Friday, November 30, 2018

গর্ভস্থ শিশুর জিন পাল্টে দেয়ার দাবি

জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে পৃথিবী এই প্রথম একটি মানব-সন্তান পেয়েছে বলে দাবি করেছেন এক চীনা বিজ্ঞানী।
তবে, এই দাবির সত্যতা নিয়ে দেখা দিয়েছে ঘোর সন্দেহ।
মায়ের পেটে ভ্রূণ অবস্থায় রেখেই জেনেটিকেলি বা জিনগত কিছু পরিবর্তন ঘটিয়েছেন বলে দাবি করেছেন অধ্যাপক হি জনকুই।
কিন্তু এই ধরণের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই নিষিদ্ধ।
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম
বংশ পরম্পরায় যেসব রোগ আমরা বহন করে থাকি ভ্রূণের জেনেটিক পরিবর্তন ঘটিয়ে তা ঠেকানো সম্ভব।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানব-ভ্রূণের জেনেটিক পরিবর্তন আনার এই বিষয়টি ব্যক্তি তথা পুরো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ইংল্যান্ডসহ পৃথিবীর নানা দেশে 'জেনেটিকেলি মডিফায়েড' শিশু জন্ম দেয়াকে নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।
তবে, এই বিষয়ে বিজ্ঞানীদের অবশ্যই বিভিন্ন গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে বলা হয়, গবেষণা শেষে এ সংক্রান্ত সব আলামতকে একেবারে নষ্ট করে দিতে হবে।ডিজাইনার বেবি
অধ্যাপক হি, মানব শিশুকে মায়ের গর্ভে ভ্রুণাবস্থায় রেখেই জেনেটিকেলি কিছু পরিবর্তন এনেছেন বলে যিনি দাবি করেছেন, তিনি মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন।
দক্ষিণ চীনের শেনজেন শহরে তার গবেষণাগার রয়েছে।
অধ্যাপক হি বলেছেন, জমজ দুই মেয়ে শিশুর, জিন-সম্পাদনার ক্ষেত্রে তিনি জিন এডিট করার যন্ত্র ব্যবহার করেছেন।
জমজ এই দুই শিশুর নাম তিনি বলেছেন, লুলু ও নানা।
এক ভিডিওতে অধ্যাপক হি দাবি করেছেন, সিসিআর-৫ নামে ক্ষতিকর একটি জিনকে তিনি লুলু ও নানার জিন থেকে সরিয়ে নিয়েছেন।
সিসিআর-৫ জিন থেকে সরিয়ে নেয়ায় এই দুই জমজ শিশু এইচআইভি প্রতিরোধক ক্ষমতা নিয়ে জন্মাবে বলে দাবি করা হয়।
বিজ্ঞানী হি বলছেন, যেসব শিশুরা রোগ-বালাইয়ে ভুগবে না তেমন ধরনের 'ডিজাইনার বেবি' সৃষ্টি করাই তার কাজ।
প্রকাশিত ভিডিওতে তিনি এটিও বলেছেন, 'আমার কাজ হয়তো বিতর্কিত হিসেবে দেখা হতে পারে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, পরিবারগুলোর এই প্রযুক্তি প্রয়োজন। আর এজন্যই সমালোচনা মেনে নিতেও আমার কোনো সমস্যা নেই।'চিকিৎসায় নিরাময়যোগ্য
জিন পরিবর্তনের মাধ্যমে 'ডিজাইনার বেবি' সৃষ্টির প্রকল্পের সাথে যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশিত হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে একটি হাসপাতালের নামও।
তবে, এই হাসপাতালটি জিন পরিবর্তনের ঘটনা অস্বীকার করেছে।
শেনজেনে অবস্থিত সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি বলেছে, তারা এই ধরণের কোনো প্রকল্প সম্পর্কে কিছুই জানতো না।
তবে, এই বিষয়ে জানতে এখন তারা একটি তদন্ত শুরু করেছে।
অন্যান্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, অধ্যাপক হি-র দাবি সত্য হয়ে থাকলে, তিনি যা করেছেন সেটি অন্যায্য।
এমনকি তার এই কার্যক্রমকে 'বৈজ্ঞানিক অসদাচরণ' বলেও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
অধ্যাপক হি'র কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করে লন্ডনের কিংস কলেজের স্টেম সেল বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. ডুস্কো ইলিক বলেছেন, 'এই ধরণের কাজকে যদি নৈতিক বলে আখ্যা দেয়া হয়, তাহলে তা হবে সারা দুনিয়ার প্রচলিত নৈতিক ধারণা থেকে একেবারেই ভিন্ন'।
ড. ডুস্কোর মতে, এইচআইভি চিকিৎসায় নিরাময়যোগ্য রোগ। অতএব, বাবা-মায়ের কাছ থেকে শিশু এই রোগ পেলেও বিশেষ চিন্তার কারণ নেই।
অতীব ঝুঁকিপূর্ণ
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির নৈতিকতা বিষয়ক অধ্যাপক জুলিয়ান সাবুলেস্চু বলেছেন, 'এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে তা হবে একটা অত্যন্ত বীভৎস বিষয়'।
জিন-এডিটিং এর কাজ এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর্যায়ে রয়েছে।
তাই, এই পরিস্থিতিতে এ ধরণের উদ্যোগ জীবনের প্রারম্ভে বা শেষে কখনো হয়তো জেনেটিক সমস্যার কারণ হতে পারে।
এমনকি, এর ফলে ক্যান্সারেরও আশঙ্কা থাকে।
তাই, বলা হচ্ছে, জিন সম্পাদনার মাধ্যমে যে শিশু-দ্বয়কে রোগের ঝুঁকি থেকে মুক্ত করা হলো বলে মনে করা হচ্ছে, উল্টো এর ফলে এই শিশুরা আরো অধিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হিউমেন জেনেটিক বিশেষজ্ঞ ড. ইয়াল্দা জামশিদি বলেছেন, জিন পরিবর্তনের যে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রয়েছে তা নিয়ে আমরা এখনো অত্যন্ত কম জানি।
তাই ড. জামশিদির মতে, কেবল বিজ্ঞানীদের জ্ঞান বাড়ানোর জন্য যদি মানব জিনের ওপর এ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় সেটি হবে নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।
সূত্রঃ বিবিসি।

Thursday, November 29, 2018

বাংলাদেশের নির্বাচনে বিদেশী পর্যবেক্ষক প্রয়োজন কেন -ডয়েচে ভেলে’র রিপোর্ট

আগামী ৩০শে ডিসেম্বর বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটিতে গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রে এই নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ততই বেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের দাবি জোরালো করছে। তাদের আশা এসব পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের ওপর চাপ বাড়াবে।
বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষমতা নিয়ে দেশের ভিতরে ও বাইরে সংশয় আছে। এমন একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ তৈরি করে দিতে পারে।
নির্বাচন কমিশন নামমাত্র স্বাধীন। ক্ষমতাসীনদের লাইন থেকে তাদের বিচ্যুত হওয়ার ঘটনা বিরল। সব সময়ই তারা ক্ষমতাসীন দলের অনুগত হয়ে কাজ করে।
তাই কর্মকর্তাদের মধ্যে নিরপেক্ষতার ধারণা বদ্ধমূল করতে বিরোধীরা বার বার আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সহায়তা চেয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতৃত্বে বিরোধীরা দাবি করেছে, নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দলকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে। ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে। বিরোধী রাজনীতিকরা বলেন, একটি ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসন নিশ্চিত করবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, যাতে সব দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। কিন্তু তাদের এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে ক্ষমতাসীন দল ও দলটির নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এর আগে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও একই দাবি করেছিল বিরোধীরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধীরা নির্বাচন বর্জন করে। এতে সহিংসতায় নির্বাচন বিঘ্নিত হয়। কিন্তু এবার তাদের দাবি না মানা হলেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।
১৫ই নভেম্বর ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট বাংলাদেশ ইস্যুতে একটি প্রস্তাব পাস করেছে। তাতে একটি শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমুলক জাতীয় নির্বাচন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, এতে দেশবাসীকে তাদের ‘প্রকৃত রাজনৈতিক পছন্দ’ বেছে নেয়ার সুযোগ দেয়া হবে এর মাধ্যমে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতি পরিবর্তনশীল। এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে কোনো পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অটল আছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের একজন সদস্য জোসেফ উইডেনহোলজার। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন। তিনি ডয়েচে ভেলে-কে বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে যেসব মৌলিক অধিকার থাকার কথা, যেমন বিনা বাধায় সমাবেশ করা, মিডিয়ার স্বাধীনতা ইত্যাদি, বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ সেই অধিকার প্রদর্শন করে না। বিরোধীদের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। সুষ্ঠু বিচারে যা যা প্রয়োজন তা থেকে ঘাতটি আছে এমন এক বিচারে তাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে দেয়া হয়েছে ১০ বছরের জেল। তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন নয়। এমন সব পরিস্থিতিতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের মিশনের উপস্থিতি তার লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে না এবং তাদেরকে বিকৃত উদ্দেশে অপব্যবহার করা হতে পারে।
এর আগে ডয়েচে ভেলে-কে একটি সাক্ষাৎকার দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনজি তিরিঙ্ক। তিনি ওই সাক্ষাৎকারে হাতে সময় কম থাকার কথা বলেন। এ ছাড়া বাজেট ও নিরাপত্তাকে তিনি এবারের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশেই স্থানীয় পর্যায়ের অনেক ভালো পর্যবেক্ষক আছেন। তারাই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে চমৎকার কাজ করবেন হয়তো।
বিশ্লেষকরা বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের এমন সিদ্ধান্ত উদ্বেগের। ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রফেসর আলী রীয়াজ বলেন, ‘যেহেতু ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের অনেক সদস্য ১৫ই নভেম্বর দৃঢ়তার সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনকে এভাবে বর্ণনা করেছেন, এটাই হলো দেশটির গণতান্ত্রিক গতিধারা ও আইনের শাসন নির্ধারণের শেষ সুযোগ’। তাই সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা উচিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের এবং তা করা উচিত অবিলম্বে। আলী রীয়াজ বলেন, মানবাধিকার, সুশাসন ও গণতন্ত্রের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই বাজেটের টানাপড়েনের কথা বলে তারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে পারে না।
ওয়াশিংটনভিত্তিক উড্র উইলসন সেন্টার ফর স্কলারসের মাইকেল কুগেলম্যানের কণ্ঠেও একই রকম দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। তিনি বলেন, সুস্পষ্টভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন। কারণ, তারা ধরে নিয়েছে নির্বাচন এতটাই অবাধ ও সুষ্ঠু হবে যে, সেখানে পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি হবে অতিরিক্ত। এটাকে আমি এমন একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখি যাতে মনে হয়, এই নির্বাচন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এতটাই সন্দেহপ্রবণ যে, তারা এতে পর্যবেক্ষক পর্যন্ত পাঠানোর কথাও ভাবছে না। উপরন্তু, এ বিষয়টিতে সিদ্ধান্তে যাওয়া হতে পারে একটি অত্যন্ত বিরক্তিকর বিষয়।
বিদেশি পর্যবেক্ষক ‘গুরুত্বপূর্ণ’
অতীতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে শক্তিশালী পর্যবেক্ষক টিম পাঠিয়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৫৯৩ জন আন্তর্জাতিক ও ১৫৯১১৩ জন স্থানীয় পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন।
ওই নির্বাচনে যেসব বিদেশি পর্যবেক্ষক এসেছিলেন তার বেশির ভাগই পাঠিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ওই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণমূলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এমন নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় নিশ্চিত করে আওয়ামী লীগ। তারপর থেকেই দেশ শাসন করে চলেছে এই দলটি। কিন্তু ২০১৪ সালের একপেশে নির্বাচন তাদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
আলী রীয়াজ বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নির্বাচন কমিশনের ওপর বিরাট এক প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে, মাঠপর্যায়ে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর। এ ছাড়া তাদের উপস্থিতি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের আচরণের ওপরও প্রভাব ফেলে। এর ফলে জবাবদিহিতার একটি মেকানিজম সৃষ্টি হয় এবং ভোটারদের মধ্যে আস্থা বাড়ে।
বাংলাদেশের বিরোধপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাধীনতার ঘাতটির বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরে কুগেলম্যান বলেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এ দেশটিতে নির্বাচনকালীন অবশ্যই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক প্রয়োজন। যদি এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু না হয় তাহলে এটা বলা খুব কঠিন হবে যে, বাংলাদেশ একটি একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হয়নি। এ নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিতে হবে। তার অন্যতম হলো বিদেশি পর্যবেক্ষক হাতে রাখা।
কঠিন দিকনির্দেশনা
নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের উপস্থিতির যে আশা বিরোধীরা করেছেন তা ততই ম্লান হয়ে আসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্তের পরে বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠাতে অর্থ বরাদ্দ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বৃটেন। বিরোধী দলের একই দাবি জাতিসংঘও রাখে নি বলে রিপোর্ট প্রকাশ পেয়েছে।
ইতিমধ্যে অর্থের সঙ্কটের কথা বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষক গ্রুপগুলোও তাদের পর্যবেক্ষকের সংখ্যা কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। স্থানীয় মিডিয়ার মতে, দেশে ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রে ভোট হবে। পর্যবেক্ষক কমিয়ে আনার ফলে এতগুলো ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করা তাদের পক্ষে অনেকটা কঠিন হয়ে পড়বে।
ওদিকে নির্বাচন কমিশন নতুন দিকনির্দেশনা ঘোষণা করেছে। তাতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যবেক্ষকদের চলাফেরা (মুভমেন্ট) সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে তাদেরকে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কোনো অনিয়ম হলে তা নিয়ে মিডিয়ার সঙ্গে কথা না বলতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচন নিয়ে ভোটের দিন ফেসবুক বা টুইটারে কোনো লাইভ বক্তব্য না দিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশন থেকে। তাই ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের সদস্য জোসেফ উইডেনহোলজার বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করতে। তিনি বলেন, সরকারের উচিত আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে যাওয়া। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা, ভোটার নিবন্ধন ও শনাক্তকরণে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে পারে।
(ডয়েচে ভেলে’তে প্রকাশিত প্রতিবেদনের অনুবাদ)

বন্ধু ছাড়া মানুষের জীবন কি খুব কঠিন?

