Thursday, March 14, 2019

বাবুল সুপ্রিয়কে ‘আনকালচারড’ বললেন মমতা by অমর সাহা

ভারতের জনপ্রিয় প্লেব্যাক শিল্পী ও পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়কে ‘আনকালচারড’ বলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশটির আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বাবুলের আসনে মমতা দলের প্রার্থী করেছেন অভিনেত্রী মুনমুন সেনকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাবুলের এক ‘সরস’ মন্তব্যের জবাব দিতে এ কথা বলেন মমতা।
২০১৪ সালে এই বাবুল সুপ্রিয়কে বিজেপি মনোনয়ন দেয় পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের আসানসোল কেন্দ্রে। নির্বাচনে তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের দোলা সেনকে ৭০ হাজার ভোটে পরাজিত করে সাংসদ হন। ওই বছর পশ্চিমবঙ্গে বিজয়ী দুই বিজেপি সাংসদের মধ্যে তিনি একজন। আর অন্যজন হলেন দার্জিলিং কেন্দ্রের প্রার্থী সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া। বিজেপির জয়ী এই দুই সাংসদ এখন অবশ্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিমন্ত্রী। এবারও বাবুল সুপ্রিয় এই আসানসোল আসনে বিজেপির মনোনয়ন পাচ্ছেন।
গত মঙ্গলবার মমতার ঘোষিত তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় আসানসোলে আসনে রয়েছে মুনমুন সেনের নাম।
মুনমুন সেন ২০১৪ সালের নির্বাচনে বাঁকুড়া কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। এই কেন্দ্রের সিপিএমের হেভিওয়েট প্রার্থী বাসুদেব আচারিয়াকে তিনি ৯৮ হাজার ৫০৬ ভোটে পরাস্ত করেন। আর বাঁকুড়া কেন্দ্রে প্রার্থী করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখার্জিকে।
আসানসোলে মুনমুন সেনকে প্রার্থী করায় বাবুল সুপ্রিয় এক টুইটবার্তায় কিছুটা খোঁচা মেরে মন্তব্য করেন, ‘মমতাজি সব সময় আমার বিরুদ্ধে আসানসোলে “সেন-সেশনাল” প্রতিদ্বন্দ্বী উপহার দেন। ২০১৪ সালে দিয়েছিলেন দোলা সেনকে আর এবার ২০১৯ সালে দিলেন মুনমুন সেনকে। এ জন্য মমতাজিকে ধন্যবাদ।’
তবে বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র এই রসিকতা যে মমতার আদৌ পছন্দ হয়নি, তা তিনি গতকাল বুধবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মমতা বলেন, ‘বাবুল সুপ্রিয় মুনমুনকে ভয় পাচ্ছে। তাই “সেনসেশনাল” টুইট করেছে।’ পাশাপাশি তিনি বাবুল সুপ্রিয়কে একজন ‘আনকালচারড মানুষ’ বলেন।
গতকাল বুধবার পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালে বাবুল সুপ্রিয় আরও বলেছেন, ‘মুনমুন সেনের সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। আসানসোলের ভোটে তাঁকে স্বাগত জানাই। তবে লড়াই লড়াইয়ের মতো হবে। দুই লাখ ভোটে এবার জিতব।’
ভোটার তালিকা থেকে গুরুং-রোশনের নাম বাদ
পশ্চিমবঙ্গের পাহাড়ি জেলা দার্জিলিংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং এবং সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে ভোটার তালিকা থেকে। এ কারণে তাঁরা আর আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারছেন না। যদি নির্বাচন কমিশনে আবেদনের পর নির্বাচন কমিশন তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয়, সে ক্ষেত্রে হয়তো ভোটাধিকারের সুযোগ পেতে পারেন এই দুই নেতা।
দার্জিলিংয়ে পৃথক রাজ্যের দাবিতে ২০১৭ সালের ১২ জুন থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে পাহাড়ি জেলা দার্জিলিং। তখন এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই দুই নেতা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দার্জিলিংয়ের এই পৃথক রাজ্যের আন্দোলন স্তব্ধ করার জন্য গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা ও বিমল গুরুংয়ের ডান হাত বিনয় তামাংকে বাগিয়ে আনেন। বিনয় তামাং রাজ্য সরকারের সঙ্গে হাত মেলালে স্তব্ধ হয়ে যায় পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্য গড়ার আন্দোলন। আর এই আন্দোলনকে ঘিরে সে সময় অশান্ত হয়ে পড়ে দার্জিলিং। মিছিল, মিটিং, জ্বালাও–পোড়াও ও খুন–জখমের মধ্য দিয়ে চলতে থাকে এই আন্দোলন। এই আন্দোলনকে ঘিরে রাজ্য সরকার বিমল গুরুং, রোশন গিরিসহ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বহু নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে ওই সব নেতা গা–ঢাকা দেন। আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়। যদিও ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে বিমল গুরুং ও রোশন গিরিকে ‘প্রোক্লেমড অফেন্ডার’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন আদালত। এখনো অবশ্য বিমল গুরুং-রোশন গিরিরা আত্মগোপন করে আছেন। অন্যদিকে, বিমল গুরুংয়ের ডান হাত বিনয় তামাং এখন রাজ্য সরকারের সঙ্গে মিশে শাসন করছে গোর্খা টেরিটরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ। জিটিএর চেয়ারম্যান পদে বসানো হয়েছে বিমল গুরুংয়ের প্রতিপক্ষ সেই বিনয় তামাংকে; যদিও ২ মাস ২১ দিন পর দার্জিলিংয়ে সেই একটানা বন্‌ধ্‌ প্রত্যাহার করা হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে।

ধার চেয়ে লজ্জা দেবেন না: মমতাঃ পশ্চিমবঙ্গে মমতার প্রার্থী তালিকায় বড় চমক মিমি ও নুসরাত

