Thursday, April 8, 2010

বারোমাসি ফলনের আকালে বাজারে লেবু এখন তেতো

ছোট এক হালি এলাচি লেবুর খুচরা দাম কমপক্ষে ১২ টাকা। সিলেটি কাগজি লেবুরও এমনই দাম। সাভার থেকে আসা গোল গোল আর কম দামি কলম্বো জাতের লেবুর হালিও ১২ টাকার কম নয়। ঢাকার যেকোনো বাজারেই লেবুর দামের চিত্রটা মোটামুটি এ রকমই ছিল গতকাল।
বিকেলে কারওয়ান বাজারের এক আড়তের কাছে দুই ঝুড়ি বড় এলাচি লেবু দেখা গেল। পাইকারি দামই প্রতি পোণ (৮০টি) ৬০০ টাকা। হালি পড়ে ৩০ টাকা। বিয়েবাড়ি বা কোনো মেহমানদারির দায় না পড়লে কোনো ক্রেতাই সম্ভবত কিনতে যাবেন না এমন দামের লেবু।
এটি লেবুর ভরা মৌসুম নয়। তবে এমন আকাল পড়ার কথাও নয় এ সময়। তার পরও লেবুর আকাল পড়েছে। কারণ সব জাতের লেবুগাছে যথারীতি বারোমাসি যে ফলনটি হওয়ার কথা শীত আর গ্রীষ্মের শুরুতে তা মার খেয়েছে এবার।
শ্রীমঙ্গলের বড় লেবুচাষি আবদুল মালেক জানান, গতবার এ সময় যত লেবু বিক্রি করেছেন তিনি, এবার তার পাঁচ ভাগের এক ভাগও হবে না। প্রায় ৭০০ বিঘা টিলা ও জমি আছে আবদুল মালেকের। টিলার উঁচুতে কাঁঠাল ও আনারসের বাগান আর ঢালু ও সমতলে লেবুর বাগান।
সেচ দিয়েছেন, তার পরও তেমন লেবু হয়নি এবার। লেবুচাষি আর ব্যাপারীরা জানান, কার্তিক মাস বা তার পর হঠাত্ হওয়া শীতের বৃষ্টি লেবুগাছকে তাজা করে ফুলবতী করে। এবার সে বৃষ্টি হয়নি। ফুল যাও এসেছিল, তার অনেকটাই ঝরে গেছে শীতে ঘন কুয়াশার কারণে।
ফাল্গুন-চৈত্র মাসে গাছ ঝেড়ে নামানো লেবুকে সিলেটের চাষিরা বলেন ঝাড়া লেবু। সেই ঝাড়া জাতের লেবুও এবার নেই বললেই চলে।
আবদুল মালেক আরও জানালেন, লেবুর এতই আকাল যে, প্রতি হাজার বড় কাগজি ও এলাচি জাতের লেবু এবার তিনি পাঁচ হাজার টাকায়ও বিক্রি করছেন পাইকারদের কাছে। গতবার এ দরটি ছিল দুই হাজার টাকার নিচে।
জানা গেছে, সারা দেশে যত লেবু বিক্রি হয় তার অর্ধেকই আসে সিলেটের শ্রীমঙ্গল থেকে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লেবুর জোগান আসে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম, সাভার ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে।
শ্রীমঙ্গলের নতুন বাজার দেশের সবচেয়ে বড় লেবুর আড়ত হিসেবে পরিচিত। সেখানকার ব্যাপারী মনসুর মিয়া জানালেন, ভরা মৌসুমে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ ট্রাক লেবু যায় সারা দেশে। আর গরমের শুরুর দিকে কম করে হলেও প্রতিদিন ১০ ট্রাক লেবু যায় নতুন বাজার থেকে। এবার দুই-তিন ট্রাকের বেশি লেবু পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
বৈশাখের মাঝামাঝি পার হলে আর বৃষ্টি শুরু হলে নতুন ফুল আসবে লেবুগাছে। আষাঢ়ের শেষে সে ফলন তোলা শুরু হবে আর তখনই লেবুর ভর মৌসুম। চাষি আর ব্যাপারীরা বলছেন আষাঢ়ের আগ পর্যন্ত লেবুর বাজারটি এমনই চড়া থাকবে এবার।
কারওয়ান বাজারের একজন আড়তদার জানালেন, ভারত থেকে আসা লেবু দিয়ে বাজারের চাহিদার খানিকটা মিটছে এখন। লেবু উত্পাদনের জন্য বিশ্বের এক নম্বর দেশ ভারত। ব্রাজিল, মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও লেবু হয় প্রচুর। তবে সেগুলো বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যাওয়ার কথাও নয়।
প্রতিবেশী হওয়ার কল্যাণে অনেক কাঁচা পণ্যের মতো চোরাপথে আসা ভারতীয় লেবুও বাংলাদেশে বাজার খুঁজে নেয়। এটি এক অর্থনৈতিক বা বাজার-বাস্তবতা। ভারত থেকে কাগজি ও গোল এলাচি জাতের লেবু আসে বাংলাদেশের বাজারে। ভারতেও যে লেবু এবার খুব ভালো হয়েছে তাও নয়। তবে ভারতের লেবু উত্পাদন এতই বিশাল যে, সেখানকার গাছঝাড়া লেবুর একটি অংশও বাংলাদেশের বাজারের জন্য অনেক। বাংলাদেশের বাজার থেকে যে দাম পাওয়া যাচ্ছে এখন তা তো আরও বেশি লোভনীয়।