ব্রিটিশ রেড ক্রসের এক গবেষণা অনুযায়ী যুক্তরাজ্যে লাখ লাখ মানুষ একাকীত্ব কিংবা সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় ভুগছেন।
যাদের ওপর গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে তাদের মধ্যে প্রায় চার হাজার প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ বলেছেন তাদের কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেই।
আবার এক তৃতীয়াংশও বলছেন কথা বলার মতো কেউ নেই বলে প্রায়শই তারা একা বোধ করেন।
যদিও অনেকে মনে করেন একাকীত্বের মতো বিষয়টি আসলে বয়স্কদের ওপরই প্রভাব ফেলে কিন্তু এই গবেষণা বলছে তরুণ প্রাপ্তবয়স্করাও এখন এ ধরণের সমস্যা অনুভব করেন।হ্যাজেল নামে একজন বলেছেন তিনি নতুন একটি এলাকায় আসার পর অন্তত তিন বছর কোনো বন্ধু তৈরি করতে পারেননি।
মাত্র বিশ বছর বয়সে বার্মিংহামে বড় হওয়া এ তরুণী অন্য একটি এলাকায় যান যেখানে তার স্বামী বাস করেন।
"অনেকেই আমাকে বলেছেন বন্ধু তৈরি করা সহজ কিন্তু আমি আসলে অনেক লড়াই করেছি"।
তিনি বলেন, "সবসময়ই এটা কঠিন মনে হয়েছে আমার কাছে। শৈশবে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে আমাকে। আমি আসলে আমার সহোদরদের মতো ছিলাম না এবং সামাজিকভাবে মেশার বিষয়গুলো আমি ততটা শিখে উঠতে পারিনি"।
হ্যাজেল বলেন তিনি মনে করেন কিছু মানুষের মধ্যে এ বিষয়গুলো আসলে প্রাকৃতিক ভাবে হয়ে ওঠে আর কিছু মানুষকে সংগ্রাম করতে হয়।আস্থা পাওয়াটাই কঠিন
হ্যাজেল বিষয়গুলো নিয়ে তার স্বামীর সাথে কথা বলেছেন। কিন্তু তাতে কোনো সমাধান আসেনি।
"মানুষকে বিশ্বাস করাই কঠিন হয়ে উঠেছিলো। ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো হারাতে শুরু করলে আপনি আসলে আত্মবিশ্বাসটাই হারাতে শুরু করবেন"।
সবসময় একধরনের উদ্বেগের মধ্যে থাকতেন তিনি কিন্তু কখনোই চিকিৎসকের কাছে যাননি।
পরে অবশ্য তিনি যখন গর্ভবতী হয়ে পড়েন তখন এ অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করে।
হ্যাজেলের জন্য মাতৃত্ব তাকে একাকীত্বের চক্র ভাঙ্গতে সহায়তা করেছে।
আবার সিমোনা ভারানিউট যখন লিথুনিয়া থেকে বেলফাস্টে যান এবং প্রথম ছয় মাস তার ভালোই কেটেছে।
"এটাই ছিলো আমার প্রথম কোনো দেশে যাওয়া। আমি ভাবলাম এসেছি এবং কয়েক সপ্তাহ থেকে বাড়ি ফিরে যাবো। বিষয়টা আমি পছন্দ করেছিলাম"।
তবে একাকীত্ব বিষয়টা অনুভব করেছিলাম পরে।
"আমি যেখানে থাকতাম সেখানকার লোকজন বন্ধু বৎসল। কিন্তু ঠিক বিশ্বাস করার মতো নয়"।
এবং তার সন্তান সেবাস্টিনের ছেলে জন্ম নেয়ার পর এটা আরও কঠিন হয়ে যায়।
সিমোনা অবশ্য বলছেন ছেলের সাথে সময়টা তার দারুণ কেটে যায়।
কিন্তু দিনের লম্বা সময়টা কাটানো ততটা সহজ ছিলোনা।
"মনে হতো চার দেয়ালের মধ্যে আটকে আছি।
আমি বসে না থেকে বাইরে যেতে চেয়েছি"।
পরে চ্যারিটি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হলে একটি কমিউনিটির সাথে তার যোগসূত্র গড়ে উঠে।
এখন তার পরামর্শ হলো, কোন নতুন পরিবেশে ভয় পাওয়া বা সাহায্য চাইতে লজ্জিত হওয়া উচিত নয়।
সূত্রঃ বিবিসি

এমনি যায় না, আবার তেনা পেঁচাইয়া? by শামীমুল হক

ছোট বেলার নানা স্মৃতি মাঝে মাঝেই মনে হয়। গ্রামের স্মৃতি। খেলার স্মৃতি। দিনের স্মৃতি। রাতের স্মৃতি। ভালোবাসার স্মৃতি। সুখের স্মৃতি। দুখের স্মৃতি।
মধুর স্মৃতি। ঘুরে বেড়ানোর স্মৃতি। চোখ বুঝলেই নানা স্মৃতি তাড়া করে। ফিরে যাই ছোট বেলায়। ভাবি কেন যে বড় হলাম। ছোট থাকাটাইতো ভালো ছিল। কিন্তু তাতো হবার নয়। প্রকৃতির নিয়ম। বড় হতে হবে। এভাবে দিন ফুরিয়ে যাবে। মিশে যাব মাটির সঙ্গে। তখন আমিই হয়ে যাব অনেকের স্মৃতি।
যাক ফিরে যাই আমার স্মৃতিতে। আমার এক স্বজনের পুত্র সন্তান হয়েছে। তিনি পুত্রের নাম রাখা অনুষ্ঠান করবেন। গ্রামের ভাষায় যাকে বলে ছইট্টা। ওই দিন প্রথম শিশুর মাথার চুল ফেলা হয়। রাতে শিশু সন্তানের নাম রাখা হয়। এ সময় তার হাতে টাকা তুলে দেয়া হয়। যেন বড় হয়ে ওই শিশু টাকাওয়ালা হয়। স্বর্ণ, রুপাও তুলে দেয়া হয়। নজর যেন না লাগে কপালে দেয়া হয় টিপ। সারা রাত এসব করে কাটানো হয়। তো সেই অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়া হয়েছে আমাদের। গ্রামের অন্য মহল্লায় যেতে হবে। আমি আর আমার বড় বোনকে মা পাঠালেন দুপুরে খাওয়ার জন্য। আমরা দুজনই এক ক্লাসে পড়তাম। বয়স তখন নয় দশ বছর হবে। যাওয়ার সময় মা একশ’ টাকা আপার হাতে দিয়ে বললেন, খাবার শেষে নবজাতকের হাতে এই একশ’ টাকা দিয়ে দিও। আমরা গেলাম। অনেকের সঙ্গে খাওয়া দাওয়া করলাম। পরে শিশুকে দেখে যখন টাকা দিতে যাবে তখন আপা দেখে তার কোমরে সালোয়ারের ভাঁজে গুঁজে রাখা টাকা নেই। মুখ কালো দেখে আপাকে জিজ্ঞেস করলাম, কি হয়েছে? তিনি বললেন, টাকা পাচ্ছি না। দুই ভাই বোনে অনেক খুঁজলাম। পেলাম না। কি আর করা? সন্ধ্যা হয়ে আসছে। এর আগে বাড়ি না গেলে মা বকবে। তাই বাড়ির দিকে ছুটলাম। বাড়ির কাছাকাছি এসে আপা লুকিয়ে গেলো। আমি বাড়িতে প্রবেশ করলেও তিনি আসলেন না। মা জিজ্ঞেস করলেন আপার কথা। বললাম এক সঙ্গেইতো আসলাম। উনি কোথায় গেলেন? মা জানতে চাইলেন ওই বাড়িতে কিছু হয়েছে কিনা? কিছু বলছি না। মা বুঝে গেলেন। বললেন, কি হয়েছে বল? তখন টাকা হারানোর কথা বললাম। মা বললেন, তাতে কি হয়েছে? তাই বলে ওকে লুকিয়ে থাকতে হবে। মা বেরিয়ে পড়লেন। অনেক খোঁজাখুঁজি করে আরেক বাড়ির দরজার পেছনে লুকিয়ে থাকা আপাকে বের করে আনলেন। ঘরে এনে বললেন, আর কখনো এমন করবে না। টাকা হারিয়ে গেছে বলে বাড়ি আসবে না। এটা হতে পারেনা। কাল গিয়ে আমি টাকা দিয়ে আসব। একই সঙ্গে বললেন, তোমরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারনি। তোমাদের উপর দেয়া দায়িত্বে অবহেলা করেছ। দায়িত্বের দিকে তোমাদের মনযোগ ছিলনা। তাই এমনটা হয়েছে। আমরা দুই ভাইবোন একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইলাম। এখন বুঝি সত্যিই সেদিন আমরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারিনি।
ছোট সময়ে দেখতাম গ্রামের ঘরে ঘরে হুক্কা। কেউ বেড়াতে এলে আগে তাকে হুক্কা দিতে হতো। হুক্কা টানতো আর কথা বলতো মুরব্বিরা। হুক্কার জন্য বাজার থেকে তামাক আনা হতো। এ তামাকের সঙ্গে মেশানো হতো রাব। মেশানো হতো নানা সুগন্ধি। এক বাড়িতে তামাক খেলে দশ বাড়ি খবর হতো। গন্ধে মোহিত হতো এলাকা। তামাক খাওয়ার জন্য বাড়ি বাড়ি তখন টিক্কা দেয়া হতো। উঠানে পাটি বিছিয়ে টিক্কা দেয়া হতো। সে টিক্কা রোদে শুকানো হতো। তারপর ড্রাম ভরে রাখা হতো। নানা ধরনের হুক্কা ছিল। কেউ চেয়ারে বসে পাইপের মাধ্যমে টেনে হুক্কা খেতেন। এ হুক্কার পানির রাখার জায়গা ছিল পিতলের। আবার কেউ সরাসরি হুক্কা টানতেন। বিশেষ করে বেশিরভাগ হুক্কার নিচের দিকটা তৈরি হতো নারকেলের মালা দিয়ে। এর সঙ্গে যুক্ত করা হতো একটি কাঠের লম্বা টুকরা (নইছা)। যার মাঝে ফাঁকা থাকত। উপরে থাকত তামাক রাখার জন্য মাটি দিয়ে তৈরি কলকি। ওই কলকিতে রাখা হতো তামাক। এর উপর দেয়া হতো টিক্কা। যে টিক্কা আগুনে গরম করে আনা হতো। হুক্কার টানের সঙ্গে সঙ্গে টিক্কাও আস্তে আস্তে জ¦লত। আর টিক্কার আগুনে পুড়ত তামাক। টানের সঙ্গে বের হতো ধোঁয়া। হুক্কার নিচের সেই নারকেলের মালায় দেয়া হতো পানি। ধোঁয়া পানিতে ফিল্টার হয়ে পাইপ দিয়ে মুখে যেত। কিংবা সরাসরি টানলেও পানিতে ফিল্টার হয়ে ধোঁয়া মুখে যেত। প্রতিদিন সকালে বাড়ির বউ-ঝিরা সেই হুক্কার পানি ফেলে নতুন পানি ভরত। পানি ফেলার সময় দেখা যেত তামাকের বিষে সেই পানির রং কালো হয়ে যেত। কখনো কখনো দেখা যেত হুক্কা পুরনো হয়ে গেলে কাঠের লম্বা টুকরা (নইছা) ঢিলা হয়ে যেত। তখন ওই কাঠের টুকরায় কাপড়ের ছেঁড়া অংশ যাকে স্থানীয় ভাষায় তেনা বলে তা পেঁচিয়ে বসানো হতো। একদিন এক বাড়িতে পানি পরিষ্কার করতে গিয়ে হুক্কার নিচের অংশ থেকে নইছা খুলে পড়ে। গৃহবধূ অনেক চেষ্টা করছেন নইছাটি ফাঁকা জায়গায় বসাতে। কিন্তু কোন ভাবেই ঢুকাতে পারছেন না। এক সময় গৃহবধূ এক টুকরা তেনা পেঁচিয়ে কাঠের টুকরা বসাতে যান। এখনতো একেবারেই যাচ্ছে না। এ সময় বাড়ির গৃহকর্তা বলেন, এমনি যায় না, আবার তেনা পেঁচাইয়া?

‘ক্ষমতাসীনদের কথা হলো তোমার ভোটও আমি দেবো’ -শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপ প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেছেন, এখন ক্ষমতাসীনদের কথা হলো আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব। তাদের এই মানসিকতা না বদলালে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না। মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, দেশে চরম দু:শাসন চলছে। আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে আছেন। তাকে দেশে আনার কোনো ব্যবস্থা নেই। আমরা আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ন্যায্য বিচার চাই এবং আমাদের মাঝে তাকে ফেরত চাই। আগামী নির্বাচনকে আমরা একটি আন্দোলন হিসেবে গ্রহণ করেছি। আমরা সে জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করবে যারা ক্ষমতায় আছেন তারা এবং নির্বাচন কমিশন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরাতো চাই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হোক। তাহলে আমরা নির্বাচনী মাঠে খেলতে পারব।
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন মানে কি নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে এমন প্রশ্নে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব এটাই হলো নির্বাচনের মূল কথা। আমাদের কাম্য সাধারণ মানুষের স্বার্থের বিষয়টি মাথায় রেখে আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করতে দেয়, মানুষের অধিকার ফেরত দেয়, ভোট দেয়ার অধিকার দেয়, ভোট গনণার অধিকার দেয় এবং প্রিজাইডিং অফিসার লিখে কাগজ দিয়ে সুষ্ঠুভাবে বেরিয়ে আসে তারপরে নির্বাচনে যদি তারা জিতে সেটা খুব ভালো কথা। তাহলে আমাদের বলার কিছু নেই। এটাই হচ্ছে প্রকৃত নির্বাচন। এমন নির্বাচন না হলে পরিস্থিতি কেমন হবে আমার জানা নেই।

Wednesday, November 28, 2018

রাজনৈতিক বিরোধ, তবু তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু

ভারত ও পাকিস্তান। রাজনীতি, খেলাধুলা সহ সব ক্ষেত্রেই যেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুটি দেশ। কিন্তু এই দুটি দেশের দুই রাজনীতিক ও সাবেক ক্রিকেটারের মধ্যে রয়েছে অকৃত্রিম বন্ধুত্ব। তা নিয়ে বার বার সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। আরো একবার তারা সংবাদ শিরোনামে উঠে এলেন। এরা হলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক ক্রিকেট কিংবদন্তি ইমরান খান। অন্যজন হলেন ভারতের পাঞ্জাবের মন্ত্রী ও সাবেক ক্রিকেটার নভোজট সিং সিধু। ক্রিকেট মাঠে তারা ছিলেন একে অন্যের প্রতিপক্ষ।
কিন্তু দৃশ্যত এখন তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব। তারই নিদর্শন হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন সিধু। অবশ্য তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ইমরান খান। সিধুর সেই যোগ দেয়া নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে তোলপাড় হয়। সেই ইমরান খান আগামী ২৮ শে নভেম্বর কর্তারপুর সীমান্ত করিডোর উদ্বোধন করবেন। একে যুগান্তকারী এক অনুষ্ঠান হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নভোজত সিং সিধুকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ইমরান খান। সেই আমন্ত্রণ গর্বের সঙ্গে গ্রহণও করেছেন সিধু। নিশ্চিত করেছেন যে, ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ।
নভোজত সিং সিধু বলেছেন, ‘বাবা নানক আমাদের দুটি দেশকে একত্রিত হতে সহায়তা করছেন। কোটি কোটি মানুষের প্রার্থনা এখন সত্যি হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছে তিন মাস আগে। আমার বন্ধু (ইমরান খান) আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং অবশ্যই আমি তাতে যোগ দেব’। সিধু আরো বলেছেন, ইমরান খানের এই করিডোর উদ্বোধনের উদ্যোগ অবশ্যই দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নত করবে এবং রক্তপাত বন্ধ হবে।
কর্তারপুর সীমান্ত করিডোরের পাকিস্তান অংশের উদ্বোধন করবেন ইমরান খান। এ উপলক্ষে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী আগেভাগেই নিশ্চিত করেছিলেন যে, নভোজত সিধু পাকিস্তান সফরে যাবেন। এটা হবে এ বছরে সিধুর দ্বিতীয়বার পাকিস্তান সফর।
উল্লেখ্য, ইমরান খানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যখন নভোজত সিং সিধু যোগ দিয়েছিলেন আগস্টে তখনই কর্তারপুরের বিষয়টি তাদের নজরে আসে। ওই সফরের সময় পাকিস্তানের  সেনা প্রধান কমর জাভেদ বাজওয়ার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এ ঘটনায় ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। তবে সেই সমালোচনার কাছে মাথা নত করেন নি সিধু। তিনি আত্মপক্ষ সমর্থণ করেছেন। বলেছেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তাকে বলেছেন, কর্তারপুর সাহিবে একটি করিডোর উন্মুক্ত করা হতে পারে।
পাকিস্তানের এমন উদ্যোগের জবাব দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। তারা বৃহস্পতিবার বলেছে, পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর জেলা থেকে আন্তজাতিক সীমান্ত পর্যন্ত ওই করিডোরের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ করবে তারা। এর ফলে ভারতীয় তীর্থযাত্রীরা পাকিস্তানের কর্তারপুরে অবস্থিত গুরুদ্বার দরবার সাহিব সফরে যেতে পারবেন। কেন্দ্রীয় সরকারের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের কাছে শুক্রবার চিঠি লিখেছেন ক্রিকেটার কাম রাজনীতিক নভোজত সিং সিধু। তাতে তিনি বলেছেন, এই পথে যেয়ে এ অঞ্চলে বিশ্বাস ও ভালবাসার একটি নতুন অধ্যায় রচনা করা হচ্ছে। আমি প্রার্থনা করি এবং প্রত্যাশা করি এই উদ্যোগ অপরিহার্য ও ব্যাপক পরিবর্তন আনবে। সম্পর্ক উন্নত হবে। এতে সম্পর্কের সেতুবন্ধন রচিত হবে। শত্রুতা নিঃশ্বেষ হবে।
সিধু একজন শিখ ধর্মাবলম্বী হিসেবে এমন উদ্যোগের ভীষণ প্রশংসা করেন। কারণ, ওই করিডোরটি উন্মুক্ত করার জন্য সারাবিশ্বের শিখ সম্প্রদায়ের দাবি ছিল। আর এ উদ্যোগ নেয়ায় শিখ তীর্থযাত্রীদের মাঝে নতুন আশার আলো এনে দিয়েছে।