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের জন্য পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনে প্রথম প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছেন তৃণমূল নেত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন তালিকায় চমক দেখিয়েছেন তিনি।
এর আগে প্রার্থী তালিকা প্রণয়নে অভিজ্ঞ নেতা-কর্মীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে জানালেও বাদ দেওয়া হয়েছে দুই তারকাকে। তাঁরা হলেন সন্ধ্যা রায় ও তাপস পাল। সেই জায়গায় আনা হয়েছে নতুন দুই মুখ চিত্রনায়িকা নুসরাত জাহান ও মিমি চক্রবর্তীকে। এ ছাড়া দলের ৩৬ সাংসদের মধ্যে ৮ সাংসদকে মনোনয়ন দেননি মমতা। মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকায় আছেন কংগ্রেস থেকে আসা তিন বিধায়কও। তাঁরা হলেন কানাইলাল আগরওয়াল, অপূর্ব সরকার ও আবু তাহের। আরও রয়েছেন কংগ্রেসে থেকে তৃণমূলে আসা সাংসদ মৌসুম বেনজির নূর।
মমতার দলের তিন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁরা হলেন মুকুল রায়, অনুপম হাজরা ও সৌমিত্র খান। এর আগে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেন বিধায়ক দুলাল বর।
এই দল বদলের খেলার মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘আমরা দু–এক দিনের মধ্যে আমাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করছি। ওই তালিকায় আপনারা আরও চমক দেখবেন। বহু নামকরা নেতা যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে।’
তবে এর জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘ধার চেয়ে লজ্জা দেবেন না! এবার তো একটা সাইনবোর্ড লাগাতে হবে। ওরা তো চুপি চুপি আমাকে বলতে পারত গাদ্দারগুলোকে দাও। একজন গাদ্দারকে নিয়ে হয়নি। বললেই পারত আমি তাহলে আরও গাদ্দার পাঠিয়ে দিতাম।’
এই দল বদল নিয়ে কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সোমেন মিত্র বলেছেন, ‘ওরা তো এ দল ও দল ভাঙিয়ে প্রার্থী করছেন। আবার ওদের মুখে বড় কথা।’
এই প্রসঙ্গে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, ‘প্রার্থী তালিকা দেখে মনে হচ্ছে, গোটা দশেক আসনে তৃণমূল বিজেপিকে ওয়াকওভার দিতে চাইছে।’
দীপা দাসমুন্সি বিজেপিতে যাচ্ছেন না
সোমবার প্রয়াত কংগ্রেস নেতা প্রিয় রঞ্জন দাসমুন্সির স্ত্রী দীপা দাসমুন্সি দিল্লিতে বিজেপি নেতা অরবিন্দ মেননের সঙ্গে দেখা করার পর রাজনৈতিক মহলে রটে যায় বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন তিনি। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ আসন থেকে লড়বেন। দীপা দাসমুন্সি রায়গঞ্জ আসনে দাঁড়াতে চাইলেও কংগ্রেসে-বামফ্রন্ট আসন সমঝোতার প্রশ্নে এ আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয় বাম দলকে। তা ছাড়া এই আসনের বর্তমান সাংসদ মোহম্মদ সেলিম সিপিএমের সাংসদ।
তবে গতকাল দীপা দাসমুন্সি জানিয়ে দিয়েছেন তিনি কংগ্রেসেই আছেন। দল ছাড়ার কোনো প্রশ্ন নেই। এ ঘোষণার পর এবার দীপাকে উত্তর মালদহ আসনে প্রার্থী করার তৎপরতা শুরু করেছে কংগ্রেস।
পশ্চিমবঙ্গে মমতার প্রার্থী তালিকায় বড় চমক মিমি ও নুসরাত
নির্বাচন ঘোষণার দু’দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস । মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে নির্বাচনী কমিটির বৈঠক শেষে দলনেত্রী এই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা  করেছেন। এই প্রার্থী তালিকায় নতুন ১৮ জনকে এবার প্রার্থী করেছেন মমতা। বাদ পড়েছেন আটজন। তবে এবারের সবচেয়ে বড় চমক হল বাংলা চলচ্চিত্রে দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে প্রার্থী করা। মিমি চক্রবর্তী  ও নুসরাত জাহানকে এবার দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে প্রার্থী করেছেন মমতা। নুসরাতকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে গুঞ্জন ছিল আগে থেকেই। কিন্তু মিমি প্রার্থী হবেন এমন কোন আগাম খবর ছিল না।
নির্বাচন ঘোষণার দু’দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস । মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে নির্বাচনী কমিটির বৈঠক শেষে দলনেত্রী এই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা  করেছেন। এই প্রার্থী তালিকায় নতুন ১৮ জনকে এবার প্রার্থী করেছেন মমতা। বাদ পড়েছেন আটজন। তবে এবারের সবচেয়ে বড় চমক হল বাংলা চলচ্চিত্রে দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে প্রার্থী করা। মিমি চক্রবর্তী  ও নুসরাত জাহানকে এবার দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে প্রার্থী করেছেন মমতা। নুসরাতকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে গুঞ্জন ছিল আগে থেকেই। কিন্তু মিমি প্রার্থী হবেন এমন কোন আগাম খবর ছিল না।
নুসরাতকে প্রার্থী করা হয়েছে সীমান্তবর্তী সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত বসিরহাট কেন্দ্রে। আর মিমিকে প্রার্থী করা হয়েছে ঐতিহাসিক সুগত বসুর ছেড়ে দেওয়া আসন যাদবপুরে। তবে এবার মাত্র সাতজন সেলিব্রিটিকে প্রার্থী করা হয়েছে। গতবার এই সংখ্যা ছিল ১০। এবার অবশ্য অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায় এবং তাপস পালকে প্রার্থী করা হয় নি। আগেরবারের জয়ী অভিনেত্রী শতাব্দী রায়, অভিনেতা দেব অধিকারি, অভিনেত্রী মুনমুন সেন, নাট্যাভিনেত্রী অর্পিতা ঘোষ এবং খেলোয়াড় প্রসূণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেদের কেন্দ্রে এবারও প্রার্থী হয়েছেন।
তবে মুনমুনকে বাঁকুড়া থেকে সরিয়ে প্রার্থী করা হয়েছে আসানসোল কেন্দ্রে। আর বাঁকুড়া কেন্দ্রে দশ বছর পর ফের লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে। এ বছরের নির্বাচনে মমতা যাদের প্রার্থী করেন নি তারা হলেন সুগত বসু, ইদ্রিশ আলি, সন্ধ্যা রায়, তাপস পাল, সুব্রত বক্সী, তাপস মন্ডল, উমা সরেন ও পার্থপ্রতিম রায়। দুই সাংসদ সৌমিত্র খান এবং অনুপম হাজরা কিছুদিন আগেই দল থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন। দু’জনেই এখন বিজেপিতে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে যে ৮ আসনে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হয়েছিল তার মধ্যে ৭টিতেই প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে।
গতবার তৃণমূল কংগ্রেস ৪২টি আসনের মধ্যে ৩৪টি আসনে জয়ী হয়েছিল। কংগ্রেস জয়ী হয়েছিল ৪টি আসনে এবং বামফ্রন্ট ২টি আসনে। বিজেপি জয়ী হয়েছিল ২টি আসনে। এবার অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেস দুজন মন্ত্রী-সহ মোট ৭ বিধায়ককে লোকসভা নির্বাচনের লড়াইয়ে প্রার্থী করা হয়েছে। এছাড়া এক রাজ্যসভা সাংসদ এবং কলকাতা পুরসভার চেয়ারম্যানকেও লোকসভার নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়েছে। বহরমপুরে অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রার্থী করা হয়েছে এককালে অধীরের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ অপূর্ব সরকারকে। কান্দি থেকে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হওয়া বিধায়ক অপূর্ব  এখন রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসে।
উত্তর মালদহে বিদায়ী সাংসদ মৌসম নূর কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন কিছুৃদিন আগেই। সেখানে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মৌসমকেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী করা হয়েছে। আর দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে প্রার্থী করা হয়েছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার দার্জিলিং শহরের বিধায়ক অমর সিংহ রাইকে। এবার নতুন প্রার্থী করা হয়েছে মালা রায়, অসিত মাল ও দুষ্কৃতীর গুলিতে নিহত কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের স্ত্রী রূপালি বিশ্বাসকে। রাজ্যসভার সাংসদ মানস ভৃইঞাকেও প্রার্থী করেছেন মমতা। 

ছাত্ররাজনীতিতে নতুন ধারা by মোশতাক আহমেদ ও রিয়াদুল করিম

• প্রথাগত ছাত্রসংগঠনের বাইরের প্রার্থীরা মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
• নির্বাচনে কোনো অবস্থানই তৈরি করতে পারেনি ছাত্রদল।
• শূন্যতা পূরণ করেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা।

স্বাধীনতার পরে যতবার ডাকসু নির্বাচন হয়েছে, তার সব কটিতেই বিজয়ী হয়েছেন সরকারবিরোধী  ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রার্থীরা। কিন্তু এবার প্রথাগত বিরোধীদলীয় ছাত্রসংগঠনগুলো জয়ী হওয়া তো দূরের কথা, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারেনি। সেখানে চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আলোচিত ছাত্রনেতা মো. নুরুল হক সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
শুধু তা-ই নয়, ডাকসুর জিএস-এজিএসসহ বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ পদেই প্রথাগত ছাত্রসংগঠনগুলোর বাইরে গিয়ে এই কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রার্থীরা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন। একটি সম্পাদকীয় পদে জিতেছেনও।
আবার ১৮টি হল সংসদ নির্বাচনে ১২টিতে ভিপি পদে ছাত্রলীগ জয়ী হলেও বাকি ছয়টি হলে ভিপি পদে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এখানেও ছাত্রলীগের বাইরে প্রথাগত ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রার্থীরা পিছিয়ে রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতা ও শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন হলো, এর মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে নতুন প্রবণতা শুরু হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সত্যিকারভাবে কাজ করলে যে শিক্ষার্থীদের সমর্থন পাওয়া যায়, তার প্রমাণ রেখেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। আবার এটাও ঠিক যে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের বাইরে অন্যান্য বিরোধী মতের ছাত্রসংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে কার্যক্রম চালাতে পারেনি। সেই শূন্যতা পূরণ করেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা।
ডাকসুর সাবেক জিএস মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের এই নির্বাচনে জেতা বা মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে একটা নতুন ধারা শুরু হলো। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনগুলোর কাছে একধরনের জিম্মি ছিল ক্যাম্পাস। এখনো আছে। অন্য ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা হলে থাকতেও পারেননি। ফলে সেই শূন্যতা পূরণ করেছেন কোটা আন্দোলনকারীরা। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনকে যারা পছন্দ করে না, তাদের সমর্থন নিয়েই মূলত এই প্ল্যাটফর্ম হয়েছে এবং এত কিছুর পরও তারা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এসেছে।
বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও এই নির্বাচনে ছাত্রদল কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারেনি। ছাত্রদলের প্রার্থীদের মধ্যে সম্পাদকীয় একটি পদ ছাড়া কেউ হাজারের ওপরে ভোট পাননি।
জিএস-এজিএসসহ ডাকসুর ২৫টি পদের মধ্যে ছাত্রলীগ ২৩টিতে জয়ী হলেও সব ছাপিয়ে ভিপি পদে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হকের বিজয়ী হওয়ার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। ছাত্রলীগ এই পদে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে ফল ঘোষণার পর থেকেই বিক্ষোভ করেছে। মঙ্গলবারও তারা উপাচার্যের বাড়ির সামনে প্রায় দিনভর বিক্ষোভ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক ও তাঁর সহকর্মীদের ধাওয়াও করেছে ছাত্রলীগ। অবশ্য ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী বিকেলে টিএসসিতে গিয়ে নুরুল হকের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। এতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনার পারদ কমলেও ছাত্রলীগের ভেতরে এ নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।
বিভিন্ন আবাসিক হল সংসদ নির্বাচনে জয়ী ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাঁদেরও মূল্যায়ন হলো, কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে নুরুল হকের প্রতি শিক্ষার্থীদের সহানুভূতি কাজ করেছে। তবে তাঁরা মনে করছেন, ভেতর থেকে ছাত্রলীগের একটি অংশ সংগঠনের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরীকে ভোট দেয়নি। ভিপি পদে রেজওয়ানুল পেয়েছেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট, আর নুরুল হক ১১ হাজার ৬২ ভোট পেয়েছেন। তাঁরা বলছেন, জিএস পদে বিজয়ী ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও এজিএস পদে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন যত ভোট পেয়েছেন, দলের সভাপতি তার চেয়ে কম ভোট পেয়েছেন।
ছাত্রলীগের কোন্দল ও আঞ্চলিকতার কারণেই ভিপি প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন বলে দলে আলোচনা চলছে। তবে বেশ কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী এবং ছাত্রসংগঠনের কর্মী প্রথম আলোকে বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে জনপ্রিয় হওয়ায় আগে থেকেই নুরুল হক জেতার বিষয়ে আলোচনায় ছিলেন।
ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জিএস পদে জিতেছেন ছাত্রলীগের গোলাম রাব্বানী (ভোট ১০,৪৮৪)। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান (ভোট ৬,০৬৩)। এই পদে স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদের প্রার্থী এ আর এম আসিফুর রহমান তৃতীয় হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ৪,৬২৮টি। রাশেদ ও আসিফের ভোট ভাগাভাগি হওয়ায় ছাত্রলীগের গোলাম রাব্বানীর জয়টি সহজ হয়েছে বলে ক্যাম্পাসে আলোচনা আছে।
এজিএস পদে জিতেছেন ছাত্রলীগের সাদ্দাম হোসেন। তিনি সহজে জয়ী হবেন বলে আগে থেকেই ক্যাম্পাসে আলোচনা ছিল। তিনি সবচেয়ে বেশি ১৫ হাজার ৩০১ ভোট পেয়েছেন। এই পদেও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন।
সমাজসেবা সম্পাদক পদে জিতেছেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী আখতার হোসেন। এ ছাড়া স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক এবং আন্তর্জাতিক সম্পাদকসহ বেশির ভাগ পদেও জয়ী ছাত্রলীগের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী।
ভিপি পদে কয়েকটি বাম সংগঠনের মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যের আলোচিত প্রার্থী লিটন নন্দী পেয়েছেন ১ হাজার ২১৬ ভোট। স্বতন্ত্র জোটের ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান পেয়েছেন ২ হাজার ৬৭৬ ভোট।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ প্রথম আলোকে বলেন, এখানে শিক্ষার্থীরা যাঁদের ভোট দিয়েছেন, তাঁরাই জিতেছেন। নির্বাচন নিয়ে যৎসামান্য উত্তেজনা থাকলেও দুই ভিপি প্রার্থী শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই ছাত্রদল
রাজনীতির মাঠে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। ১৯৯০ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের জেরে ডাকসুতে বড় বিজয় পেয়েছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনে ছাত্রদল ডাকসুর ২৫টি পদের একটিতেও জয় পায়নি। ১২টি সম্পাদকীয় পদের মাত্র একটিতে ছাত্রদলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পেরেছেন। কমন রুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক পদে ছাত্রদলের কানেতা ইয়া লাম-লাম দ্বিতীয় হয়েছেন।
ভিপি পদে এই সংগঠনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মাত্র ২৪৫ ভোট পেয়ে পঞ্চম হয়েছেন। এই সংগঠনের জিএস প্রার্থী আনিসুর রহমান খন্দকার ৪৬২ ভোট পেয়ে ষষ্ঠ হয়েছেন।
১৮টি হল সংসদের কোনো পদেও ছাত্রদল জয় পায়নি। প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও ছিল না। হল সংসদগুলোতে ২৩৪টি পদের বিপরীতে ছাত্রদলের প্রার্থী ছিলেন মাত্র ৫৪ জন।
ছাত্রদলের একাধিক নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছাত্র অধিকারসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে ছাত্রদল সক্রিয় ছিল না। আবার সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রায় সবাই অছাত্র ও বয়স্ক। এসব কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে ওঠেনি।
বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রদল ১০ বছর ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি। কী কারণে যেতে পারেনি, তা জাতি ও ছাত্রসমাজ জানে। এর সুযোগ নিয়ে ছাত্রলীগ কারচুপি ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে।
ছাত্রদলের চেয়ে ডাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বেশি ভালো ফল করেছেন। এ বিষয়ে শহীদ উদ্দীন বলেন, ছাত্রদল ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি বলেই সাধারণ ছাত্ররা সে জায়গাটা নিয়েছেন।
কেন কোটা আন্দোলনকারীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়?
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কোটা সংস্কারের দাবিটি ছিল শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। যে কারণে এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপুল সমর্থন ছিল। ক্ষমতাসীনদের কঠোর অবস্থান, হামলা-মামলার মুখে শেষ পর্যন্ত দাবি আদায়ে সফল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের আস্থায় ছিল এই পরিষদ। আবার হলগুলোতেও ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের বিপক্ষে ভেতরে ভেতরে একটি অবস্থান ছিল।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, গত ১০ বছরে হলগুলোতে ছাত্রলীগের বাইরে অন্য ছাত্রসংগঠনগুলো তৎপরতা চালাতে পারেনি, সম্ভবও ছিল না। অন্যদিকে চাকরিতে কোটা সংস্কারের মতো জীবিকা-সম্পর্কিত অধিকার নিয়ে আন্দোলন করে জনপ্রিয় হয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। কাজেই তাঁরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থন পেয়েছেন। তাঁর মতে, আগে রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে যাঁরা আন্দোলন করেছেন, তাঁরাই ডাকসুতে জয়ী হয়েছেন। এখন জীবিকার অধিকার নিয়ে আন্দোলন করা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা জয় পেয়েছেন।

