Thursday, January 29, 2026

‘রাজনীতি নির্মূল হওয়া উচিত, কারণ এটি মানবতার জন্য ক্ষতিকর’ -সাকলায়েন মুশতাক

খেলাধুলায় রাজনীতি মেশানো ঠিক নয়—পুরোনো কথাটিই নতুন করে বললেন সাকলায়েন মুশতাক। বাংলাদেশের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলা নিয়ে যখন ক্রিকেট বিশ্ব তোলপাড়, সেই সময়ে প্রসঙ্গটা তুললেন পাকিস্তানের সাবেক অফ স্পিনার। তবে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে নয়, ভারত–পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়েই রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করলেন বাংলাদেশের সাবেক স্পিন বোলিং কোচ।

সাকলায়েনের মতে, রাজনীতি শুধু ক্রিকেটের জন্যই নয়, মানবতার জন্যও ক্ষতিকর। তিনি বলেছেন ক্রিকেটের কাজ দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়া, বিভাজন তৈরি করা নয়।

ভারত ও পাকিস্তান সর্বশেষ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছে ২০১২–১৩ মৌসুমে। সে সময় ভারত সফরে গিয়েছিল পাকিস্তান। তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিল দুই দল। টি-টুয়েন্টি সিরিজটি ১–১ সমতায় শেষ হলেও ওয়ানডে সিরিজ ২–১ ব্যবধানে জিতেছিল পাকিস্তান। এর পর থেকে মহাদেশীয় ও বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট ছাড়া আর ক্রিকেট মাঠে দেখা হয়নি দুই দলের।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সাকলায়েন বলেন, ‘আমি মনে করি রাজনীতি নির্মূল হওয়া উচিত, কারণ এটি মানবতার জন্য ক্ষতিকর। রাজনীতি আমাদের শত্রু। এটি শুধু ক্রিকেট নয়, পুরো মানবসমাজকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ক্রিকেটের উদ্দেশ্য দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য তৈরি করা, দূরত্ব বাড়ানো নয়।’

সাকলায়েনের মতে, রাজনীতি কিংবা সংঘাত নয়, ক্রিকেট শুধু বিনোদনের মাধ্যমই হওয়া উচিত। বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না থাকা নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি সাকলায়েন, ‘ক্রিকেট মানে বিনোদন। এটি কোনো যুদ্ধ বা যুদ্ধক্ষেত্র নয়। বাংলাদেশের ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। আমি তো আগেই স্পষ্ট করে বলেছি আমি রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।’

 সাকলায়েন মুশতাক
সাকলায়েন মুশতাক। ছবি: শামসুল হক

পশ্চিম তীরে ইতালীয় পুলিশকে বন্দুকের মুখে হুমকি, ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল ইতালি

অধিকৃত পশ্চিম তীরে দায়িত্ব পালনকালে দুই ইতালীয় সামরিক পুলিশকে বন্দুকের মুখে হুমকি দেয়ার ঘটনায় ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইতালি। সোমবার ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার পশ্চিম তীরের রামাল্লার কাছে একটি গ্রামে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের সম্ভাব্য সফরের আগে স্থান পরিদর্শনে গেলে দুই ইতালীয় সামরিক পুলিশকে এক সশস্ত্র ইসরাইলি ব্যক্তি থামিয়ে দেয়। সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি- যাকে একজন ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই পুলিশ সদস্যকে বন্দুকের মুখে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

ঘটনার সময় ইতালীয় পুলিশ সদস্যরা কূটনৈতিক নম্বরপ্লেটযুক্ত গাড়িতে ছিলেন এবং তাদের কাছে কূটনৈতিক পাসপোর্টও ছিল।

ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি এ ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর উল্লেখ করে রোমে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতের কাছে কঠোর প্রতিবাদ জানাতে নির্দেশ দেন। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইতিমধ্যে ইসরাইলে অবস্থিত ইতালির দূতাবাস ইসরাইলি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

ঘটনার পর দুই ইতালীয় সামরিক পুলিশ নিরাপদে জেরুজালেমে অবস্থিত ইতালির কনসুলেট জেনারেলে ফিরে যান বলে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় তারা শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছেন।

এই ঘটনা পশ্চিম তীরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক নিরাপত্তা ও বিদেশি প্রতিনিধিদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: রয়টার্স।

mzamin

হামলার আশঙ্কা: ইরান অভিমুখে আরও মার্কিন নৌবহর

* পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর ওই অঞ্চলে পৌঁছেছে।

* ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে কোনো দেশকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না রিয়াদ।

ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, কয়েক দিন ধরেই এমন জল্পনা–কল্পনা চলছে। এর মধ্যে গত সোমবার মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরিসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। এবার ইরান অভিমুখে আরও নৌবহর পাঠানোর কথা জানিয়েছে তারা। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে সামরিক মহড়া চালানোরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার এক ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আরও একটি সুসজ্জিত নৌবহর ইরানের পথে আছে। আমি আশা করছি, তারা (ইরান) সমঝোতা করতে রাজি হবে।’

ট্রাম্পের এমন হুমকিকে পাত্তা দিচ্ছে না ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গতকাল বুধবার বলেছেন, ইরানকে হুমকি দিলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সামরিক হুমকি দিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো কোনো ফলপ্রসূ উপায় হতে পারে না। যদি তারা আলোচনায় বসতেই চায়, তাহলে হুমকি ও অযৌক্তিক প্রসঙ্গ তোলা বাদ দিতে হবে।

গার্ডিয়ান–এর খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বিমানবাহিনীর শাখা এয়ারফোর্সেস সেন্ট্রাল গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রস্তুতি সামরিক মহড়া চালাবে। কয়েক দিন চলবে এই মহড়া। সেন্টকমের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় যুদ্ধবিমান মোতায়েন ও সক্ষমতা প্রদর্শন করা এ মহড়ার উদ্দেশ্য। আঞ্চলিক অংশীদারত্ব জোরদার করা ও নমনীয় হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিতে মহড়ার নকশা করা হয়েছে।

তবে মহড়ার দিন–তারিখ, স্থান ও কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে, তার কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা দেখানোর উদ্দেশ্যে মহড়াটি সাজানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

গত সোমবার সেন্টকম জানিয়েছে, পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর ওই অঞ্চলে পৌঁছেছে। কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও প্রায় ৫ হাজার নাবিক বহনকারী এই বিমানবাহী রণতরিতে একাধিক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ডেস্ট্রয়ার রয়েছে। যেকোনো হামলা থেকে নৌবহরকে সুরক্ষা দিতে এই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়।

ইরানে হামলায় আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না সৌদি আরব


ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে কোনো দেশকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না রিয়াদ। সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এক ফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ এমন তথ্য দিয়েছে।

ফোনালাপে সৌদি যুবরাজ বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য মেটানোর যেকোনো উদ্যোগকে সৌদি আরব সমর্থন করে। সৌদি আরবের যুবরাজের আশ্বাসের আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছে। তারাও বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা তাদের আকাশসীমা বা আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহার করতে দেবে না।

ইরানে বেশ কিছুদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এসব বিক্ষোভ দমনে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে পথচারীরাও ছিলেন। সংগঠনগুলোর মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে শিয়া ধর্মীয় নেতারা ক্ষমতায় আসার পর থেকে এটিই সবচেয়ে বড় দমন-পীড়নের ঘটনা। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতা ও প্রাণহানির জন্য বিদেশে থাকা বিরোধীদের সমর্থনপুষ্ট ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজদের’ দায়ী করেছে।

রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে
রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। ছবি: এপি

এক বছরে ১৭ লাখ শিশুর জন্ম অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে

গত বছর দেশে প্রায় ১৭ লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে। একটি হিসাব বলছে, অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। আন্তরিকতার অভাব ও সরকারি নজরদারির ঘাটতির কারণে দেশে সন্তান জন্মদানে অস্ত্রোপচার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

গতকাল বুধবার অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার কমানো বিষয়ে একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ কথা বলা হয়। ‘রিডিউসিং আননেসেসারি সিজারিয়ান সেকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতাল (এডব্লিউসিএইচ)। এতে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি এটি কমানোর বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়।

সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাঈদুর রহমান বলেন, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অনেক গাফিলতি আছে। দেশে শিশুজন্মে অস্ত্রোপচার অনেক বেশি হচ্ছে। ফলে মায়েরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। বাস্তবতা হলো দেশে এখন আর স্বাভাবিক প্রসব নেই বললেই চলে।