আর লাইসেন্স নয়, কলসেন্টার পল্লি গড়বে সরকার

নতুন করে কলসেন্টারের লাইসেন্স না দিয়ে কলসেন্টার ভিলেজ বা পল্লি গড়ার কথা ভাবছে সরকার।
মাত্র পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে কলসেন্টারের লাইসেন্স দেওয়া হলেও শুধু দক্ষ জনবলের অভাবে এ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন খোদ টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ। এ কারণেই সরকার ও কমিশন বিকল্প হিসেবে কলসেন্টার ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন শ কলসেন্টারের লাইসেন্স দিলেও বর্তমানে মাত্র ৫৮টি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিধিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে কার্যক্রম চালাতে ব্যর্থ হলে কলসেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করতে পারে বিটিআরসি। এ কারণে বাতিল বা ফেরত এসেছে শ দুয়েক লাইসেন্স।
টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, মহাজোট সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন এবং ভবিষ্যতের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের খাত হিসেবে কলসেন্টারকে বিকশিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই নেবে সরকার।
প্রসঙ্গত, কলসেন্টার মূলত ‘আউটসোর্সিং’ ব্যবসার একটি অংশ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্রেতাদের সহযোগিতা, টেলিমার্কেটিং এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সেবা, অফার ও তথ্য জানানোই কলসেন্টারের কাজ। একে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) বলা হয়। ২০০৮ সালে বিশ্বজুড়ে বিপিওর বাজার ছিল ৩৮ হাজার ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার। ২০০৯ সালেই তা বেড়ে ৬৪ হাজার ১২০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। বিপিওর মধ্যে নলেজ প্রসেস আউটসোর্সিং (কেপিও), লিগাল প্রসেস আউটসোর্সিং (এলপিও), রিসার্স প্রসেস আউটসোর্সিং (আরপিও) ও এডুকেশন প্রসেস আউটসোর্সিং (ইপিও) শীর্ষে রয়েছে। প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনাময় এ খাত থেকে দেশের মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) বাড়ানো সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন তথ্যপ্রযুক্তি-বিশেষজ্ঞরা।
জানা গেছে, কলসেন্টার ভিলেজ গড়ে তুলতে ইতিমধ্যে রাজধানীর কয়েকটি জায়গাকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এবং বিটিআরসির চেয়ারম্যান বনানী ও মহাখালীতে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেডের (বিটিসিএল) দুটি জায়গা পরিদর্শন করেছেন। কারণ, কলসেন্টার ভিলেজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ এবং অন্যান্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা অবশ্যই থাকতে হবে।
বিটিআরসি আগামী ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় (২০১০-১৫) মোট পাঁচটি বিষয় প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দুটি তাদের নিজস্ব ভবনকেন্দ্রিক। তৃতীয় প্রস্তাবে রয়েছে বিটিআরসির মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং চতুর্থ প্রস্তাবে রয়েছে মনিটরিং। আর পঞ্চম প্রস্তাব হিসেবে রাখা হয়েছে কলসেন্টার ভিলেজ।
কলসেন্টারের মূল পুঁজি ইংরেজিতে দক্ষতা। ইংরেজিতে দক্ষতা তৈরি করলে আমেরিকা-ইউরোপের চেয়ে ১০ শতাংশ সস্তায় দেশে জনবল পাওয়া সম্ভব হবে বলে জানান বিটিআরসির চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ। তিনি বলেন, কলসেন্টার-শিল্প বিকাশে সরকার ও কমিশন সব ধরনের সুবিধা দেবে। এ লক্ষ্যে দেশজুড়ে কলসেন্টার প্রশিক্ষণের বিষয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরিসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ভারতীয় কলসেন্টার প্রশিক্ষণের প্রতিষ্ঠান ‘হিরো মাইন্ড মাইন’ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেবে বলে কমিশনের সঙ্গে বৈঠকও করেছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সমিতির মহাসচিব হামাদুন আই তুরে বলেছেন, একটি পূর্ণাঙ্গ কলসেন্টারের জন্য আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজার, ব্যবসা কৌশলের উন্নয়ন এবং হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যারের ওপর জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ খুব গুরুত্বপুর্ণ। তিনি জানান, বিশ্বের কলসেন্টার ব্যবসায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত।
টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, সব কলসেন্টারকে এক জায়গায়, এক ছাতার নিচে আনতে পারলে তাদের বিশেষ সুযোগ- সুবিধা দেওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখাও সহজ হবে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯৫/৪