স্পর্শকাতর বিজ্ঞাপনে খোলামেলা নায়লা নাঈম

আলোচিত মডেল-অভিনেত্রী নায়লা নাঈমকে এবার দেখা যাবে নতুন রূপে। নতুন একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন নায়লা নাঈম। জিসকা ফার্মাসিটিক্যালসের ইমার্জেন্সি কন্ট্রাসেপ্টিভ পিল পিউলির বিজ্ঞাপনে দেখা যাবে তাকে। বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করছেন রেদওয়ানুর রহমান রিয়াদ।
এই স্পর্শকাতর বিজ্ঞাপনে নায়লার সাথে দেখা যাবে ‘ঢাকা এটাক’ খ্যাত নীল চোখের অভিনেতা তাসকিনকে।
নায়লা নাঈমকে নিয়ে কেন বিজ্ঞাপন? এমন প্রশ্নে নির্মাতা জানান, এই বিজ্ঞাপনটি নির্মিত হবে সিনেমাটিক স্টাইলে। যার জন্য আমাদেরকে দেশের শীর্ষ স্থানীয় মডেলকে বেছে নিতে হয়েছে। যেহেতু পিউলি ইমার্জেন্সি কন্ট্রাসেপ্টিভ পিল যেহেতু একটি স্পর্শকাতর পণ্য তাই এর সবদিক বিবেচনা করে সর্বোচ্চটাই আমরা আমাদের বিজ্ঞাপনে ফুটিয়ে তুলবো। এ ছাড়া বিজ্ঞাপনটিতে নতুন আঙ্গিকের কিছু চমক রাখা হয়েছে।
নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে- ১২ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার বিজ্ঞাপনটির শুটিং শুরু হয়েছে। শুটিং ও সম্পাদনা শেষে বিজ্ঞাপনটি শিগগিরই বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও অনলাইনে প্রচার শুরু হবে।
>>>বিডিমর্নিং

কিডনি রোগের প্রকোপ বাড়ছে by শিশির মোড়ল

• দেশে কিডনি রোগীর গ্রহণযোগ্য পরিসংখ্যান নেই।
• আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দুই কোটি হতে পারে।
• বহু মানুষ কিডনি রোগের সেবা পাচ্ছেন না।
• আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব কিডনি দিবস।

দেশে কিডনি রোগের প্রকোপ বাড়ছে। আক্রান্ত রোগীর তুলনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সেবাকেন্দ্রের সংখ্যা কম। চিকিৎসা ব্যয় বেশি হওয়ায় অনেকেই মধ্যপথে চিকিৎসা বন্ধ করে দিচ্ছে। অনেকে বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যাচ্ছে।
তবে দেশে কত মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত, তার নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান কারও কাছে নেই। তবে কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞরা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংগঠন বলছে, কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় দুই কোটি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সহ-উপাচার্য ও কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠন বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ রফিকুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কিডনি রোগের জাতীয়ভাবে জরিপের তথ্য নেই। বছর দশেক আগে সাভারের চাকুলিয়া গ্রামে একটি জরিপে দেখা গিয়েছিল, ১৬ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দুই কোটির হিসাবটি বলা হয়।’
কিডনি রোগে বছরে কত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, তার পরিসংখ্যান পাওয়া যায় ব্রিটিশ চিকিৎসা সাময়িকীর এক প্রবন্ধে। ২০১৮ সালে অক্টোবরে প্রকাশিত ওই প্রবন্ধে বলা হয়েছিল, কিডনি ক্যানসার ও বিভিন্ন ধরনের দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে বাংলাদেশে ২০১৬ সালে ১৯ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ২০৪০ সালে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৪৪ হাজার ২৫০ হবে।
বিশিষ্ট কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ও কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক হারুন আর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, দেশের কিডনি রোগীরা দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে আছে। চিকিৎসাকেন্দ্র ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বাড়ানোর এখনই উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
পরিসংখ্যানে পরিস্থিতি
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ৫০ হাজার জনগোষ্ঠীর জন্য একজন নেফ্রোলজিস্ট থাকা দরকার। দেশ নেফ্রোলজিস্ট আছে মাত্র ১৭০ জন। দেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটি ধরা হলে ১০ লাখ মানুষের জন্য একজন করে নেফ্রোলজিস্ট আছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিতে প্রদাহ ও আরও কিছু কারণে মানুষ দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগতে থাকে। এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসা হিসেবে ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপনকেই প্রধান বিকল্প হিসেবে বেছে নেন চিকিৎসকেরা। অধ্যাপক হারুন বলছেন, ডায়ালাইসিস দরকার, এমন রোগীর তালিকায় প্রতিবছর আনুমানিক ৩৫ হাজার মানুষ যুক্ত হয়।
কিন্তু দেশে ডায়ালাইসিসের সুযোগ খুব কম মানুষ পায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১১ মার্চ প্রথম আলোকে যে তালিকা দিয়েছে, তাতে দেখা যায়, দেশে সরকারি-বেসরকারি ৪৩টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়া হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের ডায়ালাইসিস শয্যা আছে ৫৭০টি। বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন বলছে, প্রতিষ্ঠান ও শয্যার সংখ্যা এর দ্বিগুণের কিছু বেশি।
বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ রফিকুল আলম বলেছেন, দেশে ২৫ হাজার মানুষ ডায়ালাইসিস করতে পারে। প্রতিবছর এর জন্য খরচ হয় দু-তিন লাখ টাকা। ব্যয় বেশি হওয়ায় দেশের ৯০ শতাংশ রোগী ডায়ালাইসিস করাতে পারে না। ডায়ালাইসিস শুরুর এক বছরের মধ্যে ৭০ শতাংশ রোগী তা ছেড়ে দেয়।
ডায়ালাইসিস একবার শুরু করলে আজীবন তা অব্যাহত রাখতে হয়। ডায়ালাইসিসের বিকল্প হচ্ছে কিডনি প্রতিস্থাপন। কিডনিবিষয়ক আলোচনায় সাম্প্রতিক সময়ে কিডনি প্রতিস্থাপনের বিষয়টি সামনে চলে আসছে। ১৯৮২ সালে দেশে প্রথম কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় বিএসএমএমইউতে (তৎকালীন পিজি হাসপাতালে)। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিএসএমএমইউ এ পর্যন্ত ৫৭০টি কিডনি প্রতিস্থাপন করেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি প্রতিষ্ঠান প্রতিস্থাপন করেছে যথাক্রমে ৫টি ও ৩৯ টি।
এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি প্রতিস্থাপন করেছে রাজধানীর শ্যামলী এলাকার বেসরকারি সিকেডি ও ইউরোলজি হাসপাতাল। এ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি ৮টি প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৮৯৯টি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য চিকিৎসাকেন্দ্র ও চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন অধ্যাপক হারুন আর রশিদ।
আজ কিডনি দিবস
আজ বিশ্ব কিডনি দিবস। প্রতিবছর মার্চ মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার এ দিনটি পালন করা হয়। দিনটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ কিডনি সবার জন্য, সর্বত্র’।
দিনটি উপলক্ষে ল্যাবএইড হাসপাতাল গতকাল বুধবার একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। ইউনাইটেড হাসপাতাল আজ দুপুরে একটি সেমিনারের আয়োজন করেছে।