সভায় গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক আনজুমান আরা। তিনি বলেন, বৈশ্বিকভাবে ৫টি শিশুর জন্মের মধ্যে ১টির জন্ম হচ্ছে অস্ত্রোপচারে (প্রায় ২১ শতাংশ)। বাংলাদেশে এই হার অনেক বেশি। এখানে প্রতি ২টি শিশুর জন্মের মধ্যে প্রায় ১টি শিশুর জন্ম হয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে (প্রায় ৪৫-৫২ শতাংশ)। বেসরকারি হাসপাতালগুলো এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সেখানে প্রতি ১০টি শিশুর জন্মের মধ্যে প্রায় ৮-৯টিই হচ্ছে অস্ত্রোপচারে (৮৫-৯০ শতাংশ)। অধ্যাপক আনজুমান আরা বলেন, গত বছর (২০২৫ সালে) দেশে প্রায় ৩৫ লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৬ লাখ ৮০ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে।

২০১৮ সালের এক গবেষণার উল্লেখ করে আনজুমান আরা বলেন, বছরে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের কারণে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। দেশের বেসরকারি মাতৃসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ৭০ শতাংশের বেশি পর্যাপ্ত তদারকি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় জনবল, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা বা মানসম্মত লেবার রুম (প্রসবকক্ষ) নেই। ফলে আর্থিক লাভকে অগ্রাধিকার দিয়ে অস্ত্রোপচারকে সহজ সমাধান হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে দেওয়া কাগজপত্রে দেখা যায়, ১৯৯৯ সালে হাসপাতালে সন্তান প্রসবের ৩০ শতাংশ হতো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে। ২০০৭ সালে এই হার ৫১ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৬৯ শতাংশে পৌঁছায়। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, জরুরি পদক্ষেপ না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে হাসপাতালে সন্তান প্রসবের ৯০ শতাংশই হবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে।

আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের ধাত্রীবিদ্যা ও স্ত্রীরোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ফেরদৌসী বেগম বলেন, স্বাভাবিক প্রসবকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ও যন্ত্রণাদায়ক হিসেবে উপস্থাপন করায় গর্ভধারিণী মায়েদের মধ্যে অযৌক্তিক ভয় তৈরি হয়। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে মায়েরা মারা যেতেন অস্ত্রোপচার না করার জন্য, আর এখন অতিরিক্ত অস্ত্রোপচারে করার জন্য তাঁরা মারা যাচ্ছেন।

কেউই সময় দিতে চান না

আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের শিশুরোগ বিভাগের চিকিৎসক ও গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক খুরশীদ তালুকদার বলেন, স্বাভাবিক প্রসবে সময় লাগে। কিন্তু অধিকাংশ রোগী ও চিকিৎসক এই স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে চান না। প্রচলিত একটি ভুল ধারণা খণ্ডন করে তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন, স্বাভাবিক প্রসবের কারণে শিশুর মস্তিষ্কে ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু প্রসব-পূর্ব সেবা যথাযথ না হওয়ার কারণে নবজাতকের মস্তিষ্কে ক্ষতির প্রায় ৭০ শতাংশই ঘটে প্রসবের আগে। আর প্রসবকালীন সমস্যার কারণে মস্তিষ্কের ক্ষতি হয় ১০ শতাংশেরও কম।

স্বাভাবিক প্রসবের গুরুত্ব তুলে ধরে খুরশীদ তালুকদার বলেন, এই প্রক্রিয়া শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের শরীরের উপকারী জীবাণু বা মাইক্রোবায়োম শিশুর শরীরে স্থানান্তরের প্রধান মাধ্যম হলো স্বাভাবিক প্রসব এবং এতে জন্মের পরপরই মায়ের সঙ্গে শিশুর ‘স্কিন-টু-স্কিন’ কন্ট্যাক্ট ঘটে। অস্ত্রোপচারে জন্ম নেওয়া শিশুরা এই মৌলিক অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রসবের হার ছিল ৬২ থেকে ৭২ শতাংশ। এরপর সেখানে প্রসব-পূর্ব কাউন্সেলিং, রোবসন শ্রেণিবিন্যাস, লেবার মনিটরিং, কনসালট্যান্ট অডিট এবং আগের সিজারিয়ানের পর স্বাভাবিক প্রসব (ভিএবিসি) পদ্ধতি চালু করা হয়। এর ফলে হাসপাতালটিতে অস্ত্রোপচারে সন্তান প্রসবের হার ৪২ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। অবশ্য ২০২২-২৩ সালে গেটস ফাউন্ডেশনের সহায়তায় আটটি প্রতিষ্ঠানে এই মডেল সম্প্রসারণ করা হলেও আশানুরূপ সাফল্য পাওয়া যায়নি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. আবু জাফর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের (এডব্লিউসিএইচ) চিকিৎসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন আহমেদ।

