Friday, July 31, 2009

বোর্ডারকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় পন্টিং

সিরিজে সমতা ফেরানোর তাগিদ আছে। সেরা একাদশ কী হবে না হবে, তা নিয়েও একটা দোদুল্যমানতা চলছে। দলে ইনজুরির হানা—অস্ট্রেলিয়ার ঝামেলার শেষ নেই। এখন আবার আবহাওয়া নিয়েও মাথা ঘামাতে হচ্ছে রিকি পন্টিংকে। এজবাস্টনের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, বৃষ্টিতে ভেসে যেতে পারে আজ থেকে শুরু অ্যাশেজের তৃতীয় টেস্টের প্রথম দুটি দিন। বাকি তিন দিনে কি আর চার ইনিংস শেষ হবে? ফলাফল—এজবাস্টন টেস্টে ড্রয়েই বাজির দর সবচেয়ে বেশি।
সিরিজে সমতা ফেরাতে মরিয়া অস্ট্রেলিয়ার জন্য এ নিশ্চয়ই দুঃসংবাদ। এমনিতে টেস্টে এজবাস্টন ফলই দেয় বেশি। এখানে সর্বশেষ ১৭ টেস্টের মাত্র ৩টি হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক হিসাব-নিকাশ আবার অন্য রকম ছবি দেখায়। এ মাঠে সর্বশেষ ২০টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচের মাত্র চারটি জয় দেখেছে। এ বছর তো জয় মাত্র একটি।
ইংল্যান্ডে পরিবর্তন একটাই, চোটের কারণে বাইরে চলে যাওয়া কেভিন পিটারসেনের জায়গায় আসছেন ইয়ান বেল। অস্ট্রেলিয়া দলেও সম্ভবত একটিই পরিবর্তন। না, মিচেল জনসন বাদ পড়ছেন না বলেই খবর। বাঁহাতি ফাস্ট বোলার আরেকটা সুযোগ পাচ্ছেন। ভেজা কন্ডিশনের কারণে বাদ পড়ছেন স্পিনার নাথান হরিজ। ফিরছেন স্টুয়ার্ট ক্লার্ক।
রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যাটসম্যান পন্টিং। আর ২৫টি রান করলেই অ্যালান বোর্ডারের ১১১৭৪ টেস্ট রানের রেকর্ড ভেঙে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ টেস্ট রান সংগ্রাহক হয়ে যাবেন। তখন তাঁর ওপরে থাকবেন কেবল ব্রায়ান লারা (১১৯৫৩) ও শচীন টেন্ডুলকার (১২৭৭৩)।

বি-লিগ সেরা ওয়ালি

আবাহনীর লেফটব্যাক ওয়ালি ফয়সাল নিজের পজিশনে জাতীয় দলেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ওভারল্যাপ করে আক্রমণে ওঠেন। সময়মতো নেমে আসেন নিচে। মাসুদ রানার পর তাঁর মতো নির্ভরযোগ্য লেফটব্যাক বাংলাদেশে আর আসেনি। ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলে যাওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ কাল পেলেন দ্বিতীয় বি-লিগের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার!
বাফুফের কোচরা সেরা খেলোয়াড় বাছাই করার দায়িত্বে। তাঁদের অভিমত, গত মৌসুমে টানা ভালো খেলেছেন ওয়ালি ফয়সাল। পুরস্কারটা তাঁর প্রাপ্যই। প্রথম বি-লিগের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন আবাহনীরই স্ট্রাইকার এমিলি। তবে এমিলি-ওয়ালি দুজনই কিন্তু এ মৌসুমে গায়ে তুলছেন সাদা-কালো জার্সি। মোহামেডানে যোগ দিচ্ছেন তাঁরা।
জাতীয় দলের ক্যাম্পে অনুশীলন করতে অপারগতা জানানো আট খেলোয়াড়ের একজন ছিলেন ওয়ালি। সমস্যার আপাত সমাধান হয়েছে বটে, তবে বিকেএসপির ক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে মন খারাপ ছিল নারায়ণগঞ্জের এই তরুণের। তবে এদিন সন্ধ্যায় এনএসসি মিলনায়তনে আসা ওয়ালি ছিলেন হাসিখুশিই। দেশসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হাতে নিয়ে গান গাইলেন মঞ্চে, সতীর্থ ফুটবলাররাও মঞ্চে এসে কিছুক্ষণ নাচলেন-গাইলেন।
গত বি-লিগ এবং জুনিয়র ডিভিশনের পুরস্কার দেওয়ার জন্যই ছিল বাফুফে অ্যাওয়ার্ড নাইট। যেখানে উপস্থিত থাকলে নিশ্চয়ই উচ্ছ্বসিত দেখা যেত বুকোলা ওলালেকানকে। বি-লিগে তাঁর পাওয়া সেরা গোলদাতার পুরস্কারটা গ্রহণ করেছেন মোহামেডানের কোচ মারুফুল হক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার।

বিজয়ানন্দে বাস্তবতার ছোঁয়া by তারেক মাহমুদ

শুধু জেতা নয়, সিরিজ জয়ও। বিসিবি অফিসে নিশ্চয়ই আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে...। কিন্তু কাল সকালে বোর্ডের এক কর্মকর্তা হতাশার খবরই শোনালেন। নাহ্, আনন্দ-টানন্দ কিছু না। শান্ত-নিস্তরঙ্গ ভঙ্গিতেই চলছে তাঁদের দৈনন্দিন কাজ।
কী ব্যাপার? ক্রিকেট বোর্ডের এই বিশাল সাফল্যে চারদিক থেকে অভিনন্দনের জোয়ার, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার খিচুড়িভোজের আয়োজন পর্যন্ত করে ফেললেন, আর খোদ বিসিবিরই কোনো হেলদোল নেই! বিকেলে অবশ্য এক বোর্ড পরিচালকের কথায় স্পষ্ট হলো, জয়ের আনন্দেও এখন মাত্রা রাখতে চাইছেন তাঁরা, ‘আমাদের ক্রিকেট এখন যে অবস্থায় আছে তাতে এমন জয় আসতেই পারে। আমরাও ক্রিকেটারদের সংবর্ধনা দেব, তবে এ নিয়ে বাড়াবাড়ির কিছু নেই।’
বিসিবির মাটিতে পা রাখার চিন্তাটা অভিনন্দনযোগ্য। সাফল্যে আনন্দ হবে, সেই আনন্দের তোড়ে ভেসে গেলে মুশকিল। বিশেষ করে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাই যখন মনে করিয়ে দিচ্ছেন সামনে অপেক্ষমাণ জিম্বাবুয়ে সফরের ‘চ্যালেঞ্জ’টার কথা, ‘জিম্বাবুয়ে এদের (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) চেয়ে অনেক গোছানো দল। ওটা হবে মাইন্ড গেম।’ তবে পরশু রাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৭৪ রান করে ফেলার পরও তাঁর কাছে কখনো মনে হয়নি বাংলাদেশ হারতে পারে, ‘আসলে আমাদের ছেলেদের খেলার ধরন দেখেই মনে হয়েছে জিতবে।’ ইনজুরিতে পড়ে দেশে ফিরে আসা অধিনায়ক টেলিফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন ডমিনিকায় থাকা দলকে।
সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের কাছে মনে হয়েছে উল্টোটা। তামিম ইকবাল আউট হয়ে যাওয়ার পর ২৭৪ অনতিক্রম্যই মনে হচ্ছিল তাঁর কাছে। কিন্তু ভোরের আলো ফোটার আগে যখন জয়ের আলো ফোটাল বাংলাদেশ, হাবিবুল স্বীকার করে নিলেন, ‘আমাদের সময়ের চেয়েও এই দল অনেক পরিণত, অনেক পরিকল্পিত ক্রিকেট খেলে তারা। সবচেয়ে বড় কথা, দলের সবাই পারফর্ম করছে। দলটার আসল চরিত্র ফুটে উঠছে আস্তে আস্তে।’
এ দেশের ক্রিকেটের একটা বহুদিনের রেওয়াজ এই যে, বাংলাদেশ দলের চরিত্রের সঙ্গে স্থানবিচ্যুতি ঘটে যায় তার ভক্ত-সমর্থকদের চরিত্রেরও। খারাপ খেললে ক্রিকেটারদের চেয়ে নিকৃষ্ট আর কিছু হয় না। জিতলে তাঁরাই দেশের শ্রেষ্ঠ নাগরিক। এবার যেন সেটা একটু বদলাল। বিদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের সাফল্যের পিঠাপিঠি ওয়ানডে সিরিজেও বিজয়ের হাসি—কিন্তু কই, টিএসসি থেকে তো বিজয় মিছিলের খবর আসেনি? বৃষ্টিস্নাত সড়কে দেখা কোনো তরুণ-তরুণীর গালে লাল-সবুজ পতাকাও তো আঁকা নেই! তাহলে কি সত্যি সত্যি বাস্তবতায় ভর করল বাংলাদেশের ক্রিকেট?
ভাবনার তাল কেটে যায় মুঠোফোনে এসএমএস আসার শব্দে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর মোহাম্মদ আশরাফুলকে শাপ-শাপান্ত করেছিলেন এমন এক ‘ক্রিকেট-প্রেমিকের’ আবেগি ঘোষণা ভেসে এসেছে, ‘অ্যাশ খেললে দেশ জেতে।’

‘প্রমাণ হলো আমরা ঠিক রাস্তাতেই ছিলাম’

একজন বাংলাদেশ দলের প্রতীক হয়ে আছে অনেক দিন ধরেই। অন্যজনকে বলা যায় নতুন বাংলাদেশের প্রতীক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়েও বড় ভূমিকা দুজনের। ডমিনিকায় সিরিজ জয়ের রাতে মোহাম্মদ আশরাফুল ও সাকিব আল হাসানকে একসঙ্গে বসালেন উত্পল শুভ্র

 ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়—আপনাদের কাছে এর অর্থ কী?
মোহাম্মদ আশরাফুল: আমি বলব, আমাদের ক্রিকেটের জন্য বড় একটা পাওয়া। টোয়েন্টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের কাছে হারার পর যে প্রতিক্রিয়াটা হয়েছিল...সবাই ভেবেছিল আমাদের ক্রিকেট এগোচ্ছে না। তবে আমরা যাঁরা খেলছিলাম সবার ধারণা ছিল আমাদের টিমটা ঠিক রাস্তাতেই আছে। আমি মনে করি, এই রেজাল্টে সেটাই প্রমাণিত হলো।
সাকিব আল হাসান: আমরা জানতাম, আমরা উন্নতি করছি। কিন্তু সেটির একটা প্রমাণ তো লাগবে। এই সিরিজটাকে আমি মনে করি সেই প্রমাণ। আমরা আগেও ভালো ক্রিকেট খেলছিলাম, শুধু রেজাল্টটা আসছিল না। এটা যে এসেছে এটা খুবই বড় ব্যাপার।
তবে সেই রেজাল্টটা যে দলের বিপক্ষে এসেছে, এটা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতেই পারে। এটা তো আসল ওয়েস্ট ইন্ডিজ নয়!
সাকিব: এমন বললে তো বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকার রেকর্ডও গোনায় ধরা উচিত নয়। আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে খেলেছি, কারা খেলেছে এটা আমাদের দেখার বিষয় না। ওরাও ভালো প্লেয়ার। ৫ উইকেট নিলে ওরাও বল উঁচু করে দেখায়, সেঞ্চুরি করলে ব্যাট উঁচু করে।

আশরাফুল: এটা ঠিক, এখানে আসার আগে এমন একটা অবস্থা হবে আমরা কল্পনাও করিনি। তবে আমাদের মধ্যে একটা জেদ ছিল। কে জানে, ক্রিস গেইলরা খেললেও আমরা হয়তো ভালো কিছু করতে পারতাম। আরেকটা ব্যাপার, এ ঘটনার কারণে পুরো চাপটাই কিন্তু আমাদের ওপর চলে এসেছিল। আমরা ভালো কিছু করতে না পারলে অনেক কথা হতো।
শততম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ভারতকে হারিয়েছিল, ২০০ নম্বর ওয়ানডেতে হারাল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। আশরাফুলের ওই ম্যাচের কথা কি মনে পড়ে? আর সাকিব আপনি তখন কোথায় ছিলেন?
আশরাফুল: আফতাব খুব ভালো ব্যাটিং করেছিল মনে আছে। আর মাশরাফি তো ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ে ছিল দুর্দান্ত। ওই ম্যাচের আরেকটা জিনিস মনে পড়ে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে একটুও জায়গা খালি ছিল না। বাইরেও বোধহয় পাঁচ হাজার দর্শক ছিল

সাকিব: আমি ওই ম্যাচটা দেখেছি কি না মনে পড়ছে না। কোথায় ছিলাম তা-ও মনে পড়ছে না। তবে রানা ভাইয়ের (প্রয়াত মানজারুল ইসলাম রানা) কাছে গল্প শুনেছি, স্টেডিয়ামে নাকি অনেক লোক ছিল। অত দর্শক নাকি বাংলাদেশ দেখেনি।
অমন একটা ম্যাচ! অথচ সাকিব, আপনার তা মনে নেই!
সাকিব: আমি আসলে তখন সেভাবে খেলা দেখতাম না। বাংলাদেশের খেলা তো আরও না। দেখলে দেখতাম পাকিস্তানের খেলা। সত্যি কথা! (হাসি)।
 এখানে দুটি ওয়ানডেতেই বাংলাদেশের জয়ে আপনাদের বড় অবদান। এই দুটি ম্যাচে নিজেদের পারফরম্যান্স সম্পর্কে কী বলেন?