ইরানে চালু হলো ক্যান্সারের ওষুধের সর্ববৃহৎ কারখানা

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে ক্যান্সারের ওষুধ তৈরির সর্ববৃহৎ কারখানার উৎপাদন শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্যান্সারের ওষুধের সবচেয়ে বড় কারখানা এটি। কারখানাটি রাজধানী তেহরানের অদূরে কারাজ শহরে অবস্থিত।
গতকাল (সোমবার) কারখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাইয়্যেদ হাসান কাযিযাদেহ হাশেমি উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেছেন, এই কারখানায় উন্নতমানের ওষুধ তৈরি হবে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এ ধরনের ওষুধ কারখানার উদ্বোধনকে ইরানের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্যান্সারের মতো বিশেষ রোগের ওষুধের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে যখন আশঙ্কা করা হচ্ছে ঠিক তখনি তা উদ্বোধন করা হলো।
সম্প্রতি ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রধান আলী আসগার পেইভান্দি বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে খাদ্য ও ওষুধের মতো পণ্যকেও টার্গেট করেছে আমেরিকা। এর অর্থ হলো আমেরিকা ইরানি জনগণকে কষ্ট দিতে চায়।

এরশাদ সিএমএইচে দিকভ্রান্ত নেতাকর্মীরা

জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমইচে) ভর্তি রয়েছেন। সোমবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিএমইচে ভর্তি করা হয়। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হতে পারে। এদিকে পার্টি চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দিকভ্রান্ত অবস্থায় রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। পার্টির মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা গতকালই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার হেলিকপ্টারে চড়ে পটুয়াখালী-১ এ নিজের বরিশাল-৬ এ স্ত্রী নাসরিন জাহান রত্নার মনোনয়নপত্র জমা দেন। নিজ এলাকায় তিনি অবস্থান করায় দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা পার্টি চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ে দিনভর অপেক্ষা করেও তার সাক্ষাৎ পাননি।
দলটির পক্ষ থেকে কতজন প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, মনোনীত প্রার্থীরা দল না জোটের হয়ে নির্বাচন করবেন এ বিষয়ে গতকাল দলের নীতি-নির্ধারকদের কেউই কিছু বলতে পারেননি।
বিকাল ৪টায় জাপা মহাসচিব বনানী কার্যালয়ে দলীয় মনোনয়নের অবশিষ্ট চিঠি বিতরণ করার কথা থাকলেও তিনি আসেননি। এদিকে পার্টির পক্ষ থেকে মনোনয়নের চিঠি না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অনেক নেতা। তারা বলেন, বুধবার মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন। এই সময়ের মধ্যে আমরা এলাকায় গিয়ে মনোনয়ন ফরম কিভাবে জমা দিবো জানি না। কয়েকজন নেতা বলেন, মনোনয়ন ফরম যদি না দেয়া হয় তাহলে তো স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার অপশন খালি রয়েছে। পার্টির দপ্তর থেকে জানানো হয়, এরশাদ হাঁটু ব্যথাসহ শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন। তার শরীরে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ায় তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। এমনকি তিনি দাঁড়াতেও পারছেন না। যেকোনো সময় তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।
পার্টির কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে মহাসচিব এবং তার স্ত্রী তার নির্বাচনী এলাকায় গেছেন মনোনয়নপত্র দাখিল করতে। তিনি কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে এমন কেন করছেন তার সঠিক কোনো জবাব দিতে পারেনি পার্টি অফিসে থাকা এরশাদের উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, জাপা মহাসচিব বিকালে এসে বাকি মনোনয়নপত্র বিতরণ করবেন। মনোনয়নের তালিকা নিয়ে গড়িমসি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা চেয়ারম্যান মহাসচিবকে দায়িত্ব দিয়েছেন কেবল তিনিই এর জবাব দিতে পারবেন। তাদের হাতে মহাসচিব যে কয়টি মনোনয়নপত্র রেখে গেছেন সে কয়টি কেবল সেসব নেতাদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
ঠিক কতটি আসনে মনোনয়ন দেয়া হবে এ বিষয়ে পার্টির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি। কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয় নি। সংখ্যা নিয়ে প্রথম থেকেই চলছে লুকোচুরি। এরই মধ্যে গণমাধ্যমে মহাজোট থেকে জাপা ৪৭টি আসন পেয়েছে এমন একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে কোনো পক্ষই এই তালিকার সত্যতা নিশ্চিত করেনি। মহাজোটের মনোনয়ন তালিকায় নাম না থাকায় এমপি শওকত চৌধুরী সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার টাকা ফেরত দিয়ে স্যারকে (এরশাদ) এবং হাওলাদারকে সৈয়দপুর যেতে বলবেন। না হলে দেখে নিবো। তার জন্য আমি কি করি নাই? যখন যা বলেছেন তাই করেছি। এবার ৬০ লাখ টাকা দিয়েছি তারপরও আমাকে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে না। টাকা ফেরত না দিলে পুলিশও তাদের রক্ষা করতে পারবে না, আমি এটা বলে গেলাম। পরে তাকে ডেকে নিয়ে পার্টির মনোনয়ন ফরম দেয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী কাজী মামুনুর রশীদ বলেন, আমাদের যদি মনোনয়ন দেয়া নাই হবে, তাহলে কেন এত টাকা নিলো। এত টাকাইবা খরচ করানো হলো কেন’। তিনি এ সময় টাকা ফেরত দাবি করেন। পার্টির চেয়ারম্যান তাহলে লক্ষাধিক লোকের সামনে কেন আমাকে পার্টির এবং মহাজোটের প্রার্থী ঘোষণা করলেন। গাজীপুর-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী গাজী ওবায়দুল কাদের মজনু বলেন, নির্বাচন আসলে পার্টির চেয়ারম্যান যদি সিএমএইচে থাকেন তাহলে পার্টি চালাবে কে। আমাকে মনোনয়ন ফরম নেয়ার জন্য মহাসচিব আসতে বলেছেন। মহাসচিব আসবে সে অপেক্ষায় আছি। পার্টির মনোনয়নের চিঠি না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবো। জাপা আমার কাছ থেকে ২২ হাজার টাকা নিয়ে এক প্যাকেট বিরানি ধরিয়ে দিয়েছে।
যশোর-৫ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, জাতীয় পার্টির চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার কথা আমাকে জানিয়েছে। এ কারণে পার্টির মনোনয়ন ফরমের চিঠি নিতে এসেছি। পার্টির চিঠি না পেলে পরে দেখবো কি করা যায়।

অ্যাটর্নি জেনারেলের মন্তব্যে অনেকেই স্তম্ভিত

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মন্তব্যে অনেকেই স্তম্ভিত। কারণ তিনি সাফ বলে দিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে অযোগ্য। অথচ খালেদা জিয়া এখন পর্যন্ত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় পাননি। রায় না পেলে তিনি আপিল করতে পারছেন না। জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় তিনি ৭ বছরের দণ্ড পেয়েছেন। সেই দণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছেন এবং তাতে তিনি স্থগিতাদেশ প্রার্থনা করেছেন। কিন্তু সেই বিষয়ে আদালত এখনো সিদ্ধান্ত দেননি।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট টুয়েন্টিফোরডটকম বলেছে, ‘বেগম খালেদা জিয়া এখন খালাস পেলেও নির্বাচনে অংশ নিতে হলে, পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে বলেও অ্যাটর্নি জেনারেল জানান।
তিনি বলেন, এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ আছে, কিন্তু সংবিধানের ধারা কোনো আদালতেরই অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই।’
এ পর্যায়ে  মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মহিউদ্দিন খান আলমগীর, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিচারিক আদালতে সাজা হলেও, আপিল চলমান অবস্থায় তারা নির্বাচন করেছেন, সেটা বেআইনি কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তা এড়িয়ে যান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। প্রবীণ আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার এর আগে সাংবাদিকদের বলেছেন, বাংলাদেশে প্রাকটিস হলো আপিল করেই নির্বাচন করা যাবে। কারণ আপিলকে ধরা হয় চলমান বিচারের অংশ।  
অভিজ্ঞ আইনজীবীরা বলেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল এমন কিছু বলছেন, যা আদালতে এর আগে কাউকে বলতে শোনা যায়নি। প্রবীণরা বলেছেন, তারা নতুন কিছু শুনছেন। কারণ আপিল বিভাগের রায় আছে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর কে যোগ্য বা অযোগ্য সেটা ঠিক করবে ইসি। আর সেখানে যদি কোনো সংবিধান লংঘনের ঘটনা ঘটে তখন তা কেবল উচ্চ আদালতে আসতে পারে। এখন তিনি যা বলেছেন, তা ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেয়ার শামিল। এমনকি তার বক্তব্য আপিল বিভাগের রায় দ্বারা সমর্থিত নয়। আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী যেকোনো রিটার্নিং অফিসার বেগম খালেদা জিয়ার তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ বলে ঘোষণা দিতে পারেন। তারা দেবেন কিনা সেটা ভিন্ন প্রশ্ন। কিন্তু আইন তাকে বাধা দিবে না। কেউ তা মনে করলে তার বৈধতা ইসিতে আপিলে চ্যালেঞ্জড হবে।
ইসির নেয়া সিদ্ধান্তের বৈধতা রিটে পরীক্ষা না করতেও আপিল বিভাগের নির্দেশনা আছে। বৈধতা পরখ করতে চাইলে ভোটের পরে করতে হবে, ভোটের আগে নয়। তফসিলের পরে এগুলো নির্বাচনী বিরোধ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিষয়টি দেখবেন নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল। হাইকোর্টের বিচারকদের নিয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল অনধিক ৬ মাসের মধ্যে রায় ঘোষণা করবেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অতীত নজির হলো একই দণ্ডিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে সকালে একরকম আবার বিকেলে বিপরীত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এভাবে তিনি জিতেছেন, মন্ত্রী হয়েছেন। টানা ৫ বছর দিব্যি কেটে গেছে, আর সেটাই বর্তমান অ্যাটর্নি  জেনারেল নিজেই অবলোকন করেছেন।
এবার হাইকোর্টে আপিল করা বিএনপির পাঁচ নেতা হলেন আমানউল্লাহ আমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমান ও মো. আবদুল ওহাব। এই পাঁচ নেতার নির্বাচনে অংশ নেয়াও এখন অনেকটাই অনিশ্চিত।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘যারা আবেদন করেছিলেন তারা সবাই দণ্ডপ্রাপ্ত। তারা তাদের দণ্ড থেকে মুক্তি লাভ করেনি। তাদের ৫ বছর সময় অতিবাহিত হয়নি। এমতাবস্থায় যদি তাদের দণ্ড স্থগিত করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া হয় তা হবে আমাদের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। কাজেই আদালত আমাদের আবেদন গ্রহণ করে তাদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কোনো সুযোগ থাকলো না বলে আমি মনে করি।’
খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, এটি সাংবিধানিক বিধিবিধান। যে কেউ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিংবা সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে থাকতে পারবেন না যদি কিনা ওই ব্যক্তি ২ বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত হন এবং মুক্তিলাভের পর ৫ বছর সময় অতিবাহিত না হয়। এখানে শর্ত ২টি। তাহলো- তিনি যদি দণ্ডিত হন তাহলে পারবেন না। আর মুক্তিলাভের পর ৫ বছরের আগে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কাজেই খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে দুইটি প্রতিবন্ধকতাই রয়েছে। কোনো আদালত তার রায় দিয়ে এই সাংবিধানিক প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করতে পারেন না।’  
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইনবিদরা বলেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল যা বলেছেন, সেটা  যেকোনো মীমাংসিত আইন নয়, তার জ্বলন্ত প্রমাণ তিনি নিজেই। কারণ সরকারদলীয় দণ্ডতিদের সংসদ সদস্যপদ টেকাতে তিনি যা খালেদা জিয়ার বিষয়ে বলেছেন, ঠিক তার উল্টা অবস্থান নিয়েছেন। এখন তিনি আকস্মিক তার অবস্থান পরিবর্তন করছেন। কিন্তু বড় কথা হলো, সাবজুডিশ বিষয়ে নির্দিষ্ট এবং স্পষ্ট বক্তব্য রেখে তিনি সংবিধান ও আদালতের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন বলেই প্রতীয়মান হয়।
বিচারিক আদালতে দণ্ডিত হওয়ার পর আপিল করে সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকার নজির আছে। দুর্নীতির মামলায় ২০০৮ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি ঢাকার একটি আদালত ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীকে ১৩ বছর কারাদণ্ড দেন। আর সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় ২০১৬ সালের ৩রা নভেম্বর সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির তিন বছর কারাদণ্ড দেন ঢাকার একটি আদালত।
তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মওদুদ আহমদ প্রথম আলো অনলাইনকে গতকাল বলেছেন, খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। কারণ, নিম্ন আদালতের দণ্ডই চূড়ান্ত দণ্ড নয়। নিম্ন আদালতের দেয়া দণ্ডের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে আপিল করবেন। আবার হাইকোর্টের দেয়া দণ্ড বাতিল চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করবেন খালেদা। মওদুদ আহমদ মনে করেন, খালেদার আপিল চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। বিচারিক আদালতে দণ্ডিত হওয়ার পরও আপিল করে সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকার নজির আছে।

ভারতভুক্তির তিন বছর পর সাবেক ছিটবাসীরা জমির স্বত্ব পাচ্ছেন

ভারতভুক্তির তিন বছর পর সাবেক ছিটবাসীরা জমির স্বত্ব পাচ্ছেন। গত তিন বছরে  প্রশাসনের কাছে বহু অনুনয় করেও কাজ হয় নি। শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নিদের্শের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভায় সাবেক ছিটমহলে বসবাসকারীদের জমির স্থায়ী মালিকানা দিতে ভূমি আইনের সংশোধনী সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। এই বিল পাসের পর সাবেক ছিটবাসীরা খুশি। বিরোধীরাও আইনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা একই সঙ্গে  সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দাদের  সার্বিক নাগরিক সুযোগ সুবিধা দেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছেন। বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, দু’বছর আগেই এটা হতে পারত।
কোচবিহারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টা বুঝেছিলেন। তাই তাড়াহুড়ো করে করা হল। এ দিন বর্তমান ভূমি আইনে ৩-বি নামে নতুন ধারা যুক্ত করে ছিটমহলের সব জমিকে খাস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩-বি (২) ধারা যুক্ত করার ফলে ওই জমিতে বসবাসকারী পরিবারগুলিকে জমির আইনি অধিকার দেওয়া সম্ভব হবে। ২০১৫ সালে ছিটমহল চুক্তির পরে বাংলাদেশ থেকে ভারত পায় ৭১০০ একরের কিছু বেশি জমি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ছিটমহল বিনিময়ের পর নাগরিকত্ব বেছে নেওয়ার যে বিকল্প ছিটমহলের বাসিন্দাদের কাছে ছিল তা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি ছিটমহলগুলির ৯২২ জন বাসিন্দা ভারতের নাগরিকত্ব নিয়েছেন। কিন্তু ভারতে থাকা বাংলাদেশি ছিটমহলগুলির ২৩,৩২৪ জনের কেউ বাংলাদেশে যান নি। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্র সাবেক ছিটবাসীদের উন্নয়ন ও পরিকাঠামো খাতে ১০০৫ কোটি রুপি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা এখনও পূরণ করে নি। এখন পর্যন্ত মাত্র ‘৫৭৯ কোটি টাকা কেন্দ্র দিয়েছে। এখনও ৪২৬ কোটি টাকা দেয় নি। জানা গেছে, সাবেক ছিটমহলকে এবার পঞ্চায়েতের আওতায় আনা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাস্তা, হাসপাতাল অন্যান্য পরিকাঠামো সব হচ্ছে। সেখানকার মানুষদের রেশন, ভোটার কার্ড, বিদ্যুৎ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ইত্যাদি সমস্যা আমরা দেখছি। বিরোধীদের দাবি মেনে ছিটমহলের বাসিন্দাদের ‘কন্যাশ্রী’, ‘সবুজসাথী’ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