এক বছরে ১৭ লাখ শিশুর জন্ম 
অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে
প্রতীকী ছবি

আইসিজেতে শুনানিতে গাম্বিয়া: রোহিঙ্গাদের জীবন বিভীষিকাময় করে তুলেছে মিয়ানমার

প্রকাশ ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ঃ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগে জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা গাম্বিয়ার মামলাটির পূর্ণাঙ্গ শুনানি গতকাল সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। এতে আফ্রিকার দেশটি অভিযোগ করেছে, সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের নির্মূল করার লক্ষ্যে তাঁদের জীবনকে বিভীষিকাময় করে তুলেছে মিয়ানমার।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলাটি করে। মামলাটির এ শুনানি বিশেষ কারণে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, গত এক দশকের বেশি সময়ে জাতিগত নিধনের (জেনোসাইড) অভিযোগে প্রথম মামলা হিসেবে এটির প্রথম পূর্ণাঙ্গ শুনানি হচ্ছে। তাই এ মামলার রায়ের প্রভাব শুধু মিয়ানমারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং অন্যান্য দেশের ওপরও পড়তে পারে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা জাতিগত নিধন মামলার ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাম্বিয়ার আইন ও বিচারমন্ত্রী দাউদা জ্যালো গতকাল আইসিজের শুনানিতে বলেন, রোহিঙ্গারা ‘সহজ–সরল মানুষ। তাঁরা শান্তি ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখতেন। ধ্বংস করার জন্য তাঁদের নিশানা করা হয়েছে। মিয়ানমার তাঁদের স্বপ্নকে শুধু অস্বীকার করেনি, বরং তাঁদের জীবনকে বিভীষিকাময় করে তুলেছে। তাঁরা এমন নৃশংস সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছেন, যা কল্পনাতীত।’

২০১৯ সালে মামলাটি করার পর প্রাথমিক শুনানিতেই মিয়ানমার সব অভিযোগ অস্বীকার করে। তখন মামলার অভিযোগে গাম্বিয়া বলেছিল, মিয়ানমার নিজেদের রাখাইন রাজ্যের প্রত্যন্ত পশ্চিমাঞ্চলের প্রধানত মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন চালিয়েছে।

আইসিজেতে মামলা হওয়ার দুই বছর আগে ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা চালায়। নির্বিচার হামলার মুখে অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ, ব্যাপক ধর্ষণ এবং তাঁদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। জাতিসংঘের সত্যানুসন্ধানী দলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযানে ‘জাতিগত নিধনের মতো ঘটনা’ ঘটেছে।

গাম্বিয়াকে আইসিজেতে মামলা করতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ৫৭ দেশের জোট ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) সহযোগিতা করেছে। মামলাটির প্রাথমিক শুনানিতে অংশ নিয়ে মিয়ানমারের তৎকালীন নেত্রী অং সান সু চি গাম্বিয়ার জাতিগত নিধনের অভিযোগকে ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে আইসিজে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করেন। ২০২২ সালের জুলাইয়ে জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতটি মিয়ানমারের ‘প্রাথমিক আপত্তি’ খারিজ করে দেন।

চলমান শুনানি ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৪ কার্যদিবস চলবে। এতে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের কথা শোনা হবে। তবে সংবেদনশীলতা ও গোপনীয়তার কারণে এসব সেশনে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত থাকতে পারবেন না।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-01-13%2Fv3dj2sk4%2FUntitled-1.jpg?rect=34%2C0%2C359%2C239&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। ফাইল ছবি

বিশ্বে প্রথম স্বর্ণের সড়ক নির্মাণ করবে দুবাই

বিশ্বে প্রথমবারের মতো স্বর্ণ দিয়ে সড়ক নির্মাণের সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই। ‘গোল্ড স্ট্রিট’ নামে পরিচিত এই ব্যতিক্রমধর্মী সড়কটি নির্মিত হবে দুবাইয়ের নতুন গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে। প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন সংস্থা ইথরা দুবাই। এ খবর দিয়েছে খালিজ টাইমস।