আশরাফুল: টেস্ট সিরিজে তো একদমই বাজে খেলেছি। ওয়ানডে সিরিজের আগে প্র্যাকটিস ম্যাচটাও ভালো খেলিনি। আমি তাই একটু ডাউনই ছিলাম। টিমমেট, কোচিং স্টাফ—সবাই আমাকে খুব সাপোর্ট দিয়েছে। বিশেষ করে ম্যাচের আগের দিন জেমি সিডন্সের কথাগুলো আমাকে খুব সাহায্য করেছে। ও বলেছে, ও বিশ্বাস করে আমি বাংলাদেশকে অনেক কিছু দিতে পারব। এই পারফরম্যান্সটা আমার নিজের জন্যই খুবই দরকার ছিল। কারণ আমি টিমকে কিছু দিতে পারছিলাম না। টেস্ট সিরিজে আমরা জিতলাম—সাকিব ভালো খেলল, মুশফিক ভালো খেলেছে, তামিম ভালো খেলেছে, বোলাররাও ভালো করেছে। অথচ এতগুলো ম্যাচ খেলার পরও আমি কিছু করতে পারিনি বলে আমার খুব খারাপ লেগেছে।
সাকিব: দুটি ইনিংসই অনেক হিসাব করে খেলতে হয়েছে। এত হিসাব করে কখনো খেলিনি। তবে যখন যেটা প্রয়োজন ছিল, সেটা করতে পেরেছি। টেস্টে শেষ ইনিংসটায় ৯৬ করলাম, বাংলাদেশ ম্যাচ জিতল। আত্মবিশ্বাসটা ছিল। টেস্টের তুলনায় ওয়ানডের উইকেট ছিল অনেক ভালো। খারাপ উইকেটে রান করে এলে ভালো উইকেটে ভালো করার আত্মবিশ্বাসটা বেড়ে যায়। ওটাই কাজ করেছে।
আশরাফুল, সাকিব তো আপনার অনেক জুনিয়র। ওকে আপনি প্রথম কবে দেখেছিলেন?
আশরাফুল: সাকিবকে প্রথম দেখেছি ২০০৬ সালে সোনারগাঁও-ভিক্টোরিয়া ম্যাচে। ও প্রথম চার বলে তিনটা লাইফ পেয়েছে... (হাসি)।
সাকিব: (হাসি) তাপস ভাই বল করছিলেন। প্রথম বলটা মেরেছি, ফার্স্ট স্লিপে রোকন ভাই (আল-শাহরিয়ার) ক্যাচ ফেলে দিয়েছেন। পরের বলটায় দ্বিতীয় স্লিপে কে যেন ক্যাচ ফেললেন। পরের বলে উইকেটকিপারকে সহজ ক্যাচ, সেলিম ভাই ফেলে দিলেন। পরের বলে বোল্ড!
আশরাফুল: আমি ওই ম্যাচে সোনারগাঁওয়ের ক্যাপ্টেন ছিলাম। ওর নাম অনেক শুনেছি...সাকিব-সাকিব...আমি ওর ব্যাটিং দেখে বললাম, এটা কী ধরনের ব্যাটিং! পরে ওই ম্যাচেই অবশ্য ও ভালো বোলিং করেছিল।
সাকিব, আশরাফুলের সঙ্গে আপনার প্রথম পরিচয় কবে?
সাকিব: টিভিতেই দেখেছি প্রথম, পরে সামনাসামনি। সোনারগাঁওয়ের সঙ্গে ওই ম্যাচেই প্রথম দেখা হয়েছে। সেভাবে পরিচয় হয়নি।
এই প্রশ্নটা সাকিবকে। আশরাফুল ক্যাপ্টেনসি হারালেন আর আপনি হঠাত্ ক্যাপ্টেন হয়ে গেলেন। আপনি যখন খেলা শুরু করেন, আশরাফুল তখনই বড় তারকা। এটা নিয়ে কোনো অস্বস্তি হয়নি?
সাকিব: আমি উনার সঙ্গে খেলা-টেলা নিয়ে খুব কম কথা বলি। আমিও চাই না উনাকে কিছু বলতে, উনিও আমাকে কিছু বলেন না। আমি উনার সঙ্গে মজাই করি, খেলা বিষয়ে খুব একটা আলাপ হয় না।
কিন্তু ক্যাপ্টেনসি করার সময় প্রথম প্রথম একটু অস্বস্তি হয়নি?
আশরাফুল: এটা আমি বলি। আমি যখন ক্যাপ্টেন ছিলাম, তখন ওর সঙ্গেও আলাপ করতাম। আমাদের টিমে এটা সব সময় ছিল। এখন রুবেলও যদি ক্যাপ্টেন হয়, আমাদের সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন হবে না। আমাদের টিমের মধ্যে খুব মিল আছে।
সাকিব: এখনো যা হয়, মুশফিক ভাই হয়তো এসে একটা কথা বলে। একসময় রকিবুল এসে বলে, রিয়াদ ভাই (মাহমুদউল্লাহ) বলে...সবার কথাই কিন্তু নেওয়া হয়। আমাদের দলে এটা খুব ভালো। সমস্যা কখন হয়—কেউ যদি অন্য রকম আচরণ করে। আমাদের টিমে ওরকম কেউ নেই।
ক্রিকেটার হিসেবে একজন আরেকজন সম্পর্কে বলুন।
আশরাফুল: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঢোকার পর থেকেই সাকিব সাকসেসফুল। ও যা করতে চায়, তা করতে পারে। ওর গেমপ্ল্যানটা বরাবরই একই রকম। আমার যেমন এখনো প্রবলেম, একেক দিন একেক রকম খেলি। আর ক্রিকেটার হিসেবে আমি বলব, একজন ক্রিকেটার হয়তো ভালো ব্যাটিং করে, কেউ ভালো বোলিং, কেউ বা ভালো ফিল্ডিং। ওর আল্লাহর রহমতে তিনটাই ভালো।
সাকিব: ক্রিকেটার হিসেবে উনার সম্পর্কে কী বলব? বাংলাদেশের সব বড় বড় জয়েই উনার অবদান ছিল। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে মানুষ উনাকে দিয়েই চিনেছে। এখনো যেখানেই যাই, প্রথমে সবাই আশরাফুল-মাশরাফিকে খোঁজে। যেদিন উনি ব্যাটিং করেন, বিশ্বের কোনো বোলারকেই বোলার মনে হয় না।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজে এই সাফল্যের প্রভাবটা কী হবে বলে মনে করেন?
সাকিব: এই সাফল্য আমাদের পরের একটা পর্যায়ে নিয়ে যাবে। দলে এখন দারুণ আত্মবিশ্বাস। আগে একটা উইকেট পড়লে সবাই মুখ কালো করে বসে থাকত। এখন গল্প করছে, হাসছে। ক্রিকেটে এই আত্মবিশ্বাসটা খুবই বড় ব্যাপার। ভবিষ্যতে এটা অনেক কাজে আসবে। আমরা যখন পেছনে ফিরে তাকাব, দেখব আমাদের এতগুলো জয় আছে, এমন ভালো ক্রিকেট খেলেছি—নিজেদের তখন বড়-বড় মনে হবে।
আশরাফুল: জয়টা একটা অভ্যাস। ২০০৭ বিশ্বকাপে আমাদের ভালো করার পেছনে বড় কারণ ছিল জিম্বাবুয়ে-কেনিয়ার সঙ্গে অনেক ম্যাচ আমরা জিতেছিলাম। ম্যাচ জেতাটা আমাদের অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। এই জয়গুলোও এমন কাজে লাগবে। এখন আমরা র্যাঙ্কিংয়ে নয় নম্বরে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেছনে। সেরা আট দল খেলছে বলে এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে পারছি না। এই জয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে আমাদের ব্যবধান কমবে। আশা করব, আগামী বছর আমরা আট নম্বর হয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলব।

হেরে গেলেন ফেল্প্স

গত বেইজং অলিম্পিকে ঝড় তুলে আটটি ইভেন্টে সোনা জিতেছিলেন যার সাতটিতেই হয়েছিল বিশ্ব রেকর্ড। বাকিটিতে অলিম্পিক রেকর্ড। অথচ অলিম্পিক-পরবর্তী ছয় মাসে মাইকেল ফেল্পেসর জীবনে উঠেছিল দুঃসহ ঝড়। সাঁতারপুলের লেন ছিটকে বেপথে চলে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের এই তারকা সাঁতারু। পার্টিতে বন্ধুদের সঙ্গে পাইপ দিয়ে গাঁজা টানছেন ফেল্প্স—পত্রিকায় এমন ছবি ছাপা হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র সাঁতার ফেডারেশন তাঁকে তিন মাসের জন্য নিষিদ্ধও করেছিল। একটু বেপথু হয়ে পড়া ফেল্পেসর গতিও যেন কোথায় আটকে গেছে! পরশু রোমে বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে ২০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে নিজের মুকুটটা তো হাতছাড়া হলোই, হাতছাড়া হলো বিশ্ব রেকর্ডও।
গত পরশু জার্মানির পল বাইডারমান এই ইভেন্টে হারিয়ে দিয়েছেন ফেল্প্সকে। ১ মিনিট ৪২ সেকেন্ড সময় করে বিশ্ব রেকর্ডও গড়ে ফেলেছেন ২২ বছর বয়সী জার্মান। রুপা জিতে সন্তুষ্ট থাকা ফেল্প্স সময় নেন ১ মিনিট ৪৩.২২ সেকেন্ড। ২০০৫ সালের পর এই প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ বা অলিম্পিকের মতো বড় আসরে পরাজয়ের স্বাদ পেলেন ফেল্প্স। তবে এমন পারফরম্যান্সেও ফেল্প্স মুষড়ে পড়েননি, ‘আপনি যদি খুব ভালোভাবে খেয়াল করেন, দেখবেন সময়টা মন্দ না। ২০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে এটা আমার দ্বিতীয় দ্রততম টাইমিং। সবচেয়ে দ্রুত সাঁতরেছিলাম গত অলিম্পিকে। আমি ছয় মাস পর সাঁতারে ফিরেছি। সব মিলিয়ে এতে আমি সন্তুষ্টই।’
ফেল্প্স রেকর্ড না গড়তে পারলেও থেমে নেই রেকর্ডের উত্সব। যুক্তরাষ্ট্রের আরেক সাঁতারু ম্যারি ডেসকেনজা রেকর্ড গড়েছেন মেয়েদের ২০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে। ২ মিনিট ৪.১৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে নতুন এই রেকর্ড গড়েছেন তিনি। আগের রেকর্ডটি ছিল চীনের লিউ জিগের (২: ৪.১৮ সেকেন্ড)। ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে মেয়েদের নতুন বিশ্ব রেকর্ডটি জেমা স্পোফোর্থের। ৫৮.১২ সেকেন্ড সময় নেন ব্রিটেনের এই সাঁতারু। সোমবার সেমিফাইনালে রেকর্ড গড়া রাশিয়ার আনাস্তাসিয়া জুয়েভা (৫৮.৪৮ সেকেন্ড) জিতেছেন রুপা।

পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গী বাংলাদেশ by রাজীব হাসান

জিততে হলে ২৭৫ রানের পাহাড় ডিঙাতে হবে, ভাঙতে হবে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার নিজেদের রেকর্ড—এসব নিরেট হিসাব-নিকাশ তো ছিলই; পরশু ম্যাচে বাংলাদেশের না জেতার পূর্বাভাস দিচ্ছিল এই পরিসংখ্যানটাও: এর আগে ৯ দলের সাতটিই যে নিজেদের ২০০তম ম্যাচটা জিততে পারেনি!
অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ বলুন; দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, নিউজিল্যান্ড কিংবা জিম্বাবুয়ে—এই সাত দলই নিজেদের ২০০তম ম্যাচটা বিস্মরণযোগ্য করে দিয়েছে পরাজয় দিয়ে। বেশ। সেই পরিসংখ্যানই আবার কী বলছে দেখুন: বাংলাদেশের আগ পর্যন্ত মাত্র দুটো দল ২০০তম ম্যাচটায় জিতেছে। পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কা। কী কাকতালীয় ব্যাপার, ওই দুটি জয়ই এসেছে একই দলের বিপক্ষে—ওয়েস্ট ইন্ডিজ!
১৯৯০ সালের নভেম্বরে লাহোরে পাকিস্তান ২০০তম ম্যাচটা উদ্যাপন করেছিল ৫ উইকেটের জয়ে। ৫ বছর পর অক্টোবরে শারজায় শ্রীলঙ্কার জয় ৫০ রানের। সিঙ্গার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ওই টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় রোশান মহানামা পরশু ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে থেকে কাছ থেকে দেখলেন, কীভাবে ডমিনিকার উইন্ডসর পার্কে পুনরাবৃত্তি হলো ইতিহাসের। শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানেরই উপমহাদেশীয় প্রতিবেশী বাংলাদেশ সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই হারাল ৩ উইকেটে। এই তথ্য জানা থাকলে এর পর ২০০তম ম্যাচ খেলার অপেক্ষায় থাকা কেনিয়া (অপেক্ষাটা অবশ্য দীর্ঘই হবে, ১১৮ ম্যাচ খেলেছে তারা) নির্ঘাত তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই আমন্ত্রণ জানাবে প্রতিপক্ষ হিসেবে!
কেনিয়ার এখনো ২০০ ম্যাচ খেলা হয়নি, কেবল ১০টি টেস্ট খেলুড়ে দেশই এই মাইলফলক পেরিয়েছে। জয়ের দিক দিয়ে এখনো সবার চেয়ে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজই। প্রথম ২০০ ম্যাচের ১৪৩টিই জিতেছিল তারা, যা তাদের স্বর্ণযুগেরও সাক্ষী। দীর্ঘ নির্বাসন থেকে ফিরে আসা দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডে খেলাই শুরু করেছে বাংলাদেশেরও ৫ বছর পর। ২০০ ম্যাচের মাইলফলক অবশ্য তারা পেরিয়ে গেছে সেই কবে। প্রথম ২০০ ম্যাচে জয়ের হিসাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরেই আছে তারা। দাপুটে অস্ট্রেলিয়া ৫ নম্বরে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৭৪ রানের বড় স্কোরের পরেও বাংলাদেশ যে ২০০তম ম্যাচটা জিতবে, সেটা কিন্তু পরিসংখ্যান থেকেই আঁচ করা যাচ্ছিল। বাংলাদেশ শততম ম্যাচটা জিতেছিল। প্রতিপক্ষ ছিল ভারত, ২০০৪ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। জিতেছিল ১৫০তম ম্যাচটাও। এবারও প্রতিপক্ষ ভারত, ২০০৭ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে। সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজেই এবার ২০০তম জয়ের কীর্তি।
বাংলাদেশের সবচেয়ে সুফলা সময় কেটেছে ১০১ থেকে ১৫০তম ম্যাচের মধ্যে। এই সময় ২৮টি ম্যাচেই জিতেছিল বাংলাদেশ! ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে জয় ১২টি। হোক না একটু কম। এ তো কেবল শুরু! পরিসংখ্যান আসলেই সত্যটা বোঝাতে পারে না!

Thursday, July 30, 2009

স্পিনারদের অন্য স্বাদও দিলেন ডাওলিন উত্পল শুভ্র ডমিনিকা থেকে

ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাহলে স্পিন খেলতে শিখে গেল!
টনি কোজিয়ার চারতলায় টিভি কমেন্ট্রি শেষ করেই তিনতলার প্রেসবক্সে এসে ল্যাপটপ নিয়ে বসেন। ৫ ওভারেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার ৩৩ রান তুলে ফেলার পর তিনিই বললেন, ‘স্পিন এলেই তো সব শেষ!’ পরের ওভারেই এল স্পিন এবং সাকিব আল হাসানের প্রথম বলেই উইকেট। যাক, এই সিরিজ পূর্বনির্ধারিত পাণ্ডুলিপিই অনুসরণ করে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত যা একদমই অনুসরণ করল না।
এই সিরিজে বাংলাদেশ দল মনে করিয়ে দিচ্ছিল সত্তর দশকের ভারতের কথা। দলে বিখ্যাত ওই স্পিনার চতুষ্টয় এবং পেস বোলাররা শুধুই পাঁচ-ছয় ওভার বোলিং করতে হয় বলে করে দর্শক হয়ে যেত স্পিনারদের বোলিংয়ের। একবার তো টেস্টে সুনীল গাভাস্কারকে দিয়ে পর্যন্ত বোলিং উদ্বোধন করানো হয়েছিল!
বাংলাদেশও এই সিরিজে পেসারদের ঝামেলা মনে করে আসছিল। মাশরাফি বিন মুর্তজার বিদায়ের পর তো আরও বেশি। পেসারদের ওপর আস্থাহীনতা একটা কারণ। তার চেয়েও বড় কারণ, স্পিনের ওপর আস্থা। আর সবচেয়ে বড় কারণ, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যানদের স্পিনকে আশ্চর্য রকম জুজু মনে করা।
ইন্টারনেটের এই যুগেও কোজিয়ারের হাতে সব সময় একটা মোটা খাতা। ইন্টারনেট থেকেই বের করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাম্প্রতিক সব স্কোরকার্ড, রেকর্ড...সব ওই খাতায় আঠা দিয়ে লাগানো। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরা কি ঘরোয়া ক্রিকেটে স্পিন খেলে না নাকি—জিজ্ঞেস করতেই ওই খাতাটা খুললেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের গত ঘরোয়া মৌসুমের রেকর্ডে গিয়ে দেখালেন, সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া দশ বোলারের আটজনই স্পিনার! ‘এদের বেশির ভাগই কোনো জাতের স্পিনার নয়। ওরাই এত উইকেট পেয়েছে আর বাংলাদেশের স্পিনাররা তো অনেক ভালো’—ওয়েস্ট ইন্ডিজের মূল দলেও শিবনারায়ন চন্দরপল আর রামনরেশ সারওয়ান ছাড়া বাকিদের কেউ স্পিনে খুব স্বচ্ছন্দ নন বলে মন্তব্য কোজিয়ারের।
চন্দরপল-সারওয়ান গায়ানার ব্যাটসম্যান এবং কাল গায়ানারই আরেক ব্যাটসম্যান এই সিরিজে বাংলাদেশের স্পিন-গর্বে বড় একটা থাপ্পড় বসালেন। ট্রাভিস ডাওলিন গ্রেনেডায় ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র ৫ রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি, কাল দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ভুললেন সেই দুঃখ। অন্যরাও ভালোই সংগত করেছেন, তবে তাঁর অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংসটিই আসলে বাংলাদেশের কাছে সহজ মনে থাকা সিরিজটাকে হঠাত্ই খুব কঠিন বানিয়ে দিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৫০ ওভার যখন শেষ, দেখা গেল জিততে হলে নিজেদের রেকর্ড ভাঙতে হবে বাংলাদেশকে। ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৫০-ই পরে ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে বেশি রান করে জয়ের রেকর্ড হয়ে ছিল এত দিন, এখানে লক্ষ্য দাঁড়িয়ে গেল ২৭৫।
প্রশ্ন অবশ্য উঠবেই—ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরা হঠাত্ স্পিন খেলতে শিখে গেল, নাকি বাংলাদেশের স্পিনারদের জন্যই অবশেষে এল একটা বাজে দিন? ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৭৪ বোধহয় দুটি মিলেই। পুরো সিরিজেই বলতে গেলে সেভাবে পাল্টা আক্রমণের মুখে না পড়ে নিশ্চিন্তে নিজেদের বোলিং করে গেছেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। কাল পাল্টা আক্রমণ হলো এবং তাতেই এলোমেলো হয়ে গেল সব। সাকিবের অধিনায়কত্বও এই প্রথম বড় চাপের মুখে এবং কিছুটা এলোমেলো তিনিও হলেন। নইলে বাংলাদেশের স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে মিতব্যয়ী (৮ ওভারে ২৬ রান) নাঈম ইসলামের দুটি ওভার অব্যবহূত থেকে যাবে কেন?
তাঁর নিজের চার ওভারের প্রথম স্পেলে মাত্র ১১ রান দিয়ে ১ উইকেট। শেষ ৪ ওভারে দিলেন ৩১ রান, শেষ ২ ওভারে ১৮। তার পরও নাঈমের পর তিনিই বাংলাদেশের সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলার। পেসার দুজন দিয়েছেন ওভারে সাড়ে সাতেরও বেশি।
কালকের ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসটা ওরা যেমন চেয়েছিল, ঠিক যেন তা-ই। পার্টনারশিপ হলো, শেষ ১০ ওভার শুরু হলো হাতে ৬ উইকেট নিয়ে। তখনই এল ব্যাটিং পাওয়ার প্লে। ফলাফল—শেষ ১০ ওভারে ৯৮ রান। এখানেও বড় ভূমিকা ডাওলিনের ব্যাটের। হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ৮৮ বলে, মাত্র ২৯ বলে এল দ্বিতীয় ৫০।
৩২ বছরের গায়ানিজ খুব হাসিখুশি প্রাণবন্ত মানুষ। গত পরশু সন্ধ্যায় দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ না জিতলে তো সিরিজ শেষ—বাংলাদেশি সাংবাদিকের মুখে কথাটা শুনে হাত মুঠো করে চমকে দিয়ে বললেন, ‘ইনশাল্লাহ!’ গায়ানায় পাকিস্তানি বন্ধুবান্ধব আছে, তাদের কাছ থেকে শিখেছেন। ক্রিস গেইলরা ধর্মঘটে যাওয়াতেই সুযোগ মিলেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার। টেস্টের পর ওয়ানডেতেও এই পারফরম্যান্সে গেইলরা ফিরলেও তাঁকে বাদ দেওয়াটা কঠিনই হবে। নিজে অবশ্য প্রসঙ্গটা উঠলেই হাসেন, ‘আমি তো টেস্ট-ওয়ানডের আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। খেলেছি তো! এখন যা হওয়ার হবে।’
গেইলদের ফেরা না-ফেরা অবশ্য এখনো গভীর রহস্যে ঢাকা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ডের লোকজন তরুণ খেলোয়াড়দের ক্রিকেটে আকর্ষিত করার নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে খেললে টাকা-পয়সা কেমন পাওয়া যায়—কৌশলে সেটি জানিয়ে দিচ্ছেন। সেই সূত্রেই জানা যাচ্ছে, ক্রিস গেইল গত বছর পেয়েছেন ১১ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় সাড়ে সাত কোটিরও বেশি)। এ বছর এর চেয়ে বেশিই পেতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জনমত তাই ক্রমশই গেইলদের বিপক্ষে চলে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ উপলক্ষে ডমিনিকায় জাতীয় ছুটির দিনে গ্যালারিতে তাই প্লাকার্ড—গেইল অ্যান্ড কোম্পানি বড় বেশি লোভী!
ম্যাচ জিতুক-হারুক, ওয়েস্ট ইন্ডিজের নতুন দলের এই উজ্জীবিত ব্যাটিং পারফরম্যান্স না গেইলদের আরও কোণঠাসা করে দেয়। এটা ওদের ব্যাপার, ওরা বুঝুক। দ্বিতীয় ওয়ানডের লাঞ্চ বিরতিতে যখন এই লেখা লিখছি—তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের ভবিষ্যত্ নিয়ে ভাবার মতো অবস্থা নয়। ইতিহাস গড়ার সফরে বাংলাদেশ নিজেদের ইতিহাস নতুন করে লিখে সিরিজ জিততে পারবে কি না—এই প্রশ্নের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে আর সব।

