমাকে সাহায্য করেছেন, তাঁরা এমনটাই বলেছেন।’
ক্লার্কের প্রচন্ড আস্থা খাজা ও বিয়ারের ওপরও। জন্মভূমি পাকিস্তান ছেড়ে তিন বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসা খাজা ব্যাটিং করবেন পন্টিংয়ের সমার্থক হয়ে দাঁড়ানো তিন নম্বরে। ক্লার্কের কোনো সন্দেহই নেই লম্বা দৌড়ের ঘোড়া তাঁর রাজ্য দলের সতীর্থ, ‘আমি নিশ্চিত উসমান শুধু একটি নয়, আরও অনেক টেস্ট খেলবে।’ খাজা তো তবু ঘরোয়া ক্রিকেটের পরীক্ষিত সৈনিক, কিন্তু বিয়ার তো প্রথম শ্রেণীর ম্যাচই খেলেছেন মাত্র ৭টি! টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েই হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। গত দুই টেস্টে পানি-তোয়ালে টানার পর সিডনির স্পিন-সহায়ক উইকেটই অভিষেকের সুযোগ এনে দিচ্ছে তাঁকে। তবে শুধু টেস্টেই নন, সিডনি মাঠেও অভিষেক হচ্ছে তাঁর! নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বিয়ারকে সাহস দিয়েছেন ক্লার্ক, ‘অভিষেকের আগে আমিও কখনো বেঙ্গালুরু যাইনি, ওই ড্রেসিংরুমে ঢুকিনি, ওই উইকেটে খেলিনি। এটা তাই ভিন্ন কিছু নয়। ওর তো আরও সৌভাগ্য সিডনির ভরা গ্যালারির সামনে অভিষেক হচ্ছে। সিডনির উইকেটে শেষের দিকে নিশ্চিতভাবেই স্পিন ধরবে। আমার তো মনে হচ্ছে ও বড় একটা ভূমিকা রাখবে।’
তবে এটা নিশ্চিত, অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ বাঁচাতে হলে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে ক্লার্ককেই।