প্রথম ওয়ানডেতে ২৫৪ রান করেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিতেছিল জিম্বাবুয়ে। গায়ানার ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও ব্যাট হাতে খুব একটা ভালো করতে পারেনি তারা। টস জিতে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়ে ৪৯.৫ ওভারে অলআউট হয়েছে ২০৬ রানে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৮ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৯৫ রান করেছে। ক্রিস গেইল ব্যাট করছিলেন ৫৮ রানে।
জিম্বাবুয়ের ইনিংসে এলটন চিগুম্বুরা ৫০, ব্রেন্ডন টেলর ৪৭ ও টাইবু ৩১ রান করে আউট হয়েছেন। কেমার রোচ ৩৭ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট, ৪৩ রানে ৪ উইকেট নিকিতা মিলারের।

জাতীয় স্কুল হকি

এক্সট্যাসি জাতীয় স্কুল হকির চূড়ান্ত পর্বের প্রথম দিনে কাল দুটি ম্যাচ হয়েছে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে। ২০০৩ সালের সর্বশেষ স্কুল হকিতে চ্যাম্পিয়ন ঢাকার আরমানিটোলা স্কুল ৯-০ গোলে সিলেটের দি এইডেড স্কুলকে এবং যশোর পৌরসভা হাইস্কুল ৫-১ গোলে হারিয়েছে হবিগঞ্জ হাইস্কুলকে। আরমানিটোলার রাকিব তিন গোল, যশোর পৌরসভা স্কুলের বাপ্পি দুই গোল করেছে।
বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা ১২টি দলকে চার গ্রুপে ভাগ করে চূড়ান্ত পর্ব আয়োজন করছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। আবাসন সমস্যা থাকায় সবগুলো গ্রুপের খেলা একসঙ্গে হচ্ছে না। প্রথমে হচ্ছে দুটি গ্রুপের খেলা। তারপর বাকি দুই গ্রুপ।