কিম জং-নাম খুনের মামলায় ভিয়েতনামের নারীর বিরুদ্ধে মামলা চলবে

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের সৎভাই কিম জং–নামের খুনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন না ভিয়েতনামের নারী দোয়ান থি হুয়ং। আজ বৃহস্পতিবার তাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ। এর আগে ওই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর মুক্তি পেয়েছেন ইন্দোনেশীয় নারী সিতি আইশা।
গত সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আইশার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিলে আদালত তাঁকে মুক্তি দেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ইন্দোনেশীয় নারী সিতি আইশা ও ভিয়েতনামের নারী দোয়ান থি হুয়ংয়ের বিরুদ্ধে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং–উনের সৎভাই কিম জং–নামকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। ২০১৭ সালে আইশা কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে কিমের মুখে বিষাক্ত তরল ভিএক্স নার্ভ এজেন্ট মেখে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছিল।
সিতি আইশা ও থি হুয়ং খুনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তাঁরা টেলিভিশনের একটি কৌতুক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন—এমনটি ভেবেছিলেন বলে দাবি করেছিলেন। এটি যে বিষাক্ত পদার্থ, তা জানতেন না। উত্তর কোরিয়ার গোয়েন্দাদের জালে ফেঁসে গিয়েছিলেন তাঁরা।
ন্যামকে হত্যার উদ্দেশ্যে ‘এ কাজ করা হয়নি তা সুস্পষ্টভাবে বোঝা যাওয়ায়’ সিতি ও থি হুয়ংয়ের বিরুদ্ধে মামলাটি তুলে নেওয়া হবে বলে তাঁদের আইনজীবীরা আশাও প্রকাশ করেছিলেন।
আইশাকে মুক্তি দেওয়ার পর থি হুয়ং মুক্তি পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
কুয়ালালামপুরের আদালত থেকে বিবিসির প্রতিনিধি জানিয়েছেন, হুংয়ের চেয়ে সিতির বিরুদ্ধে কম সাক্ষ্য পাওয়া গেছে বলে মনে হয়েছে। বিচারের সময় হুয়ংরের বিরুদ্ধে শক্ত কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজে কিমের মুখে হাত রেখে তাঁকে পালাতে দেখা গেছে। আইশাকে ওই ঘটনায় অস্পষ্টভাবে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালাতে দেখা যায়।
আদালতে আরজি গৃহীত না হওয়ার খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন হুয়ং। প্রায় দেড় বছর ধরে এ মামলা চলছে।
হুয়ং বলেন, ‘আমি হতাশ। আমি নির্দোষ। আমার পরিবার যেন আমার জন্য প্রার্থনা করে।’
টেলিভিশনের কৌতুক অনুষ্ঠানের দৃশ্যায়ন হচ্ছে মনে করে ন্যামের মুখে ওই পদার্থ মাখিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা। এটি যে বিষাক্ত পদার্থ, তা জানতেন না।
আইশাকে মুক্তি দেওয়ার পর থেকে ভিয়েতনামের পক্ষ থেকে হুয়াংকে মুক্তি দিতে চাপ বাড়ানো হচ্ছে। এ নিয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

৩ বছরে ইমরান খানের আয় কমেছে, বেড়েছে শাহবাজ, জারদারি, বিলাওয়ালের

তিন বছরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের আয় কমেছে। অন্যদিকে অর্থ বৃদ্ধি পেয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএলএন) সভাপতি শাহবাজ শরীফ ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সভাপতি বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি ও তার পিতা, দলের সহসভাপতি আসিফ আলী জারদারির। সরকারি ডকুমেন্টের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর দিয়েছে পাকিস্তানের অনলাইন ডন।
এতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেট আয় ছিল তিন কোটি ৫৬ লাখ রুপি। কিন্তু ২০১৬ সালে তা কমে দাঁড়ায় এক কোটি ২৯ লাখ রুপি। পরের বছর তা আরো কমে যায়। কমে ২০১৭ সালে তা দাঁড়ায় মাত্র ৪৭ লাখ রুপিতে।
২০১৫ সালে তার আয়ের বড় একটি অংশ এসেছিল ইসলামাবাদের কূটনৈতিক এলাকায় ক্লারা এপার্টমেন্টের একটি ফ্লাট বিক্রি থেকে।
তিনি ওই ফ্লাটটি ২ কোটি রুপির সামান্য কিছু বেশিতে বিক্রি করেছিলেন। এ ছাড়া ওই সময় তার বৈদেশকি রেমিটেন্স ছিল ৯৮ লাখ রুপি। সরকারি ডকুমেন্টে দেখা যাচ্ছে ইমরান খান এ সময়ে কৃষিখাত থেকে আয় করেছিলেন ৩৪ লাখ রুপি। আর জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে বেতন পেয়েছিলেন ৯ লাখ ২১ হাজার রুপি। ৭ লাখ ৬২ হাজার রুপি লভ্যাংশ পেয়েছিলেন পিএলএস থেকে। আর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড থেকে পেনশন হিসেবে পেয়েছেন ৪ লাখ ১০ হাজার রুপি।
পরের বছর তার মোট আয় কমে দাঁড়ায় এক কোটি ২৯ লাখ রুপি। এর মধ্যে তিনি বৈদেশিক সেবাখাত থেকেই আয় করেছেন ৭৪ লাখ রুপি। কৃষিখাত থেকে তার আগের বছরের আয় ৩৪ লাখ রুপি কমে এসে দাঁড়ায় ৩৩ লাখ রুপি। জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে বেতন পান ৯ লাখ ৫৪ হাজার রুপি। পিএলএস থেকে লভ্যাংশ হিসেবে পান ৭ লাখ ৩৩ হাজার রুপি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড থেকে পেনশন হিসেবে পান ৫ লাখ ৪০ হাজার রুপি।
২০১৭ সালে ইমরান খানের কৃষি ও পিএলএস লভ্যাংশ কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৩৩ লাখ ও ৭ লাখ ৩৩ হাজার রুপি থেকে ২৩ লাখ রুপি ও ৬৭ হাজার ৫২০ রুপিতে। তবে জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে  শুধু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর তিনি এ খাত থেকে বেতন পেয়েছেন ১৮ লাখ রুপি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড থেকে পেনশন পেয়েছেন ৫ লাখ ৪০ হাজার রুপি।
পক্ষান্তরে জাতীয় পরিষদের বিরোধী দলীয় নেতা শাহবাজ শরীফের আয় বেড়েই চলেছে। ২০১৫ সালে তার আয় ছিল ৭৬ লাখ রুপি। তা পরের বছর বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫ লাখ রুপিতে। ২০১৭ সালে তা এক কোটি রুপি পেরিয়ে যায়। কৃষিখাতে ২০১৫ সালে তার আয় ছিল ৬৫ লাখ রুপি। ২০১৬ সালে তা কমে যায়। কমে দাঁড়ায় ৫০ লাখ রুপিতে। ২০১৭ সালে তা আরো কমে দাঁড়ায় ৩৫ লাখ রুপি। যদিও এ সময়ে তার অধিকারে থাকা জমির পরিমাণ ৫৮৫ কানাল থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৬৭৩ কানাল।
তবে শাহবাজ শরীফের চেয়ে ধনী ও স্মার্ট তার ছেলে হামজা শরীফ। হামজার কৃষি ও নেট আয় উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫ সালে হামজা শরীফের নেট আয় ছিল এক কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার রুপি। তা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৬ সালে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার রুপিতে। আরো এক দফা তার বৃদ্ধি ঘটেছে ২০১৭ সালে। ওই বছরে তার নেট আয় ২ কোটি ৫৪ লাখ রুপি। ২০১৫ সালে তিনি ১৫৪ কানাল জমির মালিক ছিলেন। তা থেকে কৃষিখাতে তার আয় হয়েছে ২০ লাখ রুপির কিছু বেশি। পরের বছর এ আয় অল্প বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২১ লাখ ৪০ হাজার রুপি। তবে ২০১৭ সালে তার মোট কৃষিজমির পরিমাণ কমে যায়। এ সময়ও তার কৃষিখাতে আয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৩৫ লাখ রুপি।
সাবেক প্রেসিডেন্ট ও পিপিপির সহসভাপতি আসিফ আলী জারদারির কৃষিজ আয় তার মোট আয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০১৫ সালে তার মোট নেট আয় ছিল ১০ কোটি ৫০ লাখ রুপি। ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ কোটি ৪০ লাখ রুপিতে। আরো এক দফা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৭ সালে তা দাঁড়ায় ১৩ কোটি ৪০ লাখ রুপিতে। তার রয়েছে ৭৭৪৮ একর জমি। তার মোট জমির মধ্যে নিজের আওতায় রয়েছে ৩৪৯ একর। বাকি ৭৩৯৯ একর লিজ নেয়া সম্পত্তি। অন্যান্য উৎস থেকেও তার আয় ২০১৫ সালে ছিল ৭৬ লাখ ৬০ হাজার রুপি। তা বেড়ে ২০১৬ সালে দাঁড়ায় ৮২ লাখ ৪০ হাজার রুপি। গত নির্বাচনের আগে তা দাঁড়ায় ৯৭ লাখ ৫০ হাজার রুপি।
অন্যদিকে দলের সভাপতি ও জারদারির ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি দৃশ্যত তার পিতার চেয়ে সম্পদের দিক দিয়ে ধনী। ২০১৫ সালে বিলাওয়ালের নেট আয় ছিল ২ কোটি ৩০ লাখ রুপির বেশি। এর মধ্যে ৩৪ লাখ ৬০ হাজারের বেশি পেয়েছেন বাসা ভাড়া থেকে। কৃষিখাত থেকে এসেছে ২ কোটি রুপি। তবে ২০১৬ সালে এসে তার নেট আয় শতকরা ১০০ ভাগের বেশি বৃদ্ধি পায়। দাঁড়ায় ৪ কোটি ৭৩ লাখ ৪০ হাজার রুপি। রেকর্ড বলছে, এই বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে বৈদেশিক আয়, যা এক কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার রুপি। এ ছাড়া কৃষি ও ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষিখাতে আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ২ কোটি রুপি থেকে ২ কোটি ৬৬ লাখ ১০ হাজার রুপিতে। ৩৪ লাখ ৫০ হাজার রুপির ভাড়া ২০১৬ সালে এসে বৃদ্ধি দাঁড়ায় ৪১ লাখ ৪০ হাজার রুপিতে।