ইতোকে ছাড়িয়ে যেতে চান ইব্রাহিমোভিচ

বার্সেলোনাকে কী দিয়েছেন স্যামুয়েল ইতো? আর কী দিতে পারবেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ? ইতোর ইন্টার মিলানে যাওয়া এবং ইন্টার মিলান থেকে ইব্রাহিমোভিচের বার্সেলোনায় নাম লেখানোর পর থেকেই ন্যু ক্যাম্পে আলোচনার ঝড় এ নিয়ে। আলোচনাটা ন্যু ক্যাম্পের সীমানা পেরিয়ে এখন পুরো ফুটবল বিশ্বেই।
তিনটি লিগ শিরোপা, দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা এবং একটি কোপা ডেল রে। এর মধ্যে সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে বার্সা যে ইতিহাস গড়া ট্রেবল জিতল তাতেও অন্যতম ভূমিকা ছিল ইতোর। বার্সেলোনার জার্সি গায়ে স্প্যানিশ লিগে ১০৮ গোলের ২৫টিই এ মৌসুমে। বার্সা সমর্থকদের মন থেকে ইতোর স্মৃতি ভুলিয়ে দেওয়া সহজ নয়। ইব্রাহিমোভিচ খুব ভালো করেই এটা জানেন। পরশু বার্সার সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তিতে সই করার পরই বললেন, ‘ইতো বার্সেলোনার ফুটবল ইতিহাসের অংশ। সে এখানে সব সময়ই নায়ক হয়ে থাকবে। আমি ইতোর বিকল্প হিসেবে আসিনি।’
বার্সা কিন্তু তাঁকে ইতোর বিকল্প হিসেবেই ভাবছে। ৯ নম্বর জার্সিটিও তুলে দেওয়া হয়েছে ইব্রাহিমোভিচকে। চুক্তি বিশ্লেষণ করলে তাঁর তো ইতোর চেয়েও বেশি কিছু দেওয়ার কথা। তাঁকে পেতে বার্সেলোনা ৬৬ মিলিয়ন ইউরোর নগদ অর্থের পাশাপাশি ইন্টার মিলানকে দিয়েছে ইতো আর আলেক্সান্ডার হ্লেবকে। বার্সা সমর্থকেরা তাঁর কাছ থেকে ইতোর চেয়ে বেশি তো চাইবেই। ইব্রাহিমোভিচও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, ‘আমি ইতোর মতো নই, ভিন্ন একজন। কিন্তু ইতো যা অর্জন করেছে, আমিও তা-ই করতে চাইব। হয়তো তার চেয়ে বেশিও পেতে পারি।’
কী দিতে পারেন এই সুইড স্ট্রাইকার? পরিসংখ্যান কী বলে? ২০০৬-০৭ মৌসুমে ইন্টার মিলানে যোগ দিয়েছিলেন। প্রথম মৌসুমে সিরি ‘আ’তে ১৫ গোল। পরের মৌসুমে ১৭। আর গত মৌসুমে করেছেন ২৫ গোল। লিগ পাল্টেছে ঠিক, কিন্তু উন্নতির এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করেন তিনি, “প্রতিবছরই উন্নতি করতে চাই। গত বছর সিরি ‘আ’তে ২৫ গোল করেছি। সিরি ‘আ’র সেরা গোলদাতাও হয়েছি। এবার এর চেয়ে বেশি কিছুই করতে চাই।”
ইব্রাহিমোভিচের যেমন ইতোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য, ইতোরও তেমনি ইব্রাহিমোভিচকে ছাড়িয়ে ইন্টার মিলানের ইতিহাসে তাঁর নাম লিখিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়, ‘আমার কাছে চাওয়ার পুরোটাই দিতে চাই আমি ইন্টারকে।’

রেকর্ডের সঙ্গে চলছে পোশাক-বিতর্ক

দুই দিনে রেকর্ড হয়েছে ১১টি। তবুও রোম বিশ্ব সাঁতার প্রতিযোগিতার সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র কোনো সাঁতারু নয়, সাঁতারের পোশাক ‘সুপার স্যুট’! আধুনিক প্রযুক্তির এই পোশাক সাঁতারুদের বাড়তি গতি দেয়। সাঁতারের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিনা এই পোশাকের বৈধতা দেওয়ার পর বিশ্ব রেকর্ড নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলায় মেতে উঠেছে প্রতিযোগীরা। অন্যদিকে ফিনার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনাও অব্যাহত আছে। বন্ধু ইয়ান থর্পের সাত বছর পুরোনো রেকর্ড জার্মানির পল বাইডারমান ভেঙে দেওয়ার পর কোরাসে যোগ দিয়েছেন অস্ট্রেলীয় ‘গ্রেট’ গ্রান্ট হ্যাকেট, ‘কথাটা বলতে আমার ভালো লাগছে না, কারণ এটা হয়তো খারাপ খেলোয়াড়ের মতো শোনাবে, কিন্তু এই পোশাক ছাড়া থর্পের রেকর্ড ভাঙত না।’ ফিনার নেতৃত্বের পদত্যাগ পর্যন্ত চেয়েছেন ৮০০ ও ১৫০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলের বিশ্ব রেকর্ডধারী হ্যাকেট। আগের পোশাকের রেকর্ডগুলোর মধ্যে কেবল হ্যাকেটের রেকর্ড দুটিই এখনো অক্ষত আছে।
পোশাকের সাহায্য নিয়েই অপ্রতিরোধ্য মাইকেল ফেল্প্সকে হারানোর পরিকল্পনা করছেন মিলোরাড কাভিচ। বেইজিং অলিম্পিকে ১০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে ফেল্পেসর কাছে সেকেন্ডের এক শ ভাগের এক ভাগ ব্যবধানে হারা এই সার্বিয়ান এবার ‘সুপার স্যুট’ পরে নামবেন, অন্যদিকে ফেল্প্স পরবেন অপেক্ষাকৃত ধীরগতির ‘স্পিডো স্যুট’। ইতিমধ্যে ৫০ মিটার ব্লাটারফ্লাইয়ে সোনা জিতে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস দিয়ে রেখেছেন কাভিচ।
ওদিকে রোমের পুলে রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা চলছেই। বদলি হিসেবে রোমে আসা আরিয়ানা কুকরস চমক দেখিয়েই চলছেন। মেয়েদের ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলের সেমিফাইনালে নিজের গড়া ২ মিনিট ০৭.০৩ সেকেন্ডের বিশ্ব রেকর্ড ফাইনালে আবার ভেঙেছেন এই আমেরিকান, এবার সময় নিয়েছেন ২ মিনিট ০৬.১৫ সেকেন্ড। ব্যক্তিগত সেরা টাইমিং করেও অলিম্পিক সোনাজয়ী অস্ট্রেলিয়ার স্টেফানি রাইস জিতেছেন রুপা। কুকরসের মতোই সেমিফাইনালে গড়া বিশ্ব রেকর্ড ফাইনালে নতুন করে গড়েছেন টিনএজ তারকা সারাহ সস্ট্রোম। সেমিফাইনালে নিজের ৫৬.৪৪ সেকেন্ডের রেকর্ডটিকে ফাইনালে ৫৬.০৬ সেকেন্ডে উন্নীত করেছেন ১৫ বছর বয়সী এই সুইডিশ। ছেলেদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে ৫৮.৫৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্রেন্টন রিকার্ড। বেইজিং অলিম্পিকে ৫৮.৯১ সেকেন্ডে আগের রেকর্ডটি করেছিলেন জাপানের কোসুকে কিতাজিমা।
সাফল্যের পাশে ব্যর্থতার গল্পও আছে। ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে ২০০৩, ২০০৫ ও ২০০৭ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং ২০০৪ ও ২০০৮ সালের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন অ্যারন পিরসল বাদ পড়েছেন সেমিফাইনালেই। তাঁর বাদ পড়ার পেছনে অবশ্য পারফরম্যান্সের চেয়ে খামখেয়ালিপনাই বেশি দায়ী। সেমিফাইনাল বলে একটু আয়েশি ভঙ্গিতে সাঁতরাচ্ছিলেন এই আমেরিকান, খেয়ালই করেননি এই সুযোগে তাঁকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন অনেকে। যখন বুঝতে পারলেন, তখন প্রাণপণ সাঁতরেও চতুর্থের বেশি হতে পারেননি এ মাসের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ট্রায়ালে বিশ্ব রেকর্ড গড়া পিরসল। এমন কাণ্ডে হতাশ তিনি নিজেই, ‘আমি বুঝতেই পারিনি পেছনে পড়ে গিয়েছি। টাইমিং দেখে অদ্ভুত লাগল, আমি বোধ হয় এতটা খারাপ না।’ পিরসল ব্যর্থ হলেও অবশ্য ২০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলের ফাইনালে উঠে গেছেন আরেক আমেরিকান মাইকেল ফেল্প্স।
দ্বিতীয় দিন শেষে ৭ সোনা, ৫ রুপা ও ৯ ব্রোঞ্জ নিয়ে শীর্ষে আছে চীন। সমান সোনার সঙ্গে ৪ রুপা ও ২ ব্রোঞ্জ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রাশিয়া। ৪ সোনা ও এক রুপা নিয়ে তৃতীয় স্থানে জার্মানি আছে। ওয়েবসাইট।

মেসির সমান বাকি দশ!

ছিয়াশির বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনাকে মনে আছে? কেউই মনে হয় অস্বীকার করবেন না, সেই দলের ডিয়েগো ম্যারাডোনা ছিলেন বাকি দশজনের সমান! ম্যারাডোনার হাত ধরেই বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। আর এখনকার আর্জেন্টিনা দল? কোচ ম্যারাডোনার কাছে অন্তত এটা লিওনেল মেসির দল, ‘আমি বলতে পারি, এই দলটি এ রকম—মেসি বাকি দশজনের সমান।’
মেসি সম্পর্কে একটা কথা ফুটবল বিশ্বে খুব প্রচলিত—তিনি যতটা না আর্জেন্টিনার, তার চেয়ে অনেক বেশি বার্সেলোনার। বার্সেলোনাকে গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়েছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। বার্সেলোনার জার্সি গায়ে ১৬১ ম্যাচে করেছেন ৮০ গোল, সতীর্থদের দিয়েও করিয়েছেন ৩৮ গোল। অথচ আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা ৩৮ ম্যাচে মাত্র ১২ গোল তাঁর। নেই আহামরি কোনো পারফরম্যান্সও। এর পরও মেসিকে আর্জেন্টিনার বাকি দশ খেলোয়াড়ের সমান বলছেন ম্যারাডোনা! কারণ জীবনে অনেক প্রতিভাকে কাছ থেকে দেখা এই কিংবদন্তি মেসির মতো দেহ-মনে ফুটবলকে ধারণ করতে দেখেননি কাউকে, ‘ও বলটাকে তাঁর পায়েই নিয়ে নিয়েছে। অংশ করে নিয়েছে শরীরেরও। এমনটা আমি অন্য কোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে দেখিনি।’
মেসির প্রশংসা করতে গিয়ে একটা মজার ঘটনাও বললেন ম্যারাডোনা। মেসিকে কোনো কারণে ফোন করেছিলেন তিনি। কোচের ফোন ধরেননি মেসি, পরে ফোনও করেননি আর। কৌতুক করে ম্যারাডোনা বলেছেন, ‘ওকে তো পাওয়াই যায় না। লিওর (মেসি) চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে কথা বলা সহজ।’
তা হতে পারে। তবে বাছাইপর্ব উতরে ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনার জন্য একটু কঠিনই হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে চারটি দল সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপে। পঞ্চম দলটি খেলবে প্লে-অফ। বাছাইপর্ব শেষ হতে আরও চার রাউন্ড বাকি আছে। পয়েন্ট তালিকায় চার নম্বরে থাকা আর্জেন্টিনাকে খেলতে হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, পেরু ও উরুগুয়ের বিপক্ষে।
ম্যারডোনা ব্রাজিলের ম্যাচটি নিয়ে চিন্তায় থাকলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন, আর্জেন্টিনাও ছোট দল নয়, ‘ব্রাজিল ভালো খেলে। প্রতিভা আর ভাগ্য দুটোই আছে তাদের। তবে একটা বিষয় ভুললে চলবে না—আমরা আর্জেন্টিনা!’ ওয়েবসাইট।