কোনো আফসোস নেই লির

ব্রেট লিকে আর সাদা পোশাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে দেখা যাবে না। এ খবরে একটু হতাশা অবশ্যই আছে, চমক বা বিস্ময় নেই। এ ঘোষণাটা তাঁকেই দিতে হতো।
নিজের ক্যারিয়ারের কথা ভেবেই অস্ট্রেলিয়ান গতি-তারকাকে বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেট বা সংক্ষিপ্ত ক্রিকেটের একটা বেছে নিতে হতো। শরীরে কুলোচ্ছিল না। নতুনরা যেভাবে জেঁকে বসেছে, তাতে দলে জায়গা পাওয়া নিয়েই সংশয় জেগেছিল। অনেকটা নিরুপায় হয়েই হয়তো তাঁকে তাই টেস্ট ছেড়ে দিতে হলো। এই হতাশা কি পোড়ায় না তাঁকে?
১২ মার্চ থেকে শুরু আইপিএলের তৃতীয় আসরে খেলতে এরই মধ্যে ভারতে চলে আসা ব্রেট লির কথা বিশ্বাস করলে মানতে হবে তাঁর কোনো আফসোস নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে সম্মানজনক অধ্যায়টিকে বিদায় জানিয়ে কোনো দুঃখ করছেন না লি।
অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ, শেন বন্ডদের পথ ধরে টেস্ট ছেড়ে দেওয়া লি বলছেন, টেস্ট ক্রিকেট থেকে যা পেয়েছেন, তাতে তিনি খুশি—‘টেস্টে যা করেছি, তাতে আমি পুরোপুরি তৃপ্ত। আমার অর্জন নিয়ে আমি তৃপ্ত।’
৭৬ টেস্টে ৩০.৮১ গড়ে ৩১০ উইকেট নেওয়া বোলারের এমন তৃপ্তি থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু ৩০০ থেকে ৫০০ উইকেটের দিকে যাত্রা করার ক্ষুধাটা কি ছিল না! ক্ষুধা ছিল কি ছিল না, সেই প্রশ্ন তোলাই এখন বাতুলতা। টেস্টের ভুবন তাঁর কাছে অতীত হয়ে গেছে। এখন তাই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতেই আশ্রয় খুঁজছেন। তাও জাতীয় দলের হয়ে সুযোগ কতটা পাবেন, কে জানে!
সবকিছু ভুলে আপাতত নিজের ক্ষমতা দেখানোর জায়গা আইপিএলের দল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। ব্রেট লি নিজেই বলছেন, আর কিছু না হোক, আইপিএল দিয়ে ক্রিকেটে ফিরতে পারার সম্ভাবনাতেই তিনি খুশি, ‘এটা আমার জন্য বিরাট একটা সুযোগ। আবার ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনাতেই আমি খুশি।’

চট্টগ্রামে জিতল ফেনী সকার

ঘরের মাঠে আবারও হারল চট্টগ্রাম মোহামেডান। এবার তাদের হারিয়ে গেল ফেনী সকার (০-২)। ৯ ম্যাচে মাত্র ৬ পয়েন্ট—বাংলাদেশ লিগে এবার টিকে থাকাই কঠিন চট্টগ্রাম মোহামেডান। সকারের অবস্থান বেশ ভালো, সমান ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে এখন তাদের অবস্থান চতুর্থ।
এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে দুই দলই এলোমেলো ফুটবল খেলেছে প্রথমার্ধে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ছবিটা পাল্টে যায়। ফেনী সকার গোছানো ফুটবল খেলতে শুরু করে এবং গোলও পেয়ে যায়। ৫৮ মিনিটে আসে প্রথম গোল, যেটির উত্স ছিল কর্নার। মিন্টুর জোরালো শটে পরাস্ত মোহামেডানের গোলরক্ষক উত্তম।
৭৬ মিনিটে হলো ২-০, বক্সের বাইরে থেকে আচমকা শটে গোল করেন আসিফ। ব্যবধান করানোর সুযোগ এসেছিল চট্টগ্রাম মোহামেডানের লিংকনের সামনে, কিন্তু গোল তিনি করতে পারেননি। বাধা হয়ে দাঁড়ান সকারের গোলরক্ষক তুয়ান।
আজকের খেলা: ফরাশগঞ্জ-শুকতারা (বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, পাঁচটা)।