সৌদির কারাগার থেকে কয়েক শ রোহিঙ্গার মুক্তি

সৌদি আরবে কয়েক বছর ধরে কারাগারে থাকা কয়েক শ রোহিঙ্গা নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে (এমইই) এ তথ্য জানিয়েছেন দুই বন্দী ও এক মানবাধিকারকর্মী।
অনিবন্ধিত বিদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে সৌদির অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অভিযানে আটক হয়ে কারাগারে ছিলেন ওই রোহিঙ্গারা। গত রোববার এমইইকে পাঠানো ভিডিওতে দেখা গেছে, জেদ্দায় শুমাইছি আটক শিবির থেকে মালপত্র বোঝাই ব্যাগ নিয়ে রোহিঙ্গা বন্দীরা বেরিয়ে আসছেন। শিবিরটিতে কয়েক হাজার অনিবন্ধিত কর্মী রয়েছেন।
১৯৭০–এর দশকে বাদশাহ ফয়সালের শাসনামলে মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতায় পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয় সৌদি আরব। ওই সময় সৌদিতে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা এখনো সেখানে প্রজন্মান্তরে বসবাস করছে। এরই মধ্যে ২০১১ সালের পর মিয়ানমারে আবারও দাঙ্গার শিকার হয়ে অনেক রোহিঙ্গা জাল নথিপত্র দিয়ে পাসপোর্ট করে সৌদিতে পাড়ি জমান।
তবে সৌদিতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিযান শুরু করে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। অভিযানে শত শত অবৈধ বিদেশি কর্মী আটক হন। এই আটক কর্মীদের অনেককে কয়েক দিনের মধ্যেই স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় আটক রোহিঙ্গাদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠায়নি সৌদি আরব। শুমাইছি আটক শিবিরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে আটক থেকে অনেক রোহিঙ্গা মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়েছে এবং কেউ কেউ মারা গেছেন।

সিলেটে উচ্চশিক্ষা এখন হাতের নাগালে

সিলেটে উচ্চশিক্ষার সুযোগ এখন হাতের নাগালে। প্রতিবছর কয়েক হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে সিলেটে বসেই উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করছেন। এই উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাসচেতন মহল মোটামুটি সন্তুষ্ট বলা চলে। অথচ তিন দশক আগেও শুধু সুযোগের অভাবে সিলেটে উচ্চশিক্ষার পাট অনেকটা উচ্চাভিলাষের মতোই থমকে ছিল।
সিলেটে আছে পাহাড়-টিলা-হাওর আর চা-বাগানের সবুজ প্রকৃতি। উঁচুতে ওঠার সীমারেখা পাহাড়-টিলার চূড়া। শিক্ষাদীক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার পর উচ্চশিক্ষার প্রসারকে তুলনা করা হচ্ছে সিলেটের প্রকৃতির সঙ্গে। বলা হচ্ছে, শিক্ষার চূড়ায় অবস্থান করছে এখন সিলেট। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী এক দশকে সিলেটে উচ্চশিক্ষার সুফলে নতুন এক ভবিষ্যতের দেখা মিলবে বলে শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। তাঁদের ভাষ্য, শিক্ষার সামগ্রিক হারের মধ্যে তখন উচ্চশিক্ষাও বিবেচিত হবে মোটা দাগে।
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সিলেটে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দুয়ারে আসার প্রথম সোপান বলা হয়ে থাকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (শাবিপ্রবি)। ১৯৯১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সিলেটে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠান সিলেট অঞ্চলের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। মূলত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই সিলেটে বিস্তৃত পরিসরে উচ্চশিক্ষার দরজা উন্মুক্ত হয়। এর আগে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের গন্তব্য ছিল চট্টগ্রাম কিংবা রাজশাহী। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় দশককাল পর ২০০১ সালে সিলেটে প্রথমবারের মতো লিডিং ইউনিভার্সিটি নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। এরপর সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সিলেটে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ নামে আরও তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়।
২০০৬ সালের ২ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নামের আরেকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও সিলেটের জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্টে আর্মি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখানেও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন মেধাবী শিক্ষার্থীরা। এই ৭টি প্রতিষ্ঠানে অন্তত ২৫ হাজার শিক্ষার্থী নানা বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। প্রতিবছরই কৃতিত্বের সঙ্গে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করে বেরোচ্ছেন। পাশাপাশি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অনেকেই সরকারি-বেসরকারি নানা গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে চাকরিতে কর্মরত রয়েছেন।
সিলেটের বালাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ লিয়াকত শাহ ফরিদী। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিষয়ে ১৯৮৯ সালে স্নাতকোত্তর করেছেন। লিয়াকত শাহ বলেন, ‘দুই-আড়াই যুগের ব্যবধান। আমাদের সময় আর এখনকার সময় অনেক তফাৎ। আমরা যখন পড়াশোনা করি, তখন সিলেটে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। চট্টগ্রাম গিয়ে পড়াশোনা করতে হয়েছে। এখন বেশ কয়েকটি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, এটি নিঃসন্দেহে উচ্চশিক্ষাকে হাতের নাগালের মধ্যে পাওয়া।’
এরপরও লিয়াকত শাহ মনে করেন, একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন জরুরি। কারণ, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোকলোর, নাট্যকলাসহ কলা বিভাগের অনেক বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ নেই। এ ঘাটতি কাটাতে হলে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় জরুরি। এর বাইরে সিলেটে একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনও সময়ের দাবি।
অভিজিৎ কুমার পাল সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদে আছেন। ১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকা, রাজশাহী কিংবা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া আমাদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিকল্প কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না। অনেকে তখন কষ্ট করে সিলেট থেকে অন্যত্র গিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতেন। দূরবর্তী এলাকায় গিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে হবে, এমন কারণে উচ্চশিক্ষার আগেই অনেকের পড়াশোনা থেমে যেত। আর এখন উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ির কাছেই।
সিলেটের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা বলেন, শিক্ষার মান এবং পড়াশোনা নিয়ে কারও মধ্যে বড় কোনো অভিযোগ নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের আবাসন-সংকট অনেক ক্ষেত্রে প্রকট। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ও পছন্দমতো বিষয়ের অভাবও রয়েছে। দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ঠিকই। কিন্তু দুটিই বিশেষায়িত। এমনকি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে গৎবাঁধা কিছু বিষয় নির্ধারণ করছে। ফলে বৈচিত্র্যময় বিষয়ের ওপর পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। চারুকলা, ফোকলোর, নাট্যকলা, সাংবাদিকতাসহ নানা আকর্ষণীয় বিষয় চালু করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পূর্ণাঙ্গতা পেত বলেও তাঁরা মন্তব্য করেছেন।
শিক্ষাবিদেরা বলছেন, নানা কারণে সারা দেশেই শিক্ষার মান নিম্নগামী হচ্ছে। এ থেকে সিলেটের চিত্রও ভিন্ন নয়। তবে সেটা ভিন্ন বিষয় জানিয়ে শিক্ষাবিদদের ভাষ্য, তুলনামূলকভাবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় উচ্চশিক্ষার মান সিলেটে খুব একটা খারাপ নয়। এ কারণেই এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে অনেকেই উচ্চপদস্থ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ নানান পদে চাকরি পাচ্ছেন।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৪৯টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে দুটি সিলেটে। ১০৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৩টি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সিলেটে। উচ্চশিক্ষার সুযোগ নাগালের মধ্যে আসার পর সিলেটের শিক্ষার গুণগত মানের কী অবস্থা? এমন প্রশ্নের উত্তর নিয়েও তর্ক-বিতর্ক আছে। তবে এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ২০১০ সালে স্পেনের বৃহত্তম সরকারি গবেষণা সংস্থা সিএসআইসি (Consejo Superior de Investigaciones Cientificas)-এর বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সারা বিশ্বে পরিচালিত একটি জরিপের উদাহরণ দিয়েছেন। এই জরিপে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১২তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছিল।
সিলেটের শিক্ষাবিদ, ভাষাসংগ্রামী অধ্যাপক মো. আবদুল আজিজ সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ‘ইমিরেটাস প্রফেসর’ পদে আছেন। সিলেটে থেকে তাঁর এ পদে আসীনও যেন উচ্চশিক্ষা প্রসারের আরও এক উদাহরণ। আবদুল আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, উচ্চশিক্ষার সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে সিলেটের চিত্র অতীত আর বর্তমানের মধ্যে এখন অনেক তফাৎ। শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সিলেটবাসীর জন্য একটি বাঁক বদলের মতোই ঘটনা। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পর সিলেটে আরও কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক একটি বিষয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের এখন উচিত শিক্ষার প্রকৃত ও গুণগত উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া। তবেই শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ নিশ্চিত হবে।
শিক্ষাদীক্ষার সুযোগ-সুবিধা বাড়ায় বদলে যাচ্ছে সিলেট নগরও। হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.) দরগাহ সিলেট নগরে থাকায় সিলেটকে ‘আধ্যাত্মিক নগর’ বা ‘৩৬০ আউলিয়ার শহর’ বলা হতো। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বেশি হওয়ায় সিলেটকে ‘বাংলাদেশের লন্ডন’ নামেও ডাকা হয়। চা-বাগান, পাহাড়-ঝরনাধারার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ‘পর্যটক নগর’ পরিচিতির মধ্যে শিক্ষাদীক্ষার প্রসার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ‘শিক্ষানগর’ বলেও ডাকা হয়। ভবিষ্যতের হাতছানি ‘স্মার্টসিটি সিলেট’।
একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-১ (মহানগর-সদর) আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল সিলেটকে বাংলাদেশের প্রথম ‘ডিজিটাল সিটি’ গড়া। নির্বাচনের পর তিনি তাঁর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ১০০ দিনের কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করেছেন।
সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, সিলেট নগর উন্নয়নের প্রতিটি প্রকল্পে এখন শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। মেয়র বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সব সুবিধা দিতে সিলেটকে স্মার্টসিটি হিসেবে গড়ে তোলা সময়ের দাবিতে রূপ নেওয়ার পেছনে তাগাদা হচ্ছে শিক্ষাদীক্ষায় অগ্রসর হওয়া।
শিক্ষার্থী কত
সিলেটসহ তিন জেলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্স চালু রয়েছে, এমন ২০টি কলেজে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, এমসি কলেজ, মদনমোহন কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজসহ উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি।
মেডিকেল শিক্ষায়ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন চূড়ান্ত হওয়ার পর উপাচার্য নিয়োগের মধ্য দিয়ে দাপ্তরিক কাজও শুরু হয়েছে। হবিগঞ্জে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে এবার থেকে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সুনামগঞ্জে নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনে ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সিলেটে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ নামে সরকারি মেডিকেল কলেজ ছাড়াও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে চারটি। এগুলো হচ্ছে, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ। সিলেট সেন্ট্রাল ডেন্টাল কলেজ ও ইউনানী মেডিকেল কলেজ, একটি সরকারিসহ নার্সিং কলেজ রয়েছে চারটি। মেডিকেল ও নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। মেডিকেল কলেজে বিদেশি শিক্ষার্থীও আছেন।