হাজার বছর ধরে পথে পথে তারা

‘রোমা’ শব্দের অর্থ যাযাবরশ্রেণীর মানুষ। হাজার বছরের ব্যবধানে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে তারা। তাদের কোনো দেশ নেই। ইতিহাসবিদেরা একমত যে, রোমাদের আদি বাস ছিল ভারতের উত্তরাঞ্চলে। তৃতীয় থেকে সপ্তম শতকে কয়েক দফায় তারা স্বদেশ ছেড়ে যায়। তাদের ভবঘুরে হয়ে ওঠার পেছনে ছিল বহু কারণ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: দাঙ্গা, অস্থিতিশীলতা আর অপেক্ষাকৃত উন্নত জীবনযাপনের হাতছানি। অষ্টম শতক, পরে দশম থেকে ত্রয়োদশ শতকে উত্তর ভারতে মুসলমানদের আক্রমণের মুখে তারা দলে দলে ঘর ছাড়ে। তারা প্রথমে যায় তেহরান, সেখান থেকে বাগদাদ। পরে কনস্টান্টিনোপল (বর্তমানে তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুল) হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে।
বর্তমানে এক কোটি ইউরোপীয় রোমার মধ্যে অন্তত ৬০ লাখের বাস মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে। রোমানিয়ায় বাস করে অন্তত ২০ লাখ । তাদের নামেই দেশটির নাম। তবে তারা আধুনিক সমাজের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত; প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বলতে নেই। তারা হতদরিদ্র, বৈদ্যুতিক আলো থেকে দূরে। নেই স্থায়ী ঘরবাড়ি, নেই পানির সরবরাহ। তারা গান গেয়ে, লোক-মনোরঞ্জন করে যা আয় করে তা-ই দিয়ে কোনোরকমে জীবিকা নির্বাহ করে।
রোমা যাযাবরদের পেশা বরাবরই বিচিত্র। অতীতে তাদের কেউ ছিল কৃষক, কেউ বা রাখাল; আবার কেউ ছিল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ভাড়াটে কর্মী, সৈনিক বা হিসাবরক্ষক। অন্যরা গানওয়ালা ও বিনোদনকর্মী। তারা ভাগ্য গণনা করে থাকে, নদীতে ডুবুরির মতো খুঁজে বেড়ায় সোনা। বেহালা বাজিয়ে নেচে-গেয়ে, লোক-মনোরঞ্জন করে পাওয়া সামান্য বকশিশ দিয়ে খেয়ে না খেয়ে হাজার বছর ধরে বেঁচে আছে তারা। তার পরও তারা ধরে রেখেছে তাদের ঐতিহ্য। হাজার বছরের নিপীড়ন-বঞ্চনা সত্ত্বেও হারিয়ে ফেলেনি তাদের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য। অবাক হওয়ার কথাই বটে, তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলে সংস্কৃতঘেঁষা ভাষায়। পরে হিন্দি, পাঞ্জাবিসহ নানা দেশের নানা ভাষার মিশেলে তৈরি হয়েছে তাদের নিজস্ব ভাষা।
মধ্যপ্রাচ্যে এই যাযাবরদের ডাকা হতো ‘ডোম’ বলে। ডোম মানে মানুষ। ভারতে ডোম হলো অচ্ছুতশ্রেণীর মানুষ। তারা মড়া পোড়ানোর কাজ করে। ইউরোপে ঢোকার পর ডোমের ‘ডি’র জায়গা দখল করে ‘আর’। ডোম হয়ে যায় রোম। ইউরোপের আজকের রোমা হলো ‘রোম’-এর বহুবচন। রোমা যাযাবরেরা চতুর্দশ শতকের দিকে পৌঁছে যায় বুলগেরিয়া, সাইবেরিয়া, গ্রিস ও রোমানিয়ায়।
রোমানিয়ায় তাদের দাসে পরিণত করা হয়। পরের শতকে তারা যায় ইউক্রেন ও রাশিয়ায়। এখানে এসে তারা নিজেদের তীর্থযাত্রী হিসেবে তুলে ধরে। রাশিয়া কিছুটা সহনশীলতার পরিচয় দেয়। কিন্তু তারা বিপদে পড়ে জার্মানিতে। ১৯৩৩ সালে নািসরা ক্ষমতায় এলে এসব মানুষের ওপর নেমে আসে চরম অত্যাচার। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় যে, রোমা যাযাবরেরা মুসলমানদের গুপ্তচর। বলা হয়, তাদের আচার-আচরণ খ্রিষ্টানসুলভ নয়। একসময় যে মুসলমানদের ভয়ে স্বদেশ ছেড়ে পথে বেরিয়েছিল রোমা যাযাবরেরা, এবার সেই মুসলমানদের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তুলে তাদের দেওয়া হতে থাকে শাস্তি। তারা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ—এ রকম অভিযোগ তুলে জার্মানিতে বসবাসকারী রোমা যাযাবরদের ধরে ধরে বন্দিশিবিরে নেওয়া হতে থাকে। হরণ করা হতে থাকে তাদের সব ধরনের অধিকার ।
জার্মানি ১৯৩৮ সালের ১২ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত সময়কে যাযাবরমুক্ত সপ্তাহ হিসেবে ঘোষণা করে। শুরু হয় রোমা নিধনযজ্ঞ। ১৯৪০ সালের জানুয়ারিতে গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহারের পর হত্যা করা হয় ২৫০ রোমানি শিশুকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কত রোমাকে হত্যা করা হয়েছিল এর সঠিক পরিসংখ্যান আজও জানা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ‘হলোকাস্ট মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৫ সাল নাগাদ ইউরোপে পাঁচ থেকে ১৫ লাখ রোমাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু তাদের কথা কেউ স্মরণে রাখেনি। ভাগ্য বদল হয়নি যাযাবর রোমা জনগোষ্ঠীর। বিবিসি অবলম্বনে মিজান মল্লিক।

পদত্যাগ করার ঘোষণা কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। রাজ্যের বিধানসভার একজন সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ আনলে গতকাল মঙ্গলবার তিনি ওই ঘোষণা দেন। বিধানসভার ওই সদস্য তিন বছর আগের একটি যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনায় আবদুল্লাহর জড়িত থাকার অভিযোগ আনেন।
কাশ্মীরের বিধানসভার বিরোধীদলীয় সদস্য মুজাফফর বেগের ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওমর আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দেব। এই অভিযোগ শোনার পর আর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারব না আমি। তাই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে আবদুল্লাহ বলেন, ‘নির্দোষ সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আমি শান্তি পাব না।’ তবে ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা তাঁর এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

উত্তর নাইজেরিয়ায় নিরাপত্তা জোরদার

নাইজেরিয়া সরকার দেশের উত্তরাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। গত দুই দিনের সহিংস বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই সহিংসতায় নিহত মানুষের সংখ্যা ১০০ জনের বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ ইয়োবে, কানো ও বোর্নোতে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত সান্ধ্য আইন জারি করা হয়েছে। সেনারা সড়কে পাহারা বসিয়েছেন।
এর আগে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জঙ্গিরা স্থানীয় থানা ও সরকারি দপ্তরে হামলা চালিয়েছে। তারা বন্দুক ও ধারাল অস্ত্র নিয়ে সাধারণ নাগরিক ও পুলিশ সদস্যদের হত্যা করেছে।
রাজধানী লাগোস থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানান, সহিংসতা দমনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নাইজেরিয়ার পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে।
সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বোর্নো প্রদেশের মাইদুগুরি শহরে। বিবিসির একজন সাংবাদিক জানান, স্থানীয় থানার সামনে নাগরিক ও জঙ্গিদের মৃতদেহ স্তূপ হয়ে ছিল। তিনি দেখেছেন, মৃহদেহের সংখ্যা ১০০টির বেশি। পুলিশ ধারণা করছে, হামলাকারী জঙ্গিদের একটি অংশ মাইদুগুরির ধর্মীয় নেতা মোহাম্মেদ ইউসুফের অনুসারী, যারা ‘বোকো হারাম’ নামে পরিচিত। এই মোহাম্মেদ ইউসুফের ফতোয়া হচ্ছে, ‘পশ্চিমা শিক্ষা ইসলামি শিক্ষার বিরোধী।’ নাইজেরিয়ার পুলিশ তাঁকে খুঁজছে। গত সোমবার রাতেও ওই শহরে গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে।
মাইদুগুরি ছাড়াও ইয়োবে প্রদেশের পোতিসকুম শহরের থানা ও আশপাশের ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর নাইজেরিয়ার বৃহত্তম শহর কানো থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উদিল এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার খবর পাওয়া গেছে।
কয়েকজন নেতার গ্রেপ্তার হওয়ার খবরে বোকো হারামের সদস্যরা গত রোববার থানায় হামলা শুরু করে। নাইজেরিয়ার মুসলিম জঙ্গিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা ও তালেবান জঙ্গিদের যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

চীন-মার্কিন সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার আহ্বান ওবামার

আর কোনো অবিশ্বাস বা দ্বন্দ্ব নয়, এসব দূর করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোয় পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।
গত সোমবার ওয়াশিংটনে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী চীন-মার্কিন কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সংলাপের উদ্বোধনী ভাষণে ওবামা এই আহ্বান জানান। বেইজিং থেকে আসা চীনা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সংলাপে অংশ নেন। খবর এএফপির।
সংলাপে বারাক ওবামা ছাড়াও অংশ নেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ও অর্থমন্ত্রী টিমথি গেইথনার। চীনের পক্ষে অংশ নেন উপপ্রধানমন্ত্রী ওয়াং কিশান ও স্টেট কাউন্সিলর ডাই বিঙ্গু।
সংলাপ শুরু হওয়ার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক নির্ধারণ করবে ২১ শতক কেমন যাবে। এ সম্পর্ক যেকোনো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের চেয়ে শক্তিশালী হবে। এ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করেই আমরা এগিয়ে যাব।’ তবে চীনে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করতে ছাড়েননি ওবামা। তিনি চীনকে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রক্ষা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
ওবামা বলেন, ‘আমেরিকানরা চীনের প্রাচীন সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা করে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সব ধর্ম ও সংস্কৃতির লোককে শ্রদ্ধা করতে হবে এবং সবাইকে কথা বলার অধিকার দিতে হবে।’
ওয়াং কিশান বলেন, চীনের অর্থনীতি মার্কিন মন্দা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করতে পারে। তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠলে এ সম্পর্ক নিশ্চিতভাবে এগিয়ে যাবে।
প্রথম দিনের সংলাপে জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। এ ছাড়া পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ, উত্তর কোরিয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। গতকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

অনির্ধারিত সফরে ইরাকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস গতকাল মঙ্গলবার আকস্মিক সফরে ইরাক গেছেন। ইরাকের শিয়া, সুন্নি ও কুর্দি সম্প্রদায়ের প্রতি অন্তর্দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেলার আহ্বান জানাতে তিনি সেখানে গেছেন বলে জানা গেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি রবার্ট গেটসের একটি অনির্ধারিত সফর। দক্ষিণ বাগদাদের তাল্লিলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির একজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ‘মার্কিন সেনারা ইরাক ছেড়ে যাওয়ার আগেই নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্বগুলো মিটিয়ে ফেলার জন্য শিয়া, সুন্নি ও কুর্দি সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। রবার্ট গেটস গত সোমবার জর্ডান ও ইসরায়েল সফর করেন।
ইরাকে দুই দিনের সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নূরি-আল-মালিকি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সংস্থাপনমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন রবার্ট গেটস। ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল কুর্দিস্তানও সফরের কথা রয়েছে তাঁর। অঘোষিত এই ইরাক সফরের সময় সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা কীভাবে তাঁদের নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন, সেটিও পরিদর্শন করবেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
বড় শহরগুলো থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার পর সেখানে থাকা মার্কিন সেনারা এখন ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মিলে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শদানসংক্রান্ত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন। নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে অস্ত্র ও প্রযুক্তি সাহায্য দেওয়ার ব্যাপারেও ইরাকি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন গেটস। আলোচনায় ইরাককে এফ-১৬ জঙ্গি বিমান দেওয়ার বিষয়টিও আনা হবে বলে জানিয়েছেন ওই মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা। তিনি জানান, ইরাক একটি আধুনিক বিমানবাহিনী গড়ে তুলতে চায়।

ভারতের পারমাণবিক ডুবোজাহাজ নিরাপত্তার প্রতি হুমকি: পাকিস্তান

ভারতের নৌবাহিনীতে দেশে তৈরি পরমাণু শক্তিসম্পন্ন ডুবোজাহাজের অন্তর্ভূক্তিকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে পাকিস্তান। ‘কৌশলগত ভারসাম্য’ রক্ষার জন্য ‘যথাযথ পদক্ষেপ’ নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চৌধুরী আহমেদ মুখতার গতকাল মঙ্গলবার বলেন, পাকিস্তান সরকার এ ব্যাপারে পুরোপুরি সচেতন। এটা মোকাবিলার জন্য তাঁরা সব ক্ষেত্রে প্রস্তুত। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিভাগ পুরোপুরি তৈরি।
ভারতের পারমাণবিক ডুবোজাহাজের উদ্বোধন সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো যুদ্ধ চাই না। তবে কীভাবে নিজেদের রক্ষা করতে হয়, সেটা আমরা জানি।’
এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভারত যেভাবে নতুন প্রাণঘাতী অস্ত্রের অভিষেক অব্যাহত রেখেছে, সেটা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল বাসিত বলেন, নিজেদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেবে পাকিস্তান। তবে তাঁরা অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নামবেন না। পাকিস্তান বিশ্বাস করে, এই অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি।
পারমাণবিক ডুবোজাহাজের উদ্বোধনকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন পাকিস্তানের নৌবাহিনীর মুখপাত্র ক্যাপ্টেন আবিদ মাজেদ বাট। ডন নিউজ টেলিভিশনকে তিনি বলেন, এটা গোটা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তাকে বিপদগ্রস্ত করে তুলবে।
গত রোববার দেশে তৈরি পারমাণবিক ডুবোজাহাজ ‘আইএনএস অরিহন্ত’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। এই ডুবোজাহাজ থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া সম্ভব। এর উদ্বোধন করে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্য কারও প্রতি তাঁদের কোনো ধরনের আগ্রাসী অভিপ্রায় নেই।
ভারতসহ মাত্র ছয়টি দেশের কাছে দেশে তৈরি পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ রয়েছে। অন্য দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেন ও চীন।

Thursday, July 23, 2009

কলকাতায় লাখো মানুষের জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথায় কথায় আর বন্ধ্ নয়

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এই রাজ্য থেকে সিপিএমকে হটাতে না পারলে কোনো উন্নতি হবে না। শান্তি আসবে না। তাই ভবিষ্যতে সিপিএমকে হটানোর লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার শহীদ দিবস উপলক্ষে কলকাতার ধর্মতলা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস আয়োজিত লাখো মানুষের এক জনসভায় মমতা এ কথা বলেন। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই যুব কংগ্রেসের ডাকে মহাকরণ অভিযান করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কংগ্রেস কর্মী নিহত হন। সেই ১৩ শহীদের স্মরণে প্রতিবছর তৃণমূল কংগ্রেস পালন করে শহীদ দিবস।
এবার লোকসভা ও পৌরসভা নির্বাচনে ব্যাপক জয়ের পর তৃণমূলের এই জনসভায় লাখো মানুষ জমায়েত হয়। এতে করে গতকাল গোটা কলকাতা অচল হয়ে পড়ে। এ দিন জনসভা শুরুর সময় বৃষ্টি শুরু হলেও তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বৃষ্টি উপেক্ষা করেই জনসভায় উপস্থিত হন।
মমতা তাঁর ভাষণে বলেন, ‘এই রাজ্য থেকে উত্খাত করতে হবে সিপিএমের দুঃশাসনকে। আনতে হবে রাজনৈতিক পরিবর্তন। ৩৩ বছরে সিপিএম এ রাজ্যে কিছুই করতে পারেনি। এবার সময় এসেছে আমাদের কিছু করার। তাই আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের জন্য।’
মমতা বলেন, ‘রাজ্যজুড়ে সিপিএমের সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। সিপিএমের কাছে থাকা বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। আমরা অস্ত্রের বন্যা চাই না। আমরা চাই উন্নয়নের বন্যা।’
মমতা বলেন, ‘কথায় কথায় আর রাস্তা অবরোধ নয়, বন্ধ্ নয়। এটা করতে হলে দলের উচ্চমহলের অনুমতি নিতে হবে। আমরা চাই না মানুষ এই অবস্থান ধর্মঘটে আর ভোগান্তির শিকার হোক।’ তিনি এই রাজ্যে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সর্বত্র আন্দোলন গড়ে তোলারও আহ্বান জানান দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি।
এদিন মমতার জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী, চিত্রকর শুভাপ্রসন্ন, সাংসদ কবির সুমন, তাপস পাল, শতাব্দী রায়, সংগীতশিল্পী নচিকেতা, কংগ্রেসের নেতা কেশব রাওসহ তৃণমূলের ছয়জন মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়কেরা। এই সভায় মহাশ্বেতা দেবী বলেন, আগামী ২০১১ সালের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিপিএমের ৩২ বছরের অপশাসনের হাত থেকে রাজ্যকে মুক্ত করতে হলে মমতার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। সভায় কবির সুমন বলেন, সিপিএম ধ্বংস হয়ে গেছে। আগামী ২০১১ সালে সিপিএম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনিও ঘোষণা দেন, ভবিষ্যতে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিমানবন্দরে সাবেক রাষ্ট্রপতি কালামের দেহ তল্লাশি!