এতে বলা হয়, প্রকল্পটির বিস্তারিত তথ্য ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে। ‘দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট’-কে অভিহিত করা হচ্ছে আমিরাতের নতুন ‘হোম অব গোল্ড’ হিসেবে। এখানে স্বর্ণ ও গয়না-সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম এক ছাতার নিচে আনা হবে। এর মধ্যে খুচরা বিক্রি, পাইকারি ব্যবসা এবং বিনিয়োগ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এই জেলায় ইতিমধ্যে এক হাজারের বেশি খুচরা বিক্রেতা ব্যবসা পরিচালনা করছে, যেখানে স্বর্ণ ও গয়নার পাশাপাশি পারফিউম, কসমেটিকস ও লাইফস্টাইল পণ্যও রয়েছে।
জাওহারা জুয়েলারি, মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস, আল রোমাইযান ও তানিষ্ক জুয়েলারির মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ইতিমধ্যেই সেখানে তাদের ফ্ল্যাগশিপ শোরুম স্থাপন করেছে। এ ছাড়া জয়ালুক্কাস মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সবচেয়ে বড়-২৪ হাজার বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাগশিপ স্টোর চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ৫৩ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের স্বর্ণ রপ্তানি করেছে। দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত, হংকং ও তুরস্ক। এই সময়ে আমিরাত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভৌত স্বর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।

mzamin

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বড় অংশ অতিদরিদ্র

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি বড় অংশ বর্তমানে অতি দারিদ্র্য বলে জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী গবেষণা সংস্থা জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশন (জেআরএফ)। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের দারিদ্রতা আগের তুলনায় আরও গভীর হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে ৬৮ লাখ মানুষ অতিদরিদ্রতার মধ্যে বসবাস করছেন। যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এতে বলা হয়, জেআরএফ-এর তথ্যানুযায়ী যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা দারিদ্র্যের সবচেয়ে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীগুলোর একটি। কম আয়ের চাকরি, বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সংকট ও সামাজিক বৈষম্যের কারণে তাদের বড় অংশ ‘অতিদরিদ্র’ অবস্থায় বসবাস করছে।

সংস্থাটি বলছে, ‘অতি দারিদ্র্য’ বলতে আবাসন ব্যয় বাদ দেয়ার পর যেসব পরিবারের আয় যুক্তরাজ্যের মধ্যম আয়ের ৪০ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তাদের বোঝানো হয়। বর্তমানে বৃটেনে প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ এই ক্যাটাগরিতে রয়েছেন। যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সংস্থাটি বলেছে, দারিদ্রতার সবচেয়ে বড় শিকার শিশুরা। এরপর রয়েছেন শারীরিক প্রতিবন্ধীরা। অপরদিকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের মধ্যে দারিদ্রতার হার খুবই বেশি।

এছাড়া শিশু দারিদ্রতার হারও বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ শিশু দারিদ্রতার মধ্যে বড় হচ্ছে। গত তিন বছর টানা দরিদ্র শিশুর সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৭ সালে বৃটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিম্নআয়ের যেসব পরিবার দুই সন্তানের বেশি সন্তান নেবে তারা সরকারি সামাজিক সুরক্ষা সহায়তা পাবে না। তবে গত এপ্রিলে এই নিয়ম বাতিল করেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী রাখায়েল রিভিস।

mzamin

কাঠ কুড়াতে গিয়ে ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ঃ শীতকালে উষ্ণতার জন্য দরকার আগুন। সেই আগুনের জ্বালানি কাঠ কুড়াতে বের হয়েছিল গাজার দুই শিশু। উত্তর গাজায় একই পরিবারের এই দুই শিশুর জীবন থেমে গেছে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায়।

স্থানীয় চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, কামাল আদওয়ান হাসপাতালের কাছাকাছি এলাকায় জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করছিল তারা। ঠিক সেই সময় বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালায় একটি ইসরায়েলি ড্রোন। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় শিশু দুটি। হামলাটি ঘটে এমন এক সময়ে, যখন প্রতিদিন যুদ্ধবিরতির কথা বলা হচ্ছে। অথচ বাস্তবে প্রতিদিনই সেই যুদ্ধবিরতি ভাঙছে।