দাবানল জ্বলে ওঠার আগেই ব্যবস্থা নিন: অনশনকারীদের প্রতি একাত্মতা ভিপি নুরের

রোকেয়া হলে অনশনরত ছাত্রীদের হেনস্থাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি অনশনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবানল জ্বলে ওঠার আগেই অভিযুক্তদের শাস্তি দিন। আজ দুপুরে রোকেয়া হলের অনশনরত শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে গিয়ে তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি এ আহ্বান জানান।
নুরু বলেন, রোকেয়া হলের আবাসিক মেয়েরা গতকাল রাত ৯টা থেকে অনশনে বসছে, তাদের দাবি- এই হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ, নির্বাচন পুনরায় দেয়া, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা। আমি আমার বোনদের এই চারটি দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করছি। বিশ^বিদ্যালয়ের প্রশাসনকে বলবো তারা যেনো আমার বোনদের সঙ্গে কথা বলে দাবি মেনে নেন।
ভিপি বলেন, গত রাতে আমার বোনদেরকে হেনস্থা করা হয়েছে। যারা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে এই ধরনের একটি অপসংস্কৃতির চর্চা বাস্তবায়ন করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে যেনো প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই হলের প্রাধ্যক্ষ মিডিয়াতে মিথ্যাচার করেছেন। আমার বিরুদ্ধে এবং আমার সহযোদ্ধা ফারুক হাসান, প্রগতিশীল ছাত্রজোটের লিটন নন্দীসহ আমরা সেদিন গিয়েছিলাম রোকেয়া হলে। অভিযোগ পেয়েছিলাম, একটি রুমে ব্যালটে গোপন সিল মারা হচ্ছে। কিন্তু তিনি আমাদেরকে দেখতে দেননি। বরং তিনি আমাদেরকেও নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়েছেন। একপর্যায়ে তিনি আমাদের মারার জন্য ছাত্রলীগের লেডিমাস্তানসহ কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিকে ডেকেছিলেন। আর আমার বোনেরা যখন তাদের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলো, তাদেরকেও দেখে নেয়ার হুমকি দেন।
নুর বলেন, আপনারা দেখেছেন, সেই ঘটনায় আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা হয়েছে। তিনি মামলা করেননি। মামলা করেছেন অন্য একজন। কিন্তু অবশ্যই তার সঙ্গে যোগাযোগ করে করেছেন। আমি মনে করি শিক্ষক হিসেবে তিনি তার নৈতিকতার পরিচয় দিতে পারেননি। তিনি এই পদে থাকার যোগ্য নয়।
প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি করে দিয়ে ভিপি বলেন, ছাত্রদের দাবানল জ্বলে ওঠার আগেই যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। এই হলের প্রাধ্যাক্ষকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।
আজকে আমাদের বোনেরা- যারা অনশন করছে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর আগেও আমরা দেখেছি, বিভিন্ন আন্দোলনের সময় হুমকি দেয়া হয়েছে। কোটা সংস্কার আনন্দোলনের সময়ও হয়রানী করা হয়েছিলো। আমরা ছাত্রদের সঙ্গে নিয়ে তার উচিৎ জবাব দিয়েছি।
আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একটি কথাই বলতে চাই, ছাত্রদের জন্য এই বিশ^দ্যিালয়, সুতরাং ছাত্রদের ওপরে আপনারা কোন স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন না। তাহলে ছাত্ররা সেটা প্রতিহত করবে।
নির্বাচনের দিনের ঘটনা উল্লেখ করে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নুর বলেন, আমরা যখন সেখানে গেছি, দেখতে চেয়েছি কিন্তু তিনি আমাদের দেড়ঘন্টা অপেক্ষা করিয়েছিলেন। ওই সময় পেছনের দরজা খোলা ছিলো। ওই দরজা দিয়ে সিল মারা ব্যালট সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তারা যদি সৎ থাকতো তাহলে কেনো আামাদের দেরি করালো এবং লেডি মাস্তান দিয়ে হামলা করলো। তিনি শিক্ষক হিসেবে থাকার অধিকার হারিয়েছেন।
রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনশনরতদের প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নুর বলেন, সত্য কথা বলার জন্য সংখ্যার প্রয়োজন হয় না। গান্ধিজি ছিলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন। দু’জনও যদি এর প্রতিবাদ করে তার যৌক্তিকতা রয়েছে, দৃষ্টান্ত রয়েছে।
বলেন, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে একটি ছেলে- আখতার হোসেন অনশন করেছিলো। তার আহ্বানেই শিক্ষার্থীরা সাড়া দিয়ে তীব্র আন্দোলন করেছিলো এবং সফল হয়েছেন।
আমি প্রশাসনকে অনুরোধ করবো তারা দায়সারা বক্তব্য না দিয়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক রাখতে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিন।
অনশনরত শিক্ষার্থীদের কাছে না যাওয়া এবং দাবি না মানার ব্যাপারে তিনি বলেন, এটি তাদের শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের দায়িত্বহীনতা। কারণ তারা তাদের একটিবার খোঁজ নিতে পারতেন। প্রাধ্যক্ষ কেনো সৎসাহস নিয়ে তাদের সামনে আসতে পারেননি?