ব্যাপারটি দেখা হচ্ছে শিষ্টাচারবিধির পরিষ্কার লঙ্ঘন হিসেবে। ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২৪ এপ্রিল ভারতের নয়াদিল্লিতে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। মার্কিন বিমান সংস্থা কন্টিনেন্টাল এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সিও০৮৩তে করে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছিলেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম। সাধারণ নাগরিকের মতো তাঁর দেহ তল্লাশি করেন ওই এয়ারলাইন্সের কর্মচারীরা। বিমান সংস্থাটি মার্কিন কর্মকর্তার প্ররোচনায় এই তল্লাশি চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ড. কালামকে জোর করে বিমানবন্দরের এরোব্রিজে অপেক্ষা করতে বাধ্য করা হয়। তাঁকে নিরাপত্তা স্ক্যানারের ভেতর দিয়ে নেওয়া হবে কি হবে না, সেটা নিয়ে বিমান কোম্পানির নিরাপত্তাকর্মীদের নিজেদের মধ্যে বিতর্কও হয়েছে। দেহ তল্লাশির জন্য কালামকে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে যেতে বলা হয়েছিল। এমনকি নিরাপত্তা তল্লাশির সময় তাঁর জুতাও খুলে ফেলা হয়।
এই ঘটনায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে কনটিনেন্টাল এয়ারলাইন্স বলেছে, নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশির অংশ হিসেবে সবার দেহ তল্লাশি করা কোম্পানির নীতি। কোম্পানিটি আরও জানায়, ভিআইপি অথবা ভিভিআইপিদের জন্য তাদের আলাদা কোনো আইন নেই।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী প্রফুল প্যাটেল বলেছেন, এই ঘটনায় বিমান কোম্পানিটি ভুল করেছে বলে প্রমাণিত হলে তাদের দুঃখ প্রকাশ করতে বলা হবে।
গতকাল এই বিষয়টি ভারতের রাজ্যসভায় আলোচিত হয়। সব দলের সাংসদরা সাবেক রাষ্ট্রপতির প্রতি এ ধরনের আচরণের তীব্র নিন্দা এবং দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।

২০ কোটি টাকার সম্পত্তি পরিত্যক্ত দেখিয়ে ইজারার পাঁয়তারা! by মো. ইব্রাহিম খলিল

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার নোয়াগাঁও এলাকায় স্থাপিত বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) সরবরাহ কার্যালয় ও রেস্টহাউসসহ ব্যবহার উপযোগী প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পত্তি পরিত্যক্ত দেখিয়ে ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। বিউবোর অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঠিকাদার জাহাঙ্গীর সাত্তার ওরফে টিংকু এসব সম্পত্তি ইজারা নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিউবো চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্র জানায়, ১৯৫৬ সালে তত্কালীন সরকার নোয়াগাঁও এলাকায় ৫ দশমিক ৬৫ একর জমির ওপর বিদ্যুত্ সরবরাহ কার্যালয়, একটি রেস্টহাউস ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুটি আবাসিক ভবন নির্মাণ করে। জমিসহ স্থানীয়ভাবে এসব সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকারও বেশি।
বিউবো চট্টগ্রামের উপপরিচালক সুনীল কান্তি নাথ জানান, রাঙ্গুনিয়ায় বিদ্যুত্ সরবরাহ কার্যালয় ও রেস্টহাউসটি দুই দশক ধরে অব্যবহূত পড়ে আছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবন দুটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য বিউবো চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলী এসব সম্পত্তি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেন। এ লক্ষ্যে গত ৬ জুলাই তিন সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, রাঙ্গুনিয়ায় নির্মিত বিদ্যুত্ সরবরাহ কার্যালয়, রেস্টহাউস এখনো ব্যবহার উপযোগী। আবাসিক ভবন দুটি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে বরাদ্দ নিলেও ভাড়ায় থাকছে স্থানীয় কয়েকটি পরিবার। এ ছাড়া ৫ দশমিক ৬৫ একর জমির ওপর সেগুন, গামারি, গর্জনসহ নানা জাতের প্রায় দুই কোটি টাকা দামের শতাধিক গাছ রয়েছে। এসব জমির পাশে রয়েছে ঠিকাদার জাহাঙ্গীর সাত্তারের ৫০ শতক জমি। তিনি জমিসহ এসব সম্পত্তি ইজারা নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। গত ৬ জুলাই বিউবো (বিতরণ দক্ষিণাঞ্চল) চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে এসব সম্পত্তি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ইজারা দেওয়ার আদেশ জারি করা হয়।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-২ রাঙ্গুনিয়া কার্যালয় সূত্র জানায়, বিদ্যুত্ সরবরাহ কেন্দ্রটি থেকে কর্ণফুলী পাটকল, কর্ণফুলী ফুরাত কার্পেট কারখানাসহ পোমরা ও বেতাগী ইউনিয়নে বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হয়।
ইজারা কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মোত্তালিব জানান, বিউবো (বিতরণ দক্ষিণাঞ্চল) চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরের আদেশে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্য থেকে বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র সংগ্রহ করে সর্বোচ্চ দরদাতার অনুকূলে ইজারার আদেশ জারির ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশ পেশ করার জন্য কমিটির প্রতি নির্দেশ রয়েছে। সেই থেকে গত ১৮ জুলাই পর্যন্ত ১২ কর্মদিবস অতিবাহিত হলেও ঠিকাদার জাহাঙ্গীর সাত্তারের ইজারা আবেদন ছাড়া আর কোনো আবেদন জমা পড়েনি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খলিলুর রহমান চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিউবো কর্তৃপক্ষ ঠিকাদার টিংকুকে এসব সম্পত্তি গোপনে ইজারা দেওয়ার জন্য পত্রিকা বা স্থানীয়ভাবে কোনো বিজ্ঞপ্তি দেয়নি। ফলে জমি ইজারার ব্যাপারে স্থানীয় লোকজন অবগত নয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, টিংকু রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি নিয়ে ২০ কোটি টাকা মূল্যের জমি ইজারার নামে হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁকে এ কাজে সহায়তা করছেন বিএনপিদলীয় সাংসদ সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী।
ঠিকাদার জাহাঙ্গীর সাত্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিউবোর এসব স্থাপনার পাশে আমার জমি রয়েছে। সে হিসেবে ইজারার আবেদন করেছি।’ জমি ইজারা নেওয়ার বিষয়ে বিউবোর কর্মকর্তাদের ইন্ধনের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বিউবো (বিতরণ দক্ষিণাঞ্চল) চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) আবদুল কাইয়ুম পাঠান জানান, স্থানীয় দরপত্র সংগ্রহের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে এসব সম্পত্তি ইজারা দেওয়া হবে। একতরফাভাবে কারও নামে ইজারা দেওয়ার সুযোগ নেই।

দেশের আর একজনও যেন মাদকাসক্ত না হয়

অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই দেশ। এ দেশে যেন আর একজনও মাদকাসক্ত না হয়। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’ গতকাল মঙ্গলবার ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের (ইউল্যাব) মিলনায়তনে বাংলালিংক-প্রথম আলো মাদকবিরোধী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রফিকুল ইসলাম এ কথা বলেন।
বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হয় আলোচনা সভা। এতে প্রথম আলোর উপসম্পাদক আনিসুল হক বলেন, ‘সবাই মিলে চেষ্টা করলে আমরা দেশকে মাদকমুক্ত করতে পারব। ২০ বছর পর বাংলাদেশ হবে একটি আলোকিত দেশ।’
প্রথম আলো বন্ধুসভার পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক সাইদুজ্জামান রওশন বলেন, ‘প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদকমুক্ত করতে চাই। এ লক্ষ্যেই আমাদের এই কার্যক্রম।’
মনোচিকিত্সক ও লেখক মোহিত কামাল বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ এরপর তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান মোহিতুল আলম বলেন, মাদককে ‘না’ বলার মনোবল বাড়াতে হবে। শিক্ষার একটা বড় ভূমিকা মাদক নিরাময় করা।
শিল্পী মাহমুদুজ্জামান বাবু বলেন, ‘শাসকেরা চান তরুণসমাজ মাদক সেবন করুক। তাহলে তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে না। আমাদের এই দাসত্বের জীবন থেকে মুক্তি লাভ করতে হবে। রুখে দাঁড়াতে হবে মাদকের বিরুদ্ধে।’ শুরুতে বন্ধুসভার আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মুজাহিদ বক্তব্য দেন।
আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি, নাচ, গান পরিবেশিত হয়। এতে অংশ নেন ক্লোজ আপ শিল্পী আবিদ শাহরিয়ার, পুলব, রণক, শোভন, চার্লস ডি কস্তা, শুভ্রা, জান্নাতি কাশফা, অন্তু, ঈশিতা, তুহিন, মুনিরাসহ অনেকে। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ফারহানা শাহরিন ও সাইদুজ্জামান রওশন।

প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যবিশ্বের সামনে সুন্দরবন by পল্লব মোহাইমেন

মানুষের ভালোবাসার ভোট শুধু নয়, এবারে বিচারকদের রায়ও পেল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন। ভোটের জোরে আগে শীর্ষ ৭৭-এর তালিকায় ছিলই, এবার বিশেষজ্ঞদের বিচারে এগিয়ে গিয়ে বিশ্বের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হলো সুন্দরবন।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটা সাত মিনিটে এ নির্বাচনের আয়োজক নিউ সেভেন ওয়ান্ডার্স ফাউন্ডেশন সুইজারল্যান্ডে চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ ২৮টি স্থানের নাম ঘোষণা করে। ফাউন্ডেশনের যোগাযোগ বিভাগের প্রধান টিয়া বি ভিয়েরিং স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সুন্দরবনকে ‘অফিশিয়াল ফাইনালিস্ট ক্যান্ডিডেট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুন্দরবন প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে। ভোটে এগিয়ে থাকা ৭৭টি স্থানের মধ্যে নানান দিক থেকে বিচার করে ২৮ স্থানকে চূড়ান্ত পর্বের জন্য বেছে নিয়েছেন সাত সদস্যের বিচারকমণ্ডলী।
চূড়ান্ত পর্বে সুন্দরবন থাকলেও বাংলাদেশের অপর মনোনয়ন কক্সবাজার চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিত হয়নি। তবে সংরক্ষিত তালিকায় আছে। চূড়ান্ত পর্বে থাকা ২৮টি স্থানের নাম ঘোষণার পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ উত্সব শুরু হয়ে যায়। খুলনায় তাত্ক্ষণিকভাবে আনন্দ মিছিল বের করে রূপান্তর, সুন্দরবন একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন। রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, ‘এইবার গোটা বিশ্বের কাছে সুন্দরবনকে তুলে ধরা সম্ভব হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ওয়ান্ডার্স প্রমোশন অ্যাসোসিয়েশন ও সাইবার ক্যাফে ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন আনন্দ মিছিল করে। এ সংগঠন দুটি আজ বুধবার দুপুর ১২টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে আনন্দ মিছিল বের করবে। তবে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার চূড়ান্ত পর্বে স্থান না পাওয়ায় অনেকেই ব্যথিত হয়েছে।
সুন্দরবনের জন্য আনুষ্ঠানিক সমর্থক কমিটি (ওএসসি) বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন চেয়ারম্যান হেমায়েত উদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘চূড়ান্ত পর্বে যখন ওঠা গেছে, বাকিটাও আমরা পারব বলে আশাবাদী। ১৬ কোটি মানুষের দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ ভোট সুন্দরবনের জন্য যাবে। এ জন্য সবার সহযোগিতা ও সচেতনতা প্রয়োজন।’
বিশ্ববাসীর ভোটে ও বিশেষজ্ঞদের রায়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনের যে প্রক্রিয়া, তার চূড়ান্ত পর্ব শুরু হলো ফাইনালিস্টদের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই। আগামী দুই বছর ধরে আবার চলবে ভোটাভুটি। দুই বছরে প্রাপ্ত ভোট ও বিচারকদের নম্বরের ভিত্তিতে এই সেরা ২৮-এর মধ্য থেকে ২০১১ সালে নির্বাচিত হবে সাতটি স্থান বা প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য। গতকাল থেকেই ইন্টারনেটে ভোট শুরু হয়েছে। www.new7wonders.com ঠিকানার ওয়েবসাইটে গিয়ে ভোট দেওয়া যাবে সুন্দরবনকে। সাইটটির প্রথম পৃষ্ঠাতেই ২৮টি স্থানের সচিত্র তালিকা আছে। সেখান থেকে সাতটি স্থানকে ভোট দেওয়া যাবে।
চূড়ান্ত পর্বের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়া থেকে সুন্দরবন ও মালদ্বীপ স্থান পেয়েছে। এ তালিকায় আমাজন, গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ, ভিসুভিয়াস, টেবিল মাউন্টেন, মাউন্ট কিলিমানজারোর মতো বিশ্বখ্যাত প্রাকৃতিক জায়গা স্থান পেয়েছে। এই তালিকায় এশিয়া থেকে ১১টি, ইউরোপ থেকে পাঁচটি, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে চারটি, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা থেকে তিনটি, ওশেনিয়া থেকে তিনটি এবং আফ্রিকা থেকে দুটি স্থান আছে চূড়ান্ত তালিকায়।
চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ ২৮টি প্রাকৃতিক স্থান: সুন্দরবন (বাংলাদেশ ও ভারত), মাসুরিয়ান লেক ডিস্ট্রিক্ট (পোল্যান্ড), বু তিনাহ শোয়ালস (সংযুক্ত আরব আমিরাত), গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ (ইকুয়েডর), জেজু দ্বীপ (দক্ষিণ কোরিয়া), মালদ্বীপ (মালদ্বীপ), গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন (যুক্তরাষ্ট্র), ম্যাটারহর্ন/সারভিনো (ইতালি ও সুইজারল্যান্ড), মাউন্ট কিলিমানজারো (তাঞ্জানিয়া), মাড ভলকানোস (আজারবাইজান), টেবিল মাউন্টেন (দক্ষিণ আফ্রিকা), ভিসুভিয়াস (ইতালি), উ শান (চীনা তাইপে), জিটা গ্রোটো (লেবানন), উলুরু (অস্ট্রেলিয়া), আমাজন (বলিভিয়া, ব্রাজিল, কলাম্বিয়া, ইকুয়েডর, ফরাসি গায়ানা, গায়ানা, পেরু, সুরিনাম ও ভেনেজুয়েলা), ব্ল্যাক ফরেস্ট (জার্মানি), এল ইয়াঙ্কে (পুয়ের্তো রিকো), কোমোদো জাতীয় উদ্যান (ইন্দোনেশিয়া), পুয়ের্তো প্রিন্সেসা জাতীয় উদ্যান (ফিলিপাইন), অ্যাঞ্জেল ফলস (ভেনেজুয়েলা), ডেড সি লেক (ইসরায়েল, জর্ডান, ফিলিস্তিন), ইগুয়াজু ফলস (আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল), ফান্ডি উপসাগর (কানাডা), মোহর গিরিখাদ (আয়ারল্যান্ড), গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ (অস্ট্রেলিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি), হা লং বে (ভিয়েতনাম) এবং মিলফোর্ড সাউন্ড (নিউজিল্যান্ড)।

একটি পার্টনারশিপের গল্প by উত্পল শুভ্র

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের এর চেয়ে বড় পার্টনারশিপও আছে। কিন্তু পরিস্থিতি-তাত্পর্য-প্রভাব বিবেচনায় গ্রেনেডার দ্বিতীয় ইনিংসে রকিবুল হাসান ও সাকিব আল হাসানের ১০৬ রানের পার্টনারশিপটির কাছে সেসবও পিছিয়ে। পরশু রাতে গ্রেনেডা গ্র্যান্ড বিচ রিসোর্টের সুইমিং পুলের পাশে বসে টেস্ট ও সিরিজ জেতানো পার্টনারশিপের দুই অংশীদার ফিরে তাকালেন হিরণ্ময় সেই স্মৃতির দিকে—