দিল্লীর সরকার পরিবর্তন হলে মানুষের মুখে হাসি ফুটবে: মমতা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, আগামীতে দিল্লীর সরকার পরিবর্তন হলে মানুষের মুখে হাসি ফুটবে। তিনি আজ (মঙ্গলবার) পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়াতে এক সভায় ভাষণ দেয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন,  ‘আমি চাই আপনারা মনের জোর নিয়ে কাজ করুন,  ভালো করে কাজ করুন। ভয় পেলে কিছু হবে না। দিল্লীর সরকার আমাকেও নানাভাবে উত্যক্ত করে। কিন্তু আমিও ওদের ছাড়িনা।’
মমতা বলেন, মানুষের ভরসা পাওয়াটাই তার কাছে  মুখ্য, দিল্লীর গদি নয়। তিনি বলেন, ‘আমি যা করবো বলে কথা দেই, জীবন দিয়ে হলেও সেই কথা রাখি। কিন্তু যারা নির্বাচনের আগে একরকম পরে আরেকরকম কথা বলে  আমি তাদের সঙ্গে নেই।’
কেন্দ্রীয় সরকারের নোট বাতিল (৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট)  কর্মসূচি প্রসঙ্গে মমতা বলেন,  ‘নোট বাতিলের ফলে ব্যবসা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশে  বেকারত্ব বেড়েছে। ছোট ব্যাবসা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।  মাঝারি ও বড় ব্যাবসাও অনেক  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক মানুষ দেশ ছেড়ে চলেও গেছেন।’ তিনি বলেন, ‘মানুষকে কষ্ট দেয়ার জন্য রাজনীতি নয়, মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে জয় করাটাই রাজনীতি।’
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,  দিল্লীর সিংহাসনের (কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতায় যাওয়ার) লোভ নেই, আমি জনতার ভরসা চাই’।

ভগ্নিপতি ওমর সা'দের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে কারবালার বদলা নেন মুখতার

১৩৭৪ বছর আগে ৬৫ হিজরির এই দিনে (নয়ই রবিউল আউয়াল) কারবালার অতি অসম-যুদ্ধ ও মহা-ট্র্যাজেডির অন্যতম প্রধান অপরাধী ইয়াজিদ বাহিনীর সেনাপতি ওমর ইবনে সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
কারবালার ঘটনার প্রায় চার বছর পর নবী (দ.)- বংশের পক্ষে গণ-জাগরণে নেতৃত্বদানকারী বীর মুখতার সাকাফির নির্দেশে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় যদিও ওমর সাদ ছিল মুখতারের আপন ভগ্নিপতি।
বিশ্বনবী (সা.)’র প্রিয় নাতী হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) এবং তাঁর পরিবারের প্রায় সব পুরুষ সদস্যসহ (একজন ছাড়া) নবী (সা.)বংশের বেশ কয়েকজন সদস্য ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শহীদ হয়েছিলেন ওই যুদ্ধে।  ইমামের ছয় মাসের শিশুপুত্র হযরত আলী আসগর (র.)সহ নবী-বংশের প্রায় ১৮ জন সদস্য শহীদ হন। এ ছাড়াও  ইমামের পক্ষে বীরের মত লড়াই করে প্রায় ১০০ জন সঙ্গী-সাথীও এ যুদ্ধে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছিলেন। ইয়াজিদের নির্দেশে কুফার গভর্নর ইবনে জিয়াদের ফরমান পেয়ে ত্রিশ হাজারেরও বেশি সেনা নিয়ে ওমর সা'দ কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.)-কে হয় যুদ্ধ নতুবা ইয়াজিদের প্রতি আনুগত্যের অপমানজনক শর্ত আরোপ করেছিল। ইমাম (আ.) ও তাঁর অধিকাংশ আত্মীয়-স্বজনসহ কারবালায় নবী-বংশের প্রেমিক প্রায় ১০০ জন সদস্য ত্রিশ হাজার সুসজ্জিত সেনার বিরুদ্ধে প্রবল পিপাসার্ত অবস্থায় বীরের মত লড়াই করে শহীদ হন এবং এভাবে তাঁরা ইসলামের ইতিহাসে ধর্মের জন্য বীরত্ব ও ত্যাগের এক অনন্য-অমর দৃষ্টান্ত রচনা করেন। 
ইমাম শিবিরের জন্য কয়েকদিন ধরে পানি সরবরাহ নিষিদ্ধকারী ইয়াজিদ বাহিনী নবী-পরিবারের সদস্যদের লাশের ওপর ঘোড়া ছুটিয়ে লাশগুলো দলিত-মথিত করেছিল এবং তাঁদের মস্তক ছিন্ন করে বর্শার আগায় বিদ্ধ করেছিল। তারা কারবালায় ইমাম শিবিরের তাঁবুগুলোতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে লুটপাট চালিয়েছিল। এ ছাড়াও নবী-বংশের নারী ও শিশুদেরকেও টেনে হিঁচড়ে শিকল পরিয়ে বন্দী অবস্থায় কুফার গভর্নরের দরবারে ও দামেস্কে ইয়াজিদের দরবারে নিয়ে গিয়েছিল খোদাদ্রোহী ইয়াজিদ বাহিনী।
নবী-বংশের পক্ষে মুখতারের গণ-জাগরণের ফলে ইরাকে উমাইয়া শাসনের অবসান ঘটেছিল এবং কারবালার নৃশংসতায় জড়িত প্রায় সব প্রধান নরপিশাচকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল মুখতারের বিপ্লবী গণ-বাহিনী।

Tuesday, November 27, 2018

‘খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না’

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেও আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুদকের মামলায় দণ্ড স্থগিত চেয়ে বিএনপির পাঁচ নেতার রায়ের পর তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ করে মাহবুবে আলম বলেন, ‘যারা আবেদন করেছিলেন তারা সবাই দণ্ড প্রাপ্ত এবং দণ্ড থেকে তারা মুক্তি লাভ করেনি এবং তাদের ৫ বছর সময়ও অতিবাহিত হয়নি। এমন অবস্থায় যদি তাদের দণ্ড স্থগিত করে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয় তা হবে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।
এ কারণেই আদালত আমাদের আবেদন গ্রহণ করে তাদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আর  নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কোনও সুযোগ থাকলো না।’ বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই, এটি সাংবিধানিক বিধিবিধান। এখানে দুটি শর্তের একটি হলো- কেউ যদি দণ্ডিত হন তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। আর মুক্তি লাভের পর ৫ বছরের আগে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
কাজেই খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে এই দুটি প্রতিবন্ধকতাই রয়েছে। এখন কোন আদালত রায় দিয়ে এই সাংবিধানিক প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করতে পারে না। কেননা আমাদের আপিল বিভাগ কিংবা হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধান দ্বারা তৈরি।
সংবিধানের মাধ্যমে ওই আদালতকে চলতে হয়। কাজেই কোন আদালত সাংবিধানিক বিধি বিধানকে অগ্রাহ্য করতে পারে না।’ আপিল বিভাগ দণ্ড স্থগিত করতে পারে কিনা- এমন প্রশ্নে মাহবুবে আলম বলেন, ‘এটি আইনগত বিষয়। আপিল বিভাগ কী করবে সেটি আমি বলতে পারি না। আমার বক্তব্য হলো  সংবিধান ওপরে।’ সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, সাবেক মন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর ও বর্তমান মন্ত্রী মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়ার আপিল বহাল থাকাবস্থায় নির্বাচন করেছিলেন সেটি কি বেআইনি ছিল কিনা- এমন প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এরশাদের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় আছে। তার সংসদ সদস্য পদ খারিজ হয়ে গিয়েছিল। আর অন্য দুজনের মামলায় একই ধরনের সাবমিশন রাখা হয়েছিল কিনা তা আমি বলতে পারব না। আর সেটি বেআইনি ছিল কিনা সেই ব্যাখ্যাও এখন আমি দিতে পারব না। আদালতে যদি এই প্রসঙ্গ আসে তখন আমি আমার বক্তব্য পেশ করব।’

নতুন সূর্য উদয়ের অপেক্ষায় কিউবা: সমাজতন্ত্র নির্মাণই সংবিধান পরিবর্তনের লক্ষ্য by অনিম আরাফাত

গত আগস্ট থেকে ক্যারিবীয় অঞ্চলের কমিউনিস্ট রাষ্ট্র কিউবাতে দেখা যাচ্ছে নতুন এক চিত্র। দেশটির অধিবাসীরা একটি বিষয় নিয়ে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণে মেতে আছেন। দ্বীপরাষ্ট্রটির সর্বত্রই সরকার আয়োজিত সভায় জোগ দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। হাসপাতাল, স্কুল ও পার্কগুলোতে সংবিধানের নতুন খসড়া সমপর্কে আলোচনা করতে জড়ো হচ্ছেন তারা। ধারণা করা হচ্ছে, এ সংবিধানটি পাস হলে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসের গত ৪ দশকের মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হতে চলেছে এটি। নতুন এ খসড়ায় যা রয়েছে তার মধ্যে সব থেকে আলোচিত হচ্ছে, সমলিঙ্গের বিয়ের বৈধতা, ব্যক্তিগত মালিকানার স্বীকৃতি ও সাম্যবাদী দেশ গঠনের ধারণা বর্জন। ইতিমধ্যে জনমতামত নেয়ার পর্যায়টি শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধান পরিবর্তনে কাজ শুরু হয়েছে জাতীয় পরিষদে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কিউবার জন্য সামনে কী অপেক্ষা করছে?
কি ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে?
কয়েক দশক ধরে চলা অর্থনৈতিক সংকট ও বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তন কিউবাকে বাধ্য করেছে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাভাবনা থেকে কিছুটা বের হয়ে পৃথিবীর অন্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে তাল মিলাতে। কিউবার বর্তমান সংবিধানটি সোভিয়েত আমলে প্রণয়ন করা হয়েছিল। গত জুলাই মাসে দেশটির পার্লামেন্ট সংবিধান পরিবর্তনের অনুমোদন দেয় এবং এর খসড়া তৈরি করে। তারপর থেকে একে দেশের জনগণের রায়ের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। খসড়া অনুমোদনের সময় কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডিয়াজ-ক্যানেল বলেন, কিউবার প্রত্যেক নাগরিক তাদের মত প্রকাশ করতে পারবে। এই সংবিধানই আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে রচনা করবে। ইতিমধ্যে দেশটির কর্মকর্তারা সমগ্র দেশ থেকে মানুষের মতামত হস্তলিখিত নোট আকারে সংগ্রহ করেছে। এখন আইনপ্রণেতারা এই জনরায়ের ভিত্তিতে সংবিধান পরিবর্তন সমপর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
নতুন এ সংবিধান সংশোধনের ফলে এখন থেকে কোনো প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ দুইবার নির্বাচিত হতে পারবেন। এরমধ্যে, প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার সময় তাকে অবশ্যই ৬০ বছরের কম বয়স্ক হতে হবে। আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সবথেকে বেশি নজর কেড়েছে, নতুন এ সংবিধান প্রনয়নের মাধ্যমে মূলত একটি সাম্যবাদী সমাজ তথা কমিউনিজম প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে ত্যাগ করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন এ সংবিধান এক্ষেত্রে খুব বেশি পরিবর্তন আনতে পারবে না। প্রথমত ব্যাপক সংস্কার সত্ত্বেও সমাজতন্ত্রের কথা ফেলে না দিয়ে বরং নতুন করে সাজানোর বিষয়টি উঠে এসেছে এখানে। একইসঙ্গে কিউবা পূর্বের মতোই শুধু কমিউনিস্ট পার্টি অব কিউবার শাসনেই থাকছে। একদলীয় রাষ্ট্র হিসেবে কিউবার পরিচয় রাতারাতি মুছে যাচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই কমিউনিস্ট পার্টিই রাষ্ট্রটির রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে। জাতীয় পরিষদের সভাপতি ইস্তেবান লাজো হারনান্দেজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানিয়েছেন, কিউবার নেতৃত্ব সবসময়ই সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতা, উন্নয়ন ও টেকসই অর্থনীতির লক্ষ্যে কাজ করে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা দ্বন্দ্বের সমাপ্তি হবে?
কিন্তু নতুন এই পরিবর্তন কি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিউবার সমপর্ক উন্নয়নে সাহায্য করবে? ১৯৫৯ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির অহি-নকুল সমপর্ক। বিপ্লবী কিংবদন্তি ফিদেল ক্যাস্ত্রোর নেতৃত্বে কিউবায় কমিউনিস্টরা ক্ষমতায় বসার পর থেকেই এই দ্বন্দ্বের শুরু। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত বাতিস্তা সরকারকে উৎখাত করে নাকের ডগায় সোভিয়েতপন্থি এ রাষ্ট্রটি তখন মার্কিনিদের চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়ায়। কিউবার সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কিউবা ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। তবে সমপর্ক তলানিতে পৌঁছায় ১৯৬১ সালের সিআইএ পরিচালিত বে অব পিগস অপারেশনের পর। সে বছর প্রায় ১৫০০ অত্যন্ত দক্ষ সিআইএ সেনা এই অপারেশনে অংশ নিয়েছিল। এ অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল ফিদেল ক্যাস্ত্রোকে ক্ষমতাচ্যুত করে কিউবার সমাজতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটানো। সে অভিযানে অংশ নেয়া সিআইএ এজেন্টরা কিউবার সেনাদের হাতে ধরা পড়ে এবং পরে তাদেরকে হত্যা করা হয়। একে ধরা হয়, পৃথিবীর ইতিহাসের সবথেকে ব্যর্থ গোয়েন্দা অভিযান হিসেবে। এক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের দেড় হাজারেরও বেশি এজেন্ট নিহত হওয়ার ক্ষতি এখনো পুষিয়ে নিতে পারেনি দেশটি। এরপর ১৯৬২ সালে কিউবার মিসাইল সংকটের সময়ও দেশদু’টির সমপর্কে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল।
দীর্ঘকাল এমন বৈরী সমপর্ক থাকার পর ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রচেষ্টায় কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমপর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। কিন্তু ডনাল্ড ট্রামপ প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এ সমপর্ক পুনরায় খারাপ হতে শুরু করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কিউবার এ সংবিধান পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমপর্ক স্থাপনে যথেষ্ট হবে না। কিউবায় এখনো কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ন্ত্রণে একদলীয় শাসন ব্যবস্থাই থেকে যাবে। তাই যুক্তরাষ্ট্র নিজেও সমপর্ক উন্নয়নে আগ্রহী হবে না।
কিউবার অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে?
১৯৯১ সালে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কিউবার অর্থনীতি ধাক্কা খায়। দেশটি ব্যাপক মাত্রায় সোভিয়েত ইউনিয়নের দেয়া মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার সাহায্যের উপর নির্ভর করতো। কিন্তু সোভিয়েত পতনের পর এ সাহায্য বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের লাগাতার অর্থনৈতিক অবরোধও কিউবার অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। ২০০৬ সালে ফিদেল ক্যাস্ত্রো তার ভাই রাউল ক্যাস্ত্রোর হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। রাউল ক্যাস্ত্রো তখন দেশটিতে ব্যাপক অর্থনৈতিক পরিবর্তন সাধন করেন। এর ফলে দেশটিতে স্বল্প মাত্রায় বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যক্তিগত সমপত্তির সুযোগ সৃষ্টি হয়। মুক্ত বাজার ও ব্যক্তিগত সমপত্তির ধারণাগুলো এর আগে কিউবার কমিউনিস্ট নেতাদের দ্বারা ব্যাপক সমালোচনার শিকার হলেও এখন এই ধারনাগুলোকেই জনপ্রিয় করে তোলা হচ্ছে দেশটিতে। তবে এর উদ্দেশ্য সেই সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠাই বলে জানানো হচ্ছে। তবে শুধু অর্থনৈতিক পরিবর্তনই নয়, চীন ও ভিয়েতনামের মতো সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর মতো নিজের আধুনিকায়নের চেষ্টাও করবে। তবে কিউবার নেতারা এখনো ব্যক্তিগত সমপত্তি ও বৈষম্যমূলক সমাজের বিষয়ে চিন্তিত। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে এ সকল পদক্ষেপ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। একই সঙ্গে দেশটি পৃথিবীর অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গেও বাণিজ্যিক সমপর্ক স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে এ মাসে প্রেসিডেন্ট ডিয়াজ ক্যানেল রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও লাওস সফর করেন। এ দেশগুলোকে কিউবায় বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলাই এ সফরের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। এছাড়াও রয়েছে দেশটির মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা প্রশ্ন। সব মিলিয়ে কিউবায় আগামীতে কতখানি পরিবর্তন আসতে চলেছে- তা সময়ই বলে দেবে।