জনগণের ভালোবাসা নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি -৩১ প্রকল্পের উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েই আমার যাত্রা শুরু। একটাই আলো ছিল, জনগণের ভালোবাসা। সেটা নিয়েই কাজ করেছি। মনে রেখেছি বাবা কী করতে চেয়েছিলেন। মনে রেখেছি তার কাজের একটুকুও যদি আমি করতে পারি সেটাই হবে আমার বড় সাফল্য। বাংলাদেশ এখন বিশ্ব উন্নয়নের রোলমডেল। আমরা আরও অনেকদূর এগিয়ে যেতে চাই। মির্জাপুরে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণপদক প্রদান এবং জেলার ৩১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে টাঙ্গাইলে যান প্রধানমন্ত্রী।
স্বর্ণপদক প্রদানের পর তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখানে একবার এসেছিলাম, সেটা ৫৬ বা ৫৭ সালে। আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাসহ সবাই এসেছিলেন। দীর্ঘ সময় এখানে ছিলেন। এই স্কুলটা, হাসপাতাল সব ঘুরে ঘুরে দেখেছেন তারা। খুব ছায়ার মতো আমার এইটুকু স্মৃতি মনে আছে। তবে মনে আছে এই জায়গা এতো সুন্দর দেখে বাবা বলেছিলেন আমাকে এই কুমুদিনী স্কুলে ভর্তি করে দেবেন। তবে হোস্টেলে রেখে পড়ানো আমার মায়ের খুব একটা মনোপুত ছিল না। তাছাড়া এরপর ৫৮ সালে মার্শাল ল হয়। বাবাকে জেলে নিয়ে যায়। আমাদের পড়াশোনা এমনিতেই বন্ধ।
পরে আর আসা হয়নি। তবে ৮১ সালে দেশে ফেরার পর আমি অনেকবারই এসেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে আসতে পেরে আজ সত্যি নিজেকে ধন্য মনে করছি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে গণহত্যা চালিয়েছিল, মা বোনদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছিল, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছিল, সেই একাত্তর সালেই ৭ মে হানাদাররা নারায়ণগঞ্জের কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট থেকে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তার একমাত্র পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহাকে ধরে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলে। তাদের পরিবার আর কখনোই তাদের ফিরে পায়নি। স্বজন হারানোর বেদনা যে কত কঠিন, এই বেদনা যে কত যন্ত্রণাদায়ক সেটা আমরা বুঝতে পারি। দারবীর রণদা প্রসাদ সাহা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এক হাতে অর্থ উপার্জন করেতেন, আরেক হাতে বিলিয়ে দিতেন। মেয়েদের শিক্ষায়, চিকিৎসায় তিনি অর্থদান করেছেন।
মানুষকে মানুষের মতো বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন। কুমুদিনী ট্রাস্ট্রের মাধ্যমে অনেক কাজ করা হচ্ছে। জনগণের সেবায় সবসময় আমাদের সহযোগিতা থাকবে।
এবছর যে চার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণ পদক দেয়া হয় তারা হলেন- পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেইন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (মরণোত্তর), জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), নজরুল গবেষক প্রফেসর রফিকুল ইসলাম ও বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী শাহবুদ্দীন আহমেদ। সোহরাওয়ার্দীর পক্ষে বঙ্গবন্দু কন্যা শেখ রেহেনা এবং জাতীয় কবির পক্ষে কবির নাতনি খিলখিল কাজী প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন।
মির্জাপুরে ৩১ প্রকল্পের উদ্বোধন : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ৩১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিফলক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উপজেলার কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি) আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে রণদা প্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্ণপদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া কুমুদিনী হাসপাতাল ও ভারতেশ্বরী হোমস পরিদর্শন করেন তিনি। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর হেলিকপ্টারে করে ঢাকা থেকে মির্জাপুরের কুমুদীনি কমপ্লেক্সে পৌঁছান শেখ হাসিনা। ছোট বোন শেখ রেহানাও তার সঙ্গে রয়েছেন। কুমুদিনী কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আনুষ্ঠানিকতা সারেন।
কুমুদিনী ট্রাস্টের পরিচালক ভাষা সৈনিক প্রতিভা মুৎসুদ্দি, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক এম এ জলিল, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হালিম, ভারতেশ্বরী হোমসের অধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাজ্যে চিলেকোঠায় টিপু সুলতানের বন্দুক

যুক্তরাজ্যের বার্কশায়ার কাউন্টির এক দম্পতি তাঁদের বাড়ির চিলেকোঠায় খুঁজে পেলেন সোনার কারুকাজ করা একটি বন্দুক। খোঁজ নিয়ে জানলেন, বন্দুকটি আঠারো শতকে ভারতের অন্যতম বীর মহীশূরের শাসক টিপু সুলতানের। বন্দুকটি ২৬ মার্চ নিলামে উঠছে লন্ডনে। বলা হচ্ছে, ইংরেজদের বিরুদ্ধে শেষ যুদ্ধে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই বন্দুক দিয়ে লড়েছিলেন তিনি।
যে দম্পতি বন্দুকটি খুঁজে পেয়েছেন, তাঁরা আঠারো শতকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে কাজ করা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর মেজর টমাস হার্টের উত্তরসূরি। তিনি টিপুর আরও অনেক মূল্যবান সম্পদের সঙ্গে বন্দুকটি প্রায় ২২০ বছর আগে ইংল্যান্ডে নিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর অনেকটা অযত্নেই সেগুলো পড়ে ছিল বার্কশায়ারে তাঁর বাড়িতে।
আঠারো শতকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভারতবর্ষের অন্যতম বীর ছিলেন মহীশূরের টিপু সুলতান। ভারতের অনেক এলাকা কোম্পানির অধীনে থাকলেও মহীশূর ছিল স্বাধীন। মহীশূর দখল করতে ইংরেজরা চারবার আক্রমণ করে। প্রথমটি হায়দারের সময়ে এবং বাকিগুলো টিপুর সময়। ইংরেজ–মহীশূর দ্বিতীয় যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছিলেন টিপু। পরের যুদ্ধে সন্ধি করতে বাধ্য হন তিনি। ডিউক অব ওয়েলিংটনের বিরুদ্ধে ইংরেজ-মহীশূর চতুর্থ যুদ্ধে নিহত হন তিনি।
নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান অ্যান্থনি ক্রিব বলেন, টিপুর সময়ে মহীশূরের রাজধানী শ্রীরঙ্গপত্তনে তৈরি হয়েছিল বন্দুকটি। এটি টিপুর অস্ত্রভান্ডারের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। তিনি বলেন, ‘এমন জিনিসের খোঁজ পাওয়ার সুযোগ সারা জীবনে একবারই আসে।’
নিলামে সোনা দিয়ে তৈরি টিপু সুলতানের একটি পানের বাটাও থাকছে। বাটায় সেই সময়ের তিনটি সুপারি এখনো প্রায় অবিকৃত রয়ে গেছে।

মনোরম উত্তরা গণভবন by শুভ্র কান্তি দাশ

প্রায় ৪৪ একর আয়তনের দিঘাপতিয়া রাজবাড়িটি নাটোর শহর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন এই রাজবাড়ি উত্তরা গণভবন হিসেবে পরিচিত। দিঘাপতিয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন নাটোর রাজ্যের দেওয়ান রাজা দয়ারাম রায়। ১৯৫৬ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে দিঘাপতিয়া রাজপরিবারের সদস্যরা ভারতে চলে যান। ১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজবাড়িটিকে উত্তরা গণভবন ঘোষণা করেন। কয়েকবার এখানে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে। সাম্প্রতিক ছবি।
রাজবাড়ির ফটকের দিকে চলে গেছে এই সড়ক।বাগানের মাঝখানে উন্মুক্ত স্থান।সংস্কারের পর ঝকঝকে রাজবাড়ি।ইতালীয় বাগানের বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে পাথরের ভাস্কর্য।বাগানের নান্দনিক ফোয়ারা।রাজবাড়ির সবখানে কারুকাজের নিদর্শন।রাজবাড়ির একাংশ।সুন্দর করে বাঁধানো ঘাট।দিঘির শানবাঁধানো ঘাটে ধাতব ভাস্কর্য।দিঘির পাড়ে বসার জন্য বেঞ্চ।শ্বেতপাথরের এই ভাস্কর্যগুলো আনা হয়েছিল ইতালি থেকে।বাড়ির সামনে শ্বেতপাথরে তৈরি রাজার আবক্ষ ভাস্কর্য।অনেকে এভাবেই রাজবাড়ির সৌন্দর্য নষ্ট করেন।

ছাত্রী হলে রাজনৈতিক প্রভাব কম থাকায় স্বতন্ত্ররা জয়ী

ছাত্র হলগুলোর সংসদের নির্বাচনে ছাত্রলীগ প্রায় একচেটিয়াভাবে জিতলেও ছাত্রীদের হলগুলোতে ছিল ভিন্ন চিত্র। ছাত্রীদের পাঁচটি হলের চারটিতেই হেরেছে তারা। এই চারটি হলে সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদকসহ (জিএস) বেশির ভাগ পদে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট হল ১৮টি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও ছাত্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রদের হলগুলোতে সব সময়ই ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকে। ১০ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় ছাত্র হলগুলোতেও ছাত্রলীগের একক নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। গত সোমবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বেশির ভাগ হলে সংসদে ছাত্রলীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। অবশ্য ছাত্রদের বিভিন্ন হলে ‘কৃত্রিমভাবে’ ভোটারের লাইনের গতি কমিয়ে ভোটদানে নিরুৎসাহিত করাসহ বেশ কিছু অভিযোগ ছিল।
ছাত্রীদের হলগুলোতে কার্যত ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণ নেই। এর অন্যতম কারণ হলের আসন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ থাকে হল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে। হলে আসন পেতে ছাত্রসংগঠনের মুখাপেক্ষী হতে হয় না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রীরা সুবিবেচনা করে ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছেন। এটা সম্ভব হয়েছে সেখানে পরিবেশ-পরিস্থিতি সে রকম ছিল বলে। ছাত্রীদের হলগুলোতে অস্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ নেই।
ডাকসু নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল থেকে বস্তাভর্তি ‘সিল মারা’ ব্যালট উদ্ধার করেন সাধারণ ছাত্রীরা। এসব ব্যালটে ছাত্রলীগের হল সংসদের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেওয়া ছিল। পরে ছাত্রীদের বিক্ষোভের মুখে প্রাধ্যক্ষকে সরিয়ে নতুন প্রাধ্যক্ষ নিয়োগ করে সেখানে ভোট নেওয়া হয়। রাতে ফল ঘোষণার পর দেখা যায়, এই হলে সব পদে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ভিপি পদে সুস্মিতা দে, জিএস সাগুফ্তা বুশরা ও এজিএস হয়েছেন মুন্নী আক্তার।
কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদে ভিপি-জিএসসহ নয়টি পদে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। আর চারটি পদে জিতেছে ছাত্রলীগ। ভিপি পদে তানজিনা আক্তার, জিএস মনিরা শারমিন ও এজিএস নির্বাচিত হয়েছেন লুৎফুন্নাহার।
অবশ্য রোকেয়া হলে ভিপি, জিএস, এজিএসসহ ১১টি পদে জিতেছে ছাত্রলীগ। অন্য দুটি পদে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ভিপি পদে ইশরাত জাহান, জিএস সায়মা আক্তার ও এজিএস পদে নির্বাচিত হয়েছেন ফাল্গুনী দাস।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ছাত্র সংসদে ভিপি, সংস্কৃতি ও সাহিত্য সম্পাদক পদে জিতেছেন স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী। তবে এই দুটি ছাড়া অন্য পদে জয় পেয়েছে ছাত্রলীগ। ভিপি, সংস্কৃতি ও সাহিত্য সম্পাদক পদে জিতেছেন স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী। ভিপি পদে রিকি হায়দার (স্বতন্ত্র), জিএস পদে সারা বিনতে কামাল (ছাত্রলীগ) ও এজিএস পদে সাবরিনা স্বর্ণা (ছাত্রলীগ) জয় পেয়েছেন।
শামসুন্নাহার হল ছাত্র সংসদের ১৩টি পদের মধ্যে ভিপি, জিএস, এজিএসসহ আটটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। আর পাঁচটিতে জিতেছেন ছাত্রলীগের প্রার্থীরা। ভিপি পদে শেখ তাসনিম আফরোজ, জিএস আফসানা ছপা ও এজিএস পদে ফাতিমা আক্তার জয়ী হন। এই হলের ছাত্রীরা আগের দিন থেকেই ব্যালট বাক্স পাহারা দিয়ে রাখেন বলে জানা গেছে।