পর পর দুই ওভারে দুই ওপেনারের বিদায়ে বাংলাদেশ যখন ২৯/২, তখন নামলেন রকিবুল হাসান। এই টেস্ট ম্যাচের ভাগ্য তখন দোদুল্যমান। রকিবুল নেমেই অমন পাল্টা আক্রমণ করে চমকে দিলেন সবাইকে।
রকিবুল: মানসিকভাবে পজিটিভ ছিলাম। ঠিক করেছিলাম, পরিস্থিতি যা-ই থাক, পজিটিভ ক্রিকেট খেলব। কোচ বলেছিলেন, ‘অবস্থা যা-ই হোক, পজিটিভ খেলবে। মারার বল মারবে।’ আমি তা-ই করেছি। আউট হয়ে যাব বা হেরে যাব—এসব চিন্তা মাথায় ঢুকতেই দিইনি। সাকিব আসার পর কাজটা একটু সহজ হয়ে গেল।
সাকিব: ওই পরিস্থিতিতে অমন পজিটিভ খেলা সহজ নয়। রকিবুল খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। প্রথম ইনিংসের পর কোচ ওকে বলেছে, টেস্ট ক্রিকেটে ওকে সবচেয়ে ভালো ব্যাটিং করতে দেখেছেন আজ। এটা ওকে অনেক কনফিডেন্স দিয়েছে।
সাকিব নামার সময় স্কোর ৪ উইকেটে ৬৭। আর একটা উইকেট পড়লেই বাংলাদেশের স্বপ্ন ধূসর হয়ে যায়। উইকেটে গিয়ে সাকিব কী বললেন রকিবুলকে, রকিবুলই বা সাকিবকে কী?
রকিবুল: সাকিবের সঙ্গে আমি অনেক আগে থেকেই ব্যাটিং করি। ওর সঙ্গে বেশ কয়টা ভালো পার্টনারশিপ আছে। ওর সঙ্গে ব্যাটিং করতে খুব ভালো লাগে। রানিং বিটুইন দ্য উইকেট খুব ভালো হয়। আর ও পজিটিভ খেলে বলে কাজটা সহজ হয়।
সাকিব: আমি ব্যাটিংয়ের সময় বেশি কথা বলি না। নামার পর ও-ই আমাকে যা বলার বলেছে। বলেছে, বোলিং এমন কিছু হচ্ছে না, সোজা-সোজা খেললেই চলবে।
ড্যারেন স্যামি আর টিনো বেস্ট বোলিং করছেন তখন। তিন উইকেট নিয়ে স্যামি তখন উজ্জীবিত। বোলারদের নিয়ে কী পরিকল্পনা ঠিক করেছিলেন তাঁরা দুজন?
সাকিব: আমরা এমন কোনো প্ল্যান করি নাই যে, ও এভাবে বল করছে তুই এভাবে খেল। যে যার মতো খেলি, যার যেভাবে ভালো মনে হয়। এটা কখনো প্ল্যানিং করি না যে, নির্দিষ্ট কোনোভাবে খেলতে হবে।
রকিবুল: পর পর কয়টা উইকেট পড়ে যাওয়াতে ওরা তখন খুব অ্যাগ্রেসিভ বোলিং করছিল। তবে উইকেটটা ভালো ছিল। এ কারণে ওদের খেলতে পারব না এমন মনে হয়নি।
প্রথম ইনিংসে খেমার রোচের গতির তোড়ে উড়ে গেছে বাংলাদেশ। রকিবুল-সাকিব দুজনকেই আউট করেছেন। রকিবুলের হাতে বাউন্সার মেরে টালমাটাল করে দিয়েছেন তাঁকে। সেই রোচ বোলিংয়ে আসার পর সেটি হয়ে গেল ম্যাচের নির্ধারক মুহূর্ত
সাকিব: আমার মনে হয়েছে, ওকে যদি একটু সাবধানে খেলি তাহলেই হবে। কারণ ও বেশিক্ষণ বোলিং করতে পারবে না। সেই তিন দিনের ম্যাচ থেকে অনেক বল করায় ও অনেক ক্লান্ত। বেশি জোরেও করতে পারবে না। আর উইকেট না পেলে তো আরও না। মনে হয়েছে, ওকে যদি পার করে দিতে পারি, তাহলে বাকি বোলারদেরও আরামসে খেলতে পারব।
রকিবুল: প্রথম ইনিংসে যেটা হয়েছে, ক্রিকেটে এমন হয়ই। বোলার আর ব্যাটসম্যানের মধ্যে একটা লড়াই হয়, বোলার গায়ে-টায়ে মারে, ব্যাটসম্যান আউট হয়ে যায়। তবে আমি সেটা মনে রেখে ব্যাটিং করি নাই। আমি আমার মতো খেলে গেছি।
৪৮ রানে গিয়ে সাকিব রোচের পর পর তিন বলে তিনটা চার মারলেন। ম্যাচটা কাদের হাতে, সেটাও যেন পরিষ্কার হয়ে গেল এতে। পরিকল্পনা করেই কি রোচের ওপর চড়াও হয়েছিলেন সাকিব?
সাকিব: না না, অমন কোনো প্ল্যান ছিল না। চার মারার বল ছিল, মেরেছি। একটা ছিল স্কয়ার কাটের বল, স্কয়ার কাট মেরেছি। একটা ছিল ড্রাইভের বল, ড্রাইভ মেরেছি। একটা পুলের বল ছিল, পুল মেরেছি। ওই সময় ও কী করবে, আমি অনুমান করতে পারছিলাম। স্কয়ার কাটটা করার পর বুঝেছি, ও ওপরে করবে। ওপরে করেছে, চার মেরেছি। পরের বলটা আমি জানতাম একটু শর্ট লেংথ করবে। করেছে, চার মেরেছি।
রকিবুল: ওর ওই তিনটা চার দেখে খুব মজা পেয়েছি।
রকিবুল-সাকিবের পার্টনারশিপে ৫০ হলো, একসময় এক শও। লড়াইয়ে নিমগ্ন ওরা দুজন কি মাইলফলকগুলো খেয়াল করেছিলেন?
সাকিব: ফিফটি পার্টনারশিপটা খেয়াল করি নাই, হান্ড্রেড পার্টনারশিপটা করেছি। আমাদের পার্টনারশিপে যখন ৮৯ হলো, তখন ওকে বলেছি আর ১১ লাগে রে!
রকিবুল: পার্টনারশিপটা ৫০-৬০-৭০ হয়ে যাওয়ার পর আমরা আলাপ করছিলাম, কাজটা অর্ধেক হয়েছে। আর ৩০-৪০টা রান যদি যোগ করতে পারি, তা হলে কাজটা আরও সহজ হয়ে যাবে।
একসময় স্কোরবোর্ডে ভেসে উঠল—হান্ড্রেড পার্টনারশিপ। কোন শটে তা হলো মনে আছে ওদের?
সাকিব: রোচকে যে তিনটা চার মারলাম, তখনই তো হলো। তবে আমি সেটা খেয়াল করি নাই। ওকে জিজ্ঞেস করলাম, কিরে, হয়েছে? ও বলল, হ্যাঁ, হয়েছে। আমি বললাম, তুমি দেখেছ? ও বলল, হ্যাঁ, আমি স্কোরবোর্ডে দেখেছি।
ভালো একটা পার্টনারশিপে দুই ব্যাটসম্যানের একে অন্যকে সাহায্য করার ব্যাপার থাকে। কোনো বোলার হয়তো নির্দিষ্ট কিছু করার চেষ্টা করছে, সেটি খেয়াল করে পার্টনারকে বলা। অথবা ফিল্ডিংয়ে কোনো পরিবর্তন।
সাকিব: না, সে রকম কিছু বলেছি বলে মনে পড়ে না। আমরা নরমাল কথাবার্তাই বলেছি।
রকিবুল: ড্যারেন স্যামি যখন বল করছিল, ও মিড উইকেটটা পুরো ফাঁকা রেখেছিল। ওর প্ল্যানটা ছিল, সাকিব যেন অ্যাক্রস দ্য লাইন খেলে। ওই ফিল্ডিংটা খেয়াল করে আমি সাকিবকে বলেছি, ও কিন্তু এই প্ল্যান করেছে। তুই তোর প্ল্যান অনুযায়ী খেল, ওর ফাঁদে পা দিবি না।
রকিবুল যখন স্যামির বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে ফিরলেন, জয়ের জন্য তখনো চাই ৪২ রান। ম্যাচটার কি আবার একটা নাটকীয়তায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা তখন!
সাকিব: ও আউট হওয়ার আগেই আমি ওকে বলছিলাম, আরও ১৫-২০টা রান হলে তার পর যা-ই হোক হবে, কোনো সমস্যা হবে না। আউট হওয়ার পর তো খারাপ লেগেছে। তবে তার পরও কনফিডেন্ট ছিলাম, মুশফিক ভাই আসছে। মুশফিক ভাই সব ইনিংসেই ৩০-৪০ করে করেছে। মুশফিক ভাই আউট হয়ে যাওয়ার পর একটু চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। যদিও তখন ২০ রান দরকার ছিল (আসলে ১৪), তার পরও অনেক রান!
রকিবুল: আমি শেষ পর্যন্ত থাকতে চেয়েছিলাম। একটু আগে খেলে ফেলায় ক্যাচ উঠে গেছে।
১০৬ রানের এই পার্টনারশিপটিই টেস্ট ও সিরিজ জেতাল বাংলাদেশকে। সাকিব ও রকিবুলের কাছে এটি তাই স্মরণীয় হয়ে থাকারই কথা।
সাকিব: উইনিং পার্টনারশিপ। আসল কথা হলো, খুব প্রয়োজনের সময় হয়েছে পার্টনারশিপটা। রকি আর অ্যাশ যখন ব্যাটিং করছিল, আমি আর মুশফিক ভাই আলাপ করছিলাম, এখনই একটা পার্টনারশিপ খুব জরুরি। আমি বললাম, এটা না হলে পরেরটাতে বড় একটা পার্টনারশিপ হতেই হবে। নইলে আমরা পারব না।
রকিবুল: সাকিবের এটা প্রথম ক্যাপ্টেন্সি। অধিনায়ক হিসেবে ওর প্রথম ম্যাচেই ওর সঙ্গে এমন একটা পার্টনারশিপ করতে পারলাম। এটা ওর কাছে যেমন স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তেমনি আমার কাছেও।

‘চাঁদের দেশে’ বাংলাদেশ উত্পল শুভ্র, গ্রেনেডা থেকে

নিল আর্মস্ট্রং আর সাকিব আল হাসান তাহলে মিলেই গেলেন!
কিসের সঙ্গে কী! এক নভোচারী আর এক ক্রিকেটার কীভাবে মেলেন এক বিন্দুতে! আহ্হা, এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন! একটু খেয়াল করে দেখুন না, ইতিহাস যে তাঁদের মিলিয়েই দিল।
চল্লিশ বছর আগে যে দিনে চাঁদে প্রথম পা রেখে আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের ছোট্ট একটা পদক্ষেপ আর মানবজাতির জন্য বিরাট এক লাফ’, চল্লিশ বছর পর সেই দিনেই সাকিবের একটা স্ট্রেট ড্রাইভ কি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বিরাট এক উল্লম্ফন নয়?
রোচের বলে সাকিবের ওই ছক্কায় নতুন একটা ইতিহাস লেখা হয়ে গেল বাংলাদেশের ক্রিকেটে। এই প্রথম পর পর দুটি টেস্ট জয়, এই প্রথম দেশের বাইরে টেস্ট সিরিজ জয়—গ্রেনেডার ছায়া-ছায়া বিকেল আর সাত সমুদ্র তেরো নদী ওপারের সাকিবের দেশের ভোরে তো চাঁদেই পা রাখল বাংলাদেশের ক্রিকেট!
দেশের বাইরে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের দিনটা যে মানুষের চাঁদে পা রাখার চল্লিশতম বার্ষিকীর সঙ্গে মিলে গেছে, রফিকুল আলম তা জানতেন না। বাংলাদেশের ক্রিকেটের নির্বাচকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান তার পরও কাকতালীয়ভাবে চাঁদকেই টেনে আনলেন! ‘এত দূর যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ আসার পর মনে হলো যেন চাঁদে এলাম। আর বাংলাদেশের এই জয়কে মনে হচ্ছে চাঁদে পা রাখার মতো।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে অত ভাবালুতা নেই। চাঁদ-টাঁদের মতো অনেক দূরের বিষয় নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে তাঁদের মধ্যে গুঞ্জরিত একটাই শব্দ। হোয়াইটওয়াশ! হোয়াইটওয়াশ! সারা জীবন বাংলাদেশ যা হয়ে এসেছে, এই প্রথম তা অন্যকে করল।
কলিন ক্রফটের টেস্ট ক্যারিয়ারে পরাজয়ের সঙ্গে তেমন দেখাই হয়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুর্দশা দেখেন আর কষ্ট পান অধুনা ফ্রি-ল্যান্স সাংবাদিক। বিবিসির হয়ে সিরিজ কভার করছেন। হাতে রেকর্ডার, কানে হেডফোন—কলিন ক্রফট হো হো করে হাসছেন! ‘ওহ্ গড! বাংলাদেশের কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হোয়াইটওয়াশ! আমি আজ সারা দিন হাসব।’
তোর ইচ্ছা হয়েছে, হাসতে থাক, কে মানা করেছে? বাংলাদেশও আজ হাসছে। আনন্দে হাসছে। গর্বে হাসছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের কাছে পরাজয়ের লজ্জা ভুলে গিয়ে হাসছে।
সবচেয়ে বেশি হাসছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। হাসতে হাসতেই আবার কালো হয়ে যাচ্ছে তাঁদের মুখ। মনে পড়ে যাচ্ছে, কদিন আগে কী অপদস্থই না হতে হয়েছে তাঁদের! টি-টোয়েন্টি বিপর্যয়ের পর এমন সব কথা শুনতে হয়েছে যে, এমন অবিস্মরণীয় সাফল্যের আনন্দও তা ভুলিয়ে দিতে অসমর্থ। ‘খু-উ-ব খুশি’ দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেই তাই অনিবার্যভাবে পরের কথাটা হচ্ছে, ‘সবচেয়ে বেশি খুশি, কারণ...’।
গ্রেনেডায় পরশু সকাল থেকেই বৃষ্টি। এমনই অঝোর ধারায় যে, বাংলাদেশের ক্রিকেটের মাহেন্দ্রক্ষণটি আর খেলোয়াড়দের হাতে থাকছে বলে মনে হলো না। বৃষ্টিতে সেটি ভেসে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রবল হয়ে উঠল একসময়। ক্যারিবিয়ানের ধর্ম অনুযায়ী সেই বৃষ্টি থামতেই ঝকঝকে রোদ।
কিন্তু একসময় যে সেই রোদেও মেঘলা দেখাচ্ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটাকাশ। ৬৭ রানে ৪ উইকেট নেই! ২১৫ করলেই ইতিহাস—কিন্তু এত সব অর্জনের হাতছানির চাপ আছে, সঙ্গে আছে চতুর্থ ইনিংসে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামার অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা। আলোয় সাজিয়ে রাখা উত্সবের মঞ্চে হঠাত্ই আঁধার নেমে আসবে না তো!
দুই হাসান তা হতে দিলেন না। রকিবুল হাসান নেমেই এমন ব্যাটিং করতে শুরু করলেন যে, মনে হলো এই ছোট্ট টার্গেটটা ছুঁতে এত ঝামেলা তাঁর একদমই পছন্দ হচ্ছে না! আর সাকিব আল হাসান তো বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন।
বাংলাদেশের চতুর্থ উইকেটটি পড়ে যাওয়ার পর মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের উত্সব দেখতে দেখতে নেমেছেন। রকিবুলের সঙ্গে তাঁর ১০৬ রানের জুটির প্রতিটি রান জল ঢেলে দিয়েছে সেই উত্সবে। শেষে ওই ছক্কা!
শুধুই একটা ছক্কা! বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন এক ইতিহাস যে লেখা হলো ওই ছক্কায়! সাকিব আল হাসানকে এখন থেকে নিল আর্মস্ট্রং নামেই ডাকুন না!

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ আজ নিস্তরঙ্গ পঞ্চগড়ে উত্সবের আমেজ by আশীষ-উর-রহমান ও শহীদুল ইসলাম