সংগীতের তালে প্রীতি ম্যাচ

বাফুফে ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন একাদশ কাল একটা প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ খেলল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। ম্যাচের আগে ঝুমুর নাচ, সাঁওতাল নাচ ও লোকসংগীত গেয়ে ‘অতিথি’দের বাফুফের পক্ষে স্বাগত জানায় স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠী।
ঢাকায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও কর্মকর্তারা নিছকই বিনোদন পেতে এই ম্যাচ খেলেছেন। তবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ড. স্টিফেন ফ্রোয়েন বলেছেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ার একটা সুযোগ এনে দিয়েছে এই ম্যাচ। ভবিষ্যতেও এমন ম্যাচ খেলবে দুই পক্ষ। তবে বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের। সেটা তাদের কাজও নয়।
প্রদর্শনী ম্যাচে জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া বাফুফে একাদশ জিতেছে ৩-১ গোলে। বাফুফের পক্ষে দুই গোল করেছেন শেখ মোহাম্মদ আসলাম।

দল ছাড়ার হুমকি আফ্রিদির

করাচির হয়ে পাকিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি না খেলার হুমকি দিয়েছেন শহীদ আফ্রিদি! কারণ তাঁকে দলের অধিনায়ক করা হয়নি।
আফ্রিদির পরিবর্তে করাচি সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (কেসিসিএ) অধিনায়ক করেছে মোহাম্মদ সামিকে। এতে তাঁকে অবজ্ঞা করা হয়েছে বলেই মনে করছেন পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক, ‘সিনিয়র খেলোয়াড়দের মূল্যায়নের বিষয়টি কেসিসিএর সিনিয়র কর্মকর্তাদের নতুন করে ভেবে দেখা উচিত।’ না জানিয়েই তাঁকে অধিনায়কত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, আফ্রিদির ক্ষোভের কারণ এটাই, ‘ন্যূনতম সৌজন্যবোধ থেকে কেসিসিএ কর্মকর্তাদের উচিত ছিল কেন তাঁরা আমাকে অধিনায়ক রাখতে চান না, সেটি জানানো। একজন সাধারণ খেলোয়াড় হিসেবেও দলে সব সময় খেলার জন্য প্রস্তুত আমি। কিন্তু সিনিয়র ক্রিকেটারদের মূল্যায়নের একটা ধরন তো আছে, সেটির কিছুই করেনি কেসিসিএ।’ এরপরই আফ্রিদি বললেন আসল কথাটা, ‘কেসিসিএ যদি সিনিয়র খেলোয়াড়দের যথাযথ মূল্যায়ন না করে তাহলে আমি অন্য অঞ্চলের হয়েও খেলতে বাধ্য হতে পারি।’

শোয়েব আখতার ‘নট আউট’