ফ্রাঙ্কের কল্যাণে জিতল আবাহনী

ইব্রাহিমের মাপা ক্রসে ফ্রাঙ্কের লক্ষ্যভেদী হেড। গোল...।
দুই আবাহনীর লড়াইয়ে এটিই একমাত্র গোলের দৃশ্য। এই গোলই চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে ৩ পয়েন্ট এনে দিল ঢাকা আবাহনীকে। এ ছাড়া ম্যাচে দৃষ্টিনন্দন আর কিছু নেই।
তবে চট্টগ্রাম আবাহনীর গোল ঠেকানোর লড়াইটা ছিল দেখার মতো। ১০ জন খেলোয়াড়কে রক্ষণে নামিয়ে ‘গোল খাব না’ পণ করে খেলল চট্টগ্রামের দলটি। রক্ষণ তালাবদ্ধ থাকলে গোল করা কঠিন—অন্তত ৪-৫টি গোল করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমে এটিই আবাহনীর সবচেয়ে বড় উপলব্ধি।
জয়ের জন্য একটি গোলই যথেষ্ট হওয়ায় আবাহনীর আসল লক্ষ্য পূরণ হলো। প্রথম ম্যাচে শেখ জামাল ধানমন্ডির সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, দ্বিতীয় ম্যাচে জয়—পেশাদার লিগে টানা চতুর্থ শিরোপা দৌড়ের মিশনে নামা আবাহনী তো এটিই চাইছিল। তবে শুধু জয়েই কি সন্তুষ্ট থাকবে আবাহনী সমর্থকেরা? দলীয় সমন্বয়, গোছানো এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল দেখতে চায় তারা। সেটি কোথায়?
আবাহনীর ইরানি কোচ আলী আকবর পোরমুসলিমির মনে এসব প্রশ্ন না এসে পারে না। অনুশীলনে নিশ্চয়ই এটা নিয়ে কাজ করবেন। তবে সাংবাদিকদের দেওয়ার মতো ব্যাখ্যা তাঁর হাতে ছিল কাল, ‘চট্টগ্রাম আবাহনীর ১০ জনই রক্ষণে খেলেছে। গোল করার মতো জায়গাই পাইনি আমরা। তাই একটির বেশি গোল হয়নি।’ তবে এটা বলার পর ঠিকই যোগ করলেন, ‘গোল আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল।’
বিরতির আগ মুহূর্তে পাওয়া একমাত্র গোল আবাহনী নিশ্চিন্তে ধরে রাখতে পারল প্রতিপক্ষ দুর্বল বলে। আবাহনীর গোলরক্ষক জিয়া অনেকটা নিশ্চিন্তে দলের খেলা দেখেছেন বারের নিচে দাঁড়িয়ে। ৩৪ মিনিট পর্যন্ত বেঞ্চে দর্শক হয়ে ছিলেন স্ট্রাইকার আলফাজও। তবে গোলের জন্য আবদুল্লাহ পারভেজকে তুলে আলফাজকে নামানোর ফলটা আবাহনী পেতে পেতেও পায়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ১-১ অবস্থায় আলফাজ আটকে গেলেন গোলরক্ষকের বাধায়।
ইব্রাহিম মিস করেছেন গোটা চারেক। বরাবরই মিস করেন, এ আর নতুন কী! আবার এটাও ঠিক, এই ইব্রাহিমই গড়েন আবাহনীর খেলাটা। শুধু গড়েন না, গোলও করান। কাল স্বদেশি ফ্রাঙ্ককে দিয়ে যে গোলটা করিয়েছেন, খুব অসাধারণ কিছু না হলেও তাতে বুদ্ধির ছাপ ছিল। মাপা ক্রসে সতীর্থকে দিয়ে হেড করানোর মধ্যে তো একটা চাতুর্য আছেই।
চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে ঢাকা আবাহনী খেলতে নামলে সবাই ধরে নেয়, ঢাকা আবাহনীই জিতবে। চট্টগ্রাম আবাহনী এই পেশাদার লিগে কখনোই যে হারাতে পারেনি বড় আবাহনীকে। তাই বড় আবাহনীর খেলোয়াড়দের মধ্যেও একটা গা-ছাড়া মনোভাব থাকে। কাল যেন সেটাও দেখা গেল, যা পেশাদার ফুটবল লিগে দর্শকশূন্য মাঠে দর্শক ফেরানোর ভালো বিজ্ঞাপন নয়।
ঢাকা আবাহনী: জিয়া, মামুন, সামাদ, সিরাজী, লিংকন, পারভেজ (আলফাজ/আবুল), প্রাণতোষ, উজ্জ্বল, ইব্রাহিম, ফ্রাঙ্ক, আমিনু।
চট্টগ্রাম আবাহনী: জাহাঙ্গীর, আসিফ (রিপন), মাসুদ, ধীমান, শওকত, জমির, পিটার, মোরসালিন, আরাফাত (আমিনুল) তৌহিদ, মনির।
আজকের খেলা: ঢাকা মোহামেডান-ফরাশগঞ্জ (কমলাপুর স্টেডিয়াম, ৪টা); চট্টগ্রাম মোহামেডান-শেখ রাসেল (কক্সবাজার স্টেডিয়াম, ২-৩০ মি.)।