যে তিন কারণে মুনাফা কমছে গার্মেন্টস শিল্পে by শফিকুল ইসলাম

প্রতিনিয়ত উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, সে তুলনায় বাড়ছে না উৎপাদিত তৈরি পোশাকের দাম। সঙ্গে কমছে তৈরি পোশোকের চাহিদাও। এই তিন এ কারণে কমছে আয়। আর এই আয়ের সঙ্গে ব্যয় মেটাতে না পেরে ক্রমশ বন্ধ হচ্ছে দেশের ছোট ও মাঝারি তৈরি পোশাক কারখানা। এভাবে চলতে থাকলে তৈরি পোশাক খাতে একসময়  অন্ধকার নেমে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশের ছোট ও মাঝারি সাইজের তৈরি পোশাক কারখানার মালিকরা। তবে এসব মন্তব্য মানতে নারাজ তৈরি পোশাক খাতের সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, রানা প্লাজা ধসের পর অনেকেই মনে করেছিলেন যে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প আর টিকবে না। কিন্তু এখনও যেহেতু এ খাত টিকে আছে সেহেতু আর কোনও দুঃসংবাদ আসবে না। এ খাতের ভবিষ্যৎ ভালো বলেও জানান তারা।
বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, গত চার বছরে দেশের তৈরি পোশাক খাতের বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা কমেছে ৮ শতাংশ। পণ্য উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের দর কমেছে গড়ে প্রায় ৭ শতাংশ। এই তিন প্রতিকূলতায় বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের মুনাফা কমেছে।
সূত্র জানায়, গার্মেন্টস পণ্যের মুনাফা কমার এই তিন কারণে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পোশাকের রফতানি প্রবৃদ্ধি ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে আসে। গত অর্থবছরে তা আবার বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অথচ ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের বছরেও রফতানিতে প্রবৃদ্ধি এতটা কম ছিল না। ওই বছরের এপ্রিলের পর জুন পর্যন্ত তিন মাসের খারাপ সময় সত্ত্বেও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশের রফতানি আয়ের সবচেয়ে বড় খাত তৈরি পোশাকশিল্পে গত পাঁচ বছরে ১ হাজার ৯৬৫টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। চাকরি হারিয়েছেন কয়েক লাখ শ্রমিক। একই সময়ে সংকুচিত হয়েছে পোশাক খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শিল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগ। রানাপ্লাজা ধসের পর থেকে  কম্প্লায়েন্সসহ নানা ইস্যুতে ছোট ও মাঝারি আকারের এসব কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর ওপর আন্তর্জাতিক বাজারে কমছে পণ্যের দাম।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রানাপ্লাজা ধসের পর বিদেশে বাংলাদেশের পোশাক খাতবিরোধী প্রচারণা, ক্রেতাদের বিভিন্ন শর্তা আরোপ, চুক্তিতে অন্য কারখানায় কাজ করানোর সুযোগ কমে যাওয়া ইত্যাদি কারণে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রমতে, বিজিএমইএর নিবন্ধিত তৈরি পোশাক কারখানার সংখ্যা ৬ হাজার ১৯৬টি। এর মধ্যে বিভিন্ন জটিলতায় বিজিএমইএ নিবন্ধন বাতিল করার কারণে ১ হাজার ৭৬৫টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। এই সংখ্যা বাদ দিলে বিজিএমইএ’র নিবন্ধিত কারখানার সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ হাজার ৪৩১টি। অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের পরিদর্শনে চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়েছে আরও ২০০টি। সর্বোপরি বর্তমানে সক্রিয় কারখানার সংখ্যা ৩ হাজার ৫০০টি।
সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রামে ২০১৩ সালে ১৪১টি, ২০১৪ সালে ২১২টি, ২০১৫ সালে ১৩৭টি, ২০১৬ সালে ১৩৫টি এবং ২০১৭ সালের চলতি এপ্রিল মাস পর্যন্ত ৫৩টি কারখানার সদস্যপদ বাতিল করেছে বিজিএমইএ।
তৈরি পোশাক খাতের অপর একটি সূত্র জানায়, গত ৪ বছর ধরে পোশাক খাতের চলমান সংস্কার চাপে উৎপাদন থেকে ছিটকে পড়েছে তিন হাজারেরও বেশি কারখানা। এসব কারখানা এখন উৎপাদনে নেই। অনেক কারখানাই বন্ধ। এর মধ্যে বিজিএমইএ থেকে বাদ পড়েছে মোট এক হাজার ১৬৩টি কারখানা। বিকেএমইএ থেকে বাদ পড়া এবং সংস্কার চালাতে রাজি না হওয়া- এ দুই কারণে ৮০০ কারখানা এখন আর উৎপাদনে নেই। পোশাক খাতের সংস্কার বিষয়ক ইউরোপের ক্রেতাজোট অ্যাকর্ড থেকে বাদ পড়েছে ১৪৪টি। অপর ক্রেতাজোট উত্তর আমেরিকার অ্যালায়েন্স থেকে বাদ পড়েছে ১৫৭টি কারখানা। অর্থাৎ সংস্কারে অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় দুই জোটের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ৩১১টি কারখানা। দুই ক্রেতা জোটের বাইরে অন্য ক্রেতাদের রফতানি আদেশ সরবরাহ করা হয় এ রকম এক হাজার ৮২৭টি কারখানার সংস্কার চলছে শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান কলকারখানা পরিদর্শন অধিদফতরের (ডিআইএফই) অধীনে।
ছোট ও মাঝারি সাইজের কারখানা বন্ধের পেছনে যেসব কারণ বিদ্যমান রয়েছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- কারখানা সংস্কারে অর্থ সহায়তা হিসেবে আইএফসি, জাইকাসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ সুদে ঋণদানে পৃথক একটি তহবিল করেছে। তহবিলের সহায়তা উদ্যোক্তাদের হাতে এসে পৌঁছাতে সুদ বেড়ে তা ৯ থেকে ১০ শতাংশে দাঁড়ায়। এ কারণে উদ্যোক্তারা ঋণ নিচ্ছেন না। অন্যদিকে কারখানা সংস্কারে অ্যাকর্ড অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকেও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এসে নামেমাত্র অর্থ সহায়তা দিয়েছে অ্যাকর্ড। বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে কয়েকটি কারখানাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে। এর বাইরে সরাসরি আর কোনও অর্থ সহায়তা দেয়নি ক্রেতারা। তাই কারখানাগুলোকে শর্ত অনুযায়ী সংস্কার করতে পারেনি অনেক কারখানা মালিক। শর্ত অনুযায়ী কারখানা সংস্কার করতে ব্যর্থ হওয়ায় কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন তারা।
বিজিএমইএ নেতারা জানান, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে ঠিকই, তবে সার্বিকভাবে দেশে পোশাক কারখানার সংখ্যা কমছে। কারণ যে হারে কারখানা বন্ধ হচ্ছে, সেই হারে নতুন কারখানা গড়ে উঠছে না। একইভাবে সাভারের রানাপ্লাজা ধসের পর থেকে বিদেশি খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের বড় ক্রেতারা অংশীদারি ভবনে অবস্থিত কারখানা থেকে পোশাক নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আগে বড় কারখানাগুলো বিপুল পরিমাণ রফতানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করতে অনেক ছোট ও মাঝারি কারখানাকে দিয়ে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করিয়ে নিতো। এখন ক্রেতারা সাব-কন্ট্রাক্টে চলা এসব কারখানার কর্মপরিবেশও আন্তর্জাতিক মানের কিনা তা যাচাই করছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে তৈরি পোশাক খাতের ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো হয়তো কিছু সমস্যা মোকাবিলা করছে। তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প কারখানার ভবিষ্যৎ যতো বলা হয় ততোটা খারাপ নয়। বাংলাদেশে ক্রমশই গ্রিন ফ্যাক্টরির সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে কমপ্লায়েন্স কারখানা। সেইসঙ্গে শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধাও বাড়ছে। যদি পরিস্থিতি খারাপই হতো তাহলে বিশ্বমানের কারখানা বাংলাদেশে এতো বাড়তো না।’ তবে উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।

১৮ কাশ্মিরি নিহতের প্রতিবাদে সর্বাত্মক বনধ পালিত, জেকেএলএফের বিক্ষোভ

জেকেএলএফের পক্ষ থেকে মোমবাতি ও মশাল জ্বালিয়ে বিক্ষোভ
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের আহ্বানে সর্বাত্মক বনধ পালিত হয়েছে। বনধকে কেন্দ্র করে উত্তর ও দক্ষিণ কাশ্মিরের সমস্ত লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
হুররিয়াত কনফারেন্সের একাংশের প্রধান সাইয়্যেদ আলীশাহ গিলানী, মীরওয়াইজ ওমর ফারুক ও মুহাম্মাদ ইয়াসীন মালিকের সমন্বিত যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আজ (সোমবার) বনধের ডাক দেয়া হয়।
যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের এক মুখপাত্র বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় গত তিন দিনে ১৮ জন কাশ্মিরি নিহত হওয়ার প্রতিবাদে কাশ্মির উপত্যকায় বনধের ডাক দেয়া হয়েছে।
মুহাম্মাদ ইয়াসীন মালিক, সাইয়্যেদ আলীশাহ গিলানী ও মীরওয়াইজ ওমর ফারুক
আজ বনধকে কেন্দ্র করে সমস্ত দোকানপাট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। গণপরিবহণ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় ব্যাঙ্ক ও বিভিন্ন সরকারি দফতরে কর্মীদের হাজিরায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
এদিকে, কাশ্মিরে গেরিলা ও বেসামরিক মানুষজন নিহত হওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রতিবাদে গতকাল (রোববার) সন্ধ্যায় যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে শ্রীনগরের ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদ চত্বরে মোমবাতি জ্বালিয়ে, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডসহ প্রতিবাদ জানানো হয়।
সর্বাত্মক বনধ পালিত
অন্যদিকে, জেকেএলএফের পক্ষ থেকে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল সন্ধ্যায় মৈসুমার লালচক ও কোকেরবাজারে মোমবাতি ও মশাল জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। জেকেএলএফ নেতাদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী অবাধে হত্যাকাণ্ড ঘটানোয় কাশ্মির কার্যত বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে।

কলম সৈনিক মঈনুল আলম by মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন

পঞ্চাশ বছর কলম সৈনিক হিসেবে কাজ করেছেন মঈনুল আলম। সাংবাদিক জগতে তিনি আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন বললে অত্যুক্তি হবে না। ক্যাম্পেইন  জার্নালিজম এবং একটিভিস্ট জার্নালিজম প্রবর্তন করেছিলেন তিনি। সাংবাদিকতার পাশাপাশি মঈনুল আলম যুক্তরাষ্ট্রের এ রুটগার্স ইউনিভার্সিটি তে ১৯৭৫সালে পোস্ট-গ্রাজুয়েট এবং কলম্বিয়া স্কুল অব জার্নালিজম ইন মিসৌরি  তে ডিজাস্টার রিপোর্টিং বিষয়ে গবেষনা করেছেন। সাংবাদিকতা জগতে  মঈনুল  আলম প্রথমে সাব-এডিটর  হিসেবে চট্টগ্রাম এর দৈনিক ইস্টার্ন এক্সামিনার এ   যোগদান করেন ১৯৫৬ সালে। সেখানে ৪বছর কাজ করার পর চট্টগ্রাম এর একটি দৈনিকে নিউজ এডিটর হিসাবে যোগদান করেন ১৯৬০ সালে।  ১৯৬০ সালে বহুল প্রচারিত দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় মঈনুল আলম কে চট্টগ্রাম এর সংবাদদাতা এবং বিসনেস রিপ্রেজেনটিভ হিসাবে নিযুক্ত করা হয়।
মঈনুল আলম এর সাংবাদিক জীবনে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো তিনি ইউনাইটেড স্টেটস প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগান এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন এর প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ এর সামিট কভার করেছেন ১৯৮৭সালে। দক্ষিণ এশিয়া থেকে ময়েইনুল আলম একমাত্র সাংবাদিক ছিলেন।
এই সামিট এর উপর মঈনুল আলম বই লিখেছেন। এই বই লিখবার জন্যে প্রেসিডেন্ট রিগান সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
মঈনুল  আলম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন।  মঈনুল আলমের সঙ্গে আমার পরিচয় ১৯৬৩ সালের ডিসেম্বরে। আমি তখন কেন্দ্রীয় সংবাদ সংস্থা রেডিও পাকিস্তানে চট্টগ্রাম রেডিও অফিসে কর্মরত। মঈনুল আলম ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউট থেকে নিউজ এডিটিং বিষয়ে ১৯৬৪ সালে ডিপ্লোমা করেন। মঈনুল আলম ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভারতের আগরতলায় পাড়ি জমান। সেখানে প্রশিক্ষনরত মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগীতা করেন তিনি।  
জার্মানির বার্লিন শহরে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট থেকে জার্নালিজম ট্রেইনার সংক্রান্ত সার্টিফিকেট লাভ করেন ১৯৭৫ সালে। মঈনুল আলমই সম্ভবত একমাত্র সাংবাদিক যিনি ব্রিটিশ সরকারের নিমন্ত্রণে ইউনাইটেড কিংডম এবং ফিলিপিনো সরকারের নিমন্ত্রনে ম্যানিলা  সফর করেন। ১৯৮৫ সালে ওয়েস্ট জার্মানি সফরের সময় মঈনুল আলম দুই  জার্মানির একত্রিত হওয়ার আসন্ন সম্ভবনা সম্পর্কে লিখেছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের অধীনে চার সদস্যের সাংবাদিক প্রতিনিধি দল আসিয়ান কান্ট্রি সফরে যান ১৯৭৯ সালে। এই দলে মঈনুল আলমও ছিলেন। আমি এ সময়ে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসে কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম। মঈনুল আলম সাংবাদিকতার পাশাপাশি কনজিউমার ইকোনোমিস্ট নামে সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম প্রেস কমিশনের সদস্য ছিলেন এবং প্রেস কমিশনের সুপারিশ সমূহ প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট আয়োজিত সেমিনার এ মফস্বল সংবাদদাতার ভূমিকার উপর বক্তব্য পেশ করেন। মঈনুল আলম শুধু একজন কৃতী সাংবাদিকই ছিলেন না, একজন কৃতী চিত্র শিল্পীও ছিলেন তিনি। ১৯৯০ সালের জানুয়ারিতে ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক পেইন্টিং এক্সিবিশন অনুষ্ঠিত হয়। মঈনুল আলম সেখানে আমন্ত্রিত হন। তার পিস সংক্রান্ত পেইন্টিং রিকগনিশন লাভ করে এবং ফ্রান্স এর ফার্স্ট লেডি ম্যাডাম  মিথরা মঈনুল আলমের প্রশংসা করেন ।
আমার সাথে মঈনুল আলম এর পরিচয় হয় ১৯৬৩ ডিসেম্বর মাসে। আমি তখন কেন্দ্রীয় সংবাদ সংস্থা রেডিও পাকিস্তানের  চিটাগাং রেডিও  অফিসে কর্মরত। ডিসেম্বর ১৯৬৪ পাকিস্তান এর প্রেসিডেন্ট আয়ুব খান চিটাগাং সফরে আসেন। পতেঙ্গা বিমান বন্দরে ছয়জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেম। এর মধ্যে মঈনুল আলম একজন এবং আমি। 
মঈনুল আলম ১৯৯৫ সাল থেকে কানাডার টরন্টো শহরে সপরিবারে বসবাস করছিলেন। তার স্ত্রীও একজন শিল্পী। ভালো সীতার বাদক ছিলেন তিনি।
১৮ই জুন মঈনুল আলম ইন্তেকাল করেন। ৯ই অক্টোবর নার্গীসুল আলম আমাকে মৃত্যুর সংবাদ দিলেন। ৮১ বৎসর বয়সে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক।
মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক।