বাস্তবতা যা, তাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শোয়েব আখতারের ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। কিন্তু পাকিস্তানের বিতর্কিত এই ফাস্ট বোলারের বিশ্বাস, ক্রিকেটকে তাঁর দেওয়ার এখনো অনেক বাকি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পাকিস্তান দল থেকেও বাদ পড়ার পর তাই অবাকই হয়েছেন শোয়েব, ‘প্রাথমিক দলেও নামটা নেই দেখে বিস্মিত হয়েছি আমি। ব্রেট লির দিকে তাকিয়ে দেখুন, কয়েক মাস ধরেই ফিটনেসজনিত সমস্যায় ছিল সে, খেলেওনি। তার পরও অস্ট্রেলিয়ার প্রাথমিক দলে আছে ও। শন টেইটের ব্যাপারটাও একই, ইনজুরির দীর্ঘ ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও সে দলে আছে।’
উদাহরণ হিসেবে ব্রেট লি ও শন টেইটকে তিনি টেনে এনেছেন মূলত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) যুক্তি খণ্ডনের উদ্দেশ্যেই। কিন্তু পিসিবি সভাপতি ইজাজ বাটের কাছে যুক্তির ঢাল ছিল, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শোয়েবের দীর্ঘ অনুপস্থিতি, ‘আমরা কীভাবে নির্বাচিত করব তাকে। ঘরোয়া কিছু ম্যাচ খেলেছে বলে তো তাকে দলে রাখতে পারি না। ও কতটুকু ফিট সেটাই জানি না আমরা।’
তবে এসব বক্তব্যকে পাত্তা দিচ্ছেন না ৩৪ বছর বয়সী শোয়েব। প্রথম ১০০ মাইল গতি তোলা ফাস্ট বোলার আস্থা রাখছেন নিজের সামর্থ্যে, ‘আমি জানি, কতটা সামর্থ্য আমার। নিজের প্রতি আস্থা হারাচ্ছি না। আমি দলে ফেরার জন্য লড়াই চালিয়ে যাব। কারণ এখনো আরও কয়েক বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য আমার আছে।’
একদিকে যখন ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করে দলে ফেরার লড়াই, তখন মাঠের বাইরেও লড়তে হচ্ছে ৪৬টি টেস্ট ও ১৪৪টি ওয়ানডে খেলা শোয়েবকে। আর এখানেও তাঁর ‘প্রতিপক্ষ’ পিসিবি। আগের বোর্ডের সময় বিভিন্ন সময় শৃঙ্খলাভঙ্গের সাজা হিসেবে ৭০ লাখ রুপি জরিমানার অর্থ বকেয়া ছিল তাঁর, এটি তাঁর বার্ষিক আয় থেকে কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিসিবি। দারুণ চটেছেন এতে শোয়েব। বেফাঁস কিছু বলেননি, তবে পিসিবির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

ইংলিশদের বিশ্রামের একদিন

বাংলাদেশের বোলারদের যথেষ্ট যন্ত্রণা দিয়ে অবশেষে ফিরে গেছেন এউইন মরগান। ওয়ানডের সিরিজ-সেরার জায়গা হয়নি টেস্ট দলে, গতকালই দেশের উদ্দেশে উড়াল দিয়েছেন তিনি। মরগানের সঙ্গে দেশের বিমান ধরেছেন তৃতীয় ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ক্রেইগ কিসওয়েটার, ইনজুরি আক্রান্ত রায়ান সাইডবটম ও ওয়ানডে সিরিজটা পানি-তোয়ালে টেনেই কাটিয়ে দেওয়া জো ডেনলি।
সাইডবটম নয়, ফিরে যাওয়ার কথা ছিল টিম ব্রেসনানের। কিন্তু পিঠের ইনজুরিতে পড়া সাইডবটমকে পাঠিয়ে রেখে দেওয়া হচ্ছে ওয়ানডেতে ভালো করা ব্রেসনানকে। ফাস্ট বোলারদের ইনজুরিটাই এ মুহূর্তে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে কড় দুশ্চিন্তা। ইনজুরিতে পড়েছেন স্টুয়ার্ট ব্রড ও গ্রাহাম অনিয়নসও। আজ শুরু তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে খেলতে পারবেন না কেউই, সম্ভাবনা কম প্রথম টেস্টে খেলারও। এ জন্যই সদ্য টিনএজ পেরোনো পেসার স্টিভেন ফিনকে উড়িয়ে এনেছে তারা। কাল পুরো দিনটা বিশ্রামেই কাটিয়েছে ইংল্যান্ড দল। শুধুই টেস্টের জন্য আসা মাইকেল কারবেরি, ইয়ান বেল, স্টিভ ডেভিস, স্টিভেন ফিনরা অবশ্য দুপুরে স্থানীয় এক জিমে শরীর ঘামিয়েছেন। অ্যালিস্টার কুকের সঙ্গে প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের ইনিংস শুরু করতে পারেন হ্যাম্পশায়ারের কৃষ্ণাঙ্গ বাঁহাতি কারবেরি। তবে জোনাথন ট্রটকে ওপেনিংয়ে পাঠিয়ে অলরাউন্ডার লুক রাইটকে খেলানোরও একটা চিন্তা আছে ইংল্যান্ড দলের। প্রস্তুতি ম্যাচের পরই জানা যাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হবে প্রথম টেস্ট ১২ মার্চ থেকে। ২০ মার্চ দ্বিতীয় টেস্ট শুরু ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে।

রেকর্ডটা নিয়তির বেঁধে দেওয়া!