একটি টিকিটের জন্য

সিটি ব্যাংকের নিউমার্কেট শাখার ভেতর থেকে প্রায় লাফিয়ে রাস্তায় নেমে এলেন এক তরুণ। তাঁকে ঘিরে পরিচিতজনের উল্লাস, হাতের কাগজটি উঁচিয়ে ধরা তরুণের উল্লাস, ‘বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে গেছি!’ পাশে দাঁড়ানো পুলিশ সদস্য ভালো করে সেই কাগজটি দেখে সে কী হাসি! ‘টিকিট কই, এটা তো স্লিপ...!’
কাল থেকে আসলে স্লিপই বিক্রি শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ টিকিটের। এই স্লিপ দেখিয়ে টিকিট নিতে হবে ম্যাচের এক সপ্তাহ আগে। সন্দেহ নেই, স্লিপের মতো টিকিট নিতেও কম গলদঘর্ম হতে হবে না দর্শকদের। তাতে কী! স্লিপ নিয়ে টিকিট পাওয়ার নিশ্চয়তা তো পাওয়া গেল! সোনার হরিণ ধরার উল্লাস করা-ই যায়।
হরিষে বিষাদও কম নেই। ঢাকার টিকিট কাউন্টারগুলোয় কাল ‘বিশ্বকাপ জয়ের’ উল্লাস যেমন দেখা গেছে, ছিল বিশৃঙ্খলা, হুড়োহুড়ি, পুলিশি অ্যাকশন আর ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে নেতিয়ে পড়া মানুষও। নিউমার্কেট শাখায় তো এসব ঝামেলায় সকাল ১০টার জায়গায় এখানে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে সোয়া ১১টায়।
তাতে মানুষের অপেক্ষা বেড়েছে, বেড়েছে ভোগান্তি। কিন্তু ‘একটি টিকিটের গল্পে’র শেষটা হয়ে গেছে মধুর। শ্লথ টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়ায় ত্যক্তবিরক্ত মুখগুলোর মধ্যেই হঠাৎ আলোর ঝলকানি হয়ে বেরিয়ে এসেছে নিউমার্কেট শাখা থেকে প্রায় উড়ে বেরিয়ে আসা ওই তরুণের মতো কোনো আত্মহারা মুখ। তার পরও দুঃখের কথাটাই আগে শুনুন। মিরপুর দারুসসালাম শাখার সামনে আগের রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল মিরপুর বাঙলা কলেজের ছাত্র রাশেদুল ইসলাম। কিন্তু কাল বুথের খুব কাছাকাছি যাওয়ার পর ধাক্কাধাক্কিতে বেচারাকে ফিরতে হয়েছে টিকিট ছাড়াই।
কিংবা কারওয়ানবাজার শাখার সামনে বিমর্ষ সোহাগের কথা। সকালবেলা লাইনে থেকেও পরে লাইনচ্যুত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র বন্ধুদের নিয়ে মন খারাপ করে বসেছিলেন সড়ক বিভাজনের ওপর। আশা যদি আবার লাইনে ঢোকা যায়। সোহাগ-রাশেদুলরা মনের দুঃখ হজম করে গেলেও যাঁরা সিটি ব্যাংকের উত্তরা শাখায় টিকিট কিনতে গিয়েছিলেন, তাঁরা সেটাও পারেননি। বিক্রির গতি ধীর হওয়ায় ক্ষুব্ধ দর্শকেরা ভাঙচুর করেছে ব্যাংক কার্যালয়। হুড়োহুড়িতে চিড়েচ্যাপ্টা হয়ে নিজের জায়গা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন জুয়েল নামের এক নাট্যশিল্পী। টিকিট পাওয়ার আশা বাদ দিয়ে বেচারা জুয়েল দূরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন দীর্ঘ লাইন, হতাশা নিয়ে নিজেকেই নিজে জিজ্ঞেস করছিলেন, ‘এভাবে কি সম্ভব...?’
এই কাউন্টারেই খুঁজে পাওয়া গেল ‘বুদ্ধিমান বালক’ নাঈমকে। ছেলেদের লাইনটা অনেক লম্বা দেখে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের এই তরুণ বাসায় গিয়ে মাকে নিয়ে এসেছেন কাউন্টারে। নাঈমের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা তাতেই উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, কারণ ছেলেদের লাইনের তুলনায় মেয়েদের লাইনটা বেশ ছোট। তবে ক্যান্টনমেন্ট থেকে আসা মারিয়া রহমান নাঈমের মায়ের তিন-চারজন সামনে দাঁড়িয়েও টেনশনে ছিলেন, ‘দুটি টিকিট কেনার আশা নিয়ে এসেছি। এক ঘণ্টা হলো দাঁড়িয়ে আছি। বুঝতে পারছি না কী হবে...।’
অপেক্ষার ক্লান্তি ছাড়া সিটি ব্যাংকের ধানমন্ডি ও বনানী শাখার দর্শকেরা মোটামুটি নির্ঝঞ্ঝাট ছিলেন। বাংলাদেশ দলের সমর্থকগোষ্ঠী ‘দৌড়া বাঘ আইলো’ ছিল ধানমন্ডির দর্শকসারির নেতৃত্বে। লাইনের প্রথম ৫০ জনই নাকি ছিল এই গোষ্ঠীর সদস্য! তারা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায়। খাওয়া-দাওয়া বলতে চা-বিস্কুট এবং সেটাও কোনো ‘ফুটওয়ার্ক’ ছাড়া, জায়গায় দাঁড়িয়ে। শুধু টয়লেটের জন্য কাউকে ‘প্রক্সি’ দাঁড় করিয়ে যেতে হয়েছে এদিক-সেদিক।
আরিফুল ইসলাম ডকুমেন্টারি ফিল্ম বানান। সিটি ব্যাংকের বনানী শাখায় টিকিট কিনতে গিয়ে তিনি নিজেই হয়ে গেছেন ডকুমেন্টারির বিষয়! ক্লান্ত ডান পা-টাকে একটু ঝাড়া দিয়ে বললেন, ‘কাল (পরশু) রাত ১০টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এই দেশে এর আগে আর কোনো কিছুতেই এত নাজেহাল হইনি, যা হচ্ছি বিশ্বকাপের টিকিট কিনতে এসে।’ তবে এখানে পরিস্থিতি সামলাতে বিশেষ কৌশলী হলেন গুলশান থানার এক এসআই। ভদ্রলোক রসিক, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রসিকতায় মাতিয়ে রাখছিলেন চারপাশ। সবার মনটাকে যদি ক্ষণিকের জন্য হলেও অন্যদিকে ঘুরিয়ে রাখা যায়!
মৌচাকে আর একটু হলে নিখোঁজ সংবাদের মাইকিং শুনতেন টিকিট কিনতে আসারা। মশিউর রহমান নামে এক তরুণকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল তাঁর ভাই। পরে জানা গেল সিটি ব্যাংকের মৌচাক শাখায় মৌমাছির মতো ভিড় দেখে মশিউর রহমান টিকিট কাটতে চলে গেছেন বনানী শাখায়।
মশিউর শেষ পর্যন্ত সোনার হরিণের দেখা পেয়েছেন কিনা কে জানে, তবে বিশ্বকাপ আপাতত বাংলাদেশে ঘুম কেড়ে নেওয়া বিষয়।