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানে ফ্লাইট বাড়াবে কাতার এয়ারওয়েজ

তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানে পরিচালিত ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়িয়ে দেবে কাতার এয়ারওয়েজ।
কাতারের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত এই বিমান পরিবহন সংস্থা গতকাল (সোমবার) এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে, তারা আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে দোহা ও ইরানের ইস্পাহানের মধ্যে সপ্তাহে দু’টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এ ছাড়া, জানুয়ারি থেকে শিরাজ ও তেহরানে পরিচালিত ফ্লাইটের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
এয়ারলাইনের প্রধান নির্বাহী আকবার আল-বাকের বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এর আগে গতমাসে আল-বাকের ঘোষণা করেছিলেন, ইরানের ওপর আমেরিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত ফ্লাইটগুলো পরিচালনা করে যাবে কাতার এয়ারওয়েজ।
এয়ারলাইন্সটির প্রধান নির্বাহী আরো বলেন, “বিমান খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া যায় না। ইরানের যেসব শহরে আমাদের ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে সেগুলো চলবে।” তিনি বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রভাব ইরানে কাতার এয়ারওয়েজের তৎপরতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।
চলতি মাসের গোড়ার দিকে ইরানের ওপর আমেরিকার দ্বিতীয় দফা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর ওয়াশিংটন হুমকি দিয়ে বলেছে, যেসব দেশ বা কোম্পানি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করবে তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
ওয়াশিংটনের এই হুমকির মুখে এরইমধ্যে ইরানে পরিচালিত ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে এয়ার ফ্রান্স, কেএলএম ও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মতো প্রখ্যাত বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো।

ঐক্য ধরে রাখতে পারলে জনগণের বিজয় নিশ্চিত: ড. কামাল

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, অপশাসন দূর করতে জনগণের যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, তা সুসংহত করে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলেই জনগণের বিজয় নিশ্চিত।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে দলের এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা বলেন, দেশে সুশাসন, জনগনের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমার দল ও জোট কাজ করছে।যারা ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার বিরুদ্ধে কথা বলবে তারা স্বাধীনতা বিরোধী।
ওদিকে, বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,  জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো দাবি নির্বাচন কমিশন মানেনি, তারপরেও শুধু জনগণের ভোটের অধিকার আদায় করতে তারা নির্বাচনে যাচ্ছেন। এই কমিশনের অধীনে নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হবে সে নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
আজ সোমবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য  করেন মির্জা ফখরুল।
তিনি উল্লেখ করেন, ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সরকারকে দাবি দিয়েছিলাম, সরকারের সঙ্গে সংলাপ করেছি। নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়েছি কিন্তু তারা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। উপরোন্ত তারা পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে কাজ করেছেন। আমরা বারবার বলেছি কিন্তু নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যা করা প্রয়োজন তা তারা করতে পারেননি। প্রশাসনে রদবদলের কথা বলেছিলাম। তাও হয়নি। ইভিএম বন্ধ রাখতে বলেছিলাম। সেটাও করা হচ্ছে না। প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা প্রকাশ্যেই বলেছেন যে, পুলিশ যা করছে তা তার নির্দেশেই করছে। তার মানে এখন সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের যে গ্রেফতার করা হচ্ছে সেট্ও তার নির্দেশেই করা হচ্ছে।’
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন,  প্রধান নির্বাচন কমিশনার  (সিইসি) র বোনের ছেলে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থী হয়েছেন, প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা পদে নিয়েআগ পেয়ে  সিইসি দেশের বাইরে গেলে  প্রবাসে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এর মাধ্যমে সিইসি’র রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে। 
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা  আরো বলেন, সিইসি নিজেই যখন নিরপেক্ষ নন তখন দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া,  নির্বাচন নিরপেক্ষ হবার বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের যে সন্দেহ রয়েছে তা দূর করতে কমিশন কোন পদক্ষেপও নেয়নি।
মির্জা ফখরুল বলেন, এ অবস্থায় জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনা, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনা, গণজাগরণ সৃষ্টি করা এবং সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করাই ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রধান লক্ষ্য। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন,বর্তমান নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারবে না ।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে চেতনা বাংলাদেশের উদ্যোগে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের কাছে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা আর হিজড়ার কাছে সন্তান আশা করা
আলাল বলেন, নির্বাচন কমিশন  সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের মতো  যা খুশি তা করতে পারবে না। কারণ ৩০০ আসনে একই দিনে নির্বাচন হলে প্রতি কেন্দ্রে গড়ে দুজন করে পুলিশ পড়বে। আর নির্বাচনের এজেন্টরা যতই চেষ্টা করুক দু’জন পুলিশ দিয়ে নির্বাচনে দুর্নীতি করতে পারবে না। যদি জাতীয়তাবাদী মানুষেরা সজাগ থাকে।

আয়ারল্যান্ডে কঠিন সঙ্কটে বাংলাদেশী দেলোয়ার দম্পতি

আয়ারল্যান্ডে কঠিন এক সঙ্কটে বাংলাদেশী মোহাম্মদ দেলোয়ার ও তার পরিবার। একদিকে তার অসুস্থ সন্তান। অন্যদিকে ঘরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। এ অবস্থায় তাদেরকে দেখাশোনা করার কেউ নেই। উপায়হীন হয়ে দেলোয়ার বাংলাদেশে অবস্থানকারী তার শাশুড়িকে আয়ারল্যান্ডে নেয়ার চেষ্টা করেন। বার বার তার আবেদন ফেরত দেয় আয়াল্যান্ডের দিল্লি দূতাবাস। এ অবস্থায় কঠিন এক সঙ্কটের মুখে তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আইরিশ টাইমস।
দেশটির কর্ক শহরে বসবাস করেন বাংলাদেশি দ¤পতি মোহাম্মদ দেলোয়ার এবং সুমাইয়া রশিদ সামান্তা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি শাশুড়ি সালমা রশিদের জন্য ভিজিটর ভিসার আবেদন করেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দিল্লিতে অবস্থিত আয়ারল্যান্ডের দূতাবাস তার আবেদন বার বার না-মঞ্জুর করছে। নিরুপায় দেলোয়ার এখন আইরিস সরকারের কাছে ভিসা মঞ্জুরের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
আইরিস টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দেলোয়ার জানান, তার স্ত্রী সামান্তা গর্ভবতী। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি তিনি দ্বিতীয় সন্তানের মা হতে চলেছেন। ডায়াবেটিস বেড়ে যাবার  কারণে সামান্তা মাতৃত্বজনিত নানান  জটিলতায় ভুগছেন। এর ওপর এক বছর বয়সী ছেলের জন্মগত কিডনির সমস্যা থাকায় একই সময়ে তারও অস্ত্রোপচার করা হবে। সব মিলিয়ে এসময় শিশুটিকে দেখাশোনা করার মতো কাউকে প্রয়োজন। এজন্য তারা ভিজিটর ভিসায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তার শাশুড়ি সালমা রশিদকে আয়ারল্যান্ডে নিয়ে যেতে চান। এজন্য অক্টোবরের মাঝামাঝি অবেদনও করেন আয়ারল্যন্ডের দিল্লি দূতাবাসে। সেখানে বাংলাদেশিদের ভিসার আবেদনও তদারক করা হয়। তবে সমস্ত সঠিক তথ্য দেয়া সত্ত্বেও দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই দ¤পতিকে জানানো হয়, পর্যাপ্ত অর্থের নথি দিতে না পারায় তাদের আবেদনটি না-মঞ্জুর করা হয়েছে। এছাড়া ভিসা আবেদন না-মঞ্জুর করার আরেকটি কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সালমা রশিদের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং পেশাগত ঘাটতি রয়েছে। 
এরপর দেলোয়ার হোসেন দ¤পতি সালমা রশিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২৬ হাজার ইউরো দেখিয়ে পুনরায় আবেদন করেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, সালমা রশিদ বিবাহিত জীবনে সুখী এবং  বাংলাদেশে তার ১৫ বছরের একটি  ছেলে রয়েছে। যার কারণে তাকে বাংলাদেশে ফেরত যেতে হবে। দিল্লি দূতাবাসের ভিসা অফিসারকে লেখা এক চিঠিত তিনি বার বার উল্লেখ করেন, আমার ছেলের স্বাস্থ্যগত অসুস্থতা এবং একই সময় আমার স্ত্রীর দ্বিতীয় সন্তান জন্মদানের কারণে আমাদেরকে সহায়তা করতেই মূলত তিনি আয়ারল্যান্ড আসবেন। এছাড়াও ভিসা বাতিল হওয়ায় তার পারিবারিক চিকিৎসকের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ কর হয়। এ বিষয়ে একটি চিঠি এবং কর্ক ইউনিভার্সিটি ম্যাটার্নিটি হাসপাতালের পক্ষ থেকে সামান্তার মাতৃত্বকালীন ঝুঁকির বিষয়গুলো তুলে ধরে একটি চিঠি দেন। তিনি আরো বলেন, আমি নিশ্চিত করছি যে, ভিসায় উল্লেখ করা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশে ফিরে যাবেন। তিনি আয়ারল্যান্ডের সরকারি অর্থের ব্যবহার করবেন না।
দেলোয়ারের ওই শিশু সন্তানের অপারেশনের চারদিন আগে গত ১২ই নভেম্বর এই আবেদনও প্রত্যাখ্যান করেন ভিসা কর্মকর্তা। তিনি বলেন, যার জন্য আবেদন করা হয়েছে তিনি ভিসার মেয়াদ পরবর্তীতেও আয়ারল্যান্ডে থেকে যাওয়ার বাস্তবিক ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়াও তার শাশুড়ির ব্যাংক একাউন্টে হঠাৎ করে প্রচুর অর্থের উৎস কি সে স¤পর্কেও পরিষ্কার ধারণা দেয়ার অনুরোধ করেন। এর জবাবে দেলোয়ার আইরিশ টাইমসকে বলেন, এ অর্থ তার নিজের কিছু জমানো অর্থ ও তার শ্বশুরের জমানো অর্থ। গত সপ্তাহে যখন লেডিস চিলড্রেন হাসপাতালে তার সন্তানের অপারেশন চলছিল তখন ফোনে দেয়া সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন দেলোয়ার। টানা ৫ ঘন্টা চলে ওই অপারেশন। 
দেলোয়ার হোসেন জানান, আমার শাশুড়ি এদিন আমাদের পাশে থাকবেন বলে আশা করেছিলাম। পরিবারের দেখাশোনার জন্য আমাকে হয়ত চাকরিটি ছেড়ে দিতে হতে পারে। কিন্তু তারপর কি হবে? আমার স্ত্রী এখন বলছেন, আমাদের আয়ারল্যান্ডে চলে আসাটা বড় ভুল ছিল। রাস্তায় কুকুর নিয়ে যখন মানুষ হেঁটে যায়, তা দেখে আমার স্ত্রী আমাকে বলেন, এখানে আমাদের পরিবারের থেকে এই কুকুরগুলোর সঙ্গেও বেশি ভালো আচরণ করা হয়।
ভারতে অবস্থিত আয়ারল্যান্ডের দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেলোয়ার হোসেনকে নতুন করে আবেদন জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আয়ারল্যান্ডের বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা কোন ব্যক্তিবিশেষের ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করবেন না। তিনি বলেন, ব্যক্তিবিশেষের ‘মেরিটের’ ওপর নির্ভর করে সব ভিসা বিবেচনা করা হয়। স্বল্প মেয়াদের শতকরা ৯০ ভাগ ভিসা সারাবিশ্বের জন্য অনুমোদন করা হয় ২০১৭ সালে।  তিনি আরো বলেন, আইরিস ন্যাচারালাইজেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জরুরি ঘটনাগুলোকে প্রধান্য দেয়। এর ফলে দেলোয়ার হোসেন যদি নতুন করে আবেদন করেন, তাহলে তারা তা অগ্রাধিকার দেবেন।

শীঘ্রই আরব রাষ্ট্রগুলোর মিত্র হতে চলেছে ইসরাইল

আরব রাষ্ট্র বাহরাইনের সঙ্গে স¤পর্ক স্থাপনে আগ্রহী ইসরাইল। ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা। ইসরাইলের চ্যানেল টু জানিয়েছে, আরব রাষ্ট্র চাদের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের সময় এমন ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এটিই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র চাদের কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম ইসরাইল সফর। রোববার প্রেসিডেন্ট ইদ্রিস ডেবি জেরুজালেমে পদার্পন করেন। তার সঙ্গে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইলের প্রতি আরব রাষ্ট্রগুলোর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন। এ সময় তিনি গত মাসে তার ওমান সফরের কথা উল্লেখ করেন। সে সফরে নেতানিয়াহুকে ওমানের সুলতান সায়িইদ কাবুস তার রাজ প্রাসাদে আমন্ত্রন জানিয়েছিলেন।
রোববার নেতানিয়াহু সাংবাদিকদের জানান, অন্যান্য আরব রাষ্ট্রগুলোতেও শীঘ্রই একইরকম সফর করতে যাচ্ছেন তিনি। হানি মারযুক নামে একজন মুখপাত্র বলেন, আরব রাষ্ট্রগুলোর ইসরাইলের সঙ্গে স¤পর্কোন্নয়ন প্রমাণ করে আমরা ইতিহাসের ভুল শুধরাতে সঠিক পথেই আছি। এসময় তিনি জানান, আরব রাষ্ট্র বাহরাইন এখন নেতানিয়াহুর পরবর্তী গন্তব্য। ইসরাইল মনে করে আরব বিশ্ব বৃহৎ ও বৈচিত্রময়। তাই আমরা আরব বিশ্বের সঙ্গে স¤পর্কোন্নয়নে আগ্রহী।
এদিকে, ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী এলি কোহেনকে আমন্ত্রন জানিয়েছে বাহরাইন। আগামী বছর সেখানে বিশ্বব্যাংক আয়োজিত এক অর্থনৈতিক সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। এখনো প্রকাশ্যে শুধুমাত্র মিশর ও জর্ডানের সঙ্গে ইসরাইলের কুটনৈতিক স¤পর্ক রয়েছে। তবে নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে শীঘ্রই স¤পর্ক স্থাপিত হতে চলেছে। অপরদিকে, ইরানকে মোকাবেলা করতে আরব রাষ্ট্রগুলোও ইসরাইলের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপনে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