সাঈদ আনোয়ারের ১৯৪ রানের ইনিংসটার কথা মনে আছে? সেদিন কিন্তু পাকিস্তানের সাবেক ওপেনার আউট হয়েছিলেন ৪৭তম ওভারে। মানে ডাবল সেঞ্চুরিটি করার জন্য যথেষ্ট বল হাতে ছিল তাঁর। কিন্তু পারেননি। সুইপ করতে গিয়ে ফাইন লেগে ধরা পড়েন সৌরভ গাঙ্গুলীর হাতে। ওয়ানডের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা বোলারটির নাম? শচীন টেন্ডুলকার!
১৯৯৭ সালের ম্যাচটার স্মৃতি ঠিকই মনে আছে ওয়াসিম আকরামের। এরপর জিম্বাবুয়ের চার্লস কভেন্ট্রিও যে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৯৪ রানে অপরাজিত একটা ইনিংস খেলেছিলেন—সেটিও জানেন আকরাম। কভেন্ট্রি কিংবা আনোয়ার দুজনের কেউই ডাবল সেঞ্চুরি কেন পাননি জানেন? কারণ, আকরাম বলছেন, নিয়তিই নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল, রেকর্ডটা গড়া হবে যোগ্যতম ব্যক্তির ব্যাটে। আর সেটাই করছেন টেন্ডুলকার, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গোয়ালিয়রে।
আকরাম এখন ভারতেই। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বোলিং পরামর্শক হিসেবে কাজ করবেন এবারের আইপিএলে। ভারতে এসেই টেন্ডুলকারকে অভিনন্দন জানানোর কাজটা সেরে রাখছেন ওয়ানডেতে ৫০০ উইকেট পাওয়া প্রথম বোলার। এই ফাঁকে জানিয়ে রেখেছেন, ‘এই রেকর্ডটা যোগ্য ব্যক্তির হাতেই হয়েছে। এটা ওর প্রাপ্য ছিল। নিয়তি এই রেকর্ডটা রেখেছিল তাঁর জন্যই। বাকিদের তাই করার কিছুই নেই।’
তার মানে কিন্তু এই না, ভাগ্যের সৌজন্যেই ডাবল সেঞ্চুরিটা হয়েছে। বরং পুরো কৃতিত্বই টেন্ডুলকারকে দিলেন তিনি, ‘৩৬ বছর বয়সী একজনের এমন অর্জন সত্যিই অবিশ্বাস্য। খেলাটার প্রতি তাঁর যে আবেগ, দায়বদ্ধতা এটি সবার জন্যই উদাহরণ। এ ধরনের ইনিংস যেকোনো পর্যায়ে, কোনো দলের বিপক্ষেই স্পেশাল কিছু। টেন্ডুলকার ডাবল সেঞ্চুরিটা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, এতে ইনিংসটার মাহাত্ম্য আরও বেড়ে যাচ্ছে।’
ওয়ানডেতে ৫০২টি উইকেট তাঁর। কিন্তু এর মধ্যে টেন্ডুলকারের উইকেট আকরাম পেয়েছেন মাত্র তিনবার (টেস্টে মাত্র একবার!)। টেন্ডুলকার বোলারদের জন্য কত বড় পরীক্ষার নাম, সেটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিলেন তিনি, ‘শচীনের মতো ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে কোনো পরিকল্পনা করাই মুশকিল। ও এতটাই নিখুঁত, কোনো ফাঁদ পেতে লাভ হয় না। অসাধারণ প্রতিভাবান, দুর্দান্ত টেকনিক। এবং এটাও মনে রাখবেন, ও কিন্তু গায়ের জোরে বল মারে না। রেকর্ডই ওর হয়ে কথা বলে।’