প্রথমদিনটি দক্ষিণ আফ্রিকারই: আমলা

দক্ষিণ আফিকার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টেস্টে অবশেষে টস জেতার সৌভাগ্য হয়েছে ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির। আর তারপর কেপটাউনের বোলিং সহায়ক উইকেটে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিতে একটুও দেরি করেন নি তিনি। মাত্র ৩৪ রানের মধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দিয়ে শুরুটাও ভালোভাবেই করেছেন ভারতীয় বোলাররা। খুব বেশি বিপদজনক হয়ে ওঠার আগেই হাশিম আমলা আর ডি ভিলিয়ার্সকেও সাজঘরে পাঠিয়ে দিয়েছেন শ্রীশান্ত। কিন্তু ব্যাট হাতে আবার সফরকারীদের উপরে চড়াও হয়েছেন জ্যাক ক্যালিস। পঞ্চম উইকেট জুটিতে অ্যাশওয়েল প্রিন্সকে নিয়ে ৬৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দিন শেষ করেছেন তিনি। অপরাজিত আছেন ৮১ রানে। তাই ১৬৪ রানে চার উইকেট হারানোর পরও হাশিম আমলা জোর দিয়েই বলতে পারছেন, প্রথম দিন শেষে ভারতের তুলনায় দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থানই শক্ত।
প্রথম দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে আমলা বলেছেন, ‘চার উইকেট হারানোটা অবশ্যই ভালো ব্যাপার না। কিন্তু এরকম বোলিং সহায়ক উইকেট ও মেঘাচ্ছন্ন কন্ডিশনের বিবেচনায় আমরা ভালো অবস্থানেই আছি। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমরা অবশ্য আমাদের কৌশল নিয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু আলোচনা করি নি। এই সময়টা ব্যাটসম্যানদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমি আশা করছি রোদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটসম্যানরা উইকেট থেকে বেশ ভালোই সুবিধা পাবে।’