দারুণ সাড়া পড়ে গেছে দেশের উত্তর সীমান্তের নিস্তরঙ্গ ছিমছাম শহরটিতে। পঞ্চগড়ে ঢুকতেই চোখে পড়ল দেয়ালে দেয়ালে সাঁটা পোস্টার। গতকাল মঙ্গলবার সকালেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গাড়ি ভর্তি করে লোকজন আসতে শুরু করেছে। এই তালিকায় আছেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, আছে স্কুলের শিক্ষার্থী থেকে বিজ্ঞানমনস্ক সাধারণ মানুষ। আসছেন বিদেশিরাও। শহরের আবাসিক হোটেলগুলোতেও প্রচণ্ড ভিড়। প্রশাসনের তরফ থেকে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। আর এসবে কৌতূহলী হয়ে উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। সব মিলিয়ে জমজমাট উত্সবের আমেজ পঞ্চগড়জুড়ে।
যেনতেন উপলক্ষ তো নয়, একেবারে মহাজাগতিক ঘটনা! কাজেই মহা-আয়োজন না হলে মানানসই হবে কী করে। বাংলাদেশ থেকে দৃশ্যমান শতাব্দীর শেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। ১০০ বছরে এমন সুযোগ আর মিলবে না; অপেক্ষা করতে হবে ২১১৪ সাল পর্যন্ত। অতএব, এবারের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি আগ্রহী ব্যক্তিরা।
পঞ্চগড়ে আজ বুধবার সকাল সাতটা ১৪ সেকেন্ড থেকে গ্রহণ শুরু হবে; চলবে নয়টা পর্যন্ত। এর মধ্যে সূর্য একেবারে ঢেকে যাবে আটটায়। ঢাকা থাকবে পুরো তিন মিনিট ৫৮ সেকেন্ড। চরাচরে নেমে আসবে আলো-আঁধারি পরিবেশ। পাখপাখালি দিবাবসান ভেবে ভুল করে ফিরতে থাকবে নিড়ে। তবে এর সবকিছুই নির্ভর করবে আবহাওয়ার ওপর, যদি আকাশ পরিষ্কার থাকে।
পঞ্চগড়ে অতিথিদের স্বাগত জানাতে তোরণ সাজানো হয়েছে সার্কিট হাউসে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় সিরাজুল ইসলাম স্টেডিয়ামে তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গতকাল সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক বনমালী ভৌমিক ও পুলিশ সুপার হারুন-উর-রশিদ জানান, অতিথিদের থাকার জন্য হোটেল এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার রেস্টহাউসগুলো বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ ছাড়াও আগ্রহী অতিথিদের জন্য বাংলাবান্ধা সীমান্ত, সমতলভূমির চা-বাগান, পাথর জাদুঘর, পঞ্চগড় মহারাজার দিঘির মতো দর্শনীয় স্থানগুলো পরিদর্শনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাঁদের সহায়তার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া কাব, স্কাউট, গার্ল গাইডস ও রোভাররা অতিথিদের সহায়তা করবেন। শহরকে যানজটমুক্ত রাখার ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।
সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে পঞ্চগড়ের সাধারণ মানুষের কৌতূহল প্রবল। মৌচাক হোটেলের মালিক আনোয়ার হোসেন বললেন, ‘সূর্যগ্রহণ দেখতে অসংখ্য মানুষ শহরে এসেছেন। হোটেলে সব সময় ভিড় লেগেই আছে। আমরা খাবার দিতে হিমশিম খাচ্ছি।’ মাদ্রাসার গ্রন্থাগারিক আবুল হোসেন শহরের হার্ডওয়্যারের দোকানে ঝালাইকাজে ব্যবহূত কালো চশমা কিনতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘১০৫ বছরের মধ্যে এমন দৃশ্য আর দেখা যাবে না; তাই নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।’ পঞ্চগড় এমআর সরকারি কলেজের সম্মানের ছাত্রী মেহেরুন বেগম বলেন, ‘১০৫ বছরের মধ্যে আর দেখা যাবে না; তাই সকালেই স্টেডিয়ামে যাব গ্রহণ দেখতে। তা ছাড়া আমাদের শহরে এমন একটা আয়োজন হচ্ছে, এটা আমাদের জন্য গর্বেরও ব্যাপার।’ রিকশাচালক বাবুল বললেন, ‘শহরত অনেক নয়া মানুষ আইসচে। ভাড়া ভালয় পাছি। মুই গ্রহণ দেখিবা চাহেচু, কিন্তু কেংকো দেখিম। খালি চোখে তো দেখা যাবা নহায়।’ কলেজছাত্র আবদুল আলীম বলেন, ‘খুবই টেনশনে আছি, এখনো চশমা পাইনি।’ তরুণ ফটোস্ট্যাট ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘সুযোগটা নষ্ট করতে চাই না।’ সূর্যগ্রহণ নিয়ে এভাবেই কৌতূহলী হয়ে উঠেছে পঞ্চগড়বাসী।
গ্রহণ সম্পর্কে কৌতূহল মেটাতে গতকাল বিকেল তিনটায় বিপি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ‘সূর্য এবং গ্রহণ’ নামের আলোচনার আয়োজন করে জাতীয় বিজ্ঞান জাদুঘর। এর কিউরেটর সুকল্যাণ বাছাড় শ্রোতাদের সহজ করে বুঝিয়ে বলেন, ‘সূর্যগ্রহণের সঙ্গে কুসংস্কারের কিছু নেই; কোনো অকল্যাণ বা ভয়ভীতির বিষয় নেই। চাঁদের ছায়া পড়বে সূর্যের ওপর, সূর্য তখন ঢেকে যাবে—এই হলো গ্রহণের মূল বিষয়।’
পঞ্চগড় শহর ছাড়াও সদর উপজেলার হাঁড়িভাসা ইউনিয়নের মধুপাড়া গ্রামে একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প করা হবে অনুসন্ধুিত্স চক্রের আয়োজনে। চক্রের সভাপতি আজহারুল ইসলাম জানালেন, তাঁদের দুটি বাসে প্রায় ৮০ জন পর্যবেক্ষক এসেছেন পঞ্চগড়ে। দলে আছেন অধ্যাপক এ আর খান, অধ্যাপক দেবদর্শী ভট্টাচার্য, ব্রিটিশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির ফেলো কলিন হ্যান্স। বিজ্ঞানীদের জন্যই মধুপাড়ার ক্যাম্পটি করা হয়েছে; কারণ এখানে পূর্ণ গ্রহণকাল কিছুটা বেশি সময় ধরে থাকবে। পঞ্চগড় ছাড়াও চক্রের আয়োজনে ঠাকুরগাঁও ও ঢাকায় পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প হচ্ছে। পঞ্চগড়ে পর্যবেক্ষণ শুরু হবে সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে।
গতকাল বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা প্রশাসন ও চক্রের আয়োজনে শোভাযাত্রা বের করা হয়। সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের জন্য তারা ইলেকট্রিক ওয়েল্ডিং কাচের প্রায় ১০ হাজার চশমা তৈরি করে বিতরণ করে। পঞ্চগড়েও সকালে চশমা দেওয়া হবে। থাকবে টেলিস্কোপে গ্রহণ পর্যবেক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা।
বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ৭০ জনের মতো উত্সাহী পর্ববেক্ষক নিয়ে ক্যাম্প করেছে তেঁতুলিয়ার ময়নাগুঁড়ি চা-বাগানে। অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশহুরুল আমীন জানালেন, তাঁরা তেঁতুলিয়াসহ দেশের ২৪টি এলাকা থেকে সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের আয়োজন করেছেন।
তেঁতুলিয়া মাঝিপাড়ায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ৪৩৩ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে জিরো পয়েন্টে বিএসএফ ও বিডিআরের বিশেষ অনুমতি নিয়ে গতকাল দুই বাংলার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মিলিত হয়েছিলেন। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটিরি সভাপতি এফ আর সরকারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল মাঝিপাড়ায় আসে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসে স্কাই ওয়াচার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেবাশীষ সরকারের নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের শৌখিন জ্যোতির্বিজ্ঞানীর দল। উভয় দলের সদস্যরা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন; মিষ্টিও বিতরণ করা হয়।
সব মিলিয়ে পঞ্চগড় ও এর আশপাশের এলাকায় এখন জমজমাট উত্সবের পরিবেশ। উত্সবের প্রস্তুতিও সম্পন্ন। এখন সকালের প্রতীক্ষা, আর পরিষ্কার আকাশের প্রার্থনা।

আরেক ভারতীয় জঙ্গি মনসুর ঢাকায় গ্রেপ্তার

ভারতীয় জঙ্গি সংগঠন আসিফ রেজা কমান্ডো ফোর্স এবং লস্কর-ই-তাইয়েবার আরেক সংগঠক মাওলানা মনসুর আলী ওরফে হাবিবুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বাগদা থানার পদ্মপুকুর গ্রামে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, মনসুর আলী এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া ভারতীয় জঙ্গি শেখ ওবায়দুল্লাহর ‘গুরু’। মনসুর এ দেশে বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষকতার আড়ালে লস্কর-ই-তাইয়েবার পক্ষে তত্পরতায় যুক্ত ছিলেন।
এই ভারতীয় জঙ্গিকে কয়েক দিন আগে রাজধানীর উত্তরাসংলগ্ন দক্ষিণখান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সরদারবাড়ির সামনে মাদ্রাসাতুর রহমানের শিক্ষক। ডিবি পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে গ্রেপ্তারের কথা প্রকাশ করে। ডিবি সোমবার রাত সাড়ে আটটায় মনসুরকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আটকের পর মনসুর প্রথমে নিজের নাম মাওলানা হাবিবুল্লাহ ও বাড়ি যশোরের ঝিকরগাছার শ্রীরামপুর বলে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। এ জন্য তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হতে সময় লেগেছে।
কে এই মনসুর আলী: সংবাদ সম্মেলনে ডিবি কর্মকর্তারা বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গি মনসুর আলীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী তিনি উত্তর চব্বিশ পরগনার বাগদাহ থানার মামা-ভাগিনা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৭৫ সালে হেলেঞ্চা বাজার স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ১৯৭৭ সালে বনশাঁ কলেজ থেকে স্নাতক পাস করেন। এরপর তিনি কিছু দিন রেল বিভাগে চাকরি করেন। এর মধ্যে তিনি স্থানীয় এক আলেমের মাধ্যমে ধর্মীয় বিষয়ে উদ্বুদ্ধ হন এবং চাকরি ছেড়ে উত্তর প্রদেশের দেওবন্দ মাদ্রাসায় চলে যান। সেখানে আরবির প্রাথমিক পাঠ নেন। তারপর ১৯৮৪ সালে পাকিস্তানে যান।
জঙ্গি তত্পরতা: গতকাল ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মনসুর বলেন, তিনি আরবি শিক্ষার জন্য পাকিস্তানে যান। সেখানে ইসলামাবাদের দারুল উলুম তাকওয়া মাদ্রাসায় দাওরা হাদিস পড়েন। ১৯৮৪ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ওই মাদ্রাসায় পড়াকালে তিনি কয়েক দফা আফগানিস্তানে গিয়ে তত্কালীন সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি ওই সময় কালাশনিকভ রাইফেল, মেশিনগান, রকেট লাঞ্চার ও বিমান বিধ্বংসী অস্ত্র চালানোয় পারদর্শী ছিলেন।
মনসুর আলী জানান, আফগানিস্তান সোভিয়েত দখলমুক্ত হওয়ার পর তিনি ১৯৯৩ সালে ভারতে ফিরে যান এবং আসিফ রেজা কমান্ডো ফোর্সের প্রতিষ্ঠাতা আসিফ রেজা খান, মাওলানা জালাল ও লস্কর-ই-তাইয়েবার খুররম ওরফে আবদুল্লাহসহ ভারতে জঙ্গি তত্পরতায় যুক্ত হন। তাঁরা ‘জিহাদি ভাই’ তৈরি করে প্রথম দিকে লস্কর-ই-তাইয়েবার হয়ে কাশ্মীরে এবং পরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পাঠাতে শুরু করেন। গুজরাটে সংগঠনের কয়েকজন ধরা পড়ার পর মনসুর আলীর পরিচয় প্রকাশ হয়ে পড়ে। ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে আসিফ রেজা কমান্ডো ফোর্সের অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপর তিনি পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। এর আগে ভারতে জঙ্গি তত্পরতায় যুক্ত তাঁর এক ভাই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অতিক্রমকালে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন।
বাংলাদেশে প্রবেশ ও তত্পরতা: ডিবির উপকমিশনার মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ১৯৯৫ সালে মনসুর আলী ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) ঘুষ দিয়ে অবৈধভাবে এ দেশে ঢুকেছেন। মনসুর আলীর ভাষায়, সীমান্ত পার হতে চাইলে বিএসএফের এক সদস্য বলেন, ‘পঁচাশ রুপিয়া দিয়েগা তো এক চোখ বন্ধ্ করে গা, আওর এক ছ রুপিয়া দিয়েগা তো দো চোখ বন্ধ্ করে গা।’
ডিবি সূত্র জানায়, মনসুর আলী এ দেশে এসে প্রথমে যশোরের মোড়লী মোড়ের নূরানি মাদ্রাসায় শিক্ষকতার চাকরি নেন। তারপর যথাক্রমে যশোরের বাঘারপাড়ার ইন্দ্রাগ্রামের মক্তব, হবিগঞ্জের পোড়াসুন্দা গ্রামের মক্তব, ঢাকার নবাবগঞ্জের টিকরপুর মাদ্রাসা এবং সর্বশেষ ঢাকার দক্ষিণখানের মাদ্রাসাতুর রহমানে শিক্ষকতার চাকরি করেন। মাদ্রাসার পাশেই একটি বাড়িতে সপরিবারে বসবাস করতেন তিনি। তিনি সাতক্ষীরায় বিয়ে করেছেন বলে জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মনসুর আলী স্বীকার করেন, বাংলাদেশে অবস্থানকালে তাঁর সঙ্গে হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি আবদুর রউফ (বর্তমানে তাআমির উদ-দ্বীনের শীর্ষ নেতা ও কারাবন্দী), মাওলানা আলী আহম্মদ, মুফতি হান্নান, মুফতি বখতিয়ারসহ অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তাঁর সঙ্গে পাকিস্তানে অবস্থানকারী লস্কর-ই-তাইয়েবার নেতা খুররম ওরফে আব্দুল্লাহর টেলিফোনে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তাঁর দাবি, তিনি এ দেশে কোনো জঙ্গি তত্পরতা বা নাশকতায় যুক্ত ছিলেন না। তাঁদের জিহাদ হচ্ছে ভারতীয় হিন্দুদের বিরুদ্ধে।
যেভাবে সন্ধান মেলে: ডিবি কর্মকর্তারা জানান, দুবাইভিত্তিক ভারতীয় মাফিয়া নেতা দাউদ ইব্রাহিম চক্রের এ দেশীয় নেটওয়ার্কের অনুসন্ধান করতে গিয়ে ভারতীয় এ জঙ্গি গোষ্ঠীর সন্ধান মেলে। ডিবি গত ২৬ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আটক দাউদ ইব্রাহিম চক্রের সদস্য দুই ভারতীয় নাগরিক আবদুল রউফ দাউদ মার্চেন্ট ও জাহিদ শেখকে (২৮) গ্রেপ্তার করে। জাহিদ দাউদ ইব্রাহিমের মাফিয়াচক্রের বাংলাদেশের এজেন্ট। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তাঁর টেলিফোন যোগাযোগের সূত্র ধরে অনুসন্ধান করতে গিয়ে ডিবি মাদারীপুরের মাদ্রাসার শিক্ষক ভারতীয় জঙ্গি ওবায়দুল্লাহ ও ঢাকায় মনসুর আলীর সন্ধান পান। ওবায়দুল্লাহকে ১৭ জুলাই ডিবি পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করল ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়েও সহযোগিতা বাড়বে by দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচিত এন্ড-ইউজার ভেরিফিকেশন (ইইউভি) বা প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ-বিষয়ক চুক্তি সই হয়েছে। এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং মহাকাশ বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আরও দুটি চুক্তি করেছে দুই দেশ। দীর্ঘ আলোচনা শেষে গত সোমবার ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণ ও ভারত সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন নিজ নিজ দেশের পক্ষে এসব চুক্তিতে সই করেন। এ ছাড়া নিজেদের মধ্যে কৌশলগত পাঁচ দফা সহযোগিতা-বিষয়ক আলোচনা শুরুর ব্যাপারেও রাজি হয়েছে দুই দেশ। ওই আলোচনায় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন। পাশাপাশি ভারতে দুটি মার্কিন পরমাণু চুল্লি বসানোর জায়গারও অনুমোদন দিয়েছে ভারত সরকার। গত সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, আলোচনা শেষে বর্তমান সময়ের সংকটগুলো মোকাবিলায় ভারত-মার্কিন সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
গত শুক্রবার পাঁচ দিনের সফরে ভারত পৌঁছান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর এই সফরের মূল আলোচ্যসূচি ছিল ইইউভি চুক্তি। এই প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নির্মাতা কোম্পানি লকহিড ও বোয়িং যথেষ্ট লাভবান হবে। কারণ, ভারত সরকার প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আধুনিকায়নের মার্কিন জঙ্গি বিমানসহ আধুনিক অস্ত্র কিনতে আগ্রহী। ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য ১২৬টি জঙ্গি বিমান ক্রয়ে ভারত যে দরপত্র আহ্বান করেছে, সেখানে অন্যান্য দেশের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ওই দুটো মার্কিন কোম্পানি। ভারত এর আগে ১৯৯৬ সালের ‘ইউএস আর্মস কন্ট্রোল অ্যাক্ট’-এর অধীনে অস্ত্র কেনার ব্যাপারে অসম্মতি জানায়। ওই চুক্তি অনুযায়ী ক্রেতা দেশগুলোকে বিক্রি করা অস্ত্র কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই বিষয়ে পর্যবেক্ষণের সুযোগ দিতে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে। তবে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ইইউভি চুক্তি ১৯৯৬ সালের ওই চুক্তি থেকে ভিন্ন বলে ভারতীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনটি চুক্তি সইয়ের আগে দিল্লির ঐতিহাসিক হায়দরাবাদ হাউসে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
ইইউভি চুক্তির পাশাপাশি মহাকাশ বিজ্ঞানবিষয়ক চুক্তি ‘টেকনোলজি সেফগার্ড অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর মাধ্যমে এখন থেকে নিজস্ব উেক্ষপণ-ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত বেসামরিক ও অবাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের কৃত্রিম উপগ্রহগুলো উেক্ষপণ করতে পারবে ভারত। অবশ্য মার্কিন বাণিজ্যিক কৃত্রিম উপগ্রহগুলোও নিজেদের উেক্ষপণ-ব্যবস্থার মাধ্যমে মহাকাশে পাঠাতে আগ্রহী নয়াদিল্লি। তারা এ ব্যাপারেও একটি চুক্তি করতে চায়। এটা করতে পারলে মহাকাশ ব্যবসার বাজারে বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হবে ভারতের জন্য।
এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে এবং এ ব্যাপারে দুই দেশের সমান অংশীদারের ভিত্তিতে একটি তহবিল গড়ে তোলার জন্য ‘সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এনডওমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামের আরেকটি চুক্তি সই করেছে দুই দেশ। এই চুক্তির মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণার ক্ষেত্রে দুই দেশের প্রযুক্তি ও লোকবল আদান-প্রদান সম্ভব হবে। এই তিনটি চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে অবশেষে হিলারি ক্লিনটন তাঁর এই ভারত সফরের লক্ষ্য পূরণ করলেন।

Wednesday, July 22, 2009

জেলায়া-মিশেলেত্তি আলোচনা ব্যর্থ হন্ডুরাসে গৃহযুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা অ্যারিয়াসের