এবার গাজায় বেশ শীত পড়েছে। রাতের তাপমাত্রা নেমে যাচ্ছে প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বিদ্যুৎ নেই, জ্বালানি নেই। ফলে বহু পরিবার বাধ্য হয়ে কাঠ, ভাঙা আসবাব কিংবা যা কিছু পাওয়া যায় তাই খুঁজতে বের হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই, সেগুলো জ্বালিয়ে সামান্য তাপ পাওয়া। কারণ, পাতলা ক্যানভাস আর অস্থায়ী তাঁবুগুলো ঠান্ডা বাতাস আর বৃষ্টি ঠেকাতে পারে না।

এই সংকট আরও গভীর হয়েছে জরুরি সহায়তা প্রবেশে কড়াকড়ির কারণে। ইসরায়েল গাজায় তাঁবু, অস্থায়ী ঘর, এমনকি তাঁবু মেরামতের উপকরণও ঢুকতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের পাশাপাশি দখলদার শক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করার অভিযোগও বারবার সামনে আসছে।

চিকিৎসা কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৮১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২০০-এর বেশি। আর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে মোট নিহত মানুষের সংখ্যা ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে। এই সংখ্যাগুলো প্রতিদিনই বাড়ছে।

গাজার শিশুরা শুধু বোমা আর ড্রোনের আঘাতে মারা যাচ্ছে না; শীতও বোমার মতোই প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, চলতি শীত মৌসুমে ঠান্ডার কারণে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০। সর্বশেষ মারা গেছে মাত্র তিন মাস বয়সী আলী আবু জুর। আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে তার মৃত্যু হয়।

এই ভয়াবহ বাস্তবতার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতার খবর আসছে। ২৪ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন। এর আগেই যুক্তরাষ্ট্র ‘নতুন গাজা’ গড়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। উঁচু আবাসিক ভবন, ডেটা সেন্টার আর সমুদ্রতীরের রিসোর্টের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে।

কাগজে-কলমে সেই ভবিষ্যৎ ঝকঝকে। কিন্তু ঠিক একই সময়ে গাজায় শিশুরা কাঠ কুড়াতে বের হচ্ছে, একটু উষ্ণতার খোঁজে। কেউ কেউ আর ফিরে আসছে না। এটাই গাজার প্রতিদিনের বাস্তবতা। এখানে শীত, অবরোধ আর ড্রোন একসঙ্গে মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

গাজা উপত্যকার মধ্যাঞ্চলের দেইর এল-বালাহে শিল্পী ইয়াজেদ আবু জারদের তৈরি বালির ভাস্কর্যের পাশে আগুনে উষ্ণ হচ্ছে ফিলিস্তিনি শিশুরা
গাজা উপত্যকার মধ্যাঞ্চলের দেইর এল-বালাহে শিল্পী ইয়াজেদ আবু জারদের তৈরি বালির ভাস্কর্যের পাশে আগুনে উষ্ণ হচ্ছে ফিলিস্তিনি শিশুরা। ছবি: এএফপি

গোমূত্র নিয়ে শ্রীধর ভেম্বু ও কেরালা কংগ্রেসের বাকযুদ্ধ

আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি কামাকোটি পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হওয়ার পর তাকে নিয়ে কটাক্ষ এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তীব্র বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন জোহো কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু ও কেরালা কংগ্রেস। ২০২২ সাল থেকে আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ভি কামাকোটি শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের জন্য পদ্মশ্রী পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। পুরস্কার ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে কামাকোটি বলেন, ‘পদ্মশ্রী আমার কাছে একটাই অর্থ বহন করে- ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। এই সম্মান কোনো একক ব্যক্তির নয়; এটি একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।’ এরপরই কেরালা কংগ্রেস এক্সে কটাক্ষ করে লিখেছে, ‘ভি কামাকোটিকে অভিনন্দন। আইআইটি মাদ্রাজে তার যুগান্তকারী ‘গোমূত্র গবেষণা’র জন্যই দেশ তাকে সম্মান জানাচ্ছে, গোমূত্রকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার জন্য।’

এই মন্তব্যটি মূলত কামাকোটির সেই বক্তব্যকে ইঙ্গিত করে, যা গত বছর ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। তিনি দাবি করেছিলেন, গোমূত্রে ‘এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল’ ও ‘এন্টি-ফাঙ্গাল’ গুণ রয়েছে এবং তা আইবিএস (ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম)সহ নানা রোগ নিরাময়ে কার্যকর হতে পারে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন যিনি বৈজ্ঞানিক মনন ও যুক্তিবোধ গড়ে তোলার দায়িত্বে আছেন, তিনি কীভাবে এমন দাবি করতে পারেন? জবাবে কামাকোটি বলেন, গোমূত্রের এন্টি-ফাঙ্গাল, এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও এন্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রমাণিত।