‘বিদায়’ বলার সময় এসেছে: কলিংউড

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড শিরোপা জিতেছে তাঁরই অধিনায়কত্বে। এখনো ইংলিশদের ওয়ানডে দল তাঁকে বাদ দিয়ে চিন্তা করা যায় না। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে বছরখানেক ধরেই সময়টা একদমই ভালো যাচ্ছে না পল কলিংউডের। পুরো অ্যাশেজে চারটি টেস্ট খেলেও এখন পর্যন্ত বলার মতো কিছুই করতে পারেননি তিনি। তাই নিজের ওপর হতাশ, সমালোচনায় বিদ্ধ কলিংউড অবসরের কথাটা ভাবছেন বেশ জোরের সঙ্গেই।
আজ সোমবার সিডনিতে অ্যাশেজ সিরিজের শেষ টেস্ট শুরু হয়েছে। গতকাল অস্ট্রেলিয়ার ‘মেইল অন সানডে’ পত্রিকাকে কলিংউড জানিয়েছেন, সিডনিতে হয়তো এবারই শেষবারের মতো টেস্ট খেলতে নামবেন তিনি।
ব্যাপারটি পুরোপুরি নিশ্চিত করেননি তিনি। সিডনি টেস্টই তাঁর শেষ টেস্ট কি না, সাংবাদিকেরা তা জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কলিংউড সে ব্যাপারে কোনো কিছু খোলাসা না করেই জানিয়েছেন, তাঁর ফর্মের যে অবস্থা তাতে তিনি তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের ক্রান্তিলগ্নেই দাঁড়িয়ে আছেন। সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে সিডনি টেস্টই তাঁর শেষ টেস্ট হওয়ার।
২০০৫ সালে নিজ দেশের মাটিতে অ্যাশেজ জয়ের অন্যতম নায়ক কলিংউড ২০০৬ সালে অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই করেছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি। এরপর থেকে গত চার বছর ধরেই বারবার নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন তিনি। টেস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে চার বছরের ফর্মহীনতার কারণে কলিংউড নিজেও যথেষ্টই বিব্রত। তাঁর বিব্রত হওয়ার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন সাবেক সতীর্থ অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ। ইংল্যান্ডের সাবেক এই অলরাউন্ডার অবিলম্বে কলিংউডকে ইংলিশ টেস্ট দল থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
‘টেস্টে আমার ব্যাটিং ফর্মের অবস্থা অনেক দিন ধরেই খুব খারাপ। মেলবোর্ন টেস্টকে অগ্নিপরীক্ষা হিসেবেই নিয়েছিলাম আমি। কিন্তু তাতেও ব্যর্থ হওয়ার আমার টেস্ট ক্যারিয়ারই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।’ মেইল অন সানডেতে কলিংউড এভাবেই নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নের কথা জানিয়েছেন।
তবে এত কিছুর পরও নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে দারুণ গর্বিত কলিংউড। তিনি বলেছেন, ‘সিডনি টেস্টের পরে যদি নির্বাচকেরা আমাকে ডেকে বিদায়ের কথা বলে দেন, তার পরও বলব, ইংলিশ ক্রিকেটে আমার অবদান নেহায়েত্ই কম নয়।’
তিনটি অ্যাশেজ বিজয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেওয়া কলিংউড জোর গলায় বলতেই পারেন নিজের অবদানের কথা।

রাজনৈতিক আলোচনা- গণতান্ত্রিক বিকাশের পথে বাধা অনেক by ড. ইশা মোহাম্মদ

বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় বারবার। '৪৭-এর পর ধরে নেয়া হয়েছিল গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেশ বানাবে রাজনৈতিক নেতারা। সমাজতন্ত্র না গণতন্ত্র কোন্টি হবে জাতিগঠন প্রক্রিয়া। নাকি আদ্যিকালের আসন্ন তন্ত্র? হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদর্ী একবার বলেছিলেন কোনটিই চলবে না। না সমাজতন্ত্র না গণতন্ত্র। এ দেশের মানুষ কোনটির জন্যই প্রস্তুত নয়। তবে মন্দের ভাল হবে গণতন্ত্র।

নিবন্ধ- কপাটে তালা দিয়ে কেন এই মৃতু্যর আয়োজন by ফিরোজ আহমদ

রেকটি ভয়াবহ অগি্নকাণ্ডের ঘটনায় হা-মীম গার্মেন্টর ২৬ জন নারী-পুরুষ শ্রমিককে অসহায়ভাবে প্রাণ দিতে হল, যাতে আহত হয়েছে শতাধিক। '৮০'র দশকে গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত সংঘটিত অগি্নকাণ্ডের ঘটনায় সহসরীহ শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছে। সবচেয়ে হূদয়বিদারক হল সেই দৃশ্য যেখানে কারখানার বিভিন্ন ফ্লোরে আগুন লাগার পরে ধোঁয়া, তাপ, আগুন থেকে বাঁচার জন্য শ্রমিকরা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা চালানোর সময় যখন দেখতে পায় বের হওয়ার সব দরজা বা কোলাপসিবল গেটে তালা লাগানো।