আমি আপনাদের সন্তান, সুযোগ দিন

এ নির্বাচন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার। দেশে এখন বাক স্বাধীনতা নেই। ভোটবিহীন সরকার। ভোটবিহীন মন্ত্রী ও এমপিকে  জনগণ আর দেখতে চায় না। আসন্ন নির্বাচন দেশ, মানুষ ও দেশের সম্পদ বাঁচানোর নির্বাচন। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে ঈমানী দায়িত্ব নিয়ে এই ভোট যুদ্ধের আন্দোলনে নেমেছি। এই ঈমানী দায়িত্ব পালনের আন্দোলনে আপনারাই আমার শক্তি। আপনারাই আমার সাহস ও অনুপ্রেরণা।
আমি আপনাদেরই সন্তান। আপনাদেরই ভাই ভাতিজা ও স্বজন। আমি গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য, চলমান এই দুঃশাসন থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য দেশ বরেণ্য রাজনীতিবিদদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আন্দোলনে নেমেছি। আপনাদের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা পেলে আমরা অবশ্যই সফল হব ইনশাআল্লাহ। আমাকে আপনারা সুযোগ দিন। ভোটের মাধ্যমে সহযোগিতা করুন। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে এই নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে, দেশের মানুষ ও উন্নয়নের স্বার্থে এই নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। এখানে আবেগ তাড়িত হয়ে নিজের মহামূল্যবান ভোট হেলায় ফেললে হবে না। মনে রাখতে হবে একটি ভোটই একটি আন্দোলনের হাতিয়ার। আর এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আপনার তীব্র প্রতিবাদ। তাই আসন্ন নির্বাচনে প্রার্র্থীদের চাইতে ভোটারদেরও দায়িত্বশীল ও সুনাগরিকের ভূমিকা পালন করতে হবে। গতকাল ঢাকা থেকে ট্রেনে কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে পৌঁছালে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন সাবেক ডাকসুর ভিপি, এমপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ। কোনো আয়োজন ছাড়াই দল মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ তাকে স্বাগত জানাতে কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে ভিড় জমান। এ সময় বাসা বাড়ির ছাদ ও দোকানের সামনে থেকে ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ তাকে হাত নেড়ে স্বাগত  জানান। তাকে স্বাগত জানাতে আসা আগত ভক্ত, সমর্থক, অনুসারী, বিএনপি ও জোট নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, এই সরকার দেশের বারোটা বাজিয়েছে। দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। পিলখানায় ৫৭ জন আর্মি অফিসার নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন এই সরকারের সময়ে। শাপলা চত্বরের নির্মমতা এখনো কেউ ভুলেনি। শেয়ারবাজার, ডেসটিনি, হলমার্কসহ সব উন্নয়নের উৎস ধ্বংস করে দিয়েছে। তাই ভোটের মাধ্যমে আপনাদের মহামূল্যবান রায়ের মাধ্যমে এই সরকারকে লাল কার্ড দেখিয়ে না বলতে হবে। বিদায় জানাতে হবে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি পেতে হলে সব ভেদাভেদ আর দলাদলি ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতীক ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। তিনি স্থানীয় উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমি এমপি থাকাকালে যে উন্নয়ন হয়েছিল আজ প্রায় দুই যুগ পরও সে উন্নয়ন আর কুলাউড়াবাসী দেখেনি। তাই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের জন্য আজ থেকে আপনারা একেক জন সুলতান মনসুর হয়ে গ্রামে-গঞ্জে, পাড়ায় মহল্লায় ছড়িয়ে পড়তে হবে।
মানুষকে ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্য বুঝাতে হবে, অনুপ্রাণিত করতে হবে। এখন দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্ন যাচ্ছে। এই দুঃসময় থেকে মুক্তি পেতে দেশ বাঁচাতে, দেশের মানুষ ও সম্পদ বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সুলতান বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আমি রাজনীতি করছি। উদ্দেশ্য দেশ জাতি ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা। আমি সে লক্ষ্যেই এগিয়ে চলছিলাম। কিন্তু নানাভাবে মিথ্যা অভিযোগে আমাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। নানা ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কিন্তু আমি রাজনীতির শিক্ষা নিয়েছি। আমি রাজনীতি থেকে মানব কল্যাণের দীক্ষা নিয়েছি। তাই আমি দমবার পাত্র নই। আমাকে দমিয়ে রাখা যাবেও না। আমি আপনাদের সন্তান আপনাদের ভালোবাসাই আমার চলার পথের পাথেয়। আমি মন্ত্রী বা এমপি হওয়ার জন্য রাজনীতি করি না।
মানুষের সেবাই আমার রাজনীতির লক্ষ্য। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মী অনুসারী ও সমর্থকরা ‘আমাদের সুলতান-আমাদের সন্তান, সুলতান তোমার ভয় নাই-আমরা আছি লক্ষ ভাই’ এ রকম নানা স্লোগান দেন। সুলতান মনসুরের কুলাউড়ায় আগমনকে কেন্দ্র করে তার ভক্ত অনুসারী সর্মথক ও বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছিলেন উজ্জীবিত। গতকাল দুপুরে কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে আসলে দীর্ঘদিন থেকে বিভক্ত কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির দু’টি অংশই ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে ফুল ও ধানের শীষ দিয়ে স্বাগত জানায়।

আইন সমানভাবে প্রয়োগ না করলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে -মাহবুব তালুকদার

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, নিরপেক্ষভাবে আইনের প্রয়োগ না করলে সে আইন আইন নয়, সেটা কালো আইন। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ না করলে সে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য। নির্বাচন কমিশন কখনো তা চায় না। গতকাল নির্বাচন ভবনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের এক ব্রিফিংয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে এ ব্রিফ করে নির্বাচন কমিশন। ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে মাহবুব তালুকদার বলেন, একটা কথা বলা হচ্ছে, নির্বাচন আইনানুগ হতে হবে।
এই কথাটা অবশ্যই ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে। কারণ আইনকে নিজস্ব পথে চলতে না দিলে, নির্বাচন কখনো আইনানুগ হতে পারে না। সুতরাং যখনই আমরা বলবো নির্বাচন আইনানুগ হতে হবে, তখনই তার সঙ্গে এটাও বলতে হবে, আইনকে তার নিজস্ব পথে চলতে দিতে হবে।
এটা করার দায়িত্ব আপনাদের। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার আরো বলেন, আফ্রিকান একজন রাজা অভিনব কায়দায় বিচার করতেন। একটা গ্লাসে সরবত, একটাতে বিষ আরেকটাতে পানি রাখা হতো। দোষীরা আসতো। বিষ পান করলে মারা যেতো। পানি পান করলে অব্যাহতি পেতো। আর সরবত পান করলে পুরস্কৃত হতো। অনেকে তার বিচার ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করেছেন।
উত্তরে রাজা বলেছিলেন, আমি তো রাজা, বিচারক নই। আমি তো বিচারের আইনকানুন কিছু জানি না। যিনি অপরাধী তার বিচার করেন ভাগ্য বিধাতা। আমি পুরোটাই ভাগ্য বিধাতার হাতে ছেড়ে দিয়েছি। কারণ এই বিচারে তিনিই আসল বিচারক। সেই রাজার বিচার ব্যবস্থা এখন আর নেই। এখন বিচারকরাই বিচার করে থাকেন। বিচারকরাই ভাগ্য বিধাতার প্রতিভূ। ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, আপনাদের (ম্যাজিস্ট্রেট) দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিশেষ কিছু বলার নেই। আপনারা সততা, আন্তরিকতা দিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। আইনের ব্যবহার সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।
মাহবুব তালুকদার বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব অপরিসীম। শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটদের সমান দায়িত্ব। যারা নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করবেন তারা যারাই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আপনারা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। জ্যেষ্ঠ এ নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমরা শপথ গ্রহণ করলেও নির্বাচন সংশ্লিষ্টরাও আমাদের নির্বাচনী শপথের অংশীদার। শপথ আমরা গ্রহণ করলেও নির্বাচন আমরা করি না। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আপনারা (ম্যাজিস্ট্রেট)। আপনাদের মধ্যে শপথ সঞ্চালিত হয়ে যাচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি অংশগ্রহণমূলক, পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন হবে। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে, সব রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে।
সারা জাতি এই নির্বাচন নিয়ে উদ্দীপ্ত, উচ্ছ্বসিত। এই উদ্দীপনাকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে। নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে। এতে আপনাদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সেনাবাহিনীও আপনাদের অধীনে দায়িত্ব পালন করবে। শুধু দেশ নয়, বিশ্ববাসীও আমাদের জাতীয় নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে।

Monday, November 26, 2018

পর্যবেক্ষক নয়, বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়নে ইইউ by মিজানুর রহমান

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অটল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে ব্রাসেলস বাংলাদেশের ভোট পূর্ব ও উত্তর পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। ভোটের আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন? তা সরজমিন পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নে প্রায় দেড় মাসের অফিসিয়াল সফরে কাল আসছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দুই সদস্যের নির্বাচন বিশেষজ্ঞ দল। ইইউ’র ভোট বিশেষজ্ঞ দলটি আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকবে জানিয়ে দায়িত্বশীল একটি কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সূচনাতে খানিক আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া সফরের পুরো সময়ই বিশেষজ্ঞরা নীরবে তাদের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন চালিয়ে যাবেন।
তারা সরকার, নির্বাচন কমিশন, আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ে বৈঠকাদি ছাড়াও স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলবেন। এ নিয়ে সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না। তবে ওই দুই বিশেষজ্ঞই ইইউ’র সদর দপ্তরে প্রতিনিধি হিসাবে ভোট পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকবেন। এখানে তারা ‘নিঃশব্দে’ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে দূতাবাসের পাশাপাশি তারাও ব্রাসেলসে রিপোর্ট পাঠাবেন। বিশেষজ্ঞ দলের সফরটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা থেকে প্রাপ্ত রিপোর্ট বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউ’র ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপরে কিছুটা হলেও প্রভাব রাখবে। সরকারের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, বিশেষজ্ঞরা জাতীয় নির্বাচনে কোনো নাক গলাবেন না এবং তারা জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করা থেকেও বিরত থাকবেন বলে আমাদের জানানো হয়েছে।
প্রয়োজন হলে তাদের রিপোর্ট বিষয়ে ব্রাসেলসের মুখপাত্র কথা বলবেন। বিশেষজ্ঞ দলের বাংলাদেশ সফরের শুরুতে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা এবং প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া, পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মাদ জাভেদ পাটোয়ারী, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং বিভিন্ন দলের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ভোট পরিস্থিতি নিয়ে ইইউ সতর্ক পর্যবেক্ষণ থাকে বরাবরই। নির্বাচন কমিশনসহ দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালীকরণে তারা অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে থাকে। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি বহুল আলোচিত নির্বাচন নিয়ে পর্যবেক্ষণে প্রতিনিধি পাঠায়নি ইইউ। তারা আগাম ঘোষণা দিয়েই প্রশ্নবিদ্ধ ওই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে প্রতিনিধি না পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানায়। তবে তার আগের নির্বাচনে (২০০৮ সালে) প্রায় ৮০০ পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে নির্বাচনটি সরজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছিল ইইউ।

স্বামীর হাতে ধর্ষণ: বাংলাদেশে এক নারীর অভিজ্ঞতা

বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে ধর্ষণকে জাতিসংঘ ভয়াবহ ধরনের পারিবারিক সহিংসতা বলে মনে করে। কিন্তু বাংলাদেশের সমাজের এ নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি কেমন?
বিষয়টি নিয়ে কাজ করেন এমন নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, স্বামী দ্বারাও যে ধর্ষণ সম্ভব সেটি সামাজিকভাবেও একটি অদ্ভুত ধারনা বলে বিবেচিত হয়। তাছাড়া, বাংলাদেশের কোন আইনেই বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে ধর্ষণ বিষয়টি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত নয়।
নিজেদের অধিকার নিয়ে দিন দিন সরব হচ্ছেন বাংলাদেশের নারীরা। কিন্তু স্বামীর হাতে ধর্ষণের ইস্যুটি এখনও কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে সমাজে?
স্বামীর কাছে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এমন এক নারী বিবিসির কাছে তার অভিজ্ঞতার কথা বলতে রাজী হন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে। ফলে, এই নারীর প্রকৃত নাম-পরিচয় তার অনুরোধে আমরা গোপন রাখছি।
বেশ লম্বা সময় প্রেম করে পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিলেন নাসরিন (ছদ্মনাম)। তবে মাত্র মাসখানেকের মতো টিকেছিল ভালবাসার মানুষকে পাওয়ার সেই আনন্দ।
খুব শীঘ্রই নাসরিনের মোহ কেটে গেলো যখন বুঝতে পারলেন স্বামী তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে যৌন সম্পর্ক চান। আর তাতে সায় না দিলেই জুটত ভয়াবহ নির্যাতন।
"যখন তার ইচ্ছে হতো তখনই আমি বিছানায় যেতে বাধ্য হতাম।
ঘরে আমার মা থাকতো, ছোট একটা ভাই থাকতো। না বললে সে প্রচণ্ড মারধোর করতো। সে আমার অসুস্থতাও মানত না। আমার যখন পিরিয়ড হতো তখন আমি একটু হাফ ছেড়ে বাঁচতাম। ভাবতাম হয়ত কয়েকটা দিন আমি টর্চারের হাত থেকে বেঁচে যাবো।"
দৈহিক ও মানসিকভাবে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন নাসরিন। তিনি বলেন, স্বামীর সঙ্গে দেড় বছরের মাথায় বিচ্ছেদের এটিই ছিল মূল কারণ।
উচ্চশিক্ষিত এবং প্রগতিশীল হিসেবে পরিচিত এই নারী বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে ইচ্ছের বিরুদ্ধে যৌন সম্পর্ককে ধর্ষণ বলে মনে করেন।
নারীরাএ নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী নয়
কিন্তু বিবিসির সাথে আলাপকালে আরও কজন এই ধারণাটিই বুঝতেই পারলেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, "যদি আমি না করি, তবুও ও (স্বামী) আমাকে সব কিছু করতে পারবে।"
কিন্তু সেই আচরণ কি সঠিক? এই প্রশ্নে ঐ নারী প্রথমে বললেন - "না, ঠিক নয়।"। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই বললেন, "মানুষে বলে স্বামীতো এরকম করতেই পারে।"
বৈবাহিক সম্পর্ক থাকাকালীন স্বামীর হাতে ধর্ষণ- বিষয়টি বেশিরভাগের মানুষের কাছে পরিষ্কার নয়। এ নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী মানুষও খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর।
অধিকার বিষয়ক সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নীনা গোস্বামী বলেন, তাদের কাছে এ বিষয় নিয়ে কোনো নারী অভিযোগ করেন না।
"আমাদের কাছে যারা আসেন তারা সুনির্দিষ্টভাবে এমন অভিযোগ করেন না। কিন্তু পারিবারিক সহিংসতা বা মারধোরের অভিযোগ নিয়ে কথা বলার সময় তারা ম্যারিটাল রেপের কথাও বলেন। তাদের সাথে কথা বলার পর কিন্তু ভয়াবহতাটা ধীরে ধীরে বের হয়।"
বাংলাদেশের আইন কী বলে
নীনা গোস্বামী বলছেন, বাংলাদেশের কোন আইনেই বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে ধর্ষণ বিষয়টি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত নয়।
"বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থায় ইচ্ছের বিরুদ্ধে সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সও যে রেপ, ম্যারিটাল রেপ বলতে যা বোঝায় - সেটার কোন সংজ্ঞাও নির্ধারণ করা নেই এবং সেখানে কোন শাস্তির ব্যবস্থা নেই। ফলে আমরা তার প্রতিকারও দিতে পারিনা।"
বাংলাদেশে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন যাবত বিষয়টিকে পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে স্বীকৃতির জন্যে আন্দোলন করেছে।
বাংলাদেশে সরকারি হিসেবেই ৪৭ শতাংশ মেয়ের ১৮ বছরের নিচে বিয়ে হয়। অপরিপক্ব শরীরে তাদেরও একই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।
নীনা গোস্বামী বলছেন, "এটা নিয়ে সরকার যেমন আগ্রহ দেখায়নি তেমনি শুধু সরকারকে দোষ দিলে হবে না, এটা নিয়ে যখন পাবলিক ডিসকাশন হয়েছে সেখান থেকেও খুব বেশি সাড়া পাওয়া যায়নি।"
সুত্রঃবিবিসি