কেরালা কংগ্রেসের কটাক্ষের জবাবে শ্রীধর ভেম্বু বলেন, প্রফেসর কামাকোটি ডিপ টেক-এ কাজ করেন, মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইন তার ক্ষেত্র। তিনি আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক। এটি ভারতের সেরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোর্ডের  সদস্য। এই সম্মান তিনি সম্পূর্ণভাবে প্রাপ্য। ভেম্বু আরও বলেন, তিনি বৈজ্ঞানিক যুক্তির ভিত্তিতেই কামাকোটিকে সমর্থন করে যাবেন। তিনি বলেন, আমি আগেও বৈজ্ঞানিক কারণে তাকে সমর্থন করেছি, আবারও করব। গোবর ও গোমূত্রে অত্যন্ত সমৃদ্ধ মাইক্রোবায়োম রয়েছে, যা মানুষের জন্য মূল্যবান হতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন, এগুলোকে গবেষণার যোগ্য মনে না করার পেছনে রয়েছে এক ধরনের দাসসুলভ ঔপনিবেশিক মানসিকতা। একদিন যখন হার্ভার্ড বা এমআইটি এ বিষয়ে গবেষণা প্রকাশ করবে, তখন এই মানসিকতার মানুষরাই সেটাকে ধর্মগ্রন্থের মতো মানবে।

এর পাল্টা জবাবে কেরালা কংগ্রেস বলে, গবেষণা মানে পশ্চিমা গবেষণাপত্র থেকে খাপছাড়া উদ্ধৃতি দেয়া নয়। এই গোবর ও গোমূত্র গবেষণার বাস্তব ফলাফল কী? আর কেন শুধু গরুর মলমূত্র? মহিষ, ছাগল কিংবা মানুষের বর্জ্য নিয়ে গবেষণা নয় কেন? তারা আরও দাবি করে, সম্প্রতি এমনই এক গোবর গবেষণার ফল সামনে এসেছে। মধ্যপ্রদেশ সরকার ক্যানসার চিকিৎসায় পঞ্চগব্য (গোবর, গোমূত্র, দুধ, দই ও ঘি) ব্যবহারের একটি গবেষণায় অর্থ দিয়েছিল।

তদন্তে দেখা গেছে, গোমূত্র ও গোবর কেনার নামে ১.৯২ কোটি রুপি খরচ দেখানো হয়েছে। যেখানে প্রকৃত খরচ ছিল মাত্র ১৫-২০ লক্ষ রুপি। প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ছিল ৩.৫ কোটি রুপি। বাকি অর্থ খরচ হয়েছে গাড়ি কেনা, জ্বালানি এবং গোয়া ও বেঙ্গালুরু ভ্রমণে। গবেষণার ফল কী? কেরালা কংগ্রেস দাবি করে, এ ধরনের প্রকল্প খতিয়ে দেখলে আরও কেলেঙ্কারি সামনে আসবে। তারা আরও বলে, ক্যানসার গবেষণার প্রয়োজন অবশ্যই আছে। কিন্তু কেন জোর করে বলা হচ্ছে যে শুধু গোমূত্র বা গোবরই ক্যানসার সারাতে পারে? কোভিডের সময় আমরা দেখেছি, কীভাবে প্রতারকরা গোমূত্র ও গোবর দিয়ে ভাইরাস মারার চেষ্টা করেছিল। ফল কী হয়েছিল?

শেষে কেরালা কংগ্রেস শ্রীধর ভেম্বুকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়, আপনি যদি সত্যিই গোমূত্রের অলৌকিক গুণে বিশ্বাসী একজন বিলিয়নিয়ার হন, তবে আপনার কোম্পানি কেন গোমূত্র ও গোবর নিয়ে প্রকৃত গবেষণায় বিনিয়োগ করছে না? যদি গোমূত্র ক্যানসার সারাতে পারে, তবে তা হবে বিশ্বের জন্য ভারতের সবচেয়ে বড় অবদান। কথা নয়- কাজে দেখান, নিজের পকেট থেকে রুপি দিন।

mzamin