জাহালমকে নিয়ে সিনেমা, তিনিই জানেন না!

সোনালী ব্যাংক থেকে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন আবু সালেক নামের একজন। কিন্তু দুদক সালেকের স্থলে জাহালমকে জেলে ঢুকিয়ে বলেছে, ‘তুমিই অপরাধী।’ অবশেষে তিনি মুক্ত হয়েছেন। টাঙ্গাইলের আলোচিত সেই জাহালমের জীবনের গল্প এবার পর্দায় আসছে।
জাহালমের জীবনের কষ্টের কাহিনি নিয়ে সিনেমা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মারিয়া তুষার। এরই মধ্যে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে নাম নিবন্ধন করেছেন। জাহালমের নামের সঙ্গে মিলিয়ে ছবির নামও রেখেছেন ‘জাহালম’। তবে জাহালমই জানেন না, তাঁকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে সিনেমা।
টাঙ্গাইলের পাটকলশ্রমিক জাহালম, যিনি কোনো দিন ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নেননি, তাঁর আর্থিক যে অবস্থা, তাতে হয়তো তাঁর নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে কি না, সে বিষয়েও সন্দেহ আছে। তার পরও তাঁকে ভয়ংকর ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করে ৩৩টি মামলা দেওয়া হয়েছে। আর সেই মামলায় তাঁকে তিন বছর বিনা বিচারে কারাগারে কাটাতে হয়েছে।
‘জাহালম’ ছবিটি পরিচালনা করবেন মারিয়া তুষার। আর ছবিতে জাহালমের চরিত্রে অভিনয় করবেন রিয়াজুল রিজু, যিনি ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’ নামের একটি সিনেমা বানিয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১৫ সালের ঘোষিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তাঁর পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র’, ‘শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক’, ‘শ্রেষ্ঠ গায়ক’, ‘শ্রেষ্ঠ গীতিকার’, ‘শ্রেষ্ঠ সুরকার’, ‘শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার’, ‘শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার’ ও শ্রেষ্ঠ সম্পাদক’—এই আটটি বিভাগের পুরস্কার অর্জন করে। জাহালমের চরিত্রে অভিনয়ের ব্যাপারটি ভীষণ চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করছেন তিনি। বললেন, ‘আমার প্রথম সিনেমা “বাপজানের বায়োস্কোপ” করার মতো চ্যালেঞ্জ বোধ করছি। কারণ প্রথম কোনো সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছি।’
জাহালমের জীবনী নিয়ে ছবি নির্মাণের ভাবনা প্রসঙ্গে মারিয়া তুষার বলেন, ‘টেলিভিশনে প্রথম জাহালমের খবরটি জানতে পারি। জাহালমের দুঃখের জীবনের সংবাদটা ছিল সাড়া জাগানো। তাঁর সাক্ষাৎকার দেখার পর মনে হলো, এটা নিয়ে কাজ করা উচিত। আমার কাছে ব্যাপারটা স্পর্শকাতরও মনে হয়েছে।’
জাহালমের জীবনী নিয়ে ছবি বানাতে এ মাসেই তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন বলেও জানান মারিয়া তুষার। জানালেন, এই ধরনের চাঞ্চল্যকর ঘটনা নিয়ে সিনেমা বানানোটা খুবই চ্যালেঞ্জিং। তার পরও সাধ্যমতো চেষ্টা করব।’
নিজের জীবনের ঘটনা নিয়ে সিনেমা নির্মিত হতে যাচ্ছে জেনে খুব খুশি জাহালম। গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাঁর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি বললেন, ‘আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। ব্যাপারটা ভালোই লাগছে। মিথ্যা মামলায় আমি অনেক কষ্ট করছি। আমার জীবনের সেই কষ্টের কথা সিনেমায়ও দেখা যাবে, এটাতে আমি অনেক বেশি আনন্দিত। আমি চাইব, বিনা দোষে যে শাস্তি পেয়েছি, এই ধরনের কোনো শাস্তি এ দেশের কেউ যেন আর না পায়। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সেই বিষয়গুলো সুন্দরভাবে যেন তুলে ধরা হয়।’
‘জাহালম’ সিনেমাটি প্রযোজনা করছে নির্মাতার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মারিয়া তুষার ফিল্মস।

জৈশ ই মোহাম্মদ ইস্যুতে কি করবে পাকিস্তান!

জঙ্গি সংগঠন বলে পরিচিত জৈশ ই মোহাম্মদ ইস্যুতে কি করবে পাকিস্তান! এটা এখন এক বড় প্রশ্ন। অবিলম্বে ও জরুরিভিত্তিতে ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতও তাই চায়। জৈশ ই মোহাম্মদদের প্রধান মাসুদ আজহারকে সারাবিশ্বের জন্য সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণার একটি প্রস্তাব বৃহস্পতিবার গ্রহণ করতে পারে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তবে চীন এক্ষেত্রে বাগড়া দিতে পারে। তারা  একটি ‘দায়িত্বশীল সমাধানের’ আহ্বান জানিয়েছে। বলা হয়েছে, এ সমাধানে আসা যায় শুধু সংলাপের মাধ্যমে। মাসুদ আজহার পাকিস্তানেই আছেন বলে সেদেশের সরকার এর আগে জানিয়েছে।
ফলে এখন এ ইস্যুতে পাকিস্তান কি করে বা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কি সিদ্ধান্ত দেয় তা দেখার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল পম্পেওর সঙ্গে সোমবার ওয়াশিংটনে সাক্ষাত করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে। এরপর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে মাইক পম্পেও গুরুত্বারোপ করেছেন। মাসুদ আজহারকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী ঘোষণা করা হবে কিনা সে বিষয়ে বৃহস্পতিবার একটি প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এ অবস্থায় এমন সব ইস্যুর সঙ্গে কাশ্মির বিরোধের বিষয়ে দৃষ্টি দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। এ ইসুতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু কাং বলেছেন, ১২৬৭ স্যাংশন কমিটির আওতায় একজন ব্যক্তিকে সন্ত্রাসী আখ্যা দেয়ার বিষয়ে চীনের অবস্থান সুদৃঢ় ও সুস্পষ্ট। কমিটির কর্মপ্রক্রিয়া বিষয়ক আইনের অধীনে এবং দায়িত্বশীল আলোচনায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে চীন দায়িত্বশীলের অবস্থান নিয়েছে। এক্ষেত্রে শুধু আলোচনার মাধ্যমে আমরা একটি দায়িত্বশীল সমাধানে পৌঁছাতে পারি। 
ওয়াশিংটনে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলেছেন, মাসুদ আজহারকে সন্ত্রাসী আখ্যা দেয়ার প্রস্তাবে বৃটেন ও ফ্রান্সের পাশাপাশি অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সময়ে তারা চাইছে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়ে তা পাস হোক নিরাপত্তা পরিষদে। আর এতে যাতে চীন ভেটো না দেয় এমন আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে পাকিস্তানের নেতাদের প্রতি এ বিষয়ে নমনীয় হতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে যখন ভারতের আলোচনা হচ্ছিল তখন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন টেলিফোনে কথা বলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশির সঙ্গে। এ সময় তারা এই ইস্যু সহ অন্য ইস্যুগুলোতেও কথা বলেন। ফোনকলের পরে জন বল্টন টুইটারে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পোস্ট করেন। সোমবার বিকেলে ওই টুইটে তিনি লিখেছেন, জৈশ ই মোহাম্মদ ও পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হয় এমন অন্য সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশির সঙ্গে কথা হয়েছে। তাকে উৎসাহী করা হয়েছে। তিনি আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে, সব সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে পাকিস্তান। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে ব্যবস্থা নেবে।
একই দিন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে জন বল্টনকে ২৬ শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে ভারত আগ্রাসন চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বাইরের আগ্রাসনের জন্য শুধু আত্মরক্ষার্থে জবাব দিয়েছে পাকিস্তান।
(অনলাইন ডন অবলম্বনে)