হন্ডুরাসের চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল জেলায়া ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট রবার্তো মিশেলেত্তির প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দফা সমঝোতা আলোচনাও ব্যর্থ হয়েছে। আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট অস্কার অ্যারিয়াস আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে রক্তপাত, এমনকি গৃহযুদ্ধও শুরু হতে পারে। গত রোববার প্রেসিডেন্ট অস্কার অ্যারিয়াসের সমঝোতা প্রস্তাব গ্রহণ না করায় দ্বিতীয় দফার আলোচনাও ব্যর্থ হয়। গত শনিবার শুরু হওয়া এই আলোচনায় জেলায়াকে ক্ষমতায় পুনর্বহাল এবং হন্ডুরাসে ২৮ জুনের সামরিক অভ্যুত্থান ও পরবর্তী সব রাজনৈতিক অপরাধে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করাসহ দুই পক্ষের কাছে সাত দফা প্রস্তাব দেন অ্যারিয়াস।
রোববার সমঝোতা আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট অ্যারিয়াস দুই পক্ষকে আরও ৭২ ঘণ্টা আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। অ্যারিয়াস বলেন, ‘জেলায়ার প্রতিনিধিদল আমার প্রস্তাব পুরোপুরি মেনে নিলেও হন্ডুরাসের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধিদল তা গ্রহণ করেনি।’
বৈঠক শেষে হন্ডুরাসের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধিদলের প্রধান কার্লোস লোপেজ বলেন, ‘আমি খুবই দুঃখিত, কিন্তু যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা মেনে নেওয়া হন্ডুরাসের সাংবিধানিক সরকারের পক্ষে সম্ভব না।’ তিনি জানান, অ্যারিয়াসের প্রস্তাবে তাঁদের আপত্তির মূল অংশটি হলো জেলায়াকে ক্ষমতায় পুনর্বহাল। তবে আলোচনা ৭২ ঘণ্টা বাড়ানোর অ্যারিয়াসের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন হন্ডুরাসের অন্তর্বর্তী সরকারের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্থা লোরেনা আলভারাদো। তবে অ্যারিয়াসের আশঙ্কাকে উসকানিমূলক হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
এদিকে জেলায়ার মুখপাত্র রিক্সি মনকাদা বলেছেন, অবৈধ সরকারের সঙ্গে আর বৈঠক করবেন না তাঁরা। আলোচনা ব্যার্থ হওয়ার পর নিকারাগুয়ায় এক প্রতিক্রিয়ায় জেলায়া বলেন, ‘আমার ফেরার ব্যবস্থা করতে দেশের ভেতরেই প্রতিরোধ গড়ে তোলার ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ নির্বাসিত হওয়ার পর থেকে নিকারাগুয়াতে অবস্থান করছেন জেলায়া। ওদিকে হন্ডুরাসে জেলায়ার সমর্থকেরা বিক্ষোভ আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে। তারা আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার ধর্মঘট আহ্বান করেছে। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে সড়ক অবরোধ কর্মসূচিও চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। কানাঘুষা রয়েছে, নিকারাগুয়া সীমান্ত দিয়ে জেলায়া দেশে ফেরার চেষ্টা করতে পারেন।
অন্যদিকে অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটসের (ওএএস) মহাসচিব হোসে মিগুয়েল ইনসুলজা জানান, হন্ডুরাসের পরিস্থিতি নিয়ে সংস্থার সদস্যদের গতকাল সোমবার বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। হন্ডুরাসের সেনাসমর্থিত সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করা হবে, তাদের অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়েছে। কোস্টারিকায় আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টিতে গুরুত্ব না দিয়ে রোববার যুক্তরাষ্ট্র এই সংকট সমাধানে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষকে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবার্ট উড বলেন, ‘আলোচনার অগ্রগতি হয়েছে এবং ওএএসের নীতিমালার আলোকে একটি সম্ভাব্য সমাধানে পৌঁছানোর পথ তৈরি হয়েছে।’
আইনসভাকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান পরিবর্তনের চেষ্টার অভিযোগে গত ২৮ জুন এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জেলায়াকে ক্ষমতাচ্যুত করে নির্বাসনে পাঠায় হন্ডুরাসের সামরিক বাহিনী। এর পর থেকে দেশটিতে রাজনৈতিক সংকট চলছে। এএফপি, বিবিসি ও সিএনএন।

চাঁদ নয়, মঙ্গল অভিযানের আহ্বান জানালেন চন্দ্রজয়ী দুই নভোচারী

চন্দ্রপৃষ্ঠে মানুষের প্রথম অবতরণের দিনটি বেশ ঘটা করে উদ্যাপন করছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল ২০ জুলাই ছিল চন্দ্রপৃষ্ঠে মানুষের প্রথম অবতরণের ৪০ বছর পূর্তির দিন। যে নভোযানে চড়ে নভোযাত্রীরা চাঁদের বুকে পদচিহ্ন এঁকে দিয়েছিলেন, সেই অ্যাপোলো-১১-এর দুই যাত্রী বাজ অলড্রিন ও মাইকেল কলিন্স বলেছেন, চাঁদের পরিবর্তে এখন মঙ্গল অভিযানের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার। মঙ্গলে মনুষ্যবাহী নভোযান পাঠানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তাঁরা। ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁরা এ আহ্বান জানান। খবর বিবিসি ও এএফপির।
চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের ৪০তম বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক নভোচারীরা। তাঁদের মধ্যে মাইকেল কলিন্স বলেন, ‘আমি মনে করি, চাঁদের চেয়ে বেশি রোমাঞ্চকর হতো মঙ্গল অভিযানে গেলে। মাঝেমধ্যে আমার মনে হয়, চাঁদে অভিযান ছিল আমার একটা ভুল জায়গায় যাওয়ার মতো কিছু। এখন চন্দ্র নয়, মঙ্গল অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।’
কলিন্সের কথার সুর ধরে অলড্রিন বলেন, ‘অ্যাপোলো-১১-এর নভোযাত্রীরা দেখিয়েছেন, কঠোর পরিশ্রম করলে যেকোনো জাতি কিংবা ব্যক্তি গৌরবময় অনেক কিছুই করতে পারে। এ জন্য মঙ্গলে অভিযান পরিচালনা করা দরকার।’ চাঁদে প্রথম অবতরণকারী নিল আর্মস্ট্রংও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
চাঁদে পদার্পণের ৪০তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠান গতকাল সোমবারই উদ্বোধন হওয়ার কথা। হোয়াইট হাউসে অ্যাপোলো-১১-এর নভোযাত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে ওই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করার কথা প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার।

পুলিত্জার বিজয়ী লেখক ফ্রাংক ম্যাককোর্টের জীবনাবসান

সাহিত্যে গৌরবজনক পুলিত্জার পুরস্কার বিজয়ী আইরিশ-মার্কিন লেখক ফ্রাংক ম্যাককোর্ট (৭৮) আর নেই। গত রোববার নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন। তিনি মেনিনজাইটিস ও দীর্ঘদিন ধরে ত্বকের ক্যান্সারে ভুগছিলেন। তাঁর প্রকাশক স্ক্রাইবনারের এক নির্বাহীর উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস এ তথ্য দিয়েছে। খবর বিসিসির।
ম্যাককোর্টের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। ছোটবেলায় তিনি মা-বাবার সঙ্গে আয়ারল্যান্ডে চলে যান। আয়ারল্যান্ডের লিমেরিক শহরের বস্তিজীবনে তাঁর শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিকে উপজীব্য করেই লেখেন অ্যাঞ্জেলা’স অ্যাশেজ। বইটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৬ সালে। এ বইয়ের জন্যই ১৯৯৭ সালে পুলিত্জার পুরস্কার লাভ করেন তিনি। সারা বিশ্বে বইটির লাখ লাখ কপি বিক্রি হয়। এই বইটির জন্যতিনি ন্যাশনালবুক ক্রিটিক সার্কেল অ্যাওয়ার্ড এবংআরও বেশ কয়েকটি সম্মাননা পান।

উন্নয়নের স্বার্থে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ জরুরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পি জে আবদুল কালাম

টেকসই উন্নয়নের জন্য আগে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা ঠিক করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রধান লক্ষ্য হতে হবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন। কারণ, আগে ক্ষমতার উত্স হিসেবে প্রাকৃতিক সম্পদকে বিবেচনা করা হলেও এখন বিবেচিত হচ্ছে জ্ঞান।
গতকাল সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম বিশেষ বক্তৃতায় এ কথা বলেন। ৩৫ মিনিটব্যাপী বক্তৃতায় তিনি উন্নয়নের সঙ্গে জ্ঞান ও প্রযুক্তির সম্পর্ক এবং এর বাস্তবতা নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।
আবদুল কালামের আগমন উপলক্ষে সিনেট ভবনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। গতকাল বিকেল চারটা ১০ মিনিটে তিনি ক্যাম্পাসে এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হর্ষধ্বনির মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানান। শিক্ষার্থীরা পাশের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের ব্যালকনি ও ছাদে ভিড় করেন।
পাওয়ার পয়েন্টে উত্থাপিত বক্তব্যে আবদুল কালাম বলেন, আগে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হতো, আর আজ জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি বিশ্বব্যাপী প্রাধান্য পাচ্ছে। আগে শেয়ারহোল্ডাররা প্রাধান্য পেতেন আর আজ প্রাধান্য পাচ্ছেন ভোক্তারা। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, গতকাল যা কাজ করত, আজ তা কাজ করছে না। তাই উন্নয়ন চাইলে নিত্যনতুন উদ্ভাবন আর আবিষ্কারের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, যোগ্যতা নির্ধারণ করতে হবে সৃষ্টিশীলতা দিয়ে, জ্যেষ্ঠতা দিয়ে নয়।
তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য দরকার খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তথ্য ও কম্পিউটার-প্রযুক্তির প্রসার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের উন্নয়ন। তিনি ভারতের ‘ভিশন ২০২০’ সম্পর্কে বলেন, এ সময়ের মধ্যে দারিদ্র্য এবং শহর ও গ্রামের মানুষদের মধ্যে দূরত্ব কমানো, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য কমানো, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ভারত এগিয়ে যাচ্ছে।
আবদুল কালাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞানের উত্সকেন্দ্র। জ্ঞানচর্চা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কেই নেতৃত্ব দিতে হবে। কারণ, এ প্রতিষ্ঠানটি অনুসন্ধিত্সু দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এতে করে নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি যেমন হবে, তেমনি শিক্ষকেরা নিজেদের অর্জিত জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারবেন। ফলে জ্ঞান আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে মান বাড়বে।
প্রশ্নোত্তরপর্বে বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও নদী-নির্ভরতার প্রশ্নে তিনি বলেন, আন্তদেশীয় নদী-ব্যবস্থাপনায় কিছু সমস্যা আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকাসহ বিশ্বজুড়েই রয়েছে। এ ধরনের মোট নয়টি নদী বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এ ক্ষেত্রে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে দরকার যোগ্য নেতৃত্ব, নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিদ্যমান সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে তিনি বলেন, বাংলাদেশের উচিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তি অর্জনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।
স্বাগত ভাষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সফল বিজ্ঞানী এবং রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালামের আগমনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গর্বিত। তিনি রাষ্ট্রপতি থাকাকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের অনেক উন্নয়ন ঘটেছে। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ।
ইউআইটিএসের সমাবর্তন বক্তা: একবিংশ শতাব্দীর উন্নয়নের ভিত গড়তে শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিনিময়ের স্বার্থে বিভিন্ন দেশের মধ্যে ‘সীমান্তহীন’ সম্পর্ক গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন আবদুল কালাম। তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীর শিক্ষা অবশ্যই ‘সীমান্তহীন’ হওয়া উচিত। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যৌথভাবে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) কমপ্লেক্স স্থাপনের পরামর্শ দেন তিনি।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সের (ইউআইটিএস) প্রথম সমাবর্তন বক্তা হিসেবে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
বাসস জানায়, আবদুল কালামকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিরাজমান সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
আবদুল কালাম তাঁর বক্তৃতায় যোগাযোগ ও কৃষি খাতে আঞ্চলিক সম্পর্ক গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তিনি কৃষি খাতে বেশি বেশি গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।
সমাবর্তনে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অধ্যাপক গওহর রিজভী, ইউআইটিএসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ বক্তৃতা করেন।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে: আবদুল কালাম গতকাল গিয়েছিলেন রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। তিনি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। উপমহাদেশের এ জ্ঞানী ও গুণী ব্যক্তিত্বকে কলেজ চত্বরে অভ্যর্থনা জানানো হয়।

রাজনৈতিক নেতাদের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ দুদকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ by আব্দুল্লাহ মামুন

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ নিয়ে। রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়ের করা হয়েছে—এ অভিযোগে ২৬ জনের বিরুদ্ধে ৩৯টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার আসামিদের প্রায় সবাই দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। এ তালিকায় আছেন মন্ত্রী-সাংসদেরা। যে প্রতিষ্ঠান এই মামলাগুলো করেছে, তারাই এখন যদি সেই মামলাগুলো নাকচ করে দেয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটিই প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
বর্তমান সরকারের গঠিত ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারসংক্রান্ত কমিটি দুদককে যে ৩৯ মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে, তার মধ্যে ১২টিই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা হয়েছিল। অন্য যাঁদের মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আছেন তোফায়েল আহমেদ, মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, ওবায়দুল কাদের, হাবিবুর রহমান মোল্লা, আব্দুল জলিল, এস মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, কামাল আহমেদ মজুমদার, রফিকুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, মির্জা আজম, কাজী জাফরউল্লাহ, রবিউল ওবায়দুর মোক্তাদির, শামীম ওসমান, এ কে এম রহমতউল্লাহ, আ খ ম জাহাঙ্গীর, বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ। এই কমিটির প্রধান হলেন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।
জানা গেছে, বাতিলের সুপারিশ করা মামলাগুলোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমিশনের আইন শাখাকে। ওই শাখা প্রতিটি মামলা আলাদাভাবে পরীক্ষা করবে। এরপর সেগুলো নিয়ে আইনজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করা হবে। সবশেষে কমিশন সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দুদকের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, কমিশনের আইন বিভাগ মামলাগুলোর ব্যাপারে সুপারিশ করবে। তারপর আইনজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে কমিশন সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, ওই সব মামলার ব্যাপারে রাজনৈতিকভাবে নয়, আইনগতভাবে সিদ্ধান্ত নেবে দুদক।
তবে দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলা ছাড়া বাকি মামলাগুলোর বেশির ভাগই অবৈধ সম্পদ অর্জনসংক্রান্ত। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে দুদক অবৈধ সম্পদের সন্ধান না পাওয়ায় মামলা করেনি। মামলাগুলো যথাযথভাবে সংগৃহীত নথিপত্রের ভিত্তিতেই দায়ের করা হয়েছে। পরে অভিযোগপত্র দায়েরের ক্ষেত্রেও আনুষ্ঠানিকভাবে নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়। এখন এসব মামলাকে রাজনৈতিক বিবেচনা হিসেবে দেখা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। কারণ, তাহলে কমিশনকে স্বীকার করতে হবে যে মামলাগুলো দায়ের করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। পাশাপাশি অনুসন্ধান ও তদন্ত কর্মকর্তাদেরও স্বীকার করতে হবে, তাঁরা ভুল করেছেন। ফলে দুদক যদি এসব মামলাকে রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়ের করা বলে সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেগুলো বাতিল করে, তাহলে দুদকের গ্রহণযোগ্যতাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে এই সংস্থার কর্মকর্তারা মনে করেন।
দুদকের কর্মকর্তারা আরও বলছেন, বর্তমান বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করা হলে দুদক কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মামলাগুলো একই পাল্লায় ফেলা না হলে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যত্ নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হবে।
দুদককে সচল করার উদ্যোগ: হাসান মশহুদ চৌধূরীর পদত্যাগের কিছু আগে থেকেই দুদকের কাজে মন্থরতা আসে। এর মূল কারণ, সরকার দুদকের কর্মকাণ্ড কীভাবে দেখবে তা পরিষ্কার ছিল না। তা ছাড়া জাতীয় সংসদে দুদক পুনর্গঠনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে দুদকের কর্মকাণ্ডের ব্যপারে রাজনীতিকদের সমালোচনা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে গোলাম রহমান যোগ দেওয়ার পর সেই অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মনে করেন, সরকার দুদককে সচল দেখতে চায়। চেয়ারম্যানও কর্মীদের সভায় এমনই বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কমিশনে যোগ দিয়ে গোলাম রহমান এর প্রশাসন, অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা পরিচালনা প্রভৃতি ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান নিতে কাজ করেছেন। এরই মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশালের বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালকেরাসহ কয়েকজন উপপরিচালককে বদলি করা হয়েছে। এর আগে এপ্রিলে অবশ্য দুদকের ৪৭ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
দুদকের দায়ের করা পাঁচ শ মামলা হাইকোর্টে স্থগিত অবস্থায় আছে। ওই সব স্থগিতাদেশ আইনগতভাবে বাতিল করে মামলাগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন ৬৮৮টি মামলা যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে দুদকের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান প্রথম আলোকে বলেন, স্থগিত মামলাগুলো সচল করার ব্যাপারে দু-এক সপ্তাহের মধ্যে যাতে কাজ শুরু করা হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য কমিশনের আইন বিভাগ আইনজ্ঞদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, ২০০৪ সালে কমিশন গঠিত হওয়ার আগে নয় হাজার অভিযোগের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সেসব অভিযোগ নিয়েও শিগগিরই কাজ শুরু করা হচ্ছে। গোলাম রহমান গত ২৪ জুন দুদকে চেয়ারম্যান পদে যোগ দেন।
দুদকের কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, ফাঁদ (হাতেনাতে ধরা ঘুষসংক্রান্ত মামলা) মামলার পরিমাণ সারা দেশে বাড়িয়ে দেওয়া হবে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত দুর্নীতিসংক্রান্ত সংবাদ বিবেচনায় আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সব সংবাদ হয়তো বিবেচনায় আনা যাবে না, কিন্তু কিছু কিছু সংবাদ বিবেচনায় নেওয়া হবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ এবং এগুলোর সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় যে দুর্নীতি হয়েছে, তা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নিয়ে যে দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা নিয়েও বিশেষ অনুসন্ধানকারী দল গঠন করা হবে।