সিইসিকে সরিয়ে দেয়ার দাবি ড. কামালের

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদাকে সরিয়ে একজন বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিকে এ পদে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, আমরা আগেও সিইসির প্রতি অনাস্থা জানিয়েছি। আমরা তার সঙ্গে কথা বলেও সন্তুষ্ট নই। এজন্য আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (রিপ্লেস) পরিবর্তন চাই। আমাদের দাবি হলো প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিবর্তে একজন বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিকে এ পদে দায়িত্ব দেয়া উচিত।
তিনি একজন বয়স্ক মানুষ ও সিনিয়র অফিসার। আমি আগেও বলেছি আপনার ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) আমসাআ আমিন ও একুশে টিভির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম গণফোরামে যোগ দেন।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দলে নতুন যোগদানকারীদের স্বাগত জানান গণফোরাম সভাপতি।
ড. কামাল আরো বলেন, আপনার (সিইসি) কাজের মধ্য দিয়ে আমাদের মত পরিবর্তনও করতে পারি। যদি দেখি, আগে যাই করছেন, আজকে থেকে আপনি নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা রাখেন। গ্রেপ্তার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কামাল বলেন, কোন লোককে ধরানোর ব্যাপারে আপনি আদেশ দিচ্ছেন, ভেঙে বলুন, তথ্য সহকারে বলুন। যাতে আমরা এটা যাচাই করে দেখতে পারি যে আপনি যুক্তিসঙ্গত কারণে ধরাচ্ছেন, নাকি সরকারের একজন সহায়ক হিসেবে করছেন। তিনি বলেন, আমরা মনে করি, যেভাবে ধরপাকড় ও অন্তরীণ করা হচ্ছে, তা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহায়ক নয়। আমরা বলতে চাই, পাইকারি হারে গ্রেপ্তার বন্ধ করা দরকার। বিএনপি নেতা, কুমিল্লার সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে আদালতে হাজিরের আলোকচিত্র সাংবাদিকদের দেখান ড. কামাল। পুলিশকে রাষ্ট্রীয় বাহিনী হিসেবে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। কামাল হোসেন বলেন, গণগ্রেপ্তার হচ্ছে। জেলখানা কীভাবে ভর্তি হয়ে গেছে, আমরা পরিসংখ্যান দেব। সেখানে লোক রাখারও সুযোগ নেই। এটা তো সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ হতে পারে না। সরকারি দলের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন প্রটোকলসহ সার্বিক সহযোগিতা করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, কিন্তু বিরোধী দলের প্রার্থীদের প্রচারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই বলে তিনি মনে করেন। ইভিএম প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটা বাতিল হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গণভবন, মন্ত্রীদের বাসভবন ও সরকারি অফিস রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ১৪(১), ১৪(২) হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন নীরব ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে দেশে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের পুরোপুরি কর্তৃত্বের মধ্যে থাকলেও আজ-অবধি তা দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আইনবহির্ভূতভাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী বিরোধী পক্ষের ওপর হাজার হাজার হামলা-মামলা ও গ্রেপ্তার বাড়ি বাড়ি তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে। এমনকি নির্বাচনে যারা প্রার্থী হবে তাদেরকেও উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মামলা দেয়া হচ্ছে। উক্ত ব্যক্তিরা যাতে অল্প সময়ে জামিন পেতে না পারে, বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, সরকারি দলের প্রার্থী ও মন্ত্রীরা দাপটের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচার ও ভোটারদের কাছে তাদের বক্তব্য তুলে ধরছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন তাদের প্রটোকলসহ সার্বিক সহযোগিতা করছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের প্রার্থীদের যার যার নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এমনকি প্রার্থীদের এলাকায় নিজ বাড়িতে কর্মীদের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক ও মতবিনিময়ের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করছে। সভার উপরে বিধি নিষেধ দিচ্ছে। নেতাকর্মীদের সভা থেকে গ্রেপ্তর করা হচ্ছে।
গণফোরামে যোগদানের পর অনুষ্ঠানে ২০০১ সালের নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-২ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী আমিন বলেন, আমি আওয়ামী লীগে ছিলাম, জেলা পরিষদেও দায়িত্ব পালন করেছি। একটা পর্যায়ে আমি সরে আসতে বাধ্য হই, সরে এসেছি। আমি মনে করি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যে প্লাটফরম দাঁড়িয়েছে, এই প্লাটফরমের মাধ্যমে আমি কাজ করতে পারবো। এই নেতৃত্বের জন্য আমি গর্বিত। ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বের প্রতি আমি গর্বিত। আমার ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সম্পর্ক অনেক পুরনো। আমি যখন অক্সফোর্ডে পড়াশুনা করতাম, তখন উনি সেখানে অধ্যাপনা করতেন। এখনই সময় সবাইকে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে দেশের ভবিষ্যৎ, কী রকম বাংলাদেশ চাই, সেই ধরনের বাংলাদেশের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগের শাসনামলের সাড়ে ৯ বছরে দেশে আইনের শাসন ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করেন রেজা। সালাম বলেন, ২০১৫ সালের ২৫শে নভেম্বরে ইটিভি দখল হয়েছে। আজকে সেদিনটি। আমি আড়াই বছর যাবৎ জেলে ছিলাম। সত্যের জন্য এবং এই মিডিয়ার জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে আমার এই অবস্থা। আমি মনে করি, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে পরিবর্তন হবে। এখন যে দুঃসহ অবস্থা, এর পরিবর্তন হবে। আমরা একটা সুন্দর দিন পাব।
সংবাদ সম্মেলনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোকাব্বির খান, ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

৩ হাজার বছর আগের অক্ষত মমি উদ্ধার মিশরে

মিশরে তিন হাজারেরও বেশি বয়সী একটি মমি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। একজন নারীর মৃতদেহকে মমি করে রাখা হয়েছিল। তা একটি কফিনের ভিতর পাওয়া গেছে। শুরুতে যেমনভাবে রাখা হয়েছিল, এখনও ঠিক সেইভাবেই আছে তা। নিল নদের তীরে লুক্সোরে আল আসাসেফ এলাকায় দুটি মমি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ওই নারীর মমি রয়েছে। প্রাচীনকালে যে পদ্ধতিতে মমি সংরক্ষণ করতেন মিশরীয়রা তাকে বলা হয় সারকোফ্যাগাস। এমন একটি সারকোফ্যাগাস শনিবার প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সামনে উন্মুক্ত করে মিশরীয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে একটি সারকোফ্যাগাস সপ্তদশ শতাব্দীর। অন্যটি অষ্টাদশ শতাব্দীর। মিশরের প্রত্নতত্ত্ববিষয়ক মন্ত্রী খালেদ আল আনানি বলেছেন, এ মমিগুলো যে সমাধিক্ষেত্রে পাওয়া গেছে তার বাইরে এমন চিহ্ন দেয়া ছিল যে, ভিতরে মমি রাখা আছে। মার্চে এ সমাধিক্ষেত্রের খনন কাজ শুরু করেন ফরাসি গবেষকরা। পরে মে মাসে এসে আবার বন্ধ করে দেন কাজ। আবার আগস্টে শুরু করেন খনন। এরপরই উদ্ধার হয় ওই দুটি মমি। এ সময় তারা ৫টি রঙিন মুখোশও উদ্ধার করেন।

মাঠের পর মাঠ সবুজ by ইমাদ উদ দীন

সবজির গ্রাম নাদামপুর। এমন উপাধি কৃষি বিভাগের। ভালো সবজি চাষে তাদের এমন পরিচিতি। গ্রামজুড়ে মাঠের পর মাঠ চোখে পড়ে সবজির রাজত্ব। বছর জুড়ে সবজি চাষে মগ্ন থাকেন ওই এলাকার কৃষক। চাষীদের এমন একাগ্রতায় সফলতাও আসছে। এরই সঙ্গে বদলাচ্ছে তাদের ভাগ্য ও পরিচিতি। তাদের এমন সফলতায় সবজি চাষে উজ্জীবিত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষক।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের নাদামপুর গ্রামে গেলে চোখে পড়ে মাঠের পর মাঠ সবুজের সমারোহ আর সবজির রাজত্ব। ক্ষেতের মাঠে ব্যস্ত কৃষক। সবজির পরিচর্যায় রাত-দিন তাদের শক্ত খাটুনি। তারপরও তারা মহাখুশি কারণ তাদের এই পরিশ্রম কাজে আসছে। সফলতাও মিলছে। কথা হয় নাদাম পুরের বিশিষ্ট বীজ ব্যবসায়ী ও সফল চাষি সুহেল আহমদের সঙ্গে। তিনি মানবজমিনকে জানান, ২০০১ সাল থেকে সবজি ও ধান চাষ শুরু করেন। মূলত সবজি চাষেই ফিরে তার আর্থিক সচ্ছলতা। এই আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও খুলেছেন। এখন ব্যাপক হারে সবজি চাষের জন্য নাদামপুর সবজি গ্রাম হিসেবেও আলাদা পরিচিতি পাচ্ছে। আর বছরজুড়ে সবজি চাষে বেকারত্বও ঘুচাচ্ছে যুব ও তরুণ সমাজের। সরজমিন নাদামপুর ঘুরে দেখা গেল চাষিরা পরম মমতায় সবজি ক্ষেতের যত্ন নিচ্ছেন। তাদের এই পরিচর্যায় যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রয়েছে নানা নতুনত্ব। সুহেল আহমদ তার সবজি ক্ষেত অতি বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে শেড তৈরি করেছেন। এখন বৃষ্টি না থাকায় শেডের উপর অংশ খুলে রাখা হয়েছে। তার এ টমেটো চাষসহ অন্যান্য সবজি চাষ দেখে এলাকার নাদামপুর, দাউদপুর. হামরকোনা, মোবারকপুর, বাহাদুরপুর, বাদে ফতেপুর, শ্রীধরপুর, করিমপুর, ফতেপুর, মোজেফরাবাদ, হলিমপুর সহ মোট ১১ গ্রামের অসংখ্য মানুষ সবজি চাষ করছেন। কম পরিশ্রম ও অল্প পুঁজিতে অধিক আয়ের উৎস সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় টমেটো চাষের পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম ও তরমুজ চাষ করে কয়েক গ্রামের মানুষ এখন স্বাবলম্বী। পাশাপাশি এলাকায় কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে। সুহেল আহমদ জানান ২৮ কিয়ার (বিঘা) জমিতে সবজি চাষ করেছেন টমেটো-১৩ কেয়ার, বারি-৪, বারি-৮, রাজা, সফল ও সোনালী জাতের টমেটো। এর মধ্যে বারি-৪ ও বারি-৮ দেশীয় জাতের টমেটোর ফলন ভাল হয়। এ দুটি জাত গ্রাফটিং পদ্ধতিতে করে থাকেন। রোগবালাই কম ও ফসল বেশি হওয়ায় গ্রাফটিং পদ্ধতির চারা কিনে জমিতে লাগান। শ্রাবণ মাস থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু করেন জমিতে চারা লাগানোর কাজ। গত বছরও ১৩ কেয়ার (বিঘা) জমিতে টমেটো চাষ করেন সুহেল। প্রতি কেয়ারে ফলন হয়েছে ১৫ টন। সব মিলিয়ে ১৯৫ টন টমেটো বিক্রি করে প্রায় ৩২ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা পান। এতে খরচ হয়েছে ১২ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা। চারা লাগানোর ৮০-৯০ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ করে বাজারজাত করা যায়। পারপল কিং জাতের বেগুন ৭ বিঘা জমিতে চাষ করছেন গত বছর। এ বছর চারা লাগানো হয়েছে। ফলন ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে সংগ্রহ করে বিক্রি করতে পারবেন। গত বছরর ১৭৫ টন বেগুন বিক্রি করে ১৪ লক্ষ টাকা পেয়েছেন। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। আরলি সুইট জাতের মিষ্টি কুমড়া ৬ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। ৪২ টন মিষ্টি কুমড়া উৎপাদন হয়েছে। প্রতি কেজি ১০ টাকা করে বিক্রি করে ৪ লক্ষ ২০ টাকা পান। খরছ হয়েছে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা। তিনি জানান মিষ্টি কুমড়া চাষে তেমন পরিচর্চা লাগেনা। এ ছাড়াও মিষ্টি কুমড়া সংরক্ষণ করে রাখা যায় ৬-৭ মাস পর্যন্ত। চলতি মৌসুমেও মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করে গত বছরের চেয়ে বেশী টাকা আয় করতে পারবেন এমনটি জানান সুহেল আহমদ। গেন্ডরী জাম্বু তরমুজ জাতের চাষ করেন ১ বিঘা জমিতে। সব খরচের পর ১০ টন তরমুজ বিক্রি করে ৬০ হাজার টাকা আয় করেন। সুহেল আহমদ তার সবজি চাষ করতে বছরের ৮ মাস ৮-১০ জন শ্রমিক স্থায়ী এবং অস্থায়ী আরো ৭-৮ জন কাজ করেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে সবজি চাষ করে লাভবান হওয়ায় শেরপুর এলাকায় কৃষি সরাঞ্জাম ও সার, কিটনাশক, বীজ বিক্রির প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তিনি সবজির পাশাপাশি নিচু জমিতে ধান চাষ করছেন। সবজি ও ধান চাষে সফল হওয়ায় সুহেল আহমদ এখন চাষীদের অনুকরণীয় দৃষ্ঠান্ত। নাদামপুর গ্রামের আজিজ মিয়া বলেন ৭-৮ বছর আগেও তিনি অন্যের জমিতে দিনমজুরি কাজ করতেন। এর ফাঁকে গাড়ি চালাতেন। সুহেল আহমদের সবজি চাষ দেখে সবজি ক্ষেত শুরু করেন। এখন বছর জুড়ে টমেটো, বেগুন, ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে ভালোই চলছে তার সংসার। তিনি বলেন তার মতো আরও অনেকেই আছে যারা আগে অন্যের জমিতে কাজ করত অথবা বেকার থাকত। এখন তারা তার মতো নিজের জমিতে সবজি চাষের আয় দিয়ে ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ ও সংসার চালাচ্ছেন। একই কথা জানালে ওই এলাকার কৃষক জনি আহমদ। তিনিও ৮-১০ বছর যাবৎ টমেটো, লাউ, বেগুন ও মরিচ চাষ করে পরিবার চালাচ্ছেন। মৌলভীবাজার কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শাহাজাহান জানান বছরে একাধিক সময় সুহেল আহমদের সবজি চাষ পর্যবেক্ষণে যান তিনি ও তার দল। এ বছর তার ক্ষেতে ভালো টমেটো ধরেছে। কুশিয়ারা নদীর পাশেই সবজি চাষের অধিকাংশ জমি। নদী পাড়ের মাটি সবজি চাষের উপযোগী হওয়ায় সবজিও ভালো মানের হয়। এখানে সেচ ও সার কম লাগে। ওই এলাকায় প্রায় ৩ শতাধিক কৃষক ভালো সবজি উৎপাদনের কারনে আমরা নাদামপুরকে ‘সবজি গ্রাম’ নাম দিয়েছি।